Monday, September 24, 2018

‘দিল্লির দাওয়াতে’ এসে কী করেন বাংলাদেশের নেতারা? by রঞ্জন বসু

বাংলাদেশে নির্বাচনের বছর এটা। আর ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই ভারতে আসতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতারা। তুলনায় বড় দলগুলো যেমন আসছে, তেমনি তরিকত ফেডারেশন বা জাকের পার্টির মতো ছোট দলগুলোও বাদ পড়ছে না।
কিন্তু দিল্লিতে ঠিক কী ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আসছেন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা? ভোটের বছরে ভারতের রাজধানীতে এসে ভারতীয় নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আদৌ কি কোনও লাভ হচ্ছে?
প্রথম কথা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের এই নেতারা দিল্লি আসছেন ভারতেরই আমন্ত্রণে। কখনও আমন্ত্রণটা জানাচ্ছে ভারত সরকার নিজে (যেমন জেনারেল এরশাদের বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা), কখনও বা ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা আইসিসিআর (সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বা জাকের পার্টির নেতৃত্বকে তারাই দাওয়াত দিয়েছিল।)
আবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে যে প্রতিনিধিদলটি দিল্লি ঘুরে গেল, তারা এসেছিলেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে। গত জুনের গোড়ায় বিএনপির তিন নেতার বহুচর্চিত ভারত সফর ছিল সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে।
দিল্লিতে পা রাখার পর এই নেতাদের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক একরকম অবধারিত। বাংলাদেশের নেতাদের ওজন বুঝে কখনও সেই বৈঠক হয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের সঙ্গে, আবার কখনও বা প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে এইচ এম এরশাদ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে এইচ টি ইমামরা যখন সুষমা স্বরাজ-রাজনাথ সিংদের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় বসছেন, তখন তরিকত ফেডারেশনের নেতৃত্বকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে অথবা জাকের পার্টির নেতাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে দেখা যাচ্ছে।
এম জে আকবর বহুদিন ধরেই অবশ্য সরকারের হয়ে বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স দেখাশুনো করছেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার এই বাংলাভাষী রাজনীতিবিদ আগে কলকাতার ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা এলে তাদের সঙ্গে খোলাখুলি বাংলায় কথা বলতে পারেন তিনি। কাজেই সাউথ ব্লকে তার দফতর ঢাকার রাজনীতিবিদদের কাছে প্রায় একটা ‘মাস্ট ভিজিট’।
এইচ এম এরশাদ, এইচ টি ইমাম বা ওবায়দুল কাদেরের মতো ওজনদার নেতারা দিল্লি এলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হচ্ছেই ধরে নেওয়া যায়।
অন্য দিকে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজটা যিনি করে থাকেন, তিনি আর কেউ নন; দলের অতি প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। অন্ধ্রের এই তেলুগুভাষী নেতা বহুদিন আরএসএসের মুখপাত্র ছিলেন, এখন আরএসএস থেকেই তাকে বিজেপিতে ‘ডেপুটেশনে’ পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে যে দলের নেতারাই আসুন, রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠক ছাড়া তাদের ভারত সফর কার্যত অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
সাম্প্রতিক অতীতে বারে বারেই দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যে নেতারাই আসুন না কেন, তারা হয় রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন, কিংবা দিল্লিতে তার থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনে’র মতবিনিময়ে যোগ দিচ্ছেন। অথবা দুটোই।
বিজেপির অন্যান্য নেতাদের মধ্যে দলের সহ-সভাপতি বিনয় সহস্রবুদ্ধে (যিনি আইসিসিআরের প্রেসিডেন্টও বটে), রাম লাল কিংবা বিজেপি পলিসি রিসার্চ সেলের অনির্বাণ গাঙ্গুলিও বাংলাদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।
দিল্লির আরও একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, সেটি হলো অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি; এমনকী দিল্লিতে ‘রাইসিনা ডায়ালগ’ নামে যে কূটনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সরকারের সঙ্গে— সেটিরও যৌথ আয়োজক এই ওআরএফ।
গত কয়েক মাসের মধ্যে সেখানেও আসতে দেখা গেছে হাসানুল হক ইনু, এইচ টি ইমাম, তরিকত ফেডারেশনের নেতা নাজবুল বাশার মাইজভান্ডারী কিংবা জাকের পার্টির চেয়ারম্যান আমির ফয়সল মুজাদ্দেদিকে।
আর শুধু দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে বা থিঙ্কট্যাঙ্ক সার্কিটেই নয়, দিল্লিতে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা আজকাল ভারতের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যাচ্ছেন— সেখানে ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এই তালিকায় জেএনইউ, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বা দিল্লি ইউনিভার্সিটির মতো সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও আছে।
ইসলামপন্থী দলগুলো আবার রাজধানীর লোদী রোডে ‘ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’-এর মতো কেন্দ্রেও যাচ্ছেন। তাদের কারও কারও সফরসূচিতে পুণের সিমবাওসিস ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানও থাকছে।
ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের এই রাজনীতিবিদদের সফরে ডিপ্লোম্যাটিক, পলিটিক্যাল বা অ্যাকাডেমিক— সব পর্যায়েই ভারতকে তাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রকৃত ছবিটাও তারা তুলে ধরতে পারছেন।
কিন্তু প্রতিবেশী দেশের এই নেতাদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসে ভারতের কী লাভ হচ্ছে?
“প্রথম কথা হল, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত যে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত; আমরা সেই বার্তাটা এর মাধ্যমে দিতে পারছি। তা ছাড়া এই যে নেতারা সানন্দে আসছেন, দিল্লিতে আমাদের নেতা-মন্ত্রী-নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনায় বসছেন— এ থেকেও প্রমাণ হয় যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে ভারত আর কোনও ‘ট্যাবু’ নয়, ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার মধ্যেও নিষিদ্ধ কিছু নেই। এটাও আমাদের জন্য একটা বড় লাভ বৈকি”, দিল্লিতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।
সুতরাং ধরেই নেওয়া যেতে পারে, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে যেমন, তেমনি তার পরেও ঢাকা থেকে রাজনীতিবিদদের এই দিল্লিযাত্রার ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাবা ডেকেও রেহাই মেলেনি লুৎফার by মরিয়ম চম্পা

এটা শুধু একদল নারীর স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প নয়। বরং তাদের নিয়তি আর জীবন কীভাবে তছনছ হয়ে গেছে এটা সেই গল্প। বর্ণনা করা যায় না, বলা যায় না, লেখা যায় না। অসহ্য আর দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে ফিরছে ওরা। বিমানবন্দরে নেমেই ভেঙে পড়ছে কান্নায়। কেউবা লজ্জায় মুখ ঢাকছে। কেউবা করছে আত্মহত্যার চেষ্টা। সৌদি ফেরত নারীদের জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম চম্পা-
লুৎফা বেগম। বয়স ৩৩। বাড়ি নেত্রকোনার চারুলিয়ায়। স্বামী আল-আমিন খেতখামারে কাজ করেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। একটু ভালো থাকার আশায় গত বছরের শেষের দিকে সৌদিতে পাড়ি জমান লুৎফা। সেখানে মুখোমুখি হন ভয়ঙ্কর জীবনের। বাসার প্রত্যেক লোক মিলে পালাক্রমে মারধর করতো। মালিকের স্ত্রী, ছেলে, মালিক কেউই বাদ যেত না।
সে সময়কার কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে উঠেন লুৎফা। বলেন, ওরা আমাকে টানা ৭ মাস ধরে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করেছে। দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে দমটা বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। একদিন তো সকালে মার শুরু করে সন্ধ্যায় ক্ষান্ত দিয়েছে। এরপর আমি এশার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করছিলাম। তখন এসে মালিকের ছেলে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।
কেন তাকে মারা হতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকের ছেলে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতে চাইতো। খারাপ কাজের প্রস্তাব দিতো। তখন বলতাম ‘আমি তোমার মা’র মতো। মায়ের সঙ্গে কেউ খারাপ কাজ করে বাবা। এটা বলার পর সে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে চিকন তার দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে। এভাবে প্রায় সময় সামান্য কোনো বিষয়ে আমাকে মারতো। একদিন মাঝরাতে মালিকের ছেলে আমাকে বলে ওর মা অসুস্থ তার কাছে যেতে হবে। লুৎফা গিয়ে দেখেন তার মা দিব্বি সুস্থ। এ সময় তাকে একটা রুমে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে নিজেকে মুক্ত করেন লুৎফা। এদিকে বাসার মালিক একদিন সন্ধ্যারাতে তাকে গোসলখানা ধুতে যেতে বলেন। মালিক গোসলখানার ভেতরেই ছিলেন। লুৎফা জানতেন না। লুৎফা গোসলখানা ধুতে গেলে মালিক মন মতো তাকে কাছে না পেয়ে চুলের মুঠি ধরে বেদম পিটাতে থাকেন।
লুৎফা মালিককে বলেন, বাবা আমাকে ছেড়ে দেন। কি অন্যায় করেছি। এ সময় মালিক বলেন, তুই শব্দ করে বাথরুম খুললি কেন। এভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হন লুৎফা। তিনি বলেন, মার খেতে খেতে আমার নিয়মিত বমি হতো। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করি। তখন ওরা আমাকে ধরে ফেলে। এরপর বেদম মারতে থাকে। আমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই যখনই সুযোগ পেতাম চুরি করে খাবার খেতাম। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। মরার মতো অবস্থা। বাসার মালিক মনে করেছে আমি অসুস্থের ভান করে বাসার দামি জিনিসপত্র নিয়ে পালাবো। তাদের বাসা থেকে কিছু চুরি করেছি কিনা তা পরীক্ষা করতে মালিকের বউ আমার গায়ের কাপড় চোপড় খুলে উলঙ্গ করে শরীর চেক করে। পরে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তায় ফেলে যায়। তখন আমার কোনো হুঁশ-জ্ঞান ছিল না। এরপর পুলিশ আমাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে রেখে আসে। সেখান থেকে সফর জেলে দেয়া হয়। সফর জেল খেটে অবশেষে বাংলাদেশে ফেরত আসি।
দেশে ফেরত এসে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন লুৎফা বেগম। স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় খেতখামারের কোনো কাজই করতে পারছেন না। তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দিনের তিন বেলার দুই বেলাই না খেয়ে থাকতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশীরা যে দুই ১শ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তাই দিয়ে চলে লুৎফার সংসার। তিনি বলেন, একটু আগে একজন প্রতিবেশী ১শ টাকা দিয়েছেন। সেটা দিয়ে ছেলেকে ১ কেজি চাল কিনতে পাঠিয়েছি। চালটা পানিতে ফুটিয়ে ছেলেদের খেতে দিবো। এতো কিছুর পরও নিজ দেশে ফিরতে পেরে সন্তুষ্ট লুৎফা। দেশের মাটিতে না খেয়ে মারা গেলেও যেন সৌদি আরবের মতো দেশে আর যেতে না হয়- এমনটাই জানান তিনি।

আমি হাউজ হাজবেন্ড

"একবার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। আমার শালীর বিয়ে ছিল। আমাদের সঙ্গে ছিল পরিবারের এক নতুন সদস্য - আমার মেয়ে।
বিয়ের নানা আচার অনুষ্ঠানে, গান-বাজনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল আমার স্ত্রী। মেয়ে আমার কাছেই ছিল - ওর এটাই অভ্যাস হয়ে গেছে।
আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে গল্প-গুজব করছিলাম, এমন সময়ে মেয়ে পটি করে ফেলে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওকে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎই আমার শাশুড়ি আমাকে আটকালেন।
কানে কানে বললেন, "তুমি এ বাড়ির জামাই। কী করছ তুমি বুঝতে পারছ? আত্মীয়-স্বজন দেখে কী বলবে কোনও ধারণা আছে? সোনালীকে ডাক। বাচ্চার পটি ও-ই পরিষ্কার করে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দেবে।"
সোনালী আমার স্ত্রীর নাম।
আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে মেয়ের পটি পরিষ্কার করার অভ্যাস আছে আমার! কিন্তু তার আগেই শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে ডাক দিলেন। বললেন, "যাও, মেয়ের পটি পরিষ্কার করে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দাও।"
আমি আর আমার স্ত্রী দু'জনেই দু'জনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তবে কিছু বলার আগেই শাশুড়ি বেশ চাপা গলায় ধমকের সুরে স্ত্রীর নামটা শুধু বললেন, "সোনালী....!"
আমার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে চলে গেল।
ঘটনাটা খুব অদ্ভুত লেগেছিল আমার। আমি যে 'হাউজ-হাজব্যান্ড' সেটা তো শ্বশুর-শাশুড়ি জানেন। মেয়ের পটি পরিষ্কার করাটা আমার কাছে নতুন কোনও কাজ তো নয়!
সম্ভবত আমার শাশুড়ির কাছে ব্যাপারটা লজ্জার ছিল। কয়েকজনকে দেখছিলাম মিটি মিটি হাসছেন।
তারপর থেকে ওই বিয়েবাড়ির হই-হট্টগোলের মধ্যেও কয়েকবার আমার কানে একটা কথা এসেছে - আমার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, "এই ভদ্রলোক তো হাউস-হাজব্যান্ড"।
আমার শ্বশুর-শাশুড়ি চাইতেন না বিষয়টা পাঁচকান হোক। তবে আমি ঠিক করে ফেলেছিলাম যে আমার লজ্জা পাওয়ার যেমন কোনও কারণ নেই, তেমনই আমাদের চিন্তাভাবনাও পাল্টাবো না।
আমরা ভিন্ন জাতে বিয়ে করেছি। প্রথমেই ঠিক করে নিয়েছিলাম যে আমি বা আমার স্ত্রী - যে কেরিয়ার গড়ার ভাল সুযোগ পাবে, সেই কেরিয়ার গড়বে, অন্যজন ঘর-সংসার সামলাবে।
শুরু থেকেই আমার নিজের কেরিয়ারটা খুব একটা ভাল চলছিল না। অন্যদিকে আমার স্ত্রী সোনালী বেশ উন্নতি করছিল তার কেরিয়ারে।
তখনই ঠিক করে ফেলি যে আমি ঘর সামলাবো আর সোনালী চাকরি করে আরও উন্নতি করবে।আমাদের বাড়িতে কাজ করার জন্য কোনও গৃহ-কর্মী নেই। আমিই ঘর ঝাঁট দেওয়া, ধোওয়া-মোছার কাজ করি, বাসন মাজি, বাজার করি আবার রান্নাও করি।
অন্যদের হয়তো আমার এই বাড়ির কাজকর্ম করা অদ্ভুত লাগত, কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা খুব সাধারণ ছিল।
তিন ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। তবে ছোট থেকেই বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করতাম। তখনও দেখতাম বন্ধুরা আমাকে 'গৃহিনী' নামে ডেকে চটাতো।
তবে দিল্লিতে পড়াশোনা জানা বন্ধুবান্ধবরা আমার এই বাড়ির কাজ করার ইচ্ছাটাকে বুঝতে শুরু করেছে।
কিন্তু যখন নিজের শহর ভোপালে যাই, সেখানকার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে মশকরা করতে লাগলো।
রাজনীতি বা অন্য কোনও গম্ভীর বিষয় নিয়ে যখন আলোচনা হয় আর সেখানে যদি আমি কিছু বলতে যাই, তাহলে মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বন্ধুরা বলে "তুমি এসব বুঝবে না, এটা গুরুতর বিষয়।"
বোধহয় আমাকে নিজের জায়গাটা, অর্থাৎ বাড়ির চৌহদ্দিটা চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ওই বন্ধুরা।
একবার এমনও হয়েছে, কী একটা বিষয়ে যেন বন্ধুরা কথা বলছিল, আর যেই আমি কিছু বলতে গেলাম, তখন ওরা বলল, "আরে তুই এসব বুঝবি না, একটু চা বানিয়ে আন বরং।"
আমি হেসে বলেছিলাম, "শুধু চা কেন, পাকোড়াও ভেজে আনছি।"
আমি এই সব ঠাট্টা, মশকরা সিরিয়াসলি নিই না।
অনেক বন্ধু আছে, যারা মাঝে মাঝে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে 'ভাই আজ কী রান্না করলি!'
মানুষ আসলে বাড়ির কাজটাকে কাজ বলে গণ্যই করে না। অনেকেই বলে আমি নাকি ঘরে বসে আয়েশ করি।
কিন্তু ওরা এটা জানে না, যেসব পুরুষ অফিস বা কাজে যাওয়ার জন্য যেমন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে, আমিও তেমনই খুব সকালে উঠি। তারপরে ঘরের আর বাইরের - সংসারের সব কাজ করি।
বন্ধুদের এইসব মজা-মশকরা শুনতে শুনতে আমার মনে হয় যে ঘর-সংসারের কাজ সামলায় যে নারীরা, তাদের নিজেদের বউরা - তারা সংসারের জন্য যা যা করে সারাদিন ধরে, সেগুলোকে এরা কাজ বলে গণ্যই করে না।
আমাদের বিয়ের চার বছর পরে মেয়ে হয়েছে। তাই এখন আমার দায়িত্বও বেড়ে গেছে। মা হওয়া তো একটা পুরো সময়ের কাজ!সংসারের কাজের সঙ্গেই এখন জুড়েছে মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বও। তাকে স্নান করাতে, খাওয়াতে হয়, ঘুম পাড়াতে হয়, ঘুরতে নিয়ে যেতে হয়।
যখন মেয়েকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে যেতে শুরু করলাম, প্রথম প্রথম সেখানে মহিলারা আমার মেয়েকে আদর করতেন বেশ। চার-পাঁচদিন পরে কয়েকজন জিজ্ঞাসা করলেন, "আজকেও আপনিই এসেছেন মেয়েকে নিয়ে? ওর মা কোথায়? তাঁর কী শরীর ভাল নেই?"
এরকম নানা প্রশ্ন করা শুরু হল।
আমি জবাব দিয়েছিলাম, "স্ত্রী চাকরি করেন। আমিই মেয়ের দেখাশোনা করি।"
তারপরে একের পর এক প্রশ্ন শুরু হল - "এত ছোট বাচ্চাকে আপনি কী করে সামলান? ও আপনার কাছে থাকে? স্নান করায় কে? খাইয়ে দেয় কে?"
ওই মহিলাদের চোখে মুখে যেন একটা অবিশ্বাস ছিল। তারা ভাবতেই পারছেন না যে একজন পুরুষ হয়ে ছোট বাচ্চাকে দেখাশোনার কাজ কেউ করতে পারে!
কেউ হয়তো এটাও ভাবছিলেন যে, 'কীরকম পুরুষ আমি যে কাজ করি না!'
বুঝতে পারতাম পার্কে বেড়াতে আসা ওই মহিলারা আমার পেছনে মজা করেন আমাকে নিয়ে।
বিয়ের পরে যখন প্রথমবার আমার বাবা-মা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখন সংসারের কাজকর্ম আমাকে করতে দেখে সেটা বেশ অপছন্দ হয়েছিল মায়ের।
মা যদিও কিছু বলে নি, তবে হাবে-ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে তাঁর পছন্দ হচ্ছে না ব্যাপারটা।
তাঁর চোখের ভাষায় বুঝতে পারছিলাম মা বলতে চাইছে যে তুমি রোজগারের জন্য চাকরি-বাকরি করো না? আর বউমা কি চাকরি করে তারপরে সংসারের কাজকর্ম সামলাতে পারে না?
সোনালীও বুঝেছিল যে আমার মা পছন্দ করছে না ব্যাপারটা।
তাই নিজে থেকেই সংসারের টুকটাক কাজ করতে শুরু করেছিল বাবা-মায়ের সামনে। কিন্তু অভ্যাস না থাকলে যা হয়, কোনওটাই ঠিকমতো করে উঠতে পারছিল না ও।
আমিই তখন ওকে বারণ করলাম যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করতে হবে না।
মা-ও ব্যাপারটা খেয়াল করেছিল। কিন্তু কিছু বলে নি। আর তারপর থেকে এই ব্যাপারে আর কোনও কথাই বলে নি আমার মা।
এখন আমার মেয়ে স্কুলে যায়। ওকে বংশ-লতিকা বানাতে দিয়েছিল একবার স্কুল থেকে।
আমি কোনও কাজে বোধহয় বাইরে গিয়েছিলাম, আমার স্ত্রীকে ওকে বংশ-লতিকা বানাতে সাহায্য করেছিল।
সেখানে আমাকে 'হেড অফ দা ফ্যামিলি' বলে লিখেছিল।
ফিরে এসে আমি ওটা দেখে বলেছিলাম, চাকরি করে রোজগার করে সোনালী, সংসারে অর্থ সে-ই যোগায়। তাই 'হেড অফ দা ফ্যামিলি' তো তার হওয়ার কথা।
কিন্তু সোনালীর বক্তব্য ছিল অন্য।
ও বলেছিল, 'যে সংসার চালাবে, সে-ই হেড অফ দা ফ্যামিলি হবে - তা সে পুরুষ হোক বা নারী'।
বংশ-লতিকায় 'হেড অফ দা ফ্যামিলি'র জায়গা থেকে আমার নামটা সরাতে দেয় নি ও।
আমি অবশ্য একেবারেই যে অন্য কিছু করি না, তা নয়।
লেখালেখি করি ফ্রিল্যান্সার হিসাবে। সংসারের কাজকর্মের মধ্যেই বাড়িতে বসে লেখালেখি করি। দুটো বই ইতিমধ্যেই ছাপা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তিন নম্বর বইটা বের হবে।
কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই আমাদের সংসারের ধরনটা বুঝে উঠতে পারে না।
আমার স্ত্রীকেও ওর অফিসে নানা কথা শুনতে হয়।
তবে আমাদের দু'জনের মধ্যে এতটাই ভালবাসা রয়েছে, যে আমরা এগুলোকে পাত্তাই দিই না।
আমার বড় দুই ভাই অবশ্য আমার এই ঘর-সংসার সামলানো নিয়ে কিছু বলে না, তবে আবার প্রশংসাও করে না কখনও। কিন্তু পরিবারের অন্য মহিলারা দেখেছি আমাকে বেশ সম্ভ্রম করেন।
যখন এমন কিছু আপনি করবেন, যেটা অন্যদের থেকে আলাদা, তখন প্রথমে মানুষ মজা করবে, তারপরে সমালোচনা করবে, আর অবশেষে মেনে নিতে শুরু করবে।
আমি এখন সেই প্রথম ধাপটায় রয়েছি।"
সূত্রঃ বিবিসি

বৌদ্ধ ধর্মগুরু যখন গুরুত্বর যৌন নির্যাতনকারী

দালাই লামার পর সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সোগিয়াল রিনপোচের (৭১) বিরুদ্ধে গুরুত্বর যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নারী অনুসারীদের সঙ্গে অবাধ যৌনাচার করেছেন। এমন কি নিজে সুন্দরী নারী পরিবেষ্টিত থাকতেন। গড়ে তুলেছিলেন নিজের মতো করে একটি হারেম। এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে এসব তথ্য। কাউকে কোনোভাবে আঘাত করে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বর্তমানে তিব্বতে বসবাস করেন সোগিয়াল রিনপোচে। দালাই লামার পর তাকেই বছরের পর বছর ধরে মানুষ সবচেয়ে বেশি সম্মান জানিয়ে আসছে। তার লেখা বই ‘দ্য তিবেতান বুক অব লিভিং অ্যান্ড ডাইং’ বিক্রি হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি কপি। এই যে মান, সম্মান, যশ, খ্যাতি এর আড়ালে ছিল তার এক অন্ধকার গোপনীয়তা। অভিযোগ আছে, হারেমে তিনি সুন্দরী যুবতী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকতেন। তাদের সঙ্গে গড়ে তুলতেন যৌন সম্পর্ক। এ ছাড়া তাদেরকে ইমোশোনালি ব্লাকমেইল করে নির্যাতন করতেন। তিনি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত করার কথা বলে গড়ে তুলতেন অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। এ বিষয়ে এ মাসের শুরুর দিকে একটি তদন্ত রিপোর্ট বের হয়েছে। তাতে বেরিয়ে এসেছে বহু নারী অনুগামীকে তিনি গুরুত্বর শারীরিক, যৌন ও ইমোশনাল নির্যাতন করেছেন। তিব্বতের বৌদ্ধদের মেডিটেশন স্টোর রিগপা’র অর্থায়নে আইনি প্রতিষ্ঠান লুইস সিলকিন ওই রিপোর্ট তৈরি করে। সোগিয়াল রিনপোচের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ বেরিয়ে আসার পর বৌদ্ধ ধর্মের সাবেক অনুসারীরা এ নিয়ে কথা বলেছেন বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার সঙ্গে। একজন অনুসারী বলেছেন, সোগিয়াল রিনপোচে কিছুটা দানবের মতো। আর কিছুটা হলো শিশুদেরকে নষ্ট করে দেয়া স্বভাবের। দৃশ্যত তিনি যৌনতা, খাদ্য, ধুমপানে আসক্ত। আরেকজন অনুসারী বলেছেন, সোগিয়াল রিনপোচে এবং মেয়েরা সব কিছুই একসঙ্গে ভাবতো। তারা তার ভিতরে প্রবেশ করতো। তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতো। এটাকে পবিত্র বলে ধরে নেয়া হতো। সোগিয়াল রিনপোচের সাবেক একজন অনুসারী ২০১১ সালে তার আচরণ নিয়ে কথা বলেছেন কানাডিয়ান টিভি’তে। এরপরই তার অন্ধকার অধ্যায় বেরিয়ে আসে। ওই অনুসারী দাবি করেছেন, তার সঙ্গে তার এই শিক্ষক অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, এখন আর রিগপা’র সঙ্গে যুক্ত নেই সোগিয়াল রিনপোচে। তিনি কৃতকর্মের জন্য অতীত ও বর্তমান অনুসারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

ইরানে সামরিক মহড়ায় হামলা চালালো কে?

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে সামরিক মহড়ায় হামলা চালিয়েছে এক বন্দুকধারী। ওই হামলায় নিহত হয়েছে এক শিশু ও সাংবাদিক সহ ২৫ জন। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, আমেরিকার পুতুল রাষ্ট্রগুলো ইরানে নিরাপত্তাহীনতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে হামলার দায় স্বীকার করেছে সরকার-বিরোধী আরব সশস্ত্র গোষ্ঠী আহভাজ ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স। কিছুক্ষণ পর জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে। তবে কোনো গোষ্ঠীই এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখায়নি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেন, একটি বিদেশী রাষ্ট্রের অর্থপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই হামলার জন্য আঞ্চলিক সন্ত্রাস-পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রসমূহ ও তাদের প্রভু যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, হামলার পর যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়েছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সরকার-বিরোধী গোষ্ঠীসমূহকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করছে দেশটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা চালায়নি বলে এই সংগঠনগুলোকে এখনও ইউরোপিয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় নিহতদের প্রায় অর্ধেক হলো ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সদস্য।
এর আগে ইরান দেশটির সংখ্যালঘু আরবদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকান্ডে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে।
কারা আদতে এই হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে সাংঘর্ষিক দাবি রয়েছে। ইরানের খুজেস্তানে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকারের স্বপক্ষে এমন সশস্ত্র কিছু গোষ্ঠীর সংগঠন আহভাজ ন্যাশনাল রেসিস্টেন্স এই হামলার দায় স্বীকার করে প্রথমে। সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, তারাই হামলার নেপথ্যে। কিন্তু এই হামলা তারাই চালিয়েছেন কিনা সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি। পাশাপাশি তাদের সংগঠনের সঙ্গে বিদেশী কোনো রাষ্ট্রের যোগসাজশ রয়েছে কিনা তাও স্পষ্ট নয়।
অপরদিকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’র আমাক বার্তাসংস্থা দাবি করেছে, হামলা চালিয়েছে আইএস। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি তারা। অবশ্য এর আগে ইরানে আরও একটি বড় হামলা চালিয়েছে আইএস। গত বছরের জুনে ইরানের পার্লামেন্ট ও ইসলামিক রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মাজারে আত্মঘাতি হামলা চালায় একাধিক আইএস সদস্য। ওই হামলায় ১৮ জন নিহত হয়।
ইরানের সরকারী ও সামরিক কর্মকর্তারা উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে আঙ্গুল তাক করেছেন। এই সবগুলো দেশের সঙ্গেই ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করেছে দু’টি উপসাগরীয় দেশ। এটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় কোনো দেশ। তবে সংঘাত-কবলিত ইয়েমেনে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদেরকে ইরান সমর্থন দিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অভিযোগ করে আসছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বুহ মনসুর হাদির সরকারের পক্ষে সামরিকভাবে সক্রিয় আছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

দুই বন্দরে ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না

বাগেরহাটের মংলা সমুদ্র বন্দর ও লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে ব্যাপক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুই বন্দরে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে দাবি করে টিআইবি জানায়, ঘুষ ছাড়া সেখানে কোনো সেবা মেলে না। আর শুল্ক দপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। ‘মংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন: আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবি’র গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন টিআইবির কর্মকর্তা মনজুর ই খোদা ও মো. খোরশেদ আলম।
টিআইবির গবেষণায় বলা হয়, পণ্য আমদানি-রপ্তানি কাজে মংলা স্থলবন্দরের কাস্টম হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকা ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ আদায় করছে। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মংলা বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তারা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হাতিয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ চার কোটি ৬১ লাখ টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আদায় করেছে। আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে মংলা কাস্টম হাউজে প্রায় প্রতিটি ধাপে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করা হয়। এই সময়ে আমদানি করা গাড়ির শুল্কায়নের ক্ষেত্রে কাস্টম হাউজে প্রতি গাড়ি চার হাজার টাকা এবং গাড়ি ছাড়ের ক্ষেত্রে মংলা বন্দরে ১ হাজার ৭১৫ টাকা ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ আদায় করা হয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মংলা কাস্টম হাউজে জাহাজ আগমন-বহির্গমনের সময় ৮ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেয়া হয়। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয় ২১ হাজার টাকা। এছাড়া পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে বন্দরে বিকাল ৫টার আগে ৬০০০ এবং পরে ৭২০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন নিয়েও গবেষণা করেছে টিআইবি। বুড়িমারী স্থলবন্দরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, এই বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায়ে কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র এবং পণ্যের ধরন, গুণগত মান, ওজনসহ সবকিছু সঠিক থাকা সত্ত্বেও পণ্য ছাড়ের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে অলিখিতভাবে নির্ধারিত ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে হয়। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পণ্যের মান, ধরন বা ওজনে সমস্যা থাকলে, অথবা শুল্ক ফাঁকি দেয়ার ক্ষেত্রে ঘুষের পরিমাণ পরস্পরের দরকষাকষির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, বুড়িমারী বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপে বিল অব এন্ট্রি প্রতি গড়ে ন্যূনতম ২০৫০ টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বা ঘুষ হিসেবে দিতে হয়। একইভাবে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপে বিল অব এক্সপোর্ট প্রতি গড়ে ন্যূনতম ১৭০০ টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে দিতে হয়।
এতে আরো বলা হয়, বুড়িমারী স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশন আমদানি ও রপ্তানির জন্য বিল অব এন্ট্রিতে দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আদায় করা হয়েছে এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৮ লাখ টাকা নিয়েছে বলে হিসাব দেখিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্য আমদানি-রপ্তানির সময় ব্যবহৃত ট্রাক থেকে বুড়িমারীর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা নিয়েছে ৫ কোটি চার লাখ টাকা। এখানে আমদানি পণ্যের প্রতিটি চালানের (বিল অব এন্ট্রি) বিপরীতে শুল্ক স্টেশনে ১ হাজার ৭৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। রপ্তানির বেলায় এটি দেড় হাজার টাকা। আবার আমদানি করা পণ্য ছাড় করতে স্থলবন্দরের কর্মকর্তাদের ৩০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। রপ্তানিতে এই ঘুষ ২০০ টাকা।
এই দুই বন্দরে দুর্নীতি প্রতিরোধে পণ্যের শুল্কায়ন, কায়িক পরীক্ষণ, পণ্য-ছাড় এবং জাহাজের আগমন-বহির্গমন প্রক্রিয়া অনুমোদনে কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদান নিশ্চিত করা, সকল পর্যায়ে অটোমেশন এবং পেপার-লেস অফিস প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি সুপারিশের কথা জানিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আমদানি হওয়া গাড়ির ৬০ শতাংশ মংলা বন্দর দিয়ে আসে। এছাড়া ক্লিনকার, সার, কয়লা, এলপি গ্যাস আমদানি করা হয় এই বন্দর দিয়ে। রপ্তানি হয় চিংড়ি, পাট, সিরামিক ইত্যাদি পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছর মোংলা বন্দর ২২৭ কোটি টাকা ও মংলা কাস্টমস ৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা আয় করে। অন্যদিকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে বোল্ডার, সবজি বীজ, ভুট্টা, পিয়াজ ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়। তবে আমদানি পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পাথর। ২০১৬-১৭ অর্থবছর বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মংলা বন্দর ও বুড়িমারী স্থলবন্দরে যোগসাজশে ও বলপূর্বক দুর্নীতি হচ্ছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে সেবাগ্রহীতারা দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। এসব দুর্নীতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত। তারাও সুবিধা পায় বলে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা দেখেছি, আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন করার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতা ও দাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমানো গেলে দুর্নীতি কমে যায়। তবে সেই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সুফল পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর হতে আমদানি পণ্য দেশের বিভিন্নস্থানে পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া করার ক্ষেত্রে বুড়িমারী ট্রাক টার্মিনালে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ট্রাক প্রতি প্রায় ৯০০ টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করে নিচ্ছে। দালালের সাহায্য ছাড়া বুড়িমারী হতে ট্রাক ভাড়া পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে দালালকে ট্রাক প্রতি ৪০০ হতে ৫০০ টাকা বকশিশ দিতে হয়। এ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০টি হিসেবে বছরে প্রায় ৬০০০টি পণ্যবাহী ট্রাক এই টার্মিনাল হতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করে। আর এই হিসেবে দেখা যায়, প্রতি বছর এই টার্মিনাল হতে ন্যূনতম প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায় করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্দরের এই দুর্নীতি আইনের চোখে প্রমাণিত না, যে কারণে আমরা এটাকে অভিযোগ বলছি। যারা প্রত্যক্ষভাবে দুর্নীতির শিকার হয়, নিজেরাও দুর্নীতির অংশীদার হয়ে যাচ্ছে তাদের তথ্য এবং অন্য অংশীজন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করেছি। আমাদের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রমাণিত বিধায় আমরা এটাকে (দুর্নীতি) বলছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বলেন জোর করে টাকা নিচ্ছি না, তারা তো বিভিন্নভাবে সেটা ব্যাখ্যা করেন। এটাকে অনেকে স্পিড মানি বলে থাকেন। আমাদের সরকারের একাংশ থেকেও আমরা সেটা শুনে থাকি। তবে আমরা সেটাকে দুর্নীতিই বলি।
‘বকশিশ হিসাবে যে অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয় সেটা খুশি হয়ে দিচ্ছি এটা কেউ স্বীকার করবে না। তারা কিন্তু জিম্মি হয়ে দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন এবং জিম্মি হয়ে দুর্নীতির অংশীদারও হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের জাতীয় খানা জরিপে ৮৯ শতাংশ মানুষ যারা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা বলেছেন, ঘুষ না দিলে আমরা সেবা পাবো না, কাজেই ঘুষ দিতে বাধ্য হই’ যোগ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি কমবে না যদি রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেয়া হয়।

ভয়ঙ্কর কিশোর নিলয় by আশরাফুল ইসলাম

হঠাৎ করেই কিশোরগঞ্জ শহরে আলোচনায় চলে আসে দুর্ধর্ষ কিশোর গ্যাং। শান্ত কিশোরগঞ্জে নেমে আসে অস্থিরতার পদধ্বনি। মুখোশধারী সশস্ত্র কিশোর সন্ত্রাসীরা নেমে আসে শহরের রাস্তা আর অলিগলিতে। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশের বাসাবাড়ি-দোকানপাট শহরজুড়ে চালায় একের পর তাণ্ডব। আতঙ্ক ভর করে শহরবাসীর মাঝে। একাধিক সন্ত্রাসী ঘটনার পরও অধরাই রয়ে গিয়েছিল কিশোর গ্যাংটির হোতাসহ সদস্যরা। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়েছে দুর্ধর্ষ এই কিশোর গ্যাংটির হোতা সামাউল হক নিলয় (১৯)। গত ১১ই সেপ্টেম্বর শোলাকিয়া ঈদগাহ রোড রেলক্রসিং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ। নিলয়ের গ্রেপ্তারের পরই বেরিয়ে আসে আরো এক ভয়ঙ্কর তথ্য। কেবল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই নয় এই গ্রুপটি জড়িত ছিল কিলিংয়েও। নিলয়ের নেতৃত্বেই গত ৯ই এপ্রিল রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার তেরিপট্টি এলাকায় নৃশংস হামলায় প্রাণ হারায় কলেজছাত্র রাজা। কিশোর গ্যাং হোতা সামাউল হক নিলয় কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ের লালু বাড়ির গলির মো. কাজল মিয়ার ছেলে। সে শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। গ্রেপ্তারের পর আদালতের আদেশে সামাউল হক নিলয়কে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিলয় জানায়, তার গ্রুপে সমবয়সী একশ’র বেশি কিশোর নেশাগ্রস্ত হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। মানুষ ভয় পেলে তাদের আনন্দ বেড়ে যায়। নেশার টাকা বাবা-মার কাছ থেকে কৌশলে নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই ভয়ঙ্কর অ্যাকশনে যায়। কখনো তার বন্ধুদের সঙ্গে কারো কোনো ঝগড়া-ঝাটি হলে সবাই সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। সিসি ফুটেজে দেখা যায়, বড়বাজার তেরিপট্টি মোড়ে রাজা হত্যার সময় ১৬/১৭ জন কিশোর মুখোশ পরে আনন্দের সঙ্গে কোপাচ্ছে। রাজা হত্যার পর তাদের সাহস আরো বেড়ে যায়। তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, পুলিশ সাধ্যমত সন্ত্রাস নির্মূল ও কিশোর অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করছে। পুলিশের একাধিক অভিযান পরিচালনা করে ইতিমধ্যে নিলয়ের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে আছে। এছাড়া কিশোর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত।

চট্টগ্রামে থাকছে না মৃত্যুকূপ ‘সেপটিক ট্যাঙ্ক’



শুধু বর্জ্যের ভাগাড় নয়, মৃত্যুকূপও ‘সেপটিক ট্যাঙ্ক’। তাই বর্জ্যের দূষণ কমাতে এবং মানুষ বাঁচাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও থাকছে না সেপটিক ট্যাঙ্ক। সেপটিক ট্যাঙ্ক তুলে নেয়ার এমন উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এমনটাই বললেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ। তিনি জানান, মানুষ ও গৃহস্থালির সব বর্জ্য আর সেপটিক ট্যাঙ্কে নয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে সব বর্জ্য চলে যাবে সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে।
ফলে বাসা-বাড়ির কোনো পয়োঃবর্জ্য নালা ও খালে যাবে না, হবে না ভরাট। আর কর্ণফুলী ও হালদা নদীও হবে না বর্জ্যের ভাগাড়। দূষণমুক্ত হবে নালা, খাল, নদী। নির্মল ও দুর্গন্ধমুক্ত হবে পরিবেশ। নষ্ট হবে না প্রাকৃতিক ভারসাম্য। এমনকি সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে আর ঘটবে না প্রাণহানিও। আর সেপটিক ট্যাঙ্কমুক্ত চট্টগ্রাম মহানগরী দেখা যাবে ২০২৩ সালেই। তিনি বলেন, রান্নাঘরের ও গোসলখানার ব্যবহার্য পানি এবং টয়লেটের লাইনের পানি ও বর্জ্য ধারণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে গড়ে তোলা সেপটিক ট্যাঙ্কগুলো এখন মৃত্যুকূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় পানির তোড়ে সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা উঠে গিয়ে সেখানে চলাচলরত মানুষ ডুবে মরছে।
ফলে সেপটিক ট্যাঙ্ক নয়; প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাসটার প্ল্যানের আওতায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনও পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন কাজ নগরীর হালিশহর আনন্দবাজার এলাকায় ১৬৫ একর জায়গার ওপর চলছে। তিনি বলেন, পানি প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরীকে ১১টি জোনে ভাগ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জোনগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি, বাটালিহিল, মাঝিরঘাট, মাদারবাড়ী, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, আমবাগান, নয়াবাজার, চৌমুহনী, উত্তর হালিশহর, হালিশহর আনন্দবাজার এলাকা। এরমধ্যে প্রাথমিক প্রকল্পের আওতায় ছয়টি জোনে ছয়টি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হবে এবং পুরো নগরীতে দুটি ফিকেল স্ল্যাজ শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। প্রথম প্রকল্পের আওতায় নগরীর ২০ লাখ মানুষ সবার আগে এই সুবিধা পাবে। দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় ৫টি জোনে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করা হবে। ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, সুয়্যারেজ প্রকল্পের আওতায় বৃষ্টির পানি চলে যাবে ড্রেনে, আর বাকি সব পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্যুয়ারেজ লাইনে যাবে।
এজন্য পুরো নগরীতে সর্বোচ্চ ২০ ইঞ্চি ও সর্বনিম্ন ৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হবে। এসব পাইপ দিয়ে বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে যাবে। তিনি বলেন, দুর্গন্ধমুক্ত চট্টগ্রাম নগরীর পরিকল্পনা বহুদিনের। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কবিহীন নগরে পরিণত করা হবে চট্টগ্রামকে। যেসব এলাকায় স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পাইপলাইন বসানো যাবে না, সেসব এলাকায় দুটি খালের মাধ্যমে স্ল্যাজগুলো প্রবাহিত করে পাইপলাইনে প্রবেশ করানো হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ শামীম বলেন, বর্তমানে আমরা ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেপটিক ট্যাঙ্কের ডিজাইন দেখি এবং তা নিশ্চিত করা হয়। ওয়াসা যদি স্যুয়ারেজ প্রকল্প চালু করে তাহলে আর সেপটিক ট্যাঙ্কের প্রয়োজন হবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, গত বছরের মার্চে ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্যুয়ারেজ নিয়ে প্রকল্পের জন্য ওয়াসাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এরপর থেকেই ওয়াসা সক্রিয় হয়। অথচ আরও অনেক আগে নগরীতে স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে দেরিতে হলেও সুয়্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কিছু এলাকাতো দূষণ থেকে মুক্তি পাবে।
তিনি বলেন, নগরীর পয়ঃবর্জ্য নালা ও খালের মাধ্যমে কর্ণফুলী ও হালদায় গিয়ে পড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩৩ কোটি লিটার বর্জ্য কর্ণফুলী ও হালদা হজম করছে। এতে নদী দুটি ক্রমশ দূষিত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ। ভরাট হয়ে মারমুখী হয়ে উঠছে নদী দুটি।
ওয়াসার তথ্যমতে, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়্যারেজ অথরিটি (ওয়াসা) নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য কাজ করলেও সুয়্যারেজের বিষয়ে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পর এসে ওয়াসা সুয়্যারেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন প্রকল্প হাতে নেয়।
এ প্রসঙ্গে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, এতদিন নগরীতে পানির ঘাটতি ছিল। এখন আমরা অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির ঘাটতি কাটিয়ে উঠছি। তাই এখন স্যুয়ারেজের দিকে নজর দিয়েছি।

কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বললেন অমিত শাহ

বাংলাদেশি অভিবাসীদের উইপোকার (টারমাইটস) সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। একই সময়ে তিনি ভোটার তালিকা থেকে তাদের প্রত্যেকের নাম বাদ দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার রাজস্থানের সাবাই মাধোপুরে এক জনসভায় এ ঘোষণা দেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। অমিত শাহ সম্প্রতি আসামে প্রকাশিত খসড়া নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)’র উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি সরকার প্রায় ৪০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে শনাক্ত করেছে। তিনি রাজস্থানে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারকে অনড় ‘অঙ্গদ কা পা’ বলে উল্লেখ করেন। রামায়ণের একটি চরিত্রের উল্লেখ করে তিনি এমনটা বলেন।
ওই চরিত্রে রাবনের পা পর্যন্ত কেউ নড়াতে পারে না। তাই রাজস্থানে ক্ষমতায় থাকা বিজেপিকে তেমন অনড় অবস্থানে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসের সমালোচনা করেন। বলেন, কংগ্রেস দেশের ভালোর জন্য কিছুই করতে পারে না। এর কারণ, এ দলে একজন নেতাও নেই। তাদের নীতি বা পলিসিও নেই। তিনি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ‘রাহুল বাবা’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি যখন বিজেপি কি কাজ করেছে সেই খবর নিচ্ছিলেন তখন জনগণ তাকে বলতে চেয়েছে, তার পরিবারের চার প্রজন্ম কী করেছে।

টান টান উত্তেজনা, সতর্ক নিউ ইয়র্ক পুলিশ, প্রবাসীদের দলাদলি নিয়ে প্রশ্ন by মিজানুর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ কমিউনিটিতে পাল্টাপাল্টি অবস্থা বিরাজ করছে। চলতি মাস জুড়েই সরগরম বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রাণকেন্দ্র কুইন্স ব্যুরোর জ্যাকসন হাইটস। গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন ব্যানারে মিছিল-মিটিং হচ্ছে। সরকার প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন ও বিজ্ঞাপন প্রচার করছে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র ও নিউ ইয়র্ক শাখার নেতৃবৃন্দ। বিরোধী বিএনপির কমিটি না থাকলেও তাদের তরফে পাল্টা বক্তৃতা- বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যানারে। তারা সরকার প্রধানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানের পুরো সময় প্রতিবাদী কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রিডম অব স্পিচ বা বাকস্বাধীনতার মুক্ত চর্চার  দেশ যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগতম জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদের আয়োজন থাকাটাকে অন্যায় হিসাবে দেখা হয় না। এ নিয়ে এখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা  গোয়েন্দা সংস্থা কারও কোনো মাথাব্যথা  নেই। তবে তারা আগাগোড়ায় সতর্ক যে বিষয়টি নিয়ে তা হলো স্বাগত জানানো বা প্রতিবাদ- কোনো কর্মসূচিকে ঘিরে যেন সহিংসতা না হয়! এমনটাই বলছিলেন চলতি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর বাস্তবায়নে বিশেষত সরকার প্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করা এক বাংলাদেশি কর্মকর্তা।
তার বক্তব্যের সঙ্গে দলমতনির্বিশেষে সহমত পোষণ করে প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি। এখানে অনেক বছর ধরে (অভিবাসী হিসেবে) থাকা মৌলভীবাজারের মাতারকাপন এলাকার আবদুল মুমিন চৌধুরীও এমনটাই বলছিলেন। তার মতে, কমিউনিটি ম্যাটারগুলো নিউ ইয়র্ক পুলিশ বুঝে। তারা এ নিয়ে এতটাই ওয়াকিবহাল যে, অনেক সময় সিরিয়াস মারামারি হলেও তারা এতে জড়ায় না। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আয়োজন নিয়ে জ্যাকসন হাইট এলাকায় যুবলীগের দুই গ্রুপের মারামারির যে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সে প্রসঙ্গে মুমিন চৌধুরীর মতে, ওই ঘটনাও পুলিশ হালকাভাবে নিয়েছে। ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে গিয়েছিল, পরে অবশ্য তাদের সতর্ক করে  ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রবাসী মুমিনই নন, প্রায় সবাই একমত যে এমন ঘটনায় ব্যক্তির জেল-জরিমানা না হলেও কমিউনিটির ইমেজে বিরাট প্রভাব পড়ে। যা ইমিগ্রেশন বা অন্যান্য কাজে গেলে টের পাওয়া যায়। বর্তমানে স্থায়ীভাবে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হক চন্নু বরাবরই সহিংসতাবিরোধী। এ নিয়ে কমিউনিটিতে তার কাজও রয়েছে।
তিনি মটিভেশনের কাজ করেন। তিনি বিষয়টাকে  দেখেন ভিন্নভাবে। তার কাছে এমন ঘটনার জন্য এককভাবে কমিউনিটি দায়ী হয়। তিনি বলেন, আমি রাজনীতির মানুষ, আর সমাজ বিজ্ঞান বা নীতির শিক্ষক। আমি বিষয়টার গোড়ায় যেতে চাই। প্রবাসীরা ভিন গ্রহের কেউ নয়, তারা যে কমিউনিটি  থেকে আসে সেটাই বিলং করে। এটা রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। কিন্তু পরিবর্তনের চেষ্টা থাকতে হবে। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল- সর্ব মহলের সচেতনতা জরুরি।  সেটি সরকারি দল বা বিরোধী পক্ষ সবার জন্যই। প্রবাসে সরাসরি একটি দলের শাখা থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ওই প্রবাসী সমাজ বিজ্ঞানী। গোলাপগঞ্জের পশ্চিমভাগ এলাকার সাইফুর রহমান বলেন, আমি কাকে সমর্থন করি তা সবাই জানেন। অন্তত আমার এলাকার লোকজন জানেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আমার ইউনিয়নে নির্বাচনও করতে পারি। কিন্তু আমি একটা বিষয় বুঝি না ভাই, আমার দল বা বিরোধী যারা যে মতেরই হোন না কেন? আমেরিকার মতো জায়গায় এসে কেন আমাদের মারামারি করতে হবে? তাও সামান্য পদ-পদবির জন্য।
যেভাবে চেয়ার ছোড়া হয়েছে, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, ধরে নিয়ে গেছে,  সেই ভিডিও আবার ভাইরাল করে দিয়েছে বিরোধীরা। এটা বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য বদনামের। আমি মনে করি, আমার দলের নেতারা এ বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। তার সঙ্গে থাকা নিউ ইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাসরত মৌলভীবাজারের দুর্লভপুর গ্রামের আবদুল মালিকও এ নিয়ে সহমত পোষণ করেন। মালিক অবশ্য রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় তেমন আগ্রহী নন। তার মতে, আমরা এখানে স্থায়ীভাবে থাকছি। বাংলাদেশ বা বাংলাদেশি হিসেবে নিউ ইয়র্ক পুলিশের রেকর্ডে আমাদের কিছু পয়েন্ট রয়েছে।
একটা সুনাম আছে। এটা নষ্ট হয়ে গেলে পদে পদে আমাদের বিপদে পড়তে হবে। এ দেশের কেউ যদি ক্রাইম না করে, তার কাগজপত্র ঠিক না থাকলেও তাড়িয়ে দেয় না। মানবতার দিকটা এখানে প্রবল। সেটা যদি কেউ না বুঝে তা হলে কিছু করার নাই। গত সন্ধ্যায় ম্যানহার্টনে এক আড্ডায়ও এ নিয়েই কথা হয়। একজন একটি খবর দেখিয়ে বলেন- দেখুন রাজনীতির কি অবস্থা। নিউ ইয়র্কে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে নাকি থাকবে মহানগর আওয়ামী লীগ! বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে এ ঘোষণার আড়ালে থাকা রাজনীতি নিয়ে। সেটাই দেখাচ্ছিলেন ওই কর্মকর্তা। বলেন, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণাটি দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তিনি কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন। তার ভাষ্য ছিল এরকম ‘যুক্তরাষ্ট্রে জননেত্রী  শেখ হাসিনা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ইমেজ বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দহরম-মহরম দেখা যাচ্ছে।
এ দু’জনের ব্যাপারেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার প্রয়োজন রয়েছে।’ এখানে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিস্টার চৌধুরী বলেন, বিএনপি-যুবদল সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কে শেখ হাসিনা বিরোধী যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তা সুশৃঙ্খলভাবে রুখে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখানোর নামে যদি কোনো ধরনের অশালিন-অসভ্য আচরণের ঔদ্ধত্য দেখানো হয়, তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে প্রচলিত আইনেই।” জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি  সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া চৌধুরী এ-ও জানান, এয়ারপোর্টে নেত্রীকে বিপুল অভ্যর্থনা জানানো হবে। জাতিসংঘে তার ভাষণ চলাকালে বাইরে শান্তি সমাবেশও করবে মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে কর্মসূচি  ঘোষণার ওই সংবাদ সম্মেলনে তার দলের  জ্যেষ্ঠ নেতাদের ঘায়েলই তার উদ্দেশ্য ছিল জানিয়ে ওই আড্ডায় বলা হয়- দেখুন পদ- পদবি লড়াই থেকে কতটা নোংরামি হচ্ছে। একজন অন্যজনকে কীভাবে ঘায়েল করছে।
আওয়ামী লীগের ওই নেতাই  বলছিলেন- ‘তবে দলের পদ-পদবি  দেখিয়ে বছরের ৯ মাসই ঢাকায় অবস্থানকারী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মাঝেমধ্যে নিউ ইয়র্কে ফিরে দলের হাইকমান্ডের নাম ভাঙিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিষিয়ে তোলে আখের গোছাতে চান। সভাপতি শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরেও একই পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটানো হয়েছে’-অভিযোগ করেন তিনি তার সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে। সেখানে এ-ও বলা হয় তাদের সংবাদ সম্মেলন ভণ্ডুল করার জন্য আরেক চৌধুরী নাকি সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে মহড়া দিচ্ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা নাকি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে গেছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাদের লিখিত এমন অভিযোগও করেন ‘পদ-পদবি নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করে দু’জন ব্যক্তি তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত। তারা প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’ এত গেল সরকারি দল আওয়ামী লীগের অবস্থা। বিরোধী বিএনপি! নিউ ইয়র্কে দলটির কোনো কমিটি নেই। যারা পুরনো তারা ৫-৬টি উপদলে বিভক্ত। এক দল অন্য দলকে ঘায়েলে ব্যস্ত। সেখানে আবার অন্য খেলা। একদল জামায়াতঘেঁষা, অন্যদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলার অভিযোগ। ওই অভিযোগগুলো নাকি দলের হাই কমান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। বিএনপি’র প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিউ ইয়র্কে কাজ করা এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, কেউ কারও নেতৃত্ব মানে না।
যে যার মতো করে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটা সংবাদ সম্মেলনের খবরও এসেছে। ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তৃতার সময় নাকি তারা বাইরে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা দেখাবে। তারা নাকি এ জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছে। অবশ্য বিরোধী মহলের কর্মসূচির বিষয়ে আগাগোড়ায় সতর্ক রয়েছে সরকার। দলীয়  নেতারাও আছেন সক্রিয়। তারা  খোলামেলাই বলছেন, প্রতিবাদের নামে জামায়াত-শিবিরের প্ররোচনায় বিএনপি যদি কোনো অসভ্য-অগণতান্ত্রিক আচরণের  চেষ্টা করে তাহলে তার সমুচিত জবাব  দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় তারা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকবেন। গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি ওই সব বক্তব্যের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে পৌঁছাচ্ছেন। স্থানীয় সময় দুপুরে তার নিউ আর্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট পৌঁছার কথা।

ঐক্যের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ by কাজী সোহাগ

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যে দাবি তুলেছে তা মানা সম্ভব নয় বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে, এ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, দেশে যে একটি নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচিতেই তা প্রমাণ হয়। তবে, তারা যেসব দাবি তুলেছে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এসব দাবি অযৌক্তিক। দলটির নেতারা বলছেন নতুন এ রাজনৈতিক জোটের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তারা কি ধরনের কর্মসূচি দেয় সেটা এখন দেখার বিষয়। বিরোধী জোট যদি সহিংস আন্দোলনের দিকে যায় তাহলে জনগণ ও সরকার তার ব্যবস্থা নেবে। জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে বিএনপি থাকায় তাদের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম বড় দল আওয়ামী লীগ। অথচ জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগ নেই।
তাহলে এটা কিসের জাতীয় ঐক্য হলো। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জোটের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিতে কেন্দ্র থেকেই বলা হয়েছে। তবে, নতুন এ জোট গঠনের প্রক্রিয়া সামনে নির্বাচন বিষয়ে আওয়ামী লীগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন নেতারা। আর তাই নির্বাচন সামনে রেখে ১৪ দলের বাইরে আরো কিছু রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাসীন জোটে নিয়ে আসার চিন্তা চলছে। বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলে নির্বাচনে আসলে এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলও বড় জোট নিয়েই নির্বাচনের মাঠে নামতে চায়। এদিকে, এই মুুহূর্তে জোট মহাজোটের চেয়ে দলীয় প্রচার প্রচারণার ওপর জোর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী সভা সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশে সফর শুরু করেছেন। নির্বাচন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
শনিবার ডান-বাম-মধ্যপন্থি সব ধারার দলের নেতাদেরই দেখা গেছে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে। ওই সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি সাত দিনের একটি আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য। বলা হয়েছে দাবি মানা না হলে ১লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হবে। নির্বাচন আর রাজবন্দিদের মুক্তির ইস্যুতে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সমাবেশ থেকে।
এদিকে, জাতীয় ঐক্যের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলকে বাদ দিয়ে যে ঐক্য হবে, তা হবে জাতীয়তাবাদী সামপ্রদায়িক ঐক্য। এই ধরনের ঐক্য জনগণের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এতদিন জোট গঠন প্রক্রিয়ার রাজনীতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সূচনাতেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই প্ল্যাটফর্মে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ও নাগরিক সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি উঠে আসায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্র দেখছে তারা।
দলটির নেতারা মনে করছেন, নাগরিক সমাবেশে বিএনপি নেতাদের অংশগ্রহণ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে জাতির কাছে। তাই এই ঐক্য প্রক্রিয়া জাতির কাছে তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া তো আর জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। আগামী কয়েক দিন তাদের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তখন স্পষ্ট হবে এটা কি সন্ত্রাসীদের ঐক্য হলো, যুদ্ধাপরাধীদের ঐক্য হলো, বিরোধী দলের ঐক্য হলো না কি সংবিধান বিরোধীদের ঐক্য হলো।
তিনি বলেন, এরইমধ্যে যুক্তফ্রন্টকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। যদি যুক্তফ্রন্টের উদ্দেশ্য হয় আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক করার তাহলে আমরা তাকে সমর্থন করি। আর যদি যুক্তফ্রন্ট বা জাতীয় ঐক্য নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, ষড়যন্ত্র করে, সংবিধান নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাহলে দেশের জনগণ ও সরকার সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তাদের কর্মসূচি প্রসঙ্গে ফারুক খান বলেন, আন্দোলন হচ্ছে গণতন্ত্রের অংশ। জনগণকে নিয়ে তো আন্দোলন করতে হবে। তারা অতীতে যে সহিংস আন্দোলন করেছে তা আমরা দেখেছি। ওই ধরনের সহিংস আন্দোলনও তারা করতে পারে। তাহলে আওয়ামী লীগের করার কিছু নেই। সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দলের অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্রাচার্য মানবজমিনকে বলেন, সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ। সেই দলকে বাদ দিয়ে তো জাতীয় ঐক্য হবে না।
যেটা হয়েছে ওটাকে জাতীয় ঐক্য বলে না। ওই ঐক্যে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগেরই কোনো দলই নেই। ড. কামাল হোসেনের মতো অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি তার কোনো দল নেই। ৫-৭ জন কেউ নির্বাচনে পাস করে না। বিএনপির আমলে যিনি প্রেসিডেন্ট (ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী) ছিলেন উনার অবস্থাও তাই। এর বাইরে যারা আছেন তারা কেউই কোনো সময় পাস করার মতো নন। তাই এটাকে জাতীয় ঐক্য বলা যায় না। জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যেসব দাবি জানিয়েছেন বিশেষ করে ৩০ তারিখের মধ্যে এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে- এগুলো আসলে মানা সম্ভব না। কারণ নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সেখানে তাদের ওই শর্ত আমরা মানতে রাজি না। তিনি বলেন, যে আলোচনাই হোক আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় রয়েছে এবং তাকে (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় রেখেই নির্বাচন হবে। এর বাইরে আমাদের সংবিধানের বহির্ভূত কোনো জিনিস আমরা মেনে নেব না।

ইতিবাচক অগ্রগতি দেখছে বিএনপি by কাফি কামাল

জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখছে বিএনপি। কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ‘জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েন’-এর মতো যেসব দাবিকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন তা এখন নিজেদের দাবি হিসেবে গ্রহণ করেছে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দলগুলো। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়ে একমত পোষণের পাশাপাশি নিজেরাই সে দাবি উচ্চারণ করেছে নাগরিক সমাবেশে। ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে অন্য আরেকটি জায়গায়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় একটি টানাপড়েন ছিল এতদিন। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি ও স্বতন্ত্রভাবে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার অংশগ্রহণে বিএনপির কৌশলটি দুইপক্ষেই পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। যার প্রেক্ষিতে, জোটের ঐক্য ধরে রেখে জাতীয় ঐক্যে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বিএনপির সামনে। আর সন্দেহ-সংশয়ের ঘূর্ণাবর্ত পেরিয়ে নাগরিক সমাবেশে বিকল্প ধারা সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অংশগ্রহণটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহলে। এ ছাড়া জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে কোনো জটিলতা নেই এখন। প্রচারণা ছিল, নেতৃত্ব নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের মধ্যে এবং এই দুইজনের সঙ্গে বিএনপির কিছুটা মতদ্বৈততা আছে। কিন্তু শনিবারের সমাবেশে সে প্রচারণা হাওয়ায় উড়ে গেছে। বিএনপি নেতারা বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত হবে চলমান জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ও আন্দোলন। শনিবারের নাগরিক সমাবেশ শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটিসহ দলটির নানা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জোট নেতারা এমন মনোভাব পোষণ করেছেন।
জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সার্বিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক বিবেচনা করেই শনিবারের নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদল। সেখানে বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে ঐক্যের উদ্যোক্তাদের নানা বিশেষণে সম্মান দেখান। বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে ড. কামাল হোসেনের ব্যাপারে বলেছেন, ‘জাতির এ চরম দুর্দিনে তিনি দেশবাসীকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছেন’। উদ্যোক্তাদের ‘ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা’ জানিয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ড. কামাল হোসেনকে ‘বাংলাদেশের গৌরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াকে বিএনপি কতটুকু ইতিবাচকভাবে দেখছে তা তাদের বক্তব্যেই প্রকাশ পেয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ঐক্যের পথে একধাপ এগিয়ে গেছি।’ কারাগার থেকে খালেদা জিয়া ঐক্যের তাগিদ দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নাগরিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে দেশকে রক্ষা করার প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।’
জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার গতি-প্রকৃতি ও কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে রয়েছে নানা কৌতূহল। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের ক্ষেত্রে ‘আন্দোলন’ শব্দটির ভেতর দিয়ে সরকারের তরফে প্রচারণা চালানো হয় একটি নেতিবাচক আশঙ্কার। এবার নতুন ধারার একটি আন্দোলন করতে চায় জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার দলগুলো। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সে আন্দোলন এগিয়ে যাবে। কর্মসূচিতে ধ্বংসাত্মক প্রকাশ নয়, বরং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিপুল অংশগ্রহণের মাধ্যমে চাপ তৈরি করা হবে সরকারের ওপর। জনমতের ভিত্তিতে অনুকূলে আনা হবে কূটনীতিক সমর্থন। জনমতের চাপেই খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি ও সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তবে গণতান্ত্রিক রীতি মেনে প্রথমে আলোচনার পথে হাঁটবে, পরে কড়া কর্মসূচি দেয়া হবে। তারই অংশ হিসেবে নাগরিক সমাবেশের যৌথ প্রস্তাবে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণে সরকারকে ৩১শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়ার পাশাপাশি দাবি পূরণ না হলে ১লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সমাবেশের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের নেতারা। আগামীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া হবে আন্দোলন। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে যেভাবে সারা দেশে ধরপাকড় চালাচ্ছে বৃহত্তর ঐক্যপ্রতিষ্ঠা ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সে জন্য কিছু স্যাক্রিফাইস যদি করতে হয়, করতে হবে। সবসময় সবাইকে সামনে আসার কি দরকার। যখন নির্বাচন আসবে তখন রাজনীতিতে নতুন বিবেচনা আসতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির যে অঙ্গীকার সেটা অর্জনের লক্ষ্য পূরণে এ বৃহত্তর ঐক্যের পথযাত্রা জাতীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ঘটনা।
২০দলীয় জোটের একাধিক নেতা জানান, যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম আহূত জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জোটের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে বিএনপি। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও জোটের শরিক দল জামায়াতের ব্যাপারে ঐক্যের উদ্যোক্তাদের মনোভাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। সেসব বৈঠকে নেতারা একমত হন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে বৃহত্তর ঐক্যের বিকল্প নেই। কিন্তু জামায়াত ইস্যুতে বিষয়টি আটকে ছিল বেশকিছুদিন। একদিকে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের তরফে আপত্তি ছিল জামায়াতের ব্যাপারে অন্যদিকে জামায়াতকে বাদ দিয়ে এ ঐক্যের ব্যাপারে সংশয় ছিল জোটসহ বিএনপির একাংশের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে একটি অবস্থানে এসে পৌঁছে বিএনপি। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার পরামর্শ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে এই সমাধানে পৌঁছে দলটি। সিদ্ধান্ত হয়, জোটের শরিক দল হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে ঐক্য ধরে রাখবে বিএনপি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায়। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার তরফে জোটের বেশকিছু দলকে স্বতন্ত্রভাবে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ করায় সহজ হয়ে যায় বিএনপির এ কৌশল। জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াত নেতারাও মনে করেন দেশের চলমান পরিস্থিতি উত্তরণে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।
কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে এ ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে তাদের মনে। আর সন্দেহ-সংশয় থেকে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। দলীয় ফোরাম ও শুভাকাঙক্ষী মহলে তারা এ সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা সন্দেহ করছেন, সরকার সমর্থক কোনো শক্তি এ জোটের গতিপথ ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে পারে। তবে আপাতত এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেবে না জামায়াত। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াবিরোধী কোনো অবস্থানও নেবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পরিস্থিতি মেনেই পরিবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বড় কোনো জটিলতা তৈরি না হলে জামায়াত জাতীয় ঐক্যবিরোধী অবস্থানে যাবে না। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা দলগুলোর নেতারা জানান, জামায়াত ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ও ২০দলীয় জোটের মধ্যে যতটুকু টানাপড়েনের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে বাস্তবে ততটুকু জটিলতা নেই। জাতীয় ঐক্য স্বাধীনতার পক্ষের দল নিয়ে ঐক্য ও আন্দোলন করবে। জামায়াতকে সেখানে যুক্ত করা হবে না। এখন জামায়াতকে কীভাবে হ্যান্ডেল করবে সেটা বিএনপির বিষয়। বিএনপি এখন পর্যন্ত সেটা সফলভাবে হ্যান্ডেল করতে পেরেছে বলেই তারা অংশগ্রহণ করতে পেরেছে নাগরিক সমাবেশে।
২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা ২০ দল জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করি, আমাদের প্রধান শরিক দল বিএনপি জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, আমরাও নাগরিক সমাবেশে দাওয়াত পেয়েছি। সমাবেশে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আমরা ঐক্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আছি। আমাদের প্রত্যাশা- যে ইতিবাচক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার থেকে এ জাতীয় ঐক্যের পথযাত্রা শুরু হয়েছে আগামীদিনের পথচলায় সেটা অক্ষুণ্ন থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির এ ঐক্যে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সৈনিকরা যথাযথ সম্মান পাবে।
২০দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের রাজনীতিতে ২০দলীয় একটি জোটের নেতৃত্ব দেয় বিএনপি। শরিক দলগুলো এ জোটের অধীনে রাজনীতি করে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্যের প্রথম ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের যেসব দাবিগুলোকে সামনে রেখে এ ডাক দিয়েছিলেন এতদিন সেগুলো উচ্চারণ করেছে কেবল বিএনপি ও ২০ দল। এখন দাবিগুলো ক্ষমতাসীন জোট ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও মূলদাবিতে পরিণত হয়েছে। যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের নেতারা কিছু দাবিতে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার ব্যাপারে শনিবার একটি নাগরিক সমাবেশ করেছে। সেখানে তারা যাদের দাওয়াত করেছে তারাই অংশ নিয়েছে। দাওয়াত পেয়ে বিএনপি জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সেখানে সবাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের পরিসর বৃদ্ধিতে একমত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়েছে বিএনপি। মনে রাখতে হবে, এটা একটি আন্দোলনের ঐক্য। ফলে এখানে জটিলতা সৃষ্টির কোনো কারণ নেই।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পথযাত্রা শুরু হয়েছে যেসব দাবির ভিত্তিতে তা অর্জনের আন্দোলনকে জোরদার করবে শনিবারের নাগরিক সমাবেশ। ফলে নাগরিক সমাবেশটি আন্দোলন জোরদারের ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটাকে স্বাগত জানাই। মহানগর নাট্যমঞ্চের নাগরিক সমাবেশে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে তারাই শেষ নয়, আশাকরি দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এ প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হবে। আর এ জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াকে জোরদার করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে সঠিক পথে আনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই শুরু করার কারণে মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে সরকার। তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে কারাগারে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আগেও নেতারা অনেকবার ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু নেতাদের কিছু আচরণে মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, হতাশা তৈরি হয়েছে। আশা করি, এবার নেতারা সে ধরনের কোনো আচরণ করবেন না। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে তা আরো জোরদার হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যোগাবে। যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে তা ইতিবাচকভাবে এগোবে। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত ও সবার অংশগ্রহণে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আদায়ে সক্ষম হবে। যার মাধ্যমে বর্তমান অবৈধ সরকারের পরিবর্তন হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোগে নাগরিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে সূচনা ঘটেছে নবদিগন্তের। এর মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে যে ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগকেও যুক্ত করতে চেয়েছেন; সেখানে আওয়ামী লীগ না এলেও অন্য যারা এসেছেন সেটা অত্যন্ত ইতিবাচক। এর লক্ষ্য যদি হয় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুদ্ধার, তাহলে সে ঐক্যের প্রথম পর্বটি সম্পন্ন হয়েছে। এখন মাঠে গড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে- তাদের ছাড়া জাতীয় ঐক্য কীভাবে হবে? তারা প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যই করে যাচ্ছেন। আমি বলতে চাই, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শাসক দল মুসলিম লীগকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে যদি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় ঐক্য হতে পারে, নব্বইয়ে যদি জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হতে পারে, এখন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হতে বাধা কোথায়? বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন, শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চের নাগরিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে তা বাস্তব রূপ লাভ করেছে। এখন সুনির্দিষ্ট দাবিতে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পালা।