Monday, August 31, 2009

জাপানে পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ

জাপানে আজ রোববার সে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (ডিপিজে) এগিয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের ভোটে বিরোধী এই বাম দলটিই জয়লাভ করবে। এটা হলে প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অর্ধশত বছরের দেশ শাসনের অবসান ঘটবে।
বিভিন্ন জরিপ ফলে দেখা যায়, ডিপিজে নিম্নকক্ষের ৪৮০ আসনের মধ্যে অন্তত ৩০০টিতে জিতবে। সর্বশেষ অন্তত ৮৫ হাজার ভোটারের মধ্যে চালানো জরিপে এ রকম আভাসই মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যেকোনো সময়ের তুলনায় আজ শতকরা ১০ ভাগ বেশি ভোট পড়বে। জাপানে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার রয়েছেন।
ডিপিজে এরই মধ্যে দেশটির ছোট ছোট কয়েকটি পার্টির সমর্থন পেয়ে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এখন পার্টিটির ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ দরকার।

নিউজার্সিতে তাঁবু ফেলবেন না গাদ্দাফি

আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিউজার্সির এঙ্গেলউডে তাঁবু না খাটানোর ব্যাপারে রাজি হয়েছেন লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। নিউজার্সির স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ কথা জানান। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে যাবেন গাদ্দাফি। বিদেশে সফরে গেলে গাদ্দাফি সাধারণত তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করেন।
সফরের সময় এঙ্গেলউডে জাতিসংঘে লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে গাদ্দাফির থাকার কথা। সেখানে তাঁর তাঁবু খাটিয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা এতে আপত্তি জানায়। ১৯৮৮ সালের লকারবি বোমা হামলায় নিউজার্সির অনেক বাসিন্দার স্বজন মারা গেছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া লকারবি হামলার সাজা পাওয়া আসামি আল-মেগরাহিকে লিবিয়ায় বীরোচিত সম্মান জানানোই মূলত নিউজার্সির বাসিন্দাদের এই আপত্তির কারণ।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইয়ান কেলি বলেন, আগে থেকে ব্যবস্থা না নেওয়ায় (গাদ্দাফির) আসন্ন সফরের জন্য এঙ্গেলউডের কোনো স্থান ব্যবহারের সুযোগ নেই।

পাকিস্তানের শীর্ষ ইসলামিক আদালতের নির্দেশ কারাগারে দাম্পত্য সম্পর্কের অধিকার দিতে হবে বন্দীদের

পাকিস্তানের শীর্ষ ইসলামিক আদালত সেদেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের দাম্পত্য জীবন যাপনের সুযোগ করে দিতে দম্পতিদের একান্তে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল, দাম্পত্য সুযোগবঞ্চিত বন্দীরা সমকামী ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরিয়া আদালত তাঁর নির্দেশে বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি সারা দেশের কোনো কারাগারেই বন্দীদের সঙ্গে তাঁদের প্রিয়জনদের একান্ত সাক্ষাতের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’ আন্তর্জাতিক কারাব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখেই পাকিস্তানে বন্দীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর এ নির্দেশ দিলেন আদালত। আদালতের তরফ থেকে এও বলা হয়েছে, এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার প্রত্যেক বন্দীরই রয়েছে। ১৯৯২ সালে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, দেশটির কারাগারগুলোতে উপচে পড়া বন্দী। ফলে প্রায়ই কারাগারের ভেতরে সংঘাতের ঘটনা ঘটে থাকে। ছাড়া দাম্পত্য সুবিধাবঞ্চিত বন্দীরা সমকামিতার পাশাপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে।

অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিকগুলোতেও

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির প্রাচীনতম পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর পাঠকসংখ্যা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক সানফ্রান্সিকো ক্রনিকাল-এর পাঠকপ্রিয়তাও আর আগের মতো নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র ব্যস্ততম নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এবং অর্থনীতিবিষয়ক প্রভাবশালী দৈনিক ওয়ালস্ট্রিট জার্নালও তাদের পাঠক ধরে রাখতে পারছে না।
কিন্তু কেন? অর্থনৈতিক মন্দাই কি পেয়ে বসেছে এসব দৈনিককে, নাকি ইন্টারনেটের এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠককে তুষ্ট রাখতে পারছে না তারা? প্রথম আলোর এই প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সিনিয়র সাংবাদিক তেরেসা স্কোর জানালেন, মানুষের তাত্ক্ষণিক খবর জানার আগ্রহ এবং অর্থনৈতিক মন্দা মূলত ছাপানো পত্রিকার প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মন্দা কেটে গেলে এ অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে—এমন আশা ব্যক্ত করে তেরেসা স্কোর বলেন, এর মধ্যে ভালো দৈনিকগুলো টিকে থাকবে। অপেক্ষাকৃত দুর্বলগুলো হয়তো ঝরে পড়বে। তবে ছাপানো খবরের গুরুত্ব কোনো দিনও ফুরিয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নিখিল ডিউগান বলেন, সব পত্রিকার মতো তাঁর পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কিছুটা কমেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাদের ওয়েবসাইটের পাঠকসংখ্যা। ফলে আর্থিকভাবে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ইতিমধ্যে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এর আধুনিকায়নও করা হয়েছে। তিনি জানালেন, বর্তমানে তাঁদের পত্রিকার কার্যালয় ওয়ালস্ট্রিট থেকে সরিয়ে রকেফেলার সেন্টার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক এবিসি নিউজ-এর নির্বাহী পরিচালক পল আর ডোলন বলেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং টেলিভিশনের খবর প্রচারের কারণে মানুষ পরদিন পাওয়া সংবাদপত্রের দিকে আগ্রহ হারাচ্ছে। কারণ মানুষ যেকোনো খবরই তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে চায়।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার ৪০০ দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা এর থেকে বেশি, এক হাজার ৬০০। এ ছাড়া রেডিও স্টেশন রয়েছে ১৩ হাজার। গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত পত্রিকা। বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার সাংবাদিক। তবে টিকে থাকা সংবাদপত্রগুলো পাঠক ধরে রাখতে নতুন নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। তারা জাতীয় খবরের পাশাপাশি স্থানীয় খবরকেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে। এ ছাড়া অনুসন্ধানীমূলক এবং এক্সক্লুসিভ খবর তো থাকছেই।

আইপিএলে প্রলুব্ধ ক্লার্ক

আইপিএলের প্রলোভন থেকে আর দূরে সরে থাকতে পারছেন না মাইকেল ক্লার্ক। কোটি টাকার এই টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসরে নিজেকে সরিয়ে রাখা অস্ট্রেলীয় সহ-অধিনায়ক জানিয়েছেন, ২০১০ আইপিএলে তিনি অংশ নিতে আগ্রহী।
কেভিন পিটারসেন-অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফদের মিলিয়ন ডলারে বিকোতে দেখে ক্লার্কের মনেও আইপিএলে খেলার ইচ্ছা জাগতে পারে। অবশ্য অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান টাকার চেয়ে বড় করে দেখাচ্ছেন, জাতীয় দলের প্রয়োজনটাই। তাঁর মতে, ২০১০ আইপিএলের পাঁচ দিন পরই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আইপিএলে খেলে এলে প্রস্তুতিটা জম্পেশ হবে।
‘অবশ্যই আইপিএলে খেলার ইতিবাচক দিক হলো এর পরই টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই আইপিএলে যারা খেলবে তাদের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোই হবে। অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই তারা এই টুর্নামেন্টে খেলতে আসবে’—বলেছেন ক্লার্ক।
শোনা যাচ্ছে, সতীর্থ মিচেল জনসনেরও নাকি একই মত। তবে এ দুজনকে একটা দুঃসংবাদও শুনতে হচ্ছে। দেরিতে আইপিএলে যোগ দেওয়ায় আগের মতো টাকা এঁরা পাবেন না।

আর্সেনালকে হারাল ম্যানইউ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগে। এরই মধ্যে মৌসুমের প্রথম বড় ম্যাচটা হয়ে গেল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-আর্সেনাল দ্বৈরথটাও ছিল জমজমাট। জয়টা শেষ পর্যন্ত ম্যানইউর। ব্যবধান ২-১।
ম্যানইউর অস্ত্রভাণ্ডারে এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর কার্লোস তেভেজ নেই, নতুন দল নিয়ে প্রথম বড় বাধাটা ম্যান পেরুল খানিকটা সৌভাগ্যের পরশ নিয়ে। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটা জিতল তারা। প্রতিপক্ষের মাঠে ৪০ মিনিটে আর্সেনালকে এগিয়ে নেন রুশ স্ট্রাইকার আন্দ্রেই আরশাভিন। ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ১-১ করেন ওয়েইন রুনি। এরপর দুদলেরই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, কিন্তু আত্মঘাতী গোল আর্সেনালকে ঠেলে দিয়েছে পরাজয়ের দিকে। ৬৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আর্সেনালের দিয়াবি বল ঢুকিয়ে দেন নিজেদেরই জালে।
কাল অন্য ম্যাচে জনসন, তোরেস ও জেরার্ডের গোলে লিভারপুল (৩-২) হারিয়েছে বোল্টনকে। বার্নলির বিপক্ষে আনেলকা, বালাক ও অ্যাশলি কোল গোল করে সহজ জয় এনে দিয়েছেন চেলসিকে (৩-০)।

জিম্বাবুয়ে আসছে ২১ অক্টোবর

জিম্বাবুয়ে থেকে মাত্রই সিরিজ জিতে এল বাংলাদেশ দল। দেশের মাটিতে তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জটাও এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে আগামী ২১ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছে আফ্রিকার দলটি।
২৭ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামার আগে ২৩ ও ২৫ অক্টোবর একই ভেন্যুতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জিম্বাবুয়ে দল। ২৯ ও ৩১ অক্টোবরের দুটি ম্যাচের ভেন্যুও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। আর ৩ ও ৫ নভেম্বর সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ১৭ দিনের সফর শেষে আগামী ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে জিম্বাবুয়ে দল।

ফিরলেন সেই ইসিনবায়েভা

দুঃসময়কে পাল্টা জবাব দিলেন ইয়েলেনা ইসিনবায়েভা। মধ্য আগস্টে বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা মুছে দিলেন আগস্টের শেষভাগে। পরশু জুরিখের গোল্ডেন লিগ মিটে ভেঙে দিলেন নিজের বিশ্ব রেকর্ড। পেরিয়ে গেলেন ৫.০৬ মিটার উচ্চতা। এই রুশ পোল ভল্টারের রেকর্ড গড়ার দিনে ১০০ মিটারে জিতেছেন উসাইন বোল্টও। ক্লান্ত বোল্ট এবার কোনো বিশ্ব রেকর্ড গড়েননি, কিন্তু টাইমিং খারাপ নয়; ৯.৮১ সেকেন্ড।
আগের বিশ্ব রেকর্ডটিও ইসিনবায়েভারই ছিল। জুরিখেরটিসহ ইনডোর-আউটডোর মিলে ২৭টি বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন এই ২৭ বছর বয়সী। বার্লিনে তিনবারের চেষ্টায় ‘বার’ পেরোতে না পারার পর বলেছিলেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। আর পরশু রেকর্ড গড়ে জেতার পর বললেন, ‘এখন এই বিস্ময়কর ফলাফলের পর আমি বুঝতে পারছি বার্লিনে আমার পরাজয়ের কারণ কী ছিল।’ বলেছেন, ‘এটা ঠিক যেন একটা স্বপ্ন। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।’
ওদিকে ১০০ মিটারে বোল্টের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল, বার্লিনের ক্লান্তি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আর সাবেক বিশ্ব রেকর্ডধারী, তাঁরই সতীর্থ আসাফা পাওয়েলকে মনে হচ্ছিল, বোল্টের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু ৭৫ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও পাওয়েল পারেননি। শেষ দিকে ঝোড়ো দৌড় বোল্টের জয় নিশ্চিত করেছে। বোল্টের চেয়ে দশমিক ০৭ সেকেন্ড সময় বেশি নিয়েছেন পাওয়েল।
বছরের ছয়টি গোল্ডেন লিগ মিটের পঞ্চম আসরটি বসেছিল জুরিখে। পাঁচ মিটের প্রতিটিতেই নিজ নিজ ইভেন্টে জিতে ইসিনবায়েভার সঙ্গে জ্যাকপটের দৌড়ে টিকে রইলেন সানিয়া রিচার্ডস আর কেনেনিসা বেকেলে। ছয় মিটের প্রতিটিতেই জেতা অ্যাথলেট পান ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট।
তবে বাকি সবাইকে ছাপিয়ে মঞ্চের আলোটুকু কেড়ে নিয়েছেন ইসিনবায়েভাই। বার্লিনে তাঁর পরাজয় শুধু নয়, বিস্মিত করেছিল হেরে যাওয়ার ধরনটাও। তিনবারই বারে গিয়ে হোঁচট খেয়েছিলেন। রুশ নন্দিনীর কাছে যে অভিজ্ঞতাটা প্রায় অচেনা। সর্বশেষ এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল নয় বছর আগে। ছয় বছর ধরে অপরাজিত ইসিনবায়েভা জুলাইয়ে লন্ডন গ্রাঁ প্রিঁর পর আগস্টে বার্লিনে আনা রোগোস্কার কাছে হেরে যাওয়ার পর অনেকেরই ভ্রূ কুঁচকে গিয়েছিল। তবে কি ইসিনবায়েভা রাজত্বের শেষ?
সেই সংশয় পরশু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন প্রথম নারী হিসেবে ৫ মিটারের বাধা টপকে যাওয়া ইসিনবায়েভা। ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত কালো মেঘ কেটে যাওয়ার পর দুঃসময়ে পাশে ছিলেন যাঁরা তাঁদের ধন্যবাদ দিলেন, ‘আমি সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার কোচ ভিতালি পেত্রোভকে। বার্লিনের পর তিনি আমাকে সবচেয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন। আরও অনেকে ছিলেন, যাঁরা আমাকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করে বলেছিলেন, যে কেউ একটা প্রতিযোগিতায় হারতেই পারে। আমি জানতাম, শারীরিকভাবেও আমি প্রস্তুত আছি। আর এই বিশ্ব রেকর্ড নিশ্চিত করল, আমি আরও ওপরে উড়তে চাই।’

সুপার কাপে খেলাই আরামবাগের লক্ষ্য

আলফাজকে নেওয়ার পর পাঁচ খেলোয়াড়, কাল আরো ১৩ জন। তিন দফায় ১৯ জন খেলোয়াড়কে নিবন্ধন করাল বি-লিগের দল আরামবাগ। এই ১৯ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৩ জন পুরোনো মুখ। কয়েকজন খেলোয়াড় দল ত্যাগ করলেও বাকিদের ধরে রেখে মোটামুটি একটা দল গড়ল মতিঝিল ক্লাবপাড়ার দলটি। তবে এদের বেশির ভাগই সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়। আর্থিক সংকট দলটিকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেকটা। দলটি এখনো অনুশীলনই শুরু করতে পারেনি।
কাল নিবন্ধন করানো ১৩ জনের মধ্যে গতবারের আছেন ৯ জন: গোলে সিন্টু মোল্লা, রক্ষণে দীন মোহাম্মদ, মওদুদ আজমি, শাহজাদা, টুটুল। মাঝমাঠে মলয় বর্মণ, নুরুল ইসলাম। আক্রমণে পারভেজ, সুরত। যোগ দিয়েছেন: রক্ষণে নতুন খেলোয়াড় সোহাগ, চট্টগ্রাম মোহামেডানের শরিফ, প্রদীপ বড়ুয়া, মাঝমাঠে শেখ রাসেলের শাহ আলম। আলফাজ ছাড়া আগের পাঁচজন গতবার আরামবাগেই খেলা মাকসুদ, মিতুল, আকরাম, তূর্য ও ফরাশগঞ্জের কবীর।
‘এই দল নিয়ে কত দূর যাওয়ার আশা করছেন?’ ১৫-১৬ বছর পর আবার কোচ হিসেবে আরামবাগে ফিরে যাওয়া ওয়াজেদ গাজী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন তো আর হতে পারব না! গতবার বি-লিগে একটি দল অবনমিত হয়েছে, এবার হবে দুটি। কাজেই টিকে থাকার একটা চ্যালেঞ্জই আমাদের সামনে। তবে গতবার বি-লিগে অষ্টম হয়ে সুপার কাপে সুযোগ পেয়েছে আরামবাগ। এবার ছয় দল সুযোগ পেলে ওই ছয়ের মধ্যেই থাকাটা লক্ষ্য আমাদের।’

Sunday, August 30, 2009

বন্দরে ভেড়ার অপেক্ষায় গাড়িভর্তি জাহাজ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই দিন ধরে ভাসছে গাড়িভর্তি একটি বিশেষায়িত জাহাজ। বন্দরের গাড়ি রাখার শেডে ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি থাকায় ‘ওশান ব্লু’ নামের এই জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর অনুমতি দিচ্ছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন জাহাজ ব্যবসায়ীরা।
বন্দর ও জাহাজ কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বন্দরের চারটি জেটিতে গাড়ি রাখার ক্ষমতা এক হাজার ২০০ ইউনিট বাড়িয়ে চার হাজার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পাওয়া হিসাবে দেখা যায়, বন্দরের চারটি শেডে গাড়ি ছিল চার হাজার ৩৫৮ ইউনিট। এ কারণে গাড়িভর্তি জাহাজটি কখন জেটিতে ভেড়ানোর অনুমতি পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি। বাড়তি প্রতিদিনের জন্য জাহাজটির ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১০ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি থাকায় জাহাজটি ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ির সংখ্যা কমে গেলে অনুমতি দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, শুক্রবার সাধারণত গাড়ি খালাস হয় না, শনিবারও খালাস খুব কম হয়।
জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি এভারেট বাংলাদেশ লাইন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাপান থেকে ৫৭৪ ইউনিট গাড়ি নিয়ে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। নিয়মানুযায়ী এর দুই দিন আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জেটিতে ভেড়ার অনুমতি চাওয়া হয়, কিন্তু গাড়িজটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, আমদানি করা গাড়ি কোন বন্দরে খালাস হবে, তা ঋণপত্র খোলার সময় উল্লেখ থাকে। এসব গাড়ি বহনকারী ক্যারিয়ারের প্রতিনিধিদের কিছু করার থাকে না। তাই বন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষায় জাহাজটি দ্রুত জেটিতে ভেড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাসের অনুরোধ জানায় জাহাজ ব্যবসায়ীদের। কয়েক মাস আগে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়। কিন্তু আমদানিকারকেরা যেখানে গাড়ি খালাস করবেন, সেখানেই খালাস করতে বাধ্য বলে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানান।
এ বিষয়ে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, মংলা বন্দরের অবকাঠামোগত সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তখন ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মংলায় গাড়ি খালাস করতে পারেন। কিন্তু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা কেন এ বন্দর ছেড়ে মংলায় গাড়ি খালাস করতে যাবেন? কোনো সুনির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে বাধ্য করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল ও আদিবাসীদের স্বীকৃতি দাবি

১৯৭২ সালে রচিত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান পুনর্বহাল, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র দিন ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে (কাউন্সিল) এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান এক জাতি, এক প্রাণ’। বক্তারা বলেন, পরিষদ একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। সংগঠনের মূল দাবি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। তাঁরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি করেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার কাউন্সিলর এতে যোগ দেন। এরপর বিশিষ্টজনেরা সংখ্যালঘুদের সমস্যা, নির্যাতন এবং এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে। একটি দল পরে সেটিকে নষ্ট করে ফেলেছে। এ কারণেই দেশে আজ জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশে ১০ লাখ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রয়েছে। তাদের পবিত্র ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা উচিত।
বিচারপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘অবিকৃতভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের পুনর্বহাল চাই। বাহাত্তরের সংবিধান বিকৃত করার কারণেই দেশ আজ জঙ্গিবাদের হুমকিতে পড়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে সি আর দত্ত বলেন, যে রাজনৈতিক দলই এসেছে, তারাই সংখ্যালঘুদের নিয়ে খেলা করেছে। এই খেলা বন্ধ করতে হবে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীম চন্দ্র ভৌমিক, অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ, শিরিল সিকদার, সাধনা হালদার, বীরেন সিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে জিজ্ঞাসাবাদ

জজ মিয়ার সাজানো জবানবন্দি নেওয়া ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের তখনকার ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তিনি বর্তমানে ভূমি সংস্কার বোর্ডের উপসচিব। গত বৃহস্পতিবার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রওনাকুল হক চৌধুরী এ জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জজ মিয়াসহ তিনজনের সাজানো জবানবন্দি আদায় করেছিলেন তত্কালীন তদন্ত কর্মকর্তারা। এই জবানবন্দি নেওয়া তত্কালীন আরেক ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আনোয়ারের বক্তব্য কাল রোববার নেওয়া হবে বলে সিআইডির সূত্র জানায়।
পুলিশ জজ মিয়াসহ তিনজনের কাছ থেকে সাজানো জবানবন্দি আদায় করে গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার ঘটনায় সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরে মামলা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি রওনাকুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেন। জাহাঙ্গীর আলম ঢাকার মহানগর হাকিম থাকাকালে ২০০৫ সালের ২৬ জুন জজ মিয়ার কথিত ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ নিয়েছিলেন।
এএসপি রওনাকুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে তিনি জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নিয়েছেন। তিনি ওই সময় কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে জজ মিয়ার জবানবন্দি নিয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি বিধিমোতাবেক নির্ধারিত ফরমে জজ মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। জজ মিয়াকে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি। জজ মিয়া যা যা বলেছেন, তিনি তা-ই লিপিবদ্ধ করেছেন। তত্কালীন মুখ্য মহানগর হাকিম তাঁকে জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ ও মুন্সী আতিকের সঙ্গে একত্রে বসে বিরিয়ানি খেয়েছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, কোনো আসামির বক্তব্য নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে বা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একত্রে বসে খাওয়ার সুযোগ, সময় বা রীতি কোনোটাই নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরার বাইরে তাঁরা কিছু খেয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।
জাহাঙ্গীর আলম ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর আবুল হাসেম রানা নামের আরেক নিরীহ যুবকের জবানবন্দি নেন। রানাও জজ মিয়ার অনুরূপ বক্তব্য দেন। এর পরদিন তত্কালীন আরেক মহানগর হাকিম শফিক আনোয়ার নেন শফিক নামের আরেক যুবকের জবানবন্দি।
শফিক আনোয়ার এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে আছেন। তাঁর বক্তব্য আগামী রোববার নেওয়া হবে বলে এএসপি রওনাকুল হক চৌধুরী জানান।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২১ আগস্ট মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে তত্কালীন তদন্ত কর্মকর্তারা নির্যাতনের মাধ্যমে তিন নিরীহ যুবকের কাছ থেকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায় করেছেন। গত বছরের ১১ জুন মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর জজ মিয়াসহ এই তিন নিরীহ যুবক অব্যাহতি পান।

ফরিদপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার আসামি নিহত

ফরিদপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জিত পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর র্যাব-৮-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিস্ত্রি বাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ অবস্থান করছে বলে র্যাব খবর পায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে র্যাব ও পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এরপর সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাব ও পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। ২৫-৩০ মিনিট ধরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভোরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী লাশটি সন্ত্রাসী সঞ্জিত বিশ্বাসের বলে শনাক্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার, একটি দেশি শটগান ও শটগানের চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় র্যাব-৮-এর সহকারী উপপরিচালক আলমগীর হোসেন গতকাল কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সঞ্জিত জেলার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় চারটি হত্যাসহ পাঁচটি এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
নিহত সঞ্জিতের বড় ভাই আশুতোষ বিশ্বাসের দাবি, সঞ্জিত গেরদা ইউনিয়ন যুবলীগের এক নম্বর ওয়ার্ডের (মুন্সিবাজার) সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে র্যাব সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। তাঁরা তাঁকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জানান, সঞ্জিত বর্তমান কমিটিতে নন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কমিটিতে ছিলেন। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কাদির খানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ

পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন সে দেশের আদালত। গতকাল শুক্রবার লাহোর হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। এই আদেশের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার ফিরে পেলেন পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী এই বিজ্ঞানী। বিদেশি শক্তির কাছে পরমাণু বোমা বানানোর তথ্য পাচারের অভিযোগে কয়েক বছর ধরে গৃহবন্দী রয়েছেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ওপর থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেন ইসলামাবাদের হাইকোর্ট। খবর বিবিসি ও টেলিগ্রাফের।
গতকাল লাহোর হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি এজাজ আহমেদ রায়ে বলেন, ‘ড. খান যেকোনো জায়গায় যাতায়াত করতে পারবেন। তাঁর চলাফেরা ও দেখা-সাক্ষাতে কেউ কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবেন না।’

পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসন থাকবে নারীদের জন্য

গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নের পথে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ভারতে। সারা দেশে পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন বিল অনুমোদন করা হয়।
ভারতে প্রায় দুই লাখ ৫২ হাজার পঞ্চায়েতে প্রায় ৩০ লাখ আসন রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে নারীদের জন্য প্রায় ১৪ লাখ পঞ্চায়েত আসন সংরক্ষণ করা হবে। আসন সংরক্ষণের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন ও লোকসভার নারী সাংসদেরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভারতের মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল অনুমোদন করে। এ বিলে পঞ্চায়েতের এক-তৃতীয়াংশ থেকে ধাপে ধাপে শতকরা ৫০ ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার বিধান রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আম্বিকা সোনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সব সরাসরি নির্বাচনে এ আইন বলবত্ থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ আইন পাস হলে ভারতে রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। পঞ্চায়েতে আরও বেশিসংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়ে এলে তাঁরা যেকোনো রাজ্যে জনগণের কল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।’
তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে এখনই উচ্ছ্বসিত হতে পারছেন না অনেকে। কারণ ১৯৯৬ সালে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় শতকরা ৩৩ ভাগ আসন সরাসরি নির্বাচনের জন্য সংরক্ষণের আইন পাস হলেও এখন পর্যন্ত তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার এরই মধ্যে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। গত মে মাসে আইনটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবার রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে ভারতের বিভিন্ন নারী সংগঠন এ আইন পাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের সভানেত্রী গিরিজা ব্যাস বলেন, ‘সরকার নারীর ক্ষমতায়নের এ উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যুতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদ মীনাক্ষি নটরাজন বলেন, ‘কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় দলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, আজকের আমি তারই ফসল।’
ভারতের জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন গিরিজা ব্যাসের মতে, ‘নারীরা বাড়ি থেকে শুরু করে সর্বত্র, এমনকি লোকসভায়ও বৈষম্যের শিকার হন। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের সমান অংশগ্রহণ জরুরি।’
নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে কংগ্রেস সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির সাংসদ দর্শনা বিক্রম জারদোশ বলেন, ‘এ উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। ১৯৯৬ সালে প্রস্তাবিত লোকসভা ও রাজ্যসভায় নারীদের জন্য শতকরা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। কেন্দ্র তাদের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচিতে এ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।’
তবে নারীর ক্ষমতায়নের এই চমত্কার উদ্যোগের বাইরে থাকছে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসামের উপজাতি-অধ্যুষিত পঞ্চায়েতগুলো। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা এবং মণিপুরের পার্বত্যাঞ্চলের পঞ্চায়েতগুলোও এর বাইরে থাকছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারকে উত্খাত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: কাস্ত্রো

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বামপন্থী সরকারকে উত্খাতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। কলম্বিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে দেশটি দক্ষিণ আমেরিকায় শক্তি পুঞ্জীভূত করতে চাইছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার কিউবার সরকারি ওয়েবসাইট কিউবাডিবেট ডট সিইউতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কাস্ত্রো এ অভিযোগ করেন।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনলেন ফিদেল কাস্ত্রো। ওয়াশিংটন ও বোগোটার মধ্যকার একটি সামরিক চুক্তি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক ওই সম্মেলনে ছায়া ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী কলম্বিয়ায় সাতটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকার থাকবে।
কাস্ত্রো তাঁর নিবন্ধে বলেন, ওয়াশিংটনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সেনা পাঠানোর সামর্থ্য অর্জন।
ওয়াশিংটন বলে আসছে, চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে কলম্বিয়ার মাদক ও বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই।
কাস্ত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো শ্যাভেজের শুরু করা বৈপ্লবিক প্রক্রিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া এবং ভেনেজুয়েলার তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

অক্সফামের সতর্কবার্তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফাম আশঙ্কা করছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালের দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠী খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারাপ ফলন, পানি ঘাটতি ও তাপমাত্রার তারতম্য দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী নেপালের কয়েক লাখ দরিদ্র মানুষকে চাপে ফেলবে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সম্মেলনের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। হিমালয় পর্বতমালার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি বিষয়ে ওই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্প্রতি গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক শীতকাল পার করেছে নেপালিরা। তার ওপর মৌসুমি বৃষ্টিপাতও শুরু হয়েছে দেরিতে এবং বৃষ্টিপাত নিয়মিতভাবে হচ্ছে না। এতে করে ভূমি ক্ষয়ের আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের শুষ্ক মৌসুমের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে সেখানে।
এদিকে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষ পানিসংকটে রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের চাষাবাদে এবং ফলন কমছে। ভূগর্ভস্থ উত্স থেকে পানিপ্রাপ্তি কমে যাওয়ায় ডায়রিয়ার মতো রোগের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। কারণ খাবার পানির উেসর জন্য মানুষ পুকুর, খাল, ঝরনা বা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আর এসব পানি অস্বাস্থ্যকর।
অক্সফামের কর্মী প্রবীণ মান সিং বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জীবনযাপন করতে তাদের এখনই যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের বেঁচে থাকার এই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এসব সংকট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ জানিয়েছে। নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ভাট্টেগাওয়ের নাইনা শাহি (৩৫) বলেন, ‘আমাদের কৃষির ফলন কমে গেছে। আমাদের জীবন ধারণের জন্য এখন আমরা আর কৃষির ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারছি না।’ গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উত্সটির ধারা শুকিয়ে এসেছে। গ্রামবাসী পানির সংকটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য নেপালকে সহায়তা করতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ পুলিশ নিহত

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত খাইবার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় পুলিশের ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে চালকবিহীন একটি মার্কিন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন তালেবান জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার এক ঘণ্টা পর এই বোমা হামলা চালানো হয়। তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তারিক হায়াত জানান, আফগান সীমান্তঘেঁষা ওই এলাকায় পুলিশের সদস্যরা যখন ইফতার করার জন্য জড়ো হন, তখনই এই হামলা চালানো হয়।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেহান গুল খাতাক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ বোমাবাজদের দলনেতাকে দেখতে পায়।
নাইম আফ্রিদি নামে স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
‘জিহাদি’দের সহায়তা করতে জাওয়াহিরির আহ্বান
পাকিস্তানের আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকার ‘জিহাদি’দের সহায়তা করতে সে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি। তিনি বলেন, জিহাদিরা আমেরিকান ‘ক্রুসেডার’দের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইন্টারনেটে প্রকাশিত জাওয়াহিরির একটি ভিডিও টেপের বরাত দিয়ে এসআইটিই নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। এসআইটিই ইন্টারনেটে জিহাদি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে থাকে।
‘পাথ অব ডুম’ নামের ওই ভিডিও টেপে জাওয়াহিরি বলেন, ‘আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা ও সোয়াত এলাকায় যে লড়াই চলছে, তা মার্কিন ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্রুসেডাররা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে হামলা করছে। যারা মার্কিন ও পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করছে, তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদেরই সহায়তা করছে।’ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলাকারীদের পরাস্ত করতেই এ কৌশল নিয়েছে তারা।
এসআইটিই জানায়, সাড়ে ২২ মিনিটের এ ভিডিওটি প্রস্তুত করেছে আল-কায়েদার গণমাধ্যম শাখা আস-সাহাব। ইংরেজি সাব-টাইটেলযুক্ত ভিডিওটিতে দেখা যায়, আগের মতোই জাওয়াহিরি একটি বইয়ের শেলফের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

বায়ার্নে রোবেন

ওয়েসলি স্নাইডারের পর আরেক ডাচ ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন। আরিয়েন রোবেনের গন্তব্য বায়ার্ন মিউনিখ। ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে চার বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছে জার্মানির ক্লাবটি। দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে ট্রান্সফার ফির অঙ্কটা গোপন রাখা হয়েছে। অবশ্য শোনা যাচ্ছে, অঙ্কটা আড়াই কোটি ইউরো। ওদিকে রিয়াল আবারও নতুন করে বায়ার্নের ফ্রাঙ্ক রিবেরিকে কেনার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে।

৩৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

ফলোঅন থেকে ৫৭ রান দূরে থাকা নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় দিনে প্রথম লক্ষ্য ছিল ফলোঅন এড়ানো। সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য বাঁধা যেন ব্যর্থতার চক্রেই। ফলোঅন এড়ানোর পর আর মাত্র ১৭ রান যোগ করতেই শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার পাওয়া ১৮২ রানের বিশাল লিডটা দিন শেষে হয়েছে ৩৩৯, হাতে এখনো ৮ উইকেট। শেষ বিকেলে নিউজিল্যান্ডের স্বস্তি হয়ে আসা বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও উইকেটে থিতু হওয়ার পর বোলারকে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন ওপেনার তিলকরত্নে দিলশান। সর্বশেষ তিন ইনিংসে মাত্র ২৪ রান করা পারানাভিতানা বড় ইনিংসের আশায় খেলছিলেন দেখেশুনে। ১১৯ মিনিটে তাঁর ৩৪ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটি শেষ হয়েছে আম্পায়ার ড্যারিল হার্পারের ভুল সিদ্ধান্তে। এর পর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেছেনে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। নিউজিল্যান্ডের সামনে অনতিক্রম্য একটা লক্ষ্য দেওয়ার পাশাপাশি সিরিজে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দিকেও আজ দৃষ্টি থাকবে ৬৪ রানে অপরাজিত সাঙ্গাকারার।
দিনের প্রথম সেশনে নিউজিল্যান্ড ফলোঅন বাঁচিয়েছে জ্যাকব ওরাম ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরির ২৪ ও ২৩ রানের দুটি ইনিংসে। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ম্যাককালাম ও টেলর আট বলের ব্যবধানে আউট হওয়ার পর অষ্টম উইকেটে ৪৩ রান যোগ করেন ওরাম-ভেট্টোরি। মুরালিধরনের বলে ম্যাককালামের ক্যাচটি নিয়ে ইতিহাসের অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১৫০ ক্যাচ পূর্ণ করেছেন জয়াবর্ধনে। কাল শ্রীলঙ্কার পেসাররা বলই হাতে নেননি, ৫টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। পাকিস্তান সিরিজে ১৫ উইকেট নেওয়ার পরও গল টেস্টে বাদ পড়া রঙ্গনা হেরাথ ৭০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সফলতম বোলার। ৩ উইকেট নিয়েছেন মুরালিধরনও, তবে রান দিয়েছেন একটি বেশি। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছয় উইকেট পাওয়ার পর সর্বশেষ ৮ ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া হয়নি স্পিন-জাদুকরের।

মাঠে নেমেই খেলোয়াড় চিনবেন ওয়াসিম

কোচ মাঠে নেমে তাঁর খেলোয়াড়দের নাম জেনে নেবেন! এ ছাড়া উপায় আর দেখছেন না খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল। ব্রাদার্স কর্মকর্তারা এবার তাঁর হাতে ‘অচেনা’ একটা দলই যে তুলে দিচ্ছেন।
সাবেক তারকার কোনো খেদ নেই এতে, ‘এখন অনেকেরই নাম জানি না। তবে অনুশীলন (আসলে ট্রায়াল) শুরু করেছি, সবাইকে দেখে নিশ্চয়ই নাম জেনে যাব। বেশির ভাগ খেলোয়াড় অপরিচিত হলেও এটাকে বড় কোনো সমস্যা মনে করি না।’
এ কথা শুনে পাশে বসা ব্রাদার্স ম্যানেজার আমের খানের মুখে হাসি, ‘এমন দল আমরা এবার গড়েছি, ওয়াসিম ভাইয়ের কী করার আছে। কোনো রকমে একটা দল দাঁড় করালাম। তবে এখন বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে না চিনলেও আস্তে আস্তে ঠিকই চিনবেন তিনি। গতবারও খেলোয়াড়দের চিনতেন না ওয়াসিম ভাই, এবারও চেনেন না। এ জন্য আসলে খারাপই লাগছে।’
ব্রাদার্সের অনুরোধে গত বছরই প্রথম কোচিং শুরু করেন ওয়াসিম। অনেক দিন ফুটবলের খোঁজখবর সেভাবে রাখতেন না। কিন্তু এবার তিনি তাঁর দলের খেলোয়াড়দের চিনবেন না, তা কী করে হয়! হয়তো হয় না, তবে বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর, সেটা মেনেই ওয়াসিম বলছেন, ‘নিজেকে শুধু ব্রাদার্সের কোচ মনে করি না, ব্রাদার্সের ঘরেরই একজন আমি। বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আমি হাঁড়ির খবর জানি। সে জন্য নতুন দল গড়ার ব্যাপারে আমার কোনো চাওয়া ছিল না।’
ব্রাদার্সের অবস্থা এবার এতই করুণ যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর চেয়ে দুর্বল দল আর হয়নি। গত বি-লিগের কয়েকজন খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে, তবে অনেকেই নিজ নিজ দলে ছিলেন অনিয়মিত। সঙ্গে প্রথম বিভাগ, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণদের যোগ করে ট্রায়ালের মাধ্যমে আরও কয়েকজনকে বাছাই করা হচ্ছে!
অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে ক্লাবের কর্তৃত্ব দখল হওয়ায় এই পরিণতি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, ‘দখল নয়, সমস্যাটা অনেক দিনের। ব্রাদার্সে সক্রিয় কোনো কমিটিই নেই তিন-চার বছর ধরে। ভালো দল করা যায়নি এসব কারণে। একজন সভাপতিই আমরা ঠিক করতে পারছি না অনেক চেষ্টা করে। দল হবে কী করে।’
গতবারের মাসুদ রানা ও লিটন খান ছাড়া আর কেউ নেই ব্রাদার্সের নতুন দলে। থেকে যাওয়া দুজনও সেরা একাদশের খেলোয়াড় ছিলেন না। এতেই বোঝা যায়, ব্রাদার্স এবার কতটা ভাঙা হাট। কর্মকর্তা সৈয়দ মাসুম আলীর প্রার্থনা তো এমনই হবে—‘দোয়া করবেন, আমরা যেন টিকে থাকতে পারি!’
ব্রাদার্সের পছন্দের তালিকায় আছেন: গোলে জাহাঙ্গীর (শেখ রাসেল), ইরান (রহমতগঞ্জ), রঘু (ইয়ংম্যান্স), করিম (অনূধ্ব-১৯)। রক্ষণে ইউসুফ (রাসেল), লিটন পাল (খুলনা আবাহনী), রিপন খান (ঢাকা মোহামেডান), মামুন (ফরাশগঞ্জ), পারভেজ (অগ্রণী ব্যাংক), অপু (মুক্তিযোদ্ধা) ও মাসুদ রানা। মাঝমাঠে নয়ন (আরামবাগ), তানভীর (রাসেল), ফয়সাল (ফরাশগঞ্জ), এমেকা (খুলনা আবাহনী), সাইফুল (মুক্তিযোদ্ধা), সবুজ (বিকেএসপি), লিটন খান। আক্রমণে বুলবুল (রাসেল), তরু (ঢাকা আবাহনী), মিলন (মুক্তিযোদ্ধা), দিদার (ইয়ংমেন্স)।

এখন আমার সময়: বোল্ট

ইচ্ছাপূরণ দেবীর দেখা উসাইন বোল্ট তো পেয়েছেন আগেই। যা চাইছেন, অনায়াসে এসে ধরা দিচ্ছে তাঁর হাতের মুঠোয়। এ মাসেই ১০০ আর ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড নতুন করে লেখানো বোল্ট বলছেন, সময়টাই এখন তাঁর, ‘আসাফা (পাওয়েল) আর টাইসনের (গে) সময় এসেছিল। আমি নিশ্চিত জানি, এখন সময়টা আমার। আমি সেটা উপভোগ করতে চাই।’
সময়টা নিশ্চয়ই তিনি উপভোগ করেছেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্প্রিন্টে তিন ইভেন্টের তিনটিতেই সোনা জিতে গতকালই আবার দৌড়েছেন জুরিখের গোল্ডেন লিগ মিটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বোল্টের দৌড়ের ফলাফল জানা যায়নি। তবে ২৩ বছর বয়সী জ্যামাইকান ‘বজ্রবিদ্যুতের’ না জেতাটাই হবে বিস্ময়।
সময়টা এতটাই ভালো কাটছে, বোল্ট এখন লং জাম্প নিয়েও ভাবছেন। কিছুদিন আগে বোল্টকে এই নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন খোদ লং জাম্পের বিশ্ব রেকর্ডধারী মাইক পাওয়েল! শুধু তাই নয়, পাওয়েলের দৃঢ়বিশ্বাস, ১৮ বছর আগে গড়া তাঁর বিশ্ব রেকর্ড (৮.৯৫ মিটার) ভেঙে প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে বোল্ট পেরিয়ে যাবেন ৯ মিটারের সীমানা।
পাওয়েলের কথা মনে ধরেছে বোল্টের, ‘আমি অবশ্যই লং জাম্পে একটা চেষ্টা করে দেখতে চাই। আমার ধারণা, লং জাম্পার হিসেবেও আমি ভালো করব। স্কুলে থাকতেই শখের বসে আমি লং জাম্পে অংশ নিতাম। আমি অবশ্যই একটা চেষ্টা করব।’
তবে এখনই এটি নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি, ‘মারা যাওয়ার আগে অন্তত একবার চেষ্টা করে দেখব। তবে ১০০ আর ২০০ মিটারে জেতা কঠিন হলেই কেবল তা করব।’
শুধু বোল্ট নন, গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সফল তাঁর দেশও। সাতটি সোনাসহ মোট ১৪ পদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই পদক তালিকায় ছিল জ্যামাইকা। বোল্ট জানালেন, ক্যারিবীয় দেশটি বরাবরই ভালো ভালো দৌড়বিদ জন্ম দিয়েছে। পার্থক্য হলো, আগে অনেকেই বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেখানকার মাত্রাতিরিক্ত অনুশীলনের কারণে ইনজুরিতে পড়ে অকালেই ঝরে যেতেন। আর এখন তাঁরা নিজ দেশেই অনুশীলন করেন। ‘এখন যারা ভালো করছে তাদের প্রায় সবাই জ্যামাইকাতেই থাকে। তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারে, কখন তারা দৌড়াবে আর কখন এই ক্লান্তিকর কাজের নিচে নিজের শরীরটাকে ঠেলে দেবে না’—সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বোল্ট।

সত্যিই নতুন ইসিনবায়েভা

একের পর এক জয়ই তাহলে ইয়েলেনা ইসিনবায়েভার পরাজয়ের কারণ? এই রুশ পোল্ট ভোল্ট তারকার নিজের ধারণা এমনটাই। প্রতিযোগিতায় নামলেই সহজ জয়, আত্মবিশ্বাসটা তাই এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে তাঁকে কেউ হারাতে পারে এটা ভাবতেই পারেননি, ভুলে গিয়েছিলেন হার বলেও কিছু আছে। আর এর মাশুলই বার্লিনে দিয়েছেন পোল ভোল্টের বিশ্ব রেকর্ডধারী, ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। আমি ভেবেছিলাম আরেকটি সোনা জয়, হয়তো বা রেকর্ড গড়াও খুব বেশি সমস্যা হবে না। ভেবেছিলাম ৪.৮০-ই জয়ের জন্য যথেষ্ট। যখন ট্র্যাকে নামলাম মনে হলো আমি যেন ঠিক এখানে নেই। আমি আসলে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং খুব বেশি নির্ভার ছিলাম। সবই ছিল ভুল।’
২৭ বছর বয়সী তারকা জানালেন বার্লিনের হারে ভীষণ মর্মাহত তাঁর কোচও, ‘‘সে মনে খুবই কষ্ট পেয়েছিল। আমাকে বলেছিল, ‘তোমার সমস্যা কী? টেকনিক, রানআপ সবই ঠিক আছে, কিন্তু মনে হচ্ছিল তোমার দেহটা ট্র্যাকে থাকলেও মনটা যেন অন্য কোথাও।’ সে খুবই হতাশ হয়েছে।”
তবে ধাক্কাটা ভালোই খেয়েছেন ইসিনবায়েভা। স্বপ্নরাজ্যে থাকা দুবারের অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাস্তবের জমিন খুঁজে পেয়েছেন এই হারে, ‘বার্লিনের আগে জয়টা বিশেষ কিছু ছিল না। সবাই জানত আমিই জিতব, আমারও তেমন কিছু মনে হতো না। এ ঘটনা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, আপনি যে-ই হোন না কেন, ট্র্যাকে প্রতিবারই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। অবসরের আগ পর্যন্ত এটা আমার মাথায় থাকবে।’ সব মিলিয়ে এই পরাজয়টা তাঁকে এক নতুন জীবনদর্শনও দিয়েছে, ‘এটা আমার মনোজগতকে পাল্টে দিয়েছে। আমি আমার খেলাটাকে এখন আরও মূল্য দিই। ভবিষ্যত্ সাফল্যের জন্যই এই হার প্রয়োজনীয় ছিল।’
হতোদ্যম না হয়ে তাই সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে চান তিনি, ‘হয়তো আগে ফ্যান, ফেডারেশন, কোচের কাছ থেকে অনেক চাপ ছিল। কিন্তু এটা এখন শূন্য। আমাকে শুরু থেকে আবার শুরু করতে হবে এবং নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কোচের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমরা সামনের দিকেই তাকাচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে।’
শিক্ষাটা কতটুকু কাজে লেগেছে এটা অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে যাওয়ার কথা। গতকাল রাতেই জুরিখে গোল্ডেন লিগে জ্যাকপটের লড়াইয়ে নামার কথা তাঁর।

কাকা-ইতো-ইব্রার অন্য রকম চ্যাম্পিয়নস লিগ

নিয়তি একেই বলে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্রটা এমন হলো যে, কদিন আগে ছেড়ে আসা ক্লাবের মুখোমুখি করে দিল কাকা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও স্যামুয়েল ইতোকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে একই গ্রুপে পড়েছে কাকার সাবেক আর বর্তমান দুই ক্লাব এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদ। ইব্রাহিমোভিচ আর ইতোর ব্যাপারটা আরও মজার। সুইডিশ স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচকে পেতে টাকার সঙ্গে ইতোকেও ইন্টার মিলানকে উপহার দিতে হয়েছে বার্সেলোনার। দুই মাস যেতে না যেতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল এই দুই তারকাকে। পরস্পর খেলবেন নিজেদের ছেড়ে আসা ক্লাবের বিপক্ষে।
যে ক্লাবের হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা হাতে নিয়েছেন, সেই ক্লাবকে খুন করতে গোল করতে হবে এবার। ইতোর জন্য বিষয়টি কষ্টেরই। ইব্রাহিমোভিচকেও একই অনুভূতি গ্রাস করার কথা। তবে তাঁদের পুরোনো ক্লাব হয়তো সেভাবে ভাবছে না। এই যেমন ইতোকে আবার ন্যু ক্যাম্পে দেখতে পাবেন বলেই খুশি বার্সেলোনা সহসভাপতি রাফায়েল ইয়ুস্তে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাবেক ক্লাব হলেও ইতো স্মৃতিকাতর না হয়ে তাঁর সেরা খেলাটাই খেলবেন, রেডিও মার্কায় ইতোর সাক্ষাত্কার শুনে ইয়ুস্তেরও তা-ই বিশ্বাস, ‘ইতো গ্রেট খেলোয়াড়। প্রতিপক্ষ কে সেটা না ভেবে সব সময়ই ও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত থাকে।’
ইতোকে ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য এখনই দেখতে পাচ্ছে না বার্সা। ১৫ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচ দিবসে ইন্টার-বার্সা মুখোমুখি হচ্ছে ঠিক, তবে সেটা ইন্টারের মাঠ সান সিরোতে। ইন্টারের ইব্রাহিমোভিচ-দর্শন অবশ্য হয়ে যাবে এদিন।
সাবেক ক্লাব এসি মিলানের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কাকা। ১৫ সেপ্টেম্বর রিয়াল-এসি মিলান দুদলই মাঠে নামবে। কিন্তু রিয়াল সুইজারল্যান্ড যাবে এফসি জুরিখের সঙ্গে খেলতে। আর এসি মিলান যাবে মার্শেইয়ের মাঠে।
সফর নিয়ে একটু চিন্তায়ই আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। সিএসকেএ মস্কো, বেসিকতাস আর ভলফ্সবুর্গ পড়েছে ম্যানইউর গ্রুপে। ভলফ্সবুর্গের বিপক্ষে জার্মানিতে খেলা নিয়ে অত ভাবেন না ফার্গুসন। তবে রাশিয়া আর তুরস্কে খেলাটাকে কঠিন বলেই মানেন ম্যানইউ কোচ, ‘গ্রুপটা কঠিন হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও তুরস্কে গিয়ে খেলাটা কঠিনই হবে।’ এই দুটি কঠিন (!) অ্যাওয়ে ম্যাচের একটি দিয়েই শুরু হবে তিনবারের ইউরোপ-সেরাদের মিশন। তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ তাদের।
প্রতিপক্ষের শক্তির বিচার করলে চেলসির গ্রুপটা খুব একটা সহজ নয়। দুবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন পোর্তো আর গত মৌসুমে স্প্যানিশ লিগে দারুণ খেলা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আছে তাদের গ্রুপে। তবে চেনা প্রতিপক্ষ পোর্তোকে পেয়ে খুশিই ২০০৮-এর ফাইনালিস্ট চেলসির প্রধান নির্বাহী পিটার কেনিয়ন। যেকোনো বিবেচনাতেই আর্সেনাল সহজতর গ্রুপ পেয়েছে বলতে হবে। নেদারল্যান্ডসের এ জেড আলকমার, গ্রিসের অলিম্পিয়াকোস আর বেলজিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড ডি লিগেকে টপকে যাওয়া কঠিন হওয়ার কথা নয়। এএফপি।
চ্যাম্পিয়নস লিগ
‘এ’ গ্রুপ: বায়ার্ন মিউনিখ (জার্মানি), জুভেন্টাস (ইতালি), বোর্দো (ফ্রান্স), ম্যাকাবি হাইফা (ইসরায়েল)।
‘বি’ গ্রুপ: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ইংল্যান্ড), সিএসকেএ মস্কো (রাশিয়া), বেসিকতাস (তুরস্ক), ভলফ্সবুর্গ (জার্মানি)।
‘সি’ গ্রুপ: এসি মিলান (ইতালি), রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন), মার্শেই (ফ্রান্স), এফসি জুরিখ (সুইজারল্যান্ড)।
‘ডি’ গ্রুপ: চেলসি (ইংল্যান্ড), পোর্তো (পর্তুগাল), অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (স্পেন), অ্যাপোয়েল এফসি (সাইপ্রাস)।
‘ই’ গ্রুপ: লিভারপুল (ইংল্যান্ড), অলিম্পিক লিওঁ (ফ্রান্স), ফিওরেন্টিনা (ইতালি), দেব্রেসেনি ভিএসসি (হাঙ্গেরি)।
‘এফ’ গ্রুপ: বার্সেলোনা (স্পেন), ইন্টার মিলান (ইতালি), ডায়নামো কিয়েভ (ইউক্রেন), রুবিন কাজান (রাশিয়া)।
‘জি’ গ্রুপ: সেভিয়া (স্পেন), রেঞ্জার্স (স্কটল্যান্ড), ভিএফভি স্টুটগার্ট (জার্মানি), ইউনিরিয়া উর্জিসেনি (রোমানিয়া)।
‘এইচ’ গ্রুপ: আর্সেনাল (ইংল্যান্ড), এ জেড আলকমার (নেদারল্যান্ডস), অলিম্পিয়াকোস (গ্রিস), স্ট্যান্ডার্ড ডি লিগে (বেলজিয়াম)।

Saturday, August 29, 2009

ভাসমান সুপারমার্কেট Èত্রিবেণী'

চেইন শপ, মেগা শপ, সুপার মল, সুপারমার্কেট আরও কত কি! প্যারিস, সাংহাই, ব্যাংকক, নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোর আধুনিকতা আর উন্নয়নের সাক্ষ্য দিচ্ছে এসব বিপণিকেন্দ্র। ক্যাপসুল লিফট, চলন্ত সঁিড়ি, ফুড জোন, জিম ওয়ার্ল্ড, এন্টারটেইনমেন্ট আর্থ, সাইবার ক্যাফে, স্পোর্টস জোন, চপার ল্যান্ডিং আরও কত কি সুবিধা এসব অতি আধুনিক বিপণিকেন্দ্রগুলোয়।
এতটা চাকচিক্য না থাকলেও ভারতের কেরালা রাজ্যের Èত্রিবেণী' বিপণিকেন্দ্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্তত স্থানীয় লোকজনের কাছে। নামজাদা কোনো শহরের চেৌহদ্দিতে নয়, ত্রিবেণীর অবস্থান খরস্রোতা নদীতে। নদীপথেই ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করে বেড়ায় এটি। এতে রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার রকমের পণ্য। কেরালার কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে ত্রিবেণী পণ্য বিক্রি করে। এর রয়েছে আটজন কর্মী। কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের লাখো মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে ভাসমান এই বিপণিকেন্দ্র। কী নেই এতে! চাল থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী∏সবই আছে এখানে।
ত্রিবেণী যাত্রা শুরু করে গত ৭ জুন। কনজিউমারফেড (কেরালা স্টেট কনজিউমার কো-অপারেটিভ ফেডারেশন) নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি চালু করেছে।
প্রতিদিন সকাল আটটায় খোলে। বিকিকিনি চলে অনেক রাত পর্যন্ত। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। নারী ক্রেতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দঁাড়িয়েছে।
কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা এর আগে ডিঙ্গিতে করে অনেকখানি পথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডের বিপণিকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে কেনাকাটা করত। এখন ত্রিবেণী তাদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন আর তাদের মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয় না। তাদের বাড়ির পাশেই নদীতে প্রতিদিন হাজারো পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয় ত্রিবেণী। এ কারণে গ্রামবাসীর অর্থ ও সময় দুই-ই বঁেচে যায়।
যশোদা নামের এক নারী ক্রেতা বলেন, Èপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নিয়ে প্রতিদিন বিশালাকার এ নেৌকাটি আমাদের ঘাটে নোঙর করে। এটি একটি বিশাল ব্যাপার।' তিনি বলেন, Èযেখানে আমাদের বাজারে যেতে হয়, সেখানে উল্টো বাজারই আমাদের কাছে ছুটে আসছে। ত্রিবেণী আমাদের কাছ থেকে খুব একটা দামও রাখে না।'
ত্রিবেণীতে রয়েছে একটি কম্পিউটার জোন। যেখানে শিশুদের গেমস খেলার সুযোগ রয়েছে। ত্রিবেণীর ম্যানেজার এ কে অনুপ কম্পিউটারেই তঁার হিসাব-নিকাশ করেন। পণ্য ফুরিয়ে গেলে তা সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় অফিসে তিনি কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্দেশিকা পাঠান।
ভাসমান সুপারমার্কেটটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজি আর নায়ার বলেন, Èযদি আমরা ত্রিবেণী তৈরি না করতাম, তাহলে কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি দ্বীপে খুচরা দোকান খুলতে হতো আমাদের।' তিনি বলেন, Èভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভেনেজুয়েলায় আগে থেকেই ছোট ছোট নেৌকায় করে ফল-সবজি বিক্রি হয়ে আসছে। কিন্তু ত্রিবেণীই হয়তো বিশ্বের প্রথম নেৌসুপারমার্কেট। এ স্বীকৃতি পেতে আমরা গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।'
রিজি আর নায়ার বলেন, Èভাসমান সুপারমার্কেটের ধারণাটি খুব সহজে বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ব্যাপারটি ব্যবসায়িকভাবে সফল নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালাতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলাম। ত্রিবেণী তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছে।'
এ কে অনুপ জানান, Èত্রিবেণীর কল্যাণে এখন তঁাদের প্রতিদিন ৩০ হাজার রুপি কেনাবেচা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই এখানে আছে। ক্রেতাদের ফরমায়েশ পেলে ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজের মতো পণ্যও ভবিষ্যতে সরবরাহ করব।' বিবিসি অবলম্বনে মো. মনিরুল ইসলাম।

অক্টোবরে দুই কোরিয়ার নাগরিকদের পুনর্মিলনী

অর্ধশতাব্দী ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত পুনর্মিলনী আয়োজনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে অক্টোবরে আসন্ন Èকোরিয়ান থ্যাংকসগিভিং ডে'তে আগামী পুনর্মিলনী আয়োজনের ব্যাপারে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ। দুই কোরিয়ার মধ্যে এক বছরের বেশি শীতল সম্পর্ক বজায় থাকার পর সম্পর্কোন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার মাউন্ট কুমগাং অবকাশযাপন কেন্দ্রে তিন দিনের এক বৈঠক শুরু হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধের কারণে কয়েক হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০০০ সালে ঐতিহাসিক আন্তকোরীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ওই সব পরিবারের মধ্যে পুনর্মিলনী শুরু হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার কোরীয় তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বজনদের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ পেয়েছে। এ ছাড়া কয়েক হাজার পরিবার ভিডিওর মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ পায়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। তবে লি মিউং-বাকের সরকার দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এএফপি।
জাপান থেকে প্রকাশিত পিয়ংইয়ংপন্থী পত্রিকা চোশোন সিনবো জানায়, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-ইল দুই দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থা দূর করতে বদ্ধপরিকর। বৈঠক শুরুর দিন দুই কোরিয়ার রেডক্রস কর্মকর্তারা ৩ অক্টোবর পুনর্মিলনী আয়োজনের ব্যাপারে এক ধরনের মতৈক্যে পঁেৌছেছেন। এ ছাড়া দুই পক্ষ থেকে ১০০ জন করে নাগরিককে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তঁারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুন হায়ে-সুং বলেন, Èবৃহস্পতিবারের বৈঠকে পুনর্মিলনীর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, একবার দেখা করার সুযোগ দিয়ে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং নিয়মিত পুনর্মিলনীর আয়োজন করা উচিত।' মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোরীয় যুদ্ধে বন্দী এবং স্নায়ুযুদ্ধ চলার সময় সম্ভাব্য আটক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

আর্তমানবতার বন্ধু নোবেলজয়ী মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী ছিল গতকাল বুধবার। মানবতাবাদী এ মহীয়সী নারী ১৯১০ সালের ২৭ আগস্ট তত্কালীন যুগোস্লাভিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম স্কোপজে জন্মগ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানটি যেৌথভাবে উদ্বোধন করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থাংহোলা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল বিচারপতি শ্যামল সেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বোন প্রীতম কাউর। এদিকে গতকাল সকালে মাদার হাউসে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের উদ্যোগে এক সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
মাদার তেরেসার আসল নাম ছিল অ্যাগনেস গোনক্সা বোজাকসহিউ। অ্যাগনেস ১৯২৮ সালে চলে আসেন কলকাতায়।
১৯৭৯ সালে মাদার তেরেসা শানি্ততে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৮০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান Èভারতরত্ন' পান। ১৯৯৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএসসির অকর্মণ্য জাহাজে কর্মরত ২১ বিদেশি নাবিক

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) প্রায় এক বছর ধরে অলস বসে থাকা ১৩টি জাহাজে মোট ২১ জন বিদেশি নাবিক কাজ করছেন। এঁদের ১৯ জন পাকিস্তানি এবং দুজন মিয়ানমারের নাগরিক। তঁাদের বেতন-ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এসব জাহাজের মধ্যে ছয়টি বসেই আছে।
তবে বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন দেশি নাবিক না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিদেশি নাবিক নিতে হচ্ছে। তঁাদের মতে, নানা কারণে বিশ্বের অনেক দেশ পাকিস্তানি নাবিকদের নিষদ্ধি করেছে। তাই বাইরে বাংলাদেশি নাবিকদের চাহিদা আছে। তঁারা সেখানে ভালো বেতনও পাচ্ছেন। এ কারণে বিএসসির জাহাজের জন্য পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাবিকদের তুলনামূলক কম বেতনে পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী মোস্তফা চেৌধুরী বলেন, Èনাবিক নিয়োগে আমরা বাংলাদেশিদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশের নাবিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাবিক নিয়েছি।'
বিএসসি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ বছরে নতুন কোনো জাহাজ না কেনায় বিএসসির বহরের ১৩টি জাহাজই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। সাধারণ জাহাজের গড় অর্থনৈতিক আয়ু যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ বছর ধরা হয়, সেখানে বিএসসিতে ২৯ বছরের পুরোনো জাহাজও চলছে। ফলে এসব জাহাজ ঘন ঘন মেরামত করতে হচ্ছে এবং তুলনামূলক বেশি জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
বর্তমানে বিএসসির ১৩টি জাহাজের মধ্যে দুটি বিদেশ থেকে আমদানি করা অশোধিত তেল বহির্নোঙরের বড় জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসার কাজ করে। বাকি ১১টির মধ্যে ছয়টি চট্টগ্রামে অলস বসে আছে এক বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত। দুটি জাহাজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়ায় এবং আরও দুটি বিএসসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যটি বড় ধরনের মেরামতের জন্য অপেক্ষা করছে।
অলস বসে থাকা জাহাজগুলোর জন্য কেন বিদেশি নাবিক রাখা হলো জানতে চাইলে বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকেৌশল) মো. সাঈদ উল্লাহ বলেন, Èযেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনার কারণে এসব জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে অন্তত ক্ষতিপূরণটা পেতে পারি, সে জন্য আমরা নূ্যনতম লোকবল নিয়োগ দিয়ে রেখেছি।' তিনি বলেন, Èজাহাজগুলোর জন্য যে পরিমাণ লোকবল দরকার, তার চেয়ে ১৫ জন প্রকেৌশলী ও ১২ জন কর্মকর্তা কম আছে। কম বেতনে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের যেসব নাবিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের আমরা ধরে রেখেছি।'
বিএসসির অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, Èযেখানে বাংলাদেশি একজন চিফ অফিসার মাসে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার বেতনে বিদেশি জাহাজে চাকরি করছেন, সেখানে আমরা পাকিস্তানিদের দিচ্ছি সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার ডলার। মিয়ানমারের নাবিকদের বেতন আরও কম।' মাসিক সর্বনম্নি বেতন হিসাব করা হলেও ২২ জন বিদেশি নাবিককে প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই টাকা নাবিকেরা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। তঁাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ দেওয়া গেলে পুরো টাকাটাই দেশে থেকে যেত বলে সংশি্লষ্ট একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অধীন চট্টগ্রামের শিপিং মাস্টার শেখ আলী আম্বিয়া বলেন, বাংলাদেশি নাবিকদের মধ্যে ক্রুরা বেকার থাকলেও অফিসারদের কেউ বেকার আছেন বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় পঁাচ হাজার নেৌ কর্মকর্তা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানিতে কাজ করছেন। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি নেৌ কর্মকর্তাদের সুনাম ও ভালো চাহিদা থাকায় তঁারা মোটা বেতনে বিদেশি কোম্পানিতে কাজ করতে বেশি আগ্রহী।'
সূত্রমতে, বাংলাদেশি অন্তত দুই হাজার ক্রু চাকরির অপেক্ষায় বেকার বসে আছেন বলে জানা যায়।

হঠাত্ আলোচনায় বটগাছ

Èস্বপ্নের মৃতু্য নেই'∏যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৮০ সালে এক ভাষণে কথাটি বলেছিলেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ১৯৭২ সালেও এ দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নের স্মারক হিসেবে রোপণ করেছিলেন একটি বটগাছের চারা। সেই চারাটি এখন ডালপালা ছড়িয়ে মহীরুহ হয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বড় বটগাছটি তঁারই রোপণ করা। অন্তত এটাই প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কেনেডির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে কলাভবনের সামনে মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে তখন মানুষের ভিড়ে উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা শেষে কেনেডি এবং তঁার প্রথম স্ত্রী জোন কেনেডি কলাভবনের সামনে একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন। এই খবর পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি অবজারভার ও দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান এ এইচ আহমেদ কামাল বলেন, Èএডওয়ার্ড কেনেডি তঁার আত্মজীবনী লিখছিলেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি উলে্লখ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি গত বছর জানুয়ারি মাসে বটগাছটির ছবি তুলে তঁাকে পাঠিয়েছিলাম।'
অধ্যাপক কামাল বলেন, তিনি সেই ছবির একটি ক্যাপশন হিসেবে লিখেছেন, Èতুমি যে গাছটি লাগিয়েছিলে, সেটি অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়েছে, কিন্তু এ দেশের গণতন্ত্র এখনো শক্তিশালী হয়নি।'
ইতিহাস বলে, স্বাধীনতাযুদ্ধের আগেও কলাভবনের সামনে একটি বটগাছ ছিল। সেটি রোপণ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। এই বটতলায় ছাত্ররা সভা-সমাবেশ করতেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আন্দোলন যাতে আরও ব্যাপক না হয়, সেই চিন্তা থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই বটগাছটি কেটে ফেলে। এরই স্মারক হিসেবে স্বাধীনতার পর সিনেটর কেনেডি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে এখানে নতুন করে একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন।
তবে বটগাছটি কার লাগানো, তা শনাক্তকারী কোনো চিহ্ন বা সাইনবোর্ড কোথাও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গাছটি কেনেডির লাগানো∏এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। তাই কোনো চিহ্ন কোথাও দেওয়া হয়নি। তবে এখন একটি সাইনবোর্ড লাগানোর ব্যাপারে কতর্ৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে।
সেলিমের দাবি: বটগাছটি এখন যেখানে আছে, কেনেডি ঠিক সেখানে গাছটি রোপণ করেননি। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দাবি করেছেন, কলাভবনের সামনে কেনেডি একটি গাছ লাগিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল বর্তমান গাছটি থেকে একটু দূরে ডান পাশে। বর্তমান গাছটি তিনি ও ডাকসুর কয়েকজন নেতা ১৯৭২ সালের শেষের দিকে রোপণ করেছিলেন। কোনো অনুষ্ঠান করে গাছটি রোপণ করা হয়নি। তঁারা কেনেডির রোপণ করা গাছটিকেই স্থানান্তর করেছেন কি না, সে সম্পর্কে সুনির্দষ্টি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
কেনেডির মৃতু্যতে শোক: ইউএনবি জানায়, মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির মৃতু্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শানি্ততে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। কেনেডির কন্যা কারা কেনেডি এলেনের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সিনেটর কেনেডি ছিলেন একজন মহান ও পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ন্যায়নীতির ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তিনি বলেন, Èসিনেটর কেনেডির মৃতু্যতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।' ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় কেনেডির সঙ্গে তঁার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কেনেডির সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল তঁার অকুণ্ঠ সমর্থন।
বাসস জানায়, কেনেডির মৃতু্যতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এডওয়ার্ড কেনেডির স্মরণে একটি শোকবই খুলেছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শোকবই সবার জন্য খোলা থাকবে।

ডিসিসি চিঠি দেবে স্পিকারকে কার্যালয় স্থাপন করে সংসদীয় কমিটির তদন্ত নজিরবিহীন

ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন বলেছেন, সংসদীয় কমিটির চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নজিরবিহীন। এতে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) এবং জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে, যা গণতনে্ত্রর জন্য ভালো নয়। মেয়র এ ব্যাপারে অচিরেই স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা উলে্লখ করে বলেন, Èএটি জনগণের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। স্পিকার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করি।'
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) দুর্নীতি-অনিয়ম তদনে্তর জন্য নগর ভবনে একটি কার্যালয় স্থাপন করার কথা জানিয়ে ডিসিসিকে চিঠি দেয়। মেয়র সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে এ ধরনের নজির নেই উলে্লখ করে নগর ভবনে কার্যালয় স্থাপন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। এরপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাংসদ রহমত উল্লাহ ডিসিসির মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম তদনে্ত অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।
স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাদেক হোসেন তঁার ও ডিসিসির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কার্যালয় স্থাপন করে ওই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বা অনিয়ম তদন্ত করার কোনো নজির সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমের ইতিহাসে নেই। মেয়র বলেন, Èএখানে অসহযোগিতার বিষয় নয়, আমরা বলছি নজির নেই। সংসদীয় কমিটি যদি নজির দেখাতে পারে, তাহলে অবশ্যই সেটি করা হবে।'
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মেয়রও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু সেখানকার কোনো কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত কমিটি হয় না। ঢাকার ব্যাপারে একের পর এক তদন্ত কমিটি হচ্ছে। এ কারণেই এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ডিসিসি হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি বড় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করতে হয়। তাই এভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হলে ভবিষ্যতে যঁারা কাজ করবেন, তঁাদের জন্যও তা মঙ্গল বয়ে আনবে না।
মেয়র সংসদীয় কমিটির প্রধানের বক্তব্য উলে্লখ করে বলেন, Èসংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তদনে্তর আগেই বলেছেন, মেয়র নিজে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তদনে্তর আগে চেয়ারম্যানের এমন মন্তব্যে মনে হয়, এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। এতে পক্ষপাতিত্ব হবে এবং সততা থাকবে না।'
এ ছাড়া মেয়র সরকারের অন্য যেকোনো সংস্থাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে ডিসিসির কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। ডিসিসি যে কাজ করে, তা পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। তাই যে বিষয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে, তা চাইলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সংসদীয় কমিটি নিতে পারে।

যানজট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়ি রাখার জায়গা তালাবদ্ধ করে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং, জরিমানা

রাজধানীর পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল ও মেডালিয়ান ফার্নিচার দোকানের সামনের রাস্তায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বেশ কয়েকটি গাড়ি অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা ছিল। কিছু গাড়ি একেবারে রাস্তার মোড়ে রাখা। ঠিকভাবে পারাপার হতে পারছিল না যানবাহন। ফলে সেখানে যানজট লেগেই থাকে।
ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিন খঁোজ নিয়ে দেখেন, দুটি ভবনেই গাড়ি রাখার জায়গা আছে। কিন্তু তা তালাবদ্ধ করে রাখা। আদালত পার্কিংয়ের জায়গা তালাবদ্ধ করে রাখার দায়ে ওই দুটি ভবনের মালিককে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে বেশ কিছু গাড়ির মালিককেও জরিমানা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আলোকে জানান, জরিমানা করার পর পুনরায় ওই ভবন দুটিতে গিয়ে দেখেন আবারও পার্কিংয়ের জায়গা তালাবদ্ধ। তবে এবার আর জরিমানা না করে ভবন মালিককে সুযোগ দিয়ে তালা খোলার ব্যবস্থা করেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, তঁার সঙ্গে মাত্র চারজন পুলিশ দেওয়া হয়েছে। বেশি পুলিশ পেলে আরও বড় অভিযান চালানো যেত।
পান্থপথ এলাকায় গতকাল অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে ২৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জরিমানা আদায় হয় ১৫ হাজার ৩০০ টাকা।
রাজধানীতে যানজট কমিয়ে আনতে গতকাল নয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালায় ঢাকার জেলা প্রশাসন। গুলিস্তান, মতিঝিল, মগবাজার, পান্থপথ, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকায় এসব অভিযান চলে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুজন ম্যাজিস্ট্রেটও রাজধানীতে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে যানবাহনের চালক-মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত মোটর যান আইনের ১৩৮, ১৩৯, ১৫২ ও ১৫৭ ধারায় যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বন্ধে কাজ করছেন। এই ধারাগুলোতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন গাড়ি চালানো, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো ও গাড়ি থেকে কালো ধঁোয়া বের হলে কী শাসি্ত হবে তা উলে্লখ রয়েছে। তবে এসব ধারায় প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাসি্ত ১০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে।
মতিঝিল শাপলা চত্বরকে ঘিরে ওঠা বাস টার্মিনাল ও রিকশাস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে একটি আদালত যানবাহন মালিকদের নয় হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেন। ওই সময় ফুটপাত থেকে হকারও উচ্ছেদ করা হয়। মালিবাগ-মেৌচাক-মগবাজার এলাকায় মামলা হয় ১০টি এবং জরিমানা আদায় করা হয় চার হাজার ২০০ টাকা।
পান্থপথের রতনস ডেন্টালের সামনে ঢাকা মেট্রো-১১-৬৩৩৯ নম্বরের একটি গাড়ি ফুটপাত দখল করে পার্কিং করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়ির মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ক্রিকেট নির্বাচকদের জন্য নতুন শর্ত

আগামী ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচক কমিটির মেয়াদ। পরবর্তী নির্বাচক কমিটিতে নতুন কেউ আসুক বা এই নির্বাচক কমিটিই থেকে যাক দায়িত্বে, সেটা কোনো ব্যাপার নয়; তাদের চাকরির শর্তাবলিতে আসছে পরিবর্তন। জাতীয় দল নির্বাচক কমিটির কাজের পরিধি ও পদ্ধতি বদলানোর সদ্ধিান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবিতে এখন নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটি নামেও একটা কমিটি আছে। কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে থাকলেও অন্য চার সদস্য আমিনুল হক, দেওয়ান শফিউল আরেফিন, জালাল ইউনুস ও গাজী আশরাফ হোসেন কাল বিকেলে নির্বাচকদের চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। সভা শেষে মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, Èনির্বাচকদের কর্মপদ্ধতি ও পরিধি নতুন করে নির্ধারণ করবে বোর্ড। এই নির্বাচক কমিটি দায়িত্বে থাকুক কিংবা নতুন নির্বাচক কমিটি আসুক, তাদের নতুন এসব শর্ত মেনেই কাজ করতে হবে। চুক্তি করার আগে নির্বাচকদের এ ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হবে।'
ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে নির্বাচক কমিটির সদস্যরা নিয়মিতই মাঠে যান। তঁাদের এ কাজে আরও শৃঙ্খলা আনতে নতুন চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য ম্যাচে নির্বাচকদের পালা করে মাঠা থাকার বাধ্যবাধকতা দেবে নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটি। প্রত্যেক নির্বাচককে এখন থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের নির্দষ্টিসংখ্যক ম্যাচ মাঠে থেকে দেখতে হবে। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক পর্যায়ের খেলোয়াড় বাছাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে দুই জুনিয়র নির্বাচকের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচকদের কাজের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।
নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন দেশে ফিরলে আরেকটি সভায় বসে এসব সদ্ধিান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন নির্বাচক কমিটির ব্যাপারেও সদ্ধিান্ত হবে তখন। Èআমরা এটা ঝুলিয়ে রাখব না। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল নতুন নির্বাচক কমিটিই করবে। আর যদি এই নির্বাচক কমিটিই থেকে যায় তাহলেও তাদের নতুন করে চুক্তিতে সই করতে হবে'∏

প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ জিতল আফগানিস্তান

দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতনে্ত্রর পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে আফগানিস্তান। তবে তার আগেই তাদের ক্রিকেট এগিয়ে গেল এক ধাপ। চার মাস আগে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এবার ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে প্রথম জয়ের দেখা পেল নেদারল্যান্ডসকে ১ উইকেটে হারিয়ে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টিলভিনে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের চার দিনের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দল ১৮১ রানে অলআউট হয়েছিল। জবাবে প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানেই ফুরিয়ে যায় আফগানিস্তান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে নেদারল্যান্ডসকে ১৩২ রানে বঁেধে ফেলে লিডটাকে ২০৭ রানের বেশি করতে দেয়নি তারা।
পরশু ম্যাচের তৃতীয় দিনে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৬৮ রান। হাতে ছিল ৮ উইকেট। শেষ পর্যন্ত দারুণ নাটকীয়তায় মোড় নেওয়া ম্যাচটি জিতেছে তারা ৯ নম্বরে খেলতে নামা সলিমুল্লাহ শেনওয়ারির অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসটিতে।

চার দিনের ম্যাচ কমবে কেন?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ খারাপ করলেই ঘরোয়া ক্রিকেট ঢেলে সাজানোর কথা ওঠে। তবে সেই ঢেলে সাজানোর নমুনা যদি হয় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ কমিয়ে দেওয়া আর দেশের ক্রিকেটকে টি-টোয়েন্টির জোয়ারে ভাসানো, সেটা কতটা গঠনমূলক? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এমনই এক উদ্ভট সদ্ধিানে্তর প্রবল বিরোধিতা করে সাবেক ক্রিকেটাররা বলেছেন, কাঠমো পরিবর্তনের নামে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ম্যাচ কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মঙ্গল আনবে না দেশের ক্রিকেটে।
টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন বলেছেন, জাতীয় লিগের কাঠামো পরিবর্তনের একটা কারণ আর্থিক সাশ্রয়। জিম্বাবুয়ে সফরে থাকায় বোর্ডের সর্বশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে কাল আর এর বেশি কিছু বলতে চাইলেন না তিনি। তবে টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান জোয়ার্দার জানিয়েছেন, লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই কাঠামোতে এই পরিবর্তন। তঁাদের মনে হয়েছে আগের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত সব দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখত না। খারাপ পারফরম্যান্স করা দলগুলো মাঝপথেই সব উত্সাহ হারিয়ে ফেলত।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখার নতুন ফর্মুলায় ছয়টি দল প্রথমে লিগ পদ্ধতিতে সবার সঙ্গে খেলবে। এরপর শীর্ষ চারের মধ্যে আবার লিগ এবং সেই লিগের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে হবে পঁাচ দিনের ফাইনাল। ওয়ানডেতেও একই পদ্ধতি। আসন্ন জাতীয় লিগের আরেকটি বিশেষত্ব∏এবার হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলা হবে না। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুটি ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ হবে। বাকি ম্যাচগুলো খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া ও চট্টগ্রামে। চার দিন আর এক দিনের ম্যাচের সঙ্গে Èযুগের দাবি' মেটাতে জাতীয় লিগের এবারের সংস্করণে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও যোগ করা হয়েছে।
চার দিনের ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ এসেছিল ক্রিকেটার কল্যাণ সমিতি (কোয়াব) থেকে। কিন্তু কোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালের দাবি, তঁাদের কথাকে আমল দেয়নি বোর্ড, Èআমরা বোর্ডকে বলেছি যদি তঁারা ঘরোয়া পর্যায়ে আরেকটি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট লিগ আয়োজন করতে পারেন, তাহলে জাতীয় লিগে ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্ত মানা যায়। কিন্তু সেটা না করেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের খেলা কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবে বোর্ড থেকে আমাদের তঁাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।'
আগের পদ্ধতিতে পুরো লিগে মোট ৩০টি চার দিনের ম্যাচ হলেও এবার সেটা কমে ২২টিতে দঁাড়াচ্ছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান ম্যাচ কমানোর এ সদ্ধিান্ত মানতে পারছেন না, Èঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ কমানোর কী উদ্দেশ্য সেটা বুঝতে পারলাম না। এটা কি স্থায়ীভাবে হলো, না শুধু এবারের জন্য? আমি মনে করি বেশি ম্যাচ খেলার কোনো বিকল্প নেই।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবার এমনিতেও অনেক ম্যাচ মিস করবেন। এর সঙ্গে চার দিনের ম্যাচের সংখ্যায় কাটছঁাট হলে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে বলে মনে করেন রকিবুল। তঁার বিকল্প পরামর্শ, Èদেশের সেরা খেলোয়াড়দের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা থাকলে প্রয়োজনে তিন মাস ধরে খেলা হবে, তবু ম্যাচ কমানো যাবে না।'
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ আশাবাদী, জাতীয় লিগের নতুন ফরম্যাট থেকে হয়তো ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্ত মানতে পারছেন না তিনিও, Èযেকোনো ফরম্যাটেরই ভালো-খারাপ দিক থাকতে পারে। নতুন ফরম্যাটটাও নিশ্চয়ই ভালো কিছু ভেবেই করা হয়েছে। কিন্তু এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এতে ম্যাচ কমে যাচ্ছে। ফরম্যাট যাই হোক, ম্যাচ কমিয়ে দেওয়াটা কোনোভাবেই মানা যায় না। নতুন ফরম্যাট আসতে পারে। কিন্তু তাতে হয় ম্যাচ বাড়বে, নয়তো আগেরটাই ঠিক থাকবে। কমার তো প্রশ্নই ওঠে না।'
আইসিএল থেকে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অপেক্ষায় থাকা হাবিবুল বাশারের কাছেও মনে হচ্ছে জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্তটা ভুল, Èদীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই আমাদের বেশি সমস্যা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিনোদনের ক্রিকেট হতে পারে, কিন্তু সেটা খেলে খেলার মান বাড়বে না। টেস্ট মেৌলিক ক্রিকেট। টেস্ট বা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে আপনি যদি ভালো খেলতে পারেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতেও ভালো করবেন।'
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ আর চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি লিগ মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে দুটি। এর সঙ্গে আরও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলানোর কী কারণ, রকিবুল-ফারুকরা বুঝতে পারছেন না সেটাও। Èটি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সময়ের দাবি হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনটা ২০ ওভারের টুর্নামেন্ট বেশি হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত'∏বলেছেন ফারুক। আর রকিবুল হাসানের মত, Èটি-টোয়েন্টি টেকনিক্যালি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বেশি খেললে ক্ষতি। বলতে পারেন টি-টোয়েন্টির তো বিশ্বকাপও হয়। হঁ্যা, তা হয়, তবে সেটা আমাদের আলাদাভাবেই খেলতে হবে।'

বিপদে পড়ে গেছে নিউজিল্যান্ড

ম্যাড়মেড়ে প্রথম দিনের পর কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল অনেক প্রাণবন্ত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি নিউজিল্যান্ডের ভাগ্যের। শ্রীলঙ্কাকে ৪১৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় দিন শেষেই পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে তাদের। ফলোঅন এড়াতে এখনো প্রয়োজন ৫৮ রান, হাতে আছে ৫ উইকেট।
তিলকারত্নে দিলশানকে দিয়ে বোলিংয়ের সূচনা করে চমক দেখিয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। তবে চমক সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র এক ওভারেই। দিলশানের জায়গায় বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই টিম ম্যাকিন্টসকে এলবিডব্লু করে দেন আট মাস পর টেস্ট খেলতে নামা ধাম্মিকা প্রসাদ। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার অন্যতম দ্রুততম পেসার। গত কিছুদিনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন থিলান তুষারা। দুর্দান্ত এক আউট সুইঙ্গারে ড্যানিয়েল ফ্লিনকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানানোর পর দারুণ খেলতে থাকা মার্টিন গাপটিলকে স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানিয়েছেন বাউন্সারে। কিউইদের সেরা দুই তরুণ ব্যাটসম্যান রস টেলর ও জেসি রাইডার এর পর খেলছিলেন আস্থা নিয়েই। দুই মারমুখী ব্যাটসম্যান পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন অনেক সতর্কতার সঙ্গে। তঁাদের ৮৫ রানের জুটিটি ভেঙেছে রাইডারের দৃষ্টিকটু আউটে। রঙ্গনা হেরাথের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলে সিলি মিডঅনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে এই বঁাহাতির ৭৩ বলের ইনিংস। নাইটওয়াচম্যান জিতান প্যাটেলের আউট নিউজিল্যান্ডকে ঠেলে দেয় আরও বিপদে। কিউইদের আশা হয়ে উইকেটে ছিলেন রস টেলর (৭০)।
এর আগে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৪০০ পেরিয়েছে থিলান সামারাবীরার সেৌজন্যে। ক্যারিয়ারের ১১তম ও এই বছরে চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান। সে সঙ্গে চলতি বছর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পেরিয়েছেন এক হাজার রানের মাইলফলক। ১০৫৮ রান নিয়ে তিনি আছেন কেবল ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের পেছনে (১০৭১)। সামারাবীরা পারলেও অল্পের জন্য একটি মাইলফলক মিস করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। আর মাত্র ৮টি রান করতে পারলেই এক মাঠে ১০ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান হতেন তিনি। তবে এক মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিকে নিয়ে গেছেন আরও ধরাছঁোয়ার বাইরে, এই মাঠে ২২ টেস্টে তঁার রান এখন ২৩৭১। জয়াবর্ধনের সঙ্গে ১৮০ রানের জুটির পর কাপুগেদারার সঙ্গে ৭২ রানের জুটি হয় সামারাবীরার। তবে ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারালে শ্রীলঙ্কা থেমে যায় ৪১৬ রানেই। ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নিয়েছেন জিতান প্যাটেল।

Friday, August 21, 2009

বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না?

ঊর্ধ্বমুখী বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা হিসেবে সরকার অবশেষে ডিম ও আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে ডিম-আলুর দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়া শুরু করেছে বলেই সরকারকে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পাশাপাশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিশোধিত চিনি আমদানির শুল্ক। এর মানে হলো, আমদানি বাড়িয়ে দেশের বাজারে এই তিনটি পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো হবে, যাতে তা ভোক্তার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। এতে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে; অন্তত সরকার এটাই প্রত্যাশা করছে।
কিন্তু এই পদক্ষেপ আবার আমাদের একটি পুরোনো প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। সেটি হলো—বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না? প্রশ্নটা এসেছে দেশে আলুর মজুদ ও ডিম উত্পাদনের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাঁচ মাসের আলু মজুদ রয়েছে। তাহলে এই মজুদ থেকে বাজারে পণ্য ছেড়ে জোগান বাড়ানো হচ্ছে না কেন? কেন দাম স্থিতিশীল না থেকে বাড়ছে? স্পষ্টতই এখানে বাজার-প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে না।
অবশ্য ডিমের বিষয়টি পুরোপুরি এ রকম নয়। চাহিদার বিপরীতে ডিমের উত্পাদন ও সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণে খামারগুলোয় বিপর্যয় নেমে আসায় ডিমের উত্পাদন হ্রাস পেয়েছিল। তবে খামারগুলো আবার চালু হতে শুরু করেছে। তাতে অবশ্য বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি; যার প্রমাণ ডিমের দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলা। আমদানির সিদ্ধান্ত দাম কমাতে কতটা সহায়তা করবে, তা জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে মূল আমদানিটা হবে প্রতিবেশী ভারত থেকে। আর ভারতও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। তাই মূল্যছাড়ের পাশাপাশি নিরাপদ ডিমের সরবরাহটাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে থাকল চিনি। পরিশোধিত চিনি ও চিনির মণ্ডের (র সুগার) মধ্যে শুল্ক-ব্যবধান একই রেখে দুই ধরনের চিনির শুল্ক হ্রাস কমানো তেমন ফল দেবে না, এটা সহজেই অনুমেয়।
তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ডিম-আলু আমদানি ও চিনির শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত কি সময়োপযোগী হয়েছে? প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখন চিনি আমদানির ঋণপত্র খুললে তা আসতে এক-দেড় মাস সময় লাগবে। তত দিনে রমজান মাস শেষ হয়ে চাহিদাও কমে যাবে। অন্যদিকে আলুর স্থানীয় মজুদ বাজারে ছেড়ে দাম কমানোর চাপমূলক কৌশল হিসেবে আমদানির সিদ্ধান্তটি অন্তত আরও সপ্তাহখানেক আগে নেওয়া যেত।

আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে -তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সময়ই দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের ধারণা ছিল, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিন-চার মেয়াদের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে আপনাআপনি এ ব্যবস্থার প্রয়োজন শেষ হবে বলে তখন সাধারণভাবে আশা করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে তিন মেয়াদের পর এখন বাস্তবিকই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলছেন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে। তাঁর মতে, তিনবার এ পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি ও নির্ধারিত মেয়াদ তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর প্রলম্বিত হওয়ায় এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। তাঁর আলোচনার প্রস্তাবটি ঠিক, কিন্তু ব্যাখ্যাটি ভুল। আসলে ব্যর্থতা নয়, সাফল্যই মূল বিবেচ্য বিষয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন, সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে বলেই এখন এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে কি না তা নিয়ে আলোচনা করা চলে।
এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আশির দশকে আন্দোলনের সময় প্রথম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রকৃত জনদাবিতে পরিণত হয়। একানব্বইয়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তারই ফসল। কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিল না। হয়তো এর প্রয়োজনও পড়ত না, যদি ১৯৯৪ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও সহিংসতা না হতো। এর পরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সব বিরোধী দলের দেশজোড়া আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কায়েম করা হয়। সাধারণভাবে মানুষ বিশ্বাস করে, এর পর থেকে প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ২০০৬ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিতর্কিত কিছু পদক্ষেপের কারণে প্রশ্ন দেখা দেয়। এর ফলে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাব ঘটে।
কিন্তু এটা অনস্বীকার্য যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচনী আইনের সংস্কার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভের ফলে এখন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর আছে কি না তা নিয়ে চিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনটি শর্তের বিনিময়েই তা সম্ভব। প্রথমত, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো কলাকৌশল থেকে ক্ষমতাসীন সরকারকে বিরত থাকার কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা। এ জন্য নির্বাচনের তিন মাস আগে সরকারের পদত্যাগ ও বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র মন্ত্রিসভার অধীনে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ব্যবস্থাই প্রচলিত। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের সময় তার সর্বময় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ প্রশ্নে দেশে প্রকৃত অর্থেই রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিজ্ঞানী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকবে কি থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এভাবেই শুরু হতে পারে।

বিশ্ব মানবিক দিবস পালন

বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা নিজেদের প্রাণ উত্সর্গ করেছেন অথবা আহত হয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো বিশ্ব মানবিক দিবস পালন করেছে।
নিউইয়র্কে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যোগ দেন। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল জেনেভায় বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিরা সমবেত হন।
মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত বছর অন্তত ১২২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হন। গতকাল ছিল ইরাকে জাতিসংঘ অফিসে বোমা হামলার ছয় বছর পূর্তির দিন। ২০০৩ সালের এই দিনে ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘ অফিসে সন্ত্রাসী হামলায় ২২ জন মানবিক ত্রাণকর্মী নিহত হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৯ সালের ১৯ আগস্টকে প্রথম বিশ্ব মানবিক দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়।

‘কোজাগর’, ‘গণেশি’র পর এবার ‘অরণ্য’

‘কোজাগর’ ও ‘গণেশি’র পর এবার মারা গেল ‘অরণ্য’। মায়ের দুধের অভাবে দলছুট এ হাতির ছানাটিকে বাঁচানো গেল না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গত শনিবার রাতে অরণ্যের মৃত্যু হয়। এর আগে কোজাগর ও গণেশি নামে আরও দুটি হাতির ছানা একই কারণে মারা যায়।
মাস দেড়েক আগে জলঢাকা নদীতে ভেসে আসে অরণ্য। এরপর তাকে বাঁচাতে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে প্রথমে গুঁড়ো দুধ, পরে নারিকেলের দুধ, ছাগলের দুধ ও চালের গুঁড়ো মেশানো পানীয় তৈরি করে খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি।
পশুচিকিত্সক শ্বেতা মণ্ডল বলেন, মায়ের দুধের অভাবেই অরণ্যের শরীরে নানা রোগ দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মারা যায় ছোট্ট হাতিটি।

আর্জেন্টিনার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ হন্ডুরাসের

রবার্তো মিশেলেত্তির নেতৃত্বাধীন হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশ থেকে আর্জেন্টিনার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করেছে। গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি জারি করে হন্ডুরাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেগুচিগালপায় তাদের কূটনীতিকদের আর্জেন্টিনার দূতাবাস ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ।
হন্ডুরাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আর্জেন্টিনা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই নির্দেশ জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার হন্ডুরাসের সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে ইসরায়েলি দূতাবাসের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করবে হন্ডুরাস।
গত ২৮ জুন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর মিশেলেত্তির সরকার এ নিয়ে দ্বিতীয় একটি দেশের কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিল। এর আগে তারা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কারের আদেশ দেয়। কিন্তু মিশেলেত্তির সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে ওই আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায় ভেনেজুয়েলা।
এদিকে মিশেলেত্তির সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মহাসচিবের পদত্যাগ

টাইফুন মোরাকোট আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজে ধীরগতির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চেন চাও-মিন ও মন্ত্রিসভার মহাসচিব (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি জেনারেল) সুয়েহ হসিয়াং-চুয়ান। গতকাল বুধবার তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর লিউ চাও-শিউয়ানের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। মন্ত্রিসভার একজন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। বিষয়টি এখন তাঁর বিবেচনাধীন। এর আগে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হসিয়া লি-ইয়ান একই কারণে পদত্যাগ করেন।

বিশ্বমন্দায় সংবাদপত্রে পরিবর্তনের হাওয়া

চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত খাত সংবাদপত্র। বিশ্বের এই নতুন অর্থনৈতিক দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচরণকে ভীষণভাবে ব্যাহত করছে। এই মন্দায় মার্কিনরা সংবাদপত্রকেও ঠিক সে রকম বিলাসী ব্যয় হিসেবে দেখছে।
মন্দার ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর অবস্থা তথৈবচ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মানুষ প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে থাকার কারণে সংবাদ জানার জন্য সংবাদপত্রের ইন্টারনেট সংস্করণকে বেছে নিচ্ছে। কারণ যেখানে পুরো সংবাদপত্রই বিনে পয়সায় পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে কিছু পয়সা খরচ করে মূল পত্রিকা কেনাকে ‘বাজে খরচ’ই মনে করছে তারা। দেশগুলোর অনেক পুরোনো, নামকরা ঐতিহাসিক পত্রপত্রিকার বিক্রি নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোটায়। খরচ কুলিয়ে উঠতে না পেরে পত্রিকাগুলোতে চলছে এখন কর্মী ছাঁটাই, নতুবা পুরো পত্রিকাটাই বন্ধ করে দেওয়ার অসহায় প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পোস্ট অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় এ জনপ্রিয় পত্রিকার পাঠকসংখ্যাও নেমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে সিয়াটল শহরের অন্য পত্রিকাগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও নিজেদের একটা নির্দিষ্ট পাঠক শ্রেণীর সমন্বয়ে মিটমিট করে জ্বলে রয়েছে সিয়াটল পোস্ট (পত্রিকাটি সিয়াটল পোস্ট ইন্টেলিজেন্সার নামেও পরিচিত) পত্রিকার সার্কুলেশন। গত মার্চ মাস থেকে সিয়াটল পোস্ট সিয়াটলের বেঁচে থাকা একমাত্র সংবাদপত্র। প্রতিদ্বন্দ্বী আর সব পত্রিকার করুণ পরিণতি দেখে সিয়াটল পোস্ট-এর প্রকাশক ফ্র্যাংক এ ব্লেথেনও তাঁর পত্রিকার অবস্থা যে অন্যসব পত্রিকার মতো হবে না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অর্থনৈতিক মন্দা মানুষকে এত বাজেভাবে ধাক্কা দিয়েছে যে ‘একমাত্র পত্রিকার শহর’ সিয়াটল যেকোনো সময় পরিণত হতে পারে ‘পত্রিকাবিহীন শহরে’।
তবে মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মূল সংবাদপত্রের পাঠকসংখ্যা কমে যাওয়ার পর, পত্রিকাগুলোর রাজস্বে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে পত্রিকার চেহারা, আঙ্গিকে বিভিন্ন ধরনের কাঁটছাট আনতে বাধ্য হয়েছেন মালিক ও প্রকাশকেরা। বিজ্ঞাপনের আয় কমে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক সংবাদপত্রই এখন অনলাইন সংস্করণের পথে হাঁটছে। পত্রিকা বিক্রি কমে গেলেও গত এক বছরে অনলাইন সংস্করণে লগইন অনেকখানি বেড়েছে। কারণ মানুষ এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে সংবাদপত্র ‘বিনা মূল্যে’ পড়ার আনন্দ উপভোগ করছে। সেই হিসাবে পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে অন্যভাবে, অনলাইনের মাধ্যমে। এতে পত্রিকাগুলো অন্যভাবে চিন্তা করছে বেঁচে থাকার। তারা তাদের কর্মকাণ্ডে একটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। অনলাইন সংস্করণ, মোরাইল ফোনে সংবাদ সেবা, ব্লগ ইত্যাদির মাধ্যমে সংবাদপত্রগুলো টিকে থাকার চেষ্টায় রয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা তারা তাদের চেষ্টায় সফল। মানুষ ইতিমধ্যেই অনলাইনকে তাদের সংবাদপত্র পাঠের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে।
অনলাইনের উত্থান সংবাদপত্রের অস্তিত্ব কোনোমতে রক্ষা করলেও সংবাদপত্র শিল্পের কর্মী ছাঁটাইকে রোধ করতে পারেনি। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমস-এর মতো পত্রিকাও তাঁদের কর্মী ছাঁটাই রোধ করতে পারেনি। বিশ্বমন্দার আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বার্তা বিভাগে ৩৭৫ জনের মতো কর্মী কর্মরত ছিলেন। এখন মন্দার পরে নিউইয়র্ক টাইমস কর্মীসংখ্যা ২১০-এ নামিয়ে এনেছে। সিয়াটল পোস্টও এ ব্যাপারে সতর্ক ভূমিকা নিয়েছে। তাঁরাও কর্মী নিয়োগে যথেষ্ট যাচাই-বাছাইয়ের আশ্রয় নিয়েছে। এ ব্যাপারে সিয়াটল পোস্ট-এর নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড বোর্ডম্যান বলেন, “কর্মী নিয়োগে আমাদের যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে। মন্দার এ সময়ে আমাদের বিলাসিতার সুযোগ নেই। তবে এর মানে এই নয় আমরা আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে কম কর্মী নিয়োগ দেব। এটা তো ঠিক ‘কম’ কখনো ‘বেশি’র জায়গা নিতে পারে না।” তবে সিয়াটল পোস্ট আগের ১৬৫ জন কর্মীর জায়গায় এখন ২০ জন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ২০ জন কর্মী মূলত অনলাইন পাঠকদের দৈনন্দিন সংবাদ চাহিদা মিটিয়ে চলেছেন। এরাই সংক্ষিপ্ত কলেবরের মূল পত্রিকায় অবদান রাখছেন। এই ২০ জন তাঁদের সংবাদপত্রের সিদ্ধান্তমতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন। এগুলো হলো অপরাধ, আকাশ বিজ্ঞান, খেলাধুলা, রাজনীতি প্রভৃতি।
বৈশ্বিক মন্দা অনেক কিছুর মতো সংবাদপত্র শিল্পকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। তবে এই মন্দা আবার পত্রিকাগুলোর সামনে নতুন পথও খুলে দিয়েছে। সংবাদপত্রের মালিকেরা এখন তাঁদের কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বৈচিত্র্য আনার চিন্তা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলতার মুখ দেখেছে। কেবল সংবাদপত্রের খুচরা বিক্রি নয়, সংবাদ নানাভাবে বিক্রি করে যে ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়া যায় তা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাই সংবাদপত্রে দিনবদলের পালা হয়তো শুরুই হয়ে গেছে। পুরোনোপন্থীরা এই পরিস্থিতিকে দেখছেন সংবাদপত্রের শনির দশা হিসেবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? একটু অন্যভাবে দেখলে সংবাদপত্র তাঁর ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। আর নতুনকে গ্রহণ করেই সংবাদপত্র আধুনিক চেহারায় টিকে থাকবে—এ কথা বলাই যায়। নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে নাইর ইকবাল।

তালেবান মুখপাত্র মৌলভি ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত

পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সে দেশের তালেবানের প্রধান মুখপাত্র মৌলভি ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁকে গত সোমবার রাতে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের মোহমান্দ উপজাতীয় এলাকা থেকে আটক করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মৌলভি ওমর নিশ্চিত করেছেন, এ মাসের শুরুর দিকে মার্কিন বিমান হামলায় তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হয়েছেন। তালেবানরা এর আগে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছিল।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হরকত জিহাদ-ই-ইসলামির একজন কমান্ডার কারি সাইফুল্লাহকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতাল থেকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আটক করা হয়েছে। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে থাকতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৌলভি ওমর ও কারি সাইফুল্লাহ উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৌলভি ওমর তেহরিক-ই-তালেবানের মুখপাত্র। তিনি বায়তুল্লাহ মেহসুদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি তালেবানের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

২০২০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি রাস্তায় নামাবে জার্মানি

২০২০ সাল নাগাদ দেশের রাস্তায় পরিবেশবান্ধব ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি নামানোর এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছে জার্মান সরকার। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার একটি খসড়া পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য গাড়ি প্রস্তুতকারক বৃহত্ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
‘ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মোবিলিটি প্ল্যান’ নামের ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, ২০২০ সাল নাগাদ দেশের রাস্তাগুলোয় কমপক্ষে ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি চলুক—কেন্দ্রীয় সরকারের এটাই ইচ্ছে। বার্লিনের ওই পরিকল্পনায় ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ির ব্যাটারি ও রিচার্জ যন্ত্রের উন্নয়ন নিয়ে গবেষণার জন্য ওই ভর্তুকি দেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ওই গাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি করে আসছিল, যাতে উত্পাদন খরচ কম হয় এবং ক্রেতারা তা কম দামে কিনতে পারে।

মেগরাহির মুক্তির বিরোধিতা করলেন হিলারি

স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলাকারীর সম্ভাব্য মুক্তির বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এর আগে বিমানটি উড়িয়ে দেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া লিবিয়ার নাগরিক আবদেল বাসেত আলি মোহাম্মদ আল-মেগরাহির মুক্তির বিরোধিতা করেন সাতজন মার্কিন সিনেটর।
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি গ্রামের আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ উড়িয়ে দেওয়ার দায়ে মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলার ঘটনায় বিমানটির ২৭০ জন আরোহী প্রাণ হারায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮৯ জন ছিল মার্কিন নাগরিক। ৫৭ বছর বয়সী মেগরাহি প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
হিলারি গত মঙ্গলবার বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অনেকের সঙ্গে আমি কথা বলে তাঁদের ভয়ানক অভিজ্ঞতার ব্যাপারে জেনেছি।’ তিনি এও বলেন, ওই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাজা ভোগ করছেন এমন কাউকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ ভুল। বিবিসি।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে গত মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ার উদ্যোগ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন এ দুই নেতা। তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং একটি সমাধানে পৌঁছানোর ওপর জোর দেন। খবর বিবিসির।
বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার কায়রো বক্তৃতার কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রশংসা করেন হোসনি মোবারক। তিনি বলেন, কায়রোতে দেওয়া তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব সন্দেহ ছিল, তা ‘দূর হয়ে গেছে’। বৈঠকে মোবারক আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের কাজ বন্ধ করবে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বৈঠকে হোসনি মোবারক প্রেসিডেন্ট ওবামাকে জানান, শান্তিপ্রক্রিয়ার বিষয়ে ইসরায়েল ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ না নিলে মিসর কোনো কিছু করবে না।
প্রেসিডেন্ট মোবারক বলেন, বিগত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মিসরের কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে ‘ইতিবাচক ও কৌশলগত’ ভালো সম্পর্ক চলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে ইরাক যুদ্ধ, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব এবং মিসরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন হোসনি মোবারক। বৈঠকে আরব-ইসরায়েল পরিস্থিতি, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও বৈঠক করেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।

শঙ্কা আর উদ্বেগের মধ্যে আজ ভোট দিচ্ছেন আফগানরা

নানা শঙ্কা আর জঙ্গিদের হুমকির মধ্যেই আফগানিস্তানে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর আগে ২০০৪ সালে নানা সহিংসতার মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের এবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ। নির্বাচনের আগের দিন গতকাল রাজধানী কাবুলের একটি ব্যাংকে জঙ্গি হামলার খবর মিলেছে। ওই হামলায় পুলিশের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশের পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে তিনজন তালেবান জঙ্গি। এ পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে বিশ্লেষকেরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
আজ সকাল থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একই সঙ্গে দেশের প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচনের জন্যও ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা।
এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। তবে সহিংসতার আশঙ্কা ও তালেবান হুমকির মুখে ১২ শতাংশের মতো ভোটকেন্দ্র খোলা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের মহাসচিব গতকাল এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব যোগ্য ভোটারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটারদের পাশাপাশি সব প্রার্থী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তিনি একসঙ্গে কাজ করতে বলেছেন।
স্থানীয় সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দক্ষিণে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। চার ঘণ্টা ধরে ওই গোলাগুলি চলে। ওই সময় তিন পুলিশ ও তিন জঙ্গি নিহত হয়। তালেবানরা এক বিবৃতিতে ব্যাংকে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা: প্রেসিডেন্ট পদে ব্যালটে নাম থাকছে মোট ৪১ জনের। তাঁদের মধ্যে ১১ জন আগেই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। লড়াইয়ের মাঠে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন পশ্চিমা সমর্থিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তবে সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহও তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এ ছাড়া অপর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ গনি আহমদজাই, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমজান বাশারদস্ত, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জাবার সাবিত, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার মিরওয়ায়েস ইয়াসিনি, সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) শাহনওয়াজ তনাই এবং দুই নারী প্রার্থী ফ্রোজান ফানা ও সাহলা আত্তা।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ৩৪টি প্রদেশে ৪২০ জন প্রাদেশিক কাউন্সিলরও নির্বাচন করবেন ভোটাররা। প্রাদেশিক কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হাজার ১৯৬ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ৩২৮ জন নারী।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক: দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা মনোনীত বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন ফাউন্ডেশন অব আফগানিস্তান’-এর সভানেত্রী নাদের নাদেরি। জঙ্গি হুমকির কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।

বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ২৮০ কোটি টাকার ইট রপ্তানি হবে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এবার বাংলাদেশ থেকে ইট রপ্তানি হবে। ওই রাজ্যের সরকার বাংলাদেশ থেকে ৪০ কোটি ইট বা প্রায় ২৮০ কোটি টাকা মূল্যের ইট আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ওই রাজ্যের বেসরকারি খাতেও এর তিন গুণ চাহিদা রয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইট রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) এ তথ্য জানায়।
রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও নিটল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। এ সময় চেম্বারের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল মাতলুব বলেন, ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচুর রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ভারতের সঙ্গে ঘাটতি অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইট সাত টাকা দরে ৪০ কোটি ইট বিক্রি করা হবে।
আবদুল মাতলুব ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা ও স্থলবন্দরের উন্নয়নের সুপারিশ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, পরিবেশদূষণের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ ইট উত্পাদনে নিরুত্সাহিত করে থাকে। কিন্তু এ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের সব রীতিনীতি মেনেই ইট উত্পাদন করছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ত্রিপুরায় ইট রপ্তানি উপলক্ষে আইবিসিসিআই আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তে আজ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া ত্রিপুরার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জিতেন্দ্র চৌধুরী সম্মানিত অতিথি, সাংসদ লুত্ফুল হাই ও শাহ আলম, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ও ত্রিপুরার মুখ্য সচিব সুধীর শর্মা উপস্থিত থাকবেন।

ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম

দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারসমূহের মধ্যকার ব্যবধান ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মে মাসে কিছুটা বেড়েছে।
আর এই ব্যবধান প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় বেশি হলেও পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় কিছুটা কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এতে দেখা যায় যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের গড় ভারিত সুদের হার ছিল যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর ফলে দুয়ের মধ্যকার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
আর মে মাসে এসে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য এই ব্যবধান আরও কমিয়ে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টে নামিয়ে আনার পক্ষপাতী।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ভারতে এই ব্যবধান চার থেকে সাড়ে চার শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট ও ৬ দশমিক ৩২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের শেষে অর্থাত্ ২০০৮ সালের জুন মাসে ব্যাংকগুলোয় ঋণের ক্ষেত্রে গড় ভারিত সুদের হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ আর আমানতের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এর ফলে ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যকার ব্যবধান ২০০৭-০৮ অর্থবছর শেষে নেমে এসেছিল ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্টে (পারসেন্টেজ পয়েন্ট)।
মুদ্রানীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সমন্বয় করার ফলে আমানতের প্রকৃত সুদের হার এখন তিন শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের মে মাসের হিসাবে এই হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর গড় ভারিত হিসেবে এই হার ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলে ঋণের সুদের হার মে মাসে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা কিনা গড় ভারিত হিসেবে ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তার মানে হলো, আমানতকারীরা ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে অনেক কম হারে সুদ পাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে ঋণের সুুদের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণের বিষয়টি ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দেয়। তখন থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হতো না, পরামর্শ দেওয়া হতো।
কিন্তু দুই বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দেশনা জারি করে সুদের হার বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বমন্দার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাশীল আচরণের অভাবই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের সুদহার বেঁধে দিতে বাধ্য করেছে।

বাংলাদেশ জিতেছে, তাই ভালো আছি’

দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর মাশরাফি বিন মুর্তজা এখন মেলবোর্নে দিন গুনছেন দেশে ফেরার। হাঁটুতে চোট পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মাঝপথে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশ অধিনায়কের সঙ্গে কাল টেলিফোনে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হলো। জানালেন বাংলাদেশের সাফল্যে তাঁর উচ্ছ্বাসের কথাও কেমন আছেন?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: অনেক ভালো।
অনেক ভালো! ঘটনা কী, সুস্থ হয়ে গেছেন নাকি?
মাশরাফি: না, সুস্থ হতে দেরি আছে। বাংলাদেশ জিতেছে, এ কারণে অনেক ভালো আছি।
আচ্ছা আচ্ছা, তা আপনার নিজের অবস্থা কী?
মাশরাফি: ভালোই আছি। ১০ তারিখে অপারেশন হয়েছে। অপারেশনের পর একবার চেকআপ করিয়েছি। যাওয়ার আগে আরেকবার করানোর ইচ্ছা আছে। ২২ তারিখে দেশে ফিরব।
আপনি তো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় পেয়েছিলেন। সে তুলনায় তো ইনজুরিটা কম গুরুতরই হয়েছে, না কি?
মাশরাফি: হ্যাঁ, লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে তো এক বছর বাইরে বসে থাকতে হতো। সে তুলনায় তো কমই হয়েছে। এখন মাস দুয়েকের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারব বলে আশা করছি।
এক হাঁটুর সমস্যা নিয়ে গেলেন অথচ দুই হাঁটুতেই অপারেশন লাগল!
মাশরাফি: হ্যাঁ। ডান হাঁটুতে চোট নিয়ে এলাম, ডাক্তার দুই হাঁটু দেখে বলল, বাঁ হাঁটুর অবস্থা আরও খারাপ। বাঁ হাঁটুতে এখনই অপারেশন না করালে পরে বড় সমস্যা হতে পারত। এর আগেও একবার এমন হয়েছিল। এক হাঁটুতে চোট পেয়ে মেলবোর্নে এসেছি, ডাক্তার বলেছে অন্য হাঁটুর অবস্থাও ভালো নয়।
তাহলে তো ডান হাঁটুর ইনজুরিটা শাপে বরই হয়েছে, তাই না?
মাশরাফি: আর শাপে বর! অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেসথেসিয়া করার আগে ডেভিড ইয়াং (অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদ) নতুন একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বলল, ওর দুই হাঁটুতে ছয়টা অপারেশন হয়ে যাচ্ছে। তিনবার হাঁটু পুরো নতুন করে সাজাতে হয়েছে (রিকনস্ট্রাকশন)। তার পরও কীভাবে খেলে, ও-ই জানে!
দুই মাসের মধ্যে মাঠে ফিরতে পারলে তো অক্টোবরের শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেই খেলতে পারার কথা।
মাশরাফি: তাই তো আশা করছি। আমি প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই ফিরব। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই খেলা শুরু করতে চাই। এখন দেখা যাক, কী হয়!
বাংলাদেশের জয়ে আনন্দের কথা বলছিলেন। টিভিতে খেলা দেখেছেন নাকি?
মাশরাফি: না, টিভিতে দেখিনি। ইন্টারনেটে বল বাই বল দেখেছি। অপারেশনের পর প্রথম সপ্তাহটা তো অসুস্থ ছিলাম। শেষ দুইটা ম্যাচ ভালো করে দেখেছি। তামিমের ইনিংসটা (চতুর্থ ওয়ানডেতে ১৫৪) দেখে খুব মজা পেয়েছি, কাল (মঙ্গলবার) মুশফিকের ইনিংসটাও খুব ভালো লেগেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে আসার সময় কি ভাবতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশ ওখানে ওয়ানডে সিরিজের পর জিম্বাবুয়েতেও এত ভালো করবে?
মাশরাফি: জিম্বাবুয়েটা নিয়ে আমার একটু চিন্তা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দল আমাদের সঙ্গে পারবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু জিম্বাবুয়ে আমাদের সঙ্গে অনেক খেলেছে। নিজেদের দেশে ওরা যথেষ্ট ভালো দলও। খেলেছেও ভালো। আমরা জিতেছি ওদের চেয়েও বেশি ভালো খেলায়। এই সিরিজে সবচেয়ে যা ভালো লেগেছে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে।
মেলবোর্নে এখন কোথায় আছেন?
মাশরাফি: মেলবোর্নে তো আমার একটাই ঠিকানা—বাবু ভাই (মেলবোর্ন প্রবাসী ইকরাম বাবু)। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর উনার বাসাতেই আছি। উনি আমার জন্য যা করছেন, তাঁর তুলনা নেই। নিজের সব কাজ বাদ দিয়ে উনি আমাকে নিয়েই আছেন। এর আগেও যতবার মেলবোর্নে এসেছি, উনি এমনই করেছেন। শুধু আমার জন্য কেন, শরীফ (পেসার মোহাম্মদ শরীফ), সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার)—বাংলাদেশের যত ক্রিকেটার এখানে চিকিত্সা করাতে এসেছেন, সবার জন্যই উনি এমন করেছেন।

সবার ওপরে তামিম ইকবাল

চতুর্থ ম্যাচে ১৫৪ রানের ইনিংসটির কল্যাণে দু দল মিলিয়েই সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের। এর পরই আছেন জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রি। তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড অপরাজিত ১৯৪ সিরিজে তাঁর রান নিয়ে গেছে ২৯৬-এ। গত পরশু পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষে কভেন্ট্রি ও তামিমের রান ছিল সমান। পরে ৪ রান করে তাঁকে টপকে যান তামিম।
অত বড় একটা ইনিংস খেলার পর তামিম সবার ওপরে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্যভাস্বর সিরিজে সবচেয়ে ইতিবাচক ছিল, ব্যাটিংয়ে নির্দিষ্ট কারও মুখ চেয়ে থাকেনি বাংলাদেশ। একেক ম্যাচে দাঁড়িয়ে গেছেন একেকজন। এ কারণেই বাংলাদেশের আরও তিন ব্যাটসম্যানের দেড় শ ছাড়ানো রান, আরেকজনের প্রায় দেড় শ (১৪৮)। সেঞ্চুরির দিক থেকেও এটি মহাস্মরণীয় এক সিরিজ। এই সিরিজের আগে ২০১টি ওয়ানডে খেলে যেখানে বাংলাদেশের পক্ষে মাত্র ১২টি সেঞ্চুরি, এই পাঁচ ম্যাচেই সেঞ্চুরি ৩টি। সংখ্যাটা ৪-ই হয়ে যেত। হয়নি শেষ ম্যাচে মুশফিকুর রহিম ৯৮ রানে আউট হয়ে যাওয়ায়।
সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৮টি) জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি স্পিনার রেমন্ড প্রাইসের। ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেল। বোলিংয়ে কারও একক আধিপত্য নেই, সত্যিকার টিম ওয়ার্ক যাকে বলে। তবে লক্ষণীয় হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্পিনারের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকা পেসাররাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সফল। হঠাত্ ডাক পেয়ে উড়ে যাওয়া ডলার মাহমুদের শেষ ম্যাচে ২৮ রানে ৪ উইকেট সিরিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

ক্রিকেটারদের পুলে এবার ১৯ জন

২০০৯-১০ মৌসুমের প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের জন্য ১৯ জন খেলোয়াড়কে পুলভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত ১ মার্চ থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের নেওয়া হয়েছে এই পুলে। গতবারের মতো এবারও সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড়কে নাম রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে কোনো দল।
পুলভুক্ত ১৯ ক্রিকেটার
মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, শাহাদাত হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মেহরাব হোসেন, রকিবুল হাসান, মাহমুদ উল্লাহ, জুনায়েদ সিদ্দিক, নাজমুল হোসেন, মাহবুবুল আলম, নাঈম ইসলাম, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র ও ডলার মাহমুদ।

মারুফই মোহামেডানের কোচ

কে হচ্ছেন মোহামেডানের কোচ, গত কিছুদিন এটা ছিল স্টেডিয়ামপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন। ক্লাবের একটা মহল থেকে আপত্তি ওঠায় গতবারের ‘সফল’ কোচ মারুফুল হককেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা থমকে ছিল। শেষ পর্যন্ত গতকাল মারুফকেই কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে মোহামেডান।
সিদ্ধান্তটা এসেছে ক্লাবের নতুন ফুটবল কমিটির সভায়। পরশু ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভায় কোচ ঠিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই দিনই গঠিত ফুটবল কমিটির ওপর। পরদিনই কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামের ব্যবসায়িক অফিসে বসেন কমিটির ১৬-১৭ জন কর্মকর্তা। সেখানে কোচ হিসেবে শুধু মারুফের নামই এসেছে। তবে জানা কথাই, ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের ইচ্ছারই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।
আবদুস সালাম জানাচ্ছেন, ‘মারুফকেই আমরা কোচ রাখছি। সভায় সবাই তাঁর প্রশংসা করেছে। গতবার তিনি ফেডারেশন এবং সুপার কাপ জিতিয়েছেন, বি-লিগে রানার্সআপ করেছেন দলকে। কাজেই তাঁকে বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তিই আমরা দেখিনি।’
গত মৌসুমেই মারুফের কোচিংয়ের সমালোচনা শুরু করেছিলেন ফুটবল কমিটির সদস্য কিছু সাবেক ফুটবলার। এবারও তাঁরাই অগ্রণী হয়ে কোচ হিসেবে শফিকুল ইসলাম মানিককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। মানিক না মারুফ—এ নিয়ে মোহামেডান কর্তাদের তীব্র মতভেদ দেখা দেওয়াতেই কোচ চূড়ান্ত করতে এতটা সময় লাগল ক্লাবটির। তবে এটিকে সবাই খুশি মনে মেনে নিয়েছেন, এমন নয়। কাল মোহামেডানের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোস্তাকুর রহমানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও এ কারণেই বলে মনে করছেন অনেকে।
মারুফুল হক নিজেও মোহামেডানে থেকে যাওয়ার ভাবনাটা একটা সময় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাঁকেই কোচ করা হয়েছে জানার পর কাল রাতে টেলিফোনে বললেন, ‘নানা কারণে ধরে নিয়েছিলাম, মোহামেডানে হয়তো আর ফিরে যাওয়া হচ্ছে না। এমনকি এ বছর আর কোচিংই করাব না ঠিক করেছিলাম। অনেক দিন ধরেই আমি একটু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছি। তবে এখন সিদ্ধান্তটা জেনে ভালো লাগছে।’
কোচের মতো মোহামেডানের অধিনায়ক পদে পরিবর্তন আনা হয়নি। আরমান আজিজই থাকছেন অধিনায়ক। ম্যানেজার হিসেবে বহাল থাকবেন আমিরুল ইসলাম বাবু। সহকারী ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। ঠিক হয়েছে, আবাহনীর পথ ধরে এবার একজন বিদেশি ট্রেনার আনবে মোহামেডান।
জরুরি এসব সিদ্ধান্ত নিতে পেরে এত দিনে মোহামেডান ভারমুক্ত হতে পারল! তবে মোস্তাকুর রহমানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল, মারুফুল হকের জন্য হয়তো বড় চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে সামনে।

অ্যাশেজ মীমাংসার টেস্ট শুরু আজ

নাটকের শেষ অঙ্ক মঞ্চায়নের জন্য প্রস্তুত ওভাল। ওভাল! এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কী হতে পারে? ১৮৮২ সালে এই ওভালেই ইংল্যান্ডের ৭ রানের পরাজয়ের শোক থেকেই তো জন্ম নিয়েছিল অ্যাশেজ কিংবদন্তি। এই ওভালেই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত শূন্য। এই সেই ওভাল, ১৯ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ডেনিস কম্পটন ১৯৫৩ সালে ইংলিশদের এনে দিয়েছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত ভস্মাধার। এই ওভালই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখেছে ২০০৫-এ। কেভিন পিটারসেনের সেঞ্চুরিতে ড্র নিশ্চিত করে ১৮ বছর পর আবারও অ্যাশেজ ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড!
সেই ওভালে আজ থেকে যখন শুরু হচ্ছে এবারের অ্যাশেজের ভাগ্য-নির্ধারণী টেস্ট, ইতিহাসের ছড়িয়ে থাকা এই সব নুড়ি-পাথরও যেন ধরা দিচ্ছে মানিক-রতন হয়ে।
রিকি পন্টিংয়ের কথাই ধরুন। আর সব বাদ দিয়ে ২০০৫ সালের অভিজ্ঞতাটাই তাঁর মনে সবচেয়ে টাটকা থাকার কথা। সেবার পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বেই তো ১৮ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ হারানোর কলঙ্ক। প্রতিশোধের আগুন কি জ্বলছে না তাঁর মনে?
পন্টিং নিজ মুখে স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারের ১৩৬তম টেস্টটি গুরুত্ব বিবেচনায় ছাপিয়ে যাচ্ছে বাকি সবকিছুকেই, ‘আমার মনে পড়ে না এমন একটা ম্যাচের জন্য শেষ কবে এতটা রোমাঞ্চিত বোধ করেছি।’
না, প্রতিশোধ স্পৃহায় নয়, পন্টিংকে আলোড়িত করছে ওভালের ইতিহাস। পন্টিংকে হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাসও—ইংল্যান্ডে সিরিজ-জয়ী অস্ট্রেলীয় অধিনায়কদের তালিকায় নাম লেখানো। আগামী ডিসেম্বরে ছত্রিশে পা দিতে চলা পন্টিংয়ের যে এটাই শেষ সুযোগ। আবার কি ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে আসা হবে তাঁর?
এ জন্যই পন্টিংয়ের এত ব্যাকুলতা। না হলে রীতিমতো দিব্যি কেটে তিনি বলছেন, প্রতিশোধ-ট্রতিশোধ কোনো কিছু মাথায় নেই তাঁর। কিন্তু পন্টিংয়ের এই দাবি আপনি বিশ্বাস করবেন কি না আপনার ব্যাপার। কারণ তাঁর এ মন্তব্যটাই যে তা বিশ্বাস করতে দিচ্ছে না, ‘২০০৫ সালের ওই পরাজয়ে আমি যতটা আহত হয়েছি, ড্রেসিংরুমে আমার পাশের খেলোয়াড়টি কিন্তু এর চেয়ে কম আহত হয়নি।’
কী আশ্চর্য দেখুন, শেষ টেস্টের প্রিভিউটার শুরু অর্ধেক অস্ট্রেলিয়া জিতবে কি না এই খাতেই বরাদ্দ হয়ে গেল! অথচ লর্ডসে ইংল্যান্ড জেতার পর মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডে টানা দুই অ্যাশেজ হেরে যাওয়া অধিনায়কের তালিকাতেই না নাম উঠে যায় পন্টিংয়ের। আসলে লর্ডসের ওই চপেটাঘাত যেন ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলীয়দের। এজবাস্টন টেস্টে যে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু, তার পূর্ণতা এসেছে হেডিংলিতে ইংনিস ব্যবধানে জয় দিয়ে।
গত দুই টেস্টে ২০০৫ অ্যাশেজের দুই নায়কের অনুপস্থিতি অবশ্য ভালোই অনুভব করেছে ইংল্যান্ড। পিটারসেন দর্শকই হয়ে গেছেন। অনেক দোনোমনা শেষে ওভালে ফিরছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। যেটি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। ফ্লিনটফের টেস্ট বিদায় সংবর্ধনার মৌতাতে যেন আচ্ছন্ন পুরো ক্রিকেট বিশ্বই।
অস্ট্রেলীয়দের কাজই হলো এসবের ফাঁক-ফোকর থেকে ফায়দা খুঁজে নেওয়া। পন্টিং যেমন বলছেন, ফ্লিনটফের বিদায়ী টেস্টের কারণে ইংল্যান্ডের মনোযোগ অন্য দিকে থাকবে। ফ্লিনটফ নিজে অবশ্য এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন, ‘১-১-এ সিরিজে সমতা, ওভালে জিতলেই অ্যাশেজ জয়—এসব অনেক বড় ব্যাপার। এটা আমার শেষ টেস্ট হতে পারে, কিন্তু আমি এটা নিয়ে অযথা উত্তেজনায় ভুগছি না। কারণ অ্যাশেজ জেতার সুযোগ এর চেয়ে অনেক বড় ব্যাপার।’
ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস কিন্তু বলছেন, এই টেস্টে ফ্লিনটফ অবশ্যই বড় ব্যাপার। আর তাঁর বিদায়ী টেস্টে সতীর্থরা জয়ই উপহার দিতে চায়। জয় ছাড়া অন্য কিছু ইংল্যান্ড ভাবছে না। ভাবার অবকাশও নেই। ম্যাচটা ড্র হলেও গতবারের বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার কাছেই থেকে যাবে অ্যাশেজ ট্রফি।
অস্ট্রেলিয়ার ড্র হলেই চলে—এ ধরনের কথাবার্তা আবার মাইকেল ক্লার্কের মোটেও ভালো লাগছে না। অধিনায়কের পথে না হেঁটে সহ-অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, জয় দিয়েই হবে প্রতিশোধ। তা ছাড়া টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে চাইলে জয়ের বিকল্পও নেই অস্ট্রেলিয়ার হাতে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ভারত—চার দলের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্টের ব্যবধান। ওভাল টেস্ট ও শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজের ফলাফলে তাই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে শীর্ষ চারের অবস্থানের।