Wednesday, April 11, 2018

স্ট্রোকের রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা

তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে এলে রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে ** এ চিকিত্সা পদ্ধতিতে সফলতার হার বেশি : দিল্লির নিউরোলোজিস্ট অধ্যাপক
দেশের চিকিত্সা বিজ্ঞানে প্রথম বারের মতো যুক্ত হয়েছে থ্রাম্বোলাইসিস চিকিত্সা পদ্ধতি। গতকাল সোমবার থেকে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল ৬ শয্যার একটি ইউনিটে এ চিকিত্সা সেবা চালু হয়েছে।
ইউনিটটি উদ্বোধন করেন দিল্লির নিউরোলোজিস্ট অধ্যাপক ডা. এম ভি পদ্মা শ্রীভাসটাভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ও প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলমসহ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের আটটি পুরাতন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ চিকিত্সা সেবা চালু করার পরিকল্পনা আছে। আক্রান্ত রোগীরা এখন থেকে দেশেই কম খরচে এ চিকিত্সা সেবা পাবেন।
চিকিত্সকরা বলেন, থ্রাম্বোলাইসিস পদ্ধতিতে ব্রেইন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর ধমনিতে আল্টাপ্লাস নামক একটি ইনজেকশন পুস করা হয়। যা স্ট্রোকের কারণে রোগীর মস্তিষ্কে জমাটবাধা রক্তকে তরল করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে। তখন রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে এ পদ্ধতিতে রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োগ করতে পারলে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। আর এজন্য আক্রান্ত রোগীকে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছতে হবে। চিকিত্সার পর রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরবে বলে জানান চিকিত্সকরা।
উন্নত বিশ্বে ১৯৯৫ সাল থেকে এ চিকিত্সা পদ্ধতি চালু রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০০০ সালে থ্রাম্বোলাইসিস চিকিত্সা পদ্ধতি চালু হয়। দেশটির রাজধানী দিল্লিতে ২০০২ সাল থেকে থ্রাম্বোলাইসিস চিকিত্সা পদ্ধতিতে চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন দেশটির নিউরো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম ভি পদ্মা শ্রীভাসটাভা। গতকাল রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি প্রতিবেদকে বলেন, ব্রেইন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের জন্য থ্রাম্বোলাইসিস পদ্ধতি একটি কার্যকরি চিকিত্সা। সঠিক সময়ে রোগীকে এ পদ্ধতিতে চিকিত্সা দেওয়া হলে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব। ২০০২ সাল থেকে আমি দিল্লিতে এ পদ্ধতিতে চিকিত্সা দিয়ে আসছি। ৯০ ভাগ সফল হয়েছি। এ পদ্ধতিতে ওষুধের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নাই, সফলতার হার বেশি।
তার এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ব্রেইন স্ট্রোক আক্রান্ত পাঁচ লাখ রোগী রয়েছেন। যার মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগী প্যারালাইসিসে ভোগছেন। অন্যদিকে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি এক হাজার জনের তিন জন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী। ব্রেইন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর অবস্থা কি দুর্বিষহ তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ছাড়া আর কেউ বোঝে না।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল এর যুগ্ম পরিচালক নিউরো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, থ্রাম্বোলাইসিস চিকিত্সা পদ্ধতিতে বিশ্বে আলোচিত এবং সফল চিকিত্সা সেবা। এখন থেকে আমাদের দেশের রোগীরা অল্প খরচে এ চিকিত্সা সেবা পাবেন। এ চিকিত্সা পদ্ধতি এখন থেকে আমাদের চিকিত্সা বিজ্ঞানে বিল্পব ঘটাবে। কারণ আমাদের দেশে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আক্রান্ত রোগীর ৮০ শতাংশ প্যারালাইসিস আক্রান্ত হয়ে ভোগে। ফলে এখন থেকে আক্রান্ত রোগীকে প্যারালাইসিস হয়ে ভুগতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আল্টাপ্লাস ওষুধটি জার্মানিতে তৈরি হয়। এরপর সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাজারজাতকরণের নানা জটিলতায় দেশে ওষুধটি বাজারজাত করতে বিলম্ব হলেও এখন থেকে ওষুধটি খুব সহজে মিলবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে ওষুধটি দেশে আমদানি করছে রেডিয়েন্ট নামক একটি ওষুধ প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ইত্তেফাককে বলেন, ওষুধটি এখন থেকে দেশে সহজে পাওয়া যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর দাম পড়ে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। তবে আমাদের দেশের মানুষ যাতে সহজে চিকিত্সা নিতে পারেন সেজন্য ওষুধের দাম মাত্র ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেয়েও কম।

এমন বিক্ষোভ বাংলাদেশ বহুদিন দেখেনি by সাজেদুল হক ও শুভ্র দেব

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়েছে এখানে। বহু ইতিহাস। বেশিরভাগই গৌরবের। কলঙ্ক যে একেবারে নেই তা নয়। জ্ঞানে-গরিমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো দুনিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় উপরের দিকে ছিল না। কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে এমন নজির আর কোথাও নেই।
বুধবার। বেলা ১১টা। শাহবাগ পৌঁছে দেখা গেল অল্প কিছু পুলিশ। পুলিশের দমন-পীড়নের অল্প কিছু বাহনও দেখা গেল। শাহবাগ থানা পেরুতেই দেখা মেলে বিরল এক দৃশ্যের। একটি মিছিল। শুরুতেই কেবল ছাত্রী। ধারণা করেছিলাম মিছিলটি বোধ হয় শুধু নারী শিক্ষার্থীদেরই। বেশ কিছুক্ষণ পর বিভ্রম ভাঙে। যখন মিছিলের ছেলে শিক্ষার্থীদের অংশটিও চোখে পড়ে। মিছিল চলছে আর চলছে। এর যেন কোনো শেষ নেই। হাজার হাজার শিক্ষার্থী। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস। কোটা-সংস্কার, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধেও তারা নানা স্লোগান দেন। ক্যাম্পাসের ভেতরের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দেখা গেল এ আন্দোলনের প্রতি একাত্ম ঘোষণা করতে। এরই মধ্যে অনেক আন্দোলনকারী জড়ো হতে থাকেন রাজু ভাস্কর্যের সামনে। ঘণ্টা দেড়েক পর ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি যখন রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে জড়ো হয় তখন পুরো এলাকা পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে।
এই দৃশ্য শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজু ভাস্কর্যের নয়। পুরো বাংলাদেশই যোগ দিয়েছে এ নজিরবিহীন বিক্ষোভে। দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় চলছে বিক্ষোভ। কোটা সংস্কারের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত চলবে এ আন্দোলন।
না, এটা কোন সেলিব্রেটি শো নয়। এখানে কোন লাল-নীল-হলুদ নায়ক-নায়িকা যোগ দেননি। রাজনীতিবিদরা এখানে আসতে প্রতিযোগিতা করেননি। টিভি মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচার নেই। শুরুতে টিয়ারশেল আর বুলেট মোকাবিলা করতে হয়েছে। রক্ত ঝরেছে অনেক। নারী শিক্ষার্থীদেরও রক্ত ঝরানো হয়েছে। কোনো ভবন থেকে এদের জন্য কোনো খাদ্য আসেনি।
তারপরও তরুণরা অপ্রতিরোধ্য। তারুণ্যের এ স্রোত রোখার সাধ্য কারো নেই। এটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।

আট মাস পর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে মিয়ানমারের মন্ত্রী

আট মাস পর মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গেলেন। সকাল দশটায় তিনি কক্সবাজার পৌঁছান। প্রায় এগারোটার দিকে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে বেশ কজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে দেখতে এই প্রথম দেশটির কোন মন্ত্রী কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এলেন।
সূত্র মতে, আজ মধ্যাহ্নে মন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। তবে তিনি নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবে না। কতুপালং থেকে ফিরে রাতে কক্সবাজারেই থাকছেন তিনি। কাল ফিরবেন ঢাকায়। এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক এবং নৈশভোজে অংশ নেবেন। রাতেই তার ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তার আগের বছরে এসেছে আরও ৮৭ হাজার। দুই বছরে আসা ওই নবাগত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য আট হাজার ৩২ জনের একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৩৭৪ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে কোনো সময় তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত তারা। এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিবার মিয়ানমার সফর করেছেন। অপরদিকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল খ শোয়েসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশে এলেও তাদের কেউ এখনও রোহিঙ্গা শিবিরে যাননি। রোহিঙ্গাদের ক্যাস্প পরিদর্শনে আগ্রহী মিয়ানমারের মন্ত্রীর সফর বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন  কক্সবাজার সফর করতে সম্মত মন্ত্রীকে সরকার পরিকল্পনা করছে নাইক্ষ্যংছড়ি নিয়ে যেতে। কারণ সেখানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জিরো লাইনে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে কিন্তু তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।’ কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের মন্ত্রী নাইক্ষেংছড়ি যেতে রাজী হননি। সেটি বাদ দিয়েই তার সফরসুচী চূড়ান্ত হয়েছে।

বিক্ষোভে লাখ লাখ শিক্ষার্থী, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে সারা দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে এবং রাজপথে বিক্ষোভ করছেন। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর একটি মিছিল পুরো ক্যাম্পাস এলাকা প্রদক্ষিন শেষে রাজু ভাস্কার্যের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় পুরো টিএসসি এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এদিকে, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন তাঁদের ফেসবুকে পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, এখন থেকে সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না। এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ হয়েছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পান্থপথ, তেজগাঁও, ফার্মগেট, মিরপুর রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীও বিক্ষোভ ও অবরোধে যোগ দেন।
কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা একটি বিরাট বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন। কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসের ফটকে বিক্ষোভ করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন কুমিল্লা শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।

সীমান্তে ধৃত বাংলাদেশি নারী ও শিশু: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অমান্য করে কারাগারে রাখার অভিযোগ

ভারতে ধৃত বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের আইনভঙ্গ করে কারাগারে রাখার অভিযোগ করেছেন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে পাঠানো এক অভিযোগপত্রে মাসুম অভিযোগ করেছে, সীমান্তে আটক বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে তাদের ফরেনার্স আইনে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাসুমের আরও অভিযোগ, নারী ও শিশুদের যেখানে হোমে রাখার কথা তা না করে এদের সাধারণ কারাগারে রাখা হচ্ছে। এই ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ জানিয়ে মাসুমের সম্পাদক বিপ্লব মুখার্জি বলেছেন, এর আগেও বহুবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি কমিশনের নজরে আনার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশের আইজি সহ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সব জায়গাতেই প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ পত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয় নি। তিনি বলেছেন, ২০১২ সালের মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি নির্দেশ নামায় ( নং ১৪০৫১/১৪/২০১১-এফ.লঞ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক(ফরেনার্স ডিভিশন), ভারত সরকার তাং ১ মে, ২০১২) স্পষ্ট বলা হয়েছে, পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া কোনও বিদেশি নারী ও শিশু ধরা পড়ার পর যদি তদন্ত করে দেখা যায় যে সে বা তারা পাচারচক্রের শিকার হয়েছেন, তবে তাদের কোনমতেই বিদেশি আইনে বিচার করা যাবে না। সেই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে যদি দেখা যায় যে, বিদেশি নারী স্বেচ্ছায় ভারতে আসেন নি এবং কোনও অপরাধে নিজের ইচ্ছায় জড়িত হন নি তবে ধৃত নারীর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনও চার্জশিট দিতে পারবে না। আর যদি ফরেনার্স আইনে এরকম কাউকে চার্জশিট দেওয়া হয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে হবে এবং বিস্তারিত তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠাতে হবে যাতে ধৃত নারী ও শিশুকে নিজের দেশে ফেরত পাঠানো যায়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশকে অমান্য করে প্রতিদিনই সীমান্তে বা অন্যত্র ধৃত বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের সাধারণ ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সাধারণ কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাও। তাদের মতে, ভারতে বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুরা পাচার হয়ে এপারে আসেন। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গের স্বরূপনগর সীমান্তে লিজা আখতার(২২) ও শাহনাজ বেগম(২৪) নামে খুলনার দুই বাংলাদেশি নারীকে তাদের ১০ বছরের ভাইপো সহ আটক করে। পরে তাদের স্বরুপনগর থানার হাতে তুলে দেওয়া হলে কোনরকম তদন্ত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে ফরেণার্স আইনে মামলা করে ফৌজদারি আদালতে তোলা হয়। আদালত দুই নারীকে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর এবং শিশুটিকে একটি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মানবাধিকার সংগঠনের প্রশ্ন, শিশুটিকে সাধারণ আদালতে হাজির করানো হয়েছে সম্পূর্ণ আইন ভঙ্গ করে। শিশুটির বিচার হওয়ার কথা জুভেনাইল বোর্ডে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের আটক করার পরই তারা কোনরকম তদন্ত না করে ফরেনার্স আইনে মামলা করে দায় সারেন। আর এই ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জেলে ও হোমে বছরের বছর আটকে রয়েছেন শয়ে শয়ে নারী এবং হোমগুলিতে রয়েছে শ’খানেকের বেশি শিশু। এই অবস্থার প্রতিকার চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশনামা অনুযায়ী এই ধরণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মাসুম। সেই সঙ্গে ধৃত বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনেরও দাবি জানানো হয়েছে। মাসুমের আরও বক্তব্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ নামা অমান্য করে যে সব পুলিশ অফিসার কাজ করছেন তাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবারও দাবি জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্য কমিশনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘জেদ থেকে খুন করি রোকেয়া ও রূপমকে’ -তানিয়া ও মামুনের স্বীকারোক্তি by ওয়েছ খছরু

রোকেয়ার আস্তানার টপ কলগার্ল ছিল তানিয়া ওরফে তান্নি। খদ্দেররা তার কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়তো। তানিয়ার স্বামী মামুন বার বার চাইছিল তানিয়াকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু পারছিল না। তানিয়া বন্দি ছিল রোকেয়ার অপরাধ সাম্রাজ্যে। স্বামীর অমতেই রোকেয়া কখনো কখনো একাধিক পুরুষের    বিছানায় এক সঙ্গে ঠেলে দিতো তানিয়াকে।
মাসখানেক আগে তেমনিভাবে সিলেটের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ ছাত্রের কাছে তানিয়াকে তুলে দিয়েছিল রোকেয়া। টানা ৫ দিন ওই যুবকরা তানিয়াকে নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করে। কখনো কখনো হাই-প্রোফাইল খদ্দেরদের গ্রাসে ঠেলে দেয়া হতো তানিয়াকে। রোকেয়ার কাছে বন্দি থাকা তানিয়া বাধ্য হয়েই এসব যুবকের সঙ্গে মেলামেশায় বাধ্য হতো। তানিয়ার বিবস্ত্র ছবি এমনকি ভিডিও ফুটেজ নিজের কাছে রেখে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছে রোকেয়া। আর রোকেয়ার প্রতি এমন জেদ থেকে লাশ উদ্ধারের দুইদিন আগে ৩০শে মার্চ রাতে তানিয়া ও তার স্বামী ইউসুফ মামুন খুন করে রোকেয়াকে। গ্রেপ্তারের পর সিলেটের পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের কাছে এমন তথ্য জানিয়েছে তানিয়া ও মামুন। পরবর্তীতে সোমবার রাত ১০টার দিকে তারা সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস কুমারের আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গতকাল খুনের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক। আইজিপি’র নির্দেশে তিনি ছায়া তদন্তের মাধ্যমে সিলেটের আলোচিত এ জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছেন। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মিরাবাজারের খারপাড়ার ওই বাসায় রোকেয়ার নির্দেশেই তার ছেলে নিহত রবিউল ইসলাম রূপমের সঙ্গে বিছানায় সঙ্গী হয় তানিয়া। একদিন নয়, একাধিক দিন রূপম তাকে তার অমতে ধর্ষণ করেছে। আর ঘটনার দিন রাত ১০টা পর্যন্ত রোকেয়ার বাসাতে অবস্থান করেছে প্রেমিক নাজমুল। নাজমুলের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তানিয়ার।নাজমুলও তানিয়াকে ব্যবহার করেছে।
নিহত রোকেয়ার সঙ্গে নাজমুলের বিরোধ ছিল ভিন্ন। রোকেয়া নাজমুলকে ভালোবাসতো। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতো। এমনকি রোকেয়ার সন্তানরা নাজমুলকে ‘আব্বু’ বলে ডাকতো। খুনের ঘটনার সঙ্গে নাজমুলের সম্পৃক্ততা না পেলেও কোতোয়ালি পুলিশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে নাজমুলও ছিল খুনের পরিকল্পনায় জড়িত। দুটি কারণ এক হওয়ার পর ফিল্মি স্টাইলে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয় রোকেয়া ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমকে। তানিয়া ও তার স্বামী মামুনের জেদ ছিল রোকেয়ার প্রতি। আবার নাজমুলের জেদ ছিল রোকেয়া তার লন্ডনি বধূর বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে দুইপক্ষ এক হয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন কৌশলে নাজমুলের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। নাজমুল নিহত রোকেয়ার ইয়াবা ব্যবসার বড় বিনিয়োগকারী ছিল। কয়েক লাখ টাকা নাজমুল রোকেয়াকে দিয়েছে ইয়াবা ব্যবসার জন্য। আবার তানিয়ার দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা বিক্রির বেশিরভাগ টাকাই কেড়ে নিতো রোকেয়া। পিবিআই জানায়, খুনের ঘটনা ঘটেছে ৩০শে মার্চ মধ্যরাতে। ওই দিন রাতে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় রোকেয়া ও তার সন্তানদের।
রাত ১০টার দিকে নাজমুল  রোকেয়ার বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে একই কক্ষে ভেতর থেকে সিটকানি বন্ধ করে অবস্থান করে রোকেয়া ও নাজমুল। তারা প্রায় ঘণ্টাখানেক এক সঙ্গে ছিল। নাজমুল বের হওয়ার আগেই তাদের চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে  রোকেয়া ও তার সন্তানরা গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে রোকেয়ার ওপর তারা হামলে পড়ে। রোকেয়ার মাথা ও হাত ধরে রাখে তানিয়া। আর মামুন তাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এ সময় রোকেয়ার সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়েছিল। কিন্তু মামুন চাকু দিয়ে উপর্যুপরি  কোপানোর কারণে রোকেয়া এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর তারা যায় রবিউল ইসলাম রূপমের রুমে।
সেখানে প্রথমে তারা রূপমকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হতে মামুন রোকেয়ার ছেলে রূপমের দেহেও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এক সময় রূপমও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। রোকেয়ার পাশেই ঘুমিয়ে ছিল শিশু রাইসা। মামুন রাইসাকেও খুন করতে তার গলায় টিপ দিয়ে ধরে। গলায় টিপ দেয়ার পরপরই রাইসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে মৃত ভেবে তারা ছেড়ে দেয়। গভীর রাতে দরোজা ভেতর থেকে লক করে দিয়ে মামুন ও তানিয়া নিহত রোকেয়ার বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে তারা অবস্থান নেয় নগরীর তোপখানাস্থ ভাড়াটিয়া বাসায়। সেখান থেকে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। শনিবার সিলেট থেকে পালিয়ে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘুষকান্দি গ্রামে পালিয়ে যায় তানিয়া আক্তার তান্নি। আর মামুন থেকে যায় সিলেটে। পরবর্তীতে মামুনকে চিহ্নিত করার পর তানিয়াকে কুমিল্লার পিতা বেলাল হোসেনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

সিরিয়ায় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ভয়াবহ পরিণতির হুমকি রাশিয়ার

সিরিয়ায় দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। রাসায়নিক হামলার ঘটনায় সিরিয়ায় হামলা চালানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে রাশিয়া বলছে, এরকম হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। সিরিয়া ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এমন মুখোমুখি অবস্থান ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার।
দৌমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে খবর প্রকাশিত হয়। পরে রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫-তে দাঁড়ায়। বেশ কয়েকটি চিকিত্সক, পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার গ্রুপ ওই রাসায়নিক হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। তবে সিরীয় সরকার ও রাশিয়া দৌমায় কোনো ধরনের রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করেছে। এ হামলার খবরের পর থেকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো।
সোমবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে বৈঠকের আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, ‘যেখানে রাশিয়ার মতো দেশ রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূলের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে সেখানে রাসায়নিক হামলা কেন হবে-আমরা সে বিষয়ে নজর দিতে চাই।’ এই হামলার জেরে সিরিয়ায় হামলা চালাবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস ম্যাটিস বলেন, আমি ঠিক এ মুহূর্তে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।‘
এর কিছুক্ষণ পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও ছয়টি দেশ এই জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ওয়াশিংটন এই হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে’। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময়ে এসেছি যখন বিশ্বকে অবশ্যই ন্যায়বিচার দেখাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে কারণ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে নিজেদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যে রাশিয়া বলেছে, রাসায়নিক হামলার কথিত অজুহাতে সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘হামলা করার জন্য সিরিয়ার হাতে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মিথ্যা অভিযোগে সেখানে সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’
এদিকে সিরিয়ার দৌমা শহরে কথিত রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার জবাবে দ্রুত, জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃবর্গ ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার রাতের মধ্যে ‘বা এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই’ প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি। সিরিয়ায় ‘সামরিকভাবে বেছে নেবার মতো অনেক বিকল্প’ যুক্তরাষ্ট্রের আছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

সশস্ত্রবাহিনী যুক্ত হচ্ছে না আরপিওতে: চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন কাল by সিরাজুস সালেকিন |

নির্বাচন পরিচালনা আইনে (আরপিও) তেমন বড় পরিবর্তন আনবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ইসির আইন সংস্কার কমিটির ৩৫টি সুপারিশ থেকে বাছাই করে ২০ সুপারিশের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামীকাল কমিশন সভায় এ খসড়া অনুমোদন করা হবে। চূড়ান্ত খসড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপিসহ বড় কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার দাবি রেখেছিল।
এ বিষয়ে আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ, নবম সংসদ নির্বাচনের পর আরপিও সংশোধনীর সময় এটি বাদ দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনের সময় চাইলে আমরা অন্য আইনে সেনা মোতায়েন করতে পারব।
তিনি বলেন, দুটি বিষয় ছাড়া আরপিও সংশোধনের খসড়া মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয় দুটি হচ্ছে, আগাম ভোটিং ও নির্বাচনী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা। এ দুটি বিষয়ে নতুন কিছু করা যায় কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, খসড়া তালিকায় ২০টি আইন সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো জেলায় দুজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে। ৭ (৬) ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলি করা যাবে। ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, ২৫ দিন আগের স্থলে ভোটের ১৫ দিন আগে কেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। ৯(১) ধারায় বলা হয়, তিন দিন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল উন্মুক্ত রাখতে হবে। ১২(১) (সি) ধারায় বলা হয়, ঋণখেলাপিদের জটিলতা কমাতে মনোনয়ন দাখিলের সাত দিন আগের পরিবর্তে দাখিলের আগের দিন তা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। ১২(৩) ধারায় বলা হয়, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের বিধান যুক্ত করা। ১২(৩এ) (এ) ধারায় বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১%-এর পরিবর্তে এক হাজার ভোটার সমর্থন তালিকা জমার বিধান করতে হবে। ১২(৩এ)(সি) ধারায় বলা হয়, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন সন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে হবে। ১৩ (১)(এ) ধারায় বলা হয়, জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা যেতে পারে। ১৬(১) ও ১৯(১) ধারায় বলা হয়, বিদ্যমান বিধানকে সহজ করতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী হলে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা, সহজীকরণ করতে হবে। ২০ (এ) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইভিএম ব্যবহারের জন্য নতুন বিধান সংশোধন করতে হবে। ২২(১) ধারায় বলা হয়, প্রার্থীদের সুবিধার্থে নির্ধারিত ফরমে পোলিং এজেন্ট নিয়োগে সংশোধনী আনতে হবে। ২২(৩) ধারায় বলা হয়, পোলিং এজেন্টকে প্রার্থীর প্রতীক সংবলিত কার্ড না দিয়ে ইসির পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ৩১(১) ধারায় বলা হয়, ইভিএমে ভোট নিতে হলে এ অনুচ্ছেদেও সংশোধন আনতে হবে। ৩৯ (১) ও ৩৯ (২) ধারায় বলা হয়, এতে আরও দুটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনতে হবে। ৪৪বি (৬) ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখা ও অবৈধ প্রভাব রোধে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। ৪৪সি (৫) ধারায় বলা হয়, সময়ের বাস্তবতায় নির্বাচনী ব্যয় যথাসময়ে দিতে ব্যর্থ হলে ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা। ৪৪ই (২) ধারায় বলা হয়, সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে সরাসরি বদলি করার বিধান করে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে সংশোধন করতে হবে। ৯১সি (৮) ধারায় বলা হয়, ভোটে কর্মকর্তাদের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, দল বা প্রার্থীর অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘনে খোঁজ নিয়ে তৃতীয় চোখ নিয়োগ করা যেতে পারে।  ৯১(এ) এ ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে বিভিন্ন দেশে।
অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে খসড়া তলিকায়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে আইন সংস্কারের জন্য চার শতাধিক সুপারিশ আসলেও ইসি পোলিং এজেন্টরে বিধানসহ আইন সংস্কারের ২০টি সুপারিশ আমলে নিচ্ছে ইসি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করাসহ রাজনৈতিক দলের বড় বড় সুপারিশ বা এটা দিয়ে খসড়া প্রকাশ করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসির সচিব হেললুদ্দীন আহমদ বলেন, কমিশন বৈঠকে খসড়ার জন্য ২০টি সুপারিশ বাছাই করা হয়েছে। কিছু সুপারিশের বিষয়ে কমিশন একমত না হওয়ায় ১২ই এপ্রিল আবার বৈঠক বসবে। সেদিন সব ঠিক থাকলে আইনের খসড়া প্রকাশ করবে ইসি।

ফারমার্স ব্যাংকের চিশতীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

১৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী সহ চারজন। গতকাল সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল। এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক (মামলা নং ১০)। দুদকের উপ-পরিচালকসামছুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বাবুল চিশতী ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ওই ব্যাংকেরই গুলশান শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করেন মাহবুবুল হক চিশতী। তার ছেলেমেয়েদের ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখার মোট ২৫টি হিসাবের ১শ’ ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬শ’ ৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
সূত্র জানায়, ফারমার্স ব্যাংকের এ সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি গত বছর থেকে দুদক অনুসন্ধান করে আসছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মাহবুবুল হক চিশতী, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করে দুদক। ওই তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম ছিল না। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে ব্যাংকটির সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তির অনিয়ম তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহকদের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও বেরিয়ে আসে। ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা।
এক বছর ধরে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন দুদক কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম। সব অনুসন্ধানের পর গতকাল তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকালে তাদের ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে পাঠানো হয়।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় বৃটেন

সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী বৃটেন। ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার  অ্যালিসন ব্লেইক কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির সঙ্গে মতবিনিময়ে গতকাল এমনটাই জানিয়েছেন। বৃটিশ দূত বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় সফরকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন, মুক্ত গণমাধ্যম এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে গেছেন। বৃটেন অন্তর্ভুক্তি, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে জানিয়ে অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি। বৃটেন মনে করে এটি কেবল নির্বাচনের দিনে নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াই শান্তিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। বৃটিশ দূতের প্রত্যাশা- শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু সর্বোপরি একটি ভালো অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে। নির্বাচনের আগে সমস্যাগুলোর সমাধানে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপকে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের একটি পন্থা (পিসফুল ওয়ে ফরওয়ার্ড) খুঁজে নিতে কমনওয়েলথ, ইইউ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিয়ে বৃটেন বাংলাদেশকে উৎসাহ দিয়ে যাবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকালে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব)-এর ফ্লাগশিপ ওই প্রোগ্রামে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি ছাড়াও ঢাকা-লন্ডন সম্পর্ক, বেক্সিট, রোহিঙ্গা সংকট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গুপ্তচর হত্যা, রাশিয়ার সঙ্গে বৃটেনসহ পশ্চিমা দুনিয়ার টানাপড়েন ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন তিনি। লিখিত বক্তৃতা ছাড়াও উপস্থিত কূটনৈতিক রিপোর্টারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জ্যেষ্ঠ ওই কূটনীতিক। তিনি সাফ জানিয়ে দেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বৃটেন হস্তক্ষেপ করবে না। এখানকার রাজনীতি বা নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও তারা কোনো পূর্বানুমান করবে না। এটি একান্তই বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সিদ্ধান্ত। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো মধ্যস্থতাও কোনো প্রয়োজন নেই জানিয়ে বৃটিশ দূত বলেন, আমরা আপনাদের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে উৎসাহ যোগাতে পারি। কিন্তু সমাধান দেশবাসীকেই করতে হবে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ এবং এর মধ্য দিয়ে সংকটের একটি সমাধানের পথ দেশবাসীই খুঁজে নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। বিরোধীরাও সরকারের কাছে যেতে পারেন, দেশবাসীর উদ্দেশ্যেও বলতে পারেন। ডিকাব সভাপতি  রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু ছাড়াও নিয়মিত কূটনৈ তিক বিট কভার করা রিপোর্টাররা আলোচনায় অংশ নেন।
ডিজিটাল আইন, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ: এদিকে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একাধিক ধারা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলছেন। এর আগে একাধিক দেশের কূটনীতিকরা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে  দেখা করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল গণমাধ্যম বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা, সামপ্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদী মতবাদ প্রচারের মতো বিষয় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্ত থাকাটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বিচক্ষণতা এবং দক্ষতার সঙ্গে। কোনো অবস্থাতেই মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার কিংবা মুক্ত সাংবাদিকতা ব্যাহত হয় এমন পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়ে, যেকোনো পদক্ষেপের আগে এই সত্যটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর বৃটেনের চাপ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে বৃটেন ওই জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তার দেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষিত হলেই  কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে। তিনি আরো বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে। তবে এটি হতে হবে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার প্রাথমিক শর্ত পূরণ করায় ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিপূর্ণভাবে এ গ্রাজুয়েশনে বাংলাদেশের পাশে থাকে বৃটেন। বৃটেন সব সময়ই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পাশে রয়েছে।
ভিসা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দিল্লিতে ভিসাকেন্দ্র স্থানান্তর হলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন আগের নিয়মেই রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকরা  যেন কম সময়ে এবং সহজে ভিসা পায় সে জন্য বৃটিশ হাইকমিশন সব সময় সচেষ্ট। রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর এবং তার কন্যাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বৃটেনের টানাপড়েন নয় বরং তার দেশ এটাকে রাশিয়ার গুরুতর অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানান বৃটিশ দূত। বলেন, এ ঘটনা তদন্তে রাসায়নিক অস্ত্র নিষ্ক্রিয় বিষয়ক সংস্থা ওপিসিডব্লিউর বর্তমান চেয়ার এবং সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ দুনিয়ার সঙ্গে থাকবে বলে আশা করেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবধরনের ভ্যাটমুক্ত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবধরনের ভ্যাটমুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে  অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছুতেই ভ্যাট নেয়া যাবে না। এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু থাকবে ভ্যাটের আওতামুক্ত। বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপাতত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের কর আরোপ করা হবে না। শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদালয়ের সব ধরনের আয় করমুক্ত থাকবে।
এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের কাছ থেকেও ভ্যাট নেয়া হবে। তবে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তারা (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক) ভ্যাট নেবেন কি নেবেন না- সেটা তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে বিষয়টি উঠলে প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কে বা কারা কি বলেছেন, জানি না। আমার মনে হয় না, অর্থমন্ত্রী এই কথা বলেছেন। তিনিও (অর্থমন্ত্রী) একনেক সভায় ছিলেন। তিনি এই বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি আরো বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ট্রাস্টি, এমনকি ভবনের ওপর কোনো ভ্যাট বসানো হবে না। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে। তবে, এতে উভয়পক্ষের জন্য ‘উইন উইন’ অবস্থা হতে হবে জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার যেন রাজস্ব পায়, আবার ভ্যাট দিচ্ছেন-তারাও যেন কিছু পান। ভ্যাট হার নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। কোনো নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বসবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটা সরকারের বক্তব্য নয়।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগে স্কুলে এই ভ্যাট আরোপ করে সরকার। এরপর বেরসরকারি উচ্চ শিক্ষায়ও ভ্যাট আরোপ করা হলে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। তখন সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত একনেকের ওই সভায় ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। বাকি ব্যয় সরকারি খাত থেকে মেটানো হবে। বিভিন্ন দফায় সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভারি মালামাল নিরাপদে ও দ্রুত প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে নেয়া এই দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প। প্রকল্প দু’টি একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

ফের রাজপথে নেমেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা

সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে ফের রাজপথে নেমেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। সরকারি আশ্বাস পাওয়ার দিনে বিভক্তি দেখা দিলেও গতকাল ফের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে   দিনভর বিক্ষোভ করার পর বিকালে বিভক্ত দুই অংশ যৌথভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়। আন্দোলন নিয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয় এই মন্ত্রীকে। এখন থেকে আর কোনো মন্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণ করা হবে না উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে প্রতি দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অবরোধ চলবে। সারা দেশের সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে গতকাল দিনভর মধুর ক্যান্টিন এলাকায় অবস্থান করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য হলে তা প্রতিহত করা হবে। দিনভর পাল্টাপাল্টি অবস্থান থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন ও ভিসি ভবনে হামলার নিন্দা জানানো হয়। গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ভিসি ভবন পরিদর্শন করে। এসময় ওবায়দুল কাদের জানান, হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়ক অবরোধ করে কোটা সংস্কারের দাবি জানান। ধানমন্ডির মিরপুর রোড ও বাড্ডার প্রগতি সরণিতে অবস্থান করায় ওই দুই সড়কে দুপুরের পর থেকে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। সোমবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে আন্দোলন এক মাস স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সচিবালয়ে এ ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে তোপের মুখে পড়েন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আন্দোলনকারীরা এক মাস সময় দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। আন্দোলনকারীরা নতুন আহ্বায়ক হিসেবে বিপাশা চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন। গতকাল সকাল ১১টা থেকে তারা আবার রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অংশও টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেয়। দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে বিকালে যৌথভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই দুই পক্ষ একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন তিন দফা দাবিতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তাদের তিন দফা দাবি হলো, আটককৃতদের মুক্তি, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা। এর পরে একসঙ্গে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে মতিয়া চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় সেখানে। এসময় কুশপুত্তলিকায় জুতা ছুড়তে দেখা যায় অনেককে। রাত আটটায় আন্দোলনকারীরা গতকালের মতো কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, সোমবার সংসদ অধিবেশনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, ‘পরিষ্কার বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা দেখে নেবো। তবে ছাত্রদের প্রতি আমাদের কোনো রাগ নেই। মতলববাজ, জামায়াত-শিবির, তাদের এজেন্টদের বিরুদ্ধে সামান্য শৈথিল্য দেখানো হবে না। অন্যদিক গতকাল সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী বাজেটের পর কোটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। যদিও তিনি কোটা সংস্কারের পক্ষেই মত দেন।
কুশপুত্তলিকা দাহ: নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ার পেছনে ছিল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সংসদে দেয়া বক্তব্য। এ কারণে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভও ওই বক্তব্য ঘিরে। সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের মিছিলের সামনে ছিল মতিয়া চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা। গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে ওই কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর সময় শিক্ষার্র্থীদের জুতাও ছুড়তে দেখা যায়।
কড়া নিরাপত্তা: এদিকে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার সব পথেই ছিল পুলিশের কড়া প্রহরা। সকালবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার সড়কগুলোতে কোনো সন্দেহভাজনদের দেখামাত্র তাদের দেহ তল্লাশি করে পুলিশ। এতে সেখানে জটলা বেঁধে যায়। অনেককে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় সেখানে। তবে বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম কমে আসে পুলিশের। ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল দেখা যায়নি খুব একটা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রবেশের সড়ক শাহবাগ মোড়, দোয়েল চত্বর, বুয়েটের গেট, পলাশী, নীলক্ষেত মোড়ে পুলিশের সদস্যদের সতর্ক প্রহরায় থাকতে দেখা গেছে। প্রত্যেকটি মোড়ে ছিল পুলিশের দুটি করে ভ্যান। এছাড়া শাহবাগ মোড়ে পুলিশের একটি রায়টকার এবং একটি জলকামান প্রস্তুত ছিল। সেখানে ডিবি পুলিশের ৩টি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে শাহবাগ মোড়ে ছিল পুলিশের বিশেষ নজরদারি। আন্দোলনকারীরা কোনোক্রমেই যাতে শাহবাগের মোড়ের সড়কে না আসতে পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি ছিল তাদের।
রাস্তায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও: এবার সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ঢাকাসহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একই দাবিতে গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। ব্যানার ফেসটুন প্ল্যাকার্ড নিয়ে গতকাল সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল-স্লোগান নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে সংলগ্ন রাস্তায় নেমে আসে। রাস্তায় ও ফুটপাতে অবস্থান নেন। অবরোধ করেন সড়ক। চলতে থাকেন মিছিল, স্লোগান, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন। এতে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকাল পর্যন্ত তারা রাস্তায় অবস্থান করলে দীর্ঘতর হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।
রাজধানীর মিরপুর রোডের সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সকালে রাস্তায় নামেন। তারা সড়ক সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে মিছিল স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ৩টার দিকে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ মানবজমিনকে বলেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। আর শঙ্কর বাসস্ট্যান্ডে ফুটপাতে অবস্থান নিয়েও শিক্ষার্থীরা মিছিল করছেন।
একই দাবিতে গতকাল মিরপুরের তালতলায় রাস্তায় নামেন গ্রিন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থীরা। বিকাল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান নেন। ধানমন্ডিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন প্রাইম এবং ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও।
থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) মো. আকবর আলী জানান, ধানমন্ডিতে ইন্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। একই দিন রাস্তায় নামে আইডিয়্যাল ইউনিভর্সিটির শিক্ষার্থীরাও।
এদিকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে অবস্থান নেয় নর্থসাউথ (এনএসইউ) ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। তারাও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। রাস্তার একাংশ অবরোধ করে সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিকাল ৫টার দিকে তারা ওই দিনের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে সরে যান।
ভাটারা থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়া মানবজমিনকে বলেন, ছাত্রছাত্রীরা বসুন্ধরা গেটের কাছে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মিছিল-স্লোগান দিতে থাকে। এসময় যানজটে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে বিকাল পাঁচটার দিকে তারা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
অপর দিকে রামপুরা ব্রিজের পূর্বপাশে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে কোটা বিরোধী প্লাকার্ড হাতে প্রথমে মানববন্ধনে দাঁড়ান। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর রামপুরা ব্রিজের কাছে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বেশ কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। অবশ্য তারা আগের দিনও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমেরিকান দূতাবাসের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত পুরো রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা ও কুড়িল বিশ্ব রোডের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ সৃষ্টি করে কর্মসূচি পালন করেছেন আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সেমিস্টারের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তা বিবেচনায় নেবো। এখানে আমরা বিকাল পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাব। সিদ্ধান্ত এলে এর সময় আরও বাড়ানো হবে।
ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বিক্ষোভ করে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তবে তারা রাস্তা অবরোধ করেনি। স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা অবস্থান ধরে রাখবো। কোটা সংস্কার, অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট আরোপের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং মতিয়া চৌধুরীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়কের এক পাশ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছে। ভাটার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, প্রথমে সড়কের একপাশ ও পরে দু’পাশ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে। এতে যানজটের তৈরি হয়।
ভিসি ভবনে হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে সংঘটিত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দোষীদের চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনস্থ কনফারেন্স রুমে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সিন্ডিকেট সদস্য ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীলিমা আকতার, এসএম বাহালুল মজনুন ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লা।
আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য হলে প্রতিহত করা হবে: ছাত্রলীগ
কোটা সংস্কারের নামে আন্দোলনে নৈরাজ্য হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীবান্ধব। তিনি বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা ভিসি ভবনে হামলা করেছে। যারা হামলা করেছে তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী কি না আমাদের প্রশ্ন। আন্দোলনের নামে চক্রান্তকারীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের হামলায় আহত আবু বকর সিদ্দিক নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নিহতের গুজব ছড়ানোয় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইসিটি আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি করা হয়। ঢাবি ভিসির বাসভবনে ভাঙচুর, লুটপাট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, অনেকে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা ভিসির বাড়িতে হামলা করেছে, তাদের শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকার এক মাস সময় নিয়েছে, যারা এখন আন্দোলন করছেন তারা পড়ার টেবিলে যান, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আগামী মে মাসে প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরও যারা আন্দোলন করছেন, এরা বিশৃঙ্খলাকারী। এদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।
কোটা সংস্কারের দাবি নৈতিক, পূর্ণ সমর্থন শিক্ষক সমিতির
কোটা সংস্কারের দাবিকে নৈতিক মন্তব্য করে এ দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার ভিসির বাস ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে পুলিশের বাড়াবাড়িকে সমর্থন করি না। আর আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার খরচ রাষ্ট্র অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ৭ই মে’র মধ্যে কোটা সংস্কারের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এবং এ সময়ের মধ্যেই এর সমাধান করা হবে বলে আশা করছি। এ সময় ভি?সির বাসভবনে হামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করতে কিছু সুবিধাবাদী এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পারে না। ২৫শে মার্চ কালরাত এবং ইতিপূর্বে যেসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে সেই কায়দায় প্রশিক্ষিতদের দিয়ে এ হামলা চালানো হয়। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও তার পরিবারকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। তাদের মধ্যে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা আবারো জেগে উঠেছিল। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক নীলিমা আক্তার প্রমুখ।
টানা তিন দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার কোনো বিভাগেরই ক্লাস হয়নি। এমনকি পূর্ব নির্ধারিত চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয়ায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে জাবি শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ও চলমান আন্দোলন চালিয়ে নিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর আগে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, জাবি শাখার আহ্বায়ক খান মুনতাসীর আরমান বলেন, ‘মতিয়া চৌধুরী যদি ৩ দিনের মধ্যে তার প্রদত্ত বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তবে তাকে জাবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বেড়ে উঠেছি। মতিয়া চৌধুরী আমাদের সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন আমাদের জন্য তা অত্যন্ত অপমানজনক। সমাবেশ শেষে শতাধিক শিক্ষার্থী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয়। কোটা সংস্কারের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সোমবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নূরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো তাদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জাবি শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি সিনেট ভবনের সামনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে সেখানে পুলিশ এসে জড়ো হয়। দুপুর ২টায় পরিবহন মার্কেটের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা দাবি করেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখে বেলা ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণে স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত রাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সোমবার রাতে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মশাল মিছিল শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এমএ সামাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ইহাম মুজাহিদ, সুবিনর রায় শুভ, পিনাক দেব, মিয়া মো. রিপন, শারফিন আহমদ সুমন, প্রশান্ত দেব ও সিরাজুল হাসান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে “কোটা বাতিল কর”, “মেধাবীদের মূল্যায়ন কর” স্লোগানে মুখরিত করে মৌলভীবাজারের রাজপথ। এসময় পুলিশের অবস্থান ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে বরগুনায় পৃথক দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ই এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনা প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এরপর সকাল ১১টায় বরগুনা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আরো একটি মানববন্ধন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বরগুনার কৃতী সন্তান অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম একাত্তরের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রশিদ, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত রঞ্জন শীল, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি সোহেল হাফিজ প্রমুখ।

প্রার্থী পরিবর্তনে উজ্জীবিত তৃণমূল by কাফি কামাল

আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। তৃণমূলের মতামত প্রাধান্য পেয়েছে প্রার্থী মনোনয়নে। প্রকাশ পেয়েছে নীতিনির্ধারকদের প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয়। এ পরিবর্তন দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছে নেতাকর্মীদের। নগরবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের রয়েছে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও ইতিবাচক প্রভাব। যা একদিকে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও একাট্টা  করবে অন্যদিকে সহজ হবে ভোটারদের আস্থা অর্জন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গাজীপুর ও খুলনা দুই সিটি করপোরেশনেই বিএনপি দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলেই দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। তবে তাদের আশঙ্কা, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত ও সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে ফল পাল্টাতে নানা কৌশল করতে পারে। কিন্তু এবারের সিটি নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিচ্ছে বিএনপি। তাই সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই ভোটের মাঠে নামছে তারা। গাজীপুর ও খুলনার স্থানীয় বিএনপি নেতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা জানান, খুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়া নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেবল খুলনা মহানগরই নয় পুরো বিভাগে জনপ্রিয় একজন নেতা। তিনি প্রার্থী হওয়ায় সাড়া পড়েছে সর্বত্র। খুসিকে মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির মঞ্জু ও আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক দুই জনই প্রার্থী হতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অনাগ্রহ পোষণ করেছিলেন। কিন্তু দুই জনের অনাগ্রহের কারণ ভিন্ন। বিগত নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন খালেক। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর আগ্রহ ছিল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সদর আসনে এমপিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলের মনোনয়ন বোর্ডে তাই বর্তমান মেয়র মনির পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। নেতাকর্মীরা জানান, খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মঞ্জু শেষ পর্যন্ত চেয়েছিলেন মনিকেই দেয়া হোক মনোনয়ন। কিন্তু মেয়র হিসেবে মনির কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নয় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ব্যক্ত করা হয় পরিবর্তনের বার্তা। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, খুলনা বিএনপির সবাইকে একাট্টা করতে চাইলে মঞ্জুর বিকল্প নেই। ওদিকে কয়েকদিন ধরে তাই মঞ্জু নির্বাচনে রাজি কি না সে কৌতূহল ছিল তাদের। এমন পরিস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত মেনেই তিনি তাই শেষমুহূর্তে রাজি হন। এ বার্তাটি স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে।
খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নিয়ে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি শাহারুজ্জামান মতুর্জা বলেন, খুলনা সিটিতে এখনো আমাদের দলের মেয়র আছেন। আমরা আবারো তাকে চেয়েছিলাম। তিনি বিগত নির্বাচনে ৬২ হাজার ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে হারিয়েছিলেন। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূল নেতাদের মতামত ও নিজেদের প্রজ্ঞার বিচারে নতুন প্রার্থী দিয়েছেন। এখন যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি বর্তমান মেয়রের চেয়েও ভালো প্রার্থী নিঃসন্দেহে। এ মনোনয়ন এক অর্থে খুলনা বিএনপির জন্য ভালোই হয়েছে। দলের হাই কমাণ্ড খুলনা সিটিতে বিজয় সুনিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু একলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। তিনি বলেন, বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা মনোনয়ন না পেলেও মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। কারণ এটা আনন্দের নির্বাচন নয়, খালেদা জিয়া কারাগারে- তার মুক্তির নির্বাচন। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী সেকান্দার আলী ডালিম বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি সাংগঠনিকভাবে বর্তমান মেয়রের চেয়ে সিনিয়র।
তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি। তিনি খুলনা সদর আসনের সাবেক এমপি। খুলনা রাজনীতিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জু একজন জনপ্রিয় ও কর্র্মীবান্ধব নেতা। নগরবাসীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত উঁচু। নির্বাচনের মাঠে তার পক্ষে নেতাকর্মীরা যেমন একাট্টা থাকবে, তেমনি প্রকাশ্য সাড়া পাব সাধারণ মানুষের। মহানগর বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সেকেন্দার জাফর উল্লাহ সাচ্চু বলেন, প্রার্থী নিয়ে দলে কোনো অনৈক্য, অসন্তোষ নেই। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ৬২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিল আমাদের প্রার্থী। এবার সে ব্যবধান একলাখ পার করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই নির্বাচনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ফলে আমাদের সংশয় রয়েছে, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখবে কি না। তবে, এখন আমরা কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য মনোনয়ন বোর্ড গঠন করেছি। ভালো লোকদের কাউন্সিলর হিসেবে দলের সমর্থন দেয়া হবে। এ নির্বাচনকে আমরা সিরিয়াসলি নেব। খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেবল খুলনাই নয় পুরোবিভাগেই জনপ্রিয় একজন নেতা। তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন এটা জেনে প্রার্থী নির্বাচন সঠিক হয়েছে বলে আমাদের জানাচ্ছেন নগরবাসী। নেতাকর্মীরাও দারুণভাবে উজ্জীবিত। আশা করি, ভোটের ফলাফলে সেটার প্রতিফলন ঘটবে। 
এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোর দাবি ছিল তৃণমূলের। জনপ্রিয়তা থাকলেও নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াতে শারীরিকভাবে অক্ষম বর্তমান মেয়র এমএ মান্নান। বর্তমান সরকারের আমলে বারবার কারাবরণসহ দলের রাজনীতিতে মান্নানের অবদানের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেও বাস্তবতা এবং তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী পরিবর্তন করে বিএনপি। গাজীপুরে অন্য ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে আলোচনা ছিল জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার এবং কাশিমপুর ইউনিয়নের সাবেক একাধিকবারের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সরকারের নাম। তবে, ভোটারদের মধ্যে প্রভাব, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মিলিয়ে হাসান উদ্দিন সরকারকেই বেছে নেন দলের নীতিনির্ধারক ফোরাম। তবে, এমএ মান্নান যেন মনে কষ্ট না পান সে জন্য সাক্ষাৎকারের পরদিন প্রার্থী ঘোষণার আগে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে ডেকে এনে তার সঙ্গে আলোচনা করেন দলের নীতিনির্ধারক ফোরামের সদস্যরা।
এদিকে মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েই গতকাল মেয়র মান্নানের কাছে ছুটে যান হাসান সরকার। দুই বয়োজ্যেষ্ঠ নেতার হাসিমুখের ছবিটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, মনোনয়ন পেয়ে মেয়র মান্নানের কাছে হাসান উদ্দিন সরকারের এ ছুটে যাওয়া ভোটের মাঠে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া বিগত সিটি নির্বাচনে এমএ মান্নানের পক্ষে হাসান উদ্দিন সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার মান্নানের অনুসারী তার পক্ষেই একাট্টা থাকবেন এ প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের। নেতারা জানান, গাজীপুরে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কারণে শিক্ষাবন্ধু নামে খ্যাতি রয়েছে হাসান সরকারের। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যেমন তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তেমনি ইসলামী দলগুলোর সঙ্গেও রয়েছে তার সুসম্পর্ক। শ্রমিক নেতা হিসেবে শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুরে তার যেমন প্রভাব রয়েছে তেমনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, টঙ্গি পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং সাবেক এমপি হিসেবে তার পরিচিতি, প্রভাব রয়েছে গোটা গাজীপুরে।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, গাজীপুরে আমাদের বর্তমান মেয়র এমএ মান্নান সিনিয়র নেতা এবং জনপ্রিয় রাজনীতিক। কিন্তু বিগত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উপর্যুপরী মিথ্যা মামলায় বারবার কারাগারে নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলেছে সরকার। তার শারীরিক দিক বিবেচনা করে আরেকজন সিনিয়র নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারক ফোরাম। এখানে বর্তমান মেয়রকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা করা হয়েছে এমন দৃষ্টিতে দেখলে ভুল হবে। যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, টঙ্গি পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও গাজীপুরের সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। দলে ও গণমানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আছে, আশা করি আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলার যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাজহারুল আলম বলেন, দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী পরিবর্তনে জোরালো মত দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা।
বর্তমান মেয়রের শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণেই সবাই এ পরিবর্তনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনিও একজন অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতা। আমার বিশ্বাস, দলের এ সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিয়েছেন এবং দল মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ কাজ করবেন। গাজীপুর জেলা সদর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন শওকত হোসেন সরকার বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সমর্থন আছে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। নির্বাচনের মাঠে সে ঐক্য আরো জোরদার হবে। কারণ বর্তমান মেয়রের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। আমাদের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুরের একজন সিনিয়র ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন নেতা এবং অভিজ্ঞ একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) আমাদের নিয়ে বর্তমান মেয়র এমএ মান্নানের ঢাকার বাসায় গিয়েছিলেন। বর্তমান মেয়রের দোয়া নিয়ে আমরা শুরু করেছি। তিনি তার অনুসারীদের বলে দিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যেন পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করেন। আমাদের এ ঐক্য অটুট থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত হবে। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদেও সবখানে আমরা একক প্রার্থীকে সমর্থন দেব।

হাত হারানো রাজীব লাইফ সাপোর্টে

লাইফ সাপোর্টে দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারানো রাজীব হোসেন। রাজীবের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। সোমবার ভোররাত থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। 
রাজিবের অবস্থার অবনতির খবর শুনে মঙ্গলবার বিকাল তাকে হাসপাতালে দেখতে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।
ভিসি ডা. কনক কান্তি বলেন, ‘রাজিবের মাথায় যেখানে আঘাত ছিল সেখানে ফুলে গেছে। পুনরায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন আর তার অপারেশন করার কোনো অবস্থা নেই।
অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুজ্জামান শাহীন জানিয়েছেন, মাথায় আঘাতের কারণে নিউরোলজিক্যাল অবস্থার অবনতি হওয়ায় ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার রাজিবকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গতকাল সে নিজে উঠে বসে কথা বলেছে। আমি ওকে বলেছি, তুমি ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করো। আমাদের সহযোগিতা করো। আমরা তোমার কৃত্রিম হাত বানিয়ে দেয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছি।
শামসুজ্জামান বলেন, গতকালও রাজিবের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ভালো ছিল। ভোররাত চারটার দিকে রাজিবের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাকে প্রথমে অক্সিজেন দেয়া হয়। পরে নেবুলাইজেশন করার ফলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে থাকেন। তখন সাপোর্ট তুলে নেয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজিবের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। এছাড়া রাজিবের সর্বশেষ সিটিস্ক্যান রিপোর্ট খুবই উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তির গ্লাসগো কমা স্কেল (জিসিএস) ১৪ থেকে ১৫ হলে তার মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করে বলে ধরে নেয়া হয়। তবে ৮ থেকে ৯ হলে বুঝতে হবে রোগীর অবস্থা সংকটজনক। এদিকে রাজিবের জিসিএস লেভেল এখন মাত্র ৩। যেটা খুবই খারাপ খবর।
ডা. শামসুজ্জামান শাহীন বলেন, অলৌকিকভাবে রাজিবের অবস্থার অবনতি হয়েছে। এখন তার ব্রেইনের কার্যকরি ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। এটাকে সারডেন নিউরোলজিক্যাল অ্যাসাল্ট বলা যেতে পারে। আমরা রাজিবের শরীরের ধীরগতিতে উন্নতি নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তার শরীরের এই অবনতিতে আমরা সকল ডাক্তাররাই হতাশ হয়ে পড়েছি। এত দ্রুত তার ব্রেইন ফল্ট করার কথা ছিল না। তিনি বলেন, রাজিবের উন্নত চিকিৎসায় যে ৭ সদস্যর টিম গঠন করা হয়েছিল, তাদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার সকালে আমরা একটি বৈঠক করেছি। আমরা সকলেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। 
রাজিবের মামা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার রাত নয়টার দিকে রাজিব বলেছিল, আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও, আমি বাড়ি যাব।
এদিকে রাজিবের মেজো খালা খাদিজা বেগম লিপি জানান, সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ছোট খালা হ্যাপি রাজিবের শরীর মোছাতে গিয়ে দেখে তার বুক আর পেট ছাড়া কিছু্‌ই নড়ছে না। এসময় রাজিবের শ্বাসকষ্ট শুরু হতে থাকে এবং মুখ দিয়ে সাদা ফেনা জাতীয় বের হয়। অন্যান্য সময় রাজিবের শরীর মোছাতে গেলে সে রেগে যায়, এমনকি বিরক্ত প্রকাশ করলেও তখন সে অনেকটা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। হ্যাপি আমাদের জানালেও ডাক্তার তখন আমাদের তেমন কিছু বুঝতে দেননি। পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সাড়ে ৮টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রাজিবকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরপরই তার বড় খালা জাহানারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় হাসপাতাল কক্ষের সামনে তার তিন খালা, দুই মামা, চাচা ও ছোট ভাইকে দেখা যায়।
রাজিবের ছোট ভাই মেহেদী জানায়, ভাইয়া সোমবার রাতে একটু জুস খেয়েছিল। এরপর রাত ৮টার দিকে বড় খালার সঙ্গে একটু আধটু কথাও বলেছিল। পরবর্তীকালে মেজো খালা সকলকে ডেকে জানতে চায় যে তাদের চিনতে পারছে কি না, জবাবে রাজিব ছোট খালাকে মেজো খালা ও মেজো খালাকে ছোট খালা বলে জানায়।
উল্লেখ্য, ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানোর পর ছোট দুই ভাইকে নিয়ে বড় খালা জাহানারা বেগমের কাছে বড় হয়েছেন রাজিব। ছোট দুই ভাই যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত এতিমখানা মাদরাসায় বিনা খরচে পড়াশোনা করছে। রাজিব তিতুমীর কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি কম্পিউটারের দোকানে কম্পোজের কাজ করে নিজের মেসভাড়া ও ভাইদের অর্থসহায়তা করতেন। গত ৩রা এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজিব হোসেন। ওই সময় পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে ওভারটেক করতে গেলে রাজিবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীকালে রাজিবকে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে ঢামেকের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এরপর ঢামেকে গিয়ে রাজিব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়া সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

‘স্বৈরাচারী কায়দায় আন্দোলনকারীদের দমনের চেষ্টা করছে সরকার’ -সিলেট বিএনপি

স্বৈরাচারী কায়দায় সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দমনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি বলেন-কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক। ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাড়া সব কোটা বাতিল করা হবে। তিনি গতকাল বিকালে সিলেটের রেজিস্ট্রারি ময়দানে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেট বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। এ সময় খন্দকার মোশারফ বলেন- বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের সকল ষড়যন্ত্র বোমেরাং হয়েছে। কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার মনোবল আরো বেড়েছে। পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। আর গণতন্ত্র মুক্তি না পেলে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। গেলো কয়েক দিনের প্রস্তুতির পর গতকাল সিলেটে এই বিভাগীয় সমাবেশ করলো বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মায়ের অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে, দলের স্থায়ী কমিটির ৫ সদস্য ও দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল শুরু হয় সিলেটে। নগরীর সব এলাকা দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা মিছিলসহ এসে পৌঁছেন সমাবেশ স্থলে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন থানার নেতা-কর্মীরা গাড়িযোগে হাজির হন সমাবেশে। বিকাল ২টায় সমাবেশ শুরুর আগেই কানায় কানায় ভরে উঠে পুরো রেজিস্ট্রারি মাঠ। সমাবেশ শুরুর আগে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানের বলয়ের নেতারা মিছিল করেছে। এ ছাড়া জেলা ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মকসুদ আহমেদের নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন- আপনারা পত্রিকায় ও টিভিতে দেখেছেন গত পরশু দিন বেগম খালেদা জিয়াকে কেমন হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে থাকলেও বেগম খালেদা জিয়া একটুও ভয় পাননি। তিনি হাসি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তার মনোবল কতখানি শক্ত। তিনি বলেন- সরকার জনগণকে ভয় পায়, বিএনপিকে ভয় পায়, বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায় বলেই তাদের এত ষড়যন্ত্র। জনগণ আজ জেগে উঠেছে। সুতরাং আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে বলে সমাবেশে জানান তিনি। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন- সরকার যতই ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি ততই শক্তিশালী হচ্ছে। এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে। তারা আইনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত হতে দিবে না। এজন্য আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমদ চৌধুরী, বরকত উল্লাহ ও মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, ড. ইনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউছ, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি আলহাজ  শফি আহমদ চৌধুরী, সাবেক এমপি নাসির রহমান, কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, চিত্রনায়ক ও জাসাসের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হেলাল খান, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার দাবি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তা তদন্তের অধিকার চাইছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা। এ জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেভাবে মিয়ানমার থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যায়ে। এ বিষয়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত বা জুরিকডিকশন চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যদি আদালত হ্যাঁ-সূচক সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তাতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্তের পথ উন্মুক্ত হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এমন অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা। তার এ আবেদনের বিষয়টি প্রকাশিত হয় সোমবার। এতে তিনি বলেছেন, এটা কোনো বিমূর্ত প্রশ্ন নয়। এটা সুদৃঢ় একটি প্রশ্ন। আদালত কি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য তদন্ত করতে অনুমতি দেবেন কিনা এবং প্রয়োজনে বিচার করবেন কিনা সে চর্চা আদালতকেই করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে জুরিকডিকশন নিয়ে প্রধান যে সংশয় তা হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি সদস্য হলো বাংলাদেশ। মিয়ানমার নয়। ফাতু বেনসুদা তার যুক্তিতে বলেন, যেভাবে অপরাধজনকভাবে (রোহিঙ্গাদের) বের করে দেয়া হয়েছে তাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি জুরিকডিকশনের পক্ষে রুলিং দেন তাহলে তাতে আইনের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে ফাতু বেনসুদা স্বীকার করেন দেশছাড়া করার অপরাধের সংজ্ঞা এবং আদালতের বিচারিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে গত ২৫শে আগস্ট থেকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন হয়েছে তাতে সারাবিশ্বের বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ স্তম্ভিত। এর নিন্দা উঠেছে বিশ্ব দরবারে। কেড়ে নেয়া হয়েছে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া সম্মাননা। অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের কথা। তবে সেক্ষেত্রে প্রথম এমন আবেদন নিয়ে অগ্রসর হলেন ফাতু বেনসুদা। আদালতে তার ও এ বিষয়ে অন্যদের যুক্তিকে বিবেচনা করা যায় কিনা সে বিষয়ে একটি শুনানির জন্য আবেদন করেছেন তিনি। আবেদনটি গ্রহণ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কঙ্গোর বিচারক অ্যান্টনিও কেসিয়া-মবি মিন্ডুয়া সিদ্ধান্ত নেবেন এ আবেদন কি করা যায়।

হতভাগ্য নবজাতক!

অবশেষে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামে আশ্রিত মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি। নাম-ঠিকানাহীন এই নারী মঙ্গলবার সকালে ফুটফুটে কন্যা সন্তানটির জন্ম দেন। পূর্ব অষ্টগ্রামের হাইস্কুল সংলগ্ন মালা বেগমের বাড়িতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুতীব্র চিৎকারে নবজাতক শিশুটি জানায় পৃথিবীতে তার আগমনবার্তা। যদিও নিষ্পাপ এই শিশু জানে না, কে তার বাবা?
স্থানীয়রা জানান, বছর তিনেক আগে অষ্টগ্রামে প্রথম দেখা যায় ৩৬-৩৭ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীকে। এরপর থেকে পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকাই হয়ে ওঠে তার আশ্রয়স্থল। এ বাড়ি সে বাড়ি, খোলা আকাশের নিচে রাত কাটতো তার। নারীটির মানসিক ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিয়ে উদ্যত হাত বাড়ায় ধর্ষক। এর মাঝেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এই নারী। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে এই নারী জানাতে বা বোঝাতে পারেননি, তার অনাগত সন্তানের জন্মদাতার পরিচয়। এ রকম পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীর সন্তান হওয়ার খবরে মালা বেগমের বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী। এরই মধ্যে শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দুই কূটনীতিকের ৩২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড: গাড়ি কেনার অর্থ বেহাত

পাকিস্তানের করাচি মিশনের গাড়ি ক্রয়ে ৩৪ হাজার ইউরো (প্রায় সাড়ে ৩২ লাখ টাকা) বেহাতের ঘটনায় জ্যেষ্ঠ দুই কূটনীতিক মোহাম্মদ আলী সরকার ও নূরে হেলাল সাইফুর রহমানকে জরিমানা করেছে সরকার। এ ঘটনায় তাদের দু’জনকেই সমান ভাবে দায়ী করে এ জরিমানা করা হয়। এখনও কর্মরত ওই দুই কূটনীতিকের অর্থদণ্ড বেতন-ভাতা থেকে কেটে সমন্বয় করা হবে বলে জানা গেছে। সরকারী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, অভিনব অর্থ লোপাটের এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করাচি মিশনের উপ-হাইকমিশনার নূরে হেলাল সাইফুর রহমান এবং সে সময় জার্মানিতে থাকা রাষ্ট্রদূত (বর্তমানে মিশরে নিযুক্ত) মোহাম্মদ আলী সরকারকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনস (সচিব) মো. মাহবুব-উজ-জামান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে এ শাস্তি হয়। সূত্র মতে, গতবছরের শুরুতে অর্থ লোপাটের ঘটনাটি ধরা পড়ে। করাচীস্থ বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের তহবিল থেকে ওই অর্থ লুট হয়। করাচি মিশনের জন্য জার্মানি থেকে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ (ফ্লাগ কার) কেনার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি মতে, ম্যানচেস্টারের একটি ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয় এবং সেখান থেকেই লোপাটকারীচক্র চটজলদি তা তুলে নেয়। ম্যানচেস্টারস্থ বাংলাদেশের তৎকালীণ সহকারী হাইকমিশন ঢাকার নির্দেশনা পেয়ে তাৎক্ষণিক এ নিয়ে মামলা করলেও আগেই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলেনেয়ার কারণে তা জব্দ বা উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তাৎক্ষণিক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন। সেই সময়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। পররাষ্ট্র সচিব সরকারকে জানান, অর্থ উদ্ধারে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ার হুমকি: অপমানে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মানিকগঞ্জে  সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি এক পরীক্ষার্থীর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নেশা করার জন্য টাকা আদায় করতো এক বখাটে। সোমবার ওই বখাটের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পেরে অপমানে ক্ষোভে দুঃখে আত্মহত্যা করে লাবণ্য আক্তার নামে ওই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর মা সদর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বখাটে রুমান মিয়ার নামে মামলা করেছেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, সদর উপজেলার বড়াই গ্রামের ব্যবসায়ী সিদ্দিক খানের মেয়ে লাবণ্য আক্তার মানিকগঞ্জ খান বাহাদুর  আওলাদ হোসেন খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সদর উপজেলার পূর্ব দাশড়ার ভাওয়াইপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রুমান মিয়া (২০)  লাবণ্যকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কু-প্রস্তাব দিতো। রাস্তাঘাটে হাত ধরে টানা হেঁচড়া করতো। মোবাইল ফোনে লাবণ্যকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো। লাবণ্যের পিতা সিদ্দিক খান জানান, বখাটে রুমান তার মেয়ের আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নেশা করার জন্য টাকা নিতো। সোমবার সকালে রুমান তার মেয়ের মোবাইল ফোনে ৫২ বার কল দিয়ে টাকা চায়। টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে মেয়ে ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। তিনি মেয়ের এই আত্মহত্যার জন্য রুমানকে দায়ী করেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মঙ্গলবার সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি পাচারে জড়িত কিউই দম্পতির পরিচয় প্রকাশ

দুই বাংলাদেশি পাচারের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এক কিউই দম্পতি। নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশনের তথ্যমতে, এই দম্পতি দুইজন বাংলাদেশিকে অবৈধ উপায়ে প্রতারণামূলকভাবে নিউজিল্যান্ডে প্রবেশে সহায়তা করেছেন। তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিউজিল্যান্ডে সাধারণত এই ধরনের অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা হয় না। তবে, কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। এ খবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
খবরে বলা হয়, অভিযুক্ত দম্পতি মূলত ব্যবসায়ী। ইমিগ্রেশনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৮শে মার্চ তাদের অকল্যান্ডের একটি আদালতে হাজির করা হয়।  সেখানে তাদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বুধবার বিচারক ম্যাথু পালমারের আদালতে আপিল শুনানিতে তাদের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তবে, শুনানির আগেই পরিচয় গোপন রাখতে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। দ্য হেরাল্ড জানতে পেরেছে অভিযুক্তরা হলেন, কিউই নাগরিক মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম ওরফে কাফি ইসলাম ও নাফিসা আহমেদ।
৩৭ বছর বয়সী কাফি ইসলাম নিজের কোম্পানি দেখাশোনা করেন। দুই বাংলাদেশিকে নিউজিল্যান্ডে অনুপ্রবেশে সহায়তার পাশাপাশি আরো ২৮টি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে পাঁচ কর্মচারী নির্যাতন, ইমিগ্রেশন অফিসারকে ভুল তথ্য প্রদান ও ভিসার শর্ত লঙ্ঘন অন্যতম। আর ৩৪ বছরের নাফিসা আহমেদ পেশায় হিসাবরক্ষক। তার বিরুদ্ধেও ১৪টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। উচ্চ আদালতে করা আবেদন বাতিল হওয়ার পর অভিযুক্ত দম্পতি বলেন, নাম গোপন রাখার বিষয়ে আর জোরাজুরি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মেনে নিয়েছি যে, এই মামলার বিষয়ে মানুষের জানা উচিত।’ তবে, তারা উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের কোম্পানির কয়েকজন কর্মচারী কম বেতন দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ ছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দম্পতি। তবে তারা বলেছেন, তাদের ব্যবসা আর্থিক সংকটে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তারা বলেন, আমরা সবসময় সকল কর্মচারীর সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করেছি। এমন অভিযোগের একমাত্র কারণ হলো, আমরা তাদের ভিসা দিয়েছি। যাতে তাদের নিউজিল্যান্ডে অবস্থান ও কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আদালত মামলার শুনানি শেষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করেন তারা।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডে মানবপাচার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়। এতে অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ ডলার জরিমানা করা হতে পারে। আর নির্যাতন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের জেল ও এক লাখ ডলার জরিমানা।

পুলিশ টহলের মধ্যেই ছিনতাই: ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাতের বগুড়া by প্রতীক ওমর

বগুড়ায় সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। ছিনতাই এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ টহলের মধ্যেই নিয়মিত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বেড়েছে খুনের ঘটনাও। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাতের বগুড়া। রাত নয়টার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এদিকে পুলিশ বলছে, ওই সব এলাকায় টহল পুলিশ দেয়া আছে। সোমবার রাতেও সদরের ধরমপুরে ছিনতাইকারীর হাতে সাইদুর রহমান (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালক খুন হয়েছে। ছিনতাইকারীরা তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অপর আরেক ঘটনায় কাহালু উপজেলার জামগ্রাম তিলচপাড়ায় ছোট ভাই প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে বড় ভাই আলতাফ হোসেন (৬০)কে হত্যা করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় ঘটনার পর থেকে বগুড়ার মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারাতে বসেছে। এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ছিনতাই বন্ধে, চুরি বন্ধে পুলিশ কোনোভাবেই পেরে উঠতে পারছে না। সাধারণ মানুষ বলছে পুলিশ অনেকদিন ধরেই শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনেকটা মিলেমিশেই চলে আসছে। এতে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে আর কোনোভাবেই তোয়াক্কা করছে না। ফলে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পুলিশ সদস্যরাও পার পাচ্ছে না। তাদের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলে পুলিশও তাদের হাতে মার খাচ্ছে। পুলিশ সন্ত্রাসী হামলার শিকার: মার্চের ২৮ তারিখে পুলিশের এএসআই মাহবুবুল আলম এবং ডিএসবি’র কনস্টেবল মোস্তাকিম হোসেনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখ বাহিনী। ওই সময় পুলিশের কাছে থাকা ২৭০০ টাকা ছিনতাই করেছে তারা। ঘটনায় আলহাজ বাহিনীর প্রধান আলহাজ শেখসহ ৫ জনকে পুলিশ আটক করলেও মূল আসামিকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্য ৪ জনকে আটক দেখিয়েছে। এঘটনায় বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ আছে তারা হলো- শাজাহানপুর উপজেলার পদ্মগাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে স্বপন মিয়া, বগুড়া সদরের নাটাইপাড়া বউবাজার এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে মাহিদুল হাসান (১৯), সদরের সূত্রাপুরের শেখ শাহ আলমের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৮), একই এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২৫)। পোস্ট অফিসে ডাকাতি: ১১ই মার্চ রোববার দুপুরে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে দুই ডাকাত উপজেলা পোস্ট অফিসে যায়। তারা পোস্টমাস্টার জাহানুর ইসলামকে থানার লোক পরিচয় দিয়ে ওসি সাহেব থানায় ডেকেছেন বলে জানায়। ছিনতাইকারীর হাতে সাবেক সেনাসদস্য খুন: ২১শে মার্চ ছিনতাইকারীর ছুরিতে সাবেক সেনাসদস্য জাহান বক্স (৬০) খুন হয়েছেন। তিনি চকলোকমান কলোনি এলাকার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। ওই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শহরের কলোনি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এর আগে গত ২৯শে নভেম্বর রাতে বগুড়ায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছিলেন আরেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম (৪৫)। চিকিৎসক সাবিনার ব্যাগ ছিনতাই: ৮ই এপ্রিল শহর থেকে বাসায় ফেরার পথে চিকিৎসক সাবিনার সূত্রাপুর রোডে প্রকাশ্যে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ওই ব্যাগে নগদ টাকা এবং দুইটি স্মার্টফোন ছিল। সাবিনা বগুড়ার বিশিষ্ট সাংবাদিক জিয়া শাহীনের স্ত্রী। ওই রাতেই শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকা থেকে দুটি   মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগে ৩রা এপ্রিল শহরের জামিল নগর এলাকার একটি বাসা থেকে দুটি  মোটরসাইকেল চুরি হয়। অটোরিকশা ছিনতাই: ৯ই এপ্রিল সোমবার রাতেও সদরের ধরমপুরে ছিনতাইকারীর হাতে সাইদুর রহমান (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালক খুন হয়েছে। ছিনতাইকারীরা তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। এর আগে মার্চের শেষের দিকে বগুড়ার শাজাহানপুরে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চালকের হাত-পা ও মুখ বেঁধে গর্তে ফেলে রেখে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গোবিন্দপুর জোড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে পাকুড় গাছের নিচে রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটে। চালকলে ডাকাতি: গত রোববার ৮ই এপ্রিল বগুড়ার আদমদীঘির একটি চালকলে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা চালভর্তি ট্রাক নিয়ে যাবার সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মাসুদ রানা নামের এক ডাকাত আহত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই ডাকাতকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, পুলিশের ১৭টা টিম রাতে শহরে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। প্রত্যেক ফাঁড়ির পুলিশ ওই টহলে অংশ নিচ্ছে। এতো ঘটনা ঘটার পরেও তিনি বলছেন, আগের চেয়ে ছিনতাই, চুরি কমেছে।

সিরিয়ার ওপর হামলা বিনা জবাবে পার পাবে না: ইরান

ড. আলী আকবর বেলায়েতি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, সিরিয়ার একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ইহুদিবাদী ইসরাইল সম্প্রতি যে হামলা চালিয়েছে তা বিনা জবাবে পার পাবে না।
আজ (মঙ্গলবার) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সফরে পৌঁছে তিনি ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা ও জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে একথা বলেছেন। তিনি বলেন, “অবশ্যই এই অপরাধ বিনা জবাবে পার পাবে না।” ইরান জোরালোভাবে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফিলিস্তিন বিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ড. বেলায়েতি বর্তমানে দামেস্কে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও আরব পুতুল সরকারগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্ষ বিজয় অর্জন করেছে যা শত্রুদেরকে বিরক্ত করেছে। এ বিজয়ের কারণে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।
গতকাল (সোমবার) দুটি ইসরাইলি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশ থেকে সিরিয়ার হোমস প্রদেশের টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। বিমানগুলো সিরিয়ার আকাশে প্রবেশ করে নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আটটির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘সানা’ বলেছিল, বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। পরে সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইল এ হামলা চালিয়েছে।
ইরান সোমবার হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইল চরমভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যা কেবল চরমপন্থি সন্ত্রাসীদেরকে শক্তিশালী করবে।
সিরিয়া সফরে ড. আলী আকবর বেলায়েতি (বামে)