Wednesday, November 20, 2019
তথ্যপ্রযুক্তির যুদ্ধে কার লাভ, কার ক্ষতি

আধুনিক যুগের কম্পিউটার প্রযুক্তির জনক হিসেবে খ্যাত চার্লস ব্যাবেজের মেকানিক্যাল কম্পিউটার থেকে শুরু করে আজকের স্মার্ট কম্পিউটিং ডিভাইস পর্যন্ত বিশ্বে কম্পিউটিং সিস্টেমের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্য ভাণ্ডারের বিবেচনায় আধুনিক কম্পিউটার থেকে সুপার কম্পিউটারই হোক, আর যোগাযোগের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক কিংবা ডিভাইসই হোক– সবকিছুতেই যুক্তরাষ্ট্র একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে।
আপনি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনতে গেলে সাধারণত কোন কোন ব্র্যান্ডের কথা আগে ভাবেন? নিশ্চয়ই ডেল, এইচপি, আসুস কিংবা লেনোভোর কথা। এই চারটি প্রধান ব্র্যান্ডের মধ্যে ডেল, এইচপি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি। আর আসুস তাইওয়ানের কোম্পানি হলেও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই বেশি। লেনোভো চীনের কোম্পানি, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি প্রথম বিশ্বে নাড়া দেয় ২০০৮ সালে, যখন এর মার্কেট শেয়ার শীর্ষ পাঁচটি ব্র্যান্ডের মধ্যে চলে আসে। আর একটি কোম্পানি কমপ্যাক বেশ ভালোভাবে বাজারে এসেছিল, কিন্তু এটা অধিগ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এইচপি।
স্ট্যাটিসটার তথ্য অনুযায়ী, ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের (ওএস) ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ৭৬ শতাংশ একক মার্কেট শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফটের। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপলে'র আইওএসে'র মার্কেট শেয়ার ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর লিনাক্সের ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে স্মার্টফোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওএসের মার্কেট শেয়ার ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আইওএসে'র ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আবার ধরুন, এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি সিসকো এক নম্বরে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারন্টে বা ফাইবার অপটিক ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি সিয়েনা এক নম্বরে। আপনি ডিভাইস তৈরির জন্য চিপসেট, মাইক্রোচিপ যেটার কথাই বলুন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কোয়ালকম, ইনটেল, ডেল সিংহভাগ বাজার দখল করে আছে। শুধুমাত্র টেলিযোগাযোগে রেডিও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে চীনের হুয়াওয়ে ২০১৮ সালে ২৯ শতাংশ শেয়ার নিয়ে বিশ্ব বাজারে এক নম্বরে ছিল, যা এ বছর ৩২ শতাংশে বিস্তৃতি হওয়ার আভাস রয়েছে।
স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৩ শতাংশ একক মার্কেট শেয়ার নিয়ে শীর্ষে আছে। তার ঠিক নিচে থাকা চীনের হুয়াওয়ের মার্কেট মেয়ার ১৯ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপলের আইফোনের মার্কেট শেয়ার ১১ শতাংশ। এর বাইরে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর ক্ষুত্র ক্ষুদ্র মার্কেট শেয়ার রয়েছে। এসব ছাড়াও অনলাইনে বিশ্বে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন: ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইয়াহু, হোয়াটস অ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম– সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন।
উপরের পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে কম্পিউটার, স্মার্টফোন, নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির মূল উপাদান চিপসেট, মাইক্রোচিপ থেকে শুরু করে নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি এবং কম্পিউটিং সিস্টেমের সব কিছুর বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোরই নিয়ন্ত্রণে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে– তাহলে এ তথ্যপ্রযুক্তির যুদ্ধে চীনের সত্যিই কোনো অবস্থান আছে কি? খোলা চোখে দেখলে তথ্যপ্রযুক্তির বাজারে চীনের অবস্থানও এখনও খুবই দুর্বল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মত নয়। কিন্তু খোলা চোখে এই যুদ্ধটাকে দেখলে ভুল হবে।
এখানে যুদ্ধের দু'টি দিক আছে। প্রথম দিকটি হচ্ছে, চীনের নিজস্ব বাজার। একশ' কোটির বেশি মানুষের দেশ চীন নিঃসন্দেহে বিশ্বের বৃহত্তম বাজার। এই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ক্রমাগত বাজার হারিয়েছে। কারণ চীনা কোম্পানিগুলো যতটা না বিশ্ব বাজারের দিকে নজর দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি নজর দিয়েছে নিজের বাজারের দিকে। কারণ চীনের বাজারে ১০ থেকে ১২ শতাংশ মার্কেট শেয়ার পেলেই একটা কোম্পানি লাভের হিসেব করতে পারে চোখ বন্ধ করে। চীনে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু, হোয়াটস অ্যাপ, ইউটিউব, জিমেইল সবকিছুই বন্ধ। এর পরিবর্তে চীনারা ব্যবহার করে উইচ্যাট আর ইউবো। এ দু'টি নেটওয়ার্কিং সাইটের কথা চীনের বাইরে অনেকেই জানেন না। কিন্তু চীনে এ দু'টি সাইটের মার্কেট শেয়ার ৯৫ শতাংশের বেশি। চীনের বাজারে আইফোনের মার্কেট শেয়ার ১০ শতাংশ, স্যাংমসাংয়ের ১ শতাংশের নিচে। যেখানে চীনের হুয়াওয়ের ৬০ শতাংশ, শাওমি, ভিভো, অপোর বাকি প্রায় ৩০ শতাংশ। চীনা কর্তৃপক্ষের যুক্তি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো সারা বিশ্বের মানুষের তথ্যের মালিক হয়ে যাচ্ছে, যে তথ্য তারা যে কোনো সময় অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। যে কারণে চীনের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করতে পারবে না। অথচ অদ্ভুত হচ্ছে, চীনা কোম্পানিগুলো নেটওয়ার্কিং ডিভাইস থেকে শুরু করে স্মার্টফোন– সবকিছুতেই মার্কিন কোম্পানির তৈরি মাইক্রোচিপ ও চিপসেট এবং মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করছে! হুয়াওয়ে, অপো, ভিভো, ওয়ান প্লাস– সবাই নিজেরা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছে, অথচ চীনে গুগলের ব্যবহার নিষিদ্ধ!
উল্টোদিকে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে, জেডটিই'র নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তথ্য চুরি ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো বার বার কোম্পানি দু'টিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপলসহ বেশিরভাগ কোম্পানিরই সবচেয়ে বড় কারখানা চীনে অবস্থিত এবং 'রেয়ার আর্থ' (মাইক্রোচিপসহ ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহৃত ধাতব মৌল খনিজ উপাদান ল্যান্থানাইড গ্রুপের ১৫টি এবং স্কায়ন্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম) মৌল কিনছে চীনের কাছ থেকেই! প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে অপরিহার্য রেয়ার আর্থ মৌলের ব্যবসায় যেহেতু চীনের একক আধিপত্য, সে কারণে চীন এটাকেও পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। কিন্তু জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ভূতত্ত্ববিদরা প্রমাণ করেছেন, নাম 'রেয়ার আর্থ' হলেও প্রকৃতপক্ষে এই খনিজ মৌল উপাদান বিশ্বে 'রেয়ার' নয়। বাজারের বাস্তবতায় এতদিন পর্যন্ত চীনের বাইরে অনেক দেশ বিপুল সম্ভার থাকা সত্ত্বেও রেয়ার আর্থের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়নি, কিন্তু চীন এটাকে পুঁজি করলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অনেক দেশের 'রেয়ার আর্থ' মৌলের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে বেশি সময় লাগবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোতে প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের উত্থান তথ্যপ্রযুক্তির বাজারে সত্যিই একটি বিস্ময়। হুয়াওয়ে চীনের একমাত্র কোম্পানি যারা তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ববাজারে নিজেদের শীর্ষ পর্যায়ভুক্ত করেছে এবং এত কম সময়ে বিশ্বজুড়ে হুয়াওয়ে এত বেশি বিস্তৃত হয়েছে যেটা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। চীনের বাজার তো নেইই, এখন বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছে হুয়াওয়ে।
হুয়াওয়ে বিশ্ববাজারে নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির ব্যাপক বাজারজাতকরণ শুরু করে ২০০০ সাল থেকে। ২০১০ সালের মধ্যেই হুয়াওয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সিসকো, সিয়েনা, সিমেন্স, অ্যালকাটেল, ইউরোপের এরিকসন, নোকিয়ার বাজারে ধস নামিয়ে প্রবল আধিপত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এশিয়া ও আফ্রিকায় হুয়াওয়ের মার্কেট শেয়ার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ২০১৫ সালের মধ্যে হুয়াওয়ে ইউরোপের বাজারের ২০ শতাংশের বেশি মার্কেট শেয়ার দখলে নেয়। আবার স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ২০১৮ সালের মধ্যেই বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসাটাও বড় বিস্ময়ের। এমনকি হুয়াওয়ে চীনের একমাত্র কোম্পানি যারা সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে নিজেদের অপবাদ ঘুচিয়ে ২০১৮ সালেই 'নিরাপদ প্রযুক্তি'র জন্য আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
অতএব চীনের একটি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের এতগুলো কোম্পানিকে এভাবে বিশ্ববাজারে পর্যুদস্ত করে ফেলছে যেটা নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে বেশ চিন্তিত করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এবারে কট্টর রক্ষণশীল চিন্তার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তাকে হুয়াওয়ের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হিসেবে দেখছেন অনেক প্রযুক্তবিদ। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানিকে হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে বিশেষভাবে অনুমতি নিতে হবে। প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কেয়ালকম ও ইনটেল মাইক্রোচিপ ও চিপসেট সরবরাহ না করলে হুয়াওয়েকে বিকল্প উৎপাদনের কথা ভাবতে হবে। এই বিকল্প পথে যাওয়ার সক্ষমতা হয়তো হুয়াওয়ের আছে, কিন্তু সে পথে যেতে যে সময়টা লাগবে তার প্রবল নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারের মার্কেট শেয়ারে। আবার হুয়াওয়ের স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা সম্ভব না হলে এক্ষেত্রেও হুয়াওয়েকে নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয় জিমেইল, গুগল ম্যাপ কিংবা ইউটিউবের বিকল্পও। এসব ক্ষেত্রে বিকল্প তৈরি হুয়াওয়ের মত বিশাল কোম্পানির জন্য অসম্ভব নয়। কিন্তু বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম এবং নেটওয়ার্কিং সাইটের বাজার তৈরি করা সত্যিই কঠিন, যা সামনের দিনগুলোতে হুয়াওয়েকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
এক্ষেত্রে আপাতত সংকট হলেও হুয়াওয়ের হাত ধরে বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন মেরুকরণের একটা সম্ভাবনাও বিপুলভাবে তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগের উদারপন্থী প্রেসিডেন্টরা বিশ্ববাজারের যুক্তির আলোয় নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের কৌশল অবলম্বন করতেন। যে কারণে তারা চীনের বড় বড় কোম্পানিগুলোকে নানাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল করে রাখার কৌশল নিয়েছিলেন। রক্ষণশীল নীতির হলেও চীনা কর্তৃপক্ষ সহজে এবং কম সময়ে বাজার দখলের ব্যাকুলতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এতদিন খুব বেশি বিচলিত বোধ করেনি। কিন্তু অতি রক্ষণশীল ট্রাম্প যুক্তিকে পেছনে ঠেলে রক্ষণশীল নীতির চোখ দিয়ে বিশ্ববাজারকে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলেছেন। তিনি চারদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র মার্কেট শেয়ারে অভিভূত হয়ে নিয়ন্ত্রণে কৌশলের খোলসটাকে দুর্বল করে দিয়েছেন একটা নিষেধাজ্ঞা জারি করেই। আর এটাই তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনাকে প্রবল করে তুলেছে। কারণ ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী পরিস্থিতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে। দুই-তিন বছর বিশ্ববাজারে হুয়াওয়েকে হয়ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে হবে, উজানে নৌকা ঠেলতে হবে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ এবং চীনের কোম্পানিগুলো এখন স্রোতের গতিমুখই বদলে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেবে। সেটায় তারা সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একক আধিপত্য ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশ্ববাজারে অস্তিত্ব ধরে রাখতে কঠোর পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। কারণ চীন শুধু তথ্যপ্রযুক্তিতে নয়, এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন অ্যামেরিকা ও ইউরোপের একটি অংশে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক আধিপত্যটাও স্পষ্ট করেছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার আজকের যুদ্ধ অদূর ভবিষ্যতে বড় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবশেষ একটা আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য। তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় হুয়াওয়ের উত্থান সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি থেকে ডিভাইস– সবকিছুই সুলভ মূল্যে পাওয়া সহজ করে দিয়েছিল। কিন্তু আজকের 'যুদ্ধাবস্থার' কারণে প্রযুক্তি পণ্যের দাম বেড়ে গেলেও যেতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কবুতর কাহিনি by রিম সাবরিনা জাহান সরকার

পোষা পাখির এত দূর পোষ মেনে যাওয়ায় পাখির মালকিন আমি আহ্লাদে আটখানা। তার ওপর বাবা-মা বাসায় নেই। তারা নানির জিম্মায় ছেলেমেয়ে রেখে সপ্তাহখানেকের জন্য বন্য প্রাণীর ওপর এক কনফারেন্সে ভারতের দেরাদুনে গেছেন। সেই সুযোগে আমরা দুই ভাইবোন নিজেরাই বন্য প্রাণী হয়ে উঠছি। একজন কাঁধে কবুতর নিয়ে পাড়াময় ঘুরে বেড়াই। আর ক্লাস নাইনে পড়া বড়জনেরও বেশ পাখাটাখা গজিয়ে গেছে। সন্ধ্যার আগে তার টিকির দেখা মেলে না।
এহেন অবস্থায় বেশির ভাগ সময়ে নানি আসিয়া খাতুনকে খাস বরিশালের ভাষায় উচ্চকিত কণ্ঠে অদৃশ্য কাউকে শাপশাপান্ত করতে দেখা যায়। ‘পিঠ পাচাইয়া কেনু (বাংলা মাইর) একখান দেলে বোজবাআনে মনু। কইতর কান্ধে ঘোরে। কইতর না য্যান একেকডা মুরহা’। মৃদু প্রতিবাদ করি, ‘নানি, কেনু দিলে কিন্তু আম্মুকে বলে দেব। আর প্লিজ আমার কবুতরকে মুরগি বলবেন না।’ লাভ হয় না সচরাচর। উত্তরে উল্টো শুনতে হয়, ‘ওয়া মোর আল্লাহ তাআলা, মুরহা-কইতর লইয়া কোম্মে যে মুই যাই...হালার পা’লা (হালার পো হালা) পোলাপান মোরে বোগদা পাইসে...।’ সেই সঙ্গে পোলাপান কর্তৃক এত অত্যাচারের পরও তার কপালে কেন ‘ঠাডা’ পড়ছে না তাই নিয়ে মিহি সুরে বিলাপ চলতে থাকে।
নানির হাতে চব্বিশ ঘণ্টা গরম খুন্তি থাকে। তাই তাঁকে বেশি ঘাঁটাই না। তবে কথাগুলো প্রায় মুখস্থ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে হালার পা’লা। সব মিলিয়ে আঠারোটা কবুতরকে লাইনে রাখতে গালিটা ভালো কাজে দিচ্ছে। নানির মেজাজ বাই পোলার ধাঁচের। এই ঠান্ডা তো এই গরম। মেজাজ ঠান্ডা হলে নানি দু-একটা ‘কইতর’কে বাটার জুতার বাক্সে বসিয়ে নিয়ে আসেন। আমিও আস্তে করে বাক্সটা মাথার কাছে রেখে ঘুমিয়ে যাই। শীতের মাঝরাতে কবুতর বাক্স ডিঙিয়ে বিড়ালের মতো লেপের ওমে হানা দেয়। বাসার বিশাল একটা বারান্দা আমার পাখিদের জন্য বরাদ্দ। রেডিও, টেলিভিশনের কার্ডবোর্ডের বাক্স বেঁধে তাদের ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাই পেয়ে পেয়ে কবুতরের সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে এখন দেড় ডজন। সকালের আলো ফুটতেই বাকবাকুম রবে পুরো ব্যাটালিয়নটা তাদের ব্যারাকে, মানে বারান্দায় এক দফা লেফট-রাইট ঠুকে নেয়।
আজকে আমিও তাদের দলে আছি। তবে ভিন্ন কারণে। ছড়া আওড়াচ্ছি। পাড়ায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে কাজী নজরুলের ‘প্যাঁচা’ শুনিয়ে আসতে হবে। মা যাওয়ার আগে পাখি পড়া করে শিখিয়ে–পড়িয়ে দিয়ে গেছেন। ছড়াটা নাকি নজরুল সাহিত্যের সেরা সৃষ্টি। প্যাঁচার ওপর বিস্তর গবেষণা করা প্রাণীবিদ মায়ের তাই ধারণা। যদিও আমার কিঞ্চিৎ দ্বিমত আছে। তো ছড়ার ফাঁক–ফোকরে বুদ্ধি করে ইম্প্রোভাইজেশন হিসেবে হালকা অভিনয় জুড়ে দিয়েছি। সেটারই ঝালাই চলছে।
‘ঠ্যাং চ্যাগাইয়া প্যাঁচা যায়/ যাইতে যাইতে খ্যাঁচখ্যাচায়’
‘প্যাঁচায় গিয়া উঠল গাছ/ কাওয়ারা সব লইল পাছ’
এখানে সামান্য অভিনয়। একটু উদ্বাহু হাউমাউ মানে প্যাঁচা গাছে উঠে গেছে। তারপর ডানা জাপটে ধেয়ে আসা মানে কাক পিছু নিয়েছে। নিজেই প্যাঁচা, নিজেই কাক। দ্বৈত চরিত্র। প্রতিভা দেখানোর সুযোগ প্রতিদিন আসে না।
‘প্যাঁচার ভাইস্তা কোলা ব্যাঙ/ কইল চাচা দাও মোর ঠ্যাং’-টেংরি ভাঙা লুলা ভাইস্তা হিসেবে পাড়ার কোনো ছেলেকে ভুজুং দিয়ে পটাব নাকি ভাবছি।
যা হোক, ছড়া ঠোটস্থ হয়ে গেছে। শুধু সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না, আবৃত্তির সময় লুকিয়ে একটা দুইটা কবুতর নিয়ে যাব কিনা। এরা সঙ্গে থাকলে ভরসা লাগে। কিন্তু মঞ্চে আচমকা উড়ে গিয়ে কারও গায়ে পড়লে ঝামেলা বাঁধতে পারে। সুতরাং, এই চিন্তা বাদ দিতে হলো। সন্ধ্যায় কবুতর ছাড়াই ঢিপঢিপ বুকে মঞ্চে উঠলাম। ভালোই চলছিল। কিন্তু গোল বাঁধল শেষের কয়েক লাইনে। ‘প্যাঁচায় কয় বাপ, বাড়িতে যাও/ পাছ লইছে সব হাপের ছাও’। হাপের ছাওয়ের পরের লাইন বেমালুম ভুলে গেলাম। ইঁদুর জবাই কইরা খায়/ বোঁচা নাকে ফ্যাচফ্যাচায়’—এই অতি কাব্যিক পঙ্ক্তিটা আর মনে পড়ছে না। ঘেমে নেয়ে বার কতক অ্যাঁ অ্যাঁ করে শেষমেশ নিজেই একটা হাপের ছাও হয়ে মঞ্চের পেছনের পর্দায় ঝুলে পানির ফোঁটার মতো চুইয়ে নেমে যাওয়ার তাল করছি। শেষ মুহূর্তে হঠাৎ আরেকটা র্যান্ডম ছড়ার দুই লাইন মনে পড়ে গেল। ‘শেয়ালের ল্যাজ, গোটা দুই প্যাঁচ’ আর কী সব গাঁজাখুরি আওড়ে ইজ্জতের দফারফা হওয়ার আগেই দিলাম এক চম্পট।
তারপর থেকে কিরা কাটলাম, কবুতর ছাড়া কোথাও যাওয়া যাবে না। এরা আমার আত্মবিশ্বাসের চাবিকাঠি। কিন্তু লোকে ভাবে এক, হয় আরেক। একদিন মায়ের সঙ্গে স্কুল থেকে ফিরে দেখি ঘরটা বেশি বড়সড় আর ছিমছাম লাগছে। যেন কেউ জঞ্জাল সরিয়ে সব গুছিয়ে রেখেছে। মনটা বেশ ফুরফুরে লাগল। কিন্তু মা বললেন, বাসায় চুরি হয়েছে। ফ্রান্স থেকে সাধ করে নিয়ে আসা টাইপরাইটার থেকে শুরু করে হাল মডেলের ক্যামেরা, সব লোপাট। ছুটা বুয়া নুরবানু ও তার দল কাজটা খুব দ্রুততার সঙ্গে সুচারুভাবে করেছে। মালসামাল সরিয়ে নুরবানু শেষবারের মতো মায়া করে বোধ হয় ঘর ঝাড়ু দিয়ে মুছেও গেছে। পুলিশে নালিশ করলে মাসখানেক বাদে এটুকু তথ্য ছাড়া আর কিছু জানা গেল না। এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে বাসা বদলের তোড়জোড় শুরু হলো।
একই পাড়ায় আরও বড় বাসা পাওয়া গেল। সেটা এত বড় যে অনায়াসে ক্রিকেট খেলা যাবে। তবে সমস্যা আছে। কবুতর নেওয়া যাবে না। এরা খালি বাসায় কয়েক দিন বসে থেকে এদিক-ওদিক উড়ে চলে যাবে। কোনো ব্যাপার না। এই সিদ্ধান্তে নানি বেজায় খুশি। তিনি এই সুযোগে সালুনের হুররা (তরকারির ঝোল) রাঁধার জন্য গোটা কয়েক কবুতর চেয়ে বসলেন। চালের রুটির সঙ্গে দারুণ জমবে। সব দেখেশুনে অধিক শোকে পাথর হয়ে পাখির মায়া ত্যাগ করতে রাজি হলাম। শুধু শর্ত হলো, কবুতর খাওয়া যাবে না। কালী, রাজা, পাফিন, ফ্যাশফ্যাশ, কুটনি ওরা সবাই আমার বন্ধু। বন্ধুকে মেরে খাওয়া অবান্তর চিন্তা।
কবুতরগুলোর কেউ নানির সালুনের হুররা হয়েছিল কিনা সেটা বলতে ইচ্ছা করছে না। আসলে ছোট মানুষকে কেউ পাত্তা দেয় না। দুঃখজনক সত্য। নতুন বাসায় আমি মন খারাপ করে ঘুরি। স্কুলের পর ফিরে অজান্তেই চোখ চলে যায় দূরের দালানের কার্নিশে। সেখানে চলে বদখত দাঁড় কাক নয় তো বাচাল শালিকের আড্ডা। কিন্তু এক দুপুরে ঘটল আজব ঘটনা। দূর কার্নিশে দুধ সাদা কুটনি আর দাবার ছকের মতো সাদাকালো ফ্যাশফ্যাশকে দেখতে পেলাম যেন। ভালো করে চোখ কচলে আবার তাকালাম। তারপর চেঁচিয়ে, লাফিয়ে, হাত নেড়ে, গামছা-তোয়ালে উড়িয়ে যেভাবে পারি ডাকতে থাকলাম। বাড়ির সবাইকে হতভম্ব করে দিয়ে কবুতরের জোড়াটা উড়ে এসে টান বারান্দার গ্রিলে বসল।
পুরোনো বন্ধু ফিরে পেয়ে কত কী যে সেদিন তাদের বলেছিলাম, আজকে সেসব আর মনে নেই। শুধু মনে হয়েছিল, তাদের ঠিকমতো বিদায় বলে আসা হয়নি। বরং চোরের মতো লুকিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু পশুপাখির সৌজন্যবোধ প্রখর। তারা তাই একবার ভালো করে বিদায় নিতে এসেছে। কিন্তু ওই এক দিনই। এরপর আর মেলে না নোটন নোটন পায়রাগুলোর দেখা। কার্নিশজুড়ে আবার সেই গম্ভীর কাক-শালিকের ভিড়। তবুও শেষ বিকেলের ঘোর লাগা আলোয় ছোট্ট মনের কল্পনায় এক আধটা সফেদ পালক উড়ে ঘুরে দূরে হারিয়ে যায়। সে খবর কেউ জানল না।
>>>ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার: গবেষক, ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি, স্কুল অব মেডিসিন, টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি মিউনিখ, জার্মানি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পেতে যাচ্ছে ৯ বছর বয়সী জিনিয়াস!

খবরে বলা হয়, স্নাতক লাভের পর তড়িৎ প্রকৌশল নিয়ে পিএইচডি করার ইচ্ছা রয়েছে সাইমন্সের। তার পিতা বলেছেন, তার ইচ্ছা রয়েছে মেডিসিন ডিগ্রি লাভেরও! তার মা ও বাবা, লিডিয়া ও আলেক্সান্ডার বলেন, অনেক আগে লরেন্টের দাদী তার অনেক প্রশংসা করছিলেন। কিন্তু তারা ভেবেছিলেন দাদী হয়তো একটু বাড়িয়ে বলছিলেন।
কিন্তু শেষে শিক্ষকরাও তাদেরকে জানান যে, তাদের সন্তান বিশেষ মেধা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। লিডিয়া বলেন, শিক্ষকরা তার মধ্যে খুবই আশ্চর্যজনক কিছু গুণ দেখতে পান।
লরেন্টের পরিবারে অবশ্য ডাক্তারের সংখ্যা বেশি। কিন্তু তারাও আজ অবদি ঠাওর করতে পারছেন না যে, লরেন্ট কীভাবে এত দ্রুত সব শিখতে পারে। অবশ্য লিডিয়া মজা করে বললেন, গর্ভাবস্থায় অনেক মাছ খেয়েছিলাম। সেটা একটা কারণ হতে পারে!
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়েও লরেন্টকে তাড়াতাড়ি এই স্নাতক কোর্স শেষ করতে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিচালক জোয়ের্ড হালশফ বলেন, এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ শিক্ষার্থীরা যাদের দ্রুত কোর্স শেষ করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে তারা বিশেষ সময়সীমা পেতে পারেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে খুব ভালো করেন এমন শিক্ষার্থীদের বেলায়ও এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
হালশফ বলেন, লরেন্ট স্রেফ অসাধারণ! আমরা এ পর্যন্ত যত শিক্ষার্থী পেয়েছি, লরেন্ট তাদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সব শিখে ফেলেছে। সে শুধু অত্যন্ত মেধাবীই নয়, খুব অনুুুভূতিপ্রবণও। লরেন্ট সিএনএনকে বলেছে যে, তার প্রিয় বিষয় হলো তড়িৎ প্রকৌশল। এছাড়া মেডিসিন নিয়েও পড়াশুনা করার ইচ্ছে আছে তার।
লরেন্টের এই অনন্যসাধারণ কীর্তির কথা এখন ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিমধ্যে তাকে ভর্তি করানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এখনই লরেন্টের পরিবার বলতে চায় না যে, সে কোথায় পিএইচডি করার কথা ভাবছে। তার পিতা বলেন, তথ্য নিজের ভেতরে নেওয়াটা লরেন্টের জন্য সমস্যা নয়। এখন তার ফোকাস হওয়া উচিত গবেষণা ও নিজের লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রতি।
লরেন্ট হয়তো বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে সব শিখতে পারে। কিন্তু তার পিতামাতা চান তার শৈশব যেন নষ্ট না হয়। আলেক্সান্ডার বলছিলেন, আমরা চাই না সে খুব সিরিয়াস হয়ে যাক। সে যা করতে পছন্দ হয় তা-ই করে। একজন শিশু ও তার প্রতিভার মধ্যে ভারসাম্য থাকা চাই। লরেন্ট অবশ্য তার পোষা কুকুর স্যামির সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। এছাড়া ফোনে গেম খেলে অন্য শিশুদের মতোই। তবে বেশিরভাগ ৯ বছর বয়সী শিশু যেটা পারেনি, লরেন্ট সেটা ইতিমধ্যে করে ফেলেছে। সে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছে! তার ইচ্ছা কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি করা।
তবে সবকিছুর আগে জাপানে ছুটি কাটাতে যেতে চায় লরেন্ট।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধনীদের পছন্দের দামি ১০ পণ্য

ধনীরা কী কেনেন, কোথায় বিনিয়োগ করেন, তাঁদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু কী কী—এসব বিষয় উঠে এসেছে নাইট ফ্রাঙ্ক নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি
প্রতিষ্ঠানের সম্পদ প্রতিবেদন বা ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৯-এ। এতে ২০১৮ সালে ধনীরা সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে কী কী বস্তু কিনেছেন, তার একটা তালিকাও তুলে ধরা হয়।
তালিকায় দেখা যায়, চিত্রকর্মের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছে ইংরেজ চিত্রশিল্পী ডেভিন হকনির ‘পোট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট’ নামের একটি চিত্রকর্মের। সাড়ে ৯ কোটি ডলার বা ৯৬৫ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে চিত্রকর্মটি। কে কিনেছেন, তা নেই নাইট ফ্রাঙ্কের প্রতিবেদনে।
ধনীরা সাধারণত দুষ্প্রাপ্য হুইস্কি সংগ্রহে রাখতে পছন্দ করেন। ২০১৮ সালে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি হুইস্কির মূল্য ১৫ লাখ ডলার বা ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ম্যাকালান-১৯২৬ নামের ওই হুইস্কির উৎপাদক যুক্তরাজ্যের দ্য ম্যাকালান ডিস্টিলারি। যে বোতলে ওই হুইস্কি বিক্রি হয়েছে, সেটার গায়ে আবার চিত্রশিল্পী মাইকেল ডিলনের নিজ হাঁতে আকা চিত্রকর্ম রয়েছে।
ফ্রান্সের রানি মারি অ্যান্তনয়েত্তির একটি গলার হার নিলামে বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে (৩০৬ কোটি টাকা)। যেটি অলংকারের মধ্যে সবচেয়ে দামি। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ঘড়িটি রোলেক্সের তৈরি। ‘১৯৭০ রোলেক্স ডেটোনা’ নামের ঘড়িটি নিলামে ৫০ কোটি টাকায় বিক্রি করে ফিলিপস নামের একটি নিলামকারী প্রতিষ্ঠান।
ইতালির অভিজাত গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফেরারি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ‘ফেরারি ২৫০ জিটিও’ মডেলের কিছু গাড়ি তৈরি করেছিল, যার একটি গত বছর ৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে (৪১১ কোটি টাকা) নিলামে বিক্রি হয়। এটাই ছিল নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি গাড়ি।
ফ্রান্সের একটি ওয়াইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৭৪ বছর পুরোনো এক বোতল ওয়াইন বিক্রি হয় ৫ লাখ ৫৮ হাজার ডলারে, যা ২০১৮ সালের সবচেয়ে
দামি ওয়াইনের তকমা পায়। এটিও নিলামেই বিক্রি হয়েছে।
ধনীরা পুরোনো স্ট্যাম্প, রঙিন হীরা, পুরোনো মুদ্রা বা কয়েন ও আসবাবও সংগ্রহে রাখতে পছন্দ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ১৯১৮ সালের একটি স্ট্যাম্প বিক্রি হয়েছে ১৬ লাখ ডলারে (সাড়ে ১৩ কোটি টাকা)। পোল্যান্ডের ১৬২১ সালের একটি স্বর্ণমুদ্রা বিক্রি হয় ২২ লাখ ডলারে (১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা)। ১৯ ক্যারেটের একটি গোলাপি হীরা বিক্রি হয় ৫ কোটি ডলার বা ৪২৫ কোটি টাকায়।
আসবাবের মধ্যে সবচেয়ে দামি পণ্যটি ছিল একটি হাতির দাঁতখচিত দেরাজওয়ালা আলমারি। ব্রিটিশ শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ স্যার রোনাল্ড উইনের (১৭৩৯-৮৫) বাসভবনে ব্যবহৃত ওই আলমারি ১৯৯১ সালে নিলামে এক দফা ৯ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে (প্রায় ৮ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছিল। এবার দাম চাওয়া হয় ৫০ লাখ ডলার, যা বিক্রি হয়নি। অবশ্য আইনি ঝামেলা এড়াতে নিলামে ওঠানোর আগে আলমারিটি থেকে হাতির দাঁতের নকশা তুলে নেওয়া হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহমদ শাহ মাসউদঃ মৃত্যুঞ্জয়ী এক মুজাহিদের গল্প by নাঈমুর রাহমান নবীন

(গভীর রাত পেন্টাগনের নিজ অফিসের করিডোর এর সামনে পায়চারি করছেন এক সিআইএ কর্মকর্তা, তার হাতে চুরুট, ধোঁয়া মিশে যায় অন্ধকারে আর তার সময় কাটে উৎকণ্ঠায়… একটি ফোনের অপেক্ষায় প্রতি মুহর্ত যেন অসহ্য মনে হচ্ছে)
পাশের ঘর থেকে সহযোগী…
– স্যার কফি দিব?
– (ইতস্তত হয়ে) না… হুইস্কি পাঠাও।
– জি স্যার
– এই পাকিস্তানি বলদগুলো কোন কাজ যদি ঠিক মত করত, (পেগ শেষ করতে করতে নিজে নিজে বলতে লাগলেন)।
হঠাৎ করে তার ব্যক্তিগত ফোন বেজে উঠল,ফোন ধরতে ওপাশ থেকে ভারী কর্কশ গলায়…
অজ্ঞাতঃ কাজ হয়ে গেছে।
কর্মকর্তাঃ বডি কনফার্মড?
অজ্ঞাতঃ হুম।
৪০ বছর পূর্বে…
পাঞ্জশির উপত্যকার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে একটি ৮ বছর বয়সী আফগান বালক। সন্ধ্যায় দিগন্তে পাহাড়ের আড়ালে কিভাবে সূর্য হারিয়ে যায় তা দেখতে তার বড় ভাল লাগে। বাবা দোস্ত মোহাম্মদ রয়েল আর্মির কর্নেল, শখ করে ছেলের নাম রাখেন “আহম্মাদ শাহ্”। বড় হয়ে তার নামের সাথে যুক্ত হয় “মাসউদ”। “আহম্মাদ শাহ্ মাসউদ” নামটি কারো জন্য আতঙ্ক, আবার কারো জন্য দেশপ্রেমিক এক নায়কের প্রতিমূর্তি। বাবা-মা’র ইচ্ছা সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুক, কিন্তু তার ইচ্ছা সে বাবার মত যোদ্ধা হবে। স্কুলের অধ্যয়ন শেষে নিজের অমত সত্ত্বেও কাবুল ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হন, ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া আবস্থায় ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতিক দল জামাতি-ই-ইসলাম(১৯৭৯) এর সাথে জড়িয়ে পড়েন। যা মূলত ছিল মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড (Muslim Brotherhood) সমর্থিত আফগান এন্টি কমিউনিস্ট পার্টি।

“লায়ন অফ পাঞ্জশির”
১৯৭৮ সালে আফগান নবাবকে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে সোভিয়েত মদদপুষ্ট পাপেট কমিউনিস্ট সরকার। যা সাধারণ আফগানরা কখনো মেনে নিতে পারেনি। তারা বিদ্রোহ করে সরকার পতনের জন্য। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাশিয়ানরা আফগানিস্তান আক্রমণ করে (১৯৭৯)। পবিত্র ভূমিতে “নাস্তিক”দের পদার্পণ সাধারণ ধর্মপ্রাণ আফগানদের মনে বর্শার মত বিঁধে। শুরু হয় একটি অসম যুদ্ধের, বস্তুর সাথে অবস্তুর সংঘাত। রুশ লাল ফৌজদের নির্বিচারে হত্যা হতে বাদ যায়নি, শিশু,তরুণ, বৃদ্ধ এমনকি গর্ভবর্তী মহিলা পর্যন্ত। গ্রামের পর গ্রাম তারা পুড়িয়ে ফেলছে, ধর্ষণ, গনহত্যা, নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা মাত্র।
দেশের এই দুর্দিনে তরুণ মাসউদ পারলেন না ভোগবিলাসে জীবন কাটাতে। যার রক্তই যোদ্ধার, সে কি পারে যুদ্ধের ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে? ছুটে গেলেন নিজ মাতৃভূমি পাঞ্জশিরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। পাঞ্জশিরকে বলা হয় আফগানিস্তানের হৃদয়। রুশ সেনারা সমগ্র আফগান দখল করে শুধু উত্তর প্রদেশ বাদে। রুশ সেনাদের একটি যুদ্ধে জেতার জন্য যা যা দরকার সবই ছিল, আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি, দক্ষ সেনা, গোয়েন্দা। কিন্তু সাধারণ কৃষক, পশুপালক আফগানদের ছিল তীব্র দেশপ্রেম আর ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।
অপ্রতিরুদ্ধ রুশ সেনারা এগিয়ে যাচ্ছিল পাঞ্জশির আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের মাঝ দিয়ে, সংখ্যায় তারা হাজার বা তার বেশি। আচমকা মাসউদ গেরিলা আক্রমণ করেন, দুই পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা নিরীহ কৃষক ঝাঁপিয়ে পড়ে রুশ সেনাদের উপর ক্ষুধার্ত বাঘের মত। রুশদের দম্ভ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, জয় হয় সত্যের। নয় বছর স্থায়ী আফগান যুদ্ধে একটিবারের জন্যেও তারা উত্তর প্রদেশ জয় করতে পারেনি।
অপরদিকে কোল্ড ওয়ার (COLD WAR) চলাকালীন সময় এরকম ব্যায়বহুল যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। রুশরা বাধ্য হল আফগানিস্তান ত্যাগ করতে (১৯৮৯)। এটা ছিল মাসউদ যে অপ্রতিরুদ্ধ সোভিয়েত কমিউনিস্ট সরকারের বুকে শেষ ছুরি মারেন। “The wall street” জার্নালে তাকে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল “The Afgan who won the cold war”।
১৯৯২ সালে তিনি কাবুল (আফগানিস্তানের রাজধানী) দখল করেন, আফগানিস্তানকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন। তাকে উত্তর প্রদেশের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হতে অনুরোধ করা হয়, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঘরের শত্রু বিভীষণ
আফগানিস্তান একটি বহুজাতিক দেশ যেখানে বরাবরই Pastun/পশতুন বা পাঠানরা প্রতাপশালী ছিল। কিন্তু বুরাহানউদ্দিন রব্বানী, যিনি আফগান যুদ্ধের পর রাষ্টপতি হন, তিনি ও মাসউদ দুইজনই ছিলেন (Tajks) তাজাক্স জাতি। প্রভাব প্রতিপত্তিতে তাজাক্সরা পাঠানদের চেয়ে এগিয়ে গেল যা পাঠানদের কাছে ঈর্ষনীয়।একই সময় আফগান কম্যুনিস্ট অনুসারীরা স্বাধীন আফগান সরকারের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত করে, যা অনেকটা জ্বলন্ত অগ্নিশিখায় ঘি ঢালার মত। এতদিন যারা সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে পরস্পরের কাঁধে কাঁধ রেখে নিজ মাতৃভূমির জন্য লড়াই করেছে তারাই আজ একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করছে শুধু মাত্র নিজেদের জাতিগত স্বার্থের জন্য।
অপর দিকে আফগান যুদ্ধে অংশ নেয়া বিদেশি যোদ্ধা আল-কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেন মাসউদকে অনুরোধ করেন তার সংগঠনের জন্য পাঞ্জশিরে একটি বেস ক্যাম্প স্থাপনের। কিন্তু মাসউদ আল-কায়দার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন এবং তাদের হটিয়ে দেন। এমন অবস্থায় আল-কায়দার এমন একজনকে প্রয়োজন পড়ে যে আল-কায়দার হয়ে আফগানিস্তানে তাদের নিরাপত্তা দেবে।
ধর্ম যখন অস্ত্র
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফগান-পাক সীমান্তে জড়ো হয় একদল মানুষ। এদের বেশি ভাগই পাকিস্তানে আফগান রিফিউজি, সোজা ভাবে বলতে গেলে পাক-গোয়েন্দা মদদপুষ্ট আফগান। তারা একটি সংগঠন তৈরি করল যার নাম দিল ‘তালেবান’। এক বছরের মধ্যে তারা গোটা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়ল দাবানলের মত। শুধু মাত্র মাসউদের অধীনস্থ উত্তর প্রদেশ বাদে সমগ্র আফগান তাদের মুখ গহ্বরে। তালেবান একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র সংগঠন যার জন্ম হয়েছে কিছু দেশত্যাগী তরুণদের হাত ধরে, যাদের ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে অজ্ঞতা এবং যারা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা পেয়েছে সৌদি আরব, এমনকি আমেরিকান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির।
অর্থনীতির ভাষায় বলা চলে, তালেবান হল একটি ইন্ডাস্ট্রি যেখানে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ মুনাফালাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরানো একান্তই জরুরী। তাই মাসউদের মৃত্যুটা অনেকটা অনিবার্য ছিল।
২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ৯/১১ হামলার দুইদিন আগে। দুইজন বিদেশি সাংবাদিকের ছদ্মবেশে আল-কায়দার দুইজনের আত্মঘাতী হামলাকারীর শিকার হন মাসউদ। আজও ৯ই সেপ্টেম্বর মাসউদ স্মরণে আফগানিস্তা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
মাসউদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল তিনি ছিলেন সুন্নি হানাফি মুসলিম। তিনি স্বপ্ন দেখতেন এমন একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশের, যেখানে গণতন্ত্র হবে ইসলামের আদলে। তিনি সেই গণতন্ত্রকে চাইতেন না,যেখানে প্রগতিশীলতার নামে ইসলামকে জাদুঘরে বন্দী করে রাখা হয়।
আহম্মাদ শাহ্ এর মাসউদ হয়ে ওঠা ছিল ‘শীতল যুদ্ধের অবসান’, আর তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সূচনা হল সন্ত্রাসবাদ নির্মূল নামে নতুন সাম্রাজ্যবাদের উথান। ৯/১১-এর গল্পটা ছিল আহম্মাদ শাহ্ মাসউদের গল্প।

>>নিয়ন আলোয়
তথ্যসূত্রঃ
– নিউ ইয়র্ক টাইমস ১
– নিউ ইয়র্ক টাইমস ২
– দি ফেমাস পিপল
– আল জাজিরা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এশিয়ার ভয়ংকর সড়কগুলোর গল্প by আদনান আরেফিন
খারদুং লা রোড, ভারত। ছবি: সজল জাহিদ১. খারদুং লা রোড, (ভারত)
হিমালয়ের পশ্চিম অংশের দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত এই রাস্তা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এ কারণে ভারতের খারদুং লা রোডটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মোটরগাড়ি চলাচলকারী রাস্তা হিসেবে বিবেচিত।
উচ্চতা, গভীর গিরিখাদ, যেকোনো সময় তুষারপাত, ভূমিধসের আশঙ্কা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফি’ চ্যানেল এবং ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’ অনেকবারই বিপজ্জনক রাস্তার তালিকায় এসেছে ভারতের খারদুং লা রোডের কথা। প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলের একটি পর্বত পাস। এর স্থানীয় উচ্চারণ ‘খারডং লা’ বা ‘খার্ডজং লা’। এ ছাড়া খারদুং লা রোডটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মধ্য এশিয়ায় লেহ থেকে কাশগার পর্যন্ত প্রধান কারওয়ান রুটে অবস্থিত। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। রোডটির নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে এবং ১৯৮৮ থেকে এখানে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। এটি ভারতের সর্বোচ্চ পর্বত রাস্তাগুলোর মধ্যে একটি হওয়ায় সবার ভ্রমণের জন্য নয়। তাই খুবই অভিজ্ঞ ড্রাইভার ছাড়া এই রাস্তায় কাউকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের কারণে খারদুং লা পাস জুলাই থেকে আগস্ট এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এই সড়কে চলাচলের সবচেয়ে ভালো সময় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত।
জোজি লা রোড, ভারত। ছবি: সজল জাহিদ২. জোজি লা রোড, (ভারত)
আপনি যদি জানেন, যে রাস্তায় আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন, সে রাস্তা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ হাজার ৫৭৫ ফুট বা ৩ হাজার ৫২৮ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছে এবং আপনার চোখের সামনে রয়েছে কয়েক শ বা কয়েক হাজার ফুটের গভীর পাহাড়ি খাদ, পাহাড়ের ওপরের তুষার যেকোনো সময় আপনার গাড়ির ওপরে ধসে পড়বে, আপনি কী করবেন? ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং কাশ্মীরের শোনমার্গ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে লাদাখ ও কাশ্মীরের সংযোগ স্থাপনকারী জোজি লা রোড বা যাকে ‘জোজিলা পাস’ নামে চেনে সবাই, সেটি এ রকমই একটি ভয়ংকর রাস্তা। আর এ কারণেই রাস্তাটি বিশ্বের ভয়ংকরতম রাস্তাগুলোর মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছে।
জোজি লা রোড জম্মু ও কাশ্মীরের একটি উঁচু পর্বত পাসও বটে। লাদাখ ও কাশ্মীরকে সংযুক্ত করা প্রায় পাঁচ মাইল বা নয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাহাড়ি রাস্তা ভীষণ সরু। শীতকালে তীব্র বাতাস এবং ভারী তুষারপাতের কারণে রাস্তাটি অত্যন্ত দুর্গম হয়ে ওঠে। এ জন্য শীতের আগে এই রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাস্তাটিতে প্রায়ই ধস নামে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে এই রাস্তায় কাদা জমে যায়। এ কারণে গাড়ির চাকা কাদায় আটকে যায় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তাই ওই সময় এই সরু রাস্তাটিতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এ রাস্তায় একবার প্রবেশ করলে পেছনের দিকে ফেরা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে জোজি লা রোডে চলার সময় যদি একবার ভেড়ার পালের সামনে পড়ে যায় কোনো যানবাহন, তাহলে যতক্ষণ না ভেড়ার পাল সরছে ততক্ষণ সেখানে আটকে থাকতে হবে। এই রাস্তায় চলাফেরায় সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা চিন্তা করে ভারত সরকার ‘জোজি লা টানেল’ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
করাকরাম হাইওয়ে, পাকিস্তান ও চীন। ছবি: ইউকিমিডিয়া কমনস৩. কারাকোরাম হাইওয়ে, (পাকিস্তান ও চীন)
প্রায় ১৬ হাজার ফুট উঁচুতে যদি কোনো রাস্তা হয়, সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আপনি মজা পাবেন হয়তো, কিন্তু কখন যে স্বর্গের কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন, তার কোনো হিসাব আপনার কাছে নাও থাকতে পারে। তার ওপর রাস্তাটা যদি হয় ভূরাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানকার আইনশৃঙ্খলা যদি সব সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে না থাকে, তাহলে আপনার মতো সাধারণ মানুষের জন্য সেটা নরক ছাড়া আর কিছুই নয়। হ্যাঁ, তেমনই একটি ভয়ংকরতম রাস্তা কারাকোরাম হাইওয়ে, যেটিকে কেকেএইচ বা ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩৫ নামেও চেনে পৃথিবীর মানুষ। খতরনাক এই রাস্তা পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে অবস্থিত। এটি প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার মধ্যে পাকিস্তানে ৮৮৭ কিলোমিটার এবং চীনে ৪১৩ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে।
কারাকোরাম পর্বতমালার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই রাস্তা চলে গেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়, নদী, হ্রদ ও হিমবাহর পাশ দিয়ে। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় এসব থেকে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। রাস্তাটির পাকিস্তান অংশে পড়েছে গিলগিট বালতিস্তানের নাঙ্গা পাহাড়, রাকাপশি পাহাড়, দিরান ইত্যাদি কারাকোরাম পর্বতশ্রণির বিভিন্ন পাহাড়, সিন্ধু, হুনজা, গিলগিট ইত্যাদি পাহাড়ি নদী, প্রচুর হিমবাহ ও হ্রদ। এবার ভাবুন, এই রাস্তা কতটা ভয়ংকর হতে পারে?
কারাকোরাম হাইওয়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের হাসান আবদেলে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনজ্যাং বা জিনজিয়াং উইঘুরে। পাকিস্তানের মধ্যে এটি খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং গিলগিট-বালতিস্তানের মতো ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর দিয়ে গিয়ে চীনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এটি প্রাচীন সিল্করুটের অনেকগুলো পথের একটি। এই হাইওয়েটি নির্মাণের সময় প্রায় ৮১০ জন পাকিস্তানি এবং ২০০ জন চীনা শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই প্রাণহানির বেশির ভাগই ঘটেছিল মারাত্মক ভূমিধসের ফলে। এই হাইওয়েটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৫৯ সালে এবং ২৭ বছরের কর্ড ড্রিলিংয়ের পরে ১৯৮৬ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
তিয়েনমেন মাউন্টেন রোড, চীন। ছবি: ডাঞ্জারাস রোড ডট অর্গ৪. তিয়েনমেন মাউন্টেন রোড, (চীন)
তিয়েনমেন শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘স্বর্গের দরজা’। অসাধারণ প্রাকৃতিক শোভাময় পাহাড় বলে এর এমন নাম হয়েছে। এই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার জন্য যে রাস্তা, সেটিই তিয়েনমেন মাউন্টেন রোড নামে পরিচিত। কিন্তু একবার ভাবুন যে আপনাকে সেই রাস্তা পাড়ি দিতে হবে ৯৯টি বিপজ্জনক বাঁক! সঠিক সময় বাঁকটা নিতে না পারলে আপনি গাড়িসহ উড়ে গিয়ে পড়তে পারেন কয়েক শ ফুট নিচের গিরিখাদে। উচ্চতা যত বাড়বে, পতনের রাস্তা তত লম্বা হতে থাকবে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের তিয়ানমেন মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে অবস্থিত এই রাস্তা ‘তিয়েনমেন শান বিগ গেট রোড’ নামেও পরিচিত। এই রাস্তাটি সমুদ্রপৃষ্ঠের ২০০ মিটার ওপর থেকে ১ হাজার ৩০০ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে গেছে। এই রাস্তাটি ভীষণ বিপজ্জনক হওয়ার মূল কারণ, এতে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি কোণের মোট ৯৯টি বাঁক বা মোড় আছে এবং এই মোড়গুলোর বেশির ভাগই তিয়েনমেন গুহার ভেতর দিয়ে চলে গেছে। রাস্তাটির একদিকে গভীর খাদ আর অন্যদিকে বিশাল বাঁক। তাই এই রাস্তায় বছরের সব সময়ই দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই রাস্তায় চলাচলের জন্য আদর্শ সময় ধরা হয়।
গোলিয়াং টানেল, চীন। ছবি: ডাঞ্জারাস রোড ডট অর্গ৫. গোলিয়াং টানেল, (চীন)
নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত হিন্দি সিনেমা ‘মাঝি: দ্য মাউনটেনম্যান’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন, একজন মানুষ নিজের স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে কীভাবে নিজ গ্রামের শত শত মানুষের মৃত্যু রুখে দিয়েছিলেন। চীনের গোলিয়াং টানেলের গল্পটাও একই রকম। মাত্র ৩০০ জন গ্রামবাসীর ব্যবহারের জন্য রাস্তা বানাতে মিলিয়ন মিলিয়ন অর্থ খরচ করতে অনীহা প্রকাশ করে চীন সরকার। কিন্তু দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য উতলা হয়ে থাকা চীনের প্রত্যন্ত এলাকার গোলিয়াং নামের গ্রামটির ১৩ জন অধিবাসী সরকারের সে সিদ্ধান্তের থোড়াই কেয়ার করেন। তাঁরা সরকারের সহায়তা এবং কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণের বিপজ্জনক কাজ শুরু করেন। খাড়া পাহাড়ের ওপর বিস্ফোরক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু দমে না গিয়ে অন্যরা পাথুরে পাহাড়ের পেটে খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে যান। অবশেষে ১৯৭৭ সালে অনেক রক্ত আর তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এই টানেল সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
গোলিয়াং টানেল প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার লম্বা একটি সুড়ঙ্গপথ। এই সুড়ঙ্গপথ চীনের হিনান প্রদেশের জিনসিয়াংয়ের হুইসিয়ানে অবস্থিত তাইহং পর্বতমালার অন্য প্রান্তের সঙ্গে গোলিয়াং গ্রামকে যুক্ত করে দিয়েছে। পাথুরে পাহাড়ের পেটে প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত এই সুড়ঙ্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭২ সালে। এই রাস্তাটি বিপজ্জনক হওয়ার কারণ, এর এক দিকে পাহাড় আর অন্যদিক সম্পূর্ণ ফাঁকা। এই সুড়ঙ্গের কয়েক শ মিটার নিচে রয়েছে মাটি। এ ছাড়া এটি একটি সুড়ঙ্গ হওয়ায় বেশির ভাগ সময় অন্ধকার থাকে। এই টানেলটি সারা বছর খোলা থাকে।
তারোকো গর্জেড রোড, তাইওয়ান। ছবি: ডাঞ্জারাস রোড ডট অর্গ৬. তারোকো গর্জেড রোড, (তাইওয়ান)
বিপজ্জনক রাস্তার মধ্যে এরপর বলতে হবে তাইওয়ানের ৮ নম্বর হাইওয়ে তারোকো গুর্জ রোডের কথা। এই রাস্তাটিও গোলিয়াং টানেলর মতো পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে ‘সেনট্রাল ক্রস-আইল্যান্ড হাইওয়ে’ বলা হলেও আসলে এটি একটি সরু রাস্তা। এটি এতই সরু রাস্তা যে এই রাস্তায় পাশাপাশি দুটি বড় গাড়ি চলাচল করা প্রায় অসম্ভব।
তাইওয়ান জাপানের অধীনে থাকার সময় এটি একটি পায়ে চলা পথ বা ট্রেইল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন তাইওয়ানের দখল নিয়ে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া পুরোনো ট্রেইলটিতেই পাকা রাস্তা তৈরি করে তাইওয়ানের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলকে যোগ করে দেয়। চীনের ন্যাশনালিস্ট আর্মির সদস্যরা ১৯৫৬-১৯৬০ সালের মধ্যে রাস্তাটি তৈরি করেন। রাস্তাটি পাশাপাশি থাকা দুটি পাহাড়ের মধ্যকার চিকন পাথুরে জমি কেটে বানানো হয়েছে। ফলে ভৌগোলিক কারণে এই রাস্তায় রয়েছে অনেকগুলো বিপজ্জনক বাঁক বা ব্লাইন্ড কর্নার। এই বাঁকগুলোর কারণে সামনের কিছু দেখার সুযোগ থাকে না। ফলে যেকোনো সময় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে এই রাস্তার ওপর ভূমিধস এবং পাথরধস হতে পারে যেকোনো সময়। মূলত, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই রাস্তাটি পৃথিবীর বিপজ্জনক রাস্তাগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিগারেট ছেড়ে ই-সিগারেট: ধূমপায়ীদের হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়ায় ব্যাপক উন্নতি

তবে বৃটেনের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন ও থেরাপিউটিকস বিভাগের অধ্যাপক জ্যাকব জর্জ বলেন, ‘সিগারেট ছেড়ে যারা ই-সিগারেট ধরেছেন, তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, তাদের হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমে মাত্র এক মাসেই গড়ে ১.৫% উন্নতি হয়েছে। একে যদি প্রেক্ষিতের মধ্যে দাঁড় করাই, তাহলে বলতে হয় যে, সংবহনতান্ত্রির ক্রিয়ায় যদি ১ শতাংশও উন্নতি হয়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের মতো হৃৎযন্ত্র সংক্রান্ত দুর্ঘটনার হার ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়।’
জ্যাকব অবশ্য একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই গবেষণায় বিশেষভাবে ই-সিগারেট গ্রহণ বা ভেপিং-কে তামাক পাতার সিগারেটের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তামাক পাতার সিগারেট গ্রহণে ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সার হয়ে থাকে।
এছাড়া প্রাণঘাতি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও হৃৎযন্ত্রের অন্যান্য জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
তবে জ্যাকব বলেন, ‘এ বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, ই-সিগারেট মোটেই নিরাপদ নয়। সংবহনতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তামাক পাতার সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট কিছুটা কম ক্ষতিকর। ই-সিগারেটকে মোটেই ক্ষতিহীন যন্ত্র হিসেবে দেখা উচিৎ নয়। ফলে যারা ধুমপান করেন না বা তরুণ, তারা একে ক্ষতিহীন কিছু ভেবে গ্রহণ করবেন না।’
জ্যাকব ও তার দলের এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলোজিতে। খবরে বলা হয়, এই গবেষণার কারণে ই-সিগারেটের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক আরও বাড়বে। সাম্প্রতিক বছরে শুধু ই-সিগারেট সংক্রান্ত ২,০০০ ফুসফুস রোগ ধরা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া ৪০ জনের মৃত্যুর জন্য ই-সিগারেট গ্রহণকে দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তাদের গবেষণা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, ই-সিগারেটে টিএইচসি থাকে। এই টিএইচি হলো গাজার একটি উপাদান যা গ্রহণকারীকে মাতাল করে। এছাড়া থাকে জারিত ভিটামিন ই। এই দুইটি উপাদানের কারণেই ওই রোগ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বৃটেনের নেশা ও বিষবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা গত মাসে অবশ্য বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ভেপিং সংক্রান্ত যে অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে, তা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক সমস্যা। এ ধরণের কোনো সমস্যা বৃটেনে বা অন্য কোনো দেশে দেখা যায়নি।
ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পরীক্ষামূলক গবেষণা চলেছে দুই বছর ধরে। এতে অর্থায়ন করেছে বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য সংস্থা। এতে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করে আসছেন এমন ১১৪ জন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এই ব্যক্তিরা গত দুই বছরে দিনে কমপক্ষে ১৫টি সিগারেট গ্রহণ করতেন। তাদেরকে এক মাসের জন্য তিনটি দলে ভাগ করা হয়। এক মাস আগে ও পরে তাদের সংবহনতন্ত্রের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিন দলের মধ্যে একটি দল আগের মতোই তামাক পাতার সিগারেট গ্রহণ করে। দ্বিতীয় দল নিকোটিনের ই-সিগারেট গ্রহণ করতে শুরু করে। তৃতীয় দল নিকোটিন বিহীন ই-সিগারেট নিতে থাকেন। পরে ফলাফল থেকে দেখা গেছে, ই-সিগারেট গ্রহণকারী দু’টি দলের শরীরে রক্ত প্রবাহের ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্মৃতি-বিস্মৃতির মঞ্চকাব্য : আমরা তিনজন by সাজেদুল আউয়াল

গল্পের লেখক কবি, গল্পটির বাক্য-বর্ণনায় কাব্যলক্ষণ স্পষ্ট। গল্পের মঞ্চায়নও কাব্যধর্মী। সেজন্য প্রযোজনাটিও ‘মঞ্চকাব্য’ হয়ে উঠেছে। বুদ্ধদেব বসু ঢাকার পুরানা পল্টনের বাসিন্দা ছিলেন। পরে কলকাতা চলে যান; কিন্তু ভুলতে পারেননি পুরানা পল্টনের সেই সুখময় অল্পবয়সের স্মৃতি। সদ্য কৈশোর পেরোনো যুবক বুদ্ধদেব গল্পের ভেতর দিয়ে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন : সেই ১৯২৭-২৮ সালের পুরানা পল্টনের প্রাকৃতিক পরিবেশ, তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনা, পাড়ার মেয়ে অন্তরার জন্য তিন বন্ধুর আকুতি এবং আরো কিছু প্রসঙ্গ প্রকাশ পেয়েছে গল্পে। বর্তমান রচনায় দুটি দিক থেকে প্রযোজনাটি অনুধাবন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : এক. এর ড্রামাটিক টেক্সটটি তথা গল্পের নাটকায়নের ধরনটি কেমন এবং দুই. এর পারফরম্যান্স টেক্সট তথা নাট্যায়ন প্রচেষ্টাটি কিরূপ।
ড্রামাটিক টেক্সট/ নাটকায়ন
বলা দরকার যে, লিয়াকত আলী লাকী বুদ্ধদেব বসুর গল্পের নাটকরূপ দেননি, শুধু নাটকায়ন করেছেন – তাঁর ভাষায় ‘অবলম্বন’ করেছেন। গল্পের সবটাই গ্রহণ করেছেন, কোনো কিছুই বর্জন করা হয়নি। গল্পে যার যার চরিত্রে যে যে সংলাপ ছিল তার সবই বহাল রেখেছেন ড্রামাটিক টেক্সটে; চরিত্রগুলোর গল্পস্থ বর্ণনাগুলোও দিয়েছেন। বর্ণনাগুলো দর্শকগণের উদ্দেশে প্রযুক্ত, আর সংলাপগুলো চরিত্রবর্গ তাদের নিজেদের মধ্যে চালাচালি করে। সংলাপ – কাব্যাক্রান্ত। কবিতার চরণের মতো একেকটি সংলাপ। ছন্দময়-কাব্যালংকার সমৃদ্ধ।
সংযোজন করা হয়েছে শুধু কিছু রবীন্দ্রসংগীত, চরিত্রের মনের অবস্থার প্রকাশ ও ঘটনাকে মাত্রা দেওয়ার জন্য, গল্পের মেজাজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আবহ তৈরির জন্য। প্রেম-বিরহ প্রভৃতি পর্যায়ের গান দিয়েই আবহ তৈরি করা হয়েছে। শ্রাবণ-রাতের আবহ তৈরিতেও বর্ষাবিষয়ক গান ব্যবহৃত হয়েছে। বোঝা যায় অনেক ভেবে গানগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। গানগুলো নির্বাচন করেছেন লিয়াকত আলী লাকী নিজেই। পুরো গান নয়, অংশবিশেষ। কিছু গান মঞ্চে গাওয়া হয়েছে, কিছু বেজেছে সাউন্ডট্র্যাকে। গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি মেজর কাজ – তাই গল্পের মূল ভাব-বক্তব্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকাটা জরুরি ছিল। লিয়াকত আলী লাকীও তা-ই থেকেছেন। গল্পটি স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত। এই স্মৃতিকাতরতাকে নাটকায়নে যথাযথভাবেই পরিবাহিত করেছেন তিনি।
গল্পটি এরকম : ১৯২৭ সালের ঢাকার পুরানা পল্টন। বিকাশ, অসিত এবং হিতাংশু তিন বন্ধু। দিনের বেশিরভাগ সময় তিন বন্ধু একসঙ্গে থাকে। তিন বন্ধু একে অপরের প্রেমে পড়ে আবার তিনজনই একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়ে, নাম তার অন্তরা, বাড়ির সবাই যাকে তরু বলে ডাকে, তবে তিন বন্ধুর কাছে মেয়েটির নাম হয়ে যায় ‘মোনালিসা’। একদিন কাকতালীয়ভাবে রাস্তায় তাদের সঙ্গে দেখা হয় তরু ও তার বাবা-মার। তরুর বাবা দে সাহেব তাদের বাসায় আমন্ত্রণ জানায়। বৃষ্টিমুখর একদিনে তারা তরুর বাড়ি যায়; কিন্তু তার সঙ্গে তেমন কোনো কথা হয় না। এর মধ্যেই সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। তিন বন্ধুর ভীষণ মন খারাপ হয়। তরুর বাবা-মা তাদের সহায়তা চাইলে প্রায় এক মাস দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা তরুকে সুস্থ করে তোলে। তার সঙ্গে তাদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
তারপর একদিন তরু ভালো হলে শরীর উদ্ধারে চলে যায় রাঁচি। ঠিকানা রাখেনি বলে তিন বন্ধুর খুবই মন খারাপ। তবে যেদিন ওরা ফিরল, সেদিন স্টেশনে কচি কলাপাতা রঙের শাড়ি আর লালচে মুখাবয়বের মোনালিসাকে দেখে তিন বন্ধু মুগ্ধ হয়। ট্রেনের মধ্যে তরুর সে কি গল্প, দেখতে দেখতে তিন বন্ধু চারজন হয়ে উঠল। একদিন তরুর মা তাদের ডেকে জানায় তরুর বিয়ের সংবাদ। খবরটি শুনে তিন বন্ধু হতভম্ব হয়ে যায়। বিয়ের পর তরু চলে যায় কলকাতা। কিছুদিন পর হঠাৎ জানা যায়, সে ঢাকায় আসছে এবং অমত্মঃসত্ত্বা। পোয়াতি তরুকে তিন বন্ধু ঘিরে থাকে সবসময়। ও যাতে ভালো থাকে, কখনো মন খারাপ না করে, সে চেষ্টাতেই দিন কাটে তাদের।
এক অমাবস্যার রাতে প্রসব-বেদনায় ছটফট করতে থাকে তরু। তার চাপাকান্না তিন বন্ধুর বুক বিদীর্ণ করে। শীতের রাতে মাঠের মধ্যে না-খেয়ে, না-ঘুমিয়ে তিন বন্ধু রুদ্ধশ্বাসে প্রতীক্ষা করতে থাকে। ভোরের প্রথম ছাইরঙা আলোয় ওরা দেখতে পায় দে সাহেবের বেদনার্ত নির্বাক মুখ। অতঃপর রাশি রাশি ফুল আরো কত কিছু দিয়ে সাজানো হলো তরুর শবদেহ। জীবিত তরুর তিন বন্ধু তার অস্তিমযাত্রায় তার শ্মশানবন্ধু হয়ে তারই শবদেহ বয়ে নিয়ে চলে। এভাবেই শেষ হয় স্মৃতিকাতরতায় ভরা ড্রামাটিক টেক্সটটি।
গল্পটি মনে হয় দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পরই রচিত এবং তখনো দেশভাগ হয়নি। বিষয়টি বয়সী বিকাশ একেবারে শেষে হিতাংশু সম্পর্কে যা বলে তা থেকে বোঝা যায়। বিকাশ বলে : ‘হিতাংশু এমএসসি পাস ক’রে জার্মানিতে গেলো পড়তে আর ফিরল না, সেখানকারই একটা মেয়েকে বিয়ে ক’রে সংসার পাতল, এখন এই যুদ্ধের পরে কেমন আছে, কোথায় আছে কে জানে।’ যে-যুদ্ধের কথা বিকাশ বলছে তা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধই হবে। সম্ভবত ১৯৪৬ সালেই গল্পটি লিখিত হয়েছে। কারণ দেশভাগ হয়েছে ১৯৪৭ সালে – ওই সালে বা পরে লিখলে দেশভাগ প্রসঙ্গটি গল্পে আসার কথা।
গল্পের তিন বন্ধুর একজন বুদ্ধদেব নিজে, যার নাম বিকাশ। সবাই সমবয়সী। বয়সটাই তাদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। আর তখন জনমানুষের সংখ্যাও এ-শহরে কমই ছিল। মেয়েদের সংখ্যাও অল্প, তদুপরি মেয়েরা ঘরের বাইরে বেরোতো কম। ১৯২৭-২৮ সালের পুরানা পল্টনের তিন বন্ধু একসঙ্গেই সময় কাটাত, আড্ডা দিত, সাইকেল চালিয়ে রমনা-রেসকোর্সের মাঠ চষে বেড়াত। শহরের একমাত্র সিনেমা হলে ছবি দেখত।
রিফ্রেইন বা গানের ধুয়ার মতো বারবার কিছু সংলাপ ড্রামাটিক টেক্সটে ফিরে ফিরে আসে, যেগুলো পুরো নাটকায়নটিকে সংগীতের মোড়কে ঢেকে দিয়েছে। শুরুতে, মাঝে ও শেষে সংলাপগুলো বুদ্ধদেব গুঁজে দিয়ে কাব্যভাব সৃষ্টি করেছেন গল্পটিতে। এই ভাবটিরই সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে নাটকায়নের ক্ষেত্রে। যেমন শুরুতেই বয়সী বিকাশ মঞ্চে প্রবেশ করে দর্শকদের উদ্দেশে বলছে : ‘আমরা তিনজন একসঙ্গে তার প্রেমে পড়েছিলাম : আমি, অসিত আর হিতাংশু; ঢাকায় পুরানা পল্টনে, উনিশ-শো সাতাশে। সেই ঢাকা, সেই পুরানা পল্টন, সেই মেঘে-ঢাকা সকাল!’ এরপরই নাট্যযজ্ঞ ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যায়। যুবক বিকাশ গল্প উন্মোচন করে এই বলে যে : ‘আমরা এসেছিলাম কিছু পরে, অসিতদের বাড়ির তখন ছাদ পিটোচ্ছে। একটা সময় ছিল, যখন ঐ তিনখানাই বাড়ি ছিল পুরানা পল্টনে; বাকিটা ছিল এবড়োখেবড়ো জমি, ধুলো আর কাদা, বর্ষায় গোড়ালি-জলে গা-ডোবানো হলদে-হলদে-সবুজ রঙের ব্যাঙ আর নধর সবুজ ভিজে-ভিজে ঘাস। সেই বর্ষা, সেই পুরানা পল্টন, সেই মেঘ-ঢাকা দুপুর! আমরা তিনজন একসঙ্গে থাকতাম সব সময় – যতটা এবং যতক্ষণ থাকা সম্ভব।’
যুবক বিকাশ আরো বলে : ‘আমরা তিনজন তিনজনের প্রেমে পড়েছিলাম, আবার তিনজন একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়লাম, সেই ঢাকায়, পুরানা পল্টনে উনিশ-শো সাতাশ সনে।’ গল্পের মাঝামাঝি এসে তরু অসুস্থ হয় এবং স্বাস্থ্যোদ্ধারে রাঁচিতে যায়। তখন যুবক বিকাশ বলে : ‘মোনালিসা, কোনোদিন জানলে না তুমি, কোনোদিন জানবে না, কী ভালো আমাদের লেগেছিলো, কী সুখী আমরা হয়েছিলাম, সেই সাতাশ সনের বর্ষায়, পুরানা পল্টনে, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সেই জ্বরে-ঝড়ে, বৃষ্টিতে থমথমে অন্ধকারে, ছমছমে ছায়ায়। দেড় মাস তুমি শুয়ে ছিলে, দেড় মাস তুমি আমাদের ছিলে।’
তারপর তরুর বিয়ে হয়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তরুর মৃত্যু হলে নাট্যযজ্ঞের একেবারে শেষে বয়সী বিকাশ হুইলচেয়ারে করে এসে সমাপ্তিসূচক সংলাপ হিসেবে বলে : ‘অসিত আর হিতাংশুই সব করলো, রাশি রাশি ফুল নিয়ে এলো কোথা থেকে, আরো কত কিছু, বেলা দুটো পর্যন্ত শুধু সাজাল শুধু সাজাল, তারপর নিয়ে যাবার সময় সকলের আগে রইল ওরা দু’জন। আরো অনেকে এলো কাঁধ দিতে, শুধু আমি বেঁটে ব’লে বাদ পড়লাম, পিছনে পিছনে হেঁটে চললাম একা-একা। ঠিক একা-একাও নয়, কারণ ততক্ষণ হীরেনবাবু এসে পৌঁছেছেন, বাড়ির কাপড়ে জুতো-ছাড়া পায়ে তিনিও চললেন আমার পাশে পাশে। হীরেনবাবু পরের বছর আবার বিয়ে করলেন, দে-সাহেব চলে গেলেন বদলি হ’য়ে। কিছুদিন পর্যন্ত লোকেরা বলাবলি করলো ওঁদের কথা, তারপর তারা-কুটিরের একতলায় অন্য ভাড়াটে এলো, পুরানা পল্টনে আরও অনেক বাড়ি উঠলো, ইলেকট্রিক আলো জ্বললো। অসিত স্কুল থেকে বেরিয়ে চাকরি নিলো তিনসুকিয়ায়, ছ-মাসের মধ্যে কী একটা অসুখ ক’রে হঠাৎ মরে গেলো। … আর আমি – আমি এখনো আছি, ঢাকায় নয়, পুরানা পল্টনে নয়, উনিশ-শো সাতাশে কি আটাশে নয়, সে-সব আজ মনে হয় স্বপ্নের মতো, কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু স্বপ্ন, ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে একটু হাওয়া – সেই মেঘে-ঢাকা সকাল, মেঘ-ডাকা দুপুর, সেই বৃষ্টি, সেই রাত্রি, সেই – তুমি! মোনালিসা, আমি ছাড়া আর কে তোমাকে মনে রেখেছে!’
এই কাব্যময় রিফ্রেইন তথা ধুয়া বা কাব্যময় বাক্যগুলো (সেই ঢাকা, সেই পুরানা পল্টন, সেই মেঘে-ঢাকা সকাল!/ সেই বর্ষা, সেই পুরানা পল্টন, সেই মেঘ-ঢাকা দুপুর!/ সেই সাতাশ সনের বর্ষায়, পুরানা পল্টনে, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সেই জ্বরে ঝড়ে, বৃষ্টিতে থমথমে অন্ধকারে, ছমছমে ছায়ায়।/ সেই মেঘে-ঢাকা সকাল, মেঘ-ডাকা দুপুর, সেই বৃষ্টি, সেই রাত্রি, সেই – তুমি!) বারবার ড্রামাটিক টেক্সটে আসার ফলে মঞ্চমাঝে একটা কাব্যভাবের জন্ম হয়েছে। এজন্যই প্রযোজনাটিকে ‘মঞ্চকাব্য’ বলা হয়েছে। এছাড়াও কিছু সংলাপ কাব্যভাবম–ত। যেমন তরুর বিয়ের পর তার বাড়ি ঘুরে এসে অসিত যে বলে – ‘হঠাৎ যেমন নতুন লাগল তাকে, একটু অন্যরকম, সিঁথিতে জ্বলজ্বলে সিঁদুর, পরনে কড়কড়ে শাড়ি, কানে হাতে গলায় চিকচিকে গয়না, আর কেমন একটা গন্ধ দিচ্ছে গা থেকে – হীরেনবাবুর সেন্টের গন্ধ না, নতুন ফার্নিচারের মদ-মদ গন্ধ না, চুলের তেল কি মুখের পাউডারেরও না – আমার মনে হ’লো এই সমস্ত মিলিত গন্ধের যেটা নির্যাস, সেটাই ভর করেছে মোনালিসার শরীরে।’ – তাতেও কাব্যগন্ধ উপস্থিত। তরুর আসন্ন মৃত্যু আঁচ করতে পেরে অসিত বলে – ‘দুপুরের আগেই বিকেল হ’য়ে গেলো সেদিন, বিকেলের আগেই অন্ধকার।’ আবার তরুর মৃত্যুর সময়কার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিকাশ বলে – ‘ভোরের প্রথম ছাইরঙা আলোয় দেখলাম তাঁর ঠোঁট নড়ে উঠলো, এমন স্থির হ’য়ে আমরা তাকিয়েছিলাম আর এমন স্তব্ধ চারদিক যে তাঁর কথাটা আমরা কানে না-শুনে যেন চোখ দিয়ে দেখলাম।’ – এ-সংলাপগুলোও কাব্যরসম–ত।
পারফরম্যান্স টেক্সট/ নাট্যায়ন
নাট্যায়নের শুরুতেই বিলম্বিত লয়ে সেতারের ধ্বনি শোনা যায়। সাইক্লোরামায় স্থির মেঘ। সন্ধ্যার আবহ তৈরি করা হয় পুরনো দিনের পাঁচটি বাতিগাছে আলো জ্বালিয়ে। তিনজন বয়স্ক নওকর বাতিগুলো জ্বালিয়ে যায়। বাতি জ্বালানো আর নেভানোর মধ্য দিয়েই মঞ্চে সন্ধ্যা-সকালের আবহ তৈরি করা হয়, দৃশ্যান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মঞ্চের দুদিকে চারটি বাইসাইকেলকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছোট ছোট অনেক বক্সও রাখা – ওগুলোর তিনটির ওপর তিনজন অভিনয়শিল্পী বসে আছে। বক্সগুলো দিয়েই অন্তরাদের বাড়ি, রেলের কামরা, ঘোড়ার গাড়ি, তরুণ বিকাশের লেখার টেবিল, দিগন্ত-বিসত্মৃত মাঠ, অসুস্থ অন্তরার শোবার বিছানা, তরুর শবাধার ইত্যাদি বানানো হয়। এ-কাজে কখনো নওকরগণ, কখনো অভিনয়শিল্পীরা অংশ নেয়। নরম-কোমল পেইল ইয়েলো আলো মঞ্চমাঝে। এসবের মধ্যে ‘ওগো তৃষ্ণা আমার বক্ষজুড়ে …’ গানটি গাইতে গাইতে হুইলচেয়ারে করে বয়সী বিকাশ মঞ্চে আসে – বিকাশই ১৯২৭-২৮ সালের পুরানা পল্টনের সেইসব দিনরাত্রির স্মৃতি, ‘সেই পুরানা পল্টন, সেই মেঘে-ঢাকা সকাল!’, তার নিজের, বন্ধু অসিত, হিতাংশুর গল্প বলে যায়। তিন বন্ধু একসঙ্গে যার প্রেমে পড়েছিল, সেই রহস্যময়ী অন্তরা ওরফে তরু ওরফে মোনালিসার গল্প বলে যায়।
বয়সী বিকাশই এই গল্পের কথক। বস্ত্তত তার কথনের এক পর্যায়েই গল্পটি পেছনে চলে যায়, ফ্ল্যাশব্যাকে
স্মৃতি-বিস্মৃতির দোঁহা মঞ্চমাঝে পরিবেশিত হয় – সেই ১৯২৭-২৮ সালের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে – কখনো সংলাপে, কখনো বর্ণনায়, কখনো গানে, কখনো নীরবতায়। বয়সী বিকাশ প্রস্থানের সময় গাইতে থাকে ‘নিবেছে মোর বাতি …।’ পুরো নাট্যযজ্ঞে কিছু গান অভিনয়শিল্পীদের কণ্ঠনিঃসৃত, কিছু রেকর্ডকৃত। নাট্যায়নের শেষ দৃশ্যেও এই বয়সী বিকাশই কষ্টভরা মন নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে মঞ্চে আসে। তার হাতে তরুর সাদা-কালো ছবি। মঞ্চে আসতে আসতে সে গান ধরে ‘নয়ন ছেড়ে গেলে চলে …।’ এই রবীন্দ্রসংগীতটি গল্পের শেষাংশের সঙ্গে গেছে, আবেগ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরা তরু এই সময় বিকাশের পিছনে এসে দাঁড়ায়। তখন বিকাশ আবার গেয়ে ওঠে – ‘তোমায় নতুন করে পাবো বলে …’। মঞ্চে তখন গল্পের যে-পরিবেশ ছিল তার সঙ্গে গানটি যায়নি। তখন তরুকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে – তিন বন্ধু আর তরুর গল্পটিও অবশিষ্টহীনভাবে শেষ – তখন বিকাশ সমাপ্তিসূচক সংলাপ হিসেবে যা বলে তা ড্রামাটিক টেক্সটবিষয়ক আলোচনার শেষের দিকে উদ্ধৃত হয়েছে। দীর্ঘ অথচ মন খারাপ করা সমাপ্তিসূচক সেই সংলাপটি যেভাবে কাতর করেছে, গানটি তা করতে পারেনি। ভালো হতো যদি ভরাট কণ্ঠে গানটি রেকর্ড করে শোনানো হতো। তাতে মঞ্চমাঝে স্মৃতিমেদুর আবহ তৈরিতে অধিক সহায়ক হতো।
অনেক করে মন খারাপ না হলে কোনো শিল্পকর্মেরই জন্ম হয় না। বুদ্ধদেব বসুর গল্পটি পড়ে লিয়াকত আলী লাকীর মন নিশ্চয় খারাপ করেছিল। আর মঞ্চে প্রযোজনাটি দেখে আমার-আমাদের মন খারাপ হয়েছে। এই মন খারাপ হওয়ার বিষয়টি মঞ্চে নাট্যায়ন প্রত্যক্ষ করার সময়ই সংঘটিত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রযোজনাটির নির্দেশনার ধরন, অভিনয়শৈলী প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সঙ্গে আলো-মঞ্চসজ্জা-আবহসংগীত-পোশাক পরিকল্পনা সহযোগী উপাদান হিসেবে সক্রিয় থেকেছে – সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে পারফরম্যান্স টেক্সটটি। পারফরম্যান্সের ভেতর দিয়েই মঞ্চে স্মৃতিমথিত কষ্ট নির্মিত হয়েছে। দেড় ঘণ্টার মতো নাট্যযজ্ঞটির সময়সীমা। এর মধ্যেই গল্পটির মধ্যে স্থিত স্মৃতিকাতরতাকে নাট্যায়নের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নাট্যায়নের ধরনটি অর্গানিক ইউনিটির কথাই মনে করিয়ে দেয়। নাট্যায়নের মূল ইউনিট বা উপকরণগুলো হচ্ছে সেট-প্রপস্, অভিনয়শিল্পীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, মেকআপ, মঞ্চ-আওতায় অভিনয়শিল্পীদের চলাফেরা, তাদের অভিনয়, আলোর সংগত, আবহসংগীত ইত্যাদি। এগুলোর সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্গানিক ইউনিটিটি গঠন করেছেন নির্দেশক। আর এ-কাজে বাস্তবধর্মী উপস্থাপনারীতিই অনুসৃত হয়েছে, কারণ বহুদূরে ফেলে আসা এক সুখময় অথচ কষ্টদায়ক স্মৃতিই নির্দেশক মঞ্চে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। কোনো রকমের গিমিক বা অ্যাবস্ট্রাকশনের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তাতে করে কিন্তু বর্তমানে থেকেও অতীতে ফিরে যেতে অসুবিধা হয়নি দর্শকের। নাট্যায়নকর্মটি দর্শকের মনে ধরার এটাও অন্যতম একটি কারণ। বাস্তববাদ যে শিল্পকলার জগৎ থেকে কখনো লুপ্ত হবে না তা প্রযোজনাটি প্রত্যক্ষ করে আবার অনুভব করলাম।
সুচারু নাট্যায়নের কাজই হচ্ছে অর্গানিক ইউনিটি তৈরি করে দর্শক-মনে নানা রসের সঞ্চার করা, নানা ভাবের বিস্তার ঘটানো। সুখ-দুঃখবহ স্মৃতিময় করুণরসের সঞ্চার-বিস্তার ঘটানোর এই কাজটি নির্দেশক সুচারুভাবেই সম্পন্ন করেছেন। সেজন্য গল্পের সুখ-দুঃখবহ মেজাজটি অক্ষুণ্ণ থেকেছে মঞ্চে। মঞ্চে যেন আমরা একই সময়ে গল্পটি পাঠ করি, আবার এর নাট্যায়নটি প্রত্যক্ষও করি! বুদ্ধদেব বসু যেন অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত! লিয়াকত আলী লাকী ও তাঁর দল মঞ্চে উপস্থিত থেকে বুদ্ধদেব বসুর অনুপস্থিতিকে বুঝতে দেয়নি। আমার মতে, এখানেই এই প্রযোজনাটির সর্বোচ্চ সাফল্য।
প্রযোজনাটির সেট, আলো ও আবহসংগীত সাজেস্টিভ। আর বাকি সব ইউনিটই বাস্তবধর্মী। আলোচ্য প্রযোজনার সেট-পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন সুজন মাহাবুব – তিনি গল্প-উপযোগী সেটই নির্মাণ করেছেন। সেটের প্রধান উপকরণগুলোর কথা ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি। সব উপকরণই পুরনো দিনের আবহ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া তরুদের বাড়ির অবস্থান বোঝাতে একটি তুলসীগাছ মঞ্চের এক কোণে একসময় রাখা হয়, তরুর মা ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে তাতে জলও দেয় – এতেও পুরনো দিনের স্মৃতি নির্মিত হয়। পেছনের পর্দায় প্রায় সারাক্ষণ ব্যাক প্রজেকশনের মাধ্যমে আকাশে স্থির মেঘ দেখানো হয়েছে। এ-উপকরণটিও গল্পে বলা ‘সেই মেঘে-ঢাকা সকাল, মেঘ-ডাকা দুপুর, সেই বৃষ্টি’ কথাগুলোকে মঞ্চে প্রতিস্থাপন করে। তবে মেঘগুলো মাঝে মাঝে উড়ে চললে মঞ্চে গতির সঞ্চার হতো।
বয়সী বিকাশের চরিত্রে লিয়াকত আলী লাকী নিজেই অভিনয় করেছেন। নিজ চরিত্রের মধ্যে লীন হয়ে গেছেন বলেই মনে হলো। তাঁর সহজাত অভিনয় প্রতিভার গুণেই চরিত্রটি বিশ্বাস্য হয়ে উঠেছে, করুণরসের সঞ্চার করেছে। তরুণ বয়সের বিকাশের চরিত্রে মাসউদ সুমন দারুণ অভিনয়শৈলী দেখিয়েছেন। তিনি একাই নাট্যযজ্ঞটিকে অনেকদূর টেনে নিয়ে গেছেন। চরিত্রটিকে সেই ১৯২৭-২৮ সালের পুরানা পল্টনে স্থাপন করেছেন। তবে তাঁর স্বারিক তথা বাচিক অভিনয়ে বাঙাল টান থাকলে চরিত্রটি স্থানিক ভিত্তি পেত। তাছাড়া দুই বিকাশের মধ্যে বয়সের কারণে শারীরিক আকারগত পার্থক্যটি গ্রহণযোগ্য হলেও এদের গায়ের বর্ণগত তফাতটি চোখে লাগে, দুজন যে একই ব্যক্তি তা ব্যক্ত করে না। বয়সী বিকাশ শ্যামলা আর তরুণ বিকাশ ধবধবে সাদা-ফর্সা। মানুষের বয়স বাড়লে দেহগত আকারের পরিবর্তন হলেও গাত্রবর্ণগত পরিবর্তন হয় না বললেই চলে। এখন যেটা করা যায় সেটা হলো, তরুণ বিকাশের মুখম-ল ও গায়ের প্রকাশিত অংশ রূপসজ্জার মাধ্যমে কিছুটা শ্যামলাবরণ করে দেওয়া। তাছাড়া বয়সী বিকাশের পোশাকেও পরিবর্তন আনা দরকার বলে মনে করি – তিনি কোট-প্যান্ট না পরে পাজামা-পাঞ্জাবি পরলে যথাযথ হতো, কারণ বুদ্ধদেব সম্ভবত ১৯৪৬-৪৭ সালের দিকেই গল্পটি লিখেছেন – ওই সময় তিনি কলকাতায় পড়ান এবং প্রায়শই পাজামা-পাঞ্জাবি পরতেন। কোট-প্যান্ট পরতেন বিদেশে অধ্যাপনাকালে। পাজামা-পাঞ্জাবি পরলে যুবক বয়সী বিকাশের সঙ্গে বয়সী বিকাশের একধরনের সাযুজ্যও তৈরি হবে। তাতে করে উভয় বিকাশকে একই ব্যক্তি বলে ধরে নিতে দর্শকগণের বেগ পেতে হবে না।
হিতাংশু চরিত্রে আজিজুর রহমান সুজন এবং অসিত চরিত্রে ফজলুল হক চোস্ত অভিনয় করেছেন। তাঁরা সিজন্ড অভিনয়শিল্পীর মতোই দাপটের সঙ্গে তাঁদের স্ব-স্ব চরিত্রকে মঞ্চে জীবন্ত রেখেছেন। তরুও ভীষণ ভালো কাজ করেছেন। তরুর মুখে সংলাপ কম। কিন্তু মঞ্চে তাঁর অবস্থান ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এই অবস্থান ধরে রেখে তিনি যে সারাক্ষণ তরু হয়ে থেকেছেন এবং শুধু আঙ্গিক-বাচিক অভিনয় দিয়ে তাঁর প্রতি আমাদের আকর্ষণ তৈরি করেছেন, এটাও গল্পটি জমতে সাহায্য করেছে। দে সাহেবের চরিত্রে স্বদেশ রঞ্জন দাসগুপ্ত, হীরেনবাবুর চরিত্রে জিয়া উদ্দিন শিপন ও দে সাহেবের স্ত্রী সুমির চরিত্রে সোনিয়া আক্তারও গল্পের চরিত্রের সঙ্গে মিশে গেছেন বলে তাঁরাও গল্পেরই একজন হয়ে গেছেন, বিচ্ছিন্ন কেউ বলে মনে হয়নি। কিন্তু স্বদেশ রঞ্জন দাসগুপ্তর অ্যাক্টিং ওভার্টলি থিয়েট্রিক্যাল, কিছুটা উচ্চৈঃস্বরিক, যা অন্যদের সফট টোন ও অ্যাক্টিং স্কিমের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। তাঁর টোন কিছুটা ডাউন করা দরকার বলে মনে করি। পুরনো ভৃত্যদের চরিত্রে শিশির কুমার রায়, আলী আজম বাচিক অভিনয়ে যুক্ত না থেকেও তাঁদের অঙ্গভঙ্গি-চলাফেরার মধ্য দিয়ে সেই আমলের ভৃত্যদের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের বেশ-ভূষণও পুরনো দিনের কথাই মনে পড়িয়ে দেয়। পোশাক, রূপ, সজ্জা সেই ১৯২৭-২৮ সালসম্মত।
সবার বেশ-ভূষণ পরিকল্পনার কাজটি মেহেজাবীন মুমু গল্পের সময়-কালানুযায়ীই নিষ্পন্ন করেছেন। তরুর বিয়ের পর লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরানো হয় তাকে, হাতে শাঁখা, পায়ে আলতাও দেওয়া হয় – তাতে বিবাহিত তরু বিশ্বাস্য হয়ে ওঠে। আরো পরে তাকে ইজিচেয়ারে গাঢ় সবুজ শাড়ি পরা অবস্থায় দেখা যায় – বোঝা যায় সে আর কুমারী নেই। অসুখের সময় কালো চাদর গায়ে শোয়া অবস্থায়ও তাকে দেখা যায়। বলা যায়, শাড়ি-কাপড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেহেজাবীন মুমু সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে বয়সী বিকাশের জন্য কালানুযায়ী পোশাক-পরিচ্ছদ তিনি নির্বাচন করেননি বলেই মনে হয়েছে।
মঞ্চে আলোকসৃজনের দায়িত্বে ছিলেন স্বনামখ্যাত আলোকশিল্পী নাসিরুল হক। দৃশ্যখ– হলুদ-নরম আলোর সংগত পুরনো দিনের আবহ সৃষ্টি করেছে মঞ্চপরিসরে। এক্ষেত্রে স্পটলাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে বেশি করে, ফলে আলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায়নি। তাতে করে দর্শকের চোখ কেবল ঘটনাখণ্ডের দিকেই নিবদ্ধ ছিল। তখন ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। তাই বাতিগাছ তথা লণ্ঠনের আলো ব্যবহৃত হয়েছে। সংলাপসূত্রে জানা যায় যে, তরুদের বাড়িতে তখন পেট্রোম্যাক্স জ্বলতো। পেট্রোম্যাক্স প্রসঙ্গটি পুরনো দিনের আমেজ তৈরি করে। তরুর বিয়েতে তাদের বাড়িতে আলোসজ্জার ব্যবস্থা করা হয় – মঞ্চে আলোর ঝলকানি তৈরি করে আলোকসজ্জার ইফেক্ট নির্মিত হয়, নাসিরুল হক এক্ষেত্রে সফল। তরুর শিয়রে মোমবাতির ক্ষীণ আলোর ব্যবহারও তার অসুস্থতার আবহ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। বস্ত্তত উজ্জ্বল আলো পরিহার করে মঞ্চে নাসিরুল হক নস্টালজিক একটা আবহ তৈরি করেছেন। এটা তাঁর আলো তৈরির ক্ষেত্রে নান্দনিক বোধের প্রকাশ – সেই ১৯৮৩-৮৫ সালের দিকে কলকাতায় আলোকশিল্পী তাপস সেনের কিছু আলোর কাজের কথা মনে পড়েছে নাসিরুল হকের কাজ দেখে।
আবহসংগীত করেছেন ইমামুর রশীদ। আবহসংগীত – গল্পের মেজাজ অনুযায়ী দাঁড় করানো হয়েছে। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে – বিশেষ করে সেতার, পিয়ানো, সরোদ, সানাই, ভায়োলিন ও কিবোর্ডে যে-সুরখ- বাজানো হয়েছে তা গল্পটির নানা ঘটনাখ- মঞ্চ-পরিসরে ঘনবদ্ধ হতে সহায়ক হয়েছে। হারমোনিয়াম, তবলাও প্রয়োজনীয় মেজাজ তৈরি করেছে ঘটনাখণ্ডের। তরুর বিয়ের সময় সানাই-উলুধ্বনি-বিয়ে পড়ানোর মন্ত্র শোনা যায়। বিয়ের আবহ তৈরিতে এসব শব্দ সাহায্য করেছে। সংলাপে তরুর অসুখের কথাবার্তার সময় সরোদ-সেতার বাজে, বেহালাও বাজে করুণ সুরে। সরোদের টোকায় কষ্ট উৎপাদিত হয় মঞ্চমাঝে। নারীকণ্ঠে দীর্ঘ লয়ে রাগসংগীতও বাজে তখন, এতে বিষণ্ণতার আবহ সৃষ্টি হয় মঞ্চে। শব্দ নিয়ে একটি নিরীক্ষা দারুণ লেগেছে – সেটি হচ্ছে তরুর মৃত্যু-চিৎকার থামার সঙ্গে সঙ্গেই সাউন্ডট্র্যাকে বাজতে থাকা সংগীতখ-টি হঠাৎ থেমে যাওয়া। মৃত্যুর মেটাফোর বলা যায় একে – যেন হঠাৎ মরণ এসে ছিঁড়ে নিয়ে গেল তরুর জীবন। শব্দের এরকম মাত্রিক ব্যবহার সৃষ্টিশীলতার পরিচায়ক। কিছুক্ষণ নীরবতার পর ধীরলয়ে বেজে ওঠে তানপুরা – শোকের আবহ তৈরি হয় মঞ্চ আওতায়।
সংলাপে শিয়ালের কথা এসেছে বারকয়েক। পারিপার্শ্বিক শব্দ হিসেবে শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক শোনার অপেক্ষা করেছি বারবার। পাইনি। পেলে পরিবেশটা সশরীরে পেতাম। সংলাপসূত্রে ঘোড়ার গাড়ি চলার শব্দও শুনতে পেয়েছি, যা পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। একবার শুধু পাখির ডাক সংলাপের সঙ্গে শোনানো হয়েছে। আরো কিছু পাখির ডাক শোনার জন্যও কান উদগ্রীব ছিল – ধারণা করি তখন গাছভরা পাখি ছিল, পাখির কলরব-কিচিরমিচির ছিল সকাল-সন্ধ্যায়। পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর ডাক পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখত। সংলাপসূত্রে বৃষ্টির শব্দও পাওয়া যায় একবার, তবে তা আরো কয়েকবার এলে বর্ষার আমেজ মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত হতো। তারপরও লিয়াকত আলী লাকী মঞ্চসজ্জা, সংগীত ও নির্দেশনার ইউনিটগুলো দিয়ে মঞ্চমাঝে দেড় ঘণ্টার যে ঘোর তৈরি করেন তা-ই দর্শককে আটকে ফেলে এবং স্মৃতিকাতর করে রাখে। এই কৃতিত্ব তাঁকে দিতেই হবে। তবে নাট্যযজ্ঞ যেহেতু সামষ্টিক কর্ম তাই এই যজ্ঞে জড়িত সবাই সেই কৃতিত্বের অংশীদার।
আসলে নাট্যযজ্ঞের প্রতিটি ইউনিট একই লয়-তালে ক্রিয়া করে মঞ্চে গল্পের গতি সৃষ্টি করতে না পারলে দর্শককে ভাবে ডোবানো সম্ভব হয় না। এ-কাজটি লিয়াকত আলী লাকী তাঁর নাট্যক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আশ্রয়ে নিপুণভাবেই সম্পন্ন করেছেন। তার জন্য তাঁকে অর্গানিক ইউনিটির ওপরই জোর দিতে হয়েছে। সকল শুদ্ধ শিল্পকর্মই এই ইউনিটি দাবি করে। সম্ভবত নির্দেশকের সংগীতের ওপর দখল থাকার কারণেই এই ইউনিটি বজায় থেকেছে। পুরো প্রযোজনাটিকেই তিনি সংগীতের সমতুল্য করে গড়ে তুলেছেন। সে-কারণেই দেড় ঘণ্টা যে কোনদিক দিয়ে মঞ্চে অতিবাহিত হলো তা টের পাইনি, যে-ঘোরের মধ্যে মন ডুবল তাও সংগীতের ধুয়ার মতোই মনে অনুরণিত হতে থাকল, নাট্যযজ্ঞ শেষ হওয়ার পরও। সবকিছুরই শেষ থাকে, ভালো লাগারও শেষ থাকে, কিন্তু নাট্যযজ্ঞটি দেখার পর যে ভালো লাগার জন্ম হয় তা যেন শেষ হতেই চায়নি!
তরু থেকে তিথি
গল্পটিতে বুদ্ধদেব বসুর স্মৃতিমথিত বেদনা প্রকাশিত হয়েছে মন কেমন করা কাব্যাক্রান্ত ভাষায়। সেই ‘মন কেমন করা’ বিষয়টি মঞ্চে পরিবাহিত করেছেন লিয়াকত আলী লাকী তাঁর সৃষ্টিশীল নাট্যপ্রজ্ঞার সহায়তায়। সেই নাট্যপ্রয়াস প্রত্যক্ষ করে দর্শক হিসেবে আমারও মন কেমন করে ওঠে। আমারও মনে পড়ে যায় নিজ স্মৃতির কথা! আমি নিশ্চিত, আমার মতো অনেকেরই এমনটি হয়েছে – নারী-পুরুষ উভয় প্রকার দর্শক নির্বিশেষে। নাট্যযজ্ঞটি ভালো লাগা ও মন খারাপ হওয়ার কারণও তাই স্মৃতিবিজড়িত। হয়তো নাট্যায়নটি প্রত্যক্ষ না করলে সেই স্মৃতি-বিস্মৃতির মধ্যেই থেকে যেত। এখানেই নাট্যযজ্ঞের প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্নটি আসে। আর আমার কাছে ‘তরু থেকে তিথি’ প্রসঙ্গটিও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
নাট্যযজ্ঞটি দেখে রমনা পার্কের ভেতর দিয়ে বাড়ি ফিরছি – তরু নয় তখন কেন জানি হঠাৎ তিথির কথাই মনে পড়ে! পার্ক এমনিতেই মানুষের মনকে নৈঃসঙ্গ্যচেতনায়-স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন করে। ফিরে যাই সেই ১৯৭৩-৭৪ সালের নয়াপল্টনে। সেই শঙ্খবরণ ভোর! সেই কারো এলানো চুলের মতো কালোরঙের রাত্রি! তখন বুদ্ধদেবের সময়ের মতো শিয়ালের ডাক শোনা যেত না। কিন্তু ব্যাঙের ডাক শুনেছি আর বানরও দেখেছি অনেক। ১৯২৭-২৮-এর মতো তখন তেমন ‘লম্বা-লম্বা চোর-কাঁটা ছাওয়া মাঠ’ ছিল না। বুদ্ধদেবের মতো ‘লণ্ঠন জ্বেলে কেরোসিনের গন্ধে আর মশার কামড়ে’র মধ্যে আমাদের পড়তে হতো না। তবে গল্পের তিন বন্ধুর মতো আমরাও তিন বন্ধু ছিলাম – আমি (শামীম), ফারুক ও শাহীন। কৈশোর পেরোনো যুবক, সবার প্রেমভরা মন। একসঙ্গে নয়াপল্টন চষে বেড়াই। আর গল্পের তিনজনের মতো আমরাও তিথিদের বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটি! শুধু তাকে একবার দেখার জন্য। তবে তিনজন একসঙ্গে নয়, যার যার সময়মতো। বিষয়টা সবাই জানতাম; কিন্তু এ নিয়ে কথা হতো না। কে জানে, তিথিও হয়তো বুঝত তাকে দেখার জন্য অনেকে খামোখাই তার বাসার পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে।
বিকাশ, অসিত এবং হিতাংশুদের তো তবু তরুর সঙ্গে কথা হয়েছে, আমার কোনোদিনই কথা হয়নি, দেখা ছাড়া। ফারুক, শাহীনের কথা বলতে পারব না। এক সময় বাসাবদলের কারণে তিথির সঙ্গে আর দেখা হয়নি। কবছর আগে অফিসার্স ক্লাবে এক বিয়েতে তাকে দেখি – আমাদের বিয়েটি দ্বিতীয় তলায় আর তিথিরটি নিচ তলায়। ওপরে উঠতে গিয়ে হঠাৎ তাকে দেখে থমকে দাঁড়াই। আমি তাকে চিনলেও সে চিনতে পারেনি। তার হাতে কালো বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, বেশ ব্যস্ত। শাড়ি পরা অবস্থায় তিথিকে এই প্রথম দেখলাম। বারবার করে দেখলাম – সেই চোখ, সেই ফর্সা মুখ, তবে শরীর ভারী হয়ে গেছে। একজনের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম আজ তিথির ছেলের বউভাত। পার্কে হাঁটতে হাঁটতে ভাবলাম – বুদ্ধদেবের তরু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে জীবন হারায় আর আমাদের তিথি ছেলের বৌভাত করেছে। আসলে নাট্যযজ্ঞটিই আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে পেছনে, মনে পড়িয়ে দিয়েছে তিথির কথা। বাসায় ফিরেও তিথির কথাই মনে পড়েছে বারবার। কিন্তু কেউই তা বুঝতে পারেনি! যৌবনের প্রারম্ভের সেই দিনগুলোর একটি অকথিত প্রসঙ্গকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এরকম একটি প্রযোজনার কাছে ঋণী থেকে গেলাম, যা ছিল গোপন তা হঠাৎ আজ তরুর সূত্রে প্রকাশ পেল। ফারুক বা শাহীন কি মনে রেখেছে তিথিকে? তিথিরও কি কখনো মনে আসে আমাদের কারো কথা? শুধু কি আমিই জীবনের সবচেয়ে সুখের অথচ মন খারাপ করা স্মৃতি ধরে রেখেছি? ফারুক কোথায় জানি না। শাহীন ডাক্তার হয়েছিল কিন্তু অসিতের মতো সেও বিশ-বাইশ বছর পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মরে গেল! আর আমি? বাবা চেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হই, হয়েছি লেখক। হয়তো সামান্য লেখক বলে, বুদ্ধদেব যেমন তরুকে, আমিও তেমনি তিথিকে ভুলিনি। মনে হয়, গল্পের থিমটি তথা এই তরু-তিথিবিষয়ক কথকতা সবসময়ই প্রাসঙ্গিক থাকবে, সব যুগে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ থেকে যে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যেতে চান, তাদের যেসব তথ্য জেনে রাখা ভালো
প্রথমেই দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই
যেসব প্রস্তুতি দরকার হবে
![]() |
| বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর এখন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পছন্দের তালিকায় যেমন বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তেমনি অনেকে বিদেশে পড়তে যাবার কথাও ভাবছেন। |
ভাষা দক্ষতার প্রমাণ:
পড়াশোনার ফলাফল
ভর্তির প্রক্রিয়া
![]() |
| শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্যের স্ট্যাফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান |
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র
আবাসন
বৃত্তির জন্য আবেদন
![]() |
| যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি র্যাংকিংয়ে সেরা হয়েছে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় |
ভিসা
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা
![]() |
| ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে |
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা
অস্ট্রেলিয়া
![]() |
| শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান |
কানাডা
ভারত
চীন
![]() |
| ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ ডিডের্ট প্যারিস |
জার্মানি
মালয়েশিয়া
বিনা বেতনে পড়াশোনা
ইউরোপের অন্যান্য দেশে পড়াশোনা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিন পরীক্ষা: আসছে শুধু আপনার জন্য তৈরি ওষুধ by এমা উলাকট

![]() |
| কারি স্টোফানসেন বলছেন, জিন পর্যালোচনা করে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে আগাম জানা সম্ভব হবে। |
![]() |
| লিলি মিলানি বলছেন, রোগীদের জিনগত তথ্য দেয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে করতে হবে। |
| বানরের ভেতর মানব মস্তিষ্কের জিন স্থাপন করলেন চীনা বিজ্ঞানীরা |
![]() |
| এক দশক আগের তুলনায় জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর খরচ এখন খুবই কম। |
![]() |
| জিন সমস্যার সাথে রোগের সম্পর্ক খুঁজে বের করতে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
November
(177)
-
▼
Nov 20
(19)
- তথ্যপ্রযুক্তির যুদ্ধে কার লাভ, কার ক্ষতি
- কবুতর কাহিনি by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পেতে যাচ্ছে ৯ বছর...
- ধনীদের পছন্দের দামি ১০ পণ্য
- আহমদ শাহ মাসউদঃ মৃত্যুঞ্জয়ী এক মুজাহিদের গল্প by ন...
- এশিয়ার ভয়ংকর সড়কগুলোর গল্প by আদনান আরেফিন
- সিগারেট ছেড়ে ই-সিগারেট: ধূমপায়ীদের হৃৎযন্ত্রের ক্র...
- স্মৃতি-বিস্মৃতির মঞ্চকাব্য : আমরা তিনজন by সাজেদুল...
- বাংলাদেশ থেকে যে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যেতে চা...
- জিন পরীক্ষা: আসছে শুধু আপনার জন্য তৈরি ওষুধ by এমা...
- পুরুষদের কঠিন ৫ সমস্যা
- জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে অণুজীবের ভূমিকা অবজ্ঞা করার...
- 'ধর্ষণের বিচার পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়' by আক...
- বাংলাদেশের পাট নিয়ে ভারত কিভাবে লাভ করছে? by সানজ...
- মহাশূন্যে জন্মাবে মানবশিশু
- অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প...
- মৌলিকত্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশের ওয়াজ মাহফিল by শফিক র...
- চোখগুলো বিমর্ষ কেন? by রাসেল মাহ্মুদ
- শ্রেণিকক্ষে গাইড বই কি বাধ্যতামূলক? by মেহেদী হাসান
-
▼
Nov 20
(19)
-
▼
November
(177)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









