Sunday, October 17, 2010

প্রবন্ধ- 'নজরুলের কবিতা: ভাবনা-বেদনা' by আবদুল মান্নান সৈয়দ

কাজী নজরুল ইসলামের (জন্ম ১৮৯৯-স্তব্ধতা ১৯৪২-মৃত্যু ১৯৭৬) নীরব হয়ে যাওয়ার দশ বছর পরে ১৯৫২ সালে পরবর্তী কবি-সমালোচক বুদ্ধদেব বসু ‘রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক’ প্রবন্ধে লিখছেন, ‘কৈশোরকালে আমিও জেনেছি রবীন্দ্রনাথের সম্মোহন, যা থেকে বেরোবার ইচ্ছেটাকেও অন্যায় মনে হতো — যেন রাজদ্রোহের শামিল; আর সত্যেন্দ্রনাথের তন্দ্রাভরা নেশা, তাঁর বেলোয়ারি আওয়াজের জাদু — তাও আমি জেনেছি। আর এই নিয়েই বছরের পর বছর কেটে গেল বাংলা কবিতার; আর অন্য কিছু চাইলো না কেউ, অন্য কিছু সম্ভব বলেও ভাবতে পারলো না — যতদিন না ‘বিদ্রোহী’ কবিতার নিশেন উড়িয়ে হৈ-হৈ করে নজরুল ইসলাম এসে পৌঁছলেন। সেই প্রথম রবীন্দ্রনাথের মায়াজাল ভাঙলো।’ ‘নজরুলের দোষগুলি সুস্পষ্ট, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য সমস্ত দোষ ছাপিয়ে ওঠে; সব সত্ত্বেও একথা সত্য যে রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম মৌলিক কবি।’ ‘নজরুল ইসলাম নিজে জানেননি যে, তিনি নতুন যুগ এগিয়ে আনছেন; তাঁর রচনায় সামাজিক রাজনৈতিক বিদ্রোহ আছে, কিন্তু সাহিত্যিক বিদ্রোহ নেই।’ (‘রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক’, বুদ্ধদেব বসু)
কাজী নজরুল ইসলাম (২৫/৫/১৮৯৯–২৯/৮/১৯৭৬) 
বুদ্ধদেব বসুর উক্তিসমূহ পরীক্ষা করে দেখতে চাই এখানে। বুদ্ধদেব বসু পরিষ্কার বলেছেন এবং স্বীকার করে নিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের পরে নজরুল ইসলামই প্রথম মৌলিক কবি। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রসঙ্গ তিনি তুলেছেন ওই প্রবন্ধে, কিন্তু তাঁকে আমল দেননি। সাহিত্যের পরম্পরার দিক থেকে একথা সত্য ও প্রয়োজ্য বলে আমরা মনে করি না। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের (১৮৮২-১৯২২) মৃত্যুর পরে নজরুল ইসলাম তিনটি কবিতা ও গান রচনা করেন: ‘সত্যেন্দ্র প্রয়াণ’, ‘সত্য কবি’ ও ‘সত্যেন্দ্র প্রয়াণগীতি’; ‘সত্য কবি’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ও প্রমথ চৌধুরীর উপস্থিতিতে নজরুল আবৃত্তি করেছিলেন এক সত্যেন্দ্র-শোক-সভায়, সল্পায়ু সেবক নামে একটি দৈনিক পত্রিকায় নজরুল সত্যেন্দ্রনাথ সম্পর্কে একটি সম্পাদকীয় রচনা করেছিলেন — সেটি চিরতরে লুপ্ত হয়েছে। অগ্রজ কবির প্রতি নজরুল এই-যে কবিতার জন্যে অবিরল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন, তা কেন? তার কারণ সত্যেন্দ্রনাথের কিছু উপচার নজরুল গ্রহণ করেছিলেন — তার মধ্যে একটি অন্তেবাসী মানুষের জন্যে কবির ভালোবাসা; আরেকটি পুরাণের পুনঃপ্রয়োগের ভিতর দিয়ে নতুন ও অনুভূত সত্যের উন্মোচন; শব্দ-ও-ছন্দব্যবহারের কলাকুশালতাও; সত্যেন্দ্রনাথের চিত্রলতাকে নজরুল চিত্রকল্পে রূপান্তরিত করেছিলেন। নজরুল তাঁর উপকরণ সংগ্রহ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রবীন্দ্রনাথ থেকে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রবীন্দ্রসংগীতের হাফিজ বলে নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয় করান। অগ্রজদের কাছ থেকে এত রকম মালমশলা নিয়ে এগিয়ে গেলেন যিনি তিনি পূর্বজকে অস্বীকার করবেন কেন? বুদ্ধদেব বিষয়টি তলিয়ে দ্যাখেননি। কল্লোল যুগের ত্রয়ী নায়ক বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত আপনাপন কবিতায় সত্যেন্দ্রনাথের ‘বেলোয়ারি আওয়াজের জাদুতেই মুগ্ধ হয়েছিলেন, পরে তাঁরা যাঁর যাঁর নিজস্ব পথে অগ্রসর হয়ে গেছেন, কিন্তু সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাছ থেকে গভীরতর পরিগ্রহণ করেছেন এবং তাকে নিজস্ব কাজে লাগিয়েছেন। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ওই শক্তি বাঙালি সমালোচকরাও সম্যক উপলব্ধি করতে পারেননি।

প্রবন্ধ- 'কবিতা, মানবজাতির মাতৃভাষা' by মাসুদ খান

কারো মাতৃভাষা বাংলা, কারো চাকমা, কারো-বা ফারসি, ফরাসি, আরবি, ইংরেজি, চৈনিক, হিন্দি, হিস্পানি, জাপানি…। পৃথিবীতে কত জাতি, কত জনগোষ্ঠী, আর তাদের ভাষা, তাদের বুলি কত বিভিন্ন ও বিচিত্র! কিন্তু অনুভূতির মৌলিক ভাষা তো এক, অভিন্ন। সেই বিমূর্ত অনুভূতির সৎ ও মূর্ত প্রকাশই কবিতা। কবিতাকে তাই বলা হয়ে থাকে সমগ্র মানবজাতির মাতৃভাষা। মাতৃভাষা আমাদের যা-যা দেয়, যা-কিছু জোগায় — সৌন্দর্য, মাধুর্য, সহজতা, চিদানন্দ, জৈবটান, মাধ্যাকর্ষণ, জৈবানুভূতি, শুশ্রূষা, উপশম, স্তন্যদুগ্ধ, মোক্ষণশান্তি, প্রেরণা, এষণা, সাহস, শক্তি, উদ্দীপন, অক্সিজেন, করণ, বাহন, মাধ্যম…, তার অনেক কিছুই আমরা পাই কবিতার কাছ থেকে।

জন্মসূত্র, নাভিচিহ্ন
এক অর্থে কবিতার জন্ম ভাষারও জন্মের আগে। সেই অর্থে কবিতা মানুষের সমান বয়সী। বলা হয়, শ্রমই আদি মানুষকে ক্রমে ক্রমে মানুষ বানিয়েছে। পরিশ্রম করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝোঁক বা ঘাতের সঙ্গে উচ্চারিত হয় কিছু ধ্বনি। সেই ধ্বনিগুচ্ছ যখন উচ্চারিত হয় নির্দিষ্ট পর্যায়বিরতিতে, তখন তৈরি হয় এক ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালা। দেখা গেল, ছন্দোস্পন্দিত সেই ধ্বনিমাল্যের মাজেজা এমনই যে, তা মানুষকে দোলা দিতে পারে, করতে পারে উদ্দীপিত।

যৌথশ্রমের সময় প্রয়োজন হয় ঐক্য ও একাত্মতার, দরকার হয় উদ্দীপকের। সেই উদ্দীপকের কাজ করতে থাকল ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিপুঞ্জের সাম্য, প্রতিসাম্য ও পর্যায়বিরতি। যেখানেই যে-কাজেই আদিম মানুষের প্রয়োজন হতো যৌথশ্রমের, যৌথশক্তির, সেখানেই সেই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালা — উদ্যম ও উদ্দীপনার জন্য, ঐক্য ও একাত্মতার জন্য, স্পিরিট ও ইমপালসের জন্য। ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালাই কবিতার আদি রূপ, বীজাকার। কবিতার প্রোটোটাইপ।

ভারতের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি পাকিস্তান ও চীন

ভারতের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তান ও চীন ‘দুই প্রধান হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিং। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে পরমাণু যুদ্ধ মোকাবিলা করার সামর্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের সেনা-পৃষ্ঠপোষকতায় সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ (সিএলএডব্লিউএস) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে ‘ইন্ডিয়ান আর্মি: ইমার্জিং রোল অ্যান্ড টাস্ক’ শীর্ষক সেমিনারে ভি কে সিং এসব কথা বলেন। ভি কে সিং বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি পাকিস্তান ও চীন। পাকিস্তান বাইরে থেকে সন্ত্রাসীর সাহায্য পেয়ে থাকে। সব মিলিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।

কাশ্মীরে আবার কারফিউ জারি

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল শুক্রবার আবার কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে আহত এক ব্যক্তি গতকাল হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর এই কারফিউ জারি করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, সেনারা তাঁকে গত সপ্তাহ পিটিয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলীয় পামপোর শহরে গত সপ্তাহে সেনাসদস্যরা তাঁকে লাথি মেরেছেন ও লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের এক হাসপাতালে গতকাল ওই ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় পামপোর, শ্রীনগরের কিছু অংশ ও অন্য প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ১১ জুন কাশ্মীরে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। তখন থেকে কাশ্মীরে সহিংসতা চলছে। এতে এ পর্যন্ত ১১১ জন বিক্ষোভকারী ও পথচারী নিহত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলায় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাজি হয়েছে রাশিয়া। গতকাল শুক্রবার ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের মধ্যে বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পর রাশিয়ার পরমাণু-প্রতিষ্ঠানের প্রধান সার্গেই কিরিয়েঙ্কো ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
শাভেজ জানান, খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তিনি এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চান।
মেদভেদেভ জানান, শাভেজের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টি পছন্দ নাও করতে পারে। তবে এই প্রকল্প হবে শান্তিপূর্ণ।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কেবল চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে কেউ কেউ এতে খুশি হবে না।’

আলোচনা শুরুর নতুন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান

পরমাণু-সংকট নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার পশ্চিমা বিশ্বের নতুন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি বলেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ।
গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন আগামী মাসে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। পরমাণু-সংকট নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
মোত্তাকি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রায়িশা ও চীন এবং জার্মানির সঙ্গে আলোচনা আবার শুরুর জন্য অক্টোবর বা নভেম্বর ভালো সময়। এভাবেই আমরা আলোচনা শুরুর ব্যাপারে একটি নির্দিষ্ট তারিখও ঠিক করতে পারব বলে আশা করছি।’
পাকিস্তানকে সহায়তা করার ব্যাপারে আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করছেন মোত্তাকি। ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন অ্যাশটন। মোত্তাকি সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত কূটনীতিকেরা অগ্রগতির ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েই আশাবাদী থাকেন।
অ্যাশটনের পক্ষে তার মুখপাত্র বলেন, অ্যাশটন আশা করছেন, পরমাণু-সংকট নিয়ে ইরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী সাইদ জলিল এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন। গত সপ্তাহে মোত্তাকি বলেছিলেন, অক্টোবরের শেষ ভাগে বা নভেম্বরের শুরুতে আলোচনা শুরু করার কথা বিবেচনা করছে তেহরান।
ওপেকের সভাপতি ইরান
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছে ইরান।
৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার এই দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে দেশটি। গত সপ্তাহে ভিয়েনায় সংস্থার এক বৈঠকে ইরানের তেলমন্ত্রী মাসুদ মির-কাজেমিকে সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ইরান আগামী বছরের ১ জানুয়ারি ইকুয়েডরের কাছ থেকে দায়িত্ব নেবে।

ব্রিটেন প্রতিরক্ষা ব্যয় কমালে ন্যাটোর কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে: হিলারি

ব্রিটেন তার প্রতিরক্ষা বাজেট সংকোচনের পরিকল্পনা করায় ওয়াশিংটনের উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত ও নির্বিঘ্ন রাখতেই হবে। সে ক্ষেত্রে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে ব্রিটেন যদি তার প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে ফেলতে চায়, তাহলে তা তাঁদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। গত বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মকর্তারা বলেন, আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়সংক্রান্ত চূড়ান্ত পর্যালোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, ‘খুব শিগগির’ এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হবে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বাজেট তিন হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড ধরা হলেও সে দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় এ বাজেটের ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেলার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে।
ক্যামেরনকে লেখা প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্সের একটি চিঠির কপি গত মাসে সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। ওই চিঠিতে ফক্স ক্যামেরনকে প্রতিরক্ষা বাজেট কমানোর বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যাটো বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সেখানে হিলারি ক্লিনটন ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগের মধ্যে বৈঠক শেষে এক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে বিবিসির পক্ষ থেকে হিলারি ক্লিনটনকে প্রশ্ন করা হয়, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন কি না। জবাবে হিলারি ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্যদেশ হিসেবে পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ রাখার ব্যাপারে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি রয়েছে। ব্রিটেন যদি প্রতিরক্ষা ব্যয় সংকোচন করে, তাহলে সেটা ন্যাটোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ভিয়ারও স্বস্তির নিঃশ্বাস

খনিশ্রমিক তাঁদের কয়েক প্রজন্ম ধরে। সর্বশেষ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাবা কাজ করতেন কয়লাখনিতে, সেই সুবাদে ডেভিড ভিয়াদের বসবাস ছিল খনিশ্রমিকদের সঙ্গেই। স্পেনের আস্তুরিয়াস প্রদেশের উত্তরাঞ্চল তুইল্লা তাঁদের পিতৃভূমি। খনির অতলে নেমে কাজ করার অনিশ্চয়তাটা তাঁর জানা। তাই খনিশ্রমিকদের দুঃখ তাঁকে কাঁদায়, মুক্তির আনন্দ হাসি ফোটায় মুখে। চিলির ৩৩ জন খনিশ্রমিকের মুক্তির আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভিয়াকেও, ‘খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটছিল আমার। তবে আশা ছিল সবকিছুই ভালোয় ভালোয় শেষ হবে। কেননা উদ্ধারকাজে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি নিখুঁত মনে হচ্ছিল। তবে এ রকম পরিস্থিতিতে সব সময়ই জটিলতা দেখা দিতে পারে। আমি খুশি যে সবকিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হয়েছে। সবাই এখন ওপরে এসে নিঃশ্বাস ফেলছেন।’
মুক্তির আনন্দটা আরও রাঙিয়ে দিতেই উদ্ধার করা ৩৩ জন খনিশ্রমিককে নিয়ে ২৫ অক্টোবর এক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। চিলির রাষ্ট্রপতি সেবাস্তিয়ান পিনেরাই দিয়েছেন এই খবর। ‘ম্যাচের জয়ীরা যাবেন লা মোনেডায় (রাষ্ট্রপতির বাসভবন) এবং পরাজিতদের হতাশ মনে ফিরে যেতে হবে খনিতে!’—কৌতুক করেছেন পিনেরা। আটকে পড়া খনিশ্রমিকদের একজন, ১৯৯০ দশক পর্যন্ত চিলিতে পেশাদার ফুটবল খেলা ফ্রাঙ্ক লোবোস নেতৃত্ব দেবেন খনিশ্রমিক দলের। চিলির আটাকামা মরুভূমির এই খনির নিচে সেই ৫ আগস্ট থেকে আটকে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে ফুটবলের যোগাযোগটা তো তাহলে ভালোই। স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিয়া নিজের স্বাক্ষর করা দুটো বার্সেলোনা শার্ট ওই শ্রমিকদের উপহার দিয়ে ফুটবলের শক্তিটাকেও তুলে ধরেছেন।

মেইঞ্জের রেকর্ড, ভিয়ার আবেগ

সপ্তাহ দুই পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে গিয়েছিল মেইঞ্জ। সরে গিয়েছিল আসলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কারণে। প্রীতি ম্যাচ ও ইউরো বাছাই শেষে আবার ক্লাব ফুটবল নামছে মাঠে। মাঠে নামতেই মেইঞ্জ আবার আলোচনায়। বায়ার্ন মিউনিখ আর কাইজারস্লটার্নকে আগেই ছুঁয়েছে জার্মানির ক্লাবটি। এবার ওই দুটি দলকে ছাপিয়ে যাওয়ার হাতছানি তাদের সামনে।
বুন্দেসলিগায় সর্বশেষ ম্যাচে জয়ে লিগের শুরুর দিকে টানা ৭ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে মেইঞ্জ। যে কীর্তিটা এর আগে কেবল বায়ার্ন আর কাইজারস্লটার্নের ছিল। রূপকথার চিত্রনাট্য রচনায় ধারাবাহিকতা রেখে আজ হামবুর্গের বিপক্ষে জিতলে রেকর্ডটা মেইঞ্জের একার দখলে চলে যাবে।
মেইঞ্জ যখন একের পর রূপকথা লিখে চলেছে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ রীতিমতো ধুঁকছে। ৭ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মেইঞ্জের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে জার্মানির সফলতম ক্লাবটি। আজ নিজেদের মাঠে হ্যানোভারের বিপক্ষে খেলবে রেকর্ড ২২ বারের বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। জয় ভিন্ন অন্যকিছু ভাবতেই পারছে না লুই ফন গলের দল।
এদিকে স্প্যানিশ লিগে স্পেন স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়ার আজ খুব আবেগের ম্যাচ। আজ বার্সেলোনা-ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ। এই মৌসুমেই বার্সেলোনায় নাম লেখানোর পর এই প্রথম পুরোনো দলের মুখোমুখি হচ্ছেন ভিয়া। চোট পেয়েছেন বলে আজ ভিয়ার খেলা নিয়ে শঙ্কা আছে। তবে যদি খেলেন এবং গোল করেন তাহলে পুরোনো ক্লাবের সমর্থকদের শ্রদ্ধা জানিয়ে গোল উদ্যাপন নাকি তিনি করবেন না।
ইংলিশ লিগে বড় দলের ম্যাচ আছে আজ তিনটি। আর্সেনালে নিজেদের মাঠে খেলবে বার্মিংহামের বিপক্ষে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অতিথি হচ্ছে ওয়েস্ট ব্রমউইচ। আর চেলসি যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে।
তবে এই ম্যাচ-ট্যাচ নিয়ে নয়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সব আলোচনা এখন ওয়েইন রুনি-কেন্দ্রিক। অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে তাঁর মান-অভিমান চলছে বলেই ব্রিটিশ পত্রপত্রিকার খবর। এমনকি রুনির রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও খবর ছেপেছে কিছু কিছু পত্রিকা।

কিছু পাওয়ার আশায় নিউজিল্যান্ড

দারুণ মিশুক, চমৎকার ব্যবহার—বাংলাদেশে পা রাখার পর থেকে গোটা নিউজিল্যান্ড দল মন জয় করে নিয়েছিল সবার। এদের মাঝেও দলের ম্যানেজার শার্প ছিলেন আরেকটু এগিয়ে। মুখে সব সময় লেগে আছে হাসি, দেখা হলে নিজে থেকেই কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন। সব মিলিয়ে যাকে বলে নিপাট ভদ্রলোক। টিম হোটেলে কাল সেই লোকটিই পাথুরে মুখে বললেন, ‘দলের কারও সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না। আর আমিও এই মুহূর্তে কথা বলার অবস্থায় নেই।’ মাইকেল শার্পের এই চেহারা আগে কখনো দেখা যায়নি!
নিউজিল্যান্ড দলের ভেতরের খবর নেওয়ার আর প্রয়োজন পড়ল না। ম্যানেজারের মানসিক অবস্থাই বলে দিচ্ছিল গোটা দলের মনোজগতের মানচিত্র। অপ্রত্যাশিত মহাবিপর্যয়ে হতভম্ভ কিউইরা গুটিয়ে গেছে নিজেদের মাঝে। ম্যানেজারের কড়া নজরদারির মাঝেও খানিকটা কথা বলার সুযোগ পাওয়া গেল শ্যানন স্টুয়ার্টের সঙ্গে। বেচারার জন্য বাংলাদেশ সফরটা দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকবে। ১০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন, বাংলাদেশে এসেছিলেন দলে জায়গা পাকা করার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু দুটো ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ভালো তো করতে পারেনইনি (রান করেছেন ২ ও ১৪), উল্টো তৃতীয় ম্যাচে মাথায় আঘাত পেয়ে সম্ভবত খেলারই বাইরে ছিটকে পড়েছেন।
চোটটা কাটিয়ে উঠেছেন। তবে কাটাতে পারছেন না হতাশা। নিজের ও দলের ব্যর্থতা মিলিয়ে খুবই মনঃকষ্টে আছেন ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান, ‘অভিষেক হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে, ওই সিরিজটা ভালো খেলতে পারিনি। ভেবেছিলাম এখানে রান করে দলে জায়গাটা স্থায়ী করতে পারব। কিন্তু পারলাম না। দলও সিরিজ হারল। স্বাভাবিকভাবেই সবার মন খুব খারাপ। সবাই অনেক আশা নিয়ে এসেছিল।’ এখনো অবশ্য একটা ম্যাচ বাকি। তবে আগের দুই ম্যাচে যেমন খেলেছেন, স্টুয়ার্ট নিজেই নিশ্চিত নন, আগামীকালের ম্যাচ খেলার সুযোগ তিনি পাবেন কি না।
ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে, বাংলাদেশ দল ছিল ফুরফুরে মেজাজে। প্রচণ্ড গরমে স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ খেলার পর কালকের পুরো দিনটাই ছিল বিশ্রাম। সকালে একটু সুইমিং আর বিকেলে জিমে খানিকটা সময় কাটানো ছাড়া নিজেদের মতো করে সময় কাটিয়েছে সবাই। ঢাকায় যাদের বাসা আছে, তারা গিয়েছিল বাসায়। কোচ জেমি সিডন্সও এক দফা ঘুরে এসেছেন বাসা থেকে। তবে আজ দুপুরে আবার আছে অনুশীলন। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, তবে অনেক কিছু সিরিজ থেকে পাওয়ার আছে এখনো। আগামীকালের ম্যাচ জিতলে শুধু ৪-০-তে সিরিজ জয়ই হবে না, আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়েও নয় থেকে আটে উঠে যাবে বাংলাদেশ। গুরুত্বহীন ম্যাচটিরও তাই গুরুত্ব কম নয়।
কাল অনুশীলন করেনি নিউজিল্যান্ডও। এর আগে এক দিন বৃষ্টির জন্য অনুশীলন করা হয়নি, কিন্তু সফরে এই প্রথমবার নিজে থেকেই কোনো অনুশীলন করল না কিউইরা। বরাবরের মতোই দল হোটেলে বন্দী ছিল সারা দিন। সিরিজ হারের বেদনায় মুষড়ে পড়েছে, তবে শেষ ম্যাচটিও তাঁদের মাথায় আছে ভালোভাবেই। কাল দুপুর ১২টায় শেষ ম্যাচের দল নির্বাচনী সভাতে বসেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সব ম্যাচ হারের লজ্জাটা এড়াতে চায় তারা। চতুর্থ ম্যাচ শেষে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি যেমন বলেছিলেন, কাল স্টুয়ার্টের কণ্ঠেও শোনা গেল সেই কথা, ‘শেষ ম্যাচটা জিতে অন্তত কিছু একটা নিয়ে ফিরতে চাই।’
কিন্তু শেষ ম্যাচ থেকে যে অনেক কিছু পেতে চায় বাংলাদেশও। আর এই সিরিজে বাংলাদেশ যা চাইছে, সেটাই তো হচ্ছে!

জিম্বাবুয়েকে ৬৪ রানে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

ব্লুমফনটেইনে সিরিজের প্রথম এক দিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৬৪ রানে হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্বল জিম্বাবুয়ে হারবে—এটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু যা চিন্তা করা যায়নি, তা হলো জিম্বাবুয়ের লড়াকু মনোভাব। লড়াই করেই প্রথমে ব্যাট করে প্রোটিয়াদের গড়া ৩৫১ রানের বিশাল সংগ্রহকে খুব চমৎকারভাবেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে টেইলর, চিগুম্বুরা ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়াররা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডেব্যুট্যান্ট ইনগ্রাম ও হাশিম আমলার শতকে জিম্বাবুয়েকে ছত্রখান করে দেওয়ার মনোভাব দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুইয়ান পেসারদের স্কুল-বালক বানিয়ে সহজেই তুলে ফেলে ৩৫১ রান। প্রোটিয়াদের স্কোরের পাশাপাশি উইকেটের কলামটি প্রমাণ করবে, আমলা ও ইনগ্রামের ব্যাটিংয়ের সময় কতটা অসহায় ছিলেন জিম্বাবুইয়ান বোলাররা। রান খরচের ক্ষেত্রে পেসারদের ‘অতি উদারতা’ কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করেন দলের স্পিনাররা। তবে দুঃখের বিষয়, দক্ষিণ আফ্রিকার হারানো ছয়টি উইকেটের চারটিই দখল করেন মাসাকাদজা। তবে এর বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বোর্ডে তিনি তুলে দেন ৮৬ রান। আমলা ৯৬ বলে ১১০ রান করে রান আউট হন। ইনগ্রাম ১২৪ রান করে মাসাকাদজার বলে বোল্ড হন। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই সেঞ্চুরিয়ানের কীর্তির পাশাপাশি অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছেন মিলার। তিনি ৩১ বলে ৫১ রানের চমত্কার এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৩৫০ পার করতে সহায়তা করেন।
৩৫২ রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুটা ভালোই করে। ৭০ রানের ওপেনিং জুটির পর টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে না পারার কারণে প্রতিরোধটা জোরদার করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলর দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মুখে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে থাকেন। ১৩৬ বল মোকাবিলা করে তিনি ১৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। মূলত টেইলরের ১৪৫ রানের সুবাদেই জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছে। টেইলর ছাড়া মোটামুটি রান সংগ্রহ করেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (৩০)। এ ছাড়া বাকিরা দুয়ের অঙ্কে পৌঁছালেও নিজেদের বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি। ১৩ রানে তিনি প্যাভেলিয়নে ফেরেন থেরনের বলে গ্রায়েম স্মিথের হাতে ধরা পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে থেরন ৬২ রান তিনটি, বোথা ৪১ রানে দুটি উইকেট দখল করেন।
ব্লুমফনটেইনের এই ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করেন এনামুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫১/৬ (৫০ ওভার)
আমলা ১১০, ইনগ্রাম ১২৪
ডব্লিউ মাসাকাদজা ৪/৮৬
জিম্বাবুয়ে ২৮৭/৬ (৫০ ওভার)
টেইলর ১৪৫
থেরন ৩/৬২, বোথা ২/৪১
দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৪ রানে জয়ী

পন্টিংয়ের পাশে নিলসন

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াটইওয়াশ হওয়ার পর রিকি পন্টিংয়ের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। জিওফ লসনের মতো সাবেক ক্রিকেটার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা জরুরি মনে করছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু শেন ওয়ার্ন পর্যন্ত পন্টিংয়ের পাশে নেই। তবে এ বিপদের দিনে কোচ টিম নিলসনকে পাশে পাচ্ছেন রিকি পন্টিং।
পন্টিংয়ের দাবি, অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য লোক তিনিই। অধিনায়কের এ বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে ডেইলি টেলিগ্রাফকে টিম নিলসন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বা বিশ্ব ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পন্টিয়ের চেয়ে ভালো বিকল্প আর হতো পারে না।’
এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে ৭৩ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে পন্টিং জয় এনে দিয়েছেন ৪৭টি, হেরেছেন মাত্র ১৪টি। অসি কোচ বলেন, ‘দলের অধিনায়ক হিসেবে পন্টিং অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের কাছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হারিয়েছে বলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পন্টিংয়ের চেয়ে ভালো বিকল্প ভাবতেই পারি না আমি।’

প্রবন্ধ- 'রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে ও গদ্যে মুসলমানের কথা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা' by সাদ কামালী

শুধু মেঘমল্লারে মেঘের ডাকের জবাব দিয়ে চলবে না, মানব-ইতিহাসের মেঘমন্দ্র প্রশ্নাবলির জবাব দেয়ার কথাও রবীন্দ্রনাথ সবসময় অনুভব করেন। সমুদ্রপারের শ্রীযুক্ত কালিদাস নাগের প্রশ্নে হিন্দুমুসলমান সমস্যার ধরন ও প্রকৃতি বিষয়ে ১৩২৯ সালে লেখা পত্রনিবন্ধে বলেন, ‘পৃথিবীর দু’টি সম্প্রদায় আছে অন্য সমস্ত ধর্মমতের সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধতা অত্যুগ্র–সে হচ্ছে খৃস্টান আর মুসলমান ধর্ম। তারা নিজের ধর্মকে পালন করেই সন্তুষ্ট নয়, অন্য ধর্মকে সংহার করতে উদ্যত। এইজন্যে তাদের ধর্ম গ্রহণ করা ছাড়া তাদের সঙ্গে মেলবার অন্য কোনো উপায় নেই।’১ তবে ‘আধুনিক যুগের বাহন’১ খৃস্টান ধর্মাবলম্বীদের মন মুসলমানদের মতো ‘মধ্যযুগীয় গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়।’১ হিন্দুমুসলমান সমস্যায় বিব্রত রবীন্দ্রনাথ রচিত সাহিত্যেও ঐক্যের ও সমাধানের পথ খোঁজেন।
১৯৩১ সালের পয়লা জানুয়ারিতে তোলা ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
“মুসলমানীর গল্প” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ গল্প। মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ আগে ২৪-২৫ জুন ১৯৪১, বাংলা আষাঢ় ১৩৬২-তে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র হবির খাঁ, আর গল্পের ভরকেন্দ্রে রয়েছে বর্ণ হিন্দুদের জাতপাতের সমালোচনার সঙ্গে মুসলমানদের উদারতার কথা। হবির খাঁকে এলাকার মানুষ ‘পয়গম্বরের মতোই ভক্তি করত’। এমনকি ভয়ানক ডাকাত সর্দার মধুমোল্লাও হবির খাঁকে সম্মান করে। হাতের শিকার ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয়। গল্পের অন্য প্রধান পাত্র সুন্দরী কমলা জন্মের পরপর বাবা মা হারিয়ে তিন মহলার তালুকদার কাকা বংশীবদনের ঘরে বিবাহযোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু তখন খুব একটা সুসময় ছিল না। গল্পের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিনরাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়ে ছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে। গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখে তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।’ আজ প্রায় পঁয়ষট্টি বছর পরেও রাষ্ট্রের অবস্থা মুসলমানীর গল্পের এই সূচনা অংশের মতো অবিকলই শুধু নয় বরং রাষ্ট্রশাসন, দেবতা, অপদেবতা আর মানুষের অমানবিক আচরণ আরও ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তবে মুসলমানীর গল্পে রবীন্দ্রনাথের ইঙ্গিত মতো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনাই ঘটেনি। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও বিশেষ নতুন হয়ে এই গল্পে উপস্থিত নন। কাকা-কাকীর সংসারে কমলা কাকীর গালমন্দ নিত্যই খেত, এ নতুন কিছু নয়। কমলার বিয়ে হলো, বরযাত্রী যাবে বিখ্যাত তালতড়ির মাঠ দিয়ে। সেই মাঠ দিয়ে যাওয়ার সময় আরেক বিখ্যাত ডাকাত সর্দার মধুমোল্লা আক্রমণ করতে পারে সেই আশঙ্কার কথা গল্পে আছে। এবং মধুমোল্লা আক্রমণ করে। মধুমোল্লার হাত থেকে কমলাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মুসলমান হবির খাঁ। মুসলমানীর গল্পে হবির খাঁও অপ্রত্যাশিত নয়, উপরন্তু শুরুতেই যখন দেবতা-অপদেবতার সমালোচনা করা হয়েছে। হবির খাঁ চরিত্রের মধ্যে একাশি বছরের প্রাজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ নিজের চিন্তা বোধ বিশ্বাস আরোপ করার চেষ্টা করেন। বৃদ্ধ হবির খাঁ কমলাকে কন্যা ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যেতে চান। কমলা মুসলমানের ঘরে যেতে সঙ্কুচিত, রবীন্দ্রনাথ তখন হবিরের কণ্ঠে সংলাপ দেন, ‘বুঝেছি, তুমি হিন্দু ব্রাহ্মণের মেয়ে, মুসলমানের ঘরে যেতে সঙ্কোচ হচ্ছে। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো যারা যথার্থ মুসলমান তারা ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণকেও সম্মান করে।’ তবুও কমলা তার কাকার ঘরেই ফিরে যেতে চাইলে হবির খাঁ কমলাকে সতর্ক করে দেন, ‘আজ তোমার বাড়িতে কেউ তোমাকে ফিরে নেবে না, তোমাকে পথের মধ্যে ফেলে দিয়ে যাবে।’ প্রথা ও প্রত্যাশা মতো কাকী তাইই বলে, ‘দূর করে দাও, দূর করে দাও অলক্ষ্মীকে। সর্বনাশিনী, বেজাতের ঘর থেকে ফিরে এসেছিস, আবার তোর লজ্জা নেই।’ কাকা বলে, ‘উপায় নেই মা! আমাদের যে হিন্দুর ঘর।’ কমলা চিরদিনের মতো হবির খাঁ’র আশ্রয়ে জায়গা করে নেয়। রবীন্দ্রনাথ হবির খাঁ’র বাড়ির প্রশংসাসূচক বর্ণনা করে বলেন, ‘আশ্চর্য, এই মুসলমান বাড়ির আটমহলা বাড়ির এক মহলে আছে শিবের মন্দির আর হিন্দুয়ানির সমস্ত ব্যবস্থা।’ আট মহলা মুসলমান বাড়ির একজন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কমলাকে এসে বলে, ‘মা, হিন্দুর ঘরের মতো এ জায়গা তুমি জেনো, এখানে তোমার জাত রক্ষা হবে।’ যে জাতের গুমরে কমলা এখন আত্মীয় পরিজন পরিত্যক্ত, সেই জাত রক্ষা হবে হবির খাঁ’র আট মহলায়! হবির খাঁ কোনো বিপ্লবী বা সমাজ সংস্কারক নন, তাঁর আশ্রয়ে হিন্দু মুসলমান জাত রক্ষা করে, হিন্দু মুসলমানের ছোঁয়া বাঁচিয়ে সম্মানের সঙ্গেই থাকতে পারে। মুসলমানদের উদারতার কথা বলতে গিয়ে গল্পের কথক রবীন্দ্রনাথ বলছেন, ‘তখনকার বংশীয় মুসলমানেরা ধর্মনিষ্ঠ হিন্দুকে শ্রদ্ধা করত।’ ছোট বংশীয় বা অবংশীয় মুসলমানরা কি করত? তখনকার দিনে কম ধর্মনিষ্ঠ হিন্দুদের সঙ্গে বংশীয় বা অবংশীয় মুসলামনেরা কেমন আচরণ করত!

প্রবন্ধ- 'তাদের সঙ্গে, তাদের এলাকায়' by আকিমুন রহমান

তাদের সঙ্গে তাদের এলাকায় ঢুকছিলাম। তারা দুজন। তাদের এলাকা ভিন্ন। সামাজিক পরিমণ্ডল, স্বপ্ন, সাধ-আহ্লাদ, শত্রুর ধরন ভিন্ন। পুরুষ তাদের দুজনেরই প্রবল ঘৃণা ও উপহাসের বিষয়। পুরুষ আসে পুরুষ যায় তাদের জীবনে ও দুনিয়ায়। তবে এইসব নিয়ে ছিলো শুরুটা - তাদের এলাকায় ঢোকার মুখে। তাই শুরুতে আমার ছিলো অন্যমনস্ক প্রবেশ ও এগুতে থাকা। তারপর ধীরে যতোই ঢুকতে থাকি, ততো মূক ও বিহ্বল হতে থাকি। এখানে পতন ও উত্থান, মন্দ ও ভালো, পতন ও পচন অবাধ ও উন্মোচিত। প্রচলিত ন্যায় অন্যায় বোধ -অন্য কোনো পৃথিবীর বিষয় যেনো! তাদের জীবনে এইসবই গুরুত্বহীন। সততা শুদ্ধতা সতীত্ব বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা কম। ন্যায়-অন্যায় বিষয়ে চালু বিধি বিধান তারা জানে, তবে তাদের দু’জনেরই আছে নিজস্ব ন্যায় অন্যায় বোধ; তারা চলে নিজস্ব ওই ন্যায় অন্যায় বোধ দিয়ে। বিশ্বাস করে শঠে শাঠ্যং নীতিতে ; অনুশীলনও করে। আর দরকারমতো বিপুলভাবে প্রয়োগ করে ওটি পুরুষের ওপর।এবং তাদের নিজস্ব ধরণে সফলও হয় তারা । পুরুষের সমাজে বাস করে, পুরুষের কাছে থেকে বিবিধ সুবিধা নিয়ে পুরুষের সংসারে ও শয্যায় থেকে থেকে - পুরুষকে ঘৃণা করে খুবই। মনে মনে মানে যে, পুরুষ স্থূলবুদ্ধিওয়ালা এক জীব, এদের কাছ থেকে প্রাণ-ভরে যাওয়ার রোমান্স নারী কিছুতেই আশা করতে পারে না। পুরুষর সাধ্যই নেই ওই গূঢ় আবেগকে বুঝে ওঠার। তারা পুরুষের বিগড়াবাইকে শক্ত হাতে ঢিট্ করার বুদ্ধি ও কৌশল - বেশ ভালোরকম রাখে; সেই কৌশল তাদের মজ্জাগত। একজনকে তা তীব্রভাবে প্রয়োগ করতে হয়, কারণ সে বাস করে গোঁড়া ও হিংস্র পুরুষের সমাজে। আরেকজনের এলাকায় হালকা-পাতলা চালে ওই কৌশল প্রয়োগ করলেই চলে। মৃদুমন্দ গতিতে, শিথিল ও নিরুত্তাপ চিত্তে চলতে নড়তে তার অসুবিধা নেই। কারণ তার সমাজে বিধিবিধান আছে,তর্জন গর্জনও আছে তবে তা অনেকটাই শিথিল। অন্যদিকে, জীবনে সহজে সিদ্ধির মেক্ষম উপায়টিও জানা আছে তাদের দুজনেরই। দুজনেই তা কাজে লাগায়। এসব করে উঠে কোনো গ্লানি. শোকতাপ হয় না তাদের।তাদের সকল ক্রিয়াকাণ্ড পাপপুণ্যবোধশূন্যতা - এ সকল কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে যেতে মনে হতে থাকে, বাহ্ বেশ তো! বিদ্রোহ বিপ্লব মুক্তি অর্জন - সব দারুণভাবে এনে ফেলেছে তো তারা জীবনে! আর কী! দারুণ! তাদের একজনের সঙ্গে দেখা হয় আমার শোভাদে’র সোশ্যালাইট ইভিনিংস (১৯৮৯)-এ, অন্যজনের সঙ্গে জাঁ পি স্যাসঁ-র প্রিন্সেস (১৯৯২)-এ।

প্রবন্ধ- অল্পবিদ্যা কংকরবোমা : 'ফ্রয়েড, এডোয়ার্ড সায়িদ ও এয়ুরোপের বিজাতি' by সলিমুল্লাহ খান

ইংরেজি ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ খ্যাতনামা পণ্ডিত এডোয়ার্ড সায়িদ এন্তেকাল করিয়াছেন–এই কথা সকলেই জানেন। কিন্তু সকলেই জানেন কিনা আমি জানি না, তিনি ২০০১ সালে লন্ডনে ‘ফ্রয়েড ও এয়ুরোপের বিজাতি’ নামে একপ্রস্ত বক্তৃতা করিয়াছিলেন। ২০০৩ সাল নাগাদ তাঁহার সেই বক্তৃতা প্রকাশিত হইয়াছিল। এতদিনে পাতলা কাগজের মোড়কে আরও এক সংস্করণ বাহিরে আসিয়াছে। আমার সহৃদয় সুহৃদ আসাদুল (প্রকাশ শিশির) করিম লন্ডন হইতে আমার নিকট উপহারস্বরূপ একখণ্ড বহি পাঠাইয়াছেন। তাহাও এক বছরের কথা। বইপত্রের আলোচনা লিখিয়া আমি আংশিক জীবিকা নির্বাহ করিয়া থাকি। কিন্তু কে ছাপাইবে এই জাতীয় লেখা? বন্ধুবর ব্রাত্য রাইসু আমাকে সেই সুযোগ দিয়াছেন। ধন্যবাদ জানাইয়া তাহাকে বড় করিতে চাহি।
এই বক্তৃতায় এডোয়ার্ড সায়িদ বলিতে চাহিয়াছেন, মহাত্মা ফ্রয়েড এয়াহুদি বংশের সন্তান হইলেও নিজেকে এয়ুরোপকই মনে করিতেন। তবে এয়াহুদি পরিচয়ও তিনি কদাচ অস্বীকার করেন নাই। ১৯৩০ সালের পর এয়ুরোপ মহাদেশে এয়াহুদি বিরোধী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়া উঠিবার বহু আগেই এয়ুরোপ হইতে এয়াহুদিদের তাড়াইয়া দিয়া অন্য কোথাও উপনিবিষ্ট করিবার পরামর্শ দানা বাঁধিতেছিল। এয়াহুদি জাতির মধ্যে যাহারা ফিলিস্তিনে নতুন এয়াহুদি রাজ্য সংস্থাপনের কল্পনায় উত্তেজনা পাইয়াছিলেন তাহাদিগকে সচরাচর জায়নিস্ট বা ‘জায়নপথিক’ বলা হইয়া থাকে। শহর জেরুসালেমে এই নামের একটি পাহাড় আছে। জায়ন কথাটি তাহার নাম হইতেই আসিয়াছে।

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত রচনা কর্ণফুলীর ধারে

ভূমিকা লিখেছেনঃ নূরুল আনোয়ার

    আহমদ ছফার লেখা কেউ ছাপতে চাইত না, সেই কষ্টের কথা আমরা কম বেশি জানি। তিনি পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠালে ছাপার অযোগ্য বিবেচনা করে সম্পাদক সাহেবেরা তা দলামোচড়া করে ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে দিতেন। কবিতা লিখেন অথচ কোন পত্রিকা ছাপে না এটা বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে প্রচার পেয়ে গিয়েছিল। ব্যাপারটি তাঁকে এক রকম লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল। লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি পাবার আশায় তিনি একদিন সংবাদ পত্রিকার অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন সন্তোষ দাশগুপ্ত। আহমদ ছফা তাঁর লেখা কবিতা সন্তোষবাবুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন পত্রিকায় ছাপার জন্য। সন্তোষবাবু কবিতায় আগাগোড়া চোখ বুলিয়ে প্রশ্ন তুললেন, বাবা আছে?

    আহমদ ছফার জবাব, নাই।

    ভাই আছে?

    আহমদ ছফার জবাব, আছে।

    আহমদ ছফা জানতে চাইলেন, এসব জানার কারণ কী।

    সন্তোষবাবু বললেন, চিঠি দেব যেন সহসা তোমাকে বিয়ে করায়। কবিতার নামে যারা মিনি বিড়ালের মত সঙ্গী খোঁজে তাদের ওষুধ বিয়ে করা।

আলোচনা- 'খানিক ছফানামা' by কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

আহমদ ছফার প্রতি একধরনের মোহাবিচ্ছিন্নতা যে কখন থেকে আমার শুরু হয়েছিল তা নির্ণয় করা অনেকটাই দুঃসাধ্য। আমার এ কথকতার শুরুতেই বলে নিতে চাই, দীর্ঘদিন তার প্রতি ছিল আমার দারুণ মোহগ্রস্ততা। তা হয়ত প্রায় একই রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে হতে পারে, তার সৃজনকৃত মুগ্ধতার সমান্তরাল কোনো আকাঙ্ক্ষা থেকেও হতে পারে, নাকি বিকল্প ভাষাগত কোনো চৈতন্য থেকে আমার বোধে এল তা এই মুহূর্তে নির্ণয় করা মুশকিলই। তার লেখালেখির অনুভব থেকে চিন্তা করলে আমি একধরনের প্রেমে পড়ি তার গ্রন্থ বঙ্কিমচন্দ্র: শতবর্র্ষের ফেরারী পাঠ করে। বঙ্কিমকে যে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে একেবারে মুক্তচিন্তার সমাজতাত্ত্বিক চৈতন্য থেকে এভাবেও দেখা যায় তা আমার কাছে ছিল এক বিস্ময়ের ব্যাপার। আমি এর প্রতি এতই আকর্ষণ বোধ করি যে তার এ গ্রন্থটি নিয়ে রীতিমতো একটা লেখাই নির্মাণ করে ফেলি এবং তা স্থানীয় দৈনিক আজাদীর সাময়িকীতে ছাপতেও দিই।