Monday, April 11, 2016

আবার জয় ক্রুজ ও স্যান্ডার্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলের বার্নি স্যান্ডার্স ও রিপাবলিকান দলের টেড ক্রুজ উভয়েই শনিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার মনোনয়ন লড়াইয়ে দলের অগ্রগামী প্রার্থীদের হারিয়ে দিয়েছেন। টেক্সাসের সিনেটর ট্রেড ক্রুজ কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের দলীয় কনভেনশনে ১৩ জন ডেলিগেটের সব কটিই জিতে নিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটা তাঁর টানা চতুর্থ জয়। ক্রুজ এ ছাড়াও কলোরাডোয় কয়েক দফা কাউন্টি নির্বাচনে আরও ২১ ডেলিগেট জিতেছেন। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে কলোরাডো থেকে মোট ডেলিগেট যাবে ৩৭ জন। ৩ জন এখনো সিদ্ধান্ত দেননি। অন্যদিকে মাত্র ৬৫ হাজার মানুষের অঙ্গরাজ্য ওয়াইওমিংয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির ককাসে জিতেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এই নিয়ে তিনি দলের বাছাই পর্যায়ের গত নয়টি নির্বাচনের আটটিতেই জয়ী হলেন। তবে এবারের বিজয়ের ব্যবধান সামান্য হওয়ায় স্যান্ডার্স রাজ্যের ১৪ জন ডেলিগেট হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত বাছাইয়ে পাওয়া মোট ডেলিগেটের হিসাবে হিলারি ক্লিনটন এখনো ২১৯ ভোটে এগিয়ে। মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিকদের সমর্থনের জোরে তিনি এখনো জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে বিজয়ের সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। তবে শ্বেতাঙ্গ ও তরুণদের মধ্যে তাঁর সমর্থনের অভাব দলের নেতৃত্বে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। সুপার ডেলিগেটদের সিংহভাগ তাঁকেই সমর্থন করছেন—সে কথা মাথায় রেখে স্যান্ডার্স দলীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন করেছেন, বিজয়ের ঢেউ তাঁর দিকে। হিলারি অবশ্য আশা করছেন, ১৯ এপ্রিল নিউইয়র্কের প্রাইমারি নির্বাচনে ভালোভাবে জিতে স্যান্ডার্সের বিজয়-রথ থামিয়ে দেবেন। নগরপ্রধান পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এর পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও হিলারি চমৎকার ফলের আশা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী কুরুক্ষেত্র এখন নিউইয়র্ক

উইসকনসিনের প্রাইমারি ভোটে মঙ্গলবার বেধড়ক মার খেয়ে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নজর দিয়েছেন নিউইয়র্কের ওপর। তাঁদের পিছু পিছু এই শহরে এসে হাজির হয়েছেন তাঁদের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স ও টেড ক্রুজ। ১৯ এপ্রিল এই রাজ্যে প্রাইমারি নির্বাচন। সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, হিলারি ও ট্রাম্প তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে স্বস্তিদায়ক নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। এটি তাঁদের নিজস্ব রাজ্য এবং এখানে বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া সামনে এগোনো তাঁদের পক্ষে কঠিন হবে। অন্যদিকে, বার্নি স্যান্ডার্স ভারমন্ট থেকে নির্বাচিত সিনেটর হলেও পোলিশ অভিবাসী পিতা-মাতার সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তাঁর শৈশব ও যৌবন কাটিয়েছেন। এই শহরে তাঁর শেকড় বেশ গভীর। একমাত্র টেড ক্রুজই এখানে ‘বহিরাগত’। তাঁর প্রতি সমর্থনও নামমাত্র। এমনকি ওহাইয়োর গভর্নর জন কেইসিক এখানে ক্রুজের চেয়ে জনমত জরিপে এগিয়ে। বুধবার ট্রাম্প নিউইয়র্কে একাধিক জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। ‘আহ, ঘরে ফিরে কী ভালো লাগছে’, তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন। ট্রাম্প গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ‘মিথ্যাবাদী ক্রুজকে’ পরাজিত করার ও রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ইতিপূর্বে ক্রুজ ‘নিউইয়র্ক মূল্যবোধের’ জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা স্মরণ করে তাঁকে নতুন করে আক্রমণ করে বলেন, ‘ক্রুজ আজ এই শহরে এসেছেন, কিন্তু তাঁর সভায় এক শ মানুষও আসেনি। আমার মনে হয় তাঁকে আমরা হিসাব থেকে বাদ দিতে পারি।’ লং আইল্যান্ডের জনসভায় তুমুল করতালির মধ্যে তিনি এ কথা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্কে তাঁর বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই জেনেও ক্রুজ বুধবার আফ্রিকান-আমেরিকান অধ্যুষিত ব্রঙ্কস ও ম্যানহাটন সফর করেন। প্রতি অনুষ্ঠানেই তিনি প্রবল সমালোচনা ও বিদ্রূপের সম্মুখীন হন। ব্রঙ্কসে তিনি কথা বলার সময় বারবার বাধা দেওয়ায় একজন বিক্ষোভকারীকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ পত্রিকা ক্রুজের এই সফরকে ঠাট্টা করে লেখে, তিনি এখানে রীতিমতো ‘ক্রুশবিদ্ধ’ হয়েছিলেন। একজন দর্শকের মন্তব্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, হিস্পানিক পদবি আছে বলে যে তিনি নিজে একজন হিস্পানিক, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, ক্রুজের বাবা কিউবা থেকে আগত অভিবাসী। ব্রঙ্কসবরোর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রুবেনডিয়াজও ক্রুজের বহিরাগত অবস্থানের জন্য তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এই লোকটি এখানে এসেছে আমাদের ভোট চাইতে, অথচ দুদিন আগেও সে আমাদের মূল্যবোধের নামে বারবার অপমান করেছে।’ অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন এই রাজ্যে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইছেন। গত এক সপ্তাহ ধরেই তিনি এখানে একের পর এক রাজনৈতিক সভায় অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার উইসকনসিনে ভোটের দিন, তিনি এই ম্যানহাটনে রাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুওমোর সঙ্গে ঘণ্টা প্রতি ১৫ ডলার বেতনের সমর্থনে এক সভায় অংশ নেন। সেখানে স্যান্ডার্স বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বিভক্ত করতে চান, অন্যজন বাস্তবসম্মত নয়, এমন সব কাগুজে পরিকল্পনার কথা বলছেন। বুধবার স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে হিলারি বলেন, নিজেকে ডেমোক্রেটিক দাবি করলেও তিনি আদৌ ডেমোক্রেটিক দলের কেউ নন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কখনো ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য অর্থ সংগ্রহে সাহায্য করেননি। দিন দু-এক আগে ডেইলি নিউজ পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্স বৃহৎ ব্যাংক সমূহ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করার এক পরিকল্পনা গুছিয়ে বলতে ব্যর্থ হন। সে কথা উল্লেখ করে ক্লিনটন বলেন, স্যান্ডার্স এখনো ঠিক ‘হোম ওয়ার্ক’ করে ওঠেননি। ভোটারদের খুশি করার জন্য যা খুশি বলছেন, কিন্তু সে সব কথা কি তিনি রাখতে পারবেন? ​হিলারি ক্লিনটন তাঁকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ‘অযোগ্য’ বলেছেন, এই অভিযোগ তুলে স্যান্ডার্স ফিলাডেলফিয়ায় এক ভাষণে বলেন, হিলারি সম্ভবত ভীত হয়ে অসংলগ্ন কথা বলা শুরু করেছেন। ‘আমার তো মনে তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।’ হিলারির সঙ্গে ওয়ালস্ট্রিটের গভীর সখ্যের কথা উল্লেখ করে স্যান্ডার্স বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার চাঁদা তোলার পর তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য, সে কথা আর বলা যায় না। হিলারি ইতিপূর্বে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে স্যান্ডার্সের অবস্থান ধোঁয়াটে, সে কথা উল্লেখ করে আবারও কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিচার গোলাগুলিতে নিহত শিশুদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন। সে কথা উল্লেখ করে স্যান্ডার্স বলেন, হিলারির উচিত হবে ইরাকে নিহত হাজার হাজার মানুষের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া। উল্লেখ্য, ইরাকে মার্কিন অভিযানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন হিলারি, স্যান্ডার্স ওই অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন। সর্বশেষ জনমত গণনা অনুযায়ী হিলারি স্যান্ডার্সের তুলনায় ৮ থেকে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এই রাজ্যের অধিকাংশ ‘সুপার ডেলিগেট’ বা দলীয় কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। স্যান্ডার্স ‘ডেমোক্রেটিক’ নন, ক্লিনটনের এই সমালোচনার লক্ষ্য যে দলের ‘সুপার ডেলিগেটরা’ তাতে সন্দেহ নেই। তবে সুপার ডেলিগেটদের সমর্থনে বিস্তর এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থনে হিলারি পিছিয়ে রয়েছেন স্যান্ডার্সের চেয়ে। তাঁর প্রতি ‘অবিশ্বাস’ এখনো প্রবল এবং এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে তিনি ক্রুজ ও কেইসিকের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাস্ত হবেন। একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই তিনি সহজে পরাস্ত করতে সক্ষম। অন্যদিকে স্যান্ডার্স তরুণদের মধ্যে তাঁর সমর্থনের জোরে সব রিপাবলিকান প্রার্থীকেই বড় অঙ্কের ব্যবধানে পরাস্ত করতে সক্ষম।

কেরালায় মন্দিরে আগুন: নিহত ১০০ ছাড়িয়েছে

ভারতের কেরালার মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনার
পর সেখানে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখা যাচ্ছে
ভারতের কেরালা রাজ্যের কোললাম জেলার পারাভুরের পুত্তিঙ্গল মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে তিন শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছে কংগ্রেস।
মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলছে

এ ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, গতকাল ওই মন্দিরে একটি উৎসবকে ঘিরে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়। রাতভর সেখানে আতশবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে মন্দির চত্বরে জড়ো করে রাখা আতশবাজির স্তূপে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লোকজন ছুটোছুটি করতে থাকে। এতে অনেকে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। অনেকে মারা যায় পদপিষ্ট হয়ে। বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ভবন ধসে পড়েছে। সেখানেও অনেকে মারা গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। এ ঘটনায় ১০২ জন নিহত ও ৩৫০ জন আহত হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১০৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে
উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা। মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় এখনো যারা আটকে আছে, তাদের উদ্ধারে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। হতাহতের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি কেরালায় যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দলও থাকছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেরালা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে মন্ত্রিপরিষদসচিবকে নির্দেশনা দিয়েছেন মোদি। আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ ও সমবেদনা জানিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চণ্ডী। তিনি দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। কেরালা প্রশাসনের ভাষ্য, প্রতিযোগিতামূলক ওই আতশবাজির জন্য তারা অনুমতি দেননি।

কেরালায় মন্দিরে আগুনে নিহত ৭৫

ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মন্দিরে ভয়াবহ আগুনে ৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, রাজ্যের কোল্লাম এলাকায় অবস্থিত পুত্তিঙ্গল মন্দিরে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরে একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রচুর লোকসমাগম হয়েছিল। সেখানে আতশবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। আতশবাজির স্তূপে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা। মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় এখনো যারা আটকে আছে, তাদের উদ্ধারে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে।

টালিউড অভিনেতা সোহমের ভাগ্যে কী?

সোহম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার দ্বিতীয় পর্বের ভোট আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে। এই পর্বে ভোট নেওয়া হবে তিনটি জেলার ৩১টি আসনে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৩টি, বাঁকুড়ার নয়টি ও বর্ধমান জেলার নয়টি আসন। আজকের নির্বাচনে টালিউড অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সোহম লড়ছেন তৃণমূলের টিকিটে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্টের সুজিত চক্রবর্তী। গত বছরের নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী সুস্মিতা বিশ্বাসকে। এবার সেই আসনের প্রার্থী সোহম। অভিনেতা হিসেবে তাঁর একটা বাড়তি সুবিধা থাকলেও জয়ের জন্য তাঁকে তীব্র লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে প্রথম পর্বে ভোট নেওয়া হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার ১৮টি আসনে। এবারের প্রার্থী সংখ্যা ১৬৩। এর মধ্যে নারী ২১ জন। প্রার্থীদের ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সব আসনে তৃণমূলের প্রার্থী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাম দলের ২২, কংগ্রেসের ৮, ডিএসপির একজন ও স্বতন্ত্র রয়েছে ৪৬ জন। এবার ভোট দেবেন ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৯০০ জন। আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য থাকছে ৩৬ হাজার ৫১১ জন। রাজ্য পুলিশ থাকছে ১৭ হাজার ৫১৭ জন। ২০১১ সালের নির্বাচনে ৩১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ২৩টি আসন। বাম দল আটটি আসন। আর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ২৪টি, বিজেপি ছয়টি আর বাম দল একটি আসন। প্রথম পর্বের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গাফিলতি নিয়ে বিরোধীরা সরব হলে এবার দ্বিতীয় দফার ভোট আরও অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভোটে কোনো ভোটকেন্দ্রে পুলিশ প্রবেশ করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা ভোটকেন্দ্রে থাকবে। পুলিশ থাকবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে। তবে আজকে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও বাইরে তাদের দেখা যায়নি। সকালে আজ রসুলপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাত্রসায়রে বন্দুকধারীরা গুলি ছুড়েছে। জামুরিয়ায় বাম-কংগ্রেস জোটের অন্তত ১০ জন পোলিং এজেন্টকে শাসক দলের সমর্থকেরা মারধর করেছে। তবে অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু হয়েছে। আজকের ভোটে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় কেন্দ্র থেকে লড়বেন। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন প্রদ্যোৎ ঘোষ আর বিজেপির প্রার্থী কৃষ্ণপদ রায়। সূর্যকান্ত মিশ্র ২০১১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন। তবে লোকসভা নির্বাচনের ভোটের নিরিখে হেরেছিল এই আসনে সিপিএম। এবার এই আসনে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি। এই পর্বের ভোটে আরও ভাগ্য নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের সাবেক রাজ্য সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক মানস ভূঁইয়ারও। মানস ভূঁইয়া লড়ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের সব কেন্দ্র থেকে। গত নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন মানস ভূঁইয়া। এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন কংগ্রেস-বাম জোটের। আর মানস ভূঁইয়ার সঙ্গে লড়ছেন তৃণমূলের নির্মল ঘোষ। লড়াই এখানে তীব্র হলেও জয়ের সম্ভাবনা বেশি মানস ভূঁইয়ার। এ দিন আরও ভাগ্য নির্ধারিত হবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও। এই কেন্দ্রে জোট প্রার্থী রয়েছেন জ্ঞানসিং সোহন পাল। দীর্ঘদিনের এই বিধায়কের বয়স এখন ৯৩ বছর। আরও একজন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজকের নির্বাচনে। তিনি সাবেক মন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি লড়ছেন উত্তর আসানসোল কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস-বাম জোটের প্রার্থী ইন্দ্রানী মিশ্র। ইন্দ্রাণী কংগ্রেস দলীয় প্রার্থী। মলয় ভৌমিককে নিয়ে এলাকায় বিতর্ক, সমালোচনা থাকায় তিনি এবার অত সহজে পার পাবেন না। তীব্র লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে ইন্দ্রাণীর কাছে।

ব্রাসেলস নয়, প্যারিসেই ফের আঘাত হানার ছক ছিল?

ব্রাসেলস নয়, আবার প্যারিসেই হামলার ছক ছিল সন্ত্রাসীদের। কিন্তু প্যারিস হামলায় জড়িত বলে অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালাম ধরা পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। এরপর প্যারিসের বদলে পাশের দেশ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে হামলা চালানো হয়। ব্রাসেলস হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার মোহামেদ আবরিনির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে গতকাল রোববার বেলজিয়ামের সরকারি কৌঁসুলি এমনটাই জানিয়েছেন। কৌঁসুলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আবরিনি স্বীকার করেছেন সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া তিন সন্দেহভাজনের মধ্যে যাঁকে জ্যাকেট ও মাথায় হ্যাট পরা দেখা গেছে তিনিই সেই ব্যক্তি। সঙ্গে বোমা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সেটির বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে পালিয়ে যান। পাঁচ সপ্তাহ পালিয়ে থাকার পর শুক্রবার তিনি ধরা পড়েন। কৌঁসুলি জানিয়েছেন, ব্রাসেলসের জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার জন্য আবরিনিকে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে স্টেডিয়াম, থিয়েটার হল ও পানশালাসহ কয়েকটি জায়গায় বোমা ও বন্দুক হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। হামলাকারীদের বেশির ভাগই নিজেদের বিস্ফোরণ ঘটানো বোমা অথবা পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ওই হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালাম কয়েক মাস পরে ব্রাসেলস থেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মাথায়ই গত ২২ মার্চ জাভেনতেম বিমানবন্দর ও একটি পাতাল রেলস্টেশনে হামলা করা হয়। এতে ৩২ জন নিহত হয়। প্যারিস ও ব্রাসেলসের হামলার দায় স্বীকার করে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস)। গতকাল বেলজিয়ামের ফেডারেল কৌঁসুলি বিবৃতিতে বলেন, আবরিনির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, সন্ত্রাসমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং আরও হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। কৌঁসুলি বলেন, প্যারিস হামলার তদন্ত দ্রুত এগোতে দেখে তাড়াহুড়ো করেই আবরিনি ও তাঁর সঙ্গীরা ব্রাসেলসে হামলা চালান। আবরিনি ছাড়াও আরও তিনজনকে ব্রাসেলস হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ওসামা কে, হার্ভ বি এম ও বিলাল ই এম। বিবৃতিতে বলা হয়, আবরিনি বলেছেন, হামলার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গায়ের জ্যাকেটটি একটি আবর্জনার গর্তে ফেলে দেন এবং পরে তাঁর সেই হ্যাটটি বিক্রি করে দেন। পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল এলসিআই জানায়, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় তোলা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখের ছবি নয়টি দিক থেকে পুলিশ পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে সাতটি পয়েন্টেই ছবিটি আবরিনির চেহারার সঙ্গে মিলে গেছে।

ভারতে মন্দিরে আগুন, শতাধিক লোকের মৃত্যু

ভারতের কেরালার কোল্লাম এলাকার এই মন্দিরে শনিবার দিবাগত
গভীর রাতে আতশবাজির বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গতকাল
সকালে উদ্ধারকর্মীরা ছাড়াও বহু লোক সেখানে জড়ো হয়
দক্ষিণ ভারতের কেরালার একটি মন্দিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুণ্যার্থীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় ওই মন্দিরে একটি উৎসব উপলক্ষে বাজি পোড়ানোর সময় কাছের একটি ঘরে রাখা বিপুল পরিমাণ আতশবাজিতে আগুন লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, কেরালার কোল্লাম জেলার পরাভুর পুট্টিঙ্গল দেবীর মন্দিরে এ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয় অন্তত সাড়ে ৩০০ জন। কেরালার বিধানসভা তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি ১০ লাখ এবং আহত ব্যক্তিদের পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ২ লাখ এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উৎসব উপলক্ষে বাজি পোড়ানো দেখতে হাজার পনেরো মানুষ মন্দির এলাকায় জড়ো হয়েছিল। রাত একটু গভীর হলে শুরু হয়েছিল বাজি পোড়ানো। হঠাৎই তারা বিকট আওয়াজ শুনতে পায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিকট বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। নৌ ও বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারে নামে। সকালে মন্দির চত্বরে আগুনে পুড়ে হতাহত মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। কোল্লাম জেলা প্রশাসন বলেছে, বাজি পোড়ানোর সরকারি কোনো অনুমোদন ছিল না। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এ শাইনোমাল বলেন, ‘মন্দির কর্তৃপক্ষ আতশবাজির প্রতিযোগিতা করতে চেয়ে আমার কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু আমি সরাসরি তাদের এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করি।’ কোল্লাম জেলার সাংসদ প্রেমচন্দ্রন বলেন, মজুত থাকা ৭৫ শতাংশ আতশবাজিতে আগুন লেগে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের শরীর পুড়ে গেছে। কেরালার থিরুভানাথাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ডি মোহনদাস বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত লোকজনের বেশির ভাগেরই শরীরের ৫০ ভাগের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। এদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। জনবহুল দেশ ভারতে মাঝেমধ্যেই মন্দিরে পদদলিত হওয়া বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকাই এর মূল কারণ।

কথিত বাংলাদেশিরাই প্রধান ইস্যু! by তরুণ চক্রবর্তী

নির্বাচন কর্মকর্তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ‘তথাকথিত বাংলাদেশি’ই প্রধান ইস্যু। আজ সোমবার ভোটপর্ব মেটার আগে নির্বাচনী পক্ষগুলোর অনেকের ইশতেহার আর সভা-সমাবেশের ভাষণ লক্ষ করলেই এটা স্পষ্ট হয়। টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে হারাতে বিজেপি আসাম থেকে হঠাতে ‘বাংলাদেশি বহিষ্কার’ই প্রধান ইস্যু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ বিধানসভার দ্বিতীয় পর্বে রাজ্যের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৬১টিতে ভোট। ভোট হবে রাজধানী গুয়াহাটিসহ নিমনী (দক্ষিণ) আসামের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের অভিযোগ, ‘বেআইনিভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই আসামের উন্নয়নের প্রধান শত্রু। সেই সঙ্গে এ সমস্যা দেশের সুরক্ষাকেও প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।’ অন্যদিকে, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের দাবি, ‘আসামে একজনও বাংলাদেশি নেই। বিজেপি বাংলাদেশির নামে মুসলিমদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’ আসামের ৩৬ শতাংশ ভোটার মুসলিম। আজ দ্বিতীয় দফায় যেসব জায়গায় ভোট হচ্ছে তার বেশির ভাগেই মুসলিমদের আধিপত্য বেশি। ‘বিদেশি’ বিতাড়নের নামে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মুসলিমদের ভয় দেখানোর চেষ্টায় কোনো ত্রুটি নেই বিজেপির। দলটির শীর্ষ নেতা হীমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই হুমকি দিয়েছিলেন, ’৭১ নয়, ’৫১ সালের পর যাঁরা বাংলাদেশ থেকে আসামে এসেছেন তাঁদেরও তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ আর ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে গত শনিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সাংবাদিকদের বলে গেলেন, ‘বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশি বিতাড়নের রোড ম্যাপ করা হবে।’ কংগ্রেস অবশ্য প্রথম থেকেই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অভয় দানে কার্পণ্য করেনি। ভোটযুদ্ধে নেমে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বারবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, ‘আসামে একজনও বাংলাদেশি নেই। সব মিছা কথা আর অপপ্রচার।’ তাঁর মতে, সংঘাতের কথা বলে বিজেপি রাজ্যে উন্নয়নের পথই বন্ধ করে দিতে চাইছে। কংগ্রেসের মতোই মুসলিমদের দল এআইইউডিএফ বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই। শুধু কথিত বাংলাদেশি ইস্যুই নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তিও আসাম ভোটের বড় ইস্যু। বিজেপি বিভিন্ন জনসভায় দাবি করেছে, সীমান্ত চিহ্নিতকরণের দীর্ঘদিনের সমস্যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাত্র দুই বছরেই সমাধান করেছেন। কিন্তু বিজেপির জোট সঙ্গী অসম গণপরিষদ (অগপ) এই সীমান্ত চুক্তির ঘোরতর বিরোধী ছিল। তাই কংগ্রেস তাঁদের প্রচারে বলছে, সীমান্ত চুক্তির বিরোধীরা এখন কেন চুপ! ইতিমধ্যেই বুথে বুথে পৌঁছে গেছেন ভোটকর্মীরা। বেশির ভাগ বুথেই মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সঙ্গে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তে।

সাত বছরের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলেন ক্যামেরন

ডেভিড ক্যামেরন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাঁর গত সাত বছরের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেছেন। প্রয়াত বাবার কথিত কর ফাঁকির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর অব্যাহত সমালোচনার মুখে ক্যামেরন এই হিসাব জমা দিলেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে এই প্রথম একজন এভাবে আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলেন। পানামার আইনি পরামর্শক সংস্থা মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া আলোচিত নথি অনুযায়ী, ডেভিড ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরন অফশোর ট্রাস্ট ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস ইনকরপোরেটের মালিক ছিলেন। নথি বলছে, এর মাধ্যমে ইয়ান যুক্তরাজ্যে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে ৩০ বছর ধরে অর্থ জমা রেখেছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই তহবিলের লভ্যাংশ পেয়েছেন ডেভিড ক্যামেরন। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্যামেরনের আয়করের হিসাবে দেখা যায়, ২০০৯ সালে তিনি বাবার ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস থেকে নিকের অংশ বিক্রি করে দিয়ে ৯ হাজার ৫০১ পাউন্ড লাভ করেছিলেন। এদিকে বিবিসি জানায়, ক্যামেরনের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মা তাঁকে দুই লাখ পাউন্ড উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। সেই অর্থের উত্তরাধিকার করও দেননি ক্যামেরন।

জনসমক্ষে আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলেন ক্যামেরন

ডেভিড ক্যামেরন
যুক্তরাজ্যের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনসমক্ষে আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলেন ডেভিড ক্যামেরন। পানামা পেপারসের নথিতে তাঁর প্রয়াত বাবার কথিত কর ফাঁকির উল্লেখ থাকায় অব্যাহত সমালোচনার মুখে এই হিসাব প্রকাশ করলেন তিনি। এদিকে সদ্য প্রকাশ করা গত সাত বছরের আয়কর বিবরণী অনুযায়ী মায়ের কাছ থেকে ক্যামেরনের উপহার পাওয়া দুই লাখ পাউন্ডের জন্য উত্তরাধিকার কর দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ডেভিড ক্যামেরনের আয় ছিল ১১ লাখ পাউন্ড এবং এর বিপরীতে তিনি কর দিয়েছেন চার লাখ পাউন্ড। বিবরণী বলছে, ২০১০ সালে বাবা ইয়ান ক্যামেরনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি বাবার অর্থ থেকে তিন লাখ পাউন্ড পান। পরের বছর মা মেরি ক্যামেরনের কাছ থেকে তিনি উপহার হিসেবে পান দুই লাখ পাউন্ড। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, উপহার দেওয়ার পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে দানকারী মায়ের মৃত্যু হলে ক্যামেরনকে ওই অর্থের ৪০ শতাংশ কর দিতে হবে। মা–বাবার কাছ থেকে পাওয়া মোট পাঁচ লাখ পাউন্ডের বিষয়ে মন্ত্রীরা বলেছেন, এতে কোনো অনিয়ম ঘটেনি। তবে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতারা বলেছেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়ে গেছে। লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন বলেছেন, মায়ের কাছ থেকে ক্যামেরনের পাওয়া অর্থ কর আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা দেখার অবকাশ রয়ে গেছে। এসব প্রশ্নের জবাব ক্যামেরনকেই দিতে হবে। আরেক লেবার নেতা ছায়া অর্থমন্ত্রী জন ম্যাকডোনেল বলেছেন, ক্যামেরন মা–বাবার কাছ থেকে কার্যত পাঁচ লাখ পাউন্ড অর্জন করেছেন। কিন্তু এর কর হিসেবে তিনি এক পেনিও দেননি। যুক্তরাজ্যের কর আইন অনুযায়ী, স্বজনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ সোয়া তিন লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থসম্পদ পেলে তাঁকে এর ৪০ শতাংশ উত্তরাধিকার কর হিসেবে দিতে হয়।

আসামে চলছে শেষ দফার ভোট

আসামের একটি ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটাররা
উত্তর-পূর্ব ভারতে কংগ্রেস-শাসিত আসামে চলছে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট গ্রহণ। স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল সাতটা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোয় লম্বা লাইন চোখে পড়ে। রাজধানী গুয়াহাটির পাশাপাশি বোরো এলাকায় ভোট গ্রহণ চলছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ধুবড়ি জেলা থেকেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ইভিএম যন্ত্রবিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। ১২৬টি আসনের মধ্যে ৬১টিতে আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। স্থানীয় সময় বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট নেওয়া চলবে। ফল ঘোষণা আগামী ১৯ মে।

পুতিনের নির্দেশেই পানামা পেপারস ফাঁস?

পুতিনের নির্দেশেই পানামা পেপারস ফাঁস হয়েছে বলে
দাবি করেছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞ ক্লিফর্ড গ্যাডি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই ফাঁস হয়েছে বিশ্ব কাঁপানো পানামা পেপারস। এর নথিতে পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহচরদের নাম থাকায় ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু এটি পুতিনের চালাকি। কারণ, তাঁর নিজের অর্থ পাচারের কোনো প্রমাণ নেই। সুপরিচিত মার্কিন বিশেষজ্ঞ ক্লিফর্ড গ্যাডি এমনটাই দাবি করেছেন। নব্বইয়ের দশকে ক্লিফর্ড গ্যাডি রুশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। পুতিনকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বইও তিনি লিখেছেন। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে ক্লিফর্ড গ্যাডি দাবি করেছেন, সহচরদের তুলনায় নিজেকে সৎ প্রমাণ করতে পুতিন পানামা পেপারস ফাঁসে উৎসাহ দিতে পারেন। গ্যাডির আরও একটি যুক্ত রয়েছে। তা হলো রুশ সরকারের সমর্থন রয়েছে এমন একজন হ্যাকার প্রথম একটি জার্মান দৈনিকের কাছে নথিগুলি ফাঁস করে। পশ্চিমা মাধ্যমে জোর গুজব ছিল, পুতিন কম করে হলেও ২০ হাজার কোটি ডলারের মালিক। এই বিশাল সম্পদের বেশির ভাগই বিদেশি ব্যাংকে রয়েছে। অথচ পানামা পেপারসে পুতিনের নাম নেই। পশ্চিমা পণ্ডিতেরা এতে অবাক হন। তবে পুতিন বলছেন, রুশদের চরিত্রে কালিমা লেপনের উদ্দেশ্যে মার্কিনরা এসব নথি ফাঁস করেছে। মজার ব্যাপার হলো, নিজেদের অর্থ বিদেশি ব্যাংকে লুকানোর ব্যাপারে মার্কিনরা বিখ্যাত। এর প্রমাণ মেলে পানামা পেপারসেও। এসব নথিতে খুব বেশি মার্কিনের নাম নেই। এর ব্যাখ্যায় গ্যাডি বলেন, খুব সম্ভব পুতিন এগুলোকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন। অনেক মার্কিনের পাচারের তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এই তথ্য ব্যবহার করেই মার্কিনদের ব্ল্যাকমেল করা হবে।

প্রাইমারি নির্বাচনে জিতেই চলেছেন স্যান্ডার্স

বার্নি স্যান্ডার্স।
আয়তনের দিক থেকে ওয়োমিং যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য। তবে জনসংখ্যার দিক দিয়ে এর স্থান সর্বনিম্নে। মাত্র ৬৫ হাজার মানুষের এই রাজ্যে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির ককাসে আবারও জিতেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এ নিয়ে তিনি বাছাই পর্যায়ের গত নয়টি নির্বাচনের আটটিতে জয়ী হলেন। বিজয়ের এই ব্যবধান সামান্য হওয়ায় রাজ্যের ১৪ জন ডেলিগেট দুই ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স ও হিলারি ক্লিনটন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। মোট ডেলিগেটের হিসাবে হিলারি এখনো ২১৯ ভোটে এগিয়ে। আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের সমর্থনের জোরে তিনি জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে তাঁর সম্ভাব্য বিজয়ের সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। তবে শ্বেতকায় ও তরুণদের মধ্যে তাঁর সমর্থনের অভাব দলের নেতৃত্বে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। সুপার ডেলিগেটদের সিংহভাগ তাঁকেই সমর্থন করছে। এ কথা মাথায় রেখে স্যান্ডার্স দলীয় নেতৃত্বের কাছে বিজয়ের ঢেউ তাঁর দিকে নেওয়ার আবেদন করেছেন। তিনিই একমাত্র ডেমোক্রেটিক প্রার্থী, যিনি অনায়াসে যেকোনো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে পরাস্ত করতে সক্ষম। অতএব সুপার ডেলিগেটদের উচিত হবে তাঁকেই সমর্থন জানানো। হিলারি ক্লিনটন অবশ্য আশা করছেন, ১৯ এপ্রিল নিউইয়র্কের প্রাইমারি নির্বাচনে ভালোভাবে বিজয় অর্জন করে স্যান্ডার্সের বিজয়রথ থামিয়ে দেবেন। নগর-প্রধান পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যে এর পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও হিলারি চমৎকার কিছু আশা করছেন। স্যান্ডার্স অবশ্য বিনা যুদ্ধে নিউইয়র্ক বা পেনসিলভানিয়ার সূচ্যগ্র ছাড়তেও রাজি নন। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্সে এক অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার উল্লাসমুখর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এইমাত্র খবর পেলাম, আমরা ওয়োমিংয়ে ককাসে জিতেছি।’ তাঁর সে কথা শোনামাত্র সারা হলঘর উল্লাসে ফেটে পড়ে। স্যান্ডার্স তাঁদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, ওয়োমিংয়ে যত লোক আছে, তার চেয়ে বেশি লোক আছে এই হলঘরে।’ তিনি দর্শকদের ফের মনে করিয়ে দেন, এই শহরের ব্রুকলিনে তাঁর জন্ম, নিউইয়র্কে তিনিই জয়ী হবেন।

এবার চীনা নেতাদের গুমর ফাঁস

শি জিনপিং, লি জিয়াওলিন
ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা তাঁদের আত্মীয়দের অর্থ পাচারের কাহিনি অজানাই ছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় আট নেতার নিকটাত্মীয়রা মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে বিদেশে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে অর্থ পাচার করেছিলেন। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি প্রকাশ করা ওয়াশিংটন–ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিআইজে গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া ১ কোটি ১৫ লাখ নথি বিশ্লেষণ করে সেগুলো গত রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। বিশ্বের ক্ষমতাধর ও ধনী ব্যক্তিরা দেশে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে কীভাবে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন, এসব নথি তার জাজ্বল্য প্রমাণ তুলে ধরে। নথিতে উঠে আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তির আত্মীয়দের নাম। নাম এসেছে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও মেয়ের। দিন যত যাচ্ছে, নথির ভান্ড থেকে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন পাচারকারীর তথ্য। গতকাল এল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আট শীর্ষস্থানীয় নেতার আত্মীয়ের নাম। এর মধ্যে আছেন চীনের প্রেসিডেন্ট, কমিউনিস্ট পার্টি ও সেনাবাহিনীর প্রধান—‘সবকিছুরই চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিত শি জিনপিংয়ের এক নিকটাত্মীয়। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্ষদ পলিটব্যুরোর আরও সাত সদস্যের আত্মীয়ের নামও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এঁদের মধ্যে দুজন এখন পার্টির পলিটব্যুরোতে সঙ্গেই আছেন। কমিউনিস্ট চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুংয়ের এক নাতনি-জামাইও আছেন তালিকায়। আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী অনেকেরই ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনি ব্যবসায়ের জগতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটিতে ক্রোড়পতির সংখ্যা হাজার হাজার। কিন্তু এটির রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা তাঁদের আত্মীয়দের সম্পদ লুকানোর জন্য দেশের বাইরে অর্থ পাচারের কাহিনি অজানাই ছিল। মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে দেশের বাইরে ভুয়া প্রতিষ্ঠান বানিয়ে যাঁরা গচ্ছিত রেখেছেন লুকানো অর্থ, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দেং জিয়াগুই। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বড় বোনের স্বামী তিনি। ২০০৪ সালে একটি এবং ২০০৯ সালে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান বানাতে মোসাকের সহায়তা নেন দেং। এ তিন প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল সুপ্রিম ভিক্টরি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, বেস্ট ইফেক্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এবং ওয়েলথ মিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ কী ছিল, তা অস্পষ্ট। এ বিষয়ে জানতে আইসিআইজের বারবার অনুরোধের পরও কোনো সাড়া দেননি দেং। ফনসেকার সেবা নেওয়া শীর্ষ চীনা নাগরিকের তালিকায় আছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি পেংয়ের মেয়ে লি জিয়াওলিন। লি পেং ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। লির মেয়ে এবং তাঁর স্বামীর কর রেয়াতের মুক্তাঞ্চল বলে খ্যাত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে কফিক ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানির মালিক। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সন্তান বা নাতিপুতিদের কেউ কেউ বেশ অল্প বয়সেই বাইরে অর্থ পাচারের বিষয়ে সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছিলেন। চীনা পলিটব্যুরোতে চার নম্বর শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছিলেন জিয়া কুইংলিন। তাঁর নাতনি জেসমিন লি জিদান ফনসেকার মাধ্যমে ‘হারভেস্ট সান ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ২০১০ সালে। জেসমিন তখন স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। আর যেসব চীনা রথী-মহারথীর নাম উঠে এসেছে ফনসেকার তালিকায়, তাঁদের মধ্যে আছেন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর বর্তমান সদস্য জ্যাং গাওলিওর মেয়ের স্বামী লি শিং পুত। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে তাঁর তিনটি প্রতিষ্ঠান ছিল। আছেন আরেক পলিটব্যুরো সদস্য লিউ ইউয়ানসানের পুত্রবধূ জিয়া লিকুইং। আলট্রা টাইম ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি নামে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে ছিল তাঁর ভুয়া প্রতিষ্ঠান। ২০০২ থেকে ২০০৭ সালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেং কুইংহং। তাঁর ভাই জেং কুইংহুয়াইয় ছিলেন চায়না কালচালার এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। হু ইয়াওবাং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ছিলেন ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত। প্রয়াত হুয়ের ছেলে হু দেহুয়ার মোসাক ফনসেকার তালিকায় আছেন একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং মুনাফাভোগী হিসেবে। মাও সে-তুংয়ের যে নাতনি-জামাইয়ের নাম উঠেছে, এ তালিকায় তিনি চেং দংশেং। সেই ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে তাঁর ছিল কিন বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পুতিনের অস্বীকার: পানামা পেপারসে তাঁর ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধুর নাম আসার পর গতকাল মুখ খুললেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উড়িয়ে দেন পুতিন।

মুখ খুললেন পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কারণে নাম আসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। তবে ‘কোনো ধরনের দুর্নীতির’ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা রাশিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ কারণে এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে। খবর বিবিসি অনলাইনের। পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয় গত সোমবার। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। পুতিন ছাড়া বিভিন্ন দেশের বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধানদের নাম পাওয়া যায় এসব নথিতে। নথি ফাঁসের পর এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন পুতিন। একটি টেলিভিশনে সরাসরি বক্তৃতায় পুতিন অভিযোগ করেন, ‘পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা রাশিয়ার একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দেখে খুবই উদ্বিগ্ন। তাই তারা চেষ্টা করছে আমাদের আঘাত করে তাদের অনুগত করে রাখতে। তারা এটা করেছে, কারণ পানামা পেপারসে আমার নাম ছিল না। তারা আমার পরিচিত ও কয়েকজন বন্ধুকে খুঁজে বের করেছে। তারপর সেখান থেকে কিছু তথ্য বাদ দিয়ে কিছু তথ্য জড়ো করেছে।’ পানামা পেপারসের নথিতে পুতিনের দীর্ঘদিনের বন্ধু সের্গেই রোলদুগিন নাম রয়েছে। রোলদুগিন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওভারসিজ ও সনেট ওভারসিজ নামের দুটি অফশোর কোম্পানির মালিক। পানামা পেপারসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওভারসিজ ২০০৭ সালে ছয় মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু তিন মাস পর কোম্পানিটি উল্লেখ করে তারা মাত্র এক মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে রোলদুগিন এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। রোলদুগিনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের ব্যাপারে পুতিন তাঁর বক্তৃতায় কিছু না বললেও বন্ধুর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘রোলদুগিন তাঁর অর্জিত প্রায় সব অর্থ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন।’ মোসাক ফনসেকার নথিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিকটাত্মীয়দের নাম আসে। এ তালিকায় আরও আছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান আল সৌদি, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও এক মেয়ের নাম। রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি, ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পুত্রবধূ অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার রাইয়ের নামও আছে ওই নথিতে। মোসাক ফনসেকার ওই এক কোটি ১৫ লাখ নথি অজানা সূত্র থেকে জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং-এর হাতে আসে। পত্রিকাটি সেসব নথি ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫, প্রায় ৪০ বছরের এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে প্রকাশ করে। ওই কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন।

পানামা পেপারসে নাম আছে সাইফ-কারিনার

কারিনা কাপুর
পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে নাম আছে বলিউড তারকা সাইফ আলী খান, তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও কারিনার বোন অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের। নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সবাই অফশোর কোম্পানিতে অর্থ লগ্নি করেছিলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে জি নিউজের খবরে বলা হয়, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) পুনে ফ্রাঞ্চাইজি কেনার জন্য পি-ভিশন স্পোর্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেছিলেন ১০ জন। দল কেনার জন্য গড়া তহবিলের ১৫ শতাংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছিল অফশোর কোম্পানি অবডুরেট লিমিটেডের জন্য। কিন্তু আইপিএলের নিলামে হেরে দল কিনতে না পারায় শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। পি-ভিশন স্পোর্টস গড়তে সাইফ, কারিনা ও কারিশমার সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় শিল্পপতি ভেনুগোপাল ও পুনের চোরদিয়া পরিবারের নাম। নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সবাই অফশোর কোম্পানিতে অর্থ লগ্নি করেছিলেন।
সাইফ আলী খান
স্পোর্টস কনসোর্টিয়ামের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিল চোরদিয়া পরিবার। তাদের ছিল ৩৩ শতাংশ, কারিনা ও কারিশমা দুজনেরই ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করে। সাইফ আর মুম্বাইয়ের বাসিন্দা মানোজের ছিল ৯ শতাংশ করে, ২৫ শতাংশ ছিল ভেনুগোপালের। আর ১৫ শতাংশ তাঁদের কোম্পানি অবডুরেটের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এ ব্যাপারে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ভেনুগোপাল বলেছেন, তিনি শুধু পি-ভিশন স্পোর্টসের ২৫ শতাংশের ব্যাপারে জানেন, অবডুরেটের ব্যাপারে কিছু জানেন না। আর অতুল চোরদিয়া বলেছেন, তিনি ওই স্পোর্টস কোম্পানির মালিক ছিলেন, কোনো অফশোর কোম্পানির শেয়ার তাঁর ছিল না। এসব ব্যাপারে কারিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, কারিনা শহরে নেই। সাইফের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা মনোজেরও কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
কারিশমা কাপুর
গত সোমবার মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া এসব নথিতে বিশ্বের শতাধিক ক্ষমতাধর মানুষ বা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের বিদেশে টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তালিকায় দেখা গেছে যে চীন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বা তাঁদের আত্মীয়স্বজনও এসব অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। নাম পাওয়া গেছে ভারতের অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাইয়ের।

আসাম নির্বাচনে দৃষ্টির বাইরে ‘ডি–ফ্যাক্টর’ by তরুণ চক্রবর্তী

মিটিং-মিছিলে শামিল হলেও ভোটে ব্রাত্য
উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের বিধানসভা নির্বাচনে গৌণ হয়ে পড়েছে মানবিক ইস্যু ‘ডি-ফ্যাক্টর’। কংগ্রেস, বিজেপি তো বটেই, সংখ্যালঘুদের দল বলে পরিচিত সাদৌ আসাম সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা (এআইইউডিএফ) এ বিষয়ে নীরব। অথচ, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষই এই ‘ডি-ফ্যাক্টরের’ শিকার। ‘ডি’ মানে ডিটেনশন বা আটক। ডিটেনশন ক্যাম্প হলো ডি-ক্যাম্প। ডি-তে আবার ডাউটফুল (সন্দেহজনক) অথবা ‘ডিসপুটেডও’ হতে পারে। রাজ্যের ভোটার তালিকায় নামের পাশে ‘ডি’ মানেই কপালে অশেষ দুর্ভোগ। বিদেশি বা তথাকথিত বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষ আটক ডিটেনশন ক্যাম্পে। নামে ডিটেনশন ক্যাম্প বা আটককেন্দ্র হলে কী হবে, আসলে এটা এক ধরনের জেলখানা। আসামের কোকরাঝাড়, শিলচর, ডিব্রুগড় ও গোয়ালপাড়ায় রয়েছে ডি-ক্যাম্প। শতাধিক মানুষ এই ক্যাম্পে বন্দী, রয়েছে শিশুও। বেশির ভাগই গরিব। বিদেশি সন্দেহে আটক লোকজনের মধ্যে হিন্দুর সংখ্যাই বেশি। গত লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে গুঁড়িয়ে দেবেন ডি-ক্যাম্প। এখন তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্ষমতায়। কিন্তু ডি-ক্যাম্পে বন্দীর সংখ্যা বাড়ছেই। তবে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এগোয়নি। ওই বন্দীরা কেউই ভোটার নন তো!। গুয়াহাটির সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী জানালেন, ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির স্থানীয় নেত্রী তথা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয়া চক্রবর্তী কোকরাঝাড় ক্যাম্পে এক শিশুর মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, বিজেপি জিতলেই মা-বাবার সঙ্গে ও মুক্ত আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াতে পারবে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বহু পানি বয়ে গেলেও পরিবারটি সেই ডি-ক্যাম্পেই রয়ে গেছে। বিজয়া চক্রবর্তীর ওপরই সন্দেহ প্রকাশ করে প্রশাসন। বিজয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য পুলিশ বিষয়টি পরে সহজেই নিষ্পত্তি করে। কিন্তু গরিব সাধারণ মানুষ একবার সন্দেহের কবলে পড়লে সহজে নিস্তার নেই। এ ছাড়া আছে ডি-ভোটার। ১৯৯৮ সালে চালু হয় ভোটার তালিকায় ‘ডি’ চিহ্নিত করার কাজ। অভিযোগ আছে, কাউকে সন্দেহ হলেই তাঁর নামের পাশে লাগিয়ে দেওয়া হয় ‘ডি’ ছাপ। নিছক সন্দেহের বসেই সঙ্গে সঙ্গে খারিজ হয় তাঁর ভোটাধিকার। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে প্রমাণ করতে হয় নিজের নাগরিকত্ব। জাল ভোটার বাদ দিতে নির্বাচন কমিশন এই ফর্মুলা বের করে। এর প্রতিবাদে আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী মামলা করেন গুয়াহাটির উচ্চ আদালতে। আদালত নির্দেশ দেন, অভিযোগের ছয় মাসের মধ্যেই তা নিষ্পত্তি করতে হবে। সত্যি না হলে ট্রাইব্যুনালকে ‘ডি’ হটাতে হবে। প্রথম আলোকে হাফিজ রশিদ বলেন, মোটেই মানা হচ্ছে না হাইকোর্টের রায়। গোটা রাজ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশ ডি-ভোটার রয়েছেন। কিছুদিন আগেও এর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। ১০০টি ট্রাইব্যুনাল করায় সংখ্যাটা কিছুটা কমেছে। হাফিজ রশিদের সাফ কথা, ‘ওঁদের যেহেতু ভোটাধিকার নেই, তাই এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছেন না।’ তাঁর মতে, মুসলিমদের ভোটদানে বিরত রাখতেই এই ‘ডি’ কারসাজি বিজেপির। বিদেশি শনাক্তকরণ প্রসঙ্গে রশিদ জানান, এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল প্রায় ৮৫ হাজার মামলার নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার। ভোটের প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হাজারো বিষয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেও ডি-ফ্যাক্টর বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। জানতে চাইলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখছি। বিজেপি আর এজিপি (অসম গণপরিষদ) মিলে বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে।’ বিজেপির নেতা হীমন্ত বিশ্বশর্মার পাল্টা দাবি, ‘নরেন্দ্র মোদিই তো বলেছেন ডি-ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেবেন। একটু সময় দিন।’ আর এআইইউডিএফের কার্যকরী সভাপতি আদিত্য লাংথাসা সহানুভূতি জানালেন ‘ডি’র শিকার লোকজনের প্রতি।

অফশোর ট্রাস্ট রক্ষার চেষ্টা করেন ক্যামেরন

ডেভিড ক্যামেরন
কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমন্বিত পদক্ষেপ থেকে অফশোর ট্রাস্ট রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ওই চেষ্টার অংশ হিসেবে সে বছর ক্যামেরন ইউরোপীয় কাউন্সিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হারম্যান ভ্যান রমপুয়েকে লেখা এক চিঠিতে বলেছিলেন, অফশোর ট্রাস্টগুলোকে সব সময় কোম্পানির স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের আওতায় আনা উচিত নয়। অফশোর ট্রাস্টের প্রকৃত মালিকদের সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকাশের মাধ্যমে ওই সব ট্রাস্টের লেনদেন প্রকাশ্যে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল ইইউ। এর পরপরই ওই চিঠি লেখেন ক্যামেরন। লন্ডনের প্রভাবশালী ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠিটি ফাঁস করে। চিঠিতে ক্যামেরন আরও লিখেছিলেন, ‘কোম্পানি ও ট্রাস্টের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, তাকে আমাদের স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য অপব্যবহার রুখতে নেওয়া পদক্ষেপ সাধারণভাবে সবার জন্য যথাযথ না-ও হতে পারে।’ ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসের নথি অনুযায়ী ডেভিড ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরন অফশোর ট্রাস্ট ‘ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস ইনকরপোরেট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে অর্থ জমা রেখেছিলেন। ট্রাস্টটির সঙ্গে নিজ পরিবারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। ২০১৩ সালে জি-৮ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিকে নিজ দেশের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। অথচ ওই বছরই তিনি ইইউর পদক্ষেপ থেকে অফশোর ট্রাস্টগুলোকে রক্ষায় উদ্যোগ নেন। নিজ দেশের করসংক্রান্ত আইনকানুন থেকে রেহাই পেতে শিথিল আইনের বিশেষ কিছু অঞ্চলে অর্থ সঞ্চয় করে রাখার অন্যতম পন্থা হলো এসব অফশোর ট্রাস্ট।

যেভাবে অর্থ পাচারের কেন্দ্রে পরিণত পানামা

পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার বিপুল পরিমাণ নথি ফাঁস হওয়ার পর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশটি। বিশ্বের অন্যান্য কর রেয়াতকারী অঞ্চল থেকে পানামার ভিন্নতা ঠিক কোথায় আর কীভাবেই বা পানামা এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হলো, পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:
শুরু যেভাবে নরওয়ের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ট্যাক্সেশনের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। ওই গবেষণা অনুযায়ী, কর রেয়াতের সুবিধাজনক স্থান হিসেবে পানামার যাত্রা শুরু সেই ১৯১৯ সাল থেকে। এ সময় পানামা খাল দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের জাহাজগুলোকে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর ও ও অন্যান্য আইন ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার রীতি চালু হয়। এভাবে জাহাজের জন্য মাশুল ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর তাদের কর্মকাণ্ড আরও বাড়াতে উদ্যোগী হয় পানামা। সেন্টার ফর ট্যাক্সেশনের ওই গবেষণায় বলা হয়, ‘মার্কিন পুঁজিবাজার ওয়াল স্ট্রিটের আগ্রহেই পানামা শিথিল কর আইন তৈরি করে। এর ফলে দেশটিতে অজ্ঞাত-অখ্যাত প্রতিষ্ঠান তৈরি করে কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ গচ্ছিত রাখার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ১৯৭০ এর দশকে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়ে গেলে পানামার এই ব্যবসা রমরমা হয়ে ওঠে। এরপর কী হলো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে দেশের বাইরে লোকের অর্থ নিরাপদে রাখায় অগ্রগামী পানামা এবারে কঠোর গোপনীয়তা আইন তৈরি করল। এ আইন ভাঙলে কঠোর দেওয়ানি বা ফৌজদারি অপরাধের বিধান করা হলো। পানামার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এসব অফশোর ব্যাংকের হিসাব বা হিসাবের নাম না দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
জার্মানির দুই আলোচিত সাংবাদিক ফ্রেডেরিক ওবারমায়ার(বাঁয়ে)
ও বাস্টিয়ান ওবারমায়ার। তাঁরাই ‘পানামা পেপারস’ নামে
নথিগুলো গ্রন্থনা করেছেন। মিউনিখ শহরে জিতডয়েচে সাইটুং
পত্রিকার কার্যালয় থেকে গতকাল তোলা ছবি
পানামা তথাকথিত প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে বিদেশিদের অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ কেন্দ্র হয়ে ওঠার পেছনে বড় কারণ, দেশটির সঙ্গে কোনো দেশের কর চুক্তি নেই। এর ফল কী হলো খ্যাতনামা মার্কিন সাংবাদিক কেন সিলভারস্টাইন ২০১৪ সালে এক নিবন্ধে বলেন, ‘পানামার এমন শিথিল আইনের ফলে বিশ্বের স্বৈরাচারী শাসকেরা তাঁদের লুটের অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ জায়গা খুঁজে পান। এসব শাসকের মধ্যে ছিলেন ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস, হাইতির ফ্রাঁসোয়া দুভালিয়র বা আগুস্তো পিনোশে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে জেনারেল নরিয়েগাকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় বসা গুয়েলারমো এন্দারা দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হলেও অর্থ পাচার, কর ফাঁকি রুখতে আইনের কোনো জুতসই পরিবর্তনই করেনি দেশটি।

নয় মাসে প্রথম জনসমক্ষে ফিদেল কাস্ত্রো

ফিদেল কাস্ত্রোকে গত নয় মাসের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম
জনসমক্ষে দেখা যায়। ছবিটি কিউবার রাষ্ট্রীয় টিভি থেকে নেওয়া।
কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে গত নয় মাসের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম জনসমক্ষে দেখা গেছে। আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৮৯ বছর বয়সী ফিদেল কাস্ত্রোকে রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেখা যায়। তিনি স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ফিদেল কাস্ত্রো শিশুদের প্রয়াত বিপ্লবী নেতা ভিলমা এসপিন সম্পর্কে বলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক কিউবা সফরের সমালোচনা করেছেন কাস্ত্রো। শেষবার নয় মাস আগে কাস্ত্রো জনসমক্ষে এসেছিলেন। কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া ফিদেল কাস্ত্রো স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৬ সালে তাঁর ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আগামী ১৬ এপ্রিল সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এর প্রাক্কালে জনসমক্ষে এলেন ফিদেল কাস্ত্রো। ওই সম্মেলনে কিউবার আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করা হতে পারে।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ডিআইজি চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ

সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, ময়নামতি সেনানিবাসের সে স্থান গতকাল রোববার পরিদর্শন করেছেন সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুব মোহসিন। এ ছাড়া তনুর মরদেহ ময়নাতদন্তকারী এক চিকিৎসকসহ দুজনকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিআইডি সূত্র জানায়, ডিআইজি মাহবুব মোহসিনের নেতৃত্বে দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় যায়। এরপর তাঁরা ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ, তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, দুই ভাই নাজমুল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন, চাচাতো বোন লাইজু জাহানসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আলাউদ্দিন আল আজাদ, সিআইডির বিশেষ সুপার ও তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান আবদুল কাহার আকন্দ, সিআইডির বিশেষ সুপার নাজমুল করিম খান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। বিকেল সোয়া তিনটায় প্রতিনিধিদলটি কুমিল্লা সিআইডি দপ্তরে ফেরে। তখন জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমকর্মীরা ডিআইজির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাজমুল করিম খান বলেন, ‘আমরা এ ঘটনাকে সারা দেশের ঘটনা মনে করি। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ডিআইজি স্যার আসা মানে এ মামলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের জট খোলার চেষ্টা করছি। এ ঘটনার কিনারা করতে চাই।’ এদিকে বিকেল সাড়ে চারটায় সিআইডি কার্যালয়ে যান তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন ডিআইজি। কামদা প্রসাদ সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ময়নাতদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যেসব বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তাঁরা জানতে চেয়েছেন। আমরা সব খুলে বলেছি।’ গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে জঙ্গলে পাওয়া যায়। তাঁর বাবা কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ গত ২২ দিনে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত মন্দিরের মেঝেতে পাঠদান

নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুরের এল কে বালক-বালিকা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশের মন্দিরে
শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে খানপুরের সিদ্ধি
গোপাল জিউর আখড়া মন্দির থেকে তোলা ছবি
নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকার এল কে বালক/বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাশের শ্রীশ্রী সিদ্ধি গোপাল আখড়া মন্দিরের মেঝেতে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে মন্দিরের পূজা অর্চনার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ এপ্রিল নেপালে ভূমিকম্পের সময় প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশে সংঘটিত ভূ-কম্পনে স্কুলটির দোতলা ভবনে ফাটল ধরে। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিচালনা কমিটি স্কুলের সীমানা দেয়াল-সংলগ্ন মন্দিরটিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মন্দিরের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষিকা সন্ধ্যা রানী ও কাজী শিরিন সুলতানা। সন্ধ্যা রানী জানান, স্কুলটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। মন্দিরটির ছাদ খোলা হওয়ায় রাতের বেলা পাখির মলমূত্রে বসার পরিবেশ থাকে না। পরদিন শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে। বৃষ্টি হলে ক্লাস করার সুযোগই নেই। বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে সেটাই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম শ্রেণির ছাত্র সীমান্ত দাস ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবু হুরায়রা বলে, খোলা মেঝেতে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে হচ্ছে। স্কুল সূত্র জানায়, ১৯২৯ সালে স্কুলটি নির্মিত হয়। ১৯৯৩ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে দুটি পালায় স্কুলের বালক ও বালিকা শাখার কার্যক্রম চলছে। প্রথম পালায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বালিকা ও দ্বিতীয় পালায় দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত বালকদের ক্লাস চলে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫৮৪ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৯ জন। ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পর গত বছর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা বেগম স্কুলটি পরিদর্শনে আসেন। এর কয়েক দিন পরে উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেন। গত বছরের ৫ মে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ভবনটিতে পাঠদানে নিষেধ করে। মন্দিরের সেবায়েত সুমন চক্রবর্তী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য সাময়িকভাবে পাঠদান চালানোর জন্য মন্দিরে জায়গা দিয়েছিলাম। কিন্তু গত এক বছরেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় মন্দিরেই স্কুলের কার্যক্রম চলছে। এখন মন্দিরে পূজা অর্চনাসহ নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম চলে। এরপর বাণী-অর্চনা, কীর্তন ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করতে হয়। মন্দিরটি ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মাহফুজা বেগম বলেন, ৪৪/৪৫ খানপুর এল কে বালক/বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ওই সব ভবন পুনর্নির্মাণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। স্কুলটির বালিকা শাখার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসিমউদ্দিন বলেন, স্কুল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর পার্শ্ববর্তী বরফ কল মাঠ-সংলগ্ন শাপলা ক্লাবে ক্লাস নেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। তবে সেখানে টয়লেট ও বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। তবে সেখানে টিনশেড ঘর তৈরির মাধ্যমে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই দশক পেরিয়ে অ্যাডর্ন

জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে ‘চৈত্রে বই উৎসব’-এ
গতকাল বিকেলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের দুই দশক পূর্তিতে
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সংগীত পরিবেশনা
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার বিকেলে রাজপথে ছিল তীব্র যানজট। তার ওপর চৈত্রের গরম। এ পরিস্থিতিতে স্বস্তি মিলল জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে ঢুকে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গোলাকৃতির সুপরিসর ঘরটির চারপাশে টেবিলে সাজানো বই আর বই। মাঝে টেবিলে বিচিত্র বইয়ের প্রদর্শনী। ঋতুভিত্তিক আয়োজন। শিরোনাম ‘চৈত্রে বই উৎসব’। ‘চৈত্রে বই উৎসব’ আয়োজন করেছে দেশের স্বনামধন্য ১০ প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। উৎসবে ৩০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ছাড়ে বই কিনতে পারছেন পাঠকেরা। কিন্তু শুধু বই কেনা-বেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজনটি; বরং প্রতিদিনই বই নিয়ে আলোচনাসহ বিচিত্র আয়োজন করে সত্যিকারের উৎসবের চরিত্র পেয়েছে এটি। গতকালের আয়োজনটি ছিল জমজমাট। উৎসবের অন্যতম আয়োজক অ্যাডর্ন পাবলিকেশনস প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার করেছে। এ প্রতিষ্ঠানের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন শুরু হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। বাউল গান, কবিতা ও আড্ডায় দারুণ জমে উঠেছিল। অনুষ্ঠানে ভাবনগর সাধুসঙ্গের শিল্পী অন্তর সরকার, সরদার হীরক রাজা এবং রবিউল হক চর্যাপদ থেকে গান শোনান। লালনের গান শোনান আল আমিন। কবিতা পড়েন মোরশেদ শফিউল হাসান, মারুফ রায়হান, সাইমন জাকারিয়া, শহীদুল্লাহ ফরায়েজি, আহসান সাইদ প্রমুখ। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাডর্নকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন আতা সরকার, হাসান হাফিজসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানস্থলে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা প্রধান নির্বাহী সৈয়দ জাকির হোসেইনের সঙ্গে। আলাপচারিতায় জানালেন, চট্টগ্রামে ১৯৯৬-এর মার্চ মাসে স্বাধীনতা দিবসে বিশিষ্ট কবি ও গবেষক অধ্যাপক ময়ূখ চৌধুরীর গবেষণাগ্রন্থ উনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি বইটি প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই অ্যাডর্ন পাবলিকেশনসের যাত্রা শুরু। ওই সময়ের স্মৃতি হাতড়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোক্তা সৈয়দ জাকির হোসেইন বলেন, ‘১৯৯৪ সালের দিকে কবি ময়ূখ চৌধুরী এই পাণ্ডুলিপি অ্যাডর্ন থেকে প্রকাশ করাতে আগ্রহী না হলে হয়তো প্রকাশক হওয়ার ইচ্ছাই জাগত না আমার। কারণ সম্পাদনা, মুদ্রণ, ডিজাইন ও গ্রন্থের প্রতি আগ্রহ থাকলেও “গ্রন্থ প্রকাশ” বিষয়টি আমার কাছে বিশেষ একাডেমিক ও শুদ্ধতা চর্চার চ্যালেঞ্জই মনে হতো। প্রকাশনা সংস্থাকে আমি সৃজনশীলতা ও মননশীলতার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ই মনে করতাম এবং এখনো করি।’ বিগত দুই দশকে অ্যাডর্ন তার নিজ প্রকাশনার আলাদা পাঠক সৃষ্টি করতে পেরেছে লেখক বিবেচনার চেয়ে বিষয় নির্বাচনে গুরুত্বের কারণে। বাংলা ভাষা স্মারক-মহান একুশে সুবর্ণজয়ন্তী গ্রন্থ আনোয়ারা দীল ও আফিয়া দীল-এর Bengali Language Movement and Creation of Bangladeshসহ আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ও নির্বাচিত সাহিত্যকীর্তি গ্রন্থমালা-এর ২৪টি বই, বাংলা বাউল সিরিজ, লালন, রাধারমণ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম, জালাল উদদীন খাঁ ইংরেজিতে বের করা, আত্মজীবনী, বাংলাদেশ স্টাডিজ সিরিজ, বাংলা ভাষার কথাসাহিত্য ও কবিতা ইংরেজিতে প্রকাশ করে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাওয়ার কাজটি করেছে অ্যাডর্ন। আট শিল্পীর আঁকা ছবি দিয়ে আটজন ছড়াকারের মজার পড়া ১০০ ছড়া। ছোটদের জন্য এবিসি সিরিজে বিশেষায়িত বই প্রকাশ করার কাজটিও করেছে অ্যাডর্ন। চৈত্রের বই উৎসবের নিজেদের স্টলের কথা বলতে বলতে একটি ক্যাটালগ এগিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির আরেকজন উদ্যোক্তা জোহরা বেগম। তিনি বলেন, অ্যাডর্ন চায় জ্ঞান ও আনন্দের যুগলবন্দিতে পাঠকের মুহূর্তগুলোকে অসাধারণভাবে সুসজ্জিত করতে। আগামীর পরিকল্পনা হিসেবে তিনি জানান, অ্যাডর্ন পাঠকের চাহিদার আলোকে কিছু বই পুনর্মুদ্রণে হাত দেবে। বই কম করবে কিন্তু নির্বাচিত বিষয়ভিত্তিক বই আরও করবে। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া ‘চৈত্রে বই উৎসব’ আগামীকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঠকদের আগ্রহের কারণে এর সময় বেড়েছে দুই দিন। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে উৎসবটি চলবে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টায় বইমেলাসহ থাকছে বইকেন্দ্রিক নানা আয়োজন। উৎসবে অংশ নিচ্ছে প্রথমা প্রকাশন, অনন্যা, অনুপম, অ্যাডর্ন, কাকলী, স্টার বুকস, অবসর-প্রতীক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বেঙ্গল পাবলিকেশনস ও সময় প্রকাশন।