Sunday, March 19, 2017

‘মাথা ঠান্ডা’ রাখতে হবে

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মাথা ঠান্ডা রাখার’ পরামর্শ দিয়েছে চীন। বেইজিং সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে গতকাল শনিবার এ পরামর্শ দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা ‘বিপজ্জনক স্তরে’ পৌঁছে গেছে। এ সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, পরিস্থিতি ‘চূড়ান্ত’ পর্যায়ে পৌঁছালেও এর সূত্র ধরে সংঘাত সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। এ সময় দুই নেতা উত্তর কোরিয়ার কারণে সৃষ্ট হুমকি নিরূপণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, চীন তার ‘দুর্বৃত্ত’ প্রতিবেশীকে নিয়ন্ত্রণে কিছুই করছে না। বেইজিং তখন পাল্টা অভিযোগ করে বলেছিল, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে সংঘাতে উসকানি দিচ্ছে। এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর সামনে রেখেই হয়তো দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক এমন হৃদ্যতাপূর্ণ হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা যে চরমে উঠেছে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সরকারকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনতে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করতে চেষ্টা করার ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন। ওয়াং ই বলেন, চীন আশা করছে,
যুক্তরাষ্ট্রসহ সব কটি পক্ষ ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং একটা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। তবে দুই নেতার কেউই আগামী দিনে কোনো সুনির্দিষ্ট জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এমনকি বেইজিংয়ের প্রস্তাব মেনে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারেও কোনো কথা বলেননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওয়াশিংটন এর আগে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করে বলেন, উত্তর কোরিয়া খুব খারাপ আচরণ করছে। তারা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খেলছে’। কিন্তু চীন এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা করেনি বললেই চলে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি দক্ষিণ কোরিয়া বা মার্কিন বাহিনীকে ক্রমাগত হুমকি দিতেই থাকে, তাহলে সেনা অভিযানের বিষয়টি ভাবতে বাধ্য হবে তাঁর দেশ। উত্তর কোরিয়া বেশ কিছুদিন ধরে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। ৬ মার্চও তারা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। জাপান তখন দাবি করে, এর মধ্যে কয়েকটি দেশ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলের মাত্র ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করে, উৎক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হয়তো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)।

প্যারিসে বিমানবন্দরে ‘হামলার চেষ্টা’

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ওর্লি বিমানবন্দরে গতকাল শনিবার এক ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানে এক সেনাসদস্যের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই ব্যক্তি প্যারিসের অন্য এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছিলেন বলে পরে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অন্য কেউ হতাহত না হলেও একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার শিকার ফ্রান্সে নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে জনমনে আবার শঙ্কা ছড়িয়েছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জ্যঁ-ইভ লো দ্রিয়াঁ বলেছেন, হামলাকারী ব্যক্তি পাহারায় থাকা এক সেনার অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য দুই সেনা গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তির এ আচরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিনি চরমপন্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারির তালিকায় তাঁর নাম ছিল। আইন কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু করেছেন।
ঘটনার পরপরই ওর্লি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে বিমানবন্দরের ঘটনার পর পুলিশ নিশ্চিত করে, এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই ব্যক্তিই প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে এক গোলাগুলিতে জড়িত হন। সন্দেহবশত তল্লাশি চৌকিতে গাড়ি আটকানো হলে তিনি পুলিশের দিকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁর গাড়িটি প্যারিসের দক্ষিণের শহরতলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আরেকটি গাড়িতে করে ওর্লি বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে দফায় দফায় জঙ্গিবাদীদের হামলায় অন্তত ২৩০ জন নিহত হয়েছে। দেশটিতে আগামী মাসেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপ। এ অবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সরকার খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এখনো জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে ফ্রান্সে। আইন কর্মকর্তারা বলেছেন, কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায়। এ সময় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের বিশেষজ্ঞরা তল্লাশি চালান। পুলিশ বলেছে, হামলা চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তির কাছে কোনো বোমা ছিল না। প্যারিস থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওর্লি এলাকায় ফরাসি রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দরটির অবস্থান।
ফ্রান্সে কয়েকটি বড় সন্ত্রাসী হামলা
*৭ জানুয়ারি ২০১৫: শার্লি এবদো কার্যালয়ে হামলা
*১৩ নভেম্বর ২০১৫: প্যারিসে একাধিক হামলা
*১৪ জুলাই ২০১৬: নিসে ট্রাক হামলা

১০ মিনিটে মঙ্গল ভ্রমণ!

বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের বুকে হেঁটেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী বাজ অলড্রিন। তিনি এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মঙ্গল গ্রহ ভ্রমণের অনুভূতি এনে দেবেন। এ জন্য ‘ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির’ চলচ্চিত্র বানিয়েছেন অলড্রিন। বাজ অলড্রিনের ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি চলচ্চিত্রের নাম সাইক্লিং পাথওয়েজ টু মার্স। ব্যাপ্তিকাল ১০ মিনিটের কম। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ রহস্যময় লাল গ্রহটিতে হাঁটার স্বাদ পাবেন। অলড্রিনের বিশ্বাস, চলচ্চিত্রটি মহাকাশচারীদের মতোই অনেকখানি বাস্তব অনুভূতি এনে দেবে এর দর্শকদের। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে যন্ত্রের মাধ্যমে কাল্পনিক জগতের ‘বাস্তব স্বাদ’ মেলে। বিশেষ হেডসেটের মাধ্যমে এমন এক দুনিয়ায় চলে যাবেন যেখানে আপনি বাস্তবে নেই, কিন্তু মনে হবে আছেন।
যন্ত্রের বদৌলতে দৃশ্য এবং শব্দকে একেবারে বাস্তব মনে হবে। বিখ্যাত নভোচারী অলড্রিনের চলচ্চিত্রটির কাহিনিটা এমন: ছয় মাসের যাত্রায় পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়া হবে। পথে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদকে ‘বিরতিস্থল’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্রতিষ্ঠান এইট আই এবং টাইমের যৌথ উদ্যোগে এই চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে মানুষ মঙ্গলের মাটিতে উপনিবেশ কেমন হবে তার স্বাদ পাবে। বিবিসিকে বাজ অলড্রিন বলেন, এই চলচ্চিত্র বিভিন্ন দেশকে মঙ্গলে অভিযানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে উৎসাহিত করবে। মঙ্গল ভ্রমণ একক দেশ বা মানুষকে দিয়ে সম্ভব নয়। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক দেশকে বড় ধরনের বাজেট নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

‘ন্যাটোর সদস্যদের ব্যয় বাড়াতে হবে’

ন্যাটোর প্রতি আবারও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ জোটের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আরও অর্থ ব্যয় করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে গত শুক্রবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এ মত দেন। নিয়ম থাকলেও ন্যাটোর অনেক সদস্যরাষ্ট্রের মতো জার্মানিও মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ অর্থ ন্যাটোকে দেয় না। জার্মানির চ্যান্সেলর বৈঠকে প্রতিরক্ষায় তাঁর দেশের ব্যয় বাড়ানোর প্রত্যয়ের কথা জানান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও আড়ি পাতার অভিযোগ তোলেন।
ট্রাম্প বলেন, শুধু তিনিই নন, জার্মানির চ্যান্সেলরও ওবামা প্রশাসনের আড়ি পাতার শিকার হয়েছিলেন। আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে বৈঠকের সময় হাত মেলানো নিয়ে হাস্যরসের জন্ম দেন ট্রাম্প। বৈঠক চলার সময় সাংবাদিকেরা ছবি তোলার জন্য দুই নেতাকে হাত মেলানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ট্রাম্প ছিলেন নির্বিকার। দৃশ্যত তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান শোনেননি। বিবিসিতে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকেরা কয়েকবার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় এ নিয়ে চলে নানা ঠাট্টা-বিদ্রূপ।

অপপ্রচারের নিন্দায় আসমা জাহাঙ্গীর

পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আসমা জাহাঙ্গীর গত শুক্রবার অভিযোগ করেছেন, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন²করতে ‘নোংরা, উসকানিমূলক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট অপপ্রচার’ চলছে। আসমা জাহাঙ্গীর এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার অভিযানে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্ট দুবৃর্ত্তরা অংশ নিচ্ছে। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এই প্রচারের একটা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে—এটা স্পষ্ট। বিশিষ্ট এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ওপর আমি হামলা করেছিলাম বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তারা সংবাদমাধ্যমের একটি অংশকে ব্যবহার করে যে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেটাও একই রকম বিদ্বেষপূর্ণ। কারণ, তারা একটা বানোয়াট খবরের সঙ্গে আমার ২০০৭ সালের একটা ছবি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশ করে দেখাতে চেয়েছে, আমি কারও উদ্দেশে চিৎকার করছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি আইনজীবীদের এক আন্দোলনের সময় পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম। ছবিটা ২০০৭ সালে ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছিল।’ আসমা জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, তাঁর বিবৃতিগুলোও বিভিন্ন সময়ে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে উসকানি ছড়ানোটা একধরনের অপরাধ এবং এ বিষয়ে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডাকসু নির্বাচন কেন নয়: হাইকোর্ট

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই রুল দেন। পাশাপাশি গত ২৬ বছরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি, সাধারণ সম্পাদক ও একজন শিক্ষার্থীর করা এক রিটের শুনানি নিয়ে আজ আদালত রুল দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। শিক্ষাসচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমাদ, সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসাইন, বর্তমান শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান নাদিম রিটটি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ডাকসু নির্বাচন হয়নি।

দা উঁচিয়ে ধাওয়া: ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী কারাগারে

সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে দা-রড উঁচিয়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া করার ঘটনায় আত্মসমর্পণের পর ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরের দিকে সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এই আদেশ দেন। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান বলেন, পাঁচজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। কারাগারে যাওয়া পাঁচজন হলেন তারেক আহমদ (২৩), সালমান অপু ওরফে শামসুল ইসলাম অপু (২৪), আলতাফুর রহমান মুরাদ (২৩), রবিউল হাসান (২২) ও সৌরভ আচার্য (২৬)। পুলিশ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা এমসি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, কারাগারে যাওয়া পাঁচজনই ছাত্রলীগের কর্মী। এমসি কলেজ শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি হওয়ায় গত ৩০ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে আনন্দমিছিল করার প্রস্তুতি নেয় ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রলীগের একটি পক্ষ প্রকাশ্যে দা, হকিস্টিক, রডসহ দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া করে ক্যাম্পাসছাড়া করে। পরদিন প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়।
সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো ফৌজধারী কার্যবিধির ক্ষমতাবলে এক আদেশে ধাওয়াকারীদের চিহ্নিত করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত ওই আদেশে ৩১ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘দা উঁচিয়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আদেশে বলা হয়, সিলেট এমসি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে, যা বারবার জাতীয় পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে। এই ঘটনা জনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম হুমকিস্বরূপ। পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের (ছাত্রদলকে ধাওয়া) জন্য কারা, কীভাবে দায়ী, তা শনাক্ত করে ঘটনা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ কমিশনারকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, দুই দফা সময় নিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘দা উঁচিয়ে ধাওয়াকারী’ হিসেবে চিহ্নিত ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার আইনে মামলা রেকর্ডভুক্ত করার আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ আদালতে পাঁচজন আত্মসমর্পণ করেন। আপন (২৩) নামের অপর একজন পলাতক রয়েছেন। তিনিও এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী।

‘গোপন এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে জঙ্গিবাদ সামনে আনা হয়েছে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দেশবিরোধী বহু ‘গোপন এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জঙ্গিবাদকে সামনে আনা হয়েছে। মানুষ যাতে জঙ্গিবাদী তৎপরতার আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, আর এই ফাঁকে অশুভ ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা যায়। আজ রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। রিজভী বলেন, জঙ্গিদের রক্তাক্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার নানা তত্ত্ব কথা শুনিয়ে এসেছে। ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দায় চাপিয়ে দেন অন্যের ঘাড়ে।
উগ্রবাদীদের নিত্যকার সহিংস ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের উগ্রবাদীদের নির্মূল করার বিষয়ে নানা তর্জন-গর্জন দেশবাসী শুনেছে। কিন্তু নির্মূল তো দূরে থাক, সম্প্রতি গত কয়েক দিনে উগ্রবাদীদের সহিংস ঘটনায় মনে হচ্ছে, এদের নেটওয়ার্ক আরও বেশি বিস্তৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করে রিজভী বলেন, ‘পৃথিবীতে শক্তিশালী ও অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশের মধ্যে সামরিক চুক্তি হলে সব সুবিধা শক্তিশালী দেশই পেয়ে থাকে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তিতে এর থেকে কোনো ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী সরকার সব সময় ভারতকে খুশি করতে সদা তৎপর থেকেছে। কিন্তু ভারত অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে একচেটিয়া সুবিধা হাতিয়ে নিলেও বাংলাদেশ পায় লবডঙ্কা।’ রিজভী বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি দেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গোপনীয়তা বলে কিছু থাকবে না। শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। তাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হবে বিপন্ন এবং সার্বভৌমত্ব দুর্বল হবে।

মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর যেকোনো সময়

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে তাঁদের করা আবেদন (রিভিউ) আজ রোববার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, এখন রায়ের বিষয়টি আসামিদের জানানো হবে। তাঁরা চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। যদি না করেন, তাহলে দু-এক দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে। কেননা, প্রক্রিয়া আগে থেকে শুরু হয়ে ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার সাহা বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না, এ বিষয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালতে মুফতি হান্নানসহ আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নিখিল কুমার সাহা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান,
জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ার হোসেন রিভিউ করেন। কারাসূত্র বলেছে, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। ফেরার পথে ফটকের কাছে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন, নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান, জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। গত ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ খারিজ করেন। গত ১৭ জানুয়ারি আপিল বিভাগের ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। দণ্ডিত দুই আসামিও কারাগারে আছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনের মূল হোতা হিসেবে মুফতি হান্নানের নাম উঠে আসে। মুফতি হান্নানের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সভামঞ্চের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় করা মামলারও আসামি মুফতি হান্নান।

জঙ্গি নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স: মেনন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। সরকার জঙ্গি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। বিমানবন্দরগুলোতে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার ছিল, এখন সেটা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে একাধিক দর্শনার্থী বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে পারতেন, এখন একজনের বেশি যেতে পারেন না।
একই সঙ্গে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। আজ রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আইউব করম আলী নামের এক ব্যক্তি এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। সকাল ১১টায় মন্ত্রী এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আইউব করম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

বিশ্বের শক্তিশালী দেশের তালিকা প্রকাশ

সম্প্রতি বিশ্বের শক্তিশালী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ এবং ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এ তালিকায় বিশ্বের ৮০টি দেশ স্থান পেয়েছে। বরাবরের মতো এ তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিকত্ব, জীবনযাত্রার মান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও সামরিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ৪৯৪ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিরক্ষা বাজেট, সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক জোট, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দশে নয়ের বেশি স্কোর অর্জন করে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৯ দশমিক ৬ নম্বর পেলেও সেনাবাহিনীতে দশে দশই পেয়েছে রাশিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে না পারলেও শক্তিশালী দেশের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি। শক্তিশালী দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন। এ তালিকায় চীনের পরই রয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,
দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, তুরস্ক, ইরান, সুইজারল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইডেন, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, কাতার, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, মিসর, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ। এ তালিকা প্রকাশের পর সংস্থাগুলো বলছে, বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো সবার পছন্দ নাও হতে পারে। অনেকেই হয়তো দেশগুলো সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাও রাখতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রভাবশালী সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে, নীতিনির্ধারকদের দখল করে আছে এবং অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপরও এরা প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। বিশ্বের শক্তিশালী ২৩টি দেশের তালিকায় জয়জয়কার দেখা গেছে এশিয়ার দেশগুলোর। এ মহাদেশ থেকে ১১টি দেশ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। সামগ্রিক তালিকায় ইউরোপ থেকে জায়গা পেয়েছে ৯টি দেশ। তালিকায় এসেছে এশিয়ার ১১টি দেশের নাম। উত্তর আমেরিকার দুটি দেশ থাকলেও লাতিন কোনো দেশের নাম নেই। আফ্রিকার কোনো দেশের নামও তালিকায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ১২ শহরের অভিবাসী বহিষ্কারে বিশেষ পরিকল্পনা

অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানোর কাজে গতি বাড়াতে দেশজুড়ে থাকা বিচারপতিদের একত্রিত করে ১২ শহরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার দায়িত্ব তাদেরকে সাময়িকভাবে দেয়া হবে। প্রশাসনিক দুই কর্মকর্তার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে। তবে ঠিক কতজন বিচারপতিকে এ কাজে নিয়োজিত করা হবে এবং তাদের কখন ওই ১২ শহরে পাঠানো হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি।
যে ১২টি শহরে বিচারপতিদের নিয়োজিত করার কথা ভাবা হচ্ছে সেগুলো হল : নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ অরলিন্স, সানফ্রান্সিসকো, বাল্টিমোর, ব্লুমিংটন, মিনেসোটা, এল পাসো, টেক্সাস, হারলিনজেন, টেক্সাস, ইমপেরিয়াল, ক্যালিফোর্নিয়া, ওমাহা, নেব্রাস্কা এবং আরিজোনার ফোয়েনিক্স। ওই দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, এসব এলাকায় অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বসবাস হওয়ায় এ শহরগুলোকেই বেছে নেয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ধরপাকড় উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে আটক কেন্দ্রগুলোয়ও বিচারকদের পাঠাচ্ছে বিচার বিভাগ। সোমবার থেকে সেখানে বিচারক মোতায়েন শুরু হবে।

ট্রাম্প মুসলমানদের সত্যিকারের 'বন্ধু': সৌদি প্রিন্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'মুসলমানদের সত্যিকারের বন্ধু' বলে অভিহিত করেছেন সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসী নিষিদ্ধ আইনটি মুসলিমদের উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন না তিনি। হাই প্রোফাইল সফরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন সৌদি আরবের এই প্রভাবশালী প্রিন্স। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। ওই বৈঠককে 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত' বলে দাবি করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। ইরানের সঙ্গে পুরমাণু সমঝোতা চুক্তির জেরে বারাক ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক রীতিমতো তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ট্রাম্প যুগে দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিন্স মোহাম্মদের সফরে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিসহ সবকিছু 'সঠিক পথে ফিরেছে'। এর পুরোটাই হয়েছে দুদেশের সম্পর্কের গুরুত্ব অনুধাবন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্পষ্ট ধারণা থাকায়।
এতে বলা হয়, 'মুসলিম দেশ কিংবা ইসলাম ধর্মকে উদ্দেশ্য করে অভিবাসী নিষিদ্ধ আইন করা হয়েছে বলে সৌদি আরব বিশ্বাস করে না। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।' বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মানবিক মূলবোধ সম্পন্ন একটি ঐশ্বরিক ধর্ম বিবেচনা করে ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মোহাম্মদ বিন সালমানের এক মুখপাত্র বলেন, ইসলামের বিষয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে যে সুস্পষ্ট বক্তব্য শুনেছেন এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখেছেন তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, 'মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কাজ করার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভূতপূর্ব এবং আন্তরিক অভিপ্রায় রয়েছে। এই মনোভাবের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মুসলমানদের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে দেখছেন প্রিন্স মোহাম্মদ।' ওভাল অফিসে এই দুই নেতার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও তার জামাতা জারেড কুশনার, চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস এবং স্ট্রাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন উপস্থিত ছিলেন।

অভিবাসী বহিষ্কারে মার্কিন বিচার বিভাগের পরিকল্পনা

অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত বহিষ্কারের জন্য দেশটির ১২টি শহরে অতিরিক্ত বিচারক পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার ত্বরান্বিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কতজন বিচারকে কখন মোতায়েন করা হবে তা এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই দুই কর্মকর্তা। যেসব শহরে অভিবাসন বিচারক মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা হলো নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস, মিয়ামি, নিউ অরলিন্স, সান ফ্রান্সিসকো, মিনেসোটার বাল্টিমোর ও ব্লুমিংনটন, টেক্সাসের এলপাসো এবং হারলিনজেন, ক্যালিফোরনিয়ার ইম্পেরিয়াল এবং আরিজোনার ওমাহা, নেব্রাস্কা ও ফনিক্স। ব্যাপকহারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসী বসবাস করায় সব শহরকে বাছাই করা হয়েছে বলে জানান দুই কর্মকর্তা। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিবাসন রিভিউ বিষয়ক নির্বাহী কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র এসব শহরে অভিবাসন বিচার পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তাদের বহিষ্কারের কথা বলেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারে বিচারক নিয়োগ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিচার বিভাগ পরিচালিত অভিবাসন আদালতের বিচারকদের রদবদল করতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন তাতে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা দোষী হোক বা না হোক তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতি থেকে সরে যাওয়া হয়। তার নীতি ছিল, যারা গুরুতর অপরাধের জন্য দণ্ডিত শুধু তাদেরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। অভিবাসীদের বিষয়ে নীতির এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেছে কিছু অধিকার আন্দোলন গ্রুপ। তারা বলছে, এর মাধ্যমে এমন সব অভিবাসীদেরও অস্বচ্ছভাবে টার্গেট করা হয়েছে যারা অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পাবেন এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকিও হবেন না।
বিচার বিভাগের অভিবাসন রিভিউ বিষয়ক নির্বাহী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শহরে বাড়তি বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে সেখানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ১৮ হাজার ১৩টি অভিবাসন মামলায় সংশ্লিষ্টদের অর্ধেকেরও বেশি অপরাধমূলক ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত। এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুইশ' জনের বেশি অভিবাসী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এর মানে হলো অন্যরা হয় অভিযুক্ত হয়নি অথবা তাদের দণ্ড ভোগ করে ফেলেছে। তবে কতজন অভিবাসী দণ্ডিত বা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন তা মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়নি। এদিকে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের বিভিন্ন হাজতখানায় অভিবাসন বিচারক পাঠাতে যাচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এদিকে অভিযুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারে বিচারক ১২ শহরে বিচারক পাঠানোর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন সাবেক অভিবাসন বিচারক এবং অভিবাসন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান পল স্কিমডিট। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধারণা করা ঠিক হবে না যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত সবাই বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি পাবেন না। তাদের পরিকল্পনা দেখে মনে হচ্ছে তারা ধরেই নিয়েছে যে সব অপরাধীকেই ফেরত পাঠাতে হবে, কিন্তু এটি সত্য নয়। এমনকি যারা গুরুতর অপরাধ করেছে তারাও আশ্রয় পেতে পারে বলেও উল্লেখ করে স্কিমডিট।। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় অভিবাসন বিচার ব্যবস্থায় পাঁচ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলে আছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিচারক রদবদলের যে পরিকল্পনা করেছে তাতে এই মামলাজট আরও বেড়ে যেতে পারে।

প্যারিসে বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টা, নিহত ১

প্যারিসের ওরলি বিমানবন্দরে একজন সেনার বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে হামলার চেষ্টার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফরাসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওরলি বিমানবন্দরের দক্ষিণ টার্মিনালে একজন ব্যক্তি এক সেনার অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি গুলি করে হামলাকারীকে হত্যা করেন।
এ ঘটনার পর যাত্রীদের বের করে দিয়ে বিমানবন্দরটি খালি করে দেয়া হয়েছে। ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীর আর কোনও সহযোগী এবং কোথাও বিস্ফোরক রয়েছে কি না তার সন্ধানে বিমানবন্দরে তল্লাশি চালাচ্ছে ফরাসি পুলিশ। এদিকে এক টুইটে ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বলেছে, 'পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে, আমরা আপনাদের বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি'।

ওয়াসার এমডিসহ দু'জনের হাইকোর্টে ব্যাখ্যা দাখিল

রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক অন্ধ ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন। রোববার সকালে ওয়াসার এমডি তাসকিন আহমেদ ও ডিসিসির প্রধান নির্বাহী খান মো. বেলাল হাইকোর্টে হাজির হন। তাদের দাখিলকৃত ব্যাখ্যার শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুপুরে এ বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। আদালতে ঢাকা ওয়াসার এমডি তাসকিন আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও আইনজীবী মাহবুব শফিক। আর ডিএসসিসির সিইও খান মো. বেলালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। গত ৭ মার্চ ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তলব করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলও জারি করা করা হয়। রুলে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য অবহেলার কারণে কেন তাদের দায়ী করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। রুলে স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ড্রেনেজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিভিউ খারিজ, যেকোনো সময় মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা ও তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ আসামিদের রিভিউ খারিজ করে এ আদেশ দেন। এর ফলে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) এই তিন নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করতে আইনগত আর কোনো বাধা নেই। শুধুমাত্র তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন- হুজির সিলেট অঞ্চলের সংগঠক শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন। এছাড়া একই মামলায় বিচারিক ও হাইকোর্টে যাবজ্জীবন পাওয়া দুই আসামি- মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দাল আপিল না করায় তাদের দণ্ডও বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা এই মামলায় ২০০৮ সালে বিচারিক আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।
শুনানি শেষে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে দুই আসামি আপিল করলে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন। এরপর আসামিরা রিভিউ আবেদন করেন, যেটি অঅজ খারিজ হল। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সিলেটে গেলে হজরত শাহজালাল (রহ.)- এর মাজার জিয়ারত করতে যান। সেখানে দরগাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের কাছে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন।

খিলগাঁওয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের শেখের হাটে র‌্যাবের চেকপোস্টে বিস্ফোরক নিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও নিহতের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে র‌্যাব-৩ এর ডিএডি কাজী হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় এ মামলা করেন।
খিলগাঁও থানার এসআই মাইনুল হক খান জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, খিলগাঁও শেখের হাটে শনিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে র‌্যাবের চেকপোস্ট অতিক্রমকালে মোটরসাইকেল আরোহী যুবককে থামতে সংকেত দেয় র‌্যাব। কিন্তু সে সংকেত অমান্য করে অতিক্রমের চেষ্টা করলে র‌্যাবের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। র‌্যাবের দাবি, এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে বড় আকারের একটি এবং দেহের বেল্টের সঙ্গে বাঁধা ছোট দুটি হাতে তৈরি বোমা পাওয়া যায়।

আশকোনায় নিহত 'জঙ্গি' জুয়েলের বাড়ি ফরিদপুরে

ঢাকা আশকোনায় নিহত 'জঙ্গি' জুয়েল রানার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে। শুক্রবার বিকালে ঢাকার আশকোনায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় নিহত হয় জুয়েল রানা। সে ফরিদপুরের ভাঙ্গার আদুমপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ও মা জহুরা পারভীনের পুত্র। তিন ভাইয়ের মধ্যে জুয়েল রানা সবার বড় । বাবা আলমগীর একজন গাড়ি চালক। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, জুয়েল রানা ওরফে আলিফ প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়ার পর প্রায় ১০ বছর পুর্বে জুয়েল রানা ঢাকা দোহারের জয়পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সে দোহার জয়পাড়া এলাকায় ডেন্টাল চিকিৎক হিসাবে একটি চেম্বার দিয়েছিলেন। আশকোনার ঘটনায় তার পরিচয় প্রকাশের পর শনিবার ও রোববার জুয়েলের গ্রামের বাড়িতে এলাকাবাসী ভিড় জমাতে দেখা যায়। বাবা ও মায়ের দাবি, জুয়েলের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
সে বাড়িতে আসতো না। এদিকে জুয়েলের চাচা শেখ মুরাদ জানান, শুক্রবার রাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদের জুয়েলের বাবা-মাসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার তাদের বাড়িতে ফেরত দিয়ে যায় পুলিশ। তিনি জানান, জুয়েলের ব্যাপারে পুলিশ যেসব তথ্য তাদের কাছে জানতে চেয়েছে সব সত্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে তারা বলেছে। ভাঙ্গা থানার এসআই মজিবর জানান, আমি রোববার বেলা ২টার সময়ে নিহত জঙ্গি জুয়েল রানার বাড়ি আদমপুর গ্রামে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই বাড়িতে কোনো লোকজন নাই। তাদের সব ঘর তালাবদ্ধ । তবে পরিচয় সঠিক আছে।

অটোচাপায় পত্রিকার এজেন্ট নিহত

শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কার পর অটোরিকশা চাপায় পত্রিকার এজেন্ট নুর ইসলাম মাদবর নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ডামুড্যা শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কে নয়াকান্দি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ডামুড্যা এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, নুর ইসলাম মাদবর সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিল। পথে নয়াকান্দি নামক স্থানে  একটি মোটরসাইকেল তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ছিটকে মাটিতে পড়ে যান। এ সময় একটি অটোরিকশা তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে নুর ইসলামকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ডামুড্যা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন।

সীতাকুণ্ডে 'জঙ্গিদের' লাশ নিচ্ছে না পরিবার


সীতাকুণ্ডের ছায়ানীড়ে গুলিতে নিহত ও আত্মঘাতী জঙ্গিদের লাশ নিতে আসছে না তাদের স্বজনেরা। ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের লাশগুলো মর্গেই পড়ে রয়েছে। লাশ নিতে স্বজনদের খবর দেয়ার পরও তারা সাড়া দেয়নি। কেন লাশ নিতে আসেনি তার কারণও জানা যায়নি। তবে জঙ্গি হয়ে যাওয়ায় স্বজনেরা লাশ নিতে আসছে না বলে ধারণা পুলিশের। গত বৃহস্পতিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড়ের জঙ্গি আস্তানায় সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজমের অভিযানকালে গুলিতে ও আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়। ঘটনার পর ওইদিন রাতে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত দুই জঙ্গির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ঘটনার পর দেহের টুকরো খুঁজে জোড়া দিয়ে লাশগুলো মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর প্রথম দিকে নিহতের পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরে গ্রেফতার দুই জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় মেলে। তাদের মধ্যে একজনের নাম কামাল ও তার স্ত্রীর নাম জোবাইদা। তারা বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আদর্শগ্রামের বাসিন্দা। এদিকে পরিচয় পাওয়ার পর পুলিশ মর্গ থেকে লাশ নেয়ার জন্য স্বজনদের খবর পাঠায়। কিন্তু রোববার দুপুর পর্যন্ত তাদের লাশ নিতে কেউ আসেনি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের (ডিএসবি) এএসপি মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, লাশ নিতে পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। কেউ লাশ না নিলে আমাদের কী করার আছে। পরিবারের সদস্যরা না আসলে একটি সময় অপেক্ষার পর  লাশগুলো দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, 'জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির দূরতম সম্পৃক্ততাও নেই।
মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিএনপির নামে এসব বলা হচ্ছে।' মির্জা ফখরুল এ সময় আগামী নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকারকেই।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শংকা

চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন চাপের মুখে পড়েছে। একদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়নে ধীর গতি রয়েছে। অপরদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এডিপি কাটছাঁট করা হয়েছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও সংশোধন হচ্ছে। এ ছাড়া রেমিটেন্স, রফতানি প্রবাহে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে চাপের মুখে পড়েছে বৈদেশিক খাত। তবে অর্থনীতির অন্যান্য সূচক মোটামুটি ইতিবাচক ধারায় চলছে। ভর্তুকি এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়া অনেক কমেছে। সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শেষ পর্যায়ে বাজেট বাস্তবায়ন পুরোপুরি হবে না। বরাবরের মতো এটি সংশোধন করা হবে। চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মূল বাজেট অপেক্ষা ১০ শতাংশ কমিয়ে সংশোধিত বাজেট নির্ধারণ করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. এমএ তসলিম বলেন, প্রতিবছর বাজেট ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি তা সংশোধন করা হয়। কারণ প্রকৃত বাস্তবায়ন ঘোষিত বাজেটের তুলনায় আরও কম। সরকারের টাকা ব্যয় করার সক্ষমতাও কম। এ জন্য ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বাজেটের আকার এখনও অনেক ছোট। এরপরও সেটি পুরো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। চলতি বাজেটে এ বছর ব্যাংক ঋণের হার কমিয়েছে। সরকার ব্যাংক নির্ভরতা কমাচ্ছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভর হচ্ছে। যে কারণে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় বাজেটে ভর্তুকির চাপ কমছে।
নতুন করে ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের মূল্য খুব বেশি অস্থিতিশীল নয়। যে কারণে আসন্ন বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি কম প্রয়োজন হবে। তবে ব্যাংকিং খাত নিয়ে বাজেটে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে। এ ঘাটতি বাজেট থেকে মেটানো সম্ভব নয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার ঘোষণা দেয়া হয়। বিশাল এই ব্যয় মেটাতে আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা (অনুদানসহ)। এ হিসাবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া এ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি এই সাত মাসে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় হয়েছে ৯৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম থাকলেও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এদিকে এডিপি বাস্তবায়ন চলছে ধীর গতিতে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এই আট মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ শতাংশ। এই সময়ে ৬টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার বাস্তবায়নের হার ২০ শতাংশের নিচে রয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ৪৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসেই রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই আয় ৫ দশমিক ০৮ ভাগ কম। তবে প্রবৃদ্ধির বিবেচনায় এটি গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। প্রথম ৮ মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪০৬ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার। আয় কম হয়েছে ১২২ কোটি ডলারের বেশি। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৯ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সও কমেছে। বিদেশে শ্রমিক যাচ্ছে বেশি আর রেমিটেন্স আসছে কম। প্রকৃতপক্ষে রেমিটেন্স বেশি আসছে ঠিকই তবে অবৈধ পথে। ২০১৬ সালে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এর প্রবাহ কমতির দিকে রয়েছে।

লিমা ও পেরুর উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা : ৭২ জনের মৃত্যু

লিমার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে শনিবার কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যান্যরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। উপদ্রুত এলাকার লাখো মানুষের মধ্যে খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শনিবার দেশটির সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির লোকসংখ্যা তিন কোটির বেশি। উপকূলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর বেশ কয়েকটি খালি নদীখাত থেকে হঠাৎ পানি উপচে পড়ে। লিমায়, শুক্রবার রাজধানীর উপকণ্ঠের বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে দেখতে পায় তাদের চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরটিতে এক কোটি লোকের বাস। বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরাঞ্চলীয় অটুজকো শহরে ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন একটি ট্রাকে ছিল। ভূমিধসে ট্রাকটি চাপা পড়ে।
অন্যান্যদের ভূমিধসে চাপাপড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভূমিধসে লিমার সাথে দেশটির মধ্যাঞ্চলকে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কটির একটি অংশ আটকে গেছে। এল নিনোর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনে সরকার ৭৬ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। পাঁচ লাখের বেশি লোক এই সহায়তা পাচ্ছে। জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানিয়েছে, পেরুতে চলতি বছরের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এতে মধ্যে মোট ৭২ হাজার ১১৫ জন তাদের বাড়িঘর হারিয়েছে।

ব্রাসেলসে ‘গ্যাস’ বিস্ফোরণে হতাহত ৮

ব্রাসেলসের একটি বাড়িতে শনিবার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু ও সাত জন আহত হয়েছেন। গ্যাস লিক করে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। ব্রাসেলসের পাবলিক প্রসিকিউটর এক বিবৃতিতে জানান, আজ বিকেলে দুটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আরো বলা হয়, ‘এই ঘটনায় সাতজনকে দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশু ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তুপের ভেতরে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে।’ বেলজিয়ামের টেলিভিশন চ্যানেল আরটিএল ও আরটিবিএফকে স্থানীয় মেয়র চার্লেস পিকুয়ে বলেন, ‘সম্ভবত দুর্ঘটনাক্রমে গ্যাস লিক থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।’ গত বছরের ২২ মার্চ ব্রাসেলস বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর বেলজিয়াম জুড়ে তীব্র সতর্কতা জারি রয়েছে।

হোয়াইট হাউজে বোমা আতঙ্ক

হোয়াইট হাউজের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়ি নিয়ে এক ব্যক্তির ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে বোমা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। হোয়াইট হাউজের একটি নিরাপত্তা চৌকি থেকে এ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়ি নিয়ে নিরাপত্তা চৌকিতে ঢুকে পড়ে ওই ব্যক্তি এবং গাড়িতে বোমা রয়েছে বলে দাবি করার পর তাকে আটক করা হয়। অবশ্য গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি।
আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে মার্কিন নিউজ চ্যানেল। এদিকে, বোমা আতঙ্ককে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউজের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয় হোয়াইট হাউজের চারপাশের অনেক রাস্তাও। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার এ তৎপরতার উদ্দেশ্য কী এবং তার কোনো সঙ্গী ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। অবশ্য ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ছিলেন না। চলতি মাসের ১০ তারিখেও এক ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনি টপকে হোয়াইট হাউজে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়েছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

'তীব্র গতিসম্পন্ন রকেট-ইঞ্জিন পরীক্ষা' চালালো উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মাধ্যম জানাচ্ছে, দেশটি তীব্র গতিসম্পন্ন রকেট-ইঞ্জিন পরীক্ষা চালিয়েছে। আর সফলভাবে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ জানাচ্ছে, তীব্রগতিসম্পন্ন নতুন এ রকেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার রকেট ইন্ডাস্ট্রির 'নতুন জন্ম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিম জং আন।
তিনি বলেছেন, এই ইঞ্জিনটি বিশ্বমানের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনের চীন সফরের মধ্যেই এমন ঘোষণা দিল উত্তর কোরিয়া। যদিও এই বিবৃতির বিষয়ে আর কোন মাধ্যম থেকে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। টিলারসনের পূর্ব এশিয়া সফরে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

‘লক্ষ্যবস্তুর ১০ মিটারের মধ্যে আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুর সর্বোচ্চ ১০ মিটারের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন সেদেশের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি। ইরানের আরভান্দকেনার শহরে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জামের এক প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। জেনারেল বাকেরি বলেন, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি অর্জনকারী বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাতারে শামিল হতে পেরেছে ইরান। প্রদর্শনীর সব সমরাস্ত্র সম্পূর্ণ ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের এই সেনা কমান্ডার বলেন, তার দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা দেশকে সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছে।
এ বিষয়টি বিশ্বের সবার বোঝা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। জেনারেল বাকেরি বলেন, “এ ধরনের বিশাল সব অর্জনের সামনে দেশের ছোটখাট সমস্যাগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার গত ৯ মার্চ জানান, তার বাহিনী সম্প্রতি হরমুজ-২ নামের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে তিনি জানান। এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে ইরান ১,৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দুটি ক্ষেপণাস্ত্রে সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

পাকিস্তানের আকাশে ইউএফও না অন্য কিছু?

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান এলাকায় গিলগিট ও ঘিজের জেলায় রাতের আকাশে অদ্ভুত আলো এবং বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়াল। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিমান ভেঙে পড়া বা বোমা হামলা হয়েছে কি না, সেই খবর নিতে শুরু করে দেন। অনেকে আবার ইউএফও বা উল্কাপাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু করে দেন। শেষপর্যন্ত অসমর্থিত সূত্রে জানা গিয়েছে, উল্কাপাতই হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। জাফর ইকবাল নামে এক ব্যক্তি বলেছেন, শিল্পী ঘিজেরের কোনো জায়গায় উল্কাপাত হয়েছে। তবে কোথায় হয়েছে, সেটা এখনো জানা যায়নি। আরবাব মুসাবীর আলম খান নামে অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, তিনি সেই সময় মোটরবাইক চালাচ্ছিলেন।
হঠাৎ আকাশে লাল ও হলুদ তারা দেখতে পান। সেইসঙ্গে অন্য কোনো একটি বস্তু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। মাটি থেকে খুব বেশি উঁচুতে ছিল না ওই অদৃশ্য বস্তু। তারার আলোয় সারা শহর আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। গিলগিট-বালতিস্তানের তথ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর ও ইসলামাবাদের আকাশেও উজ্জ্বল বস্তুর দেখা পাওয়া গেছে। এটি আসলে উল্কা। ঘিজের ও গিলগিট জেলার উপর দিয়ে একটি বড় আকারের উল্কা যায়। সেটি ঘিজের জেলার কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোথায় উল্কাপাত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফুলচাষ যাদের প্রধান পেশা

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ফুলচাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন পাঁচ গ্রামের শতাধিক যুবক। যুবকদের এখন প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুল চাষ। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা যমুনা ও বাঙালি নদীর তীরে অবস্থিত। প্রতি বছর নদী ভাঙছে। নদী যেমন ভাঙ্গে ঠিক তেমনি বাড়ে সর্বস্বান্ত মানুষের সংখ্যা। এই মানুষগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখতে জড়িয়ে পড়ছে কৃষি কাজের সাথে। তাই তারা এবার ফুলচাষ শুরু করেছেন। ফুলচাষ করেই এখন তারা নিজেদের ভাগ্য বদল করে ফেলেছেন। সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া, চামুরপাড়া, সুজায়েতপুর, রাখালগাছি, বড়বালুয়া গ্রামে ব্যাপক আকারে ফুলচাষ হচ্ছে। সোনাতলা উপজেলার চমরগাছা গ্রামের মোন্তেজার রহমান জানান, ফুলচাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তিনি এবার ৫০ শতক জমিতে ফুলের চাষ করেছেন। ওই জমি থেকে এবার প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করবেন বলে তিনি আশা করছেন। একই গ্রামের নূরে আলম শিলু তার ২০ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের চাষ করেছেন। একইভাবে সুজাইতপুর গ্রামের শাকিলুজ্জামান তার ৩০ শতক জমিতে গত কয়েক বছর ধরে ফুলচাষ করে ভালো আয় করেছেন। সে আয় দিয়ে নিজের সংসার পরিচালনা করছেন। এ ছাড়া বামুনিয়া ও নগর পাড়ার অনেক কৃষক ও বেকার যুবক ফুলচাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন। কৃষি বিভাগ ও কৃষি কর্মকর্তারা তাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ফুলচাষিদের গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের চাষ বেশি করতে দেখা গেছে। আবার কিছু কিছু এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে ভ্যানে ফুলের চারা ও ফুল বিক্রি করেন। সোনাতলা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের তুহিন মিয়া (২৫) সুখানপুকুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মূল ফটকে ফুল বিক্রিকালে জানান, তাদের অভাবী সংসারে ১০-১১ বছর আগে তার পিতার অকাল মৃত্যু ঘটে। সেই থেকে সংসারের হাল ধরেন তিনি। পরিবারে মা ও ছোট দুই বোন। ওরা দুইজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। বাড়ির দুই-তিন শতক জমি ছাড়া জায়গা জমি নেই তার। সারা বছর ফুল বিক্রি করে সংসার চলে। ফুলচাষিরা জানান, ফুল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। তাই দিনদিন সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অন্য ফসলের চেয়ে ফুলচাষে ঝুঁকে পড়েছেন। সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, উপজেলায় ফুলচাষির সংখ্যা বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে ফুল চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষক ফুলের বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে ফুল বিক্রি করতে পারেন। ফুল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। তাই দিন দিন কৃষকেরা অন্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলার পাঁচটি গ্রামে ব্যাপক আকারে ফুলচাষ হয়ে থাকে। ওই পাঁচ গ্রামের দেখাদেখি অন্যান্য গ্রামেও ফুলচাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বালিয়াকান্দিতে খামারে আগুন

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাবুলতলা গ্রামে রবিবার রাত ২টার দিকে অগ্নিকান্ডে একটি খামারের এক হাজার মুরগী পুড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাবুলতলা গ্রামের আয়েন উদ্দিন শেখের ছেলে খামার মালিক দেলোয়ার হোসেন শেখ জানান,
রবিবার রাত ২টার দিকে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে খামারের একটি টিনসেট ঘর ও ১ হাজার মুরগী, মুরগী খাবার ভস্মিভুত হয়েছে। এতে ৫লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চান্দিনায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীদের মানববন্ধন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় মানবন্ধন করেছে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। রোববার সকাল ১১টায় মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাস স্টেশন এলাকায় ওই মানবন্ধন করে তারা।
মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধের পর হঠাৎ কোন নির্দেশনা ছাড়াই মহাসড়কে চলাচলরত ফোর হুইলার হিউম্যান হলার আটক করার পাশাপাশি চলাচল বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে মালিক ও শ্রমিকরা। অপরদিকে কোন বিকল্প পরিবহন নিশ্চিত ছাড়া মহাসড়ক থেকে ওইসব ফোর হুইলার বন্ধ করায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ায় তারাও অংশ নেয় ওই মানববন্ধনে। জনদূর্ভোগে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন- লেগুনা মালিক সমিতির সভাপতি কেএম জামাল, সাধারণ সম্পাদক কামাল মুন্সি, নিটল মটোর্সের কুমিল্লা এরিয়া ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম, পরিবহন মালিক শামিম আহমেদ, হাবিবুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, বিল্লাল হোসেন, মোতাহের হোসেন, সুমন খান, শিক্ষক মাও. আবুল খায়ের, শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে কমছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর

মিরসরাইয়ে কোন আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ। গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে ভূ’গর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই সাধারণ নলকূপ থেকে পানি কম উত্তোলন হচ্ছে। জানা গেছে, উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজার থেকে আজমপুর পর্যন্ত প্রায় ১০টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এদের মধ্যে আজামপুর বাজারে ৩টি, জোরারগঞ্জ ট্রেক্সটাইলের পাশে ১টি, দেওয়ানপুর ১টি, বিশুমিয়ারহাট ১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। প্রতিটি গভীর নলকূপ মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের পাশে অবস্থিত। নলকূপগুলো বিভিন্ন ধরণের বেড়া দিয়ে ঠেকে রাখা হয়। স্থানীয়রা জানায়, একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন ভোরে স্থাপিত গভীর নলকূপ থেকে ড্রামে পানি ভর্তি করে সোডিয়াম কার্বনেট পার অক্সিহাইড্রেট জাতীয় ঔষধ মিশ্রণ করে। পরে পানি ভর্তি ড্রামগুলো মিনি পিক আপে করে মুহুরী প্রজেক্টে উৎপাদিত মাছ তাজা রাখতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি মিনি-পিক আপে ২৬টি ড্রাম থাকে। দৈনিক ৭০ থেকে ৮০টি পিক-আপ ভর্তি পানি মুহুরী প্রজেক্ট নিয়ে যাওয়া হয়। পানি ভর্তি প্রতিটি পিক-আপের ওজন হয় প্রায় ১০ টন। যাতে কয়েক হাজার লিটার পানি থাকে। স্থানীয়রা আরো জানায়, রাসায়নিক মিশ্রিত পানি ভর্তি পিক-আপ গুলো যাওয়া সময় সড়ক ভিজে যায়। ফলে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। সড়কের উপর স্তরের বিটুমিনের গুনগত মান নষ্ট হয়ে অল্প বৃষ্টিতে সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভূ’গর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে ১৯৮৬ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু ১৯৯২ সালে একটি প্রঞ্চাপনের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশ স্থগিত করে দেয়া হয়। যা ছিল অবৈধ।
১৯৮৬ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী একটি গভীর নলকূপ থেকে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা যেত ২৫০০ ফুট দূরত্বে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অপ ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) এক ভুয়া প্রতিবেদনে সেই দূরত্ব কমিয়ে ১২০০ ফুট করা হয়। কিন্তু সেই আইনের তোয়াক্কা না করে একটি সিন্ডিকেট জোরারগঞ্জ ও ওসমানুপর ইউনিয়নে যত্রতত্র গভীর নলকূপ স্থাপন করছে। ফলে ভূ-গর্ভের পানি স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সাধারণ নলকূপ থেকে পানি কম উত্তোলন হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন-১৭ নামে একটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছেন মন্ত্রিসভা। সেই আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের লাইন্সেস ছাড়া নলকূপ স্থাপন করা যাবে না। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা কমিটি অনুসন্ধান করে নলকূপ স্থাপনের লাইন্সেস দেবেন। উপজেলা পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ফোরামের সভাপতি ডাঃ জামশেদ আলম জানান, যত্রতত্র গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে ভবিষ্যতে উপজেলাবাসী বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়বে। নলকূপের পানি নির্ভর কৃষি জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়বে। ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ জানান, গভীর নলকূপের আশে পাশে সাধারণ নলকূপ থাকলে পানি কম উত্তোলন হবে। কারণ গভীর নলকূপের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অনুমোদন হওয়া কোন আইনের খসড়া জনস্বাস্থ্য অফিসে সংরক্ষিত নেই। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাইবান্ধায় ট্রাকের ধাক্কায় বাস খাদে, নিহত ৫

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর একটি বাস খাদে পড়ে যায়। এতে শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জুম্মারঘর ৪১ মাইল এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সৈয়দপুরগামী একটি নৈশকোচ জুম্মারঘর এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এরপর বাসটি উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ চারজন নিহত হন। খবর পেয়ে হাইওয়ে টহল পুলিশ ও গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ভোরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত একজনের মৃত্যু হয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক অপসারণ আর খাদ থেকে বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

মির্জাপুরে ট্রাককে ট্রাকের ধাক্কা : নিহত ২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন দুজন। থেমে থাকা একটি ট্রাকে পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  নিহতরা গড়াই-সখিপুর সড়কের একপাশে থেমে থাকা ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা কলা ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। এ সময় ওই ট্রাকে পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে থেমে থাকা ট্রাকটির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

পতেঙ্গায় ছয় লাখ ইয়াবাসহ আটক ৮

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে ছয় লাখ ইয়াবাসহ আটজনকে আটক করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে ছয়জন মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব-৭ এর  সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে রোববার ভোরে পতেঙ্গা চরপাড়া স্লুইসগেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

ওড়না পেঁচিয়ে ২ স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

গোপালগঞ্জ শহরের মৌলভীপাড়ায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দুই স্কুলছাত্রী।  নিহতরা হলো- নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার মঙ্গলপুর গ্রামের শহিদুল জামান মল্লিকের মেয়ে চৈত্রী আফরিন তমা (১৫) ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর বরফা গ্রামের জাকির মোল্লার মেয়ে জাকিয়া সুলাতানা শ্রাবনী (১৪)। তারা শহরের উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তমা সম্পর্কে শ্রাবনীর খালা।
তারা দু’জন একই সঙ্গ স্কুলে যাতায়াত করতো। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা দু’জন এক সঙ্গে স্কুল থেকে বাসায় ফেরে। তারপর তারা রুমের মধ্যে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যা তাদের প্রাইভেট শিক্ষক পড়াতে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

রাঙামাটিতে গুলিসহ আটক ৩

রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে গুলি, চাঁদার রশিদ ও নগদ টাকাসহ ৩ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ রাউন্ড গুলি, নগদ টাকা, চাঁদার রশিদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পত্র সহ এদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটককৃতরা সকলে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে জড়িত। এরা হলেন, কালো বরণ চাকমা ওরফে কালাইয়ে (৩৮), সে সশস্ত্র গ্রুপের সহকারী। অন্য দুই জন কালেক্টর রনেল চাকমা (৩২) ও তার সহকারী জিকন তঞ্চঙ্গ্যা (২৮)। তারা রাঙ্গাপানি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রনেল চাকমার বাড়ী থেকে এ তিনজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায় আটককৃতদের কাছ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, নগদ ২ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা, রশিদ বই, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, জমা রশিদ, ২ টি মোবাইল ফোন সেট, জেএসএস এর সশস্ত্র শাখার তালিকা সহ বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
রাতে আটক তিনজনকে কোতয়ালী পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার এস,আই মোসাদ্দেক আলী জানান, যৌথ বাহিনী আটকতৃদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জামও পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাঙামাটি শহরের রাঙাপানি এলাকা থেকে শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে চালিয়ে যাদের আটক করেছে তারা কেউ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য নয়। তাছাড়া জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস এর ‘সহকারী পরিচালক (কালেক্টর)’ বা ‘সহকারী কালেক্টর’ হিসেবে কোন সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব যেমনি নেই, তেমনি ‘সশস্ত্র গ্রুপের প্রশাসনিক সহকারী’ হিসেবে কোন পদের অস্তিত্বও নেই।

চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশে গাছচাপায় আহত ১

রাজধানীতে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশে লেক রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। শেরেবাংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহরাব আল হোসেন জানান, ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানের লেক রোডে একটি গাছ ভেঙে চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর পড়ে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতে ২১ জনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী বালিকা গণধর্ষণের অভিযোগ



বাংলাদেশী ১৪ বছর বয়সী একটি বালিকাকে ভারতের গণধর্ষণ করেছে ২১ নরপিশাচ। এমন অভিযোগে শনিবার মামলা করেছে ওই বালিকা। পুলিশ শুরু করেছে তদন্ত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, জুনাগড় শহরের ম্যাঙ্গরোল ও আহমেদাবাদে তার ওপর ওই নারকীয় অত্যাচার করা হয়। সূত্র বলেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে ওই বালিকা ম্যাঙ্গরোলে একটি বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। এ সময় লোকজন তার কাছে কারণ জানতে চায়। সে তাদেরকে সব খুলে বললেও স্থানীয়রা ভাষাগত সমস্যার কারণে তার কথা বুঝতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ স্টেশনে। সেখানে পুলিশের কাছে সব কথা বলে দেয় সে। সে বলে তার বাড়ি বাংলাদেশে। তাকে ভারতে বিক্রি করে দিয়েছে একটি চক্র। আহমেদাবাদ হয়ে ম্যাঙ্গরোলে পৌঁছে সে। অভিযোগে সে বলেছে, প্রথমে তাকে আহমেদাবাদে গণধর্ষণ করে ৭ জন। এরপর গত সপ্তাহে ম্যাঙ্গরোলে গণধর্ষণ করে ১৪ জন। সে আরো বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় সাই নামে একজন এজেন্টের কাছে তাকে তার এক আত্মীয় বিক্রি করে দিয়েছে। ওই বালিকাকে জুনাগড়ে নারীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে দোভাষীর সহায়তায় তার ওপর চালানো অত্যাচার ও বিক্রি করে দেয়ার তথ্য প্রকাশ করে।

একরাম হত্যা : বিএনপি নেতা মিনারের জামিন বাতিল

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা মামলায় বিনএপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বিচার বিলম্ব ছাড়াই ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আজ রোববার এই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ।