Thursday, April 15, 2010

আলোকের এই ঝর্ণাধারায় by শিখ্তী সানী

আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও।
আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও\
যেজন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে
আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে
এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও...’
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ পয়লা বৈশাখ, ১৪১৭। শুভ নববর্ষ। যা কিছু মলিন, পুরোনো ও গ্লানিময়—সব আজ ধুয়ে যাক, পয়লা বৈশাখের আনন্দ স্রোতে। আবহমান বাঙালির প্রাণের উৎসব আজ। আটপৌরে বেশ ছেড়ে আজ আমরা মেতে উঠব বর্ষবরণের বর্ণিল ও মহাআড়ম্বর উৎসবে। স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসে রব পড়ে যাবে বঙ্গদেশের সব প্রান্তরে। ঢোল বাজবে তাকদুম তাকদুম। লাল-সাদা রঙে ছেয়ে যাবে সবাই। ১৪১৬কে ফেলে নতুন বছরকে আমরা বরণ করে নেব সুরে, রঙে আর ঢঙে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বলা হয়, যে জাতির উৎসব নেই, সে জাতির কোনো প্রাণ নেই, চলার শক্তিও নেই। তাই বাঙালি হিসেবে আমাদের গর্বের শেষ নেই। ছয়টি ঋতু ঘিরে বাঙালির অসংখ্য উৎসব, আর উৎসব ঘিরে নানা আয়োজন। বর্ণ-গন্ধ-রঙে ছাপিয়ে যায় এখানকার উৎসবচর্চা।
চৈত্রের শুরু থেকে জানান দিতে থাকে বৈশাখ। তাপমাত্রা হয়ে যায় উত্তপ্ত। শীতের সোনালি সূর্যের কিরণ হয়ে দাঁড়ায় রক্তলাল। প্রকৃতির আশীর্বাদে বহুকাল থেকে বঙ্গদেশে ঋতুবৈচিত্র্য ছিল প্রাচুর্যময়। আজ যেন প্রকৃতিমাতাও বিরূপ। ভগ্ন প্রকৃতির মতো ভগ্নশরীর নিয়ে হাঁটছে বাংলাদেশও। তাই প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের লক্ষণ বোঝা কঠিন। তবুও নগরে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া, স্বর্ণচূড়া, সোনালু আর নাগকেশর। অনুসন্ধানী চোখ শালের হলদে সাদা, নরম রোমশ ফুলের সন্ধানও পেতে পারে। পথতরুর এমন বর্ণিল আয়োজন আর আম্রমুকুলের ঘ্রাণ দিনকয়েক আগে থেকেই বলে দেয় বৈশাখের আগমনের কথা। তাড়া দেয় বৈশাখ উদ্যাপনের। গ্রামের ন্যায় ভাঁটফুলের সন্ধান মিলবে না খুব। তবুও রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া আর সোনালি স্বর্ণচূড়া-সোনালুদের ভালোবাসার তীব্র রং নববর্ষের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। প্রকৃতির এ অকৃত্রিম উপঢৌকনের পাশাপাশি মানুষের ফুল-ব্যবসাও কম যায় না। পুরো শহর আর হরেক রকম ফুলের বিশাল পসরা নিয়ে বসেছে। এসব কিছু নিয়েই নগরের শাহবাগে বসবে লাল-সাদার মেলা, বেলীর সুগন্ধ আর সবার উচ্ছ্বাস।
বাংলা নববর্ষ পালনের রীতি অনেক পুরোনো। কালে কালে তাতে পরিবর্তনের অনেক হাওয়া লেগেছে। বদলে গেছে বাঙালি সাজে, আচরণে, সংস্কৃতিতে। তবে প্রাণের আবেগ আর উদ্দীপনার কমতি ছিল না কোনো কালেই। মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। সেকালে কৃষিকাজের সুবিধার জন্য সম্রাট এ নতুন সনের ঘোষণা দেন। হিজরি চান্দ্র সন ও বাংলা পৌর সনকে ভিত্তি করেই প্রবর্তিত হয় বাংলা সন। প্রথমে এ সনটি পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা বঙ্গাব্দ হিসেবে নাম পায়। পালাবদলে নতুন বছর এলে মানুষ মেতে উঠত নানা আয়োজনে। জমিদারি প্রথায় প্রজারা নতুন বছরের প্রথম দিনের আগে নিজ নিজ ভূস্বামীদের খাজনা দিত। পরদিন ভুস্বামীরা তাদের মিষ্টি খাওয়াত। একে ঘিরে ওই অঞ্চলে বসত মেলা, নানা লোকউৎসব, সংগীত ও পালাগানচর্চা। নতুন বছরের প্রথম দিন ঘিরে আরও পালন করা হতো ‘হালখাতা’ হালখাতার সেই রেশ আজ অবধি চলে আসছে। আজও ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাবনিকাশের পাট চুকিয়ে বছরের প্রথম দিন নতুন খাতা খোলে। পুরোনো খদ্দেরদের নিয়ে আজও পড়ে মিষ্টি খাওয়ার ধুম। নববর্ষের এ উৎসব চর্চায় বাংলার গ্রামীণ জীবন-জীবিকা আর সংস্কৃতির একটা গভীর বন্ধন আছে। আজকাল এ বদলের দুনিয়ায় গ্রামের চেয়ে শহুরে নববর্ষের রঙ্গ অনেক বেশি, রূপ অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। তাই চাকচিক্যের ঝলকানির ধাঁধায় ফেলে দেয় আমাদের। কিন্তু যে বর্ণে আর ঢঙেই শহুরে বর্ষবরণ সাজুক না কেন, তার সবকিছুই চিরায়ত গ্রামীণ সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য উপাদান। শহুরে বর্ষবরণের হাজারও আয়োজন-আত্তির মূল সুর গ্রামের লোকজ সংস্কৃতির মাঝেই আটকে গেছে।
গ্রামের বর্ষবরণের প্রাণ হলো মেলা, লোকজ নানা উৎসব আর বহুকাল ধরে চলে আসা নানা লোকরীতির ধারা। সবার প্রত্যাশা থাকে অনেক, বছরের প্রথম দিনটিতে ভালো খাওয়া, ভালো থাকা আর ভালো কিছু পরার মধ্য দিয়ে আশা করা হয় বছরের বাকি দিনগুলোও তেমনই যাবে। আমরাও তাই বছরের প্রথম দিনটি ধুমধাম করে বরণ করে নিতে চাই। সে জন্যই আমরা রমনার বটমূলে ভোরের প্রথম সূর্যরশ্মির ছোঁয়ায় বৈশাখকে বরণ করে নেব। তারপর চারুকলার বর্ণিল শোভাযাত্রায় প্রাণের ডাকে মিলে দূর করে দেব আমরা সব অমঙ্গল আর অশুভ শক্তিকে। সঙ্গে মেলার হইরই তো আছেই।
প্রতিটি বছর শুরু হয় এক একটি স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্ন নিয়েই বছরটির এক-দুই করে দিন চলতে থাকে। আমাদের সব স্বপ্নের শতভাগ বাস্তবায়িত হোক ১৪১৭তে। সব অশুভ শক্তিকে হটিয়ে আমরা বাঙালি চেতনার জয়গান গাইতে চাই। প্রাণের মাঝে ধারণ করতে চাই শতবর্ষের এ বাঙালি সংস্কৃতিকে। পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা সবাইকে।

বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া by আনিসুল হক

বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া আসে মৃদুমন্দ
আনে আমার মনের কোণে সেই চরণের ছন্দ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈশাখ এলে আমার শৈশবের কথা মনে পড়ে। আমাদের রংপুর শহরের উপকণ্ঠে চড়কের মেলা বসত চৈত্রসংক্রান্তির দিনে। তাতে প্রধান আকর্ষণ ছিল ঘুড়ি। নানা বর্ণের ঘুড়ি যে শুধু মেলায় উঠত, তা-ই নয়, ঘুড়ির কাটাকাটি খেলার প্রতিযোগিতাও হতো প্রতিটি চৈত্রসংক্রান্তিতে। মেলার আগে আগে আমাদের পাড়ায় ঘুড়ির সুতোয় মাঁজা দেওয়ার ধুম পড়ে যেত। কাচ গুঁড়ো করে মাড়ের সঙ্গে মিশিয়ে সুতোয় মেখে মাঠের মধ্যে টানা দিয়ে রোদে শুকানো হতো। তারপর চড়কের মেলার দিন মেলার আকাশে কত যে ঘুড়ি। আগে-পরে সমস্ত শহরের আকাশেই ঘুড়ি আর ঘুড়ি। তখন মাঠ-ঘাট ছিল প্রচুর, শহরের মধ্যেই ধানখেত ছিল। ভোকাট্টা হয়ে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে ধানখেত, পুকুর, নালা-নর্দমা পেরিয়ে নিজেই কত ছুটেছি। কিন্তু চড়কের মেলায় যে পিঠে আংটা বিঁধে মানুষকে শূন্যে ঘোরানো হয়, ওই ভয়ংকর দৃশ্য কখনো দেখিনি, এর কথা জানতামই না। আর আমাদের গ্রামের বাড়িতে বিখ্যাত ছিল বারুণীর মেলা। একবার সেই মেলায় যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েছিলাম। তখন নিতান্তই বালক। হাঁটছি হাঁটছি, হাঁটার শেষ নেই, বোধ হয় মাইল বিশেক হাঁটার পর পৌঁছানো গেল মেলাস্থলে। অনেক তরমুজ আর রসুন দেখেছিলাম মেলায়, সেটা মনে পড়ে। গরুগাড়িগুলো একটা বৃত্তের গায়ে একটা সরলরেখার মতো কাত হয়ে আছে মাটিতে, গরুগুলো চাকার সঙ্গে বাঁধা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে পিঁপড়ের সারির মতো, আর মেলা প্রাঙ্গণ থেকে ভেসে আসছে মানুষের গমগম আওয়াজ। আমাদের গ্রামের বাড়িতে এই মেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য রসুন সব গোছগাছ করা হচ্ছে, রসুনের সাদা খোসায় ঘর ভরে গেছে, উঠোনেও রসুনের খোসা উড়ছে, এই দৃশ্যটা মনে পড়ে। মেলার উপলক্ষ আদিতে ছিল ধর্মীয় পার্বণ, কিন্তু সব মেলার একটা বাস্তবিক প্রয়োজনও থাকে, তা হলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করা। কামার, কুমোর, তাঁতি, চাষা—সবাই সারাটা বছর অপেক্ষা করে মেলার দিনটার জন্য, যার যার মতো করে পণ্য প্রস্তুত করে দিনরাত খেটে, খেলনা, পুতুল, বাঁশ, বেত, পোড়ামাটির সামগ্রী, চুড়ি, ফিতা, মিষ্টি, মণ্ডা, মিঠাই থেকে শুরু করে ওই তরমুজ কিংবা রসুন। সবাই যার যার পণ্য নিয়ে ছুটল মেলায়। বিকিকিনি দুটোই চলল। কৃষক তার কৃষিপণ্য বেচে হয়তো শিল্পপণ্য কিনল কিছু। তারপর বাড়তি টাকা দিয়ে জিলেপি বা রসগোল্লা খেয়ে ঠোঙা ভরে নিয়ে চলল বাড়ির জন্য। কেউ বা বসে গেল জুয়ার আসরে, বাবার হাত থেকে ফসকে ছেলে হাঁ করে তাকিয়ে আছে পুতুলনাচের প্যান্ডেলের দিকে। এ রকমই কোনো বাবা ছেলের নাম ভুলে গিয়ে হাঁক পাড়ছিলেন, আমি কার বাবা, আমি কার বাবা! মেলা থেকে ফেরার সময় প্রত্যেকেই খানিকটা রং নিয়ে ফেরে, হাতে অবশ্যই থাকবে রঙিন ঘূর্ণি, লাটিম, পুতুল, চুড়ি-শাড়ি, টমটম, বাঁশি, হাতপাখা, হাওয়াই মিঠাই—যা-ই আসুক না কেন, সেসবের একটা অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো রং। তীব্র ম্যাজেন্টা, চোখ পোড়ানো হলুদ।
সেই রংটাই যেন আজ দেখতে পাই ঢাকা শহরের পয়লা বৈশাখে। নববর্ষ বাংলার গ্রামগঞ্জে, শহর-বন্দরে চিরটা কালই ছিল হালখাতার উৎসব। ব্যবসায়ীরা তাঁদের বাকিবকেয়া আদায় করার জন্য দেনাদারদের নিমন্ত্রণ করে আনেন নিজ ব্যবসাস্থলে, মিষ্টিমুখ করিয়ে বাকিটা আদায় করে নেন। পাকিস্তান আমলে যখন আক্রমণ এল শাড়ি কিংবা টিপ, রবীন্দ্রসংগীত তথা বাঙালির সাংস্কৃতিক চিহ্নগুলোর ওপর, তখন বিপুল বিক্রমে জেগে উঠল আমাদের নাগরিকেরা, ছায়ানট বর্ষবরণের আসর বসাল রমনায়, সেটা আস্তে আস্তে হয়ে উঠল আমাদের অন্যতম প্রধান উৎসব। ঢাকায় বৈশাখী মেলাও বসতে লাগল। তারপর, আশির দশকের শেষে গণ-আন্দোলনের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে চারুকলা থেকে বেরোতে লাগল আনন্দ শোভাযাত্রা। এটা নাকি প্রথম হয় যশোরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছিল ‘এরশাদ ভ্যাকেশন’, ঢাকা-পড়ুয়া যশোরের ছেলেরা বসে থেকে কী করবে, আচ্ছা পয়লা বৈশাখটাই একটু বর্ণাঢ্য করে পালন করা যাক। এইভাবে তারা শুরু করেছিল। তারপর শুরু হলো ঢাকায়। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর বড় করে হলো ডিসেম্বরের বিজয় উৎসব, আরও বড় করে হলো নববর্ষের রংদার শোভাযাত্রা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার চত্বর থেকে। ওই শোভাযাত্রায় তখন যোগ দিতাম, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে যে লাফালাফিটা করতাম ঢোলের বাড়ির সঙ্গে, তার বর্ণনা করার জন্য অভিধানে একটা শব্দ আছে—তাণ্ডব।
এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে আমাদের দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো। ভাবতেই ভালো লাগে, প্রতিটা উৎসবের জন্য তারা একটা করে রংও নির্বাচন করে দিতে পেরেছে। ফাল্গুনের উৎসবে বাসন্তী রং, যেন পৃথিবীর সব গাঁদা ফুটেছে বাংলার প্রতিটি জনপদে। একুশে ফেব্রুয়ারির রং সাদা আর কালো। বর্ষায় নীলাম্বরি। আর বৈশাখে? লাল আর সাদা! কে কবে এই রংগুলো নির্বাচন করে দিল, কে জানে, কিন্তু দাঁড়িয়ে গেছে।
আজ পয়লা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটা। চৈত্রের শেষ দিনগুলোয় দোকানে এমন ভিড় লেগে যায় যে ব্যবসায়ীদের মুখের হাসি আকর্ণ বিস্তৃত হয়। কাপড়-চোপড়, গয়নাগাটি, মিষ্টিমিঠাই থেকে শুরু করে ইলিশ মাছ পর্যন্ত সব বিকোচ্ছে দেদার! আর ছুটির দিন পেয়ে লাল-সাদা পাঞ্জাবি পরে ছেলেরা, শাড়ি পরে মেয়েরা, এমনকি আমাদের গার্মেন্টসের কর্মীরা দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ছে, ঘুরছে রাস্তায়, পার্কে, মেলায়! কিছুই করার নেই, শুধু হাঁটা, তাতেই আনন্দ! তাদের গালে রঙিন আল্পনা, তাদের খোঁপায় ফুলের মালা, দেখে আমার দুই চোখে আনন্দে জল চিকচিক করে! আহা! একটা দিন আমরা দিতে পেরেছি এদের, একটা মাত্র দিন, যেদিন সবাই সমান।
আমাদের বিশাল বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের কাছে বাংলা পঞ্জিকা নিত্যদিনের বাস্তবতা! কবে বীজ বুনতে হবে, কবে ধান কাটা হবে—সবই হয় বাংলা পঞ্জিকা ধরে। আমাদের কৃষকেরা হয়তো আজকেও পান্তায় ইলিশ খাবে না, তাদের পান্তায় কোনো দিনও ইলিশ থাকে না, থাকে একদলা নুন, শুকনো মরিচপোড়া, কিন্তু সকালে তারা পান্তাটা খায়ই। পান্তা খাওয়াটা সহজ বলে। পান্তাটাই কেবল নুন-মরিচ দিয়ে খাওয়া যায়, গরম ভাত খেতে হলে একটু তরকারি লাগে যে! কত যে ভোরবেলা তারা ওঠে ঘুম থেকে, লাঙল কাঁধে খেতে যায়, ১০টা-১১টার সময় পান্তাবেল, মানে পান্তার ব্রেক, রাতেই ভাতে পানি দিয়ে রাখা হয়েছিল, এতক্ষণে সেটা ফারমেন্টেশনের ধাপ পেরিয়ে বড় সুস্বাদু হয়ে উঠেছে। তবুও আমাদের নাগরিকেরা যে শখের পান্তা খায় বছরে একটা দিন, তারও একটা ভালো দিক, ইতিবাচকতা আছে। মানুষ চিরটা কাল তার উৎস, তার শেকড় সন্ধান করেছে। তার জীবন-যাপনের আদি চিহ্নগুলো, বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করেছে, পুনরাবিষ্কার করেছে, উদ্যাপন করেছে।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘মানুষের উৎসব কবে? মানুষ যেদিন আপনার মনুষ্যৎবের শক্তি বিশেষভাবে স্মরণ করে, বিশেষভাবে উপলব্ধি করে, সেই দিন। যেদিন আমরা আপনাদিগকে প্রাত্যহিক প্রয়োজনের দ্বারা চালিত করি, সেদিন না—যেদিন আমরা আপনাদিগকে সাংসারিক সুখ-দুঃখের দ্বারা ক্ষুব্ধ করি, সেদিন না...প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকী। কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যৎবের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।’
আজ আমাদের সেই মেলার আর মেলানোর দিন। মেলা কথাটার মধ্যেই যে মিলের কথা আছে, মিলনের কথা আছে। আজ আমরা মিলব আর মেলাব। আজ আমরা একা আর ক্ষুদ্র নই, সবার সঙ্গে মিলিত হয়ে আমরা বিরাট।
আজ সমস্ত বাঙালি, সমস্ত আদিবাসী, সবাই মিলেছি উৎসবে, আমাদের নিজস্ব এক উৎসবে, আমাদের ফসলি সনের প্রথম দিনটার উৎসবে, সম্রাট আকবরের আমল থেকে যে সনটা বহু প্রাচীন পঞ্জিকার সঙ্গে সমন্বিত হয়ে প্রচলিত হলো! আজ মনুষ্যৎবের সামগ্রিকতার শক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ক্ষুদ্রতাকে অতিক্রম করার দিন।
আজ সারা বাংলাদেশের পথে পথে বেরিয়ে পড়া উদ্দাম তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের দিকে তাকিয়ে বুকটা ভরে ওঠে, আমরা আরেকবার এ জাতির মহত্ত্ব আর মাহাত্ম্য নিয়ে আশ্বস্ত বোধ করতে পারি—এই সপ্রাণ স্বতঃস্ফূর্ত জাতির আত্মাকে কে রুখতে পারবে? বাঙালি অজেয়, বাংলাদেশ চির অপরাজেয়।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

স্বাগত পয়লা বৈশাখ

নতুন বাংলা বছরের আহ্বান সঙ্গে নিয়ে আবার এল পয়লা বৈশাখ। তার এই আসা যেন জানিয়ে দিল—জীবন বয়ে চলছে, পুরাতনের জায়গায় এসেছে নতুন। চৈত্রের দাবদাহে শুষ্ক হয়ে ওঠা প্রকৃতি ও মানুষের মন বৈশাখী ঝড় আর নববৃষ্টির স্নানে সিক্ত হয়ে নতুন করে জাগবে। প্রকৃতির সুরে সুর মিলিয়ে মনও বলে উঠবে, ‘বেড়া ভাঙ্গার মাতম নামে উদ্দাম উল্লাসে।’ নির্মল আনন্দ-উল্লাসের এই নববর্ষে সবাইকে স্বাগতম।
বৈশাখের বৃষ্টির পরই জমিতে লাঙল নামান কৃষক। তার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার কৃষিজীবন যেন মেতে উঠতে চায় জীবনের উদ্যাপনে। গ্রামবাংলাজুড়ে অজস্র মেলা-আড়ং, শিশু-কিশোরদের আত্মভোলা আনন্দ আর সংসারী ও কারবারি মানুষের হালখাতার মধ্য দিয়ে পুরো সমাজই যেন পুনর্জীবন লাভ করে, নবায়িত হয়। সামাজিকতাহীন, নির্মল আনন্দের অবকাশহীন এই দেশে পয়লা বৈশাখ তাই সব গুমোট ও আবডাল ভেঙে প্রাণের উচ্ছ্বাসের দিন। নিঃস্বার্থ মিলনমেলায় আজ পথ-ঘাট, মাঠ-মঞ্চ ভরে উঠবে। অজস্র তরুণ-তরুণী তাদের রঙিন পোশাক আর রঙিন চোখের দেখাদেখি দিয়ে দিনটিকে তুলবে রাঙিয়ে। বাসন্তী রঙের আবির মাখানো প্রাণের এই উৎসবে নিরেট হতাশাবাদী ছাড়া আর সবাই নতুন করে ভাববে, জীবন এখনো সুন্দর। আকাশে তখন পুঞ্জ পুঞ্জ সাদা মেঘের পেখমের মধ্যে বৈশাখের ছাইরঙা মেঘ ঝড়ের আভাস দিলেও আরেকটি বছরের জন্য জীবন গুছিয়ে নিতে ভুলবে না মানুষ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় তাই বলা যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’
বৈশাখে এই নববর্ষবরণ পারস্যের নওরোজ বা ইংরেজি নববর্ষের তুলনায় একদিক থেকে অনন্য। বাংলা নববর্ষের মতো ধর্মনিরপেক্ষ সর্বজনীন উৎসব বিশ্বে বিরল। বিশ্বে প্রচলিত প্রধান প্রধান বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি যেখানে ধর্মের সঙ্গে জড়িত, সেখানে সম্রাট আকবরের চালু করা বাংলা নববর্ষের যোগ যেন জীবনের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে। আদিতে বাংলা নববর্ষ প্রচলন কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের নিমিত্তে হলেও দিনে দিনে এটা হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় উৎসব। গ্রামীণ চরিত্রের এ উৎসবটি ষাটের দশকে বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে পুষ্ট করে। তখনই ভেদাভেদের সমাজে এটি হয়ে ওঠে সর্বজনীন, গ্রামের আবহে জন্ম নিলেও শহরও এর সুধা পান করে ধন্য হতে থাকে।
পয়লা বৈশাখের আমেজ এখন শহরেই বেশি। এবং খেয়াল করার বিষয়, শহুরে মধ্যবিত্তের পাশাপাশি শহুরে শ্রমজীবী তরুণ-তরুণীরাও একে নিজেদের মতো করে আলিঙ্গন করেছে। নববর্ষকে ঘিরে দেশীয় পোশাক ও খাদ্যরুচি কেবল মর্যাদাই পায়নি, বাঙালিয়ানা জীবনধারা নতুন বেগ ও আবেগ অর্জন করেছে। পয়লা বৈশাখের এই আনন্দপ্রবাহ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। দেশের সব মানুষ একসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতার ভাষায়ই বলে উঠুক—‘এসো হে বৈশাখ।/ তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক \’

পেরুতে হিমবাহ ধসে সুনামি, নিহত ৩

পেরুর আন্দিজে গত রোববার একটি বিশালাকৃতির হিমবাহ ধসে কারহুয়াজ শহরের কাছে এক হ্রদে পড়লে ৭৫ ফুট উঁচু সুনামি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ওই জলোচ্ছ্বাসে অন্তত তিন ব্যক্তি ভেসে গেছেন। নষ্ট হয়ে গেছে ওই শহরের একটি পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। গত সোমবার সে দেশের সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী ব্যক্তিরা জানান, রাজধানী লিমার ২০০ মাইল উত্তরে কারহুয়াজ শহরের একটি লেকে এক হাজার ৬৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৬৫৬ ফুট প্রস্থের হুয়াক্লান হিমবাহটি গত রোববার ধসে পড়ে।
পেরুর খনি প্রকৌশলী ইনস্টিটিউটের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিসিও ভাদেরামা বলেন, হিমবাহের অংশটি হ্রদে পড়ার পর হ্রদের তীরের ২৩ মিটার উঁচু মাটির বাঁধ ভেঙে পড়ে। এতে বোঝা যায়, সুনামি ঢেউটির উচ্চতাও ২৩ মিটার ছিল।
পেরু কর্তৃপক্ষ আরও হিমবাহ ধসের আশঙ্কায় পর্বত উপত্যকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়েছে।
বিশ্বের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ৭০ ভাগ তুষার এলাকা পেরুতে অবস্থিত। এ হিমবাহ ধসের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, পেরুর বরফ গলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণতা বাড়ার কারণে আগামী ২০ বছরের মধ্যে পেরুর সব বরফ গলে যাবে।
১৯৭০ সালে হুয়াসকারান পার্বত্য এলাকায় এক তুষারধসে ইয়ুঙ্গে শহর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এতে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়।

সুদানের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময়সীমা দুই দিন বেড়েছে

সুদানের বহুদলীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় দুই দিন বাড়িয়ে পাঁচ দিন করা হয়েছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচন শেষ হবে কাল বৃহস্পতিবার। ভোট নেওয়া শুরুর পর অনেক স্থানে ব্যালট পেপার পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এবং ভোটার তালিকায় অনেক মানুষের নাম না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় নির্বাচন-প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। এ কারণে গত সোমবার দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন (এনইসি) ভোট নেওয়ার সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম পুরো সুদানে বহু দলের অংশগ্রহণে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে তিন দিন ভোট গ্রহণের কথা ছিল।
এনইসির মুখপাত্র সালাহ হাবিব বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পুরো সুদানে ভোট গ্রহণের সময় আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের একটি গ্রুপ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আবার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে

ফার্স্ট লেডি মারিয়া কাচজিনস্কির মরদেহ পোল্যান্ডে পৌঁছেছে

পোল্যান্ডের ফার্স্ট লেডি মারিয়া কাচজিনস্কির মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়া থেকে ওয়ারশ এসে পৌঁছেছে। তাঁর মরদেহ ওয়ারশ বিমানবন্দরে পৌঁছালে বৃষ্টির ভেতর গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির পাশে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে। আগামী রোববার তাঁদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে এক শোকবই খোলা হয়েছে। কাচজিনস্কির মরদেহ গত রোববার দেশে এসে পৌঁছেছে।
গত শনিবার রাশিয়ায় এক বিমান দুর্ঘটনায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯৬ জন নিহত হন।

চাঁদ ও মঙ্গলে পানি থাকার আরও প্রমাণ মিলেছে

চাঁদে কিছু ছোট ছোট গর্তে কমপক্ষে ছয় ফুটের মতো পুরু জমাট বরফের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, গবেষকেরা এ তথ্য দিয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত দুটি গবেষণার একটিতে জানা যায়, চাঁদে ও মঙ্গলে পানি থাকার আরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি মঙ্গলে বরফ গলেছে এবং তা আবার জমাট বেঁধেছে।
হিউস্টনের লুনার অ্যান্ড প্লানেটারি ইনস্টিটিউটের পল স্পুডিস এবং তাঁর সহকর্মীরা ভারতের মহাকাশ যান চন্দ্রযান থেকে পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখতে পান যে চাঁদের গর্তে জমাট বাঁধা পুরো বরফ থাকার প্রমাণ আছে।
জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে লেখা হয়েছে, চাঁদে ধূমকেতু ও উল্কাপিণ্ডের মতো পানিবাহী বস্তু চাঁদে আঘাত করে এবং ভূতাত্ত্বিক সময়ে সৌর বাতাস হাইড্রোজেন দিয়ে প্রোথিত হয়। এসব কিছু বস্তু অবশ্যই এই পথকে শীতল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছে। গবেষকেরা বৃত্তাকার মেরুকরণ অনুপাত পরিমাপ করেছেন। সেখানে দেখানো হয়েছে, তল অস্বাভাবিক রকমের অমসৃণ; অথবা সেখানে ৬ থেকে ১০ ফুট বরফ রয়েছে। দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলে ছয় ফুট প্রশস্ত নালা গত দুই বছরে প্রায় ৪০০ ফুটের মতো লম্বা হয়েছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জার্মানির মুনস্টারের ওয়েস্টফালিচ উইলহেমস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর প্লানেটোলজির ডেনিস রিস ও তাঁর সহকর্মীরা বলেন, এর ব্যাখ্যা হতে পারে যে, বরফের ছোট্ট একটা অংশ গলছে।
একই জার্নালে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের নালাতে অন্ধকারের মতো কিছু স্থান। আছে ছোট ছোট নতুন নালা। মঙ্গলের তল যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ায় বরফ গলছে।

সেনাবাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা নিশ্চিত করব: জে. বিজয় কুমার

ভারতের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল বিজয় কুমার সিং সম্প্রতি ভারতীয় সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই কথোপকথনের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: নতুন সেনাপ্রধান হওয়ার পর দেশবাসী ও সেনাবাহিনীর প্রতি আপনার বক্তব্য কী?
জেনারেল বিজয়: আমার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার। আমি যুদ্ধ ও শান্তির সময় সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে সব দায়িত্ব সফলভাবে সম্পাদন করতে চাই। এটা আমার জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনীর যেসব আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলো যেন ঠিকঠাক পূরণ হয়, সেগুলো আমি নিশ্চিত করতে চাই।
প্রশ্ন: সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আপনার প্রথম কাজ কী ছিল?
জেনারেল বিজয়: আমি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁদের মধ্যে অনেক প্রবীণ ব্যক্তিও ছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে সফল হতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমার লক্ষ্য খুব সহজ ও সোজা। আমি সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের শক্তিশালী ও পেশাদারি বাহিনীতে পরিণত করতে চাই।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির কিছু অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে...
জেনারেল বিজয়: ভারতে সেনাবাহিনীই একমাত্র সংস্থা, যেখানে প্রতিটি অনৈতিক কার্যকলাপের বিচার হয়েছে। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে—এটাই সেনাবাহিনীর নীতি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এই নীতি অক্ষুণ্ন থাকবে। সেনাবাহিনী পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। পেশাদার সৈনিকদের আত্মসম্মান, নৈতিকতাবোধ ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।
প্রশ্ন: ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জেনারেল বিজয়: সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সেনাবাহিনী সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত কি না, তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এখানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, নিয়োগসহ অনেক কিছু জড়িত। কেবল অস্ত্রশস্ত্র ও যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণই সবকিছু নয়।

শর্ত সাপেক্ষে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ

কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন। তবে এ জন্য নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশকিছু শর্ত দিয়েছেন তিনি। বাকিয়েভের এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে বাকিয়েভের সমর্থনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে গতকাল মঙ্গলবার মিছিল করেছে তাঁর সমর্থকেরা। প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, শর্ত সাপেক্ষে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি আছেন। বাকিয়েভের শর্তগুলো হলো: প্রথমত, দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহিংসতার জন্য দায়ী অস্ত্রধারীদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁর (বাকিয়েভ) ও তাঁর পরিবার এবং স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারকে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দিতে হবে।
এর আগে বাকিয়েভকে গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যেই পদত্যাগ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিল দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধান আজিমবেক বেকনাজারোভ গতকাল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
গতকাল জালালাবাদে বাকিয়েভের হাজার হাজার সমর্থক তাঁর সমর্থনে মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাকিয়েভকে ক্ষমতা দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অপরাধী চক্র’ বলে আখ্যায়িত করেন। নিজেকে বৈধ প্রেসিডেন্ট বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভের সময় নিয়োগ পাওয়া মধ্যমসারির অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বনেধর ডাক

পেট্রোলিয়াম পণ্য ও সারের দাম কমানোর দাবিতে মনমোহন সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ২৭ এপ্রিল দেশব্যাপী বনেধর ডাক দিয়েছে ভারতের ১৩টি রাজনৈতিক দল। একই দাবিতে পার্লামেন্টে অর্থবিলের সংশোধনী প্রস্তাব আনার কৌশলও গ্রহণ করেছে দলগুলো। গত সোমবার রাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) সাধারণ সম্পাদক এ বি বর্ধন বলেন, জ্বালানি ও সারের দাম কমানোর দাবিতে অর্থবিলে সংশোধনী প্রস্তাব ও আগামী ২৭ এপ্রিল দেশব্যাপী বন্ধ্ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দাবি মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য পার্লামেন্টে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ১৩ দলের নেতারা। দলগুলো হলো সিপিআই, সিপিআই (এম), অল-ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক (এআইএফবি), রেভ্যুলশনারি সোশালিস্ট পার্টি (আরএসপি), এআইএডিএমকে, বিজু জনতা দল, জনতা দল (ধর্মনিরপেক্ষ), ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোক দল (আইএনএলডি), লোক জন শক্তি পার্টি (এলজেপি), সমাজবাদী পার্টি (এসপি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), রাষ্ট্রীয় লোক দল ও তেলেগুদেশম পার্টি (টিডিপি)। ১৫ এপ্রিল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অধিবেশন বসছে।
বিরোধী নেতারা বলেছেন, অর্থবিল সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য নয়। এ সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ের জন্য। এসপি প্রধান মুলায়ম সিং যাদব ও আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব বলেন, ‘আমরা চাই না সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কিন্তু যদি কোনো অঘটন ঘটে, তার জন্য সরকার দায়ী থাকবে।’
সরকার লোকসভায় নারী আসন সংরক্ষণ বিল উত্থাপনের মাধ্যমে বিরোধীদের মধ্যে বিভক্তির চেষ্টা করতে পারে—এ সম্ভাবনা নিয়েও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুলায়ম সিং যাদব বলেন, নারী আসন সংরক্ষণ বিল নিয়ে যদি বৈঠকের প্রয়োজন হয়, তাহলে ১৩ দলের নেতারা আবারও বৈঠকে মিলিত হবেন।
বৈঠকে সিপিআইয়ের (এম) প্রকাশ কারাত, এআইএফবির দেবব্রত বিশ্বাস, আইএনএলডির ওম প্রকাশ চৌতালা, আরজেডির অজিত সিংহ, টিডিপির এন চন্দ্রবাবু নাইড়ু, সিপিআইয়ের (এম) সীতারাম ইয়েচুরি, আরএসপির অবনী রায়, সিপিআইয়ের ডি রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মাঠের বাইরে রাউল

বার্সেলোনার বিপক্ষে শুধু ম্যাচটিই হারেনি রিয়াল মাদ্রিদ, ওই ম্যাচে ‘হারিয়েছে’ রাউল গঞ্জালেসকেও। ডান হাঁটুতে চোট পাওয়া স্ট্রাইকারকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। অবশ্য নিয়মিত প্রথম একাদশেই জায়গা হয় না রিয়ালের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়টির।

এক মাসের জন্য ছিটকে গেলেন ইনিয়েস্তা

চিকিৎসকদের আশঙ্কা সত্যি হলে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দুটো লেগেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে পাবে না বার্সেলোনা। অনুশীলনে চোট পাওয়ায় এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন এই মিডফিল্ডার। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে বার্সার সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ২০ এপ্রিল। দ্বিতীয় লেগ আট দিন পর।
ওদিকে বার্সেলোনার বিপক্ষে শুধু ম্যাচটিই হারেনি রিয়াল মাদ্রিদ, ওই ম্যাচে ‘হারিয়েছে’ রাউল গঞ্জালেসকেও। ডান হাঁটুতে চোট পাওয়া স্ট্রাইকারকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। অবশ্য নিয়মিত প্রথম একাদশেই জায়গা হয় না রিয়ালের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়টির।

বিপদে কেকেআর

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা আর কাগজে-কলমের হিসাব—এই দুইয়েই শুধু সম্ভাবনাটা বেঁচে থাকবে। কার্যত চেন্নাইয়ের কাছে ৯ উইকেটে হেরে সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ওয়েবসাইট।
কাল শুরুতেই বড় বিপদেই পড়ে গিয়েছিল কলকাতা। চার ওভারে মাত্র ১৯ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৪ উইকেট। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (৪৮) ও মনোজ তিওয়ারি (২৭) ছাড়া বলার মতো রান পাননি কেউই। সৌরভ গাঙ্গুলী ১০ ও ক্রিস গেইল ৭ রান করে ফিরেছেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ডেভিড হাসি কোনো রানই পাননি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩৯ রান তোলে কলকাতা। মুরালি বিজয়ের অপরাজিত ৫০ আর সুরেশ রায়নার ৩৯ বলে খেলা অপরাজিত ৭৮ রানে ৩৯ বল হাতে রেখেই জিতে যায় স্বাগতিক চেন্নাই। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ধোনির দল।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে কাল জিততে হতো দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকেও। কিন্তু সবার আগে সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কাছে ৩৯ রানে হেরে গেছে তারা। টেন্ডুলকার হাফ সেঞ্চুরি করলেই মুম্বাই জয় পায়, এমন একটা কথাই চালু হয়ে গেছে আইপিএলে। কাল অবশ্য টেন্ডুলকারের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়াই জিতল মুম্বাই। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কিয়েরন পোলার্ডের ১৩ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে তারা। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান তুলতে পারে দিল্লি।

জাভি আসছেন

অর্কেস্ট্রা দেখার সৌভাগ্য নিশ্চয়ই হয়েছে আপনার। সমবেত যন্ত্রসংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় একজনের হাতেই শুধু কোনো বাদ্যযন্ত্র থাকে না। সামনে বসে শুধু কাঠি নেড়ে যান তিনি। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রীকে এক সুরে গাঁথেন আসলে তিনিই। কনডাক্টর।
বার্সেলোনার সেই ভূমিকাটা পালন করছেন জাভি। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফর্মের ঔজ্জ্বল্যে হয়তো পাদপ্রদীপের আলোয় তাঁর আসা হয় না। কিন্তু তাতেও খুব একটা আপত্তি নেই ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের। নেপথ্য নায়কের ভূমিকাতেই তিনি তৃপ্ত।
মেসিরা দুর্দান্ত খেলছেন, কারণ জাভি খেলাচ্ছেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুটো গোলই তাঁর বানিয়ে দেওয়া। মেসি যে দুটো সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, সে দুটোও। ‘পাস-মাস্টার’ জাভি বলছেন, ক্যারিয়ারের সেরা সময় যাচ্ছে তাঁর। আগামী বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিপক্ষরা সাবধান!
পরশু লা ভ্যানগার্ডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে জাভি বলেছেন, ‘আমি যেমনটা বরাবরই বলে এসেছি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার একটা যোগসূত্র তৈরি করতে হয়, যেন সতীর্থরা তাদের মার্কারদের পাহারা থেকে বেরিয়ে দৌড় দিতে পারে। সত্যি বলতে কি, এর চেয়ে বেশি আমি আর কী চাইতে পারি! জীবনের সেরা ফর্মে আছি। কারণ যখন আপনি জিতবেন, সেটি আপনাকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে। সেটি আপনাকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান হয়ে ওঠার অনুভূতি এনে দেবে।’
এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে মাত্র ৬ গোল করেছেন। কিন্তু সরাসরি গোলে অবদান রেখেছেন ১২টি। আরও অনেক গোল, যেগুলোর পাস হয়তো তাঁর পা থেকে যায়নি, কিন্তু মূল কৃতিত্ব জাভিরই। ইনজুরি-ফিটনেস সমস্যায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এই মৌসুমে প্রায়ই ছন্দ হারিয়েছেন। কিন্তু তাঁর প্রভাব দলের ওপর পড়তে দেননি জাভিই। বার্সার প্রাণভোমরা এখন তিনিই। জাভির কারণেই মেসি মাঝমাঠ ছেড়ে আরও বেশি উপরে খেলতে পারছেন। মেসির গোলসংখ্যা দিন দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, তার বড় কারণ তো তিনিই।
‘পাসই আমার বিশেষত্ব। সব সময়ই পাস দেওয়াই ছিল আমার মূল কাজ। কিন্তু সতীর্থদের অবদানই আসল। আমার পাসটা দারুণ একটা পাস হয়ে যায় অন্য প্রান্তে যে দৌড়ে এসে বলটা ঠিকমতো খেলে তার কারণেই’—এই জায়গাতেও পুরো কৃতিত্ব নিতে নারাজ বিনয়ী জাভি।
জাতীয় দলেও জাভিকে বুঝতে পারে এমন খেলোয়াড় তাঁর আশপাশে থাকা জরুরি। আশার কথা হলো, কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক আছেন, সেই দায়িত্বটা তিনিই বুঝবেন। ২০০৮ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটাকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছেন বস্ক। ৪৪ বছর পর ইউরোপ জেতা দলটার টুর্নামেন্ট-সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন জাভিই। স্পেন দলে জেরার্ড পিকে, কার্লোস পুয়োল, ইনিয়েস্তাদের মতো বার্সা-সতীর্থরা তো থাকছেনই, আক্রমণভাগে ফার্নান্দো তোরেস, ডেভিড সিলভা, ডেভিড ভিয়া, দানি গুইজাদের সঙ্গেও বোঝাপড়া তাঁর ভালো।
স্পেনের প্রতিপক্ষরা সাবধান, জাভি আসছেন!

দুঃস্মৃতি ভুলতে অবসর নিলেন আদেবায়োর

৩৮ ম্যাচে ১৬ গোল। টোগোর অধিনায়ক ইমানুয়েল আদেবায়োর এখানেই ইতি টেনে দিলেন তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
বয়স কেবল ২৬, ফর্মটাও ভালোই যাচ্ছে। তার পরও হঠাৎ করে কেন এমন সিদ্ধান্ত? সিদ্ধান্তের মূলে গত জানুয়ারিতে টোগো দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা। অ্যাঙ্গোলাতে আফ্রিকান নেশনস কাপে অনুশীলনে যাওয়ার পথে টোগোর টিম বাসে বন্দুক হামলা চালিয়েছিল একদল সন্ত্রাসী। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল কোচিং দলের দুই সদস্যের। আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। ওই দুঃস্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আদেবায়োরকে। ‘জানুয়ারিতে আমার দুই স্বদেশির জীবন কেড়ে নেওয়া অ্যাঙ্গোলার ওই সন্ত্রাসী হামলার পরই কঠিন এই সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েছি’—বলেছেন আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার।
বিশ্ব ফুটবলে টোগো বড় কোনো নাম নয়। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে খেলেছে মাত্র একবারই। সেই ২০০৬ বিশ্বকাপে সব কটি ম্যাচে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়। তবে ছোট দলের বড় তারকাই আদেবায়োর। ২০০৫-২০০৮, টানা চারবার টোগোর বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন। আফ্রিকান বর্ষসেরার মুকুট পরেছেন একবার। দলের নেতৃত্বভারটাও তাই ন্যস্ত ছিল তাঁর ওপরই। সবকিছুই স্মৃতির মালা হয়ে গাঁথা থাকবে আদেবায়োরের হূদয়ে, ‘নয় বছর টোগোর হয়ে খেলেছি আমি। অ্যাঙ্গোলার ওই হামলাটা বাদ দিলে ভালো কিছু স্মৃতি আছে আমার। আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল বলে আমি গর্বিত।’

দু দিকে গেলেন উডস-এলিন

দুজনই অরলান্ডো ছেড়েছেন। তবে দুজন গেলেন দুই দিকে। গত রোববার অরলান্ডো ছেড়ে যাওয়া টাইগার উডস-পত্নী এলিন গেছেন অ্যারিজোনায়। আর একদিন পর উডস ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে গেছেন অন্য জায়গায়।
অগাস্টা মাস্টার্স শেষ করেই ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন—এই ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন প্রায় ৫ মাস পর আবার কোর্সে ফেরা উডস। উডস কোর্সে ফিরতেই মাস্টার্স টুর্নামেন্টের টিভি দর্শক বেড়ে গেছে। বিতর্ক-টিতর্ক শেষে উডস কী করেন সেটা দেখতেই টিভি খুলে বসেছিলেন মানুষ। গত বছরের তুলনায় এবার ৩৩ শতাংশ দর্শক বেড়েছে বলে জানিয়েছে টিভি চ্যানেল সিবিএস। সিবিএসের দর্শক বাড়াতে পারলেও টুর্নামেন্ট জিততে পারেননি উডস।
সিবিএসের দর্শক বাড়াতে পারলেও উডস এবার কোর্সে দর্শক হিসেবে পাননি স্ত্রী এলিনকে। রাডার অনলাইন ডট কম ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী, অসুস্থ মাকে দেখতে নাকি অ্যারিজোনায় চলে গেছেন তিনি। এর আগে উডসের খেলা প্রত্যেকটি মেজর টুর্নামেন্টেই দর্শক হিসেবে কোর্সে ছিলেন এলিন।

তেভেজ বনাম ফার্ডিনান্ড

ম্যানচেস্টার ডার্বি শনিবার। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ নিয়ে ম্যানচেস্টারে উত্তাপটা টের পাওয়া যাচ্ছে এখন থেকেই। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আসলে ম্যানইউ অধিনায়ক রিও ফার্ডিনান্ড আর ম্যানইউর সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার কার্লোস তেভেজের পাল্টাপাল্টি কথায়।
ম্যানইউর তেভেজ আর ম্যান সিটির তেভেজ যেন ভিন্ন দুজন খেলোয়াড়। দুই মৌসুমে ম্যানইউর জার্সি গায়ে ৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন তেভেজ। এ দু বছরে নিজের ‘নতুন ম্যারাডোনা’ নামটার প্রতি মোটেই সুবিচার করতে পারেননি। নিজের ছায়া হয়ে থাকা ওই দুই বছরে গোল করতে পেরেছেন মাত্র ৩৪টি। এ মৌসুমে ম্যান সিটিতে নাম লেখানোর পরই আবার দেখা দিয়েছেন স্বরূপে। এ পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৮ গোল।
রহস্যটা কী? ওয়েস্টহাম থেকে এত ঝামেলা করে স্বপ্নের ক্লাব ম্যানইউতে গিয়ে কেন এমন হারিয়ে গিয়েছিলেন? আর ম্যান সিটিতে এসেই বা আবার বদলে গেলেন কী করে? তেভেজ প্রকারান্তরে দায়টা চাপিয়ে দিলেন ম্যানইউ ম্যানেজার অ্যালেক্স ফার্গুসনের কাঁধে, ‘ম্যানচেস্টারে (ম্যানইউয়ে) আমাকে রক্ষণ করতে বলা হতো। আর এখন আমি পুরোপুরি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলি। একটা বিষয়ই মাথায় নিয়ে মাঠে নামি—গোল, গোল এবং গোল।’
ম্যানইউ অধিনায়ক রিও ফার্ডিনান্ড অবশ্য দায়ী করছেন তেভেজকেই, ‘তেভেজ একটা অদ্ভুত চরিত্র। অনুশীলনে কখনোই ও পুরো সিরিয়াস ছিল না।’ ম্যানইউ-ম্যান সিটি ম্যাচ এলেই অবশ্য তেভেজকে এমন সব কথা শুনতে হচ্ছে সাবেক সতীর্থদের কাছ থেকে।

ক্রিকেট-বাণিজ্যের হাওয়া এমসিসির গায়ে

ক্রিকেট-বাণিজ্যের হাওয়া মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) গায়েও লেগেছে। এর আগে আইপিএলের একটি দল কেনার চেষ্টাও করেছে ক্রিকেটের আদি ক্লাবটি। সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তবে বাণিজ্যিক পথে এমসিসির অগ্রযাত্রা অব্যাহতই আছে। আগামী জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের যে ‘হোম’ সিরিজটি ইংল্যান্ডে হবে, সেই সিরিজটি স্পনসর করছে এমসিসি। ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা ক্লাবের ২২৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তারা কোনো সিরিজের স্পনসর হতে চলেছে।
১৯১২ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে কোনো টেস্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ৫ ও ৬ জুলাই বার্মিংহামে দুটো টি-টোয়েন্টির পর ১৩ জুলাই এমসিসির মাঠ লর্ডসেই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টেস্ট। দুই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি হেডিংলিতে শুরু হবে ২১ জুলাই থেকে। পুরো সফরটি এমসিসি স্পনসর করবে জানিয়ে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কিথ ব্র্যাডশ বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের সুরক্ষায় এমসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সিরিজের পৃষ্ঠপোষণা এবং প্রথম সিরিজটি আয়োজন করে আমরা পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলাম। এমন এক সময় যখন দেশটির ক্রিকেট-সূচি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ব্র্যাডশর সাবেক ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটারের পাশাপাশি আরও একটা পরিচয় আছে। পেশায় ছিলেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট। লাভক্ষতির হিসাব তিনি ভালোই বোঝেন। বোঝেন, ক্রিকেটের মানচিত্রটাই পাল্টে যাচ্ছে। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে স্রেফ আইনপ্রণেতার ভূমিকা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এমসিসিকে তাই তিনি সনাতন ধারা থেকে বের করে নিয়ে আসতে চান। ব্র্যাডশ অবশ্য পরশু জোর দিয়েই বলেছেন, ‘এই সিরিজটার আয়োজনও অবশ্যই আমাদের অব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই করা হচ্ছে। এটা মূলত পাকিস্তান আর বিকাশমান বিশ্বকে সহায়তা দেওয়া।’
যদিও এমসিসির বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যও গোপন কিছু নয়। ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম লর্ডসকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে ‘সুপার স্টেডিয়াম’ বানাতে ৪০ কোটি পাউন্ডের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডে সিরিজ মানেই লর্ডসের ভেন্যু হওয়াটা এখন আর নিশ্চিত নয় বলে নিরপেক্ষ টেস্ট ভেন্যু হয়ে উঠতেও আগ্রহী তারা। ব্র্যাডশ মনে করেন, ক্রিকেটের অভিভাবকের ভূমিকাটার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এমসিসির এগিয়ে চলায় কোনো বাধা নেই। ‘লর্ডসে এখন থেকে খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ আর হবে না। কোনো টেস্ট ম্যাচের পরিকল্পনা চললেই আমরা চেষ্টা করব সেটি লর্ডসে নিয়ে আসতে। নিরপেক্ষ টেস্ট হলে সাদরে আমাদের দরজা উন্মুক্ত করে দেব’—বলেছেন তিনি।

শোয়েবকে বিদায় বলে দিল সাইক্লোনস

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের সামনে সব সময় মাথা নত করেই রাখতে হয় স্থানীয় ক্রিকেটারদের। কিন্তু এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিচ্ছে অন্য অভিজ্ঞতা। বিদেশি তারকাদের বেশির ভাগই ফ্লপ এখানে। সে তুলনায় বরং মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েসরাই বেশি উজ্জ্বল।
গতিতারকা শোয়েব আখতারকে দলে ভিড়িয়ে চমক দেখিয়েছিল সাইক্লোনস অব চিটাগং। অথচ শোয়েবের পারফরম্যান্সটা দেখুন—তিন ম্যাচে ১১ ওভার বল করে ৯৫ রান দিয়ে মাত্র ১টা উইকেট! রান করেছেন ৮। ম্যাচপ্রতি সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার দিয়ে এমন পারফরম্যান্স মানবে কোন দল! সাইক্লোনস তাই ‘খোদা হাফেজ’ই বলে দিয়েছে শোয়েবকে। পয়লা বৈশাখটা ঢাকায় করে শোয়েব দেশের বিমান ধরবেন আগামীকাল। তাঁর স্বদেশি খুররম মনজুর অবশ্য চলে যাচ্ছেন আজই। তিন ম্যাচে সাইক্লোনসকে তিনি দিয়েছেন ২৯ রান।
একই অবস্থা ঢাকা ডায়নামাইটসের ইমরান নাজিরেরও। সপরিবারে বাংলাদেশে এসে ২ ম্যাচে ২৬ রান করে এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানও এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়। ঢাকা তাঁর জায়গায় শ্রীলঙ্কান থিলান কান্ডাম্বিকে আনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। দুই ম্যাচে ৩০ রান করা ফয়সাল ইকবালকে নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছে না সুলতানস অব সিলেটও।
জীবন মেন্ডিস, নুয়ান জয়সাদের সাফল্যে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে লিগে আরও কিছু শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার যোগ হতে পারেন। রাজশাহী রেঞ্জার্সের হয়ে খেলা একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান এইডেন ব্লিজার্ডও খারাপ খেলছেন না। অথচ আইপিএলে নিষিদ্ধ বলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরাই সবচেয়ে সহজলভ্য ছিলেন এই টুর্নামেন্টে।

আগে এক হাজার গোল...

এত দিন ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গেই তাঁর তুলনা হতো। আরেঠারে ইদানীং পেলেকেও নিয়ে আসা হচ্ছে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনায়। মাত্র ২২ বছর বয়সেই ‘সর্বকালের সেরা’ ‘কিংবদন্তি’ ‘জাদুকর’ ইত্যাদি ইত্যাদি কত শত উপমা-বিশেষণ। পেলে নিজে কী ভাবছেন? ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তির সাফ জবাব, মেসিকে কিংবদন্তি মেনে নিতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আগে এক হাজার গোল তো করুক!
‘ওরা সব সময়ই পেলের সঙ্গে কারও না কারও তুলনা করার চেষ্টা করে। আমি তো আমার আর্জেন্টাইন বন্ধুদের সঙ্গে এই বলে কৌতুক করি, আগে ওরা এটা ঠিক করুক আর্জেন্টিনার সেরা কে। এরপর তাদের কেউ একজন যদি এক হাজার গোল করে, তবেই আমরা আলোচনা শুরু করতে পারি’—এটা পেলের তাচ্ছিল্য না রসিকতা বোঝা একটু কঠিনই।
পেলেকে উসকে দিয়েছেন আসলে ম্যারাডোনাই। কদিন আগে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ইঙ্গিত করেছেন, পেলে না ম্যারাডোনা—বহুদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্ক শেষ করে দিক মেসি। মানে পরিষ্কার, অর্জনে, কৃতিত্ব ও কর্তৃত্বে মেসি যেন ছাপিয়ে যান সবাইকে। তাঁকে পেছনে ফেলে মেসি এগিয়ে গেলেও ম্যারাডোনার চেয়ে খুশি আর কেউ হবেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তাতে যে শেষতক লাভ ম্যারাডোনারই হয়। অধিনায়কের পর কোচ হিসেবেও জেতেন বিশ্বকাপ।
কিন্তু অর্জনের পাল্লায় পেলেকে ছাপিয়ে যায় সাধ্য কার! ১৩৬৩ ম্যাচে ১২৮০ গোল। বিশ্বকাপ জিতেছেন ৩টি। ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের দাবিদার আছেন আরেকজন, পেলেরই স্বদেশি রোমারিও। যদিও তাঁর এই হিসাবে ঘাপলা আছে বলে ব্রাজিলেরই অনেকের ধারণা।
পেলের নিজের সহস্র গোলেরও অনেকগুলোই প্রীতি ম্যাচে। তা ছাড়া তিনি কখনোই ইউরোপে ক্লাব ফুটবলে খেলেননি। পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে দিয়েছেন সান্টোসের হয়ে। ১৮ বছর ব্রাজিলের এই ক্লাবটির হয়ে খেলার পর দু বছর অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রেও খেলেছেন।
অন্যদিকে ২০০৪-০৫ মৌসুমে অভিষেকের পর বার্সেলোনার হয়ে মেসি গোল করেছেন ১২০টি। এর মধ্যে ৪০টিই এই মৌসুমে। ৬৯ বছর বয়সী পেলে অবশ্য মেসির সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিচ্ছেন না। শুধু তা-ই নয়, অনেক আগেই জহুরি চোখ দিয়ে মেসির প্রতিভা তাঁর নজরে পড়েছিল বলেও দাবি করছেন তিনি। তিন বছর আগেই মেসিকে সম্ভাব্য বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন জানিয়ে পেলে বলেছেন, ‘ও সেবার (২০০৭ সালে) জেতেনি, কিন্তু আমার মনে পড়ে, আমি বলেছিলাম, “শিগগিরই ও জিতবে”। একটু সময় লেগেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হয়েছে। ও গ্রেট এক খেলোয়াড়। বার্সেলোনার হয়ে ও দুর্দান্ত খেলে। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে তেমন খেলতে পারে না। হয়তো বিশ্বকাপে ও সেটা খেলবে। দেখাই যাক, কী হয়।’