Tuesday, May 6, 2014

চালকের গোঁয়ার্তুমিতেই লঞ্চডুবি- তদন্ত কমিটির তথ্য

চালকের গোয়ার্তুমির কারণে পটুয়াখালীর গলাচিপায় কালবৈশাখীর কবলে পড়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি শাথিল-১ ডুবে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে গঠিত কমিটি এমন তথ্য জানিয়েছে। লঞ্চডুবির ঘটনায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন ৪ মে অতিরিক্ত জেলা হাকিম মো. দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, 'লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও  দ্বিতীয় দিন আমরা ঘটনাস্থল, উদ্ধার করা লঞ্চ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছি। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে যেসব যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন এবং দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে।' মো. দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত শনিবার দুপুরে এমভি শাথিল-১ লঞ্চটি যখন গলাচিপার ইচাদি ঘাটে ছিল, তখনই কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় যাত্রীরা ওই ঘাট থেকে লঞ্চটি না ছাড়ার জন্য লঞ্চের চালক সুধীর চন্দ্র দাসকে অনুরোধ করে। কিন্তু চালক তা উপেক্ষা করে ইচাদি ঘাট থেকে লঞ্চটি ছেড়ে দেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটিতে তিন লাখ টাকারও বেশি দামের মাছ ছিল। এসব মাছ বিকেল পাঁচটার মধ্যে পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে তাড়াহুড়ো করছিলেন চালক। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য চালক সুধীর চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। লঞ্চডুবির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। ৩ মে দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় যাত্রীবাহী এমভি শাথিল-১ লঞ্চটি ডুবে যায়। এতে ১৬ জন যাত্রী নিহত হন।

চট্টগ্রামে নকশাবহির্ভূত ভবন অপসারণ শুরু

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) নগরের নকশাবহির্ভূত ভবন চিহ্নিত ও অপসারণ করতে অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার নগরের মেহেদীবাগ এলাকায় বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করে চউকের পরিদর্শক দল। এ সময় অবৈধভাবে নকশার বিচ্যুতি ঘটিয়ে ও সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় অন্তত ১০টি ভবনের মালিককে নোটিশ দিয়েছে চউক। এসব ভবনের নকশাবহির্ভূত কিছু অংশ অপসারণ করা হয়। আর ভবনের অবৈধ অংশ পুরোপুরি অপসারণ করতে ২১ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় পরিদর্শক দল। নোটিশ দেওয়া ভবনগুলোর মধ্যে ভিশন ইসলাম ও ভিশন শাহানা ভবন, কমপোর্ট হাইটস, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছয়তলা ভবন রয়েছে। চউকের অনুমোদিত কর্মকর্তা-২ প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম প্রথম আলোকে জানান, পাঁচটি কারণে এই অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ, চউকের নকশা অবৈধভাবে বিচ্যুতি ঘটিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন, ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা। মোহাম্মদ শামীম বলেন, নগরের অবৈধ ভবনগুলো চিহ্নিত করার জন্য এক মাস ধরে প্রাথমিকভাবে এই অভিযান চলবে। এরপর ভবনগুলো উচ্ছেদ করার জন্য বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভিশন ইসলাম ও ভিশন শাহানা ভবনের মালিক আতাউল হক বলেন, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে ভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভবনটি চউকের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে আজকের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চউকের উপপ্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, অনুমোদিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী প্রমুখ।

হল-মার্কের ১০ মামলায় আসামি ২১

বাংলাদেশে আর্থিক খাতে সবচেয়ে বিতর্কিত হল-মার্ক দুর্নীতির ২৭টি মামলার মধ্যে ১০টির অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলার অভিযোগপত্রে মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা ও হল-মার্কের সহযোগী তিন প্রতিষ্ঠানের ১০ কর্মকর্তা রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের নিয়মিত বৈঠকে এই ১০ মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবির, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাইনুল হক, দুই উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন ও মোহাম্মদ সফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং দুই সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) কামরুল হোসেন খান ও এজাজ আহমেদ। এ ছাড়া ব্যাংকের জিএম অফিসের দুই মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান এবং ব্যাংকের শেরাটন হোটেল শাখার ডিজিএম এ কে এম আজিজুর রহমান, এজিএম মো. সাইফুল হাসান, এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. আবদুল মতিন রয়েছেন। এ ছাড়া প্যারাগন নিট কম্পোজিটের এমডি মো. সাইফুল ইসলাম রাজা, পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মকুল হোসেন, ডিএন স্পোর্টসের চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন চৌধুরী, এমডি শফিকুর রহমান জন, পরিচালক ফাহমিদা আক্তার শিখা এবং খান জাহান আলী সোয়েটারের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, এমডি আবদুল জলিল শেখ, দুই পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মীর মো, শওকত আলীকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১০টি অভিযোগপত্রে এই ২১ আসামির বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

পুরো চর্যাপদ মুখস্থ!

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ সম্পূর্ণ মুখস্থ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকেরুল ইসলাম। তিনি বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার আর সি মজুমদার মিলনায়তনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের চর্যাপদের পদগুলো মুখস্থ শোনান তিনি। এটি যাচাই করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মেহের নিগার। অধ্যাপক সৌমিত্র শেখরের সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সহসভাপতি ইসরাফিল আলম। এ ছাড়া সাংসদ ছলিম উদ্দীন তরফদার ও কবি মো. আবদুর রশীদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের বুদ্ধ সহজিয়াদের সান্ধ্য ভাষায় রচিত দুর্বোধ্য পদগুলো সাবলীলভাবে বই না দেখে পড়ে শোনান জাকেরুল ইসলাম। এতে তিনি মাত্র আধ ঘণ্টা সময় নেন। লেখকের নামসহ ধারাবাহিকভাবে পাঠ করে তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের 'মুগ্ধ' করেন। ইসরাফিল আলম বলেন, চর্যাপদ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কিন্তু সম্পূর্ণ চর্যাপদ মুখস্থের ঘটনা এটাই প্রথম। উল্লেখ্য, ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ উদ্ধার করেন। চর্যাপদের মোট ৫১টি পদ রয়েছে।

সরকার পতনের ক্ষমতা বিএনপির নেই: এরশাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বিএনপি সংসদে নেই, আন্দোলনেও নেই। আন্দোলন করে সরকার পতনের ক্ষমতাও দলটির নেই। সে বিবেচনায় জাতীয় পার্টি ভালো অবস্থানে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে এরশাদ দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। এর আগে এরশাদ রানীশংকৈল উপজেলায় তাঁর খামারবাড়ি ঘুরে দেখেন।
খালেদার নিন্দা
জিয়া ও মঞ্জুর হত্যায় তাঁকে সম্পৃক্ত করে খালেদা জিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে এরশাদ বলেন, 'খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আমি বিস্মিত হয়েছি। বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় ছিল। খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেশ কয়েকবার। তখন তিনি এ প্রশ্ন তোলেননি। খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের আমি নিন্দা জানাই।' গত রোববার বিএনপির অনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেছিলেন, 'জিয়া ও মঞ্জুর হত্যায় এরশাদ জড়িত। তাঁর বিচার করতে হবে।'
এরশাদ বলেন, '১৫-১৬ বছর পর কেন আমার নামে মঞ্জুর হত্যা মামলা দেওয়া হলো, তা আপনারা ভালো বোঝেন।'
মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে এরশাদ বলেন, দেশের মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মানুষ এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। গুম, হত্যা ও অপহরণ সরকারের ভালো কাজগুলোকে ম্লান করে দিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। মতবিনিময় সভায় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ ও রাজিউর রাজি চৌধুরী বক্তব্য দেন।

নির্যাতনের শোধ নিতে বাবার প্রাণ নিল মেয়ে

বারবার নির্যাতিত হয়ে অবশেষে শোধ নিতে বাবার প্রাণ কেড়ে নিলেন ২৩ বছর বয়সী মেয়ে। ভারতের পশ্চিম দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকায় গত ২৯ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘাতক মেয়ে ও তাঁর দুই ছেলেবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ মঙ্গলবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) রণবীর সিং বলেন, কুলভিনদর কাউর নামের ওই তরুণী তাঁর দুই বন্ধুর সাহায্যে গত ২৯ এপ্রিল রাতে ৫৬ বছর বয়সী বাবাকে হত্যা করেন। পুলিশ কুলভিনদর এবং তাঁর দুই বন্ধু প্রিন্স সানধু (২২) ও অশোক শর্মাকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, কুলভিনদর ওই রাতে বাড়ির ফটক খুলে দুই বন্ধুকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তাঁরা ঘুমিয়ে থাকা দলজিত সিংয়ের ওপর চড়াও হন এবং ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে তাঁর ওপর নির্যাতন চালান। এরপর কুলভিনদর ও তাঁর বন্ধুরা ধারালো ভাঙা কাচ দিয়ে দলজিতের বুক চিরে পেসমেকার বের করে ফেলেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা দলজিতের পা ও গলা তার দিয়ে বেঁধে লাশ পশ্চিম দিল্লির খায়ালা এলাকায় একটি খালের কাছে ফেলে দেন। পরের দিন সকালে পুলিশ দলজিতের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে ক্রিকেটের স্টাম্প, রক্তমাখা কাপড়, তার, নিহত দলজিতের মুঠোফোন এবং লাশ বহনকারী গাড়িটি জব্দ করেছে। দ্য হিন্দু জানায়, দলজিত সিং ট্রাভেল এজেন্সির গাড়িচালক ছিলেন। তিন বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি ছোট মেয়ে কুলভিনদরকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কুলভিনদর জানান, তাঁর বাবা ৩০ এপ্রিল ভোর পাঁচটার দিকে ট্যুরের জন্য বের হয়ে যান। কিন্তু পরবর্তী সময় জেরার মুখে কুলভিনদর বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। মেয়ে জানান, মা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবা সব সময় নির্যাতন করে আসছিলেন। তাঁর দুই বন্ধু যখন লাশ ফেলে আসতে যান তখন তিনি বাড়িতে পড়ে থাকা রক্ত পরিষ্কার করছিলেন। 

শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন না.গঞ্জের আইনজীবীরা

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের হত্যার ঘটনায় আগামী শনিবারের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা। এ সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে রোববার র্যাব-১১-এর কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সামনের সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচি সম্পর্কে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'ঘটনার এত দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামির কেউই গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হোক। সে কারণে শনিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি আমরা। শনিবারের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে রোববার র্যাব ১১-এর কার্যালয় ঘেরাও করব আমরা। এটা প্রতীকী ঘেরাও কর্মসূচি। আমরা আসলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই।'

সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুলসহ সাত খুনের প্রতিবাদ সভায় এমপি শামীম ওসমান সুফিয়ান-হোসেন গুন্ড পানডাদের শায়েস্তা করতে আমি যথেষ্ট

সেভেন মার্ডারের প্রতিবাদে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ে এক প্রতিবাদ সভায় শামীম ওসমান বলেন, “আমি মাঠে নামতে পারি। তবে আমি মাঠে নামব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সব। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সব জানিয়েছি। তিনি সব হারিয়েছেন। তিনি নজরুলের স্ত্রী-সন্তানসহ অন্যদের মতো সব হারানোর কথা বোঝেন। ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর আমার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা ভালো না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে-আগে-পরে যারা আছে, তাদের খোঁজে বের করা হবে। কেউ পার পাবে না।” আবু সুফিয়ান নামের একজনকে নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি করপোরেশনের ৩০ কোটি টাকার কাজ দিয়েছেন অভিযোগ করে তাকে মেয়রের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে দাবি করেন শামীম ওসমান। প্রথম আলোতে প্রকাশিত আইভীর একটি সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, “সেখানে তিনি নিজের ভাইদের নাম আগে না বলে তার কর্মী আবু সুফিয়ানের নাম বলেছেন। এ থেকে বোঝা যায় সুফিয়ানের সঙ্গে তার কী মহব্বত!” একটি সিডির কথা উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, ওই সিডিতে আবু সুফিয়ান, হোসেন আর সেলিমের আলাপচারিতা থেকে বোঝা যায় নজরুলসহ সাত খুনের সঙ্গে তারা জড়িত। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ হত্যা মামলার প্রতিবাদ ও খুনি নুর হোসেনের ফাঁসিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি দাবি করেন, “সিডিতে সুফিয়ান বলে, মানুষ মারলে কী হয়। ফকির মারলেও ৩০২, শেখ হাসিনারে মারলেও ৩০২।” তিনি আরো বলেন, “সিডি শুনলে মনে হয় হোসেন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তা প্রমাণিত। ইকবালও এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের এই সাংসদ হুঁশিয়ারি করে বলেন বলেন, “আমি শামীম ওসমান। সুফিয়ান-হোসেন, গু-াপা-াদের শায়েস্তা করার জন্য আমি একলাই যথেষ্ট।” ইয়াসিন, আনোয়ারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, তারা যদি মনে করে তারা সাত অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত নয়, তাহলে তারা যেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তিনি বলেন, “মামলায় যাদের নাম আছে, নারায়ণঞ্জবাসী মনে করে, আমি মনে করি, তারা সবাই জড়িত।” তিনি অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। আসামী ইকবাল বিএনপি করে। সে নির্বাচনের আগে র‌্যাব-১০কে ১ কোটি টাকা দিয়ে নজরুলকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে আমাকে ফোন দিলে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে আনি।

রোববার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শামীম ওসমান দাবি করেন, তিনি প্রশাসনের সব জায়গায় যোগাযোগ করেও অপহৃত নজরুলসহ জানবিক্ষা চেয়ে বাঁচাতে পারেননি। তিনি বলেন, “নজরুলের অপহরণের পর যখন র‌্যাবের কর্মকর্তাদের খবরটি জানিয়ে তাদের উদ্ধারের আবেদন জানাই, তখন তারা হাসাহাসি করেন। পরে র‌্যাবের সিওকে জানালে তিনি তাদের উদ্ধারের আশ্বাস দেন। নজরুলসহ সাতজনের অপহরণের পর তাদের মুক্তির জন্য যা যা করার সব করেছেন দাবি করে শামীম ওসমান বলেন, “আমি চেয়েছি অন্তত লোকগুলো বেঁচে থাকুক। আমি ভিক্ষা চেয়েও পাইনি। আমি ক্লান্ত।

শামীম ওসমান বলেন, নজরুল-মাকসুদ-পারভেজ তার কর্মী ছিলেন। একে একে তার কর্মীদের খুন ও তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনার কথা উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, “আমি অসহায় বোধ করছি। আমি আসলেই অসহায় বোধ করছি। তবে আমি আমার জন্য চিন্তা করি না। আমি আমার জন্য চিন্তা করি না। হায়াতের মালিক আল্লাহ। নারায়ণগঞ্জকে এভাবে চলতে দিতে পারি না। এর শেষ দেখতে চাই। আমি মাঠে নামব। আল্লাহকে হাজির-নাজির করে আপনারা ওয়াদা করেন, আপনারা আমার সঙ্গে থাকবেন। আমি শামীম ওসমান। শামীম ওসমান কাউরে কেয়ার করে না। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শশুড় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় শামীম ওসমান বলেন, “এই লড়াইয়ে হুমকি আসতে পারে। আমার কোনো টাকা-পয়সা নেই। আমাদের এই লড়াইয়ে আর্থিক বিষয় নিয়ে লোক বিভেদ তৈরি করতে পারে। আমার আছে মায়ের দোয়া। আপনারা হচ্ছেন আমার সাহস। আর আমার শক্তি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরাধীদের শাস্তির দায়দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। তিনি জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আইন হাতে তুলে নেবেন না।”
এ প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, আওয়ামীলীগ নেতা আনিছুর রহমান দিপু ভূইয়া ও নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

ঐক্য চুক্তির পর কাতারে আব্বাস-মেশাল বৈঠক

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের (মাঝে) সঙ্গে গতকাল
কাতারে হামাস নেতা খালেদ মেশাল (ডানে)। রয়টার্স
কাতারের রাজধানী দোহায় গতকাল সোমবার বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও গাজাভিত্তিক সংগঠন হামাসের প্রধান খালিদ মেশাল৷ আকস্মিকভাবে একটি ঐতিহাসিক ঐক্য চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রথম তাঁরা বৈঠকে মিলিত হলেন৷ গ্রিনিচ মান সময় গতকাল সকাল নয়টার পর আব্বাসের রামাল্লা দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকটি শুরু হয়েছে৷ ফিলিস্তিনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামিদ আল-থানির সঙ্গে দেখা করতে গত রোববার দোহায় যান ফিলিস্তিনের নেতা আব্বাস৷
গতকাল আল-থানির সঙ্গে বৈঠকের পর একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি৷ এরপর হামাসের নির্বাসিত নেতা মেশালের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন আব্বাস৷ দুই বছর ধরে মেশাল দোহায় বসবাস করে আসছেন৷ এর আগে তিনি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ছিলেন৷ সিরিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর তিনি কাতারে চলে আসেন৷ ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আব্বাস ও মেশালের মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল মিসরের রাজধানী কায়রোতে৷ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি জানিয়েছিলেন, দুই নেতা কাতারে বৈঠকে বসতে পারেন৷ বৈঠকে তাঁরা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা’ করবেন৷ এর আগেও হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে৷ তবে তা ব্যর্থ হয়েছিল৷ সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল পিএলও ও হামাস আকস্মিক ঘোষণা দেয়, তারা যৌথভাবে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে৷ এএফপি৷

রাজনীতিকে প্রিয়াঙ্কার ‘না’

মা সোনিয়া গান্ধী ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী৷
ভাই রাহুল গান্ধী দলের সহসভাপতি৷ তবে দলের কোনো পদে
নেই বিখ্যাত নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্য প্রিয়াঙ্কা
নির্বাচনী সমাবেশে প্রতিপক্ষ দল ও প্রার্থীদের তুলধুনো করছেন৷ এর পরও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী গতকাল সোমবার জোর দিয়ে বললেন, রাজনীতিতে তিনি ঢুকছেন না৷ ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা৷ তাঁর ভাই রাহুল গান্ধী দলের সহসভাপতি৷ তবে কংগ্রেসের কোনো পদে নেই বিখ্যাত নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্য প্রিয়াঙ্কা৷ তিনি বরাবরই জোর দিয়ে বলে এসেছেন, রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ঢুকতে চান না তিনি৷ চলমান লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলি আসনে নির্বাচন করছেন সোনিয়া৷ পাশের আমেথি আসনে লড়ছেন রাহুল৷ সোনিয়া-রাহুল দলের হয়ে প্রচারণার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন দেশজুড়ে৷ তাই আমেথি-রায়বেরিলিতে মা-ভাইয়ের আসনে প্রচারণার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা৷
তবে মা-ভাইয়ের দুই আসনের বাইরে কোথাও নির্বাচনী প্রচারণায় যাবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা৷ এর পরও রায়বেরিলি ও আমেথিতে বসে একটার পর একটা সুতীক্ষ্ণ িতরে প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর দলের অন্য নেতা ও প্রার্থীদের ঘায়েল করছেন তিনি৷ আর এতেই চারদিকে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, প্রিয়াঙ্কা বুঝি রাজনীতি থেকে আর দূরে থাকতে পারলেন না৷ অনেকে এরই মধ্যে প্রিয়াঙ্কার মধ্যে তাঁর দাদি ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখতে শুরু করেছেন৷ ভারতের সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা৷ তাঁর অনেক কিছুই পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা৷ তেমন রূপ আর হাসি, তেমনই ব্যক্তিত্ব৷ ভাষণও দেন দারুণ, প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণে৷ তাই সারা দেশে কংগ্রেসের যখন বেহাল অবস্থা, তখন প্রিয়াঙ্কাকে মাঝে রেখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন দলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই৷ প্রিয়াঙ্কা-ইরানি বাহাস: গত রোববার আমেথিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে আগত জনতার উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘কে?’ কে লড়ছেন আমেথিতে তাঁর ভাই রাহুলের বিরুদ্ধে৷ ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানিকে খোঁচা দিয়েই তিনি ওই ‘কে’ প্রশ্নটি করেছিলেন৷ প্রিয়াঙ্কাকে জবাব দিয়ে গতকাল স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘খবরের শিরোনাম হওয়ার জন্যই প্রিয়াঙ্কা আমাকে আক্রমণ করেছেন৷ কিন্তু আমি কেন এমন কারও কথার জবাব দেওয়ার জন্য সময় নষ্ট করব, যিনি এমনকি কোনো দলের প্রার্থীও নন৷’ জি নিউজ, এনডিটিভি৷

হেরে গেলে চা বিক্রি করব

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁর দলই সরকার গড়বে৷ এরপর দেশ গঠনের কাজ শুরু হবে আমেথি থেকেই৷ উত্তর প্রদেশের আমেথি আসনে গতকাল সোমবার বিকেলে এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণে মোদি এ কথা বলেন৷ এই আসনে কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর বিপক্ষে বিজেপির হয়ে লড়ছেন টিভি অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি৷ গতকাল আমেথিতে সমাবেশ করে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের একটি রেওয়াজ ভাঙলেন মোদি৷ প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান প্রার্থীদের আসনে তাঁরা সচরাচর নির্বাচনী প্রচারণায় যান না৷ সমাবেশে মোদি বলেন, ‘অনেকে বলেন, রাহুল হারলে তিনি বিরোধী দলের আসনে বসতে পারবেন৷ আর মোদি হারলে কী হবেন? আমি তাঁদের বলতে চাই, চিন্তা করবেন না৷ আমি হারলে চা বিক্রি করব৷’ স্মৃতি ইরানিকে আমেথিতে দলের প্রার্থী করার বিষয়ে মোদি বলেন, ‘রাহুল ভাইয়াকে সমস্যায় ফেলার জন্য আমি তাঁকে (স্মৃতি ইরানি) এখানে পাঠাইনি৷ তিনি এমনিতেই অনেক সমস্যায় আছেন৷ আমেথির মানুষের সমস্যা দূর করার জন্যই আমি স্মৃতিকে এখানে পাঠিয়েছি৷’ আমেথি দীর্ঘদিন ধরে গান্ধী পিরবারের খাসতালুক৷ রাহুল দুবার এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন৷ এর আগে তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী, বাবা রাজীব গান্ধী ও চাচা সঞ্জয় গান্ধী এই আসনে নির্বাচন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন৷ তবে এবার লাড়ইটা গান্ধী পরিবারের পক্ষে একেবারে একপেশে হবে বলে মনে হচ্ছে না৷ মোদির ভাষণের সময় দলের গেরুয়া রঙের শাড়ি পরে মঞ্চে বসে ছিলেন স্মৃতি ইরানি৷
এর আগে ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমেথির ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ আমি যখন এখানে নির্বাচনে প্রার্থী হই, তখন আমার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন আমি আমি রাহুলকে চ্যালেঞ্জ করতে এখানে আসছি৷ জবাবে আমি বলেছিলাম, আমেথির মানুষই আমাকে এখানে ডেকে এনেছে৷’ সমাবেশ মঞ্চে সেই নরেন্দ্র মোদির আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন স্মৃতি ইরানি, যাঁর বিরুদ্ধে এক দশক আগে তিনি বিক্ষোভ করেছিলেন৷ ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার জন্য মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি৷ প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধানের আসনে প্রচারণা চালিয়ে মোদি গতকাল একটি রেওয়াজ তো ভেঙেছেন; তার চেয়ে বড় কথা, গতকাল উত্তর প্রদেশে আরেকটি সমাবেশ করে তিনি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন৷ ফয়েজাবাদে মোদির ওই সমাবেশ মঞ্চে সাঁটানো ব্যানারে হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি এবং একটি মন্দিরের ছবি ছিল৷ কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এর মাধ্যমে বিজেপি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে৷ এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবে৷ তবে কংগ্রেসের অভিযোগ দায়েরের আগেই মোদির সমাবেশে নিষিদ্ধ প্রতীকের ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ ফয়েজাবাদে যে স্থানে মোদি সমাবেশ করেন, সেখান থেকে মাত্র পাঁচ কিলেমিটার দূরে অবস্থিত অযোধ্যার সেই জায়গা, ১৯৯২ সালে যেখানে ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে কট্টরপন্থী হিন্দুরা৷ এনডিটিভি ও িপটিআই৷

এই ব্যর্থতার দায়িত্ব কে নেবে? by এম সাখাওয়াত হোসেন

আজকাল ঘর থেকে বের হলেই যাদের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচিত-অপরিচিত, সবার মুখে একই প্রশ্ন, কোন পথে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি? এর সোজাসাপ্টা উত্তর দেওয়া আমার মতো সামান্য জ্ঞানবুদ্ধির মানুষের পক্ষে সহজ নয়। এসব প্রশ্নকর্তা আমার অতীত অভিজ্ঞতার কারণে মনে করেন, আমি নিরাপত্তা বিষয়ে পারঙ্গম। তেমনটি নয়। যৎসামান্য লেখাপড়া থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সোজাসাপ্টা উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনকার হত্যা, গুম আর অপহরণের ঘটনা দেশবাসীকে যেমন উদ্বিগ্ন করেছে, তেমনি আমরা যারা কিঞ্চিৎ সমাজসচেতন মানুষ, নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করা মানুষেরা উদ্বিগ্ন। কোন পর্যায়ে রয়েছে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, যার অন্যতম উপাদান জননিরাপত্তা (হিউম্যান সিকিউরিটি)।

মুসলিম ব্রাদারহুড শেষ: সিসি

মিসরের নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অগ্রবর্তী প্রার্থী ও সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। গতকাল সোমবার একই সঙ্গে তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুড শেষ হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, মিসরের বেসরকারি সিবিসি ও অনটিভির যৌথ সাক্ষাত্কারে সিসি বলেন, 'আমি আপনাদের বলতে চাই, মুসলিম ব্রাদারহুডকে আমি শেষ করিনি। আপনারা, মিসরীয়রাই এটাকে শেষ করেছেন।' সহিংস জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিসি। তাঁর দাবি, তাঁকে হত্যার দুটি ব্যর্থ ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হয়েছে। ২৬-২৭ মে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে সিসি সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সিসি। মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের বহু নেতা-কর্মী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করেছে মিসরের কর্তৃপক্ষ।

ঐশ্বরিয়ারা যে হাসপাতালে যান

ভারতে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যেগুলোর বিলাসিতা ও জৌলুস রীতিমতো পাঁচতারকা হোটেলের মতো। এমনই একটি হাসপাতালে মা হয়েছেন বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সেভেন হিলস নামের ওই হাসপাতালে একটি স্যুটে এক রাত অবস্থানের খরচা ২০ হাজার রুপি। এর সঙ্গে শুল্ক তো আছেই। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিত্তশালীরা অসুস্থ হলে এসব বিলাসবহুল হাসপাতালে যান। হাসপাতালগুলো রোগীদের চিকিত্সার চেয়েও বেশি কিছু দেয়। ভিন্ন ধারার এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে টাকাও লাগে কাঁড়ি কাঁড়ি। গরিবদের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। বিলাসবহুল ওই হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতাল লিমিটেড, ফর্টিস লা ফেম, হিরানন্দনি হাসপাতাল, সেভেন হিলস হাসপাতাল প্রভৃতি। এসব হাসপাতালে অভিজাত শ্রেণীর বিশিষ্ট রোগীদের জন্য এমন ব্যবস্থা রয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় সেখানে বসেই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা মন্ত্রী তাঁর দপ্তর চালাতে পারবেন। বিলাসী বিছানা, চাহিদা অনুযায়ী খাবারদাবারের বাইরে হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্যুটে ওয়াইফাই, বড় এলইডি টিভিসহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সমাহার ঘটানো হয়েছে। অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত কাটাতে খরচ পড়ে প্রায় ৩০ হাজার রুপি। দক্ষিণ দিল্লির ফর্টিস লা ফেমে এই খরচ প্রায় ৩৭ হাজার রুপি। এই খরচে নয়াদিল্লির পাঁচতারকা হোটেল দ্য ওবেরয়ে দুই রাত থাকা যায়। মুম্বাইয়ের হিরানন্দনি হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত থাকার খরচ আসে ৩০ হাজার রুপি। সেভেন হিলস হাসপাতালে এই খরচ ২০ হাজার রুপি। আর এই খরচের মধ্যে শুল্ক অন্তর্ভুক্ত নয়। ফর্টিস লা ফেমে সন্তান জন্ম দেওয়ার দুই দিনের একটি প্যাকেজ আছে। এতে খরচ আসতে পারে চার-পাঁচ লাখ রুপি। অ্যাপোলো হাসপাতালের পরিচালক অনুপম সিবাল দাবি করেন, তাঁদের সেবার মান অন্য সব হাসপাতালের চেয়ে ভালো। তাঁরা রোগীকে ভিন্ন স্বাদ দেন। দেশ, জাতি, ভাষা এমনকি ধর্মভেদে বিভিন্ন রোগীর চাহিদার সবকিছুই মেটানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। ফর্টিস লা ফেম হাসপাতালের এক কর্মকর্তার দাবি, তাঁদের দেওয়া কিছু সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের মধ্যে সেরা।

ঐশ্বরিয়ারা যে হাসপাতালে যান

ভারতে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যেগুলোর বিলাসিতা ও জৌলুস রীতিমতো পাঁচতারকা হোটেলের মতো। এমনই একটি হাসপাতালে মা হয়েছেন বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সেভেন হিলস নামের ওই হাসপাতালে একটি স্যুটে এক রাত অবস্থানের খরচা ২০ হাজার রুপি। এর সঙ্গে শুল্ক তো আছেই। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিত্তশালীরা অসুস্থ হলে এসব বিলাসবহুল হাসপাতালে যান। হাসপাতালগুলো রোগীদের চিকিত্সার চেয়েও বেশি কিছু দেয়। ভিন্ন ধারার এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে টাকাও লাগে কাঁড়ি কাঁড়ি। গরিবদের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। বিলাসবহুল ওই হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতাল লিমিটেড, ফর্টিস লা ফেম, হিরানন্দনি হাসপাতাল, সেভেন হিলস হাসপাতাল প্রভৃতি। এসব হাসপাতালে অভিজাত শ্রেণীর বিশিষ্ট রোগীদের জন্য এমন ব্যবস্থা রয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় সেখানে বসেই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা মন্ত্রী তাঁর দপ্তর চালাতে পারবেন। বিলাসী বিছানা, চাহিদা অনুযায়ী খাবারদাবারের বাইরে হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্যুটে ওয়াইফাই, বড় এলইডি টিভিসহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সমাহার ঘটানো হয়েছে। অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত কাটাতে খরচ পড়ে প্রায় ৩০ হাজার রুপি। দক্ষিণ দিল্লির ফর্টিস লা ফেমে এই খরচ প্রায় ৩৭ হাজার রুপি। এই খরচে নয়াদিল্লির পাঁচতারকা হোটেল দ্য ওবেরয়ে দুই রাত থাকা যায়। মুম্বাইয়ের হিরানন্দনি হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত থাকার খরচ আসে ৩০ হাজার রুপি। সেভেন হিলস হাসপাতালে এই খরচ ২০ হাজার রুপি। আর এই খরচের মধ্যে শুল্ক অন্তর্ভুক্ত নয়। ফর্টিস লা ফেমে সন্তান জন্ম দেওয়ার দুই দিনের একটি প্যাকেজ আছে। এতে খরচ আসতে পারে চার-পাঁচ লাখ রুপি। অ্যাপোলো হাসপাতালের পরিচালক অনুপম সিবাল দাবি করেন, তাঁদের সেবার মান অন্য সব হাসপাতালের চেয়ে ভালো। তাঁরা রোগীকে ভিন্ন স্বাদ দেন। দেশ, জাতি, ভাষা এমনকি ধর্মভেদে বিভিন্ন রোগীর চাহিদার সবকিছুই মেটানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। ফর্টিস লা ফেম হাসপাতালের এক কর্মকর্তার দাবি, তাঁদের দেওয়া কিছু সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের মধ্যে সেরা।

এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাপা by শেখ সাবিহা আলম @প্রথম আলো

দলে 'গণতন্ত্র' আনতে সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯-এর ক ধারায় দলের যেকোনো বিষয়ে চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া আছে। ডিসেম্বরে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে এ ধারাটি পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে চেয়ারম্যানের ক্ষমতাও খর্ব হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেছেন, তাঁরা মনে করেন জাতীয় পার্টিতে চেয়ারম্যান পদে এরশাদ থাকায় দলটি সংগঠিত হতে পারছে না। এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে। এরশাদ যখনই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যান, তখন তাঁকে মামলার ভয় দেখানো হয়। তিনিও এতে 'বিচলিত' হয়ে পড়েন। দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করেন, এরশাদের জায়গায় আর কেউ দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিলে জাতীয় পার্টি স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। এ ছাড়া সম্প্রতি জাপার সভাপতিমণ্ডলী ও সাংসদদের যৌথসভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রকাশ্যে নিজের ইচ্ছামতো দল চালানোর জন্য এরশাদকে গালমন্দ করেন। ওই দিনই দলটি থেকে ঘোষণা আসে এখন থেকে জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করবে।
জাতীয় পার্টির সাংসদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু অবশ্য চেয়ারম্যান পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না অথবা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, দেশের কোনো বড় দলেই গণতন্ত্র নেই। জাতীয় পার্টি দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত আসবে। এর আগে জাতীয় যুবসংহতির কাউন্সিলে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণের পর কাউন্সিলের দিন এরশাদ ঠিক করে দেন যুবসংহতির সভাপতি কে হবেন। তবে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু বলেছেন, সে সময় তিনি মহাসচিব ছিলেন না। এখন থেকে যা কিছু হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হবে। নয় বছর 'সফল'ভাবে দেশ পরিচালনার পরও কেন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। যেখানে ত্রুটি আছে, সেই ত্রুটি দূর করতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী, সাংসদ ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলবে। তবে দলে রদবদল এনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, জাপা এখন থেকে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলবে, রাস্তায় নামবে। এভাবে দলও সংগঠিত হবে, জনসম্পৃক্ততাও বাড়বে। তবে, 'নতুন' জাতীয় পার্টির হাল ধরবেন কে, সে ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কেউ কিছু বলছেন না। সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, দলের দায়িত্ব এরশাদের স্বজনদের হাতে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের পছন্দ তাঁর ভাই জি এম কাদের। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ এরশাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। দলের একটি অংশ চায় রওশন এরশাদ দলের হাল ধরুন। অন্য অংশটি চায় জাতীয় পার্টির সরকারপন্থী অংশটির নেতৃত্ব যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরাই দলের নেতৃত্বে আসুন। আবার জাতীয় পার্টির কিছু সদস্য চান এরশাদের ভাই জি এম কাদের দলের নেতৃত্ব দিন। প্রায় পাঁচ মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা জি এম কাদের হঠাত্ গত ১ মে জাতীয় শ্রমিক পার্টির সমাবেশে হাজির হন। তবে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক এক সাংসদ প্রথম আলোকে বলেন, চেয়ারম্যানকে সরানোর জন্য একটি চক্র তত্পর রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে মানুষ চেনে এরশাদের নামেই। এখানে আর কেউ এলে দল সংগঠিত হবে—এ ভাবনা অমূলক।
এ বিষয়ে এরশাদ কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি পদত্যাগ করেছেন—এমন গুজব রটার পর এরশাদ পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, 'কার কাছে পদত্যাগ করব, সেই বীরপুরুষটা কে?' এর আগে এরশাদ তাঁর অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান কে হবেন, সে নিয়ে 'গোটা জাতিই গোলকধাঁধার মধ্যে' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ওই প্রবন্ধে তিনি তাঁর ভাই জি এম কাদেরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, 'উকিলের ছেলে উকিল, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী হতে পারলে রাজনীতিকের সন্তান বা তার আত্মীয়স্বজন রাজনীতি করতে পারবে না কেন? সেখানে অবশ্য দেখতে হবে নেতৃত্ব গঠনটা কি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়েছে, না যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে? জি এম কাদের রাজনীতিতে এসেছেন, নির্বাচন করেছেন। দুইবার এমপি হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন। দল যদি মনে করে জি এম কাদের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত তাহলে তা-ই হবে।' এরশাদের ইঙ্গিত এখানে খুব পরিষ্কার।

সুর পাল্টেছেন শামীম ওসমান by শরিফুল হাসান ও আসিফ হোসেন

নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর সাত খুনের ঘটনায় আস্তে আস্তে নিজের অবস্থান বদলেছেন সেখানকার আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমান। শুরুতে তিনি বলেছেন, নূর হোসেন এ কাজ করতে পারেন না। এখন তিনি বলছেন, নূর হোসেনসহ যাঁদের এই মামলায় আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই অপহরণের ঘটনায় জড়িত। স্বামী অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শামীম ওসমানের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। গতকাল সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই শামীম ওসমানের কাছে ছুটে যাই। আমি তাঁকে বলি, নূর হোসেন আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে। আপনি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। তিনি আমাকে বলেন, নূর হোসেন এই কাজ করতে পারেন না।’

এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাপা by শেখ সাবিহা আলম @প্রথম আলো

দলে 'গণতন্ত্র' আনতে সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯-এর ক ধারায় দলের যেকোনো বিষয়ে চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া আছে। ডিসেম্বরে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে এ ধারাটি পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে চেয়ারম্যানের ক্ষমতাও খর্ব হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেছেন, তাঁরা মনে করেন জাতীয় পার্টিতে চেয়ারম্যান পদে এরশাদ থাকায় দলটি সংগঠিত হতে পারছে না। এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে। এরশাদ যখনই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যান, তখন তাঁকে মামলার ভয় দেখানো হয়। তিনিও এতে 'বিচলিত' হয়ে পড়েন। দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করেন, এরশাদের জায়গায় আর কেউ দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিলে জাতীয় পার্টি স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। এ ছাড়া সম্প্রতি জাপার সভাপতিমণ্ডলী ও সাংসদদের যৌথসভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রকাশ্যে নিজের ইচ্ছামতো দল চালানোর জন্য এরশাদকে গালমন্দ করেন। ওই দিনই দলটি থেকে ঘোষণা আসে এখন থেকে জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করবে।
জাতীয় পার্টির সাংসদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু অবশ্য চেয়ারম্যান পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না অথবা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, দেশের কোনো বড় দলেই গণতন্ত্র নেই। জাতীয় পার্টি দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত আসবে। এর আগে জাতীয় যুবসংহতির কাউন্সিলে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণের পর কাউন্সিলের দিন এরশাদ ঠিক করে দেন যুবসংহতির সভাপতি কে হবেন। তবে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু বলেছেন, সে সময় তিনি মহাসচিব ছিলেন না। এখন থেকে যা কিছু হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হবে। নয় বছর 'সফল'ভাবে দেশ পরিচালনার পরও কেন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। যেখানে ত্রুটি আছে, সেই ত্রুটি দূর করতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী, সাংসদ ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলবে। তবে দলে রদবদল এনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, জাপা এখন থেকে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলবে, রাস্তায় নামবে। এভাবে দলও সংগঠিত হবে, জনসম্পৃক্ততাও বাড়বে। তবে, 'নতুন' জাতীয় পার্টির হাল ধরবেন কে, সে ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কেউ কিছু বলছেন না। সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, দলের দায়িত্ব এরশাদের স্বজনদের হাতে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের পছন্দ তাঁর ভাই জি এম কাদের। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ এরশাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। দলের একটি অংশ চায় রওশন এরশাদ দলের হাল ধরুন। অন্য অংশটি চায় জাতীয় পার্টির সরকারপন্থী অংশটির নেতৃত্ব যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরাই দলের নেতৃত্বে আসুন। আবার জাতীয় পার্টির কিছু সদস্য চান এরশাদের ভাই জি এম কাদের দলের নেতৃত্ব দিন। প্রায় পাঁচ মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা জি এম কাদের হঠাত্ গত ১ মে জাতীয় শ্রমিক পার্টির সমাবেশে হাজির হন। তবে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক এক সাংসদ প্রথম আলোকে বলেন, চেয়ারম্যানকে সরানোর জন্য একটি চক্র তত্পর রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে মানুষ চেনে এরশাদের নামেই। এখানে আর কেউ এলে দল সংগঠিত হবে—এ ভাবনা অমূলক।
এ বিষয়ে এরশাদ কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি পদত্যাগ করেছেন—এমন গুজব রটার পর এরশাদ পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, 'কার কাছে পদত্যাগ করব, সেই বীরপুরুষটা কে?' এর আগে এরশাদ তাঁর অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান কে হবেন, সে নিয়ে 'গোটা জাতিই গোলকধাঁধার মধ্যে' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ওই প্রবন্ধে তিনি তাঁর ভাই জি এম কাদেরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, 'উকিলের ছেলে উকিল, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী হতে পারলে রাজনীতিকের সন্তান বা তার আত্মীয়স্বজন রাজনীতি করতে পারবে না কেন? সেখানে অবশ্য দেখতে হবে নেতৃত্ব গঠনটা কি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়েছে, না যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে? জি এম কাদের রাজনীতিতে এসেছেন, নির্বাচন করেছেন। দুইবার এমপি হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন। দল যদি মনে করে জি এম কাদের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত তাহলে তা-ই হবে।' এরশাদের ইঙ্গিত এখানে খুব পরিষ্কার।

জীবন গৌণ, ক্ষমতা আর লালসাই মুখ্য

যার লজ্জা-শরমের বালাই নেই মোটেও, সে ন্যাংটা হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে নির্দ্বিধায়। আর তাকে ন্যাংটা বা উলঙ্গ বলে লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা করে লাভ হবে না। কারণ, সে তো বলবে আমি ন্যাংটা থাকব না কাপড় পরে থাকব, সেটা আমার ইচ্ছা—তাতে তোমার কী? যে ন্যাংটা হয়ে পথে নেমেছে, তাকে তো আর উলঙ্গ বলে লজ্জা দেওয়া যাবে না। কিন্তু এখন অকাতরে মানুষ মরছে। পেট্রলবোমায়ও মানুষ মরেছিল। নিরীহ মানুষ, বাসের চালক, ঘুমন্ত হেলপার, বাসযাত্রী, চাকরিজীবী নিরীহ নারী-পুরুষ। তাতে ক্ষমতাসীন দলের লাভ হয়েছিল প্রচুর। রাজনৈতিক ফায়দা উঠিয়েছিল পুরোটাই। পেট্রলবোমা মারা আর তাতে জানমালের ক্ষতি করার অভিযোগে মামলার আসামি করেনি এমন বিরোধীদলীয় নেতা বাকি রাখেনি বলতে গেলে একজনও। আর যাঁর নামে মামলা হয়নি, তাঁকে বুঝতে হবে যে তিনি এখনো নেতার কাতারে উন্নীত হননি বা হতে পারেননি। সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা অর্থাৎ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে প্রায় প্রতিবন্ধী এবং সর্বক্ষণ বিএনপি অফিসে থাকা রুহুল কবির রিজভীসহ বাদ পড়েননি কেউই। পেট্রলবোমায় নিহত, রেললাইন উপড়ানো, বিভিন্ন জায়গায় আগুন, শত শত গাছ কাটা—অপরাধ হয়েছিল অজস্র আর নির্মম, বীভৎস। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অনেকেই। নেতারা প্রায় সবাই এখন জামিনে মুক্ত। সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল। কিন্তু বিচার? পুলিশের গ্রেপ্তার-বাণিজ্য কম হয়নি। প্রতিটি অপরাধ, ঘটনার পর শত শত এমনকি হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ, অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে এবং অতি উৎসাহে।
পরে র‌্যাব গুলি করে কিছু মানুষকে মেরেছে বিভিন্ন স্থানে পেট্রলবোমা মারা ও অন্যান্য ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে। পেট্রলের আগুনে পুড়ে যারা মারা গেছেন বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে এখনো কাতরাচ্ছেন—তাঁদের একজনও কি বিচার পেয়েছেন? আদৌ কোনো দিন কি বিচার পাবেন? কমবেশি অনেক ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। সরকার কি বলতে পারবে যে অন্তত একটা পেট্রলবোমায় হত্যার বিচার শুরু হয়েছে? নাশকতার একটা ঘটনার সুনির্দিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে? ধারণা অনুমান করছি, কোনো মামলা শুরু হয়নি। অনুমানের কারণ স্পষ্ট, পেট্রলে মানুষ মারার কারণে সরকারের যা পাওয়ার সরকার তা কড়ায়গন্ডায় আদায় করে নিয়েছে, অর্থাৎ বিরোধীদের জেলে পুরে তাঁদের আন্দোলন দমনের সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করেছে, আর সেই সুযোগে পুলিশও তার ‘প্রাপ্য’টা আদায় করে নিয়েছে পুরোপুরি। অর্থাৎ গ্রেপ্তার-বাণিজ্য, হাজার হাজার লোককে আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। পরে অনেকে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা একেবারে নিঃস্ব, তাঁরাই সম্ভবত এখন জেলে আছেন। নিরীহ যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের কেউ কেউ হয়তো বা এখনো থানায় ধরনা দিচ্ছেন বিচারের আশায়। ঘটনাপ্রবাহ যতই প্রতিকূল হোক না কেন, মানুষ বিচারের আশা ছাড়তে পারে না। বিচারের আশা ছেড়ে দিলে বাঁচার আশা কীভাবে আর থাকে। সব অন্যায়ের বিচার যে হবে, সেটা কোনো সমাজই শতভাগ নিশ্চিত করতে পারে না। কিন্তু বিচারের আশা যেখানে বিলীন হয়ে যায়, সমাজ সেখানে টেকে না। চার-ছয় মাস আগে পেট্রলবোমায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের নিকটজনের কতজন এখনো বিচারের আশা জাগিয়ে রাখতে পেরেছেন, সেটাও তো আমরা আর জানি না, খোঁজ রাখি না।
২. অপহরণ হচ্ছে, গুম হচ্ছে, চারদিকে লাশ ভেসে উঠছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন এটাও বিরোধীদের নতুন রাজনৈতিক কৌশল। ঠিক একই ভাষায় না

বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত

শীতলক্ষ্যা থেকে তোলা হচ্ছে লাশ
আতঙ্কের শহরে কান্নার রোল
একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহরণের তিন দিন পর বুধবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন শহরে স্বজন-সতীর্থদের কান্নার রোল পড়ে যায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে পাঠক জে হোসেইনের মন্তব্য: বাংলাদেশের প্রশাসন এই কান্নার আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছে? প্লিজ, কিছু করেন। সোলায়মান: পুলিশ প্রশাসন সচল হওয়ার পরও এতগুলো মানুষকে কীভাবে শীতলক্ষ্যায় নিয়ে ডোবানো গেল? তাহলে খুনিরা প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে—এ সন্দেহ করলে কি অমূলক হবে? মো. মনিরুল হাসান: চারদিকে শকুন, হায়েনার জয়জয়কার; সাধারণ মানুষের কলিজা ঠুকরে খাচ্ছে। আমরা কি এই আতঙ্ক রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য? মো. জহিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের উত্তর কি সরকার জানে না? রাজু: বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত। আল্লাহ, আপনি এই জালেমদের হাত থেকে আমাদের ও দেশকে রক্ষা করেন। মাহফুজা বুলবুল: ‘সব লাশের হাত-পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা, পেট চেরা। মনে পড়ছে কিশোর ত্বকীকে। তাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ত্বকীর মা-বাবা এখনো ত্বকীর হত্যাকারীদের হুমকি মাথায় নিয়ে বিচারের আশায় কাঁদছেন। ত্বকী হত্যার বিচার হলে আজকের এ নৃশংস ঘটনা নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেখতে হতো না।
‘মাঝে মাঝে লোডশেডিং ভালো’
অতীত স্মরণ রাখতে মাঝে মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এর সমালোচনা করে পাঠক আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন: মানুষ ব্যর্থ হলে লজ্জিত হয়, উত্তীর্ণ হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর এসব মানুষ ও তাঁর দল মানুষের কষ্ট নিয়ে উপহাস করে। মাহফুজা বুলবুল: অতীতকে স্মরণ করবে শুধু সাধারণ জনগণ, তা সে যে অতীতই হোক। আর ভাগ্যবান ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতার স্বাদ-গন্ধে বিভোর হয়ে থাকবেন। সোহেল: মাঝে মাঝে লোডশেডিং হলে খাম্বা যুগের মোমবাতি মিছিলের কথা মনে পড়ে!
সুজন: সাধারণ পাবলিকের ঘরে এসে গরমের যন্ত্রণা উপভোগ করে এমন মন্তব্য করতে পারলে