Sunday, September 18, 2011

জয় চায় ইন্টার-রোমা

মাত্র এক মৌসুম আগে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ যে দল ‘ট্রেবল’ জিতেছে, সেই ইন্টার মিলানে এবার শুরুতেই দুর্যোগের ঘনঘটা। সিরি ‘আ’ শুরু করেছে পালের্মোর কাছে হার দিয়ে। তার চেয়েও দুঃখের ব্যাপার, দুই দিন আগে নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হেরেছে অজ্ঞাতকুলশীল তুর্কি ক্লাব ত্রাবজনস্পরের কাছে। ভীষণ চাপে থাকা এই দুটি দলই মুখোমুখি হচ্ছে আজ সিরি ‘আ’তে।
ইন্টার এখন জয় ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে? তবে প্রতিপক্ষ রোমাও জয়ের জন্য মরিয়া। নতুন মৌসুমটা তাদের ইন্টার মিলানের চেয়েও বাজেভাবে শুরু হয়েছে। মৌসুমের তিন ম্যাচের দুটিতে হেরেছে, একটি করেছে ড্র। ইউরোপা লিগ থেকে এরই মধ্যে ছিটকে পড়েছে ফ্রান্সেসকো টট্টির দল।
ইন্টার আর রোমা, দুই দলের দুই কোচ গাসপেরিনি আর এনরিকে আছেন ভীষণ চাপে। পরাজয়ের যাতনা তো আছেই, এর সঙ্গে গাসপেরিনিকে সইতে হচ্ছে সিরি ‘আ’তে তাঁর পালের্মোর বিপক্ষে মাত্র তিন ডিফেন্ডার খেলানোর রণকৌশলের সমালোচনা। রোমা কোচের সমালোচনা হচ্ছে অধিনায়ক ফ্রান্সেসকো টট্টিকে সর্বশেষ দুই ম্যাচের একটিতে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া আর অন্যটিতে বদলি হিসেবে খেলানো নিয়ে।
ইন্টার কোচ সব সমালোচনা ঝেড়ে ফেলতে চান আজকের ম্যাচেই। ক্লাব সভাপতি মাসিমো মোরাত্তি কোচ হুমকিতে নেই বললেও গাসপেরিনির দুশ্চিন্তা কাটছে না, ‘আমি ভালোভাবেই জানি, ক্লাবের আস্থা সীমাহীন নয়। দ্রুতই আমাদের ভালো ফল পেতে হবে। না হলে সমস্যা আরও বাড়বে।’
ভালো ফল করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিতে চান এনরিকেও। জয়ের প্রত্যয় নিয়েই আজ সানসিরোতে যাচ্ছেন তিনি।

সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য (ফেসভ্যালু) ১০ টাকা করার নির্দেশনা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গত বৃহস্পতিবার এসইসির ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর সব কোম্পানির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৪ ডিসেম্বর থেকে অভিহিত মূল্যে সব কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হবে।
এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের আদেশক্রমে প্রকাশিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর (অর্ডিন্যান্স নম্বর: ১৯৬৯-এর ১৭) সেকশন ২০এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নোক্ত আদেশ জারি করিল:— স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত যেই সকল কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য ১০.০০ (দশ) টাকা নয়, সেই সকল কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডকে আগামী নভেম্বর ৩০, ২০১১-এর মধ্যে সকল আনুষ্ঠানিকতা পরিপালন করিয়া ডিসেম্বর ৪, ২০১১ তারিখ হইতে ইউনিফর্ম অভিহিত মূল্যে অর্থাত্ অভিহিত মূল্য ১০.০০ (দশ) টাকার মাধ্যমে ট্রেডিং শুরু করিতে হইবে। এই জন্য ডিসেম্বর ০১, ২০১১ তারিখ রেকর্ড ডেট ধার্য করিতে হইবে। ইহার জন্য কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করিতে হইবে না। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।’
এদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করতে সক্ষম না হলে ওই কোম্পানির লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই হিসেবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করতে হবে।
জানা গেছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব কোম্পানিকে বোর্ড সভা ও ইজিএম করে এসইসি, আরজেএসইর অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ ও সিডিবিএলের সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৯ মে পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির ১৪টি সুপারিশ অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসইসির কাছে পাঠায়। এর মধ্যে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ আটটি সুপারিশ এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেয়। অন্য ছয়টি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তিন মাসের সময় বেঁধে দেয়। এরই অংশ হিসেবে অভিন্ন অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।

আজ ফিরবে সেই বার্সা?

অপয়া এক ভূতই যেন পেছনে লেগেছিল বার্সেলোনার। ভূত নয়তো কী! লিগে রিয়াল সোসিয়েদাদের সঙ্গে ম্যাচটা খেয়াল করে দেখুন। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা বার্সা শেষ পর্যন্ত কিনা ড্র করে ফেলল। তার চেয়েও বড় ধাক্কা পেপ গার্দিওলার দল খেয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। এবার এসি মিলানের সঙ্গে তারা ড্র করেছে ৯২ মিনিটে গোল খেয়ে!
ভূত-তত্ত্বে তো আর নিন্দুকদের দমানো যাবে না। তাঁরা বরং বার্সার রক্ষণটাকে মনে করছেন বেহুলার বাসরঘর। বজ্র আঁটুনি নেই, বরং আছে ফস্কা গেরো। দুই ‘মেকশিফট ডিফেন্ডার’ হাভিয়ের মাচেরানো আর সার্জিও বুসকেটসকে দিয়ে কি কাজ চলে? নিন্দুকেরা এও বলছেন, গত মৌসুমের বার্সাকে নাকি এবার এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বরং অনেক এগিয়ে। এবার তাই বার্সা নয়, রিয়ালই ছড়ি ঘোরাবে বলে আগাম পূর্বাভাস অনেকের।
টানা তিনবার স্প্যানিশ লিগ, এই তিনবারের মধ্যে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগও জেতা বার্সার অধিনায়ক কার্লোস পুয়োল কিন্তু নিন্দুকদের ওপর বিরক্ত। মাত্র দুটো ম্যাচ দেখেই যাঁরা এমন উপসংহারে পৌঁছে যান, তাঁদের ওপর বিরক্ত হওয়াই তো স্বাভাবিক। পুয়োল বলছেন, ‘আমরা ঠিকই আছি। ক্লাবের বাইরের লোকেরা কে কী বলল না-বলল, তাতে কান দিচ্ছি না। হ্যাঁ, দল হতাশ। মিলানের ম্যাচটা আমাদের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে। কিন্তু সেটা আমাদের কাছে এখন অতীত।’
শুধু মুখের কথায় নয়, গত ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরা পুয়োল চান, এখন থেকে তাঁর দল মাঠেও পাল্টা জবাব দিক। সত্যিই যদি এসব সমালোচনায় মেজাজ বিগড়ে গিয়ে থাকে বার্সার, আজ হয়তো দুর্গতি আছে ওসাসুনার। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় স্প্যানিশ লিগে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।
পুয়োল অবশ্য বলছেন, এসব কথার কারণে নয়, জয় তাঁরা এমনিতেই চান, ‘আগে যেমনটা চাইতাম, এখনো সেভাবেই জয়টা চাই। হ্যাঁ, এটা সত্যি, সেট-প্লেগুলোর সময় আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিপক্ষের কেউ যাতে বল না পেয়ে যায়, যেন তারা গোল না করতে পারে।’
পুয়োলের ফেরাতে হয়তো কিছুটা নির্ভার হচ্ছেন গার্দিওলা। কিন্তু এখনো জেরার্ড পিকে, অ্যালেক্সিস সানচেজ আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার চোট দুশ্চিন্তার কাঁটা হয়ে বিঁধে আছেন তাঁর ভাবনায়।
রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে কিন্তু উল্টো সুর। স্প্যানিশ লিগে গত দুই মৌসুমেই বার্সা-রিয়ালের মধ্যে লড়াইটা হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। এ কারণে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকায় মানসিকভাবেও এগিয়ে থাকা। সেই আত্মবিশ্বাসই যেন ঝরে পড়ল জাবি আলোনসোর কণ্ঠে, ‘আমরা সবগুলো প্রতিযোগিতাতেই লড়াই করতে চাই। আমি লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ এই দুটোর একটাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ রিয়াল মিডফিল্ডার সতীর্থদের সতর্কও করছেন, ‘লিগের গত ম্যাচে গেটাফের বিপক্ষে আমরা কিন্তু নিজেদের সেরাটা খেলিনি। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল।’
আগামীকাল লেভান্তের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল।

যুক্তরাজ্যে কয়লাখনিতে আটকা পড়েছেন শ্রমিক একজনের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের সাউথ ওয়েলসের একটি কয়লাখনিতে গত বৃহস্পতিবার চারজন শ্রমিক আটকা পড়েন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন বলে গতকাল শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে। আটকা পড়া অন্য তিনজনকে জীবিত উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা জানান, সাউথ ওয়েলসের সোয়ানসি ভ্যালির প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের গ্লেইসন কয়লাখনিতে গত বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে মোট সাতজন শ্রমিক আটকা পড়েন। এর মধ্যে তিনজন পরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার ত ৎপরতা শুরু করেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায়ও আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ আটকা পড়া চার শ্রমিকের নাম প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন, ফিলিপ হিল (৪৫), চার্লস ব্রেসনান (৬২), ডেভিড পাওয়েল (৫০) ও গ্যারি জেনকিন্স (৩৯)। পুলিশ জানায়, এই চারজনের মধ্যে যিনি মারা গেছেন, তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ

জাতিসংঘে সদস্যপদ পেতে ফিলিস্তিনি চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার আভাসে নিউইয়র্কে গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে পশ্চিম তীরে সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছে ইসরায়েল। চীনের একটি সরকারি পত্রিকায় বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে।
রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার আভাসে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে শত শত বিক্ষোভকারী। ফিলিস্তিনি সলিডারিটি কোয়ালিশনের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ হয়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড বহনকারী বিক্ষোভকারীরা ‘স্বাধীন গাজা’, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ বলে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব বন্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়া বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়।
এদিকে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমে গতকাল জানানো হয়, পশ্চিম তীরে তিন ব্যাটালিয়ন রিজার্ভ ফোর্সসহ এক হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় কমান্ডার জেনারেল আভি মিজরাহি সেনাদের যেকোনো ধরনের রক্তপাত এড়াতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
চায়না ডেইলি পত্রিকায় গতকাল হুঁশিয়ার করা হয়, বিশ্ব মতামতকে অগ্রাহ্য করে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি আবেদনে বাধা দিলে ইসরায়েলই শুধু একঘরে হয়ে পড়বে না, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে।

বন্যার কারণে গিলানির যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল

পাকিস্তানে বন্যা-পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল।
ভারী বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৮৯ জন মারা গেছে। বাস্তুহারা হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার পর আবার বন্যার কবলে পড়েছে দেশটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিন্ধু প্রদেশে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিউইয়র্ক সফর বাতিল করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর পক্ষে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য জোরালো ত্রাণ-ত ৎপরতা চালানো হচ্ছে।
গত বছর দেশে যখন ভয়াবহ বন্যা হয়, তখন দেশের বাইরে ছিলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। এ জন্য তাঁকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ সরবরাহে বিলম্বের কারণে বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকার।
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোয়ারদির জেলায় তালেবানবিরোধী এক ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে গত বৃহস্পতিবার চালানো আত্মঘাতী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে পৌঁছেছে। গতকাল পুলিশ এ কথা জানায়। আহত ৬৭ জন এখনো হাসপাতালে চিকি ৎসাধীন।

কাজে ফিরেছেন সোনিয়া গান্ধী

যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পর দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া শুরু করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গত বৃহস্পতিবার তিনি কংগ্রেসের নির্বাচন-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।
উত্তর প্রদেশের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আয়োজিত ওই বৈঠক শেষে কংগ্রেসের মুখপাত্র জনার্ধন দ্বিবেদী বলেন, সোনিয়া গান্ধী ওই বৈঠক পরিচালনা করেন। তিনি বৈঠকে যোগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে অভ্যর্থনা জানান এবং বৈঠক শেষে তাঁকে বিদায় জানান। তবে আগের মতো পুরোদমে কাজ করতে সোনিয়ার কিছুদিন সময় লাগবে। সোনিয়াকে এখন তাঁর শরীরের যত্ন নিতে হবে। তবে তাঁর চিকি ৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান জনার্ধন।
ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সোনিয়া গান্ধী দেশটির বর্তমান সরকারের কোনো পদে না থাকলেও সরকারের প্রধান নীতিনির্ধারক এবং প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁকে দেখা হয়। গত আগস্টে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি। ওই সময় হঠা ৎ করেই ঘোষণা দেওয়া হয়, সোনিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। তাঁর অসুস্থতা সম্পর্কে পরিবার, কংগ্রেস বা সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনি নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালে চিকি ৎসা করিয়েছেন।
অস্ত্রোপচার শেষে ৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন সোনিয়া। তবে সে সময় জানানো হয়, আগের মতো কর্মকাণ্ড শুরু করতে তাঁর কমপক্ষে এক মাস সময় দরকার।

চীনে ‘যৌনতা ও প্রেম’ বিষয় বাধ্যতামূলক

চীনে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের ‘যৌনতা ও প্রেম’ বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে বলা হয়েছে, সব শিক্ষার্থীকে বিষয়টি পড়তে হবে। আগামী মাস থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেপ্টেম্বর থেকে মনস্তত্ত্ব বিষয়ের অংশ হিসেবে ‘যৌনতা ও প্রেম’ কোর্সটি পড়তে হবে। বিষয়টিকে আবশ্যক করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীর ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকার কারণে তাঁরা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে সাহায্য পেতে চান। এ ক্ষেত্রে তাঁরা কোর্সটি থেকে উপকৃত হবেন।
নতুন বিষয়টিতে সাতটি অংশ রয়েছে। এতে যৌনতা ও প্রেম বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রচণ্ড চাপ ও হতাশা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেটাও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকি ৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী গাও চ্যাং বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।’ তবে ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকনোমিকসের শিক্ষার্থী কিং ইন মনে করেন, এটাকে আবশ্যক বিষয় করা উচিত হয়নি।

ডেনমার্কের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন স্মিডট

হেলে থর্নিং-স্মিডট ডেনমার্কের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করে। গতকাল শুক্রবার ডেনমার্কের গণমাধ্যম হেলে থর্নিং-স্মিডটের বিজয়কে ‘নারীদের বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ভোট গণনার পর দেখা যায়, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা হেলে থর্নিং-স্মিডটের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম জোট সামান্য ব্যবধানে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লার্স লক রাসমুসেন নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।
ডেনমার্কের ১৭৯ আসনের পার্লামেন্টে মধ্য-বাম জোট ৮৯ আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে মধ্য-ডান জোট পায় ৮৬টি আসন। নির্বাচনে ৮৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দেন।
দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ও ফারো আইল্যান্ডের জন্য সংরক্ষিত চারটি আসনের মধ্যে তিনটিই মধ্য-বাম জোট পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে দুই জোটের আসন সংখ্যা হতে পারে ৯২ ও ৮৭। পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৯০ আসন দরকার।
ভোট গণনার পর উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে হেলে থর্নিং-স্মিডট বলেন, ‘আমরা আজ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’ অন্যদিকে রাসমুসেন বলেন, হেলে থর্নিং-স্মিডটকে অভিনন্দন জানাতে তিনি তাঁকে ফোন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাবিগুলো হেলে থর্নিং-স্মিডটের কাছে হস্তান্তর করব। প্রিয় হেলে, আপনি চাবিগুলোর যত্ন নেবেন। কারণ, আপনি সেগুলো ধার নিচ্ছেন মাত্র।’
রাসমুসেনের নেতৃত্বাধীন ‘ব্লু ব্লক’ এক দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল।

ফিলিপাইনে অভিনব ধর্মঘট

কোনোভাবেই বেয়াড়া পুরুষদের ফেরানো যাচ্ছিল না। গ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এরপরও হুঁশ নেই তাদের। এসব পুরুষের হানহানি বন্ধ করতে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিল গ্রামের একদল গৃহবধূ। এতে কাজ হলো। বিবাদ-বিসংবাদ থেমে গেল পুরুষদের। গ্রামে ফিরে এল শান্তি।
পুরুষদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে এই ‘যৌন ধর্মঘট’ করে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ের নারীরা। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
গত জুলাই মাসে অভিনব এই ধর্মঘট শুরু করার পর থেকে গ্রামে উত্তেজনা কমতে থাকে। এর মধ্যে সেখানে জীবনযাত্রার মানেরও কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা রিকো সালসেদো জানান, গ্রামটিতে ১০২টি পরিবারের বাস। সেখানকার মানুষ সব সময় জমিজমা থেকে শুরু করে নানা তুচ্ছ কারণে বিবাদে মেতে থাকত। সূচিকর্মের সঙ্গে জড়িত একদল নারী খেয়াল করল, পুরুষদের মারামারির কারণে গ্রামের রাস্তা দিয়ে তারা জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পারছে না। এতে পণ্য বিক্রি বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
ওই দলের নেত্রী হাসনা কানদাতু জানান, এ পরিস্থিতিতে তাঁরা শলাপরামর্শ করে জোট বাঁধেন। নিজ নিজ স্বামীকে তাঁরা জানিয়ে দেন, তাঁদের ঝগড়া-ফ্যাসাদের কারণে তাঁরা কাজ করতে পারছেন। এসব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক বন্ধ।
ইউএনএইচসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীর এ ধরনের হুমকির কথা স্বীকার করেছেন হাসনার স্বামী লেঙ্গস কুপঙ্গও। কুপঙ্গের মতো অন্য পুরুষেরাও স্ত্রীর হুমকির মুখে ঝগড়াঝাটিতে উ ৎসাহ হারিয়ে নিজ নিজ কাজে মন দিয়েছেন।

গ্রিসকে নতুন করে ঋণ দেওয়া নিয়ে ইইউর সিদ্ধান্ত অক্টোবরে

গ্রিসকে নতুন করে ৮০০ কোটি ইউরো প্রণোদনা ঋণ দেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে আগামী অক্টোবরে সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গতকাল শুক্রবার পোল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ইউরো জোনের প্রধান জাঁ-ক্লদ জাংকার এ তথ্য জানান।
চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে গ্রিসকে নতুন করে এ ঋণ-সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে ইউরো জোনের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে গ্রিস অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে ইইউ। নতুন করে এ ঋণ না পেলে এথেন্স সরকারকে অদূর ভবিষ্যতে দেউলে হতে হবে।
গতকাল সকালে পোল্যান্ডের গ্রচোয়ায় বৈঠক শেষে লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিসকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আগামী মাসে সিদ্ধান্ত হবে।
ইউরোপীয় অর্থমন্ত্রীদের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী চিমোথি গেইথনারও অংশ নেন। গ্রিসকে প্রণোদনা ঋণ দেওয়ার জন্য ইইউকে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ দেশটির আশঙ্কা, ইউরো জোনের চলমান সংকট ইউরোপের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গ্রিসকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে জোর আপত্তি জানিয়ে আসছে ফিনল্যান্ড। ইউরো জোনে চলমান ঋণ-সংকট নিয়ে ১৭টি দেশের এ ব্লকের সদস্যের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তাদের এ মতবিরোধ দূর করার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এদিকে গতকাল গ্রিস বিষয়ে মতবিরোধ দূর না হওয়ায় ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম আবারও পড়ে যায়।

এনটিসিকে লিবিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার অনুমোদন জাতিসংঘের

লিবিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে লিবিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার কিছু দেশের আপত্তি উপেক্ষা করে জাতিসংঘ এই অনুমোদন দিয়েছে।
এদিকে ভারী অস্ত্রসজ্জিত লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির নিজ শহর সারতে প্রবেশ করেছে। এনটিসির কয়েকজন যোদ্ধার দাবি, তারা বর্তমানে শহরটির অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে। এনটিসির যোদ্ধারা বনি ওয়ালিদ শহরেও প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সারতে দখলের লড়াইয়ে এনটিসির যোদ্ধারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের আগে এনটিসির যোদ্ধারা সারতে দখলের লক্ষ্যে অভিযান চালায়। এতে ১১ যোদ্ধা নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়।
মিসরাতা মিলিটারি কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক হিসাবে ১১ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যোদ্ধারা গাদ্দাফির ৪০ জন অনুগতকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংবাদদাতারা জানান, গাদ্দাফির অনুগত সেনারা গতকাল সারতে শহরের দক্ষিণ উপকণ্ঠের দিকে পিছু হটে গেছে বলে মনে হচ্ছে। কয়েকজন যোদ্ধা জানায়, বিমানবন্দরের দখল নিয়ে লড়াই চলছে।
এনটিসির যোদ্ধা ইব্রাহিম শোয়েব বলেন, ‘সারতের অর্ধেক এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। আজকের (শুক্রবার) মধ্যে বাকি অর্ধেকও দখলে চলে আসবে।’ অপর এক যোদ্ধা বলেন, সারতের অর্ধেক এনটিসির যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। ইনেওয়ে নামের ওই যোদ্ধা বলেন, ১ নম্বর আবাসিক এলাকা এখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। তাঁদের অবশ্যই ১ ও ৩ নম্বর আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
মিসরাতা সোলজার্স ব্রিগেডের যোদ্ধা আবদুল বাসতি জারি বলেন, গাদ্দাফির অনুগতরা তাঁদের লক্ষ্য করে গ্রাদ রকেট ছুড়ছে। আকাশে কুণ্ডলি পাকানো ধোঁয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেখানে গাদ্দাফির অনুগতদের গাড়িতে তাঁরা আঘাত হেনেছেন।
এদিকে এনটিসির একজন মুখপাত্র গতকাল বলেছেন, এনটিসির যোদ্ধারা ত্রিপোলির দক্ষিণ-পূর্বের শহর বনি ওয়ালিদে প্রবেশ করেছে।
মুখপাত্র মাহমুদ শাম্মাম বলেন, ‘আমাদের বিপ্লবীরা বনি ওয়ালিদে প্রবেশ করেছে।’ বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতির সমাধান হবে।’
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গতকাল লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছেছেন।
প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান তিউনিসিয়া থেকে ত্রিপোলির বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছলে এনটিসির নেতা মুস্তাফা আবদুল জলিল তাঁকে স্বাগত জানান।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির লিবিয়া সফরকে তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে ‘উপনিবেশ স্থাপন’ শুরুর লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম।

সিরিয়ায় ‘জাতীয় পরিষদের’ নাম ঘোষণা বিদ্রোহীদের

সিরিয়ার বিদ্রোহীরা তুরস্কে বৈঠকের পর গতকাল শুক্রবার একটি ‘জাতীয় পরিষদ’ গঠনের লক্ষ্যে ১৪০ জন সদস্য বাছাই করেছে। বিদ্রোহীদের দাবি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ সিরিয়ার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের নীতি সমন্বয় করারও কাজ করবে। দেশটিতে গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১১ জন নিহত হয়েছে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গতকাল হামা শহরের কাছের একটি গ্রামে দমন অভিযান চালান। এ সময় পাঁচজন নিহত হয়। একজন মানবাধিকারকর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে সেনা ও পুলিশের সদস্যরা মেশিনগান নিয়ে সেখানে দুই ঘণ্টার অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা নির্বিচারে গুলি ছুড়লে পাঁচজন নিহত হয়।
লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তারা জানান, জাবেল আল-জাওয়িয়াহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর হত্যা করেছেন। এ ছাড়া অন্য এলাকায় আরও তিনজন নিহত হয়। হামা শহরে জুমার নামাজের পর একটি মসজিদে জড়ো হওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা জানান, সেখানকার আকাশে পরিদর্শন হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদক জোনাথন হেড ইস্তাম্বুল থেকে জানান, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বৈঠকে ‘জাতীয় পরিষদের’ ১৪০ সদস্যের মধ্যে ৭২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সিরিয়ায় অবস্থান করছেন বলে কয়েকজন সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিদ্রোহীদের মুখপাত্র বাসমা কাদমানি জানান, প্রথম পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠকের পর উপস্থিত সবাই সিরীয় ন্যাশনাল কাউন্সিল বা জাতীয় পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইয়াসির তারাব্বারা নামের পরিষদের একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এটি হচ্ছে এর উদ্বোধনী বৈঠক।’
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ওপর প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের চালানো দমন অভিযানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ‘সম্মিলিত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনও মার্কিন নাগরিকদের সিরিয়া ত্যাগ করার আহ্বান জানায়।
বান কি মুন বলেন, যেহেতু আসাদ তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখছেন না, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, তাঁর বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া ও একই সুরে তাঁর বিরুদ্ধে বলা।
গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কথা বলেন বান কি মুন। প্রতিবারই আসাদ বিদ্রোহীদের ওপর দমন অভিযান বন্ধ ও রাজনৈতিক সংস্কার শুরুর অঙ্গীকার করেন। বান কি মুন বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন তিনি। তাই জাতিসংঘের সদস্য দেশ ও নিরাপত্তা পরিষদকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বারবার আন্তর্জাতিক আহ্বান অমান্যকারী সিরিয়ার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
পশ্চিমা শক্তিগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আসাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়া, চীন ও অন্য কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে এই প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অনশন নাটক করে জনগণের অর্থ নষ্ট করছেন মোদিঃ কংগ্রেস

ভারতের ক্ষমতাসীন ইউপিএ জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেস বলেছে, অনশন নাটক করার মাধ্যমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণের অর্থ নষ্ট করছেন। বিজেপি যদি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়, তবে তা হবে ধ্বংসাত্মক। গুজরাটের ভারপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মোহন প্রকাশ পিটিআইকে এসব কথা বলেছেন।মোহন প্রকাশ অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি অনশন করে তাঁর অতীত অপরাধ মুছে ফেলতে চান। তিনি মোদির বিরুদ্ধে অনশনের ধারণাকে কলুষিত করার অভিযোগ এনে বলেন, মোদি অনশনের নাটক করে বিজয় উদযাপন করছেন।

সমাজে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে গতকাল শনিবার থেকে তিন দিনের ‘সদ্ভাবনা’ উপবাস শুরু করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে নিজের 'ইমেজ উজ্জ্বল করতেই' 'সদভাবনা' নামে এই নবধারার আন্দোলন শুরু করেছেন বিজেপির এই নেতা। আর রাজ্যের বিরোধী কংগ্রেস নেতাদের দাবি, রাজনৈতিক চমক সৃষ্টির জন্যই তিনি এই 'তামাশা' শুরু করেছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অনশন শুরু করেছেন রাজ্য কংগ্রেস নেতারাও।

রাজ্যের বৃহত্তম শহর আহমেদাবাদের গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকেন্দ্রে গতকাল অনশনের শুরুতে মোদি বলেন, 'শুভেচ্ছা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।' এল কে আদভানি, অরুন জেটলিসহ বিজেপির শীর্ষস্থনীয় নেতারা অনশনস্থলে ছিলেন। ভারতের রাজনীতিতে মোদি অবশ্য সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বেশি পরিচিত। ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও দাঙ্গায় কোনো 'ভুল' করার বিষয়টি সব সময়ই অস্বীকার করে এসেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ৬১ বছর বয়সী এই পক্বকেশী রাজনীতিক ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নিজের সাম্প্রদায়িক ইমেজে চুনকাম করতেই অনশন করছেন। এ উপলক্ষে গতকাল ভারতের পত্রিকাগুলোতে পূর্ণ পৃষ্ঠাজুড়ে তাঁর একটি চিঠি ছাপা হয়। এতে তিনি বলেন, 'কোনো রাজ্য, সমাজ বা ব্যক্তি নিজেকে নিখুঁত বলে দাবি করতে পারে না। আমার সত্যিকারের ভুলগুলো যাঁরা ধরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'

অনশনের শুরুতে দর্শকসারিতে উপস্থিত রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও মুসলিম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ওই দাঙ্গায় যাঁরা স্বজনদের হারিয়েছেন 'তাঁদের জন্য আমি ব্যথিত'। তবে ওই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করেননি বা ক্ষমাও চাননি। মোদির অনশনের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে রাজ্য কংগ্রেসের নেতারাও গতকাল থেকে তিন দিনের অনশন শুরু করেছেন। মোদির অনশনকে 'পাঁচ তারকা' হোটেলের আয়েশের সঙ্গে তুলনা করেন কংগ্রেস নেতা শংকরসিন ভাঘেলা। কেননা মোদি অনশন করছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। আর কংগ্রেস নেতারা অনশনের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফুটপাতকে। শংকরসিন বলেন, 'জনগণের কয়েক কোটি রুপি খরচ করে এই অনশনের প্রয়োজন কী? তিনি চাইলে বাড়িতে বসেও অনশন করতে পারতেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই তামাশা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।' কংগ্রেস নেতাদের অনশনস্থল শহরের সবরমতি আশ্রমের সামনের ফুটপাত।

মোদির শাসনামলে অবশ্য গুজরাটের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশের ওপরে। কেন্দ্র সরকার যখন নানামুখী দুর্নীতির অভিযোগে বিপর্যস্ত-পর্যুদস্ত সেখানে দুর্নীতিবিরোধী হিসেবে মোদির সুনাম ক্রমাগত তাঁর জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুই দফায় ১৭ দিন অনশন করেন সমাজকর্মী আনা হাজারে। যোগ ব্যায়ামের গুরু রামদেবও একই দাবিতে অনশন করেন।

২০০২ সালে গোধরায় ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রর মোদির নিষ্ক্রিয়তা দায়ী করা হয়। তবে এই অভিযোগে বিচার থেকে চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি বিরাট স্বস্তি পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশকে বিজেপি ও মোদি তাঁদের বিজয় বলে অভিহিত করেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্নঃ মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় আন্দোলন শুরুর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট আয়োজিত ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেন, ‘দেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশ আজ কোন দিকে যাচ্ছে তা আমরা কেউ জানি না। এদেশেরও কি সিকিম-নেপালের মতো ভাগ্য বরণ করতে হবে?’তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে দাবি করে মহাজোট সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এমনকি মানুষের মৌলিক অধিকার টুকু কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এ সময় সরকারের এই সুগভীর ষড়যন্ত্র থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে বাঁচাতে নতুন করে আবার সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মনোবল নিয়ে নতুন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমার খুব দুঃখ হয়- যখন দেখি দেশের বিরুদ্ধে চুক্তি হয়, দেশের গণতন্ত্র লুট করে নেয়া হয় এবং দেশের একমাত্র দলিল সংবিধানকে কেটে তছনছ করে ফেলা হয়; অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে একটি মিছিলও বের হয় না।’

ফখরুল বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকায় তার বিরুদ্ধে কিছু বুদ্ধিজীবী মানববন্ধন করেছে। অথচ দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র হচ্ছে তাতে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে। কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এখন আর ঘরে বসে কথা বলার সময় নেই। রাজপথে নেমে এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্রের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে-মেয়ে এবং তার বোনের ছেলে-মেয়ে পরিবার নিয়ে সবাই বিদেশে থাকেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণেই শুধু শেখ হাসিনা দেশে থাকেন। অন্যথায় তিনিও বাংলাদেশে থাকতেন না। এজন্য এ দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য তার কোন মাথা ব্যথা নেই।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ হ ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) কোম্পানি শেয়ার বাজার থেকে শ’ শ’ কোটি টাকা লোপাট করেছে বলেও অভিযোগ করে তিনি। মাহমুদুর রহমান বলেন, অনুন্নয়ন খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে দেশকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঢাবির অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, পররমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রকৌশলী হারুন-অর রশীদ, বুয়েটের অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা খান, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম।

‘সদ্ভাবনা’ উপবাস শুরু করেছেন নরেন্দ্র মোদি

মাজে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে শনিবার থেকে তিন দিনের ‘সদ্ভাবনা’ উপবাস শুরু করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান সংহত করতেই এই কর্মসূচি পালন করছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই নেতা।
গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে উপবাস মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমবেত জনতার উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সবাইকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য শান্তি, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়া।’

সকালে ওই উপবাস মঞ্চে সংস্কৃত শ্লোকের পাশাপাশি শোনা যায় ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি। মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই মোদির পক্ষে স্লোগান দেন। মোদি বলেন, ‘আমার এই অনশন কারও বিরুদ্ধে নয়। তা কখনো ছিলও না। ভবিষ্যতেও থাকবে না। গুজরাটের উন্নয়নের মডেল ও শাসন নিয়ে সারা বিশ্ব প্রশংসা করে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আমাদের মডেল নিয়ে মানুষ আলোচনা করবে।’ এ সময় অনশন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির নেতা এল কে আদভানি, রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলি, রবি শঙ্কর প্রসাদ, মুক্তার আব্বাস নাকভি ও রাজীব প্রতাপ রুডি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল, এআইডিএমকের নেতা এম থামবিদুরাই ও ভি মৈত্রেয়।

তিন দিনের এই অনশন কর্মসূচি শুরু করার আগে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় মোদির এক পাতার একটি চিঠি ছাপা হয়েছে। এতে তিনি বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্র, সমাজ বা ব্যক্তি নিজেকে পরিপূর্ণ সঠিক দাবি করতে পারেন না। আমার প্রকৃত ভুল যাঁরা ধরিয়ে দেন, আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

২০০২ সালে গোধরায় ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করা হয়। তবে এই অভিযোগে বিচার থেকে চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। ওই দাঙ্গার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি মোদি। তবে তিনি বলেন, ‘স্বজন হারানোদের জন্য আমি কষ্ট অনুভব করি।’ আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মোদিকে বিজেপির অন্যতম প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনসহ কয়েকটি বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিতে ১১ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এছাড়া ২১ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগদান ছাড়াও জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত সন্ত্রাস দমন, সংক্রামক ব্যাধি, নারীর ক্ষমতায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেবেন। সফরকারে প্রধানমন্ত্রী তার মেডিকেল চেকআপও করাবেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত সন্ত্রাস মোকাবিলা বিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে মূলভাষণ দেবেন। সিম্পোজিয়ামে সন্ত্রাস মোকাবিলা বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সামনে তার বক্তব্য জানাবেন। এদিন তিনি সাধারণ পরিষদ হলে ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভাষণ দেবেন। ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর কনফারেন্স অব পার্টিজের (সিওপি) বর্তমান ও পরবর্তী সভাপতি আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক সংলাপে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মার্কিন চেম্বার ও এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজেও যোগ দেবেন। পরে জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে ‘এভরি ওম্যান এভরি চাইল্ড’ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ওয়ালডর্প হোটেল স্যুটে শিকাগোর অটিজম প্রবক্তা ডেভিড স্ট্রেনফিল্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে মেম্বারস অব অটিজম স্পিকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশের ডেলিগেশন প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী পল্লি নারীদের ক্ষমতায়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। জাতিসংঘ উইমেন এবং জাতিসংঘ পপুলেশন ফান্ড এই আলোচনার আয়োজন করবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি, কমনওয়েলথ মহাসচিব ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। পরে তিনি তার সম্মানে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। সফর শেষে তিনি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. রুহুল হক ও অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এমএ করিম ও প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন। এছাড়া একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও তার সাথে আছে।

বিকল্পধারা বিএনপি বৈঠক

রকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে বিএনপির সাথে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) এমএ মান্নান বলেন, জনস্বার্থে দেয়া বিএনপি সব ধরনের কর্মসূচিতে মাঠে থাকবে বিকল্পধারা। শনিবার রাতে দুদলের মহাসচিব পর্যায়ে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে মন্তব্য করে মান্নান বলেন, এমন কোন কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে দেয়া হবে না যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। বিএনপির এ ধরনের কর্মসূচিতেও সমর্থন দেবে না বিকল্পধারা। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল ও মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে তার দল বিএনপির সাথে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্পধারা কোন নির্বাচনে যাবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, বিএনপি মাঠে থাকলে বিকল্পধারা থাকবে এতে কোন সমস্যা নেই। আর আন্দোলন যুগপৎভাবে হতে পারে, তবে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এখনই ভাবছি না। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র জনসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিজে উপস্থিত না থাকলেও প্রতিনিধি থাকতে পারে। সেটাও সম্ভব না হলেও অবশ্যই সমর্থন থাকবে।

সরকার জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছে অভিযোগ করে বিকল্পধারার মহাসচিব বলেন, বিশাল জনসংখ্যাকে বিভক্ত করে উন্নতি করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত শিগগিরই মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকার গঠন করার সুযোগ করে দেয়া। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া দেশে অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই ইস্যুতে বিকল্পধারার সাথে ঐকমত্য হয়েছে। এ সময় বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচিতে বিকল্পধারা পাশে থাকবে আশা প্রকাশ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের বৃহত্তর দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নিয়ে বিকল্পধারা কঠোর কর্মসূচিতেও অংশ নেবে। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে মহাসচিব পর্যায়ের এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

কর প্রদানে গণসচেতনতা প্রয়োজনঃ এইচটি ইমাম

বাই মিলে দিব কর দেশ হবে স্বনির্ভর এ স্লোগান নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা ২০১১ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। রাজধানীর বেইলী রোডের অফিসার্স ক্লাবে ৫ দিনব্যাপী কর মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন কর প্রদানের ক্ষেত্রে গণসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার জন্য আয়কর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও ভালো আচরণ করা দরকার। কর দাতার যেন না মনে করেন, তাদের উপর জোড় করে কর আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া আয়কর কর্মকর্তারা দুর্নীতি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এইচ টি ইমামের বক্তব্যেই উঠে আসে তাদের দুর্নীতির বিষয়টি। এ সময় তিনি কর কর্মকর্তা সম্পর্কে জনমনের ভয় ভীতি দুর করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
এইচটি ইমাম তার বক্তব্যে বলেন, আমি নিজেও ফরম কীভাবে পূরণ করতে হয় তা জানি না। কর প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে। দেশের সব নাগরিককেই কর প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে বলেও মত দেন তিনি। এইচটি ইমাম বলেন, যে ব্যক্তির কর দেওয়ার অভ্যাস হবে তিনি সরকারের কাজে ভালোমন্দ বিষয়ে সচেতন থাকবেন। কর প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি রয়েছে। সেই ভীতি দূর করার জন্য রাজস্ব বোর্ডকে আরও বেশি করে সারাদেশব্যাপী ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী কর প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকার তাদের সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী সরকারের যেসব তথ্য কেন্দ্র রয়েছে তা কাজে লাগাতে পারে। দেশের যে কোনও স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্নের বিষয়ে কর দাতারা জানতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

মেলার মোট ৮৭টি স্টলে আয়কর কর্মকর্তারা টিন সার্টিফিকেট ফর্ম পূরণ, আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ কর সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা দিচ্ছেন। ঢাকায় বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাব, চট্টগ্রামে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের পাশে জিমনেশিয়াম, রাজশাহীতে জাফর ইমাম টেনিস কমপ্রেক্স, খুলনায় করভবন, সিলেটে স্টেডিয়াম জিমনেসিয়াম, বরিশালে বরিশাল ক্লাব ও রংপুরে জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে বেলা ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে, দেশে কর সনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা ২৬ লাখ। এর মধ্যে করদাতার সংখ্যা ৯ লাখ।

তিন ঘণ্টায় পাস হওয়া সংবিধান জনগণ মেনে নেয়নিঃ ড. কামাল

ণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রুগ্ন রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। অশুভ শক্তিকে ধ্বংসের প্রস্তুতি নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেলে গণফোরামের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কামাল হোসেন এ কথা বলেন।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কামাল হোসেন আরও বলেন, গরু-ছাগলের মাথা বিক্রি হয় কিন্তু মানুষের মাথা বিক্রি হয় না। সেটা কেনাও যায় না। এই মন্ত্র মাথায় নিয়ে প্রত্যেক ঘরে ঘরে যেতে হবে। এ ছাড়া সুস্থ ধারার রাজনীতির পক্ষে শপথ নেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের সমালোচনা করে কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনী রাজনীতির কৌশল হিসেবে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু সংবিধান দেশের জনগণের সম্পদ। আর এই সংশোধনী দেশের জনগণ মেনে নেয়নি। তিন ঘণ্টায় পাস হওয়া সংবিধান দিয়ে বাহাত্তরের সংবিধানকে আঘাত করা সম্ভব নয়।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কফিল উদ্দিন, মফিদুল ইসলাম, কমান্ডার আবদুর রউফ, জহিরুল ইসলাম, বিকল্প ধারার সাধারণ সম্পাদক মেজর মান্নান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান প্রমুখ।

২০০৭-এ দ্রাবিড়কে বাদ দেওয়াটা ভুল ছিলঃ গাঙ্গুলি

০০৭ সালেই সম্ভবত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সমাপ্তিটা দেখে ফেলেছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। ভারতের অধিনায়ক হিসেবে ‘ব্যর্থ বিশ্বকাপ’ শেষে দীর্ঘসময়ের জন্য ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট-ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসের পর তিনি খেলেছেন মাত্র ১১টি ওয়ানডে ম্যাচ। অবশেষে গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডেটি খেলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ‘মি. ওয়াল’।
এদিকে ২০০৭ সালে দ্রাবিড়কে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা একেবারেই সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আরেক সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ভারতের অন্যতম শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গাঙ্গুলি বলেন, ‘দ্রাবিড়কে সে সময় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ছিল ভুল। তিনি দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ধরনের ক্রিকেটেই ১০ হাজার রান করাটা খুবই কঠিন একটা কাজ। আর এটা দিয়েই তাঁর সামর্থ্য ও দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তাঁর রান করার সামর্থ্য নিয়ে কারোরই সন্দেহ নেই।’

তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় বললেও আরও কিছুদিন টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন বলে জানিয়েছেন দ্রাবিড়। আর টেস্ট ক্রিকেটের জগেক তাঁর এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে বলে মনে করছেন গাঙ্গুুলি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, টেস্টে দ্রাবিড় আরও অনেক রান করতে পারবেন। আর অনেক ভালো অবস্থানে থেকেই তিনি শেষটা করতে পারবেন।’

ভারত নেমে গেল পঞ্চম স্থানে

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা ছেড়ে দিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এবার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও চরম অবনতি হয়েছে ভারতের। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের পর আবারও র্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে বিশ্বকাপজয়ীরা। তবে ইংল্যান্ড সফরের এই ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্য দলের মূল কিছু খেলোয়াড়ের ইনজুরিকেই দায়ী করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
গতকাল সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জয়ের জন্য ৩০৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়েও কোনো লাভ হয়নি ভারতের। বৃষ্টির বাধায় শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ছয় উইকেটের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ধোনি-বাহিনীকে। ইংল্যান্ড সফরে একটা ম্যাচেও জয়ের দেখা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। গতকাল ম্যাচ শেষে ধোনি বলেন, ‘আমি গত পাঁচ বছরে একসঙ্গে এত ইনজুরির ঘটনা আর দেখিনি। একটা সফরে দলের নয় থেকে ১১ জন খেলোয়াড়ের ইনজুরিটা সত্যিই দুঃখজনক। ওয়ানডে সিরিজে ভাগ্যও আমাদের সঙ্গে ছিল না। প্রথম দুটি টেস্টে আমাদের খেলতে হয়েছে তিনজন মূল বোলার ছাড়াই। এ কারণে ব্যাটসম্যানদের ওপর অনেক চাপ চলে এসেছে। শুধু একটা দিকের ওপর নির্ভর করে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা সম্ভব নয়।’

এখন ইংল্যান্ড সফরের এই দুঃস্বপ্ন ভুলতে ইংল্যান্ডের ভারত সফরের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বিশ্বকাপজয়ীদের। আগামী অক্টোবর মাসে ফিরতি সফরে ভারতে আসবে ইংল্যান্ড। তবে এবার প্রতিশোধের চিন্তা মাথায় আনছেন না ধোনি। ভালো পারফরমেন্স দেখানোটাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধের মতো চিন্তা মাথায় আনা ঠিক নয়। এ ধরনের চিন্তা থাকলে, সবাই অনেক মরিয়া হয়ে উঠবে এবং দলের ওপর চাপটাও বেড়ে যাবে। আমরা শুধু ভালো খেলার দিকেই মনোযোগ দেব।’

ক্যারিয়ার-সেরা সূচনা রুনির

ত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতলেও তাতে খুব বেশি অবদান ছিল না তারকা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনির। ২৮টি ম্যাচে মাঠে নেমে গোল করেছিলেন মাত্র ১১টি। কিন্তু এবার নতুন মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্তভাবেই করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। আর্সেনাল ও বোল্টনের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। শুরুর চারটি ম্যাচে গোল করেছেন আটটি। এখন পর্যন্ত নিজের পারফরমেন্স নিয়ে রুনি এতটাই সন্তুষ্ট যে এবারের মৌসুমের শুরুটাকে নিজের ক্যারিয়ার-সেরা বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
এবারের মৌসুমে খেলার ধরন কিছুটা পাল্টেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর দুর্দান্ত এই সূচনার পেছনে এটাই অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে স্বীকার করেছেন রুনি। সম্প্রতি দ্য সান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের খেলার ধরন কিছুটা বদলেছি। আর আমি খুবই ভাগ্যবান। কারণ, এতে আমিই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছি। এবারের মৌসুমের শুরুটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা সূচনা। আমি কখনো টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পাইনি। এখন আমি ব্যাপারটা খুবই উপভোগ করছি, আর আশা করছি, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

রোববার চেলসির বিপক্ষে ম্যাচেও নিশ্চয়ই নিজের এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের প্রতিফলন খুব করেই চাইবেন রুনি। তবে এবার নিজের হ্যাটট্রিকের চেয়ে ম্যান ইউয়ের জয়টাই কামনা করছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। তিনি বলেন, ‘আরেকটা হ্যাটট্রিক করতে পারলে তা হবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু আমি সেটা নিয়ে বেশি ভাবছি না। এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ হবে। আর নিজের হ্যাটট্রিকের চেয়ে ম্যান ইউয়ের জয়টাই আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই আমার মনোযোগটা সেদিকেই থাকবে।’

ম্যারাডোনাও ঘুষ নেন!

সার্জিও বাতিস্তা একজন দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর—উত্তরসূরি আর্জেন্টাইন কোচ বাতিস্তার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই এমন অভিযোগ করে আসছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তবে ঘুষ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ম্যারাডোনাও যে ধোয়া তুলসি পাতা নন, আজ শনিবার তেমনই একটি খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
একসময় ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন গ্যাব্রিয়েল বুনো। সাবেক বসের সততার প্রশ্নে এক সাক্ষাত্কারে যেন বোমা ফাটালেন বুনো, ‘তিনি ঘুষ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কাউকে খুঁজলে ১ নম্বরে পাবেন ম্যারাডোনাকে। এর সব সাক্ষ্যপ্রমাণ আমার হাতে রয়েছে।’

গত বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের পর আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান ম্যারাডোনা। দায়িত্ব দেওয়া হয় সার্জিও বাতিস্তার কাঁধে। তবে এ বছরের জুলাইয়ে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হওয়ার পর চাকরি যায় বাতিস্তারও।

বাতিস্তার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সমালোচনামুখর ম্যারাডোনা। একজন দুর্নীতিবাজের হাতে দলের ভার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তিনি। প্রতিক্রিয়ায় ম্যারাডোনাকে আদালতে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বাতিস্তা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ম্যারাডোনা অভিযোগ করেন, দলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে কয়েকজন ফুটবলারের কাছে ঘুষ নিয়েছিলেন বাতিস্তা। এর রেশ কাটতে না-কাটতেই সহকারীর মুখ থেকে ম্যারাডোনার দুর্নীতির খবর ফাঁস হওয়ায় লড়াইয়ের বড় এক অস্ত্র পেয়ে গেলেন বাতিস্তা।

আমিরের দোষ স্বীকার

তদিন অস্বীকার করে এসেছেন। পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পরও মোহাম্মদ আমির দাবি করেছেন, লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে তিনি জড়িত নন। তবে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে পাকিস্তানের এই ফাস্ট বোলার দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে শনিবার খবর বেরিয়েছে।
লন্ডনের ক্রাউন কোর্টে আমিরসহ সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম চলছে। ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর দাবি, শুনানির সময় নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে কোর্টে উপস্থাপন করেন আমির। তবে তিনি দাবি করেন, লর্ডস টেস্টে তিনি ইচ্ছা করে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়াননি। তাঁকে নো বল করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউজ’ জানায়, অর্থের বিনিময়ে নো বল করেছিলেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আমির। তবে তাঁকে নো বল করতে পাকিস্তানের তত্কালীন অধিনায়ক সালমান বাট বাধ্য করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

গত বছর অনুষ্ঠিত লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় ১৯ বছর বয়সী আমিরকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। একই কারণে পাকিস্তানের সালমান বাটকে ১০ ও মোহাম্মদ আসিফকে সাত বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া না হলেও অল্প বয়স বিবেচনায় আমিরের ক্ষেত্রে একটু ‘নমনীয়’ ছিল আইসিসি। খবর বেরিয়েছিল, দোষ স্বীকার করে সত্যিকারের ঘটনা বললে শাস্তি কমানো হতে পারে আমিরের। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন এই ফাস্ট বোলার।

ইউএআরএস স্যাটেলাইট পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে

০ বছরের পুরোনো একটি মার্কিন স্যাটেলাইট আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) শুক্রবার জানায়, স্যাটেলাইটটি কোথায় ভেঙে পড়বে, তা এখনো তারা জানতে পারেনি। ইউএআরএস স্যাটেলাইট মহাকাশ খেয়া যান ডিসকভারির সাহায্যে ১৯৯১ সালে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। ১০ মিটার দৈর্ঘ্য, তিন মিটার প্রস্থের স্যাটেলাইটটির ওজন পাঁচ হাজার ৯০০ কিলোগ্রাম।
নাসা জানায়, বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে গবেষণার কাজে নিয়োজিত স্যাটেলাইট (ইউএআরএস) বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা ঝুঁকি ‘একেবারেই কম’। তারা জানায়, স্যাটেলাইটের পুরোটা না হলেও বেশির ভাগই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগেই পুড়ে যাবে। নাসা তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, স্যাটেলাইটটি ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। তবে সময় একটু এদিক-সেদিক হতে পারে। কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত স্যাটেলাইটটি ৫৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৫৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যেকোনো স্থানে পড়তে পারে।

পল্লীকবির আসমানীর চিকিৎসার দাবি

নাতি সবুজের ডাকে পাশ ফিরে শুয়ে আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকালেন আসমানী। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কবিতা 'আসমানী'র নায়িকা এই আসমানী। ভাদ্র মাসের দুপুরে অসহ্য গরমের ভেতরও মাটিতে পাটি পেতে কাঁথা গায়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নাতি সবুজের ডাক শুনে ভাবলেন, খাবার খেতে ডাকছে। কিন্তু সবুজ তাঁকে জানালো, সাংবাদিক এসেছে। আসমানী তাঁর ভীরু-দুর্বল চোখ তুলে সাংবাদিক খুঁজলেন। কেমন বিমর্ষ। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন তিনি। জানা গেল, তখনো সকালের খাবার খাওয়া হয়নি তাঁর। ওষুধ তো পরের কথা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম। শহর থেকে পথের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটারের মতো। ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের শিবরামপুর এলাকা থেকে ডান দিকের পাকা সড়ক গেছে রসুলপুরের দিকে। কিন্তু দুই কিলোমিটার পর থেকে মাটির কাঁচা রাস্তা শুরু। ওই পথের আরো প্রায় দুই কিলোমিটার পর ছায়াঘেরা গাছ-বাঁশঝাড় পেরিয়ে তবেই যাওয়া যায় আসমানীর বাড়ির আঙিনায়। তখন সূর্য একদম মাথার ওপর এসে পড়েছে। ওই সময় আসমানীর বাড়ি গিয়ে জানা গেল, তখনো তাঁর সকালের খাবার খাওয়া হয়নি।

ততক্ষণে আসমানী অস্ফুট স্বরে বলতে শুরু করেছেন তাঁর অসুস্থতার কথা। ভাঙা বাঁ হাতের যন্ত্রণার কথা। অনেক দিন ধরে কানে কম শুনছেন তিনি। অনেক কষ্টে তাঁকে বোঝানা গেল, কেমন আছেন_জানতে সাংবাদিক এসেছেন। ফের অস্ফুট উচ্চারণে বললেন, 'আর পারছি না। শরীরে অনেক কষ্ট। তোমরা কি পারবে আমার জন্য ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করে দিতে?' এরপর আর কোনো কথা বললেন না আসমানী। ছবি তোলার জন্য হাত ধরে তাঁকে ঘরের দাওয়ায় পাটি পেতে বসানো হলো।

কথা হলো মেয়ের ঘরের নাতি সবুজ শেখের সঙ্গে। তিনি জানান, নানির ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে তাঁর মা জোছনাই নানির কাছে থাকেন। তাঁকে দেখে রাখেন। তাঁর সেবা-যত্ন করেন।

সবুজ স্থানীয় একটি পাটকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কোনো রকমে সংসার চালাতে পারলেও নানির ওষুধ ও পথ্য ঠিকমতো কেনা হয় না। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি সরকারি ব্যয়ে নানির চিকিৎসার দাবি জানান। আসমানীর তারেক নাতি নিজাম মণ্ডল বলেন, 'নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। হিমশিম খেতে হয়। এরপর কিভাবে দাদির চিকিৎসার খরচ চালাব?' এদিকে আসমানীর চিকিৎসা সরকারি ব্যয়ে করার দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের সাংস্কৃতিকর্মীরাও।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন আসমানীর চিকিৎসার জন্য সরকারসহ সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল বলেন, পল্লীকবি তাঁর কবিতায় আসমানীর যে বর্ণনা দিয়েছিলেন প্রায় শত বছর পরও তা বদলায়নি। তিনি সরকারি ব্যয়ে আসমানীর চিকিৎসার দাবি জানান।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফরিদপুরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রহমান ফরিদ বলেন, 'আসমানী আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তিনি আসমানীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসমানীদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

দুই সূর্যের গ্রহ!

ত্যিই বিস্ময়কর! একটি গ্রহ আবর্তন করছে একটি নয়, দু’টি সূর্যকে। কেপলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই প্রথম দেখা গেছে একটি গ্রহ একই কক্ষপথে দু’টি সূর্যকে আবর্তন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ কথা জানায়।
বিষয়টি যেন কাকতালীয়ভাবে স্টার ওয়ারস সিনেমার টেটুন গ্রহের সঙ্গে মিলে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমার কাল্পনিক চরিত্র লুক স্কাইওয়াকারের মতো কেউ হয়তো গ্রহটিতে নাও থাকতে পারেন।

পৃথিবী থেকে ২০০ আলোকবর্ষ দূরে এই গ্রহটিতে দু’টি সূর্য থাকায় সেখানে সূর্যাস্তও হয় দু’বার। তবে কেপলার-১৬বি নামের এ গ্রহটির দু’টি সূর্যই আমাদের সূর্যের চেয়ে ছোট। আমাদের সূর্যের তুলনায় একটির আয়তন ৬৯ শতাংশ ও অপরটি ২০ শতাংশ ছোট। সেখানে উপরিভাগের তাপমাত্রা মাইনাস ৭৩ থেকে মাইনাস ১০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রহটি একই কক্ষপথে প্রতি ২২৯ দিনে একবার সূর্য দু’টিকে প্রদক্ষিণ করছে।

গবেষণা দলের সহযোগী অ্যালান বস বলেন, কেপলারের মাধ্যমে এটি সত্যিই একটি অবিশ্বাস্য পর্যবেক্ষণ। এ গ্রহটিতে শনি গ্রহের মতো বসবাসের অনুপযোগী ঠাণ্ডা গ্যাস থাকতে পারে। আগে ধারণা করা হতো, কোনো প্রহের হয়তো দুটি সূর্য থাকতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটাই প্রথম নিশ্চিত করা হয়েছে।

ছেলের হাড়গোড় নিয়ে বাড়ি ফিরলেন আমেনা

মাথা নেই। দুই হাত নেই। দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ নেই। শরীরের বাকি অংশে কোনো মাংসও নেই। কিন্তু পরনের লাল প্যান্টটা রয়েছে। লাল প্যান্টের নীল বর্ডার দেখেই মা আমেনা বেগম ডুকরে কেঁদে ওঠেন। এটাই তার ছেলে মিজানুর রহমান (২০)। গত ঈদের আগের দিন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এর পর আর ছেলের কোনো খোঁজ পাননি মা। ১৬ দিন পর গত বৃহস্পতিবার ছেলের লাশ শনাক্ত করেন তিনি। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ময়নাতদন্ত শেষে পবার হড়গ্রাম গোরস্তানে মিজানের লাশ দাফন করা হয়।
মিজানুর রহমানের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বড়শি গ্রামে। তার বাবা মৃত এরশাদ আলী। মা আমেনা বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কের পাশে খাসজমিতে একটি ঘর তুলে তারা বসবাস করেন।

মিজানের মা আমেনা বেগম জানান, ঈদের আগের দিন মিজান ভারত থেকে গরু আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে ছিলেন গুড়িপাড়া এলাকার আজগর নামের এক ব্যক্তি। ঈদের পর আজগর ফিরে এসে জানান, গরু নিয়ে ফেরার পথে মিজানকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। তিনি কোনো মতে পালিয়ে এসেছেন।

মিজানের বোন আঁখি জানান, বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে মিজানের সন্ধান না পাওয়ায় তারা আজগরের কাছে যান। আজগর তাদের জানান, বিএসএফ ধরে নিয়ে মিজানকে ভারতের বহরমপুরে পাঠিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সে ফিরে আসবে বলে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন।

মিজানের চাচা মোরসালিন ও তার স্ত্রী আছিয়া বেগম মিজানের খোঁজে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত যান। সেখানে বিএসএফের স্পিডবোট চালকের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তার উদ্ধৃতি দিয়ে মোরসালিন জানান, ঈদের রাতে পদ্মা নদীতে চোরাকারবারিদের একটি দলকে ধরতে অভিযান চালায় বিএসএফ। ওই সময় এক ছেলে নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে ওই ছেলের ওপর দিয়ে স্পিডবোট চালিয়ে দেওয়া হয়। তবে সে মিজান কি-না তা ওই বোটচালক জানাতে পারেনি। মোরসালিন জানান, স্পিডবোড চালকের কথায় তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর পবা উপজেলার চর খিদিরপুর এলাকার লোকজন পদ্মা নদীর চরে জামা-কাপড়সহ একটি কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে পোশাক দেখে কঙ্কালটি মিজানের বলে শনাক্ত করেন। মিজানের মা জানান, তার ছেলে লাল রঙের যে প্যান্টটি পরে গিয়েছিল, সেই প্যান্টই ছিল ওই কঙ্কালের শরীরে।

নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, কঙ্কালটি মিজানের বলে শনাক্ত করেছে তার পরিবার। তবে এ ঘটনার পর থেকে আজগরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ধরতে পারলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানান ওসি।

নগরীর রাজপাড়া থানায় নিহত মিজানের মা আমেনা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তাকে গরু আনার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আজগরকে আসামি করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ছে

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের কদর ক্রমেই বাড়ছে। প্রথমদিকে দেশে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছিলেন এর একমাত্র ক্রেতা ও ভোক্তা। এখন এর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে বিদেশীদের। বাজার তৈরি হওয়ায় রপ্তানি আয়ও বাড়ছে এই খাতের। সরকার বেশ আগ থেকেই কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার (থ্রাস্ট) খাত ঘোষণা করেছে। এখন দ্রুত প্রসার ঘটছে এই খাতের।
বর্তমানে দেশের ৭০টি প্রতিষ্ঠান কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উ ৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই করছে। শুধু রপ্তানি করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪৩। আর শুধু উৎপাদন করে ৩৩টি প্রতিষ্ঠান। গত চার বছরে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্প বেশ অগ্রসর হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠা করেছে শিল্প। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এ খাতে সরাসরি জড়িত আছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রধান প্রতিযোগী হচ্ছে ভারত। এ ছাড়া আছে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিলের মতো প্রতিপক্ষও। তাদের পণ্যের মান ও মোড়ক যেমন ভালো, তেমনি দামও কম। তারপরও রপ্তানিকারকেরা বলছেন, দেশের এই শিল্পটি সমৃদ্ধির পথেই রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের কারণেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পাওয়া গেলে এসব পণ্য বিশ্ব বাজারে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে।

গোড়ার দিকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি ছিল সীমিত। ২০০১-০২ অর্থবছরে এ পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল দুই কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এরপর থেকেই বিশ্ব বাজারে প্রসার ঘটতে থাকে এসব পণ্যের। বাপার কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় দুই কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ওই বছর এই পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ১১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পরের বছর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয় ৭৭ শতাংশ। আয় হয় চার কোটি ছয় লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আয় হয় চার কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। পরবর্তী অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার ডলারে।

বাপার মহাসচিব রাজু আহমেদ বলেন, গত পাঁচ বছরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি ক্রমেই বেড়েছে। তা ছাড়া দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এ শিল্পে এগিয়ে আসছে।

বিশ্ববাজারে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে দেশের শীর্ষ অবস্থানে আছে প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড। এ ছাড়া স্কয়ার কনজিউমার প্রডাক্টস, আজমি, ইউরেশিয়া, বোম্বে সুইটস, ইফকো, এসিআই, কাজী ফুডসও বেশ কয়েক ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে।

দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানির রূপকার প্রাণ। ১৯৯৭ সাল থেকে প্রাণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বের ৭৭টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি খাদ্যপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে সৃষ্টি হয়েছে তাদের পণ্যের বেশ বড় বাজার।

প্রাণের পরিচালক (বিপণন) কামারুজ্জামান কামাল জানান, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে তিন কোটি ৬০ লাখ, ২০০৯ সালে দুই কোটি ৬০ লাখ ও ২০০৮ সালে দই কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নতুন বাজার তৈরি এবং বর্তমান বাজার সুসংহত করতে কাজ করছি। আগে আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পণ্য বিক্রির জন্য রপ্তানি করতাম, এখন ওইসব দেশের নাগরিকদের কাছে বিক্রির জন্যও রপ্তানি করছি। আমদানিকারক দেশগুলোতে প্রাণকে বাংলাদেশের একটা ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করানোরও কাজ চলছে।’

বাজার সম্ভাবনা নিয়ে স্কয়ার কনজ্যুমার প্রোডাক্টের রপ্তানি বিভাগের প্রধান খুরশীদ আহম্মাদ বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেই বিরাট এক সম্ভাবনার বড় বাজার আছে। সরকারি পর্যায়ে যদি এসব দেশে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা যায় তাহলেই বড় অগ্রগতি হবে এখাতে।’ তিনি বলেন, আর এখন যে দূর দেশের বাজার আছে তাতে আস্তে-ধীরে অগ্রসর হলেও চলে।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্পকে সরকার অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা করে ২০০৫ সালে। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ হারে সহায়তা (ইনসেনটিভ) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে পণ্য উ ৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই যারা করে শুধু এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এ খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৫ সালে জারি হওয়া এক সার্কুলার (এফই-১৫) অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য উ ৎপাদন ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানই শুধু সহায়তা পাবে। এরপর থেকেই রপ্তানিকারকেরা সার্কুলারটি সংশোধনে অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু তা না করে ২০১০ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্পষ্টিকরণ সার্কুলার জারি করে। তাতে বলা হয়, শুধু উ ৎপাদনকারী রপ্তানিকারক হলেই সহায়তা পাবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাসচিব অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্কুলারটি সংশোধনের দাবি জানান। অর্থমন্ত্রী তাঁদের দাবিকে যৌক্তিক মন্তব্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো বিষয়টির সুরাহা হয়নি।

অনেক সম্ভাবনা থাকার পরও এ খাতের দ্রুত বিকাশ না হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে বাপা। এগুলো হলো কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বেশির ভাগ কাঁচামালই আসে উত্তরবঙ্গ থেকে। গ্যাসের অভাবে সেখানে এসব শিল্প গড়ে ওঠছে না।

আবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি) দেশে নেই। মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই অনেক দেশেই স্বীকৃত না। তাই এ দেশের পণ্য বিশ্ববাজারে গেলে স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে পুনরায় পরীক্ষা করাতে হয়। তা ছাড়া সার্টিফিকেশনের কারণে দেশের অনেক পণ্যই অনেক দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে প্রতিযোগী ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্পে পাঁচ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ঋণ সুবিধা পায় না। অবশ্য সমমূলধন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকল্প আছে, যার আওতায় এ খাতের উদ্যোক্তারা যত টাকা বিনিয়োগ করবেন সমপরিমাণ বিনিয়োগ ব্যাংকও করে থাকে।

অ্যানেমোমিটার

বায়ুর বেগ পরিমাপের যন্ত্র। বায়ুর চাপ পরিমাপের ক্ষেত্রেও এ যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। ১৪৫৬ সালে ইতালিয়ান ভাস্কর লিয়ন বাতিস্তা আলবের্টি প্রথম যান্ত্রিক অ্যানেমোমিটার উদ্ভাবন করেন। পরবর্তী সময়ে সতেরো শতকে ইংলিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ও ১৭০৯ সালে বিজ্ঞানী ওলফিয়াস অ্যানেমোমিটার পুনরায় উদ্ভাবন করেন।
একই সঙ্গে বায়ুচাপ ও বেগ পরিমাপ করার জন্য জন্য ১৯৯১ সালে অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভাবক ড্রেক ওয়েস্টন তিন গোলকের কাপ অ্যানেমোমিটার প্রচলন করেন। বর্তমানে আবহাওয়া বিজ্ঞান ও বায়ুগতিবিদ্যায় বিভিন্ন ধরনের অ্যানেমোমিটার ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে উইন্ডমিল অ্যানেমোমিটার, টাংস্টেন তারের তৈরি তাপ সংবেদী অ্যানেমোমিটার, লেজার ডপলার, টিউব ও সনিক অ্যানেমোমিটার অন্যতম।

খাদ্য ও আশ্রয়ের সঙ্কটে মানবিক বিপর্যয়

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে প্লাবিত জমি থেকে কলমি শাক, শামুক ও শাপলার ভেট সংগ্রহ করছিলেন শাফিয়া ও তার জা শাহানা। দু’জনেরই বাড়ি তালা উপজেলার বাগড়াপুর বয়রানগর গ্রামে। তারা জানালেন, আগে চিংড়ি ঘেরে কাজ করতেন। এখন ঘের ভেসে গেছে। মাটির ঘরগুলো ধসে পড়েছে। আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। কোনো কাজ নেই। তাই বেঁচে থাকার জন্য বিকল্প উপায় হিসাবে শামুক কুড়ান। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শামুক কুড়িয়ে প্রত্যেকে ৫-৬ কেজির মতো শামুক পেয়েছেন। প্রতিকেজি শামুক বিক্রি করেন ৫ টাকা দরে। এগুলো বিক্রি করে যে টাকা পাবেন তাই দিয়ে কিনবেন চাল। আর যে কলমি শাক ও শালুক তুলেছেন, সেগুলো রান্না করেই চলবে ১০ জনের খাবার।
সাতক্ষীরা জেলায় সরকারিভাবে পানিবন্দি মানুষের জন্য মাথাপিছু চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক কেজি ৮০০ গ্রাম, অর্থ বরাদ্দ হয়েছে ২ টাকা করে। বিধ্বস্ত বাড়িঘর মেরামতের জন্য বাড়িপ্রতি বরাদ্দ ১ টাকা ৪২ পয়সা, আর মাথাপিছুর হিসাবে তা ১০ পয়সা। শাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রতি এক হাজার ৩৫৫ জনের জন্য একটি করে। লুঙ্গি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রতি এক হাজার ৭০৮ জনের জন্য একটি করে। এর বাইরে রয়েছে বিভিন্ন এনজিওর সামান্য অনুদান। এই হিসাবই বলে দেয়, দু’মাস পানিবন্দি অসহায় মানুষগুলোর মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে দু’মাস পানিবন্দি থাকা মানুষের জন্য এই পরিমাণ বরাদ্দ যে কতটুকু নগণ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল। কিছু কৃষিজমি আছে তার। সেগুলোতে ও কিছু বর্গাজমিতে সবজি এবং ধান চাষ করতেন। তার চাষ করা পোটল, ঝিঙ্গে, ওলকচুর ক্ষেত জলাবদ্ধতায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বসতভিটা, পুকুর, বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা—সবকিছু কয়েক ফুট পানির নিচে। রান্না, খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করার জন্য একতিল মাটিও জেগে নেই, বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। সেখানে পাটখড়ি আর পলিথিন দিয়ে একটি একচালা তৈরি করেছেন। প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ ভটভটিতে করে সাতক্ষীরা শহরে যান কাজের সন্ধানে। যে হাতে তার ছিল কাস্তে-কোদাল, এখন সেই হাতে ধরেছেন ভ্যানগাড়ির হ্যান্ডেল। অভ্যাস না থাকায় রিকশাভ্যান চালাতে খুব অসুবিধা হয়। তিনি জানালেন, জলাবদ্ধতার কারণে তার মাটির তৈরি বসতঘর ও মাটির তৈরি রান্নাঘরটি ধসে পড়েছে ১৫ রোজার দিকে। পানি ভেঙে পড়া বাড়িতে গিয়ে ঘরের অবস্থা দেখে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। কিন্তু কান্না দিয়ে তো আর জীবন চলে না। তাই গৃহস্থ কৃষক এখন ভ্যানচালক। ভাড়ায় নেয়া ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করেন তাই দিয়েই চলে আউয়ালের সংসার। আউয়াল জানালেন, এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে সামান্য আয় দিয়ে ৮ জনের সংসার চালানো বড়ই কষ্টকর। ফলে আধপেটা খেয়ে বা না খেয়েই কাটাতে হয় তাদের জীবন।

এভাবেই কাটছে তালা, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, খুলনার পাইকগাছা, যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন। গেরস্ত পরিবার এখন হয়ে গেছে মিসকিন কিংবা ফকির। কৃষক হয়েছে ভ্যানচালক বা দিনমজুর। ব্যবসায়ী হয়ে পড়েছে নিঃস্ব। দু’মাস ধরে পানিবন্দি সাতক্ষীরা জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মানুষের বসতঘরে পানি, রান্নাঘরে পানি, উঠানে পানি, চাষের জমিতে পানি, রাস্তাঘাটে পানি, হাটবাজারে পানি—চারদিকে শুধু পানি আর পানি। খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের অভাবে জলাবদ্ধ এলাকায় তৈরি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। গরু, ছাগল, হাঁসমুরগি, সাপ-ব্যাঙ প্রভৃতি প্রাণীর সঙ্গে মানুষ এক জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। মানুষের মলমূত্র, মরা জীবজন্তুর দেহাবশেষ, বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ, ঘাস-কুটো পচে একাকার হয়ে বিষিয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় মরে যাচ্ছে গাছ ও ফলের বাগান।

জলাবদ্ধতার শিকার ৯ উপজেলায় ফসলের ক্ষেত, সবজির বাগান, চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের—সবকিছু গ্রাস করেছে পানি। মানুষের বসবাস, যাতায়াত, প্রস্রাব-পায়খানা, গোছলসহ দৈনন্দিন কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিঃস্ব ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে কৃষক পরিবারগুলো। ভেঙে পড়েছে খাদ্য উত্পাদন ব্যবস্থা। বেঁচে থাকার জন্য চাল-ডাল, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করা প্রত্যেক মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকায় চাষাবাদ ও ব্যবসার সুযোগ না থাকায় পানিবন্দি এলাকার প্রায় সব মানুষ কর্মহীন বেকার। কাজ না থাকায় দিন মজুরের চাহিদা ও মজুরিও কমে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য কাজের আশায় মানুষ ধাবিত হচ্ছে শহরের দিকে।

বন্যাকবলিত তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের ১৫টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও ২টি গ্রাম আংশিক প্লাবিত। ইউনিয়নে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে ২৭শ’ পরিবার। এদের মধ্যে প্রায় ৯শ’ পরিবারের বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে ইউনিয়নজুড়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের সঙ্কটে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তিনি আরও জানান, তার ইউনিয়নে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছে মাহমুদপুর, গৌরিপুর, মির্জাপুর, মনোহরপুর, আছিমতলা, কুমিরা, রাড়ীপাড়া, নোয়াপাড়া ও দাতপুর। পুরো ইউনিয়নে এখন একটিও কাঁচা ঘরবাড়ি অবশিষ্ট নেই। সবগুলো ধসে পড়েছে। আধাপাকা বাড়িগুলোও পড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় পানি নামতে শুরু করলেও ঘরদুয়ার না থাকায় মানুষ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। এলাকায় সরকারি-বেসরকারিভাবে যে ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে, তা খুবই অপ্রতুল। এ দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। পানি নামার পর মানুষ বাড়িঘরে ফিরবে, কিন্তু ঘর তো এরই মধ্যে ধসে গেছে। গৃহনির্মাণের জন্য তারা তাই সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। চেয়ারম্যান বলেন, তার নিজের বাড়িতে শোয়ার কক্ষটি পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। তিনিও এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। সেখানেই আছেন দেড় মাস ধরে।

তালা, সদর ও কলারোয়ার আশ্রয়কেন্দ্র ও সড়কের ওপর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শুধু লবণ দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাচ্ছে মানুষ। কারও কারও ঘরে সবজি বা তরকারি বলতে কিছু নেই। সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন ও জিল্লুর রহমান জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা হলে মানুষ কচুঘেচু খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু সাতক্ষীরার পানিবন্দি এলাকাগুলোর অবস্থা এতই করুণ যে, সেখানে শাকসবজি তরিতরকারি দূরে থাক, কেচুঘেচু পর্যন্ত নেই। তাদের কথার সত্যতা পাওয়া গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের পাশে ভাত খাচ্ছিলেন প্রৌঢ় এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ঘরে কোনো তরকারি নেই। তাই লবণ মেখে ভাত খাচ্ছেন। লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের আশ্রয়কেন্দ্রের মহিলারা জানান, তরকারিবিহীন শুধু ভাত খেতে হয় তাদের। চালের বাড়তি দামের কারণে ভাতও পাওয়া যায় না। অনেকটা অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে হচ্ছে নিজেদের, তা তুলে দিতে হচ্ছে শিশুদের মুখে।

সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া শাহানারা, শহীদা, আয়শা, সখিনা, দুলমণিসহ অনেকেই জানান, বাড়িঘর ছেড়ে এখন তারা রাস্তায়। পরিবার প্রতি সপ্তাহে ৩ কেজি করে চাল পাচ্ছে, যা দিয়ে কোনোমতে এক বা দু’দিনের রান্না চালানো সম্ভব। ফলে তাদের না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। একই বক্তব্য জানালেন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বললেন, আশ্রয় ও খাদ্য সঙ্কটের কথা।

খাবারের পাশাপাশি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাপকলগুলো ডুবে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষকে পান করার পানির জন্য এক থেকে দেড় কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে এলাকায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের হিসাবে পানিবন্দি ৯ উপজেলায় ২ হাজার ৭৪৮টি টিউবওয়েল পানিতে ডুবে আছে, যার ফলে তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। সরকারি হিসাবে শুধু সাতক্ষীরা জেলায় ৩১০টি গভীর, ৬০০টি অগভীর ও ১৭৬টি হস্তচালিত নলকূপ পানিতে ডুবে আছে। ভেসে গেছে ১২ হাজার ৩৯০টি পুকুর-জলাশয়। এতেও পান করার পানির সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কারণ আর্সেনিকের ভয়াবহতা ও লবণাক্ততার কারণে জেলার বহু মানুষ পুকুরের পানি পান করেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য থেকেই সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আশ্রয়হীন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই তথ্যমতে, জেলার ৬টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার ২৭ হাজার ২১৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তালা উপজেলায় সর্বাধিক ১৯ হাজার ৩২৮টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৪ হাজার ১০০টি, কলারোয়ায় ২৮টি, দেবহাটায় ৫৫২টি, আশাশুনিতে ৮৫৬টি, কালীগঞ্জে ৭৮০টি, সাতক্ষীরা পৌরসভায় ১ হাজার ৫৬০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯০টি। এর মধ্যে রয়েছে তালা উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০, সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৭০০, কলারোয়ায় ১ হাজার ৫৪০, দেবহাটায় ৩ হাজার ২০০, আশাশুনিতে ২৯ হাজার ৭৫, কালীগঞ্জে ৫৭ হাজার, সাতক্ষীরা পৌরসভায় ২৪ হাজার ৭৫। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাকিউর রহমি সাহেদ বলেন, এই হিসাব ৫ সেপ্টেম্বরের আগের। এর পরও আরও বেশকিছু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, যার হিসাব এখনও করা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের এখন আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই। তারা খোলা আকাশের নিচে, সড়কের পাশে, স্কুলের মাঠে একচালা খুপরি করে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পানি নেমে গেলেও ঘর তৈরি করতে না পারলে এসব মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে না।

দু’মাসের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা জেলার ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ জন পানিবন্দি। জেলা প্রশাসনের হিসাবে সাতক্ষীরায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া গেছে জিআর চাল ১৭শ’ মেট্রিক টন। অর্থাত্ মাথাপিছু এক কেজি ৮০০ গ্রাম। জিআর ক্যাশ ১৯ লাখ টাকা, অর্থাত্ মাথাপিছু ২ টাকা দশমিক শুন্য ২২ পয়সা। গৃহনির্মাণ বাবদ বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১ লাখ টাকা, আর জেলার সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও আংশিক বিধ্বস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ৭০ হাজার ৩০৩টি। অর্থাত্ বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িপ্রতি সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১ টাকা ৪২ পয়সা, যার মাথাপিছু হিসাব জনপ্রতি ১০ পয়সা করে। শাড়ি পাওয়া গেছে ৬৯৩টি, অর্থাত্ প্রতি ১ হাজার ৩৫৫ জনের জন্য একটি করে। লুঙ্গি পাওয়া গেছে ৫৫০টি, অর্থাত্ প্রতি ১ হাজার ৭০৮ জনের জন্য একটি করে। তাঁবু পাওয়া গেছে ১৫টি, ত্রিপল ৭৮টি ও প্লাস্টিক শিট ২৫০টি। ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে ৪১ হাজার। রমজানে ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে ৯২ হাজার ২০০টি।

বেসরকারিভাবে প্রায় অর্ধশত এনজিও এলাকায় নামেমাত্র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এনজিওর ত্রাণ বিতরণের যে ফিরিস্তি পাওয়া গেছে, তা খুবই হতাশাজনক। জেলার বন্যাকবলিত ৫টি উপজেলায় ৬৪ হাজার ৬৪৫টি পরিবারকে নামমাত্র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দাতা সংস্থাদের সহায়তায় যেসব এনজিও কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি, অক্সফাম, খ্রিস্টিয়ান এইডের স্থানীয় সংস্থা শুশীলন, ইসলামী রিলিফের স্থানীয় মুক্তি ফাউন্ডেশন ও পল্লী চেতনা, উত্তরণ, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাস, নবজীবন পলাশপোল, অগ্রগতি সংস্থা কাটিয়া সাতক্ষীরা, আহসানিয়া মিশন, নিজেরা শিখি, ওয়ার্ল্ড ভিশন সাতক্ষীরা, পরিত্রাণ তালা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইন্টারশ্যানাল, ভূমিজ ফাউন্ডেশন, অ্যাকশন এইড, দাতা সংস্থা ইউনিসেফের স্থানীয় সংস্থা অগ্রগতি সাতক্ষীরা, বরসা পলাশপোল সাতক্ষীরা, উত্তরণ, পরিত্রাণ, প্রতীক ট্রাস্ট, আইডিয়াল, বাংলাদেশ ভিশন ও স্বজন নামের ৮টি এনজিও। এসব এনজিওর ত্রাণ বিতরণের তালিকায় একটি প্লাস্টিক বালতি, ২টি প্লেট, ২টি মগ, একটি লুঙ্গি, ২টি কাপড়, একটি গামছা, একটি বিছানার চাদর, একটি কাপড় টাঙানোর দড়ি, ৪টি সাবান ও একটি প্লাস্টিক শিট রয়েছে।

পানিবন্দি মানুষগুলোর খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে মানবিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সামাদ বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ১৭শ’ মেট্রিক টন চাল ও প্রায় ১৯ লাখ টাকা অর্থসহায়তা দেয়া হয়েছে। বিধ্বস্ত বাড়িঘরগুলো মেরামত, মানুষের পুনর্বাসন ও ঘর নির্মাণের জন্য নগদ সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ পাওয়া গেলেও গৃহনির্মাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।