Tuesday, February 13, 2018

ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ by জাস্টিন রাওলাত

ম্যাকিয়াভেলি থেকে সান জু’র কথা বাদ রাখুন। যদি আপনি জানতে চান কিভাবে শত্রুকে পরাজিত করতে হয় এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে হয় তাহলে এর বাস্তব ক্ষেত্র হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতি।
দেশে সবচেয়ে শীর্ষে থাকা দু’নারীর মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলছে লড়াই। বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হলো তার সর্বশেষ সুবিধা নেয়া। বাংলাদেশিরা তাদের ‘ব্যাটেলিং বেগম’ নামে অভিহিত করেন। ‘বেগম’ শব্দটি মুসলিম নারীদের উচ্চ পদ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু তাদের মধ্যে যে সংঘাত তা নারীসুলভ কিছু নয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘোর বিরোধী বিএনপির খালেদা জিয়ার মধ্যে ভয়াবহ শত্রুতা দেশকে সহিংসতার সর্পিল পথে টেনে নিয়ে গেছে। বাসে বোমা মারা, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিরক্তিকরভাবে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ঘটনা সব সময় এমন ছিল না। তারা (হাসিনা-খালেদা) ১৯৮০ দশকে সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল (অব.) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে উৎখাত করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রকৃতপক্ষেই একসঙ্গে কাজ করেছেন। দু’নারীই রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী। তিক্ত এক যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে পাকিস্তানের কাছ থেকে। ওই স্বাধীনতা যুদ্ধে শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারী তারা।
এরপরে ট্র্যাজেডি তাদের দু’জনকেই রাজনীতিতে নিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক, স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখা হয়। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাকে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালে। অন্যদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার, স্বাধীনতার অন্য এক নায়ক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমান ১৯৭০ দশকের শেষের দিকে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তিনি প্রেসিডেন্ট হন ১৯৭৭ সালে। তাকেও হত্যা করা হয় ১৯৮১ সালে।
কিন্তু এই দুই নারী এরশাদকে পরাজিত করতে নিজেদের শক্তি এক করে লড়াই করলেও তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে লেগে পড়েন। ১৯৯০ দশকের শুরু থেকে তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতার পালাবদল হয়। এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ একেবারে শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তারা ভীষণ সাহস দেখিয়েছেন। আর নিষ্ঠুরভাবে ক্ষমতা সুরক্ষিত করেছেন। শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন, এমনকি নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ভোট নেয়া শুরুর আগেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এটা এ জন্য নয়, তার নেতাকর্মীরা ব্যালট বাক্স ভরাট করেছে। তিনি এমনভাবে জিতেছেন কারণ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এর ফলে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে ১৫৩টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর এর ফলে দলটি সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
বাংলাদেশি রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষককে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যখন প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থীরা সরে গেলেন তখন অন্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি?
আমার প্রশ্ন শুনে তিনি বড় করে একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বললেন, অবশ্যই তারা করেছিল। তারা শুধু মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিল। অথবা তাদের দিয়ে সেটা করানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন প্রভাবিত হওয়া ক্যারেক্টার অনেক।
গত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শেখ হাসিনা তার বিরোধী পক্ষ বিএনপির নেতাকর্মীদের পিছু নেন। তিনি তাদের জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেন।
এর ওপর আগামী ডিসেম্বরে নতুন আরেকটি নির্বাচন। তার আগে এ সপ্তাহে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের জন্য জেল দেয়া হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াকে ওই নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা হতে পারে। আর তা হলে শেখ হাসিনা চতুর্থ দফায় বড় বিজয় পাবেন। এর কারণ, বাংলাদেশের আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তিকে যদি দুই বছরের বেশি সাজা দেয়া হয় তাহলে তিনি রাজনৈতিক কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন খালেদা জিয়া। ফলে আদালত যদি রায়ে স্থগিতাদেশ দেন, এবং তা যতদিন বহাল থাকবে, সে সময়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। শাস্তি হওয়ার আগের দিন তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন, ‘বিরোধী দলবিহীন ফাঁকা মাঠে কাউকে গোল দিতে দেয়া হবে না’। কিন্তু তিনি জানেন তার বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় আছে। দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রদ্রোহিতা পর্যন্ত প্রতিটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৩০টি ফৌজদারি অভিযোগ মুলতবি আছে।
খালেদা জিয়ার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে ও তার দলের ক্ষতি করার উদ্দেশে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি নেতারা বলছেন, রায় দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ করতে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঠেকানোর মাধ্যমে সরকার মতপ্রকাশের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলেও দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রায়কে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে আসা খালেদা জিয়ার কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে। এক্ষেত্রে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার দাবি করে তারা উদার ও গণতান্ত্রিক। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এভাবে দমন করার মাধ্যমে তাদের সেই দাবি অন্তঃসারশূন্য হয়ে গেছে। তবে প্রকৃত সত্য হলো, দুই বেগম ও তাদের মধ্যকার সীমাহীন লড়াইয়ে ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি।
আপনি যদি বাংলাদেশের রাস্তায় কোনো ক্যাফেতে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন তাহলে আপনি সব সময়ই একই রকম কণ্ঠ শুনতে পাবেন। একই রকম মত পাবেন। বাংলাদেশিরা মনে করছেন এই ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তারা শেষ হয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যক্তিগত শত্রুতাই এখন রাজনীতিতে বড় ঘটনা। এতেও বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে আছেন এই দু’নারী। তারা থামবেন না, যদিও তাদের বয়স এখন ৭০ উত্তীর্ণ। কিন্তু কেউই সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।
বৃহস্পতিবার তিনি আদালত ছেড়ে যাওয়ার সময় ক্রন্দনরত আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের বলেছেন- আমি ফিরে আসবো। কান্না করো না।
(জাস্টিন রাউলাত, বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক করেসপন্ডেন্ট। অনলাইন বিবিসিতে প্রকাশিত তার লেখার অনুবাদ এটি)

একজন মেয়র মান্নান by এম এ হায়দার সরকার

গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র অধ্যাপক মান্নান। জেলা সদরের দক্ষিণ সালনায় ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সালনা প্রাইমারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন জয়দেবপুর রানী বিলাসমণি স্কুলে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পড়েন ময়মনসিংহ মুসলিম হাই স্কুলে। নবম ও দশম শ্রেণি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে পড়ে এসএসসি পাস করেন। কলেজ জীবনের এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে।
লেখাপড়ার খরচ মেটাতে কৃষক পিতার কাছ থেকে টাকা নিতেন, পাশাপাশি নিজেও ছাত্রাবস্থায় টিউশনিও করেছেন। এভাবেই ময়মনসিংহের শিক্ষাজীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়নে এমএসসিতে ভর্তি হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে টঙ্গী কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু। তখন থেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। টঙ্গী কলেজ ছেড়ে পরে তিনি গাজীপুর কাজী আজিম উদ্দিন কলেজে যোগদান করেন।
রাজনীতি: এম এ মান্নান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে (জাগদল) যোগ দেন ১৯৭৮ সালে। যা পরে বিএনপিতে পরিণত হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের সদস্য থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মান্নানের রাজনৈতিক উত্থান শুরু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে। অবশ্য এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দলীয়ভাবে সালনা গ্রাম সরকার প্রধানের দায়িত্ব পান তিনি। পরে জাতীয় গ্রাম সরকারের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিবেরও দায়িত্বে ছিলেন। অধ্যাপক মান্নান প্রথম ’৮৪ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাউলতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে আরও দু’বার তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর আরও দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
তিনি ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর ও টঙ্গী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে এম এ মান্নান বিএনপি সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। কিছুদিন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
অধ্যাপক এম এ মান্নান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাগদল থেকে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। চল্লিশ বছর রাজনীতি করে এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। ১৯৮০ সালের দিকে গ্রাম সরকারের প্রধান হন। ১৯৮৪ সাল থেকে স্থানীয় কাউলতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য হয়ে প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতা মেয়র গাজীপুর সিটি করর্পোরেশন।
রাজনীতিতে আসার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে তাকে। দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। অন্য দলের প্রতিপক্ষ তো আছেই। বিভিন্ন কারণে জেলার রাজনীতিতে মান্নানের অবস্থা যখন বেহাল, তার অনুসারীদের অনেকে দলের মধ্যে কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। এমন সময়ে সুবাতাস বইতে শুরু করল। তার কিছু দিন পরেই এলো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনের ভাবনা, আর দলেরও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সব কোন্দল, ভেদাভেদ ভুলে বিএনপি সবাই একাট্টা হয়ে মেয়র নির্বাচিত করে আনেন তাকে।
উন্নয়ন: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে তিনি গাজীপুর মহিলা কলেজ, কোনাবাড়ি কলেজ, পুবাইল আদর্শ কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্‌রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ ও  উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বছর নগরের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মহাপরিকল্পনায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল কিছুদিন পরই ব্যাপক ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে তার উন্নয়ন পরিকল্পনায় চরমভাবে বিঘ্ন ঘটে। একপর্যায়ে ষড়যন্ত্র করে ৩০টি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাকে প্রায় তিন বছর কারাবাস ও জনবিচ্ছিন্ন করে রাখে। তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করা হলেও সব মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন।
গত মেয়র নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে অধ্যাপক এম এ মান্নানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে দেখে তার প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে ‘এনবিআর-এ করখেলাপের অভিযোগ আনে। একপর্যায়ে তার অ্যাকাউন্ট জব্দ করে। সেটি পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারপরও তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিপক্ষ যতই ষড়যন্ত্র করছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জনগণের আস্থা মান্নানের প্রতি ততই বাড়ছিল। 
একাধিকবার বরখাস্ত: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে তিন বার বরখাস্ত করা হয়। ২০১৫ সালের ১৯শে আগস্ট প্রথম দফায় বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে ১৮ই এপ্রিল তাকে দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৮ মাস পর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১১ কার্য দিবসের মাথায় তৃতীয় দফায় আবারো বরখাস্ত হন।
উল্লেখ্য: ২০১৩ সালের ৬ই জুলাই নবগঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন এম এ মান্নান। সেই নির্বাচনে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নবগঠিত এই প্রথম পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। এই পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৫ই সেপ্টম্বর। সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে পরবর্তী সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই হিসেবে আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। একের পর এক মামলা, জেল ও দফায় দফায় বরখাস্তের কারণে পূর্ণ মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম. এ মান্নান বলেন, নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এলাকার জনগণ আমাকে অনেক আশা করে মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। নানামুখী ষড়যন্ত্র করে আমাকে সিটিবাসীর সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এতে আমি তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। একের পর এক মামলা মোকদ্দমা দিয়ে এবং হাজতে রেখে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ ও তার সহযোগীরা কৌশলে জনগণের টাকা তছরুপ করেছে। আমাকে হাজতে পাঠানোর  আগে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফান্ডে প্রায় ৫০ কোটি টাকা রেখে গিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন হাজতবাস ও মেয়রের দায়িত্ব থেকে বাইরে থাকার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে দেখি সিটি করপোরেশনের সকল ফান্ড খালি।

মালদ্বীপে কেন সেনা পাঠায়নি ভারত? by সঞ্জয় পুলিপাকা

মালদ্বীপে পার্লামেন্ট দখলে নিয়েছে সেনাবাহিনী
গভীর এক রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে মালদ্বীপ। গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ৯ জন বিরোধী দলীয় নেতাকে মুক্তি ও ১২ জন আইনপ্রণেতাকে স্বপদে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পর প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন উল্টো প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ সহ বিরোধী দলীয় নেতারা এই পরিস্থিতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ মালদ্বীপের রাজনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতির কথাই ফের মনে করিয়ে দেয়। মালদ্বীপে সংকট যত ঘনীভূত হয়েছে, ভারত সরকার ঘরে তত সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা বলছেন, মালদ্বীপের দুর্বল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ত্বরিত গতিতে সেনা পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত।
তবে শক্তি প্রয়োগে ভারত সরকারের বিলম্বের কারণ কিন্তু সহজেই অনুমেয়।
১৯৮৮ সালে ভারত যখন মালদ্বীপে ‘অপারেশন ক্যাকটাস’ পরিচালনা করে, তখন ঝুঁকি ছিল সীমিত, যার পরিণতিও ছিল অনুমানযোগ্য। তখন আবদুল্লাহ লুথুফির নেতৃত্বে ও একটি ভাড়াটে বাহিনীর সহায়তায় অল্প কিছুসংখ্যক নাগরিক তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিল। ভারত সরকার তখন ভাড়াটে বাহিনীর হুমকিতে থাকা বৈধ একটি সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাড়া দেয়। আর তখন মালদ্বীপে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা ছিল অনুপস্থিত কিংবা খুবই সীমিত। কিন্তু আজ ভারতের সামনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমত, এখন মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের নেতৃত্বাধীন সরকার ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদের নেতৃত্বে বিরোধী দলের লড়াই প্রত্যক্ষ করছে। মালদ্বীপ এখন এক অভ্যন্তরীণ পরস্পরধ্বংসী সংঘাতে পড়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের কর্মকাণ্ড যতই খারাপ হোক না কেন, তাকে অন্তত আবদুল্লাহ লুথুফির ভাড়াটে সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে একপাল্লায় মাপা কঠিন। যদি মালদ্বীপে ফের সৈন্য পাঠাতো ভারত, তাহলে তা হতো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সামিল। এই ধরনের হস্তক্ষেপ শুধু সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয় নয়। হস্তক্ষেপ করে যদি কৌশলগতভাবে ব্যাপক লাভবান হওয়া যায়, তবেই এই হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নেওয়া যেতে পারে।
১৯৮৮ সালের তুলনায়, আঞ্চলিক রাজনীতিও এখন গুণগতভাবে একেবারে আলাদা। মালদ্বীপে এখন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা অনেক বেশি সক্রিয়, যাদের প্রত্যেকের মতলব আলাদা। মালদ্বীপের রাজনীতির বহু খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও চীন। তারা এক্ষেত্রে নিজ নিজ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। এ কারণেই এই সংকটের সময় নিজেদের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের দূত এই তিন দেশ সফর করেছেন। ভারতে অনেকেই মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি কেউ কেউ এমন মতও দিয়েছেন যে, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ভারতের সশস্ত্র হস্তক্ষেপ হয়তো চীনা উপস্থিতি কমানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতো।
সাম্প্রতিক সময়ে মালদ্বীপে বহু অবকাঠামোগত প্রকল্প পরিচালনা করে চলছে চীন। তার মানে, মালদ্বীপে এখন বহু চীনা নাগরিক কর্মরত। রাজনৈতিক উত্তাল অবস্থা বিবেচনায় নিলে বলা যায় যে, ভারতীয় বাহিনী মালদ্বীপে অবতরণের পর তেমন প্রতিরোধের মুখেই পড়তো না। এমনকি প্রতিরোধ এলেও, ভারতীয় বাহিনী খুব দ্রুতই তা মোকাবিলা করতে পারতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এটি ভুলে যাওয়া চলবে না যে, এই অভিযান পরিচালিত হতো বহু চীনা নাগরিকের চোখের সামনে। ১৯৮৮ সালে পরিস্থিতি তা ছিল না। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের দূত বলেছেন, মালদ্বীপে চীনের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারবে সরকার।
এই কথা নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনার দরকার আছে। ভারতের হস্তক্ষেপে চীনা কোনো নাগরিকের ক্ষতি হলে, অনভিপ্রেত ফল দেখা দিতে পারে। ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে হয়তো কোনো চীনা নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেন না। কিন্তু, এমনও হতে পারে যে, ভারতের ওপর দায় চাপাতে, মালদ্বীপের অন্য কোনো গোষ্ঠী হয়তো চীনা স্বার্থে আঘাত হানতে পারে।
মালদ্বীপে চীনের কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জাতীয়তাবাদী অনুভূতি থেকে তাড়িত হয়েও চীন সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় হস্তক্ষেপের কড়া নিন্দা জানাবে। পাশাপাশি, এরপর চীন হয়তো দোকলাম সহ ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজের উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে।
মালদ্বীপের পরিস্থিতি থেকে এই ইঙ্গিত মিলে যে, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করেছে। এখন থেকে ভারতকে সবসময়ই নিজ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে চীনের উপস্থিতির কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।
ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যেসব দেশ রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাদের উচিত নিজেদের ঘরোয়া রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা নিজেরাই পূরণ করে ফেলা। তা না করে, ভারতের প্রভাবে ভারসাম্য আনতে চীনকে ডেকে আনলে যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি বরণ করতে হতে পারে। চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে অনেক রাজনৈতিক খেলোয়াড় হয়তো অগণতান্ত্রিক শাসনের রূপরেখা এগিয়ে নিতে সাহস পান। মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি সেই সাক্ষ্যই দেয়। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা মোহাম্মদ নাশিদ প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনকে তার দেশে দূতাবাস খুলতে দেন ও তৎপরতা বৃদ্ধির সুযোগ দেন। আজ মোহাম্মদ নাশিদ হয়তো আরও দীর্ঘমেয়াদি কারাভোগ বা নিজ সহকর্মীদের প্রাণের ওপর আঘাত আসতে পারে বলে উদ্বিগ্ন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছ থেকে সহায়তাও চেয়েছেন। ভারতের শ্লথ তৎপরতা দেখে নাশিদ ও তার সমর্থকরা হয়তো হতাশ। কিন্তু নাশিদ ও তার দলই চীনের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য আংশিকভাবে দায়ী।
মালদ্বীপ সংকট থেকে নতুন চারপক্ষীয় রূপরেখার একটি পরীক্ষা হয়ে যাবে। মালদ্বীপের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তবে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা সফল করতে হলে, তা হতে হয় সর্বাত্মক ও সর্বজনীন। এখানেই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ একজোট হয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে। নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়াকড়ি আরোপের প্রয়োজন হয়। তাই বৃটেন, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল অবস্থিত, সেটিও নিষেধাজ্ঞায় শামিল হয়ে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে পারে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে এই দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগেই কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারে। অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী সমুদ্রে অবস্থানরত ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের যেকোনো ত্বরিত পদক্ষেপের বিপরীত শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারবে।
মালদ্বীপ নিয়ে ভারতের অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মালদ্বীপের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অপরাপর বৈশ্বিক শক্তির উচিত এই বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া যে, মালদ্বীপের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বৃহৎ শক্তিসমূহ যদি মালদ্বীপকে দূরবর্তী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বহীন দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে ভারতকে একাই এগোতে হবে। ১৯৮৮ সালে কিছু না হলেও, এবার সশস্ত্র কোনো হস্তক্ষেপের দরুন এলোমেলো ফলাফল আসতে পারে। কিন্তু এলোমেলো ফলের আশঙ্কা কি প্রতিবেশী রাষ্ট্রে নিজ স্বার্থ সুরক্ষিত করা থেকে ভারতকে বিরত রাখবে? এই উত্তর আমরা শিগগিরই পাবো।
(সঞ্জয় পুলিপাকা নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন (ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশন্স (আইসিআরআইইআর)-এর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক। তার এই নিবন্ধ ভারতের ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।)

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় আগ্রহ হারাচ্ছে দাতারা

বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের জন খাদ্য সহায়তা দিতে আস্তে আস্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে দাতা সংস্থাগুলো। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে এ কথা বলেছেন। ইতালির স্থানীয় সময় সোমবার রাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হোটেল স্যুটে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে দাতাদের আগ্রহ হারানোর তথ্যটি জানান ডেভিড বিসলে। ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে খাদ্য সরবরাহ করায় শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকা রাখছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। তারা জানিয়েছে গত ছয় মাসে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮ কোটি ডলার সমমূল্যের খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। এ সংস্থার হিসাব মতে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন দুই থেকে আড়াই কোটি ডলার। একই সঙ্গে ডেভিড বিসলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাচ্ছে দাতারা। জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীনে দাতাদেরকে এক্ষেত্রে সক্রিয় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।

নিউ ইয়র্কে নগ্ন নারী-পুরুষের মেলা

শনিবার বিকাল। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার। অকস্মাৎ সেখানে দলে দলে নেমে এলেন পুরোদস্তুর নগ্ন নারী-পুরুষ। তাদের গায়ে-গতরে কোথাও কোনো পোশাকের লেশমাত্র নেই। তবে তারা স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোতে নানা রঙের পেইন্ট দিয়ে রঙিন করে তুলেছেন। তাতে কি! পোশাকের কাজ তো আর পেইন্ট করতে পারে না সর্বক্ষেত্রে।
ফলে যা হবার তাই। পেইন্টের ভেতর দিয়ে স্পষ্ট হয়ে রইল স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো। আর তা দেখে ভিড় জমালেন আশপাশের মানুষ। মুহুর্মুহু ক্যামেরায় ফ্লাশ জ্বলল। বন্দি হয়ে গেলেন তারা ইতিহাসের পাতায়। দুর্দান্ত সাহসী একদল মডেল এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন নিউ ইয়র্কে। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘পোলার বিয়ার পেইন্ট’। তাদের এ উদ্যোগের আয়োজক হলো হিউম্যান কানেকশন আর্টস নামের একটি গ্রুপ। এ দলে অংশ নিলেন প্রায় ২৫ জন মডেল। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে তখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তার মধ্যে হচ্ছিল বৃষ্টি। তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তারা নেমে পড়লেন রাস্তায়। খুলে ফেললেন শরীরের পোশাক নামের ‘আবর্জনা’কে। একজন আরেকজনের শরীর পেইন্টে রাঙিয়ে তুলতে লাগলেন। এক নগ্ন নারী আরেক নগ্ন পুরুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে পেইন্ট করে দিতে থাকেন। উল্টো ঘটনাও ঘটে। এরপর তারা দলবেঁধে পোজ দিলেন ছবি তোলার জন্য। এ সময় সবার মুখে হাসি ঝরে পড়ছিল। কেউ বা অন্যজনকে জড়িয়ে ধরে নাচছিলেন। ছুটছিলেন এখান থেকে ওখানে। তাদের চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছিল আর বুঝি থামবেন না তারা। নিউ ইয়র্কে এবার প্রথমবারের মতো হিমাঙ্কের কাছে তাপমাত্রায় এভাবে নগ্ন হয়ে পথে নামলেন মডেলরা।
 তবে আয়োজকরা এমন ইভেন্ট বছরে অনেকবার আয়োজন করে থাকে। গ্রীষ্মের সময় এরকম অনুষ্ঠানে অংশ নেন কয়েক শত মডেল। সুনির্দিষ্ট আর্টিস্টিক প্রডাকশনের জন্য পূর্ণ শরীর নগ্ন করে প্রদর্শন স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত। তবে এতে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সবার বয়স হতে হয় ১৮ বছরের ওপরে। স্বেচ্ছায় অংশ নিতে হয়। এর বিনিময়ে স্টুডিও ভাড়া, শরীরে পেইন্ট লাগাতে ও নিরাপত্তার জন্য প্রতিজন অংশগ্রহণকারীর শোধ করতে হয় ৩০ ডলার।

ট্রাম্প জমানায় মার্কিন অর্থনীতি

নভেম্বর ৮, ২০১৬। বিকালের দিকে টিভি পর্দায় ভেসে উঠল গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের জয়ের চিত্র। আর সেই সঙ্গে শুরু হল শেয়ার মার্কেটে ভবিষ্যৎ-সূচকের দরপতন। বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত। প্রমাদ গুনলেন তারা, আর ভাবলেন ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ায় তাদের পুঁজির বুঝি বারোটা বাজল! মজার ব্যাপার হল, এর দু-একদিন পরই চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়ে ট্রাম্প এমন এক বক্তব্য দিলেন, যার ফলে রীতিমতো গা ঝাড়া দিয়ে উঠল পুঁজিবাজার। তার সেই বক্তব্যে ছিল আমেরিকার ধুঁকতে থাকা অবকাঠামো খাতে আরও বেশি সরকারি বিনিয়োগের প্রতিশ্র“তি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সরকারের আরও উদারীকরণ এবং শিথিল নিয়ন্ত্রণের আভাস। শেয়ার মার্কেট ওই ইঙ্গিতগুলোই পছন্দ করে। এরপর ২০১৭-র জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে শেয়ার মার্কেটের সেই তেজি ভাব এখনও বিদ্যমান। আর তাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর পূর্তি উদযাপনকালে তিনি বেশ দম্ভ করেই বলেছেন তার অর্থনৈতিক নীতির সাফল্যের কথা। যদিও সেগুলোকে কেবল ফাঁকা রাজনৈতিক বুলি বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। সেসব নিয়ে আলোচনার আগে বরং বলা যাক গত এক বছরে ট্রাম্প আসলেই কতটা অর্জন করেছেন অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। ওবামা তার উত্তরসূরি বুশের কাছ থেকে ক্ষমতা লাভের পর প্রথম বছরে কাটিয়েছিলেন এক টালমাটাল সময়। বুশ আমলের অর্থনৈতিক মন্দার প্রাদুর্ভাবে তার প্রথম বছরে বেকারত্বের হার গিয়ে ঠেকেছিল প্রায় দশ শতাংশে। যদিও সময়োপযোগী নানা সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে এনেছিলেন তিনি। সেদিক দিয়ে ট্রাম্পকে বলা চলে কিছুটা ভাগ্যবান। ট্রাম্পের ক্ষমতায় আরোহণের সময়ে ছিল ওবামার রেখে যাওয়া চাঙ্গা অর্থনীতির ছাপ আর নিু বেকারত্ব। তবে অনেকে সে সময়ে ভেবেছিলেন, নানামুখী ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প সেই অবস্থার বারোটা বাজিয়ে ফেলবেন অচিরেই, হয়তো সহসাই যুদ্ধ বেধে যাবে আমেরিকার সঙ্গে শত্র“ দেশের। বাস্তবে গত এক বছরে দেখা গেল কিছুটা বিপরীত চিত্র। এটা ঠিক যে, সূচনালগ্নে ভাগ্য তার সহায় ছিল। সার্বিক বিশ্ব অর্থনীতি তখন রমরমা, ডলারের দাম চড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সুদের হার কম। তবে সেসব তাকে শুরুতে সাহায্য করলেও এটা স্বীকার করতেই হয়, গত এক বছরের অর্থনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া বিভিন্ন বাণিজ্যবান্ধব নীতির কারণে। সাফল্য বলতে, গত বছর পুরোটাতেই জিডিপির হার ছিল ৩ শতাংশের মতো। সার্বিক বেকারত্বের হার এ মুহূর্তে ৪.১ শতাংশের কাছাকাছি, যা কিনা গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সারা দেশে পাইকারি বাজারে বেচাকেনার হার বেড়েছে। ওদিকে পুঁজিবাজারের সূচক ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। প্রায় পঁচিশ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কল-কারখানাগুলোয় শ্রমিক নিয়োগের হার বেড়েছে, যা শ্রমিক শ্রেণীকে কিছুটা হলেও লাভবান করেছে। বিগত কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছিল, এ খাতটিতে শ্রমিক নিয়োগের হার কম ছিল, যেহেতু কারখানাগুলো চলে যাচ্ছিল আমেরিকার বাইরের দেশগুলোতে। গত বছর ট্রাম্পের অন্যতম সাফল্য ছিল তার প্রস্তাবিত আয়কর আইনকে সংসদে পাস করিয়ে আনা। বলা হয়, আশির দশকের পর এই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হল কর-পরিকাঠামোতে। এ আইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক করকে এক লাফে ৩৫ শতাংশ থেকে টেনে নামিয়ে আনা হয় ২১ শতাংশে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশের ব্যাংকগুলোতে রক্ষিত মার্কিন কোম্পানিগুলোর সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এখন থেকে এই ২১ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। এর ফলে পুঁজিবাজারে নতুন আশা ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলো বলছে, কর থেকে বেঁচে যাওয়া অর্থ এখন তারা পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবে। যে কোম্পানিগুলো কর ফাঁকি দেয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে আয়ারল্যান্ড কিংবা কেম্যান আইল্যান্ডের মতো স্বল্প করের দেশে সম্পদ লুকিয়েছে, তাদের অনেকেই সেই সম্পদ আমেরিকায় এনে পুনঃবিনিয়োগে ইচ্ছুক। প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ইতিমধ্যে তেমন একটি ঘোষণা দিয়েছে। ডিসেম্বরে কর আইন পাসের পর জানুয়ারিতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সম্ভাবনাময় কোম্পানি ত্রৈমাসিক আয় প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে আরও আয়ের আশা করছে, এই নব কর আইনের সুবিধা নিয়ে। তবে ট্রাম্পের কর আইন নিয়ে নিন্দুকরাও সোচ্চার। তারা বলছেন, আইনে কর রেয়াতের ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়বে সরকারি কোষাগারে। আগামী দশ-পনেরো বছরে যা গিয়ে ঠেকবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে। ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য সেটি হয়তো এক বিরাট বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দেবে। আরও বলা হচ্ছে, এই রেয়াতের সুবিধাভোগী হবে মূলত উচ্চবিত্তরা, মধ্যবিত্তদের ওপর করের বোঝা আরও বাড়বে। এসব সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে আরেক পক্ষ বলছে, কর রেয়াতের ফলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত উদ্দীপনা, তাতে সাধারণ মানুষের ব্যয়প্রবণতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, ফলে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে, সার্বিকভাবে লাভবান হবে সর্বস্তরের মানুষই। তবে সেটা সত্যি ঘটবে কিনা, এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল। ট্রাম্পের নিন্দুকরা আরও বলছেন, অর্থনীতির এত-এত সাফল্যের দাবি করাটা ট্রাম্পের আত্মম্ভরিতা। তিনি তো ওবামার তৈরি করা মসৃণ পথেই হাঁটছেন কেবল! স্থিতিশীল বিশ্ববাজার আর আগের বছরের তুলনায় তেলের চড়া দাম তাকে আরও কিছুটা সহায়তা করেছে হয়তো। তবে সেখানেও কথা আছে। শুধু আগের জমানার নীতির ওপর ভর করে চললেই যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তেমন নয়। বিনিয়োগকারীরা বুঝতে চায় বর্তমান সরকারের মতিগতি, ভবিষ্যৎ পথরেখা। সেখানে আস্থা পেলে তবেই তারা এগিয়ে আসে নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগে। একই কথা প্রযোজ্য সাধারণ মানুষের ব্যয়প্রবণতার ক্ষেত্রেও। মানুষ যখন মন্দা আঁচ করতে পারে, তখন তারা আরও বেশি সঞ্চয়মুখী হয়; অন্যথায় তারা ব্যক্তিগত খরচের পরিমাণ বাড়ায়, যা পরিণামে বাজার অর্থনীতির চাকাকে আরও বেগবান করে। বলতে গেলে তেমনটাই এই মুহূর্তে ঘটে চলেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। আর তাই ধারণা করা যায়, যদি বিশ্ববাজারে কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা না ঘটে, তবে এই তেজিভাব ২০১৮ সালজুড়েই বলবৎ থাকবে।
সঞ্জয় দে : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক

কুমড়ো ফুলের বড়া

কুমড়ো ফুলের বড়া আমাদের গ্রামবাংলার একটি প্রিয় খাবার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই কুমড়ো ফুলের বড়া বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া কুমড়ো ফুলের বড়া নিয়ে কবিতা লিখেছেন অনেক কবি। এই কুমড়ো ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মায়ের হাতের মমতা। কিন্তু শহরে এই কুমড়ো ফুল খুব একটা দেখা যায় না। আর বড়া তো অনেক দূরের কথা। শহরের যান্ত্রিক জীবনে তাই একটুখানি বিনোদন এনে দিতে পারে কুমড়ো ফুলের বড়া। তাই ঘরেই প্রিয়জনের জন্য তৈরি করতে পারেন মজাদার এ খাবারটি। আসুন দেখে নিই কীভাবে তৈরি করবেন কুমড়ো ফুলের বড়া-
উপকরণ
১০টি কুমড়ো ফুল, ৪ চামচ চালের গুঁড়া, ৪ চামচ বেসন, ১ টা ডিম, ১ টা মাঝারি আকারের পেঁয়াজ কুচি, ১ চামচ ধনেপাতা কুচি, ২-৩টি কাঁচা মরিচ কুচি, ১ চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ চামচ লবণ, তেল পরিমাণমতো।
প্রণালি
একটি পাত্রে চালের গুঁড়া, বেসন ও ডিম দিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিন। এর মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ, হলুদ গুঁড়া, ধনেপাতা ও লবণ দিন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে আধাঘণ্টা রাখুন। এবার প্যানে তেল গরম করুন। তেল গরম হয়ে গেলে মিশ্রণের মধ্যে কুমড়ো ফুল ডুবিয়ে তা একে একে তেলে ছাড়তে থাকুন। হালকা বাদামি না হওয়া পর্যন্ত এপিঠ ওপিঠ করে ফুলগুলো ভাজতে থাকুন। গরম গরম ভাতের সঙ্গে মচমচে বড়া পরিবেশন করুন।

সন্ত্রাসী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের ব্যবহার

সন্ত্রাসী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। ঘটনাস্থলেই এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এক মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যাবে। এ প্রযুক্তিতে ছোট একটি স্ক্যানার পুলিশের স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যা বায়োমেট্রিক সার্চ গেটওয়ের মাধ্যমে পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন ডেটাবেজ থেকে ব্যক্তির তথ্য বের করবে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তি পরীক্ষায় হোম অফিসের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশ। সামনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে এ ধরনের স্ক্যানার দেয়া হবে। হোম অফিসের দাবি- বছর শেষে আরও অন্তত নিরাপত্তা সংস্থা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। নতুন এ স্ক্যানার নিয়ে চিফ ইন্সপেক্টর ইয়ান উইলিয়ামস বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা ওই ডেটাবেজগুলো ব্যবহার করে রাস্তায় কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তাদেরকে শনাক্ত করতে পারছি।’ ‘আমরা কোনো ব্যক্তির ছবি পেতে পারি, আমরা পুরো পিএনসি (পুলিশ ন্যাশনাল কম্পিউটার) রেকর্ড পেতে পারি যা আমাদেরকে শনাক্তকরণে সহায়তা করে। যখনই আমরা কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিচ্ছি সেই মুহূর্ত থেকে এক মিনিটের মধ্যে পিএনসি চেক ও ছবির মাধ্যমে আমরা ফলাফল পাচ্ছি।’ উইলিয়ামস আরও বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত হচ্ছে যে কাউকে পুলিশ স্টেশনে না নিয়ে রাস্তায়ই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। এই ডিভাইসের মাধ্যমে নেয়া ফিঙ্গারপ্রিন্টগুলো কোনো ডেটাবেজে মজুদ করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।ইতিমধ্যে এমন ডিভাইস ব্যবহার করে আসছে ‘আর্মড রেসপন্স ইউনিট’। ব্রিটিশ পাউন্ডের এই ডিভাইসগুলো দিয়ে তারা কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারে। -টেকশহর

হিজড়া চাঁদাবাজের অসহনীয় দৌরাত্ম্য

‘ওই ট্যাকা দে’, টাকা না দিলে যাব না’ এমন জোর আবাদারের সঙ্গে রাজধানীবাসীর সবাই কমবেশি পরিচিত। রাস্তাঘাটে, শপিংমলে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে, ফুটপাতে কোথায় নেই তাদের দৌরাত্ম্য? এমনকি বাসাবাড়িতে, বিয়ে অনুষ্ঠানে কিংবা যে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তাদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছেই। বলছিলাম হিজড়াদের ‘সাহায্য ব্যবসা’র কথা। সমাজে অসহায় হিসেবে আগে সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততো তারা। মানুষজনও স্বেচ্ছায় সাহায্য করত তাদের। কিন্তু এখন আর সে দৃশ্য নেই। এখন যেন পেশাদার চাঁদাবাজের ভূমিকায় রাজধানী চষে বেড়াচ্ছে হিজড়া বাহিনী! সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে চাঁদাবাজি নিয়ে নিজেদের দ্বন্দ্বে প্রাণ হারিয়েছেন একজন হিজড়া। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে গিয়ে হিজড়াদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক দল শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, আমরা পাঁচ-ছয় জন বন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে গেলে দুজন হিজড়া এসে টাকা দাবি করে। আমরা পরে আসতে বললে সে বলে, ‘এখন টাকা দিবি। আমি (হিজড়া) টাকা না নিয়ে যাব না।’ তখন আমরা বলি, আপনি কি চাঁদাবাজি করবেন?
এটা তো চাঁদাবাজির মতো জোর করে টাকা দাবি করা। তখন সে আমাদের হুঁমকি দিয়ে বলে, ‘টাকা না দিলে পোশাক খুলে ফেলব’। তখন আমরা লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়াতে তাকে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, উদ্যানে চাঁদাবাজি করা ওই হিজড়া নিজের নাম ‘অহনা’ বলে পরিচয় দিয়েছে এবং তার গুরু মুক্তা হিজড়া বলে জানিয়েছে। অহনা হিজড়া দূরে অবস্থান করা স্বাধীনতা জাদুঘরের নিরাপত্তাকর্মীদের দেখিয়ে বলতে ছিল, ‘তারা আমাকে চেনে তোমরা অভিযোগ করলেও কিছু বলবে না।’ এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বই মেলা উপলক্ষে উদ্যানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ৩০০ পুলিশ সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। তাই উদ্যানে হিজড়া ঢোকার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব। রাজধানীতে চলমান বাসেও জোরজবরদস্তি করে চলে হিজড়াদের চাঁদা সংগ্রহ। আরমান শাহরিয়ার নামে এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি তিনি পাবলিক বাসে করে আগারগাঁও যাচ্ছিলেন। পথে হুট করে বাসে উঠে পড়ে একদল হিজড়া। তারা বাসের প্রতি আসনে যেয়ে যেয়ে টাকা তুলছিল। যে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাকেই তারা বাসভর্তি যাত্রীর সামনে অপদস্ত করেছে। একযাত্রী তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে টাকা দিবে না বলে জানালে তাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করে বসে। পড়ে নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন ওই যাত্রী। হিজড়াদের হেনস্তা থেকে বাদ যাননি এই প্রতিবেদক নিজেও। সাইন্সল্যাবে কয়েকজন হিজড়া টাকা চাইলে ভাংতি নাই জানালে তারা ভাংতি দেয়ার কথা বলে ১০০ টাকার নোট নিয়ে চলে যায়।
হিজড়ারা নারীর বেশে কেন?
সারা দেশের অধিকাংশ হিজড়াকেই দেখা যায় নারীর পোশাকে থাকতে। পুরুষের পোশাকে হিজড়াদের খুব কমই চোখে পড়ে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক যুগান্তরকে বলেন, এখনও সমাজে নারীর অবস্থান দুর্বল। এ জন্য নারীর বেশে পুরুষ এবং নারী উভয়ের কাজ থেকে সহানুভূতি পেতেই হয়ত তারা এ বেশ বেছে নেন। এ জেন্ডার বিশেষজ্ঞ বলেন, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিলেও এখনও তাদের সামাজিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসেনি। কারণ যারা আইন তৈরি করেন কেবল তারাই জানেন, যাদের জন্য আইন তাদের ওপর এর কোনো দৃশ্যমান প্রয়োগ এখনও হয়নি। হিজড়াদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে তাদের পরিবার থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এটা মানতে হবে যে তারাও মানুষ। পরিবারে হিজড়াদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে হিজড়া সমস্যা কমে যাবে।
অস্ত্র ঠেকিয়ে আর হাততালি দিয়ে চাঁদাবাজি এক নয়
মিরপুরের প্রভাবশালী হিজড়াদের মধ্যে অন্যতম রাখি হিজড়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, হিজড়ারা চাঁদাবাজি করে না। কারণ অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি আর জীবনের জন্য হাততালি দিয়ে চাঁদাবাজি এক নয়। আমাদের পরিবার নাই, চাকরি নাই, শিক্ষা নাই। আমরা বাঁচব কি খেয়ে? আমাদের সন্তান নাই। ভবিষ্যতে অসুস্থ্য হলে দেখার মানুষ নাই।

রাজধানীর ভয়ঙ্কর কয়েকটি স্পট

সাম্প্রতিক কয়েকটি এলাকায় ছিনতাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের কলেজগেট থেকে রিং রোড, ধানমণ্ডির শুক্রাবাদ থেকে ২৭ নম্বর, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের পুরোটা, আগারগাঁওয়ের সংযোগ সড়ক, খিলক্ষেত থেকে বিমানবন্দর সড়ক, মৌচাক মার্কেট থেকে মগবাজার, সদরঘাট থেকে সূত্রাপুর-দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, উত্তরা থেকে আবদুল্লাহপুর,
ঝিগাতলা থেকে রায়েরবাজার-শংকর, মিরপুরের রূপনগর-বেড়িবাঁধ, যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড়-শ্যামপুর, গাবতলী থেকে মিরপুর ১, ঝিগাতলা থেকে শংকর, গুলিস্তান থেকে পল্টন, সার্ক ফোয়ারা থেকে রমনা পার্ক, কাঁটাবন থেকে নীলক্ষেত, পলাশী থেকে আজিমপুর উল্লেখযোগ্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব এলাকায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত ২০ জানুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে রিকশায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী হিয়ার মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, আমি ৩২ নম্বর থেকে রিকশা নিয়ে আসাদ গেটের দিকে যাচ্ছিলাম। আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কল আসায় ফোনে কথা বলছিলাম। এমন সময় পেছন থেকে অনেক দ্রুত গতিতে একটি মোটরবাইক এসে মুহূর্তের মধ্যেই ছোবল মেরে মোবাইলটি নিয়ে যায়। আশপাশে তুলনামূলক লোক কম থাকায় চিৎকার করেও কোনো লাভ হয়নি। এমন ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই ছিনতাইয়ের শিকার হলেও থানা পুলিশের কাছে যেতে চান না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানা-পুলিশের কাছে গেলে ঝামেলা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিসটি উদ্ধারেরও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

হজযাত্রীর বিমান ভাড়া বৃদ্ধি

হজযাত্রীর বিমান ভাড়া এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে এ বছর প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে বিমান। বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার নামে হাজীদের কাছ থেকে অন্তত ৩৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি এক সংবাদ সম্মেলনে বিমানের এমডির অপসারণ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হজ ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে বিমানের পক্ষ থেকে অবশ্য কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, গত এক বছরে ৪ দফা জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং হজ ফ্লাইট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ওপর সৌদি সরকারের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ আরোপ। উল্লেখ্য, সৌদি এয়ারলাইন্স বাদে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অন্য এয়ারলাইন্সগুলোয় সাধারণত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা যাতায়াতের ভাড়া নেয়া হয় ৩৮ থেকে ৪২ হাজার টাকা। এ বছর ওমরা পালনেচ্ছুদের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিমান জেদ্দা যাওয়া-আসার ভাড়া নিচ্ছে ৫২ হাজার টাকা। হজের সময় এ ভাড়া এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা কেন হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
হজের সময় বিমান জেদ্দা থেকে খালি ফিরে আসে এবং হজ শেষে হাজীদের নিয়ে আসার পর খালি ফিরে যায়- এ যুক্তি মেনে নিলেও হাজীদের বিমান ভাড়া বড়জোর দ্বিগুণ হতে পারে, কিন্তু তা তিনগুণ কেন? বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যেসব মানুষ হজ করতে সৌদি আরব যান, তাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিুমধ্যবিত্ত শ্রেণীর। হজযাত্রী পরিবহনের নামে সিন্ডিকেট গঠন করে টিকিট বিক্রি বাবদ প্রতি বছর প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখন সরকারিভাবেই যদি বিমানের ভাড়া তিনগুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে হজ পালনেচ্ছু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, বিমানের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। হজ ফ্লাইটের ভাড়া না বাড়িয়ে সরকার বরং বিমানকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করতে পারে। এটি সম্ভব হলে হাজীদের কাছ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করার প্রয়োজন হয়তো নাও হতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, হজ একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় আচার। এর সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রশ্ন জড়িত। হজ ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে এর মাশুল হজযাত্রীদেরই গুনতে হবে। এতে সরকারকেও বিপাকে পড়তে হতে পারে। কাজেই হাজীদের বিমান ভাড়া সহনীয় মাত্রায় রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত।

প্রশ্নফাঁস রোধের উদ্যোগ

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এখনও নিচ্ছে। তবে এখনও কোনো উদ্যোগই সাফল্যের মুখ দেখেনি। চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে চলেছে একের পর এক। প্রশ্নফাঁসকারীরা যেন এ ব্যাপারে সরকারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে! বোঝাই যাচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না। আইন-পুলিশ-আদালত ইত্যাদি তাদের কাছে অতি তুচ্ছ বিষয় যেন। এটাও বোঝা যাচ্ছে, সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো সুচিন্তিত ও কার্যকর নয়। সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে পড়ছে মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার শামিল। যেমন এসএসসি পরীক্ষার দিন সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। অবশ্য বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। বস্তুত প্রশ্নফাঁস রোধ করতে হলে ফাঁস হওয়ার প্রকৃত ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে হবে। আর তা করতে হলে ছিদ্রগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এ কাজটিই এখন পর্যন্ত করে উঠতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এটি অবশ্যই তাদের ব্যর্থতা। তিনটি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, প্রশ্নফাঁসের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, শুধু ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে যাওয়ার সময়েই নয়, এর আগেও প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়।
এমন মনে হওয়ার কারণ, ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষার আগে দুই সেট প্রশ্নই ফাঁস করা হয়। গণিতের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতেই অনেকে পেয়েছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন সাবেক চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেছেন, বোর্ড থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় বলে দেয়া হয় কোন সেটে পরীক্ষা হবে। এর আগে প্রশ্নপত্রের সঠিক সেট ফাঁস হওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে দুটি সেটই ফাঁস হলে মনে করতে হবে, ট্রেজারির আগের পর্বে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আমরা মনে করি, এ কথাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্নফাঁসের তদন্তকাজ পরিচালনা করা উচিত। ট্রেজারির আগে ও পরের উভয় পর্বকে সন্দেহে রেখে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কারিগরি সহায়তা নেয়া যেতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে প্রশ্নফাঁসের কোনো সূত্র। অন্যান্য দেশে প্রশ্নফাঁস রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাও খতিয়ে দেখতে পারেন আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দেশে গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে পাবলিক পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা, এমনকি বিদ্যালয়ের নিচের শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, তাতে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করা উচিত বলে আমরা মনে করি। তা না হলে এ জাতি এক সময় প্রতিভাহীন হয়ে পড়বে, যার পরিণতিতে জাতিটি হয়ে পড়বে মেরুদণ্ডহীন। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্ত পাকা করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

চীন ভারত নিয়ে ডিএসই-বিএসইসি মুখোমুখি

স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার বিক্রি ইস্যুতে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চীনের স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ইতিমধ্যে নিজ প্রতিষ্ঠানের ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর বোর্ড। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের (ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা আলাদাকরণ) শর্ত অনুসারে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে এই শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টিতে আপত্তি রয়েছে ভারতের। আর ভারতকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শেয়ার দিতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে প্রাথমিক এবং শনিবারের বোর্ড মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ। এক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২২ টাকা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান। এতে শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৯৯২ কোটি টাকা। এছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি সহায়তার জন্য আরও ৩০৭ কোটি টাকা সহায়তা দিতে চায় চীন। কিন্তু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অব ইনডিয়া এ শেয়ারের মূল্য চাপের মুখে ফেলে ১৫ টাকায় কিনে নিতে চাচ্ছে। এতে শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬৭৬ কোটি টাকা।
ফলে মূল্য পার্থক্য দাঁড়ায় ৩১৬ কোটি টাকা। এরপর কারিগরি সহায়তা তো রয়েছেই। এরপরও ভারতকে শেয়ার দিতে চায় বিএসইসি। বিষয়টি নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জে চরম ক্ষোভ রয়েছে। সোমবার বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্র জানায়, ডিএসইর নেতাদের খায়রুল হোসেন বলেন, ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জকে শেয়ার দেয়ার ব্যাপারে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা জানতে চান তিনি। এ সময়ে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের কিছু নির্দেশনার কথা জানান তিনি। তবে আমন্ত্রিত মেম্বাররা বলেন, এটি সম্ভব নয়। বিএসইসির চেয়ারম্যানকে তারা বলেন, আপনি দেশ এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মেম্বারদের বঞ্চিত করবেন না। স্টক এক্সচেঞ্জের মেম্বাররা কোনোভাবেই এই দামে ভারতকে শেয়ার দিতে চায় না। বিষয়টি আপনি বিবেচনা করবেন। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের মেম্বারদের বঞ্চিত করা হবে না বলে শেষ পর্যন্ত আশ্বাস দিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। এদিকে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে শেয়ার বিক্রি বন্ধ করতে রোববার ঢাকায় এসেছেন ভারতের অন্যতম শেয়ারবাজার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিক্রম লিমা।

মিয়ানমারে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী

দুটি সশস্ত্র ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আজ মঙ্গলবার অস্ত্রবিরতি চুক্তি করতে যাচ্ছে মিয়ানমার। দেশটির সরকার এ চুক্তিকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় অর্জন বলে মনে করলেও অনেকে এটিকে পরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করছে।-খবর এএফপি। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধিকারের জন্য দুই ডজন নৃতাত্তিক গোষ্ঠী সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার সময় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু তার চেষ্টায় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাজধানী নেপিদোতে নিউ মন স্টেট পার্টি (এনএমএসপি) ও লাহু ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (এলডিইউ) সঙ্গে চুক্তি সই হলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার একটি প্রতীকী বিজয় ঘোষণা করতে পারবে। সু চির ক্ষমতায় আসার আগে চুক্তি সই করা আরও আটটি সশস্ত্র সংগঠনের নেতারাও মঙ্গলবার উপস্থিত থাকবেন। এলডিইউ প্রধান কে কুন স্টার বলেন, আমরা অং সাং সু চির ওপর আস্থা রেখেছি। কিন্তু সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করছি আমরা। কারণ সরকার ও সামরিক বাহিনী ঐক্যবদ্ধ নয়।

খামটি খুলতেই তিনি জ্ঞান হারান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলের বাসায় একটি খাম এলে তার স্ত্রী ভেনেসা সেটি খোলেন। খামটি থেকে এক ধরনের সাদা পাউডার বেরিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বড় ছেলের বাসায় সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনাস্থলে ট্রাম্প জুনিয়রসহ আরও দুজন উপস্থিত ছিলেন।-খবর সিএনএনের। দমকলকর্মীরা এসে জায়গাটিকে দূষণমুক্ত করেছেন। তবে ওই পাউডার ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না বলে জানা গেছে। তবে ভেনেসা ট্রাম্প শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ট্রাম্প জুনিয়র টুইটারে লিখেছেন- তার পরিবার নিরাপদে আছে। ঘটনাটি বিরক্তিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভেনেসার মা তাকে ওই খামটি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট তার পুত্রবধূর সঙ্গে কথা বলেছেন।

ঋণ কিনে বিশেষ সুবিধা, অতঃপর খেলাপি by সানাউল্লাহ সাকিব

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ কিনে বিপদ ডেকে এনেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। জারা কম্পোজিট টেক্সটাইল নামের ওই প্রতিষ্ঠানের ঋণ কিনেই ক্ষান্ত হয়নি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, নতুন করে আরও প্রায় ৫ গুণ বেশি টাকা দিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি টাকা। এখন এ ঋণের পুরোটাই খেলাপি হয়ে গেছে। অথচ এ ঋণকে সুদমুক্তসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, এ খেলাপি ঋণ আদায়ে এখন আইনি পথে হাঁটছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঋণে অনিয়মের জন্য ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুস সালেহীনকে দায়ী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ৩ বছর ব্যাংকটির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর আবার তাঁকেই স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। কাগজে-কলমে বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বদরুল আহসান। তবে ২০১৩ সালের আগে এর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক ছিলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। জানতে চাইলে নাজমুস সালেহীন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব অভিযোগ তুলেছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কোনো সুদ মওকুফও করা হয়নি। প্রকল্পটি ভালো দেখেই অর্থায়ন করা হয়েছিল, এখন খারাপ হয়ে পড়েছে।’ জানা যায়, ২০১০ সালের ২৩ এপ্রিল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলে জারা কম্পোজিট টেক্সটাইল। ওই বছরের ৩০ মে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে থাকা প্রতিষ্ঠানটির ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করে ঋণটি কিনে নেয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। যদিও ওই সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণের লেনদেন নিয়মিত ছিল না। ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি নতুন করে অর্থায়ন করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো জামানত নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে এসেছে, ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল ব্যাংকে যে জামানত দিয়েছিল সেখানে তিনটি কবরকেও জামানত হিসেবে রাখা হয়েছিল। জামানতসহ সেই ঋণ পরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক কিনে নেওয়ায় জামানতও তাদের হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালে জারা কম্পোজিট রপ্তানি আদেশের বিপরীতে বেশ কিছু ঋণপত্র খুললেও কোনো পণ্য রপ্তানি হয়নি। ফলে গ্রাহকের নতুন ঋণ সৃষ্টি করে স্থানীয় দেনা সমন্বয় করে ব্যাংক। ২০১২ সালের ৫ আগস্ট স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পর্ষদ এ ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ১৫ বছর পুনর্নির্ধারণ করে।
এরপরও নতুন করে অর্থায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর এসে জারা কম্পোজিট কর্তৃপক্ষ ঋণ পরিশোধে অপারগতা জানিয়ে সুদ মওকুফের জন্য চিঠি দেয়। এরপর ৩০ ডিসেম্বরের পর্ষদ সভায় ৪৪ কোটি টাকার ঋণকে সুদমুক্ত ঋণসুবিধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৭২ কোটি ১৮ লাখ টাকার ঋণকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণ পুনর্বিন্যাস সুবিধা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পুরো ঋণটি খেলাপি করার নির্দেশ দিলেও ব্যাংকটি তা পরিপালন করেনি। ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়লে ২০১৬ সালের ২৫ মে পুরো ঋণ পুনঃতফসিল করে ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থ আদায়ে এখন আইনি পথে হাঁটছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-অর রশিদ এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঋণটি আদায় না হওয়ায় খেলাপি হয়ে পড়েছে। অর্থ আদায়ে আমরা আইনি পথে হাঁটছি। মামলা করা হয়েছে, আরও হবে।’ মামুন-অর রশিদ বলেন, ‘আমার মেয়াদে এ প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। যা হয়েছে আগের সময়ে। গ্রাহককে ঋণের চাপ থেকে স্বস্তি দিতেই কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। আর কবরস্থানকে জামানত দেখানোর যে অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তা সঠিক না।’ প্রতিষ্ঠানটির নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জারা কম্পোজিটের ১ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩৪ হাজার শেয়ারের মালিক ছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি পুরো শেয়ার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্ণধার বদরুল আহসানের স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে হস্তান্তর করে দেন। ফলে ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তখন জিয়াউদ্দিন বাবলু ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম পরিচালক। এ বিষয়ে গতকাল জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আগামী সপ্তাহ থেকে ফোর–জি

ফোর-জি বা চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা অবশেষে আসছে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ সেবা দেওয়ার লাইসেন্স মিলবে ২০ ফেব্রুয়ারি। সেদিন থেকে গ্রাহকদের নতুন এই সেবা দিতে অপারেটররা প্রস্তুত। সেবাটি চালু হলে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে আরও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা। মোবাইল ইন্টারনেটে দ্রুতগতির সেবায় ফোর-জি সর্বশেষ প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত থ্রি-জির এটি পরের ধাপ। বাণিজ্যিকভাবে প্রথম এই সেবা চালু হয় ২০০৯ সালে; নরওয়ে ও সুইডেনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশেই ফোর-জি সেবা চালু আছে। বাংলাদেশে সে হিসেবে এটি বেশ পরেই এল। দেশে ফোর-জি সেবা চালু করবে গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও সরকারের মালিকানাধীন টেলিটক। সবাই এ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে। আজ ফোর-জি সেবার বেতার তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করেছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তাতে অংশ নেবে। ফোর-জির জন্য রবি ও টেলিটকের কাছে যথেষ্ট তরঙ্গ থাকায় তারা নিলামে অংশ নেবে না। নিলামের পরে ফোর-জি চালুর জন্য সময় থাকবে এক সপ্তাহ। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, সব কাজ সেরে গ্রাহক পর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বিভাগীয় শহরগুলোতে সেবাটি সময়মতো চালু করা যাবে। বিটিআরসির ফোর-জি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে; তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের হাতে ফোর-জির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে। এই দিন থেকে সেবা চালু করতে তারা কারিগরিভাবেও প্রস্তুত।’
অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থ্রি-জির তুলনায় ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি হবে কমপক্ষে দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন সিগন্যালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রি-জি ইন্টারনেটের গড় গতি ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস (মেগাবিটস প্রতি সেকেন্ড)। আর বিশ্বে ফোর-জি প্রযুক্তির গড় গতি ১৬ দশমিক ৬ এমবিপিএস। ভারতে ফোর-জির গড় গতি বর্তমানে ৬ দশমিক ১৩ এমবিপিএস। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশে ফোর-জির গতি ৯ থেকে ১৪ এমবিপিএসের মধ্যে। ফোর-জি গতিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুই দেশ হলো সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বজুড়ে ৩৮ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ৫ হাজার কোটি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে একেকটি দেশের ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণ করে ওপেন সিগন্যাল। টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান তো বটেই, বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা মিয়ানমারেও বহু আগে ফোর-জি সেবা চালু হয়েছে। মিয়ানমারের মতো টেলিযোগাযোগ সেবা পাওয়ার আশা বাংলাদেশের গ্রাহকেরা করতেই পারেন। মোবাইল ফোন অপারেটররা আরও বলেছে, ফোর-জি প্রযুক্তি উন্নত ও সাশ্রয়ী বলে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও কম হবে। তবে এই প্রযুক্তির উপযোগী মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনের স্বল্পতা এ সেবা প্রসারে বড় বাধা। অপারেটরদের হিসাবে বাংলাদেশে মোট মোবাইল ফোনসেটের ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন। এর মধ্যে ফোর-জি প্রযুক্তির স্মার্টফোন ১০ শতাংশের কম। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে ফোর-জি সেবা পৌঁছাতে অপারেটররা প্রস্তুত। তবে এই প্রযুক্তির উপযোগী হ্যান্ডসেট ও ব্যান্ডউইটথ সরবরাহ অবকাঠামোয় বড় দুর্বলতা রয়েছে। সেটি মেটাতে পারলে দ্রুতগতির ফোর-জি সেবা পেতে আর সমস্যা থাকবে না। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম বা সিটিসেলের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু। ১৯৯৭ সালে দৃশ্যপটে ঢোকে গ্রামীণফোন। এরপর একে একে একটেল (বর্তমানে রবি), টেলিটক ও বাংলালিংক। মোবাইল ইন্টারনেট সেবার সূচনা ২০০৫ সালে। টেলিটক ২০১২ সালে চালু করে থ্রি-জি ইন্টারনেট। বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটররা থ্রি-জি সেবা দিতে শুরু করে এর এক বছর পর, ২০১৩ সালের অক্টোবরে। বিটিআরসির হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটির বেশি। মোবাইলে এর সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি।

বিনে বিদেশি ভাষা, মিটে কি আশা! by আবদুশ শাকুর ওয়াহেদ

স্নেহভাজন ছাত্রী (ওর শিক্ষকদের শিক্ষক আমি) ফেসবুকে একটা ছবি দিয়েছে। নিতান্তই সাধারণ ঘটনা। অসাধারণ কোনো ছবিও নয়। বেশ কিছু বছর হলো ওর কর্মস্থলটি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। আর তুমুল উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে একদল উচ্ছল তরুণ-তরুণী তাদের বিভাগের নবীনবরণ উদ্‌যাপন করছে। ওরা যে অসম্ভব আনন্দ করছে সবাই মিলে, সেটা বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। আর করবে না-ই বা কেন? নতুনের আগমন মানেই তো প্রাণের আবির্ভাব। নতুনের আগমন মানেই পুরোনোকে জানিয়ে দেওয়া যে তারা পুরোনো, তাদের সময় পেরিয়েছে। ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর...ওই নতুনের কেতন ওড়ে...।’ ওদের ছবি দেখে আমি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাকল্যে এগারো বছর কাটিয়েছি। এর প্রথম সাড়ে সাত বছর ছাত্র হিসেবে, জনৈক ‘বিশ্ববেহায়া’র কল্যাণে সাড়ে তিন বছর বোনাস হিসেবে পেয়েছিলাম। বাদবাকি সময়টা শিক্ষক হিসেবে, তার কিছু সময় আবার ছাত্রদের অভিভাবক হিসেবেও, হলের গৃহশিক্ষকরূপে। কী আনন্দের ছিল সেই সময়গুলো! অ্যানেক্সের (কাজী মোতাহার হোসেন ভবন) কড়ইতলায় বসে আড্ডা দেওয়া, ইচ্ছা হলেই সুবীরদার ক্যানটিনে চা খাওয়া, বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে ওপরের ছাদে উঠে রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা, পড়ন্ত বিকেলে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরের সিঁড়িতে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, রাতদুপুরে হলের সামনের মাঠে লম্বা কংক্রিটের টুলে শুয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আকাশের তারা গোনা—কী দিনগুলোই না কাটিয়েছি! আমরা ছুতো খুঁজতাম কী করে দল বেঁধে ক্লাস না হওয়ার ব্যবস্থা (ফাঁকি দেওয়া না) করা যায়! মনে আছে, মাস্টার্সে প্রাণ–পরিসংখ্যান বিষয়ের ক্লাস ছিল বেলা দেড়টায়। একদিন দুই বন্ধু বলল, ওরা ক্লাস করবে না—হলে একটা বাংলা ছবি সাড়া জাগিয়ে মুক্তি পেয়েছে—সেটা দেখতে যাবে। ক্লাস ফাঁকি দেওয়াটা আমার মনঃপূত না। আমি ওদের বললাম, ‘তোরা একা যাবি কেন? চল সবাই মিলে যাই। চল আপার কাছে।’ আপা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। সবাই মিলে তাঁকে গিয়ে বললাম, ‘আপা, আজকে আমরা ক্লাস করব না।’
‘কেন?’
‘সিনেমা দেখতে যাব।’
‘মানেটা কী? ক্লাস করবে না, সিনেমা দেখতে যাবে?’
‘জি আপা।’
আপা কিছুক্ষণ সময় নিলেন। মনে হয় এমন আবদারে এতটাই ভড়কে গিয়েছিলেন যে কী বলবেন কিছু খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারপর বললেন, ‘কী ছবি, আমাকে আগে বলতে, তাহলে আমিও যেতে পারতাম!’ ফার্মেসি কি প্রাণরসায়ন বিভাগের নবীনবরণ। সেলিম চৌধুরী গাইবেন গান। সেলিম ভাই আমাদের হলের ছাত্র। এটা তো মিস করা যায় না।
‘স্যার, আজকে ক্লাসটা ছুটি দেন।’
‘কেন?’
‘স্যার, জানেন আমাদের হলের বড় ভাই, সেলিম চৌধুরী, ওই যে স্যার, হুমায়ূন আহমেদ যাঁকে ব্রেক দিয়েছেন, উনি গান করবেন কার্জন হলে।’
‘তো কী?’
‘এটা কি মিস করা যায় স্যার? আপনিও যেতে পারেন স্যার। ভদ্র ছেলে, আপনি বললে হয়তো আমাদের নবীনবরণেও নিয়ে আসা যাবে, স্যার।’
‘আচ্ছা তোমরা যাও, আমার যেতে হবে না।’
নবীনবরণ, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বনভোজন, বিতর্ক—এসব কখন আসবে, সে আশায় বসে থাকতাম আমরা। এর মধ্যে নবীনবরণ ছিল সবার বেশ প্রিয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটা হতো এ সময়েই—বাইরের ও ভেতরের শিল্পীরা মিলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা একেকটা নতুন মুখে বিস্তৃত স্বপ্নের ছবিগুলো মনে করিয়ে দিত আমাদের সেই দিনগুলোকে। সে যাক। পুরোনো সে দিনের কথা বলতে গেলে নির্ঘাত খেই হারিয়ে ফেলব। শুরুর কথায় ফিরে যাই। ওদের নবীনবরণের অ্যালবামের ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটা ছবিতে এসে আমার চক্ষুস্থির। আমি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলাম, নবীনদের বরণ করার জন্য যে মঞ্চ সাজানো হয়েছে, তার পেছনের ব্যানারটিতে পুরো বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে
FRESHER’s RECEPTION
DEPARTMENT OF …. . , …. . UNIVERSITY
CHIEF GUEST: …. , Vice-chancellor, …. . University,
এবং আরও অনেক বিশেষ অতিথি এবং অনুষ্ঠানটির সভাপতির নাম ইংরেজি অক্ষরে লেখা। আমার বিস্ময়ের কারণ অনেকের বোধকরি বোধগম্য না-ও হতে পারে। কারণ ব্যক্তিগত আলোচনায় যা বুঝলাম, তাতে এটাই নাকি আজকাল রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বলছিলাম ব্যানারটিতে ইংরেজি শব্দের আধিক্যের(!) কথা। একটা বাংলা বর্ণ চোখে পড়েনি পুরো ব্যানারটিতে। আমরা বাংলাকে এত ভালোবাসি যে যত্ন করে আলমারিতে তুলে রেখে দিয়েছি। পাছে অতিব্যবহারে বিনষ্ট হয়! ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা ওটাকে নামাব, তকতকে ঝকঝকে করে মুছব, বিভিন্ন রঙের বাহারি আলপনা এঁকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাব। সালাম-বরকতেরা আমাদের সাজানো-গোছানো বাহারি বর্ণমালার সারি দেখে তাঁদের আত্মত্যাগ যে বৃথা যায়নি, সে নিয়ে আত্মতুষ্টি   অনুভব করবেন আর আমরা গর্বভরে ফেসবুকে আমাদের বাণী দেব: ‘Happy International Mother Language Day!’ বিনে বিদেশি ভাষা, মিটে কি আশা! এটাকে মন্ত্র বানিয়েই কি আমাদের অগ্রযাত্রা তাহলে? বিদেশে থাকি প্রায় বিশ বছর। অধ্যাপনার কারণে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাদান করছি দিনের পর দিন। কিন্তু প্রতিদিনই মনে হয় কিসের যেন তৃষ্ণা, কোথায় যেন ফাঁকা থেকে যাচ্ছে পাঠদানে। প্রতিদিনই ভাবি আর দিনের শেষে সিদ্ধান্তে আসি, নিজের ভাষায় শিক্ষাদানের যে আনন্দ, তা অন্য কিছুতে সম্ভব নয়। তাই তো! রামনিধি গুপ্ত তো বলেইছিলেন:
‘নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশী ভাষা,
পুরে কি আশা?’
না, আশা পুরে না। নবীনবরণের কথা দিয়ে শুরু, তাই দিয়েই শেষ করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে প্রথম বর্ষে আমাদের সঙ্গে ভর্তি হয়েছিল ইরান থেকে উড়ে আসা আলিয়া। বেচারার ত্রাহি অবস্থা—ও ইংরেজি একটু-আধটু জানে, বাংলার তো ধারেকাছেই নেই। নবীনবরণ অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যানারটির সব লেখাই তখন বাংলায়। অনুষ্ঠান শেষে আমরা বন্ধুরা মিলে গল্প করছিলাম, ওর জন্য হলেও আমাদের ছোট করে ইংরেজিতে কিছু লেখা উচিত ছিল। বুঝতে পারছি দিনকাল পাল্টেছে। আমাদের এখন নিজেদের জন্যই বাংলা ছেড়ে ইংরেজিতে লিখতে হচ্ছে। একটু-আধটু বাংলা রাখলে কি খুব বেশি দোষের কিছু হয়ে যাবে?
অনুরোধটা কি একটু বেশি সেকেলে ঠেকছে?
আবদুশ শাকুর ওয়াহেদ যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের প্রাণ-পরিসংখ্যানের অধ্যাপক

আসমা জাহাঙ্গীরের বিদায়ে কমে গেলাম আমরা by গওহর নঈম ওয়ারা

উপমহাদেশের অগ্রণী মানবাধিকার নেত্রী আসমা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পাকিস্তানের লাহোরেই বোধ হয় প্রথম দেখা। পাঞ্জাবের বিরল আর ধ্বংসাত্মক বন্যা নিয়ে কাজ করতে যাওয়ার আগে একবার করাচি যাওয়া হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। কুমিল্লা উন্নয়ন মডেলের পথিকৃৎ আখতার হামিদ খান তখন করাচির বস্তিতে বস্তিতে (অরঙ্গি) কাজ করছেন আর বাংলাদেশকে পলে পলে উপলব্ধি করছেন। কাজের পরিবেশ আর মানসিকতার তফাত নিয়ে কাতর হচ্ছেন। আলাপের একপর্যায়ে উপদেশ দিলেন, মালিক গোলাম জিলানির সঙ্গে, বিশেষ করে তাঁর বড় মেয়ে আসমা জিলানির (জাহাঙ্গীর) সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগ করতে। সে যাত্রায় সেটা হয়নি। টেলিফোন নম্বরটা খান সাহেব যত্ন করে লিখে দিয়েছিলেন। পরে সেই ফোন খান সাহেবকেই করতে হয়েছিল আইনি সহযোগিতা জন্য। ১৯৯২ সালে অশীতিপর আখতার হামিদ খানকে যখন গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান সরকার।
অপরাধ, তিনি শিশুদের জন্য বই লিখে মানুষকে উসকানি দিচ্ছেন। বলা বাহুল্য, শিশুদের জন্য তাঁর ‘শের আওর আহাম্মক’ গল্পে ধর্মকে বা ধর্মের অভিভাবকদের নিয়ে কোনো ব্যঙ্গ ছিল না। যাহোক কারাগার আর দণ্ডের খড়্‌গ এড়াতে তাঁকেও আইনি লড়াই লড়তে হয়েছে। সে লড়াইয়ে আসমা জাহাঙ্গীরকে তিনি পাশে পেয়েছিলেন। আসমার প্রিয় চরিত্র ছিল মাওলানা ভাসানী। আমার মনে হয়, যখনই তাঁর কোনো বাঙালির সঙ্গে দেখা হয়েছে, তখনই কোনো না কোনোভাবে ভাসানী প্রসঙ্গ এসেছেই। কাগমারী সম্মেলন সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা-বিশ্লেষণ আমাকে চমৎকৃত করেছে, মনে হয়েছে, তিনি যেন নিজেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রখ্যাত লেখক-শিক্ষাবিদ প্রশান্ত ত্রিপুরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, ‘ফেসবুকে একাধিক বন্ধুর পোস্ট থেকে আসমা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর জানলাম। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। পাকিস্তানের এই প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে উজ্জ্বল ভূমিকা নেওয়া তাঁর বাবার কথা বাংলাদেশের অনেকেই জানেন, যেসব বিষয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই আমার দিক থেকে। আমি শুধু ছোট একটি তথ্য যোগ করব ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে। দুই দশক আগে আসমা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় হয়েছিল আমার জার্মানিতে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আয়োজিত একটা সফর চলছিল, যাতে কীভাবে যেন আমিও অংশ নিয়েছিলাম। তখন একদিন আড্ডার ফাঁকে আসমা জাহাঙ্গীর বলছিলেন মাওলানা ভাসানীর কথা, যাঁর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের খুব সুসম্পর্ক ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এসব সম্পর্ক একটা ভিত্তি ছিল তাঁদের পরিবারের বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর। আমি জানি না, আসমা জাহাঙ্গীর কোথাও আড্ডায় দেওয়া তথ্য লিখিতভাবে প্রকাশ করেছেন কি না। করে থাকলে তা মাওলানা ভাসানীর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে একটু ভিন্ন আলোয় জানতে সহায়ক হবে...।’
মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আসমা জাহাঙ্গীরের সাহসী উচ্চারণ, অবস্থান, সামরিক শাসনবিরোধী তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য আমাদের সবার জানা। একসময় মনে হয়, সব সময় তিনি একাই লড়েছেন, শক্তভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়েছেন। তবে দেশ বা পায়ের নিচের মাটি কোনোটাই ছাড়েননি; বাংলাদেশের ন্যায্য সংগ্রামে এমনকি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বাবার সঙ্গে আমরা তাঁকেও পেয়েছি পাশে। লাহোরের শাহি মসজিদের সামনে প্রতিদিনের বৈকালিক কবিতা পাঠের আসরে আসা এক অচেনা কবির বাইসাইকেলের পেছনে চড়ে কেবল বাঙালি পরিচয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে ফিরতে হয় না—সে এক বিরল অভিজ্ঞতা; তাঁর আপ্যায়ন, সময় দিয়ে কথা শোনা; ভোলা যায় না। কথায় কথায় চলে আসে উনসত্তরের কথা, শহীদ আসাদ, প্রফেসর জোহা—সবই তাঁর জানা। আসমা উনসত্তরেও পথে ছিলেন, পাঞ্জাবের গভর্নরের প্রাসাদ ঘেরাও করতে যাওয়া নারীদের মিছিলে কলেজছাত্রী আসমা ছিলেন সবার সামনে। সে মিছিলে গুলি চালিয়েছিল আইয়ুব শাহির পুলিশ, প্যারা মিলিটারি। আসমা বেঁচে যান অল্পের জন্য। আসমা বেঁচে ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর হয়ে, প্রসারিত হৃদয়ের মানুষ হয়ে। আমরা যদি সংকুচিত না হই, তাহলে আসমা জাহাঙ্গীর বেঁচে থাকবেন সবার মধ্যে—নইলে না। তাঁর মৃত্যুতে উপমহাদেশ আরেকটু দুর্বল হলো, আমরা হলাম আরও বিচ্ছিন্ন!
গওহর নঈম ওয়ারা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণকর্মী এবং শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পিচের দোষ দিয়ে লাভ নেই by পবিত্র কুন্ডু

আশার জায়গাটা বড় হতাশায় রূপ নিল। শনিবার শেরেবাংলা স্টেডিয়াম একটা লম্বা সময়ের জন্য শোকে ডুবিয়ে দিয়ে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচে ও ফাইনালে হারের ক্ষতটা দগদগে থাকতে থাকতেই টেস্ট সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চিরচেনা পিচ হঠাৎই বাংলাদেশের কাছে রহস্যের জাল বিছিয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে অচেনা অন্ধকারে? চিরচেনা বলছি বটে, সত্যিটা হলো শেরেবাংলার পিচ আমরা চিনেছি বছর আটেক হলো। নির্দিষ্ট করে বললে ২০১০ সাল থেকে, যখন আমরা ড্যানিয়েল ভেট্টোরির নিউজিল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই করলাম। তার আগে ২০০৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন জীবন পাওয়া এ স্টেডিয়ামের পিচ আমরা চিনতাম না। একেকটি দল এখানে খেলতে নামত। তারা আমাদের বিপক্ষে রাশি রাশি রান করত আর মুড়ি মুড়কির মতো উইকেট তুলত। পরাজয়ই ছিল নিয়তি, বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ম্যাচ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তিন দিনের খেলা! ওয়ানডে হলে আমাদেরই হোক বা প্রতিপক্ষের, একটা ইনিংসেই জয়-পরাজয় নিশ্চিত। আমরা বুঝতামই না কেমন উইকেট বানালে আমাদের খেলোয়াড়েরা সেটির সুবিধা নিতে পারবেন। এখানেই ওঠে দলের সামর্থ্যের প্রসঙ্গ। আমাদের ব্যাটসম্যানরা তখন বড় দলগুলোর সহজপাচ্য খাদ্য। তাঁরা না পারতেন পেস বলের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে, না পারতেন স্পিন সামলাতে। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা! অবস্থাটা বদলাল ২০০৯-১০ সালের দিকে এসে। কয়েকজন ক্রিকেটার সামর্থ্যের সীমাটা বাড়িয়ে নিতে পারাতেই এই বদল।
সাকিব, তামিম, মুশফিক-এ রকম অগ্রগণ্য কয়েকটি নাম। এঁদের কল্যাণে আমরা শুধু মিরপুর শেরেবাংলার উইকেটই নয়, চিনতে শুরু করলাম পুরো দেশেরই পিচগুলো। পিচের সুবিধাটা কাজে লাগাতে শিখলাম আর কি! সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালেও ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ড ধবলধোলাই। তবে সবাই বাংলাদেশ দলের সামর্থ্যের চূড়াটা ছুঁল ২০১৫ বিশ্বকাপের পর। সেটি বেশি করে প্রকাশিত ৫০ ওভারের ক্রিকেটেই। দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে পরপর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার জয় দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে একটু সম্ভ্রমও আদায় করল। আর তখনই বলা গেল যে পিচগুলো আমরা চিনেছি। এই চেনাটাও আসলে উপমহাদেশীয় দলগুলোর বিপক্ষে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। উপমহাদেশের দেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে কিছুটা চিনতে পারা গেল টেস্ট ক্রিকেটেও। সে জন্যই ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে জয় তুলে নেওয়া গেছে। গত বছর জয় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম যখন ভারত, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কা, তখন উইকেটগুলো চিনে নেওয়ার বাকি থেকে যায়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকাও উপমহাদেশীয় পরিবেশে স্পিনের বিপক্ষে দুর্বল। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় এসেছে স্পিন-কৌশল কাজে লাগিয়েই। ওদের সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে মিলিয়ে ফেলাটা বোকামি। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ঠিক এই বোকামিই আমরা করলাম। চট্টগ্রামে ব্যাটিং স্বর্গ বানিয়ে কোনোক্রমে টেস্টটা ড্র করা গেল মূলত মুমিনুল-লিটনের ব্যাটিং বীরত্বে। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে বানিয়ে বসলাম স্পিনিং উইকেট। আমরা ভুলে গেলাম কিংবা ঔদ্ধত্য দেখিয়ে সত্যকে অস্বীকার করলাম যে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংটা ওরা আমাদের চেয়ে ভালো জানে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের পর যদি শ্রীলঙ্কান পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার দিকে আঙুল উঠতে পারে, তাহলে টেস্ট সিরিজ হারেও তাঁর দিকে ছুটে যাবে সমালোচনার তির। কিন্তু একটা বাচ্চা ছেলেও জানে, কিউরেটর পিচ বানান স্বাগতিক দলের চাহিদা মেনে। যেটিকে বলে ডিজাইনার পিচ। খেলার আগেই কিউরেটরকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আমাদের এমন পিচ চাই। উচ্চ বেতনধারী গামিনি ডি সিলভাকে সেটি জানানো হয়নি, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। এটাও কেউ মানবে না যে বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে তিনি নিজের খেয়ালমতো পিচ বানিয়েছেন। গামিনিকে ‘নন্দঘোষ’ বানানোর কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ পিচের কারণে হারেনি। প্রথমত, হেরেছে কথিত ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের আড়ালে ব্যাটসম্যানদের পাগলাটে ব্যাটিংয়ের কারণে। হেরেছে অদূরদর্শিতার কারণে। অপরিণত টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের সামর্থ্যকে ঠিকঠাক মাপতে পারেনি বলে। যে রকম পিচে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারানো গেছে, তেমন পিচ বানিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারানো যাবে, এমনটি যাঁরা ভাবেন, বোকার স্বর্গেই তাঁদের বসবাস। দলনায়ক এবং বিশ্বের সেরা স্পিনিং অলরাউন্ডারটি নেই জেনেও স্পিনবান্ধব উইকেট বানানোর নির্দেশদাতাদের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে। মাত্র আড়াই দিনেই ঢাকা টেস্টটা গো-হারা হেরেছে নির্বাচকদের নির্বুদ্ধিতার কারণে। মোসাদ্দেক হোসেন হয়তো ভীষণ রকম উজ্জ্বল কিছু করতে পারেননি, তবে চট্টগ্রাম টেস্টটা যে খাদে পড়েও ড্র করা গেল, তাতে তাঁর ৫৩ বলে অপরাজিত ৮ রানের ভূমিকা ছিল। সেই মোসাদ্দেককে বাদ দিয়ে কিনা নেওয়া হলো ফর্ম হারানো সাব্বির রহমানকে। যিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫টি বল খেলে করতে পেরেছেন মাত্র ১ রান, স্লিপে দাঁড়িয়ে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তিনটি ক্যাচ ছেড়েছেন। বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত যে ক্রিকেটার সর্বশেষ অসদাচরণের দায়ে ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাস নিষিদ্ধ হয়েছেন, এমন একজন ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস বলতে কিছু থাকে না। কিন্তু বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন দিলেন হাস্যকর যুক্তি, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাব্বিরকে নিয়ে যেহেতু দলের পরিকল্পনা আছে, তাঁকে অনুশীলনের সুযোগ তো করে দিতে হবে! টেস্ট তাহলে একজন ফর্ম হারানো ব্যাটসম্যানের অনুশীলনের জায়গা! কবে আমরা পরিণত হব? ত্রিদেশীয় সিরিজে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে আমরা শ্রীলঙ্কা দলটিকে যেন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখিনি। টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা তো ছিলই, প্রতিপক্ষ ছিল আমাদের অপরিণত ক্রিকেট-বোধ। বিপক্ষ ড্রেসিংরুমে বসে এই সত্যটা ধরিয়ে দিলেন হাথুরুসিংহে। দোহাই আপনাদের, হারের জন্য শুধু পিচের অজুহাত দেবেন না।
পবিত্র কুন্ডু: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনের প্রবেশ by আনু মুহাম্মদ

৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে। এর আগে-পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও স্নাতক পর্যায়ে বিভিন্ন কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে, হচ্ছে। সারা দেশে কয়েক লাখ পরিবার ছেলেমেয়েদের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, শুরু হয়েছে নতুন পর্যায়ের উদ্বেগ আর লড়াই। এক মহাযুদ্ধ পার হয়েই তাঁরা এই পর্বে প্রবেশ করেছেন। ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর থেকেই শুরু হয় ভর্তির যুদ্ধ। কোন বিষয়ে ভর্তি হওয়া যাবে, কোন কোচিং সেন্টার ভালো হবে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে? দূর-দূরান্তের সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য খরচের মেলা হিসাব। যাদের আয় কম তাদের আবার খরচ বেশি। বড় শহরে সন্তানকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করতে হবে, তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আত্মীয়স্বজনের বাসায় থাকার অবস্থা না থাকলে মেসে থাকতে হবে। সন্তান যদি মেয়ে হয়, উদ্বেগ আরও বেশি। কোচিং সেন্টারের ব্যয়, বইপত্র, থাকা-খাওয়া-যাতায়াতের ব্যয়। এরপর শুরু মূল পর্ব। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে, হয়তো একাধিকবার। যাতায়াত খরচ তো বেড়েই যাচ্ছে, তারপরও ঠিকমতো টিকিট পাওয়া, সময়মতো পৌঁছাতে পারা-সবই অনিশ্চিত। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কোথাও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। দিন, মাস, বছরের যুদ্ধ। অর্থব্যয়। শারীরিক পরিশ্রম। দোয়া তাবিজ। তারপরও অনিশ্চয়তার শেষ নেই। সব মিলিয়ে যদি বেশ কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দৌড়ের ওপর থাকতে হয় তাহলে মোটা অঙ্কের বাজেট হাতে রাখতেই হবে। এটা অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। টাকাপয়সার চাপ তো আছেই, ভর্তি প্রার্থীর সঙ্গে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে যাওয়ার মতো অতিরিক্ত মানুষ কয় পরিবারে আছে? বাংলাদেশে কত পরিবার এতসব বাধা অতিক্রম করতে পারে? যারা পারে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। আর্থিক, পারিবারিক এ রকম ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বহুজনকে অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলে আসার ঘটনা আছে। আমাদের বিভাগে এ রকম ছাত্রছাত্রী প্রায় প্রতিবছরই বেশ কয়েকজন পাই। পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা নেই বললেও কম বলা হয়, টিকে থাকা প্রতিদিনের যুদ্ধ। পড়াশোনা অনামী স্কুল-কলেজে, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল না। নিজেরাই পড়াশোনা করেছেন। কোচিং গাইডসহ বিপুল অর্থব্যয়ের দাপটের মধ্যে এসবের বাইরে থেকে যখন কোনো শিক্ষার্থীকে দেখি ‘মেরিট লিস্ট’-এ স্থান করে নিয়েছে, তখন খুবই ভরসা পাই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি সর্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তি ফি অন্যগুলোর তুলনায় কম। এর মধ্যে অবশ্য বিভাগগুলো নানা ‘উন্নয়ন’ ফি বাড়িয়েছে। এই টাকা জোগাড় করাও অনেকের জন্য খুব কঠিন। এক ছাত্রী দূর থেকে ভর্তি হতে এসেছেন। সঙ্গে কেউ নেই। কেন? বললেন, বাসভাড়া জোগাড় করা যায়নি বলে বাবা আসতে পারেননি। আরেকজনের উপার্জনক্ষম বাবা নেই, আরেকজনের বাবা দিনমজুর, আরেকজনের মা অসুস্থ, বাবা দূরে কাজ করেন। কেউ কোনোভাবে ভাই বা বোনের সংসারে আছেন। ভর্তি হওয়ার পর নিজেদের লেখাপড়ার খরচ তো বটেই, সংসারেও কিছু দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে দিনরাত অতিক্রম করে, এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয়। টিউশনি করে শিক্ষাজীবনে টিকে থাকার চেষ্টা অনেকের। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এই যে মহাযজ্ঞের পরিবর্তন হওয়া দরকার। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে ভোগান্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়েও প্রশ্ন আছে, এগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শহর, ইংলিশ মাধ্যম, এলিট শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়েই প্রণয়ন করা। তবে প্রশ্ন আর ভর্তিপদ্ধতি যা-ই থাক বর্তমানে অবাধ প্রশ্নপত্র ফাঁস যে মহামারি আকার নিয়েছে এবং তা নিয়ে সরকারের যে রকম নমনীয়তা ও প্রশ্রয় দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের যন্ত্রণা আর হতাশার সুরাহা হওয়ার আশু কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০১৬ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রতারিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-ক্ষোভ-প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি গণতদন্ত কমিটি করেছিলাম। বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ডাক্তার, আইটি বিশেষজ্ঞ, গবেষক এই কমিটিতে ছিলেন। আমরা কয়েক মাসের পরিশ্রমে নিশ্চিত হয়েছিলাম প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সত্য, কীভাবে হয়েছে, তা-ও চিহ্নিত করেছিলাম। সরকার নিজে কোনো তদন্ত করেনি, বরং অস্বীকার করেছে, এই কমিশনের রিপোর্টেও গুরুত্ব দেয়নি। নাগরিকদের পক্ষ থেকে এ রকম সফল উদ্যোগ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোও বিশেষ উৎসাহ দেখায়নি।
এরপরের দুই বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস অবিশ্বাস্য মাত্রা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বা মেডিকেলে ভর্তি হতে পারা তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এক বিশাল স্বপ্নের পথে যাত্রা। কিন্তু এই স্বপ্ন ধারণ করার মতো পরিস্থিতি কি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে আছে? নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই শিক্ষক, ক্লাসরুম, আবাসনের সংকট নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়েই সরকার মনোনীত উপাচার্য নিয়ে অভিযোগ, জটিলতা। নতুন অনেক বিভাগে ক্লাসরুম, শিক্ষকের সংকট। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে গত কয় বছরে বেশ কয়টা নতুন হল হয়েছে, তার ফলে প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের হলের সংখ্যা বাড়ার ফলে ছাত্রী অনুপাতের উন্নতি হয়েছে। এখনো প্রতিবছর হলের আসনসংখ্যা অনুযায়ী ভর্তিসংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ও তা বিভিন্ন বিভাগে বণ্টন করা হয়। তার মানে যে শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি আসন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে থাকার কথা। কিন্তু তারপরও দেখা যায় প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার মহাযুদ্ধের পর যাঁরা উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন, তাঁদের জায়গা হয় গণরুমে কিংবা তাঁদের আসা-যাওয়া করতে হয় দূর থেকে, কিংবা আবারও আর্থিক চাপ নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। কেন? কারণ, তাঁদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো এখনো অন্যদের দখলে। প্রথমত, সেশনজটের জন্য অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঝুলে থাকায় হল খালি হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগে এখন বাণিজ্যিক প্রাইভেট উইকেন্ড ইভনিং বিভাগ খোলা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ হলেও মূল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস, পরীক্ষা, ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকেন অনিশ্চয়তায়। দ্বিতীয়ত, সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতাবলে তাঁদের প্রয়োজনমতো হলে থেকে যান, অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের আশ্রিত অন্য লোকজনও হলে থাকেন। এখানে প্রশাসন নীরব! বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্ভরশীলতার যে ধারা চলে আসছে, তার প্রধান শিকার হন অনুজ শিক্ষার্থীরা। জোর করে নিজেদের মিছিল-সমাবেশে নেওয়া, অন্য সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, হেনস্তা-নির্যাতন ইত্যাদি বহু অভিযোগ আমরা শুনি। সর্বশেষ নিজের ক্যালকুলেটর ফেরত চাইতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্র কীভাবে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, তার চিত্র সংবাদপত্রে এসেছে। বেশির ভাগই আসে না। এই নিপীড়ন-সংস্কৃতির আরেকটি ভয়াবহ প্রকাশ ঘটে প্রতিবছর ‘র‍্যাগিং’-এর মাধ্যমে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এই সময়ে সেই যন্ত্রণার পর্বই চলছে অনেকের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ, উত্কণ্ঠা আর স্বপ্ন নিয়ে প্রবেশ করেন নতুন শিক্ষার্থীরা। সাধারণভাবে প্রত্যাশা হলো তাঁদের এই নতুন যাত্রায় সহমর্মী হিসেবে পাশে দাঁড়াবেন পুরোনো শিক্ষার্থীরা, স্নেহ ও অভিভাবকের হাত এগিয়ে দেবেন শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হবে ক্লাস, পাঠ, হাসি, আনন্দ, গান, লেখা, খেলা, আড্ডা আর নতুন চিন্তায় সমৃদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্র। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রত্যাশা বারবার মার খায় ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বর্বর আঘাতে। সে জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে, বড় স্বপ্নের কাছে পৌঁছেও নতুন শিক্ষার্থীদের আরেক যুদ্ধ শুরু করতে হয়। হয়তো এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তাঁরাই বহন করেন।
আনু মুহাম্মদ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ
anu@juniv.edu

স্বামীর মদতে ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে রোজগার পতিতাবৃত্তি!

স্বামীর মদতে ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে রোজগারে নেমেছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপরের মৌসুমী ভট্টাচার্য। তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ভারতের পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের সূত্র ধরেই বিশ্বনাথের মতো একাধিক বন্ধু তৈরি হয়েছিল মৌসুমীর। হাইপ্রোফাইল জীবনযাপনের নেশায় তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দিনে নিজের বাড়িতে ডেকে রাত কাটাত সে। স্ত্রীর সঙ্গে অন্যজন রাত কাটালেও তাতে কোনো আপত্তি ছিল না মৌসুমীর স্বামী শান্তনু ভট্টাচার্যর। সে বাড়িরই অন্য রুমে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। প্রতি সন্ধ্যায় স্ত্রীর কাছে শুধু তার চাহিদা ছিল দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল। উল্লেখ্য, ফেসবুক বন্ধু বিশ্বনাথ নাগের সঙ্গে তিন রাত কাটিয়ে অবশেষে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খুন করেছে মৌসুমী। এমন সন্দেহে দু’জনেই এখন পুলিশ হেফাজতে। পুলিস জানিয়েছে, ফেসবুকের প্রোফাইলে সার্চ করে সরকারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত ওই গৃহবধূ। নিজে থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শিকার জালে তুলত সে। ধানবাদের ঝরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বিশ্বনাথ নাগকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েই কথার জালে ফাঁসিয়েছিল সুন্দরী মৌসুমী। হাইপ্রোফাইল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন বীথির ওই বাসিন্দা। সেই খরচ তুলতেই সে নতুন-নতুন বন্ধুদের আকৃষ্ট করত। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য সে প্রায়ই ফেসবুকে নিত্য-নতুন পোজে ছবি আপলোড করত। বুধবার রাতে পুলিশ মৌসুমীর বাড়িতে গিয়ে বিশ্বনাথের দেয়া স্কুটি, মোবাইল সহ বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিস কমিশনার লক্ষ্মী নারায়ন মিনা বলেন, ওদের জেরা করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ওরা সবকিছু সঠিক বলছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরেও মৌসুমী ওরফে মৌ ভেঙে পড়েনি। উল্টে সে বিশ্বনাথের মৃত্যুকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করছে। পুলিশকে সে জেরায় জানিয়েছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সে নিজে থেকেই হাই হ্যালো জাতীয় মেসেজ পাঠিয়ে চ্যাট শুরু করত। নতুন বন্ধু সত্যিই কোনো সরকারি সংস্থা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কিনা তা কথার ছলে নিশ্চিত হওয়ার পরেই মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হতো। সুযোগ বুঝে ডেটিংয়েও যেত মৌসুমী। তবে, সম্প্রতি বিশ্বনাথের সঙ্গেই তার সম্পর্ক গভীর হয়েছিল। সে বিশ্বনাথকে কখনো তার স্বামীর বিজনেস পার্টনার, কখনো আবার কোনো আত্মীয়ের ছেলে বলে পরিচয় দিত। শান্তনু ও মৌসুমীর বাড়ির পরিচারিকা জুলি যাদব বলেন, দোতলা ঘরের উপর তলায় দুটি বেডরুম আছে। একটিতে শান্তনু থাকত। সেখানে প্রতিদিনই মদের বোতল ও গ্লাস নিয়ে পড়ে থাকত। অন্য ঘরে অচেনা যুবকের সঙ্গে মৌসুমীকে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম। জিজ্ঞাসা করলে আত্মীয় বলে পরিচয় দিত। পাড়ার এক গৃহবধূ বলেন, শুধু একজন নয়, প্রায় রাতেই নতুন নতুন ছেলেদের বাড়িতে আসতে দেখতাম। ওরা কারো সঙ্গে মিশত না। দামি ব্র্যান্ডেড পোশাক পরা থেকে নিয়মিত পার্লারে যাতায়াত, মৌসুমীর চাল চলনই ছিল অন্যরকম। এদিকে, মেয়ের এই পরিণতি হবে তা যেন জানতেন বাবা-মা। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের শ্যামপুরে তার বাপেরবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তার বাবা মা অনেকটাই স্বাভাবিক। তারা বলেন, মেয়ে আমাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। ও যে অন্যপথে চলে গিয়েছে তা আন্দাজ করেছিলাম।

দ. কোরিয়াকে অত্যন্ত আন্তরিক হিসেবে অভিহিত উ. কোরীয় নেতার

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে অত্যন্ত আন্তরিক হিসেবে অভিহিত করে সিউলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একথা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। শীতকালীন অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে তার বোন ও সরকারের অপর শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশটিতে তাদের ঐতিহাসিক সফর থেকে দেশে ফিরে আসার পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন। উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দল সিউল থেকে পিয়ংইয়ংয়ে ফিরে আসার পর সোমবার তাদের সঙ্গে কিমের বৈঠকের ব্যাপারে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কেসিএনএ জানায়, প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন গ্রহণের পর কিম জং উন সফরটির ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ সফরের ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়া অনেক আন্তরিক ছিল। এতে আরো বলা হয়, এ ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার নেতা সিউলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

বিটকয়েন তৈরির হিড়িকে বিদ্যুৎ সঙ্কট

আইসল্যান্ডে বড় বড় ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে বিটকয়েন খোঁজার যে হিড়িক পড়েছে তাতে দেশটি এখন বিদ্যুৎ সঙ্কটে পড়তে পারে। দেশটির জ্বালানি কোম্পানি এইচএস ওরকা জানিয়েছে, এসব ডাটা সেন্টার চালাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। কোম্পানিটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ বছর আইসল্যান্ডে সব বাড়িতে যত বিদ্যুৎ খরচ হবে, তার চেয়ে হয়তো বেশি বিদ্যুৎ খরচ হবে এসব ডাটা সেন্টারে। তিনি জানান, আরো অনেকে এখন এসব ডাটা সেন্টার স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। সব প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয়, সেগুলো চালানোর মতো বিদ্যুৎ আইসল্যান্ডে থাকবে না। আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা খুব কম, মাত্র তিন লাখ ৪০ হাজার। কিন্তু সম্প্রতি এই দ্বীপে নতুন ডাটা সেন্টার গড়ার হিড়িক পড়েছে। যেসব কোম্পানি এসব ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে তারা দেখাতে চায় যে তারা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করছে। আইসল্যান্ডে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা ১০০ ভাগই আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।
বিটকয়েন মাইনিং
বিটকয়েন মাইনিং বলতে বোঝায় বিশ্বজুড়ে যে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক আছে তার সঙ্গে কম্পিউটারকে যুক্ত করা এবং এই ক্রিপ্টো কারেন্সির যে লেন-দেন হচ্ছে সেগুলো যাচাই করা। যেসব কম্পিউটার এই যাচাইয়ের কাজটি করে, তারা সামান্য পরিমাণে 'বিটকয়েন পুরস্কার' পায় এর প্রতিদানে। কিন্তু কেউ যদি এই কাজটি বিশাল আকারে করতে পারে, সেটি বেশ লাভজনক। কিন্তু আইসল্যান্ডে এখন এই ব্যবসার বিপুল প্রবৃদ্ধি ঘটছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ খরচ। অনুমান করা হচ্ছে, এবছর আইসল্যান্ডে বিটকয়েন মাইনিং অপারেশনের পেছনে প্রায় ৮ শ' ৪০ গিগাওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ খরচ হবে। এর বিপরীতে আইসল্যান্ডের সব বাড়ি মিলে বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে সাতশো গিগাওয়াট ঘন্টা। বিটকয়েন নিয়ে এই পাগলামি যে শীঘ্রি থামবে, তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জ্বালানি কোম্পানি এইচএস ওরকার মুখপাত্র জানান, আইসল্যান্ডে ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে আগ্রহী এরকম লোকজনের কাছ থেকে তারা প্রচুর কল পাচ্ছেন। তিনি বলেন, যে পরিমাণ ডাটা সেন্টার স্থাপনের কথা চলছে, তার সবগুলোতে হয়তো বিদ্যুৎ দেয়াই সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, যদি সব ডাটা সেন্টার সত্যি সত্যি চালু হয়, আইসল্যান্ডে তাদের দেয়ার মতো বিদ্যুৎ আর অবশিষ্ট থাকবে না। আইসল্যান্ডের ক্রিপটো কারেন্সি মাইনিং ব্যবসা এবছর দারুণ চাঙ্গা হয়ে উঠে 'মুনলাইট প্রজেক্ট' নামে একটি বিশাল ডাটা সেন্টার স্থাপন প্রকল্পকে ঘিরে। এ বছরের শেষ নাগাদ এটি চালু হবে। তবে এই শিল্প আইসল্যান্ডের কী কাজে আসবে, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

দুর্দিন শুরু হয়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে

দুর্দিন শুরু হয়েছে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারনির্ভর এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে চরম তহবিল সঙ্কট। আমানত কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে তহবিল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর। এ সঙ্কট মেটাতে বর্তমান বাজারের তুলনায় উচ্চ সুদেও তহবিল জোগাড় করতে পারছে না কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। সামনে এ সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়োশনের (বিএলএফসিএ) নব মনোনীত কর্মকর্তারা গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সাথে সাক্ষাৎ করে এ অনুরোধ জানিয়েছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের নেতৃত্ব দেন বিএলএফসিএ চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: খলিলুর রহমান। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলছে চরম তহবিল সঙ্কট। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের প্রধান উৎস ব্যাংকিং খাতে তহবিল সঙ্কট শুরু হওয়ার পর তাদের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। কিছুদিন আগেও ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল বিনিয়োগ করতে না পারায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ধরনা দিত। বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলোর তহবিল উদ্বৃত্ত ছিল। তখন ব্যাংকগুলো লোকসান কমাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধার দিত। তাতে সুদ হার কমে তলানিতে নেমে যায়।
যেখানে কলমানি মার্কেট থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে ধার নেয়া যেত, তখন কোনো কোনো ব্যাংকের পীড়াপীড়িতে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে তহবিল সংগ্রহ করা হতো ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে। অনেক সময় কম সুদের আমানত নিয়ে বেশি সুদের আমানত পরিশোধ করত। কিন্তু এখন হচ্ছে এর উল্টো। ব্যাংকিং খাতে আমানত কমায় অনেক ব্যাংকেরই এখন তহবিল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রাখা তহবিল প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদেও আমানত পাচ্ছে না। বেশি সুদ দিয়ে এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের ভাগিয়ে নিচ্ছে। বছর খানেক আগেও যেখানে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করা যেত, এখন কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ সুদে আমানত নিচ্ছে। আমানত সংগ্রহে অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে তা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। এ বিষয়টিকেই গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার কমতে কমতে গত সেপ্টম্বরের ৪ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে গেছে। ওই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬৫ দশমিক ১২ শতাংশ। শুধু মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে প্রকৃত আমানতের সুদহার ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে সরকার সাড়ে ১১ শতাংশ সুদে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ নিচ্ছে জনগণের কাছ থেকে। ব্যাংকের আমানতের সুদহার তলানিতে নেমে যাওয়ায় আমনতকারীরা ব্যাংকে অর্থ রাখতে নিরুৎসাহিত হয়ে অধিক মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করছে সঞ্চয়পত্রে। কেউ কেউ আবার সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি অধিক মুনাফার জন্য পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, আগস্টে ব্যাংকব্যবস্থায় আমানতের প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। সামনে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নানামুখী সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপরীতক্রমে ঋণের প্রবৃদ্ধি দিন দিন বেড়ে চলছে। অক্টোবরে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১৯ শতাংশের কাছাকাছি চলে গেছে, যেখানে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। প্রচলিত ধারা অনুযায়ী আমানতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কথা থাকলেও এটা হচ্ছে উল্টো, যা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। কারণ, নিয়মানুযায়ী যে পরিমাণ ঋণ দেয়া হচ্ছে, তা উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না। ঋণের অর্থ হয় হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে, না হয় গ্রাহক ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধ করছে। অর্থাৎ সঠিক কাজে ঋণের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে না। ঋণ সঠিক কাজে ব্যবহার না হওয়ায় আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। আর আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে, তারল্য কমে যাচ্ছে। বছরের শুরুতেও যেখানে উদ্বৃত্ত তারল্য প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ছিল, বছরের শেষ সময়ে এসে তা ৭০ হাজার কোটি টাকায় নেমে গেছে, যার বেশির ভাগই সরকারের কোষাগারে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য আটকে গেছে। ইতোমধ্যে টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। গত বুধবার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, সুদহার তার কাছে এখন মুখ্য বিষয় নয়, তার দরকার নগদ টাকা। প্রয়োজন মেটাতে তিনি ১৫-১৬ শতাংশ হারেও তহবিল সংগ্রহ করতে রাজি আছেন। একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জোর করে টাকা রাখা হতো, এখন তারই টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিরা গতকাল তহবিল সঙ্কট মেটাতে গভর্নরের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা বিকল্প হিসেবে কর রেয়াত সুবিধায় বন্ড ছাড়ার অনুমোতি চেয়েছেন। পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় গৃহায়ণ তহবিল আবার চালু করার বিষয়ে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৯ শতাংশ সুদে ফ্যাট কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছিল।