Thursday, October 30, 2014
মা আয়েশার ছবি, কাপড় বুকে নিয়ে মেয়ের কান্না- গ্রেপ্তার হয়নি ছিনতাইকারীরা
রাইসার মামা রায়হানজাদা বলেন, রাইসা মঙ্গলবার রাতে মায়ের জন্য বারবার ঘুমের ঘোরে ডুকরে কেঁদেছে। ঘুম থেকে জেগে সকাল থেকে সে মায়ের ছবি ও কাপড়-চোপড় বুকে নিয়ে কাঁদছে। তাকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে মায়ের কবরের ওপর পড়ে বিলাপ করে বলেছে, ‘আম্মু, তুমি আমাকে একটু আদর করো, তুমি কি আর আমাকে আদর করবে না।’
রায়হানজাদা জানান, এ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে যায়। রাইসাকে বিকেলেও কবরস্থানে নেওয়া হয়। তখনো সে কেঁদেছে। তিনি বলেন, ‘আয়েশাকে ফিরে পাব না। তবে তাঁকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন আমরা দেখতে পাই।’
স্বজনেরা জানান, রাইসা মোহাম্মদপুরের প্রমিটাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার ওই স্কুলে আয়েশা আক্তারের জন্য দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। ধানমন্ডি থানার পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে রায়হানজাদা অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়, ২৪ অক্টোবর আয়েশা বান্দরবানে বেড়াতে যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে শ্যামলী পরিবহনে পান্থপথে নামেন। এরপর লালমাটিয়ার বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মারা যান। ছিনতাইকারীরা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে দুটি মুঠোফোন, একাধিক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ছিল। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে থানার একাধিক দল চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার সকালে সোবহানবাগ জামে মসজিদের সামনে মাইক্রোবাসে থাকা এক দুর্বৃত্ত রিকশায় থাকা আয়েশার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। ব্যাগ ধরে থাকা আয়েশাকে মাইক্রোবাসটি টেনেহিঁচড়ে অন্তত ১০০ গজ নিয়ে যায়, রাপা প্লাজার কাছে তিনি নিস্তেজ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান, ব্যাগ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরও কিছু দিবস চাই by সাহস রতন
এই যে বছরব্যাপী এত এত দিবস- এর মাজেজাটা কি? আসলে এসব দিবসে আমরা বিষয় ভিত্তিক ভাবনায় লিপ্ত হই। নানারকম অনুষ্ঠান আয়োজন করি, আলোচনা করি। আলোচনা শেষে চেক নিয়ে বিদায় হই। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্যই এ সব দিবস আমাদের ওপর নাজিল করা হয়েছে। কিন্তু কোন দিন ‘দিবস’ হবে, কোন দিন হবে না- এটা ঠিক না। সব কিছুতে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। কাজেই দিবসবিহীন দিনগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করে আমরা বছরের সব দিনকে সমান গুরুত্ব দিতে পারি। বছরের সব দিনই আমাদের কাছে সমান। সে জন্যই আমি ভাবছি, বিদ্যমান দিবসগুলোর সঙ্গে আরও কিছু দিবস আমাদের থাকা উচিত। যেমন- ঋণখেলাপি দিবস, ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ দিবস, পল্টিবাজ দিবস, কালো বিড়াল দিবস, বাবা-ছাত্র দিবস, হলুদ সাংবাদিকতা দিবস, চামচা দিবস- এ রকম আর কি। পল্টিবাজ দিবসে রাজনৈতিক পল্টিবাজ সমিতির নেতারা কি বলেন সেটা আমরা জানবো। ঋণখেলাপি দিবসে ব্যাঙ্কখোর ভাইদের কাছ থেকে আমরা শিখবো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে কিভাবে তা মেরে দেয়া যায়। আর একটা কথা। নারী অধিকার, শিশুকন্যা, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবস আছে। সবই তো দেখি স্ত্রী জাতীর জন্য বরাদ্দ। তাহলে পুংজাতির কি হবে? এই বৈষম্য মানা যায় না। আন্তর্জাতিক না হোক, অন্তত দেশীয় পর্যায়ে শিশুপুত্র এবং পুরুষ অধিকার দিবসও থাকতে হবে। আর সব শেষে একটা থাকবে ভি.ভি.আই দিবস। ভেরি ভেরি ইম্পরটেন্ট দিবস। কানপট্টি দিবস। এই দিবসে সো কলড ম্যাংগো পিপলকে শেখানো হবে দুর্নীতিবাজ, চোর-বাটপারদেরকে কিভাবে সাইজ করতে হয়। মাননীয় মহাশয়, দ্রুত এ সব দিবস আমাদেরকে দান করুন। অপেক্ষা আর সইতে পারছি না। বিলম্বে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছি।
ঢাকা, ২৯শে অক্টোবর ২০১৪
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফারুকীর ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ও সমাজ-বাস্তবতা by ড. মাহফুজ পারভেজ
প্রসঙ্গত বলা ভাল, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মতো শক্তিশালী একটি বিষয়, যার মধ্যে টিভি, সিনেমা, ওয়েবসাইটসহ বর্তমানকালের যোগাযোগ মাধ্যমের প্রায়-সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত, সেখানেও সামাজিক প্রসঙ্গ এবং প্রপঞ্চ গুরুত্বের সঙ্গে, কৃতিত্বের সঙ্গে, নান্দনিক শৈলীর সঙ্গে স্থান পায়নি বা পাচ্ছে না। আশির দশকে যে পশ্চিমবঙ্গ পাগলের মতো বাংলাদেশের নাটক দেখতো, এখন সে পশ্চিমবঙ্গের নাটকগুলো বাংলাদেশ দেখতে উন্মাদের মতো। সন্ধ্যায় কলকাতার সিরিয়াল চালু হলে কাউকেই আর পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই টিভি’র সামনে বুঁদ! যেমনটি হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ ইত্যাদির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এমন কি, বিটিভি’র ‘গল্প থেকে নাটক’, ‘বিদেশী গল্পের নাটক’ কিংবা সাপ্তাহিক নাটকেও আতিকুল হক চৌধুরী, মমতাজ উদ্দীন আহমদ, সেলিম আল দীন, আবদল্ল্লাহ আল মামুন, মামুনুর রশীদ যে কৃতিত্ব ও সফলতা দেখিয়েছেন, আজকে সেটাও বিরল। বাংলাদেশের অসংখ্য চ্যানেলে কি নাটক দেখাচ্ছে, সেটা গ্রাহ্যও করছে না দর্শকরা। কোন কোন চ্যানেলওয়ালারাও একচ্ছত্রতার-মনোপলি-দাপটে ‘আমার যা ইচ্ছা, তা-ই দেখাবো’-মার্কা উন্নাসিকতায় আজেবাজে নাটক দেখিয়ে সংস্কৃতির মান এবং দর্শক রুচির বারোটা বাজাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রদর্শনী-যোগ্যতা হিসেবে নাট্য-গুণের বদলে রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন, যৌন সুবিধার মতো অভিযোগও উত্থাপিত হয়। ফলে সমাজ-বাস্তবতা, প্রজন্মের পরিবর্তন, সংস্কৃতি ও জীবন-যাপনের নানা অদল-বদলের ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছোট বা বড় পর্দায় আসছে না। আসছে অতি স্থ্থল, সস্তা, ভাঁড়ামিপূর্ণ বিষয়-আশয়। যেখানে শেখার বদলে বিকৃত হওয়ার সুযোগই দর্শকের সামনে বেশি থাকছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এখন অনেকেই খবর আর গুরুত্বপূর্ণ টক শো-আলোচনা ছাড়া এখানকার চ্যানেলগুলোর অন্য কোন অনুষ্ঠান বিশেষ-একটা দেখেন না। মিডিয়া ও যোগাযোগ নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা হয়তো এ বিষয়ে গবেষণা করে আরো অনেক তথ্য-উপাত্ত দিতে পারবেন। এবং এটা করাও দরকার। কারণ, অসংখ্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোই যেমন উন্নত ও মানসম্পন্ন নয় এবং অনেকগুলোই ‘সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান’, তেমনি সকল চ্যানেলই সংস্কৃতির মানোন্নয়ন ও বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে, সেটা মনে করার কোন কারণ নেই! সামাজিক শিক্ষা, উন্নত মানসিকতা, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের ক্ষয় ও দাগ দেখিয়ে সেটাকে দূর করার কাজ সব মিডিয়া করছে না। করতে পারছেনও না। পারবেও না। কেননা, এজন্য গণতান্ত্রিক সুশাসন, আইনের নৈর্ব্যক্তিক প্রয়োগ, বহুত্ববাদ, পরমতসহিষ্ণুতার প্রতিষ্ঠা করা দরকার হবে; রাজনৈতিক হিংসা ও বলপ্রয়োগের অবসান ঘটাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মন্ত্রী, পুলিশ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক প্রভৃতি ব্যক্তি ও পেশার দুর্নীতি, অন্যান্য নিয়ে লেখালেখির মতোই নাটক-সিনেমা তৈরি হয় এবং সেগুলো ব্যাপক জয়প্রিয়তাও লাভ করে। আমাদের দেশে এমনটি করা কি সম্ভব হবে? হবে না। রাজনৈতিক ইস্যু বাদ দিলেও সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ইস্যুতে নানা সমস্যার বিরুদ্ধে লেখা বা ছবি করাও এখানে দুরূহ। তারপরেও ফারুকী ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ছবিতে ব্যক্তি ও সমাজের কিছু কঠিন সমস্যা ও বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন- সেটাই কয় জন পারে?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবু তোরাব, সিধুলী কাঁদছে কান্নার মিছিলে ক্যাথরিনরাও by কাজল ঘোষ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষোভে উত্তাল বুরকিনা ফাসো, পার্লামেন্টে আগুন

বিবিসির অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ব্লেইস কমপাওরে। ১৯৮৭ সালে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রথম ক্ষমতায় আসেন তিনি। এরপর চারটি বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। আগামী বছর দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগ পর্যন্ত এক বছরের জন্য কমপাওরের মেয়াদ বাড়াতে পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা চলছে। এ খবর ক্ষুব্ধ করে তুলেছে দেশটির সাধারণ মানুষকে। এর প্রতিবাদে আজ পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে।
এদিকে পার্লামেন্টে আগুন লাগানো লোকজনকে লক্ষ্য করে সেনা সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হেলিকপ্টার থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতা এমিল পারগুই পেয়ার বলেন, ‘আরব বসন্তের মতো ৩০ অক্টোবর হলেঅ বুরকিনা ফাসোর ‘কালো বসন্ত’।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে উঠবস করা উচিত: মতিয়া
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংক আমাদের পরামর্শ দেয় কৃষিতে ভতুর্কি কমাও। আরে কোথায় আমরা ভতুর্কি দেব, সেটা কী তোমারে জিগাব। বিশ্বব্যাংকের কান ধরে উঠবস করা উচিত। আমরা যখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি, তখন বিশ্বব্যাংক বলছে আমরাও আসতে পারি। তবে দুর্নীতির তদন্তও আলাদাভাবে চলবে। তাদের লাগবে না। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা যা বলে, তা করে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন, আইপিইউ, সিপিএ বোগাস। এগুলোর নাম নাকি কেউ কখনো শোনে নাই। আরে আপনি পড়েন কখন? আপনার সাজতে সাজতে আর চুল ফুলাইতেই তো দিন চইল্যা যায়।’
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ‘পোষা ময়না’ বলে অভিহিত করেন মতিয়া। তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে আইএসআইয়ের দেওয়া বুলি বললে কেউ আপনাদের ক্ষমতায় আনতে পারবে না। ক্ষমতায় আসতে হলে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে হয়।’
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সহসভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আলম, অর্থ সম্পাদক নাজির মিয়া প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডনে সেমিনার- বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে by তাহসির মাহমুদ
সোমবার হাউজ অব লর্ডসে ব্রিটিশ লর্ড আহমদের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ইউকের চেয়ারপারসন আতা উল্যাহ ফারুকের সঞ্চালনায় সেমিনারে হাউজ অব লর্ডের লর্ডস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হন তখন আমিসহ ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যরা তাকে দেশে প্রবেশে সহযোগিতা করেছি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। কিন্তু মর্মান্তিক বিষয় সেই শেখ হাসিনা এখন গণতন্ত্র ধ্বংস করে যাচ্ছেন।
ভিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর কার্লস লাইগু বাংলাদেশের সরকারকে উদার হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরা গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
এমপি জন হ্যামিং বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছেÑ যেটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য সুখকর নয়। মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য যত দ্রুত সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দেয়া জরুরি। আর তা না হলে বাংলাদেশ ক্ষতির দিকে এগিয়ে যাবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দণি এশিয়ার প্রধান আব্বাস ফায়েজ বলেন, হিউমান রাইটসকে সম্মান করা যথেষ্ট নয়, এটাকে রক্ষা করাই হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশে গুম, হত্যা, ক্রসফায়ার, রাজনৈতিক হয়রানি বেড়েই চলেছে, যা বাংলাদেশকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলছে বিশ্ব রাজনীতিতে। মিড়িয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে বলা বা লেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী এমপি সাইমন ডানসাক বলেন, বাংলাদেশ দণি এশিয়ার একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। স্বাধীন হওয়ার ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে এখনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি। সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থার অভাবে পরিস্থতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো মনে করে অতি দ্রুত সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশে খুবই জরুরি। সরকারের আন্তরিকতার অভাবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যকে দোষারোপ করছে। ক্রসফায়ারের কারণে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে- যেটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য সুখকর নয়। তিনি আরো বলেন, ডেভিড ক্যামরুনের সাথে শেখ হাসিনার সাক্ষাতে আমরা বিব্রত। যার সরকারের ১৫৩টি এমপি জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত এবং বাকি ১৪৭টি কোথাও কোথাও কোনো ভোটার উপস্থিত হয়নি। সেই নির্বাচন কিভাবে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্ব গ্রহণ করবে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জন হ্যামিং এমপি, জিম ফিট প্রেট্রিক এমপি, ভিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্লস লাইগু, বিএনপির সিনিয়র ভাইসচেয়ার তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক উপদেষ্টা ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহাদী আমিন, আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান, বাথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. পলাশ কামরুজ্জামান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, আইনজীবী, ও সাংবাদিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সান্ত্বনার জায়গা ‘আদালত-এ-আখেরাত’ by মাসুদ মজুমদার
প্রফেসর রাজিয়া আক্তার বানু বিদেশে পিএইচডি করেছেন ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক ভাবনার ওপর। খ্যাতিমান এই রাষ্ট্রচিন্তক ছিলেন দেশের মনীষীতুল্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামানের সহধর্মিণী। ক’বছর আগে মারা গেলেন। একই সময়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। অবশ্য দু’জন দুই বিভাগে। তবে জানাশোনা ছিল। একবার দুঃখ করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক চরিত্রগুলোর মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযম সবচেয়ে বেশি মিস আন্ডারস্টুড। তার ভক্তরা তাকে শ্রদ্ধা করেন অতুলনীয়ভাবে। ভালোবাসেন অখণ্ড হৃদয় উজাড় করে। তাদের কারো কারো ধারণা, তিনি রাজনৈতিকভাবে কিংবা ঠাণ্ডা মাথায় কোনো ভুল করতে পারেন না। তা ছাড়া ভুল করে ভুল করলেও জেনেবুঝে ঠাণ্ডা মাথায় ভুল করা ও পাপকাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আবার যারা তাকে অপছন্দ করেন কিংবা ঘৃণা করে দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখতে চান, তারা ভাবেন তিনি সিম্বল অব কলাবরেটর। দালালদের শিরোমণি। তিনি যেন একাত্তরের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার সব পাপ হজম করে নীলকণ্ঠি হয়ে গেছেন। তাকে মূল্যায়ন করার জন্য মাঝখানে যেন কোনো জায়গা নেই। অথচ কোনো মানুষই ভুলত্রুটি ও ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নন।
আমরা পেশাদার সাংবাদিক। দুই পিঠ দেখা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্য। তা ছাড়া মানুষকে শুধু দোষী ভেবে অগ্রসর হলে পুলিশি উপসংহার মিলবে। পৃথিবীতে কোনো ভালো মানুষের সন্ধান মিলবে না। তাতে শুধু অপরাধ দেখা যাবে। অন্য দিকে নির্দোষ ধরে এগোলে ম্যাজিস্ট্রেসি উপসংহারে পৌঁছা যাবে। সাক্ষী-সাবুদে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিচার করাও সহজ হবে। দোষেগুণে মানুষ অধ্যাপক আযম দেশের একজন নন্দিত, একই সাথে তীব্র ও নিষ্ঠুর ভাষায় আক্রান্ত এবং সমালোচিত রাজনৈতিক নেতা। একাত্তরের কলঙ্কতিলক পুরোটাই যেন তার একক ললাটের লিখন। আবার একাত্তর-পূর্ব জীবনে তিনি একজন বর্ণাঢ্য অসাধারণ রাজনৈতিক চরিত্রের মানুষ। ভাষা আন্দোলনের সংগঠকদের একজন। ডাকসুর জিএস হিসেবে ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা ক্যাটালিস্টের মতো। ব্যক্তিজীবনে অধ্যাপনা করলেও প্রথমে তমদ্দুন মজলিস, পরে তাবলিগ জামাতকে পছন্দ করে কাজ করেছেন। শেষে জড়িয়ে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর সাথে।
আমরা যারা সত্তরের দশকের শুরু থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি নিয়েছি, তারা ষাটের দশকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও বটে। ডান-বাম সবাই জানতাম, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনের কাতারের যেসব চেনা মানুষ ছিলেন অধ্যাপক আযম তাদের মধ্যে অন্যতম। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ডাক-পিডিএমসহ সব গণতান্ত্রিক মোর্চায় তার উপস্থিতি ছিল দৃষ্টিগ্রাহ্য। সে সময় জামায়াত দল হিসেবে এতটা আলোচিত ছিল না, সমালোচিতও ছিল না। অধ্যাপক আযম যেন জামায়াত গণ্ডির ঊর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য ঐক্যপ্রয়াসী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। কওমি ধারার অনেক আলেম মাওলানা মওদূদীর কিছু লেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, কিন্তু অধ্যাপক আযমের আমল-আখলাখ এবং শিষ্টাচারকে সব শ্রেণীর আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ সমীহ করতেন। একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আমাকে বলেছিলেনÑ এই লোকটাকে আগে সালাম দেয়া যায় না। আমরা বাম ধারার ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত থেকেও শুনেছি, দেশের বরেণ্য ও সুশীল রাজনীতিবিদদের মধ্যে অধ্যাপক আযম সব সময় আলোচনায় থাকতেন। এ ব্যাপারে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদেরও সুনাম ছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছিলেন তিনি। আরো অনেকের সাথে তাকেও পাকিস্তান সমর্থনের জন্য এই দায় নিতে হয়েছে। অধ্যাপক আযম নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যত অভিযোগ তোলা হয়েছে, সবগুলো নাগরিকত্ব বিষয়ক মামলায় তোলা হয়েছিল। তার আইনজীবী খ্যাতিমান ব্যারিস্টার ইউসুফ সব খণ্ডন করে তার জন্মগত অধিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করে বিজয়ী হয়েছেন। সেই সময়কার বিচারকেরা স্কাইপ, রায় ফাঁস ও মুসাবিদা করা রায়ের জন্য অভিযুক্ত ও সমালোচিত হননি। তারা বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত হিসেবেও পরিচিত হতেন না। অভিযোগ ওঠেনি বিহারি বা উর্দুভাষী কসাই কাদেরকে কাদের মোল্লা, দেলু সিকদারকে তথা দেইল্যা রাজাকারকে দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী সাজানোর। বৈরী সাক্ষী সুখ রঞ্জন বালি নিখোঁজের মতো ঘটনাও শোনা যায়নি।
আমরা সবাই যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়েছি। এখনো চাচ্ছি। কিন্তু সেই বিচার পাইনি। দুর্ভাগ্য, ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে জামাই আদরে ত্রিদেশীয় চুক্তিবলে ছেড়ে দেয়া হলো। অথচ মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করে তাদের রাজনৈতিক সহযোগীদের বিচার শুরু করা হলো। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধেরও বিচার চাই। হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো জঘন্য পাপের সাথে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত। যারা ইসলাম মানেনÑ তাদের আরো বেশি জোরগলায় এসব অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিচার চাওয়া উচিত। তবে বেনিফিট অব ডাউট এবং হাজার অপরাধী ক্ষমা পেয়ে গেলেও একজন নিরপরাধ মানুষ যাতে শাস্তি নামের জুলুমের শিকার না হন, সেই নিশ্চয়তা অভিযুক্তকে পেতেই হবে। এখন রাজনৈতিক জিঘাংসার অভিযোগ উঠল, আইনটি দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হলো। বিচারপ্রক্রিয়ার মাঝপথে আইন সংশোধন করা হলো। তাতে রায়গুলোও বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা সম্ভব হলো না। পুরো বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে। রায় দেয়া, শাস্তি বাড়ানো এবং রায় ঝুলিয়ে রাখা নিয়ে পুরো জাতি বিরক্ত ও সন্দেহপ্রবণ হতে বাধ্য।
একাত্তরে জামায়াত যে রাজনৈতিক ভুল করেছে, সেটা প্রমাণিত। কোনো যুক্তিতেই তার সাফাই গাওয়া যায় না। এই ভুল ভুলই। সম্ভবত জামায়াতও তা মেনে নিয়েছে। নয়তো ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশনকে সাহায্য করে এত দূর এগোত না। তারাও বিচার চেয়েছে। না চাইলে আইনের আশ্রয়ে যেত না। আপিলের দ্বারস্থ হতো না।
মানুষ কখনো ষোলোআনা বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। তা ছাড়া মানুষের আদালত প্রভাবিত হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে। শাসকের ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করে। তাই সবার সান্ত্বনার একমাত্র জায়গা ‘আদালতে-এ-আখেরাত’। তা ছাড়া মৃত্যু সমতা এনে দেয়, এই সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অধ্যাপক গোলাম আযম এখন আর কোনো জীবন্ত ইস্যু নন। ইতিহাস তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটা সময় জানিয়ে দেবে। বিজয়ীর ইতিহাস লেখা ও শাসকের মর্জিমতো বিচার ইতিহাস কখনো মেনে নেয় না। করলে ুদিরাম, প্রীতিলতা, সূর্যসেন, হাবিলদার রজব আলী, তিতুমীরÑ সবার নাম উঠত সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদীর তালিকায়। অথচ তাদেরকে আমরা স্মরণ করি, বরণ করি দেশপ্রেমের মানদণ্ডে। তাদের কৃত ‘অপরাধের’ মানদণ্ডে নয়।
চেয়ারম্যান মাও বলতেন, বিপ্লব ধ্বংস নয়, সৃষ্টির প্রসববেদনা। সব যুগেই বিপ্লবী ও স্বাধীনতাকামীরা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে কিছু বাড়াবাড়ি করেছেন। সেটা বিজয়ীর খাতায় দেশপ্রেম, পরাজিতের খাতায় অপরাধ। এ জন্যই একটা সময় অতিক্রম করে ইতিহাস থিতু না হলে কোনো মূল্যায়নই যুক্তির কষ্টিপাথরে টিকে যায় না। আজকের সময়টাও নিরপেক্ষ ইতিহাস চর্চার জন্য যুৎসই নয়। তাই অতি ঘৃণা ও অতি আবেগাশ্রয়ী শ্রদ্ধার একটা মিশ্রিত অবয়ব নিয়ে কে খলনায়ক, কে প্রকৃত নায়ক সেটা এই মুহূর্তে জাতির সামনে উঠে আসবে না। কে জীবন্ত কিংবদন্তি হবেন, কে হবেন গাদ্দার তাও সময়ের হাতে ছেড়ে দিতে হবে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, আরব জাহানজুড়ে অধ্যাপক আযমকে ভাবা হচ্ছে ‘ওস্তাদ’। ইউরোপ-আমেরিকায় তার ইমেজটা ‘রাজনৈতিক দার্শনিকের’ মতো। স্বদেশে ভক্তদের কাছে তিনি ‘প্রফেসর সাহেব’, তবে তিনি কথিত ধর্মীয় নেতা ছিলেন না। স্মরণে পড়ে একবার মাওলানা আলাউদ্দীন আল আজহারীর বাসায় গিয়েছিলাম। এই আলেমে দ্বীন ছিলেন সর্বজন গ্রহণযোগ্য আরবি ভাষার পণ্ডিত। অধ্যাপক আযমের ভগ্নিপতি হলেও দলীয় রাজনীতিতে তার কোনো সংশ্রব ছিল না।
ব্যক্তিগত পরিচয় ছাড়াও আজহারীর সাথে জানাশোনা ছিল। অধ্যাপক আযমের লাগোয়া বাসায় থাকতেন। নামাজ পড়তেন একই মসজিদে। একবার তার সাথে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গিয়ে দেখি শ্বেতশুভ্র শ্মশ্রুমণ্ডিত ব্যক্তিত্বের আভায় ঠিকরে পড়া অধ্যাপক আযম মসজিদে ঢুকলেন। তাকে দেখে পেশ ইমাম সশ্রদ্ধচিত্তে নামাজের ইমামের জায়গায় এগিয়ে দিলেন। যথারীতি নামাজ পড়িয়ে নীরবে চলে গেলেন। তার সাথে বেশ ক’জন প্রবাসী দেখা করার জন্য তখন অপেক্ষা করছিলেন তার মসজিদ লাগোয়া অফিসে। মসজিদের সামনে দাঁড়ানো দেখলাম পাঁচ-ছয়জন মহিলা। সবার হাতে গ্লাসভর্তি পানি। জানলাম তারা পানিপড়া নিতে এসেছেন ইমাম সাহেবের কাছে। কারণ, সবাই জানতেন তিনিই ধর্মীয় নেতা। আর অধ্যাপক আযম ভিন্ন ধরনের নেতা। তাবিজ-কবজ ও পানিপড়া দেয়ার মর্জি ও ফিতরাত সম্ভবত কোনোটাই তার ছিল না। অধ্যাপক আযম স্মৃতিকথা লিখেছেন, তার প্রকাশনার সংখ্যাও কম নয়। তার লেখাজোখা নিয়ে কখনো কোনো বিতর্ক শুনিনি। তার স্মৃতিকথা প্রতিপক্ষও অবস্তুনিষ্ঠ বলে না।
আজ বারবার মনে পড়ছে, আমরা যদি একজন ম্যান্ডেলা পেতাম তাহলে একটা বিভক্ত জাতিকে এক করে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম। কারা যেন আমাদের কোনো মত ও ধারারই জাতীয় নেতাদের ম্যান্ডেলার মতো হতে দেয় না। তাই বিভেদ ভুলে সাদা-কালো একাকার হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গড়ার মতো সুযোগও সৃষ্টি হয় না। নতুন প্রজন্মকে আমরা বুঝতে চাই না। এরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে চান। দুর্ভাগ্য, তাদের জন্য আমরা সঠিক ইতিহাস চর্চার সুযোগ রাখিনি। এখনো স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক চলে, শহীদ সংখ্যা নিয়ে এন্তার প্রশ্ন। এ কে খন্দকাররা পাকিস্তানি চর হয়ে যান। জিয়া, জলিলসহ অনেকেরই অবদান অবজ্ঞার চোখে দেখতে বাধ্য করা হয়। অথচ তাদের সামনে একটা নির্মোহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরলে এমনটি হতো না। এখন একটা মিথ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই যেন আমাদের মূল কাজ। তাই মওসুমি শাহবাগ জাগে, কিন্তু টিকে থাকে না। এ দেশে জাতীয় নেতাদেরও আমরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে ঔদার্যের ভরসা জোগাতে পারি না। এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিন্তানি চর ভাবা হয় অথচ প্রজাতন্ত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। মৃত্যু মানুষের অবস্থান সমতল করে দিলেও আমরা মাটি খুঁড়ে বিভেদের কীটগুলো তুলে আনি। সম্ভবত শাসন, শোষণ ও আগ্রাসনের জন্য এখনো ‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতির ভেতরই আমাদের আজন্ম বসবাস। আমাদের জীবিত ও মৃত কোনো নেতাই যেন এই বিতর্কের বেষ্টনী অতিক্রম করতে না পারেনÑ সেটাই যেন আমাদের দেশপ্রেমের সবক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিশ্বাসী মন সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য শেষ বিচার তথা আরশের প্রভুর ফায়সালার জন্য অপেক্ষা না করে কোনো উপায় নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফাসি by শফিক রেহমান
এক. লেখা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া এবং দুই. হাওয়াইয়ান স্টাইলে হাওইয়ান গিটার বাজানো শেখা।
৮ নভেম্বর ১৯৫৭-তে ঢাকা ছেড়ে করাচি পৌছাই পিআইএ-র সুপার কনস্টেলেশন প্লেনে। সেই সময়ে ঢাকা ছিল ডমেস্টিক এয়ারপোর্ট। করাচি ছিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং সেখানেই হতো কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকিং। ১০ নভেম্বর করাচি ছেড়ে বৃটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজ (বিওএসি নামে পরিচিত)-এর বৃস্টল ব্রাবাজন টারবো প্রপ প্লেনে জুরিখ হয়ে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পৌছাই প্যারিসে। ওরলি এয়ারপোর্টে। আমার দুই প্রিয় বন্ধু, ফারুক চৌধুরী ও আবদুল বারি আমাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলেন। তারা তখন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখছিলেন।
সেখানে চার দিন থেকে ১৫ নভেম্বর ১৯৫৭-র সন্ধ্যায় পৌছাই লন্ডনে হিথরো এয়ারপোর্টে। তখন আমার পিতা সাইদুর রহমান একটি স্কলারশিপে ছিলেন লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে। তারপর একটানা দশ বছরেরও বেশি ছিলাম লন্ডনে এবং দুটি লক্ষ্যই অর্জনে সফল হয়েছিলাম।
প্রথম লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে আমি লেখালেখি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে স্বাধীনভাবে আমার মত প্রকাশ করতে পেরেছি এবং মৃত্যুদণ্ডে অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এই চরম অসভ্যতার বিরুদ্ধে লিখতে পারছি। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুবাদে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান শুনতে এবং গিটারে সেই সুর তুলতে পেরেছিলাম।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান?
এ রকম কঠিন বিষয়ে গান?
হ্যা।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে দুটি গান এক সময়ে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
১৯৫৮-তে ইংল্যান্ডে হিট হয় টম ডুলি (Tom Dooley) গানটি। প্রথমে আটলান্টিকের অপর পারে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এই গানটি জনপ্রিয় করেন। তারপর ইংল্যান্ডে লনি ডোনেগান গানটি জনপ্রিয় করেন।
এই গানটির আট বছর পরে ১৯৬৬-তে লন্ডনে টম জোনস (Tom Jones) জনপ্রিয় করেন গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home) গানটি।
এই দুটি গানের জনপ্রিয়তা বৃটেনে মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে জনমত গঠনে খুব সহায়ক হয়েছিল। বিশেষত টম ডুলি গানটি। কারণ, ধারণা করা হয় টম ডুলি ছিলেন নিরপরাধ এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচারে তার ফাসি হয়েছিল।
ঘটনাটি জেনে নিন।
টম ডুলির ট্র্যাজিক ত্রিভুজ প্রেম
টম ডুলি-র জন্মগত নাম ছিল টমাস সি ডুলা (Thomas C Dula)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালেচিয়ান পাহাড়ি এলাকায় উইলক্সবরোতে একটি গরিব পরিবারে টম ডুলির জন্ম হয়েছিল ২২ জুন ১৮৪৬-এ। স্থানীয় উচ্চারণে ডুলাকে বলা হতো ডুলি। তাই তিনি পরিচিত হন টম ডুলি নামে।
তিন ভাইয়ের মধ্যে টম ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তার ছোট ছিলেন এলিজা নামে এক বোন। শৈশবে স্কুলে টমের পরিচয় হয়েছিল এলিজার বান্ধবী অ্যান এবং অ্যানের দুই কাজিন সিস্টার লরা ও পলিনের সঙ্গে।
শৈশব পেরিয়ে যৌবনে ঢোকার মুহূর্তে টম আর অ্যানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অ্যানের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ তখন তার মা একদিন অ্যানকে আবিষ্কার করেন টমের সঙ্গে একই বিছানায়। টম ঘটনাটা কোনো রকমে সামলে নেন।
মায়ের কাছে ধরা পড়ার পর অ্যান বাধ্য হয়েছিলেন টমকে এড়িয়ে চলতে। তাদের দুজনের প্রতিবেশী ছিলেন একজন বয়স্ক কিন্তু ধনী কৃষক ও মুচি জেমস মেলটন। অ্যানের মা চেয়েছিলেন জেমসের সঙ্গে অ্যানের বিয়ে হোক। তাই হয়েছিল।
আমেরিকায় তখন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১ Ñ ১৮৬৫) শুরু হতে যাচ্ছিল। অ্যান আর জেমসের বিয়ে হয়ে যায়। তারপর কনফেডারেট আর্মির পক্ষে যোগ দিয়ে জেমস চলে যান যুদ্ধে। কনফেডারেট আর্মি দাসত্ব প্রথার বিরুদ্ধে লড়ছিল। গৃহযুদ্ধে তারা বিজয়ী হয়েছিল এবং আমেরিকাতে দাসত্ব প্রথা নিষিদ্ধ হয়েছিল।
টমও আমেরিকান গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে চান। কিন্তু বয়স কম থাকায় তার আবেদনপত্র নাকচ হয়ে যায়। তারপরও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৫ মার্চ ১৮৬২-তে তিনি তখন কনফেডারেট আর্মিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান তখন তার বয়স আঠার হতে তিন মাস বাকি ছিল।
জেমস ও টম উভয়ে ব্যাটল অফ গেটিসবার্গ-এ অংশ নেন। তারা দুজনই বন্দি হয়েছিলেন।
অল্প বয়স থেকেই টম কয়েকটি বিষয়ে ছিলেন ব্যতিক্রমী।
খুব গরিব পরিবারে জন্ম এবং একটি অখ্যাত স্কুলে পড়াশোনা করলেও তার সাক্ষরতা ছিল অসাধারণ। সেই বয়সেই তিনি ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী আত্মজীবনী লিখে ফেলেছিলেন। তিনি বাশি ও ড্রাম বাজাতে পারতেন। এসব গুণের জন্য টম অল্প বয়স থেকেই হয়েছিলেন লেডিজম্যান Ñ নারীদের প্রিয়পাত্র। নারীরা তাকে কাছে পেতে চাইত।
গৃহযুদ্ধের সময়ে সেনাবাহিনীতে তিনি তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কর্নেল ভান্স-এর মন জয় করেছিলেন এবং সহযোদ্ধাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। কারণ টমের ছিল সাহস। যুদ্ধের সময় একাধিকবার তিনি আহত হয়েছিলেন। তার ভাইরা যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শেষে টম ও জেমস দুজনই বাড়ি ফিরে আসেন। যদিও তখন অ্যান ছিলেন জেমসের স্ত্রী তবু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টম তার সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের নবায়ন করলেন। অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হলেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকলেন না। অ্যানের কাজিন সিস্টার লরা ফস্টারের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুললেন।
কয়েক মাস পরে লরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। টম ও লরা ঠিক করেন তারা পালিয়ে যাবেন। পালানোর দিনক্ষণ ধার্য হয় ২৫ মে ১৮৬৬-তে সকাল বেলা।
লরা থাকতেন তার পিতামাতার সঙ্গে। পিতা মি. ফস্টার ঘোড়া পালতেন। সেদিন ভোরে উঠে বেলে নামে একটি ঘোড়ার পিঠে চেপে সবার অজ্ঞাতসারে লরা চলে যান। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় আর পাওয়া যায়নি।
সেদিন যে কি ঘটেছিল তার সত্য ও পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ও কল্পকাহিনীর প্রতি মানুষ ঝুকে পড়ে।
কেউ কেউ মনে করেন অ্যানই খুন করেছিলেন লরাকে। কারণ অ্যান তখনো ভালোবাসতেন টমকে এবং লরা বিয়ে করবেন টমকে Ñ এটা জানার পর থেকে অ্যান প্রচণ্ড ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিলেন।
আবার কেউ কেউ মনে করেন টম জানতেন অথবা সন্দেহ করেছিলেন অ্যানই ছিলেন লরার খুনি। কিন্তু যেহেতু টমও তখনো ভালোবাসতেন অ্যানকে সেহেতু তিনি (টম) গ্রেফতার হওয়ার পরে অ্যানকে বাচানোর জন্য খুনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ওই সময়ে অ্যানের দেওয়া তথ্য থেকে লরার মৃতদেহ পুলিশ খুজে পায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, টম নয় Ñ প্রকৃত খুনি ছিলেন অ্যান।
এই সন্দেহ আরো বিশ্বাসযোগ্যতা পায় যখন অ্যানের আরেক কাজিন সিস্টার পলিন (লরার বোন) সাক্ষ্য দেন যে, এক রাতে তাকে (পলিন) নিয়ে অ্যান গিয়েছিলেন লরার কবর চেক করতে। অ্যান নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন কবরটা কেউ খুজে পায়নি।
এদিকে আদালতে কয়েকজন সাক্ষী জানায় যে টমের যৌন রোগ (সিফিলিস) হয়েছিল এবং সেজন্য টম প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি তাদের (সাক্ষীদের) বলেছিলেন, যে নারী তাকে এই রোগ দিয়েছে তাকে তিনি খতম করবেন। সাক্ষীরা আরো বলেন, টমের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়েছিল রোগটা এসেছিল লরার কাছ থেকে এবং টম পরবর্তী সময়ে রোগটা সংক্রমিত করেছিলেন অ্যানের দেহে। স্থানীয় ডাক্তার সাক্ষ্য দেন যে, তিনি টম এবং অ্যানের সিফিলিসের চিকিৎসা করেছিলেন। তবে তিনি আরো বলেন, পলিনেরও এই রোগ হয়েছিল এবং প্রথম চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন পলিন। তাই অনেকের ধারণা হয় পলিনের কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন টম, যিনি ভুল করে ভেবেছিলেন লরার কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন। এরা ধারণা করেন, নিজের দোষ ঢাকার জন্য এবং টমের হুমকির হাত থেকে বাচার জন্য পলিনই হয়তো তার আপন বোন লরাকে খুন করেছিলেন।
টম, অ্যান আর পলিন Ñ এই তিনজনের মধ্যে কে তাহলে ছিলেন প্রকৃত খুনি?
লরার গলিত দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল একটি অগভীর ছোট কবরে। কবরটি ছোট ছিল বলে লরার হাটু ভাজ করে সেখানে তাকে শায়িত করা হয়েছিল। তার বুকে শুধু একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
শান্ত একটি শহরে এ ধরনের একটি খুন যেখানে তিনজন ছিলেন খুনিরূপে সন্দেহভাজন এবং যেখানে খুনের মোটিভ হতে পারত তিনটি :
প্রেম (অ্যানের প্রতি টমের) অথবা
ঈর্ষা (লরার প্রতি অ্যানের) অথবা
অপরাধ গোপন (পলিনের)।
ঘটনাটি সারা দেশে বিশাল পাবলিসিটি পায়। দি নিউ ইয়র্ক টাইমস এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ ছাপতে থাকে। জীবিত অবস্থাতেই টম ডুলি লেজেন্ড (Legend, উচ্চারণ লিজেন্ড নয়) বা কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
আদালতে টমের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসেন নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জেবুলন ভান্স যিনি গৃহযুদ্ধের সময় ছিলেন টমের ঊর্ধ্বতন অফিসার।
তিনি বিশ্বাস করেছিলেন টম নিরপরাধ এবং রাজনৈতিক কারণেও তিনি চাননি যে একজন বীর যোদ্ধা অন্যায়ভাবে দণ্ডিত হোক। কিন্তু টমের স্থানীয় এলাকা উইলক্সবরোতে তার বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হয়ে উঠছিল। গভর্নর ভান্স সিদ্ধান্তে আসেন স্থানীয় এলাকায় বিচারকরা প্রভাবিত হতে পারেন স্থানীয় জনমতের দ্বারা। টম ন্যায়বিচার পাবেন না। তাই তিনি টমের বিচার স্টেটসভিল-এ স্থানান্তরিত করেন।
স্টেটসভিলে টমের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার বন্ধু জ্যাক কিটন। বলা হয় খুনের সহযোগী ছিলেন জ্যাক। কিন্তু আদালতে টম বলেন, তিনি একাই খুন করেছিলেন লরাকে। টমের কথায় জ্যাক মুক্তি পান। টমের মৃত্যুদণ্ড হয়। টম আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল নাকচ হয়ে যায়।
ফাসিতে টমের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১ মে ১৮৬৮-তে Ñ লরা খুন হওয়ার প্রায় দুই বছর পরে। টমের ছোট বোন ও তার স্বামী মৃতদেহ নিয়ে কবর দেন।
কথিত আছে, ফাসির পূর্ব মুহূর্তে টম বলেছিলেন, জেন্টলমেন, আপনারা এই হাতটি দেখছেন? আমি ওই মেয়েটির মাথার একটি চুলেরও ক্ষতি করিনি (Gentlemen, do you see this hand? I didn-t harm a hair on the girl-s head)।
এভাবে মৃত্যুর আগে টম জানিয়ে যান আদালতে আত্মস্বীকৃত খুনি হলেও আসলে তিনি খুনি ছিলেন না।
এরপর ক্রমেই টম ডুলির পক্ষে জনমত গড়ে উঠতে থাকে। তাকে নিয়ে কবিতা, গান ও কাহিনী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। টমাস ল্যান্ড নামে একজন স্থানীয় কবি একটি গান লেখেন। সেই গান ১৯৫৮-তে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও-র গাওয়া, হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি (Hang down your head Tom Dooley, 1958) ওয়ার্ল্ড হিট হয়। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-তে এই গানের হিট সংখ্যা ছিল ৮৮০,৪৩৭। এই গানের ৬০ লাখের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়। গানটির জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইটালিয়ান ভার্সন বিভিন্ন গায়ক রেকর্ড করেন। ইউটিউবে গেলে এই গানটির বিভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যাবে। সর্বাধুনিক একটি সংস্করণ বেনজামিন মাসের-এর গাওয়া ইন্টারনেট হিট হয়েছে। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-এ এই সংস্করণের হিট সংখ্যা ছিল ৬৩৫,৬২৫। কিক করুন।
নিচে গানটির বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হলো। তবে গানটির পূর্ণ আবেদন বুঝতে হলে দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এবং বেনজামিন মাসের (Benjamin Musser)-এর গান, দুটিই ইউটিউবে শুনে নিন।
১৩৩ বছর পর নির্দোষ ঘোষিত
টম ডুলি কাহিনীর চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নাটকীয়ভাবে ঘটে তার মৃত্যুর ১৩৩ বছর পরে ২০০১-এ। উইলক্সবরোর অধিবাসীরা স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। তারা বলেন, টম ডুলি নির্দোষ ছিলেন এবং সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। উইলক্সবরো অধিবাসীদের এই ক্যামপেইন ছিল বেসরকারি এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। কিন্তু উইলক্সবরোর অধিবাসীদের স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রটি নৈতিক বৈধতা পেয়েছে।
১৩৩ বছর জুড়ে টম ডুলি সম্পর্কে অনেক কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। টম ডুলি ভালো বাশি এবং হয়তো ব্যানজো বাজাতে পারতেন। তাই হ্যাং ডাউন ইয়োর টম ডুলি গানে ব্যানজো বাজানো হয়েছে।
আরেকটি কাহিনী হলো, অ্যান তার মৃত্যুশয্যায় স্বীকার করে যান, প্রচণ্ড ঈর্ষায় উন্মত্ত হয়ে তিনি লরাকে খুন করেছিলেন। তারপর তিনি টমের কাছে সাহায্য চান এবং টম তাকে সাহায্য করেছিলেন লরার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখতে।
এসব কারণে লরার খুনে টমের সম্পৃক্ততা সঠিকভাবে নিরূপণ সম্ভব হয়নি। টমকে সন্দেহভাজন ঘোষণার পর তিনি উইলক্সবরো থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন টেনেসি-র ট্রেড শহরে। লরার মৃতদেহ পাওয়া যায় টমের পালানোর পরে। টেনেসিতে টম ডুলি নিজের নাম বদলে টম হল রাখেন। কর্নেল জেমস গ্রেইসন নামে এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের ব্যবসায়ে কাজ করতে থাকেন টম। গ্রেইসন জানতেন না উইলক্সবরোতে কি ঘটেছিল। গ্রেইসন চিনতেন না লরাকে। কিন্তু বিভিন্ন কাহিনীতে টমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমিকরূপে গ্রেইসনকে বর্ণনা করা হয়। এটা সত্যি ছিল না।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানে গ্রেইসনের কথা আছে। গানে বলা হয়েছে, গ্রেইসনই পুলিশের কাছে টমকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এটা সত্যি ছিল। উইলক্সবরোর পুলিশ যখন জানতে পারে টম পরিচয় গোপন করে টেনেসিতে আছে তখন তারা যোগাযোগ করে গ্রেইসনের সঙ্গে। গ্রেইসন তখন টমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
টম ডুলিকে নিয়ে গান, লেখালেখি ও মুভি এখনো চলছে। ১৯৫৯-তে দি লেজেন্ড অফ টম ডুলি মুভিটি রিলিজ হয়। ২০১১-তে শ্যারিন ম্যাক ক্রামবি-র উপন্যাস দি ব্যালাড অফ টম ডুলি প্রকাশিত হয়। নিচে গানটির ভাষান্তর প্রকাশিত হলো :
Hang down your head, Tom Dooley
Hang down your head and cry
Hang down your head, Tom Dooley
Poor boy, you-re bound to die...
(কোরাস)
তোমার মাথা নিচু করো টম ডুলি
মাথা নিচু করে কাদো টম ডুলি
বেচারা টম, তুমি মরতে যাচ্ছ।
(সলো)
তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম পাহাড়ে
সেখানে তাকে খুন করেছিলাম
ছুরি দিয়ে মেরেছিলাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
গ্রেইসন ধরিয়ে না দিলে
আমি টেনেসিতে থাকতাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
কোনো এক নির্জন উপত্যকায়
একটা শাদা ওক গাছ থেকে ঝুলে থাকব।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানটির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ১৯৬৬-তে রিলিজড হয় টম জোন্স-এর (Tom Jones) গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home)। কড কার্লি পাটম্যান জুনিয়রের লেখা এ গানটি টম ডুলির চাইতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং টম ডুলির মতো অনেক গায়ক এ গানটি গেয়েছেন। ইউটিউবে কিক করলে দেখবেন এই গানের জনপ্রিয়তা। এলভিস প্রেসলি (Elvis Presley, যাকে টম জোন্স শ্রদ্ধা করতেন ও যার বন্ধু হয়েছিলেন) তার গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত হিট হয়েছে ১,২৬৩,১১৬ বার। আর জোন বেইজ (Joan Baez)-এর গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট পর্যন্ত হিট হয়েছে ৩,১৬৫,২৩১ বার। টম জোন্সের অরিজিনাল ভার্সনে কত হিট হয়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। টম জোন্স ইংল্যান্ডে রানির কাছ থেকে স্যার উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন এবং এখনো গানটি নিয়মিতভাবে গাইছেন লাস ভেগাস-এ তার লাইভ শো-তে।
এই গানটির দুটি পার্ট আছে। প্রথম পার্টে বোঝা যায় এক ব্যক্তি তার শৈশবকালের গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। যৌবনে এই গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পরে সম্ভবত এই প্রথম সে ফিরেছে। ট্রেন থেকে নামার পরে সে দেখতে পায় তার পিতামাতা এবং আদরের ছোট বোন মেরিকে। তারা সবাই তাকে দেখতে আসছে। মেরি ছুটে আসছে। ওই ব্যক্তি তার পুরনো বাড়িঘর, ওক গাছ আর সবুজ ঘাস দেখতে পায়। সে ছুতে চায় সবুজ ঘাসকে।
প্রথম পার্টে এটি শুনলে মনে হবে ব্যক্তিটি স্মৃতিচারণা করছে। কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যপট বদলে যায়। দ্বিতীয় পার্টে বোঝা যায় ওই ব্যক্তিকে তার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে। ব্যক্তিটি বুঝতে পারে তার শেষ সময়ের জন্য উপস্থিত আছেন এক বৃদ্ধ পাদরি। সে বুঝতে পারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার মৃতদেহ কবর দেওয়া হবে সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসের নিচে।
মানবতাবাদী গায়িকা জোন বেইজ, যিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের নির্যাতিত জনগণের পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনি তার গাওয়া গানের শেষে আরো যোগ করেছেন, হ্যা, আমরা সবাই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়, যখন আমরা সবাই মিলিত হব বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে।
পুরো গানটির ভাষান্তর :
ট্রেন থেকে নেমে আমি দেখছি
সেই পুরনো বাড়ি ঘর ঠিক সেই রকমই আছে।
আর আমাকে দেখতে সেখানে এসেছেন
আমার মা, বাবা।
পথে দৌড়ে আসছে আমার ছোট বোন মেরি
তার চুল সোনালি, ঠোট দুটো চেরি ফলের মতো।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছুতে লাগে ভালো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
দুই হাত বাড়িয়ে মিষ্টি হাসি মুখে।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ভালো লাগে ছুতে।
সেই পুরনো বাড়িটা এখনো দাড়িয়ে আছে
যদিও বাড়ির রং ফেটে গেছে, ময়লা হয়ে গিয়েছে।
আর ওই যে সেই ওক গাছটা আছে
যার নিচে আমি খেলতাম।
আমি পথে হাটছি।
সোনালি চুল আর চেরি ঠোটে আমার মিষ্টি বোন
মেরি ছুটে আসছে।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
হঠাৎ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি
আমি তো চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি।
আমি বুঝতে পারি
আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।
ওই তো আমাকে একটা গার্ড পাহারা দিচ্ছে।
তার পাশে আছেন বিষণœ মুখে এক বুড়ো পাদরি।
কাল ভোরে সূর্য উঠলে ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
আমি আবার বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছোবো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে
সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়
আমাকে দেখতে।
আমাকে যখন তারা সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে
শুইয়ে দেবে।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বহু ব্যক্তির মৃতদেহ শায়িত করা হয়েছে তাদের গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে।
কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে টম ডুলির মতো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তির কাহিনী।
অথবা কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যেকোনো ব্যক্তির তার গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে চিরঘুমের কাহিনী।
সেটি হতে পারে কুদ্দুসের জীবনী নির্ভর।
কুদ্দুস কে ছিলেন সেটা লিখেছিলেন রিটায়ার্ড ডেপুটি জেইলার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি স্মৃতিচারণায় যার শিরোনাম ছিল :
ফাসি হওয়া কুদ্দুস এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়-।
ডেপুটি জেইলার হিসেবে যোগদানের এগার মাস পরই ১৯৬৪ সালে একটি ফাসি কার্যকরের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। এর আগে ফাসি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না।
আমি তখন বরিশাল জেলা কারাগারে চাকরি করি। ফাসি কার্যকরের মতো একটি দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার খারাপ লাগছিল। এরপরও চাকরি করি, তাই এই দায়িত্ব আমাকে পালন করতেই হবে। জেনেশুনেই এই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এরপরও তো আমি একজন মানুষ। আমার সামনে ফাসির রশিতে ঝুলে একজন তরতাজা মানুষ জীবন হারাবে Ñ ভাবতেই কেমন জানি লাগছিল।
স্মৃতিতে যত দূর মনে পড়ে, যার ফাসি কার্যকর করেছিলাম তার নাম কুদ্দুস। বাড়ি বরিশালের উজিরপুর এলাকায়। পেশায় কৃষিজীবী হলেও সে ছিল সুদর্শন যুবক। বাবাকে জবাই করার দায়ে তার ফাসির রায় হয়েছিল।
তারিখ মনে নেই। তবে ঘটনাটা মনে আছে।
সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে আমি ফাসি কার্যকরের দিন বিকেলে কুদ্দুসের সেলে যাই। গিয়ে দেখি কুদ্দুস মনমরা হয়ে বসে আছে। তখনো সে জানে না আজ রাতেই তার ফাসি হবে। আমি গিয়ে জানালাম। ভেবেছিলাম শুনেই সে আতকে উঠবে। কিন্তু দেখলাম তার মাঝে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। মনে হলো সে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। শুধু বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, স্যার, ফাসি-টাসি কেয়ার করি না। তবে কি, পিতাকে হত্যা না করেও হত্যার অভিযোগ নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হচ্ছে, এটাই দুঃখ।
তার কথা শুনে চমকে উঠলাম এই কারণে যে, তার কথা অনুযায়ী অপরাধ না করেও তাকে ফাসিতে ঝুলতে হচ্ছে!
আগ্রহ জন্মাল ঘটনাটি জানার।
কুদ্দুস আমাকে জানাল, তার বাবা দুই বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর ছেলে সে। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। ওই ঘরে দুই মেয়ের জন্ম হয়। প্রত্যেকেই বড় হয়, বিয়েশাদি করে। কুদ্দুসেরও এক ছেলে হয়। তার বাবার বিষয়-সম্পত্তি দখলের জন্য সৎ বোনের জামাই হন্যে হয়ে ওঠে। তার বোন, বোনজামাই ও সৎ মা মিলে পরিকল্পনা করে তার বাবাকে হত্যার। সেই হত্যার দায় চাপানোর জন্য তাকে আসামি করার পরিকল্পনাও করে।
এক রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কুদ্দুস তার বাবার বিছানায় শুয়ে থাকে। বাবা চলে গিয়েছিল অন্য ঘরে। ওই রাতে তার বোনজামাাই বাবাকে হত্যার জন্য যায়। গিয়ে কাথা সরিয়ে দেখতে পায় কুদ্দুসকে। তাকে দেখে দ্রুত চলে যায়। সেদিন কুদ্দুস বুঝতে পেরেছিল তার বাবাকে হত্যার জন্যই চেষ্টা করছে তারা। এর ক-দিন পর এক রাতে তার বোন ও বোনজামাই তার বাবাকে জবাই করে।
বিষয়টি কুদ্দুস আচ করতে পেরেও কিছুই করতে পারেনি। বরং তার মা বাদী হয়ে কুদ্দুসকেই প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে।
মা, বোন ও বোনজামাই প্রত্যেকেই কুদ্দুস হত্যা করেছে বলে আদালতে সাক্ষ্য দেয়। মায়ের সাক্ষ্যকে আদালত গ্রহণ করে। সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কুদ্দুসের ফাসির রায় হয় বলে সে আমাকে জানায়।
এসব কথা বলার সময় কুদ্দুস অঝোর ধারায় কাদতে থাকে। সেই কান্না দেখাও ছিল বেশ কষ্টকর। কুদ্দুসের ইচ্ছা কি জানতে চাওয়া হলে সে একটি চিঠি লেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
তাকে চিঠি লেখার জন্য কাগজ-কলম দিয়ে সেল থেকে বিদায় হই।
কুদ্দুসকে ফাসি দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলো। রাত দশটার দিকে কুদ্দুসের সেলে যাই আমি। কুদ্দুস তার লেখা চিঠিটি দেয় আমার হাতে।
অনুরোধ করে বলল, স্যার আমি আপনার পায়ে ধরি। চিঠিটি আমার মায়ের কাছে পৌছে দেবেন।
আমি তাকে কথা দিলাম তার চিঠি অবশ্যই আমি পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
চিঠিটি নিয়ে পড়ার আগ্রহ বোধ করলাম। দেখলাম সে লিখেছে,
মা, তুমি তোমার জামাই মিলে বাবারে হত্যা করলা আর আমারে দিলা ফাসি। কোর্টে সাক্ষী দিলা যে আমিই মারছি। ঠিক আছে আমি তো চলে যাচ্ছি, তোমার সঙ্গে দেখা হবে ওপারে। রোজ হাশরের মাঠে। তোমার সঙ্গে ওইখানে মোকাবেলা হবে। আর একটা কথা, আমার বউ যদি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চায় তুমি বাধা দিও না। তুমি যত দিন বাইচা থাকবা তত দিন আমার ছেলেকে দেখবা। তুমি আমার ছেলেকে পড়াবা। আমি যখন একা কবরে যাচ্ছি, তোমাকেও একা কবরে যেতে হবে। সে সময় তোমার মেয়ের জামাই ও মেয়ে কিন্তু সঙ্গে যাবে না। দুনিয়ায় তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এত বড় অপরাধ করলা। কিন্তু তাদের কাউকে তুমি পাবা না। তোমার সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে হাশরের ময়দানে।
এই কথাগুলো কুদ্দুস কয়েকবার লিখেছিল। চিঠির কাগজটি ভেজা ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল লেখার সময় তার চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল খুব। যে কারণে চোখের পানিতে কালি লেপটে যায়।
চিঠিটি নিয়ে সিনিয়র অফিসারকে দিলাম। তার কাছে জানতে চাইলাম চিঠিটি কিভাবে পাঠাব। তিনি পরামর্শ দিলেন রেজিস্টৃ ডাকে পাঠানোর জন্য। নিজের টাকা খরচ করে সেই চিঠিটি আমি পাঠিয়েছিলাম।
রাত আড়াইটার দিকে ফাসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগে গিয়ে কুদ্দুসকে গোসল করানো হলো। এরপর সে নামাজ আদায় করল। মসজিদের ইমাম গিয়ে তাকে তওবা পড়ান। ফাসির কিছুক্ষণ আগে কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলাম, সে শেষবারের মতো কিছু খেতে চায় কি না।
সে বলল, একটু দুধ খাবে।
আমরা দ্রুত দুধের ব্যবস্থা করলাম।
দুধটুকু খাওয়ার পর কুদ্দুসই বলল, স্যার চলেন।
নিয়ম অনুযায়ী তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিলাম। সেল থেকে পঞ্চাশ গজের মতো দূরে ফাসির মঞ্চে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম। কারণ ফাসির আসামি যদি মঞ্চে না গিয়ে দৌড় দেয় বা অন্য কিছু করে বসে সে কারণে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিতে হয়।
সেখানে গিয়ে কুদ্দুস কোনো ঝামেলা না করেই ফাসির রশি গলায় ঝোলাল।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ডি জি সেনগুপ্ত, সিভিল সার্জন আবদুল লতিফ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়। লাশ গ্রহণ করতে তার মা আসেনি। এসেছিল তার বড় বোন ও তার স্বামী। কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি কুদ্দুসের মুখ থেকে শুনেছিলাম তার সৎ বোন ও স্বামী তার বাবাকে জবাই করেছে। এ কারণে নিজের আগ্রহ থেকে তাদের দুজনকে জানালাম যে, কুদ্দুস মৃত্যুর আগে বলে গেছে আপনারা হত্যা করে সেই দায় কুদ্দুসের ওপর চাপিয়েছেন।
এ সময় তারা দুজনই থতমত খেয়ে গেলেও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে।
দীর্ঘ দিন কারাগারে চাকরি করেছি। অনেক মানুষের ফাসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলাম।
কিন্তু কুদ্দুসের ফাসিটি এখনো আমার মনে পড়ে।
কুদ্দুস স্বপ্নে এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়।
নতুন করে বলে, তার মৃত্যুর কাহিনী।
তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/Shafik Rehman Presents
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশের চাহিদা মিটছে না, তবুও চাল রফতানি- এমন পদক্ষেপ কি খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা আনবে?
সোমবার খাদ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে চাল রফতানির কথা জানালেন। ৪৫০ ডলার দামে শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করা হবে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ টাকা। অবশ্য দাম বাড়ায় কৃষক লাভবান হয়েছেন, এমন বলার সুযোগ নেই। চালের ব্যবসায়ী ও বিভিন্নপর্যায়ের মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটেই এ অর্থ যাবে। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কায় রফতানি করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে কম দামে। সে দেশে রফতানি করা চালের দাম পড়বে ৩৩ টাকা। একই ধরনের চাল এর চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে দেশী ভোক্তাদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানিবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪-১৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চালের আমদানি বেড়েছে। এ সময়ে চাল আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোতে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯ কোটি সাত হাজার ডলারের ঋণপত্র। গত অর্থবছরের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি এলসি খোলা হয়েছে এ বছর। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে চাল আমদানির জন্য ছয় কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। ওই সময় এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল পাঁচ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম, দু’টি প্রধান চাল রফতানিকারক দেশ। তাদের চাল উৎপাদন খরচ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকার পরও দেশীয় বাজার থেকে কম দামে চাল রফতানির যৌক্তিকতা নেই। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ক্রেডিট নিতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত একটি দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা।
চাল রফতানি করে বাংলাদেশ লাভবান হচ্ছে, এমন কোনো সূচক নেই। এ ধরনের রফতানিতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে সরকার কিছু লোককে লাভ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্য দিকে দেখানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। আমরা মনে করি, অবাস্তব প্রচারণা না চালিয়ে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক সংলাপে বসার ব্রিটিশ মন্ত্রীর তাগিদ- বিদ্যমান সঙ্কট সমাধানের শান্তিপূর্ণ পথ এটিই
গত পরশু ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী লিন ফেদারস্টোন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশকে প্রতি পাঁচ বছরের সহিংসতার চক্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ভালো নয়। ভবিষ্যতে সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সংলাপ। তিনি আরো বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে সঠিক ছিল; কিন্তু এ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াটা ছিল দুঃখজনক। ব্রিটেন এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে গত পরশু রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশন কাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ফেদারস্টোন এ কথা বলেন। এতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেনÑ এ অবস্থায় সংলাপ আদৌ সম্ভব কি না, প্রশ্ন করা হলে ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্যই নির্বাচন নিয়ে পাঁচ বছরের সহিংসতার চক্র থেকে বের হয়ে আসাটা জরুরি।
এ দিকে একই সময়ে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের জন্য ব্রিটেন ‘বিব্রত’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ এমপি সায়মন ডানসাক। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে হাসিনা-ক্যামেরন বৈঠক তার নিজের এবং ব্রিটেনের মানুষের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেছেন তিনি। ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করায় তিনি নিজে অনুতপ্ত উল্লেখ করে সায়মন ডানসাক বলেন, যে নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান, আর একতরফা নির্বাচন হয়, সে নির্বাচন কিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে? গত সোমবার বিকেলে ব্রিটেনের হাউজ অব লর্ডসে ওভারসিজ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন ‘বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ইউকে’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যর্থতা ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি অপার সম্ভাবনার দেশ; কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থার অভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তাই উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে ব্রিটেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ মনে করে, অতি দ্রুত সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি। এ অনুষ্ঠানে জন হ্যামিং এমপি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় এবং বেশির ভাগ জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় জনগণের আশা-আকাক্সার প্রতিফলন ঘটেনি, যা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। এই সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে কেউ বৈধতা দেয়নি। বাংলাদেশ সফর করে তার মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের অবশিষ্ট মানুষের মধ্যে একটি যুদ্ধ চলছে।
আসলে দেশের বাইরের ও ভেতরের সব মহলের অনুধাবন ও প্রত্যাশা তাই। সার কথা হচ্ছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল না। তাই দ্রুত সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উপায় উদ্ভাবনের একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজনৈতিক সংলাপ। রাজনৈতিক সংলাপে বসা ও দ্রুত নির্বাচন না দেয়ার অবস্থান থেকে সরকারকে অবশ্যই সরে আসতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি ও পিছিয়ে পড়া সমাজ by ড. ফজলুল হক সৈকত
আমরা জানি, রাজনীতি সমাজ-কাঠামো তৈরি করতে কিংবা রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। সমাজে নির্মাণ করে সুস্থিত ব্যবস্থাপনা। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাজনীতির কাজ। মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা মর্যাদা রাখার জন্য সব সময়ই রাজনীতি চেষ্টা করে থাকে। রাজনীতি জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি পরিচ্ছন্ন ও সমন্বিত প্রক্রিয়ার নাম। এই সিস্টেমকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে সমাজ-বিকাশের সব কলা ও কৌশল; কিন্তু সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আজ এগিয়ে চললেও বাংলাদেশের সমাজগতি পিছিয়ে পড়ছে। এর জন্য কেবল দায়ী অশুভ রাজনীতি। আমরা ভুলে গেছি সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও লালন করে যে রাজনীতি, সেটিও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। তবে ধীরে ধীরে আমাদের পলিটিক্স নিজস্ব ধারা থেকে দূরে সরে পড়েছে। এখন এই ভুবনে যারা বিচরণ করছেন, তারা কেবল ব্যক্তিগত লাভ-সুবিধাকে বিবেচনায় রাখছেন। কী পেলাম আর কিভাবে পাওয়া যাবেÑ এই হলো এখনকার রাজনীতির সমকালীন মূল দর্শন। কী দিলাম আর কী কী দিতে পারিÑ এমন ভাবনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে যেন। রাজনীতি এখন আর বর্তমান প্রজন্মের জন্য কোনো সুখবরের নাম নয়। এই প্রজন্মের একটি বিরাট অংশ হয় রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখছে, অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঘৃণা প্রকাশ করছে রাজনীতি সম্পর্কে। ভবিষ্যতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী কিংবা কৃষক-শ্রমিক-জনতা রাজনীতির প্রতি বিপুলভাবে আকৃষ্ট হবে বলেও মনে হয় না। কাজেই বর্তমানের অশুভ-প্রবণতা রাজনীতির ভবিষ্যৎও বিনষ্ট করে দিচ্ছে বলেই মনে হয়।
জনপ্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলার সব বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রধান প্রকোষ্ঠ সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করেছে রাজনীতির প্রবল প্রভাব কিংবা ছায়া। আর এমনটি এক দিনে কিংবা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরকারে থাকাকালীন সময়ে হয়নি। এটি গড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। এ দেশের সব রাজনৈতিক দলকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। যে দল যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তারাই এসব সংস্থাকে সাজিয়ে তোলে নিজেদের সুবিধা আদায়ের সূত্র অনুযায়ী। সব সচেতন নাগরিকই স্বীকার করবেন যে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ, প্রমোশন ও দায়িত্ব প্রদানের মধ্যে ভালো কিছু আশা করা যায় না। সিনিয়রকে অতিক্রম করে জুনিয়রকে পদোন্নতি দিলে সমাজে অসম্মান এবং ঔদ্ধত্যকেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভেঙে পড়ে সামাজিক শৃঙ্খলা। ভিন্নমতের লোকদের ওএসডি করে রেখে বিরূপ সংস্কৃতি তৈরি করছে প্রশাসন বা ক্ষমতাসীন দল কিংবা জোট। বিপুলসংখ্যক যোগ্য-প্রশিক্ষিত-অভিজ্ঞ লোককে বসিয়ে রেখে সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি বছর ব্যয় করা হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। এটি মারাত্মক অপচয়। সরকারকে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদকে এভাবে অপচয়ের ক্ষমতা কিংবা দায়িত্ব নিশ্চয়ই কোনো রাজনৈতিক দলকে জনগণ প্রদান করে না। নির্বাচনী ইশতেহারেও কোনো দলকে আমরা এমন দাবি উত্থাপন করতে দেখিনি। কিংবা এসবের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণাও করে না তারা। রাষ্ট্রকে পঙ্গু ও দেউলিয়া করার এমন কাজে যারা লিপ্ত, তাদের আর যা-ই বলি না কেন অন্তত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ বলা চলা না। সর্বত্র তারা জেদাজেদি আর ভাগাভাগির দৌরাত্ম্য সৃষ্টি করে চলেছেন। রাষ্ট্রকে বানিয়ে তুলছেন নিজেদের সম্পত্তি। জাগিয়ে তুলছেন সামাজিক বৈষম্য। জনগণের মধ্যে প্রবলভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন চিন্তার অন্ধত্ব। অপরাধ-বিজ্ঞানের ভাষায় এমনসব কর্মকাণ্ড কিভাবে বিবেচিত হবে, তা ভবিষ্যৎই কেবল বলতে পারে।
নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি আর স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের ফলে শিক্ষাক্ষেত্র আজ অচলপ্রায়। শিক্ষিত লোকের সম্মানও সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বলা চলে। শিক্ষা অর্জনের চেয়ে বর্তমান প্রজন্ম বরং রাতারাতি টাকা বানানোর কৌশল রপ্তকরণে দিন-রাত ব্যস্ত। আর শিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির বাজারে কোন কোন ক্ষেত্রে কিভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে কিংবা পেশাগত জীবনে কিভাবে সাফল্য লাভ করা যেতে পারে এসব ব্যাপারে বিশেষ ভাবনা-চিন্তা আজো প্রবর্তন করতে পারিনি আমরা। শিক্ষার সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারাদিও যুক্ত হয়নি। শিক্ষার বৈষম্য, সার্টিফিকেটের মানের তারতম্য, শিক্ষকের যোগ্যতার দৃশ্যমান অসামঞ্জস্য, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিবেশের নিম্নগতি, গ্রন্থ ও পাঠাগারের অপ্রতুলতা, শিক্ষা-উপকরণ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিসুবিধা নিশ্চিত করতে না পারা প্রভৃতি ঘটনা জাতির মাথায় যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচিং-বাণিজ্য, ভর্তি-আতঙ্কÑ অভিভাবকসমাজ এবং শিক্ষার্থীর মাঝে তৈরি করেছে নেতিবাচক ধারণা। অন্য দিকে, অপরিকল্পিত ইংরেজি শিক্ষার প্রভাব সমাজে বাড়িয়ে দিয়েছে দুর্নীতি-প্রবণতা ও অশুভ প্রতিযোগিতা। পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতিতে আঘাত হানছে অহেতুক ইংরেজিপ্রীতির দৃষ্টিভঙ্গি। সমাজে বিভক্তিও তৈরি করছে শিক্ষাব্যবস্থার এই নানামুখীনতা। Ñএই সব কিছুর পেছনে নীরবে শক্তিমত্তা নিয়ে অবস্থান করছে রাজনীতির অপ্রতিরোধ্য কুপ্রবৃত্তি।
চিকিৎসকদের বিরাট অংশ সেবাকে পরিহার করে ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি কিনিক কিংবা প্রাইভেট চেম্বারের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। বিভিন্ন কিনিকে ঘুরে ঘুরে সকাল থেকে রাত অবধি বাণিজ্যিক ডাক্তাররা টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন। রোগীর গলায়-পেটে আর অভিভাবকের পকেটে চালাচ্ছেন ধারালো চাকু। ছিনিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ-কোটি টাকা। গড়ে তুলছেন বাড়ি, কিনছেন নতুন মডেলের গাড়ি। কোথাও কোথাও মেডিসিন ব্যবসায়ের অন্তরালে জেঁকে বসেছে ড্রাগ-বাণিজ্য। সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের সহজলভ্যতা ও প্রভাব। কেউ হয়তো বলবেন, এর পেছনেও কি রাজনীতি জড়িত? হ্যাঁ, এখানেও রয়েছে রাজনীতির ব্যর্থতা। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, দল-গোষ্ঠী কিংবা সরকারি ব্যবস্থাপনাই পারে চিকিৎসাসেবার এই করালগ্রাস থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে। এর জন্য দরকার পরিচ্ছন্ন ও কল্যাণমুখী নীতিমালা।
শিল্প-কারখানা এমনকি শিল্প-সংস্কৃতিই আজ আর রাজনীতির বাণিজ্য এবং বিভাজন থেকে আলাদা নয়। কারখানাগুলোতে কিংবা ন্যাশনাল-মাল্টিন্যাশনাল অফিসগুলোতে প্রবেশ করেছে রাজনীতির থাবা। ব্যবসায়ীরা সরাসরি রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বিস্তার করছেন প্রভাব। শ্রমিক-আন্দোলন না কমে বরং বেড়ে চলেছে। আছে বেতনভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিরাট বৈষম্য। আইন-প্রণেতারা প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসায়ের সাথে জড়িয়ে পড়লে দেশের মঙ্গল কতটা আশা করা যায়, তা ভেবে দেখা দরকার। আর শিল্প-সংস্কৃতিই এখন নানাভাবে করপোরেট হাউজের নিয়ন্ত্রণে। কাজেই কলকারখানায় ও শিল্প-সাহিত্যে সৃজনশীলতা ও যোগ্যতার বিকাশ না ঘটে সম্প্রসারিত হচ্ছে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি।
মিডিয়ায়ও যেন প্রবেশ করেছে রাজনীতির প্রবল বাতাস। প্রচারমাধ্যমে নীতিমালা বা চিন্তার কিংবা মতাদর্শের পার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু যখন দেখি রাজনীতিই নিয়ন্ত্রণ করছে মিডিয়ার মত ও প্রকাশধারাÑ তখন? তখন হয়তো আমাদের আর কিছুই বলার থাকে না। যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দৃষ্টিভঙ্গিটি মিডিয়ার পরিকল্পনা মতো নয়Ñ বরং প্রচার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারণা অনুযায়ী, তখন আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে সেখানেও ঢুকে পড়েছে সমূহ নেতিবাচকতা। রাজনীতির চিন্তাধারা অথবা দলের কর্মসূচি দেশকে এগিয়ে নিতে পারেÑ আমরা সে চিন্তায় গভীর আস্থা এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখি। কেননা কেবল রাজনীতিই পারে সমাজকে সবপর্যায়ে ইতিবাচক প্রবাহের দিকে নিয়ে যেতে। রাষ্ট্রের অন্য দিকগুলোর নিয়ন্ত্রক রাজনীতিই বটে! কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নাগরিকের ব্যক্তিগত মত, পরামর্শ, কোনো বিশেষ সমাজ-রূপান্তরকামী গোষ্ঠী বা সংস্থার মতামতÑ যারা রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নয়, গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্বৎসমাজকে তাদের মতো করে চিন্তা প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। সরকার, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, পেশাজীবী, সুশীলসমাজÑ সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সামাজিক ব্যবস্থার সুন্দর স্থিতি কিংবা বিকাশধারা।
চীন, ভুটান ও মালয়েশিয়া বর্তমানে নানা কারণে পৃথিবীতে বিবেচ্য। রাজনৈতিক সুস্থিতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জীবনধারা পরিবর্তনে ও বিকাশে তারা আন্তরিকতার সাথে অগ্রগামী। অথচ অল্প কিছু দিন আগেও এসব দেশ খুব বেশি পরিচিত ছিল না; কিন্তু এখন তারা বিশ্বরাজনীতিতে পরিচিত নাম। আজ চীন তো রীতিমতো বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণের দরোজার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আর বর্তমানের ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি মহাদেশের নাগরিকগণ তো এক সময় আমাদের এই ভূমিতেই বিচরণ করেছেÑ জ্ঞান ও বাণিজ্যের প্রয়োজনে। অতঃপর তারা সামাজিক-রাজনীতিও প্রতিষ্ঠা করেছে বটে! তাদের অগ্রগতির ইতিহাস বেশি দিনের নয়; কিন্তু আমাদের রয়েছে ঐতিহ্যিক বিপুল অহঙ্কার। আছে প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুলতা ও সৌন্দর্য। মানুষের মনের সরলতাও আমাদের অনন্য সম্পদ। তাহলে অন্যরা যদি পারে অর্থনীতি-শিক্ষা-সেবা প্রভৃতিতে অগ্রগতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে, আমরা কেন পারছি না? সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের অনেক কিছু থাকলেও রয়েছে সদিচ্ছার অভাব। আর তাই পিছিয়ে পড়ছে সমাজ। সব অনিরাপত্তার জন্য দায়ী আমাদেরই নেতিবাচক চিন্তা। সব কিছুতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে মানুষের কল্যাণের জন্য আত্মনিয়োগ করতে পারলে পরিবর্তন আসতে পারে সমাজে। বাংলাদেশের রাজনীতি হয়ে উঠুক গণমুখী ও ইতিবাচক, পিছিয়ে পড়া সমাজে প্রবাহিত হোক সামনে যাওয়ার প্রবণতাÑ এই প্রত্যাশা।
লেখক : শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের চার দশক : গণমাধ্যম পরিস্থিতি by সৈয়দ আবদাল আহমদ
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা
ভারতবর্ষে প্রথম সংবাদপত্র বেঙ্গল গেজেট প্রকাশিত হয় ১৭৮০ সালে। এর ৩৮ বছর পর ১৮১৮ সালে বাংলা সংবাদপত্র ‘দিকদর্শন’ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সংবাদপত্রের যাত্রা শুরু হয়। তবে যে ভূখণ্ড নিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠিত, তার সংবাদপত্রের ইতিহাস ১৬৬ বছরের। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের গণমাধ্যমের এ ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, এ অঞ্চলের প্রথম পত্রিকা ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ প্রকাশিত হয় ১৮৪৭ সালে। ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র ‘কবিতা কুসুমাবলী’ প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে। উনিশ শতকে বর্তমান বাংলাদেশে অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ববঙ্গ থেকে সাপ্তাহিক, পাকি, মাসিকসহ মোট সংবাদপত্র ও সাময়িকী বেরিয়েছে ২৪০টির মতো। সেগুলোর অধিকাংশই এত ুদ্র, ণজীবী ও গৌণ যে পূর্ববঙ্গের বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তবে উল্লেখ করার মতো এ অঞ্চলের প্রথম সাময়িকী ছিল কাঙাল হরিণাথ সম্পাদিত ‘গ্রাম বার্তা প্রকাশিকা’। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটিতে গ্রামবাংলার কৃষক প্রজাদের দুর্দশা ও জমিদারদের অত্যাচার সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ছাপা হতে থাকলে ওই এলাকার প্রভাবশালী জমিদার মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভীষণ চটে গিয়েছিলেন। তিনি কাঙাল হরিণাথকে দমাতে লাঠিয়াল বাহিনী পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু লালন ফকিরের নেতৃত্বে প্রতিরোধের মুখে লাঠিয়ালরা সুবিধা করতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম থেকে কিরণ শংকর দাসের সম্পাদনায় আবদুল হক দোভাষের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় ‘জ্যোতি’ নামে একটি পত্রিকা বেরোত। অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য সমাদৃত এই পত্রিকাটি বেশি দিন টেকেনি। সেই তুলনায় চট্টগ্রাম থেকে স্থানীয় কংগ্রেস নেতা অন্বিকা দাসের সম্পাদনায় ব্রিটিশ আমলে প্রকাশিত ‘পাঞ্চজন্য’ পত্রিকা পাকিস্তান আমলেও কয়েক বছর টিকে ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র যখন আত্মপ্রকাশ করে, তখন পাঞ্চজন্যই ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র দৈনিক। আমাদের সংবাদপত্রের মাধ্যম মূলত বাংলা, তবে প্রথম থেকেই ইংরেজিতেও সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান যুগে ঢাকা এবং কোনো কোনো জেলা শহর থেকে উর্দুতেও সংবাদপত্র বেরিয়েছে। যেমনÑ’৪৭ পূর্বকালে হাকিম হাবিবুর রহমান প্রকাশ করেন ‘আল মাশরেখ’ ও ‘যাদু’ নামের পত্রিকা। একই সময় ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো দুটো উর্দু দৈনিক ‘পাসবান’ ও ‘ওয়াতান’।
১৯৪৭ সালে যখন উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে, তখন পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা থেকে একটিও দৈনিক প্রকাশিত হতো না। চট্টগ্রাম থেকে মাস কয়েক অর্ধ-সাপ্তাহিক রূপে প্রকাশের পর বজলুল হকের সম্পাদনায় ‘জিন্দেগী’ পত্রিকা বের হয়। ঘোষণা দেয়া হলো, এটা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র। অবশ্য মওলানা আকরম খাঁর দৈনিক আজাদ পাকিস্তান হওয়ার পর কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসে। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম থেকে আবদুস সালামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান’। তারপর একে একে বেরোয় চট্টগ্রাম থেকে দৈনিক জয়গান (আগস্ট ১৯৪৭), ঢাকা থেকে মোহাম্মদ মোদাব্বেরের সম্পাদনায় অর্ধ-সাপ্তাহিক পাকিস্তান (১৫ আগস্ট, ১৯৪৭), মওলানা ভাসানীর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক (১৯৪৯), মহীউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত দৈনিক ইনসাফ (১৯৫০), নূরুল আমীনের মালিকানাধীন দৈনিক সংবাদ (মে ১৯৫১), মোহাম্মদ মোদাব্বের সম্পাদিত মোহন মিয়ার মালিকানাধীন দৈনিক মিল্লাত (১৯৫২), মহীউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘দৈনিক আমার দেশ’ (১৯৫২), তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাক (ডিসে¤¦র ১৯৫৩) এবং কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিছ সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেহাদ (১৯৫৫)। একইভাবে হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে। আবদুস সালাম সম্পাদিত এ পত্রিকা তখন কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মুখপত্রে পরিণত হয়।
পাকিস্তান আমলেই সরকারি উদ্যোগে এরপর আত্মপ্রকাশ করে প্রথমে মর্নিং নিউজ এবং পরে দৈনিক পাকিস্তান পরবর্তীতে যার নাম হয় দৈনিক বাংলা। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে মূলত রাজনৈতিক প্রয়োজনে দৈনিক পত্রিকার আবির্ভাব ঘটে। বিভিন্ন দৈনিকের মধ্যে আদর্শগত লড়াই মাঝে মধ্যে তীব্র রূপ নিলেও পাঠকের জন্য সেটা আকর্ষণীয় ছিল। ঠোকাঠুকি মাঝে মধ্যে তুঙ্গে উঠত। সাংবাদিকদের মধ্যে আদর্শবাদী চেতনা জোরালো ছিল। মতপ্রকাশে নির্ভীক অনেক সাংবাদিকের চারণত্রে ছিল ঢাকায়। কারো লাশের ছবি, বিশেষ করে বিকৃত লাশের ছবি না ছাপানোর ব্যাপারে একটি অলিখিত মতৈক্য ছিল পত্রিকাগুলোর মধ্যে। দৈনিক আজাদ এ ব্যাপারটা কঠোরভাবে মেনে চলত।
আইয়ুব খানের সামরিক শাসন শুরু হলে ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে দেশে রাজনীতিচর্চা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তখন বিদেশী খবর এবং বিদেশের ঘটনাবলিকে ধরে কলাম লেখা হতে থাকে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে রাজনৈতিক খবর ও মন্তব্য প্রকাশে লিখিত বা অলিখিত বিধিনিষেধ ছিল। সংবাদপত্র ও সাংবাদিক দলনের মধ্যেও সাহসী সাংবাদিকতার নজির আমাদের গর্বিত করে। পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে অবজারভার ভবন থেকে ‘পূর্বদেশ’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা বের হয়। আঙ্গিক ও উপস্থাপনার বিচারে এটাকে দৈনিক পাকিস্তানের (পরে দৈনিক বাংলা) পর ঢাকার ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রথম আধুনিক পত্রিকা বলা যায়।
১৯৪৭-এ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং সেই থেকে আজ ২০১৪ সাল এক অত্যাশ্চর্য সময়। এ সময়ের মধ্যে বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্টের শাসন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংগ্রাম প্রবল হয়েছে, সাংস্কৃতিক বিকাশের আকাক্সা পুষ্পিত হয়েছে। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে উঠে দাঁড়িয়েছি।
স্বাধীনতার পরের ৪২ বছরেও নানা তোলপাড় ঘটেছে। সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের মতো একানব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়, চুয়াত্তরের দুর্ভি এবং ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার মতো বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। তেমনি একদলীয় শাসন, সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে দেশ। বিশেষ করে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের পর দেশে যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়, তা ২০০৭ সালের এক-এগারোর জরুরি শাসনের ফলে কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও অব্যাহত আছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকুকÑ সেটা সবাই চাচ্ছে। এসময় ‘শত ফুল ফোটা’র মতো অগণিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মিডিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সংবাদপত্র ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর প্রভাব দিন দিন বেড়ে চলেছে। গণমাধ্যম যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ, তা বাংলাদেশে পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান। এর জন্য গণমাধ্যমকে অনেক বিরুদ্ধ স্রোতের মোকাবেলা করতে হয়েছে। এখনো হচ্ছে। নির্মোহভাবে সত্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সত্য প্রায় সময়ই কারো না কারো বিপে যায়। সত্য প্রকাশে যারা বিব্রত হন তারা সমাজের শক্তিশালী অংশ। ফলে ‘প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধ’ প্রকাশ করতে গিয়ে স্বাধীন গণমাধ্যমকে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এই বাধা এখনো তীব্র। তবুও গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ২৫৪টি। এর মধ্যে ঢাকায় ৭৪টি এবং মফস্বলে ১৮০টি। প্রথম আলো, আমার দেশ, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম, সমকাল, জনকণ্ঠ, কালের কণ্ঠ, মানবজমিন দেশের অন্যতম বাংলা দৈনিক পত্রিকা। তেমনি এক সময়ের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজারভার, মর্নিং নিউজ, বাংলাদেশ টাইমস বন্ধ হয়ে গেলেও এখন আছে ডেইলি স্টার, ইনডিপেনডেন্ট, নিউএজ, নিউ নেশন, ডেইলি সান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মতো ইংরেজি দৈনিক। সাপ্তাহিক হলিডে দেশের প্রভাবশালী ইংরেজি সাপ্তাহিক অনেক বছর ধরেই। স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা প্রকাশনী থেকে বেরোত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন বিচিত্রা। প্রভাবশালী ও অত্যাধুনিক এই ম্যাগাজিনটি এখন সেভাবে নেই। নেই সাপ্তাহিক যায়যায়দিন। তবে সাপ্তাহিক ২০০০ এবং সাপ্তাহিক নামে দু’টি ম্যাগাজিন এখন বেশ পত্রিকা আলোচিত।
১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই মহিলাদের সচিত্র ‘বেগম’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল নারীর সর্বাঙ্গীণ উন্নতি তথা নারীর মতায়ন। নূরজাহান বেগমের সম্পাদনায় ‘বেগম’ ১৯৫২ থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ঢাকা থেকে। এরপর লায়লা সামাদের সম্পাদনায় ‘অনন্যা’ (১৯৫৫), বেগম জেবউন-নিসা আহমদের সম্পাদনায় ‘খেলাঘর’ (১৯৫৫), কামরুন্নাহার লাইলীর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘অবরুদ্ধা’ (১৯৫৮) নারী সাংবাদিকতার পথ নির্মাণ করে। আজ সাংবাদিকতা পেশায়ও নারীরা গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
এ ছাড়াও কিছু বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা যেমন চলচ্চিত্র ও বিনোদন, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক, ক্রীড়া ও অপরাধবিষয়ক এবং ব্যঙ্গ পত্রিকাও দেশে প্রকাশিত হচ্ছে।
আধুনিক সংবাদপত্রের সহোদর সংবাদ সংস্থা। ষাট বছরেরও বেশি ধরে বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা সমান্তরালভাবে অবস্থান করছে। ১৯৪৭-পরবর্তী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি), পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (পিপিআই) এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই), ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (ইএনএ বা এনা) এবং ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) প্রভৃতি আধুনিক বার্তা সংস্থা দেশের সংবাদ প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তিগত কারণে এতকাল সংবাদ সংস্থার মাধ্যম ছিল ইংরেজি, বর্তমানে যুক্ত হয়েছে বাংলাও। বর্তমানে বিডিনিউজ ২৪ ডট কম, বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম. নতুন বার্তা ২৪ ডট কম-এর মতো অসংখ্য অনলাইন সংবাদ সংস্থা এবং পত্রিকাও বের হয়েছে। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বের করছে। মুহূর্তে এগুলো আপডেটও করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশনের সংখ্যা ২৩টি। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সম্প্রচারের অনুমতি পায় আটটি চ্যানেল। বাকিগুলো মহাজোট সরকারের আমলে। উল্লেখযোগ্য টিভি চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে চ্যানেল আই, এনটিভি, বাংলাভিশন, একুশে টিভি, দিগন্ত টিভি (বর্তমানে বন্ধ), আরটিভি, এটিএন বাংলা, সময়, একাত্তর, মাছরাঙা টেলিভিশন। তেমনি বেসরকারি ৪টা রেডিও এখন বেশ আলোচিত।
পাকিস্তান আমল তো বটেই, বাংলাদেশ আমলের প্রথম দিকেও ঢাকা থেকে মফস্বলে পত্রিকা যেত এক দিন পর। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিকেলের আগেই পত্রিকা পৌঁছে যায়। তেমনি দুর্গম এলাকায়ও কিছু ঘটলে তার খবর তাৎণিক চলে আসছে মিডিয়ায়। ফলে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দর্শক যেমন বেড়েছে, তেমনি পত্রিকার পাঠক এবং বিক্রিও বেড়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মিলিয়ে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ কপি পত্রিকা বিক্রি হয়। দেশের সারতার হার বিবেচনায় নিলে এ সংখ্যাকে কম বলা যায় না। আশির দশকের গোড়ার দিকেও মফস্বল থেকে খবর আসত ডাকযোগে অথবা টেলিগ্রাম মারফত। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবর থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতা ট্র্যাংকল বুকিং করে টেলিফোনে খবর পাঠাতেন। কানে রিসিভার ঠেকিয়ে এমন খবর টুকে নেয়ার জন্য সব পত্রিকা অফিসে আলাদা সাব-এডিটর থাকতেন। এখন আর সেটা নেই। বেসরকারি খাতে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আবির্ভাবও গণমাধ্যমের চেহারার আমূল পাল্টে দিয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাধাবিপত্তি
এটি ঠিক যে, স্বাধীন বাংলাদেশ গণমাধ্যম শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে। সংবাদপত্র প্রকাশ ও পাঠকদের মধ্যে এই প্রত্যাশা জন্মে যে, স্বাধীন দেশে নানা মত ও পথের পত্রিকা প্রকাশিত হবে। পাকিস্তান আমলের মতো কোনো নিয়ন্ত্রণ, সেন্সর ও বিধিনিষেধের জাল গণমাধ্যমের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে না। কিন্তু স্বাধীনতা-পূর্ব এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রের মাধ্যমেই গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে গণমাধ্যমের বিকাশ। বাধাগ্রস্ত হয়েছে স্বাধীন সাংবাদিকতা। স্বাধীন দেশে গণমাধ্যমের ওপর সবচেয়ে বড় বাধা আসে বাকশাল আমলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে শত শত সাংবাদিককে বেকার জীবনে ঠেলে দেয়। দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এটি ছিল এক কালো অধ্যায়। সেই থেকে সাংবাদিক সমাজ ১৬ জুনকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এ সময় হলিডে সম্পাদক এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান, গণকণ্ঠ সম্পাদক কবি আল মাহমুদকে গ্রেফতার করে জেলে বন্দী করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গণমাধ্যমের ওপর থেকে বাকশাল আমলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করায় গণমাধ্যমের বিকাশের পথ সুগম হয়। তবে সাংবাদিকদের তখনো নানা বাধা মোকাবেলা করতে হয়েছে। স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিকাশ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) প্রেস অ্যাডভাইসের আওতায় চলতে হয়েছে গণমাধ্যমকে। এ সময়টিতে কথায় কথায় সংবাদপত্রের প্রকাশনার ওপর নেমে আসে সরকারি খড়গ। ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনের সংবাদপত্রসংক্রান্ত বিধি আরোপ করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অসংখ্য সংবাদপত্র। শুধু তা-ই নয়, বিবিসিতে সাহসী প্রতিবেদন করার কারণে প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদসহ অনেক সম্পাদক এবং সাংবাদিককে লেখালেখির জন্য জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। ডা: মিলন হত্যার পর সাংবাদিক-সমাজ দেশের সব মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। টানা কয়েক দিন দেশে কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়নি। সাংবাদিকদের এ আন্দোলনে এরশাদের মতার ভিত নড়ে গিয়েছিল। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অস্থায়ী সরকারের সময় সংবাদপত্রের ডিকারেশন বন্ধ করা সংক্রান্ত বিশেষ মতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি (দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সÑ ডিকারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট) অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বিলোপ করা হয়। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার মতায় এসে সংসদে ওই অর্ডিন্যান্সটি আইন আকারে পাস করে। ফলে কথায় কথায় সংবাদপত্র বন্ধের খড়গটি অকেজো হয়ে যায়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া নতুন উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। নতুন নতুন সংবাদপত্র প্রকাশে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় আকাশ সংস্কৃতিও উন্মুক্ত করা হয়। উদ্যোক্তারা নতুন নতুন টেলিভিশন চ্যানেল চালু করতে থাকেন। গণমাধ্যমের জন্য সৃষ্টি হয় একটি সুবর্ণ সুযোগ। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বাধীন মতপ্রকাশ অব্যাহত হতে থাকে। তবে ওই সময়টিতেও মতাসীনদের হামলা-মামলা এবং চোখরাঙানির শিকার হয়েছেন অনেক সাংবাদিক। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার মতায় আসে। ওই সময় দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা ও আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দিয়ে প্রায় পাঁচ শ’ সাংবাদিক-কর্মচারীকে বেকার করা হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ অব্যাহত থাকলেও সাংবাদিকদের মতাসীনদের পেশিশক্তির শিকার হতে হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও কোনো কোনো েেত্র সাংবাদিকেরা হয়রানির শিকার হন। ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময় গণমাধ্যমকে অলিখিত আদেশে চলতে হয়েছে। ওই সময় বেশ কিছু গণমাধ্যমের ওপর নেমে আসে খড়গ। বন্ধ হয়ে যায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সিএসবি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার মতায় আসার পর গণমাধ্যম নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এ সময়ে সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী ২৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সাগর-রুনির বাসার বেডরুমে। তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকেরা আন্দোলন করছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। সরকার এ নিয়ে নানা টালবাহানা করছে। তেমনি এ সময়ে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যমুনা টিভির লাইসেন্স দেয়া হয়নি। বন্ধ করা হয়েছে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা দুই দফায় বন্ধ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে প্রথম দফা বন্ধের পর পত্রিকাটি বের হয়। এ সময়ে বেশ কয়েকজন সম্পাদকও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ এ পর্যন্ত ৬৮টি মামলা দেয়া হয়েছে। আমার দেশ অফিসে চার মাস ধরে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করার পর ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল তাকে পত্রিকা অফিস থেকে কমান্ডো স্টাইলে গ্রেফতার করে ১৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বিচারপতির স্কাইপ কেলেঙ্কারি তিনি পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। সভ্য দেশে এ ধরনের সাহসী রিপোর্টিংয়ের জন্য সাধারণত সম্পাদক বা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়। কিন্তু তার ভাগ্যে জুটেছে কারাগার। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেফতার হন এবং দেড় বছর ধরে বন্দী আছেন। তেমনি আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের প্রচেষ্টা চলছে। পত্রিকাটির প্রেস বেআইনিভাবে সিলগালা করা হয়েছে। পত্রিকা বন্ধ রয়েছে দেড় বছর ধরে। বর্তমান সরকার তথ্য অধিকার নামে নতুন একটি আইন করেছে। এ আইনটি মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক হলেও এর সুফল সাংবাদিকেরা এখন পর্যন্ত পাননি। এ দিকে সরকার বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রচার নীতিমালা নামে কালো আইন তৈরি করেছে। তেমনি জারি হচ্ছে অনলাইন আইন। দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর টকশো এখন বেশ আলোচিত। টকশোর আলোচনা সরকারের বিরুদ্ধে যায় বলে মাঝে মধ্যেই অদৃশ্য শক্তির হস্তেেপর শিকার হচ্ছে টিভি টকশোগুলো।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়
তবে সমাজের অন্য সব েেত্রর মতো আমাদের গণমাধ্যমও মোটা দাগে দু’টি শিবিরে বিভক্ত। গণমাধ্যম দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। এমন অবস্থা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। গণমাধ্যমের সাথে এখন বিপুল অর্থ জড়িয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারকে না চটানোর একটা প্রবণতা লণীয়। এতে সরকারের ভেতর এমন একটা বোধ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে যে, গণমাধ্যমগুলো নিজেদের স্বার্থে সরকারকে সমঝে চলতে বাধ্য। এর ব্যতিক্রম ঘটলে কর্তৃপ মেজাজ হারিয়ে যা করার নয়, তাই করে বসছে। এই বাস্তবতায় যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য কার দায় কতটুকু সে মূল্যায়ন অবশ্যই এক দিন হবে। তবে এখন যা অবস্থা সে সম্পর্কে একবাক্যে বলা যায়, সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের গ্লামার বেড়েছে, মর্যাদা কমেছে।
আমাদের গণমাধ্যমে এখন যে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে, তা উন্নত দেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। উন্নত দেশের সংবাদপত্রের মতোই আমাদের সংবাদপত্রও দেখতে সুন্দর, ঝকঝকে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাও বেড়েছে। করপোরেট হাউজগুলো গণমাধ্যমে বড় ধরনের পুঁজি বিনিয়োগ করছে। ফলে সাংবাদিকদের পারিশ্রমিক, সম্মানী ও সামাজিক মর্যাদার েেত্র উন্নতি হয়েছে। গণমাধ্যম শিল্প হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। নতুন নতুন পুঁজি আসছে এ শিল্পে। তবে এত কিছুর পরও সংবাদপত্র নিয়ে, টিভি চ্যানেল নিয়ে, রেডিও নিয়ে এক ধরনের হতাশাও সমাজে প্রবলভাবে বিরাজমান। প্রশ্ন উঠছে সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। বলা হচ্ছে আমাদের সংবাদপত্র পাঠকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। পাঠক যে খবর চান, সেই খবর সংবাদপত্র দিতে পারছে না। পাঠক যে তার চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এটি একেবারে অসত্য নয়। একটি ঘটনা জানার জন্য একজন পাঠককে এখন একটিমাত্র সংবাদপত্রের ওপর নির্ভর করলে চলে না। দুর্ভাগ্য যে, ওই খবরটি জানার জন্য পাঠককে অনেক সংবাদপত্র খুঁজতে হয়। এ জন্য মিডিয়ার মালিকেরাই শুধু দায়ী নয়, সাংবাদিকেরাও দায়ী। সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি এখন প্রবল। দলীয় রাজনীতি প্রাধান্য পাচ্ছে। তা ছাড়া সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনও এ েেত্র দায়ী। সাংবাদিকদের ইউনিয়ন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করে। সাংবাদিকেরা সত্যকে তুলে ধরবেন, মানুষের আকাক্সাগুলো প্রতিফলিত করবেন, সরকারের ভুল পদপেগুলোর সমালোচনা করবেন ইত্যাদি। এগুলো কখনো সম্ভব হবে না যদি না সাংবাদিকদের বিভাজন দূর হয়। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য, মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য এবং বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের জন্য সাংবাদিকদের ঐক্য জরুরি। তাহলেই তারা নিজেদের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করতে পারবেন, তেমনি মিডিয়ার নিরাপত্তা, তথ্য প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠা এর নিজেদের মর্যাদা বাড়াতে পারবেন।
লেখক : জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক সঙ্কট : উত্তরণের কোনো পথ নেই? by প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া
২
৫ জানুয়ারি দেশে কী হলো? যে নির্বাচনকে ঘিরে একটি সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হলো এবং তাদের সহায়সম্বল হারাতে হলো। আবার অনেকে গৃহহারা হয়েছে, আর অনেকে গোপনে দেশ ছেড়ে চলে গেছে, চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ সব কিছু মিলিয়ে বলা যায়, ওই জাতীয় নির্র্বাচনের ইতিহাসটি ‘এক কলঙ্কজনক’ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। একটি নির্বাচনকে ঘিরে এত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, এত মিথ্যা, এত প্রহসন আর এত তামাশা তা ভাবতে খুব কষ্ট হয়। সঙ্ঘাত আর সহিংসতা বিবেককে কি দংশন করে না?
নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের প্রশাসন, আইনসংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা এই নির্বাচনে সংযুক্ত ছিলেনÑ তারা কি বলতে পারবেন ভোটকেন্দ্রে অনেক লোক এসেছে? শতকরা মাত্র ৮-১০ জন লোক ভোটকেন্দ্রে গেছে। আমরা দেখেছি, প্রমাণও পেয়েছি। এদের মধ্যে আবার অনেককে জোর করে নেয়া হয়েছে। অনেক সংখ্যালঘু ভোট দিয়েছে একমাত্র ভয়ে, নতুবা বিপদ হবে তাই। ওই রকম ভয়ভীতির কথা ভোটের আগে এদেরকে বলেও দিয়েছে। এ রকম অনেক প্রমাণ আছে আমাদের হাতে।
এমনকি আমি নিজেও অনেক বড় বড় শিতিজনকে প্রশ্ন করেছি, আমি ঢাকাতে ভোট দিতে পারিনি কেন? আপনি কি দিয়েছেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকেরা কি ভোট দিয়েছেন? আমাদের উপাচার্য কি ভোট দিয়েছেন? উত্তরে বলতে হবে, দেননি। দিতে পারেননি। তাহলে প্রহসনের এই নির্বাচনকে কিভাবে স্বচ্ছ, সুন্দর এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে? প্রতিপ ছাড়া যুদ্ধে জয়ী হলে সেই বিজয়ের কোনো গৌরব ও মর্যাদা থাকে না। বিজয়ের স্বাদও পাওয়া যায় না। ওই বিজয় বেশি দিন টেকেও না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনও সে রকম হয়েছে। ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীতি জাতির আশা-আকাক্সার সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এতটুকু ছাড় দেয়া যায় না।
কোনো বিবেকবান মানুষ এ নির্বাচনকে মেনে নিতে পারেননি, পারছেনও না। এমনকি মূর্খ, অশিতি সাধারণ শ্রেণির মানুষও বিবেকের তাড়নায় ভুগছেন রীতিমতো। এখনো তারা বারবার প্রশ্ন করে জানতে চাচ্ছেন, দেশে এ কী নির্বাচন হলো? আপনারা চুপ হয়ে বসে আছেন কেন? এ রকম নির্বাচন তো আমরা জীবনে কখনো দেখিনি। তাই এ নির্বাচনকে অনেকে ‘গণতন্ত্র হত্যার নির্বাচন’ বলেছেন। অনেকে বলেছেন ‘একতরফা নির্বাচন’।
সঙ্ঘাত সহিংসতা কারো কাম্য নয়। তাই বলে যে বিরোধী দলকে নিঃশেষ করতে হবে এ রকম মনোভাব আনাটাও বোধ হয় ঠিক নয়। দেশে বিরোধী দল থাকবেই। নইলে সরকারের ভালো-মন্দ দেখবে কে? মতাসীন সরকারকে সব সময় বুঝতে হয় মতা চিরস্থায়ী নয়। শক্তি প্রয়োগেও এটাকে ধরে রাখা যাবে না। বাস্তবতা সেটা প্রমাণ করে। তাহলে এটা হবে কেন? বাংলাদেশের আজকের যে রাজনৈতিক সঙ্কট তা একমাত্র নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে। জনগণের এই দাবি মানতে সরকারের অসুবিধা কোথায় তা আমি মোটেই বুঝি না। এটি বর্তমানে হয়ে উঠেছে জনগণের মূল দাবি। এটি আজ পরিণত হয়েছে জনদাবিতে। যদিও বা আওয়ামী লীগের অনেকেই এর পে বলছেন, সরকারের সাথে সুর মেলাচ্ছেন ভয়ে অথবা সংসদ-মন্ত্রী পদ হারাবেন বলেই। নতুবা বিবেকের তাড়নায় বলতেন। নির্বাচনের আগেও এ রকম বলেছেন অনেকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কনসেপ্টটি আসলে বর্তমান সরকারেরই সৃষ্ট। এটি বিএনপির সৃষ্টি নয়। অতএব এটি বহাল থাকলে আমাদের অসুবিধা কোথায়, বুঝতে বেশ কষ্ট হয়।
৩
এখন বিএনপির সাথে সংলাপ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। যদিও বা প্রধানমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, শুধু সংবিধান রা করার জন্যই এ নির্বাচন। এরপর বিরোধী দল চাইলে আবার নতুন ফর্মুলা নিয়ে আলাপ করতে পারেন। তিনি এটাও বলেছিলেন, জনগণ যদি চায় তাহলে সব রাজনৈতিক দল ও সুশীলসমাজের ব্যক্তিবর্গের সাথে সমঝোতার একটি ত্রে তৈরি করা যেতে পারে। একটি ভালো উদ্যোগের কথা বলেছিলেন সে দিন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন, এখন কেন সেই উদ্যোগ নেই? আর সেই উদ্যোগের প্রশ্ন তুললে বারবার নাকচ হচ্ছেই বা কেন? এ দাবির প্রতি শুধু প্রধানমন্ত্রীর অসম্মতি নয়, তার দলের খুবই কট্টর ও অনুগত কতিপয় মন্ত্রীও তার সাথে সুর মেলাচ্ছেন। সব েেত্র দলীয়, একপেশে কিংবা গলা টিপে ধরার মতো শাসনব্যবস্থা দেশ ও জনগণের জন্য কখনো শুভ হতে পারে না। এর পরিণাম হয় ভয়াবহ। এতে দেশ ও জনগণ তিগ্রস্ত হয়। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বোঝা উচিত। প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো কাজ করেছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা এর প্রশংসা করি। কিন্তু এমন কতকগুলো কাজ হচ্ছে যা খুবই নিন্দনীয় ও অগণতান্ত্রিক।
আমি আবারো বলছি আজকের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি শুধু বিএনপির একার নয়। এমনকি ২০ দলেরও নয়। এটি দেশের সুশীলসমাজের দাবি। আপামর জনসাধারণের দাবি। আমরা এমনও দেখছি যারা কোনো রাজনীতি বা দলসম্পৃক্ত নন, তারাও বারবার এ দাবির কথা বলছেন। যেমন টিআইবির নির্বাহী উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সাবেক মন্ত্রী ও অন্যান্য সাবেক উপদেষ্টা। কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা নিরপেক্ষা নির্বাচনের পরে তারা তো কোনো একটি বিশেষ দলের পে নন। তারা শুধু দেশের নানা সঙ্কট ও দুর্যোগে কথা বলেন এবং তাদের পরামর্শগুলো দেন।
বিশ্ব আজ উন্নত ও অনুন্নত দু’টি ভাগে বিভক্ত। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো শিা, প্রযুক্তি, জ্ঞান-ঐশ্বর্যে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ। অপর দিকে অনুন্নত দেশগুলোর অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়, তার মধ্যে আবার নানা সঙ্কট ও নানা বিপর্যয়। এ জন্যই তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে। তারা নানা প্রতিকূলতায় ভয়াবহ রূপে পিছিয়ে আছে। হাজারো সমস্যা তাদের পরিস্থিতি ও জনজীবনকে ক্রমাগতই ঘোলাটে করে তুলছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে ভাবতে পারছি না। খুবই ভয়াবহ ও সঙ্কটময় মনে হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর চার দশক অতিক্রম করলেও আমরা আশানুরূপ উন্নতি লাভে ব্যর্থ হয়েছি। এর প্রধান কারণ আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতীয় সমঝোতার অভাব। তার পাশে আছে অর্থ পাচার, অর্থ কেলেঙ্কারি আর দুর্নীতি নামক বিরাট সব ব্যাধি। এ জন্য বারবার প্রশ্ন জাগছে, আগামীতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বড়ই করুণ। দেশের প্রধান অর্থ জোগানের খাত গার্মেন্ট আজ বন্ধ হওয়ার পথে। কেন এ রকম হবে? পাশের উন্নত দেশগুলো আজ কোথায়? এদের দিকে তাকালে বলতে ইচ্ছে করে, আমার দেশটি টিকে থাকতে পারবে তো? ওই সব দেশে তো প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে অর্থনৈতিক ও আর্থসামাজিক বিপুল সমৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
আজ বলতে দ্বিধা নেই এ রকম বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি। স্বাধীনতাযুদ্ধ তো এ জন্য হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম একটি সোনার বাংলাদেশ যেখানে থাকবে আমাদের মৌলিক অধিকার। ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, থাকবে না কোনো রকম বৈষম্যও। বাকস্বাধীনতা থাকবে, লেখনী স্বাধীনতা থাকবে; আরো থাকবে আমাদের সবার মৌলিক অধিকার ভোগ করার স্বাধীনতা। কিন্তু কই? বর্তমানে তা মোটেই দেখতে পাচ্ছি না। আজ দেশ এ জন্যই বেশ অস্থিরতার পথে।
৪
একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম মতা জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে। গণমানুষের আশা-আকাক্সা থাকে এর মধ্যেই। সেটি আজ মৃত বললেই চলে। বর্তমান কেউ কোনো কথা বলতে পারছেন না। এ যেন এক অদ্ভুত দেশ। অথচ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে জনগণের ইচ্ছাই হলো গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যেভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, দেশ সেভাবেই চলবে। আমরা এ-ও জানি গণতন্ত্রে ব্যক্তিশাসন ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান নেই। তাই আজ গণমানুষের রোষ আবার প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক আবারো দানা বেঁধে উঠতে শুরু করেছে। ১৯৭১ সালে যে রক্তয়ী সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করেছিল, তার অন্যতম মূলনীতিই ছিল গণতন্ত্র। আজ সেই গণতন্ত্র কোথায়? গণতন্ত্রের আজ কান্না কেন?
সে দিন পাকিস্তানের শাসকদল আমাদের জনমত অগ্রাহ্য করেছে বলেই তো সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। এ কথা কারো অজানা নেই। মতা টিকিয়ে রাখার অশুভ ইচ্ছা অদম্য হলেও তা আর রাখতে পারেনি। সে হিসেবে পরবর্তীকালে বাকশালেরও একই অবস্থা হয়েছে। শক্তি আর অস্ত্র দিয়ে কখনো মতা টিকিয়ে রাখা যায় না। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের সে কথাই বলে দেয়। যদিও বা মতার দাপটে দেশ চলে, তা হয় খুবই ণস্থায়ী। এতে দেশ বা রাষ্ট্রের জনগণের অনেক কষ্ট হয়। জাতি অসহায় হয়ে পড়ে।
এটা যেকোনো দেশের শাসককে বুঝতে হবে, মতা কোনো অবস্থাতেই চিরস্থায়ী নয়। আজকে যা ঘটছে আগামীতেও তা ঘটতে পারে। এ উপলব্ধি থাকতেই হবে। বাংলাদেশের মানুষ অধিকার আদায়ে যেকোনো সময় দীপ্ত ছিল, আগামীতেও থাকবে। ১৯৫২, ’৬২, ’৬৯, ’৭০, ’৯০-এর গণ-আন্দোলন প্রমাণ করেছে তারা কোনো অবস্থাতেই মাথা নত করে না। আশা করি আগামীতেও করবে না দেশ বাঁচানোর স্বার্থে।
প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। এখন আমাদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী এতে সাড়া দেবেন কি? এতে আমাদের দীর্ঘ দিনের উষ্ণতা, দীর্ঘ দিনের নীরবতা ও সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে একটি শুভ আলোর দিশা দেখা যাবে বলে আমি মনে করি।
আমি কখনো সঙ্ঘাত কিংবা সহিংস আন্দোলনকে সমর্থন জানাই না। কারণ এটি গণতান্ত্রিক নীতিধর্মও নয়। আমি শান্তি ও অহিংস মতবাদের পে থাকি। কারণ আমি জানি একটি জিঘাংসা আরেকটি জিঘাংসার জন্ম দেয়। একটি সঙ্ঘাত আর একটি সঙ্ঘাত তৈরি করে। এটি বৌদ্ধ যুক্তিবাদের কথা। অতএব এসব বিষয় চিন্তা করে আমি প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাতে চাই, আর একটু নমনীয় ভাব প্রদর্শন করার জন্য। তিনি একটু ছাড় দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়। সঙ্কটও কেটে যায়। রাষ্ট্রকে সবসময় চিন্তা করতে হবে গণতান্ত্রিক আদর্শ সমুন্নত রাখতে। এতে কখনো সঙ্ঘাত আসে না, সঙ্ঘাত তৈরি হয় না। রাষ্ট্র যখন তার আদর্শ থেকে চ্যুত হয়, আর রাষ্ট্রীয় উপাদানগুলো যখন নিজ স্বার্থে কিংবা মতা রা করার েেত্র ব্যবহৃত হয়, তখনই গণরোষ তৈরি হয়। আমাদের অবস্থাও আজ সে রকম।
বর্তমান পুলিশ-র্যাব এবং ল অ্যান্ড ফোর্সের সব বিভাগ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক স্থান হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, এমনকি শিাপ্রতিষ্ঠান, শিাব্যবস্থা, জনপ্রশাসনের সব স্তর আজ যেন একদলীয় শাসনব্যবস্থায় চলছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, জনগণের কথা বলার স্বাধীনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, লেখনী শক্তি, বাকশক্তি সব কিছুই যেন আজ রুদ্ধ হতে চলেছে। এগুলো পরোভাবে গণতন্ত্র হত্যার শামিল। সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স বলতে যা বোঝায়, তা এখন দেশে নেই বললেই চলে।
অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সম্প্রতি একটি নির্বাচন হলো। তা কত সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অবাধ ছিল সে দিন আমরা দেখেছি। এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আচরণও আমরা দেখছি। তিনি দেশের প্রতি কত অনুগত এবং কত দেশপ্রেমিক তা আমরা তার প্রতিটি কাজের মধ্যেই বুঝতে পারছি। মোদি এখন কোনো দলের সমালোচনা করছেন না। এমনকি ভারতের রুট লেভেলের দল কংগ্রেসেরও না। ব্যক্তি সোনিয়া কিংবা রাহুলের কথা তো বাদই দিলাম। মোদির সব শ্রম, মেধা, চিন্তা ও স্বপ্ন বর্তমান দেশকে গড়ার কাজেই নিয়োজিত। তাই তো ক’দিন আগে তাকে দেখেছি ঝাড়– হাতে দিল্লির রাস্তা পরিষ্কার করতে। কোনো হাঁক-ডাক নেই, কোনো আড়ম্বরও নেই। তার রাষ্ট্রীয় সফরে আকাশ বহরের কোনো বাহুল্য দেখছি না। অথচ আগের মতো সহজ-সরল জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই এত বড় দেশকে শাসন করে যাচ্ছেন প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দেশ বৃহৎ ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এগুলো আমাদের অবশ্যই অনুকরণীয় বিষয়।
৫
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন জাতির গর্বিত সন্তান। তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান। তিনি মারা গেলেন ৮ অক্টোবর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তান। তিনি কোনো প-েবিপরে নন। অথচ রাষ্ট্র তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে পারেনি। এতে ভাষামতিন ছোট হননি, ছোট হয়েছি আমরা। এ দিকে প্রফেসর পিয়াস করিম দেশের একজন স্বনামধন্য শিক। তার অকালমৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় তি হয়েছে। জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, আদর্শিক কথা বলা এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ লেখার তার যোগ্যতা ও দতার কথা আমরা সবাই জানি। শিক হিসেবে শুধু এ দেশে নয়, তিনি বাইরেও বেশ পরিচিত। আর বর্তমান মিডিয়া জগতে তিনি এক নন্দিত শিক, যার কথা শোনার জন্য আমরা রাত জেগে বসেই থাকি। অথচ তার মরদেহটি সর্বসাধারণের জন্য পবিত্র শহীদ মিনারে আমরা আনতে পারিনি। এটি আমাদের ব্যর্থতা। জাতি হিসেবে আমরা কলঙ্কিত হয়েছি। রাজনীতিতে অবশ্যই প-বিপ থাকবে। প্রকৃত গণতন্ত্রের আদর্শ তো সেখানেই। নতুবা আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রইল কোথায়? তাই বলে তার পবিত্র মরদেহটি শহীদ মিনারে আনা যাবে না, এটা আবার কেমন রাজনীতি!
দেশের সব জনগণ একদলে থাকে না, থাকবেও না, থাকার কথাও নয়। সবার স্ব স্ব মত আছে। একটি আদর্শিক অবস্থান আছে। এমনকি পছন্দ-অপছন্দের একটি জায়গাও আছে। এটি তাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা। সেই স্বাধীন অধিকারটি আমি, আমরা কেউ খর্ব করতে পারি না। আর শহীদ মিনার তো কারো একার নয়, এটা দেশের সব নাগরিকের। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা রাষ্ট্র বা সরকারের কাছে এভাবে নিগৃহীত হবেন সেটা কারো কাম্য নয়। এগুলো রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো শুভ কাজ বলে আমি মনে করি না। অযথা সঙ্কট তৈরি করা, শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলা। আর জনগণের মধ্যে দ্রোহ সৃষ্টি করা। জনগণ যখন তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখনই জনদ্রোহ বা গণরোষ দানা বেঁধে ওঠে। এটাই বাস্তবতা। এটা শুধু আজকের জন্য নয়, অতীতেও হয়েছে এবং আগামীতেও থাকবে। আমরা জানি একটি হিংসা আরেকটি প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কখনো তার কাক্সিত ল্েয পৌঁছাতে পারবে না। উন্নতির-সমৃদ্ধির সব সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হবে। সেটা হোক, আমরাও চাই না।
এই তো সম্প্রতি ইতালির মিলান শহরে অনুষ্ঠিত দশম আসেম শীর্ষ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহিংসতা ও চরমপন্থা সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা অভিনন্দনযোগ্য। তিনি বলেছেন, বিশ্বশান্তি ও প্রবৃদ্ধির পথে এগুলো প্রধান অন্তরায়। তিনি সেখানে জিরো টলারেন্সের কথাও বলেছেন। অবশ্যই রাষ্ট্র, শাসকদল ও বিরোধী দলের ভালোর জন্য জিরো টলারেন্সের প্রয়োজন অপরিহার্য। এতে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে।
গত শুক্রবার ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামও বলেছেন, পারমাণবিক শক্তি যখন মানবসভ্যতা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন তা খুবই তিকর। তিনি তরুণদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন। তিনি উদ্ভাবনী শক্তির জন্য তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন। এসসিসিআইয়ের ১১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি ঢাকায় আসেন।
যেকোনো অপশক্তি রাষ্ট্র, জনগণ তথা বিশ্ব মানবসভ্যতার জন্য কোনো শুভফল বয়ে আনতে পারে না। সেটি পারমাণবিক শক্তি হোক; আর পেশিশক্তি, রাষ্ট্রশক্তি কিংবা বিশ্বশক্তিই হোক। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের বোধোদয় হওয়া উচিত। আমরা কেউ মূর্খ নই। বিচার করার শক্তি আমাদের আছে। অতীতের শিা কিংবা চলমান বিশ্বের ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতাও আমাদের আছে। অতএব এমন কোনো কর্ম করা উচিত নয়, যেই কর্ম পরবর্তীকালে আমার ওপরই আঘাত নিয়ে আসবে এবং আমাকেই আক্রমণ করবে।
পরিশেষে বলি, একটি দেশকে সাফল্যের দোরগোড়ায় নিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দেশ গড়ার চিন্তাভাবনা। পাশাপাশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতা। সততা ও দেশপ্রেম তো অবশ্যই থাকবে। কোনোভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। কোনো ধরনের বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতাও আনা যাবে না। সুস্থ ও অবাধ গণতন্ত্রের পাশাপাশি সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার কিংবা আনুগত্যও থাকতে হবে দেশোন্নয়নের একটি প্রধান শর্ত হিসেবে।
তাই আজ আমরা দেশের এ সঙ্কটের একটা সুরাহা চাই। আর বাড়াবাড়ি নয়। আসুন আমরা সংলাপের একটি ত্রে তৈরি করি। যে সংলাপ হবে আগামী দিনে আমাদের দেশ ও জাতি রার একটি প্রধান হাতিয়ার। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবারো সবিনয়ে অনুরোধ জানাই, আপনি সংলাপে বসুন। আপনার হৃদয়কে বড় করুন। দেশের জন্য একটু ত্যাগী মনোভাব প্রদর্শন করুন। যেভাবেই হোক সঙ্কট উত্তরণের একটি পথ বের করুন, জাতিকে বাঁচান। নতুবা দেশ অগ্নিগর্ভে নিমজ্জিত হবে। চলুন আমরা আজ সবাই সেই আদর্শ অনুসরণ করি। দেশকে ভালোবাসি, দেশের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখি। আমরাও নিরাপদে থাকি। জগতের সব প্রাণী সুখী হোক। বাংলাদেশ সমৃদ্ধময় হোক। বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তি বিরাজ করুক।
লেখক : সভাপতি, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন-বাংলাদেশ চ্যাপ্টার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 30
(58)
- মা আয়েশার ছবি, কাপড় বুকে নিয়ে মেয়ের কান্না- গ্...
- আরও কিছু দিবস চাই by সাহস রতন
- ফারুকীর ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ও সমাজ-বাস্তবতা by ড. মাহফু...
- আবু তোরাব, সিধুলী কাঁদছে কান্নার মিছিলে ক্যাথরিনরা...
- ক্ষোভে উত্তাল বুরকিনা ফাসো, পার্লামেন্টে আগুন
- বিশ্বব্যাংকের কান ধরে উঠবস করা উচিত: মতিয়া
- লন্ডনে সেমিনার- বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে by ত...
- সান্ত্বনার জায়গা ‘আদালত-এ-আখেরাত’ by মাসুদ মজুমদার
- ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফ...
- দেশের চাহিদা মিটছে না, তবুও চাল রফতানি- এমন পদক্ষে...
- রাজনৈতিক সংলাপে বসার ব্রিটিশ মন্ত্রীর তাগিদ- বিদ্য...
- রাজনীতি ও পিছিয়ে পড়া সমাজ by ড. ফজলুল হক সৈকত
- বাংলাদেশের চার দশক : গণমাধ্যম পরিস্থিতি by সৈয়দ আব...
- রাজনৈতিক সঙ্কট : উত্তরণের কোনো পথ নেই? by প্রফেসর ...
- উন্নয়নের আশ্বাস বা চমক সাংবিধানিক অনৈক্যের সমাধান ...
- মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চকবাজার ক্যাম্পাস এর জেএস...
- আল-আকসা মসজিদ বন্ধ- ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত
- সময় কাউকে ছেড়ে কথা বলে না by মেজর জেনারেল (অব:) সৈ...
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হোক- দেশে সুস্থ রাজনীতি...
- আধুনিকতা অনাধুনিকতা by ফরহাদ মজহার
- সঙ্কট মুক্তির অনিঃশেষ অন্বেষা by ড. মীজানূর রহমানশেলী
- মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার জরুরি by আসম আবদু...
- সামাজিক ব্যবসা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে by মুহাম্মদ...
- অনুভূতি রক্ষার অধিকার by ডক্টর তুহিন মালিক
- ছাত্রের গালে চিমটি কাটায় শিক্ষিকাকে জরিমানা ৫০ হাজ...
- নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ রদ করুন : অ্যামনেস্টি ইন্টা...
- কোমর ব্যথা, কারণ ও চিকিৎসা by ডা: মিজানুর রহমান কল...
- হাছন রাজা জাদুঘর
- মৃগি রোগের নানান কথা by ডা: মৌসুমী রিদওয়ান
- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- অজ্ঞতায় সেরা মার্কিন আর ইতালীয়রা!
- লবণে নষ্ট হচ্ছে দিনে ২ হাজার হেক্টর জমি
- লন্ডনে মারা গেলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
- পোপের বিশ্বাস
- সত্যিই ‘এলিয়েন’ রয়েছে!
- গাজায় মালালার ৫০ হাজার ডলার দান
- সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন by আলমগীর মহিউদ্দিন
- তুরস্কে পৌঁছেছে ইরাকি যোদ্ধারা
- আল্লাহর আদালতে সুবিচার পাবই
- এ রায় ন্যায়ভ্রষ্ট- আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
- মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত নই -মাওলানা নিজামী
- জেএসসির আগেই ঝরে গেল সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ...
- মহাকাশযান অভিযানে বিপত্তি- ৬ সেকেন্ডেই শেষ
- মীর কাসেমের মামলার রায় রোববার
- স্মরণ- ফজলে লোহানী
- আইএসবিরোধী লড়াই- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- ছেলে না মেয়ে? ১২ পুত্রের পর ১৩তম সন্তানের অপেক্ষা
- গেঁটে বাতের লক্ষণ ও চিকিৎসা by ডা. শাহজাদা সেলিম
- কবিতাযোনীর প্রজনন তত্ত্ব by অমিতাভ পাল
- ব্যবসায়ীদেরও আসতে হবে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে
- কোবানি প্রতিরক্ষায় সিরীয় বিদ্রোহীরা
- মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু- কান্না থামছে না রাইসা’র
- মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি- বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ...
- শোকের মাতম- ৩ বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ by ...
- হাসিনা-খালেদাকে হত্যা পরিকল্পনা জেএমবি’র
- বৃটেনে ৫০ হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নিখোঁজ!
- নিজামীর রায়- ফের বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে
- ২০ কোটি টাকা হাতবদল- রাজউকে স্বাক্ষর জালিয়াতি
-
▼
Oct 30
(58)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...