Monday, September 17, 2018

কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত, জনজীবন বিপর্যস্ত

যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আজ সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষজন ও গেরিলা সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ওই বনধের ডাক দেয়া হয়।
আজ (সোমবার) বনধের ফলে সেখানকার দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, পেট্রোল পাম্প, গণপরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সড়কে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বেসরকারি যান চলাচল করেছে। সরকারি দফতরগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য।
গত (শনিবার) দক্ষিণ কাশ্মিরের কুলগাম জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ গেরিলা ও এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জনেরও বেশি প্রতিবাদী জনতা আহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে হুররিয়াত কনফারেন্স প্রধান সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বনধের ডাক দেয়া হয়।
আজ বনধের ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে দক্ষিণ কাশ্মিরের বাডগাম-অনন্তনাগ-কাজীগান্দ এবং উত্তর কাশ্মিরের শ্রীনগর-বাডগাম ও বারামুল্লার মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বনধকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, আজ অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে মুখতার আহমদ মালিক নামে এক  স্থানীয় এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। কুলগামের সুরাটে নিজ বাসায় ওই সেনাসদস্য নিহত হন। এখনো পর্যন্ত কোনো গেরিলা গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ ওই  ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশে এক বছরে মৃত্যু ৮০ হাজার, পবা'র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের কারণে এক বছরে ৮০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। তাছাড়া, পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলিতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বছরে ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (এক মার্কিন ডলার ৮৪ টাকা হিসেবে)। দূষণের এ ক্ষতি ২০১৫ সালের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার বলেছেন, নগরাঞ্চলে দূষণ ও পরিবেশের অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশকে অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। এর ফলে দেশটির ভালো প্রবৃদ্ধিও এখন হুমকির মুখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশগত দূষণ ও ঝুঁকির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার একটি দেশ বাংলাদেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা বিশ্বে পরিবেশ দূষণজনিত কারণে মৃত্যুর গড় হার যেখানে ১৬ শতাংশ। সেখান বাংলাদেশে মৃত্যু হার ২৮ শতাংশ, ভারতে ২৬ দশমিক ৫, পাকিস্তানে ২২ দশমিক ২,আফগানিস্তানে ২০ দশমিক ৬,  শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক  এবং মালদ্বীপে এই হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেখা গেছে, বৃহত্তর ঢাকার  বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র ধাতব কণার কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ  দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশসহ স্নায়ুজনিত ক্ষতি হচ্ছে। গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্মদানের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া, জলাভূমি দখল ও বিপজ্জনক বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলাসহ দূষণ ও পরিবেশগত অবনতি নারী, শিশু ও দরিদ্রদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ছোট শহরগুলোও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও  তেহরানকে বলেন, পরিবেশবাদীরা এতদিন ধরে যেসব আশংকার কথা বলে আসছিল  তা ভয়াবহ সত্য হয়ে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দেশের পরিবেশ আইন যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য সরকারকে আন্তরিক হবার পরামর্শ দেন।
গতকাল বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ‘বিগত এক দশকে বাংলাদেশ তার নীতি ও আইনগত কাঠামোর উন্নতি করেছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।

আমেরিকা থেকে রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের নির্দেশ: ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া

আমেরিকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হেসাম জামলাত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দখলদার ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আমেরিকা সবসময়ই ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করে আসছে।
এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সরকার সেদেশ থেকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে আমেরিকা ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাকে সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আমেরিকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হেসাম জামলাত জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার তার পরিবারের জন্য ২০২০ পর্যন্ত ভিসা দিলেও এখনই তাদেরকে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি মার্কিন সরকার তার পরিবারের ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করেছে।
এদিকে, পিএলও'র নির্বাহী কমিটির সদস্য হানান আশরাভি মার্কিন এ পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ থেকে নারী ও শিশুসহ নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আমেরিকার বিদ্বেষ  ও নির্মমতা ফুটে উঠেছে।
আমেরিকা গত ১০ সেপ্টেম্বরও ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনিদের কূটনীতিকদের দফতর বন্ধ করে দিয়েছিল। ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসছে না এমন অভিযোগ তুলে দফতর বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি না হবে ততদিন পর্যন্ত পিএলও'র কোনো রাজনৈতিক দফতরও খোলার অনুমতি দেয়া হবে না। ফিলিস্তিন শরণার্থীদেরকে ৩০ কোটি ডলারের সাহায্য বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর জন বোল্টন এ কথা জানান।
ওয়াশিংটনে পিএলও'র দফতর বন্ধের এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াজ আল মালেকি বলেছেন, এ থেকে প্রমাণিত হয়েছে, আমেরিকা যেকোনো পরিস্থিতিতে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এ ছাড়া, আমেরিকা আপোষ আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের দেয়া অর্থ সাহায্যও বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলকে দেয়া অর্থ তারা ঠিকই বজায় রেখেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্থাপিত "শতাব্দির সেরা চুক্তি" নামক পরিকল্পনা মেনে নিতে ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করার জন্যই আমেরিকা এভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে। অথচ ইসরাইল এমন কোনো দিন নেই যে ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যা নির্যাতন চালাচ্ছে না। এমনকি ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমির অধিকারকেও অস্বীকার করছে এবং তাদের নিজ ঘরবাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করছে।

মানবতার সেবায় মারুফ কেইন

কেউ অসুস্থ হয়ে, কেউবা দরিদ্রতার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তাদের ঠিকানা হয় রাস্তায় কিংবা স্টেশনে। অনেকে আবার ফুটপাথের গলিতে পড়ে থাকেন। তাদের আশ্রয় না দিয়ে অনেকে পাগল বলে গালি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। খাদ্য, বস্ত্র ও ঠিকানাহীন এসব মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। তাদের কেউ খাবারও দেয় না, খোঁজও রাখে না। স্বজনেরা হয়তো খুঁজতে খুঁজতে একদিন ক্লান্ত হয়ে আসাই ছেড়ে দেন। তাদের শেষ পরিণতি বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন। অসহায় এসব মানুষদের বিভিন্ন জায়গা থেকে পরম মমতায় তুলে এনে সেবা করছেন মানবতার সেবায় নিবেদিত কর্মী মারুফ কেইন। তিনি তাদের সেবা করতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনা নগর এলাকায় গড়ে তুলেছেন গ্লোরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তিনি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। 
জানা গেছে, মারুফ কেইন একটি বে-সরকারি সংস্থায় ৮ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর ২০১২ সালে চারটি খড়ের আটি, দু’টি চটের বস্তা আর একটি কম্বল দিয়ে টিনশেডের ভাড়া করা ঘরে ফুটপাথে পড়ে থাকা অসহায় এক নারীকে তুলে এনে সেবা দেয়া শুরু করেন। পরে এলাকার মানুষ তার এ কাজ দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রথমে তারা চাল, গ্লাস, প্লেট, মশারি, পুরাতন কাপড় দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। পর্যায়ক্রমে এ কাজের পরিধি বাড়তে থাকলে এক সময় নিজের অর্থে কেনা জমিটুকুও মারুফ দান করেন তার হাতেগড়া সংস্থার নামে। আর  সেখানেই এখন গড়ে উঠেছে সংস্থার নিজস্ব অবকাঠামো। বর্তমানে তিনি ১৫ জন অসহায় অজ্ঞাতনামা নারীকে সেখানে সেবা দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩৮ জন অসহায় নারী-পুরুষকে এ সংস্থা থেকে সেবা দিয়েছেন।
গত শুক্রবার সকালে ওই সেবা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, পরম মমতায় সেবা দিচ্ছেন মারুফ কেইন। তাকে একাজে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সেবিকা শান্তি রানি সরকার।  সেখানে তিনি এলাকার মানুষের সহযোগিতায় তৈরি করেছেন চারটি পাকা কক্ষ। এর মধ্যে তিনটি কক্ষে বর্তমানে ১৫জন অসুস্থ মানুষকে রেখে সেবা দিচ্ছেন তিনি।
এ সময় কথা হয়, গ্লোরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক মারুফ কেইন এর সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও কিছু অসহায় মানুষ ফুটপাথে পড়ে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। তাই আমি সবার সাহায্য নিয়ে তাদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। সুস্থ হওয়ার পর যারা নাম ঠিকানা বলতে পারছেন তাদের অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছি। আর যারা নাম ঠিকানা বলতে পারেন না তাদের এখানেই রাখার ব্যবস্থা করছি।
তিনি আরো বলেন, আমি মাদার তেরেসার জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের সেবায় নেমেছি। ভবিষ্যতে মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এটি বাংলাদেশের মধ্যে মানব সেবায় অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুল হক বলেন,  আমি নিজে সেখানে গিয়ে অসহায় মানুষদের খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বলেন, ওই সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগামী দিনে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সেলফি যুগে হারিয়ে যাওয়ার পথে স্টুডিও by মরিয়ম চম্পা

কত সাজগোজ। সুন্দর কাপড়। আয়নায় নিজেকে বারবার দেখা। স্টুডিওর এমন দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। ছবি কিংবা ভিডিও দুটিই এখন করছে হাতের মোবাইল ফোন। এখন হাঁটা-চলা, আচার-অনুষ্ঠান সবই ধারণ করা হয় মোবাইল ফোনে। সেলফিতে। আর এভাবেই হারিয়ে গেছে এক সময়কার স্টুডিও। নিজ হাতেই যখন স্টুডিও তখন আর কে যায় দূরের আনুষ্ঠানিক স্টুডিওতে। তাইতো রিকশায় কিংবা রাস্তায়, ঘরের বারান্দায় অথবা ছাদে, বিপণি বিতান, পাবলিক বাস, বিয়ে সাদি, জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী কোনো কিছুই বাদ যায় না সেলফি থেকে। প্রযুক্তির এই যুগে প্রত্যেকের হাতে স্মার্ট ফোন মানেই এক একটি ডিএসএলার ক্যামেরা। এ দলে যোগ দিয়েছেন শুধু তরুণ-তরুণীই নয়, সব বয়সের মানুষ। আবার কেউ কেউ বিশাল লেন্সের ডিজিটাল ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে এখনকার জেনারেশন।
হাজার হাজার ছবি তুলছে তারা। তাদের প্রয়োজন পড়ছে না স্টুডিও বা ল্যাবে যাওয়ার। বাংলাদেশে একটা সময় সব মহলেই বিভিন্ন ফটো স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলার চল ছিল। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে তোলা সেসব ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকতো নানা ধরনের প্রাকৃতিক দৃশ্য। স্টুডিওর দেয়ালে আঁকা সেসব দৃশ্যে শোভা পেতো ফুল লতা পাতা। কিন্তু এখন যেন সে সবই অতীত।
ফার্মগেটের স্টুডিও ড্রিমের কর্মচারী মো. ফজল বলেন, এক যুগ আগেও স্টুডিও ব্যবসা ছিল রমরমা। ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। বর্তমানে স্টুডিও ব্যবসা ৪ ভাগের ১ ভাগে নেমে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন। কারণ এখন সবাই নিজেদের ইচ্ছামতো ফোনে ছবি তুলে অল্প কিছু ছবি ল্যাবে বা স্থানীয় কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে প্রিন্ট করে নেয়। স্টুডিওতে আসে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক ব্যক্তি। বিশেষ করে বিদেশ বা অফিস আদালত ও স্কুল কলেজে ভর্তির জন্য ছবি তুলতে আসেন তারা। ফার্মগেটে আগে পাশাপাশি প্রায় ১০ থেকে ১২টা স্টুডিও ছিল।
এখন আছে মাত্র ৫ থেকে ৬টা। আমাদের স্টুডিও বন্ধ হওয়ার পথে। এখন শেয়ারে প্লট ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কতদিন চলবে তাও বলা যাচ্ছে না। ব্যবসার অবস্থা এতটাই খারাপ যাচ্ছে যে দুজন কর্মচারীকে মালিক মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫শ’ টাকার কাজ হয়। রমজান মাস থেকে শুরু করে ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত দৈনিক ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার কাজ হয়। একটা সময় ছিল যখন প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার কাজ হতো। এখন যেন সবই অতীত।
ফার্মগেটের ডিজিটাল কালার ল্যাবের স্বত্বাধিকার নোমান মুন্সি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের দিকে স্টুডিওর বাজার ছিল খুবই জমজমাট। তখন আমরা ছোট থাকলেও বাবাকে দেখতাম স্টুডিও থেকে বের হওয়ার সময় পেতেন না। সে সময় কম করে হলেও দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার কাজ হতো। এখন সেটা ৩ থেকে ৫ হাজারে নেমে আসছে। কারণ আগে মানুষ জন্মদিন থেকে শুরু করে যে কোনো অনুষ্ঠানেই ল্যাবে চলে আসতো। এমনকি ল্যাব থেকে ক্যামেরা ভাড়া নিতেন। এখন মানুষ বাসায়, রাস্তায়, পথে ঘাটে যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশি মতো মুঠো ফোনে ছবি তোলে।
তাছাড়া এখন আর মানুষ ল্যাবে ছবি প্রিন্ট করার প্রয়োজন মনে করে না। ফার্মগেটে কোনো এক সময় ৯ থেকে ১০টা ল্যাব ছিল। এখন আছে মাত্র দুই থেকে তিনটা। পাশাপাশি প্রিন্টার মেশিন সহজলভ্য হওয়ায় মহল্লায় মহল্লায় দোকান খুলে বসেছে অনেকেই। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ছবির কাজ প্রিন্টারের দোকানগুলোতে সেরে নেয়।
জনতা স্টুডিও কালার ল্যাবের কর্মচারী ইমদাদ বাদশা বলেন, স্টুডিও ব্যবসার উত্থান-পতন দুটোই দেখেছি। আগে এমন একটা সময় ছিল যখন গলা থেকে ক্যামেরা নামানোর সময় সুযোগ কোনোটাই পেতাম না।
তখন দৈনিক ১ থেকে দেড়শটি স্ন্যাপ নিতে হতো। এখন ১০ থেকে ২০টি স্ন্যাপে নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার কাজ হতো এখন সেখানে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার কাজ হয়। আগে পুরো মার্কেটিই ছিল স্টুডিও ল্যাব। এখন হাতে গোনা ২ থেকে ৩টি স্টুডিও আছে। ল্যাব আছে মাত্র একটি। তিনি বলেন, এ ব্যবসা আগের মতো আর জমজমাট হবে না। বরং যতদিন যাবে ততো কমতে থাকবে। আগে ক্যামেরার রিল কিনে কুল কিনারা পাওয়া যেত না। এখন সারাদিন ১০ থেকে ১৫টি ছবি তোলা যায় না। স্টুডিওতে ছবি তুললেও অনেকে সঙ্গে পেন ড্রাইভে বা মেমোরি কার্ডে নিয়ে যাচ্ছেন সেই ছবি। নিজেদের পছন্দ মতো এডিট করে নিচ্ছেন। বিষয়টিকে একদিকে যেমন ডিজিটাল ফটোগ্রাফির সুবিধা বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, এতে ছবির মানের বেশ ফারাক ঘটছে।
পান্থপথের উর্বশি স্টুডিওর কর্মচারী সোহাগ বলেন, এখন তো কেউ আর ফুল ছবি তোলে না। ফোনেই সবাই ছবি তুলে জমা রাখে। অতিরিক্ত ছবি বিলাসিরা মাঝে মধ্যে দুই চারটা ছবি স্টুডিও ল্যাব থেকে প্রিন্ট করে নেয়।
অথচ আগে স্টুডিও চলতো ফুল ছবির কারণে। এখন সারা বছর জুড়ে ৩০ থেকে ৪০টি ফুল সাইজের ছবি তোলে মানুষ জন। এখন বলতে গেলে আমাদের ক্যামেরার রিলে জং ধরতে বসেছে। একটা সময় স্টুডিও নামটি নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্পে পরিণত হবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন ফটোকপির দোকানগুলোতে প্রিন্টিং মেশিন থাকায় কেউ স্টুডিওতে আসতে চায় না। তাছাড়া ফটোকপির দোকানগুলোতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ১ পেজে ২০টি ছবি একসঙ্গে প্রিন্ট দিয়ে বিক্রি করে। মানের দিক থেকে যেগুলো খুবই খারাপ।
অথচ কাস্টমাররা সেটা বুঝতে চায় না। তারা আমাদের স্টুডিওতে এসে যখন ৬ কপি ছবির দাম ১২০ টাকা শোনেন তখন তারা অনেকটা বিরক্তি নিয়ে চলে যায়। তাছাড়া এখন অনেকের বাসায় প্রিন্টার রয়েছে। তারা নিজেদের প্রয়োজনমতো ছবি প্রিন্ট দিয়ে নিতে পারে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বলা যায় ভবিষ্যতে স্টুডিও ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যবসার অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। কেউ কেউ এরইমধ্যে ফটো স্টুডিও গুটিয়ে অন্য ব্যবসায় নেমেছেন।
কেউ কেউ বলেছেন, এই কাজটিই শখ করে শিখেছিলেন। তাই নানা অনিশ্চয়তা আর টানাপড়েন নিয়েও ছাড়তে পারছেন না। কিন্তু ভবিষ্যতের দিনগুলোর বিষয়েও খুব একটা আশাবাদীও হতে পারছেন না তারা। সাদাকালো ছবির সময় শেষ হয়েছে আগেই। এখন আর কারও বাসায় মা-বাবা কিংবা পরিবারের বর্ষীয়ান সদস্যদের বাঁধানো ছবি খুব একটা চোখে পড়ে না। সবাই তো মোবাইল, কম্পিউটারে আপলোড করে রাখে। কিন্তু সেই ছবির যে আবেগ ও প্রাণ ছিল এখনকার ছবির মধ্যে তা কি খুঁজে পাওয়া যায়?

বছরে ৮০ হাজার মৃত্যু, ৫২,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি

বছরে বাংলাদেশের মানুষের মোট মৃত্যুর ২৮ ভাগই মারা যাচ্ছেন পরিবেশ দূষণজনিত নানা রোগে। এটি সারা বিশ্বে এধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৫ সালে পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে মোট ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকায় ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর শহরাঞ্চলে নানা দূষণের কারণে বছরে আর্থিক  ক্ষতি হচ্ছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত শহরাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ অবস্থায় কার্যকর নীতি ও আইনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ঠেকানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের পরিবেশগত সমীক্ষা-২০১৮’র প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খান, বিশ্বব্যাংকের প্রোগ্রাম লিডার সঞ্জয় শ্রীবাস্তব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার একটি বাংলাদেশ। বলা হয়, ৭ থেকে ৮ প্রবৃদ্ধির একটি উচ্চতর মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশকে এখনই, বিশেষ করে শহর এলাকায় দূষণ রোধ করতে ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা বলছে, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণজনিত কারণে বাংলাদেশে যেখানে ২৮ শতাংশ মৃত্যু হয় সেখানে মালদ্বীপে এই হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতে ২৬ দশমিক ৫। পাকিস্তানে ২২ দশমিক ২। আফগানিস্তানে ২০ দশমিক ৬। শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৭।
বিশ্বব্যাংক বলছে, দূষণের কারণে বাংলাদেশের বছরে ৬৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়, যা মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার বলেন, নগরাঞ্চলে দূষণ ও পরিবেশের অবনতি হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। এর ফলে দেশটির ভালো প্রবৃদ্ধিও এখন হুমকির মুখে। এজন্য বিশ্বব্যাংক জলাভূমি দখল, ক্ষতিকর বর্জ্য ঠিকমতো না ফেলা ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়েছে। আর এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে নারী, শিশু এবং দরিদ্র মানুষের।
বিশ্বব্যাংকের হিসেবে যে গার্মেন্ট খাত থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সেই খাত থেকেই প্রতি বছর ২৮ লাখ টনেরও বেশি বর্জ্য তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র, সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশসহ স্নায়ুজনিত ক্ষতি হতে পারে। গবেষণাটি বলছে, এর ফলে নারীর গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্মদানের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বলা হচ্ছে, বৃহত্তর ঢাকার যেসব এলাকা ভারী ধাতবের কারণে দূষিত সেখানে সাধারণত দরিদ্র মানুষেরাই বসবাস করে। গবেষণায় বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ, সুপেয় পানির অপর্যাপ্ততা, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি, খাবার পানিতে আর্সেনিক ও পেশাগত কারণে সৃষ্ট দূষণে মানুষের জীবন থেকে ২০ লাখ ২৬ হাজার বছর সমপরিমাণ সময় হারিয়ে গেছে।
ঢাকা শহরে যতো জলাভূমি ছিল গত ৪০ বছরে তার ৭৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে। এসব জলাভূমি ভরাট করে সেখানে বাড়িঘর তোলার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ছোট ছোট শহরগুলোও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে শহরটির বাসিন্দাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার বছরের সমপরিমাণ সময়। গত ৪০ বছরে নগরায়ন এবং শিল্পায়নের কারণে রাজধানী ঢাকা ৭৫ শতাংশ জলাভূমি হারিয়েছে। বিপরীতে নানা ধরনের দূষণের শিকার ঢাকা, যার বেশিরভাগই হচ্ছে আশেপাশের এলাকার ইট ভাটার কারণে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ভালো নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দূষণ কমাতে চায় সরকার। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে আমরা নানা দূষণের শিকার। ইটভাটাসহ বেশকিছু বিষয়ে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যা পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাবে বলে আমরা আশা করছি।
পরিবেশ দূষণে সেন্টমার্টিন তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারাতে বসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হবে। সব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে দখলকৃত সব জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৬০০ মামলা করা হয়েছে, যেগুলো চলমান।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সামনের সংসদ অধিবেশনে নতুন পরিবেশ আইন উঠছে। তাছাড়া, গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো যেন নদী দূষণ করতে না পারে, এজন্য নজরদারি হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পদ্মার পাড়জুড়ে হাহাকার, আরো ২০ বাড়ি বিলীন by শেখ খলিলুর রহমান

নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। শনিবার সকাল থেকে শুরু করে রোববার বিকাল পর্যন্ত ২০টি পাকা বাড়ি ও  সেমিপাকা টিনের ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার পাড়জুড়ে চলছে মানুষের হাহাকার। সবকিছু হারিয়ে মানুষের মাথাগোঁজার ঠাঁই নাই।
কান্নায় গোটা এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। শনিবার বিকালের পর ভাঙনের তীব্রতা কমলেও যেকোনো মুহূর্তে রাক্ষসী পদ্মা ভয়াল রূপ ধারণ করতে পারে। এ আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে ছোটাছুটি করছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে বেশির ভাগ মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। থাকছে অনাহারে-অর্ধাহারে। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন, কেউবা ঢাকাও চলে গেছেন। সরকারি ত্রাণ তুলনামূলক অনেক কম।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। ত্রাণ আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করে দেবো। প্রায় ২/৩ মাস ধরে পদ্মা নদী ভাঙছে। তিনটি ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ২ ও ৪ নং ওয়ার্ড পদ্মার স্রোতের টানে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচরের ইশ্বরকাঠি, শেহের আলী মাদবরকান্দি, পাচুখাঁরকান্দি, চর জাজিরা, সাহেবের চর, চর জুজিরা, ওয়াপদা, সাধুর বাজার, বাসতলা, পূর্ব নড়িয়া, মুলফৎগঞ্জবাজার, গাজী কালুর বাড়ি, লাইফ কেয়ার ক্লিনিক, হেলথ কেয়ার, নড়িয়া ৫০ শয্যা হাসপাতাল, লস্করদের বাগানবাড়ী, দাসপাড়া, ঘোষপাড়া, শ্রী শ্রী সত্য রাম মন্দির, দাসপাড়া কালীমন্দির ও চণ্ডিপুর। এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন ঘরবাড়ি, গাছপালা ও কাঠ গাছের বাগান, ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
দুইদিনে নড়িয়া উপজেলার  চর জুজিরা, কেদারপুর, বাসতলা, বাগানবাড়ী, উত্তর কেদারপুর এলাকার হুমায়ুন কবির বেপারি, সোহেল দেওয়ান, আলী আকবর. সফিক, মনির সরদার, সুকুমার রায়, দুলাল হাওলাদার, সবুজ, রাজ্জক, মফেজ, মকবুল জসিম, আমির হোসেন, আরিফ দেওয়ান, হাবিব, নুরু ঢালী, ইদ্রিস মৌলভী, গিয়াস মোড়লসহ এরকম অনেকের ঘরবাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে খাদ্য গুদাম, পোস্ট অফিস, মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৯টি দোকান, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, সুরেশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা  ইত্যাদি।
শরীয়তপুর জেলা প্রতিবন্ধী আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির বলেন- আমার ৪ কাঠা জমির উপর বাড়ি ছিল। পদ্মা নদী আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। আমি এখন গাছতলায় থাকি। আমার তো কিছু রইলো না। পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার জন্য কষ্ট করে সেমিপাকা ঘর করেছিলাম। বাড়িঘর সবই পদ্মায় নিয়ে গেল।
আমার তো এখন মাথাগোঁজার ঠাঁই নাই। পদ্মা নদী ভাঙন এলাকায় গতকাল দুপুরে পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেছেন- আগামী সোমবারের মধ্যে পদ্মা নদীর ড্রেজিং কাজ চলবে এবং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করতে পারবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন, শরীয়তপুর জেলার পানি উন্নয়ন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।