Sunday, May 22, 2016

এবার ‘দিল্লি দখল’ মিশন মমতার

টানা দ্বিতীয়বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এবার দিল্লি দখলের মিশন বাস্তবায়ন করতে চান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিভিন্ন রাজ্যের শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর সমন্বয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ে তুলতে চান তিনি। প্রস্তাবিত এই ফেডারেল ফ্রন্ট জাতীয় পর্যায়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের বিকল্প তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মমতা বারবার জানিয়েছেন, ২০১৬ নির্বাচনে বড় জয় পেলে ২০১৯ সালে তিনি দিল্লি দখলের পদক্ষেপ নেবেন। এখন পশ্চিমবঙ্গের বাম-কংগ্রেস জোটকে ধরাশয়ী করে নিরংকুশ জয় পেয়েছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে মমতা ১৮৪ আসন পেয়েছিলেন, এবার সেখানে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন ২১১ আসন। এই অভাবিত সাফল্যের পর দিল্লি দখল মিশন পূরণে আরও চাঙ্গা হবেন তিনি। সেই উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়নে প্রাদেশিক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত মমতা। পশ্চিমবঙ্গের ‘দিদি’ মমতা তার দিল্লি দখল মিশন নিয়ে বেশ বিনয়ী কথা বলছেন। বৃহস্পতিবার নিউজ ১৮-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন,
আমি একজন এলআইপি-লেস ইমপর্টেন্ট পারসন (নগণ্য মানুষ)। আমি নিজেকে সাধারণ মনে করি। আমি কোনো বড় ভূমিকা রাখতে পারি না। তবে ছোট মানুষরা ছোট ছোট ভূমিকা রাখে। আর আমি এই কাজের জন্যই প্রস্তুত। মমতা আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য ফেডারেল ফ্রন্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাজ্যে রাজ্যে অনেক আঞ্চলিক দল রয়েছে। তারা একত্রিত হতে পারে। তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি তাদের পেছনে থেকেও এ কাজ করতে পারব। পরে এনডিটিভির সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎকারে মমতা প্রাদেশিক দলগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দেন। ভারতের রাজ্যে রাজ্যে তার অনেক বন্ধু রয়েছে বলে জানান তিনি। মমতা বলেন, আমার অনেক বন্ধু রয়েছে। আমরা একসঙ্গে বসতে পারি, আলোচনা করতে পারি। চন্দ্র বাবু আমার বন্ধু, তেলেঙ্গানা বন্ধু, অরবিন্দ কেজরিওয়ালও অবশ্যই আমার বন্ধু। আমি নবীন পাটনায়েকের সঙ্গে কথা বলতে পারি। জয়ললিতা, মায়াবতী, মুলায়েমজি, লালুজি, নীতিশ কুমারজি কারও সঙ্গে বসতে আমার সমস্যা নেই। ভারতের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থান নিয়ে আগেও একটু আধটু আলোচনা ছিল। সাম্প্রতিক পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নতুন কিছু সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। আসামে কংগ্রেসকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে সক্ষম হয়েছে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। তাদের এই জয় কেবল তরুণ গগৈর আধিপত্যের অবসান নয়, বরং বাম-কংগ্রেসের দ্বিমেরু দুর্গের ওপর আঘাত। এখন কেরালা এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি দলীয় খাতা খুলতে পেরেছে। এখন বিজেপির উত্থান ঠেকাতে বিকল্প হিসেবে বহু রাজনৈতিক দল এক ছাতার নিচে আসতে পারে। এই সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে বৃহত্তর দল কংগ্রেসের দ্রুত অবনতির কারণে। অন্যথায় ভারতের স্বাধীনতা আদায়কারী দল হিসেবে কংগ্রেস একটা ভারসাম্য হিসেবে কাজ করছিল। তৃতীয় শক্তি হিসেবে ফেডারেল ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
কেননা বহু প্রকার রাজনৈতিক শ্রেণীবিন্যাস ও নানা মতাদর্শিক সমন্বয় সাধনের প্রয়োজন হবে। আর এই কঠিন পর্বতময় পথের কথা মাথায় রেখে মমতা ব্যানার্জি নিজেকে নেতা হিসেবে সামনে উপস্থাপন করেনি। কিন্তু এবারের পশ্চিমবঙ্গে একচেটিয়া বিজয়ের পর মমতার সেনানায়করা প্রকাশ্যেই তাকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা বলা শুরু করেছেন, ২০১৯ সালে দিদিকেই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও এমপি দেরেক ব্রেইন বলেছেন, বাংলায় ভোটের ফল মমতাদিকে রাজনৈতিক অমরত্ব দিয়েছে। তিনি কোনো পদের জন্য লালায়িত নন, কিন্তু তিনিই ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কোনোকিছুই উড়িয়ে দেয়া যায় না। এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, কলকাতা থেকে মাত্র দু’ঘণ্টায় দিল্লি যাওয়া যায়। এর আগেই আমরা দিল্লি দখল করতে পারি। রাজ্যের শিল্প ও অর্থমন্ত্রী অরুণ মিত্র বলেছেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে এখন নতুন প্যারাডাইম। নতুন ছন্দ ও নীতি বিজয়ীরাই ৈৈতরি করবে, পরাজিতরা নয়। তাই আঞ্চলিক দলগুলো বড় ম্যান্ডেট পেয়েছে এবং তারা দিল্লি অভিযানে প্রস্তুত। আর ২০১৯ সালে মমতাকেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ তিনিই একমাত্র নেতা যিনি একইসঙ্গে বিজেপি-কংগ্রেস-বাম ধরাশয়ী করেছেন। এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, এমন জগাখিচুড়ি জোট দিয়ে ভালো কিছু করা যায় না। আঞ্চলিক দলগুলোর এক হওয়া একটা তত্ত্বগত বিষয়। এ ধরনের তৃতীয় শক্তির চিন্তা আগেও হয়েছে আর তা ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। ভারত যদি এমন জোটের অভিজ্ঞতার ভেতরে যায়, তবে তা বিপর্যয়কর হবে। জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতাসীনরা যাই বলুক, মমতার এই দিল্লি দখল মিশনে নতুন কিছু আসতে পারে। তৃতীয় শক্তির ফেডারেল ফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত কোনো চমক দেখাতে পারবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

আগ্নেয়াস্ত্রসহ হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা একজন গুলিবিদ্ধ

হোয়াইট হাউস এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করায় এক ব্যক্তিকে গুলি করেছেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় সময় শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। পেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ সময় গলফ খেলার জন্য হোয়াইট হাউসের বাইরে মেরিল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভবনটিতে ওই সময় অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনার পর দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে নিয়ে ভবনটি সুরক্ষিত করা হয়। অবশ্য এ সময় ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা এবং তাদের দুই মেয়ে হোয়াইট হাউসে ছিলেন কি-না সে সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। গুরুতর আহত ওই বন্দুকধারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,
শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা চৌকির সামনে দিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করে ভবনের দিকে যাচ্ছিল ওই ব্যক্তি। এ সময় বাহিনীর একজন সদস্য ওই ব্যক্তিকে থামতে বলেন এবং অস্ত্র ফেলে দেয়ার আদেশ দেন। তবে ওই ব্যক্তি এ নির্দেশ অগ্রাহ্য করেন। তখন দ্রুত ওই ব্যক্তিকে গুলি করেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। পরে তাকে বাহিনীর হেফাজতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টেক্সাস থেকে আসা প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটক ব্রেট পলিভকার বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রুপালি রঙের একটি অস্ত্র হোয়াইট হাউসের বাগানের দিকে তাক করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

ঊষার টানা তৃতীয় জয়

প্রিমিয়ার লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঊষা ক্রীড়া চক্র। জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটার আর বিদেশী খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়ে জায়ান্ট হয়ে ওঠেছে ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবও। তাই নিঃসন্দেহে এ দু’দলের মুখোমুখি মানেই বড় ম্যাচ। তবে জিতেছে কিন্তু ঊষাই। শনিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঢাকা মেরিনার ইয়াংসকে ৪-১ গোলে হারায় ঊষা ক্রীড়া চক্র। ফলে প্রথমবারের মতো হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেরিনার ইয়াংস। দিনের অন্য ম্যাচে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবও একই ব্যবধানে (৪-১ গোল) হারায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে। আগে দেশী খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করলেও দু’দিন আগেই পাঁচ পাকিস্তানিকে পেয়েছে ঊষা। তাই তাদের শক্তিও বেড়েছে। ম্যাচের মধ্যেই তা স্পষ্ট। ঊষার হয়ে মাঠে যখন খেলেছেন পাঁচ পাকিস্তনি আলিম বেলাল, মো. ইরফান, আলি শান, সেজদ কাশিফ ও আশফাক নেওয়াজ, তখন মেরিনার ইয়াংসের হয়ে মাঠে ছিলেন একমাত্র বিদেশী কেনিয়ান ওকিয়ো। শক্তির ভারসাম্যে তাই অনেকটাই পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামে মেরিনার, শক্তির তারতম্যাটা ধীরে প্রভাবিত করতে থাকে খেলার গতিকে। স্বাভাবিকভাবেই চালকের আসনে ছিল ঊষা। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে ঊষা। ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রথম গোল পায় ঊষা। কৃষ্ণ কুমারের পুশে আসা বল স্টপ করান সারওয়ার। সেই বলে ড্র্যাগ করেন পাকিস্তানি ডিফেন্ডার আলিম বেলাল।
মেরিনারের গোলকিপার মেহরাব হোসেন কিরণকে পরাস্ত করে বল ঠাঁই নেয় জালে (১-০)। ম্যাচে সমতা আনার চেষ্টায় যখন পুরো মনোনিবেশ করেছে মেরিনার্স, তখন দ্রুত গাতির একটি পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল করে এগিয়ে যায় ঊষা। একক নৈপুণ্যে এ গোলটি করেন পুস্কর খিসা মিমো। বাঁপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন মেরিনার্সের রক্ষণভাগ এলাকায়। ব্যাকলাইনের ওপর দিয়ে স্টিকের মোচড়ে বল নিয়ে চলে আসেন পোস্টের ফিট কয়েক দূরে। আলতো পুশ করেন। বল কিরণের প্যাডে লেগে অতিক্রম করে গোললাইন (২-০)। দ্বিতীয়ার্ধেও ঊষার আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৫৫ মিনিটে আলী শানের স্কয়ার পাসে ফাঁকা পোস্টে গোল করতে ব্যর্থ হন সারওয়ার। এর কিছুক্ষণ পর পুস্কর খিসা মিমো নিপ্পনকে একা পেয়েও বল মারেন তার প্যাডে। খেলার শেষদিকে ব্যবধান কমায় মেরিনার্স। ফজলে হোসেন রাব্বির পুশে বল স্টপ করান শিশির। ওই বলে নিচু ড্র্যাগ করেন আশরাফুল ইসলাম। জোরের ওপর নেয়া ড্র্যাগ কোনো সুযোগ দেয়নি নিপ্পনকে (১-২)। কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট থাকেনি ঊষা। ম্যাচের শেষ সারোয়ারের ফ্লিকে হাসান যুবায়ের নিলয়ের হিটে বল আছড়ে পড়ে গোলবোর্ডে (৩-১)। আর শেষ মিনিটে কৃষ্ণ কুমার হতোদ্যম মেরিনার্সের হারের কফিনেও শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন (৪-১)। এর ফলে টানা তিন ম্যাচ জিতল ঊষা।

ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গেই বাঁধনের ঘর-সংসার

আসন্ন ঈদের জন্য তারকাদের সিডিউল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে নির্মাতাদের। সব তারকাই ঈদ ঘিরে বস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু লাক্স তারকা বাঁধন হাঁটছেন স্রোতের বিপরীতে। ঈদের জন্য তিনি মাত্র দু-তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন। দায়িত্ববোধ থেকেই এর বেশি নাটকে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে চলতি সপ্তাহে তিনি নতুন দুটি ধারাবাহিক নাটক শুরু করেছেন।
গতকাল শুরু করেছেন মাইনুল ইসলাম খোকনের ‘আমি তুমি সে’ ধারাবাহিক নাটকের শুটিং। বলা যায়, ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গেই তার ঘর-সংসার। এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের ধারাবাহিকতা থাকে। সিডিউল মিলিয়ে চলতে হয়। এখানে অনেকের সঙ্গে আমার সিডিউল জড়িয়ে থাকে। তাই চাইলেও খণ্ডনাটক এবং টেলিফিল্মে সময় দিতে পারছি না। তবে ইচ্ছা আছে, বিশেষ দিনগুলোর জন্য কষ্ট করে হলেও সময় বের করে কাজ করব।’ এছাড়া বাঁধন অভিনীত লড়াই, ভাইরাস, রূপকথার নাও, মেঘের পরে মেঘ জমেছে’ ধারাবাহিক নাটকগুলো প্রচার চলছে। এছাড়া নতুন বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা গেছে সম্প্রতি। সর্বশেষ তিনি একটি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে উপস্থাপনার ব্যস্ততা।

শবে বরাতের আমল by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

মহান আল্লাহ তাআলা আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতদের জন্য ইবাদতের বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইবাদতের এই বিশেষ পাঁচটি রাত হলো: শবে জুমা বা জুমার রাত, শবে ঈদাইন বা দুই ঈদের রাত্রিদ্বয়, শবে বরাত বা মুক্তির রাত তথা নিসফ শাবান বা শাবান মাসের মধ্য রাত, শবে কদর বা কদরের রাত অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রজনী।
শবে বরাতের নফল নামাজ ও ইবাদত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। (ইবনে মাজাহ)। ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নামাজ। সুতরাং নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নফল নামাজ। প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য তাজা অজু বা নতুন অজু করা মোস্তাহাব। রাতের নিয়মিত নফল ইবাদতের মধ্যে রয়েছে; বাদ মাগরিব ছয় থেকে বিশ রাকাত আউওয়াবিন নামাজ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে; এসবের মাঝে কোনো মন্দ কথা না বলে, তার এই নামাজ ১২ বছরের ইবাদতের সমতুল্য গণ্য হবে। হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাকাত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। (তিরমিজি, মিশকাত, ফয়জুল কালাম, হাদিস: ৪৪৯-৪৫০)। রাতের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। (আল কোরআনুল করিম, পারা: ১৫, সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)। এ ছাড়া সালাতুস তাসবিহ এবং অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করা যায়। রজব শাবান মাসের রাতের নফল নামাজ তারাবিহ নামাজ বা কিয়ামুল লাইলের প্রস্তুতি।
মধ্য শাবানের নফল রোজা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত কর ও দিনে রোজা পালন কর। (সুনানে ইবনে মাজাহ)। এ ছাড়া প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের নফল রোজা তো রয়েছেই, যা আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পালন করেছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদও (সা.) পালন করতেন, যা মূলত সুন্নত। সুতরাং তিনটি রোজা রাখলেও শবে বরাতের রোজা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তা ছাড়া, মাসের প্রথম তারিখ, মধ্য তারিখ ও শেষ তারিখ নফল রোজা গুরুত্বপূর্ণ; শবে কদরের রোজা এর আওতায়ও পড়ে। সওমে দাউদি বা হজরত দাউদ (আ.)-এর পদ্ধতিতে এক দিন পর এক দিন রোজা পালন করলেও সর্বোপরি প্রতিটি বিজোড় তারিখ রোজা হয়; এবং শবে কদরের রোজার শামিল হয়ে যায়। সর্বোপরি রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের পর রজব ও শাবান মাসে বেশি নফল ইবাদত তথা নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন; শাবান মাসে কখনো ১০টি নফল রোজা, কখনো ২০টি নফল রোজা, কখনো আরও বেশি রাখতেন। রজব ও শাবান মাসের নফল রোজা রমজান মাসের রোজার প্রস্তুতি।
একটি রোজার মাসআলা
হাদিস শরিফে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা শরিফে হিজরতের পরে দেখতে পেলেন মদিনার ইহুদিরাও আশুরার একটি রোজা পালন করেন। তখন তিনি সাহাবিদের বললেন, আগামী বছর থেকে আমরা আশুরার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখব, ইনশা আল্লাহ! যাতে তাদের সঙ্গে মিল না হয়। তাই আশুরার রোজা অর্থাৎ মহররম মাসের দশম তারিখের রোজার সঙ্গে তার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখা মোস্তাহাব। শবে বরাতসহ বছরের অন্য নফল রোজাগুলো একটি রাখতে বাধা নেই; বরং এক দিন পর এক দিন রোজা রাখা হজরত দাউদ (আ.)-এর সুন্নত বা তরিকা; যা নফল রোজার ক্ষেত্রে উত্তম বলে বিবেচিত এবং সওমে দাউদি নামে পরিচিত। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজাও আলাদা আলাদা বা একত্রেও রাখা যায়।
শবে বরাত ও হালুয়া-রুটি
শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। হালুয়া আরবি শব্দ। অর্থ হলো মিষ্টি বা মিষ্টান্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি পছন্দ করতেন এ কথা সুবিদিত; তিনি গোশতও পছন্দ করতেন তাও অবিদিত নয়। যা-ই হোক শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত। দান-খয়রাত করা ও মানুষকে খাওয়ানো এক প্রকার ইবাদত। তবে এই দিন ও রাতকে হালুয়া-রুটিতে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি হালুয়া-রুটির ওপর ফতোয়া প্রদান করাও উচিত নয়।
যাদের গুনাহ ক্ষমা হবে না
হাদিস শরিফে আছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন, তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীকে ক্ষমা করবেন না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন। তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও হিংসাকারীকে ক্ষমা করবেন না। অহংকার পরিত্যাগ করুন; অহংকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (বায়হাকি, শুআবুল ইমান)।
গুনাহ মাফ পাওয়ার সহজ পথ
বান্দার হক বা সৃষ্টির পাওনা পরিশোধ করে দিন; আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করুন; মহান প্রভু আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। পিতা-মাতার হক আদায় করুন; আল্লাহ আপনার প্রতি করুণা করবেন। সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হোন; আল্লাহ আপনার প্রতি দয়ালু হবেন। আপনি সবাইকে ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। খাঁটি তওবা করুন; তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করুন; আল্লাহ ইস্তিগফারকারীকে পছন্দ করেন। (বুখারি ও মুসলিম)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক: আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
usmangonee9@gmail.com

এত বিভক্তি ভালো নয় : কে এ এস মুরশিদ by সোহরাব হাসান ও ফখরুল ইসলাম

কে এ এস মুরশিদ
বিআইডিএসের মহাপরিচালক খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ (কে এ এস মুরশিদ)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। কে এ এস মুরশিদ এর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কম্বোডিয়ায় কর্মরত ছিলেন। খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্য, ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান ও ফখরুল ইসলাম
প্রথম আলো :  আগামী ২ জুন সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে, তা থেকে আপনি কী প্রত্যাশা করেন?
কে এ এস মুরশিদ : এক বছরের বাজেট নিয়ে খুব বেশি আশা করা যায় না। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একে দেখতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে আমরা অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, প্রতিটি বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের রাজস্ব আয়ের হার নিচের দিকে। এমনকি নেপালের তুলনায়ও কম। রাজস্ব কম হলে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাও সীমিত থাকবে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ বাজেট থেকে খুব উপকৃত হবে, এমনটি আশা করা যায় না।
প্রথম আলো : নিম্নতম রাজস্ব আয়ের কারণ কি সরকারের নীতিগত দুর্বলতা, না মানুষের মধ্যে কর ফাঁকির প্রবণতা?
কে এ এস মুরশিদ : প্রশ্ন হলো কর বাড়ানোর পদ্ধতিটি কী হবে। দেশে শিল্পকারখানা বেড়েছে, সেখান থেকে রাজস্বও আসছে। কিন্তু এখনো আমাদের অনানুষ্ঠানিক খাত অনেক বড়। সে জন্যই পরোক্ষ কর চাপাতে হয়। বাজেট প্রণয়নে আমাদের কাঠামোগত দুর্বলতা আছে; প্রথমত, যথেষ্ট তথ্য নেই, আবার যেটুকু তথ্য আছে তার ওপর ভিত্তি করে করও খুব বেশি বাড়ানো হচ্ছে না। যেখানে সুশাসনের ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকে, সেখানে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা দুরূহ হয়ে পড়ে। আবারও এও সত্য যে গত ছয়-সাত বছরে রাজস্ব অনেক বেড়েছে।
প্রথম আলো : সম্প্রতি বিআইডিএস সেমিনারে আপনি অর্থনীতির যে পাঁচটি চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন, তা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
কে এ এস মুরশিদ : প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার অত্যন্ত বেশি। আছে সুশাসনের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সমস্যা। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ ও নব্য সন্ত্রাসবাদের বিস্তার। গতানুগতিকভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে না; করতে হবে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়েই। যেমন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমন করা যাবে না। কেউ পারেনি। সমতাভিত্তিক দেশ হিসেবে আমাদের যে শক্তি ছিল, তার সুফলটা আমরা নিতে পারিনি। এখন বিভেদই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম আলো : এই সমস্যা তো রাজনৈতিক?
কে এ এস মুরশিদ : শতভাগ রাজনৈতিক। আমাদের অর্থনীতি কিন্তু মোটামুটি ভালো অবস্থানে। ১৫-২০ বছর আগেও কেউ ভাবতে পারেননি বাংলাদেশ এই অবস্থায় এসে পৌঁছাবে। এই অসাধ্যসাধন তো দেশের মানুষই করেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আমাদের চাওয়াটা কী? আপনারা অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা না করুন, অন্তত বাধাগ্রস্ত করবেন না।
প্রথম আলো : সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইনক্লুসিভ বা সম্পৃক্তকরণ কি জরুরি নয়?
কে এ এস মুরশিদ : এত বিভক্তি ভালো নয়। যে ঐক্য নিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, দেশ গঠনে কেন তা কাজে লাগাতে পারব না? আমাদের সমস্যাগুলো আমাদেরই সমাধান করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ সেটি করে দেবে না।
প্রথম আলো : এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবেন?
কে এ এস মুরশিদ : রাজনৈতিক বিষয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে বলব, আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। বিশ্ববাজার আমাদের অনুকূলে। নিত্যপণ্যের দাম কমে আসছে। বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকে প্রচুর অর্থ পড়ে আছে। কিন্তু আমার মনে হয় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। রাজনীতিতেও একধরনের স্থিতিশীলতা এসেছে; যদিও তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো এখন ভালো অবস্থায়। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না হওয়ার কারণ দেখি না। আমার মনে হয় এর সুফল পেতে দু-এক বছর লাগবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনীতি নিজস্ব গতিতেই এগোবে। তারপরও ওই পাঁচটি চ্যালেঞ্জ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
প্রথম আলো :  বিনিয়োগ না হওয়ার কারণেই কি বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে?
কে এ এস মুরশিদ :  তারও কারণ অনিশ্চয়তা। এ ক্ষেত্রে সরকারের কাজ হলো এখানে যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ আছে, সেটি প্রমাণ করা। বিনিয়োগের সুরক্ষাও দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সুবিধা ও শতভাগ মুনাফার নিশ্চয়তা চান। কিন্তু পুঁজিবাদী-ব্যবস্থায় তো ঝুঁকি নিতে হবে।
প্রথম আলো :  অবকাঠামোগত সমস্যার সুরাহা কতটা হয়েছে? জ্বালানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি।
কে এ এস মুরশিদ :  এসব সমস্যা সত্ত্বেও শিল্পায়ন হয়েছে। বড় বিনিয়োগকারীরা সরকারের দিকে তাকিয়ে নেই। তাঁরা নিজস্ব বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট তৈরি করছেন। জ্বালানি সমস্যাও অনেকটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। গ্যাস নেই। এলএনজি আনার ব্যবস্থা হচ্ছে। সমস্যা হয় ছোট বিনিয়োগকারীদের।
প্রথম আলো :  আমাদের মুক্তবাজার কতটা মুক্ত? অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়?
কে এ এস মুরশিদ :  এটি হয়তো আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে হওয়ার কথা নয়। বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়াতে অনেক সময় আমদানি বন্ধের কথাও বলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
প্রথম আলো :  কৃষিতে আমাদের ব্যাপক সাফল্য রয়েছে। কিন্তু ইদানীং উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয় পণ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি কি সংকট বাড়াবে না?
কে এ এস মুরশিদ :  আমরা বোধ হয় অতি বেশি চাল উৎপাদন করছি। এতটা প্রয়োজন আছে কি না ভাবা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, মুক্তবাজারে পণ্যের দাম বাড়ানো কঠিন; ওএমএস ইত্যাদির মাধ্যমে কমানো হয়তো যায়। কৃষিপণ্যের দাম অনেক বছর ধরেই কমছে। নতুন প্রযুক্তি, হাইব্রিডও আসছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উৎ​পাদন খরচ কমানোর জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার ব্যবহার।
প্রথম আলো :  বাজেটে কারা লাভবান হয়?
কে এ এস মুরশিদ :  বাজেট নিয়ে দুটি কথা আছে। একটি হলো প্রক্রিয়া। আমার মতে, বাজেট অতিমাত্রায় স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা প্রভাবিত। অর্থমন্ত্রী সবার কথা শুনে বাজেট তৈরি করার চেষ্টা করেন। তারপরও নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন তেমন হয় না। বাজেটে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবই বেশি থেকে যায়।
প্রথম আলো :  পূর্ববর্তী সরকারের বাজেটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বাজেট প্রক্রিয়ায় কোনো ফারাক আছে কি?
কে এ এস মুরশিদ :  আমার মনে হয় একই ধারায় চলছে। আরও দুশ্চিন্তার কারণ হলো একই গোষ্ঠী ক্ষমতার সঙ্গে আছে, আবার ক্ষমতার বাইরেও আছে। তারাই দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অবস্থায় বৃহত্তর জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে বাজেট-প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ গবেষণাভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত (ইনপুট) থাকা উচিত। বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাও এ কাজটি করতে পারেন।
প্রথম আলো :  বিআইডিএস তো কাজটি করতে পারে।
কে এ এস মুরশিদ :  করতে পারে। তবে কেবল বিআইডিএস নয়। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান মিলে এই কাজটি করতে পারে, যাতে সরকার অর্থনীতির একটি সার্বিক চিত্র পেতে পারে।
প্রথম আলো :  বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফও তো গবেষণা করে থাকে?
কে এ এস মুরশিদ :  হ্যাঁ, করে থাকে। এদের বিক্ষিপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়েই একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করানো হয়। কিন্তু বাজেটে অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ দরকার। যাঁরা দেশের কর্ণধার, তাঁরাই সেটি ঠিক করেন।
প্রথম আলো :  আমরা দেখছি কোনো বছরের বাজেটে কৃষি, কোনো বছর শিক্ষা, কোনো বছর অবকাঠামো বা জ্বালানি-বিদ্যুৎ অগ্রাধিকার পায়? কিসের ভিত্তিতে এসব করা হয়?
কে এ এস মুরশিদ :  মনে হচ্ছে এসব অস্থায়ী বা অ্যাডহক ভিত্তিতে হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি যথার্থ নয়। গতবার এত বরাদ্দ ছিল, এবার এই পরিমাণ বাড়ানো হোক। কিন্তু এই পদ্ধতিতে আমি সন্তুষ্ট নই। বাজেটের আকার সমস্যা নয়। আমাদের বাজেটে ঘাটতি খুব কম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমার যদি বড় বাজেট করার বা বাস্তবায়নের সক্ষমতা না থাকে তাহলে কেন আমি সেটা করব? বাজেটের আকার কত হলো, তার চেয়ে জরুরি হলো কত বড় বাজেট আমি সামাল দিতে পারব, বাস্তবায়ন করতে পারব।
প্রথম আলো :  এ ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?
কে এ এস মুরশিদ :  আমাদের পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। প্রথমত, সিদ্ধান্তটি সময়মতো নিতে পারছি কি না। দ্বিতীয়ত, বরাদ্দটি সময়মতো ছাড় করাতে পারছি কি না? অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতনরা কীভাবে নেবেন। ফলে আমলাতন্ত্র দায় নিতে চায় না।
প্রথম আলো :  চ্যালেঞ্জ হিসেবে শিক্ষিত বেকারের কথা বলেছিলেন। এর কারণ কি আমাদের শিক্ষা চাহিদা মেটাতে অক্ষম?
কে এ এস মুরশিদ :  আমাদের অর্থনীতির গতিশীল খাতগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। এসব খাতে প্রচুর দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেটি সরবরাহ দিতে পারছি না। যে কারণে বছরে পাঁচ কোটি ডলার চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প খাতেও দক্ষ জনবলের অভাবে আছে। প্রশ্ন হলো সেটি তৈরি করবে কে? বেসরকারি খাত মনে করে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়। এখানে প্রয়োজন একটি শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্তি তৈরি করা। সেখানে কার কী প্রয়োজন এবং কে কী দিতে পারবে, সেটি চিহ্নিত করা হবে। সেদিন আমাদের সেমিনারে একজন শিল্পপতি বললেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৫০০ জন হিসাবরক্ষণ বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। দেশে পান না বলে বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। এ রকম অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই রয়েছে। আগে চাকরির সংস্থান ছিল না। এখানে চাকরির সংস্থান থাকলেও আমরা তার জোগান দিতে পারছি না। অথচ দেশে অনেক শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। এটি যেমন পরিবারের, তেমনি দেশের বিশাল অপচয়।
প্রথম আলো : ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা সম্পর্কে কী বলবেন?
কে এ এস মুরশিদ : একধরনের আস্থার সংকট আছে। কিন্তু আমার ধারণা এটি কেটে যাবে। আর ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে নয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও অনিয়ম রয়েছে।
প্রথম আলো :  এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকির কাজটি কি ঠিকমতো করতে পারছে?
কে এ এস মুরশিদ : তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের ক্ষমতাও সীমিত। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ তেমন নেই। আমার মনে হয় ইচ্ছে করেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটিই হয়তো আমাদের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অঙ্গ। অর্থনীতির প্রাথমিক স্তরে সব দেশেই এটি কমবেশি হয়ে থাকে।
প্রথম আলো :  তার মানে আমরা এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়ে গেছি?
কে এ এস মুরশিদ : আমরা প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে গিয়েছি। কিন্তু এখ​েনা অনেক কিছু করার আছে।
প্রথম আলো : প্রতিবছর বাজেটের আগে প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক হয়। সরকার একটা বলে, দাতারা আরেকটা বলে।
কে এ এস মুরশিদ : বিতর্ক হওয়া তো ভালো। বিতর্ক হলে সব পক্ষ সতর্ক থাকে। আমাকে প্রশ্ন করতেই হবে। এবং সরকারকে তা শুনতেও হবে।
প্রথম আলো : সরকার সব সময় প্রশ্ন শুনতে চায় কি?
কে এ এস মুরশিদ : সব সময় চায় না। কিন্তু শোনে। বিআইডিএসের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সব সময় আমরা সত্য কথাটি বলার চেষ্টা করেছি। কোনো সময় সরকার খুশি হয়েছে, কোনো সময় হয়নি। কিন্তু এই বলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি। এ নিয়ে বিপত্তি ঘটেনি। অর্থনৈতিক আলোচনায় এই সহনশীলতাটা আছে।
প্রথম আলো : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
কে এ এস মুরশিদ : আপনাকেও ধন্যবাদ।

নদীকূলে ডাকাত, সাধু ও কয়েকজন চরুয়া মানুষ

চরের গায়ে নোঙর করা ভাসমান হাসপাতাল
ডাকাতের নৌকা
‘এদিকে তো আগে ডাকাতি হতো, এখন হয়?’
‘আমরা ডাকাতি করি না, কিন্তু ডাকাতের নৌকা চিনি। ওই ঘাটেই তো ছিল কয়েকটা।’ কথাটা শুনে একটু ভয়ই হলো। এই নৌকাও যে তাদের না, তা কী করে বুঝব? বগুড়া শহরের পূর্বে সারিয়াকান্দি। একসময় খুব ভাঙত। হয়তো নদীভাঙা মানুষদেরই কেউ কেউ ডাকাতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছিল। যমুনার ডাকাতেরা বেশ জবরদস্ত। গত বছর সাপধরী ইউনিয়নে ডাকাতির সময় তিনজনকে গুলি করে। তার আগের বছর চরবাটিয়ার সাতটি বাড়ি থেকে ২৮টি গরু ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়। আহত হয় সাতজন। প্রায় ১০ বছর আগে এক শীতের সন্ধ্যায় এই ঘাট থেকে এ রকমই এক নৌকায় উঠে বসেছিলাম। দুই মাঝির নৌকা। একজনের নাম শিকারু আরেকজন নাহারুল। যমুনার চরে পাখি শিকারে দক্ষ বলে তার নাম হয়েছে শিকারু। গলুইয়ে বসে তারা তামাক বানাচ্ছিল। সেদিনও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘এই নদীতে ডাকাতি হয়?’ 
‘হয় তো, সেদিনকাই হলো।’
‘কারা করে?’
‘হামরাই করি, হামাকের ভাইরা করে।’
আঁতকে ওঠার মতো কথা! শিকারু তবু অভয় দেয়, ‘হামাকের নৌকাত উঠলে আর ভয় নাই।’ এই মে মাসের দুপুরে খাঁ খাঁ রোদ কালিতলা ঘাটে। অন্তত পঞ্চাশটা বড় বড় নৌকা ভিড়ে আছে। এর মধ্যে কোনটা ডাকাতের আর কোনটা সাধারণ, বোঝার উপায় নেই। কিন্তু নদীর মাঝখানে যখন চলে এসেছি, তখন আর ভয় করে কী লাভ? আমরা তখন ডাকাত উপদ্রুত সেই চরবাটিয়াকে পাশ কাটিয়ে আরও সামনে যাচ্ছি।
চরে ঠেকা লাল জাহাজ
যমুনার মাঝ বরাবর প্রায় বিশ মিনিট যাওয়ার পর নতুন জাগা এক চর পেলাম। পুরো চরে ঘাস আর কিছু চরুয়া পাখি ছাড়া কিছু নেই। মাঝি পূর্ব দিকে নদীর ওপারে দূরের কালো রেখার দিকে আঙুল দিয়ে বললেন, ‘ওইটা মাদারগঞ্জ, জামালপুর জেলা।’ আঠারো শতকে এ অঞ্চলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ হয়। সে সময় এক দুর্গম চরে শাহ্ মাদার নামে একজন ধর্ম প্রচারক আস্তানা গাড়েন। তাঁর শিষ্যদেরই বলে মাদারি ফকির। মাদারি ফকিরেরা বিদ্রোহের নেতা মজনু শাহর সাথি ছিলেন। এখনো বগুড়ার উত্তর এলাকায় ফকির-সন্ন্যাসীদের কোনো কোনো উত্তরাধিকারির দেখা মেলে। বাঁয়ে বড় এক চরের তীর ঘেঁষে লাল জাহাজ দেখে কৌতূহল হলো। মাঝিকে বললাম, চলেন দেখি। এর নাম চর গজারিয়া। আমাদের নৌকাটা ভিড়ল জাহাজটার গা ঘেঁষে। দুটি ছইঅলা ইঞ্জিননৌকা, বড় সাদা বোট, আর একটা হাউস বোট লম্বা জাহাজটার পাশে ভাসছে। এটা আসলে এক ভাসমান হাসপাতাল। জাহাজের মুখোমুখি চরের পাড়ে মুদি দোকান। সেখানেই পরিচয় তারা মিয়ার সঙ্গে। তারা মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইল। সাত মাস ধরে তাঁরা এই চরে ভিড়ে আছেন। পাড়ের ওপর অনেকগুলো টিনের ঘর। দুপুর পর্যন্ত সেসবে অনেক রোগী ছিলেন। হাসপাতালটা নদীতে ভাসমান হলেও দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন। ইউনিলিভার কোম্পানি লাইফবয় নামে এ রকম কয়েকটি ভাসমান হাসপাতাল চালায়। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে, সিরাজগঞ্জে, কুড়িগ্রামের রৌমারীর চরে আর গাইবান্ধায় একটা করে এ রকম জাহাজ ভাসছে। পরিচয় হলো এক নারী চিকিৎসাকর্মীর সঙ্গেও। বললেন, ‘থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে। ভালো লাগে না, কিন্তু চাকরি তো।’ দুপুরের খাবার সেরে ডাক্তার সাহেবরা গেছেন শহরে। তাঁদের সঙ্গে আর কথা হলো না। কথায় কথায় আবার উঠল ডাকাতের প্রসঙ্গ। তারা মিয়া বলছিলেন, ‘আমাদের এখানে কখনো কিছু হয় নাই। আমরা জনসেবা করি, তাই হয়তো কিছু বলে নাই।’ তাঁর কথা শেষ হতে না-হতেই কথা বললেন শাড়ি পরা এক নারী: ‘হামাকেরে আছেইবা কী, নিবিই বা কী?’ নাম তাঁর আইনুন নাহার। চরেই বাড়ি। ছেলে ঢাকায় কাজ করে, মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে সারিয়াকান্দিতে। একাই থাকেন আর দোকান চালান। বললেন, ‘যত দিন জাহাজ আছে তত দিন দোকান, তারপর আর নাই।’
নেপাল সাধুর রহস্যময় জগৎ
কালিতলা ঘাটে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। সারিয়াকান্দি বাজারের মধ্যে প্রাচীন এক দোতলা ভবন দেখে থামা হলো। তার তলায় চায়ের দোকান। অনেকের মধ্যে একটা মানুষ খুব আলাদা। লম্বা দাড়ি-গোঁফ, গায়ে মলিন ফিরোজা রঙের চাদর। হাতে কাঁসার ঘটি। দোকানের লোকেরাই তাঁর গল্পটা জানাল। নাম নেপাল সাধু। যমুনার জেলে ছিলেন কোনো কালে। একদা দেড়-দুই মণ ওজনের বাগাড় মাছ ধরতেন। আলতাব নামের এক ধান ব্যবসায়ীর মুখেই শোনা যাক বাকি গল্প: নদীত গ্যাছেন মাছ ধরবার। একদিন ওনাক নাকি নদী টান্যা নিছল। তো, নাই নাই নাই। তিন দিন পর উনি পানি থ্যাকা উট্যা আলেন। সাথে কাঁসার বাসনকোসন। কিন্তু কুনটি ছিল কী যে দেখছিল, সেটা আর কয় না। তারপর থাক্যা তাঁই আর নদীত যান না, কথাও কন না।’ তাঁকে বিরক্ত করার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু কৌতূহলের কাছে হার মানলাম: ‘আর মাছ ধরতে যান না ক্যান?’
বৃদ্ধ মানুষটি মাটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মুখ না তুলেই বললেন, ‘তা কব্যা পারমু না, হামাক মানা করছিল।’
: কে মানা করেছিল?
জবাব নেই। পাশ থেকে আলতাবই বললেন, ‘এতগুলান বছর গেল, কেউ ওনার মুখ থেকে এ্যার জবাব লিবার পারেনি ভাই।’ নেপাল সাধুর একটা থান আছে নদীর ধারে। সারা দিন তিনি আশপাশের গ্রামগুলোতে হেঁটে বেড়ান। যানবাহনে চড়েন না। ভক্তরা টাকাপয়সা কিছু দেয়। অনেক আগে তাঁর ৩২ বিঘা জমি দুই মুসলমান বর্গাচাষিকে দান করেছিলেন। তাঁর ছেলেরা এখনো মাছ ধরে। কখনো নদীর গভীরে তাদের জাল আটকে গেলে নেপাল সাধু প্রতিজ্ঞা ভাঙেন। আবার নদীতে নামেন। এক ডুবে একেবারে তলা থেকে জাল ছাড়িয়ে আনেন। এই বৃদ্ধ বয়সেও তাঁর মতো দম নাকি এলাকার কারোরই নেই। বসে আছি, বসেই আছি। একসময় সাধুর কি মনে হলো। অস্পষ্ট গলায় কী যেন বলছিলেন। কাছে ঘেঁষে শুনলাম: হামার পিঠত খামচা দিয়া লিয়া গেল পানির তলাত।
কে নিয়ে গেল?
উত্তরের বদলে পেলাম তাঁর ঘোলা চোখের জোরালো চাহনি। ওই চোখের ভাষা বোঝার ক্ষমতা আমার ছিল না। আমরা ফিরে আসছি অশান্ত শহরের দিকে। নেপাল সাধুও হয়তো এতক্ষণ বাড়ির পথে হাঁটা দিয়েছেন। সেখানে গাছতলায় বাঁধানো চত্বরে আগে গানের আসর বসত। বখাটেরা এসে নেশা করে বলে বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন একাই বসে থাকেন সন্ধ্যা হলে। কথা বলতে ব্যাকুল এই দুনিয়া। অথচ কত রহস্য বুকে নিয়ে নীরব এই মানুষটা! ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের উত্তরাধিকারি নেপাল সাধু হয়তো কাউকে কথা দিয়েছেন, কিন্তু কাকে?
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

সেলফির ভালো-মন্দ

যাঁরা নিয়মিত সেলফি তোলেন, তাঁরা নিজেদের সম্পর্কে অতিমূল্যায়ন করেন। অর্থাৎ আসলে যতটা আকর্ষণীয়, তার চেয়েও বেশি সুন্দর মনে করেন নিজেদের। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ কথা জানিয়েছেন। স্মার্টফোনের ক্যামেরায় নিজেই নিজের ছবি তোলার নাম সেলফি। সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমের বদৌলতে এখন এ রকম ছবির ছড়াছড়ি বিশ্বজুড়ে। নিজেদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কাজে সেলফি খুবই কার্যকর। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকেরা সেখানকার ১৯৮ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর একটি জরিপ চালান, যাঁদের ১০০ জন নিয়মিত সেলফি তোলেন। তাঁদের সবাইকে একটি করে সেলফি তুলতে বলেন গবেষকেরা, তারপর বলেন প্রতিটি ছবিকে মূল্যায়ন করতে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করলে সেই সেলফি অন্যরা কতটা পছন্দ করবে, সেটাও জিজ্ঞেস করা হয়। ওই ১৯৮ জনের বাইরে আরও ১৭৮ জনের কাছে ছবিগুলো সম্পর্কে নিরপেক্ষ মতামত চাওয়া হয়। এতে দেখা যায়, সেলফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। ছবিতে তাঁদের চেহারা অন্যদের চেয়ে পছন্দনীয় দেখায় বলে তাঁরা মত দেন। এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল রে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পারসোনালিটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, সেলফিপ্রিয় মানুষেরা সাধারণত নিজেদের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন। তাঁরা মনে করেন, সেলফিতে তাঁদের বেশি আকর্ষণীয় দেখায়—অন্য কারও তুলে দেওয়া ছবির চেয়ে। কিন্তু নিরপেক্ষ মতামত বলছে, এসব সেলফির চেয়ে অন্যদের তুলে দেওয়া ছবিতেই তাঁদের বেশি ভালো দেখায়।

শাহরুখের ডিনারে টিম কুক

টিম কুক ও শাহরুখ খান
ভারত সফরে গেছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। গত বুধবার রাতের খাবার বা ডিনারের আমন্ত্রণে সদলবলে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের বাড়িতে এক ভোজসভায়। অতিথি হিসেবে শাহরুখের আমন্ত্রণ রক্ষা করায় টিম কুককে ‘রকস্টার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রযুক্তিপ্রেমীখ্যাত শাহরুখ। শাহরুখের ভোজে টিম কুক ছাড়াও বলিউডের আরও অনেকে হাজির হন। এর মধ্যে রয়েছে বচ্চন পরিবারের অমিতাভ বচ্চন, জয়া, অভিষেক, ঐশ্বরিয়া ছাড়াও মাধুরী দীক্ষিত, আমির খান প্রমুখ। অতিথিদের ধন্যবাদ দিয়ে এক টুইটে শাহরুখ লিখেছেন, ‘সবাইকে আমন্ত্রণ রক্ষা করার এবং টিম কুক ও তাঁর টিমকে উষ্ণ ভালোবাসা দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। টিম কুক আপনি একজন রকস্টার।’

সিদ্ধান্তটাকে ভুল বললেন সালাউদ্দিন

বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করলেন
জাতীয় ফুটবল দলের চুক্তিভিত্তিক কোচ লোডভিক ডি
ক্রুইফ। কাল বাফুফে ভবনে l প্রথম আলো
ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়ে তৃতীয় মেয়াদে বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন, সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করবেন। কিন্তু ৩০ মের পর এখন পর্যন্ত বাফুফের নেওয়া সব সিদ্ধান্তই পশ্চাদমুখী। পেছনে হাঁটছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেই আগের মতোই জাতীয় দলের ক্যাম্প চলার সময় বন্ধ থাকছে সবকিছু। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেডারেশন কাপও। লিগ কমিটির নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে ভুল বললেন স্বয়ং বাফুফের সভাপতি। কাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিনের কণ্ঠে খুঁজে পাওয়া গেল আত্মসমালোচনা, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ওই সময় লিগ কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল।’ তবে জানিয়েছেন, আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে সাব-কমিটিগুলো গঠন করে ফেলবেন। এসব কমিটিতে পরিবর্তন আনারও আভাস দিয়েছেন তিনি। মিনি টার্ফ: ২০১৪ সাল থেকে সদস্যদেশগুলোকে মিনি টার্ফ দিচ্ছে এএফসি। নিজেদের ব্যর্থতায় এত দিন ওই টার্ফ আনতে পারেনি বাফুফে। এবার চারপাশের দেয়াল, নেট, মিনিপোস্টসহ দুটি টার্ফ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। একটি টার্ফ ফেনীতে স্থাপন করার চিন্তাভাবনা চলছে।

এফএ কাপের পরই ইউনাইটেডে মরিনহো

আজই ইউনাইটেডের দায়িত্ব পেতে পারেন মরিনহো। ফাইল ছবি।
হোসে মরিনহো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ঘিরে মৌসুমজুড়ে যে নাটক হলো, তা নিয়ে হয়তো একটা সোপ অপেরাও বানিয়ে ফেলা যাবে। একদিন খবর আসে মরিনহোই ইউনাইটেডের কোচ হয়ে আসছেন, তো পরের দিন শোনা যায়, ‘পালাবদল প্রক্রিয়া’ পূর্ণ করার জন্য আরও এক বছর সময় পাবেন লুই ফন গাল। মাঝে আবার শোনা গেল, মধ্যপন্থা ধরবে ইংলিশ ক্লাবটি, ফুটবল পরিচালক ও কোচ—দুই পদে ফন গাল ও মরিনহো একসঙ্গে কাজ করবেন। তবে স্প্যানিশ দৈনিক এএস জানাচ্ছে, আগের সব হিসেব-নিকেশ বাদ, আজকের এফএ কাপের ফাইনালই সোপ অপেরাটার শেষ পর্ব। জিতুক বা হারুক, মরিনহোকে কোচ করে আনার ঘোষণা আজই দিয়ে দিতে পারে ইউনাইটেড। গত ডিসেম্বরে চেলসি থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ‘বেকার’ বসে আছেন মরিনহো। কোনো ক্লাব তাঁকে চাকরির প্রস্তাব দেয়নি, এমন নয়। পর্তুগিজ কোচও আসলে ইউনাইটেডের কোচ হতেই বেশি আগ্রহী বলেই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইচ্ছেটা অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। এএস লিখেছে, ইউনাইটেডের নির্বাহী সহসভাপতি এড উডওয়ার্ডের সঙ্গে পর্তুগিজ কোচের অ্যাজেন্ট হোর্হে মেন্দেসের কথা হয়েছে। ৩ বছরের চুক্তিও হয়ে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী মৌসুমে মরিনহোর বেতন হবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো। ৫৩ বছর বয়সী কোচ চাকরির শর্ত হিসেবে নাকি এ-ও জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে ইউনাইটেডের দলে অনেক বদল আনতে হবে।  তবে আগামী মৌসুমের হিসেব পরে, আজ এফএ কাপে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে ফাইনাল খেলতে নামবে ইউনাইটেড। আজ জিতলে আর্সেনালের সমান রেকর্ড ১২টি এফএ কাপ জেতা হয়ে যাবে রেড ডেভিলদের। তবে রেকর্ড ছাপিয়েও হতশ্রী মৌসুমের শেষটা ট্রফি দিয়েই করতে পারাই ইউনাইটেড সমর্থকদের জন্য স্বস্তি হয়ে আসবে। ফন গালের জন্যও স্বস্তি হয়ে থাকবে বিদায়ের আগে ইউনাইটেডে অন্তত একটা ট্রফি জিততে পারা। সূত্র: এএস।

মায়েরই দেখা হয় না মুস্তাফিজের খেলা!

টিভিতে ছেলের খেলা প্রায়ই দেখতে পারেন না, তা
না হলেও মুস্তাফিজের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ফোনে কথা
হয় মায়ের l ছবি: বিসিসিআই ও প্রথম আলো
প্রতিদিন মুস্তাফিজ ভারত থেকে ফোনে খোঁজ নেন। ম্যাচের আগে দোয়া নেন মা-বাবার। মায়ের সঙ্গেই প্রায় আধঘণ্টা-চল্লিশ মিনিট কথা বলেন বাংলাদেশের সব মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দিনটির জন্য। কবে খেলা হবে হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের! অনেকের পুরো ম্যাচ নিয়ে আগ্রহও নেই। বেশির ভাগের চোখ থাকে ‘সেই ৪ ওভারের’ দিকে। সেই মায়াবী, জাদুকরি কিন্তু বিধ্বংসী ৪ ওভার! যাঁর সুবাদে হালের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত শব্দবন্ধ ‘সেই ৪ ওভার’, সেই মুস্তাফিজুর রহমানের মায়েরই বেশির ভাগ সময় খেলা দেখার সৌভাগ্য হয় না। কারণ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। গত শুক্রবার মুস্তাফিজের বাড়িতে বসে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হলো। বাড়ির সবার টেনশন, কখন আসবে ‘কারেন্ট’। দেখা যাবে তো মুস্তাফিজের বোলিং? সবগুলো ওভার দেখার সুযোগ মিলবে তো?
মুস্তাফিজের মা মাহমুদা খাতুনের জন্য শুধু ছেলের বোলিং দেখা নয়। বাড়ির ছয় সন্তানের সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে আদরের ছেলেটি অনেক দিন ধরে চোখের সামনে নেই। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এর পরপরই শুরু হয়েছে আইপিএল। মাঝখানে বিশ্বকাপ থেকে তিন দিনের জন্য এসে চোখের পলকে ছেলে আবার কোলছাড়া হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে কখনোই মুস্তাফিজ এত দিন বাইরে থাকেননি। মা ছেলের বোলিং যতটা না দেখেন, তার চেয়ে তাঁর চোখ বেশি জুড়ায় ছেলের মুখ দেখতে পেলে। ছেলেটা কি শুকিয়ে গেল! ঠিকমতো খায় তো? মুস্তাফিজের প্রতিটি বলের অলস সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। মাকে কতটা গর্বিত করে ভাবুন! কিন্তু সেই মায়েরই বেশির ভাগ সময় দেখা হয় না ছেলের খেলা। বিদ্যুতের লুকোচুরি মুস্তাফিজের মাকেই কষ্ট দেয় সবচেয়ে বেশি। পরিবারের বাকি সদস্যদের কথা তো থাকলই। এমনিতে বাড়িতে আগে টিভির প্রবেশাধিকার ছিল না। কিন্তু ছেলের খেলা দেখার জন্য সেখানে ছাড় দিয়েছেন বাবা আবুল কাশেম গাজী। মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে তাঁকে দেখা গেল অস্থির পায়চারি করতে। পরশু আইপিএলে ছিল গুরুত্বপূর্ণ খেলা। হায়দরাবাদ মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের। মুস্তাফিজের বাড়িতে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খেলা দেখেন। আশপাশের প্রতিবেশীরাও হাজির হন। কদিন আগে বাজারে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজনও করতে হয়েছিল তেঁতুলিয়াবাসীর জন্য। মুস্তাফিজ এখন সারা বাংলাদেশের, তবে তেঁতুলিয়া গ্রামের দাবিই তো বেশি, নাকি! সাতক্ষীরায় অবশ্য কদিন ধরে বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। খোলা মাঠের বড় পর্দার আয়োজনও বাদ পড়েছে কদিন আগে। তবু এলাকার মানুষ যে যাঁর মতো করে খেলা দেখেন। কিন্তু বারবার বাদ সাধে বিদ্যুৎ। মুস্তাফিজকে মোটরসাইকেলে করে ক্রিকেট-দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়ার সেই বিখ্যাত গল্পের জন্ম দেওয়া পরিবারের সেজো ছেলে মোখলেছুর রহমান বললেন, ‘সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার কারেন্ট যাওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা। একবার কারেন্ট গেলে কমপক্ষে এক ঘণ্টা থাকে না। সারা দিনে কারেন্ট না গেলেই বরং আমরা বেশি দুশ্চিন্তা করি, তাহলে মনে হয় রাতে থাকবে না।’ মুস্তাফিজের পুরো ৪ ওভার বোলিং দেখার সৌভাগ্য একবারও হয়নি এই বাড়ির। টস জিতে হায়দরাবাদ বোলিং নিলে শেষের তিনটি ওভার দেখার সুযোগ মেলে কখনো কখনো। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের লোকদের জানানো হয়েছিল বিষয়টি। সেখানকার এক কর্মকর্তা মুস্তাফিজের বাবাকে জানিয়েছিলেন ‘বিষয়টি দেখবেন’। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। মুস্তাফিজের বাড়িতে পরশু সারা দিন কাটিয়ে একটা জিনিস স্পষ্ট বোঝা গেল, এ নিয়ে দেনদরবার করার মতো লোক তাঁরা নন। কাউকে কিছু বলতে গিয়ে পাছে তাঁদের অসুবিধা হয়—এটাই যেন বেশি দুশ্চিন্তা এই পরিবারের!
কিন্তু মুস্তাফিজের বোলিং দেখতে এই পরিবারের ব্যাকুলতা, মায়ের ব্যাকুলতারও তো শেষ নেই! প্রতিদিন মুস্তাফিজ ভারত থেকে ফোনে খোঁজ নেন। ম্যাচের আগে দোয়া নেন মা-বাবার। মায়ের সঙ্গেই প্রায় আধঘণ্টা-চল্লিশ মিনিট কথা বলেন। সেখানেও সমস্যা। কোনো মোবাইল ফোনেরই নেটওয়ার্ক তেঁতুলিয়ার এই বাড়িতে ভালো নয়। থ্রিজি নেটওয়ার্ক পাওয়া তো আরও দুষ্কর। ভিডিও কলে কথা বলতে গেলে থ্রিজির বিকল্পও নেই। ছাদে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় নেটওয়ার্কের জন্য। সাধারণ নেটওয়ার্কও অনেক সময় মেলে না। মুস্তাফিজের মায়ের আকুতি; এই পরিবারের, এখানকার গ্রামবাসীর আবেদন—বিদ্যুৎ আর নেটওয়ার্ক সমস্যা দুটির যেন সমাধান হয়। সেই আবেদন সবার কাছে পৌঁছে দিতেই যখন চলছিল এই লেখা, টস হয়ে গিয়েছিল। ব্যাটিং নিয়েছিল হায়দরাবাদ। ভাগ্য ভালো, বেশ কবার লো ভোল্টেজ ভয় পাইয়ে দিলেও বিদ্যুৎ শেষ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এমন সৌভাগ্য পরেও থাকবে তো! মুস্তাফিজকে যতবার টিভিতে দেখায়, তাঁর মায়ের মুখে যেন আনন্দের ঝিলিক বয়ে যায়!

সৌহার্দ্যের ক্রিকেটে নাঈমুরের ৮৮

ব্যাটিং ভুলে যাননি নাইমুর রহমান-বিসিবি
দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে জিতেছিলেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা। ব্রিটিশ লর্ডস অ্যান্ড কমন্স ক্রিকেট দল বুঝি এবার সেটারই ‘প্রতিশোধ’ নিল! লন্ডনের ব্যাংক অব -ইংল্যান্ড ক্রিকেট মাঠে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে কাল শুক্রবার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য দল তাদের কাছে হেরে গেছে ৮ উইকেটে। কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন এর আগেও বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করেছে। সেটারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য দল লন্ডন গেল। দলের বেশির ভাগই শৌখিন ক্রিকেটার। তবে নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক নাঈমুর রহমান। রাজনীতিতে ঢুকেও খেলাটা যে ভুলে যাননি, ব্যাট হাতে ৮৮ রানের ইনিংস খেলে তারই প্রমাণ দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর। এগারোটি বাউন্ডারির সঙ্গে তাঁর ব্যাট থেকে ছক্কাও এসেছে দুটি। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ করেছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি মেহবুব আলম। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দলটিতে দুই-একজন ছাড়া প্রায় সবাই-ই ছিলেন সংসদ সদস্য। কিন্তু ব্রিটিশ লর্ডস অ্যান্ড কমন্স ক্রিকেট দলে নাকি সংসদ সদস্য ছিলেন মাত্র তিন জন! বাকিদের বেশির ভাগ তাদের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তিনজন পেশাদার ক্রিকেটারও খেলিয়েছে দলটি। সেটার প্রতিফলন পড়ল ২০ ওভারের ম্যাচের ফলাফলেও। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের ৩ উইকেটে করা ১৬৭ রানের জবাবে দুই উইকেট হারিয়েই জয় পেয়ে যায় ব্রিটিশ লর্ডস অ্যান্ড কমন্স ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য দলের অধিনায়ক নাঈমুর অবশ্য হার-জিতের চেয়ে ম্যাচটির অন্য গুরুত্বের ওপরই বেশি জোর দিলেন। লন্ডন থেকে মুঠোফোনে বলছিলেন, ‘এর আগে ওরাও আমাদের দেশে খেলতে এসেছিল, আমরা তখন জিতেছি। এই ম্যাচটা আসলে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সম্পর্ক জোরদার করা, তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানো এবং চিন্তা-ভাবনার বিনিময়ের জন্যই আয়োজন করা হয়। ফলাফল এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

ছয় মেরে দল জেতালেন ধোনি

ধোনি ঝড়ে হারল পাঞ্জাব। ছবি: বিসিসিআই
এ বোধ হয় শুধু ধোনির ক্ষেত্রেই সম্ভব! শেষ বলে ছয় মেরে দল জেতাতে হবে। এমন অবস্থাতেও কী নির্ভার, কী আবেগহীন একটি মুখ! অক্ষর প্যাটেলের ওই বলটি কী ছিল সে প্রশ্নে না গেলেও চলবে। কারণ বলটি যেরকমই হোক না কেন, ওই বলের ভাগ্যে একটি ফলই লেখা ছিল—ছক্কা। শেষ বলের ছক্কাতেই রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস হারাল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে। হেলিকপ্টার শটের ওই ছক্কাই হয়তো ম্যাচ জেতাল, কিন্তু আগের দুই বলের কথাও ভুললে চলবে না। ৩ বলে ১৬ রান দরকার—এমন সময়ে ঠিক ২ ছক্কা ও ১ চারে ১৬! যেন পুরোনো সেই ধোনির দেখাই মিলল বিশাখাপত্তমে। এর আগে ১৭২ রান তাড়া করতে নেমে পরাজয় দেখছিল পুনে। ১৪ ওভারে ৮৬ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই। শেষ ৫ ওভারে দরকার ৭০, যা শেষ ওভারে গিয়ে থামল ৬ বলে ২৩ রানের সমীকরণে। ম্যাচ জেতাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ধোনি সব দায়িত্ব তুলে নিলেন নিজের কাঁধে। দুটি বলে দৌড়ে রান নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তাই কোনো রান নেওয়ার চেষ্টা করলেন না। ৩ ছক্কা ও ১ চারে দল জিতিয়েই ফিরেছেন তিনি। ৩২ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে পুনে অধিনায়ক মেরেছেন ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা। এর আগে মুরালি বিজয়ের ৫৯ ও গুরকিরাত সিংয়ের ৫১ রানে ১৭২ রানের পুঁজি পেয়েছিল পাঞ্জাব। কিন্তু ধোনির ব্যাটের ঝড়ে হারতে হলো তাদের। সে সঙ্গে এ আসরে পয়েন্ট তালিকার সবার নিচে থাকাও নিশ্চিত হলো। আর পাঞ্জাবকে হারিয়ে সপ্তম হলো পুনে।

স্বর্ণ পাম তুমি কার? by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

কান চলচ্চিত্র উৎসবে গতকাল নিজের ছবি ফরুশান্দ-
এর ফটোকলে ইরানের নন্দিত নির্মাতা আসগর
ফারহাদি (মাঝে)। বাঁয়ে ছবিটির প্রধান
চরিত্রের অভিনয়শিল্পী শাহাব হোসেইনি
ও ডানে অভিনেত্রী তারানেহ আলিদুস্তি
সিনেমার স্বর্গ কানে কার হাতে উঠবে আজ স্বর্ণ পাম? আগেভাগে বলতে যাওয়া শুধু কঠিন নয়, বোকামিও। কিন্তু তাই বলে তর্ক-বিতর্কের তুফান থেমে থাকবে কেন?
‘টোনি আর্ডম্যান যদি না জেতে খুব ফালতু একটা ব্যাপার হবে। বুঝেছ?’ চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে কথাটা বললেন মাতিস মাসজেন। মারেন আডে পরিচালিত এই ছবির ভক্ত হয়ে গেছেন মাতিস। স্লোভেনিয়ার একটি অনলাইন পত্রিকার জন্য লিখে থাকেন এই সিনেমা গবেষক। মাতিসের কথা একদম ফেলে দেওয়া যায় না। কারণ, বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তৈরি এই জার্মান ছবি এরই মধ্যে একাধিক প্রদর্শনীতে পেয়েছে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’। স্পেনের তরুণ নির্মাতা আন্তোনিও দনেয়ার এবার অংশ নিচ্ছেন উৎসবের প্রডিউসারস নেওটয়ার্কে। তাঁর জোর দাবি, উৎসবের সেরা ছবি হুলিয়েতা। পেদ্রো আলমোদোভারের ওপরে নির্মাতা হয় না। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রাজিলের একজন টেলিভিশন সাংবাদিক। তিনি ফোড়ন কাটলেন, অ্যাকোয়ারিয়াস একটা ছবির মতো ছবি। জর্জ মিলারের নেতৃত্বে গড়া বিচারক দলের উচিত ব্রাজিলের দিকে তাকানো। আগের দিন সালে দিবুসি হলের সামনে কথা হচ্ছিল সাংবাদিক লাতিসিয়া পিননের সঙ্গে। জাতে ফরাসি হলেও আমেরিকান ছবির ভক্ত লাতিসিয়া। তাঁর পছন্দ জেফ নিকলসের লাভিং। ১৯৬৭ সালের যুক্তরাষ্ট্রের এক কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এই ছবির গল্প। ‘ছবিটা বেশি ভালো লেগেছে; কারণ, এটি সত্যি কাহিনি অবলম্বনে তৈরি। ছবির শেষে আমার চোখে পানি এসে গেছে।’ বলছিলেন লাতিসিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নামি নির্মাতা জিম জারমুশের প্যাটারসন-এর পক্ষেও বাজি ধরার লোকের অভাব নেই। রোমানিয়ার দুটো ছবি এবার প্রতিযোগিতা বিভাগে। দুটোর যেকোনোটা স্বর্ণ পাম জিতে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ক্রিস্তি পুইউর সিয়েরানেভাদা এবং ক্রিস্তিয়ান মুংগিউর গ্র্যাজুয়েশন। দুটো ছবিই পেয়েছে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা। ক্রিস্তিয়ান মুংগিউ এর আগেও স্বর্ণ পাম জিতেছিলেন ২০০৭ সালে। ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেজ ছবির এই নির্মাতার এবারের ছবি এলিজা নামের এক তরুণীকে ঘিরে। ইংল্যান্ডে বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাবে এলিজা। শুধু ফাইনাল পরীক্ষা বাকি। পরীক্ষার ঠিক আগের দিনই হামলার শিকার হয় সে। নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের (ডেনমার্ক) দ্য নিয়ন ডেমো আছে অনেকের পছন্দের তালিকায়। হরর থ্রিলার ধাঁচের এই ছবি এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে কানে। কিন্তু শেষমেশ কার ভাগ্যে যাবে স্বর্ণ পাম? সেটা কানের এখনকার আবহাওয়ার মতোই অনিশ্চিত। বিচারকদের প্রধান অস্ট্রেলিয়ার নির্মাতা জর্জ মিলার বা তাঁর সঙ্গীরা কী ভাবছেন?
তার ওপরই আদতে নির্ভর করছে সবকিছু। প্রতিযোগিতা বিভাগের যত ছবি: এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের অন্য ছবিগুলোর মধ্যে আছে অ্যান্ড্রেয়া আরনল্ডের আমেরিকান হানি ((যুক্তরাজ্য), অলিভিয়ে আসায়াসের পারসোনাল শপার ((ফ্রান্স), জঁ পিয়ের দারদেন ও লুক দারদেনের লা ফিল ইনকনু (বেলজিয়াম) ও জাভিয়ের দোলাঁর ইটস ওনলি দ্য অ্যান্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড (কানাডা)। আছে ফ্রান্সের ব্রুনো দুমোর স্ল্যাক বে, আলাঁ জিরদির স্টেইং ভারটিক্যাল এবং নিকোল গারসিয়ার ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব দ্য মুন। গতকাল প্রদর্শিত ইরানের আসগার ফরহাদির দ্য সেলসম্যান যদি শেষবেলায় চমক দেখায়, সেটাও খুব অপ্রত্যাশিত কিছু হবে না। এ ছাড়া প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে কেন লোচের আই, ড্যানিয়েল ব্ল্যাক ((যুক্তরাজ্য), পল ভারহোভেনের এলি, ফিলিপাইনের ব্রিলান্টে মেনডোজার মা রোসা, দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক চান-উকের দ্য হ্যান্ডমেইডেন ও শন পেনের দ্য লাস্ট ফেস (যুক্তরাষ্ট্র)। ফিপ্রেসকি পুরস্কার: কাল ঘোষিত হয়েছে এবারের কান উৎসবের ফিপ্রেসকি (ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকস) পুরস্কার। বিশ্বের নানা প্রান্তের চলচ্চিত্র-সমালোচকদের বিচারে প্রতিযোগিতা বিভাগ থেকে এ পুরস্কার জিতেছে জার্মানির ছবি টোনি আর্ডম্যান। মারেন আডে পরিচালিত এই ছবির নির্মাতারা হয়তো এ সাফল্যে আরও একটু আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন স্বর্ণ পাম জয়ের ব্যাপারে। সিমেন দে লা ক্রিতিকা থেকে পুরস্কারটি জিতেছে জুলিয়া ডুকুরনাউয়ের গ্রেভ। অন্যদিকে এবারের উৎসবের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে পুরস্কার জিতেছে আফগান নির্মাতা শহরবানু সাদাতের ছবি উলফ অ্যান্ড শিপ। আফগানিস্তানের প্রথম নারী নির্মাতা হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন শহরবানু। আফগানিস্তানের মেষপালক শিশুদের ঘিরে এই সিনেমার গল্প।

জলদস্যু চরিত্রে ইরেশ

অসম্পূর্ণ নাটকের দৃশ্যে ভাবনা ও ইরেশ যাকের
নানা চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। এবার সবকিছু ছাপিয়ে হয়ে গেলেন দুর্ধর্ষ ডাকাত। দলবল নিয়ে নৌকায় ডাকাতি করেন, অর্থাৎ জলদস্যু। সেই ডাকাত আর কেউ নন, অভিনেতা ইরেশ যাকের। এমন ডাকাত আর তার ডাকাতির গল্প নিয়ে অসম্পূর্ণ নামে একটি নাটক নির্মাণ করছেন অনিমেষ আইচ। রচনাও তাঁরই। নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে চলছে শুটিং। এই নদীতেই ডাকাতি করবে ইরেশসহ তাঁর পুরো ডাকাত দল। অনিমেষ বললেন, ‘গত শুক্রবার থেকে শুটিং করছি পদ্মা নদীতে। শুধু নদীতেই নয়, আমরা আগামী তিন দিন এই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করব। যেমন রেলস্টেশন, একটা পুরোনো রাজবাড়ী, মালবাহী ট্রেনসহ বেশ কিছু জায়গায়।’ শুটিং লোকেশন নিয়ে তিনি বললেন, ‘উত্তরা আর পুবাইল দেখতে দেখতে দর্শকেরা ক্লান্ত। তাই এখানে আসা। আর গল্পের জন্য নদী, রেললাইন, স্টেশন সবই দরকার ছিল। সব একসঙ্গে পাওয়ায় এখানেই এলাম।’ নাটকে ডাকাত দলের সদস্য বনে যাওয়া ইরেশ বললেন, ‘সরাসরি ডাকাত দলের সদস্য হয়ে আগে অভিনয় করেছি বলে মনে পড়ে না। তবে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় তো করা হয়ই।’ চরিত্রের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বললেন, ‘নির্মাতার সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রস্তুতি নিয়েছি। তা ছাড়া একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দাড়ি রেখেছিলাম। সেটা কাজে লেগেছে। অনিমেষ বলেছে এই নাটকের শুটিংয়ের পর দাড়ি কাটতে।’ অসম্পূর্ণতে আরও অভিনয় করেছেন ভাবনা। বিয়ের দিন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় যে মেয়েটি পড়ে ডাকাতের কবলে, সে চরিত্রেই দেখা যাবে তাঁকে। পরিচালক জানালেন, আগামী ঈদুল ফিতরে নাটকটি প্রচারিত হবে দেশ টিভিতে।

আইটেম গানে দীপিকা

দীপিকা পাড়ুকোন
কিছুদিন আগেই হলিউডের ছবি ট্রিপল এক্স: দ্য রিটার্ন অব জেন্ডার কেইজ-এর শুটিং শেষ করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। এই কয়েকটা মাস বলিউড থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন। ভারতে ফিরেই আবার হিন্দি ছবির কাজে নেমে পড়তে হবে এই পিকু তারকাকে। খবর পাওয়া গেছে, সামনের মাসেই নতুন একটি ছবির আইটেম গানের শুটিং করবেন এই অভিনেত্রী। দীনেশ বিজনের ছবি রাবতাতে আইটেম গানের সঙ্গে নাচার কথা দীপিকার। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুত ও দিলওয়ালে ছবির নায়িকা কৃতি শ্যানন। অতিথি চরিত্রে হলেও দীপিকার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এই ছবিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা। সিনেমাটির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুন মাসে এই আইটেম গানের শুটিং শুরু হবে। আর গানটি তৈরি করেছেন সংগীত পরিচালক প্রিতম। সূত্র: ফিল্মফেয়ার

গানে মনোযোগী হচ্ছেন ঈশিতা

ঈশিতা
কয়েক মাস ধরে অভিনয় থেকে দূরে আছেন ঈশিতা। আপাতত তাঁর অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছাও নেই। গান নিয়ে এখন তাঁর ভাবনা। চার মাস ধরে নিয়মিত গানের চর্চা করছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। সে হিসেবে বলা যায়, অভিনয়ের চেয়ে এখন গানেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশিতার বারিধারার বাসায় কথা প্রসঙ্গে গান নিয়ে তাঁর নতুন ভাবনাগুলো প্রথম আলোকে জানান। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে বারিধারায় থাকেন ঈশিতা। সংসার নিয়ে তাঁকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। ছেলে এরই মধ্যে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। আর মেয়ের বয়স মাত্র সাত মাস। এদিকে ঈশিতার নিজের রয়েছে পড়াশোনার ব্যস্ততাও। তিনি এখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন। শিগগিরই তাঁর পড়াশোনার পাটও চুকে যাবে। তাহলে কি আবার অভিনয়ে দেখা যাবে তাঁকে?
ঈশিতার কথা, ‘অভিনয় করার মতো পর্যাপ্ত সময় এই মুহূর্তে আমার মোটেও নেই। সব কাজ শেষ করার পর বাসায় থাকি। যে সময়টুকু পাই, তাতে গানের চর্চটা ভালোভাবে করতে পারি। সেটাই করে যাচ্ছি।’ অভিনয়শিল্পী ঈশিতার কাছ থেকে শিগগিরই আবারও গান শোনা যাবে তাহলে? ‘তেমনটা আমিও ভাবছি। আমি আগেও গান গাইতাম। পাঁচটি অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। গানের চর্চা কিন্তু আমি আগেও করতাম। এখন এদিকটায় বেশি জোর দিচ্ছি। বছর শেষে নতুন গান উপহার দিতে পারব হয়তো। তবে যদি দেখি যে বছর শেষেও আমি মানসিকভাবে তৈরি নই, তাহলে আরেকটু সময় নেব।’ ঈশিতার সর্বশেষ গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৩ বছর আগে। ওই অ্যালবামের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন প্রণব ঘোষ।

হৃতিকের আঁকিবুঁকি!

দুই ছেলের সঙ্গে হৃতিক রোশন
বলিউডের তারকা হৃতিক রোশন যতই ব্যস্ত সময় পার করুন না কেন, ব্যস্ততার মধ্যেও ঠিকই দুই ছেলের জন্য সময় বের করে নেন। এই না হলে দায়িত্ববান বাবা? হৃতিক আশুতোষ গোয়াড়িকরের সঙ্গে ‘মহেঞ্জোদারো’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন কিছুদিন আগে। এখন কাজ করছেন সঞ্জয় গুপ্তর ‘কাবালি’ ছবিতে। সম্প্রতি কাজ থেকে খানিক বিরতি নিয়ে ঘুরে এসেছেন ছেলেদের নিয়ে। তাদের আঁকা শেখাবেন বলে নিজেই কিছু আঁকিবুঁকি করে ছবি আঁকা শেখার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি হৃতিক একটি ছবি এঁকে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ছেলেদের শেখাব বলে নিজেই আগে শিখছি।’ এ ছাড়া দুই ছেলে রিদান ও রিহানের সঙ্গে আনন্দময় কিছু মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তিনি সেখানে প্রকাশ করেছেন। হৃতিকের সাবেক স্ত্রী সুজান খানের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে ২০১৪ সালে। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান। বড় ছেলে রিহানের বয়স ১০, ছোট ছেলে রিদানের ৮। সুজান ও হৃতিক বিয়ে না টিকলেও তাঁরা দুজনেই ছেলেদের জীবনে এই ঘটনার কোনো প্রভাব ফেলতে দিতে চান না। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন দুজন। এনডিটিভি।

পাকিস্তান বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে: হিনা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার বলেছেন, গত কয়েক মাসে দেশটি বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি করেছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ভারতের সঙ্গে আসন্ন বাণিজ্য আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদের মতৈক্যের কথা উল্লেখ করেন।
গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যের বিষয়টি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে পারলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে উন্নতি করতে হবে।’
পারমাণবিক শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। আসন্ন বাণিজ্য আলোচনায় সমঝোতা হলে এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশ দুটির পারস্পরিক আস্থা বাড়বে, যা কাশ্মীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনার পরিবেশের ক্ষেত্রে দারুণ উন্নতি হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা সামনের দিকে এগোতে হতে পারব।’
গত শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে ইসলামাবাদ নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছু হটছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা এই খবর নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এ নিয়ে পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।