Wednesday, June 25, 2014

গ্যালারি- বিশ্বকাপের বিশ্বসুন্দরী

শুধু ফুটবল মাঠের লড়াই অথবা জোগো বোনিতো নয়, সমান তালে নজর কাড়ছে গ্যালারিতে হাজির সুন্দরী ফ্যানেরাও | এই বিশ্বকাপের স্লোগান শুধু বিউটিফুল ফুটবল নয়, বিউটিফুল গার্ল-ও বটে | >> banglalive.com

সামরিক স্বচ্ছতা এবং এশীয় নিরাপত্তা by শিনজো আবে

কথাটা আমরা সবাই শুনেছি, ‘সূর্যের আলোই হচ্ছে সর্বোত্তম জীবাণুনাশক’। এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষভাবে সত্য। হ্যাঁ, আমি মনে করি, যে কাঠামোর ভেতরে এশীয় সরকারগুলো সামরিক বাজেট জনসমক্ষে প্রকাশ করে, তার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। নিজেদের মধ্যে আস্থা তৈরি ও আঞ্চলিক সমর প্রতিযোগিতা এড়াতে এটা করা দরকার। আরও বিশদভাবে বললে, সামরিক বিস্তার রোধ, অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রতিটি দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করাটাই এখন এশিয়ার সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইস্ট এশিয়া সামিটে এ বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা উচিত। স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনায় প্রধান ফোরাম হিসেবে এটাকেই নির্বাচন করা উচিত।
বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্র হতে গেলে এশিয়ায় সামরিক বিস্তার রোধ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধি ঘটলে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় বাড়ানো উচিত। অস্ত্র ক্রয়ে সে টাকা ব্যয় করে লাভ নেই, কারণ তা শেষ পর্যন্ত জনগণের জীবনে কাল হয়ে আসবে। তার পরও আইনের শাসন বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যেমন, আসিয়ানের সদস্যদেশগুলো নিরাপত্তা এবং নৌ ও আকাশপথে বাধাহীন যাতায়াত নিশ্চিতকরণে যে প্রচেষ্টা নিয়েছে, জাপান সেটাতে তার যথাসাধ্য সহায়তা করবে। কিন্তু জাপান আসলে ঠিক কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত সহায়তা দেবে ও কীভাবে তা দেবে, সে বিষয়ে আমাকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়াকে তিনটি টহল নৌযান সাহায্য হিসেবে দিয়েছি। আর ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডকে অনুরূপ ১০টি নৌযান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি, ভিয়েতনামকে এরূপ নৌযান দেওয়া যায় কি না, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
জাপান সহযোগিতা করলে তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দল ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে, এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়। আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করি, সেটা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি। আমরা উচ্চমানের নৈতিকতা ও দক্ষতার সংস্কৃতি লালন করি, এর মাধ্যমে আমরা জাপানের জনগণ ও সাহায্যগ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখি।
শুধু ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে আমরা ২৫০ জন কোস্টগার্ড সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এদিকে ২০১২ সালে আসিয়ানের পাঁচটি প্রধান দেশের নৌ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য জাপানের তিনজন কোস্টগার্ড সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়। তাঁরা সবাই একত্রে খেয়েছেন, ঘুমিয়েছেন ও একই ছাদের নিচে থেকেছেন।
সম্প্রতি জাপান প্রতিরক্ষাসামগ্রী ও প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে হস্তান্তরের লক্ষ্যে একটি নতুন কাঠামো তৈরি করেছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মাধ্যমে আমরা এখন উদ্ধার, পরিবহন, নজরদারি, মাইনবিধ্বংসী যন্ত্রপাতি প্রভৃতি অন্য দেশগুলোকে দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারি। আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোকে সমুদ্র রক্ষায় সহায়তা করতে জাপান নানা রকম সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নয়নে আনুষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান, জাপান সেলফ ডিফেন্স ফোর্সেস–এর (জেএসডিএফ) মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি।

কোনো দেশই একা একা শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। সে কারণে আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব বর্তায়: যৌথ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আইনি কাঠামো পুনর্গঠন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণ। আমাদের প্রশাসন ইতিমধ্যে এ সংস্কার শুরু করেছে। এই সংস্কার নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই। জেএসডিএফ এ মুহূর্তে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের আওতায় শান্তি রক্ষায় কাজ করছে। একই সঙ্গে সেখানে কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, বাংলাদেশ, নেপাল, কোরিয়া ও চীনের সৈন্য এবং জাতিসংঘের কর্মী ও বিভিন্ন দেশের এনজিও কর্মীরা কাজ করছে। দক্ষিণ সুদানের জাতি গঠন–প্রক্রিয়ায় এরা সবাই আমাদের অংশীদার।
কিন্তু একবার ভাবুন যে সেখানে যেসব বেসামরিক কর্মীরা কাজ করছেন, তাঁরা যদি হঠাৎ করে কোনো সশস্ত্র আক্রমণের মুখে পড়েন, তাহলে কী হবে। এখন পর্যন্ত জাপানি সরকার যে অবস্থানে আছে তাতে জেএসডিএফের পক্ষে বেসামরিক লোকদের উদ্ধার করা সম্ভব নয়। কথা হচ্ছে, এ প্রেক্ষাপটে আমাদের যে অবস্থান তা কি যথাযথ?
আমাদের সরকার এ উভয়সংকটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শাসক জোটের সঙ্গে এ নিয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। কারণ হচ্ছে, জাপান আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর এতটা নির্ভরশীল যে আমরা আসলে বিশ্বশান্তির জন্য আরও সক্রিয়ভাবে লড়তে চাই।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জাপানিরা একই পথে হেঁটেছে। এ পথ স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের। আমাদের আরও কয়েক প্রজন্ম এ পথেই হাঁটতে হবে। কিন্তু আমরা এখন জাপানি অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করছি, ফলে আমাদের এমন জাপানি মানুষ দরকার, যাঁরা বিশ্বপরিসরে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, অবশ্যই আমাদের দেশের আকার ও অর্থনৈতিক সম্পদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে।
নতুন ধাঁচের জাপানি মানুষেরা তাঁদের পূর্বসূরিদের সদ্গুণ বর্জন করবেন না। তাঁরা দারিদ্র্যকে ঘৃণা করবেন, বৈশ্বিক মূল্যবোধ আত্মস্থ করবেন আর আনন্দের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করবেন। যদি কোনো পরিবর্তন ঘটে থাকে, সেটা হচ্ছে জাপানের নারীরা আগের চেয়ে আরও বেশি সংখ্যায় জীবনে ও কর্মে এগিয়ে আসছেন। যেমন যে তিনজন বিচারক ও সরকারি আইনজীবী কম্বোডিয়ার দেওয়ানি বিধি প্রণয়নে সহায়তা করেছেন, তাঁরা সবাই তরুণী নারী।
এই নতুন জাপানিরা অবশ্যই এশীয় শান্তির লক্ষ্যে কাজ করবেন। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট তৃতীয় বেনিগনো অ্যাকুইনো এবং মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মুরাদ ইব্রাহিম জাপানের নরিতায় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। তিন মাস আগে দুই পক্ষই একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তির জন্য মতৈক্যে পৌঁছেছে। দুই বছর পর বাঙ্গসামারো স্থানীয় সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করবে, জাপানি সহায়তা দল সেখানেও উপস্থিত থাকবে।
এ অঞ্চলে জীবিকা অর্জনে যে দক্ষতা দরকার, নারীদের তা অর্জনে সহায়তা করতে জাপান ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। জাপান মিনদানাওয়ে নারীদের জন্য একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সেখানে এখন আর গুলি ও চিৎকার শোনা যায় না, তার বদলে সেখানে এখন সেলাই মেশিনের ঘড়ঘড় শব্দ শোনা যায়।
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও বৃহত্তর সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান তার করণীয় যা আছে সবই করবে, এসব তারই ইঙ্গিত। আসিয়ান যুক্তরাষ্ট্রসহ আমাদের সব আঞ্চলিক সহযোগীদের সঙ্গে করে আমরা এই প্রত্যয়কে কাজে পরিণত করব। এ অঞ্চলে আমরা শিলাদৃঢ় স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করব।
ইংরেজি থেকে অনূদিত; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

শিনজো আবে: জাপানের প্রধানমন্ত্রী৷

কী বার্তা নিয়ে আসবেন সুষমা স্বরাজ? by আলী ইমাম মজুমদার

তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অল্প কিছুকাল আগে সেখানে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা সুষমা স্বরাজ। সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। তবে অতীত বলে, তিনি বরাবর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। ২৫ বছর বয়সে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে সেই রাজ্যের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বনশীলালের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁকে ধরাশায়ী করেন। নিযুক্ত হন রাজ্য সরকারের একজন মন্ত্রী। তেমনি ১৯৯৯ সালে কর্ণাটকের বেলাির লোকসভা আসনে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপি তাঁকেই মনোনয়ন দেয়। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের। তুমুল লড়াই করেন সুষমা স্বরাজ। হেরে যান মাত্র ৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একক সফরে তিনি প্রথমেই বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশকে। এর আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান সফর করেছেন। সুষমা স্বরাজের এই সফর সফল ও ফলপ্রসূ হোক, এটা উভয় দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ চায়। ভারতীয় পত্রপত্রিকার সংবাদদৃষ্টে জানা যায়, এই সফরে সুষমা স্বরাজ ১৯৭৪-এর স্থলসীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন আর তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ইতিমধ্যে গৃহীত তাঁদের সরকারের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে জানাবেন। পাশাপাশি তিনি আসামসহ সাতটি ভারতীয় পার্বত্য রাজ্যের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচলের অধিকতর সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানাতে পারেন। আমাদের বর্তমান অব্যবহৃত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ওই রাজ্যগুলোতে রপ্তানির একটি চুক্তিও এ সময়ে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তা ছাড়া ভারতীয় ঋণ, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধবিষয়ক আলোচনাও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে। এসব বিষয় মীমাংসা কোনো জাদুর মন্ত্রে রাতারাতি হবে না, এটা সবাই বোঝেন। তবে বেশ কিছু সমস্যা আছে, যা সমাধানে শুধু আবশ্যক পক্ষ দুটির সদিচ্ছা। ভারতের নতুন সরকারের এই মন্ত্রীর সফরকালে সেই সদিচ্ছার মনোভাব উভয় পক্ষের থাকুক, এ প্রত্যাশা সবার।
আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম, এমনকি তার অব্যবহিত-পরবর্তী সময়ে ভারত উদার সহায়তা করেছে। বাংলাদেশও সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন অনেক কিছুই উল্টে দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রে পিছু চলার নীতি নেয় উভয় পক্ষ। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সমস্যাদিতে ভারত থাকে অনুদার। ক্ষেত্রবিশেষে নিস্পৃহ। তেমনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীর গোষ্ঠীসমূহ এ দেশের ভূমিসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে থাকে। তারা লাভ করে তখনকার সরকারগুলোর সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রিয় সহযোগিতা। এর মাঝে ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়। স্বাক্ষরিত হয় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। পাশাপাশি হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য চুক্তি। ভারত থেকে ফিরে আসে বাস্তুত্যাগীরা। পরিস্থিতি আবারও পাল্টে যায় ২০০১ সাল থেকে। পুনরায় ২০০৯-এর সূচনায় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতীয় জিঙ্গগোষ্ঠীগুলোর এ দেশে কার্যক্রম সম্ভাব্য সব উপায়ে নির্মূল করার ব্যবস্থা নেয়। সীমিত আকারে ভারতকে দেওয়া হয় ট্রানজিট-সুবিধা। বৃহত্তর পরিসরে তা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও উভয় পক্ষের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, অন্য অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে অন্তত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে। বাস্তবায়িত হবে ছিটমহল বিনিময়সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের চুক্তিটি। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এতে এ দেশের মানুষ স্বভাবতই ব্যথিত। তবে তারা আশাবাদী, এই জট খুলে যাবে।
ভারতে ৩০ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন। সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রশ্নে তাঁর কিছু প্রশ্নবিদ্ধ অতীত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্যও আমাদের দ্বিধান্বিত করেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মোদি। বলা আবশ্যক, গুজরাটকে অব্যাহতভাবে দৃশ্যমান উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাস্তব মানুষ শুধু অতীতমুখী থাকতে পারেন না। এমনকি যে যুক্তরাষ্ট্র নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অপারগতা জানিয়েছিল, তারা আজ তাঁকে সাদরে বরণ করতে চাইছে। আমাদেরও নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তৎপর হওয়া দরকার। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভারতের এই ইতিবাচক মনোভাবকে ধরে রাখার জন্য আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ইদানীং বাংলাদেশ বিষয়ে মনোযোগী হতে ভারতেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম এ বিষয়ে ক্রমবর্ধমান হারে অবদান রেখে চলছে।
অতিসম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত ভারতের লোকসভা সদস্য ও বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধীর একটি নিবন্ধের অনুবাদ প্রথম আলো ছেপেছে। এই নিবন্ধে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় সীমিত ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশ দুটির কার্যকর নিয়ন্ত্রণে না থাকা ‘অপ্রবেশ্য’ ছিটমহল বিনিময় আর ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে পানি বণ্টন চুক্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবিড় অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বরুণ গান্ধী বিজেপির উদীয়মান নেতা। তাঁর মা-ও বর্তমান সরকারের একজন কেবিনেট মন্ত্রী। এ ধরনের বাস্তবতাবোধ ভারতে অনেক নেতারই রয়েছে। রয়েছে নরেন্দ্র মোদি আর সুষমা স্বরাজেরও। মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদি তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি ইঙ্গিত রেখেছেন।
ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতীয় সংবিধানে একটি সংশোধনীর আবশ্যকতা রয়েছে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অগ্রাধিকার থাকলে বিলটি পাস না হওয়ার কথা নয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে মূল বাধা এসেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি তিস্তায় পানিপ্রবাহ বাড়াতে সিকিম সরকারের সহযোগিতা পেতে সচেষ্ট রয়েছেন। পাশাপাশি বৃহৎ একটি আর্থিক প্যাকেজ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও সমঝোতায় আনতে প্রয়াস চলছে। কঠোর বাস্তববাদী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণই স্বাভাবিক।
তেমনি ট্রানজিট-সুবিধাদির বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবগুলো বাংলাদেশ সরকারের বাস্তবতার নিরিখে দেখা দরকার। অবকাঠামো-সুবিধাদি প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত করে উভয় রাষ্ট্রের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর ব্যবহারের ওপর ধার্য করা যায় ন্যায়সংগত ও পরস্পরসম্মত মাশুল। তবে বিবেচনায় রাখা দরকার, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও ছিটমহল বিনিময় সমস্যাগুলো উভয় রাষ্ট্রের মাঝে কণ্টকসম হয়ে আছে। এগুলো আগে উপড়ানো গেলে সহযোগিতার দ্বার খুলে যেতে পারে। তিনবিঘা করিডরের মতো ছোটখাটো সুবিধা দিলে যদি ভারতীয় কোনো অঞ্চল উপকৃত হয়, তা দ্রুত দেওয়া উচিত। জানা যায়, এমন একটি করিডর তেঁতুলিয়া অঞ্চলে চাইছে ভারত।
সুষমা স্বরাজ বরাবরই একজন বাস্তবধর্মী ব্যক্তিরূপে পরিচিত। জন্ম তাঁর হরিয়ানা রাজ্যের আমবালায়। তাঁর বাবাও সক্রিয় আরএসএস কর্মী ছিলেন। সুষমা স্বরাজ আইনে ডিগ্রি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কাজও করেছেন। তবে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে থাকায় সে পেশা ধরে রাখতে পারেননি। সময়ে সময়ে অনেক মুকুট পরেছেন। সাতবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। আর গেল পঞ্চদশ লোকসভার বিরোধী দলের নেতা। বিভিন্ন সময়ে চারটি রাজ্য থেকে দশবার নির্বাচন করেছেন। এবার নির্বাচিত হয়েছেন মধ্যপ্রদেশ থেকে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ভারতীয় রাজনীতিকের আসন্ন বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আগ্রহের বিষয়।
বরুণ গান্ধী তাঁর আলোচিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, গত এক দশকে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব কমেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবমুখী করবেন। তাঁর নিবন্ধে কৌটিল্যের বিদেশনীতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সে নীতি অনুসারে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যেসব ব্যবস্থা নিতে হয়, তা হচ্ছে বন্ধুত্ব, উপহার, বিভাজন আর শাস্তি। তাঁর মতে, এই নীতি এখনো প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের কাছে শুধু বন্ধুত্ব আর উপহারই দাবি করতে পারে। সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকালেও আমরা নতুন রূপে এর সূচনা দেখতে চাই।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

কী বার্তা নিয়ে আসবেন সুষমা স্বরাজ? by আলী ইমাম মজুমদার

তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অল্প কিছুকাল আগে সেখানে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা সুষমা স্বরাজ। সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। তবে অতীত বলে, তিনি বরাবর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। ২৫ বছর বয়সে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে সেই রাজ্যের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বনশীলালের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁকে ধরাশায়ী করেন। নিযুক্ত হন রাজ্য সরকারের একজন মন্ত্রী। তেমনি ১৯৯৯ সালে কর্ণাটকের বেলাির লোকসভা আসনে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপি তাঁকেই মনোনয়ন দেয়। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের। তুমুল লড়াই করেন সুষমা স্বরাজ। হেরে যান মাত্র ৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একক সফরে তিনি প্রথমেই বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশকে। এর আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান সফর করেছেন। সুষমা স্বরাজের এই সফর সফল ও ফলপ্রসূ হোক, এটা উভয় দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ চায়। ভারতীয় পত্রপত্রিকার সংবাদদৃষ্টে জানা যায়, এই সফরে সুষমা স্বরাজ ১৯৭৪-এর স্থলসীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন আর তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ইতিমধ্যে গৃহীত তাঁদের সরকারের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে জানাবেন। পাশাপাশি তিনি আসামসহ সাতটি ভারতীয় পার্বত্য রাজ্যের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচলের অধিকতর সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানাতে পারেন। আমাদের বর্তমান অব্যবহৃত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ওই রাজ্যগুলোতে রপ্তানির একটি চুক্তিও এ সময়ে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তা ছাড়া ভারতীয় ঋণ, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধবিষয়ক আলোচনাও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে। এসব বিষয় মীমাংসা কোনো জাদুর মন্ত্রে রাতারাতি হবে না, এটা সবাই বোঝেন। তবে বেশ কিছু সমস্যা আছে, যা সমাধানে শুধু আবশ্যক পক্ষ দুটির সদিচ্ছা। ভারতের নতুন সরকারের এই মন্ত্রীর সফরকালে সেই সদিচ্ছার মনোভাব উভয় পক্ষের থাকুক, এ প্রত্যাশা সবার।
আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম, এমনকি তার অব্যবহিত-পরবর্তী সময়ে ভারত উদার সহায়তা করেছে। বাংলাদেশও সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন অনেক কিছুই উল্টে দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রে পিছু চলার নীতি নেয় উভয় পক্ষ। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সমস্যাদিতে ভারত থাকে অনুদার। ক্ষেত্রবিশেষে নিস্পৃহ। তেমনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীর গোষ্ঠীসমূহ এ দেশের ভূমিসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে থাকে। তারা লাভ করে তখনকার সরকারগুলোর সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রিয় সহযোগিতা। এর মাঝে ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়। স্বাক্ষরিত হয় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। পাশাপাশি হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য চুক্তি। ভারত থেকে ফিরে আসে বাস্তুত্যাগীরা। পরিস্থিতি আবারও পাল্টে যায় ২০০১ সাল থেকে। পুনরায় ২০০৯-এর সূচনায় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতীয় জিঙ্গগোষ্ঠীগুলোর এ দেশে কার্যক্রম সম্ভাব্য সব উপায়ে নির্মূল করার ব্যবস্থা নেয়। সীমিত আকারে ভারতকে দেওয়া হয় ট্রানজিট-সুবিধা। বৃহত্তর পরিসরে তা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও উভয় পক্ষের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, অন্য অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে অন্তত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে। বাস্তবায়িত হবে ছিটমহল বিনিময়সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের চুক্তিটি। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এতে এ দেশের মানুষ স্বভাবতই ব্যথিত। তবে তারা আশাবাদী, এই জট খুলে যাবে।
ভারতে ৩০ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন। সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রশ্নে তাঁর কিছু প্রশ্নবিদ্ধ অতীত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্যও আমাদের দ্বিধান্বিত করেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মোদি। বলা আবশ্যক, গুজরাটকে অব্যাহতভাবে দৃশ্যমান উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাস্তব মানুষ শুধু অতীতমুখী থাকতে পারেন না। এমনকি যে যুক্তরাষ্ট্র নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অপারগতা জানিয়েছিল, তারা আজ তাঁকে সাদরে বরণ করতে চাইছে। আমাদেরও নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তৎপর হওয়া দরকার। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভারতের এই ইতিবাচক মনোভাবকে ধরে রাখার জন্য আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ইদানীং বাংলাদেশ বিষয়ে মনোযোগী হতে ভারতেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম এ বিষয়ে ক্রমবর্ধমান হারে অবদান রেখে চলছে।
অতিসম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত ভারতের লোকসভা সদস্য ও বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধীর একটি নিবন্ধের অনুবাদ প্রথম আলো ছেপেছে। এই নিবন্ধে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় সীমিত ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশ দুটির কার্যকর নিয়ন্ত্রণে না থাকা ‘অপ্রবেশ্য’ ছিটমহল বিনিময় আর ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে পানি বণ্টন চুক্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবিড় অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বরুণ গান্ধী বিজেপির উদীয়মান নেতা। তাঁর মা-ও বর্তমান সরকারের একজন কেবিনেট মন্ত্রী। এ ধরনের বাস্তবতাবোধ ভারতে অনেক নেতারই রয়েছে। রয়েছে নরেন্দ্র মোদি আর সুষমা স্বরাজেরও। মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদি তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি ইঙ্গিত রেখেছেন।
ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতীয় সংবিধানে একটি সংশোধনীর আবশ্যকতা রয়েছে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অগ্রাধিকার থাকলে বিলটি পাস না হওয়ার কথা নয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে মূল বাধা এসেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি তিস্তায় পানিপ্রবাহ বাড়াতে সিকিম সরকারের সহযোগিতা পেতে সচেষ্ট রয়েছেন। পাশাপাশি বৃহৎ একটি আর্থিক প্যাকেজ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও সমঝোতায় আনতে প্রয়াস চলছে। কঠোর বাস্তববাদী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণই স্বাভাবিক।
তেমনি ট্রানজিট-সুবিধাদির বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবগুলো বাংলাদেশ সরকারের বাস্তবতার নিরিখে দেখা দরকার। অবকাঠামো-সুবিধাদি প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত করে উভয় রাষ্ট্রের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর ব্যবহারের ওপর ধার্য করা যায় ন্যায়সংগত ও পরস্পরসম্মত মাশুল। তবে বিবেচনায় রাখা দরকার, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও ছিটমহল বিনিময় সমস্যাগুলো উভয় রাষ্ট্রের মাঝে কণ্টকসম হয়ে আছে। এগুলো আগে উপড়ানো গেলে সহযোগিতার দ্বার খুলে যেতে পারে। তিনবিঘা করিডরের মতো ছোটখাটো সুবিধা দিলে যদি ভারতীয় কোনো অঞ্চল উপকৃত হয়, তা দ্রুত দেওয়া উচিত। জানা যায়, এমন একটি করিডর তেঁতুলিয়া অঞ্চলে চাইছে ভারত।
সুষমা স্বরাজ বরাবরই একজন বাস্তবধর্মী ব্যক্তিরূপে পরিচিত। জন্ম তাঁর হরিয়ানা রাজ্যের আমবালায়। তাঁর বাবাও সক্রিয় আরএসএস কর্মী ছিলেন। সুষমা স্বরাজ আইনে ডিগ্রি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কাজও করেছেন। তবে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে থাকায় সে পেশা ধরে রাখতে পারেননি। সময়ে সময়ে অনেক মুকুট পরেছেন। সাতবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। আর গেল পঞ্চদশ লোকসভার বিরোধী দলের নেতা। বিভিন্ন সময়ে চারটি রাজ্য থেকে দশবার নির্বাচন করেছেন। এবার নির্বাচিত হয়েছেন মধ্যপ্রদেশ থেকে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ভারতীয় রাজনীতিকের আসন্ন বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আগ্রহের বিষয়।
বরুণ গান্ধী তাঁর আলোচিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, গত এক দশকে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব কমেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবমুখী করবেন। তাঁর নিবন্ধে কৌটিল্যের বিদেশনীতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সে নীতি অনুসারে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যেসব ব্যবস্থা নিতে হয়, তা হচ্ছে বন্ধুত্ব, উপহার, বিভাজন আর শাস্তি। তাঁর মতে, এই নীতি এখনো প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের কাছে শুধু বন্ধুত্ব আর উপহারই দাবি করতে পারে। সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকালেও আমরা নতুন রূপে এর সূচনা দেখতে চাই।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

৩ লাখ কোটি টাকা পাচার by মামুন আব্দুল্লাহ

স্বাধীনতার পর গত চার দশকে বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে ৮০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকার মতো। মাথাপিছু পাচার হয়েছে গড়ে ২০৫ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে)।

উন্নয়নশীল ৮টি দেশ থেকে টাকা পাচারবিষয়ক জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৭০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে টাকা পাচার হওয়ার কারণে দেশগুলোর আর্থিক অবস্থা, জনজীবনে এর প্রভাব, বাজেট ঘটতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্যের আমদানি রফতানি, রেমিটেন্স ও হুণ্ডির মাধ্যমে এসব টাকা পাচার করা হয়েছে। আটটি দেশের মধ্যে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রথম স্থান দখল করেছে আইভরি কোস্ট, পঞ্চম স্থানে নেপাল।
এদিকে গত বছরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১০ সালে পাচার করা হয়েছিল ২১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ওই এক বছরে দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়েছে ২৮ শতাংশ।
এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশ থেকে যে পরিমাণ রেমিটেন্স আসে তার প্রায় ৪০ শতাংশই হুণ্ডির মাধ্যমে। ফলে ওই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশ থেকে বর্তমানে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির নামে ব্যাপকভাবে টাকা পাচার হয়েছে। গত বছর দেশে বিনিয়োগ হয়নি। শিল্প উৎপাদন বাড়েনি, তারপরও শিল্পের যন্ত্রপাতি বেড়েছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। টাকা পাচার রোধ করা না গেলে দেশের উন্নয়ন হবে না। বরং সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে যা দেশকে বড় ধরনের সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি মুদ্রা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। এটা সরকার না করলে আর দেশে পুঁজি রাখা যাবে না।
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাচারের ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে দেশের বাজেটে বৈদেশিক ঘাটতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই প্রবণতার ফলে তুলনামূলকভাব সরকার দরিদ্র হয়ে যায়। সরকারের চেয়ে ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা সমাজে বড় ধরনের ভারসাম্যহীতার সৃষ্টি করে। অর্থ পাচারের ফলে দারিদ্র্য বিমোচন বা জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে সরকারের অবদান কমে যায়। জনগণ দরিদ্রতায় ভোগে। দেশী বিনিয়োগ কমে যায়। কর্মসংস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাচার হওয়ার কারণে দেশী বিনিয়োগ কমে যায়। একই সঙ্গে বিদেশী বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। যা দেশের সুশাসন ব্যবস্থাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দেয়। ভেঙে পড়ে শাসনতান্ত্রিক কাঠামো। এর প্রভাবে একদিকে সমাজে যেমন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়। তেমনি অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পদ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি হয়ে যাচ্ছে রক্তশূন্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাকা পাচারের ফলে সৎভাবে জীবনযাপন যারা করতে চান তারা বেশি করে চাপের মুখে পড়েন। কেননা তারা সম্পদ গোপন করতে চান না। ফলে তাদেরকে বেশি করে কর দিতে হয়। আর যারা টাকা পাচার করেন বা সম্পদ গোপন করে কালো টাকার সৃষ্টি করেন তাদেরকে কর কম দিতে হয়। ফলে সমাজে সুষম কর কাঠামোও গড়ে ওঠে না। এছাড়া পাচার করা অর্থ সাম্প্রতিককালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার নজিরও পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ পাচারের নেপথ্যে রয়েছে মূলত দুর্নীতি, অনিয়ম ও আইন প্রয়োগে শিথিলতা। ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এসব খাতে প্রভাব খাটিয়ে টাকা পাচার করেন।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান যুগান্তরকে বলেন, টাকা পাচার হচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমে, এই টাকা অর্জনও হচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমেই। তাই সবার আগে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে টাকা পাচার বন্ধ হবে না। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার লাগবে। যেটা বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য মতে, এসব দেশের ক্ষমতাবান রাজনৈতিক বিত্তবানরা তাদের ক্ষমতাকে আরও পোক্ত করতে অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এদের কারণে সরকারকে জনগণের ওপর কর বাড়াতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের অন্যতম পথ হচ্ছে, আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো। এর ফলে দেশ থেকে পাচারের হার হচ্ছে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ পাচার করা হয় হুণ্ডির মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশের এজেন্টের মাধ্যমে এই হুণ্ডি ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
আর্থিকভাবে অনগ্রসর ও স্বল্প আয়ের (এলডিসি) ৮ দেশের অবৈধ আর্থিক প্রবাহ নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিগত ৪ দশকের (১৯৭০-২০১০) তথ্য এখানে দেয়া হয়েছে। দেশগুলো হল- বাংলাদেশ, বলিভিয়া, আইভরি কোস্ট, গিনি, নেপাল, সিয়েরালিয়ন, তানজানিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
প্রতিবেদনের প্রথমেই বলা হয়েছে, বিগত দশকগুলোতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিতে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল এসব দেশের গড় জিডিপির হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। পরের দশকে যা ডাবল ডিজিটে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এসব দেশে গড় জিডিপির হার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও অনুন্নত এসব রাষ্ট্র সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ও মুদ্রা পাচার টেকসই উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রন করা গেলে দেশগুলোর দ্রুত উন্নয়ন হতো। দেশগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই মূলত মুদ্রা পাচার হচ্ছে।
ইউএনডিপির তথ্য মতে, সিয়েরালিয়নের ক্ষেত্রে তা দাঁড়িয়েছে জিডিপির অনুপাতে ৫২৩ দশমিক ৬ শতাংশে। বলা যায়, মুদ্রা পাচার সিয়েরালিয়ন জনসংখ্যার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাবে মাথাপিছু মুদ্রা পাচারের পরিমাণ ২ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০১০ সালের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৬১ ডলার। সম্প্রতি সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রয়েছে বলে তথ্য বেরিয়েছে।

খদ্দেরের অপেক্ষায় বিশ্বকাপের যৌনকর্মীরা- ব্রাজিল বিশ্বকাপে সাড়ে ৪ ডলারে যৌনবাণিজ্য

মঙ্গলবার সকালে ছিয়ারা নামের এক যৌনকর্মী বিশ্বকাপ আয়োজক শহর ফোর্টালেজার অ্যারেনা কাসতেলাও স্টেডিয়ামের পাশে খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বললেন, আমি মধ্যরাত থেকে কাজ করি। প্রথম দিকে খুব বিষিয়ে উঠতো। কিন্তু এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

ফোর্টালেজার অনেক যৌনকর্মীই রাতে সাড়ে ৪ ডলারের বিনিময়ে খদ্দেরদের আনন্দ বিলিয়ে থাকেন। কিন্তু ছিয়ারার দাম ২২ ডলার! তবে তার মতে মূল্যটা খুব বেশি নয়, বিশ্বকাপের টিকিট থেকেও সস্তা! বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহের আয় নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমি বিদেশীদের পছন্দ করি। কে জানে? আমি হয়তো তাদের কাউকে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি জমাবো। তবে বিশ্বকাপে যৌনপর্যটন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারা ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চালাতে প্রায় ৭০০ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ফোর্টালেজার ‘যৌনবাণিজ্য’ এখন ব্যাপক হয়ে উঠেছে। নাইটক্লাবের মালিকরা বেশ মুনাফা কামাচ্ছে। তাদের অনেকেই বললেন, ফোর্টালেজার মতো শহরেও এই অবস্থা রীতিমতো নজিরবিহীন। অথচ অনেকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক যৌনপর্যটকদের প্রিয় শহর ফোর্টালেজা। তবে পুলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রায় ৩০০০ পুলিশ মাঠে নেমেছে। তবে এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট যৌনকর্মীরা। ইয়ারা নামের বেলেমের এক যৌনকর্মী জানালেন, নিরাপত্তা বৃদ্ধির ব্যাপারটি ভাল। কারণ এতে আমরা কাজ করতে নিরাপদ বোধ করি। ইরাসিমা সৈকত দেড় ঘণ্টার পথ। এখানেই শহরের সবচেয়ে দামি প্রমোদবালাদের পাওয়া যায়।
সোমবার একটি ক্রুজশিপে ৪০০০ মেক্সিকান আমোদ-প্রমোদে মত্ত ছিলেন। বারে লোকজনের ভিড়। স্থানীয় পর্যটন কর্মকর্তা জানালেন বিশ্বকাপের সময় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যটক আসবে বলে আমরা আশা করছি। এমনই ক’জন পর্যটক র‌্যামন ওর্তেগা, পেশায় বিমান প্রকৌশলী। বললেন, ব্রাজিলিয়ান নারীদের আমি ভালবাসি। আমি এখানে আসার পর থেকে শতবার তাদের প্রেমে পড়েছি। ওর্তেগো বহু বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন। এদের অনেকেই এতক্ষণ ধরে আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত ছিলেন। এক কোণায় দেখা গেল ভালেস্কা নামের এক শ্যাম বর্ণের দীর্ঘ চুলের এক নারীকে। তিনিও প্রমোদবালা, প্রতি খদ্দেরের কাছ থেকে ৯০ ডলার আদায় করেন! বললেন, বিদেশীদের আমি ভয় পাই। তবুও আমি কখনওই বাজে ব্যবহারের শিকার হইনি। আর আমি এক রাতে যা কামাই, কোন দোকানে কাজ করে কেউ হয়তো সারা মাসেও তা কামায় না। তাহলে আমি কেন এই পেশা ছেড়ে দেবো? ফোর্টালেজার প্রমোদবালারা উত্তর ইউরোপের পুরুষদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। এরপর আছে হল্যান্ড, সপ্যানিশ আর জার্মান পুরুষরা। ইতালিয়ানদের অবস্থান তার পরেই। শিশু ও কিশোরীদেরও যৌনকর্মী হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এনজিগুলোর একটি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক লিদিয়া রদ্রিগেজের মতে গত তিন বছরে সংখ্যালঘু যৌনকর্মীদের সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা শহরে প্রায় ১০০ জনের মতো শিশু-যৌনকর্মী ছিল। এখন সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০’তে। অ্যারেনা ক্যাস্তেলাও স্টেডিয়ামের নির্মাণ শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভবত এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক এক মাস আগে এই অভিযোগে ৮টি পরিচিত নাইটক্লাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এরপর কর্তৃপক্ষ শিশু ও কিশোরীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল। সরকারি শিশু ও নাগরিক পরিবার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা তানিয়া গুর্গেল বলেন, অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে যা খুশি তা করতে দেন। আমরা পরামর্শ দেবো, তাদেরকে আমাদের কাছে দিন। আমাদের এখানে মনোবিদরা আছেন। একই সঙ্গে খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজের সুযোগও আছে।

কী বার্তা নিয়ে আসবেন সুষমা স্বরাজ?

সুষমা স্বরাজ
তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অল্প কিছুকাল আগে সেখানে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা সুষমা স্বরাজ। সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। তবে অতীত বলে, তিনি বরাবর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। ২৫ বছর বয়সে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে সেই রাজ্যের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বনশীলালের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁকে ধরাশায়ী করেন। নিযুক্ত হন রাজ্য সরকারের একজন মন্ত্রী।
তেমনি ১৯৯৯ সালে কর্ণাটকের বেলাির লোকসভা আসনে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপি তাঁকেই মনোনয়ন দেয়। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের। তুমুল লড়াই করেন সুষমা স্বরাজ। হেরে যান মাত্র ৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একক সফরে তিনি প্রথমেই বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশকে। এর আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান সফর করেছেন। সুষমা স্বরাজের এই সফর সফল ও ফলপ্রসূ হোক, এটা উভয় দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ চায়। ভারতীয় পত্রপত্রিকার সংবাদদৃষ্টে জানা যায়, এই সফরে সুষমা স্বরাজ ১৯৭৪-এর স্থলসীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন আর তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ইতিমধ্যে গৃহীত তাঁদের সরকারের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে জানাবেন। পাশাপাশি তিনি আসামসহ সাতটি ভারতীয় পার্বত্য রাজ্যের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচলের অধিকতর সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানাতে পারেন। আমাদের বর্তমান অব্যবহৃত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ওই রাজ্যগুলোতে রপ্তানির একটি চুক্তিও এ সময়ে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তা ছাড়া ভারতীয় ঋণ, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধবিষয়ক আলোচনাও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে। এসব বিষয় মীমাংসা কোনো জাদুর মন্ত্রে রাতারাতি হবে না, এটা সবাই বোঝেন। তবে বেশ কিছু সমস্যা আছে, যা সমাধানে শুধু আবশ্যক পক্ষ দুটির সদিচ্ছা। ভারতের নতুন সরকারের এই মন্ত্রীর সফরকালে সেই সদিচ্ছার মনোভাব উভয় পক্ষের থাকুক, এ প্রত্যাশা সবার।
আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম, এমনকি তার অব্যবহিত-পরবর্তী সময়ে ভারত উদার সহায়তা করেছে। বাংলাদেশও সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন অনেক কিছুই উল্টে দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রে পিছু চলার নীতি নেয় উভয় পক্ষ। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সমস্যাদিতে ভারত থাকে অনুদার। ক্ষেত্রবিশেষে নিস্পৃহ। তেমনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীর গোষ্ঠীসমূহ এ দেশের ভূমিসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে থাকে। তারা লাভ করে তখনকার সরকারগুলোর সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রিয় সহযোগিতা। এর মাঝে ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়। স্বাক্ষরিত হয় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। পাশাপাশি হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য চুক্তি। ভারত থেকে ফিরে আসে বাস্তুত্যাগীরা। পরিস্থিতি আবারও পাল্টে যায় ২০০১ সাল থেকে। পুনরায় ২০০৯-এর সূচনায় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতীয় জিঙ্গগোষ্ঠীগুলোর এ দেশে কার্যক্রম সম্ভাব্য সব উপায়ে নির্মূল করার ব্যবস্থা নেয়। সীমিত আকারে ভারতকে দেওয়া হয় ট্রানজিট-সুবিধা। বৃহত্তর পরিসরে তা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও উভয় পক্ষের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, অন্য অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে অন্তত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে। বাস্তবায়িত হবে ছিটমহল বিনিময়সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের চুক্তিটি। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এতে এ দেশের মানুষ স্বভাবতই ব্যথিত। তবে তারা আশাবাদী, এই জট খুলে যাবে। ভারতে ৩০ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন।
সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রশ্নে তাঁর কিছু প্রশ্নবিদ্ধ অতীত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্যও আমাদের দ্বিধান্বিত করেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মোদি। বলা আবশ্যক, গুজরাটকে অব্যাহতভাবে দৃশ্যমান উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাস্তব মানুষ শুধু অতীতমুখী থাকতে পারেন না। এমনকি যে যুক্তরাষ্ট্র নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অপারগতা জানিয়েছিল, তারা আজ তাঁকে সাদরে বরণ করতে চাইছে। আমাদেরও নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তৎপর হওয়া দরকার। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভারতের এই ইতিবাচক মনোভাবকে ধরে রাখার জন্য আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ইদানীং বাংলাদেশ বিষয়ে মনোযোগী হতে ভারতেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম এ বিষয়ে ক্রমবর্ধমান হারে অবদান রেখে চলছে। অতিসম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত ভারতের লোকসভা সদস্য ও বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধীর একটি নিবন্ধের অনুবাদ প্রথম আলো ছেপেছে। এই নিবন্ধে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় সীমিত ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশ দুটির কার্যকর নিয়ন্ত্রণে না থাকা ‘অপ্রবেশ্য’ ছিটমহল বিনিময় আর ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে পানি বণ্টন চুক্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবিড় অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বরুণ গান্ধী বিজেপির উদীয়মান নেতা। তাঁর মা-ও বর্তমান সরকারের একজন কেবিনেট মন্ত্রী।
এ ধরনের বাস্তবতাবোধ ভারতে অনেক নেতারই রয়েছে। রয়েছে নরেন্দ্র মোদি আর সুষমা স্বরাজেরও। মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদি তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি ইঙ্গিত রেখেছেন। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতীয় সংবিধানে একটি সংশোধনীর আবশ্যকতা রয়েছে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অগ্রাধিকার থাকলে বিলটি পাস না হওয়ার কথা নয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে মূল বাধা এসেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি তিস্তায় পানিপ্রবাহ বাড়াতে সিকিম সরকারের সহযোগিতা পেতে সচেষ্ট রয়েছেন। পাশাপাশি বৃহৎ একটি আর্থিক প্যাকেজ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও সমঝোতায় আনতে প্রয়াস চলছে। কঠোর বাস্তববাদী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণই স্বাভাবিক। তেমনি ট্রানজিট-সুবিধাদির বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবগুলো বাংলাদেশ সরকারের বাস্তবতার নিরিখে দেখা দরকার। অবকাঠামো-সুবিধাদি প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত করে উভয় রাষ্ট্রের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর ব্যবহারের ওপর ধার্য করা যায় ন্যায়সংগত ও পরস্পরসম্মত মাশুল। তবে বিবেচনায় রাখা দরকার, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও ছিটমহল বিনিময় সমস্যাগুলো উভয় রাষ্ট্রের মাঝে কণ্টকসম হয়ে আছে। এগুলো আগে উপড়ানো গেলে সহযোগিতার দ্বার খুলে যেতে পারে। তিনবিঘা করিডরের মতো ছোটখাটো সুবিধা দিলে যদি ভারতীয় কোনো অঞ্চল উপকৃত হয়, তা দ্রুত দেওয়া উচিত। জানা যায়, এমন একটি করিডর তেঁতুলিয়া অঞ্চলে চাইছে ভারত।
সুষমা স্বরাজ বরাবরই একজন বাস্তবধর্মী ব্যক্তিরূপে পরিচিত। জন্ম তাঁর হরিয়ানা রাজ্যের আমবালায়। তাঁর বাবাও সক্রিয় আরএসএস কর্মী ছিলেন। সুষমা স্বরাজ আইনে ডিগ্রি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কাজও করেছেন। তবে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে থাকায় সে পেশা ধরে রাখতে পারেননি। সময়ে সময়ে অনেক মুকুট পরেছেন। সাতবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। আর গেল পঞ্চদশ লোকসভার বিরোধী দলের নেতা। বিভিন্ন সময়ে চারটি রাজ্য থেকে দশবার নির্বাচন করেছেন। এবার নির্বাচিত হয়েছেন মধ্যপ্রদেশ থেকে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ভারতীয় রাজনীতিকের আসন্ন বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আগ্রহের বিষয়। বরুণ গান্ধী তাঁর আলোচিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, গত এক দশকে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব কমেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবমুখী করবেন। তাঁর নিবন্ধে কৌটিল্যের বিদেশনীতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সে নীতি অনুসারে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যেসব ব্যবস্থা নিতে হয়, তা হচ্ছে বন্ধুত্ব, উপহার, বিভাজন আর শাস্তি। তাঁর মতে, এই নীতি এখনো প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের কাছে শুধু বন্ধুত্ব আর উপহারই দাবি করতে পারে। সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকালেও আমরা নতুন রূপে এর সূচনা দেখতে চাই।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

জলাবদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করুন

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যর্থ
হওয়ার জন্য প্রধানত সিটি মেয়রই দায়ী
পর পর দুই দিন বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রাম শহরের এক বিরাট অংশ পানিতে তলিয়ে যায় এবং এই জলাবদ্ধতা চার থেকে পাঁচ দিন থাকে। কোনো কোনো এলাকায় সপ্তাহও পার হয়ে যায়, পানি আর নামে না। বাদুরতলা, কাপাসগোলাসহ শহরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাসার (নিচতলা) খাট, পালং, টেবিল, আলমারি ছয় ইঞ্চি থেকে এক ফুট উঁচু অতিরিক্ত কাঠ দিয়ে উঁচু করে নিয়েছে। যারা এসব এলাকার বাসিন্দা, পৈতৃক সূত্রে আবাসিক, তাদের পক্ষে বাসা পাল্টিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়াও সম্ভব নয়। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কালে তাদের প্রায় দুই দশক ধরে এ রকম বিড়ম্বনার মধ্যেই দিন যাপন করতে হচ্ছে।
এই দুর্ভাগ্য তাদের মেনে নিতে হয়েছে। গত ২২ জুন প্রথম আলো পত্রিকা এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে: ‘যে শহরে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, সেই শহরে মানুষ পানিবন্দী কেন?’ আশা করি চট্টগ্রামের মেয়র, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংসদেরা, চট্টগ্রামের মন্ত্রীরা জনগণের কাছে, বিশেষ করে তাঁদের ভোটারদের কাছে এই প্রশ্নের জবাব দেবেন। আওয়ামী লীগের বহু নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ সুযোগ পেলেই বক্তৃতায় বলে থাকেন: ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন।’ আমরা তাঁদের প্রশ্ন করতে চাই, এটা কি তার নমুনা? প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘এই শহরের উন্নয়নে চার হাজার ৪০০ কোটি টাকার ৩৫টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে ১ নম্বর সমস্যা ‘জলাবদ্ধতা’ নিয়ে কোনো প্রকল্প নেই।’ (২২ জুন) এতে বোঝা যায়, সরকারি নানা বিভাগের কর্মকর্তারা জনগণের স্বার্থে প্রকল্প গ্রহণ করেন না। করেন তাঁদের স্বার্থসিদ্ধি কোথায় ভালোভাবে হবে, তা বিবেচনা করে। অথবা ‘উন্নয়ন’ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। চট্টগ্রামের সবাই একবাক্যে বলেছেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়া, নগরের পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা (ড্রেনেজ) অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। সিটি মেয়র যে তা জানেন না, এমন নয়। নগরের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনাবিষয়ক একটি প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। ১৯৯৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়ন দূরে থাক, মহাপরিকল্পনাটি আজও ফাইলবন্দী। (সূত্র: প্রথম আলো, ১৪ মে ২০১৪)
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য প্রধানত সিটি মেয়রই দায়ী। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, একনেক ইত্যাদি বিভাগের কর্মকর্তারাও কম দায়ী নন। তাঁরা চট্টগ্রামের এত বড় একটি সমস্যাকে আমলে নেননি অথবা রাজনৈতিক কারণে উপেক্ষা করেছেন। এটাও অত্যন্ত জঘন্য মনোবৃত্তি বলা যায়। আমাদের দূষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এগুলো সম্ভব। চট্টগ্রামের বর্তমান ও সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রীরাও কম দায়ী নন। বিএনপি আমলের সাংসদ ও মন্ত্রীরাও এর জন্য দায়ী। তাঁরা আজ আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। অথচ নিজেরা ক্ষমতায় থাকতে এর সমাধান করেননি। একটি প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়ে বসে থাকলে হয় না। তা মন্ত্রণালয় ও একনেক থেকে পাস করিয়ে টাকা ছাড় করা পর্যন্ত লেগে থাকতে হয়। মেয়র মন্জুর আলম সরকারি কাজের এসব নিয়মকানুন জানেন না মনে হয়। তিনি না জানতে পারেন, তাঁর অফিসের বড় কর্মকর্তারাও কি জানেন না? এত বড় একটি প্রকল্প পাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার ছিল। বাংলাদেশে তো প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা ছাড়া কোনো বড় কাজ করা সম্ভব হয় না। মেয়র মন্জুর আলমের বোঝা উচিত, তিনি বিএনপি-সমর্থিত মেয়র। বর্তমান ও বিগত সরকার তাঁকে বেশি সহযোগিতা করবে না। কাজেই তাঁর ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা উচিত ছিল। যেমন সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইত্যাদি নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে প্রকল্পটি বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারতেন।
এই সমস্যা শুধু সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত নয়। এটা সিডিএ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও। কাজেই তাদের সঙ্গে নিয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা করা উচিত ছিল। মন্ত্রণালয় ও একনেক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যে অসহযোগিতা করেছে, তা তথ্য-প্রমাণসহ বিভিন্ন নাগরিক ফোরাম ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়ন যে ব্যক্তিগতভাবে তদারক করছেন, তা দেশবাসী জানতে পারতেন। যেহেতু চট্টগ্রামের সবাই মনে করেন, জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান না হওয়ার জন্য প্রধানত মেয়রই দায়ী, সে জন্য মন্জুর আলমের উচিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যর্থতার কারণগুলো জনগণকে জানানো। বর্তমান মেয়রের মেয়াদ আর এক বছর। এই এক বছরে তিনি এই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন, এটা কেউ বিশ্বাস করেন না। অথচ এটা ছিল তাঁর প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। অন্যান্য রুটিন কাজ তদারক করার ভার অন্যদের (নির্বাচিত কাউন্সিলর) দিয়ে তিনি যদি গত চার বছর শুধু জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন, তাহলে দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর মেয়র নির্বাচিত হওয়া কেউ ঠেকাতে পারত না। এখন এত বড় ব্যর্থতা ও প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ না করে তাঁর পক্ষে আবার ভোট চাওয়া কি সম্ভব হবে? চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না হওয়ার পেছনে ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ও (সিডিএ) কিছুটা দায়ী। বর্তমানে সিডিএর চেয়ারম্যান হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। শোনা যায়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের মানুষ। বর্তমানে সিডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। সিডিএর ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্য ৩১টির কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতার মতো প্রকল্প নেই। কেন নেই? কারণ সিডিএ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও একনেক চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগে সিডিএর চেয়ারম্যান তাঁর সব প্রকল্প পাস করিয়ে আনতে পেরেছেন।
এর অনেক প্রকল্প খুব জরুরিও ছিল না, জলাবদ্ধতার তুলনায়। অন্যদিকে, সিটি মেয়র বিএনপি নেতা হওয়ার কারণে অতি প্রয়োজনীয় প্রকল্পও মন্ত্রণালয় ও একনেক পাস করেনি। সে জন্য চট্টগ্রামে ৭২৮ কোটি টাকার উড়ালসড়ক (সিডিএ) হয়ে যায়, ৩০০ কোটি টাকার বহদ্দারহাট খাল খনন প্রকল্প (সিটি করপোরেশন) পড়ে থাকে। এগুলো আমাদের দূষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কুফল। এ থেকে আরেকটি কথা প্রমাণিত হয়, চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয় নেই। সিটি মেয়র হলেন মহানগরে একমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিডিএর চেয়ারম্যান একজন সরকারি কর্মকর্তা। কারও কাছে তাঁর জবাবদিহি নেই। আদর্শ ব্যবস্থা হতে পারত নির্বাচিত মেয়রের সভাপতিত্বে সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য সরকারি সংস্থার প্রধানদের নিয়ে একটি ‘উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’ থাকা। নগরের সব উন্নয়ন প্রকল্প এই কমিটি অনুমোদন করবে এবং এ কমিটির পক্ষে সিটি মেয়র তা কেন্দ্রে পাঠাবেন। কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ করলে যার জন্য যা প্রাসঙ্গিক, সেই দপ্তর সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। সমগ্র বিষয়টা তদারক করবে সিটি মেয়র। অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরও মেয়রের তত্ত্বাবধানে কাজ করতে আপত্তি করার কথা নয়। চট্টগ্রামে এ রকম সমন্বয় কমিটি না থাকায় জলাবদ্ধতার মতো এত বড় সমস্যা সমাধানের মুখ দেখছে না। আমাদের প্রস্তাব: শুধু চট্টগ্রামেই নয়, যেসব স্থানে সিটি করপোরেশন রয়েছে, সেখানে নির্বাচিত মেয়রের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধানদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হোক। শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কোনো জেলাতেই বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকারের প্রধান এজেন্ডা উন্নয়ন। কাজেই অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। চট্টগ্রামের নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম শহরের অধিবাসীদের বর্ষাকালে এভাবে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর প্রধানমন্ত্রী যে ব্যক্তিগতভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন তদারক করেন, তা প্রমাণ করারও সময় এসেছে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী৷

৩ লাখ কোটি টাকা পাচার by মামুন আব্দুল্লাহ

স্বাধীনতার পর গত চার দশকে বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে ৮০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকার মতো। মাথাপিছু পাচার হয়েছে গড়ে ২০৫ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে)।

উন্নয়নশীল ৮টি দেশ থেকে টাকা পাচারবিষয়ক জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৭০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে টাকা পাচার হওয়ার কারণে দেশগুলোর আর্থিক অবস্থা, জনজীবনে এর প্রভাব, বাজেট ঘটতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্যের আমদানি রফতানি, রেমিটেন্স ও হুণ্ডির মাধ্যমে এসব টাকা পাচার করা হয়েছে। আটটি দেশের মধ্যে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রথম স্থান দখল করেছে আইভরি কোস্ট, পঞ্চম স্থানে নেপাল।
এদিকে গত বছরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১০ সালে পাচার করা হয়েছিল ২১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ওই এক বছরে দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়েছে ২৮ শতাংশ।
এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশ থেকে যে পরিমাণ রেমিটেন্স আসে তার প্রায় ৪০ শতাংশই হুণ্ডির মাধ্যমে। ফলে ওই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশ থেকে বর্তমানে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির নামে ব্যাপকভাবে টাকা পাচার হয়েছে। গত বছর দেশে বিনিয়োগ হয়নি। শিল্প উৎপাদন বাড়েনি, তারপরও শিল্পের যন্ত্রপাতি বেড়েছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। টাকা পাচার রোধ করা না গেলে দেশের উন্নয়ন হবে না। বরং সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে যা দেশকে বড় ধরনের সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি মুদ্রা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। এটা সরকার না করলে আর দেশে পুঁজি রাখা যাবে না।
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাচারের ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে দেশের বাজেটে বৈদেশিক ঘাটতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই প্রবণতার ফলে তুলনামূলকভাব সরকার দরিদ্র হয়ে যায়। সরকারের চেয়ে ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা সমাজে বড় ধরনের ভারসাম্যহীতার সৃষ্টি করে। অর্থ পাচারের ফলে দারিদ্র্য বিমোচন বা জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে সরকারের অবদান কমে যায়। জনগণ দরিদ্রতায় ভোগে। দেশী বিনিয়োগ কমে যায়। কর্মসংস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাচার হওয়ার কারণে দেশী বিনিয়োগ কমে যায়। একই সঙ্গে বিদেশী বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। যা দেশের সুশাসন ব্যবস্থাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দেয়। ভেঙে পড়ে শাসনতান্ত্রিক কাঠামো। এর প্রভাবে একদিকে সমাজে যেমন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়। তেমনি অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পদ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি হয়ে যাচ্ছে রক্তশূন্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাকা পাচারের ফলে সৎভাবে জীবনযাপন যারা করতে চান তারা বেশি করে চাপের মুখে পড়েন। কেননা তারা সম্পদ গোপন করতে চান না। ফলে তাদেরকে বেশি করে কর দিতে হয়। আর যারা টাকা পাচার করেন বা সম্পদ গোপন করে কালো টাকার সৃষ্টি করেন তাদেরকে কর কম দিতে হয়। ফলে সমাজে সুষম কর কাঠামোও গড়ে ওঠে না। এছাড়া পাচার করা অর্থ সাম্প্রতিককালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার নজিরও পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ পাচারের নেপথ্যে রয়েছে মূলত দুর্নীতি, অনিয়ম ও আইন প্রয়োগে শিথিলতা। ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এসব খাতে প্রভাব খাটিয়ে টাকা পাচার করেন।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান যুগান্তরকে বলেন, টাকা পাচার হচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমে, এই টাকা অর্জনও হচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমেই। তাই সবার আগে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে টাকা পাচার বন্ধ হবে না। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার লাগবে। যেটা বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য মতে, এসব দেশের ক্ষমতাবান রাজনৈতিক বিত্তবানরা তাদের ক্ষমতাকে আরও পোক্ত করতে অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এদের কারণে সরকারকে জনগণের ওপর কর বাড়াতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের অন্যতম পথ হচ্ছে, আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো। এর ফলে দেশ থেকে পাচারের হার হচ্ছে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ পাচার করা হয় হুণ্ডির মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশের এজেন্টের মাধ্যমে এই হুণ্ডি ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
আর্থিকভাবে অনগ্রসর ও স্বল্প আয়ের (এলডিসি) ৮ দেশের অবৈধ আর্থিক প্রবাহ নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিগত ৪ দশকের (১৯৭০-২০১০) তথ্য এখানে দেয়া হয়েছে। দেশগুলো হল- বাংলাদেশ, বলিভিয়া, আইভরি কোস্ট, গিনি, নেপাল, সিয়েরালিয়ন, তানজানিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
প্রতিবেদনের প্রথমেই বলা হয়েছে, বিগত দশকগুলোতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিতে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল এসব দেশের গড় জিডিপির হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। পরের দশকে যা ডাবল ডিজিটে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এসব দেশে গড় জিডিপির হার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও অনুন্নত এসব রাষ্ট্র সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ও মুদ্রা পাচার টেকসই উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রন করা গেলে দেশগুলোর দ্রুত উন্নয়ন হতো। দেশগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই মূলত মুদ্রা পাচার হচ্ছে।
ইউএনডিপির তথ্য মতে, সিয়েরালিয়নের ক্ষেত্রে তা দাঁড়িয়েছে জিডিপির অনুপাতে ৫২৩ দশমিক ৬ শতাংশে। বলা যায়, মুদ্রা পাচার সিয়েরালিয়ন জনসংখ্যার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাবে মাথাপিছু মুদ্রা পাচারের পরিমাণ ২ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০১০ সালের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৬১ ডলার। সম্প্রতি সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রয়েছে বলে তথ্য বেরিয়েছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে ববি

আসন্ন ঈদে আলোচিত নায়িকা ববিকে নতুন একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। চ্যালেঞ্জ ঈদে তার অভিনীত দুই ছবি এবং সময়ের দু’জন সেরা নায়ককে নিয়ে। ছবি দুটি হচ্ছে মোহাম্মদ হোসেনের ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’। নায়ক দু’জন হচ্ছেন বাপ্পি চৌধুরী ও শাকিব খান। বাপ্পির সঙ্গে ববিকে ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ এবং শাকিব খানের সঙ্গে ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ ছবিতে দেখা যাবে। অতীতে দু’জন নায়কের সঙ্গেই তার ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু কোন ছবির সাফল্য আশাব্যঞ্জক নয়। বাপ্পির সঙ্গে ‘ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম’, শাকিব খানের সঙ্গে ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ ও ‘রাজত্ব’ মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি ছবিতেই ববি ছিলেন একক নায়িকা। এবার দুই ছবিতে তার সঙ্গে রয়েছেন নিপুণ ও অপু বিশ্বাস। ফলে এই দুই নায়িকার সঙ্গেও তাকে নিজের মতো করেই পর্দায় আসতে হবে। কারণ, নির্মাতারা নিপুণ ও অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ববিকে নিয়েছেন তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করেই। এর মধ্যে ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’-এর প্রযোজক শাকিব খান নিজেই। ছবিতে তার সবচেয়ে সফল নায়িকা অপু বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ববিকে নিয়েছেন সময়ের প্রয়োজনে। এটা ববির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে মোহাম্মদ হোসেন নিপুণকে নিয়ে বেশ কিছু ছবি নির্মাণ করার পর তার ছবির মাধ্যমে নিপুণকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়ার পরও ববিকে নিয়েছেন। দুটোই ববির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে পারলেই ববি চলে যাবেন শীর্ষস্থানে। ববি বললেন, চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই। বড় বড় দুটি ছবিতে অভিনয় করা। দুটি ছবি নিয়েই ঈদের মতো প্রধান উৎসবে আসা আমার জন্য শুধু চ্যালেঞ্জই নয়, বড় প্রাপ্তিও। আমার বিশ্বাস দর্শকদের ভালবাসায় আমি এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হবোই।

প্রীতির যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং...

গেল ১৪ই জুন বলিউডের বাবলী খ্যাত অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন তার আইপিএল পার্টনার এবং সাবেক প্রেমিক ব্যবসায়ী নেস ওয়াদিয়ার বিরুদ্ধে। বিষয়টি চমকে দেয় সবাইকে। ৩০শে মে আইপিএলের একটি ম্যাচের সময় নেস প্রীতির শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন প্রীতি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নেস ওয়াদিয়া এবার হয়তো আর পার পাচ্ছেন না। কারণ, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। ডেনিশ মার্চেন্ট নামক দক্ষিণ মুম্বইর এ ব্যবসায়ী দু’দিন আগেই প্রীতির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যার ফলে বিপদের মুখেই এবার পড়তে যাচ্ছেন তিনি। কারণ, নিজের পক্ষে কোন সাক্ষ্য কিংবা প্রমাণ দাঁড় করাতে পারেননি নেস ওয়াদিয়া। এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানের নারী সংগঠনগুলোও প্রীতির যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। তবে নেস ওয়াদিয়া প্রীতির এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এখন পুলিশের বাকি তদন্ত শেষেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অজামিনযোগ্য শাস্তিই এ ঘটনার জন্য পেতে যাচ্ছেন নেস ওয়াদিয়া। জানা গেছে, আইপিএল মাধ্যমেই মূলত নেস ওয়াদির সঙ্গে এক সময় বন্ধুত্ব এবং পরে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো প্রীতির। কিন্তু পরবর্তীতে প্রীতি নিজে থেকেই নেসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। কিন্তু বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে তাদের সম্পর্কটা ভালই ছিল। এর মধ্যেই এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনার পর গুজব ওঠে, প্রীতি জিনতা আইপিএলই শুধু নয়, ভারত ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করতে যাচ্ছেন আজীবনের জন্য। কিন্তু বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রীতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একদমই বানোয়াট খবর। কখনও এমন সিদ্ধান্ত নেইনি। এতো সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো মেয়ে নই আমি। নিজের দেশে থেকেই আমি আমার সব কাজ চালিয়ে যাবো। তাছাড়া যে ঘটনাটি ঘটেছে তার শেষ দেখার অপেক্ষায় আছি আমি।

আর্জেন্টিনার আফ্রিকা পরীক্ষা মাঠে মেসি পরিবার by পিন্টু আনোয়ার

ইউরোপ ও এশিয়ার দুই দলের বাধা পার করেছে আর্জেন্টিনা মেসি ম্যাজিকে। এবার আর্জেন্টাইনদের সামনে বাধা আফ্রিকা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে হতাশার স্মৃতিতে আফ্রিকানদেরই নাম। ১৯৯০’র আসরে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হার মানে ক্যামেরুনের কাছে। চলতি আসরে  টানা দুই জয় পেলেও আর্জেন্টিনা দলের নৈপুণ্যটা আহামরি নয়। যদিও দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে গ্রুপ সেরার মর্যাদা নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে সুবিধা পেতে হলে আর্জেন্টিনার জয় চাই শেষ ম্যাচেও। আর শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার পরীক্ষা দিতে হবে আফ্রিকার সুপার ঈগল নাইজেরিয়ার কাছে। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ মোকাবিলায় নামছে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দল দু’টি। পোর্তো আলেগ্রের মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টায়। কোচ দিয়েগো ম্যারাডোনার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বিশ্বকাপে গ্রুপে টানা তিন জয় নিয়ে পরের রাউন্ডের যোগ্যতা দেখায় আর্জেন্টিনা। তবে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলায় সুপার ঈগলরা আজ জানবাজি রেখে খেলবে এতে কোন সন্দেহ নেই। দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন জীবিত রাখতে হলে আজ হারলে চলবে না নাইজেরিয়ার। প্রথম ম্যাচে এশিয়ার ফুটবল শক্তি ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রতে ১ পয়েন্ট পায় নাইজেরিয়াও। আর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হারায় এবারের আসরের আলোচিত দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে। আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নিদেনপক্ষে ড্র রাখতে পারলেও ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছবে নাইজেরিয়া। গ্রুপে টানা দুই হার নিয়ে বসনিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। আর শেষ ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে ইরান দলের সংগ্রহ দাঁড়াবে ৪ পয়েন্ট।  আজ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে লাগাম ঢিলা করার সুযোগ নেই মেসি-অ্যাগুয়েরোদেরও। ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল নকআউট রাউন্ডে মোকাবিলা করবে ‘ই’  গ্রুপের সেরা দলকে। এক্ষেত্রে ‘ই’ গ্রুপে সম্ভাব্য সেরা দল ভাবা হচ্ছে শক্তিধর ফ্রান্সকে। গ্রুপে বাঁচা-মরার ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে মোকাবিলার আগে দৃঢ়তা দেখালেন নাইজেরিয়া কোচ স্টিফেন কেশি। বলেন, দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে পারবো না, এমন চিন্তা মাথায় আসে না আমার। আর বসনিয়ার বিপক্ষে দল যেমন লড়াকু নৈপুণ্য দেখালো এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আমারও। নাইজেরিয়া তারকা ওগেনাই ওনাজির কথায়ও লড়াইয়ের আভাস। আর্জেন্টিনাকে মোকাবিলার আগে ইতালি লীগের দল ল্যাজিওর এ  মিডফিল্ড তারকা বলেন, মেসিকে নিয়ে আমাদের আতঙ্ক নেই। সে আর দশজনের মতোই রক্ত-মাংসের এক ফুটবলার। আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে আলাদা পরিকল্পনা আছে আমাদেরও। এটা মাঠেই দেখবেন সবাই। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শুরুতে ৪-৫-১ পদ্ধতির কৌশল নিয়ে সমালোচনা শোনেন আর্জেন্টিনা কোচ আলেহান্দ্রো সাবেলা। তবে পরের ম্যাচে গঞ্জালো হিগুয়েন-ফার্নান্দো গাগোদের নিয়ে সাবেলার ৪-৩-৩-এর আক্রমণাত্মক কৌশলেও বিশেষ নৈপুণ্য দেখা যায়নি আর্জেন্টিনা দলে। অপেক্ষাকৃত খর্ব শক্তির দল ইরানের বিপক্ষে গোলের দেখা পেতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত।  নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এমনিতে দাপুটে পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার। এ পর্যন্ত ৬ লড়াইয়ে চারবার জয় দেখেছে আর্জেন্টাইনরা। তবে এতে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা হারের স্বাদও পেয়েছে একবার। আর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যানে গোল খরার চিত্র। ৬ মোকাবিলায় মাত্র ১.৩ গড়ে আর্জেন্টিনা গোল পেয়েছে ৮ বার।  আজ আর্জেন্টিনা দলের বাইরে থাকার সম্ভাবনা পেশাদার ফুটবলে স্পোর্টিং লিসবনের ডিফেন্ডার মার্কোস রোহোর। ইতিমধ্যে এক হলুদ কার্ড দেখে রেখেছেন রোহো। দুই হলুদ কার্ড মানে পরের মা্যচে নিষেধাজ্ঞা। এক হলুদ কার্ড দেখে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় রয়েছেন নাইজেরিয়ার চেলসি তারকা জন ওবি মিকেলও। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার রেকর্ডটা ভক্তদের জন্য অভয়েরই। ফুটবলের মহাযজ্ঞে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ১৪ ম্যাচে ১১ জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনা হার দেখেছে মাত্রই একবার। অন্যদিকে আফ্রিকান ঈগলদের বিশ্বকাপ ইতিহাস ভক্তদের জন্য হতাশার। বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচে নাইজেরিয়ার ৬ হার ও ৩ ড্র। তবে একমাত্র জয়টি তাদের টাটকা। বসনিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি বিশ্বকাপে তাদের প্রথম। আর সর্বশেষ নৈপুণ্যে আলাদা প্রতিরক্ষা দেখাচ্ছে নাইজেরিয়ার ডিফেন্স। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত আসর ও এবারের দুই ম্যাচ মিলিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ২২১ মিনিট কোন গোল হজম করেনি নাইজেরিয়া। সুপার ঈগলদের ডিফেন্স প্রাচীর ভাঙতে আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণে দায়িত্বটা নিতে হবে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেই। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শেষ ৭ ম্যাচে ৮ গোল দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মেসির জন্য আলাদা উপলক্ষ। গতকাল ২৭ বছরে পা দিয়েছেন এ আর্জেন্টাইন ফুটবলার। দলের জয়ে জন্মদিন উদযাপনে এতে মেসির সামনে সুযোগ। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ দেখতে আর্জেন্টিনা থেকে ভাড়া জেট বিমানে ব্রাজিলে পৌঁছেন মেসির বান্ধবী ও শিশুপুত্র থিয়াগো। আজ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচেও ভিভিআইপি গ্যালারির দিকেও সবার নজর থাকবে নিশ্চিতই।

বিহারি ক্যাম্পে হামলা- সমঝোতার প্রস্তাব মোল্লার by রুদ্র মিজান

কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পে হামলা ও ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা সমঝোতা করতে চাইছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিহারিদের সঙ্গে। তাদের মামলা না করতে চাপ দেয়া হচ্ছে তার পক্ষে। চেষ্টা চলছে বিহারি নেতাদের বশে আনার। এ জন্য বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে তাদের সঙ্গে। ওই বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত বিহারিদের আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করে হত্যাকা-ের বিচার দাবি করেছেন। সমঝোতার  প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নতুন শঙ্কা ভর করেছে এসব পরিবারে। হত্যাকা-ের পর নেপথ্যে ইন্ধনদাতা হিসেবে নাম আসে স্থানীয় এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার। যদিও শুরু থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। সমঝোতার প্রস্তাবের বিষয় অস্বীকার করে এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, বিহারিরাই তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা তার কাছে ক্ষমা চাইতে আসবে।

তবে গত কয়েকদিন অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায় নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে মোল্লার পক্ষে বৈঠক করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিহারি নেতারা। নিজ নেতাদের এই তৎপরতায় আতঙ্কিত বিহারিরা। অথচ এই নেতারাই কিছু দিন আগে এমপি ইলিয়াস মোল্লার ফাঁসি চেয়ে মিছিল করেছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে স্ট্যান্ডার্ড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপার্টিশন কমিটি (এসপিজিআরসি)-এর মুরাপাড়া ক্যাম্পে একটি বৈঠক করেছেন ওই সংগঠনের নেতারা। বৈঠকে আগুনে পুড়ে নিহত ৯ জনের পরিবারের ইয়াসিন আলী ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আজাদের ভাই ভুলুকে খবর দিয়ে নেয়া হয়। সেখানে এসপিজিআরসি’র নেতারা এমপি ইলিয়াস মোল্লার পক্ষে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। নিহতদের স্বজনদের তারা জানান, এমপি ইলিয়াস মোল্লা প্রভাবশালী লোক। তার সঙ্গে ঝামেলা করে লাভ হবে না। বরং ক্ষতি হবে। তার সঙ্গে তোমরা পারবে না। তাই যা হওয়ার হয়েছে এখন তার সঙ্গে সমঝোতা করাই ভাল।
বৈঠকের বিষয়ে নিহত আজাদের ভাই মুহাম্মদ ভুলু জানান, এসপিজিআরসি’র মোস্তাক তাকে লোক মাধ্যমে বৈঠকে ডেকে নিয়েছেন। তাকে এমপি’র সঙ্গে সমঝোতার জন্য চাপ দিয়েছেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে নেতাদের বাকবিত-া হয়েছে। তিনি রাজি হননি। বিহারি নেতাদের এই উদ্যোগের কারণ সম্পর্কে ভুলু বলেন, এসপিজিআরসি’র এসব নেতা এমপি’র কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। একই ভাবে বৈঠকের বিষয়ে ইয়াসিন আলী বলেন, নেতারা বলেছেন এমপি’র বিরুদ্ধে কোন ঝামেলা করো না। তার সঙ্গে মিলে যাও। সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও ইয়াসিন তাদের কিছুই বলেননি বলে জানান। ইয়াসিন বলেন, আমি ভয়ে আছি। আমি কার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবো। আমার পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মেরেছে। পরে আমাকেও মারার চেষ্টা করবে।
 বৈঠকে এসপিজিআরসি’র মিরপুর-১১ নম্বর শাখার সভাপতি আবদুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক মাল্লু, বাদল, সাব্বির, ইদু বাবু, ক্যান্টনমেন্ট ক্যাম্পের সভাপতি মুহাম্মদ পাছু, খুরশিদ, রাশেদ, মোস্তাক উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের আগে এসপিজিআরসি’র কুর্মিটোলা ক্যাম্প অফিসেও বৈঠকে করেন এই সংগঠনের নেতারা। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় কিছু বিহারি নেতারা এমপি’র সঙ্গে সমঝোতার বিষয় জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করা হয়। পরে মুরাপাড়া ক্যাম্পের অফিসে ওই বৈঠক হয়।
সূত্র জানায়, সমঝোতার জন্য ইতিমধ্যে অর্থও ছড়িয়েছেন এমপি ইলিয়াস মোল্লা। আয়ত্তে নিয়েছেন বিহারিদের সংগঠন এসপিজিআরসি’র নেতাদের। সূত্রমতে, এমপি ইলিয়াস মোল্লা ওই চক্রকে বলেছেন, যত টাকা লাগে দেবো। আমাকে এই অভিযোগ থেকে রক্ষা করো। সমঝোতার জন্য এসপিজিআরসি’র সাবেক নেতা ইরানি বস্তির ইদু বাবু ও সাব্বিরকে কাজে লাগান ইলিয়াস মোল্লা ও তার ঘনিষ্ঠরা। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ইদু মোল্লার সঙ্গে এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাই মনু মোল্লার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ইদু বাবুর ইরানি ক্যাম্পের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন মনু মোল্লা। সাব্বির ও ইদু বাবুর মাধ্যমেই সমঝোতার ছক তৈরি করেন ইলিয়াস মোল্লা। বিহারি নেতাদের এই চক্রকে সোমবার রাতে এবং তার আগের দিন অর্থও দেয়া হয়।
সমঝোতা ও অর্থ দেয়ার অভিযোগ মোটেও সত্য নয় বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। তবে শিগগিরই বিহারিরা তার কাছে ক্ষমা চাইবে জানিয়ে তিনি বলেন, কারা কোথায় সমঝোতা বৈঠক করেছে আমি জানি না। এজন্য আমি কাউকে টাকাও দেইনি। এসব অপপ্রচার। বরং বিহারিরা যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা এ নিয়ে একটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে। এ রকম খবর তিনি পেয়েছেন বলে জানান।
কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহীদ জানান, ১০ জনকে খুনের দায়ে যারা ইলিয়াস মোল্লার ফাঁসি চেয়ে মিছিল করেছে তারাই এখন তার ভক্ত হয়ে গেছে। ক্যাম্পের বাসিন্দা রাজু সহ কিছু লোক ইলিয়াস মোল্লাকে ক্যাম্পে এনে মঞ্চ তৈরি করে সভা করতে চাইছেন। সমঝোতার মূল হোতাদের অন্যতম এসপিজিআরসি’র আবদুল জলিলের কাছে সমঝোতা বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। মানবজমিন-র কাছে থাকা তথ্য-প্রমাণের কথা জানালে তিনি তা স্বীকার করে বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থেই আমরা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছি। এমপি ইলিয়াস মোল্লার কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই তথ্য সত্য না। পরে এই প্রতিবেদককে তিনি তার অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, অফিসে আসেন আপনাকে বিস্তারিত বলবো। জানা গেছে, বিহারিদের রয়েছে দু’টি বড় সংগঠন। এর মধ্যে এসপিজিআরসি একটি। এছাড়াও রয়েছে উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট। গত ১৪ই জুন সকালে রাজধানীর মিরপুরের কুর্মিটোলা ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পবাসী অভিযোগ করেন পার্শ্ববর্তী বাউনিয়াবাদ এলাকার যুবলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। তাদের দেয়া আগুনে পুড়ে মারা যায় ইয়াসিনের পরিবারের শিশু, নারীসহ ৯ জন। এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আজাদ। ক্যাম্পবাসীর অভিযোগ, ঘটনার আগে ১০ই জুন নতুন ক্যাম্পের ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়েছিলেন ইলিয়াস মোল্লা। তিনি নিজে সংযোগ নিতে এসে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার জের ধরেই কুর্মিটোলা ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি বিহারিদের। ঘটনার পর থেকে এসপিজিআরসি ও উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট দোষীদের বিচার চেয়ে মিছিল-সমাবেশ করে। তারা ওই আসনের এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও তার ক্যাডার যুবলীগের পল্লবী থানার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানার ফাঁসি দাবি করেন। এসপিজিআরসি’র এ রকম দাবি সংবলিত ব্যানার এখনও কুর্মিটোলা ক্যাম্পে টাঙানো রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন- শামীম ওসমানের অডিও নিয়ে তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপনির্বাচনকে ঘিরে এমপি শামীম ওসমানের গোপন বৈঠকের একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে। বৈঠকের খবর বর্তমানে নগরীর সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। অডিওতে নির্বাচন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের প্রতি শামীম ওসমানের নির্দেশনা শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে অডিও রেকর্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

অডিওতে শামীম ওসমান যা বলছেন:
শামীম ওসমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় পার্টিরটা জাতীয় পার্টি বুঝবে। বিএনপির লগে যদি কিছু লাইন করতে পারলে বিএনপিরটা বুঝব। আওয়ামী লীগেরটা আওয়ামী লীগ বুঝবে। আরেকটা দামি কথা বলিথ আপনি অ-নে-ক বড় নেতা, উনি অ-নে-ক ছোট নেতা। বড় নেতার সেন্টার বড় নেতায় বুঝায়া দেবেন, ছোট নেতারটা ছোট নেতায়। আপনের দৌড়াদৌড়ি কইরা অন্যেরটা বুঝানোর দরকার নাই।
শামীম ওসমানের এ বক্তব্যের পর নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘ঠিক’ বলে হাততালি দেন।
তার পর শামীম ওসমান আবার বলেন, বন্দরের মানুষের দরকার নাই মদনগঞ্জে, আর মদনগঞ্জের মানুষের কলাগাইচ্ছা যাওনের। কলাগাইচ্ছার মানুষ কলাগাইচ্ছারটাই করেন। হিজ হিজ, হুজ হুজ। যার যারটা সে সে করেন। নিজেরটা কইরা দিয়া যদি আপনে মনে করেন, আমার আরও ২/১টা সেন্টার হাতে আছে, এইটা কইরা দিয়া আমি আরও ১০ জায়গায় যাইতে পারমু, যান। কিন্তু এইটা কইরেন না, ওইটা করতে গিয়া আমারটা গেল গা। আমি আপনাগো হুকুম দিতাছি না, অনুরোধ করতাছি।
এর পর শামীম ওসমান বলেন, এখন কথা হলো সেন্টার কমিটি। নির্বাচন কি বিনা পয়সায় করবেনথ নাহ। দুই টাকা খরচ হলে চার টাকা খরচ করেন। সমস্যা নাই। যা লাগে আমি বুঝুম। যা করতে অয় আমি করমু। ফকিরের মতো ইলেকশন করার দরকার নাই। বড়লোকের মতোই করেন। ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্বাচন করার জন্য সেন্টার ওয়াইজ যা কিছু করার দরকার, সব করমু। কোথাও কোনো চাঁদাবাজি করবেন না। কারও থেইক্কা কোনো টাকা নেবেন না। আমার ভাইয়ের নির্দেশ, সে কারও থেইক্কা একটা টাকা নিতে দিব না এবং সে নিজেই চাঁদা দেওয়া মানুষ। আল্লায় তাকে তৌফিক দিছে দেওয়ার। এমনকি আমাকেও দিতে দিচ্ছে না সে।
তিনি বলেন, কেউ খবরাখবর নিতে বা গোয়েন্দাগিরি করতে আসছেন? ভাই আমার লগে গোয়েন্দাগিরি কইরেন না। কারণ, প্রত্যেকটা সেন্টারে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কর্ণার থেকে তিনজন করে ছেলে পাঠাইছি। একজন করে আগামীকাল থেকে নিজাম পরিচয় করিয়ে দেবে। আর দুই জন থাকব। নির্বাচনের দিন আমার যে নির্বাচনী এলাকা আছে, সেখান থেকে ২০-২৫ হাজার লোক আসব আপনাদের সঙ্গে আপনাগো এলাকায় নির্বাচন করতে। যদি কন ২৫ হাজারে অইব না, তাইলে ৫০ হাজারে পাঠামু। ৫০ হাজারে না অইলে এক লাখ পাঠামু, চিন্তা কইরেন না। আমার ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ এবং সোনারগাঁ থেইক্কা এক লাখ লোক নিয়া আসা শামীম ওসমানের জন্য বড় কোনো ব্যাপার না।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন ওসমান পরিবারের এক ভাই সেলিম ওসমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব, সাবেক এমপি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পদত্যাগী আহ্বায়ক এস এম আকরাম।

রানাপ্লাজা ধস- দ্বিতীয় লড়াইয়ে কিশোরী আন্না by শর্মী চক্রবর্তী

২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল ধসে পড়েছিল সাভারের রানাপ্লাজা। এর ৬ তলায় ১৭ দিন আগে কাজে যোগ দিয়েছিল ১৩ বছরের আন্না। দুর্ঘটনার দিন ওই ভবনে আটকা পড়েছিল সে। বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। সে সময় কংক্রিটের স্ল্যাব পড়ে থেঁতলে গিয়েছিল তার ডান হাত। টানা দু’মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ফিরে গিয়েছিল গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এখন মরণব্যাধি ক্যান্সার গ্রাস করেছে আন্নাকে। ডান পায়ে সৃষ্টি হওয়া ব্যথা এখন রূপ নিয়েছে ক্যান্সারে। এখন তার পা কেটে ফেলতে হবে- তা না হলে বাঁচানো যাবে না আন্নাকে। বেঁচে থাকার জন্য আবার জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাকে। আন্না বলে, ‘সেদিনই ভাবছিলাম মইরা যামু। আল্লাহ আমারে নতুন জীবন ফিরাইয়া দিছিল। কিন্তু ভাগ্য মনে হয় আমার সঙ্গে নাই। হাত হারাইয়া এখন আবার পা-ও হারাতে হবে। আল্লাহ কেন আমাকে এমন শাস্তি দিচ্ছে। এমনই যদি হওয়ার কথা ছিল তাহলে তখনই আর বাঁচাইয়া রাখলো কেন?’ রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে এমনিভাবে আর্তনাদ করছে কিশোরী আন্না খাতুন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তাকে সুস্থ করে তুলতে হলে কেটে ফেলতে হবে তার বাম পা। আন্না বলে, রানা প্লাজায় ছয় তলায় কাজ করতো সে। গত বছর ৭ই এপ্রিল কাজে যোগ দিয়েছিল। বাবা-মায়ের পক্ষে একা সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না দেখে নিজের ইচ্ছাতেই হেলপার হিসেবে ইথারটেক্স নামের গার্মেন্টে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ১৭ দিনের মাথায় ধসে পড়ে সে রানা প্লাজা। আন্না বলে, বাঁচার জন্য শত চেষ্টা করেও বের হয়ে আসতে পারিনি সেদিন। এক ধাক্কায় যেন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। তখন কংক্রিটের স্লাব পরে আমার ডান হাত থেঁতলে যায়। দু’দিন ধরে এই থেঁতলে যাওয়া হাত নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে পড়ে থাকি। বুঝতে পারিনি সেখানে গিয়ে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে। শুধু আল্লাহর নাম নিয়েই এদিনটি পার করেছি। সেই সময় আল্লাহর দূত হয়েই স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা আমাকে উদ্ধার করতে যায় সেখানে। সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করে হাত না কেটে আমাকে বাঁচাতে। কিন্তু সেদিন যদি আমাকে হাত কেটে বের করে না আনতো তাহলে আজ আর আমি থাকতাম না। আন্নার মা খজিরন বেগম বলেন, সেদিন হাত কাটা অবস্থায় ফিরে পেয়েছিলাম আমার মেয়েকে। মনকে সান্ত্বনা দিয়েছিলাম তার মুখখানা দেখে। ভেবেছিলাম মেয়ে তো তার জীবন ফিরে পেয়েছে। এখন যদি আবার তার পা-ও হারাতে হয় তাহলে কিভাবে চলবে তার জীবন। আমার মেয়ের তো কোন ভবিষ্যৎ থাকবে না। কোন কিছু করতে পারবে না। রানাপ্লাজা ধসের দু’দিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়েছিলাম এনাম মেডিকেলে। সেখানে প্রায় ২ মাস ১০ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ করে তোলা হয়েছিল তাকে। এক হাত হারিয়ে তার মনে অনেক কষ্ট ছিল। কিভাবে এখন নিজের কাজ নিজে করবে। আমরা সবাই মিলে সান্ত্বনা দিয়ে তাকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করি। এই দুর্ঘটনার পরে সাভার থাকার আর কোন ইচ্ছা ছিলো না আমাদের। এখানে এসে আমার মেয়ের হাত হারাতে হয়েছে- তাই সপরিবারে চলে যাই জামালপুরের নারিকেলিয়া কুমারপাড়ায়। সেখানে গিয়ে সবকিছু ভালই চলতে থাকে। বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর একদিন হঠাৎ করে পা পিছলে পড়ে যায় আন্না। এতে ডান পায়ে সে ব্যথা পায়। তখন ব্যথার ওষুধ খেয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় সবকিছু। দেড় মাস আগে থেকে আস্তে আস্তে সেই ব্যথা বাড়তে শুরু করে। এক সময় তা সহ্য সীমার বাইরে চলে যায়। তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জামালপুরের সদর হাসপাতালে। সেখানে ডা. মাহবুবুল তাকে দেখে ১ মাসের ওষুধ দিয়ে দেন। কিন্তু এতেও ব্যথা সারেনি। তখন ডা. মাহবুবুল বলেন, আমরা আর কিছু করতে পারবো না, আপনারা ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় সাভারের এনাম মেডিকেলে। সেখানে পরিচালক রওশন আরা তার চিকিৎসার সব কিছু দেখাশোনা করেন। ব্যথার জন্য স্বাভাবিক চিকিৎসা দেয়ার পর যখন ব্যথা সারেনি তখন তার হাঁটুর উপরের অংশ থেকে মাংস কেটে তা পরীক্ষা করা হয়। সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে আন্নার পায়ের সেই অংশে ক্যান্সার।
রওশন আরা বলেন, পরীক্ষার এই ফলাফল পাওয়ার পর আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিজিএমইএকে জানিয়েছি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে রেফার করেছি।
মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের শিশু ক্যান্সার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদ জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, আন্নাকে এখানে পাঠানোর পর তার রিপোর্টগুলো আমরা দেখেছি। রিপোর্টে  রেবডোমায়োসারকোমা নামের একটি ভাইরাস ধরা পড়েছে। তবে আমরা বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখানে আবার পরীক্ষা করবো। এই পরীক্ষার ২১ দিন পর তার চিকিৎসা শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় যদি এই ভাইরাসই ধরা পড়ে তাহলে আন্নার পা কেটে ফেলা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কারণ এটি হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তার পা কাটা না হলে এটি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।

নিজামীর রায়- আসলে দড়ি পড়েছে চালাকের গলায়

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলীয় নেতাদের রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেই হরতাল ডেকে বসে জামায়াতে ইসলামী। আর রায়ে ফাঁসির ঘোষণা থাকা মাত্র সে হরতালকে সর্বাত্মক বিক্ষোভে পরিণত করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। এর ব্যতিক্রম হয়নি কখনও। আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সফরের সময় এমনটিই দেখা গেছে বেশি। তাতে জামায়াত ইসলামীর সহিংস রাজনীতির পরিচয় বিদেশীরা প্রত্যক্ষ করেছেন সরাসরি। আর ব্যাপারটা সরকারের পক্ষে গেছে বিশেষভাবে। কারণ বিদেশী অতিথি বা প্রতিনিধি দলের সামনে জামায়াতকে মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তারা ভালভাবে পেরেছেন তুলে ধরতে। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জোটবাঁধা বিএনপি তথা ১৯ দলকেও চিহ্নিত করতে পেরেছেন জঙ্গিবাদের মদতদাতা হিসেবে। ২৫শে জুন সুষমা স্বরাজের সফর ঘিরে দেখা দেয় একই পরিস্থিতি। তা-ও আবার জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতা, দলের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণার দিনক্ষণ। আগে তো রায় ঘোষণার ব্যাপার ছিল দলের নেতাদের, এবার খোদ দলের প্রধান নেতা। ফলে ধারণা করাই যায় এবার জামায়াতের হরতাল বিক্ষোভ কতখানি কি সহিংস সন্ত্রাসী রূপ ধারণ করতে পারে! তাতে সুষমা স্বরাজ দেখতেন ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক এক ঘোরতর ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী’র বীভৎস ভয়াল রূপ! কিন্তু তা হলো না। এবার ব্যাপারটার মোড় ঘুরে যায় অন্য দিকে। ২৩শে জুন ১৯ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতকে বলা হয় এ সপ্তাহে হরতাল না দিয়ে পরের সপ্তাহে দিতে। দলীয় প্রধানের জীবন-মরণ প্রশ্ন- তাই এমন একটি প্রস্তাব মেনে নেয়া সহজ ছিল না তাদের পক্ষে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে রাজি হন তারা। সরে যান হরতাল বা অন্য কোন প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে। ১৯ দলীয় জোটের সভার এ সিদ্ধান্তের খবর সরকারের হাইকমান্ডে পৌঁছতে দেরি হয় না। হরতাল হচ্ছে না। বিক্ষোভ ইত্যাদিও হচ্ছে না। তারপরই কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন মতিউর রহমান নিজামী। উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা দেখা দেয়। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। তারপর কারা কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠায় ট্রাইব্যুনালে। রায় অপেক্ষমান ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার দিনে এ ঘটনা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে কোন কোন মহল। তারা অভিযোগ জানান। বলেন মতিউর রহমান নিজামীকে ‘অসুস্থ করা’ হয়েছে। কাশিমপুর কারাগার থেকে যাকে কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত আনা গেল- তাকে আদালত পর্যন্ত ওইটুকু পথ আনা যাবে না? আগে তো অন্য অপরাধীকে হুইল চেয়ারে করেও আনা হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র এমরান এইচ সরকার অভিযোগ করেন সমঝোতার। সরকার নাকি সমঝোতা করেছে জামায়াতের সঙ্গে! তবে তেমন কোন সমঝোতার কথা উড়িয়ে দিয়ে কেউ কেউ বলছেন, আসলে দড়ি পড়েছে অতি চালাকের গলায়।
হঠাৎ ‘অসুস্থ’ নিজামীর রায় ফের অপেক্ষমাণ
আদালত থেকে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়নি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে ট্রাইব্যুনাল হাজির না করার পর গতকাল মামলাটি নতুন করে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। নিজামীর অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণার আইনি প্রশ্নে শুনানি শেষে সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, আমরা কারা-কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়েছি। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যও শুনেছি। এই পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করছি না। এ কারণে  আজ আমরা রায় দিচ্ছি না। দ্রুত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাইছি। মামলাটি সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) রাখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন- বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এ নিয়ে মামলাটি তৃতীয়বারের মতো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হলো। এর আগে গত ১৩ই নভেম্বর এবং ২৪শে মার্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার জানানো হয় বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে অসুস্থতার কারণে নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যাচ্ছে না জানিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া চিঠি ট্রাইব্যুনালে এসে পৌঁছায়। বেলা ১১টার দিকে আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা প্রশ্নে ট্রাইব্যুনালে শুনানি হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে ট্রাইব্যুনাল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। অন্যদিকে, মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিজামী এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে একদিনও অনুপস্থিত থাকেননি। সুতরাং তার অনুপস্থিতিতে রায় হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে সিদ্ধান্তের কথা জানায় ট্রাইব্যুনাল। ওদিকে, নিজামীকে চিকিৎসকের পরামর্শে কারাগারে মেডিকেল সুবিধায় পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নিজামী। তিনি মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ অবস্থায় রাতেই নিজামীকে জেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব চিকিৎসক ডেকে পরীক্ষা করানো হয় ও চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হলে সকাল ৮টায় তাকে আরও একবার চিকিৎসক দেখেন এবং পূর্ণ বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শেই মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়নি বলে জানান ফরমান আলী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ১৬টি অভিযোগে ২০১২ সালের ২৮শে মে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতার বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৩ই নভেম্বর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। তবে ৩১শে ডিসেম্বর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর অবসরে চলে যাওয়ায় তখন আর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়নি। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম চেয়ারম্যান হওয়ার পর এ মামলার যুক্তি-তর্ক নতুন করে শোনা হয়। দ্বিতীয় দফা যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪শে মার্চ মামলাটি নতুন করে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় চট্টগ্রামের একটি আদালত এর আগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষণা করেছিল। ২০১৩ সালের ২১শে জানুয়ারি মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে ঘোষিত ওই রায়ে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলাটি আপিল বিভাগে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে দ-িত হয়েছেন জামায়াতের সাবেক নেতা গোলাম আযম, বর্তমান নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও দলটির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের। পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদ-ের রায় হয়েছে আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে।
রায় না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি পিছিয়ে দেয়া খুবই দুঃখজনক। উনি (নিজামী) যদি গাজীপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসতে পারেন তাহলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আসতে পারবেন না কেন? রায়  পেছানোর প্রতিক্রিয়ায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, নিজামী যদি সত্যিই এত অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই। বিচার কার্যক্রমে সরকারের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অসুস্থতার যথাযথ প্রমাণ সংশিষ্ট কোন গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা উচিত। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত নেতা নিজামীর মামলার রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। আজ (মঙ্গলবার) রায় ঘোষণা হবে শুনে এখানে (ট্রাইব্যুনাল এলাকা) এসেছি। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতার কারণ  দেখিয়ে রায় পিছিয়ে যাওয়া অনাকাঙিক্ষত ও দুঃখজনক।
‘নিজামীর রায় না হওয়া সরকারি ষড়যন্ত্রেরই অংশ’: গণজাগরণ মঞ্চ
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় হঠাৎ স্থগিত হওয়াকে সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। রায়ের দিন নিজামীকে অসুস্থ বানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে নিজামীর বিচারকার্য শুরু হয়েছে। চার বছর হয়ে গেলেও রায় ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি গত ৬ মাসে যুদ্ধাপরাধ মামলার কোন আসামির রায় দেয়া হয়নি। এগুলো বিচারের দীর্ঘসূত্রতাকে প্রমাণ করে। ইমরান আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সরকারের আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য  করা যাচ্ছে। মুখপাত্র বলেন, সাধারণত রায়ের আগের দিন জামায়াত-শিবির কর্মসূচি দেয়। এবার তাদের নীরবতার কারণে আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে আজ রায় হবে না। শেষ পর্যন্ত আমাদের আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। গতকাল সকালে রায় স্থগিত হওয়ার ঘোষণা এলে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এসব কথা বলেন ডা. ইমরান এইচ সরকার। এদিকে নিজামীর রায়কে ঘিরে গতকাল সকাল থেকে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। এর আগেই বিভিন্ন কারণে গণজাগরণ মঞ্চের মধ্যে ভাঙন ধরে। তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। গতকাল রায়কে কেন্দ্র করে মঞ্চের তিন অংশের নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদাভাবে শাহবাগে অবস্থান করেন। সকাল ১০ থেকে প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান নেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন অংশ। তারা জাতীয় জাদুঘরের পূর্ব পাশে তাদের নেতাকর্মী নিয়ে স্লোগানে মুখর থাকেন। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ও নবগঠিত শাহবাগ মুভমেন্টের মুখপাত্র বাপ্পাদিত্য বসুর নেতৃত্বে পশ্চিম পাশে একটি অংশ এবং সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত কামাল পাশা চৌধুরীর অংশ উত্তর পাশে অবস্থান নেয়। সকাল থেকেই রায় না হওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় না হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে প্রথমে মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এরপর একে একে বাপ্পাদিত্য বসু নেতৃত্বাধীন ‘শাহবাগ মুভমেন্ট’ ও মঞ্চের কামাল পাশা চৌধুরীর অংশও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, নিজামীকে নিয়ে সরকারি মহল থেকে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু রায়ের ক্ষেত্রে কোন প্রকার আপস চলবে না। গণজাগরণ মঞ্চ সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নিজামীসহ সব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে তারপর ঘরে ফিরে যাবে। কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, নিজামী অসুস্থতার কথা বলে ভান করছে আর সে সুযোগ নিয়ে রায়কে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কোন আসামি অসুস্থ থাকলে তার রায় দেয়া যাবে না, এটা  কোন  ধরনের আইন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই ট্রাইব্যুনাল নিরপেক্ষ থেকে অবিলম্বে নিজামীসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করবে। অন্যদিকে সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ মুভমেন্ট পুনরায় রায় না হওয়ার প্রতিবাদে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে শাহবাগে নিজামীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল বের করেন ডা. ইমরান এইচ সরকার সমর্থকরা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শাহবাগে ফিরে যায়।

‘বিপ্লব’ ঘটাতে আবার পাকিস্তানে কাদরি

তাহির-উল-কাদরি
নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লব’ ঘটাতে আবার পাকিস্তানে ফিরেছেন আলোচিত নাগরিক তাহির-উল-কাদরি৷ গতকাল সোমবার তাঁর আগমন উপলক্ষে উত্তপ্ত ছিল রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহর৷ ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের বাইরে কাদরির সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে৷ খবর এএফপির৷ কানাডায় বসবাসরত আলোচিত এই পাকিস্তানি গত বছরের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে অবস্থান ধর্মঘট করেছিলেন। তখন হাজার হাজার লোক তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। ওই সময় ক্ষমতায় ছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)৷ এখন ক্ষমতায় নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন)৷ সেনাবাহিনী এখন দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে৷
এমন এক সংবেদনশীল সময়ে কাদরির আগমন নওয়াজ সরকারকে বেশ চাপে ফেলতে পারে৷ চলতি মাসের শুরুতে কাদরি পাকিস্তানে আসার ঘোষণা দিলে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়া শুরু করে৷ গত সপ্তাহে লাহোরে পুলিশের সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়৷ কাদরির আগমন উপলক্ষে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের বাইরে গত রোববার রাত থেকেই তাঁর বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়৷ বিমানবন্দরমুখী সড়ক বন্ধ করে এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নিয়েও সরকার তাঁর সমর্থকদের আটকাতে পারেনি। সমর্থকেরা ‘কাদরি দীর্ঘজীবী হোন’ এবং ‘বিপ্লব, বিপ্লব, ইসলামি বিপ্লব’ বলে স্লোগান দিতে থাকে৷ টেলিভিশনের ভিডিওফুটেজে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের বাইরে কাদরির সমর্থকদের লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়৷ একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷ কাদরিকে বহনকারী উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে অবতরণ করতে দেওয়া হয়নি৷ পরে সেটি অবতরণ করে লাহোরে৷ পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, উড়োজাহাজ ও এর যাত্রীদের ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ লাহোর বিমানবন্দরে কাদরি প্রথমে উড়োজাহাজ থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান৷ তিনি মুঠোফোনে এক্সপ্রেস টিভিকে বলেন, ‘আমি চাই, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক
 সামরিক বাহিনী আমাকে নিরাপত্তা দিলে, আমি যেকোনো স্থানে যেতে ইচ্ছুক৷’ অবশ্য একপর্যায়ে তিনি উড়োজাহাজ থেকে নেমে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অবস্থানরত সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন৷ পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমলের আইনপ্রণেতা কাদরি ধর্মীয় দিক থেকে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত৷ পাকিস্তানে তাঁর উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে৷ তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীও কাদরি সমর্থক৷ তাঁকে ব্যবহার করে সামরিক বাহিনী দেশের বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে চাপে রাখতে চায়৷ কাদরি পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক মনে করেন৷ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বিদায় করতে দেশে আরব বসন্তের আদলে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন৷ গত বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের চার মাস আগে ইসলামাবাদে কাদরি যে অবস্থান ধর্মঘট করেছিলেন, তা চার দিন স্থায়ী হয়৷ ওই সময় কাদরিকে পাকিস্তানের ‘রাজনৈতিক ড্রোন’ আখ্যা দিয়েছিলেন কোনো কোনো বিশ্লেষক৷

একই ছাদের নিচে তিন ধর্মের উপাসনালয়!

প্রস্তাবিত উপাসনালয়ের রেপ্লিকা l বিবিসি
মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন একই ছাদের নিচে প্রার্থনা করছেন—এমন অভাবনীয় দৃশ্যের বাস্তব রূপ দিতে চান জার্মানির রাজধানী বার্লিন শহরের তিন ব্যক্তি৷ তাঁদের একজন যাজক, একজন রাব্বি এবং একজন ইমাম৷ খবর এএফপির৷ বার্লিনের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ভবনটি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি এখনো শূন্য৷ ২০১৮ সালের মধ্যে সেখানে যে ভবনটি তৈরি হবে, তার আনুষ্ঠানিক কোনো নাম পর্যন্ত নেই৷
না গির্জা, না সিনাগগ এবং না মসজিদ। তবে এখন এটিকে হাউস অব ওয়ান বলা হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলেন, এ ধরনের সমন্বিত প্রার্থনালয় সম্ভবত দুনিয়ার কোথাও নেই৷ তিন ধর্মের অনুসারীদের জন্য সমন্বিত প্রার্থনালয় ভবন নির্মাণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ছয় কোটি মার্কিন ডলার৷ এ লক্ষ্যে সম্প্রতি শুরু হয়েছে তহবিল সংগ্রহের কাজ৷ হাউস-অব-ওয়ান ডট ওআরজি নামের একটি ওয়েবসাইটের সাহায্যে সংগ্রহ করা হচ্ছে নির্মাণব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ৷ প্রার্থনালয় নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত বোর্ড অব দি অ্যাসোিসয়েশনের প্রোটেস্ট্যান্ট প্রতিনিধি রোনাল্ড স্টল্ট বলেন, ভিন্নধর্মী মানুষদের মধ্যে তাঁরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের তীব্র ইচ্ছা দেখতে পেয়েছেন৷

সাদ্দামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারককে হত্যা করেছে জঙ্গিরা?

বিচারক রউফ আবদুল রহমান
ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ২০০৬ সালে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে জঙ্গিরা হত্যা করেছে বলে দাবি উঠেছে। গত সপ্তাহে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল) ৬৯ বছর বয়সী এই বিচারককে আটকের পর হত্যা করে। খবর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের। তবে ইরাক সরকার জঙ্গিদের হাতে বিচারক রউফ আবদুল রহমানের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। আবার তাঁকে জঙ্গিদের জিম্মায় নিয়ে হত্যার ব্যাপারে প্রকাশিত প্রতিবেদনকেও নাকচ করেনি কর্তৃপক্ষ। এক খবরে দাবি করা হয়, ১৬ জুন আইএসআইএলের জঙ্গিরা বিচারক রউফকে আটক করে। এর দুই দিন পর তাঁকে হত্যা করা হয়। সাদ্দামকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়। আইএসআইএলের জঙ্গিরা ইতিমধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা দখল করে নিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে তারা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
জর্ডানের পার্লামেন্ট সদস্য খলিল আতেহ তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, সাদ্দাম হোসেনের বিচারের সময় ইরাকের সর্বোচ্চ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে আটকের পর ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইরাকের বিদ্রোহীরা তাঁকে আটক করেছে এবং সাদ্দামকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার অপরাধে তাঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারক রউফ নৃত্যশিল্পীর পোশাক পরে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন। সুন্নি জঙ্গিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সাদ্দাম হোসেনের সাবেক ডেপুটি ইজ্জাত ইব্রাহিম আল-দৌরির ফেসবুক পেজেও বলা হয়, ইরাকের ‘বিপ্লবীরা’ বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে আটক করেছে। বিচারক রউফের জন্ম কুর্দি-অধ্যুষিত হালাবজা শহরে। ১৯৮২ সালে দুজেইল শহরে ১৪৮ জনকে হত্যার দায়ে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক রউফ।