Tuesday, December 23, 2014

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে খালেদার মতবিনিময়

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই খালেদা জিয়া খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান এবং কেক কাটেন । খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি আলবার্ট পি কস্তার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আসম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মৃগেন হাগি দে, আর্চ বিশপ পানিসিউ কস্তা, জন গোমেজ, সুব্রত উইলিয়াম রোজারিও, পাপড়ি আলফ্রেড প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

‘অপরাজনীতির কারণে দেশে বিনিয়োগ আসছে না’ -সিপিডি’র সংলাপ

অপরাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ আসছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এসব সমস্যার কারণে দেশের অর্থনীতি মন্থরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। এগুলোর সমাধান হলে অতি দ্রুত দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে ধাবিত হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকাস্থ দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের উদ্যোগে ‘কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সিপিডি’র এডিশনাল রিসার্স ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ান ইয়াং, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিহাক সাং, সিউল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ল’-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. জায়েমিন লি ও কোরিয়া ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রফেসর ড. মুনসাং কাং।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল এর জন্য বর্তমান কু-রাজনৈতিক সংস্কৃতিই দায়ী। তিনি বলেন, প্রথমবার যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন কোরিয়ান ইপিজেডকে সরকার জমি বরাদ্দ দেয়। পরের বিএনপি সেখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পায়। কিন্তু আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এনে ইপিজেড ও তাদের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ঠিক যে কাজটি বিএনপি ২০০২ সালে ক্ষমতায় এসে করেছিল সেটা আমরাও করি। এই অপরাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দুঃখ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে জিএসপি’র আওতায় কোরিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও রুলস অব অরিজিনের (আরওও) কঠোরতার কারণে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে কোরিয়া সরকারকে আরওও’র শর্তসমূহ শিথিল করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

নীলফামারীতে পুড়ে গেছে দুই শতাধিক ঘর

(আগুনে পুড়ে গেছে ঘর, আসবাব সবই। সেখানেই আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে তোলার উপায় খুঁজছেন কয়েকজন নারী। ছবিটি আজ তোলা। ছবি: মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী) নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের সাতারুপাড়া গ্রামে আগুনে ৮৫টি পরিবারের ২২৫টি ঘর এবং ঘরের মালামাল পুড়ে গেছে।  গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইলিয়াছ আলীর রান্নাঘরের পাশে পল্লী বিদ্যুতের পিলারে ঝোলানো একটি বৈদ্যুতিক মিটারের বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত। আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একটি গরু, একটি ভেড়া, তিনটি ছাগল ও শতাধিক হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব হালিমা বেওয়ার সঙ্গে। এ সময় তিনি কাঁদছিলেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। পাঁচটি মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালান তিনি। তিনি বলেন, ‘কষ্ট করি চাইরটা বেটির বিয়া দিছি। একটা বেটির বিয়া দিবার বাদে ৩০ হাজার টাকা জোগার করছুনু, সেলাও (সেগুলো) পুড়ি গেইল, মোর এলা কী হইবে। ছাওয়াটাক ধরি মুই থাকিম কুনঠে।’
সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর নীলফামারী ও সৈয়দপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুই ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নেভান। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবেত আলী প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল, দুটি করে কম্বল, একটি করে শাড়ি ও একটি করে লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

বসতভিটা উদ্ধারের দাবিতে পরিবার নিয়ে অনশন

(বসতভিটা উদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবার নিয়ে অনশন করছেন চুয়াডাঙ্গার ভূমিহীন আবদুর রাজ্জাক। গতকাল সোমবার থেকে স্ত্রী-সন্তান বাবাকে নিয়ে তিনি অনশন করছেন। পরিবারটির অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ-উজ্জামান তাঁদের জমি দখল করেছেন। ছবি: প্রথম আলো) বসতভিটা উদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করছেন আবদুর রাজ্জাক নামের চুয়াডাঙ্গার এক ভূমিহীন ব্যক্তির পরিবার। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ-উজ্জামান তাঁদের জমি দখল করে ঘর তুলেছেন বলে পরিবারটির অভিযোগ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করছেন পাঁচ সদস্যের পরিবারটির সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের অনশন চলছে। বসতভিটা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপের আকুতিও জানিয়েছেন তাঁরা। আবদুর রাজ্জাক, তাঁর স্ত্রী মাহফুজা বেগম, দুই সন্তান ও আবদুর রাজ্জাকের বৃদ্ধ বাবা মোক্তার আলী অনশন করছেন। আবদুর রাজ্জাক ও তাঁর স্ত্রী মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, তাঁরা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুঠি পাইকপাড়া গ্রামে সরকারের কাছ থেকে আট শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ২০১২ সালের এপ্রিলে আওয়ামী লীগের নেতা মাসুদ-উজ্জামান তাঁদের ওই জমি দখল করে নেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতা মাসুদ-উজ্জামান জানান, জায়গাটি আবদুর রাজ্জাকের নামে বন্দোবস্ত করা। তবে তাঁর দাবি, জায়গাটি তিনি আবদুর রাজ্জাকের মাধ্যমে বন্দোবস্ত করিয়ে নিয়েছিলেন। কথা ছিল দুজনে জায়গাটি ভাগ করে নেবেন। কিন্তু এখন তিনি আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে গেছেন।
আবদুর রাজ্জাক জানান, ২০১২ সালে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ওই জমি থেকে মাসুদ-উজ্জামানের দখল সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেয়। কিন্তু তখন জমি দখলমুক্ত হয়নি। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাসুদ-উজ্জামান বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিট পিটিশন করেন। সে সময়ে মো. শাহিনুজ্জামান আলমডাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছিলেন। শাহিনুজ্জামানের ভাষ্য, এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর জায়গাটি ভূমিহীন পরিবারের বলে তিনি প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরও জায়গার দখল বুঝে পাননি আবদুর রাজ্জাক।
আবদুর রাজ্জাক ও তাঁর পরিবার আরও অভিযোগ করেছেন, মাসুদ-উজ্জামান বিভিন্ন সময়ে মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করেছেন। এর মধ্যে ঢাকার বংশাল থানায় করা একটি মামলায় আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তারও করা হয়। সেবার আলমডাঙ্গার ব্যবসায়ী খন্দকার বজলুল করিম তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করেন। এরপর বজলুল করিমসহ আবদুর রাজ্জাকের নামে আলমডাঙ্গা থানায় অপহরণ, চাঁদাবাজি ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে তিনটি মামলা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগার যাবে কেরানীগঞ্জে

(ছবি:-১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে ‘কারা সপ্তাহ ২০১৪’ উপলক্ষে প্যারেড পরিদর্শন করেন। ছবি:-২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে ‘কারা সপ্তাহ ২০১৪’ উপলক্ষে প্যারেড পরিদর্শন এবং কুচকাওয়াজের সালাম নেন। ছবি: ফোকাস বাংলা) আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার লালবাগ থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারের নয় একর জায়গা জনগণের জন্য একটি পার্ক ও দুটি জাদুঘর নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার ক্যাম্পাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে কারা সপ্তাহ-২০১৪-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাসস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়’—এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সরকার কারা প্রশাসন পরিচালনা করছে। তাই সরকার কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আদিকালে মূলত অপরাধীদের সাজা প্রদানের জন্যই কারাগার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সভ্য দুনিয়ায় কারাগারকে সংশোধনাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। কারা সপ্তাহ উদযাপনে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘ সাত বছর পর কারা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। আমি আশা করি, এ সপ্তাহ পালনের মধ্য দিয়ে আপনাদের কর্মস্পৃহা আরও বাড়বে এবং বন্দীদের সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ আটক ও তাঁদের প্রতি মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের নিরাপদে আটক রাখার মাধ্যমে সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অটুট রাখতে কারারক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। দেশ ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে কারা নিরাপত্তাব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘যারা এ সমস্ত জঙ্গি, সন্ত্রাসী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে কারা সপ্তাহ উদ্বোধন করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কারা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে প্যারেড গ্রাউন্ডে আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, ২০০৯ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ‘কারা স্মৃতি জাদুঘর’ স্থাপন করে। একে জাতীয় জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর এ জাদুঘর দুটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। যাতে জনগণ জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার কারাবাসকালীন স্মৃতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

‘তারেক বাংলাদেশের একমাত্র ভাষা প্রতিবন্ধী’

(প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী নারীদের কর্মসংস্থান: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিচ্ছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি) বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের একমাত্র ভাষা প্রতিবন্ধী’ বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী নারীদের কর্মসংস্থান: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মেহের আফরোজ এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ভাষা কী ছিল, সেটা সে শিখে নাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ কীভাবে করতে হয়, এর ভাষা তার জানা নাই। জাতীয় নেতাদের কীভাবে সম্মান করতে হয়, সে জ্ঞান এবং শিক্ষাও তার নাই।’
মেহের আফরোজ বলেন, ‘মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম না হলে তাকে প্রতিবন্ধী বলা হয়ে থাকে। কিন্তু তারেক জিয়া একজন স্বাভাবিক মানুষ হয়েও সে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে কটূক্তি করতেও দ্বিধা করে না। কার সম্পর্কে কোন কথা বলতে হয়, এর সামান্য জ্ঞানটুকুও তার নাই। তারেকই বাংলাদেশের একমাত্র ভাষা প্রতিবন্ধী।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়টিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের কোটা চালু করেছে। এ ছাড়া স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও শপিং মলে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

তারেকের সঙ্গে রিজভীকেও গ্রেপ্তারের নির্দেশ

বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও নয়টি মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার সাত জেলায় করা এসব মামলার পাঁচটিতে তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এর মধ্যে ব্রাহ্মণাবাড়িয়ায় করা মামলায় তারেকের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে আসামি করা হয়। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি চলছেই। আজ একই দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছে। বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় পৃথক মানববন্ধন করেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। ১৫ ডিসেম্বর ইস্ট লন্ডনের অস্ট্রিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বলছি, শেখ মুজিব রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু ছিলেন।’
তারেক রহমানের ওই বক্তৃতা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর চার কার্যদিবসে তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৪২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। দণ্ডবিধির ৪৯৯, ৫০০, ৫০১ ও ৫০৪ ধারায় এসব মামলা হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে। শুধু নোয়াখালী জেলায় আজ তারেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আর অন্য মামলাটি এফআইআরভুক্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পাবনায় করা মানহানির মামলাটি আদালত গ্রহণ করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন। পটুয়াখালীতে করা হয়েছে দুটি মামলা। আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি তারেককে হাজির হতে সমন জারি করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে আসামি করে মামলা করা হয়। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। রংপুর ও চট্টগ্রামে করা মামলা দুটিতে তারেকে বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মামলায় আগামী ১১ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। এ ছাড়া গতকাল নড়াইলে করা মামলাটিতেও তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধি}

কৃত্রিম প্রজননে পিতা হলেন কিউবার গুপ্তচর

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক কিউবার একজন গুপ্তচরকে তারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পিতা হতে সাহায্য করেছেন। কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন উন্নত হচ্ছে, এবং তারই আওতায় জেরার্দো হারনান্দেজ নামে ঐ গুপ্তচরকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেয়া হয়। মি. হারনান্দেজ গত ১৬ বছর ধরে কারাগারে আটক ছিলেন। তার স্ত্রী অ্যাড্রিয়ানা পেরেজ আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম দেবেন। এমনিতে কারাগারে আটক গুপ্তচরদের সঙ্গে কারও দেখা করার রেওয়াজ নেই। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেমোক্র্যাট সিনেটার প্যাট্রিক লেহির এক অনুরোধের পর নথিপত্র ঘেঁটে তারা দেখতে পান বন্দীর কৃত্রিম প্রজননের অনুমতি আগেও দেয়া হয়েছে।  সেই সুবাদে পানামায় অ্যাড্রিয়ানা পেরেজের সঙ্গে এই কৃত্রিম প্রজনন ঘটানো হয় বলে তারা জানাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

‘যে কোন সময় শিব উল্টে যাবে’ -আসম আবদুর রব

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকার জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। বলেছেন, বিদ্যুৎ আমদানি-কুইক রেন্টালসহ গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে সরকার যে সকল চুক্তি সম্পাদন করে যাচ্ছে তাতে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকার জনগণের অর্থ লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত। উচ্চ দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করে হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় পূরণে দফায় দফায় বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি। আজ বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির অপতৎপরতার প্রতিবাদে জেএসডি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। আসম রব বলেন, প্রত্যেক দেশের স্বৈরাচারী সরকারই শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক অবস্থাকে স্থিতিশীল বলে আখ্যায়িত করতে চায়। তবে যে কোন সময় শিব উল্টে যাবে। সর্বশেষ সুন্দরবন ধ্বংসের ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টিতেও সরকার উদাসীন। অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে যেমন ধ্বংস করে দিচ্ছে তেমনি বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে হয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিক্রিয়াশীল স্বৈরাচারী-মিথ্যাবাদী-নির্লজ্জ-বেহায়া সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানববন্ধনে জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, এমএ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো. সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, দেলওয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

তারা পেল পাওয়ার টিলার

(বলদ না থাকায় এর বদলে চাচা-ভাতিজা মিলে জমিতে হালচাষ করে আসছিল। হালচাষের সেই ছবি গতকাল প্রথম আলোতে ছাপা হয়। এরপর স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক আজ বগুড়ায় চাচা-ভাতিজার হাতে একটি পাওয়ার টিলার তুলে দেয়। ছবি: সোয়েল রানা) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম ওরফে আজিজার রহমান এবং তাঁর দুই ভাতিজা স্কুলছাত্র আবদুল্লাহ ও আবদুল হামিদ একটি পাওয়ার টিলার পেয়েছে। বলদের বদলে তিন চাচা-ভাতিজার হালচাষের ছবি গতকাল সোমবার প্রথম আলোতে ছাপা হয়। এরপর স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) রেজাউল হক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল রহমান তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিন চাচা-ভাতিজাকে ব্যাংকের বগুড়া শাখায় ডেকে নিয়ে তাদের হাতে একটি পাওয়ার টিলার তুলে দেন বগুড়া শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক। পাওয়ার টিলার হস্তান্তরের সময় এনামুল হক বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড কৃষক আবুল কাশেমের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
পাওয়ার টিলার পেয়ে খুশি কৃষক আবুল কাশেম।
এদিকে আবুল বারকাত পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত স্কুলছাত্র দুই ভাই আবদুল্লাহ ও আবদুল হামিদ এবং তাদের কলেজপড়ুয়া বড় বোনের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য ৫০ হাজার টাকার অর্থ সহায়তার কথা জানিয়েছেন। আবদুল্লাহ গাবতলী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির এবং আবদুল হামিদ মেন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের বাবা আবুল ফজল গাজীপুর শহরে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করেন। গত রোববার বড় চাচা আবুল কাশেমের সঙ্গে বাড়ির পাশে বিলের জমিতে লাঙল টানছিল দুই শিশু।

ম্যারাডোনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে লিগ?

(ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে ম্যারাডোনাকে আনার প্রস্তাব করেছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। ফাইল ছবি) ইন্ডিয়ান সুপার লিগের আদলে বাংলাদেশেও ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ হতে পারে। এটি আয়োজনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ। আর এ লিগের চেয়ারম্যান ডিয়েগো ম্যারাডোনা হতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাবে জানানো হয়, এ লিগে অংশ নেবে আটটি দল। সাত বিভাগের সঙ্গে থাকবে ময়মনসিংহ জেলা। প্রত্যেক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার নামীদামি ক্লাব। দলগুলোতে অংশ নেবেন বিশ্বের কিছু তারকা কোচ এবং খেলোয়াড়ও। সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ভাস্কর গোস্বামী একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বাফুফে সভাপতির কাছে প্রাথমিক প্রস্তাব করেছি। তিনি এটি গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন। লিগটি বাংলাদেশের ফুটবলকে সমূলে পরিবর্তন করতে সক্ষম।’
তারকাদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও লিগটির গুরুত্ব বাড়বে বলে জানান ভাস্কর। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে লিগের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির।  সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে আগামী বছর শীতে লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। দুই পক্ষের পরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জানুয়ারি। তখনই হয়তো এ লিগ সম্পর্কে চূড়ান্ত রূপরেখা জানা যাবে।

‘জিহাদ শব্দের অপব্যবহার হচ্ছে’ -সালমান খান

বলিউডের প্রভাবশালী তারকা সালমান খান এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, জিহাদ শব্দের অর্থ সংগ্রাম। ভালোর জন্য সংগ্রাম। কিন্তু আজকাল জিহাদ শব্দের অপব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ফ্যাসাদকে জিহাদ বানিয়ে দিয়েছে লোকেরা। গত ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের পেশোয়ারে অস্ত্রধারীদের হামলায় প্রাণ হারায় ১৩২ জন স্কুলশিশু। এ ঘটনার  প্রেক্ষিতে গত ২০শে ডিসেম্বর পৃথক পৃথক টুইটে এসব মন্তব্য করেন ‘দাবাং’ খ্যাত এ বলিউড তারকা। এর আগে সম্প্রতি বিগ বস ৮ অনুষ্ঠানের একটি পর্ব অনাড়ম্বরভাবে উপস্থাপনা করেন এর সঞ্চালক সালমান খান। এ জন্য দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পেশোয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে সালমান খান তার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, একটি নিরীহ জীবন বাঁচানোর মানে হচ্ছে পুরো মানবজাতিকে বাঁচানো। আর একটি জীবন হত্যা করার মানে হলো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ। তিনি আরও লিখেছেন, এমনকি যুদ্ধের সময়ও শিশু, নারী, বৃদ্ধ মানুষ, ধর্মীয় স্থাপনা ও কৃষিকাজের ক্ষতি করতে পারেন না আপনি। যারা ধর্মের নামে হত্যা করে, তারা পবিত্র বইটি পড়েনি। যাদের হাত ও মুখের কথা থেকে লোকজন নিরাপদ নয়, তারা আমাদের  কেউ না।

তেজপাতার এত গুণ! by ইমরান আলী

আমরা যতটা হাস্যকরভাবে বলি ‘জীবনটা যেন তেজপাতা হয়ে যাচ্ছে, কিছুই নেই’। তবে আসলেই কি তাই! যদি জানতাম তেজপাতার আসলে গুণের শেষ নেই তবে কখনোই হয়তো এমন উদাহরণ দিতাম না। রান্নার কাজে তেজপাতার ব্যবহার বাদেও কয়েকটি অবিশ্বাস্য গুণের দিকগুলো আসুন দেখে নেই-
*পানিতে তেজপাতা দিয়ে সিদ্ধ করে গোসল করলে ত্বকের অ্যালার্জি সমস্যা কমবে চমৎকারভাবে।
*  ত্বকের সতেজতা রক্ষা করতে রং চায়ের সঙ্গে তেজপাতার গুরুত্ব অপরিসীম।
*  শরীরে কোথাও ফোঁড়া উঠলে  তার ওপর তেজপাতা বেটে প্রলেপের মতো করে দিলে ব্যথা কমবে।
* শরীরের ময়লা দূর করতে তেজপাতা বেটে শরীরে মেখে গোসল করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
* দাঁতের মাড়ির ক্ষয়রোধ করতে তেজপাতা চূর্ণ করে দাঁত মাজতে পারেন।
* ঘামাচি দূর করার জন্য তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর মিহি করে বেটে নিন। ওই বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন।
*  চোখ ওঠা উপশম করে।
* দুর্বলতা দূরে করে। শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকরী। কয়েকটা পাতা থেঁতলে করে ২ কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন। ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তিও ফিরে পাবেন।
* তেজপাতা  মেশানো গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করলে ঠা-ার উপশম হয়।
* তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তেতো ভাব চলে যাবে।
* সবারই কম-বেশি তন্দ্রা ভাব আসে। অত্যাধিক তন্দ্রা ভাব রোগও বটে। এর প্রতিকারের জন্য ৫-৭ গ্রাম করে তেজ পাতা ৩/৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে বেশ কিছুদিন খেলে দারুণ উপকার পাবেন।
* বলা হয় স্মৃতিভ্রমের হাত থেকে রেহাই পেতে তেজপাতা মেশানো সেদ্ধ পানি আশানুরূপ ফল দেয়।
* যাদের গায়ে মাত্রাধিক দুর্গন্ধ বের হয় তারা  তেজপাতা বেটে গায়ে কিছুক্ষণ মেখে গোসল করলে রেহাই পেতে পারেন সহজে।
*যারা অত্যাধিক ঘামেন তারা রোজ একবার করে তেজপাতা বাটা মেখে আধা ঘণ্টা থাকার পর গোসল করে নিতে পারেন। এতে ঘামের মাত্রাটা কমে যাবে। এতে ঘামাচিরও উপশম হবে।
* আমাদের অনেক সময় ঘন ঘন তেষ্টা পায়। সেক্ষেত্রে ১ লিটার পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ২-৩ বার খান। দেখবেন বার বার তেষ্টা পাচ্ছে না।
* চর্মরোগ হলে তেজপাতা থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে সকাল ও বিকেলে খেতে হবে। ৪-৫ সপ্তাহ খেলেই দাদ-হাজা-চুলকানি সেরে যাবে। এছাড়া ওই পানি তুলা ভিজিয়ে দাদের জায়গা মুছে নিলেও কাজ হয়।
* প্রসাবের রঙ লালচে হলে তেজপাতা ২-৩ কাপ গরম পানিতে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে, এরপর ছেঁকে ২-৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর পান করলে প্র¯্রাবের রঙ সাদা হয়ে যাবে।
- অনলাইন অবলম্বনে

পেশওয়ার হামলার খবর জানতো পাক-গোয়েন্দারা!

পাকিস্তানের সেনানিয়ন্ত্রিত স্কুলে হামলা চালানোর বিষয়ে আগাম সরকারকে সতর্ক করেছিল দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী। হামলার তিন মাস আগে এ সতর্কতা জানিয়ে দেয়া হয়। পাকিস্তানের জিও নিউজ সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গত ২৮ আগস্ট ‘৮০২ নম্বর’ সংকেত হিসেবে এ সতর্কতা জারি করা হয়। খাইবার-পাখতুনখাওয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তালেবান নেতা খাকসার তার দুই সহযোগী বিলাল ও ওবায়দুল্লাকে সেনা নিয়ন্ত্রিত স্কুলটিতে হামলার পরিকল্পনা করে। বিলাল ও ওবায়দুল্লাহ হামলার কথা স্বীকার করেছে। সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছিল, “জঙ্গিরা প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। তারা সেনাকর্মকর্তাদের যতসংখ্যক ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা যায়, হত্যা করবে।” সতর্ক বার্তায় অপ্রত্যাশিত যেকোন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ও নিরাপত্তা বাড়াতে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়। বার্তার লিখিত কপিও খাইবার-পাখতুনখাওয়ার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। গত ১৬ ডিসেম্বর পেশওয়ারে সেনা নিয়ন্ত্রিত স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের ভয়াবহ হামলায় স্কুলটির ১৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়।–এনডিটিভি।

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্রেই ভূ-পাতিত মালয়েশিয়ার সেই বিমান!

আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স এমএইচ-৩৭০ বিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক এয়ারলাইন্স প্রধান ও লেখক মার্ক দুগেইন । বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং  ৯/১১ এর মতো হামলায় এটিকে ব্যবহার করা হবে ভেবে এটিকে ভূপাতিত করে আমেরিকান বাহিনী। মার্ক দুগেইন বলেন, “ভূপাতিত হওয়ার সময় ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত এলাকা দিয়াগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন নৌ বাহিনীর ঘাঁটির ওপর দিয়ে বিমানটি উড়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং এটি ওই ঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত হবে এই তথ্যের ভিত্তিতে মধ্য আকাশেই উড়িয়ে দেয় আমেরিকান বাহিনী। দিয়াগো গার্সিয়ার নিকটবর্তী ছোট দ্বীপগুলোর অধিবাসীরা মার্ক দুগেইনকে জানান, “ওইদিন (৮ মার্চ) একটি বিশাল বিমানকে খুব নিচ দিয়ে উড়ে যেতে দেখেছেন তারা। এমনকি, একজন জেলে তাকে এও জানিয়েছেন তিনি ওই বিমানটিতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের চিহ্ন সনাক্ত করতে পেরেছেন।” তাছাড়া ওই এলাকায় নিকটবর্তী বারাহ দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রে একটি খালি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও দ্বীপবাসীরা খুঁজে পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেনেগালিজ বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক দুগেইন, যিনি একজন ঔপন্যাসিক হিসেবেও প্রসিদ্ধ এক রেডিও স্টেশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, “আমি বিমানের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তাতে ঝুঁকি আছে। এটা করতে সময় প্রয়োজন।” কাছে দাবি সেনেগালিজ বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক দুগেইন। তিনি বলেন, “এমএইচ-৩৭০ বিষয়ে যেনো কোনো তদন্ত না করি সেজন্য আমাকে হুমকিও দেয়া হয়েছিল।” গত ৮ মার্চ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ বিমানটি ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয়।–ডেইলি মেইল।

রেললাইেন ২২ ঘণ্টায় ৫ লাশ

রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের রেললাইনে ২২ ঘণ্টায় পাঁচজনের লাশ মিলেছে। রেল পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনায় এদের মৃত্যু হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচজনের কারোরই নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।
গত রোববার বেলা দুইটা থেকে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে এসব লাশ পাওয়া যায়। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, রোববার বেলা দুইটার দিকে গাজীপুরের মৌচাকে রেললাইনে অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন রাত আটটার দিকে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জোয়ার সাহারা রেলক্রসিংয়ে এক পুরুষের লাশ পাওয়া যায়। গতকাল সকাল নয়টার দিকে দয়াগঞ্জ রেলক্রসিংয়ে আরেক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষ মারা যান।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক দাদন মিয়া এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, রোববার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বেগমপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী রুটের একটি ট্রেনের ধাক্কায় ৩০-৩২ বছরের ওই লোকটি মারা যান। তাঁর মাথা ফাটা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ছিল। তার পরনে কালো রঙের প্যান্ট ও কোট ছিল। তাঁর পরিচয় মেলেনি।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ মনে করেন, শীতের কারণে মাথায় টুপি পরেন অনেকে। আবার অনেকে মুঠোফোনে ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটেন। যার কারণে ট্রেন চলে এলেও তাঁরা বুঝতে পারছেন না। ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কালিয়াকৈর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি গাজীপুর সদর হাসপাতালে, রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ ও জোয়ার সাহারা থেকে পাওয়া তিনটি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে পাওয়া লাশটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে।

পাকিস্তানে অর্ধশতাধিক জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবানের ভয়াবহ হামলার জের ধরে দেশটিতে শিগগিরই আরও অর্ধশতাধিক জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে। গত সপ্তায় সংঘটিত ওই হামলার ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে অন্তত ছয়জনের। এ ছাড়া হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি, এএফপি ও ডনের।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর দায়ে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কমপক্ষে ৫৫ জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন সম্প্রতি নাকচ করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন। এর ফলে সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের স্কুলে জঙ্গি হামলার পরের দিন পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের পর থেকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই ৫৫ জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর করা না-করার বিষয়টি ঝুলে ছিল।
এই ব্যক্তিদের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি কার্যত আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সরকার ক্ষমতায় এসেও মূলত একই কারণে বিষয়টির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তাই কার্যকর করা সম্ভব হয়নি তাঁদের ফাঁসির আদেশও।
ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করতে যাচ্ছে। এরপর তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাঁচ শতাধিক লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
সাধারণত পাকিস্তানে ক্ষমার আবেদন নাকচ ও মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর দণ্ড কার্যকরে অন্তত ১৪ দিন সময় লাগে। তবে পাঞ্জাব সরকার সম্প্রতি আইন সংশোধন করে এই সময় দুই দিন করেছে। প্রদেশটির সরকার আরও একটি আইন সংশোধন করেছে। যার ফলে মৃত্যুদণ্ড কেবল ভোর চারটায় কার্যকর করা হবে। এত দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যেকোনো সময় ফাঁসিতে ঝোলানো যেত।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংশ্লিষ্ট যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, সেসব মামলায় সক্রিয় হয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনতে লেগে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল সালমান আসলাম বাট ও তাঁর দলকে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কর্মকর্তারা জানান, এই নির্দেশের পর সরকারি কৌঁসুলিরা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবেন, যাতে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়।
ওদিকে ২০১২ সালে গুজরাটে এক সেনাশিবিরে হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া পাঁচ ব্যক্তির দণ্ড স্থগিত করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আইনজীবীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ দেন আদালত। একই দিন আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন সিন্ধু হাইকোর্টও।
কয়েকজনকে গ্রেপ্তার: পুলিশ বলছে, পেশোয়ারের স্কুলে নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী বলেন, এরা ওই হামলার ‘প্রশ্রয়দাতা’। তবে এদের সংখ্যা বা পরিচয় প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান তিনি। মন্ত্রী দাবি করেন, আরেকটি হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে তাঁরা আভাস পেয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল কোয়েটার কুচলাক এলাকা থেকে তালেবানের একজন প্রভাবশালী কমান্ডারসহ সন্দেহভাজন পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পিটিআইয়ের নিন্দা: পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান গত রোববার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্য সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিন্দা করেছেন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে তালেবানের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে যে সাধারণ ভাবমূর্তি প্রচলিত রয়েছে সেটি হালকা করতেই একে ইমরানের একটা চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

মহসীন আলী দেওয়ান

মহসীন আলী দেওয়ান বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গে শিক্ষাব্রতী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একাত্তরে তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষও ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বগুড়া দখল করলে তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। দখল করার পর সেনাবাহিনী স্কুল-কলেজ খোলার নির্দেশ দেয়। তিনি কলেজে যাননি। কিছুদিন পর থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ তাঁকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন তাঁর কাছে অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। তিনি প্রথমে এই চাপ উপেক্ষা করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু হলে তিনি ৩ জুন দুজন ছাত্র ও কোরআনের একজন হাফেজকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে যান। উপাধ্যক্ষ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে তাঁকে ভাঁওতা দিয়ে বগুড়া শহরে নিয়ে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ। কোথাও তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। মহসীন আলীর মেয়ে স্নিগ্ধা মহসীনা আহসানের লেখায় এ ঘটনার বিবরণ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘...কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল বাবাকে কলেজের দায়িত্ব তাঁর হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অনবরত লোক পাঠাতে লাগল। বাবা যদি না যান, তবে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ভয় দেখাল। এভাবে চাপ সৃষ্টি করে জোর করে কলেজে নিয়ে গেল। আমার নানার গ্রাম থেকে তাঁর কলেজের দুজন ছাত্র ও একজন হাফেজ (কোরআন) সাহেবকে নিয়ে কলেজে গিয়েছিলেন। চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে যখন ফিরতে চেয়েছেন, তখন ভাইস প্রিন্সিপাল জোর করে বগুড়ায় বাবার প্রিয় বাড়ি দেখাবার লোভ দেখিয়ে এনে নরঘাতকদের হাতে তুলে দেয়। বাবার সঙ্গে সেই নির্দোষ হাফেজ সাহেবও নিখোঁজ হলেন।
‘বাবার কাছে প্রফেসর মযহারুল ইসলাম (যিনি পরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়েছিলেন) চিঠিও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার জীবনে বাবা নামের অধ্যায়ের সেই শেষ।’ (স্মৃতি ১৯৭১, প্রথম খণ্ড, প্রথম প্রকাশ ১৯৮৮, সম্পাদনা রশীদ হায়দার)।
শেরপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হলেও মহসীন আলী দেওয়ান একসময় নওগাঁ কলেজ ও বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। সাপ্তাহিক বগুড়া বুলেটিন ও সান্ধ্য দৈনিক জনমত-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। বগুড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বগুড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন।
সাহিত্যিক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এ জন্য ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। গল্পের চিড়িয়াখানা নামে তাঁর একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর রচনা স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।
গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে মহসীন আলী দেওয়ানের ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও প্রচেষ্টা। যেসব ছাত্রের বাড়ি দূরবর্তী গ্রামে ছিল, পরীক্ষার সময় তিনি তাদের অনেককে তাঁর বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
মহসীন আলী দেওয়ানের জন্ম জয়পুরহাটের ভুটিয়াপাড়া গ্রামে, ১৯২৯ সালের ১ জানুয়ারি। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আজিজুল হক কলেজে তিনি ছিলেন ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক।
তিন সন্তানের জনক মহসীন আলী। একসময়ের সিনে সাংবাদিক ফারুখ ফয়সল তাঁর ছেলে।
স্কেচ: শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক ডাকটিকিট (তৃতীয় পর্যায়) প্রকাশ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা (১৯৯৪)।
গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

প্রাণ ফিরে পেয়েছে আচেহ

সাজানো-গোছানো সুন্দর এই জায়গাটি ইন্দোনেশিয়ার আচেহ
প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহর পশ্চিম উপকূল। ২০০৪
সালের সুনামিতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল এই সৌন্দর্য।
২০০৪ সালে ভয়াবহ সুনামির পর পুরো লোখাঙ্গা গ্রামটি মাটিতে মিশে গিয়েছিল। গ্রাম থেকে দূরের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। দুই কিলোমিটার দূরের সমুদ্র, পেছনে আচেহর আঞ্চলিক রাজধানী বানদা আচেহও স্পষ্ট। গোটা গ্রাম কাদায় ভরপুর। ধ্বংসের চিহ্ন চতুর্দিকে। রাস্তা রাস্তায় পড়ে ছিল অসংখ্য লাশ। আর এর সঙ্গে ছিল মানুষের সীমাহীন কষ্টের চিহ্ন। ১০ বছর পরের লোখাঙ্গাকে চেনা বেশ মুশকিল। গাছগুলো এত দ্রুত ১০ বছরে বেড়ে উঠেছে, মনে হয় যেন ছোট্ট এ গ্রামটি গাঢ় সবুজ পর্দায় ঢাকা পড়েছে। খবর বিবিসির। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি আঘাত হানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে। সেই সুনামির আঘাতে লোখাঙ্গার মতো অজস্র গ্রাম ধ্বংস হয়। সুনামির পরপরই লোখাঙ্গার বেঁচে থাকা মানুষদের আশ্রয়স্থল ছিল কাছের মসজিদের ধ্বংসাবশেষে তৈরি একটি ক্যাম্প। সেই সময় ১১ বছরের মাওয়ারদা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা হয়।
৩৫ মিটার উঁচু ঢেউয়ের তোড়ে ওর মা-বাবা দুজনই ভেসে যান। সুনামির আঘাত হানার বেশ কয়েক দিন পর মাওয়ারদা ওর বড় বোন মুতিয়াকে (১৬) খুঁজে পায়। লোকে ঠাসা ক্যাম্প থেকে ওরা একসময় নিজস্ব তাঁবু পায়। পরে ধীরে ধীরে ইট আর কাঠের তৈরি বাড়িতে জীবন গড়ে তোলে ওরা। এক িব্রটিশ সাহায্য সংস্থা বাড়িটি তৈরি করে দিয়েছিল। মাওয়ারদা স্কুলে ফিরে যায়। ওর বোন মুতিয়ার বিয়ে হয়। ওদের সবার বড় বোন ইটা লোখাঙ্গাতে ফিরে আসে। সুনামির ধ্বংসের পর আবার নতুন জীবন পেয়েছে মাওয়ারদা। নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো আচেহ। বিধ্বংসী সুনামি মাওয়ারদার মা-বাবাকে শুধু কেড়ে নেয়নি, সেই সঙ্গে চলে গেছে তাদের সব স্মৃতিও। মা-বাবার ছবি, তাঁদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র—সবই সুনামির পানিতে ধুয়ে-মুছে গেছে। তবে ২১ বছরের মাওয়ারদা হেরে যাননি। আজকের ২১ বছরের মাওয়ারদা অনেক আস্থাশীল, চৌকস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সুনামির পর আন্তর্জাতিক সহয়তা এসেছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থে যে বাড়ি তৈরি হয়েছে, তা ২০০৪ সালের বাড়ির চেয়ে অনেক ভালো, স্বীকার করছেন স্থানীয় লোকজন। সুনামির মহাদুর্বিপাকের আগে আচেহতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ছিল তীব্র। সুনামি সেই সশস্ত্র আন্দোলন ছেড়ে শান্তির পথে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওই দুর্যোগের পরপরই শান্তি আলোচনা শুরু হয়। নতুন সরকার গঠিত হয়। শান্তির সেই সুবাতাস মাওয়ারদাকেও করেছে আত্মবিশ্বাসী।

কাস্ত্রো–পরবর্তী কিউবাই মার্কিন নীতির লক্ষ্য

কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগের যারা সমালোচক, তাদের যুক্তি, এ পদক্ষেপ দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকারকেই পৃরস্কৃত করবে। দেশটির কমবেশি ৮০ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সেখানকার সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার। সমালোচকদের এই যুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই সঠিক। অবশ্য এখানে বড় প্রশ্নটা হচ্ছে, ওবামার এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার ওপর অধিকতর কার্যকরী প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেবে কি না? বিশেষ করে দেশটির শাসনভার পরিচালনার ক্ষমতা যখন ‘কাস্ত্রো’ নামের কারও হাতে থাকবে না, তখন সেটা ঘটা সম্ভব কি না?
বলা হয়ে থাকে, কিউবা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নীতির লক্ষ্যই ছিল দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের ধ্বংস ডেকে আনা। সেটা সত্যি হয়ে থাকলে ওবামার নতুন নীতিতে একটি বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে: কিউবায় এ ধরনের অস্থিতিশীলতা কোনোক্রমেই আর মার্কিন স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। নীতি পরিবর্তন প্রশ্নে গত সপ্তাহের ঘোষণার সময় ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে, হাভানার মতো তারাও চায়, কিউবায় কাস্ত্রো-পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদল সুষ্ঠুভাবে হোক। ওবামার প্রথম মেয়াদে লাতিন আমেরিকাবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আর্তুরো ভ্যালেনজুয়েলা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা কী একটা কঠিন অবতরণ না কোমল অবতরণ দেখতে চাই? বাস্তবতা হচ্ছে, একটা পরিপূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থা দেখা আমাদের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়, কিউবার জনগণের জন্যও নয়।’ বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো বারবার বলেছেন, তিনি ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
তবে এমন ইঙ্গিতও রয়েছে, তিনি আরও আগে ক্ষমতা ছাড়তে পারেন। যদিও তিনি শারীরিক দিক থেকে অনেক সুস্থ রয়েছেন। তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি যাঁরা হতে পারেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল (৫৪)। কিউবার পার্লামেন্টে গত শনিবার দেওয়া ভাষণে কাস্ত্রো আগামী এপ্রিল মাসে দেশটির ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। অতীতে এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমেই দেশে সংস্কার বা নেতৃত্ব বদল হয়েছে। সর্বশেষ সম্মেলনটি হয় ২০১১ সালে। সেটাও আগের সম্মেলনের ১৪ বছর পর। রাউল কাস্ত্রোর ভাষণের সময় তাঁর বড় ভাই ও পূর্বসূরি ফিদেল কাস্ত্রো উপস্থিত ছিলেন না। ৮৮ বছর বয়সী ফিদেল অসুস্থ। পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে রাউল কাস্ত্রো বলেছেন, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। তবে কিউবার একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং এর সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হবে না বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। সমালোচনা যা-ই হোক, ওবামা যুক্তি দিচ্ছেন, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে এখনই না হোক, দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যতের ওপরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়বে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তারা যে পদক্ষেপই নিক না কেন, আমরা সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পাব। যেটা আমরা করে থাকি বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে। তারা যখন কোনো কিছু করে, আমরা সেটাকে ভুল মনে করলে তার জবাব দিয়ে থাকি। তার মানে, আমরা কিছু গাজর দেব, হাতে কিছু লাঠিও পাব (ক্যারট অ্যান্ড স্টিক অ্যাপ্রোচ)।’

বিচার হবে...

রাজকুমারী ক্রিস্টিনা ডি বরবন
স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের বোন রাজকুমারী ক্রিস্টিনা ডি বরবনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গতকাল সোমবার ব্যালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। ক্রিস্টিনার স্বামী সাবেক হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ইনাকি উরদানগারিনের একটি ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ক্রিস্টিনাই হবেন স্পেনের রাজপরিবারের প্রথম সদস্য যাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।
রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও পুলিশ হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে গত রোববার গুলি করে ও গাড়িচাপা দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন এক যুবক। পরে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। নিউইয়র্কে এক যুবকের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার এক দিন পর এ ঘটনা ঘটল। খবর ইউএসএ টুডের।
নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম চার্লস কোন্ডেক। নিউইয়র্কের বাসিন্দা কোন্ডেক পাঁচ বছরের বেশি সময় নিউইয়র্ক নগর পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হন। সেখানকার পিনেলাস কাউন্টির টারপন স্প্রিংস শহরের পুলিশ বিভাগে কাজ করছিলেন তিনি। কোন্ডেকের সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে আটক যুবকের নাম মার্কো অ্যান্টোনিও পারিলা জুনিয়র (২৩)।
পুলিশ জানায়, পারিলা একজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িযোগে রোববার স্থানীয় সময় সকালে টারপন স্প্রিংস শহরের গ্রান্ড বুলেভার্ড এলাকার একটি বাড়ির সামনে যান। পারিলা যখন বাড়িটির দরজায় টোকা দিচ্ছিলেন, তখন ওই নারী গাড়িতে বসেই গান শুনছিলেন। এ সময় এক প্রতিবেশী ওই নারীকে গানের শব্দ কমাতে বলেন। তা না মানায় ওই প্রতিবেশী ৯১১ নম্বরে ফোন করে শব্দদূষণের অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা কোন্ডেক ঘটনাস্থলে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কোন্ডেক গাড়ি থেকে বের হওয়ামাত্রই পারিলা তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন। একটি গুলি কোন্ডেকের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে গিয়ে লাগে। তবে কোন্ডেক পাল্টা গুলি ছুড়তে সক্ষম হলেও মাটিতে পড়ে যান। তখন ওই নারীকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে নিজে গাড়িতে উঠে পড়েন পারিলা। এরপর মাটিতে পড়ে যাওয়া কোন্ডেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। তবে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল পারিলাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাঁর গাড়িটি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও পরে একটি থামা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পরই তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বরগুনায় দুই সাংসদের কাণ্ড!

বরগুনা-১ আসনের (সদর-আমতলী-তালতলী) সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সাংসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একই দিন বিকেলে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওরফে রিমনের নির্দেশে একটি সালিসে এক গৃহবধূর মাথায় বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাংসদ এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে গত রোববার দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগাম একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেক জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সেখানে উপস্থিত হন এবং হঠাৎ আবদুল মালেকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সাংসদ তাঁর (নির্বাহী প্রকৌশলী) জামার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় সাংসদ উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, ‘লাঠি কোথায়? ওকে লাঠিপেটা করব।’ ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান। এরপর সাংসদ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ঢোকেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মহড়ায় যোগ দেন। বিষয়টি সন্ধ্যায় জানাজানি হয়।
আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সাংসদ আমাকে ফোন করে জেলার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী এলাকায় বাঁধের গাছ কাটার কথা জানান। এরপর ১১টার দিকে পুনরায় সাংসদ ফোন করলে আমি তাঁকে বলি, ‘স্যার, সেখানে লোক পাঠিয়েছি, খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি। এ কথা বলার পরপরই সাংসদ কিছুটা রাগ হয়ে আমার ফোন রেখে দেন। পরে আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে আগাম মহড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যাই। সেখানে আমাকে তিনি কিল-ঘুষি মারেন।’
বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। উনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) আমাকে বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন।’
সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বাঁধের সবুজ বেষ্টনীর গাছ কেটে ফেলেছে, যার আর্থিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা। আমি এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে রাগারাগি করেছি, মারধর করিনি।’
এদিকে পাথরঘাটা উপজেলার গহরপুর গ্রামের এক গৃহবধূ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজনকে মিথ্যা মামলা ও থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন এমন অভিযোগে রোববার বিকেলে সালিস বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত করে স্থানীয় সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওই নারীকে জুতাপেটা করেন। একই সঙ্গে তাঁর মাথায় মানুষের বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী শৌচাগার থেকে এক বালতি বিষ্ঠা এনে ওই নারীর মাথায় ঢেলে দেন।
সালিস বৈঠকে সাংসদ ছাড়াও উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন, পাথরঘাটা পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ইয়াছিন আরা এবং পৌর কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক ও বাবুল মিস্ত্রি উপস্থিত ছিলেন।
সাংসদ বিষ্ঠা ঢালার কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নারী অনেক মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এর জন্য মারলে আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ আসতে পারে। তাই বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার রায় দিয়েছি।’

কম্বল পেয়েই কেঁদে ফেলল মেয়েটি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তারের বয়স আট বছর। তার মা ও বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালায়। এবার শীতে গায়ে দেওয়ার জন্য কোনো গরম কাপড় নেই। কম্বল নিতে এসে থরথর করে কাঁপছিল মেয়েটি। একটি কম্বল পাওয়ামাত্রই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলে সে।
নাটোরের অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি) কার্যালয়ের সামনে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে গতকাল সোমবার এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। পারভীন আক্তার জানায়, এত দিন সে তার মায়ের পরনের কাপড়ে মুখ গুঁজে রাত যাপন করেছে। তার মতো অসহায় ১০০ প্রতিবন্ধীর হাতে কম্বল তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নাটোর, গাইবান্ধা ও নেত্রকোনায় গতকাল সিটিব্যাংক এনএর সহযোগিতায় এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলায় রোববার ফ্যাশন হাউস ওটুর সহযোগিতায় ৫৪০টি কম্বল দেওয়া হয়। এবারের এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে। চার জেলায় গত দুদিনে কম্বলগুলো বিতরণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
নাটোরের সদর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০০ প্রতিবন্ধীকে গতকাল কম্বল দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে দিঘাপতিয়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফুলবালা বেওয়া (৭২) বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় দুই বেলা খাতে পাইনি। শীতের কাপড় কিনব কী করি? তাই ঠান্ডার ভয়ে বিকাল হলেই ঘরে দরজা দিয়া থাকি। দম ফেলতে পারিনি। কম্বলডা পাইয়াএখন চিন্তামুক্ত হলাম।
গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ২০০ শীতার্তকে কম্বল দেওয়া হয়। গাইবান্ধা পৌরসভার মুন্সীপাড়া, বানিয়ারজান, পূর্বপাড়া, ডেভিড কোং পাড়া, বাংলাবাজার, পশ্চিমপাড়া, ফকিরপাড়া, মালিপাড়া এলাকা এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার বারবলদিয়া, দারিয়াপুর, কয়াছয়ঘরিয়া, বালুয়া, বল্লমঝাড়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এবং সমিতির বাজার গ্রামের মানুষকে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
কম্বল পেয়ে কয়াছয়ঘরিয়া গ্রামের আজিরন বেগম (৫৫) বলেন, ‘হামারঘরে সোংসারোত পাঁচকোনা মানুষ। দুইব্যালা ঠিকমতোন খাব্যার জোগবার পাই ন্যা। শীতের কাপড়া কিনমো ক্যামন করি। তোমারঘরে কমবোল পায়া উপক্যার হলো বাবা। আইজকে আইতোত আরামে ঘুমব্যার পামো।’ কঞ্চিপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী রনজু মিয়া (৫৫) বলেন, ‘এক ব্যালা না খায়া থাকা যায়। কিন্তুক শীতের কষ্টে আইত কাটে না। তোমারঘরে কাপড়াকোনা পায়া ভালো হলো।’
নেত্রকোনা শহরের আদর্শ শিশুবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সকাল নয়টার দিকে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আদর্শ শিশুবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন নেত্রকোনা জেলা শাখার সহসভাপতি বিমল বিশ্বাস এবং নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের অগ্রগণ্য সংবাদপত্র হিসেবে প্রথম আলো গরিব-অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে যে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা প্রতিষ্ঠানটির মানবতাবোধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বাধাইল ইউনিয়নের জিনাখোর আদিবাসী গ্রামে গত রোববার ৪০ দরিদ্র আদিবাসীকে কম্বল দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র বিতরণের আগে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
এবারের কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। গত দুদিনে বিতরণ করা চারটি জেলা ছাড়াও এ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
[(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোর, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি)৷

‘খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার বঞ্চিত হচ্ছেন’

সরকার বিচার বিভাগকে ‘অন্যায়ভাবে’ প্রভাবিত করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ভিন্ন মত হলেই সরকার রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে তা দমন করছে। আদালতের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা তার ১৫টি মামলা তুলে নিয়েছেন। এমনকি বিচারাধীন মামলাও তিনি তুলে নিয়েছেন। মামলার বাদী আজম জে চৌধুরী শেখ হাসিনাকে ঘুষ দিয়েছিলেন তা পত্রিকায় ফাঁস হয়েছিলো, সেই মামলার ট্রায়ালও শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা থেমে গেছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। তাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফখরুল আরও বলেন, এই সরকার মামলা মোকদ্দমা দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। অনৈতিক ও অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তারা বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করেছে। উচ্চ আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। যখন সরকার অন্যায়ভাবে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানি করে তখন উচ্চ আদালতে গিয়ে আমরা রিলিফ পেয়েছি। কিন্তু এখন আদালতের আচরণে আমরা হতাশ।

এবার চীনে তিব্বতি নারীর আগুনে আত্মাহুতি

চীনা শাসন ও দমননীতির প্রতিবাদে এবার আগুনে আত্মাহুতি দিলেন এক তিব্বতি নারী। সেপ কি নামে ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের অ্যাবা কাউন্টির একটি শহরতলিতে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যম এ তথ্য দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সেপ তার পিতামাতার সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে তার জীবনযাপন ছিল যাযাবরের মতো। সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে তিনি বেশিদিন অবস্থান করতেন না। এদিকে সেপের আগুনে আত্মাহুতি দেয়ার ঘটনার পর তার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহরতলিটিতে এ মাসে এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। পুলিশ ও অ্যাবা কাউন্টি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি। এর আগে সেখানে ২ সন্তানের পিতা আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩০ তিব্বতি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে বেইজিং এবং নির্বাসিত নোবেল জয়ী আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা তিব্বতিদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে, আগুনে আত্মাহুতির ঘটনাকে নিদারুণ হতাশার চরম বহিঃপ্রকাশ এবং এ ধরনের ঘটনা থামানোর ব্যাপারে তিনি অক্ষম বলে বারবারই মন্তব্য করেছেন দালাই লামা।

যে কোন সময় জঙ্গিদের ফাঁসি কার্যকর

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন জঙ্গি কর্মকা-সহ গুরুতর বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ৫৫ জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পর মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকরের বিষয়টি এখন আসন্ন। প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপের অর্থ, পাকিস্তানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ওই ৫৫ জঙ্গির মধ্যে বেশ কয়েকজনের ফাঁসি যে কোন সময় কার্যকর করা হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। পেশোয়ারের একটি সেনা পরিচালিত স্কুলে তালেবানের পরিচালিত বর্বরোচিত হামলায় ১৩২ স্কুলশিশুসহ ১৪৫ নিহতের ঘটনার পর শোকে মুষড়ে পড়ে গোটা পাকিস্তান। সারা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া। এ ঘটনার পরপরই ফাঁসি কার্যকরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। এ পর্যন্ত ৬ জঙ্গিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে বেশ কয়েক শ’ জঙ্গির ফাঁসি হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ৫০০ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের পদক্ষেপ বেশ অস্বাভাবিক এবং এ সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের বেসামরিক জনগণকে তালেবানের কাছ থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন ভূমিকা রাখবে না।

খুনের পর মুণ্ডু কেটে চাঁদা দাবি: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিদ্যুত মিস্ত্রি রুবেলকে খুনের পর তার কাটা মু-ু নিয়ে চাঁদা দাবির মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. রেজাউল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে  আসামিদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়। দ-প্রাপ্তরা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে রুবেল (২৫), ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কোদালিয়া উত্তরপাড়ার ওসমান গনির ছেলে রোমান (২৪) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দেউড়ি গ্রামের কবির বিশ্বাসের ছেলে রনি বিশ্বাস (২৪)। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ই জুন দিবাগত রাতে পুরান ঢাকার হোটেল শাহকামালের নীচতলায় রুবেলকে খুন করা হয়। এরপর তার মু-ু কেটে তা নিয়ে আসামি রোমান হোটেল মীমে গিয়ে ম্যানেজারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নতুবা হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। টাকা দেয়ার কথা বলে রোমানকে বসিয়ে পুলিশে খবর দেন ম্যানেজার। পরে পুলিশ এসে তাকে  গ্রেপ্তার করে। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হোটেল শাহকামালের নীচতলার পাশে একটি স্থান থেকে রুবেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রুবেলকে খুন করার পরিকল্পনা করে তারা।

‘জিহাদ শব্দের অপব্যবহার হচ্ছে’

বলিউডের প্রভাবশালী তারকা সালমান খান এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, জিহাদ শব্দের অর্থ সংগ্রাম। ভালোর জন্য সংগ্রাম। কিন্তু আজকাল জিহাদ শব্দের অপব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ফ্যাসাদকে জিহাদ বানিয়ে দিয়েছে লোকেরা। গত ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের পেশোয়ারে অস্ত্রধারীদের হামলায় প্রাণ হারায় ১৩২ জন স্কুলশিশু। এ ঘটনার  প্রেক্ষিতে গত ২০শে ডিসেম্বর পৃথক পৃথক টুইটে এসব মন্তব্য করেন ‘দাবাং’ খ্যাত এ বলিউড তারকা। এর আগে সম্প্রতি বিগ বস ৮ অনুষ্ঠানের একটি পর্ব অনাড়ম্বরভাবে উপস্থাপনা করেন এর সঞ্চালক সালমান খান। এ জন্য দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পেশোয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে সালমান খান তার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, একটি নিরীহ জীবন বাঁচানোর মানে হচ্ছে পুরো মানবজাতিকে বাঁচানো। আর একটি জীবন হত্যা করার মানে হলো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ। তিনি আরও লিখেছেন, এমনকি যুদ্ধের সময়ও শিশু, নারী, বৃদ্ধ মানুষ, ধর্মীয় স্থাপনা ও কৃষিকাজের ক্ষতি করতে পারেন না আপনি। যারা ধর্মের নামে হত্যা করে, তারা পবিত্র বইটি পড়েনি। যাদের হাত ও মুখের কথা থেকে লোকজন নিরাপদ নয়, তারা আমাদের  কেউ না।

‘৫ তারিখ এদেরকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না’

বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবিলায় আগেই রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ৫ তারিখের অনেক দেরি। আজ থেকেই মাঠে নেমে যান। ৫তারিখে আমি নিজেও রাস্তায় লুঙ্গি পড়ে দাঁড়ামো। দেখি কতো হেডম আছে। মঙ্গলবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি জোটকে ৫ই জানুয়ারি ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেখানে দেখবেন এই দুষ্কৃতিকারী, বোমাবাজরা বোমাবাজি করছে। সেখানেই ধইরা এমন মিষ্টি খাওয়াইয়া দেবেন, জীবনে আর যাতে কোনোদিন মিষ্টি খাইতে না চায়। পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবেন। খোঁজ-খবর রাখবেন। কোন দুষ্কৃতিকারী, ষড়যন্ত্রকারী যেন কোন বাসাবাড়িতে লুকিয়ে থেকে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জোট গণতন্ত্রের শত্রু, ৫ই জানুয়ারি এদেরকে রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেদিন আমরা দেখতে চাই কার পক্ষে কতটা শক্তি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি না, স্বাধীনতা বিরোধীদের শক্তি। সেদিন গণতন্ত্র ধ্বংস হবে না, না গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি এতিমের টাকা চুরি করেছেন। এতিমের ঢাকা চুরি করে কোর্টে হাজিরা দিতে যান না। যত ভাবেই পালিয়ে থাকেন না  কেন  আপনার পেছনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইন আপনার পেছনে পেছনেই যাবে। আইন থেকে কেউ রক্ষা পায় না, রক্ষা পাওয়ার সুযোগও নাই। শেখ রাসেল শিশু সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সহীদুল ইসলাম মিলন, সহ-দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হক সবুজ প্রমুখ।

ইরাকে পুনরুদ্ধার হচ্ছে আইএস অধিকৃত অঞ্চল

ইরাকের ইসলামিক স্টেট (আইএস) অধিকৃত অঞ্চল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। উত্তর ইরাকে জঙ্গিদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মসুলের দিকে এগোচ্ছে কুর্দি বাহিনী। রোববার কুর্দিরা সিনজার পর্বতের দক্ষিণের সিনজার শহর এবং মসুলের নিকটবর্তী তাল আফার শহরের আরও কাছে পৌঁছে গেছে।
আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষের পর গত শনিবার সিনজার পর্বতের বেশকিছু এলাকা পুনর্দখলের সংবাদ জানায় কুর্দি পেশমার্গা সেনারা।
কুর্দিস আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্বতের উত্তর পাশের গ্রামগুলো থেকে আইএস সদস্যদের হটিয়ে দিয়েছে পেশমার্গা যোদ্ধারা। শনিবারই তারা সেখানে আটকে পড়া ইয়াজিদি শরণার্থীদের ত্রাণ সরবরাহ করে। এর আগে মার্কিন বিমান হামলার সহযোগিতায় টানা তিনদিনের সংঘর্ষের পর সিনজার পর্বতের কিছু এলাকায় দখল প্রতিষ্ঠা করে কুর্দি সেনারা।
এছাড়া কোবানিতে লড়াই করা কুর্দি যোদ্ধারাও সিনজারে পেশমার্গা সেনাদের সঙ্গে লড়াই করতে রওনা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কুর্দি যোদ্ধাদের সংগঠন ওয়াইপিজি। তারা দুই শহরের মধ্যে একটি নিরাপদ পথ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেকগুলো গ্রাম আইএসের হাত থেকে দখল করেছে বলেও শনিবার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে মসুলের দিকে অগ্রসর হলেও তেল শোধনাগার শহর বাইজি থেকে পিছু হটে গেছে ইরাকি সেনারা। সেখানে তেল শোধনাগারের ওপর আবারও আইএস নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে আইএসের অভিযানের পর সিনজার পর্বতে কয়েক হাজার ইয়াজিদি বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা আটকা পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের তালেবাননীতি বদল

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম টার্গেট তলেবান নীতিতে পরিবর্তন এনেছে দেশটি। আগামী বছর তালেবানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ২০১৫ সালে অপারেশনের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মোস্টওয়ান্টেড এক কোটি ডলার মূল্যের মাথা আফগানিস্তানের তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরকে। খবর ডনের।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারির পর থেকে হুমকি মনে না হলে আর কোনো তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে না।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগন মুখাপাত্র রিয়ার এডমিরাল জন কিরভি বলেন, কেউ তালেবান সদস্য হওয়া মানেই এটা নয় যে আমেরিকা তার বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে। শুধু এই একটা কারণে হামলা চালানো যেতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা সশস্ত্র ও নিরস্ত্র তালেবানদের আলাদা তালিকা করব। কেউ যুদ্ধ চালাতে চাইলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা একমত হয়েছি যে, আমেরিকা ও তার মিত্র আফগানের বিরুদ্ধে যারা হামলা চালাতে চাইবে তারা নিরাপত্তার ঝুঁকি। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ২০১৪ সালের শেষে আফগানিস্তানে আমরা আমেরিকান যুদ্ধের ইতি টানব। আর দুই সপ্তাহ পরই ১৩ বছরের লড়াইয়ের ইতি ঘটবে। আগামী ২ জানুয়ারি থেকে আফগানিস্তান নীতিতে বদল আনবে উল্লেখ করে কিরভি বলেন, আমরা নীতিতে একটা আমূল বদল আনছি। আর তা ২ জানুয়ারি থেকে। তালেবান সদস্য হওয়া মানেই তারা আমাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে না।
মোল্লা ওমর প্রসঙ্গে আগের অবস্থান পাল্টে এবার সাংবাদিকদের কিরভি বলেন, ২ জানুয়ারির পর থেকে মোল্লা ওমরের বিষয়টাতে আফগান জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, এটাই আসল কথা। কোনো সরাসরি হুমকি না হলে আমেরিকা কিছু করবে না। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান সরকারের প্রধান ছিলেন মোল্লা ওমর। ২০০১ সালের অক্টোবরে ওসামা বিন লাদেনসহ অন্য জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে আমেরিকা। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য দশ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ডন।

ভারতে অন্য কোনো ধর্মের স্থান নেই

ভারতে অন্য কোনো ধর্মের স্থান হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরিষদের কার্যকরী সভাপতি প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেছেন, আর অন্য কোনো ধর্ম নয়, গোটা ভারতজুড়ে থাকবে শুধু হিন্দুরাই। রোববার ভূপালে সংগঠনের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে তোগাড়িয়া সদর্পে জানান, ভারতে হিন্দু জনসংখ্যা ৮২% থেকে বেড়ে একদিন ১০০% হবেই। ভারতকে শুধু হিন্দুদের বাসভূমি করে তুলতে তাদের সংগঠন সব রকম চেষ্টা করবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। দেশজুড়ে এখন ভিএইচপি, সংঘ পরিবার, বজরঙ দলের ধর্মান্তরণ প্রক্রিয়া তীব্র সমালোচনার মুখে।
আমরা এখন ও আজ থেকে ১০০০ বছর পরেও হিন্দুদের রক্ষা করতে চাই। আমরা চাই না দেশের হিন্দুদের জনসংখ্যা ৮২% থেকে কমে ৪২% হয়ে যাক। এরকমটা হলে হিন্দুদের সম্পত্তি ও হিন্দু নারীরা সুরক্ষিত থাকবে না। ভূপালে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন ভিএইচিপি সভাপতি। শনিবার কলকাতায় এসে যা যা বলেছিলেন রোববার ভূপালে প্রায় সেই কথারই পুনরাবৃত্তি শোনা গেল তোগাড়িয়ার গলায়। একজন হিন্দুরও ধর্মান্তরণ এবং একটি গরুকেও কাটার অর্থ এ দেশে হিন্দুদের কোনো সম্মান নেই। দাবি করলেন তিনি। তার মতে লভ জিহাদ হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। অস্পৃশ্যতা থেকে হিন্দুদের সরে থাকার পরামর্শ দিলেন তিনি। যখন আপনারা কুকুর-বিড়ালকে আপনার বেডরুম বা রান্নাঘরে ঢুকতে দেন তাহলে কিছু মানুষকে শুধু বর্ণের ভিত্তিতে বিচার করে দূরে সরিয়ে রাখেন কেন?...সব হিন্দুরা সমমর্যাদা পেলে, একদিন আবার পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসবে এই ধর্ম।
ধর্মান্তকরণ বিতর্কে সংসদে বিবৃতি দিতে পারেন মোদি : ধর্মান্তকরণ বিতর্কে সংসদে বিবৃতি দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগ্রা, গুজরাটে ধর্মান্তকরণ এবং গোয়া, কেরলা ও কলকাতায় সংঘ নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যে কোণঠাসা কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে বাইরে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন তারা। ধর্মান্তকরণ ইস্যুতে কোণঠাসা কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে সংঘ পরিবারকে একযোগে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। গেরুয়া শিবিরের পাল্টা দাবি, ঘর বাপসি কখনোই জোর করে ধর্মান্তকরণ নয়। আরএসএসকে লাগাম পড়াতে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি!

হোয়াইট হাউস গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি উ. কোরিয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউস গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সনি হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরিয়াকে অভিযুক্ত করার পর মার্কিন সরকার এবং অন্যান্য আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে এই দেশটি। সনি পিকচার্সের চলচ্চিত্র দ্য ইন্টারভিউ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে একনায়কতান্ত্রিক দেশের পক্ষ থেকে এই হুমকি এল। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত দাম্ভিকতাপূর্ণ এক বার্তায় কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, তারা হোয়াইট হাউসকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।
দ্য ইন্টারভিউয়ে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের হত্যা ফিল্ম প্রদর্শন করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটির সরকারের দাবি, এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের আক্রমণ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্য ইন্টারভিউ একটি প্রপাগান্ডা।
যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসবাদের নর্দমা উল্লেখ করে কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের নাম উল্লেখ করে বলেন, এটি ইতিমধ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের দুর্গে পরিণত হয়েছে। কোরিয়ান ভাষায় তাদের এই বার্তায় বলা হয়, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এই পাল্টা আক্রমণের লক্ষ্য হচ্ছে শুধু একটি মুভি প্রোডাকশন কোম্পানি নয়। আমাদের লক্ষ্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সব দুর্গ, যা সব কোরিয়ানদের চরম ঘৃণার বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মার্কিনিদের এই দুর্গ ধ্বংস করতে সাইবার যুদ্ধসহ সব ধরনের যুদ্ধ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী ও উত্তর কোরিয়ার জনগণ সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।এই মারমুখো ভাষা সত্ত্বেও, রাষ্ট্রটি অব্যাহতভাবে অস্বীকার করছে যে, সনির মূল হ্যাকের সঙ্গে আরও কিছু করা হয়েছে। দেশটি নিজেদের শান্তির অভিভাবক বলে দাবি কর আসছে।
প্রযুক্তির ভুবনে বিখ্যাত নাম সনি। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, কিছুদিন আগে হ্যাকাররা সনির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যসহ অনেককিছু চুরি করেছে। আর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সনির প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে জানায় যে, উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সনি দ্য ইন্টারভিউ নামে একটি বিদ্রুপাত্মক চলচ্চিত্র নির্মাণের করার কারণে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা সনির সাইট হ্যাক করতে পারে। যদিও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার জড়িত কিনা এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই মার্কিন প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে, হ্যাকিংয়ের পেছনে উত্তর কোরিয়ার সরকারের হাত রয়েছে। পাশাপাশি সনি কোম্পানিকে প্রয়োজনে সব রকমের সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আর এতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কমিটি। হ্যাকিং বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নাক গলালে উত্তর কোরিয়া সোজা হোয়াইট হাউসে হামলা চালাবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
এদিকে, চলতি মাসের ২৫ তারিখ দ্য ইন্টারভিউ চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি দেয়ার কথা থাকলেও তা থেকে সরে এসেছে সনি পিকচার্স। আর সনির এই সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে দ্য ইন্টারভিউ অন্য কোনোভাবে মুক্তি দেয়া যায় কিনা সেটা সনি ভেবে দেখছে বলেও জানা গেছে। হ্যাকারদের হুমকি অনুযায়ী এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিলে সনি পিকচার্সের অন্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। জেমস বন্ড সিরিজের পরবর্তী চলচ্চিত্রটিও সনি পিকচার্সের ব্যানার থেকেই বের হওয়ার কথা এবং এই চলচ্চিত্রটিরও চিত্রনাট্য হ্যাকারদের হাতে।
সাইবার হামলা যুদ্ধ নয় : ওবামা
উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলাকে যুদ্ধ না বলে সাইবার ধ্বংসযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দেশটির সনি কোম্পানির ওয়েবসাইটে উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠার পর বারাক ওবামা একথা বললেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবামা এ কথা বলেন। রোববার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়। ওবামা বলেন, উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে মদদদানকারী দেশের তালিকায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাইবার হামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, হ্যাকিং একটা ব্যয়বহুল বিষয়। মার্কিন কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখবেন উত্তর কোরিয়া সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়েছে কিনা। এর ফলাফল পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

৫০০ জঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলাবে পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকার অন্তত ৫০০ জঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে। সোমবার সরকারের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫০০ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বিধি অনুযায়ী তারা প্রাণভিক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়ে আগামী সপ্তাহেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একজন কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এক প্রশ্নের উত্তরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান বলেছিলেন, পাঁচ শতাধিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের পর থেকে প্রেসিডেন্টের বরাবর কোনো প্রাণভিক্ষার আবেদন জমা পড়েনি। এ ব্যাপারে সাবেক বিচারপতি তারেক মাহমুদ বলেন, এর মানে এই নয় যে, কয়েকদিনের মধ্যে ৫০০ আসামিকে ফাঁসি দেয়া হবে। এর মধ্যে অনেক রায়ই নিু আদালত বা হাইকোর্টের। এগুলো আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টে যাবে। তারপর সেখানে পুনঃরায় ঘোষণা করা হবে। এদিকে রোববার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইন অন্তত ৫৫ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। রোববার প্রেসিডেন্ট ভবনের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালে ওই আসামিরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ বজায় থাকায় জারদারি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ওই কর্মকর্তা জানান, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তি বা প্রত্যাখ্যান কোনোটাতেই স্বাক্ষর করেননি। খবর ডন নিউজ।
গত ছয় বছরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত আট হাজার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ফাঁসি কার্যকর করেনি পাকিস্তান। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিনে ফাঁসি কার্যকর করা ছয়জনের বাইরেও আরও অন্তত ৫৫ জঙ্গির ক্ষমাভিক্ষার আবেদন ২০১২ সাল থেকে ঝুলে ছিল। আন্তর্জাতিক চাপের ভয়েই তখনকার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ওই ৫৫ জনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে ধারণা করা হয়। দেশটির নিয়মানুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যানের ন্যূনতম ১৪ দিন পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি পাঞ্জাব সরকার আইনটি পরিবর্তন করে কার্যকরের মেয়াদ দু’দিনে এনেছে। এছাড়া ফাঁসিতে ঝুলানোর নির্দিষ্ট সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে ভোর ৪টায় ফাঁসি কার্যকর করা হলেও বর্তমানে যে কোনো সময়ই তা করা যাবে। গত ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবান হামলায় অন্তত ১৪১ জন নিহতের ঘটনার পর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ছয় বছর ধরে চলমান স্থগিতাদেশ তুলে নেয় সরকার।
নিষেধাজ্ঞা তোলার তিনদিনের মাথায় রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দফতরে হামলা ও পারভেজ মোশাররফকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ড. উসমান ওরফে আকিল এবং আরশাদ মেহমুদ নামের দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এদিকে দেশটির ফয়সালাবাদ জেলা কারাগারে রোববার রাতেই চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যারা সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ চারজন হলেন- জুবাইর আহমেদ, রশিদ কুরেশি, গুলাম সারোয়ার ভাত্তি এবং আখলাক আহমেদ নামের এক রুশ নাগরিক।
৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত : পাকিস্তানের গুজরাট শহরে ২০১২ সালে সেনাবাহিনীর একটি শিবিরে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছে। লাহোর হাইকোর্টের রাওয়ালপিন্ডি বেঞ্চ সোমবার এ স্থগিতাদেশ জারি করেন। খবর ডন নিউজের। এক অভিযুক্তের পক্ষে তার আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেয়া হল। অ্যাডভোকেট লেইক খান স্বাতীর করা এক পিটিশনের শুনানির পর বিচারক আরশাদ মাহমুদ এ নির্দেশ দেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আহসান আজিমের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। গুজরাট শহরের এক সেনা শিবিরে হামলার অভিযোগে ২০১২ সালে সামরিক আদালতে কামরান, উমর নাদিম, আহসান আজিম, আমির ইউসুফ ও আসিফ ইদরিসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

সুন্দরবনে কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল

জাতিসংঘের অধীনে সাত দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বহুজাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল সোমবার সুন্দরবনে পৌঁছেছে। তারা সুন্দরবনে তেলের ক্ষতির প্রভাব কমাতে কাজও শুরু করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছে বর্তমানে কর্মরত সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারণা নেন। আজ এ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল এবং সুন্দরবনের যেসব স্থানে তেল ছড়িয়ে পড়েছে তা পরিদর্শন করবেন। তারপর তারা নির্ধারণ করবেন ঠিক কত দিন বহুজাতিক বিশেষজ্ঞ দলকে সেখানে অবস্থান করে কাজ করতে হবে। সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে গত ৯ ডিসেম্বর তেলবাহী একটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে ওটি সাউর্দান স্টার-৭ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়। এতে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এ বনভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে। সুন্দরবনের ভেতরে তেল নিঃসরণের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিয়ে সরকারকে সহায়তায় আগ্রহ ব্যক্ত করে এ বিশ্ব সংস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় ইউএনডিপির কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান সৈয়দা নাজনীন ফেরদৌসী সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশসহ সাত দেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ‘দ্য ইউনাইটেড নেশনস সুন্দরবনস ওয়েল স্পিল রেসপন্স মিশন’ সোমবার সকালেই সুন্দরবনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
তিনি জানান, ওই প্রতিনিধি দলটি তেল পরিষ্কার করা, পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারকে সহায়তা করবে। ওই প্রতিনিধি দলের মধ্যে তেল ছড়ানো বন্ধ, পেট্রো-ক্যামিকেল এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা ও সুন্দরবনে অবস্থান করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে বিষয়টি নিয়ে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। আগামী দিনে ওই প্রতিনিধি দল সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
প্রতিনিধি দলে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, বন বিভাগ এবং বন গবেষণা কেন্দ্র, চট্টগ্রামের মেরিন সায়েন্স ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াইল্ড লাইফ কনসারভেশন সোসাইটির প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বিদেশী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আছেন ফ্রান্সের দুজন দুর্ঘটনাজনিত পানিদূষণ বিশেষজ্ঞ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ফিনল্যান্ডের একজন দুর্যোগ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সুইডেনের একজন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, জাপানের একজন লজিস্টিক সমন্বয়কারী, কানাডার একজন তেল নিঃসরণ বিশেষজ্ঞ এবং ইউএনডিপির দুজন দুর্যোগ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা ইউএনডিপির কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ শেখ মোহাম্মদ সোমবার রাতে যুগান্তরকে জানান, বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্থানীয় সরকারি ও এনজিও প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে ওই ঘটনার বিষয়ে ব্রিফ্রিং নিচ্ছেন। মঙ্গলবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তারপর তারা ঠিক করবে কত দিন তারা সুন্দরবনে অবস্থান করবে।
জাতিসংঘ অবশ্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার পক্ষে। জাতিসংঘ এও মনে করে যে, সচরাচর পরিবেশের ওপর এ ধরনের দুর্ঘটনার দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব পড়ে থাকে এবং সেই পরিবেশের পুনঃসংরক্ষণে বহু প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। বন সংলগ্ন জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল জনপদেও এর প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, তেল নিঃসরণের এলাকাটি চাঁদপাই অভয়ারণ্যসংলগ্ন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্ববৃহৎ সংরক্ষিত জলাভূমি এবং গাঙ্গেয় ও ইরাবতী নামক দুটি বিপদাপন্ন ডলফিন প্রজাতির বিচরণ ক্ষেত্র।
মংলা প্রতিনিধি আমির হোসেন আমু জানান, শ্যালা নদীতে ট্যাংকারডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এখন সুন্দরবনে অবস্থান করছে। সোমবার বিকালে মংলায় পৌঁছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডাক বাংলোয় প্রতিনিধি দলের প্রধান অ্যামিলিয়া ওয়ালসন জানান, বেশ কয়েক দিন সুন্দরবনে অবস্থান করবেন তারা। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিং করে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য জানানো হবে। সোমবার সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বিকাল ৫টায় মংলায় পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি ট্রলারযোগে সুন্দরবনের শ্যালা নদী ও চাঁদপাই রেঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। বেসরকারি একটি ট্যুরিজম কোম্পানির লঞ্চে করে তারা সুন্দরবন ঘুরে বেড়াবে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ প্রতিনিধি দলটি চাঁদপাই স্টেশনে পৌঁছে রাত যাপনের প্রস্তুতি নেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মূলত তারা কাজ শুরু করবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও আমীর হোসেন চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের অবস্থানকালে এ দলটি শ্যালা নদীসহ বনের বিভিন্ন খাল ও জলরাশিতে জলজ ও বন্যপ্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করবে। দেখবে বনের বৃক্ষরাজীর বর্তমান অবস্থাও। প্রায় এক সপ্তাহ এ দলটি সুন্দরবনে অবস্থান করবে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি শওকত আলী বাবু জানান, সুন্দরবনে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের ‘জয়েন ইউএন গভর্নমেন্ট ওয়েল স্পিল রেসপন্স মিশন’র একটি প্রতিনিধি দল সোমবার বিকালে বাগেরহাটের মংলায় পৌঁছেছে। তারা রাতে পশুর নদীতে লঞ্চে অবস্থান করবে। আজ তাদের পরিদর্শনের জন্য সুন্দরবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।’ এদিকে বিকালে মংলাস্থ সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জেটিতে দাঁড়িয়ে পরিদর্শক দলের জন্য নির্ধারিত লঞ্চে ওঠার সময়ে জাতিসংঘের এই ‘জয়েন ইউএন গভর্নমেন্ট ওয়েল স্পিল রেসপন্স মিশন’র প্রধান অ্যামিলিয়া ওয়ালসম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের আহ্বানে সুন্দরবনে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিদর্শন করতে এসেছি। এখান থেকে আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত ও উপকরণ সংগ্রহ করবেন। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে প্রকৃতপক্ষে এ দুুর্ঘটনায় সুন্দরবনের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে ভবিষ্যতে কি করতে হবে।’

আমদানিকারকরা জিম্মি

পণ্যভর্তি কন্টেইনারের বিপরীতে বিভিন্ন চার্জের নামে আমদানিকারকদের কাছ থেকে বছরে অন্তত ৩৬৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিদেশী শিপিং লাইনগুলো। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রীতিমতো আমদানিকারকদের জিম্মি করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে এ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ এ বাড়তি চার্জ বা ‘ডেমারেজ’ আদায় রোধ করা গেলে বিপুল পরিমাণ টাকা দেশেই থাকত।
১৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির অষ্টম বৈঠকে এ বাড়তি চার্জ আদায় রোধে কমিটি গঠনের মাধ্যমে ‘কমন ট্যারিফ’ বা চার্জ নির্ধারণের তাগাদা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাসেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার বন্দর উপদেষ্টা কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকেরও অন্যতম এজেন্ডা ওই বাড়তি চার্জ।
সূত্র জানায়, বিদেশি রফতানিকারক সে দেশের শিপিং লাইন থেকে কন্টেইনার ভাড়া নিয়ে ওই কন্টেইনারের যাবতীয় ভাড়া পরিশোধ করে বিল অব লেডিং বা বিএল পাঠিয়ে দেয় এ দেশের আমদানিকারকের কাছে। বিল অব লেডিংয়ে ঘোষিত পণ্য অক্ষত অবস্থায় আমদানিকারক বুঝে নেন সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনের এ দেশীয় এজেন্ট থেকে। এলসির শর্তানুযায়ী ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ যে বন্দরে (দেশে) পণ্য লোড হয়েছে সেখানেই পরিশোধ করে আমদানিকারক। সঙ্গত কারণেই পণ্যের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) নেয়ার সময় বাড়তি কোনো চার্জ এদেশীয় শিপিং লাইন নিতে পারে না। কিন্তু কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একেক শিপিং এজেন্ট একেক ধরনের চার্জ আদায় করছে। আবার বন্দর কর্তৃপক্ষ যেখানে ডেমারেজ চার্জ ৬ ডলার করে নেয়, সেখানে শিপিং লাইনগুলো নিচ্ছে ১০ ডলার করে। অতিরিক্ত চার্জের মধ্যে রয়েছে ডকুমেন্টেশন চার্জ, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফি, ক্লিনিং চার্জ, সার্ভে চার্জ ইত্যাদি।
জিপি শিপিং লাইনের চার্জ আদায়ের একটি মানি রিসিটে দেখা যায়, মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে এক আমদানিকারক নিয়োজিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি থেকে ওই শিপিং লাইন একটি কন্টেইনারের বিপরীতে ১০ হাজার ২১০ টাকা চার্জ আদায় করেছে। এর মধ্যে ডকুমেন্টেশন চার্জ নেয়া হয়েছে ১ হাজার টাকা, ক্লিনিং চার্জ ১ হাজার ২০০ টাকা ও সার্ভে চার্জ নেয়া হয়েছে ৯০০ টাকা। ফ্রিটাইমের মধ্যে কন্টেইনার না নেয়ায় ওই কন্টেইনারের বিপরীতে ডিটেনশন বা ডেমারেজ চার্জ আদায় করা হয়েছে ৭ হাজার ১১০ টাকা।
সূত্র জানায়, প্রতিটি কন্টেইনারে এভাবে কেবল ডেমারেজ চার্জ বেশি গুণতে হচ্ছে একদিনে অন্তত চার ডলার করে। শিপিং লাইনগুলো ছয় মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে চুরাশি মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রতিদিনের ডেমারেজ চার্জ আদায় করে বলে অভিযোগ আছে।
আমদানিকারক ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার আসার পর ৫ দিন ফ্রি টাইম বা কোনো ধরনের চার্জ আদায় করে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রথম সাত দিন প্রতি কন্টেইনারের (২০ ফিট) বিপরীতে ৬ ডলার, পরের সাত দিন ১২ ডলার করে চার্জ আদায় করে। এরপর থেকে যতদিন আমদানিকারক কন্টেইনার বা পণ্য ডেলিভারি নেবে না ততদিন অর্থাৎ ২৪ ডলার করে ‘পার ডে পার পেমেন্ট’ ভিত্তিতে ডেমারেজ আদায় করে। অন্যদিকে শিপিং লাইনগুলোও আলাদাভাবে প্রতিটি কন্টেইনারের বিপরীতে বন্দরের প্রায় দ্বিগুণ ডেমারেজ আদায় করে। বন্দর এবং শিপিং লাইন- দু’পক্ষকেই ডেমারেজ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের ।
বন্দর সূত্রের তথ্য মতে, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে এসেছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৭২টি একক কন্টেইনার (২০ ফিট)। এসব কন্টেইনারের বিপরীতে বছরে কেবল ডেমারেজ চার্জ বাবদ আমদানিকারকদের পকেট থেকে বিদেশে চলে গেছে ৩৬৫ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল ইমাম বিলু গতকাল যুগান্তরকে বলেন, শিপিং লাইনগুলো আমদানিকারকদের কাছ থেকে চার্জ আদায়ের নামে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। একেক শিপিং লাইন একেক ধরনের চার্জ আদায় করছে যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। তিনি বলেন, শিপিং লাইনগুলোর মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। পরোক্ষভাবে আমদানিকারকদের বাড়তি চার্জ গোনার এই মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বন্দর উপদেষ্টা কমিটির অষ্টম সভায় চার্জ আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তখন বন্দর চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে কমিটি গঠন করে সবার সঙ্গে বসে কমন ট্যারিফ বা চার্জ নির্ধারণের পরামর্শ দেয়া হয়। চেয়ারম্যান নিজেও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এনএস গুহ নিলাজকে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব প্রদান করেন মৌখিকভাবে।
কিন্তু প্রায় ৬ মাস পরও এ বিষয়ে আর কোনো বৈঠক বা নতুন করে কোনো কমিটিও হয়নি। বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সেই নির্দেশনাও ঝুলে আছে। আমদানিকারকরাও আছেন শিপিং এজেন্টদের বাড়তি চার্জ আদায়ের খড়গের তলায়।
অষ্টম সভায় অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা স্বীকার করে এনএস গুহ নিলাজ গতকাল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের বিপরীতে আমদানিকারকদের কাছ থেকে বাড়তি চার্জ বা ডেমারেজ আদায়ের বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমদানিকারক কিংবা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সব অভিযোগ যে সঠিক তা নয়। আবার কোনো কোনো শিপিং লাইন যে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করছে না তাও বলা যাবে না। তবে সব পক্ষকে নিয়ে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ‘কমন ট্যারিফ’ নির্ধারণ করা গেলে ভালো হয়। অষ্টম বৈঠকের পর চার্জ আদায়ের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ আর কোনো বৈঠক করেছে কিনা আমার জানা নেই।’ তিনি নিজেও সময়ের অভাবে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি বলে জানান।
বাড়তি চার্জ আদায় প্রসঙ্গে জিপি শিপিং লাইনের কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান যুগান্তরকে বলেন, শিপিং লাইন্সের মালিক বা বিদেশী প্রিন্সিপ্যাল অফিস যে ট্যারিফ নির্ধারণ করে দেয় সেভাবেই আমদানি পণ্য ডেলিভারি দেয়ার সময় চার্জ আদায় করা হয়। এখানে লুকোচুরির কিছুই নেই।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসানুল হক চৌধুরী এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে শিপিং লাইন্সগুলো তাদের নিজস্ব নিয়মে ট্যারিফ আদায় করে থাকে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। যে শিপিং লাইন যত ভালো সার্ভিস দেয় তত বেশি চার্জ আদায় করে। আমদানিকারকরা চাইলে কম চার্জ আদায় করে এমন শিপিং লাইন্সের মাধ্যমে পণ্য আনতে পারে। কমন ট্যারিফ নির্ধারণ কিংবা বিদেশী শিপিং লাইনগুলোকে বাধ্য করার কোনো এখতিয়ার বন্দর চেয়ারম্যানের নেই।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার বাস্তবায়ন চান কর্মচারীরা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত সময়সীমা থেকে সরে আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই আগামী অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন মেনে নেবেন না। সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বাজেট বক্তৃতার ঘোষণা অনুযায়ী চলতি অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে অবসর-পরবর্তী এক বছরের ছুটিতে (পিআরএল) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে যুগান্তরে টেলিফোন করে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে তারা এর কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন করা হলে অনেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। তারা বলেন, নিয়মানুযায়ী সরকার প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো দিয়ে থাকে। সে মোতাবেক ২০০৯ সালের পর ২০১৪ সালে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। তাই এই সময়কালে যারা অবসরোত্তর ছুটিতে রয়েছেন তাদেরও নতুন পে-স্কেল ভোগ করার অধিকার রয়েছে। অপর একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তাদের বঞ্চিত করা হলে তারা বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করবেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ১৪০নং অনুচ্ছেদে (৬৭ পৃষ্ঠা) অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর হতেই নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব।
অথচ রোববার সচিবালয়ে পে-কমিশনের পক্ষ থেকে রিপোর্ট দেয়ার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে প্রায় ১৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবী নতুন স্কেলে বেতন পাবেন। নতুন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের বেতন বাবদ খরচ বাড়বে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। চলে যাচ্ছে আগামী (২০১৫-১৬) অর্থবছরে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর পিআরএলের (অবসরোত্তর ছুটি ভোগের এক বছর) সময়সীমা আগামী ৩০ জুন শেষ হলে তিনিও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
এদিকে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসচিব স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার ঘোষণা অনুযায়ী চলতি অর্থবছর থেকে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন দেখতে চান। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর নতুন বক্তব্য অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেল দেয়া হলে কর্মচারীদের অনেক ক্ষতি হবে। এ নেতা বলেন, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন ভূতাপেক্ষভাবে এবং আগামী বছর ১ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করতে হবে। এভাবে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার নজির অতীতেও রয়েছে।
সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের মুখপাত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বখতিয়ার যুগান্তরকে বলেন, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ কর্মচারীরা এটাই চান। এ ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষভাবে জুলাই থেকে শুরু না হলেও আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন করা উচিত।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব নোমানুজ্জামান আল আজাদ বলেন, প্রথমত : অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা চলতি অর্থবছরের মধ্যে এই পে-স্কেলের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। দ্বিতীয়ত : প্রস্তাবিত পে-স্কেলে বিদ্যমান বেতনবৈষম্য মোটেই দূর হয়নি। বর্তমান বেতনবৈষম্যের ব্যবধান ১:১০। পে-কমিশন ঘোষিত প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতেও একই হার রয়ে গেছে। বরং আরও কিছুটা বেড়েছে। তারা এ ব্যবধান ১:৫ দেখতে চান।
সচিবালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, তারা ২০১৪ সালের জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন চান। বেতনবৈষম্যের হারও কমাতে হবে। এ ছাড়া শুনেছি এই পে-স্কেল থেকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের সুবিধা কেটে নেয়া হচ্ছে। যদি এ তথ্য সঠিক হয় তাহলে তারা এটি কোনোভাবে মেনে নেবেন না।

দুদক হারছে ৫৩ ভাগ মামলায়

নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট না থাকায় বিচারিক আদালতে ৫৩ শতাংশ মামলায় হেরে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপিল বিভাগে এই হারের পরিমাণ প্রায় শতভাগ। একের পর এক মামলায় হেরে গেলেও কমিশনের কাছে প্যানেল আইনজীবীদের কার্যকর কোনো জবাবদিহিতা নেই। ফি নির্ভর আইনজীবী দিয়ে চলছে দুদকের মামলা সংক্রান্ত সব কাজ। বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট ছাড়া কখনোই আইনি লড়াইয়ে কাক্সিক্ষত ফল আসবে না। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪র ৩৩ ধারায় দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিটের কথা বলা হয়েছে। আইনটির (১) উপধারায় বলা হয়েছে, “এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক তদন্তকৃত এবং স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলাসমূহ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের অধীন উহার নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকিবে”। প্রতিষ্ঠার এক দশকেও দুদক আইনের এ ধারাটি কার্যকর করা হয়নি। দুদক আইনের সংশোধনীতে বেশকিছু ধারা বাদ দেয়া হলেও বাতিল করা হয়নি ৩৩ ধারা। যখনই নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উঠেছে, তখনই টেকনিক্যাল অসুবিধার কথা বলে কমিশন উদ্যোগ গ্রহণ থেকে নিবৃত থেকেছে। একদিকে ধারা বহাল রাখা এবং অন্যদিকে ধারাটি কার্যকর না করাকে দুদকের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, দুদক আইনের ৩৩ ধারাটি মেন্ডেটরি নয়- ঐচ্ছিক। নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট থাকলে ভালো হতো। রেজাল্ট ভালো পাওয়া যেত সন্দেহ নেই। কিন্তু এর সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত। নানা জটিলতাও আছে। এ কারণে এ মুহূর্তে এটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে না।
দুদক সূত্র জানায়, নভেম্বরের হিসেব অনুযায়ী ১০ বছরে দুদক ৩ হাজার ৬৬২টি মামলা দায়ের করেছে। বিচারের জন্য আদালতে উঠেছে ২ হাজার ৭১২টি মামলা। এক হাজার ৪৩১টি মামলার রায় গেছে দুদকের বিপক্ষে। বাকি ৯৫০টি মামলার মধ্যে অধিকাংশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। আর সামান্য কিছু মামলার তদন্ত চলছে। বিভিন্ন আদালতে দুদকের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন ৩১৬ জন আইনজীবী। এর মধ্যে ঢাকার বিশেষ আদালতে ১৩ জন, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ৩৯ জন এবং অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবে রয়েছেন ৭ জন। দুদকের সঙ্গে তারা মামলাভিত্তিক (কেস টু কেস) চুক্তিতে কাজ করেছেন। সূত্র জানায়, চলতি বছর নভেম্বরে দুদক দাবি করেছে তাদের ৪৭ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হচ্ছে। বাকি ৫৩ শতাংশ মামলায় আসামিদের কোনো সাজা হচ্ছে না। এসব মামলায় দুদক হেরে যাওয়ায় আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। দুদক বিচারিক আদালতের এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেও হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে কত শতাংশ শাস্তি বহাল থাকছে- সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তবে গত এক দশকে আবুধাবির রাষ্ট্রদূত নাজিম উল্লাহ চৌধুরী (তিনি রিভিউ দায়ের করেছেন) ও বনখেকো ওসমান গনি (তিনি আপিল করেননি) ছাড়া কারো শাস্তি বহাল আছে বলে জানা যায় না। ফলে আপিল বিভাগে দুদকের পক্ষে দণ্ড বহাল থাকার হার প্রায় শূন্য। বিচারিক আদালত থেকে উচ্চতর আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কোনো কারণ কমিশনকে লিখিতভাবে কখনো ব্যাখ্যা করতে হয়নি আইনজীবীদের।
সূত্র মতে, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে প্যানেল আইনজীবীদের ফি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫হাজার ৩৯০ টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে আইনজীবীদের দেয়া হয় ৪ কোটি ৬২ লাখ ৯৭ হাজার ৭২১ টাকা । বছরে গড়ে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। যা দুদকের বার্ষিক বাজেটের প্রায় অর্ধেক। সূত্র মতে, অর্থ পাচার মামলায় পলাতক তারেক রহমান খালাস পেয়েছেন। হলমার্ক মামলায় জামিন পেয়েছেন আসামি জেসমিন ইসলাম। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান জামিন পান। ডিএন স্পোর্টসের মালিক পলাতক মোতাহারউদ্দীন চৌধুরী ও ফাহমিদা আক্তার শিখার জামিনসহ উল্লিখিত আলোচিত মামলাগুলোয় জামিন হওয়ার পেছনে দুদক প্যানেলের অসাধু আইনজীবীদের হাত আছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
৫ নভেম্বর বিশেষ আদালত-৬ এ হলমার্ক মামলার দুই পলাতক আসামি জামিন লাভে সহায়তার অভিযোগ ওঠে দুদকের এক প্যানেল আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই আইনজীবী দুদকে পদত্যাগপত্র পাঠান। কিন্তু আইনজীবীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দুদকের এক মহাপরিচালকের অনুরোধে কমিশন ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। বন্ধুর কল্যাণে এখনও তিনি দুদকের প্যানেল আইনজীবী।
সূত্র জানায়, গত এক দশকে দুদক রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তি সম্পর্ক, তদবির ও অনুরোধের ভিত্তিতে বেশকিছু আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছেন। কয়েকজন পেশাদার, যোগ্য ও প্রতিশ্র“তিশীল আইনজীবী ছাড়া দুদকের অধিকাংশ আইনজীবীর সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ধরনের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সুবিধা অনুযায়ী শুনানিতে বারবার তারিখ চাওয়া, আদালতে দুদকের সাক্ষীকে অনুপস্থিত দেখানো, জামিনে জোরালো বিরোধিতা না করা, রেকর্ডপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থতার মতো অভিযোগ আসছে। এদের কারণেই মূলত দুদক মামলায় হেরে যাচ্ছে। পার পেয়ে যাচ্ছে আসামিরা।
সূত্র মতে, নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনে সবগুলো কমিশনই টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলে অনীহা দেখিয়ে আসছে। নিজস্ব ইউনিট গঠন না করার পক্ষে কিছু যুক্তিও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দুদকের প্রসিকিউশন ইউনিটে ভালো কোনো আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। তারা দুদকের নির্ধারিত বেতন কাঠামোয় চাকরি করবেন না। চাকরিজীবী হওয়ায় তারা আদালতে আইনজীবী হিসেবে অন্য মামলাও পরিচালনা করতে পারবেন না। ফলে এখানে পেশাদার আইনজীবীদের পাওয়া সম্ভব নয়।
তবে এ যুক্তিকে খোঁড়া বলে আখ্যায়িত করেছেন দুদকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ সমস্যার সমাধান রয়েছে আইনের ৩৩ (২) উপধারায়। সেখানে প্রসিকিউটরদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গত ১০ বছরে দুদক একটি বিধিও প্রণনয়ন করেনি। আইন ও বিধির আওতায় কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে এক দশকে তাদের বিশেষায়িত কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষিত করতে পারত। গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ক্ষমতা দিলে দুদকের সহকারী পরিচালক কিংবা উপপরিচালকের মর্যাদায় দুদকের আইন কর্মকর্তা সরাসরি মামলা পরিচালনা করতে পারেন। বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো এভাবে কিছু মামলা পরিচালনা করত। নাম প্রকাশ না করে দুদকের একজন পরিচালক বলেন, এ ধরনের আরও বহু উপায় বেরিয়ে আসতে পারে দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের আন্তরিকতা থেকে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দুদক আইনের ৩৩ ধারা বাস্তবায়নে এক ধরনের এডহকইজম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্তের পর মামলা দায়ের এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজের শাস্তি নিশ্চিত করা দুদকের প্রধান কাজ। সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তের সুফল আসে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। অথচ যেখান থেকে ফলাফল আসবে সেটিই দুর্বল করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান দরকার। নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট না থাকলে আইনি লড়াইয়ে দুদকের কাক্সিক্ষত ফল কখনোই আসবে না।