Saturday, April 28, 2018

ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলতি দিয়ে পাথর মারলেন হানিয়া

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান ইসমাইল হানিয়া গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছেন। গতরাতে তিনি আন্দোলনরত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ওই পাথর নিক্ষেপ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার আন্দোলনে ইহুদিবাদীরা হতভম্ব হয়ে পড়েছে। এ আন্দোলনের কারণে দখলদাররা তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
হানিয়া বলেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যারা আমাদের অধিকার লঙ্ঘন করবে শক্ত হাতে তাদের মোকাবেলা করা হবে।
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোল হামাসের নেতা বলেন, ফিলিস্তিনিরা বিশ্বের যে যেখানেই রয়েছেন সেখান থেকেই আগামী ১৫ মে ফিলিস্তিন দখলের বার্ষিকীতে ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেবেন এবং সমস্বরে বলবেন 'আমরা আমাদের ভূমিতে ফিরে যাব'।
এ সময় ইসমাইল হানিয়া ইহুদিবাদীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফিলিস্তিনি তরুণদের ধন্যবাদ জানান।

নিরাপত্তা ইস্যুতেই আলোচনায় বসেছিলেন আন্দোলনকারীরা by রাফসান জানি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। নিরাপত্তা ইস্যুতে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করা এবং প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কোটা বাতিলের ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিতেই আলোচনায় বসা।
শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) রাতে সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এনামুল হক শামীমের সঙ্গে আলোচনা শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে  এসব কথা জানান।
বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ও পুলিশি হয়রানির ভয়েও অনেকে হল ছেড়ে বাইরে থাকছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
বৈঠক শেষে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আলোচনা শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আলোচনার জন্য ‌‌‌নানক ভাই ডেকেছেন। আমরাও চেয়েছিলাম নিজেদের ভেতর যে আতঙ্ক কাজ করছে সেটা দূর করতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনায় বসার আগ্রহ জানিয়ে নানক ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তখন তিনিও রেসপন্স করেছেন। তাদেরও আগ্রহ ছিল আমাদেরও আগ্রহ ছিল।’
একই সংগঠনের কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়কের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আন্দোলন স্থগিতের পর থেকে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এজন্য তারা আতঙ্কে আছেন।
তারা জানান, এ ধরনের হয়রানি, আতঙ্ক থেকে নিজেরা ও আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা যাতে নিরাপদ থাকতে পারে সেজন্য সমাধানের পথ খুঁজছিলেন তারা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে আলোচনায় বসেছিলেন আন্দোলনকারী নেতারা।
আতঙ্ক ও হয়রানি প্রসঙ্গে আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘হয়রানি করার কারণে ক্যাম্পাসে যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে সে বিষয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি। এটাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। এছাড়া প্রজ্ঞাপনটা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জারি হয় সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
কী ধরনের হয়রানির প্রসঙ্গে বৈঠকে কথা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশেষ করে পুলিশি হয়রানির কথা বলেছি। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ভিসি স্যারের বাসায় হামলা ছাড়া অন্য যে মামলাগুলো আছে তার সবগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী যারা আতঙ্কের কারণে হলের বাইরে আছে তারা যেন হলে অবস্থান করতে পারে। সেই ব্যবস্থাটা করার ব্যাপারে তারা আমাদের সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।  যারা হলের বাইরে আছে তারা সবাই হলে উঠবে এবং তাদেরকে কোনও রকম হয়রানি বা আতঙ্কের মধ্যে রাখা হবে না।’
রাশেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত একটা আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তাদের মধ্যেও একটা আশঙ্কা কাজ করছিল যে, আবার যদি আন্দোলন সৃষ্টি হয় তাহলে তাদের উপর একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আলোচনার বিষয়ে আমরা আগে থেকেই জানতাম না। হঠাৎ করেই ডাকা হয়েছে। আমরা বরাবরই সরকারের ডাকে সাড়া দিয়েছি। তারাও আমাদের কথা শুনেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসগুলোয় আতঙ্কের বিষয়ে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন। সারাদেশে কোথাও যদি কেউ আন্দোলনকারীদের ভয়-ভীতি বা হয়রানি করার চেষ্টা করে তাহলে তারা সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কাউকে যেন হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার বা আটক না করে সে বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘৭ মে পর্যন্ত আমাদের আল্টিমেটাম থাকবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও চলবে। তাদের সঙ্গে যেহেতু আমরা কথা বললাম, তাই ৭ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এর মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত না নিলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করে জানাব।’
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ‘আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, সে বিষয়গুলো উনাদের জানিয়েছি। আমাদের দাবিগুলোও জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশের কোথাও আন্দোলনকারী কোনও শিক্ষার্থীকে অযথা হয়রানি করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিসি স্যারের বাসায় যারা হামলা চালিয়েছে আমরা তাদের বিচার চাই। আমরা বলেছি, ভিসি স্যারের বাসায় যারা আগুন দিয়েছে, ভাঙচুর করেছে তারা আমাদের আন্দোলনকারী ছাত্র নয়। আমরা তাদের বিচার চাই।’
আলোচনা শেষে নানক বলেন, ‘তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন ঘোষণাটি কখন কীভাবে কার্যকর হবে সেটাই বিষয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে আছেন। সরকারের যে কোনও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পন্ন হলেই অতি দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে আসবে।’
আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর অতি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির ব্যবস্থা করা হবে। আমরাও চাই এটি অতি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীদের অকারণে পুলিশি বা অন্য কোনও ধরনের হয়রানি করা হবে না। ভিসির বাড়িতে যে তাণ্ডব হয়েছে তারাও এর বিচার চায়।’
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু হয়। ১১ এপ্রিল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হন। দেশের নানা জায়গায় সড়ক অবরোধ হয় এ দাবিতে। পরে এদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছে আন্দোলনকারীরা।

সর্বক্ষণের সঙ্গী ইয়ারফোন মারাত্মক হতে পারে কানের জন্য

গান শুনতে কে না ভালোবাসে। তাই স্মার্টফোনের সঙ্গে এখন বেশিরভাগ মানুষেরই সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে ইয়ারফোন। কানে দিয়ে রাখলে আপনি পুরো জগতের থেকে আলাদা। কিন্তু জানেন কি, ইয়ারফোন যেমন আপনাকে নিজের জগতে বাঁচতে সাহায্য করে, তেমনই শরীরের একটা অঙ্গকে পুরোপুরি বিকল করে দিতে পারে! ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের (হু) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়ারফোনের কারণে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে কানের। শুধু তাই নয়, সর্বক্ষণের সঙ্গী এই ইয়ারফোনের জন্য আপনি পুরোপুরি বধিরও হয়ে যেতে পারেন।
ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (হু) সম্প্রতি এক তথ্য প্রকাশ করেছে। সেই তথ্যে জানানো হয়েছে, ১.১ বিলিয়ন টিন এজার, যাঁরা প্রায় সারাক্ষণই ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের কানে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তথ্যে প্রকাশ হয়েছে, ইয়ারফোনের মাধ্যমে ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
এক একটি কোম্পানির ইয়ারফোন এক এক রকমের হয়। কোনওটির আওয়াজ খুব জোড়ে তো, কোনটির বেশ অল্প। মাইকের আওয়াজে অসুবিধা হলেও বহু মানুষ ইয়ারফোনে খুবই উচ্চমাত্রায় গান শুনতে পছন্দ করেন। আর এখানেই যত গ-গোল। মাইকের শব্দের মতোই ইয়ারফোনের তীব্র আওয়াজও কানের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের (হু) তথ্য অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি টানা ১ ঘণ্টা ৮৫ ডেসিবেলে গান শোনেন কিংবা মাত্র ১৫ মিনিট ১০০ ডেসিবেলে গান শোনেন, তাহলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে কানের।
যত দিন যাচ্ছে, তত উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। আমরাও প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি উন্নত প্রযুক্তির সে সব দান। অল্প বয়সী কিশোর কিশোরীদের মধ্যে বেড়ে উঠছে প্রযুক্তির অপব্যবহারের প্রবণতা। প্রত্যেকদিন ইয়ারফোনে ব্যস্ত থাকার ফলে কত দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। তবুও খোলে না আমাদের জ্ঞানচক্ষু। তাই বধির হয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে ইয়ারফোন ব্যবহার বন্ধ নয়, ইয়ারফোনের আওয়াজে লাগাম দিন।
সুত্র: জি নিউজ

ছাত্র-শিক্ষিকা অসম যৌন সম্পর্ক

৫৩ বছর বয়সী এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ তুলেছে ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র। সে বলেছে, তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ওই শিক্ষিকা। এতে তার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই শিক্ষিকার নাম ডেবোরাহ লোয়ি। তার কারণে ওই টিনেজ বালক জিসিএসই পরীক্ষায় মাত্র একটি বিষয় সম্পন্ন করতে পেরেছে। সে একটি ওয়্যারহাউজে কাজ করতো। ওই সম্পর্কের কারণে তাকে তাও হারাতে হয়েছে। এতে ধ্বংস হয়েছে তার পারস্পরিক সম্পর্ক ও সুনাম। ওই বালক বলেছে, আমি আর ডেবোরার সঙ্গে কখনো জড়িত হবো না। শিক্ষিকা ডেবোরা দুই সন্তানের মা। তার সঙ্গে ওই বালকের যৌন সম্পর্কের খবর প্রকাশ পায় এক বছর আগে। তখন ওই বালকের বয়স ১৬ বছর। তবে এখনও সে পড়াশোনা করছে। কিন্তু ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে অভিযুক্ত ডেবোরা স্বীকার করেছেন ওই বালকের সঙ্গে তিনি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বৈধ বয়সে। অর্থাৎ ওই বালকের বয়স যখন ১৭ বছর হয়েছিল তখনই তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এমন দাবি করার পর আদালতের জুরি ডেবোরাকে জামিন দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বালকটির মা একদিন বিস্ময় নিয়ে লক্ষ্য করেন যে, তার ছেলের বুকে ট্যাটু আঁকা। এই ট্যাটু আঁকার খরচ বহন করেছেন রহস্যজনক এক নারী।  তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সব। দেখতে পান ডেবোরার ফেসবুকে ট্যাটুর ফটোগ্রাফ। কে এঁকেছেন এই ট্যাটু তা চিহ্নিত করেন তারা। ওই ট্যাটুইস্ট অর্থাৎ ট্যাটুর অঙ্কনশিল্পীকে জিজ্ঞাসা করে তারা জানতে পারেন তাদের সন্তানের বুকে ট্যাটু আঁকার খরচ বহন করেছেন ডেবোরা। ওই বালকের অভিভাবকরা বলেছেন, স্কুলের একটি পাস্তরাল কেয়ার বিভাগে দায়িত্ব পালন করতেন ডেবোরা। সম্পর্কের বিষয়ে ডেবোরা বলেছেন, তিনি ছিলেন খুব বন্ধুপ্রতীম। যত্নবান। ওই বালকটিকে স্কুলে সবচেয়ে ভালভাবে দেখাশোনা করতেন। কিন্তু আদালতে বলা হয়েছে, ওই বালককে ক্লাসের বাইরে নিয়ে যেতেন ডেবোরা। বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন তাকে। একটি রুমে আবদ্ধ থাকতেন। তাকে মিষ্টি দিতেন। দিতেন বিভিন্ন উপহার। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফেসবুকে বন্ধু হয়ে যায় তারা। এরপর তাদের রাতে নিঃসঙ্গতায় একান্তে রোমান্স চলতে থাকে। একদিন ওই বালক তার মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে সব। বলে, একজন বয়স্ক নারীর সঙ্গে সে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এ সময় তার মাকে সে বলে, সে একজন বয়সী নারীকে চায় তার জীবনের সঙ্গে। এ সময় তার মা জানতে চান, কেমন বয়সী নারী। জবাবে ওই বালক বলে, ৩৬ বছর বয়সী এমন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সেখানে অভিযোগ তোলা হয় ডেবোরা কিভাবে ওই বালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। এ সময় রুক্ষ্ম আচরণ করতেন ডেবোরা। তিনি ওই বালকের মাথার চুল ধরে টানতেন। তাকে প্রহার করতেন। সারা গায়ে আঁচড়াতেন।

জীবন্ত মডেলকে খেয়ে ফেললো পোকায়

জর্জিয়ার সাবেক মডেল রেবেকা জেনি। তাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলেছে প্যারাসাইট মাইটস বা পরজীবী পোকামাকড়। তাকে ভর্তি করা হয়েছিল জর্জিয়ার একটি নার্সিং হোমে। তার শরীরে ছিল পাঁচড়া জাতীয় সংক্রমণ। এতে তার দেহের পুরো রক্ত নষ্ট হয়ে যায়। পচে যেতে থাকে শরীর। এক পর্যায়ে তাকে ফেলে রাখা হয়। তখন জীবন্ত রেবেকা জেনিকে পোকামাকড়ে খেয়ে তার জীবনাবসান ঘটায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফক্স নিউজ। মৃত্যুর পর তার ময়না তদন্ত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, তিনি মারা গেছেন পচন রোগ থেকে। তাকে পোকামাকড়ে খেয়ে ফেলেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাকে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে পোকামাকড়ের ভীষণ উপদ্রব। কিন্তু তারা এ বিষয়টি কানেই তোলে নি। আর তো তদন্ত বা পরিদর্শন দূরের কথা। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, মানব শরীরে যদি এমন কোনো পোকামাকড় কামড় দেয় যা থেকে চুলকানি হয়, সেখান থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এমন রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী স্ক্যাবিস। অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক পরজীবী ত্বকের উপরের স্তরে কামড় দেয়। তারা বসবাসও করে সেখানে এবং ডিমও দেয় এই ত্বকের ওপরে। উল্লেখ্য, রেবেকা জেনি তার যৌবনের অনেকটা সময় কাজ করেছেন নৌবাহিনীর একটি ইয়ার্ডে। এক পর্যায়ে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে মডেলিং প্রজেক্টে কাজ করেন। শিকাগোতে একটি টেলিভিশন স্টেশনের হয়ে কাজ করেছেন। শেষ দিকে তার স্মৃতিভ্রম হয়। ফলে এক পর্যায়ে ২০১০ সালে তার মেয়ে তাকে একটি নার্সিং হোমে রেখে আসেন। এরপর দেখাশোনার দায় বর্তায় ওই নার্সিং হোমের। এটি পরিচালনা করেন প্রুইট হেলথ নামের একটি সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে এখন মামলা করছে রেবেকা জেনির পরিবার। এমনটি জানিয়েছেন ওই পরিবারের আইনজীবী মাইক প্রিয়িতো। তিনি বলেন, কিভাবে একজন মানব সন্তানকে তারা দুর্ভোগের মাধ্যমে মরতে দিয়েছে এটা আমি বুঝতে পারি না। উল্লেখ্য, রেবেকা জেনি যখন মারা যান তার আগে তার কিছু ছবি তোলা হয়। তাতে দেখা যায়, তার ত্বক কালো কালো ফোসকার মতো হয়ে ভরে গেছে। তা শুকিয়ে মোটা হয়ে গেছে। তাই আইনজীবী বলছেন, ওই নার্সিং হোমের স্টাফরা রেবেকার হাতটি পর্যন্ত স্পর্শও করতো না। একটি নিউজ স্টেশনকে ফরেনসিক প্যাথোলজিস্ট ডা. ক্রিস স্পেরি বলেছেন, আমি এ যাবত ৬ হাজার ময়না তদন্ত করেছি। কিন্তু রেবেকা জেনির ময়না তদন্ত ছিল আমার কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ। এমনটা আমি আমার জীবনে দেখি নি। আরেকজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ময়না তদন্ত রিপোর্ট দেখে বলেছেন, রেবেকার দেহের ভিতর মারা যাওয়ার আগে কোটি কোটি সংক্রমণ সৃষ্টিকারী পরজীবী প্রবেশ করেছিল। এ থেকে তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন। আমি এটাকে অবহেলায় হত্যা বলে আখ্যায়িত করি।

ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে ঝুঁকিতে ৭ লাখ রোহিঙ্গা -গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

১৪টি দিন আতঙ্কিত হয়ে তার স্ত্রী ও নয় সন্তানকে নিয়ে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল থেকে জঙ্গল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন নাবিল আলম (৪৬)। ওই দিনগুলোতে পুরোটা পথ সেনা ও সশস্ত্র স্থানীয় মিলিশিয়াদের ভয়ে ভিত ছিল আলম। এটা প্রায় আট মাস আগের ঘটনা। এখন আলম ও তার পরিবারের বসবাস কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির। তার দিন কাটে উদ্বিগ্ন হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে, ঘন কালো মেঘের দিকে নজর রেখে, বর্ষার বৃষ্টি নিয়ে চিন্তিত থেকে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি হচ্ছে কক্সবাজার। বাংলাদেশের এই অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে তিন মিটারেরও কম উঁচু। তিন দিকেই পানির প্রবাহ। এখানে উঁচু ঢেউ আরো উঁচু হয়ে ওঠে। এমনকি চট্টগ্রামের মতো প্রধান শহরও বাদ যায় না পানির ভয়াল গ্রাস থেকে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান শুধু বন্যার ঝুঁকিই বাড়ায় না, প্রায়ই ভয়ানক ঝড় এসে হাজির হয়। ১৯৭০ সালে এক ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল ৩ লাখ মানুষ। একই এলাকায় ১৯৯১ সালে হওয়া এক ঘূর্ণিঝড়ে বাস্তুচ্যুত হয় প্রায় এক কোটি মানুষ। এক দশক আগে, ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিহত হন ১০ হাজার মানুষ। গত দুই বছর ধরেও কক্সবাজার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ঝড়ের দেখা মিলেছে। এইবারও সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তার শিকার হতে পারে শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত ৭ লাখ রোহিঙ্গা। তারা কোনো রকমে বাঁশ আর তারপুলিন দিয়ে নির্মাণ করা কুটিরে অবস্থান করছে। ঝড় আসলে এই কুটির নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। ত্রাণ সংস্থাগুলো এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ডাফনি কুক জানান এমনটি ঘটলে, ‘প্রাণহানি ঘটবে’। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিধস বা বন্যার সরাসরি ঝুঁকিতে আছে প্রায়  দুই লাখ শরণার্থী। ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, এরকম পরিস্থিতে তাদের দ্রুত সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। আলাদাভাবে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এদের বেশিরভাগেরই যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
যা ছিল, সব হারিয়েছি
শরণার্থী শিবিরে এই বছরের সবচেয়ে ভারী বর্ষণ দেখা গিয়েছিল গত সপ্তাহে। বর্ষার আগমনী বার্তা জানিয়ে আসা এই বৃষ্টি ত্রাণকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অল্প বৃষ্টিতেই শিবিরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অস্থায়ী ড্রেনগুলো খুব দ্রুত ভরে যায়। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য তৈরি মাটির রাস্তাগুলো কাদাময় হয়ে যায়। এমনকি সহিনা খাতুন (৭০) নামের এক শরণার্থীর ঘর পর্যন্ত উড়ে গেছে। বর্তমানে তিনি নতুন ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। সেজন্য ত্রাণকর্মীরা বাঁশ, হাতিয়ার ও অতিরিক্ত তারপুলিন বিতরণ করেন- এমন একটি স্টেশনে নিয়মিত অপেক্ষা করেন।
স্টেশনে অবস্থানকালে সহিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের এখানে বৃষ্টি হচ্ছিল। আর আমার ঘর তাতে ধ্বংস হয়ে যায়। আমার যা ছিল আমি সব হারিয়েছে। এমনকি আজকেও আমি সকালে কিছুই খেতে পারেনি। আমাকে সরাসরি এখানে আসতে হয়েছে।’
আলম জানান, তার ঘরে ইতিমধ্যেই পানি উঠেছে। নষ্ট হয়ে গেছে জমিয়ে রাখা চাল। তিনি বলেন, আমাকে আমার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নতুন করে চাল কিনতে হয়েছে। মিয়ানমারে তার গ্রাম রাসিডং-এ সারাজীবন বন্যার শিকার হয়েছে আলম। তিনি জানান, তার বয়স যখন ১৮ তখন তিনি তার বাবাকে পা-ওয়ালা বাড়ি নির্মাণ করতে সাহায্য করতেন। কিন্তু তবুও ঘরে পানি উঠতো। সেপ্টেম্বরে যখন তিনি নাফ নদী পাড়ি দেন তখন বৃষ্টির মৌসুমের কথা চিন্তা করার ফুরসত হয়নি তার। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তাও করিনি যে আমরা নদীটি পার হতে পারবো বা খাবার পাবো অথবা আশ্রয়। এটা আল্লাহর দয়া যে, আমরা এখন ঘুমানোর একটা জায়গা পাচ্ছি। তিন বেলা খেতে পারছি।’
কক্সবাজারে হঠাৎ করে এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমন অঞ্চলটিতে ভৌগলিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ হেক্টর অপরিণত বনাঞ্চলজুড়ে নির্মিত হয়েছে রোহিঙ্গা শিবির। গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখার যে পদ্ধতি ভূমিধসের হার কমিয়ে রাখতো তা নষ্ট হয়ে গেছে। বড় ধরনের জলপথ খনন করা হচ্ছে। সরকারের দেয়া বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে পাহাড়ি অংশটুকু সমান্তরাল করে দেয়া হচ্ছে, ধীরে ধীরে।
তারপুলিন দিয়ে আর কতটুকুই করা যায়!
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে এধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলাতে শিখিয়েছে। মৃত্যুহার কমাতে ও জনগণকে ঝুঁকি সম্বন্ধে সতর্ক করার জন্য সরকারের বিস্তৃত কার্যপ্রণালি রয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে দুটি পদক্ষেপ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: উঁচু ভূমিতে সরে যাওয়া ও শক্ত আশ্রয়ের নিচে অবস্থান নেয়া। রোহিঙ্গাদের জন্য এ দুটির একটি উপায়ও খোলা নেই।
মিয়ানমার সরকারর নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কক্সবাজার স্বর্গস্বরূপ। কিন্তু একইসঙ্গে এটা একধরনের বিশাল বন্দিশালাও। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর চারপাশে অন্তত ২৭টি সামরিক তল্লাশি-চৌকি বসানো আছে, রোহিঙ্গাদের শিবির ছেড়ে যাওয়া ঠেকাতে। এখন পর্যন্ত, বন্যা ও ভূমিধসের পথ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে সরিয়ে এনেছে মানবাধিকার কর্মীরা। কিন্তু তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, সবাইকে ঝুঁকির মুখ থেকে সরিয়ে আনার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
রোহিঙ্গাদের শক্ত বাড়ি নির্মাণ করে দিয়ে সাহায্য করার বিষয়টি তো চিন্তার বাইরে। সব মিলিয়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বাংলাদেশে। এদেশের জনগণের মনোভাব ধীরে ধীরে টলতে শুরু করেছে। এছাড়া এটা নির্বাচনের বছর। ইটের রাস্তা ও সিমেন্টের ড্রেন পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু ইটের বাড়ি নয়। স্কুলের উপস্থিতির মতো, স্থানীয়রা ভাবতে পারেন যে, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে চিরস্থায়ীভাবে থাকতে এসেছে। এসব সম্ভব নয় বলে রোহিঙ্গারা বালুর বস্তা দিয়ে বা শক্ত দড়ি দিয়ে বা প্লাস্টিকের বোতলের ভেতর বালি ভর্তি করে তা কুটিরের ছাদে বেঁধে দিয়ে, যেভাবে সম্ভব তাদের কুটিরগুলো সেভাবেই মজবুত করার চেষ্টা করছে।
কুক বলেন, আমরা যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি তা সম্ভবত হতে চলেছে। শুধু তারপুলিন আর বাঁশ দিয়ে আপনি কতটুকুই বা করতে পারবেন! আর প্রাকৃতিক নদীর সৃষ্টি বন্ধ করতে আপনি কতটুকু মাটিই বা সরাবেন!
রামসোল হোসাইন তার দুই কক্ষের কুটিরে এক মাদুরের ওপরে বসে থেকে ওপরের দিকে, টিনের ছাদের দিকে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করলো। তিনি এটা তার বাড়ির সুরক্ষার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই বর্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু এই বছর একটু ব্যতিক্রম। এখানে যথেষ্ট পরিমাণ জিনিসপত্র নেই। আমরা যা পাচ্ছি তা দিয়েই চলার চেষ্টা করছি। তার সন্তানরা বাইরে খেলছিল। নিজের উভয় সংকট নিয়ে হোসাইন বলেন, যদি বন্যা হয় তাহলে আমাদের শিবিরের অন্য কোনো অংশে সরে যেতে হবে। কিন্তু সরকারের অনুমতি ছাড়া আমরা সেটা করতে পারবো না।
একবার বৃষ্টি শুরু হলে, মিয়ানমারে কয়েক প্রজন্ম ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়া এই সমপ্রদায়কে আবারো আগের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। থাকো আর মৃত্যুর ঝুঁকি মোকাবিলা করো, অথবা পালাও।

স্বামীর ঘরে চলে গেল বিপাশা by ওয়েছ খছরু

বিয়ের আসরে বসেই কাঁদলো বিপাশা আক্তার মুক্তি। চোখ খুঁজে ফিরছিল এদিক-ওদিক। সবাই আছে পাশে। শুধু নেই পৃথিবীর সবচেয়ে আদরের দুটি মুখ মা-বাবা। তারা কোথায় তাও জানে না বিপাশা। নতুন কনে বিপাশাকে নিয়ে সবাই ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু বিপাশার মুখে দুঃখের ছাপ। নিজেও সবচেয়ে বড় আপন করে নিয়েছিল সিলেটের শিশু পরিবারের অনুজ বোনদের। তাদেরও ছেড়ে গতকাল বিকালে স্বামীর ঘরে চলে গেল বিপাশা। তবে, আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না। আকাশছোঁয়া ভালোবাসায় সিক্ত করেই বিপাসাকে পাঠানো হলো স্বামীর বাড়ি। বিপাশার বিদায়কালে শুধু এতিম শিশুরাই নয়, কেঁদেছেন সিলেট সমাজসেবার উপ পরিচালক নিবাস রঞ্জন সরকার ও সরকারি বালিকা শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জয়তি দত্ত।
১১ বছর বয়সী বিপাশা আক্তার মুন্নিকে খুঁজে পেয়েছিল দিরাই পুলিশ। এরপর আদালতের মাধ্যমে বিপাশাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল সেফহোমে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে বিপাশাকে পাঠানো হয় সিলেটের রায়নগরস্থ শিশু বালিকা কেন্দ্রে। সেই থেকে ঠিকানা বিহীন বিপাশা শিশু পরিবারের সন্তান। দুরন্ত বিপাশা শিশু পরিবারে সবার সঙ্গে হাসি-খুশি পরিবেশে বেড়ে উঠে। দেখতে দেখতে বিপাশার বিয়ের বয়স হয়। সিলেটের সমাজসেবার উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ ও শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জয়তি দত্ত বিপাশার জন্য বর দেখা শুরু করেন। খুঁজে পান দিরাইয়ের বুড়াখালি এলাকার মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে আব্দুল লতিফকে। বর-কনে দেখাদেখির পর গতকাল তাদের বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিপাশার বিয়ের মাধ্যমে সিলেটে হয়ে গেল অন্য আমেজের এক বিয়ে। যে বিয়েতে ধুমধাম করেছে সবাই। পিতা-মাতা হারা বিপাশার মন ভরে দিতে সবাই মেতে উঠেছিলেন উৎসবে। বিয়ে উপলক্ষে বিপাশাকে নিয়ে বিয়ের বাজার করেন উপ-তত্ত্বাবধায়ক জয়তি দত্তসহ ওই পরিবারের সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার রাতে অন্য এক উৎসবে মেতে উঠেছিল রায়নগরের শিশু পরিবার। মহা ধুমধামে বিপাশার গায়ে হলুদ হয়। সিলেটের উচ্চবিত্ত পরিবারের আয়োজনের মতো সবাই উৎসবপূর্ণ পরিবেশে গায়ে হলুদ দেন বিপাশার। আর ওই পরিবারে থাকা আরো শতাধিক ঠিকানাবিহীন কন্যা শিশু বোনের গায়ে হলুদে সেজেছিল নানা ঢংয়ে। মধ্যরাত পর্যন্ত নেচে গেয়ে বিপাশার গায়ে হলুদ লাগান। এতে শরীক হয়েছিলেন সিলেটের সাংবাদিকরা।
রাতভর বিয়ের প্রস্তুতি চলে শিশু পরিবারে। সন্ধ্যা রাত থেকেই বাবুর্চিরা ব্যস্ত হয়ে উঠেন খাবার তৈরি করতে। আসবেন ৩শ’ অতিথি। তাদের জন্য খাবারের আয়োজন চলছে। সকালের মধ্যেই শিশু পরিবারের বাইরে বিয়ের গেট সাজানোর কাজও শেষ করা হয়। দুপুরের আগেই বিপাশাকে সাজানো হয় কনের সাজে। বিউটি পার্লারে নিয়ে দেয়া হয় সাজ। সাজের পর বদলে গেছে বিপাশা। চেনাই যাচ্ছে না। জুমার নামাজের পরপরই সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে বর আব্দুল লতিফ বরযাত্রীসহ এসে হাজির। শিশু পরিবারের মাঠে বিয়ের প্যান্ডেল। বিয়ের আসরে বসানো হলো কনে ও বরকে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেখানে হাজির হন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরি জামান, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, সমাজ সেবার উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বর কনেকে এক করে শুরু হয় ফটো সেশন। বিয়ের দাওয়াত পেয়ে ছুটে যান সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানও শুভেচ্ছা জানাতে যান। তারা গিয়ে বিপাশাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ফটো সেশনে অংশ নেন। সাধারণত সিলেটের কোনো সামাজিক বিয়েতে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে হাজির হন না। কিন্তু বিপাশার বিয়েতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকরা হাজির হয়েছিলেন। সবার নজর ছিল বিপাশার দিকে। বিয়ের আসরে লোকজন কাছে থাকলে হাসি-খুশি থাকে বিপাশা। একা হয়ে গেলে মুখটা যেন ফ্যাকাশে হয়ে উঠে। কাদের যেন খুঁজে ফিরে তার চোখ। এই দিনে সবাই আছে, পিতা-মাতা নেই। এমন ভাবনায় পড়ে বিপাশা। বিয়ের আসরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলে সে। বলে- ‘এমনটি আশা করিনি। যা পেয়েছি জীবনের সেরা উপহার। তবে, খুব বেশি মিস করবো শিশু পরিবারকে। এই পরিবারই আমার সব। যেখানেই যাই আমার মন পড়ে থাকবে এখানে। ওদেরকে আমি ভুলতে পারবো না।’ এ সময় বিপাশা তার নতুন জীবনে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে। বর আব্দুল লতিফও বিয়ের আসরে ছিলেন হাসি-খুশি।
বিপাশাকে পেয়ে তিনি খুশি। অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। বিপাশা খুব ভালো মেয়ে। তাকে নিয়ে সুখের সংসার গড়েছি। আমার সবাই আছে। কিন্তু বিপাশার কেউ নেই। আমি চাইবো- আমার সব কিছু দিয়ে বিপাশার জীবনকে ভরে দিতে। আজ থেকে বিপাশার জীবনের সঙ্গে আমিও জড়িয়ে গেলাম। এখন আর বিপাশা একা নয়।’ বিয়ের আসরে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরি জামান। প্রশাসনের সব কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজেও খেয়েছেন। বিপাশার পাশে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছাও জানান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের বলেন- ‘বিপাশার বিয়েতে শরীক হতে পেয়ে আমরা আনন্দিত। বিপাশা যে একা নয় সেটি প্রমাণিত হলো এই সমাজে।’ তিনি নব দম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। বিপাশার বিয়ে উপলক্ষে ক’দিন ধরে ঘুম হারাম সিলেট সমাজসেবার উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশের। বললেন- ‘বিপাশা আমার সন্তানের মতো। আমি আমার সন্তানের বিয়েতে যা কিছু করতাম, তাই আজ করলাম।’ তিনি বলেন, ‘বিপাশাকে আমরা ফিরতি যাত্রায় নিয়ে আসবো। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতার পূর্ণ করতে আমাদের পক্ষ থেকে কমতি থাকবে না।’ বিপাশার বিয়েতে মায়ের মতো ব্যস্ত ছিলেন শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জয়তি দত্ত। তিনি ক’দিন ধরে ব্যস্ত। বললেন, এই পরিবারে যারাই থাকে তারা আমাদের সন্তান। বিপাশাও আমার সন্তান। তার বিয়েতে কোনো কমতি রাখতে চাই না। যেমনটি চেয়েছিলাম তেমনটি হয়েছে। বিপাশার আগামী দিনে সুখে থাকলে সবচেয়ে খুশি হবো। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিয়েতে এসে বিপাশাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ সময় তিনি এমন বিয়ের আয়োজন করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। বিকালে স্বামীর গাড়িতে যখন বিপাশাকে তুলে দেয়া হচ্ছিল তখন সবার চোখ দিয়ে জল ঝরছিল। যেন নাড়িছেড়া ধন বিপাশাকে তুলে দেয়া হলো স্বামী গৃহে।

জলঢাকার আলু এখন বিদেশে

নুর ইসলাম (৩৫), নীলফামারী জলঢাকার বালাগ্রামের শালন গ্রামে। তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে ১২ বস্তা আলু বীজ রোপণ করেছেন। তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। লভ্যাংশের আশায় কার্ডিনাল ও জ্ঞানুলা জাতের আলুতে বেশি প্রাধান্য দেন। তবে বাজারে বর্তমানে এ আলু ২ শত টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আলুতে যা ব্যয় করেছেন তা লাভের চেয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ লোকসান পোষাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি কৃষক গৃহস্থদের কাছ থেকে আলু সংগ্রহ করে তা মালয়েশিয়ায় পাঠাচ্ছে বেশি মুনাফা পাওয়ার আশায়। শুধু নুর ইসলাম নন কৃষক রাশেদ উদ্দিন, তৌহিদুল ইসলাম তারাও আলু চাষাবাদ করে লোকসান পোষাতে এ আলু জমিতে বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় পাঠাচ্ছে। কার্ডিনাল জাতের আলু রোপণ করে ৭৫ দিনের মাথায় পাওয়া যায় ও অন্যান্য জাতের আলু ৩ মাসের মাথায় পাওয়া যায়। বর্তমানে আড়তদাররা ৮ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করছেন বিদেশে পাঠানোর জন্য। রোববার নুর ইসলাম আরো জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে আলুতে লাভ পাওয়া যায় বেশি তাই এ আলু লাগিয়েছি। বাজার দাম অনুয়ায়ী যা খরচ
করেছি তা উঠে আসছে না। বিকল্প পন্থায় এ আলু আড়তদারদের মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, জলঢাকায় এ বছরে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। যেখানে আলু উৎপাদন প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া আশানুরূপ হওয়া ও কৃষকগণ আগ্রহী হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে কিছুটা বেশি থাকায় কৃষকগণ মোটামুটি লাভবান হচ্ছেন। তবে বিভিন্ন স্থানের আলু মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলার গোলনার বিসমিল্লাহ, বায়োটেক এবং সিনজেনটা কোম্পানি লেডিরোসোডা, জ্ঞানুলা সহ বিভিন্ন জাতের আলু বিদেশে রপ্তানিতে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছে। এতে কৃষকগণ বেশি দাম পেয়ে লাভবান হবার পাশাপাশি আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ক্যানসার প্রতিরোধে দুলালী সুন্দরী by সিদ্দিক আলম দয়াল

ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে বেগুনী রঙের নতুন জাতের ধান চাষ করে কৌতূহল ছড়িয়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দুলালী বেগম। কৃষি বিভাগ মনে করেন নতুন ধরনের এই ধান চাষে আগ্রহী হবেন কৃষকরা। নতুন জাতের ধানের চাষ ছড়িয়ে দিতে চান তিনি দেশে-বিদেশে। তার আশা নতুন এই ধান দুলালী সুন্দরী নামে সারা দেশে পরিচিতি পাবে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ  গ্রাম। এই গ্রামের একজন নারী কৃষক দুলালী বেগম। তিনি দুই বছর আগে বোরো ধানের বীজ কিনতে যান দোকানে। প্যাকেটজাত বীজ কিনে বাড়িতে এসে দেখেন প্রায় দুই মুঠ বেগুনী রঙয়ের ধান বীজ। সেই থেকে দুলালী বেগম তিনি আর বসে ছিলেন না। অন্য ধানের পাশাপাশি দুই শতক জমিতে বেগুনী ধানের বীজ বপন করেন। কিছুদিন পর দেখতে পান তার জমি জুড়ে বেগুনী ধানের চারায় ছেয়ে গেছে। ওই বীজ দিয়ে গত বোরো মৌসুমে ধান চাষ করেন। তাতে প্রায় ৬ কেজি বেগুনী ধান হলেও তিনি সেটি ভাত হিসেবে ব্যবহার করেনি। এবছর বোরো মৌসুমে এই বীজ লাগান জমিতে। এবারো জমি জুড়ে সুন্দর বেগুনী রঙয়ের ধান হয়েছে। চারপাশে সবুজ বোরো ধানের মাঝে বেগুনী ধানের জমি সত্যি দেখার মতো। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো । ব্যতিক্রমী এই বেগুনী রঙয়ের ধান চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।
প্রতিদিন গাইবান্ধাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই ধান দেখতে আসেন কৃষকসহ অনেক নারী ও পুরুষ। অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের একটি কুশি থেকে ২৬ থেকে ২৯টি কুশি গজায়। তাই অন্য জাতের ধানের চেয়ে বেগুনী রঙয়ের এই ধানের ফলনও ভালো হয়। ইতিমধ্যে নতুন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে অনেকেই বীজ সংগ্রহের জন্য দুলালী বেগমের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। 
দুলালী বেগম বলেন, গেল বছর ধানের চারা কিনতে গিয়ে আলাদা ধরনের দুই মুষ্ঠি ধানের বীজ পান। এই বীজ জমিতে লাগিয়ে চারা  তৈরি করেন। ওই চারা দিয়ে এবছর তিনি আঠারো শতাংশ জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। চারিদিকে সবুজ ধান আর তার মাঝখানে বেগুনী রঙয়ের নতুন জাতের ধান আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে এলাকায়। নতুন এই ধান দেখে কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসেন দুলালীর পাশে। তারা মূল্যবান এই ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
সুন্দরগঞ্জে কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সারাজীবন সবুজ গাছে সোনালী ধান দেখলাম। আর এখন দেখছি বেগুনী ধান। সত্যি আশ্চর্য্য। তিনি বলেন, আমরা আগে কখনো এই জাতের ধান দেখিনি। একজন নারী কৃষকের এই ধান চাষে আমরা গর্বিত। যে ধান চাষে খরচ কম ও ফলও ভালো হয়। আগামী দিনে আমরা এই ধান চাষ করতে চাই।
নারী কৃষক দুলালী বেগম বলেন, প্রথম আমি এই ধান চাষ করেছি। আমি চাই আমাদের দেখে সবাই এই ধান চাষ করবে। নতুন জাতের এই ধান দুলালী সুন্দরী নামে সারা দেশে পরিচিতি পাবে এটাই আমার আশা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, এই বেগুনী ধান এক সময় চীন দেশে চাষাবাদ হতো। ধনাঢ্য পরিবারের খাবার হিসেবে এ বেগুনী ধান চাষ হতো। তারা মনে করতেন বেগুনী ধানের চাল খেলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়। তিনি বলেন, এ বেগুনী ধান ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এই ধানের বীজ সংগ্রহ করে আমরা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেবো।

গবাদি পশুর বর্জ্য ও রক্ত থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন by খসরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন

গবাদি পশুর পাকস্থলীর বর্জ্য ও রক্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বায়োগ্যাস উৎপাদনসহ মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের গবাদি পশুর পাকস্থলীর বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে প্রথমবারের মতো সফল হয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন। গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে দেখা যায় প্রতি কেজি মুরগির বর্জ্য থেকে ২৭.২০ মিলি, প্রতি কেজি গরুর বর্জ্য থেকে ২.৫ মিলি, প্রতি কেজি ছাগলের বর্জ্য থেকে ৩৯.০০ মিলি এবং গরু, ছাগল এবং মুরগির সমন্বিত বর্জ্য থেকে ৭৪.১০ মিলি বায়োগ্যাস বা মিথেন পাওয়া গিয়েছে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে প্রচুর গরু এবং হাঁস মুরগির খামার। ইসলামিক ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে রয়েছে অনেক কসাইখানা ও পোল্ট্রি দোকান। যেখানে প্রতি দিন হাজার হাজার গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি জবাই করা হয়। কিন্তু সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এসব জবাইকৃত পশুর পাকস্থলীর বর্জ্য এবং রক্ত বেশির ভাগই ফেলা হয় নদী নালা বা খোলা জায়গায়। যা বাতাস, পানি ও মাটি দূষিত করে এমনকি এটা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ এই বর্জ্য পচে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস নির্গত হয় যা গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রতি গরু থেকে ৬.৭৭ কেজি মিথেন, প্রতি মহিষ থেকে ৫.২৪ কেজি মিথেন, প্রতি ছাগল/ভেড়া থেকে ০.২০৩ কেজি মিথেন এবং প্রতি মুরগি/হাঁস থেকে ০.০২৪ কেজি মিথেন নির্গত হয় বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস উন্নত বিশ্বে এখন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্জ্য ভেদে ৬০-৬৫% মিথেন গ্যাস পাওয়া যায় বায়োগ্যাস থেকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে জবাইকৃত পশুর বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ২.২০ বিলিয়ন কেজির মতো যার প্রায় পুরোটাই অব্যবহৃত থাকে। অপর এক জরিপে দেখা যায় ২০১৫ সালে প্রায় ৩০.২১ মিলিয়ন গরু ও মহিষ, ২৫.৬৯ মিলিয়ন ছাগল ও ভেড়া এবং ১৬০.৭০ মিলিয়ন পোল্ট্রি রয়েছে যা থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন কেজির মত বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতো। যদি এর ৫০% বর্জ্যও নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় তবে তা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এ প্রসঙ্গে ড. রাশেদ জানান প্রতি ১৫ কেজি পাকস্থলীর বর্জ্য থেকে প্রায় ১ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের পাশাপাশি পিলেট আকারে মাছের খাবার হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হলে বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করা সম্ভব হবে।

উজাড় হতে চলেছে ‘লাউয়াছড়া’ by ইমাদ উদ দীন

চোরচক্র উজাড় করছে বন। আর পাহাড়ি টিলার গাছ ও জমি। দখলদারিত্বে মত্ত প্রভাবশালী মহল। ওদের লোলুপ দৃষ্টিতে ধ্বংস হচ্ছে ‘লাউয়াছড়া’। এখন পরিবেশ, খাদ্য আর আবাসস্থলের চরম সংকটে ভুগছে ‘লাউয়াছড়া’ জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য। নানা কারণে সংরক্ষিত এই বনটির নেই সেই জৌলুস। বলতে গেলে মানবসৃষ্ট নানা সংকটে ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাওয়া এ উদ্যানটি এখন অনেকটাই ধ্বংসের দোরগোড়ায়। সরজমিনে উদ্যান এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন সম্প্রতি আবারো উৎপাত বেড়েছে গাছ চোরচক্রের। এখন প্রায়ই রাতে এই দৃশ্য চোখে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে যে ক’টি বড় গাছ এখনো কোনরকমে টিকে আছে তাও উজাড় হয়ে যাবে। চোর চক্রের শকুনি দৃষ্টি ওই গাছগুলোর ওপর। তাদের জোর দাবি যেভাবেই হোক অন্তত লাউয়াছড়ার নাম টিকে রাখতে অবশিষ্ট এই গাছগুলো ওদের কবল থেকে রক্ষার। জানা গেল এই জাতীয় উদ্যানটির সংকটের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু বয়ে চলা সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো মহাপরিকল্পনা কিংবা স্থায়ী উদ্যোগ। নানা কারণে দীর্ঘদিনের চলমান এ সংকটগুলো ঘনীভূত হয়ে এখন মহা হুমকিতে পড়েছে ওখানকার নানা দুর্লভ প্রজাতির বন্য প্রাণীর বাসস্থান, জীবন জীবিকা ও পরিবেশ। আর একারণেই দিন দিন পরিসংখ্যানও কমছে ওখানে ঠাঁই নেওয়া বিশ্বের বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের। এ সংকট উত্তরণে (মাঠ জরিপ ও সমীক্ষা শেষে) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নানা পরামর্শ ও মতামত দিলেও তা আমলে নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। নানা অজুহাতে লোক দেখানো দায়সারা গোচরের দু-একটি কর্মসূচি পালন করেই তারা ক্লান্ত। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় বিলীনের পথে ওখানকার জীববৈচিত্র্য ও বনজসম্পদ। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া উদ্যানটি এখন চরম সংকট ও ঝুঁকিতে। এর অন্যতম কারণ উদ্যানটির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ফলদ ও বনজ গাছ চুরি, বাঁশ চুরি, ভূমি বেদখল, গ্যাসকূপ খনন, বন্যপ্রাণীর খাবার, আবাসস্থল ও অবাধ বিচরণের জায়গা কমে যাওয়া ও শুষ্ক মৌসুমে খাবার পানি সংকট। উদ্যানের ভেতর দিয়ে রেল ও সড়কপথ থাকা। তাছাড়া লাউয়াছড়ার ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি টানানো। গবেষকদের অভিমত এ কারণেই বন্যপ্রাণীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ওরা ভয়ে ভীত থাকছে আর যার ফলে ওরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগবালাইয়ে। প্রায় সময় দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণী মারাও যাচ্ছে। বনের ভেতরে চাষাবাদ, অত্যধিক পর্যটকের চিৎকার আর হৈ হুল্লোড়। বিব্রত ও ভীত হয়ে নিজেদের আবাস্থল ছেড়ে অন্যত্র সরতে চায় ওখানকার বন্যপ্রাণী। দীর্ঘদিন থেকে এসব সমস্যা চলমান থাকায় সব মিলিয়ে এখন ওখানকার বাসিন্দাদের চরম সংকটাপন্ন অবস্থা দেখা দিয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি সংগঠনের জরিপ বা গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতায় এমন সব তথ্য দিচ্ছেন তারা। তারা উদ্যানটির সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী বাঁচিয়ে রাখতে বয়ে চলা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। দ্রুত এ সংকটগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে ভয়াবহ বির্পযয়ের বিপদ সংক্ষেতও দিচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন আগের লাউয়াছড়ায় যে বনজঙ্গল আর লতাগুল্ম ছিল তা এখন আর নেই। এরজন্য দায়ী স্থানীয় একটি প্রভাবশালী বনখেকো চক্র। উদ্যানটিতে এখন শুধু নেই আর নেই। ঐতিহ্যবাহী ক্লোরোফর্ম গাছ নেই। নেই চন্দন, আগর, সেগুন, চাপালিশসহ নানা প্রজাতির বৃহদাকার গাছ। প্রতিনিয়তই গাছ ও বাঁশ চুরি হওয়াতে বন উজাড় হচ্ছে। ফাঁকা বনে চুরি হওয়া গাছের সাক্ষী হয়ে থাকছে গাছের মোথা। গাছ চোররা অভিনব নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিনিয়তই গাছ চুরি অব্যাহত রাখলেও তাদের প্রতিহত করতে নেই সমন্বিত পদক্ষেপ কিংবা কৌশল। বরং, অস্ত্র ও পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের। তাই চোর চক্রের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না উদ্যানটির ফলদ ও বনজ মূল্যবান গাছ। অথচ ওই গাছগুলোই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাখছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা অভিযোগ করে বলছেন ওই চোর চক্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীর। তাদের সঙ্গে আঁতাত করেই চুরি হয় ওখানকার মূল্যবান বনজ সম্পদ। তারা আরো বলছেন, লাউয়াছড়া উদ্যানের মধ্যেই দু’টি খাসিয়া পুঞ্জির লোকজনের বসবাস। তারা পান চাষের নামে ছোট বড় বনজ ও ফলদ গাছের অগ্রভাগ ও ডালপালা কেটে গাছের জীবনচক্র নষ্ট করছেন। যেটি বন্যপ্রাণী ও বনের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ তুলছেন তারা। এলাকাবাসী জানালেন বনে খাবার সংকটে রাতে শিয়াল, শূকর, বানর, হরিণ, অজগরসাপসহ ওখানকার বনের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী খাদ্যের সন্ধানে আশপাশের গ্রামগুলোতে আসে। অভুক্ত এ প্রাণী খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে বিনষ্ট করে তাদের ক্ষেতের ধান ও ফসলের মাঠ। অভুক্ত এই প্রাণীদের হিংস্র আচরণে আশপাশের লোকজন অতিষ্ঠ। তারা জানালেন, প্রাণীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে অনেক প্রাণী মারাও যায়। এছাড়া ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণে গাছগাছালি মরে যাওয়ায় প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ কারণে অনেকটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে ওখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে শুরু করলেও চোরচক্রের লোলুপ দৃষ্টিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনজঙ্গল সাবাড় করছে মানুষ। আর এ কারণেই ধ্বংস হচ্ছে ওখানকার জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি। পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ.স.ম ছালেহ সুহেল ও জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক সৈয়দ মহসীন পারভেজ বলেন একটি প্রভাবশালী চক্রের খপ্পরে ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া। প্রতিনিয়তই গাছ, বাঁশ ও মূল্যবান বনজসম্পদ চুরি হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। তাদের এমন আচরণেই হুমকির মুখে লাউয়াছড়া। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ তাদের। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা স্থানীয় মানুষের তাদের ওপর আনীত নানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও লাউয়াছড়ার ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণকে নিজেদের স্বার্থে পরিবেশ, প্রাণী ও বনজসম্পদ টিকিয়ে রাখতে তাদের কাজে সহযোগিতার অনুরোধ তাদের। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় জীববৈচিত্র্যময় বন গবেষণা কেন্দ্রসহ এই উদ্যানে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর বিচরণ। লাউয়াছড়ায় ৪৬০ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে।

নির্বাচনের বছরে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় সরকার

নির্বাচনের বছরে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় আছে সরকার। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার ধীরে চলো নীতিতে এগুচ্ছে বলে সূত্র বলছে। এক মাস আগে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও কমিশন এখন পর্যন্ত গণশুনানির সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এই অজুহাতে স্থানীয় পর্যায়ে তেলের দাম সমন্বয়ের কথা বলেছে সংস্থাটি। সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে বিপিসি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে বলেছে ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০১৬ সালের ২৪শে এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম হ্রাস করে পুনঃনির্ধারণ করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গত অক্টোবর ২০১৬ হতে ফার্নেস অয়েলে এবং নভেম্বর ২০১৭ হতে ডিজেল ও কেরোসিনের ক্ষেত্রে বিপিসি লোকসান শুরু করে। চিঠিতে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে বিপিসি কর্তৃক স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব এই বছরের ২৮শে জানুয়ারি মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে। সেখানে চলতি মাসের ৬ই ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশি মুদ্রার হিসেবে ডিজেলের প্রতি লিটার ৮৮ দশমিক ১১ টাকা এবং পেট্রোল ১০১ দশমিক ১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা বাংলাদেশ থেকে প্রতি লিটারে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৯৬ টাকা এবং পেট্রোলে ১৫ দশমিক ১৭ টাকা বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটি তার প্রস্তাবে দামের পার্থক্য আস্তে আস্তে কমানোর কথা বলেছে। এতে মানুষ অভ্যস্ত হবে বলে সংস্থাটি মনে করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, এখনই জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে না। সরকার ভর্তুকি দিয়েই এ বছর তেল ও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করবে। যদিও বাড়ায় তা খুবই কম বাড়বে। জ্বালানি তেল বিক্রি করে এতদিন লাভ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। ২০১৪ সালের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আসায় বিপিসির লাভ হতে থাকে। জ্বালানি খাত থেকে সরকার ভর্তুকিও তুলে নেয়। সেই লাভের অর্থ দিয়ে এখনকার ভর্তুকি মেটানো হবে। অতীতেও এমন ভর্তুকি দিয়ে দীর্ঘদিন চলেছে বিপিসি। এখন জ্বালানির দাম বাড়ানো কঠিন হবে। জ্বালানি বিভাগে দেয়া প্রস্তাবে বিপিসি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে যে জ্বালানি তেলের দাম বেশি এজন্য বিপিসির প্রতিদিন ১০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আর ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন অর্থবছরে বিপিসি ট্যাক্স-ভ্যাটসহ খরচ বাদে ১৫ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। এ প্রসঙ্গে বিপিসির পরিচালক (মার্কেটিং) মীর আলী রেজা মানবজমিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার প্রস্তাব দিয়েছি। বাড়ানো-কমানো সরকারের উপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩৫ ডলার থেকে ৮০ ডলারে উঠেছে। এ ছাড়া ডলারের মূল্য এক সময়ে ৮২ টাকা ছিল, এখন তা ৮৩ টাকার উপরে। প্রতিদিন ১০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এদিকে এলএনজি ভাসমান টার্মিন এসেছে দেশে দুই দিন আগে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট করে তরল গ্যাস আমদানি করা হবে। মে মাসের শুরুর দিকে তা পাইপ লাইনে দেয়া হয়ে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বিইআরসি কাছে এসেছে। এ বিষয়ে তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রসঙ্গে বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী অনেক প্রক্রিয়ায় আগাতে হয়। এজন্য দীর্ঘ সময় লাগে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হলেও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের দামে বিল দেবেন গ্রাহকরা। তিনি বলেন, গণশুনানির জন্য আরো দেড় থেকে দু’মাস সময় লাগতে পারে।

ডায়রিয়ার প্রকোপ কমছে না, দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুও by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ডায়রিয়ার প্রকোপ কমছে না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪৯ জন রোগী। ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৩১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। আর আইসিডিডিআর,বিসহ একই সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৮ জন রোগী। অন্যদিকে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরও দেখা দিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে ইতিমধ্যে একজন মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর দু’টি হাসপাতালেদু’জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। একজন সেন্ট্রাল হাসপাতালে আর অন্যজন সালাউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বছর ৪৬ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী ইতিমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া জ্বরে কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর কন্ট্রোল রুম পায়নি।
ডায়রিয়া রোগীর আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ‘উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র’ বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) প্রতিদিনই শত শত রোগী আসছে। অন্যান্য হাসপাতালেও ভিড় বাড়ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন আইসিডিডিআর,বি’ কর্তৃপক্ষ। প্রতি ঘণ্টায় আসছে ৩১ জন রোগী। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন রোগী বাড়ছেই। গড়ে দৈনিক যে রোগী আসছে, তা গত তিন বছরের মধ্যে দেখা যায়নি। বেশি রোগী আসছে যাত্রাবাড়ী, কদমতলি, দক্ষিণ খান, বাড্ডা, রামপুরা, লালবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে। যেসব এলাকায় ওয়াসার সুয়ারেজের নির্মাণ কাজ হচ্ছে ওইসব এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। গত এক দেড় মাস থেকে ডায়রিয়ার রোগী বেশি আসছে হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র ২৬শে এপ্রিলের তথ্য উল্লেখ করে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা ১২৮ জন। এর মধ্যে আইসিডিডিআর,বি’র ৭৪৯ রোগী। আর সাত দিনের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২৭৭ জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওয়াসার সুয়ারেজের কাজের কারণে পাইপ দিয়ে অপরিষ্কার পানি ঢুকে। ফলে দূষিত পানি খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। সঙ্গে আছে গরমও। আর এ গরমের সঙ্গে বাড়ছে রাজধানীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আইসিডিডিআর,বি’র তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ থেকে সোয়া ৪শ’ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে এ সংখ্যা সাড়ে ৪শ’ ছাড়িয়েছে। মার্চের শুরতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু রোগী বেশি ছিল এবং সকলেই ভাইরাল ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। তারা আরো বলেন, তীব্র গরমে ঘন ঘন পিপাসা পাওয়ায় রাস্তাঘাটে আইসক্রিম বা বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করা হয়। এসব খাদ্যে যে খাবার পানি বা বরফ ব্যবহৃত হয় তা বিশুদ্ধ না হলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া বেশি গরমে বিভিন্ন ধরনের নষ্ট খাবার খেলেও ডায়রিয়া হয়। প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আকতার মানবজমিনকে গতকাল জানান, বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার সুয়ারেজের কাজের কারণে পাইপ দিয়ে দূষিত পানি ঢুকার কারণে ওইসব এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এটা পানিবাহিত রোগ। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস পর্যন্ত ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারপর কমে আসে। তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। রাস্তার খাবার ও পানির শরবত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চিকিৎসকরা জানান, মূলত বিশুদ্ধ পানির অভাব বা ভালোভাবে হাত না ধৌত করে খাবার গ্রহণই ডায়রিয়ার মূল কারণ। ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে বিশুদ্ধ পানি পান ও সকলকে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তারা। একই সঙ্গে কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে স্যালাইন খাওয়ান। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। এই বিষয়ে ডায়রিয়ার আইসিডিডিআর,বি’র বিশেষজ্ঞ এবং সংস্থাটির হাসপাতালের প্রধান ডা. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীতে ডায়রিয়া বেশি। ঢাকার বাইরে কম। এটি পানিবাহিত রোগ। মূলত পানিবাহিত জীবাণু থেকেই ডায়রিয়া ও কলেরা দেখা দেয়। রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে কোথাও পাইপ দিয়ে দূষিত পানি ঢুকে যেতে পারে। আর এটা থেকে ওইসব এলাকায় এই রোগ হলেও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পানি পানের ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

গণপরিবহনে যৌন নিগ্রহ, বাড়ছে আতঙ্ক by মরিয়ম চম্পা

শনিবারের ঘটনা। বাড্ডা লিংক রোড থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী। গন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্তরা ৬নং সেক্টরের ক্যাম্পাস।
বেলা ১টার দিকে বাসটি যখন নতুন বাজারে পৌঁছায় তখন যাত্রীদের বড় অংশ নেমে যায়। বাইরে অনেক যাত্রী থাকলেও বাসটিতে কোনো যাত্রী উঠাচ্ছিল না। এতে ওই ছাত্রীর মনে সন্দেহ হয়। তিনি বাস থেকে নামতে চাইলে বাস চালকের সহকারীরা তার পথ আগলে দাঁড়ায়। বাসের কন্ডাক্টর তার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। পরে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে ঘটনাটি জানালে ছাত্ররা তুরাগ পরিবহনের বেশ কিছু বাস আটক করে। ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে ওই বাসের চালকসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাজধানীতে তুরাগ বাসে তরুণীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে যখন উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা প্রতিবাদে মুখর ঠিক ওই সময়ই আরেকটি বাসে এক তরুণী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালকের সহকারী ও চালককে পুলিশ আটক করলেও অভিযোগকারী ছাত্রী মামলা না করায় পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তারা অবশ্য ওই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চায়। তবে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই শ্রমিক দেশের আর কোনো বাসে কাজ করতে পারবে না। হয়রানির শিকার ওই তরুণী ফেসবুকে পুরো ঘটনা প্রকাশ করেছে। গত সোমবার ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জ থেকে জেলা সদরে ময়মনসিংহ কলেজে যাওয়ার পথে পিএইচ পরিবহনের একটি বাসে এই ঘটনা ঘটে। শুধু এ দুটিই নয়, গণপরিবহনে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনায় বাড়ছে আতঙ্ক।
মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, রূপা হত্যা এবং ধর্ষণের বিচার হয়েছে। এটা হয়তো আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। কিন্তু তাতে গণপরিবহনে যৌন হয়রানি কমবে বলে মনে হয় না। আমরা এই ধরনের যৌন হয়রানির প্রচুর অভিযোগ পাই। আসলে অভিযোগ জানানোর বিষয়টি সহজ করতে হবে। কারণ, চলন্ত বাসের ঘটনা কোন থানা এলাকায় তা নিয়ে পুলিশের আইনি দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত অনেক ঘটনারই আর অভিযোগ হয় না। তাই এইসব ব্যাপারে তাৎক্ষণিক অভিযোগ নেয়ার কোনো একক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
১৩ মাসে গণপরিবহনে ২১ ধর্ষণ: বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ১৩ মাসে গণপরিবহনে ২১ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপরিবহনের চালক-হেলপারসহ সহযোগীরা মিলে ৯টি গণধর্ষণ, ৮টি ধর্ষণ ও ৪টি শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৫৫ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হলেও গত ৯ই এপ্রিল মানিকগঞ্জে সংগঠিত গণধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ২০১৭ সালের ২১শে জানুয়ারি রাজধানীর দারুসসালামে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগে গাবতলী-নবীনগর রুটের বাস চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় পুলিশ গাড়ির চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। ওই বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসে আটকে রেখে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে চালকের সহকারীর বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৩ই মার্চ ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে আলমডাঙ্গায় ফিরছিল এক স্কুলছাত্রী। ভাড়া মেটাতে না পারার কারণে চালক তাকে ফাঁদে ফেলে আরো তিনজনসহ ধর্ষণ করে।
২০১৭ সালের ২৫শে এপ্রিল খিলগাঁওয়ে এক গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে যৌন নির্যাতনের পর ওই মাইক্রোবাসে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯শে এপ্রিল ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ট্রেনে বখাটেদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন এক নারী। ওই বছরের ২৭শে অক্টোবর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে নগরীর বহদ্ধারহাটে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে চালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে। পরে তরুণী থানায় মামলা করলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গত ২২শে জানুয়ারি কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে নদীয়ার রেল স্টেশনে বাংলাদেশি এক নারীযাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হন। এই বিষয়ে ওই নারীর স্বামী জিআরপির সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগ করেন। ওই বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসে আটকে রেখে ১৩ বছরের এক কিশোরী পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে বাসের হেলপার হাফিজুল ইসলাম। পরে পুলিশ অভিযুক্ত হেলপারকে আটক করে।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছি। আর এইসব ঘটনায় পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। অভিযোগ বা মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এটা প্রকৃত ঘটনা যা ঘটে তার চেয়ে অনেক কম। কারণ, সব ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয় না। আবার সবাই নানা কারণে পুলিশের কাছে অভিযোগও করে না। সমস্যা হচ্ছে, পরিবহনে কোনো নারী যৌন হয়রানির শিকার হলে তিনি কোথায় অভিযোগ করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। এজন্য মোবাইলকোর্টকে আরো সক্রিয় করা উচিত।
রূপা ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার: গত বছর ২৫শে আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ১২ই জানুয়ারি টাঙ্গাইলের একটি আদালত চার জনের মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। ময়মনসিংহের একটি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন রূপা, পাশাপাশি পড়তেন একটি ল’ কলেজে। বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে গত বছরের ২৫শে আগস্ট বাসে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন তিনি। পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায় মধুপুর এলাকার জঙ্গলে। পরিচয় না পেয়ে প্রথমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই দাফন করা হলেও খবরটি ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে। দু’দিন পর মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে নিজের বোনকে শনাক্ত করেছিলেন রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক। রূপা ধর্ষণ এবং হত্যা মামলায় মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যেভাবে আসামিদের বিচার শেষ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশে খুব বিরল। যে চলন্ত বাসে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, সেটি নৃশংসতার শিকার তরুণীর পরিবারকে দিতে বলেছেন বিচারক। ঘটনার পরপরই বাসটির চালক হেলপারসহ ৫ জনকে আটক করে মামলা করে পুলিশ। এরপর গত ২৯শে নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আদালতে। ঘটনার ১৭৩ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করেন আদালত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিপীড়নের বিবরণ: নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্বর ঘটনার বর্ণনা দিতে অনেক নারীই আশ্রয় নিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ময়মনসিংহের ওই মেয়েটি যেমন ফেসবুকে লিখেছেন, আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে একটা মেয়েকে সেক্সুয়ালি হ্যারেজ করছে সেটা দেখেও মানুষ চুপ থাকে, জাস্ট চুপ। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের মা, বোন, মেয়ের সঙ্গে এইসব না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এরা চুপ থাকবে। মানুষ কতটা অমানুষ হলে এমনটা হয় যেখানে চলন্ত বাসে বাসের হেল্পার একটা মেয়েকে মলেস্ট করে, মেয়েটা চিৎকার করে বাস ভর্তি সবাইকে বলছে এই লোকটা আমার গায়ে হাত দিছে, অথচ কেউ কিচ্ছু বললো না। কেউ কোনো প্রতিবাদও করলো না। উল্টো মেয়েটাকেই থেমে থাকতে বলে। হ্যাঁ এই মেয়েটা আমি, আজ সকালে শ্যামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে বাসে এই ঘটনাকে আমার সঙ্গেই ঘটেছে। এই ঘটনাই আমি হতবম্ব হয়ে গেছিলাম। এতটা অবাক আমি খুব কমই হয়েছি। আমার নিজেকে এত ছোট, এত অসহায় আর কখনো লাগেনি। মনে হচ্ছিল প্রতিবাদ করে আমি অন্যায় করছি, পাপ করছি।
গত ১৬ই এপ্রিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য বাসে উঠেছিলাম ৬.৩০ এ। বাসে দুজন কন্ডাক্টরের একজন মনে হয় ড্রিংক করেছিল। অনেক ভিড় ছিল, তবে রামপুরা আসতে আসতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পিছনের দিকে কয়েকজন ছেলে বসেছিল আর সামনের দিকে আমি আর আম্মু। বাসের লাইটগুলো বনশ্রীতে এসে বন্ধ করে দেয় ড্রাইভার। কারণ হিসেবে বলেন, হেডলাইট নষ্ট এজন্য বন্ধ করেছে লাইট। আগামীকাল সকালে পরীক্ষা, হাতে একদম সময় নেই বলে কেউ এটা নিয়ে ঝামেলা করিনি।
রামপুরায় পৌঁছে গেলে বাস জ্যামে পড়ে আর আমরা নামার জন্য দরজার দিকে যেতে থাকি। আম্মু প্রথমে নামে। আমি দরজা পর্যন্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন আমার হাত চেপে ধরে, আম্মু ততক্ষণে নেমে গিয়েছে। আমি নামার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস সামনের দিকে যেতে থাকে আর পিছনে কয়েকজন বলছিল, ‘মাইয়াটারে ধর’।
কী করব বোঝার মতো সময় ছিল না। অন্য হাতে একটা স্টিলের টিফিন বক্স ছিল ঐটা দিয়ে লোকটাকে বারি মারলাম। কতটা লেগেছিল জানি না। কিন্তু আমাকে ধরে রাখা হাতটার শক্তি কমে গেল। ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম। আমার ভাগ্য ভালো ছিল যে, বাস আস্তে যাচ্ছিল আর মধুবনের সামনে জ্যাম ছিল। নেমে পিছনে দৌড় দিলাম। দূর থেকে আম্মুকে দেখতে পেলাম, আমাকেই খুঁজছে। জানতাম যে, রাস্তায় একা বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তবে আজকে জানলাম মায়ের সঙ্গে বের হয়েও আমি নিরাপদ না। কালকের খবরের কাগজে আমিও হয়তো একটা কলাম হয়ে যেতাম। আমার রক্ত মাংসের শরীরটার জন্য। কিছু জানোয়ারের জন্য। যে দেশে একটা মেয়ে তার মায়ের সঙ্গেও সুরক্ষিত নয়, সেই দেশ আর যাই হোক স্বাধীন নয়।

গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানকালে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ তার হোটেল কক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল সকালে তিন দিনের সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেন। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলীয় সরকারের কি ভূমিকা হতে পারে সে সম্পর্কে জানতে জুলি বিশপ বৈঠকে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখার এবং বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও তারা (মিয়ানমার) এটাকে অস্বীকার করছে না কিন্তু তারা চুক্তির বাস্তবায়নও করছে না।
অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন। অস্ট্রেলিয়া এ বিষয়টিতে সর্বান্তকরণেই বাংলাদেশের পাশে আছে বলে আশ্বাস দেন। বৈঠকে জুলি বিশপ শেখ হাসিনাকে নারী মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্ব নারীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এবং সাহসী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের রাজনীতিতে এবং জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার বিভিন্ন সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এদিকে ভিয়েতনাম ২০২০-২০২১ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সদস্য পদে প্রার্থিতার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করেছে। গতকাল ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যাং থাই নাগক থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান থাই নগক থিন- দুজনেই ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান তার নেতৃত্বে নারীমুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। ড্যান থাই নগক থিন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি ঢাকা এবং নমপেনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনেও আগ্রহ ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. সুফিউর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কিম-মুনের ঐতিহাসিক বৈঠক: কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ঘোষণা

কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল উভয় দেশের সীমান্তবর্তী পানমুনজাম গ্রামে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা দেন দুই নেতা। এতে বলা হয়, ‘দুই কোরিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বের কোনো কারণ নেই। আমরা একই জাতি।’ দুই কোরিয়ার ঐতিহাসিক বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, কোরিয়া যুদ্ধের পর প্রথম উত্তর কোরীয় নেতা হিসেবে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পা ফেলেন কিম জং উন। ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতা সামরিক সীমা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় সফর করলেন। অসামরিক এলাকায় অবস্থিত ‘পিস হাউজে’ বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার নেতা। সেখানে তিন অংশ বিশিষ্ট একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন তারা। এই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দুই কোরিয়ার দ্বন্দ্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটাতে এ বছরেই দুই দেশ একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে দু’দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সীমান্তে অপরপক্ষকে বার্তা প্রেরণের জন্য স্থাপিত লাউড স্পিকার ১লা মে থেকে অপসারণ করা হবে। পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য লিফলেট বিতরণও বন্ধ করা হবে। বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে দু’দেশ। ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়, দু’দেশ পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে কাজ করবে। উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য উত্তর কোরিয়ার কায়েজং-এ একটি যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ১৫ই আগস্ট দুই কোরিয়া পুনর্মিলনীর আয়োজন করবে। আসছে শরতে দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।
এর আগে দিনের প্রথম ভাগে সীমান্তরেখায় দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে অভ্যর্থনা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। দু’জন প্রথমে নিজ নিজ দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। এরপরই সীমান্ত অতিক্রম করেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়ায় দাঁড়িয়ে হাত মেলান দুই নেতা। কিছুক্ষণ পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে, মুন’কে সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের ভেতর দাঁড়িয়ে হাত মেলানোর প্রস্তাব রাখেন কিম। কিম’কে আশাহত করেননি মুন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজামের সীমান্তে ওই ঐতিহাসিক মুহূর্ত শেষে দুই নেতা বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের পর সামরিক কায়দায় কিমকে গার্ড অব অনার দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়। এরপরই, বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য পিস হাউসে প্রবেশ করেন দুই নেতা। প্রবেশ করার সময় অতিথি বইয়ে কিম লিখেন, এক নতুন ইতিহাস শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা এখন ইতিহাস ও শান্তির যুগের শুরুর বিন্দুতে। বৈঠক হয় পানমুনজামের এক বাড়িতে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘পিস হাউস’। কংক্রিটের সীমানা অতিক্রম করে দক্ষিণের মাটিতে পা রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কিম জং উন। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন ইতিহাস শুরুর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই বার্তা দিতেই আজ আমি এখানে এসেছি।’
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দুই পর্বে। স্থানীয় সময় বেলা ১২টায় প্রথম পর্বের বৈঠক শেষ হয়। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকালে। সশস্ত্র দেহরক্ষী-বেষ্টিত হয়ে লিমুজিনে চড়ে ‘মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইনের’ কাছে পৌঁছান কিম। তাকে স্বাগত জানান দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। দুই নেতা সেখানে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। পাশেই একটি পাথরের স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন তারা। এতে লেখা ছিল ‘প্ল্যান্টিং পিস অ্যান্ড প্রোসপারিটি’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও পারমাণবিক পরীক্ষার ভয়াবহ একটি বছর শেষে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভালো ঘটনা ঘটছে। সময়ই সব বলে দেবে।’ এর কয়েক মিনিট পরে আরেকটি টুইট করেন ট্রাম্প। এতে তিনি লেখেন, ‘কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে! কোরিয়ায় যা ঘটছে তার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র ও এর জনগণের গৌরব বোধ করা উচিত।’ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও দুই কোরিয়ার বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া, জাপান ও চীন। এক বিবৃতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ আখ্যা দেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য উত্তর কোরিয়া শক্ত কোনো পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া, জাপানও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়নি বলে জানান তিনি। দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দেয়া যৌথ বিবৃতিকে সাধুবাদ জানিয়েছে চীন। দেশটি বলেছে, কোরিয়া উপদ্বীপের শান্তি প্রক্রিয়ায় বেইজিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
এর আগে ২০০৭ সালে দেশ দু’টির মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে কোরীয় যুদ্ধের পর দেশ দু’টির মধ্যে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে মাত্র তিনটি। তিন বৈঠকের মধ্যে এই প্রথম কোনো বৈঠক দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো। তাই এই বৈঠক নিয়ে উত্তেজনাও অনেক বেশি। মাত্র কয়েক মাস আগেই উত্তর কোরিয়া থেকে যুদ্ধের হুমকি পাওয়া গেলেও বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোরিয়া উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করা যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে।

গাজীপুরে জামায়াতের আমীরসহ ৪৫ জন গ্রেপ্তার: হয়রানির অভিযোগ হাসানের by ইকবাল আহমদ সরকার

গাজীপুরে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী মেয়র প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমীরসহ ৪৫ জন গ্রেপ্তার
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাদা পোশাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। আর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর আশা তিনি লাখ লাখ ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী হবেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমীর অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া সানাউল্লাহ মেয়র পদে প্রার্থী হলেও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বিএনপি প্রার্থী হাসান সরকারের পক্ষে মাঠে ছিলেন।
গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা করেন। এর মধ্যে সকালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ তার বাসভবনে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আধুনিক সিটি গঠন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নগরবাসী আমাকেই নির্বাচিত করবেন। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ আমার জন্যে, নৌকার জন্যে স্টিকার, হ্যান্ডবিলসহ প্রচারপত্র নিজেরাই বিলি করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি ও মহাজোটসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল ও মানুষ প্রচারণা শুরু করেছেন। দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা আমাকে বিশ্বাস করে, মনে করে আমি একটি আধুনিক সিটি গড়ে দিতে পারবো এজন্য আমাকে আগামী ১৫ই মে ভোট দেবে, পাস করাবে।আর পাস করাবে লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে, যা আমি বিশ্বাস করি। দুপুরে বড়বাড়ী বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর নগরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের তারগাছ এলাকা থেকে গণ-সংযোগ ও পথ সভা শুরু করে নগরের ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালান।
বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকার সকালে নগরের খাইলকৈর বাদশাহ মিয়া স্কুল মাঠে পথসভা করে দিনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। পরে তিনি আপন বাজার, হিন্দু বাড়ি মোড়, বটতলা স্কুল মাঠ, এরাবিয়ান গার্মেন্টস, মৈরান শামসুদ্দিনের বাড়ি, ঝাঁজর স্কুল, ডেগের চালা, জাম তলা মসজিদ, ছয়দানা দিঘীরপাড় ঈদগাহ মাঠে পথসভা করেন এবং ৩৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এ সময় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. মাজহারুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়ত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আাওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকালে নগরের ছয়দানা এলাকার নিজ বাসায় নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বাদশাহ মিয়া স্কুলের পাশের পথসভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০-২৫টি করে মামলা রয়েছে। আজও আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাদা পোশাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে তবে তার খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির নির্বাচন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে নির্বাচন। নগরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের নির্বাচন। যদি নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক না থাকে, জনগণ ভোট দিতে না পারে তবে এর খেসারত নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এ সময় তিনি সিটি এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের ট্রাফিক সহযোগী নিয়োগকে নির্বাচনী পরিপন্থি ও নির্বাচনী কৌশল আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এদিকে পুবাইল এলাকার একটি রিসোর্ট থেকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াতের মহানগর আমীর অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহসহ জামায়াত শিবিরের ৪৫জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি পেট্রল বোমা, ৪টি ককটেল ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এ বিষয়ে দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ভোর সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পুবাইলের স্বপ্নচূড়া পিকনিক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে জামায়াতের মহানগর আমীর সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে ১৫টি পেট্রল বোমা, ৪টি ককটেল ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা নাশকতার উদ্দেশে আশেপাশের জেলা থেকে ভোরে এখানে সমবেত হয়েছিল বলে জানান এসপি।
সিটি নির্বাচনের সঙ্গে এদের আটক করার কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে পুলিশ সুপার এটাকে অন্যভাবে না দেখারও আহবান জানান। আটক হওয়া মহানগর জামায়াত আমীর সানাউল্লাহ স্বতন্ত্র পদে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন। পরে তিনি ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে বিএনপি’র প্রার্থীর সমর্থনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন।

মর্গে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ, কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ

ব্যস্ত সড়কের এক পাশে পড়ে আছে একটি ট্রাভেল ব্যাগ। দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা নামছেন আবার যাচ্ছেন। অনেকেরই নজর আসে ওই ব্যাগের দিকে। কিন্তু কেউ এতটা গুরুত্ব দেয়নি। গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ও না। এরকম কত কিছুই পড়ে থাকে সড়কে। কিন্তু সময় অনেক গড়িয়ে যাওয়ার পরও ব্যাগটি একই স্থানে আছে। আশপাশের মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ব্যাগটি কার? কেনই বা এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। কৌতূহল বশত এক পথচারী ব্যাগের চেইন খোলেন। তারপর তিনি অনেকটা চমকে ওঠেন। ব্যাগের মধ্যে রয়েছে খণ্ডিত মরদেহ। খবর দেয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে ব্যাগ উদ্ধার করে দেখতে পায় আনুমানিক ২২ বছর বয়সী কোনো তরুণীর মরদেহ। তারপর খণ্ডিত মরদেহ পাঠানো হয় মর্গে। সেই মরদেহ পড়ে আছে সেখানে। এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে ১১ই এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার কুতুবখালী এলাকায়। কুতুবখালী সড়কের দক্ষিণ বাগের ওই সড়কে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বেশ কিছু জেলার বাস যাত্রীরা উঠানামা করে। আর সেখানেই কৌশলে দুর্বৃত্তরা মরদেহটি রেখে পালিয়ে যায়।
তরুণীর খণ্ডিত মরদেহটি উদ্ধারের পর থেকে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারের পরপরই যাত্রাবাড়ী থানার এক পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারে ইতিমধ্যে ১৭ দিন পার হয়েছে। থানা থেকে দেশের সকল থানায় এ ব্যাপারে মেসেজ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো থানায় বা মর্গে ওই তরুণীর কোন স্বজন যোগাযোগ করেনি। তাই পুলিশ এই হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। মামলাটি নিয়ে ছায়া তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। মামলার তদন্তে তাদেরও তেমন কোনো অগ্রগতি নাই। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি যেখানে পাওয়া গেছে এর আশেপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা নাই। তাই কে বা কারা ট্রাভেল ব্যাগে করে এই মরদেহ রেখে গেছে তার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ওই সড়কটি অনেক ব্যস্ত। দূর পাল্লার অনেক যাত্রী বাস থেকে এখানে নামেন। কৌশলে ট্রাভেল ব্যাগে মরদেহটি বহন করায় কারো সন্দেহ হয়নি। পুলিশ ধারণা করছে অন্য কোথাও এই তরুণীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডিত করে একটি অংশ ব্যাগে ভরে ফেলে গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক বিল্লাল আজাদ মানবজমিনকে বলেন, সম্পূর্ণ ক্লু লেস একটি মামলা। মামলাটি নিয়ে খুব গুরুত্বসহ কাজ করছি। ওই ট্রাভেল ব্যাগে তরুণীর কোমর থেকে নিচের অংশ ছাড়া আর কোনো কাপড় বা অন্য কোনো কিছুই ছিল না। শরীরের এই অংশ পাওয়াতে শনাক্ত করাটা কঠিন হয়ে গেছে। উপরের অংশ থাকলে হয়তো নাম পরিচয় বের করা যেত। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা না থাকায় আরো বেগ পেতে হচ্ছে। তাই আমরা নারায়ণগঞ্জমুখী সড়কের সকল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যাত্রাবাড়ী থানার মেধাবী এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, খুব ঠান্ডা মাথার কিলার এই কাজ করেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে দেখেছি খুব ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরদেহটি আলাদা করা হয়েছে। আর এ ধরনের কাজ খুব প্রফেশনাল কিলার ছাড়া করা সম্ভব না। আমরা মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে তরুণীর ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদ বলেন, তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমরা মর্গে পাঠিয়েছি। বাকিটুকু উদ্ধার করতে না পারলে তদন্তে কোনো অগ্রগতি আসছে না। আমাদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও এ নিয়ে কাজ করছে। হত্যার আগে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

৭ খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে নিহতদের স্বজনরা মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি করেছে। গতকাল বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে আদমজী ইপিজেডের সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজ চার বছর হলো এ হত্যাকাণ্ডের কিন্তু এখনো এর রায় কার্যকর হচ্ছে না। এতে নিহতদের আত্মাকষ্ট পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে সাত খুনের পরিবার কোনো অর্থ চায়নি, চেয়েছিল বিচার। আপনি এ সরকারের আমলেই ইতিহাসের জঘন্য বর্বরোচিত নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডের আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকর করবেন। তারা আরো বলেন, এখনো আমাদের সাত খুনের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে আছি। ফাঁসির আসামি নুর হোসেনের অসংখ্য ক্যাডার বাহিনীর সদস্য নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জে বিচরণ করছে। তাই প্রধানমন্ত্রী আপনি সাত খুনের বিচারের দিকে একটু নজর দিন এবং আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা করবেন। অপরদিকে বিকাল সাড়ে ৪টায় ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন ও সাত খুনের স্বজনরা আরো একটি মানববন্ধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নিহত নাসিক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলমের ভাই শফিকুল ইসলাম, নিহত মনিরুল জামান স্বপনের ভাই মিজানুল রহমান রিপন, নিহত জাহাঙ্গীরের মা মেহানুর নেছা, স্ত্রী নুপুর আাক্তার, শিশু কন্যা রোজা, নিহত তাইজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ এলাকাবাসী। এদিকে নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে সেজুতী সরকার জানান, আমাদের সাতটি পরিবারের মধ্যে প্রতিটি পরিবারই বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, প্রথমত আমরা স্বজন হারিয়েছি, দ্বিতীয়ত আমরা আর্থিকভাবে  মোটামুটি সবাই ভেঙে পড়েছি। এখন সেটা আমাদের কারও পক্ষেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। আর শুধু আমাদের পরিবারকে উল্লেখ করে বলতে হয়, যেহেতু আমার কোনো ভাই নেই, আমরা দু-বোন। তাই আমাদের বাবাই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আর বাবা মারা যাওয়ার ফলে আমার মা তাই আর্থিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরিই ভেঙে পড়েছেন। কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটে যাবার পর প্রায় সবাই সেটা ভুলে যায়, শুধু যারা কিছু হারায় তারাই সে ঘটনা মনে রাখেন। খুব দ্রুত রায় কার্যকর হবে, এমনটাই আশা করেন তিনি। সেজুতী আরো জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এখন পর্যন্ত আদালতের দেয়া রায়টি আমরা চাই বহাল থাকুক। আর অন্যদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন থাকবে।

৪ লাখ টাকার প্রকল্পে চেয়ারম্যানের লাভ ৩৪ লাখ টাকা!

৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ টাকার খাল কাটা কর্মসূচিতে চেয়ারম্যানের লাভ ৩৪ লাখ টাকা!। খাল কেটে ইটভাটায় ৩০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করেছেন তিনি। এমন তথ্যের সন্ধান মিলেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকাবাসীর চরম বিরোধ চলছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন; যা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিদুয়ান।
মুঠোফোনে তিনি দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, স্থানীয় লোকজনের খালের প্রয়োজন নেই; তাই খাল কাটা স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিদুয়ান গত এক মাস আগে হঠাৎ করে স্কেভেটর দিয়ে হাঙর খাল খনন কাজ শুরু করেন। খালটি ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে সে মাটি ইটভাটায় বিক্রয় করেন।
আর খালটির দুই তীরে স্থানীয় কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করেও মাটি কেটে নিয়ে যান। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও জোরপূর্বক। এতে আপত্তি করলেও কৃষকদের কোনো কথা কানে নেননি তিনি।
ফলে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন; যা তদন্তের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাল কাটা স্থগিত করে দেন।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিদুয়ান প্রায় ৩০ লাখ টাকায় হাঙর খালের ওই মাটি কতিপয় স্থানীয় ইটভাটার মালিকদের কাছে বিক্রয় করে দেন। তারাই স্কেভেটর দিয়ে এই মাটি কেটে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, এটি ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ৪ লাখ টাকার প্রকল্প ছিল; যা গত এক মাস আগে শুরু করা হয়েছিল।
৪০ দিনের কর্মসূচি তো গ্রামীণ হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্প। সেখানে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হলো কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সবকিছু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানেন। আপনি তাকে ফোন করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, স্কেভেটর দিয়ে খাল কেটে মাটি বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর প্রকল্পের তথ্যের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসনাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় খালটি কাটা হচ্ছিল। কিন্তু স্কেভেটর দিয়ে খাল কাটা ও দুই তীরের কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগ পেয়ে প্রকল্প কাজ স্থগিত করা হয়।
প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, খালের মাটি ইটভাটায় বিক্রয়ের অভিযোগ পেলেও তা প্রকল্পের এখতিয়ারের বাইরের বিষয়। এ নিয়ে আমি কথা বলতে পারি না।
স্থানীয়রা জানান, সাতকানিয়া উপজেলার ইটভাটায় তৈরি ইট গুণগত দিক থেকে উন্নত। কিন্তু এ ইট তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মাটির সংকট রয়েছে। ফলে ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান রিদুয়ান খাল কাটা কর্মসূচির নামে ৪ লাখ টাকায় কর্মসৃজন প্রকল্প সৃষ্টি করে। ওই প্রকল্পের মাটি ৩০ লাখ টাকা চুক্তিতে ইটভাটায় বিক্রয় করে দেন। ফলে এই ৪ লাখ টাকার প্রকল্পে তার লাভ ৩৪ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রিদুয়ান মাটি বিক্রির কথা কৌশলে এড়িয়ে যান। আর প্রকল্পের টাকা এখনো তিনি হাতে পাননি বলে জানান।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় হাঙর খালের সাড়ে ৮০০ ফিট দৈর্ঘ্য মাটি কাটার কথা। তারমধ্যে ৭০০ ফিটেরও বেশি খাল কাটা হলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পের টাকা ছাড়েননি।

বেগুনের দাম দ্বিগুণ

আর মাত্র ২০ দিন পরেই শুরু হচ্ছে রমজান মাস। আর এর আগেই ইফতারের অন্যতম কাঁচা পণ্য বেগুনের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম এখন ৬০-৭০ টাকা। এ ছাড়া অন্য বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পিয়াজ, কাঁচামরিচ, আলু ও ডিমের। তবে, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। লাগাতার ঝড়-বৃষ্টির কারণে বাজারে শাক-সবজির দাম বাড়ছে বলে দাবি বিক্রেতার। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে সবজির মধ্যে বেগুন ও পেঁপের দর বেড়েছে বেশি। বাজারে প্রতিকেজি লম্বা ও গোল বেগুন ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাকরল। তবে, গত সপ্তাহের তুলনায় কাকরলের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে কাকরল বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা কেজিতে।
বেগুনের দামের বিষয়ে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আতিক বলেন, গত সপ্তাহে এক কেজি বেগুন ৪০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। রমজান কাছাকাছি চলে আসায় বেগুনের দাম বেড়ে গেছে। এখন এই সবজিটির দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। পেঁপের বিষয়ে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে পেঁপে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। কিন্তু ৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে টমেটো, লাউ, করলা, পটল, ঢেঁড়স, বরবটিসহ অন্যান্য সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। যে কারণে এখনো সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে গত সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দরে কাকরল বিক্রি করা ব্যবসায়ী মো. রবিউল বলেন, ১০০ টাকা থেকে কাকরল ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। সামনে দাম আরো কমবে। কয়েক সপ্তাহ পর দেখবেন এ সবজি ৩০-৪০ টাকা কিজি বিক্রি হচ্ছে।
পেঁপে, বেগুন ও কাকরলের দাম বাড়তি থাকলেও অন্য বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ টাকা কেজির উপরে থাকা সবজির মধ্যে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি ও ঢেঁড়স। আগের সপ্তাহেও এই সবজিগুলোর দাম এমনই ছিল। কিছুটা কম দামের সবজির মধ্যে লাউ আগের সপ্তাহের মতোই ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। সবজিটি ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা। এ ছাড়া আগের সপ্তাহের মতো শসা ২০-২৫ টাকা, ছোট আকারের কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, দাম বেড়েছে গাজরের। গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে এখন ৫০-৫৫ টাকায়। লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ৫-১০ টাকা আঁটিতে বিক্রি হচ্ছে। পুঁইশাক বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ শাক। আর নতুন আসা মূলা শাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আঁটি।
বাজারে দেশি পিয়াজ আগের সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। আর কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।
এদিকে বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে এখন মাছ ও ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। এটাই দাম বাড়ার কারণ। বাজারে রুই-কাতলা আকারভেদে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, কই ১৬০-১৮০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০-১৫০ টাকা, পাবদা ৫০০-৫৫০ টাকা, মাঝারি শিং ও মাগুর ৫৫০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছের দর কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তি বলে দাবি বিক্রেতাদের। চিংড়ির দর কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। প্রতিকেজি ছোট ও মাঝারি চিংড়ি বিক্রেতারা ৫৫০-৭০০ টাকা চাইছেন। ইলিশের সরবরাহ কম। ছোট ইলিশ প্রতিকেজি ৬৫০-৭৫০ টাকা, মাঝারি ইলিশ প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকা ও এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিটি ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বলেন, বৈশাখ মাস থেকে ভরা বর্ষার আগ পর্যন্ত নদী-নালা ও খাল-বিলের মাছের সরবরাহ কম থাকে। এতে দর বেড়ে যায়। এরপর ইলিশ এলে মাছের বাজারে দর কিছুটা কমে।
বাজারে কয়েক মাস ব্রয়লার মুরগির দর কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। এখন সেটা বেড়ে ১৪৫-১৫০ টাকা হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষার শুরুর দিকে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় বলে মুরগি পালন কমে যায়। এতে সরবরাহ কমে। এ বছরও একই ঘটনা ঘটেছে।
বাজারে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। মুদি দোকানে ভালো মানের মোটা চাল এখন ৪০-৪২ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। সরু মিনিকেট চাল ৬২-৬৩ টাকা, নাজিরশাইল ৬৬-৭০ টাকা ও মাঝারি চাল ৫২-৫৪ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।