Tuesday, June 17, 2014
নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধপত্র, কলকাতায় জেরা by রোজিনা ইসলাম ও অমর সাহা

গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে কলকাতা বিমানবন্দরের অদূরে কৈখালীর ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতের বিচার বিভাগীয় বিচারক তাঁদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পরই দুই সঙ্গীসহ নূর হোসেনকে বাগুইআটি থানায় নেওয়া হয়। কলকাতার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন৷
গতকাল সোমবার বিকেলে বাগুইআটি থানার আইসি দেবব্রত ঝাঁ প্রথম আলোকে বলেন, এটিএসের সদস্যরা নূর হোসেন ও তাঁর সঙ্গীদের জেরা শুরু করেছেন। কোথায় তাঁদের জেরা করা হচ্ছে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এটিএসের দায়িত্ব। আমরা ধৃতদের এই থানায় রেখেছি। এখন যখনই এঁদের জেরা করার প্রয়োজন হবে, তখন থানায় জানিয়ে এটিএসের সদস্যরা তাঁদের পছন্দের স্থানে নিয়ে গিয়ে জেরা করবেন।’
পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, যেহেতু নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট নোটিশ জারি ছিল, সে জন্য জেরার পর তাঁর জবানবিন্দর ভাষ্য পাঠানো হবে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে। ভারতে ইন্টারপোলের কাজ হয় সিবিআইয়ের মাধ্যমে।
এদিকে ভারতে নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল সকালে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতে নূর হোসেনের গ্রেপ্তার সম্পর্কে সরকার কিছু জানে না, সরকার যতটুকু জেনেছে তা গণমাধ্যম থেকে জেনেছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। এখনো ভারত আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। তার পরেও আমরা কাগজপত্র পাঠাচ্ছি।’
গতকাল বিকেলে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেনের গ্রেপ্তার নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানায়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলাদেশ থেকেও বিকেল পর্যন্ত কোনো নির্দেশ আসেনি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, কোনো চুক্তি অনুযায়ী আসামি বা বন্দীকে অন্য দেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, অভিযোগপত্র, ওয়ারেন্ট, কোন আইনে গ্রেপ্তার, তার ব্যাখ্যাসংবলিত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট সরকারকে পাঠাতে হয়৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আমরা দেরি না করে যেসব কাগজপত্র আছে, তা দিয়েই অনুরোধপত্র পাঠাচ্ছি। চিঠিতে নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের তথ্যসূত্র হিসেবে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’
কবে নাগাদ নূর হোসেনকে ফেরত আনা সম্ভব হতে পারে, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খুব শিগগির হবে না, একটু সময় লাগবে। তবে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আন্তরিক।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, আসামি ফেরত আনার বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ ছাড়া, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ফিরিয়ে আনার মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে বন্দী বিনিময় করতে পারবে। এর আগে ২০১১ সালে অনুমোদন করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তি (টিএসপি)। তবে এখন পর্যন্ত এসব চুক্তির আওতায় কোনো আসামি বা বন্দীকে ফেরত আনা হয়নি।
টিএসপি চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি ভারতে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাঁকে দেশে সাজা খাটানোর জন্য ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিনিময় করার বিধান রয়েছে।
এ অবস্থায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কী মামলা করবে বা পদক্ষেপ নেবে, তার ওপরই সব নির্ভর করবে। ভারত সরকার দেখবে কারা তাঁকে পাসপোর্ট নিতে সহায়তা করেছেন৷ এ ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগের বিষয়ও খতিয়ে দেখে বিচার করার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এসব বিবেচনায় নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
তবে বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷ এ ছাড়া, পুশ ব্যাক, কমনওয়েলথের হারারে িস্কমের অধীনেও এ ধরনের ব্যিক্তকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷
তবে নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ ভারত সরকার ইচ্ছা করলে প্রত্যাখ্যানও করতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ইস্যুগুলো উত্থাপন করতে পারে। মূলত ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মনোভাবের ওপরই নির্ভর করে এ ধরনের বিনিময়৷
ভারত থেকে একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুরাহা করা যায়৷
জেরা চলছে: সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে নূর হোসেনরা কীভাবে ও কোন সীমান্ত পার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছেন, ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে আসার আগে তাঁরা কোথায় ছিলেন, কারা এখানে থাকতে সাহায্য করেছেন, কলকাতায় কাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে ইত্যাদি বিষয় জেরা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের বিষয়টিও তাঁরা জেনে নিচ্ছেন জেরার মাধ্যমে। তাঁদের কাছে মোবাইল ফোনের যেসব সিম পাওয়া গেছে, সেসব সিম কীভাবে কেনা হয়েছে বা ওই সিমের মাধ্যমে কোথায় কোথায় কথা বলা হয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডনের রাস্তায় ‘বাঙালি ঝালমুড়ি’ by অনিকা ফারজানা
ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে দাঁড়িয়ে ইংরেজিই তো শুনব। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে ‘ঝালমুড়ি’!!

স্বভাবতই যে কান দিয়ে ‘ঝালমুড়ি’ শব্দটা প্রবেশ করল, ঘাড়টাও সেদিকে ঘুরে গেল। ওমা, এ যে দেখি পুরো দেশি কায়দায় বিলেতি ঝালমুড়ি। যিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন, তিনি একজন বাঙালি।
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে সবজি বাজারের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন বাংলাদেশের বরিশালের আবদুর রহিম। বয়স ৫৩ বা ৫৪ বছর হবে। কাছে গিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করে বসলাম, ‘বাড়ি কই চাচা?’ বিদেশ-বিভুইয়ে দেশি ভাষা শুনে তিনিও আবেগে আপ্লুত। শুরু হলো কথা। জোর করে তিন গ্লাস স্পেশাল মুড়িও বানিয়ে খাওয়ালেন। দেশের ঝালমুড়ির কাগজের ঠোঙার বদলে গ্লাস, স্বাদটাও খানিকটা অন্যরকম। ঝালমুড়ি খেতে খেতে শুনলাম, আবদুর রহিমের জীবনযুদ্ধের কথা। কথা বলার ফাঁকেই তিনি বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছিলেন ঝালমুড়ি।
স্মৃতি হাতড়ে আবদুর রহিম চলে গেলেন ১৬ বছর পেছনে। তখন তিনি তরতাজা যুবক। প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে প্রথমে দুবাইয়ে পা রাখেন। মাস দুয়েক নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজও করেন। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে মাটির নিচের একটি ঘরে ২০-২২ জনের একসঙ্গে থাকাটা যেন তাঁর কাছে নরক বলে মনে হতো। এরপর আরেক দালালের হাত ধরে সমুদ্রপথে ব্রাজিল। এভাবেই মোট চারটি দেশ ঘুরে অবশেষে লন্ডনে পৌঁছলেন তিনি। তত দিনে পার হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর।
স্বল্প শিক্ষা, ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা, শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণেই কোথাও নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেননি আবদুর রহিম। হঠাত্ করে তাঁর মনে হলো ঝালমুড়ি বানিয়ে বেচলে কেমন হয়? কারণ সারা দিন কাজ শেষে বাসায় ফেরার পরে তিনি মরিচ-পেঁয়াজ মাখিয়ে যে মুড়ি বানান, সেটা কিন্তু তাঁর অন্য সঙ্গীরা বেশ মজা করেই খান। এই সঙ্গীদের কেউ ফিলিপাইনের, কেউ মরক্কোর, কেউবা আফ্রিকার কোনো দেশের বাসিন্দা। যেই ভাবা, সেই কাজ। নেমে পড়লেন কাজে।
সব মিলিয়ে ৩৫ পাউন্ড জোগাড় করে শুরু হয়ে গেল লন্ডনের ঠেলাগাড়িতে আবদুর রহিমের ভাসমান ঝালমুড়ির ব্যবসা। ভালোই আছেন এখন। ছয় মাস পরপর বাংলাদেশে টাকা পাঠান। বছর দশেক দেশে ফিরে বিয়ে করেন। একটি ছেলেও আছে। তবে পুরো পরিবার থাকে বরিশাল শহরে।
আবদুর রহিম বাংলা ভাষায় কথা বলতে ছটফট করেন। তাঁর মতে, এখানে প্রায় সবাই সিলেটি বাংলায় কথা বলেন। দেশের রাজনীতির খবরও ভালোই রাখেন তিনি। কোন সরকার কেমন করছে, তাও বলে যাচ্ছিলেন। জানালেন, মাঝেমধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটের বিভিন্ন সভাতে যান তিনি। সেখানে দেশের খবর পান, ঝালমুড়ির বেচাবিক্রিও ভালো হয়। আবদুর রহিম খানিকটা গর্ব করেই জানালেন, টাওয়ার হ্যামলেটের সদ্য নির্বাচিত মেয়র লুত্ফর রহমানও তাঁর ঝালমুড়ির ভক্ত।
ইংরেজিও তো ভালো জানেন না, তাহলে ব্যবসা চলে কেমন করে? আবদুর রহিমের জবাব, ‘হইয়া যায়। কিছুটা ‘ককি’ও জানি।’
এটি আবার কী? ‘এইখানের ভাষা। রাস্তার ভাষা।’
পরে জানলাম, এখানকার স্ট্রিট ল্যাংগুয়েজ অর্থাত্ রাস্তার ভাষাকে নাকি ‘ককি’ বলে। লন্ডনে বসবাসরত কৃষ্ণাঙ্গরা এ ভাষায় বেশি কথা বলেন। আর এ ভাষা এ প্রজন্মের বাঙালি তরুণ-তরুণীরাও বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। কারণ এটি শুধু একটি বাচনভঙ্গিই নয়। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গি এবং পোশাকও ম্যাচ করতে হয়। ইংরেজরাও এই ভাষাটা ভালোই বোঝে।
হোয়াইট চ্যাপেলকে সিলেটিপাড়া উল্লেখ করে আবদুর রহিম জানান, এখানে ঠেলা নিয়ে এলে ভারতীয় আর পাকিস্তারিনাই বেশি ঝালমুড়ি কেনেন। সন্ধ্যার পরে টেমসের পাড়ে পাবগুলোর দিকে চলে যান। সেখানেও ভালো বেচাকেনা হয়।
হোয়াইট চ্যাপলের রাস্তার পাশে ফুটপাতের ওপর অসংখ্য ফল, সবজি, মাছ আর জামা-কাপড়ের দোকান। সব দোকানই পরিচালনা করছেন এশীয়রা। বিশেষ করে বাঙালি, ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা। রাস্তায়ও প্রচুর বাঙালি চলাচল করছেন। মাঝে মাঝে কিছু শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ আর চীনা মানুষও দেখা যাচ্ছিল। ফিরে আসার সময় আবদুর রহিম পাশের দোকান থেকে দৌড়ে কিনে নিয়ে এলেন পাপাডাম (এক ধরনের পাপড় ভাজা)। অনেক দিন পর বাংলায় কথা বলতে পেরে আবেগে আপ্লুত তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতি ও পুঁজি লুটেরাদের তাণ্ডব by মইনুল ইসলাম

কারণ, অর্থনীতি আমাকে শিখিয়েছে, মানুষ কখনোই কোনো দেশের প্রধান সমস্যা হতে পারে না। এর মানে এই নয় যে বিপুঁল জনসংখ্যার বিষয়টাকে আমি অবহেলা করতে বলছি কিংবা কম গুরুত্ব দিতে বলছি। মানব উন্নয়নই যেহেতু অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান উদ্দিষ্ট, তাই বিপুঁল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা ভ্রান্ত ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। জনগণকে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মানবপুঁজিতে রূপান্তরিত করাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে একটা বিপুঁল জনসংখ্যা-অধ্যুষিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে এর তুলনায় অন্য সবকিছুই গৌণ।
জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারের সংজ্ঞা হলো: জন্মহার - মৃত্যুহার + বিদেশ থেকে দেশে অভিবাসন হার - দেশ থেকে বিদেশে অভিবাসন হার। বাংলাদেশের বর্তমান ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি হারের জন্য জন্মহারের হ্রাস যতখানি ভূমিকা রাখছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশ থেকে বিদেশে বিপুঁল জনগণের অভিবাসন। তাই দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে উপযুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন্মহারকে যথাসম্ভব শিগগির দ্রুত কমিয়ে এনে জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার নিষ্ঠাবান ও জোরদার প্রয়াস নেওয়ার বিকল্প নেই বাংলাদেশের জন্য।
কিন্তু জনসংখ্যাকে ‘এক নম্বর সমস্যা’ ঘোষণা করলে প্রকৃত এক নম্বর সমস্যা থেকে জনগণের মনোযোগটা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে গুরুতর প্রতিবন্ধক রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রসাদের ভাগ পাওয়া পুঁজি লুটেরাদের তাণ্ডব। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পর পাকিস্তানের ২৪ বছর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৩ বছরেও দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের এই তাণ্ডব থেকে জনগণের মুক্তি মেলেনি আজও। দু–দুবার স্বাধীনতা অর্জন সত্ত্বেও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন এবং রাষ্ট্রক্ষমতা প্রয়োগকারী মহলগুলোর এহেন লুটপাট ও দুর্নীতির তাণ্ডব এতটুকুও কমেনি। বরং এই তাণ্ডব ক্রমবর্ধমান। ১৯৯১ থেকে ক্ষমতায় আসীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ২৩ বছরের ক্ষমতার মেয়াদে দুর্নীতির তাণ্ডব পালাক্রমে এতখানি বেড়েছে যে অনেকের কাছে ‘থিফ অব বাগদাদ’ নামে কুখ্যাত এরশাদের শাসনামলকে এখন প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। গ্রামবাংলার বহুল প্রচলিত ‘কাফন চোরার’ গল্পটাই যেন সত্যি হয়ে গেছে বাংলাদেশে: কাফন চোরার মৃত্যুর পর তার ছেলে কাফন চুরির পাশাপাশি মুর্দারের বাড়িটাও পুঁড়িয়ে দিতে শুরু করায় ওই গ্রামের লোকেরা নাকি বলতে শুরু করেছিল, কাফন চোরাই তো ভালো ছিল। দুর্নীতিতে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ গত ২৩ বছরে কে কাকে হারিয়ে দিচ্ছে বলা মুশকিল বৈকি!
অনুন্নয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতির তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টার ব্যাখ্যা হলো, দু–দুবার স্বাধীনতা অর্জন সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র তেমন একটা বদলানো যায়নি। রাষ্ট্রের এ ধরনের সরকারকে পল বারান আখ্যা দিয়েছেন ‘কম্প্রাডোর গভর্নমেন্ট’, বাংলায় যাকে বলা হয় মুৎসুদ্দি সরকার। আন্দ্রে গুন্দার ফ্রাঙ্ক একে আখ্যা দিয়েছেন ‘লুম্পেন-পুঁজিপতি লালিত লুম্পেন-সরকার’। সামীর আমীনের ভাষায় এ ধরনের সরকার ‘প্রান্তীয় পুঁজিবাদের’ বৈশিষ্ট্য। আবার হামজা আলাভীর মতে, এ ধরনের সরকার ‘আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের’ বৈশিষ্ট্য।
সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনীতিবিষয়ক বিশ্বের ‘বেস্টসেলার’ হোয়াই নেশনস ফেইল গ্রন্থে এ ধরনের রাষ্ট্রকে ‘পুঁজি আত্মসাৎকারী রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদ এসেমগলু ও রবিনসন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের এ দেশের রাষ্ট্রকে ওপরে উল্লেখিত চারিত্রমণ্ডিত রাষ্ট্রের ‘ক্ল্যাসিক নজির’ বলা চলে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদীয় পদ্ধতির গণতন্ত্র চালু করার ব্যবস্থা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেছিলাম আমরা। ১৯৭২-১৯৭৫ পর্বে পুঁরোপুঁরি উপলব্ধি করা না গেলেও ১৯৯১-২০১৪ পর্বে এখন আর কারও মনে সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে গণতন্ত্রের নামে এ দেশে প্রকৃত বিচারে শুধুই ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্ব’ চালু করতে পেরেছি আমরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতাকে অস্বাভাবিক কিংবা আপত্তিকর মনে হয়নি৷ এ জন্য যে স্বাধীনতা-পরবর্তী ওই টালমাটাল রাজনীতি ও বিপর্যস্ত অর্থনীতির বাস্তবতায় তাঁর শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। তবু বলতেই হবে, মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি তাজউদ্দীনের মতো মেধাবী সহকর্মীদের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে বঙ্গবন্ধু এককভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেগুলো জাতির জন্য ক্ষতিকরই হয়েছে। ধীরে ধীরে আত্মীয়স্বজন ও আমলাদের একটা ঘেরাটোপে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। শেখ মনির হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর আপনজন হয়ে উঠেছিলেন খোন্দকার মোশতাকের মতো ঘাতকেরা। মন্ত্রিসভা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী হবে, তা বলার জন্য লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে ছুটে গিয়েছিলেন তাজউদ্দীন, এটা সম্প্রতি প্রকাশিত তাজউদ্দীন-কন্যা শারমীন আহমদের বই তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতার মাধ্যমে পাঠকেরা জানতে পেরেছেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চাটুকার ও স্তাবকেরা যখন হুক্কাহুয়া রব তুলেছিল বঙ্গবন্ধুকে ‘লাইফ প্রেসিডেন্ট’ করতে হবে, তখন আমার মতো ওই সময়ের ক্ষুদ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষকেরও আফসোস প্রকাশ করতে হয়েছিল, ওরা বঙ্গবন্ধুকে এবার হত্যার আয়োজন করছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড তাজউদ্দীনের আশঙ্কাকে কী মর্মান্তিকভাবে সত্য প্রমাণিত করেছে, তা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিন্তু একজন নির্মোহ বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে এখন তো বলতেই হবে, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একাংশ দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু করে দিয়েছিল এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের কেউ কেউ স্বজনপ্রীতিরও ফায়দাভোগী হয়েছিলেন। বৈদেশিক অনুদানের একাংশও লুটপাট হয়েছে। জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অধীনে ন্যস্ত কল-কারখানা ও সেক্টর করপোরেশনগুলোও দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে। তখনকার বিপর্যস্ত জনজীবনে এই দুর্নীতি অসহনীয় ঠেকেছে, তাই ১৯৭৪-৭৫ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ক্রমেই ধস নামিয়েছে দুর্নীতি ও লুটপাটের বদনাম। বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের ব্যাপক কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়াটা এ দেশের ইতিহাসের একটা রহস্যজনক ধঁাধা। এমনকি এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলটাও সংগঠিত হয়েছিল ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে, আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সাহস হয়নি রাস্তায় নামার। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হলে মানুষের যে নৈতিক সাহস তিরোহিত হয়ে যায়, এটা তারই একটা প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত মনে করি।
এরপর ক্ষমতা জবরদখলকারী সমরপ্রভুদের শাসনামলে এ দেশে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সুসম্পন্ন হয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না বলে জনশ্রুতি থাকলেও তাঁর কেনাবেচার রাজনীতির প্রয়োজনে ব্যাংকঋণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বিলি-বণ্টনকে তিনি হাতিয়ার হিসেবে দেদার অপব্যবহার করে গেছেন, যা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক দুর্নীতিরই দৃষ্টান্ত। আর স্বৈরাচারী এরশাদ রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিকে এ দেশের মূল সিস্টেমে পরিণত করে গেছেন। এরশাদের এই মহাজনি পন্থাই অনুসরণ করে চলেছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত ২৩ বছরের ‘নির্বাচিত সরকার’। সে জন্য প্রতিবারই সুযোগ পাওয়ামাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী নির্বাচনেই জনগণ প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন সদ্য বিদায়ী সরকারকে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিপুঁল বিজয় তাদের প্রতি জনগণের ভালোবাসার জোয়ার ছিল না, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় ছিল ওটা। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে ব্যবহার করে প্রাণপণ প্রয়াস চালিয়েছেন নির্বাচনকে নিজের জোটের বিজয়ের হাতিয়ারে পরিণত করতে। দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে দ্বিধা করেননি তিনি। সুযোগ পেয়ে সামরিক বাহিনী তাদের কিছু আস্থাভাজন ব্যক্তিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলও করে নিয়েছিল। কিন্তু পিছু হটতে হয়েছে তাদেরও।
২০০৮-এর নির্বাচনে আবারও জনজোয়ারে অভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষাই নিলেন না তিনিও। আবারও দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনে বঁুদ হয়ে থাকলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। হাতে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন ব্যাঘ্রে পরিণত করা হলো। এ সুযোগে আমলারা দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের মাত্রাকে অভূতপূর্ব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়ে গেলেন দলবাজির মহামচ্ছবে শরিক হয়ে। শেখ হাসিনা বুঝে গেলেন, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে আবার আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। অতএব, উপদেষ্টাদের চাণক্য-নীতির খেলা শুরু হয়ে গেল, কীভাবে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করে ফেলা যায়। চাতুর্যের ওই খেলায় ধরা খেয়ে গেলেন খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেপথ্যের কান্ডারি তারেক জিয়া।
সৌভাগ্যক্রমে ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনী প্রহসনের ফায়দাভোগী হয়ে নিজের ক্ষমতার মসনদকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেয়ে বর্তে গেলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু বাংলাদেশের শিশুগণতন্ত্রের যে মহাবিপদ উপস্থিত হয়েছে, সে ব্যাপারে কারও সন্দেহ থাকা উচিত হবে না। সে জন্যই জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সমস্যার মূলে আসল কারণটাকে চিনতে হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্রকে পুঁজি লুণ্ঠনকারী রেখে দিয়ে যতবারই খালেদা-হাসিনার নির্বাচনী ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ চলুক না কেন, তাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট কাটবে না। পরিবারপ্রীতি, বংশপ্রীতি, আত্মীয়প্রীতি, অঞ্চলপ্রীতি, বেধড়ক দলপ্রীতি, প্রশাসনে দলবাজির তাণ্ডব—এগুলো সবই দুর্নীতি আর পুঁজি লুণ্ঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রদানের সিস্টেমের রকমফের। ভোটের গণতন্ত্রকে দুই নেত্রীর ক্ষমতায় আসা-যাওয়ার ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’ পর্যবসিত করে তাঁদের প্রচণ্ড ক্ষমতাধর অবস্থানে নিয়ে গেছি আমরা। তাই তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে জিম্মি হয়ে গেছে পুঁরো জাতি।
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে ইতিহাস জানাতে হতো… by জোবাইদা নাসরীন

যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের হানাহানিতে নারীর ওপর নির্যাতন একটি বড় অংশজুড়ে থাকে, যার অন্যতম হলো ধর্ষণ৷ বলা হয়, ধর্ষণ হলো যুদ্ধের হাতিয়ার৷ যুদ্ধ, সহিংসতা ও এর সঙ্গে লিঙ্গীয় দেনদরবার নিয়ে একাডেমিক জগতে নানা ধরনের বাতচিত জারি থাকলেও যৌন নির্যাতন বন্ধ করা এতগুলো দেশের একত্রে বোঝাপড়ায় এই বিষয়ে নিয়ে এত বড় আয়োজন এই প্রথম৷
এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এবং ইউএনএইচআরের বিশেষ দূত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি৷ এই সামিট অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ; যার একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আর তা হলো যুদ্ধের সময়ে যৌন সহিংসতার প্রামাণ্যকরণ আরও জোরদার করা৷ কেননা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতিত নারীর জবানবন্দি শোনা যায় না, কিংবা শোনা গেলেও সেটিকে সহিংসতার সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না; যদিও বর্তমানে এই আখ্যানগুলো খুবই জোরালোভাবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সহিংসতার ধরন ও গভীরতা মাপতে৷ আরেকটি উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধে নির্যাতিত এবং যৌন নির্যাতনের শিকার যাঁরা হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান৷ বলা হয়েছে, তাঁদের প্রতি এই সমর্থন ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমন্বয়েরও অগ্রগতি হবে৷ এই সামিটের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধের সময়ে নারীর ওপর নানা ধরনের যৌন নির্যাতন বন্ধের জন্য পৃথিবীজুড়ে জনমত তৈরি করা, বিশেষ করে যখন ধর্ষণসহ নারীর ওপর নানা ধরনের যৌন নিপীড়নকে যুদ্ধের সময়ে হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয় এবং এটিকে যুদ্ধের মেজাজের সঙ্গে গিট্টু বেঁধে সহনীয় করে তোলার চেষ্টা করা হয় ও সীমিত পরিসরে আলোচিত থাকে৷
দুই
বাংলাদেশের জন্য এই সামিটটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য, বিশ্ব যে কারণে আজ এক হয়েছে, যে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এতগুলো দেশকে একটি পাটাতনে এনেছে, বাংলাদেশের মানুষ সেই নির্যাতনের পথেই রক্তাক্ত হয়েছে, আমরা সেই নির্যাতনেরই অংশ৷ এই সামিটের মাত্র ৪৩ বছর আগে গণহত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতনের জমিতে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি বিশ্বকে জানাতে পারত তার সেই নারীদের নির্যাতনের ইতিহাস৷ অন্য অনেক দেশের যুদ্ধের ইতিহাসে নারীর ওপর সহিংসতার বিষয়টি মূল কেন্দ্রে থাকলেও বাদ পড়েছে বাংলাদেশে প্রসঙ্গ৷ তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, কেন এই সম্মেলনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক দুই লাখ নারীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি যুক্ত হয়নি? যদিও এতে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলও৷ কিন্তু তারা এ বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেয়নি৷ সুযোগ ছিল, পুরো বিশ্বের কাছে এই নির্যাতনের তথ্য জানান দিয়ে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাবি তোলা৷ কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, এই পুরো সামিটে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি৷ তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতন নিয়ে একটি সেশনে কথা বলেছেন ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের রিডার নয়নিকা মুখার্জি৷
তিন
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষণ এবং নানা ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন, কেউ কেউ চলে গেছেন পাকিস্তানে, কেউ লুকিয়েছেন নিজের পরিচয়৷ কেউ বা চলে গেছেন অন্য দেশে৷ আর তাঁদের মধ্য থেকেই জীবনসায়াহ্নে এসে বললেন সেই নির্যাতনের কথা, ইতিহাসের কথা৷ বীরাঙ্গনারা অনেকেই মারা গেছেন৷ তাই তাঁদের সেই নির্যাতনের ইতিহাস আলাদা কোনো ইতিহাস নয়, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তির ইতিহাস৷ আমাদের এই নির্যাতনের বিষয় আমরা বিশ্বকে জানাতে চাই৷ এই নির্যাতনের বিচার চাই৷ অার সেটি জানাতে লন্ডনেরই কিছু মানুষ সেই নির্যাতনের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছেন, বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, স্মরণ করানোর চেষ্টা করেছেন সেই নির্যাতনের ইতিহাসকে, যেটি এই সামিটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়নি৷ কেননা, বিশ্বকে জানতে হবে, মনে রাখতে হবে সেই নারীদের, যাঁরা নির্যাতনের ইতিহাস সঙ্গে করেই বেঁচে ছিলেন, বেঁচে আছেন৷ আর একজন বীরাঙ্গনা যখন মারা যান, তাঁর সঙ্গে চলে যায় তাঁর ইতিহাস, বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্রটির ইতিহাসও৷
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
zobaidanasreen@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিক্রিয়া- ‘পুলিশ থাকতে র্যাব কেন?’ by আবুল কাশেম

র্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশেরই সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত একটি স্বতন্ত্র ইউনিট এবং এটি গঠনের জন্য কোনো নতুন আইন না করে, বরং দি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯ কিছুটা সংশোধন করে দি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৩-এর আওতায় বিদ্যমান আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মতো আইজিপির অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন র্যাব গঠন করা হয়। উল্লিখিত আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, এপিবিএন ও র্যাব সরকারের তদারকিভুক্ত এবং আইজিপি কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত একটি ফোর্স। ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত র্যাব গঠনসংক্রান্ত সভায় র্যাবের মহাপরিচালক আইজিপির সরাসরি কমান্ড ও কন্ট্রোলে দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। র্যাবের সৃজিত পদগুলোর বেতন স্কেল অসামরিক তথা পুলিশের পদের বেতন স্কেলের ভিত্তিতে সৃজিত হয়েছে, সামরিক বাহিনীর বেতনকাঠামোর ভিত্তিতে নয়। র্যাব বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে অধিকতর জোরদার ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য পুলিশের অধীনে বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলা হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
পুলিশের ব্যর্থতার কারণে র্যাব সৃজিত হয়েছে মর্মে যে কথা বলা হচ্ছে, তা যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। যদি আট থেকে দশ হাজার লোক দিয়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব হয় তাহলে ব্যর্থ পুলিশের খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় কেন? ব্যর্থ বাহিনী হিসেবে পুলিশকে নিয়ম অনুযায়ী বিলুপ্ত করে দেওয়াই উচিত ছিল। র্যাবে সামরিক ও অন্যান্য বাহিনী থেকে আগত প্রায় ৫৬ ভাগ সদস্য বা কর্মকর্তাদের আইনি জ্ঞান কাঙ্ক্ষিত মানের হওয়ার কথা নয়। কারণ, তাঁরা সমরসংক্রান্ত বিদ্যা শিখেছেন। পুলিশি কার্যক্রমে প্রয়োজন হয় এরূপ আইন যথা: ফৌজদাির কার্যবিধি, দণ্ডবিধি পিআরবি এবং অন্যান্য আইন সামরিক একাডেমিতে বিস্তারিতভাবে শেখানো হয়, এমন তথ্য আমরা এখনো পাইনি।
সৃষ্টির পর এ পর্যন্ত র্যাবের অধিনায়ক পর্যায়ের (লে. কর্নেল বা সমমান) কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। এঁরা কেউই পুলিশ কর্মকর্তা নন। এ ছাড়া যাঁদের বিরুদ্ধে বর্তমানে অপহরণ, গুম প্রভৃতির মতো মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে তাঁদের সিংহভাগই (প্রায় ৮০ ভাগ) পুলিশ কর্মকর্তা নন। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়, অপরাধ বা দুর্নীতি শুধু পুলিশে নয়, অন্যত্রও রয়েছে এবং সময়ে সময়ে তা মারাত্মক রূপ ধারণ করে। আর বাংলাদেশ পুলিশ যদি সরকার কর্তৃক রাজনৈতিকীকরণের শিকার হয়, সে ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক গঠিত র্যাব রাজনৈতিকীকরণের শিকার হবে না কেন? র্যাবকে ৭০ ভাগ ভাতা, উন্নততর যানবাহন, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারই দিয়েছে এবং পুলিশের অন্য ইউনিটের তুলনায় দৃষ্টিকটুভাবেই বেশি দিয়েছে। হিসাবে দেখা গেছে, পুলিশের অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত ২ দশমিক ৫ জন সদস্যের জন্য সরকারের যে ব্যয় হয় তা ব্যয় হয় র্যাবে কর্মরত একজন সদস্যের জন্য। সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে আর র্যাবকে শুধু জনস্বার্থে ব্যবহার করবে, এ রকম চিন্তা বাংলাদেশের বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক আবহে মোটেই বাস্তবসম্মত নয়।
ফজলুল বারী কর্তৃক ‘পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতি’র বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসে প্রদত্ত বক্তব্য, যথা: ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এবং ভয়ংকর অপরাধীদের হাত থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে র্যাব প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে’, ‘পুলিশের প্রশিক্ষণের অভাব’, ‘জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে বসে থাকতেই পছন্দ করেন’ প্রভৃতি মন্তব্য অজ্ঞতাপ্রসূত, অগভীর এবং তথ্য-উপাত্ত দ্বারা সমর্থিত নয়।
র্যাবের রাজনৈতিকীকরণের বিষয়ে ফজলুল বারীর বক্তব্য ‘সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কারণে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করার নির্দেশ র্যাবকে দেওয়া হয়, তাহলে র্যাব সে অবৈধ নির্দেশ পালন করবে না’ বাস্তবতার নিরিখে অতি বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলেই প্রতীয়মান। তদুপরি ফজলুল বারীর বক্তব্য ‘নৈতিক কারণে’ তিনি ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারবেন না’ যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। ফজলুল বারী র্যাব-১-এর অধিনায়ক থাকাকালে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার প্রধান সাক্ষী র্যাব-১-এর হেফাজতে মারা যান। এ জন্য গাজীপুরে মিছিলও হয়েছিল। পরে জানা যায়, মৃত্যুর কারণ ছিল ‘হার্ট অ্যাটাক’। ২০০৫ সালে ফজলুল বারীর পদিব ছিল কর্নেল। সরকাির চাকিররত অবস্থায় সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে একজন বিদেিশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সরকারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে আলোচনা করা নীতি-নৈতিকতা ও চাকরিবিধির পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর দ্বারা তিনি সেনাবাহিনীতে কৃত শপথ ভঙ্গ করেছেন। এহেন ব্যক্তি বিশ্বাসযোগ্য নন।
লেখক বলেছেন, ‘পুলিশি সমস্যাগুলো র্যাবে আরও বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হলে র্যাব হয়ে উঠবে পুলিশের থেকেও বেশি বিপজ্জনক’ এবং ‘সেই সংক্রমণ থেকে র্যাবকে রক্ষা করার দায়িত্ব প্রধানত সরকারের, তবে র্যাবের নিজেরও সে ব্যাপারে আরও সজাগ হওয়া উচিত।’ উত্তম পরামর্শ বটে। প্রশ্ন হলো, ১০ হাজার জনবলসমৃদ্ধ র্যাবকে ‘সংক্রমণ’ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব যদি ‘প্রধানত’ সরকারের হয়, প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার জনবলসমৃদ্ধ পুলিশ বাহিনী—যাদের কর্মকাণ্ডের ওপর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের শািন্ত ও নিরাপত্তা বহুলাংশে নির্ভর করে—তাদের ‘সংক্রমণ’ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব কার? যদি সরকারেরই হয় এবং তারা তা করে, তাহলে ভিন্ন পেশা, ভিন্ন পেশাগত জ্ঞান, ভিন্ন মানসিক পরিকাঠামো, ভিন্ন সার্ভিস কালচার ও পরিবেশসমৃদ্ধ চার-পাঁচিট বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত ও দুই-তিন বছরের জন্য অতিথি হিসেবে আগত কর্মকর্তা-সদস্যদের নিয়ে মুখর এ র্যাবের উপযোগিতা কোথায়?
‘ক্রসফায়ারে’ দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসী খুন করার জন্য বড় কোনো প্রশিক্ষণ বা অস্ত্রবল ও িক্ষপ্রতার প্রয়োজন নেই। পদ্ধতিগত ও সাবস্ট্যানটিভ আইন সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে সাক্ষ্য আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আসামিকে গ্রেপ্তার ও আদালতে তার অপরাধ প্রমাণের জ্ঞাননির্ভর, জটিল ও সময়সাপেক্ষ পথকে পাশ কাটিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ দ্বারা তথাকথিত সন্ত্রাসী খুন করা অনেক গুণ সহজ। যার কাজ তাকে দিয়ে না করিয়ে এবং পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিবর্তে ‘চৌকস ও িক্ষপ্র’ সামরিক বাহিনীর সদস্যকে নিত্যকার পুলিশি কাজে নিয়োজিত করার নজির বিশ্বের কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। উল্লেখ্য, যাদের ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে ‘আমজনতার আস্থা’ অর্জন করা হয়েছে তাদের সবাই বা বেশির ভাগই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের হাতে বিভিন্ন সময়ে আটক হয়েছিল।
অপহরণ, গুম, ক্রসফায়ার বা কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের (লেখকের ভাষায়) সর্বশেষ সংস্করণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ঘটনাকে প্রতীকী হিসেবে ধরে নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমীপে এ আরজ রাখা যায় যে ‘কোথাও বোধ হয় একটু ভুল হয়েছে’। সাত খুন, মতান্তরে ১১ খুন, যদি একটি মাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়, তাহলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এলিট ফোর্সের ভালো ‘প্রশিক্ষণ’, ভালো অস্ত্র ও িক্ষপ্রতা নিয়ে আমজনতার খুিশ থাকাই বিধেয় হবে। তবে ঘটনাটি যদি হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরি অংশ হয়, তাহলে সাধুদের সাবধান হওয়ার সময় বোধ হয় দ্রুতই পার হয়ে যাচ্ছে৷
আবুল কাশেম: অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন ব্যর্থ মানুষের গল্প by আসিফ নজরুল

এই বিশাল মানুষটিকে আমি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতায় কয়েক বছর ধরে দেখি অন্য একটি কারণে। তাঁর কারণে একটি গুরুতর মামলায় শাস্তি ও হয়রানির হাত থেকে আমি রক্ষা পেয়েছিলাম মালদ্বীপযাত্রার কয়েক মাস আগে। তাঁর চেম্বার এই মামলার সব ব্যয়ভার বহন করেছিল, মামলার জন্য তিনি হরতালের দিন রিকশায় করে চেম্বারে চলে এসেছিলেন, মামলার একটি জবাব জমা দেওয়ার সময় প্যারিস থেকেই তা শুদ্ধ করে দিয়েছিলেন!
ড. কামাল হোসেন মানবাধিকার প্রশ্নে এমনভাবে এ দেশে বহু মামলা লড়েছেন বিনা পারিশ্রমিকে। এ দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আমলা, সুপ্রিম কোর্টের চাকরি হারানো বিচারপতি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী থেকে শুরু করে বস্তিবাসী, বিনা বিচারে আটক অসহায় মানুষ, সুবিধাবঞ্চিত নারী-শিশুসহ বহু মানুষ নির্যাতন, হয়রানি এবং শোষণ থেকে মুক্তি পেয়েছে তাঁর নিজের বা তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। আমার সঙ্গে তাঁর কোনোকালেই ঘনিষ্ঠতা ছিল না। বরং সাংবিধানিক আইনের সামান্য বিদ্যা নিয়ে পাকামো করতে গিয়ে আমি তাঁর বহু সমালোচনা করেছি টিভি আর পত্রপত্রিকায়। অথচ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কায় জর্জরিত হয়ে তাঁর কাছে যাওয়ামাত্র তিনি আমাকে রক্ষা করতে দুহাত বাড়িয়ে দেন। এমনকি মামলার একদিনের শুনানিতে থাকতে পারবেন না বলে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ আর শাহদীন মালিককে আমার পক্ষে থাকতে বলে দেন।
আমি এখন ভাবি, ভাগ্যিস এই মামলা হয়েছিল। না হলে কোনো দিন কামাল হোসেনের চেম্বারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জানতে পারতাম না তাঁকে। দেখতাম না কী আশ্চর্য দক্ষতায় তিনি তৈরি করেন মামলার জবাব, কী অদ্ভুত স্নেহের বন্ধন তাঁর সঙ্গে তাঁর চেম্বারের জুনিয়র, অফিসার এবং কর্মচারীদের; কী প্রগাঢ় ভালোবাসায় তিনি দুঃখ করেন দেশ, সমাজ আর দেশের হতভাগা মানুষের জন্য। কত গভীরভাবে ভালোবাসেন দেশ, বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে।
মালদ্বীপে কয়েক দিন থাকাকালে তিনি আমাকে আইন, ইতিহাস. রাজনীতি ও আত্মজীবনীমূলক নানান গ্রন্থের কথা বলেন। বলেন, আন্তর্জাতিক আইন আর সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়। আমি তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করি। যেসব ক্ষুদ্র মানুষ তাঁকে অবমূল্যায়ন, অসম্মান এমনকি অপদস্থ করেছে, যেসব ঘটনায় তাঁর মনে কষ্ট পাওয়ার কথা, সেসব প্রসঙ্গও আসে। আমি অবাক হয়ে যাই, একবারও কারও সম্পর্কে সামান্য কটূক্তি করেন না তিনি। কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় নিজেকে জাহির করেন না তিনি। ‘আমি’ না তাঁর সব মহৎ বর্ণনা ‘আমরা’ বা ‘আমাদের’ এমন বহুবচনে।
বহুবার তাঁর সঙ্গে আলাপকালে অনুভব করেছি নিজের ক্ষুদ্রত্ব। আমি এবং আমার মতো আরও বহু লিলিপুটের এই দেশে জন্ম নিয়েছেন তিনি, ড. ইউনূস বা ফজলে হাসান আবেদের মতো মহিরুহ মানুষ। তাঁদের আকৃতি আমাদের ক্ষুদ্রত্বকে আরও উন্মোচিত করে বলে আমার তাঁদের বারবার আঘাত করি। আমরা একবারও ভাবি না কোনো আঘাতেই কাবু হওয়ার মতো মানুষ এঁরা না।
২.
কামাল হোসেনকে সর্বশেষ আঘাত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তাঁকে একজন ব্যর্থ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে তাঁর কথার কোনো দাম নেই বলেছেন আমাদের অর্থমন্ত্রী। এর আগে ড. কামাল তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ড. কামাল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় অর্থমন্ত্রীর নির্বিকার প্রতিক্রিয়ায়। ২০০৯ সালে ৬৪ কোটি টাকা লাভ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদের দুর্নীতিবাজদের নির্বিচার ও বেপরোয়া লুটপাটের কারণে ২০১৩ সালে এসে ২৬২ কোটি টাকা লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে! রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। এই টাকা বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদের বা সরকারি প্রতিপত্তি খাটিয়ে লুটপাট হয়েছিল আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। সোনালী ব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা এভাবে আত্মসাৎ করার ঘটনা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে উন্মোচিত হলে অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন: এই টাকা তেমন কিছুই না! এবারও বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় তিনি হাসি হাসি মুখে তা-ই বললেন। আমরা কি কল্পনা করতে পারি জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত লোকজন লোপাট করে দিচ্ছে জানার পর কোনো সুস্থ মাথার মানুষ বলতে পারেন: এটি তেমন কিছুই না। সেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়! এরও আগে সরকারি দলের লোকজনের কারসাজিতে শেয়ার মার্কেটের হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হওয়ার পর যখন রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষ আহাজারি করেছেন, এমনকি কোথাও কোথাও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে, অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন: শেয়ার মার্কেট মোট অর্থবাজারের ১ শতাংশও নয়, তাই এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই!
কামাল হোসেন বাংলাদেশে সবচেয়ে পরিমার্জিত ব্যক্তিদের একজন। তিনি সমালোচনা করতে হলেও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন না। কিন্তু মানুষের ধৈর্যেরও সীমা থাকে। জনগণের আমানত বা লগ্নি রাখা হাজার হাজার কোটি টাকা জনগণের করের টাকায় পালিত সরকারের লোকজন অনবরত লুট করবে আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী হাসি হাসি মুখে তা ‘কিছুই না’ বলে উড়িয়ে দেবেন, এটি যে মানসিক অসুস্থতা, তা বলা ছাড়া উপায় থাকে কি? জনাব মুহিতের কথাবার্তায় এমন প্রতিক্রিয়া তাঁর কোনো কোনো সহকর্মীও ব্যক্ত করেছেন আগে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মাত্র কিছুদিন আগে বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী ‘একজন বৃদ্ধ মানুষ, যিনি রাবিশ কথাবার্তা বলেন।’ তাঁর আরও কয়েকজন সহকর্মী তাঁকে কথাবার্তায় সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের যথাযথ প্রত্যুত্তর দিতে পারেননি। তাঁদের কাউকে তাঁর এ জন্য ব্যর্থ মানুষ মনে হয়নি, তাঁদের কথার কোনো দাম নেই বলার ইচ্ছে হয়নি।
৩.
কামাল হোসেন এক অর্থে অবশ্য ব্যর্থ! তবে তিনি ব্যর্থ মানুষ নন, ব্যর্থ রাজনীতিবিদ। সন্ত্রাস, মিথ্যাচার, দুর্নীতি, চাটুকারিতা, অশ্লীলতা আর একচ্ছত্রবাদের যে রাজনীতি চলছে দেশে, তাতে তাঁর সফল হওয়ার কোনো কারণ নেই। এসবের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন না বলে তিনি বহু আগে স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি আর জামায়াত যে অসুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে দেশে, তিনি সেই সম্মিলিত পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে একা লড়ে জোরালো কোনো সুস্থ রাজনীতির ধারা তৈরি করতে পারেননি। অন্য বহু বাম-ডান-বিপ্লবী দল যা করেছে, তেমনভাবে পদ বা ক্ষমতার প্রলোভনে এদের কারও সঙ্গে কোনো আপসও করেননি। তাঁর প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম আর শুদ্ধতার আদলে তিনি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক ধারা গড়তে পারেননি। সেদিক দিয়ে তিনি ব্যর্থ হতে পারেন। কিন্তু অন্যদের মতো মন্ত্রিত্বের আকর্ষণে কখনো এরশাদ বা কখনো শেখ হাসিনার মন্ত্রী তিনি হননি, এসব আমলের অনাচার, শোষণ আর দুর্নীতিমূলক শাসনব্যবস্থার অংশীদার হননি।
কামাল হোসেন বাংলাদেশের অসুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে অগ্রাহ্য করেছেন, কিন্তু এই ধারার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনো কার্যকর কর্মকৌশল বাস্তবায়িত করতে পারেননি। তাঁর রাজনীতি হেরে গেছে আপাতত কিন্তু তিনি নিজে কখনো হারেননি। বাংলাদেশের যেকোনো সুস্থ ধারার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন আর উদ্যোগে তিনি তাই নির্দ্বিধায় অগ্রগণ্য একজন মানুষ হিসেবে স্বীকৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও বহু গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মামলায় প্রধান ভূমিকা তিনি পালন করেছেন। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, টিআইবি, বিলিয়া, সেইলসসহ বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানগুলো।
ড. কামালের ঈর্ষণীয় বহু অর্জন রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইএলও ও ইন্টারন্যাশনল বার অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান, বিশ্ববিখ্যাত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের (অক্সফোর্ড, আমস্টারডাম, ডান্ডিসহ) ফেলো, জাতিসংঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আরবিট্রেশনের কাউন্সেল ও গবেষণা জার্নালের অন্যতম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং সারা বিশ্বে বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শকের কাজ করেছেন, চীন, থাইল্যান্ড, ফিজি, আরব আমিরাত, কাতার, মোজাম্বিকসহ নানা দেশের জন্য খসড়া আইন প্রণয়ন করে দিয়েছেন। কামাল হোসেনের কথা শোনার জন্য পৃথিবীর নামী বিশ্ববিদ্যালয়, থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকার বহু টাকা খরচ করে তাঁকে অতিথি করে নিয়ে গেছেন।
এই ‘ব্যর্থ’ মানুষের মেধা আর বাকচাতুর্যে সিমিটার এবং শেভরনের মতো জায়েন্ট বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইসিএসআইডিতে (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুট) মামলায় জিতে বাংলাদেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছিল। আমার জানামতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগসংক্রান্ত বিরোধে কখনোই বাংলাদেশ আর কোথাও জিততে পারেনি। বরং শেলের সঙ্গে বিএনপি এবং নাইকোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে দলীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়োজিত আইনজীবীদের কারণে হেরে যাওয়ার কারণে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের।
কামাল হোসেন দেশের শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেছেন, বহু আইন আর মামলায় অবদান রেখেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আইনি যুদ্ধে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলন আর উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, সর্বোপরি বাংলাদেশকে নিজের কীর্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবান্বিত করেছেন।
তিনি যদি ব্যর্থ মানুষ হন তাহলে এমন আরও অনেক ব্যর্থ মানুষই প্রয়োজন আমাদের। তাঁর মতো মানুষের কথার দাম নেই যাঁদের কাছে, তাঁদের সম্পর্কে সতর্কও হতে হবে।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাসনব্যবস্থার নাম নূর হোসেন! by মিজানুর রহমান খান
তবে কলকাতা পুলিশ নূর হোসেনকে আট দিনের রিমান্ড পাওয়ার খবরে নূরের স্বজনদের জন্য একটা স্বস্তি আছে। সেটা হলো নূর অপঘাতে মরবে না। জুতার ফিতা দিয়ে ফাঁস বানিয়ে নূর আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হবে। তবে নূর হোসেন আট দিন ধরে যেটা বলবেন, সেটা যদি কোনো কারণে পশ্চিমবঙ্গের আদালতের রেকর্ডভুক্ত হয়, তাহলে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতে পারি। কিন্তু কলকাতার পুলিশ যদি অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে গ্রেপ্তার হন, তাহলে তার প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে অবাক হব না। আবার দ্রুতও হতে পারে। পুলিশ রিপোর্ট পেয়েই তাঁকে ফেরত পাঠাতে আদালত আদেশ দিতে পারেন।
অনুপ চেটিয়ার গ্রেপ্তারের কথা মনে পড়ছে। শ্যামলীর একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। বাংলাদেশ তাঁকে নানা বিবেচনায় চট করে ফেরত দেবে না। তাই দাঁড় করানো হলো আইনি যুক্তি। অথচ বাংলাদেশ চাইলে তাঁর প্রত্যাবাসনে প্রায় দুই দশক কেটে যেত না। প্রত্যাবাসন চুক্তি না থাকা কোনো বড় যুক্তি নয়। কারণ, আইন যেটা গোড়া থেকেই বহাল আছে তাতে বলা ছিল, নির্বাহী আদেশ দিয়ে কারও প্রত্যাবাসন যেকোনো সময় হতে পারে। অবশ্য বিশ্বজুড়ে প্রত্যাবাসন সব সময়ই একটি গোলমেলে বিষয়। আইনে যা–ই বলা থাকুক না কেন, এর একটি রাজনৈতিক মাত্রা থাকে। আর সেটা এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনায় বদলায়। নূর হোসেনের ক্ষেত্রে কী ঘটে, সেটা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকব। বাংলাদেশ তাঁকে ঘিরে কীভাবে আন্দোলিত, সেটা কলকাতার কাউকে বেশি বুঝিয়ে বলতে হবে না।
নূর হোসেনের বিচার একটি চ্যালেঞ্জ বয়ে এনেছে সরকারের জন্য। তাঁকে কত দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, তাঁর সঙ্গে হয়তো একদিন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। একদিন কড়া গুনে যখন বর্তমান সরকারের বিপর্যয়ের কারণ গ্রন্থিত হবে, তখন সেখানে নূর হোসেন আর সেভেন মার্ডার লাল হরফেই লেখা হবে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে তাঁর দপ্তরে আমাকে বললেন, মেজর আরিফ ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা কখনো উল্টে যাবে না। আমি তাঁকে জজ মিয়ার গল্পের কথা বলেছিলাম। তিনি বললেন, পৃথিবী উল্টাবে কিন্তু এই ১৬৪ ধারা উল্টাবে না। এটা সত্যি হলে আমি এবং আপনারা হয়তো তার আেক্ষপের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। কারণ, তিনি বলছিলেন যে সাত সদস্যের শক্তিশালী কমিটি, যার নিচের পদে যিনি আছেন তিনিও উপসচিব পদমর্যাদার, তাঁরা কত দীর্ঘ সময় নেওয়ার পরও ঘটনার কারণ বলতে পারল না। আর তাঁদের ব্রিফিংকে বড় করে দেখা হলো, অথচ পুলিশ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি আদায়কে বড় করে দেখতে মিডিয়া এবং টক শো তারকারা বিফল হলো। আমি তাঁর সঙ্গে একমত।
তবে এই ১৬৪ ধারার জবানবন্দিটা উইপোকায় কাটবে না, তা হলফ করে বলা যাবে না। এর আগে নরসিংদীর পৌর চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি দুর্দান্ত ১৬৪ ধারার জবানবন্দির কথা আমরা জেনেছিলাম। সেই জবানবন্দি কতটা দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করা হয়েছে, সেটা আজ আর কারও আগ্রহের বিষয় নয়। নারায়ণগঞ্জকে আপনারা বাসি হলে মিডিয়ার সামনে নতুন খোরাক, বড় খোরাক আসবে।
সবই তো স্বাভাবিক হয়ে আসে। ত্বকীর আলোকচিত্র কী আশ্চর্য শান্ত স্থির হয়ে আছে। তার বাবা-মা এবং ছোট ভাইয়ের আলাদা একটি জগৎ গড়ে উঠেছে। সেখানে তারা হাসিখুিশ থাকেন! অতিথি এলে তাঁরা এমন করে আপ্যায়ন করেন যাতে মনে হয় ত্বকী বেড়াতে গেছে। এ রকমই হাসিমাখা একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। এই বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই। নূর হোসেনীয় শাসন আছে। নারায়ণগঞ্জের জিডিপি জিএনপি যদি ‘ওসমোনামিক্স’ নির্ভর হয়, তাহলে নূর হোসেন একটি বড়সড় বহুমাত্রিক কারখানা। এই কারখানায় মাদক, বালু (প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ লুটেরা), পরিবহন, চাঁদাবাজি আরও কত কী উৎপন্ন হয়। একজন ব্যবসায়ী আমাকে বলেন, তিনি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা (করবিহীন কালোটাকা) কামাই করতেন। সেই টাকার ভাগ বহু রাস্তায় চলে যায়। বিচিত্র পেশার মানুষ তারা। তাতে কে নেই, সেটা গবেষণার বিষয়। এটাই নূর হোসেনীয় শাসনব্যবস্থা। এই শহরে যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ আইনের শাসন ঠক্কর খায়, সেখানে নূর হোসেনের কালোটাকার বস্তা হলো স্টিম রোলার। সব সমান করে দেয়। সব রাস্তা এসে নূর হোসেনে থমকে দাঁড়ায়। সব স্রোত নূর হোসেনের মোহনায় পথ হারায়।
একজন নূর হোসেনের অন্তর্ধানে তাঁর (অপ) শাসন হোঁচট খেয়েছে। তবে চলছে। নূর হোসেনের গ্রেপ্তারে এটা ভেঙে পড়বে না। সবার আড়ালে কিংবা সবার চোখের সামনেই অসম্ভব স্পর্ধা নিয়ে আরও নূর হোসেন আসছে। বেড়ে উঠছে। ওদেরই ভৌতিক মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
প্রমাণ দিচ্ছি। নূর হোসেনের সাত সঙ্গীর নামে সরকারিভাবে ছাড়পত্র দেওয়া নয়টি অস্ত্র পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। আসুন একটি দৃশ্য কল্পনা করি। মোটেই বলিউড মার্কা নয়। বাস্তব৷ নূর হোসেনের কাছে দুটি বৈধ অস্ত্র। আর সেখানে একসঙ্গে তাঁর সাত সঙ্গী নয়টি বৈধ অস্ত্র নিয়ে হাজির হলো। তাহলে কী দাঁড়াল। নূর হোসেন সেনাপতি। তাঁর একটি সশস্ত্র প্রাইভেট বাহিনী আছে। কেন ওই অস্ত্রগুলো জারি করা হয়েছিল, এগুলো একদিনে জারি করা হয়নি, তাহলে কেন রাতারাতি এগুলো বাজেয়াপ্ত করা হলো? এই রাষ্ট্র, এই শাসনব্যবস্থা তা খতিয়ে দেখতে প্রস্তুত নয়। কারণ আইনের শাসনের শর্তে ওগুলো বিতরণ করা হয়নি। সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের অভিযান লাটে উঠেছে। কারণ কী, এই যে নূর হোসেনদের হাতে বৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। তারা অলিগার্কি বা কতিপয়তন্ত্রের অনুরাগী, ভক্ত নয়। তারাই অলিগার্কির প্রতিভূদের বাঁচিয়ে রাখছে। এই দানবদের রুখতে হলে একটাই রাস্তা। গণজাগরণ। সামাজিক প্রতিরোধ। আইনের শাসন৷ নারায়ণগঞ্জ পথ দেখাতে পারে। ত্বকী হত্যাকােণ্ডর পর অাশ্চর্য পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিবাদী কণ্ঠ ক্রমেই উচ্চকিত।
সন্তান-স্বজনহারা পরিবার–পরিজন ভাষা পাচ্ছে। সে কারণেই নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের খবরে মানুষ ত্বরিত প্রশ্ন তুলছে, তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হবে তো? কারণ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নূর হোসেন। জেরার জবাবে তিনি এমন সব তথ্য দিচ্ছেন, যাতে অলিগার্কির সোপানগুলো কেঁপে উঠছে। তাই এখন একজন সন্দেহভাজন ভয়ংকর খুনি নূর হোসেনের মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার লাভের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সোচ্চার ও সজাগ থাকার সময় এসেছে। তার গ্রেপ্তারের খবর পৌঁছানোর পর সাধারণ মানুষকে তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারেই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল থাকতে দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গডফাদার আর ফরমালিন by শাহদীন মালিক
কৃষ্ণকলির সাঁওতাল ও ঝুমুর গান-এর যে সিডিটা এখন চেম্বারের গানের কলে বাজছে, সেই সিডির শেষ গানের প্রথম কলি এ রকম, ‘সানতাল করেছে ভগবান, মানুষ করেনি ভগবান’।

মানুষ কি প্রায় প্রতিটি খাবারে জেনেশুনে বিষ দিতে পারে? আমাদের সানতাল করেনি, সৃষ্টিকর্তা মানুষই করেছে। কিন্তু আজকাল আমরা এক আজব প্রজাতির মানুষ হয়ে পড়ছি। এই ফলের মৌসুমে সেই ছোট বাচ্চারা জাম অতটা না খেলেও মিষ্টি লিচু খাবে, মা-বাবা তাদের আদর করে আম খাওয়াবে। একটু বেশি টাকার জন্য ব্যবসায়ীদের বদৌলতে এই শিশুরা এখন বিষ খাচ্ছে, ফলের সঙ্গে।
বলা বাহুল্য, শুধু ফল ব্যবসায়ীদের কথা হচ্ছে না। মাছে বিষ এসেছে অনেক আগে। দিন কতেক আগে টেলিভিশনের খবরের বিশেষ রিপোর্টে দেখলাম, ফার্মের গরু যে ঘাস খাচ্ছে, তাতেও গুরুতর বিষ, যে বিষ রয়ে যাচ্ছে গরুর দুধে আর সেই দুধ থেকে বাচ্চাদের শরীরে। সেই গুরুতর বিষ থেকে দুরারোগ্য ভীষণ ভীষণ ব্যাধি হতে পারে। ফার্মের মুরিগকে যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, সেটা নাকি আমরাও খাচ্ছি মুরিগর মাংসের সঙ্গে। ফিরিস্তিটা অনেক পৃষ্ঠা চালাতে পারবেন পাঠককুল, অধমের চেয়ে অনেক বেশি পারদর্শিতায়। এমনটা কেন হলো, কীভাবে হলো?
২
সম্প্রতি অতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবলা দুর্বল, সহায়-সমর্থহীন, চতুর্দিক থেকে অকাতরে ও নির্বিচারে এবং তদুপরি সম্পূর্ণ বিনা কারণে আক্রান্ত ‘ওসমান পরিবার’কে রক্ষা করার অত্যন্ত প্রশংসনীয় গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন, আবেগঘন কণ্ঠে জাতীয় সংসদে সবাইকে জানান দিয়ে। এখন বেচারা নিজাম হাজারীর দায়িত্বও নিশ্চয় অতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। বিশেষত নচ্ছার প্রথম আলোর মতো বদজন যখন িনজাম হাজারীর পেছনে লেগেছে, তাঁর জেল না-খাটার খবর ফাঁস করে দিয়ে।
অবশ্য নিজাম হাজারীকে ‘ক্রেডিট’ না দিয়ে উপায় নেই। খুনখারািব, ডাকাতি আর অস্ত্র মামলায় জেলখাটা অনেক রাজনীতিবিদের জন্য কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু সাজার পুরো মেয়াদ না খেটে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কৃতিত্ব কয়জনই-বা দেখাতে পেরেছেন। পাবলিক সেয়ানা। ভাববেন না সবে জাতে উঠেছে, অর্থাৎ অস্ত্র ও আনুষঙ্গিক ভালো কাজে হাতেখড়ি হয়েছে সবেমাত্র। ভদ্রলোকের অস্ত্র মামলা বছর বিশেকের পুরোনো। অস্ত্র মামলায় সাজা হয়েছে এক যুগের বেশি আগে। পুরো সাজা না খেটে আগেভাগেই বেরিয়ে গেছেন জেল থেকে।
অবশ্য এসব কিছু প্রথম আলোর কেচ্ছা বা সংবাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে দেশবাসীকে সাংসদ হিসেবে উপহার দিয়েছেন। তাই নিজাম হাজারীকে রক্ষার দায়িত্বও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হতে পারে৷ বিশেষত নিজাম হাজারী এমপি যদি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আরেক মাননীয় এমপির মতো নিহত হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে আগাম মাফ চেয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
রাজনীতিতে এখন গডফাদারের ছড়াছড়ি৷ মনে হয় আমরা জাতে উঠছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গডফাদার তথা মাফিয়াদের প্রচণ্ড দাপট ছিল ১৯২০-১৯৩০-১৯৪০-এর দিকে। আমাদের ফেনসিডিল ‘ব্যবসা’ নিয়ন্ত্রণ করে যেমন বিভিন্ন অপরাধচক্র, ঠিক তেমনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ এক দল অপর দলকে টেক্কা দেয়—দরকার হলে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে ইত্যাদি ইত্যাদি করতে করতে যে অপরাধী দলগুলো দাঁড়িয়ে গেল, তারাই বিখ্যাত হয়ে গেল বিভিন্ন মাফিয়া গ্রুপ নামে। ফেনসিডিল থেকে চাঁদাবািজ, তারপর সন্ত্রাসী ব্যস্ততা। আস্তে আস্তে জমি দখল, মার্কেট দখল। মাঠ দখল (এখন যেমন আস্ত ধানমন্ডি মাঠটাই খেয়ে ফেলছে) ইত্যাদি করতে করতে অবশেষে রাজনীতিতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বাদ দিয়ে তাঁরাই আস্তে আস্তে হয়ে পড়লেন গডফাদার-রাজনীতিবিদ।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলের শেষের দিকে ফেনী, বরিশাল ও ঢাকায় দুিট আসনসহ কিছু কিছু জায়গায় বড় বড় গডফাদারের একচ্ছত্র আধিপত্য ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির সবচেয়ে প্রধান না হলেও অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। তখনকার সরকারের শেষ আমলে জননিরাপত্তা আইন পাস করে সেই আইন দিয়ে বিরোধীদের ঠ্যাঙানো, গণভবন নিজেদের নামে লিখিয়ে নেওয়া—এসব ছিল অন্যান্য কারণ।
৩
গত বিএনপি সরকারের সময়ে প্রথমে অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে এবং তিন মাস পরে আইন করে মানুষ হত্যা বৈধ করা হয়েছিল। তারপর ২০০৪ থেকে র৵াবের ক্রসফায়ারে মানুষ মারা। এই মানুষ মারা শুরু হয়েছিল ২০০৪-এর জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে। তারপর ২১ আগস্টের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের হত্যাযজ্ঞ। পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটছি এ লেখার আসল শিরোনামের যৌক্তিকতাটা দাঁড় করানোর জন্য, আসল শিরোনামটা—রাজনীতিতে গডফাদার আর ফলে ফরমালিন। অর্থাৎ রাজনীতিতে যত দিন গডফাদার থাকবে, ফলে-মাছে-অন্যান্য খাদ্যে তত দিন বিষ থাকবে।
গডফাদার থাকা মানে আইনের শাসন না থাকা। কর্তাব্যক্তিরা যদি আইন না মানেন, তাহলে বেচারা ক্ষুদ্র ফলবিক্রেতা আইন মানবে কোন দুঃখে। বা আইন মানার অনুপ্রেরণা কোথায় পাবে? সে তো দেখছে আশপাশের আতিনেতা-পাতিনেতা থেকে শুরু করে বড় নেতা, জাতীয় নেতা কেউই আইন মানছে না। ২০ একর জমি নিয়ে মিন্ত্রত্ব শুরু করে পাঁচ বছরে জমির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার একর। আরও দেখল—ভীষণ বড়লোক হয়ে গেলে বড়জোর দুদক দু-এক দিন দাওয়াত দিয়ে মিডিয়াকে দেখানোর জন্য ‘ইন্টারভিউ’ নেবে, ওই পর্যন্তই। আর ভীষণ গডফাদার হলে পাশে তো আছেন খোদ অতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধী দলে থাকলে গডফাদার স্বভাবতই কম থাকে। বিরোধী দলে থেকে তো নিজের জান-মাল বাঁচানোই মুশকিল, গডফাদারদের প্রটেকশন দেবেন কীভাবে। বিরোধীদের তাই আপাতত কিছুটা ধোয়া তুলসীপাতা-পাতাভাব। জনসমর্থন কমতে থাকলে দুটো জিনিস বাড়তে থাকবে। প্রথম—নির্বাচন দেব না। এ কথা বলার স্বর ও মাত্রা তীব্রতর হতে থাকবে প্রতিনিয়ত। যারা নির্বাচন চাইবে, তাদের বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী, দেশের ভাবমূর্তি হননকারী ইত্যাদি বিশেষণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে এসব বিশেষণপ্রসূত আইিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, গডফাদার-র৵াব-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকবে।
ফলে আইনের শাসন দুর্বল থেকে হবে দুর্বলতর। বাড়বে ফরমালিন, বিষ। ওষুধে ভেজাল, এখন কেবল ইন্টার্নি কিন্তু অচিরে খোদ ডাক্তারদের মারামারি, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অহরহ হানাহানি, একটা সড়ক দুর্ঘটনার পর অনেক অনেক গাড়ি ভাঙচুর, আশপাশের যানবাহনের নিরীহ যাত্রী-বাচ্চাদের রক্তাক্ত হওয়া, সাংবাদিকদের ব্ল্যাকমেল আর আইনজীবীদের জোচ্চুরি সবকিছু মিলিয়ে ভালো ঠেকছে না। ঢাকার আটটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে এক সপ্তাহের জন্য ফলে ফরমালিন কমানো সম্ভব কিন্তু রাজনীতি থেকে পুরো সমাজে যে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, তার বিরুদ্ধে চেকপোস্ট কোথায়? এই চেকপোস্ট বসাতে হবে এখন আমাকে-আপনাকে। দলগুলো থেকে যদি গডফাদাররা বিতাড়িত না হয়, তাহলে দলগুলোকে বিতাড়িত করতে হবে। গত শতাব্দীর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চার্লস ফেগল আর আয়াতুল্লাহ খোমেনি নিজ নিজ দেশের বাইরে অর্থাৎ অন্য দেশে থাকা অবস্থায় হয়ে উঠেছিলেন বিরাট নেতা। তাঁরা দেশত্যাগী হয়েছিলেন নীতির কারণে, রাজনীতির কারণে। আইনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নয়। বিষদাঁত উপড়ে না ফেললে বিষ দিয়ে যাবে সারা শরীরে। বলা বাহুল্য, সবই করতে হবে আইনের মধ্যে থেকে আইনি পন্থায়। সবাইকে নামতে হবে রাজনীতিতে, যে যেভাবে পারেন।
ড. শাহদীন মালিক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাপক, স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমৃত্যু জীবন–সন্ধানী by সাজ্জাদ শরিফ

সরদার ফজলুল করিম জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালে, বরিশালের উজিরপুরে৷ তাঁর জন্ম আর বেড়ে ওঠা, সে সময়ের পূর্ব বাংলার অধিকাংশ বাঙালি সন্তানের মতোই, এক কৃষক পরিবারে৷ সরদারের কৃষিমগ্ন বাবা-মা নেহাত অনুর্বর মাটিতে তাঁকে রোপণ করেননি৷ সাফল্যের সঙ্গে তিনি জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৪০ সালে৷ এরপর চলে আসেন ঢাকায়; ছাত্রত্ব বরণ করেন ঢাকা কলেজের৷ আইএ পরীক্ষায় ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় হন পুরো ঢাকা বোর্ডে৷ কিন্তু এরই মধ্যে উঠতি ঢাকার প্রাণচাঞ্চল্যের নানা সংঘর্ষে আগুনের ফুলকি জ্বলে উঠেছে তাঁর মনে৷ কেবল ছাত্রত্বের ঘেরাটোপে আর আটকে থাকার অবকাশ তাঁর কোথায়! সেখান থেকে তত দিনে তিনি ছিটকে পড়েছেন বিপুল জনসমাজের মধ্যে, নিজের নাড়ি বেঁধে নিয়েছেন জনতার জাগ্রত প্রাণের সঙ্গে৷
তরুণ কথাশিল্পী সোমেন চন্দের মৃত্যুর পর প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে তাঁর যোগ হয়ে ওঠে নিবিড়৷ সরদার ফজলুল করিমের দীক্ষা ও প্রবেশ ঘটে বামপন্থায়৷ ১৯৪৫ সালে যোগ দেন নেত্রকোনার সর্বভারতীয় কৃষকসম্মেলনে৷ তুমুল এই রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও জ্ঞানতৃষ্ণা তাঁর অবসিত হয়ে যায়নি৷ এতসবের ভেতরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র হিসেবে মনের আরেক প্রবণতা তিনি বিকশিত করে চলেছেন৷ ১৯৪৫ সালে বিএ-তে এবং ১৯৪৬ সালে এমএ-তে তাঁর প্রথম শ্রেণি এই নিবিষ্টতার সাক্ষ্য দেবে৷ ছাত্রপর্যায় শেষে তিনি যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়৷ যুক্ত হলেন বটে, কিন্তু ইতিহাসের জঙ্গমতা আন্দোলিত করে তুলল তাঁর জীবন৷
ব্রিটিশ শাসনের সেই শেষ পর্যায়ে বাংলা তখন উত্তাল৷ উপনিবেশের সূত্রে পৃথিবীর অভিঘাত আছড়ে পড়ছে তাঁর ওপরে৷ অন্যদিকে এ ভূখণ্ডের মানুষও তখন দমকে দমকে ফেটে পড়ছে ব্রিটিশ তাড়ানোর আন্দোলনে, স্বাধীকার অর্জনের লড়াইয়ে৷ তরঙ্গের পর তরঙ্গ তুলে পেরিয়ে যাচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, পঞ্চাশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবিরোধী লেখক সংঘের আন্দোলন, দেশভাগ আর তেভাগা৷ এসব ঘটনার মধ্যে তৈরি হয়ে উঠেছিলেন সরদার ফজলুল করিম নামের মানুষটি৷
পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর নতুন এক পর্বে ঢোকে এ ভূখণ্ডের ইতিহাসনিয়তি; সরদার ফজলুল করিমেরও৷ এ সময়পর্বে মণি সিংহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সত্যেন সেনের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সংযোগ ঘটে৷ এই মানসিক যোগ তিনি লালন করে গেছেন আজীবন৷ বামপন্থী রাজনীতি পাকিস্তান সরকারের চক্ষুশূল হয়ে উঠলে কমিউনিস্ট পার্টি তাঁকে চাকরি ছাড়ার
নির্দেশ দেয়৷ এক কথায় তিনি ছেড়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি; চলে যান আত্মগোপনে৷ ১৯৪৯ সালে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর শুরু হয় তাঁর বন্দিজীবন৷ টানা ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবন কাটে কারাযবনিকার অন্তরালে৷ জেল থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন সরাসরি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য হয়ে৷
পুরো পাকিস্তানপর্বে, পদে পদে, সরকারের লাঞ্ছনা সইতে হয় তাঁকে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি তিনি আর ফিরে পাননি৷ তার চেয়েও যা দুঃসহ, বারবার তাঁকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হতে হয়৷ ২৪ বছরের পাকিস্তানপর্বের ১১টি বছর জেলের ভেতরে কাটিয়েছেন সরদার ফজলুল করিম৷ জেল থেকে বেরিয়ে এসে, একাত্তরের ডিসেম্বরে, সদ্যঃপ্রসূত বাংলাদেশের চেহারাটি তিনি প্রত্যক্ষ করেন৷
কৃষকতার পটভূমি থেকে যে লোকটি একদিন উঠে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, এসব ঘটনা তাঁর মনে অফুরান বীজ ছড়িয়ে যাবে, তাতে আর সন্দেহ কী! সহজাতভাবেই সরদার ফজলুল করিমের ছিল একটি লোকায়তিক মন৷ ইতিহাসের নানা ঝাপটে বিচিত্র মানুষের অভিজ্ঞতার স্রোত ঢুকেছে তাঁর ভেতরে৷ দর্শনমগ্ন স্বভাব সেগুলোকেই আবার করে তুলেছে বহুস্তর৷ নিরক্ত নিরঞ্জন জ্ঞান মানুষের অভিজ্ঞতার যোগে তাঁর মধ্যে সপ্রাণ হয়ে উঠেছে৷ তাঁর চেতনার সজীবতার মূলে আছে মানবিকতার এই পটভূমি৷ তাঁর ইতিহাসচর্চা থেকে দর্শনগ্রন্থের অনুবাদ, স্মৃতিকথা থেকে সাহিত্যকর্ম—সবকিছুতেই দেখা যাবে এর প্রকাশ৷
সরদার ফজলুল করিম লিখেছেন বিচিত্র বিষয়ে৷ এ দেশের বিভিন্ন ইতিহাসসন্ধি, চল্লিশের দশকের ঢাকা, বাঙালি মধ্যবিত্তের বিকাশ, সাহিত্যিক প্রসঙ্গ, কোষগ্রন্থ, দর্শন, মার্ক্সবাদ—এসব বিষয়ে পরিব্যাপ্ত তাঁর লেখালেখি৷ লিখতেন তিনি সহজ-সরল আটপৌরে ভাষায়, কিন্তু খুব সহজেই স্পর্শ করতেন পাঠকের মন, স্বাভাবিক আর স্বতঃস্ফূর্ত এক দার্শনিকতা সঞ্চারিত করে দিতেন অবলীলায়৷ তাঁর এই সহজ আন্তরিক মনের পরিচয় ছড়িয়ে আছে নানা কথা, নানা কথার পরের কথা, নূহের কিশতি, রুমীর আম্মা ও অন্যান্য প্রবন্ধ ইত্যাদি বইয়ে৷ সব মিলিয়ে ২০-২২টি বইয়ের মধ্যে ছড়িয়ে আছে তাঁর বিচিত্র দিকে উৎসুক মনের পরিচয়৷ এর মধ্যে আছে চিরায়ত দর্শনেরও অনুবাদ৷ তাঁর প্রাঞ্জল অনুবাদে প্লেটোর সংলাপ, প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিকস, এঙ্গেলসের অ্যান্টিডুরিং, রুশোর সোশ্যাল কনট্রাক্ট আমাদের অনুবাদ সাহিত্যের স্থায়ী সম্পদ হয়ে রয়েছে৷
তবু এই ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ জীবন আর নিবিষ্ট জ্ঞানচর্চাই সরদার ফজলুল করিমের আসল পরিচয় ছিল না৷ তাঁর আসল পরিচয় আদর্শের সঙ্গে জীবনের সেতুবন্ধে, ভাবনা আর কর্মের অভিন্নতায়৷ অকপট এক জীবন যাপন করে এসেছেন তিনি আমৃত্যু৷ চিন্তার সঙ্গে কাজের, উচ্চারণের সঙ্গে যাপনের সুষম ঐক্যই তাঁর পরিচয়৷ তাঁর চরিত্র আর নৈতিকতার শক্তির উৎসও ছিল এখানেই৷ আদর্শ-উত্তর এই গোলমেলে সময়ে তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যতিক্রম৷ জীবনের শেষ পর্যায়ে পার্টির সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সংযোগ আর তেমন ছিল না, কিন্তু বামপন্থার সঙ্গে তাঁর মনের সেই যোগ কখনো ছিন্ন হয়নি৷ মানুষের সার্বিক মুক্তির স্বপ্ন তিনি আমৃত্যু দেখেছেন, আর তা সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পথেই৷
প্রৌঢ়ত্বের প্রান্তে এসে এক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়ে তাঁর শরীরের সচলতা সীমিত হয়ে পড়ে৷ একটি লাঠিতে ভর দিয়ে মন্থরভাবে চলতে-ফিরতে হতো তাঁকে৷ কিন্তু সেই ভাঙা শরীর তাঁর জীবনস্পৃহার ওপর সামান্য ছায়াসম্পাতও করতে পারেনি৷ মৃত্যুর আগের কয়েক বছর তাঁর শরীর ও মনের সচলতা প্রায় চলে যায়৷
কিন্তু শেষ জীবনেও যখন তিনি সামান্য সচল ছিলেন, সবাই জানত, লাঠিতে ভর দিয়ে চলা ওই ক্ষীণকায় মানুষটি পরিপূর্ণ হয়ে আছেন অমিয় প্রাণশক্তি আর শুদ্ধ চরিত্রগুণে৷
সাজ্জাদ শরিফ: কবি, সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাংবাদিক কল্যাণ, না আনুগত্য আদায়? by কামাল আহমেদ

অসুখ-বিসুখ কিংবা বিপদে-আপদে তাঁদের অসহায়ত্বের শেষ নেই৷ যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের মন্ত্রী, সাংসদ, নানা পর্যায়ের নেতা-উপনেতা-পাতিনেতা, ছাত্র-যুব-শ্রমিক-স্বেচ্ছাসেবকসহ নানা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের লাঠিয়ালদের হাতে মারধর এবং লাঞ্ছনারও কোনো অন্ত নেই৷ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের এই দীনতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী দারুণভাবে ব্যথিত৷ তাই দলের লাঠিয়ালদের হিংসা পরিহারের শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণের কঠিন পথ অনুসরণ না করে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠনের৷ নিয়োগকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্যমন্ত্রী এই তহবিল গঠনের জন্য একটি আইনের খসড়াও তৈরি করে ফেলেছেন৷ অবশ্য সাংবাদিক কল্যাণে উদ্গ্রীব তথ্যমন্ত্রীর সেই সংবাদ সম্মেলনটি এখনো আমার চোখে ভাসছে, যাতে তিনি এক তরুণ সাংবাদিককে ধমকে বলছিলেন, ‘আমি হাসানুল হক ইনু, এটা মনে রাখবেন৷’ (সূত্র: নিউজ আনকাট: এটিএন নিউজ)৷ নির্বাচনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নকর্তার প্রশ্নকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার একপর্যায়ে তিনি শুধু ধমক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিজের পরিচয়টি ইঙ্গিতবহভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন৷
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন গত ২৮ জুলাই অসুস্থ, আহত ও অসচ্ছল ১৫৮ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে (যুগান্তর, ২৯ জুলাই, ২০১৩ ‘জয়ের বক্তব্য সমর্থন করলেন প্রধানমন্ত্রী’)৷ তথ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত এক কোটি টাকার একটি তহবিল থেকে তখন ওই সাহায্য দেওয়া হয়েছিল৷ অন্যান্য সূত্রে জেনেছি যে যাঁদের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বিএনপির মুখপত্র দৈনিক দিনকাল-এর৷ আর অন্যদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ-সমর্থক সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, যার মূল নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা৷ ইউনিয়নের এই অংশের সরকার ঘনিষ্ঠতার আলামত তাঁদের লাভজনক সরকারি চাকরিতে নিযুক্তি এবং টেলিভিশনের লাইসেন্সপ্রাপ্তিতেই দৃশ্যমান৷ সাংবাদিক ইউনিয়নের অপর অংশও যে রাজনীতিমুক্ত, তা নয়৷ তাদের নেতাদের মধ্যেও আছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং দলীয় সমর্থক৷ সুতরাং, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে ওই অংশের নেতারাই যে আবার সরকারি পদ-পদবির অধিকারী হবেন, তাতে সন্দেহ নেই৷
স্বল্প-আয়ের বিপদাপন্ন কলমসেবীরা প্রয়োজনের সময় যেকোনো সূত্র থেকে সাহায্য পেলে তাকে স্বাগত জানানোই স্বাভাবিক৷ ফেনীর সাংবাদিক টিপু সুলতান কিংবা ফরিদপুরের প্রবীর শিকদার যে জীবন ফিরে পেয়েছেন এবং এখনো পেশায় টিকে আছেন, তা তো সম্ভব হয়েছে সামাজিক সহানুভূতি এবং সহায়তার কারণে৷ সময়ে-অসময়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে যাঁরা এ ধরনের সাহায্য পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান না করেও যে কথাটা বলা প্রয়োজন, তা হলো এ ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার এমন একটি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যা হবে রাজনীতি-নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক৷ সাধারণ বিবেচনাতেই বোঝা যায় যে সরকারের সমালোচক বা বিরোধী মতাবলম্বী পত্রিকা বা গণমাধ্যমই সব সময়ে প্রতিকূলতার মুখে পড়ে এবং সাধারণত সেসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকেরাই আর্থিক টানাপোড়েনে জীবন যাপন করতে বাধ্য হন৷ অথচ যে ধরনের প্রস্তুতি চলছে, তাতে শেষ পর্যন্ত সুবিধাভোগী সরকার-সমর্থকদেরই আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হবে৷
সরকারের প্রস্তাবিত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগের কারণেই এসব সর্বজনবিদিত তথ্যের পুনরুল্লেখ এখানে প্রাসঙ্গিক৷ প্রস্তাবিত যে খসড়া আইন সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, তাকে সাংবাদিকদের আনুগত্য ক্রয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচনা করা যায়৷ আর সে কারণেই সুস্থ সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ চিন্তায় বিচলিত না হয়ে উপায় নেই৷ আইনের খসড়া বিশ্লেষণে যে বিষয়টি পরিষ্কার, তা হলো সাংবাদিক কল্যাণ নয়, বরং সরকারের জন্য আনুগত্য ক্রয়ই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য৷ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনীতিকেরা যে ক্ষমতার বাইরের জীবনটির কথা ভুলে যান, এখানেও সেই মোহাচ্ছন্নতার বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট৷ এই আইন অনুযায়ী কল্যাণ তহবিল গঠিত হলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ক্ষমতা হারানোর পরই আওয়ামী লীগ সরকারের আনুগত্য কেনার ক্ষমতা টের পাবে৷
প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ৬ নম্বর ধারায় ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তার প্রধান হবেন তথ্যমন্ত্রী, সচিব ভাইস চেয়ারম্যান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুজন প্রতিনিধি, সরকার-মনোনীত তিনজন সাংবাদিক এবং ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক৷ এই একই ধারার একটি উপধারায় ইউনিয়নের দুজন এবং সরকার-মনোনীত তিনজনের মেয়াদ তিন বছর বলা হলেও কোনো কারণ না দেখিয়ে তাঁদের যেকোনো সময়ে অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে দেওয়া হয়েছে৷ যার অর্থ দাঁড়ায় ট্রাস্টের মোট ১৩ জনের সবাই সরকারের নির্দেশনা মানতে বাধ্য৷ আর ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য যে পদ্ধতি এই খসড়ায় বলা আছে, তা গণতান্ত্রিক কোনো কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সেই আলোচনা একেবারেই অবান্তর৷ কেননা, সভা শুরুর সময় কোরাম প্রয়োজন হলেও মুলতবি সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে কোনো কোরামের প্রয়োজন হবে না৷
সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল এবং ট্রাস্ট গঠনের বিষয়টিকে সরকারের আনুগত্য ক্রয় প্রকল্পে রূপান্তর থেকে বাঁচানোর জন্য সাংবাদিক সমাজের নিজেদের যেমন সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সরব হওয়া উচিত বিবেকবান পাঠকদের৷ সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠনের ধারণাটি উন্নত বিশ্বেও আছে৷ তবে সেগুলোর কোনোিটই সরকারের উদ্যোগ নয়, এমনকি সেগুলোতে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টও নেই৷ নিউইয়র্কভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস অথবা নাইটস ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি সংগঠন বা এনএজিওসমূহ এ ধরনের তহবিল পরিচালনা করে থাকে এবং তাদের কার্যক্রম কোনো দেশভিত্তিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক৷ গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, কিংবা নিদেনপক্ষে, ওয়েজ বোর্ডের কাঠামো অনুকরণেও অনেক কার্যকর ট্রাস্ট গঠন সম্ভব৷
সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক কল্যাণের তহবিল গঠনের উদ্যোগগুলো মূলত দেখা যাচ্ছে আমাদের উপমহাদেশে যেখানে রাজনীতি ব্যাপকভাবে কলুষিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত৷ আর সে কারণেই তাদের প্রয়োজন গণমাধ্যমের আনুগত্য ক্রয়৷ ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের একটি কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে৷ এর আগে ভারতের ওডিশা, গোয়া, পাঞ্জাবের মতো কয়েকটি জায়গায় রাজ্য সরকারগুলো এ ধরনের সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল চালু করে৷ ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়া ভারতের সাংবাদিক কল্যাণ স্কিম পরিচালনায় গঠিত কমিটির পৃষ্ঠপোষক হলেন তথ্যমন্ত্রী, সভাপতি হলেন তথ্যসচিব এবং বাকি চারজনের সবাই সরকারি কর্মকর্তা৷ একইভাবে পাকিস্তানে এ ধরনের একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল অবমুক্ত করা হয়নি৷ তবে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সেখানে এ ধরনের একটি তহবিল গঠিত হয়েছে, যারা বেসরকারি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা পরিচালনা করছে৷
অসহায়ত্বের শিকার সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, তাতে সন্দেহ নেই৷ অন্তত পাকিস্তানের বহুল আলোচিত গোপনীয় সরকারি ভাতা কেলেঙ্কারি অথবা ভারতের পেইড নিউজ-এর মতো ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে এই পেশাকে মুক্ত রাখার জন্য এ ধরনের কল্যাণ তহবিল কেবল তখনই সহায়ক হতে পারে, যখন তাতে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং স্বচ্ছতার ব্যবস্থা থাকবে৷ পাকিস্তানের কেলেঙ্কারির কথাই ধরা যাক৷ সেখানে সরকার বছরের বছর পর বহু সাংবাদিককে বিভিন্ন কারণে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছিল৷ তথ্য মন্ত্রণালয় তার গোপন তহবিল থেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে ৩০ কোটি রুপি দেওয়ার তথ্য প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাওয়াদ এস খাজার আদালতে৷ এরপর সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের দাবির মুখে আদালতের নির্দেশে আরও ২৮২ জন সাংবাদিকের তালিকা প্রকাশিত হয়, যাতে দেখা যায় সাংবাদিকদের হোটেলভাড়া, বিমান ও ট্যাক্সিভাড়া থেকে শুরু করে প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারকে এককালীন অনুদান দেওয়ার মতো খাতে তথ্য মন্ত্রণালয় ওই গোপন তহবিল থেকে টাকা দিয়েছে (সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ২২ এপ্রিল, ২০১৩)৷
ভারতেও সম্প্রতি শুরু হয়েছে কথিত পেইড নিউজ-এর সংস্কৃতি, যা সেখানকার গণতন্ত্রকে কলুষিত করছে বলে অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷ বিষয়টি প্রথমবারের মতো ফাঁস হয় ২০০৯ সালে এবং তাতে রাজনৈতিক ছাড়াও বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলোর এ ধরনের অনৈতিক কৌশল অনুসরণ করতে দেখা যায়৷ রাজনীতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজ্য পর্যায়েই এ ধরনের অপকর্ম হয়েছে বেশি৷ তবে সেখানকার গণমাধ্যমে সাংবাদিক ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগত দুর্নীতিও একিট বড় সমস্যা৷
সরকার, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার চল যে বাংলাদেশেও একেবারে নেই, সে রকমটি হয়তো দাবি করা যাবে না৷ সে জন্যই এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, সেটা যেমন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজন, তেমনি তা ব্যক্তিপর্যায়েও প্রত্যাশিত৷ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বপরিক্রমণের রেকর্ড সম্পর্কে এক নিবন্ধে আমি বলেছিলাম যে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সফরসঙ্গীদের ব্যয়নির্বাহের বিষয়েও স্বচ্ছতার নীতি চালু করা প্রয়োজন৷ উন্নত দেশগুলোয় সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা কোনো সফর বা অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহে আর সরকারের ওপর নির্ভরশীল নন, বরং নিজ নিজ পত্রিকা বা প্রতিষ্ঠানের খরচেই তা করে থাকেন৷ রাজনীতিকেরা যেসব পৃষ্ঠপোষকতা দেন, তা কখনোই নিঃশর্ত হয় না, বিনিময়ে তাঁরা চান আনুগত্য৷ গণতন্ত্রে মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীনতার মূল্য অনেক৷ সেটাকে এত ক্ষুদ্র স্বার্থে বিপণন কারও জন্যই শুভ নয়৷
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফর by নুরুল ইসলাম বিএসসি

আমরা সর্বপ্রথম কুনমিং শহরে যাই। পাহাড়ঘেরা এ শহরের দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। উঁচু উঁচু সরকারি দালান ছাড়াও প্রশস্ত রাস্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা, শৃংখলা- না দেখলে বোঝা যায় না। কুনমিং প্রদেশ শুধু একটি সম্পদ দিয়ে চিরজীবন বেঁচে থাকার মতো ক্ষমতা রাখে। স্টোন ফরেস্ট যে দেখেনি, সে জীবনে কিছুই দেখেনি। আমরা এতদিন চীনের প্রাচীরের কথা জানতাম, কিন্তু এবার স্টোন ফরেস্ট দেখে মনে হয়েছে স্রষ্টা নিজ হাত দিয়ে এই এলাকা সাজিয়েছেন এবং স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্টোন ফরেস্ট দেখার আগে আমার ধারণা ছিল, এটি শুধু পাথরের স্তূপ হবে এখানে ওখানে। কিন্তু না, গিয়ে দেখি যেখানে গাছপালা দিয়ে ফরেস্ট হওয়ার কথা, ওখানে গাছের জায়গা দখল করেছে পাথর। আর এই পাথর যেমন-তেমন সধারণ পাথর নয়। গাছের সমান উঁচু খণ্ড খণ্ড পাথরের জঙ্গল। মাঝে ফাঁকা জায়গা। হাজার হাজার দেশী-বিদেশী মানুষ এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানে ব্যয় করেন, আর আশ্চর্য হয়ে ভাবেন স্রষ্টার এ কী লীলাখেলা!
বেইজিং বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। প্রতিদিন রাস্তায় ১০ লাখের মতো মোটরযান চলে এ শহরে। লাল-সবুজ বাতির জন্য ক্ষণে ক্ষণে থামতে হলেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয় না। যেহেতু আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলাম, ১২ সারির মধ্যে একটা সারি আমাদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল।
যে চুক্তিগুলো হল এবং ভবিষ্যতে যে চুক্তিগুলো কার্যকর হবে, বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেল হলে চট্টগ্রামের চেহারাই পাল্টে যাবে। চট্টগ্রাম অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। গার্মেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে এবং এখানে সবচেয়ে ফলপ্রসূ সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু চীনে শ্রমিকের মজুরি বেশি, বাংলাদেশকে তারা এখন থেকে গার্মেন্ট সামগ্রী আমদানি ও রফতানির প্রথম সারিতে রাখবে। যোগাযোগ, বন্দর, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, স্বল্প সুদে ঋণসহ নানা বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে এবং চীন সরকারের মুখপাত্ররা এ বিষয়গুলোর ওপর অত্যন্ত জোর দিয়েছেন।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান অনুষ্ঠান। এত সুন্দর অনুষ্ঠান দেখার সৌভাগ্য এই প্রথম হল। মন্ত্রী, আমলারা, উপদেষ্টারা ছাড়াও আমি ও আমার স্ত্রী ওই গার্ড অব অনারে আমন্ত্রিত ছিলাম। বেশি লোকের প্রবেশাধিকার ছিল না, কয়েকজন সাংবাদিক ও আমরা ছাড়া সৈনিক কর্মকর্তারা ছিলেন। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট ছিল। ওখান থেকেই ভিডিও বা ক্যামেরা ব্যবহার করার সুযোগ ছিল।
আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলাম। আমি ও আমার স্ত্রীর জন্য একটি গাড়ি নির্দিষ্ট ছিল। প্রতি ইভেন্টে যাওয়ার আগে ড্রাইভার ১০ মিনিট আগে হাজির। গাড়ির বহরে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী যেখানে গেছেন, আমাদেরও সেখানে নেয়া হয়েছে।
কুনমিং ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশী যারা আছেন, আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং খবরাখবর নিয়েছেন। যেখানে আমাদের খরচ করার কথা, সেখানে তারাই করেছেন। ওদিকে তো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ছিল।
এক কথায় চীন সফর করে প্রধানমন্ত্রী একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের কাজ করেছেন। চীন সফর থেকে আমরা অনেক লাভবান তো হবই, মিয়ানমারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে যে টুকটাক অপ্রীতিকর ঘটনা হয় এটাও কমবে। মিয়ানমারের ওপর চীনের বিরাট প্রভাব আছে।
কারও সঙ্গে বিরোধ নয়, আমাদের বৈদেশিক নীতি যে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব- চীন সফর এটাই প্রমাণ করে। আমরা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতেরও সাহায্য ও সহযোগিতা চাই। জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রয়োজনে চীন, জাপান, ভারত- সবার সাহায্য ও সহযোগিতা আমাদের কাম্য। সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধ রচনা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প বাংলাদেশে নেই।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : রাজনীতিক ও কলাম লেখক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাচ্যমুখী প্রবণতা by মেজর (অব.) সুধীর সাহা

পদ্মা সেতু নিয়ে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত ভুল ও আত্মঘাতী ছিল, এটা ঠিক। তবে বিশ্বব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নীতিসিদ্ধ ছিল না। বরং তাদের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক কৌশলের অংশবিশেষ। বিশ্বব্যাংকসহ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংগঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অনস্বীকার্য। যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য বিশ্বব্যাংকসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাই কোনো কোনো দেশের পক্ষে, আবার কোনো কোনো দেশের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং তা যে রাজনৈতিক কারণেই হয়েছে, এমনটা সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কালো নকশা পেয়েই বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কি-না, তা জানার আগেই বিশ্বব্যাংক প্রস্তাবিত ঋণ বাতিল করে দিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে প্রমাণ করে দেয়। বিশ্বব্যাংকের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী কোনো সদস্য রাষ্ট্রই কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রাখতে বিশ্বব্যাংকের ঋণের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কৌশলই ফলপ্রসূ হয়নি। তাই শেষ অধ্যায়টি ছিল বাংলাদেশকে কলংকের দাগ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের পলায়ন।
বিগত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল। ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির বাড়াবাড়ি ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যা ভাবে, ঠিক তেমনটাই ভেবেছিল। ড. ইউনূস কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক যে বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়, তা যেন যুক্তরাষ্ট্র বেমালুম ভুলেই গিয়েছিল। তাই সরাসরিভাবে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি অনুরোধ করে বসেছিলেন, যা নিশ্চিতভাবেই ছিল কূটনৈতিক রীতিবিরুদ্ধ। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের গুম হওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করে।
এরপর আসে বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারকে ব্যাপকভাবে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে অপরাধীদের বিচার এবং শাস্তি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপের মুখে রেখেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার একের পর এক যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অতিক্রম করে যাচ্ছিল এবং নিজ সিদ্ধান্তে অটল ছিল। পরপর কয়েকটি ইস্যুতে চাপ দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নতজানু করতে না পেরে শেষ পর্যায়ে জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হাসিনা সরকার কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় সিদ্ধান্তের কাছে মাথানত না করে বরং সাহসিকতার সঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাংলাদেশ পাশে পেয়েছিল ভারত, রাশিয়া, চীন ও জাপানকে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন ভারতের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে গিয়েছিল এবং শক্ত হাতে সরকার গঠন করেছিল, ততদিনে যুক্তরাষ্ট্র বুঝে ফেলেছিল বাংলাদেশ তাদের ওপর ততটা নির্ভরশীল নয়। ফলে একই সুর লক্ষ্য করা গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর আচরণে।
ততদিনে নতুন সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার সরকার তার পররাষ্ট্রনীতিতে একটুখানি পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নামাবলি গায়ে না জড়িয়ে বরং এবারের সরকার আঞ্চলিক দেশগুলোর দিকে সুদৃষ্টি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয়বারের শাসনে প্রথম জাপান সফরের সিদ্ধান্ত নেন। সফরটি শুধু বাস্তবায়িত হল তাই নয়, বরং বলা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপান জয় করেই ফিরেছেন। জাপান বাংলাদেশকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সার্বিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী চার-পাঁচ বছরে ছয় বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। জাপানের এমন পজিটিভ আচরণ বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফরটি ছিল চীনে। জাপানের মতো চীনেও সফল ও ফলপ্রসূ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে চীন থেকে। যৌথ উদ্যোগে পটুয়াখালী জেলায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলীর তলদেশে বহু লেনভিত্তিক সুড়ঙ্গপথ নির্মাণে চীন সহজ শর্তে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। চীনের সহায়তায় গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং দুদেশই এ বিষয়ে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চলতি মাসেই ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা। ভারতে বিজেপি সরকার আসার প্রাক্কালে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে সংশয় ছিল। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রাক-নির্বাচনী কয়েকটি বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েনের আশংকা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতই নানাভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে খুব শিগগিরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরটিকেও সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে বিজেপি সরকার তিস্তা নদী ও সীমান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। ভারতের বিজেপি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্কটি সুন্দর ও স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত সবদিক থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় সম্পর্কের নতুন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে এমনটাই মনে হচ্ছে। জাপান ও চীনের মধ্যে এবং চীন ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কিছু সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ না করে প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের পাশে জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়া কূটনৈতিক কৌশলের দিক থেকে বেশ প্রকাশ্য অবস্থানে আছে এমনটা প্রতীয়মান হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করতেই হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের দিকে বেশি ঝুঁকে না থেকে বাংলাদেশের সংবিধানের অমোঘ ঘোষণা কারও সঙ্গে শত্র“তা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব- এ নীতি অনুসরণে বাংলাদেশ এবার একটু সতর্কভাবেই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হয়।
চীন, জাপান আর ভারতের বন্ধুত্বকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার বৈদেশিক নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে। এদের আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতাও বাংলাদেশের সমাজকে অগ্রগতির পথে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষ কূটনৈতিক অবস্থান স্বীকার না করে বরং ভারত, চীন ও জাপানের বিশেষ অবস্থানকে গ্রহণ করলে বাংলাদেশ বেশি উপকৃত হবে। এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি কাম্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় আবদার অথবা নীতিহীন পরামর্শ গ্রহণ না করার মতো সাহসিকতা দেখানোর পর্যায়ে যদি বাংলাদেশকে দেখা যায়, তাহলে দেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে। শ্রমিক নেতার মৃত্যুর বিচার হবে কি-না, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে কি-না অথবা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে কি-না- এসব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো দেশের কূটনৈতিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে নাক গলানোর বিষয়টি আমরা পছন্দ করব না। আর তেমন একটি অবস্থানে যদি সরকার আমাদের দেশের মর্যাদাকে নিয়ে যেতে পারে, তবে তো তাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।
মেজর (অব.) সুধীর সাহা : কলামিস্ট
sudhirsaha2014@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উন্নয়নের ঘাস যেন উন্নয়নের ঘোড়াই খেয়ে না ফেলে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

আমার বন্ধুদের মতে, এত উন্নয়ন সত্ত্বেও মানুষ সরকারের ওপর খুশি নয়। সাম্প্র্রতিক ছোটখাটো নির্বাচনগুলোতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ জয়ী হচ্ছে না। এর মূল কারণ, দেশে উন্নয়ন ঘটছে, কিন্তু দেশকে সুশাসন উপহার দিতে পারছে না সরকার। মানুষ রাতে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছে না। দিনে নিরাপদে পথ চলতে পারছে না। কে কখন গুম হবে, খুন হবে তার নিশ্চয়তা নেই। আর সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের কথা, দেশের সাম্প্র্রতিক সব কটি গুম-খুনের ঘটনায়, তা নারায়ণগঞ্জের সাত খুন হোক কিংবা ফেনীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড হোক, তাতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এখন মানুষের মনে প্রশ্ন- রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে রক্ষা করিবে কে?
আমার আরেক বন্ধু সম্ভবত কিছুটা ঠাট্টা করে আমাকে লিখেছেন, বাংলাদেশে এখন একমাত্র আদর্শবাদী ও ঐক্যবদ্ধ দল হচ্ছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। তাদের আদর্শ আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিরোধী হতে পারে, কিন্তু তাদের আদর্শে তারা নিষ্ঠ। অন্যদিকে তাদের মধ্যে এতটাই ঐক্য যে, জামায়াত ও শিবিরের নেতারা একে অন্যের গলা কাটে না; কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এখন একে অন্যের গলা কাটে। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে; কিন্তু এ আদর্শের প্রতি তাদের অধিকাংশের কোনো আস্থা নেই। তাদের রাজনীতির মূলধন এখন চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, লাইসেন্সবাজি ও টেন্ডারবাজি। একদিকে সংগঠনের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল, অন্যদিকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি এই ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে এমনভাবে কব্জা করে ফেলেছে যে, জনগণ এখন এদের দাপুটে নেতা ও কর্মীদের অনেককে ভয় পায়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের জনবিচ্ছিন্নতা ক্রমেই বাড়ছে।
এ বন্ধুর মন্তব্যকেও উড়িয়ে দিতে পারি না। সম্প্রতি ঢাকার একটি কাগজে প্রকাশিত একটি খবরের দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। খবরটির শিরোনাম হল- মোরেলগঞ্জে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মানববন্ধন। তাতে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মাছের ঘের নিয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ। অতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বাদশাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগের পোস্টারিং ও ছাত্রলীগের পরিচয়ে ঘের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। দক্ষিণ বাংলা কলেজ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার নজরুল ইসলাম। সম্মেলন শেষে সমাদ্দারখালী বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জিউধরা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলের মধ্যে গ্র“পিং সৃষ্টির জন্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান শামীম ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগকে দায়ী করেন।
এ খবরটি ঢাকায় একটি কাগজে প্রকাশিত হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। এর কোনো প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের এ ধরনের কোন্দল এবং পরিণতিতে গুম ও খুন হওয়ার খবর এখন অহরহই চোখে পড়ে। আমার পরিচিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ভদ্রলোক আমাকে জানিয়েছেন, তার কলেজে পড়ুয়া মেয়েটিকে ক্রমাগত উত্ত্যক্ত করছে এক যুবক। এমনকি অপহরণেরও ভয় দেখাচ্ছে। পুলিশের কাছে বলে সেই যুবকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। কারণ যুবক ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত এক প্রভাবশালী নেতা অথবা কর্মী।
এ অবস্থারই সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। তারা দেশের মানুষের কাছে প্রমাণ করতে চাইছে আওয়ামী লীগ দেশ শাসনে ব্যর্থ একটি সরকার এবং দলটিও সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে পূর্ণ। খালেদা জিয়া এখন একথাই গলা ফাটিয়ে তার সভা সম্মেলনে বলছেন এবং মিডিয়াতেও তার বক্তব্য খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। আরও দুর্ভাগ্যজনক খবর হল, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপি এখন স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ পাহারা ছাড়া যেতে পারেন না। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হবেন, তার চেয়েও বেশি ভয় তারা নিজ দলেরই পাল্টা পক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে এ পাহারা। আর এ পাহারার জন্য তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ছে।
বিদেশেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের কেউ কেউ জনসভায় উপস্থিত হতে ভয় পান। সম্প্রতি লন্ডনে এসেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার বক্তব্য শোনার জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ম্যানচেস্টার শহরে এক জনসভার আয়োজন করে। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই সদস্য পরিচয় দিয়ে কয়েক ব্যক্তি মন্ত্রীকে জানায়, সভায় গণ্ডগোল হবে। ফলে তিনি ম্যানচেস্টারের সভায় আর যাননি। অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াতের দ্বারা নয়; আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্যই ম্যানচেস্টারে আওয়ামী লীগের সভাটি পণ্ড হয়। মন্ত্রী মহোদয়ের মুখ থেকে দেশের সঠিক পরিস্থিতি জানার জন্য যেসব প্রবাসী বাংলাদেশী সভায় এসেছিলেন, তারা হতাশ হন। এভাবেও আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতা ক্রমশ বাড়ছে।
যে কোনো গণতান্ত্রিক দলেরই শক্তির আসল ভিত্তি হচ্ছে জনসমর্থন। এ জনসমর্থন না থাকলে কেবল সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির সমর্থন দ্বারা কোনো সরকার ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। আমরা চোখের সামনে তার উদাহরণ দেখছি ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল কংগ্রেসের শোচনীয় পতনে। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর থেকেই কংগ্রেস ক্রমশ আমলাতন্ত্র ও বিগ বিজনেসের হাতে বন্দি হয়ে তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও নেতৃত্ব হারায়। মনমোহন সিংয়ের দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে কংগ্রেসের জনবিচ্ছিন্নতা সম্পূর্ণ হয় এবং দল ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক হয়ে ওঠে। ফলে ভারতের ইতিহাসে ঘটেছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। এবারের সাধারণ নির্বাচনে সংসদে বিরোধী দল গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতাও কংগ্রেস পায়নি। তার সম্পূর্ণ ভরাডুবি হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় উঠে এসেছেন গুজরাট রাজ্যের সবচেয়ে বিতর্কিত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রনাথ দামোদর মোদি। যাকে দুদিন আগেও আমেরিকা তাদের দেশে যেতে ভিসা দেয়নি।
বাংলাদেশেও কি ভারতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে? আমার আশংকা, হতে পারে যদি আওয়ামী লীগ সরকারের এত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও তার সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর না হয়, দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করা না হয় এবং সর্বোপরি আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে মাফিয়াতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে দলের ভিত্তিকে সংশোধিত ও শক্তিশালী করা না হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে দল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। নেহেরু যেমন কংগ্রেসকে পুনর্গঠনের জন্য কামরাজ পরিকল্পনা গ্রহণ করে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছিলেন, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগেও তেমন একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু করা প্রয়োজন। এ অভিযানটি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করা দরকার।
অন্য অনেক দেশের পুলিশের মতো বাংলাদেশের পুলিশের বিরুদ্ধেও ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ আছে এ কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু দেশে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতা সম্পর্কে পুলিশের অপারগতার কারণও আমাদের জানা দরকার। বাংলাদেশের বহু এলাকায় সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের গডফাদার এখন আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর মন্ত্রী ও এমপি। কোনো দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসীকে পুলিশ ধরলেই একশ্রেণীর মন্ত্রী বা এমপির নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে হয় বা দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হয়। একশ্রেণীর পুলিশ কর্মকর্তা তো ঘুষ খায় বটেই, তার সঙ্গে নিয়ত তাদের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যুক্ত হওয়ায় দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি কিছুতেই ঘটানো যাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশে এমন তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে যে, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়ক হিসেবে অভিযুক্ত নূর হোসেনের খোঁজ পেতে পুলিশের দেরি হয়নি। কিন্তু সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীর হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পুলিশ আজ পর্যন্ত পারছে না, তার কারণ কী? এর পেছনেও কি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যুক্ত রয়েছে? এ প্রশ্ন অনেকের মনেই জমা হয়ে আছে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার অর্থ দলটির বিরোধিতা করা নয়। দেশের এবং দলটির স্বার্থেই এ সমালোচনা প্রয়োজন। কারণ আত্মকলহে জর্জরিত দল এবং আত্মসন্তোষের গুহায় শায়িত সরকারকে যদি সতর্ক করা না হয় এবং সময় থাকতে তারা নিজেদের সংশোধিত ও সংগঠিত না করেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য, দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক বিরাট বিপদ অনিবার্য হয়ে উঠবে। বিএনপি নয়, জামায়াতই ক্ষমতা দখলের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ তারাই এখন সংগঠিত ও শক্তিশালী। ভারতে বিজেপির মুখোশে যেমন শিবসেনা ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক দল ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশেও তেমনি বিএনপির মুখোশের আড়ালে জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারে।
এটা যে ঘটবেই তা আমি বলি না। কিন্তু এ রূঢ় সম্ভাবনার দিকে আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়, দেশের সব গণতান্ত্রিক দল ও নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের এ মহাসর্বনাশটি যেন তারা ঘটতে না দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সাম্প্রতিক লেখাগুলোর জন্য বিরক্ত হতে পারেন; কিন্তু তাকে আমার অনুরোধ, তার সরকারের বিদেশনীতির ক্ষেত্রে তিনি যে বিস্ময়কর সাফল্য দেখাচ্ছেন, সেই সাফল্য তিনি দেশকে সুশাসন দেয়ার ক্ষেত্রেও দেখান। উন্নয়নের ঘাস এখন অবশ্যই সবুজ দেখাচ্ছে; কিন্তু এই ঘাস যেন উন্নয়নের ঘোড়াই খেয়ে না ফেলে। দেশকে উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন দানও এ সরকারের দায়িত্ব।
লন্ডন, সোমবার, ১৬ জুন ২০১৪
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নৃশংসতা : পুলিশ শিক্ষক ও ছাত্রদের সামনে রাবি শিবির নেতার গোড়ালি থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে বুকে গুলি চালায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সোমবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর পরই শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে পূর্ব এবং পশ্চিম গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এসময় ওই বিভাগের শিবির নেতাকর্মীদের আটক করতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সে সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৈহিদ আল তুহিনের নেতৃত্বে দলীয় ক্যাডাররা পুলিশের সামনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউদ্দিন বাবলুকে আটক করে পুলিশ ছাত্রলীগ।
এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিবির নেতা রাসেলকে বিশ্ববিদ্যালয় শহিদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে থেকে আটক করে ছাত্রলীগ। পুলিশের সামনে তিন ঘন্টা আটকে রাখার পর বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে পুুলিশ, সাংবাদিক এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে শহীদুল্লাহ কলা ভবনের ভিতরে রাসেলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে তার ডান পা কেটে নেয় ছাত্রলীগ ক্যাডররা। পরে তার বুকে তিনটি গুলি করে ছাত্রলীগ দ্রুত সটকে পরে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রপচারের জন্য তাকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটাওে (ওটি) নেয়া হয়। হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই প্রদীপ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আহত রাসেলের অবস্থা আশংকাজনক বলে দায়িত্বরত চিকিত্সকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান।
ঘটনার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত
রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেনদ রুনু, কৌশিক আহমেদ, সহ-সভাপতি তন্ময় আনন্দ অভি এবং ছাত্রলীগ নেতা সুসময়, ডন, রিনেট শিবির নেতা রাসেলকে শহীদুল্লাহ কলা ভবনের ভিতরে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা রুনু ও কিবরিয়া অগ্রণী ভূমিকা রাখে বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়।
প্রতিবাদে কাল আধাবেলা হরতাল
এদিকে শিবির নেতা রাসেলকে কুপিয়ে ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার রাজশাহীতে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে ছাত্রশিবির। সোমবার বিকেলে রাবি শিবিরের প্রচার সম্পাদক লাবিব আবদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করছেন।
বিভিন্ন মহলের বক্তব্য
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিল আল তুহিন বলেন, শিবিরের অভ্যন্তরীন কোন্দলে রাসলকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ কোন নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত নয় বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় রাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়েব শাহরিয়ার বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পুলিশের সামনে পরিকল্পিতভাবে রাসেলকে কুপিয়ে প্রথমে তার ডান পা আলাদা করে, এরপর তার বুকে গুলি করে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের শাস্তির দাবি করেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পূর্ব জোন) তানভীর আলম চৌধুরী বলেন, বিকেলে শিবির নেতা বাবলুকে আটকের পর কে বা কারা আরেক শিবির নেতা রাসলকে কুপিয়ে পা কেটে দিয়েছে তা জানা যায়নি। ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে রাবি প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসানের সাথে ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কে বা করা ঘটিয়েছে তা সঠিক ভাবে জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বিষয়টি জানেন। তোমরা প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করো বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত খুনের দায় স্বীকার by কৃষ্ণকুমার দাস

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। তবে তাকে কবে নাগাদ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ নিয়ে কিছুটা প্রক্রিয়াগত বিলম্ব হতে পারে। বন্দি বিনিময় চুক্তি কিংবা ইন্টারপোলের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে’। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের একজন কূটনীতিক যুগান্তরকে বলেছেন, নূর হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই এখনও বাংলাদেশকে জানায়নি। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের সূত্রেই তারা খবরটি জেনেছেন এবং তারপর ভারতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
নূর হোসেনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাকে সঙ্গে নিয়েই রোববার রাতে এবং সোমবার বিকালে দু’দফায় কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় অন্য বাংলাদেশী কুখ্যাত দুষ্কৃতকারীদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ এবং সিআইডি। কিন্তু অন্য কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন এটিএস কর্তারা। নূর হোসেনকে জেরা করেই এদিন একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে এটিএস। আত্মরক্ষার্থেই ওই অস্ত্রটি সে সংগ্রহ করেছিল বলে এটিএসের কাছে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর।
স্বভাবতই বেআইনি অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এবার বেআইনি অস্ত্র মামলাও নূর হোসেনের বিরুদ্ধে চালু হচ্ছে বলে এটিএসের এসইপি অনীশ সরকার জানান। এদিন সল্টলেকের পুলিশ কমিশনার ও সাবেক এডিজি সিআইডি রাজীব কুমার নিজেই বিধাননগর নর্থ থানায় দীর্ঘক্ষণ নূর হোসেনকে জেরা করেছেন। লুঙ্গি ও হলদে গেঞ্জি পরা নূরকে সেখানেই আপাতত রাখা হয়েছে। রাজীব কুমারের নেতৃত্বেই মাস কয়েক আগে আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বায়েনকে এই কৈখালি-বাগুইআটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছিল সিআইডি।
নূর হোসেনকে ফেরত পাওয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের তরফে এদিনও বেসরকারিভাবে সল্টলেক পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জেরায় যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে সেটিও বেসরকারিভাবে দুই শহরের পুলিশ টেলিফোনে বিনিময় করছে বলে কমিশনারেটের একটি সূত্র জানিয়েছে। সল্টলেকের পুলিশও চাইছে, দ্রুত এই ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট থাকা দাগি নূর হোসেনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে। কিন্তু এরই মধ্যে একটি প্রোটোকলবিরোধী খবর হল, বাংলাদেশী নাগরিক নূর হোসেন রোববার রাতে গ্রেফতার হলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনকে বিষয়টি জানায়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিল্লির হাইকমিশনকেও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। এদিন সন্ধ্যায় ডেপুটি হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম জানান, ‘সংবাদ মাধ্যমে আমরা বিষয়টি দেখেছি ও জেনেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রটোকল মেনে সরকারিভাবে কেউ আমাদের নূর হোসেন গ্রেফতারের খবর জানায়নি।’ যদিও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথা ও নিয়ম হল, কোনো বিদেশী নাগরিক গ্রেফতার হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই দেশের দূতাবাসকে জানিয়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনকে জানানো হবে।
নূর হোসেনকে জেরা করে মোট পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে একটি সংযোগ ‘গ্রামীণফোন’-এর। অন্যগুলো ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল সংস্থার। যে মোবাইল থেকে সে নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকায় যোগাযোগ রাখত সেগুলো থেকে অনেক ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সব মোবাইল ফোনের কললিস্ট জোগাড় করে এদিন সারা দিন ধরে তল্লাশি চলেছে। বিশেষ করে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে কাদের সঙ্গে নূর হোসেন যোগাযোগ রাখত এবং তাদের পরিচয় নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ সল্টলেকের পুলিশ কমিশনারেট জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক নম্বর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবার ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নম্বরও পাওয়া গেছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওইসব পাচারকারীদের মাধ্যমে নূর হোসেন চোরাপথে যেমন ভারতে পা রেখেছিল, তেমনি ওদের হাত দিয়েই প্রতি মাসে লাখ-লাখ টাকা আসত তার কাছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনি সব বলা সম্ভব নয় বলে এদিন বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকার করছেন সল্টলেক কমিশনারেটের গোয়েন্দা কর্তারা।
নিরাপত্তার কারণে নূর হোসেনকে বাগুইআটি থেকে বিধাননগর নর্থ থানায় সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তিন অভিযুক্তকেই লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিয়ে রাখা হয়েছে। সকালের দিকে ব্রেকফাস্ট না খেলেও দুপুরে ও রাতে ভাত-তরকারি খেয়েছে নূর হোসেন। অন্য বন্দিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখা হয়েছে তাদের। সোমবার রাতেও ফের নূর হোসেনকে নিয়ে তল্লাশি অভিযান হবে বলেও জানিয়েছেন এটিএস কর্তারা।
গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগ, চিনার পার্কের ওই পানশালা ছাড়াও ভিআইপি রোডের ওপর তেঘরিযা, কৈখালি, যশোর রোডের ওপর দমদম পার্ক এলাকায় অন্তত দশটি পানশালায় বাংলাদেশী দুষ্কৃতীদের অবাধ যাতায়াত। মদ্যপান ছাড়াও প্রতিটি পানশালার বড় আকর্ষণ হচ্ছে সুন্দরী গায়িকা। অভিযোগ, রাত বাড়তেই আইন ভেঙে পানশালাগুলোতে শুরু হয়ে যায় সুন্দরীদের নাচ। কয়েক দিন আগে নূর হোসেন গেছেন চিনার পার্কের ওই পানশালায়। সেখানে অন্য নেশাখোরের কলার ধরে বলেছিলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে এর চেয়েও অনেক বেশি সুন্দরীরা গান গায়।’ পানশালার এক কোণার টেবিলে বসে থাকা সাদা পোশাকের এক গোয়েন্দার কানে ‘বাংলাদেশ’ কথাটি যাওয়ার পরই চমকে ওঠেন তিনি। তখনই ‘বাংলাদেশী’ নেশাখোরের ছবি গোপনে তুলে তিনি নিয়ে আসেন বিধাননগর কমিশনারেটে। ইন্টারপোলের এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের পাঠানো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মূল অভিযুক্ত নূর হোসেনের ছবি মেলাতেই চক্ষু চড়কগাছ গোয়েন্দাদের এরপরই গ্রেফতার হন নূর হোসেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
June
(460)
-
▼
Jun 17
(22)
- নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধপত্র, কলকাতায় জেরা...
- লন্ডনের রাস্তায় ‘বাঙালি ঝালমুড়ি’ by অনিকা ফারজানা
- দুর্নীতি ও পুঁজি লুটেরাদের তাণ্ডব by মইনুল ইসলাম
- যে ইতিহাস জানাতে হতো… by জোবাইদা নাসরীন
- প্রতিক্রিয়া- ‘পুলিশ থাকতে র্যাব কেন?’ by আবুল কাশেম
- একজন ব্যর্থ মানুষের গল্প by আসিফ নজরুল
- শাসনব্যবস্থার নাম নূর হোসেন! by মিজানুর রহমান খান
- গডফাদার আর ফরমালিন by শাহদীন মালিক
- আমৃত্যু জীবন–সন্ধানী by সাজ্জাদ শরিফ
- সাংবাদিক কল্যাণ, না আনুগত্য আদায়? by কামাল আহমেদ
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফর by নুরুল ইসলাম বিএসসি
- পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাচ্যমুখী প্রবণতা by মেজর (অব.) ...
- উন্নয়নের ঘাস যেন উন্নয়নের ঘোড়াই খেয়ে না ফেলে by আব...
- নৃশংসতা : পুলিশ শিক্ষক ও ছাত্রদের সামনে রাবি শিবির...
- সাত খুনের দায় স্বীকার by কৃষ্ণকুমার দাস
- যেভাবে কাটছে বিহারি ক্যাম্পের জীবন
- ভারত শক্তিশালী হলে লাভ প্রতিবেশীদের
- কুর্মিটোলা ক্যাম্পের কয়লা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- ক্ষমতাবানেরা দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? বিহারি ক্...
- ভোটার তথ্যভান্ডারের চাবি ইসির হাতে নেই- জাতীয় নির...
- বিহারি ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ড
- শাসনব্যবস্থার নাম নূর হোসেন!
-
▼
Jun 17
(22)
-
▼
June
(460)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...