Showing posts with label মনজুর আহমেদ. Show all posts
Showing posts with label মনজুর আহমেদ. Show all posts

Thursday, January 22, 2015

৫০০ কোটি টাকার ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন! by মনজুর আহমেদ

৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বড় অঙ্কের ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এর একটা প্রাথমিক বা খসড়া নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম বা জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দলের বৈঠকে গতকাল বুধবার নীতিমালাটি আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার, প্রধান অর্থনীতিবিদকে নিয়ে এই জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দল গঠিত। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণও থাকতে পারে। আবার কিছু চলমান ঋণও পুনর্গঠনের আওতায় আসতে পারে। খসড়া অনুসারে ঋণগুলো পুনর্গঠন করতে ব্যাংকের পর্ষদ এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্টের হার নির্ধারণ করবে। তবে তা কমপক্ষে মোট ঋণের ১ শতাংশ হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত ২১ ডিসেম্বর কয়েকটি বড় গ্রুপের ঋণ কেস-টু-কেস বা প্রতিটির জন্য পৃথক বিবেচনায় পুনর্গঠনের আলোচনা উঠলে পর্ষদ একটি নীতিমালা করার নির্দেশনা দেয়। নীতিমালাটি তৈরি করে পর্ষদের কাছে তা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল। পর্ষদের নির্দেশনা অনুসারেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম রবিউল হাসানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
সূত্র জানায়, কমিটি চারটি বিষয়কে পুনর্গঠনের নীতিমালাতে প্রাধান্য রেখে তাদের প্রস্তাব হাজির করে। এগুলো হলো ঋণ পরিশোধের সময়, এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্ট, গ্রেস বা মেরেটরিয়াম পিরিয়ড ও সুদের হার। খসড়া নীতিমালায় সুদের হার নির্ধারণের দায়িত্ব ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তা যেন ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কম না হয়, সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ নিজের মত প্রকাশ করে বলেন, পুনর্গঠন যদি করতে হয়, সে ক্ষেত্রে ভালো গ্রাহকদের কথা মনে রাখতে হবে। সুদের হার কোনোভাবেই বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে কম হতে পারবে না। এককালীন জমা কমপক্ষে আড়াই শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবও দেন তিনি। তিনি ঋণ পরিশোধের সময় ১২ বছরের কম করতেও পরামর্শ দেন।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘তবে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই একবার পুনর্গঠন করেছে বা তিনবার পুনঃ তফসিল করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এককালীন জমা ৬০ শতাংশ নিতে হবে। আর তাদের সুদের হার কোনোভাবেই বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে কম হওয়া যাবে না।’ তিনি পুনর্গঠিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন। খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, একবারের বেশি এ সুযোগ কেউ নিতে পারবে না। পুনর্গঠনের সুযোগ নেওয়ার পর যদি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান নিয়মমতো ব্যাংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে দেউলিয়া আদালতে যাবে। যদিও বাংলাদেশে দেউলিয়া আইনটি কার্যকর হয়নি এবং এখন পর্যন্ত দেউলিয়া আইনে কাউকে দেউলিয়া ঘোষণার পর তার সম্পদ ব্যাংকের আওতায় আনা যায়নি।
বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে গত ২১ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষ ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঋণের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছিল। জানা গেছে, এদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বা দেশের মোট ঋণের ১০ ভাগের মতো রয়েছে। এই ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে থাকা ঋণের আড়াই শতাংশের মতো ঋণ খেলাপি হয়ে আছে। ব্যাংক খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হয়েছে; যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, নানা অনিয়ম করে বের করে নেওয়া ঋণসহ বেক্সিমকো গ্রুপের ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাংকগুলোতে চলছে। এর পরই অন্যদেরও এ সুযোগ দিতেই নীতিমালাটি করা হচ্ছে।

Monday, September 22, 2014

দুরবস্থায় পাঁচ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক by শওকত হোসেন ও মনজুর আহমেদ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বেড়েছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে, অবলোপন করে দেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঋণ। আর রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা।

ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে গত ছয় বছরে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই। এই সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা অর্থ আত্মসাতের জন্য বেছে নিয়েছেন জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে। আর বেসিক ব্যাংক তো পুরো সময়জুড়েই ছিল কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। বিশ্বব্যাংক ২০১৩ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে ব্যাংক খাত খারাপ হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে।
গত ছয় বছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ, সোনালীর ৬৫ শতাংশ, অগ্রণীর ৪০ শতাংশ এবং রূপালীর খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে এখন এই চার ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে এই চার ব্যাংক প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করে রেখেছে। আর গত প্রায় ছয় বছরে এই চারটি ও বেসিক ব্যাংকে ঋণের নামে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি ব্যাংকগুলোতে এখন নতুন ঋণও যেভাবে খেলাপি হচ্ছে, তা-ও উদ্বেগজনক বলেই মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি ব্যাংকের ওপর করা একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কেবল ২০১৩ সালেই সোনালী ব্যাংকের নতুন খেলাপির পরিমাণ চার হাজার ২৬৬ কোটি টাকা, জনতায় তিন হাজার ৩৯২ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে দুই হাজার ৬৯২ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকে নতুন খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই চার ব্যাংকে মাত্র এক বছরেই নতুন করে খেলাপি ঋণ তৈরি হয়েছে ১০ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।
মূলত শুরু থেকেই ব্যাংকগুলোকে সরকার চালিয়েছে দলীয় স্বার্থে ও রাজনৈতিক বিবেচনায়। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে। একদিকে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পর্ষদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ—সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে খারাপ ব্যাংকে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচটি ব্যাংক। অসৎ ব্যবসায়ীরাও অর্থ আত্মসাতের জন্য বেছে নিয়েছেন সরকারি ব্যাংকগুলোকেই।
অথচ ছয় বছর আগেও দেশের অন্যতম সেরা ভালো ব্যাংক ছিল বেসিক। সরকারও যে ভালোভাবে ব্যাংক চালাতে পারে, তার উদাহরণ ছিল বেসিক ব্যাংক। এই ব্যাংকটিকেও ধ্বংস করে দিয়েছে এর মালিকই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ বিষয়ে নিজের মতামত দিয়ে বলেন, ‘যেহেতু সরকার ব্যাংকগুলোকে সামলাতে পারছে না, রক্তক্ষরণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, তাই আমি মনে করি যে সোনালীকে হাতে রেখে অন্য ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে।’
জিয়া ও এরশাদের আমলে ঋণের নামে অর্থ লুটপাটের কারণে সরকার নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিতে বাধ্য হয়েছিল। সে সময় এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল বন্ড আকারে। সেই মূলধন সরবরাহের ধারায় আবার ফিরে এসেছে সরকার। সম্প্রতি ব্যাংক চারটিকে মূলধন হিসেবে নগদ চার হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের আমানত নষ্ট করার পর আবার সেই সাধারণ মানুষের করের টাকাই দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
যোগাযোগ করা হলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে এই ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগান দিয়ে আসছে সরকার। কিন্তু এর যেন কোনো শেষ নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেব এত দিনে এসে বলছেন যে ব্যাংকগুলোর পর্ষদে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হবে না। কিন্তু তিনি মাঝখানে কীভাবে সেই নিয়োগ দিয়েছিলেন? বিশ্বের কোনো দেশেই এ ধরনের নিয়োগ কোনো ইতিবাচক ফল দেয়নি। তাহলে তিনি কোন যুক্তিতে কী পরীক্ষা করতে গেলেন?’ আকবর আলি খান দীর্ঘদিন অর্থসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর সমস্যা হচ্ছে শাসনকাঠামোতে। সেখানেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে সরকারকে পরামর্শ দেন।
১০ বছর আগে অন্তত তিনটি ব্যাংক বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য ৩৯ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়, যা বর্তমান টাকার হিসাবে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আওতায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে কোম্পানি হিসেবে গঠন করা হয়। কিন্তু এরপর আর কিছু হয়নি।
বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাজ্য সরকারের সাহায্য সংস্থা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ বা ডিএফআইডির অর্থায়নে ‘শিল্প প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংক আধুনিকীকরণ’ নামের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের জুনে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত তিনটি পন্থায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। দাতাদের পরামর্শ ছিল, সরকারের মালিকানায় কোনো ব্যাংক রাখারই প্রয়োজন নেই। তবে সরকারের ট্রেজারি ব্যাংক হিসেবে কাজ করে বলে সোনালী ব্যাংক সরকারের মালিকানায়ই থাকবে। রূপালী ব্যাংক বেসরকারীকরণ হবে সবার আগে। পাশাপাশি জনতা ও অগ্রণী ব্যাংককে তৈরি করা হবে বেসরকারীকরণের উপযুক্ত হিসেবে। তার পরই এই ব্যাংক দুটিকে বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এ জন্য তিন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যেমন, সোনালী ও জনতায় নিয়োগ দেওয়া হয় একদল পরামর্শক, অগ্রণী ব্যাংকে বসানো হয় নতুন ব্যবস্থাপনা টিম এবং রূপালী ব্যাংক বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দায়-দেনার হিসাব প্রস্তুত করতে নিয়োগ করা হয় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এ জন্য তিন ব্যাংক থেকে কেবল পরামর্শকেরাই নিয়ে যান ১৩০ কোটি টাকা।
এত অর্থ খরচ করার পরও প্রকল্পের কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার বদল হওয়ায় সিদ্ধান্তগুলোও বদলে যায়। বেসরকারি হাতে ছেড়ে না দিয়ে সরকার নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। দলীয় কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো দেখভাল করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয় একসময়ে বাতিল করা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এর পরই ব্যাংকগুলোর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। যে খারাপ পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল, ব্যাংকগুলো এখন সেই পরিস্থিতিতেই ফিরে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ’৯০ সালের দিকে এই ব্যাংকগুলোর চেহারা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তখন বিশ্বব্যাংক ঢাকায় এসে ব্যাংকগুলোতে বসে ব্যাপক সংস্কারের তদারক করে। সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ আমলে এই ব্যাংকগুলোতে ভীতিকর, ভয়ংকর পরিস্থিতি হয়েছিল। এখন সেদিকেই যাচ্ছে মনে হয়। এর কারণ সরকার ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সঠিক লোক নিয়োগ দিতে পারেনি।
ব্যাংক খাতের এই বিশেষজ্ঞ ভারতের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন। ঘুষ নিয়ে গ্রাহককে সীমার বেশি ঋণ দিয়েছিল ভারতের সিন্ডিকেট ব্যাংক। এই অভিযোগে গত আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই সিন্ডিকেট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুধীর কুমার জৈন, তাঁর শ্যালকসহ সন্দেহভাজন অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পুলিশি তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। অভিযোগ হলো, সুধীর কুমার মনমোহন সিংয়ের আমলে ৫০ লাখ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৬৩ লাখ ৬৪ হাজার) ঘুষ নিয়ে দুটি কোম্পানিকে ঋণসীমার চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছিলেন।
অথচ দেশে বেসিক ব্যাংকে সব ধরনের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে অন্তত সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে শুধু দুই বছরের জন্য অপসারণ করেছে আর অর্থ মন্ত্রণালয় কেলেঙ্কারির মূল ব্যক্তি বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুকে ‘সম্মানজনক’ বিদায় দিয়েছে।

৪ ব্যাংকের মোট খেলাপি ১৯ হাজার কোটি টাকা
৬ বছরে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার
জনতা ব্যাংক ৮৫%
সোনালী ব্যাংক ৬৫%
অগ্রণী ব্যাংক ৪০%
রূপালী ব্যাংক ১৭%
সরকারের বিশেষায়িত বেসিক ব্যাংকে ঋণের নামে আত্মসাৎ ৪৫০০ কোটি টাকা

Sunday, July 20, 2014

অভিনব জালিয়াতি, প্রতারণা by মনজুর আহমেদ

রীতিমতো প্রতারণা ও জালিয়াতি করে অভিনব উপায়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে বেসিক ব্যাংক। সব ধরনের ব্যাংকিং রীতিনীতির বাইরে গিয়ে পর্ষদ বৈঠক ছাড়াই ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং ইতিহাসে এমনটি আর কখনো শোনা যায়নি।
এই অভিনব প্রতারণাও করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকের সামনেই। তিনি উপস্থিত ছিলেন গত ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পর্ষদের ৩২৯তম সভায়। এই সভার কার্যতালিকায় ছিল ৩০৮টি বিষয়। সভার পর দীর্ঘদিন পার হলেও এর কার্যবিবরণী দেওয়া হয়নি পর্যবেক্ষক অশোক কুমার দেকে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলামকে তিনবার টেলিফোন করার পর অবশেষে কার্যবিবরণী পান তিনি। আর তা পেয়েই অভিনব প্রতারণা দেখতে পান কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষক।
সভার কার্যতালিকায় ৩০৮টি বিষয় থাকলেও অনুমোদিত কার্যবিবরণীতে দেখানো হয়েছে ৪১৪টি। অর্থাৎ পর্ষদ বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপন না করেই ১০৬টি ঋণ অনুমোদন করা হয়। এই ১০৬টি অননুমোদিত ঋণে টাকার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৫৪ কোটি।
পর্যবেক্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক অশোক কুমার দে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিস্তারিত জানিয়ে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম ব্যাংকিং রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন এবং প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল।’ এ ছাড়া, মহাব্যবস্থাপক থেকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দুজনের পদোন্নতির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করারও অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষক। এই দুই ঘটনার বিষয়ে চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘গুরুতর এ অনিয়মের জন্য পর্ষদের চেয়ারম্যান ও বিশেষভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়ী।’ এ নিয়ে পর্ষদের পরের সভায় আপত্তিও তোলেন অশোক কুমার দে। তখন পর্ষদের সব সদস্যই এর জন্য এমডিকে দায়ী করে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নেন।
বেসিক ব্যাংকের সেই এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি সে সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব অনুমোদনের বিষয়ে কথা বললে তিনি (চেয়ারম্যান) টেলিফোনে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এগুলোর অনুমোদনের জন্য আমাকে বলেছিলেন।’
বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের সে সময়ের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বাসায় তৈরি হতো পর্ষদ সভার কার্যতালিকা। সব ধরনের লেনদেনও তখনই হতো। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এভাবে ব্যাংক পরিচালনার আর কোনো দৃষ্টান্ত নেই।
বেসিক ব্যাংক নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরেই গণমাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকও একাধিকবার চিঠি লিখেছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এর মধ্যেই ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটেছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও প্রতারণা।
ব্যাংকটিতে নিয়মিত পর্ষদ বৈঠকও হতো না। দুই দিন পর বৈঠক হলেও সেখানে কার্যতালিকায় রাখা হতো ৩০০-এর বেশি ঋণপ্রস্তাব। কম সময়ের মধ্যে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সভায় বিপুল পরিমাণ অর্থের ঋণপ্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হতো। অশোক কুমার দে এ নিয়ে চিঠিতে লিখেছেন, ‘পর্ষদের সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ব্যাংকের ভালো গ্রাহকবৃন্দ হয়রানি ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ঋণ ও অগ্রিম কার্যক্রমসহ ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য গত সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা ও গুলশান শাখার ওপর নতুন করে অধিকতর পরিদর্শনের প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান, সরকারঘনিষ্ঠ আবদুল হাইকে পদত্যাগের সুযোগ দিয়ে ‘সম্মানজনকভাবে’ বিদায় দিয়েছে। অথচ তাঁর সময়েই জালিয়াতি করে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে ঋণ ও নথি জালিয়াতি হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি, পরিচালনা পর্ষদের কার্যতালিকা ও কার্যবিবরণী জালিয়াতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জঘন্য জালিয়াতি ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এর দায়িত্ব প্রধানত ব্যাংকের চেয়ারম্যানের। আর এমডিও দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাঁদের যোগসাজশে এগুলো হয়েছে বলে আমার ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকও নিশ্চয় এমনই বিবেচনা করছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ১৬ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণের গুরুতর অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে। এর মধ্যে রিলায়েন্স শিপিং লাইনসের স্বত্বাধিকারী জনৈক আসিফ ইকবাল ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলেন। যার শনাক্তকারী ছিল নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের এক প্রতিষ্ঠান। শনাক্তকারী এই প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্বহীন ও হিসাব পরিচালনাকারী ভুয়া।
কিন্তু বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১২ সালে ২ ফেব্রুয়ারি এই হিসাব পরিচালনাকারীকে জাহাজ কিনতে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে জাহাজ ক্রয় করার নিমিত্তে বের করে নিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।’
ঋণ হিসাবটি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখেছে, এর থেকে ১৬ কোটি ছয় লাখ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বেলায়েত নেভিগেশনের হিসাবে জমা হয়েছে। বেলায়েত নেভিগেশনের মালিক বেলায়েত হোসেন আসিফ ইকবালের আত্মীয়। যদিও ব্যাংক শাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের বলেছিল, বেলায়েত আসিফ ইকবালকে চেনেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেলায়েত নেভিগেশনের মালিক বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রামে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের আহ্বায়ক এবং কোস্টাল ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। গত বৃহস্পতিবার তাঁর কয়েকটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে একটি সূত্র জানায়, তিনি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়ের পদত্যাগের এক দিন আগে কানাডায় চলে গেছেন। জানা যায়, আবদুল হাইয়ের সঙ্গে বেলায়েত হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
আরেক প্রতিষ্ঠান সিমেক্স লিমিটেড। যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনৈক রাশেদুল হাসান। এই হিসাবটি খোলা হয় ২০১০ সালে ৭ ডিসেম্বর। ২০১১ সালের ৩০ মার্চ পর্ষদ সাত কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণসীমা অনুমোদন করে। শাখা থেকে কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়েছিলেন গ্রাহকের জামানত দেখতে। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এই ঋণকারীর বাসা, অফিস ও ফ্যাক্টরির যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব তাঁরা খুঁজে পাননি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘সার্বিক বিচারে প্রতিষ্ঠানটি নামসর্বস্ব, অর্থাৎ ভুয়া।’ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বকেয়ার পরিমাণ ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যার পুরোটাই ক্ষতির পর্যায়ে শ্রেণীকৃত হয়েছে। ঋণ হিসাবটিতে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদিত হওয়ার কোনো নজির বাংলাদেশ ব্যাংক পায়নি, বরং নগদে ঋণ হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনকে সন্দেহজনক মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠানটি নামসর্বস্ব বা অস্তিত্ববিহীন হওয়ায় এবং ঋণের টাকা অধিকাংশ নগদে উত্তোলিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে উল্লিখিত ঋণের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে শাখার সে সময়ের কর্মকর্তারা এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইন্ধন আছে বলে প্রতীয়মান হয়।’
আরেক প্রতিষ্ঠান সাহারা ইমপোর্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঋণের ১২ কোটি টাকা মাত্র ১২ দিনের মধ্যে পুরোটাই নগদে উত্তোলন করেছে। কোনো প্রকার ব্যবসায়িক কাজের জন্য পরিশোধ করা হয়নি। যাকে সন্দেহজনক মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি ও সংযুক্ত প্রতিবেদনগুলো পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কী করব, তা আগামী কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Monday, July 22, 2013

ইসলামী ব্যাংকের গুরুতর সব ঋণ অনিয়ম by মনজুর আহমেদ

ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় গুরুতর ঋণ অনিয়ম চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাহাজ তৈরির প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের আটটি জাহাজ রপ্তানির নিশ্চয়তাপত্র বা গ্যারান্টি দিয়েছিল এই ব্যাংক।

Thursday, June 27, 2013

বেসিক ব্যাংকে বড় জালিয়াতি by মনজুর আহমেদ

রাষ্ট্র খাতের বেসিক ব্যাংকে লুটপাট চলছে। কোনো নিয়মনীতি, বিধিবিধানের তোয়াক্কা করছে না ব্যাংকটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্তত সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা এই ব্যাংক থেকে জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম করে বের করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Thursday, January 31, 2013

বিনিয়োগ হচ্ছে না, উৎপাদনেও মন্দা by মনজুর আহমেদ

দেশে প্রথমবারের মতো পলিয়েস্টার চিপস তৈরির বড় ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল চার বছর আগে। পেট্রোলিয়াম উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) এমইজি ও পিটিএ থেকে পলিয়েস্টার চিপস তৈরি করার কথা ছিল কোম্পানির।

Wednesday, January 30, 2013

বিমান কিনতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে ঋণ by মনজুর আহমেদ

লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য দুটি উড়োজাহাজ কিনতে প্রাক-সরবরাহ (প্রি-ডেলিভারি) ঋণ হিসেবে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ব্যবহার করা হয়েছে।

বিমান কিনতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে by মনজুর আহমেদ

লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য দুটি উড়োজাহাজ কিনতে প্রাক-সরবরাহ (প্রি-ডেলিভারি) ঋণ হিসেবে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ব্যবহার করা হয়েছে।

Saturday, January 19, 2013

বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে by মনজুর আহমেদ

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত ছাড়াও এবার বিনিয়োগের জন্য দেশের বাইরে অর্থ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে তা সীমিত আকারে, মূলধন হিসাব সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে নয়।

Sunday, January 13, 2013

চার রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে by মনজুর আহমেদ

রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০১২ সালের নয় মাসে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। ১২ মাসের হিসাবে তা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ব্যাংকগুলোর সূত্র বলছে।

Wednesday, November 28, 2012

কারখানাটিই ছিল মৃত্যুকূপ by মনজুর আহমেদ

তাজরীন ফ্যাশনস কারখানার ভবন তৈরিতে নির্মাণবিধি একেবারেই মানা হয়নি। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই এটা হয়ে ওঠে মৃত্যুকূপ। আর সিঁড়ি তিনটি হয়ে পড়ে ইটভাটার চিমনি। ফলে এ পথে শ্রমিকের নেমে আসা বা ছাদে উঠে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

Wednesday, November 21, 2012

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের হিসাব- ব্যাংকের মুনাফা কমেছে, লোকসানও হচ্ছে by মনজুর আহমেদ

বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসে হঠাৎ করেই ব্যাংকগুলোর মুনাফা থমকে গেছে। এ সময় লোকসানও গুনেছে অনেক ব্যাংক। আগের দুই প্রান্তিকে যে মুনাফা হয়েছিল, তা দিয়েই কোনো রকমে নয় মাসের মুনাফার হিসাব করেছে ব্যাংকগুলো।

Tuesday, October 30, 2012

প্রতিদিন ধার করে চলছে চার ব্যাংক by মনজুর আহমেদ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমশই নাজুক হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোতে সংস্কার করায় ২০১০ সালের শেষভাগে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল।

Tuesday, July 17, 2012

ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট সহজে মিটছে না by মনজুর আহমেদ

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে স্বল্প সময়ের জন্য। কিন্তু ঋণ বিতরণ করেছে দীর্ঘ মেয়াদের। এ কারণে সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনায় বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে ব্যাংক খাতে। তৈরি হয়েছে তারল্যসংকট। নগদ অর্থের এই সংকট আগামী তিন-চার বছরেও মিটবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Wednesday, June 6, 2012

সংকটের বড় উৎস বৈদেশিক খাত by মনজুর আহমেদ

আড়াই বছর আগের কথা। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঘটা করে তা উদ্যাপন করেছিল শেরাটন হোটেলে (বর্তমানে রূপসী বাংলা)। ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো গিয়ে পৌঁছে এক হাজার তিন কোটি ডলারে।

Thursday, May 24, 2012

সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা-ফন্দিফিকির করে ২ হাজার কোটি টাকা আদায় by মনজুর আহমেদ

সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ নামের একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নানা কারসাজি ও ফন্দিফিকির করে বের করে নিয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এর ৭০-৮০ ভাগই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানীয় ঋণপত্র (এলসি) খুলে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে। কিছু আছে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও চলতি মূলধন-জাতীয় ঋণ।

Saturday, May 12, 2012

ফজলুর রহমানের আট কোম্পানি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা অভিযোগ-৩০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি করতে নির্দেশ by মনজুর আহমেদ

বাংলাদেশ ব্যাংক একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন আট কোম্পানির তিন শতাধিক কোটি টাকার ঋণ ১৫ মের মধ্যে ক্ষতি বা মন্দমান খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। এই ব্যবসায়ী হলেন একসময়ের ব্যাংক খাতের আলোচিত খেলাপি নারায়ণগঞ্জের ফজলুর রহমান। রাষ্ট্র খাতের সোনালী ব্যাংকের দুই শাখাতে তাঁর তিন শতাধিক কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।

Sunday, April 8, 2012

ব্যাংকে তারল্যসংকট: ৩-আমদানি অর্থায়নের টাকা শেয়ারবাজারেও গেছে by মনজুর আহমেদ

৯০ দিনের আস্থার বিপরীতে ঋণের (এলটিআর) একটা অংশ ব্যাংকে ফিরে না এসে সরাসরি শেয়ারের বেনিফিশিয়ারি হিসাবে (বিও) ঢুকে পড়েছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা তাঁর শাখার তথ্য দিয়ে এটা নিশ্চিত করেন।

Saturday, April 7, 2012

ব্যাংকে তারল্যসংকট-২-ঋণ নিয়ে অপচর্চার জেরে পণ্য মজুদ হচ্ছে, বাড়ছে দাম by মনজুর আহমেদ

৯০ দিনের আস্থার বিপরীতে ঋণ (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিট—এলটিআর) আদায়ে ব্যাংকগুলোর তৎপরতা জোরালো নয়। আর এ সুযোগে নিত্যপণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের একাংশ তাঁদের মালামাল গুদামে মজুদ রাখেন দীর্ঘদিন ধরে। এতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ে না। তাই সরবরাহজনিত মূল্যস্ফীতি হতে থাকে বাজারে।

Friday, April 6, 2012

ব্যাংকে তারল্যসংকট: ১-বিশ্বাস ভঙ্গ, তিন মাসের ঋণ গড়িয়েছে পাঁচ বছরে by মনজুর আহমেদ

বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়েছিলেন আমদানি করা নিত্যপণ্য বাজারজাত করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য। কিন্তু বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন তাঁরা। এই হাজার হাজার কোটি টাকা এখন মেয়াদি ঋণ হয়ে আটকে গেছে। আর ব্যাংকগুলোও যাচাই-বাছাই বা ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন করে এখন ফেঁসে গেছে।