Tuesday, November 12, 2019

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ যত জঙ্গি হামলা by অনুপম দেব কানুনজ্ঞ

এশিয়া, অ্যামেরিকা কিংবা আফ্রিকা, বিয়েবাড়ি, অফিস বা হাসপাতাল, কোথাও নিরাপদ নয় সাধারণ মানুষ৷ জঙ্গি হামলায় প্রতি বছরই বাড়ছে মৃত্যু৷ ইতিহাসের কিছু ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা পড়ুন এই ছবিঘরে৷
ইস্টার সানডে হামলা (শ্রীলঙ্কা, ২০১৯)
২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডে পালন করছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা৷ এমন দিনেই কলম্বো, নেগোম্বো ও বাট্টিকালোয়া শহরের মোট আটটি গির্জা ও হোটেলে একই সময়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়৷ সরকারের দেয়া সবশেষ তথ্য অনুসারে এ হামলায় নিহত হন ২৫৩ জন৷ ২০০৯ সালে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ শেষ হবার পর এটিকেই দেশটির সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করা হয়৷ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস৷
বৈরুত ব্যারাক হামলা (লেবানন, ১৯৮৩)
১৯৮৩ সালের ২৩ অক্টোবর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আত্মঘাতী ট্রাক হামলা চালানো হয়৷ তখন লেবাননে গৃহযুদ্ধ চলছিল৷ ভবনগুলোতে মার্কিন ও ফরাসি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন৷ দুই বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক ভবনে ঢুকে গেলে নিহত হন ৩০৭ জন৷ এদের মধ্যে দুই হামলাকারী ছাড়াও ২৪১ জন মার্কিন সেনা, ৫৮ ফরাসি সেনা ও ছয় জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন৷ ‘ইসলামিক জিহাদ’ নামের একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে৷
সিনাই মসজিদ হামলা (মিশর, ২০১৭)
মিশরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হয় এটিকে৷ ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর জুম্মার নামাজ চলাকালীন ৪০ বন্দুকধারী আল-রাওদা মসজিদে হামলা চালায়৷ আল-রাওদা দেশটির অন্যতম সুফি মসজিদ৷ হামলায় নিহত হন ৩১১ জন৷ কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সম্পৃক্ততা খুঁজলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি কেউ৷
এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ (ক্যানাডা, ১৯৮৫)
১৯৮৫ সালের ২৩ জুন ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩১ হাজার ফুট উঁচুতে আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার টরন্টো-দিল্লি ফ্লাইট৷ বিমানটিতে আগে থেকে বোমা রাখা ছিল, যা নিরাপত্তাকর্মীদের নজর এড়িয়ে যায়৷ ক্যানাডা পুলিশের দাবি, ভারতের অমৃতসরে শিখদের পবিত্র উপাসনালয় গোল্ডেন টেম্পলে সেনা অভিযানের প্রতিবাদে শিখ জঙ্গিদের সংগঠন বাবর খালসা এই বোমা হামলা করে৷ প্লেনে থাকা ৩২৯ জন যাত্রী, পাইলট, ক্রুর সবাই নিহত হন৷
গামবোরু এনগালা হামলা (নাইজেরিয়া, ২০১৪)
নাইজেরিয়ার পাশাপাশি দুই শহর গামবোরু ও এনগালাতে ২০১৪ সালের ৫ মে রাতে হামলা শুরু করে বোকো হারাম জঙ্গিরা৷ একে-৪৭ ও আরপিজি দিয়ে এ হামলা চালানো হয় টানা ১২ ঘণ্টা ধরে৷ হামলায় নিহত হন শহর দুটির ৩৩৬ জন বাসিন্দা৷ চিবোক শহর থেকে অপহৃত মেয়েদের খুঁজে পাওয়া গেছে– এমন গুজব ছড়িয়ে হামলার ঠিক আগে আগেই শহর দুটি থেকে মোতায়েন সেনাসদস্যদের অন্যদিকে সরিয়ে দিতে সফল হয় জঙ্গিরা৷ এরপরই ঘটে হামলার ঘটনা৷
কারাডা হামলা (ইরাক, ২০১৬)
২০১৬ সালের ৩ জুলাই স্থানীয় সময় মধ্যরাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দুটি হামলা চালানো হয়৷ শিয়া অধ্যুষিত কারাডায় রমজান মাসে ব্যস্ত এক বাজারে আত্মঘাতী ট্রাকহামলা চালানো হয়৷ একই সময়ে শা’ব এলাকায় রাস্তার পাশে রাখা আরো একটি বোমাও বিস্ফোরিত হয়৷ দুই হামলায় নিহত হন ৩৪২ জন৷ হামলার দায় স্বীকার করে আইএস৷
ত্রুয়িলো হত্যাকাণ্ড (কলম্বিয়া, ১৯৮৮-১৯৯৪)
কলম্বিয়ার ত্রুয়িলো শহরে ছয় বছর ধরে চলেছে এই হত্যাকাণ্ড৷ এজন্য দায়ী করা হয় অঞ্চলটিতে সক্রিয় বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী ও দুর্ধর্ষ মাদক চোরাচালানকারী পাবলো এসকোবারের অধীনের ড্রাগ কার্টেলকে৷ এই মাদক চোরাচালান সংগঠনগুলোর সদস্যরা সামরিক বাহিনী ও পুলিশেও সক্রিয় ছিলেন৷ ধারণা করা হয়, ছয় বছরে অন্তত ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা৷ হত্যার পর মরদেহ ফেলে দেয়া হতো পাশ দিয়ে বয়ে চলা কাউকা নদীতে৷
মোগাদিসু হামলা (সোমালিয়া, ২০১৭)
সোমালিয়া তো বটেই, পুরো আফ্রিকা মহাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা  মনে করা হয় এটিকে৷ নিরাপত্তাকর্মীরা একটি বোমাভর্তি ট্রাককে মোগাদিসুর ব্যস্ততম সড়কে তল্লাশির জন্য আটকালে চালক এটির বিস্ফোরণ ঘটান৷ হামলায় অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়৷ আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার না করলেও পুলিশের ধারণা, হামলার জন্য দায়ী জঙ্গি সংগঠন আল শাবাব৷
পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা (শ্রীলঙ্কা, ১৯৯০)
১৯৯০ সালের ১১ জুন শ্রীলঙ্কার ইস্টার্ন প্রভিন্সে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায় তামিল টাইগাররা৷ কয়েকটি থানায় হামলা চালিয়ে দখল করা হয়৷ নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬০০ থেকে ৭৭৪ জন হতে পারে বলে জানায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম৷
ইয়াজিদি হত্যাকাণ্ড (ইরাক, ২০০৭)
আগস্টের ১৪ তারিখ ইরাকের মোসুল লগরীর পাশে ইয়াজিদি সম্প্রদায় অধ্যুষিত তিল এজের এবং সিবা শেখ খিদির শহরে চারটি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে৷ হামলায় অন্তত ৭৯৬ জন নিহত হন৷ কোনো জঙ্গি গোষ্ঠি হামলার দায় স্বীকার করেনি৷ তবে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানি এ হামলার জন্য সুন্নি সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন৷
ক্রিসমাস হত্যাকাণ্ড (ডি আর কঙ্গো, ২০০৮)
২০০৮ সালের ২৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর হাউত-উয়েলে জেলার কয়েকটি গ্রামে আক্রমণ চালায় উগান্ডার বিদ্রোহী গ্রুপ লর্ডস রেজিসট্যান্স আর্মি (এলআরএ)৷ উগান্ডা ও প্রতিবেশী অপর তিন দেশের সেনাবাহিনীর সম্মিলিত অভিযানের পালটা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় এলআরএ৷ নিহত হন অন্তত ৬২০ জন৷
ক্যাম্প স্পাইশার হত্যাকাণ্ড (ইরাক, ২০১৪)
২০১৪ সালের ১২ জুন ইরাকের তিকরিতে ক্যাম্প স্পাইশারে হামলা চালিয়ে শিয়া ইরাকি বিমান বাহিনীর ১,৫৬৬ ক্যাডেটকে হত্যা করে আইএস৷ হামলার সময় ক্যাম্পটিতে কয়েক হাজার নিরস্ত্র ক্যাডেট অবস্থান করছিলেন৷ তাঁদের মধ্য থেকে বেছে বেছে শিয়া মুসলিম ও অমুসলিমদের আলাদা করা হয়৷ তারপর গুলি চালিয়ে তাঁদের হত্যা করে আইএস জঙ্গিরা৷
৯/১১ হামলা (যু্ক্তরাষ্ট্র, ২০০১)
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রের চারটি স্থাপনায় যুগপৎ হামলা চালায় আল কায়েদা জঙ্গি গোষ্ঠী৷ বিমান ছিনতাই করে সেটি নিয়েই টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে ছিনতাইকারীরা৷ সরকারি তথ্যমতে, এ হামলায় মোট ২,৯৯৬ জন প্রাণ হারান৷ নিহতদের মধ্যে ১৯ জন ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা৷ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ হামলায়৷


জামদানি শাড়ি: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ির আসল-নকল চিনবেন যেভাবে by সানজানা চৌধুরী

বাংলাদেশের যেসব নারী শাড়ি পছন্দ করেন, তাদের সংগ্রহে অন্তত একটি হলেও জামদানি শাড়ি থাকে।
নান্দনিক ডিজাইন এবং দামে বেশি হওয়ার কারণে জামদানির সঙ্গে আভিজাত্য এবং রুচিশীলতা - এই দুটি শব্দ জড়িয়ে আছে।
ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে আজকাল বিভিন্ন মার্কেটে জামদানির নামে বিক্রি হচ্ছে নকল শাড়ি, ফলে ঐতিহ্যবাহী জামদানির আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্রেতারা।
অনেক বিক্রেতা জামদানি বলে ভারতীয় কটন, টাঙ্গাইলের তাঁত, পাবনা ও রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।
প্রশ্ন হল আসল জামদানি শাড়ি চেনার উপায় তাহলে কী?
এক্ষেত্রে শাড়ি কেনার আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে নজর দেয়ার কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার শারমিন শৈলী এবং নারায়ণগঞ্জের জামদানি বিসিক শিল্প নগরীর তাঁতি মোঃ মনির হোসেন।

আসল জামদানি শাড়ি চেনার উপায়:

জামদানি শাড়ি কেনার আগে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে - শাড়ির দাম, সূতার মান এবং কাজের সূক্ষ্মতা।
আসল জামদানি শাড়ি তাঁতিরা হাতে বুনন করেন বলে এগুলো তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। তাই এগুলোর দামও অন্যান্য শাড়ির তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।
একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে দুইজন কারিগর যদি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা শ্রম দেন, তাহলে ডিজাইন ভেদে পুরো শাড়ি তৈরি হতে সাত দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সাধারণত শাড়ি তৈরির সময়, সূতার মান ও কাজের সূক্ষ্মতা বিবেচনায় একটি জামদানির দাম ৩,০০০ টাকা থেকে এক লাখ ২০,০০০ টাকা কিংবা তারচেয়েও বেশি হতে পারে।
নারায়নগঞ্জে জামদানির পাইকারি বাজারে শাড়ি তুলে দাম হাকানো হয়
কিন্তু মেশিনে বোনা শাড়িতে তেমন সময় বা শ্রম দিতে হয় না। এজন্য দামও তুলনামূলক অনেক কম।
জামদানি শাড়ি হাতে বোনা হওয়ায়, শাড়ির ডিজাইন হয় খুব সূক্ষ্ম এবং নিখুঁত। ডিজাইনগুলো হয় মসৃণ।
কারিগর প্রতিটি সুতো হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বুনন করেন। সূতার কোন অংশ বের হয়ে থাকে না। এ কারণে জামদানি শাড়ির কোনটা সামনের অংশ আর কোনটা ভেতরের অংশ, তা পার্থক্য করা বেশ কঠিন।
মেশিনে বোনা শাড়িতে কেবল জামদানির অনুকরণে হুবহু নকশা সেঁটে দেয়া হয়। এই শাড়িগুলোর উল্টো পিঠের সূতাগুলো কাটা কাটা অবস্থায় বের হয়ে থাকে।
জামদানি শাড়ি চেনার আরেকটি উপায় হতে পারে এর সূতা ও মসৃণতা যাচাই করা। জামদানি শাড়ি বয়নে সুতি ও সিল্ক সূতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
সূতার ব্যবহারের দিক থেকে জামদানি সাধারণ তিন ধরণের হয়ে থাকে।
১. ফুল কটন জামদানি - যেটা তুলার সূতা দিয়ে তৈরি করা হয়।
২. হাফ-সিল্ক জামদানি - যেখানে আড়াআড়ি সুতাগুলো হয় রেশমের আর লম্বালম্বি সূতাগুলো হয় তুলার।
৩. ফুল-সিল্ক জামদানি - যেখানে দুই প্রান্তের সূতাই রেশমের হয়ে থাকে।
শাড়ি কেনার আগে এই সূতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি, কেননা নকল জামদানি শাড়ি সিল্কের পরিবর্তে পলেস্টার বা নাইলনের মতো কৃত্রিম সূতা ব্যবহার করে থাকে।
সূতার মান যাচাই করতে শাড়ির আঁচলের শেষ প্রান্তে যে কিছু সুতা বের হয়ে থাকে, সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে।
জামদানি শাড়ির কোনটা সামনের অংশ আর কোনটা ভেতরের অংশ সেটা পার্থক্য করা বেশ কঠিন।
নাইলনের সূতা মসৃণ হয়, আর জামদানির সিল্ক সূতায় মাড় দেয়া থাকায় সেটা হবে অপেক্ষাকৃত অমসৃণ। সাধারণ পিওর সিল্কের সূতা টানাটানি করলে ছিঁড়ে যায় এবং এই সূতা আগুনে পোড়ালে চুলের মতো পোড়া গন্ধ বেরোয়।
আঁচলের শেষ প্রান্তের সূতাগুলো আঙ্গুল দিয়ে মোড়ানোর পর যদি সুতাগুলো জড়িয়ে যায়, তবে সেটা সিল্ক সূতার তৈরি আর যদি সূতাগুলো যেকোনো অবস্থায় সমান থাকে, তবে তা নাইলন।
এছাড়া কাউন্ট দিয়ে সূতার মান বোঝানো হয়। যে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সেই সুতা তত চিকন। আর সূতা যতো চিকন, কাজ ততই সূক্ষ্ম হবে - যা ভাল মানের জামদানি শাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
জামদানি শাড়ির সূতাগুলো সাধারণত ৩২-২৫০ কাউন্টের হয়ে থাকে।
জামদানির মান মূলত কাজের এই সূক্ষ্মতার উপর নির্ভর করে। আর শাড়ি কতোটা সূক্ষ্ম হবে, তা নির্ভর করে এই সূতা এবং তাঁতির দক্ষতার উপর।
সাধারণত যে শাড়িটা কাজ যতো সূক্ষ্ম, স্বাভাবিকভাবেই তার দামও ততো বেশি হয়ে থাকে। আবার সুতা যত চিকন, শাড়ি বুনতে সময়ও লাগে তত বেশি - কাজেই দামও বেশি পড়ে।
অন্যদিকে মেশিনে বোনা শাড়ির সুতা ২৪-৪০ কাউন্টের হয়ে থাকে।
তবে মেশিনে বোনা শাড়িগুলোর বুনন অনেক ঘন হয়। তাঁতে আর যাই হোক মেশিনের মতো ঘন বুনন দেয়া সম্ভব না।
জামদানির সূতায় মাড় দেয়া থাকে
জামদানি শাড়িতে যে অংশটুকু কোমরে গুঁজে রাখা হয়, ওই অংশটায় অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ হাত পর্যন্ত কোন পাড় বোনা থাকে না। কিন্তু মেশিনে বোনা শাড়ির পুরো অংশ জুড়েই পাড় থাকে।
হাতে বোনা জামদানি ওজনে হালকা হয়ে থাকে এবং পরতেও আরামদায়ক।
তবে জামদানি খুব যত্ন করে রাখতে হয়, না হলে বেশিদিন টেকসই হয় না।
অন্যদিকে কোনও রকম হাতের ছোঁয়া ছাড়া, জামদানির ডিজাইন নকল করা, মেশিনে বোনা শাড়ি কৃত্রিম সুতোয় তৈরি হয় বলে এই শাড়িগুলো হয় ভারি এবং খসখসে।
তবে এই শাড়িগুলো বছর বছর ধরে পরা যায়।

জামদানির বৈশিষ্ট্য:

জামদানির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর জ্যামিতিক নকশা। এই জ্যামিতিক নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয় নানা ধরণের ফুল, লতাপাতা, কলকাসহ নানা ডিজাইন।
জামদানির ডিজাইন বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। তারমধ্যে পান্না হাজার, তেরছা, পানসি, ময়ূরপঙ্খী, বটপাতা, করলা, জাল, বুটিদার, জলপাড়, দুবলি, ডুরিয়া, বলিহার, কটিহার, কলকাপাড় ইত্যাদি বেশি প্রচলিত।
জামদানিতে ছোট ছোট ফুল বা লতাপাতার ডিজাইন যদি তেরছা ভাবে সারিবদ্ধ থাকে, তাহলে তাকে তেরছা জামদানি বলে।
ফুল, লতার বুটি জাল বুননের মতো সমস্ত জমিনে থাকলে তাকে জালার নকশা বলা হয়।
পুরো জমিনে সারিবদ্ধ ফুলকাটা জামদানি ফুলওয়ার নামে পরিচিত। ডুরিয়া জামদানি ডোরাকাটা নকশায় সাজানো থাকে।
তেমনি পাড়ে কলকির নকশা থাকলে তা হবে কলকাপাড়।
দীর্ঘ সময় ও কঠোর শ্রমের কারণে জামদানির দাম তাই অন্যান্য শাড়ির তুলনায় বেশি পড়ে।

বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমলেও আধুনিকায়ন বেড়েছে

আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে বিশ্বের পরমাণু অস্ত্র
গোটা বিশ্বের মোট পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কমলেও বেশির ভাগ দেশই তাদের হাতে মজুদ পরমাণু অস্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন করেছে; কিন্তু এশিয়ার তিন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বেড়েছে। দেশ তিনটি হলো ভারত, পাকিস্তান ও চীন।
সুইডেন-ভিত্তিক অস্ত্রবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) প্রকাশিত সর্বশেষ একটি রিপোর্ট থেকে এমন তথ্যই জানা গেছে। এতে বর্তমান অস্ত্রশস্ত্র, নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিমাপ করা হয়েছে।
এসআইপিআরআই রিপোর্ট জানিয়েছে, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে মোট ১৩ হাজার ৮৬৫টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে এবার ৬০০টি অস্ত্র কমেছে দেশগুলোর; কিন্তু একই সময়ে প্রত্যেকটি দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আরো আধুনিকায়ন করার কাজ করেছে। এ ছাড়া ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র যুক্ত হয়েছে তথা পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ করছে।
এসআইপিআরআইর ‘নিউক্লিয়ার আর্মস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ তথা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক এবং তাদের প্রকাশিত রিপোর্টটির একজন লেখক শ্যানন কিলে বলেছেন, ‘গোটা বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্র হয়তো কমেছে; কিন্তু নতুন অস্ত্রও যুক্ত হয়েছে। বিশ্বে এখন পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কম; কিন্তু সেগুলো আধুনিক। তবে সীমান্তের দুই পারে দুই দেশ, ভারত ও পাকিস্তান যেভাবে পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়াচ্ছে, তা চিন্তার বিষয়। দু’দেশের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে, পরমাণু অস্ত্র তার বিপদকে আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। তথাপি বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের ৯০ শতাংশের বেশি নিজেদের দখলে রেখেছে এই দুই দেশ। স্নায়ু যুদ্ধের সময়ের যুদ্ধাস্ত্র সরিয়ে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে আসার এবং পরমাণু অস্ত্রের সংগ্রহ নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর এই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কারণেই এটা হয়েছে।
এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালে; কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক শ্যানন কিলে বলছেন, ‘চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে এই দুই দেশের কেউই আলোচনা করছে না, যা গোটা বিশ্বের জন্য একটি শঙ্কার বিষয়। আমেরিকার মিলিটারি অপারেশন এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত কথাবার্তায় যেভাবে পরমাণু অস্ত্রকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট চিন্তার।
সূত্র : এএফপি ও ডন

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চর শামছুদ্দিন by জুনাইদ আল হাবিব

মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা লক্ষ্মীপুরের রমণীমোহন দ্বীপের একটি অংশে ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম দেখা যায়। এটাই চর শামছুদ্দিন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে চেপে এখানকার নয়নাভিরাম প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুরা দ্বীপের মানুষের জীবন ও রাখালের গরু-মহিষের বাথান চরানোর দৃশ্য উপভোগ করেন।
প্রায় দুই দশক আগে মেঘনার বুকে চরটি জেগে ওঠে। দ্বীপের খুব কাছেই জেলার কমলনগরের চর কালকিনির একটি গ্রামের নাম থেকে চর শামছুদ্দিনের নামকরণ হয়। মতিরহাটের কাছেই অবস্থিত বলে এটি ‘মতিরহাটের চর’ নামেই লোকমুখে পরিচিত।
চর শামছুদ্দিন
ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও এই দ্বীপে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। দ্বীপে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে। বর্ষায় দ্বীপের প্রকৃতি হয়ে ওঠে অনিন্দ্যসুন্দর। তাই এ সময়টা বেশি উপভোগ্য। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রধান প্রফেসর মাহবুবে এলাহি সানি বলেন, ‘দ্বীপটিতে আমার বেশ কয়েকবারই যাওয়া হয়েছে। শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে এটি ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম তীর্থস্থান বলা চলে।’
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে চর শামছুদ্দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে দ্বীপের এপারে অর্থাৎ মতিরহাট মেঘনাতীরের ভূমিকা রয়েছে। বিশাল বেলাভূমি নিয়ে সৃষ্ট মতিরহাটে ঘুরতে জেলা ও বাইরে থেকে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুর উপস্থিতি চোখে পড়ে। এখান থেকে চর শামছুদ্দিনে পৌঁছাতে লাগে মাত্র ৫-১০ মিনিট। ফলে মতিরহাট মেঘনাতীরে ঘুরতে আসা বেশিরভাগ মানুষ দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে যান। মতিরহাট খেয়াঘাট থেকে দ্বীপে আসা-যাওয়ার খরচ জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা। দলবেঁধে গেলে রিজার্ভে ট্রলার ভাড়া নেওয়া যায়।
চর শামছুদ্দিন
শুরুতে এখানে মানুষের তেমন বসতি ছিল না। চারদিক থাকতো মরুভূমির মতো। বর্তমানে এই চরে ২৫টি পরিবারের চার শতাধিকেরও বেশি মানুষের বসবাস। বিভিন্ন স্থান থেকে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন তারা। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা দেড় শতাধিক।
দ্বীপে এখনও কোনও মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা স্কুল গড়ে ওঠেনি। বিশুদ্ধ পানির জন্য নেই কোনও নলকূপ। নদী বা খালের পানির বিকল্প নেই বাসিন্দাদের। গ্রীষ্মকালে ওপার থেকে খাবারের জন্য পানি আনা হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও সুবিধাজনক নয়। দুর্যোগ প্রতিরোধে এখনও গড়ে ওঠেনি সবুজ বলয়। দ্বীপের মানুষ গরু, ছাগল ও মহিষ বর্গায় লালন-পালনসহ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
চর শামছুদ্দিন
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার সুবাদেও ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে চর শামসুদ্দিনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সঙ্গে মতিরহাটের মেঘনার তীরে তাজা ইলিশ ভোজন ও মহিষের খাঁটি দধির স্বাদ নেওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সড়কপথে বাসে অথবা সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুর হয়ে লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর স্টেশন আসতে হবে। তারপর লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের যেকোনও গাড়িতে তোরাবগঞ্জ নেমে সেখান থেকে মতিরহাট সড়ক দিয়ে মেঘনাপাড়ে পৌঁছান। এরপর ট্রলারে চড়ে চর শামছুদ্দিনের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে আসুন।
>>ছবি: লেখক
চর শামছুদ্দিনে ভ্রমণপিপাসুরা

ইন্দোনেশিয়ায় বাঁশের তৈরি দর্শনীয় বাড়ি

সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পর্যটন আয়ের অধিকাংশ নির্ভর করে এই সমুদ্র সৈকতের উপর। তার বাইরে সবুজায়ন ও বন-জঙ্গলের জন্যও বিখ্যাত এই দ্বীপ দেশ ইন্দোনেশিয়া।
ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গলে বেশকিছু বাড়ি পাওয়া যায়, যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে শুধু গাছ দিয়ে তৈরি করা। যাকে বলা হয় ‘গাছ ঘর’। ভ্রমণের জন্য এ ধরনের বাড়ি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। এ বাড়িগুলো পর্যটকদের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।
বালির জঙ্গলের মধ্যে বাঁশের তৈরি গাছ বাড়ি
পুরো বাড়ি তৈরি করা হয় স্থানীয়ভাবে জন্মানো এস্পার বাঁশ দিয়ে। গাছের তৈরি এ বাড়ি আইয়াং নদীর গিরির ওপর বানানো এবং সেখান থেকে বালির বন-জঙ্গলের সুদূরপ্রসারি দৃশ্য দেখা যায়।
বুটিক হোটেলস এর তথ্য মতে, সবুজ গ্রাম তৈরির উদ্যোগের অংশ হচ্ছে এ ধরনের বাড়ি। টেকসই নির্মাণ পাশাপাশি বাড়িকে নান্দনিকভাবে আনন্দদায়ক করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বাড়িগুলোতে সিঁড়ি, দেয়াল, আসবাব-পত্র এমনকি লাইট লাগানোর সরঞ্জাম তৈরিতেও বাঁশ ব্যবহার করা হয়। তিনতলা এ বাড়িগুলোর প্রতি তলায় বারান্দা রাখা হয়েছে এবং বাড়ির সাথে একটি ব্যক্তিগত সুইমিং পুলেরও ব্যবস্থা আছে। এতকিছু দেখার পরে আর বুঝতে বাকি থাকে না যে কী কারণে এসব গাছ বাড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাংলাদেশের পাট পাতার চা এখন জার্মানিতে by ফারজানা লিয়াকত

ইন্টারট্রোপের বাজারজাতকৃত ‘জুট-টি’
কাক ভোরে ঘুম ভেঙে ঢুলো ঢুলো চোখে অফিসে ঢুকে, অলস দুপুরে বা বিকেলের আড্ডায় এক কাপ চা যেন প্রাণদায়িনী। চা-প্রেমিক শৌখিন মানুষদের জন্য চা প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর চেষ্টারও শেষ নেই। ফল, ফুল বা মরিচের স্বাদ—কী নেই ফ্লেভারের নামে! তবে এবার ফ্লেভার নয়, এসেছে পাট পাতার চা। গরম ভাতে পাট শাকের স্বাদের যেমন তুলনা নেই, এ পাতার গুনাগুণেরও শেষ নেই।
দেশীয় বাজারে পাট পাতার চা বহুল প্রচলিত না হলেও এই চা পৌঁছে গেছে ইউরোপের বাজারে। জার্মানি-ভিত্তিক একটি স্টার্টআপ ‘ইন্টারট্রোপ’ সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ২ টন পাট পাতার চা নিয়েছে। জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান দুজন জার্মানের সঙ্গে মিলে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটি।
পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের সহযোগিতায় ও উদ্যোগে ‘ইন্টারট্রোপ’ জার্মানিতে চা নেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জের লেমুবাড়িতে সাড়ে সাত হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে চাষ করা হয়েছে অরগানিক পাট।
ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ পাটের চায়ে আছে খনিজ এবং নানান পদের ভিটামিনের সমাহার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ওমেগা-৩ সহ অনেক উপাদান, যা মানবদেহের জন্য ভীষণ উপকারী। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে উপকারী এই পানীয়।
কথা হচ্ছিল ইন্টারট্রোপের উদ্যোক্তাদের একজন মিজানুর রহমানের সঙ্গে। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান এবং পাটের চা রপ্তানির উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন।
রংপুরের ছেলে মিজানুর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জার্মানির হোহেনহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে। ‘চাইলেই বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে মোটা মাইনের চাকরি করতে পারতাম। কিন্তু নিজের কিছু একটা করার ইচ্ছেটা ছিল প্রবল।’—হাসি মুখে বলেন মিজানুর। মিজানুরের কথায়, শুরুটা হয়েছিল এক সন্ধ্যায় আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান বোরনারের সঙ্গে আড্ডায়। তারপর দেখা মেলে জুলিয়ান কোফলারের। তিনজনে সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের মতো করে কিছু করার। রাতারাতি বিল গেটস বনে যাবেন, এমন কোনো উচ্চাশা ছিল না তাদের। স্বপ্ন ছিল একটু আলাদা কিছু করার যাতে আর্থিক সচ্ছলতা ছাড়াও কল্যাণমূলক কিছুও থাকে। এশিয়া ও আফ্রিকার ট্রপিক্যাল দেশগুলোর নিজস্ব পণ্য ইউরোপের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয় ‘ইন্টারট্রোপ’।
বাংলাদেশি হিসেবে পাটের কথাই প্রথমে মাথায় আসে মিজানুরের। পাঠের ব্যাগ ও অন্যান্য পাটজাত পণ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। গল্পের ছলে বললেন, ‘২০১৫ সালে আমি আর জুলিয়ান একবার বাংলাদেশে আসি। সে সময় গাজীপুরে পাটজাত পণ্যের খোঁজে যাই আমরা। দুপুরের খাবারের মেন্যু ছিল অতি সাধারণ বাঙালি খাবার—ডাল, ভাত আর পাট শাক। পাট পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া যায় দেখে বেশ অভিভূত হন জুলিয়ান।’
এরপর প্রস্তাব আসে জুলিয়ানে পক্ষ থেকে। তাঁর ভাষায়, জার্মানরা হয়তো সবজি হিসেবে পাট পাতা খাবে না; তবে অন্য কোনো উপায়ে খাওয়া গেলে মন্দ হবে না। ঠিক সেবারই ঢাকায় পাট উৎসবে দেখা হয় ইসমাইল হোসেন খানের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে পাট পাতার চা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি তখন বাংলাদেশে পাট পাতার চা বাজারজাতকরণে কাজ করছেন। ব্যস! সেই থেকে শুরু। প্রসঙ্গত, ইসমাইল হোসেন খান বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পাট পাতার চা প্রকল্পের উপদেষ্টা। এর তিন মাস পর ইসমাইল খান ইন্টারট্রোপের অনুরোধে ১৬ কেজি নমুনা চা পাতা পাঠান জার্মানিতে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যাত্রা শুরু করে ‘জুট-টি’।
জার্মানির বাজারে এ রকম একটি পণ্যের যাত্রা সহজ ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর বলেন, ‘একেবারে মসৃণ যে ছিল না, তা বলাই বাহুল্য। ইউরোপের বাজারে নতুন কোনো খাদ্যপণ্য চালু করতে খরচ হয় ২০ হাজার ইউরো। সৌভাগ্যবশত আমরা জানতে পারি ১৯৯৬ সালের আগে গ্রিসে পাট পাতার ব্যবহার হয়েছে। আর কী লাগে! আমরা ওই রেফারেন্স ব্যবহার করে জার্মান কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় করিয়ে নিলাম পাট পাতার চায়ের।’
ইন্টারট্রোপ প্রাথমিকভাবে পাট পাতার চা ওষুধের দোকানগুলোতে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভেষজ চায়ের বেশ কদর থাকায় জার্মানির বাজার নিয়ে বেশ আশাবাদী এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ইন্টারট্রোপের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক মিজানুর রহমান।
পাটের এই চায়ের ধরনেও রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। পাঁচটি আলাদা স্বাদে ‘জুট-টি’ বাজারজাত করেছে তারা। জার্মানির বিশাল বাজারে অন্তত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা করে নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইন্টারট্রোপ, জানালেন মিজানুর।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে এই প্রকল্পের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মিজানুর বলেন, শুধু সরকারিভাবে চা রপ্তানি নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নানা ধরনের ছোট ও বড় প্রতিষ্ঠান। যেমন—উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরিবহনসহ অনেক কিছু। আর এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অরগানিক পাট উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য আরও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে মত তাঁর।
‘আত্মপ্রচারের ইচ্ছা কম। তাই গণমাধ্যমে কম এসেছি। আমি খুশি নিজের মতো কিছু করতে পেরে। আর ‘জুট-টি’-এর প্যাকেটে যখন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখি, ভীষণ গর্ববোধ করি।’—তৃপ্ত অথচ স্বপ্নমাখা চোখ নিয়ে আলাপ শেষ করলেন মিজানুর রহমান।
ইন্টারট্রোপের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক মিজানুর রহমান

শিশুর স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য যা খাওয়াবেন

কলা, ছোলা আর চিনাবাদাম দিয়ে তৈরি খাবার অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে বলে এক গবেষণায় জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশে চালানো এক মার্কিন গবেষণায় জানা যাচ্ছে, এসব খাদ্য শিশুদের পাকস্থলীতে স্বাস্থ্যবর্ধক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক এবং শারীরিক বিকাশে এই খাবারগুলো খুবই কার্যকর বলে গবেষকরা জানতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিবিআর-এর বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণা চালান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে ১৫ কোটি শিশু এখন অপুষ্টিতে ভুগছে। এসব শিশু যেমন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়, আকারে ছোট হয়, তেমনি এদের পাকস্থলীতে যে স্বাস্থ্যবর্ধক 'ভাল' ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদের সংখ্যাও থাকে কম।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, দেহের দুর্বলতার জন্যও এসব ব্যাকটেরিয়ার অভাব অনেকাংশে দায়ী। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশের সুস্থ শিশুদের পাকস্থালীতে যেসব প্রধান ব্যাকটেরিয়া থাকে তার পরীক্ষা করেন।
এরপর ইঁদুর এবং শূকরের ওপর পরীক্ষা করে দেখেন যে- কোন ধরনের খাবার দিলে এসব ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এরপর এক মাসব্যাপী এক পরীক্ষায় অপুষ্টিতে ভোগা ৬৮টি বাংলাদেশী শিশুকে বিভিন্ন ধরনের ডায়েট খেতে দেন।
শিশুদের অপুষ্টি কেটে গেলে তারা দেখেন এক ধরনের ডায়েট তাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী। আর তা হলো কলা, সয়া, চিনাবাদামের গুড়া আর ছোলার গুড়ায় তৈরি বিশেষ মিশ্রণ।
এই খাদ্য ব্যবহারে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায় বলে গবেষণার ফলাফলে জানা যায়। সূত্র : বিবিসি।

বাংলাদেশে অডিও সিডি-ভিসিডি বিক্রি বন্ধ, লাইক-সাবসক্রাইবার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় প্রযোজকরা by শফিক রহমান

এক ধরনের ধসের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অডিও সিডি-ভিসিডির মার্কেট। বন্ধ হয়ে গেছে দেশটির এক সময়ের ক্যাসেট এবং কিছু দিন আগের অডিও সিডি-ভিসিডির প্রযোজনা ও বিক্রয়ের একমাত্র হাব হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর বিক্রয় কেন্দ্রগুলো। আগে পাটুয়াটুলীর নূরুল হক মার্কেট, সালাম ম্যানশন, হাজী নূর মার্কেট এবং আরেফিন প্লাজাসহ আশপাশের মার্কেট থেকে অখ্যাত-বিখ্যাত নানা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রকাশ হতো বাউল, বিচ্ছেদ, জারি-সারি, পালাগান, ইসলামী গজল, হামদ-নাত, ওয়াজ, কোরআন তেলাওয়াতসহ আধুনিক ও ব্যান্ড সঙ্গীতের জনপ্রিয়সব ক্যাসেট। প্রায় দেড় দশক আগে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো জড়ো হয়েছিল ওই এলাকারই ঐতিহাসিক ও আলোচিত মুন সিনেমা হল ভেঙ্গে গড়ে ওঠা মুন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়।
সম্প্রতি ফেব্রুয়ারির এক সন্ধ্যায় নগরীর ব্যস্ততম ওই অংশের ঘড়ি, চশমা, কাপড় ও বোরকার দোকানের হাজার ওয়াটের লাইটের নিচে বসে বিক্রেতারা যখন পাইকারি ক্রেতাদের নিয়ে ব্যস্ত, যখন  সামনের ছোট-চাপা রাস্তায় রিকশা, ভ্যান আর ঠেলা গাড়ির ঠাসা-ঠাসি, তখন মুন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় অডিও সিডি-ভিসিডির মার্কেট জুড়ে অন্ধকার। সাটার নামানো দোকানগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে ভৌতিক এক নিরবতা। দুই একটি দোকানে আলো জ্বলছে। সেগুলোর সামনের অংশে সিডি-ভিসিডি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড থাকলেও ভেতরে কাজ করছে পাঞ্জাবি, বোরকা ও টি শার্ট প্যাকেজিং এর শ্রমিকরা। এর মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেল ‘মা সিডি ভিশন’।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিবু কৌতুহলী হয়ে নড়েচড়ে বসে জানালেন, ‘বিক্রি নাই, ব্যবসা বন্ধ।’ সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ফেসবুক, ইউটিউবের যুগে এসবের কি আর চাহিদা থাকে?
শিবু জানান, তিনি মুলত বাউল, বিচ্ছেদ, জারি-সারি ও পালা গানের ক্যাসেট প্রযোজনা ও বিক্রি করতেন। ১৯৮৪ সালে জনি এন্টারপ্রাইজের ব্যানারে প্রথম প্রকাশ করেন মালেক সরকারের গাওয়া সুলায়মান পয়গম্বরের জারির ক্যাসেট। এর ধারাবাহিকতায় একে একে প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক চরিত্র হানিফ পালোয়ান, সোহরাব-রুস্তুম, মা ফাতেমার শক্তি পরীক্ষাসহ নানা শিরোনামের জারি গানের ক্যাসেট।
শিবু আরও জানান, ১৯৯৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মা সিডি ভিশন’ এবং ওই বছরই তিনি প্রথম প্রকাশ করেন লোক সঙ্গীত শিল্পী মমতাজের ‘মরার কোকিলে’ সিডিটি। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সিডিটির শিরোনামের গানটি পৌঁছে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। শিবুর দাবি, এই গানটির মাধ্যমেই মমতাজ যুক্ত হন সঙ্গীত জগতের ‘মূল ধারায়’। তিনি বলেন, মমতাজের খ্যাতি আগেও ছিল। কিন্তু তা পালা গানের শিল্পী হিসেবে। এই গানটিই তাকে এনে দেয় ভিন্ন পরিচয়।
পরবর্তীতে মমতাজ সমান তালে গেয়েছেন রেডিও, টেলিভিশন, দেশি-বিদেশি কনসার্টসহ নানা অনুষ্ঠানে। পরিচিতি পেয়েছেন বাংলাদেশের ফোক সম্রাজ্ঞী হিসেবে।
জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রথমে সংরক্ষিত মহিলা আসনে। বর্তমানে নির্বাচিত।
জানা গেছে, পাকিস্তান আমলেই পাটুয়াটুলিতে দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির গোড়াপত্তন ঘটে। বিশেষ করে তখন দুই তিনটি ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান গ্রামোফোন থেকে গান-মিউজিক কপি করে বিক্রি শুরু করে। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিস ওউনারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি) জানায়, এর ধারাবাহিকতায় ওই এলাকায় ১১২টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যদিও সারা দেশে তখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭১টি।
ক্ষিণ আলোতে মোবাইলের ক্যামেরায় সারি সারি বন্ধ দোকানের ছবি তুলতে গেলে উদ্দেশ্য জানতে চান স্বপন দাস। নিজেকে ‘সুর সঙ্গীত’ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা বুদ্ধিমান না। এক সময় যখন ক্যাসেট বের করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম ততোদিনে বাজার দখল করে নিয়েছে অডিও সিডি-ভিসিডি। ওই সময় আর্থিকভাবে বড় একটা ধরা খেয়েছি। পরে আবার যখন সিডি-ভিসিডি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি ততোদিনে ফেসবুক, ইউটিউবের যুগ চলে এসেছে। আবার আর্থিক ক্ষতি।’
তবে এবার ক্ষতির ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার কথা জানালেন স্বপন দাস। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে সুরসঙ্গীত’ নামে একটি চ্যানেল খুলেছি। পুরোনো প্রযোজনাগুলো ওখানে ছাড়া হয়েছে। নতুনগুলোও ছাড়া হচ্ছে। তাতে খরচ কিছুটা উঠে আসা শুরু হয়েছে।’
স্বপন দাস জানান, তার বাবা সুবল চন্দ্র দাস ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত ঢোল বাদক। ১৯৯৪ সালে তিনিই শুরু করেন ‘সুর সঙ্গীত’ এবং প্রতিষ্ঠানটির লোগো হিসেবে রাখেন ঢোলকে। তাদের প্রথম এবং বিখ্যাত প্রযোজনা মমতাজের ‘ভাব বৈঠকী’।
ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখা গেল বাংলার ঢোলের ছবি দিয়ে তৈরি করা লোগো এবং ‘সুরসঙ্গীতে’র ব্যানারে ইতোমধ্যে ১৯৪টি ভিডিও আপ হয়েছে। শুরুতেই দেখা যায় মমতাজের ছবি সম্বলিত সেই অ্যালবামটি। যার শিরোনামে লেখা রয়েছে ‘মমতাজের শ্রেষ্ঠ অ্যালবাম-ভাববৈঠকী’। এক বছর আগে আপ হওয়া অ্যালবামটি ইতোমধ্যে ভিউয়ারের সংখ্যা পার করেছে ১২ লাখ ৩৪ হাজার।
এদিকে একই তথ্য জানালেন এমআইবি’র সেক্রেটারি জেনারেল এবং সেন্ট্রাল মিউজিক এন্ড ভিডিওস (সিএমভি)-এর কর্ণধার শাহেদ আলী পাপ্পু। তিনি বলেন, অডিও সিডি-ভিসিডি’র দোকান কেন্দ্রীক ব্যবসা বন্ধ। ব্যবসাটা এখন করপোরেট পর্যায়ে চলে গেছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো আমাদের কাছ থেকে কনটেন্ট নেয়। এছাড়া ফেসবুক গ্রুপ আছে, ইউটিউবে চ্যানেল আছে।
আয়ের হিসাব বিশেষ করে দোকান ভিত্তিক বিক্রির তুলনায় বর্তমান প্রক্রিয়ায় আয় বেশি না কম জানতে চাইলে শাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, পুরনো একটি ধারা থেকে একেবারেই নতুন একটি পথে আমরা চলতে শুরু করেছি। এ পথে আয় আসছে কিন্তু পুরো মাত্রায় আসতে হয়তো একটু সময় লাগবে।
ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখা গেল সিএমভি’র সাবসক্রাইবার ১.৫ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
এছাড়া সিডি চয়েসের ০.৫ মিলিয়ন, সিডি ভিশনের ০.২ মিলিয়ন, সুরঞ্জলীর ০.৬ মিলিয়ন, মিউজিক হেভেনের ০.৭ মিলিয়ন, বাউল মেলার ০.২ মিলিয়ন, চেনাসুরের ০.২ মিলিয়ন, লেজার ভিশনের ০.৭ মিলিয়ন, অনুপমের ০.১ মিলিয়ন, সাউন্ডটেকের ১.৪ মিলিয়ন, সঙ্গীতার ০.২ মিলিয়ন। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সাবসক্রাইবার জি সিরিজের থলিতে। তাদের মোট সংখ্যা ২.৪ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। আর সবচেয়ে কম সুরের মেলার। তাদের মাত্র ২৭টি।
এদের মধ্যে ‘সঙ্গীতা’ শুরু হয় আশির দশকের শুরুর দিকে। প্রতিষ্ঠানটির আদি নাম ছিল সামাদ ইলেক্ট্রনিকস। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সঙ্গীতা’। বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের অধিকাংশ গানই সঙ্গীতার ব্যানারে বাজারে এসেছে।
মুলত ওই আশির দশককেই বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বিকাশের দশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ধারাবাহিকতা চলে পরের দশক জুড়েও। ওই সময়ের মধ্যে বের হওয়া অধিকাংশ অ্যালবামই আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়।
তবে শুধু প্রযোজনা ও বিক্রিই নয় ক্যাসেট প্রস্তুতেরও কেন্দ্র ছিল পাটুয়াটুলি। সাউন্ডটেক ও কেটি ছিল মূল প্রস্তুতকারক। যদিও প্রতিষ্ঠান দুটি স্থানীয়ভাবে শুধু ক্যাসেটের কেসিং তৈরি করতো এবং তার মধ্যে আমদানি করা টেপ বসিয়ে দিত। পরবর্তীতে সাউন্ডটেক প্রযোজনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় এবং বের করে জনপ্রিয়সব গানের অ্যালবাম।
ইউটিউবে সাউন্ডটেকের দুটি সেকশন দেখা যাচ্ছে। একটি সাউন্ডটেক মিউজিক, আরেকটি সাউন্ডটেক নাটক। অন্যান্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এমন একাধিক সেকশন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে লেজার ভিশনের সেকশনগুলোর মধ্যে বাড়তি দেখা যাচ্ছে ‘লেজার ভিশন বাউলিয়ানা’; ‘লেজার ভিশন মুভি’ ও ‘লেজার ভিশন ডকুমেন্টারি’।
তবে প্রতিষ্ঠিত সবকয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরই কমন একটি সেকশন ‘ইসলামিক’। যেখানে রয়েছে ইসলামিক গান, কোরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ।
‘পরিবর্তন’ তা যে ধরনেরই হোক তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন মিউজিক শিল্প উদ্যোক্তারা। গ্রামোফোন থেকে ক্যাসেট, ক্যাসেট থেকে সিডি-ভিসিডি-ডিভিডি। এবার ডিজিটাল প্রযুক্তিতে লাইক-সাবসক্রাইবার বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। সঙ্গীত চলছেই।

অবৈধ খননে আমাজন জঙ্গলের ক্ষতি মহাকাশ থেকেও দেখা যায়

খননকাজ জঙ্গলে ক্ষতচিহ্ন তৈরি করে
আমাজন জঙ্গলে অবৈধভাবে খনন কাজ করার জন্য এত ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে যে তা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়।
আমাজন জঙ্গলের ব্রাজিলের সীমানার ভেতরে থাকা অংশে কিছু এলাকায় স্থানীয় নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ কার্যক্রম বিপদজনক হারে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে বিবিসি নিউজ ব্রাজিলের প্রকাশ করা সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে।
ব্রাজিল বাদেও দক্ষিণ অ্যামেরিকার সাতটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে আমাজন জঙ্গল।
পরিবেশবিদ এবং নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর নেতারা মনে করেন, পারা ও রোরাইমা রাজ্যে ব্যাপক হারে বন উজাড় হওয়ার কারন সেসব জায়গায় অবৈধ খননের বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারোর সমর্থন।

পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় খনন কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ব্রাজিলে বিদ্যমান আইনের বিপরীত একটি আইন প্রণয়নে সমর্থন করেন মি. বোলসোনারো। পাশাপাশি, বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্টের যথাযথ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না - এমন সমালোচনার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পেস রিসার্চ, একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে আমাজনে বন উজাড় করার হার বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
ঐ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য উপাত্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।
"যদি আসলেই এত ব্যাপক হারে বন উজাড় করা হতো, তাহলে পুরো জঙ্গলটাই এতদিনে ধ্বংস হয়ে যেত", গতসপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে এমন বক্তব্য দিয়েছেন মি. বোলসোনারো।

মহাকাশ থেকে যা দেখা যায়

বিবিসি নিউজ ব্রাজিল মার্কিন সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবের কাছ থেকে পাওয়া কিছু ছবি যাচাই করে বন উজাড় করার বিষয়টি প্রকাশ করে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে পাওয়া স্যাটেলাইটের ছবিতে আমাজনের জায়গায় অবৈধ খননকাজ বৃদ্ধির চিহ্ন পাওয়া যায়
প্ল্যানেট ল্যাবের মহাকাশে একশোটিরও বেশি স্যাটেলাইট আছে যেগুলো থেকে প্রতিদিন ভূ-পৃষ্ঠের ছবি পাওয়া যায়।
নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জন্য সংরক্ষিত তিনটি এলাকায় - যেসব এলাকায় স্বর্ণ পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে ধারণা করা হয় - অবৈধ খনন কার্যক্রমের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঐ তিনটি সংরক্ষিত অঞ্চল প্রায় ২ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত; অর্থাৎ আয়তনে যুক্তরাজ্যের চেয়েও বড় একটি অঞ্চল।
ঐ এলাকাগুলো ব্রাজিলের সীমানার মধ্যে থাকা আমাজন জঙ্গলের সবচেয়ে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে পড়ে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে - খনির শ্রমিকরা রয়েছে, এমন জায়গার সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।
এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধ খননকাজ চলছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবির দুইজন বিশেষজ্ঞ - ভূতাত্বিক কার্লোস সউজা এবং ভূগোলবিদ মার্কোস রোসা - নিশ্চিত করেছেন যে খননকাজের হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ছবি পর্যালোচনা করে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় পুলিশের পাশাপাশি নৃতাত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত সংস্থা 'ফুনাই'এর সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে বিবিসি, তবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোরাইমা'র 'সোনালী বিস্ময়'

রোরাইমা রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য স্বর্ণ।
তবে রাজ্যটিতে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত একটি বৈধ খনিও নেই।
এই স্বর্ণ ইয়ানোমামিদের জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে আসছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে একটি তদন্ত চলছে।
নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর নেতাদের মতে, অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক সেখানে অবৈধভাবে খননকাজ চালাচ্ছে।
১৯৯২ সালে ইয়ানোমামি গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ অঞ্চলের কর্তৃত্ব দেয়া হয়।
বন উজাড় করা বিষয়ে একটি সরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যকে জনসম্মুখে চ্যালেঞ্জ করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মি. বোলসোনারো (ডানে)
ঐ অঞ্চলের জায়গার ওপরে তাদের অধিকারের বিষয়টি ব্রাজিলের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে।
জানুয়ারি মাসে মি. বোলসোনারো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমাজনের অনেক জায়গাতেই 'অনধিকার প্রবেশকারীদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে' বলে দাবি করেন নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের অধিকারের বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের মুখপাত্র সোনিয়া গুজারাজা।
মি. বোলসোনারো সাংসদ থাকাকালীন সময় থেকেই কিন্তু খননকাজ চালানোর পক্ষপাতী ছিলেন।
তার যুক্তি, এই ধরণের কার্যক্রম নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে।
এপ্রিলে রোরাইমার নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর যেসব নেতা খননকাজের পক্ষপাতী, তাদের সাথে দেখা করে মি. বোলসোনারো বলেন, "সমৃদ্ধ ভূমিতে দরিদ্র হয়ে জীবনযাপন করার সুযোগ নেই নৃতাত্বিক গোষ্ঠীগুলোর।"
১৯৮৮ সালে ব্রাজিলের সংবিধান নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন কার্যক্রম বৈধ করলেও নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধা জুড়ে দেয় তার সাথে।
এখন পর্যন্ত কোনো কংগ্রেসই ঐ আইনগুলো অনুমোদন করেনি বিধায় সেসব এলাকায় খননকাজ এখনও অবৈধই রয়ে গেছে।
রোরাইমা রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য স্বর্ণ হলেও রাজ্যটিতে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত একটি বৈধ খনিও নেই
সোনিয়া গুজারাজা'র মতে, নেতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব পড়ার চিন্তা থেকে অধিকাংশ নৃতাত্বিক গোষ্ঠীই খননকাজ করতে চায় না।
ল্যাটিন আমেরিকার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এনজিও'দের একটি সংস্থার ২০১৮ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রাজিলে নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার অন্তত ১৮টিতে অবৈধ খননকাজ হয়।
আমাজনে খনির কাজ মূলত দুই ভাবে হয়ে থাকে: ভেলায় করে নদীর পৃষ্ঠের মাটি চালুনির মাধ্যমে যাচাই করে দামী ধাতুর খোঁজ করে, অথবা মাটি খননের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি সাধারণত বড় পরিসরেই করা হয়ে থাকে।
খননকারীরা জঙ্গলে গর্ত খুঁড়ে 'ক্ষতচিহ্ন' তৈরি করে যা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়।
গাছ কাটার পাশাপাশি এই ধরণের খননকাজও নদীর স্রোত ও গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
খননকাজের ফলে তৈরি হওয়া কৃত্রিম জলাধার মশার বংশবৃদ্ধির জায়গায় পরিণত হয়।
কাজেই অ্যামাজনের ঐসব অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার ব্যাপকতার কারণ সহজেই অনুমান করা যায়।
এছাড়াও খননকাজে ব্যবহৃত পারদ নদীর মাছসহ পুরো খাদ্যচক্রকেই প্রভাবিত করে।
পারদের বিষক্রিয়ায় মানুষের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মারাত্মক বিকলঙ্গতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০১৬ সালে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় একটি জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ইয়ানোমামি গ্রামের ৯২% মানুষই পারদের বিষক্রিয়ার শিকার।
ব্রাজিলে নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় সব ধরণের খননকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
এছাড়া নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের এলাকায় খননকাজ বৃদ্ধি পাওয়াই সহিংসতা এবং অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয়।

অর্থায়ন হ্রাস

আমাজন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা ব্রাজিলভিত্তিক একটি সংস্থা ইমাজনের গবেষক পাওলো বারেতো মনে করেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর মন্তব্য আর আইনের দুর্বল প্রয়োগ থাকার কারণে অবৈধ খননের বিস্তৃতি বাড়ছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, "মানুষ মনে করে তারা বন উজাড় করার জন্য শাস্তির সম্মুখীন হবে না, তাই এধরণের কাজ করার মনাসিকতা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।"
এবছরের শুরুতে ব্রাজিলের পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী রিকার্ডো সালেস সেদেশের প্রধান পরিবেশবাদী সংস্থা ইবামা'র জন্য বরাদ্দ অর্থ ২৫% কমানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

বন উজাড় করার প্রবণতা

জুলাইয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ জানায় যে ২০১৮ সালের তুলনায় এবছরের জুন মাসে আমাজনে বন উজাড় করার হার বেড়েছে ৮৮%
সংস্থাটির একজন মুখপাত্র খননকাজকেই এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।