Thursday, May 10, 2018

বজ্রপাতে নিহতদের মৃতদেহ চুরি নিয়ে আতঙ্ক কেন?

বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। আর চলতি মে মাসের প্রথম কয়েকদিনেও মৃত্যুর খবর এসেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। বজ্রপাতে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত মোট পাঁচ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
ঝড় ও বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় যেমন আতঙ্ক বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতদেহ চুরির আতঙ্ক।
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় গত সপ্তাহে বজ্রপাতে মারা যায় স্থানীয় যুবক মতিন ম-ল। কিন্তু তাকে কবর দেয়ার পর মৃতদেহ চুরি হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় রাত জেগে কবর পাহারা দেয় তার পরিবারের স্বজন ও আশে-পাশের অন্যান্যরা।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে এতটাই আতঙ্ক তৈরি হয় যে পরদিনই তারা কবরটি সিমেন্ট দিয়ে পাকা করে ফেলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাসিনা বেগম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সেখানকার মানুষজনের মধ্যে মৃতদেহ চুরির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আমরাও খবর পেয়ে লোক পাঠাই। তারা বলে যে এরকম চেষ্টা হয়েছিল। ফলে ওইদিন কবর দিয়েও তারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছে। পরের দিন কবরটি পাকা করে ফেলে।"
এমন আতঙ্ক কেন জানতে চাইলে ওসি হাসিনা বেগম বলেন, "বজ্রপাত হলে লাশ চুম্বক হয়ে যায় বলে এলাকায় মানুষের মাঝে একধরনের রিউমার আছে। এ কারণে অনেকসময় মৃতদেহ চুরির আশঙ্কা দেখা যায়"।
এমনই আরেকটি ঘটনার খবর জানা যায় নাটোরের লালপুর উপজেলায় গত বছরের এপ্রিল মাসের শেষদিকে। বজ্রপাতে নিহত এক যুবকের মৃতদেহ চুরির আশঙ্কায় তার পরিবার তাকে গোরস্থানে কবর না দিয়ে বাড়ির আঙিনার ভেতর গরুর ঘরের পাশে মৃতদেহ কবর দেয়।
লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো: সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের 'মিথ' প্রচলিত আছে।
বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় এ ধরনের আতঙ্ক নতুন নয়। কবর থেকে বজ্রপাতে নিহত নারী কিংবা পুরুষের মরদেহের কঙ্কাল চুরি যাওয়ার খবর পত্র-পত্রিকাতেও এসেছে।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। বছরের এ সময়টিতে বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বজ্রপাতও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
কিন্তু এভাবে মৃতদেহ চুরির পেছনে কী কারণ রয়েছে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, "এর পেছনে কারণ একধরনের মিথ্যা বিশ্বাস।"
সোহেল মাহমুদ বলেন, "অনেকেই মনে করেন, বজ্রপাতে নিহত মানুষের শরীরে মূল্যবান জিনিস তৈরি হয়। তারা হয়তো ধারণা করে লোহার ভেতর দিয়ে ইলেক্ট্রিসিটি পাস হলে (প্রবাহিত হলে) যেভাবে লোহা চুম্বক হয়ে যায়, এক্ষেত্রেও সেরকম কোনকিছু হয়। কিন্তু এটা তো পুরোটাই অন্ধবিশ্বাস।"
এসব কারণেই অনেকসময় মানুষ মৃতদেহ চুরির চেষ্টা করে।
গ্রাম্য অনেক কবিরাজ বা ওঝা'র ঝাড়ফুঁক কাজের জন্য এই ধরনের মৃতদেহের হাড়-গোড় দরকার মনে করে আর সে ধরনের কুসংস্কার থেকেও এই মৃতদেহ চুরির ধারণাটি চলে আসছে বলে অনেকেই মনে করেন।
ড: সোহেল মাহমুদ জানান, আসলে ইলেকট্রিক শক খেয়ে মানুষের মৃত্যু হলে মৃতদেহ যেমন হয় বজ্রপাতে মৃত মানুষের মৃতদেহ ঠিক একইরকম হয়। কোনও পার্থক্য থাকেনা।
সুত্র: বিবিসি বাংলা

৪০ সেবা, তিন সুফল আনবে বঙ্গবন্ধু-১ by উদিসা ইসলাম

আর কিছুক্ষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বে ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। আমাদের স্যাটেলাইট হলে কী উপকারে আসবে, তা নিয়ে কৌতূহল ও প্রশ্ন দুই-ই জারি আছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে  অর্জন হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের ক্লাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকগুলো সেবার মধ্যে মূল তিনটি সুফল পাবে দেশের মানুষ। প্রথমত, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত হবে। দ্বিতীয়ত, স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়। তৃতীয়ত, জরুরি আরেকটি সুফলের সম্ভাবনা তৈরি হলো— ঝড় বা বড় ধরনের দুর্যোগে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বলছে, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, আবার অর্জনও হবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডাটার সঙ্গে ভয়েসও দেওয়া যাবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলে বছরে এককোটি ১০ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় এখন অন্য দেশের স্যাটেলাইট ভাড়া করে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্টোরিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখা, পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে। এখন দেশে প্রায় ৩০টি প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এসব স্যাটেলাইটের ভাড়া কমবে। আগে এসব সেবার জন্য দেশের টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা টোলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিঙ্গাপুর, হংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করতো। আর এখন এসব সেবা নিশ্চিত করবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।
স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেওয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম (৪০ ট্রান্সপন্ডার, ২৬ কেইউ ব্র্যান্ড, ১৪ সি ব্যান্ড)-এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

মালয়েশিয়ার ৭ম প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ

মালয়েশিয়ার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডক্টর মাহাথির মোহাম্মদ। রাজকীয় প্রাসাদে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর শপথ নেন তিনি। রাজপ্রাসাদের কন্ট্রোলার ওয়ান আহমাদ দাহলান এবি আজিজ জানিয়েছেন, রাজপ্রাসাদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথগ্রহণে বিলম্ব সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
এর আগে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য রাজপ্রাসাদ থেকে মাহাথিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
৯ মে ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারপান পার্লামেন্টের ২২২ আসনের মধ্যে ১২২টিতে জয় পায়। সে অনুযায়ী, বিকাল ৫টায় বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথগ্রহণের কথা ছিল। তবে জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে রাজপ্রাসাদে গেলেও সে সময় শপথ না নিয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে যান মাহাথির মোহাম্মদ। পরে রাত সাড়ে ৯টায় শপথগ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়।
মাহাথিরের জোটের নেতারা সুলতান পঞ্চম মোহাম্মদের সঙ্গে (মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক রাজা) সাক্ষাৎ করেছেন। স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী জোটের নেতারা সুলতানের সঙ্গের বৈঠকে তাকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথির পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন করতে পারবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ১০ মে নতুন সরকার গঠনের ইচ্ছার কথা জানান মাহাথির। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় এই মুহূর্তে কোনও সরকার নেই। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই। আমরা আজই সরকার গঠন করতে চাই। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কোনও সরকার নেই। তাই আজই সরকার গঠন প্রয়োজন। পাকাতান হারপান জোটের ১৩৫টি আসন নিশ্চিত হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে কোনও বাধা নেই।’
১৯৫৭ সাল থেকে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় ছিল বারিসান ন্যাসিওনাল (বিএন) জোট। ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর ধরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় থাকা এ জোটের পরাজয় ঘটে। এই জোটের ও সরকারের নেতৃত্বে থাকা নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর আলোচনায় আসেন মাহাথির।
নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে মালয়েশিয়ায়। সেখানে একটি মেয়েকে মাহাথিরের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে কান্নাভেজা চোখে মাহাথির মেয়েটিকে বলছেন, ‘বয়স হয়েছে, আমার আর বেশি সময় নেই। মালয়েশিয়াকে নতুন করে সাজানোর জন্য আমার আরও কিছু কাজ বাকি আছে; সম্ভবত বিগত শাসনামলে আমি কিছু ভুল করেছি, সেগুলো শোধরাতে হবে।’ জনগণ তাকে ভুল শোধরানোর সুযোগ দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।
১৯৮০ এবং ৯০ এর দশকে মালয়েশিয়ার যে নাটকীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, তার কৃতিত্ব মাহাথিরের। তার জোটের পক্ষ থেকে সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের এজেন্ডা আলোচনার জন্য সময় নির্দিষ্ট করা, বিরোধী দলের নেতারে সাংবিধানিক মর্যাদা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো রয়েছে।
১০০ দিনের ঘোষিত কর্মসূচিতে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিয়ে ভাতা চালু, ১০ লাখ নতুন হাউজিং, মহাসড়কে টোল ব্যবস্থা বাতিল করা, বিদেশিদের বরাদ্দ দেওয়া বড় বড় প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, দুর্নীতির তথ্যদাতাদের আইনি সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে পার্লামেন্টের অধীনে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাহাথিরের জোট। গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স সংস্কার এবং তথ্য স্বাধীনতা আইন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার এ রূপকার।
আগামী এক দশকের মধ্যে মালয়েশিয়াকে ‘কম দুর্নীতি’র সেরা ১০ দেশে অন্তর্ভুক্ত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাহাথিরের জোট। ঘোষিত হয়েছে আগামী তিন বছর উন্নয়ন বাজেটের অর্ধেক দরিদ্র পাঁচ অঞ্চলে ব্যয়ের পরিকল্পনা। ন্যূনতম মজুরি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি, স্বল্প ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলে ভতুর্কি, দরিদ্রদের চিকিৎসায় ভতুর্কির মতো প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

লাল-সবুজের নিশানা নিয়ে মহাকাশে বাংলাদেশ by কাজী সোহাগ

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রাতেই মহাকাশে ডানা মেলবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর ফলে যোগাযোগের এক নতুন মহাকাশ উন্মোচিত হবে বাংলাদেশের জন্য। ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম), স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সমপ্রচার এবং ইন্টারনেটসহ আরো নানাবিধ কমিউনিকেশন সেবায় ব্যবহৃত হবে স্যাটেলাইটটি। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ১০ই মে বিকাল ৪টা ১২ মিনিট থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট) বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণের সময় ঠিক করেছে বলে কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রথমবারের মতো ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ৫ সংস্করণ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটের পথে ছুটবে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি অরবিটে পৌঁছতেই তিন সপ্তাহ লাগবে। উৎক্ষেপণের পর ইন-অরবিট টেস্ট বা আইওটি শেষে ৩ মাস পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে সেবা পাওয়া যাবে। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশনটি ব্যাকআপ স্টেশনে হবে। মূলত কাজ হবে জয়দেবপুরের স্টেশনেই। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য প্রথমে গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখ ঠিক করা হলেও হারিকেন আরমায় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। এরপর ৪ঠা মে উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়। কিন্তু এপ্রিলের শেষে এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, উৎক্ষেপণ পিছিয়ে গেছে অন্তত ৭ই মে পর্যন্ত। আবহওয়া অনুকূলে না থাকায় সেই তারিখ আবার পিছিয়ে এখন ১০ই মে সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সেই অর্থ সাশ্রয় হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখতে আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার। এ উপলক্ষে সোমবার ফ্লোরিডা গেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম (সাবেক টেলিকম প্রতিমন্ত্রী), তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ। ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার আগে শাহজাহান মাহমুদ জানান, ১০ তারিখ ধরে সব প্রস্তুতি নেয়া হলেও এসব ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং কারিগরি বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। বহু ঘটনা আছে, যেখানে কাউন্ট ডাউনের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়েও উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে হয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, স্পেসএক্স এবারই প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণে তাদের ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ৫ সংস্করণ ব্যবহার করতে যাচ্ছে। গত ৪ঠা মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নতুন এই রকেটের স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন হয়। তিন হাজার ৫০০ কেজি ওজনের জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফ্যালকন-৯ কক্ষপথের দিকে ছুটবে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে। এই লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকেই ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১।
যেভাবে কক্ষপথে যাবে লাল-সবুজের স্যাটেলাইট: গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে। একই ধরনের রকেটে মহাকাশে যাবে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে উড়াল দেবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তিন দশমিক ৭ মেট্রিক টন ওজনের স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণে শুরু হয়ে গেছে ‘লঞ্চ ক্যাম্পেইন‘। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফ্যালকন-৯ রকেটে চারটি অংশ রয়েছে। ওপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, তারপর অ্যাডাপ্টর। এরপর স্টেজ-২ এবং সবচেয়ে নিচে থাকে স্টেজ-১। নির্ধারিত সময়ে রকেটটি সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপরই স্টেজ ওয়ান চালু হয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করবে রকেট। প্রচণ্ড শক্তিতে ধাবিত হবে মহাকাশের দিকে। এ উৎক্ষেপণ দেখতে হলে আগ্রহীদের উৎক্ষেপণ স্থান থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। সাত মিনিটের কম সময় দেখা যাবে। তার পরপরই উচ্চগতির রকেট চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকে। এরপর চালু হয় স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই থেকে যায়। দুটি ধাপে এই উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হয় জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রথম ধাপটি হলো লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগবে। উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এই স্যাটেলাইট। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইট উম্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। এই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন লাগবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। স্পেসএক্স’র ওয়েবসাইটে পুরো উৎক্ষেপণ দেখানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

যেসব করমর্দনে কেঁপেছে বিশ্ব

এপ্রিলের ২৭ তারিখে যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই নেতা করমর্দন করলেন, তখন প্রতীকী অর্থে হলেও তারা যেন বিভাজিত কোরিয়া উপত্যকাকে এক করে ফেলেছিলেন। বেশ কয়েক মাস ধরে বিরাজমান পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে দুই নেতার ওই করমর্দন ছিল শান্তির পথে এক মাইলফলক। কিম জং উন ও মুন জে-ইনের করমর্দনে ছবি মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে তুলে চলে আসে। পরদিনের সংবাদপত্রের পাতায়ও স্থান পায় করমর্দনের ছবি। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ভূকম্পন সৃষ্টি করে দেওয়া কিছু করমর্দন নিয়ে ফিচার করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
আরাফাত-রবিন, ১৯৯৩
নরওয়েতে মাসের পর মাস গোপন আলোচনা শেষে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইতিজ্যাক রবিন ও ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসের আরাফাত ১৯৯৩ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজের দক্ষিণ লনে একত্রিত হন। একত্রে তারা চাক্ষুষ করেন অসলো চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
এরপর আরাফাত ও রবিন হাত মেলান। তাদের মাঝে দুই জনের বাহু ধরে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এটি ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় একটি মুহূর্ত। ওই চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা আন্দোলনের অবসান ঘটে। পাশাপাশি, স্বায়ত্বশাসন পায় ফিলিস্তিনি ভূখ-। পরের বছর এই শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যই এক ইহুদী চরমপন্থীর হাতে খুন হন রবিন। পরের বছরগুলোতে শান্তি প্রক্রিয়া থমকে যায়।
ওবামা-ক্যাস্ত্রো, ২০১৩
২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তীতূল্য নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা স্মরণে এক শোকসভায় হাত মেলান দুই বৈরী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দুই নেতা বারাক ওবামা ও রাউল ক্যাস্ত্রো। কয়েক দশকের শত্রুতা শেষে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মোলাকাত ছিল সেবারই প্রথম। এ থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা পায়। ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পরের বছর ওবামা কিউবা সফর করেন। সেটি ছিল ৮৮ বছরে প্রথম কোনো মার্কিন নেতার কিউবা সফর। কিউবার ওপর দশকব্যাপী কার্যকর কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে আমেরিকা।
রাণী এলিজাবেথ-ম্যাকগিনেস, ২০১২
উত্তর আয়ারল্যান্ড শান্তি প্রক্রিয়ায় মাইলফলক রচনা করে ২০১২ সালে করমর্দন করেন বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) নামে আইরিশ জাতীয়তাবাদী বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার মার্টিন ম্যাকগিনেস। আইআরএ চেয়েছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডে বৃটিশ শাসনের অবসান এবং মূল আয়ারল্যান্ডে একিভূত করা। পরে ম্যাকগিনেস আয়ারল্যান্ডের পক্ষে শীর্ষ শান্তি আলোচকে পরিণত হন।
শি-মা, ২০১৫
১৯৪৯ সালে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের পর ভাগাভাগি হওয়ার পর ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো চীন ও তাইওয়ানের নেতারা সাক্ষাৎ করেন সিঙ্গাপুরে। এটি ছিল নজিরবিহীন এক ঘটনা। এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেও করমর্দন করেন। আলোচনা শুরুর আগ মুহূর্তে তারা হাস্যোজ্বল ছিলেন। ওই বৈঠকের পর বেইজিং ও তাইপের মধ্যে হটলাইন স্থাপন এবং স্বশাসিত তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। ওই বৈঠক ঐতিহাসিক হলেও, দু’ পক্ষের কেউই কাউকে বড় কোনো ছাড় দেয়নি। ওই বৈঠকের প্রায়শ্চিত্ত বেশ তিক্তভাবেই করতে হয়েছে মা’কে। তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে বেইজিং-বিরোধী বলে পরিচিত সাই ইং-ওয়েনের কাছে পরাজিত হন।

হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতংক by ইমাদ উদ দীন

পাকা বোরো ধান মাঠে দোল খাচ্ছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। গেল প্রায় ১০-১২ দিন থেকে এ সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ সকাল থেকেই আকাশ থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। আর এরই সঙ্গে থাকছে ঝড়ো হাওয়া, বিজলি চমকানো, ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাত। সোমবার জেলায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়াসহ দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়ে চলায় এখন বজ্রপাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ কারণে অনুকূল আবহাওয়া না হলে কেউই ঘর হতে বের হচ্ছেন না। আকাশের অবস্থা দেখে চাষিরাও মাঠে যাচ্ছেন। বোরো চাষি কৃষকদের সঙ্গে আলাপে তারা জানালেন মাঠে পাকা ধান সংগ্রহে তারা ভয় নিয়ে ক্ষেতের জমিতে নামছেন। কারণ এ বছর বজ্রপাত নিয়ে তারা আতঙ্কে আছেন। তাই আকাশে বিজলি চমকালে কিংবা মেঘাচ্ছন্ন হলেই তারা দ্রুত ঘরে ফিরছেন। এতে পাকা ধান কাটা হচ্ছে কম। এদিকে সময় যত যাচ্ছে ভারি বৃষ্টিপাত বেড়ে চলায় পাকা বোরো ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তারা জানালেন, এ বছর পানিতে জোঁক আর আকাশ থেকে নামছে বজ্রপাত। এই দুই ভয় এ জেলায় ধান কাটা শ্রমিকের সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে। ৫শ’-৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক। কৃষকরা জানালেন, আরো সপ্তাহ দিন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে জেলার মোট বোরো আবাদের ১০-১৫ ভাগ ফসল ঘরে উঠানো যাবে না। গতকাল সরজমিন জেলার কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর এলাকায় গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। জেলার হাকালুকি ও হাইল হাওরের বিল এলাকায় আবাদকৃত বোরো ধান কাটা প্রায় ৯৬ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে, কাউয়াদিঘি হাওরে সেচ পাম্প সুবিধা থাকায় ওই হাওরে প্রায় ৩৭ ভাগ ধান এখনো কাটা হয়নি। কাটার অপেক্ষায় থাকা বেশিরভাগ ধানই ব্রি-ধান-২৯ ও বিআর-১৪ জাতের ধান। আর জেলার হাওর ও নদী তীরবর্তী উঁচু এলাকায় আবাদকৃত বোরো ধান কাটা প্রায় ৭৮ ভাগ শেষ হয়েছে। জানা যায়, এ বছর স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী জেলার তিনটি হাওরের বিল এলাকায় আগাম জাতের ধান ব্রি-ধান-২৮ আবাদ করেন চাষিরা। আর বিআর-১৪ ও ব্রি-ধান-২৯ আবাদ হয় হাওর ও নদী তীরবর্তী অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে। বিআর-১৪ ও ব্রি-ধান-২৯ ধানের ফলন ভালো হলেও ফলন কম হয়েছে ব্রি-ধান-২৮ এর। ব্লাস্ট ও নেক ব্লাস্টের কারণে অধিকাংশ ব্রি-ধান-২৮ এ চিটা হওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। এর অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর বোরো আবাদের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ব্লাস্ট রোগের বিস্তার ঘটেছে বেশি। যেহেতু মৌসুমের প্রথম দিকে ২৮ ধানের চারা লাগানো হয়েছে সে কারণে ওই ধানই বেশি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে, ব্রি-ধান-২৯ ও বিআর-১৪ ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত কম হওয়ায় ফলন ভালো হলেও এখন বজ্রপাতের ভয়ে তা পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৪.১২ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৩৬৬ হেক্টর। বাকিটুকু চাষ হয়েছে নদী ও হাওরের তীরবর্তী এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন (চাল) হাইব্রিড চার টন। আর উচ্চ ফলনশীল তিন টন। তাদের তথ্য মতে, এ বছর এ পর্যন্ত জেলার হাওরে ৯৯ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়েছে। আর হাওর ছাড়া প্রায় ৬৭ ভাগ ধান কাটা শেষ। পুরো জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ ভাগ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বিকালে হাইল হাওরের তীরবর্তী কাইঞ্জর বন্দ ও বিন্নার বন্দ এলাকায় গেলে কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় তারা দ্রুত বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মোকাম বাজার এলাকার জরিফ মিয়া (৪৮), গুমরা গ্রামের হামদু মিয়া (৬৮), শরিফ মিয়া (৪৫), কালাপুরের মছকন মিয়া (৪২), রফিকুল ইসলাম (২৪), সাইদুর রহমান ইমন (৩০) জানালেন- এ বছর ব্রি-ধান-২৮ জাতের ধান ছাড়া অন্যান্য জাতের ধান ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি মিলছে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান। কিন্তু এখন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আর বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে থাকা পাকা ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক কিংবা মালিক কেউই এখন বজ্রপাতের ভয়ে ক্ষেতের মাঠে যেতে চান না। আবহাওয়া ভালো দেখে ক্ষেতের মাঠে গেলেও সেখানেও থাকতে হয় শঙ্কায়। তারা নিজেদের ক্ষেতের জমি দেখিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন- যেভাবে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাতে ২-৩ দিনের মধ্যেই পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। কৃষকরা জানান, গেল ২-৩ বছরের মতো তারা আগে এভাবে বজ্রপাত হতে দেখেননি। তারা বলেন, এভাবে বজ্রপাত হলে আগামীতে বোরো চাষ অনেকটাই ব্যাহত হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজাহান মানবজমিনকে বলেন, এ বছর জেলাজুড়ে বোরো ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। শুধু ব্রি-ধান-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এ জাতের ধানের ফলন একটু কম হয়েছে। হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটা শেষ হলেও নদী ও হাওর তীরবর্তী এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে এখনো বোরো ধান কাটা শেষ হয়নি। সম্প্রতি বজ্রপাত শুরু হওয়ায় ভয়ে মাঠে যাচ্ছেন না কৃষক। এ ছাড়া বজ্রপাতের ভয় থাকায় আউশ ধানের চারা রোপণেও মাঠে কাজ করতে সাহস পাচ্ছেন না কৃষক। মাঠ পরিদর্শনে গেলে কৃষকরা তাদের ভয়ের কথা আমাদের বলছেন।

রেকর্ড ভাঙলেন, রেকর্ড গড়লেন মাহাথির

মালয়েশিয়ার রেকর্ড ভেঙে দিলেন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। যে দেশটি তিনি দীর্ঘ সময় নিজ হাতে রচনা করেছিলেন আধুনিক হিসেবে, যে জন্য তাকে বলা হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার, সেই মালয়েশিয়ার ক্ষমতার মসনদে তিনিই বসতে চলেছেন ৯২ বছর বয়সে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটা বিরল। শপথ নিয়ে এ পদে এলে তিনিই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী প্রধানমন্ত্রী। এটা হবে তার একটি নতুন রেকর্ড। অন্য যে রেকর্ডটি তিনি এরই মধ্যে গড়েছেন তা হলো ৬১ বছর পর তিনিই প্রথম ক্ষমতাসীন বারিশান ন্যাশনাল জোটকে পরাজিত করলেন বিরোধী জোটে এসে। এ দুটিই তার জন্য অনন্য রেকর্ড। বুধবার অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচন ছিল মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই সারা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল দেশটির দিকে। জরিপ নানা মতামতকে উপেক্ষা করে মাহাথির প্রমাণ করে দিলেন তিনিই পারেন। তিনিই পারেন মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব দিতে। ২২২ আসনের পার্লামেন্টে তার নির্বাচনী জোট পাকাতান হারাপান (এলায়েন্স অব হোপ) পেয়েছে ১১৩ আসন। এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে এ সংখ্যা যথেষ্ঠ। কারণ, সরকার গঠন করতে হলে একটি দলকে কমপক্ষে ১১২টি আসন পেতে হয়। এর থেকেও একটি আসন বেশি পেয়েছে পাকাতান হারাপান। ফলে মালয়েশিয়া ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে যাচ্ছে এমন পূর্বাভাষ মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেলো। অন্যদিকে ভরাডুবি ঘটেছে ক্ষমতাসীন বারিশান ন্যাশনাল (বিএন) দলের। তারা পেয়েছে মাত্র ৭৯ টি আসন। বাদ বাকি আসন পেয়েছে অন্যান্য দল। এখন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত শেষ হয়ে যেতে পারে। এমনই আভাষ মিলেছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। তাকে দলের নেতৃত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়া হতে পারে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে ‘১এমডিবি’ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে তারও নতুন করে তদন্ত হতে পারে। বিচার করা হতে পারে। তাতে তিনি অভিযুক্ত হলে পেতে পারেন শাস্তি। তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী একজন ডাক্তার সুভা সেলভান বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে আমি আশা করি দেশে ভবিষ্যতে ভাল কিছু দেখতে পাবো। আমরা আশা করি ভবিষ্যত সরকার হবে উন্নততর, অবাধ, মুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ। ওদিকে বুধবার গভীর রাতে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে রাতের মালয়েশিয়ার রাস্তার দৃশ্য পাল্টে যেতে থাকে। হাজার হাজার উৎসুক মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে থাকে। ওদিকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরে মালয়েশিয়ার মিডিয়াই জানিয়েছে তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর কারণ কি? কারণ হলো, মাহাথির মোহাম্মদের পাকাতান হারাপান জোটে যেসব দল আছে তাদের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি। তাই কে এখন সরকার গঠন করবে সে সিদ্ধান্ত দেবেন মালয়েশিয়ার রাজা। তিনি সিদ্ধান্ত দেয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী শপথ নেবেন। গঠন করবেন সরকার। বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বৃহস্পতিবার দিনের একেবারে শুরুতে সংবাদ সম্মেলন করেন মাহাথির। সেখানে তিনি বলেন, হ্যাঁ এখনো আমি বেঁচে আছি। আমার জোট কোনো প্রতিশোধ নেবে না। তবে আইনের শাসন প্রবর্তন করবে। এ সময় তিনি উল্লাসরত নেতাকর্মী সমর্থকদের বলেন, দু’দিনের সরকারি ছুটি দেয়া হবে। তবে এই ছুটি বিজয়ীদের জন্য নয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির। তিনিও বারিশান ন্যাশনাল জোটের প্রধান ছিলেন। তখন ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আর এ সময়েই একটি দরিদ্র দেশ মালয়েশিয়াকে বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। অনেকেই তার সমালোচনা করেন। কিন্তু তিনি মালয়েশিয়াকে যা দিয়েছেন তাতে দেশটি এখন বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। এখন উন্নয়নশীল অনেক দেশের মানুষ সেখানে কাজ খুঁজেতে পাড়ি জমান। এ জন্য মাহাথিরের নেতৃত্বে থাকা মালয়েশিয়া হয়ে ওঠে এশিয়ান টাইগারদের অন্যতম। ১৯৯০ এর দশকের পর এ অঞ্চলের যেসব দেশের অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার ঘটে তাদেরকে এশিয়ান টাইগারস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে কেউ কেউ তাকে কর্তৃত্ববাদী বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ, তিনি বিতর্কিত নিরাপত্তামুলক আইন ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জেলে ভরেছেন। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন তার অধীনে থাকা উপ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইস্যুতে। প্রথমে তিনি তাকে বরখাস্ত করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগ আনা হয়। সমকামিতার অভিযোগে তাকে জেলে ভরেন। এটা এমন একটি সময়ে ঘটে যখন আনোয়ার ইব্রাহিম অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সংস্কার দাবি করেছিলেন। নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক গুরুও মাহাথির মোহাম্মদ। তারই আস্কারায় ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন নাজিব। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন তিনি। অভিযোগে বলা হয় তিনি ‘১এমডিবি’ তহবিল থেকে প্রায় ৭০ কোটি ডলার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে নিয়েছেন। তবে নাজিব এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তদন্তে যাতে তিনি ধরা না পড়েন এ জন্য তদন্ত করতে পারেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের তিনি সরিয়ে দেন। তখনও বিএন পার্টির সঙ্গে যুক্ত মাহাথির। নাজিবের এই দুর্নীতি দেখে তিনি ঠিক থাকতে পারেন নি। তাই ২০১৬ সালে তিনি ওই দল থেকে বেরিয়ে আসেন। যোগ দেন হাকাতান হারাপানের সঙ্গে। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিকে তিনি সমর্থন দিতে দেখেছেন তার দলকে। তাই তিনি বিব্রত বিএনের বিষয়ে। এরপর জানুয়ারিতে তিনি ঘোষণা দেন, আবারও রাজনীতির মাঠে নামবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ জন্য পুরনো ‘শত্রু’ আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে হাত মেলান। চুক্তি হয় মাহাথির নির্বাচিত হলে দু’বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আইন সংশোধন করে বর্তমান জেলবন্দি আনোয়ার ইব্রাহিমকে বের করে আনবেন। তারপর তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

আজ শপথ নেবেন মাহাথির, সংবাদ সম্মেলন বাতিল নাজিবের

নির্বাচনে জয়ের পর মাহাথির মোহাম্মদ
মালয়েশিয়ায় বিশ্বের সবেচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিতে যাচ্ছেন মাহাথির মোহাম্মদ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়া মাহাথিরের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটলো। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের জোটকে হারিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসছেন সবচেয়ে বেশি সময় দেশটিতে ক্ষমতায় থাকা মাহাথির।
মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান বিজয়ী হয়েছে। ২২২টি আসনের মধ্যে ১১৫টি আসনে তাদের প্রার্থীর জয়ী হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সরকার গঠনের জন্য ১১২টি আসনে জয় পাওয়ার দরকার ছিল তাদের। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আর মাত্র কয়েকটি আসনের ভোট গণনা বাকি।
এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাসিওনালের ঝুলিতে গেছে ৭৯টি আসন। ১৯৫৭ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিল দলটি। ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর ধরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় থাকা বারিসান ন্যাসিওনাল জোটের পরাজয় হলো। এই জোটের ও সরকারের নেতৃত্বে থাকা নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে চলতি বছরই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপরই সামনে আসেন মাহাথির মোহাম্মদ। জয়ের পর মাহাথির বলেন, তার সরকার আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবে। বৃহস্পতিবার সকালেই মাহাথির বিজয় দাবি করলেও এখনও কোনও মন্তব্য করেননি নাজিব।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সাধারণত রাত ১১টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও রাত তিনটার আগ পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। অভিযোগ ওঠে, ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নাজিব হয়তো ফল বিলম্বিত করতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে দোদুল্যমান আসনগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও অভিযোগ ওঠেছে।
তবে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ১১২টির বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে পাকাতান হারপান। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন পাকাতান হারাপান জোটের চেয়ারম্যান মাহাথির। একই সঙ্গে আজ থেকেই সরকারের দায়িত্ব নেবে জোটটি।
এদিকে নাজিব রাজাক বুধবার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করেছেন বলে জানায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটটাইমস। তার বক্তব্যের অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,  দলের নেতারা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন।
দলের নেতা খায়রি জামালউদ্দিন বলেন, তার জোট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জনগণের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই।’
বিজয় নিশ্চিতের পর মাহাথির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা কোনও প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’  নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই মাহাথির জানিয়েছিলেন, পাকাতান হারাপানের জয় সুনিশ্চিত। বারিসান ন্যাসিওনাল জোটের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘তারা আমাদের কোনওভাবেই পরাজিত করতে পারবে না।’
মাহাথিরের জয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন মাহাথিরের সমর্থকরা। তারা জানান, ‘আমরা খুবই খুশি। মালয়েশিয়ার জন্য আজ সুখের দিন।’ ডেভিড থাইগা নামে এক মালয়েশীয় বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তের জন্য গত ৬০ বছর অপেক্ষা করছিলাম। মাহাথিরের ভক্ত না হলেও আমি মনে করি তার পক্ষেই এমন জয় সম্ভব।’
জয়লাভের পর অবশ্য দুই বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না ৯২ বছর বয়সী এই নেতা। বিরোধী দলের নেতৃত্ব নেওয়ার চুক্তির সময়ই এমন শর্ত মেনে নিয়েছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির। চুক্তি মোতাবেক, নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমকে ক্ষমা করে দিয়ে মুক্ত করবেন। আর দুই বছরের মধ্যে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি। নাজিব রাজাকের মতো আনোয়ার ইব্রাহিমও একসময় মাহাথির মোহাম্মদের শিষ্য ছিলেন। তবে অনেক ক্ষমতাবান ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ১৯৯৯ মাহাথিরই তাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছেন তারা।
আনোয়ারকে ইব্রাহিমকে মুক্ত করার বিষয়ে মাহাথির জানান, জুনে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। মুক্ত হওয়ার পর তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন।
সরকার গঠনের বিষয়ে মাহাথির জানান, ‘যেহেতু আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। আমরাই সরকার গঠন করব। পিকেআর নেতা আনওয়ার আজিজের স্ত্রী ওয়ান আজিজা ইসমাইল আমাদের উপ-প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের পর অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ দেবেন।

তারুণ্যের সংকট: কেন মিলছে না চাকরি? by উৎপল রায়

অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষকরা বলছেন- সরকারি চাকরিতে পদের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতা, কোটার প্রতিবন্ধকতা, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর বহাল রাখা, নিয়মিত শূন্য পদ পূরণ না হওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ ও তদবির বাণিজ্যসহ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত বেকারদের কাছে সরকারি চাকরি সবসময়ই ‘সোনার হরিণ’। অন্যদিকে বেসরকারিখাতে কারিগরি ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীর চাহিদা বেশি। কিন্তু সে অনুপাতে শিক্ষার্থী স্বল্প। যে কারণে বেসরকারিখাতে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ ও প্রচলিত শিক্ষার্থীদের জন্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরির বাইরে বড় ভরসা বেসরকারিখাত। বর্তমানে বিকাশমান অর্থনীতি ও শিল্পখাতে কারিগরি ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন লোকের চাহিদা বেশি। এক্ষেত্রে সাধারণ ও প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিতদের চাহিদা কম থাকায় তাদের বিশাল একটি অংশ বেসরকারিখাতে চাকরিতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে, বেকারত্বের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। কৃষি, শিল্পে লেগেছে আধুনিকতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া। গার্মেন্ট, ওষুধ শিল্পসহ বেসরকারি নানা ক্ষেত্রে লোকবলের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে যে পরিমাণ কারিগরি ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন লোকবল প্রয়োজন সেই অনুপাতের শিক্ষার্থী দেশে নেই। সঙ্গত কারণেই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের দিয়ে সে অভাব পূরণ করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকে লোক এনে সেই অভাব পূরণ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষাকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম সেখানে বেকার সমস্যা থাকবেই। বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান যেমন একটি সমস্যা, তেমনি মানসম্মত কর্মস্থানের অভাবও আরেকটি সমস্যা। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির কৌশলে যেভাবে আমরা এগুচ্ছি, সেখানে কর্মসংস্থান কম তৈরি হচ্ছে। আর বেকাররা যে ধরনের কর্মসংস্থান পেতে চায়, সে ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি এক ধরনের নিশ্চয়তার বিষয় বলে এর প্রতি আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। যদি ব্যক্তি ও বেসরকারিখাতে অনেক কর্মসংস্থান থাকতো তাহলে সরকারি চাকরির প্রতি এত নজর থাকতো না। আর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার জায়গায় দুর্বলতা আছে। দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়ও আছে। আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা শুনি জনবল সংকট। দেখা যাচ্ছে জেলায় জেলায় আড়াইশ বেডের হাসপাতাল হচ্ছে, কিন্তু জনবল আছে ৫০ বেডের। সরকারি চাকরিতে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এগুলো সচল হচ্ছে না। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চাকরি না পাওয়ার মূল কারণ হলো কর্মসংস্থানের সংকট। এই যে কোটা সংস্কার আন্দোলন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর আন্দোলন- এগুলো চাকরির সংকটের কারণেই। তিনি বলেন, একটা চমকপ্রদ তথ্য হলো, বাংলাদেশে আশপাশের দেশ থেকে কিছু সংখ্যক লোক এখানকার কর্মসংস্থানের সুযোগ নিচ্ছে। তার মানে আমাদের তরুণ তরুণীদের যে শিক্ষা আমরা দিচ্ছি এই প্রতিযোগিতার বাজারে সেটা নেয়া হচ্ছে না। আর অন্যরা আশপাশ থেকে এসে যে ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে, সে ব্যাপারেও আমরা সচেতন না। 
কেন শিক্ষিত বেকার বাড়ছে এমন প্রশ্নে শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি ও রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থাও ভালো নয়। এ কারণেই বেকার ও উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে। তিনি বলেন, নৈতিক আস্থাহীনতা ও জাতীয় লক্ষ্যহীনতা- এগুলো যুক্ত হয়ে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, বেকারত্বের সমস্যা প্রত্যেক জাতির মধ্যেই আছে। সরকার সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করে চিন্তা করে যতটুকু পারা যায় সমাধান করে। বেকার সমস্যার সমাধানের নানা উপায়ও আছে। তবে, এ নিয়ে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করতেই হবে।  আমাদের আরো বেশি কর্মমুখী, কারিগরি ও পেশামুখী শিক্ষা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের শিক্ষিতরা যে ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত এটি সবসময় আমাদের বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। সেজন্যই কেউ কেউ চাকরি পায় না। তবে, এখানে চাকরিদাতারাও সমস্যা সৃষ্টি করে। তারা অভিজ্ঞ, দক্ষ লোক চায়। কিন্তু দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক তো সবসময় পাওয়া যাবে না। এটিতো চাকরি ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমেই হবে। এটি পৃথিবীর সব দেশেই হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ম্যানুফেকচারিং এগুলো শ্রম নিবির নয়। এগুলো শ্রম নিবির থাকা দরকার। ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বেকারত্ব সমস্যা নিরসনে আমাদের দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতি আরো বেশি নজর দেয়া উচিত।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এতদিন পর্যন্ত যে খাতগুলোতে মূল কর্মসংস্থানের চালিকাশক্তি বলা হতো সেই খাতগুলো ধীরে ধীরে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য আরো বেশি মেকানাইজড ও মেশিনকেন্দ্রিক হচ্ছে। সে কারণে যে মাত্রায় আগে কর্মসংস্থান তৈরি হতো, সেই মাত্রায় এখন কর্মসংস্থান কম। তিনি বলেন, দেশে জেনারেল ডিগ্রিধারী পেশাদারদের চাহিদা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যেহেতু শিল্পখাতের উন্নয়ন হচ্ছে আগামীতে নতুন নতুন শিল্পখাত আসবে। তাই আগামীতে জেনারেল ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েটদের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে আসবে। সেক্ষেত্রে আরো বেশি টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার লোক দরকার। খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শিক্ষিত বেকারের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে দুটো বিপরীতমুখী চিত্র রয়েছে। একদিকে প্রতিবছর সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রচুর সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে, তারা চাকরির জন্য আবেদনও করছে। অন্যদিকে দেখা যায় বাংলাদেশে বিদেশ থেকে এসে প্রচুর পেশাদার লোক বেসরকারি বিভিন্ন খাতে কাজ করছে এবং দেশ থেকে তারা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। এখন যেটি বলার বিষয় সেটি হচ্ছে- দেশে যারা গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে এবং তারা যে শিক্ষা পাচ্ছে তাতে তারা যথেষ্ট দক্ষতা সম্পন্ন নন। তাদের সেই দক্ষতার ঘাটতির জন্যই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি এবং পেশাদারদের নিয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা কাঠামোতে পরিবর্তন দরকার। আরো বেশি কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা দরকার। আমাদের ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষাকে আরো উন্নত করতে হবে।
গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল মানবজমিনকে বলেন, বাবা মায়েরা কত কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছে। কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না। বেকার থাকছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে কর্মীরা এসে আমাদের দেশে কাজ করে আমাদের দেশের টাকা তারা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চাকরি না পাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে কম পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। আর বেসরকারি ও শিল্পখাতে যে পরিমাণ কারিগরি ও মেধাসম্পন্ন প্রার্থীর প্রয়োজন হয়, সেই মানের প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায় না। কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা আরো প্রসারের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও যুগপোযোগী করতে হবে এমন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা অনার্স, মাস্টার্স পাস করছে। কিন্তু চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি অনেকেরই মৌলিক, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি জ্ঞান খুবই সীমিত। অনেকেই ভালো ইংরেজি জানে না। মনে হয় যেনতেনভাবে একটা ডিগ্রি নিয়ে একটা চাকরি খোঁজাই তাদের পড়াশোনার উদ্দেশ্য। কিন্তু এতে করে চাকরির বাজারে তারা পিছিয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারাকাত বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পদ খালি আছে।   ব্যাংক ও কর্পোরেট সেক্টরে খালিপদগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। সরকারি চাকরিতেও বহু পদ খালি রয়েছে। কিন্তু পূরণ হচ্ছে না। এই পদগুলো পূরণ করলেও কিছু সমাধান হয়। আর সর্বোপরি দেশে ব্যাপকহারে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার। না হলে বেকারত্বের এই সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিই শুধু চাকরি নয়। দেশে উন্নয়নের একটি নির্দিষ্ট ধারা তৈরি হচ্ছে। এখন অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। এখানে কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ শিক্ষায় শিক্ষিতদের প্রয়োজন। এখন আমাদের চিন্তা করতে হবে আমরা কি ধরনের শিক্ষা চাই, সামনের ১০/২০ বছরে কি ধরনের শিক্ষিত মানুষ আমাদের দরকার। এজন্য একটি কমিশন গঠন করা উচিত। প্রচলিত যে  শিক্ষা ব্যবস্থা এর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কতটুকু অসামঞ্জস্যতা আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। ড. আবুল বারাকাত বলেন, ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড়মাপের পরিবর্তন আনতে হবে। তবে, সেই পরিবর্তনটা কি হবে সেটি এককথায় বলে দেয়া সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা সামনে রেখে এটি করা দরকার। এজন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার।

রোজ রাতে ‘ভাত দে’ ছবির কথা মনে পড়ে by জনি হক, কান

বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি জনি হকের কান-পরিচয়পত্র
কানে যতই বুদ্ধি করে চলুন, বাঙালি খাবারের অভাব যাবে না। তন্ন তন্ন করে খুঁজে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ১০৮টি নীল পদ্ম পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভাত জুটবে না কপালে! ভাতের যে আকাল তাতে রোজ রাতে আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’ ছবির শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে।
২০১৫ সালে প্রথমবার কানে এসে উঠেছিলাম একটি অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে রান্নাবান্নার সব বন্দোবস্ত ছিল। কানে অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, চামচ, চা-কফি বানানোর যন্ত্র; প্রায় সবই থাকে। ফলে ওইবার রোজ রাতে পেটে ভাত পড়েছিল। এর পরের বছর মোয়া-সাতোর যে হোটেলে উঠেছিলাম, সেখানেও ছিল একই সুবিধা। গত বছর তো প্রবাসী মাহবুবুর রহমান প্রতিদিন রাতে উৎসব শেষে ফেরার পর খাবার টেবিলে সাজিয়ে দিতেন বাঙালি খাবার।
কিন্তু এবার জুয়া-লা-পা’র হোটেলটাতে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ভাত কপালে জোটেনি ছয় দিন ধরে! চোখের সামনে তারকারা ঘোরাফেরা করলেও ভাতের দেখা নেই। ফরাসি, ইতালিয়ান আর স্প্যানিশ খাবারের ভিড়ে আরাধ্য লাগছে ভাত। বিখ্যাত নির্মাতাদের কাছে যেমন আরাধ্য স্বর্ণ পাম।
চার বছর আগে কান উৎসবে পয়লা দিন সড়ক লাগোয়া এক রেস্তোরাঁয় বসে ডিম অমলেট, জুস আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েছিলাম খুব মজা করে। কিন্তু যেই না বিল এলো হাতে, মনে হলো কয়েকটা দিন উপোস করতে হবে! ওইটুকু খাবারের জন্য গুনতে হলো প্রায় ২০ ইউরো (দুই হাজার টাকারও বেশি)।
মনে হলো, এভাবে পকেট থেকে ইউরো যেতে থাকলে তো রাজার ভাণ্ডারও শেষ হয়ে যাবে! তাই এ ঘটনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, এমন বোকামি আর নয়। তাছাড়া খাবারও তো অত স্বাদ না। যদিও খাওয়ার সময় তা মনে হয়নি!
সস্তায় খাওয়ার পর্ব সেরে নিতে খুঁজে বের করলাম ম্যাকডোনাল্ডস। কানে এই দোকানই ভরসা। সেখানে গিয়ে অল্প টাকার মধ্যে পেট ভরে যাওয়ার মতো খাবার মেলে। এবার অবশ্য ঢাকা থেকেই বিস্কুট, কেক, পিঠা নিয়ে এসেছি বলে ম্যাকডোনাল্ডসের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে না তেমন।
তাছাড়া অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়া সাংবাদিকদের জন্য উৎসব কর্তৃপক্ষ এবার দারুণ ব্যবস্থা করেছেন। ফেস্টিভ্যাল ভবনের চারতলায় তেরেস দো জার্নালিস্টস অংশে গেলেই খাবারের অভাব নেই। চিপস, বাদাম, জুস, কফি, পানি, ওয়াইন; মোটামুটি ভালোই আয়োজন। শুধু খানাপিনাই যে হয় তা না, লেখালেখির জন্য টেবিল, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। এখানে বসে কাজ করেই বরং আরাম। চারপাশ খোলা। যেদিকে তাকাই নীল জলরাশি আর সারি সারি ইয়ট।
দোতলায় প্রেস রুমের ওপর চাপ কমাতেই আয়োজকরা চতুর্থ তলায় বসিয়েছেন তেরেস দো জার্নালিস্টস। বুধবার (৯ মে) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ছাদে বসেই বেশিক্ষণ লিখলাম। ফাঁকতালে চক্কর দিলাম ভিলেজ ইন্টারন্যাশনালে। সন্ধ্যার দিকে নামলাম দোতলায়। তখন লালগালিচার তারকাদের দেখা মেলে। প্রেস রুম থেকে নিচে তাকিয়ে দেখি, এক ভদ্রমহিলার হাতে ইনভাইটেশন (টিকিট) থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। কারণ, তার পায়ে স্যান্ডেল আর গায়ে গাউন নেই। তিনি হয়তো টিকিট হাতে পেয়ে লালগালিচার ড্রেসকোড বেমালুম ভুলে বসে আছেন!
মনে পড়ে গেলো বুধবারও (৯ মে) রেল ধর্মঘট চলছে। এ কারণে সকালে জুয়া-লা-পা থেকে আসতে বেগ পেতে হয়েছে। যেতেও একই ভোগান্তি হলো। হোটেলে ঢোকার আগে একটা খাবারের দোকানে ঢুকেই দেখি পোলাও আর বিভিন্ন রকমের তরকারি সাজানো। দামও অত মনে হলো না। ৬ ইউরো পোলাও, ৬ ইউরো চিকেন। কিন্তু কোন প্লেটে দেওয়া হবে জানতে চাইলে দোকানি যা দেখালো তাতে মনে হলো পালাই! তাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে বললাম, ‘আই উইল বি ব্যাক!’ ওগুলো আসলে বাসন নয়, কলকাতায় যে সাইজের মাটির কাপে চা বিক্রি করে, তারচেয়ে সামান্য বড়!

১৮ বাড়ির ১১টিতেই মশার লার্ভা! by শাহেদ শফিক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৮টি বাড়িতে অনুসন্ধান চালিয়ে ১১টিতেই মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ডিএসসিসি’র মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি ধানমন্ডি,কলাবাগান,পরিবাগ ও অ্যালিফ্যান্ট রোডে পৃথক তিনটি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন চিত্র পেয়েছে। পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এরকম চিত্র যদি সব জায়গায়ই হয় তাহলে নগরবাসীর মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক কঠিন হবে এবং চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ এবারও ছড়িয়ে পড়বে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত নানা রোগের প্রকোপ থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরদের প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। এর মধ্যে অঞ্চল-১ এর কমিটির এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে মশার লার্ভা পাওয়ার এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ৭ মে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সংস্থাটির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মোস্তফা কামাল মজুমদার (উপসচিব)স্বাক্ষর করে প্রতিবেদনটি পাঠান।
বাংলা ট্রিবিউনের হাতে আসা ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিএনসিসির  অঞ্চল-১ এর কমিটি অঞ্চলটির ১৮টি বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা ১১টি বাড়িতেই মশার লার্ভা পেয়েছেন। এসব বাড়ির পানির ড্রাম,ফুলের টব, ঘরের আশেপাশে পড়ে থাকা মাটির ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল,পরিত্যাক্ত কলসি, বালতি,বোতল, কনটেইনার, টায়ার,পলিথিন ব্যাগ,ছোট-বড় গর্ত,নালা ও পুকুরে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা রয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটি গত ৮ এপ্রিল সংস্থাটির অঞ্চল-১ এর ১৫ নং ওয়ার্ডের ৭টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে যে সব বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে সেসব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ির মালিকদের তাদের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাড়ি মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়।
একই অবস্থা দেখা গেছে কলাবাগান এলাকাতেও। গত ২২ এপ্রিল এ এলাকার ৬টি বাড়ি পরিদর্শন করেন। ৬টি বাড়ির মধ্যে ৪টি বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। লার্ভা ধ্বংস করে বাড়ির মালিকদের প্রতিনিয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ৪৫ নম্বর বাড়ির নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা ও ড্রেনে ফেলে রাখায় ও উত্তর ধানমন্ডির ১১৮ নম্বর বাড়িতে অবৈধ ওষধ কারখানা পাওয়া যাওয়ায় বাড়ির মালিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।
ডিএসসিসির ২১ নং ওয়ার্ডে শাহবাগের পরিবাগ, এলিফ্যান্ট রোড ও নিউমার্কেট এলাকায়ও একই অবস্থা দেখা গেছে। গত ৬ মে কমিটির সদস্যরা এলাকাগুলোর ৪টি বাড়ি পরিদর্শন করে প্রতিটি বাড়িতেই মশার লার্ভা পেয়েছেন।
সিটি করপোরেশনের এ প্রতিবেদনটি দেখে অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলেছেন, এরকম চিত্র যদি সব জায়গায়ই হয় তাহলে নগরবাসীর মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক কঠিন হবে।  তাদের আশঙ্কা, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ এবারও ছড়িয়ে পড়বে।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ের দিকে নগরজুড়ে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপের পর ক্র্যাশ পোগ্রাম গ্রহণ,তথ্য জানাতে আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি সংস্থাটি অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নয়। প্রতিবছর পর্যাপ্ত অর্থ খরচের পাশাপাশি জেল জরিমানা ও সচেতনতামূলক নানা উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে সিটি করপোরেশন। এজন্য মশার প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মশাবাহিত নানা রোগ।
এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছর মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আমরা ব্যাপক সর্তকতা অবলম্বন করছি। প্রতিটি অঞ্চলে এডিশ মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে কমিটি দিয়েছি। কমিটি প্রতিনিয়ত আমাদের রিপোর্ট করছে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বুধবার রাতে একাধিকবার ফোন করলেও অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল মজুমদারকে (উপসচিব) পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচারে আইসিসিকে উৎসাহিত করা উচিত বাংলাদেশের

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অপরাধের তদন্ত ও বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)কে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফোরটিফাই রাইটস। বুধবার সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে যেভাবে নির্যাতন করে দেশছাড়া করা হয়েছে তার তদন্ত ও বিচারের জন্য আইসিসিকে উৎসাহিত করা উচিত বাংলাদেশের। এদিকে বর্মী নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। বিশেষ করে তাদের ওপর যে বর্বর নির্যাতন হয়েছে সে বিষয়ে মামলা চালানোর অধিকার আইসিসি’র আছে কি-না তা চানতে চেয়েছে দ্য হেগের ওই আদালত। আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার গত সোমবার ঢাকাকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, তারা সেই চিঠি পেয়েছেন এবং জবাব প্রস্তুতিতে কাজও শুরু করেছেন। আইসিসি নির্ধারিত ডেটলাইন ১১ই জুনের মধ্যেই বাংলাদেশ তার মতামত জানাবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকে বলেন- ‘আমরা তাদের অনুরোধ পেয়েছি এবং বিষয়টি বিবেচনা করছি।’ আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আদালত মনে করে বাংলাদেশের এ বিষয়ে মতামত দেয়া উচিত। ওদিকে ঢাকা সফররত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা পাট্টিন গতকাল পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বর্মী বর্বরতার বিচারে সোচ্চার জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা গতকাল মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে এ বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সেক্সচুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট বিষয়ক বিশেষ দূত প্রমীলা গত নভেম্বরে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। সেই সময়ে তিনি একটি ফ্যান্ট ফাইন্ডিং মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কক্সবাজারে তিনি নির্যাতিত অনেক নারী ও কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রমীলাই প্রথম বলেন- রোহিঙ্গা অনেক নারীকে গ্যাং-রেপ বা গণধর্ষণ করেছে মিয়ানমার আর্মি। বর্মীদের অত্যাচার থেকে প্রাণে বাঁচতে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা অসংখ্য নারীর সঙ্গে কথা বলে সহিংসতায় যৌননির্যাতন বিষয়ক জাতিসংঘ টিম এটি নিশ্চিত হয়েছে বলেও ঢাকা ছেড়ে যান তিনি। পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আদালতের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এবারও তিনি কক্সবাজার যাচ্ছেন। সেখানে তার টিমের সদস্যরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন- দ্বিতীয় দফায় জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা পাট্টিনের কক্সবাজার সফর এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো নারী ও কিশোরীদের সাক্ষ্য-রেকর্ডগুলো বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। আগের বার এমন এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল যাকে ৪৫ দিন বন্দি করে রেখে বর্মীরা গণধর্ষণ করেছে। ওই নারীর শরীরে ক্ষতচিহ্ন, আঘাতের দাগ, কামড়ের ছাপ রয়েছে, যা তাদের ওপর হওয়া নিপীড়নের সাক্ষ্য বহন করছে বলেও জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাপী কাজ করা ওই নারী কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান: এদিকে- রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক প্রেম-প্রীত সিং মঙ্গলবার বলেন, এখন যেহেতু নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহতার কথা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে সরাসরি জেনেছে, তাই দায়ীদের জবাবদিহিতা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার নৃশংসতার দায় বারবার অবিশ্বাস্যভাবে অস্বীকার করে আসছে। সেই সঙ্গে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। তাই ভুক্তভোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতই ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র আশা। নৃশংসতার বিস্তারিত প্রমাণ অস্বীকারের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের মূলত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো ভয়ানক অপরাধ সমাধানে কোনো অভিপ্রায় নেই। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা নির্যাতনের তদন্ত করার যে ফাঁপা প্রতিশশ্রুতি দিয়েছেন তা পুনরাবৃত্তি করা নিরাপত্তা পরিষদের উচিত হবে না। এটি আইসিসিতে পাঠানোর মতো একটি আদর্শ মামলা। সরকার যা করতে চায় না তা করার জন্যই তো আইসিসি সৃষ্টি করা হয়েছে, যোগ করেন প্রেম-প্রীত সিং। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয় এবং তারা আদালতটির বিচার ব্যবস্থা মেনে চলে না। তাই রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি সেখানে নিতে নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগ নিতে হবে, বলেন তিনি। উল্লেখ, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরাসরি দেখার জন্য চলতি মাসের শুরুর দিকে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সিনিয়র কূটনৈতিকরা বাংলাদেশ সফর করেন এবং কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরে যান। চার দিনের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরকালে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির সেনাপ্রধানসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা, সুশীল সমাজ, সংসদ সদস্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বেধে যাবে!

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি হামলাও হয়েছে দু’পক্ষে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরো একটি বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসরাইলের দখল করে নেয়া গোলান উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে বুধবার দিবাগত রাতে সিরিয়ায় ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, ইসরাইলের অভিযোগ তেহরান থেকে গোলান উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাব দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। বৃহস্পতিবার তারা বলেছে, বুধবার দিবাগত রাতভর ইরানের ওইসব সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।  ইসরাইলি সেনা মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস সাংবাদিকদের বলেছেন, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বহু হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব হামলা হয়েছে গোয়েন্দা, লজিস্টিক, সংরক্ষণাগার, সামরিক যান ও রকেট তৈরির উৎসস্থল লক্ষ্য করে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা সামরিক একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ইসরাইলের ওই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে সিরিয়ার একটি রাডার স্থাপনা। এতে বলা হয়, আকাশ পথে প্রতিরক্ষা বিভাগ ইসরাইল থেকে ছুটে আসা কয়েক শত রকেটের মোকাবিলা করেছে। তবে কিছু রকেট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়। এতে একটি রাডার স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। এপ্রিলে হোমস প্রদেশের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হয়। অধীকৃত গোলান উপত্যকায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে সিরিয়ায় ইরানের স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরাইল। তারা ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। কিন্তু সিরিয়ার সেনাবাহিনী তা গুলি করে ভূপাতিত করে। উল্লেখ্য, গত এক বছরে সিরিয়ার ভিতরে বহুবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এখানে উল্লেখ্য, সিরিয়ার সঙ্গে ইসরাইল কৌশলগত দিক দিয়ে এখনও একরকম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছে। যদিও ২০১১ সাল থেকে তাদের সীমান্ত এলাকা মোটামুটি শান্ত রয়েছে। বুধবার রাতের হামলা নিয়ে ইসরাইলি সেনা মুখপাত্র কনরিকাস বলেছেন, হামলা চালানোর আগে রাশিয়াকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চালানো এটা হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ সামরিক অপারেশন।

তুরিনের কথোপকথনের রেকর্ড মন্ত্রণালয়ে

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ওয়াহিদুল হক’র সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বৈঠক নিয়ে তোলপাড় চলছে। ইতিমধ্যে তাকে প্রসিকিউশনের মামলা পরিচালনা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পৌনে তিন ঘণ্টার বৈঠকের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের সিডি ও তুরিনের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার যাবতীয় প্রতিবেদন গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাহিদুর রহমান।
এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনে যেটা বলা আছে সেটাই হবে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা বলছেন, এখন আইন মন্ত্রণালয় বিধি মোতাবেক তুরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪শে এপ্রিল গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ওই দিন সকালেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে পাকিস্তান আর্মির ২৯ ক্যাভালরির সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৮শে মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টের আশপাশ এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালি ও সাঁওতালদের ওপর হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ২৫শে এপ্রিল ওয়াহিদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এই মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তুরিন আফরোজ।
তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গত বছরের ১৭ই নভেম্বর তিনি আসামি ওয়াহিদুল হককে নিজেই ফোন দিয়ে কথা বলেন। এরপর ১৮ই নভেম্বর দ্বিতীয়বার কথা বলেন। পরে ১৯শে নভেম্বর গুলশানের একটি রেস্তুরায় তার সহকারী ফারাবিকে নিয়ে সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে ওই আসমির সঙ্গে বৈঠক করেন। তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আসামি ওয়াহিদুল হকের কাছে মামলার তদন্তের নথিপত্র সরবরাহ করেছেন। আর ওই আসামির সঙ্গে বৈঠকের পুরো অডিও রেকর্ড তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রসিকিউশন অফিসে আসলে এর ভিত্তিতে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সকল মামলার কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। এরই প্রেক্ষিতে আসামি ওয়াহিদুল হক’র মামলার দায়িত্ব থেকে তুরিন আফরোজকে গত ৭ই মে প্রত্যাহারের আদেশ দেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। একই সঙ্গে ৮ই মে তাকে ট্রাইব্যুনালের সকল মামলা পরিচালনা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন মানবজমিনকে বলেন, তদন্ত সংস্থা থেকে তুরিন সম্পর্কে আমাদের কাছে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছিল। এরপর প্রথমে ওই আসামির মামলা থেকে এবং পরে ট্রাইব্যুনালের সকল কার্যক্রম থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌনে তিন ঘণ্টার অডিও রেকর্ড ও তদন্ত সংস্থা থেকে পাওয়া অন্যান্য প্রতিবেদন আইনমন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, এটা যদি সত্যি হয় তবে মন্ত্রণালয় অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরো বলেন, আমিতো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাই না, বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। কাজেই এ বিষয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ওই আসামির সঙ্গে তুরিনের বৈঠকের বিষয়ে আমরা বিস্মিত। বৈঠকের পৌনে তিন ঘণ্টা অডিও রেকর্ড শুনেছি। তাতে তুরিনের সহকারীকে ওই আসামিকে বলতে শোনা গেছে যে তিনি (আসামি ওয়াহিদুল হক) যেহেতু এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন তাই ২০/২৫ কোটি টাকা তার কাছে কোনো ব্যাপারই না। ট্রাইব্যুনালের একজন আইনজীবী হয়ে কি কারণে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামির সঙ্গে বৈঠক করেন এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে আইনমন্ত্রণালয়ে ওই অডিও রেকর্ডের সিডির কপি ও অন্যান্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তুরিনের বিরুদ্ধে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিভঙ্গ এবং পেশাগত গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। ওই প্রসিকিউটর বলেন, মোবাইল ফোনের কথোপকথনে বোঝা যায় তুরিন নিজেই ওই আসামিকে খুঁজে বের করেছেন। নিজের উদ্যোগেই কথা বলেছেন এবং সরাসরি সাক্ষাত করেছেন। তুরিনের প্রথম কলে আসামি একাধিকবার তুরিনের নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এ ঘটনায় আমরা হতবাক ও মর্মাহত। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। সেক্ষেত্রে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গসহ অন্য কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আইন মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী। ট্রাইব্যুনাল ও বিচারাঙ্গনের মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় আমরা হতাশ ও মর্মাহত।
তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পান। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত একাধিক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মামলা পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর নিয়মিতই তিনি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ছিলেন।
এদিকে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরিন আফরোজ। তদন্তের স্বার্থে তিনি যেকোনো কৌশল গ্রহণ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ছাড়া তাকে প্রসিকিউশন থেকে বরখাস্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। গতকাল ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘আমাকে নিয়ে একটি অতি উৎসাহী দৈনিক পত্রিকাতে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তা ভাইরাল করে, আমাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। এটাও বলা হচ্ছে যে, আমাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য: আমি এখনও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি। আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে।
সুতরাং যেকোনো মামলাতে তদন্ত করার এখতিয়ার আমার আছে। আর তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সুতরাং, আমি তদন্তের স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি এ পর্যন্ত প্রসিকিউটর হিসেবে যা কিছুই করেছি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত ছিলেন।

ইয়াবায় সয়লাব উদ্ধারে রেকর্ড by মহিউদ্দিন অদুল

হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। দেশের ৭০ লাখ মাদকাসক্তের ৩০ লাখই ইয়াবা আসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, ইয়াবা মহামারি আকার ধারণ করেছে। সংস্থাটিসহ দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার ১০ ভাগও উদ্ধার করতে পারছে না। এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে উদ্ধার হয়েছে আড়াই কোটির বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট। যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তোফিক উদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, মাদকাসক্তদের মধ্যে একদিকে ইয়াবার চাহিদা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে চোরাইপথে তা আসছে। অবৈধ উৎপাদনও হচ্ছে। অন্য দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশসহ সবগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও বেড়েছে। ফলে ইয়াবা উদ্ধারে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ৬৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়। এভাবে চলতে থাকলে এ বছরের শেষ নাগাদ গত বছরে দ্বিগুণ ইয়াবা উদ্ধার হতে পারে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মেথামফিটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা দেশে প্রথম উদ্ধার হয় ১৯৯৭ সালে। ২০০০ সাল থেকে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এদেশে ইয়াবা আসতে শুরু করে। তারপর থেকে ক্রমেই এর প্রসার বাড়তে থাকে। ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে সারা দেশে। এখন প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে রাজধানী শহর ঢাকায় ইয়াবার ছড়াছড়ি। বর্তমানে তিন ধরনের ইয়াবা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মিয়ানমারে যে ইয়াবা বাংলাদেশি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সীমান্ত পার হলেই সেই ইয়াবা ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কক্সবাজার জেলা শহর বা আশপাশে পৌঁছলেই দাম দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। এভাবে রাজধানী ঢাকায় আসলে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে দেড়শ’ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। অল্পতেই অতি লাভের জন্য ইয়াবা পাচারে মরিয়া চক্রটি। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত। ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে এমপিপুত্র, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের প্রভাবশালীরা। মাদক রাজ্যের রাঘব বোয়ালরা ইয়াবায় মত্ত। এমন কি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কতিপয় সদস্যও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ ও কারাপুলিশসহ বিভিন্ন আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ধরা পড়ছে ইয়াবাসহ। অসাধু পুলিশ সদস্যদের একটা অংশ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। অভিনব কায়দায় স্থল, জল ও আকাশপথে দেশে ঢুকছে ইয়াবা। আবার ইয়াবার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশেও তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। সমুদ্রপথে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। এজন্য ব্যবহার হচ্ছে মাছের ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌকা।
আর ইয়াবা পাচার ও পরিবহন হচ্ছে অভিনব কায়দায়। পায়ুপথে, শরীরের চামড়া কেটে তাতে ঢুকিয়ে, ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজে লুকিয়ে, নারীর গোপনাঙ্গে, গৃহপালিত পশু-পাখির পেটে, মাছের পেটে, ক্রিকেট ব্যাটে, ফুটবলে, আম, কাঁঠাল, কুমড়া, তরমুজ ইত্যাদিতে ঢুকিয়ে ও যানবাবহনে লুকিয়ে নানা কায়দায় বহন করা হচ্ছে ইয়াবা। ইয়াবা ট্যাবলেট ছোট দানার সাইজের এবং ওজনে কম হওয়ায় তাতে পার পেয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ পাচারকারী।
এভাবে পরিবহন করে ইয়াবা পৌঁছে যাচ্ছে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন পেশাজীবী তরুণ-তরুণীর হাতে হাতে। তারা ইয়াবায় বুঁদ হয়ে কিছুক্ষণের জন্য মনোদৈহিক শক্তিবর্ধক চাঞ্চল্যে কল্পনার রাজ্যে উড়াল দিচ্ছে। নেশা কেটে গেলেই আবার নেশার জন্য অস্থির হয়ে পড়ছে। অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, ঝিমুনি, অস্থিরতা ইত্যাদি নানা উপসর্গে ভুগছে। নানা রোগ-শোকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার নেশার জন্য ইয়াবার টাকা জোগাড়ে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি ইত্যাদিতে জড়াচ্ছে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীরা। শুধু তাই নয়। ইয়াবার টাকার জন্য খুন করছে মানুষ। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট ঐশী রহমান ইয়াবায় আসক্ত হয়ে তার পিতা পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও মা স্বপ্না রহমানকে খুন করে। ইয়াবায় আসক্তদের এমন খুন ও অপরাধের তালিকা কেবলই দীর্ঘতর হচ্ছে।
দেশে প্রচলনের প্রায় দেড় যুগের ব্যবধানে ইয়াবা এখন অপ্রতিরোধ্য মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত প্রায় এক দশক ধরে অন্যান্য মাদকের সঙ্গে ইয়াবা উদ্ধারেও গতি এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলো সারা দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই উদ্ধার করছে ইয়াবা। ২০১১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রতি বছরই ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ বেড়ে চলছে। ওই বছর সারা দেশে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল ১১ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৮টি। এর মধ্যে ৭৫ হাজার ৮৫৭টি মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বাকি ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৩০১টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে অন্য সব সংস্থা। পরের বছর উদ্ধার হয় ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট। ২০১৩ সালে ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৪টি ইয়াবা ট্যাবলেটের সঙ্গে উদ্ধার হয় ৫ কেজি এমফিটামিন পাউডার। পরের বছর ২০১৪ সালে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ লাখ ৮৯ হাজার ১২টিতে। ২০১৫ সালে উদ্ধার তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১টিতে। এর পরের বছর ২০১৬ সালে তা তিন কোটি ছাড়ায়। সর্বশেষ গত বছর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ২১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭০ ও অন্য সংস্থাগুলো ৪ কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩টি ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু এখানেও তা থামছে না। চলতি বছর আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় চালানে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দু’মাসেই উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট। এর মধ্যে ওই দু’মাসে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে ২ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৪০৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট। অবশ্য মার্চ পর্যন্ত শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উদ্ধার করে ৬ লাখ ২২ হাজার ৪৩৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট। সব মিলিয়ে (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিন মাসসহ) উদ্ধার করা হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, যা ইয়াবা উদ্ধারে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিফ কেমিক্যাল এক্সামিনার ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা মানবজমিনকে বলেন, ইয়াবা বিস্তার মহামারি আকার ধারণ করেছে। গত বছর লক্ষাধিক মামলার মধ্যে ইয়াবার মামলাই ছিল ৩৫ হাজার মতো। দেশে ৭০ লাখ মাদকাসক্তের মধ্যে অন্তত ৩০ লাখ এখন ইয়াবা আসক্ত। প্রথম দু’মাসে আড়াই কোটি উদ্ধার হলে তো অন্তত ১০ কোটি চালান বাজারে আসক্তদের হাতে পৌঁছে গেছে। এ থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন কঠোর করার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চীনের নিয়ন্ত্রণে ই-কমার্স বাজার by এমএম মাসুদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার ও দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’র শেয়ার কেনার পর বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করে ‘দারাজ’কেও কিনে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আলিবাবা’। ‘দারাজ’র একশো ভাগ শেয়ারই কিনেছে আলিবাবা। দারাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে পাকিস্তানে। পরে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালেও তাদের ব্যবসা সমপ্রসারণ করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনে নেয়া প্রমাণ করে চীনা উদ্যোক্তাদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
দারাজ মূলত অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে পারে। এটির প্রধান কোম্পানি ছিল রকেট ইন্টারনেট। জার্মান এই কোম্পানিটি মঙ্গলবার এক  বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের পুরো ব্যবসাই তারা আলিবাবার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।
ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ সারা দেশেই রয়েছে নানা রকম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ। কয়েক বছর ধরেই ঢাকা ও এর বাইরে ই-কমার্সের ক্রেতা ও গ্রাহক বেড়েছে। ঢাকার বাইরে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ই-ক্যাব আরো বড় হয়েছে। গত কয়েক বছরে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ নির্ভর বাণিজ্যের হার বেড়েছে। ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা বতর্মানে ৭৩০।
‘দারাজ’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তির ফলে আলিবাবার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে প্রযুক্তি, অনলাইন কমার্স, মোবাইল পেমেন্ট এবং লজিস্টিকস দ্বারা লাভবান হবে দারাজ, যা নিশ্চিত করবে দক্ষিণ এশীয় এই পাঁচটি দেশের সফল উন্নতি ও অগ্রগতি। আলিবাবার কাছে বিক্রি হলেও দারাজের ব্র্যান্ড নামে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দারাজ বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। পাকিস্তানের কোম্পানি রকেট ইন্টারনেটের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটি শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও নেপালেও অনলাইনে বিকিকিনি চালিয়ে আসছে। দারাজের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ার্কে মিক্কেলসেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, এই চুক্তির ফলে আলিবাবা পরিবারে জায়গা করে নিলো দারাজ। আলিবাবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করার জন্য দারাজ ‘প্রস্তুত’ বলে জানান দারাজের আরেক সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাথন ডোয়ার।
এদিকে বাংলাদেশে আলিবাবার প্রবেশ নিয়ে স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, এতে করে স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণ ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, ই-ক্যাবের তরফ থেকে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যাতে কোনো বাইরের কোম্পানি বাংলাদেশের কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে না পারে। ৫১ শতাংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার যেন দেশীয় মালিকানায় থাকে। উল্লেখ্য, দারাজ ছাড়া বাংলাদেশে অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ইন্টারনেট কোম্পানির মধ্যে আছে বিক্রয় ডট কম, আজকের ডিল ও ফুড পান্ডা।
ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আলিবাবা বাংলাদেশে আসার জন্য স্বাগত জানাই। তবে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। যেমন- মূল্য নির্ধারণে প্রতিযোগিতা হতে পারে। দেখা গেল গ্রাহক ধরার জন্য প্রথম দিকে বিভিন্ন পণ্য কম দামে বিক্রি শুরু করেছে। এতে করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পেরে উঠতে পারবে না। এজন্য আমরা সরকারের কাছে ই-কমার্স নীতিমালা তৈরি করে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছি। আশা করি নীতিমালা হয়ে গেলে তখন আর কোনো বৈষম্য থাকবে না।
ই-ক্যাবের সাবেক সভাপতি রাজীব আহমেদের মতে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ই-কমার্সের সম্প্রসারণ ঘটছে বেশ দ্রুত গতিতে। স্বাভাবিকভাবেই এখানে ঢুকতে আগ্রহী হবে আলিবাবা বা আমাজনের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি বলেন, দেশে ই-কমার্স খাতে ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। তার মতে, আলিবাবার মতো প্রতিষ্ঠান যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেটি ই-কমার্সের ভোক্তাদের মধ্য আস্থা তৈরি করতে পারবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে মানুষের সেরকম বিশ্বাস বা আস্থা তৈরি হয়নি। শতকরা আশিভাগ ক্ষেত্রেই পেমেন্ট হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে। বাইরের বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এখানে ই-কমার্সের চেহারা পাল্টে দিতে পারে এবং এ ব্যাপারে ভোক্তাদের আস্থাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে চীনের এই জায়ান্ট কোম্পানি আলিবাবা। এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ায় জন্য ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পেয়েছে চীনের সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আলিবাবা কোম্পানির সারা বিশ্বে সুখ্যাতি রয়েছে। কোম্পানিটির আমাদের দেশে বিনিয়োগ করা একটা ভালো ইঙ্গিত বহন করছে। এতে করে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিকও উন্নতি ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

ইরান চুক্তি থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া

বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে যেভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ঠিক একইভাবে ইউরোপের আহ্বানকে উপেক্ষা করে তিনি ইরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিলেন। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ফ্রান্স, জার্মানি ও বৃটেন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কিন্তু তার তোয়াক্কা করেন নি তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে মঙ্গলবার দেয়া এক ভাষণে তিনি আরো হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, একপক্ষীয় ওই চুক্তিকে খর্ব করতে ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তি কখনোই করা উচিত হয়নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এ নিয়ে হতাশ যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতার মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের অন্য পাঁচটি শক্তিধর দেশ ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হয় ২০১৫ সালে। এতে বলা হয়, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। বিনিময়ে তার ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করা হবে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রাখা বা তারা যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে তা প্রতিরোধ করা। কিন্তু পূর্বসূরি বারাক ওবামার করা ওই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বারাক ওবামার ওই চুক্তি ইরানের ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কিছুই করতে পারেনি। এ ছাড়া ইয়েমেন ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরানের সংঘাতময় ভূমিকা আছে। ট্রাম্প ১৬ মাস আগে যখন ক্ষমতায় আসেন তখনই এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সেই থেকে আটলান্টিকপাড়ের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একের পর এক ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ওয়াশিংটন দৌড়াতে থাকেন। তারা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারা তাকে এই চুক্তিটি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। কিন্তু গত সপ্তাহে কিছু কূটনীতিকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরবেন না। তিনি এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেয়ার আগে মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণভাবে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি চুক্তি থেকে বেরিয়েও যায় তবু চুক্তিতে অটল থাকবে ইরান।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দাপ্তরিকভাবে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে দেশটি বড় ভুল করেছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ট ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন রুহানি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে চুক্তি অব্যাহত রাখবে ইরান। অন্য সদস্যদের সহায়তায় আমরা যদি চুক্তির মূল লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হই, তাহলে চুক্তি বহাল থাকবে।’ ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীন ও রাশিয়াসহ অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন রুহানি। অন্যদিকে, চুক্তি বাতিল হলে আবারো পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করার হুমকি দেন রুহানি। তিনি বলেন, আমি ইরানের আণবিক শক্তি সংগঠনকে নিদের্শনা দিয়েছি। যেন তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারে। আর এবারের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো মাত্রা না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রুহানি বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করবো। তার আগে আমাদের বন্ধু, মিত্র ও চুক্তির অন্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান মানেই চুক্তি বাতিল নয়: যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও চুক্তি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো। ফ্রান্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া মানেই ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল নয়। সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখেই এই চুক্তি বহাল রাখা হবে। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়াভেস দ্রিয়ান এ কথা বলেন। ফ্রেন্স রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ চুক্তি এখনো বাতিল হয়নি। তা বহাল আছে। আগামী সোমবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি। তখন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো এই চুক্তি অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে রাশিয়া ও চীন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। 
তেলের দাম বৃদ্ধি: পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে তেলের দরে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বাড়তে থাকে তেলের দর। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিব্যারেল তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল ক্রুড তেলের দাম দাড়ায় ৭৭.২০ ডলার। সে অনুযায়ী, একদিনে ক্রুড তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.১ শতাংশ। উল্লেখ্য, ইরান প্রতিদিন বিশ্বে মোট তেলের চাহিদার ৩ শতাংশ যোগান দেয়। দেশটি প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি করে।

খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান, দায়সারা ইসি by রোকনুজ্জামান পিয়াস

প্রকাশ্যে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ, গণসংযোগকালে বাধা প্রদান, পুলিশি হুমকি-ধমকি, রঙিন ব্যানার ব্যবহার- আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ আসছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মারধর, বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণার ঘটনাও নিত্যদিনের। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের এমন অভিযোগ এনেছেন। তবে অভিযোগের পাল্লা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ভারি। এছাড়া একই ধরনের অভিযোগ করছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এর মধ্যে বেশকিছু ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগও দেয়া হয়েছে সিটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারের কাছে। তবে কোনো ঘটনাই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি কমিশনকে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই দায় সেরেছেন কমিশনের নির্বাচনী কর্মকর্তারা। অনেক অভিযোগ ঘটনা ঘটার আগে দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার কোন ঘটনার তদন্ত ঝুলে রয়েছে দিনের পর পর। আগামী ১৫ তারিখের নির্বাচনের আগে ওইসব তদন্ত শেষ হওয়ার কোনো আশা দেখছেন না অভিযোগকারীরা। তারা মনে করছেন এসব কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।
গতকাল দুপুর ১২টায় খুলনা সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ড এলাকায় মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ফুটবলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয় আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী-সমর্থক। তারা গণসংযোগে অংশ নেয়া একজনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নিতেও শাসিয়ে যায়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর ২৩, ২৫ ও ৩০নং ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা না চালাতে হুমকি দিয়ে আসে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেলা ২টার আগেই উভয়প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু কর হয়। তবে এ ব্যাপারে কমিশনের তদারকি নেই।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গত ১৬ই এপ্রিলে দেয়া হলফনামার তথ্য গোপন। এ অভিযোগে বলা হয়, তালুকদার আবদুল খালেক নিজ পেশা ও ব্যবসার প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন। তিনি সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার এবং কমার্স ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান, নর্থ ওয়েন্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেডের পরিচালক। তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি নিয়মিত প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করেন। এছাড়া তিনি দলীয় মনোনয়নপত্রে ভোটার নম্বর উল্লেখ করেননি। ১৭ই এপ্রিল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে খুলনা-৩ আসনের এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৪ আসনের এমপি এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা-২ আসনের আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষে ও মঞ্জুর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বিবৃতি দেয়। ২০শে এপ্রিল দেয়া অভিযোগে বলা হয়, নগরীর ২১নং ওয়ার্ডে মঞ্চ করে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে সমাবেশ করে। ২১শে এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের আগেই নৌকায় ভোট চায় তালুকদার আবদুল খালেক, ২৩শে এপ্রিল এমপি শেখ হেলাল উদ্দিনসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। ২৮শে এপ্রিল খুলনা মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, ইন্টার্নি চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত হতে বলা হয়। ওই সভায় উপস্থিত হয়ে ভোট চান তালুকদার আবদুল খালেক। ২৮শে এপ্রিল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জোড়াগেট কাঁচাবাজার চত্বরে মঞ্চ করে মাইকে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। গত ১লা মে নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে তালুকদার আবদুল খালেক সভা করেন। ওই সভায় তিনি তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে বিএনপির দেয়া অভিযোগে সভায় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়। ২রা মে তালুকদার আবদুল খালেক খুলনার সকল সরকারি ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী সভা করেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এ ঘটনার আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হয়। এরপরও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের ১৯টি অভিযোগ দায়েরের কথা বলা হলেও খুলনা বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন সূত্র ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তালুকদার আবদুল খালেকও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ এনেছেন। এরমধ্যে ১৯শে এপ্রিল হলফনামার তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি মঞ্জুর প্রার্থিতা বাতিল চেয়েছেন। এছাড়া গত ২১শে এপ্রিল প্রার্থী বিএনপি প্রার্থী মেয়র মঞ্জুর বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ করেন। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী উল্লেখ করেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে রঙিন ব্যানার ব্যবহার করেন। যা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীও। তারা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এমন অভিযোগের সংখ্যা মাত্র ১০টি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়া কোনো অভিযোগেরই সুরাহা হয়নি আজ পর্যন্ত। এমনকি অভিযোগ দেয়ার পর এই ঘটনা বারবার ঘটেই চলেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, তারা অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ইউনুচ আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া রিটার্নিং অফিসারের তেমন কিছু করার নেই। বিএনপি ও তাদের অভিযোগের তালিকার গরমিলের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় একই ধরনের অভিযোগ বারবার দেয়া হয়। সেটা কাউন্ট করা বা ধরা হয় না।
বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার ৫
খুলনা মহানগরীর এলাকায় পুলিশ ও ডিবির অভিযানে বিএনপির ৫ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশ্রাব্য গালিগালাজ ও জীবননাশের হুমকি দেয় পুলিশ। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপি নেতা সুমনকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই মারপিট করে গুরুতর আহত করা এবং বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন ও বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ধানের শীষের গণসংযোগকালে হামলার শিকার হন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব এহতেশামুল হক শাওন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর শাখার সভাপতি এবং আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গণগ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়ে অভিযোগ করতে তিনি খোদ পুলিশ কমিশনারকে ফোন করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, মাঠ পর্যায়ে তো এভাবে গ্রেপ্তারের কোনো নির্দেশ আমি দেইনি! বিএনপি নেতা মঞ্জু বলেন, কেএমপি কমিশনার যদি অভিযান সম্পর্কে না জানেন, তবে জানতে চাই, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ চলছে কার হুকুমে?
পুলিশের এই গণগ্রেপ্তার অভিযান, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও পরিবারের নারী-শিশু-বয়োবৃদ্ধদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও হুমকি প্রদান বন্ধ না হলে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে নিয়ে রূপসা থেকে ফুলবাড়ি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেয়ার কর্মসূচি নেবেন এবং জনগণের কাছে সরকার ও প্রশাসনের অনিয়ম সম্পর্কে নালিশ জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
রাতে পুলিশের অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সম্পাদক একরামুল কবির মিল্টন, ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজান, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার ও দৌলতপুরের শ্রমিক দল নেতা লোকমান হোসেন। এছাড়া বুধবার দুপুরে দোলখোলা রোডস্থ ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবদুল আজিজ সুমন। বিপুলসংখ্যক সাদা পেশাকধারী ডিবি পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাকে বেদম মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়। অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যরা বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর ও পরিবারের অন্য সদস্যদের গালিগালাজ করেন।
কেএমপি সদর দপ্তরে গতকাল দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ঢালাওভাবে তাদের নেতাকর্মীদের অহেতুক গ্রেপ্তারের যে অভিযোগ করে চলেছেন, তা মোটেও সত্য নয়। এটা তাদের একটি নির্বাচনী কৌশল হতে পারে।
কমিশনার বলেন, যারা নাশকতা করেন, মাদকের ব্যবস্যা করেন তাদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। কোনো রাজনৈতিক দল যদি গ্রেপ্তারকৃতদের তাদের নেতা বলে দাবি করে, তাহলে পুলিশের কিছু করার নেই।
এর আগে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, সিটি নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মিথ্যা ইস্যু সৃষ্টি করে চলেছেন। বারবার অসত্য তথ্য পরিবেশন করে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তিনি। আমাদের যদি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে সকাল ৭টা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত গণসংযোগ করতাম না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনার রশীদ, কাজী আমিনুল ইসলাম, সুজিত রায় নন্দী, ইসহাক আলী খান, মুন্সী মাহবুবু আলম সোহাগ প্রমুখ।
নির্বাচন থেকে সরে যাবে না বিএনপি: মঞ্জু
বিএনপি মনোনীত ও ২০দলীয় জোট সমর্থিত কেসিসি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘আজকেও একটি নির্ঘুম রাত কেটেছে আমার। গতকাল দুপুর থেকে আবার দ্বিতীয় দফায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে শহরময়। পাঁচটি থানায় এ সাঁড়াশি অভিযানে শত শত পুলিশ অংশ নিয়েছে। গতকাল দুপুরে এ সংবাদ পাওয়ার পর আমি পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলাম; তিনি আমাকে বলেছিলেন যে গ্রেপ্তার অভিযান করার মতো নির্দেশনা আমাদের নাই। তার বক্তব্যকে সত্য ধরেই আমি অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু গতকাল সারা রাতে অন্তত দুই শ’ নেতাকর্মী বাড়িতে পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়েছে। সরকারের পরাজয় ঠেকাতে পুলিশকে অসৎভাবে ব্যবহার করছে। যতই ঝড় আসুক বিএনপি তথা ২০ দল এ নির্বাচন থেকে সরে যাবে না। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের এখনো মনোবল অটুট। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর মিয়াপাড়াস্থ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপরোক্ত কথা বলেন।

আপিল শুনানিতে ফের উত্তাপ, হইচই রায় মঙ্গলবার

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আগামী ১৫ই মে রায় দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল এ বিষয়ে শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগ। গতকাল শুনানির শেষ দিনে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দফায় দফায় তুমুল হট্টগোল, হইচই ও উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রধান বিচারপতি এ নিয়ে একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করে আইনজীবীদের সতর্ক করেন। শুনানির শেষ দিকে হট্টগোলের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হন। এর আগে সোমবারও খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে হইচই হট্টগোল হয়। আদালত এদিনও আইনজীবীদের সতর্ক করেন। গতকাল সকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানির অসমাপ্ত বক্তব্য তুলে ধরেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে আরো অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন। তারা খালেদার জামিনের স্বপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গতকালও শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের অংশগ্রহণের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল ৯টা ২০ মিনিটে শুনানি শুরু করেন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ মামলায় আমাদের বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেনি। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এই মামলাকে অন্য সকল মামলা থেকে আলাদা করে এনে দ্রুত বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মানি বা না মানি গোটা রাষ্ট্রকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। এটি বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল। আমি সারা দেশ ঘুরেছি। সারা দেশেই আইনজীবীদের মধ্যে এমন একটা ধারণা যে, কোন মামলায় জামিন হবে কী হবে না, সেটা নির্ভর করছে বিশেষ ক্লিয়ারেন্স আছে কিনা, সেটার ওপর। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এই বক্তব্যের আপত্তি জানিয়ে বলেন, এটা সত্য নয়। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, খালেদা জিয়াকে নির্জন পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। তখন সেটা কারাগার ছিল, কিন্তু সেটাকে এখনও কারাগার ঘোষণা করা হয়নি। আমার বলার পর হয়তো সরকার একটা ফাইল তৈরি করে ফেলবে। এভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অদৃশ্য দ্রুততার সঙ্গে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে চাচ্ছে। ভিন্ন উদ্দেশ্যে এই মামলাটা আনা হচ্ছে। এটা অপ্রত্যাশিত। এ অবস্থায় হাইকোর্ট তার বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, কম সাজা সব বিবেচনায় যথাযথভাবেই জামিন দিয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখতে এই জামিন বহাল রাখা হোক। হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়েছে এটা অর্থনৈতিক অপরাধ। এজন্য শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থনৈতিক অপরাধ হলে তার বিচারের জন্য দেশে অন্য আইন রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এই অপরাধের বিচারের সুযোগ নেই।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এ সময় তিনি মামলাজট নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, সারা দেশে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে লাখ লাখ মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু এ মামলা নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। খন্দকার মাহবুব হোসেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, হাইকোর্ট কোনো মামলায় জামিন দেয়ার পর আপিল বিভাগ সেখানে হস্তক্ষেপ করেন না। করার নজিরও নেই। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই মামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কোনো কাগজপত্রে তাঁর স্বাক্ষরও নেই। এই মামলা যখন শুরু হয়েছিল, তখন ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা। আর এখন মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা। ভারতের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী জয় ললিতা ও লালু প্রসাদ যাদবের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দেয়া উদাহরণের প্রেক্ষিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জয় ললিতার চার বছর সাজা হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিন দিয়েছে। আর লালু প্রসাদ যাদবের ৫ বছররের সাজায় দুই মাসের মধ্যে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট জামিন দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। কিন্তু এখানে দুদক ও সরকার একাকার হয়ে গেছে। আমরা ৫ জন আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁর হাত ফুলে উঠেছে। ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। তিনি কথাও বলতে পারছেন না। জেলখানায় তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। অথচ সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, খালেদা জিয়া নাকি বিশ্রামে আছেন। আদালতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষের জন্য আদালত, আপনাদের মন আছে, বিবেক আছে। এটি সর্বোচ্চ আদালত। এর মান মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদেরও দায়িত্ব আছে। এখন সরকারের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড যদি আমরা মেনে নিই আপনারাও যদি মেনে নেন তাহলে কি হবে?
এ সময় প্রধান বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারে গেলে আপনারাও তাই করবেন।
শুনানিতে জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। মানুষের জন্যই আদালত। আদালতের চোখ আছে, মন আছে, বিবেক আছে। পাবলিক পারসেপশন আছে। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। আমরা আশা করি আদালত এসব কিছু বিবেচনা করবেন। এ সময় জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার জামিনের স্বপক্ষে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অনেক মামলায় জামিন হয়েছে। কিন্তু দুদক তো আপিল করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, তাদেরকে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে জামিন দিয়েছে। ওই জামিনের বিরুদ্ধে আপিলও করেনি দুদক ও রাষ্ট্র। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বয়স ও অসুস্থার বিষয় বিবেচনা করে জামিন বহাল রাখা হোক। খালেদার জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানি করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কোন কর্তৃত্ব বলে বক্তব্য দিয়েছেন আইন তা অনুমোদন করে না। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, তাহলে আপনারা কেন রাষ্ট্রকে পক্ষ করলেন। জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, করতে হয় তাই করেছি।
শুনানিতে খালেদার আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, বকশীবাজারে যে আদালতে এই মামলার বিচারকাজ হয়েছে এটি কোনো পাবলিক কোর্ট নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে এই মামলা এতদূর পর্যন্ত এসেছে। খালেদা জিয়া যদি বিএনপির চেয়ারপারসন না হতেন তাহলে এই মামলা এতদূর আসতো না। তিনি বলেন, এটি একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট। আমি যদি আমার বাবা মায়ের নামে ট্রাস্ট করে ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করবো এটি অবিশ্বাস্য। তিনি আরো বলেন, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। সেখানে দুই কোটি টাকার ব্যাপার। আমি আর নাই বা বললাম। মওদুদ বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা দুদক আইনের ৫ (২) ধারার অধীনে সাজা হয় না। একটি সাজা দিতে হবে। তাই বিচারিক আদালত ৪০৯ ধারায় সাজা দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের শুনানি শেষে দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি শুরু করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার জামিনের বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে আপিল শুনানির শুরুর আর্জি জানান তিনি। আদালতকে তিনি বলেন, এই মামলা বিচারিক আদালতে শেষ হতে ৯ বছর লেগেছে। আমরা চাই না উচ্চ আদালতেও এত সময় লাগুগ। আদালতকে তিনি বলেন, দুদকের স্থায়ী কোনো প্রসিকিউশন নেই। অস্থায়ীভাবে তাদের নিয়োগ দেয়। যে মামলা পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়া হয়, শুধু সেই মামলাই তাঁরা পরিচালনা করেন। এই মামলায় বিচারিক আদালত ভুল করেছে- এমন উল্লেখ করে দুদক আইনজীবী বলেন, এই কারণে আমরা হাইকোর্টে রিভিশন করেছি।
দুপুর একটার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অংশগ্রহণ নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলায় প্রথম অংশ নেন। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানিতে অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের বিভিন্ন মামলার নজির তুলে ধরে এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাকে আমরাই অ্যাডমিট করেছি। বেঞ্চের অন্য বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আপনি যে কোনো মামলায় অংশ নিতে পারেন। একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় টাকার উৎস সম্পর্কে বক্তব্য দিতে থাকেন। তিনি বলেন ১৯৯১ সালে এই টাকা এসেছিল। অ্যাকাউন্ট খোলা ও টাকা কীভাবে বিভিন্ন ভাবে ভাগ হয়েছে সে বিষয়ে আদালতে বক্তব্য তুলে ধরতে থাকেন তিনি। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের এসব বক্তব্যে আমাদের আপত্তি আছে। উনি যদি পিছনে যেতে চান তাহলে আমরাও পিছনে যাব। জয়নুল আবেদীনের এই বক্তব্যের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা চিৎকার করতে থাকেন। অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, টাকা কীভাবে ভাগ হয়ে চলে গেছে, সেটা তো আমাকে বলতে হবে। এ সময় জয়নুল আবেদীনের পাশে থাকা খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন উচ্চস্বরে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এ পর্যায়ে দুইপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের বেশ কয়েকজন আইনজীবী উঠে দাঁড়িয়ে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। মাহবুব উদ্দিন খোকন অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন ‘আপনি কোর্টকে শেষ করে দিচ্ছেন’। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এভাবে হইচই করলে কোর্ট চালাতে পারব না। আপনারা যদি হইচই করেন তাহলে কোর্ট চালানো অসম্ভব হয়ে যাবে’। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। তিনি বলেন, ‘এমন পরিবেশে কীভাবে সাবমিশন রাখব।’ এ পর্যায়ে সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল আবারো তার বক্তব্য তুলে ধরেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্যের বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যে রোগের কথা বলা হচ্ছে, সেই রোগ নিয়েই তিনি রাজনীতি করেছেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন। এই রোগ নিয়েই তিনি সবকিছু করছেন। এটা সহনীয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য মঙ্গলবার (১৫ই মে) দিন ধার্য করেন।