Wednesday, January 29, 2025
১৬ বছর কারাগারে: মেলেনি মায়ের জানাজায় অংশ নেয়ার অনুমতি, হারিয়েছেন ২৬ স্বজন
আলতাফ হোসেনের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাওয়ালকার এলাকায়। পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে ১৯৯২ সালের ১৭ই জানুয়ারি তিনি বিডিআরে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় ২০০৯ সালের ৩রা মার্চ বিডিআর ১৩ ব্যাটালিয়নে ল্যান্স নায়েক হিসেবে পিলখানায় যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর মর্মান্তিক পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই বছরের ২৩শে মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ২ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৪ বছর বয়সী এক মেয়েকে রেখে কারাবন্দি হতে হয় আলতাফ হোসেনকে। পরবর্তীতে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়। এরমধ্যে বিভাগীয় মামলায় তার সাত বছরের কারাদণ্ড এবং দায়েরকৃত হত্যা মামলায় তিনি খালাস পান। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাটিতে গত ১৯শে জানুয়ারি জামিন পেয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৩শে জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৬ বছর পর বরগুনার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন আলতাফ হোসেন। তবে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে ২৬ জন স্বজনের সঙ্গে ২০২২ সালে মৃত্যু হয় তার মা আমেনা বেগমের।
এতগুলো বছর ধরে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণসহ পরিবারের হাল ধরেন আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিরীন সুলতানা। একদিকে স্বামীর মামলা পরিচালনার খরচ, অপরদিকে দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে অমানবিক কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। বুঝতে শেখার আগে বাবা দূরে আছেন জানিয়ে বুকে কষ্ট চাপিয়ে বড় করতে হয়েছে ছেলে-মেয়েকে। টাকার অভাবে অনেক সময় তিনবেলা ঠিকভাবে খাবার যোগাতেও হিমশিম খেতে হয়েছে শিরীন সুলতানাকে।
আলতাফের বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ বছর পর আলতাফ জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফেরায় আনন্দের জোয়ার বইছে বাড়ি জুড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে স্বজনরা ছুটে এসেছেন আলতাফের সঙ্গে দেখা করতে। ১৬ বছর পর স্ত্রী-সন্তানদের কাছে পেয়ে আনন্দের অশ্রুও ঝরছে আলতাফের। ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতি বিজড়িত স্থানসহ বিভিন্ন স্বজন ও মায়ের কবর দেখতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তবে সবকিছু কাছে পেয়েও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো বরগুনার আরও দু’জন কারাগারে থাকায় পরিপূর্ণ আনন্দ নেই আলতাফ হোসেনের মনে। খুব দ্রুতই তাদেরও মুক্তি মিলবে এমনটাই আশা করছেন তিনি।

Sunday, December 18, 2022
কোমর ব্যথা হলেই কিডনির সমস্যা নয়! by ডাঃ এম. ইয়াছিন আলী
ম্যাকানিক্যাল ব্যাকপেইন বা পশ্চারজনিত কোমর ব্যথা : এই পশ্চারজনিত কোমর ব্যথা বা মেকানিক্যাল ব্যাকপেইনে ৮০ শতাংশ মানুষ ভুগে থাকে যারা একাধারে দীর্ঘক্ষণ বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করে তাদের এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। যেমন- মাসল-স্পাজম বা মাংসপেশির সংকোচন, মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি।
লাম্বার স্পনডাইলোসিস : এটি মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর ক্ষয়জনিত রোগ এখানে মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলো ক্ষয় হয়ে দুইটি কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা স্পেস কমে যায়। পাশাপাশি কশেরুকাগুলোর সঙ্গে ছোট ছোট নতুন হাড়ের সৃষ্টি হয়, যাকে অস্টিওফাইট বলে, স্পাইনাল নার্ভগুলোর ওপর চাপ দেয় যার ফলে কোমরে ব্যথা অনুভ‚ত হয়।
লাম্বার স্পনডাইলোলিসথেসিস : আমাদের মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলো একটি নির্দিষ্ট এলাইনমেন্ট বা অবস্থানে থাকে যখন কোনো কারণে এই কশেরুকাগুলোর এক বা একাধিক কশেরুকা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায় তখন এই সমস্যাটিকে লাম্বার স্পনডাইলোলিসথেসিস লা হয়, এর ফলে কোমরে ব্যথা অনুভ‚ত হয় ।
এনকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস : এটি একটি মেরুদণ্ডের বাত রোগ এর ফলে মেরুদণ্ডটির স্বাভাবিক বক্রতা নষ্ট হয়ে সোজা হয়ে যায় পাশাপাশি একটি কশেরুকা অন্যটির সঙ্গে ফিউজড বা জমাট বেঁধে যায় যার ফলে রোগীর মেরুদণ্ডের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া কমে যায় যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাড় ও কোমরের রেঞ্জ অব মোশন বা মুভমেন্ট কমে যায়।
পিএলআইডি বা ডিস্ক-প্রলেপস : আমাদের মেরুদণ্ডের গঠন অনুযায়ী প্রত্যেকটি কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানে পেশির ন্যায় সেমি এলিড এক ধরনের পদার্থ থাকে সেটিকে মেডিকেল পরিভাষায় ডিস্ক বলে। এটির মাঝখান থেকে স্পাইনাল নার্ভগুলো বের হয়ে রুট অনুযায়ী হাত ও পায়ের দিকে যায় যখন এই ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায় তখন এটিকে ডিস্ক প্রলেপস বলে। এই ডিস্ক সরে গিয়ে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে তখন ব্যথা অনুভ‚ত হয়।
অস্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ভঙ্গুরতাজনিত কোমর ব্যথা : এটি হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেমন আমাদের চুল পেকে যায় তেমনি হাড়ের ভেতরের উপাদানগুলো কমে যায়, যার ফলে বোন মিনারেল ডেনসিটি কমে যায় তখন হাড়গুলো ভঙ্গুর হতে থাকে। কোমরের মেরুদণ্ডের হাড়গুলো যখন অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয় তখন কোমর ব্যথা অনুভ‚ত হয়।
স্পাইনাল টিউমার বা ক্যান্সার : আমাদের মেরুদণ্ডের লাম্বার স্পাইনে বা কোমরের অংশে যদি টিউমার, টিউবার কোলোসিস বা টিবি অথবা ক্যান্সার হয় সে ক্ষেত্রেও কোমর ব্যথা হতে পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বেশিরভাগ কোমর ব্যথার কারণগুলোর উপসর্গ প্রায়ই একই। যার কারণে কোমর ব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রæত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোমর ব্যথার সঠিক কারণটি নির্ণয় করে চিকিৎসা নিন কোমর ব্যথা মুক্ত জীবনযাপন করুন।
>>>লেখক- ডাঃ এম. ইয়াছিন আলী: কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয়প্রধান, ফিজিওথেরাপি বিভাগ প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিফ-কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা। মোবাঃ ০১৭৮৭-১০৬৭০২
Wednesday, October 14, 2020
রবীন্দ্রসান্নিধ্যে গগন হরকরা by মো. মুখলেছুর রহমান ভূঁঞা

হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে দেশবিদেশে বেড়াই ঘুরে।
কোথায় পাব তারে।
এই বিখ্যাত মরমি গানের রচয়িতা গগন। যার পূর্ণ নাম গগনচন্দ্র দাম। দাম পদবী বাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে দেখা যায়। দাঁ এবং দাম পদবী একই উৎস থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। গগন ছিলেন সামান্য শিক্ষিত আর তা দিয়েই তিনি শিলাইদহ ডাকঘরে ডাক হরকরার চাকরি পেয়েছিলেন। এ জন্য তার নামের পাশে হরকরা শব্দটি যোগ করে গগন হরকরা নামে ডাকা হত এবং এ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তার প্রকৃত নাম গগনচন্দ্র দাস।
নাম তার গগন কিন্তু পদবি ডাক হরকরা তাই পোস্ট অফিসের চিঠি বিলির কাজে ঝাঁ ঝাঁ রোদে মাঠে ময়দানে কিংবা গাঁয়ে গাঁয়ে এঁকে ঘুরতে হত। সে সময় মাঠের মধ্যে, নদীর তীরে গগন প্রাণের আনন্দে মরমি সঙ্গীত গেয়ে শান্ত প্রকৃতিকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দিতেন। তার গানের সুরে পল্লীর কুঠিরে কুঠিরে রসতরঙ্গ জেগে উঠত।
জমিদার রবীন্দ্রনাথ ১৮৮৯-১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের জমিদারি দেখার জন্য নিয়মিত আসতেন। এই সময় গগনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অনুমেয় হয়। আর চিঠি বিলি করার জন্য জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রত্যহই গগনকে যেতে হত, সেই সুবাদে হয়ত রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হত এবং কিছু খোসগল্প ও রসালাপও হত এটাই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর নির্জনে বোটের ছাদে-কখনো তারা ভরা আকাশের নিচে কখনো নির্জন দুপুরে পদ্মা ঘাটে, কখনো কাচারি বাড়িতে গগন অপূর্ব সুষমা ও সুরব্যঞ্জনা দিয়ে আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে সঙ্গীত প্রিয় মানুষদের মাতিয়ে তুলতেন। সে সময় স্বয়ং জমিদার রবীন্দ্রনাথও তার গীতসুধা পান করতেন এবং মুগ্ধ হতেন। জমিদারি পরিচালনার কাজে শিলাইদহ এসে রবীন্দ্রনাথ যেমন ফকির লালন সাঁইয়ের গানে প্রভাবিত হয়েছিলেন, তেমনি লালনের পরে গগন হরকরার গানে যে কম প্রভাবিত হয়েছিলেন এমন নহে। আর তাই গগন হরকরার অনুকৃত সুরে রবীন্দ্রনাথ স্বদেশীযুগের অনেক বাউল গান রচনা করেছেন, যা তার ‘বাউল’ গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। বাউলতত্ত¡ ও দর্শন সম্পর্কে তার ধারণা গঠনে গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানটির ভ‚মিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মহান সুরটি রবীনদ্রনাথ ঠাকুর গগন হরকরার গাওয়া ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ গানটির সুরের উপর নতুন কথা বসিয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনা করেন।
গগন ছেঁউড়িয়ার বাউল লালন ফকিরের ভক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে শিলাইদহে এসে গগনের বাউল গানের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা লাভ করেন এবং রবীন্দ্রনাথ তার সান্নিধ্য থেকেই কাঙ্গাল হরিনাথ, গোসাই রামলালসহ বিভিন্ন সাধকের বাউল গান শোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তার কোন কোন নাটকে বাউল চরিত্র সংযোজন গগনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
‘ডাকঘর’ নাটকেও আছে গগন চরিত্রের ছাপ। বহু ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহও লক্ষ্য করেছেন, রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’, ‘অচলায়তন’ ইত্যাদি নাটকে ঠাকুর্দা, দাদা ঠাকুর, অন্ধবাউল শ্রেণীর যে একটি চরিত্রের সংযোজন দেখা যায়- এই চরিত্র সৃষ্টিতে শিলাইদহের কোন এক বাউল ফকিরের ছায়া পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ যে বাউলের সাথে দেখা পেয়েছিলেন, কথাও বলেছিলেন সেই বাউল গগন হরকরা। গগনের গানের ভনিতায় গুরুর নাম উল্লেখ নেই তবে পন্ডিত ক্ষিতিমোহন শাস্ত্রী গগনকে ‘লালনের শিষ্য ধারার একজন’ বলে অনুমান করেছেন। ত
বে গগন লালনের গান গাইতেন, গগনের কাছ থেকে অনেকে লালনসহ আরো কয়েকজন সাধকের গান সংগ্রহ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ গগনকে পরিচিত ও বিখ্যাত করলেও তার অনেক আগেই শ্রীমতি সরলা দেবী (ভারতী-ভাদ্র-১৩০২) গগনের গান সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন এবং ‘লালনফকির ও গগন’ নামীয় প্রবন্ধ লেখেন উপসংহারে গগনের ভক্ত জীবনের বিবরণী সংগ্রহ করে ‘ভারতী’তে প্রকাশার্থে পাঠানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন প্রবন্ধ আলোচনায় ও বক্তৃতায় গগনের ওই একটি গানের কথাই বারবার উল্লেখ করেছেন আর ওই গানটিকে যেন বাউল দর্শনের ভিত্তি হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। ‘গগনের গানই শুধু তাকে মুগ্ধ করেনি, তার সরলতা, স্বতঃস্ফ‚র্ততা, ভাবুকতা ও চাল চলনও ঠাকুর কবির মন জয় করেছিল।’ রবীন্দ্রনাথ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন বাউলের মূল উদ্দেশ্য যে মনের মানুষকে খোঁজ করা সেই পরম সত্যটি গগনের গানে উপলদ্ধি করা যায়।
ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে খুব সম্ভবত ১৮৪০ সালের দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের গবরাখালি গ্রামে এক কৃষিজীবী কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহাপুরুষ গগন হরকরা। গগনের পিতা ও মাতা সম্পর্কে তেমন কোন খোঁজ জানা না গেলেও কিরণচন্দ্র নামে তার একপুত্র ছিল বলে জানা যায়। তবে জনশ্রুতি রয়েছে, গগন পুত্র কিরণ চন্দ্রের অল্প বয়সে মৃত্যু হয়েছিল। মংলাচন্দ্র, সুন্দরীদাসী, কানাইচন্দ্র তার পৌত্র পৌত্রী। গগনের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যত বংশধর কেউ শিলাইদহে ছিল না। অভাব অভিযোগই মূল কারণ।
১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পূর্বেই পাংশার সরিষা পেসটিয়াতে গিয়ে বসবাস করে বলে জানা যায়। কৃষক পরিবারে জš§ গগন হরকরা প্রথমে কৃষিকাজ করতেন এটাই স্বাভাবিক। তবে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে, গগনের বাস্তভিটায় আসামদ্দি নামক একজন কৃষক বাড়ি করে থাকতেন এবং সে বাড়িটি আজও দাসের ভিটা নামে পরিচিত। গগন হরকরার বিশাল এক আমবাগান ছিল। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে এসব আমগাছ আমদানি করেছিলেন। দুই যুগ আগেও গগনের ভিটা ও ফলের বাগানের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু আজ সেই বাগানে কিছু মেহগনী গাছ ছাড়া আর কিছু চোখে পরে না। গগন অনেকটাই অবহেলিত। কারণ পূর্বে শিলাইদহের কাছারি বাড়ির পূর্ব পাশে গগন হরকরা স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ পোস্ট অফিস ছিল। পরবর্তীতে সরকার সেটি নিলাম করে দিয়েছিল।
বর্তমানে সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। গগন হরকরার আর কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই বললেই চলে। তাকে কেউ গুরুত্ব সহকারে স্বরণ করে না। তবে কুষ্টিয়া জেলা সদরের নিশান মোড়ে পৌরসভার উদ্যোগে গগনের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে যা গগন ভক্তদের মনে দোলা দেয় ও নতুন প্রজšে§র কাছে গগননামী বাউল সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি এক মহান সুরকার তাইত গগনের গান রবীন্দ্র মানসে অভ‚তপূর্ব দোলা লেগেছিল এবং তার গানে বাউলতত্ত সম্পর্কীয় আধ্যাত্মিক মনের ছবি সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। এই গানটির সুরে রবীন্দ্রনাথ ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি রচনা করেছিলেন।
গগনের গানে মনের মানুষকে সন্ধান করার ব্যাকুলতা এবং মনের মানুষের জন্য ভালবাসা ফুটে উঠেছিল। আর রবীন্দ্রনাথ গানটির সুরে সোনার বাংলা তথা বাংলা ভাষা, বাংলার সঙ্গীত, বাংলার শিল্প, বাংলার যা কিছু আছে তাই-ই ভালবাসা দিয়ে অনুভব করেছিলেন। বিদেশী শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার পর বাউল সুরে রচিত গানটিই আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পেয়েছে।
Saturday, February 15, 2020
কবিতার কোন মৃত্যু নেই : আল মাহমুদ by শাহীন রেজা
![]() |
| আল মাহমুদ |
তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। সম্পাদনা করেছেন দৈনিক গণকণ্ঠ। ১৯৬৮ সালে দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালী কাবিন’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্, ভঙ্গির সমন্বয়ে। কবি হিসেবে খ্যাতিমান হলেও বাংলা গল্পের এক আশ্চর্য সাহসী রূপকার আল মাহমুদ। এ মহান মানুষটির জন্মদিন উপলক্ষে সাহিত্য ও জীবন-যাপনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন- শাহীন রেজা। @মানবকণ্ঠ।
আপনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ঢাকাই হচ্ছে বাংলা কবিতার রাজধানী। এখনো কি সেই বিশ্বাসে আপনি অবিচল আছেন?
অবশ্যই। বাংলা কবিতা নিয়ে আমি এ বাংলা ও বাংলা বিভাজনে যেতে চাই না। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সারাবিশ্বে যেখানে যত বাংলা কবিতা রচিত হচ্ছে তার ক্ষেত্রভূমি এই ঢাকা। ঢাকাতে কবিতা নিয়ে যা হয়েছে এবং হচ্ছে তা বিশ্বের কোথাও হয়নি। তাই একে বাংলা কবিতার রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে নিতে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।
সবকিছুরই সমাপ্তি আছে- কবিতারও কি?
না কবিতার কোনো মৃত্যু নেই, সমাপ্তি নেই। কবিতা কালের ধ্বনি। এর ধারা এককাল থেকে অন্যকালে ছড়ায়। চর্যাপদ থেকে আজকের কবিতা কোনোটাই হারানোর নয়। অতীতে যেমন হারায়নি আগামীতেও হারাবে না।
এবার মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আসি-
দেখো একটি জাতির জন্য এর চেয়ে গৌরবের আর কোনো ব্যাপার নেই। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা একটা মানচিত্র পেয়েছি, একটা পতাকা পেয়েছি। আমাদের যে জাতিসত্তা তা বিনির্মাণেও এর ভূমিকা অপরিসীম। তবে এর জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে।
একাত্তরে আপনার ভূমিকা প্রসঙ্গে যদি জানতে চাই-
আমার একাত্তরের ভূমিকা সবাই জানে। এটা আর নতুন করে বলতে চাই না। যদি তাঁবেদারি করতাম তাহলে এদেশে স্ত্রী-পরিজন নিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বেশ ভালোভাবেই কাটাতে পারতাম। অনেকে সেটি করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পর ভোল পাল্টে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক সেজে ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছেন। আমি তাঁবেদারি করিনি বলেই আমাকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে কলকাতা যেতে হয়েছে। এরপরের ইতিহাস তো সবাই জানে।
কিন্তু এখনো তো একশ্রেণির লোক আপনাকে মৌলবাদী বলে আখ্যা দেয়?
আমি আল্লাহতে বিশ্বাস করি। নিয়মিত নামাজ পড়ি এবং রোজা রাখি। আমার এ বিশ্বাসকে যদি কেউ মৌলবাদী বলতে চায়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কারো কথায় আমার বিশ্বাস থেকে বেরুতে পারি না।
জীবনের শুরুতে আপনি বাম চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন আর এখন সম্পূর্ণ ঈশ্বরবাদী- এটাকে কি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলা যায় না?
না যায় না। আমি এখনো একই বিশ্বাসে অবিচল। বাম চিন্তার প্রতি আমার অনুরাগের কারণ তাদের মানব মুক্তির স্লোগান। আমি মনে করেছিলাম সাম্য ও মানব মুক্তির জন্য তাদের পথ ও স্লোগানই সর্বোত্তম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম, ইসলামই একমাত্র পথ যাতে এ চিন্তার সর্বোচ্চ প্রতিফলন ঘটেছে। তাই আল্লাহর পথেই সাম্য ও মানব মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে নিলাম।
কবি হতে হলে প্রথমেই কী কী জিনিস অর্জন করতে হয়।
প্রথমেই একটি তৃতীয় নয়ন। তারপরে ভাব ও ভাষাকে আয়ত্ত করা। ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞান আর সবশেষে পাঠক মনে সহজেই প্রবিষ্ট হওয়ার কৌশল অর্জন।
এ মুহূর্তে যদি দেশের প্রধান কবি হিসেবে আপনাকে শনাক্ত করতে চাই তাহলে তার উত্তরে আপনি কী বলবেন?
আমি প্রধান কবি হওয়ার জন্য কোনোদিন কবিতা লিখিনি। আমি চিরকাল শুধু একজন কবি হতে চেয়েছি। আজ সর্বত্র বিশেষ করে এই উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষীদের মুখে আমার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। এতে আমি অবাক হই না। এটা তো হতেই পারে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই আর উপভোগের কথা বলছেন- ভালোই তো লাগে। জীবন সায়াহ্নে তাদের এই উচ্চারণ আমাকে উজ্জীবিত করে, আপ্লুত করে।
কবিতার জন্য জীবন, নাকি জীবনের জন্য কবিতা?
মাহমুদ: ধরে নাও এটি একটি সংসার। কবিতা যদি রমণী হয় তাহলে জীবন পুরুষ। দুজনেই দুজনার। এদের আলাদা করার উপায় নেই। এরা একে অপরের পরিপূরক।
আপনার দশকের একজন প্রভাবশালী কবি ফজল শাহাবুদ্দীন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সোনালী কাবিন’-এর জন্য কবি মাহমুদ নোবেল পাওয়ার যোগ্য। আপনি কী বলেন-
এটা যদি কেউ বলে তাহলে আমার কি আর বলার কিছু আছে? তবে পৃথিবীতে অনেক বড় কবি আছেন যারা নোবেল পাননি অথচ তাদের কবিতা আমাদের নিত্য-পাঠ্য। আমি মনে করি, কবিতা কবিতাই। কবিতা কখনোই কোনো নোবেল পুরস্কারের মুখাপেক্ষী নয়।
জীবনানন্দ দাশকে আধুনিক বাংলা কবিতার প্রবর্তক বলা হয়। তাহলে কি রবীন্দ্রনাথ-নজরুল আধুনিক নন?
সন্দেহ নাই যে জীবনানন্দ দাশ আধুুনিক কবি। কিন্তু বাংলা কাব্যে আধুনিকতার প্রবর্তক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
এক সময়ের প্রবল কবি ফররুখ আহমদ কিংবা জসীমউদ্দীন এখন অনেকটাই আড়ালে- বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আমি বিষয়টিকে মূল্যায়ন করি এভাবে- কালচক্রে যারা কবিতায় নতুনত্ব নিয়ে আসেন নিঃসন্দেহে জসীমউদ্দীন তাদের একজন। জসীমউদ্দীনের কবিতার একটি লাইন আমি বলছি- ‘কাল সে আসিবে মুখখানি যার নতুন চরের মতো’- এই পঙ্ক্তিটি বাংলা কাব্যে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিল। এর আগে কেউ মাটির সঙ্গে, চরের সঙ্গে প্রিয়তম নারীর মুখের তুলনা দেয়নি। যত তুলনা এর আগে দেয়া হয়েছে সব চাঁদের সঙ্গে। জসীমউদ্দীন প্রথম এই ধারা ভঙ্গ করেন। কোনো সৃজনশীল কবি কখনোই আড়ালে যান না। হয়তো নতুনত্বের জোয়ারে তারা একটু পাশে সরে থাকেন। ফররুখ কিংবা জসীমউদ্দীনের ক্ষেত্রে এটিই ঘটেছে।
আমাদের দেশে কবিরা গোষ্ঠী বিভাজনে বিভক্ত- এটা কি আমাদের কবিতার জন্য ক্ষতিকর নয়?
এটা কখনো কখনো ক্ষতিকর হয় তবে এই গোষ্ঠী বিভাজন সব সময়ই ছিল। সব কালেই ছিল। নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়েছিল কবির কোলাহল এবং কবির উচ্চারণই হলো ভাষার গতিবেগ নির্ধারণ। মানুষের ভাষা আছে আর কারো কোনো ভাষা নেই।
বোদ্ধারা বলেন, একজন কবির জীবনে প্রেমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?
সব সময় হয়তো একমত হই না। তবে প্রেম কার না জীবনে আছে বলো? প্রেম আছে, একটি নারী আছে আত্মার ভেতরে।
সাহিত্যের সঙ্গে অর্থনীতির কোনো যোগসূত্র আছে কি?
আছে। কবিরাও মানুষ- তাদেরও খেতে হয়, বাসাভাড়া দিতে হয়।
একজন কবির প্রকৃত অর্জন কী- পুরস্কার, পদক নাকি মানুষের ভালোবাসা?
অবশ্যই মানুষের ভালোবাসা। তবে পুরস্কার বা পদক কবিকে উৎসাহিত করে।
একজন কবির চূড়ান্ত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
ছন্দের দোলা বুকে রেখে পঙ্ক্তি রচনা করা
তরুণ কবিদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন-
কবিতা সব সময় তারুণ্যের মুখাপেক্ষী। তরুণরাই কাব্য, সাহিত্যে নতুন কিছু নিয়ে আসে। আমি সব সময় এটা মনে করি। তরুণদের বলি- সৎ হও, মানুষ হও। প্রকৃত কবি হয়ে বেড়ে ওঠো।
আপনার দীর্ঘ জীবনের স্বপ্ন, প্রাপ্তি ও অপূর্ণতা কী?
যখন কিছু মুখের কথা সকৃতজ্ঞ চিত্তে উল্লেখ করতে যাই তখন পারি না। নাম মনে থাকে না। ধাম হারিয়ে গেছে। সে জন্যই সম্ভবত আমার বাম দিকটা সবসময় শূন্যতার হাহাকারে ভরা।
আমি কবি। স্বপ্নের মধ্যে হাঁটাই আমার কাজ। যদি দুর্ঘটনা না ঘটে তাহলে এভাবে একদিন অন্তিমে পৌঁছে যাব। এ কথা তো সবারই জানা যে, আমি সাধ্যমতো লিখেছি। কী লিখেছি সেটা আমিও জানতে চাই না। আজও এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি লিখে কোথাও পৌঁছবার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমি তো জানি না, এটা কোন জায়গা। এখন কোথায় আছি। বলার মতো কথা হলো পথে আছি কিংবা হয়তো বা কোনো প্রান্তরে আছি। কোনো পরিসমাপ্তি দেখতে পাচ্ছি না। তা বলে আমি তো পরিশ্রম কম করিনি। পৌঁছতে চাই। কিন্তু কোথায় পৌঁছব? আমার আগে যারা আমার মতো পথে-প্রান্তরে পরিশ্রম ঝরিয়ে চলে গেছেন তাদের ঘাম শুকানোর কোনো বিশ্রাম ছিল না। আমি বিশ্রাম চাই, বিরাম চাই, পরিণাম চাই।
আমার পরিশ্রম তো কবির পরিশ্রম। এটা বৃথা যেতে পারে না। আমি স্বপ্ন নির্মাণ করি এবং সত্যের কাছে এনে মানুষকে দাঁড় করিয়ে দিই। এই তো হাত পেতেছি আমার প্রাপ্য আমাকে কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দাও। আমি বেশি চাই না, কমও আমাকে দেয়া উচিত নয়। জগতে কবিকে বঞ্চিত রাখার মহৎ-ক্ষুদ্র-বৃহৎ ইতিহাস পাওয়া যায়। সে সব পর্যালোচনা করলে আজও পাঠকের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। কবির প্রতিশ্রুত স্বর্ণমুদ্রা নানা টালবাহানার পর যখন সত্যিই কবির বাসস্থানে এসে পৌঁছে তখন দেখা যায় অন্য গেট দিয়ে কবির লাশ বেরিয়ে যাচ্ছে। এটাই তো জগতের কবিদের বঞ্চনার নিয়ম। কিন্তু কোনো কবিই এই নিয়মের আয়ত্তে আসতে সম্মত হননি। তিনি সোনার টাকার পরিবর্তে রুপোর টাকা গ্রহণ করতে সম্মত হননি। সব সুলতানই শেষ পর্যন্ত কবিকে ঠেকাতে গিয়ে জুলুমের ভাগী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সোনার টাকাই তাকে দিতে হয়েছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, কবি জীবিত থাকতে তা দেখে যেতে পারেননি। সোনার টাকা আসে মৃত্যুর পর।
লেখালেখির পথে আমার পরেও মানুষ আসবে। তারা আমার আগেও এসেছিলেন। এই জটিল লেনদেনের খেলায় কেবল কবিরাই চিরকাল বঞ্চিত থাকবে কেন? কেন তারা ছেড়ে দেবে তাদের সত্যিকার পাওনাটা। কম কেন নেবে? কারণ দম ফুরানোর আগে আমি তো বিশ্রাম নেইনি। বিরাম ছিল না আমার। কত বিভিন্ন রসে আমি রসসিক্ত করেছি বাংলাদেশের মাটিকে। তা না হলে কি তুমি ভাব বাংলাদেশ এত সবুজ হতো। এই শ্যামলিমা আমার রক্ত, মাংসের মধ্য থেকে উত্থিত হয়েছে। এর কোনো পরাজয় নেই। তবে জয়ের স্বীকৃতি স্বাভাবিকভাবে কবির করায়ত্ত হতে চায় না। কবি শুধু কবিই আর কিছু নন। কবি না থাকলে কী কী থাকবে না তা কি তুমি জান? যদি না জান তাহলে লিখে নাও, কবি না থাকলে স্বপ্ন থাকবে না, সবুজ থাকবে না, সংগীত থাকবে না আর থাকবে না ভালোবাসা। যার কথা তোমরা দিবস রজনী বলতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাও।
Wednesday, February 5, 2020
ঘরের নেয়ে

অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। হয়তো অধিকের উপরের শোকে আবার নরম্যাল। রতন ভাবছে তার শোকটা অল্পও না, অধিকও না। তাই তার কিছুই মনে হচ্ছে না। সে বাড়ির মেজ ছেলে। বড় দুই ভাই, ছোট এক ভাই, এক বোন। এক ভাই ঢাকায় বুয়েটে পড়ছেন। অন্য ভাই চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে। দুই ভাইকে খবর দিতে হবে। ছোট বোনটা স্কুলে, ওকে খবর দেয়ার দরকার নেই। একটু পরে এমনিতেই চলে আসবে। আত্মীয়-স্বজনদের খবর দিতে হবে। এলাকায় মাইকিং করতে হবে। মৃত্যুর পর শোক বুকে নিয়েই অনেক ফর্মালিটিজ পালন করতে হয়। এরপরেও কোনো একটায় ভুল হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলেই সবাই ধরে নেয়। ওমুককে কেন খবর দেয়া হলো না, তুমুককে কেন সবার শেষে বলা হলো।
সকালের দিকেই রতনের বাবার খুব শ্বাস-কষ্ট হচ্ছিল। তিনি রতনকে কাছে ডেকে বলেছিলেন, রতন তুই ছাড়া এই সংসারের হাল ধরার কেউ নাই। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও মানুষের মাথায় সংসার নামের ব্যাপারটা থাকে! বাবার মুখটা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পানি আসল। চোখের পানি এত গরম হয়? রতন ঝরঝর করে অনেকক্ষণ কাঁদল, বাবা বাবা...
পকেটে টাকা বলতে শ’খানেক আছে। রতন সবেমাত্র ইন্টার পাস করেছে। তার পকেটে এরচেয়ে বেশি টাকা থাকে না। সে কোনোদিন কারো কাছে টাকা ধারও করেনি। কাফনের কাপড় কিনতে হবে। ভালোটাই কিনতে হবে। বাবা খুব পরিষ্কার ও রুচিওয়ালা মানুষ ছিলেন। মৃত্যুতে অবহেলা নিয়ে যেন বিদায় না হয়। ছোট বোনটা চলে এসেছে। কান্নাকটি আরেক ধাপে শুরু হলো। এর মধ্যে বসে থাকলে চলবে না। রতন ঘরে ঢুকে বাবার দোকানের চাবি হাতে নিল। যদি ক্যাশে কোনো নগদ টাকা থেকে থাকে এই আশায়। এই প্রথম বাবার দোকানের চাবিতে হাত দিল রতন।
বাবার মৃত্যুর পর দু’দিন পার হয়ে গেল। তার মানে মৃত্যুর তিন দিন হলো। ‘আজ মরলে কাল দুই দিন’ হিসাব মতে। আগামী দিন মিলাদ পড়াতে হবে। ক্যাশে যা টাকা ছিল তা প্রায় শেষ। বড় ভাইরা এসেছিলেন। যাওয়ার সময় গাড়ি ভাড়া দিতে হলো। কেউ চায়নি, রতনের মনে হলো টাকা ছাড়া যাবেন কিভাবে? দু’দিন আগেও রতন বোঝেনি টাকার কতটা প্রয়োজন সংসারে। মৃত্যুর পরেও যদি ফর্মালিটিজে এত টাকা খরচ হয় তবে জীবন্ত মানুষের কেন টাকা লাগবে না? এলাকার চৌকিদারকে দিয়ে বাড়ি বাড়ি খবর দেয়ার কাজটা করা হয়েছিল। ছেলেটাকে কিছু টাকা দিতে হবে। এক কাজ করা যায়, ওকে দিয়ে চারদিনের মিলাদের টুকটাক কাজ করিয়ে সঙ্গে বকশিশ হিসেবে একটু বেশি টাকা দিয়ে দিলেই হবে।
কাউকে কিছু বলতে হলো না। সংসার নামের যে নৌকার মাঝি তিনদিন আগে রিটায়ার করলেন, সেই নৌকার হাল এখন রতনের হাতে। কোথার এই নদীর চড়া কোথায় গভীরতা তা সব এখন রতনেরই বুঝতে হবে। সে যে নায়ের নেয়ে এই নায়ের লক্ষ্য কোনো তীর নয়। এই নায়ের নেয়ের কাজই হলো একে ঠিকমতো বেয়ে নিয়ে যাওয়া। সংসার নামক নৌকার কোনো গন্তব্য থাকে না। অনাদি কাল থেকেই তা চলছে। যে নৌকায় হাল ধরার মতো কেউ থাকে না তা উদ্দেশ্যহীনভাবে এদিক-সেদিক চলে। চলতে চলতে ধাক্কা খায়, ঠোক্কর খায়। ধাক্কা, ঠোক্কর খেয়ে খেয়ে কোনো একদিকে চলে যায়। ডুবেও যায় কেউ কেউ। রতন তা হতে দেবে না।
বড় ভাইদের পরীক্ষা ছিল, উনারা চলে গিয়েছিলেন। আগামী দিন আবার আসবেন। রতন দোকানে বসা শুরু করেছে। মাঝেমাঝেই মনে হচ্ছে সে ছাড়া আর কি কেউ আছে যে নাকি সংসারের হাল ধরবে? সে চিন্তা করে। কোনো ক‚ল-কিনারা পায় না। সে ছাড়া আর কে ধরবে হাল? বড় দুই ভাইয়ের পড়াশোনার আর কয়েক বছর বাকি। এর পরেই বড় চাকরি পাবেন। নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে তারা গ্রামে ফেরত আসবেন? আবার শহরে থাকতে গেলে তাদের খরচ পাঠাবে কে? অতএব রতনই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি সংসারের হাল ধারার। ছোটদের দায়িত্ব তো এমনিতেই তার ওপর। যাই হোক, আপাতত মিলাদের কাজটা শেষ হোক।
মিলাদ শেষ হলো। বড় ভাই আসেননি, উনার পরীক্ষা। এর পরের জন এসে সেদিনই চলে গেলেন। সংসার নিয়ে কেউ কিছুই বলছে না। ছোট ভাই-বোন কেউই স্কুলে যায়নি এই কয়দিন। পাঁচ দিনের দিন আত্মীয়-স্বজন সবাই চলে গেল। বাড়ি প্রায় ফাঁকা। ছোট ভাইটা কাছে এসে বল্লো, ভাইয়া তোমার সাথে আমিও যাব দোকানে। খুব সহজ একটা কথা। ভেতরটা হু হু করে ওঠল রতনের। ভাইটাকে বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠল। মা আসলেন, ছোট বোনটা আসল। মরা বাড়ির শোকটা এখনো মরেনি, আবার যেন তা কয়লার আগুনে বাতাস লাগার মতো জ্বলে ওঠল। সবাই একসাথে কাঁদছে।
রতন চট করেই নিজেকে সামলে হালকা করে হাসি দিয়ে বলল, দোকানে যাইতে চাইলে যাবি, আগে স্কুলে যা। প্রায় মাস খানেক হয়ে গেল রতন সংসার চালাচ্ছে। ব্যাবসাটা ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে। একটা ব্যাপার ভেবে সে প্রায়ই মজা পায়। ঘটনাটা হলো, অনেকেই বাকি টাকা চাইতে আসছেন। কিন্তু কেউ কেউ তো বাকিতে নিশ্চয়ই নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাকি যারা চাইতে আসছেন তাদের আস্তে আস্তে সে শোধ করছে। সব কিছুর পর হাতে তেমন টাকা থাকছে না। সংসার একটা তলাহীন ঝুড়ি, যতই দেয়া হয় ততই যেন নিমিষেই নাই হয়ে যায়। বাজার সদাই, মায়ের ওষুধ, ছোট ভাই বোন দুইটার খরচ। তার উপর আছে বড় দুই ভাই। বেশ কয়েকদিন ধরেই টুকটাক করে জমানোর চেষ্টা করছে রতন। তার ইচ্ছা হলো, বড় দুই ভাই লজ্জায় হয়তো তার কাছে চাইতে পারবে না। চাওয়ার আগেই যেন সে টাকা পাঠিয়ে দিতে পারে। বড় ভাই তার কাছে টাকা চাইবে এ হয় না। রতন কিছুতেই বড় ভাইদের এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে দেবে না। এতে উনাদের চাইতে তারই লজ্জাটা বেশি হবে।
কখন যে কে সংসারের হাল ধরবে তা আগে থেকে কখনোই বুঝা যায় না। যে রতন কয়দিন আগেও বাবার কাছে টাকা চেয়ে না পেলে মন খারাপ করতো সেই রতন এখন টাকা দিতে না পারলে মনে কষ্ট পাচ্ছে। রতন দুই দুই চার হাজার টাকা বড় দুই ভাইয়ের নামে মানি অর্ডার করে দিল। মানি অর্ডারটা করার পর বেশ ফুরফুরে মন নিয়েই বাড়ি ফিরল রতন।
বাবা মারা যাওয়ার পর রতনের মা অনেকটা শক্ত হয়েছেন। আগে সংসারের অত ঝামেলা তিনি বুঝতেন না। এখন আস্তে আস্তে সবকিছুরই খবর রাখছেন। রতন তার বাবার ব্যবসাটা ভালো করে ধরতে পারছে না। যতটুকুই টুকটাক শুনতেন রতনের বাবার কাছে তা রতনের সঙ্গে শেয়ার করছেন। শীত আসার আগেই ভেজলিন কিনতে হবে মনে করিয়ে দিলেন। কৌটায় করে ভেজলিন ভরে রাখতে হবে। বিভিন্ন ছোট ছোট আড়তদাররা এই ভেজলিন নিয়ে যাবে। অনেকে আবার এর ওপর নিজেদের ট্যাগও লাগিয়ে নেন। জমিজামাগুলোও কিছু দেখতে হবে। মুশকিল হলো জমিজামা রতনের বাবাই সব দেখাশোনা করতেন। এছাড়া আর কেউ সব কয়টা জমি চিনেনও না। জমি না চিনলেও সমস্যা নাই। কোন মাঠে কত শতক জায়গা তা মুখে মুখে জানেন। বের করা বেশি কঠিন হবে না।
দেখতে দেখতে সময় দ্রুতই চলে গেল। ব্যবসায় উন্নতির কিছু হয়নি। অবনতি হতে হতে যখন বন্ধ প্রায় তখন রতনেরও দায়িত্ব প্রায় শেষ। বড় ভাই দুইজন পড়াশোনা শেষ করে বড় চাকরি করছেন। ছোট ভাইটা স্কলারশিপ পেয়ে দেশের বাইরে চলে গেল। ছোট বোনটা পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হলে থাকে। এখন খরচ বলতে ছোট বোনের পড়াশোনা আর রতন আর তার মায়ের যা লাগে।
টাকায় টাকা আনে আবার টাকায় টাকার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই বড় ভাইরা ঈদে বাড়ি আসেন। কথায় কথায় বলেন, ঢাকা শহরে থাকা আর টাকা কচকচিয়ে খাওয়া। যে টাকা কচকচিয়ে তারা খান সে টাকায় কামড় দেয়ার ইচ্ছা রতনের নেই। তাদের মায়েরও না। প্রতিবারই তারা বলেন, একটু গুছিয়ে নেই তারপর আম্মা আপনারে নিয়ে যাব। রতনের মাও হাসি দিয়ে বলেন, গুছিয়ে নাও কিন্তু আমাকে নিতে হবে না।
Wednesday, December 18, 2019
নারী

ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদী হয়ে যাওয়ায় নিজেদের সংসার নিয়ে মহাব্যস্ত। তাদের ছেলে-মেয়েরাও অনেক বড়-সড় হয়েছে। মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে সুখে-শান্তিতে আছে আর ছেলেরা বউ পোলাপাইন নিয়া দিব্যি ভালো আছে। সবাই সবার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সংসারের বুড়ো আর বুড়ি; দুই জনেই ছিল একে অপরের সহযোগী; সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়ার মতো সঙ্গী। কিন্তু বুড়িটা চলে যাওয়ায়-বুড়াটার জ্ঞানশক্তি লোপ পেয়েছে। বুড়ি ছাড়া বুড়োর যেন একটি মুহূর্ত কাটতে চায় না। খোদায় যদি বুড়ো আর বুড়ি দুইটাকে এক সঙ্গে নিয়ে যেত— তাহলে এতো জ্বালা-যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আধ মরা হয়ে বেঁচে থাকার দরকার হতো না-বুড়োর। গ্রামের ময়-মুরব্বিরা বলা বলি করতে লাগল, না জানি বুড়িটার শোকে এমন হয়েছে।
সব কিছু মিলিয়ে বুড়ার মনে শান্তি নেই। কিসের অশান্তিতে বুড়ো মনমরা হয়ে আছে। তা পৃথিবীর কাউকে বুঝানো যাবে না। এটা একমাত্র বুড়োই জানে। খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা সবই ঠিক আছে কিন্তু হূদয়ের মধ্যে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে; তার খবর কে রাখে। সবাই তো দেখতে পায়, হাজী সাহেবের কোন সমস্যা নেই। নায়-নাতনি নিয়ে খুবই ভালো আছে। কেউ দাদা বলে ডাক দেয় আবার কেউ বা নানা বলে ডাক দেয়। কেউ বা বুড়োর মাথা থেকে পাকা চুলগুলো নিয়ে খেলা করে। আবার কখনো শরীরের ঢিলে চামড়া ধরে টেনে টেনে দেখে— কতটুকু লম্বা হয়। বুড়ো বয়সে শরীরের গঠন এমন-যৌয়ান বয়সে যে কেমন শক্তিশালী ছিল— তা নিয়ে নাতি-নাতনিরা আলাপ আলোচনা করে।
ছেলে-মেয়েদের পীড়াপীড়িতে পাড়ার ময়-মরব্বিরা বৈঠকে বসল। হাজী সাহেবের কি অসুবিধা, কিসের অভাব-যে নতুন বউ ঘরে আনতে হবে। সংসারে আগুন জ্বালাতে চায়। নতুন ভাগিদার তৈরি করে— একটা যুদ্ধক্ষেত্র বানাতে চায়।
এছাড়া এলাকার বিভিন্ন মানুষজন বিভিন্নভাবে আলোচনা সমালোচনা করে। নিজেদের মান-সম্মানে আঘাত লাগে। তাই ছেলে-মেয়েরা এক পায়ে দাঁড়িয়েছে— যত কষ্টই হোক; তারা বুড়ো বাপকে আদর-যত্ন করবে। সেবা-যত্নের কোনো রকম ঘাটতি করবে না। কিন্তু নতুন করে বিবাহ করতে দিবে না— এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই বুড়োকে বিভিন্নভাবে যুক্তি দিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে। শেষ বয়সে সংসারে বিভাজন সৃষ্টি করে কি লাভ। আল্লা-খোদার নাম নিয়ে কবর দেশে যেন ভালোভাবে যাওয়া যায়; সেই চিন্তা-চেতনা যেন মশগুল হয়। বিয়ে-শাদীর বিষয়টা মাথায় থেকে একেবারে বিদায় করে দেয়। আল্লা-রাসুলের নাম জপে জপে মসজিদে বসে বসে জিকির করে সময়টা কাটিয়ে দেয়। বয়স তো আর কম হয়নি— কমছে কম সত্তর আশি তো হবেই। এখন আর বউ বউ করার কি দরকার?
গ্রাম্য সর্দার অলি মিয়া বলল— আল্লা-বিল্লা কর হাজী। বিয়া-টিয়া কইরা আর সংসারে জ্বালা বাড়ানোর কাম নাই। নায়-নাতনি নিয়া হাসি-খুশির মধ্যে কয়েকটা দিন বালায় বালায় কাটাইয়া যাও মিয়া। কি পাগলের মতো চিন্তা-ভাবনা শুরু করছ। মাইনষে হুনলে কি কইব। তা ছাড়া তোমারে নিয়া সারা গ্রামে কি রব উঠছে— তুমি কি তার খবর রাখ!
বুড়ো হাজী সেকান্দার আলী বলল, সর্দারী-মাতবরী তোমার বাড়ি গিয়া কর। আল্লা-রাসুল আমারে শিখাতে আইয় না। কম বুঝে আর অজ কইরা আইছি না। ধর্ম-কর্ম; তোমার চাইতে কম বুঝি না। আমার সয়-সম্পত্তি কম নাই। বউ আইলে কি সমস্যা- হ্যাঁ। ছেলে-মেয়েরা যদি চায়; তাদের ভাগ নিয়া যাক। তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই। ধর্মের বিধান মতে-ভাগ ভাটোয়া করে দিয়া যাও। এছাড়া আর কোনো জ্ঞান-বুদ্ধি দিতে চায় না। আমার মাথা নষ্ট অয় নাই; এখন ঠিক আছে। হুশ-জ্ঞান হারাইছি না।
এদিকে কমলার বাপ-মারা গেছে এক যুগ গেল। কমলার দিকে চেয়ে চেয়ে যুগ-যুগান্তর কাটিয়ে দিল-কমলার মা। কমলার বাপ যখন মারা যায়— তখন সবেমাত্র যৌবনের আলোর ফুটেছে। কাঁচা হলুদের মতো শরীরটা ছিল। এখনো দেখলে মনে হয়-নব বধূ। লাল শাড়ি পড়লে জোয়ান-বুড়ো কারো চোখ ফিরে না। অল্প বয়সে তার বিয়েটা হয়েছিল। প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে হাই-স্কুলে যায় কি-যায় নাই, তা বলতে পারে না-কমলার মা। তবে তার বিয়েটা খুব অল্প বয়সে হয়েছে— সেই কথা মনে আছে। স্বামীর সুখ উপলব্ধি করার পূর্বেই স্বামীকে হারাতে হয়েছে। পার্থিব অভাব অনটন না থাকলেও মনের গহিনে যে অভাব রয়েছে; তা তো অপূরণীয়ই থেকে গেল। ছোট্ট একটি শিশু কন্যার ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে নিজের সব চাহিদাকে বিসর্জন দিল। তাছাড়া কমলার নানার কুলে ও দাদার কুলে কারোই দ্বিতীয় বিয়ের রীতি নেই। দুই পরিবারের ঐতিহ্য বলে কথা। তাদের মেয়ে বা পুত্র বউদের কঠিন নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। স্বামী চলে গেলেও তার আঁচল ধরে বাকি জীবন কাটাতে পারলেই সতী সাধবী নারী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। একজন নারী দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে যাবে— এটা যেন কেমন কথা। সমাজ এটাকে কোন মতে মেনে নিতে চায় না।
দ্বিতীয় পাত্রী কোনো সংসারে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে খুবই কষ্ট হয়। কত রকমের জ্বালা-যন্ত্রণা তাদেরকে সহ্য করে নিতে হয়। স্বামী মরে গেছে বলে তাদের কপালও পুড়েছে। না পারবে অন্যের সঙ্গে সংসার গড়তে; না পারবে নিজের সংসারে সুখে শান্তিতে থাকতে। তারা যেন একটা অভিশাপের বোঝা নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। তাদের চাওয়া-পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। শখ আহ্লাদ বলতে কিছুই নেই। তারা শুধু মাত্র মরে যাওয়া স্বামীর শোক মালা গাঁথবে আর পরপারে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করবে। তাছাড়া কোন শুভ কাজে তাদের অংশগ্রহণ করতে মানা। সমাজে তাদের স্বামী খাওয়া নারী হিসেবে ডাকে। অন্য নারীদের বিশ্বাস যে তারা স্বামী খেয়ে ফেলেছে। তাদের কোন কাজের আগে রাখা যাবে না। তারা যদি থাকতে চায়; তবে সবার পেছনে পেছনে থাকবে কিন্তু কোন কিছু ছুঁতে পারবে না। মোটা সাদা কাপড় হলো তাদের পরিধানের একমাত্র পোশাক। অলংকার ব্যবহার করা ও সাজ-গোছ করা নিষেধ।
এখন কমলার মায়ের মনে আর কোন শখ আহলাদ জাগে না। মনটা একেবারে পাথর হয়ে গেছে। তাই মনের মধ্যে নতুন করে কোন স্বপ্ন বা ভালবাসার জন্ম হয় না। এই মনের জমিনটা মরু সাহারায় পরিণত হয়েছে। এই জমিতে কোন কিছুই জন্মাবার নয় শুধু খা খা করে শেষ প্রান্তের দিকে ধাপিত হওয়াই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কমলাটা দিন দিন বড় হচ্ছে। তাকে কিভাবে সুখি করা যায়। সেই চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। বাপ মরা মাইয়্যা। বাপের অভাব তো আর পূরণ করতে পারবে না। তবু চেষ্টা করতে দোষের কিছু নেই। তিনিই তার বাপ-মা। জীবন যৌবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছে-এই মেয়েটার জন্য। তাকে কিভাবে মানুষের মতো মানুষ করা যায়-সেটাই এখন তার একমাত্র চাওয়া পাওয়া। তাই শত কষ্ট বুকে ধারণ করে স্বামীর ভিটেবাড়িতে বসবাস করছে।
যে কাজে বিবেক আত্মতৃপ্তি পায় সে কাজে সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্টি হয়। বিবেক মানুষকে কখনো খারাপ কাজের দিকে ধাপিত করতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে বিবেকহীন না হয়। প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরে দুটি সত্তা বিরাজ করে। একটি পবিত্র সত্তা আর অন্যটি অপবিত্র সত্তা। পবিত্র সত্তার প্রকৃত পরিচয় বিবেক আর অপবিত্র সত্তার পরিচয় বিবেকহীন কর্মপন্থা। পবিত্র সত্তার কারণে মানুষের মনে অনুশোচনার জন্ম হয়; ফলে তার মনের অন্তগহিনে লুকায়িত অপবিত্র সত্তার কূ-মন্ত্রণার বন্ধন থেকে আলোর দিকে ছুটে যায়; আত্ম-মুক্তির প্রয়াসে। তবুও মানুষ কোন কোন সময় বিবেকহীন কাজ করে থাকে। মনের খায়েসে অথবা অন্য কারো কূমন্ত্রণায়। হাজী সাহেবও তাদের মনের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে শরীরটাকে চালাতে চাচ্ছে কিন্তু শরীর তো আর লোহা বা পাথর নয় যে চিরকালই এক রকম থাকবে। তবে কোন কোন সময় লোহাতেও মরিচা ধরে। যে যত কথা বলুক আর যত যুক্তি উপস্থাপন করুক কিন্তু হাজী সাহেবের কাছে তা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। কেন না, তার হৃদয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি যা অনুধাবন করেন-তা বাহ্যিক দৃষ্টি উপলব্ধি করার সাধ্য কারো নেই। বিধির বিধান লঙ্গন করবে কে? হাজী সেকান্দর আলীর এক কথা-তিনি তার শয্যাসঙ্গী চান; এছাড়া কোন কথা তার মাথায় আসছে না। শয্যাসঙ্গীর প্রত্যাশায় তার দিন কাটে। টাকা-পয়সা সয়-সম্পত্তি কোন বিষয় না। তার অনেক সম্পত্তি আছে। কিন্তু মনে সুখ নেই-শান্তি নেই। তাই নজু মোক্তারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নজু মোক্তার হাজীর কাছে ছুটে আসে। নজু মোক্তারের ধারণা যে হাজীর নিকট থেকে ভালো একটা কমিশন পাওয়া যাবে। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে সে ভুল করতে পারে না। এক সময় ঘটকালী ব্যাপারটা ছিল সামাজিক কাজের অংশ। মানুষ ছওয়াব পাওয়ার আশায় ছেলে-মেয়েদের বিয়ে সাদীর ব্যবস্থা করে দিত। কিন্তু বর্তমানে ঘটকালিটা হয়ে গেছে ব্যবসা ও পেশা। অনেকেই এখন ঘটকালি করে উপার্জন করে সংসারে চাহিদা মেটায়।
হাজী সাহেব মোক্তারকে বলেন, ঐ মুক্তাইরা। কিতা করচ। এতো দিন অইল-আমার লাইগ্যা কি বউ পাওয়া গেল না।
তোর কত ট্যাহা দরকার-ক? আমার বউ চাই! যত তাড়াতাড়ি পারছ-বিয়ার ব্যবস্থা কর! আমার বিয়ার কথা হুইন্না পোলা মাইয়ার মাথা খারাপ অইয়া গেছে। নজু মুক্তার বলে, হাজী সাব। হেচা কতা কইলে আপনে চেইত্তা যাইবেন। বুড়া মাইনষের কাছে কেডায় মাইয়া দিত চায়।
হাজী সাহেব খুব রাখ হলে বলেন, ঐ নউজ্জ্যা। আমি বুড়া, হে বুইড়া অইয়া গেছি। তাতে কি সমস্যা ক? টেয়া-পইসা, জাগা জমিন যা লাগে আমি দেয়াম। আমার বউ চাই। দেহি কোন ব্যাডায় আমারে থামায়।
পাশের গ্রামের ছলিম মিয়া— মা মরা মেয়ে নিয়ে বিপাকে আছে। বর্তমানের যৌতুকের যে চাহিদা। তাতে বিবাহ দেয়ার মতো তার সর্ঙ্গ্যে নেই। রিকশা চালিয়ে যে কয় টাকা পায়-তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। টাকা পয়সার অভাবে মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ে দিতে পারছে না। এই সুযোগটাকে নজু মোক্তার কাজে লাগানোর ফন্দি করেছে। তাই ছলিম মিয়াকে বিভিন্নভাবে বুঝায় যে, তার মেয়েকে যদি হাজী সেকান্দর আলীর কাছে বিয়ে দেয়; তার কোনো খরচ লাগবে না। তা ছাড়া হাজী তো কয়েক মাস বা বছর পরেই কবর দেশে চলে যাবে। তখন সয়-সম্পত্তির মালিক তো মিয়া তুমি হবে। তোমার মেয়ের নামে জমি দলিল করে দিবে বলছে।
তাছাড়া হাজীর যে অবস্থা বিয়ে যাবতীয় খরচ পাতির ব্যবস্থা করে দেবে। তোমার এক কানা কড়িও লাগবে না। সময় অসময় টাকা পয়সা নিয়ে চলতে পারবে। নজু মোক্তারের কথা ছলিম মিয়ার মনপোক্ত হয়। তাই সে তার মেয়ের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলে— মা গো। তোরে বিয়া-সাদী দেউনের ব্যবস্থা করার মতো আমার কাছে কোন ট্যাহা পইসা নাই; কি করি মা-তুই ক?
তবে নউজ্জা মুক্তারে কইছে; পাশের গ্যারামের সেয়ান্দার হাজীর নাকি বউ মইরা গেছে। তার লগে তর বিয়া দিত চায়। তুই নাকি এতে বেশি সুখ পাইবি। তুরে জমি লেইখ্যা দিব। মেয়ে উত্তর দেয়-বাবা; মা নাই ঘরে। তোমার ট্যাহা নাই। কি করবা। যা বালা অয় তাই কর। এতে আমারে কওয়ার কি আছে। যা কপাল আছে তা অইব। পায়জামা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে হাজী নতুন বউ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। অবিবাহিত বউ পেয়ে বুড়ো মুচকি মুচকি হাসে আর লাঠি ভর দিয়ে ধীরে ধীরে পা চালাচ্ছে।
কমলাদের বাড়ির পাশ দিয়ে হাজী সাহেবদের বাড়িতে যেতে হয়। ওই দিকে কমলার মা-আওতা বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখতে থাকে লাল শাড়ি পরা নতুন বউকে আর মনে মনে হাসে। এমন একদিন সেও তো লাল শাড়ি পরে এই বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু লাল শাড়ির বাঁধন বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। সেভাবে এই কেমন সমাজ। স্বামীর মারা গেলে স্ত্রী আর কারো সঙ্গে ঘর বাঁধতে পারে না কিন্তু স্ত্রী মারা গেলে স্বামী চল্লিশ দিনও যেতে দেয় না; নতুন করে কারো সঙ্গে ঘর বাঁধতে কালক্ষেপণ করে না। এটাই খোদার দুনিয়া এটাই নিয়ম! এটাই নারীর জীবন!
Thursday, December 5, 2019
খুদে বিজ্ঞানীর অভিযান by ফখরুল হাসান

এত রাতে এমন একটা পরিত্যক্ত জঙ্গলে আগুন জ্বলবে কেন? খটকা লাগে সোহানের কাছে। নাকি গভীর রাতে খোদাতালার কুদরত এটা। শেওড়াগাছটায় যে জিন-পরির আস্তানা- সে কথা তো গ্রামের সবার জানা। হতে পারে এটা ভুত-পেত্নীর কাজ। নাকি কাছে গিয়ে দেখে আসব! কিন্তু এত রাতে জঙ্গলের ধারেকাছে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। হঠাৎ করে মনের ভেতরে ভীতির সঞ্চয় হলো। মশালের মতো অগ্নিশিখাটা মাটি থেকে এক হাত উপরে সাপের জিভের মতো লিকলিক করছে। নিশ্চয়ই দুষ্টু কোনো জিন-পরির কাণ্ড।
শ্রাবণ মাস, আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে, মনে হয় বৃষ্টি নামতে পারে। বলতে না বলতেই ঝুমবৃষ্টি। ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সোহান। মসজিদে মুয়াজ্জিনের আজানের সুরে ঘুম ভাঙে সোহানের। ঘর থেকে বের হয়ে আগুনটা দেখতে চাইল। কিন্তু আগুনটা নেই! রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। গাছগাছালি লতাপাতা সব ভিজে চুপসে আছে, ভেজা পাতায় তো আগুন জ্বেলে থাকার কথা না। দিনের বেলায় বন্ধুদের নিয়ে না হয় ঘটনাটি কী ছিল দেখে আসলাম। যাই শুয়ে পড়ি গিয়ে।
অন্ধকার মুছে গিয়ে ভোরের আলোয় ভরে উঠল পৃথিবী, এখন আর জংলার ধারে যেতে ভয় নেই। সকালে তার স্কুলের বন্ধুদের গতরাতের ঘটনার কথা বলল। নাঈম তো তাকে নিয়ে রীতিমতো মজা করল। কিন্তু কৌত‚হলী সুজন। সে বলল, চল ঘটনাটি আমরা দেখে আসি। দিনের বেলা তো আর ভ‚তের ভয় নেই। আর দাদির কাছে শুনেছি জিনেরা বাচ্চাদের ক্ষতি করে না। ওদের কথা শুনে দীপ্ত রেগে গেল। ‘বেটা, বিজ্ঞানবিদরা বলেছেন ভ‚ত বলে কিছু নেই। তবে জিন আছে। মানুষের মতো তারাও একটি জাতি।’
দীপ্ত ও সোহান দুজনেরই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আছে। পঞ্চম শ্রেণিতে রুকসানা ম্যাডাম তাদের বিজ্ঞান ক্লাস নিতো। ভালো ফল করেছে বিজ্ঞানে। ষষ্ঠ শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণিতে নীলিমা ও আঞ্জুমান ম্যাডাম ক্লাস নিতো। যথারীতি দীপ্ত ও সোহান বিজ্ঞানে ভালো করেছে। তারা সবাই এখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। চারু স্যার তো বিজ্ঞানের ক্লাসে এসে সবসময় বলেন, তোরা একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবি।
দীপ্ত ও সোহান সবাইকে বলল-চল বিষয়টি কাছে গিয়ে দেখে আসি। কথামতো সব বন্ধু মিলে সেই পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির জঙ্গলে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে কোন জিন, ভ‚ত না পেয়ে নাঈম বলল- আগেই বলেছি, এটা তোর চোখের ভুল। রাতে কী দেখতে কী দেখলি, তুই কে জানে? চল বের হয়ে যাই।
হঠাৎ সুজন বলে- তোরা সামনে যা আমি একটু হিসু দিয়ে নেই। সবাই হতাশ হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে সুজনের চিৎকার। দাঁড়া পেয়েছি, সবাই এক সঙ্গে- কী পেলি। আগুন, আগুন! হ্যাঁ এদিকে আয়। সবাই দৌড়ে সুজনের কিছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে কোথায় আগুন? সুজন ইশারা দিয়ে দেখায়। ‘মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতায় আগুন লেগেছিল বলে মনে হচ্ছে’- দীপ্ত বলল। সোহান বলল- ‘তাহলে আমি যে দেখলাম আগুনের শিখা!’
সবাই একটা বিষয়ে নিশ্চিত হলো। তা হচ্ছে গতকাল রাতে সোহান ঠিকই আগুন দেখেছে। কিন্তু রাতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ছাইগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কিন্তু সোহানের কৌত‚হল আগুন কী করে লাগল! তখন সুজন বলে ওঠে, ‘গতকাল বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলা হয়েছিল। হয়তো কেউ বিড়ি খেয়ে ফেলে দিয়েছে। ফেলে দেয়া বিড়ির গোড়ালি থেকে হয়তো শুকনো পাতায় আগুন ধরতে পারে।’
সোহান বলল, ‘হয়তো তোর কথা ঠিক। কিন্তু আমি ভাবছি আগুনের শিখার কথা। আগুন লাগলে তো ছড়িয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু এক জায়গায় কেন আগুনের শিখা থাকবে? সোহান চল দেখি ছাইয়ের শেষ মাথা কোথায়? তাহলে ব্ঝুতে পারব বিষয়টি।’ দীপ্তর কথার সঙ্গে একমত হলো সোহান। হাতপাঁচেক এগোতেই ছাইয়ের অস্তিত্ব নেই। যদিও বৃষ্টির কারণে ছাই পানির সঙ্গে একাকার।
হঠাৎ সোহানের নাকে একটা ঝাঁজালো গন্ধ এসে লাগল! কিরে তোরা কি কোনো গন্ধ পাচ্ছিস? না তো! সবাই জবাব দিল। কিন্তু দীপ্ত বলল- ‘পাচ্ছি। মনে হচ্ছে গ্যাসজাত কিছু হবে। হ্যাঁ আমিও তাই ভাবছি। কিন্তু কোথা থেকে আসছে?’ নাঈম ঠাট্টা করে বলল, ‘মনে হয় ভ‚তের বউ আমাদের জন্য রান্না করছে।’
‘ধ্যাত তুই না সবসময় ফাজলামি করিস’- বলতেই হঠাৎ সোহানের চোখে পড়ল জঙ্গলের এক জায়গায় পরিষ্কার। কয়েক হাত জায়গায় কোনো গাছ নেই। কাছে গিয়ে দেখে ছাই আর টুকরো টুকরো কয়লা। গন্ধটা নাকে আরো তীব্রতর হতে লাগল।
সোহান আর দীপ্ত মাটিতে বসে পড়তেই বুঝতে পারল এখানে গ্যাস আছে। পেয়েছি পেয়েছি বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে সবাই। সোহান দীপ্তর সঙ্গে পরামর্শ করে সুজনকে বলে, আমিনুল চাচার দোকান থেকে একটা ম্যাচ নিয়ে আয়। কিছুক্ষণ পরে ম্যাচ নিয়ে হাজির সুজন। যেই না সুজন ম্যাচে খোঁচা দিল। সঙ্গে সঙ্গে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। তখনই, সোহানের চোখমুখ এক অলৌকিক রোশনাইয়ে ভরে উঠল।
Monday, November 11, 2019
তাইজুদ্দিনের হালচাল by তারিক ফিজার

বাবা! আমার পোলাটা না খেয়ে মরবে। সের আধেক চাউল দাও না। কাজ নিব সামনে, মাইনে পেয়ে সুদসহ দিব খুব আকুল স্বরে বলল তাইজুদ্দিন।
শোনা মাত্রই তালুকদার ভ্রু কুঁচকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘অ্যা, সুদ সহ দিবে! সালা, গত মাসের পাঁচশ টাকা বাকি! টাকা শোধ করবি কবে? ট্যাকনিক তো ভালোই শিখছিস। জমাজমি নাই? জমাজমি থাকলে কিছু, বল।’
খুব অবাক হলো তাইজুদ্দিন। বলে উঠল, ‘পাঁচশ টাকা মানে! আমি তো পাঁচশ টাকার জিনিস নেই নাই।’ তালুকদার চোখ লাল করে রাগান্বিত হয়ে উত্তর দিল, ‘সাড়ে তিনশ টাকার সুদ দেড়শ টাকা। এই হলো হিসাব। সালা, মুর্খের বাচ্চা।’
তাইজুদ্দিন কাঁদো কাঁদো চোখে দোকানের সামনে থেকে চলে গেল। সন্ধ্যার আজান পড়ে গেছে। তাইজুদ্দিন শত চেষ্টা করেও রান্নার জন্য কিছু চাউল সংগ্রহ করতে পারল না। বাড়ি ফেরার পথে করিম ব্যাপারীর সঙ্গে দেখা। তাইজুদ্দিনের ছেলে বেলার বন্ধু। তাইজুদ্দিন বলল, কোথায় যাচ্ছো, করিম?
করিম ব্যাপারী উত্তর দিল, ‘এই তো নামাজ পড়লাম, ভাই। কিছু বলবা?’
তাইজুদ্দিন কিছু না ভেবে হুটহাট বলে ফেলল, ‘কিছু চাউল কর্য দিতে পারবা, করিম? পোলাডার খুব অসুখ।’
করিম ব্যাপারীর মুখে মুচকি হাসি।
‘দিন কাল যা পড়ছে, এই সন্ধ্যা বেলায় চাউল দিতে হবে অন্যের ঘরে। সমাজ, ধর্ম বলে কিছু নাই দুনিয়ায়, বলল করিম ব্যাপারী। তাইজুদ্দিন আবারো বলে উঠল, আমার পোলাডার অসুখ, না খাইলে মইরা যাবে। যদি পারো...
করিম ব্যাপারী মুখ কালো করে উত্তর দিল, সন্ধ্যায় চাউল কর্য দিবে কে? অন্য সময় কইতে পারো নাই, মিয়া?
তাইজুদ্দিনের বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠল। খালি হাতে বাড়ি যেতে হচ্ছে তাকে। ছেলেকে কি বলবে, বুঝে আসছে না। বাবা হিসাবে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। তাইজুদ্দিন বাড়ি এসে দেখে ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে। বিছানার সঙ্গে মিশে যাওয়া সন্তানের কোমল দেহখানা দেখে তাইজুদ্দিনের মনটা বিষণ্নতায় ভরে উঠল। অতীতের কথা মনে হলো তার। মনে হতে লাগল জীবনের সবচেয়ে করুণ মুহূর্তের কথা। তাইজুদ্দিন তখন যুবক। সবেমাত্র বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন সংসার গড়েছে। নিজের নামে দুই বিঘা আবাদি জমি, বাড়ি ভিটে এবং গোয়ালভরা গরু। খুব ভালোভাবেই কাটছিল জীবন। একদিন সন্ধ্যায় মাঠের কাজ শেষ তাইজুদ্দিন বাড়ি ফিরেছে। ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেল তাইজুদ্দিনের এক দূর সম্পর্কের বোন তাইজুদ্দিনের স্ত্রীর মাথায় পানি ঢালছে।
তাইজুদ্দিন বলে উঠল, ‘কি হইছে? এই দুপুরেই তো ভাল দেইখা গেলাম।’ বোন উত্তর দিল, ‘পোয়াতি মাইয়া, কখন কি হইয়া যায় বলা যায় নাকি? কবিরাজ রে খবর দেন। অবস্থা ভাল না। খুব জ্বর গায়ে, পুইড়া যাইতাছে শরীল।’
তাইজুদ্দিন দেরি না করে কবিরাজ কে খবর দিল। কবিরাজ কিছুক্ষণ ঝাড়ফুঁক করে ভালো হবে এই আশ্বাস দিয়ে চলে গেল। কিন্তু কবিরাজের ঝাড়ফুঁক কোনো কাজে দিল না। অসুস্থতা যেন আরো দ্বিগুণ হারে বাড়তে লাগল। শেষমেশ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হল। গরু পাঁচেক বিক্রি করে ভালো একটা হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো স্ত্রীকে। এভাবে কিছুদিন চলার পর ডাক্তার বলে দিল ক্যান্সার হয়েছে, লাখ দুই টাকা লাগবে। তাইজুদ্দিন মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তালুকদারের কাছে টাকা চাইল। তালুকদার বলল, ‘টাকা দিব কিন্তু জমি দিতে হবে।’ তাইজুদ্দিন বলল, ‘ওই দুই বিঘা ছাড়া কিছু নাই আমার। বিক্রি করলে খাব কি?’
‘আমি অতকিছু বুঝি নে। টাকা নাই আমার কাছে’, তালুকদার নির্দয় ভাবে বলল। অনেক কাকুতিমিনতি করেও কাজ হলো না। জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে শহরের দিয়ে রওনা হলো। হাসপাতালে গিয়ে টাকা দিলে সেই রাতেই অপারেশন হয়। সকালে খবর পেল অপারেশন করেও নাকি কোনো লাভ হয়নি। তাইজুদ্দিনের স্ত্রী মারা গেছে।
হাসপাতালের মধ্যেই তাইজুদ্দিনের সে কি চিত্কার! তাইজুদ্দিন লাশ নিয়ে চলে আসে গ্রামে। গ্রামের মুরব্বিরা বলে, আহারে! একটা পোলা রাইখা চইলে গেল! তাইজুদ্দিন উত্তর দেয়, হ, এখন আমি এই পোলাডারে নিয়া কই যামু। আমার আর কেউ থাকল না। সেই দুঃখের ইতিহাস তাইজুদ্দিন আজও ভুলতে পারে না। বুকের মধ্যে যেন বার বার বেজে ওঠে তার। ভোর ছয়টা। তাইজুদ্দিন ঘুম থেকে উঠেছে। ছেলেটার কথা চিন্তা করে সারারাত ঘুম হয়নি তার। গোয়াল থেকে গরু বের করে তাইজুদ্দিন। গরুগুলো অন্যের থেকে নেয়া। গাই থেকে বাছুর জন্ম নিলে, বাছুরের অর্ধেক ভাগ তাইজুদ্দিনের। তাইজুদ্দিন হঠাত্ টের পায় ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। তড়িঘড়ি করে ছেলের কাছে যায় সে। বলে উঠে, বাবা, ঘুম শেষ হইছে?
তাইজুদ্দিনের ছেলে উত্তর দেয়, ‘আব্বা,ভাত খাব।’
তাইজুদ্দিনের মুখটা কালো হয়ে যায় ছেলের কথায়। তাইজুদ্দিন বলে, বাবা, এত সকালে ভাত খাওয়া ঠিক না। ঘরে মুড়ি আছে। মুড়ি দেব?
না, খাব না মুড়ি, উত্তর দেয় ছেলেটা। তাইজুদ্দিন বলে, আজ দিনমজুরি দিব। ভাত খাইতে পারবা, বাবা। তুমি ঘুমাও এখন। আমি কামে গেলাম, ঘুম থেকে উইঠা তোমার কাগজী খালার বাড়ি যাবা। সন্ধ্যা হইলেই বাড়ি ফিরবা কিন্তু তাইজুদ্দিনের ছেলে উত্তর দেয়, ঠিক আছে, আব্বা।
তাইজুদ্দিন ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে ছুটতে থাকে গঞ্জের বাজারে। যেভাবেই হোক টাকা জোগাড় করতেই হবে। কাজ একটা পেয়েও যায়। বিল্ডিং এ ইট টানার কাজ। সারাদিন কাজ করে দুইশ টাকা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয় তাইজুদ্দিন। যাওয়ার পথে তালুকদারের দোকান থেকে চাউল, ডাল নেয়।
তালুকদার বলে, ‘আজ না হয় কাম পাইছো। পরে কি করবা!’
তাইজুদ্দিন উত্তর দেয়, গরিব মানুষের আল্লা আছে। তাইজুদ্দিন ঘরে ফেরে। গিয়ে দেখে ছেলেটা নেই। মনে মনে বলে, এখনো ফেরে নাই কাগজীদের বাড়ি থাইকা! এক দৌড়ে কাগজীদের বাড়ি যায় তাইজুদ্দিন। গিয়ে দেখে কাজ করছে কাগজী। তাইজুদ্দিনকে দূর থেকে দেখেই জিজ্ঞাস করে, কেমন আছেন, ভাই?
তাইজুদ্দিন বলে ওঠে, আমি ভাল। আমার পোলাডা তো বাড়ি যায় নাই এখনো। কই গেছে?
কাগজী জবাব দেয়, কই! ও তো আসে নাই আজ। কথা শুনে তাইজুদ্দিনের পা থেকে যেন মাটি সরে গেল।
তাইজুদ্দিন আবারও বাড়ি যায়। আশপাশের সব বাড়িতে খোঁজ নেয়। কোথাও নেই। মাথায় কিছুই কাজ করছে না তাইজুদ্দিনের। প্রতিবেশী কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা এসে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে। কেউ বলে, কাল সকালে মাইক মারতে হবে। এছাড়া উপায় নাই। পরদিন সকালে বিছানা থেকে উঠেই কেমন যেন হৈহুল্লোড় শুনতে পায় তাইজুদ্দিন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন তাইজুদ্দিনকে বলে, ‘ভাই, পুকুর ঘাটে যান।’
তাইজুদ্দিন এক দৌড়ে পুকুর ঘাটে যায়, গিয়ে দেখে সহস্র মানুষের ঢল। তাইজুদ্দিনের মায়ের বয়সী একজন মহিলা তাইজুদ্দিনের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘হায় হায়, একটা মাত্র পোলা! কই যাস ওরে রাইখা? শুনলাম, দুইবেলা ভাত খাওয়াইতেও নাকি পারস নাই। এখন আর ভাত ভাত করবে না।’
তাইজুদ্দিনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মহিলার কথাগুলো ঘোড়ার ক্ষুরের মতো বুকে এসে বিধে তার।
‘আমার বাবা!’ বলে জোরে একটা চিত্কার দেয় তাইজুদ্দিন। আকাশ বাতাস যেন থমকে যায় তাইজুদ্দিনের চিত্কারে। তাইজুদ্দিনের বন্ধু করিম ব্যাপারী এসে তাইজুদ্দিনকে বলে, ‘পা পিছলে হয়তো পুকুরে পড়ে গেছে। সবই খোদার ইচ্ছে। কখন যে কারে নেয়, কেউ জানে না।’
মুখে কোন কথা নাই, পাথর হয়ে গেছে তাইজুদ্দিন। তাড়াতাড়ি করে কয়েকটা যুবক লাশটা পানি থেকে ডাঙায় নিয়ে আসে, গোসল করায়। দুপুরেই জানাজা পড়ে, তারপর গোরস্থানে। তাইজুদ্দিন তখনও নিস্তব্ধ, কোন কথা নেই মুখে। চোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরে অবিরত। অবশেষে ছেলের কবরে মাটি দিয়ে বাড়ি ফেরে তাইজুদ্দিন।
সেই রাতে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখে তাইজুদ্দিন। দেখে, ছেলেটা তাইজুদ্দিনের হাত ধরে গঞ্জের বাজারে যাচ্ছে। যাওয়ার পথে কোমল মুখে বলতে বলতে যাচ্ছে, ‘আব্বা, আজকে আমরা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাইমু, পোলাও খাইমু, মাংস খাইমু’। ঘুম ভেঙে যায় তাইজুদ্দিনের। টের পায় চোখ বেয়ে দর দর করে অশ্রু ঝরছে।
কারও কাছেই যেন পৌঁছায় না তার এই কান্নার স্বর। কোন এক গহিন অরণ্যে মিলিয়ে যায় তাইজুদ্দিন এবং তার জীবনের এই দুঃখময় হালচাল।
Friday, October 4, 2019
হৃদির ছুটির সকাল by মনিরা মিতা
| অলঙ্করণ- সুমাইয়া রাত্রী রিয়া |
রাতের বেলা সূয্যি মামা ঘুমাতে যায় তখন আলো থাকে না, অন্ধকার হয়ে যায় দুনিয়া, তারাদের পৃথিবী হয়ে যায় তখন আকাশ। ওরা মিটমিট করে জ্বলে আর আকাশের গায়ে লেপটে থাকে।
সাগরও খুব পছন্দ হৃদির। গতবছর বাবা-মায়ের সঙ্গে কুয়াকাটা গিয়েছিল সে। কি যে মজা করেছিল! বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাগর কোলে। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। ঢেউয়ের গর্জন। অনেক সময় গোসল করেছিল সে সাগরে। হৃদি প্রতিদিন মাকে বলে ‘আম্মু আবার করে যাব কুয়াটাকা?’ আম্মু বলে তুমি বড় হও তারপর। কিন্তু হৃদিও এখন অনেক বড় হয়েছে। বৃষ্টিও খুব ভালো লাগে হৃদির। মেঘেদের যখন খুব মন খারাপ হয় তখন ওরা কালো হয়ে যায়। তারপর একসময় কেঁদে ফেলে আর ওদের কান্নাই বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দেয় গাছ, পাতা, ফুল। হৃদি এসব আনমনে ভাবছে আর কাক দুটোকে মুড়ি খেতে দিচ্ছে। হঠাৎ দেখে খুব সুন্দর একটা প্রজাপতি বেলকনির কোনে বসে পাখা দুটো মেলছে আর বন্ধ করছে। কি সুন্দর নকশা করা ওর পাখা দুটো যেন রূপকথার নকশী কাঁথা। হৃদি হাত বারিয়ে ধরতে চায় ওকে কিন্তু পারে না। হৃদির খুব ইচ্ছে করে ওকে ধরতে। হঠাৎ প্রজাপতি উড়ে দিয়ে হৃদিদের বিল্ডিংয়ের নিচের ঘাসে বসে।
হৃদির মন বলে ওখানে গেলে ঠিকই সে ধরতে পারবে প্রজাপতিটা তাই সে কাউকে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে নিচে নেমে যায়। হৃদি সেই ঘাসের কাছে এগিয়ে গেল ওকে ধরতে, সেও ফুড়–ত করে উড়ে অন্য জায়গায় চলে গেল। হৃদিও ছোটে ওর পিছু পিছু। এভাবে অনেকক্ষণ সে দৌঁড়াতে থাকে প্রজাপতির পিছু পিছু, ছুটতে ছুটতে প্রজাপতিটা হারিয়ে ফেলে হৃদি। গাড়ির হর্নে চমকে ওঠে হৃদি। একি সে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে! চারিদিকে তাকায় হৃদি। সব অচেনা, এ কোথায় এসে পড়েছে সে! প্রজাপতির পিছু ছুটতে ছুটতে কোথায় কোন গলিতে এসেছে হৃদি বুঝতে পারে না। এখন কিভাবে ঘরে ফিরবে সে? কোথায় পাবে আব্বু-আম্মুকে? দু’চোখ ফেটে-কান্না আসে ওর। পাগলের মতো দৌঁড় দেয়। হঠাৎ একটা গাড়ি এসে ... আহ্। জোড়ে কেঁদে ফেলে হৃদি।
কারো মমতা ভরা ডাক কানে আসে হৃদির। চোখ খুলে দেখে সে ঘরের মেঝেতে, মা-বাবা পাশে বসে আছে। মা বলছে খাট থেকে পরে গেছ মা? খুব ব্যথা পেয়েছ?
তাহলে এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিল হৃদি? উহ্... স্বপ্নের শেষটা কি ভয়ঙ্করই না ছিল। না, স্বপ্নেও হৃদি কখনো একা ঘরের বাহিরে যাবে না।
Thursday, September 12, 2019
লাল লতিকা হট্টিটি পাখির অদ্ভুত গল্প

এক সময় বাংলাদেশের জলাশয়ের পাশে লাল লতিকা হট্টিটির অবাধ বিচরণ আর খাবার খুঁজে বেড়ানোর দৃশ্য ছিল অতি পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় সেই দৃশ্য এখন আর সহজে নজরে পড়ে না। তবে পাখিটি একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি। হারিয়ে যায়নি মুগ্ধতা ছড়ানো সেই বিচরণ-দৃশ্যও।
হট্টিটি অত্যন্ত চালাক পাখি। লাল লতিকা, ধূসর আর সাদা রঙের পালক এবং হলুদ রঙের লম্বা পায়ের পাখিগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। পাখিটির দেহের তুলনায় পা দুটো অত্যধিক লম্বা। পায়ের আঙুলের বিশেষ গড়নের কারণে ওরা গাছের ডালে বসতে পারে না। ডাকে ‘হট-টি-টি হট-টি-টি’ স্বরে। ওরা বাসা বাঁধা ও ডিম দেওয়ার সময় এক রকম, আনন্দে এক রকম, বাচ্চাদের দিকনির্দেশনা দিতে এক রকম এবং সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে ভিন্ন রকম শব্দে ডাকে। অন্য কোনো পাখির ক্ষেত্রে এমনটা একেবারেই বিরল।
পাখিটি বাসা বাঁধে খোলা মাঠ, চষা ক্ষেত, ছোট ঘাস বা বিভিন্ন রকম ছোট উদ্ভিদ-গুল্মের ওপর। নিজের বাসা তৈরিতে এক সপ্তাহ সময় নেয় এই পাখিটি। ছোট মাটির ঢেলা, শামুকের খোল, ইটের টুকরো, পুরনো দালানের পলেস্তারার টুকরো, শুকনো সুপারি, মাটির হাঁড়ি-কলসির চাড়া ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাসাটি হয় বেশ আগোছালো।
খাদ্যতালিকায় রয়েছে কীটপতঙ্গ, কৃমিকীট ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী ক্ষুদ্র প্রাণী। বীজ ও ছত্রাক, ব্যাঙ ও ব্যাঙাচিও খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হট্টিটির লম্বা পা নিয়ে একটি জনপ্রিয় গল্প আছে, সৃষ্টির শুরুতে হট্টিটি পাখির গর্ব ছিল যে সে স্বর্গ, আকাশ আর পৃথিবীর ভার বহন করতে পারে। আর তা অন্য পাখিদের কাছে সে সব সময় বলে বেড়াত। এতে পাখিরা বিরক্ত হয়ে একদিন সবাই মিলে বিধাতার কাছে নালিশ করল। নালিশ শুনে বিধাতা হট্টিটি পাখিকে অভিশাপ দিলেন, হট্টিটিকে পায়ের ওপর আকাশের ভার বহন করতে হবে।
এ জন্যই হট্টিটির দেহের তুলনায় পা বেশি লম্বা। আর মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার ভয়ে পাখিটি পা দুটি আকাশপানে তুলে শয়ন করে। বাস্তবে কখনো হট্টিটি পাখিকে আকাশের দিকে পা উঁচু করে থাকতে দেখা যায়নি।
Wednesday, August 14, 2019
জাম্বুরা ফুল by তানজিদ শুভ্র

মন চাইলেও তো আর সব কিছু হয় না। তাই মন স্থির করে নিল। হঠাৎ পাশের বেঞ্চের রাব্বিকে ডাক দিয়ে শুভ্র বলল:
– কিরে, ফারহার হাতের ফুলটা আনতে পারবি?
– এটা আর কী এমন ব্যাপার? পারবো।
– আচ্ছা, পারলে এনে দিস।
– তিন-চার মিনিট অপেক্ষা কর।
– আরে এখন না, ছুটির সময়।
নিষেধ না মেনে মিনিট চারেক পর পাশ থেকে রাব্বী শুভ্রর হাতে কিছু একটা দিল। খুলে দেখে সাদা ফুল হাতে আর ফারহার হাত ফাঁকা। মনে হচ্ছে হাতে হাতে বন্ধন না, বিবাদ হবে। কী করবে এবার! ফারহার সাথের বান্ধবীগুলোও ঘটনা বুঝে হাসছিল খুব। হয়ত শুভ্রকে দুএকটা বকাও দিতে চেষ্টা করছিল। শুভ্র লক্ষ্য করল আড় চোখে ফারহা তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
শুভ্র চেষ্টা করল মুখে বিষন্নতার ছোঁয়া লাগাতে। শুভ্র এবার রাব্বিকে দিয়ে ফুল ফারহার বেঞ্চে রেখে দিয়ে আরও একবার হাসির পাত্র হয়। হাসাহাসি শেষ না হতেই ছুটি হয়ে গেল। ফারহা চলে গেল। সাদা ফুল পড়ে রইল বেঞ্চে। আবির হাতে নিয়ে একটা পাঁপড়ি দিল শুভ্রকে। সাদা ফুলের সুভাষ মন কেড়ে নেওয়ার পরও দিনের প্রস্থান হয় ইতিবাচকতার সাথে।
পরদিন প্রাইভেট ক্লাসে আধাঘণ্টা পর গিয়ে ফারহার পাশের সিটে বসতে হয় শুভ্রকে। হয়ত শুভ্রর অনুপস্থিতে কারও আলোচনার বিষয় ছিল গতকালের ফুল কিংবা কারও মায়াবী দৃষ্টি “শুভ্র” নামক অবয়ব খুঁজেও ব্যর্থ হয়েছে। না খুঁজলেও দোষ নেই তাতে। শুভ্র ভাবছিল কী হবে আজকে? বিভাদ নাকি বন্ধন। যাই হউক, কেউ কিছু না বললেও ফারহাকে শুনিয়ে ক্ষীণ কন্ঠে শুভ্র ছড়া কাটে। ছড়ার শ্রী ছিল এমন-
ফুল চুরিতে যদিও আছে পাপ,
পারলে করে দিও মাফ।
ভালোবেসে পুষিয়ে দিব তোমার যত রাগ!
করো না আর মান অভিমান…।
ওইদিন প্রাইভেট শেষে বের হয়ে শুভ্র দেখে সামনের জাম্বুরা গাছে ঝুলছে একইরকম ফুল। আবির দুই থোকা ফুল নিয়ে শুভ্রকেও দেয় একটি। আগেরদিন যে ফুলের সুগন্ধ নিয়েছিল ফারহার কাছ থেকে সেইরকম ফুল নিজের হাতে নিয়ে ফারহার পথ অতিক্রম করে শুভ্র। পরদিন শুভ্র প্রাইভেটে যায় নি। শুভ্র ঘুরতে যাওয়ায় প্রাইভেটে না আসার কথা রাব্বী জানত। কিন্তু রাবব্বীও আসে নি প্রাইভেটে। সবার অজানা রয়ে গেলেও ভিন্ন চোখে না আসার কারণ খুঁজে ফারহা। সঠিক সমাধান না পেলেও ভাবে লাজুক ছেলেটা হয়ত ওইদিনের হাসাহাসির কারণে লজ্জা পেয়ে বসে থেকে আজ আসে নি। তারপরের দিনেও শুভ্র’র অনুপস্থিতি ছিল বেশ কয়েকজনের আলোচনার টুকরো বিষয়। বন্ধুহীন শুভ্রর কথা জানার কোন পথ না থাকায় শুধু অপেক্ষার বাতায়ন খোলা ছিল।
সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারে শুভ্রর দেখা মিলে প্রাইভেট ক্লাসে। কিন্তু ঐদিন ফারহা না আসায় মান অভিমান ঠিক কাটিয়ে উঠে নি। আবির, রাব্বী, ফারাবী সবাই মজা করলেও শুভ্র’র অন্বেষণের দৃষ্টিতে ছিল ফারহার লাবণ্যময়ী বদনখানি। খুঁজে না পেয়েও আক্ষেপ না করে শনিবার বিকেলের অপেক্ষায় বাড়ি ফিরে শুভ্র।
সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে শনিবার বিকেলে যখন শুভ্র প্রাইভেটের সামনে আসে তখন ফারহাকে ঐ গাছতলায় দেখে পাশে দাঁড়ায়। আশেপাশে কেউ না থাকায় শুভ্রকে সজোরে ধাক্কা দেয় ফারহা। শুভ্র চমকে যায়। ফারহার সাথে আগে কখনোও কথাও হয় নি। আর আজ প্রথমেই এত জোরে ধাক্কা! কারণ জানতে চাওয়ার আগেই ফারহা প্রশ্ন করে শুভ্রকে; শুরু হয় কথোপকথন।
– এই ছেলে, এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?
– আমি? কয়দিন?
– হ্যাঁ, তুমিই। চারদিন পর আজ দেখলাম।
– ইইই! তুমিই তো বৃহস্পতিবার আস নি।
– তো?
– আমি আসছিলাম তো।
– হুহ।
– এখন বলুন তো, আমাকে ধাক্কাই কেন দিলেন আর নিজেই পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচালেন কেন?
– কিছু নাহ্।
– আচ্ছা।
রুমে ঢুকার ঠিক আগে ফারহা শুভ্র’র ব্যাগের এক পকেটে একটা গোলাপ রাখলেও শুভ্র টের পায় নি আদৌ। বাড়ি ফিরে যখন শুভ্র গোলাপে সন্ধান পায় তখন সাথে একটা চিরকুটও দেখতে পায়। চিরকুটে লেখা- ‘এত অভিমান?’ একটু ভাবনার পরেই বুঝতে পারে ফারহা-ই এই চিরকুটের প্রেরক। শুভ্র’র পক্ষ থেকে কোন উত্তর পায় নি ফারহা। তবে এখন একটু আধটু কথা হয় ওদের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের পর্যায়ে পৌঁছলেও মান অভিমান ঠিকই থাকে ওদের মাঝে। সপ্তাহে একদিন হলেও অভিমান করে কাটাতে হয় ওদের। এ যেন ওদের নিত্য রুটিন। অভিমানের কারণগুলো যতই নগণ্য হউক না কেন ভাঙতে লাগত ঠিক একদিন।
প্রথম দিনের ঘটনার দুই মাস পর শুভ্রর জন্মদিন ছিল। যদিও বন্ধুবান্ধবদের কেউ জানতই না তবুও সাদা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ফারহা। জন্মদিনের সূত্র জানতে চাইলে ফারহা জানায় শুভ্রর আইডি কার্ড লুকিয়ে নিয়ে পিছন থেকে খুব কষ্ট করে জেনেছে। শুভ্র অবাক হয়। কারণ, কোন বন্ধুই যেখানে জন্মদিন জানার পরও শুভেচ্ছা জানায় না সেখানে মেয়েটা জন্মদিন খুঁজে বের করতে লুকিয়ে আইডি কার্ড দেখে। সেই থেকেই ধীরে ধীরে মান অভিমান ভাঙা গড়ার ছোট্ট কুটির তৈরি হয়। সাদা ফুল হয় সেই কুটিরের অলংকার।
হঠাৎ একদিন শুভ্র’র মনে একটা প্রশ্ন জাগে।
– জাম্বুরা ফুল কি আসলেই সুগন্ধ ছড়ায় নাকি প্রথম দিনে পু্ষ্পপ্রণয় ছিল অন্য কোন সুভাষে, অন্য কোন মোহে?
Saturday, August 10, 2019
যে কারণে দুই বছরে ১১ জনকে বিয়ে করেন এই তরুণী

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমেই যুবকদের টার্গেট করা হতো। প্রথমে অচেনা কোনো যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করতেন ওই তরুণী। মাস গড়াতে না গড়াতেই প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। ফাঁদে পা দিলেই আরো বেশি ঘনিষ্ঠ হতেন সে। ঠিক যেমন হয়েছিল প্রাসার্ন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে।
প্রাসার্নের সঙ্গে একটি রিসোর্টে দেখা করেন ওই তরুণী। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস পর প্রাসার্নকে ওই তরুণী জানান যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিয়েতে রাজিও হয়ে যান প্রাসার্ন। বিয়ের জন্য ওই তরুণীকে ৬ হাজার ডলার পণ দেন প্রাসার্ন। বিয়ের সময় কনেকে পণ দেয়াটাই রীতি থাইল্যান্ডে।
প্রাসার্নের অভিযোগ, বিয়ের দুদিন পর তরুণী জানান, তিনি পারিবারিক ব্যবসায় সাহায্যের জন্য নিজের গ্রামে যেতে চান। তারপর আর ফেরেননি।
ঠিক এভাবেই বাকি যুবকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বিয়ে এবং তার কয়েক দিনের মধ্যে অন্য কোনো অজুহাতে বিয়েতে দেয়া পণ নিয়ে ফের লাপাত্তা। এভাবেই গত দুই বছরে ১১ জনকে ঠকিয়েছেন তিনি। কারো থেকে ৬ হাজার ডলার পণ নেন তো কারো থেকে ৩০ হাজার ডলার।
তবে বলা হয় ১০ দিন চোরের ১ দিন গেরস্থের। তেমনই ১২ দিন কনের, একদিন বরের। অবশেষে তিনিও তাই ধরা পড়লেন পুলিশের হাতে।
তার স্বামীরা প্রতারিত হয়ে এবং টাকা খুইয়ে একে একে পুলিশের দ্বারস্থ হন। আলাদা আলাদা অভিযোগে তদন্তে নেমে পুলিশ বুঝতে পারে কোনো একটি বা দুটি নয়, ১১ জনকে একইভাবে বোকা বানিয়েছেন তরুণী।
সম্প্রতি ওই তরুণীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধরা পড়েন তার আসল স্বামী থিতিরাট নঙ্ঘাপিটকও।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর সঙ্গেই এসব কাণ্ডের ছক কষতেন তিনি। তাদের কাছ থেকে ৯০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ১১ জন ছাড়াও ওই তরুণী আর কাউকে প্রতারণা করেছেন কিনা তা জানতে তদন্তে নেমেছে দেশটির পুলিশ।
Friday, August 9, 2019
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম কি ও প্রতিরোধের উপায়

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হল-
-রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।
-নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
-শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
-প্রস্রাব কমে যায়।
-হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়
ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালান-কোঠায় তারা বাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
-বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
-যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, অব্যবহƒত কৌটা, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
-ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে। একুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
-এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে।
-দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
-বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফপ্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে রোগীকে কোনো মশা কামড়াতে না পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর হয়তো বা নির্মূল করা যাবে না। এর কোনো ভ্যাক্সিনও বের হয় নাই, কোনো কার্যকরী ওষুধও আবিস্কৃত হয় নাই। ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনও আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গুজ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।
ডেঙ্গুর দায় কার? by হাসান মাহমুদ রিপন

ডেঙ্গুর ভয়াবহতার জন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছেন নগরবাসী। সময়মতো মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। কেউ কেউ বলছেন এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও তাদের দায় এড়াতে পারে না। অপরদিকে রাজধানীর মশা দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ‘মশক নিবারণ দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হলে মশা নিধনের কাজে না লাগিয়ে এটিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশার প্রকোপ বৃদ্ধির জন্য নগরবাসী একচেটিয়াভাবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকেই দায়ী করলেও আসলে কার্যক্রমটি সমন্বিত। পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। নগরীতে এডিস মশা যাতে না জন্মাতে পারে সে ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের প্রধান ভ‚মিকা রয়েছে। এ ছাড়া কমিউনিটি ভিত্তিক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য অধিদফতরেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা। পাশাপাশি মশক নিধনের ভ‚মিকা সিটি কর্পোরেশনের। আবার সিটি কর্পোরেশনকে যাবতীয় তদারকির দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এভাবে এটি হচ্ছে সমন্বিত একটি কার্যক্রম। আর তাই এককভাবে এ ব্যাপারে কোনো সংস্থা বা কাউকে দায়ী করা সঠিক নয়।
রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি যেন কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে পরিস্থিতি। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছেন। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত রাজধানীসহ দেশবাসী। আতঙ্কের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগও। ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়েনি। ডেঙ্গু দ্রæত বিস্তার লাভ করা একটি সংক্রামক রোগ হলেও তা প্রতিরোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছু অপ্রয়োজনীয় বুলি আওড়াচ্ছেন আর জনসচেতনতা কার্যক্রমের নামে লোক দেখানো ফটোসেশন করছেন বলে অভিযোগ নগরবাসীর। অপরদিকে রাজধানীর মশা দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ‘মশক নিবারণ দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হলেও মশা দমনের কাজে নাই এই দফতরটি। নগরবাসীর জিজ্ঞাসা রাজধানী ছাড়িয়ে এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার দায় কার!
দেশজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম মশা আর ডেঙ্গু। চলতি আগস্ট মাসের ১ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত ৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫১ জন। সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনসচেতনতাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই রোগে ইতোমধ্যে বেসরকারি হিসেবে প্রায় অর্ধশত মানুষ মারা গেছেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীলদের অসংলগ্ন কথা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, মশার ওষুধের মান নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে, সিটি কর্পোরেশনের ছিটানো ওষুধ কার্যকর। অথচ একই মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খোদ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাই উচ্চ আদালতে মশা নিধনের ওষুধ মানহীন বলে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে ছেলেধরার মতো বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মশক নিধনে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। সবকিছু মিলিয়ে দায়িত্বশীলদের কিছু বিভ্রান্তিকর কথায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে রাজধানীর মশা নিবারণের জন্য একটি ‘মশক নিবারণ দফতর’ থাকলেও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন যখন মশা মারতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই দফতর করে যাচ্ছে শুধুই প্রশাসনিক কাজ।
যদিও মশা দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক সময় এই দফতরের কাজে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে সুনসান নীরবতা। এখন শহরের মশা দমনের কাজে নয়, সিটি কর্পোরেশনের মশার ওষুধের খালি ড্রাম সংরক্ষণের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার হয় এই দফতরটি। সরেজমিন ঘুরে এবং সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, মশা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির তেমন কোনো কর্মসূচি বা গবেষণা কার্যক্রম নেই। কর্মীদের মধ্যে ক্রু, সুপারভাইজার, কয়েকজন ইনসেক্ট কালেক্টর (আইসি) রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দফতরের অধীন কাজ করেন না, দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তবে সিটি কর্পোরেশনের অধীন কাজ করলেও কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে এ দফতর।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব অ. ন. ম ফয়জুল হক দফতরের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘দফতরের প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা দেয়া ছাড়া, দফতরের কর্মসূচি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। দফতরের কাজ নিয়ে বলতে পারবেন দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ঢাকা মশক নিবারণী দফতর সরকারি কর্মচারী সমিতির সেক্রেটারি গিয়াসউদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠার সময় ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে ঢাকায় সব ধরনের মশা নিধনে কাজ করত এ প্রতিষ্ঠানটি। তখন সংস্থাটি বেশ জমজমাট ছিল। অনেক লোক কাজ করতেন। মশা নিয়ন্ত্রণে বেশ ভালো ভ‚মিকা পালন করত এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কখন কীভাবে এই অবস্থা হলো জানা নেই। প্রতিষ্ঠানটির কাজই ছিল মশা নিধন করা। তবে এখন সেই ক্ষমতা নেই। আমরা শুধু ঢাকা-উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মশা মারার ওষুধ বিভিন্ন জোনে বিতরণ করি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে গতকাল মঙ্গলবার ভারত থেকে আনা নতুন ওষুধের কার্যকারিতা নগর ভবনে পরীক্ষা করা হয়। এ সময় নয়টি করে খাঁচার প্রতিটিতে ৫০টি করে মশা সারিবদ্ধভাবে রেখে তিন ফুট দূর থেকে মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ স্প্রে করা হয়। ম্যালাথিয়ন আর ডেল্টামেথ্রিন ওষুধ স্প্রে করে দেখা হয় কতটি মশা মারা যায়। স্প্রে করার ২০ মিনিট পর মরা মশা গোনা হয়। ওষুধের মধ্যে ম্যালাথিউন ৫% এবং ডেল্টামিথারিন ১.২৫% স্প্রে করা হয়। মশার নিধনের নতুন ওষুধ এডিস মশা নিধনে কার্যকর কিনা তা জানতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রায় ৮০ ভাগ মশা অজ্ঞান হচ্ছে বলে মনে করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান।
এদিকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারাদেশে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবারও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে প্রবাসী হাফসা লিপি (৩৪) এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) তিনজনসহ সারাদেশে মারা গেছেন আটজন। এদের মধ্যে ঢামেকে মনোয়ারা বেগম (৭৫), আমজাদ মণ্ডল (৫২) ও হাবিবুর রহমান (২১)। রংপুর ও চাঁদপুরে একজন করে শিশু এবং দিনাজপুরে এক কিশোর ও মানিকগঞ্জে এক যুবক রয়েছে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের অষ্টম তলায় শিশু ওয়ার্ডের সিঁড়ির গোড়ায় অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ৪৭৩ জন, মুগদা হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. খাইরুল আলমের দেয়া তথ্যমতে, ৫০০ শয্যার মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৮৪ জন। এদের মধ্যে মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩৭৩, শিশু ওয়ার্ডে ৭৯ এবং কেবিনে ভর্তি ৩২ জন। আর টোটাল রোগীর সংখ্যা ৭৯০ জন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর ৬১ শতাংশ হচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত। হাসপাতালটিতে গত এক মাসে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন মোট ৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আয়েশা আক্তার জানান, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৪৮ জন। এর মধ্যে রাজধানীতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৪ জন এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সংখ্যা ১ হাজার ৬৪।
হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০৪ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৮৬ জন, বারডেম হাসপাতালে ২০ জন, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ৪৩ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ২৬ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২১ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৭ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪২ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাপাতালে ৪৮ জন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে ৪৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী। আর ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর হাসপাতালগুলোতে মোট ২৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩১ জন, খুলনা বিভাগে ১৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।
এদিকে বছরের শুরুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নগরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের সতর্কতা জারি করা হলেও তা আমলে নেয়নি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুরুতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সিটি কর্পোরেশন যদি বিষয়টি আমলে নিত তাহলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। মেয়রদের মাঠে দেখা গেলেও এ ইস্যুতে কাউন্সিলরদের তৎপরতা এখনো প্রত্যাশিত নয় বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। এসব অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু ভয়াবহতা পেয়েছে। এখন প্রতি মুহূর্তে মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন দুই সিটি প্রতিদিনই সচেতনতামূলক কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করলেও মশা বা লার্ভা নিধনে তেমন কার্যকর ভ‚মিকা রাখছে না। অনেকে এসব কাজকে লোক দেখানো মশক নিধন কার্যক্রম বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও প্রখ্যাত ভাইরালজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে দেশে ডেঙ্গুর এমন অবস্থা সৃষ্টি হতো না। তিনি দেশবাসীকে নির্দেশ দিলে সবাই কোদাল হাতে চারপাশ পরিষ্কার করত।’ অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হচ্ছে লার্ভা ও মশা নিধন করা। যার যা করা দরকার, তাকে সেটা করতে হবে।
ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আগস্ট মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য অধিদফতর।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মাহমুদ খান বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর যেসব প্রতিবেদন দিয়েছে সেটি যদি দুই সিটি কর্পোরেশন আমলে নিত তাহলে আজকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, মশা মারার বাজেট বাড়ানো হলেও নাগরিকরা সেবা পাচ্ছেন না। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছেÑ এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীতে যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে মশা মরছে না। অকার্যকর মশার ওষুধের কারণে যতই বাজেট বাড়ানো হোক, কোনো কাজে আসবে না। এর মধ্যে দুর্নীতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’
দুই সিটি কর্পোরেশন ও নগরীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব বলেন, ওষুধ কার্যকর হচ্ছে না, এটা এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। রোগতত্ত¡, কীটতত্ত¡ বিভাগ ও আইসিডিডিআরবিসহ কিছু সংস্থা গত ৩ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। দুই মেয়রের কাছে তারা তুলে ধরেছে, মশক নিধনের ওষুধ এখন আর কার্যকর নয়। তারপরও তিন বছরে বিকল্প ওষুধ বা বিদ্যমান ওষুধ কার্যকর আছে কিনা, তা অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নগরবাসীকে রক্ষার বাস্তবিক প্রয়াস দুই মেয়র নেননি। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে হলে মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে আরো সক্রিয় হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কাযর্ক্রম আরো জোরদার করা দরকার। ব্যক্তি সচেতন হলে মশাবাহিত এই রোগ হ্রাস পেতে পারে, এমনটি মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কাযর্ক্রমও ব্যাপকহারে বাড়ানো দরকার।
চলচ্চিত্রে দেখা যাবে সাবিলা নূরকে

বললেন পরীক্ষা হলেও আমি ঈদের কাজ ঠিকই করছি, কিছু কাজ শেষও করেছি। যেহেতু পরীক্ষার আগের এই সময়ে লেখাপড়ার চাপ তো থাকেই। তাই এবার আমি বেছে বেছে কাজ করেছি বলে সবসময় নাটকের কাজও থাকে না।
তাছাড়া ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় কম করা হয়, ফলে বিশেষ দিবসের নাটকে আমাকে বেশি দেখা যায়। এবারের ঈদের জন্য এরই মধ্যে এক ডজন নাটকে কাজ করেছি। তবে কোনটা কোন চ্যানেলে প্রচার হবে, সেটা বলতে পারব না।
সামনে পরীক্ষা। কিছুটা টেনশন তো কাজ করছে। প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে বলেন, আসলে অভিনয় আর লেখাপড়া এই দুইয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা ও ভালোলাগা রয়েছে। ফলে দুটিই আমার কাছে সমান গুরুত্ব পায়। তাই ছাত্রী হিসেবেও আমি বেশ ভালো। দুটোতেই মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছি।
জানা গেছে সম্প্রতি ‘উবার’ নামে একটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন সাবিলা নূর। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, নাটকটি দারুণ এক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। একজন বাবা উপরে উপরে কঠিন হলেও ভেতরে যে কতটা নরম, তা সেই বাবাই জানেন। সন্তানের সব ইচ্ছা পূরণের জন্য কতটা পরিশ্রম করেন।
সন্তানরা বাবার সেই কষ্ট দেখে না। বাবা কিছু দিতে না পারলে ভুলও বোঝে। বাবা আর সন্তানের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। এতে আমার বাবার ভ‚মিকায় অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময় তার কাছে থেকে অভিনয়ের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় শিখেছি। এই নাটকে আমার প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব।
নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু ভাই। দারুণ একজন নির্মাতা। কিছুটা চুপচাপ থাকেন। তবে ভালো কাজ আদায় করে নেয়ার ক্ষমতা যথেষ্ট দেখেছি তার মধ্যে। মানুষ হিসেবেও ভালো। নাটকটি আসছে ঈদে আরটিভির অনুষ্ঠানমালায় প্রচার হবে। সাবিলা নূর মডেলিং এবং ছোটপর্দায় ব্যস্ত থাকলেও বড় পর্দার জন্য এখনো নিজেকে প্রস্তুত করছেন। এ প্রসঙ্গে সাবিলা জানান, চলচ্চিত্র বড় জায়গা, বড় মাধ্যম।
এখানে অনেক প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হয়। কারণ আমি চাই না দু-একটি ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে গুটিয়ে নিতে। সে কারণে টিভিতে কাজের মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে বড় পর্দার জন্য প্রস্তুত করছি। পাশাপাশি আমার লেখাপড়া শেষ হতে আরো বছরখানেক সময় লাগবে। তারপরই চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলে আশা করছি।
Thursday, August 8, 2019
মধুচক্রের পর্দা ফাঁস, পুলিশের হাতে মডেলদের তালিকা

ইতোমধ্যে মধুচক্র থেকে আটকৃত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে তাদের। ঘটনার সূত্রে পৌঁছতে তাদের জেরা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশটির পানাজি এবং অল্ড গোয়ার মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট শহরের এক সেক্স ব়্যাকেট থেকে মূল হোতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সেখানে রিবানদার নামক একটি বিল্ডিংয়ে অনেকদিন ধরেই এই ব্যবসা চলত বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, এই র্যাকেটে জড়িত বেশ কয়েকজন বলিউডের মডেলরাও। গোয়া পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে এই র্যাকেটি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এই কাজ চালাচ্ছিল। বেশ কয়েকজন নবাগত মডেলও এর সঙ্গে জড়িত। তাদেরকে রাজ্যের বিভিন্ন নামীদামী হোটেলে পাঠানো হত ব্যবসা সূত্রে। এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এই র্যাকেটের মূল পান্ডা আনন্দের কাছে ক্লাইন্টদের একটা তালিকা পেয়েছেন। আর ওই তালিকা দেখেই আনন্দ মডেলদের তাদের কাছে পাঠানো হত বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতি কাস্টমারপিছু মডেল ও অভিনেত্রীদের পাঁচ থেকে বিশ লাখ টাকা করে দেয়া হত।
Wednesday, August 7, 2019
সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে গরুর স্রোত

ট্রলারে করে নাফ নদ দিয়ে এসব গরু-মহিষ নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রতি ট্রলারে ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত গরু আসছে। শাহপরীর দ্বীপ থেকে পশুগুলো নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা। দেখতে দেশীয় গরুর মতো হওয়ায় কোরবানির পশুর হাটে এসব গরু-মহিষের চাহিদাও বেশি থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
তবে এর বিপরীতে প্রচুর রাজস্বও আদায় হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। আমদানির পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেপারিরা এসব গরু-মহিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি দামে।
শুল্ক স্টেশন তথ্যমতে, বৈরী আবহাওয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতির কারণে বেশ কিছু দিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। তবে কোরবানি ঘিরে সমুদ্রপথে স্রোতের মতো গরু ও মহিষ আসছে।
গত দুদিনেই মিয়ানমার থেকে এসেছে দুই হাজার ২১২ গরু ও ৬১৬টি মহিষ। আর ১০ হাজার ৯৫টি গরু-মহিষ এসেছে পুরো জুলাই মাসে। অথচ গত বছরের এই সময়ে মিয়ানমার থেকে মাত্র ৫ হাজার গরু-মহিষ এসেছিল। অর্থাৎ এবার আমদানি হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া চলতি বছরের সাত মাসে এসব পশু থেকে রাজস্ব এসেছে দুই কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
এখানকার গবাদিপশু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে উল্লেখ করে পশু আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম জানান, শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে সারাবছরই মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি হয়ে থাকে। তবে ঈদুল আজহার সময় বাড়তি চাহিদা থাকায় অধিক পরিমাণে গরু-মহিষ আমদানি করা হচ্ছে।
আমদানিকারক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, গতকালও দুটি ট্রলারে প্রায় আড়াইশ গরু-মহিষ এসেছে। দেশের চাহিদা পূরণে এসব কোরবানির পশু আমদানি করছি। তা ছাড়া ঈদ আসতে কয়েক দিন বাকি।
এবিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম এস দোহা বলেন, শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু-মহিষ আসছে। বেপারী-ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখান থেকে পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে পথে যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয় তাও নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
Monday, August 5, 2019
হট প্যান্ট পরে ঝড় তুললেন জয়া

জয়ার সমসাময়িক অভিনেত্রীদের নব্বই ভাগই অভিনয়ে নিয়মিত নন। আর দশটা বাঙালি নারীর মতো বয়সের কাছে হার মেনেছেন তারা। থিতু হয়েছেন সংসারে। কালেভদ্রে তারা অভিনয়ে আসেন বোন-ভাবীর চরিত্রে।
তবে জয়া এখনো অনবদ্য। তাকে এখনো দেখা যায় সিনেমার মূল চরিত্রে। অভিনয় গুণ তো তার রয়েছেই, সৌন্দর্যেও তিনি বশ করে চলেছেন দুই বাংলার দর্শকদের। জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়।
নিয়মিতই তিনি ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রামে পোস্ট করেন নানা ছবি ও স্ট্যাটাস। বিভিন্ন সতর্কতামূলক কাজেও তিনি অংশ নেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে বেশিরভাগ সময় ছবি পোস্ট করেই আলোচিত হন তিনি।
তেমনি সম্প্রতি একটি ছবি দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন জয়া। সেখানে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে হাফ প্যান্ট পরনে।
অফ হোয়াইট হাফ প্যান্ট ও সাদা শার্টে ফটোশুটের ছবিটি দিয়ে তিনি চমকে দিলেন সকলকে। জয়াকে বেশিরভাগ শাড়িতেই দেখা যায়। ওয়েস্টার্ন পোশাকের জয়াও দৃষ্টিনন্দন। তবে শর্ট প্যান্ট পরা জয়া এবার নিজের আগের চেনা রূপটাকে ভেঙে দিতে চাইলেন যেন।
এই ছবিটি এখন বহুল চর্চিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখানে সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি অনেক অভিনেত্রীরাও জয়ার রূপ ও লুকের প্রশংসা করেছেন।
এদিকে টলিউডে একের পর এক ছবি করে চলেছেন জয়া। সর্বশেষ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কণ্ঠ’ ছবিতে একজন জনপ্রিয় ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে আরও কিছু চমৎকার গল্পের ছবির চমক জাগানিয়া চরিত্রে।
Sunday, August 4, 2019
সংসার ভাঙ্গছে, বন্ধুত্ব থাকছে দিয়া মির্জার
কিন্তু খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি নিজের মেধার। ক্যারিয়ারে সাফল্যের ফুল তেমন করে না ফুটলেও বিয়ের ফুল বেশ ঘটা করেই ফুটিয়েছিলেন।
‘লাভ ব্রেক আপ জিন্দেগি’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরিচালক ও ব্যবসায়ী সাহিল সাঙ্গার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। সেই ঘনিষ্ঠতাকেই স্বীকৃতি দিতেই তারা বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা। হাঁটছেন বিচ্ছেদের পথে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দিয়া মির্জা তার ইনস্টাগ্রামে নিজেই সে কথা জানান। সেখানে একটি পোস্টে দিয়া মির্জা লিখেন, ‘১১ বছর ধরে আমাদের জীবন ভাগ করে নেয়ার পরে আমরা পারস্পরিকভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Saturday, August 3, 2019
এক বছর পর ঈদের নাটকে নওশাবা
জামাল হোসেনের রচনায় এবং ইয়ামিন ইলানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় স্মারক নাটকে গুরুত্বপূর্র্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন নওশাবা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
নওশাবা জানান, ঈদ উপলক্ষে নাটকটির শুটিং গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। একটি পারিবারিক আবহের গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে নাটকটি। অনেকদিন পর নাটকে অভিনয় করছি। কাজ করে ভালো লাগছে। বাকিটা দর্শক টিভি পর্দায় দেখে মূল্যায়ন করবে। আশা করছি দর্শক হতাশ হবে না।
নওশাবা অভিনয়ের পাশাপাশি একটি স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র আলোর খোঁজে পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। আর দূরন্ত টিভিতে স্বপ্ন আকার দল নামে একটি বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করছেন।

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
