Thursday, July 21, 2016

তুরস্কে মোতায়েন মার্কিন পরমাণু বোমা কতটা নিরাপদ?

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা এবং ইসলামী সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে রাখা মার্কিন পরমাণু বোমাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার দেশটিতে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান এবং পরে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের শংকার সম্ভাবনা আলোচিত হচ্ছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের ধারণা, তুরস্কের ইনসিরলিকে স্থাপিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টির মতো পরমাণু বোমা সংরক্ষিত আছে। স্লায়ুযুদ্ধের সময়কার বি-৬১ ‘গ্রাভিটি’ বোমা নামে পরিচিত এই বোমাগুলো। মার্কিন-তুর্কি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জসুয়া ওয়াকার ইনসিরলিক সেনা ঘাঁটিতে মার্কিন পরামণু বোমার অস্তিত্বকে ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু শুক্রবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর মার্কিন ঘাঁটিটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। সেখানকার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং বিমান উড্ডয়নের স্থানগুলোকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে দিয়েছে সরকার।
এদিকে ইনসিরলিকের এই ঘাঁটিটি আইএসের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটের যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিরিয়ার আইএস দমনে এই ঘাঁটি থেকেই অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন জানায়, ১৯৫০ সালে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইনসিরলিক শহরে এই মার্কিন-তুর্কি যৌথ বিমান ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়। ঘাঁটিতে পরমাণু অস্ত্রের অস্তিত্বের ব্যাপারে পেন্টাগন কোনো তথ্য নিশ্চিত না করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা এখন দাবি করছে যে, তুরস্কে থাকা মার্কিন অস্ত্রগুলো তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক সোমবার সিএনএনকে বলেন, ‘তুরস্কে রাখা নিজেদের অস্ত্রের নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন জ্বালানি দফতর থেকে কেউ ইনসিরলিক ঘাঁটিতে অস্ত্র পরিদর্শনে গেছেন কিনা অথবা অস্ত্রগুলো তুরস্ক থেকে নিরাপদে বের করে নেয়া হয়েছে কিনা, সেটির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু তেমনটি ঘটলেও তা শুধু শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া আর কারও জানার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। একই ঘাঁটির পৃথক দিকে তুরস্ক ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ অবস্থান হওয়ায় সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মার্কিন সৈন্যরা। প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে সেখানে। তবে পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তার প্রশ্নকে ‘অতিশয়োক্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তুর্কি-মার্কিন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ওয়াকার।
এদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার এসব বোমাকে ‘সেকেলে’ বলেও অভিহিত করেছেন। উত্তর আটলান্টিকের সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জার্মানি ও গ্রিসেও মার্কিনিরা এ ধরনের বোমার মজুদ রেখেছে বলেও জানান তিনি। তবে জার্মানিতে রাখা মার্কিন বোমার মজুদকে তিনি দেশ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন ফ্রাঙ্ক। তবে তুরস্কে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াকার বলেন, ‘তুরস্কের জন্য মার্কিন বোমাগুলো গর্বের কারণ। কারণ এগুলোর কারণেই তারা ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’র সঙ্গে যুক্ত আছে এবং ন্যাটো থেকে মর্যাদা পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোয় মজুদ রাখা পারমাণবিক বোমার নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট সংশয় এবারই প্রথম নয়।’ ১৯৭১ সালেও তুরস্কে অভ্যুত্থান হয়েছে। গ্রিসে হয়েছে ১৯৬৭ সালে। তখনও অস্ত্রের নিরাপত্তা লংঘিত হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গ্রিস থেকে অস্ত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তুরস্কের বোমাগুলো অকার্যকর করে রাখা হয়। সহজে যেন এগুলো ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য এগুলোর অপারেটিং সিস্টেমকে ওয়াশিংটন নিয়ে যাওয়া হয়। বোমাগুলো ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য ওয়াশিংটন থেকেই সক্রিয় করতে হবে, নচেত সম্ভব নয়।

এবার সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় লাগাম!

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় লাগাম টানতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। সামরিক আইনে সংস্কার এনে সেনাপ্রধানকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হতে পারে। এছাড়া সেনাবাহিনীর বাজেট ও পদমর্যাদার যাবতীয় সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। স্থানীয় সময় বুধবার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের বৈঠক হওয়ার কথা। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই প্রাথমিক পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারেন এরদোগান। নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকের আগে এরদোগান জানিয়েছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ আসছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের প্রভাব প্রতিষ্ঠা তুর্কি রাজনীতির দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়।
তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে সেনাবাহিনী সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতার রক্ষক মনে করা হয় সেনাবাহিনীকে। বিগত দশকগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষ চেষ্টার অজুহাতে বেশ কয়েকবার বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নিয়েছে সামরিক বাহিনী। তবে ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর সেই ক্ষমতা অনেকটাই কমে এসেছে। সর্বশেষ সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে তুর্কি জনগণ। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর দেশটির ৫০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য, পুলিশ, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তা বরখাস্ত ও আটক হয়েছে। সরকারের এ ব্যাপক ধরপাকড়ে সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান কর্তৃত্ববাদী শাসন পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। ওয়াশিংটন ইন্সটিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির তুরস্কবিষয়ক বিশ্লেষক সোনের কাগাপতে বলেন, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় এরদোগান ‘একমুখী জানালা’ খুলতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের হাতে সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে তুরস্ককে ‘একদলীয় রাষ্ট্রের’ দিকে অগ্রসর করাবেন।
গণভোট ছাড়া তুরস্কের সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে পার্লামেন্টে ৩৬৭ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। আর গণভোটের আয়োজন করতে হলে প্রয়োজন ৩৩০ এমপির ভোট। বর্তমানে তুর্কি পার্লামেন্টে এরদোগানের একে পার্টির ৩১৭ জন এমপি রয়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের তুরস্কবিষয়ক বিশ্লেষক আরোন স্টেইন বলেন, সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অন্তর্নিহিত কোনো ভুল নেই। তবে তারা কোন মডেল উপস্থাপন করছে ও সংস্কারের কেমন খসড়া নির্ধারণ করছে তার ওপর ফলাফল নির্ভর করছে। ওবামা-এরদোগান ফোনালাপ : তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের জড়িত থাকার ‘প্রমাণ’ দিয়েছে আঙ্কারা। গুলেনকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আলোচনা করেছেন। এ সময় তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে জড়িত সেনাদের বিরুদ্ধে তদন্তে মার্কিন সহায়তার আশ্বাস দেন ওবামা। তবে তাড়াহুড়া না করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরদোগানকে সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট এসব কথা জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার। জোশ আর্নেস্ট বলেন, তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন দুই নেতা। অভ্যুত্থানে গুলেনের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন সরকারকে ইলেকট্রিক ডকুমেন্টস সরবরাহ করেছে আঙ্কারা।
ওয়াশিংটন এসব নথি খতিয়ে দেখছে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র আরও জানান, তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে গুলেনকে ফেরত চেয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুই দেশের চুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নেবেন। মঙ্গলবার তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, আবার কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসে এক ধর্মীয় নেতা (গুলেন) দেশে কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বিনালি ইলদিরিম বলেন, জনগণের শক্তির চেয়ে ট্যাংকের শক্তি বেশি হতে পারে না। এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সবাইকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। ‘হিজমেত মুভমেন্ট’ নামের আন্দোলনের প্রধান তাত্ত্বিক নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন। শনিবার এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোগান আমার ওপর যে অভিযোগ করেছে, আমি তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না।’ তিনি তুরস্কের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য এরদোয়ানকেই দায়ী করেন। সাংবাদিকদের গুলেন বলেন, ‘এই সম্ভাবনা রয়ে যায় যে, এটি সম্ভবত একটি সাজানো ক্যু। এরদোয়ানের একেপি পার্টিই তা আয়োজন করেছে। আর এর মধ্য দিয়ে তারা গুলেনপন্থী এবং সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে।’

‘ক্রিকেট সংস্কৃতি ধরে রাখতে ইংল্যান্ড আসবে’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পরিবেশও পাল্টে গেছে। সেখানে প্রবেশমুখে ক্রিকেটার থেকে কর্মকর্তা সবার দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের কাজও সীমিত করে ফেলা হয়েছে। সবকিছু হচ্ছে ইংল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে। ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য বুধবার মাশরাফি মুর্তজাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হয়েছে। প্রথমদিনের কার্যক্রম শেষে মাশরাফি জানালেন, ইংল্যান্ড বাংলাদেশে আসবে। তিনি বলেন, ‘এর আগেও ইংল্যান্ড বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে। খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও তারা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে। ক্রিকেট সংস্কৃতি ধরে রাখতে আশা করি তারা এবারও আসবে। এদিকে কোচ ছাড়াই শুরু হয়েছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। জাতীয় দলের কোনো কোচকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রথমদিন। এ অবস্থায় অধিনায়ক মাশরাফি দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরই দায়িত্ব নেয়ার তাগিদ দেন।
প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও স্পিন বোলিং কোচ রুয়ান কালপাগের আসার কথা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের প্রথমদিন থেকে ক্যাম্পে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তিনিও আসেননি। গুলশানে জঙ্গি হামলার পর পারিবারিক টানাপোড়েনে ফিরতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন ট্রেনার। এ পরিস্থিতিতে কাল স্থানীয় ট্রেনার ইফতিখারুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। প্রথমদিনের কার্যক্রম শেষে মাশরাফি বলেন, ‘টেকনিক্যালি ভেতরে (বিসিবির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম) কী আলোচনা হচ্ছে, তা আমরা জানি না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করছে। আশা করি, সফরটা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমর্থকরা অনেকদিন ধরে খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের সবাই ক্রিকেট খুব পছন্দ করে। তারা মনে করে ইংল্যান্ড আসবে। তাদের সঙ্গে আমরা খেলব। ইংল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে।’ মাশরাফি বলেন, ‘ওরা (ইংল্যান্ড) তো নিরাপত্তা পাবে। অন্য দলকে যেমন নিরাপত্তা দেয়া হয় সেটা তারাও পাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যারা ভালোবাসে, তারা সব সময় খেলা নিয়ে চিন্তা করে। যারা এখানে খেলতে আসে তাদেরও সম্মান দেয়। ইংল্যান্ডকে আগেও যথাযথ নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এবারও দেয়া হবে। ক্রিকেট সংস্কৃতি ধরে রাখতে আশা করি ইংল্যান্ড আসবে, একটা ভালো সিরিজ হবে।’
বিসিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘এখানে স্বস্তি বোধ না করার কিছু নেই। সবার সুবিধার জন্যই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। সব ঠিক আছে।’ মারিও না থাকায় প্রথমদিনের ক্যাম্পে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘মারিওকে ছাড়া আমরা অভ্যস্ত নই। তবে ইফতি আছেন। তিনি অনেকদিন আমাদের সঙ্গে আছেন। এছাড়া খেলোয়াড়রা নিজেদের কাজটা নিজেরা বুঝে নিয়েছে। এখন সবাই জানে, নিজের কাজটা নিজেদেরই করতে হবে। এক-দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকলেই আনফিট হয়ে যাব, এটা সবাই জানে। নিজেদের যত্ন নেয়া, ফিটনেস ধরে রাখার এটা দারুণ সুযোগ।’ সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না? এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘সবাই আশাবাদী। এখনও দুই মাস বাকি। সবচেয়ে বড় ব্যপার হল, এখানেই তো শেষ নয়। সবারই উচিত ফিটনেস ধরে রাখা। খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বাকিটা বোর্ড দেখবে।’ সিনিয়রদের দায়িত্ব নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘এখানে সিনিয়রদের অনেক কিছু করার আছে। যেমন মুশফিক, রিয়াদ, তামিম এবং যারা এসেছে, শাহরিয়ার নাফীস, রকিবুল, ওরা সবাই ফিট। ওদের আলাদা করে কিছু বলার নেই। তরুণদের ওরা গাইডলাইন দিক।’ ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ৩০ সেপ্টেম্বর।