Tuesday, May 29, 2018
টাকা নিয়ে বিজেপি’র হিন্দুত্ব এজেন্ডা প্রচারে রাজি শীর্ষ ২৫ মিডিয়া গোষ্ঠী?

‘কোবরাপোস্টে’র রিপোর্টারের গোপন ক্যামেরার সামনে দেশের বহু নামীদামি মিডিয়া হাউসের কর্মকর্তাদের এই ‘ডিল’ নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। তবে বিবিসি’র পক্ষে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতে বেশির ভাগ মিডিয়া হাউসকে যে ‘কেনা যায়’, এ ঘটনা তা প্রমাণ করে দিয়েছে বলে অনেকেই বলছেন। তবে টাইমস গ্রুপের মতো অভিযুক্ত অনেক মিডিয়া গোষ্ঠীই আবার দাবি করছে এই স্টিং মিথ্যায় ভরা। কোবরাপোস্ট জানাচ্ছে, তাদের রিপোর্টার পুষ্প শর্মা একটি হিন্দু ধনী ধর্মীয় আশ্রমের প্রধান সেজে বিভিন্ন মিডিয়া গোষ্ঠীর কাছে একটি লোভনীয় প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রস্তাবটি ছিল, বিজেপিকে ২০১৯-এ ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে ওই পত্রিকা বা চ্যানেলগুলোতে প্রথমে শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবত গীতার প্রচার করতে হবে, তারপর বিজেপির প্রতিপক্ষ রাহুল গান্ধী-মায়াবতী-অখিলেশ যাদবের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে হবে এবং ভোটের ঠিক আগে চলবে খোলাখুলি হিন্দুত্বের প্রচার। ওই আন্ডারকভার রিপোর্টার নিজের ছদ্মনাম নিয়েছিলেন ‘আচার্য অটল’, আর বলা হয়েছিল তিনি আরএসএসের হয়েই এ কাজ করছেন। ভিডিওগুলো বলছে, ২৭টির মধ্যে ২৫টি মিডিয়া হাউসই কোটি কোটি টাকার ওই প্রস্তাব একরকম লুফে নেয়।
দিল্লির সাংবাদিক-অ্যাক্টিভিস্ট আরফা খানুম শেরওয়ানি বলছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে ভারতে মিডিয়া পয়সার জন্য যা খুশি করতে রাজি, তাদের অতি সহজেই কিনে নেয়া সম্ভব- তবে এই প্রথম সেই অভিযোগের সমর্থনে কোনো অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ মিললো। সকলে না হোক, ভারতে মিডিয়ার একটা বিরাট অংশ যে সত্যিই পয়সার জন্য যা খুশি করতে পারে সেটা তো এখন দেখাই যাচ্ছে!’, বলছিলেন তিনি। যাচাই না করা ওই ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, টাইমস গ্রুপ পাঁচশ’ কোটি রুপির বিনিময়ে আচার্য অটলের দেয়া এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজি, যার বেশিটাই আবার নগদ বা কালো টাকাতে নিতেও তাদের আপত্তি নেই। টাইমস গ্রুপ এদিন অবশ্য দাবি করেছে ওই ভিডিও মিথ্যায় ভরা ও বিকৃত- তারা ওরকম কোনো চুক্তিতেও সই করেনি। তবে ‘দ্য ওয়ার’ পোর্টালের কর্ণধার ও দ্য হিন্দুর সাবেক সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এই সাফাইতে বিশ্বাস করছেন না। মি বরদারাজন বলছেন, ‘ভারতে অধিকাংশ মিডিয়া হাউসের কাছে মুনাফাই যে শেষ কথা, এই স্টিং অপারেশন সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। যে এজেন্ডা দেশকে ভাগ করে দেবে, ভোটের আগে দেশকে পোলারাইজ করবে- সেটা জেনেবুঝেও লাভের জন্য তা রূপায়ণ করতে তাদের এতটুকুও দ্বিধা হয় না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সমকামীরা কেমন আছেন?

তিনি সমকামী, সেটা জানাজানি হওয়ার পর তিনি তাঁর মুসলিম সমাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলছিলেন, তার জীবনের চাহিদাকে কেউ বুঝতে পারেনা।
"আমার বিশ্বাস, অন্য ইমামরা কেউ সমকামিতা নিয়ে বা এর পক্ষে কেউ কথা বলবে না। তবে আমি বেডরুমে কি করছি, তা প্রকাশ্যে নিয়ে এসে আলোচনা করাটা ঠিক নয়।"
যদিও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে মুসলিম সমাজে তা এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। নূর ওয়াসামে সমকামী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর মসজিদে নামাজ পড়ানো বা ইমামতির কাজ হারিয়েছেন।
"প্রথম বিষয়টিই ছিল, আমি আমার মসজিদ হারিয়েছি। আমাকে নামাজ পড়াতে বা ইমামতি করতে দেয়া হয়নি। এটি আমার হৃদয়ে খুব আঘাত করেছে।" পাঁচ বছর আগে মসজিদে নামাজের বাইরে একদল তরুণ একটি প্রার্থনা গ্রুপ তৈরি করেছিল। নূর ওয়াসামে সেই তরুণদের সাহায্য করতেন।
"যে তরুণদের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল না। এই প্রার্থনা গ্রুপটি ছিল তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা। আমি তাদের বলতাম, আমি তোমাদের সাথে থেকে লড়াই করবো।"
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মুসলিম পরিবার থেকে আসা তরুণ হোসেন ওয়ালি'র সমস্যা ভিন্ন ধরণের।তার শরীরের গঠন এবং নারী সুলভ স্বভাব তাকে চলতে ফিরতে সব জায়গায় সমস্যায় ফেলতো। অনেক সময় তা হয়রানির পর্যায়ে চলে যেতো।
"আমি শারীরিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছিলাম, যখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর। এরপরও অনেকবার আমি যৌন হয়রানির শিকার হই। আমাকে অনেকে বিভিন্ন সময় মানসিকভাবে হয়রানি করেছে। আমি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম।"
হোসেন ওয়ালির পরিবার তার জন্য ধর্মকেও ব্যবহার করেছে।তার পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিল, বিভিন্ন সময় যৌনহয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি সমকামীতে আসক্ত হয়ে থাকতে পারেন।সেজন্য তাকে মসজিদেও পাঠানো হতো। কিন্তু তার শরীর এবং মনের পরিবর্তনকে সম্মান করা হয়নি।
"আমাকে জোর করে মসজিদে নেয়া হতো। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিশেষ দিনে বা অনুষ্ঠানে আমাকে মসজিদে যেতে হতো। এর মধ্য দিয়ে আমার আচরণ পরিবর্তন হতে পারে, পরিবার এমন আশা করেছিল।"
অস্ট্র্রেলিয়ায় এ ধরণের অনেকে ধর্ম এবং পরিবারের দিক থেকে নানান সমস্যার মধ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।নূর ওয়াসামে বলেছেন,অনেক সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়।
"ধর্মীয় নেতা যারা আছেন,তাদের ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। তারা একটি শব্দ বা একটি বাক্য ব্যবহার করে তোমার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারেন অথবা তোমার জীবন গড়ে দিতে পারেন।"
অস্ট্র্রেলিয়ার সরকার সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেখানকার জাতীয় ইমাম কাউন্সিল কিছুদিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করেছে,ইসলামে সমকামীতা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী আইনে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।নূর ওয়াসামের প্রাননাশের হুমকি আসায় তাকে এখন পুলিশী পাহারায় থাকতে হয়।তিনি স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন না।সেজন্য এখন তিনি সামাজিক নেটওয়ার্কে অস্ট্রেলিয়া এবং এর বাইরে অনেক অনুসারী তৈরি করেছেন।
"সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমি মিশরের একজনের সাথে কথা বলছি। তার ছেলে সমকামী। ছেলেকে নিয়ে বাবা খুব চিন্তিত। তিনি আমাকে বলছেন, তার ছেলের এই অসুস্থতা কিভাবে সারানো যায়? আমি তাকে বলেছি, এটি তার ছেলের কোন ভুল বা দোষ নয়। এটি সহনশীল দৃষ্টিতে দেখা উচিত। আমার কথা শুনে ছেলেটি বাবা খুব হেসেছিল।"
নূর ওয়াসামে মনে করেন, সমকামীরাও মানুষ, তাদেরও ধর্ম পালনের অধিকার আছে।
সূত্র - - বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৮ বছর ধরে গাড়ি ছিনতাই করছিলো তারা by রুদ্র মিজান

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, পুলিশের ইউনিফরম পরে গাড়ি চুরি করতে বেশ সুবিধা। পুলিশের পোশাক পরিহিত দেখে বিশ্বাস করে সহজেই তাদের দেয়া খাবার খায় চালক। এছাড়া যেকোনো নির্জন স্থানে থামাতে বললে থামাতে আপত্তি করে না। এমনকি কিছু কেনার অজুহাতে চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাশের দোকানে পাঠিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি চুরি করা যায়। এরকম নানা কৌশল খাটিয়ে চুরি-ছিনতাই করা গাড়িগুলো বিক্রি করার জন্য রয়েছে আরেক পার্টি। যারা সহজেই গাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করে দেয়। এমনকি গাড়ির চেসিস নম্বর পরিবর্তনসহ ভুয়া কাগজপত্র তৈরির কাজটিও করে তারা। পাঞ্চ মেশিনের গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পরিবর্তন করে বিআরটিএ’র মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গাড়ি বিক্রি করে এই চক্র।
ডিমে ওষুধ মেশানোর কৌশল সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, ঘুম বা অচেতন করার ওষুধ মসলার মতো করে ভেঙে গুঁড়া করে চক্রের সদস্যরা। গুঁড়া করা ওষুধ ঢুকানো হয় ডিমের ভেতরে। এ জন্য কাঁচা ডিমের কিছু অংশ ভেঙে জুস পানের পাইপ ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিমটি ভাত রান্নার সময় উপরে রেখে সিদ্ধ করা হয়। সিদ্ধ ডিমের ভাঙা অংশে আটা দিয়ে খোসা লাগানো হয়। তখন বুঝার উপায় থাকে না এই ডিমটি ভেঙে ওষুধ ঢুকানো হয়েছে। তারপর ওষুধ মেশানো ডিমটি দেয়া হয় নির্ধারিত ডিম বিক্রেতার কাছে। চক্রের সদস্যরা চালককে নিয়ে ডিম খেতে গেলে ওষুধ মেশানো ডিমটি বের করে দেয় বিক্রেতা। এভাবেই চালককে অজ্ঞান করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এছাড়াও চক্রের সদস্যরা গাড়ি চুরির জন্য ব্যবহার করে ‘মাস্টার কিউ’। বিশেষ এই চাবি দিয়ে সহজেই মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও গাড়ির লক খুলতে পারে তারা। বিভিন্ন কৌশলে গাড়ি ভাড়া করে চালককে বাইরে পাঠিয়ে যেমন গাড়ি নিয়ে উধাও হয় এই চক্র, তেমনি অনেক সময় চালককে মারধর করেও গাড়ি ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও এই চক্রের কিছু সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পার্কিং করে রাখা মোটরসাইকেল লক খুলে-ভেঙে চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ির নম্বর-চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে তা বিক্রি করে দেয় তারা। কিছু সিএনজি অটোরিকশার ক্ষেত্রে মালিকের সঙ্গে দালাল মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে তা ফেরত দেয় চক্রের সদস্যরা।
ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটা এলাকায় পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল চুরির সময় দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিশাত রহমান মিথুনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নয়টি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি অটোরিকশা, পুলিশের তিন সেট পোশাক, হ্যান্ডকাফ, চেতনানাশক ট্যাবলেট ও দুটি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, চোর চক্রের হোতা শেরপুরের ঝিনাইগাতীর রাস্তাবাকাকুড়ার মো. মঞ্জুরুলের ছেলে মোহাম্মদ আলী, তার সঙ্গী নেত্রকোনা সদরের বালিচুরির চান মিয়া, কিশোরগঞ্জের খিলপাড়ার আব্দুল আলিম, নরসিংদীর শিবপুর থানার লাকপুরের হাসান মৃধা, শরিয়তপুরের সখিপুরের চরপায়াতলী গ্রামের মো. রফিক ও জামালপুরের বকশিগঞ্জের মিয়াপাড়ার মানিক।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোগীরা কেন চিকিৎসা নিতে বিদেশ যায় by তাসকিনা ইয়াসমিন

ব্যবসায়ী সমর সরকার (৪৮) তার পরিবারের সবার চিকিৎসা দেশের বাইরে করেন। কিন্তু কেন? তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের যখন ৩ দিন বয়স তখন হাসপাতালের চিকিৎসক বলেছিলেন, যেন ওর অস্ত্রোপচার করি। আমার সন্দেহ হওয়ায় বাইরে নিয়ে যাই। সেখানে কোনও অস্ত্রোপচার করাতে হয়নি। এরপর থেকে আর দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থা পাই না!’
গবেষক মামুন রশীদ (৪০) পায়ের গোড়ালির ব্যথায় ভুগতেন। দেশে চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু দেশের বাইরে যান তিনি। সেখানকার চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে জুতোয় দুটো রাবার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এতে উপকার পেয়েছেন তিনি। তাই দেশীয় চিকিৎসকের চেয়ে বিদেশি চিকিৎসকদের প্রতি তার আস্থা বেশি।
বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সঙ্গে কথা বললে এমন গল্প জানা যায়। তবে এরই ঠিক উল্টো দিকের ইতিবাচক অনেক গল্প থাকলেও রোগীরা তা আর প্রকাশ করেন না বলে মনে করেন দেশের চিকিৎসকেরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল বলেন, ‘অনেকে বিশ্বাস করেন যে দেশের বাইরে গেলে ভালো ট্রিটমেন্ট পাবেন, তাই যান। অনেকের দেশী চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই। তারা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অনেকের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াটা একটা ম্যানিয়াও বটে। তারা মনে করে যে দেশের কোন কিছুই ভালো না।’ তবে দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিইও অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে চিকিৎসা করতে যায়, মার্কেটিং করতে যায়। এটা একটা শ্রেণি আছেই। অনেকেই আছে বেড়াতে গেছে বলে যে ঠাণ্ডা লেগেছে দেখিয়ে আসলাম। তবে হ্যাঁ, এখন অনেক রোগের জন্য বাইরে যায় না। হৃদরোগের জন্য বাইরে যায় না।’ তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে যারা দেশে যতই ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা হোক তারা বাইরে যাবেই। এমনকি ভারতীয়রা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে আসে।’
বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেশে অনেক রোগী। কোনও হাসপাতালের বেড খালি নেই। যেকোনও মেডিক্যাল কলেজে রোগীকে পর্যাপ্ত বেড দিতে পারছে না। যাদের অর্থ বেশি তারা সুযোগের জন্য বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। যাদের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো তারা পাশের দেশে যান, আর যাদের পয়সাকড়ি বেশি তারা সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন। এর মানে এই নয় যে, এখানে ফাঁকা করে সব রোগী চলে যাচ্ছেন। তা তো নয়, রোগীই বেশি।’
তিনি বলেন, ‘কিছুটা আস্থার সংকট তো আছেই। চিকিৎসকদের ওপর অবিশ্বাস, কিছু ভুল রিপোর্ট আসে, এগুলোও কারণ। যখন আস্থার অভাব হয়, তখন আমাকে দিয়ে তো চিকিৎসা করাবে না। মানুষের প্রাচুর্য বাড়ছে, সামর্থ্য বাড়ছে। সামর্থ্য যখন বেশি থাকে, তখন তো সে ভালো জিনিসটাই খুঁজবে। হার্ট, কিডনি, ফুসফুস এসব জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে মানুষ তো ভালো সুযোগটাই গ্রহণ করবে। সামর্থ্য না থাকলে তো মানুষ যেতো না।’
এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ইদানিং পত্রপত্রিকা খুললেই দেখা যায়, ভুল চিকিৎসার কিছু অভিযোগ উঠছে। এতে মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। এখানে গিয়ে আবার কোন উল্টাপাল্টা হয় কিনা! আবার দেশে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করে, কিন্তু তার প্রতিকার পাওয়া যায় না। তখন মানুষের আস্থার সংকট বেশি হয়।’ মানুষ যে সবসময় বাইরে গেলেই ভালো চিকিৎসা পায়, তা-ও ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কিছু কিছু সমস্যা তো আছেই। আসলে ভালো চিকিৎসক যদি তৈরি না করেন ভালো চিকিৎসা তো পাবেন না। প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসক বানাচ্ছে, তখন কিন্তু মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন না, এক গাদা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসকরা পার্সেন্টেজ নেন, এগুলো বাজারে কথা চালু আছে। অবকাঠামো, জনবল, সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি না করলে ভালো চিকিৎসক তৈরি না হলে মানুষের আস্থা আনতে পারবেন না।’
বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক বলেন, ‘একধরনের রোগী আছে যারা মনে করেন যে, আমাদের এখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ভালো না, চিকিৎসক ভালো। যেহেতু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ভালো হয় না তাই চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিলেও ভালো ফল আশা করা যায় না। আমাদের রিপোর্টের মান নিয়ে সন্দেহ আছে। যখন আমরা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস করি, দেখতে পাচ্ছি যে রোগীর এই সমস্যা আছে, কিন্তু হাতে রিপোর্ট বলছে রোগীর এই সমস্যা নেই। তখন আমি তো রোগীকে ওষুধ দিতে পারছি না। এই সমস্যাটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু করপোরেট হাসপাতাল এত গলাকাটা লাভ করে দেখা যায়, পাশের দেশে গেলে সেই তুলনায় অনেক কম খরচ হয়। শুধু এই টেস্টের পিছনে রোগীর অনেক বেশি অর্থ চলে যায়। পাশের দেশে যদি কম টাকায় টেস্ট করা যায় তাহলে আমরা কেন পারছি না? আমাদের হাসপাতালগুলোতে ভুতুড়ে বিল আসে অনেক বেশি। নৈতিকতা, সাংস্কৃতিক বোধও জরুরি। আমাদের দেশে এখনও রেফারেন্স সিস্টেম হয়নি। আমার কাছে যখন দেখি কোনও ঘাড়ের ব্যথার রোগী আসে আমি বুঝতে পারি এটা হৃদরোগের জন্য হচেছ না, তখন তাকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পাঠাই। এখানে নিউরোসার্জনও হৃদরোগের চিকিৎসা করছেন। উনি ব্রেনের সার্জন, উনি হৃদরোগের কি বোঝেন? চিকিৎসার জায়গায় সততা রাখতে হবে। একজন চিকিৎসকের নৈতিকতাবোধ, ধর্মীয়বোধ সবই থাকা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘রোগীরা ফিস দিতে আপত্তি করে না। কিন্তু তারা খুব মাইন্ড করে যদি কোনও অদেখা টাকা নেই। তারা বলে যে, আপনি জানিয়ে আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা নেন, কিন্তু না জানিয়ে কেন বেশি টাকা নেবেন?’
বিএসএমএমইউ’র হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘রোগীরা তাদের স্বভাবজাত কারণেই দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যান। এটা সেই প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এছাড়া আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি, চিকিৎসকদের ইমেজ সংকট রোগীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করছে। সারাদেশে আমরা ৬০ জন লিভার বিশেষজ্ঞ, আমাদের দিয়ে কি দেশের সব রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব?’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের ইমেজ বিল্ডিংয়ের জন্য, রোগী চিকিৎসক সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের বিভিন্ন স্যোসাইটিগুলো তেমন কাজ করে না। এর প্রভাব চিকিৎসা ব্যবস্থায় পড়ছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘দেশেই এখন সব ধরণের চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা এতদিন যেসব রোগের জন্য বিদেশে যেতাম সেগুলো দেশেই চিকিৎসার করার সক্ষমতা রয়েছে। মানুষ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের অর্থ বেশি ব্যয় হচ্ছে। দেশে একই চিকিৎসা সুলভে পাওয়া সম্ভব। এখন কিডনি, লিভার, হৃদরোগ সব ধরণের চিকিৎসাই দেশে সুলভে পাওয়া যাচ্ছে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘হ্যালো’ পার্টির প্রতারণায় সব হারিয়েছেন তরুণী by রুদ্র মিজান

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিদার মুন্সীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। মোবাইলফোনে নানা কৌশলে প্রতারণা করাই তার কাজ। দিদারের রয়েছে একটি চক্র। প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে বিকাশের কাস্টমার কেয়ারের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে তারা। প্রতারণার সূত্রপাত ২০১৭ সালের অক্টোবরের এক রাতে। মিতার ফোনে কল আসে। নম্বরটি প্রায় হুবহু একটি কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারের নম্বর। পাঁচটি সংখ্যার আগে ছিল একটি প্লাস চিহৃ। কল রিসিভ করতেই স্মার্ট একটি কণ্ঠ। ‘হ্যালো ম্যাডাম, আমি কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি..।’ মিতাকে জানানো হয়, গত মাসে তাকে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে নাম, জাতীয় পরচিয়পত্র নম্বর ইত্যাদি চাওয়া হয়েছিল। তিনি তা দেননি। যে কারণে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে যাবে। কথা শুনে মিতার অস্থিরতা বেড়ে যায়। বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার ৬০ টাকা রয়েছে। তিনি উপায় জানতে চাইলে ওই প্রান্ত থেকে কিছু তথ্য চাওয়া হয় তার। তারপর বলা হয়, আপনি অন্য একটি নম্বর দেন, আমি ওই নম্বরে কল দিচ্ছি। কারণ কথা বলতে বলতে অ্যাকাউন্টের এই ফোনের মাধ্যমে তাকে কিছু কাজ করতে হবে। যথারীতি বড় বোনের ফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। দিদারের কথানুসারে বাটন চাপতে থাকেন। ব্যস। অ্যাকাউন্ট হ্যাক। বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরমধ্যেই প্রকৃত কাস্টমার কেয়ার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
বিষয়টি এখানেই শেষ হতে পারতো। প্রতারণার শিকার মিতা জানিয়েছেন, দিদার অন্যরকম একটা খেলা শুরু করে। কিছুক্ষণ পর কল দিয়ে বলে, ‘টাকা নিয়েছি বলে কি খারাপ লাগছে? সরি, জাস্ট মজা করে হ্যাক করেছি। টাকা নেয়ার জন্য না। ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে আপনার ফোন নম্বরটি সংগ্রহ করেছি। আপনার অ্যাকাউন্টটি ঠিক করে দিচ্ছি।’ পরদিন সকালে টাকাসহ অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করে দেয় দিদার। তারপর থেকে কারণে-অকারণেই কল দিতো। কথা হতো তাদের। নিজেকে ধনাঢ্য হিসেবে পরিচয় দিতো। দিদার তাকে জানিয়েছে, ধানমণ্ডি, মিরপুর ও কুড়িলে মোট তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। উত্তরায় আছে গাড়ির শো’রুম। পৃথিবীতে মা ছাড়া তার আপন কেউ নেই। মা থাকেন মামার বাড়িতে। ঢাকায় কুড়িলে নিজের ফ্ল্যাটে এক মামাকে থাকতে দিয়েছে দিদার। মামা গোলাম মাওলার পরিবারের সঙ্গেই থাকে সে। কথায় কথায় নানাভাবে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে মিতাকে। আকৃষ্ট হোন মিতা।
এক মাসে পরেই দেখা হয় দিদার ও মিতার। গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। মিতা জানান, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করতো দিদার। কখনো কখনো দামি মোটরসাইকেলে চড়ে দেখা করতে যেতো তার সঙ্গে। লং ড্রাইভে চলে যেতো দু’জন। ভাটারার কুড়িল মধ্যপাড়ার ক, ১৩৮/৩ বাসায় নিয়ে যেতো মিতাকে। সেখানে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের আগে বিয়ে করে সংসার করবে জানিয়ে আংটিও পড়িয়ে দেয় তাকে। দিদারের কথিত মামা গোলাম মাওলা সহযোগিতা করতো তাদের। ওই ফ্ল্যাটে প্রায়ই মিতার সঙ্গে একান্তে মিলিত হতো দিদার। এমনকি ঢাকার বিভিন্নস্থানেও নিয়ে গেছে মিতাকে। গত মার্চ মাসে মাওয়া ঘাট সংলগ্ন একটি রিসোর্টে নিয়ে যায় তাকে। সেখানেও অন্তরঙ্গ সময় কাটায় তারা। ছবি তোলে। তখনও মিতা বুঝতে পারেননি তার সরল বিশ্বাসের আড়ালে ঘটছে ভয়ঙ্কর ঘটনা। প্রতিটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করছে দিদার। গত ১৭ই এপ্রিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার থানমাত্তা গ্রামে নিজের বাড়িতে যায় দিদার মুন্সী। ওই দিন তার ফোনে কল দিয়ে থমকে যান মিতা। ওই প্রান্ত থেকে এক নারী জানান তিনি দিদারের স্ত্রী।
দিদার বিবাহিত। তার তিন সন্তান রয়েছে। মিতার মাথায় আকাশ ভাঙ্গে। ভাঙ্গা মন নিয়েই সিদ্ধান্ত নেন যা হওয়ার হয়েছে, দিদারকে ভুলে বাঁচতে হবে তাকে। তার থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু দিদার পিছু ছাড়ে না। মিতার সঙ্গে এই সম্পর্ক রাখতে চায়। দু’জনের মধ্যে ফোনে বাকবিতণ্ডা হতেই থাকে। অতঃপর শুরু হয় হুমকি-ধমকি। মিতাকে জানায়, তার ছবিতো আছেই। এ ছাড়াও গোপনে অন্তরঙ্গ সময়ের ভিডিও ধারণ করে রেখেছে। তা ফেসবুকে, ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হবে। সবাই জেনে যাবে। কোথাও মুখ দেখাতে পারবেন না মিতা। সত্যি সত্যি তাই করে দিদার। ভিডিও’র কিছু অংশ পাঠিয়ে দেয় মিতার বড় বোনের ফেসবুকের ইনবক্সে। এরমধ্যেই ৩০শে এপ্রিল হাজারীবাগ থানায় একটি জিডি করেন মিতা। কিন্তু দিদার বেপরোয়া। সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। স্বজনদের পরামর্শে গ্রিনরোডের একটি রেস্টুরেন্টে দিদারের সঙ্গে দেখা করেন মিতা। ঘটে আরো ভয়ঙ্কর ঘটনা। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিতার ফোনটি কেড়ে নিয়ে যায়। ওই ফোনের দুটি নম্বর থেকে ইমোতে অ্যাকাউন্ট খুলে। এই ইমো ব্যবহার করে মিতার স্বজন-বন্ধু সবাইকে বিশেষ মুহূর্তের ছবি, ভিডিও পাঠায় দিদার। ২৫শে এপ্রিল থেকে ২৩শে মে’র মধ্যে ইমু ও ফেসবুকে মেসেঞ্জারে ভিডিও ও ছবি পাঠিয়ে হুমকি দিচ্ছিল দিদার।
মিতা বলেন, একের পর এক সবাই জেনে যাচ্ছে। বাসা থেকে বের হতে পারছি না। কারও সামনে যেতে পারছি না। আমার মনে হলো বেঁচে থাকা অর্থহীন। মান সম্মানতো গেল। আত্মহননের দিকে এগুচ্ছিলেন চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন (এসিসিএ) অধ্যয়নরত এই তরুণী। তখনই মিতার বোন-বান্ধবীরা তার পাশে দাঁড়ান। খবর পেয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন তার বাবা। থানা পুলিশের পরামর্শে সহযোগিতা নেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের। অতঃপর ২৫শে মে রাতে ওই ইউনিটের পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কুড়িল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দিদার মুন্সীকে। উদ্ধার করা হয় কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ও ছবি। এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্য দিদার মুন্সী। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা চলছে বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৭ জনের টিম নিয়ে সিলেটে ডাকাতি করে বেড়াতো ‘বস মিজান’ by ওয়েছ খছরু

সিলেটের শাহ্পরাণ থানা পুলিশের এসি মো. ইসমাইল বস মিজানকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। এদিকে- গ্রেপ্তারের পর বস মিজান পুলিশের কাছে সব স্বীকার করে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন- বস মিজান গতকাল সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। এরপর আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, গত ৯ই এপ্রিল ভোরে খাদিমপাড়ার শাহ্পরাণ উপ-শহর আবাসিক এলাকার ৫ নং রোডের আবদুল মজিদের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় জনতা আরিফুল ইসলাম সজীব ওরফে মিরাজ (২৬) নামের এক ডাকাতকে আটক করে। ডাকাতির ঘটনায় আবদুল মজিদ শাহ্পরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন।
১১ই এপ্রিল আরিফুল ইসলাম সজীবকে আদালতে হাজির করা হয়। সজীব আদালতে আবদুল মজিদের বাসায় এবং গত ১৮ই মার্চ আরামবাগের কাজী আবদুল মুকিতের বাসায় ডাকাতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তিনি তার সহযোগী মানিক, সুমন গাজী, আফজাল গাজী, আল আমিন ওরফে মুকুল প্রকাশ ওরফে মিজান হাওলাদার ওরফে বস মিজান, আরিফ, আবুল কালাম ও সেলিনার নাম প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুুল ওয়াহাব জানান, পলিশ মানিক ওরফে ইউনুছ হাওলাদার ওরফে বস কালুকে গ্রেপ্তার করে গত ৬ই মে আদালতে হাজির করে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। বস মিজান, আফজাল গাজী, আরিফুল ইসলাম সজীব, আবুল কালাম, রুবেল ওরফে ঘাওরা রুবেল ও জাকির ফকিরসহ সাতজন ডাকাতি করেছেন বলে স্বীকার করেন বস কালু। পরে শাহ্পরাণ থানার সহকারী কমিশনার মো. ইসমাইল প্রযুক্তির সহায়তায় আল আমিন ওরফে মুকুল প্রকাশ ওরফে মিজান হাওলাদার ওরফে বস মিজানের অবস্থান নিশ্চিত হন।
শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা আবদুুল ওয়াহাব আরো জানান, বিভিন্ন অভিযোগে বস মিজানের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় ছয়টি ও সোনাডাঙ্গা থানায় আরেকটি মামলা রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেগুনবাগিচায় অস্থিরতা by মিজানুর রহমান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা অবশ্য এ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ, চিঠি চালাচালি এবং পাল্টা প্রস্তাব ও মতামত দেয়াতেই জোর দিচ্ছেন। সে মতেই প্রস্তুতি চলছে। কোনো রকম ব্লেমগেম নয়, বিদেশে অন্যান্য দেশের মিশন বিশেষ করে প্রতিবেশী এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মিশন কীভাবে পরিচালিত হয় তা বিবেচনায় নিলেই সব জটিলতার অবসান ঘটবে বলে মনে করে সেগুনবাগিচা। কর্মকর্তারা বলেন- এটা খুবই দুঃখজনক যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আলোচনায় ‘শেয়ারড্ লিডারশিপ’ বা অংশীদারী নেতৃত্বের প্রস্তাব করা হয়েছে। সভায় বলা হয়- দূতাবাসগুলোর উইং সমূহ স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। দূতাবাস প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন। সভায় এ-ও বলা হয়- দূতাবাসগুলো বিদেশে বাংলাদেশের এক একটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো। অনুষ্ঠানের সভাপতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম অবশ্য তার সমাপনী বক্তব্যে শেয়ারড্ লিডাইশপের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। বলেন- মিশনে যারাই কাজ করেন তারা যে ক্যাডারের হোন না কেন তারা দেশের হয়ে কাজ করেন। সুন্দর পরিবেশের (হারমনিয়াস) স্বার্থে তারা একসঙ্গে মিলে মিশন প্রধানের নেতৃত্বেই কাজ করবেন। বিস্তৃত ওই আলোচনায় দূতাবাসগুলোতে অব্যবস্থাপনা, এসিআর জটিলতা, উইংগুলোর স্বতন্ত্র একাউন্ট না থাকা এবং প্রটোকল দায়িত্ব পালন বিষয়ে মনোমালিন্যের অভিযোগ ওঠে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে ওই আলোচনা এবং মতামতগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর পরিসরে দ্বিমত পোষণ করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন- এসিআর জটিলতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দূতাবাসগুলোর অব্যবস্থাপনা বিষয়ে যে বক্তব্যগুলো এসেছে তা ঢালাওভাবে সব দূতাবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এগুলো কেস টু কেস বিবেচনা করতে হবে। আলোচনায় অনেকেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার আলোকে তার নিজের মিশনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। যা অধিকাংশ মিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পররাষ্ট্র সচিব বলেন- কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সার্বিক চিত্র বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহ আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি এবং অন্যান্য দেশের মিশনসমূহের পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাষ্ট্রদূতগণ পরিচালনা করে থাকেন। ফলে মিশনগুলোর কর্ম পরিবেশ দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্থা (যেমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) থেকে ভিন্নতর হবে। পররাষ্ট্র সচিব তার বক্তব্যে মিশনের একটি একাউন্ট থাকার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে উইংগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের মিশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিশেষত প্রটোকল দায়িত্ব পালনে আরো স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। মিশনসমূহে পদায়নের পর সকলেই কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন বিধায় তাদের ক্যাডার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধও জানান পররাষ্ট্র সচিব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই মতবিনিময় সভার আলোচনা, পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের তরফে যে ব্যাখ্যা, মূল্যায়ন ও পাল্টা প্রস্তাব সরকারের নীতিনির্ধারিণী পর্যায়ে উত্থাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছে তাতে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় ওঠে এসেছে। তা হলো- পেশাদার কূটনীতিকরা মনে করেন- আমলাতন্ত্রে শেয়ারড্ লিডারলিপের কোনো স্থান নেই। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দূতাবাস প্রধানের নেতৃত্বে এবং উইংগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই সবাই পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। এতে সংস্কার প্রয়োজন হলে অন্যান্য দেশের মিশনের প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রুলস অব বিজনেস মতে, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, কনস্যুলার বা বাণিজ্যিক মিশন প্রতিষ্ঠা এবং তাদের প্রাপ্ত সুবিধাদি (ইম্মিউনিটিস) নিশ্চিত করার জন্য দরকষাকষির দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সে বিষয়টি স্মরণ করে পেশাদার কূটনীতিকরা বলছেন- বিদেশে বাংলাদেশের জনবল বৃদ্ধি কিংবা কামানোর বিষয়টি ওই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাবিত করে।
প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথা অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয়ক্রমে সরকার এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে রুলস অব বিসজেস বলছে- বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক প্রভাবিত করে এমন কোনো বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পূর্ব পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো মন্ত্রণালয় নিষ্পত্তি করবে না। এছাড়া অ্যালোকেশন অব বিজনেসেও বিদেশ মিশনে উইং বা পদ সৃজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের বাধ্যবাধকতার কথা বলা আছে। রুলস অব বিজনেস এবং অ্যালোকেশন অব বিজনেসের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুনবাগিচার একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন- আমরা কোনো ব্লেম গেমে যেতে চাই না। যার যে দায়িত্ব সেটি সততার সঙ্গে পালন করলেই হয়। পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা মঙ্গলগ্রহ কিংবা ভিন্ন গ্রহণের কেউ নয়। এদের প্রতিপক্ষ হিসাবে ভাবলে বা দাঁড় করালে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে লাভবান হবেন কিন্তু রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় এই বার্তাই দিতে চাই- সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের তরফে বিচ্ছিন্নভাবে যে সব অভিযোগ এসেছে তার সত্যতা বা যথার্থতা যাচাই করা হোক। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হোক। এটি দেশের স্বার্থেই হওয়া জরুরি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য যে অকেস্ট্রেইডেট ক্যাম্পেইন চলছে সেটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হোক। পররাষ্ট্র ক্যাডারের অস্তিত্ব সংকোচন এবং খর্ব করার এ অপচেষ্টা রোধে কেবিনেট ডিভিশনকে মুখ্য ভূমিকা নেয়ার অনুরোধও জানান তারা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তোলাবাজির উৎসব by শুভ্র দেব

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেট, বিপণিবিতান, পরিবহন সেক্টর সর্বত্রই চাঁদাবাজি। আর এসব চাঁদা নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠনের নামে নানা অজুহাতে। বিপণিবিতান, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, বাস চালক-মালিক, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হয় চাঁদা। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর চাঁদার হার দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। একটি দুটি গ্রুপ নয় একজন ব্যবসায়ীকে একাধিক গ্রুপকে দিতে হচ্ছে টাকা। সব মিলিয়ে এবারের ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা বেশ আতঙ্কের মধ্যদিয়ে সময় পার করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শতাধিক গডফাদারের মদতে শুধু রাজধানীতে চাঁদা তোলার জন্য বেশ কয়েকটি গ্রুপ কাজ করছে। তারা বিভিন্ন নেতাদের নাম বলে টাকা তুলেন। ব্যবসার ধরন বুঝে চাঁদার হার নির্ধারণ করেন। অপরাগতা দেখালে ভয়ভীতির পাশাপাশি করা হয় অশোভন আচরণ। অনেক সময় নগদ টাকার পাশাপাশি কাপড় দাবি করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন সরজমিন রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেট, খিলগাঁও রেলগেট বাজার, মালিবাগ সুপার মার্কেট, মালিবাগ বাজার, মৌচাক, ফরচুন সুপার মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, চাঁদনীচক, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, বঙ্গবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, ইসলামপুর কাপড় বাজার, কেরানীগঞ্জ কাপড় বাজার, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, টঙ্গী, পুরান ঢাকার একাধিক মার্কেট, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ আরো একাধিক এলাকার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও মতিঝিল, গুলিস্তান, হলিডে মার্কেট, ফার্মগেট, উত্তরা, বিমানবন্দর, মিরপুর, শেরেবাংলানগর, নিউমার্কেটসহ আরো কিছু এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে চাঁদাবাজির তথ্য।
দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের হাট ইসলামপুর। এ বছর সেখান থেকে উঠানো হয়েছে কয়েক কোটি টাকার চাঁদা। ইসলামপুরের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। আলী হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ভেবেছিলাম এবছর কোনো চাঁদা দেব না। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যায় এবার বেশ অভাব-অনটনে কাটছে। কিন্তু এ বছর আমাকে আরো দ্বিগুণ টাকা দিতে হচ্ছে। বারবার যখন বিভিন্ন অজুহাতে এসে ধর্না দিচ্ছিল তখন আর না দিয়ে পারলাম না। নিউমার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী জাফর বলেন, ইফতার পার্টির নামে দুবার টাকা দিয়েছি। না জানি ঈদের আগ পর্যন্ত আর কত টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, দল বেঁধে যখন অনেকেই আসে তখন আর কিছু করার থাকে না। কারণ, ব্যবসা করতে হলে না দিয়ে কোনো উপায় নাই। গাউছিয়ার ব্যবসীয় আনোয়ার বলেন, এখন পর্যন্ত কত সংগঠন কত অজুহাতে যে আসছে, তার ঠিক নাই। আরও অনেক আসবে। একেক সংগঠনের চাঁদার রেট একেক রকম। গুলিস্তান সুন্দরবন মার্কেটের ব্যবসায়ী করিম মিয়া জানান, জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে কোনো লাভ নেই। একের পর এক আসছে। সাধ্যমতো যা পারি দিচ্ছি। চাঁদা দেব না- এই বলে আর রেহাই পাওয়ার উপায় নেই। দিতেই হবে যখন, বুঝিয়ে যত কমে পারা যায়। ফার্মগেটের ব্যবসায়ী আক্তার বলেন, এটা নতুন কিছু না। সারা বছরই দিতে হয়। রমজান মাস আসলে একটু বেশি বাজেট লাগে। দলে দলে আসবে আর নিয়ে চলে যাবে। দিতে পারব কি না বা সমস্যা আছে কি না তার হিসাব করবে না।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে রাজধানীতে প্রায় ১৪৭টি শপিংমল রয়েছে। বাস্তবে এর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। আর এসব শপিংমলে অন্তত লাখ খানেক ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে শুরু করে শ্রেণিভেদে ভেদে লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে। অভিজাত এলাকার ব্যবসায়ীদের গুনতে হয় আরো বেশি টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন পুরো রমজান মাসে শুধু ঢাকাতেই ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হবে।
সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামেও চাঁদা তোলায় আতঙ্ক একটু বেশি। দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ আছেন কারাগারে। দেশ পলাতকের পাশাপাশি আবার অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কিন্তু আড়ালে থেকেও তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তোলা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
শপিংমলের মতো বাদ যায়নি ফুটপাতে চাঁদাবাজি। নামে-বেনামে সংগঠনের নামে নিয়মিত চাঁদার পাশাপাশি তোলা হচ্ছে ইফতার ও ঈদকেন্দ্রিক চাঁদা। চাঁদা না দিলেও ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনও অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশের সিটি করপোরেশন, বন্দর, হাটবাজার ও জেলা-উপজেলার নিবন্ধনকৃত হকার আড়াই লাখ। এরমধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই আছে প্রায় এক লাখের ওপরে হকার। এর বাইরে অনিবন্ধিত ও মৌসুমী হকার আরো কয়েক লাখ। ঈদকে সামনে রেখে এসব হকারের কাছ থেকে নেয়া হয় কয়েকশ কোটি টাকা। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন ভালো বিক্রি শুরু হয়নি। ১০ রমজানের পর থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ব্যবসা শুরু হওয়ার আগেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। গুলিস্তানের হকার রিয়াজ মিয়া বলেন, যারা চাঁদা তুলে তারা- এমন কিছু নেতার নাম বলে তখন আর কিছু করার থাকে না। আর চাঁদা না দিলে নানা হয়রানি করা হয়। ফার্মগেটের হাকার জাফর আলী বলেন, ব্যবসা হোক আর না হোক চাঁদার টাকা ঠিকই দিতে হয়। মিরপুরের হকার রুহুল আমিন বলেন, রমজান মাসে আলাদা বাজেট করে রাখতে হয়। জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে পারা যায় না।
রাজধানীতে ফুটপাত থেকে চাঁদা উঠানোর জন্য প্রায় ৫ শতাধিক চাঁদাবাজ রয়েছে। তারা লাইনম্যান নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উঠানোর কাজ করেন। তাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি ও পুলিশ।
বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কাশেম মানবজমিনকে বলেন, রমজানের শুরু থেকে চাঁদাবাজি চলছে। ঈদ যত সামনে আসবে ততই চাঁদার রেট বেড়ে যাবে। শুরুতে চাঁদা নেয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। ১০ থেকে ২০ রমজান পর্যন্ত হবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর চাঁদ রাত পর্যন্ত কয়েক গুন বেড়ে হয়ে যাবে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা অনেক আন্দোলন করছি। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে একাধিক মামলা। কিন্তু তাদের কখনই গ্রেপ্তার করা হয়নি। কারণ, তারা প্রত্যেকেই পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এই কাজ করে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার পাশাপাশি পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদা উঠানোর জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে আরো কিছু চক্র। যারা ঈদ কেন্দ্রিক দূরপাল্লার বিভিন্ন বাস থেকে চাঁদা ওঠায়। খোঁজ নিয়ে জানা, গেছে ঈদ যাত্রার এখনও বাকি। কিন্তু এখনই কিছু চাঁদাবাজরা রাজধানীতে প্রবেশ ও বাহির পথে চাঁদাবাজি শুরু করে দিয়েছে। নিয়মিত চাঁদাবাজির পাশাপাশি শুরু হয়েছে ইফতার মাহফিলসহ আরো নানা অজুহাতে চাঁদাবাজি। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকার টার্মিনালগুলোতে প্রবেশকালে চাঁদা তোলা হয়। এর বাইরে খোদ ট্রাফিক পুলিশও কাগজপত্র চেক করার নামে চালকদের হয়রানি করে টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক চালক। আবার দূরপাল্লার অনেক যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এখনই চালকরা বাড়তি ভাড়া নেয়া শুরু করে দিয়েছে। বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণ জানতে চাইলেও তারা কোনো সদত্তর দিচ্ছেন না। তবে চালকরা জানিয়েছেন, তাদের খরচ বেড়েছে। ইঞ্জিন স্ট্যার্ট দিলেই একাধিক ঘাটে তাদের টাকা দিতে হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস মানবজমিনকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এসময়টা একটু বেশি তৎপর থাকে। আমাদের কাছে যদি কেউ অভিযোগ করে তবে আমরা ব্যবস্থা নেব। এজন্য পুলিশের কাছে সরাসরি ফোন করে অভিযোগ দেয়া যাবে। অথবা আমাদের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ দেয়া যাবে। তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রবেশ ও বাহির পথে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করবে। হাতেনাতে এধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মমতাকে এড়িয়ে তিস্তা চুক্তি করবে না ভারত

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাউন্সিলর একরামের মৃত্যু: পুরো টেকনাফ বলছে ভিন্ন কথা

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে মা সম্বোধন করে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমেই প্রশাসনকে বলতে চাই, যদি সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে চান তবে প্রকৃত ইয়াবা কারবারিদের শেষ করুন। পারলে টেকনাফের সাইফুল করিম, এমপি বদির ভাই আবদুর রহমান ও আবদুর শুক্কুর, কক্সবাজার শহরের শাহজাহান আনসারী ও কামাল আনসারী, লারপাড়ার আবুল কালাম কন্ট্রাক্টর, পেকুয়ার মগনামার ওয়াসিমের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত ও সমাজ স্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের ক্রসফায়ার দিন। দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে কলঙ্কিত করবেন না। একরামের মতো নিরপরাধ ও জনপ্রিয় নেতাকে ক্রসফায়ার দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গায়ে কালিমা লেপনের চেষ্টা করবেন না।
টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ শফিক মিয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম হোসেন নিরপরাধ। গত শুক্রবার তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওইদিন তিনি দেখা করেও আসেন। শনিবার আবারও ডাক পড়লে এশা নামাজের পর আবারও দেখা করতে যান একরাম। মৃত্যুভয় থাকলে একরাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাকে সাড়া দিতেন না বলেও মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতা। তিনি বলেন, টেকনাফের বনেদি পরিবারের সন্তান একরাম। তিনি সাবেক এমপি আবদুল গনির ভাতিজা। মাত্র দুই রুমের একটি বাড়িতে থাকতেন তিনবারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক এ যুবলীগ নেতা। একরুমে বউসহ একরাম, অপররুমে দুই মেয়ে নিয়ে অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তার মতো একজন ছেলের এমন পরিণতি কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।
একই সুরে কথা বলেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর। তার মতে, যারা ইয়াবা কারবারি, তারা শত কোটি টাকার মালিক। কিন্তু একরাম গরিবিহালে চলাফেরা করতো। সে কারো সন্দেহের তালিকায়ও ছিল না। তার অর্থকষ্টের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, স্ত্রীর মিরাজ বিক্রি করে ৭/৮ লাখ টাকা পেয়েছিলেন একরাম। ওই টাকা দিয়ে একটি ঘরের ফাউন্ডেশন দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই ঘরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। ঘরের খুঁটি উঠেছে ঠিকই, কিন্তু ইটের গাঁথুনি দিতে পারেনি।
টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, কমিশনার একরাম একেবারে নিরীহ। তার নামে কোনো মামলা নেই, তিনি ইয়াবা ব্যবসা করেন এ রকম কোনো খবরও টেকনাফের মানুষের জানা নেই।
তিনি বলেন, প্রকৃত ইয়াবা কারবারি মরলে কেউ প্রতিবাদ করে না। যেমন- আকতার কামালের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করেনি। তার মতে, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একরামকে মৃত্যুর মুখে টেলে দেয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
টেকনাফে ব্যবসায়ী মমতাজুল হক আশরাফ জানান, কাউন্সিলর একরামুল হক অত্যন্ত সাদাসিদা জীবনযাপন করতেন। একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েও টাকার অভাবে বাড়ি পর্যন্ত করতে পারেননি। দুই মেয়ে বিজিবি-পাবলিক স্কুলে লেখাপড়া করে। সেখানেও বেতন বাকি। বিদ্যুৎ বিলও বাকি। তিনি টেকনাফ পৌর যুবলীগের সভাপতি ও বার্মিজ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ বছর সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
রোববার রাত ১০টায় টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন টেকনাফ আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার প্রধান পরিচালক (মুহতামিম) আল্লামা মুফতি কিফায়তুল্লাহ শফীক্ব। তাঁকে এক নজর দেখতে এবং জানাজার নামাজে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় হাজার হাজার মানুষ হাত তুলে কমিশনার একরাম ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘৮১ শতাংশ লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক ইতালিতে পাঠানো হয়’ - ওকাপ-এর গবেষণা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার ইভিএম নিয়ে ইসি’র তোড়জোড় by সিরাজুস সালেকিন

ইসি সূত্র জানায়, আইন সংস্কার কমিটির প্রস্তাবে প্রচলিত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, সংজ্ঞায় ইভিএম সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন আছে। তবে বর্তমান ইভিএম শুধু ভোট কাস্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে না। ইভিএম আঙ্গুলের ছাপ বা এনআইডি কার্ড নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন করবে। যদি ভোটার ভেরিফিকেশনে উত্তীর্ণ না হয় তবে ভোট দিতে পারবে না। আরপিও’র বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইভিএম ব্যবহারের সুপারিশ এসেছে আইন সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে। আরপিও’র ২৮ (ক) অনুচ্ছেদের সংশোধনীতে ব্যালট বাক্সের সঙ্গে ইভিএম যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের আগে ব্যালট বাক্স অথবা ইভিএম শূন্য অবস্থায় আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। একই সঙ্গে ২৮ (গ) অনুচ্ছেদে খালি ব্যালট বাক্স ও ইভিএম সিল করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ২৮ (৬) অনুচ্ছেদে ইভিএমে ভোটদানের সময় বাটন গোপনে যেন পরিচালনা করা হয় সে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। ৩১ (৩) অনুচ্ছেদে হাতে অমোচনীয় কালিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে ব্যালট সরবরাহ না করার এবং ভোটদান থেকে বিরত রাখার বিষয় যুক্ত করতে বলা হয়েছে। ৩৩ (১) অনুচ্ছেদে ভোট চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে ইভিএমকে বাইরে রাখার বিষয়টি যুক্ত করতে বলা হয়েছে। ৩৪ (১) অনুচ্ছেদের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নষ্ট ব্যালটের বিষয়টি ইভিএমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ৩৬ (৬) অনুচ্ছেদে সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ইভিএম ভোটিংয়ের ফলাফলের নথি হচ্ছে স্টোরেজ ডাটা কার্ড। অন্যদিকে ১২ (৩) অনুচ্ছেদে অনলাইনে মনোনয়ন জমা এবং এর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র প্রদানের বিষয়টি যুক্ত করতে সুপারিশ করেছে আইন সংস্কার কমিটি।
একাদশ জাতীয় সংসদের রোডম্যাপে ইভিএম-এর বিষয়টি উল্লেখ নেই। তাছাড়া ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ইসির কাছে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব এসেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি বলেছে, জাতীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই ইভিএম বা ডিভিএম পদ্ধতি বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। শুধু বিএনপি নয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়েছে। ইসির সংলাপে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, খেলাফত মজলিস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাগপা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগসহ আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ- আলোচনার পর ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দল এবং ভোটাররা যদি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে বলেন, তাহলেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব। বর্তমানে ইভিএম ব্যবহারে ইসি প্রস্তুত নয় বলেও জানান সিইসি। সম্প্রতি রংপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করে ইসি। এরমধ্যে রংপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ত্রুটি দেখা দেয়ায় কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের পর গাজীপুরসহ আরো তিন সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইসি। আজ নির্বাচন কমিশনের সভায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করবে কমিশন। সিটি নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করতে চায় বর্তমান কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করতে হবে। ইসি’র এসব সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাসের ওপরই নির্ভর করছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আরপিও সংশোধনে প্রস্তাবগুলো নিয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর তা পর্যালোচনা আইন পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে ‘খসড়া বিল’ প্রস্তুত করে কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের অনুমোদন পেলেই বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংসদে সংশোধনী বিল পাস হলেই চূড়ান্ত হবে আরপিও সংশোধন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি সাক্ষাৎকার থেকেই ফাঁস মর্গান ফ্রিম্যানের কুৎসিত রূপ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জমে উঠেনি মিরপুর বেনারসি পল্লী

বেনারসি পল্লীতে ঢুকতেই বেনারসি কুঠিরের সত্বাধিকারী রেজওয়ানা বলেন, রাস্তা খোড়াখুড়ি, মেট্রোরেলের কাজ ও বৃষ্টির কারণে দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম। প্রতিবছর এই সময়টাতে যেখানে পিক আওয়ার থাকে সেখানে আজ আপনাকে সাক্ষাৎকার দেয়ার কোনো সময়ই থাকতো না। সাধারণত শবে বরাতের পর থেকে বিক্রি শুরু হয়ে চাঁদ রাত পর্যন্ত চলে। ১৯৯০ সালে যাত্রা শুরু হওয়া বেনারসি কুঠির মিরপুরের সবচেয়ে আদি ও পুরাতন প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিকে এখানে মাত্র ২-৩টা দোকান থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬টিতে। বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে পণ্যের ডিজাইন ও কারুকার্যের অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া বেনারসি কুঠিরের কিছু নিজস্বতার জায়গা থেকে এটার ডিজাইন ও কারুকার্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য থেকে অনেক আলাদা। কারণ আমাদের এই ডিজাইনগুলো নিজস্ব তাতে নিজস্ব ফ্যাশন ডিজাইনার ও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ডিজাইনার দিয়ে কারানো হয়। ফলে এটা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। যদিও বর্তমানে অনেক বড় বড় শপিংমল ও কিছু নামকরা ব্রান্ড আমাদের প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিয়ে বিক্রি করে থাকে।
রেজওয়ানা আরো বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব হচ্ছে উন্নত মানের নিজস্ব তাঁত ও কারিগর রয়েছে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি পিওর সিল্কের উপর সোনালী জরির যে ডিজাইন বা নকশা করা হয় তার রং কখনো কালো হয় না। এ ছাড়া ভারতের তৈরি শাড়ির মধ্যে আমাদের শাড়ির পার্থক্য হচ্ছে তাদের শাড়ি অনেক বেশি ওজন হয়। আর আমাদেরটা অনেক হালকা। যেটা দেখতে অনেক ভাড়ি মনে হলেও ওজনে খুবই হালকা বলা চলে এবং সহজেই ক্যারি করা যায়। আমাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি পিওর সিল্কের উপর কাতান শাড়ি সারা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ। এরমধ্যে রয়েছে পিওর সিল্ক, জরজেট, বিয়ের কাতান, কাতান, বেনারসি সিল্ক, কাঞ্জিবরন, ক্যাটালগ, মেঘদূতসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি। এগুলোর দাম ১২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঈদ উপলক্ষে কাতান শাড়িটাই বেশি চলছে। বিয়ের শপিং ও ঈদের কেনাকাটায় এক কথায় ‘মিরপুরি কাতান চাই’। বেনারসি পল্লীতে ঘুরে দেখা যায়, ছোট বড় প্রতিটি দোকানে একই চিত্র। বুটিক, স্টোন, জরির বাহারি কাজের দেশীয় বস্ত্রের বিপুল সরবরাহ রয়েছে এই পল্লীতে। ঈদ উপলক্ষে সব শ্রেণির ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রতিটি কারখানাতে বিভিন্ন দামের ও মানের শাড়ি প্রস্তুত করা হয়। বিক্রেতারা জানান, ঈদে কাতান শাড়ির চাহিদা একটু বেশি। তাদের মতে, প্রায় শতাধিক’ ধরনের পণ্য আছে তাদের দোকানে। এগুলো সবই দেশি তাঁতের তৈরি। তবে, ক্রেতাদেরকে দেশীয় পণ্যে ও ইন্ডিয়ান পণ্যের পার্থক্য বুঝাতে কিছু ইন্ডিয়ান শাড়িও রাখা আছে দোকানে বলে জানান বেনারসি রুপসিঙ্গারের ম্যানেজার মো. সাব্বির আহমেদ।
সাব্বির মানবজমিনকে বলেন, এ বছর দোকানে বিক্রি কিছুটা কম হলেও খুব শিগগিরই এটা ফিলআপ হয়ে যাবে। এখানে কাতান, বেনারসি, জামদানি, কাড়িয়াল, খাড্ডি, কাটিয়াল, বেলগাও, ন্যানো কাতান, ফুলকলি, সামার, রিভারসিভার, ওতাদ জামদানি, ইটকাট, কানিআচল, দেবদারু, সামু সিল্কসহ একাধিক শাড়ি কালেকশান রয়েছে। এগুলোর নাম শুনলে ইন্ডিয়ান পণ্য মনে হলেও এগুলো আমাদের দেশেই নিজেস্ব তাঁতের তৈরি। শুধুমাত্র কিছু নাম কপি করা হয়েছে। ভারতের কিছু কিছু পণ্যের নাম যেমন আমরা কপি করি একইভাবে তারাও আমাদের দেশীয় পণ্যের অনেক নাম কপি বা নকল করেন। তিনি আরো বলেন, ভারত যতোই ভালো পণ্য তৈরি করুক না কেন, আমাদের দেশি ঢাকাই জামদানি তারা কোনোদিনই ১০০% মানসম্পন্ন তৈরি করতে পারবে না।
বেনারসি পল্লী ঘুরে দেখা যায়, এখানে তৈরি হয় প্রিন্স কাতান, রিমঝিম কাতান, টিস্যু কাতান, মিরপুরী গিনি গোল্ড কাতান, জর্জেট গিনি গোল্ড কাতান, ফুলকলি কাতান, দুলহান কাতান, মিরপুরী রেশমি কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, বেনারসি কসমস, অরগন্ডি কাতান, ব্রকেট কাতান, রেশমি কাতান, কাঞ্চিকূনন, গাদোয়াল, চুনরি কাতানের মতো শাড়ি।
বিগবাজারের সত্বাধীকার জিয়াউল হক বলেন, দোকনের বিক্রিবাট্টা ভালোই হচ্ছে। এটা ২৫ রোজা পর্যন্ত চলবে। আমাদের দোকানে দেশীয় শাড়ি, টাঙ্গাইল, সুতি, মসলিন, সোনারগাঁওয়ের জামদানিসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে গিফটের শাড়ি হিসেবে টাঙ্গাইল ও সুতি শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সাধারণত ১৫শ’ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।
একই ধরনের কাপড় রয়েছে নীলআঁচল শাড়ি হাউজ, বেনারসি অলংকার, রানা সিল্ক প্লাজা, আরিফ বেনারসি কুঠির, রোখসানা জরি সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি, তানিয়া বেনারসি কর্নার, ঢাকাই শাড়ি, রিভার সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি, খুরশীদ সিল্ক, নাহিদ আক্তার সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি, আমানত সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিতে। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৩- সেকশন-এর বেনারসি পল্লীর দেড়শতাধিক দোকানে ক্রেতারা আসছেন।
যশোর থেকে জামদানি ও সিল্কের শাড়ি কিনতে এসেছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ঈদ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে পরিবারের সদস্যদের জন্য এখান থেকেই শাড়ি কিনে থাকি। অন্যান্য স্থানের চেয়ে এখানকার শাড়ির মানও যেমন ভালো, তেমনি দামও কিছুটা কম। একই কথা জানালেন আরেক ক্রেতা তাসলিমা রহমান। তিনি বলেন, বড় মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে বেনারসি শাড়ি কিনতে এসেছি। প্রথম সন্তানের বিয়েতে একটা ভালো শাড়ি না হলে কি চলে।
বলতে গেলে সারা বছরজুড়েই শাড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন মিরপুর বেনারসি পল্লীর শাড়ির কারিগররা। ঈদ আসলে তাদের ব্যস্ততা যেন আরো বেড়ে যায়। গত ২০ বছর ধরে শাড়ি তৈরির কাজে নিয়জিত মো. নাসিমুল হাসান জানান, ঈদ উপলক্ষে উন্নত মানের একটি শাড়ি তৈরি করতে বুনন এবং পুথি জরি লাগানোসহ সময় লাগে ১ সপ্তাহ। একটু কম মান সম্পন্ন শাড়ি তৈরিতে ঈদের আগে সময় লাগে ২-৩ দিন। যদিও ঈদের দু-এক মাস আগ থেকে কাজ করতে হয় সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে মাসে ৪টি শাড়ি তৈরি করতে পারেন। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে শাড়ি তৈরি করতে হয় মাসে ৬ থেকে ৮টি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কালো টাকা বাইরে গেলে করার কিছু নাই: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করা সমাধান নয়। যাদের কালো টাকা বিদেশে নেয়ার তারা নিয়ে যাবেই। সাদা করার সুযোগ দিলেও কোনো কাজ হবে না। কালো টাকা দেশের বাইরে গেলে আমার করার কিছু নেই। ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে আগামী বাজেটে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কিনা আলোচকদের প্রশ্নে মুহিত বলেন, ব্যাংক কেলেঙ্কারি একটি গুরুতর বিষয়। ব্যাংকিং সেক্টরে অনেক ধরনের গোলামাল রয়েছে। সেটা বাজাটে জানা যাবে বলেও তিনি জানান।
বাজেট বক্তৃতা ইতিমধ্যে লেখা শুরু হয়েছে এবং অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেষ সময়ে বাজেট বরাদ্দ বাস্তবায়ন নিয়ে এসে তড়িঘড়ি করা হয়। অথচ প্রথম দিকে বাজেটের পয়সা ব্যবহার করা হয় না। আমি বলবো এবার প্রথমদিন থেকেই সরাসরি খরচ করতে পারবে। অর্থাৎ, আগামী ১লা জুলাই থেকে খরচ করতে পারবে। প্রতিবার যে ভুল ধারণা হয় এবার আর তা থাকবে না।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, কুষ্টিয়া ও বান্দরবান জেলায় তামাক চাষ হচ্ছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ২০৪১ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার। এজন্য আমরা মতামত চেয়েছি। এর কিছু ইঙ্গিত এবারের বাজেটে দিতে পারবো। দেশে ২০১১ সাল থেকেই দক্ষ জনবল তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ‘আম্ব্রেলা প্রজেক্টের’ মাধ্যমে অনেক মন্ত্রণালয় এতে কাজ করছে। দেশে যথেষ্ট এমবিএ বের হয়, অথচ গার্মেন্ট ব্যবস্থাপনা সেক্টর পরিচালনা করে শ্রীলঙ্কাসহ বা অন্যান্য দেশ। তারা প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায়। সেখানে একটি দক্ষ গ্রুপ তৈরি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্র্যাক একটি কাজ করছে, এটি আরো প্রসারিত করা দরকার। আমাদের বেশি দরকার দক্ষতা।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, আমাদের উন্নয়নে ২০৫০ সাল নাগাদ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কাজে লাগাতে হবে। ‘গ্রোথ অব ট্যাক্স ও ইকোনমির’ এখানে সম্পর্ক রয়েছে। যেখানে ট্যাক্স আদায়যোগ্য এবং আদায় হচ্ছে না এসব ভুলগুলো বের করতে হবে।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়নে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। অনগ্রসরদের সামনে আনতে হবে। এজন্য প্রথমে কৃষিতে জোর দিতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহযোগিতা এবং কৃষক ও কৃষি শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কৃষিতে যান্ত্রিককরণের প্রয়োজন রয়েছে। কোনো সময় কর্মসংস্থান বাদ গেলে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. একেএম আবদুল মোমেন গোলটেবিল বৈঠকে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং কয়েকটি প্রস্তাবনা পেশ করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার, সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য ড. শামসুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি সিএম তোফায়েল সামী, বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টেও সাধারণ সম্পাদক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাহাড়ে ফের ব্রাশ ফায়ার, নিহত ৩ by আলমগীর মানিক

গতকাল সকাল ৭টার দিকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্যদের ওপর অতর্কিতে ব্রাশ ফায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলেই স্মৃতি চাকমা (৫০), অতল চাকমা (৩০) ও সঞ্জীব চাকমা (৩০) নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সঞ্জীব চাকমা গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সদস্য। এই ঘটনায় কানন চাকমা নামে আরো এক ইউপিডিএফ কর্মী আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল সকালে উভয়পক্ষের মাঝে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আনোয়ার জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূল ইউপিডিএফ এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ভোর রাত ৪টার দিকে উভয়পক্ষের মাঝে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সকালে গোলাগুলির ঘটনায় মূল ইউপিডিএফ’র তিন কর্মী নিহত হয় এবং কানন চাকমা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিরণ চাকমা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তারা এ ঘটনার জন্য সংস্কারপন্থি (এমএন লারমা গ্রুপ) জেএসএস এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে (বর্মা গ্রুপ) দায়ী করেছে।
প্রসীদপন্থি ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র মাইকেল চাকমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করে ইউপিডিএফ-কে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। গঠনলগ্ন থেকেই ইউপিডিএফ’র উপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো অপশক্তিই ইউপিডিএফ’র অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইউপিডিএফ তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’র (বর্মা গ্রুপ) মুখপাত্র লিটন চাকমা। তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের নির্মম ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।
এদিকে জেএসএস সংস্কার’র (এমএন লারমা গ্রুপ) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ইউপিডিএফ গত ছয় মাস ধরে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর যে নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আজকের ঘটনা তাদের কর্মের ফল। এটা তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরা কাউকে প্রত্যাঘাত করেনি। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যৌথবাহিনী এলাকা ঘিরে রেখেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গার পাকস্থলী ভাড়া করে ইয়াবা পাচার

গতকাল সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গাদের টাকার লোভ দেখিয়ে দলে টানছে। ইয়াবা ট্যাবলেট স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ক্যাপসুল বানিয়ে পানি দিয়ে খাইয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন শেখ তাদের এক হোতা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, মামুন শেখ ও তার সহযোগী রেজোয়ান দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আসছে। রেজোয়ান কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায় এবং মামুন শেখ ঢাকায় ওই ইয়াবা ট্যাবলেট গ্রহণ করে। গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াবা বহনকারী রোহিঙ্গা মো. সেলিম মোল্যা ও রোহিঙ্গা শিশু মো. আফছার ওরফে বাবুল জানায় যে, রেজোয়ানের সঙ্গে তাদের কক্সবাজারের উখিয়ার লেদা ক্যাম্পে পরিচয় হয়। উখিয়ার রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে অবস্থানরত সেলিম ও আফছারকে টাকার লোভ দেখিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢাকায় পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব করে। রাজি হলে তাদের মাধ্যমে রেজওয়ান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা বহন করে ঢাকায় নিয়ে আসা শুরু করে। রেজোয়ান ইয়াবা ট্যাবলেট স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ক্যাপসুল তৈরি করে। প্রতি সপ্তাহে ৭০টি ক্যাপসুল সেলিম মোল্যা ও ৩০টি ক্যাপসুল বাবুলকে পানি দিয়ে ওষুধের মতো করে খাওয়ায়। বাস ও ট্রেনে তারা ঢাকায় আসে। পথে আর কিছু খায় না। এভাবে প্রতিমাসে তিন থেকে চার বার ঢাকায় যাতায়াত করে আসছিল। পৌঁছার পর মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খাইয়ে ইয়াবাগুলো পাকস্থলী থেকে পায়ুপথ দিয়ে বের করে নেয়। ওই ইয়াবা তারা মামুন শেখ, ফাহিম, শরীফ ও রাজিবের কাছে পৌঁছে দেয়। প্রতি চালানে পাকস্থলী ভাড়ার বিনিময়ে সেলিম মোল্যা রেজোয়ানের কাছ থেকে ১৫ ও আফছার বাবুল ১০ হাজার টাকা পায়। এরপর ইয়াবা ট্যাবলেগুলো তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কটিয়াদীতে পাট ফলনে বিপর্যয়ের শঙ্কা by মো. রফিকুল হায়দার টিটু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একই পরিবারের পাঁচ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কষ্ট

শিশুটির পিতা দৃষ্টিহীন আয়াতউল্যা জানান, তার পিতা হাফেজ ইসমাইল (৫৫), ফুফু আমেনা বেগম (৬৫), ভাই রহমত উল্যা (৩২), নেয়ামত উল্যা (১১), ও একমাত্র শিশু কন্যা রাবেয়া আক্তার (৩) জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। একমাত্র তাদের মা হাজেরা বেগম মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারিভাবে কোনো কিছুই পান না। হাফেজ ইসমাইল বাড়ির সামনেই একটি ফোরকানিয়া মাদরাসা পরিচালানা করেন। অন্যরা গৃহকর্মী মা ও দৃষ্টিহীন বাবার উপর ভরসা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় তিন বছর আগে আয়তউল্যার ঘরে জন্ম নেন দৃষ্টিহীন শিশু রাবেয়া। তাকে ঢাকা ফার্মগেট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ডাক্তার সাজ্জাদ ইফতেখারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ না যোগাতে না পেরে গত একমাস আগে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার বলেছেন রাবেয়া যেন চোখে দেখতে পারে ২০০০+১৭০০ পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রায় ২ লাখ টাকার ব্যবস্থা হলে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার দুই চোখে আলো দেখতে পাবে। তাই দেশের সরকারসহ ভিত্তবানদের কাছ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: আয়াতউল্যা, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৩৮৪৮, ইসলামী ব্যাংক রায়পুর শাখা, লক্ষ্মীপুর। মোবাইল: বিকাশ (০১৭২৭৫৬০৪৩৭)। কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান কামাল বলেন, সরকারি ভাতার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে দৃষ্টিহীন পরিবারকে সহযোগিতা করে আসছি। শিশু রাবেয়ার চোখের চিকিৎসার সহযোগিতা জন্য সরকার ও ভিত্তবানদের প্রতি আমারও আহবান রইলো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
May
(700)
-
▼
May 29
(19)
- টাকা নিয়ে বিজেপি’র হিন্দুত্ব এজেন্ডা প্রচারে রাজি ...
- অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সমকামীরা কেমন আছেন?
- ১৮ বছর ধরে গাড়ি ছিনতাই করছিলো তারা by রুদ্র মিজান
- রোগীরা কেন চিকিৎসা নিতে বিদেশ যায় by তাসকিনা ইয়াসমিন
- ‘হ্যালো’ পার্টির প্রতারণায় সব হারিয়েছেন তরুণী by র...
- ৭ জনের টিম নিয়ে সিলেটে ডাকাতি করে বেড়াতো ‘বস মিজান...
- সেগুনবাগিচায় অস্থিরতা by মিজানুর রহমান
- তোলাবাজির উৎসব by শুভ্র দেব
- মমতাকে এড়িয়ে তিস্তা চুক্তি করবে না ভারত
- কাউন্সিলর একরামের মৃত্যু: পুরো টেকনাফ বলছে ভিন্ন কথা
- ‘৮১ শতাংশ লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক ইতা...
- এবার ইভিএম নিয়ে ইসি’র তোড়জোড় by সিরাজুস সালেকিন
- একটি সাক্ষাৎকার থেকেই ফাঁস মর্গান ফ্রিম্যানের কুৎস...
- জমে উঠেনি মিরপুর বেনারসি পল্লী
- কালো টাকা বাইরে গেলে করার কিছু নাই: অর্থমন্ত্রী
- পাহাড়ে ফের ব্রাশ ফায়ার, নিহত ৩ by আলমগীর মানিক
- রোহিঙ্গার পাকস্থলী ভাড়া করে ইয়াবা পাচার
- কটিয়াদীতে পাট ফলনে বিপর্যয়ের শঙ্কা by মো. রফিকুল হ...
- একই পরিবারের পাঁচ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কষ্ট
-
▼
May 29
(19)
-
▼
May
(700)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...