Monday, October 25, 2021
দক্ষিণ এশিয়া কি অন্ধকার পথে এগুবে?
ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে লেখা এক কলামে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এমন মন্তব্য করেছেন।
'সীমানা মানুষকে ধরে রাখতে পারে না' উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, সীমানার মাধ্যমে দেশসমূহ নির্ধারিত হলেও পৃথিবীর ইতিহাসে প্রচুর সংখ্যক মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। বিশ শতক এবং বর্তমান একুশ শতক- অভিবাসনের জন্য উল্লেখযোগ্য।
জাতিসংঘের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ মাইগ্রেশন (এইওএম) নামে একটি সংস্থা রয়েছে। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সাথে সাথে চলাফেরার স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে যোগসূত্রকে স্বীকৃতি দেয়। অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত- অভিবাসন বন্ধ করা যাবে না। (ভারতে সাড়ে ৬ কোটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অভিবাসী রয়েছে) আমরা ‘অভিবাসনের সুশৃঙ্খল ও মানবিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে’ আইওএম এর মতো কাজ করতে পারি।
পি চিদাম্বরম মনে করেন মানুষের দেশান্তরী হওয়ার কারণ হলো দেশভাগ এবং যুদ্ধ। ভারতের ক্ষেত্রে উক্ত দুটোই ঘটেছে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনকে মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ 'জোরপূর্বক' অভিবাসনের কারণ বলে মনে করা হয়।
সংখ্যাটি আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ। বাংলাদেশের জন্ম দেয়া মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে ৮০-৯০ লাখ শরণার্থী ভারতে আসে। তাদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গে বসতি স্থাপন করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশ আসামে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান ছিল। একই সময়ে লাখ লাখ মুসলমান ভারতে থেকে যায়, হাজার হাজার হিন্দু ও শিখ পাকিস্তানে ফিরে যায় এবং বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাংলাদেশে ফিরে যায়। এই তিনটি দেশের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ স্বঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র, দুটোই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে, হিন্দু, মুসলিম এবং শিখ সহ লাখ লাখ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। আমরা গর্বের সাথে তাদের প্রবাসী ভারতীয় বলি। তবে, তারা ধর্মনিরপেক্ষ হলেও মূলত খ্রিস্টান একটি দেশে সংখ্যালঘু। একইরকমভাবে ভারতীয় অভিবাসীরা অনেক ইউরোপীয় দেশ সহ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে কেউ জাতিগত বা ধর্মীয় কুসংস্কারের শিকার হলে ভারত সরকার স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়।
২১ কোটি ৩০ লাখ মুসলমানদের ভারতে নিজেদের বাড়ি রয়েছে যেখানে তাদের পূর্বপুরুষরা বসবাস করতেন। একইভাবে, বাংলাদেশের দেড় কোটি হিন্দু (১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে) সেইসব পরিবারের বংশধর যারা দেশভাগ বা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে আসেনি।
ভারতীয় নাগরিকদের বংশধর এবং অভিবাসী - দুই ধরনের মুসলমানরাই ভারতে বসবাস করে। তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় কুসংস্কারের শিকার হচ্ছে। তবুও, মোদি সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে বা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানাতে অস্বীকার করে। যদি কোন দেশ প্রশ্ন উত্থাপন করে, মোদি সরকার তাদের 'ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের' বিরুদ্ধে সতর্ক করে। বাংলাদেশে হিন্দু ও হিন্দুদের উপাসনালয়ে হামলার সময় ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করার সাথে বিষয়টি সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট বক্তব্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি তার দৃঢ় নির্দেশাবলীও বিবেচনা করুন।
আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা এম এস গোলওয়ালকর তার বই 'উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড' এ যা লিখেছিলেন তা স্মরণ করিয়ে দিই: "মুসলমানরা অবশ্যই হিন্দু জাতি ও সংস্কৃতির প্রসিদ্ধি ভিন্ন অন্য কোন ধারণা (সমূহ) নিয়ে ভাবতে পারবে না। দেশটিতে সম্পূর্ণরূপে হিন্দু জাতির অধীনস্থ থাকতে হবে, কিছুই দাবি না করে... এমনকি নাগরিক অধিকারও নয়।" আরএসএস/বিজেপির বর্তমান নেতারা কি সেই দর্শন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন? ধরে নিলাম দূরে রেখেছেন। তাদের কাজ ও কথা কিন্তু সেই ধারণাকেই বিশ্বাস করে। প্রকৃতপক্ষে, মুসলমানদের উপর বাড়াবাড়িতে তাদের নীরবতা আমাদের আরও কিছু জানান দেয়।
- কোনো ধর্মনিরপেক্ষ জাতি কি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) -এর মতো একটি বৈষম্যমূলক আইনকে সমর্থন করবে যা মুসলমানদের বাদ দিয়ে সকল ধর্মের মানুষকে গ্রহণ করে? কেউ কি বলতে পারেন যে সিএএ এবং হাজার হাজার কথিত 'বিদেশি' আটকের হুমকি বাংলাদেশে এবং অন্য কোথাও প্রভাব ফেলবে না?
- কোনো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জাতি কি পেহলু খানকে হত্যা করবে, যিনি রাজস্থানে তার ছোট দুগ্ধ খামারে গরু পরিবহন করছিলেন, অথবা আখলাককে এই সন্দেহে যে তিনি ইউপি (ভারতের উত্তর প্রদেশে) তে তার বাড়িতে গরুর মাংস রেখেছিলেন?
- কোনো বহু-ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর দেশ কি ভিন্ন ধর্মের দুটি মানুষ প্রেমে পড়লে বা বিয়ে করতে চাইলে তাকে লাভ জিহাদের মতো বাজে তত্ত্বে ফেলায় সহ্য করবে?
- কোনো আধুনিক জাতি কি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 'তানিষ্ক'কে এমন বিজ্ঞাপন সরানোর জন্য চাপ দেবে যাতে বলা হয়েছিল দুই ভিন্ন বিশ্বাসের দম্পতি স্বামীর পরিবারে সুখে বসবাস করছে?
- কোনো বহু ভাষিক দেশ কি উর্দু নামকে অপরাধগণ্য করবে যেটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ফ্যাবিন্ডিয়া কর্তৃক জামাকাপড়ের লাইন চালু করার জন্য দেওয়া হয়েছিল? এই অভিযোগে যে তা দুই সপ্তাহ পর হওয়া একটি হিন্দু উৎসবকে ইসলামিক রঙ দিয়েছে?
- মুজাফফরনগর এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অভিযুক্তদের তদন্ত ও বিচারে যে ফল এসেছে সেই আইনকে সমর্থন করতে কি বাধ্য কোনো পক্ষপাতহীন রাষ্ট্র?
বহুত্ববাদকে বাস্তবতা বলে মনে করেন চিদাম্বরম। তিনি লিখেছেনঃ যদি কিছু ভারতীয় (সবাই না) ভারতের মুসলমানদের তামাশা, নির্যাতন, ক্ষতি, আঘাত, সন্ত্রাস বা হত্যা করে, তাহলে অন্য দেশে বসবাসকারী হিন্দু এবং শিখরাও কি তামাশা, নির্যাতন, ক্ষতি, আঘাত, সন্ত্রাস বা হত্যাকান্ডের শিকার হবে না? সহজেই জ্বলে উঠা উপমহাদেশে, 'ক্রিয়া' এবং 'প্রতিক্রিয়া' কখনোই ভালোভাবে আলাদা করা যায় না।
বহুত্ববাদ একটি বাস্তবতা। প্রতিটি দেশকে অবশ্যই বিভিন্ন সংস্কৃতির, বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী, বিভিন্ন ভাষা ও ধারা অনুসরণকারী লোকদের সাথে বসবাস করতে শিখতে হবে। যা একটি জাতিকে গ্রহণযোগ্যতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সাথে আবদ্ধ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
মনে হচ্ছে সহিষ্ণুতার জায়গা দখল করেছে সহিংসতা। এটি যে কোনখানে, যে কোনও সময়ই ঘৃণ্য। সহিংসতা সহিংসতারই জন্ম দেবে। চোখের বদলে চোখ নেয়া পৃথিবীকে অন্ধ করে দেবে। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, কে এটা বলেছিল?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, October 20, 2021
পণ্ডিত নেহরুকে লেখা পণ্ডিত মান্টোর ঐতিহাসিক পত্রের ব্যবচ্ছেদ by কে এইচ রুধির

পত্রের শুরুতেই মান্টো নেহরুকে ‘পণ্ডিতজি’ সম্বোধন করে কৌতুক ছলে আমেরিকানদের নেহরু প্রীতির কথা তুলে ধরে লিখছেন-
“পণ্ডিতজি, আসসালাম আলায়কুম-
*এটা আমার প্রথম পত্র, যেটা আপনার দরবারে প্রেরণ করছি। আপনি মাসাল্লাহ আমেরিকানদের কাছে খুব সুপুরুষ বলে পরিগণিত। কিন্তু আমি মনে করি, আমার গঠনাকৃতিও খুব একটা মন্দ না। যদি আমেরিকা যাই, তাহলে হয়তো আমাকেও সেই সৌন্দর্যের মর্যাদা প্রদান করা হবে।”
তারপরই মান্টো, নেহরুর সাথে কী কী মিল এবং অমিল আছে সেইটার বয়ান দিয়ে লিখছেন-
*“কিন্তু আপনি হচ্ছেন বিশাল হিন্দুস্থানের প্রধানমন্ত্রী, আর আমি পাকিস্তানের একজন শ্রেষ্ঠ গল্পকার। দু’টোর মধ্যে অনেক ব্যবধান। অবশ্য একটা ব্যাপারে আমাদের দু’জনের মধ্যে মিল আছে, আপনিও কাশ্মিরী, আমিও কাশ্মিরী। আপনি নেহরু, আমি মান্টো। কাশ্মিরী হবার আরেক মানে সৌন্দর্য এবং সৌন্দর্য মানে… যা আমি এখনো দেখিনি।”
মান্টো আফসোস করে বলছেন নিজে কাশ্মিরী হয়েও তাঁর কাশ্মীরের সৌন্দর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করার কিংবা অনুভব করার সৌভাগ্য হয়নি কারণ তাঁর “স্রেফ বাঁহাল পর্যন্ত যাবার সৌভাগ্য হয়েছে”। কাশ্মিরী হবার কারণে তাঁর নেহরুর সাথে দেখা করবার অনেক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কখনো নেহরুর সাথে দেখা হয়নি। যদিও উনি বলছেন তার দরকার নেই, জীবন চলার পথে “কোন না কোন রাস্তায়, কিম্বা কোন চৌমাথায় এক কাশ্মিরীর সাথে অপর কাশ্মিরীর দেখা হয়েই যায়” কিন্তু নেহরুর সাথে উনার কখনো দেখা হয়নি। মান্টো সচেতনভাবেই এইখানে ভৌগলিকভাবে দ্বিখণ্ডিত কাশ্মীরের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যার কারণে এক কাশ্মিরীর সাথে আরেক কাশ্মিরীর সাক্ষাৎও দুরূহ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী হবার দরুণ কাশ্মিরী হয়েও নেহরু যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন সেইটারও একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত আছে মান্টোর লেখায়। মান্টো লিখছেন ‘নহর’ এর পাশে জন্ম বলে নাম রাখা হয়েছে ‘নেহরু’ কিন্তু মান্টোর নাম কেন মান্টো হলো? তাঁর বন্ধু-বান্ধবরা যারা কাশ্মিরী ভাষা জানেন তাদের বরাত দিয়ে উনি বলছেন “মান্টো অর্থ ‘মানুট’, অর্থাৎ দেড়-সেরী পাথর”। মান্টো নেহরু কে তাঁর নামকরণের সার্থকতা জানাতে অনুরোধ করে লিখেছেন-
*“আমি যদি সত্যি দেড় সের হই তাহলে আপনার সাথে আমার কোন তুলনাই হয় না। আপনি পুরো নহর আর আমি স্রেফ দেড়-সেরী। আপনার সাথে আমার কি সংঘর্ষ হতে পারে?”
তারপর উনি ঠাট্টা ছলে পণ্ডিত নেহরুকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন সে এবং নেহরু উভয়ই এমন এক জোড়া বন্দুক যা কাশ্মিরীদের সম্পর্কে প্রচলিত প্রবাদ মতে ‘অন্ধকারে নিশানা লাগায়’! মান্টোর ভাষ্যমতে এই প্রবাদ শুনে তাঁর গা জ্বলে কারণ কাশ্মিরীরা আজ পর্যন্ত কোন ময়দানে পরাজয় বরণ করেনি, না কুস্তিতে না কাব্যচর্চায়। নেহরুর রাজনৈতিক অসততার সমালোচনা করে মান্টো লিখেছেন-
*“রাজনীতিতে আপনার নাম বড় গর্বের সাথে নিতে পারি। কারণ আপনি কথা বলে সঙ্গে সঙ্গে বড়খেলাপ করতে বড় পটু।”
ভারত থেকে কাশ্মির হয়ে পাকিস্তানে প্রবাহিত নদীগুলোর গতিপথ বন্ধ করে দেয়ার অবিবেচনাপ্রসূত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মান্টো লিখছেন-
*“তা পণ্ডিতজি, আপনি তো স্রেফ নেহেরু। দূর্ভাগ্য যে, আমিও স্রেফ দেড়-সেরী পাথর। যদি ত্রিশ-চল্লিশ-মণী পাথর হতাম, তাহলে নিজেকে সেই নদীতে শুইয়ে দিতাম। যাতে পাথর সরাবার জন্য আপনাকে অন্ততঃ কিছুক্ষণ সময়ের জন্য হলেও ইঞ্জিনীয়ারদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হতো।”
উপরোক্ত বাক্যগুলোতে মান্টোর প্রতিবাদী মননের নিদর্শন পাওয়া যায়। মান্টো আসলে বুঝাতে চাইছেন উনি নেহরুর মতো রাজনৈতিকভাবে এত ওজনদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নন। অন্যথায় তিনি নেহরুর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন এবং তাঁকে এই অবিচেনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরো গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করতেন যৌক্তিক সমাধানের জন্য। মান্টোর এই পত্র ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক পানি বন্টন চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মান্টো এমন সময় এই পত্রটি লিখছেন যখন দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত নদীগুলোর পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধংদেহী অবস্থা। মান্টো রাজনীতিবিদ না হওয়া সত্ত্বেও সেই সময় তাঁর দেশের ন্যায্য হিৎসা চাইতে কলম ধরেছেন। নিজ দেশ ও জনগণের প্রতি বুদ্ধিজীবীদের যে দায়িত্ব মান্টো সেই দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।
*“আপনি আমাদের নদীর পানি বন্ধ করে দিচ্ছেন। আর আপনার দেখাদেখি আপনার রাজধানীর প্রকাশকরা অনুমতি ছাড়াই আমার বইগুলো চটপটে ছেপে বের করে ফেলছে। এটা কোন ধরনের ভদ্রতা! আমিতো ভেবেছিলাম, আপনার মন্ত্রিত্বে এ ধরনের হীন কাজ হতেই পারে না।”
ভারতে মান্টোর বই শুধু বেআইনিভাবেই ছাপা হচ্ছিল না এমনকি প্রকাশকরা ইচ্ছেমতো নাম দিয়ে মান্টোর গল্প সংকলন বের করে ফেলছিল। অশ্লীলতার অভিযোগে মান্টোকে মোট ছয়বার অভিযুক্ত হয়েছেন। অবিভক্ত ভারতে তিনবার (ধোঁয়া, বু, কালি শালোয়ার) এবং দেশভাগের পর পাকিস্তানে আরো তিনবার(খোল দো, ঠান্ডা গোশত, উপর নিচে দারমিয়া)। অশ্লীলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মান্টোর উত্তর ছিল ‘আমি একজন গল্প লেখক, কোন পর্ণগ্রাফার নই’। একদিকে মামলা-মোকাদ্দমা চলছে আর সেই সময়েই দিল্লীতে এক প্রকাশক ‘মান্টোর অশ্লীল গল্প’ নাম দিয়ে গল্প সংকলন বের করে চুটিয়ে ব্যবসা করছিল। এমনকি তাঁর ‘গঞ্জে ফেরেশতে’ নামের বইটিও ভারতের এক প্রকাশক ছাপিয়ে দিল ‘পর্দে কে পিছে’ নামে! সেই সব অভিযোগ শেষে মান্টো পণ্ডিত নেহরুকে এক প্রকার সূক্ষ্ম হুমকি দিয়েই জানাচ্ছেন-
*“আমি এই নতুন বইটি লিখলাম। এই পত্রই তার ভূমিকা যেটি আপনার কাছে লিখছি। এই বইটাও আপনাদের ওখানে কেউ বেআইনীভাবে প্রকাশ করে বসে, তাহলে খোদার কসম, আমি যে কোন দিন দিল্লী এসে আপনার কলার চেপে ধরবো, আর ছাড়বো না আপনাকে-এমনভাবে আপনার ওপর চেপে বসব যে, আজীবন মনে থাকবে, প্রতিদিন ভোরে উঠে বলবো নিমকা-চা খাওয়ান। সাথে একটা তাফতানাও। শালগমের শবদেগ তো প্রতি সপ্তাহ অন্তে থাকবেই।”
কাশ্মীরিদের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার উদাহরণ দিতে গিয়ে মান্টো তাঁর পিতা মরহুম গোলাম হাসান মান্টো’র কথা লিখেছেন। তাঁর পিতা কোন ‘হাতুর’ এর দেখা পেলেই ডেকে নিয়ে বাড়ী আসতেন। দেউড়িতে বসিয়ে নিমকা-চা ও কুলচা খাওয়াতেন এবং গর্বভরে বলতেন ‘আমিও কাশর’। এই যে এক কাশ্মিরীর অপর কাশ্মিরীর সাথে অবিচ্ছেদ্য আত্মিক বন্ধন, সেইটাই মান্টোর কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। এমনকি এই টানটি প্রত্যেক কাশ্মিরী যে জীবনে এক বারও কাশ্মীরের সৌন্দর্য চোখ মেলে দেখেনি তার ভেতরেও থাকা উচিত বলে মনে করেন। মান্টো এই কথা দিয়ে কাশ্মীরের সৌন্দর্য পুরোপুরি না দেখা সত্ত্বেও তাঁর ভেতর কাশ্মীরের প্রতি যে অবিচ্ছেদ্য আত্মিক টান অনুভব করেন সেইটার দিকেই ইঙ্গিত করছেন। মান্টো শুধু কাশ্মীরের সৌন্দর্য দেখেননি, দেখেছেন ক্ষুধা-দারিদ্র্য আক্রান্ত কাশ্মিরীদেরও। তাদের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অনটন মান্টোকে ভাবিয়েছে। পত্রের এক পর্যায়ে মান্টো নেহরুকে আহ্বান জানাচ্ছেন যদি তিনি কাশ্মিরীদের ক্ষুধা দারিদ্র্য দূর করতে পারেন তাহলে কাশ্মীরকে তাঁর কাছেই রেখে দিতে। কিন্তু মান্টো জানেন নেহরু তখন যতটা না কাশ্মিরী তার চেয়ে বেশি ‘হিন্দুস্থানের প্রধানমন্ত্রী’, তাই তিনি লিখছেন-
*“তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি স্বয়ং কাশ্মিরী হওয়া সত্ত্বেও তা দূর করতে পারবেন না, কারণ আপনার সে অবকাশই নেই।”
মান্টো লিখেছেন তিনি রাজনীতিবিদ নন কিন্তু এমন না যে রাজনীতির কিছুই বুঝেন না। তাই তিনি নেহরুর কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তাঁকে কাশ্মীর দেখা-শোনার দায়িত্ব সমঝে দেওয়ার জন্য। বখশী গোলাম মোহাম্মদ(জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য প্রধান, ১৯৫৩-৬৪) এর মতো প্রথম শ্রেণির জুচ্চোর ও বাটপারদের হাতে কাশ্মীরের দেখা শোনার ভার নেয়ার জন্য কেন খামোখা বখশিশ দিয়ে রাখছেন সেইটা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন।
*“যেটা কোন কাশ্মিরী একমাত্র কোন মারাঠার প্রভাবেই করতে পারে; আমার ইঙ্গিত প্যাটেলের প্রতি।”
ভারত ভাগের পর পর নেহরুর দেওয়া ভাষণকে কটাক্ষ করে মান্টো লিখেছেন “আমার বোধগম্য হলো না আপনি এমন ভাষণ পাঠ করার জন্য রাজী হলেন কি করে…!” মান্টোর মতে নেহরু যেন প্রতি বাক্যের উপর বমি করছিল। মান্টো রাজনীতিবিদ নন কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায় নিম্নোক্ত বক্তব্যে-
*“এটা তখনকার কথা, যখন ‘রেড কলফ’ ভারতকে ডবল রুটির দু’টো টুকরো করে রেখে দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এখনো সেঁকা হয়নি। ওদিকে আপনি সেঁকছেন এদিকে আমরা। কিন্তু আমাদের উভয়ের উনুনের আগুন আসছে বিদেশ থেকে।”
বৃটিশ বানরের কাছে ভৌগোলিক রুটি সমানভাগে ভাগ করাতে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বিদ্বেষের বিষবাষ্পের উদ্ভব হলো সেটির সমাপ্তি কোথায়? যে স্বাধীন সার্বভৌমত্বের জন্য এত রক্তপাত সেটাও তো এক প্রকার ছলনাই! বৃটিশরাজের ‘ভাঙো এবং শাসন করো’ নীতিই অনুকরণ করে চলছি আমরা। মান্টো তাই পত্রের শেষে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন ‘একজন ঝলসানো হৃদয়ের মানুষ’ হিসেব যাঁর শরীর থেকে ‘পোড়া মাংশের গন্ধ আসছে’।
টীকাঃ
‘প্রেম আমার প্রেম’ বইটির ভূমিকায় বাংলায় অনূদিত যে পত্রটি আছে তাতে দেশভাগের পর ভারত সরকার কর্তৃক হায়দ্রাবাদ দখলের কথাও উল্লেখ আছে। কিন্তু ইংরেজি অনুবাদটিতে হায়দ্রাবাদ দখল সংক্রান্ত কোন বাক্যই নেই। ‘প্রেম আমার প্রেম’ বইটিতে উল্লেখিত অংশটি নিম্নরূপঃ
“হায়দ্রাবাদের প্রতিও আপনি প্রতিবেশী সুলভ আক্রমণ চালালেন। হাজার হাজার মুসলমানের রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিলেন এবং অবশেষে হায়দ্রাবাদ দখল করে নিলেন। এটি কি আপনার জন্য বাড়াবাড়ি নয়?”
তথ্যসূত্রঃ
১। পত্রটির বাংলা অনুবাদ সাদাত হাসান মান্টোর ‘বেগায়রে ওনওয়ানকে(নামহীন)’ উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ ‘প্রেম আমার প্রেম’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। অনুবাদ করেছেন আখতার-উন-নবী। প্রকাশকালঃ মে ১৯৮০। প্রকাশনায়ঃ বাংলাবাজার, ঢাকা।
২। ২। পত্রটির ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া যাবে সাদাত হাসান মান্টোর গল্প সংকলন ‘Black Margines: Stories’ বইয়ে। পৃষ্ঠাঃ ২৭১-২৭৫। পত্রটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন M Asaduddin। পত্রটির ইংরেজি অনুবাদ পড়তে পারবেন এই লিংক থেকেওঃ >>>Manto’s Letter to Nehru
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, October 19, 2021
মানুষ কি করে অন্য প্রাণীর দুধ খেতে শিখলো?

কিভাবে মানুষের শরীরে অন্য প্রাণীর দুধ হজম করার ক্ষমতা তৈরি হলো?
ইদানীং বাজারে প্রাণীর দুধের নানা 'প্রতিযোগী' এসে গেছে। যেমন সয়া দুধ, আমন্ড বাদামের দুধ - এগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে।
যারা 'ভেগান' - তাদের জন্য, অথবা যাদের দুধে এ্যালার্জি আছে - তাদের জন্য এই বিকল্পগুলো বেশ সুবিধাজনক।
কিন্তু এগুলো এখনো জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রাণীজ দুধের কাছাকাছি আসতে পারে নি।
বিবিসির মাইকেল মার্শাল এক রিপোর্টে লিখছেন, প্রাণীজ দুধের সাথে মানুষের সম্পর্ক হাজার হাজার বছরের পুরোনো। এর ইতিহাসও অতি বিচিত্র উত্থান-পতনে ভরা।
মানুষ হয়ে অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়াটা কি একটা 'আজব' ব্যাপার?
দুধ খাওয়াটা মানুষের কাছে এতই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে যে কেউ যদি বলে - এটা একটা আজব কাজ - তাহলে এ কথা যে বলবে তাকেই বরং আপনার একটা উদ্ভট লোক বলে বনে হবে।
কারণ আমরা কখনো এভাবে চিন্তা করি না।
একটি গরু বা অন্য কোন প্রাণীর দেহে দুধ তৈরি হয় - তার বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু মানুষ কি করছে? তারা গরুটার বাঁট টিপে টিপে সেই দুধ বের করে নিয়ে নিজেরা খাচ্ছে। এটা কি একটা আজব ব্যাপার নয়?
কিন্তু এমন সংস্কৃতিও আছে, যেখানে প্রাণীর দুধ খাবার কথা অনেকেরই প্রায় অজানা।
এই সেদিন, ২০০০ সালে চীনে একটা প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল যাতে লোকে স্বাস্থ্যগত কারণেই আরো বেশি করে দুধ এবং দুধজাত খাবার খায়।
এই প্রচারাভিযানটিকে চীনের বয়স্ক লোকদের দিক থেকে গভীর সন্দেহের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। দুধ থেকে যে পনির তৈরি হয় তা এখনও চীনের অনেক মানুষকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে।
বলা হয়, মানব প্রজাতির ইতিহাস মোটামুটি তিন লক্ষ বছরের। সে তুলনায় দুধ খাবার ইতিহাসকে প্রায় 'নতুন' বলা যায়।
মোটামুটি ১০ হাজার বছর আগেও মানুষ দুধ প্রায় খেতোই না।
খেলেও তা ছিল খুবই বিরল। প্রথম যে মানুষেরা দুধ খেতে শুরু করে তারা ছিল পশ্চিম ইউরোপের কৃষক ও পশুচারণকারী জনগোষ্ঠীর লোক । এরাই ছিল প্রথম মানুষ যারা গরু বা অন্য পশুদের পোষ মানিয়ে গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত করেছিল।
বর্তমানে উত্তর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্য আরো অনেক জায়গায় দুধ পান করাটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।
মানুষের জন্য অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়াটা যে 'অস্বাভাবিক' তার একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তিও আছে।
'বৈজ্ঞানিক যুক্তি'
দুধের মধ্যে আছে এক বিশেষ ধরণের শর্করা - যাকে বলে ল্যাকটোজ। ফল বা অন্যান্য মিষ্টি খাবারে যে শর্করা থাকে তার চেয়ে এটা অনেক আলাদা। আমরা যখন শিশু ছিলাম, আমাদের শরীর এক বিশেষ ধরণের এনজাইম তৈরি করতো যাকে বলে ল্যাকটেজ - যার কাজ ছিল আমাদের মায়ের দুধ হজম করতে সহায়তা করা। কিন্তু শিশু যখন মায়ের দুধ খাওয়া ছেড়ে দেয় - তখন অনেকের দেহেই সেই ল্যাকটেজ তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।
এই ল্যাকটেজ ছাড়া দুধ ঠিকমত হজম হয় না। তাই একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ যদি বেশি দুধ খায় তাহলে তার পেটে গ্যাস হওয়া, পেটে ব্যথা, খিঁচুনি অথবা ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
মানুষ ছাড়া অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন গরু, কুকুর বা বিড়ালের মধ্যেও দেখা যায় যে তারা পূর্ণবয়স্ক হলে তাদের দেহে ল্যাকটেজ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে অনেকেই দুধ খেয়ে হজম করতে পারেন, কারণ তাদের দেহে ল্যাকটেজ তৈরি বন্ধ হয় না। মানুষের ক্ষেত্রে এটা কিভাবে ঘটলো?
দুধ হজম করার 'ল্যাকটেজ' এনজাইম কারো দেহে সারাজীবন থাকে, কারো থাকে না
প্রথম যে প্রাপ্তবয়স্ক ইউরোপিয়ানরা দুধ খেয়েছিল - তাদের হয়তো প্রচুর গ্যাস হতো।
কিন্তু কিছুকালের মধ্যেই তাদের মধ্যে একটা বিবর্তন ঘটেছিল। তারা মায়ের দুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলেও তাদের দেহে ল্যাকটেজ উৎপাদন অব্যাহত রয়ে গেল, দেখা গেল তারা দুধ খেলেও কোন বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে না।
এর কারণ হিসেবে ডিএনএ'র একটি অংশকে চিহ্নিত করা হয়েছে - যা ল্যাকটেজ জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রবণতাকে বলে ল্যাকটেজ পার্সিস্টেন্স এবং এর বিবর্তন নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন প্যারিসের 'মিউজিয়াম অব হিউম্যানকাইন্ড'-এর অধ্যাপক লোরে সেগুরেল। তিনি বলছেন, "ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রথম ল্যাকটেজ পার্সিস্টেন্স দেখা যায় এখন থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে। আর মধ্য ইউরোপে এটা প্রথম দেখা যায় ৩ হাজার বছর আগে।"
বর্তমানে অনেক জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এ প্রবণতা অর্থাৎ 'দুধ হজম করার ক্ষমতা' খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। উত্তর ইউরোপে এখন ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই দেহে ল্যাকটেজ এনজাইম তৈরি হচ্ছে।
আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য।
কিন্তু এমন অনেক জনগোষ্ঠী আছে যাদের দেহে ল্যাকটেজের অব্যাহত উপস্থিতি অনেক বিরল। আফ্রিকানদের অনেকের মধ্যেই এটা নেই। এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকাতেও এটা সাধারণত দেখা যায় না।
কেন এমন হয়, তা এখনো এক ধাঁধাঁ
বৈজ্ঞানিকরা বলছেন: কোন কোন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে কি কারণে দুধ খাবার অভ্যাস গড়ে উঠেছে এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্কদের দেহে ল্যাকটেজ এনজাইম তৈরি হচ্ছে - এটার কোন সূত্র বের করা খুবই কঠিন।
মি. সেগুরেল বলছেন, "দুধ খাওয়াটা 'উপকারী' হয়ে উঠেছে কেন, বা অন্য অনেক রকম খাদ্যের উৎস থাকলেও একেবারে অন্য রকম একটি খাদ্য এই দুধই কেন এতটা 'গুরুত্বপূর্ণ' হয়ে উঠেছে - এটা বলা কঠিন।"
কেউ হয়তো বলতে পারেন, দুধ পান করার ফলে মানুষ নতুন একটি পুষ্টিদায়ক খাবারের সন্ধান পেয়েছে, তাদের অনাহারে থাকার ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ যুক্তি খুব বেশি খাটে না।
যেসব লোক দুধ খেয়ে হজম করতে পারে না, তারাও অল্প পরিমাণ দুধজাতীয় খাবার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই খেতে পারে। তা ছাড়া দুধ থেকে যে মাখন, দই, ক্রিম এবং পনির তৈরি হয় - এর সবগুলোতেই ল্যাকটোজের পরিমাণ অনেক কমে যায়। চেডার এবং পারমিজিয়ানো নামে যে বিশেষ ধরণের পনির আছে তাতে মাত্র ১০ শতাংশ বা তারও কম ল্যাকটোজ থাকে।
"ঘন ক্রিম এবং মাখনে ল্যাকটোজের পরিমাণ সবচেয়ে কম" - বলছেন সেগুরেল। জানা যায়, চিজ বা পনির তৈরির কৌশল মানুষ বেশ দ্রুতই উদ্ভাবন করেছিল।
গত বছর সেপ্টেম্বরে বর্তমান ক্রোয়েশিয়ায় পড়ে এমন একটি এলাকায় পুরাতত্ববিদরা কিছু মৃৎপাত্রের অংশ খুঁজে পান - যাতে ফ্যাটি এসিডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এতে মনে হয় ওই পাত্র দই বা ছানা জাতীয় কিছু তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো - যা পনির উৎপাদনের একটি ধাপ। এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে দক্ষিণ ইউরোপের লোকেরা ৭,২০০ বছর আগেই পনির তৈরি করতো। ইউরোপের অন্যত্র আরো হাজারখানেক বছর পরের পনির উৎপাদনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মনে রাখতে হবে তখনও ইউরোপের প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের দেহে ল্যাকটেজ পার্সিস্টেন্স অর্থাৎ দুধ হজম করার এনজাইমের স্থায়ী উপস্থিতি তৈরি হয় নি।
তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিক্সের অধ্যাপক ডালাস সোয়ালো বলছেন, কোন ধরণের লোকের দেহে পরিণত বয়সে উচ্চ মাত্রায় ল্যাকটেজ থাকে এবং কাদের থাকে না - তার একটা স্পষ্ট প্যাটার্ন আছে।
তিনি বলছেন, যারা পশুচারণ করতো, গরু-ছাগল-ভেড়া পালতো - তাদের দেহে উচ্চ মাত্রায় ল্যাকটেজ পাওয়া যায়। কিন্তু যারা শিকারী এবং কোন প্রাণী পুষতো না - তাদের মধ্যে জিনের ওই পরিবর্তনটি ঘটেনি। যেসব জনগোষ্ঠী শুধু চাষাবাদ করতো কিন্তু কোন পশুপালন করতো না - তাদের দেহেও 'ল্যাকটেজ পার্সিস্টেন্স' নেই।
তার মানে হচ্ছে - যাদের জীবনধারার কারণে প্রাণীর দুধ সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না, তাদের দেহকে দুধ পানের উপযোগী করে তোলার জন্য বিবর্তিত হবার কোন চাপ ছিল না।
তাহলে প্রশ্ন হলো, কিছু কিছু পশুচারণকারী জনগোষ্ঠীর দেহে এই বৈশিষ্ট্য তৈরি হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা হলো না কেন?সেগুরেল বলছেন, মঙ্গোলিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ায় যেসব পশুচারণকারী জনগোষ্ঠী আছে তাদের দেহে ল্যাকটেজের উপস্থিতি অত্যন্ত কম - যদিও তারা খাদ্য হিসেবে তাদের পালিত পশুর দুধের ওপর বিপুলভাবে নির্ভরশীল।
অথচ নিকটবর্তী পশ্চিম এশিয়া বা ইউরোপের জনগোষ্ঠীগুলোর জিনে এ পরিবর্তন হয়েছে, কাজেই পূর্ব এশিয়ার গ্রুপগুলোতেও এ পরিবর্তন ছড়াবে এটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু তা হয় নি, এবং এটা একটা ধাঁধাঁ হিসেবে রয়ে গেছে, বলছেন সেগুরেল।
দুধ খাবার কি কোন উপকারিতা আছে?
সেগুরেল বলছেন, পুষ্টিগুণ ছাড়াও দুধ পানের হযতো আরো কিছু উপকারিতা আছে।
তিনি বলছেন, গবাদিপশুর যেসব রোগ হয় - তাদের পালনকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সেসব রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। এটা হতেই পারে যে গরুর দুধ পান করলে মানবদেহে এমন কিছু এন্টিবডি তৈরি হয়, যাতে এ্যানথ্রাক্স ক্রিপটোস্পোরিডিওসিসের মতো রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে পারে। বাচ্চাদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর একটি উপকারিতাও তাই - শিশুর দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা।
তবে কোন কোন জনগোষ্ঠীর দেহে যে ল্যাকটেজের উপস্থিতি থাকে না - এটা হয়তো নিতান্তই দৈবক্রমে ঘটেছে - এমনটাও হতে পারে। অধ্যাপক সোয়ালো বলছেন, "আপনি যদি পশুচারণকারী হন তাহলে আপনার দেহে দুধ হজম করার স্থায়ী ক্ষমতা তৈরি হবে - এটাই হচ্ছে সবচেয়ে আমাদের ছবিটার সবচেয়ে যৌক্তিক অংশ।কিন্তু দুধ হজম করতে হলে আপনার জিনের সেই বিশেষ মিউটেশনটা হতেই হবে - প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রশ্নটা আসবে তার পরে।"
অধ্যাপক সোয়ালো বলছেন, মঙ্গোলিয়ান গো-চারণকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দেখা যায় যে তারা সাধারণত গাঁজানো দুধ খায় - যাতে ল্যাকটোজের পরিমাণ কমে যায়।
অধ্যাপক সোয়ালোর ছাত্রী ক্যাথরিন ওয়াকার বলছেন, "মানুষ দুধকে গাঁজিয়ে ল্যাকটোজ কমিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে এত উন্নতি করেছে, কিন্তু তার পরও তার দেহে দুধ হজমের এনজাইম রয়ে যাচ্ছে কেন সেটাও একটা প্রশ্ন - যার উত্তর পাওয়া কঠিন।"
হয়তো মানবদেহে ল্যাকটেজ পার্সিস্টেন্স তৈরি হবার একটি নয় বরং অনেক কারণ রয়েছে।
অধ্যাপক সোয়ালো বলছেন, "দুধে প্রচুর চর্বি, প্রোটিন, শর্করা বা সুগার, এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির মতো অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে - এবং এটাই হয়তো মানবদেহে দুধ হজম করার এনজাইমের স্থায়ী উপস্থিতির আসল কারণ। তা ছাড়া এটা পরিষ্কার পানিরও একটা উৎস। এটাও হয়তো কোন কোন জনগোষ্ঠীর বিবর্তনের কারণ হতে পারে।"
মানবদেহে এই পরিবর্তনটা এখনো ঘটছে কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। অধ্যাপক সোয়ালো ২০১৮ সালে একটা জরিপ চালিয়েছিলেন চিলির কোকুইম্বো এলাকায় পশুচারণকারী একটি জনগোষ্ঠীর ওপর। প্রায় ৫০০ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকায় নতুন আসা ইউরোপিয়ানদের সাথে এই জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের যৌনমিলন ও সন্তান উৎপাদন হয়। এখন এই গোষ্ঠীটির মধ্যে দুধ হজম করার ক্ষমতা ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক যেমনটা ৫ হাজার বছর আগে উত্তর ইউরোপে ঘটেছিল।
তবে কোকুইম্বো জনগোষ্ঠী দুধের ওপর নির্ভরশীল, তাই তাদের অবস্থাটা পৃথিবীর অন্য জায়গার মতো নয়।
দুধ খাবার অভ্যাস কি কমছে?
গত কয়েক বছর যাবৎ যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হতে পারে, লোকজন বোধহয় দুধ খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান একটি রিপোর্ট করে।
এতে বলা হয়, ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে গরুর দুধের প্রতি আকর্ষণ কমে যাচ্ছে, বরং ওট এবং বাদামের দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ক্রমাগত বাড়ছে। এতে মনে হয় ঐতিহ্যগত দুধের জন্য একটা লড়াই আসন্ন।
কিন্তু পরিসংখ্যান দেখলে দেখবেন ব্যাপারটা উল্টো। আইএফসিএন নামের ডেইরি রিসার্চ নেটওয়ার্ক তাদে ২০১৮ সালের রিপোর্টে বলছে, ১৯৯৮ সাল থেকে বৈশ্বিক দুধের উৎপাদন প্রতি বছরই বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বে দুধ উৎপাদন হয়েছে ৮৬ কোটি ৪০ লাখ টন। আইএফসিএন বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ দুধ উৎপাদন আরো ৩৫ শতাংশ বাড়বে।
মানুষ কি খাচ্ছে তার পর ২০১০ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে দুধ খাওয়ার পরিমাণ গত দু দশেকে কমেছে, এর জায়গায় কোমল পানীয় পান বেড়েছে। অন্যদিকে এশিয়ায় দুধ খাওয়া বেড়েছে। ২০১৫ সালে ১৮৭টি দেশে চালানো আরেক জরিপে দেখা যায়, বয়স্কদের মধ্যে দুধ খাওয়া বাড়ছে, এর অর্থ হতে পারে তরুণদের মধ্যে দুধ অতোটা জনপ্রিয় নয়। কাজেই বিশ্বে দুধের প্রতি আকর্ষণ যেভাবে বাড়ছে - তাতে 'বিকল্প দুধ' যে তার জায়গা দখল করে নেবে, বা বাজারে আঘাত হানবে - এমন মনে হয় না।
তা ছাড়া সয়া, ওট বা আমন্ডের মতো বিকল্প দুধে দুধের মতো পুষ্টিগুণও নেই। এটা শুথু ভেগান বা দুধে এ্যালার্জি আছে এমন লোকদের জন্যই সুবিধাজনক।
এশিয়াতে দুধের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে সেটা বেশ বিস্ময়কর।
কারণ এশিয়াতে বেশির ভাগ লোকের ক্ষেত্রেই বড় হবার পর তাদের দেহে দুধ হজম করার ল্যাকটেজ এনজাইম উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
তুলনামূলকভাবে দুধের উপকারিতার চেয়ে অধিকাংশ এশিয়ানের ক্ষেত্রে এটা হজম করতে গিয়ে যে সমস্যা হয় - তার পরিমাণ বেশি।
উন্নয়নশীল কিছু দেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মানুষের মধ্যে লামার মতো অন্য প্রাণীর দুধ প্রচলিত করার চেষ্টা করেছে, কারণ এটা হয়তো গরুর দুধের চেয়ে সহজপ্রাপ্য বা সস্তা হবে।
এ বছরই জানুয়ারি মাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এমন কিছু বৈশ্বিক স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বলা হয়েছে - যাতে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে, আবার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও কম হবে।
এতে রেড মিট অর্থাৎ গরু-ছাগল-ভেড়ার মাংস ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ বা তার সমমানের কিছু খাবার কথা ঠিকই বলা হয়েছে।
সুতরাং মানুষের খাদ্য হিসেবে দুধ এখনো ভালোভাবেই টিকে আছে, এবং এখনো তার প্রসার হচ্ছে।
যদিও আমাদের দেহে এই দুধ হজম করার ক্ষমতার বিবর্তন থেমে গেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, October 14, 2021
যেভাবে ডাইনোসরের সমাধি খুঁজে পেলো এক মেষপালক

আমাদের গ্রাম নিয়ে একদিন বই লেখা হবে
সবখানে ছড়ানো ছিল ডাইনোসর
![]() |
| ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশে এই ফসিলগুলোর সন্ধান মেলে। |
বারো জাতের উদ্ভিদ-খেকো প্রজাতি
পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু
![]() |
| ডাইনোসরের ফসিলের সন্ধানে খোড়াখুড়ি চলছে। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, October 12, 2021
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক খাবার রুটিন

১. ক্যালসিয়াম
ক্যালসিয়াম শিশুর হাড়ের গঠনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। মা যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম না খান তবে শিশুর হাড় শক্ত হবে না। এমনকি ক্যালসিয়ামের অভাবে গর্ভাবস্থায় মায়ের কোমর ও পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা অনুভূত হতে পারে। দুগ্ধজাত খাদ্য যেমন দুধ, দই, পনির ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, মায়ের যদি হাই প্রেশার থাকে তবে দুধ না খেয়ে তাকে দই খেতে হবে। এছাড়াও প্রতিদিন ভাতের সাথে একটি কাঁচা মরিচ অনেকটা ক্যালসিয়ামের যোগান দিয়ে থাকে। মাছ ও মাছের কাটায় থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম। মটরশুঁটি, বিভিন্ন ধরণের বাদাম, ছোলা ও শাকসবজি এবং ফলমূলেও থাকে ক্যালসিয়াম। এরপরও ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবতী মাকে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয়।
২. আয়রন
আয়রনের ঘাটতি হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। অনেক শিশুর জন্মের পর থেকেই হিমোগ্লোবিনের অভাব বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় আয়রনের ঘাটতির কারণে। তাই গর্ভাবস্থায় মাকে প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কচু শাক, লাল শাক, পালং শাক, কাঁচা কলা, ডালিম, বিটস, বাদাম, ছোলা, খেজুর, কলিজা, শিং মাছ, মাগুর মাছ ইত্যাদিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন।
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার; সূত্র: LifeMartini.com
৩. ফলিক এসিড
ফলিক এসিড বা ফোলেট এক ধরণের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স জাতীয় উপাদান। গর্ভের সন্তানের হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ও অঙ্গহানি রোধ করতে ফলিক অ্যাসিড একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। বিভিন্ন ফলমূল যেমন আম, জাম, লিচু, কমলা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি ইত্যাদিতে থাকে ফলিক এসিড। এছাড়া সবুজ পাতা সমৃদ্ধ খাবার যেমন- পুঁইশাক, পাটশাক, মূলাশাক, সরিষা শাক, পেঁপে, লেবু, ব্রকলি, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, গাজর ইত্যাদি ও বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন- মসুর, মুগ, মাষকালাই, বুটের ডাল ইত্যাদিতে ফলিক এসিড প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।
এছাড়াও সরিষা, তিল, তিসি, সূর্যমুখীর বীজ, লাল চাল, লাল আট ইত্যাদি ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার। তবে মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ফলিক এসিডের পরিমাণ নিশ্চিত করতে গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ডাক্তাররা ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার; সূত্র: Fit Pregnancy
৪. জিংক
গর্ভাবস্থায় জিঙ্কের পরিমাণ কম হলে কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া দেহের বৃদ্ধি রোধ বা বামনত্ব হতে পারে। এছাড়াও জিংকের অভাবে পরবর্তীতে শিশুর ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও কনজাংকটিভার প্রদাহ, পায়ে বা জিহ্বায় ক্ষত, মুখের চারপাশে ক্ষত, আচরণগত অস্বাভাবিকতা, অমনোযোগিতা, বিষন্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, ক্ষুধা মন্দা দেখা দেয়। ভেড়া ও গরুর মাংস,ফুলকপি,সবুজ শিম, টমেটো ইত্যাদিতে জিংক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য, শিমজাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ও ঝিনুকে জিংক পাওয়া যায়।
৫. আয়োডিন
আয়োডিন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শারীরবৃত্তীয় কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। এর অভাবে শিশুর প্রতিবন্ধী হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় আয়োডিন যুক্ত লবণ খাওয়া জরুরি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ, দুধ, দই, পনির, ডিম্, কলা ও কলার মোচা ইত্যাদিতে থাকে প্রচুর আয়োডিন।
৬. ভিটামিন এ
ভিটামিন এ এর অভাবে শিশুর দৃষ্টিশক্তি হীনতা হতে পারে। ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া ভিটামিন এ দেহের বৃদ্ধি ও চর্ম, দাঁত ও অস্থির গঠন এবং নানা রকম সংক্রামক রোগ হতে শরীরকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয়। সকল প্রকার রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি তে আছে ভিটামিন এ। এছাড়া মলা ও ঢেলা মাছ, ডিমের কুসুমেও এটি বিদ্যমান।
৭. ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি দেহের অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করে। ভিটামিন ডি র অভাবে শিশুদের হাড় ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না এবং হাড় বাঁকা হয়ে যায়। দুধ, দই, পনির, ডিম্, সামুদ্রিক মাছ, গরুর কলিজা, মাছের তেল, মাশরুম ইত্যাদিতে আছে ভিটামিন ডি।
গর্ভবতী মায়ের জন্য একটি আদর্শ খাবার রুটিন
গর্ভবতী মায়ের আদর্শ খাবার রুটিন; সূত্র: MomJunction
উপরোক্ত উপাদানগুলো গর্ভবতী মায়ের নিত্যদিনের খাবার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত। কিন্তু একই সাথে গর্ভাবস্থায় মায়ের নানারকম শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। সাধারণ সমস্যাগুলোর মধ্যে কিছু হলো সকালে ঘুম থেকে উঠার পর বমি ভাব যাকে বলে মর্নিং সিকনেস, ক্ষুধামন্দা, অরুচি, কোষ্ঠকাঠিন্য। এগুলো বিবেচনা করে নিচে গর্ভবতী মায়ের জন্য একটি আদর্শ খাবার রুটিন দেয়া হলো:
সকাল
মর্নিং সিকনেসের জন্য সকালে ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো। উঠেই সামান্য বিস্কুট বা মুড়ি এ জাতীয় শুকনা খাবার ও পানি খেয়ে কিছুক্ষন হাঁটাচলা করে নেওয়া ভালো। এরপর ১-২টি রুটি সাথে ১ বাটি সবজি/ডাল/ তরকারি এবং একটি ডিম খাওয়া যেতে পারে।
সকাল ১১ টার দিকে ১ গ্লাস দুধ বা ফলমূল খেতে পারেন। গম ও ভুট্টার তৈরী ছাতুতে প্রচুর ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেলস আছে। হালকা নাস্তা হিসেবে এটা খেতে এপ্রেন।
দুপুর
দেড় থেকে ২ কাপ ভাত বা ৩-৪ তা রুটি খাওয়া উচিত ভারী খাবার হিসেবে। এর সাথে সবজি/ ডাল/ তরকারি এবং অবশ্যই ৫০-৭০ গ্রাম মাছ/ মাংস খাওয়া উচিত। সাথে সালাদ খেতে পারেন। তবে একটি কাঁচা মরিচ খেতে ভুলবেননা। খাওয়ার পরে দই খেলে তা হজমে সাহায্য করবে।
বিকেল
বিকেলে খেতে পারেন স্যুপ, কাস্টার্ড বা বাড়িতে তৈরী যেকোনো নাস্তা। বাহিরের খাবার কিংবা চা-কফি খাওয়া মোটেই উচিত নয়।
রাত
রাতের খাবার দুপুরের খাবারের অনুরূপ। তবে শাক জাতীয় খাবার রাতে খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই রাতে শাক না খাওয়াই উত্তম।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডাচ নৌবাহিনী থেকে পালাতে বিমান চুরি করেছিলেন যিনি
![]() |
| নিজের নব-তারুণ্যের দিনগুলোতে থিও ফন এইজ্ক সবসময় উড়ার স্বপ্ন দেখতেন |
![]() |
| থিও ফন এইজ্কের সাম্প্রতিক ছবি |
![]() |
| বেনগাজিতে এইজ্কের একক ভ্রমনের তথ্য রয়েছে লগ বুকে |
![]() |
| বিমান চুরি করে পালাতে গিয়ে নিখোঁজ হন মার্কিন অফিসার সার্জেন্ট পল মেয়ের |
![]() |
| গ্রুমান ট্র্যাকার |
![]() |
| ডয়েচ সংবাদপত্রে থিও ফন এইজ্কের এই কাণ্ড নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছিল |
![]() |
| নেদারল্যান্ডসে ফেরার পর থিও ফন এইজ্ক। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, October 9, 2021
ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ বাড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা: আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের by ব্রজেশ উপাধ্যায়
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, October 8, 2021
নারী যদি পুরুষকে যৌনমিলনে বাধ্য করে - তাকে কি ধর্ষণ বলা যায়?

জন নামে একজনের কথা (আসল নাম নয়)
পুরুষের 'ধর্ষিত হবার' গল্প অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ▼ 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








