Wednesday, July 7, 2010

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার বাহিনীকে সামলান

গত কয়েক দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকলাপের যে বিবরণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আমরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন এবং অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশের হাতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং তিনটি ঘটনায়ই পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া পুলিশের গুলিতে মুন্সিগঞ্জে এক জেলেও নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ জুন হরতালের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে এবং দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টিও এর নিন্দা জানিয়েছে। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান তো রয়েছেই। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য সংরক্ষণ হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আলোচিত তিনটি মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে বেশ কিছু ভয়ংকর ব্যাপার রয়েছে। তিনটি ঘটনায়ই ঘুষ চাওয়া এবং চাহিদার পরিমাণ অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই পুলিশি ভাষ্যের সঙ্গে পারিপার্শ্বিকতার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে অন্তর্ধানের ঘটনা ঘটছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে বলা হলেও তারা তা অস্বীকার করছে। অন্তর্ধানকারী সেসব ব্যক্তি হয় নিখোঁজ রয়েছে অথবা কারও কারও লাশ পরে পাওয়া গেছে, যাকে পুলিশের পক্ষ থেকেই ‘গুপ্তহত্যা’ বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায়ও বিষয়টি আলোচিত হয় এবং এ ধরনের হত্যা বন্ধের জোর দাবিও আসে পুলিশ কর্মকর্তাদের তরফ থেকে। স্পষ্টই বোঝা যায়, তাদের অভিযোগের তীর র‌্যাবের দিকে। তারও আগে পুলিশের এসআই গৌতম কুমার রায় হত্যার জের ধরে হায়দার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে র‌্যাব-পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, যা সামাল দিতে আইজিপিকে মধ্যস্থতা বৈঠক করতে হয়।
বিদ্যমান এমন বাস্তবতায় আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনারা নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। ক্ষমতায় এসে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করে প্রমাণ করার চেষ্টা শুরু করলেন যে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’ করছে। আর তাতে চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী মারা যাচ্ছে। এখন দেখুন, আপনার সেই বক্তব্যে আপনার বাহিনীগুলো কতটা প্রশ্রয় পেয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তারা এমনকি একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে নেমেছে। যেন মনে হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর জনতার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু এটা তো কোনো পুলিশি রাষ্ট্র নয়। তাহলে বুঝতে হয়, যা ঘটছে তা আপনাদের নির্দেশেই ঘটছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তার জবাবদিহি তো আমাদেরও করতে হয়! কিন্তু এ দায় আমরা কেন নেব?
ইতিমধ্যে এ ঘটনাগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেমনটা এর আগেও অসংখ্যবার করা হয়েছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার নিশ্চয়ই ভালো জানার কথা, এ ধরনের তদন্ত উদ্যোগের প্রতি জনসাধারণের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের দিয়েই যদি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতে আস্থা থাকে কী করে বলুন? তা ছাড়া এ ধরনের অতীত ঘটনার তদন্ত ফলাফল তো জনগণকে সেভাবে জানানোও হয়নি।
পরিবহনকর্মী মজিবরের শিশুসন্তান ইকবালের কথা একবার চিন্তা করেছেন! বাবা তাকে নিয়ে গেলেন ফুটবল কিনে দিতে। তারপর সে নিজের চোখের সামনে দেখল, বাবাকে পুলিশ ফুটবলের মতো লাথি মারছে, পরদিন নদীতে ভাসতে দেখল বাবার লাশ। আপনারা যে ভাষ্য তাকে শোনালেন, তার সত্য-মিথ্যা তার চেয়ে ভালো আর কে জানে! একবার ভেবে দেখুন তো, আপনারা যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকের আসনে বসে আছেন, ওই ছোট্ট শিশুটিকে আপনারা কী বার্তা দিলেন!
আপনি নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, পুলিশের আচরণ সম্পর্কে শিশুটির বর্ণনা প্রসঙ্গে পুলিশের মিরপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘সাত বছর হোক আর পাঁচ বছরই হোক, তার কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। তারা ছোট থেকেই ক্রাইমের সঙ্গে থাকতে থাকতে সে রকম হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে আমার বিষয়টি সত্য বলে মনে হয় না।’ কিন্তু আপনি হয়তো দেখেননি, প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ওই প্রতিবেদনের বিপরীতে জনৈক পাঠক মন্তব্য লিখেছেন, ‘পুলিশের মহামান্য উপকমিশনার মতামত দিয়েছেন, আমাদের অবশ্যই তাঁর মহামূল্যবান মতামতকে সেলাম ঠুকে গ্রহণ করতে হবে...এখন সাহারা আপা মহামান্য পুলিশ কমিশনারকে সমর্থন করে দু-চারটি কথা বললেই মামলা ডিসমিস।’
মাননীয় মন্ত্রী, সময় এসেছে, আপনার বাহিনীকে সামলান, এখনই!
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক): মানবাধিকার ও আইন-সহায়তা সংগঠন।

জামায়াত-শিবিরের ভাঙচুর

গত রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহরে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ কেন্দ্রীয় তিন নেতার মুক্তির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল, চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুর চালান। নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু দাবিদাওয়া প্রকাশের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি বাদ দিয়ে এ ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুর চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা, সম্পদের ক্ষতি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি প্রতিবাদ জানানোর কোনো উপায় হতে পারে না।
সেদিন তাঁদের ক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে ওঠে যানবাহন ও দোকানপাট। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার উভয় পাশে অটোরিকশা, মোটরগাড়ি, ট্রাক, বাস, টেম্পো, মালবোঝাই ট্রাক-লরিসহ সামনে যা পড়েছে, তা-ই ভাঙচুর করেছেন। সড়কের উভয় পাশের দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠানও বাদ যায়নি। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ভাঙচুর হয়েছে ৫০-৬০টি গাড়ি ও দোকান। এমন সংঘবদ্ধ হামলার কাছে নিরীহ জনগণ একেবারে অসহায়। শক্তি প্রয়োগ করার এই মানসিকতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অগণতান্ত্রিক চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এমন দায়িত্বহীন আচরণ শান্তিপ্রিয় নাগরিকেরা প্রত্যাশা করেন না।
অবশ্য এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নতুন নয়, প্রায়ই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর হিংসা-হানাহানি, অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরতাল নিয়ে সহিংসতা, গাজীপুরে রাজউকের কথিত প্রকল্পের গুজবের জের ধরে সহিংসতার ঘটনায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদকীয় লিখেছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নানা অজুহাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমরা যেকোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জীবন ও জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। প্রতিবাদের নামে নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর ও সম্পদহানি গণতন্ত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
বিক্ষোভের নামে কারও বাড়াবাড়ি মেনে নেওয়া যায় না। সম্পদ বিনষ্ট করার এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে রাজনীতিকদের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। তাঁদের অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের জানমালের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা দেখতে হবে সরকারকে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সহিংসতার উদ্দেশ্যে শক্তি প্রয়োগ করার এই মানসিকতার অবসান ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই।
সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পছন্দ না হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাই বলে নিরীহ জনগণের এবং তাদের সম্পদের ওপর চড়াও হওয়া কোনো গণতান্ত্রিক দলের নেতা-কর্মীদের আচরণ হতে পারে না। চট্টগ্রামে যারা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনো হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণই এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা পালন করতে পারে।

লোহিতসাগরে রাসায়নিক ট্যাংকার ছিনতাই করেছে সোমালীয় জলদস্যুরা

সোমালীয় জলদস্যুরা লোহিতসাগরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফিলিপাইনের ১৮ জন নাবিকসহ একটি রাসায়নিক ট্যাংকার ছিনতাই করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলদস্যুতা দমনবিষয়ক মিশন গতকাল সোমবার এ তথ্য জানায়।
মিশনটি এক বার্তায় জানায়, গত রোববার ভোরে আরব উপদ্বীপ ও আফ্রিকার প্রবেশদ্বারের মধ্যবর্তী বাবেল মান্দেবের উত্তরাঞ্চলে সোমালীয় দস্যুরা ছোট ছোট অস্ত্র নিয়ে এমটি মোটিভেটর নামের ওই ট্যাংকারটিতে আক্রমণ করে। ঘটনার পর মিশনটি ট্যাংকারটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পায়নি।

মোটা হয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ সেনারা

মোটা হয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ সেনারা। তা এমনই যে যুদ্ধের ময়দানেও এর প্রভাব পড়ছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি স্টার এ খবর দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর করা একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ব্রিটিশ সেনারা এতটাই মোটা হয়ে যাচ্ছেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে স্থূলকায় শরীর নিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের মধ্যে মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ সেনা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক স্থূলতা সশস্ত্র সেনাবাহিনীর জন্য একটা বড় সমস্যা। এ কারণে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা ক্রমেই স্তিমিত হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান গত বছর সে দেশের সেনাসদস্যদের জন্য কঠিন স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেন। গত অক্টোবর থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রশিক্ষণেও তেমন একটা কাজ হয়নি। মাত্র ৭০ শতাংশ সেনাসদস্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অথচ আশা করা হয়েছিল, ৯০ শতাংশ সেনা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন।
দুটি প্রক্রিয়ায় সেনাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রথমত তাদের দেড় মাইল দৌড়ানোর পরীক্ষা নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত দুই মিনিটে যত বেশি সম্ভব ওঠ-বস করার পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু এ দুই পরীক্ষায় এক-তৃতীয়াংশ সেনাসদস্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
উদ্বিগ্ন সেনা কমান্ডাররা বলেছেন, অপেক্ষাকৃত নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের মধ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কিরগিজস্তানে ফের সহিংসতা হতে পারে

কিরগিজস্তানে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে গতকাল সোমবার সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট রোজা ওতুনবায়েভা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের সময় ওতুনবায়েভা বলেন, ‘এই মুহূর্তে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে, তবে যেকোনো সময় সংঘাত বেধে যেতে পারে।’ কাজাখস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের পাশাপাশি মেদভেদেভ ও ওতুনবায়েভার এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কিরগিজ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সবকিছু থেমে গেছে এবং আমরা চূড়ান্তভাবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে পারি—এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি।’
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত সহিংসতার পর গত শনিবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ওতুনবায়েভা। ওই সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চীনে মার্কিন ভূতাত্ত্বিকের আট বছরের কারাদণ্ড

চীনের একটি আদালত গতকাল সোমবার মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জু ফেংকে আট বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। চীনের তেলশিল্প-সংক্রান্ত তথ্য পাচার করায় তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান। একটি মানবাধিকার সংস্থাও একই তথ্য জানায়।
বেইজিংয়ের এক নম্বর ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টে জু ফেং দোষী বলে সাব্যস্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধে চীনের তেলসংক্রান্ত বাণিজ্যিক তথ্য-উপাত্ত বিশদভাবে সংগ্রহ এবং তা কলোরাডো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএইচএস এনার্জির কাছে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মামলার রায় দেওয়ার সময় চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হান্টসম্যান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা যে মামলার বিষয়ে অবগত, তা বোঝাতে তিনি আদালতে উপস্থিত থাকেন। রায় প্রদানের পর মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে মানবিক কারণে জুকে মুক্তি দিতে এবং তাঁকে শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে চীনের প্রতি আবেদন জানানো হয়।
জুর জন্ম চীনে। পড়াশোনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

জাপানি নভোযানের পাত্র থেকে ধূলিকণা পাওয়ার দাবি

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা জাপানি নভোযান হায়াবুসার বায়ুনিরোধক পাত্র থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ ধূলিকণা পেয়েছেন। গতকাল সোমবার জাক্সার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
২০০৩ সালে হায়াবুসা নভোযানটি উৎক্ষেপণ করে জাপানি বিজ্ঞানীরা। নভোযানটি ইতোকাওয়া নামের একটি গ্রহাণুতে অবতরণ করে এবং সেখানে অনুসন্ধান চালায়। গত ২৪ জুন হায়াবুসাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরার পর হায়াবুসার সঙ্গে থাকা একটি পাত্র উদ্ধার করে বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুর নমুনা সংগ্রহের জন্য ওই পাত্রটি হায়াবুসায় যুক্ত ছিল।
জাক্সার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা নমুনা সংগ্রহের পাত্রটি খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। নিশ্চিত হওয়া গেছে, এতে খুবই সামান্য পরিমাণ ধূলিকণা রয়েছে।’ তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন এই ধূলিকণা পৃথিবীর, না ওই গ্রহাণুর। এই ধূলিকণা পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তাঁরা।
জাক্সার একজন মুখপাত্র বলেন, ২০০৩ সালে নভোযানটি উৎক্ষেপণের সময় পাত্রটির মুখ খোলা ছিল। সুতরাং এতে পৃথিবীর ধূলিকণাও জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাত বছরের দীর্ঘ অভিযানে যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দিয়েছিল জাক্সায়। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সামান্য পরিমাণে হলেও গ্রহাণুর ধুলা পাবেন তাঁরা।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোমোরস্কি জয়ী

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থী বলে পরিচিত সিভিক প্ল্যাটফরম পার্টির প্রার্থী ব্রোনিস্ল কোমোরস্কি বিজয়ী হয়েছেন। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জারস্ল কাচজিনস্কির চেয়ে তিনি ৫ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী জারস্ল কাচজিনস্কি নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে কোমোরস্কিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ৯৫ শতাংশ ভোট গণনায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কোমোরস্কি ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী জারস্ল কাচজিনস্কি পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। ভোট গণনার শুরুর দিকে অবশ্য জারস্ল এগিয়ে ছিলেন। ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনার পর জারস্ল ৫০ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। পরে কোমোরস্কিই এগিয়ে যান।
এদিকে রাজধানী ওয়ারশে নিজের সদর দপ্তরে পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন জারস্ল কাচজিনস্কি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ী ব্রোনিস্ল কোমোরস্কিকে আমি অভিনন্দন জানাই।’
গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা নির্বাচনে কোমোরস্কি ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ও জারস্ল কাচজিনস্কি ৩৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট পান।
রাশিয়ার স্মলেনস্ক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় গত ১০ এপ্রিল বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯৬ জন নিহত হন। এ কারণে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী জারস্ল কাচজিনস্কি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির যমজ ভাই।

কুকুরের শেষকৃত্য

গেরুয়া পোশাক পরা একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্মীয় বাণী আওড়াচ্ছিলেন। তাঁর সামনে কালো পোশাকে দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য। সবার চোখে অশ্রু, মুখে কথা নেই। এই আনুষ্ঠানিকতার পরই তাদের পরিবারের এক ‘প্রিয় সদস্যের’ শব পোড়ানো হবে। তবে সে মানুষ নয়, একটি কুকুর। জীবদ্দশায় কুকুরটি এই পরিবারের সঙ্গে এমন নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে ছিল, তাকে বিজাতীয় প্রাণী বলে আলাদা করে ভাবতে পারেনি কেউ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চাও ফ্রায়া নদীর তীরে কং তোয়ে নাই বৌদ্ধ মন্দিরে সম্প্রতি এই পোষা কুকুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ‘বাই তোয়ে’ নামে শঙ্কর জাতের কুকুরটি যকৃতের রোগে মারা যায়। ১৪ বছর বয়সী প্রাণীটির সঙ্গে আপনজনের মতোই নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন মনিব জিরাপর্ন ওংওয়ানা (৩৫)। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কোনো মৃত ব্যক্তির বেলায় যেভাবে শেষকৃত্য করা হয়, ঠিক সেভাবে সব নিয়ম পালন করে পুরো দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে সারা হয় এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে কুকুরটির দেহভস্ম ছড়িয়ে দেওয়া হয় নদীতে।
জিরাপর্ন ওংওয়ানা বলেন, ‘সে ছিল আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। জীবদ্দশায় পরিচর্যার জন্য আমরা তাকে একটি সেলুনে নিয়ে যেতাম। গোসল করাতে নিয়ে যেতাম একটি সুইমিং পুলে। মৃত্যুর পর সে যখন চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে, এ সময়ও আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তার জন্য কিছু করতে চেয়েছি।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘোষণা ছিল ভুল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর জো লিবারম্যান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে ভুল করেছেন। এতে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং তালেবান জঙ্গি উভয় পক্ষের কাছেই ভুল সংকেত পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ওবামা ২০১১ সালের জুলাই থেকে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে বলে যে ঘোষণা দেন, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ডেমোক্রেটিক সিনেটর লিবারম্যান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা, প্রেসিডেন্ট ওবামা ওই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আফগান জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গেড়ে চিরকালের জন্য অবস্থান করবে না।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান সফরের প্রাক্কালে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেটর লিবারম্যান বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণায় সাধারণ আফগান থেকে শুরু করে তালেবান সদস্যরা ধরে নিয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ঘোষিত সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে সরে আসবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও সে রকম নয়।
লিবারম্যান বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ডেভিড পেট্রাউস ইতিমধ্যে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১১ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।
লিবারম্যান বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেখানে আমাদের পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আর তা অর্জনে কোনো সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না।’
লিবারম্যান বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা গত কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। তিনি নিজেও বলছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশ যত শিগগির সম্ভব সেনা সরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু জুলাইয়ের মধ্যে সে রকম অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি না হলে তাঁরা সেখানে অবস্থান করবেন।
লিবারম্যান জানান, তিনি ডেভিড পেট্রাউসকে বলেছেন, তিনি যেন মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যান। তিনি যদি মনে করেন, সেখানে আরও বেশি সেনা মোতায়েন জরুরি, তাহলে জরুরি ভত্তিতে তাঁকে সে সহায়তা দেওয়া হবে।
লিবারম্যান বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে খোদ আফগানরাই চায়, সেখানে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করুক। তিনি জানান, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ওয়াশিংটন সফর করার সময় তাঁর সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলাপ করেছেন।

রাশিয়ায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ৩০০ মানুষের মৃত্যু

রাশিয়ায় প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে। রাশিয়ার জরুরিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এ কথা জানায়।
মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রিয়া নভস্তি জানায়, গত সপ্তাহে পানিতে ডুবে ২৮৫ জন লোক মারা গেছে। সাঁতার কাটার উপকরণ না থাকা কিংবা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে তারা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। গত মাসের শেষের দিকে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেখানকার বনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরও রাশিয়ায় সাঁতার কাটার সময় তিন হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়।

ভারতজুড়ে ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালন

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ভারতজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্ধ্ পালিত হয়েছে। ভারতের চারটি বাম দল এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পৃথকভাবে এই বনেধর ডাক দেয়। সকাল ছয়টা থেকে গোটা ভারতে শুরু হয় এই বন্ধ্ কর্মসূচি, চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
বন্ধ্ পালনকে ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লি, পাটনা ও লক্ষেৗয়ে বনেধর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বন্ধ্-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। লক্ষেৗয়ে পুলিশ বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি, মুকতার আব্বাস নকভি, লালজি ট্যান্ডন ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে গ্রেপ্তার করে। অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদে গ্রেপ্তার করা হয় তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুকে। দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির সভাপতি নীতিন গড়কারিকে। মহারাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির নেতা গোপীনাথ মুন্ডেকে। মহারাষ্ট্রে এ ছাড়াও এক হাজার ৬০০ সমর্থককে আটক করা হয়। মধ্যপ্রদেশে আটক করা হয় ২০০ সমর্থককে। ওডিশায় আটক করা হয় ৮০০ জনকে। পুনেতে বনেধর সমর্থনকারীরা পাথর ছুড়ে শহরের ১২টি বাসের ক্ষতিসাধন করে। এই বনেধর সমর্থনে বাম দলের ডাকে দিল্লির নয়টি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। প্রতিবাদ সভা করেছে বিজেপি দিল্লির চাঁদনিচকে। কলকাতায় পুলিশ এসইউসিআইয়ের শতাধিক কর্মীসহ দলীয় সাংসদ তপন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে।
বনেধর ফলে ভারতের অধিকাংশ শহরের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। দিল্লি, লক্ষেৗ, পাটনা, কলকাতা, মুম্বাই, তিরুবনন্তপুরম, অমৃতসর, চেন্নাই, বরোদা, আহমেদাবাদ, এলাহাবাদ, ভোপাল, বেঙ্গালুরু, জয়পুর, ভুবনেশ্বর, পুনে, গুয়াহাটি, চণ্ডীগড়, রায়পুর, গোয়া, সিমলা, বারানসি শহরে বনেধর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। এসব শহরে বনেধর সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়, সড়ক ও রেল অবরোধ করে। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে ট্রেন। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বনেধর জেরে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই কলকাতার রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যায় বাস, ট্যাক্সিসহ সব ধরনের যানবাহন; চলেনি ট্রেনও। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে দূরপাল্লার ট্রেন। জেলায়ও চলেনি কোনো যানবাহন। সেখানেও চলছে বন্ধ্। কলকাতা বিমানবন্দরে ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবা। কাজ হয়নি শিল্পাঞ্চলে। কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে খোলেনি হাটবাজার। বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। বেনাপোল সীমান্তে বন্ধ ছিল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এর ফলে এই সীমান্তে আটকে পড়েছে বাংলাদেশগামী কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক।
একই চিত্র ছিল বামশাসিত কেরালা রাজ্যেও। উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, আসাম, গোয়া, রাজস্থান, ওডিশা ও বিহারে ভালোই সাড়া মিলেছে বনেধর।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলের মূল্য এক ধাপে ৩ দশমিক ৬৫, ডিজেল ১ দশমিক ৯৫, কেরোসিন ২ দশমিক ৯৭ এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৩৬ দশমিক ৪০ বাড়িয়ে দেয়। এই মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারত বনেধর ডাক দেয় বাম দল ও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এর আগে বামপন্থীদের ডাকে গত ২৬ জুন ২৪ ঘণ্টা বন্ধ্ পালিত হয় পশ্চিমবঙ্গে, ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় কেরালায় এবং ২৮ জুন ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় ত্রিপুরায়।

নাগরিকত্ব ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান এক মালয়েশীয় নারী

মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব ফিরে পেতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাজেসওয়ারি কোথান (৫২) নামের এক নারী। ভারতের ভোটার তালিকায় নাম থাকায় আট বছর আগে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে মালয়েশিয়া। তবে মাজেসওয়ারির দাবি, তিনি কখনোই ভারতের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করাননি।
মালয়েশিয়ায় দ্য স্টার নিউজপেপারকে গতকাল সোমবার মাজেসওয়ারি জানান, মালয়েশিয়া তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। কিন্তু ২০০৪ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্টের মেয়াদে উল্লিখিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থানের দায়ে তাঁকে আজীবনের জন্য সে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তার মানে হলো, তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাননি।
মাজেসওয়ারি ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় এক নাগরিককে বিয়ে করে ভারতে বাস করে আসছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ভারতে নিজের পরিবারের কাছেও যেতে পারছেন না, আবার মালয়েশিয়াতেও কোনো চাকরি পাচ্ছেন না।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫৮ সাংবাদিক নিহত

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয়জন বেশি। সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন মেক্সিকোতে। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রেস এমব্লাম ক্যাম্পেইন (পিইসি) গতকাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে।
পিইসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুন মাস পর্যন্ত মেক্সিকোতেই নয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হন্ডুরাসে আট, পাকিস্তানে ছয় এবং নাইজেরিয়া ও ফিলিপাইনে চারজন করে সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে পিইসির মহাসচিব ব্লেইজ লেম্পেন বলেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যাকবলিত দেশগুলোতে সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, সাংবাদিক হত্যা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করারও উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে আফগানিস্তানে ফ্রান্সের দুজন টেলিভিশন সাংবাদিককে অপহরণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, সংস্থাটি যুদ্ধক্ষেত্র বা গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়া ও কলম্বিয়ায় তিনজন করে; ইরাক, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলায় দুজন করে এবং আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, ক্যামেরুন, সাইপ্রাস, ইকুয়েডর, ইসরায়েল, কঙ্গো, রুয়ান্ডা, তুরস্ক, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে একজন করে সাংবাদিক নিহত হন।
গত বছর রেকর্ড ১২২ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯১ জন

ইরাকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে বাইডেনের আলোচনা

নতুন একটি সরকার গঠনের লক্ষ্যে ইরাকে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল সোমবার ইরাক সফরের শেষ দিনে তিনি ইরাকি প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে তিনি সে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য।
গত ৭ মার্চ ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু গত চার মাসেও সেখানে কোনো সরকার গঠিত হয়নি। নির্বাচনে আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়ী হয়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নূরি আল-মালিকির জোট ১৫৯টি আসনে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ৩২৫ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও চারটি আসন দরকার।
গত রোববার আইয়াদ আলাবি ও নূরি আল-মালিকির সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন বা সরকার গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কোনো অভিসন্ধি নেই। অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সরকার গঠনের জন্য তিনি দুই নেতা ও সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। বাইডেন বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, যা শুরু করেছিলেন তা শেষ করুন। আমার মত হচ্ছে, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আনুপাতিক হারে আপনাদের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সরকারে থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘ইরাকিয়া, স্টেট অব ল, ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স, কুর্দিস্তান অ্যালায়েন্স—সব জোটই নতুন সরকারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বৈঠকের ব্যাপারে আলাবি বলেন, ‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি। তিনি ইরাকের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দ্রুত একটি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।’
মালিকি বলেন, ‘তিনি আশা করছেন, আগামী ১৪ জুলাই পরবর্তী পার্লামেন্ট অধিবেশন বসার আগেই প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলো সরকার গঠনের ব্যাপারে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারবে।’
এদিকে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা মুকতাদা আল-সদর এক বিবৃতিতে মালিকি ও আলাবিকে যুক্তরাষ্ট্রের নয় বরং ইরাকের স্বার্থের ব্যাপারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অবশ্যই ইরাকি স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে, মার্কিন স্বার্থকে নয়।’
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করে। সম্প্রতি সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা।

খরচ ৩০০ কোটি ডলার: বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিপূরণ এবং সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় তেল অপসারণে এ পর্যন্ত ৩১২ কোটি ডলার খরচ হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি)। গতকাল সোমবার কোম্পানির বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই খরচের মধ্যে বিকল্প কূপ খনন, দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উপসাগরীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করার এখনো সময় হয়নি। গত সপ্তাহে বিপি জানিয়েছিল, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তাদের ২৬৫ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে ওই দুর্ঘটনার পর পুঁজিবাজারে বিপির শেয়ারের দামও কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চাপের মুখে শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণাও স্থগিত করেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় দুই হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে। নগদ অর্থ সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি বিক্রিরও উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে হারিকেন অ্যালেক্স আঘাত হানার কারণে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল আবার সাগর থেকে তেল অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছে বিপি।
পেন্টাগনের মূল তেল সরবরাহকারী বিপি
মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পরও মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান তেল সরবরাহকারীর অবস্থানটি অক্ষুণ্ন রয়েছে বিপির। গত রোববার প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানায়।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে বিপির সঙ্গে পেন্টাগনের যে চুক্তি রয়েছে, এর অর্থমূল্য কমপক্ষে ৯৮ কোটি ডলার। গত বছরও তেল কোম্পানিটি মার্কিন সামরিক দপ্তরের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল। ২০০৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কেনা মোট জ্বালানির ১১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ করেছে বিপি। এ বছরও প্রায় একই পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইসরায়েলকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান তুরস্কের

গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের সরকার দুঃখ প্রকাশ না করলে তাদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এর জবাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, আত্মরক্ষার জন্য তারা কখনোই দুঃখ প্রকাশ করবে না।
গতকাল সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর বরাত দিয়ে তুরস্কভিত্তিক সংবাদপত্র হুরিয়েত-এ বলা হয়, গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহরে গত ৩১ মের হামলার ঘটনায় ইসরায়েল দুঃখ প্রকাশ না করলে বা ওই ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক তদন্ত হতে না দিলে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। ইসরায়েলি সেনাদের ওই হামলায় নয়জন তুর্কি ত্রাণকর্মী নিহত হন।
হামলার ঘটনার একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে অটল থাকলেও এখন ওই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে তুরস্ক। দাভুতোগলু বলেন, হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলের গঠিত নিজস্ব কমিশন যদি রায় দেয় ওই হামলা অনৈতিক ছিল এবং এ জন্য দেশটি যদি দুঃখ প্রকাশ করে, তাহলে বিষয়টি মিটমাট করার কথা ভাবতে পারে তারা। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের জন্যও ইসরায়েলের প্রতি দাবি জানান তিনি। ওই ঘটনার জেরে ইসরায়েলি সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক।
এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জবাবে একই দিন ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আত্মরক্ষার ব্যাপারে ইসরায়েল কখনোই দুঃখ প্রকাশ করবে না। প্রাণহানির ঘটনায় আমরা অবশ্যই দুঃখিত, কিন্তু সহিংসতা শুরুর জন্য ইসরায়েলি পক্ষ দায়ী নয়।’ এর আগে শুক্রবার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ত্রাণবাহী নৌবহরে হামলাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের একসময়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের সঙ্গে এখন সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনায় ইসরায়েল নিজস্ব একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনীও নিজেদের তদন্ত পরিচালনা করছে। কিন্তু ইসরায়েল সরকার জাতিসংঘ প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুষ্ঠানে রাজি হয়নি।

চীনা মুসলিম জঙ্গিরা পাকিস্তানে পালিয়ে যাচ্ছে

চীনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত একটি পত্রিকা জানিয়েছে, সে দেশের মুসলিম জঙ্গিরা পাকিস্তানে পালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে তারা বসতি স্থাপন করে ভবিষ্যৎ হামলার পরিকল্পনা করছে। এসব জঙ্গিদের সঙ্গে তালেবান ও আল-কায়েদার নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায় ও জাতিগত হান সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার চায়না ডেইলি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জাতিগত সহিংসতার বার্ষিকী উপলক্ষে ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমচি ও অন্যান্য এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চায়না ডেইলি জানায়, মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) একটা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে। সেখানে তারা বসতি স্থাপন করে নতুন করে হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
পত্রিকাটি বলেছে, তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে ইটিআইএমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রধান নেতাও পাকিস্তানে আত্মগোপন করে আছেন। পাকিস্তানভিত্তিক তালেবান বাহিনীতে ইটিআইএম সদস্যদের ‘চায়নিজ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি শাখা রয়েছে। এই ব্যাটালিয়নে ৩২০ জন সদস্য রয়েছেন।
চায়না ডেইলি আরও বলেছে, ‘ইটিআইএম সদস্যদের পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়াটা কঠিন কিছু নয়। কেননা, তাদের ধর্ম, চেহারা ও ভাষার মধ্যে মিল রয়েছে।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সপ্তাহব্যাপী বেইজিং সফর শুরুর এক দিন আগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। এ সফরকালে পাকিস্তানে ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পরমাণু চুল্লি স্থাপনে চীনের অর্থসহায়তা-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
উরুমচিতে গত বছরের ৫ জুলাই উইঘুর ও হান সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই শতাধিক লোক নিহত হয়। আহত হয় অন্তত এক হাজার ৭০০ জন। জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হান সম্প্রদায়ের বসতি স্থাপন বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছরের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে আবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় গতকাল জিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সশস্ত্র ও দাঙ্গা পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করে। তবে এদিন বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ খোলা ছিল।

প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদেরও ৫% উৎসে কর দিতে হবে

প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া কোম্পানির শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হবে।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালকদের নিজ কোম্পানির শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মুনাফাকে করের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদে অনুমোদিত অর্থ বিলে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদেরও করের আওতায় নিয়ে আসার বিধান করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে।
এই চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত অর্থ বিলে কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক বা প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের ক্রয়মূল্য ও হস্তান্তরমূল্যের পার্থক্যের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর এ খাতে উৎসে কর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসইসিকে।
উল্লেখ্য, হস্তান্তরিত মূল্য বলতে এসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জ হস্তান্তর অনুমোদন দেওয়ার দিন সংশ্লিষ্ট শেয়ার বা ইউনিটের লেনদেনের সমাপনী মূল্যকে বোঝাবে। কোনো কারণে ওই দিন শেয়ার হস্তান্তর না হলে যেদিন লেনদেন হবে সেদিনের সমাপনী মূল্যকে ধরতে হবে।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, কীভাবে এই কর সংগ্রহ করা হবে সে বিষয়টি নিয়ে এসইসি চিন্তাভাবনা করছে।
জিয়াউল হক খোন্দকার বলেন, আগে কেবল উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির সময় পূর্বঘোষণা দেওয়ার বিধান ছিল। এখন হয়তো প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদেরও বিক্রির সময় ঘোষণা দেওয়ার বিধান করতে হবে, যাতে প্লেসমেন্টধারী শেয়ার বিক্রি থেকে কী পরিমাণ মুনাফা করেছে তা জানা সম্ভব হয়।
অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের আগে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে মূলধন সংগ্রহ করে থাকে। এভাবে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়াই প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কোম্পানির উদ্যোক্তা এভাবে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। সাধারণত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় শেয়ার পেয়ে থাকেন।
এদিকে এনবিআরের চিঠিতে প্রিমিয়াম বা অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে শেয়ার বিক্রির বেলায় কোম্পানির কাছ থেকে তিন শতাংশ হারের উৎস সংগ্রহের দায়িত্বও এসইসির ওপর দেওয়া হয়েছে।

গত অর্থবছরে প্রবাসী-আয় বাড়ল ১৩.২৫%

সদ্য সমাপ্ত ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ তার আগের অর্থবছরের তুলনায় সোয়া ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে এক হাজার ৯৭ কোটি ৩২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন।
আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তাঁরা পাঠিয়েছিলেন ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।
গত অর্থবছরের মাসওয়ারি প্রবাসী-আয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় পাওয়া গেছে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৮২ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের প্রবাসী-আয় এসেছে।
প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসের লেনদেনের ভারসাম্যের পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ১০ মাসের মানে জুলাই-এপ্রিল সময়কালের যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, এই সময়কালে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৮৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি। বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে।
সর্বশেষ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে রেকর্ড ২৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। এটি ছিল তার আগের অর্থবছর ২০০৭-০৮-এর ৬৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উদ্বৃত্তের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি।
গত এক দশকের প্রবাসী-আয়ের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গড়ে প্রতি চার বছরে প্রবাসী-আয় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
যেমন ২০০৪-০৫ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী-আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি ডলার। এটি ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এসে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
তবে উচ্চ হারে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রবাসী-আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণসঞ্চারিণী হলেও উৎপাদনশীল খাতে এর সীমিত ব্যবহার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে।
এর ফলে আর্থিক বাজারে বাড়তি তারল্য তৈরি হয়েছে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাড়তি তারল্য থেকে রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ফাটকা বিনিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উচ্চ হারে প্রবাসী-আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি করেছে এবং স্থানীয় মুদ্রার মানকে ক্রমশ শক্তিশালী করছে, যা আবার আয়-গ্রহীতা ও রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক হচ্ছে না।
সরকার অবশ্য প্রবাসী-আয় উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই ব্যাংক স্থাপন করা হলে এর মাধ্যমে প্রবাসীরা যে অর্থ পাঠাবেন, তা আবার ব্যাংকের মাধ্যমেই উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রেরক ও প্রাপকদের উৎসাহিত করা হবে।

শেয়ারবাজার: সাধারণ সূচক বেড়েছে মাত্র ০.১ পয়েন্ট

ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন বাড়লেও আজ মঙ্গলবার লেনদেন কমেছে। দিনের শুরুতে সাধারণ সূচকের বেশ ঊর্ধ্বগতি থাকলেও দিনশেষে তা নিচে নেমে শূন্য দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
আজ শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক আগের দিনের ৬৩৫৪ পয়েন্টই রয়েছে। আজ শেয়ারবাজারে মোট দুই হাজার ২৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪০টির, কমেছে ৯৭টির। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, এবি ব্যাংক, এনবিএল, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, আনলিমা ইয়ার্ন, তাল্লু স্পিনিং ও পদ্মা সিমেন্ট।
দাম হ্রাস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, তৃতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, সাভার রিফ্রাক্টরিজ, মডার্ন ডাইং ও উত্তরা ফিন্যান্স।

ভিয়ায় মুগ্ধ ক্লোসা

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই গোল করে নাম লিখিয়েছেন স্বদেশি জার্ড মুলারের পাশে। আর একটি গোল হলেই ভাগ বসাবেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রোনালদোর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫ গোলের রেকর্ডে। পুরো দুনিয়াই মুগ্ধ দৃষ্টিতে মিরোস্লাভ ক্লোসার দিকে তাকিয়ে। অথচ ক্লোসা নিজে মুগ্ধ ডেভিড ভিয়ায়! শুধু মুগ্ধই নয়, স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের খেলা রীতিমতো উপভোগ করেন তিনি।
ক্লোসার মুখে সেই ভিয়ারই মুগ্ধতার গান, ‘ভিয়া অসাধারণ খেলোয়াড়। আমি সব সময়ই তার খেলা দেখি। সে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ায় আমি খুশি।’
আগামীকাল সেমিফাইনালে ভিয়ার স্পেনের সামনেই ক্লোসার জার্মানি। ক্লোসা ভালো করেই জানেন, স্পেন-বাধা পেরুতে হলে সবার আগে আটকাতে হবে ভিয়াকে। কিন্তু মুখে কেবলই প্রশংসার বাণী, ‘সে খুবই চতুর। ডানে-বাঁয়ে দুই দিকেই ভালো। অনেক উঁচুমানের ফুটবলার। লিওনেল মেসির মতো তাকে আটকাতেও পুরো দল মিলে কাজ করা লাগে।’
এই ভিয়ায় চড়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। পাঁচ ম্যাচে স্পেন করেছে ৬ গোল, ৫টিই ভিয়ার! টানা চার ম্যাচে ৫ গোল করে ভিয়াই এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা। সমান চার গোল করে ক্লোসা, স্নাইডার, মুলাররা আছেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাই সোনার জুতা জোড়ার তো বটেই, সোনার বলেরও বড় দাবিদার ভিয়া।
এই ভিয়া-বন্দনা করতে করতে ক্লোসা জানিয়ে দিয়েছেন আসল কথাটা, স্পেন ভালো দল। তবে অজেয় নয়, ‘অবশ্যই স্পেন ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো। দল হিসেবে তারা চমৎকার। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের ম্যাচের রিপ্লে আমি দেখেছি। তবে স্পেন অজেয় এবং অপ্রতিরোধ্য নয়। আমরা তাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে কাজে লাগাতে পারি।’
আর এক গোল হলেই ছুঁয়ে ফেলবেন রোনালদোকে। দুই গোল হলে ছিনিয়ে নেবেন রেকর্ড। ক্লোসা রেকর্ড কেড়ে নিলে রোনালদোর মনের অবস্থাটা কেমন হবে? ক্লোসা বলেন, ‘আমি মনে করি, রোনালদো এ নিয়ে চিন্তা করছেন না। ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর (যেখানে রোনালদোর দুই গোলেই জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল) আমরা আলাপ করেছি। ওই সময় আমি কখনো ভাবিনি, আমি এই পরিস্থিতিতে পড়ব। তাঁর রেকর্ড পেছনে ফেলতে আর মাত্র দুটি গোল প্রয়োজন। এটা আনন্দের।’

মনের আলোয় বিশ্বকাপ

শামিলা সূর্য, ফুটবল-ভক্ত একটা মেয়ে। অথচ মাঠে বসে যে বিশ্বকাপের লড়াই দেখবে সেই ক্ষমতাটুকু নেই! না, হাঁটাচলার মতো যথেষ্ট শক্তি আছে তাঁর, নেই চোখে যথেষ্ট আলো! কিন্তু এবার তাঁর চোখে না হলেও মনে ঠিকই পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের আলো। মাঠে বসেই সে উপভোগ করেছে ফুটবলারদের লড়াই। অনুভব করেছে টানটান উত্তেজনা। এবারের বিশ্বকাপ তাই সারা জীবন মনে রাখবে আংশিকভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই মেয়েটি। শুধু তা-ই নয়, তার মতো আরও একশ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরও মনের আকাশে জ্বলজ্বল করবে এবারের আয়োজন।
ডারবানের মোসেস মাভিদা স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ উপভোগ করেছে সূর্য। জীবনের এই বিশেষ আনন্দময় অভিজ্ঞতায় যারপরনাই খুশি সে, ‘বিশ্বের এই বড় ক্রীড়া আয়োজনটি সরাসরি উপভোগ করেছি। খেলা দেখেছি আর প্রতিটাক্ষণ মনে মনে কল্পনা করেছি এর চলমানতা! আর শব্দমুখর দর্শকেরা তো এককথায় অসাধারণ!’
বিশ্বকাপ উপলক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকান কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড, সুইজার অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড এবং ফিফা—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলে এবার উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্বকাপের আনন্দ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। ফিফার বিশ্বকাপ ২০১০ অডিও ডেসক্রিপশন প্রজেক্ট এবার জোহানেসবার্গ, ডারবান, পোর্ট এলিজাবেথ, ব্লুমফন্টেইন এবং প্রিটোরিয়া—এই স্টেডিয়ামগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের খেলা উপভোগ করার ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নিঃসন্দেহে। আর স্থানীয় রেডিও ব্যক্তিত্বরাও সমান প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ বর্ণনামূলক বিবরণের মাধ্যমে তাঁরা মাঠের ধারাবিবরণী তুলে ধরেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কাছে। জীবন্ত করে তুলেছেন সবকিছু। ডারবানের প্রকল্পটির সমন্বয়কারী ভিজেন রাগবির বলেন, ‘ধারাভাষ্যকারেরা মাঠেই ছিলেন এবং তাঁদের ধারাবিবরণীও ছিল একদম আলাদা। ফুটবলার কী রঙের জার্সি পরেছেন, মাঠে বলের অবস্থান কোথায় কিংবা স্টেডিয়াম ও মাঠের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেছেন তাঁরা।’
সাউথ আফ্রিকান কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ডের যোগাযোগ কর্মকর্তা ফন জিলও খুশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে পেরে, ‘এই প্রকল্প প্রমাণ করেছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও অন্য প্রতিবন্ধীদের মতো মাঠে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও এই সেবা দিতে চাই আমরা।’
তবে এ ব্যবস্থা এবারই প্রথম নয়। ২০০৬-এ জার্মানিতেও ফিফা এ ব্যবস্থা করেছিল। ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটারের বিশ্বাস, এই সেবা দক্ষিণ আফ্রিকার খেলাধুলায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, ‘ফুটবল বিশ্বজনীন খেলা। এবং এটা সবার কাছেই পৌঁছে দিতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এই সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

আরেক ‘এল লোকো’

স্প্যানিশ ‘লোকো’ শব্দের সরল বাংলা—পাগল! কারও পাগলামি বিখ্যাত হয়ে গেলে তাঁর নামের আগে লাতিন আমেরিকানরা ভালোবেসে এ বিশেষণ বসিয়ে ডাকে—এল লোকো বা দ্য ম্যাড।
মার্সেলো বিয়েলসা, রেনে হিগুইতা অনেকের নামের আগেই বিশেষণটা বসেছে। এবার বিশ্বকাপ আরেকজন ‘এল লোকো’কে পেয়ে গেছে। উরুগুয়ের ‘পাগল’ সেবাস্টিয়ান আব্রু। একটার পর একটা ক্লাব বদল করে এই খ্যাতি আগেই পেয়ে গেছেন। এবার তাঁর ‘পাগলামি’ নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে পেনাল্টি শট নেওয়ার ধরনের কারণে।
উরুগুয়ে-ঘানা কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ম্যাচ নির্ধারণী শটটি নেওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল আব্রুর ওপর। দেখে মনেই হলো না, তিনি ব্যাপারটিকে আদৌ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন। বলটা আস্তে করে সোজা তুলে দিলেন তিনি। গোলরক্ষক ডানদিকে ঝাঁপ দেওয়ায় সেটিই আনন্দে ভাসিয়ে দিল উরুগুয়েকে।
ঘানার গোলরক্ষক রিচার্ড কিংসন পর্যন্ত বিস্মিত হয়ে বলছেন, ‘ও এ রকম কিছু করে ফেলতে পারে, এটা কল্পনাও করিনি।’ আর আব্রু ‘কিচ্ছু হয়নি’ এমন ভাব করে ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আমি দেখেছিলাম, ও প্রতিটি শট নেওয়ার আগেই লাফ দিচ্ছে। যেহেতু ও জানে, এই শটটাই সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে, আমি নিশ্চিত ছিলাম ও দাঁড়িয়ে থাকবে না।’
কিন্তু যদি গোলরক্ষক ঝাঁপ না দিতেন! জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলেই তো বল আটকে যায়। এমন ঝুঁকি নেওয়ার মানে কী! এটাই কি পাগলামি না? আব্রু মনে হয় নিজেকে ‘লোকো’ বলে মানতে রাজি না।
এই পেনাল্টি নেওয়ার জন্য তাঁকে ‘পাগল’ বলায় আব্রু সামনে নিয়ে এলেন জিদানের প্রসঙ্গ। গত বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন করেই একটা পেনাল্টি শট নিয়ে ইতালির বিপক্ষে গোল করেছিলেন জিনেদিন জিদান। আব্রুর প্রশ্ন হলো, ‘জিদানের পেনাল্টির ক্ষেত্রে কী বিশেষণ দিয়েছিলেন? পাগল? না, বলেছিলেন জাদু। তাহলে আব্রুর এটাও জাদু নয় কেন?’
তাহলে আব্রুকেও ‘জাদুকর’ বলা যাক! কিন্তু নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে যা করেছেন, তাতে ‘লোকো’ নামটা মোছা সহজ হবে না। ১৯৯৬ সালে উরুগুয়ের ডিফেনসর স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার। এরপর আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, মেক্সিকো, গ্রিস, ইসরায়েল—সব মিলিয়ে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন দেশে ঘরোয়া ফুটবল খেলেছেন ১৭টি ক্লাবের হয়ে। স্পেনের দেপোর্তিভো লা করুনাতে থাকা অবস্থায় ধারেই খেলেছেন ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে!
এই বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ারে জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে ৩০৫ গোল করেছেন। এই বিশ্বকাপে থিয়েরি অঁরিকে টপকে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় হয়ে এসেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে এমন লোককে পাগল না বলে উপায় কী!
অবশ্য এই ‘পাগল’কে নিয়ে মোটেও অশান্তিতে নেই উরুগুয়ে। আজ লুইস সুয়ারেজের অনুপস্থিতিতে শুরু থেকেই হয়তো মাঠে থাকবেন আব্রু। তাঁর পাগলামির ওপর ভরসাই রাখছেন অধিনায়ক ডিয়েগো লুগানো, ‘আমরা ওর পাগলামির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এমন পাগলামি ও এই প্রথম করল না। এটা অবশ্যই ওর একটা গুণ। কিন্তু সন্দেহ নেই যে, ও খুব প্রতিভাবান পাগল।’
তার মানে কি আজও কিছু পাগলামি দেখা যাবে? আজও পেনাল্টি পেলে অমন কিছু করবেন? অবশ্যই। অদ্ভুত কিছু যে করবেন, সে নিশ্চয়তা আব্রু দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার জন্য গোল করার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। কারণ, আমি সব সময় এ রকমভাবেই পেনাল্টি শট নিই। আমি উরুগুয়ের পাঁচ পেনাল্টি শ্যুটারের মধ্যে সব সময় থাকি। এবং ভবিষ্যতে আমি এভাবেই চালিয়ে যাব।’
তা চালিয়ে গেলে বিশ্বকাপে কিছু লাতিন গন্ধ অন্তত থাকবে আব্রুর কল্যাণে!

নাদালের চাওয়া

উইম্বলডন জিতেছে স্পেন। মানে স্পেনের রাফায়েল নাদাল। এখন তিনি তাকিয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের আরেকটি সাফল্যের দিকে, ‘আমি সেখানে (বিশ্বকাপ) থাকতে পারলে খুব ভালো হবে। আরও ভালো হবে যদি দেখি স্পেন বিশ্বকাপটি তুলে ধরেছে।’ গত রোববার দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডন জিতে স্পেনকে আনন্দে ভাসিয়েছেন নাদাল। এবার চাইছেন নিজেও ভাসবেন ফুটবলারদের কৃতিত্বে, ‘স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে নিয়মিত। তাদের শুধু বলতে চাই, তোমাদের জন্য শুভকামনা।’ তবে হাঁটুর চোটের চিকিৎসা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে হতে পারে নাদালের। তাই শেষ মুহূর্তে মাঠে বসে স্পেনের খেলা দেখা হয় কি না হয়, তা নিশ্চিত নন টেনিসের এই এক নম্বর।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে পিটার জর্জ

শেফিল্ড শিল্ডে গত মৌসুমে পেয়েছেন ৩৬ উইকেট। চমৎকার মৌসুম কাটিয়ে তাই জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষা করছিলেন পিটার জর্জ। তাঁর অপেক্ষার অবসান হলো। কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে আছে ২৩ বছর বয়সী এই পেসারের নাম। রায়ান হ্যারিসের ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টের প্রথমটি শুরু হবে আগামী ১৩ জুলাই, লর্ডসে।

কাকা-তোরেসকে চান আনচেলত্তি

আর মাত্র কটা দিনই তো বাকি। শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ। ডামাডোল থেমে গেলে পরে ঝড় উঠবে দলবদল নিয়ে। তার আভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে। এই যেমন চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি চেকবই প্রস্তুত করে রেখেছেন কাকা ও ফার্নান্দো তোরেসের জন্য। এ দুজনকে পেতে ১০ কোটি পাউন্ড খরচ করতেও নাকি রাজি আছে চেলসি।
রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হোসে মরিনহোর পরিকল্পনার সঙ্গে ঠিক মানানসই নন কাকা—মরিনহো রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উঠেছে এই কথা। কাকাও নাকি তাই রিয়াল ছাড়তে চাচ্ছেন। এটা শুনেই এসি মিলানের পুরোনো শিষ্য কাকাকে পেতে উন্মুখ হয়ে আছেন আনচেলত্তি।
মাইকেল বালাকের চেলসি-দিন শেষ হয়েছে কদিন আগেই। ডেকো আর জো কোলও দিয়েছেন চেলসি ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। চেলসির মাঝমাঠের বিশাল শূন্যস্থান ভরতে হবে আনচেলত্তিকে।
হল্যান্ডের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেছে কাকার ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। হূদয় থেকে সেই ক্ষত এখনো না শুকোনোরই কথা। কাকা হয়তো এসব নিয়ে এখনই তাই কিছু ভাবছেন না। দলবদল নিয়ে এখন কিছু ভাবার সময় পাওয়ার কথা নয় তোরেসেরও। আপাতত আগামীকাল জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিয়েই ব্যস্ত তিনি।
তবে তোরেসের দলবদল নিয়ে কথা বলেছেন তাঁর এজেন্ট হোসে আন্তনিও মার্টিন। তোরেসকে নিয়ে গুঞ্জনটা ছিল এ রকম—রাফায়েল বেনিতেজ যেহেতু আর লিভারপুলের কোচ নেই, তোরেসও হয়তো এই ক্লাবে আর থাকছেন না। স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের পরবর্তী ঠিকানা হিসেবে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বার্সেলোনাকে। কিন্তু মার্টিন বলেছেন, ‘তোরেসের বার্সেলোনায় যাওয়া হচ্ছে না।’
এর পরই বলাবলি হচ্ছিল চেলসির কথা। তবে কিছুই নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন তাঁর এজেন্ট মার্টিন, ‘এটা ঠিক যে তোরেস প্রিমিয়ার লিগেই থাকবেন। তবে লিভারপুলে নাকি অন্য ক্লাবে সেটা ঠিক নিশ্চিত নয়। আমরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছি।’

মুখেও ম্যারাডোনাকে জবাব মুলারের

ডিয়েগো ম্যারাডোনা ‘বলবয়’ বলে তাঁকে তুচ্ছ করেছিলেন। তিনি বিশ্বকাপে পেরেক ঠুকে দিয়েছেন ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে। বিশ বছর বয়সী এক ফুটবলারের সারা জীবন গল্প করার জন্য আর কী লাগে! টমাস মুলার হয়তো আরও চাইবেন। এখন তাঁর সামনে সোনার জুতো, সোনার বল, সোনার কাপের হাতছানি।
মুলার কী কী জিতবেন কিংবা আদৌ কিছু জিতবেন কি না, সেটা সময় জানে। তবে আপাতত মুলারের আনন্দ, ম্যারাডোনাকে একটা জবাব দিতে পেরেই। গত মার্চে ম্যারাডোনা তাঁর পাশে বসে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে রাজি হননি।
আর্জেন্টিনা কোচ তখন মুলারকে ‘বলবয়’ বলেছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩ মিনিটেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এলোমেলো করে দেওয়ার পর সেই ‘বলবয়’ বলছেন, ‘ম্যারাডোনার কথা ভাবলে, ম্যাচটা আমার জন্য বিশেষ কিছু ছিল। আমার মনে হয় না, উনি আর আমাকে বলবয় ভাববেন। ওই সময় উনি সম্ভবত আমার সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু এখন নিশ্চয়ই জেনে গেছেন।’
ম্যারাডোনাকে জবাব দিতে পারার আনন্দ তো আছেই। আছে আর্জেন্টিনাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারার আনন্দ। হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে সেমিফাইনাল মিস করতে যাওয়া মুলার বলছেন, ‘অসাধারণ আনন্দের একটা দিন গেল। আর্জেন্টিনা তো আমাদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না। আমরা গতি ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছি। সব মিলিয়ে ওদের চেয়ে অনেক ভালো দল ছিলাম। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, আমরা ৪-০ গোলে জিতেছি।’

পাকিস্তানের জয়

গুল ও আজমলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১২ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৩ রানে হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান করেছিল ৮ উইকেটে ১৬৭। তাতে সর্বোচ্চ ৬৪ রান উমর আকমলের। একসময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৩২। এর পরই শুরু গুল ও আজমলের বোলিং তাণ্ডব।

আস্থা তবু তোরেসেই

জাভি হার্নান্দেজের পাসটা ধরে এগোতে থাকলেন বিদ্যুৎগতিতে, তাঁর গতির সঙ্গে পেরে উঠলেন না ডিফেন্ডার ফিলিপ লাম। সামনে এগিয়ে এসে ডাইভ দেওয়া গোলকিপার ইয়েন্স লেম্যানের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দিলেন জালে—স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারের গতিতে ওভাবে ভিরমি খেতে দেখে লামকে নিয়ে সবাই বলাবলি শুরু করছিল, ‘চব্বিশেই ও বুড়ো হয়ে গেছে।’ ২০০৮ ইউরোর ফাইনালের দুই বছর পর দুদল যখন আবার মুখোমুখি হচ্ছে, সেই লামই দলের অধিনায়ক, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাগুলোর একটি। আর লামকে ‘বুড়ো’ বানিয়ে দেওয়া সেই মুহূর্তটির নায়ক ফার্নান্দো তোরেস বিবর্ণ।
যাকে মনে করা হয় বর্তমান বিশ্বের হাতে গোনা পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারদের একজন, তাঁরই এমন দুর্দশা!
নিজের দুর্দশার জন্য তোরেস দায়ী করছেন ফিটনেসকেই। তবে আশাবাদী, খুব শিগগিরই ফিরে পাবেন নিজেকে, ‘টুর্নামেন্টটা আমার জন্য আসলেই কঠিন যাচ্ছে, কারণ ফিটনেসটা এখনো সেরা পর্যায়ে আসেনি। ফিটনেসের জন্যই আমাকে ভুগতে হচ্ছে, তবে উন্নতি কিন্তু হচ্ছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যেমন খেলেছি, তাতে আমি খুশি, উন্নতি হয়েছিল আগের ম্যাচটাতেও। আগের চেয়ে এখন ভালো বোধ করছি, তবে এখনো অনেক উন্নতি করতে হবে।’ তোরেসের এই দাবিকে অবশ্য উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গ্রুপ পর্বের চেয়ে নকআউট পর্বের দুই ম্যাচে উন্নতির ছাপ ছিল স্পষ্ট, আগের চেয়ে অনেকটাই চনমনে মনে হয়েছে তাঁকে।
তোরেসের জন্য বড় স্বস্তি খারাপ সময়ে পাশে পাচ্ছেন কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের। দুরন্ত ফর্মে থাকা ডেভিড ভিয়া তো তোরেস খারাপ ফর্মে আছেন, এটা মানতেই নারাজ। প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগেও ভিসেন্তে দেল বস্ক তোরেসেই আস্থা রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। স্প্যানিশ কোচ আবারও বলছেন, আস্থা আছে এখনো, ‘তোরেস এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। অন্য আর দশটা স্ট্রাইকারের মতো ওরও একটু খারাপ সময় যাচ্ছে, এই তো। আগেও বলেছিলাম, এখনো বলছি, তোরেসই আমাদের মূল স্ট্রাইকার। ওর প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’
প্রতিপক্ষ আবারও সেই জার্মানি। ৪৪ বছর পর স্পেনকে বড় কোনো শিরোপা এনে দেওয়া সেই মুহূর্তটি জাগিয়ে তুলবে তোরেসকে, স্প্যানিশদের প্রত্যাশা এমনটাই। নিজের গোলের চেয়েও অবশ্য তোরেস বেশি করে চাইছেন দলের জয়, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্পেন জার্মানিকে হারাতে পারে কিনা, গোল কে করল এটা কোনো ব্যাপার না। আশা করি, আমরা তা পারব, আর আবারও যদি জয়সূচক গোলটি আমি করতে পারি তাহলে সেটা হবে দারুণ।’
ভিয়া এগিয়ে যাচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে, সঙ্গে যদি জেগে ওঠেন তোরেসও, স্পেনকে আটকানো কিন্তু মুশকিল হয়ে পড়বে!

অনিশ্চিত ম্যান্ডেলা

বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ঘরেই এবারের বিশ্বকাপ। কিন্তু এ পর্যন্ত একবারও ফুটবল লড়াইয়ের মাঠে তাঁর চরণধূলি পড়েনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন মাঠে থাকার কথা থাকলেও তা তো হয়নি তাঁর প্রপৌত্রীর মৃত্যুর কারণে। অনেকেই আশায় ছিলেন হয়তো বা ফাইনালের দিন গ্যালারিতে দেখা যাবে এই নোবেলজয়ীকে। কিন্তু বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি আশঙ্কা করছে, ফাইনালে মাঠে নাও থাকতে পারেন ম্যান্ডেলা।

এই জার্মানি নিখুঁত

আর্জেন্টিনা, ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে অনেক স্মৃতি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁর খেলোয়াড় হিসেবে। এরপর অধিনায়ক হিসেবে একবার বিশ্বকাপও জিতেছেন।
১৯৮৬ ও ১৯৯০, দুই বিশ্বকাপেই কোচ হিসেবে ফাইনালে গেছেন বেকেনবাওয়ার, দুবারই প্রতিপক্ষ অধিনায়কের নাম ছিল ম্যারাডোনা। প্রথমবার হারলেও, দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছেন ‘কাইজার’। তাই কোচ ম্যারাডোনার বিপক্ষে তাঁর উত্তরসূরিরা কী করে সেটা দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন বেকেনবাওয়ার।
যা দেখলেন, তাতে তিনি মুগ্ধ। মুগ্ধ তাঁর উত্তরসূরি জোয়াকিম লোর কৌশল দেখেও। বেকেনবাওয়ারের কাছে এই দলটাকে ১৯৭০ বা ১৯৯০ বিশ্বকাপের জার্মান দলের মতো মনে হচ্ছে, ‘এই দলটা জোয়াকিম লোর একটা মাস্টার পিস। এই দলটার গঠনে ও নিজের ছাপ রেখেছে এবং একটা নিখুঁত দল তৈরি করেছে। জার্মান দলের এমন কুশলী চরিত্র আমি খুবই কম দেখেছি। সম্ভবত ১৯৭০ বিশ্বকাপের দলটা এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপজয়ী দলটা এর কাছাকাছি ছিল।’
অবশ্য এক দিক থেকে লোর জার্মানিকে বেকেনবাওয়ার আগের যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়েই রাখছেন। এই দলটা যে শুধু ম্যাচই জেতে না, ভালো ফুটবলও খেলে, ‘আগে আমরা বলতাম, সুন্দর ফুটবল ড্রেসিংরুমে রেখে মাঠে নামতে হবে। কিন্তু এই দলটা প্রমাণ করেছে দুটো বিষয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই—ভালো খেলেও ম্যাচ জেতা যায়।’
বেকেনবাওয়ারের এসব কথাই মিথ্যে হয়ে যেতে পারে লো ট্রফিটা ছুঁতে না পারলে। সামনে জার্মানদের বড় বাধা ইউরোপ-সেরা স্পেন। এই স্পেনের কাছেই গত ইউরোর ফাইনালে হেরেছে জার্মানরা। এবার আর ভয় পাচ্ছেন না বেকেনবাওয়ার।
বরং এখনো নিজেদের ফর্ম খুঁজতে থাকা স্পেনের বিপক্ষে জার্মানরাই এগিয়ে থাকবে বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘জার্মানির সুবিধা হলো, স্পেন ইউরো ২০০৮-এ যে ফর্ম দেখিয়েছে, তা তারা এখনো দেখাতে পারেনি। তাদের দেখে এখনো খুব সমীহ জাগানো দল মনে হচ্ছে না। ওরা কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও জয় পেতে হিমশিম খেয়েছে।

পদত্যাগের আভাস ম্যারাডোনার

দেশে ফিরেই উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বিমানবন্দরে ভিড় করেছিল হাজার হাজার মানুষ। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বিদায় নিলেও তারা চাইছিল কোচ হিসেবে যেন ম্যারাডোনা থেকে যান। কিন্তু ম্যারাডোনা নিজেই দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার এক টেলিভিশন চ্যানেলে কাল সে রকমই আভাস দিলেন, ‘আমার চক্র শেষ। আমার যা দেওয়ার ছিল, দিয়েছি।’
এর আগের দিন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানিয়েছিলেন, ‘আমি এখনো আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু ভাবিনি। আমার পরিবার, খেলোয়াড় ও ফেডারেশনের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে। ব্যাপারটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে।’ তবে ম্যারাডোনার ভবিষ্যৎ মনে হচ্ছে তাঁরই হাতে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুলিও গ্রন্ডোনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ম্যারাডোনার শুরুর দিকের ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের সভাপতি লুইস সেগুরার কথায় এমনই আভাস, ‘ম্যারাডোনা থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। বিষয়টি তাঁর ওপরই নির্ভর করছে। গ্রন্ডোনা কখনো কারও চুক্তি বাতিল করে না এবং ডিয়েগো যদি কোচ হিসেবে থাকতে চান, তো থাকবে। আমার মনে হয়, তাঁর উচিত চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া, যেটি শেষ হবে আগামী বছর কোপা আমেরিকার পর।’

দুই খেলার দুই দিন ইজ্জতে আলপিন

বিশ্বকাপের হিসাব-নিকাশে ওলট-পালট। যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ, যা কিছু আছে তার সবকিছুই আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে। দুনিয়াজোড়া কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন ভেঙে খান খান। পছন্দনীয় দলপ্রীতি আকাশ থেকে আছড়ে মাটিতে শুধু পড়েইনি, একেবারে মাটির তলদেশে পোঁতা হয়ে গেছে। যে দুটি দলকে নিয়ে এত কিছু, এত পতাকা কেনা-কিনি, খরচ-খরচা, এত রেষারেষি, তর্কবিতর্ক, রঙ্গ-রসিকতা; তারা নিজেদের তো বটেই, সমর্থকদেরও সমস্ত গর্ব খর্ব করে দিয়ে মাঠ ছেড়ে এখন শুধুই দর্শকের ভূমিকায় চলে গেছে (যদি আদৌ দেখার মুড থেকে থাকে)।
দল দুটি এমন গো-হারা হারবে পচা খেলা খেলে, তা তাদের একগুঁয়ে সমর্থকেরা জীবনেও ভাবেনি। হারেরও তো কিছু রকমফের থাকে নামীদামি দলগুলোর ক্ষেত্রে। হয় আচমকা না-ভাবা একটি গোল খেয়ে ফেলে কোনোভাবেই আর শোধ না করতে পারা, নচেৎ টাইব্রেকারে গিয়ে দুর্ভাগ্যের কাছে ধরা খেয়ে যাওয়ার মতো হারের তবু কিছু সান্ত্বনা থাকে। মনকে প্রবোধ দেওয়ার উপায় থাকে। ভাবা যায় যে ‘খেলায় এমন ঘটতেই পারে।’ যেমন ঘটল ঘানার ব্যাপারে। কী দারুণ খেলাটাই খেলল। শেষে টাইব্রেকারে গিয়ে জেতা গেইম হেরে গেল। এ ক্ষেত্রে প্রবোধ এই যে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া একমাত্র আফ্রিকার দল হিসেবে প্রচণ্ড চাপে নার্ভাস তো হতেই পারে। কিন্তু পুরো খেলায় একটুও ছেড়ে কথা কয়নি। প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে।
এই খেলার দিন আমি ঘানার সমর্থক ছিলাম। তো, আমার মনে হয়েছে, হারের পেছনে রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত যথেষ্ট কাজ করেছে। বিশেষ করে শেষ মিনিটের গোলটি না দিয়ে পেনাল্টি দেওয়ার ব্যাপারে। গোলপোস্টে ঢোকার সময় উরুগুয়ের এক খেলোয়াড় হাত দিয়ে বল বের করে দেওয়ার পর গোল ঘোষণা দেওয়াই সমীচীন ছিল। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দিয়েছিলেন। সেটাকে ফলপ্রসূ করতে পারেনি ঘানা। আমি অবশ্য ঘানাকেই জয়ী মনে করি। যদিও শেষমেশ হারতে বাধ্য হয়েছে। আর টাইব্রেকার ব্যাপারটি আমার খুব পছন্দনীয় নয়। নিয়মটি যেন—এই রকমের করে ভাবা যে নব্বই মিনিটের পর আরও আধঘণ্টা দেওয়ার পরও যখন কেউ কোনো হার-জিত করতে পারিসনি, তো নে, এবার বুক ধুঁকধুঁকি করা খেলা খেল। হারতে একজনকে হবেই। যাবি কোথায়? মন খারাপ করা ভুল করতেই হবে।
হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সমর্থকদের শোকে মন ধসে পড়া ব্যাপারটিতে কিছুটা হলেও খুঁটির ঠেকা দিতে পেরেছে আর্জেন্টিনার হার। দুয়ো খাওয়া ব্রাজিল সমর্থকেরা বিশ্বজুড়েই জার্মানির পক্ষে দুয়ো ধরে জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার এত বড় সুযোগ তো আসলে সহজে আসবে না। তো একজন বললেন, ‘ব্রাজিলের হারা দেইখা মনটা কইল “হায়” ব্রাজিল কী করলি। আর আর্জেন্টিনার অমন ব্যাক্কল-হারা দেইখা কইতে হইতাছে হায়-হায়, নিজে তো ডুবলি-ডুবলি, আমাগো ইজ্জতে এক্কেরে গজাল-পেরেক মাইরা গেলি!’
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলার দুই দিনই কাকতালীয়ভাবে দাওয়াতে ছিলাম। ব্রাজিলের দিন দাওয়াতে উপস্থিত শিল্পীদের সবাইকে দেখলাম হল্যান্ডবিরোধী। সবাই বেশ নিশ্চিন্ত হয়েই খাওয়ার প্লেটে মনোযোগী ছিলেন যে ব্রাজিল জিতবেই। ব্যাপারটা সলিড হলো আরও, যখন ব্রাজিলই প্রথম গোলটা দিল। কিন্তু সবার খাওয়া শেষ না হতেই ব্রাজিল পরপর গোল খাওয়া-দাওয়া সেরে, হেরে ভূত। তা দেখে এতক্ষণ ব্রাজিলের সমর্থনে কেমোফ্লাজ করে থাকা আমাদের এক শিল্পী আরও কয়েক টুকরো মাংস প্লেটে তুলে নিয়ে ঘোষণা দিল যে সে আসলে হল্যান্ডের সমর্থক। সবার হইচইয়ে চুপ করে ছিল। বললাম, ‘হল্যান্ডের সাপোর্টার কবে থেকে?’ বলল, ‘স্যার, ওরা আসলে যেমনই খেলুক, লোক ভালো। সেবার কত সহজে যে ভিসা দিয়ে দিল, তুলনা হয় না। এক ডাচ কাপল তো ছবিও কিনেছে!’
আর্জেন্টিনার খেলার দিন লেডিস ক্লাবে বিয়ের দাওয়াত। বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা ছিল। তাতে চোখ রাখি, না কাচ্চিতে চোখ রাখি অবস্থা। কিন্তু দেখা গেল, একসময় কাচ্চি বিরিয়ানিতেই মনোযোগ দিল সবাই। স্ক্রিনের দিকে আর তাকালই না। মেহমানরা বেশির ভাগই পুরান ঢাকার। তাঁদের একজন বললেন, ‘ব্যাটারা একদিনে পইচা গেল কেমনে? ট্যাকা খাইছে থার্ড ওয়ার্ল্ডের তো!’ আরেকজন বললেন, ‘নিজেগো সেরা ভাবলে যা হয়!’
যাই হোক, হট ফেবারিটরা নেই। খেলার উত্তাপের পারদ বাংলাদেশে এখন থার্মোমিটারের একেবারে নিচের দাগে। এখন জার্মানি, হল্যান্ড আর স্পেন—এই তিন ইউরোপীয়র মধ্যে টিকে আছে একমাত্র দক্ষিণ আমেরিকান উরুগুয়ে। তাদেরও বিশ্বকাপ জেতা আছে। অতএব, এবার অন্তত ফাইনাল খেলুক তেমন প্রত্যাশায় আমাদের সমর্থন থাকবে। তবে বেশির ভাগ সম্ভাব্য সমর্থক যে জার্মানির তা বলাই বাহুল্য। থাকতেই পারে। কারণ যে খেলা দেখাল রোবটের মতো করে, মেশিন মেশিন ভাব দিয়ে তা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তো রোখা মুশকিল। অবশ্য আমার ধারণা, হল্যান্ডের খেলা সুন্দর বলে তারা তাই দেখাতে গিয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কাতারে পড়ে যেতে পারে। স্পেনও তাই। তবে বহুবার হল্যান্ড বুড়ি-ছোঁয়ার কাছাকাছিতে গিয়ে বাদ হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই আর হাতছাড়া করতে চাইবে না। দেখা যাক কেমন করে।

সবার ওপরে ফুটবল সত্য!

ছোট্ট এই দেশটিকে বলা হয় ‘লাতিন আমেরিকার সুইজারল্যান্ড’। দক্ষিণ আমেরিকায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি তাদের, সবচেয়ে কম দুর্নীতিপরায়ণ তারা। দেশটিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের হার দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আয়ের সমবণ্টনে তারা পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ ক্ষুদ্র এই দেশর নাম উরুগুয়ে। ৩৪ লাখ মানুষের এই ছোট্ট দেশেতে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই। তবে একটা বিষয় নিয়ে উন্মাদনা আছে—ফুটবল। উরুগুয়ের মানুষ ফুটবল ভালোবাসে। ফুটবলে জাগে তারা, ফুটবলে বাঁচে।
এবার সেই উরুগুয়ের হাতে লাতিন আমেরিকার পতাকা। ভৌগোলিক দিক থেকে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার মাঝে অবস্থান উরুগুয়ের। দক্ষিণ আমেরিকাই শুধু নয়, বিশ্ব ফুটবলেরই বড় দুটি নাম ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। ফুটবলেও যেন এই দুই দেশের চাপে পিষ্ট উরুগুয়ে।
এবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও তা-ই ছিল—সেরা চার দলের একটি হয়ে বিশ্বকাপে আসতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপে আসতে হয়েছে প্লে-অফ খেলে, লাতিন আমেরিকার শেষ দল হিসেবে। এরই মধ্যে সেই ‘লাস্ট’ দল একটা ব্যাপারে ‘ফার্স্ট’ হয়ে গেছে। চার লাতিন শক্তির, এমনকি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের বিদায়ের পরও টিকে আছে তারা।
এখন সেই ‘লাস্ট’ দল উরুগুয়ে বিশ্ব ফুটবলের ‘ফার্স্ট’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। শুধু নিজেদের দেশের জন্য নয়, নিজেদের মহাদেশের জন্যই লড়তে চান স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি, ‘বিশ্বকাপে শেষ দল হিসেবে বাছাইপর্ব পার হয়েছি আমরা। ফলে আমরা জানি, খারাপ সময়ে কীভাবে সামনে এগোতে হয়। এখন আমাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। আমরা একটা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।’
আপাতত কাভানিদের এই প্রতিনিধিত্ব একটু বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল থাকতে উরুগুয়ে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করবে, এটা আজকের দিনে আর ঠিক স্বাভাবিক মনে হয় না। অথচ ফুটবল-পাগল এই দেশটির ইতিহাস বলে তারাই প্রথম লাতিন ‘পরাশক্তি’।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা একটিও বিশ্বকাপ জেতার আগেই দুটি বিশ্বকাপ (১৯৩০ ও ১৯৫০) জিতে ফেলেছে উরুগুয়ে। উরুগুয়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ফুটবলের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। কুড়ির দশকের অলিম্পিক ফুটবল তো শাসন করেছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিই। ১৯২৪ ও ১৯২৮, পরপর দুটি অলিম্পিকের সোনা জিতেছে তারা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের ভারও তাই দেওয়া হয় তাদের।
উরুগুয়ের ফুটবল যে ধর্ম-বর্ণের ওপরে তা জানিয়েছেন সে দেশের ফুটবল ঐতিহাসিক লুইস পার্টস, ‘১৯১৬ সালে উরুগুয়ে দলে দুজন কালো খেলোয়াড় ছিল। এ দুজন উরুগুয়ের কোপা আমেরিকা জয় করা দলেও খেলেছে। উরুগুয়ের মানুষকে সংঘবদ্ধ করার মূল উপাদান হচ্ছে ফুটবল। ফুটবল উরুগুয়ের মানুষকে অনেক কিছুই দিয়েছে।’
হঠাৎ করে উরুগুয়ের সেই সোনালি দিন যেন হারিয়ে গিয়েছিল। তবে এবার আবার ডিয়েগো ফোরলানরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—উরুগুয়ে আসলে ফুটবলেরই দেশ। উরুগুয়ের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় অবদান আছে একজন বিশেষ মানুষের। তিনি হুলিও মারিয়া সাঙ্গুইনেত্তি। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০০, দুই দফায় এই ১০ বছর উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। বর্তমানে উরুগুয়ের প্রোগ্রেসো ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক সভাপতি। উরুগুয়ের প্রতিটি ম্যাচের আগে অধিনায়ক ডিয়েগো লুগানোকে ডেকে পরামর্শ আর আশীর্বাদ দেন সাঙ্গুইনেত্তি। ম্যাচের শেষেও উরুগুয়ে অধিনায়ককে ডেকে বাহবা দেন।
মাঠের বাইরে সাঙ্গুইনেত্তি আর পুরো দেশ, ডাগ-আউটে অস্কার তাবারেজ। এঁদের প্রেরণা আর ভালোবাসায় মাঠে লুগানো-ফোরলানরা এগিয়ে চলছেন তরতর করে। আর সেই এগিয়ে যেতে দেখে তাবারেজের মনে হয়, ‘উরুগুয়ে এখনো দারুণ ফুটবল সংস্কৃতির দেশই আছে। আমাদের আবেগপ্রবণ সমর্থকদের জন্যই ফুটবলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ আমাদের মানুষের জন্য।’

প্রস্তুতি ম্যাচে বড় জয় বাংলাদেশের

প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যর্থ বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াল দ্বিতীয় ম্যাচেই। শফিউল ও মাশরাফির চমৎকার বোলিংয়ে কাল মিডলসেক্সকে হারাল ১৪১ রানে। জহুরুল (৮৮) ও ইমরুলের (৭৭) হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে বাংলাদেশ তোলে ৩০১ রান। জবাবে ৩৯.৩ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট মিডলসেক্স। শফিউল ৩১ রানে ৩টি ও মাশরাফি ২০ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন।
৫০ রানের মধ্যে তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিক ফিরে গেলে তৃতীয় উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪৩ রানের জুটি গড়েন জহুরুল ও ইমরুল। ১২ রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত জহুরুলের ইনিংসটিতে ছিল ৯টি চার। আর ৯২ বলে ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করেন ইমরুল। ব্যাটসম্যানদের পর বোলাররাও ভালোই করেছেন। প্রথম ওভারেই সিম্পসনকে ফিরিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চতুর্থ ওভারে শফিউলের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে থম্পসন (৮) ফিরে গেলে ১২ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে মিডলসেক্স। তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে স্বাগতিকেরা। কিন্তু এর পর নিয়মিত বিরতিতে ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসা। আগামী পরশু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০১/৭ (তামিম ২৮, ইমরুল ৭৭, জুনায়েদ ১০, জহুরুল ৮৮, সাকিব ৩৮, মুশফিকুর ২৫, মাহমুদউল্লাহ ৭*, ফয়সাল ৪, মাশরাফি ১৬*; ইভানস ৩/৫১, উইলিয়ামস ২/৬০, রোল্যান্ড-জোন্স ১/৪৬, স্মিথ ১/৪৭)। মিডলসেক্স: ৩৯.৩ ওভারে ১৬০ (ওয়াইস ৬১, মালান ৩২, ডাভেই ১১, স্মিথ ১১; মাশরাফি ৬.৩-২-২০-২, শফিউল ৯-০-৩১-৩, রাজ্জাক ৮-০-৩৭-১, মাহমুদউল্লাহ ৫-০-২২-০, সাকিব ৮-২-২৮-১, ফয়সাল ৩-০-১৩-১)। ফল: বাংলাদেশ ১৪১ রানে জয়ী।

এক পুরিদাদুর গল্প by শারমিন নাহার

ঝুমবৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমি আর আমার সঙ্গী রওনা হলাম। বাড়িটা খুঁজে বের করতে খানিকটা সময় লাগল। এরই মধ্যে বৃষ্টিটা ধরে এসেছে। আমরা যখন তাঁর ঘরে পা রাখি, তখন টুপটাপ বৃষ্টির পানি পড়ছে টিনের চালে। যেন সৃষ্টি হয়েছে এক সুরের মূর্ছনা। ঘরে ঢুকতেই নাকে এসে লাগল খিচুড়ির সুগন্ধ।
এক বৃদ্ধ জবুথবু হয়ে বসে আছেন ঘরের মধ্যে। তাঁর হাত কিন্তু বসে নেই। সুনিপুণভাবে তিনি তৈরি করছেন পুরির কিমা। হ্যাঁ, অশীতিপর এই বৃদ্ধের নাম নূর মিয়া। ছোট্ট গোপালগঞ্জ শহরে সবার কাছে তিনি পুরিদাদু নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে পুরি বিক্রি করছেন বলে জানালেন তিনি।
‘বয়স কত হলো, দাদু?’
দাদু উত্তর দেন, ‘হবে পিরায় ৮০-৮৫ বছর।’
বয়সের সঠিক হিসাবটা মনে নেই তাঁর। বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তিও লোপ পেয়েছে খানিকটা। তবে তিন প্রজন্ম দেখেছেন এই দাদু। সেই হিসাবে তাঁর বয়স সত্যিই অনেক বেশি। নূর মিয়া জন্মসালটা মনে না থাকলেও আদি বাড়ি যে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানায়, তা ঠিকই মনে আছে।
দাদু বলেন, ‘নদী আমাগো বসতবাড়ি ভাইঙ্গালাইছে। হ্যার পর ঢাকা চইলা আইলাম।’ এরপর আর মুন্সিগঞ্জ ফিরে যাওয়া হয়নি দাদুর। ঢাকাতেই চাকরি জুটিয়ে নেন এক আইনজীবীর পিয়ন পদে। নূর মিয়া বলতে থাকেন, ‘সাবে যেহেনে যাইত, আমিও তার লগে লগে সেহেনে যাইতাম।’ কাজের সুবাদে সেই আইনজীবী একসময় চলে আসেন গোপালগঞ্জে। যদিও তখন পর্যন্ত গোপালগঞ্জ নামে আলাদা কোনো জেলা ছিল না। বৃহত্তর ফরিদপুরের একটি অংশ ছিল গোপালগঞ্জ। সন-তারিখ ঠিকমতো বলতে না পারলেও স্মৃতি হাতড়ে দাদু বলেন, ‘তখন আইয়ুবের শাসন চলতেছিল।’
ইতিমধ্যে বিয়ের পাট চুকিয়ে ফেলেছেন নূর মিয়া। স্ত্রী জোহরা আর কন্যা ফাতেমাকে নিয়ে ছোট্ট সংসার তাঁর। এরই মধ্যে সেই আইনজীবী পেশা বদলে গোপালগঞ্জ শহর ছেড়েছেন। কিন্তু নূর মিয়ার মায়া পড়ে যায় গোপালগঞ্জের প্রতি। তাই এখানেই থেকে যান তিনি। সংসার চালানোর জন্য শুরু করেন বাবুর্চিগিরি। আর বিকেলে কলেজ রোড ও মধুমতীর পাড়ে পুরি বিক্রি শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুকেও রান্না করে খাইয়েছেন বলে দাবি করেন নূর মিয়া। তিনি বলেন, ‘শেখ সাব গোপালগঞ্জ আইলে তো আমি পাকশাক কইরা খাওয়াইছি। শেখ সাব যে কত কতা কইত, দ্যাশ নিয়া স্বপ্ন দ্যাখত, তা কইয়া শ্যাষ করা যাইব না।’
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নূর মিয়া আশ্রয় নেন টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের বাড়িতে। ‘কিন্তু শয়তানগুলা তো শেখের বাড়িতেই আগে আগুন দিল।’ সেখান থেকে পালিয়ে কখনো গর্তে লুকিয়ে কখনো আবার বাঁশের ঝোপে আশ্রয় খুঁজেছেন নূর মিয়া। প্রশ্ন করি, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন কি না? তিনি বলেন, ‘না, তয় মুক্তিযোদ্ধাগো পাকশাক কইরা খাওয়াইতাম। হ্যারপর তো যুদ্ধ শেষে স্বাধীন হইলাম আমরা।’ নূর মিয়া বলেন, ‘স্বাধীন দেশে পতাকাও উড়াইছি।’ এসব কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে তাঁর। স্বাধীন দেশ পাওয়ার আনন্দ এখনো কাঁদায় তাঁকে। তবে সেই অশ্রু আনন্দের।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও সবকিছু নতুন করে শুরু করেন নূর মিয়া। দিনের বেলা করতেন বাবুর্চির কাজ আর বিকেল হলে বিক্রি করতেন পুরি। নূর মিয়া বলেন, প্রথমে পুরি বিক্রি করতেন এক আনা করে। এরপর দুই আনা, তিন আনা; এখন সেই পুরির দাম দুই টাকায় ঠেকেছে। ‘জিনিসপাতির দাম শুধু বাড়তিছে। আমাগো তো কোনো হাত নাই। তয় স্বাদ কিন্তু আগের মতো নাই।’ সময়ের পরিক্রমায় মেয়ে বড় হয়েছে। একসময় তাঁর বিয়েও দিয়েছেন। এরই মধ্যে স্ত্রীকে হারিয়েছেন নূর মিয়া।
নিজের কাজকর্ম নিজেই করেন নূর মিয়া। সকালের চাটা নিজেই তৈরি করেন তিনি। এরপর যান বাজারে। রান্না সেরে দুপুর থেকেই শুরু করেন পুরি বানানোর কাজ। এরপর পুরির সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। স্থান সেই কলেজ রোড। মনের আনন্দে পুরি বানান আর ভাজেন তিনি। এ কাজ চলে রাত নয়টা পর্যন্ত।
নূর মিয়ার পুরির প্রশংসা করছিলেন পুরি কিনতে আসা রাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দাদুর পুরি এ শহরের সবচেয়ে স্বাদের পুরি। যখনই পুরি কিনতে আসি, দেখি ভিড় লেগেই আছে। এমন প্রশংসায় খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে নূর মিয়ার মুখমণ্ডল।
জীবনসায়াহ্নে দাঁড়িয়ে কী স্বপ্ন দেখেন নূর মিয়া? ফোকলা দাঁতে হেসে বৃদ্ধ উত্তর দেন, আসলে কী চাওয়ার আছে এখন। শুধু ভালো পুরি বানাইতে চাই। মানুষ যেন আমার পুরি খেয়ে ভালো কয়। বাড়িতে অতিথি, তাই আতিথেয়তার কমতি নেই নূর মিয়ার। প্লেটভর্তি গরম খিচুড়ি এনে দেন আমাদের সামনে। মৃদু হেসে নূর মিয়া বলেন, ‘খান, খাইলে খুশি হব। আমি নিজে রানছি। ডাল-চাইলের ভাত।’

এমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যা হবে উন্নয়নের সহযোগী by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

পৃথিবীর স্থলভাগের মাত্র এক সহস্রাংশ বাংলাদেশে হলেও তার জনসংখ্যার ২৪ সহস্রাংশ ধারণ করে আছে আমাদের দেশটি। প্রাকৃতিক সম্পদেরও দারুণ কোনো ছড়াছড়ি নেই। যাও বা আছে, দক্ষতার অভাবে মাগুরছড়া ও টেংরাটিলায় তা বিদেশিদের কারিগরি অদক্ষতায় কিংবা গাফিলতিতে অনিষ্ট হচ্ছে, যার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষমতাও আমাদের নেই। এই ক্ষুদ্র দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তির থেকে অধিকতর কার্যকর ও সর্বজনীন প্রযুক্তি আর নেই। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারণা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সেহেতু কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই।
জাতীয় উন্নয়নে চাই আত্মবিশ্বাস, আর আত্মবিশ্বাসের প্রতিষ্ঠায় চাই সফল উদাহরণ। ভারতবাসী আইআইটি, আইআইএসসি কিংবা টিআইএফআরের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান নিয়ে গর্ববোধ করে আত্মবিশ্বাসী হয়, জাতীয় অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখে। আমাদের এই ভূখণ্ডে আমরা একসময় আদমজী জুটমিল নিয়ে গর্ববোধ করতাম। কিন্তু এই গর্বের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন কেবল প্রকৃতিপ্রদত্ত কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত আর সুন্দরবন ছাড়া নিজেদের তৈরি গর্বের কিছু দেখানোর নেই। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম জনবহুল দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই মানসম্পন্ন কোনো বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পাচ্ছে না, যদিও আমাদের দেশে পড়তে আসা ছাত্রদের দেশ মালয়েশিয়া কিংবা কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থান করে নিচ্ছে। থাইল্যান্ডও এই উন্নতিক্রমে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে, এমনকি পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।
পাকিস্তানে হায়ার অ্যাডুকেশন কমিশন পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর তিন শ জন বিদেশি অধ্যাপক এনে তাদের গবেষণা ভিত্তিকে সমৃদ্ধ করছে, ভারতের আইআইটিগুলোতে শিক্ষকদের অর্থনৈতিক অবস্থা এমনি যে আমেরিকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে তারা দেশে চলে আসে। আর আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে এমন কোনো পদক্ষেপ নেই।
কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি লক্ষ্য নোবেল বিজয়ী তৈরি করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কোরিয় ভাষা না জানা, কোরিয় সংস্কৃতি না জানা মার্কিন এক নোবেল বিজয়ীকে নিয়ে এসেছিল, যাতে করে কোরীয় বিজ্ঞানীরা এই নোবেল বিজয়ীর সান্নিধ্য পায়, উদ্বুদ্ধ হতে পারে। ১৯৭১ সালে স্থাপিত কাইস্ট এ পর্যন্ত নয় হাজার ১৬৮টি বিএসসি, ১৮ হাজার ৮৪৪টি এমএসসি এবং সাত হাজার ২২৩টি পিএইচডি ডিগ্রি দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কাইস্টের থেকে বয়সে বড় হলেও পিএইচডি দেওয়ার সংখ্যায় শতভাগ পিছিয়ে। স্বভাবতই ২০০৮ সালের এশিয়া উইকের তালিকায় কোরিয় কাইস্টের অবস্থান এক নম্বরে। একসময় আমাদের থেকে পিছিয়ে থাকা কোরিয়া দুর্দান্ত গতিতে যে উন্নয়নের সোপান বেয়ে উঠছে, তা কিন্তু শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েই। জনসংখ্যাসর্বস্ব আমাদের দেশের উন্নয়নও নির্ভর করছে শিক্ষাকে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি তার ওপর।
এবার ফিরে আসি ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের বিষয়ে।
ইন্টারনেট ঘেঁটে সবচেয়ে কাছাকাছি নামে যা পেলাম, তা হলো হল্যান্ডের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় জোট করে একটি ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি তৈরি করেছে, যার খরচ তারা নিজেদের আকারের অনুপাতে বহন করে এবং প্রতিবছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয় মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, নিজের জনবল সামান্যই। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও গবেষক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার মানোন্নয়নের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করলে এই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে অর্থনীতি, চিকিৎসাশাস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিসংখ্যানের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোর্স তৈরি সম্পন্ন হয়েছে, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য সিডি/ডিভিডি তৈরি করা হয়েছে।
মালয়েশিয়াতে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি সাইবারজায়া এবং মেলাকা নামের দুটি ক্যাম্পাসের মাধ্যমে শিক্ষাদান করে। ছাত্রদের সম্ভাবনাময় প্রকল্পসমূহ বাণিজ্যিকীকরণের জন্য এখানে একটি ইনকিউবেটরও রয়েছে। এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ মাল্টিমিডিয়া, ম্যানেজমেন্ট, ‘বিজনেস অ্যান্ড ল’ নামক অনুষদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে লেখাপড়া হয়। কোরিয়াতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ইউনিভার্সিটি, যা ২০০৯ সাল থেকে কাইস্টের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।
আমাদের দেশ যে অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত, তার কার্যকর সমাধান আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দিতে পারছে না। যানজট সমস্যা, কয়লা-তেল উত্তোলনের সমস্যা, বন্যা ও খরার সমস্যা, উপকূল অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সমস্যা, নদীর নাব্যতার সমস্যা কোনোটিরই কার্যকর সমাধান এখনো দিতে পারিনি। এমতাবস্থায় অবশ্যই আমাদের এমন একটি বিশ্বমানের শিক্ষা/গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত, যা আমাদের জাতীয় সমস্যাসমূহের কার্যকর সমাধান বের করার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হবে। ভারতের আইআইটিগুলো প্রতিষ্ঠায় যে প্রয়োজনীয় অ্যাক্ট, স্ট্যাটিউট ও অর্ডিন্যান্স পাস হয়েছিল, আমরা সেগুলোকে বিবেচনায় এনে আইন প্রণয়ন করতে পারি। এই ইনস্টিটিউটগুলোকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তাতে শিক্ষক-গবেষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাও আলাদাভাবে দেওয়ার বিধান ছিল।
আমরা যদি এ রকম জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়তে চাই, যা আমাদের দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিশ্চয়ই বর্তমান ৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হবে না। আমাদের দেশের সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে, এমন অভিজ্ঞ ও গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষক-গবেষকদের নিয়েই তৈরি করতে হবে এমন বিশ্ববিদ্যালয়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেহেতু নানা ক্ষেত্রে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশেষায়িত হলেও নানা বিভাগ থাকতে হবে। আমরা জেনেছি, অতি সম্প্রতি প্রবাসী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র ও গবেষকেরা পাটের জেনোমে সিকুয়েন্সিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং অ্যাডভান্সড গবেষণা করছে। এই গবেষণায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরিসীম। বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আরও বেশ কয়েকটি বিষয় তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং সে বিষয়গুলোর যৌক্তিক মাত্রায় উপস্থিতি প্রয়োজন।
এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে, তার কিছু নিচে উপস্থাপন করা হলো। ১. এই প্রতিষ্ঠানের বাজেট ভারতের আইআইটিসমূহের তুলনীয় হতে হবে। ২. এর কর্ণধার হবেন একজন প্রোথিতযশা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী। আমরা এ রকম মানের প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক-গবেষকদেরও বিবেচনা করতে পারি। ৩. উপদেষ্টা বোর্ডে থাকবেন বিভিন্ন দেশের নামকরা বিজ্ঞানী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি। সরকারের গবেষক পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরাও এ বোর্ডে থাকবেন। ৪. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক হওয়ার শর্তাবলি হবে আইআইটি, আইআইএসসি কিংবা কাইস্টের অনুরূপ। কোনোক্রমেই এই শর্তাবলি শিথিল করা যাবে না। বিদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের চাকরি করার সুবিধা থাকতে হবে। ৫. বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা যেন এমন উচ্চমানের হয়, যাতে করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য তা অত্যন্ত লোভনীয় হয়। যেমন—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যা বেতন, এখানে তার পাঁচগুণ করা যেতে পারে। গবেষণা করার সুযোগও পর্যাপ্ত থাকতে হবে। ৬. বিদেশি কিংবা প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা যাতে করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্পকালীন সময় থেকে গবেষণা ও শিক্ষাদান করতে পারে, তার ব্যবস্থা থাকা উচিত। ৭. শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণীয় আবাসন থাকতে হবে। ৮. সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সামনে রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি যাতে মডেল হয়। যাতে করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল ধরে নিজেদের ডিজিটালে রূপান্তর করতে পারে। ৯. ছাত্র-গবেষকদের সম্ভাবনাময় প্রকল্পসমূহ বাণিজ্যিকীকরণ করার জন্য ইনকিউবেশনের ব্যবস্থা রাখা দরকার। ১০. শিক্ষক ও গবেষকদের নিয়োগের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে তাঁদের উৎপাদনশীলতার ওপর, যাতে করে স্থায়ী চাকরি উদ্ভূত জড়তা ও কাজের প্রতি অনীহা তাঁদের পেয়ে না বসে। ১১. প্রবাসী বিদেশি শিক্ষক, গবেষকদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন গড়ে তোলা। ১২. বিশ্বখ্যাত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষকদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এই পথে বাংলাদেশেও হতে পারে ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অথবা বাংলাদেশ অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, যা হবে আমাদের মর্যাদার প্রতীক, আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বুয়েট ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার বাহিনীকে সামলান by আইন ও সালিশ কেন্দ্র

গত কয়েক দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকলাপের যে বিবরণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আমরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন এবং অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশের হাতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং তিনটি ঘটনায়ই পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া পুলিশের গুলিতে মুন্সিগঞ্জে এক জেলেও নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ জুন হরতালের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে এবং দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টিও এর নিন্দা জানিয়েছে। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান তো রয়েছেই। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য সংরক্ষণ হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আলোচিত তিনটি মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে বেশ কিছু ভয়ংকর ব্যাপার রয়েছে। তিনটি ঘটনায়ই ঘুষ চাওয়া এবং চাহিদার পরিমাণ অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই পুলিশি ভাষ্যের সঙ্গে পারিপার্শ্বিকতার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে অন্তর্ধানের ঘটনা ঘটছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে বলা হলেও তারা তা অস্বীকার করছে। অন্তর্ধানকারী সেসব ব্যক্তি হয় নিখোঁজ রয়েছে অথবা কারও কারও লাশ পরে পাওয়া গেছে, যাকে পুলিশের পক্ষ থেকেই ‘গুপ্তহত্যা’ বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায়ও বিষয়টি আলোচিত হয় এবং এ ধরনের হত্যা বন্ধের জোর দাবিও আসে পুলিশ কর্মকর্তাদের তরফ থেকে। স্পষ্টই বোঝা যায়, তাদের অভিযোগের তীর র‌্যাবের দিকে। তারও আগে পুলিশের এসআই গৌতম কুমার রায় হত্যার জের ধরে হায়দার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে র‌্যাব-পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, যা সামাল দিতে আইজিপিকে মধ্যস্থতা বৈঠক করতে হয়।
বিদ্যমান এমন বাস্তবতায় আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনারা নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। ক্ষমতায় এসে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করে প্রমাণ করার চেষ্টা শুরু করলেন যে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’ করছে। আর তাতে চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী মারা যাচ্ছে। এখন দেখুন, আপনার সেই বক্তব্যে আপনার বাহিনীগুলো কতটা প্রশ্রয় পেয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তারা এমনকি একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে নেমেছে। যেন মনে হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর জনতার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু এটা তো কোনো পুলিশি রাষ্ট্র নয়। তাহলে বুঝতে হয়, যা ঘটছে তা আপনাদের নির্দেশেই ঘটছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তার জবাবদিহি তো আমাদেরও করতে হয়! কিন্তু এ দায় আমরা কেন নেব?
ইতিমধ্যে এ ঘটনাগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেমনটা এর আগেও অসংখ্যবার করা হয়েছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার নিশ্চয়ই ভালো জানার কথা, এ ধরনের তদন্ত উদ্যোগের প্রতি জনসাধারণের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের দিয়েই যদি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতে আস্থা থাকে কী করে বলুন? তা ছাড়া এ ধরনের অতীত ঘটনার তদন্ত ফলাফল তো জনগণকে সেভাবে জানানোও হয়নি।
পরিবহনকর্মী মজিবরের শিশুসন্তান ইকবালের কথা একবার চিন্তা করেছেন! বাবা তাকে নিয়ে গেলেন ফুটবল কিনে দিতে। তারপর সে নিজের চোখের সামনে দেখল, বাবাকে পুলিশ ফুটবলের মতো লাথি মারছে, পরদিন নদীতে ভাসতে দেখল বাবার লাশ। আপনারা যে ভাষ্য তাকে শোনালেন, তার সত্য-মিথ্যা তার চেয়ে ভালো আর কে জানে! একবার ভেবে দেখুন তো, আপনারা যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকের আসনে বসে আছেন, ওই ছোট্ট শিশুটিকে আপনারা কী বার্তা দিলেন!
আপনি নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, পুলিশের আচরণ সম্পর্কে শিশুটির বর্ণনা প্রসঙ্গে পুলিশের মিরপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘সাত বছর হোক আর পাঁচ বছরই হোক, তার কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। তারা ছোট থেকেই ক্রাইমের সঙ্গে থাকতে থাকতে সে রকম হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে আমার বিষয়টি সত্য বলে মনে হয় না।’ কিন্তু আপনি হয়তো দেখেননি, প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ওই প্রতিবেদনের বিপরীতে জনৈক পাঠক মন্তব্য লিখেছেন, ‘পুলিশের মহামান্য উপকমিশনার মতামত দিয়েছেন, আমাদের অবশ্যই তাঁর মহামূল্যবান মতামতকে সেলাম ঠুকে গ্রহণ করতে হবে...এখন সাহারা আপা মহামান্য পুলিশ কমিশনারকে সমর্থন করে দু-চারটি কথা বললেই মামলা ডিসমিস।’
মাননীয় মন্ত্রী, সময় এসেছে, আপনার বাহিনীকে সামলান, এখনই!
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক): মানবাধিকার ও আইন-সহায়তা সংগঠন।

গল্প নয়, সত্যি ঘটনা by আনিসুল হক

গদ্যকার্টুনে সাধারণত আমি কৌতুক পরিবেশন করে থাকি। এই কৌতুকগুলো সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত নয়, নিতান্তই হাস্যকৌতুক, পুরোপুরিই কাল্পনিক। কিন্তু আজ যে গল্পগুলো বলব, সেসব সত্য বলে প্রচারিত।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকাতে।
লিওলা নামের একজন ভদ্রমহিলা। তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে সুখেই ছিলেন। কিন্তু তাঁর সুখের ঘরে দুখের আগুন জ্বালাল একটা টেলিফোন। তাঁর বাড়ির পাশে একটা মোটেল চালু হলো। সেই মোটেলের টেলিফোন নম্বর আর তাঁর বাড়ির টেলিফোন নম্বর প্রায় একই রকম। একটা ডিজিট এদিক-ওদিক। এর ফলে তাঁর বাসার ফোনটা সারাক্ষণই বাজতে থাকে। হ্যালো, এটা কি প্লাজা মোটেল?
জি না, রং নম্বর।
একটু পরে আবার ফোন। হ্যালো, প্লাজা মোটেল?
না, রং নম্বর।
কত আর ফোন ধরা যায় আর বলা যায় রং নম্বর। লিওলা টেলিফোন কোম্পানিতে অভিযোগ করলেন। টেলিফোন কোম্পানি বিষয়টাকে হেসেই উড়িয়ে দিল।
নম্বর তো আলাদা। মোটেলের সঙ্গে মিলে গেলে আমরা কী করব?
সত্যি হয়তো তাদের কিছু করার ছিল না। এবার লিওলা গেলেন মোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে। আপনারা কি কাইন্ডলি আপনাদের টেলিফোন নম্বরটা পাল্টাবেন।
মোটেল কর্তৃপক্ষও লিওলার অভিযোগ কানে তুলল না।
উপয়ান্তর না দেখে লিওলা নিজের সমস্যার সমাধানে নিজেই এগিয়ে এলেন।
তার কাছে ফোন এল, হ্যালো, প্লাজা মোটেল।
জি বলছি।
আপনাদের ডাবল রুম ডিলাক্স ফাঁকা আছে।
জি আছে। কয়টা রুম লাগবে?
আমরা অমুক কলেজ থেকে আসছি। হকি টিম। সাতটা রুম দরকার।
কবে আসছেন।
এই তো ৭ তারিখ থেকে ১০ তারিখ।
ঠিক আছে আমি বুকিং দিয়ে দিচ্ছি।
কত টাকা অ্যাডভান্স পে করতে হবে?
আপাতত লাগবে না। আমি আপনার কথাতেই আস্থা রাখছি। আমরা প্লাজা কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের বিশ্বাস করি।
একটু পরে আবার ফোন। হ্যালো, প্লাজা মোটেল?
জি বলছি।
আমরা মেয়ের বিয়ের জন্য হলরুম খুঁজছি।
কতজনের অনুষ্ঠান করবেন। কবে?
এই তো ২০০ জনকে আপ্যায়ন করব।
কবে করবেন বলুন। কী কী লাগবে।
মেয়ের জন্য যা যা লাগবে, সবকিছুর অর্ডার শুনে নিয়ে একেবারে কনফার্ম করে দিলেন লিওলা।
হ্যালো... আবার ফোন। আমরা বলছি কুস্তিগীর ফেডারেশন থেকে। আমাদের ১০ জন কুস্তিগীর থাকবেন আপনার মোটেলে।
লিওলা কোনো রকম অগ্রিম ছাড়াই তাদেরও রুম বুকিং দিয়ে দিলেন। একটার পর একটা রুম, হল, লবি তিনি বুকিং দিয়েই চলেছেন।
তার পর থেকে ওই মোটেলে যা সব কাণ্ড ঘটতে লাগল, তা সহজেই অনুমেয়। হকিস্টিকওয়ালারা, কুস্তিগীরেরা, বিয়ের দাওয়াতিরা এসে ভিড় জমাতে লাগল মোটেলে।
ছয় মাস পর ফোন এল একটা বড় হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। হ্যালো, প্লাজা মোটেল?
লিওলা বললেন, জি বলছি। বলুন কী করতে পারি।
আপনাদের মোটেলটা তো দেউলে হয়ে গেছে। ওটা আমরা কিনে নিতে চাই। বিক্রি করবেন?
বিক্রি করতে পারি, একটা শর্তে। যদি আপনারা এই প্লাজা মোটেলের টেলিফোন নম্বরটা বদলাবেন, এই বিষয়ে আগেভাগেই আমাদের কথা দেন।
আরেকটা সত্য ঘটনা বলি।
একটা শেয়াল মধ্য যুগোস্লাভিয়ার ৩৮ বছর বয়স্ক এক শিকারিকে গুলি করে হত্যা করেছে। এপি পরিবেশিত এই খবরের সূত্র ছিল যুগোস্লাভ বার্তা সংস্থা তানযুগ।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার গোরনজে রাসনো গ্রামের সালিহ হাজদুর নামের একজন কৃষক রোববার শিকারে গিয়েছিলেন।
সালিহ একটা শেয়ালকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে গুলি শেয়ালের পায়ে লাগে। শেয়ালটা আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। এই কৃষক শেয়ালের চামড়াটা রক্ষা করার ইচ্ছে থেকে আর গুলি না ছুড়ে রাইফেলের বাঁট দিয়ে শেয়ালটাকে আঘাত করতে থাকেন।
শেয়ালটাও পা দিয়ে রাইফেলটা জড়িয়ে ধরে। তার ট্রিগারে পা লেগে গুলি বেরিয়ে গেলে সেটা ওই শিকারি কৃষকের বুকে বিদ্ধ হয়। কৃষক ঘটনাস্থলেই মারা যান। শেয়ালটাও পরে মারা গেছে, তানযুগ জানায়।
এই ঘটনাটা কোন রোববারে ঘটেছে, ইন্টারনেটের সাইটে সেটা খুঁজে পেলাম না। কিন্তু তারা ঘটনাটাকে সত্য এবং এপি পরিবেশিত খবর বলেই দাবি করছে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি একটা ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা, পতাকা ওড়ানো, পতাকা সরানো ইত্যাদি নিয়ে ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে এক ব্রাজিল-সমর্থক এক আর্জেন্টিনা-সমর্থককে ছুরি মেরেছেন এই বাংলাদেশে। আর্জেন্টিনা-সমর্থকটি মারা গেছেন।
স্টালিনের পুত্র জ্যাকব কেন মারা গিয়েছিলেন জানেন? আমার কলামে মিলান কুন্ডেরার বই থেকে আমি বার তিনেক ঘটনাটা লিখেছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্যাকব ছিলেন মিত্রবাহিনীতে। তিনি টয়লেটে গিয়ে দেখেন, টয়লেট নোংরা। তিনি তাঁর অফিসারকে অভিযোগ করেন, আমি স্টালিনের ছেলে, এই নোংরা টয়লেটে বর্জ্য ত্যাগ করতে পারব না। অফিসার তাঁকে বলেন, নিজেই পরিষ্কার করে নাও। জ্যাকব সেটা করতে অস্বীকৃতি জানান। অফিসার তাঁকে শাস্তি দেন। রাগে-দুঃখে জ্যাকব ঝাঁপিয়ে পড়েন কাঁটাতারের বেড়ায়। সেটা ছিল বিদ্যুতায়িত। জ্যাকব মারা যান। লেখক মিলান কুন্ডেরা বলেছেন, জ্যাকব মারা গেছেন গুয়ের জন্য। হি ডায়েড ফর শিট।
আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের জন্য যাঁরা মারা যাচ্ছেন আর মারামারি করছেন, তাঁরা তাঁর থেকে ভালো কোনো কারণে মারা যাচ্ছেন, সেটা আমি খুব বড় মুখ করে বলতে পারব না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

বাঙালি এক নম্বর, সাঁওতাল দুই নম্বর -এই আজব ও লজ্জাকর জাতিভেদ চলতে পারে না

কামেল মারান্ডি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা তাঁর কাছ থেকে বিদ্যা গ্রহণ করে; তিনি তাদের মনুষ্যত্বের শিক্ষা দেন, মানুষের সমতার কথা বলেন। তাতে কারও কোনো আপত্তি দেখা যায়নি। কিন্তু কামেল মারান্ডি শিক্ষক হলেও জাতিতে সাঁওতাল। নিজের জাত-পরিচয় তিনি যত না মনে রাখেন, তার চেয়ে বেশি মনে রাখে সাঁওতাল সমাজের চারপাশে ঘিরে থাকা বাঙালি সমাজ। তাই সম্মানিত শিক্ষক হলেও হোটেলে তাঁকে খাবার দেওয়া হয় না। যদিও বা কখনো দেওয়া হয়, তখন ব্যবহার করা হয় ‘দুই নম্বর থালাবাসন’; অর্থাৎ যে পাতে বাঙালিরা খায় তা এক নম্বর, আর সাঁওতালদের জন্য বরাদ্দ আলাদা করা দুই নম্বর বাসনকোসন। বিংশ শতাব্দীতে বসে, মানুষে মানুষে মেশামেশির এই বিশ্বায়নের যুগে এখনো বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিকৃষ্ট জাতিভেদ-প্রথা সংস্কৃতির মধ্যে মিশে আছে; এই সত্য কঠিন ও লজ্জাজনক।
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কেবল কামেল মারান্ডিই নন, সব সাঁওতালকেই প্রতিনিয়ত এমন অপমান আর লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়। গত রোববারের প্রথম আলোর সংবাদে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার শিক্ষিত কি অশিক্ষিত, শিক্ষক কি ছাত্র—কেউই এই অভিশাপ থেকে মুক্ত নন। তানোর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রাবাসের যে সাঁওতাল শিক্ষার্থীরা অন্যদের সঙ্গে এক ক্লাসে বসেন, এক ছাত্রাবাসে থাকেন; কেবল খাওয়ার বেলায় তাঁদের থালাবাসন আলাদা করে দেওয়া হয়। দুঃখে, অভিমানে, প্রতিবাদে তাই গত মাসে সেখানকার ১১ জন সাঁওতাল ছাত্র ছাত্রাবাস ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কোথায় যাবেন তাঁরা? তাঁদের প্রতি হীন দৃষ্টি দেওয়ার মতো মানুষ তো সবখানেই। এটি কেবল বৈষম্য নয়, অপমানকর অস্পৃশ্যতা।
কামেল মারান্ডিকে খাবার না দেওয়ার প্রতিবাদে তানোরের মুক্তমনা মানুষেরা মানববন্ধন করেছেন, জেলা প্রশাসন থেকে হোটেল ব্যবসায়ীদের সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে বাঙালি হোটেল ব্যবসায়ী ও তাদের বাঙালি খদ্দেররা কিংবা ছাত্রাবাসের যে বাঙালি ছাত্ররা সাঁওতালদের সঙ্গে খেতে নারাজ, তাদের হীন মানসিকতার বদল তো শাসিয়ে করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সরকারের সজাগ দৃষ্টি এবং গণমাধ্যমের জাতপাতবিরোধী প্রচার। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলকাতার শিক্ষিত আধুনিক সমাজ ত্যাগ করে শেষ জীবনে সাঁওতালপল্লিতে গিয়ে শান্তি খুঁজেছিলেন। এর শত বছর পরও সাঁওতালসহ বাংলাদেশের আদিবাসী নাগরিকদের সমান মনে না করার মানসিকতা টিকে থাকা তাই খুবই লজ্জাকর ব্যাপার।
সব মানুষের রক্তই যেমন সমান লাল, তেমনি বাঙালি এবং সাঁওতালসহ সব আদিবাসীও মানুষ হিসেবে সমান। এই সত্য ভুলে যাওয়া সভ্যতাবিরোধী কাজ।

জামায়াত-শিবিরের ভাঙচুর -নৈরাজ্য সৃষ্টির সব চেষ্টাই অগ্রহণযোগ্য

গত রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহরে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ কেন্দ্রীয় তিন নেতার মুক্তির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল, চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুর চালান। নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু দাবিদাওয়া প্রকাশের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি বাদ দিয়ে এ ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুর চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা, সম্পদের ক্ষতি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি প্রতিবাদ জানানোর কোনো উপায় হতে পারে না।
সেদিন তাঁদের ক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে ওঠে যানবাহন ও দোকানপাট। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার উভয় পাশে অটোরিকশা, মোটরগাড়ি, ট্রাক, বাস, টেম্পো, মালবোঝাই ট্রাক-লরিসহ সামনে যা পড়েছে, তা-ই ভাঙচুর করেছেন। সড়কের উভয় পাশের দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠানও বাদ যায়নি। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ভাঙচুর হয়েছে ৫০-৬০টি গাড়ি ও দোকান। এমন সংঘবদ্ধ হামলার কাছে নিরীহ জনগণ একেবারে অসহায়। শক্তি প্রয়োগ করার এই মানসিকতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অগণতান্ত্রিক চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এমন দায়িত্বহীন আচরণ শান্তিপ্রিয় নাগরিকেরা প্রত্যাশা করেন না।
অবশ্য এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নতুন নয়, প্রায়ই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর হিংসা-হানাহানি, অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরতাল নিয়ে সহিংসতা, গাজীপুরে রাজউকের কথিত প্রকল্পের গুজবের জের ধরে সহিংসতার ঘটনায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদকীয় লিখেছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নানা অজুহাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমরা যেকোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জীবন ও জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। প্রতিবাদের নামে নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর ও সম্পদহানি গণতন্ত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
বিক্ষোভের নামে কারও বাড়াবাড়ি মেনে নেওয়া যায় না। সম্পদ বিনষ্ট করার এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে রাজনীতিকদের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। তাঁদের অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের জানমালের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা দেখতে হবে সরকারকে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সহিংসতার উদ্দেশ্যে শক্তি প্রয়োগ করার এই মানসিকতার অবসান ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই।
সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পছন্দ না হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাই বলে নিরীহ জনগণের এবং তাদের সম্পদের ওপর চড়াও হওয়া কোনো গণতান্ত্রিক দলের নেতা-কর্মীদের আচরণ হতে পারে না। চট্টগ্রামে যারা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনো হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণই এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা পালন করতে পারে।

কিরগিজস্তানে ফের সহিংসতা হতে পারে

কিরগিজস্তানে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে গতকাল সোমবার সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট রোজা ওতুনবায়েভা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের সময় ওতুনবায়েভা বলেন, ‘এই মুহূর্তে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে, তবে যেকোনো সময় সংঘাত বেধে যেতে পারে।’ কাজাখস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের পাশাপাশি মেদভেদেভ ও ওতুনবায়েভার এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কিরগিজ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সবকিছু থেমে গেছে এবং আমরা চূড়ান্তভাবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে পারি—এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি।’
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত সহিংসতার পর গত শনিবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ওতুনবায়েভা। ওই সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চীনে মার্কিন ভূতাত্ত্বিকের আট বছরের কারাদণ্ড

চীনের একটি আদালত গতকাল সোমবার মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জু ফেংকে আট বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। চীনের তেলশিল্প-সংক্রান্ত তথ্য পাচার করায় তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান। একটি মানবাধিকার সংস্থাও একই তথ্য জানায়।
বেইজিংয়ের এক নম্বর ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টে জু ফেং দোষী বলে সাব্যস্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধে চীনের তেলসংক্রান্ত বাণিজ্যিক তথ্য-উপাত্ত বিশদভাবে সংগ্রহ এবং তা কলোরাডো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএইচএস এনার্জির কাছে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মামলার রায় দেওয়ার সময় চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হান্টসম্যান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা যে মামলার বিষয়ে অবগত, তা বোঝাতে তিনি আদালতে উপস্থিত থাকেন। রায় প্রদানের পর মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে মানবিক কারণে জুকে মুক্তি দিতে এবং তাঁকে শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে চীনের প্রতি আবেদন জানানো হয়।
জুর জন্ম চীনে। পড়াশোনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

জাপানি নভোযানের পাত্র থেকে ধূলিকণা পাওয়ার দাবি

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা জাপানি নভোযান হায়াবুসার বায়ুনিরোধক পাত্র থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ ধূলিকণা পেয়েছেন। গতকাল সোমবার জাক্সার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
২০০৩ সালে হায়াবুসা নভোযানটি উৎক্ষেপণ করে জাপানি বিজ্ঞানীরা। নভোযানটি ইতোকাওয়া নামের একটি গ্রহাণুতে অবতরণ করে এবং সেখানে অনুসন্ধান চালায়। গত ২৪ জুন হায়াবুসাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরার পর হায়াবুসার সঙ্গে থাকা একটি পাত্র উদ্ধার করে বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুর নমুনা সংগ্রহের জন্য ওই পাত্রটি হায়াবুসায় যুক্ত ছিল।
জাক্সার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা নমুনা সংগ্রহের পাত্রটি খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। নিশ্চিত হওয়া গেছে, এতে খুবই সামান্য পরিমাণ ধূলিকণা রয়েছে।’ তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন এই ধূলিকণা পৃথিবীর, না ওই গ্রহাণুর। এই ধূলিকণা পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তাঁরা।
জাক্সার একজন মুখপাত্র বলেন, ২০০৩ সালে নভোযানটি উৎক্ষেপণের সময় পাত্রটির মুখ খোলা ছিল। সুতরাং এতে পৃথিবীর ধূলিকণাও জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাত বছরের দীর্ঘ অভিযানে যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দিয়েছিল জাক্সায়। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সামান্য পরিমাণে হলেও গ্রহাণুর ধুলা পাবেন তাঁরা।

কুকুরের শেষকৃত্য

গেরুয়া পোশাক পরা একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্মীয় বাণী আওড়াচ্ছিলেন। তাঁর সামনে কালো পোশাকে দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য। সবার চোখে অশ্রু, মুখে কথা নেই। এই আনুষ্ঠানিকতার পরই তাদের পরিবারের এক ‘প্রিয় সদস্যের’ শব পোড়ানো হবে। তবে সে মানুষ নয়, একটি কুকুর। জীবদ্দশায় কুকুরটি এই পরিবারের সঙ্গে এমন নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে ছিল, তাকে বিজাতীয় প্রাণী বলে আলাদা করে ভাবতে পারেনি কেউ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চাও ফ্রায়া নদীর তীরে কং তোয়ে নাই বৌদ্ধ মন্দিরে সম্প্রতি এই পোষা কুকুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ‘বাই তোয়ে’ নামে শঙ্কর জাতের কুকুরটি যকৃতের রোগে মারা যায়। ১৪ বছর বয়সী প্রাণীটির সঙ্গে আপনজনের মতোই নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন মনিব জিরাপর্ন ওংওয়ানা (৩৫)। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কোনো মৃত ব্যক্তির বেলায় যেভাবে শেষকৃত্য করা হয়, ঠিক সেভাবে সব নিয়ম পালন করে পুরো দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে সারা হয় এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে কুকুরটির দেহভস্ম ছড়িয়ে দেওয়া হয় নদীতে।
জিরাপর্ন ওংওয়ানা বলেন, ‘সে ছিল আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। জীবদ্দশায় পরিচর্যার জন্য আমরা তাকে একটি সেলুনে নিয়ে যেতাম। গোসল করাতে নিয়ে যেতাম একটি সুইমিং পুলে। মৃত্যুর পর সে যখন চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে, এ সময়ও আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তার জন্য কিছু করতে চেয়েছি।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোমোরস্কি জয়ী

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থী বলে পরিচিত সিভিক প্ল্যাটফরম পার্টির প্রার্থী ব্রোনিস্ল কোমোরস্কি বিজয়ী হয়েছেন। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জারস্ল কাচজিনস্কির চেয়ে তিনি ৫ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী জারস্ল কাচজিনস্কি নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে কোমোরস্কিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ৯৫ শতাংশ ভোট গণনায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কোমোরস্কি ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী জারস্ল কাচজিনস্কি পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। ভোট গণনার শুরুর দিকে অবশ্য জারস্ল এগিয়ে ছিলেন। ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনার পর জারস্ল ৫০ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। পরে কোমোরস্কিই এগিয়ে যান।
এদিকে রাজধানী ওয়ারশে নিজের সদর দপ্তরে পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন জারস্ল কাচজিনস্কি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ী ব্রোনিস্ল কোমোরস্কিকে আমি অভিনন্দন জানাই।’
গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা নির্বাচনে কোমোরস্কি ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ও জারস্ল কাচজিনস্কি ৩৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট পান।
রাশিয়ার স্মলেনস্ক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় গত ১০ এপ্রিল বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯৬ জন নিহত হন। এ কারণে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী জারস্ল কাচজিনস্কি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির যমজ ভাই।

ভারতজুড়ে ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালন

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ভারতজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্ধ্ পালিত হয়েছে। ভারতের চারটি বাম দল এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পৃথকভাবে এই বনেধর ডাক দেয়। সকাল ছয়টা থেকে গোটা ভারতে শুরু হয় এই বন্ধ্ কর্মসূচি, চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
বন্ধ্ পালনকে ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লি, পাটনা ও লক্ষেৗয়ে বনেধর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বন্ধ্-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। লক্ষেৗয়ে পুলিশ বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি, মুকতার আব্বাস নকভি, লালজি ট্যান্ডন ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে গ্রেপ্তার করে। অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদে গ্রেপ্তার করা হয় তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুকে। দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির সভাপতি নীতিন গড়কারিকে। মহারাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির নেতা গোপীনাথ মুন্ডেকে। মহারাষ্ট্রে এ ছাড়াও এক হাজার ৬০০ সমর্থককে আটক করা হয়। মধ্যপ্রদেশে আটক করা হয় ২০০ সমর্থককে। ওডিশায় আটক করা হয় ৮০০ জনকে। পুনেতে বনেধর সমর্থনকারীরা পাথর ছুড়ে শহরের ১২টি বাসের ক্ষতিসাধন করে। এই বনেধর সমর্থনে বাম দলের ডাকে দিল্লির নয়টি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। প্রতিবাদ সভা করেছে বিজেপি দিল্লির চাঁদনিচকে। কলকাতায় পুলিশ এসইউসিআইয়ের শতাধিক কর্মীসহ দলীয় সাংসদ তপন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে।
বনেধর ফলে ভারতের অধিকাংশ শহরের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। দিল্লি, লক্ষেৗ, পাটনা, কলকাতা, মুম্বাই, তিরুবনন্তপুরম, অমৃতসর, চেন্নাই, বরোদা, আহমেদাবাদ, এলাহাবাদ, ভোপাল, বেঙ্গালুরু, জয়পুর, ভুবনেশ্বর, পুনে, গুয়াহাটি, চণ্ডীগড়, রায়পুর, গোয়া, সিমলা, বারানসি শহরে বনেধর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। এসব শহরে বনেধর সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়, সড়ক ও রেল অবরোধ করে। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে ট্রেন। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বনেধর জেরে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই কলকাতার রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যায় বাস, ট্যাক্সিসহ সব ধরনের যানবাহন; চলেনি ট্রেনও। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে দূরপাল্লার ট্রেন। জেলায়ও চলেনি কোনো যানবাহন। সেখানেও চলছে বন্ধ্। কলকাতা বিমানবন্দরে ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবা। কাজ হয়নি শিল্পাঞ্চলে। কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে খোলেনি হাটবাজার। বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। বেনাপোল সীমান্তে বন্ধ ছিল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এর ফলে এই সীমান্তে আটকে পড়েছে বাংলাদেশগামী কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক।
একই চিত্র ছিল বামশাসিত কেরালা রাজ্যেও। উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, আসাম, গোয়া, রাজস্থান, ওডিশা ও বিহারে ভালোই সাড়া মিলেছে বনেধর।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলের মূল্য এক ধাপে ৩ দশমিক ৬৫, ডিজেল ১ দশমিক ৯৫, কেরোসিন ২ দশমিক ৯৭ এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৩৬ দশমিক ৪০ বাড়িয়ে দেয়। এই মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারত বনেধর ডাক দেয় বাম দল ও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এর আগে বামপন্থীদের ডাকে গত ২৬ জুন ২৪ ঘণ্টা বন্ধ্ পালিত হয় পশ্চিমবঙ্গে, ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় কেরালায় এবং ২৮ জুন ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় ত্রিপুরায়।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘোষণা ছিল ভুল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর জো লিবারম্যান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে ভুল করেছেন। এতে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং তালেবান জঙ্গি উভয় পক্ষের কাছেই ভুল সংকেত পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ওবামা ২০১১ সালের জুলাই থেকে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে বলে যে ঘোষণা দেন, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ডেমোক্রেটিক সিনেটর লিবারম্যান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা, প্রেসিডেন্ট ওবামা ওই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আফগান জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গেড়ে চিরকালের জন্য অবস্থান করবে না।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান সফরের প্রাক্কালে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেটর লিবারম্যান বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণায় সাধারণ আফগান থেকে শুরু করে তালেবান সদস্যরা ধরে নিয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ঘোষিত সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে সরে আসবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও সে রকম নয়।
লিবারম্যান বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ডেভিড পেট্রাউস ইতিমধ্যে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১১ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।
লিবারম্যান বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেখানে আমাদের পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আর তা অর্জনে কোনো সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না।’
লিবারম্যান বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা গত কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। তিনি নিজেও বলছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশ যত শিগগির সম্ভব সেনা সরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু জুলাইয়ের মধ্যে সে রকম অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি না হলে তাঁরা সেখানে অবস্থান করবেন।
লিবারম্যান জানান, তিনি ডেভিড পেট্রাউসকে বলেছেন, তিনি যেন মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যান। তিনি যদি মনে করেন, সেখানে আরও বেশি সেনা মোতায়েন জরুরি, তাহলে জরুরি ভত্তিতে তাঁকে সে সহায়তা দেওয়া হবে।
লিবারম্যান বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে খোদ আফগানরাই চায়, সেখানে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করুক। তিনি জানান, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ওয়াশিংটন সফর করার সময় তাঁর সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলাপ করেছেন।

নাগরিকত্ব ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান এক মালয়েশীয় নারী

মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব ফিরে পেতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাজেসওয়ারি কোথান (৫২) নামের এক নারী। ভারতের ভোটার তালিকায় নাম থাকায় আট বছর আগে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে মালয়েশিয়া। তবে মাজেসওয়ারির দাবি, তিনি কখনোই ভারতের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করাননি।
মালয়েশিয়ায় দ্য স্টার নিউজপেপারকে গতকাল সোমবার মাজেসওয়ারি জানান, মালয়েশিয়া তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। কিন্তু ২০০৪ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্টের মেয়াদে উল্লিখিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থানের দায়ে তাঁকে আজীবনের জন্য সে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তার মানে হলো, তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাননি।
মাজেসওয়ারি ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় এক নাগরিককে বিয়ে করে ভারতে বাস করে আসছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ভারতে নিজের পরিবারের কাছেও যেতে পারছেন না, আবার মালয়েশিয়াতেও কোনো চাকরি পাচ্ছেন না।

রাশিয়ায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ৩০০ মানুষের মৃত্যু

রাশিয়ায় প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে। রাশিয়ার জরুরিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এ কথা জানায়।
মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রিয়া নভস্তি জানায়, গত সপ্তাহে পানিতে ডুবে ২৮৫ জন লোক মারা গেছে। সাঁতার কাটার উপকরণ না থাকা কিংবা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে তারা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। গত মাসের শেষের দিকে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেখানকার বনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরও রাশিয়ায় সাঁতার কাটার সময় তিন হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫৮ সাংবাদিক নিহত

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয়জন বেশি। সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন মেক্সিকোতে। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রেস এমব্লাম ক্যাম্পেইন (পিইসি) গতকাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে।
পিইসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুন মাস পর্যন্ত মেক্সিকোতেই নয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হন্ডুরাসে আট, পাকিস্তানে ছয় এবং নাইজেরিয়া ও ফিলিপাইনে চারজন করে সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে পিইসির মহাসচিব ব্লেইজ লেম্পেন বলেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যাকবলিত দেশগুলোতে সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, সাংবাদিক হত্যা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করারও উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে আফগানিস্তানে ফ্রান্সের দুজন টেলিভিশন সাংবাদিককে অপহরণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, সংস্থাটি যুদ্ধক্ষেত্র বা গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়া ও কলম্বিয়ায় তিনজন করে; ইরাক, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলায় দুজন করে এবং আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, ক্যামেরুন, সাইপ্রাস, ইকুয়েডর, ইসরায়েল, কঙ্গো, রুয়ান্ডা, তুরস্ক, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে একজন করে সাংবাদিক নিহত হন।
গত বছর রেকর্ড ১২২ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯১ জন।

ইরাকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে বাইডেনের আলোচনা

নতুন একটি সরকার গঠনের লক্ষ্যে ইরাকে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল সোমবার ইরাক সফরের শেষ দিনে তিনি ইরাকি প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে তিনি সে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য।
গত ৭ মার্চ ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু গত চার মাসেও সেখানে কোনো সরকার গঠিত হয়নি। নির্বাচনে আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়ী হয়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নূরি আল-মালিকির জোট ১৫৯টি আসনে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ৩২৫ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও চারটি আসন দরকার।
গত রোববার আইয়াদ আলাবি ও নূরি আল-মালিকির সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন বা সরকার গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কোনো অভিসন্ধি নেই। অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সরকার গঠনের জন্য তিনি দুই নেতা ও সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। বাইডেন বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, যা শুরু করেছিলেন তা শেষ করুন। আমার মত হচ্ছে, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আনুপাতিক হারে আপনাদের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সরকারে থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘ইরাকিয়া, স্টেট অব ল, ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স, কুর্দিস্তান অ্যালায়েন্স—সব জোটই নতুন সরকারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বৈঠকের ব্যাপারে আলাবি বলেন, ‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি। তিনি ইরাকের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দ্রুত একটি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।’
মালিকি বলেন, ‘তিনি আশা করছেন, আগামী ১৪ জুলাই পরবর্তী পার্লামেন্ট অধিবেশন বসার আগেই প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলো সরকার গঠনের ব্যাপারে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারবে।’
এদিকে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা মুকতাদা আল-সদর এক বিবৃতিতে মালিকি ও আলাবিকে যুক্তরাষ্ট্রের নয় বরং ইরাকের স্বার্থের ব্যাপারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অবশ্যই ইরাকি স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে, মার্কিন স্বার্থকে নয়।’
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করে। সম্প্রতি সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা।