Thursday, June 25, 2026
পৃথিবীর যে দুই জায়গায় গাড়ির কোনো গতিসীমা নেই by কাজী আকাশ
একটু ভেবে দেখো, সত্যি সত্যি যদি তোমার গাড়ি পুরো গতিতে চালাতে পারতে? কোনো জরিমানার ভয় বা লাইসেন্স বাতিলের চিন্তা যদি না থাকত? এমন জায়গা পৃথিবীতে সত্যি আছে। তবে পুরো পৃথিবীতে এমন জায়গা মাত্র দুটি।
প্রথম জায়গাটির নাম আইল অব ম্যান। এটি যুক্তরাজ্য আর আয়ারল্যান্ডের মাঝখানের ছোট্ট একটি দ্বীপ। জায়গাটা তিনটি কারণে বিখ্যাত। এক, এখানে কর দিতে হয় খুব কম। দুই, মোটরস্পোর্টের জন্য এটা স্বর্গ। তিন, জায়গাটা ব্রিটেনের অংশ, আবার ঠিক অংশও না! ব্যাপারটা একটু জটিল।
২০১৫ সালে অ্যালান থমসন নামের এক পুলিশ অফিসার বলেছিলেন, ‘আমরা অনন্য। তুমি ফেরি থেকে নেমে ১৫ মিনিটের মধ্যে পাহাড়ি রাস্তায় উঠে ঘণ্টায় ১৮০ মাইল বেগে গাড়ি চালাতে পারবে। এতে আইন ভাঙার কোনো ভয় নেই।’
এর মানে এই না যে পুরো দ্বীপেই কোনো গতিসীমা নেই। আবাসিক এলাকায় আর শহরের ভেতরে সাধারণত ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু হাইওয়েতে যত ইচ্ছা গতি ওঠানো যায়।
দ্বীপটা মোটরগাড়ি দুর্ঘটনার জন্যও কুখ্যাত। বিশেষ করে মোটরবাইক দুর্ঘটনা। দ্বীপে মানুষ আছেন ৮৫ হাজারের কম। আর প্রতিবছর নিয়মিতভাবে মাত্র দুই সপ্তাহে অন্তত তিন-চারজন রাস্তায় প্রাণ হারান।
যেকোনো দুই সপ্তাহ না কিন্তু। মে আর জুন মাসে আইল অব ম্যান ট্যুরিস্ট ট্রফি বা টিটি রেস হয়। পুরো দ্বীপে চলে এই মোটরবাইক রেস। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক রেস বলা হয় একে।
টিটি রেসের সপ্তাহ না হলেও রাস্তাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য খোলাই থাকে। তবে এই ট্র্যাক নতুনদের জন্য নয়। এখানে আছে প্রচণ্ড বাঁক। আছে উঁচু-নিচু রাস্তা, শহরের বাধা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে ৪২২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ওঠানামা করে রাস্তা। সব মিলিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার ওপর জায়গাটা ব্রিটেন আর আয়ারল্যান্ডের মাঝামাঝি। মানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির রাজধানী।
এসব কারণে এ দ্বীপে দুর্ঘটনার হার পাশের দেশগুলোর দ্বিগুণ। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য যে এ সংখ্যা ৩০ বছর আগের চেয়ে অর্ধেক কমেছে।
দ্বিতীয় জায়গার নাম জার্মানির বিখ্যাত হাইওয়ে অটোবান। আইনকানুন না মানার কথা শুনলে সবার আগে তোমার মাথায় হয়তো জার্মানির কথা আসবে না! তাই হয়তো তোমার কাছে একটু অদ্ভুত শোনাচ্ছে। দেশটা নিয়ম আর শৃঙ্খলার জন্য বিখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও গতিসীমার কেন কোনো লিমিট নেই?
এটা ঠিক যে অটোবানের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গায় তুমি যেমন ইচ্ছা গতিতে গাড়ি চালাতে পারো। ২০২৩ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন মাও নামের এক গবেষক দেখিয়েছিলেন, অটোবানে গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। কোনো গতিসীমা না থাকলেও সাধারণ মানুষ এখানে বেশি জোরে গাড়ি চালান না। তা ছাড়া ট্রাফিক তো আছেই। বাণিজ্যিক গাড়িগুলোকে আবার গতিসীমা মানতে হয়। এতে রাস্তায় একটু জ্যাম হয়। তাই চাইলে ২০০ বা ২৫০ কিলোমিটার গতিতে এখানে সব সময় গাড়ি চালানো যায় না।
তবে জার্মানিতে গতিসীমা না থাকলে অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃত্যুহার কিন্তু কম। ২০২১ সালে জার্মান হাইওয়ে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবদন অনুসারে, জার্মানিতে প্রতি এক বিলিয়ন কিলোমিটার গাড়ি চলাচলে ১ দশমিক ৪১ জন মারা যান। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ৪৫ জন, ফ্রান্সে ২ দশমিক ১৩ জন এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৬ জন মারা যান।
অর্থাৎ অন্য যেসব দেশে গতিসীমা আছে, সেই দেশের তুলনায়ও অটোবান নিরাপদ। আইল অব ম্যানের চেয়ে যে অনেক বেশি নিরাপদ, তা তো বুঝতেই পারছ! এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। জার্মান সরকার জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর টাকা ঢালে। তা ছাড়া ওখানকার গাড়িগুলোও তুলনামূলক ভালো। আর জার্মানির চালকেরাও বেশ দক্ষ। এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া একটা যুদ্ধের মতো! বাধ্যতামূলক ৮ ঘণ্টার ফার্স্ট এইড কোর্স, কমপক্ষে ৩৭ ঘণ্টার ড্রাইভিং ক্লাস, আর কঠিন সব তাত্ত্বিক পরীক্ষায় পাস করতে হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতেও প্রায় আড়াই লাখ টাকার বেশি খরচ করতে হয়!
যাহোক, পৃথিবীতে দুটি গতিসীমাহীন রাস্তার খোঁজ দিলাম, চাইলে একবার ঘুরে আসতেই পারো। তবে জার্মানির অটোবানে গিয়ে একটু গাড়ি চালানোর কথা ভাবলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কথা ভুলো না যেন! আর আইল অব ম্যানে গেলে একটু সাবধানে যেয়ো।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত কোনটি by শিউলী সুলতানা
আমেরিকা-কানাডা সীমান্তের দুটি প্রধান অংশ আছে। একটা হলো সেই লম্বা সীমান্ত, যার দক্ষিণে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড। আরেকটা হলো উল্লম্ব সীমানা, যা আলাস্কা আর কানাডার মধ্যে মহাদেশের সুদূর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
অনুভূমিক সীমান্তের একটা বড় অংশ বেশির ভাগ বিশ্বমানচিত্রে অবিশ্বাস্য রকম সোজা দেখায়। বিশেষ করে লেক অব দ্য উডস থেকে বাউন্ডারি বে পর্যন্ত ২ হাজার ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশটা মনে হয় একদম নিখুঁতভাবে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা বরাবর চলে গেছে। উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর নিরক্ষরেখাকে ধরে ওপরের দিকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ধরা হয়। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা একদমই আলাদা। মাটির ওপর দাঁড়িয়ে দেখলে দেখা যাবে, সীমানাটা আঁকাবাঁকা। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আমেরিকা-কানাডা সীমান্ত আসলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা থেকে কয়েক শ মিটার সরে গেছে। সাধারণত এতে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু মাঝেমধ্যে জটিলতা তৈরি করে।
একটা মজার উদাহরণ দিই। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে জানা গেল, কানাডার আলবার্টার কাউটস শহরটা আমেরিকার সীমানার ভেতরে প্রায় ৩৬৩ মিটার ঢুকে আছে! এমন ছোটখাটো ভুল পুরো সীমান্তজুড়েই ছড়িয়ে আছে। হিসাব করে দেখা গেছে, ভুল করে কানাডা আসলে আমেরিকার অংশের প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে বসে আছে।
কিন্তু কেন এমন ভুল হলো? এর কারণ লুকিয়ে আছে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে। তখন স্যাটেলাইট বা জিপিএস ছিল না। ছিল না ওই এলাকার কোনো ভালো মানচিত্রও। ১৮০৩ সালে আমেরিকা যখন লুইজিয়ানা কিনে নিল, তখন ব্রিটিশ আর মার্কিনরা মিলে ঠিক করল, নদীর প্রবাহ দেখে সীমানা ঠিক করবে। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল, ওখানকার জমি এত সমতল যে নদীর পানি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই বোঝা দায়!
ভেজাল এড়াতে তারা ঠিক করল, সোজা ৪৯তম প্যারালাল বরাবর দাগ টেনে সীমানা দেওয়া হবে। তারা জানতও না, ওই কাল্পনিক দাগের নিচে আসলে কী আছে? পাহাড়, নদী না জঙ্গল? লন্ডনে বসে ম্যাপ আঁকিয়েরা আন্দাজে দাগ টেনে দিয়েছিল এক অজানা দুনিয়ার ওপর।
পুরোনো আমলের সেই নড়বড়ে যন্ত্র আর আন্দাজে টানা দাগের খেসারত আজও মানুষকে দিতে হচ্ছে।
সেই ভুলের মাশুল দিতে তৈরি হলো অদ্ভুত সব দ্বীপ। ওয়াশিংটনের পয়েন্ট রবার্টসের কথাই ধরো। এটা আমেরিকার অংশ, কিন্তু আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই! নিজের দেশে যেতে হলে আমেরিকানদের আগে কানাডায় ঢুকতে হবে, তারপর সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে পয়েন্ট রবার্টসে।
একই অবস্থা মিনেসোটার নর্থওয়েস্ট অ্যাঙ্গেলে। লন্ডনের ম্যাপ আঁকিয়েদের সামান্য ভুলে এই জায়গাটা কানাডা দিয়ে পুরোপুরি ঘেরা হয়ে গেছে। তবে ভালো খবর হলো, আমেরিকা আর কানাডা ঐতিহাসিকভাবে বন্ধু দেশ। সীমানা নিয়ে তাদের এই অদ্ভুত জগাখিচুড়ি অবস্থা থাকলেও, এটা নিয়ে তারা যুদ্ধ বাধায় না। মানচিত্রের ওই আঁকাবাঁকা দাগ আর ভুলগুলো তাই ইতিহাসের এক মজার কৌতুক হয়েই টিকে আছে।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

Wednesday, June 24, 2026
আম খেলে যে কারণে ঘুম পায়
বিশেষ করে রাতে আম খেলে শরীর এলিয়ে পড়ার প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। কেন এমন হয়, এ নিয়ে কৌতূহলও কম নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক উপাদান শরীরে প্রাকৃতিকভাবে নিদ্রার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে আমে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়।
এই ইনসুলিন ট্রিপটোফ্যানকে সহজে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এরপর মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান থেকে সেরোটোনিনসহ বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হয়।
সেরোটোনিন মূলত মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখে, যার ফলে ধীরে ধীরে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয় এবং শরীর শিথিল হয়ে আসে।
আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান, কার্বোহাইড্রেট ও ইনসুলিনের পারস্পরিক প্রভাবে সেরোটোনিন বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমের অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে পাকা আম খেলে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে কেন সব সময় যুদ্ধ লেগে থাকে by শিউলী সুলতানা
এর পেছনে মূলত তিনটা কারণ দায়ী। স্বল্পতা, অসম বণ্টন ও ভুল বোঝাবুঝি।
প্রথমেই আসা যাক স্বল্পতার কথায়। পৃথিবীতে সবার জন্য যথেষ্ট জিনিস খাবার, তেল বা পানি নেই। এই অভাবের কারণেই দেশগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারা ঠিক করে নেয়, কোন জিনিসটা তাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি। মিসরের নীল নদের কথাই ধরা যাক। এই একটা নদের পানির ওপর ভরসা করে আফ্রিকার ১১টা দেশের ৩০ কোটি মানুষ! সব দেশই চায় সেই নদের পানি। কেউ হয়তো নীল নদের পানি দিয়ে চাষাবাদ করবে, কেউ পান করবে আবার কেউ হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পানি যেহেতু কম, তাই মিসর আর ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো প্রায়ই এই পানি নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলে। একই কথা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও খাটে। তিস্তার পানি নিয়ে প্রায়শই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবাদ লাগে।
এরপর আসা যাক দ্বিতীয় কারণে। সেটা হলো অসম বণ্টন। মানে সবার হাতে সমান ক্ষমতা বা সম্পদ নেই। কিছু দেশ খুব শক্তিশালী, আবার কিছু দেশ ততটা নয়। এই বৈষম্য দেশগুলোর একে অপরের প্রতি আচরণ বা ঝুঁকি নেওয়ার হিসাবটাই বদলে দেয়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। এই একচেটিয়া ক্ষমতা দেখে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো একটু চিন্তায় পড়ে গেছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না। তাই এসব দেশ মিলে ২০০৯ সালে নিজেদের একটা জোট তৈরি করল। সেই জোটের নাম BRICS+। ক্ষমতা যাতে ভারসাম্যে থাকে, তাই এই জোট বানানো।
তৃতীয়ত, দৃষ্টিভঙ্গি বা ভুল বোঝাবুঝি। বিবাদ লাগার সবচেয়ে মজার কারণটা হলো এই ভুল বোঝাবুঝি। ধরো, ‘ক’ নামে একটি দেশ ভাবল, ‘আমার নিরাপত্তা দরকার’। এই ভেবে দেশটি কিছু অস্ত্র বানাল। কিন্তু তার প্রতিবেশী ‘খ’ দেশ ভাবল, ‘ও তো আমাকে আক্রমণ করার জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে! তাহলে আমাকেও অস্ত্র বানাতে হবে।’ ব্যস, ‘খ’ দেশও ভয়ে ভয়ে আরও বেশি অস্ত্র বানানো শুরু করল।
ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। ১৯৭০-এর দশকে ভারত যখন নিজের সুরক্ষার জন্য পারমাণবিক বোমা বানাল, পাকিস্তান ভাবল এটা তাদের জন্য হুমকি। ফলে পাকিস্তানও পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলল। আর সেই থেকে দুটো দেশের মধ্যে রেষারেষি লেগেই আছে।
এবার সম্পূর্ণ বিষয়টা বোঝার জন্য একটা গল্প বলি। ধরো, রনি ও জনি খুব ভালো বন্ধু। ক্লাসের টিচার তাদের দুজনকে দুটো আলাদা দলের নেতা বানিয়ে দিলেন। ক্লাসের বাকিরাও অন্য দলের নেতা হলো। খেলাটা হলো, কার হাতে কত পয়েন্ট আছে, কে কত শিল্প বানাতে পারে এবং কে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারে।
খেলাটায় একটা সমস্যা ছিল। খেলার পয়েন্ট সীমিত। সবাইকে তাদের দরকারি জিনিস সেই পয়েন্ট দিয়ে বেছে নিতে হবে। খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল, দুই ভালো বন্ধু রনি ও জনি আর একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছে না! অথচ তারা কিন্তু ভালো বন্ধু ছিল। এখন একজন অন্যজনকে টেক্কা দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।
এই ক্লাসরুমের খেলাটাই হলো পুরো পৃথিবীর চিত্র। দেশগুলো সবাই হয়তো শান্তিই চায়। কিন্তু ওই যে অভাব, বৈষম্য আর ভুল বোঝাবুঝি আছে; এ জন্য সবার পক্ষে সব সময় মিলেমিশে থাকা সম্ভব হয় না।
তবে হ্যাঁ, এই সত্যিটা যদি সবাই বুঝতে পারে, এই কারণগুলো যদি জানতে পারে, তাহলে হয়তো দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস বাড়ানো সহজ হবে। আর তখনই শান্তি আসলেও আসতে পারে!
সূত্র: কিউরিয়াস কিডস
![]() |
| ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি |
Wednesday, June 17, 2026
মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে নানান চিন্তা আসে কেন?
কারো কারো মতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে এমনটা হতে পারে। আবার কারো ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুতর সমস্যা। তবে এটা ঠিক যে হঠাৎ ঘুম কমে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।
ঘুম গভীর ও পর্যাপ্ত হওয়া এবং স্ট্রেসের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা নয়া উদ্যমে পরের দিন শুরুর জন্যই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও এটা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরাও ভালো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ঘুম একটা নিরবিচ্ছিন্ন অবস্থা নয়। এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, যেমন লাইট স্লিপ বা পাতলা ঘুম, অর্থাৎ যে অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকলেও আমরা সতর্ক থাকি।
তাছাড়া রয়েছে- গভীর ঘুম এবং স্বপ্ন (র্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ বা আরইএম স্লিপ) দেখার পর্যায়।
এ চক্রটি প্রতি ৯০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়। আরইএম পর্যায় বলতে বোঝায় ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ’। অর্থাৎ যে সময় চোখের তারার ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা যায়। এই পর্যায়ের সাথে আমাদের স্বপ্ন দেখার সম্পর্ক রয়েছে। স্মৃতির প্রক্রিয়াকরণ ও একত্রিত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
সাধারণত, রাতের প্রথম দিকে গভীর ঘুম হয়, আর ভোরের দিকে ঘুমের মাঝেও আমরা সতর্ক অবস্থায় থাকি। ২টা থেকে ৩টা নাগাদ মূলত হাল্কা ঘুম হয় এবং ছোটখাটো কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
অনেক সময় মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রায় বদল কিংবা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে ঘুম কমে যেতে পারে। অনেক সময় একবার ঘুম ভেঙে গেলে তারপর ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর কারণ কী, বিষয়টা কতটা উদ্বেগের এবং চিকিৎসকরা সে সম্পর্কে কী বলছেন জেনে নেয়া যাক।
২টা থেকে ৩টা নাগাদ ঘুম হারানোর কারণ
রাত ২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে ঘুম হারানোর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি।
সার্কাডিয়ান ছন্দ বলতে শরীরের এমন এক প্রাকৃতিক ও অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে বোঝায়, যা ২৪ ঘণ্টায় আমাদের ঘুম ও সজাগ থাকার চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ভোরের দিক থেকে আমাদের শরীর ধীরে ধীরে পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। কর্টিসল নামক যে হরমোন রয়েছে, সেটা আমাদের জেগে উঠতে সাহায্য করে।
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হওয়া কর্টিসল এক প্রকার অত্যাবশ্যকীয় স্টেরয়েড হরমোন যা আমাদের মানসিক চাপ-সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া, বিপাক, রক্তচাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এটা শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ মেনে চলে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কর্টিসলের মাত্রা এত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় যে আমরা সেটা বুঝতে পারি না।
কিন্তু যদি আপনি ক্রমাগত মানসিক চাপের সম্মুখীন হন, উদ্বিগ্ন থাকেন বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে হতে পারে যে আপনার শরীরে কর্টিসলের মাত্রা ইতোমধ্যে বেশি।
কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে সতর্ক হওয়ার জন্য মস্তিষ্কে একটা সঙ্কেত যায় যা ঘুমকে ব্যাহত করে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাতে হঠাৎ ঘুম থেকে ওঠাটাই কিন্তু একমাত্র সমস্যা নয়। একবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার পর আবার ঘুমিয়ে পড়তে না পারাটাও সমস্যার।
এর নেপথ্যে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা, কাজ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়া বা ‘ঘুম না পাওয়া’ সম্পর্কে উদ্বেগের মতো বিষয়গুলো কাজ করতে পারে।
মুম্বাই লাগোয়া পানভেলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: ঋষভ ভার্মার বলেন, ‘এটা আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি সাধারণত রাত ১০ থেকে ১১টায় ঘুমাতে যান, তবে ভোর ৩টা আপনার শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ ততক্ষণে ঘুমের বেশিভাগটাই সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাত ২টা থেকে ৩টা নাগাদ আপনার শরীর ধীরে ধীরে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে। দেহের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন স্তরে চলে যায়, ঘুম পাতলা হয়ে আসে এবং একইসাথে শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ধীরে ধীরে আবার সক্রিয় হতে থাকে। তাই সেই সময় আপনার পাশে শুয়ে থাকা ব্যক্তির একটু নড়াচড়া বা সামান্য শব্দ কিংবা আপনার মাথায় যে চিন্তা চলছে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।’
ঘুমে এরকম ব্যাঘাত স্বাভাবিক কি-না, এই প্রশ্নের জবাবে ডা: ভার্মা বলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক। লাখ লাখ বছর আগে, রাতে কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকা আমাদের পূর্বপুরুষদের আশপাশের বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করত। ঘুম নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি রাতে দুই থেকে চারবার জাগেন।’
জেগে থাকার এই চক্র সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের হয় এবং তারপর আবার আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকালে এটা মনে পড়ে না। কিন্তু যখন রাতে আমরা সম্পূর্ণ সজাগ থাকি, মস্তিষ্ক কাজ করে তখন আবার ঘুমিয়ে পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই।
সার্কাডিয়ান ছন্দ ও ঘুমের চক্র
মস্তিষ্কের সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস নামক অংশ সার্কাডিয়ান ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত একটা ক্ষুদ্র অংশ। শরীরের এই অংশটা দিন-রাত চক্রের সাথে আমাদের বিভিন্ন কার্যকলাপের একটা সমন্বয় তৈরি করে।
ভোরের দিকে আমাদের শরীর ঘুম থেকে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। সেই সময় কর্টিসলের মাত্রা কম থাকলেও ঘুম থেকে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগে তা বাড়তে থাকে।
এই সময় গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায় এবং আরইএম স্লিপ বেড়ে যায়। আরইএম স্লিপ মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি করে। তাই এই পর্যায়ে জেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ঘুমের চক্র এবং জেগে ওঠার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে ডা: ভার্মা বলেছেন, ‘আমাদের ঘুমের চক্র রয়েছে এবং প্রতিটা চক্র প্রায় ৯০ মিনিট দীর্ঘ। তবে রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘুমের প্রকৃতি বদলায়।’
রাতের প্রথমার্ধে অর্থাৎ রাত ২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণত পাতলা ঘুম হয় এবং আরইএম স্লিপ দেখা যায়। ভোর ৩টার কাছাকাছি সময়টা হালকা ঘুম হয় বা আমরা স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখার কারণে মস্তিষ্ক ইতোমধ্যে বেশ সক্রিয় থাকে। তাই সামান্যতম ব্যাঘাতও ঘুম কাড়তে পারে।
রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রে হরমোন ও মস্তিষ্কের ভূমিকা কী?
কর্টিসলের পাশাপাশি অন্যান্য হরমোনগুলোর ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আমরা মুম্বাইয়ের ওখার্ড হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা: প্রশান্ত মাখিজার কাছে জানতে চেয়েছিলাম।
কর্টিসল ছাড়া অন্য কোনো হরমোন এর জন্য দায়ী জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন, ‘ঘুম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটা হরমোনের সম্মিলিত প্রভাব দেখা যায়। মেলাটোনিন, যা ঘুমের হরমোন হিসেবে পরিচিত, সেটা রাতের দিকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা ধীরে ধীরে কমে। মেলাটোনিনের মাত্রা কমলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’
অন্যান্য হরমোনের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘কর্টিসল একটা হরমোন যা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। ঘুম থেকে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগে এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং সেটা শরীরকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। অ্যাড্রেনালিন ও নোরড্রেনালিন হরমোন তীব্র সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, প্যানিক ডিসঅর্ডার বা হঠাৎ জেগে ওঠার জন্য দায়ী হতে পারে।’
এছাড়া গ্রোথ হরমোন, ইনসুলিন ও প্রজনন হরমোনগুলোও ঘুমের গুণমানের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
ভোর ৩টায় ঘুম ভাঙার পর চিন্তা আসে কেন?
এই প্রশ্নের জবাবে ডা: প্রশান্ত মাখিজা বলেছেন, এর পেছনে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়বিক কারণ রয়েছে।
রাতের বেলা আমাদের আশপাশে কোলাহল কম, মন বিভ্রান্ত হওয়ার উপাদানও কম থাকে। তাই হঠাৎ ঘুম পাতলা হয়ে এলে আমাদের মস্তিষ্ক অসমাপ্ত কাজ, আর্থিক সমস্যা, কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার দিকে বেশি মনোনিবেশ করতে শুরু করে।
ডা: মাখিজা বলেন, ‘আরইএম স্লিপের সময় আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটা সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সাথে থাকে, সেটা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তুলনামূলকভাবে যুক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সাথে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশ কম সক্রিয় থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই কারণে উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো দিনের চেয়ে রাতে আরো বেশি গুরুতর বলে মনে হতে পারে। উদ্বেগজনিত ব্যাধি, ডিপ্রেশন, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস ও বার্নআউটের সাথে যুঝছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক।’
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে আবার না ঘুমোতে পারার বিষয়টা ব্যক্তি বিশেষে আলাদা। এই প্রসঙ্গে ডা: মাখিজা জানিয়েছেন, এসব ক্ষেত্রে কেউ কেউ যেমন তৎক্ষণাৎ ঘুমিয়ে পড়েন, কেউ আবার এই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘এটা মূলত আমাদের মানসিক ও শারীরিক উদ্দীপনার স্তরের ওপর নির্ভর করে। যারা ঘুম ভাঙার পর শান্ত থাকেন, তারা সহজেই আবার ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হন। তবে যারা ভাবেন- আমাকে ঘুমাতে হবে বা আগামীকাল হয়ত খারাপ কাটতে পারে, তাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। পুনরায় ঘুম আসতে তাদের সময় লাগে।’
ডা: মাখিজা আরো বলেন, ‘উদ্বেগ, বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম, থাইরয়েড, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেও কেউ কেউ পুরো রাত জেগে থাকেন।’
রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম এক জাতীয় স্নায়ুজনিত সমস্যা যেখানে পায়ে অস্বস্তি বা যন্ত্রণা অনুভব হতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত পা ক্রমশ নাড়ান।
এ ক্ষেত্রে বয়স ও ঘুমের অভ্যাস কতটা প্রভাব ফেলে জানতে চাওয়ায় ওই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এরা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাতলা ঘুমের পর্যায় আরো বিক্ষিপ্ত হতে থাকে। গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বয়স্ক ব্যক্তিদের রাতে ঘুম থেকে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’
ডা: মাখিজা বলেন, ‘কারো কারো অভ্যাস তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া। আবার অনেকের দেরি করে ওঠার অভ্যাস। তাদের দেহের প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করে ঘুম এবং জেগে থাকার সময় পরিবর্তিত হতে পারে। অনিয়মিত কাজের সময়, শিফট ডিউটি বা অবিচ্ছিন্ন ভ্রমণ আমাদের সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত ঘটাতে এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।’
যে সময় আমরা খাবার খাচ্ছি তা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে কি-না জানতে চাওয়ায় তিনি বলেছেন, ‘ঘুমের সাথে এর কিছু সম্পর্ক রয়েছে। তাড়াতাড়ি খাবার খেলে মাঝরাতে খিদে পেতে পারে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যাওয়ায় ঘুমও ভাঙতে পারে।’
ডা: মাখিজা আরো বলেন, ‘ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভারী খাবার খেলে বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেটে ফাঁপাভাব বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অত্যাধিক অ্যালকোহল সেবন করলে রাতের প্রথম দিকে ঘুম হলেও পরে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া বিকেল বা সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ক্যাফিন খাওয়াও ঘুমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’
হাইড্রেশন ও শরীরের তাপমাত্রা এই ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে ডা: মাখিজা বলেছেন, ‘শরীরে পানির অভাব হলে ড্রাই মাউথ (মুখের ভেতর শুষ্ক অনুভব করা) হতে পারে। তৃষ্ণা, মাথা ব্যথা বা অস্থিরতাও অনুভূত হতে পারে। ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। ঘর খুব গরম, আর্দ্র বা পরিবেশ অস্বস্তিকর হলেও ঘুম ব্যাহত হতে পারে। শব্দ হওয়া, আরামদায়ক গদি না হওয়া বা ঘরে ভালোভাবে বায়ু চলাচল না করলেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের পক্ষেই স্বাভাবিক ঘুম আর অনিদ্রার মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। রাতে কিছু সময় ঘুম ভাঙা স্বাভাবিক এবং তাতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি টানা জেগে থাকেন বা আবার ঘুমিয়ে পড়তে সমস্যা হয়, তাহলে তাকে মেইন্টেনেন্স ইনসোমিয়া বলে।’
স্ক্রিন টাইমের প্রভাব
ডা: ঋষভ ভার্মার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে স্ক্রিন টাইম, দেরি করে খাওয়া এবং অ্যালকোহল পান ঘুমের ধরণ বদলাতে পারে কি-না।
তিনি জানিয়েছেন যে এ তিনটি বিষয়ই ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।
কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ভোর ৩টায় ঘুম ভাঙার একটা বড় কারণ অ্যালকোহল হতে পারে। অ্যালকোহল পান করলে প্রাথমিকভাবে ঘুম পেতে পারে, কিন্তু পরের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে যখন যকৃৎ সেটাকে বিপাক করে, তখন তা উত্তেজক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। এটা আপনার ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বিশেষত যখন ভোরের দিকে লাইট স্লিপ সাইকেল চলে।’
বেশি রাতে খাওয়া বা ঘুমানোর আগে ভারী খাবার বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেলে তা হজম করার জন্য শরীরকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাছাড়া উচ্চ মাত্রায় চিনি আছে এমন খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তার কয়েক ঘণ্টা পর হঠাৎ সেই মাত্রা কমে যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকলে শরীরকে স্থিতিশীল রাখতে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়।
অন্যদিকে, গভীর রাতে ফোন বা ট্যাব ব্যবহার করলে চোখের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ফোনের স্ক্রিন থেকে নীল আলো বের হয়। ফলে মস্তিষ্ক ভাবতে থাকে এটা দিন এবং ঘুমের সাথে সম্পর্কিত যে প্রাকৃতিক সঙ্কেত রয়েছে সেখানেও এর প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে।
ভালো ঘুমের জন্য কী করতে পারি?
রাতে মস্তিষ্ক ক্রমাগত জেগে না থেকে যাতে ঘুমিয়ে পড়ে তার জন্য আমরা মগজকে প্রশিক্ষণ দিতে পারি। এক্ষেত্রে সন্ধ্যা থেকে প্রস্তুতি নেয়া, নিজেকে শান্ত করা এবং মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা দরকার। এক্ষেত্রে আমরা যা করতে পারি-
১. ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল ও টিভি ইত্যাদির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে।
২. ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে ফোন, ট্যাব ও কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে পারি। তার পরিবর্তে খুব বেশি আলো নেই এমন ঘরে গিয়ে আমরা বই পড়তে বা মন ছুঁয়ে যায় এমন গান শুনতে পারি। এতে আমাদের মস্তিষ্কে এই সঙ্কেত যাবে যে দিন শেষ হয়ে গিয়েছে।
৩. ঘুমানোর তিন ঘণ্টা আগে কী খাচ্ছি, সেদিকে মনোযোগ দেয়াও দরকার।
৪. ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পান করা এবং গভীর রাতে ভারী বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। খিদে পেলে রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এমন খাবার যেমন-প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার। যদি রাত ২টা থেকে ৩টার সময় ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে ২০ মিনিটের এই নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।
৫. সেই সময় ফোন ঘাঁটা চলবে না। কারণ যখনই দেখবেন যে ভোর সাড়ে ৩টা বা সোয়া ৩টা বাজে, তখনই মগজ হিসেব করবে আর কত ঘণ্টা ঘুম বাকি। এটা স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে। ওই সময় ঘুম ভাঙার পর যদি ২০ মিনিটের মতো বিছানায় শুয়েও ঘুম না আসে- তাহলে উঠে বসা এবং নিজেকে ধীরে ধীরে শান্ত করা দরকার।
৬. অন্য ঘরে গিয়ে বা আবছা আলোতে আরামদায়ক চেয়ারে বসা যেতে পারে, যাতে মনে শান্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্য আসে। একটা সহজ কিছু যেমন ম্যাগাজিন পড়া বা ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলার ব্যায়াম করা যায়। চোখের পাতা ভারী না হওয়া পর্যন্ত বিছানায় ফিরে যাওয়া চলবে না। এটা মনকে জানান দেবে যে, বিছানাটা আসলে আরামে ঘুমের জন্য, চিন্তা করার জন্য নয়।
৭. জীবনযাত্রায় বড়-সড় পরিবর্তন আনতে, ডায়েট পরিবর্তন করতে, ওষুধ খেতে বা ব্যায়াম করতে হলে চিকিৎসক বা যোগ্য প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেয়া দরকার।
৮. প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। যে লক্ষণ চোখে পড়েছে সে বিষয়ে ডাক্তারকে জানানো দরকার এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় বদল আনতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই নিজে নিজে ওষুধ খেলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| ঘুমে ব্যাঘাতের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সংগৃহীত |
কাঁচা কাঁঠাল শরীরের জন্য এত উপকারী!
জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে খাদ্য-আঁশ থাকে দু’ গ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, চর্বি দশমিক তিন মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ২৯৭ আইইউ ও ভিটামিন-সি ছয় দশমিক সাত মিলিগ্রাম।
জেনে নেয়া যাক কাঁচা কাঁঠালে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-
হজমশক্তি বাড়ায় : পেটের নানা রকম সমস্যা কমাতে পারে কাঁচা কাঁঠাল। এ ফল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে যে আঁশ থাকে, তা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পেটের অম্লতা ও আলসার ঠেকাতে কাঁচা কাঁঠাল খেতে পারেন। ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে কাঁচা কাঁঠাল।
বয়সের ছাপ দূর করে : কাঁচা কাঁঠাল বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয় এটি, যা ত্বকের জন্য ভালো। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র্যাডিক্যালস) বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে কাঁঠাল। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখাও কমে।
ওজন কমায় : এতে চর্বির পরিমাণ খুব কম। তাই বেশি খেলেও ওজন বাড়ার শঙ্কা নেই বরং পেট ভরে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে কাঁচা কাঁঠাল।
চোখ ভালো রাখে : কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন, যা চোখ ভালো রাখে।
ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখে : কাঁচা কাঁঠাল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে, যা উচ্চরক্তচাপ ও হার্টও ভালো রাখে। পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায় : কাঁচা কাঁঠালে প্রায় কোনো কোলেস্টরল নাই বললেই চলে। তাই কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটা খেতে পারেন। এটি শক্তির ভালো উৎস। এতে আয়রন থাকায় রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় রোগীদের জন্য কাঁচা কাঁঠাল খুবই উপকারী।
হাড় শক্ত করে : কাঁচা কাঠালে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত রাখে।
কাঁঠালের বিচির প্রোটিন
কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে সকালের জুস হিসেবে খেতে পারেন। কাঁঠালের বিচি ফেলনা নয়। এটি চাইলে খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। কাঁঠালের বিচিতে থাকা প্রোটিন মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।
এদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধি-নিষেধ রয়েছে। এছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি তাদেরও কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
![]() |
| কাঁচা কাঁঠাল। সংগৃহীত |
Monday, June 15, 2026
মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ by আশিকুর রহমান তালহা
প্রযুক্তিতে প্রভাব
সাধারণ মানুষের শরীরের ওপর সরাসরি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলেও, বিজ্ঞানীদের তৈরি আধুনিক প্রযুক্তি-কাঠামোর ওপর এটি বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। যেমনÑ
স্যাটেলাইট ও জিপিএস বিপর্যয়
মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো এই প্লাজমা মেঘের তীব্র চার্জযুক্ত কণার সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে জিপিএস (GPS) এবং নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিতে পারে, যা বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজের পথ চলায় বিঘ্ন ঘটায়।
ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
প্লাজমা মেঘের শক্তিশালী চৌম্বকীয় তরঙ্গ যখন পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎপ্রবাহ বা ‘জিওম্যাগনেটিক্যালি ইন্ডিউসড কারেন্ট’ তৈরি হয়। এর ফলে বড় বড় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
রেডিও ব্ল্যাকআউট
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরটি ওলটপালট হয়ে যাওয়ার কারণে উচ্চ-কম্পাঙ্কের (HF) রেডিও যোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
মহাকাশচারীদের ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা মহাকাশচারীরা এ সময় তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশনের ঝুঁকিতে পড়েন। এই প্লাজমা মেঘ শুধু ক্ষতিই করে না, এর রয়েছে চোখ জুড়ানো কিছু বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ
আকাশে আলোর নৃত্য
এই ঝড়ের সবচেয়ে সুন্দর উপহার হলো মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora)। সূর্যের চার্জিত কণাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন মেরু অঞ্চলের আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আলোর এক অপূর্ব ক্যানভাস তৈরি হয়। এবার এই ঝড় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সাধারণত যেসব অঞ্চলে অরোরা দেখা যায় না (যেমন : হিমালয় অঞ্চল), সেখানেও আকাশের উত্তর দিগন্তে হালকা রঙিন আভা দেখা গেছে।
মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার
এই ঝড়ের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ কিছুটা প্রসারিত হয়। এর ফলে নিম্ন কক্ষপথে জমে থাকা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস জাঙ্ক’ বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে নিচে নেমে আসে।
এ ধরনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশের আবহাওয়া বুঝতে এবং ভবিষ্যতের আরো শক্তিশালী সৌরঝড় থেকে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পাওয়ার গ্রিডকে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সূর্যের এই কোটি কোটি টনের মারাত্মক রেডিয়েশনকে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র একটি অদৃশ্য জালের মতো আটকে দিয়ে আমাদের রক্ষা করছে। প্রযুক্তির সাময়িক কিছু ত্রুটি বাদ দিলে, প্রকৃতি যেমন ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তেমনি অরোরার মতো অদ্ভুত সুন্দর কোনো সৃষ্টিও এ ঘটনায় পাওয়া যায়।

Friday, June 12, 2026
মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে যেভাবে এলো ‘অ্যালগরিদম’
শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।
কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।
ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।
কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?
আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।
তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।
পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’
অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।
গাণিতিক রেসিপি
জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’
এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’
মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।
সূত্র: এনপিআর
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
Wednesday, June 10, 2026
ক্যানভাসে সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা এক ইরানি শিল্পী by আশরাফুর রহমান
আর বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের এই আগ্রাসী রূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এমন এক শিল্পী, যার অস্ত্র কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়—তার অস্ত্র হলো নিখুঁত কিছু রেখা, রং এবং বিশ্বরাজনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অর্থপূর্ণ ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গচিত্র।
ইরানের প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ি ‘৪০ দিনের যুদ্ধ’ শুরুর প্রথম ভোরেই একটি নীরব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে প্রতিজ্ঞার ভিত্তি ছিল শিল্প ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।
তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যতদিন এই সংঘাতের আগুন জ্বলবে, ততদিন তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি করে ক্যারিকেচার (ব্যঙ্গচিত্র) তৈরি করবেন। এই ছবিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের আসল সত্য, পশ্চিমা মিডিয়ার একপেশে প্রচারণার জবাব এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের এক সৎ ও আপসহীন দলিল হিসেবে কাজ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ছোট ফ্রেমে বন্দি থাকা সেই উত্তাল দিনগুলোর গল্পই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে দিনরাত কার্টুন আঁকার প্রশিক্ষণ দেওয়া—সবই জড়িয়ে আছে এই শিল্পীর লড়াকু জীবনের সাথে।
এটি এমন এক স্রষ্টার দুনিয়ায় ঘুরে আসার গল্প, যিনি বিশ্বাস করেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সত্যকে টেনে বের করতে হলে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে কখনো কখনো তীরের মতো তীক্ষ্ণ ও ধারালো হতে হয়।
ক্যানভাসের নীরব বৈপ্লবিক ঝড়
ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর দিয়ে স্টাইলাস (ডিজিটাল কলম) আলতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবকিছু শুরু হয় একটিমাত্র কালো বিন্দু দিয়ে। সেই বিন্দুটি ধীরে ধীরে প্রাণ পেয়ে রেখায় রূপ নেয় এবং ফুটিয়ে তোলে একটি চেনা মুখের অবয়ব। ভেতরের চরিত্র আর উপাদানগুলো সব যার যার জায়গায় ঠিকঠাক বসে যায়; মনে হয় যেন ক্যানভাসে এখনই রঙ আর ব্যঙ্গের একটা বিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে। এই দৃশ্যের পরিচালক পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কোনো জোরালো আওয়াজ বা প্রোপাগান্ডা নয়, বরং একজন শিল্পীর মন, যিনি তার কর্মশালার নীরবতার মাঝেই একটা বৈপ্লবিক ঝড় তুলে দিচ্ছেন।
হঠাৎ করেই রেখাগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায় এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ভাঙা শিংওয়ালা একটি ষাঁড়। এটি কোনো ফ্যান্টাসি দৃশ্য নয়, এটি বর্তমান ভূরাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও চাক্ষুষ রূপ। এই ৪০ দিনের মিডিয়া যুদ্ধের আসল চেহারা কী ছিল, তা যদি কেউ জানতে চায়, তবে তাকে এই শিল্পীর প্রতিদিনের কার্টুনগুলো দেখানোই যথেষ্ট। ইতিহাস যেন তাকে এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী হতে এবং তা স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার জন্যই নির্বাচন করেছে। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধের পরিধি সাধারণ খবরের চেনা ফ্রেমে তুলে ধরা যায় না; এই লড়াইকে দেখতে হবে তার কার্টুনের অতিরঞ্জিত রেখা, তেতো ব্যঙ্গ আর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী রঙের মধ্য দিয়ে।
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের আগুন জ্বলে ওঠার প্রথম দিন থেকেই এই পরিশ্রমী ও সচেতন কার্টুনিস্ট হাত গুটিয়ে বসে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কেবল একজন দর্শক বা সংবাদের নিস্পৃহ ভোক্তা হয়ে থাকতে চাননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার মুহূর্তটি তুলে ধরে বলেন: ‘যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম: যদি আল্লাহ চান এবং কোনো বাধা না আসে, তবে আমি এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি ও প্রকাশ করব। আল্লাহর রহমতে, আজ পর্যন্ত আমি প্রায় প্রতিদিনই এটি করতে পেরেছি, এমনকি কোনো কোনো দিন একাধিক ছবিও এঁকেছি। এখন পর্যন্ত এই কাজের সংখ্যা ৮০টি ছাড়িয়ে গেছে।’
তবে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে, যেখানে খবরের গতি আলোর চেয়েও দ্রুত, সেখানে প্রতিটি ঘটনার সাথে তাল মিলিয়ে চলা মোটেও সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘এত এত ঘটনা আর একের পর এক সংবাদের জোয়ারে কখনো কখনো সত্যিই কিছুটা পিছিয়ে পড়তে হয়। খবরের গতি অত্যন্ত তীব্র, তবে আমি চেষ্টা করি প্রতিদিনের এই পরিবর্তনের অন্তত একটি ভিজ্যুয়াল বর্ণনা তুলে ধরতে।’
ছবি দিয়ে সত্য উন্মোচন
কার্টুনের দুনিয়ায় রেখাগুলো কেবল মানুষকে হাসানোর জন্য আঁকা হয় না। কখনো কখনো একটি সাধারণ খসড়া ছবিও একটি বিশ্বসাম্রাজ্যের মিডিয়া একাধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। শোজায়ি তাবাতাবায়ি তার এই কার্টুনগুলোকে ‘মুখোশ উন্মোচনের ভাষা’ হিসেবে দেখেন। পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তায় তিনি বিশ্বাস করেন: ‘আমাদের কাজ হলো এটা দেখানো যে বাস্তবে কী ধরনের অপরাধ ঘটছে, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খবরের আড়ালে কোন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।’
যখন তার কার্টুনের নিয়মিত চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখন দুটি নাম সবচেয়ে বেশি সামনে আসে: ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই দুজনকে ‘আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ নীতির প্রতীক’ মনে করেন। তাবাতাবায়ি বলেন, ‘আজ নেতানিয়াহুকে কার্যত একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চেনে সবাই। অন্যদিকে ট্রাম্পও একজন জটিল ব্যক্তিত্ব—যার বিরুদ্ধে অসংখ্য আইনি মামলা রয়েছে। এই চরিত্রগুলো ব্যঙ্গচিত্রের জন্য খুবই উপযোগী, কারণ তারা একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে পরিচিত, অন্যদিকে তেমনি একবিংশ শতাব্দীর কুৎসিত রাজনৈতিক আচরণের প্রতীক।’
ভাঙা শিংয়ের ষাঁড় এবং ‘মেড ইন চায়না’ পতাকা
একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে পৃথিবীকে দেখে, এই শিল্পী দেখেন তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে। নিজের সাম্প্রতিক একটি বহুল প্রচারিত (ভাইরাল) কাজের কথা উল্লেখ করে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন: ‘আমি একটি ছবি এঁকেছিলাম যেখানে ট্রাম্পকে একটি আহত ষাঁড় হিসেবে দেখানো হয়েছে—যার একটি শিং ভাঙা এবং ব্যান্ডেজ করা। ষাঁড়ের শরীরের দাগগুলোকে আমি পৃথিবীর মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি। সাধারণত বলা হয় গরুর প্রতিটি অংশই উপকারী, কিন্তু এখানে এটিকে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরাজিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কাজটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শিল্পীদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পায়।’
ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যঙ্গাত্মক রূপটি মাঝেমধ্যে বেশ নিষ্ঠুর ও রূপক হয়ে ওঠে। আরেকটি কাজে তিনি উদীয়মান পরাশক্তি চীনের সামনে মার্কিন নেতৃত্বকে ক্ষুদ্র ও অসহায় হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন: “এক সময় তারা চীনের সাথে হুমকির ভাষায় কথা বলত, কিন্তু আজ তারা এমন এক অবস্থানে আছে যেখানে তাকে অন্যের কাছে এক ধরনের মরিয়া ভাব নিয়ে যেতে হয়। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের হাতে একটি বিশাল চীনা পতাকার সামনে আমেরিকার একটি ছোট্ট পতাকা রয়েছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যঙ্গাত্মক বিষয় হলো, ট্রাম্পের হাতের ওই ছোট্ট পতাকাটিতেও লেখা ‘মেড ইন চায়না’!”
ব্রাজিল থেকে তেহরান: বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেটওয়ার্ক
শোজায়ি তাবাতাবায়ির এই ব্যঙ্গচিত্রগুলোর বার্তা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকেনি। তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত, যারা কার্টুনকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখেন।
বিদেশি কার্টুনিস্টদের সাথে তার সুগভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি ব্রাজিলের একজন শিল্পীকে নিয়ে একটি চমৎকার স্মৃতি চারণ করেন: “ব্রাজিলের একজন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট ছিলেন যিনি আমাদের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিচারক হিসেবে ইরানে এসেছিলেন। তিনি তেহরানের ১০ লাখ মানুষের সেই বিশাল সমাবেশে অংশ নেন এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সেই গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ইরানি সংস্কৃতির একজন প্রকৃত দূত হয়ে ওঠেন! তিনি বলতেন, ‘যারা নিপীড়কদের হয়ে কাজ করে, তাদের আমরা কার্টুনিস্ট বলেই গণ্য করি না; যার বাস্তবতার সঠিক বোধ ও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই, সে পেশাদার কার্টুনিস্টদের দলের মধ্যেই পড়ে না’।”
শোজায়ি এবং তার সমমনা বন্ধুদের কাছে ভার্চুয়াল জগৎ—বিশেষ করে ফেসবুক—একটি ‘নরম যুদ্ধ’ বা ‘সফট ওয়ার’ রুমে পরিণত হয়েছে। যখন বিশ্বখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্ব এই ছবিগুলো শেয়ার করেন, তখন সেটি হাজার হাজার বার ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্ত্বিক দলিল হয়ে ওঠে।
ক্যানভাসে অশ্রু: মিনাবের শহীদদের গল্প
সব ব্যঙ্গচিত্র মানুষকে হাসানোর জন্য নয়; কখনো কখনো এটি এমন এক আয়না হিসেবে কাজ করে যা সত্যকে প্রতিফলিত করে বুকের ভেতর এক গভীর বেদনা তৈরি করে। বেসামরিক ভুক্তভোগী ও শিশুদের নিয়ে তৈরি করা ছবির প্রসঙ্গে আসতেই শোজায়ি তাবাতাবায়ির কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদের এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের চিত্রকর নিজেও এর মানসিক আঘাত থেকে রেহাই পাননি। অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন:
“মিনাবের শহীদদের জন্য আমি যে ছবিটি এঁকেছিলাম, তা গভীর ভালোবাসা আর তীব্র বেদনা থেকে তৈরি হয়েছিল। কাজটা করার সময় আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। আপনি যখন এমন শিশুদের ছবি আঁকেন যারা যুদ্ধের শিকার হয়েছে, অথচ একই সাথে ছবিতে তাদের মর্যাদা ও নির্দোষ ভাবটা ফুটিয়ে তোলেন, তখন সেই কাজটা আর কেবল কার্টুন থাকে না; তা একটি আবেগঘন দলিলে পরিণত হয়। আমি বিশ্বাস করি, কোনো কাজ যখন হৃদয় থেকে আসে, তখন তা অন্যের হৃদয়েও জায়গা করে নেয়।”
কোমে মধ্যরাতের ক্লাস: পেন্সিল ও কাগজের এক নতুন বাহিনী
তবে এই লড়াই কেবল একজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের পবিত্র কোম শহরে শোজায়ি তাবাতাবায়ি রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত জেগে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যারা আগামী দিনে এই দেশের ও সময়ের সত্যগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। সেখানে এক দারুণ সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে; শিশু, কিশোর ও তরুণরা এসে তাদের চারপাশের বেদনা ভাগ করে নেয় এবং এই গভীর কথোপকথন থেকেই নতুন নতুন কার্টুনের আইডিয়া জন্ম হয়।
গর্বের সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কিছু শিক্ষার্থী এখন এত ভালো কাজ করছে যে আমি তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিই। আজকের যুগে যখন রাজনীতিবিদরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ঝকঝকে প্রচারণার ওপর নির্ভর করছেন, তখন ব্যঙ্গচিত্র কোনো সীমান্ত না মেনেই মানুষের মনে পৌঁছে যাচ্ছে খুব সহজেই।”
এ প্রসঙ্গে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন, “আমি এই দিনগুলোতে আমার সব শক্তি ব্যয় করছি, যেন প্রতিদিন অন্তত একটি কাজ তৈরি হয়, যা একই সঙ্গে গল্প, সচেতনতা এবং শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। আশা করি, এই কার্টুনগুলো সত্য তুলে ধরতে এবং শোকাহত মানুষের হৃদয়ে সামান্য হলেও সান্ত্বনা দিতে পারবে।”
যতদিন অন্যায় ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থাকবে, ততদিন এই শিল্পীদের ক্যানভাসে আঁকা রেখাগুলো কখনো বিশ্রাম পাবে না। তারা তাদের তুলি ও কলমকে তীক্ষ্ণ করেছেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস কেবল অস্ত্রধারী বিজয়ীদের মুখ থেকেই না শোনে, বরং সত্যের আসল রূপটি দেখতে পায়।
![]() |
| সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ির ব্যঙ্গচিত্র ‘বৈশ্বিক সংকট: একটি গরু, হাজার সমস্যা! |
বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!
প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।
দেখা যায়, বাড়ির বারান্দার ভেতর দিয়েই উঠে গেছে কাঁঠাল গাছের কাণ্ড।
আর সেই গাছের সঙ্গে ঝুলছে কয়েকটি কাঁঠাল। ঘরের ভেতর থেকেই ফল ধরার এমন দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে বেশ বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে।
বাড়ির মালিক সেলিম চাপরাসি জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিনি গাছপালা ভালোবাসেন। একসময় তার স্ত্রী কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি বারান্দার পাশে ফেলে দেন।
সেখান থেকে একটা চারা গজিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে গাছটি বড়ো হয়ে ফল দিতে শুরু করে। পরে বাড়ির বারান্দা নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলার সুযোগ থাকলেও মায়ার টানে সেটি সংরক্ষণ করেন তিনি।
সেলিম চাপরাসি বলেন, “গাছ ও ফলের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এটি কেটে ফেলিনি বরং গাছের কোনো ক্ষতি না করে বারান্দার গ্রিল ও অন্যান্য নির্মাণকাজ করেছি। এখন ঘরে বসেই গাছে ফল ধরার দৃশ্য দেখতে পাই।”
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বসতঘরের এত কাছাকাছি বড়ো ফলজ গাছ খুব কমই দেখা যায়। পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা ও গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণেই গাছটি আজও টিকে আছে। এটি এখন শুধু ফলই দিচ্ছে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।
এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক নির্মাণের যুগে যেখানে গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে সেলিম চাপরাশির পরিবার প্রকৃতি সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পুষ্টি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, তেমনি অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড উদ্বেগ ও অবসাদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন, যা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৫ সেকেন্ডের বিরতি নিন
মন খারাপের সময় চিপস বা ভাজাভুজি খেতে ইচ্ছা হলে আগে ৫ সেকেন্ড থামুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি এটি শুধু আবেগের কারণে খাওয়ার ইচ্ছা? এই ছোট বিরতিই অনেক সময় অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে।
নিয়মিত খাবারের অভ্যাস বজায় রাখুন
মন খারাপ থাকলেও সময়মতো সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়া জরুরি। এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও সাইট্রাস জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, ভিটামিন সি, ডি, জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অস্বাস্থ্যকর খাবার দূরে রাখুন
চিপস, চানাচুর, পিৎজা বা ভাজাভুজি হাতের কাছে থাকলে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এগুলো সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গা থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। পরিবর্তে বাদাম, শুকনো ফল, মাখানা, ঘরে তৈরি হালকা স্ন্যাকস বা ঝালমুড়ির মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা যেতে পারে।
শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি
নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটা মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। ব্যায়ামের সময় শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলে পানি পান করুন এবং নিজেকে কিছু সময় দিন। ১০ মিনিট দেরি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসও কার্যকর হতে পারে। এই সময়ে পছন্দের কোনো কাজে মনোযোগ দিলে মন অন্যদিকে সরে যায় এবং খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন জীবনযাপনই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Friday, May 22, 2026
নাসার শব্দহীন সুপারসনিক বিমান পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেছে
শব্দের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় এই বিমান চালানো নিষিদ্ধ। আবার এই বিমানে যাত্রী পরিবহন করাও নিষেধ। এই সমস্যা দূর করতে একটি প্রায় শব্দহীন বিমান তৈরি করেছে নাসা ও লকহিড মার্টিন কোম্পানি। বিমানটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে শেষ করেছে।
বিশেষ এই বিমানের নাম এক্স-৫৯। প্রথমবারের মতো এটি আকাশে উড়ল। বিমানটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন এটি শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়লেও জোরালো সনিক বুম তৈরি না করে। প্রচলিত সনিক বুমের বদলে এটি খুব হালকা ‘থাম্প’ ধরনের শব্দ করে।
এই সফল উড্ডয়ন বিমান পরিষেবাকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালুর পথে বড় অগ্রগতি। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালানো নিষিদ্ধ।
প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন
এক্স-৫৯-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টার জন্য। বিমানটি গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলে লকহিড মার্টিনের স্কাঙ্ক ওয়ার্কস ফ্যাসিলিটি থেকে আকাশে ওড়ে। ওড়া শেষে নাসার আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারে অবতরণ করে।
এই পরীক্ষায় বিমানটির গতি ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় প্রায় ৩৮৬ কিলোমিটার। এটি ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়েছে। তবে এই উড্ডয়নে সুপারসনিক গতি তোলা হয়নি। কারণ, এই উড্ডয়নের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
কতটা শক্তিশালী এই বিমান
লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, এক্স-৫৯ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৮৯ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারবে। যা যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৪৭-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিমানটি ওড়ার জন্য উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার ফুট (১৬ হাজার ৭৬৪ মিটার)। এটির ডানার প্রস্থ ৩০ ফুট, উচ্চতা ১৪ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট। লম্বা নাকের কারণে অনেকেই এটিকে সোর্ডফিশের সঙ্গে তুলনা করেন।
এক্স-৫৯-এর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য হলো অবিশ্বাস্য লম্বা নাক। পাশ থেকে দেখলে এটি খুব সরু হয়ে শেষ হয়েছে মনে হয়। এমন নকশার কারণ, শকওয়েভের আকার বদলে দেয় এই আকৃতি। ফলে সুপারসনিক গতিতে উড়লেও জোরালো সনিক বুম তৈরি করে না।
সনিক বুম কেন হয়
যখন কোনো বিমান শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত ওড়ে, তখন এর সামনে জমে থাকা বাতাস দ্রুত সরে যেতে পারে না। চাপের ফলে শব্দতরঙ্গগুলো একসঙ্গে মিলে একটি বড় শকওয়েভ তৈরি করে। এটিই সনিক বুম। এই শব্দ বজ্রপাতের শব্দের মতো শোনায়। সনিক বুম ভবন ও জানালার ক্ষতি করতে পারে।
১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে ছয় মাসের একটি গবেষণায় দেখা যায়, বারবার সনিক বুম মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। জানালা ভেঙে ফেলতে এবং ভবনের ক্ষতি করতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের একজন তখন জানিয়েছিলেন, এ ধরনের শব্দে তাঁরা কখনো অভ্যস্ত হতে পারবেন না।
কীভাবে শব্দ কমায় এই বিমান
এই বিমানের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি বড় একটি শকওয়েভকে ভেঙে অনেকগুলো ছোট শকওয়েভে ভাগ করে ফেলে। এ কারণে বিমানটি উড়লে বড় বুমের বদলে শোনা যাবে মাত্র একটি হালকা ‘থাম্প’ ধরনের শব্দ। গাড়ির দরজা জোরে বন্ধ করলে যেমন শব্দ হয়।
১৮৬৪ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী অগাস্ট টোপলার শকওয়েভ ভাগ করার কৌশল আবিষ্কার করেন। দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি বায়ুচাপের পরিবর্তনে আলোর বেঁকে যাওয়ার নীতি ব্যবহার করে। বিমানের এই তথ্য থেকে প্রকৌশলীরা জানতে পারেন, বিমানটির বাস্তব উড্ডয়ন আগে করা হিসাবের সঙ্গে মিলছে কি না।
আগামী পরীক্ষাগুলোয় এক্স-৫৯ সুপারসনিক গতিতে উড়বে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে বিমানটিকে ব্যবহার করা হবে। মানুষ নতুন ধরনের এই নিঃশব্দ সুপারসনিক বিমানকে কীভাবে গ্রহণ করে যাচাই করে দেখা হবে। এটি সফল হলে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালুর পথ খুলে যেতে পারে। তবে আগের মতো কানে তালা লাগিয়ে না, অনেকটা নিঃশব্দে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

Tuesday, April 21, 2026
বয়স বাড়লে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হয় কেন by কাজী আকাশ
বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাজ্য কমিউনিকেশনস বায়োলজি জার্নালে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কেমব্রিজ সেন্টার ফর এজিং অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স (ক্যাম–ক্যান) থেকে তথ্য–উপাত্ত নিয়েছেন, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের অংশ। এ গবেষণায় মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া সবাইকে জনপ্রিয় পুরোনো টেলিভিশন সিরিজ আলফ্রেড হিচকক পরিচালিত ‘ব্যাং! ইউ আর ডেড’ নামক একটি পর্বের আট মিনিটের একটি অংশ দেখানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা যখন ক্লিপটি দেখছিলেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কের ফাংশনাল এমআরআই স্ক্যান রেকর্ড করা হয়। এই স্ক্যানগুলো দেখে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরনে কেমন পরিবর্তন আসে।
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে এ ক্লিপটি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ, আগের গবেষণাগুলো দেখিয়েছিল, অন্য যেকোনো ভিডিওর চেয়ে এটি দেখলে বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সবচেয়ে বেশি একই রকম হয়। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য গ্রহণ করে বা ঘটনাগুলো মনে রাখে, তা বোঝার জন্য এ ক্লিপটি ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত।
গবেষণার জন্য ১৮ থেকে ৮৮ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা তথ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা ‘গ্রিডি স্টেট বাউন্ডারি সার্চ’ নামের একটি বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন গবেষকেরা। এ প্রোগ্রামটির কাজ মস্তিষ্ক যখন এক অবস্থা থেকে আরেক স্থিতিশীল অবস্থায় যায়, সেই পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো বা ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা। আট মিনিটের ক্লিপটি দেখার সময় দেখা গেল, কম বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দ্রুত নতুন অবস্থায় পরিবর্তিত হচ্ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা বেশি রেকর্ড হচ্ছিল। কিন্তু বয়স্কদের মস্তিষ্কের একটি অবস্থা কম বয়সীদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে টিকে ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা কম রেকর্ড হয়েছে।
গবেষকদের মতে, একই সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কের একটি অবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বয়স্কদের কাছে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। এ পর্যবেক্ষণটি প্রাচীন দার্শনিক অ্যারিস্টটলের সেই ধারণার সঙ্গে মেলে। যেখানে বলা হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবনে যত বেশি স্মরণীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সে সময়টি আমাদের কাছে তত দীর্ঘ মনে হয়। বয়স্কদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময়ে কম ঘটনা বা পরিবর্তন মনে রাখে। এ কারণেই হয়তো তাঁদের কাছে মনে হয়, সময় বা জীবন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
যদিও সময় দ্রুত চলে যাওয়ার এ বিষয়টি এখনো শুধু একটি প্রাথমিক অনুমান গবেষকদের। তবুও বিজ্ঞানীরা একে বেশ যৌক্তিক মনে করছেন। গবেষকেরা বলছেন, বয়স্কদের মস্তিষ্কে যে বয়স–সম্পর্কিত নিউরাল ডিফারেন্সিয়েশন নামে একটি ঘটনা ঘটে, সেটাই হয়তো এর মূল কারণ। সহজ কথায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যকলাপ কম সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। যে নিউরনগুলো আগে শুধু মুখ চিনতে ব্যবহার হতো, সেগুলো এখন অন্যান্য বস্তুর প্রতিও সাড়া দিতে শুরু করে। গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের এই সাধারণীকরণের ফলে কোনো একটি ঘটনা কখন শেষ হচ্ছে এবং কখন আরেকটি শুরু হচ্ছে, তা মস্তিষ্ক স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না। আর এ কারণেই হয়তো বয়স্কদের কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। যদিও গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই একটি কারণ হয়তো পুরো রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারবে না।
সূত্র: লাইভসায়েন্স
![]() |
| ছবি: লাইভসায়েন্স |
Friday, April 17, 2026
বিদায় নেওয়ার সময় মানুষ কেন টাটা বলে, রতন টাটার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী
কেউ মারা গেলে আমরা যেভাবে বুঝতে পারি, তিনি আর ফিরে আসবেন না, কুকুর বিষয়টি সেভাবে বুঝতে পারে না। কুকুর অনুপস্থিত লোকটির জন্য অপেক্ষা করে। মনে করে, তিনি বাইরে আছেন, ফিরে আসবেন। কুকুরের প্রতিদিনের কার্যক্রমে ওই মানুষটির ভূমিকা থাকে। তিনি হয়তো কুকুরটিকে খাওয়ান, যত্ন নেন। কুকুরটি তাঁর ওপর নির্ভর করে। মানুষটি মারা গেলে তাঁর অনুপস্থিতি কুকুরের প্রতিদিনের নিয়মে ব্যাঘাত ঘটে। কুকুর নিজের নিয়মে ফিরে যেতে চায়। তাই লোকটির জন্য অপেক্ষা করে। তখন আমরা মনে করি, লোকটি মরে যাওয়ায় প্রাণীটি শোক করছে। রতন টাটার ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে।
রতন টাটার মৃত্যুর সঙ্গে আসলে টাটা শব্দ দিয়ে বিদায় জানানোর তেমন সম্পর্ক নেই। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা রতন টাটার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ব্যবসার বিদায় নিয়ে লেখালেখি হয়েছিল। রতন টাটার সঙ্গে বিদায়ের সম্পর্ক এতটুকুই। রতন টাটার পারিবারিক নাম ‘টাটা’। এর সঙ্গে বিদায়সূচক 'টাটা' শব্দের মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। টাটা নামটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পরিচয় বহন করে। ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে টাটা জনপ্রিয় নাম। আমাদের দেশে রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির অনেকগুলোই টাটা ব্র্যান্ডের। টাটা গোষ্ঠীর বহু পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঘরে ঘরে ব্যবহার হয়। এর পেছনে ছিলেন রতন টাটা।
বিদায় জানানোর ভাষা হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে ‘টাটা’ শব্দটা বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কেন ‘টাটা’ ব্যবহার করি? আমরা বিদায় জানানোর সময় যে ‘টাটা’ শব্দটি ব্যবহার করি, তা মূলত ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘গুডবাই’ বা ‘ফেয়ারওয়েল’-এর বিকল্প। উনিশ শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে এই শব্দ প্রচলিত হয়। শব্দটি মূলত ব্রিটিশ ককনি উপভাষা বা আঞ্চলিক ঘরোয়া ইংরেজি থেকে এসেছে। প্রিয়জনকে যেভাবে বিদায় দিই, যেখানে আনুষ্ঠানিকতা কম থাকে, সেখানে আমরা টাটা শব্দ ব্যবহার করি। শব্দটি খানিকটা বন্ধুত্বপূর্ণ, খানিকটা কম আনুষ্ঠানিক।
এই শব্দ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ, শিশুরা খুব সহজে এটি বলতে পারে। মা-বাবা যখন শিশুকে নিয়ে কাউকে বিদায় জানানোর জন্য আসেন, তখন তাঁরা যদি বলেন, বিদায়, ভালো থাকবেন, আবার আসবেন। তখন ভাষা শেখেনি, এমন শিশুরা কথাগুলো বলতে পারে না বা বিদায় জানাতে পারে না। তবে তারা আধো আধো শব্দে তাতা বা টাটা বলতে পারে। তারা তাতা বললে মা–বাবা বলেন, বাবা বলো, ‘টাটা’। এতে নরম করে বিদায় জানানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুর ভাষা শেখাও সহজ হয়। ভাষা অনুশীলন করা হয়।
এ ছাড়া শিশুরা যখন হাত নেড়ে বিদায় জানায়, তখন এই ধ্বনি অনেক সময় একা একা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। কিছু ভাষায় টাটা শব্দের অর্থ বাবা। বাবা যখন সকালে কাজে বের হন, শিশুরা তখন বাবাকে বিদায় জানাতে হাত নাড়ে আর বলে, টাটা। মানে বাবা। এভাবেই এই শব্দটি কিছু অঞ্চলে প্রচলিত শব্দ হয়ে উঠেছে। শিশুদের থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সন্তানকে বাবা বলেন অনেকেই। সে ক্ষেত্রেও টাটা শব্দটি ব্যবহার করেন বাবারা। এভাবে শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় বা বিদায়ের সময় এই শব্দের ব্যবহার শুরু হয়।
ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাবে ভারতসহ অন্য কমনওয়েলথ দেশগুলোতে এই শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদায় জানাতে এই শব্দ খুব কাছের মানুষ হওয়ার অনুভূতি দেয়।
আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আমরা সাধারণত বাংলায় ‘বিদায়’ শব্দটি ব্যবহার করি। অনেকে ইংরেজিতে ‘গুডবাই’, ‘ফেয়ারওয়েল’ অথবা ‘টেক কেয়ার’ ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। এভাবে বিদায় জানিয়ে সম্মান জানানো আর পেশাদারত্ব বজায় থাকে। অন্যদিকে, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা পরিচিতদের সঙ্গে বিদায়ের জন্য আমরা বাংলায় ‘আসি’, ‘দেখা হবে’। ইংরেজিতে টাটার পাশাপাশি ‘বাই’, ‘সি ইউ লেটার’, ‘হ্যাভ আ গুড ডে’ ব্যবহার করি।
‘টাটা’ শব্দটা উচ্চারণ করা বেশ সহজ। শব্দটা কানে শুনতে বেশ ভালো লাগে। তাই বিদায়কে সহজ, হালকা আর বন্ধুত্বপূর্ণ করার জন্যই মূলত আমরা টাটা বলি। তুমি চাইলে অন্য কিছু বলেও বিদায় নিতে পারো।
সূত্র: কিশোর আলো, রবার্ট ক্লেমেন্টসের ব্লগ
![]() |
| এআই দিয়ে তৈরি |
Thursday, April 16, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিমান এত আধুনিক, সিঁড়ি কেন সেকেলে by আসহাবিল ইয়ামিন
এই হাতল ধরা সিঁড়ি বেয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মকর্তাদের মাঝেমধ্যে হোঁচট খেতে দেখা যায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এই সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যেতেও দেখা গেছে। তিনি আসলে বেশ কয়েকবারই হোঁচট খেয়েছেন। জো বাইডেনের সেই হোঁচট খেয়ে পড়ার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরালও হয়েছিল।
মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যেন জো বাইডেনের পথেই হাঁটছেন। কারণ, গত জুন মাসে একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় হঠাৎ হোঁচট খেয়েছেন। নিউ জার্সির মরিসটাউনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি যখন ক্যাম্প ডেভিড যাওয়ার জন্য বিমানে উঠছিলেন, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সামনেই তাঁকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। এই ভিডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যে দেশে আধুনিকতম সব প্রযুক্তি আছে, সেখানে কেন প্রেসিডেন্টের জন্য এমন ‘সেকেলে’ সিঁড়ির ব্যবস্থা? কেনই বা একটি উন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য আধুনিক, হাইড্রোলিক বা স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় না?
মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার চার্লস গ্রিমস বেশ কিছু কারণ জানান, কেন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাধারণ সিঁড়ি এখনো ব্যবহার করা হয়। প্রথমে আসে প্রেসিডেন্টকে যখন বিমানে ওঠানো বা নামানো হয়, তখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তাকে। এ কারণেই এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কখনোই সাধারণ টার্মিনাল ভবনের কাছে পার্ক করা হয় না। বরং বিমানটিকে সব সময় টার্মিনাল থেকে দূরে একটি নিরাপদ ও ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের থেকে দূরে, চারপাশ ঘেরা ও সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয় খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব হয়। এই নিরাপত্তাব্যবস্থাই এই সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহারের প্রধান কারণ।
সাধারণ বিমানবন্দর টার্মিনালগুলো সব সময়ই অসংখ্য অচেনা যাত্রীতে ঠাসা থাকে। এত ভিড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যাওয়া মানেই বিরাট নিরাপত্তাঝুঁকি। টার্মিনালকে বারবার খালি করা, আর এত যাত্রীকে ঘন ঘন তল্লাশি করে প্রেসিডেন্টকে তাঁদের থেকে দূরে রাখা কার্যত অসম্ভব। তাই এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাধারণত এই সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়, যা প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সুরক্ষিত বিমানে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এটিই প্রেসিডেন্টের জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যবস্থা।
আধুনিক সিঁড়ি ব্যবহার না করার পেছনে একটি বড় কারণ হলো জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ বা জনসংযোগ। প্রেসিডেন্ট যখন এই সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন বা নামেন, তখন তিনি দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সিঁড়ির নিচে পাতা লালগালিচা, সামরিক ও ভিআইপিদের উপস্থিতিতে দেওয়া অভ্যর্থনা—পুরো দৃশ্যটাই ছবি তোলার জন্য দারুণ মুহূর্ত তৈরি করে। এটা শুধু নিরাপত্তা বা সুবিধার জন্য নয়। বরং অনেকটা ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। এ জন্য মনে করা হয় যে এভাবে প্রেসিডেন্ট মানুষকে তাঁর ক্ষমতা দেখাতে ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন।
এ ছাড়া সুবিধার দিক থেকেও এই সাধারণ সিঁড়ি সেরা। সাধারণত যাত্রীদের জেট ব্রিজ থেকে নেমে টার্মিনাল, ব্যাগেজ এরিয়া পার হয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িতে যেতে হয়, যা অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সিঁড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র কয়েক ফুট হেঁটে তাঁর অপেক্ষায় থাকা লিমোজিনে উঠে যেতে পারেন। তাই বিমানটিকে এমন একটি স্থানে রাখা হয় যেখানে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী লিমোজিন, সিক্রেট সার্ভিসের ১৫ থেকে ২০টি গাড়ির পুরো বহর একসঙ্গে যেতে পারে। এ ধরনের বিশাল বহরের জন্য টার্মিনালের কাছে জায়গা পাওয়া কঠিন। সিক্রেট সার্ভিস কখনোই চাইবে না যে প্রেসিডেন্ট সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে টার্মিনালের বাইরে থাকা লিমোজিনে উঠুন।
বাইরে থেকে লিফটের মতো কোনো ব্যবস্থা তৈরি করে প্রেসিডেন্টকে বিমান থেকে নামানো যেতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে সেটি পুরোপুরি নিরাপদ না–ও হতে পারে। আবার দেখতেও কিছুটা হাস্যকর লাগতে পারে। এ কারণেই কোনো প্রেসিডেন্টই এখন পর্যন্ত আধুনিক, হাইড্রোলিক বা স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি ব্যবহার করেননি এয়ার ফোর্স ওয়ানে।
![]() |
| এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে গিয়ে লালগালিচায় মোড়া সিঁড়িতে পরপর তিনবার হোঁচট খান জো বাইডেন। মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু বিমানঘাঁটি, ২০২১ সালের মার্চে তোলা। ছবি: রয়টার্স |
জাপানে কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় হারিয়ে যায় কেন by আসহাবিল ইয়ামিন
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বলা হয় জুহাতসু (Jōhatsu)। জাপানি এই শব্দটির অর্থ ‘বাষ্পীভবন’। চুলায় পানি জ্বাল দিলে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে হারিয়ে যায়। জুহাতসুরাও স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জীবন থেকে কোনো চিহ্ন না রেখে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। এই ঘটনা জাপানে বেশ পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এমন ঘটনা দেখা যায়।
জাপানের সমাজ ও কর্মক্ষেত্র অন্য অনেক দেশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নিয়ম মানা ও ব্যক্তিগত সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া জাপানের মানুষ কাজপ্রিয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমী তাঁরা। একসময় এই কাজের চাপ থেকে বের হতে পারেন না অনেকেই। আবার জাপানে অনেক মানুষ একা থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক আবহ কম পান তাঁরা। এসব কারণে জুহাতসুর মতো ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। জাপানি সংস্কৃতিতে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়াকে লজ্জাজনক মনে করা হয়। এ ধরনের সামাজিক চাপ থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক কষ্ট এত তীব্র হতে পারে যে অনেকেই তা আর সহ্য করতে পারেন না।
জাপানে কারোশি মানে অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনাও দেখা মেলে। এগুলো জাপানের গভীর সামাজিক সমস্যার একটি দিক। এই মানুষগুলো মনে করেন এভাবে উধাও হয়ে গেলে তাঁরা নিজেদের সম্মান বাঁচাতে পারবেন। সঙ্গে পরিবারও আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পাবে।
জাপানে এমন কিছু কোম্পানি আছে, যারা সবকিছু ছেড়ে চিরতরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সাহায্য করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ইয়োনিগে-ইয়া। ইংরেজিতে ‘নাইট মুভিং সার্ভিস’, অর্থাৎ রাতের বেলায় উধাও হয়ে যাওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। যেখানে তারা কোনো চিহ্ন না রেখে গোপনে একজন ব্যক্তিকে তার বর্তমান জীবন থেকে গায়েব করে দিতে পারে। এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয় সেই নাইট মুভিং সার্ভিস কোম্পানিকে।
নাইট মুভিং সার্ভিসের জন্য খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৫৪ হাজার ৭৪৭ থেকে ৩ লাখ ১৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে টাকার পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন, সম্পত্তির পরিমাণ, গন্তব্যের দূরত্ব, রাতের বেলা ভ্রমণ, শিশুদের সঙ্গে নেওয়া বা ঋণ আদায়কারীদের থেকে পালানোর মতো বিষয়গুলো। অনেকেই অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করে নিজেই নিখোঁজ হন।
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া মানুষদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় ব্যক্তিগত গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায় না। এর প্রধান কারণ জাপানের কঠোর গোপনীয়তা আইন। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা না ঘটলে পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। তা ছাড়া, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় তাঁদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
যারা নিখোঁজ হন, তাঁদের অনেকেই টোকিও বা ওসাকার মতো এলাকায় আশ্রয় নেন। এসব এলাকায় পরিচয়পত্র ছাড়াই নগদ অর্থে কাজ করা যায়। তাই তাঁরা সেখানে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব এলাকা অনেক সময় জাপানি অপরাধ চক্র ইয়াকুজাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জুহাতসু শব্দটি ১৯৬০-এর দশকে প্রথম ব্যবহৃত হয়। তখন এটি সেইসব মানুষ প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হতো যাঁরা আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা এড়াতে অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে হঠাৎ করে পালিয়ে যেতেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকে জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়। এই সময়ে বহু মানুষ চাকরি হারান এবং বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন। এর থেকেই জুহাতসুর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় জাপানে। অর্থাৎ, শব্দটি বিবাহবিচ্ছেদ এড়ানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বা সামাজিক চাপ থেকে পালানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
জাপানে জুহাতসু একটি স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় বিষয়। সাধারণত প্রকাশ্যে আলোচনা করা হয় না এ বিষয়ে। প্রতিবছর ঠিক কত মানুষ নিখোঁজ হন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, প্রতিবছর লক্ষাধিক জাপানি উধাও হন।
যদিও ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা ৮২ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছিল। তবে জাপানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হয়। মিসিং পারসনস সার্চ সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের জানিয়েছে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হন জাপানে। ২০২৪ সালে এ বিষয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানান জার্মান পরিচালক আন্দ্রেয়াস হার্টম্যান ও আরাতা মোরি। জুহাতসুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এই কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে সিরিজটি।
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা ৮২ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছিল। ছবি: ইউকিও জাপান |
Wednesday, April 15, 2026
মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন
টার্ডিগ্রেডদের সাধারণত ‘পানি ভাল্লুক’ নামে ডাকা হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম এই প্রাণীকে আবিষ্কার করেন। তিনি এদের অদ্ভুত চেহারা ও ধীরগতির জন্য ‘ছোট পানি ভালুক’ নাম দেন। এর তিন বছর পর ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি এদের ধীরগতি দেখে এই গ্রুপের নামকরণ করেন ‘টার্ডিগ্রেড’, যার অর্থ ধীরগতির পদচারী। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির টার্ডিগ্রেড শনাক্ত করেছেন।
টার্ডিগ্রেড নিঃসন্দেহে পৃথিবী ও মহাকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণীদের একটি। এসব পানি ভালুকগুলো হিমালয়ের চূড়া থেকে গভীর সাগরের তলদেশ পর্যন্ত সব ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন প্রচণ্ড তাপ, তীব্র ঠান্ডা বা শুষ্ক পরিবেশে টার্ডিগ্রেডরা নিজেদের শরীর থেকে প্রায় সব পানি বের করে দেয়। এতে এরা একটি শুকনো গুটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘টন’। এ অবস্থায় এদের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা এ অবস্থায় থাকতে পারে। এরপর চারপাশের পরিবেশে সামান্য পানি পেলেই এরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে টার্ডিগ্রেডরা ‘টন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় গিয়ে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান হয়। গবেষণাপত্রে জানান হয়েছে, যখন কোনো প্রতিকূল পরিবেশে পড়ে, তখন টার্ডিগ্রেডের কোষ থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ সিস্টাইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যা টার্ডিগ্রেডের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের ফলেই প্রাণীটি সেই বিশেষ ‘টন’ অবস্থায় প্রবেশ করে, যা এটিকে চরম পরিস্থিতিতেও বাঁচিয়ে রাখে।
টার্ডিগ্রেডকে খালি চোখে দেখা গেলেও এদের আকার এতই ক্ষুদ্র যে তা সহজে চোখে পড়ে না। ওয়ার্ল্ড টার্ডিগ্রেডা ডেটাবেজ অনুসারে, এরা সাধারণত ০.০১ থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ছোট্ট প্রাণীর পুরো শরীর গঠিত মাত্র এক হাজার কোষ দিয়ে। যেখানে মানুষের শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্রিলিয়ন কোষ।
তুমি যদি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টার্ডিগ্রেড দেখো, তাহলে এর ক্ষুদ্র দেহে কোনো হাড় দেখতে পাবে না। হাড়ের বদলে এদের একটি তরলে পরিপূর্ণ অংশ থাকে, যাকে বলে হিমোলিম্ফ। মানুষের রক্তের মতোই, এই হিমোলিম্ফ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এদের মেরুদণ্ড না থাকলেও সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ডের মতোই কাজ করে। এদের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র থাকলেও কোনো সংবহন বা শ্বাসযন্ত্র নেই। পানি থেকে অক্সিজেন সরাসরি এদের ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতর পুষ্টি ও অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা পেশিগুলো সংকুচিত করে।
টন অবস্থায় থাকা টার্ডিগ্রেডরা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এরা বিকিরণ, ফুটন্ত তরল এবং সাগরের গভীরতম অংশের চেয়ে ছয় গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। টন অবস্থায় থাকা কিছু টার্ডিগ্রেডকে উচ্চগতির বন্দুক থেকে গুলি করেও দেখা গেছে যে এরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ মিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।
টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে এরা মহাকাশের ভয়ংকর অবস্থা সহ্য করতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসার) ২০০৭ সালে ফোটন-এম৩ নামের একটি মহাকাশ অভিযানে হাজার হাজার টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এদের মহাকাশের শূন্যে, তীব্র সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে দেখেন যে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এদের বেশির ভাগই বেঁচে আছে। এমনকি বংশবৃদ্ধিও করেছে। পানিশূন্য অবস্থায় কিছু টার্ডিগ্রেড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল।
বেশির ভাগ টার্ডিগ্রেড উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ থেকে তরল শুষে খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে কিছু প্রজাতির টার্ডিগ্রেড আছে যারা নেমাটোড এবং অন্য টার্ডিগ্রেডের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও খায়। এদের নিয়ে এখনো গবেষণা শেষ হয়নি।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স, সায়েন্টিফিল আমেরিকান, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
![]() |
| টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি: পপুলার মেকানিকস |
Sunday, April 12, 2026
সবচেয়ে বেশি আইসক্রিম খায় কোন দেশের মানুষ by বিজয় মজুমদার
গড়ে প্রতিজন হিসাব করলে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা বছরে সবচেয়ে বেশি আইসক্রিম খান। বছরে প্রায় ৭ দশমিক ৫ গ্যালন আইসক্রিম খান তাঁরা। মানে গড়ে ২৮ দশমিক ৩৯ লিটার।
আইসক্রিমের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ভীষণ আইসক্রিমপ্রেমী ছিলেন। ১৭৯০ সালের গ্রীষ্মে তিনি আইসক্রিম খাওয়ার জন্য ২০০ ডলার ব্যয় করেছিলেন, বর্তমান মুদ্রায় যার পরিমাণ হতো সাড়ে ৫ হাজার ডলার। আর বাংলাদেশি টাকায় সেটা হতো ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এস্কিমো স্পেশাল
আকুতাক হচ্ছে এস্কিমো আইসক্রিম। এটা বানানো হয় রেইনডিয়ার নামের হরিণের শরীরের চর্বি, সিল মাছের তেল, একদম তাজা বরফ ও তাজা বেরি ফল দিয়ে। অনেক সময় মোস বা এলক নামের একধরনের বিশালদেহী হরিণ কিংবা পোলার বিয়ার নামের ভালুকের মাংস দিয়েও আকুতাক বানানো হয়।
ভিন্ন স্বাদের আইসক্রিম
মাচা, রেড বিন, স্কুইড ইঙ্ক, সি উইড আইসক্রিমগুলো জাপানে খেতে পাওয়া যাবে। মাচা হচ্ছে গ্রিন টির আইসক্রিম, রেড বিন (একধরনের শিম), অক্টোপাস আইসক্রিম হচ্ছে স্কুইড ইঙ্ক আর সি উইড মানে হচ্ছে সামুদ্রিক শৈবালের আইসক্রিম। এ ছাড়া চিংড়ি, ঘোড়ার মাংস ও গরুর জিবের মতো ভিন্ন স্বাদের আইসক্রিমও সেখানে পাওয়া যাবে।
চাহিদায় মেলে কোন
১৯০৪ সালে আইসক্রিম কোন মানে কোন আইসক্রিম আবিষ্কৃত হয়। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আইসক্রিমের চাহিদা এমন ছিল যে বিক্রেতারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কীভাবে সেটাকে মানুষের হাতে দ্রুত ও সহজে তুলে দেওয়া যায়। তখন সেখানে সিরিয়ার এক ওয়েফার বিক্রেতা একটি সমাধান বের করেন। আর্নেস্ট এ হামুয়ি সে সময় ওয়েফারের মধ্যে আইসক্রিম রাখার প্রস্তাব দেন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল কোন আইসক্রিম।

Wednesday, January 28, 2026
খালি হাতে ১০১ তলা ভবনে বেয়ে উঠলেন অ্যালেক্স হনল্ড by আহমাদ মুদ্দাসসের
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্স হনল্ড ভবনের চূড়ার শেষ ইঞ্চিটুকু পার করেন, যার উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট বা ৫০৮ মিটার। আরোহণ শেষ করে যখন তিনি ভবনের উঁচু চূড়ায় উঠে দাঁড়ান, তখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। নিচে উল্লাস করছে তাইপেবাসী। ভিড়ের দিকে হাত নাড়াচ্ছেন হনল্ড। এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে ক্লাইম্বিং ইতিহাসের এক আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে দুইটি সেলফি ভাইরাল হয়ে গেছে। অ্যালেক্স হনল্ড তাইপে শহরকে পেছনে রেখে দুটি সেলফি তুলেছেন।
এই প্রথম কোনো মানুষ তাইপে ১০১ ভবনে ‘ফ্রি সলো’ করেছেন। ফ্রি সলো মানে কোনো রশি নেই, কোনো সেফটি নেট নেই। নেই কোনো যান্ত্রিক সহায়তা। শুধু খালি হাত আর গ্রিপ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে আছে সামান্য চক।
ক্লাইম্ব শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে হনল্ড বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। কয়েক দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমি যেন আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছি। কত দিন ধরে ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়, হবে কি না। কিন্তু যখন সত্যিই করে ফেলি, তখন অনুভূতিটা সব সময়ই আলাদা।’
২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তাইওয়ানের এই গগনচুম্বী ভবনে ওঠা হনল্ডের বয়স এখন ৪০। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ক্লাইম্বিং দুনিয়ার পরিচিত মুখ। বিশের কোঠায় থাকতেই কঠিন রুটে সফল ফ্রি সলো ক্লাইম্ব করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ২০১৭ সালে ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের এল ক্যাপিটান সম্পূর্ণ রশিবিহীনভাবে বেয়ে ওঠার পরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে যান। সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেন। সেই ভয়ংকর অভিযানের গল্প ধরা পড়ে অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি ‘ফ্রি সলো’তে।
কখনো থেমে যাননি হনল্ড। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজে নিয়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন। তাইপে ১০১-এ ওঠার ইচ্ছা তাঁর এক দশকের বেশি সময় ধরে। কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। পুরো ক্লাইম্বটি নেটফ্লিক্সে লাইভ স্ট্রিম করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ও ক্যামেরা পারসন রশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঝুলে বিভিন্ন দিক থেকে হনল্ডকে ভিডিও করেন। হনল্ড এই বেয়ে ওঠাকে বলেছেন, এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শহুরে ফ্রি সলো ক্লাইম্ব।
আসলে এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল শনিবার সকালে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। রোবার সকালে আকাশ ছিল নীল, বাতাস ছিল শান্ত। একেবারে আদর্শ পরিবেশ। সেই সুযোগেই শুরু হয় আরোহণ।
হনল্ডের ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে শান্ত রাখা। এত মানুষ, এত নজর, সব মিলিয়ে চাপটা বেশি লাগছিল। কিন্তু যত ওপরে উঠেছি, ততই শান্ত হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিল, এ তো দারুণ মজা, এ জন্যই তো আমি এটা করি।
অ্যালেক্স হনল্ড অবশ্য এই ভবনের প্রথম আরোহণকারী নন। ২০০৪ সালে ফরাসি ক্লাইম্বার অ্যালাঁ রোবেয়ার্ট তাইপে ১০১-এর চূড়ায় উঠেছিলেন, তবে রশির সাহায্যে। ভবনটির উদ্বোধন উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেদিন ছিল বৃষ্টি আর প্রবল বাতাস, ফলে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। সে তুলনায় হনল্ডের লেগেছে মাত্র দেড় ঘণ্টা।
রোবেয়ার্ট আর হনল্ড, দুজনই বলেছেন, ভবনটি বেয়ে ওঠা তাঁদের পরিচিত পাহাড়ি বা পাথুরে রুটের মতো অতটা জটিল নয়। কাচের পিচ্ছিল দেয়ালে ঝুলে থাকতে হয়নি হনল্ডকে। ধাতব কাঠামো, বিম আর কাঠামোর বেরিয়ে আসা অংশ ছিল, যেগুলো ধরে ওপরে আগানো সম্ভব। যদিও ওপরে উঠতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় বেশ কিছু বিশেষ কৌশল করতে হয়েছে। সেগুলোও হনল্ড অনায়াসে পার করে দ্রুত ওপরে উঠেছেন। মাঝেমধ্যে বারান্দার মতো ধাপে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। নিচের মানুষদের দিকে হাত নেড়েছেন।
এই পুরো সময়ে মনে মনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন অ্যালেক্স হনল্ডের স্ত্রী স্যানি ম্যাকক্যান্ডলেস। তিনি ভবনের ভেতর থেকে কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখছিলেন। একতলায় এসে হনল্ড যখন কাচের ওপাশ দিয়ে হাত নেড়েছিলেন, স্যানিও তাঁকে দেখে হাত নাড়ান। চূড়ায় ওঠার পর ভেতরের এক বারান্দায় দুজনের দেখা হয়। আলিঙ্গনের পর স্যানি মজা করে বলেন, ‘পুরো সময়টাই আমার প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিল।’
২০০৪ সালে উদ্বোধনের সময় তাইপে ১০১ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন। পরে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নেয়। এরপর আরও অনেক উঁচু ভবন তৈরি হয়েছে, নিউইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও যার মধ্যে আছে। তবু তাইপে শহরের আকাশরেখায় তাইপে ১০১ আজও এক অনন্য বিস্ময়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে হনল্ডকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সত্যিই স্নায়ু কাঁপানো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্লাইম্ব শেষ করে হনল্ড বলেছেন, তিনি চান এই দৃশ্য দেখে মানুষ নিজেদের লক্ষ্য আর চ্যালেঞ্জের পেছনে ছুটতে অনুপ্রাণিত হোক।
সূত্র: সিএনএন
![]() |
| অ্যালেক্স হনল্ড। ইয়াহু |
Saturday, October 11, 2025
বোমা আর ড্রোনের শব্দ ছাড়া গাজাবাসীর প্রথম রাত
আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি এই বিরল মুহূর্তটি বর্ণনা করেছেন এভাবে, 'আজ রাতে গাজার ওপর যা উড়ছে, তা শুধুই আশা। কোনো ড্রোন নেই। কোনো বোমা নেই। আকাশ কমলা রঙের হয়ে ওঠেনি। নীরবতা এই অঞ্চলে এমন এক বিরল শব্দ, যা প্রায় অদ্ভুত মনে হয়।' তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাসে এমন রাত প্রথম এল, যেখানে কোনো বিমান হামলা হয়নি বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ছুটে যায়নি।
একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক আল জাজিরাকে বলেন, 'আজ ড্রোনগুলো থেমে গেছে, আর সেই ভুমম ভুমম শব্দ নেই। আমরা নিরাপদ, আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। আমরা শান্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে একত্র হতে পেরেছি, এটা খুবই ভালো লাগছে।'
গাজার দক্ষিণে আছে বেশ কিছু অস্থায়ী শিবির। যেখানে খুব অল্প জায়গায় বহু মানুষ ভিড় করে আছে। এই অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আছে বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলো। তারা অবশেষে এক মুহূর্তের শান্তি খুঁজে পেয়েছে।
আরেক নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'গত দুই বছরে আমরা এত কষ্ট করেছি, যা কিছু দেখেছি, সব কিছু সত্ত্বেও আমি এই যুদ্ধবিরতিতে খুশি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ভেতরের ভয় দূর হয়ে গেছে। এখন আমরা আমাদের প্রিয়জনদের, পরিবারকে, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি, যারা এখনও বেঁচে আছে। লড়াই থামার পর থেকে আমি সত্যিই খুশি। আজ আমি বাজারে গিয়েছিলাম। আমার বোনের সাথে দেখা করেছি, তাকে আমি গত দুই বছরে একবারও দেখিনি। তাকে দেখতে পেয়ে আমার হৃদয় প্রকৃত আনন্দ ভরে উঠেছে।'
গাজার আকাশে দীর্ঘ দুই বছর পর নেমে এসেছে এই নীরবতা বা শান্তি। এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কেবল যুদ্ধের বিরতি নয়, এটি হলো বেঁচে থাকা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আবারও মিলিত হওয়ার আশা। দুই বছরের যুদ্ধ আপাতত শেষ বলে মনে হচ্ছে। এই নীরব রাত পেরিয়ে গাজাবাসী হয়তো নতুন এক সকাল পেতে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ইংলিশ
![]() |
| যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে খান ইউনিসে ফিলিস্তিনিদের আনন্দ। ৯ অক্টোবর ২০২৫, গাজা। ছবি: এএফপি |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1763)
-
▼
August
(310)
-
▼
Aug 28
(6)
- পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা by ডা. কাজী জ...
- নেপালে বিপর্যয়: ‘নিমেষেই চোখের সামনে নিশ্চিহ্ন হয়ে...
- ইরান-ন্যাটো নিয়ে আলোচনা করতেই রাশিয়া সফরে গিয়েছিলে...
- ‘বসনিয়ার কসাই’ সার্ব জেনারেল মারা গেছেন
- বিশ্বসেরা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ইরানের পারমাণব...
- শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সেটে ফিরবেন না নায়িকা
-
▼
Aug 28
(6)
-
▼
August
(310)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











