Saturday, September 5, 2015

অস্ট্রিয়া যাচ্ছেন হাঙ্গেরির আটকে থাকা অভিবাসন-প্রত্যাশীরা

হাঙ্গেরিতে আটকে থাকার পর অবশেষে অস্ট্রিয়ায় যাচ্ছেন হাজারো অভিবাসন-প্রত্যাশী। অস্ট্রিয়া ও জার্মানি অভিবাসন-প্রত্যাশীদের তাদের দেশে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে। খবর বিবিসির।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সম্প্রতি সাগরতীরে ভেসে আসা সিরীয় শরণার্থী তিন বছরের শিশু আয়লানের নিথর দেহের ছবি প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। সেই ছবি কাঁদিয়েছে বিশ্বকে। অভিবাসন নীতি নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এরপরই এই পদক্ষেপ নিল জার্মানি ও অস্ট্রিয়া।
কয়েক দিন ধরে হাঙ্গেরি অভিবাসন-প্রত্যাশীদের ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনে উঠতে দেয়নি। এতে স্টেশনেই আশ্রয় নেয় অভিবাসন-প্রত্যাশীরা। ট্রেনে উঠতে গিয়ে কয়েকবার দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাঁদের।
গতকাল শুক্রবার অভিবাসন প্রত্যাশীদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় হাঙ্গেরি। বুদাপেস্টের কেলেতি স্টেশন থেকে বাসে করে হাজারো অভিবাসন-প্রত্যাশীদের অস্ট্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। ট্রেনে যেতে না পেরে অনেকে খালি পায়ে অস্ট্রিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁদের জন্যও যানবাহন পাঠিয়েছে হাঙ্গেরি।
অভিবাসন প্রত্যাশীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সীমান্ত পার হয়েছে। এ সময় অস্ট্রিয়ার বাসিন্দারা তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী সেখান থেকে জার্মানিতে যাবেন।
অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ওয়ানারার ফেম্যান বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর অভিবাসন-প্রত্যাশীদের নিজেদের দেশে ঢোকার অনুমতি দিয়েছেন।

‘সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) জরিপে এসেছে বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তাই এখন নির্বাচন দিয়ে সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রশ্নই ওঠে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।   শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এসব কথা বলেন এইচ টি ইমাম। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ,  ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক  সলিমুল্লাহ খান এবং বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপের নির্বাহী পরিচালক নাসিম ফিরদেৌস। অনুষ্ঠানে হাসিনা আক্তার নামের এক দর্শকের প্রশ্ন ছিল- আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক জরিপে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, সেই ফলাফল কি একটি মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলছে?   উত্তরে  সলিমুল্লাহ খান বলেন, “সরকার যদি সংকট মনে করে তাহলে নির্বাচন দিতে পারে। কিন্তু জরিপের ফলের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করা পরিপক্ব চিন্তা মনে করি না।” তবে আইআরআই নামের সংগঠনটি কোন পদ্ধতিতে জরিপ করেছে তাও পরিষ্কার করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।     নাসিম ফিরদেৌস বলেন, “সরকার এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে তাতে দুই পক্ষকেই থাকতে হবে। এখন নির্বাচন দিলে বিএনপি যে তাতে অংশ নেবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়াসহ বেশ কিছু শর্ত আছে দলটির।”   এক তরুণ দর্শক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এ জরিপের ফল সরকারকে আরো স্বৈরাচারী হতে উৎসাহিত করবে।” একজন বয়স্ক জরিপের ফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দর্শক বলেন, “জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হলো। এরপর একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনও হলো।তারপরও কীভাবে এ সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ে?” আরেক তরুণী বলেন, “গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের এত বেশি দাম বাড়ানোর পরও কীভাবে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ে, তা আমার বোধগম্য নয়।” হান্নান শাহ বলেন, “আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন চায়। তাই নির্বাচন প্রয়োজন।” জরিপে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ার বিষয়টির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে ফলাফল এসেছে, তা সমর্থন করেন বলে জানান।   এইচ টি ইমাম বলেন, “সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তার মানে সরকারের প্রতি জনসমর্থন আছে। তাহলে সরকার নির্বাচন দেবে কেন? এখন মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচন দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” জরিপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে যে মত এসেছে এ বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, “এ জরিপের ভিত্তিতে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।” তার বক্তব্যের পর এক তরুণ দর্শক জানতে চান- অনৈতিকভাবে এ সরকার আর কত দিন ক্ষমতায় থাকবে? উত্তরে এইচ টি ইমাম বলেন, “এই সরকার অত্যন্ত নৈতিকভাবে ক্ষমতায় এসেছে।” ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে একটি প্রশ্ন ছিল- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে সরকারের যথেষ্ট পদক্ষেপ কি দেখা যাচ্ছে? উত্তরে হান্নান শাহ বলেন, “না। ক্রসফায়ারে কিছু ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছে যা অনৈতিক। আর এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই।” ছাত্রলীগ থেকে আগাছা নির্মূল করার বক্তৃতা প্রধানমন্ত্রীর শুধু ‘রাজনৈতিক ভাষ্য’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।     সলিমুল্লাহ খান বলেন, “কোনো দলকেই তার যেকোনো অঙ্গসংগঠনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। সরকার ও বিরোধী দল দুটোই শাষক শ্রেণীর দল। তাই কেউ ব্যতিক্রম নয়। ক্ষমতায় থাকতে অস্ত্র হিসেবে দলের অঙ্গসংগঠনকে ব্যবহার করে।” এইচ টি ইমাম বলেন, “ছাত্রলীগকে নিয়ে যথেষ্ট অপপ্রচার করা হচ্ছে। ছাত্রলীগ অনেক ভালো কাজও করে। এ দেশে ছাত্রলীগের অনেক অবদানও আছে। কিছু বিষয়ে ছাত্রলীগকে নিয়ে সরকার বিব্রত হলে তাদের ডাকা হয়। তাদের বুঝানোর মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।”   নাসিম ফেরদৌস বলেন, “শিক্ষাঙ্গনে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্রদের রাজনীতি কেমন হবে তার একটি নীতিমালা তৈরি করাও দরকার।”   হান্নান শাহ বলেন, “ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। এ জন্য ছাত্রলীগের মতো কোনো সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নিতে হয়নি।” বিভিন্ন দেশে অভিবাসী সংকট প্রসঙ্গ   অনুষ্ঠানে আরেকটি প্রশ্ন ছিল- ইউরোপের দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী সংকট যে করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তা মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?   সলিমুল্লাহ খান বলেন, “ইউরোপের অভিবাসী সংকট অপ্রত্যাশিত ছিল না।  সিরিয়া, লিবিয়া বা আমাদের দেশের মতো দেশের সংকটের জন্য ইউরোপ কি কিছু মাত্র দায়ী নয়? ইউরোপকে এ দায় স্বীকার করতে হবে। তারা অর্থনৈতিক শরণার্থীদের প্রত্যাখ্যান করতে চায়। অন্যদিকে রাজনৈতিক শরণার্থীদের আহ্বান জানায়।”   নাসিম ফিরদৌস বলেন, “অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপ তাদের দরজা বন্ধ করে দিলে হবে না। অন্যদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুটি ভিন্ন। বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ গ্রহণ করতে পারে না। দুই দেশেরই কৌশলী হতে হবে, নির্দিষ্ট নিয়ম করে তা অনুসরণ করতে হবে।”   এইচ টি ইমাম বলেন,  “এগুলো যারা সৃষ্টি করেছে তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। আর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের অবস্থান দেখতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। সে দেশের সরকারকেই আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিতে হবে তাদের নাগরিকদের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য।”   হান্নান শাহ বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলোর  কারসাজিতেই মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত হয়েছে।  আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে।” বাংলাদেশে গরু পাঠানো বন্ধ করা ইতিবাচক   অনুষ্ঠানে এক দর্শক জানতে চান, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাঠানো প্রায় বন্ধ হওয়ার বিষয়টি কি প্রকারান্তরে স্থানীয়ভাবে গবাদী পশু উন্নয়নের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে?   নাসিম ফিরদেৌস বলেন, “এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শিশুদের জন্য গরুর দুধ পাওয়া যায় না। অবশ্যই সুযোগ। ভারতের গরু পাঠানো বন্ধের কারণে শুধু যে বাংলাদেশে গবাদি পশুরই উন্নয়ন হবে তা নয়, সেই সঙ্গে দুধের উৎপাদনও বাড়বে, যা পুষ্টিমান বাড়াবে।”    হান্নান শাহ বলেন, “আগামী ১০-১৫ বছরে আমরা এ সমস্যার (গরু) সমাধান করতে পারব না।” এইচ টি ইমাম বলেন, “ভারত গরু পাঠানো বন্ধ করে দিলেও কোনো সমস্যা নেই। গরুর পরিমাণ প্রচুর বেড়ে গেছে। দুধ উৎপাদনও বাড়বে।”     বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এবং বিবিসি বাংলার যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ করতে নতুন আইন হবে : প্রধানমন্ত্রী

সরকার দেশে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির নিরাপদ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ রাখতে হবে এবং এটিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ও জনগণের ধর্মীয় অবনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কাজে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সম্প্রসারণের পাশাপাশি এটির নিরাপদ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে কোন অশুভ মনোভাব নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে জনগণের মধ্যে আমাদেরকে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ব্যান্ডউইথ মূল্য আটবার কমিয়ে এনেছে এবং বর্তমান মূল্য ৬২৫ টাকায় নেমে এসেছে যা ২০০৮ সালে ছিল ৭৮ হাজার টাকা। তিনি সরকারের উদ্যোগ অনুসরণ করে কল রেট কমিয়ে আনার জন্য টেলিফোন অপারেটরদের প্রতি অনুরোধ জানান।
আইসিটি ডিভিশন, বেসিস এবং গ্রামীন ফোনের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ এবং সারা দেশের ৪৮৭ টি উপজেলায় সপ্তাহ পালনের এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান এবং গ্রামীন ফোনের সিইও রাজিব শেঠি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
সপ্তাহ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নগরীর বনানী সোসাইটি গ্রাউন্ডে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও আইসিটি সচিব শ্যামসুন্দর শিকদারের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাগভনেট এবং ইনফোসরকার-২ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, রংপুরের পীরগঞ্জ, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, নাটোরের সিংড়া এবং বরিশাল সদর উপজেলার স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলেন।
‘উন্নয়নের পাসওয়ার্ড আপনার হাতে’-এই শ্লোগান নিয়ে সারা দেশে ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫ পালন করা হচ্ছে। এই সপ্তাহ পালনের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে ইন্টারনেট মেলার মাধ্যমে এক কোটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ নতুন ইউজার সৃষ্টি করার জন্য ইন্টারনেট সম্পর্কে জনগণকে সার্বিক ধারণা দেয়া।
এ সপ্তাহ পালনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেককে ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের অর্ধেককে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া যাতে আইসিটি খাত থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার, ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করা যায়।

নারীদের ভায়াগ্রা নিয়ে পুরুষদের অতি আগ্রহ!

ভারতের মুম্বাইয়ের যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ প্রকাশ কোঠারি মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তাকে করা প্রশ্নের মধ্যে যৌন রোগ-ব্যাধি থেকে শুরু করে অনেক হাস্যকর বিষয়ও থাকে। তবে সম্প্রতি এই চিকিৎসকের কাছে সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া হচ্ছে নারীদের জন্য ‘ভায়াগ্রা’ সম্পর্কে। আর এমন জানতে চাওয়াদের মধ্যে নারীদের চেয়ে বিবাহিত পুরুষের সংখ্যাই বেশি। প্রকাশ কোঠারি বলেন, নারীদের জন্য ভায়াগ্রার কার্যকারিতা কেমন, আর কোথায় পাওয়া যাবে এখন এসব জানতে চাচ্ছেন অনেক বিবাহিত পুরুষ।  মাত্র দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ নারীদের জন্য যৌন উত্তেজক ওষুধ ফ্লিবানসেরিন অনুমোদন করেছে। অ্যাডি নামে ওষুধটি বাজারজাত করছে স্পারাউট ফার্মাসিউটিক্যালস। এর পর থেকেই ফোন ও ইমেইলে এই সম্পর্কে ভারতীয় চিকিৎসকদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হচ্ছে।
চিকিৎসক কোঠারি বলেন, ভারতীয় নারীদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যেই এর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বাজারে বৈধভাবে অ্যাডি নামের নারীদের জন্য ‘ভায়াগ্রা’ বাজারজাত করতে হলে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বরাবর আবেদন করতে হবে স্পারাউট ফার্মাসিউটিক্যালসকে।
নারীদের জন্য ‘ভায়াগ্রা’র প্রতি ভারতে মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে ‘গুগল সার্চে’। এই নিয়ে প্রথম এক লাখ সার্চে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে ভারত। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। নারীদের জন্য ভায়াগ্রার প্রতি আগ্রহের কারণ হিসেবে ভারতীয় বিবাহিত পুরুষদের অলসতাকেই দায়ী করেন চেন্নাইয়ের যৌগরোগ বিষয়ক চিকিৎসক নারায়ণ রেড্ডি। তিনি বলেন, যেসব পুরুষ দাবি করেন তাদের সঙ্গীর মধ্যে যৌন উত্তেজনা নেই, তারা কেউ নারী সঙ্গীকে এ ব্যাপারে সহায়তা করেন না।
আকাশ নামে চিকিৎসক কোঠারির এক রোগীর মধ্যেই উল্লিখিত বিষয়টি দেখা যায়। আকাশ অভিযোগ করেন, তিনি চুমু খাওয়া সত্তেও স্ত্রীর দিক থেকে যৌন উত্তেজনার কোন প্রকাশ দেখেননি। তাই এই নারীদের জন্য ‘ভায়াগ্রা’ তার স্ত্রীর প্রয়োজন। অপর দিকে আকাশের স্ত্রীর অভিযোগ, আকাশ কখনোই তাকে উত্তেজিত করতে যথেষ্ট সময় দেয় না। আর চুমু খাওয়ার কোন উত্তর না দেয়ার কারণ, তিনি কোনোভাবেই স্বামীর মুখের তামাকের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না।
চিকিৎসক রেড্ডি বলেন, নারীদের জন্য ভায়াগ্রার অনেক ক্ষতিকর দিকও আছে। এসব ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় যদি নারী সঙ্গীটির আবেগের প্রতি পুরুষটি কিছুটা মনোযোগ দেন। তাই এ ক্ষেত্রে সঙ্গীদের নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন, ভায়াগ্রা বা পিল নয়।

বাংলাদেশে র‍্যাব চাপে পড়েছে : বিবিসির বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে গত এক দশকে র‍্যাব সহ বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে দু হাজারেরও বেশি মানুষ। নানা ঘটনায় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে সংস্থাটি। তবে র‍্যাব সংশ্লিষ্ট ছিল এমন কোন কাজের সমালোচনা ক্ষমতাসীন কোনো দল থেকে কখনোই শোনা যায়নি। তবে এবার সেটিই দেখা যাচ্ছে ঢাকার হাজারীবাগে সম্প্রতি রাজা নামক একজন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠার একদিন পর স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়ার কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনার পর । শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, আরজু মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন দল থেকেই তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে র‍্যাবের ।
আর এ সমালোচনায় কি কিছুটা হলেও চাপের মুখে পড়েছে পুলিশের এ বিশেষ বাহিনীটি ? হাজারীবাগে আরজু মিয়ার বাসায় বসে কথা হয় তার ভাই মাসুদ রানার সাথে যিনি তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেছেন আদালতে ।
তিনি বলেন, “যখন শুনেছি র‍্যাব আরজুকে আটক করেছে তখন বরং মনে শান্তি পেয়েছিলাম যে এলাকার কোন্দল থেকে যে রাজা মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে হৈ চৈ হাঙ্গামা তা থেকে আরজু বেচে আছে, ভালো আছে,সুস্থ আছে। কিন্তু এভাবে মেরে ফেলবে সেটা কল্পনাও করতে পারেনি ”।
পরে সংবাদ সম্মেলনে থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও আপনারা অনেক কথা বলেছেন। তো কি বলতে চেয়েছেন আপনারা ? – এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ রানা বলেন, “ আরজুকে পরিকল্পিতভাবে দলেরই কোন খারাপ লোকেরা হত্যা করেছে। আমিও তাই মনে করি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরজুকে হত্যা করা হয়েছে এজন্য মামলা করেছি। সঠিক তদন্ত চাই। মনের দিক থেকে সন্তুষ্ট থাকবো যে আমার ভাই যে দল করেছে তারা বিচার করতে পারে। ” তো দলটির নেতারা কি সেই আশ্বাস বা নিশ্চয়তা দিয়েছে আপনাকে ? জবাবে মাসুদ রানা “ সবাই আশ্বাস দিচ্ছে যে বিচার পাবো ও তাড়াতাড়ি ই পাবো। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কথায় আমরা সন্তুষ্ট । উনি আমাদের গাইড করছেন”।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী আরজু মিয়ার মতো অন্তত দু হাজার মানুষ ২০০৪ সালে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‍্যাব সহ বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
কিন্তু কখনোই ক্ষমতায় থাকা দলগুলো এ নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ।
বরং গত বছর এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের পর এবং পরে জুলাইয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়। একি দাবি করেছিলেন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও।
সরকারের মন্ত্রীদের অনেকেই এজন্যে তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের তীব্র সমালোচনা করেন ।
এমনকি নিজ দলের কর্মীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত বা গুম হওয়ার ঘটনাতেও আরে আগে তেমন কোন উচ্চবাচ্য করতে চাননি তারা।
কুমিল্লার কাজী আব্দুল মতিন বলছিলেন তার ছেলে কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এক সময় । উনিশ মাস আগে তার ছেলেকে বাড়ি থেকেই তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিখোঁজ সন্তানের একটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখুন ছবিতে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে আমার ছেলে। মন্ত্রীর সাথে রাতভর মিটিংয়ের পর বাসায় আসার পরেই ওই ঘটনা ঘটে। পরে মন্ত্রী সহ স্থানীয় নেতারা অনেক খোজ করেছেন কিন্তু আমি আমার সন্তানর খোজ আজও পাইনি”।
তবে এবার হাজারীবাগের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কথা বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, যা নিয়ে কার্যত কিছুটা চাপেই পড়েছে র‍্যাব । ওই এলাকার কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম সজিব বলছেন আরজু হত্যার সাথে জড়িতদের কোনভাবেই ছেড়ে দেবেননা তারা।
তিনি বলেন, “ আরজুর শরীরের জামা কাপড়ে গুলির কোন দাগ ছিলনা, শুধু শরীরে ছিলো। সে পালানোর চেষ্টা করলে গুলি লাগতো পিঠে। এছাড়া আমি তার শরীরে কুকুরের কামড়ের দাগ দেখেছি। এ ঘটনার সাথে দল বা প্রশাসনের যে-ই জড়িত থাকুক ছাড়া পাবেনা। ” তবে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলছেন শুরু থেকেই বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এখনকার মতো প্রতিক্রিয়া আসলে এতো বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে বন্দুকযুদ্ধের শিকার হতে হতোনা বলেই মনে করেন তিনি।
“ এখন বিতর্ক হচ্ছে যেটা আগে হয়নি কখনো । এটা ভালো ইঙ্গিত । যদিও বড় খরচের মধ্য দিয়ে এটা হলো যে প্রায় ২ হাজার মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে । এখন যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, এবং এ ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্ক যদি ১০/১৫ বছর আগে সূচনা হতো তাহলে এতো মানুষ এর শিকার হতোনা”।
তিনি বলেন, আরজু মিয়ার ক্ষেত্রে পরিবার থেকে যে মামলা হয়েছে সে ধরনের মামলা আগেও হয়েছে কিন্তু সব সময়ই দেখা গেছে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে পদ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
“ আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এরা আসে সামরিক বাহিনী থেকে এবং পুলিশের হয়ে কাজ করছে। যখন অভিযোগ আসে তখন তারা যখন সামরিক বাহিনীতে চলে যায় তখন তাদের ওপর সামরিক বাহিনীর বিধি বিধান প্রযোজ্য হয়। ফলে সাধারণ আদালতে ফৌজদারি অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া থেকে তাদের দুরে সরিয়ে নেয়া হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়ার কারণেই এরা জবাবদিহিতার সম্মুখীন হয় না ”
আর জবাবদিহিতার কোন সুযোগ নেই বলেই অনেকে পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে তার শেষ পরিণতি সম্পর্কেও জানতে পারেননি। হাজারীবাগের মাসুদ রানা কিংবা কুমিল্লার কাজী আব্দুল মতিন তাদের ভাই কিংবা সন্তান নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার পর ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা কর্মী হওয়ার সুবাদে দল বা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন বা পাওয়ার চেষ্টার সুযোগ পেয়েছেন।
কিন্তু সে সুযোগও পাননি ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে ১৯ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম। সরকারি নানা দপ্তরে ঘুরে হতাশ সানজিদা বলছেন এখন সরকারি দলের কর্মীরা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের দলের নেতারা বিচারের যে দাবি করছেন সেটি হলেও তারা খুশী হবেন।
“র‍্যাবের পোশাক পড়া লোকজন আমার ভাই সহ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটেছে । তিনি ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন এখানে। কাউন্সিলর নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন । থানা, পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন সব জায়গায় গেছি আমরা বার বার। কিন্তু খোঁজই পেলামনা এখনো। এখন সরকারি দলের কর্মীদের হত্যার বিচার হলে নিশ্চয়ই একদিন আমরাও বিচার পাবো ”।
বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের ঘটনার পাশাপাশি সাজেদুল ইসলাম সুমনের মতো অসংখ্য মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে মূলত রাজনৈতিক সংঘাত সহিংসতার সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া বা গুম হওয়ার ঘটনা বেড়ে যায় । তবে র‍্যাব সবসময়ই বলে আসছে যে আর এসব ঘটনার অধিকাংশগুলোর ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন র‍্যাবের বিরুদ্ধেই। কিন্তু সরকার ও র‍্যাব এগুলো সবসময়ই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
র‍্যাবের উপপরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম বলছেন একটি শক্তিশালী তদন্ত সেল অভিযোগের তদন্ত করে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, “ যে কোন অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন বিশেষায়িত সেল আছে। তারা স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। অনেকের বিরুদ্ধেই চাকুরিচ্যুতি সহ নানা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোন কিছু ঘটলেই র‍্যাবের সমালোচনা করা হয় কিন্তু পরে দেখা যায় সে অভিযোগ সত্যি হয়না। ”
তবে সাম্প্রতিক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর পর তীব্র সমালোচনা হচ্ছে এটা কি কোন চাপ সৃষ্টি করছে র‍্যাবের ওপর—এমন প্রশ্নের জবাবে মি আলম বলেন, “কাজ করতে গেলে সমালোচনা হবেই। কোন গাফিলতি বা থাকলে তদন্ত পর্ষদ আছে
তারা তদন্ত করে আইনগত যা করার সেটাই করা হবে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনাতেও ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই কোন বাড়তি চাপ মনে করছিনা ”।
কিন্তু র‍্যাব বা সরকার যা-ই বলুক, অনেকেই মনে করেন হাজারীবাগের আরজু মিয়ার নিহত হওয়ার পর সরকারি দলের নেতাদের কঠোর সমালোচনা বন্দুকযুদ্ধ সহ নানা ঘটনায় শুরু থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়া র‍্যাবের ওপর নৈতিক দিক থেকে হলেও একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে ।
সূত্র : বিবিসি।

কুরবানি নিয়ে চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে : ওলামা লীগ

কুরবানি থেকে মানুষকে নিরুৎসাহীত করতে সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি মহল চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি দলের নেতৃবৃন্দ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তারা এ অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে তারা বলেন, ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রতিবছর কুরবানি পশুর হাট নিয়ে অপপ্রচার করে। অথচ যখন পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো স্থান ঢাকা মেডিক্যাল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আগত সবগুলো রাস্তাই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চতুর্দিকে থাকে বৈশাখপ্রেমী অজস্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলাতো দুরের কথা মানুষই চলতে পারে না। তা নিয়ে কোনো মাতামাতি করে না। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থানের কারণে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা টানা ছয়দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। রথযাত্রার সময় পুরো রাস্তায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, তাছাড়া বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়েও রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়, অসহনীয় যানজট তৈরি হয়। তখন এসব ইসলাম বিদ্বেষীরা কিছু বলে না। যখন কুরবানির সময় আসে তখন তারা কুরবানির পশুর হাটের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে।
বক্তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অজুহাতে দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হিন্দুত্ববাদী চক্রান্তের শিকার হয়ে কুরবানির পশু জবাই করার স্থান নির্দিষ্ট করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীতে পশু কুরবানির জন্য ৪৯৩টি স্থান নির্ধারণ করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এসব স্থানেই পশু কোরবানি করতে হবে। তাছাড়া সারাদেশের ৩২৩টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি করপোরেশনকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা শহরের লাখ লাখ কুরবানিদাতার দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কুরবানি না করে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হবে। সুতরাং অবিলম্বে কুরবানির বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী চক্রান্ত বন্ধ করে কুরবানির স্থান নির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

দুর্নীতি প্রধান সমস্যা গণতন্ত্রে আস্থা, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, আগাম নির্বাচনের পক্ষে মত, সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে

গণতন্ত্রে নানা ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রেই বেশির ভাগ বাংলাদেশীর আস্থা। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন বাংলাদেশীরা। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮১ শতাংশের মতো হলো, নানা সমস্যা সত্ত্বেও অন্য যে কোন সরকার ব্যবস্থার তুলনায় গণতন্ত্র উত্তম। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এমনটা মনে করেন। এ ধারণায় বাকি ২৮ শতাংশের কিছুটা সমর্থন রয়েছে। ৮৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গণতন্ত্র কার্যকর। এর মধ্যে জোরালো সমর্থন ৪১ শতাংশের আর কিছুটা একমত ৪২ শতাংশ। তবে, জরিপে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ৬৮ শতাংশ মানুষের মতো হলো গণতন্ত্র ভীষণ কলহপূর্ণ। আর গণতন্ত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মন্দভাবে পরিচালিত হয় বলে মনে করেন ৪৫ ভাগ মানুষ। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে- সমৃদ্ধ অর্থনীতি আর গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় মধ্যে গণতন্ত্রকেই অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বেছে নিয়েছেন ৬৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ দৃঢ়তার সঙ্গে গণতন্ত্রে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে সমৃদ্ধ অর্থনীতিকে বেছে নিয়েছেন মাত্র ২৭ শতাংশ যা গত বছর ছিল ৩০ শতাংশ। জরিপে আরও উঠে এসেছে, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) প্রতি তাদের কর্তব্য পালনের ভিত্তিতে মানুষের সমর্থন বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দেয়া সমর্থন রেটিংয়ে সেনাবাহিনী ৮৬ শতাংশ, গণমাধ্যম ৮৩ শতাংশ নাগরিক সমাজ ৮০ শতাংশ এবং র‌্যাব ৭৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছে। জরিপে রাজনীতি নিয়ে হতাশাব্যাঞ্জক অভিমত দিয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ। কর্তব্য পালনের বিচারে সব চেয়ে আস্থা হরিয়েছে সংসদ, পুলিশ ও রাজনৈতিক দলগুলো। সংসদের কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ। আর ৬৭ শতাংশ আস্থাহীনতার মত দিয়েছেন। পুলিশের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৩ শতাংশ মানুষের আর আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন ৫৩ শতাংশ। আর রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় ক্ষেত্রেই ৪৬ শতাংশ মানুষের অবস্থান। নির্বাচন প্রসঙ্গে, ৮৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখার সুযোগ করে দেয় নির্বাচন। ৬৭ শতাংশ জোরালোভাবে এটা মনে করেন। আর ২১ শতাংশের কিছুটা হলেও এতে সমর্থন রয়েছে। তবে গত বছর সেপ্টেম্বরের জরিপে এ সংখ্যা ছিল ৯৪। পরবর্তী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের আগে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মনে করেন ৬৭ শতাংশ মানুষ। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন যত দ্রুত সম্ভব দেখতে চান ৪৩ শতাংশ। আর ৪০ শতাংশ মানুষ মনে করেন বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করা উচিত। এছাড়া জরিপে দেশের সব থেকে বড় সমস্যা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন বেশির ভাগ মানুষ। এরপরই স্থান পেয়েছে রাজনৈতিক অস্থীতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ২৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশের সব থেকে বড় সমস্যা দুর্নীতি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে যথাক্রমে ১৬ ও ১৫ শতাংশ মানুষ। আইআরআই তাদের জরিপ প্রকাশের এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনী ইস্যুগুলো নিয়ে বিভক্তি থাকা সত্ত্বেও জরিপে উঠে এসেছে- জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গত বছর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জনগণের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৫ই জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৮ মাসে ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন পৌঁছেছে যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৭ শতাংশে।’ আরও বলা হয়, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অব্যাহতভাবে আশাবাদী বাংলাদেশীরা। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬২ শতাংশ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গতবছরের জরিপে যা ছিল ৫৬ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি সমর্থন উপভোগ করছেন আওয়ামী লীগ। তাদের প্রতি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। আর অপছন্দ ব্যক্ত করেছেন ২৯ শতাংশ। বিএনপি’র প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ৪৩ শতাংশ আর অপছন্দ বলে মত দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ। এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলের পক্ষে ও বিপক্ষে মত দিয়েছেন ২৫ ও ৬০ শতাংশ। নেতৃত্বের বিচারে বিএনপি’র তুলনায় অনেক ভাল সমর্থন গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষে। শক্ত নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তরুণ নেতৃত্ব, নারীদের প্রতি সমর্থন, ভাল নীতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই- এসব ক্ষেত্রগুলোতে জরিপ অংশগ্রহণকারীরা বিএনপি’র চেয়ে বেশি পয়েন্ট দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। এছাড়া- শিক্ষার উন্নয়ন, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জাতিগত দ্বন্দ্ব সমাপ্তি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বিএনপি’র চেয়ে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। এ বছরের ২৩শে মে থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত জরিপটি চালায় নিয়েলসেন-বাংলাদেশ। ১৮ বছর বয়সী ও তদূর্ধ্ব ২ হাজার ৫৫০ জনের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে আইআরআই। গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারসের রব ভ্যারসালোন ও আইআরআই জনমত জরিপটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন আইআরআই শক্তিশালী গণতন্ত্র গঠনে সহায়তামূলক কাজ করে থাকে।

ছাত্রী লাঞ্ছিত: নম্র রাহুল যেভাবে অপরাধী হয়ে ওঠল by এম এ মজিদ

হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রুহুল আমিন রাহুল। রাহুল নামটি তার নিজের দেয়া। পারিবারিক নাম রুহুল আমিনই। লেখাপড়া শুরু ঢাকার মধ্য বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে। বাবা ফজল মিয়ার মুদি মালের ব্যবসা রয়েছে সেখানে। সেই সুবাদে রাহুলের সেখানে থাকা। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বাড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পর তাকে বাবা পাঠিয়ে দেন হবিগঞ্জে। হবিগঞ্জের উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি করা হয় রাহুলকে। বসবাস শহরের রাজনগরে মামা মোবারক হোসেনের বাসায়। পাশের বাসার শাহজাহান মিয়ার শিশুকন্যা অর্ণা তখন ক্লাশ ফাইভে অধ্যায়নরত। ক্লাশ ফাইভে পড়া অর্ণার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে ৬ষ্ট শ্রেণীতে পড়া রাহুলের। অনেকেই জানিয়েছেন, শিশু বয়সেই প্রেম প্রেম খেলা চলে রাহুল ও অর্ণার। রাহুল ভর্তি হয় হবিগঞ্জ উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে, এক বছর পর ৬ষ্ট শ্রেণীতে অর্ণা ভর্তি হয় হবিগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। দুই স্কুলের দুরত্ব একটি রাস্তা ও একটি ছোট পুকুর। সহজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাস্তা ও পুকুর কোনো বাধা ছিল না। বাধা ছিল না মোবাইলে বা ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগেও। ইতিমধ্যে বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয়। এ প্রেক্ষাপটে ৮ম শ্রেণীতে উঠার পর রাহুলকে আবারো ঢাকায় নিয়ে যান তার বাবা। কিন্তু রাহুল সেখানে থাকতে নারাজ। পরিবারের কাছে কসম খেয়ে জানায়, সে আর অর্ণার সাথে যোগাযোগ করবে না। তবুও সে হবিগঞ্জেই পড়তে চায়। বাধ্য হয়ে রাহুলকে হবিগঞ্জে পাঠান তার বাবা। আবারো সে ভর্তি হয় একই স্কুলের ৯ম শ্রেণীতে, বাণিজ্য বিভাগে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কোর্ট হাজত খানায় রাহুল এ প্রতিবেদককে জানায়, ২য় বার হবিগঞ্জে আসার পর অর্ণার সাথে সে কোনো যোগাযোগ করেনি। তবে অর্ণাই তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতো। একপর্যায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় রাহুল। একাধারে ২০ দিন সে স্কুলেই যায়নি। শ্রেণীশিক্ষক বদরুল আলম খন্দকার খবর দিয়ে রাহুলকে স্কুলে নিয়মিত ক্লাশ করতে বলেন। স্যারের নির্দেশে সে আবারো স্কুলে যাওয়া শুরু করে। রাহুল জানায়, ঘটনার কয়েক দিন আগে অর্ণা একটি কালো ব্যাগে করে কাপড়চোপড় সাথে নিয়ে তার কাছে চলে আসে। বিয়ে করতে চাপ দেয়। বয়স না হওয়ায় বিষয়টি এখনই সম্ভব নয় জানালে তীব্র অভিমান করে অর্ণা। রাহুলের কাছ থেকে ফিরে গিয়ে অর্ণা হৃদয় নামের এক কিশোরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। হৃদয়ের বাড়ি শহরের উমেদনগরে। বিভিন্ন কারণে অর্ণার সাবেক প্রেমিক রাহুলের প্রতি হৃদয় ক্ষুব্ধ হয়। রাহুলের দাবি, অর্ণাই হৃদয়কে তার প্রতি ক্ষুব্ধ করে তোলে। একদিন হৃদয় তার বন্ধুদের নিয়ে রাহুলকে স্কুলে যাওয়ার পথে মারধর করে। মারধর করে অর্ণার স্কুলের সামনেই। অর্ণাও ঘটনাস্থলেই পাশেই ছিল। অর্ণা তার বান্ধবীদের নিয়ে রাহুলকে নির্যাতনের কাহিনী প্রত্যক্ষ করে, হাসিঠাট্টা করে। এতে চরমভাবে অপমান বোধ করে রাহুল।
প্রতিশোধ নেয়ার শপথটা তখনই। সুযোগ খুঁজতে থাকে রাহুল। সেই সুযোগটি আসে ২৬ আগষ্ট বিকালে। এবার বান্ধবীদের সামনেই অর্ণাকে চড়থাপ্পড় মারতে থাকে রাহুল। দৃশ্যটি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে তার বন্ধ নোমান ও শাকিল। নোমান ও শাকিল ভিডিওচিত্রটি তাদের নিজেদের ফেসবুকে আপলোড করে ১ সেপ্টেম্বর। বিষয়টি জেনে সাথে সাথে তা ডিলিট করে দেয় রাহুল। কিন্তু ইতিমধ্যে নোমান ও শাকিলের ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কেউ কেউ দৃশ্যটি শেয়ার করে। ফেইসবুক হোল্ডার শিশু হওয়ায় তাদের ফ্রেন্ড সংখ্যাও ছিল কম। ফলে তা ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে ৪৮ ঘন্টা। ৩ সেপ্টেম্বর সেই দৃশ্যটি চলে আসে সাংবাদিকদের কাছে। ১ ঘন্টার ব্যবধানে দৃশ্যটিতে শেয়ার করে ৩ হাজারেরও বেশি ফেসবুক হোল্ডার। যার ভিউয়ার ছিল তখন ৪৮ হাজার। এরপর সেটি চলে যায় টিভি মিডিয়ায় ও ইউটিউবে। এখন স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে চড়থাপ্পর মারার দৃশ্যটি ডিজিটাল দুনিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত।
৪ ভাইয়ের মধ্যে রাহুল ৩য়। বড় ভাই তারেক থাই এলোমুনিয়ামের দোকানে কাজ করে, ২য় ভাই কাউছার বেকার, ৩য় রাহুল, ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। রাহুলের গ্রামের বাড়ি বড়ইউড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বদরুল আলম জানান, রাহুলের বাবা ফজল মিয়া দীর্ঘদিন যাবত বাড়িতে আসেন না। তিনি কোথায় থাকেন তাও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জানে না। কয়েক বছর পরপর তারা একেকবার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে তাদের বসতবাড়িঘরও নেই বললেই চলে। রাহুলের স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ক্লাশ টিচার বদরুল আলম খন্দকার জানান, রাহুল অত্যন্ত ভদ্র নম্র ছেলেদের একজন ছিল। সে ৬ষ্ট, ৭ম ও ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত আমাদের স্কুলে পড়ে। ৮ম শ্রেণীর পর সে ঢাকায় চলে যায়। পরে ঢাকা থেকে আবারও সে একই স্কুলে এসে ভর্তি হয়। তার আচার আচরণ ছিল মার্জিত। কেন যে সে এতোটা দুঃসাহসি হয়ে উঠে, দেশে বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তা ভেবে দেখার বিষয়। তিনি জানান, যেহেতু একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সে আপাতত দায়ী, কাজেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্তই নেবে। নির্যাতিতা কিশোরী অর্ণা ইতিপূর্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। তবে এরপর থেকে মিডিয়ার সামনে কোনো কথা বলেননি অর্ণা ও তার পরিবারের কেউ।
শনিবার দুপুর ১টায় রাহুলকে নিয়ে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিয়িাল ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত সুলতানার কোর্টে আসেন ওসি নাজিম উদ্দিন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুক। সাথে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন। বাধা হয়ে দাঁড়ায় আইন। শিশু কিশোর অপরাধ দমন আইনে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। আইনী জটিলতায় কেটে যায় আরো কয়েক ঘন্টা। অবশেষে দুপুর ৩টার দিকে রাহুলকে নিয়ে যাওয়া হয় কিশোর অপরাধ দমন আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত জজ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভিনের আদালতে। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান জানান, যেহেতু গ্রেফতারকৃত ছাত্রটি শিশু। কাজেই শিশু কিশোর অপরাধ দমন আদালত ছাড়া অন্য কোনো আদালত এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান- আইন অনুযায়ীই সব কিছু হবে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারেও পুলিশ চেষ্টা করে আসছে। হবিগঞ্জের বিশিষ্ট ও কবি তাহমিনা বেগম গিনি বলেন “ কিশোরটি দুঃসাহসী, ছাত্রীকে লাঞ্ছনার সময়ও সে ছিল উদ্ধত্যপূর্ণ, এমনকি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পরও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা লক্ষ করা যায়নি। কিশোরীরও দোষ থাকতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে নির্যাতন ইতিপূর্বে হবিগঞ্জে আর হয়নি। কিশোর কিশোরীদের অপরাধের ক্ষেত্রে ফেসবুক, মোবাইলের অপব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাহুলকে গ্রেফতারের পর তার বাবা ফজল মিয়া ঢাকা থেকে আসেননি। তার মা-ও তার কোনো খোঁজখবর নেননি। এমনকি তার ভাইয়েরাও আসেনি থানায় বা কোর্টে। রাহুলের মামার বাড়ির লোকজনই দেখভাল করছে তাকে।

পুত্রশোকে পাগলপ্রায় আয়লানের বাবা

‘আমার অবুঝ দুই সন্তান ও স্ত্রী মারা গেছে’- এ সরল বাক্যটি ছাড়া কোনো কথা মুখে ফোটে না আবদুল্লার। প্রাণপ্রিয় স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় তিনি। স্বজন হারানোর বেদনা আর বুকভরা যন্ত্রণাই তার একমাত্র সঙ্গী। বুকের ভেতর আটকে থাকা প্রবল আর্তনাদ বিস্ফোরিত হচ্ছে আবদুল্লার চোখে-মুখে। জীবনের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপ যাওয়ার পথে স্ত্রী-সন্তান হারানো কুর্দি জনকের ব্যাকুল এ আহাজারি বুধবার এক খবরে প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। সিরিয়ার কোবানিতে ইসলামিক স্টেটের অত্যাচার-নিপীড়ন বেড়েই চলছে। তাই জন্মভূমি ছেড়ে ইউরোপে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল আবদুল্লাহ। প্রিয়সন্তান গালিপ (৫) ও আয়লান কুর্দির (৩) সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। সঙ্গে ছিল স্ত্রী রেহান (৩৫)।
কিন্তু তার সুন্দর ও যুদ্ধের বিড়ম্বনাহীন জীবনের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে ভূমধ্যসাগারের প্রাণনাশী ছোবলে। তুরস্কের উপকূল থেকে ছোট ডিঙ্গিতে চেপে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এক কথায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকাটিতে আরও ১৯ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে রওনা করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- গ্রিসের নিকটবর্তী কোস আইল্যান্ডের কাছে ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে যায় নৌকাটি। কোনোমতে সাঁতরে কিনারা পেয়ে যমদূতের হাত থেকে রক্ষা পান আবদুলাহ। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি তার কলিজার টুকরো শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে। সর্বনাশী নোনা পানিতে ডুবে মরা স্ত্রী-শিশুর লাশ সকালে ভেসে উঠেছে তুরস্কের উপকূলে। থকথকে বালুর ওপর মুখ থুবরে পড়ে থাকা আয়লানের নিথর দেহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

ট্রেন দখলে কাড়াকাড়ি!

বুদাপেস্টে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া আন্তর্জাতিক কেলেটি রেলস্টেশন বৃহস্পতিবার পুনরায় খুলে দেয়ায় শত শত অভিবাসী ঝড়ের বেগে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সেখানে। জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় যেতে ট্রেনে উঠতে এক প্রকার খণ্ডপ্রলয় লেগেছে তাদের মাঝে। এদিকে তুরস্কের উপকূলে ভেসে ওঠা সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির (৩) ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। খবর এএফপির। বুদাপেস্টে প্রায় দু’দিনের অচলাবস্থা শেষে আবার শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল।
নিরাপত্তা কর্মীদের তেমন তৎপরতা না থাকায় স্টেশনের ট্রেন দখলের প্রতিযোগিতায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন অভিবাসীরা। পুরো ইউরোপে সৃষ্ট এ সংকট মোকাবেলা করতে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দফতরে জরুরি বৈঠকে বসেছেন সংস্থাটির সদস্যরা। বৈঠকে ইইউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভয়াবহতম এ সংকটকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের সদস্যরা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাষ্ট্র ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও গ্রিসে বেড়ে চলছে এ অভিবাসীদের ভিড়।

আরাফাতের মৃত্যুর ময়নাতদন্ত বন্ধ!

ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে হত্যা করা হয়েছে এমন সন্দেহে চলমান এক তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ফ্রান্সের বিচারকরা। ইয়াসির আরাফাতকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ এনেছিলেন তার বিধবা স্ত্রী সুহা। সুইজারল্যান্ডের করা পরীক্ষায় ওই দাবির সমর্থন মেলে। তবে বিচারকদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আরাফাতকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আর তাই তারা তাদের তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ২০০৪ সালের ৮ নভেম্বর একটি স্ট্রোকে ইয়াসির আরাফাত মারা যান। তবে সেসময় তার স্ত্রী কোনো অভিযোগ না আনায় তার লাশের কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি। ২০১২ সালে আল-জাজিরা টেলিভিশনের একটি অনুসন্ধানে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের গবেষণায় আরাফাতের লিভারে পোলনিয়াম-২১০ এর অস্বাভাবিক অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপরেই সুহা আরাফাত তার স্বামীর মৃতদেহ পরীক্ষার দাবি জানান। রামাল্লায় ইয়াসির আরাফাতের কবর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড আর রাশিয়ার তদন্তকারীরা। এর আগেই ফ্রান্সের একজন আইনজীবী জানিয়েছিলে যে, পোলনিয়ামের ওই অস্তিত্ব প্রাকৃতিক কারণেই ঘটেছে।

আফগান তালেবানের ভবিষ্যৎ by হামিদ মীর

মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করা আফগান তালেবানের জন্য এক কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তার পরও তাদের এ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকারের পর জালালুদ্দিন হাক্কানি ও মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের মৃত্যুরও দাবি করা হয়। তবে সে দাবি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অনেকের ধারণা, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণের ব্যাপারে আফগান তালেবানের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে এবং তাদের সশস্ত্র কর্মসূচিও দুর্বল হয়ে পড়বে। মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের স্থানে মোল্লা আখতার মানসুরকে তালেবানের নয়া আমির বানানোর ঘোষণার পর কিছু আপত্তি উত্থাপিত হয়েছিল। তবে মোল্লা আখতার মানসুর দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই কাবুল সরকারের সাথে আলোচনা বাতিল করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলোর শক্ত অবস্থানকে দুর্বল করে দেন। কেননা আপত্তি উত্থাপনকারীদের নিরাপত্তা মোল্লা আখতার মানসুরের ব্যক্তিত্বের পরিবর্তে কাবুল সরকারের সাথে আলোচনার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ছিল। মোল্লা আখতার মানসুরের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি উত্থাপনকারীদের মধ্যে মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের এমন কিছু সাথীও রয়েছেন, যারা কিছুকাল ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে আসছেন। এ অভিযোগগুলো পাকিস্তানের জন্য বেশ কঠিন সমস্যা তৈরি করতে পারত, তবে পশ্চিমা মিডিয়া ও আফগান সরকারের প্রোপাগান্ডা আফগান তালেবানকে এটা ভাবতে বাধ্য করেছে যে, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর তারা যদি নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক নতুন লড়াই শুরু করে তাহলে ফায়দা হবে দুশমনের। দুশমনেরা দাবি করেছে মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যু পাকিস্তানে হয়েছে। তালেবান ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে দুশমনেরা বলে, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরকে আফগানিস্তানে দাফন করা হয়েছে বটে, তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে পাকিস্তানে। এ দাবিও প্রত্যাখ্যাত হলে এক নতুন মনোরম দাবির জন্ম হয়। এক সাংবাদিক লিখেছেন, মোল্লা মুহাম্মদ ওমর করাচির লি মার্কেটে আলু বিক্রি করতেন। করাচি ও কোয়েটায় মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের উপস্থিতির দাবি যারা করেছেন, তারা আজ পর্যন্ত নিজেদের বক্তব্যকে সত্য প্রমাণের জন্য সামান্যতম কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। মোটকথা মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর তালেবানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার ঝড় তালেবানের ক্ষতির পরিবর্তে উপকার সাধন করেছে। তারা একে অপরের সাথে মিলেমিশে নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ দূর করার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে মাওলানা সামিউল হক ও ড. শের আলী শাহ সাহেবও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মোল্লা আখতার মানসুরের প্রতি আপত্তি উত্থাপনকারী আফগান তালেবানদের একটি প্রতিনিধিদল দারুল উলুম হাক্কানিয়া আকোড়া খাট্টাক পৌঁছে এবং মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দিকনির্দেশনা আবেদন করে। মাওলানা সামিউল হক তাদের নিজেদের পরস্পরের মধ্যে মতবিরোধ দূর করার পরামর্শ দেন। এরপর মাওলানা মোল্লা আখতার মানসুরের প্রতি আপত্তি উত্থাপনকারী কিছু তালেবান নেতার সাথে নিজে যোগাযোগ করেন এবং ধীরে ধীরে মোল্লা আখতার মানসুরের বিরোধীরা চুপ হয়ে যায়। মোল্লা আখতার মানসুরের পক্ষ থেকে কাবুল সরকারের সাথে আলোচনার কর্মসূচি বাতিল করার পর আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় তীব্র গতিসঞ্চার হয়েছে। তালেবান কাবুলে পুলিশ অ্যাকাডেমি ও পশ্চিমা সৈন্যদের একটি কেন্দ্রে হামলা করে বিশ্বশক্তিকে এ পয়গাম পৌঁছিয়ে দিয়েছে যে, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পরও তালেবান কার্যকর শক্তি হিসেবে টিকে আছে। সম্ভবত ওই হামলাগুলোরই প্রতিফল যে, পাকিস্তানে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আকোড়া খাট্টাক মাওলানা সামিউল হকের কাছে ছুটে যান এবং তার কাছে আবেদন করেন, তিনি যেন আফগান তালেবানকে আলোচনার কার্যক্রম আবার শুরু করতে রাজি করান।
মাওলানা সামিউল হক আলোচনার পক্ষে, তবে তিনি আফগান রাষ্ট্রদূতকে তালেবানের নিরাপত্তা ও সাবধানতা অবলম্বন সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের জেলগুলোতে বন্দী তালেবানদের ওপর কঠিন নির্যাতন চলা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার যেন মোল্লা আখতার মনসুরের চালচলনে কোনো নমনীয়তার আশা না করে। মাওলানা সামিউল হক সর্বদা আফগান তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার রাজনীতির সাথে মতবিরোধ করা যেতে পারে। তবে তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। সম্প্রতি তিনি আফগান তালেবান সম্পর্কে ইংরেজিতে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। যার নাম Afghan Taliban : War of Ideology, Struggle for Peace (আফগান তালিবান : ভাবাদর্শের যুদ্ধ, শান্তির জন্য সংগ্রাম)। ওই গ্রন্থে তিনি আফগান তালেবান ও মোল্লা মুহাম্মদ ওমর সম্পর্কে বেশ কিছু ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের দারুল উলুম হক্কানিয়ায় পড়ালেখা করার কোনো রেকর্ড নেই, তা সত্ত্বেও তিনি দারুল উলুমের দু’জন পুরনো ছাত্র মৌলভি ইউনুস খালেস ও নবী মুহাম্মদীর ছাত্র। দারুল উলুম হক্কানিয়া মোল্লা মুহাম্মদ ওমরকে এক সম্মানসূচক ডিগ্রি অবশ্যই প্রদান করেছে। ওই গ্রন্থের তথ্য মোতাবেক মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের বিবি দু’জন। মাওলানা সামিউল হক লিখেছেন, মোল্লা মুহাম্মদ ওমর মেয়েদের শিক্ষার বিরোধী ছিলেন না। তবে তিনি সহশিক্ষার বিরোধী ছিলেন। ওই গ্রন্থে মাওলানা দাবি করেছেন, তালেবান শাসনামলে রীতিমতো প্রথম আফগানিস্তানের ক্রিকেট টিম গঠন করা হয় এবং তালেবান সরকার পাকিস্তানের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভের চেষ্টা করে, তবে এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
ব্রিটিশ সাংবাদিক জেমস ফার্গুসন আফগান তালেবান সম্পর্কে তার এক গ্রন্থে লিখেছেন, আফগানিস্তানের ইতিহাসে মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের কাছ থেকে যে সম্মান কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না, তা হচ্ছে, তিনি তার শাসনামলে পপি চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং ‘সাভারা’র মতো প্রথাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যে প্রথায় গোত্রীয় শত্র“তা দূর করার জন্য মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হতো। ফার্গুসন লিখেছেন, মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের শাসনামলে কারি বরকতুল্লাহ সালিম কাবুলে একটি গার্লস স্কুল পরিচালনা করতেন, যেখানে সাত হাজার ছাত্রী পড়ালেখা করত। মোল্লা মুহাম্মদ ওমর আফগানিস্তানে হিন্দু ও অন্য বিধর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্বমিডিয়ায় তার ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। বিশ্বমিডিয়া মোল্লা মুহাম্মদ ওমর ও আফগান তালেবানকে শুধু আল কায়েদার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখেছে। পাকিস্তানের সরকারগুলো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মোল্লা মুহাম্মদ ওমরকে আলকায়েদা ও ওসামা বিন লাদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। মোল্লা মুহাম্মদ ওমর সব সময় পাকিস্তানের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রেখেছিলেন, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের ইচ্ছা ও আবেদন শেষ পর্যন্ত কখনো বুঝে উঠতে পারেননি।
২০১০ সালে আফগান তালেবান ও পাক সরকারের মধ্যে বেশ ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী উবায়দুল্লাহ আখুন্দ পাকিস্তানের এক জেলখানায় মারা যান এবং তার পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর গোপন রেখে তাকে চুপচাপ দাফন করে দেয়া হয়। তালেবান সরকারের আরো একজন সাবেক মন্ত্রী উস্তাদ ইয়াসিরও পাকিস্তানের এক জেলখানায় গোপন মৃত্যুর শিকার হন। এরপর মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের আরো একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী মোল্লা আব্দুল গনি বেরাদারকে করাচিতে গ্রেফতার করা হয়। আমার এ কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, ২০১০ সালে পাকিস্তানের কোন কোন দফতরে কে কে প্রধান ছিলেন। তবে আফগান তালেবানকে জোরজবর-দস্তিমূলক আমেরিকা ও হামিদ কারজাইর সাথে আলোচনায় রাজি করার প্রচেষ্টায় তারাই লিপ্ত ছিলেন, যারা পরে সিআইএর এজেন্ট রেমন্ড ডেভিসের মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজেদের অবসারকালীন জীবনে বিদেশে চাকরির বন্দোবস্ত করে নিয়েছেন। এটা এমন একটা সময়, যখন মোল্লা মুহাম্মদ ওমরকে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মোল্লা মুহাম্মদ ওমর সর্বাত্মক অভিযোগ সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্যাপারে চুপ থাকেন। তা সত্ত্বেও আফগান তালেবানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব-প্রতিপত্তি বেশ কমে যায়। মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর তালেবান ও আফগান সরকারের মাঝে আলোচনার কর্মসূচি বাতিল হয়ে গেছে। এ কর্মসূচি আবার শুরু হওয়া উচিত। তার পরও এ ব্যাপারে পাকিস্তানকে সতর্কতা, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে ধৈর্য ও প্রজ্ঞা এবং বিশ্বশক্তিগুলোকে নিরপেক্ষতা প্রকাশ করতে হবে। আফগান তালেবানের জাতিসত্তা ও স্বার্থকে সামনে রাখতে হবে। যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বন করা হয় এবং মিথ্যা বলা হয়, তাহলে পাল্টা জবাব হিসেবে বিস্ফোরণের আওয়াজের পর আওয়াজ আসতে থাকবে।
পাকিস্তানের জাতীয় পত্রিকা দৈনিক জং
১০ আগস্ট, ২০১৫ সংখ্যায় প্রকাশিত
উর্দু থেকে ভাষান্তর ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
ahmadimtiajdr@gmail.com
লেখক- হামিদ মীর: পাকিস্তানের জিও টিভির নির্বাহী সম্পাদক

উসমানীয় শাসনের শঙ্কায় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইউরোপে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ঢল এবং ইউরোপীয় জোটের ব্যর্থ অভিবাসন নীতি এই মহাদেশের খ্রিস্টীয় পরিচিতি বা শেকড়গুলোকে ক্ষুণ্ণ করার হুমকি সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেছেন, ‘আপনার স্থান যখন দখল হয়ে যাচ্ছে তখন আপনি অভিবাসী বা মুহাজিরদের গ্রহণ করতে পারেন না এবং অভিবাসীদের বেশিরভাগই মুসলমান, খ্রিস্টান নয়। অথচ ইউরোপ এবং ইউরোপীয়দের রয়েছে খ্রিস্টীয় নানা শেকড়।’
‘ইউরোপের খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি তার খ্রিস্টীয় মূল্যবোধগুলোকে সমুন্নত রাখতে যে হিমশিম খাচ্ছে তা কী এরইমধ্যে আশঙ্কাজনক নয়?’-প্রশ্ন করেন ওরবান। ব্রাসেলস সফরের অবকাশে জার্মান দৈনিক Frankfurter Allgemeine Zeitung-এ লেখা এক প্রবন্ধে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান এইসব মন্তব্য করেছেন।
যুদ্ধ আর দারিদ্র এড়াতে ইউরোপে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের যে ঢল নেমেছে তা থামাতে ও তার গতিকে মন্থর করতে হাঙ্গেরির সরকার সার্বিয়ার সীমান্ত-জুড়ে প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরবান তার পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ এটা চাইছে যে আমরা যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আমাদের সীমান্ত রক্ষা করি। ‘কেবল সীমান্ত রক্ষার পরই আমরা এ প্রশ্ন তুলতে পারি যে কতজন মুহাজিরকে আমরা আশ্রয় দিতে পারব অথবা এ বিষয়ে কোটা থাকা উচিত কি-না।’- যোগ করেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী।
হাঙ্গেরি ও স্পেন ছাড়া আর কোনো দেশ ইউরোপের সীমানাগুলো রক্ষা করতে চাইছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘অভিবাসী বা মুহাজিরদের উন্নত জীবনের আশা দেখানো এবং তাদেরকে সবকিছু ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে আসতে উৎসাহ দেয়াটা ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।’
এদিকে ব্রাসেলসে ইউইউ বা ইউরোপীয় জোটের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর এই প্রবন্ধের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার মতে সামাজিক জীবনে খ্রিস্টিয়তার অর্থ হলো বিপদের সময় আমাদের ভাইদের সহায়তা দেয়া।’
এদিকে আল-জাজিরা জানায়, ওরবান বলেছেন যে তার দেশ বিপুল সংখ্যক মুসলিম শরণার্থী নিতে আগ্রহী নয়। ইউরোপে যে শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রয়েছে হাঙ্গেরি। এ দেশ হয়ে বহু শরণার্থী জার্মানসহ অন্য দেশে যেতে চাচ্ছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদফতরে সাংবাদিকদের ওরবান বলেন, ‘আমার মনে হয়ে আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নেব কি-না সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে।’
ষোড়শ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রায় ১৫০ বছর হাঙ্গেরির উসমানীয় শাসনে থাকার দিকে ইঙ্গিত করে ওরবান বলেন, ‘আমরা পরিণতি ভোগ করতে চাই না।’
সিরীয় শরণার্থীদের হাঙ্গেরিতে না আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আসবেন না… আসাটা ঝুঁকিপূর্ণ। আপনাদের গ্রহণ করার নিশ্চয়তা দিচ্ছি না আমরা।’

দেশের অর্থনীতি মহাবির্পযয়ের মুখে পড়বে : আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, উন্নয়ন আর দেশের স্বার্থের কথা বলে জনগণের ওপর কর চাপানো হচ্ছে। করের বোঝা জনগণ সামলাতে না পারলে অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। আর এঅবস্থা চলতে থাকলে অর্থনীতি মহাবির্পযয়ের মুখে পড়বে। জনগণ একটি পরিবর্তনের অপেক্ষা করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘জাতীয় কনভেনশন’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের অনেকে বলছেন গণতন্ত্রকে কাটছাট করতে হবে। মালয়েশিয়ার মডেলে গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা যে মালয়েশিয়ার কথা বলে সেই (মালয়েশিয়া) তাদের নিজ দেশের জাতীয় সম্পদ অন্যে দেশের হাতে তুলে দেয়নি। স্বক্ষমতা অর্জন করে সেই মালয়েশিয়া এখন অন্য দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর আমাদের দেশের শাসকরা দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে নিজ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা জন্য। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ও দেশি বিদেশি লুটেরাদের আর্শিবাদের আশায় সরকার দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে তারা। জনগণের কষ্ট হবে জেনেও সরকার একের পর এর করারোপ করে যাচ্ছে, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। এজন্য পরিবর্তন দরকার। জনগণকে সেই পরিবর্তনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাম মোর্চার সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল গণতান্ত্রিক ধারায় শান্তিপূর্ণ পথে সরকার পরিবর্তনের পথ বন্ধ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভোট ও ভাতের অধিকারের কথা বলে ক্ষমতায় এখন তারা জনগণের ভোটাধিকারকেই ভয় পাচ্ছে। এটা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও নৈতিক পরাজয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি, ব্যাংক লোপাট, অর্থপাচার ও জবরদখল, সন্ত্রাস, গুম-খুনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে আড়াল করতেই সরকার বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত নিম্নমধ্য আয়ের সার্টিফিকেট ফেরি করছে। বর্তমান সংসদ ও সরকার নির্বাচিত নয় বলেই তারা স্বেচ্ছাচারী পন্থায় অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের মত এই সরকারের কাছে দেশের কোনো গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত নেই, জানমালের নিরাপত্তা নেই, জাতীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ নিরাপদ নয়।
কনভেনশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর আহ্বায়ক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মাহবুব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইয়াসিন মিয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। দেশের ৫৫টি জেলা থেকে ৫৫০ জন প্রতিনিধি কনভেনশনে অংশগ্রহণ করছেন।
কনভেনশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট তাসমিন বীনা, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, নাগরিক ঐক্যের ইফতেখার আহমেদ বাবু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশন পরিচালনা করেন ইউসিএল-এর নজরুল ইসলাম এবং বাসদ (মার্কসবাদী) এর ফখরুদ্দীন কবির আতিক।

যে ছবিতে কাঁদছে বিশ্ব

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্র সৈকতে শিশু আইলানের লাশ;
জীবদ্দশায় খেলারত আইলান ; শিশু আইলানের
লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : এফপি
তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসৈকতে উদ্ধার হওয়া সিরীয় উদ্বাস্তু শিশুটির লাশের হৃদয়বিদারক ছবিটিই যেন এখন উদ্বাস্তুদের জীবনের ভয়াবহতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আদরের ছোট দুই সন্তান আইলান ও গালিব এবং স্ত্রীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন আবদুল্লাহ কুর্দি।
সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের গৃহযুদ্ধ থেকে জীবন বাঁচাতে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ অভিমুখে রওনা দেন আবদুল্লাহ কুর্দি। নৌকায় করে তুরস্কের বোদরাম উপদ্বীপ থেকে গ্রিসের এজিয়ান দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন তারা। এরপর সেখান থেকে যাবেন কানাডায়। সেখানে শুরু হবে তাদের নতুন জীবন। কিন্তু নতুন জীবনের পরিবর্তে সাগর কেড়ে নিলো তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের জীবন। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের এ মানুষটির কাছে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ বিভীষিকায় পরিণত হলো। এখন এই দুঃসহ স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছেন আবদুল্লাহ কুর্দি। সব কিছু হারিয়ে বেঁচে আছেন তিনি একা। উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে শিশুরা বাবা-মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ল সমুদ্রে। ভাসিয়ে নিয়ে এলো এক শিশুর লাশ তুরস্কের সমুদ্র এক সৈকতে, আর মায়ের লাশ দূরের অন্য এক সৈকতে।
ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যায় ওরা : বাবা আবদুল্লাহ
গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের বোদরামের নিকটবর্তী মুগলা শহরের একটি মর্গ থেকে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবদুল্লাহ। সাগরে নৌকাডুবির পর সৈকতে ভেসে এসেছিল তার তিন বছরের সন্তান আইলানের লাশ। পরে এক পুলিশ শিশুটির লাশ কোলে তুলে নেন। মর্গ থেকে বেরিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবদুল্লাহ বলেন, ‘এখন আমি আর কিছুই চাই না। এখন যদি আপনারা আমাকে বিশ্বের সব দেশ দিয়ে দেন তবুও আমার আর কিছুই চাই না। আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসগুলোই আমি হারিয়ে ফেলেছি।’ তার একটাই চাওয়া স্ত্রী-সন্তানের লাশ তিনি সিরিয়ার কোবানিতে নিয়ে যেতে চান। তার আর ইউরোপে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন ‘আমি শুধু শেষবারের মতো আমার সন্তানদের দেখতে চাই এবং চিরদিন তাদের সাথেই থাকতে চাই’।
আবদুল্লাহ বলেন, তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে প্রথম সন্তান মারা যায়, অন্যদের বাঁচাতে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। এরপর আলো অনুসরণ করে সাঁতারে তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। হাসপাতালে গভীর শোকে বিহ্বল আবদুল্লাহ বলেন, জীবন বাঁচাতে নৌকা ধরে রাখার প্রাণপন চেষ্টা করি; কিন্তু এটি দুলছিল। প্রবল ঢেউ, বৈরী আবহাওয়া আর অন্ধকারে বিভীষিকাময় এক পরিবেশ। কিছুণ পর স্ত্রী-সন্তান কারো আওয়াজ আর শুনতে পাচ্ছিলাম না। যাদের জন্য সব কিছু তাদের হারিয়ে নিঃস্ব আবদুল্লাহর এখন আর কিছুরই প্রয়োজন নেই। পুরো বিশ্ব হাতের মুঠোয় এনে দিলেও তা অসীম বেদনার শেষ হবে না।
আবদুল্লাহ বলেন, কানাডা আশ্রয়ের জন্য আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে এ ‘ছবিটি’ (সমুদ্রের পাড়ে সন্তানের ছবি) আমাকে সব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছে। আশ্রয়ের আশায় এটি তাদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা জানিয়ে আবদুল্লাহ আরো বলেন, এ জন্য চোরাকারবারিদের চার হাজার ইউরো দিয়েছিলেন। অথচ চোরাকারবারিরা তাদেরকে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারসহ গ্রিসে যাওয়ার জন্য দুইবার আবদুল্লাহ দালালদের টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে একটি নৌকায় যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও আরো কয়েকটি পরিবার। যাত্রা শুরুর পরপর নৌকায় পানি উঠতে শুরু করলে লোকজন আতঙ্কে উঠে দাঁড়ানোর পর সেটি ডুবে যায়।
আবদুল্লাহ কুর্দি পুলিশকে জানিয়েছেন, তার হাত থেকে শিশুরা ফসকে যাওয়ার পর তিনি তন্নতন্ন করে তাদের খুঁজেছেন। তারা প্রায় ৩ ঘণ্টা পানির মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছেন। এরপর হয়তো ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তাই আর কথা বলতে পারছেন না বলে মা চাইলেন। তবে কথা শেষ করার আগে কিছু বার্তা দিলেন তিনি, ‘আমি সত্যিই চাই পাচার বন্ধ হোক। যারা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন তাদের জন্য একটি সমাধানের পথ খোলা হোক।’
আবদুল্লাহর বোন তিমা কুর্দিকে উদ্ধৃত করে কানাডার ন্যাশনাল পোস্ট পত্রিকা জানিয়েছে, ‘আমি তাদের স্পন্সরের চেষ্টা করেছিলাম। আমার বন্ধু ও প্রতিবেশীরা ব্যাংক ডিপোজিট দিয়ে আমাকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু আমরা তাদের আনতে পারিনি এবং সে কারণে তারা ওই নৌকায় গিয়েছিল। তুরস্কে তাদের থাকার জন্যও আমি টাকা পাঠাচ্ছিলাম। কিন্তু সেখানে তারা সিরীয়দের সাথে যে আচরণ করে তা ভয়াবহ।’
আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের সাথে নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ওমাইর মহসিন নামে আরেক সিরীয় বলেন, রাত ২টায় যাত্রা করার কিছুণ পর নৌকাটি ডুবে গেলে সাঁতরে তীরে আসেন তিনি। কিন্তু তার ভাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘নৌকায় বড়জোর ১০ জনকে উঠানো যেত। কিন্তু তারা ১৭ জনকে উঠিয়েছিল। আমি ও আমার ভাই প্রত্যেকে দুই হাজার ৫০ ইউরো করে দিয়েছিলাম।’
একটি ভিডিওচিত্রে সৈকতে বালুতে আরেকটি শিশুর লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই লাশটি আইলানের ভাই গালিবের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৈকতে আইলানের লাশের ছবি তুলেছেন দোয়ান বার্তা সংস্থার ফটোসাংবাদিক নিলুফার দেমির। তিনি সিএনএনকে জানিয়েছেন, ‘যখন দেখলাম শিশুটিকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই তখন ভাবলাম তার ছবি তোলা উচিত, যাতে মর্মান্তিক এই ঘটনা দেখানো যায়। এখন এই ছবিটি যে প্রভাব ফেলেছে তা অভিবাসী সমস্যা নিরসনে সহায়তা করবে বলে আমি আশা করছি।’
সমবেদনা-ক্ষোভ-নিন্দা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এই ছবির সংবাদমাধ্যমের খবরের নিচে মন্তব্য করে নিজেদের শোক-সমবেদনার কথা জানান পাঠকেরা। একইসাথে তারা যুদ্ধবাজ সিরিয়া ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের কঠোর নিন্দা করছেন। নিন্দা জানাচ্ছেন প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসা উদ্বাস্তুদের ঠেকানোর পরিকল্পনাকারী ইউরোপের নেতাদেরও।
আপে নিয়ে তিনি সংবাদিকদের বলেন, নিজের দেশের যুদ্ধ থেকে বাঁচতে আমরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলাম সেখানে আমাদের যা ঘটল তা সারা বিশ্ব দেখুক। শান্তিপূর্ণ জীবনের আশায় পরিবার নিয়ে ইউরোপ অভিমুখে রওনা হয়ে নির্মম ঘটনার শিকার আবদুল্লাহ মনে করেন, সন্তানের এ ছবি পুরো বিশ্বকে বদলে দেবে। এটিই যেন এ ধরনের সর্বশেষ ঘটনা হয়Ñ এই তার প্রত্যাশা।
সিরিয়ার কুবানি শহরেই চিরনিদ্রায় শিশু আইলান
বিবিসি জানায়, তুরস্কের উপকূলে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া তিন বছরের শিশু আইলানকে সিরিয়ার কুবানি শহরে দাফন করা হয়েছে। তার কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে পাঁচ বছরের ভাই গালিপ এবং মা রেহানকে (৩৫)। এ সময় বাবা আবদুল্লাহ কুর্দির অঝোর কান্নায় ভিজেছে কুবানির শুষ্ক ও লালমাটি।
দাফন অনুষ্ঠানে বহু মানুষ অংশ নেন। বাবা আবদুল্লাহর ইচ্ছাতে তাদের নিজ মাতৃভূমি সিরিয়াতে ফিরিয়ে আনা হয়। আব্দুল্লাহ তার দুই ছেলে ও স্ত্রীর লাশ মাতৃভূমি সিরিয়ার কুবানি শহরেই দাফন করতে চেয়েছিলেন। তুরস্ক থেকে পুলিশ পাহারায় তাদের কফিন সিরিয়া আনা হয়। এ সময় তুরস্কের কয়েকজন এমপিও কফিনের সাথে ছিলেন। লাশ গ্রহণের সময় সময় কুর্দি জনগণ সিরিয়া পরিস্থিতির উত্তরণের জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, ইউরোপ নয় বরং আরব দেশগুলোকেই ভূমিকা নিতে হবে। আরব দেশগুলো মদদ দেয়া বন্ধ করলে সিরিয়া সমস্যার সমাধান হবে।

ইউরোপে দু’লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে বলছে জাতিসংঘ

অভিবাসন সঙ্কট সমাধানে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, অভিন্ন ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমান সঙ্কটকে গুরুতর উল্লেখ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান এন্টিনিও গুটেরেস বলেছেন, ইউরোপকে সর্বশক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তার হিসেবে দুই লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হবে ইউরোপে।
হাঙ্গেরিতে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী অবস্থান করছে আশ্রয় শিবিরে। এই দেশটি দিয়ে যাওয়া যায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সার্বিয়ার সীমান্তের কাছে এরকম একটি শিবির থেকে বেরিয়ে পড়েছে বহু মানুষ। ইউরোপগামী একটি ট্রেনে উঠে বসে আছে কয়েকশো লোক। তারা আর শিবিরে ফিরে যেতে চায় না। তারা বলছে, ট্রেনের ভেতরের অবস্থাও খুব খারাপ।
তিনি বলেছেন, ‘ট্রেনের ভেতরে নারী শিশু সবাই অবস্থান করছে। আছে সন্তানসম্ভবা নারীও। খাবার নেই। পানি নেই। তাদেরকে কেনো থামানো হয়েছে সেটাও তারা জানে না।’ তার প্রশ্ন, ‘জার্মানি যাওয়ার জন্যে নিজেদের অর্থে আমরা টিকেট কেটেছি। তারা যদি আমাদেরকে থামাতেই চায় তাহলে টিকেট কিনতে দিলো কেনো?’
বুডাপেস্টের একটি রেল স্টেশনে অবস্থান নেওয়া শরণার্থীদের আরো একটি দল তাদেরকে ভিয়েনার উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠতে না দেওয়ায় বলছে, তারা এখন হেঁটে রওনা দেবে অস্ট্রিয়ার দিকে। পুলিশ তাদের ঘিরে রেখেছে। সরকারের একজন মুখপাত্র জলতান কোভাচ বলেছেন, এই লোকগুলোকে তারা আরেকটি দেশে যেতে দিতে পারেন না।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে চলাচল আর কঠোর করা হবে কী-না এই প্রশ্নের ওপর হাঙ্গেরির পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হচ্ছে। পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির নেতারা প্রাগে বসতে যাচ্ছেন জরুরি এক বৈঠকে। এই সঙ্কট যতোই তীব্র হচ্ছে, শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দেওয়ার জন্যে ইউরোপের ওপর চাপ ততোই বাড়ছে। বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই মহাদেশকে এতো বড়ো শরণার্থী সমস্যার মুখে আর কখনোই পড়তে হয়নি। সূত্র : বিবিসি