Thursday, September 4, 2014

বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী নিয়ে এনসিটিবি’র ছেলেখেলা by নুর মোহাম্মদ

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের ৮ নং পৃষ্ঠায় ১১ নম্বর লাইনে বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম ‘সায়েরা খাতুন’ লেখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর লেখা এই বইটির তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রয়াত এমপি বেবী মওদুদ। অথচ জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রিত চলতি বছর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যবই ‘সাহিত্য পাঠ’ বইয়ের লেখক পরিচিতিতে তা বিকৃত করে লেখা হয়েছে ‘সায়ারা খাতুন’। একই ভাবে অষ্টম শ্রেণীর ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ গদ্যের ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখক পরিচিতির তিন নম্বর লাইনে মাতার নাম ‘সাহেরা খাতুন’ লেখা হয়েছে। একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ শীর্ষক অধ্যায়টি বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে বলে বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপর বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম তিন জায়গায় তিন ভাবে লেখা হয়েছে। আর এই বিতর্কিত কাজটি করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ (এনসিটিবি)।
এখানেই শেষ নয়, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে প্রধানমন্ত্রীর নামের বানান যেভাবে রয়েছে, এনসিটিবি সে ক্ষেত্রেও বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে ছোট বেলায় ‘হাচু’ নামে ডাকতেন। এই বিষয়টি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের বিভিন্ন জায়গায়ও উল্লেখের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখা নথিতেও রয়েছে। অথচ এনসিটিবি’র একাদশ শ্রেণীর বইয়ে ‘হাসু’ লেখা হয়েছে। একই পৃষ্ঠায় লেখা আছে একটি প্যারায় দেশ ভাগের পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ হিসেবে লেখা আছে- ‘যে পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই পাকিস্তানই করতে হবে, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম। গোপালগঞ্জ মহকুমার যে কেউ আসে, তাদের এক প্রশ্ন ‘আপনাকে কেন জেলে নেয়? আপনিই তো আমাদের পাকিস্তানের কথা শুনিয়েছেন।’ আবার বলে ‘কত কথা বলেছিলেন, পাকিস্তান হলে কত উন্নতি হবে। জনগণ সুখে থাকবে, অত্যাচার-জুলুম থাকবে না। কয়েক বছর হয়ে গেল দুঃখই তো আরও বাড়ছে, কমার লক্ষণ তো দেখছি না। চাউলের দাম কত বেড়ে গেছে।’ কি উত্তর দেবো! এরা সাধারণ মানুষ। কি করে এদের বোঝাবো! গ্রামের অনেক মাতবর শ্রেণীর লোক আছেন, যারা বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। কথা সুন্দরভাবে বলতে পারেন। এক কথায় তো বোঝানোও যাবে না। পাকিস্তান খারাপ না, পাকিস্তান তো আমাদেরই দেশ। যাদের হাতে ইংরেজ ক্ষমতা দিয়ে গেছে তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থই বেশি দেখছে। পাকিস্তান কি করে গড়তে হবে, জনগণের কি করে উন্নতি করা যাবে সেদিকে ক্ষমতাসীনদের খেয়াল নাই।’ ১৯৫২ সালে ঢাকায় গুলি হওয়ার পর গ্রামে গ্রামে জনসাধারণ বুঝতে আরম্ভ করলো যে, যারা শাসন করছে তারা জনগণের আপনজন নয়।’
এইচএসসি ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় ‘যে পাকিস্তানের স্বপ্ন...’ বাক্য থেকে শুধু ‘মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম’ রেখে আগের অংশটুকু বাদ দেয়া হয়েছে। এরপরের ১২টি বাক্য বাদ দেয়া হয়েছে। এরপর ‘১৯৫১ সালে ঢাকায় গুলি...’ এই অংশ থেকে শুরু করা হয়েছে। এভাবে ইচ্ছামতো কাটছাঁট করে প্রকাশ করা ওই লেখার শেষে লিখে দেয়া হয়েছে সংক্ষেপিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লেখকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাঝখান থেকে এই লাইনগুলো বাদ দিয়েছেন। কাউকে খুশি করতে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলেছেন। সৃজনশীল পদ্ধতি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় রেফারেন্স বই পড়তে হয়। কিন্তু একটি জায়গায় মাঝখান থেকে এভাবে বাদ দেয়ার পাশাপাশি নামের বানানে ভুল করায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন কলেজ থেকে মানবজমিন অফিসে টেলিফোন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেভাবে মাঝখান থেকে বারটি বাক্য বাদ দেয়া হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটাকেই বলে ইতিহাসবিকৃতি। কোন বইকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করলে যে কেউ তার মতো করে লাইন বা অনুচ্ছেদ বাদ দিতে পারেন না। যে শিক্ষকরা এ কাজটি করেছে তারা কাউকে খুশি করতে তা করেছে। যা একেবারেই উচিত হয়নি।’
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইয়ের ভূমিকায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বইটি আমি ও বেবী মওদুদ বঙ্গবন্ধুর মূল খাতার সঙ্গে মিলিয়ে পড়ে সম্পাদনা ও সংশোধনের কাজটি প্রথমে শেষ করি। তারপর অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সঙ্গে আমি ও বেবী মওদুদ পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, প্রুফ দেখা, টীকা দেখা, স্ক্যান, ছবি নির্বাচন ইত্যাদি যাবতীয় কাজ সম্পূর্ণ করি। শেখ রেহেনা আমাদের এসব কাজের অংশ হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছে।’ এই বইয়ের সম্পাদনা প্রধানমন্ত্রী করার পরও কেন মাঝখান থেকে কিছু লাইন বাদ দেয়া হলো, এর উদ্দেশ্য কি হতে পারে- জানতে চাইলে এমাজউদ্দিন বলেন, এটি কাউকে খুশি করতে করা হয়েছে।
অন্যদিকে এই নোট ও গাইড বইয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম তারিখ, মায়ের নাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক নাম একেক প্রকাশনী একেক ভাবে লিখেছে। পাঞ্জেরি প্রকাশনী বাংলা সহপাঠ বইয়ের ১৯৯ পৃষ্ঠায় ৬৪ নং প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু জন্মতারিখ কবে? চারটি অপশন দেয়া হলেও কোথায় সঠিক জন্ম তারিখ ১৭ই মার্চ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ২০শে মার্চ তার জন্মতারিখ লেখা হয়েছে। জুপিটার পাবলিকেশন্স বাংলা গাইড বইয়ে ২৩৩ পৃষ্ঠায় ‘আগরতলা যড়যন্ত্র’ মামলায় বলা হয়েছে। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই মামলাকে ‘ষড়যন্ত্র’ নয় বাদ দিয়ে একে ‘ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা’ বলার কথা।
এদিকে এনসিটিবি’র পাঠ্যবইয়ে এভাবে বিভ্রান্তি থাকায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাদের সহায়ক বই রচনার ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। এ অবস্থায় একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইকে রেফারেন্স করে গাইড বই লিখেছে। তাদের প্রকাশিত বইয়ের ২৬৫ পৃষ্ঠায় ‘বায়ান্নর দিনগুলো’র সৃজনশীল প্রশ্ন রচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান শোষণমুক্ত স্বপ্নের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন’। এ ধরনের বিষয় এনসিটিবি’র দৃষ্টিতে পড়ার পর তারা বিষয়টিকে ‘ইতিহাসবিকৃতি’ বলতে চাইছে। এ নিয়ে তারা একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। দু’একদিনের মধ্যে ওই তদন্ত রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে এনসিটিবি। যদিও পাঠ্যবইয়ে এই অংশটুকু নেই।
এ ব্যাপারে এনসিটিবি সচিব বজ্রগোপাল ভৌমিক জানান, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী সংস্করণে সব শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম অসমাপ্ত আত্মজীবনীর যেটা লেখা হয়েছে সেই নাম উল্লেখ করা হবে। তিনি বলেন, এই অধ্যায়টি বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী বইকে রেফারেন্স করা হয়েছে। সেখানে যে নাম লেখা হয়েছে সেটাই সঠিক। মাঝখান থেকে কয়েকটি লাইন বাদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি করা যায় কিন্তু এখানে যেভাবে করা হয়েছে তাতে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা দেখবো। একাদশ শ্রেণীর সাহিত্য পাঠ বইয়ের সম্পাদক ড. মাহবুবুল হক জানান, এই শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের জন্য যতটুকু তথ্য প্রয়োজন ততটুকুই দেয়া হয়েছে। যে টুকু বিষয় নিয়ে বিতর্ক হতে পারে সেটুকু বাদ দেয়া হয়েছে। লেখক কমিটি যতটুকু সমর্থন করেছে আমি সেটুকু সমর্থন করেছি। এনসিটিবি ইচ্ছা করলে সংযোজন-বিয়োজন করতে পারে। তিনি বলেন, এটা তো গল্প না, গল্প থেকেও যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেয়া যায়। এটা নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেয়া হয়েছে।
বইটির লেখক ও সংকলনের সম্পাদনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, তার সঙ্গে দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক, ড. সরকার আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষক ড. সৈয়দ শাহরিয়ার রহমান ও প্রীতিকুমার সরকার।

‘ন্যায্য বিচার’ করবে যুক্তরাষ্ট্র

এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিনে গতকাল আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক
ওবামা। ওবামা তালিনে বলেন, ন্যাটো জোটকে এগিয়ে নিতে
প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে জোটের ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে
আরও বেশি অংশগ্রহণ করা উচিত। ওয়েলসে ন্যাটো সম্মেলনের
আগের দিন গতকাল বুধবার এস্তেনিয়া যান তিনি. রয়টার্স
ইরাক ও সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বিতীয় মার্কিন সাংবাদিককে শিরশ্ছেদ করার পর নড়েচড়ে বসছে পাশ্চাত্য। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ ঘটনার ‘ন্যায্য বিচার’ করা হবে। ইরাকে আরও ৩৫০ সেনাসদস্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটি বলেছে, তারাও ইরাকে বিমান হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। মার্কিন সাংবাদিক স্টিভেন সটলফকে শিরশ্ছেদ করার ভিডিও গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমের নজরে আসে। সেটিকে আসল বলে গতকাল বুধবার নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভিডিওটিতে আইএসের হাতে জিম্মি থাকা একজন ব্রিটিশ নাগরিককেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সটলফকে হত্যার ঘটনায় ‘ভীতসন্ত্রস্ত’ হয়ে পড়েনি। তবে আইএসকে রুখতে ‘সময় লাগবে’ বলে স্বীকার করেন তিনি। ইউরোপের এস্তোনিয়া সফররত ওবামা বলেন, শিরশ্ছেদের ঘটনা ‘একটা নিষ্ঠুর কাজ। যারা সটলফকে ভালোবাসে, তারা এই মুহূর্তে যে যন্ত্রণা পাচ্ছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। আমাদের দেশ তাদের সঙ্গে কাঁদছে।’ তবে মার্কিনরা পিছু হটবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভয় পাবো না। তাদের (আইএসের) নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে... আমাদের হাত অনেক লম্বা। ন্যায্য বিচার করা হবে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল এক বিবৃতিতে সটলফ হত্যার তীব্র নিন্দা করে বলেন, হত্যাকারীদের জেনে রাখা উচিত, যত সময়ই লাগুক, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিচারের সম্মুখীন করবে। এদিকে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বাড়তি ৩৫০ জন সেনা পাঠানোর বিষয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুরোধ অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট। ক্যামেরনের জরুরি বৈঠক: আইএসের হাতে দ্বিতীয় মার্কিন সাংবাদিক নিহত এবং জিম্মি থাকা একজন ব্রিটিশ নাগরিককে হত্যার হুমকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপবিষয়ক কমিটি গতকাল এক বৈঠকে মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বৈঠকের আগে ক্যামেরন বলেন, সাংবাদিক সটলফকে শিরশ্ছেদের বিষয়টি একটি ‘ঘৃণ্য ও বর্বর’ কাজ। ক্যামেরনও আইএসের অস্তিত্ব বিলোপ করার প্রতিজ্ঞা করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আঞ্চলিক জোট গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দেন। দুই জিম্মির হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ক্যামেরন বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ রকম ঘৃণ্য ও বর্বর ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কিন্তু জঙ্গিদের বোঝা উচিত, সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করার লড়াই থেকে আমরা কিছুতেই পিছু হটব না।’ বৈঠক শেষে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, জিম্মি ব্রিটিশ নাগরিককে হত্যার হুমকির কারণে ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যের বিমান হামলার আশংকা বাড়বে এমন নয়। তবে তাঁরা এমন সম্ভাবনা উড়িয়েও দিচ্ছেন না। হ্যামন্ড জানান, জিম্মি ব্রিটিশ নাগরিককে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে তা ব্যর্থ হয়। তিনি আরও জানান, আইএসের সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটি আসল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জাতিসংঘের নিন্দা: জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সাংবাদিক সটলফকে শিরশ্ছেদের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটা জঘন্য একটা কাজ। ৩৩ বছর বয়সী সটলফ গত বছর সিরিয়ায় অপহৃত হন। গত মাসে আইএস আরেক মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলিকে শিরশ্ছেদের যে ভিডিও প্রকাশ করেছিল, তাতে সটলফকেও দেখানো হয়েছিল। তখন আইএস হুমকি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা বন্ধ না করলে তাঁকেও একইভাবে হত্যা করা হবে। পাকিস্তানেও আইএস!: এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইএস। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ার এবং এর আশপাশে আইএসের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করে জিহাদের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছে।

নেতাজীর সহযোগীর পাশে মোদি

নেতাজীর সহযোগীর পাশে মোদি
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সঙ্গে দেখা করেছেন মোদি। সাইচির মিসুমি (৯৯) নামের ওই ব্যক্তি জাপানে নেতাজির এখন পর্যন্ত জীবিত থাকা সবচেয়ে বয়স্ক সহযোগী। ইন্ডিয়া-জাপান অ্যাসোসিয়েশন ও জাপান-ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের উদ্যোগে টোকিওতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের দেখা হয়।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে জাপানের সহায়তায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ) গড়ে তুলেছিলেন। পরে জাপানের দখল করা ফরমোজা (বর্তমানে তাইওয়ান) এলাকায় রহস্যজনক এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। তাঁর দেহাবশেষ কখনোই পাওয়া যায়নি। জাপানে মিসুমিসহ নেতাজির অনেক সহযোগী ছিলেন। পিটিআই।

‘লাভ জিহাদের’ প্রচার ঠেকাতে জনস্বার্থ মামলা

বিজেপির বিতর্কিত সাংসদ আদিত্যনাথ
‘লাভ জিহাদের’ হিড়িক তুলে বিজেপি যাতে উত্তর প্রদেশের উপনির্বাচনে সাম্প্রদায়িক প্রচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাজ্যের হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলো। পাশাপাশি রাজ্যের শাসক দল সমাজবাদী পার্টির (এসপি) পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হলো নির্বাচন কমিশনেও। এ মাসের ১৩ তারিখে উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ও লোকসভার মোট ৩৩টি আসনে উপনির্বাচন। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে ১০টি বিধানসভা ও একটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। এই ভোটে প্রচারের সব দায়িত্ব বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তুলে দিয়েছেন রাজ্যের গোরক্ষপুরের বিতর্কিত সাংসদ যোগী আদিত্যনাথকে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় থেকেই আদিত্যনাথকে ঘিরে নানা বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। রাজ্যে হিন্দু মেয়ে ও মুসলমান ছেলের বিয়ে ঠেকাতে বিজেপির নতুন হাতিয়ার ‘লাভ জিহাদ’। কদিন আগে আদিত্যনাথের একটি ভিডিও ক্লিপিংয়ে দেখা যায়, তিনি বলছেন,
একজন হিন্দুকে জবরদস্তি করে ধর্মান্তর করা হলে ১০০ জন মুসলমান মেয়েকে ধর্মান্তর ঘটানো হবে। বিজেপির এ ধরনের প্রচারে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে—এ অভিযোগেই হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। দাবি, আদিত্যনাথদের প্রচার সংযত করা হোক। মুসলমান জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ‘লাভ জিহাদ’ কথাটি নিয়ে আপত্তিও জানানো হয়েছে। মুসলমান ধর্মবেত্তারা বলেছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে উসকনি দিতে জিহাদ শব্দটির অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে। অথচ জিহাদের অর্থ, সত্যের জন্য অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই। তা ছাড়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মান্তর ইসলামবিরোধীও। আবেদনকারীদের দাবি, আদিত্যনাথ, কলরাজ মিশ্রদের সাম্প্রদায়িক প্রচারে রাশ টানা হোক। সমাজবাদী পার্টিও নির্বাচন কমিশনের কাছে একই আবেদন জানিয়ে এ ধরনের প্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানিয়েছে।

ভ্যালেরির ‘সত্যি কথা’

ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদেঁর সঙ্গে প্রেম এবং বিচ্ছেদ নিয়ে তাঁর দীর্ঘ নীরবতার অবসান ঘটিয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার। স্মৃতিচারণামূলক বই থ্যাংক ইউ ফর দিস মোমেন্ট-এ প্রেসিডেন্ট ওলাদেঁর সঙ্গে তাঁর প্রেম এবং বেদনাদায়ক বিচ্ছেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ভ্যালেরি। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য বইটির বিশেষ কিছু অংশ গতকাল বুধবার ছাপা হয়েছে জনপ্রিয় সাময়িকী প্যারিস ম্যাচ-এ। খবর এএফপির। ৩২০ পৃষ্ঠার বইটির প্রচ্ছদে লেখা ‘আমি যা বলেছি তার সবকিছুই সত্যি।’
এতে ৪৯ বছর বয়সী ভ্যালেরি লিখেছেন, কীভাবে পত্রিকায় স্বামীর অভিসারের খবর পড়ে প্রাসাদের বাথরুমে ছুটে গিয়ে ঘুমের ওষুধ হাতে নিয়েছিলেন তিনি। ওলাঁদ পিছু পিছু গিয়ে তা কেড়ে নেন। সাবেক সাংবাদিক ভ্যালেরিকে পাওয়ার জন্যই ২০০০ সালে আগের স্ত্রী সিগুলেন ঘয়ালের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান ওলাঁদ। তবে তখন থেকে একসঙ্গে থাকলেও ভ্যালেরি ও ওলাঁদ বিয়ে করেননি। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট হন ওলাঁদ। গত জানুয়ারিতে অভিনেত্রী জুলি গায়েতের (৪২) সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠতার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।

ইমরানের স্বপ্নভঙ্গ, নওয়াজের স্বস্তি

গদি হারানোর যে ফাঁদে পড়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ- হঠাৎ এক লাফেই তা টপকালেন। আর এই আকস্মিক লম্ফে তাকে শক্তি ধার দিল তারই বিরোধী দলগুলো। আর কে ঠেকায়! মহাতংক থেকে মুক্তি মিলল- মোটামুটি স্বস্তিতে নওয়াজ। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে পড়ে গেলেন আরেকজন। ইমরান খান। রাতারাতি প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়ার স্বপ্নে জুটল অনাকাক্সিক্ষত চপেটাঘাত। পাক পার্লামেন্টের জরুরি বৈঠকে বুধবার সে আভাসই রঙিন হয়ে উঠল। পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান এবং পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) নেতা তাহিরুল কাদরিকে রীতিমতো তুলোধুনো করেছেন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির যৌথ অধিবেশনে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এই দুই নেতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। জরুরি এই যৌথ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন পিটিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহমুদ কোরেশি, শফকাত মাহমুদ এবং আসাদ ওমর। এ সময় পিটিআই এবং পিএটির দাবিকে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা। তারা অবস্থান কর্মসূচির ইতি টানতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আন্দোলনরতদের প্রতি আহ্বান জানান। আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির সিনেটর জাহিদ খান বলেন, গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাশে আছে। নওয়াজের পদত্যাগ দাবি গণতন্ত্রের অবমাননার শামিল। পিটিআই এবং পিএটির প্রতি ইঙ্গিত করে ন্যাশনাল পার্টির সিনেটর হাসিল বিজেনজো বলেন,
‘আজ কেউ যদি সংবিধান এবং গণতন্ত্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানায়, আমরা সব দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত করতে দেব না।’ পিটিআইর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পিটিআই ভাইদের বলব- রাজনীতিতে আসুন, আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন এবং জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে আসুন।’ ইমরান খানকে উদ্দেশ করে বিজেনজো বলেন, ‘পার্লামেন্টের কাছে কবর খোঁড়া এবং কফিন বহনের মতো কাজ ঔদ্ধত্যপূর্ণ। আপনি পার্লামেন্টকে গোরস্থান বানাতে চান। তাহলে আজ আমরা এ পার্লামেন্টে আপনার রাজনীতিকে কবর দিয়ে দেব।’ ইমরানকে উদ্দেশ্য করে শেরপাও বলেন, ‘আগে বিরোধীদলীয় নেতা হোন, এরপর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখুন। কারচুপির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলে জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। কারচুপি নিয়ে ঝড় তুলে কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না, এটা মেনে নেয়া হবে না।’ নওয়াজকে অকুণ্ঠ সমর্থন : পাকিস্তানে দৃশ্যত সেনাবাহিনীর মদদে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই মঙ্গলবার বেশ কিছু শুভ সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মঙ্গলবার সংসদের যৌথ অধিবেশনে পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য লাহোর হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তাও খারিজ করে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বুধবার আবার বৈঠক করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ ও পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক দলের প্রতিনিধিরা।

দারোয়ানের দায়িত্বে স্কুল শিক্ষার্থীরা

দারোয়ান ছুটিতে- তাই বলে কি অরক্ষিত থাকবে স্কুলের প্রধান ফটক। সুতরাং তড়িঘড়ি করে শ্রেণীতে শ্রেণীতে ‘নোটিশ’ দিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক- ‘দারোয়ানের অনুপস্থিতিতে স্কুল পাহারার দায়িত্ব তুলে নিতে হবে ছাত্রদের কাঁধে। এখন থেকে ছাত্রদেরই দল বেঁধে পালাক্রমে পাহারায় দাঁড়াতে হবে স্কুলের গেটে।’ তারপর থেকেই শিক্ষার্থীরাই প্রহরীর দায়িত্ব পালন করেছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার পাশাপাশি স্কুল গেটে দারোয়ানের দায়িত্ব পালন করছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না তারা। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, দারোয়ান ছুটিতে আছে। তাই শিক্ষার্থীদের গেটে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বুধবার পশ্চিম দিল্লির রামজাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারোয়ানের অনুপস্থিতিতে গেটে দায়িত্ব পালন করছে।

ছাত্রলীগ কি আইনের ঊর্ধ্বে? -ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরির দায় আওয়ামী লীগেরই

ছাত্রলীগ দেখাল, অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স—আক্রমণই শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা। চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সমাবেশে আসার পথে দুই ঘণ্টা ধরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সন্ত্রাস-ভাঙচুর চালাল, ফেরার পথে ট্রেনের আসন নিয়ে বিবাদের জেরে এক কর্মীকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করল, চট্টগ্রামে পৌঁছে খুনের মামলা করল রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, যাঁরা নাকি ছয় দিন আগে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। মামলা করার কথা রেল কর্তৃপক্ষের, অথচ মামলা করলেন ছাত্রলীগের নেতারা; রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করবে কি, আপনা প্রাণ বাঁচাতেই ব্যতিব্যস্ত।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সমাবেশে আসেন সারা দেশের নেতা-কর্মীরা। দলীয় কর্মসূচি হলেও তাঁরা ক্ষমতার দাপটে পুরো একটি ট্রেন দখল করেন। তার জন্য রেলস্টেশনে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে, স্টেশনের গেট ও কাজকর্ম বন্ধ করে ক্ষমতার বেপরোয়া প্রদর্শনী করা হয়। এহেন শোক দিবসে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশের সামনের সারিতে বসা নিয়ে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। ফেরার পথেও কোন্দল হয় ট্রেনের আসনে বসা নিয়ে। তার জেরে নিহত হন তাঁদেরই এক রাজনৈতিক সতীর্থ।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উচিত ছিল হত্যা ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের সাংগঠনিক শাস্তি দেওয়া, পুলিশের কর্তব্য ছিল স্টেশনে সন্ত্রাস ও ট্রেনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে আটকের ব্যবস্থা করা। কিন্তু পুলিশ দেখিয়েছে ছাত্রলীগের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্য আর ছাত্রলীগ নিয়েছে পুলিশের ভূমিকা!

ছাত্রলীগ করলেই সাত খুন মাফ, ছাত্রলীগ নেতা চাইলেই যে কারও দফারফা; এমনটা ধরে নেওয়ার ভিত্তি কী? দেশে যদি আইন থাকে, যদি আইনের উদ্ধত লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, যদি ছাত্রলীগ মানেই সহিংসতার উৎস না হয়; তাহলে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হতে হবে। ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের হাতে আরও অমঙ্গল ঘটানোর আগেই একে সামলাতে হবে।

অবশেষে জামায়াতের মধ্যস্থতায় সমঝোতার চেষ্টা পাকিস্তানে

পাকিস্তানে রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের মধ্যস্থতায় এখন জামায়াতে ইসলামী। এ দলের প্রধান সিরাজুল হক মধ্যস্থতার ভূমিকায়। মঙ্গলবার ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি তার মধ্যস্থতা মেনে নেন। ফলে সিরাজুল হক এখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার একটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইমরান খান, তাহিরুল কাদরির সঙ্গে এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের বৈঠক ব্যর্থ হয়। তারা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এর পরই সেনাপ্রধান সাক্ষাৎ করেন নওয়াজের সঙ্গে। তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান। আহ্বান করা হয় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন। মঙ্গলবার সেই পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। সব বিরোধী দল তার পক্ষে অবস্থান নেয়। ওদিকে, পার্লামেন্ট ঘিরে রাখা ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি)’র সমর্থকের সংখ্যা কমতে থাকে। তারা দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় খোলা রাজপথে অবস্থান নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকে হয়ে পড়েন ধৈর্যহারা। ফলে গতকাল তাদের সংখ্যা হাজার হাজার থেকে কমে কয়েক শ’তে পৌঁছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পার্লামেন্টের আস্থা, অন্যদিকে সমর্থক কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি মঙ্গলবার সমঝোতা সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইমরান খান তার সমর্থকদের বলেন, সিরাজুল হক আলোচনা নিয়ে আসছেন। আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো। তাদের সামনে আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো। তারাও বলবেন। সব সময়ই আলোচনার দরজা খোলা। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল সমঝোতার পথ খুলে যায়। টান টান উত্তেজনার মধ্যে জনমনে আপাতত ফিরেছে স্বস্তি। কারণ, প্রধানমন্ত্রীকে সেনাপ্রধান পদত্যাগের অনুরোধ জানানোর পর বিশ্লেষকরা ধারণা করছিলেন, নওয়াজ শরিফের সামনে দিনক্ষণ গণনার পালা। যে কোন সময় সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে। রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সেনাবাহিনীর আগ্রহ দেখে তাদের প্রতি সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে সেনাপ্রধানের সামনে নওয়াজ শরিফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। এমনকি ছুটিতে বিদেশেও যাবেন না। এরপরই হয় পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন। সেখানে সব দল যখন নওয়াজের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনে, তখন অনেকেই মনে করেন পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্র লালন করতে পেরেছেন। এর ফলে সেনাবাহিনী দৃশ্যত চুপচাপ রয়েছে। নওয়াজের পদত্যাগ- এই এক দফা এক দাবি নিয়ে আন্দোলনরত ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি নমনীয় হন। শুরু হয় আলোচনা। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজুল হক বলেন, দেশে যে সঙ্কট চলছে তাতে পুরো জাতি বিরক্ত। ইমরান খানের দল খোলা মনে আমাদের আলোচনার অনুরোধ রেখেছে। এ জন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আলোচনার জন্য বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটি কমিটি করার কথা। সেই কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি। তবে পাকিস্তানের রাজনীতি যে কোন মুহূর্তে পাল্টে যায়। এই আলোচনায়ই যে সমাধান বেরিয়ে আসবে তেমনটি জোর দিয়ে কেউ বলতে পারছে না। রাজধানী ইসলামাবাদে সহিংস ঘটনা কমে গেছে। দৃশ্যত এখন শান্ত সব। তা সত্ত্বেও সেখানে নীরবে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে ইমরান খানের পিটিআই-এর সভাপতি জাভেদ হাশমি দলের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানে বাংলাদেশ মডেল কাজ করতে চলেছে। ইমরান খান কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে যেমন নেপথ্যে সেনাবাহিনী থেকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল পাকিস্তানেও তেমনটি হতে চলেছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান সামরিক অভ্যুত্থানপ্রবণ দেশ। ১৯৪৭ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সেখানে হয়ে গেছে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান। সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে ১৯৯৯ সালে। তখনও ক্ষমতায় ছিলেন নওয়াজ শরিফ। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। এবার নির্বাচিত হয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন নওয়াজ শরিফ। এতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এ জন্যই পাকিস্তান সঙ্কটের পর এবার নতুন করে অভ্যুত্থান আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক তাই মনে করেন, নওয়াজ শরিফ পার্লামেন্টের সমর্থন পেয়ে টিকে গেলেও সেনাবাহিনী তার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য থেকে ফিরে যাবে বলে মনে হয় না। নওয়াজ শরিফ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র ইস্যুতে দ্বিতীয় রাউন্ড খেলা শুরু করতে পারে তারা। ওদিকে টাইম ম্যাগাজিনের সাবেক সিনিয়র এডিটর ইশান ঠারুর লিখেছেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ফ্যাসাদ আরও গভীর হয়েছে। তবে নওয়াজ শরিফ পাঞ্জাবে ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেকে বিশ্বাস করেন, তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগাবেন। দেশের অর্থনীতিতে পুনর্জীবন দেবেন। কিন্তু তার সরকারের পারফরমেন্সের সমালোচনা শুরু হয়ে যায় শুরু থেকেই। কারণ, পাকিস্তানে এখনও রয়েছে বিদ্যুতের ভয়াবহ সঙ্কট। এছাড়া আরও সমস্যা তো রয়েছেই। এরই মধ্যে তিনি সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের বিচার করছেন। ১৯৯৯ সালে নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন তিনি। সেই পারভেজ মোশাররফের বিচারের ঘটনায় দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারেন। নওয়াজ শরিফ গত বছর ক্ষমতায় এসেছেন তৃতীয় বারের মতো। পাকিস্তানের ইতিহাসে সেটাই প্রথম বেসামরিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর।

পরামর্শ চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট
পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাদেরকে বলা হয়েছে, পিটিআই ও পিএটির যে অবস্থান ধর্মঘট চলছে, সংবিধান বহির্ভূত যেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে তার প্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা দলীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে আহ্বান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সব পার্লামেন্টারি দলের কাছে একটি সমন পাঠায়। তাতে সব দলকে আদালতে সমন করা হয়, যাতে সমস্যার সমাধান করা যায়। গতকাল এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি নাসিরুল মুলকের সভাপতিত্বে ৫ বিচারকের বেঞ্চে শুনানি হয়।
ওয়েব সাইট হ্যাকড
পাকিস্তান সরকার, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে অ্যানোনিমাস নামের হ্যাকার গোষ্ঠী। এ সময় তারা স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করে দেয়। মঙ্গলবার এই হ্যাকিং শুরু হলেও গতকালও তা অব্যাহত থাকে। প্রথমে তারা হ্যাকিং শুরু করলে সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট স্থবির হয়ে পড়ে। তারা প্রকাশ করে দেয় একটি ‘জিপ ফাইল’। এতে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩ হাজার ব্যাংক রেকর্ড রয়েছে।

‘সরকার আমারে ডরায়’

চট্টগ্রামে গাড়ি পোড়ানোর দুই মামলায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ১০ই নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে তাকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। এই সময় বিচারক একেএম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ওই তারিখ নির্ধারণ করেন। জেলা পিপি এডভোকেট আবুল হাশেম বলেন, ‘বিচারক ১০ই নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আদালতে জামিনে থাকা অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন।’

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ৭ই নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় গাড়িতে আগুন দেয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়েছিল।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বাদী হয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩)/২৫-ঘ ধারায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৭ জনকে আসামি করে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
পরে মামলাটি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। কেবল মাত্র সালাহউদ্দিন কাদের ছাড়া বাকি সব আসামিকে এই মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন আইনজীবী এডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ‘সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়া এ সব মামলায় ইতিমধ্যে তিনিসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে তা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চার্জশিট হয়ে দাখিল করা হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ সাত আসামির নাম বাদ দেয়া হয়। কিন্তু সালাউদ্দিন সাহেবের নাম বাদ দেয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি সালাহউদ্দিন কাদের সাহেবকে হয়রানি করতে দায়ের করা হয়েছে। তার নাম মামলার এজাহারে ছিল না। পরে চার্জশিটে এক আসামির স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে যুক্ত করা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার এজলাসে যাওয়ার পথে প্রচণ্ড ভিড়ের কবলে পড়েন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের। তার দলীয় কর্মীরা তাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেন। এর আগে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
সকালে আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির এই আলোচিত নেতাকে ঘিরে ছিল জনতার ভিড়। তাকে দেখার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা আদালতে জড়ো হতে থাকেন। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এই সময় ভিড়ের মধ্য থেকে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তিনি বলেন,  কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। সরকার আমারে ডরায়। ভুয়া মামলা দিয়ে আমারে আটকে রাখছে। বাইর হলে গর্জন শুনতে হবে।
হাত নেড়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি নাই। তাই বিএনপিকে ভালভাবে কাবু করতে চাইছে। কোন কিছুই সফল হবে না। সময়ের স্রোতে সব বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে।’
বেলা ১০টায় আদালতের এজলাসে উপস্থিত হন বিএনপির এই নেতা। চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া জানান, গাড়ি পোড়ানোর মামলায় হাজির করতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে চট্টগ্রাম আনা হয়। কারাগারে তাকে অন্য বন্দিদের মতোই ডাল-ভাত-মাছ খেতে দেয়া হয়।

‘সামান্য ক্ষতি’ ও ‘দুই বিঘা জমি’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের চাকরিচ্যুতি এবং তা নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে ডা. জুবাইদা রহমান এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই-একদিনের ঘটনায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘সামান্য ক্ষতি’ ও ‘দুই বিঘা জমি’ পদ্য দু’টির কিছু পঙ্‌ক্তি মনে পড়ে যায়। প্রচণ্ড ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গের কাছে ক্ষুদ্র ক্ষমতার অপরিসীম ক্ষতিও সামান্য মনে হয়। ডা. জুবাইদা রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ। তিনি মরহুম রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। কিন্তু এসব কিছুর পরও তার পরিচয় তিনি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও মা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটি ক্ষুদ্র পরিচয়- মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিটি। এই অরাজনৈতিক ও মেধাবী নারীর চাকরিচ্যুতিতে সংসদ সদস্যরা কি হাস্যরস খুঁজে পেলেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। একই সঙ্গে এই অতি সামান্য ও অনুভূতিপ্রবণ একান্তই ব্যক্তি পর্যায়ের একটি সংবাদ মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনই বা সংসদে ঘোষণা দিতে গেলেন- তার কারণ উদঘাটন করতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হবে বুঝতে পারছি। কারণ অনেক সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও বহুক্ষেত্রেই জানতেই পারেন না একই পরিবারে কেউ যখন চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। অন্তত ঢাকঢোল পিটিয়ে, সংসদে ঘোষণা করে কখনওই তা প্রচার করা হয় না। ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এমডি (কার্ডিওলোজি) কোর্সের ৩য় পর্বে অধ্যায়নরত অবস্থায় মারাত্মকভাবে অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছুটি (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর পার-৫/ছুটি-১৭/শিক্ষা/২০০৮/১১২৮, তারিখঃ ০৩.১১.২০০৮) গ্রহণ করে যুক্তরাজ্য গমন করেন। নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি নিয়ম মেনে তিনি পুনরায় ছুটির আবেদন করলে মন্ত্রণালয় পুনরায় তিন মাসের জন্য ছুটি মঞ্জুর করে। উল্লেখ্য, তিনি বিনা বেতনে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি ভোগ করছেন বিধায় বিদেশে থাকাকালে সরকারি কোষাগার থেকে কোন বেতন-ভাতা গ্রহণ করেননি। স্বামীর অসুস্থতা নিরাময় না হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে পুনরায় বহিঃবাংলাদেশ ছুটি প্রদানের জন্য তিনি যথানিয়মে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কোন জবাব দেয়নি। এরপরও কয়েক দফা একই কারণে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলেও মন্ত্রণালয় কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে এবং আইন অনুসরণ না করেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি হতে কোন সরকারি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হলে তা সংসদে কোন মন্ত্রী উপস্থাপন করেন না। শুধু ড. জুবাইদা রহমানের ক্ষেত্রেই তা করা হয়েছে। দেশ-বিদেশে তাকে ও তার পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্যই এ কাজ করা হয়েছে বলে মনে হয়। ডা. জুবাইদা সব সময় নিজেকে রাজনীতির বাইরে রেখে একজন চিকিৎসক হিসেবে দেশের মানুষকে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার কোন বিচরণ নেই। এমতাবস্থায় শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংসদে একজন সরকারি কর্মকর্তার বরখাস্তের বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসির অবতারণা কতটা যৌক্তিক হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। ডা. জুবাইদাকে চাকরি হতে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে এবং তা নিয়ে সংসদে হাস্যরসের অবতারণা করে দেশের একজন নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে সংসদে বিষয়টি আলোচনা করে দেশের একজন নারীর সম্মানের প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছে কিনা তা-ও বিবেচনার দাবি রাখে।