Saturday, November 24, 2018

বাংলাদেশে নির্বাচনে কঠোর লড়াইয়ে বিরোধীরা by ভারত ভূষণ

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উত্তেজনা আসে তার অনিশ্চিত ফলের কারণে। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ শে ডিসেম্বর। অনেকটা আগেই প্রত্যাশা করা যায় যে, স্বস্তির সঙ্গেই ক্ষমতা ফিরবে আওয়ামী লীগ। তবে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগকে নার্ভাস হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ শতকরা ৭.৮৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তিনি উন্নয়ন রেকর্ড ও মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা ব্রিজ, ঢাকায় মেট্রো রেল, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন প্রকল্প এবং রূপপুর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র।
বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণে বিনিয়োগ বেড়েছে। তিনি কার্যত তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্টার প্রচারক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে প্রচারণার দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী জেলের কারণে খালেদা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। তার ছেলে তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে।
আরও মূল্যবান বিষয় হলো, আঞ্চলিক দুটি বড় খেলোয়াড়- ভারত ও চীন উভয় পক্ষই ঢাকার সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করতে চায়। ভারতের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো তাদের নিরাপত্তা। অন্যদিকে চীনের বড় স্বার্থ হলো তাদের ব্যবসা। আঞ্চলিক এই দুই বৈরি পক্ষের সঙ্গে চমৎকারভাবে সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা করছেন শেখ হাসিনা।
তাহলে আওয়ামী লীগ কেন উদ্বিগ্ন ?
আওয়ামী লীগের প্রত্যাশার বিপরীতমুখি বিষয় হলো, দৃশ্যত বিরোধীরা গতি পাচ্ছে। শীর্ষ দু’জন নেতাকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুধু তাই নয়, তারা বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে একটি জোট করেছে। যার নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এসব দল বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করতে একমত হয়েছে। উচ্চাভিলাসী দু’নেত্রীর মধ্যে যে দলীয় সংকীর্ণতায় নির্বাচনী লড়াই হয়, সেই লড়াইকে আরো কঠোর করতে বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক আইনমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন থেকে বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ‘বাঘ’ (আবদুল কাদের) সিদ্দিকী নির্বাচনী লড়াইয়ে ব্যবহার করছেন তাদের ব্যক্তিগত সুনাম।
বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে যে অপ্রত্যাশিত ভিড় দেখা গেছে তাতে আওয়ামী লীগ উদ্বিগ্ন। নয়া পল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এতটাই ভিড় হয়েছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে। স্কাইপ ব্যবহার করে লন্ডন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নিচ্ছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু তা নিয়ে অভিযোগ তুলে সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চেষ্টা করেছিল সরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইতিমধ্যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া যত এগিয়ে আসছে সরকার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। যশোর থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একজন নেতা ঢাকায় নিখোঁজ হয়েছেন। এর চারদিন পরে বুড়িগঙ্গা থেকে তার মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দলীয় বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা মুলতবি অবস্থায় ছিল। সে সব মামলা অকস্মাৎ পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ হয়তো ভেবেছিল বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে আসবে না। এ দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু দৃশ্যত এ দলটি হয়তো বুঝতে পেরেছে তাদের জন্য এখন এ নির্বাচন হয়তো টিকে থাকা, না হয় তাদের নিবন্ধনে আঘাত। এবং বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিষয়টি তারা বুঝতে পেরেছে। পর পর দু’টি নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারে।
এই নির্বাচনটি বিরোধীদের জন্য একটি সহজ নির্বাচন নয়। দক্ষিণ এশিয়ায়, গণতান্ত্রিক বিরোধীরা সব সময়ই সন্দেহ করে থাকে যে, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে তাদের পক্ষে ভোট কারচুপি করে থাকে। এই আতঙ্ক হয়তো এবার বড় করে দেখা হতে পারে।
তবে ব্যাপকভাবে জালিয়াতি হয়তো কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ নির্বাচন হচ্ছে একই দিনে, ৩০ শে ডিসেম্বর। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আসন রয়েছে ৩০০। আর সারাদেশে ৪৪০০০ ভোটকেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়। উপরন্তু এবার কিছু ভোটকেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধ করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নেতাকর্মীদের প্রতি স্থানীয়ভাবে গ্রুপ তৈরি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। নির্বাচনের দিনে কি কোনো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা উচিত হবে, যদি তাই হয় তাহলে ক্ষমতাসীন দলের যেকোন পেশিশক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে ‘পিপলস পাওয়ার’।
বিরোধী দলের উদ্বেগের আরো একটি কারণ হলো নির্বাচনের সময়সীমা। নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে পারে ১লা জানুয়ারি। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমান মেয়াদ অব্যাহত থাকবে ২৮ শে জানুয়ারি পর্যন্ত। কারণ, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া হয় নি। যদি নির্বাচনের ফল বিরূপ হয় তাহলেও কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকবে শেখ হাসিনার সরকার। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ যদি কোনো ‘ফাউল প্লে’ করে তাহলে বিরোধীরা ফল ঘোষণা ও নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তী সময়কে সংক্ষিপ্ত করার দাবি করবে।
বিএনপি যদি ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ও পাকিস্তানপন্থি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন করে জোট করতে পারে বলে ভারত উদ্বিগ্ন। বিএনপি ভারতে তার বন্ধুদের বলতে পারে যে, নির্বাচনী ফল ভারতের সঙ্গে বিরোধের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত হবে না। তবে তাতে বরফ কমই কাটবে বলে মনে হচ্ছে।  জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সহনশীলতা আছে এমন জোটসঙ্গীদের ৪০ থেকে ৬০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে বিএনপি। এই আতঙ্কই  হবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে আওয়ামী লীগের ট্রাম কার্ড।
আরও একটি সত্য কথা হলো। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামপন্থি দল থাকবেই। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলই এসব দলের ভোটকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিএনপিকে পিছনে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। তারা তাদের ইসলামী এজেন্ডা অনুমোদন করে হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়েছে। এর অধীনে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স সমমূল্যায়নের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ফলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও এসব শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকের ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়গুলোকে পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ‘অনৈসলামিক গডেস অব জাস্টিস’ মূর্তিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল (তবে প্রতিবাদের মুখে তা আবার পুনঃস্থাপন করা হয়েছে)। এ ছাড়া মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে ১৬ বছর করা হয়েছে। এমনটা ইসলাম-বান্ধব বলে দৃশ্যমান।
ডিসেম্বর মাসটি আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদের জন্য হবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। আওয়ামী লীগ তার প্রত্যাশা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারে না। ভোটার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণ নির্ভর করতে পারে বাতাসের গতিবিধির ওপর।
(ভারত ভূষণ ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক সিনিয়র সাংবাদিক। তার লেখা এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন দ্য এশিয়ান এইজে। তারই অনুবাদ প্রকাশিত হলো।)

আরবের মোহনীয় মরুভূমিতে একদিন by রবিউল ইসলাম

শুনেছি আরব মানেই মরুভূমি। কিন্তু ইট-পাথরের দুবাইয়ে মরুভূমির দেখা মেলা ভার। মরুর বালি দেখতে যেতে হয় শহর থেকে খানিকটা দূরে। আরব দেশে এসে মরুভূমি দেখতে না পারার অতৃপ্তি নিয়ে দেশে ফিরতে চাইনি। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মতো অপার্থিব সুন্দর মরুভূমি নেই আর কোথাও। দুবাইয়ের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ রোমাঞ্চকর মরু সাফারি। এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা বোকামি!
এশিয়া কাপের কঠিন সূচির মধ্যেই ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় মরু সাফারি ঘুরে আসার ইচ্ছেপূরণ হলো। সেই হিসাবে প্রায় মাস দুয়েক পেরিয়ে গেছে। স্মৃতির পাতাতেও ধুলো জমেছে কিছুটা। ধুলো জমা টুকরো স্মৃতি থেকেই এই গল্প।
আমাদের এই মরুযাত্রাকে সাহেবি ইংলিশে বলা হয় ‘ডেজার্ট সাফারি’। ডেজার্ট বা ‘মরুভূমি’র সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় ওয়েস্টার্ন কিংবা আরব্য উপন্যাস পড়ার সুবাদে। জীবনে এবারই প্রথম নিজের চোখে দেখে মুগ্ধ হলাম। এই ভালোলাগা কেবল চোখে নয়, হৃদয় দিয়েও অনুভব করার মতো।
ডেজার্ট সাফারিতে যেতে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের প্যাকেজ থাকে। আমি ১২০ দিরহামের প্যাকেজ নিয়েছি। এই প্যাকেজ ট্যুরের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) গাড়িতে যাওয়া-আসা, বারবিকিউ ডিনার, কোমল পানীয়, উটের পিঠে চড়া, মেহেদি লাগানো, বেলি ড্যান্স দেখাসহ আরও কিছু সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের প্যাকেজের দাম আরও বেশি। কিন্তু অফ-সিজন বলে কিছুটা কমমূল্যে এই প্যাকেজ পেয়েছি। অন্য সময়ে একই প্যাকেজের জন্য ১৫০ থেকে ৩০০ দিরহাম পর্যন্ত গুনতে হতে পারে।
মরুযাত্রার দিন স্থানীয় সময় বিকাল তিনটায় হোটেলের সামনে সাদা রঙের ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি হাজির। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে ডেজার্ট সাফারির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। দুবাই শহর পেরিয়ে আল আইন যাওয়ার পথ ধরে মরুভূমির দিকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে চলছে গাড়ি। বাইরে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রির মতো। যদিও এসি গাড়িতে বসে বাইরের তাপমাত্রা বোঝার উপায় নেই। চালকের পাশের আসনে জায়গা পেয়েছিলাম বলে চারপাশের সৌন্দর্য ভালোভাবে দেখতে পেরেছি। মরুভূমির মাঝ দিয়ে সুন্দর প্রশস্ত রাস্তা। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সোনালি বালুরাশি। দেখতে অনেকটা অসমতল উঁচু-নিচু পাহাড়ের মতো।
আমরা বিকাল চারটা নাগাদ জেবেল আল সাহারা নামের সুপার মার্কেটে এসে থামলাম। এখান থেকেই আমাদের বালির পাহাড়ের রাজ্যে ঢুকতে হবে। এখানে আমাদের মতো আরও বেশকিছু জিপে চড়ে যাত্রীরা যাত্রা শুরুর জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রায় আধঘণ্টা আমাদের এখানে অবস্থান করতে হলো। খেজুর বাগানে সময়টা কাটাতে বেশ ভালোই লাগছিল। এর মধ্যে সেখানে দুটি উট বাঁধা অবস্থায় দেখলাম।
এই ছোট্ট বিরতিতে কেউ চাইলে কিছু দিরহাম খরচ করে কোয়াড বাইক নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন। সেই সঙ্গে অ্যারাবিক পোশাকেও নিজেকে সাজিয়ে নেওয়া যাবে। অবশ্যই এজন্য বাড়তি কিছু পয়সা খরচ করতে হবে।
সুপার মার্কেটের এককোণে এসে চালক জিপের চাকার পাম্প কিছুটা কমিয়ে নিলেন। মরুভূমির বালিতে গাড়ি ওঠানামার জন্য গাড়ির চাকার পাম্প কমিয়ে নেওয়া খুবই প্রয়োজন। গাড়িতে উঠে আমরা সবাই সিটবেল্ট ভালোভাবে বেঁধে নিলাম। পড়ন্ত বেলায় গাড়ি মরুভূমির বালির মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললো।
এখানে গাড়ি ধীরে চালানোর কোনও উপায় নেই। সাগরের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দেওয়ার সময় যেমন জাহাজ লাফিয়ে ওঠে, তেমনি মরুভূমির ধুধু বালুচর পেরিয়ে যেতে ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে এগোতে লাগলো। মরুময় এলাকাজুড়ে পাহাড়ের মতো উঁচু-নিচু বালির স্তুপ। উঁচু থেকে নিচুতে আবার নিচের দিক থেকে ওপরে দ্রুত বেগে ছুটতে থাকা সামনের গাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো, বালির সঙ্গে যুদ্ধ চলছে!
ভড়কে গিয়ে ভাবছিলাম, এই বুঝি গাড়ি কাত হয়ে উল্টে যাবে! কিন্তু দক্ষ হাতে চালক গাড়িকে রাখলেন নিয়ন্ত্রণেই। এই সময়ে মনে হচ্ছিল, যেন রোলার কোস্টারে উঠে পড়েছি। ভয়, আনন্দ আর উত্তেজনায় গাড়িতে বসে চিৎকার করছিলাম সবাই। গাড়িচালক পাকিস্তানের নাগরিক, বেশ আমুদে প্রকৃতির। তিনি গাড়িতে ফুল ভলিউমে চালিয়ে দিলেন অ্যারাবিক গান। তাতে যেন আমরা রূপকথার ভুবনে হারিয়ে গেলাম!
কয়েক মাইল এভাবে চলার পর পৌঁছালাম ডেজার্ট সাফারিতে। সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে গিয়ে চালক গাড়ি থামালেন। সেখানে আরও বেশকিছু যাত্রী জিপ গাড়ি থেকে নেমে বৈকালিক মরুভূমির দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমরাও গাড়ি থেকে নামলাম। যে গল্প এতদিন শুনে এসেছি, নিজ চোখে তা দেখছি। চারদিকে ধুধু প্রান্তর, চিকচিকে লাল বালি। আমাদের ভাগ্য ভালো সেদিন মরুঝড় হয়নি। তবে প্রচণ্ড বাতাসে উষ্ণ বালি উড়ে এসে পড়ছিল গায়ে। সেদিকে মন না দিয়ে চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমিকে উপভোগ করলাম।
ডেজার্ট সাফারিতে ১০ মিনিট অবস্থানের কথা ছিল। কিন্তু বৈকালিক মরুদৃশ্যে এসে কারই বা মনে থাকে সেটা! পরে আমাদের অনুরোধে চালক বাড়তি ১০ মিনিট থাকার সুযোগ করে দিলেন। সময়টা এত বেশি উপভোগ্য ছিল যে, কিছুতেই ফিরে যেতে ইচ্ছে করছিল না! তবুও আরেক গন্তব্যের উদ্দেশে সাফারিকে বিদায় জানাতে হলো।
পরবর্তী গন্তব্য জান্নাত ট্যুরস নামের একটি মরু রেস্তোরাঁ। মরুভূমি থেকে বেরিয়ে এসে সহজ পথেই সেখানে পৌঁছালাম। তাও সন্ধ্যা নামার আগে। ভাগ্য সহায় ছিল বলেই মরুভূমির ‘জাহাজ’খ্যাত উটের পিঠে চড়ার সৌভাগ্য হলো। সন্ধ্যার আগে পৌঁছাতে না পারলে সেই সুযোগ হারাতে হতো। সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়নি। মরুর বুকে উটের পিঠে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অন্যরকম। এ সময় আকাশ যেন অদ্ভুত এক রূপ নেয়।
উটের পিঠে চড়া শেষ হতেই আমাদের দলে থাকা একদল নারী হাতে মেহেদী লাগানোর খোঁজ করতে লাগলেন। একটু এগিয়ে যেতেই বিশাল জায়গাজুড়ে প্যান্ডেল চোখে পড়লো। সেখানে ঢুকেই দেখি হালকা খাবার দেওয়া হচ্ছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ড্রিঙ্কসসহ বেশকিছু আইটেম নিয়ে নাশতা সারলাম।
প্যান্ডেল ছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসানো হয়েছে। এর মধ্যে আছে কফি শপ ও জুস বার। ঠাণ্ডা পানীয় ও কোল্ড ড্রিঙ্কসের পসরা নিয়েও বসেছে আরবরা। অবশ্য আমাদের প্যাকেজে কফি, ঠাণ্ডা পানি ও কোল্ড ড্রিঙ্কস ছিল বিনামূল্যে। তবে হট ড্রিঙ্কস পেতে কিছু দিরহাম খরচ করতে হবে। পুরো আরব ঘুরে এখানেই সবচেয়ে সস্তায় হট ড্রিঙ্কস পান করতে পারেন পর্যটকরা। এছাড়া আছে আরবীয় কায়দায় সীসা (হুক্কা) পান করার ব্যবস্থা।
ক্যাম্পের মাঝখানে মঞ্চ। চারপাশে আরবীয় কায়দায় বসার ব্যবস্থা। বিছানা-বালিশ ও বালিশের সমান উচ্চতার প্রশস্ত টেবিল রাখা। সবার সামনের সারিতে আরবীয় কায়দায় আসন নিলাম। রাত্রিকালীন আঁধারের মনোমুগ্ধতা আর মনমাতানো নাচ-গানের উৎসব চলছে। আমরা দলবেঁধে মঞ্চের পাশে উল্লাসে মাতলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হলো তানুরা ড্যান্স। ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে টানা ঘুরতে থাকেন নৃত্যশিল্পী। চলছে তার বিভিন্ন কসরত। তার পোশাক রঙ-বেরঙের। এই নাচের সময় বন্ধ হয়ে যায় মঞ্চের বাতি। অন্ধকারে পোশাকের লাইট নৃত্যশিল্পীর ঘূর্ণনের সঙ্গে চমৎকার আলোর নকশা তৈরি করে।
খানিক বিরতি দিয়ে বুফে ডিনার পরিবেশন করা হলো। বারবিকিউ, রুটি, রাইস, চাওমিন ও অন্যান্য কারি। খাবার নিয়ে আবারও ফিরে এলাম মঞ্চের কাছে। শুরু হলো ফায়ার ড্যান্স। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সবাইকে মাতিয়ে গেলেন এক তরুণ। খাওয়া বাদ দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার কসরত দেখছিলাম আমরা।
ডেজার্ট সাফারির প্রধান আকর্ষণ বেলি ড্যান্সের ঘোষণা আসতেই সবার সম্মিলিত হর্ষধ্বনি শোনা গেলো। আগে কেবল ইউটিউবে দেখলেও এবার চোখের সামনে নৃত্যশিল্পীদের কসরত দেখলাম। ভীষণ দৃষ্টিনন্দন নৃত্যকৌশল। চোখ ফেরানো যায় না। অ্যারাবিক সুরের ঝঙ্কারে শিল্পীরা যেন হাওয়ায় ভেসে ভেসে নাচেন। গানের তালে তালে অপূর্ব ভঙ্গিমায় দুই হাত দু’দিকে প্রসারিত করে প্রজাপতির মতো তাদের নাচ সত্যিই মোহনীয়।
মরুভূমির বুকে লেখক
মরুভূমির বুকে লেখক
নাচ উপভোগ শেষে রাত সাড়ে ৮টায় রওনা হয়ে দেড় ঘণ্টা পর হোটেলে ফিরলাম। মরুভূমি নিয়ে আমার অনেক কৌতূহল ছিল। সব কৌতূহল যেন মিটলো। ডেজার্ট সাফারি দেখতে ১২০ দিরহাম খরচ করতে গিয়ে কষ্ট হচ্ছিল। মনে মনে ভাবছিলাম, কতগুলো টাকা জলে যাচ্ছে! কিন্তু ট্যুর শেষে ওই টাকাকে মনে হলো খুবই নগন্য।

বিকিনিতে মালদ্বীপের সৈকতে শিল্পা

মালদ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছেন বলিউডের অভিনয় জগতের রাজকন্যা শিল্পা শেঠি। ‘ওয়াটার ভিলা’ সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে তাকে। তবে সাধারণ ড্রেসে নয়, বিকিনিতে। মালদ্বীপে গিয়ে বিকিনিতে তোলা ছবি শেয়ার করেন শিল্পা। ইতিমধ্যেই ছবি ভাইরালও হয়েছে। ছুটি কাটাতে গিয়ে শিল্পা যেখানে থাকছেন, সেই ‘ওয়াটার ভিলা’র নিচে দেখা অক্টোপাসের ভিডিও শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। যাকে ‘মিস্টার অক্টোপাস’ বলে ডাকতে শোনা যায় রাজ কুন্দ্রার ঘরণীকে। শিল্পা সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন।

সমকামিতা কি বৈধতা পাবে তাইওয়ানে!

সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া হবে কিনা তার ওপর গণভোট হচ্ছে তাইওয়ানে। যদি এ ভোটে সমকামিতা বৈধতা পায় তাহলে এটিই হবে এশিয়ার প্রথম দেশ, যেখানে সমকামিতা বৈধ। স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি শনিবার এ ভোট চলছে সেখানে। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। দিনশেষে প্রথম ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দেশটির শীর্ষ আদালত সমকামী বিয়ের পক্ষে রায় দেয়। একই রায়ে আইন সংশোধন করতে বা নতুন একটি আইন পাস করতে দেশের পার্লামেন্টের প্রতি নির্দেশনা দেয় কোর্ট। তারই প্রেক্ষিতে এই ভোট হচ্ছে।
তবে, গত সপ্তাহে যে জরিপ চালানো হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে কম ভোটারই এই পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এ জরিপটি চালানো হয় চীনের সঙ্গে উত্তেজনাকর এক ইস্যুকে নিয়েও। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় ২০২০ টোকিও অলিম্বিকের সময়ে তাদেরকে কি নামে ডাকা হবেÑ তাইওয়ান নাকি চাইনিজ তাইপে। বর্তমানে তাইওয়ান এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে চাইনিজ তাইপে নামে। ১৯৮০র দশকে চীনের সঙ্গে তারা এ নামে পরিচিতির বিষয়ে একমত হয়েছিল। তাইওয়ানের মর্যাদার প্রশ্নটি স্পর্শকাতর। ১৯৪৯ সাল থেকে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি নিজেরাই শাসন করছে। কিন্তু চীন মনে করে এটা তাদেরই একটি প্রদেশ। একদিন তারা একীভূত হবে।
বিয়ে প্রশ্নে তাইওয়ান বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন রক্ষণীশল সমাজ। অন্যদিকে সমকামী অধিকার কর্মীরা। রক্ষণশীলরা চাইছেন বিয়ে হলো একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। অন্যদিকে সমকামী অধিকারকর্মীরা চাইছেন পুরুষে পুরুষে বিয়ে বা নারীতে নারীতে বিয়ের অধিকার। উভয় পক্ষই তাদের এই চাওয়া ভোটে দিয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু ইস্যু। এরই মধ্যে তাওয়ান পাবলিক অপিনিয়ন ফাউন্ডেশন যে জরিপ চালিয়েছে তাতে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৭৭ ভাগই চাইছেন বিয়ের বৈধতা থাকবে শুধু নারী ও পুরুষের মধ্যে।
গণভোটের ফল যা-ই আসুক না কেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কিছুই করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটির সরকার। সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে কাজ করে যাওয়া সংগঠনগুলোর ধারণা, গণভোটে বিপক্ষে রায় এলে নতুন আইনেও এর প্রভাব পড়বে। জনসমর্থনের কথা বিবেচনা করে সরকার তখন দুর্বল আইনের দিকেই ঝুঁকবে, ধারণা তাদের। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পূর্ব এশিয়ার কর্মী সুকি চাং বলেছেন, ভালোবাসা ও সমতা জিতবে বলেই আশা আমাদের। যদি বিপরীত কিছু হয়, তাহলেও সরকার নিশ্চয়ই এ ভোটের ফলকে ব্যবহার করে সমলিঙ্গের বিয়ে নিয়ে হওয়া আইনের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেবে না।

কে এই কলকাতার মুসলিম মেয়র ফিরহাদ হাকিম?

কলকাতার নতুন মেয়র হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
ববি হাকিম নামে বেশি পরিচিত এই নেতা আগে থেকেই রাজ্যের নগরোন্নয়ন এবং পৌর দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।
এর আগে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন শোভন চ্যাটার্জী।
কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়ছিলেন, এই অভিযোগে মমতা ব্যানার্জী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন।
নতুন মেয়র বেছে নেয়ার জন্য দলীয় কাউন্সিলরদের বৈঠক আগেই ডাকা হয়েছিল, যেখানে মমতা ব্যানার্জী ছাড়াও হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
সেই বৈঠকেই মিজ ব্যানার্জী জানান নতুন মেয়রের নাম।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে পাঁচজন মেয়র ছিলেন মুসলিম, যাদের মধ্যে ছিলেন শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
কিন্তু তারপর থেকে কখনও কোনও মুসলিম ধর্মাবলম্বী নেতা কলকাতার মেয়র পদে বসেননি।
ফিরহাদ হাকিম দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অঞ্চলের মানুষ।
কংগ্রেস রাজনীতি করতে করতেই মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা এবং গত শতাব্দীর নয়ের দশকের শেষ দিকে কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে প্রথম ভোটে জেতা।
যতদিন গেছে, ততই মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠদের বৃত্তে ঢুকে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছাকাছি পাড়ার বাসিন্দা ফিরহাদ হাকিম।
কর্পোরেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছিয়ে গেছেন বিধানসভায়। ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়ার পরে হয়েছেন মন্ত্রী।
আর রাজনীতির ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছেন মমতা ব্যানার্জীর 'ম্যান ফ্রাইডে'দের অন্যতম।
পাকিস্তানের 'ডন' পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, তার দাদু বিহারের গয়া জেলা থেকে কলকাতায় এসে ব্যবসা শুরু করেন।
বাবা ছিলেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের আইন আধিকারিক। আর মা ছিলেন কলকাতার একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা।
ফিরহাদ হাকিমের মায়ের আদি বাড়ি ছিল ফরিদপুরে।
তার মা হিন্দু মুখার্জী পরিবারের সন্তান ছিলেন বলে জানিয়েছেন মি. হাকিমের বাল্য বন্ধু ঋষিকেশ মুখার্জি।
"ববি ধর্মে মুসলমান ঠিকই, নিয়মিত নামাজও পড়ে, গত বছর হজ করে এসেছে, কিন্তু ওর মধ্যে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গটা একেবারেই নেই। ওর মা ছিলেন পূর্ব বঙ্গীয় হিন্দু পরিবারের মানুষ, বোনের বিয়ে দিয়েছে হিন্দু পরিবারে।"
"ছোট থেকে আমরা কয়েকজন বন্ধু প্রতি শনিবারে নিয়ম করে কালীঘাটের কালী মন্দিরে যেতাম দর্শন করতে, সেখানে ববিও থাকত। আবার ঈদের দিনে আমরা সব বন্ধুরা ওদের বাড়িতে বিছানায় বসে একসঙ্গে আড্ডা মারতাম। আর এটা তো নতুন করে বলার কিছু নেই যে চেতলা অগ্রণী ক্লাবে যে দুর্গাপুজো এখন বিখ্যাত, তার শুরুটাই ববি আর আমরা কয়েকজন বন্ধু করেছিলাম।"
"ওদের বাড়ির ঠিক সামনে ফুটপাথে শুরু হয়েছিল সেই দুর্গাপুজো," বলছিলেন ফিরহাদ হাকিমের ছোটবেলার বন্ধু, তার পাড়ারই বাসিন্দা মি. মুখার্জি।
তিনি আরও জানাচ্ছিলেন যে বড় নেতা বা তারপরে মন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পরেও কলকাতায় থাকলে নিয়মিত আড্ডায় বসেন বন্ধুদের সঙ্গে, সেখানে রাজনীতির আলোচনা কমই হয়।
"যখন আড্ডা মারি আমরা, তখন মন্ত্রী বলে মনেই হয় না ওকে। আর পাড়ার ক্লাব অন্ত প্রাণ।
কিছুক্ষণের জন্য হলেও ক্লাবে আসবেই ও। তবে যখন সামনে পুলিশের গাড়ি নিয়ে ওর কনভয় বেরয়, তখনই একমাত্র ওকে মন্ত্রী বলে মনে হয়," বলছিলেন ঋষিকেশ মুখার্জী।
বিদায়ী মেয়র শোভন চ্যাটার্জীকে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বলার পর থেকেই যে নামগুলো উঠে আসছিল সম্ভাব্য মেয়র হিসাবে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফিরহাদ হাকিমের নাম।
আর তখন থেকেই সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ লিখতে শুরু করেছিলেন যে একজন মুসলমানকে মেয়র করা হোক। নজরে আসছিল এরকম মন্তব্য যে স্বাধীনতার পর থেকে কেন কলকাতা শহরে কোনও মুসলমান মেয়র হয় নি।
সিপিআইএম দলের নেতা ও সংসদ সদস্য মুহম্মদ সেলিম বলছিলেন, "নজরে এসেছে যে এরকম একটা আলোচনা ফেসবুকে চলছে দু'দিন ধরে। কিন্তু আমার মনে হয় কলকাতার মতো একটা কসমোপলিটান শহরের প্রথম নাগরিক - মেয়র, কোন ধর্ম বা ভাষা গোষ্ঠীর থেকে হবেন, অথবা এতদিন কেন হয় নি সেটা কি আলোচনার বিষয়?"
"ফিরহাদ হাকিম কর্পোরেশনে দীর্ঘ বছর কাউন্সিলর ছিলেন, তার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই ক্ষমতাসীন দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হয়। এর মধ্যে তার ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে আসা ঠিক হবে না।"
পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মুহম্মদ কামরুজ্জামানের কথাতেই অনেকটা সেই একই সুর।
"এটা তৃণমূল কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত যে তারা কাকে মেয়র করবে। তিনি হিন্দু না মুসলমান, সেটা আলাদা করে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। নিতান্তই একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এটা," বলছিলেন মি. কামরুজ্জামান।
সুত্রঃবিবিসি

হালিম, তিন বন্ধু ও একটি হত্যা

প্রতিশোধ। প্রতিশোধ নিতেই তিন বন্ধু মিলে ছুরিকাঘাতে খুন করে তাদের আরেক বন্ধুকে। এই ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া উত্তরপাড়ার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক মনির তালুকদার (২১) খুন হন।
মাস ছয়েক আগে হালিম খাওয়াকে কেন্দ্র করে ১২ বছর বয়সী এক বন্ধুকে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিশোধ নিতেই মনিরকে হত্যা করা হয় বলে গ্রেপ্তারের পর জবানবন্দি দিয়েছে তার ৩ বন্ধু।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, আড়িয়া মোহন গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে (১২), বছির আলীর ছেলে (১৫) ও আব্দুল বাছেদের ছেলে সোহাগ হোসেন (২২)।
এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ পিবিআই এর পরিদর্শক রওশন আলী অভিযান চালিয়ে শিশু (১২) ও সোহাগকে গ্রেপ্তার করেন এবং শিশু (১৫) কে তার স্বজনরা সদর থানায় আত্মসর্মপন করান।
গতকাল বৃহস্পতিবার ২ শিশু ৪৭ ধারায় সমাজ সেবা কর্মকর্তার কাছে এবং সোহাগ মূখ্য বিচারকি হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
সোহাগ বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছে এবং ২ শিশুকে আজ সকালে টঙ্গীর কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জ কারাগারের সুপার মামুন জানান।
প্রসঙ্গত, পূর্ব প্রতিহিংসার কারণে ১৮শে নভেম্বর সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা যাত্রীবেশে মনিরের অটোরিক্সা ভাড়া করে। এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রামের রেল লাইনের উপরে মনিরকে ছুরিকাঘাত করে অটোরিক্সা ফেলে পালিয়ে যায় তারা। মূমূর্ষ অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান মনির।
ঘটনার রাতে সদর থানায় মামলা করেন তার বাবা নজরুল তালুকদার। সদর থানায় মামলা হলেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।