Thursday, December 21, 2017

চট্টগ্রামে সিগারেটের আগুনে পুড়লো ৪ ঘর

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি এলাকায় আগুনে চারটি বসত ঘর পুড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিগারেট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, আগুনে আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন চারটি কাঁচা বসত ঘর পুড়ে এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চারটি গাড়ি আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।




‘জাতিসংঘ না মানলেও জেরুজালেমই ইসরায়েলের রাজধানী’


জাতিসংঘ না মানলেও জেরুজালেমই ইসরায়েলের রাজধানী। বললেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের সময় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ভোটাভুটির কঠোর সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে  যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ বছর সময় লেগেছে। জাতিসংঘেরও একই পথ অনুসরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েল জাতিসংঘের ভোট প্রত্যাখ্যান করছে। জেরুজালেম আমাদের রাজধানী। সেখানে আমরা স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রাখব। আরো অনেক দেশের দূতাবাসও জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশ ইসরায়েলের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনছে। শেষ পর্যন্ত এটি মিথ্যাবাদীদের কারখানার একটি দেয়ালে পরিণত হবে।

এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি না দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোকে ইমেইল পাঠিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি।

ইমেইলে তিনি লিখেছেন, আপনারা যখন ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন, তখন আপনাদের আমি জানাতে চাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই ভোটকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন।

শিগগিরই কমবে পেঁয়াজের দাম

পেঁয়াজ ও চালের দাম সাময়িক সময়ের জন্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা যত্নবান ও সচেতন। শীতকাল পেঁয়াজের মৌসুম। শিগগিরই পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে। বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত হিরোআসু ইজুমির সঙ্গে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাশের দেশ ভারতেও এবার পেঁয়াজের আগাম ফলন ভালো হয়নি। ভারতের পেঁয়াজের থেকে আমাদের দেশের পেঁয়াজের দাম বেশি। আমার মনে হয় এখন সিজন আসছে, দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

চালের দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ধান যেখানে উৎপাদন হয় সেই উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছে। হাওর অঞ্চল একেবারে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তরিত হয়েছে। সেজন্য খাদ্যের একটু অভাব হয়েছিল। সেই সুযোগে কিছু কিছু ব্যবসায়ী… মিথ্যা কিছু খবরও প্রচার হয়েছিল, পরে চালের দাম বেড়ে যায়।’

বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চেইনশপে এক দামেই সবাই জিনিস কিনছে। জিনিসের কিন্তু কোনো অভাব দেখি না, টাকা দিলেই পাওয়া যায়।’

টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন নিত্যপণ্য আমদানি করলে সরকারকে লোকসান গুণতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে যখনই আমরা ইমপোর্ট করি তখনই আমরা প্রচুর লস দেই। ১৬ কোটি লোকের দেশে টিসিবির মাধ্যমে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব না। আপদকালীন সময়ের জন্য টিসিবি দিয়ে পণ্য আমদানি করি।’


৭৫০ গুমের তথ্য দিয়ে খালেদার টুইট

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, দেশে গত ১০ বছরে  ৭৫০ জন গুম হয়েছেন। আর এই গুম করেছে সরকারি বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া তার ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় এ দাবি করেন। 

খালেদা জিয়া তার টুইটে গুমের জন্য সরকারি বাহিনীকে দায়ী করলেও কোনো নির্দিষ্ট বাহিনীর নাম উল্লেখ করেননি।

টুইটে খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ১৯ জন বিএনপি কর্মীকে গুম করা হয়েছে, আজও তারা ফেরেননি। গত ১০ বছরে কমপক্ষে ৭৫০ জন গণতন্ত্রকামী কর্মীকে গুম করেছে সরকারি বাহিনী। গুমের শিকার মানুষের সন্তান, পিতা-মাতা, স্ত্রীর কান্নার রোল থামছে না। এর অবসান চাই। টুইটে তিনি নিখোঁজ ১৯ জনের ছবিও প্রকাশ করেন।


কনসার্টের মঞ্চ ভেঙে ডিজে শিল্পীর মৃত্যু


ব্রাজিলে একটি কনসার্টে মঞ্চ ভেঙে এক ডিজে শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে। পোর্তো আলেগ্রেতে চলছে ‘ব্রাজিল অ্যাটমস্ফিয়ার ফেস্টিভ্যাল’। গত রোববার আয়োজন করা হয়েছিল লাইভ কনসার্ট।

হাজারো দর্শক সমবেত হয়েছিলেন সেই কনসার্টে। তখন মঞ্চে চলছিল ডিজে পারফরমেন্স। হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মঞ্চের একাংশ। মঞ্চের ভারী ধাতব কাঠামোতে চাপা পড়েন ডিজে কালেব ফ্রেইতাসহ অন্য শিল্পীরা।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডিজে কালেবকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় আরো কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই কনসার্টে প্রায় পাঁচ হাজার লোক অংশ নিয়েছিল। ধাতব কাঠামোটি ভেঙে পড়লে পদদলিত হয়েও অনেকে আহত হয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণ ব্রাজিলের পোর্তা আলেগ্রেসহ বেশকিছু এলাকায় খারাপ আবহাওয়া এবং ঝড়ের আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তরের আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও খোলা মঞ্চে মিউজিক কনসার্টের আয়োজন করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আয়োজকেরা।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিওতে ধরা পড়েছে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার মুহূর্তটি। যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে।

মেয়েকে নিয়ে কানাডায় চলে গেলেন তিন্নি

বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো বিদেশে চলে যাবেন অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। সেখানে গিয়ে সন্তানসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন। গত তিন মাস হলো কানাডায় বসবাস শুরু করেছেন এই তারকা। মেয়ে ওয়ারিশাকে সেখানকার স্কুলে ভর্তি করেছেন।

কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান এই অভিনেত্রী। তিন্নি বলেন, আপাতত দুই বছর থাকব। তারপর ভালো লাগলে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করব।

ব্যক্তিজীবনের জটিলতায় অনেক দিন ধরেই মিডিয়া থেকে দূরে রয়েছেন তিন্নি। মাঝে মিডিয়ায় ফেরার ঘোষণা দিয়ে পারভেজ আমিনের পরিচালনায় ‘একটি নীল কুয়াশার মৃত্যু’ নাটকে অভিনয় করেন। সহশিল্পী ছিলেন সজল। এটি গত ঈদুল আজহায় এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছে।

এরপর আর তাকে নাটকে কিংবা মিডিয়ার কোনো অনুষ্ঠানে তেমন দেখা যায়নি। মূলত দ্বিতীয় সংসার ভাঙার পরই বিদেশে চলে যাবার ব্যাপারে ভাবতে থাকেন এই অভিনেত্রী। এবার সত্যিই পাড়ি জমিয়েছেন।

এই অভিনেত্রীর ঘণিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে, কানাডায় স্থায়ী হবার জন্য চেষ্টা করছেন তিন্নি।

সেখানকার নাগরিকত্ব পাবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২/৩ বছর লেগে যাবে। এই সময়টাতে মেয়েকে নিয়ে কানাডাতেই থাকবেন।
কানাডাতে তিন্নি এখনো কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হননি। সেখানে বাঙালিদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। শিগগিরই তিনি সেখানে কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন। আপাতত সময়টা মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করছেন। এভাবেই কাটছে তিন্নির প্রবাসজীবন।



রাখাইনের উন্নয়নে ভারত-মিয়ানমারের চুক্তি

সহিংসতায় বিধ্বস্ত রাখাইনের উন্নয়ন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। বুধবার ভারত-মিয়ানমারের ওই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। খবর পিটিআই, আউটলুক ইন্ডিয়া।

বুধবার দেশটির রাজধানী নেইপিদোতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও মিয়ানমারের সামাজিক কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন উপমন্ত্রী ইউ সোয়ে অং ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

গত আগস্টে রাখাইনে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও জীবন-জীবিকার উন্নয়নে এই প্রথম কোনো দেশের সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হলো।

রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে মিয়ানমারে রয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাখাইন রাজ্যের স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও বাস্ত্যুচুত মানুষদের ফেরানোর লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা করাই এ চুক্তির উদ্দেশ্য।

মন্ত্রণালয় আরো বলছে, বাস্ত্যুচুত মানুষের জরুরি চাহিদা মোকাবেলায় রাখাইন রাজ্যে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে সহায়তা করবে ভারত।

ভারতীয় এই মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিয়ানমার সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাসহ রাখাইন রাজ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও বেশ কিছু বন্ধুত্বমূলক প্রকল্পের ব্যাপারে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এর মধ্যে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ও পালেতওয়া-জোরিনপুই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া রি-টিদ্দিম সড়কের উন্নয়ন, কালেওয়া থেকে ইয়ার্গি পর্যন্ত ত্রিদেশীয় মহাসড়ক প্রকল্প, তামু-কিগোন-কালেওয়া প্রকল্পের আওতায় ৬৯টি সেতু, ইয়ামেথিন পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। এসময় দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও উত্তর রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে হ্লেইংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই সময় দেশটির সীমান্তে ৩০টির বেশি পুলিশ ও সেনা তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যদের হামলা ১২ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়।

এ হামলার জবাবে দেশটির সেনাবাহিনীর কঠোর সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধনের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য বলছে, আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

খোঁজ মিলল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া ডুবোজাহাজের

খোঁজ মিলেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ডুবোজাহাজের ধ্বংসাবশেষের। ১০৩ বছর আগে এইচএমএএস এই-১ নামের ওই ডুবোজাহাজটি হারিয়ে যায়। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া যৌথবাহিনীর প্রথম ডুবোজাহাজ। ১৯১৪ সালে পাপুয়া নিউগিনির রাবাউল থেকে ৩৫ জন অস্ট্রেলিয়ান ও ব্রিটিশ ক্রুসহ উধাও হয়ে যায় এটি। খবর বিবিসির।

ডুবোজাহাজটি খোঁজার ১৩ নম্বর সার্চ টিম পাপুয়া নিউগিনির ডিউক অব ইয়র্ক দ্বীপের কাছে পায় এটিকে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, এর ফলে দেশের নৌযান সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরনো রহস্যের সমাধান হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যারাইস পেইন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক নৌযানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এটি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়েল অস্ট্রেলিয়ান নেভি ও যৌথ বাহিনীর প্রথম ডুবোজাহাজ হারানোর ঘটনা ছিল এটি।

একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে সমুদ্রের নিচে অনুসন্ধান চালায় সার্চ টিম। ওই ড্রোনটি সমুদ্রের তলদেশের ৪০মিটার (১৩১ ফুট) ওপর ভেসে অনুসন্ধান চালায়। ৩০০ মিটারের বেশি গভীর পানিতে পাওয়া যায় ডুবোজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ডুবোজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা আয়োজন করে সার্চ টিমের সদস্যরা।

অস্ট্রেলিয়া সরকার বলছে, তারা ওই ডুবোজাহাজটিতে থাকা ক্রুদের বংশধরদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার স্থানে স্মৃতি স্মারক স্থাপনের বিষয়ে পাপুয়া নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা।

এবি ব্যাংকের শীর্ষপদে পরিবর্তন


বেসরকারি এবি ব্যাংকের শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ ও পরিচালক ফাহিমুল হক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাদের পদত্যাগপত্র অনুমোদিত হয়।

পরিচালনা পর্ষদে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তিন পরিচালক। তারা হলেন মোশতাক আহমেদ চৌধুরী, নাজির আহমেদ ও শেখ শিরীন। 

এম ওয়াহিদুল হক, সেলিম আহমেদ ও ফাহিমুল হকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ওয়াহিদুল হক আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সেলিম আহমেদ।

বান্দরবানে ১৪০তম ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ শুরু

বান্দরবানে বোমাং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ উৎসব শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর)সকালে। খাজনা আদায়ী উৎসব রাজপূণ্যাহের ১৪০তম আয়োজন এটি। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মৌজার প্রধানরা প্রজাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা খাজনা রাজাকে দিয়ে থাকেন।

এবারের এ রাজপূণ্যাহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীরবাহাদুর উশৈ সিং এমপিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার রাজপূণ্যাহ মেলার উদ্বোধনীদিনে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোশাক পরিধান করে রাজবাড়ি থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ ১৭তম রাজা প্রকৌশলী উচপ্রু চৌধুরী। এসময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহীশালাররা রাজাকে গার্ড দিয়ে রাজবাড়ি থেকে অনুষ্ঠানস্থল মঞ্চে নিয়ে আসেন। বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে সারিবদ্ধভাবে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারি, রোয়াজারা রাজাকে কুর্নিশ করে জুমের বার্ষিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দিবেন। এদিকে বান্দরবানের রাজপূণ্যাহ মেলাকে ঘিরে বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার থেকে বান্দরবানের কোনও হোটেল মোটেলের সিট খালি নেই বলে জানান বান্দরবান হোটেল মোটেল মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষ।

বান্দরবান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর বলেন, ‘এবারের মেলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে আমাদের বান্দরবানের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্যরকম আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ মেলায় আমাদের প্রাণপ্রিয় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। এতে করে এবারের এ খাজনা আদায়ী উৎসব অন্যান্য বারের চেয়ে ব্যতিক্রম হয়েছে।’

এদিকে রাজপুত্র বনি বলেন, ‘এবার ১৪০তম রাজপূণ্যাহ হলেও এটি আমার পিতার চতুর্থ রাজপূণ্যাহের আয়োজন। এটি শুধু আমার বাবা নয়, অতীতে যারা রাজা ছিলেন তারাও করেছেন। ভবিষ্যতে যারা রাজা হবেন তারাও করবেন। এটি আমাদের রাজবংশের ঐতিহ্য।’

এদিকে হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজপূণ্যাহই শুধু নয়, সরকারি ছুটি এবং ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়া সব কিছুরই প্রভাব পড়েছে এ মৌসুমে। ১০-১২দিন আগে থেকেই ২১ তারিখের বুকিং হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের এখানে কোনও সিট খালি নেই। এ মাসের শেষ পর্যন্ত মোটামুটি বুকিং রয়েছে। তবে সরকারি অফিস খোলার দিনে কিছু কিছু হোটেলে সীমিত সংখ্যক সিট খালি রয়েছে।’

বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘মেলা ও শীতের ছুটি উপলক্ষে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটক আসছেন। পর্যটকের যেন কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেলাতেও যেন কোনরকম অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সে জন্য সেখানেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক মোতায়েন করা হবে।’

প্রাথমিক সমাপনীর ফল ৩০ ডিসেম্বর

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এই ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে অংশ নেওয়া ৩১ লাখ ক্ষুদে শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

ওইদিন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায়।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের পরিসংখ্যান ‍তুলে দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন মন্ত্রী। তার সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৩০ ডিসেম্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল ঘোষণার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। ফলে দুটো পরীক্ষার ফলাফলই এবার হবে এক দিনে।

কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সময় ঠিক করে দিলে সে অনুযায়ী ফল প্রকাশ করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ২৭ বা ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চমের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের ইচ্ছার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক চিঠিতে বৃহস্পতিবার গণশিক্ষা সচিবকে জানানো হয়, পঞ্চমের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় উপস্থিত থাকতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।

বাংলাদেশের সাত হাজার ২৬৭টি কেন্দ্রে গত ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।




লোহাগাড়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মো. মোজাম্মেল (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মোজাম্মেল বড় হাতিয়া ইউনিয়নের চাকফিরানি গ্রামের মৃত মফজলুর রহমানের ছেলে।

পুলিশের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সরওয়ার হোসেন বলেন, বড় হাতিয়ায় পাহাড়ে ফসলের ক্ষেত এবং গাছের বাগান আছে মোজাম্মেলের। ফসলের ক্ষেতে কর্মরতদের জন্য সকালে নাস্তা নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে দুই পাহাড়ের মাঝে একটি নির্জন স্থানে তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

জায়গাটি একেবারে জনমানবশূন্য হওয়ায় কেউ ঘটনাটি দেখেনি। অন্য ক্ষেতে লোকজন যাবার সময় রক্তাক্ত লাশ দেখে থানায় খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিহত মোজাম্মেল হকের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস জানান, তার স্বামীকে নিয়ে রাঙামাটি থেকে গতকাল বাড়িতে ফিরেন। সকালে বাগানে কিছু শ্রমিকের জন্য তার স্বামী নাস্তা নিয়ে দিয়ে আসার পথে সন্ত্রাসীরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি কামনা করেছেন। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন সু চি?

জায়েদ রা’দ আল হোসেন এ বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ যে, রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুরতা সংঘটনের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তাই, তার মতামতের মূল্য আছে। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় মিয়ানমারের সর্বোচ্চ বেসামরিক নেতা অং সান সু চি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল অং মিন হøাইংকে গণহত্যার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে রাজি নন তিনি।
এ মাসের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে জায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হারে যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার প্রকৃতিটাই এমন ছিল যে, গণহত্যা সংঘটিত হয় নি, এ কথা বলা যায় না।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সামরিক অভিযানের মাত্রা এত ব্যাপক ছিল, স্পষ্টতই সেসবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উচ্চপর্যায় থেকে।’
কিন্তু গণহত্যা এমন একটি শব্দ, যা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক আছে। শুনতে খুব ভয়ঙ্কর শোনালেও, খুব কম মানুষই আজ পর্যন্ত এই অপরাধের দায়ে সাজা পেয়েছে।
মূলত, হিটলারের ইহুদি নিধনযজ্ঞ বা হলোকাস্টের পর এই অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নব-প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিতে এমন হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার নেপথ্যে একটি বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্য থাকে।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা, সেটি প্রমাণের দায়িত্ব জায়েদ রা’দ আল হোসেনের নয়। শুধু একটি আদালতই তা করতে পারে। কিন্তু তিনি মিয়ানমারের রাখাইন অঙ্গরাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের জন্য দায়ীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরুর ডাক দিয়েছেন।
অবশ্য তিনি এটিও মেনে নিয়েছেন, গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করাটা বেশ দুরূহ হবে। তার ভাষ্য, ‘যদি আপনি গণহত্যা সংঘটনের পরিকল্পনা করেন, তাহলে কোনো নথিপত্র আপনি রাখবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কোনো লিখিত নির্দেশনা আপনি দেবেন না।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ যা দেখছি, তার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে যদি কোনো আদালতে সিদ্ধান্তে আসে, তাহলে আমি অবাক হব না।’
আগস্টের শেষের দিকে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের পর ডিসেম্বর অবধি রোহিঙ্গাদের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। শ’ শ’ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংসতা সংঘটনের প্রমাণ অবশ্য আছে। হত্যাযজ্ঞ, খুন ও গণধর্ষণের মতো নৃশংসতার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।
কিন্তু যে জিনিসটি জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয় তা হলো, মিয়ানমারের নেতা সু চি’কে আগস্টেরও ছয় মাস আগে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ২০১৬ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া পূর্ববর্তী সহিংসতায় নৃশংসতার বিবরণ নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। ওই সময় জায়েদ রা’দ আল হোসেন নিজেই অং সান সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
ওই কথোপকথনের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তার কাছে ওই সামরিক অভিযান বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, যেভাবে সম্ভব এই অভিযান বন্ধ করুন। কিন্তু সেটা আদতে ঘটেনি।’
এটি সত্য, সামরিক বাহিনীর ওপর সু চির নিয়ন্ত্রণ সীমিত। কিন্তু জায়েদ রা’দ আল হোসেন মনে করেন, তার উচিত ছিল সামরিক অভিযান বন্ধে আরও ভূমিকা রাখা।
সু চির ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করারও সমালোচনা করেন আল হোসেন। তার মতে, রোহিঙ্গাদের নামহীন করে ফেলাটা তাদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য না করার শামিল। এটি এমন এক পর্যায়, যেখানে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে এদের ওপর যেকোনো কিছু করা সম্ভব। একজন শীর্ষস্থানীয় জাতিসংঘ কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরণের শব্দচয়নকে বেশ সাহসীই বলতে হবে।
জায়েদ রা’দ আল হোসেন আরও মনে করেন, ২০১৬ সালের সহিংসতার সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আরও সাহস পেয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের দাবি, সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল মূলত আগস্টের একটি সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতে। ওই হামলায় ১২ পুলিশ সদস্য নিহত হন। কিন্তু বিবিসির তদন্তে এমন সব প্রমাণ পাওয়া গেছে, যাতে বোঝা যায়, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রস্তুতি অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল।
মিয়ানমার বহু আগ থেকেই স্থানীয় বৌদ্ধদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিচ্ছিল। গত বছরের সহিংসতার পরপরই সরকার স্থানীয় বৌদ্ধদের প্রস্তাব দেয় যে, ‘রাখাইনের যে নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে চান, তারা স্থানীয় সশস্ত্র পুলিশে যোগ দিতে পারেন’।
ফোর্টিফাই রাইটস নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংসতা সংঘটনের সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারাও একই কথা বলেছে। স্থানীয় বৌদ্ধদের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ রফিক নামে এক রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী বলেন, এরা যেন একেবারেই সেনাবাহিনীর মতন। তাদের কাছেও ঠিক একই অস্ত্র ছিল। এদের অনেকে ছিল স্থানীয় ছেলে, যাদেরকে আমরা চিনতাম। সেনাবাহিনী যখন আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছিল, নির্যাতন চালাচ্ছিল, এরাও সেখানে ছিল।
গ্রীষ্ম নাগাদ বন্যার কারণে উত্তর রাখাইনে খাদ্য সঙ্কট ছিল চরমে। তখনই সরকার কড়াকড়ি আরোপ করে। মধ্য আগস্ট থেকেই কর্তৃপক্ষ সব ধরণের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের পথ বন্ধ করে দেয়। আর সেনাবাহিনী আরও সেনা নিয়ে যায় সেখানে। রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর হামলারও দুই সপ্তাহ আগে, ১০ আগস্ট এক ব্যাটলিয়ন সেনা হাজির করা হয় রাখাইনে। তখন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তিনি প্রকাশ্যে সতর্কতা ব্যক্ত করে বিবৃতি দেন। রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ওই হামলার পরপর সামরিক বাহিনীর প্রত্যুত্তর ছিল ভয়াবহ।
জায়েদ রা’দ আল হোসেন উদ্বিগ্ন যে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন জিহাদি গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করতে পারে। সেখান থেকে তারা মিয়ানমারে জঙ্গি হামলা চালাতে পারে। তারা এমনকি বৌদ্ধ মন্দিরও টার্গেট করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এখানে ঝুঁকিটা অনেক ব্যাপক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর উদ্বেগের বিপরীতে মিয়ানমার যেভাবে হালকা চালে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটি বেশ উদ্বেগজনক।’
(বিবিসি অবলম্বনে)

দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে এক করে দেওয়ার পরামর্শ



অনিয়ম ও খেলাপি ঋণে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে একীভূতের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি বলছেন, “যে সব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ সেগুলোর তিন-চারটি একীভূত করে একটি ব্যাংক করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংক একীভূত করার সময় এসেছে। আর এখনই এটা করতে হবে।”

১৭ বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে রিকুইজিশন অ্যান্ড মার্জার আইন করার প্রস্তাব করেছিলেন ফরাসউদ্দিন।

ব্যাংক খাতে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে  এখন দ্রুত এই আইন করে একীভূতের কাজ শুরু করার কথা বলছেন তিনি।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরামর্শ দেন ফরাসউদ্দিন, যিনি ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খল অবস্থা সরকারের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বেশ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলোকে আর এভাবে চলতে দেওয়া ঠিক না। এখন ব্যাংক একীভূত (মার্জার) করার সময় এসেছে। সারা পৃথিবীতেই এটা হয়। আমাদেরও করতে হবে।”


তার মতে, যে সব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ তার একটা তালিকা করতে হবে। তার মধ্য থেকে তিন-চারটি একীভূত করে একটি ব্যাংক করতে হবে।

একীভূতকরণের জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি সরকারি ব্যাংকের একটি তালিকাও করেছে সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এগুলো হলো- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড।

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর লোকসানের পরিমাণ ক্রমেই বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার সুপারিশ করার কথা ভাবছে সরকার।

দেশে সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে আর্থিক অবস্থার অবনতির তালিকায় রয়েছে ১৩ ব্যাংক।

বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ধুকছে; বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকও খারাপের দিকে।

সম্প্রতি ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঢেলে সাজানো হয়েছে। সরানো হয়েছে দুই ব্যাংকের এমডিকেই।

খেলাপি ঋণ বাড়ছেই

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিয়মনীতি না মেনে ঋণ দেওয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আর্থিক খাতে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ  আওয়ামী লীগ সরকারের এই নয় বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে সাড়ে তিন গুণ হয়েছে।

এর বাইরে আরও ৪৫ হাজার কোটি টাকার খারাপ ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হয়েছে। লুকিয়ে রাখা এই বিশাল অঙ্ক খেলাপি ঋণের হিসাবের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ব্যাংক খাত ঠিক রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া, পর্যবেক্ষক বসানো, পর্ষদ সভার যাবতীয় নথি বিশ্লেষণ, বড় ঋণ অনুমোদন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা নির্ধারণ ও ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থা চালু।

এরপরও এই খাতকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে যুক্ত হয়েছে ‘পরিবর্তন আতঙ্ক’। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে কয়েকটি ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। জুলাই-সেপ্টেম্বর-এ তিন মাসেই সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের দেশীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা গত জুনে ছিল ৩১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। এ সময়ে ন্যাশনাল, ফারমার্সসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। যে উদ্দেশ্যে এসব ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ঋণের অর্থ পাচারও হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। ফলে খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা প্রকাশ পাচ্ছে।

সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে সংসদীয় কমিটিরও পর্যবেক্ষণ এসেছে।

বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের মালিকানা বদল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক খাতের আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগের উপর। ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা বিনিয়োগ হচ্ছে না।

লজ্জাবোধই জাতির মেরুদণ্ড

পুরনো প্রজন্মের লোকেরাই ভালো বলতে পারবেন- স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাঙালির স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য একটি পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনেকটাই পাল্টে গেছে। পরিবর্তনটা হয়েছে মুখে দাড়ি বেড়ে ওঠার মতো অনেকটা; প্রতিদিনই একটু একটু করে বেড়েছে বলে এখন মনেই হচ্ছে না যে, এই মুখ ছয় মাস আগেও অন্যরকম ছিল। কেউ যদি সরীসৃপের শীতনিদ্রার মতো ৪৬ বছরের দীর্ঘ একটি ঘুম থেকে জেগে দেখতেন দেশটাকে, তাহলে তিনি কপালে চোখ তুলে অবকাঠামোর অবিশ্বাস্য নতুন দৃশ্যাবলী এবং রাজধানীর চাকচিক্যই দেখতেন না শুধু, কয়েক দিনের মধ্যে আবিষ্কার করতেন স্বভাবে আলাদা এক বাঙালিকে। তেমন একটি ঘুম দেননি বলে আজ এমনকি নিজের পরিবর্তনটাও ধরতে পারছেন না। পায়ের জুতো-স্যান্ডেলের মতো বাঙালির হাতে হাতে স্মার্টফোন নামের অপরিহার্য যে সঙ্গী, যা কিনা তার স্ত্রী কিংবা প্রেমিকার চেয়েও আপন- টেকনোলজির কল্যাণে দুনিয়াজুড়ে ঘটে যাওয়া মানুষের স্বভাবের সেই পরিবর্তনের দোষ ধরলে এই লেখক পাঠকের মার খাবে। গা বাঁচানোর জন্য তাই এ লেখায় বাঙালির স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের সেসব পরিবর্তনের কথাই বলা হবে, সেগুলোকে কলমের সর্বাত্মক শক্তি দিয়েও গুণ হিসেবে প্রতিপন্ন করা যাবে না; সর্বকালে, সর্বসমাজেই তা দোষের। বলে নেয়া ভালো, এসব নেতিবাচক পরিবর্তন যার মধ্যে ঘটেনি, সম্ভবত তিনি পুরনো প্রজন্মের বাঙালি আর যদি স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তার জেনেটিক্সটাই এমন যে, নেতিবাচক পরিবর্তন নিতে পারে না। বাঙালি চরিত্রের একটি বড় যে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে তা হল, তার রাগ বেড়েছে। এই রাগ যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্রোধ হতো, যেমনটা দেখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেটা খুশির খবরই হতো তাহলে। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করেছিলেন- ‘আয়ুব খানের ওপর আমার কীসের রাগ? কীসের ঝগড়া? তার ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি? আর আমার মেয়ে সেখানে কষ্টে আছে, সেজন্য? ঝগড়া তো করি আপনাদের জন্য।’ কিন্তু বাঙালির এখনকার রাগ হল, রাগ করতে হয় তাই রাগ দেখানো! যেমন, একজন রিকশাওয়ালা যদি কোনো গাড়ির মালিকের অন্যায় আচরণে তার প্রতি রাগ দেখায়, সেটাকে ন্যায্য শ্রেণীদ্বন্দ্ব মেনে নিয়ে তাকে সমর্থন করাই সঙ্গত, অথবা না হোক তা শ্রেণীদ্বন্দ্বের মতো উচ্চমার্গের তত্ত্ব, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তো বটেই। কিন্তু আমরা দেখতে পাই এক রিকশা আরেকটিকে সামান্য ধাক্কা দিলেই দুই রিকশাওয়ালা তেড়ে আসে একে অপরের দিকে। মুখে তাদের খিস্তিখেউড়। তারা ভুলে যায় স্বজাতির প্রতি সহমর্মিতা। ধারণ করে অগ্নিমূর্তি। এই লেখক একদিন এমন এক পরিস্থিতিতে একজনকে বলেছিল- আচ্ছা ওনার সঙ্গে (অপর রিকশাওয়ালা) তো তোমার আর কখনও দেখা না-ও হতে পারে। কিছুক্ষণ পরই তুমি ভুলে যাবে এখনকার ঘটনা। তো এত কষ্ট করে ঝগড়া করছো কেন? ঢাকার সোজা রাস্তাকে আঁকাবাঁকা পথ ভেবে বেপরোয়া গতিতে সার্কাস দলের কর্মীর মতো মোটরসাইকেল চালাচ্ছে যে ছেলেটি, তার পরিচয় জানতে চান? সে এক রাগী, উদ্ধত যুবক; তার সঙ্গে কোনো ধরনের ইয়ার্কি করবেন না, একদম খুন করে ফেলবে! কাণ্ডটা দেখুন, ডাক্তারের ভুলে রোগী মারা গেছে। করণীয় কী? সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। অথবা মৃত্যুর মতো বড় ঘটনা যেহেতু, ওই বিশেষ ডাক্তারকে মারধর করলেও সেটাকে মুহূর্তের উত্তেজনা হিসেবে মেনে নেয়া যায়। কিন্তু হাসপাতাল বা ক্লিনিকটির অবকাঠামোগুলো তো কোনো দোষ করেনি কিংবা অন্য ডাক্তার ও নার্সরা। হ্যাঁ, কর্তৃপক্ষ কেন এমন এক অযোগ্য ডাক্তারকে নিয়োগ দিয়েছে সে প্রশ্নও তোলা যায় বৈকি। কিন্তু এসব ব্যাপারে আইনি বিহিতের কথা না ভেবে শুরু হবে নির্বিচার ভাংচুর, পারলে ক্লিনিকটির শয্যাশায়ী রোগীদেরও মেরে তাড়িয়ে দেয়! আবার দেখুন, এই ক্রিয়ার বিপরীতে ডাক্তাররা কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তাদের এমন রাগ যে সেটা হামলাকারীদের প্রতি নিক্ষেপের জন্য নয়, সেই রাগ তারা দেখাবেন নির্দোষ, মুমূর্ষু রোগীদের ওপর। বন্ধ করে দেবেন শপথের সেবাধর্ম। রোগীর মতো এত কার্যকর, এত ফলদায়ক জিম্মি আর হয় নাকি? রাগ যদি দেখতে চান, তো শাহবাগের মোড়ে কিছুদিন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকুন। খোদা না করুন, দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র নিহত বা আহত হলেই দেখবেন স্ফুলিঙ্গ কীভাবে দাবানল হয়ে ওঠে। কেউ একজন শুধু মুখে উচ্চারণ করবে- চল্- ব্যস্ রণক্ষেত্র হয়ে গেল শাহবাগ এলাকা! আর পরিবহন শ্রমিকের রাগ? তিনি যদি হতেন নারী, তাহলে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতাম- তুলনাহীনা রে! যাত্রীকে একচোট নিতে না পারলে সংবিধান মোতাবেক তিনিও যে সমান নাগরিক তা প্রমাণ করা যায় না, আর তাই রাগের প্রতি তার এত আগ্রহ। বাংলাদেশের সর্বত্রই এখন রাগের ছড়াছড়ি। কাজের চাপ বাড়লে নাকি রাগও বাড়ে। হবে হয়তো। কাজের চাপ বেড়েছে বলেই না জিডিপি বেড়ে এখন ৭.৩ শতাংশ। রাগও বেড়েছে সমান তালে। বড় কর্তা রাগ দেখাচ্ছেন মাঝারি কর্তাকে, মাঝারি ছোটকর্তাকে। পিওন যে পিওন, সে-ও রেগে উঠছে ঝাড়–দারের ওপর। আর ক্লায়েন্ট হলে তো কথাই নেই। কী চান, কাকে চান, কেন চান, এখন হবে না, যান তো যান- এই সবই এখন কমন সংলাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকান। মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে রাগের ওপর লম্বা লেকচার দিলেন- রাগ কেন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজিও শোনালেন খানিকটা, বললেন- Anger is an emotion that involves a strong uncomfortable and hostile response to a perceived provocation, hurt or threat. এরপর থিওরিটিক্যালের ক্লাস শেষে তিনি ঢোকেন প্র্যাকটিক্যালে। বিরুদ্ধবাদী সতীর্থের ওপর চটে ওঠা প্রথমে, অতঃপর ধীরে ধীরে রাগের পারদ উঠতে থাকে উপরে, সবশেষে হাতাহাতি। তবে সব রাগের সেরা বুঝি রাজনৈতিক রাগ। এই রাগে ক্রোধান্বিতের শরীরই শুধু কাঁপতে থাকে না, প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সমগ্র জনপদ। এই রাগ মানুষকে বন্যপ্রাণীর আকার দেয়, অথবা সে হয়ে ওঠে ড্রাকুলা। রক্ত চুষে বিজয়ের পতাকা হাতে সে বিকৃত মুখে হাসে তৃপ্তির হাসি। অবশ্য রাজনৈতিক রাগ যে মুখণ্ডলকে সবসময় বিকৃত করে রাখে তা নয়, রাজনীতির ঠাণ্ডা রাগ বলেও একটা কথা আছে। ঢাকাইয়া এক ফিল্মে ভিলেইন যখন খুব নরম স্বরে বলে- আমি কিন্তু মাইন্ড করলাম- তখন ধরে নিতে হয় এবার একটা লাশ পড়তে যাচ্ছে। সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক অতি সফিসটিকেটেড সন্ত্রাসী বাস করতেন। তিনি ছিলেন সন্ত্রাস জগতের সম্রাট (তার নামে একজন মোগল সম্রাট ছিলেন), শরীর তার সাপের মতো ঠাণ্ডা, মুখমণ্ডলে সদা মধুর হাসি, রাগ-বিরাগের চিহ্নমাত্র নেই সেখানে। তো একদিন তিনি মধুর ক্যান্টিনে ক্যাডার (শব্দটির এই নেতিবাচক ব্যবহার প্রথমে কে শুরু করেছিলেন জানি না) পরিবেষ্টিত হয়ে চা খাচ্ছেন। এমন সময় তার লেফটেনেন্ট এসে বলল- বস্ নসু তো বাইড়া গ্যাছে! সম্রাট, যেন তার বাসায় আগত মেহমানকে খেতে বলছেন এমন আতিথেয়তার ভঙ্গিতে বললেন- খায়া দে! পরদিন দেখা গেল নসুর মুণ্ডু পড়ে আছে কাঁটাবনে, ধড়ের কোনো খোঁজ নেই। সম্রাট এখন প্রয়াত, এবার টেক্সাসের কাউবয় মার্কা এক রোমান্টিক পিস্তলবাজ বাঙালি নায়কের কথা পড়–ন। ক্লিনটন দশম গ্রেডের ছাত্রাবস্থায় একদিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির সান্নিধ্যে এলে কেনেডি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বড় হলে সে কী হবে? ক্লিনটন বলেছিলেন- আমি তোমার মতো প্রেসিডেন্ট হবো। হয়েওছিলেন তিনি। আমাদের এই মেধাবীও এক রাষ্ট্রপতির কাছাকাছি যেতে পেরেছিল। প্রয়াত সেই রাষ্ট্রপতিকে সে কী বলেছিল জানা যায় না। হয়তো মনে মনে বলেছিল, ইওর এক্সেলেন্সি, আমি একজন নামকরা সন্ত্রাসী হতে চাই! আশির দশকের এই মান্যবর এক মডেল কন্যার হত্যা মামলার আসামি হয়ে এখন বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তিনি বলতেন- তবলা যদি বাদ্যযন্ত্র হতে পারে, আমার পিস্তল কেন হবে না? নূপুরের রিনিঝিনি যদি শিল্প হয়, আমার স্টেনগানের সিঙ্গল ফায়ার-ব্রাশ ফায়ার কেন বাদ যাবে? বাঙালির স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের যাবতীয় পরিবর্তনের কথা বলতে চেয়েছিলাম। কাগজে কুলোবে না, তাই আর মাত্র একটি বলেই শেষ করতে হবে। হ্যাঁ, বাঙালির রাগ বেড়েছে যে হারে, লজ্জাবোধ কমেছে সমান তালে। পাকিস্তান আমলের শেষদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’-এর লেখক ড. আবদুল হাই ট্রেনে কাটা পড়ে মরেছিলেন। তার বিরুদ্ধে নাকি ডিপার্টমেন্টের একটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং সে কারণে লজ্জায়-অপমানে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তাই যদি সত্যি হয়, তাহলে কতই বা হবে সেই টাকার পরিমাণ! অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা কেলেঙ্কারির স্টিকার কপালে সাঁটানো আরেক আবদুল হাই (বাচ্চু) কী সুন্দর ঘুরে বেড়াচ্ছেন! দুই হাই-এ কত পার্থক্য! শুধু বাচ্চু নয়, চোখের পর্দা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে বাঙালির, অচিরেই হয়তো একেবারেই উঠে যাবে তা। উপমাটা চোখের না হয়ে কানের হলেই বোধহয় ভাবটা স্পষ্ট হবে। স্বাধীনতাপূর্ব এই বঙ্গে কারও বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগ উঠলে সে কাটা কানটি এক হাত দিয়ে ঢেকে রাস্তার কিনার দিয়ে হাঁটতো, যেন কেউ কানকাটা না বলতে পারে। স্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান পর্যায়ে পাহাড়সম অভিযোগে দুই কানই যেহেতু কাটা পড়ছে, তাই আর কেউ তা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করে না।
হাঁটে রাস্তার মধ্য দিয়া। অমন যে ‘লজ্জা নারীর ভূষণ’ শুনে এসেছি এতকাল, সেই স্ত্রীও ষাটের দশকের মতো স্বামীকে বলে না- বেতনের অনেক দেরি, তো টাকা পেলে কোথায়? বরং রসিয়ে রসিয়ে শোনে ঘুষের কাহিনী। শুনে মনে মনে বলে- সাহেবের কী দাপট! আজকাল পাত্রের বেতন নিয়ে মাথা ঘামায় না কেউ, জানতে চায় হবু জামাই বসে কোন্ চেয়ারে। বেতন আবার কী! শুধু ঘুষ নয়, হত্যা-ধর্ষণ-জালিয়াতি-প্রতারণা-নকলবাজি, এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু ধর্ষণ- কোনো অভিযোগেই লজ্জিত নয় অভিযুক্ত অথবা তার নিকটাত্মীয়রা। বরং পিতাই সন্তানকে ধমকাচ্ছেন- টাকা দিলাম, প্রশ্ন পেলি না ক্যান্? এমন এক সমাজ তৈরি করে ফেলেছি, যেখানে পত্রিকায় সন্ত্রাসীর ছবি ছাপা হলে সে লজ্জিত না হয়ে সেই ছবি দেখিয়ে চাঁদার হার বাড়ায়! এক শীর্ষস্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তির সৌদি আরবে টাকা পাচারের খবর কেন ছাপা হল না, তাতে মাইন্ড করেছেন অনেকে। বলি কী, তাতে কি কিছু লাভ হতো? নাকি তার ভোট কমত? ইয়েস, দিস ইজ বাংলাদেশ! কে জানত স্বাধীনতার এত চড়া মূল্য! জেলায় জেলায় ড্রামে ড্রামে রক্ত আর বাঙ্কারে বাঙ্কারে নারীর সম্ভ্রম দিয়েও পরিশোধ হল না মূল্য! এ কোন্ দোকানি, লজ্জাবোধের বিনিময়ে স্বাধীনতা বেচে! চারদিকে যে অনাচার-অবিচার দেখে চলেছি আমরা, লজ্জাবোধের অভাব তার অন্যতম বড় কারণ। আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ কখনও দৃষ্টিকটু কাণ্ড ঘটাতে পারে না, বলতে পারে না অশ্রাব্য কোনো কথা। অতঃপর শেষ প্যারাটা এমন : আমরা যারা ইতিমধ্যেই লজ্জাবোধ হারিয়ে ফেলেছি, সেইসব অভিশপ্তের শাপমোচনের চেয়ে জরুরি নতুন প্রজন্মকে একটি নতুন শিক্ষা দেয়া। স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের আর বলার দরকার নেই যে, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তারা তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাই নিচ্ছে, এটাকে জাতির মেরুদণ্ড আখ্যা দিয়ে ইন্সপায়ার করার দরকার নেই। বরং তাদের শেখাতে হবে লজ্জাবোধই জাতির মেরুদণ্ড! লজ্জাবিষয়ক কোনো মন্ত্রণালয় গঠন করা যায় কিনা, সেটাও ভেবে দেখা যেতে পারে! অথবা বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নতুন নামকরণ হতে পারে সংস্কৃতি ও লজ্জাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ঠাট্টা না, সিরিয়াসলি। পুনশ্চ এক. ১৩ ডিসেম্বর বুধবার অনির্ধারিতভাবে প্রকাশিত ‘সোফিয়া কি একদিন সুফিয়ার চেয়ে বেশি ভালোবাসবে?’ লেখাটিতে হৃদয় ও আত্মা নিয়ে কিছু কথা ছিল। দু’-একজন পাঠক এ দু’য়ের পার্থক্যটা ভালোভাবে বুঝতে চেয়েছেন। আসলে মানুষের চিন্তা-চেতনা, অনুভূতি সবই তো মস্তিষ্কের খেলা। তারপরও আমরা বলি, তুমি পাষাণ হৃদয় অথবা এমন সহৃদয় আর হয় না! আর আত্মা? এটা আসলে এক নিরাকার শক্তি, যা জীবনের জটিল সন্ধিক্ষণগুলোয় সক্রিয় হয়ে ওঠে। সোনিয়া গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ প্রত্যাখ্যান করে মনমোহন সিংকে জায়গা করে দিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন- আমি অন্তরাত্মার ডাক শুনতে পেয়েছি। তিনি কিন্তু বলেননি- হৃদয়ের ডাক শুনেছি। আসলে ইউরোপিয়ান আত্মা বলেই পেরেছেন তিনি এমন একটি অবস্থান নিতে, ইন্ডিয়ান আত্মা হলে তা সম্ভব ছিল না। আত্মা মানুষের এমনই এক অনুষঙ্গ, যার বলে নিছকই বেঁচে থাকার তাগিদে পতিতা বনেছে যে নারী, সে সন্তুষ্ট থাকে এই ভেবে যে, দেহ নষ্ট হলেও তার চরিত্র ঠিক রয়েছে; আবার যখন সে অনুশোচনা করে, তখন তা এই আত্মার শক্তিতেই। এখানে হৃদয়ের কোনো ফাংশন নেই। দুই. এই লেখায় অধ্যাপক আবদুল হাইয়ের প্রসঙ্গ আসায় একটা মজার ঘটনা মনে এলো। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির রবীন্দ্রচর্চা নিরুৎসাহিতই করেনি শুধু, নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল এর ওপর। তো পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান একবার হাই স্যারসহ শিল্প-সাহিত্য জগতের অনেককেই গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) ডেকেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি রাগতস্বরে অতিথিদের বলেছিলেন- আপনারা রবীন্দ্রসঙ্গীত লিখতে পারেন না? হাই স্যারের উত্তর ছিল- পারব না কেন, পারি; কিন্তু সেটা তো হবে হাইসঙ্গীত!
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com

বিএনপির পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া হচ্ছে: রিজভী

রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, বিএনপির পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম- রংপুর সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা রহস্যজনক। নির্বাচন কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া গতরাতে শহীদুল নামে বিএনপির এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার বরাতে রিজভী অভিযোগ করেন,
বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকিধমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও গত দুদিন ধরে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের তাণ্ডবে সেখানে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপি ও বিএনপিসমর্থিত ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তারা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়। এ সময় রিজভী জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। বিএনপি নেতা বলেন, এসবের পরও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা নির্বিকার থেকেছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আওয়ামী মহাজোটকে খুশি করার জন্যই বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রিজভী আরও বলেন, আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি তুললেও ইসি সেনা মোতায়েন করেনি। বরং সেখানে আনসার সদস্যের নামে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের নেতাকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।

হঠাৎ উধাও ডুবোজাহাজ, খোঁজ মিলল ১০৩ বছর পর

১০৩ বছর পর খোঁজ পাওয়া গেলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ। 'এইচএমএএস এই-১' (HMAS AE-1) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া যৌথবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। ১৯১৪ সালে পাপুয়া নিউগিনি'র রাবাউল থেকে ৩৫ জন অস্ট্রেলিয়ান ও ব্রিটিশ ক্রু-সহ উধাও হয়ে যায় এটি। সাবমেরিনটি খোঁজার ১৩ নম্বর সার্চ টিম পাপুয়া নিউগিনির ডিউক অব ইয়র্ক
দ্বীপের কাছে পায় এটিকে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলেছে, এর ফলে দেশের নৌযান সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরোনো রহস্যের সমাধান হয়েছে বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যারাইস পেইন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক নৌযানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়েল অস্ট্রেলিয়ান নেভি ও যৌথ বাহিনীর প্রথম সাবমেরিন হারানোর ঘটনা ছিল এটি। সমুদ্রের নিচে অনুসন্ধান চালাতে সার্চ টিম একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে যেটি সমুদ্রের তলদেশের ৪০মিটার (১৩১ ফুট) উপর ভেসে অনুসন্ধান চালায়। ৩০০ মিটারের বেশি গভীর পানিতে পাওয়া যায় ডুবোজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ডুবোজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা আয়োজন করে সার্চ টিমের সদস্যরা। সাবমেরিনের ক্রু'দের বংশধরদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার স্থানে স্মৃতিস্মারক স্থাপনের বিষয়ে পাপুয়া নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সাথেও আলোচনা করবে তারা।

কলম্বিয়ায় ২০১৭ সালে শতাধিক শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার কর্মী নিহত

কলম্বিয়ায় এ বছর শতাধিক শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার কর্মী নিহত হয়েছে। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্কের সঙ্গে সরকারের যুগান্তকারী শান্তি চুক্তির পরও এমন ঘটনা ঘটেছে। বুধবার জাতিসংঘ একথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ফার্কের তৎপরতা ছিল সেখানেই হত্যাকা-গুলো ঘটেছে। এ সব এলাকায় সরকারি কর্তৃপক্ষ অনুপস্থিত ছিল। খবর এএফপি’র। ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বছর দেশটিতে ১০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

বিষখালী নদীতে অবৈধ জাল জব্দ

বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উপজেলা মৎস্য ও পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে ১২টি ছোট ফাসের জাল ও ২টি বেহুন্দি জাল জব্দ করে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিষখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এ জালগুলো জব্দ করা হয়। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল জানান, বিষখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান কালে অবৈধ ১২টি ছোট ফাসের জাল ২টি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে জব্দ জালগুলো উপজেলা পরিষদের সামনে ফেলা হয়েছে।

‘বাধা দিলে গণধর্ষণ করাতেন স্বামীজি’

ভারতের ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডের পর ফের আলোচনায় আরেক ধর্মগুরু। স্বঘোষিত এ ধর্মগুরুর বিরুদ্ধেও ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। উত্তর প্রদেশের বস্তি জেলার সন্ত কুটির আশ্রমের একাধিক সাধুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন ওই আশ্রমেরই ৪ সাধ্বী। আশ্রম থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন ওই সাধ্বীরা। সেখানে তারা কীভাবে শিষ্যাদের যৌন নির্যাতন করা হয়, তার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে, স্বামী সচ্চিদানন্দ সহ-চার সাধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে ২ শিষ্যাও রয়েছে। অভিযোগ, অন্য শিষ্যাদের যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত সাধুদের সাহায্য করত তারা। নির্যাতিতারা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিভিন্নভাবে লোভ দেখিয়ে কিশোরী ও যুবতীদের আশ্রমে নিয়ে আসত ওই ২ সাধ্বী। আশ্রমে প্রবেশের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত। প্রায় প্রতি রাতেই ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় অন্য শিষ্যাদের। বাধা দিলে গণধর্ষণও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ‘সাধ্বীদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।’ দিল্লি, মুম্বাই ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগড়ে স্বামী সচ্চিদানন্দের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। ভক্তসংখ্যাও অনেক। অভিযোগ দায়ের করা হলেও, এখনও গ্রেফতার হননি স্বঘোষিত এই স্বামীজি। প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই ২ শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে হাজতবাস হয়েছে স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত সিং।

শিক্ষিকা-ছাত্রের অন্যরকম সম্পর্ক

মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন শিক্ষিকা আন্দ্রেয়া নিকোলে  বাবের (২৯)। একদিন তার স্বামী বাসায় ফিরে তাদেরকে বিছানায় দেখতে পান আপত্তিকর অবস্থায়। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর চলে যায় ওই ছাত্রের পিতামাতার কাছে। তারা পুলিশে খবর দেন। এরপর শুক্রবার ওই শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ নিয়ে তোলপাড় চলছে যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন রাজ্যে। বলা হচ্ছে- ওই বালকের সঙ্গে এক বছরেরও বেশি এই অসম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন বাবের। তিনি অরিগন রাজ্যে একটি খ্রিস্টান স্কুলের শিক্ষিকা। তার বাসা অরিগনের কটেজ গ্রোভে। গত ১২ই ডিসেম্বর ওই বালকটির পিতা পুলিশে অভিযোগ করেন। এর আগে তাদের কাছে অজ্ঞাত ই-মেইল থেকে জানতে চাওয়া হয় ওই বালককে এবং লোগোস খ্রিস্টান একাডেমির ওই শিক্ষিকাকে চেনেন কিনা। ওই ই-মেইলে জানানো হয়, ওই বালকের সঙ্গে ওই শিক্ষিকা যৌন সম্পর্কে জড়িত। এতে যুক্ত করা হয় ওই শিক্ষিকা ও ছাত্রের ছবি। ঘটনা জানাজানি ও শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তারের পর ওই বালক জানায়, সে ও শিক্ষিকা বাবের ২০১৭ সাল থেকেই যৌন সম্পর্কে জড়িত। তখন তার বয়স ১৫ বছর। এ অভিযোগে ডগলাস কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে শিক্ষিকা বাবেরকে। তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ, অসম সম্পর্ক গড়ে তোলাসহ বেশ কতগুলো অভিযোগ আনা হয়েছে।

সবার জন্য উন্মুক্ত মাশরাফির অ্যাম্বুলেন্স

বিপিএলে রংপুর রাইডার্স দলের শিরোপা জিতে নাড়ির টানে নড়াইলে গেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা। বুধবার নড়াইলে পৌঁছান বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের এই অধিনায়ক। সাথে নিয়ে আসেন বিপিএলের শিরোপা জিতে উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি। মাশরাফির নামে করা উন্নয়নমূলক সংগঠন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’ অ্যাম্বেুলেন্সটি তত্ত্বাবধান করবে। এটি সব ধরণের রোগীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে মাশরাফি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। তবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সাথে গতকাল রাতে কথা বলে উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি সবার জন্য উন্মুক্ত করেন।
২০০০ সিসির টয়োটা হাইয়েস ব্রান্ডের এসি অ্যাম্বুলেন্সটি নড়াইলবাসীর চিকিৎসাসেবায় অবদান রাখবে বলে আশা করছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মীর্জা নজরুল ইসলাম জানান, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে মাশরাফির উপহার পাওয়া অ্যাম্বেুলেন্সটি। কম খরচে সেবা দেয়া হবে। তবে, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরো সহজ হবে। এদিকে, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অচিরেই শুরু হতে যাচ্ছে। আর নড়াইল শহরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। অপরদিকে,‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নড়াইলে আসার খবরে গতকাল সকাল থেকেই মাশরাফিকে দেখার জন্য ভিড় করেন তার ভক্তরা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয় তাকে।

চট্টগ্র‍ামে সাড়ে ৭ লাখ শিশু ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাবে

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ড শনিবার (২৩ ডিসেম্বর)। ওই দিন চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলায় ৬-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৭ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সিভিল সার্জন অফিস।
 
এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৮৩ হাজার ৫০৫ এবং ১২-৫৯ মাসের ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭২ শিশু রয়েছে। নগরীতে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
 
বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে ১০টায় আন্দরকিল্লার সিভিল সার্জন অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।
 
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের ১টি করে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সীদের ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

২০০ ইউনিয়নের ৬০০ ওয়ার্ডে একজন করে তদারককারী, ৬১০ জন স্বাস্থ্য সহকারী ৫ হাজার ৪৯ টিকা কেন্দ্রে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন।
 
স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো, লাল-হলুদ-সবুজ রঙের ফলমূল, শাক-সবজি খাওয়ানোর পরামর্শ দেবেন শিশুর অভিভাবকদের।

 
গত ৫ আগস্ট ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ডে ৬-১১ মাস বয়সী ৮২ হাজার ৬৯১ এবং ১২-৫৯ মাসের ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮১৬ শিশুকে টিকা খাওয়ানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে যথাক্রমে ৯৯ দশমিক ২১ ও ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তেহরান

ইরানের রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী মালার্দ শহরে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলেছে, তেহরানের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টা ২৭ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের মাঝামাঝি এলাকায় ভূপৃষ্ঠের সাত কিলোমিটার গভীরে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান বলেছেন, এ ভূমিকম্পে মালার্দ শহরে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তেহরানের পাশাপাশি, কারাজ, কোম, কাজভিন এবং আরাক শহরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে তেহরানের অধিবাসীদের মধ্যে মৃদু আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ কেউ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই তেহরানে ভূকম্পন অনুভূত হলো। কেরমানশাহ প্রদেশে গত ১১ নভেম্বর ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে পাঁচ শ' মানুষ নিহত এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জেরুজালেম ইস্যুতে বিপক্ষে গেলে আর্থিক সাহায্য কমবে: ট্রাম্প

জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যাবে তাদের আর্থিক সাহায্য কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সাধারণ পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। এর আগেই এ ধরনের হুমকি দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা লাখ লাখ, কোটি কোটি ডলার সাহায্য নিচ্ছে, আর আমাদেরই বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে। ঠিক আছে, কারা এ ভোট দেয় আমরা দেখছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিক। আমরাও প্রচুর অর্থ বাঁচাব। এতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাহারের চেষ্টায় আজই একটি জরুরি বৈঠকে বসছে।

আরব ও মুসলিম দেশগুলোর অনুরোধেই এ বিরল অধিবেশন ডেকেছে সাধারণ পরিষদ। ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে পেশ করা খসড়া প্রস্তাবনা নিয়ে পরিষদে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

গেলো সোমবার ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পর বিষয়টি সাধারণ পরিষদে তোলা হচ্ছে।

এর আগে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালিও একই ধরনের হুমকি দেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ভোট দিলে সদস্য দেশগুলোকে দেখে নেয়া হবে। একটি চিঠিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী এ প্রস্তাবে কোন কোন দেশ ভোট দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট তার রিপোর্ট চেয়েছেন।

পরে এক টুইটে হ্যালি বলেন, জাতিসংঘে আমাদেরকে সবসময় বেশিকিছু করতে বলা হয়। বেশি বেশি সাহায্য দিতে বলা হয়। সুতরাং আমরা যখন দেশের মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের দূতাবাস সরানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তখন যাদেরকে আমরা সাহায্য করছি, তারা আমাদেরই বিপক্ষে যাবে সেটি আশা করি না।

প্রস্তাবে ভোট দেয়া প্রত্যেকটি দেশকে যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখবে এবং তাদের নাম টুকে নেবে বলেও হুমকি দেন হ্যালি।

যদিও কূটনীতিকরা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ হুমকি-ধামকির কোনো প্রভাবই ভোটে পড়বে না।

তবে শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।


টালমাটাল অবস্থায় কুর্দিস্তান সরকার : স্পিকারের পদত্যাগ

ইরাকের আধা-স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও হত্যাকাণ্ডের জের ধরে কুর্দি সংসদের স্পিকার ইউসুফ মোহাম্মাদ পদত্যাগ করেছেন। কুর্দিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধীদল গোরান আন্দোলনের একটি সূত্র বুধবার এ খবর জানিয়েছে। এছাড়া, কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার থেকে কয়েকজন মন্ত্রীকে সরিয়ে নিয়েছে দলটি।
কুর্দিস্তানের আরেকটি রাজনৈতিক দল ‘কুর্দিস্তান ইসলামি গ্রুপ’ও সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছে। এ দলের অবশ্য অল্প কয়েকটি আসন রয়েছে কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সংসদে। মঙ্গলবার ইরাকের কুর্দিস্তানে বিক্ষোভকারীদের ওপর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার পর এসব ঘটনা ঘটলো। সেখানে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বেতন পরিশোধ করতে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ হচ্ছে।

নিখোঁজ আতঙ্কে দিন কাটে উইঘুর মুসলিমদের

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার উইঘুর মুসলিমকে সরকারি রাজনৈতিক আশ্রয়কেন্দ্রে আটকে রাখা হচ্ছে। সংখ্যালঘু এ জনগোষ্ঠী সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করে তাদেরকে আটকে রাখার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংখ্যালঘু প্রান্তিক এ সম্প্রদায়ের লোকজন কয়েক বছরে ব্যাপকহারে নিখোঁজ হয়েছেন। চীন সরকার অভিযোগ করছে, সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ছেন উইঘুর মুসলিমরা।
তবে উইঘুররা জানিয়েছে, সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তুর্কি ভাষাভাষী এক কোটি উইঘুরের জিনজিয়াং প্রদেশ এখন কার্যত পুলিশি রাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিণেই সেখানে টহল পুলিশ, সাঁজোয়া যান ও ২৪ ঘণ্টার নজরদারি সামগ্রী ব্যবহার করে তাদের সব কিছুই পর্যবেণ করা হচ্ছে। ২০১৩-১৪ সালে কয়েক দফা সহিংস ঘটনার জেরে উইঘুরদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। স্থানীয় কর্তৃপ বলছে, সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটনের ল্েযই এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সেখানে। রমজান মাসে রোজা রাখা নিষিদ্ধ করেছে দেশটির মতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এ ছাড়া জিনজিয়াংয়ের মসজিদগুলোতে আজান, লম্বা দাড়ি রাখা, ইসলামি স্কার্ফ পরা ও তুর্কি ভাষা ব্যবহারেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও অনুষ্ঠান না শুনলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় উইঘুর মুসলিমদের। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উইঘুরদের তথ্য-উপাত্ত, ত্রিমাত্রিক পোর্টেইট, কণ্ঠ শনাক্ত, ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে সরকার। এ ছাড়া অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জিনজিয়াংয়ে।

উজ্জীবিত করতে গালে চড়!

আজব ঘটনার জন্ম দিয়েই যাচ্ছে চীন। সম্প্রতি আবারো এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়ে শিরোনামে এসেছে দেশটি।

সেখানে একটি বিউটি সেলুনের কর্মীরা একে-অপরের গালে চড় মারছে সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের পূর্বাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে। তারা জানিয়েছে, সেখানকার জিনহুয়াইউয়ান বিউটি সেলুন তাদের বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের একে-অপরের গালে চড় মারতে বাধ্য করেছে। তবে কোম্পানিটি বলছে, কর্মীদের নাকি ‘উজ্জীবিত’ করতেই এমনটা করেছেন তারা। খবর ডেইলি মেইলের।

বিউটি সেলুনের নারী কর্মীরা একে-অপরের গালে চড় মারছেন এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ভাইরাল হয়েছে। রোববার ইন্টারনেটে ওই ভিডিও আপলোড করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন নারী কর্মী মুখোমুখি হাঁটু গেড়ে বসে একে-অপরকে থাপ্পড় মারছে।

চীনের জিয়াংশি প্রদেশে রাজধানী নানচাংয়ের জিনহুয়াইউয়ান বিউটি সেলুন তাদের ১৪তম বর্ষপূর্তি উদযাপন আয়োজন করে। স্থানীয় কাইজিং ম্যাগাজিন বলছে, ওই অনুষ্ঠানেই এই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে।

বিউটি সেলুনটির একজন কর্মীর বরাত দিয়ে ম্যাগাজিনটি বলছে, ‘টিমওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী’ করতেই এমনটা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে চীনের বেশকিছু কোম্পানি শিরোনামে এসেছে। ‘টিমওয়ার্ক বাড়ানো এবং উজ্জীবিত’ করার নাম দিয়ে এইসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে ওই কোম্পানিগুলো।

এর আগে ২০১৬ সালে চীনে বাইসান কোম্পানির বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ত সড়কে হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয়। বিক্রির টার্গেট পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই কর্মীদের এভাবে ‘শৃঙ্খলা’ শেখানোর চেষ্টা করে কোম্পানিটি। একই বছর জিয়াংশু প্রদেশের নানজিংয়ে একটি কোম্পানি তার কর্মীদের ময়লা বাক্সকে চুমো দিতে ও পথচারী নারীদের আলিঙ্গন করতে বাধ্য করে।


নদী ড্রেজিংয়ে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

দেশের নদীগুলোতে ড্রেজিংয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। নদীভেদে ব্যয় পার্থক্য অনেক বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় নদীর চেয়ে ছোট নদীর ড্রেজিং ব্যয় বেশি ধরা হচ্ছে। বছর বছর নদী ড্রেজিং কার্যক্রমের খরচ বাড়ছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ে যমুনা নদীতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় পড়ছে ১০ কোটি চার লাখ ৪৪ হাজার টাকা, অথচ ফরিদপুরের আড়িয়াল খাঁয় ড্রেজিং খাতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অ্যাপ্রেইজাল সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন নদীর পেছনে ড্রেজিং কাজে অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এমনকি ড্রেজিং কাজের জন্য বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণসহায়তা নেয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের প্রায় সাড়ে ৭০০টি নদী রয়েছে। কিন্তু ড্রেজিং ও অপরিকল্পিত ইন্টারভেনশনের কারণে দেশের প্রায় ২৩০টি নদী এখন মৃত। বর্তমানে নদীগুলো পলিউশন, সিলটেশন, তীর দখল, ব্লকেজ ইত্যাদির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার বেশির ভাগ শিল্প নদীর তীর ঘেঁষে স্থাপন করায় প্রতিদিন ১০০ টন শিল্পবর্জ্য নদীতে পড়ছে বলে নদী রক্ষা কমিশনের এক তথ্যে জানা গেছে। পরিকল্পনা কমিশনে দেয়া প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে,
ফরিদপুর জেলার আড়িয়াল খাঁর তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্প ২৯৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখানে ৫ দশমিক ৩৮০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ এবং ৬.৩০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে। পাশাপাশি ঘাট নির্মাণ করা হবে ১০টি। এ প্রকল্পে ৬.৩০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। আর প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এটাকে অত্যধিক বলে অভিমত প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তারা বলছে, ছোট নদীর বিবেচনায় এই ব্যয়; অথচ যেখানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যমুনা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ে ৮ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রাক্কলিত হয় ১০ কোটি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নির্ধারিত রেট শিডিউল অনুযায়ী এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য দিকে, নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পে যেখানে বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রতি কিলোমিটারে ৩০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, সেখানে আড়িয়াল খাঁর ৫ দশমিক ৩৮০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৪০ কোটি ৭৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় পড়বে ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রতি মিটারে প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার টাকা।

ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী অপসারিত

ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী ও থেরেসা মের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ড্যামিয়ান গ্রিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার আইনভঙ্গ এবং সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হলো। খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ এই সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এমনটি প্রমাণ হওয়ার পর তাকে ‘পদত্যাগ করতে বলা হয়’। ২০০৮ সালে তার অফিসের কম্পিউটারে পর্নো ছবি পাওয়ার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করেছেন ড্যামিয়ান। এমন অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়।

যদিও নিজের কার্যালয়ের কম্পিউটারে পর্নো ভিডিও ডাউনলোড করা বা দেখার বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন ড্যামিয়ান। কিন্তু তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, তিনি যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলো ঠিক ছিল না।

২০১৫ সালে লেখিকা কেট মাল্টবির সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণেও ক্ষমা চেয়েছেন ড্যামিয়ান।

বিবিসির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ল্যরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, ‘তাকে যেতে বলা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার সুযোগ ছিল না প্রধানমন্ত্রীর’।

তিনি বলছেন, মের ঘনিষ্ঠজন ড্যামিয়ান পদত্যাগের কারণে প্রধানমন্ত্রী এখন অনেকটাই একা হয়ে গেছেন।

দুই মাসের মধ্যে মের  মন্ত্রিসভা থেকে ড্যামিয়ানসহ তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে গেলো মাসেই মাইকেল ফ্যালন ও প্রীতি প্যাটেল মের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

সবার নজর রংপুরে

বাংলাদেশে ভোট মানেই উৎসব। সেই উৎসবমুখর পরিবেশেই আজ রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (রসিক) সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। সারা দেশের নজর রংপুরের দিকে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ভোটের সরঞ্জাম। স্থানীয় নির্বাচন হলেও প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে বইছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ। প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ভোটার আজ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন তাদের নগরপিতা।
চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে বিকাল ৪টায়। ভোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন। বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাড়ে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী নামানো হয়েছে মাঠে। ২০৩ বর্গকিলোমিটারের এ সিটিতে নারী ও পুরুষ ভোটার প্রায় সমান সমান। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাঠে বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে। সিসি ক্যামেরা থাকবে তিনটি কেন্দ্রে। মেয়র প্রার্থীদের বুধবার নিজ নিজ বাসায় দলের নেতাদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ নয় বছর পর রংপুর অঞ্চলে দলীয় প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা, বিএনপির ধানের শীষ ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। মেয়র পদে মোট প্রার্থী সাতজন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় তিন দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তবে শেষ মুহূর্তে ভোটের প্রস্তুতি কেমন হবে তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কিঞ্চিত শঙ্কা থাকছেই। বিএনপি প্রার্থীও এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বলছেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচনী অগ্নিপরীক্ষায় পাস করতে স্থানীয়ভাবে দলগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ভোট গ্রহণ ও গণনা পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা। কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়াতেও বলা হয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই, আছে উত্তাপ ও উত্তেজনা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির কিছু অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শতভাগ আশাবাদী। রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ দীর্ঘদিন ধরেই। এর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর রয়েছে একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। এর পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ইজেম কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছেন মোস্তফা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও চেষ্টা করেছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে। বিএনপি এ নির্বাচনকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছে। নির্বাচনে জয় পেলে দলটি সরকারের তীব্র সমালোচনার সুযোগ পাবে। আর পরাজিত হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে- এমন শঙ্কা ব্যক্ত করছেন স্থানীয় রাজনীতিকদের কেউ কেউ। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন কমিশন সচেষ্ট রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে মডেল নির্বাচন করতে চাই। এ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট তৎপর রয়েছেন। আচরণবিধি লংঘনে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আ’লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা (ইসি) বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনাররা এক ও একাধিকবার নির্বাচনী এলাকা সফর করে সার্বিক বিষয় মনিটরিং করছেন। আমাদের বিশ্বাস এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘেœ ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। গতকাল কথা হয় রংপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জিএম সাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, ভোট গ্রহণের জন্য সব কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। ভোটের আগের রাতে টাকা ছড়াছড়ি বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের টহল বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, ভোটারদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্য। এছাড়া রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে দেড় হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে সাত হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়। সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের অলিগলিতে, চায়ের দোকানে, অফিসে সর্বত্রই রংপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। তাদের কৌতূহল কে হচ্ছেন নগরপিতা? গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে একজন তরুণ ও নতুন ভোটার বলেন, হ্যামাক এলাকার ভালো কাজ করবে, হ্যামারগুলার সুখ-দুঃখ দেখপে তাকে হ্যামরা ভোট দিমু। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আরও অনেকে। জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, শুধু মহানগরী নয়, রংপুর অঞ্চল জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ। এসব কারণে এ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে জয়ী হওয়া দলের ইমেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটির একাধিক নেতা জানান, জাতীয় পার্টির বিপুল জনপ্রিয়তা ছাড়াও মেয়র প্রার্থী মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার ব্যক্তি ইমেজ জয়ের ক্ষেত্রে কাজ করবে। ২০১২ সালে প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একই দলের দু’জন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও মেয়র পদে দলীয় প্রতীক ছাড়াই ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন মোস্তফা। ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন। এবার সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিবেচনায় অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সবদিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দলের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক এসএম ইয়াছির যুগান্তরকে বলেন, আমাদের স্যার (এইচএম এরশাদ) সব দিক বিবেচনা করে মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী করেছেন। দলের জনপ্রিয়তা বেশি ও তার ইমেজও অনেক ভালো। এসব বিবেচনায় ভোটাররা আমাদের প্রার্থীকে বেছে নেবেন। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় দলের নেতাকর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান করতে বলেছি। তবে কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে সহিংসতা এড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।
অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যাজ পরে ভোট কেন্দ্রের আশপাশে থাকতে বলা হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সহায়তা করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু যুগান্তরকে বলেন, ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে অবস্থান ও ফল প্রকাশস্থানে থাকতে বলেছি। নির্বাচনী প্রচারে আমাদের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে প্রার্থীর ইমেজ নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হতো তা কেটে গেছে। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুতনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে রংপুরের পীরগঞ্জ আসনে প্রার্থী হিসেবে আমরা দেখতে চাই। তাই সিটি নির্বাচনে জয়লাভ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বিএনপি রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভোটের মাঠে আমরা ছিলাম, আছি ও থাকব। সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন বিএনপিকে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা- তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী ও নেতা ইতিমধ্যে বলেছেন, এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থান হবে তিন নম্বরে। ভোটের আগে তাদের এ বক্তব্য কারচুপির আগাম শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ভোটে কারচুপি করা হলে আমাদের নেতাকর্মীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাবে। তারা সহিংসতায় জড়াবে না।

চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে অনেকটাই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। ১৯৪৭ সালে জন্ম নেয়া এ শিল্পীর চিকিৎসাসেবার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। বুধবার দুপুরে হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়ার আগে ভিসি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর সঙ্গে দেখা করেন ও সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুুখ উপস্থিত ছিলেন। ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ভর্তি থাকাকালীন ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রতিদিন দু’বার তাকে দেখতে গিয়েছেন ও তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তারই নির্দেশে ১৩ ডিসেম্বর ৯ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ভারতে বড়দিন পালনে কট্টরপন্থী হিন্দুদের বাধা

ভারতে খ্রিস্টানরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন পালনে বিভিন্ন কট্টরপন্থী হিন্দুগোষ্ঠীর দিক থেকে বাধার মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রদেশের সাতনায় গত সপ্তাহে ক্রিসমাস ক্যারল গাওয়ার সময় বজরং দলের কর্মীরা একদল খ্রিস্টানের ওপর হামলা চালায় ও পুলিশ পরে ওই গায়কদেরই গ্রেফতার করে।
সোমবার হিন্দুজাগরণ মঞ্চ নামে আরেকটি সংগঠন উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে ঘোষণা দিয়ে বলেছে, স্কুলে হিন্দু ছাত্রদের কিছুতেই বড়দিন পালনে শামিল করা যাবে না। এ ধরনের নানা ঘটনার পটভূমিতে ভারতে ক্যাথলিক বিশপদের সর্বোচ্চ সংগঠন ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া মনে করছে, বড়দিন পালনের ক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের হুমকিতে আগে কখনও পড়তে হয়নি। বিবিসি জানায়, মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায় চার-পাঁচদিন আগে গ্রামের রাস্তায় ক্রিসমাস ক্যারল গাইতে গাইতে যাচ্ছিল দুই যাজকসহ একদল খ্রিস্টান। আচমকাই উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের কিছু লোক তাদের রাস্তা আটকে অভিযোগ তোলে, তারা এলাকায় ধর্মান্তরণ করছেন। হামলাকারীরা তাদের একটি গাড়িও জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশ এসে ওই খ্রিস্টানদেরই গ্রেফতার করে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া বলেছে, দেশের নানা প্রান্তে এ ধরনের ঘটনা তাদের গভীরভাবে বিচলিত করে তুলেছে।

বরগুনায় আলু চাষীদের মাথায় হাত

চলতি মাসের প্রথম দিকে টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় দেড় হাজার একর জমির আলুর ফলন অংকুরেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় আলু চাষীদের। এ অবস্থায় এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সরকারি সহায়তা না পেলে এ লোকসান কাটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা। দক্ষিণাঞ্চলে আলু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কুপদোন, রুপদোন, জালিয়াঘাটা, কাটাখালী, কালমেঘা, সিংড়াবুনিয়া, বাইনচটকীসহ বিভিন্ন এলাকা। প্রতিবছর এই অঞ্চলে প্রায় ৪৫-৫০ কোটি টাকার আলুর ফলন হয়। বরগুনা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় সিংহভাগ আলুর জোগান দেয়া হয় এই এলাকা থেকে। চলতি মৌসুমেও এই অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার একর জমি আলু চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। একরপ্রতি চাষাবাদ, বীজ, সার ও কীটনাশকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। ইতিমধ্যে জমির ৮৫ ভাগে আলুবীজ রোপণ করা হয়েছে। হঠাৎ করেই গত ৭ ডিসেম্বর থেকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রোপণ করা বীজতলায় পানি জমে বেশিরভাগ আলুবীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে আবাদের বাকি ১৫ ভাগ জমি রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অংকুরোদগম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে ঘরে রাখা আলুবীজ।
ফলে গোটা আলুর আবাদেই এখন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আলু চাষীদের প্রায় সবাই স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। আলুর এমন বিপর্যয়ে লাভ তো দূরের কথা ঋণ পরিশোধে ভিটেমাটিছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এমনটাই দাবি কৃষকদের। রুপদোন এলাকার রমেশ জানান, প্রতিবছরের মতো এবার তিনি সাড়ে চার একর জমি আলু চাষের জন্য তৈরি করেছিলেন। প্রায় ৮৫ ভাগ জমিতে আলুবীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় কয়েকদিনের বর্ষণে সব আলুবীজ নষ্ট হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনি মণ্ডল বলেন, কয়েকদিনের ভারিবর্ষণে আলু ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। জানি না কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। ঋণের বোঝা ভারি হয়ে উঠছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার বিটকপি, লালশাক, পাতাকপি, ধোনিয়া, পেঁয়াজসহ শীতকালীন সবজি ব্যাপক হারে ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বছরে শুধু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোটি কোটি টাকার আলু উৎপাদন করে আসছেন কৃষকরা। সরকারি কোনো সহায়তা নেই, নেই আলাদা মৌসুমি ঋণ। এ অবস্থায় সরকার এ কৃষকদের ভর্তুকি অথবা সহায়তা না দিলে এ এলাকার আলু চাষীদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন আলু চাষী সমবায় সমিতির নেতারা। শুধু কৃষকই নন, আলু ব্যবসার জড়িতদেরও এখন মাথায় হাত। গুদামে সংরক্ষিত লাখ লাখ টাকার বীজ যেমন বিক্রি করতে পারছেন না, তেমনি বীজ, সার ও কীটনাশক বকেয়া বিক্রি করেও বিপাকে পড়েছেন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খান যুগান্তরকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় আলু চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জানি না কৃষকরা কতটুকু ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত প্রকল্পেও বাধা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত খাল সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধার মুখে পড়েছে। সুরাহা করতে হিমশিম খাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরীর মধ্যে প্রবাহিত পয়ঃনিষ্কাশন কাজে ব্যবহৃত ১৩টি প্রধান খালের ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৬১.৫ কিলোমিটারই এখন দখলদারদের কবলে। ছড়া (খাল) সংরক্ষণে গত বছর ২৩৬.৪০ কোটি টাকা একনেক সভায় অনুমোদন হলেও দখলদারদের উচ্ছেদ করতে না পারায় থমকে গেছে প্রকল্পের কাজ। খাল উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদামতো সহযোগিতা না পাওয়ায় সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সিসিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট।
সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাঘাট ডুবে যায়, পানি ঢুকে নাকাল হয়ে পড়ে বাসা, বাড়ি, দোকানপাট। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে জলাবদ্ধতা যখন প্রকট, ঠিক তখনই ঘোষণা করা হয় সিসিকের নির্বাচনী তফসিল। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রতি নগরবাসীর প্রধান দাবিও ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। নির্বাচিত হওয়ার পর কাজও শুরু করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব খাল নগরীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তা দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন। খাল উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সিটি কর্পোরেশনের ১৩টি বড় খালের দু’পাশ দখল করে প্রায় এক হাজার স্থাপনা তৈরি করেছে অবৈধ দখলদাররা। ৩০ ফুট প্রস্থের খাল এখন কোথাও কোথাও ৩ কিংবা ৪ ফুটে পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার খালের গতিপথ পরিবর্তন করে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ভবন। অবৈধ দখলদারের তালিকা হলেও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় বেশিদূর যেতে পারেনি সিসিক। ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে নকশা অনুযায়ী মাত্র ১১.৫ কিলোমিটার সংরক্ষণ করে দুই পাশে গার্ড ওয়াল তৈরির কাজ হয়েছে গত ৪ বছরে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বাকিটুকু উদ্ধার করে সংরক্ষণ এবং এর দুই পাশে নগরবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। প্রকল্পটির প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ২৩৬.৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয় একনেকে। যা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে খাল সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। নূর আজিজুর রহমান বলেন, প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পরই নকশা অনুযায়ী খাল চিহ্নিত করতে মাঠে নামে সিসিক। এরই মধ্যে চিহ্নিতের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, নকশা অনুযায়ী কোথাও খালের পূর্ণ অস্তিত্ব নেই। নকশা মেনে খাল সংরক্ষণ করতে হলে উচ্ছেদ করতে হবে প্রায় হাজারখানেক স্থাপনা। এটা কোনোভাবেই সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জানান, খালের জমি সরকারের খাস খতিয়ানে। সেই হিসেবে জেলা প্রশাসক এ জমির মালিক। কিন্তু উচ্ছেদ করতে হচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে।
জেলা প্রশাসনের তেমন সহযোগিতাও মিলছে না। আর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। সিটি কর্পোরেশনে জরিপ অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী দখলদার মার্লিন বিল্ডার্সের মালিক চৌধুরী শামীম হামিদ। তিনি মালনীছড়া বা খালের ১ লাখ ১০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এই খালে আরও ২১ জন বড় দখলদার রয়েছেন। এর পরই বড় দখলদার হিসেবে রয়েছেন শামিমাবাদ আবাসিক এলাকার স্বত্বাধিকারী কুতুব উদ্দিন। তিনি গাভিয়ার খালের গতি পরিবর্তন করে ১৫শ’ ফুট জমি দখল করেছেন। এছাড়া মালনী ছড়ার অন্যতম দখলদার হিসেবে রয়েছেন মিরের ময়দানের মনির মিয়া। গোয়ালীছড়ায় নাছির মিয়া, আফজল আহমেদসহ ২০ জন। যোগনীছড়ায় বেলাল আহমেদ চৌধুরী, আবদুল মতিন। হলদীছড়ায় আবদুল মান্নান, রফিক হাসান, ধোপাছড়ায় আজিজ মিয়া, ভুবিছড়ায় ফরিদ আহমেদসহ ৬ জন, মঙ্গলীছড়ায় গণি মিয়া দখলদার। এমতাবস্থায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সরকারের সব মহলের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তাদের প্রত্যাশা খাল থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, খাল দখল উচ্ছেদ যেহেতু সরকারের স্বার্থে সুতরাং এ কাজে সহযোগিতা না করার কোনো কারণই নেই। সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। খাল উদ্ধারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। এমন অভিযোগ নগরভবন সংশ্লিষ্টদের। এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে কয়েক দফায় কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও কোনো প্রত্যুত্তর মেলেনি। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্রের দাবি খাল দখলদারদের উচ্ছেদে নাখোশ খোদ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চার কাউন্সিলর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা জানান, দখলদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই চার কাউন্সিলর উচ্ছেদ কাজে নিজ নিজ এলাকায় বাধাও দিচ্ছেন। এ চার কাউন্সিলর হচ্ছেন ফরহাদ চৌধুরী শামীম, দিনার খান হাসু, আজাদুর রহমান আজাদ ও ইলিয়াছুর রহমান। খাল দখলে সহযোগিতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম যুগান্তরকে বলেন, আমি বারবার নির্বাচিত হয়েছি। আমি শাসক নই, সেবক।
সামনে নির্বাচন তাই প্রতিপক্ষ এমন গুজব রটাচ্ছে। আমি উচ্ছেদ ও উদ্ধারে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলাম এখনও আছি। তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় শুধু একটি ছড়া, মালনীছড়া। এ ছড়াটি আমার এলাকায় ৩০ ফুট থাকলেও হাউজিং এস্টেটে মাত্র ৮ ফুট। অথচ এটা দেখার কেউ নেই। কাউন্সিলর দিনার খান হাসু বলেন, আমার এলাকার ৪টি স্পটে খাল উদ্ধারের কাজ চলছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার অভিযান করছি। সাধারণ মানুষ বাড়িঘর নিজেরা ভেঙে জায়গা দিচ্ছে। আমরা উদ্ধারের পক্ষে, দখলদারদের পক্ষে নয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তার ওয়ার্ডের কালীবাড়ি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে ছড়া খাল দখলদারদের সহযোগিতা করার প্রশ্নই আসে না। সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, এসব অপপ্রচার। ছড়া-খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি মেয়রকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ওয়ার্ডবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। খাল দখলদার উচ্ছেদ ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে করণীয় ঠিক করতে আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট সার্কিট হাউসে সভা ডেকেছেন। এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর চার মাসের মাথায় তাকে জেলে যেতে হয়। প্রায় ৩০ মাস পর তিনি দায়িত্বে ফেরেন। কিন্তু তিনি যেসব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তার অনুপস্থিতিতে তা আর সামনে এগোয়নি। বাকি যে সময়টুকু তিনি দায়িত্বে রয়েছেন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নাকি জাতির সর্বনাশ

প্রশ্ন ফাঁসের মরণব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষাব্যবস্থা। গোটা দেশ। ভাবতেই অবাক লাগে, এই দেশে এখন প্রথম শ্রেণীর প্রশ্নপত্র পর্যন্ত ফাঁস হয়। অবাক লাগে এই ফাঁসে জড়িত বড় বড় ‘হোমরাচোমরা’ কর্মকর্তা। এমনকি জাতি গঠনে যাদের অবদান বেশি সেই শিক্ষকরা পর্যন্ত এই অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি এখন জাতির অস্তিত্ব ধরে টান দিয়েছে। ধ্বংস করে ফেলছে শিক্ষাব্যবস্থা, নীতি-নৈতিকতা, আদর্শিক অবস্থান। তাহলে কোথায় চলেছি আমরা? সর্বজনীন মৌলিক মানবাধিকারগুলোর মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। আর এই গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারই আজ আমাদের দেশে বিপন্ন। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে যখন এই অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে সুসংহত ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, তখন আমরা সেটিকে ভূলুণ্ঠিত ও পদদলিত করছি। দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে যে অপরিসীম নৈরাজ্য চলছে তা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরগুলো পাঠ করলেই বোঝা যায়। শিক্ষা নিয়ে সর্বত্রই চলছে ‘আত্মহননের মহোৎসব!’ আমরা বুঝে না-বুঝে, জেনে না-জেনে মেতে উঠেছি সেই মহোৎসবে। এজন্যই বোধকরি বাঙালি চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবী নীরদ সি. চৌধুরী এই জাতিকে ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ বলে চিহ্নিত করে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। জানি না শিক্ষা নিয়ে স্বাধীন দেশে বাঙালির আত্মহননের এ মহোৎসবকে তিনি কীভাবে অভিহিত করতেন! বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য সংক্রামক নয়, সংক্রামক হচ্ছে অসুখ’- আজ সেই অসুস্থতায় সংক্রমিত শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সবাই। আজ শিক্ষার ‘সর্বাঙ্গে ঘা, ওষুধ দেব কোথা’- এমনই কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা আমাদের। শিক্ষামন্ত্রী দুষছেন ‘কিছুসংখ্যক শিক্ষক’কে, দুদক দুষছে শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের। কোচিং সেন্টার কোচিং দিচ্ছে নকল করার কৌশল, বিক্রি করছে প্রশ্ন। সেগুলো তারা কিনে আনছে অথবা সংগ্রহ করছে নানা সূত্র থেকে। প্রশ্নপত্র বিক্রির দোকান খুলে বসা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের ওপর। তারা এখন রীতিমতো উদভ্রান্ত! বই নয়, শিক্ষা নয়- তারা ছুটছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পেছনে। আর এ প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন একশ্রেণীর অভিভাবকও- ‘সত্যিই সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ!’ এমনও দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণীর পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর লিখছেন অভিভাবকরা, পরীক্ষার্থীদের হয়ে হলের বাইরে। হলের ভেতরে যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা প্রতীক্ষায় আছে, কখন আসবে সেই খাতা। বাইরে থেকে লেখা হয়ে আসা খাতা জমা দিয়ে তারা বীরদর্পে বেরিয়ে আসবে পরীক্ষার হল থেকে। অভাবনীয় এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হলে তার প্রতিক্রিয়ায় অনেকে মন্তব্য করেছেন, ‘এর চেয়ে সন্তানদের মুখে বিষ তুলে দিয়ে তাদের মেরে ফেলা শ্রেয়।’ আজ গোটা জাতির মুখে এভাবেই তুলে দেয়া হচ্ছে সেঁকো বিষ- যেটা নীরবে ধ্বংস করে ফেলছে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা, মনন, নৈতিকতা এবং বড় হওয়ার স্বপ্নগুলো। আমরা এমনই অন্ধ যে, সেটা দেখেও দেখতে পাচ্ছি না, জেনেও উপলব্ধি করতে পারছি না। নৈরাজ্য কতদূর বিস্তৃত হলে এমনটি সম্ভব যে, প্রশ্নফাঁসের কারণে দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় ১৪০টি স্কুলের কর্তৃপক্ষ! বেতাগীতে সেটা ঘটেছে। ফেসবুকের একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ‘ধূসর স্বপ্ন’তে ফাঁস করা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত বিষয়ের প্রশ্ন। নাটোরে আরও ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণীর গণিতের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ১০২টি স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ‘ধূসর স্বপ্ন’ জাতীয় অ্যাকাউন্টগুলো দেশের সব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধূসর ও কালিমালিপ্ত করে দিচ্ছে। অথচ আমরা এই শিক্ষা ও শিক্ষার্থী হন্তারকদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে পারছি না। আমাদের প্রশ্ন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে কারা, এর সঙ্গে জড়িত কারা? অনেক কিছুই স্পষ্ট এবং চিহ্নিত। কিন্তু তারপরও জাতিবিধ্বংসী অনৈতিক এই প্রবণতা রোধ করতে পারছি না কেন? আমাদের দুর্বলতাটা কোথায়, কোথায় চলেছে প্রিয় স্বদেশ?
উল্টো আমরা কেন লিপ্ত রয়েছি একে অপরের কাঁধে দোষ চাপানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায়? দায় কি এড়াতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়? শুধু প্রশ্নফাঁসই নয়, আরও বিচিত্র ও বিভিন্নভাবে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলছি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে। রংপুরের পীরগাছায় পিইসির খাতা মূল্যায়নে করা হয়েছে অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্য! উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৬ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তারা ৮ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২শ’ পরীক্ষার্থীর খাতার ভুল সংশোধন করে প্রাপ্ত নম্বরের চেয়ে বেশি নম্বর দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ওই পরিমাণ অর্থ। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে রংপুরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন। জাতিয়াতি চলছে ভর্তি পরীক্ষার বেলায়ও। তারও পদ্ধতি অনেক। অর্থের বিনিময়ে অন্যের হয়ে প্রক্সি ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়ছে অনেকে। ভর্তি পরীক্ষায় ইলেকট্রুনিক্স ডিভাইসের অপব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ছে পরীক্ষার্থী- এসব যেমন বিস্ময়কর, তার চেয়ে কিন্তু কম বিস্ময়কর নয় যে, পরীক্ষার্থী পরীক্ষাই দেয়নি, এমনকি পরীক্ষা হলের ত্রিসীমানায় উপস্থিতও হয়নি, অথচ ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে সে-ই কিনা ১ থেকে ২০ জনের তালিকার কৃতী পরীক্ষার্থী হয়ে বসে আছে। এ দেশে এ রকম পরিস্থিতি বর্ণনার জন্য প্রবাদ বাক্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে হয়, ‘শর্ষের ভেতরেই ভূতে’র অবস্থান। এই সাদামাটা বাক্যটি দিয়ে কি বর্তমান বাস্তবতাকে বর্ণনা করা যাবে? শর্ষের ভেতরে ভূত, নাকি ‘পুরো শর্ষই ভূতে পরিণত হয়েছে?’ বরং বলা যায় শিক্ষাকে আমরা ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার বানিয়ে যূপকাষ্ঠে তুলে দিয়েছি। আগে নকল যেত হলের বাইরে থেকে ভেতরে। এখন ভেতর থেকেই নানাস্তরে বেরিয়ে আসছে বিবিধ গরল! অভিভাবকরা জোট বেঁধে টাকা নিয়ে সন্তানদের জন্য কিনছেন ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। একবারও তারা ভাবছেন না, নিজেদের অর্থে অতি উৎসাহে তারা কোন নরকে ঠেলে দিচ্ছেন তাদের সন্তানদের। এই অন্ধকূপ দিয়ে তারা কোন অতল গহ্বরে পৌঁছবেন? স্বার্থান্ধ আত্মঘাতী এই বাঙালির কথা ভেবেই কি কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন-
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই- প্রীতি নেই- করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।’
[অদ্ভুত আঁধার এক। জীবনানন্দ দাশ]
আমরা নতুন করে পরামর্শক দলে যোগ দিতে চাই না। আমরা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন জানাই- কবি কথিত হৃদয়ে ‘প্রেম-প্রীতি-করুণার আলোড়ন’ নিয়ে নিজেদের সন্তানের কথা ভাবুন। আপনারা আপনাদের সন্তানদের সফলতার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে একটি অন্ধকূপের মধ্য দিয়ে ধাবিত হচ্ছেন, তার পরিণতি কিন্তু আপনাদের আদরের ধন, স্নেহের সন্তানটিকে নিজ হাতে কোরবানি করা। সবার প্রতি সকাতর আহ্বান, এভাবে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎকে কোরবানি দেবেন না। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পেছনে ছুটে, অর্থ ব্যয় করে অথবা কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে তথাকথিত সাফল্যের আশায় না ছুটে বরং নিজ সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষার পেছনে ছোটান, নিজেরাও সেই পথে ছুটুন। তাহলেই বাঁচবে জাতি, জাতির ভবিষ্যৎ।