Sunday, February 14, 2010

সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন: বাধা কোথায় -আমার ভাষা আমার একুশ by সৌরভ সিকদা

একসময় স্লোগান উঠেছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে আমরা শুধু রাষ্ট্রভাষা বাংলাই পাইনি, বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য পৃথিবী নামের গ্রহে ‘বাংলাদেশ’ নামে মানচিত্রও পেয়েছি আমরা। এরপর পার হয়েছে প্রায় চার দশক। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে—‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ (১ম ভাগ, অনুচ্ছেদ-৩)। এ দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের ভাষা বাংলা। তার পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন হয়নি। রাষ্ট্রীয় আইন করেও সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ তত্কালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক সরকারি আদেশে বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা আমাদের জাতীয় ভাষা। তবু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি যে স্বাধীনতার তিন বছর পরও অধিকাংশ অফিস-আদালতে মাতৃভাষার পরিবর্তে বিজাতীয় ইংরেজি ভাষায় নথিপত্র লেখা হচ্ছে।...এ সম্পর্কে আমার পূর্ববর্তী নির্দেশ সত্ত্বেও এ ধরনের অনিয়ম চলছে। আর এ উচ্ছৃঙ্খলতা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এ আদেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও আধাসরকারি অফিসসমূহে কেবল বাংলার মাধ্যমে নথিপত্র ও চিঠিপত্র লেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো অন্যথা হলে ওই বিধি লঙ্ঘনকারীকে আইনানুগ শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’ এরপর তিন যুগ চলে গেল, এখনো সরকারি কাজে শতভাগ বাংলা ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। যদিও বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া সর্বত্র বাংলায় চিঠিপত্র ও নোট আদান-প্রদান চলছে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি সরকারি আদেশের কথা না উল্লেখ করলেই নয়। ১৯৭৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদের যে সভা অনুষ্ঠিত হয় বাংলা ব্যাপকতর ব্যবহারের উদ্দেশে, সেই সভায় সর্বস্তরে বাংলা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি ইংরেজিতে লেখা হয়। কাজেই এ থেকে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আন্তরিকতার স্বরূপ উপলব্ধি করা যায়।
সরকারি কাজকর্মে বাংলা ভাষার ব্যবহার আশানুরূপ হলেও পরিভাষাগত কিছু সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নামকরণ এখনো ইংরেজিতে—ডিআইটি যদি রাজউক, রেডিও যদি বেতার হতে পারে, তবে টিসিবি, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ঢাকা সিটি করপোরেশন, বিপিসি, এগুলো কেন বাংলায় করা যায় না? আসলে মানসিকতার সমস্যা। সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ নিলে অবশ্যই সম্ভব।
সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের বিষয়ে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘকাল আগে নেওয়া হয়েছে এবং অনেক স্তরে বাংলা এখন ব্যবহূত হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে একমাত্র বাংলাই প্রয়োগ হবে, এটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য স্তরেও বাংলা ব্যবহূত হচ্ছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে জনসাধারণের সম্পৃক্তি খুব ঘনিষ্ঠ যেমন চিকিত্সা ব্যবস্থাপত্র, আইন, দোকানপাটের নামফলক, ব্যাংকের কাগজ প্রভৃতি, সেখানে বাংলা হওয়া জরুরি। সরকারি পর্যায়ে ব্যাপকভাবে বাংলা প্রচলন হচ্ছে, পরিভাষার সমস্যা এখন নেই বললেই চলে। তবে বাংলার প্রচলন আরও ভালো করার ক্ষেত্রে আন্তরিক সদিচ্ছা থাকা দরকার সবার। এটি থাকলে যা কিছু ঘাটতি রয়েছে, তা সহজেই পূর্ণ হবে। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যাম বেতার-টিভি যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারত, তা করছে না। আশা করব, তারা এ বিষয়ে মনোযোগী হবে।’
এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ ইংরেজি জানে না। অথচ কোনো চিকিত্সক বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লিখেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এমনকি ইংরেজিতে সব ওষুধের নাম। এমন একটা অতি প্রয়োজনীয় এবং সাধারণ মানুষ-সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রয়োগ কবে হবে? বাংলাদেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন—‘স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলা প্রচলনে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছিল। ছাত্ররা ভেবেছিল বাংলা শিখলে চাকরির রুদ্ধদ্বার খুলবে। নিম্নপদস্থ ব্যক্তিরা ভেবেছিলেন যুক্তাক্ষরগুলোকে বশ করতে পারলে উন্নতি হবে; পাওয়া যাবে সামাজিক অর্থনৈতিক স্বীকৃতি। তাই বাংলা শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল চতুর্দিকে। কিন্তু পঁচাত্তরের পর স্রোত বিপরীতমুখী হয়ে ওঠে—উগ্র হয়ে ওঠে প্রতিক্রিয়াশীলতা—বাংলাদেশ বেতার, চালনা বন্দর, পৌরসভা, রাষ্ট্রপতি প্রভৃতি রেডিও বাংলাদেশ, পোর্ট অব চালনা, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠতে থাকে। বাংলার মর্যাদা হ্রাস পায়, তার অর্থমূল্য ক্রমেই কমতে থাকে। এবং উত্সাহীরাও পুনরায় ইংরেজিমুখী হয়ে ওঠেন। এই অকারণ ইংরেজি উত্সাহীরা ক্রমেই বাড়ছে, তাদের ইংরেজির মান বাড়ছে না।’
১৮৭২ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন—‘লেখাপড়ার কথা দূরে থাক, এখন নব্য সমপ্রদায়ের মধ্যে কোনো কাজই বাংলায় হয় না...ইহাতে বিস্ময়ের কিছু নাই। ইংরেজি এক রাজভাষা তাহাতে অর্থ উপার্জনের ভাষা।’ বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার দেড় শ বছর পর আজ ইংরেজ রাজা নেই কিন্তু ঔপনিবেশিক দাসত্ববোধের দায় রয়ে গেছে। আর তথ্যপ্রযুক্তি-বহুজাতিক বাণিজ্য কোম্পানির লোভনীয় চাকরিতে অধিক উপার্জনের আকাঙ্ক্ষায় একালেও অধিকাংশ শিক্ষিত ব্যক্তি ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। শুদ্ধ করে মায়ের ভাষা জানার চেয়ে বিশ্বায়নের বিশ্বগ্রাসী ইংরেজি ভাষার উচ্চারণভঙ্গি আয়ত্ত করার প্রতি আগ্রহ বেশি। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেতে উঠেছে তড়িত্ গণমাধ্যমগুলো। তাই জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা তো পায়নি বরং পত্রিকার পাতায় আফসোসের বিজ্ঞাপন পড়ি, ‘ইংরেজিটা আরেকটু ভালো জানলে বেশি উপার্জন করতে পারতাম।’ দেশের রাষ্ট্রভাষা এবং জাতীয় ভাষা বাংলা, অথচ সেই দেশের রাস্তা বা সড়ক দিয়ে আপনি হাঁটতে পারবেন না। আপনাকে রোড অথবা এভিনিউ দিয়ে যেতে হবে। সড়কের পাশে আপনি কোনো ‘দোকান’ পাবেন না, ‘শপ’ বা ‘শপিং সেন্টার’ পাবেন অনেক। দোকানপাট, অফিস-আদালতের নামফলকে রোমান হরফের বাড়াবাড়ি দেখে ভুল হতে পারে, এটা লন্ডন বা নিউইয়র্কের কোনো স্ট্রিট, বাংলাদেশের সড়ক নয়। এ দেশের ৯৮ ভাগ মানুষ বাংলা বলে ও বোঝে, অথচ তারা দেশে উত্পাদিত এমন অনেক পণ্য ব্যবহার করে সেগুলোর অধিকাংশের নামকরণ ইংরেজিতে, শুধু আলুভর্তা আর ডালভাত ছাড়া আর সবই ইংরেজিতে খাই। অথচ এসব পণ্য উত্পাদিত হয় বাংলাদেশেই। শুধু কি খাবার? আপনি চুল-দাড়ি কাটাতে গেলে নরসুন্দর খুঁজে পাবেন না, হেয়ার ড্রেসার অথবা সেলুনে যেতে হবে। জায়গা কিনবেন, মডেল টাউন কিংবা রিভারভিউ খুঁজতে হবে। পড়তে যাবেন, ৯০ ভাগ বেসরকারি বিদ্যালয়ের নামকরণ ইংরেজিতে, ৯৫ ভাগ কলেজের নাম ইংরেজিতে, আর প্রায় ১০০ ভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ইংরেজিতে এবং বিশুদ্ধ রোমান হরফে লেখা। আমাদের প্রিয় দুঃখিনী বর্ণমালার কোনো চিহ্নই সেখানে নেই। এমনকি আমাদের পেশার ক্ষেত্রে থেকেও বাংলা বিতাড়িত—অ্যাডভোকেট, মার্কেটিং ম্যানেজার, ট্রাফিক, টিচার, ওয়েটার, নাইটগার্ড, কোস্টগার্ড, বাসড্রাইভার, স্ক্রিপ্ট রাইটার—সবই ইংরেজি। আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো এবং তাদের অনুষ্ঠানের নামকরণের দিকে তাকাই—টক শো, মিউজিক শো, মেগাসিরিয়াল, নিউজ আপডেট, হেলথ লাইন কি ইংরেজি ছাড়া? এই হচ্ছে স্বাধীনতার প্রায় ৪০ বছর পর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের অবস্থা।
সৌরভ সিকদার: অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে -শেয়ারবাজার by হানিফ মাহমুদ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পরপরই মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে সূচক বৃদ্ধির ঘটনা উদ্যাপন করছে। সাংবাদিক ডেকে তারা ভাবটা এমন করে যে বাজার তার নিজস্ব গতি-প্রকৃতিতেই চাহিদা ও জোগানের অবাধ, স্বচ্ছন্দ আদান-প্রদানের দ্বারা মূল্য নির্ধারণ করছে। আর সূচকে তারই প্রতিফলন ঘটছে।
কিন্তু এই ‘ফিল গুড’ প্রচার অনেকের মানসপটে যতটা বিশুদ্ধ চিত্র তৈরি করছে, বাস্তব পরিস্থিতিটা ঠিক তার উল্টো। ডিএসইর সূচকটি বর্তমানে প্রায় অব্যবহারযোগ্য। ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য ও বাজারের একাধিক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা প্রকাশ্যে না বললেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন এটি অতিমূল্যায়িত। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও স্বীকার করেছে এটিতে বিকৃতি আছে। তবে এটি সংশোধনের ব্যাপারে কারোরই কোনো তত্পরতা নেই।
উচ্চ সূচকের এই মোড়কের আড়ালে শেয়ারবাজারের একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ফায়দা লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কর্মীরাও স্বার্থান্বেষী জুয়াড়িদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, এতে পেশাদারি হয়ে পড়ছে প্রশ্নবিদ্ধ।
কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ‘বুল কার্টেল’ বর্তমানে অতি মাত্রায় সক্রিয়। যাঁরা শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তা থেকে ফায়দা লুটতে চান, তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে বুল কার্টেল হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্রোকারেজ হাউসের মালিক ও প্রতিনিধি এবং বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ী এই কার্টেলের সদস্য। এ ধরনের গ্রুপ বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বেশ কয়েকটি সক্রিয় রয়েছে, যাদের সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০টি হবে। তারা কী ভাবছে লেনদেন শুরু আগে, তার ওপরই নির্ভর করে সেদিন বাজারে শেয়ারের গতি-প্রকৃতি? তারা লেনদেন শুরুর পর বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ায় এবং তা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। তাদেরই অর্থায়নে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু গুজবের ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইটে বাজারে বিভিন্ন শেয়ারের দামের গুজব, লভ্যাংশের গুজব, বড় বড় লেনদেনের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আবার আগামী এক সপ্তাহে কোনটার দামে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে, তারও উল্লেখ থাকে এসব সাইটে। সরকারের নানা মহল এসব ‘বুল কার্টেল’-এর ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকলেও বিস্ময়করভাবে নিশ্চুপ রয়েছে।
ডিএসইর বিকৃত সূচক: আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সূচক হিসাবের দাবি করলেও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই সচেতনভাবে ভুল সূচক পরিমাপ করে আসছে। এতে বাজারে প্রকৃত পরিস্থিতির চেয়ে অনেক উচ্চ অবস্থা বিরাজ করছে এবং বিনিয়োগকারীদের ভুল সংকেত দিচ্ছে। কারণ, বাজারের তেজি অবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুনাফা লাভের আশায় বাজারে ঢুকছে। শুধু তা-ই নয়, এই উচ্চসূচকের মোড়কে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ ঘটছে বহু বিনিয়োগকারীর। কারণ, সূচক ভালো থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকার স্বস্তিবোধ করে।
সর্বশেষ ভুলটি করা হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ারের লেনদেন শুরু হওয়ার দিন। ওই দিন বাজারের প্রবৃদ্ধিকে বড় করে দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক সূত্রই যে শুধু অনুসরণ করা হয়নি তা নয়, একই সঙ্গে প্রারম্ভিক মূল্য ৭০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ধরে সূচক পরিমাপ করা হয়েছে। এতে বাজারে সূচক কয়েক শ পয়েন্ট বেশি বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভুল সংকেত দিয়েছে। পরে ভুলটি ধরা পড়লেও ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ এটি সংশোধন করেনি।
তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইএসকো) নির্ধারিত পদ্ধতি বা সূত্র অনুসারে সূচক হিসাবের ক্ষেত্রে যেকোনো নতুন শেয়ার বাজারে এলে প্রথম দিনেই তার মূল্যের ওঠানামাকে বিবেচনা না করে দ্বিতীয় দিনের বাজার প্রারম্ভিক দামকে সূচকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিমাপ করতে হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে সূচক পরিমাপের ক্ষেত্রে আইএসকো সূত্র অনুসরণের ঘোষণা দিলেও ডিএসই এই বিধি মেনে সূচক পরিমাপ করে না। বরং নতুন শেয়ারের বাজারে লেনদেন শুরুর প্রারম্ভিক দামকে বিবেচনা করে সূচক পরিমাপ করে আসছে। আর এ কারণেই গ্রামীণফোনের লেনদেন যেদিন শুরু হয়, সেদিন ডিএসইর সাধারণ সূচক ৭০৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ অতীতের এই ভুল সংশোধন করতে রাজি নয়। তবে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী দিনে এ ধরনের ভুল আর করা হবে না। গত ২৩ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়টি এসইসিকে জানিয়ে কমিশনের কাছ থেকে সূচক সংশোধনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সঠিকভাবেই সূচক পরিমাপ করে আসছে। আর তাই গ্রামীণফোন বাজারে প্রথম দিন লেনদেন হওয়ার পর সিএসইর সূচকে তা প্রতিফলিত হয়নি। বরং নিয়মমাফিক দ্বিতীয় দিন থেকে গ্রামীণফোনের বাজারমূল্য সূচক পরিমাপে বিবেচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার সূচকের পরিমাপে মিউচুয়াল ফান্ডের দর ওঠানামার হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও বাংলাদেশে তা হয়ে আসছে। এতে করেও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটা ভুল সংকেত যাচ্ছে। কারণ, সূচক হলো শেয়ারের মূল্যের পরিবর্তনের পরিমাপক। শেয়ারের মূল্যসূচক বাজারে শেয়ারের মূল্যের গতিকে প্রতিফলন করে।
এসইসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: দেশের প্রধান শেয়ারবাজারের এই সূচক বিকৃতির বিষয়ে অবহিত থাকার পরও এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রথমে তারা বলছে, বিষয়টি তারা অবগত ছিল না। পরে বলেছে, বিষয়টি নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এ রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাদের প্রায়ই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে বহু বিনিয়োগকারীকে ভুল সংকেত ও সর্বস্বান্ত করেছে। প্রথমটি হচ্ছে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সব শেয়ারকে ১০ টাকায় পরিণত করা। শেয়ারবাজারের একটি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসইসির পরামর্শক কমিটি এ ধরনের একটি সিদ্ধান্তের সুপারিশ করে। কিন্তু বাস্তবে এর আগেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
এসইসির এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ অসংখ্য দেওয়া যাবে। মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। কিন্তু তিন মাস আগেই হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পরপরই এসইসি আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি এসইসি মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত বিধিমালার ৬৬ বিধি সংশোধন করে জানায় যেকোনো ধরনের মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রাইট বা বোনাস দিয়ে মূল তহবিলের আকার বাড়াতে পারবে না। একই সঙ্গে সংস্থাটি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট অপর কোনো ফান্ডের ইউনিটের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ সময় মাত্র সাত কর্মদিবসেই মিউচুয়াল ফান্ডগুলো সম্মিলিতভাবে ৩৫০ কোটি টাকার বাজার মূলধন হারায়। পরে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনজন বিনিয়োগকারী এসইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট মামলার রায় দিলে তা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে যায়। কিন্তু এসইসির পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা হয় ওই দিনই। এতে মিউচুয়াল ফান্ডের দাম আবার কমতে শুরু করে। অনেক বিনিয়োগকারী বিপুল পরিমাণ মূলধন হারিয়ে রাস্তায় নামেন।
কিন্তু বিগত তিন মাসে এ ব্যাপারে এসইসির কোনো মাথাব্যথ্যা ছিল না। গত ২৭ জানুয়ারি ২০০ কোটি তহবিলের একটি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন শুরুর আগেই হঠাত্ করে কেন এসইসি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিল, সেটি নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডিএসইর বেশ কিছু পরিচালক বেনামে এই মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার প্রাইভেট প্লেসমেন্ট থেকে সংগ্রহ করেছিলেন—এমন তথ্য বাজারে প্রায় সবারই জানা। ধারণা করা হয়, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না হলে এই মিউচুয়াল ফান্ডের দামের ওপর বড় প্রভাব পড়বে, সে বিবেচনায়ই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। বাস্তবেও দেখা গেছে এসইসির সিদ্ধান্তের কারণে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মিউচুয়াল ফান্ডটির দাম প্রায় তিন গুণ বাড়ে।
এসইসির নৈতিকতার অধঃপতন এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকায় চলমান দক্ষিণ এশীয় গেমসে পৃষ্ঠপোষকতা জোগাড়ের কাজে নিজেরাই মাঠে নেমে পড়েছিল সংস্থাটি। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফোন করে ও দেখা করে ১৫ কোটি টাকার ‘স্পনসর তহবিল’ জোগাড় করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের খেলাধুলার বিকাশে বেসরকারি খাতগুলো এক দশক ধরেই এগিয়ে এসেছে। কিন্তু নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে এই কাজে কেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জড়িয়ে পড়বে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংকটকালীন সহন-ক্ষমতা পরীক্ষা বা স্ট্রেস টেস্টিং সম্পন্ন করেছে। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর পাঠানো সাময়িক ও অনিরীক্ষিত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য অভিঘাতগুলো বিবেচনায় নিয়ে ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি ও তারল্য ঝুঁকি নিয়ে স্পর্শকাতরতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তাদের বিশ্লেষণে, যদি বর্তমান মূল্য থেকে ৫০ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়, তবে ব্যাংকগুলোর ক্ষতি হবে এক হাজার ৭২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষতি হবে ২০৩ কোটি ছয় লাখ টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৩৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এক হাজার ৩৭১ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষতি হবে ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
হানিফ মাহমুদ: সাংবাদিক।

কিছু আইনগত প্রশ্ন -রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম by আকবর আলি খান

ব্রিটিশ শাসনামলে একটি কৌতুক প্রচলিত ছিল, পদমর্যাদাক্রমের সনদে (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সাহেবদের চেয়ে মেমসাহেবদের আগ্রহ বেশি এবং মেমসাহেবদের চেয়ে ধোপাদের আগ্রহ বেশি। সরকারি আচার-অনুষ্ঠানে সাহেবদের ঠিকমতো না বসালে তাঁরা ঠিকই মনঃক্ষুণ্ন হতেন, কিন্তু মুখে কিছু বলতেন না। মেমসাহেবেরা রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে যেতেন। কারণ পতির পদমর্যাদায় তাঁদের মর্যাদা। ধোপাদের পদমর্যাদার সংকট অবশ্য সারা দেশে দেখা যায়নি, দেখা গিয়েছে শৈল শহর সিমলায়। গ্রীষ্মের সময়ে বড়লাট বাহাদুর তাঁর পর্ষদবর্গ ও সেনাপতিদের নিয়ে সিমলায় অবস্থান করতেন। সিমলায় কাপড় ধোয়ার ঘাট ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। অথচ তখনকার দিনে সব বড় সাহেবের নিজস্ব ধোপা থাকত। ঘাটের অভাবে কে আগে কাপড় ধোবে, কে পরে কাপড় পরিষ্কার করবে তা নিয়ে ধোপাদের পদমর্যাদার প্রশ্ন ওঠে। এই প্রশ্নের নিরসন করতে গিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠে, কোন কোন ধোপা পাহাড়ের উপরের ঘাট ব্যবহার করবে আর কোন ধোপা পাহাড়ের নিচের ঘাটে কাজ করবে। এ নিয়ে গভর্নর জেনারেলের ধোপা আর প্রধান ব্রিটিশ সেনাপতির ধোপার মধ্যে ঝগড়া নিরসন করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল।
ব্রিটিশ শাসনামলে তিনটি কারণে পদমর্যাদাক্রম বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সরকারি মহলে বাইবেলে পরিণত হয়। প্রথমত, ভারতে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদব্যবস্থা, যেখানে শূদ্রদের সঙ্গে ব্রাহ্মণদের সামাজিক মেলামেশা নিষিদ্ধ। প্রচ্ছন্ন ব্রিটিশ বর্ণবাদ ভারতের সনাতন বর্ণবাদকে আত্মস্থ করে। দ্বিতীয়ত, মোগল সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় শানশওকতের সঙ্গে আমির-ওমরাদের পদমর্যাদাক্রম ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তৃতীয়ত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এই পদমর্যাদার টোপ ফেলে দেশীয় রাজ্যের শাসকদের মধ্যে আনুগত্যের প্রতিযোগিতার সূচনা করে। এসবের ফলে পদমর্যাদা-সংবলিত লাল বই বা নীল বই ব্রিটিশ ভারতের শাসনব্যবস্থায় অপরিহার্য ছিল।
৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে মিজানুর রহমান খানের ‘রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে বিতর্ক’ প্রবন্ধটি পড়ে আমার মনে হলো যে আমরা ব্রিটিশ শাসনামলে ফিরে গেছি। ব্রিটিশ শাসনামলেও পদমর্যাদাক্রম নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ছিল। বিতর্ক ছিল প্রধানত সামরিক বনাম অসামরিক মানমর্যাদা নিয়ে এবং সব কর্মকর্তার সঙ্গে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের পদমর্যাদাক্রম নিয়ে। এই ব্যবস্থায় ব্রিটিশ ব্যবসায়ী, তাঁরা যত ধনী হোন না কেন, তাঁদের কোনো পদমর্যাদা ছিল না। তাঁদের বলা হতো, বক্সওয়ালা বা বাক্সওয়ালা। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসামরিক কর্মকর্তাদের পদমর্যাদার খিটিমিটি লেগেই থাকত। অসামরিক কর্মকর্তারা মনে করতেন, অর্ধশিক্ষিত ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তারা যাঁরা এ দেশে স্বল্পকাল থাকতেন এবং এ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে যাঁদের কোনো ধারণা ছিল না, শিক্ষাদীক্ষার মাপকাঠিতে তাঁদের স্থান নিচে আর তাই তাঁদের পদমর্যাদা নিচু হওয়া উচিত। এর ফলে সামরিক কর্মকর্তারাও প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে পদমর্যাদা নিয়ে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কোনো বড় দ্বন্দ্ব দেখা দেয়নি। আর একটি কারণ ছিল আইসিএস বা ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারা নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ দুই বিভাগেই কাজ করতেন। তাই তাঁরা বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতেন। মিজানুর রহমান খান পদমর্যাদাক্রম নিয়ে যে বিতর্কের কথা লিখেছেন সেই বিতর্ক মূলত বিচার বিভাগের সঙ্গে অসামরিক নির্বাহী ও সামরিক বিভাগের মর্যাদা নিয়ে। ব্রিটিশ আমলের লড়াই থেকে এটি ভিন্ন।
মিজানুর রহমান খানের সুলিখিত ও বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধটি আমি পড়েছি। তিনি একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। তিনি এই প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন—‘আকবর আলি খান তাকে শুধুই দাওয়াত দেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখেছেন। বলেছেন, এর উদ্দেশ্য ও কোথায় কী কাজে ব্যবহার হবে তার কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু তা সঠিক নয়। বিধিতেই বলা আছে, রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষসহ সব ধরনের সরকারি উদ্দেশ্যে প্রিসিডেন্সের ব্যবহার হবে।’
ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের যে সূত্রটি টেনে মিজানুর রহমান খান বলতে চাইছেন যে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়, সেই সূত্রটি হলো ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের এক নম্বর পাদটীকা। এই পাদটীকায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি সব রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষ এবং সরকারের সকল উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহূত হবে।’ আমার প্রশ্ন হলো, ‘সরকারের সকল উদ্দেশ্যে’ বাক্যাংশের অর্থ কী? ওই বাক্যাংশ ১৯৮৮ সালে যোগ করা হয়। আমি মনে করি, বাক্যাংশটির প্রেষিত বা content বিবেচনায় নিতে হবে। এই বাক্যাংশ ‘রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষ’-এর পরে যোগ করা হয়েছে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে ‘সরকারের সকল উদ্দেশ্য’ বাক্যাংশটি রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষের মধ্যে সীমিত। যদি দাবি করা হয় যে এটি অনুষ্ঠানের বাইরে সব সরকারি কাজে ব্যবহূত হবে, তবে তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করে বলি—ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, কোনো আইনগত ভিত্তিও নেই। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র একই অবস্থা। যদিও এর কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, তবু পৃথিবীর অনেক দেশে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স রয়েছে। কিন্তু সেখানে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া থাকে, এর কোনো আইনগত মর্যাদা নেই। ভারতের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে তাই বলা হয়েছে, এই মানক্রম শুধু রাষ্ট্রীয় এবং আনুষ্ঠানিক উপলক্ষে ব্যবহূত হবে এবং সরকারের দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপে এর কোনো প্রয়োগ হবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ডার অব প্রিসিডেন্সে স্পষ্ট বলা আছে, এটি আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বা রাষ্ট্রাচারের জন্য ব্যবহূত হয়, এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে সমমর্যাদা সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাও কোনোভাবে বিঘ্নিত হবে না। আমরা যদি এই যুক্তি ধরে নিই, বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সব রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহূত হবে এবং শুধু রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষে ব্যবহূত হবে না, তাহলে পরিপত্রটি সম্পূর্ণ বেআইনি। কার স্থান কোথায় হবে এটি আইনগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সব উদ্দেশ্যের জন্য ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স জারি করতে পারেন কি না? সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এ ক্ষমতা দেয়নি। কোনো আইনও রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেয়নি। অথচ, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যদি ধরে নিই, সরকারের সব কাজে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স প্রযোজ্য—সাধারণ নাগরিক ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ যদি দাবি করে, সরকারের সব উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এটি একটি আইনসম্মত মানক্রম, তাহলে একে অবিলম্বে বেআইনি ঘোষণা করা উচিত। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের দাবি রাষ্ট্রপক্ষ করেনি। এ ধরনের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সাধারণ নাগরিকের মানমর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বাংলাদেশে কী হবে জানি না, তবে পৃথিবীর অন্য কোনো সভ্য দেশে সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো কাজে সরকারের সব উদ্দেশ্যে এই ওয়ারেন্টের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না।
মিজানুর রহমান খানের মতো যেসব আইনজ্ঞ এটি রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক উপলক্ষের জন্য আইনের ভিত্তি ছাড়া একটি নির্বাহী আদেশ গণ্য না করে এটিকে আদালত কর্তৃক স্বীকৃত ও সরকারের সব উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য হিসেবে বৈধতা দিতে চান তাঁদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে একটু চিন্তা করতে অনুরোধ করি:
১. বর্তমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আদালতের নির্দেশে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সংশোধন করা হলে, এটি আইনগত মর্যাদা পাবে। ওয়ারেন্টের অন্তর্গত ও ওয়ারেন্ট-বহির্ভূত নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য রচিত হবে এবং এই বৈষম্যকেই আইনগতভাবে বৈধ করা হবে। কাজেই, সরকারের সব উদ্দেশ্যে ব্যবহূত এই বাক্যাংশসহ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স আদালতের মাধ্যমে সংশোধিত হওয়া হবে দুর্ভাগ্যজনক। আর আদালত যদি বাক্যাংশটি বেআইনি ঘোষণা করেন, তাহলে এই ওয়ারেন্ট শুধু অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
২. আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স গৃহীত হলে আইনগতভাবে বিচার বিভাগের জন্য তা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। আদালত কর্তৃক স্বীকৃত মানক্রমে প্রধানমন্ত্রীর নিচে প্রধান বিচারপতির অবস্থান। আমার ব্যাখ্যা হলো—এটি শুধু অনুষ্ঠানের জন্য করা হয়েছে এবং ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সরকারের সব কাজের জন্য প্রযোজ্য নয়। যদি ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সরকারের সব কাজে ব্যবহারযোগ্য বলে স্বীকৃত হয় এবং আদালত যদি স্বীকার করে নেন, প্রধান বিচারপতির মানক্রম প্রধানমন্ত্রীর নিচে, তাহলে তর্কশাস্ত্রের সূত্র অনুসারে প্রধান বিচারপতি সরকারের সব কাজে প্রধানমন্ত্রীর অধীন হয়ে যান। এ ধরনের পরিস্থিতির যাতে উদ্ভব না হয়, সে জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্ডার অব প্রিসিডেন্সে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এর কোনো আইনি মর্যাদা নেই এবং এই মানক্রম রাষ্ট্রে প্রধান তিনটি অঙ্গের ক্ষমতা কোনোরূপ বিঘ্নিত করবে না।
৩. আইনের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অধস্তন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যদি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর নিচে যেসব মানকর্মচারী-কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে হবে, তাহলে কোন যুক্তিতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করবেন?
৪. ধরা যাক, আদালত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সম্পর্কে এমন এক আদেশ দিলেন যা সরকারের মনঃপূত হলো না, সরকার যদি ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তুলে দেয়, তাহলে আদালত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সরকারকে জারি করতে বাধ্য করতে পারেন কি না? অর্থাত্, ধরা যাক যেসব পদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেসব পদ অর্থাত্ এর নিচে যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের বাদ দিলে বর্তমান সংকটের নিরসন হবে কি? বিষয়টিতে আদালতের এখতিয়ার কতটুকু তা চিন্তা করার প্রয়োজন আছে।
৫. আদালত কর্তৃক সংশোধিত ও অনুমোদিত এই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হলে তার বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক সরকারি অনুষ্ঠানে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের জ্যেষ্ঠতা অনুসারে দাওয়াত দেওয়া হয় না। বরং কনিষ্ঠ কর্মকর্তা যাঁরা অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দাওয়াত দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দাওয়াত না দেওয়াতে মামলা করতে পারবেন কি? জনাব মিজানুর রহমান খানের মতে, দাওয়াত দেওয়া ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের একমাত্র উদ্দেশ্য না হলেও অন্যতম উদ্দেশ্য।
৬. ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স না মানা হলে কী শাস্তি দেওয়া হবে? বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আচার-বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যাঁরা স্থায়ী সরকারি কর্মচারী, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? এটি আদালত অবমাননার আইনের মাধ্যমে কি করা সম্ভব? বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।
আর একটি আইনগত প্রশ্ন উঠেছে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ভিত্তি কী হবে? আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সাংবিধানিক পদগুলো অন্য সব পদের ঊর্ধ্বে থাকবে। পৃথিবীর সব দেশে কিন্তু এ ধরনের রীতি অনুসৃত হয় না। সাংবিধানিক পদের অধিকারী সবাই নির্বাচিত নন, অনেক দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে স্থান দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানক্রমে প্রধান বিচারপতির অবস্থান নিম্নরূপ—
১। মার্কিন প্রেসিডেন্ট
২। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
৩। গভর্নর (নিজ রাজ্য)
৪। মেয়র
৫। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্পিকার
৬। রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি
এ তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান বিচারপতির অবস্থান ওয়াশিংটন ডিসির মেয়রের নিচে। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়েছে বলে শুনিনি। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে অনেক সময় বিশেষ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মানক্রম ১৪ নম্বরে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত প্রেসিডেন্টদের বিধবা স্ত্রীদের অবস্থান ১২ নম্বরে। রাষ্ট্রপতির বিধবা স্ত্রী কি সাংবিধানিক পদ? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একটি ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। ২০০১ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের (যদিও তখন তাঁদের কেউই সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না) তদানীন্তন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়। যেভাবে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সকে আইনের নিগড়ে বন্দী করার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে সমস্যার সমাধান না হয়ে সমস্যাটি আরও জটিল হতে পারে।
পদমর্যাদাক্রমের লড়াই শুধু প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন শ্রেণী ও বিচার বিভাগে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে লড়াই নয়, এখানে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের ক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে কেউ কারও ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেকটি বিভাগেরই নিজস্ব কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেসব ব্যাপারে অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ দেখা গেলে সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বিষয়টি নির্বাহী বিভাগের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো। এখানে বিচার বিভাগের এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা করা কতটুকু কল্যাণকর ও যুক্তিযুক্ত হবে, সেটা ভেবে দেখা দরকার। এ ছাড়া জবাবদিহিতার প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাহী বিভাগকে প্রত্যক্ষভাবে জনগণের কাছে দায়ী থাকতে হয়। প্রতি পাঁচ বছর পর তাদের জনগণের কাছ থেকে ভোটের মাধ্যমে মর্যাদা অর্জন করতে হয়। কাজেই নির্বাহীকে নিয়ন্ত্রণ করাই শুধু নয়, নির্বাহী বিভাগকে কাজ করারও সুযোগ দিতে হবে।
অবশ্য আমি এ কথা অস্বীকার করি না, বিচারপতিদের অসন্তুষ্টির কোনো কারণ নেই। আমি প্রবন্ধের দ্বিতীয় অংশে বিষয়গুলো পরিষ্কার করব।
[দ্বিতীয় কিস্তি আগামীকাল]
আকবর আলি খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা -দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি

অপরাধ দমনে কঠোর আইন ও পৃথক আদালত গঠনই যে যথেষ্ট নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পরিণামই তার প্রমাণ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অধিকাংশ অপরাধী ছাড় পেয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০০৮ সালে সারা দেশে ১৬১টি মামলার মধ্যে মাত্র ২৮টিতে অভিযুক্ত সাজা পেয়েছে, বাকি মামলার মধ্যে ৬৭টিতে আসামি খালাস পেয়েছে, চারটি বিচারাধীন রয়েছে। ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ২০০৯ সালে নিষ্পত্তি হওয়া ৬৪৬ মামলার ৯৬ শতাংশ খারিজ হয়ে যায়।
বিপুলসংখ্যক মামলার আসামি খালাস পাওয়ার কারণ কি এই মামলাগুলো ভিত্তিহীন বা অভিযুক্তরা নিরপরাধ ছিলেন? না, সেটি আসল কারণ নয়। মামলা করলেই তো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হয় না। অপরাধীকে শাস্তি দিতে হলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন দিতে দেরি করেন কিংবা পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দাখিল করেন, তাহলে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
নারী নির্যাতন মামলাগুলো যেমন স্পর্শকাতর, তেমনি সব ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ হাজির করাও কঠিন। কেননা অপরাধীরা সাক্ষপ্রমাণ রেখে অপরাধ করে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রভাবশালী, তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেও অনেকে ভয় পান। কখনো কখনো প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করা হয় সত্য, কিন্তু ৯৬ শতাংশ মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই স্বাভাবিক নয়। এর জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে একশ্রেণীর তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগসাজশও দায়ী। আসামি হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবস ও পলাতক থাকলে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত নিয়ে টালবাহানা ও অযথা সময়ক্ষেপণ করেন। এতে মামলার প্রয়োজনীয় আলামতও নষ্ট হয়ে যায়।
খারিজ হয়ে যাওয়া মামলাগুলো পুনঃ তদন্ত করা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীরা যদি শাস্তি না পায়, তাহলে মামলা করে লাভ কী? ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে নির্বিঘ্নে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন এবং ন্যায়বিচার পান, সেই নিশ্চয়তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে।

ছাত্র হত্যার শেষ কোথায় -ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও রাজশাহীর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যার ঘটনা যেকোনো নাগরিককে উদ্বিগ্ন ও উত্কণ্ঠিত না করে পারে না। বাবা-মা সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন উচ্চশিক্ষার জন্য; লাশ হয়ে ফিরে আসার জন্য নয়। কাকতাল হলেও এই তিনজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন দরিদ্র বাবা-মায়ের ভরসাস্থল। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ দিতে হলো আবু বকরকে। তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মী ফারুককে। সবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশনে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এ এ এম মহিউদ্দিন। তিনি টিউশনি করে শহর থেকে ফিরছিলেন। এ মৃত্যু শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য ও অসুস্থ ছাত্ররাজনীতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দেশে আইন আছে, সরকার আছে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছে বিভিন্ন বাহিনীও। তা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে। একটি মৃত্যুর ক্ষত না শুকাতেই আরেকটি মৃত্যুর খবর সতীর্থ ও স্বজনদের মর্মাহত করছে। ইসলামী ছাত্রশিবির মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে ওই রাতেই শহরে মিছিল বের করেছে। অথচ মহিউদ্দিনের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও ছাত্রলীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁর পকেটে পাওয়া চিরকুটেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। শুক্রবার শহরে শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষে অনেকে আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। লাশ নিয়ে রাজনীতিও কাম্য নয়।
ক্যাম্পাসে কারা কারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, কারা শিক্ষাঙ্গনকে অশান্ত করে তুলছে—সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করা। এ ক্ষেত্রে কারও প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ হলে চলবে না। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের অপরাধ আড়াল করে অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে লাভ হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পেছনে না ছুটে আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে এভাবে মেধাবী ছাত্রদের জীবন দিতে হতো না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি তাঁদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াও। সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ এক দিনে বেড়ে ওঠেনি। অঙ্কুরে তা বিনাশ করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষালয়গুলোতে উপর্যুপরি ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটত না।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হঠাত্ অবনতি হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। তারা চায়, শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হোক। ছাত্ররাজনীতির নামে সহিংসতা ও বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না। মহিউদ্দিনের ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে কবীর সুমনকে ছত্রধরদের চিঠি

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গল মহলের আদিবাসীদের মন ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সাংসদ কবীর সুমন। আদিবাসী নেতা ছত্রধর মাহাতোর মুক্তি ও তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করে কবীর সুমন ইতিমধ্যে গানের সিডি বের করেছেন। সেই সিডি এখন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গল মহলের আদিবাসীদের ঘরে ঘরে।
এবার আদিবাসীরা কবীর সুমনকে আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি খোলা চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছে। ওই চিঠিতে তারা বলেছে, এই দ্রোহকালে আপনাকে বড় প্রয়োজন। আপনি জঙ্গল মহলে গঠিত ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটি’র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান।

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব সিউলের

দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে পরিচালিত শিল্প স্থাপনায় আন্তসীমান্ত যাতায়াত সহজ করার ব্যাপারে এ মাসের শেষে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। এ ব্যাপারে তারা একটি প্রস্তাবও পিয়ংইয়ংকে দিয়েছে।
সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার জানায়, তারা উত্তর কোরিয়ার কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সীমান্তের ঠিক উত্তর দিকে অবস্থিত কায়েসং নগরের সঙ্গে পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য সামরিক কর্মকর্তারা ২৩ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করতে চান। গত মাসের শেষ দিকে বিতর্কিত সাগর সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে দুই পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপরও দুই পক্ষ সম্পর্ক উন্নয়নে বা যৌথ বাণিজ্যিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে বৈঠকে বসার ব্যাপারে এগিয়ে যাওয়ায় অনেকে এটাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

বাগান রক্ষায় স্থলমাইন

চোরের উপদ্রব থেকে সম্পদ রক্ষায় লোকজন বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে কেউ বা রাত জেগে পাহারাও দেয়। কিন্তু রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রিমোরাই এলাকার বাসিন্দা আলেকসান্দার স্কপিনতসেভ যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা রীতিমত ভয়ানক। চীন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রিমোরাই এলাকার ওই বাসিন্দা আলেকসান্দার স্কপিনতসেভ গত বছরের জুলাই মাসে তাঁর গ্যারেজে তিনটি বিশেষ ভূমিমাইন দিয়ে বিস্ফোরক ফাঁদ তৈরি করেন এবং সেগুলো তাঁর বাগানের চারপাশে পুঁতে রাখেন।
কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, স্কপিনতসেভ আদালতে স্বীকার করেছেন, চোরের হাত থেকে তাঁর বাগান রক্ষার জন্য তিনি ওই ভূমিমাইনগুলো তৈরি করেছিলেন। গত বছরের আগস্ট মাসে এক ব্যক্তি তাঁর বাগানে চুরি করতে গিয়ে পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে আহত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পরই স্কপিনতসেভকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অবৈধভাবে বিস্ফোরক তৈরি ও তা কাছে রাখার দায়ে আদালত তাঁকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মহাকাশ স্টেশনের পর্যবেক্ষণ ডেক স্থাপনের কাজ শুরু

মার্কিন নভোযান এনডেভরের দুজন নভোচারী তাঁদের সাম্প্রতিক অভিযানে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবার মহাকাশে হেঁটেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা পৃথিবী থেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া পর্যবেক্ষণ ডেকটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) স্থাপন করার কাজ শুরু করেন। গত সোমবার ছয়জন নভোচারী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে আইএসএসের উদ্দেশে রওনা হয় এনডেভর।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা জানিয়েছে, রবার্ট বেনকেন ও নিকোলাস প্যাট্রিক বৃহস্পতিবার রাতে মহাকাশে হাঁটা শুরু করেন। তাঁরা আইএসএসে একটি নতুন ‘ট্রাংকুইলিটি মডিউল’ স্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে মহাকাশ স্টেশনে সাত জানালাবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষণ ডেক যুক্ত হবে, যেখান থেকে নভোচারীরা পৃথিবী ও মহাকাশের বিভিন্ন অংশ দেখতে পাবেন। বেনকেনের জন্য এটি চতুর্থবারের মতো মহাকাশে হাঁটার অভিজ্ঞতা হলেও প্যাট্রিকের জন্য এই অভিজ্ঞতা প্রথম।
নাসার জন্য মডিউলটি তৈরি করেছে ইউরোপীয় সংস্থা থালেস আলেনিয়া স্পেস। এতে একসঙ্গে দুজন নভোচারী অবস্থান করতে পারবেন।

সু চির দলের উপনেতাকে মুক্তি দেবে জান্তা সরকার

মিয়ানমারের জান্তা সরকার গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) উপনেতাকে মুক্তি দিতে যাচ্ছে। তাঁর গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ আজ শনিবার শেষ হবে। এনএলডির ভাইস চেয়ারম্যান টিন ও ২০০৩ সাল থেকে বিনা বিচারে জান্তার কারাগারে আটক ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগার থেকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। দলের রাজনৈতিক সফরকালে তাঁদের গাড়িবহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তাঁকেও শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী সু চির সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারের এক কর্মকর্তা জানান, টিন ওর আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাল শনিবার (আজ) তিনি মুক্তি পেতে পারেন।
এনএলডির মুখপাত্র এক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন, দল তাঁর মুক্তি আশা করছে। মুখপাত্র আরও জানান, টিন ও পুনরায় তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল টিন ওকে নাশকতাবিরোধী আইনে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগার থেকে ইয়াঙ্গুনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। এনএলডি ১৯৯০ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও জান্তা সরকার কখনো তাদের সরকার গঠন করতে দেয়নি। দলটির নেতা ও গণতন্ত্রের কিংবদন্তি নেত্রী সু চি (৬৪) গত ২০ বছরের বেশির ভাগ সময় বন্দী অবস্থায় কাটাচ্ছেন।

পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করলেন খাতামি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় বিপুল জনসমাগমের প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের চলার পথে বাধা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে দেন।
গতকাল শুক্রবার সরকারি প্রেস টিভি জানায়, ৩১তম বিপ্লব বার্ষিকীর শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া লাখো মানুষকে ধন্যবাদ জানান খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বলেন, ওই সমাবেশ জাতীয় শক্তির প্রতিফলন। বিদেশি শত্রুদের জেগে ওঠার সময় হয়েছে। ইরানকে করায়ত্ত করার নিষ্ফল চেষ্টা পরিত্যাগ করার জন্য ওই শত্রুদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, ইরানি জাতির বন্ধু ও শত্রু দুই পক্ষেরই জানা উচিত যে, ইরানি জাতি সমৃদ্ধি ও উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণের জন্য নিজেদের পথ বেছে নিয়েছে। ইরানের ওই চলার পথের যেকোনো প্রতিবন্ধকতা যেকোনো মূল্যে তারা প্রতিহত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, ইরানের দাবি রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে, পদার্থবিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নয়।
রবার্ট গিবস বলেন, কয়েক মাস ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধারাবাহিক সমস্যার ভেতর দিয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ যে দাবি করেছেন, তার অধিকাংশ সত্য নয়। ইরান যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে দাবি করছে, সেই মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সামর্থ্য তেহরানের আছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে না।
তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা: বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় ইরান তথ্যপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইরানের ওই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলেও বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হচ্ছে, ইরান তথ্যপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ বাড়াবাড়ি রকমের। এটা পরিষ্কার যে, ইরানি সরকার নিজের জনগণকে ভয় পাচ্ছে।
ক্রাউলি বলেন, মার্কিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফোন নেটওয়ার্কে পারস্পরিক যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, টেক্সট মেসেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট পরিষেবাও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

প্রখ্যাত ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার ম্যাককুইনের মৃতদেহ উদ্ধার

প্রখ্যাত ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার ম্যাককুইনের মৃতদেহ গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এ সম্পর্কে পুলিশ বা তাঁর কাছের লোকজন কোনো মন্তব্য করেনি। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই মৃত্যুতে কোনো সন্দেহের কিছু মিলছে না। তবে মরদেহ কীভাবে উদ্ধার হয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা কিছু বলছে না।
তবে দ্য সান পত্রিকা তাদের অনলাইন সংস্করণে দাবি করেছে, ম্যাকের মৃতদেহ তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ভগ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আনা উইনটার বলেন, এ প্রজন্মের ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে ম্যাককুইন ছিলেন সবচেয়ে প্রতিভাবান।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী এয়ারবোর্ন লেসারের সফল পরীক্ষা

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারবোর্ন লেসারের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানায়।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভেনচুরার অদূরে পয়েন্ট মুগুস নেভাল এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার—ওয়েপন্স ডিভিশন সি রেঞ্জে স্থানীয় সময় রাত আটটা ৪৪ মিনিটে এ পরীক্ষা চালানো হয়।

ওবামা-দালাই লামা বৈঠক বাতিলের আহ্বান চীনের

আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার যে সাক্ষাতের কথা রয়েছে, গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে চীন।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে দালাই লামার বৈঠক হওয়ার কথা। অবশ্য চীন আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী বন্ধনে ক্ষতি ডেকে আনবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, চীন দালাই লামার যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যাপারটির বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ৬৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করায় চীন ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। গত সপ্তাহে চীন এই মর্মে হুঁশিয়ারি দেয় যে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রেতা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
চীনের মুখপাত্র মা বলেন, ‘আমরা তিব্বতের অতি স্পর্শকাতর বিষয়টি বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। তিব্বত যে চীনের একটি অংশ, সেটিকে সম্মান জানাতে হবে এবং তিব্বতের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে হবে।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস এর আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে চীনের আপত্তি আমলে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
গিবস বলেন, ‘দালাই লামা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ধর্মীয় নেতা এবং তিব্বতের জনগণের অধিকার আদায়ের মুখপাত্র। তাই প্রেসিডেন্ট ওই বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার জন্য তৈরি আছেন।’

বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করবে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙা করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২টি বিশেষ শিল্প এলাকা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
দেশটির দং-এ এলবো পত্রিকা একটি চীনা সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার জানায়, কমিউনিস্ট শাসিত এ দেশটি আগামী মাসে একটি আইন পাসের মাধ্যমে পাঁচ বা ছয়টি নগরে ওই শিল্প এলাকার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগকে সীমিত আকারে চীনের আদলে অর্থনৈতিক সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেছে পত্রিকাটি।

পুরান ঢাকার আইনশৃঙ্খলা

ছিনতাইকারীদের গুলিতে পুরান ঢাকার চাল ব্যবসায়ী আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে ওয়ার্ড কমিশনার, যুবদল নেতা হাজি আহাম্মদ হোসেনের হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানাতে ব্যবসায়ীরা গত বুধবার যে ধর্মঘট ডেকেছিলেন, তা ছিল বেশ বড় আকারের। প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল; শুধু পুরান ঢাকা এলাকায় নয়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নিহত আফিল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট পালন করেছেন। শুধু চাল ব্যবসায়ীরা নন, ধর্মঘট পালন করেছেন ওষুধ, রাসায়নিক ও প্রসাধনী, কাচ ও আয়না ব্যবসায়ীরাও। এই ব্যাপক প্রতিবাদের তাত্পর্য নিশ্চয়ই বিরাট।
ব্যবসায়ী আফিল উদ্দিন বিশ্বাসের হত্যা ছিনতাইকারীদের কাজ। ওয়ার্ড কমিশনার হাজি আহাম্মদ হোসেনের হত্যার পেছনে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বা সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নটিই বড়। হত্যাকারীদের শাস্তির দাবির মধ্যে আছে নিরাপত্তার সর্বজনীন দাবি। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য এ দেশে নতুন কিছু নয়; সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বা নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধও নতুন নয়। হঠাত্ করে যে এসব খুব বেড়ে গেছে, তাও হয়তো নয়। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বোধ ভঙ্গুর হয়ে পড়লে এ ধরনের দু-একটি ঘটনাই বিরাট প্রতিক্রিয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে। শুধু ব্যবসায়ী সমাজের নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষেরই চলাফেরায়, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে যে ন্যূনতম নিরাপত্তার বোধ অপরিহার্য, তার নিশ্চয়তা দৃশ্যমানভাবে অনুপস্থিত।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছে টেলিফোনে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, নিয়মিত চাঁদা দিয়েও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাহলে কারা চাঁদাবাজি করছে, কিসের জোরে তারা তা করতে পারছে, তাদের দাপটের উত্স কী—এগুলো খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। চাঁদাবাজি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ভাড়াটে খুনি, ছিনতাইকারীসহ সব ধরনের পেশাদার অপরাধীকে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আরও তত্পরতা প্রয়োজন। এদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামর্থ্যের বাইরে নয়। প্রয়োজন তাদের সামর্থ্য কাজে লাগানো। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর পেশাগত সততা প্রয়োজন, রাজনৈতিক বা অন্যান্য প্রভাব থেকে থাকলে সেগুলো দূর করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও প্রয়োজন। আমরা আশা করব, সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে।
ব্যবসায়ী আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও ওয়ার্ড কমিশনার হাজি আহাম্মদ হোসেনের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী সমাজসহ জনসাধারণের নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে।

বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা

ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে যে আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক, সেটা একরকম স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার বলেই আমাদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত। শিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘রগকাটা’, হত্যা, গুমসহ নানা অপরাধমূলক তত্পরতায় জড়িত একটি সংগঠন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবেও শিবির ছাত্রলীগের আদর্শগত শত্রু। এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলে ছাত্রলীগ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবিরের চিহ্নিত কর্মীদের বসানো হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারাও মনে করেন যে তাঁদের সংগঠনে শিবির ঢুকে পড়েছে। এ সম্পর্কে বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তৃত তথ্য রয়েছে।
এ যে বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা! ঘোগ হলো বুনো কুকুর, যা বাঘের চরম শত্রু। সতর্ক থাকলে বাঘের ঘরে তার বাসা বাঁধার কথা নয়। কারণ, এটা তো বাঘের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। তাহলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের মধ্যে শিবির এসে ঢুকল কীভাবে? কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা? এ বিষয়টি ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্বকে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁরা এ বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করলে হয়তো এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সম্প্রতি বহিষ্কৃত সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুককে অনেক আগেই সংগঠন থেকে বের করে দেওয়া যেত। তাহলে হয়তো সেদিন ওই হলে রক্তাক্ত সংঘর্ষের সুযোগ থাকত না এবং মেধাবী ছাত্র আবু বকরকে প্রাণ দিতে হতো না।
সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে একধরনের অপরাধী ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে মিশে যায়। এটা সবাই জানে। আবার এটাও সত্য যে দলছুটদের দলে টানার একটা প্রবণতাও ক্ষমতাসীনদের মধ্যে থাকে। এখানে আদর্শের কোনো ব্যাপার নেই। সুবিধাবাদী ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ই মূল উদ্দেশ্য। ছাত্রলীগের মধ্যে এই শেষোক্ত প্রবণতা থাকা বিচিত্র নয়। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হল দখল, সিট দখলের জন্য ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের দলে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ কম নয়। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শিবিরের সন্ত্রাসীদের দলে টানা হয়ে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ এফ রহমান হলের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বারবার বললেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার একজন নেতা জানিয়েছেন। অর্থাত্ ছাত্রলীগের নেতারা জেনেশুনেই দলের মধ্যে শিবির প্রতিপালন করছেন। এটা শুধু ছাত্রলীগের নয়, সরকার ও দেশের জন্যও বিপর্যয় ডেকে আনবে। তার লক্ষণগুলো ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এখন ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী শিবিরের কিছু নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে বের করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সব আর্থিক লুটপাট ও অপকীর্তি বন্ধ হলেই সংগঠন থেকে শিবির তো বটেই, সব ধরনের সন্ত্রাসীই দূর হবে।
শিবিরের ব্যাপারে ছাত্রলীগ যদি বাঘের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখতে চায়, তাহলে তার চেহারাটা নিষ্কলুষ করার ওপর সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে ঘোগেরা বাসা বাঁধবেই।

টেরিও ভুল করেন

খেলোয়াড়েরাও তো মানুষ। মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহের ছাপ মাঠেও কিছুটা পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জন টেরিকে দেখে কে বলবে সেটা! সাবেক চেলসি সতীর্থ ওয়েইন ব্রিজের সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে গোপন সম্পর্কের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সুখী দাম্পত্য জীবন রীতিমতো টালমাটাল, ভেঙে খানখান ‘নিপাট ভদ্রলোক’ ভাবমূর্তিটাও। কিন্তু খেলায় এর প্রভাব কোথায়? মাঠের টেরি আরও দুর্বার, পারফরম্যান্স যেন আরও দুরন্ত। তবে বুধবার রাতে প্রমাণিত হলো টেরিও রক্তমাংসে গড়া মানুষ। ফুটবল যদিও ১১ জনের খেলা, তবুও বলা চলে টেরির জন্যই এভারটনের কাছে হারল চেলসি। টেরির ভুলেই গোল দুটি খেয়েছে তারা!
এমন নয় যে, দুটি ভুলেই প্রমাণিত হয়ে গেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন টেরি। ফুটবলে এমন ভুল তো হতেই পারে। তবে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলারটির নাম টেরি বলেই। আর ব্যাপারটি যে স্রেফ ফুটবলীয় ভুলের চেয়েও একটু বেশি কিছু, সেটা বোঝা গেছে ম্যাচ শেষে রে উইলকিনসের ঘোষণায়। চেলসির সহকারী কোচ জানিয়েছেন, মানসিকভাবে একটু থিতু হওয়ার জন্য আগামী শনিবার কার্ডিফ সিটির বিপক্ষে এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে বিশ্রামে থাকবেন টেরি। এমনিতে ম্যাচ শেষে কথা বলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কেও টেরিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাওয়া আনচেলত্তি এদিন আসেননি। তাঁর বদলে এসে উইলকিনস জানালেন টেরি বিশ্রামের ঘোষণা, ‘পুরো মৌসুমেই জন দুর্দান্ত খেলেছে। এভারটন ম্যাচে তাঁর যদি কিছু ভুল হয়ে থাকে, তবে তা খুবই সামান্য। ম্যাচ শেষে জন ও কার্লো এ নিয়ে আলোচনা করেছে। সবকিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কার্ডিফের বিপক্ষে সে খেলবে না।’
এভারটন ম্যাচে যা হলো, তাতে আনচেলত্তির মতো কপালে ভাঁজ পড়ার কথা ফ্যাবিও ক্যাপেলোরও। অধিনায়কত্ব কেড়ে নিয়েছেন, কিন্তু এটাও বলেছেন ইংল্যান্ড রক্ষণদুর্গের সবচেয়ে বড় ভরসা এখনো টেরি। টেরি সত্যিই যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তাহলে তো চিন্তারই বিষয়। বিশ্বকাপেরও তো আর বেশি দেরি নেই

কারাতে দলকে জাইকার সংবর্ধনা

এসএ গেমসের চার সোনা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশের কারাতেকে। আর সেই স্বপ্নপূরণে সঙ্গী হতে পারে জাইকাও (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি)। গত পরশু এসএ গেমস কারাতে দলকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সে আশ্বাস পাওয়া গেছে জাইকার কাছ থেকেও।
এসএ গেমস কারাতেতে বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্য কারিগর মাসায়সি কাগাওয়া। গত জুলাই থেকে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন এই জাপানি। বাংলাদেশে আসার আগে বাংলাদেশিদের অলস বলেই জানতেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের কারাতে দল কাগাওয়াকে দিল নতুন উপলব্ধি—সুযোগ পেলে এখানকার মানুষ সর্বোচ্চ উজাড় করেই ভালো কিছু করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে কাগাওয়ার চাকরির মেয়াদ আগামী বছরের জুলাইয়ে শেষ হবে। তবে বাংলাদেশের কারাতেকারা এই কোচকে চায় আরও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য।
জাইকার গুলশানের অফিসে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কারাতে দল ও কোচ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাইকা ও কারাতে ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

হেরেও শীর্ষে রাজশাহী, সিলেট-বরিশালের বিদায়

প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েও লাভ হলো না বরিশালের। শীর্ষে থাকা রাজশাহীকে তারা দিয়েছে প্রথম হারের স্বাদ। তার পরও সিলেটের সঙ্গে তাদের জাতীয় লিগও শেষ হয়ে যাচ্ছে এখানেই। জাতীয় লিগের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী প্রথম পর্ব থেকে দ্বিতীয় পর্বে যাবে শীর্ষ চার দল। পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচে আছে সিলেট, নিচের দিক থেকে দুইয়ে বরিশাল। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে খুলনাও, চট্টগ্রামকে ৮ উইকেটে হারিয়ে কমিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান। দ্বিতীয় পর্বের খেলা শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। শীর্ষ দুই দলকে নিয়ে ৫ দিনের ফাইনাল ৮ মার্চ।
প্রথম পর্বের পয়েন্ট সঙ্গে যাবে দ্বিতীয় পর্বেও। বাকি তিন দলের ধরাছোঁয়ার আরও বাইরে যাওয়ার সুযোগটা রাজশাহী হাতছাড়া করেছে বরিশালের কাছে হেরে। জয়টা বরিশাল দেখছিল তৃতীয় দিন শেষেই, ২৭৬ রান তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার দিন শেষ করেছিলেন ১৬২ রান তুলে। কাল পাঁচ উইকেট হারালেও প্রত্যাশিত জয়টা ঠিকই পেয়েছে। দুই ওপেনারের কেউই অবশ্য সেঞ্চুরি পাননি, ৮৩ রান করে আউট হয়েছেন শাহরিয়ার নাফীস, ৯৩ করে ফজলে রাব্বি। প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড নেওয়া রাজশাহীর সর্বনাশ হয়েছে আসলে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৩ রানে অলআউট হয়েই।
৫ উইকেটে ৩১৮, চট্টগ্রাম দিন শুরু করেছিল ড্রয়ের আশা নিয়ে। কিন্তু আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, ২২ রান তুলতেই বাকি ৫ উইকেটও হারিয়ে ফেলে তারা। আগের দিনের ৬২ রানের সঙ্গে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি ফয়সাল হোসেন, ইলিয়াস সানি আউট ৪৫ রান করে। খুলনার ডলার মাহমুদ নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তাপস ঘোষ (৫৫*) ও তুষার ইমরানের (৩৭*) ৮২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি জয় এনে দেয় খুলনাকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা-চট্টগ্রামখুলনা: ১ম ইনিংস: ৪৪৬ (ডিক্লে.) ও ২য় ইনিংস: ৯৫/২ (তাপস ৫৫*, তুষার ৩৭; ইলিয়াস ২/৩৩)। চট্টগ্রাম: ১ম ইনিংস: ১৯৯ ও ২য় ইনিংস: ৩৪০ (ফয়সাল ৬২, ইলিয়াস ৪৫; ডলার ৪/৫১, রাসেল ৩/৫৮, জিয়াউর ১/৫০, মুরাদ ১/৮৭)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইলিয়াস সানি (চট্টগ্রাম)।
রাজশাহী-বরিশালরাজশাহী: ১ম ইনিংস: ৩৩৬ ও ২য় ইনিংস: ১৮৩। বরিশাল: ১ম ইনিংস: ২৪৪ ও ২য় ইনিংস: ২৭৮/৫ (শাহরিয়ার ৮৩, রাব্বি ৯৫, হান্নান ৪৬; দেলোয়ার ২/৮১, জহুরুল ১/০, ধীমান ১/৪, শাহজাদা ১/৩১)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফজলে রাব্বি (বরিশাল)।

চেলসির হার ম্যানইউর ড্র

এটা অবশ্যই লাল কার্ড পাওয়ার মতো। নানি দুই পায়ে ট্যাকল করেছে, যা করা ঠিক হয়নি। সে অর্বাচীনের মতো কাজ করেছে, রেফারির কোনো বিকল্প ছিল না’—স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মুখে একি কথা! গত কিছুদিনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যতবার পয়েন্ট হারিয়েছে, ততবার এই ফার্গুসনই না রেফারিদের শূলে চড়িয়েছেন! ঘটনা হলো, স্টিলিয়ান পেত্রভকে করা নানির ফাউলটি সাদা চোখেই এত বাজে ছিল যে, কিছুদিন আগে রেফারির সমালোচনা করে দুই ম্যাচের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা ভোগ করা ফার্গুসনও এবার দ্বিমত করতে পারেননি রেফারির সঙ্গে।
ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটেই লাল কার্ড পেয়ে মাঠের বাইরে নানি। অ্যাস্টন ভিলার মাঠে পিছিয়ে পড়ার পর আত্মঘাতী গোলে সমতা, ড্রতেই নিজেদের সৌভাগ্যবান ভাবতে পারে ম্যানইউ। তবে এই ড্রয়ে মোক্ষম একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছে চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি জিতলে এভারটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া চেলসিকে টপকে শীর্ষে উঠে যেত রেড ডেভিলরা। কিন্তু ২৬ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট পাওয়া চেলসির ১ পয়েন্ট পেছনেই থাকল তারা। পরশু রাতের সবচেয়ে বড় ম্যাচে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে আর্সেনাল। এই পরাজয়ের পরও চারে আছে লিভারপুল, তবে শুধুই গোল ব্যবধানে। বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে অল রেডদের সমান ৪৪ পয়েন্ট হয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটির।
রোববার চেলসির কাছে স্টামফোর্ড ব্রিজে ২-০ গোলে হারার পর আর্সেনাল শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে বলে বলাবলি হচ্ছিল। কিন্তু এমিরেটসে লিভারপুলকে হারানোর পর কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার বলেছেন এখনই রণে ভঙ্গ দিচ্ছেন না তাঁরা, ‘কেউ বুঝতে চায় না ম্যানইউ, চেলসি ও লিভারপুলের বিপক্ষে টানা খেলা শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা কঠিন। যা হোক, আমরা বিশ্বাস করি, সবকিছু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। চেলসি আরও ম্যাচ হারতে পারে, ইউনাইটেড পয়েন্ট হারাতে পারে। শিরোপা এখনো উন্মুক্ত।’ ম্যাচের ৭২ মিনিটে হেড থেকে ওয়েঙ্গারের এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা গোলটি করেছেন আবু দিয়াবি।
১৯ মিনিটে কার্লোস কুয়েলারের হেড ২০১০ সালে ভিলা পার্কে অ্যাস্টন ভিলার প্রথম গোল এনে দেওয়ার পাশাপাশি দলকেও এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চার মিনিট পরই জেমস কলিন্সের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে ম্যানইউ। ফাউলটা বিপজ্জনক হওয়ায় শুধু লাল কার্ডই নয়, তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও ভোগ করতে হবে নানিকে। ফার্গুসনের জন্য খারাপ খবর আছে আরও, স্টিভেন সিডওয়েলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইনজুরিতে পড়েছেন রায়ান গিগস। এক্স-রে করানোর পরই বোঝা যাবে আঘাত কতটা গুরুতর।
ম্যানইউর দিনটা ভালো না কাটলেও অসাধারণ কেটেছে সাবেক ম্যানইউ তারকা লুইস সাহার। এই স্ট্রাইকারের দুই গোলে শীর্ষে থাকা চেলসিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে এভারটন। ১৭ মিনিটে ফ্লোরেন্ত মালুদা ১৬ গজ দূর থেকে করা গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেলসিই। ৩৩ মিনিটে ল্যান্ডন ডনোভানের কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান সাহা। জয়সূচক গোলটি করেন ৭৫ মিনিটে। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস না করলে হয়তো হ্যাটট্রিকই হয়ে যেত সাহার।

প্রয়োজনে ১৫০ জনকে ডাকবেন ম্যারাডোনা

মার্টিন পালের্মো আবারও ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছে। একটি গোল করে এবং আরেকটি গোল করিয়ে বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন আর্জেন্টিনাকে। নিজেদের মাঠে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে পুঁচকে জ্যামাইকার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। ৮২ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় জয়টি নিয়ে তাই ফেরা হলো না ক্যারিবীয় দেশটির।
গোলশূন্য প্রথমার্ধে নিয়মিত একাদশের বাইরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনা মন ভরাতে পারেনি মার দেল প্লাটার হোসে মারিয়া মিনেলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের ২ মিনিটের মাথায় খেয়ে বসে গোল। রায়ান জনসনের করা সেই গোলটি হন্যে হয়েও শোধ করতে পারছিল না ম্যারাডোনার দল। ডাগ আউটে বসা ম্যারাডোনা কেবল উশখুশ করছিলেন। ৮৩ মিনিটে হেডে গোল করে সমতা ফেরান দলের দুই পরিচিত মুখের একজন—পালের্মোই। পালের্মোরই ক্রসে ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ইগনাসিও কানুত্তো অতিরিক্ত সময়ে গোল করে অপমানের হাত থেকে বাঁচান সমালোচনা-জর্জর ম্যারাডোনাকে।
ম্যারাডোনা সমালোচিত হচ্ছেন এই ম্যাচের জন্যও নতুন নতুন খেলোয়াড় ডেকে। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলোয়াড় ডাকার সেঞ্চুরিই করে ফেলেছেন ’৮৬ বিশ্বকাপের মহানায়ক। এ নিয়ে সমালোচনায় ম্যারাডোনার পাল্টা জবাব কী হবে, সেটা তো অনুমান করে নেওয়াই যায়। ‘১০০ জনকে ডেকেছি বলে যদি আমার সমালোচনা হয় তো আমি ১৫০ জনকে ডাকব’—বলেছেন ম্যারাডোনা। তার এই মন্তব্যে যদি একরোখা একজনের ছবি ভেসে ওঠে তো পরেই পাওয়া যাবে যুক্তিবাদী আরেকজনের চেহারা। যেখানে ম্যারাডোনা ব্যাখ্যা করেছেন, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচগুলোতে মেসি-হিগুয়েইনদের ডাকার চেয়ে তাদের বার্সেলোনা-রিয়ালে খেলাটাই বেশি কাজে লাগবে। এ সুযোগে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে খেলা খেলোয়াড়দেরও বাজিয়ে দেখা যাবে। আর্জেন্টিনা থেকেও কেউ অভিযোগ তুলতে পারবে না, শুধু ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড়দেরই প্রাধান্য দিয়েছেন ম্যারাডোনা।
‘বিশ্বকাপের জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ ক্লাবের হয়েই খেলুক। বিশ্বকাপের সঙ্গে আর কোনো কিছুর তুলনা চলে না। আমি দুটো ফাইনালে খেলেছি। তাই বিশ্বকাপ সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি। বিশ্বকাপে আপনি যদি ফর্মুলা ওয়ানের গাড়ির গতিতে না ছুটতে পারেন তাহলে আপনাকে বাড়ি ফেরার পথ ধরতে হবে’—বলেছেন ম্যারাডোনা।
২৩ জনের দলের ৬০ শতাংশ তিনি ঠিক করেই ফেলেছেন—এই তথ্য আগেই দেওয়া। পরশু পালের্মোর পারফরম্যান্সের পর মনে হচ্ছে, সেই ৬০ শতাংশের মধ্যেই থাকছেন বোকা জুনিয়র্সের এই ৩৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।
ওদিকে পরশু চমকে দেওয়া জয় পেয়েছে চীন। জাপানে চলমান পূর্ব এশীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে তারা ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। ২০১০ বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ চীন সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জিতল ৩২ বছর পর।

বাবাকে সেঞ্চুরি উৎসর্গ ইমরুলের

সেঞ্চুরি করার পর শূন্যে লাফ দেওয়ার সময় যাঁর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠেছে, হোটেলে ফিরেই পেলেন তাঁর ফোন। কী বললেন বাবা? ‘খুব খুশি। বাবার কারণেই আমার ক্রিকেটার হওয়া। নিজে খেলতেন, বেশি দূর যেতে পারেননি। আমাকে নিয়ে তাঁর একটাই স্বপ্ন ছিল—বড় ক্রিকেটার হব, জাতীয় দলে খেলব’—ইমরুল কায়েসের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটা যে বাবাকেই উত্সর্গিত, এতে আর আশ্চর্য কি!
যে স্যাটেলাইট চ্যানেলে খেলা দেখিয়েছে, মেহেরপুরের হুজুলপুর গ্রামে সেটি দেখা যায় না।
বনী আমিন বিশ্বাস তাই ছেলের সেঞ্চুরি দেখতে পারেননি। ঢাকায় ইমরুলের এক ফুফাতো ভাইকে একটু পর পর ফোন করে স্কোর জেনেছেন। ইমরুলের সেঞ্চুরির পরই গ্রামের লোকজন ঘিরে ধরেছে তাঁকে। এত বড় একটা ঘটনা উদ্যাপন করতে হবে। বনী আমিন বিশ্বাসকে তাই আয়োজন করতে হয়েছে ‘খানা’র।
ছেলের আনন্দটা অবশ্য অবিমিশ্র নয়। এত দিনের স্বপ্নপূরণের আনন্দ আছে, আবার একটা আক্ষেপও আছে। পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে চেয়েছিলেন, আউট হয়ে গেছেন ১৬ বল বাকি থাকতে। ‘বলটা ভালো ছিল’—এই বলে সান্ত্বনা দিচ্ছেন নিজেকে। জিততে না পারার দুঃখে অবশ্য কোনো সান্ত্বনা নেই, ‘আমি সেঞ্চুরি করলাম। দলও যদি জিতত, তাহলে আনন্দটা অনেক বেশি হতো। জেতার সুযোগ তো ছিলই।’
ক্যারিয়ারের মাত্র দশম ওয়ানডে। এই ১০টি ওয়ানডেও খেলেছেন প্রায় সোয়া দুই বছরে। ২০০৮ সালে এই চট্টগ্রামে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে অভিষেক। এর পরই দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও দুটি ম্যাচ খেলে বাদ পড়লেন, ফিরলেন এই গত মাসে দেশে ত্রিদেশীয় সিরিজে। মাঝখানে শুধুই টেস্টের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। ওয়ানডেতে অচল—চালু হয়ে গিয়েছিল এমন একটা ধারণাও। অথচ ইমরুল জানাচ্ছেন, স্ট্রোক খেলতেই পছন্দ তাঁর। সব সময় যে তা খেলেন না, সেটির কারণ উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গে তাঁর রসায়ন, ‘তামিম যখন স্ট্রোক খেলে, আমি তখন একটু ধরে খেলার চেষ্টা করি।’
টেস্ট ক্রিকেটই ধ্যানজ্ঞান। সেই কৈশোর থেকে দুই চোখে স্বপ্ন এঁকেছেন, ‘বড় হয়ে এক দিন টেস্ট ক্রিকেটার হব।’ হয়েছেন। টেস্টে এখনো বড় কিছু করা হয়নি বলে দুঃখ আছে, তবে অন্য একটা কাজ মোটামুটি সেরে ফেললেন। ওয়ানডেতেও নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতের বিপক্ষে ৭০ রানের পর কালকের সেঞ্চুরি—প্রমাণ তো করলেনই।
প্রমাণের ছিল আরও কিছু। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনূদিত না হওয়ায় অনেকে তাঁকে ‘ডোমেস্টিক ক্রিকেটের প্লেয়ার’ নাম দিয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও যে তাঁর সেঞ্চুরি করার ক্ষমতা আছে, এটাই কালকের ইনিংসটির বড় তৃপ্তি, ‘জাতীয় দলের পক্ষে একটা বড় ইনিংস খেলা ছিল আমার স্বপ্ন। ভারতের বিপক্ষে ৭০ রান করে আউট হয়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আজ তা হলো।’
সেঞ্চুরি করার মুহূর্তে বাবার কথা মনে পড়েছে। আর পুরো মনে ছড়িয়ে পড়েছে একটা আত্মবিশ্বাস, ‘সেঞ্চুরিটা করে মনে হয়েছে, আমি এই পর্যায়ে খেলার যোগ্য। অনেকেই বলত ডোমেস্টিকে ভালো করি, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারি না—এটা ভুল প্রমাণ করার একটা জেদ ছিল।’
সকালে বৃষ্টি হয়েছে, দুপুরে ব্যাটিং করার সময়ও আকাশ মেঘে ঢাকা। শুরুতে বল তাই ভালোই এ দিক-ও দিক করেছে। শট খেলার আগে কিছুক্ষণ উইকেটে টিকে থাকার দিকে মন দিয়েছিলেন। তার পরও হাফ সেঞ্চুরি করতে ৭৭ বলের বেশি লাগেনি। পরের ফিফটি ৫৭ বলে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির মহিমা তো অন্যরকম হতে বাধ্য। ইমরুল কায়েসের এই সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত অনুভূতির সেই সীমানাও। নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যাটিং-ব্যর্থতার পর এমন উজ্জীবনী কিছুর প্রত্যাশাতেই ছিল বাংলাদেশ দল।

হাইতিতে আটক ১০ মার্কিনি শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন

শিশু অপহরণ ও পাচারের অভিযোগে হাইতিতে আটক ১০ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে হাইতির একজন বিচারক জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ তাঁরা মুুক্তি পাচ্ছেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়া না হলেও তাড়াতাড়িই মুক্তি দেওয়া হবে বলে জনিয়েছেন। ওই মার্কিনিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে শিশু অপহরণ ও পাচারের অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে।
ওই ১০ মার্কিনি হাইতিতে ধর্মপ্রচারের কাজ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের এই মার্কিনিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী।
ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত হাইতি থেকে ৩০ শিশুকে চলতি মাসের ৪ তারিখে বাইরে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তাঁদের আটক করে দেশটির পুলিশ। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাইতির আইনে তাঁদের কারাদণ্ড হতে পারে।

ফনসেকাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান বিরোধীদের

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শরত্ ফনসেকাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে সে দেশের প্রধান বিরোধী দল। গতকাল শুক্রবার শ্রীলঙ্কার আইনসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানান। এদিকে শরত্ ফনসেকারের গ্রেপ্তার নিয়ে কলম্বোয় বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে গতকাল ফনসেকার আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর স্ত্রীর করা একটি আবেদনের শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফনসেকার মুক্তির পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। রাজাপক্ষে জানিয়েছেন, সাবেক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর তদন্তের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।’ তবে বিরোধী নেতার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এই বৈঠক নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সরকার এখনো ফনসেকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানায়নি। তবে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব গোটাভায়া রাজাপক্ষে বলেন, তিনি (ফনসেকা) পরিষ্কারভাবেই একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছিলেন।
রাজাপক্ষের গ্রেপ্তার নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় রাজধানী কলম্বোতে গতকাল নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ফনসেকার স্ত্রীর আবেদনের শুনানি উপলক্ষে আদালত এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের মুখপাত্র প্রশান্ত জয়কোড়ে বলেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।’
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গত সোমবার ফনসেকাকে গ্রেপ্তার করে সামরিক পুলিশ।

বুদ্ধদেবের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে উলামায়ে হিন্দ

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। গতবারের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটের সিংহভাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে পড়ায় উত্কণ্ঠা বেড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের শাসকজোট বামফ্রন্টের। অথচ এত দিন মুসলিম ভোটব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করত বামফ্রন্টই। লোকসভা নির্বাচনের পর এক জরিপে দেখা যায়, সংখ্যালঘু মুসলিমরা এখন ঝুঁকে পড়েছে মমতার তৃণমূলের দিকে। এ অবস্থায় নিজেদের ভোটব্যাংকের দখল পুনরুদ্ধার করতে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ। বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের জমিয়ত ওলামায়ে হিন্দের নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, ‘মুসলিমদের জন্য বন্ধ দরজা এত দিন পর খুলল। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। মুখ্যমন্ত্রী গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।’
মুসলিম ভোট তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ ছিল বিচারপতি সাচার কমিটির প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা এই রাজ্যে সব দিক থেকে বঞ্চিত। তারা চাকরি, পড়াশোনা, ব্যাংকঋণ—সব দিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনই মূলত মুসলিমদের তৃণমূলের দিকে ঝোঁক বাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ মুসলিম সমপ্রদায়। এর মধ্যে আবার ১২টি মুসলিম সমপ্রদায় আছে যারা পিছিয়ে পড়া সমপ্রদায়ভুক্ত।
আগামী বছরের এপ্রিলের দিকে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। এর আগে এ বছরের মে মাসের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কলকাতা করপোরেশনসহ ৮২টি পৌরসভার নির্বাচন। ওই নির্বাচনে মুসলিম ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারের জন্য শাসকজোট বামফ্রন্ট গত সোমবার সিদ্ধান্ত নেয় পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার। পরে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অনগ্রসর মুসলিমদের চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের ওই ঘোষণা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৪ সালে গঠিত বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার অনগ্রসর মুসলিম সমপ্রদায়ের চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্ত অবশ্য মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলসহ রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতারা। তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত ক্লিনটনের সফল অস্ত্রোপচার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। নিউইয়র্কের প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করার পর সন্ধ্যায় তাঁর হূদযন্ত্রে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিল ক্লিনটনের শারীরিক অবস্থা এখন চমৎকার। গতকাল শুক্রবার সকালেই তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হূদযন্ত্রের সমস্যা পুরোনো। এর আগে ২০০৪ সালে তাঁর বুকে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল। পুরোনো সমস্যার জের ধরেই তিনি একদিন হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ সমস্যাটি মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এখনো নানা কল্যাণমুখী কাজে সক্রিয় বিল ক্লিনটন। দেশের মতো বহির্বিশ্বেও তিনি এখনো সমান জনপ্রিয়। ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতির ত্রাণ ও পুনর্বাসনে বিল ক্লিনটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির পুনর্গঠনে তিনি ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ঘন ঘন সফর করছেন হাইতির বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে। কর্মপাগল সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো দিনের ১৮ ঘণ্টা কাজের মধ্যে থাকেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর হাসপাতালে ভর্তির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা দ্রুত লোকারণ্য হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে সংবাদটি প্রচার করতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র সাবেক এ প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থার সংবাদ নিয়ে জনগণকে উৎকণ্ঠিত হতে দেখা যায়।
বিল ক্লিনটনের স্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বৃহস্পতিবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছিলেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকে থাকা অবস্থায় স্বামীর অসুস্থতার খবর তাঁর কাছে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন থেকে বিশেষ বিমানে হিলারি দ্রুত নিউইয়র্ক পৌঁছান। সেখানে বিল ক্লিনটনের পাশে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা চেলসি ক্লিনটন। হিলারি নিউইয়র্কে পৌঁছার পরই ক্লিনটনের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিল ক্লিনটনের শারীরিক অবস্থা এখন চমত্কার। রক্তচাপসহ সবকিছু স্বাভাবিক পর্যায়ে। শুক্রবার দিনই (গতকাল) তিনি হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন। হিলারি ক্লিনটন তাঁর পূর্বনির্ধারিত মধ্যপ্রাচ্য সফর এক দিন পিছিয়ে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হাসপাতালে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্টের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ওবামা ও ক্লিনটন এ সময় হাইতির ত্রাণ পুনর্বাসন নিয়েও কথা বলেছেন। হাসপাতাল থেকেও ক্লিনটন বলেছেন, হাইতির পুনর্গঠনে তিনি আবার দ্রুত কাজে নামার ব্যাপারে আশাবাদী।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ হাসপাতালে ফোন করে কথা বলেছেন চেলসি ক্লিনটনের সঙ্গে। বিল ক্লিনটনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে হাইতির ত্রাণ ও পুনর্বাসনে দুজন মিলে আবার দ্রুত কাজ শুরু করার উন্মুখ প্রত্যাশার কথা বলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ।

তালেবানের ঘাঁটি ঘিরে রেখেছে মার্কিন-আফগান বাহিনী

আফগানিস্তানের মারজাহ শহর ঘিরে রেখেছে মার্কিন ও আফগান বাহিনী। শহরটি তালেবানের শক্ত ঘাঁটি। শহর থেকে জঙ্গিদের পালানোর সব পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের অভিযানের ক্ষেত্র পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু অভিযান শুরুর অপেক্ষা। পরিকল্পিত ওই অভিযানকে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে নয় বছরের যুদ্ধের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
মার্কিন ও আফগান বাহিনীকে লক্ষ্য করে রকেট ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করছে শহরে অবরুদ্ধ জঙ্গিরা। বড় ধরনের অভিযান শুরুর আগে ন্যাটো বাহিনীকে খণ্ড লড়াইয়ে প্রলুব্ধ করার জন্যই তালেবান ওই কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জোশুয়া উইনফ্রে বলেন, ‘তারা আমাদের লড়াইয়ে নামানোর চেষ্টা করছে।’
শহরে এক হাজারেরও বেশি তালেবান জঙ্গি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরটি তালেবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের প্রায় ৩৮০ মাইল দূরের ওই শহরটি লাভজনক আফিম বাণিজ্যের কেন্দ্রও বটে।
ভূমিমাইন ও রাস্তায় পেতে রাখা বোমাকে সেনা অভিযানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা হয়নি। হেলমান্দ প্রদেশে ওই শহরটির বাসিন্দা প্রায় ৮০ হাজার। মারজাহ দক্ষিণ আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রণাধীন সবেচেয়ে বড় শহর।
ন্যাটোর কর্মকর্তারা বলেছেন, অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আফগান সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, লড়াইয়ে তাঁরা হিট-অ্যান্ড-রান কৌশল প্রয়োগ করবেন।
তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় না দিতে গতকাল শুক্রবার সামরিক হেলিকপ্টার থেকে মারজাহ শহরে প্রচারপত্র ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বেতার কেন্দ্র থেকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের একইভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
প্রাদেশিক মুখপাত্র দাউদ আহমাদি বলেন, ‘মারজাহ শহরে প্রচারপত্র ফেলা হচ্ছে। সেখানে লেখা রয়েছে—আপনাদের বাড়িতে তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দেবেন না। আপনাদের এলাকায় তাদের ঢুকতে দেবেন না। সেনারা আপনাদের সহায়তা করতে আসছে। আমরা এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনব। আপনারা শান্ত ও নির্ভয়ে থাকুন।’
বিস্ফোরণে মার্কিন সেনা আহত: গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মার্কিন ও আফগান বাহিনীর একটি যৌথ চৌকিতে বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে কী কারণে ওই বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাখতিয়া প্রদেশে আফগান ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর একটি যৌথ চৌকিতে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
২০ তালেবানের মৃত্যু: আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ঠান্ডায় জমে মারা যাওয়া ২০ তালেবান জঙ্গির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই তালেবান যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল।
আঞ্চলিক পুলিশের মুখপাত্র লাল মোহাম্মদ আহমদজাই বলেন, বাগলান প্রদেশের তুষার-আবৃত পাহাড়ি এলাকার দুটি গুহার ভেতর থেকে গত মঙ্গলবার ওই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

মরিনহোর জরিমানা

‘অদ্ভুত স্বাদ’—মিলান ডার্বি শেষে এই শব্দযুগল ব্যবহার করেছিলেন ইন্টার মিলান কোচ হোসে মরিনহো। ম্যাচের রেফারিং নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শব্দ দুটির ব্যাখ্যাও করেছিলেন, ‘আমাদের জয় ঠেকাতে সবকিছুই করা হয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি, আগেভাগেই চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে দেওয়া হবে না আমাদের।’ এর জন্য জরিমানা গুণতে হলো মরিনহোকে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ১৮ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে তাঁকে।

চেষ্টাটাই করতে পারল না উইন্ডিজ

এক ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডগ বলিঞ্জারের বলগুলো সাপের মতো ছোবল তুলে বেরিয়ে গেছে ক্রিস গেইলের মাথার সামনে-পেছন দিয়ে। একটি গেইলের হেলমেটে বাতাস লাগিয়ে উইকেটকিপারকে ফাঁকি দিয়ে গেছে বাউন্ডারির বাইরে। এক ওভারেই বোঝা গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাজটা সহজ হবে না। তবে ৫০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২৬, পরে বৃষ্টি সেটি নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় ২৪ ওভারে ১৫১। ভালো একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল বলে আফসোস করতেই পারেন গেইলরা। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে ৫ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয়টি, ২-০-তেই এগিয়ে রইল অস্ট্রেলিয়া।
এমনিতেই ইনজুরিতে আক্রান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে কেমার রোচকে হারিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ইনজুরিতে হারায় শন মার্শকে। আর বিশ্রাম দেয় শেন ওয়াটসন, ক্লিন্ট ম্যাকে এবং ব্রাড হাডিনকে। সুইং, বাউন্স সব মিলিয়েই পেসারদের জন্য বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সিডনির উইকেট। টস জিতে গেইলের বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটাও তাই কাজে লেগে যায়। ৮ ওভারের ফিরে যান দুই ওপেনার অ্যাডাম ভোজেস (৮) ও টিম পেইন (১৬)। তৃতীয় উইকেটে ডেপুটি মাইকেল ক্লার্ককে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। পরের দুটি জুটিতে ক্যামেরন হোয়াইট (১৭) ও মাইক হাসিকে নিয়ে ক্লার্ক তোলেন ২৯ ও ৩৭ রান।
ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশের জুটিটি আসে ষষ্ঠ উইকেটে, হাসি ও জেমস হোপস তোলেন ঠিক ৫০ রান। তার পরও শেষ ওভারে রায়ান হ্যারিস অপ্রত্যাশিত ঝড় না তুললে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২২৫ হয় না। রবি রামপলের টানা চার বলে হ্যারিস মারেন তিন চার ও এক ছয়। ৪ উইকেট পাওয়া রামপলের বোলিং বিশ্লেষণ খারাপ করে দিয়েছে ওই চারটি বল। রামপলের সঙ্গে নতুন বল হাতে নেওয়া ডোয়াইন স্মিথ নিয়েছেন ৩ উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ বল খেলার পরই নামে বৃষ্টি। দেড় ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলেও ১ বল পরেই আবার বৃষ্টি, ম্যাচেরও মৃত্যু। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ আগামীকাল ব্রিসবেনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৫ ওভারে ২২৫ (ক্লার্ক ৪৬, হাসি ৪৪, হোপস ৩০, পন্টিং ২২, হ্যারিস ২১; রামপল ৪/৬১, স্মিথ ৩/৪৫, স্যামি ২/৪৬, পোলার্ড ১/২৬)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১ ওভারে ৬/০ (গেইল ০*, ডাওলিন ০*, অতিরিক্ত ৬; বলিঞ্জার ০/২)।

রমিজের বিপক্ষে নওয়াজ-মিয়াঁদাদ

রমিজ রাজার সৌজন্যে সম্প্রতি নতুন একটি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট, ‘এসওপি’, মানে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর।’ বল টেম্পারিংকে তিনি বলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের এসওপি। শুধু তা-ই নয়, বোলারদের হাত-পা বেঁধে রাখার নানা নিয়মের এই যুগে বল টেম্পারিংকে বৈধতা দেওয়ার দাবিও তুলেছেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক। তবে রমিজেরই সাবেক দুই সতীর্থ সরফরাজ নওয়াজ ও জাভেদ মিয়াঁদাদ আবার এটিকে ‘নির্বোধের’ দাবি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেটের যেকোনো বিতর্কে সবার আগে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায় বলে এমনিতেই সুখ্যাতি-কুখ্যাতি দুটোই আছে নওয়াজের। আর এই বল টেম্পারিং-বিতর্ক তো একদিক থেকে ছুঁয়ে গেছে তাঁকেও। রিভার্স সুইংয়ের জনক বলা হয় তাঁকেই, আর বল টেম্পারিং তো হয়ে থাকে এই রিভার্স সুইংয়ের জন্যই। বল টেম্পারিংকে পাকিস্তান ক্রিকেটের এসওপি বললে তাঁর আঁতে ঘা লাগারই কথা। রমিজের বক্তব্যে তাই ফুঁসে উঠেছেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার, ‘বল টেম্পারিংকে বৈধতা দেওয়ার দাবি স্রেফ নির্বোধের দাবি। বল টেম্পারিংয়ের মাত্রা নির্ধারণ করবে কে? কে নির্ধারণ করবে বল মাত্রানুযায়ী টেম্পারিং করা হয়েছে, নাকি বেশি? আর মাত্রার চেয়ে বেশি টেম্পারিং করলে শাস্তিটাই বা কীভাবে দেওয়া হবে?’
শুধু এটুকুই নয়, বর্তমান-সাবেক বোলাররা যখন খেলাটা ব্যাটসম্যানদের দখলে চলে যাচ্ছে বলে চিত্কার করছেন, নিজে বোলার হয়েও নওয়াজ পক্ষ নিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের, ‘দর্শক গাঁটের পয়সা খরচ করে মাঠে আসে ব্যাটসম্যানদের ঝড় দেখার জন্য। বল টেম্পারিংকে বৈধতা দিলে তো সব বোলাররাই ব্যাটসম্যানদের অল্প রানেই বেঁধে ফেলবে।’ মিয়াঁদাদ অবশ্য এত কঠোরভাবে বলেননি। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়কের যুক্তি, টেম্পারিং বৈধতা পেলে ৩৪ ওভারের পর বল পাল্টানোর নিয়মের কোনো মানেই থাকবে না, সবাই বল বিকৃত করে ফেলবে।

ইউসুফের গুমর ফাঁস করবেন মালিক

শোয়েব মালিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা তেতো অনেক দিন থেকেই। মালিক অধিনায়ক থাকার সময়ই তো ‘যথেষ্ট সম্মান পান না’ অভিযোগ করে আইসিএলে চলে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। এবার যখন তিনি অধিনায়কত্ব করলেন জাতীয় দলের, তখনো নাকি ষড়যন্ত্র করেছেন মালিক। ইউসুফ কারও নাম বলেননি। তবে দলাদলির পেছনে তিনি যাঁকে দায়ী করছেন, সেটি মালিক বলেই নিশ্চিত পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম।
এদিকে দলে ঐক্য নষ্টের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, সেটির মোক্ষম জবাব কয়েক দিনের মধ্যেই দেবেন বলে জানিয়েছেন মালিক, ‘ও (ইউসুফ) আমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আমি শিগগিরই ওকে এর পাল্টা জবাব দেব। তাঁর গুমর সবার সামনে ফাঁস করে দেব।’
অধিনায়ক হিসেবে ইউসুফকে দেখে নাকি গা-জ্বলুনিই ধরে মালিকের, ‘ও আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা মোটেও সত্যি নয়। আমি বরাবরই দল অন্তঃপ্রাণ একজন খেলোয়াড়। দলের পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু আমি করিনি। ২০০৮ সালে যখন অধিনায়ক ছিলাম, তখনো ইউসুফ আমাকে আক্রমণ করেছে। এখন দুই ম্যাচের জন্য অধিনায়ক করার পরও সে একই কাজ করল।’
ইউসুফের অভিযোগের জবাবটা একটু দেরিতেই দিলেন মালিক। জানা গেছে, এ ব্যাপারে পাল্টা কিছু না বলতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেই নাকি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউসুফ গণমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ করে যাওয়াতেই আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য মালিকের আবির্ভাব।
ইউসুফের নতুন মন্তব্য অবশ্য একটু সংশোধিত হয়েছে। একজন নয়, দলের দুই-তিনজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এই ব্যাটসম্যান, ‘দলের সবকিছু নষ্টের গোড়া আসলে দু-তিনজন। আমি কয়েক দিনের মধ্যেই ওদের নাম ফাঁস করে দেব।’ পাকিস্তানের ক্রিকেটে অন্তঃকলহ অবশ্য ঐতিহ্যই। কেবল ইমরান খান পেরেছিলেন সবাইকে এককাট্টা করতে। ইউসুফের দাবি, সেই ইমরানও এই দলটাকে চালাতে হিমশিম খেয়ে যেতেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বর্তমান দলটারই ব্যাটিং-শক্তি সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল। আজ ইমরান অধিনায়ক থাকলে তিনিও উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় ভুগতেন। এই দলটাকে সামলাতে তাঁকেও হিমশিম খেয়ে যেতে হতো।’ সমস্যার শুরু মালিককে অধিনায়ক করা থেকেই হয়েছে বলে মন্তব্য ইউসুফের। তখন থেকেই নাকি দলে দলাদলি আর সিনিয়রদের অসম্মান করার রেওয়াজ শুরু।
দুজনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পাকিস্তান দলে আসলেই সমস্যা আছে। সেই সমস্যার কথা উঠে এসেছে দলের ম্যানেজারের দাখিল করা প্রতিবেদনে। অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি সবগুলো ম্যাচ হেরে আসার কারণ হিসেবে অধিনায়কত্ব, দলীয় শৃঙ্খলাকে দায়ী করা হয়েছে ম্যানেজারের ওই রিপোর্টে।

অলিম্পিকে আসছে ক্রিকেট

ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পালে জোর হাওয়া দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। অলিম্পিক ক্রীড়া হিসেবে আইওসির অনুমোদন পেয়েছে ক্রিকেট। অলিম্পিকের খেলার তালিকায় ক্রিকেটের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে তাই আর কোনো বাধা নেই। ২০২০ অলিম্পিকেই হয়তো দেখা যাবে ব্যাট-বলের লড়াই। বিশ্বের সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ লড়াইয়ে নামবে, বিশ্বকাপের শিরোপার জন্য নয়, সোনার পদকের জন্য। গতকাল থেকে শুরু ভ্যাঙ্কুবার শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের প্রাক্কালে ক্রিকেটের জন্য খুশির খবরটি জানান আইওসির জনসংযোগ পরিচালক মার্ক অ্যাডামস।
সোনার পদকের জন্য ক্রিকেটারদের লড়াই অবশ্য অনেক পুরোনো। কুয়ালালামপুরে ১৯৯৮ কমনওয়েলথ গেমসেই ছিল ক্রিকেট। ফাইনালে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল শন পোলকের দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্রিকেট ছিল বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত এসএ গেমসেও। এ বছরের নভেম্বরে চীনের গুয়াংগুজে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসেও আছে ক্রিকেট। খোদ অলিম্পিকেই নতুন নয় ক্রিকেট। বরং অলিম্পিকের সবচেয়ে পুরোনো খেলাগুলোর একটি এটি। সেই ১৯০০ সালে, আধুনিক অলিম্পিকের দ্বিতীয় আসরেই ছিল ক্রিকেট। শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ড নাম প্রত্যাহার করায় লড়াইয়ে ছিলই কেবল দুটি দল। স্বাগতিক ফ্রান্সকে হারিয়ে সোনা জেতে ইংল্যান্ড।
বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটে এতটা জনপ্রিয়তা নেই, তার সঙ্গে ক্রিকেটকে অলিম্পিকে না রাখার আরেকটা কারণ লম্বা সময় ধরে খেলা। তবে টি-টোয়েন্টির আবির্ভাবে দুটো সমস্যাই সমাধানের পথে। সময়ও কম লাগছে, জনপ্রিয়তাও বাড়ছে হু হু করে। এর পর থেকেই আইওসির অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকেরা। গত বেইজিং অলিম্পিকেই আইওসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি নিয়ে আলোচনা করেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডেভিড মরগান। গত বছর লর্ডসে ‘কাউড্রে’ স্মারক বক্তৃতায় টি-টোয়েন্টিকে ২০২০ অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। স্টিভ ওয়াহ, স্টিভেন ফ্লেমিং, কুমার সাঙ্গাকারা, সৌরভ গাঙ্গুলী, ভিভিএস লক্ষ্মণ, যুবরাজ সিংদের মতো সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা সমর্থন জানান গিলক্রিস্টকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবার সফল হওয়ার পথে।

পরাজয়েও উজ্জ্বল ইমরুল-শফিউল

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে পরাজয়! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলেই যেতে চাইবে বাংলাদেশ। কিন্তু সবাই কি? ইমরুল কায়েস, শফিউল ইসলাম যে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন হোয়াইটওয়াশ হওয়া এই সিরিজেই। নিজ নিজ বিভাগে যে তাঁরাই সেরা।
সবার ওপরে ইমরুল
সিরিজটা একদমই ভালো কাটেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দলের ব্যাটিং-স্তম্ভ যাঁরা, ব্যর্থতার মিছিলে ছিলেন তাঁরাও। আশরাফুল, সাকিব, আফতাব ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং গড় ১২.৩৩, ১৪.৬৬, ১৪.০০ ও ১২.৩৩! তামিম, নাঈমও কি খুব ভালো করেছেন? তিন ম্যাচে তাঁদের রান ৭১ ও ৬৮। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমই বলতে হয় ইমরুল কায়েসকে। শেষ ম্যাচে ১০১ রানের সুবাদে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৭.৬৬। ১৪৩ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ স্কোরারও তিনি!
ভেট্টোরিকে ছাপিয়ে শফিউল
সিরিজে নিউজিল্যান্ডের উইকেট পড়েছে ২১টি, বাংলাদেশের ২৭টি। শফিউলের সেরা বোলার হওয়ার মাহাত্ম্যটা এখানেই। প্রতিপক্ষের কম উইকেট পড়লেও ২৩.২৮ গড়ে ৭ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরা বোলার তিনি। নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার ভেট্টোরির উইকেট ৬।
আরও যেখানে বাংলাদেশ এগিয়ে
ব্যক্তিগত সেরা ইনিংসটি ইমরুল কায়েসের (ক্রাইস্টচার্চে ১৩৮ বলে তাঁর ১০১)। সিরিজের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানও তিনি। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস মার্টিন গাপটিলের ৯১। সিরিজে সেরা দুটি বোলিংও বাংলাদেশের দুই বোলারের—ক্রাইস্টচার্চে সাকিব আল হাসানের ৪/৩৩ ও নেপিয়ারে শফিউল ইসলামের ৪/৬৮। ম্যাচের ৪ উইকেট পাওয়া বোলারও তাঁরা দুজন।
নিউজিল্যান্ড এগিয়ে
দলগত সর্বোচ্চ রান নিউজিল্যান্ডের ৩৩৬/৯ (নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডে)। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫টি ছক্কা মেরেছেন জ্যাকব ওরাম ও রস টেলর। সর্বোচ্চ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি জ্যাকব ওরামের। নেপিয়ারে ৪০ বলে তাঁর ৮৩ রানের ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট ২০৭.৫০! ৮টি ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের মুশফিকুরকে (৪) পেছনে ফেলেছেন নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
সমতায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
৮০ কিংবা ততধিক রানের চারটি ইনিংসের দুটি বাংলাদেশের (কায়েস ১০১ ও মুশফিকুর ৮৬), দুটি নিউজিল্যান্ডের (গাপটিল ৯১ ও ওরাম ৮৩)। সিরিজে ৫ উইকেট পাওয়া চার বোলারের দুজন বাংলাদেশের (শফিউল ও সাকিব) ও দুজন নিউজিল্যান্ডের (ভেট্টোরি ও ম্যাকাই)। সেঞ্চুরি জুটির ক্ষেত্রেও দারুণ সমতা। একটি করেছেন মুশফিকুর ও নাঈম (১০১), আরেকটি নিউজিল্যান্ডের ব্রুম ও ওরাম (১২৩)।
না চাহিলে যারে...
এক ইনিংসে অতিরিক্ত খাতে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার লজ্জা নিউজিল্যান্ডের। ক্রাইস্টচার্চে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংসে অতিরিক্ত খাতে নিউজিল্যান্ড দিয়েছে ২১ রান। তবে লজ্জার আরেকটি জায়গায় বাংলাদেশ বোলারদের একচ্ছত্র ‘আধিপত্য’! সবচেয়ে বেশি খরুচে বোলারের শীর্ষ চারজনই বাংলাদেশের। নাজমুল, শফিউল, রুবেল ও সাকিব এক ম্যাচে দিয়েছেন যথাক্রমে ৭৮, ৬৮, ৬৮ ও ৬২ রান।

নিউজিল্যান্ডকে সাকিবদের সতর্কবার্তা

সফরের প্রথম তিন ম্যাচে ল্যাজ গুটিয়ে থাকা ‘বাঘ’ হঠাত্ শেষ ওয়ানডেতে থাবা মেলে ধরায় নিউজিল্যান্ড একটু বিস্মিত। নিউজিল্যান্ডেরই একটি দৈনিক যেমন লিখেছে, অবশেষে থাবা থেকে কয়েকটি নখ বের করে দেখাল ‘টাইগার’রা। স্টাফ নামের পত্রিকাটির মন্তব্য, ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটা আসলে নিউজিল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা।
আসলেই কি তা-ই? অপরিচিত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশ কি তাহলে সফরের একমাত্র টেস্টে দারুণ লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে? ক্রাইস্টচার্চের গত ওয়ানডেটার কারণেই আসলে এই সব জিজ্ঞাসা। কিন্তু ড্যানিয়েল ভেট্টোরি আশ্বস্ত করছেন, আগামী পরশু থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে কোনো অঘটনের আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। দ্রুতই ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণের সঙ্গে মানিয়ে নেবে তাঁর দল।
‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটাই এমন। খেলাটা যে সংস্করণেরই হোক, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালো খেলোয়াড়েরা সেটি ঠিকই মানিয়ে নেয়। এভাবেই ক্রিকেট হচ্ছে এখন। তাই ভালো খেলোয়াড় হতে চাইলে আপনাকে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে পারফর্ম করতে হবে। খেলাটা ক্রিকেটের কোন ফর্মে হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবলে চলবে না’—বলেছেন ভেট্টোরি।
ওয়ানডে সিরিজের পর মাঝখানে তিন দিনের বিরতি। এই বিরতিতে বাংলাদেশ দল বা নিউজিল্যান্ড কেউই কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের জন্য এটা কোনো সমস্যা হবে না বলে তো ভেট্টোরি জানিয়েই দিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে সফর করা তরুণ বাংলাদেশ দলটি পারবে তো?
হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এই দলটির মধ্যে আছে কেবল মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০১ সালের ওই সফরে বাংলাদেশ অবশ্য শুরুতে চমকে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। ৫১ রানে তুলে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের প্রথম ৪ উইকেট। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ইনিংস ব্যবধানেই হারতে হয়েছে। তখনকার বাংলাদেশ দলের এটাই ছিল ধরাবাঁধা পরিণতি।
এই বাংলাদেশ অবশ্য ‘নতুন বাংলাদেশের’ ধ্বজা উড়িয়ে এবার সফর করছে নিউজিল্যান্ডে। ওয়ানডে সিরিজ জেতার হুমকিও শোনা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচে ওই খানিকটা লড়াই বাদ দিলে বাকি থাকে শুধু লজ্জা। শেষ ম্যাচের লড়াইটাও হয়েছে উইকেট স্পিন-সহায়ক হওয়ায়। ভেট্টোরি নিজে স্বীকার করেছেন, উইকেটের চরিত্র আসলে তাঁরা বুঝতে ভুল করেছেন।
খানিকটা স্পিন-সহায়ক উইকেট পেতেই ওয়ানডেতে নিজের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করেছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর টেস্ট-সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটাও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এই দুই প্রেরণা নিয়ে হ্যামিল্টনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অবশ্য স্পিন-সহায়ক উইকেট তিনি এবার পাবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই। হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে গত মার্চে, ভারতের বিপক্ষে। তখন উইকেটের চরিত্র মিশ্র বলেই মনে হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ভারতের তিন পেসার যেমন ৯ উইকেট নিয়েছিলেন, তেমনই দ্বিতীয় ইনিংসে হরভজন সিং একাই তুলেছিলেন ৬ উইকেট। ওই ম্যাচটাও ১০ উইকেটে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। এ মাঠে সর্বশেষ চার টেস্টের মাত্র একটা জিতেছে স্বাগতিকেরা। হেরেছেও অবশ্য ওই একটিতে।