Monday, April 8, 2019
মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে : জেসিন্ডা আরডার্ন by মো: আবদুস সালিম

বিশ্বে শান্তিকামীরা বলেছেন, জেসিন্ডা আরডার্ন একজন ভিন্নধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতির মানুষ। তথাপিও তিনি সঙ্কটকালে মুসলমানদের পাশে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তার পোশাক-আশাক, কথাবার্তা, আচরণ ইত্যাদিতেও এসব দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। মুসলমানদের মতো হিজাব পরেছেন। এমনকি দোয়া-দরুদও পাঠ করেছেন, যাতে সবাই তার কথা ও কাজে আকৃষ্ট হয়। এসব ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপও করেননি। অনভিপ্রেত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনি কতটুকু বেদনাকাতর হয়েছেন তা বিশ্বের মানুষ ঠিকই বুঝেছে। তিনি বলেছেন, ‘যে আঘাত হানা হয়েছে তোমাদের ওপর, তা লেগেছে আমার গায়েও। আর সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্মও নেই।’ হামলাকারী ধর্মীয় বিশ্বাসে খ্রিষ্টান হলেও বর্ণবাদই তার হামলার প্রধান কারণ। এসব চরমপন্থীর শুধু নিউজিল্যান্ডেই নয়, তামাম জাহানে কোনো স্থান নেই। এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত।
২৬ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের রাজনীতির ক্ষেত্রে ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ১ আগস্ট ২০১৭ থেকে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ মার্চ ২০১৭ থেকে মাউন্ট আলবার্ট নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৮ সালে সংসদীয় নির্বাচনে জেসিন্ডা প্রতিনিধিত্ব সভায় প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধি।
২০০১-এ ওয়াইকাটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের দফতরে তিনি গবেষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮-এ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোস্যালিস্ট ইয়ুথের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৭-তে মাউন্ট আলবার্ট নির্বাচনী এলাকায় উপনির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে তালিকাভুক্ত এমপি হিসেবে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকেন। আন্নেটে কিংয়ের পদত্যাগের পর ১ মার্চ ২০১৭-তে তিনি লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার হিসেবে সার্বিকভাবে নির্বাচিত হন।
জেসিন্ডা নিজেকে একজন সামাজিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষ বলে বর্ণনা করেন। প্রায় ৩৭ বছর বয়সে তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চপদস্থ অল্পবয়সী নারী। মরিনভিলে কলেজে লেখাপড়া করেন এই সফল নারী। ওই কলেজেই তিনি বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর ওয়াইকাটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও জনসংযোগ বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। জেসিন্ডার চাচী মেরিয়া এনড্রেন, যিনি দীর্ঘ দিন লেবার পার্টির মেম্বার ছিলেন, তিনিই জেসিন্ডাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। চাচীর সাথে থেকে প্রায় ১৮ বছরের ভাতিজি বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। তার সাথে থেকে জেসিন্ডা এ-সংক্রান্ত নানা বিষয় সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা লাভ করতে থাকেন। এ কারণেই তিনি প্রায় ১৭ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন এবং দলটির ইয়ং লেবার সেক্টরে বেশ বড়মাপের নেতা হন। এরপর তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি পলিসি ইউনিটের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে তিনি নীতিনির্ধারক হিসেবে সেকেন্ড টু দ্য হোম অফিসের সাথে যুক্ত হন।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোস্যালিস্ট ইয়ুথ নামক প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি থাকাকালে তিনি জর্দান, ইসরাইল, আলজেরিয়া, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৮-এ নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির তালিকায় উচ্চ অবস্থানে থেকে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যান। পরে লন্ডন থেকে ফেরত গিয়ে ফুলটাইম অভিযানে নামেন। বিরোধীদলীয় নেতা ফিল গফ তাকে পদোন্নতি দিয়ে সংসদের সামনের বেঞ্চে বসান। এবং ইয়ুথ অ্যাফেয়ার্সের মুখপাত্র হিসেবে নামকরণ করেন।
এক দশকের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে শিশুদারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেন জেসিন্ডা আরডার্ন। এই মর্মে জুলাই ২০১৮-তে সরকার কর্তৃক প্রতিটি পরিবারের জন্য এ-সংক্রান্ত প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সেখানে বরাদ্দ হিসেবে শিশুর অভিভাবকদের ২২ থেকে ২৬ সপ্তাহ ছুটি বৃদ্ধি থাকবে ২০২০ সাল থেকে। আর মাঝারি থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে ৬০ ডলার করে বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি মানুষকে অপরাধী হওয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে ধরেন। তার প্রচেষ্টা হচ্ছে মাদককে নিষেধ করবে নাকি আইনসিদ্ধ করবে, সে ব্যাপারে স্মারকলিপি তৈরি করেন।
ডিসেম্বর ২০১৭-তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী বলে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিলে আরডার্ন এর প্রতিবাদ করেন। বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু আন্তর্জাতিক কর্মী আমাদের সামনে যেতে না দিয়ে বরং পেছনে ঠেলে দিতে চাইছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় উপস্থিত থেকে সেখানে বিবৃতি দেয়ার সময় জাতিসঙ্ঘের বহুত্ববাদ এবং সারা বিশ্বের যুবকদের সহায়তার ক্ষেত্রে সুপারিশ করেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলোর ওপর দ্রুত নজর দেয়ার আহ্বান জানান।
একই সাথে নারীর ক্ষমতা ও তাদের প্রতি পেশাভিত্তিক সহানুভূতিশীল হওয়ার গুরুত্ব আরোপ করেন।
অক্টোবর ২০১৮-তে প্রধানমন্ত্রী চীনের জিনজিয়াং পুনঃশিক্ষাকেন্দ্র নিয়ে প্রসঙ্গ তোলেন এবং দেশটির উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুমের বিষয়টি তুলে ধরেন। কারণ চীন এক মিলিয়ন উইঘুর মুসলমানকে চীনের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে কোনো অভিযোগ ছাড়া এবং তাদেরকে কী শর্তে মুক্তি দেয়া যায় তার কোনো নির্দেশনা ছাড়াই বন্দী করে রাখে। মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বরোচিত আচরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন আরডার্ন। নভেম্বর ২০১৮ তিনি অং সান সু চির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নিউজিল্যান্ডের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসব কাজের জন্য জেসিন্ডা আরডার্ন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন, যেখানে সু চি হন নিন্দিত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অটিস্টিক শিশু ও তাদের মায়েরা by রহিমা আক্তার মৌ
‘না, মানে আমার একটা বড় ছেলে আছে ও অটিজমে আক্রান্ত শিশু।’
ছোট মেয়ে অভ্রের সাথেই প্লে ক্লাসে ভর্তি হয় নাবিলা, ও অন্য সব শিশুর মতো নয়। একটু দুষ্ট আর যখন তখন অন্য শিশুদের সাথে লেগে যায়, সবাই বোঝে নাবিলা অটিস্টিক শিশু। অভিযোগের কারণে নাবিলাকে স্কুল থেকে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় ওর মা। অটিজম স্কুলে দেয়, নাবিলা আরো আক্রান্ত হয়। ওর মায়ের কথা, ‘সাধারণ শিশুদের স্কুলে থেকে নাবিলা সুস্থ হচ্ছিল, অটিজম স্কুলে নেয়ার পর ও আরো অসুস্থ হয়। পাঁচ-ছয় বছর পর দেখা নাবিলাকে, ও পুরোই প্রতিবন্ধী মানসিক ও শারীরিকভাবে।
রিয়ন ওর মা-বাবার একমাত্র সন্তান, জন্মের দেড় বছরের মাথায় ওরা বুঝতে পারে রিয়ন স্বাভাবিক শিশু নয়, অটিজমে আক্রান্ত। রিয়নকে নিয়েই কাটিয়ে দেয় ওর বাবা-মা। আবার কেন সন্তান নেননি জিজ্ঞেস করায় রিয়নের মায়ের কথা, ‘আরেকটা সন্তান নিলে রিয়নকে দেখাশোনা করতে সমস্যা হবে, আর সেই সন্তানও যদি এমন হয়, তাই ওকে নিয়েই আছি আমরা। আগে জব করতাম, এখন জব করলে ওকে দেখবে কে, তাই জব ছেড়ে দিয়েছি।’
বর্তমানে মোট ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৮ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে যাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৪১৭ জন রয়েছে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি। ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের (ইপনা) পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, গ্রামের চেয়ে শহরে অটিজমবিশিষ্ট শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ শিশু অটিজমে আক্রান্ত। গ্রামে প্রতি ১০ হাজারে ১৪ জন বা প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৪ জন। শহর এলাকায় প্রতি ১০ হাজারে ২৫ শিশু, যা প্রতি হাজারে ২ দশমিক ৫ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। মেয়েশিশুর চেয়ে ছেলেশিশুর মধ্যে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেশি। দেশে ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অটিজম বিস্তারের হার প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন। সেই হিসাবে প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৭ জন।
২ এপ্রিল পালিত হলো ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ও অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার’। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালের ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে।
তিনটি পরিবারের ঘটনা আলাদা, মিল একটাই তিনটি পরিবারে অটিজম শিশু রয়েছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা আর ১০টা স্বাভাবিক শিশুর মতো নয়। তাদের সীমাবদ্ধতা মানসিক ও শারীরিক। অটিজম কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি মানুষের হরমোনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য যেমন আলাদা তেমনি তাদের প্রতিভাও ভিন্ন। এখনো আমাদের বেশির ভাগ পরিবার পুরুষের আয়ের ওপরে চলে। এতে বাবারা দিনের বেশি সময় বাইরে থাকে। মায়েদেরই থাকতে হয় সন্তানের সাথে। একটি অটিস্টিক শিশুর ক্ষেত্রেও তাই। মা তাকে সময় দেন মা তার সাথে চলাফেরা করেন। এতে সমাজের কটূক্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ মাকেই দেখতে হচ্ছে। খুব কাছ থেকেই এই তিনজন মাকে আমি দেখেছি। একজন সমাজের ভয়ে বা বিভিন্ন কথা শুনার ভয়ে ঘরে অটিজম সন্তানের কথা কাউকে বলেন না। শত দুঃখকষ্ট তারা নিজেরাই বুকে চেপে রাখেন। আরেক মা সন্তানের কথা ভেবে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এই সন্তানের ওপর অযতœ হবে ভেবে আর সন্তানই নিচ্ছেন না। অন্য মা তার সন্তান নিয়ে এই স্কুল ও স্কুল করছেন। আসলে মায়ের কোনো তুলনা হয় না। মা শুধু মা-ই। তার পরও অনেক পরিবার অটিজম শিশুদের তালিকায় নিজের সন্তানের নাম দিতে চান না। এতে অনেক অটিজম আক্রান্ত শিশু অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উদ্যোগ নিতে হবে যাতে অটিজম আক্রান্ত সব শিশুই তাদের অধিকার পায়। তাদের মায়েরা থাকে স্বস্তিতে।
আমরা চাই এই বিশেষ শিশুরা সব শিশুর মতো বিশেষ দিনে বা অন্য দিনগুলোতে সবার সাথে আনন্দ করে কাটিয়ে দিক। পরিবার যেন ওদের সব সময়ের জন্য বন্দী করে না রাখে।
![]() |
| টিস্টিক শিশুরা সমাজের বোঝা হতে পারে না -প্রধানমন্ত্রী |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চৌকিদারের ম্যাজিক, না নবীনবরণ? by অনিম আরাফাত

ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর সব থেকে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাই দেশটির নির্বাচনের দিকে আলাদা নজর রয়েছে সবার।
১১ই এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন প্রায় ৯০ কোটি ভারতীয় যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ গুণ। ১৮ বছর পেরুলেই দেশটিতে ভোট দেয়ার উপযুক্ত হিসেবে গণ্য হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮৩ কোটি মানুষ ভোটের উপযুক্ত ছিলেন। সে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন প্রায় ৫৫ কোটি মানুষ। এতে ভূমিধস জয় পেয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও পুনরায় জয়ের জন্য লড়ছে দলটি।
বিজেপির প্রধান জাতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেস। ভারতীয় রাজনীতির সব থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য তিনি। তার পিতা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধী। তার দাদি ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা গান্ধীর পিতা জওহরলাল নেহরু হচ্ছেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সব থেকে বেশি দিন দেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল কংগ্রেসের হাতেই। তাই চারদিকে নরেন্দ্র মোদির জয়জয়কারের মধ্যেও কংগ্রেসকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। দেশটির রাজনীতিতে দলটির প্রভাব উপেক্ষা করা অসম্ভব।
তবে ভারতের এবারের নির্বাচনে কে জিততে চলেছে তা নিয়ে হওয়া সব জরিপেই অনেক এগিয়ে আছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি ম্যাজিকে ভারতীয়রা এতটাই মুগ্ধ যে তাকে হারাতে কার্যত সকল বিরোধী দল এখন একজোট হতে বাধ্য হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনটা আসলে মোদি বনাম সকলের। লোকসভায় মোট আসন ৫৪৩টি যার প্রায় সব আসনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাই লড়ছে বিজেপি। এরকম একজনের বিরুদ্ধে সকলে মিলে লড়াই এর আগে ভারত কখনো দেখেনি। খুব অল্প সময়েই সর্বভারতীয় দল হয়ে উঠেছে বিজেপি। তাই তাকে থামাতে প্রয়োজন আরেক সর্বভারতীয় দল কংগ্রেসের। কিন্তু দলটির বর্তমান অবস্থাকে অতীতের তুলনায় নাজুকই বলতে হবে। গত নির্বাচনে কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৪৪টি আসনে! তাদের অবস্থা এতই করুণ হয়েছিল যে লোকসভার বিরোধী নেতার আনুষ্ঠানিক মর্যাদাটুকু তাদেরকে হারাতে হয়েছিল।
এত সবের পরেও বিজেপির কাঁধে নানা অনিশ্চয়তা ভর করেছে। গত নির্বাচনে জয় লাভ করা ৯টি আসনের উপনির্বাচনে হারতে হয়েছে তাদের। বিধানসভার উপনির্বাচনের ১৬টিতে বিজেপির জয় মাত্র ২টিতে। যে দুটিতে জিতেছে তাতেও ব্যবধান অতি সামান্য। আর কংগ্রেসের মনে শক্তি যোগাচ্ছে এই ফলই। বিজেপির বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর সব অভিযোগও। বেকারত্ব বৃদ্ধি, কৃষক আন্দোলন, সামপ্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা, শিল্পে স্থবিরতার মতো শত শত ব্যর্থতার জন্য মোদি সরকারকে অভিযুক্ত করেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও মোদিবিরোধী মনোভাব জোরদার হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কারণে আদিবাসী অধ্যুষিত এ রাজ্যগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ইতিমধ্যে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা হরণের চেষ্টায় উদ্বিগ্ন দেশটির সুশীল সমাজের একাংশ। সব মিলে নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে একটা স্রোত সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে বিরোধীরা।
তাই ৭ ধাপে সম্পন্ন হতে চলা এই নির্বাচনে জিততে মোদি ব্যবহার করছেন তার সেরা অস্ত্রটিকে। এবারও হিন্দুত্ববাদকে সামনে রেখে এগিয়ে চলতে চাইছে বিজেপি। সঙ্গে রয়েছে দেশে পাকিস্তানবিরোধী রব তোলা। কট্টর জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করে বিজেপি বিরোধীদের আখ্যা দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানপন্থী হিসেবে। বিজেপিকে তুলে ধরা হচ্ছে ভারতের জন্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে। ইতিমধ্যে নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি নেতারা নিজেদের নামের আগে চৌকিদার যুক্ত করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জনসভা করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখছেন মোদি। কথায় কথায় লড়াইয়ের আভাস তার। কথা একটাই, পাকিস্তানকে দমাতে বিজেপির বিকল্প নেই।
অপরদিকে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বলা হচ্ছে নির্বাচনী যুদ্ধ শুরুর আগেই হেরে গেছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে মোদিকে হঠাতে তার যোগ্যতা নিয়েও। মোদি যেমন সর্বভারতীয় নেতা হয়ে উঠেছেন সেক্ষেত্রে রাহুল গান্ধী অনেকটাই ব্যর্থ। নির্বাচনে তিনি লড়ছেন কেরালার একটি আসন থেকে। এটি এমন একটি আসন যেখানে বিজেপি সাংগঠনিকভাবেই দুর্বল। নির্বাচনের আগেই তিনি নিরাপদে থাকতে চাইছেন। সমালোচকরা বলছেন, যেখানে রাহুল গান্ধী নিজেই বিজেপির মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন, সেখানে তার দল কংগ্রেস কীভাবে বিজেপির এই জয়জয়কার থামাবে?
মোদি বিরোধীদের জন্য বিশাল এক ভোট ব্যাংক হচ্ছেন দেশটির মুসলমান ভোটাররা। এর আগে ভারতে মুসলিমরা কংগ্রেসকে ভোট দিলেও এবার এক তরফা মুসলিম ভোট পাচ্ছে না কংগ্রেস। তবে সে ভোট হিন্দুত্ববাদী বিজেপিরও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশটির মুসলিম ভোটাররা অবশ্যই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। মোদ্দা কথা হলো, নিজেদের আসনে যেই বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সে যে দলেরই হোক না, মুসলিমরা তাকেই ভোট দেবে। মুসলিমদের প্রভাবশালী সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও দিল্লি শাহী মসজিদের ইমাম কেউই এখন পর্যন্ত আসন্ন নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তবে মোদির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তারা প্রকাশ করছেনই। ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেছেন, এবারের নির্বাচনে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার্থেই লড়াই করবেন তারা। দেশটিতে সামপ্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করেছে কারা সেটি স্পষ্ট। আঙুল সরাসরি বিজেপির দিকেই। মুসলিমদের ভোট তাই বিজেপির পক্ষে না গেলেও সেই ভোট কার্যত ভাগ হয়ে একেক দলে পড়বে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলে দিল্লি দখলের লড়াইয়ে কে সফল হচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩শে মে পর্যন্ত। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা নির্বাচন ৭ ধাপে চলবে ১৯শে মে পর্যন্ত। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হবে ২৩শে মে। সেদিনই জানা যাবে মোদি ম্যাজিকে কি এখনো মুগ্ধ ভারতীয়রা, নাকি তারা এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ছুড়ে ফেলে রাহুল গান্ধীকে বরণের জন্য প্রস্তুত। মোদির ভাষায়, টাইটানিক জাহাজের মতো ডুবে যাচ্ছে কংগ্রেস। তাই প্রশ্ন উঠেছে, গত নির্বাচনের লজ্জা কাটিয়ে কি কংগ্রেসের আবার উত্থান হবে, নাকি মোদির ভাষ্যমতে দলটির ভরাডুবি আসন্ন? সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩শে মে পর্যন্ত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাকশাল বিতর্ক: স্বৈরাচার নাকি বৈপ্লবিক পরিবর্তন? by রাকিব হাসনাত

তখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর বাকশালকে দ্বিতীয় বিপ্লব হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সমালোচকদের মতে, কয়েকটি কারণে বাকশাল এত বিতর্কিত ছিল:
১. এক দলীয় শাসনব্যবস্থা, বিরোধিতার কোন অবকাশ নেই।
২. গণমাধ্যম সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।
৩. রাষ্ট্র, সরকার এবং দল একত্রিত।
৪. সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিচারক, আমলা দলের সদস্য।
আওয়ামী লীগ কী বলছে?
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলছেন বাকশাল কোনো একদল বা একনায়কতন্ত্র ছিলোনা।
"সকল দলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা প্লাটফরম করেছিলেন। সেটা হচ্ছে বাকশাল।,'' তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন।
''একটা সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে এটা করা হয়েছিল।জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে উন্নয়ন এগিয়ে যেতে পারে, সেই ধারণা নিয়ে এই কনসেপ্ট তৈরি করা হয়েছিল।কিন্তু তা নিয়ে এমনভাবে একটা প্রচারণা ছিল যে বাকশাল মনে হয় একটা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।এমন প্রচারণা চালানো হয়েছিল," মি. আলম বলেন।
সমালোচকরা কী বলছেন?
লেখক গবেষক বদরুদ্দিন উমর বিবিসি বাংলাকে বলছেন বাকশাল ছিলো একেবারেই একনায়কতন্ত্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
"সেনা পুলিশ বিচারক সব পার্টির মেম্বার-এটা তো আগে কখনো দেখা যায়নি। সবাইকে এক দল করতে হবে। কিংবা আর কোনো দল থাকবেনা। এটিও তো এদেশের মানুষ আগে দেখেনি"।
তিনি বলেন তখন সবাইকে বাধ্য করা হচ্ছিলো বাকশালে যোগ দিতে এবং অনেকেই বাধ্য হয়েছেন।
"ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্যই এ ধরণের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিলো"।
স্বৈরাচার নাকিবৈপ্লবিক পরিবর্তন?
কিন্তু ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন বাকশাল নিয়ে সবসময় অপপ্রচারই হয়েছে।
"বাকশালকে বোঝানো হয়েছে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কিন্তু এটা একদল নয় বরং তৎকালীন পরিস্থিতিতে অভিন্ন জাতীয় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন এটা সাময়িক ব্যবস্থা - কিন্তু পরে দীর্ঘকাল ধরে নেতিবাচক প্রচারণাই হয়েছে"।
তিনি বলেন তখন কাউকে বাকশালে যোগ দিতে চাপ দেয়া হয়নি বরং অনেকেই স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছে।
"আমলা সেনাবাহিনী সবাইকে এক মঞ্চে আসতে বলা হয়েছিলো, দলে নয়। কিন্তু এগুলো নিয়ে অপপ্রচার আর ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে"।
তার মতে বাকশালই প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি করেছিলো কিন্তু বাকশাল ব্যবস্থা টিকে ছিলো মাত্র ২৩২ দিন।
সে বছর ১৫ই অগাস্ট একদল সেনা অফিসার শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে হত্যা করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লোকসানের বৃত্তেই সরকারি পাটকল by শুভংকর কর্মকার

• চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে লোকসান ৩৯৫ কোটি টাকা।
• শ্রমিকের ৮-১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে।
• ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলনে।
লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর পাটকলগুলো ৪৬৬ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে ৩৯৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসানের চক্কর থেকে বের হতে না পারায় পাটকলের শ্রমিকদের ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। কর্মচারীরা বেতন পান না তিন মাস।
আবার, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলশ্রমিকেরা বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বরখাস্ত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, মৌসুমে পাট ক্রয়ে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ ৯ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটে নামায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। আর শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে জাতীয় মজুরি স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য গতকাল মঙ্গলবারই সব পাটকলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। এটি বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে দ্বিগুণ হবে। তখন পাটকলগুলোর লোকসানও বাড়বে।
তবে গত ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাট এমন একটি পণ্য, যার কিছুই ফেলনা নয়। অতএব কেন এতে লোকসান হবে? আমি কোনো লোকসানের কথা শুনতে চাই না, বরং পাটশিল্প কীভাবে লাভজনক হবে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
কেন লোকসান
বিজেএমসির কর্মকর্তা ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি পাটকলে লোকসানের বড় কারণ কাঁচা পাট কেনায় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। পাটকলগুলো পাট কেনে দেরিতে ও বেশি দামে। এ ছাড়া সরকারি পাটকলের উৎপাদনশীলতা কম, উৎপাদন খরচ বেশি, যন্ত্রপাতি পুরোনো এবং বেসরকারি খাতের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেশি। লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারে না পাটকলগুলো। অবিক্রীত পণ্য গুদামে পড়ে থাকে। প্রতিবছরই পাটের মৌসুমে কাঁচা পাট কিনতে সরকারের কাছে হাত পাততে হয়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর্থিক সংগতি না থাকাসহ কয়েকটি কারণে জাতীয় মজুরি স্কেল এত দিন বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল সব পাটকলে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি। কাজটি শেষ করতে দু–তিন মাস লাগবে। আশা করছি, শ্রমিকেরা কাজে ফিরে যাবেন। অবশ্য নতুন কাঠামোতে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেই বাড়তি অর্থের সংস্থানে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসব।’
বছরের পর বছর ধরে লোকসানের বিষয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। শিগগিরই পাটের সোনালি ব্যাগ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত কয়েক বছর বন্ধ থাকা সিরিয়ার বাজারে ২৫ হাজার বেল পাট রপ্তানির আদেশ মিলেছে। সুদানের বাজারের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, দু–চার বছরের মধ্যে অবস্থা ভালোর দিকে যাবে।’
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজেএমসির আওতায় ২৬টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ২৫টি। এর মধ্যে ২২টি পাটকল ও ৩টি নন–জুট কারখানা। পাটকলগুলোতে গত জুন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৭২১ জন স্থায়ী শ্রমিক এবং ৩ হাজার ৭৩০ জন কর্মচারী ও কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ২৩ হাজার ২৭৮ জন বদলি শ্রমিক ও ৬ হাজার ৫৪৮ জন দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক কাজ করেন।
গত অর্থবছরে বিজেএমসির আয় ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বা ৬৩৯ কোটি টাকা শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার মজুরি ও বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরি ৪ হাজার ১৫০ টাকা। ২০১৫ সালের মজুরি স্কেল বাস্তবায়িত হলে মাসিক নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়াবে।
আয় কমছে
বিজেএমসির সূত্র জানায়, গত দুই অর্থবছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আয় কমছে। পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা আয় করে পাটকলগুলো। পরের অর্থবছর সেটি কমে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আর গত বছর আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।
পাটকলের লোকসানের জন্য শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরিকেই বেশি দোষারোপ করেন বিজেএমসির কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি নয়, বরং কাঁচা পাট ক্রয়ে অনিয়মকেই দুষলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ–ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন। তিনি গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভরা মৌসুমে কাঁচা পাটের মণ ছিল এক হাজার থেকে বারো শ টাকা। তখন বিজেএমসি পাট কিনে নাই। দাম বেড়ে যখন দুই হাজার থেকে বাইশ শ টাকা হয়েছে, তখন তারা পাট কিনেছে। সময়ের পাট অসময়ে কিনতে গিয়েই বিজেএমসি কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে লাভ কীভাবে হবে?’
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে সোহরাব হোসেন বলেন, ‘মজুরি না পেয়ে শ্রমিকেরা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। অনেকেই অর্ধাহারে–অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। শ্রমিকেরা বাধ্য হয়েই ধর্মঘটে নেমেছেন।’ তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালের মজুরি স্কেল বাস্তবায়ন করার পর পাটকলগুলোর আর্থিক অবস্থা আরও নাজুক হবে। সে জন্য বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ করতে হবে।
এদিকে বিজেএমসি লোকসানের কারণে শ্রমিকদের যেমন মজুরি দিতে পারছে না, তেমনি অর্থের অভাবে পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। গত অর্থবছর সংস্থাটি ২২টি পাটকলের জন্য ২২ লাখ কুইন্টাল কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭১ শতাংশ বা ১৫ লাখ ৬৫ হাজার কুইন্টাল পাট কিনতে সক্ষম হয় বিজেএমসি।
জানতে চাইলে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম বলেন, ‘অর্থের অভাবে সময়মতো পাট কেনা যাচ্ছে না। জুলাই মাসে পাট কেনার ভরা মৌসুম, আর আমরা সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় তা কিনছি অক্টোবর-নভেম্বরে। তত দিনে দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি থেকে আমরা বের হওয়ার চেষ্টা করছি।’
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দাবির একটি মানবিক দিক রয়েছে। সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে চলছে। সরকারি পাটকল লাভজনক করতে হলে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাটকলের শ্রমিক সংখ্যা, আকার ও প্রযুক্তির যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। কোনো কোনো মিলের আধুনিকায়ন করতে হবে। কোনোটিকে বাজার চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত করতে হবে। আবার মালিকানা সরকারের হাতে রেখে ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে ছাড়া যেতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাকাশ নিয়ে শীতল যুদ্ধ!

তারাও একই রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। আছে ইউরোপীয় কিছু মহাকাশ গবেষণা বিষয়ক সংস্থা। যুক্ত হয়েছে ভারতের নাম। ফলে কার আগে কে এখন চাঁদের গায়ে পৌঁছে, আর ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়Ñ তা নিয়ে যেন এক অঘোষিত লড়াই চলছে দেশগুলোর মধ্যে।
শুধু জাতীয় পর্যায়ের মহাকাশ বিষয়ক এজেন্সিই নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ইলোন মাস্কের স্পেস এক্স। এ সংস্থার কাছে আছে বিপ্লব সৃষ্টিকারী রকেট লঞ্চার। এর ফলে তা নতুন করে ব্যবহার করার সুযোগ আছে। খরচও কমে আসে। প্রতিযোগিতায় আছেন বিলিয়নিয়ার অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও ভার্জিন গ্রুপের রিচার্ড ব্রানসন। তাদের রয়েছে মহাকাশ বিষয়ক ফ্লাইট কোম্পানি। জেফ বেজোসের কোম্পানি ব্লু অরিজিন। আর রিচার্ড ব্রানসনের ভার্জিন গ্যালাকটিক।
কয়েকটি দশক গেছে এ খাতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ ছিল না। কিন্তু চূড়ান্ত দফায় এমন প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে মহাকাশ গবেষণায় একক আধিপত্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার সুনাম অনেকাংশে হারানোর পথে। এ বছরের প্রথম দিকে চাঁদের গায়ে রোভার অবতরণ করিয়েছে চীন। এর মধ্য দিয়ে তারা এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ এর দশকে চাঁদে মানুষ পাঠানোর টার্গেট নির্ধারণ করেছে তারা। সম্প্রতি স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে যেসব দেশ সেই অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হয়েছে ভারত।
মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে যে তিনটি দেশ সামনের সারিতে, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। যুক্তরাষ্ট্র স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের মাধ্যমে ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর কাজ করতে যাচ্ছে। গভীর মহাকাশ অনুসন্ধান কর্মসূচিতে এটা হলো নাসার ভারি যন্ত্র। ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদে মনুষ্যবিহীন একটি মিশন পাঠাবে নাসা। তার মাধ্যমে যাচাই করা হবে তাদের সক্ষমতা যে, তারা কোনো মনুষ্যবাহী মিশন পাঠাতে সক্ষম কিনা। ২০২২ সালের মধ্যে মনুষ্যবাহী ফ্লাইট যাবে চাঁদের আশপাশে। এ বছরেই চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার জন্য একটি স্পেসশিপ স্থাপন শুরু কবে। ২০২৩ সালে একটি রোভার পাঠানো হবে চাঁদের মাটিতে, যাতে মানুষ অনুসন্ধান করতে পারে। ২০২৪ সালে জ্যোতির্বিদরা চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। আর ২০৩০ এর দশকে মানুষ পা রাখবে মঙ্গলগ্রহে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিগগিরই ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি

ডার্ক এনার্জি বা গুপ্তশক্তি এবং ডার্ক ম্যাটার সবখানেই আমাদের ঘিরে রেখেছে। অথচ আমরা এর কোনো অস্তিত্ব টের পাই না। কারণ, ডার্ক ম্যাটার থেকে আলোর বিচ্ছুরণ, প্রতিফলন বা আলো তৈরি হয় না। অপর দিকে কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান, যেখান থেকে কোনো কিছু বের হয়ে আসতে পারে না। এখানে একবার যা পড়ে, তা চিরতরে হারিয়ে যায়। ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটারসহ মহাবিশ্বের অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি বা বস্তু ব্ল্যাকহোলের মতো এতটা কৌতূহলের সৃষ্টি করতে পারেনি। ব্ল্যাকহোলের গর্ভে বিশালাকার সব গ্রহ, তারকা, নক্ষত্র চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলিকণার মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে হারিয়ে যায়।
জ্যোতির্বিদেরা সেই অষ্টাদশ শতকের শুরু থেকে সর্বগ্রাসী ‘গুপ্ত তারকাদের’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তখন থেকে ধীরে ধীরে অসংখ্য পরোক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে পুঞ্জীভূত হয়েছে তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ব্ল্যাকহোল বিশেষজ্ঞ পল ম্যাকনামারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আজ থেকে অন্তত ৫০ বছর আগে আমাদের ছায়াপথে ভীষণ উজ্জ্বল কিছু একটা চোখে পড়ে বিজ্ঞানীদের। এর যথেষ্ট শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টান তারকাদের নিজ কক্ষপথ কেন্দ্র করে খুব দ্রুত বেগে ঘুরতে বাধ্য করে। সে বেগ এতই দ্রুতগামী হয় যে মাত্র ২০ বছরেই কক্ষপথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়।’
বলে রাখা প্রয়োজন, মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে চক্রাকারে এই একই কক্ষপথ পার হতে আমাদের সৌরমণ্ডলের সময় লাগে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন বছর! পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, এই উজ্জ্বল বস্তুগুলোই ‘ব্ল্যাকহোল’। যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিদ জন আর্কিবাল্ড হুইলার ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই নামটি উদ্ভাবন করেন। ঘূর্ণমান উত্তপ্ত সফেদ গ্যাস এবং প্লাজমা ব্যান্ড ঘিরে রাখে ব্ল্যাকহোল। দীপ্তিমান অঞ্চলটির ভেতরের প্রান্তে কোনো জিনিস প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে গায়েব হয়ে যায়।
ম্যাকনামারা ব্যাখ্যা দেন, ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ বা যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না, সেখানে কোনো শারীরিক বাধা কাজ করে না। এর মোকাবিলা করার কোনো উপায় নেই। একবার যদি আপনি কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে ঢুকে পড়েন, তাহলে বের হওয়ার জন্য অসীম শক্তি অর্জন করতে হবে, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
চাঁদের বুকে একটি গলফ বল
এত দিনের সব জল্পনা-কল্পনার সঙ্গে ইএইচটির ধারণ করা ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবিটির কোনো মিল নেই।
গ্রিনোবলের ইনস্টিটিউট ফর মিলিমেট্রিক রেডিও অ্যাস্ট্রোনমির জ্যোতির্বিদ মাইকেল ব্রিমার এএফপিকে বলেন, ‘দৈত্যকার টেলিস্কোপ বানানোর ঝামেলায় আমরা জড়াইনি। নিজের ওজনে নিজেই বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয় ওগুলো। আমরা বরং আলাদা আলাদা কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের সমন্বয়ে বিশাল একটি আয়না তৈরি করেছি।’ ২০১৭ সালের এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে আটটি এ রকম রেডিও টেলিস্কোপ বিক্ষিপ্তভাবে স্থাপন করা হয়। হাওয়াই, অ্যারিজোনা, স্পেন, মেক্সিকো, চিলি ও দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত এই টেলিস্কোপগুলো বিভিন্ন দিক থেকে দুটি ব্ল্যাকহোলের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য দুটি ব্ল্যাকহোলের যেকোনো একটি ছবিতে জুম করা হতে পারে। ফলাফলপ্রত্যাশীরা চাইছেন ধনু রাশির এ* ছবিটি প্রকাশিত হোক। আমাদের নিজস্ব উপবৃত্তকার সৌরমণ্ডলের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ব্ল্যাকহোলটি প্রথম জ্যোতির্বিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধনু রাশির এ*–এর ভর আমাদের সূর্যের ভরের ৪ কোটি গুণ বেশি। তার মানে এই ব্ল্যাকহোলটি প্রায় ৪৪ কোটি কিলোমিটারজুড়ে!
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টেলিস্কোপটি যেন চাঁদের বুকে একটি গলফ বলের ছবি তোলার চেষ্টা করছে!
আইনস্টাইনের পরীক্ষা
ব্ল্যাকহোলের অপর প্রতিনিধিকে দানব বললেও ভুল হবে না। ধনু রাশির এ*–এর চেয়ে দেড় হাজার গুণ বেশি ভরের কৃষ্ণগহ্বরটি এম৮৭ নামক একটি উপবৃত্তকার সৌরমণ্ডলে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব যথেষ্ট বেশি হলেও দূরত্ব আর আকারের ভারসাম্য একে গবেষণার কাজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলেছে। ম্যাকনামারা বলেন, ‘নিজেদের সৌরমণ্ডলে আয়েশ করে বসে আছি আমরা। এর কেন্দ্রে পৌঁছাতে হলে একগাদা তারকা আর ধূলিকণা ভেদ করতে হবে।’
টেলিস্কোপটির সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে এখনো তথ্য সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। দলটি তাদের ওয়েবসাইটে জানান, ‘ব্ল্যাকহোলের পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরির জন্য ইমেজিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে যে তথ্যগুলো মেলানো যাচ্ছিল না, তার শূন্যস্থান পূরণের কাজ চলছে।’
ম্যাকনামারাসহ এই প্রকল্পে অংশ না নেওয়া জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীরা অধীর আগ্রহে, কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক তথ্য আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কি না, তা জানতে চান তাঁরা। এ রকম বৃহত্তর পরিসরে কখনোই তত্ত্বটি পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। ২০১৫ সালে এক সাথে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া দুটি ব্ল্যাকহোলের হদিস পেতে তরঙ্গ শনাক্তকরণ পন্থা অবলম্বন করা হয়। এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা সে বছর নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
ম্যাকনামারা বলেন, ‘আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী ঠিক এমনই হওয়ার কথা।’ তবে সেগুলো ছিল একেবারেই ছোট ব্ল্যাকহোল, সূর্যের চেয়ে যার ভর মাত্র ৬০ গুণ বেশি ছিল। ইএইচটি পর্যবেক্ষণ করা ব্ল্যাকহোলগুলোর সঙ্গে এর কোনো তুলনাই চলে না।
আশাবাদী ম্যাকনামারা জানান, ‘হতে পারে কোটি কোটি গুণ বড় ব্ল্যাকহোলের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো ফলাফল আসবে। আমরা আসলে এখনো কিছু জানি না।’
About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্যার, আমার পেটে বাচ্চা, আমাকে বাঁচান: অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করেন সুমন by জিয়া চৌধুরী

তাদের টার্গেট কাজ করে যাওয়া। বিপদকে সঙ্গি করে বিপদগ্রস্থ মানুষকে আগলে তোলা। সংকট সময়ে তারা জানান দেয় ‘মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য’। এরই প্রমাণ দিয়েছেন বনানীর ফারুক রূপায়ন টাওয়ারের আগুনের সঙ্গে লড়াই করা বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। তাদের একেক জন কর্মী বাঁচিয়েছেন বহু প্রাণ।
এরমধ্যে স্টেশন অফিসার শহীদুল ইসলাম সুমন একাই জীবন রক্ষাকারী মই (টার্নট্যাবল ল্যাডার) নিয়ে আগুনের মাঝ থেকে বিভিন্ন তলা থেকে কমপক্ষে চল্লিশ জনকে উদ্ধার করেছেন। অন্তঃস্বত্তা নারী, সদ্য চাকরিতে যোগ দেয়া তরুণী কিংবা বয়োবৃদ্ধ, সুমনের বাহুতে ভর করে যেন নতুন জীবন ফিরে পান। মৃত্যুর দুয়ারে থাকা মানবগুলো আরেক মানবের সহায়তায় ফের দেখেন পৃথিবীর আলো। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে আটকে পড়া মানুষগুলোকে পরম মমতায় নিরাপদে নামিয়ে আনেন সুমন। এ যেন সুমনের আরেক যুদ্ধ। এ যুদ্ধকেই তিনি বেছে নিয়েছেন পেশা হিসাবে। এখন যা তার কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দুপুরে কথা হয় শহীদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে। ভাঙ্গা গলায় কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল তার। বনানীতে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়ার সময় ধোঁয়ায় ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন কিছুটা সুস্থ তিনি। তবে, বনানীর আগুনের ঘটনা মনে করলেই বারে বারে এক মায়ের আর্তি ভিজিয়ে দেয় সুমনের চোখ। ভরাক্রান্ত হয়ে উঠে মন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে সচিবালয়ের এলাকায় একজন শ্রমিক বহুতল ভবন থেকে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে মনটা ভারী হয়ে যায়।
সচিবালয়ে উদ্ধার কাজ শেষে ফায়ার সার্ভিসের গুলিস্থান সদর দফতরে ফিরে যান সুমন। তখনো দুপুরের খাবার সারেননি। সদর দফরের অফিসার্স মেসে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক বারেটা ৫১ মিনিটে জরুরি ঘণ্টা বাজতে থাকে। সুমনের বুক তখন আঁতকে ওঠে। জরুরি ঘণ্টার মানে কোথাও ভয়াবহ আগুন লেগেছে। স্থানীয় ও পাশের স্টেশনগুলো সক্ষম না হলে ছুটে যেতে হবে সদর দফতর থেকে। আদতে হলো তাই। দ্রুত মহাখালী, কুর্মিটোলা ও বারিধারা ফায়ার স্টেশন রেসপন্স করার পরও ডাক পড়ে শহীদুল সুমনদের মতো বহু কর্মীর। দুপুরে না খেয়েই রওনা হন বনানীর এফ আর টাওয়ারের উদ্দেশ্যে। যানজট ঠেলে বনানী পৌঁছাতে পোঁছাতে ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি তলায়। ল্যাডারবাহী গাড়ি থেকে মই বের করে কাজ শুরু করতে গিয়ে বাধে আরেক বিপত্তি। উৎসাহী কিছু জনতার রোষানলের শিকার হন শহীদুল সুমন ও তার গাড়িচালক। এ সময় গাড়িচালককে মারধরও করেন কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এতে অন্তত ছয় মিনিট সময় নষ্ট হয়। এর মধ্যেই একজনকে ঝাঁপ দিতে দেখেন। এর মধ্যেই চিৎকার করে বলতে থাকেন আপনারা কেউ লাফ দিবেন না। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের নামিয়ে আনবো।
একটু অপেক্ষা করুন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, হয়তো জনতা বাধা না দিলে আরো কয়েকটি প্রাণ বেঁচে যেত। ল্যাডারটি ষোল তলা পর্যন্ত যেতে সক্ষম, বাকি তলার মানুষদের কি হবে এমন ভাবনাও ভয় পাইয়ে দিয়েছিল সুমনকে। তবে যতদূর পেরেছেন মানুষকে নিচে নিরাপদে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, ল্যাডার থেকে কোনভাবেই আগুনের কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না শুরুতে। প্রায় দুই হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মই থেকেই আগুনের ভয়াবহ উত্তাপ টের পাচ্ছিলেন। তবুও মানুষকে বাঁচানোর পথ খুঁজছিলেন তিনি। এর মাঝে কয়েকটি তলার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলেন সুমন ও তার সহকারী সোহাগ কর্মকার। পানি ছিটিয়ে ধোঁয়া সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পানির বোতল ছুঁড়ে দেন আটকে পড়া মানুষদের কাছে। সব যজ্ঞই চলছিল আগুনের কাছে থেকে ল্যাডারে চড়ে, এক নিশ্চিত ঝুঁকিতে।
সুমন জানান, গ্লাস ভেঙ্গে পানি ছিটিয়ে দেয়ার পর আস্তে আস্তে ধোঁয়া সরে যায় বেশ কয়েকটি ফ্লোরে। এমন ঝুঁকির সময়ে ফায়ার ফাইটারদের ব্রিদিং অ্যাপারেটর নামে এক ধরনের মাস্ক পরে থাকতে হয়। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ক্ষতি থেকে এমন মুখোশ পরতে হয়। কিন্তু মাস্ক পরে কোনভাবেই আটকে পড়া মানুষদের সাথে কথা বলতে পারছিলেন না সুমন। তাই মাস্ক খুলে মানুষদের না দাঁড়িয়ে থেকে নিচু হয়ে বসে যেতে বলেন। কারণ ধোঁয়ার প্রকট উপরের দিকেই বেশি। নিচে বসে পড়লে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুঁকি কম থাকে। তাদের ছুঁড়ে দেয়া পানির বোতল থেকে অনেকে তোয়ালে ও কাপড় ভিজিয়ে মুখ চেপে ধরে মইয়ের কাছে আসতে থাকেন একে একে। পানি ছড়ানোর কারণে অনেকে বেঁচে যান বলেও জানান সুমন। এমন সময় একজন নারীর আর্তনাদ কানে বাজে তার। ভেঙ্গে ফেলা গ্লাসের ফাঁক দিয়ে দেখতে পান একজন গর্ভবর্তী বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। সুমন মানবজমিনকে বলেন, কাছে গিয়ে শুনতে পাই ওই নারী আমাকে বার বার বলছে, ভাই আমি মরে যাই। কিন্তু আমার পেটের বাচ্চাটাকে বাঁচান।
পরিবাররে কথা মনে পড়ে যায় আমার। হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল আমারও তো পাঁচ মাস বয়সের একটি ছেলে আছে। আমার ছেলেটা তো পৃথিবীর আলো দেখেছে। অঙ্গীকার করেছিলাম জীবন দিয়ে হলেও আমি ওই বাচ্চাটাকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখাব। অনেক চেষ্টা করছি ওই নারীর কাছে যাবার জন্য কিন্তু তাপ, ধোঁয়া এতো পরিমাণ ছিলো যে, কাছে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। অনেক কষ্টের পর তাকে সুস্থভাবে উদ্ধার করতে পেরেছি। উনি কান্নায় আমাকে জড়িয়ে ধরেন। আশ্চর্যের বিষয় এর মধ্যে একটি বারের জন্যও স্ত্রী-সন্তান কারো কথা মনে পড়েনি আমার। অন্তঃস্বত্তা নারীর আকুতি মনে করিয়ে দেয় আমার ঘরে ছয় মাসের একটি সন্তান। প্রতিজ্ঞা করি, আমি মরে গেলেও এই নারীকে তার সন্তানসহ নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। ধীরে ধীরে ভবনের কাছে গিয়ে ওই নারীকে ল্যাডারে তোলার কাজ করতে থাকেন সুমন। সমান তালে চলতে থাকে আগুনের সাথে লড়াই। শেষমেষ সুমনের দৃঢ়তার কাছে হার মানে আগুন।
গর্ভবতী ওই নারীকে নিয়ে নিরাপদে নিচে নেমে যান তিনি। পরে একে একে কয়েকবারের চেষ্টায় নামিয়ে আনেন অন্তত চল্লিশ জনকে। বার বার চিৎকার করে নিচে বসে পড়ার কথা বলতে গিয়ে গলা ভেঙ্গে যায় সুমনের। তারপরও থামেনি তার চিৎকার। ‘গ্লাসের কাছে আসেন। পানিতে রুমাল ভিজিয়ে নেন। নিচে বসে পড়েন’ মানুষকে বাঁচাতে আরেক মানুষের চিৎকার। শহীদুল সুমন মানবজমিনকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারটি মোট ৩০০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি আর তার সহযোগী সোহাগহ আর দুজনের বেশি একবারে উঠতে পারার কথা নয়। তবে বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে গিয়ে তাদের অসহায় আবেদন আর বাঁচার তাড়নাকে না করতে পারেননি সুমন। একেক বারে ল্যাডারে করে ছয়-সাতজনকে নিচে নামিয়ে আনেন তিনি। যা ছিল কল্পনাতীত ঝুঁকি।
এমন সাহসিকতায় ফিরে আসে চল্লিশ প্রাাণ। অন্তত চার ঘণ্টার যুদ্ধের পর নিজেকে আবিষ্কার করেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের কেবিনে। সুমন বলেন যতদূর মনে পড়ে, সবশেষ ল্যাডারে আটকে পড়াদের ফিরিয়ে আনার পর ভেতরে আর কাউকে দেখা যায়নি। এফ আর টাওয়ারে আগুনের দিন দশম তলায় থাকা আমারা টেকনোলজির অফিসে আটকা পড়েন সেঁজুতি স্বর্ণা নামে একজন। কয়েক ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টার পর ওই ভবন থেকে নিরাপদে ফিরে আসেন তিনি। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে ফায়ার ফাইটার শহীদুল সুমনকে উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সেঁজুতি। তিনি লিখেন, ‘এই ভদ্রলোক আমার কাছে ফেরেশতার সমান। আল্লাহ নিজ হাতে উনাকে পাঠিয়েছেন আমাদের বাঁচানোর জন্য। নিজের জীবনের পরোয়া না করে আমাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য অনেক দোয়া করছি আল্লাহ যেন আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করেন। ভাইয়া, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকেন না কেন শুধু মনে রাখবেন আপনার এই বোন আপনার জন্য দোয়া করবে....’। গতকাল কথা বলার সময় মাঝে মাঝে কণ্ঠ জড়িয়ে আসছিল শহীদুল ইসলাম সুমনের। ঝালকাঠির কাঠালিয়ার মো. শাহ আলম জমাদ্দার ও মাজেদা আলমের সন্তান সুমন। স্ত্রী খালেদা ইয়াসমিনও তার মতো যোদ্ধা, যার মানে ফায়ার ফাইটার। সদরঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টাফ অফিসার। ছয় মাসের ছেলে সাদমান সাদিরকে নিয়ে সদরঘাট এলাকায় থাকেন স্ত্রী খালেদা।
আর সুমন থাকেন তেজগাঁও লাভ লোড এলাকায়। তিন/চার দিন পর পর ছেলেকে দেখতে যাওয়ার সময় পান সুমন। এক শহরে থেকেও দায়িত্বের কারণে আলাদা থাকতে হয় দুজনকে। তবে নিরাপদে ফিরে আসা মানুষগুলোর কথা মনে করে এসব কষ্ট ভুলে যান। সুমনের কাজে বুক ভরে যায় স্ত্রী খালেদার। তিনি বলেন, বনানীর ঘটনার পর সুমনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাদের কথা মনে পড়েছিল কিনা। সে যখন বললো না। আমার খুব আনন্দ হচ্ছিল তখন। তার না কথাটা শুনে খুশিতে বুকটা ভরে যায় আমার। শহীদুল ইসলাম সুমনদের এমন পাওয়াতেই আনন্দ। পরিবারকে দূরে রেখেও মানুষকে বাঁচাতে লড়ে যান প্রতিনিয়ত। আর প্রাণভরে রোজ সকালে একটাই প্রার্থণা করেন, ‘আর যেন কোথাও আগুন না লাগে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিবেশ বিপর্যয়ে বাংলাদেশের দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের আবাদযোগ্য জমির লবণাক্ততা, বন্যা ও নদী ভাঙনের কারণে জীবিকার জন্য অনেকেই গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে। ভরণপোষণ চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক মেয়ে শিশুকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে পরিবার। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে শহরে আসছে। এসব শিশু কাজের জন্য ততোটা শক্তপোক্ত নয়।
বাংলাদেশে দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে বসবাস করছে প্রায় দুই কোটি শিশু। তারা ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকিতে রয়েছে। অনেকে আবার বাস্তচ্যুত হয়ে পরিবারের সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে। সেখানে তারা আবার মুখোমুখি হচ্ছে নতুন হুমকির। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বেশি করে উদ্যোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এই নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশুর মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ শিশু নদী ভাঙনের এলাকা কিংবা এর কাছাকাছি থাকে। ৪৫ লাখ শিশুর বসবাস উপকূলীয় এলাকায়, সেখানে ঘূর্ণিঝড়ের হুমকিতে থাকতে হয় তাদেরকে। তাছাড়া খরার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৩০ লাখ শিশু। এসব ঝুঁকির কারণে গ্রাম এলাকার মানুষেরা শহরের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য হচ্ছে। আর সেখানে যাওয়ার পর নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিশুদেরকে। তাহলো, জোরপূর্বক শ্রম কিংবা বাল্য বিয়ের ঝুঁকি। অভাবের তাড়নায় অনেককে শিশু শ্রমে লিপ্ত হচ্ছে। ভরণপোষণ চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক মেয়ে শিশুকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে পরিবার।
ইউনিসেফের গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সিমন ইনগ্রাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের শহরগুলোতে প্রায় ৬০ লাখ জলবায়ু উদ্বাস্তু রয়েছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, বন্যাজনিত বিপর্যয়গুলো চরম পর্যায়ের হয়ে থাকে এবং প্রায় প্রতি বছরই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল ২০১৭ সালে। ওই বছর একের পর এক বন্যায় ৮০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইনগ্রাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে যে শুধু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে তাই নয়, এর কারণে উপকূলীয় এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে গর্ভবতী নারীরাও বড় ধরনের হুমকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। এতে সেখানকার বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানি মিশে যাচ্ছে এবং গর্ভবতী নারীরা প্রিএক্লেমশিয়া ও হাইপারটেনশনসহ নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
ইউনিসেফ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য হুমকি থেকে দরিদ্রদেরকে বাঁচাতে এরইমধ্যে অনেক কিছু করেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের হুমকিতে থাকা শিশুদের সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। বন্যাপ্রবণ এলাকার স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ওপর যেন কোনও শোষণ-নিপীড়ন না হয় তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংস্থাটির গবেষক ইনগ্রাম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যত দ্রুত সম্ভব কার্বন নির্গমন কমানো এবং এই গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৩ দশমিক ৬ ফারেনহাইট) বেশ নিচে রাখার কথা বলা হয়। ২০১৫ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিমালা তৈরি করার লক্ষকে সামনে রেখে তিন বছর পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পোল্যান্ডে সম্মিলিত হয়ে ওই ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। আইপিসিসি তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫ এ সীমিত রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার ২০১০ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। তবে আইপিসিসির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে কার্বন নিঃসরণ সীমিত করতে হবে আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হারে। প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলেন, প্যারিস চুক্তিতে বিভিন্ন দেশের সরকার যেই পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য।
বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৯-এ নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ওই তালিকা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ওই সময়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট সময় পর পর প্রাকৃতিক ধারাবাহিকতায় বদলে যায় জলবায়ু। মানুষ সৃষ্ট কারণেই এই স্বাভাবিক বদলের ধারাবাহিকতা ক্ষুন্ন হয়েছে, বিশ্ব বহুদিন থেকে এক আকষ্মিক পরিবর্তনের মুখোমুখি। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, শিল্পবিপ্লব পরবর্তী যুগে উন্নত দেশগুলোর মাত্রাতিরিক্তি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৈশ্বিক উষ্ণতার মাত্রাকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উষ্ণায়নের কারণে গলছে হিমবাহের বরফ, উত্তপ্ত হচ্ছে সমুদ্র, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঋতুচক্র। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, স্থানচ্যুত হচ্ছে মান্ষু। অভিবাসী কিংবা শরণার্থীতে রূপান্তরিত হচ্ছে তারা। এরইমধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই সামনের কাতারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন, মরে যাচ্ছে গাছ

ছোট থেকে বড় সড়কের পাশের গাছগুলো রেহাই পাচ্ছে না বিজ্ঞাপনের পেরেকের নিষ্ঠুর আঘাত হতে। বিজ্ঞাপন লাগানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নানান অখ্যাত অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের ফেস্টুন।
কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে যেখানে পারছে পেরেক বা তারকাটার মাধ্যমে গাছকে বিজ্ঞাপন সাঁটিয়ে দেয়া যাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার রোড, হবিগঞ্জ রোডসহ নানা সড়কের বড় বড় গাছের শরীরে এভাবে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন। বড় বড় লোহার পেরেকের সাহায্যে গাছের শরীরে এমনভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছে যাতে সহজে কেউ খুলতেও না পারে।
এক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে- শিরিষ গাছ, বট গাছ, অশত্থ গাছসহ বিশালাকৃতির গাছগুলো। লোহার কারণে গাছের শরীরে পানি জমে পচন ধরে তা গাছের ক্ষতি করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসামের ভোট যুদ্ধে এবার সুর ‘ইলু-ইলু’

যাঁকে নিয়ে এই কটাক্ষ তিনি আঁতর ব্যবসায়ী মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল। তাঁর দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)। বিজেপি বলছে, কংগ্রেসের সঙ্গে নাকি তাঁর ‘ইলু ইলু’ চলছে। আবার কংগ্রেস বলছে, বিজেপির সঙ্গেই চলছে আজমলের আসলি ইলু-ইলু। তবে যুযুধান দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে ইলু-ইলু চালানোর প্রকাশ্য সমালোচনায় মত্ত।
এর পেছনে রয়েছে আসামে ভোটের অঙ্ক বা পার্টি গণিত। ২০১১-এর আদমশুমারি অনুযায়ী রাজ্যের ৩ কোটি ১১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭২ জনের মধ্যে ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৫ জনই মুসলিম। শতাংশের হিসাবে ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ। রাজ্যের ৩৩টি জেলার মধ্যে ৯ টিতেই মুসলিমরা সংখ্যাগুরু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে মুসলিম ভোটার। এই মুসলিম ভোট ব্যাংকই এখন লক্ষ্য কংগ্রেসের। কিন্তু ‘মুসলিমদের দল’ এআইইউডিএফের সঙ্গে জোট করলে থাকছে হিন্দু ভোট হারানোর ভয়। তাই কোনো জোটে যায়নি কংগ্রেস।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ প্রকাশ্যে বলছেন, ‘আজমল বিজেপির দালাল। কংগ্রেসের ভোট কাটতেই তাঁকে ব্যবহার করছে বিজেপি।’। আবার বিজেপির নির্বাচন পরিচালক হীমন্ত বিশ্বশর্মার অভিযোগ, ‘কংগ্রেস গোপনে আঁতাত করেছে আজমলে সঙ্গে। দিনে কুস্তি, রাতে দোস্তি।’ যুযুধান দুই পক্ষের মুখেই এখন ইলু-ইলু। সামনেই আসামের প্রধান উৎসব রাঙালি বিহু। তার আগে ফের হিন্দি গানের সুর ফিরে এসেছে মুখে মুখে। কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েরই হুংকার, আজমলকে আসামের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ণ করে দেবে।
বিরোধীরা তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও আজমল বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। আতরের গন্ধে সব সমালোচনা বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। প্রথম আলোকে তিনি বললেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য, সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে পরাস্ত করা। না হলে আসামের উন্নতি হবে না। কিন্তু কংগ্রেস বেইমানি করছে।’ কংগ্রেস তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেও আজমল কিন্তু রাজ্যের ১৪টি আসনের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রার্থী দিয়েছেন। তাঁর দলের সাংসদ সংখ্যাও ৩। তিনি নিজে নিজের পুরোনো কেন্দ্র ধুবড়ি থেকে লড়াই করছেন। ভাই, গতবারের সাংসদকে বরপেটায় এবং রাধেশ্যাম বিশ্বাসকে করিমগঞ্জে প্রার্থী করেছেন।
তাঁর সাফ কথা, ‘কংগ্রেস বেইমানি করেছে। আমার বিরুদ্ধেও প্রার্থী দিয়েছে। আমরা কিন্তু বিজেপিকে হারাতে মাত্র তিনটি কেন্দ্রেই নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়েছি।’ অন্য কেন্দ্রগুলোতে আপনাদের কী ভূমিকা হবে? বিজেপিকে হারাতে যে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি সক্ষম বলে মনে হবে তাঁকেই তাঁরা সমর্থন করবেন। সেটা কংগ্রেস হলেও আপত্তি নেই। জানিয়ে দিলেন আজমল। অসমিয়া মিডিয়ার খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে আজমলের। কিন্তু মমতা ধুবড়িতে তাঁর বিরুদ্ধে সভা করায় সেই সমঝোতার রাস্তাও বন্ধ বলে আজমলই জানালেন।
আজমল মনে করেন, বিজেপি এলেই এনআরসি (নাগরিক পঞ্জি) আর সিএবি (নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল) নিয়ে সমস্যা বাড়বে মুসলিমদের। তাই বিজেপিকে হারানো জরুরি। তাই ইলু-ইলুতে কান না দিয়ে নিজের প্রার্থীদের জেতাতে মরিয়া আঁতর ব্যবসায়ী। দলের একমাত্র তারকা প্রচারক তিনি। তাই হেলিকপ্টার ভাড়া করে তিন কেন্দ্রেই উড়ে বেড়াচ্ছেন আজমল। বোঝাবার চেষ্টা করছেন, বিজেপিকে হারানো কতোটা জরুরি। আর কংগ্রেস আর বিজেপি ব্যস্ত ‘গোপনে ইলু-ইলু’ নিয়ে একে অন্যকে কটাক্ষে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা হটাতে বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

তিনি ইরান সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল-মাহদির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন সরকার ইরাক দখলের প্রাথমিক দিনগুলোতে বাগদাদে যেরকম তাবেদার সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল এখনো সেরকম সরকার দেখতে চায়। ইরাক সম্পর্কে সৌদি আরব ও আমেরিকা মুখে যা বলে তার সঙ্গে তাদের অন্তরের আকাঙ্ক্ষার যোজন যোজন পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, তারা এক সময় উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশকে পাঠিয়ে ইরাকের মসুল শহর দখল করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে; আর এখন এসেছে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সর্বোচ্চ নেতা আমেরিকার অন্তরের আকাঙ্ক্ষার যে কথা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আচরণের ইতিহাসের আলোকে সেকথা শতভাগ সত্য। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বহুমুখী অশুভ লক্ষ্য হাসিল করতে চায় তার অন্যতম হচ্ছে ইরান ও ইরাকের সম্পর্কে ফাটল তৈরি করা।
এর আগে ১৯৮০’র দশকে ইরানের ওপর তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই যুদ্ধে তৎকালীন মার্কিন মদদপুষ্ট সাদ্দামের পতন হলে আমেরিকার সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কিন্তু আমেরিকার কাছে সাদ্দামের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনই ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটায়। এরপরও ইরাকে যাতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সে লক্ষ্যে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশকে লেলিয়ে দেয় আমেরিকা ও সৌদি আরব। কিন্তু ইরাকের নির্বাচিত সরকার ইরানের কার্যকর সহযোগিতা নিয়ে মার্কিন মদদপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে ইরাক থেকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়।
এসব কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে এসব দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর আখ্যায়িত করে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, যথাশীঘ্র সম্ভব আপনার দেশ থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারের ব্যবস্থা করুন; তা না হলে যত বেশি দিন অতিবাহিত হবে এসব দখলদার সেনাকে বের করা তত বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরাকের সরকার যদি ওয়াশিংটনের কথায় চলে তাহলে মার্কিন সরকার সন্তুষ্ট থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইরাকের বর্তমান সরকার ও সংসদ আমেরিকার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করছে না। তাই এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরাকে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বানচাল করতে হলে দেশটির শিয়া ও সুন্নি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য শক্তিশালী করতে হবে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কে বন্ধু কে শত্রু সেটা যেমন সঠিকভাবে চিনতে হবে তেমনি আলেম সমাজের দিকনির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালাক

বেশ কতদিন ধরেই তাদের বিচ্ছেদের কথা শোনা যাচ্ছিল। তা নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে রসালো সব কাহিনী।
তবে দু’জনের মধ্যে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিজের টুইটারে এবারই প্রথম ঘোষণা করেছেন ম্যাকেনজি। সবেমাত্র এই মাসে তিনি টুইটারে যোগ দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, জেফ বেজোসের সঙ্গে বিবাহের ইতি ঘটানোর সব প্রক্রিয়া শেষ করে এনেছি। পারসপরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। উল্লেখ্য, অ্যামাজনে জেফ বেজোসের আছে শতকরা ১৬.৩ ভাগ শেয়ার। এর শতকরা ৭৫ ভাগের শেয়ার থাকবে জেফ বেজোসের। আর তার বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার সার্বিক ক্ষমতা পাবেন ম্যাকেনজি। এই দম্পতির আছে চারটি সন্তান। তারা ১৯৯৪ সাল থেকে একসঙ্গে আছেন। ২৫ বছর আগে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন জেফ বেজোস। তারপর প্রথম যেসব কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অ্যামাজনে তার মধ্যে প্রথমজন হলেন ম্যাকেনজি। বর্তমানে অনলাইনে ব্যবসায় বিশাল এক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন।
গত বছর এ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ২৩২৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এ ব্যবসা জেফ বেজোস ও তার পরিবারকে ১৩১০০ কোটি ডলারের অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করেছে। ফক্স টিভির সাবেক উপস্থাপিকা লরা সানচেজের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন জেফ বেজোস। এসব নিয়ে অনেক তামাশার খবর প্রকাশিত হয়। অবশেষে সেই প্রেমের কারণে পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের দাম্পত্যের।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা, সংঘাত

নির্বাচন ফল বাতিল ও পুনরায় নির্বাচন দাবি করে আন্দোলন শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষে চবি রণক্ষেত্র
ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও ২৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। সকাল ১১টা ৩০ থেকে শুরু হয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুর ২টায়। এতে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ছাত্রলীগ বলেছে, সংঘর্ষে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসময় বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়।
গতকাল সকাল ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় শাখা ছাত্রলীগের আটককৃত ৬ নেতাকর্মীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান করে এবং ষোলশহর স্টেশন থেকে শাটল ট্রেনের লোকোমাস্টারকে অপহরণ করে পরে ছেড়ে দেয়। এর আগে তারা ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দেয়। সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ জলকামান নিয়ে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্থানত্যাগ না করলে পৌনে ১২টার দিকে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এসময় ছাত্রলীগের বিক্ষিপ্ত নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। একইসাথে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এর আগে গত ৩১শে মার্চ থেকে ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দুই গ্রুপ বিজয় ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ৩রা এপ্রিল উভয় গ্রুপের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪ তারিখ (বৃহস্পতিবার) পুলিশ বাদী হয়ে তাদের নামে হাটহাজারী থানায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দায়ের হয়।
ঘটনা পরবর্তী ব্রিফিংয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানান, তাদের নামে যে অস্ত্র মামলা হয়েছে বলা হচ্ছে সেটা আসলে দেশীয় অস্ত্রের মামলা, আগ্নেয়াস্ত্র নয়। আগ্নেয়াস্ত্র মামলা হয়েছে বলে তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই মামলায় তাদের ছাত্রত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। পুলিশ বাদী হয়ে যে মামলা করেছে সেটা তাদের জন্যই করেছে। তাদের দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। তাহলে তারা আমাদের কাছে আসুক, আলোচনা করুক। তারা সেটা করেনি। এ ধরণের পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কিভাবে নির্বিকার থাকবে। তারা অহিংস আন্দোলন করবে বললেও বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকান্ড করেছে।
এ বিষয়ে উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, আমরা তাদের সমস্ত দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম। নেতাদের সাথে কথাও হয়েছিল। কিন্তু তারা আন্দোলন অহিংস রাখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের উস্কানীতে এ ঘটনা ঘটে। তারা পুলিশের সাথে হাতাহাতি করে ঝামেলা বাঁধায়।
শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল হক আরাফাত বলেন, আমাদের নেতা কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল। পুলিশ অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
বশেমুরবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি, উত্তাল ক্যাম্পাস
এদিকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত ছিল। সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন গত ডিসেম্বরে। তারা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয় বলে দুই ছাত্রী অভিযোগ করেন। সমপ্রতি যৌন নির্যাতনের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে আলোচনায় আসে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। যৌন নির্যাতনের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষি শিক্ষকের শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত আন্দেলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলী। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্সের শিকার হতে হয়েছে। একই বিভাগের অন্য শিক্ষকের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছে। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শিক্ষার্থী দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া বলেন, ইতোমধ্যে প্রফেসর ড. আব্দুর রহিমকে প্রধান করে এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ববির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
সমঝোতা বৈঠকের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় শহীদ আব্দুর রাব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত।
তিনি বলেন, তারা বিভাগীয় কমিশনারের আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রোববার থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং ভিসিকে অবসরে পাঠিয়ে নতুন ভিসি দেয়া হবে। তারা সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে পারেনি। এজন্য সবার সিদ্ধান্ত হলো, ভিসির পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ ধারাবাহিকতায় রোববার ১৩ তম দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘পরিবার নেই, পারিবারিক মূল্যবোধের কি বোঝেন মোদি!’ -শারদ পাওয়ার

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শারদ পাওয়ার। তিনি শনিবার স্বীকার করেন, বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে একক বৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। কিন্তু তারা সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। এর ফলে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতা নিশ্চিত হবে না।
শারদ পাওয়ার এনডিটিভিকে বলেন, যদি বিজেপি ক্লিয়ার-কাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে আমি নিশ্চিত, তারা নিজেরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে না। এমন অবস্থায় অন্য কেউ অন্যদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হতে পারে। এমন সম্ভাব্যতা আছে। তারপরও অন্য দল যদি বিজেপিকে সমর্থন করেও তাহলে তারা নরেন্দ্র মোদিকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী চাইবে।
শারদ পাওয়ার বলেন, সারাদেশ প্রত্যক্ষ করছে জনমত কিভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে গেছে। ভারতের গ্রামীণ সমাজতো মোদিকে হারানোর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। তারা অসন্তুষ্ট এ সরকারকে নিয়ে। এনসিপির এই বর্ষীয়ান নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মন্তব্য করার কারণে প্রচণ্ড কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন মন্তব্য এমন একজন ব্যক্তি করেছেন যার কোনো পারিবারিক অভিজ্ঞতাই নেই।
শারদ পাওয়ারের নিজের ভাষায়- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়ারধাতে নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, (শারদ) পাওয়ার পরিবারে বিরোধ আছে। এ জন্য অজিত পাওয়ার পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। পাওয়ার পরিবার এখন আর ঐক্যবদ্ধ নেই। আমি মোদিকে বলতে চাই, আমাদের ভাইয়েরা একটি সাংস্কৃতিক পরিম-লে বড় হয়েছি। আমাদের মা মূল্যবোধ শিক্ষা দিয়েছেন।
শারদ পাওয়ার আরো যোগ করেন। বলেন, তারা ভাইয়েরা যার যার জায়গায় সুনাম অর্জন করেছেন। তার মা এতটাই মহান যে, তার ছেলেরা পেয়েছেন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্ম বিভূষণ পদক। শারদ পওয়ার পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত হয়েছেন। তার ভাই সকাল খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। তাকে দেয়া হয়েছে পদ্মশ্রী পদক।
শারদ পাওয়ার আরো বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও গুণাবলী শিখেছেন ভারতের বলিষ্ঠ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওয়াহারলাল নেহরু, মহারাষ্ট্রের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী ওয়াই বি চবনের মতো ব্যক্তিদের কাছ থেকে। তিনি মোদির সমালোচনা করে বলেন, এখন এইসব মানুষ নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য গান্ধী পরিবারের সমালোচনা করছেন। আর এখন এই আক্রমণের মুখে পড়েছে আমার পরিবারও।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিস্তানের ফুটপাত আবার হকারদের দখলে

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে গুলিস্তান এলাকা হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল পথচারীরা। তবে অতীতের মতো এবারও উচ্ছেদের পর হকার বসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।
শান্তিনগর মোড় থেকে প্রতিদিনই বংশালে যাওয়া–আসা করেন ব্যবসায়ী কবির হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই গুলিস্তান এলাকা থেকে হকারদের উচ্ছেদের পর গোটা এলাকাতেই যেন স্বস্তি নেমে এসেছিল। তবে এবারও এই অভিযান টেকসই না হওয়াটা দুঃখজনক। অল্প কিছু লোক জোরজবরদস্তি করে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করবেন আর নগরীর লাখ লাখ পথচারী বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাবে, এটা মোটেই যুক্তিসংগত নয়। এটা অনুচিত। এ কারণে শহর স্থবির হয়ে পড়েছে।
ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ফুটপাত থেকে হকার সরানোর সিদ্ধান্তে কোনো শিথিলতা আসেনি। সিদ্ধান্ত আগের মতোই আছে। যদি কেউ বসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় হকার সরানো কঠিন কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নগর পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের কেউ ঢাকা ছেড়ে যাননি। সুতরাং এ বিষয়ে নগরের শীর্ষ কর্তাদের উচিত আমাদের সহযোগিতা করা।’
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, জিপিও ভবনের পশ্চিম পাশের সড়ক, জিরো পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্স, গোলাপ শাহ মাজারের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত রমনা ভবন ও রেলওয়ে সুপার মার্কেট, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের সড়কের ফুটপাত দখল করে আবার আগের মতোই হকাররা বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এর মধ্যে জিপিও ভবনের পশ্চিম পাশের সড়কের ফুটপাতে ও খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে হকাররা বিভিন্ন প্রকার ফল বিক্রি করছেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাতে পোশাক নিয়ে বসেছেন হকাররা।
রেলওয়ে সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে শিশুদের পোশাক বিক্রি করছেন হুমায়ূন। তিনি বলেন, ‘আগের মতো কড়াকড়ি নেই। তাই বসেছি। তবে যখন পুলিশ আসে, তখন সরে যাই।’ তবে কায়সার নামের আরেক হকার বলছেন, পুলিশ তাঁদের বসতে দিচ্ছে না। দক্ষিণ দিকে অভিযান শুরু হলে উত্তর দিকের হকাররা সরে যান। আবার উত্তর দিকে শুরু হলে দক্ষিণ দিকের হকাররা সরে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি স্থানে হকাররা বসলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিও আছে গুলিস্তানে। কয়েকটি স্থানে পুলিশের পাহারাও দেখা গেছে।
গুলিস্তান এলাকায় আবার হকাররা পণ্য বিছিয়ে বসলেও মতিঝিল ও বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম পাশের সড়ক এখনো অনেকটাই হকারমুক্ত দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হকাররা বসলেও ওই পথ হয়ে এখনো নির্বিঘ্নে পথচারীরা চলাচল করতে পারছেন। তবে পল্টন এলাকায় কয়েকটি স্থানে হকারদের বসতে দেখা গেছে।
গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় ইয়াহিয়া নামের আরেক পথচারী বলছেন, ‘গত দেড় মাস স্বচ্ছন্দে গুলিস্তান এলাকায় চলাচল করেছি। যানবাহনের চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। তবে আস্তে আস্তে আগেরই চিত্রই দেখা যাচ্ছে।’
গুলিস্তান এলাকায় হকাররা বসেছেন, এটা জানা নেই দাবি করে ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এস এম মুরাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে এই পরিস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। নতুন করে কেউ যাতে বসতে না পারে, সে ব্যাপারে ডিএসসিসি উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিন নিয়ে আমেরিকার মানচিত্র তৈরি অলীক কল্পনা: হামাস

হামাসের পলিট ব্যুরোর সদস্য হুসাম বাদরান বলেন, “কথিত শতাব্দির সেরা চুক্তির আওতায় আমেরিকা মানচিত্র তৈরি করবে কিনা সেটা কোনো বিষয় নয়; এটা নিতান্তই দখলদার ইসরাইলের অলীক কল্পনা। তিনি বলেন, “ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের মানচিত্র রয়েছে আমাদের হৃদয়ে এবং পরবর্তী প্রজন্ম তার উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করবে।”
হুসাম বাদরান জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমিতে ফেরার অধিকার রাখে এবং ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছে তারা সবাই নিজেদের ভূমি রক্ষা করবে।
ট্রাম্প প্রশাসন কথিত যে নতুন চুক্তি তৈরি করতে যাচ্ছে তাতে জর্দান দশ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী নেবে; বিনিময়ে তারা আমেরিকা থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার অর্থ পাবে। গাজার লোকজনকেও জর্দানের সঙ্গে একীভূত করে দেয়া হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মায়ের কাছে ফেরা হলো না by জিয়া চৌধুরী

এক অচেনা ইরাম।
ফেরার পথে রামপুরা-ডেমরা মোস্তফা মাঝির মোড় এলাকায় রমজান পরিবহনের একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান ইরাম। ডেমরার গোলাম মোস্তফা স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন ইরাম। চার ভাইয়ের মধ্যে ইরাম ছিলেন তৃতীয়। বাবা দেলোয়ার হোসেন জামদানি শাড়ির ব্যবসা করেন, মা শাহনাজ বেগম গৃহিনী। লিকন, রায়হান, ইরাম ও জুবায়েরকে নিয়ে ছিল তাদের পরিবার। থাকতেন ডেমরার আমুলিয়া এলাকার পূর্ব পাড়ায়। অথচ বাড়িটি এখন নিস্তব্ধ। গোয়ালবাড়ি এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের পর থেকে যেন বাকরুদ্ধ মা শাহনাজ বেগম। চোখের ফ্যাল ফ্যাল চাহনিতে স্নেহের সন্তানকে খুঁজছেন। আর ক্ষণে ক্ষণে ঢুকরে কেঁদে উঠছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় হওয়ায় ছোটবেলা থেকে আদরে আহ্লাদে বড় হয়েছে ইরাম। বাসায় এখনো তার খেলার সরঞ্জাম আর পোষাকগুলো ভাইদের কাছে স্মৃতি হয়ে রয়েছে। নিহত ইরামের বড় ভাই লিকন গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানান, ছোটবেলা থেকেই শারীরিক গড়ন বেশ ভাল ছিল ইরামের। ছিল খেলাধুলার অসম্ভব ঝোঁক। তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ইচ্ছে ছিল তার।
বেপরোয়া বাস ইরামের স্বপ্নকে আর পূরণ হতে দিলো না। ভাইদের সবার ছোট কোরআনে হাফেজ জুবায়ের(১৫) তার সেজো ভাই ইরামের জানাযা পড়ায়। ভাই হয়ে ভাইয়ের জানাযা পড়ানো যে কতটা কষ্টের তার আঁচ পাওয়া যায় লিকনের কান্নায়। ক্রিকেট ছাড়াও সেনাবাহিনী নিয়ে ভীষণ আগ্রহ ছিল ইরামের। মাধ্যমিকে ইরামের সঙ্গে পড়াশেনা করেছেন মুহাম্মদ জুনাইদ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এসএসসির পর থেকে দেশ সেবার অতন্দ্র প্রহরী হতে সেনাবহিনীতে যোগ দেয়ার ইচ্ছে জাগে আমাদের দু’জনের। আইএসএসবি পরীক্ষাসহ সেনাবাহিনীর নানা বিষয়ে আমরা আলোচনা করতাম। খেলার মাঠ, কলেজ সবখানে বিষয়টা নিয়ে কথা হতো। কিন্তু ইরাম এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে ভাবতেও পারছি না। কলাবাগানের মাঠ বলে পরিচিত খেলার মাঠে প্রতি শুক্রবারে খেলতে যেতেন ইরাম। গত ২৯ মার্চ শুক্রবারও ইরামের সাথে খেলতে গিয়েছিলেন তার ফুফাতো ভাই সারওয়ার হোসেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দুর্ঘটনার আগের শুক্রবারও আমরা দুজন কলাবাগানের মাঠে খেলতে গিয়েছিলাম। খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ডেমরা-রামপুরা সড়ক নিয়ে কথা হয়।
এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিল সে। ওখানকার ব্রিজের পাশের স্পিডব্রেকারটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরাম। সড়কের গতিরোধকটি দেবে মাত্র দেড় ইঞ্চি হয়ে গেছে। যে কোন গাড়ি স্পিডব্রেকার দিয়ে সহজেই ৫০-৬০ কিলোমিটার গতিতে চলে যেতে পারে। অথচ পরের শুক্রবারে ইরাম ওই সড়কেই বাসের চাপায় প্রাণ হারালো। এদিকে, ঘাতক রমজান পরিবহনের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছে নিহত ইরামের চাচা শফিউদ্দিন ব্যাপারী। ছেলেকে হারানোর পর তারা এখন শুধু একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর রমজান পরিবহনের বাসটির চালক মো. শামীম ও হেলপার মুন্না মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডেমরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন গত কয়েক বছরে কমপক্ষে ছয়জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে ওই সড়কে। অনিয়ন্ত্রিত গতি ও বেপরোয়া চালনার কারণে প্রতিনিয়ত মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে সড়কটি।
তুহিন ও নোমানের বাড়িতে শোকের মাতম: শুক্রবার খিলগাঁও ফ্লাইওভারে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিহত দুই শিক্ষার্থী তাজ হোসেন তুহিন ও মো. আব্দুলাহ আল নোমান শেখের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
সবুজবাগ থানা এলাকার ওয়াব কলোনীতে তুহিনদের বাসায় গিয়ে দেখা যায় তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন ও মা শাফিয়া বেগমের আহাজারি। একমাত্র সন্তান হারিয়ে তারা কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারছেন না। তুহিনের মা শাফিয়া বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তুহিনের খালা রাবেয়া বেগম বলেন, আমরা তিন বোন ও দুই ভাইয়ের কোন ছেলে সন্তান নাই। তাই তুহিনকে আমরা সবাই আমাদের ছেলের মত দেখতাম। শুক্রবার শাওমির মোবাইলের শো-রুমে নতুন মডেলের কোন মোবাইল আসছে কিনা এজন্য সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে বাসার ছাদে সে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে যায়। ভাড়া বাবদ তার মা তাকে তিনশ টাকাও দেন। কথা ছিল রিকশা করে সে দোকানে যাবে। কিন্তু বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে গিয়ে আজ সে না ফেরার দেশে। তিনি বলেন, পড়ালেখায় বেশ ভালো ছিল তুহিন। কারো সঙ্গে আড্ডাবাজি করত না।
অনেকবার বায়না ধরেছিল মোটরসাইকেল কিনে দেবার জন্য। কিন্তু আমরা তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেইনি। অথচ সে মোটরসাইকেলই কেড়ে নিয়েছে তুহিনকে। আব্দুলাহ আল নোমান শেখের বাসায় তার মা ময়না বেগমের আহাজারিতে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। নোমানের মা বলেন, জুম্মার নামাজ পড়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে তুমি কই। আমি তখন বলি আমি তোর নানীর বাসায়। এই কথা শুনেই ফোন কেটে দেয়। তারপর নানীর বাসায় এসে বাসায় চাবি নিয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তার ছোট ভাই চাঁদকে নিয়ে বের হয়।
কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরির পর তার ভাইকে ১০ টাকা দিয়ে আবার সে বের হয়ে যায়। এর কয়েক মিনিট পরে একজন লোক এসে বলে আপনার ছেলে এক্সিডেন্ট করেছে। এ কথা শুনে তড়িঘড়ি করে আমি ফ্লাইওভারের দিকে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি একটা ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু ওই ছেলেটা আমার নোমান ছিল না। এলাকার একটি ছেলে বলে আরেক ছেলেকে খিদমাহ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আামি তখন হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলেকে দেখতে পাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
April
(369)
-
▼
Apr 08
(18)
- মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে : জেসিন্ডা আরডার্ন by মো:...
- অটিস্টিক শিশু ও তাদের মায়েরা by রহিমা আক্তার মৌ
- চৌকিদারের ম্যাজিক, না নবীনবরণ? by অনিম আরাফাত
- বাকশাল বিতর্ক: স্বৈরাচার নাকি বৈপ্লবিক পরিবর্তন? b...
- লোকসানের বৃত্তেই সরকারি পাটকল by শুভংকর কর্মকার
- মহাকাশ নিয়ে শীতল যুদ্ধ!
- শিগগিরই ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি
- স্যার, আমার পেটে বাচ্চা, আমাকে বাঁচান: অন্তত ৪০ জন...
- পরিবেশ বিপর্যয়ে বাংলাদেশের দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে
- পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন, মরে যাচ্ছে গাছ
- আসামের ভোট যুদ্ধে এবার সুর ‘ইলু-ইলু’
- যে কারণে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা হটাতে বললেন ইরানের...
- ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালাক
- ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা, সংঘাত
- ‘পরিবার নেই, পারিবারিক মূল্যবোধের কি বোঝেন মোদি!’ ...
- গুলিস্তানের ফুটপাত আবার হকারদের দখলে
- ফিলিস্তিন নিয়ে আমেরিকার মানচিত্র তৈরি অলীক কল্পনা:...
- মায়ের কাছে ফেরা হলো না by জিয়া চৌধুরী
-
▼
Apr 08
(18)
-
▼
April
(369)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
