Wednesday, September 2, 2015

গ্রিসে পৌঁছেছে কয়েক হাজার অভিবাসী

গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে কয়েক হাজার অভিবাসী পৌঁছেছে। দেশটির সরকার অভিবাসীদের চাপ সামলানোর বিষয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লেসবোস দ্বীপ থেকে রওয়ানা দিয়ে রাতে দুটি জাহাজ পিরায়েউস বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজ দুটিতে ৪ হাজার ২শ অভিবাসী ছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) নজিরবিহীন অভিবাসন সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
কয়েকশ অভিবাসী হাঙ্গেরির একটি রেল স্টেশনের বাইরে আটকা পড়েছে। এদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে। পুলিশ তাদের ইইউতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
ইইউ’র সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, গ্রিসে শুধু গত সপ্তাহেই ২৩ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছে। এর আগের সপ্তাহের চেয়ে এই সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেশি।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি লোক গ্রিসে পৌঁছেছে। এটা ইতোমধ্যেই গত বছরের মোট সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে।
গ্রিস সরকার জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক এই অভিবাসীকে আশ্রয় দেয়ার মতো সম্পদ দেশটির নেই।
কিন্তু সাহায্যকারী সংস্থাগুলো বলছে, গ্রিস কর্তৃপক্ষকে আরো বেশি করা উচিত।
মঙ্গলবার গ্রিসের প্রেসিডেন্ট প্রোকোপিস পাভলোপুলোস ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদকে ফোন করে অভিবাসিদের নিয়ে গ্রিস যে সংকটের সম্মুখীন হয়েছে তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করতে বলেছেন।
বুধবার গ্রিসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বসবে।
কাথিমেরিনি পত্রিকা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ১৭ হাজার ৫শ অভিবাসীকে নিবন্ধন করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে ১ হাজার ৭৪৯ অভিবাসী নিয়ে লেবস দ্বীপ থেকে একটি ফেরি এথেন্সের কাছে পিরায়েউস বন্দরে পৌঁছেছে।

শুক্রবার থেকে আরো বৃষ্টি!

রাজধানী ঢাকায় আজ বিকেল থেকে আগামী ৩৬ ঘন্টার জন্য বৃষ্টি কমবে। তবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে এবং তা কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম আজ বাসসকে এ কথা জানান।
এ ছাড়া সারা দেশে কম-বেশী মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। মৌসুমী বায়ূ সক্রিয় থাকার কারণে উপকূলীয় এলাকা, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
পরিচালক শাহ আলম জানান, মৌসুমী বায়ূ শেষ হতে আরো বেশ কিছু দিন বাকি রয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তিনি জানান, দেশে মৌসুমী বায়ূ সক্রিয় থাকার কারণে গত কয়েকদিন যাবত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। তা আগামী আরো কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৩৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৫৩ মিলিমিটার, টেকনাফে ৮২ মিলিমিটার, বরিশালে ৩৩ মিলিমিটার, ভোলায় ৩৬ মিলিমিটার এবং খেপুপাড়ায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ী এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৌসুমী বায়ূ সক্রিয় থাকার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলার ও পায়রা বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, আরামবাগ, মিরপুরের রূপনগর, ১০ নম্বর গোলচত্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের সামনে, সবুজবাগ, বাসাবো, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজারের কিছু এলাকায় এবং কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানায়, নদ-নদীর ৫৩টি স্থানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৩টি স্থানে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আমি মৃত্যুভয় করি না, ঘাতককে পরোয়া করি না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ড চালিয়েছে। বাংলাদেশে হত্যা ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। দেশে আমি যখন প্রতিকূল অবস্থায় রাজনীতি করতে এসেছি প্রতি পদে পদে তো বাধা আসবে, আর এ বাধা যে আসবে সেটা আমি জানি। কিন্তু আমার জীবন আমি উৎসর্গ করেছি এদেশের মানুষের জন্য। আমি কখনো কোনো দিনই মৃত্যু ভয় করিনি, মৃত্যুভয় আমি করি না। আমি তো মানুষের জন্য কাজ করছি। আমি কেন ভয় করতে যাব, আমি কেন ঘাতককে পরোয়া করবো, আমি কখনো পরোয়া করি না।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেয়ায় আমেরিকা, কানাডা ও পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে সভ্য দেশ উন্নত দেশ হয়েও এই খুনিদেরকে আশ্রয় দেয়া বা খুনিদের সেখানে রাখা এটা আমেরিকা-কানাডার মতো দেশ করে আমার জানা নেই। আমরা অনেকবার তাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি, আইনগতভাবেও আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, ইন্টারপোলে এদের ওপর ওয়ারেন্ট জারি করা আছে। যে কারণেই হোক আমরা সেসব দেশের সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছি না- এটা বাবস্তবতা। খুনিদের দুজন আমেরিকায়, একজন কানাডায় এবং কর্নেল রশীদ ও ডালিম পাকিস্তানে আছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ লিখিত ও সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমার পিতা-মাতা, ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকান্ডের ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার বোন শেখ রেহানার বেঁচে যাওয়া, দেশে ফেরার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, এই হত্যাকান্ডের পর সমগ্র বাংলাদেশই কয়েদখানায় পরিণত হয়। খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ড চালায়। বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়। আমিও রেহানা দেশে ফিরতে চাইলে আমাদের বাধা দেয়া হয়। রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সময় বর্ধিত করতে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয়, জিয়াউর রহমানের নির্দেশে তা বর্ধিত করা হয়নি। তাকে পাসপোর্টও দেয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমাদের বিদেশের মাটিতেই পড়ে থাকতে হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে রাজনীতি ও দল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কারাগারে বন্দী করে মিথ্য মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়। ১৯৭৯ সালে তারা মুক্তি পান। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে আমার অবর্তমানে আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
তিনি বলেন, আমি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসি। জিয়াউর রহমান আমাকে বাধা দেযার চেষ্টা করে সফল হয়নি। কারণ বাংলাদেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী বাহিনী সব বাধা উপেক্ষা করে আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু দেশে এসে আমি যখন ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে প্রবেশ করতে যাই আমাকে ওই বাড়িতে যেতে দেয়া হয়নি। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালের ১২ জুন হঠাৎ করে এক ঘন্টার নোটিশে বাড়িটি আমাকে হস্তান্তর করে। প্রধানমন্ত্রী সেই বাড়িতে প্রবেশের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি এখনো মাঝে মাঝে সেখানে যাই।এই বাড়ি থেকেই শক্তি পাই। একদিকে সব হারানোর বেদনা, অন্যদিকে মানুষের সেবা করার প্রেরণা, সবই এখানে এলে পেয়ে থাকি।
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাওয়া পাওয়ার উর্ধে উঠে শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। ’৭৫-এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাঙালি জাতির মাথা হেট হয়েছিল বিশ্ববাসীর কাছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের হারানো মর্যাদাকে ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশকে দারিদ্রমুক্ত করা একটি উন্নত দেশ গড়া আমার লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে যেয়ে এটা খুবই স্বাভাবিক প্রতি পদে পদে বাধার সম্মুখীন, প্রতি পদে পদে আমাকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি জানি ’৭৫-এর পর উল্লসিত হয়েছিল তারাই যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি। যে খুনিরা আমার পিতা মাতা ভাইদের হত্যা করেছিল সেই খুনিদের বিচার হয়নি। পৃথিবীতে এমন নজির নেই খুনিদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়। খুনিদের পুরস্কৃত করা দূতাবাসে চাকরি দেয়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা, দল করতে দেয়া এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করা এই ধরণের বহু কর্মকান্ড আমরা দেখেছি। স্বাভাবিকভাবে সেই দেশে আমি যখন প্রতিকূল অবস্থায় রাজনীতি করতে এসেছি প্রতি পদে পদে তো বাধা আসবে। আর এ বাধা যে আসবে সেটা আমি জানি। কিন্তু আমার জীবনে আমি উৎসর্গ করেছি এদেশের মানুষের জন্য। আমি কখনো কোনো দিনই মৃত্যু ভয় করিনি, মৃত্যুভয় আমি করি না। আমি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, করবো না, করি না। একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারো কাছে মাথা নিচু করি না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, যখন সময় হবে আবার জীবন নিয়ে যাবেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ মানুষকে কিছু কাজ দেন। এই কাজটা যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পন্ন না হবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে সেভাবে রক্ষা করবেন, যেভাবে বারবার রক্ষা করেছেন। আমি তো মানুষের জন্য কাজ করছি। কাজেই আমি কেন ভয় করতে যাবো, আমি কেন ঘাতককে পরোয়া করবো। আমি কখনো পরোয়া করি না। আমি জানি সততা দৃঢ়তা এবং আদর্শ থাকলে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌছানো যায়। কাজেই যত বাধা আসুক আঘাত আসুক আমি কখনো পরোয়া করি না, পরোয়া করবো না।
উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যারা বাংলাদেশে ছিল তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। একজন খুনি ব্যংককে ছিল। সেখান থেকে এনে রায় কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আমেরিকায় আছে। একজন কানাডায় আছে। আর দুজন যতটুকু সম্ভব আগে লিবিয়াতে ছিল এখন পাকিস্তানে আছে। বাকি দুজন যে কোথায় আছে এখনো তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে সেই ‘৯৬ সাল থেকে আমরা কমিটি গঠন করেছি আইনজীবী নিয়োগ করেছি এমনকি আমেরিকায়ও আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, কানাডাতেও। আমরা বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে সভ্য দেশ উন্নত দেশ হয়েও এই খুনিদেরকে আশ্রয় দেয়া বা খুনিদের সেখানে রাখা এটা আমেরিকা কানাডার মতো দেশ করে আমার জানা নেই। আমরা অনেকবার তাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি আইনগতভাবেও আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং এখনো সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ইন্টারপোলে এদের ওপর ওয়ারেন্ট জারি করা আছে। যে কারণেই হোক আমরা সেসব দেশের সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছি না এটা বাস্তবতা। তবুও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কারণ খুনি খুনিই। যেখানেই থাকুক তারা খুনি। কাজেই খুনিদের বিচারের রায়ের মুখোমুখি করা এবং কার্যকর করা এটা আমাদের কর্তব্য আমরা সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। বিচার হবে না এই ধরণের কথা খুনিরা অত্যন্ত গর্ব করে বলেছিল। কিন্তু সেই বিচার আমরা করেছি। পৃথিবীতে বোধ হয় একটি ঘটনাই ঘটেছে এই ধরণের হত্যাকান্ডে খুনিদের বিচার সেটাও সাধারণ আইনে। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কিন্তু কোনো বিশেষ আইনে করিনি।
তিনি বলেন, খুনিদের দুজন পাকিস্তানে আছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার কখনো স্বীকার করে না। তবে আমরা কিছু কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে জানি। একটি চ্যানেলে কর্ণেল রশীদের সাক্ষাতকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানে সে জানে খুনি রশীদ কোথায় । এটা বোঝা যায় যে খুনি রশীদ লিবিয়াতে ছিল বর্তমানে পাকিস্তানেই আছে। ডালিমও পাকিস্তানেই আছে। কিন্তু তাদের খোঁজ করার ক্ষেত্রে আমরা পাকিস্তানি সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না এটা দেশবাসীর জানা উচিত।
বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড
সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুষ্ঠ পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে মধ্যমেয়াদি ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ জুন ২০১৫ তে শেষ হয়। এরপরই বিশ্ব ব্যাংকের তরফ হতে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার ঘোষণা আসে। আমরা নিম্ন আয়ের দেশে হিসেবে থাকতে চাই না। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালীন সময়ে পরবর্তী পাঁচ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করে আমরা আমাদের ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারবো ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড।
তিন ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম
মো. তাজুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা হতে চট্টগ্রাম হয়ে লাকসাম সরাসরি যাতায়তের লক্ষ্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব হ্রাস পাবে। তখন ৩ ঘণ্টায় ঢাকা হতে চট্টগ্রামে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঢাকা হতে চট্টগ্রাম হয়ে লাকসাম সরাসরি যাতায়াতের লক্ষ্য চীন সরকারের অর্থায়নে জি টু জি ভিত্তিতে কনস্ট্রাকশন অব ডাবল ট্রাক স্টান্ডার্ড গজি রেলওয়ে লাইন ফরম ঢাকা টু চট্টগ্রাম ভায়া কুমিলল্লা/ লাকসাম প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য একটি চীনা কোম্পানীর সঙ্গে ইতিমধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর (এমওইউ) হয়েছে। প্রকল্পটি পিডিপিপিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

‘ছাত্রলীগের ছেলেদের শাস্তি দেয়াটা এক ধরনের অন্যায়’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আজ বুধবার সাংবাদিকদের কাছে জাফর ইকবাল প্রশ্ন তুলে বলেন, শিক্ষকদের ওপর কে হামলা করেছে? ছাত্রলীগের ছেলেরা? না। এরা তো ছাত্র, আমাদের ছাত্র। এত কমবয়সী ছেলে, এরা কী বোঝে? ওদেরকে আপনি যা বোঝাবেন, তা-ই বুঝবে। কাজেই আমি যখন দেখলাম যে তিনজন আর চারজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এখন আমার লিটারালি (আক্ষরিক অর্থে) ওদের জন্য মায়া লাগছে। এদের যারা বিপথগামী করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এই বাচ্চা ছেলেগুলোকে মিসগাইডেড করে পাঠিয়ে দিয়েছে, এখন তারাই বিপদে পড়েছে। ছাত্রত্ব বাতিল হবে, শাস্তি হবে। ওরা কি দোষ করেছে? কাজেই, এখন আমার খুবই খারাপ লাগছে। এই ছাত্রলীগের ছেলেদের শাস্তি দেওয়াটা এক ধরনের অন্যায়। যে তাদের পাঠিয়েছে, তাদেরকে শাস্তি দেন। ছাত্রলীগ থেকে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জাফর ইকবাল বলেন, এরা আমাদের ছাত্র। এদের আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। আমরা ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে, ওদের সঙ্গে কথা বলে, ওদেরকে ঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগাছাকে দূর করে দিতে। আমি বলি, না। আগাছাকে আমরা ফুলগাছে পরিণত করব। সম্ভব। আমাদের ছাত্র, আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। আমরা ওদেরকে ঠিক করে দেব। এদিকে ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়ার অপসারণ ও শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছে আন্দোলনরত শিক্ষকরা। কর্মবিরতির পাশাপাশি কালো ব্যাজ ধারণ করে র‌্যালী ও সমাবেশের আয়োজন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরামে’র শিক্ষকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম’র সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক আব্দুল গণি, অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক প্রমুখ।

এতিম ঢাকা নগরের অভিভাবক চাই by এ কে এম জাকারিয়া

অভিভাবকহীন এক এতিম নগরের নাম ঢাকা
ছয় বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের বসবাসের সবচেয়ে অনুপযুক্ত শহরগুলোর একটি। বসবাসের জন্য দুনিয়ার কোন শহর কতটা উপযুক্ত, তার একটি তালিকা বছর বছর প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ২০০৯ সালে সেই তালিকায় ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকার স্থান ছিল ১৩৯তম। ২০১২ সালে ঢাকা বসবাসের জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর হিসেবে বিবেচিত হয়। মানে ১৪০টি দেশের মধ্যে ১৪০ নম্বর। এক বছরের মধ্যে ঢাকার বাসযোগ্যতায় কোনো পরিবর্তন না হলেও ২০১৩ সালে ঢাকা আবার এক ধাপ এগিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অবস্থা এত শোচনীয় হয়ে পড়ে যে ঢাকাকে ওপরে জায়গা না দিয়ে আর কোনো উপায় ছিল না। এখনো সেই ১৩৯ নম্বরেই স্থির আছে ঢাকা শহর। দামেস্কে যুদ্ধ যে এখনো থামেনি!
মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভালো করছে, আমরা গর্ব করি। আবার অনেক সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। দুর্নীতির সূচকে একসময় এক নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। এখন নিচের দিক থেকে ১৪ নম্বরে। এটা বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে বলে নয়, অন্য দেশগুলোতে দুর্নীতি বেড়েছে বলে বাংলাদেশ এগিয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। এ ধরনের রিপোর্টগুলো যখন বের হয়, তখন যেগুলোতে বাংলাদেশ ভালো করছে তার কৃতিত্ব নেয় সরকার। আর যেগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ, সেই রিপোর্টগুলো হয় প্রত্যাখ্যান করা হয় অথবা প্রশ্ন তোলা হয় এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। কিন্তু এই যে বছর বছর আমাদের প্রিয় ঢাকা নিকৃষ্ট শহরের খেতাব পেয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি। বোঝা যায় ঢাকা আসলে কারও না, ঢাকার দায়দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই। অভিভাবকহীন এক এতিম নগরের নাম ঢাকা।
আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি, তারা টের পাচ্ছি কীভাবে দিনে দিনে ঢাকা এক অচল শহরে পরিণত হচ্ছে। এই শহরটি নিয়ে কেউ কোনো আশার কথা শোনাতে পারছেন না। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন (১২ জুলাই) বলছে, রাজধানী ঢাকার যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ট্রাফিক পুলিশ থেকে নগর বিশেষজ্ঞ—সবাই তা স্বীকার করে নিয়েছেন। এখন যেভাবে চলছে, সেভাবে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। ঢাকার দুই মেয়র যানজট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করলেও এই সমস্যা সমাধানে তাঁদের কিছু করার নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন। বলা যায়, এটা তাঁদের অসহায় আত্মসমর্পণ। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহান্মদ সামছুল হকের ভাষায়, ঢাকা এক মৃত নগরে পরিণত হতে চলেছে। ঢাকাবাসীর এই হাহাকার কে শুনবে? মুমূর্ষু দশা থেকে কে বাঁচাবে ঢাকা নগরকে?
এটা পরিষ্কার যে ঢাকার মূল সমস্যা এখন এসে ঠেকেছে অভিভাবকহীনতার সমস্যায়। বর্তমানে নগরে সেবা দেওয়ার বিভিন্ন সংস্থা ও নানা মন্ত্রণালয়ের খবরদারি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা দুই মেয়রের যে কাঠামো কার্যকর রয়েছে, তা দিয়ে ঢাকার মতো শহরকে আর চালানো যাবে না। ঢাকার ওপর বিভিন্ন সময়ে অনেক সমীক্ষা হয়েছে। সব সমীক্ষাতেই ঢাকার ব্যবস্থাপনায় নানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, সমন্বয়হীনতা এবং একই কাজে নানা প্রতিষ্ঠানের যুক্ততার সমস্যার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো সমস্যা বা ব্যর্থতার দায় কেউ নিতে চায় না। পারস্পরিক দোষারোপেই সব সমস্যা চাপা পড়ে যায়। ঢাকার জন্য ২০ বছর মেয়াদি যে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (২০০৪-২০২৪) করা হয়েছে, সেখানে যে ৭১টি কৌশল ঠিক করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য একটি ‘একক কর্তৃপক্ষের’ কথা বলা হয়েছে।
অথচ ঢাকাকে ‘আরও ভালোভাবে’ পরিচালনার দোহাই দিয়ে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ—এ দুই ভাগে বিভক্ত ঢাকা এখন দুজন মেয়র পেয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে একেবারে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ করে ঢাকাকে ভাগ করা উল্টো পথে হাঁটারই শামিল। ঢাকার এই বিভক্তি ‘একক কর্তৃপক্ষ’ ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। শহর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভক্তি পরিস্থিতিকে জটিল করে। আধুনিক শহর ব্যবস্থাপনায় বরং সবকিছু এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার নীতি নেওয়া হয়। আর আমরা এমন ব্যবস্থা বেছে নিয়েছি, যাতে গাজীপুর থেকে যে রাস্তা বা গণপরিবহনব্যবস্থা সদরঘাট পর্যন্ত চলবে, সেটিও চলবে দুটি কর্তৃপক্ষের অধীনে। দুই ঢাকার একক পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থার আবর্জনা পরিষ্কার করবে দুটি সিটি করপোরেশন!
ঢাকায় নানা ‘উন্নয়ন’ কার্যক্রম চলছে এবং প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইওভার, বাস, র্যা পিড ট্রানজিট, মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে—কয়েকটির কাজ চলছে, কিছু শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোনো কিছুই ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতি সহনীয় করার ভরসা দিতে পারছে না। ঢাকার চারপাশের ওয়াটারওয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েও কার্যকর করা যায়নি। কারণ, এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এমনকি একটি অন্যটির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও। একটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কোনোটি রাজউক বা সিটি করপোরেশন, কোনোটির পরিকল্পনা করছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আবার কোনোটি পরিচালনা করছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। যে যার যার মতো কাজ করছে, সমস্যার দায়দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই।
আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি, তারা টের পাচ্ছি কীভাবে দিনে দিনে ঢাকা এক অচল শহরে পরিণত হচ্ছে। এই শহরটি নিয়ে কেউ কোনো আশার কথা শোনাতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরে পিক আওয়ারে যানবাহনের যে চাপ, তাতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল-ব্যবস্থা কাজ করার কথা নয়। এসব কোনো কিছুই বিবেচনায় না নিয়ে ঢাকায় আবার নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল-ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। এ ধরনের সিগন্যাল-ব্যবস্থার কোনো সুফল যদি ঢাকা না পায়, তবে কেন এই অর্থের অপচয়? দেখা যাচ্ছে, নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, খরচও ঠিকই হচ্ছে। কিন্তু তা কাজে দিচ্ছে না যথাযথ সমন্বিত পরিকল্পনা এবং একটি একক বাস্তবায়ন ও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অভাবে। মনে পড়ে, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বছর দু-এক আগে এক আলাপচারিতায় বলেছিলেন, ‘দেশ পরিচালনার জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন, তিনি সবকিছুর সমন্বয় করেন। ঢাকা আমাদের রাজধানী ও অন্যতম জনবহুল একটি শহর। এটি পরিচালনার জন্যও একজন নেতা দরকার, যাঁর ক্ষমতা থাকবে, যিনি সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করবেন এবং একটি শহর পরিচালনার যোগ্যতা ও ভিশন থাকবে।’ তিনি ঢাকার জন্য একজন যোগ্য নেতার নেতৃত্বে এ ধরনের ‘সুপার অথোরিটি’ দেখতে চান।
বিশ্বের উন্নত ও আধুনিক নগরগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে বর্তমানে সবচেয়ে পরীক্ষিত ও কার্যকর কাঠামো হচ্ছে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একক ও নির্বাচিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এ ধরনের কোনো ব্যবস্থার অভাবকেই বর্তমানে ঢাকার সবচেয়ে বড় সংকট বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ সামছুল হক। এ ধরনের কোনো ব্যবস্থায় যাওয়া ছাড়া ঢাকাকে সচল ও বাসযোগ্য রাখা যাবে না। তিনি মনে করেন, অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে নেমে পড়ার আগে নগর উন্নয়ন ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমির ব্যবহার, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
প্রথমে পরিকল্পনা প্রণয়ন, পরে বাস্তবায়ন। এটা একটা বড় কর্মযজ্ঞ এবং তা শুরু করতে হবে একটি একক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নগর পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে যা বের হয়ে এসেছে তা হচ্ছে একটি শক্তিশালী নগর কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় বিশ্বের বড় শহরগুলো এ ধরনের কর্তৃপক্ষের দিকে গেছে। ঢাকারও এখন এমন একটি কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবক দরকার, যে কর্তৃপক্ষ এই শহরটি নিয়ে পরিকল্পনা করবে; এর ভূমির ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করবে; বহুমাত্রিক গণপরিবহনব্যবস্থা কার্যকর ও পরিচালনা করবে; নগর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে; সব ধরনের পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
ইআইইউ বছর বছর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসযোগ্যতার যে তালিকা তৈরি করে, তা মূলত করা হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য। কোনো শহরে কোনো কর্মী নিয়োগ দিতে হলে তাঁকে কী পরিমাণ হার্ডশিপ ভাতা (কষ্টকর বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার জন্য অতিরিক্ত ভাতা) দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয় এই রিপোর্ট ধরে। বিনিয়োগকারীরাও কোনো দেশে বিনিয়োগ করার আগে সেখানকার শহরগুলোর বাসযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নেন এই রিপোর্টের ভিত্তিতে। বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী একটি শহর যে দেশের রাজধানী, সেই দেশ বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করবে কীভাবে? দিনে দিনে অচল হয়ে পড়া ঢাকা নগরকে নিয়ে সরকারগুলোর নির্বিকার অবস্থান সত্যিই বিস্ময়কর।
ঢাকাকে ঠিকভাবে চালাতে ও সচল রাখতে একক ক্ষমতার অভিভাবক লাগবে। নগর সরকার, মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট বা অন্য যে নামেই হোক, লাগবে একটি একক কর্তৃপক্ষ। নানা সমস্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বিশ্বের আধুনিক শহরগুলো নগর ব্যবস্থাপনার যেসব কাঠামো গ্রহণ করেছে, সেগুলো পরীক্ষিত। ঢাকার জন্য এ ধরনের একটি মডেল নিতে আমরা যত অপেক্ষা করব, শহরটি ততই বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়ার দিকে এগোবে।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

ওসামা বিন লাদেন বেঁচে আছেন : স্নোডেন

ওসামা বিন লাদেন বেঁচে আছেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে বহাল তবিয়তেই রয়েছে- আজগুবি এ কথাটি শোনামাত্রই বিশ্বাস করা খুবই কঠিন। কিন্তু এডওয়ার্ড স্নোডেন দাবি করেছেন, বিন লাদেন বেঁচে আছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের আস্তানায় আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে গুলি করে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিলের কমান্ডোরা। তাহলে কোনটা সত্য যুক্তরাষ্ট্র নাকি স্নোডেন? সুতরাং লাদেনের বেঁচে থাকা, না থাকা নিয়ে এক ধরনের ধূম্রজাল থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির তথ্য ফাঁস করে দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্নোডেন এখন রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। মস্কো ট্রিবিউনকে সম্প্রতি তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ সাক্ষাৎকারে বিন লাদেন বেঁচে আছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
ওয়ার্ল্ড নিউ ডেইলি রিপোর্ট ডট কম নামে একটি অনলাইন সংবাদপত্রে এ সম্পর্কিত খবর প্রথম প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত খবর মতে স্নোডেনের বক্তব্য এ রকম ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, বিন লাদেন এখনও সিআইএ’র প্যারোলো রয়েছেন। প্রতি মাসে তিনি ১ লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী ও কিছু সংস্থার মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়ে থাকে। এখন তিনি কোথায় আছেন, তা ঠিক আমি জানি না। তবে সিআইএ’র তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাহামা দ্বীপপুঞ্জে ছিলেন বিন লাদেন। সঙ্গে তার পাঁচ স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ছিল।’ স্নোডেন এখন ফেরারি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) নজরদারির তথ্য ফাঁস করার পর দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর এমন কিছু তথ্য ফাঁস করেছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলেছে। খবরে বলা হয়েছে, এর আগেও বিন লাদেনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলেছেন স্নোডেন।

মিসরে অভিনব আজান, শাস্তি মুয়াজ্জিনের

মিসরে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, কারণ তিনি আজানকে ‘যুগোপযোগী’ করার চেষ্টায় এর ঐতিহ্যগত ভাষায় পরিবর্তন এনেছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাহমুদ আল-মোগাজি নামের ওই মুয়াজ্জিন আজান দেয়ার সময় ‘ঘুমানোর চাইতে নামাজ উত্তম’ (আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাওম) এই ঐতিহ্যগত ভাষার পরিবর্তন করে আজান দেন ‘ফেসবুকে সময় কাটানোর চাইতে নামাজ উত্তম’। নীলনদের অববাহিকায় কাফর আল-দাওয়ার নামে এক শহরের মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আরও দুই হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করল থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিখ্যাত ইরওয়ান মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনায় এবার সন্দেহের তালিকায় ২৬ বছরের এক থাই নারী। এছাড়া রয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকও। সোমবার তাদের ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃংখলা পরিষদ (এনসিপিও)। খবর দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের। শনিবার রাজধানীর একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটকসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন দেশটির পুলিশ বাহিনী। এ ঘটনার পরপরই তদন্তে এই দু’জন সন্দেহভাজন অপরাধীর তথ্য প্রকাশ করল তারা।
তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে শনিবারের অভিযানের পরদিন আরও একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে আবারও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। থাই পুলিশ মুখপাত্র প্রাউথ থাভোর্নসিরি বলেন, আমরা দ্বিতীয় অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে গানপাউডার, ইউরিয়া সার, দূরযন্ত্র, ক্ষুদ্র ধাতব পদার্থ ছোট বাল্ব ও ডিজিটাল চশমা উদ্ধার করেছি। এ চক্রের আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছেন তিনি।

জনগণ কত দামে বিদ্যুৎ কেনে? by অরুণ কর্মকার

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আরও বাড়ানো উচিত বলে মত দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্যরা সবাই জনপ্রতিনিধি। জনগণের ভালো-মন্দ নিয়েই তাঁদের যত ভাবনা। তাই ধরে নেওয়া যায়, আখেরে জনগণের ভালোর জন্যই তাঁরা আরও দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তাঁদের ওই মতের কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দরকার। সংসদীয় কমিটি বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ব্যবধানের তথ্য দিয়ে দেখিয়েছে, সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। ফলে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘকাল ভর্তুকি অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। তাতে একসময় অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। তাই দাম আরও বাড়ানো উচিত।
সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বলে যে কথাটি সংসদীয় কমিটি বলেছে, তা আংশিক সত্য। প্রকৃত সত্য হলো, সরকার কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে। আর জনগণ সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়েও বেশি দামে কিনছে। এখানে একটি তথ্যবিভ্রাটের উল্লেখ করা দরকার। সংসদীয় কমিটির সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ৬৮ পয়সা। আর সরকার (বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে) বিক্রি করছে ৪ টাকা ৭১ পয়সা। এই তথ্যে বিভ্রাট আছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ৬ টাকা ২৪ পয়সা। বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৭ পয়সা করে। গত বৃহস্পতিবার দাম বাড়ানোর পর এই বিক্রয় মূল্য হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৯০ পয়সা।
এই হিসাবে সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করছে ঠিকই। কিন্তু জনগণ কত দামে বিদ্যুৎ কিনছে? গত বৃহস্পতিবারের দাম বাড়ানোর আগে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ছিল ৬ টাকা ১৫ পয়সা। প্রতি ইউনিট ১৮ পয়সা হারে দাম বাড়িয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম পড়বে ৬ টাকা ৩৩ পয়সা, যা বর্তমান উৎপাদন খরচের (৬ টাকা ২৪ পয়সা) তুলনায় বেশি। এই যে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম, তাঁরা যে সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনেন, তা সংসদীয় কমিটির ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়নি।
সরকার উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে জনগণ কিনছে সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে। অর্থাৎ জনগণ বিদ্যুতের উচ্চ দামই দিচ্ছে। কিন্তু সরকার পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কি শুধুই দাম বাড়িয়ে যাওয়া, যেমনটি বলেছে সংসদীয় কমিটি? মোটেই তা নয়।
সরকার ২০০৯-১০ সাল থেকে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের যে পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে, তাতে ২০১৩-১৪ সাল থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমে আসার কথা ছিল। তা হয়নি। কারণ, সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কম দামের বিদ্যুৎ (বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক) উৎপাদনে সফল হতে পারেনি। এই ব্যর্থতার যেমন একাধিক কারণ আছে, তেমনি সরকারের সামনে নতুন সুযোগও আছে।
সবচেয়ে বড় সুযোগ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যহ্রাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার শুধু ফার্নেস তেলের দাম বাজারদর অনুযায়ী নির্ধারণ করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ৫ টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। সরকার তেলের দাম বেশি রেখে মুনাফা করবে। আবার বিদ্যুতের দামও বাড়াবে, এটা ন্যায্য কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। এক মুরগি দুবার জবাই করা যায় না। করা উচিতও নয়।
সরকারের মধ্যে একটা দুর্ভাবনা আছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তখন তো আবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। এ নিয়ে সরকারের দুর্ভাবনার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। কেননা, সরকার যখন দেশের সংকটজনক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলচালিত ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে, তখন জনগণ বিদ্যুতের বাড়তি দামও দিয়েছে। এখনো দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতিতে সরকারের কার্যক্রমে জনগণ খুশি। এত দিনে তাদের মধ্যে এই বিশ্বাসও জন্মেছে যে, বর্তমান সরকার আরও অনেক বিষয়ের মতোই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কাজেই সরকারের উচিত জনগণকে আস্থায় নেওয়া।
সংসদীয় কমিটিও বলেছে, মানুষের দাবি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানো যেতে পারে। এখানে মানুষের দাবির যৌক্তিকতা হচ্ছে তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমে আসা। দেশে-বিদেশে যাঁরা জ্বালানি তেলের দরদাম, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সবারই পূর্বাভাস হচ্ছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত তেলের দাম সাময়িক ওঠানামার মধ্যে নিম্নমুখীই থাকবে। কাজেই হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক। আর যদি তেমন পরিস্থিতি হয়-ও, তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সংসদীয় কমিটির মতের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়েই সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঐকমত্য আছে। গ্যাস আমাদের নিজস্ব সম্পদ বলে তা পানিতে ফেলে দিতে হবে, এমন ধারণা অগ্রহণযোগ্য। গ্যাস যখন ফুরিয়ে যাবে তখন যেন বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা যায়, সেই হিসাবও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে করা উচিত। এ ছাড়া, বর্তমানে জনগণের যে অংশ গ্যাস পাচ্ছে না, তাদের ব্যবহৃত বিকল্প জ্বালানির ব্যয়ও একটি বিবেচ্য বিষয়।
আবাসিক খাতে যাঁরা এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাঁদের প্রতি মাসে ব্যয় ২ হাজার টাকার ওপরে। সরকার একবার ভেবেছিল পাইপলাইন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের কিছু ভর্তুকি দেওয়ার কথা। ভাবনাটি অত্যন্ত শুভবুদ্ধিপ্রসূত এবং ভাবনাটি এখনো সরকারের মধ্যে রয়েছে। এই ভাবনা কার্যকর হলে জ্বালানি ব্যবহারে জনগণের মধ্যে যে বৈষম্য বিরাজ করছে, তা কমবে।

মেজর জিয়া বাড়ি আছেন? by সাজেদুল হক

মইনুল রোডের বাসভবনে তখন তিনি বন্দি। সেনাপ্রধানের পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দিয়েছেন খালেদ মোশাররফ গংরা। আপাত অসহায় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করলেন মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী। দুটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জেনারেল জিয়া। এক. তাদেরকে বললেন, কম ভাড়ায় থাকার জন্য যেন একটি বাসা খোঁজা হয়। দুই. তার পেনশনের টাকা পাওয়ার বিষয়টি যেন নিশ্চিত করা হয়।
জেনারেল জিয়ার এই আবেদন এ কান ও কান হয়ে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের কানেও গিয়ে পৌঁছায়। এ বিষয়টি জিয়ার পক্ষে পাল্টা অভ্যুত্থানেও সহায়তা করেছিল। সেনাপ্রধানের অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যতা সৈনিকদের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করেছিল। পাল্টা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানকে যখন ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সৈনিকদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তোমরা এখন ক্ষুধার্ত। সবাই খেতে যাও। বিশৃঙ্খল সৈনিকদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে টনিকের মতো কাজ করেছিল এ কথা।
নিয়তি এভাবে বারবারই জিয়াউর রহমানের জীবনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে তার থাকার কথা ছিল না। অদৃষ্টই হয়তো তাকে সেখানে নিয়ে গেছে। যে কণ্ঠস্বর মুক্তিকামী মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছিল। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান- রাষ্ট্রপ্রধান হলেও ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ এ পরিচয়ই মুখ্যত প্রধান পরিচয় থেকে গেছে তার আজও।
রাষ্ট্র এবং সামরিক বাহিনীতে নানা পালা-বদলের হাত ধরে একসময় রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যান জিয়াউর রহমান। বিরোধীরা তাকে অভিযুক্ত করেছেন অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে। যে অভিযোগ আইনত অস্বীকার করার জো নেই। তার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রধান অভিযোগ, তিনি কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সশস্র বাহিনীর অনেক সদস্যকে ফাঁসিতে ঝুলানোর ব্যবস্থা করেছেন। তবে সশস্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জিয়াউর রহমানের সামনে এর বিকল্প ছিল কি- না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে জিয়াউর রহমানের বিরোধীরাও একটি বিষয় প্রায়ই বলে থাকেন, তিনি মৃত্যুর সময় ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গেছেন। এই একটি জায়গায় জিয়াউর রহমান আলাদা। তার সততা নিয়ে কেউ কোনদিন কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তার ভাই, বোন, বাবা-মায়ের নাম বাংলাদেশের খুব কম লোকই জানে। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন তার পরিবারের কেউ কোন ধরনের ক্ষমতা ভোগ করেনি। সৈনিক হয়েও জিয়াউর রহমান চেষ্টা করেছিলেন মানুষের কাছাকাছি যেতে। মশিয়ুর রহমান যাদু মিঞার কাছে তিনি বলেছিলেন, আমি তো ভাল বক্তৃতা দিতে পারি না। যাদু মিঞা যখন জানতে পারেন, জিয়াউর রহমান ভাল হাঁটতে পারেন তখন তাকে পরামর্শ দেন গ্রামে গ্রামে হাঁটতে। সেখান থেকেই খাল কাটা কর্মসূচির চিন্তা আসে। গ্রামের পর গ্রাম হাঁটতে থাকেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
জিয়াউর রহমানের বাড়ি কোথায়?
সবাই জানেন বগুড়া, কিন্তু সেটি আসলে তার আসল ঠিকানা নয়। জিয়াউর রহমানের আসল ঠিকানা- তার প্রতিষ্ঠিত দল- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যে দলের মধ্যেই বেঁচে আছেন জিয়াউর রহমান। বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূল দর্শন ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে দল। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে জিয়াউর রহমান নিজে বলেছিলেন- বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছে, ‘রেসিয়াল’ বা জাতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম এসে যায়।...এরপর আসে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের সেøাগান এ ধ্যান-ধারণা থেকেই উৎসারিত। এ কারণেই আওয়ামী লীগাররা বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপ্নে এখনও বিভোর রয়েছে। আবার মুসলিম লীগ, আইডিএল এবং জামায়াতিরা বলে যাকে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা। ...পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ কায়েম করতে গিয়ে বাংলাদেশকে শোষণ ও শাসন চালানো হলো। কিন্তু ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের নামে ‘পলিটিকস অব এক্সপ্লয়েটেশন’ পাকিস্তানকে এক রাখতে পারল না। প্রতিষ্ঠিত হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। একটি অঞ্চলকে ভিত্তি করেও রাজনীতি চলতে পারে, গড়ে উঠতে পারে নতুন এক জাতীয়তাবাদ।...তাই আমরা বলি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হলো সার্বিক জাতীয়তাবাদ। .....আমাদের আছে জাতিগত গৌরব, রয়েছে সমৃদ্ধশালী ভাষা এবং আছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একদিকে যেমন ধর্মভিত্তিক নয়, তেমনি আবার ধর্মবিমুখও নয়।
জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি আজ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্রান্তিকালে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে দলটি আর কোনদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি-না সে প্রশ্নও উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। তবে একটি ব্যাপারে পর্যবেক্ষকরা একমত, বিএনপিতে আজ জিয়াউর রহমানের বহু আদর্শই অনুপস্থিত। যে সততার জোরে জিয়াউর রহমান সবার মন জয় করেছিলেন বিএনপির অনেক নেতার মধ্যেই এখন তার অভাব দেখা যাচ্ছে। বিচক্ষণতা জিয়াকে ইতিহাসে অমর চরিত্রের মর্যাদা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা আজ বহুক্ষেত্রেই তা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সময় বদলে গেছে, দুনিয়াও বদলে গেছে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত করেই বলা যায়, জিয়াউর রহমানের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণই বিএনপির মুক্তির একমাত্র পথ। আসল ঠিকানায় ফেরাতে হবে মেজর জিয়াকে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী ইরান

ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি
পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ইরান জ্বালানিসহ বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখছে। ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ডিকাব টক অনুষ্ঠানে এ সম্ভাবনার কথা জানান।
ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী ইরান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রাষ্ট্রদূত। ডিকাব সভাপতি মাসুদ করিমের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বশির আহমাদ।
প্রায় ১২ বছরের দর-কষাকষির পর গত জুলাইয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীনের সঙ্গে এক পারমাণবিক চুক্তি সই করেছে। চুক্তি সই হওয়ায় ইরানের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবারিত হবে ইরানের বিচরণ।
ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি ওই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক শান্তির ক্ষেত্রে বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এটিতে প্রমাণিত হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে জটিল যেকোনো সমস্যারই শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। চুক্তিটি সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে গ্যাস পাইপ লাইন চালুর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে। গ্যাস পাইপ লাইন ভারত পর্যন্ত আনা হলে আলোচনার মাধ্যমে তা বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
এ নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ বছর ইরান সফরে যাবেন। তাঁর সফরের সময় জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশে সরাসরি অপরিশোধিত তেল বিক্রি ও তেল শোধনাগারের আধুনিকায়নসহ এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সহযোগিতার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ রয়েছে। নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণ, তেল শোধনাগারের সংস্কার ও এর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর সামর্থ্য ইরানের রয়েছে। তা ছাড়া ইরানের প্রচুর অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য মজুত আছে। বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ইরান সফরের সময় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আব্বাস ভায়েজি বলেন, ইরান অতীতে বাংলাদেশের কাছে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’য় অপরিশোধিত তেল বিক্রির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে টাকা নেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করা যায়। ভারতের সঙ্গে ইরান এ প্রক্রিয়ায় ব্যবসা করে। তিনি জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের ব্যবসা বাড়ানোর সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গত জুলাইতে ছয় দেশের সঙ্গে ইরানের সই করা চুক্তি সন্ত্রাসবাদ দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখবেন বলে মত দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। আব্বাস ভায়েজি বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু, আর বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ সব দেশেরই মানবতাবিরোধী এই শক্তিকে রুখতে একসঙ্গে লড়তে হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইরানের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের জনশক্তি নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য চেয়েছিলেন রাজীব গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাজীব গান্ধী মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন উপমহাদেশে ঠান্ডা যুদ্ধের টেনশন কমাতে৷এমনকী ক্রেমলিন যদি পাকিস্তানে জিয়া-উল হক জমানার অবসান ঘটায়, তাহলে ভারত প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির পাশে দাঁড়াবে, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি৷ তাতে সেই গণতান্ত্রিক শক্তি যদি আমেরিকার তল্পিবাহকও হয়, তাতেও ভারত যে তাদের অচ্ছুৎ বলে গণ্য করবে না, এমনটাই ছিল তার দৃষ্টিভঙ্গি৷সত্য-মিথ্যা প্রমাণের অবকাশ নেই, তবে সদ্য প্রকাশিত মার্কিন গোপন নথির পর্যবেক্ষণ এটাই বলছে৷
বাস্তবিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জেনারেল জিয়া-উল হক৷ নিন্দুকেরা বলে, তার বিমানে বিস্ফোরণ ঘটানোয় হাত ছিল কেজিবি-র৷ এর পর পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন বেনজির ভুট্টো৷ বলা বাহুল্য, ইসলামাবাদের অন্যান্য শাসকের মতো তারও মাথার উপর ছিল মার্কিন প্রশাসনের আশীর্বাদহস্ত৷ কিন্তু, রাজীব গান্ধী তার কথা রেখেছিলেন৷ বেনজির ভুট্টোকে পাশে নিয়েই শুরু করেছিলেন ‘সার্কে’র (SAARC) পথ-চলা৷
মার্কিন নথিতে বলা হয়েছে, ‘ রাজীব গান্ধী চাইতেন, আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, দু’দেশই দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তার কমাক’৷পাশাপাশি, মার্কিন নথির পর্যবেক্ষণ, রাজীব গান্ধী না কি ভেবেছিলেন, যদি আফগানিস্তান ছাড়িয়ে উপমহাদেশের প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়ন অতি আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে মস্কোর উপর নির্ভরতা কমানোরও চেষ্টা করা হবে৷ নথিতে আরো বলা হয়েছে, ‘যদি জিয়া-উল হকের সরকার পড়ে যায়, তবে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করে সেখানে মস্কোর আধিপত্য বিস্তারে বাধা দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছিল ভারত৷’ একইসঙ্গে ওই মার্কিন নথি বলছে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বাড়ানোর কর্মসূচি ঠেকানো নিয়ে রাজীব গান্ধীর প্রশাসনে মতবিরোধ থাকলেও এই ব্যাপারে জেনারেল জিয়ার উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করতে চাননি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং৷ মার্কিন নথিতে আরো দাবি করা হয়েছে, পক্ষান্তরে ভারতের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভালো করার ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব নিয়ে নাকি তোলপাড় করছিলেন জেনারেল জিয়াও৷
পাশাপাশি, ওই মার্কিন নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজীব গান্ধীর মতোই নিয়মিত দু’দেশের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের ব্যাপারেও নাকি নমনীয় হচ্ছিলেন দাপুটে ওই পাকিস্তানি সেনানায়ক৷

গুগলের গোপন ইন্টারভিউ

প্রতিদিনই আমরা নানান বিষয়ে গুগলে সার্চ করে থাকি। কিন্তু, তাই বলে গুগল সার্চ করতে গিয়ে চাকরি হয়ে যেতে পারে গুগলেই?
এমনটাও সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব।
কারণ ঢাক পিটিয়ে নয়, গোপনেই ইন্টারভিউ নিচ্ছে গুগল। এমন ঘটনাই ঘটেছে ম্যাক্স রোসেটের সাথে।
ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রজেক্টের কাজ করছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই একদিন গুগল সার্চ করতে হচ্ছিল তাকে। প্রায়ই এমনটা করে থাকেন, নতুন বিষয় নয়। কিন্তু, সেদিন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।
সার্চ ইঞ্জিনে লিখেছিলেন, “Python lambda function list comprehension”. এটা তার কাজের বিষয়। স্বাভাবিক যেভাবে লিংক আসে, তা তো এলোই। পাশাপাশি, এলো “You’re speaking our language. Up for a challenge?”
চ্যালেঞ্জ নিতে সাত-পাঁচ না ভেবেই সেখানে ক্লিক করেছিলেন। আর তারপর ম্যাজিক। একের পর এক প্রোগ্রামিং করতে দেয়া হলো তাকে।
সপ্তাহ দুয়েক ধরে সেসব শেষ করে সাবমিট করলেন ম্যাক্স। তখনো তার মাথায় ঢুকছিল না ঠিক কি হতে চলেছে।
এরপরই তাকে যোগাযোগ করতে বলা হলো। ই-মেইল করে পাঠাতে বলা হলো সিভি। সে সবই করলেন ম্যাক্স।
হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও এভাবেই গুগলে চাকরি পেলেন তিনি। নিয়োগের সব রকম প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হাতে এলো নিয়োগপত্র।
চাকরি পেয়ে ম্যাক্স বলেন, কখনো ভাবেননি তিনি এতোটা দক্ষতা যে, গুগলে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু গুগল সেটা ভুল প্রমাণ করে দিলো।
আর এভাবেই সামনে এসেছে গুগলের গোপন ইন্টারভিউ ব্যবস্থা। সুতরাং, গুগল সার্চ করার আগে আপনিও তৈরি থাকুন। যেকোনো আসতে পারে চাকরির অফার।

নির্বাচন দিন, ভয়ের কিছু নেই: খালেদা

আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে তিনি সরকারকে ‘ভয়ের কিছু নেই’ বলে আশ্বস্ত করে ‘জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি’ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দলের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এই আহ্বান জানান। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় খালেদা জিয়া সভাপতিত্ব করেন।
খালেদা জিয়া ৫৩ মিনিট ধরে নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন। শুরুতেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে খালেদা জিয়া সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যে নামেই হোক, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। ভয়ের কিছু নেই। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। আসুন জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি শুরু করি।’
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানবাধিকার, আইনের শাসন, খবরে কাগজের স্বাধীনতা নেই। এমনকি কথা বলারও অধিকার নেই। কেবল ক্ষমতাসীনরাই বলছে। তিনি বলেন, ‘তাঁদের ভাষা এত নোংরা, এত কুৎসিত, যার জবাব দিতেও লজ্জা লাগে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ‘মিথ্যাচার’ করেন।
ছাত্রলীগের কড়া সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা আজ শিক্ষককে, কাল মহিলাদের, পরশু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশকে পেটাচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে? কেন, সরকার কি ছাত্রলীগকে মানুষ পেটানোর লাইসেন্স দিয়েছে?’
গুম-খুন-নির্যাতনের দায় হাসিনার
‘হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে’ এ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, গুম, খুন, নির্যাতনের সব দায় হাসিনাকে নিতে হবে। র‍্যাব ও অন্যান্য এজেন্সি যা করেছে, হাসিনার নির্দেশে করেছে। তাই এর সব দায় হাসিনাকেই নিতে হবে। আর নিতে হবে ‘পরগাছাদের’। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘এই পরগাছাদের জন্য এখন আওয়ামী লীগের লোকেরা ভাত পাচ্ছে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপির হলে ধরে ধরে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমিসহ এখানে কেউই মামলার বাইরে নই। উনাদের (আওয়ামী লীগ) নামেও মামলা ছিল। সাড়ে সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নেত্রীর নামে ১৫টি ছিল। ক্ষমতায় এসে সব খালাস। এখন তিনি সুফি হয়ে গেছেন।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা কাউকে গালাগাল, হানাহানিতে বিশ্বাস করি না। আমরা প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না। সেবা, উন্নয়নের রাজনীতি করব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। কোনো জজ সাহেবকে বলব না, “অমুককে ধরেন, শাস্তি দেন। ” কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করতে বলব।’
কারও নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন কোনো আইন-নিয়ম নেই। জজরা সোশ্যাল ফাঙ্কশনে যেতেন না। আজ দেখছি, সরকারের সঙ্গে আসা-যাওয়া চলছে। অমুক দাওয়াত তমুক দাওয়াতেও অংশ নিচ্ছেন। সেটা আগে ছিল না। একজন জজ পাবলিকলি পলিটিক্যাল বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। এটা কত বড় অপরাধ! তিনি নিরপেক্ষ বিচার করবেন কীভাবে?’
দল গোছানোর চেষ্টা চলছে
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির ওপর এখনো জুলুম-নির্যাতন চলছে। তারপরও তাঁরা দল গোছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, যারা দল এবং নেতার প্রতি আনুগত্য আছে, আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হবে, তাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। যারা ফাঁকিবাজ, মিথ্যাবাজ তাঁদের পেছনের সারিতে নিয়ে যেতে হবে।
উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যার যার এলাকায় যান। আপনাদের প্রতি আহ্বান পকেট কমিটি কেউ করবেন না। এতে দলের ক্ষতি হয়। আমি তো আপনাদের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই আছি, কমবেশি অনেককেই চিনি। তাই বললেই বিশ্বাস করব, আর তা হবে না।’
খালেদা জিয়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও ওপর ভ্যাট আরোপ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করেন।
আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা দলের বিপুলসংখ্যক নেতা কর্মীকে নিয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী নয় : হাইকোর্টের রুল

তথ্য প্রযুক্তি আইন-২০০৬’র (সংশোধনী ২০১৩) ৫৭ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু শুনানি করেন।
গত ৩০ আগস্ট ১১ জন শিক্ষক ও লেখক রিটটি দায়ের করেন। এর আগে ২৭ আগস্ট ৫৭ ধারা বিলুপ্তিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তারা। নোটিশের জবাব না পেয়ে আদালতে যান।
রিটকারী ১১ শিক্ষক- লেখক হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন ও ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আনু মুহাম্মদ, ঢাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহী ও রাখাল রাহা।
অন্যদিকে ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা জাকির হোসেনের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ১৪ বছর ও ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অথচ একই অভিযোগে পর্নগ্রাফি আইনে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এটি সরাসরি বৈষম্য। আইনের এ ধারাটি সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ এবং ৩৯ ধারার পরিপন্থি বলে আইনজীবীরা জানান।
আইসিটি আইনের ৫৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ’।
(২) ‘কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন’।

কানে কিছু ঢুকলে by ডা: এম আলমগীর চৌধুরী

শিশুদের বিশেষ করে তিন-চার বছরের ছেলেমেয়েদের একটা সহজাত প্রবণতা আছে যে, ছোট ছোট কোনো জিনিসপত্র নিয়ে খেলার সময় নাক, কান বা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। বড়দেরও একটা অভ্যাস আছে কোনো কিছু দিয়ে (যেমন, কটনবাড, মুরগির পালক, ম্যাচের কাঠি দিয়ে) কান খোঁচানো, চুলকানো। এতে করে খোঁচানোর সময় কাটি ভেঙে বা কটনবাডের কটন কানে রয়ে যেতে পারে।
এ সমস্যা সম্পর্কে সবাইকে কিছুটা ধারণা দেয়ার জন্য আলোকপাত করছি :
যেসব বস্তু কানে ঢুকতে পারে-
১। কটনবাড বা তুলার অংশ
২। ম্যাচের কাঠি, পুঁতির দানা, বল-বিয়ারিং
৩। পেনসিলের শিষ
৪। পাখির-মুরগির পালক
৫। শস্যদানা-চাল, ডাল, ধান, ফলের বীজ, মুড়ি, চিড়া
৬। রাবার, কাগজ, ফোম, ছোট ছোট খেলনার অংশ, আরো কত কী?
৭। অনেক সময় জীবন্ত পোকামাকড় যেমন- মশা, মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়া ইত্যাদি কানের ভেতরে ঢুকতে পারে।
উপসর্গগুলো- ১। কানে প্রচণ্ড অস্বস্তি হওয়া
২। কানে ব্যথা
৩। কানে কম শুনতে পাওয়া
৪। জীবন্ত পোকামাকড় কানে ঢুকে গেলে ভীষণ বিরক্তি এমনকি ভয়েরও উদ্বেগ হতে পারে।
চিকিৎসা-
কানে কোনো কিছু ঢুকে গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা হলো এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করে ফেলা। অবশ্যই এটার জন্য নাক, কান, গলা, বিভাগসম্পন্ন হাসপাতাল অথবা ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
কানে জীবন্ত পোকা ঢুকে গেলে আগে অলিভ অয়েল দিতে হবে যাতে করে এটি মারা যায়- তারপর বের করতে হবে। বাসায় অনভিজ্ঞ হাতে অযথা খোঁচাখুঁচি করবেন না বা অদক্ষ কাউকে দিয়ে বের করানোরও চেষ্টা করবেন না। শিশুরা ভয়ে কান্না বা নড়াচড়া করলে এবং অসহযোগী দেখালে জোরপূর্বক বের করার চেষ্টা না করে বরং সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে হাসপাতালে বের করাই হবে উত্তম।
বের না করলে বা অদক্ষ হাতে চেষ্টা করার জটিলতাগুলো
১। বহিঃকর্ণে আঘাত লাগা এবং তা থেকে রক্তরক্ষণ হওয়া
২। কানের পর্দা ফেটে যাওয়া
৩। মধ্যকর্ণের ভেতরে থাকা ছোট ছোট অস্থিগুলোতে আঘাত লাগা।
৪। কানে ইনফেকশন হওয়া।
৫। সর্বোপরি মানবদেহের মূল্যবান পাঁচটি অঙ্গের একটি হলো কান- যার শ্রবণশক্তি কমেও যেতে পারে।
উপসংহার-
মানসম্পন্ন কোম্পানির তৈরি খেলনার প্যাকেটের গায়ে বয়সসীমা লেখা থাকে। আরো লেখা থাকে যে, এ খেলনায় ছোট ছোট পার্টস আছে এবং তা তিন বছরের নিচের শিশুদের ব্যবহারের জন্য নয়।
বয়স্কদের উচিত সচেতন থাকা, অযথা কোনো কিছু দিয়ে কান না খোঁচানো এবং ছোটদের ছোট ছোট খেলনা দিয়ে খেলতে দেবেন না।
এরপর কানে কিছু ঢুকে গেলে যত শিগগির সম্ভব নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া এবং উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ করা।
লেখক : নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি, মেডিক্যাল কলেজ ফর উইমেন অ্যান্ড হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৮১৯২২২১৮২

‘আমি নত মস্তকে ক্ষমা চাচ্ছি’ -লতিফ সিদ্দিকী

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জাতির কাছে ‘নত মস্তকে’ ক্ষমা চেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী তাঁর সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। পরে তিনি পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ আমার সমাপ্তির দিন। কারও বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, অভিযোগ আনছি না। দেশবাসী আমার কোনো আচরণে দুঃখ পেয়ে থাকলে দেশবাসীর কাছে নতমস্তকে ক্ষমা চাচ্ছি।’
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ধর্মবিরোধী নই, আমি ধর্ম অনুরাগী। আমি অমানুষ নই, প্রথমত আমি মানুষ। মানুষ ও মনুষ্যত্বের অনুশীলন করি।’ তিনি নিজেকে একজন ‘সাচ্চা মুসলমান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি পবিত্র হজ পালন করেছেন এবং ধর্মীয় জীবন একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।
লতিফ সিদ্দিকী জানান, দল থেকে অতীতেও দুই বার তিনি বহিষ্কার হয়েছেন। দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে নয়, দলের দুর্বল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এবার তাঁকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’, ‘ধর্মদ্রোহী’, ‘শয়তানের রিপ্রেজেনটেটিভ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়। যে প্রক্রিয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে তা কতখানি যৌক্তিক তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র করা হোক, ঘাত-প্রতিঘাত যতই আসুক তা তিনি মোকাবিলা করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি কোনো ভাবেই ‘পথভ্রষ্ট’ হবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদায় বেলায় বলতে চাই, আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। মানুষকে ভালোবেসেছি। মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মূলধন।’
লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
স্পিকার বরাবর লেখা পদত্যাগ পত্রটি লতিফ সিদ্দিকী পড়ে শোনানোর অনুমতি চান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সেটি পড়ে শোনানোর প্রয়োজন নেই। তারপর লতিফ সিদ্দিকী তাঁকে সময় দেওয়ার জন্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।

জলে নাকাল দেশবাসী

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুষলধারের বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলি-গলিতে জমে যায় পানি। এতে যানবাহনে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়েছে নগরবাসীকে। দেশের বিভিন্ন স্থানেও বৃষ্টি হয়েছে।
ছবি: জাহিদুল করিম
ছবি: জাহিদুল করিম
সকাল থেকে টানা বৃষ্টি। এর মাঝেই স্কুল ছুটি। উপায় না দেখে বৃষ্টিতেই ছাতা মাথায় বাড়ি ফিরছে তারা। ছবিটি আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ১০/এ সড়ক থেকে তোলা। 
ছবি: জাহিদুল করিম
ছবি: জাহিদুল করিম
চলন্ত মোটরসাইকেলে কি আর ছাতা দিয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচা সম্ভব। সে কথা যেন মাথায় নিয়েই চলছেন দুজন। ছবিটি আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ১০/এ সড়ক থেকে তোলা। 
ছবি: সাইফুল ইসলাম
ছবি: সাইফুল ইসলাম
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝুম বৃষ্টিতে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত পানি জমেছে রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকায়। জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ছবিটি মঙ্গলবার দুপুরে তোলা। 
ছবি: জুয়েল শীল, চট্টগ্রাম
ছবি: জুয়েল শীল, চট্টগ্রাম
বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম শহরের নিচু এলাকা। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ছবিটি সকাল ১০টার দিকে নগরের চকবাজার এলাকা থেকে তোলা।
ছবি: সাহাদাত পারভেজ
ছবি: সাহাদাত পারভেজ
ঢাকার রাজাবাজার এলাকায় দুপুরে জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগে নগরবাসী। 
ছবি: আনিস মাহমুদ, সিলেট
ছবি: আনিস মাহমুদ, সিলেট
টানা বৃষ্টিতে সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি ও সড়ক ডুবে গেছে। ছবিটি শাহজালাল উপশহর এলাকা থেকে দুপুরবেলা তোলা। 
ছবি: সাজিদ হোসেন
ছবি: সাজিদ হোসেন
ঢাকার পূর্ব কাজীপাড়া এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পানির নতুন পাইপ বসানোর কাজ করার কারণে ওই এলাকার স্যুয়ারেজের লাইন বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানির পুরোনো লাইন দিয়ে মানুষের বাসায় ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি যাওয়ার কারণে এলাকার জনসাধারণ পড়ে দুর্ভোগে। 
ছবি: মনিরুল আলম
ছবি: মনিরুল আলম
মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এখানের বিশাল সবজি বাজারের অনেক বিক্রেতা সবজি বিক্রি করতে পারেননি। আমেনা বেগম হাজার দশেক টাকার সবজি কিনেও বিক্রি করতে পারেননি। অবিক্রীত সবজি নিয়ে পানির মধ্যে এভাবেই তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি বিকেলের দিকে তোলা। 
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
ঢাকার ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কের বিভিন্ন অংশও পানিতে ডুবে যায়। এর ফলে যানচলাচলের গতিও কমে যায়। বিজয় সরণি ও কারওয়ান বাজারের মূল সড়কেও গাড়ি ও মানুষের জটলা ছিল সারা দিন। 
ছবি: হাসান রাজা
ছবি: হাসান রাজা
রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে ম্যানহোলের সামনে থেকে ময়লা সরিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছবিটি বিকেলে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তোলা।
ছবি: জাহিদুল করিম
ছবি: জাহিদুল করিম
সকাল থেকে টানা মুষলধারের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। রাজধানীর মিরপুর রোডে জলাবদ্ধতায় বিকল হয়ে গেছে কয়েকটি যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী ও পথচারীরা। ছবিটি আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তোলা। 
ছবি: ফোকাস বাংলা
ছবি: ফোকাস বাংলা
বৃষ্টিতে এক ট্রাকশ্রমিকের বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতেই এই অভিনব ব্যবস্থা।
ছবি: শামসুল হক
ছবি: শামসুল হক
ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ফুটপাতে বৃষ্টির পানিতে শিশুদের দাপাদাপি। 
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
ঢাকার পূর্ব তেজতুরী বাজারের সড়কের পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন। 
ছবি: জাহিদুল করিম
ছবি: জাহিদুল করিম
জলাবদ্ধতা ও যানজটে পড়ে অগত্যা হেঁটে গন্তব্যে রওনা হয়েছে যাত্রীরা। ছবিটি আজ বেলা পৌনে তিনটায় মিরপুর রোডের কলাবাগান এলাকা থেকে তোলা। 
ছবি: নীরব চৌধুরী
ছবি: নীরব চৌধুরী
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি শহরের মেহেদিবাগ, উত্তর-দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, মুসলিমপাড়াসহ পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮০০ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ছবিটি খাগড়াছড়ি শহরের মেহেদিবাগ এলাকা থেকে আজ মঙ্গলবার তোলা।