Sunday, January 12, 2014

আজ-কাল-পরশু- এটি কি অন্তর্বর্তী সরকার নয়? by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ যত কথাই বলুক না কেন, সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে ভোটের দিনের যে বিবরণ ও ছবি প্রচারিত (প্রকাশিত) হয়েছে, তাতে এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলার সুযোগ নেই।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি- বহির্বিশ্বের উদ্বেগ ও তাগিদ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বন্ধুদেশ ও উন্নয়ন-সহযোগীরা যেসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই নেতিবাচক।
জাতিসংঘসহ বেশির ভাগ সংস্থা ও দেশ বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচন, ভোটারের ন্যূনতম উপস্থিতি এবং নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতায় হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আবার আলোচনা শুরু করার তাগিদ দিয়েছে।

সুষ্ঠু ও সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা জরুরি। আরও বেশি জরুরি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার দ্বারা দেশ পরিচালিত হওয়া। দুর্ভাগ্যজনক যে বাংলাদেশের জনগণ ৫ জানুয়ারি সর্বজনগ্রাহ্য সেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন পায়নি। কেন পায়নি, এ জন্য কার দায় বেশি, সে তর্কের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোর বিবৃতিতেও যার প্রতিধ্বনি রয়েছে।
যেসব দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রত্যাহারের বিষয়টিও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তৈরি পোশাকশিল্পে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের অভাবের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি-সুবিধা তুলে নেওয়ার পর রাজনৈতিক কারণে ইইউ বা অন্য কোনো সংস্থা যদি কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আলোচনার বাইরে রাখলে কিংবা তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ রহিত করা হলে তাদের অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। নির্বাচনোত্তর সহিংসতার দুটি দিক আছে। প্রথমটি আইনশৃঙ্খলাজনিত, দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানকে মানুষ স্বাগতই জানাবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করলে সেটি উন্নয়ন-সহযোগী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেমন সুনজরে দেখবে না, তেমনি চলমান রাজনৈতিক সংকটকেও ঘনীভূত করবে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। এই অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা। সরকার যে সংবিধান রক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে বলে দাবি করে, দেশ শাসনে সেই সংবিধানে বর্ণিত জনগণের অধিকার সমুন্নত রাখা হলে অনেক সমস্যার সমাধানই সহজ হয়ে যাবে।

আজ-কাল-পরশু- এটি কি অন্তর্বর্তী সরকার নয়? by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ যত কথাই বলুক না কেন, সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে ভোটের দিনের যে বিবরণ ও ছবি প্রচারিত (প্রকাশিত) হয়েছে, তাতে এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলার সুযোগ নেই।
ভোটের আগেই ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন আগেই কলঙ্কিত হয়েছে। তবে ৫ জানুয়ারি ৪২টি কেন্দ্রে যে একজন ভোটারও ভোট দিতে আসেননি, তাতে এই নির্বাচনের স্বরূপ আরও উন্মোচিত হয়েছে। আগে থেকেই বলা হয়েছিল, এই নির্বাচন হবে প্রহসনের নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি সরকার গায়ের জোরে ‘পোকা খাওয়া’ নির্বাচন করে তা ভালোভাবে প্রমাণ করেছে। ভারত ছাড়া আর কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, সরকার, এমনকি জাতিসংঘ পর্যন্ত এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি।

নির্বাচন কমিশন যতই ভোট প্রদানের হার ৪০ শতাংশ দাবি করুক না কেন, তা জনগণ বিশ্বাস করছে বলে মনে হয় না। যাঁরা ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র দেখেছেন বা টিভিতে লাইভ দেখেছেন, তাঁদের অনেকের ধারণা, ১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি।
ভোটারবিহীন নির্বাচনে ‘বিজয়ী’ দলের সরকারকে বৈধ বলার সুযোগ নেই। বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য দল এই নির্বাচন ও সরকারকে কীভাবে দেখবে, সেটা তাদের সমস্যা। আমরা নির্দল নাগরিক সমাজ এই ‘সরকারকে’ কীভাবে দেখব, তা নিয়ে একটা আলোচনা হওয়া দরকার। কারণ, এই নির্বাচন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকারকে পদদলিত করেছে। সরকার অতীব শক্তির অধিকারী বলে তাদের সব অন্যায় কাজ মেনে নেওয়া যায় না। আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনও জনপ্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই তাদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের নির্দল নাগরিক সমাজ এই নির্বাচন ও সরকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা হওয়া খুব জরুরি। এটা এ জন্য প্রয়োজন যে, এই দেশ শুধু দুই প্রধান দলের দেশ নয়। নির্বাচন মানে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ। দলীয় স্বার্থে একদল ১৫৩ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করাবে, আরেক দল ভোটের দিন ব্যাপক সহিংসতা করবে, সেই সহিংসতা সরকার দমন করতে পারবে না, এসব মেনে নেওয়া যায় না। দুই বড় দল মিলে নির্বাচনকে প্রহসন ও ভীতিকর করে তুলেছে।
এ রকম পরিস্থিতিতে একমাত্র বড় ভরসা হয়ে দেখা দিয়েছে জাতিসংঘ এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলো। তাদেরকে সরকার জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইত্যাদি বলে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে, এসব বুলি হলো: ছলে-বলে-কৌশলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা। সরকারের কাছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ হলো রাজনৈতিক কৌশল। আওয়ামী লীগের বাইরেও বিএনপি, জেএসডি, বাসদ, সিপিবি, গণফোরাম ও আরও বহু দল রয়েছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে।
বাংলাদেশের বহু সচেতন মানুষ তা জানেন। সুষ্ঠুভাবে ভোটের আয়োজন করার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধ নেই। সুষ্ঠুভাবে ভোটের আয়োজন করলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা যাবে না, এমনও নয়।
কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি ধুয়া তুলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে রাজি হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে, তা কে বলেছে? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোটও হয়তো ক্ষমতায় আসতে পারত। পারত না?
বিএনপি ও অন্যরা যে দুই বছর যাবত বলেছে: ‘দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন হলে তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না’—তা ৫ জানুয়ারি কি আবার প্রমাণিত হয়নি? আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তা আমূল পরিবর্তন না হলে, আরও পাঁচটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা প্রয়োজন হতে পারে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এই দাবি আরও ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের টিভি ফুটেজ এবং ৬ তারিখের পাঠকপ্রিয় বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও ছবি একটা ডকুমেন্ট হিসেবে এখনই সংকলন করা উচিত। তা অনাগত দিনে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বারবার দেখাতে হবে। এই নির্বাচন হলো এক বিষণ্ন দলিল।
আমাদের সৌভাগ্য, বন্ধুরাষ্ট্রের সরকারগুলো এই বাস্তবতা দ্রুত উপলব্ধি করতে পেরেছে। ভারত পারেনি, তার কারণ ভিন্ন। জাতিসংঘ, আমেরিকা, ইইউ, জাপান, চীন, সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা, বিশ্বব্যাংক—এসব দেশের (ও সংস্থার) সঙ্গে ব্যবসা, জনশক্তি, গার্মেন্টস, শান্তিরক্ষী বাহিনী ও বাংলাদেশের অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
এখন শেখ হাসিনার সরকারকে ঠিক করতে হবে যে, তাদের সহায়তার প্রয়োজন আছে কি না? জাতিসংঘ, আমেরিকা, ইইউ, জাপানসহ অন্য বহু দেশ ইতিমধ্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নে তাদের বার্তা জানিয়ে দিয়েছে।

সরকার কী করবে, তা তারা ভালো জানে। আশা করি, ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে তারা যে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, সে রকম কাজ আর করবে না। এখন তাদের অনেক ভেবেচিন্তে প্রতিটি চাল দিতে হবে। সরকার যেন মনে রাখে, বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়।
নতুন ‘নির্বাচিত’ সরকার সম্পর্কে নির্দল নাগরিক সমাজকে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে, তাদের ভূমিকা কী হবে। আমার মত হলো: এই সরকারকে পুরোপুরি স্বীকার করলে ভোটের প্রহসন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না দেওয়াটা প্রকারান্তরে মেনে নেওয়া হবে। দুই বড় দল একবার ভোটারবিহীন নির্বাচনের মজা পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে আর ভোটারদের মান্য করবে না। ছলে-বলে-কৌশলে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরোধ করে ভোটারবিহীন নির্বাচনপর্ব সেরে ফেলতে পারে। এটা কিছুতেই ‘নির্বাচনের’ মডেল হতে পারবে না।
এই নির্বাচন ও ‘নির্বাচিত সরকার’ একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে ভবিষ্যতে এটা দুই বড় দলের কাছে (যার যার সুবিধামতো) একটা দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে। এটা ভাবা যায়? কী ভয়ংকর মডেল হতে যাচ্ছে? কাজেই, এই নির্বাচন ও সরকারকে কিছুতেই গ্রহণযোগ্য বলা যাবে না।
নাগরিক সমাজ না মানলে সরকারের কী এসে যায়? ঠিক, কিছুই এসে যায় না। এখন হয়তো কিছুই এসে যাবে না। ভবিষ্যতে যাবে। তার জন্য নাগরিক সমাজকে কিছু কাজ করতে হবে। তার আগে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে, এই নির্বাচন ও সরকারের মূল্যায়ন কী হবে?
আমরা মনে করি, এই প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে, অনতিবিলম্বে সব নিবন্ধিত দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকারকাঠামো নিয়ে একটা সমঝোতায় আসা, যাতে দ্রুততম সময়ে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যায়। আলোচনার জন্য কোনো পক্ষের পূর্ব শর্ত আরোপ করা ঠিক নয়। তবে এবার আলোচনার আগে দুই পক্ষকে ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু দুই দল নয়, নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গে সরকারকে আলোচনা করতে হবে। সবার মতামতই মূল্যবান।
প্রধানমন্ত্রী সহিংসতা বন্ধের জন্য বিএনপিকে যে শর্ত দিয়েছেন, তা-ও ঠিক বলে মনে করি না। সহিংসতা যে দলই করুক না কেন, তা কঠোর হাতে দমন করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, সরকার তার বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সব রকমের সহিংসতা দমন করবে।
তবে এই অভিযানে যেন নিরীহ মানুষ শাস্তি না পায়, তা দেখা দরকার। সহিংসতা দমনে কোনো আপস হতে পারে না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারেও সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটা সবারই প্রত্যাশা।
প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ‘সরকারকে’ আমরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। সরকারের গদি তো আর শূন্য থাকতে পারে না।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: উন্নয়ন ও মিডিয়াকর্মী।

দশম সংসদ নির্বাচন- শপথ গ্রহণ নিয়ে সংশয়ের সুযোগ নেই by গওহর রিজভী

গত কয়েক দিনে সংবাদপত্রে, কলামের মন্তব্যে এবং টক শোর বিশেষজ্ঞদের বয়ানে ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদের মেয়াদ বিলোপের আগেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আইনানুগ বৈধতা বিষয়ে পরস্পরবিরোধী মতামত দেওয়া হচ্ছে।
এসব আলোচনা অহেতুক জনগণের মনে সংশয় সৃষ্টি করছে। অবশ্য কিছু রাজনৈতিক নেতার এমন কথাবার্তায় তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিটা ধরা পড়ে। কিন্তু, বিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, প্রখ্যাত সম্পাদক এবং টেলিভিশন টক শোর অভ্রান্ত তারকারা একই ভুল করলে তা বোঝা কঠিন হয়। মোটা দাগে এর কারণ, মন্তব্যকারীরা বুঝে বা না বুঝে সংবিধানের বাছাই করা একটি অংশই পড়ছেন অথবা তাঁদের যুক্তির সঙ্গে বেমানান অংশগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের সংবিধান সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং সন্দেহ করার কোনো সুযোগ এতে রাখা হয়নি। সংবিধানের দুটি ভিন্ন অনুচ্ছেদে ‘শপথ গ্রহণ’ ও ‘কার্যভার গ্রহণের’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘শপথ গ্রহণ’ যা কেবল সেই সব পদের বেলায় প্রযোজ্য, যেখানে শপথ গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে; দ্বিতীয়টিতে কেবল সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের কার্যভার গ্রহণ বিষয় উল্লিখিত হয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮(৩) অনুচ্ছেদে ‘পদের শপথ’ বিষয়ে সাধারণভাবে প্রযোজ্য বিধানটি পাওয়া যাবে। এতে বলা হচ্ছে:
‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথ গ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।’
মনে হয়, এই বিধির ‘শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’ অংশটির জন্য এ ব্যাপারে সংশয় জন্মেছে। এই ধারাকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কার্যভার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অপর একটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে।
কেউ যদি সংবিধানটি পুনরায় পাঠ করেন, তাহলে তিনি দেখতে পাবেন যে, আমাদের সংবিধান সংসদ-সদস্যদের বেলায় পরিষ্কার ব্যতিক্রমের সুযোগ করে রেখেছে। অনুচ্ছেদ ১২৩(৩)-এর শর্তাংশে ‘মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে’ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর এমপিদের কার্যভার গ্রহণের শর্ত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংবিধানের ১২৩(৩) উপধারা (ক) অনুসারে
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের বেলায় মূলত এটাই ঘটেছে।
অনুচ্ছেদ ১২৩(৩)-এর শর্তাংশে বলা হয়েছে: ১২৩(৩) উপ-দফা (ক) অনুযায়ী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ ‘উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না’। সংবিধান সঠিকভাবেই অনুমান করেছে যে, নতুন সংসদের নির্বাচন পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হয়ে পরেরটি আগেরটিকে অধিক্রমণ করে ফেলতে পারে। সে কারণেই, পৃথকভাবে এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আমাদের সংবিধানের পরিকাঠামো রচনাকারীরা সম্ভবত এ ধরনের দ্বিধান্বিত পরিস্থিতির কল্পনা করেছিলেন, তাই সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ‘শপথ ও ঘোষণাপত্র’ অংশে এটি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠের জন্য প্রযোজ্য ফরম (নং ৫) এ ঘোষণা করা হচ্ছে: ‘আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; ...’। বিশেষভাবে লক্ষণীয়: ‘যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি’ শব্দাবলি দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিষ্কার করছে যে, নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ এবং নিকট ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো তারিখে কার্যভার গ্রহণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
এ মুহূর্তে এটা সুস্পষ্ট যে, একই সঙ্গে দুটি সংসদ—নবম ও দশম—বিরাজ করার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। নবম সংসদ ২৪ জানুয়ারিতে বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। দশম সংসদ ২৫ জানুয়ারি বা এর পরে যথাশিগগির সম্ভব কোনো দিনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আহূত হওয়ার পরই বহাল হবে।
একই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার করা দরকার, নবম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় কেন দশম সংসদের সদস্যদের জরুরিভাবে শপথ গ্রহণ করতে হলো। এটি আবশ্যিক হয়েছে, একই সঙ্গে বাস্তবতা বিবেচনা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য। সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদের অধীনে নতুন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা সংসদের স্পিকারের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার কিছু অনিবার্য বাস্তব ও কারিগরি কারণও রয়েছে। প্রথমত, শপথ গ্রহণের পরই কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, যতক্ষণ না সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হবেন, ততক্ষণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের সভা আহ্বানের (পুরোনো সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর) জন্য অনুরোধ করতে পারেন না। তৃতীয়ত এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যিনি সংসদের নেতা নির্বাচিত হবেন, তিনি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী-পদাধিকারী (prime minister-designate)। তাঁকে তাঁর মন্ত্রিপরিষদ বাছাই করতে হবে, তাদের শপথ নেওয়াতে হবে এবং বিলম্ব ছাড়াই রাষ্ট্রের কার্যাবলি শুরু করতে হবে।
সাংবিধানিক শুদ্ধতা এবং আইনের শাসন গণতন্ত্র সংহতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। এটা সেই মাত্রায় গুরুত্ববহ যে মাত্রায় নবনির্বাচিত সরকার সাংবিধানিক রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। সে জন্য, অপ্রয়োজনীয় সংশয়, নৈরাজ্য ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সরকারকে জনগণের জরুরি বিষয়গুলোতে কাজ করা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টার বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশের মানুষ মাসের পর মাস ভুগেছে। অবশ্যই সহিংসতা, জ্বালানো-পোড়ানো, মৃত্যু, হানাহানি, ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পদের ধ্বংস, জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি এবং স্কুল-কলেজে পড়ালেখার ব্যাঘাতের ইতি টানতে হবে। হত্যা ও ধ্বংস থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে, তারা যেন নির্ভয়ে ঘুমাতে পারে এবং নির্বিঘ্নে মন্দিরে প্রার্থনা করতে পারে। বোমা বা ককটেলে দাহ্য না হয়ে শিশুরা যেন নিরাপদে খেলতে পারে। দিনমজুরেরা যেন তাদের পরিবারের ভরণপোষণের উপার্জন ঘরে আনতে পারে। জাতির সামনে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পড়ে আছে। এ নিয়ে ভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি করা উচিত নয়। তার বদলে আসুন, মতপার্থক্য ভুলে একসঙ্গে কাজ করি এবং জনগণের স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করি।

[ইংরেজি থেকে অনূদিত]
গওহর রিজভী: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

দশম সংসদ নির্বাচন- শপথ গ্রহণ নিয়ে সংশয়ের সুযোগ নেই by গওহর রিজভী

গত কয়েক দিনে সংবাদপত্রে, কলামের মন্তব্যে এবং টক শোর বিশেষজ্ঞদের বয়ানে ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদের মেয়াদ বিলোপের আগেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আইনানুগ বৈধতা বিষয়ে পরস্পরবিরোধী মতামত দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি- বহির্বিশ্বের উদ্বেগ ও তাগিদ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বন্ধুদেশ ও উন্নয়ন-সহযোগীরা যেসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই নেতিবাচক।

এটা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার নয়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ রোববার ১২ জানুয়ারি যে সরকার গঠিত হবে, তা হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্বহীন স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের সরকার। এই সরকার কোনো দিক থেকেই বৈধ সরকার হিসেবে দেশে-বিদেশে বিবেচিত হবে না। এ সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার হবে না। নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা কোনো মহল থেকেই পাবে না। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চরমতম কলঙ্কময় প্রহসন ছিল ৫ জানুয়ারি নির্বাচন। এটা ছিল গণতন্ত্রের সব বিধি-বিধানের পরিপন্থী, অনৈতিক এবং অবৈধ। মেরুদণ্ডবিহীন, অযোগ্য নির্বাচন কমিশন সরকারের নীল-নকশার নির্বাচনকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অতীতের সব আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও হার মানিয়েছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে
গণতন্ত্র আরও একবার আওয়ামী লীগের হাতে নিহত হলো দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, এ নির্বাচনে ৩-৫% ভোটার ভোট দিয়েছে। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হয়েছেন। ৫২% ভোটার তাদের ভোটাধিকারের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাকি ১৪৭টি আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪১। প্রকৃত ভোট পড়েছে সর্বাধিক ৩ থেকে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে ৯৫-৯৭% ভোটার আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় নাই। তাই এই তথাকথিত নির্বাচন কোনোমতেই কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুনভাবে তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করতে আহ্বান করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অসাংবিধানিক বলে ইতিমধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করার দায় নির্বাচন কমিশন, স্পিকার এবং রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তাবে বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনীতিক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
মির্জা আলমগীর তার পাঠানো বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্র এখন একজন ব্যক্তির একগুঁয়েমি, স্বৈরাচারী আচরণের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে সংসদকে ব্যবহার করে এভাবেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করার অপচেষ্টা করেছিল এই দলটি। বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ৩৯ বছর পর আবার ভিন্ন লেবাসে সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই তারা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। উদ্ভট, অভিনব, হাস্যকর কায়দায় জাতীয় পার্টিকে কখনও বিরোধী দল, কখনও সরকারের অংশীদার হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে প্রতারণা করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, সরকারি হিসাবমতেই প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী, নিরীহ মানুষকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষকে বিনা কারণে ৬ মাস থেকে ১ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে দিয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির সব অপকৌশল গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এ হীন কৌশল গণতন্ত্রকামী মানুষ মেনে নেবে না।
ফখরুলের বিবৃতি

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন চাই

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মসূচিতে হামলার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দাবি জানানো হয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহিংসতার বিরুদ্ধে হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সমাবেশে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সাম্প্রদায়িক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ আইনে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে
কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একাত্তরে গণহত্যাকারীদের বশংবদেরাই এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সকল নাগরিক সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বলতে পারি আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাহলে হামলাকারীরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। তাদের দমন করা সম্ভব হবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। সমাবেশ শেষে রাজধানীতে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় সম্মিলিত পরিষদ : শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে 'সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের দাবি জানায় বাংলাদেশ সনাতন ধর্মীয় সম্মিলিত পরিষদ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নানা অজুহাতে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন চলে আসছে, এ পর্যন্ত তার কোনো বিচার হয়নি। ফলে এসব কাজে যারা জড়িত, তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে। আইন করে হামলা ও নির্যাতন বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার করা, হামলা-নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত এলাকা প্রধানমন্ত্রীকে পরিদর্শন করার দাবি জানানো হয়।
পরিষদের সভাপতি হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন ঘোষাল, সংগঠনের সদস্য সচিব দিলীপ ভদ্র, জে কে পাল, জিতেন্দ্রচন্দ্র বর্মণ, ডি এল চৌধুরী, নির্মল চৌধুরী, বিজন ভৌমিক প্রমুখ।
নাগরিক ঐক্য : সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সারাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, আর ক্ষমতাসীনরা এটাকে রাজনীতির উপজীব্য করছে। গত ৪২ বছরে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের কারণ খুঁজতে গভীরে যাওয়া হয়নি এবং এটাকে ভোটের উপজীব্য করা হয়েছে মন্তব্য করেন তিনি।
মান্না বলেন, অভয়নগরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কার বিষয়টি পুলিশ জানার পরও ব্যবস্থা নেয়নি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ তুলে ধরেন মান্না। সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং তা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন তিনি।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ : আওয়ামী লীগ সরকার সংখ্যালঘুদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ। দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধন ও পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি : শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর শাখা। সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বহ্নিশিখা জামালী, ড. এম আকতারুজ্জামান, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, সেকেন্দার হোসেন, রাশিদা বেগম, মো. শাহজাহান, শাহাদাৎ হোসেন খোকন, ফায়জুর রহমান মুনীর, মীর রেজাউল আলম প্রমুখ।
আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ : সকালে শাহবাগ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রমনা কালী মন্দিরে গিয়ে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। সংগঠনের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দীন পাঠানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম প্রমুখ।
নাগরিক উদ্যোগ :দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম), মাইনোরিটি রাইটস ফোরাম ও মানবাধিকার সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ। বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে যৌথ মানববন্ধন ও সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
বিডিইআরএম সভাপতি মুকুল শিকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন দীপু, কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর ও অধ্যক্ষ কামাল আতাউর রহমান প্রমুখ।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন।
বিবেকানন্দ গোস্বামী আন্তর্জাতিক সেবাশ্রম : ভাংচুর-অগি্নসংযোগ করা মন্দির সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে আচার্য্য বিবেকানন্দ গোস্বামী আন্তর্জাতিক সেবাশ্রম। দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতীকী অনশনে এ দাবি জানায় তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আচার্য্য বিবেকানন্দ গোস্বামী আন্তর্জাতিক সেবাশ্রমের প্রধান মেজর (অব.) শ্যামলেন্দু, নিলয় রতন হাওলাদার, সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার, নিত্যরঞ্জন রায়, অধ্যাপক হীরেন বিশ্বাস প্রমুখ। সচেতন হিন্দু পরিষদ :বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রভাষ চন্দ্র তন্ত্রী, মুখপাত্র আর কে মজুমদার প্রমুখ। এ ছাড়া সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।

সরকার ও বিরোধী দলে একসঙ্গে থাকা যায় না সুরঞ্জিত

'ঐকমত্যে'র সরকারের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, 'সরকার ও বিরোধী দলে একসঙ্গে থাকা যায় না।' গতকাল শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সেমিনার কক্ষে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, 'আমরা একটি নির্ভেজাল বিরোধী দল চাই। যারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। মাথাটা সরকারি দলের, আর লেজটা বিরোধী দলের কিংবা মাথা-লেজ বিরোধী দলের আর পেট সরকারি দলের। এটা হবে না, হয়ও না।' একটু বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, 'সবাই যদি মন্ত্রিত্বের জন্য কাঙাল হয়ে পড়ি, তাহলে গণতন্ত্রের কাঙাল হবে কে?'
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিরোধী দল থেকে মন্ত্রী হওয়ার বৈধতা নিয়ে ২০০৬ সালে একটি মামলা হয়েছে। তৎকালীন বিচারপতি মোস্তফা কামাল ওই মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা অনৈতিক, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও সংবিধান-বহির্ভূত।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, গণতন্ত্রের পাহারাদারের ভূমিকায় কাজ করে বিরোধী দল। বিরোধী দলবিহীন সংসদ, গণতান্ত্রিক এ প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবে না। বিরোধী দলের দায়িত্ব_ ভালো কাজে সমর্থন দেওয়া আর খারাপ কাজে সমালোচনা করা। তিনি বলেন, আজকের বিরোধী দলকে (জাতীয় পার্টি) সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের মধ্যদিয়ে রাজপথে বিরোধী দলের (বিএনপি) মোকাবেলা করতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া বিদেশিদের সাক্ষাৎকার দেন। আবার দেশে গৃহবন্দি দেখানোর জন্য 'স্বেচ্ছাবন্দিত্বের' ভান করেন। এবার খালেদা জিয়ার শুভবুদ্ধির উদয় হবে। স্বেচ্ছাবন্দিত্ব থেকে বেরিয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসবেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তার হাসিনাবিহীন রাজনীতির আবদার কে রক্ষা করবে? খালেদা জিয়ার উদ্দেশে সুরঞ্জিত বলেন, 'শেখ হাসিনাকে কি আপনে বসাইছেন? এ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক আবদার রক্ষা করা যাবে না।'
অনুষ্ঠান শেষে সংসদের বিলুপ্তি নিয়ে নানা মতের বিষয়ে জানতে চাইলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'এটা এবার নতুন হয়েছে, এজন্যই তো আলোচনা হচ্ছে। সাংবিধানিক বিষয়ের সমাধান সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ীই হবে। আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে, তারাও এ নীতি অনুসরণ করবে।
নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ নেতা নাজমুল হক প্রধান, মীর হোসেন আখতার, আওয়ামী লীগ নেতা হেমায়েত উদ্দিন প্রমুখ।

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে

থাইল্যান্ডে সহিংসতা আরও ব্যাপক আকার ধারনের আশঙ্কা করছেন দেশটির সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান ও-চা। গতকাল শনিবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে ৭ বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার পর জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এদিকে থাই উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রস্তুত সরকার। আজ রোববার ইংলাকবিরোধীদের 'ব্যাংকক দখল করো' কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে ২০ হাজার সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজধানীতে জড়ো হতে শুরু করেছে বিক্ষোভকারীরা। খবর : বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স। ব্যাংকক অচল কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রস্তুত সরকার। আজ রোববার থেকে ইংলাকবিরোধীরা ব্যাংকক অচল কর্মসূচি পালন করবে। এতে অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ ব্যাংককে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। নিরাপত্তার জন্য ব্যাংককের ৩৭টি পয়েন্টে ২০ হাজার পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মসূচির কারণে ব্যাংককে এরই মধ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী সুরাপং তোভিচাক চাইকুল সাংবাদিকদের বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রস্তুত।
সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান ও-চা বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এতে অনেক মানুষের সমাবেশ হবে। আমি নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাচ্ছি। সহিংসতা কিন্তু উত্তরোত্তর বাড়ছে।' তিনি দু'পক্ষকেই ভিন্নভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আমরা একে অন্যকে খুন করতে পারি না। দয়া করে হানাহানি বন্ধ করুন।' ব্যাংকক দখল কর্মসূচি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করে থাই নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়েছে। দু'মাস ধরে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছে।
গতকাল সকালে অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকধারীর গুলিতে ৭ জন আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশপ্রধান আদুল সায়েংসিংকাইউ বলেন, 'খাও সান রোড পর্যটক এলাকায় দু'জন বন্দুকধারী এ ঘটনা ঘটায়। আহতদের বেশিরভাগই সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক।' বন্দুকধারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
রাজধানী ব্যাংককের অভিজাত শ্রেণী ও রাজতন্ত্রের সমর্থকদের সঙ্গে এ দ্বন্দ্ব চলছে সিনাওয়াত্রা পরিবারের সমর্থক গরিব ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা মানুষের মধ্যে। এর আগে এক সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ইংলাক সিনাওয়াত্রার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। থাকসিন এখন বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থাইদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কে চরম অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় দেশে সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছে থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষ। তাদের ধারণা, শিগগিরই এ অবস্থার অবসান না ঘটলে পরিস্থিতি সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। পুরনো অভিজ্ঞতা থেকেই এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার এ আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।
থাইল্যান্ডের ৮১ বছরের ইতিহাসে ১৮টি সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে। দেশে চলমান অস্থিরতা ক্রমে বেড়ে চলেছে দেখেও এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী নিজেদের নিরপেক্ষ ভূমিকায় রেখেছে। ইংলাক সরকারের পতনের দাবিতে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট সমর্থিত সরকারবিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, ভাই থাকসিনই আড়ালে থেকে ইংলাকের সরকারকে পরিচালনা করছেন। তার প্রভাবমুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠার নামেই সরকার পতনের আন্দোলন করছে তারা। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক বেশ কিছু সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নিলেও দমেনি বিরোধীরা। চূড়ান্ত পর্যায়ে আন্দোলন হিসেবে ব্যাংকক দখল কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি গণজাগরণ মঞ্চের

গণজাগরণ মঞ্চের অভয়নগর মালোপাড়া অভিমুখে রোডমার্চ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। বিকেলে যশোরের চিত্রা মোড়ে জনসভার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয় এ জনসভায়। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ও সাম্প্রতিক হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে এ রোডমার্চ শুরু হয়। রোডমার্চ গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা মালোপাড়ায় পেঁৗছায়। গাড়িবহর প্রথমে চাপাতলায় পেঁৗছে। এরপর নেতাকর্মীরা সেখান থেকে মিছিল সহকারে ক্ষতিগ্রস্ত মালোপাড়ায় যান। সেখানে মানুষের ঢল নামে। সমাবেত হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ধর্ম আর সাম্প্রদায়িকতা এক নয়। কোনো ধর্মই মানুষকে হত্যা, তাদের বাড়িঘরে আগুন, লুটপাট, ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট কাজের অনুমতি দেয় না। তিনি বলেন, যারা এসব অপকর্ম করছে, তারা ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু। তিনি হামলাকারী সন্ত্রাসীদের উদ্দেশে বলেন, যারা এসব অপকর্ম করে তারাই সংখ্যালঘু, নির্যাতিতরা নন। গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ মালোপাড়া ঘুরে দেখেন। এখানে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, লাকি আক্তার,
মাহমুদুল হক মুন্সী, হাসান তারেক, শাহজাহান আলী সাজু, গণজাগরণ মঞ্চ যশোরের আহ্বায়ক কাজী আবদুস শহীদ লাল, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, সানোয়ার আলম খান দুলু প্রমুখ। এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চের চার শতাধিক নেতাকর্মী যশোরে আসেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বহরটি মালোপাড়ার উদ্দেশে যশোর শহর ত্যাগ করে। বিকেলে যশোরের চিত্রা মোড়ে গণজাগরণ মঞ্চের রোডমার্চ সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দানকালে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বহাল রেখে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
দু'দিনব্যাপী যশোরমুখী রোডমার্চের তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর আইন করতে হবে। এসব ঘটনার বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইমরান এইচ সরকার বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা হলেই এক দল আরেক দলের ঘাড়ে দোষ চাপায়। এভাবে দোষারোপের রাজনীতি করে সহিংসতার বিচার হবে না। দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠনের তাগিদ দেন ইমরান এইচ সরকার। একই সঙ্গে তিনি অভয়নগরের মালোপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারপ্রতি ২০ হাজার ও বাকি ১০০ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া তিনি মনিরামপুরের ধর্ষর্ণের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। গণজাগরণ মঞ্চ যশোরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কাজী আবদুস শহীদ লালের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সংগঠক মাহমুদুল বাঁধন, বাপ্পাদিত্য বসু, শামসুল ইসলাম সুমন, হাসান তারেক, রাহাত আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চ যশোরের যুগ্ম আহ্বায়ক এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, সদস্য সচিব সুকুমার দাস, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু প্রমুখ।

ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

(বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনে ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের নামে সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবসায়ীদের সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আপনাদের চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ দিন শেষে ক্ষতি আপনাদের। ক্ষতি দেশের মানুষের।' গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভাষণ দানকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দেশের বৃহত্তম মাসব্যাপী এই বাণিজ্যমেলার আয়োজন করছে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এবং এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিস বোসও বক্তৃতা করেন। বাসস।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের ভরাডুবি ভুলতে পারেননি। তিনি বলেন, 'বেগম জিয়া সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পাশে নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।' তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে যা ঘটছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া এদেশের মানুষ আর কখনও তা দেখেনি। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে হার মানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া লাশ চান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, 'আন্দোলনে কিছু লোক মারা যাবে এবং দেশবাসীকে তা মেনে নিতে হবে।' তিনি বলেন, দেশবাসী দেখেছে_ আন্দোলন করে বিএনপি জামায়াত কী পেয়েছে। তারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। তারা শুধু জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পেরেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এজন্য বিএনপি নেত্রীকে দেশবাসীর কাছে একদিন জবাবদিহি করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। একমাত্র সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের এক ডজনেরও বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। তিনি বলেন, জনগণের দৃঢ় প্রত্যয়, কর্মক্ষমতা এবং অন্তর্নিহিত শক্তি দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। শেখ হাসিনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মানোন্নয়ন, পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও একে আকর্ষণীয় করার দিকে দৃষ্টি দিতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি শ্রম পরিবেশ ও শ্রম নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং নিজস্ব ব্র্যান্ডের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সাফল্য কামনা এবং আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রদর্শনী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন তৈরিতে কার্যর্কর ভূমিকা রাখবে। পরে প্রধানমন্ত্রী ফিতা কেটে এবং বেলুন অবমুক্ত করে মেলার উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সিঙ্গাপুরসহ ১২টি দেশের ২৭টি সংস্থা এই মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় ৯৬টি প্যাভিলিয়ন, ৪৯টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৩১৬টি স্টল স্থান পাচ্ছে। মেলার প্রবেশমূল্য বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। এ বছরের বাণিজ্যমেলার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন ইকো-পার্ক, ই-শপ, চিকিৎসা ও রক্তদান কেন্দ্র এবং লোকসঙ্গীত পরিবেশনা। তরুণ সমাজের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বিগত বছরগুলোর মতো 'বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মেলায় খাদ্য এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা অধিদফতরের একটি পৃথক বুথও খোলা হয়েছে।

নতুন নির্বাচনের জন্য সংলাপ শুরু করুন

(মার্কিন সিনেটের চিঠি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংলাপ শুরু করার জন্য দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেস গত ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার কাছে প্রায় অভিন্ন ভাষায় পৃথক চিঠি পাঠান।
চিঠিতে মেনেনদেস লিখেছেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করতে পারে_ এমন একটি স্থায়ী, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য।'
চিঠিতে নির্বাচন-পূর্ব এবং নির্বাচনের দিন যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, 'কোনো পরিস্থিতিতেই সহিংসতা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির গ্রহণযোগ্য ও বৈধ বহিঃপ্রকাশ নয়। রাজপথে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের জন্য অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে সুযোগ দিতে হবে।'
চিঠিতে মেনেনদেস বলেছেন, 'বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান অংশীদার। আমাদের দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো উল্লেখ করার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করছে। চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আবারও কমিয়ে ফেলবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নতুন নির্বাচনের জন্য আলাপ-আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানাই।'
এর আগে বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন সিনেট একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সিনেটের ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়। সহিংসতা বন্ধে এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

শপথ নিতেও লুকোচুরি

শপথ নিতেও লুকোচুরি খেললেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল শনিবার স্পিকারের কক্ষে এলেন সংসদ ভবনের পেছনের দরজা দিয়ে। শপথ নিয়েই একই পথে সিএমএইচে চলে গেলেন সাংবাদিকদের চোখ ফাঁক দিয়ে। শপথের জন্য স্পিকারের কক্ষে প্রবেশ করেই তিনি বলেন, 'রংপুরের মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই আসতে হলো।' এর আগে ৯ জানুয়ারি এরশাদপত্নী রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির অন্য এমপিরা শপথ নেন। গতকাল দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন এরশাদ। এর কিছুক্ষণ পর দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান হিসেবে রওশনের নির্বাচিত হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। বিকেলে সংসদ সচিবালয় থেকে দশম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন ৮৪ বছর বয়সী এরশাদ। ৫ জানুয়ারির ভোটে ১৩ জন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ২০ জনকে নিয়ে দশম সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। ৯ জানুয়ারি অন্যদের শপথ অনুষ্ঠানের দিন দেশের বাইরে থাকায় আওয়ামী লীগের নাজমুল হাসান এবং জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান ও জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদলও গতকাল শপথ গ্রহণ করেন।

কতদিন পর...

কার্যত 'অবরুদ্ধ' থেকে টানা ১৬ দিন পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার রাতে তার গাড়িটি যখন গুলশানের বাড়ি থেকে বের হয়, তখন তাতে জাতীয় পতাকা ছিল না। দীর্ঘ বছর পর খালেদা জিয়ার গাড়িতে শোভা পাচ্ছিল শুধু দলীয় পতাকা। রাত পৌনে ৮টায় খালেদা জিয়ার গাড়ি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার পুলিশ প্রটোকলও ছিল না, যা এতদিন দেখা যেত। তবে সামনে-পেছনে পাহারায় ছিল পুলিশের দুটি গাড়ি। এতে ১২ জন পুলিশ ছিল। এ ছাড়া দুটি মাইক্রোবাসে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীরা। কার্যালয়ে ঢুকেই চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। নবম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতেন খালেদা জিয়া। তবে গত ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেটও প্রকাশ করেছে সংসদ। বিএনপি এই নির্বাচনকে 'অবৈধ' বলে তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে।
বিএনপি কার্যালয়ে আগে থেকেই ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, জয়নুল আবদিন ফারুক, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, নিলুফার চৌধুরী মনিসহ দলের নেতারা। হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি ও একই রঙের চাদর পরা খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নামলে তারা নেত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গুলশান কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। নির্বাচন ঠেকাতে গত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে গণতন্ত্র অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এ কর্মসূচির পর ২৬ ডিসেম্বর থেকে তার গুলশানের বাড়ি ও কার্যালয়ে পুলিশ পাহারা বাড়ানো হয়। খালেদা জিয়ার অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে কার্যত তাকে গৃহবন্দি করা হয়; যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের সমাবেশে যোগ দিতে বাধা পান বিএনপি চেয়ারপারসন। অবশ্য খালেদা জিয়ার বাসার আঙিনায় কিছু সাংবাদিক প্রবেশ করলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি। দলীয় নেতারাও তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে বাধা পান। দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়া গৃহবন্দি কি-না জানতে চান। একই সঙ্গে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অবরুদ্ধ অবস্থায় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আলবার্ট কোনসে ও কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন গুলশানের বাড়িতে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। নির্বাচনের পর গত ৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বাসার সামনে থেকে পুলিশের অতিরিক্ত পাহারা সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিরোধীদলীয় নেতার বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা বাড়ানো হয়েছিল। ঝুঁকি কমে যাওয়ায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেই সঙ্গে সমঝোতার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও রয়েছে তার। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক ঘণ্টা বৈঠক : ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুনের সঙ্গে খালেদা জিয়া প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। রাত ৭টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ বৈঠক স্থায়ী হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও এ সময় আলোচনা হয়।
দলীয় নেতা ও পেশাজীবীদের সাক্ষাৎ :গতকাল রাতে সাক্ষাৎ করেছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করে যাওয়ার পর দেখা করতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারসহ চিকিৎসক, আইনজীবী, কৃষিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
এর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সদ্য সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, নিলোফার চৌধুরী মনি, নির্বাহী সদস্য শামা ওবায়েদ, জেবা খান, খালেদা ইয়াসমিন প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরাও সাক্ষাৎ করেন। এর মধ্যে ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও বড় ছেলের স্ত্রী।
দীর্ঘদিন পর খালেদা জিয়া অফিস করায় দলের নেতাকর্মীরা তার অফিসের সামনে ভিড় করেন। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর আগমনে সরগরম হয়ে ওঠে কার্যালয় প্রাঙ্গণ। এ ছাড়া সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয় সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

মহাখলনায়ক এরশাদ

রাজনীতির মঞ্চে একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। নায়ক-প্রতিনায়ক অনেকেই। সবাইকে ছাড়িয়ে এরশাদই আজ মহাখলনায়ক। দফায় দফায় ইউটার্ন নিয়ে রাজনীতির নাটকের নটরাজ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেন এভারেস্ট বিজয়ী। তবে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির দাবি, বড় দুই দল তাকে মুক্তভাবে রাজনীতি করতে দেয়নি। সে কারণেই বারবার মন বদল করতে হয়েছে। তবে এরশাদ-ঘনিষ্ঠরা বলেন, জেল এড়াতেই তাকে ক্ষমতাসীনদের মন জুগিয়ে চলতে হচ্ছে। টানা দুই মাস 'অংশ নেবো না নেবো না' করেও নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। এরপর টানা দুই সপ্তাহ 'অংশ নেবো নেবো' করেও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। 'বর্জন' করলেও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার গোপনে শপথও নিলেন। এরশাদের নির্বাচন বর্জন-অংশগ্রহণ-বর্জন পরিক্রমাকে নাটক হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন লোকজন। এ নাটকের নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক স্বয়ং এরশাদ। এরশাদ কি আদৌ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন? নাকি সব ছিল তার নাটক? এ প্রশ্ন করছেন সবাই। গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এরশাদের নাটকের শেষ পর্ব দেখতে শপথ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'এরশাদ যদি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেন, তাহলে বলা যাবে_ তিনি আসলেই নির্বাচন বর্জন করেছেন। কারও সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এরশাদ শপথ নিলে বলতেই হবে_ এখন যা চলছে, তা সবই নাটক। রওশনকে সামনে রেখে এরশাদ নিজেই এগুলো করিয়েছেন।'
এরশাদ সকালে যা বলেন, বিকেলে তা বদলে ফেলেন। রাতে শোনা যায় নতুন কথা। ১৯৮২ সালে তৎকালীন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুুস সাত্তারের সঙ্গে 'অভিনয়' করে খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু তার। রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন মাস পর ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৯০ সালের ১ ডিসেম্বরর ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও পরের ছয় দিন পর্দার আড়াল থেকে সব ধরনের চেষ্টা করেন ক্ষমতায় টিকে থাকতে। পতনের পর ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে কারাগার থেকে মুক্তির পর গত ১৭ বছরে বড় দুই দলের সঙ্গে মন বদলের নাটক করে চলেছেন। কখনও ছিলেন বিএনপির সঙ্গী, কখনও আওয়ামী লীগের।
'৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করে ক্ষমতার শরিক হয় জাতীয় পার্টি। তিন বছরেই ভেঙে যায় সখ্য। আওয়ামী লীগকে ছেড়ে বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোট করেন এরশাদ। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো সক্রিয় হওয়ায় সেখান থেকেও মাত্র এক বছরের মাথায় পিঠটান দেন। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতায় বিএনপির সঙ্গে মিত্রতা ভেঙে মুক্তি পান।
২০০১ থেকে ২০০৬_ চারদলীয় জোটের শাসনামলের পুরো সময় 'গৃহপালিত' বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিলেন এরশাদ। সরকারের সমালোচনা কিংবা প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে সখ্য_ কোনোটিই করেননি। ২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে অনুকূল পরিবেশ পেয়ে আবার স্বরূপে আবির্ভূত হন তিনি। বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের আশ্বাস দিয়েও যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে।
নির্বাচন বাতিল হয়ে জরুরি অবস্থা জারি হলো। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়ার শীর্ষ নেতারা কারাগারে গেলেও বাইরে রইলেন এরশাদ। গা বাঁচাতে রাজনীতি থেকে অবসরেরও ঘোষণা দেন। দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়েন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আবারও ফিরে আসেন। মহাজোটের শরিক হয়ে ২৭ আসন পেয়ে এরশাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
ব্যাংক-বীমা, ঠিকাদারি, টেলিভিশন লাইসেন্স পেলেও রাষ্ট্রপতি পদ এবং মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় এরশাদের মনে ক্ষোভ জমা ছিল। ক্ষমতার শরিক হলেও জাতীয় পার্টিকে মূল্যায়ন করা হয়নি_ এ অভিযোগ তুলে সরকারের কড়া সমলোচনায় মুখর হন। সরকারে অংশীদারিত্ব না ছাড়লেও পদ্মা সেতু, হলমার্ক, রামপাল ও হেফাজত ইস্যুতে রীতিমতো দাপুটে অভিনয় করেন।
গত জুন-জুলাইয়ে পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর দলটির সঙ্গে জোটের চেষ্টা করেন এরশাদ। প্রত্যাশা অনুযায়ী ৬০ আসন এবং রাষ্ট্রপতি পদ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি না পেয়ে ১৮ দলে যাওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবকে 'যথেষ্ট' ও 'স্পষ্ট' বললেও ২৯ দিন পর জাতীয় পার্টির সাত নেতা সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা হন।
এর আগের এক সপ্তাহে এরশাদ নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন। ৯ নভেম্বর বলেন, 'আওয়ামী লীগের অধীনে বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে অংশ নিলে মানুষ থুতু দেবে।' পরদিন বলেন, 'জেলে মারা গেলেও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে জাতীয় বেঈমান হবো না।' ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রামে হেফাজত আমির শাহ্ আহমদ শফীর দোয়া নিতে যান। সেখানেও একই কথা বলেন। ২৩ ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থান বদলে ফেলেন এরশাদ। ১৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ঘোষণা দেন_ কে নির্বাচনে এলো, কে এলো না; তা দেখার সময় নেই। নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি।
এরশাদ নাটক এখানেই শেষ নয়। ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪৮ আসনে জাতীয় পার্টির ২৯১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ৩ ডিসেম্বর এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ২৭ ঘণ্টার অজ্ঞাতবাসে থেকে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এ পর্যায়ে নাটকের দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও রওশনের নেতৃত্বে দলটির ৮৫ প্রার্থী নির্বাচনে থেকে যান। বিনা বাধায় এমপি হতে ভোল পাল্টে নির্বাচনে অংশ নেন। নাটকের বড় চমক ছিল এরশাদের 'আটক' আতঙ্ক। ১২ ডিসেম্বর এরশাদকে তার বারিধারার বাসভবন থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমইচে নিয়ে যায় র‌্যাব। গতকাল সিএমএইচ থেকে এসে শপথ নিয়ে আবার হাসপাতালে ফিরে যান। এসব ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিন্দুকেরা বলেছেন_ বেঁচে থাকুন এরশাদ। তার মতো খলনায়ক আর হবে না।

অবশেষে ঐকমত্যের সরকার:আজ শপথ by শাহেদ চৌধুরী ও শরীফুল ইসলাম

সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুনে-পুরাতনে 'ঐকমত্যে'র সরকার গঠন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নয়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। জাতীয় পার্টিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বেশিরভাগ দলের অংশগ্রহণে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পার্টি থেকে মন্ত্রিসভায় থাকছেন পার্টির তিন প্রেসিডিয়াম সদস্য। ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যাত্রা শুরু করছে নতুন সরকার। নির্বাচনের আগে থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতা এখন কিছুটা কমে এলেও সরকার স্বস্তিতে নেই। ইতিমধ্যে শক্ত হাতে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন সরকারে অনেক বিতর্কিত সাবেক মন্ত্রী ও নেতা বাদ পড়ছেন। কেউ কেউ রয়ে গেছেন। যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন মুখ। তাদের অনেকে নবীন, কেউ কেউ প্রবীণ। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনকে 'তামাশা' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, দেশজুড়ে বিরাজমান সংক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই নতুন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বিএনপিকে সামাল দিতে হবে সরকারকে। এরপর জামায়াতের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মতো শক্ত পরিস্থিতিও মোকাবেলা করতে হবে। বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানে সরকার গঠনের পর পরই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গতকাল শনিবার নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আওয়ামী লীগ ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) শীর্ষ নেতারা নতুন মন্ত্রিসভায় থাকবেন। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার সদস্যরা থাকবেন বিরোধী দলে। গতকাল রাতে মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জাতীয় পার্টি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে মন্ত্রিসভায় থাকছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও মসিউর রহমান রাঙা। শপথ গ্রহণের পর আজকের মধ্যেই নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করার প্রস্তুতি রয়েছে। মন্ত্রীদের শপথের পর প্রধানমন্ত্রী তার উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেবেন।
নয়া মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে ২৭ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ২ জন উপমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা আপাতত ৫০-এর মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩২ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ইতিমধ্যে সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, আজ শপথ গ্রহণের জন্য শেখ হাসিনা মাঝারি আকারের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। পুরনো ও নতুনদের সংমিশ্রণে গড়া নয়া মন্ত্রিসভায় একাধিক টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীও থাকছেন। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন এমপিও মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। নয়া মন্ত্রিসভায় অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আমলা, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিও রয়েছেন মন্ত্রিসভায়। ২৯ সদস্যের বর্তমান সর্বদলীয় সরকারের একাধিক হোমরা-চোমরা বাদ পড়ছেন।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বেলায় শেখ হাসিনা আত্মীয়তা, অভিযুক্ত ও কথিত সংস্কারবাদীদের বিষয়ে বেশ সংযত। মন্ত্রিসভায় পুরনো ১৯ জেলার এমপিরা প্রাধান্য পেয়েছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মন্ত্রিসভায় না রেখে সাংগঠনিক দায়িত্বে রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন_ এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগদলীয় এমপিদের আগ্রহ বেশি। এ নিয়ে বেশ টেনশনে রয়েছেন সর্বদলীয় সরকার গঠনের আগে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। সবাই উদগ্রীব হয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সর্বশেষ খবর রাখছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সাত বিভাগের প্রতিনিধি থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায়। এ ছাড়াও পুরনো ১৯ জেলায়ও মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। কোনো জেলার প্রতিনিধি বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলার যে কোনো একজন এমপিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপ করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। কমপক্ষে তিন দফায় বিজয়ী এমপিদের অনেকেই এবারকার মন্ত্রিসভায় থাকবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। এসব এমপির অনেকেই অচেনা; কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। এ কারণেই তাদের মন্ত্রিসভায় রাখতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে ওইসব এমপির অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক কাজে লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে। সমকাল গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা সংগ্রহ করেছে। তবে এই তালিকায় শেষ মুহূর্তে রদবদলও হতে পারে।
তারকারা থাকছেন : নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে থাকলেও উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এবার তারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রিসভায় থাকছেন।
এ ছাড়াও দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক নুুরুল ইসলাম নাহিদ, ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি মুজিবুল হক, মাদারীপুর-২ আসনের এমপি শাজাহান খান এবং ময়মনসিংহ-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সর্বদলীয় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারও মন্ত্রিসভায় থাকছেন।
কক্ষচ্যুত তারকা : মহাজোট সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীরউত্তম নতুন সরকারে থাকছেন না। তার ভাতিজা খন্দকার আজিজুল হক আরজু পাবনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাবেক বিমানমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক মৎস্যমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সাবেক বিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী বাদ পড়ছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।
নতুন মুখ : মন্ত্রিসভায় থাকছেন অনেক নতুন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারী-২ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান নূর, জামালপুর-৩ আসনের এমপি মির্জা আজম, চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন, ঢাকা-৩ আসনের এমপি নসরুল হামিদ বিপু, নাটোর-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সিমিন হোসেন রিমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইমাজউদ্দিন প্রামানিক, বান্দরবানের বীর বাহাদুর উশৈ সিং, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, খুলনা-৫ আসনের এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, শেরপুর-১ আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক, গাজীপুর-১ আসনের এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হক, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি সৈয়দ মহসিন আলী, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি ছায়েদুল হক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এমএ মান্নান, পাবনা-৪ আসনের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, মাগুরা-২ আসনের এমপি বীরেন শিকদার, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ভোলা-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি আরিফ খান জয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ দফায় না হলেও পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী হতে পারেন।
অনিশ্চয়তা : মহাজোট এবং সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নতুন মন্ত্রিসভায় থাকা না-থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকার সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, এবং বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ ছাড়াও সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মজিবুর রহমান ফকির, সাবেক মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাইয়ের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নতুন আইনমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মহাজোট সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে আইনমন্ত্রী করার কথা শোনা গেলেও শেষতক তা হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আবারও আইন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন বলে শোনা গেছে।
কে হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন না_ এটা মোটামুটি নিশ্চিত। আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে আপাতত পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে আগ্রহী।
মুহিত অর্থমন্ত্রী :অর্থমন্ত্রী কে হচ্ছেন এ নিয়ে নানা গুজব-গুঞ্জন রয়েছে। নির্বাচনের পর আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। তার বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন সরকারের নাম আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু পরে সেটা কেটে গেছে। শেষতক আবুল মাল আবদুল মুহিতই অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মহাজোট সরকারে উপমন্ত্রী না থাকলেও নতুন সরকারে দু'জন উপমন্ত্রী থাকছেন। তাদের মধ্যে থাকতে পারেন ভোলা-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি আরিফ খান জয়।
টেকনোক্র্যাট : ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হচ্ছেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও ড. গওহর রিজভীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশজুড়ে ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সারাদেশে ১৮ দলীয় জোট মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। ব্যুরো, অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো  খবর :
বরিশাল :বিএনপির কিছু কর্মী ঝটিকা মিছিল করেছে। শনিবার সকালে নগরীর বাজার রোডে দক্ষিণ জেলা বিএনপির ব্যানারে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর পুলিশ আসার আগেই সবাই সটকে পড়ে।
খুলনা :মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, বিজেপির সভাপতি লতিফুর রহমান লাবু, পিপলস লীগের সভাপতি ডা. সৈয়দ আফতাব হোসেন, বিএনপি নেতা কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ।
নেত্রকোনা :জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, আবদুল মান্নান তালুকদার, ইমরান খান চৌধুরী প্রমুখ।
জামালপুর : মহিলা কলেজ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন, আমজাদ হোসেন, শহিদুল হক খান দুলাল, ফিরোজ মিয়া, গোলাম রব্বানী, এমদাদুল হক হীরা, সজীব খান, কাজী মশিউর রহমান, শফিউর রহমান শফি, মাইন উদ্দিন বাবুল প্রমুখ।
মদন (নেত্রকোনা) :উপজেলা বিএনপি সভাপতি এমএ হারেছের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এন আলম, আবু তাহের আজাদ, কামরুজ্জামান চন্দন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বজলু রহমান প্রমুখ।
বাগেরহাট :জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দীপুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু, আসাদুজ্জামান, মোজাফফর রহমান আলম প্রমুখ।
নাটোর :বিএনপির মিছিলটি কমেলা সুপার মার্কেটের সামনে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী গোলাম মোর্শেদের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন আমিনুল হক, কাজী শাহ আলম, রুহুল আমিন তালুকদার টগর প্রমুখ।
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) :চিলমারী ডিগ্রি কলেজ মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজার রহমান মঞ্জু, আবদুল মতিন সরকার শিরিন, আবু হানিফা, লোকমান হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল, আমিনুল ইসলাম, সালেকুর রহমান প্রমুখ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ :সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারু, জামায়াতের লতিফুর রহমান, আমিনুল ইসলাম মতি, মুখলেসুর রহমান প্রমুখ।
মৌলভীবাজার :সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মুকিত, মৌলভী আবদুল ওয়ালী সিদ্দিকী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহেদ আলী, জমিয়তে উলামা নেতা মাওলানা হাবিব উল্যা, মুজিবুর রহমান মুজিব, মতিন বখস প্রমুখ।
বানারীপাড়া (বরিশাল) :বানারীপাড়ায় পুলিশি বাধায় বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেননি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। শনিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে কার্যালয়ের ভেতরে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :স্টেশন রোডে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী, আতাউর রহমান লাল হাজি প্রমুখ।
গাইবান্ধা :জেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান মিজান, মাহমুদুনবী টিটুল, আবদুল মান্নান সরকার প্রমুখ।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাংকের ব্যবসা নির্ভর করছে by আলী রেজা ইফতেখার

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখার। ব্যাংকিং খাতে ২৬ বছরের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ইফতেখার দেশি-বিদেশি ব্যাংকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্যাংকের ব্যবসা, এ খাতের ভবিষ্যৎসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ রনি
সমকাল :গেল বছর ব্যাংকের ব্যবসা কেমন গেছে?
ইফতেখার :সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা কমেছে। আমরা একটা খসড়া হিসাব করি যে, পরিচালন মুনাফার ২০ শতাংশের মতো নিট মুনাফা হয়। ২০১৩ সালে পরিচালন মুনাফা থেকে কর ও প্রভিশন রাখার পর নিট বা প্রকৃত মুনাফা যা দাঁড়াবে, তা আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম হবে বলে ধারণা করছি। অনেকের জন্য ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কঠিন হবে।
সমকাল :বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, প্রভিশন সংরক্ষণে কিছুটা ছাড় দিয়েছে। এর প্রভাব কেমন হবে?
ইফতেখার :ব্যাংকগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। এ কারণে ২০১৩ সালের হিসাব কষলে দেখা যাবে, ব্যাংকগুলো বেঁচে থাকবে। একজন ঋণ গ্রহীতা পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করতে না পারলে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে। এ কারণে ব্যাংকগুলো কেস টু কেস ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের ঋণের মেয়াদ বাড়াচ্ছে। ডাউনপেমেন্ট ছাড়া পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছাড় না দিলে অবস্থা খুব খারাপ হতো।
সমকাল :২০১৪ সালে ব্যাংকের ব্যবসা কেমন যাবে বলে মনে করছেন?
ইফতেখার :২০১৩ সালে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারিনি। যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে যায়, তাতে ব্যাংক খাতের অবস্থা আরও খারাপ হবে। সমস্যা আরও বাড়বে। কেননা ২০১৩ সালের কিছু সমস্যা নতুন বছরে নিয়ে এসেছি। এর সঙ্গে যোগ হবে এ বছরের সমস্যা। দু'বছরের সমস্যা নিয়ে এবার ব্যবসা খুব একটা ভালো যাবে বলে মনে হয় না। ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকতে হলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ব্যাংক খাত ভালো ব্যবসা করতে পারবে। এ কারণে আমাদের সবারই কাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।
সমকাল :গত বছর খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ কী মনে করেন?
ইফতেখার :চারটি কারণে ২০১৩ সালে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। প্রথমত, হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালার আলোকে ঋণ শ্রেণীকরণ। তৃতীয়ত, বিভিন্ন কারণে জাহাজ নির্মাণ, আবাসনসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সুযোগ সন্ধানী কিছু ব্যবসায়ী আছেন, যারা সব সময়ই এ ধরনের সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। তারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি হয়ে থাকেন। নতুন বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর ব্যাংকগুলোকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে নিজ ব্যাংকের কর্মকর্তাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
সমকাল :রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব সুবিধা দিয়েছে, ব্যাংকগুলো তা কতটা কাজে লাগাতে পারছে?
ইফতেখার :পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকগুলো নিজেদের থেকেই কিছু গ্রাহকের ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণের মেয়াদ বাড়ানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় দিয়েছে। ব্যাংকগুলো প্রকৃত গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময়ই আগ্রহী থাকে। অনেক সময় অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে অনেক ব্যাংক এলসি খুলছে না। এ অভিযোগ একেবারে সঠিক নয়। প্রকৃত কোনো গ্রাহক এলসি খুলতে পারেননি_ এমন নজির নেই। তবে হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহসহ বিভিন্ন বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছুটা সতর্কতা দেখাচ্ছে।
সমকাল :দেশে বিনিয়োগে ধীরগতি থাকলেও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে; বিষয়টি আসলে কী?
ইফতেখার :পণ্য আমদানি-রফতানির আড়ালে কেউ অর্থ পাচার করলে সেটা ধরা খুব কঠিন কাজ। যেমন, ব্যাংকে এলসি খোলার সময় কেউ বলল, এই যন্ত্রের দাম এক মিলিয়ন ইউরো। ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেল, এক মিলিয়ন ইউরোর ওই ধরনের মেশিন রয়েছে। আবার এর চেয়ে অনেক কম দামেও একই ধরনের মেশিন বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেউ কম দামের পণ্য এনে বেশি দামের কথা বললে সেটা যাচাই করা খুব কঠিন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষেও এটা ধরা কঠিন। তার পরও ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে সতর্ক রয়েছে।
সমকাল :নতুন বছরে ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
ইফতেখার :ইস্টার্ন ব্যাংক আগের মতোই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ আদায় এ দুটি বিষয়কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।
সমকাল :এবিবি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ইফতেখার :ব্যাংকের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এবিবির কর্মকাণ্ড বিভিন্ন পক্ষকে জানানো হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে সাব-কমিটি করে একেকটি কমিটি একেক ধরনের দায়িত্ব পালন করবে।
সমকাল :ব্যাংকগুলোর করপোরেট কর কমানোর দাবির বিষয়টি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে?
ইফতেখার :ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফার ওপর বর্তমানে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে কর দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট কর কমানোর দাবি করা হলেও এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার কিছুটা হলেও ছাড় দেবে বলে আমরা আশা করছি।

জিমেইলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

জিমেইল ব্যবহারকারীরা এমনিতেই অনাকাঙ্ক্ষিত মেইলের [স্প্যাম] উৎপাতে অতিষ্ঠ। তবে গুগলের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় এ উৎপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ঘোষণার ফলে গুগলের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ব্যবহারকারীর জিমেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। আর এতে করে যে কেউ সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর জিমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়া অপরিচিতরাও জিমেইলে শুধু ইউজার নেম ব্যবহার করে চ্যাট করতে পারবেন। নতুন এ ফিচারে বার্তা পাঠাতে শুধু ব্যবহারকারীর নামের একটি অংশ লিখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজেশন দেখাবে। এতে এর ফলে নেটওয়ার্কের বাইরের কেউ সহজেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে খুঁজে পাবে। মূলত গুগল প্লাসকে জনপ্রিয় করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা গুগলের এ ধরনের উদ্যোগকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে দেখছেন। ফিচারটিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে দেখছেন ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টারের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভাগীয় প্রধান মার্ক রোটেনবার্গ। তিনি জিমেইলের এমন ফিচারকে 'ঝামেলা' আখ্যা দিয়ে বলেন, হাজার হাজার গুগল প্লাস ব্যবহারকারীর আইডি এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিতে পড়বে। তবে এক ব্লগে গুগলের মুখপাত্র ডেভিড মাকাম জানিয়েছেন, নতুন এ ফিচারটি জিমেইল এবং গুগল প্লাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একই সার্কেলে সংযুক্ত ব্যবহারকারীদের আন্তঃযোগাযোগ আরও সহজ করবে।
আরিফুর রহমান

মহানায়িকার জন্য শুভকামনা

(সুচিত্রা সেন) বাংলা চলচ্চিত্রের 'মহানায়িকা' সুচিত্রা সেনের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তা স্বভাবতই সীমানা মানেনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যেমন ছুটে গিয়েছেন, সীমান্তের এপাশ থেকে আরোগ্য কামনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। দুই বাংলার সাধারণ মানুষও কতটা উদ্বিগ্ন, সেই ছাপ দুই পাশের সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট। আমরা চাই, তিনি দ্রুতই আরোগ্য লাভ করুন। জীবন্ত এই কিংবদন্তি চলচ্চিত্রে ফিরবেন না জানা কথা; কিন্তু নিজের পরিসরেই তিনি সুস্থ থাকুন_ আমরা সেটাই কামনা করি। আমরা তার অতীতেই মগ্ন থাকতে চাই; কিন্তু তার নিজের বর্তমান যেন উপভোগ্য থাকে। আমরা জানি, রমা দাসগুপ্তা থেকে সুচিত্রা সেন হয়ে ওঠার ভ্রমণটা কতটা চমকপ্রদ। ২১ বছর বয়সে রমা নাম নিয়ে এসেছিলেন চলচ্চিত্র জগতে, তারপর সুচিত্রা নামে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দীর্ঘ ২৫ বছর। অসামান্য অভিনয় প্রতিভায় এখন তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে সুচিত্রা নামেই পরিচিত। চলচ্চিত্রের রূপালি জগৎ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে লোক অন্তরালে চলে যাওয়ার পরও তিনি মহানায়িকা। এখনও কোটি কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রস্থলে তিনি। সৌন্দর্য আর প্রতিভার মিশেলে সমৃদ্ধ করেছেন চলচ্চিত্র জগৎকে। মূলত টালিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সুচিত্রা সেন। অল্প কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু তার সুখ্যাতি কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত হয়নি। বরং তিনি স্থান পেয়েছেন এপার ও ওপার বাংলার মানুষের মনের মুকুরে। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন ১৯৫২ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেছিলেন 'শেষ কোথায়' ছবির মাধ্যমে। ছবিটি মুক্তি পায়নি। পরের বছরেই অভিনয় করেন আলোচিত 'সাড়ে চুয়াত্তর' ছবিতে। বিপরীতে মহানায়ক উত্তমকুমার। এক লহমাতেই যেন যুক্ত হয় বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন ইতিহাস। কিংবদন্তিতুল্য হয়ে ওঠে উত্তম-সুচিত্রা জুটি। এই জুটির শেষ চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল আজ থেকে ৪৬ বছর আগে, ১৯৬৭ সালে (গৃহদাহ)। এত বছর পরে এখনও বাংলা চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ জুটি হিসেবে পরিচিত উত্তম-সুচিত্রা। উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন নাম দুটি পাশাপাশি উচ্চারিত হলেই মনে করিয়ে দেয় বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ের কথা। সুচিত্রা সেন হয়ে উঠেছিলেন রোমান্টিক নায়িকার আইকন। সুচিত্রা সেন প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে দেবদাস ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। ১৯৭৮ সালে চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে সাড়ে চুয়াত্তর, অগি্নপরীক্ষা, সাগরিকা, হারানো সুর, দীপ জ্বেলে যাই, সপ্তপদী, সাত পাকে বাঁধা, সূর্য তোরণ, দেবী চৌধুরাণী। আমরা দেখতে পাই, চলচ্চিত্রের অনেক বিখ্যাত নায়িকা পরবর্তীকালে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মহানায়িকা হিসেবেই তিনি অবসর নিয়েছেন। ফলে কোটি কোটি দর্শকের মনের চিত্রপটে এখনও তিনি মহানায়িকা হিসেবেই রয়ে গেছেন। ১৯৭৮ সালের পরে তিনি আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। চলে গিয়েছিলেন লোক অন্তরালে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যাপন করছেন এক রহস্যময় জীবন। পর্দার আড়ালে গিয়ে অন্য এক যাপিত জীবনের বাসিন্দা হলেও নানা প্রজন্মের কোটি কোটি দর্শকের হৃদয় থেকে নিজেকে আড়াল করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সুচিত্রা সেন পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠা পেলেও তার জন্মস্থান বাংলাদেশের পাবনা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মিলনসেতু। গত ২৫ ডিসেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মেডিকেল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে। আমরা আশা করব মহানায়িকা সুস্থ হয়ে উঠবেন। সুচিত্রা সেন ভাস্বর হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

অপরাধী চক্র ভয়ঙ্কর

(সাইবার ক্রাইম) আন্তর্জাতিক 'সাইবার ক্রাইম' চক্র বাংলাদেশকে মৃগয়া ক্ষেত্র বানিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি অপরাধ প্রতিরোধে এ দেশ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ভেবেই তারা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত করে। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় ৩৯ সাইবার অপরাধী ধরা পড়ার পর গোয়েন্দাসহ অনেকের চোখ কপালে ওঠার কথা। আর এটাই দেশে এ ধরনের জালিয়াত চক্র ধরা পড়ার প্রথম ঘটনা। অপরাধীরা এখানে বসেই চীন ও তাইওয়ানে বিভিন্ন ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ড ও অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর জালিয়াতি করে ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকার মতো হাতিয়ে নিয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্বীকার করেছে। তারা আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে শনিবার সমকালে 'ভয়ঙ্কর জালিয়াত চক্র' শিরোনামের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। প্রশ্ন হলো, তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাইবার ক্রাইম শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারল কী করে? তাছাড়া তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারা কারা জড়িত সেটা এখনও অজ্ঞাতই থেকে গেছে। অপরাধী চক্রের কাজকর্ম যেমন ছায়াছন্ন, তেমনি সূত্রগুলোকে জোড়া দিয়ে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এখনও অধরাই থেকে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিটিআরসি কেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কালক্ষেপণ করছে, সেটাও প্রশ্নবোধক হয়ে আছে। বাংলাদেশে গত বছর সংশোধিত আকারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বলবৎ হয়েছে। দেশি হোক আর বিদেশি হোক, অনলাইন ব্যাংকিং জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার ক্রাইম শনাক্ত করা, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা এবং জেল-জরিমানা করার ব্যবস্থা রয়েছে বিদ্যমান আইনে। তবে সার্বক্ষণিকভাবে এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করার মতো তাগিদ থাকা চাই এর সঙ্গে জড়িত সংস্থার। তা না হলে দেশি-বিদেশি সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে যুক্তরা উৎসাহিত হবে। অপরাধ ধরার মতো প্রযুক্তিগত কোনো ঘাটতি থেকে থাকলে সেটা অনতিবিলম্বে দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশি অপরাধী চক্র ধরা পড়ায় অন্যরা হুঁশিয়ার হবে। বিদেশি অন্য কোনো চক্র এখানে অপরাধে যুক্ত থেকে থাকলে তারা গা-ঢাকা দিতে পারে, এমনকি কিছুদিন নিষ্ক্রিয়ও হতে পারে। কিন্তু সুযোগ বুঝে তারা নিত্যনতুন পন্থায় নতুন অপরাধ মিশনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে অন্যের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেশি অপরাধীদের আয়ত্তের মধ্যে, সে বিষয়টিও বিশেষজ্ঞদের খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজন দেশি অপরাধী গ্রেফতারও হয়েছে। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করতে হবে। ধৃত আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে তাদের বাংলাদেশি সহায়তাকারীদের সম্পর্কে জেনে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে আন্তর্জাতিক সাইবার ক্রাইম চক্র বাংলাদেশকে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালানোর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে দেশের নিরাপত্তা, সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পুলিশের সামর্থ্য বাড়াতেই হবে

(সহিংসতা মোকাবেলা) সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের 'হিমশিম' খাওয়ার বিষয়ে যে প্রতিবেদন শনিবারের সমকালে প্রকাশ হয়েছে, তার প্রমাণ বিরোধীদলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বারবারই পাওয়া গেছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বিক্ষিপ্ত ককটেল ও বোমাবাজি সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই থেকেছে। কিন্তু রাজধানীর বাইরে প্রায়ই উগ্রপন্থি রাজনৈতিক কর্মী বা দুর্বৃত্তের হামলা ও নাশকতার মুখে পিছিয়ে আসতে হয়েছে পুলিশকে। রাজশাহী ও সাতক্ষীরার মতো জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত কোনো কোনো এলাকায় পুলিশের সদস্যরা যে হারে হতাহত হয়েছেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই ছিল অভাবনীয়। সমকালের প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে, মফস্বল এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল, পরিবহন ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সমকালের কাছে শহরের তুুলনায় মফস্বল এলাকায় সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার যে কথা জানিয়েছেন, তাও বাস্তব। আমরা দেখেছি, দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আন্দোলনকারী' বা নাশকতাকারীরা মারমুখী হয়ে থানা ও ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে। বিশেষত বগুড়ার শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া থানা ও ৬টি ফাঁড়িতে যেভাবে সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছিল, তাতে পুলিশের অসহায়ত্ব প্রকট হয়েছে। একটি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে দুর্বৃত্তদের হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তিন সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। হতাহতের এই সংখ্যা প্রমাণ করে, আইন-শৃঙ্খলা অবনতিকারীদের তুুলনায় আমাদের পুলিশের সামর্থ্যে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। একই ধরনের অসহায়ত্ব আমরা দেখেছি, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলার ক্ষেত্রেও। যশোর, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়ি ও দোকানে ভাংচুর, অগি্নসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে নির্বাচনবিরোধীরা। খড়ের গাদা, পানের বরজও রক্ষা পায়নি। প্রায় সবখানেই এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। গত বছর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং মন্দির ভাংচুরেও পুলিশের সক্রিয়তা কাজে আসেনি। আমরা চাই, পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ অবিলম্বে গ্রহণ করা হোক। সমকালের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, মফস্বলে থানাপ্রতি ওসি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত ৩২ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের অনেককে মামলা তদন্ত, ভিআইপিদের নিরাপত্তা, মামলার সাক্ষ্য দিতে বা সাক্ষী নিয়ে আদালতে যেতে হয়। অসুস্থতা বা ছুটির বিষয়টিও রয়েছে। সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিক বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ৭-৮ জনের বেশি পুলিশ থাকে না। থানার ওপর হামলা হলেও একই সংখ্যার বেশি মেলে না। বস্তুত গত কয়েক দশকে জনসংখ্যা এবং অপরাধের মাত্রা যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় পুলিশের জনবল বাড়েনি। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশে কমবেশি ১ লাখ ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ সংখ্যা অন্তত তিন লাখ হওয়া উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। থানা ও ফাঁড়ির সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবহন, অস্ত্রশস্ত্র এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়াতে হবে। দেখতে হবে পুলিশের সুযোগ-সুবিধাও। উন্নত জীবনযাত্রা ছাড়া পুলিশের কাছে উন্নত সেবা আশা করা অর্থহীন। আমরা দেখতে চাই, পুনর্নির্বাচিত সরকার এসব দিকে নজর দিয়েছে। স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে পুলিশের সামর্থ্য বাড়ানো কতটা প্রয়োজন, গত এক বছরেই তা প্রমাণিত। এই চিত্র সংবাদমাধ্যমেও বহুবার এসেছে যে, পুলিশ সদস্যরা কী লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে ছোটাছুটি করেন। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ নিয়ে যেভাবে সহিংসতা মোকাবেলা করা হয়েছে, তা সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না। জনসাধারণের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা তাদের সামর্থ্যে ঘাটতি রেখে আর যা-ই হোক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে না।

ডিগ্রি অভিন্ন, খরচ ভিন্ন by আহমেদ কুতুব/নোমান/সিমু/সালাহ উদ্দিন/আনোয়ার রোজেন

(বৃহত্তর চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) সময়ের হাত ধরে বাড়েনি উচ্চশিক্ষার মানসম্মত প্রতিষ্ঠান। বৃহত্তর চট্টগ্রামে নেই পর্যাপ্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও। সময়ের প্রয়োজনে তাই বৃহত্তর চট্টগ্রামে গড়ে উঠছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিত মান অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষক। ভর্তি করাচ্ছে শিক্ষার্থী। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাড়ছে ভর্তির প্রতিযোগিতা। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটিতে অনার্স ডিগ্রি অর্জনের বিষয়গুলো একই থাকলেও ক্রেডিট চার্জের তারতম্যের কারণে পার্থক্য হচ্ছে মোট খরচে। আবার ভর্তি ফি একেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করছে একেকভাবে। গ্রাম ও শহরের ক্যাম্পাসভেদেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফির ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে পার্থক্য। বৃহত্তর চট্টগ্রামের নামিদামি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি
চট্টগ্রামে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ২০০৮ সালে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ছয়টি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি অজর্নের সুযোগ। দেশে অবস্থান হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নে অর্জন করা যায় বিদেশি ডিগ্রিও! ইস্ট ডেল্টায় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে ইউজিসির নিয়মানুযায়ী জিপিএ থাকতে হবে ২ দশমিক ৫।
ডিগ্রি অর্জনে ব্যয় : এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ডিগ্রি অর্জনে প্রতি ক্রেডিট হিসাবে খরচ পড়বে বিবিএ (১২৮ ক্রেডিট) ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (১৬০ ক্রেডিট) ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ইংরেজি (১৬০ ক্রেডিট) ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, অর্থনীতি (১৩০ ক্রেডিট) ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (১৪০ ক্রেডিট) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন (১৪০ ক্রেডিট) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং এমবিএ (৬০ ক্রেডিট) ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতিটি বিষয়ে ভর্তিতে খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। প্রতি সেমিস্টারের ব্যয় ৬ হাজার টাকা।
বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পথচলা শুরু করে ২০০৩ সালে। মাত্র ১৩১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের যাত্রা। নিজস্ব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থী সাত হাজার। ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে জিপিএ ২ দশমিক ৫ অথবা দুই পরীক্ষায় মোট ৬ পয়েন্ট থাকতে হবে।
ডিগ্রি অর্জনে ব্যয় : বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার ধর জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে তিনটি ক্যাম্পাস। এর মধ্যে দুটি শহরে এবং একটি গ্রামে। শহরের ক্যাম্পাসগুলোতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা যাবে বিবিএ, এলএলবি ও ফার্মাসিতে। প্রতি বিষয়ে ভর্তি ফি লাগবে ২০ হাজার টাকা। আর সেমিস্টারপ্রতি টিউশন ফি বিবিএতে ২৫ হাজার টাকা, এলএলবিতে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ফার্মাসিতে ৩৬ হাজার ৩৫০ টাকা।' অন্যদিকে চন্দনাইশের ক্যাম্পাসে স্নাতকের সুযোগ রয়েছে চারটি বিষয়ে। এ ক্যাম্পাসে ইংরেজি, বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এলএলবিসহ প্রতিটিতে ভর্তি ফি ১২ হাজার টাকা এবং সেমিস্টারপ্রতি টিউশন ফি বিবিএতে ২০ হাজার টাকা, এলএলবি ও ইংরেজিতে ১৪ হাজার ৭শ' টাকা এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২১ হাজার টাকা।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের কো-অর্ডিনেটর জসিম উদ্দিন জানান, পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে চলতি বছর যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে পাঁচটি বিষয়ের ওপর বিবিএসহ অনার্স ডিগ্রি অর্জন করা যাবে দশটি বিষয়ে। এ ছাড়া রয়েছে পাঁচ বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ।
ডিগ্রি অর্জনে ব্যয় :কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয় বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনে খরচ পড়বে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর এলএলবি ডিগ্রি অর্জনে প্রয়োজন পড়বে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে অর্নাস করতে হলে খরচ লাগবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ইংরেজিতে অনার্স করতে লাগবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। হোটেল ম্যানেজমেন্টে অনার্স করতে ব্যয় হবে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্সে অর্জন করা যাবে ডিপ্লোমা ডিগ্রি। প্রতিটি বিষয়ে সেমিস্টার ফি পড়বে ২১ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি এবং এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে ২ দশমিক ৫ পয়েন্ট।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি
চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির এমবিএ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. আইয়ুব ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) পদার্পণ করেছে দ্বিতীয় বছরে। এখানে ছয়টি বিষয়ে অনার্স এবং একটি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। এমবিএতে ভর্তির যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যলয় থেকে তিন বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি (নূ্যনতম সিজিপিএ ২ দশমিক ৫) এবং এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা অথবা চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে নূ্যনতম সিজিপিএ ২ দশমিক ৫ ভর্তির ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে। তবে শিক্ষাজীবনের পূর্বের কোনো পাবলিক পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না।' বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার সরকার কামরুল মামুন জানান, নগরের জামালখান এলাকায় অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসির প্রতিটিতে জিপিএ ৩ থাকতেই হবে।
ডিগ্রি অর্জনে ব্যয় :এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয়টি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্সের এবং একটি বিষয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অনার্সের ছয় বিষয়ের প্রতিটির এককালীন ভর্তি ফি ১৫ হাজার টাকা। আর এমবিএর ভর্তি ফি এককালীন ১০ হাজার টাকা। অনার্সে প্রতি ক্রেডিট ৪ হাজার টাকা হিসেবে বিবিএ (১২৫ ক্রেডিট) ডিগ্রি অর্জনে খরচ পড়বে ৫ লাখ টাকা। একইভাবে ইংরেজিতে (১২৯ ক্রেডিট) পাঁচ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (১৪০ ক্রেডিট) ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (১৪০ ক্রেডিট) ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে (১৪০ ক্রেডিট) ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাগবে। অন্যদিকে প্রতি ক্রেডিট ৫ হাজার টাকা হিসেবে এমবিএ (৬০ ক্রেডিট) ডিগ্রি অর্জনে প্রয়োজন পড়বে ৩ লাখ টাকা। স্নাতক পর্যায়ে আটটি নিয়মিত সেমিস্টার (অটাম ও স্প্রিং) রয়েছে। প্রতি সেমিস্টারের ফি ৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে চার বছরে ব্যয় হবে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ঐচ্ছিক চার সেমিস্টারের প্রতিটিতে খরচ পড়বে ৩ হাজার টাকা। তবে এমবিএ কোর্সের অ্যাক্টিভিটি ফি লাগবে ৫ হাজার টাকা। যে কোনো বিষয়ে ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য ৫শ' টাকা।
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটি
প্রতিষ্ঠার দু'বছরের মধ্যেই নয়টি বিভাগ এবং ২১টি কোর্স চালু করেছে চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। গত বছর শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কম হলেও চলতি বছরের শুরুতেই বহু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার ওবায়দুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাসেবা দেওয়ার জন্যই মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হতে প্রতিদিনই আসছে বহু শিক্ষার্থী।'
ডিগ্রি অর্জনে ব্যয় :অনার্স কোর্সের প্রতিটি বিষয়ে ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সের মধ্যে বিবিএর জন্য খরচ পড়বে (১২৪ ক্রেডিট) ১ লাখ ৮৫ হজার ৬শ' টাকা, এলএলবি (১৩০ ক্রেডিট) ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, বিএ ইংরেজি (১২৬ ক্রেডিট) ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, অর্থনীতি (১২৯ ক্রেডিট) ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা, সাংবাদিকতা (১৩০ ক্রেডিট) ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (১৫৬ ক্রেডিট) ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬শ' টাকা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (১৫৬ ক্রেডিট) ২ লাখ ৭৭ হাজার ২শ' টাকা, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স (১৫৩ ক্রেডিট) ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (১৫৬ ক্রেডিট) ২ লাখ ৭৭ হাজার ২শ' টাকা, ফার্মাসি (১৫৭ ক্রেডিট) ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯শ' টাকা এবং ফ্যাশন ডিজাইন (১৩৬ ক্রেডিট) ২ লাখ ৪৩ হাজার ২শ' টাকা। চার বছর মেয়াদি অর্নাস কোর্সের জন্যই এ টাকা নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

দেবযানী বিতর্কের অবসান

দেবযানী খোবরাগাড়
মধুরেন সমাপয়েত বলা হয়তো ঠিক হবে না। তবে এটুকু অবশ্যই বলা যেতে পারে, কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দরুন সেটি সম্ভব হলো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ গতকাল শনিবার বলেন, ‘সম্পর্কহানি বা জেদাজেদির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেমন এগিয়ে চলেছে, তেমনই চলবে।’ আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন পিসাকি বলেন, ‘আশা করি বিতর্কের অবসান ঘটল। আশা করব, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভারত আরও ইতিবাচক করে তুলবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রে দেবযানীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা প্রত্যাহার হচ্ছে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, তিনি আর কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাবেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। দেবযানীর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের আগে তাঁকে ও ভারত সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মার্কিন আদালতে কাগজপত্র দাখিল করা ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পাবেন না। অভিভাসন ব্যবস্থায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আর ভিসা না পান। এদিকে ভিসা জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে দেবযানীর আইনজীবী নিউইয়র্কের আদালতে একটি আবেদন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে শেষ পর্যন্ত যা হলো, তা নিতান্তই রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বোঝাপড়া। লক্ষণীয়, এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে শিষ্টাচার ও শালীনতার বেড়া কোনো দেশই লঙ্ঘন করেনি। দুই দেশই ঠিক করেছে, এ নিয়ে কেউই আর জল ঘোলা করবে না। যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম আইন অত্যন্ত কঠোর। বিচার বিভাগীয় সেই এখতিয়ারে সরকারি হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়। কাজেই দেবযানী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা যে কম, ভারত তা বুঝেছিল। কিন্তু যেভাবে দেবযানীকে গ্রেপ্তার ও তল্লাশি করা হয় এবং হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়,
তা নিয়ে ভারতের ক্ষোভ ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র গত শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দুই দেশের সম্পর্কের খাতিরে এক কূটনীতিকের সঙ্গে এই আচরণ আমাদের পক্ষে মানা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্র।’ আসন্ন লোকসভা নির্বাচন এবং বিরূপ জনমতের দরুন রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা যে ভারতকে অনমনীয় হতে বাধ্য করেছে, মার্কিন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত তা অনুধাবন করে। ফলে ‘সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না’ গোছের এই সমঝোতা সূত্রে দুই দেশই শেষ পর্যন্ত রাজি হয়। দেবযানী নতুন পাসপোর্ট ও জি-১ ভিসা নিয়ে শুক্রবার রাতে ভারতে ফেরেন। দিল্লিতে নিযুক্ত দেবযানীরই মতো কনসাল পদমর্যাদার ওয়েন মে-কে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কাউকেই ‘পারসন নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওয়েনের ক্ষেত্রে দেশে ফেরার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়েনের নাম সরকারিভাবে ভারত ঘোষণা করবে না। ওয়েনকে ফেরত পাঠানোর কারণ, দেবযানীকে গ্রেপ্তারের আগে তাঁর পরিচারিকার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে এই ওয়েনই সহায়তা করেছিলেন। এই তৎপরতাকেই ভারত চক্রান্ত বলে মনে করছে। দেবযানী ভারতে ফিরে কোনো বিবৃতি দেননি। তিনি ও তাঁর পরিবার শুধু সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। দেবযানী দেশে ফিরলেও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই থাকছে।

দেশবিরোধী কাজ প্রতিহত করার প্রত্যয়

(ছাত্রলীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত) ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠে ছাত্রলীগ। '৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৫৪-এর যু্ক্তফ্রন্ট নির্বাচন, '৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে সংগঠনটি। দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহতের প্রত্যয়ে গত ৪ জানুয়ারি উদযাপিত হয় ছাত্রলীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে ছাত্র সমাবেশ, কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠন সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য জায়েদ বিন কাশেম ছিলেন প্রধান অতিথি। সাধারণ সম্পাদক আবু ফয়েজের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ আচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজগর আলী মিন্টু, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রেয়াজুল করিম বিলাস ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবলা। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা শহিদুল ইসলাম বাপ্পি, সাইফুুল মো. তারেক, হেমায়েত উদ্দিন মিহাত, মাসুদ ফরহাদ, তানভির আহমেদ সিদ্দিকী, রিজভী বিশ্বাস, ফারহান শাহরিয়ার বিন নূর, রসিফ আহমেদ, রনি বড়ূয়া, শ্রীতম সাহা, ইফতেখারুজ্জামান, গোলাম মোস্তফা রকি, তানজিম মাহফুজ শাওন, আবদুল মাবুদ জয়, নোবেল, নাফিস, অনুপম বড়ূয়া, তানভীর শাহ ইমরান, শেখ ইশতিয়াক, খালিদ মাহমুদ, ইউসুফ, জিয়াউল হায়দার, মাহিম, সৈকত চৌধুরী, ইফতি, মিনার, স্নেহাশীষ ঘোষ, রাকিব, অনি, সৈয়দ মাইনুল হাসান সৌরভ, রাহাত, সানি ও আদর।
বিজিসি ট্রাস্ট
বিজিসি ট্রাস্ট ছাত্রলীগ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্থানীয় বায়েজিদ দলীয় কার্যালয় চত্বরে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি সাইদুল আমিন সানি। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী যুবলীগ সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শফিকুল ইসলাম শফি ও বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুুল কুদ্দুস বাপ্পি।
সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি জাহিদুল করিম, শিমুল মিশ্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, এম বোরহান উদ্দিন গিফারী, মো. ইয়াকুব হিমু, চিন্ময় দত্ত, মহিউদ্দিন আলী জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ মামুন, কার্যকরী সদস্য মুরাদ, মিরাজ, শাহরিয়ার, মাহফুজ আলম, আজিজ ও আইম্যান।
ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের আলোচনা সভা সংগঠন সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি জাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী, কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মো. ইউনুছ, সহ-সভাপতি সাজেস দাশ সাজু, সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহম্মদ রয়েল, ছাত্র সংসদের জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুন্নবী চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক হোসেন সরওয়ারর্দী এলিন, এসএম করিম, ছাত্র সংসদের এজিএস পাভেল ইসলাম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহিদুল ইসলাম রাজিব, রুমেল বড়ুয়া রাহুল, কায়সার হামিদ, ওমর ফারুক, ফয়সাল সাবি্বর, মো. শাহরিয়ার হাসান, মনিরুল হক মুন্না, আবু তারেক রনি, সাইফুল ইসলাম, কাজী মো. আসিফ আলভী, নুরুল আবছার তানবির, তানভীর বিন হাসান, আশীষ দাশ, শাওন চৌধুরী, শিমুল চৌধুরী, আবু তালেব, স্বাক্ষর চৌধুরী, মো. অভি, মো. পারভেজ, ফারিয়া আকবর রিয়া, নুসরাত জাহান, অশোক দাশ, মিটুন দাশ, তাহমিদ চৌধুরী, মো. বাবু ও মো. খোকন।
ন্যাশনাল পলিটেকনিক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট শাখা আনন্দ র‌্যালি বের করে। এর পর কাটা হয় কেক। সংগঠন সভাপতি রিয়াতুল করিম রিয়াদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক শফিউল হাসনাইন সম্রাটের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি শাহেদ মিজান। উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম নয়ন, দফতর সম্পাদক মো. বোরহান, মহিলা সম্পাদিকা প্রিয়া, নওশাদ, থ্রিন, মো. নিঝু, বাবর, জিসান ও ইকবাল।
কমার্শিয়াল কলেজ
গভ. কমার্শিয়াল কলেজ ছাত্রলীগের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ছাত্র সমাবেশ, কেক কাটা ও আলোচনা সভা। কলেজের হেলাল-সোহাগ চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি এসএম হুমায়ুন কবির। ওসমান গনির সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মাহমুদুল হক আবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর যুবলীগ সদস্য শহীদুর রহমান ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল বাপ্পি।
বক্তব্য রাখেন মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মো. সালাউদ্দিন, মহিউদ্দিন মাহি, মঈনুর রহমান, রিদুয়ানুল কবির সজীব, ওমর ফারুক সুমন, রাজু সিকদার, মো. রিপন, জানে আলম, শাহরিয়ার তানিক, কায়সার আলম মুন্না, শুভজিৎ দাশ, আবদুল ওয়াজেদ, সাকিব, মঈন, নঈম, সেলিম, মঞ্জুর, সাকিব, সৃষ্টি, জাবেদ, সাগর, সাকিব, আরিফ, অরূপ, ইমন, মাসুদ, খোকন, নাঈম, রায়হান, রুবেল, রবিন, শাহনেওয়াজ, শান্ত, ইয়ার, মুশফিক ও তুহিন।
চান্দগাঁও
আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি উদযাপন করে চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগ। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য রাশেদ খান মেনন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য কেএম শহীদুল্লাহ কায়সার ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা হায়দার আলী।
ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তসলিম ইউসুফ বাবু, তানভির, আসিফ ইমরান, নজরুল ইসলাম, আমির, সুমন, সরোয়ার আজম, সাফা মোতাবেল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জয়ন্ত নাথ, অভি, রিয়াদ, সাজ্জাদ, ফরহাদ, রকি ও হাসান মুরাদ। এর আগে প্রধান অতিথি কেক কেটে কর্মসূচির সূচনা করেন।
লালখান বাজার
লালখান বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নগরের ইস্পাহানী মোড়ে আলোচনা সভা করে। আসাদুজ্জামান জেবিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর এএফ কবির আহেম্মেদ মানিক। শাহেদ আহম্মেদ সাজুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত মো. বেলাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ জাফর আহম্মদ মুজাহিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুুল মান্নান, মহানগর যুবলীগ নেতা সুমন ধর, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সৈয়দ শওকত হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন রানা, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা তপন সিংহ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজমল হোসেন হিরু। উপস্থিত ছিলেন মো. মাইনুদ্দীন হানিফ, ওয়াসিম উদ্দিন, আকতারুজ্জমান বাবলু, সনেট চক্রবর্র্তী, উজ্জ্বল চৌধুরী, আকাশ, মাইনুল, সানি, সাইমন, জুয়েল, হাসান, শামিম, রাকিব, জাহেদ, শুভ, মাজাহারুল ইসলাম সাদ ও আরমান। পরে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর কেক কাটা হয়।
ফিরিঙ্গীবাজার
ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আয়োজনের মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, কেক কাটা ও আলোচনা সভা। নগর ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ আনোয়ার চৌধুরীর (তপু) সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ফরহান আহম্মেদ।
মিটন দাশের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা আ জ ম মহিউদ্দিন রনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহিম জিল্লু, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মঈনুদ্দীন মো. তারেক, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুখ ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী রনি, ইরফানুল আলম জিকু, নগর ছাত্রলীগ নেতা মো. নোমান চৌধুরী, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না, শফিউল আলম জনি, মো. এহসান কবির (ববি), মো. একরাম মিঞা, মো. জিয়াউদ্দীন, মো. নিয়াজউদ্দীন, আবদুুল আল নোমান, সিকান্দার আবু জাফর, রানা রাহা, আলী আহসান পায়েল, ইয়াসির আরাফাত, হাবিবুর রহমান, রোমেল দাশ, শফিকুল ইসলাম, অর্ণব দাশ, নির্জন, ইরফান ও জীবন।
আলকরণ
আলকরণ ওয়ার্ড ছাত্রলীগ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করে। পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। রবিউল হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. নাছির উদ্দিন, রফিকুল মান্নান জুয়েল, ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি মো. ইউনুস, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সরফরাজ নেওয়াজ রবিন, অসীম চক্রবর্তী, সাবেক ছাত্রনেতা রিমন চক্রবর্তী, সিটি কলেজের এজিএস নিয়াজ মোরশেদ, সুমন সেন, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা কায়সার হামিদ, বোখারি আজম, লিটন কুমার শীল, মিশু ঘোষ, আবু বক্কর, আরিফুল হক ফরহাদ, মো. হুমায়ন, মো. ফারুক, শিবু বড়ূয়া, নুরুল কাদের, নিজাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান রনি, রাহুল ধর, রুবেল চক্রবর্তী, সঞ্জয় মোহান্তী, নিঝুম পারিয়েল, জয়জিৎ চৌধুরী, জয় দাশ, জয় দেব, জয় দাশ বাবু, সুমন সেন, রাজিব দত্ত, সুব্রত শীল রাজু, জনি চৌধুরী, গৌতম নাগ, মিল্টন দে, মো. জোনায়েদ, তন্ময় দাশ, অপু দাশ ও নোমান আল মাহমুদ। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
পাথরঘাটা
ছাত্রলীগ পাথরঘাটা শাখা আলোচনা সভার আয়োজন করে। শহীদ হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩৪ নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে আজিজ বাবুল। মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী রনি। বিশেষ বক্তা ছিলেন নগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক তপু বড়ূয়া। উপস্থিত ছিলেন রকিব, পুজন, রজত, মোবিন, জুমান, মানিক, রেজাউল, আশরাফ, শহীদ, হেজাজ ও ইমরান। আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।