Wednesday, June 23, 2010

৪৩ জনের সমন্বয়ে গঠিত হলো এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নির্বাচনে বিজয়ী ২৮ জন এবং ইতিমধ্যে মনোনীত ১৫ জন পরিচালকসহ মোট ৪৩ জন গতকাল সোমবার সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করেছেন।
একে আজাদ সভাপতি, মো. জসিমউদ্দিন প্রথম সহ-সভাপতি ও মোস্তফা আজাদ চৌধুরী সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এর ফলে ৪৩ জনের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়েছে। বরিশাল চেম্বারের মনোনীত পরিচালকের কাউকে নির্বাচন করা হয়নি। এ পদের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার পরিচালক পদে ভোট নেওয়া হয়। আর নির্বাচনী বোর্ড গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুসারে এ কে আজাদ-মো. জসিম উদ্দিন পরিষদের চেম্বার গ্রুপের বিজয়ী অন্য প্রার্থীরা হলেন: রংপুর চেম্বারের মোস্তফা আজাদ চৌধুরী (২৯১), ফরিদপুর চেম্বারের আহমেদ জামাল (২৭৭), নওগাঁ চেম্বারের আলহাজ শামসুল হক (২৭৩), সুনামগঞ্জ চেম্বারের নুরুল হুদা (২৬৬), কিশোরগঞ্জ চেম্বারের আবদুস শহীদ (২৫১), লালমনিরহাট চেম্বারের সিরাজুল হক (২৪৫), মাদারীপুর চেম্বারের জালাল উদ্দিন আহমেদ (২৪৪), চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মনোয়ারা হাকিম আলী (২৩৮), চাঁদপুর চেম্বারের জাহাঙ্গীর আকন্দ (২২৪), রাজবাড়ী চেম্বারের নজিবর রহমান (২১৯), পটুয়াখালী চেম্বারের গোলাম মোস্তফা তালুকদার (২০৭) এবং নেত্রকোনা চেম্বারের নাগিবুল ইসলাম (২০৪)। বাকি একটি পদে বিজয়ী হয়েছেন ময়মনসিংহ চেম্বারের আমিনুল হক। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২১৭।
আজাদ-জসিম প্যানেলে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের বিজয়ী ব্যক্তিরা হলেন—বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির মো. জসিম উদ্দিন (৭১২), বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির খন্দকার রুহুল আমিন (৬২৪), বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির আবদুর রাজ্জাক (৫৮৯), বাংলাদেশ গ্রে অ্যান্ড ফিনিশড ফেব্রিক্স মিলস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হারুন উর রশীদ (৫৮৮), মেইজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হেলাল উদ্দিন (৫৬৩), বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির কে এম আকতারুজ্জামান (৫৩৯) এবং কালি প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির এম এ মোমেন (৫০১)।
অন্যদিকে আবু আলম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক পরিষদের বিজয়ী অন্য ব্যক্তিরা হলেন: বাংলাদেশ সুইং থ্রেড ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবদুল হক (৬০৮), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওবায়দুর রহমান (৫৯৮), বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (৫৪৯), বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মো. আনোয়ার হোসেন (৫২৬) এবং বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির মো. রাব্বানী জব্বার (৫১৭)।
এ ছাড়া চেম্বার থেকে মনোনীত পরিচালকেরা হলেন: বাংলাদেশ চেম্বার থেকে এ কে আজাদ, বরিশাল থেকে শেখ আবদুর রহিম, চট্টগ্রাম থেকে এস এম নুরুল হক, ঢাকা চেম্বার থেকে হোসেন খালেদ, খুলনা থেকে সাহারুজ্জামান মোর্তজা, মেট্রো চেম্বার থেকে গোলাম মাঈনুদ্দিন, রাজশাহী থেকে মো. হাসেন আলী ও সিলেট থেকে হাসীন আলী।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে মনোনীত পরিচালকেরা হলেন: ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে এ কে এম নুরুল ফজল বুলবুল, ওষুধ শিল্প সমিতির আবদুল মুকতাদির, টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবদুল হাই সরকার, বিজিএমইএ থেকে কে এম জামান, বিকেএমইএ থেকে ফজলুল হক, ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে নিজামউদ্দিন আহমেদ, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির মাকসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন থেকে নাজমুল হক।

চীনা মুদ্রামান নীতি শিথিলের আভাস

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত শনিবার আভাস দেয়, তারা চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময় হার বাজারনির্ভর করে তোলার দিকে অগ্রসর হবে।
এর মানে হলো, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রমান্বয়ে ইউয়ান-ডলার বিনিময় হারে হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনবে।
এই খবরের জের ধরে গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই এশিয়ার শেয়ারবাজারে যেমন উল্লম্ফন ঘটেছে, তেমনি বিভিন্ন মুদ্রার দরও বেড়েছে।
বর্তমানে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান বেঁধে দেয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য বেঁধে দেওয়া দরের থেকে সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ ওঠানামার সুযোগ আছে। তবে বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব কমই হয়।
সোমবার ডলার-ইউয়ান বিনিময় হার শুক্রবারের মতোই অপরিবর্তিত রাখে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব চায়না। এই হার হলো এক ডলার সমান ৬ দশমিক ৮৩ ইউয়ান বা রেনমিনবি। আর তাই বাজারে একপর্যায়ে ডলারপ্রতি দর হয় ৬ দশমিক ৮০ ডলার, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের সর্বোচ্চ দর।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইতিমধ্যে মুদ্রা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, চীন মুদ্রার মানকে শক্তিশালী করতে তেমন কোনো বাধা দেবে না।
পশ্চিমা দেশগুলো অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন সরকার কৃত্রিমভাবে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মানকে নামিয়ে রেখে রপ্তানিকারকদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
চীনের বিনিময় হার নীতিতে পরিবর্তনের আভাসের জের ধরে এশিয়ার প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে সার্বিক সূচক উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে।
দিনশেষে হংকংয়ের হেংসেং সূচক ৩ শতাংশ, জাপানের নিক্কি সূচক প্রায় আড়াই শতাংশ, সাংহাই সমন্বিত সূচক ২ দশমিক ৮০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের এসটি সূচক ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৬২ শতাংশ হারে বেড়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপের বাজারেও প্রধান সূচকগুলো ছিল ঊর্ধ্বমুখী। লন্ডনের এফটি সূচক ১ দশমিক ৪০ এবং প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের সূচকদ্বয় ১ দশমিক ৭০ শতাংশ হারে বেড়েছে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, জি-২০ জোটের সম্মেলন সামনে রেখে চীন সরকারের পক্ষ থেকে মুদ্রা বিনিময় হার নীতি শিথিল করার ঘোষণা এসেছে। এ মাসের শেষেই কানাডার টরন্টোতে এই সম্মেলন হবে, যেখানে চীনের মুদ্রামান অন্যতম আলোচ্যসূচি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই দিনে ডিএসইতে সূচক কমেছে ২০০ পয়েন্ট

অব্যাহত উত্থানের বিপরীতে হঠাৎ করেই দরপতনের ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। টানা দুই দিন ধরে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কমছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই মূল্যসূচকে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ১০১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে সূচক কমেছে ২০০ পয়েন্টের মতো। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৩১৯ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ১৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হয়েছে ৯৬ কোটি টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা কম।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের অধিকাংশ শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে গিয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যসূচকে প্রভাব পড়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, সাধারণত জুনের শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের হিসাব সমন্বয় করার জন্য মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর করের বিষয়টি। জুনের মধ্যে মুনাফা তুলে নিলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে না। ফলে তাদের দিক থেকে বিক্রির চাপটা এবার একটু বেশিই রয়েছে।
তবে শাকিল রিজভী বলেন, বিক্রির চাপ বাড়লেও শেয়ারের মৌলভিত্তিতে তো কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত অপেক্ষা করা।
ডিএসই আজ মঙ্গলবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ব্রোকারেজ হাউসের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসছে। শাকিল রিজভী আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা পেতেই তাদের সঙ্গে বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইডিএলসি ৫০: এদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্স গতকাল থেকে আইডিএলসি ৫০ নামে একটি নতুন সূচক চালু করেছে। বাজার মূলধনের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতের ৫০টি কোম্পানি নিয়ে এ সূচক গঠন করা হয়েছে।
প্রথম দিনই সামগ্রিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সূচকটি প্রায় দুই শতাংশ কমে ছয় হাজার ৪৬৩ পয়েন্ট হয়েছে। যেসব কোম্পানি নিয়ে সূচকটি গঠন করা হয়েছে সেগুলো হলো: এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহজাহাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, কনফিডেন্স সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, বিওসি বাংলাদেশ, ডেসকো, পাওয়ার গ্রিড, তিতাস গ্যাস, অ্যাপেক্স ট্যানারি, অ্যাটলাস বাংলাদেশ, বেক্সিমকো লিমিটেড, বাটা সু, বিএটিবিসি, বিএসআরএম স্টিল, ডিবিএইচ, জিকিউ বলপেন, বিজিআইসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এসিআই ফরমুলেশন, এসিআই লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ম্যারিকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, বেক্সটেক্স ও স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেড।

ঢালাও আমদানির বিপরীতে স্থানীয় শিল্প বাঁচাতে সুরক্ষা শুল্কবিধি জারি

কোনো কোনো পণ্য অবাধে বেশি আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অনুমোদিত বিধিবিধানের আওতায় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও আছে। তবে বিষয়টি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল।
অবশেষে ৭ জুন স্থানীয় শিল্পকে ঢালাও আমদানির বিপরীতে সংরক্ষণ-সুবিধা দিতে সুরক্ষা শুল্কবিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ৯২টি সদস্যদেশ এরই মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বিষয়টি ঝুলে ছিল।
জানা যায়, ২০০৭ সালে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রস্তাব করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিধিমালাটির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা) জন্যও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে জানিয়ে দেয়।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা বিষয়টি পরবর্তী সময়ে থামিয়ে রাখেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন গত ১৪ বছরে বিভিন্ন পণ্য ঢালাওভাবে আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্প চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আটটি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় টিউবলাইট, টেলিভিশন সংযোজন শিল্প, স্থানীয় রেফ্রিজারেটর সংযোজনকারী শিল্প, জরির সুতা উৎপাদনকারী শিল্প, ব্লেড প্রস্তুতকরণ শিল্প উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু কোনো সুরক্ষা বিধিমালা না থাকায় এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে কমিশন সুপারিশ করতে পারেনি।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জরির সুতার উৎপাদকেরা ট্যারিফ কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভারত থেকে ঢালাওভাবে সুতা আমদানির কারণে তাঁদের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুরক্ষা-সুবিধা চান।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে ১০টির বেশি জরির সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে। বছরে তাদের উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ৬৫০ টন। আর দেশের চাহিদা প্রায় ৫০০ টন। কিন্তু বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতার চেয়ে দাম কম হওয়ায় ভারতীয় জরির সুতা বেশি আমদানি হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারত জরির সুতার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়। ফলে কম দামে আমদানি করা জরির সুতা দেশে উৎপাদিত সুতার বাজার দখল করে নিচ্ছে।
এমনকি ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের জরির সুতা দেশে বেনারসি শাড়িতে ব্যবহারের ফলে কাপড়ের মানও খারাপ হচ্ছে। ফলে দেশে এর চাহিদা কমছে।
নতুন সুরক্ষা শুল্কবিধি জারি হওয়ার কারণে এখন থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে সরকার।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও সেইফগার্ড কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনটি আরও আগেই চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা আটকে ছিল। আইনটি চালু হওয়ার ফলে ঢালাও আমদানি থামিয়ে দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণ-সুবিধা দেওয়া যাবে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভালো টিউবলাইটের প্রস্তুতকারক কোম্পানি থাকার পরও সস্তায় ঢালাওভাবে নিম্নমানের টিউবলাইট বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে। ফলে যে টিউবলাইট ১০ হাজার ঘণ্টা চলার কথা, সেটি চলছে পাঁচ হাজার ঘণ্টা। অন্যদিকে দেশের শিল্প উন্নত টিউবলাইট উৎপাদন করেও প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এই আইন জারি হওয়ার ফলে এ ধরনের ঢালাও আমদানি আটকাতে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মনজুর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নির্বিচারে কোনো পণ্য আমদানির বিপরীতে এটি স্থানীয় শিল্পের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য বলে আসা হচ্ছিল। এতকাল সরকার তা কর্ণপাত করেনি।
মনজুর আহমেদ আরও জানান, এর আগেও নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে একবার এই সুরক্ষা শুল্কবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চাপে আর তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
সেইফগার্ড কর্তৃপক্ষ: নতুন বিধি প্রণয়নের পাশাপাশি এটিকে বাস্তবায়নের জন্য একই সঙ্গে চালু হচ্ছে সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (সেইফগার্ড অথরিটি)। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সেইফগার্ড কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্তৃপক্ষ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য শনাক্তকরণ, বাংলাদেশে কোন কোন পণ্যের বর্ধিত আমদানির প্রভাবে স্থানীয় শিল্পের স্বার্থহানি অথবা স্বার্থহানির হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে—এসব বিষয়ে সরকারের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় শিল্পের স্বার্থহানি অথবা স্বার্থহানির হুমকি দূর করার জন্য আরোপযোগ্য সুরক্ষা শুল্কের পরিমাণ, স্থায়িত্বকাল ইত্যাদি বিষয়ে সুপারিশ করবে।
আবেদন গ্রহণ ও তদন্ত: দেশি কোনো পণ্য-উৎপাদক সমজাতীয় পণ্য ঢালাওভাবে আমদানির কারণে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা জানিয়ে সুরক্ষা চেয়ে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে।
স্থানীয় উৎপাদনকারী বা তার পক্ষে দাখিল করা লিখিত আবেদন পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিক্রয়, উৎপাদন, মুনাফা, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদনক্ষমতার ব্যবহার, লাভ-লোকসান, কর্মসংস্থানের মাত্রার পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে তদন্ত করবে।
তদন্ত পরিচালনার নীতি: কোন কোন পণ্য বেশি আমদানির ফলে স্থানীয় শিল্পের স্বার্থহানি হচ্ছে—এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তির মধ্যে সংশ্লিষ্ট পণ্য, রপ্তানিকারক দেশের নাম, তদন্ত শুরু করার দিন, স্থানীয় শিল্পের স্বার্থহানির অভিযোগের সারসংক্ষেপ, তদন্ত শুরুর কারণ ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।
এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি রপ্তানিকারক কোম্পানি, রপ্তানিকারক দেশের সরকার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেইফগার্ড-বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠাতে হবে।
সংরক্ষণ শুল্কের স্থায়িত্বকাল: কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরোপিত তারিখ থেকে ২০০ কার্যদিবসের জন্য সাময়িকভাবে সুরক্ষা শুল্ক আরোপ করা যাবে। তবে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেইফগার্ড-বিষয়ক কমিটিকে অবহিত করতে হবে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কোন কোন পণ্য অতিরিক্ত আমদানির ফলে স্থানীয় শিল্প হুমকির মধ্যে পড়েছে এবং অনেক লোক কর্মসংস্থান হারিয়েছে, এটি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য সংরক্ষণ শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
কিন্তু প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো সংরক্ষণ শুল্ক আরোপের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রমাণিত না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সুরক্ষা শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে।

যুদ্ধাপরাধ তদন্ত প্যানেল ঘোষণার উদ্যোগে অসন্তুষ্ট শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় গত বছরের গৃহযুদ্ধে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়েছে কি না, তা তদন্তে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের একটি তদন্ত প্যানেলের নাম ঘোষণা করার উদ্যোগের ব্যাপারে ‘তীব্র অসন্তোষ’ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। গতকাল সোমবার শ্রীলঙ্কার এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।
গতকাল তদন্ত প্যানেলের তিনজন সদস্যের নাম ঘোষণা করার কথা বান কি মুনের। এই তদন্ত প্যানেল গৃহযুদ্ধের শেষের মাসগুলোতে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়েছিল কি না, তা জানতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে সহায়তা করবে।
শ্রীলঙ্কার সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্যানেলকে অন্যায্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে গত মার্চে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, কলম্বো তা পুনর্ব্যক্ত করছে। এই প্যানেলের নিয়োগে সরকার খুবই অসন্তুষ্ট। সরকার জাতিসংঘের মহাসচিব ও জাতিসংঘের অন্য প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানাতে চায়, এটা অন্যায্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত।’
প্যানেলের মূল কাজ কী, তা পরিষ্কার নয়। তবে কূটনীতিকেরা বলছেন, একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরুর পূর্বপদক্ষেপ এই প্যানেল গঠন করা হতে পারে।
জাতিসংঘের হিসাবে, শ্রীলঙ্কার সরকারি বাহিনী জয় দাবি করার আগে গত বছরের প্রথম চার মাসে গৃহযুদ্ধে সাত হাজার তামিল বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তামিল বিদ্রোহীদের ফাঁসিতে হত্যা করা হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার সরকারের দাবি, তাদের সেনারা কোনো বেসামরিক তামিলকে হত্যা করেনি। যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আন্তর্জাতিক দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।

আফগানিস্তানে ২০ সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গির মুক্তি

আফগানিস্তানে ২০ সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে আফগান সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে আটক ১২ জন, কাবুলে পুলিশের হাতে আটক দুজন ও খোস্ত প্রদেশের একটি ছোট কারাগারে আটক ছয়জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের উপদেষ্টা এবং বন্দীদের পর্যবেক্ষণে গঠিত সরকারি কমিটির সদস্য নাসরুল্লাহ স্তানিকজাই বলেছেন, ‘মুক্তিপ্রাপ্ত এসব ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আলাদাভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
আফগানিস্তানের শত শত উপজাতীয় ও ধর্মীয় নেতা এবং অন্যান্য বিশিষ্টজনকে নিয়ে এ মাসের শুরুর দিকে কাবুলে একটি শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে দুর্বল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কাবুলের এই শান্তি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগান সরকারের প্রতি সাধারণ বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার জোরোলো আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যাপারে উপজাতীয় ও ধর্মীয় নেতারা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের আস্থা অর্জনে এ পদক্ষেপের বিকল্প নেই। তাদের এ সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট কারজাই একটি কমিশন গঠন করে দুর্বল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ব্যাপারে আরও খোঁজখবর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভারতের রাজ্যসভায় কোটিপতিদের ভিড়

ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার নবনির্বাচিত ৫৫ জন নতুন সাংসদের মধ্যে কোটিপতিরাই দখল করেছেন প্রায় অর্ধেক আসন। এই ৫৫ জন সাংসদের মধ্যে ৫০ জনের সম্পদের মোট পরিমাণ এক হাজার ২৫০ কোটি রুপি। এর মধ্যে রয়েছেন যেমন কংগ্রেস, বিজেপি, আরজেডি, বহুজন সমাজপার্টি, তেলেগু দেশম পার্টির সাংসদ, তেমনি রয়েছেন নির্দলীয় প্রার্থীরাও।
কোটিপতিদের তালিকার শীর্ষে আছেন কর্ণাটক থেকে বিজয়ী নির্দলীয় প্রার্থী বিজয় মালিয়া। তিনি কিংফিশার এয়ারলাইনসসহ আরও কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। সম্পদের পরিমাণ ৬১৫ কোটি রুপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের শিল্পপতি ওয়াই সত্যনারায়ণ চৌধুরী। তিনি জিতেছেন তেলেগু দেশম পার্টির টিকিটে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ দীপ সিং। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮২ কোটি রুপি। আর সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক মধ্য প্রদেশ থেকে বিজেপির টিকিটে জেতা অনিল দাভে। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র দুই লাখ ৭০ হাজার রুপি।
রাজস্থান থেকে বিজেপির টিকিটে জেতা ভারতের প্রখ্যাত আইনজীবী রাম জেঠমালানির সম্পদের পরিমাণ হলো ৩০ কোটি রুপি। এ ছাড়া কংগ্রেসের অম্বিকা সোনি ১৭.৭ কোটি, অস্কার ফার্নান্দেজ ১৫ কোটি, বিজেপির ভেংকাইয়া নাইডু সাত কোটি ৭২ লাখ, রাজীব প্রতাপ রুডি চার কোটি ৪০ লাখ, মুকতার আব্বাস নাকভি দুই কোটি ৬১ লাখ এবং লোক জনশক্তি পার্টির নেতা রাম বিলাস পাশোয়ান দুই কোটি। তবে তামিলনাড়ুর পাঁচ সাংসদের সম্পদের বিবরণ পাওয়া যায়নি। তবে এটুকু সংবাদ মিলেছে, ওই পাঁচজনের মধ্যে দুজন কোটিপতি।

ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলাবিকে হত্যার যড়যন্ত্র চলছে

ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবিকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তাঁকে সতর্কবাতা দিয়েছেন মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার এক সাক্ষাৎকারে আলাবি নিজেই এ কথা জানান। আলাবি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তা করে থাকতে পারেন।
ব্রিটেনের দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে আলাবি বলেন, মার্কিন জেনারেল ও ইরাকি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁরা আলাবিকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
আইয়াদ আলাবি এ জন্য তাঁর নিরাপত্তা বাড়াতে মার্কিন জেনারেলদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি নিজেও বাসভবনের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। আলাবি বলেন, ‘মার্কিন কর্মকর্তারা চিঠি দিয়ে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়েছেন। উচ্চপদস্থ কিছু বন্ধুও আমাকে এ বিষয়টি জানিয়েছে। এটা শয়তান লোকদের নীলনকশা।’ কারা আপনাকে হত্যা করতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে আলাবি বলেন, ‘আমি জানি না। তবে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তা করে থাকতে পারেন।
গত ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত ৩২৫ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ইরাকিয়া ব্লক ৯১ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট হিসেবে আবির্ভূত হয়। নির্বাচনে কোনো জোট বা দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জিততে পারেনি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত নতুন সরকার গঠিত হয়নি।

আফগানিস্তানে এ পর্যন্ত ৩০০ ব্রিটিশ সেনার মৃত্যু হয়েছে

আফগানিস্তানে আহত এক ব্রিটিশ সেনা গতকাল সোমবার মারা গেছেন। এ নিয়ে সেখানে এ পর্যন্ত ৩০০ ব্রিটিশ সেনার মৃত্যু হলো। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪০ রয়্যাল কমান্ডো মেরিনের এক সদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত করছে। গত ১২ জুন তিনি হেলমান্দের স্যানজিনে একটি বিস্ফোরণে আহত হন। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, মেরিন সেনার এই মৃত্যুর সংবাদ খুবই দুঃখজনক একটি খবর। অবশ্যই ৩০০তম সেনার মৃত্যুর সংবাদ কোনোভাবেই কম বা বেশি বেদনাদায়ক নয় আগের ২৯৯ জনের তুলনায়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স বলেন,আফগানরা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানোর উপযুক্ত হওয়া মাত্র সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে ব্রিটেন।

আইএইএর দুই পরিদর্শককে ইরানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দুজন পরিদর্শককে দেশে ঢুকতে দেয়নি ইরান। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন। এর ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আইএইএর পক্ষে ‘অসত্য’ প্রতিবেদন তৈরির জন্য এ দুই ব্যক্তিকে তেহরানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি ওই দুই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেননি। এমনকি প্রতিবেদনের কোন অংশে ইরানের আপত্তি রয়েছে সে সম্পর্কেও কিছু জানাননি। গত মে মাসের শেষের দিকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
আইএইএর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ইরান অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরমাণু সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
নয় পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে এগোচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আইএইএর প্রশ্নেরও সদুত্তর দেয়নি তেহরান। তা ছাড়া পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগও তারা দূর করতে পারেনি।’
ওয়াশিংটন এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বলেছিল, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে আইএইএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলি আকবর সালেহি বলেন, ‘আইএইএর ওই দুই কর্মকর্তার তৈরি প্রতিবেদনটি ছিল ডাহা মিথ্যা। এ কারণে আমরা আইএইএর কাছে আবেদন করেছিলাম, তারা যেন এ দুই কর্মকর্তাকে কখনো ইরানে না পাঠায়। তাদের পরিবর্তে অন্য কাউকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো পরিদর্শক বাস্তবের বিপরীত প্রতিবেদন তৈরি করেন তাহলে তাঁর ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আমাদের আছে।

প্রয়োজনীয় ভোট পাননি কেউ দ্বিতীয় দফা ভোট ৪ জুলাই

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগামী ৪ জুলাই দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কেউই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।
নির্বাচনে ১০ জন প্রার্থী অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সিভিক প্ল্যাটফরম পার্টির প্রার্থী ব্রোনিস্ল কোমোরস্কি ও ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী জারস্ল কাচজিনস্কির মধ্যে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কোমোরস্কি ৪১ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির যমজ ভাই জারস্ল কাচজিনস্কি পেয়েছেন ৩৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মধ্য বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেট প্রার্থী গ্রেগর্জ ন্যাপিয়ারলস্কি সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পান। পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে কেউ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ফল ঘোষণার পর কোমোরস্কি (৫৮) তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ৪ জুলাই চূড়ান্ত চাপ নিতে আমাদের শক্তিকে সংগঠিত করতে হবে। জারস্ল সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিজয়ী হওয়ার মূলমন্ত্র বিশ্বাস। মাতৃভূমির জন্য, পোল্যান্ডের জন্য আমরা অবশ্যই জিতব।
গত ১০ এপ্রিল রাশিয়ার স্মলেনস্ক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানবিধ্বস্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট লেস কাচজনস্কি ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯৬ জন নিহত হন। এ কারণে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে

বারাক ওবামা রক্তপিপাসু ও যুদ্ধবাজ: আল-কায়েদা

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘বন্ধুবেশী প্রতারক’, ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘রক্তপিপাসু’ ও ‘সংকীর্ণ মনের যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। নতুন একটি ভিডিওচিত্রে সংগঠনটির একজন মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। গত রোববার এ ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির মার্কিন বংশোদ্ভূত মুখপাত্র অ্যাডাম গাদান আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপ’-এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি ইংরেজি ভাষায় এ বক্তব্য দেন। ভিডিওচিত্রে তা আরবিতে দেখানো হয়।
ওবামাকে উদ্দেশ্য করে অ্যাডাম বলেন, ‘আমার জানামতে, বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করে আপনি (ওবামা) তা রক্ষা করতে পারেননি। ক্ষমতার দ্বিতীয় বছরেই আপনি বন্ধুবেশী প্রতারকের পরিচয় দিয়েছেন। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আপনি হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, আপনি একজন বিশ্বাসঘাতক, রক্তপিপাসু ও যুদ্ধবাজ মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ছাড়া আর কিছুই নন।’
২৪ মিনিটের এই ভিডিওবার্তা আল-কায়েদার গণমাধ্যম শাখা আস-সাহাবে প্রকাশ করেছে। তবে এ বার্তার সত্যতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অ্যাডাম গাদান আরও বলেন, ‘আল-কায়েদা রয়েছে এমন দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোটা কি ঠিক হচ্ছে? আমাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাটা তাদের মোটেই ঠিক হচ্ছে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের দুর্দশা, নিরাপত্তাহীনতা ও চূড়ান্ত পরাজয় ডেকে আনছে।’
অ্যাডাম গাদানকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ১৯৫২ সালের পর অ্যাডমই হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যাকে যুক্তরাষ্ট্র দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে খরচ হয়েছে ২০০ কোটি ডলার: বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি)। গতকাল সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বিপি বলেছে, তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প কূপ খনন, মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ বাবদ এই অর্থ খরচ হয়েছে। হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ ও উপসাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে দুই হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের ব্যাপারে বিপির সম্মতির এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা এল।
এদিকে গত রোববার কোম্পানির নিজস্ব প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসার পরিমাণ সম্পর্কে কোম্পানিটি যে ধারণার কথা জানিয়েছিল, সম্ভবত তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি তেল বেরিয়ে আসছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া বিপির প্রধান নির্বাহী টনি হেওয়ার্ডের ইয়ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খবরেও ক্ষুব্ধ হয়েছে মার্কিন নাগরিকেরা।
তেল বেরিয়ে আসাসংক্রান্ত বিপির প্রতিবেদনের ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য এড মার্কি বলেন, ‘প্রথমে তারা বলেছিল মাত্র এক হাজার ব্যারেল, এরপর বলল পাঁচ হাজার ব্যারেল, এখন বলছে এক লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল বেরিয়ে সাগরে মিশছে।’
তবে এড মার্কির এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিপির কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘আমরা যা বলেছি তার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমরা বলেছি, দুটো ভুল একসঙ্গে ঘটলে এক লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে যে পরিমাণ তেল বেরিয়ে আসছে, তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন দিনে ৩০ থেকে ৬৫ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত তেল বেরিয়ে সাগরে মিশছে। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ হয়। এরপর থেকে তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে অনবরত তেল বেরিয়ে সাগরের পানিতে মিশছে।

ক্ষুধার্ত আর্জেন্টিনার সামনে সাহসী গ্রিস

অঙ্কটাই এমন, ‘বি’ গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়েই আছে। দ্বিতীয় স্থানটির জন্য লড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রিস, নাইজেরিয়া—তিন দলই! গ্রিস খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাবনাই তাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গ্রিসের ফল যা হবে, তার চেয়ে ভালো করলেই দক্ষিণ কোরিয়া চলে যাবে। তা ছাড়া গ্রিস যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে মহাশক্তিধর আর্জেন্টিনার, কোরীয়দের প্রতিপক্ষ সেখানে দুটো ম্যাচেই হেরে মানসিকভাবে নুয়ে পড়া নাইজেরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হু জুং-মুকে নিশ্চিত করতে হবে, আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার যন্ত্রণা যেন পুরোপুরি ভুলেই আজ মাঠে নামে তাঁর দল। দুই পার্কই ওদের মূল ভরসা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পার্ক জি-সুং আর মনাকোর পার্ক চু-ইয়ং। বিশ্বকাপের পর নাইজেরিয়ার উচিত হবে দলটাকে নতুন করে গড়ে তোলা। এমন একজন কোচ খুঁজে বের করতে হবে, দলটাকে যিনি ঢেলে সাজাবেন। এই বিশ্বকাপে ‘সুপার ইগল’দের খেলা একদমই চোখে লাগেনি।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হেরে শুরু করার পর মনে হয়েছিল, গ্রিস বুঝি দেশের টিকিট কেটে রেখেছে। সেই দলটাই নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখল। অবশ্য প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এমন একটা দল, যাকে কেউ নিমন্ত্রণ দিয়ে ডেকে আনবে না। কিন্তু কী আর করা! নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রিস অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। সালপিংগিদিস আর তোরোসিদিস তো দারুণ খেলেছে। গত ম্যাচে এই দুজন গোলও পেয়েছে। কারাগুনিস আর কাতসুনারিস মাঝমাঠে ব্যবধান গড়ে দিচ্ছে।
আজ তাদের প্রতিপক্ষের নাম আর্জেন্টিনা, প্রথম দুই ম্যাচেই যারা প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে। এই ম্যাচে ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। দলের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে কোচ ম্যারাডোনা তাঁর বেঞ্চের শক্তিটা পরখ করে দেখতে চাইবেন। তবে যে দলটাই খেলুক না কেন, গ্রিসের রক্ষণভাগের জন্য সেটি শেষ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে দুঃস্বপ্নের। তবে সাগরে শয্যা পেতেছেন গ্রিস কোচ অটো রেহাগেল। আজ সর্বস্ব বাজি ধরে হলেও জয়ের জন্যই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে তাঁর দল। ফলে তাদের রক্ষণটাও দুয়ার খোলা প্রলোভন জানাবে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের। ম্যাচটা বেশ কৌতূহল জাগানিয়া হবে বলেই মনে হচ্ছে!
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায় নিশ্চিত। ফ্রান্সের, এমনকি রেমন্ড ডমেনেখেরও। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাইলে অলৌকিক কিছু ঘটতে হবে। অলৌকিক ব্যাপার প্রতিদিন ঘটেও না। বাস্তবতা মেনে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ফ্রান্স দুই দলই চাইবে মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়ার মতো খেলতে। ফ্রান্স দলটায় তো রীতিমতো বিপ্লব চলছে। আনেলকাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোভুরও সম্ভবত আজ খেলা হচ্ছে না। গিগনাসের সঙ্গে আজ জুটি বাঁধতে দেখা যাবে থিয়েরি অঁরিকে। আক্রমণে তাদের সঙ্গী হবে রিবেরি আর মালুদা। এটাই এখন দেখার, অঁরি দলে ফিরে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না।
দলটাকে হতশ্রী দেখাচ্ছে। যদিও এই একটা ম্যাচের জন্য দলে বড় ধরনের ওলটপালট আনা ঠিক হবে না। রক্ষণে তাই সানিয়া, গালাস, আবিদাল আর এভরাদেরই দেখা যাবে। অনেকেই শোরগোল করছেন, কিন্তু ফ্রান্স দলের এই ভরাডুবি আমার কাছে অপ্রত্যাশিত কিছু ছিল না। দুই বছর ধরেই তো ওরা খোঁড়াচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ আলবার্তো পাহেইরার জন্যও সম্ভবত এটা শেষ ম্যাচ হতে চলেছে। ভালো মানের ডিফেন্ডার না পাওয়ার খেসারত তাঁকে দিতে হলো। গোলরক্ষক খুনে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর সামনে বর্ম তৈরি করার কথা ছিল যাদের, সেই ডিফেন্ডাররাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়েছে দলকে।
তবে নিজেদের মাঠের দর্শকদের আনন্দে উদ্বেল করে তুলতে এটাই তাদের শেষ সুযোগ।

আজ আবার মেসি-জাদু দেখার সুযোগ

কাগজে-কলমে হয়তো নন, কিন্তু আর্জেন্টিনা দলটার অলিখিত অধিনায়ক তিনিই। তাঁর নেতৃত্বেই আক্রমণ চালাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আক্রমণভাগের সেই সেনানী লিওনেল মেসির হাতে আজ পুরো রাজ্যটাই লিখে দিতে চান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ আভাস দিয়েছেন, আজকের ম্যাচে সিনিয়র খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখা হবে। বিশ্রামে রাখা হবে হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় আছেন যাঁরা। তাঁদেরও। দ্বিতীয় রাউন্ডে এক পা দিয়ে রাখা দলটার আজকের ম্যাচের নেতৃত্ব তাই থাকতে পারে লিওনেল মেসির বাহুতেই।
অধিনায়কত্ব কি আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে? মেসি কি আজ জ্বলে উঠবেন আরও বেশি? প্রথম দুই ম্যাচে যে খামতিটুকু ছিল, সেটি পুষিয়ে দেবেন কড়ায় গণ্ডায়?
ভয়ংকর কোনো ওলটপালট না হলে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ডে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। হিসাব পাল্টে ফেলার এই বিশ্বকাপেও আজকের ম্যাচে তাই ফুটবলীয় অনিশ্চয়তার কোনো শঙ্কা নেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। নেই অনিশ্চয়তার কোনো রোমাঞ্চও। প্রতিপক্ষও গ্রিস বলে ম্যারাডোনার দলের হেসেখেলেই জেতার কথা। তার পরও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা দুরু দুরু বুকেই এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবে। স্কোরলাইনে নয়, একজনের পায়ের দিকে। ম্যাচের ফলাফল নয়, আজ তাদের পরম প্রার্থনা হবে, মেসি এবার বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি যেন পান! ওদিকে তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে এগিয়ে গেলেন কাল গোলবন্যার ম্যাচে নিজেও একটি গোল করে।
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তার রোমাঞ্চ না থাকতে পারে, এমনিতে ‘বি’ গ্রুপটায় কিন্তু জট পাকানো পরিস্থিতি। বাকি তিন দল গ্রিস, নাইজেরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়া সবারই যে সুযোগ আছে শেষ ষোলোতে নাম লেখানোর! নাইজেরিয়া এখনো একটা পয়েন্ট পায়নি বলে অনেকেই এরই মধ্যে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে তাদের। আর্জেন্টিনার কাছে গ্রিস হারলে, দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালেই নাইজেরিয়া চলে যাবে পরের রাউন্ডে।
ফুটবল-দেবতা প্রথম রাউন্ডের শেষবেলায় কোন নাটক জমিয়ে রেখেছে, কে-ই বা জানে। আর তাই অটো রেহাগেলের কোনো জাদু, লার্স লেজারব্যাকের কোনো চমক, নাকি হু জুং-মুর আরও একটা চোয়ালবাঁধা লড়াই—কার জয় হয় শেষ পর্যন্ত এটাই এখন দেখার।
ম্যারাডোনাকেও এখন খরচ করতে হবে হাত টিপে। হলুদ কার্ড, চোট, বিশ্রাম—এসবও এখন মাথায় রাখতে হবে তাঁকে। দ্বিতীয় রাউন্ডেই তো আসল পরীক্ষা শুরু। এক ম্যাচের অপ্রত্যাশিত ফল মানেই অর্থহীন হয়ে যাওয়া সবকিছুই। সহজ অনুমান, এই ম্যাচে ম্যারাডোনা নিয়মিত একাদশের বেশির ভাগ ফুটবলারকে বসিয়ে রাখবেন। সংখ্যাটা ম্যারাডোনা নিজেই জানিয়েছেন—সাতজন। বিশ্রামের তালিকা থাকতে পারতেন মেসিও। বার্সেলোনা তারকা নিজেই রাজি হননি। এই বিশ্বকাপে ‘বার্সেলোনার খেলোয়াড়’ অপবাদটা যে চিরতরে কবর দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েই এসেছেন!
হিগুয়েইনেরও থাকার কথা দলে। মাথায় বন্দুকের নল ঠেকালেও তো হিগুয়েইনকে কেউ মাঠের বাইরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। গোল্ডেন বুটের হাতছানি যে তাঁর সামনে।
গ্রিস আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল একবারই, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে। সেবার ৪-০ গোলে হেরে যাওয়ার লজ্জাই সইতে হয়েছিল। বাতিস্তুতার হ্যাটট্রিকের পাশে ম্যারাডোনা নিজেও একটি গোল করেছিলেন। ফুটবলার ম্যারাডোনার শেষ গোল!
গ্রিসদের তাই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে অঘটনই ঘটাতে হবে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে ‘সুপার ফ্লপ’ সুপার ইগলরা রাতারাতি পরশপাথরের সন্ধান পাবে কি না, কে জানে। শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার কথা দক্ষিণ কোরিয়ারই। তবে এই বিশ্বকাপ পূর্বানুমানের জন্য সুবিধার নয় মোটেও।
আর্জেন্টিনার সঙ্গী কে হলো না হলো, এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবনা নেই সমর্থকদের মনে। তাদের চাওয়া আজ একটাই—মেসির অনিন্দ্যসুন্দর গোল।

আর্জেন্টিনাকে চান না ফোরলান

দুই ম্যাচে এক ড্র আর এক জয়ে ৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবেই এই নিশ্চয়তাই নেই। নিশ্চয়তা পেতে আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র করতে হবে। অথচ উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডিয়েগো ফোরলান এখনই শুরু করে দিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ভাবনা। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার প্রত্যাশার দৃষ্টিতে খুঁজে ফিরছেন দ্বিতীয় রাউন্ডের পছন্দের প্রতিপক্ষ।
পছন্দের প্রতিপক্ষ খুঁজে না পেলেও খুঁজে বের করেছেন অপছন্দের এক নাম। দ্বিতীয় রাউন্ডে কিছুতেই মেসি-ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে চাইছেন না তিনি। ফোরলান কি তবে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে ভয় পাচ্ছেন? ফোরলান বলেছেন, ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে ভয় পায় না উরুগুয়ে। তবে আশা করছেন, টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার, ‘আমরা তাদের সম্মান করি, যেমনটি তারা আমাদের করে। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকান হিসেবে ওদের চেয়ে আমাদের দূরে থাকাই ভালো।’ ফোরলান কিছুতেই চাইছেন না, দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই এক দক্ষিণ আমেরিকার বিদায় হয়ে যাক, ‘যদি আমরা মুখোমুখি হয়েই যাই, আমি খুশি মনেই খেলব। কিন্তু এই ম্যাচ থেকেই আমাদের যেকোনো এক দলকে বিদায় নিতে হবে।’
তো ফোরলানের ইচ্ছাপূরণের জন্য উরুগুয়ের আর্জেন্টিনাকে এড়ানোর উপায় কী? উপায় আছে। ‘এ’ গ্রুপে উরুগুয়েকে হতে হবে চ্যাম্পিয়ন। কিংবা ‘বি’ গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে হতে হবে রানার্সআপ। প্রথম শর্তটিই সহজ! মেক্সিকোর বিপক্ষে ড্র করতে পারলেই ফোরলানের উরুগুয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জবাব

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ, জ্যাক ক্যালিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। সেন্ট কিটসে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করে এর জবাব দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ব্রেন্ডন ন্যাশ। হ্যারিসের বলে তাঁর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে চন্দরপল করেন ১৬৬। ১১৪ করে রানআউট হয়েছেন ন্যাশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে তুলেছিল ৪৮৯ রান। তখনো দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পিছিয়ে ছিল ৫৪ রানে। ২ রানে ব্যাট করছিলেন বেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৪৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মুগ্ধ করল পর্তুগাল ব্রাজিলও কম করেনি by গোলাম সারোয়ার টিপু

এর চেয়ে চোখকাড়া ফুটবল আর হয় না! পর্তুগাল মুগ্ধ করে দিল। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কাল তারা যা করতে চেয়েছে, সবই করেছে। মনে রাখার মতো ফুটবল খেলল রোনালদোরা।
পেছন থেকে পর্তুগাল খেলোয়াড়দের দৌড়গুলো ছিল অসাধারণ। পাস ছিল নিখুঁত। ব্রাজিলের বিপক্ষে উত্তর কোরিয়া শামুকের ভেতর থেকে বের হতে চায়নি। এ ম্যাচে হয়তো তারা জয়ের কথা ভেবেছে। সে জন্য অলআউট খেলতে গিয়েছে এবং পর্তুগাল সেই সুযোগ নিতে পারায় গোটা দলটা ছত্রখান।
কোরিয়ানরা মারটা খেয়েছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে। এমনিতে তাদের রানিং ভালো ছিল। কিন্তু পর্তুগাল খেলোয়াড়দের যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আছে সেটা নেই কোরিয়ানদের। বড় পার্থক্যটা এই জায়গাতেই। তিন গোল খাওয়ার পরই কোরিয়া ম্যাচটা ছেড়ে দিয়েছে মনে হলো। এই সুযোগে ফাঁক-ফোকর বের করেছে পর্তুগাল। দুর্দান্ত সব পাস আর নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে কোরিয়ানদের একেবারে ছিঁড়ে-খুঁড়ে খেয়েছে ইউসেবিওর উত্তরসূরিরা।
এই উত্তর কোরিয়া অচেনা এক দল ছিল ব্রাজিলের সামনে। ওই ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের খুব উজ্জ্বল দেখা যায়নি। কিন্তু পরশু আইভরিকোস্টের বিপক্ষে দেখা দেওয়া দ্বিতীয়ার্ধের ব্রাজিল চিরচেনা সেই ব্রাজিলীয় ঝলক দেখিয়েছে। বল নিয়ন্ত্রণ, অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বল নিয়ে কারিকুরি, ছন্দায়িত পাসের সমাহার—সব মিলিয়ে দুঙ্গার দল সমর্থকদের মনে আশা জাগাতে পারল।
এদিন ফ্লাংক বেশি ব্যবহার না করে মাঝখান দিয়ে বেশি ঢুকেছে ব্রাজিল। ৭০ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে চার ব্রাজিলিয়ান ৩০-৪০ সেকেন্ড বল নিয়ে দুর্দান্ত কিছু মুহূর্ত উপহার দিল আমাদের, যা অনেক দিন মনে থাকবে। আইভরিকোস্টের তিন-চারজন খেলোয়াড় পাত্তাই পেল না। এখানেই অন্যদের চেয়ে ব্রাজিলিয়ানদের এগিয়ে থাকার প্রমাণ।
ফ্যাবিয়ানো অসাধারণ খেলল। তুলনায় রবিনহো একটু অনুজ্জ্বল। প্রথম ম্যাচের ঠিক উল্টো। সেদিন ফ্যাবিয়ানো সুবিধা করতে পারেনি। পরের ম্যাচেই সে জ্বলে উঠে ব্রাজিলের ‘ফিনিশার কই’ উদ্বেগটা কমিয়ে দিয়েছে।
কাকার প্রশংসা করতেই হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছিল না এই প্লে-মেকার। অবশেষে কাকা ফর্মে ফিরল কাকার মতো। দুটো গোলে রেখেছে বড় অবদান। তবে লাল কার্ডটা ওর প্রাপ্য ছিল না। প্রথম হলুদ কার্ডটা ঠিক ছিল, দ্বিতীয়টি দিয়ে রেফারি ওর প্রতি অবিচার করেছেন।
‘ব্রাজিল-মুগ্ধতা’র অন্য পিঠে ‘ব্রাজিল-দুর্বলতা’ও আছে। এমনিতে এবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগ বেশ ভালো। কিন্তু এই রক্ষণ কেমন যেন গা ছেড়ে দিচ্ছে শেষ দিকে। তিন গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে ওরা হয়তো ভাবল, ‘দ্রগবা আর কী করবে!’ ওকে মার্কিংই করল না। ফলটা হাতে হাতে ধরিয়ে দিয়ে দ্রগবা দেখাল, তাকে একা ছাড়লে বিপদ আছে।
ব্রাজিল-পর্তুগালের পাশে ইতালি একেবারেই ম্রিয়মাণ। চ্যাম্পিয়নরা ধুঁকছে এবং তাদের খেলায় কোনো উন্নতি নেই। প্রথম ম্যাচ ড্র করার পর আশা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে আসবে মার্সেলো লিপ্পির দল। কিন্তু কোথায় কী! মাঠে তাদের শতভাগ চেষ্টা দেখলাম না।

রেকর্ড গড়েই সুইসদের হার

৬০ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলা কঠিনই। চিলির কাছে সুইজারল্যান্ডের পরাজয়ে সেটা আরও একবার প্রমাণিত।
হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-০। কাল সুইজারল্যান্ডকেও একই ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা উজ্জ্বল হলো চিলির।
সুইসরা অবশ্য একটা রেকর্ড গড়েই হেরেছে এদিন। এত দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড ছিল ইতালির। ১৯৮৬-৯০ বিশ্বকাপে টানা ৫৫০ মিনিট ইতালির পোস্টে বল ঢোকেনি। চিলির বিপক্ষে ৬৭ মিনিট পর্যন্ত গোল না খেয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সুইসরা। গত বিশ্বকাপে চার ম্যাচে গোল না খেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া সুইসরা এবার প্রথম ম্যাচেই পরাশক্তি স্পেনকে হারিয়ে দিয়েছে ১-০ গোলে।
চিলির বিপক্ষে ৩২ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। বল নিয়ে চিলির বক্সে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছিলেন উইঙ্গার ভালোন বেহরামি। পেছন থেকে তাঁকে টেনে ধরেন প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়। শেষের জনকে ছিটকে দিতে কনুইয়ে গুঁতো মারেন, তাঁকে দেখতে হয় লাল কার্ড।
এরপর চিলির সব আক্রমণ সামলে গেছে সুইসরা। গোলরক্ষক ডিয়েগো বেনাগলিও হয়ে দাঁড়ান ‘চীনের প্রাচীর’। কিন্তু ৭৫ মিনিটে খুলে গেল সুইসদের গোলমুখ। বক্সে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে মার্ক গঞ্জালেসের লক্ষ্যভেদ (১-০)। লিভারপুলের সাবেক এই খেলোয়াড় ম্যাচের পর কথা বললেন ওই গোল নিয়ে, ‘এটা দারুণ ব্যাপার। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আজ গোল করতে পেরে আমি ভাগ্যবান।’
লাল কার্ডই সুইসদের সর্বনাশ করেছে—রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ সুইজারল্যান্ডের কোচ অটমার হিজফিল্ড যেন সেটাই বললেন, ‘সেরা রেফারিদেরই বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এটা খুবই হতাশাজনক।’ তবে আশা ছাড়েননি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে, ‘এখনো ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারি আমরা।’

গোল আসবেই

মেসি গোল পাচ্ছেন না! ব্যাপারটা বিস্ময়কর হতে পারে মেসি-ভক্তদের জন্য, মেসির জন্য কিন্তু নয়। যতক্ষণ দল ভালো করছে আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা মেসি নাকি গোল না পাওয়াতে ততক্ষণ একটুও চিন্তিত নন। জাতীয় দলের হয়ে প্রতি তিন ম্যাচে গড়ে পুরোপুরি একটি গোলও নেই তাঁর ঝুলিতে। তাই ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার দৌড়েও পিছিয়ে পড়ছেন ক্রমাগত। তবুও বার্সেলোনার এই তারকা বলছেন, ‘এটা কোনো সমস্যাই না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমি সুযোগ পাচ্ছি, যদিও তা গোলে রূপান্তর করতে পারছি না।’ তবে মেসি আশাবাদী, ‘গোল আসবেই। আমরা ভালো একটা অবস্থানে আছি। দলের সবাই এখন সামনের ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছে।

নাচছে নিউজিল্যান্ড

বলতে পারেন, চল্লিশ লাখ মানুষের দেশ নিউজিল্যান্ডে এখন কী হচ্ছে? শুধু নাচ আর গান। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে স্বয়ং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কিরই যে চাওয়া, তাঁর দেশের মানুষ নাচুক, গান করুক আর আনন্দে ভেসে যাক!
প্রথম ম্যাচে স্লোভাকিয়ার সঙ্গে ড্র-সাফল্যে উজ্জীবিত হয়েই কিনা ইতালির বিপক্ষে খেলা দেখতে প্রধানমন্ত্রী জন কি ছুটে যান দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসপ্রুইটের মম্বেলা স্টেডিয়ামে। তাঁর সামনেই কোচ রিকি হারবার্ট, অধিনায়ক রায়ান নেলসেনদের দল পেয়ে গেল আরও বড় সাফল্যের দেখা, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে রুখে (১-১) দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে আনন্দময় এক ড্র। ম্যাচ শেষে প্রধানমন্ত্রী জন কির প্রতিক্রিয়া, ‘এটা ছিল অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর। তারা (ফুটবলাররা) অদম্য সাহস দেখিয়েছে। শেষ ৩০ মিনিটে আমার হূদয়ের স্পন্দনটাই বেড়ে গিয়েছিল। আমি চাই আমার দেশ এটা উপভোগ করুক। দেশবাসী শুধু নাচবে।’
তা নাচ-গান তো হবেই। নাচ-গান আর উৎসবে ডুবে থাকার জন্য মিলেছে ছুটির দিনও। আর প্রধানমন্ত্রী জন কির মতো দেশবাসীকে উৎসবে মাতার ডাক দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কোচ-অধিনায়কও। ইতালির বিপক্ষে ড্রটাকেই ফুটবলে নিউজিল্যান্ডের সেরা সাফল্য মনে করছেন কোচ রিকি হারবার্ট, ‘অবিশ্বাস্য, বিস্ময়কর এক ফল। প্রতিপক্ষের মর্যাদা বিচারে এটাই আমাদের সেরা অর্জন।’
নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখে নাক ছিটকিয়েছে অনেকেই। নিন্দুকদের দিকে পাল্টা তীর ছোড়ার এই তো সুযোগ! সুযোগটি হাতছাড়া করেননি কিউই কোচ, ‘ম্যাচে সবকিছুই সম্ভব ছিল। দল হিসেবে আমাদের যা করার তাই করেছি—যারা বলত আমাদের বিশ্বকাপে খেলা ঠিক নয়, তারাও নিশ্চয় এটাই স্বীকার করবে।’
অধিনায়ক রায়ান নেলসেন ইতালির বিপক্ষে পারফরম্যান্সকে দেখছেন দলের, দেশের মানুষের এবং তাদের পরিবারের জয় হিসেবে। তাঁর অবমূল্যায়িত দলের জন্য এই ফল বিস্ময়কর বলে মনে করছেন নেলসেন, ‘দলটা মাঠে অসাধারণ খেলেছে। এই সাফল্য শুধু আমাদের নয়, আমাদের পরিবার আর নিউজিল্যান্ডের মানুষেরও। আমাদের সাফল্যে তারা গর্বিত হতেই পারে।’
আর যার গোলে এই মহামূল্যবান ড্র, সেই শেন স্মেলজ যেন উড়ছেন আকাশে, ‘গোলটি করে আমি আসলেই আনন্দিত। বিশেষ করে গোলটি ইতালির মতো দলের বিপক্ষে বলে। এটা শুধু একটা পয়েন্টই নয়, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ভালো খেলার স্বীকৃতিও

রেফারিরা সন্দেহমুক্ত নহে

২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ বিশ্বকাপ ফুটবলে হলুদ কার্ড ও লাল কার্ডের ব্যবহার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। সেবার বিশ্বকাপ ফুটবল পরিচালনায় নিয়োজিত রেফারিরা বিভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ৩৪৫ বার হলুদ কার্ড এবং ২৮ বার লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। একজন ব্রিটিশ রেফারি তো হলুদ কার্ড দেখানোর নেশায় এমনই উন্মত্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, তিনি ক্রোয়েশিয়ার একজন খেলোয়াড়কে ভুল করে তিনবার হলুদ কার্ড দেখান। সংগত কারণেই তখন রেফারিং নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে তখন ফিফাপ্রধান সেপ ব্ল্যাটার বলেছিলেন, তিনি পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলোতে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে রেফারি-প্রদত্ত দণ্ডবিধিতে কিছু পরিবর্তন আনবেন। আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া কোনো খেলোয়াড় যাতে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করবেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন কি না, জানি না। আমার সংগ্রহে বিশ্বকাপ সম্পর্কে ফিফার সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো নেই। চলতি বিশ্বকাপের রেফারিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি; বরং কখনো কখনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্বপরিকল্পিত বলেও মনে হয়েছে।
এক. সার্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলা চলাকালে ডবল হলুদ কার্ডের যোগফল হিসেবে লাল কার্ড পাওয়া (পাওয়া মানে, পেতে বাধ্য করা) জার্মানির কুশলী স্ট্রাইকার ক্লোসা কি পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন? একটি টিভি টক শোতে সেদিন তো সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া ভাষ্যকার গোলাম সারওয়ার টিপুর মুখে শুনলাম, ক্লোসা আগামী দুটো ম্যাচ খেলতে পারবেন না। কী সর্বনেশে কথা! বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদোর করা সর্বোচ্চ ১৫ গোলের রেকর্ডটি গত বিশ্বকাপের সোনার বুট অর্জনকারী ক্লোসা এবার ভাঙবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টিকাড়া গোল করে তিনি সেই লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়েও গিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বকাপ-গোলের সংখ্যা পৌঁছেছিল ১১-তে। কিন্তু ক্লোসার বিধি বাম। কোথায় রাম রাজা হয়, আর কোথায় রাম বনে যায়!
সার্বিয়া ও জার্মানির মধ্যকার খেলাটির শুরু থেকেই সেদিনকার রেফারি (ভদ্রলোকের নামটি আমি খেয়াল করিনি, কেউ জানলে জানাবেন) যেভাবে উন্মাদের মতো এলোপাতাড়ি হলুদ কার্ড দেখাচ্ছিলেন, তাতে বিরক্ত হয়ে একজন ভাষ্যকার আলতো করে তাঁর সম্পর্কে একপর্যায়ে ‘সিনিক’ শব্দটিই উচ্চারণ করেন। আমি তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমার ক্ষমতা থাকলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে ক্লোসাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করার আগে আমিই ওই ভদ্রলোককে মাঠ থেকে বের করে দিতাম।
এ বিষয়ে ক্লোসার বক্তব্য, ‘আমি বলটাই খেলতে চেয়েছিলাম। এটা কোনো ফাউল ছিল না। অথচ রেফারি আমাকে দেখালেন হলুদ কার্ড।’
দুই. উরুগুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা খেলার একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষাকারীকে লাল কার্ড দেখিয়ে যেভাবে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হলো, আমার কাছে তা ন্যায্য বলে মনে হয়নি। আগুয়ান প্রতিপক্ষকে অবৈধভাবে বাধা দেওয়ার অপরাধে পেনাল্টি বরাদ্দ করেই তিনি ক্ষান্ত দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতার অপপ্রয়োগের প্রলোভন এড়াতে পারেননি। পকেট থেকে জল্লাদের মতো লাল কার্ড বের করার নেশা যাঁরা এড়াতে পারেন না, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলা পরিচালনায় তাঁদের অনুপস্থিতিই বিশ্বফুটবলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
তিন. অস্ট্রেলিয়া ও ঘানার মধ্যকার খেলায় অস্ট্রেলিয়ার এক ডিফেন্ডার গোলবারের নিচে বুক চিতিয়ে বল থামাতে গেলে অ্যাডিডাস কোম্পানির নতুন আবিষ্কার জাবুলানি বলটির কিছুটা অংশ তাঁর বুকে এবং কিছুটা অংশ তাঁর বুকসংলগ্ন ডান হাতের উপরিভাগ স্পর্শ করে। পুরো ব্যাপারটিই অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে। এ ক্ষেত্রে রেফারি হ্যান্ডবল দিয়েই ক্ষান্ত হতে পারতেন, কিন্তু হলেন না। তিনি পেনাল্টিও দিলেন এবং সেই সঙ্গে ওই ডিফেন্ডারকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরেও পাঠিয়ে দিলেন, যদিও বেনিফিট অব ডাউট ওই ডিফেন্ডারেরই প্রাপ্য ছিল।
প্রশ্ন জাগছে, তবে কি রেফারিদের বোকা বানিয়ে ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে গোল করার জন্য ম্যারাডোনাকে যে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেই অপ্রযুক্ত দণ্ডই এখন নিরপরাধের মাথায় গুরুদণ্ডের খড়্গ হয়ে নামছে? অতিসতর্কতার আড়ালে এ ক্ষেত্রে ‘প্রফেশনাল লিগেসি’ কাজ করছে না তো?
শক্ত হাতে, সুন্দরভাবে খেলা পরিচালনার নাম করে এক-একজন রেফারি খেলার মাঠে যে রকম লঘু পাপে গুরু দণ্ড প্রদান করে চলেছেন, অনতিবিলম্বে তাঁদের লাগাম টেনে ধরা দরকার। ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিস্টার ব্ল্যাটারকে দিয়ে তা হবে বলে মনে হয় না। বিশ্বফুটবলের নতুন কর্তা চাই। এই বুড়োটা আর কত দিন?
আমার মনে হচ্ছে, ক্রিকেটে যেমন থার্ড আম্পায়ার আছে, ফুটবলেও সে রকম থার্ড আম্পায়ার থাকা দরকার। লাল কার্ড দেখানোর অনিবার্যতা থার্ড আম্পায়ারের মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগ থাকা দরকার। নইলে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর খুব সহজেই বিশ্বের মাফিয়া চক্রের দখলে চলে যেতে পারে। সিনিক চক্রের দখলে চলে যেতে পারে। অলরেডি চলে গিয়েছে কি না, সেটাই এখন ভাবার এবং খতিয়ে দেখার বিষয়। আমি কিন্তু সত্যিই খুব উদ্বিগ্ন বোধ করছি।
আমি প্রস্তাব করছি, কোন দিনের কোন খেলাটি কোন রেফারি পরিচালনা করবেন, তা খেলার কিছুক্ষণ আগে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত করার বিধান চালু হোক। বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের রেফারিপঞ্জিটি সবারই অজানা থাকা চাই। এমনকি ফিফার প্রেসিডেন্ট মিস্টার ব্ল্যাটারেরও।
বিশ্বকাপের প্রথম গোল: পরের ধনে ফিফার পোদ্দারি
আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি: পত্রিকায় পড়লাম, দক্ষিণ আফ্রিকার শাবালালা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে করা তাঁর প্রথম গোলটি আফ্রিকার মানুষের উদ্দেশে উত্সর্গ করেছেন। এটি তো ঠিক হলো না। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি যে ডাকার ঘোষণার সমর্থনে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই উত্সর্গ করা হয়ে আছে—জনাব শাবালালা কি তা জানতেন না? সারা বিশ্বের মানুষ যা জানে, বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০-এর আয়োজক দেশের ফুটবল দলের স্ট্রাইকার শাবালালার তো তা না জানার কথা নয়। শুনুন মিস্টার শাবালালা, আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। অন্যথায় আমার গ্রামে প্রতিষ্ঠিত কাশবন বিদ্যানিকেতনের দেয়ালে আপনার নাম লিখে রাখার যে ঘোষণাটি আমি প্রথম আলোর মাধ্যমে করেছিলাম, আমি সেই সিদ্ধান্ত থেকে অবশ্যই সরে যাব।
আফ্রিকার মানুষের উদ্দেশে তাঁর গোলটি উত্সর্গ করার পক্ষে শাবালালার একটা যুক্তি হয়তো আছে। তিনি বলতে পারেন, আমার করা গোলটি আমি কাকে উত্সর্গ করব, সে আমার ব্যাপার। গোলটি তো আর ফিফার কর্মকর্তাদের কেউ করেনি, আমি করেছি। কথা সত্য। গোলটি তিনিই করেছেন এবং বিশ্বের প্রচলিত কপিরাইট আইন অনুযায়ী ওই গোলের কপিরাইট শাবালালারই বটে। সে ক্ষেত্রে ফিফার কর্তব্য হবে শাবালালার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম গোলটি তাঁর কাছ থেকে অর্থমূল্য শোধ করে কিনে নেওয়া। অন্য অনেক কিছুর অভাব থাকলেও, ফিফার তো আর টাকার অভাব নেই। সে-ই বা পরের ধনে পোদ্দারি করবে কেন? বাংলাদেশে ফিফার কর্মকর্তা যাঁরা আছেন, মনে হয় আমাদের প্রিয় ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন আছেন, বিষয়টি ফিফার গোচরে আনার জন্য তাঁকে অনুরোধ করছি।
কামরাঙ্গীর চর
২০ জুন ২০১০

মাহারুফের হ্যাটট্রিক, ভারত ২০৯ রানে অলআউট

ফারভিচ মাহারুফের হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেটের দিনে হতাশায় ডুবেছে ভারতীয় দল। এশিয়া কাপের ফাইনালের আগে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে আজ মাত্র ২০৯ রানে গুটিয়ে গেছে ভারতের ইনিংস। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করে রোহিত শর্মা। এ ছাড়া অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি ৪১ ও দিনেশ কার্তিক ৪০ রান করেন।
৩৮ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৮৯ রান। ওভারের শেষ বলটিতে রান আউটের শিকার হয়েছেন ধোনি। মাহারুফ যেন ভারতের ব্যাটসম্যানদের হতাশার ধারাবাহিকতাই রক্ষা করলেন। একটি নয়, ৩৯ ওভারের প্রথম তিন বলে তিনটিতেই উইকেট নিয়ে নিলেন মাহারুফ। প্রথম বলে এলবিডব্লিউর শিকার জাদেজা, দ্বিতীয় বলে প্রাভিন কুমার বোল্ড! আর তৃতীয় বলে সাঙ্গাকারার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন জহির খান।

স্পেন খেলল স্পেনের মতোই

স্কোরলাইন সব সময় ম্যাচের আসল ছবিটা তুলে ধরতে পারে না। স্পেন-হন্ডুরাস ম্যাচটা ঠিক তা-ই। এই ম্যাচের স্কোরলাইন আপনাকে বলবে না, সুইজারল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর কী রাজকীয়ভাবে নিজেদের তুলে ধরল ফেবারিট স্পেন। স্কোরলাইন বলবে না, গোল মিসের কী মহড়াই না দিয়ে গেল স্প্যানিশ তারকারা। বলবে না, কী সুন্দর ফুটবল খেলেই না মন জুড়িয়ে দিল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচটা জয়বঞ্চিত করেনি স্পেনকে, জিতেছে ২-০ গোলে। এবং তা ডেভিড ভিয়ার সৌজন্যে। শুরুতে তাঁর একটা শট ক্রস পিচে প্রতিহত হওয়ার পর ১৭ আর ৩৮ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত শটে দুই গোল করেছেন সোনার বুটের অন্যতম দাবিদার এই স্ট্রাইকার। পেনাল্টি শট নিয়েও হ্যাটট্রিক করতে না পারার দুঃখও অবশ্য তাঁর সঙ্গী ছিল।