Friday, February 19, 2010

ওয়ান ব্যাংক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস বিনিয়োগ চুক্তি কর

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যে সম্প্রতি ৪০ কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে।
ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ ইউসুফ ফারাজি এবং ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ চুক্তিতেই সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টসের পোর্টফলিও ম্যানেজমেন্টের প্রধান মেসবাহ্ উদ্দিন খান ও ট্রেজারি ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম এবং ওয়ান ব্যাংকের এসইভিপি ও বিপণন বিভাগের প্রধান রোজিনা আলিয়া আহমেদ ও আরিফ কাদরী, কারওয়ানবাজার শাখার ব্যবস্থাপক শাফিউজ্জামানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি এশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঢাকা সফর

সিটি এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ের প্রধান গৌরাঙ্গ হাত্তাঙ্গদি এক দিনের সফরে গতকাল বুধবার ঢাকা এসেছেন।
গৌরাঙ্গ হাত্তাঙ্গদি বাংলাদেশে সিটির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
১৯৮৯ সালে গৌরাঙ্গ হাত্তাঙ্গদি মুম্বাইয়ে সিটিব্যাংকে যোগ দেন। তিনি করপোরেট ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কাজ করেন। ২০০২ সালে তিনি ভারতে সিটিব্যাংকের বাণিজ্যিক ব্যাংকিং গ্রুপের প্রধান নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি গুয়াংডং ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার সিটিতে চলে আসেন।

আমেরিকায় বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি কমেছে

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পণ্য আমদানি ২০০৯ সালে তার আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। উল্টোভাবে বললে, আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। আর ২০০৮ সালে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বার্ষিক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় হ্রাস পেল।
এর আগে ২০০০ সালের পর টানা তিন বছর আমেরিকায় বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় কমে গিয়েছিল। ২০০৪ সাল থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত তা বাড়ে।
গত বছর রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পেছনে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াকেই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দাজনিত কারণে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়া পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আমেরিকায় ৩৪১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা দেশটিতে মোট রপ্তানির প্রায় ৯৩ শতাংশ। আর ২০০৮ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩৮ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য।
অবশ্য পণ্য রপ্তানি আয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানিও একই সময় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। আর ২০০৯ সালে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাত্ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আমদানিব্যয় কিছুটা কমেছে।
আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য-বাণিজ্যে ভারসাম্য বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। ২০০৯ সালে পণ্য-বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি ৫১ লাখ ডলার। আর ২০০৮ সালে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৩২৮ কোটি ডলার। অর্থাত্ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত খানিকটা কমে গেছে।
অবশ্য সার্বিকভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও গত বছর কমে গেছে। ২০০৮ সালে যেখানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ৪২১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ২০০৯ সালে তা কমে হয়েছে ৪১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় সব পণ্যকেই উচ্চহারে আমদানিশুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হয়।
বাংলাদেশি পণ্য আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয় আর কম্বোডিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে দিতে হয় ১৭ শতাংশ। অথচ একই সময় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক শতাংশের কম হারে শুল্ক প্রদান করে।
ওয়াশিংটনডিসিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিলের (ডিএলসি) তথ্যানুসারে, আমেরিকা ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৫৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে আমদানিশুল্ক বাবদ আমেরিকার আয় হয়েছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। একইভাবে কম্বোডিয়া ১২৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও মার্কিন কোষাগারে এর বিপরীতে আদায় করা হয়েছে ২১ কোটি ডলার। অথচ একই সময় ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার ও তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে মাত্র ১৮ কোটি ডলার করে শুল্ক প্রদান করেছে।
আর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম আমেরিকার হিসাব অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়াকে যে সহায়তা প্রদান করে, তার সাত গুণ বেশি শুল্ক হিসেবে আদায় করে। একইভাবে ২০০৮ সালে আমেরিকা থেকে পাওয়া প্রতি এক ডলার সহায়তার বিপরীতে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির জন্য চার ডলার করে শুল্ক দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

গ্রামীণফোনের শেয়ার ক্রয়ে ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে না

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার কেনার জন্য আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো ঋণসুবিধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। ঋণ জোগানদানকারী এসব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমিতি বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) এক বৈঠকে গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএমবিএর সভাপতি ও এবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো কোম্পানির শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই ৫০ পয়েন্টের বেশি হলে ঋণ দেওয়া যায় না। গ্রামীণফোনের পিই এরই মধ্যে এ সীমা অতিক্রম করেছে।’
জানা গেছে, একই কারণে গ্রামীণফোনের শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারহাউসগুলোও তাদের গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিতে পারবে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে গতকাল সর্বশেষ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের পিই দেখানো হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ পিই নির্ণয় করা হয়েছে।
ওই প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের (আইপিওর পূর্ববর্তী শেয়ার সংখ্যার হিসাবে) শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে পাঁচ টাকা ৩৭ পয়সা। আইপিওর পরবর্তী শেয়ার সংখ্যার হিসাবে ইপিএস দাঁড়ায় চার টাকা ৭৭ পয়সা। এ হিসেবে কোম্পানিটির প্রকৃত পিই হওয়ার কথা ৮০ পয়েন্টের বেশি।
এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোন চতুর্থ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় দেখিয়েছে ১২ টাকা আট পয়সা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির পিই হওয়ার কথা ৩২ পয়েন্টের মতো। এতদিন পর্যন্ত ডিএসই এ হিসেবেই পিই প্রকাশ করে আসছিল।
কিন্তু এসইসির বিধি অনুযায়ী চতুর্থ প্রান্তিক, অর্থাত্ বছর শেষে অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কোনো নিয়ম নেই। এ যুক্তিতে এসইসি গ্রামীণফোন ও ডিএসইর কাছে এর আগেই ব্যাখ্যা চেয়েছে এসইসি। তার পরও চতুর্থ প্রান্তিকের ঘোষিত আয় অনুযায়ী পিই হিসাব করার বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্পষ্ট।
সূত্র জানায়, বিএমবিএর বৈঠকে মূল্য-আয় অনুপাত সম্পর্কিত অস্পষ্টতার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইকে বিষয়টি পরিষ্কার করার অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এক মাস ধরেই গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ায় স্বয়ং নিয়ন্ত্রক সংস্থাও উদ্বিগ্ন।
কারণ, শেয়ারটির একটু বাড়লে সূচকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এ কারণে এসইসি শেয়ারটির লেনদেন তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়াসহ আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এত কিছুর পরও শেয়ারটির দাম প্রায় ৪০০ টাকার কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। গতকাল সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩৮৫ টাকা ৪০ পয়সায়।

আটে সেঞ্চুরি

৮ নম্বরে নেমে টেস্ট সেঞ্চুরি, কাজটা সহজ নয় মোটেও। কঠিন কাজটাই টানা দুদিন দুজনকে করতে দেখল টেস্ট ক্রিকেট, কলকাতায় মহেন্দ্র সিং ধোনি আর হ্যামিল্টনে মাহমুদউল্লাহ। ১৩৩ বছর আর ১৯৫৩ ম্যাচের টেস্ট ইতিহাসে ৮ নম্বরে সেঞ্চুরি হয়েছে ৬৩টি, করেছেন ৫৪ জন। তাঁদের সবার পথিকৃৎ জর্জ বনর। ১৮৮৫ সালে ইতিহাসের ২০তম টেস্টে ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ান আটে নেমে। বনরকে সবচেয়ে বেশিবার অনুসরণ করেছেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও কামরান আকমল, আটে নেমে দুজনেরই সেঞ্চুরি ৩টি করে। দুটি করে আছে দুই দক্ষিণ আফ্রিকান মার্ক বাউচার ও এরিক ডাল্টন, নিউজিল্যান্ডের ব্রুস টেইলর ও পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামের। এই দুই সেঞ্চুরির প্রথমটিতে আকরাম করেছিলেন অপরাজিত ২৫৭, আটে নেমে এত বড় ইনিংস নেই আর কারও। দ্বিশতক আছে আর একটিই, আরেক পাকিস্তানি ইমতিয়াজ আহমেদের (২০৯)। মাহমুদউল্লাহর আগে আট নম্বরে বাংলাদেশের সেঞ্চুরি ছিল একটিই, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খালেদ মাসুদের ১০৩।

ম্যারাথন-কলঙ্কের জন্য আজীবন বহিষ্কার

দক্ষিণ এশীয় গেমসের শেষ দিনের ‘ম্যারাথন-নাটকে’ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় শাস্তি পেলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কাল বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভায় ইভেন্টের কোর্স ও পরিমাপের দায়িত্বে থাকা প্রধান বিচারক জহিরুল হককে আজীবন বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ম্যারাথন পরিমাপ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে দুই বছরের জন্য। এ ছাড়া সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে রেফারি মঈন উদ্দীন আহমদকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ম্যারাথনের দৈর্ঘ্য হওয়া উচিত ৪২ কিলোমিটার। কিন্তু এসএ গেমসের ম্যারাথন শেষে দেখা যায়, সেখানে আসলে দৈর্ঘ্য ছিল ৩৭ কিলোমিটার!

বেঙ্গালুরুর মাঠ দেখে অসন্তুষ্ট আইসিসি

২০১০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতের যে আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, তার একটি বেঙ্গালুরুর চিনাস্বামী স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আইসিসি। ভারতের বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলো পরিদর্শনের পর আইসিসির পিচ পরামর্শক অ্যান্ডি অ্যাটকিনসন এই মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে আইসিসির উদ্বেগ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মাঠের তত্ত্বাবধানকারী কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ‘আইসিসির (পর্যবেক্ষক) দল যখন এসেছিল তখন আমাদের ক্রিকেট মৌসুম শেষ। পিচ ছিল পুরোপুরি এবড়োখেবড়ো। ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টির জন্য কী রকম পিচ দরকার সেটা মাথায় আছে আমাদের’—বলেছেন সংস্থার সচিব ব্রিজেশ প্যাটেল।

আর্জেন্টিনা দলে আবার স্যামুয়েল

২০০৬ সালের পর আর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলা হয়নি ওয়াল্টার স্যামুয়েলের। তার পরও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে পারেন ইন্টার মিলান ডিফেন্ডার। জার্মানির বিপক্ষে আগামী মাসের প্রীতি ম্যাচের জন্য ডিয়েগো ম্যারাডোনা দলে রেখেছেন তাঁকে।
স্যামুয়েল অবশ্য এর আগেও একবার ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা দলে ডাক পেয়েছিলেন। গত বছর মার্চে ভেনেজুয়েলা এবং বলিভিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচের জন্য দলে ডাকলেও তাঁকে মাঠে নামাননি ম্যারাডোনা। ৩ মার্চ জার্মানির বিপক্ষে স্যামুয়েলের গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি উঠবেই, সেই নিশ্চয়তাও দেননি কোচ।
নিশ্চয়তা নেই বিশ্বকাপে খেলারও। এ পর্যন্ত এক শর বেশি খেলোয়াড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছেন ম্যারাডোনা। তবে খেলোয়াড় দেখার কাজটা নাকি এবার শেষ হয়েছে। এখন বিশ্বকাপের দল বাছতে শুরু করেছেন তিনি, ‘বিশ্বকাপে থাকবে এমন খেলোয়াড়দের প্রায় ৫০ শতাংশকে আমি ফোন করেছি। কথা বলেছি ওদের সঙ্গে।’

আজ দিল্লি যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা জয়ের স্মৃতি এখনো তরতাজা। সেই রেশ কাটতে না-কাটতেই এবার কমনওয়েলথ শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছে বাংলাদেশ শ্যুটিং দল। আজ বিকেল ৫টায় ঢাকা ছাড়বেন ১১ খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা। গতকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও বাংলাদেশের ইভেন্ট শুরু হবে আগামীকাল। প্রতিযোগিতা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওয়ালস, জিব্রাল্টার, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ১৬৩ জন শ্যুটার।
বাংলাদেশ দল: আবদুল্লাহ হেল বাকি, আসিফ হোসেন খান, আলতামাস কবির, ইকবাল ইসলাম, নূরুদ্দিন, শোভন চৌধুরী, তৌফিক শাহরিয়ার, সাবরিনা সুলতানা, সাদিয়া সুলতানা, তৃপ্তি দত্ত, শারমিন আক্তার ওরফে রত্না।

তুরস্কের কোচ হলেন হিডিঙ্ক

এক কান, দুই কান করে কথাটা জেনে গিয়েছিল অনেকেই—তুরস্কের কোচ হচ্ছেন গাস হিডিঙ্ক। অনুমানটা সত্যি হলো। কাল তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশন হিডিঙ্ককে কোচ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের দায়িত্বটা আগামী আগস্ট মাসে নেবেন এই ডাচ কোচ। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া দলে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে।
তুরস্ককে নিয়ে হিডিঙ্কের অভিযান বলতে আপাতত ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করা। ৬৩ বছর বয়সী হিডিঙ্ক কি পারবেন? অতীত ইতিহাস তাঁর পারার পক্ষেই রায় দিচ্ছে। রাশিয়ার কোচ হওয়ার আগে নিজের দেশ নেদারল্যান্ডসহ দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে রাশিয়াকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন। ৪ বছর পর দক্ষিণ কোরিয়াকেও নিয়ে গিয়েছিলেন শেষ চারে। আর রাশিয়াকে তুলেছিলেন ২০০৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে।

হারলেও খারাপ খেলেনি বাহরাইন

সরকারি ভাষা আরবি, কিন্তু বাহরাইনের ক্রিকেটাররা সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন উর্দুতে! দলের সব ক্রিকেটারই যে পাকিস্তানি! জীবিকার তাগিদে একসময় বাহরাইনে গিয়েছিলেন, এখন ক্রিকেটটাও খেলছেন। তার ওপর ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে কাল ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর একটু পরই নেমে যেতে হয়েছে মাঠে। সদ্য আইসিসি ক্রিকেট লিগের ডিভিশন ফাইভে উন্নীত দলটি তবুও খুব খারাপ খেলেনি জিপি-বিসিবি জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটে হারলেও ১৪৫ রানের পুঁজি নিয়েও কিছুটা বিপদে ফেলতে পেরেছিল স্বাগতিকদের।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি বাহরাইনের। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৯ করার পর একপর্যায়ে ১৮ ওভারে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ৮৯। কিন্তু ইমতিয়াজ হোসেনের বোলিং-তোপে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ১৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইমতিয়াজ, ২৯ রানে দুটি অধিনায়ক তানভীর হায়দার। বাহরাইনের একমাত্র ফিফটি ওপেনার ইমরানের (৫৮)। বোলিংয়ে শুরুতে চমকে দিয়েছিল বাহরাইন। ১০ রানেই তুলে নিয়েছিল জিপি-বিসিবির ৩ উইকেট। ৫ নম্বরে নেমে ৫৪ বলে ৬২ রান করেন আরিফুল হক, ২৪ বলে অপরাজিত ২৫ তানভীর। জিপি-বিসিবি জিতে যায় ১৮ ওভার বাকি থাকতে। দুই দলের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান ইমতিয়াজ ও ইমরান। জিপি-বিসিবি একাডেমির পক্ষ থেকে বাহরাইনের অধিনায়ক ইয়াসির ও কোচ মহসিন কামালের হাতে স্মারক তুলে দেন একাডেমির ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান শাকিল কাশেম।

এবার তিন দিনে হারল রাজশাহী

গত ১০ বছর একটা আক্ষেপ বুকে পুষে রেখেছিলেন ফয়সাল হোসেন। নিজের প্রথম জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর বিপক্ষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর পর থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিল কোন দিন রাজশাহীর বিপক্ষে সেঞ্চুরি করবেন। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল কাল প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের নবম সেঞ্চুরি দিয়ে। রাজশাহীর বিপক্ষে ফয়সাল করেছেন তাঁর পরম কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিটি।
ফয়সালের আক্ষেপ ঘোচানোর দিনে বগুড়ায় চমক দেখিয়েছে তাঁর দল চট্টগ্রাম, তিন দিনেই হারিয়ে দিয়েছে শীর্ষে থাকা রাজশাহীকে। এবারের জাতীয় লিগে প্রথম হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানি, ২ উইকেট নিয়ে বল হাতেও ভূমিকা রেখেছেন ফয়সাল। রাজশাহীর টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের দিনে প্রথম পরাজয়ে প্রহর গুনছে ঢাকা। চট্টগ্রামে ৪৫৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪১ রান তুলতেই তারা হারিয়েছে ৪ উইকেট।
আগের দিন ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন ফয়সাল, কাল করলেন আরও ঠিক ৩৮। ১১৪ বলে সেঞ্চুরির পরের বলেই আউট। এই বাঁহাতির সেঞ্চুরির সৌজন্যে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় ইনিংসে করেছে ২৫০ রান। ১৯১ রানের সহজ লক্ষ্যে রাজশাহী এগিয়ে যাচ্ছিল সহজেই। একটা পর্যায়ে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬৩ রান, তখনই ধসের শুরু। ফরহাদ ও আনিসুরকে আউট করেন ফয়সাল। বাকি ৬ উইকেট নিয়ে পরের কাজটুকু একাই সেরেছেন ইলিয়াস সানি। ৫৬তম ওভারের প্রথম তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে শেষ করে দিয়েছেন রাজশাহীর ইনিংস। ৮৭ রান করে লড়াই করে গেছেন ওপেনার জহুরুল ইসলাম।
আগের দিন ৩ উইকেটে ১৯৮ রান করা খুলনা কাল অলআউট হয়েছে ৩২৫ রানে। ৩ উইকেট নিয়েছেন রনি তালুকদার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এর আগে সাকল্যে উইকেট ছিল দুটি, মাহবুবুলের জ্বর ও শরীফের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ায় বল হাতে নিয়ে এই এক ম্যাচেই নিলেন ৬ উইকেট। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ৩১৮ রান, খুলনার কেবল ৬ উইকেট।

জাতীয় বক্সিং আগামী মাসে

মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে আগামী ১ মার্চ শুরু হচ্ছে সাউথইস্ট ব্যাংক জাতীয় জুনিয়র ও ইন্টারমিডিয়েট বক্সিং প্রতিযোগিতা। পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রুপে ২৫, ২৯, ৩৫, ৪২ ও ৪৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে এবং ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে ৪৮, ৫১, ৫৪, ৫৭ ও ৬০ কেজি ওজন শ্রেণীতে খেলা হবে। এতে অংশ নিচ্ছে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সার্ভিসেস সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড ও স্বীকৃত বক্সিং ক্লাবগুলো।

আইপিএলের জন্য দুঃসংবাদ, সুসংবাদ

কট্টরপন্থী শিবসেনার হুমকি, আইপিএলের আয়োজন পণ্ড করে দেওয়া হবে। আল-কায়েদার হুমকি, অপহরণ করা হবে বিদেশি খেলোয়াড়দের। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ম্যাচগুলো সরিয়ে মুম্বাই আর আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ডেকান চার্জার্স তো পরশু উকিল নোটিশ দিয়েই হুমকি দিয়ে রাখল আইপিএল বয়কটের। ওদিকে বার্তা সংস্থাগুলো আইপিএল বয়কট করে বসে আছে দুই আসর ধরেই। লোলিত মোদির জন্য সর্বশেষ দুঃসংবাদটি হলো, এবার আইপিএল বয়কট করতে চলেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোও।
কারণটা একই—আইপিএলের মিডিয়া নির্দেশিকা। যেটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য হুমকি বলে মনে করছে। এ কারণে দ্য নিউজ ব্রডকাস্টার অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) আগামী আসর বয়কট করবে বলে গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনবিএর সদস্য হিসেবে আছে ৩৪টি টিভি চ্যানেল। ফলে সমঝোতার জন্য দরকষাকষি করতে হলে মোদিরাই কোণঠাসা অবস্থায় থাকবে। এর আগের দুটো আসরে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। এএফপি, এপি, রয়টার্স, গেটি ইমেজের মতো প্রধান প্রধান বার্তা সংস্থা আর সংবাদমাধ্যম আইপিএলের ‘মিডিয়া গাইডলাইন’ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
আইপিএলের জন্য একটা সুখবর অবশ্য আছে। বাণিজ্যিকভাবে সফল প্রমাণিত এই টুর্নামেন্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি ক্লাব। আইপিএলে নতুন যে দুটো দল যুক্ত হবে, তারই একটি কিনতে চান প্রিমিয়ার লিগের একজন মালিক। মোদি অবশ্য কারও নাম প্রকাশ করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগ্রহী ক্লাবটির নাম ম্যানচেস্টার সিটি।

বাটের প্রস্তাব মিয়াঁদাদের প্রত্যাখ্যান

জাভেদ মিয়াঁদাদ তাঁর বিরুদ্ধে একশ একটা কথা বলতে পারেন। তাই বলে মিয়াঁদাদের ক্রিকেটীয় পাণ্ডিত্যকে একটুও অশ্রদ্ধা করছেন না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাট। বরং তাঁর কট্টর সমালোচক মিয়াঁদাদকেই তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার।
বর্তমানে পিসিবির মহাপরিচালকের দায়িত্বে আছেন মিয়াঁদাদ। আর ওই পদে থেকেই একটার পর একটা সমালোচনার তীর ছোটাচ্ছেন বাটের দিকে। বাট-মিয়াঁদাদের এই দ্বৈরথ আর পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাল ইসলামাবাদে বসেছিল সিনেটের ক্রীড়াবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভা। মিয়াঁদাদ ও বাট দুজনই উপস্থিত ছিলেন সেই সভায় এবং সেখানেই পিসিবি সভাপতি সাবেক কোচ আর অধিনায়ক মিয়াঁদাদকে নতুন করে পাকিস্তান দলের দায়িত্ব নিতে বলেছেন।
সভায় স্থায়ী কমিটির কাছে মিয়াঁদাদ অভিযোগ করেছেন—বোর্ড সভাপতি গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে তাঁকে পাশ কাটিয়ে যান, সাবেক কোচ আর ক্রিকেট অধিনায়ক হওয়ার পরও তাঁকে কোনো কাজ দিতে চান না। কিন্তু বাট বলেছেন অন্য কথা। মিয়াঁদাদের ক্রিকেটীয় সামর্থ্যে নাকি তাঁর যথেষ্টই শ্রদ্ধা। পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বটাও তাই তাঁকেই দিতে চান এবং এই প্রস্তাব নাকি বাট মিয়াঁদাদকে আগেও দিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সভায় মিয়াঁদাদ বাটের অনুরোধ আরও একবার প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তাঁর পক্ষে এখন স্থায়ীভাবে কোচের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।
বোর্ড সভাপতি আর কোচের এই বাগ্যুদ্ধের মধ্যেই সাবেক ব্যাটসম্যান মুদাসসর নজর বলছেন, মোহাম্মদ ইউসুফ ও শোয়েব মালিক দুজনকেই দল থেকে বের করে দেওয়া উচিত। মুদাসসরের ক্ষোভের কারণ, এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। ‘এই দুই ক্রিকেটারই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছে। সারা বিশ্বের সামনে তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারে না’—পাকিস্তান ডট নেট ওয়েবসাইটে বলেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
পাকিস্তান ক্রিকেটের সমালোচনা আরও আছে। সাবেক প্রধান নির্বাচক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ইজাজ আহমেদকে পাকিস্তানের কোচ করার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। প্রসঙ্গত, দুবাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য সাবেক ব্যাটসম্যান ইজাজ আহমেদকে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব।

কুকের ডেপুটি পিটারসেন

কেভিন পিটারসেনের জন্য আসন্ন বাংলাদেশ সফরটা হতে পারে নতুন করে শুরু করার মঞ্চ। অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের ডেপুটি হিসেবেই হয়তো বাংলাদেশে আসছেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান।
নানা কারণেই ইংল্যান্ড দলে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না কেভিন পিটারসেনের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থই বলতে পারেন তাঁকে। অধিনায়ক থাকার সময় সাবেক কোচ পিটার মুরস আর তাঁর সহকারী কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হারিয়েছেন নেতৃত্ব। নিজেই এখন কোচ হলেও পূর্ব ‘শত্রুতা’ ভুলে পিটারসেনের সহ-অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাটাকে উজ্জ্বল করে তুলেছেন ফ্লাওয়ারই।
পিটারসেনের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই নাকি এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ফ্লাওয়ার জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা সফরের শুরুতে দেবেন তাঁরা, ‘কুকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে আমার। বাংলাদেশ সফরের শুরুতে আমরা সহ-অধিনায়কের নাম ঘোষণা করব।’
এদিকে অধিনায়কত্ব পেয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে কুককে। দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দ্য সানকে বলেছেন, অধিনায়কত্বটা নিজের মতো করেই করতে চান তিনি, ‘আগামী ছয় মাস আমি সম্পূর্ণ আমার মতো থাকব। অধিনায়কত্বটা আমি নিজের মতো করেই করব।’ আগামী ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি হবে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর তিন ওয়ানডে আর দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড দল।

আবার চিকিৎসক শরণে অস্ট্রেলিয়ার পথে মাশরাফি

আশা ছিল নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সেখান থেকেই অস্ট্রেলিয়া যাবেন ডেভিড ইয়াংকে দেখাতে। জ্বর-সর্দি-কাশিতে পড়ে সেটা তো আর হলো না। আজ রাতে তাই ঢাকা থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে মেলবোর্নে মাশরাফির দুই হাঁটুর অবস্থা পরীক্ষা করে দেখবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ডেভিড ইয়াং। যদি তিনি ছাড়পত্র দেন, তাহলে ২২ তারিখের মধ্যেই ঢাকা ফিরে মাশরাফি যোগ দেবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের অনুশীলনে। তবে স্বাভাবিক হাঁটাচলায় সমস্যা না হলেও অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে একটু সংশয়াচ্ছন্নই মনে হচ্ছে জাতীয় দলের এই পেসারকে, ‘অ্যাজমার সমস্যা এখনো পুরো যায়নি। এই সমস্যার কারণে ফিটনেস ট্রেনিংগুলো ঠিকভাবে করতে পারিনি। বুঝতে পারছি না ডাক্তার দেখে কী বলবেন। কয়েকটা ম্যাচ খেলে যেতে পারলে নিজের অবস্থাটা বুঝতাম।’
ওদিকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মাশরাফিকে জানানো হয়েছে, শেন বন্ড আর ডেভিড হাসির সঙ্গে আপাতত তাঁকেও রাখা হচ্ছে না প্রাথমিক দলে। কারণ ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ওই সময়টাতে মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই ব্যস্ত থাকার কথা।

আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন না আমিনুলরা

হোটেলে ফেরার জন্য অপেক্ষমাণ বাসে উঠতে কর্তাদের তাড়া। নিজেদের মধ্যে ম্যাচ নিয়ে কথা বলার সময়ও হাতে নেই। তবে যতটা উচ্ছ্বাস থাকতে পারত, ততটা ছিল না। তাজিকিস্তান-বধের পর বাংলাদেশ ড্রেসিং রুমে আনন্দের আবহটা সীমা ছাড়িয়ে যায়নি।
অধিনায়ক আমিনুলের গলাটা শোনাল বেশ শান্ত। ‘আমি আগেই বলেছি আমাদের প্রথম লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা। আমরা এসএ গেমসে যে ফুটবলটা খেলেছি, সেটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। আমরা পুরোপুরি না পারলেও অনেকাংশেই পেরেছি। আমাদের আরও পারতে হবে। আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। তবে এই জয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার কিছু নেই।’
সহখেলোয়াড়দের ধন্যবাদ আর প্রশংসা করতে ভোলেননি অধিনায়ক, ‘সবাই দারুণ খেলেছে। ডিফেন্ডারদের কথা আলাদা করে বলব। এক্সিলেন্ট। আমরা প্রেসিং ফুটবল খেলেছি। এটা অব্যাহত রাখতে চাই। এরপর জয়-পরাজয় দেখব আমরা।’
২০০৬ প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের চ্যাম্পিয়ন দলকে হারানো গেছে। পরের চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৪-১ গোলে হেরে গেলেও তাজিকিস্তানের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোটা স্ট্রাইকার এমিলির কাছে ব্যতিক্রম জয়ের আনন্দই। ‘এসএ গেমসে টানা ৫ জয়ের পর আমাদের লক্ষ্য ছিল এটাকে টেনে নেব। আমরা ওদের গতিতেই হারিয়েছি। ওরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কারও সঙ্গেই পারেনি। স্কিলে আমরা সব সময়ই ভালো। আজ ৯০ মিনিট টানা একতালে খেললাম। এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমরা আগে যেমন ওদের কাছে ৪-৫ গোলে হারতাম, আজ উল্টো আমরা ৪-৫ গোলে জিততে পারতাম।’
ডিফেন্ডার নাসিরের কথা, ‘শুধু আমি নই। সবাই খুব ভালো খেলেছে। স্পিড, স্কিল সব বিভাগেই আমরা ওদের হারিয়েছি আজ।’ জয়সূচক গোলদাতা ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান ওরফে মিশু বললেন, ‘তাজিকিস্তান হয়তো আমাদের চেয়ে শক্তিশালী, অনেক গোল খেতাম। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল, এসএ গেমসে যে ফুটবলটটা খেলেছি, সেই প্রেসিং ফুটবলটা এখানেও খেলে যাব। এতেই আমাদের কাজ হয়েছে। আমরা প্রেসিং করাতে ওরা ভড়কে গেছে। আমরা তো নতুন একটা খেলা শুরু করেছি। ওরা ধন্দে পড়ে গেছে। ওদের জোনে ওদের প্রেস, এটাই হচ্ছে জেতার রহস্য।’
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সাইফুল বারী বেশ খুশি, ‘খেলোয়াড়দের বারবার বলেছি, এসএ গেমসে আমরা যে ফুটবলটা খেলেছিলাম, সেটা এখানেও কেন খেলা যাবে না। আমরা মনে হয়, চিন্তা করে যে খেলা—কোন জায়গায় বল, আমার কী করা উচিত—এই জিনিসটা ভালো কাজ করেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচকে প্রশ্ন শুনতে হলো, ‘এখন কি মনে করেন বাংলাদেশ অনেক দূর যেতে পারে। আপনাদের লক্ষ্য তো এখন বেড়ে গেল তাই না?’ সাইফুল রাকঢাক রেখেই উত্তর দিয়ে গেলেন। কখনো বললেন, ‘অবশ্যই প্রথম ম্যাচ জেতায় আমরা ভালো কিছুর আশা নিয়েই সামনে এগোব।’ আবার কখনো বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ভালো খেলেছি। তবে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করতে হবে’, ‘তাজিকিস্তান হয়তো আশাই করেনি বাংলাদেশ আক্রমণ করে খেলবে। ধরে নিয়েছে বাংলাদেশ পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলবে।’
জর্জেভিচ নাটক দেখতে দেখতেই কলম্বো আসা। তবে মাঠে এর প্রভাব নেই। যেমন মাঠে আসার আগেই কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বাবলু বলছিলেন, ‘ওদের হারাব দেখবেন।’ হারিয়ে দিয়ে কথা রেখেছে বাংলাদেশ দল!