Showing posts with label ইফতেখার মাহমুদ. Show all posts
Showing posts with label ইফতেখার মাহমুদ. Show all posts
Tuesday, September 24, 2019
২ লাখ ৮০ হাজার একর বনভূমি বেদখল by ইফতেখার মাহমুদ ও রিয়াদুল করিম

গত
দুই বছর চার মাসে দেশের প্রায় ১১ হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। আর
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশে বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ বেড়ে
দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার একর, যা পুরো মাগুরা জেলার আয়তনের সমান। বিভিন্ন
প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব বনভূমি অবৈধভাবে দখল করেছে। দখলকারীরা
বেশির ভাগই প্রভাবশালী। তারা বনভূমি ধ্বংস করে বসতি ও শিল্পকারখানা গড়ে
তুলেছে। বন বিভাগের প্রতিবেদনেই এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৯ জুলাই ২০১৯ সোমবার পরিবেশ, বন ও
জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে বন বিভাগ
এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে দখল হওয়া বনের পরিমাণ আরও
বেশি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও বনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। গত ২৬ জুলাই
পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ থেকে প্রকাশিত বিশ্বের
বনভূমি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৩
লাখ ৭৮ হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে, যা দেশের মোট বনভূমির প্রায় ৮ শতাংশ।
এর মধ্যে শুধু ২০১৭ সালেই দেশে সর্বোচ্চ, প্রায় ৭০ হাজার একর বনভূমি উজাড়
হয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে উজাড় হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৩ একর বনভূমি।
বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৯৩ একর বনভূমি একসময় সংরক্ষিত বন ছিল। বরাদ্দ দেওয়ার সময় এসব বনভূমির সংরক্ষিত বনের সুরক্ষা বাতিল করা হয়।
বর্গকিলোমিটারে হিসাব করলে স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো মাগুরা জেলার (১ হাজার ৪৯ বর্গকিলোমিটার) চেয়েও বড়। আর বরাদ্দ ও বেদখল মিলিয়ে মোট বনভূমি ১ হাজার ৭৮০ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের অন্যতম বড় জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের (১ হাজার ৭০২ বর্গকিলোমিটার) চেয়ে বড়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বেদখল হওয়া জমির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছি। এখন আরও বিস্তারিত তথ্য জোগাড়ের কাজ চলছে। এরপর আমরা এসব বনভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেব।’
কোথায় বেড়েছে, কোথায় কমেছে
সরকারি হিসাবে (২০১৬ সালের ডিসেম্বর) দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৯ দশমিক ১৭ একর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর। আর বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ভূমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ দশমিক ৬১ একর।
গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এই সময়ে অঞ্চলটিতে ২৪ হাজার ৩৩২ একর বনভূমি দখল হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৪১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায়। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ২ হাজার ৮৩৪ একর, বগুড়া অঞ্চলে ৪ হাজার ৯৯২ একর এবং বন্য প্রাণী অঞ্চলে ৫১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে।
অন্যদিকে কিছু এলাকায় গত দুই বছরে বনভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে (ঢাকা) দুই বছরে ২১ হাজার ৯৭৭ একর ভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৪২ একর বনভূমি বেদখলে ছিল। বন বিভাগের নানা উদ্যোগে এসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও বর্তমানে এই অঞ্চলের বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ একর।
স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া বনভূমি নিয়ে প্রতিবেদন
গত ২ বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল চট্টগ্রাম অঞ্চলে
প্রভাবশালী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান বনভূমি অবৈধভাবে দখল করেছে
প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার (আইইউসিএন) হিসাবে পৃথিবীতে যে পরিমাণে কার্বন নিঃসরিত হয়, তার অর্ধেকের বেশি গাছ শুষে নেয়। বিশ্বের বৃষ্টি ও নদী দিয়ে আসা মিঠাপানির ৭০ শতাংশই গাছ ধরে রাখে। পৃথিবীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ এখনো বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশেও এর কাছাকাছি চিত্র দেখা যায়। একটি দেশের সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে হলে মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয়। সেখানে সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে আছে ১২ শতাংশ বনভূমি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে বনভূমি আরও বাড়াতে হবে। কিন্তু বন বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকারিভাবে ঘোষিত বনভূমিগুলোই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, আবার যাদের যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা তার চেয়ে বেশি জমি দখল করেছে। দখলদারেরা অনেক ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন বিভাগকে বলেছি, তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কোনো বনভূমি যাতে ইজারা না দেয়। আর বিপুল পরিমাণে বনভূমি দখলমুক্ত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছি।’
কোন এলাকায় কোন সংস্থার কাছে কত বনভূমি
বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৫৬ একর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮৭ হাজার ২৪৩ দশমিক ৩৭ একর, উপকূলীয় এলাকায় ১৭ হাজার ৬৫২ দশমিক ৩৬ একর, রাঙামাটি অঞ্চলে ১৪ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৮৫ একর, বগুড়া অঞ্চলে ১৪ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৬২ একর, ঢাকা সামাজিক বন অঞ্চলের ৩১৮ দশমিক ৫১ একর এবং বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের ৩ হাজার ২২৫ দশমিক ৩১ একর বনভূমি বেদখলে আছে। এর বাইরে খুলনা অঞ্চলের কত পরিমাণ বনভূমি বেদখলে আছে, তার হিসাব দেওয়া হয়নি।
সরকারিভাবে বনভূমি বরাদ্দ পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনী ৯২ হাজার ৫১৯ একর, বিমানবাহিনী ১ হাজার ১৪৯ একর, নৌবাহিনী ১৬৭ একর, র্যাব ৪০ একর, বিজিবি ৪৭ একর। এসব বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে মোট ৯৩ হাজার ৯২৩ একর। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৫ একর। অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছে ২৩ হাজার ১৩ একর।
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে অপরিশোধিত তেলের ডিপো (ট্যাংক ফার্ম) ও পাইপলাইন স্থাপন করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি। সোনাদিয়া দ্বীপে বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), যার বেশির ভাগ জুড়ে আছে শ্বাসমূলীয় বন। বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া বনভূমি ব্যবহৃত হচ্ছে।
দেশের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বনভূমি বেদখল হওয়া এবং বনের বাইরে গাছ কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বনভূমি মানে শুধু কিছু গাছপালা নয়। বনভূমি মানে বন্য প্রাণী ও বিচিত্র বৃক্ষরাজির জীববৈচিত্র্য। দেশের জিনগত সম্পদের সবচেয়ে বড় আধারও এসব বনভূমি। এসব বন এক দিনে তৈরি হয়নি। কিন্তু বেদখল ও বরাদ্দ পাওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে এসব বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বরাদ্দ বা বেদখল হওয়ার আগে আমরা জানতেও পারি না এসব বনে কী সম্পদ ছিল। আর আমরা কী হারালাম।’
প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন বাংলাদেশের সাবেক এই কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সরকারের উচিত হবে সামগ্রিকভাবে দেশের বনভূমির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো বনভূমি ইজারা না দেওয়া। আর বেদখল হওয়া বনভূমি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে উদ্ধার করা।
বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৯৩ একর বনভূমি একসময় সংরক্ষিত বন ছিল। বরাদ্দ দেওয়ার সময় এসব বনভূমির সংরক্ষিত বনের সুরক্ষা বাতিল করা হয়।
বর্গকিলোমিটারে হিসাব করলে স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো মাগুরা জেলার (১ হাজার ৪৯ বর্গকিলোমিটার) চেয়েও বড়। আর বরাদ্দ ও বেদখল মিলিয়ে মোট বনভূমি ১ হাজার ৭৮০ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের অন্যতম বড় জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের (১ হাজার ৭০২ বর্গকিলোমিটার) চেয়ে বড়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বেদখল হওয়া জমির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছি। এখন আরও বিস্তারিত তথ্য জোগাড়ের কাজ চলছে। এরপর আমরা এসব বনভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেব।’
কোথায় বেড়েছে, কোথায় কমেছে
সরকারি হিসাবে (২০১৬ সালের ডিসেম্বর) দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৯ দশমিক ১৭ একর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর। আর বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ভূমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ দশমিক ৬১ একর।
গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এই সময়ে অঞ্চলটিতে ২৪ হাজার ৩৩২ একর বনভূমি দখল হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৪১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায়। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ২ হাজার ৮৩৪ একর, বগুড়া অঞ্চলে ৪ হাজার ৯৯২ একর এবং বন্য প্রাণী অঞ্চলে ৫১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে।
অন্যদিকে কিছু এলাকায় গত দুই বছরে বনভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে (ঢাকা) দুই বছরে ২১ হাজার ৯৭৭ একর ভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৪২ একর বনভূমি বেদখলে ছিল। বন বিভাগের নানা উদ্যোগে এসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও বর্তমানে এই অঞ্চলের বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ একর।
স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া বনভূমি নিয়ে প্রতিবেদন
গত ২ বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল চট্টগ্রাম অঞ্চলে
প্রভাবশালী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান বনভূমি অবৈধভাবে দখল করেছে
প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার (আইইউসিএন) হিসাবে পৃথিবীতে যে পরিমাণে কার্বন নিঃসরিত হয়, তার অর্ধেকের বেশি গাছ শুষে নেয়। বিশ্বের বৃষ্টি ও নদী দিয়ে আসা মিঠাপানির ৭০ শতাংশই গাছ ধরে রাখে। পৃথিবীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ এখনো বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশেও এর কাছাকাছি চিত্র দেখা যায়। একটি দেশের সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে হলে মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয়। সেখানে সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে আছে ১২ শতাংশ বনভূমি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে বনভূমি আরও বাড়াতে হবে। কিন্তু বন বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকারিভাবে ঘোষিত বনভূমিগুলোই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, আবার যাদের যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা তার চেয়ে বেশি জমি দখল করেছে। দখলদারেরা অনেক ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন বিভাগকে বলেছি, তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কোনো বনভূমি যাতে ইজারা না দেয়। আর বিপুল পরিমাণে বনভূমি দখলমুক্ত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছি।’
কোন এলাকায় কোন সংস্থার কাছে কত বনভূমি
বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৫৬ একর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮৭ হাজার ২৪৩ দশমিক ৩৭ একর, উপকূলীয় এলাকায় ১৭ হাজার ৬৫২ দশমিক ৩৬ একর, রাঙামাটি অঞ্চলে ১৪ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৮৫ একর, বগুড়া অঞ্চলে ১৪ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৬২ একর, ঢাকা সামাজিক বন অঞ্চলের ৩১৮ দশমিক ৫১ একর এবং বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের ৩ হাজার ২২৫ দশমিক ৩১ একর বনভূমি বেদখলে আছে। এর বাইরে খুলনা অঞ্চলের কত পরিমাণ বনভূমি বেদখলে আছে, তার হিসাব দেওয়া হয়নি।
সরকারিভাবে বনভূমি বরাদ্দ পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনী ৯২ হাজার ৫১৯ একর, বিমানবাহিনী ১ হাজার ১৪৯ একর, নৌবাহিনী ১৬৭ একর, র্যাব ৪০ একর, বিজিবি ৪৭ একর। এসব বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে মোট ৯৩ হাজার ৯২৩ একর। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৫ একর। অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছে ২৩ হাজার ১৩ একর।
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে অপরিশোধিত তেলের ডিপো (ট্যাংক ফার্ম) ও পাইপলাইন স্থাপন করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি। সোনাদিয়া দ্বীপে বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), যার বেশির ভাগ জুড়ে আছে শ্বাসমূলীয় বন। বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া বনভূমি ব্যবহৃত হচ্ছে।
দেশের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বনভূমি বেদখল হওয়া এবং বনের বাইরে গাছ কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বনভূমি মানে শুধু কিছু গাছপালা নয়। বনভূমি মানে বন্য প্রাণী ও বিচিত্র বৃক্ষরাজির জীববৈচিত্র্য। দেশের জিনগত সম্পদের সবচেয়ে বড় আধারও এসব বনভূমি। এসব বন এক দিনে তৈরি হয়নি। কিন্তু বেদখল ও বরাদ্দ পাওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে এসব বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বরাদ্দ বা বেদখল হওয়ার আগে আমরা জানতেও পারি না এসব বনে কী সম্পদ ছিল। আর আমরা কী হারালাম।’
প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন বাংলাদেশের সাবেক এই কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সরকারের উচিত হবে সামগ্রিকভাবে দেশের বনভূমির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো বনভূমি ইজারা না দেওয়া। আর বেদখল হওয়া বনভূমি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে উদ্ধার করা।
Wednesday, September 18, 2019
গরু-ছাগলে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ by ইফতেখার মাহমুদ

*দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে।
*ছোট-বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
*তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ।
সংকট থেকে যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে, তার বড় উদাহরণ বাংলাদেশের গবাদি পশু খাত। চার বছর আগেও দেশের চাহিদার বড় অংশ মিটত প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ করে দেয়। এতেই বাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে গবাদিপশুর লালনপালন ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। গরু ও ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
শুধু কোরবানি ঈদের আগে দেশে ২০ থেকে ২২ লাখ গরু-ছাগল বৈধ-অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসত। সারা বছরে এই সংখ্যা ৩০ লাখে ছুঁয়ে যেত। ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোট–বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। গত তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
চার বছর আগেও শুধু কোরবানির ঈদের সময় প্রায় ২২ লাখ গরু-ছাগল ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসেছিল। গত ঈদে এসেছিল মাত্র দেড় লাখ। গত তিন বছরে চিত্র এমনই পাল্টেছে যে গত কোরবানির ঈদের হাটে প্রায় ১২ লাখ গরু-ছাগল অবিক্রীত ছিল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, গবাদিপশু পালনে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। একই সঙ্গে দেশের মাংসের চাহিদা মেটে, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হয়। ফলে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে।’
গরু-ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবে এ খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের সংখ্যা, মাংস ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন। বাংলাদেশ ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সামগ্রিকভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে ভারত ও চীন। আর গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১২তম।
শুধু উৎপাদনের দিক থেকেই নয়, গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও বাংলাদেশকে বেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ বলছে এফএওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের যমুনাপারি ছাগলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে মনে করছে সংস্থা দুটি।
পিকেএসএফের সহায়তায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ছাগল লালনপালন নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন। তাদের হিসাবে, শুধু চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে ২০ হাজার খামারে প্রায় ৫০ লাখ ছাগল লালনপালন করা হচ্ছে। এসব ছাগলের অধিকাংশই বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। পিকেএসএফের অর্থায়নে চলতি বছর গরু লালনপালন করা হয়েছে ১০ লাখ। যেগুলোর আবার বিমাও করা হয়।
গরু আমদানি কমে যাওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামার করার হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদে দেশি গরুর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশের গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গবেষণা করছেন। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গরুর চারটি জাত বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত জাত। চট্টগ্রামের লাল গরু, পাবনা গরু, উত্তরবঙ্গের ধূসর গরু ও মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের গরুর মাংসের মান ও স্বাদ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা।
জানতে চাইলে ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের গরু-ছাগল ছাড়াও ভেড়া, ঘোড়া ও মহিষের অনেকগুলো ভালো জাত আছে। সেগুলো থেকে উন্নত মানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব। বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়াকে ইতিবাচক বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠছে। সেখানে দেশি জাতের গরু-ছাগল পালিত হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে দেশি জাতগুলো রক্ষা পাচ্ছে এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় গরু–ছাগল লালনপালন, বিশেষ করে কেনাবেচায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেছে। লালনপালনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই খাতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ।
এ বছর শুধু পিকেএসএফের মাধ্যমে উৎপাদন হওয়া ১০ লাখ গরুর মধ্যে ৬ লাখ গরু বিক্রি হচ্ছে অনলাইন, সরাসরি খামার থেকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ গরু।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদেশ থেকে গরু আমদানি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। আর দেশি জাত উন্নয়নের গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো। তাহলে দেশি জাত দিয়েই আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
*ছোট-বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
*তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ।
সংকট থেকে যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে, তার বড় উদাহরণ বাংলাদেশের গবাদি পশু খাত। চার বছর আগেও দেশের চাহিদার বড় অংশ মিটত প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ করে দেয়। এতেই বাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে গবাদিপশুর লালনপালন ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। গরু ও ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
শুধু কোরবানি ঈদের আগে দেশে ২০ থেকে ২২ লাখ গরু-ছাগল বৈধ-অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসত। সারা বছরে এই সংখ্যা ৩০ লাখে ছুঁয়ে যেত। ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোট–বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। গত তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
চার বছর আগেও শুধু কোরবানির ঈদের সময় প্রায় ২২ লাখ গরু-ছাগল ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসেছিল। গত ঈদে এসেছিল মাত্র দেড় লাখ। গত তিন বছরে চিত্র এমনই পাল্টেছে যে গত কোরবানির ঈদের হাটে প্রায় ১২ লাখ গরু-ছাগল অবিক্রীত ছিল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, গবাদিপশু পালনে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। একই সঙ্গে দেশের মাংসের চাহিদা মেটে, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হয়। ফলে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে।’
গরু-ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবে এ খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের সংখ্যা, মাংস ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন। বাংলাদেশ ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সামগ্রিকভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে ভারত ও চীন। আর গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১২তম।
শুধু উৎপাদনের দিক থেকেই নয়, গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও বাংলাদেশকে বেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ বলছে এফএওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের যমুনাপারি ছাগলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে মনে করছে সংস্থা দুটি।
পিকেএসএফের সহায়তায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ছাগল লালনপালন নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন। তাদের হিসাবে, শুধু চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে ২০ হাজার খামারে প্রায় ৫০ লাখ ছাগল লালনপালন করা হচ্ছে। এসব ছাগলের অধিকাংশই বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। পিকেএসএফের অর্থায়নে চলতি বছর গরু লালনপালন করা হয়েছে ১০ লাখ। যেগুলোর আবার বিমাও করা হয়।
গরু আমদানি কমে যাওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামার করার হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদে দেশি গরুর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশের গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গবেষণা করছেন। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গরুর চারটি জাত বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত জাত। চট্টগ্রামের লাল গরু, পাবনা গরু, উত্তরবঙ্গের ধূসর গরু ও মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের গরুর মাংসের মান ও স্বাদ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা।
জানতে চাইলে ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের গরু-ছাগল ছাড়াও ভেড়া, ঘোড়া ও মহিষের অনেকগুলো ভালো জাত আছে। সেগুলো থেকে উন্নত মানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব। বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়াকে ইতিবাচক বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠছে। সেখানে দেশি জাতের গরু-ছাগল পালিত হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে দেশি জাতগুলো রক্ষা পাচ্ছে এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় গরু–ছাগল লালনপালন, বিশেষ করে কেনাবেচায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেছে। লালনপালনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই খাতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ।
এ বছর শুধু পিকেএসএফের মাধ্যমে উৎপাদন হওয়া ১০ লাখ গরুর মধ্যে ৬ লাখ গরু বিক্রি হচ্ছে অনলাইন, সরাসরি খামার থেকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ গরু।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদেশ থেকে গরু আমদানি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। আর দেশি জাত উন্নয়নের গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো। তাহলে দেশি জাত দিয়েই আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
Thursday, June 27, 2019
সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান ঝুঁকির মুখে by ইফতেখার মাহমুদ
ইউনেসকোর সুপারিশ সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি খুবই ধীর।
সুন্দরবনকে রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলে মনে করে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো। এ অবস্থায় সুন্দরবনকে বিশ্ব–ঐতিহ্যের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ইউনেসকোর বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটি।
এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলেছে, সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান অটুট রাখতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখা ও এর চারপাশের শিল্পকারখানার অনুমোদন না দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতি খুবই ধীর। অন্যদিকে সরকার সুন্দরবনের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা সুন্দরবনের জন্য আরও বড় হুমকি তৈরি করবে।
চলতি সপ্তাহে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব–ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ প্রকাশ করেছে। ৩০ জুন থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সুপারিশ হিসেবে ১০৪ পৃষ্ঠার খসড়াটি উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রতিবেদন, বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা হবে।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনকে বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান দেয় ইউনেসকো। কিন্তু তাতে শর্ত ছিল এই বনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কোনো তৎপরতা চালানো যাবে না। শর্ত লঙ্ঘনের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হলে তার বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান চলে যাবে।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব–ঐতিহ্য হিসেবে সুন্দরবনের সম্মান ধরে রাখতে বেশ কিছু নিয়ম ও শর্ত পালনের অঙ্গীকার করেছিল। সেগুলো লঙ্ঘন হলে এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হলে সেই সম্মান আর থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা একই সঙ্গে দুঃখজনক।
তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সরকারের উচিত বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির সভায় রামপালসহ সুন্দরবনের চারপাশের শিল্পকারখানাগুলো বাতিলের বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকার করা। একই সঙ্গে সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
সুন্দরবন নিয়ে ইউনেসকোর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে একমত নন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে। আর বিশ্বের অনেক দেশেই বনের পাশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রয়েছে। সেখানে কোনো দিন বনের ক্ষতি হয়নি। সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান ধরে রাখতে সরকার যুক্তি তুলে ধরবে।
বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ইউনেসকোর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দেয়। তাতে বলা হয়, সুন্দরবনের চারপাশে কোনো শিল্পকারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে গড়াই নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বাঘ রক্ষায় একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে।
সরকারের প্রতিবেদন সম্পর্কে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ বলেছিল কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার আগে সুন্দরবনের পাশে কোনো শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেবে না। ইউনেসকোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করেনি। গত বছরের এপ্রিলে সরকার সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্পকারখানার অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত ওই এলাকায় ১৫৪টি শিল্পকারখানা চালু রয়েছে।
সুন্দরবনকে রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলে মনে করে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো। এ অবস্থায় সুন্দরবনকে বিশ্ব–ঐতিহ্যের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ইউনেসকোর বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটি।
এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলেছে, সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান অটুট রাখতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখা ও এর চারপাশের শিল্পকারখানার অনুমোদন না দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতি খুবই ধীর। অন্যদিকে সরকার সুন্দরবনের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা সুন্দরবনের জন্য আরও বড় হুমকি তৈরি করবে।
চলতি সপ্তাহে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব–ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ প্রকাশ করেছে। ৩০ জুন থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সুপারিশ হিসেবে ১০৪ পৃষ্ঠার খসড়াটি উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রতিবেদন, বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা হবে।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনকে বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান দেয় ইউনেসকো। কিন্তু তাতে শর্ত ছিল এই বনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কোনো তৎপরতা চালানো যাবে না। শর্ত লঙ্ঘনের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হলে তার বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান চলে যাবে।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব–ঐতিহ্য হিসেবে সুন্দরবনের সম্মান ধরে রাখতে বেশ কিছু নিয়ম ও শর্ত পালনের অঙ্গীকার করেছিল। সেগুলো লঙ্ঘন হলে এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হলে সেই সম্মান আর থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা একই সঙ্গে দুঃখজনক।
তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সরকারের উচিত বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির সভায় রামপালসহ সুন্দরবনের চারপাশের শিল্পকারখানাগুলো বাতিলের বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকার করা। একই সঙ্গে সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
সুন্দরবন নিয়ে ইউনেসকোর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে একমত নন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে। আর বিশ্বের অনেক দেশেই বনের পাশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রয়েছে। সেখানে কোনো দিন বনের ক্ষতি হয়নি। সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনের বিশ্ব–ঐতিহ্যের সম্মান ধরে রাখতে সরকার যুক্তি তুলে ধরবে।
বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ইউনেসকোর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দেয়। তাতে বলা হয়, সুন্দরবনের চারপাশে কোনো শিল্পকারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে গড়াই নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বাঘ রক্ষায় একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে।
সরকারের প্রতিবেদন সম্পর্কে বিশ্ব–ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ বলেছিল কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার আগে সুন্দরবনের পাশে কোনো শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেবে না। ইউনেসকোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করেনি। গত বছরের এপ্রিলে সরকার সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্পকারখানার অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত ওই এলাকায় ১৫৪টি শিল্পকারখানা চালু রয়েছে।
![]() |
| চারপাশে শিল্পের প্রসারে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকিতে। সম্প্রতি খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকাসংলগ্ন সুন্দরবনে। ছবি: সাদ্দাম হোসেন |
Thursday, May 30, 2019
বছরে খরচ বাড়ছে ১ টাকা, দাম কমছে ৬ টাকা by ইফতেখার মাহমুদ ও সাজেদুল আলম
ইফতেখার মাহমুদ ও সাজেদুল আলম, প্রথম আলো সিরাজগঞ্জ থেকে -২৭ মে ২০১৯:
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্যগুদামের সামনে জনা বিশেক কৃষকের ভিড়। সবার সঙ্গে একটি
করে ভ্যান ও তার ভেতরে বস্তায় ভরা ধান। সময় তখন সকাল ১০ টা। গুদামের
দায়িত্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক এলেন বেলা পৌনে ১১টায়। ধান নিয়ে আসা কৃষকেরা
তাঁকে ঘিরে ধরলেন। দু–তিনজন কৃষক একসঙ্গে বললেন, ‘আপনাদের ধান দিতি পারলি
খরচটা কোনোমতে উঠে। হাটে নিলে তো অর্ধেক দামও পাচ্ছি না।’ গুদামে ধান নিয়ে
আসা কৃষক রহমান আলীর কাছে জানতে চাইলাম, প্রতি বিঘায় কত খরচ হয়েছে? ধান
পাচ্ছেন কী পরিমাণে? দাম পাচ্ছেন কত টাকা। খরচ কী গত বছরের তুলনায় বেড়েছে?
এতগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে করাতে কিছুটা ভড়কে গেলেন রহমান আলী। সাদা শ্মশ্রুমণ্ডিত প্রবীণ কৃষক মো. ফোরকান বলতে শুরু করলেন, ‘এই হিসাব অত সহজ না। এই ধরেন গিয়া যদি আমি নিজের জমি নিজে চাষ করি, তা–হইলে হিসাব এক রকম। আর অন্যের জমি বর্গা নেই তা–হইলে খরচ আরও বেশি।’
রহমান আলী এবার মুখ খুললেন। বললেন, ‘আমাগের নিজের জমিতে চাষ করেছি ছয় বিঘা, আর বর্গা নিছি চার বিঘা। নিজের জমিতে লোকসান বিঘায় ছয় হাজার টাকা। আর বর্গার জমিতে লোকসান ১০ হাজার টাকা। সরকারি গুদামে ধান দিতি না পারলে লোকসান হবেই।’
গত বছরের চেয়ে খরচ কী বেড়েছে? মো. ফোরকান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক সোহেল রানাকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওরে দিয়া এক বিঘা জমির ধান কাটাইছি সাড়ে তিন হাজার টাকায়। আর রোয়া গাড়াইতে (চারা রোপণ) খরচ পড়ছিল আড়াই হাজার টাকা। গত বছর ওরে দিয়াই রোয়া গাড়ানো আর ধান কাটাইছি। নিছিল সব মিলাইয়া চার হাজার টাকা।’ এবার জমিতে সেচের পানির খরচও ৫০০ টাকা বেড়ে গেছে। জানালেন আরেক কৃষক আবদুর রহমান।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ কৃষক সোলায়মান ইসলাম বলেন, এখন সেচের পানি দেওয়ার নিয়মও বদলে গেছে। সব সেচপাম্পের মালিক হচ্ছেন নেতারা। বীজ, রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক, ধান কাটার খরচ বাবদ বেশির ভাগ ধানই তাঁদের চলে যায়। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমাগের নিজের শ্রম আর জমির ভাড়া তো বাদই দিলাম।’
খরচ বাড়ছে কেজিতে ১ টাকা, দাম কমছে ৬ টাকা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলার দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক হাবিবুল হক জানালেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় ধানের উৎপাদন খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। শুরুতে খরচের যে হিসাব তাঁরা করেছিলেন, এবার ধান কাটার সময় মজুরির খরচ তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকের আসলেই লোকসান হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সিরাজগঞ্জে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে ২৩ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে জানিয়ে হাবিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে ও রোপণ করতে প্রতি বিঘায় বড়জোর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ পড়বে। আর সেখানে কৃষিশ্রমিক দিয়ে করাতে পাঁচ–ছয় হাজার টাকা লেগে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সারা দেশের জন্য করা গড় উৎপাদন খরচকে অবশ্য একটু রক্ষণশীলই বলা যায়। সংস্থাটির হিসাবে, গড়ে দেশে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ১ টাকা করে বাড়ছে। চলতি ২০১৮–১৯ অর্থবছরে খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তা ছিল ২৪ টাকা আর ২০১৬–১৭ অর্থবছরে ছিল ২২ টাকা।
আবার বেশির ভাগ কৃষকই সরকারের কাছে ধান বেচতে পারেন না। তাই তাঁদের বাধ্য হয়ে ফড়িয়া ও চালকলের মালিকদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়। সিরাজগঞ্জ জেলার চালকলের মালিক ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ বছর সরকারের বাইরে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকায়। গত বছর তা ছিল ২৪ থেকে ২৬ টাকা। আর তার আগের বছর ২৮ থেকে ৩২ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বাড়ছে গড়ে ১ টাকা করে। আর কেজিপ্রতি দাম কমছে ৬ টাকা করে।
সিরাজগঞ্জে প্রতি কেজি ধান।
কৃষি মজুরি ও সেচে খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
বিপাকে প্রায় ৫ লাখ কৃষক।
বেশি ক্ষতি বর্গাচাষিদের।
প্রায় ৫ লাখ কৃষক বিপাকে, বেশি লোকসান বর্গাচাষির
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সোবহান জানালেন, জেলায় এবার প্রায় ২৮ হাজার টন বোরোর চাল ও ৫ হাজার ৮৮১ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। তাঁরা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত ধান–চাল কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৫ হাজার ৩৯৭ টন চাল ও ৬৯৯ টন ধান কেনা হয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ খাদ্য অধিদপ্তর যত দ্রুত ধান–চাল কিনুক না কেন তাদের এই কেনা থেকে কৃষকদের কতজন লাভবান হচ্ছেন, তা অবশ্য পরিসংখ্যান দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ কৃষক বর্গাচাষি। তাঁদের নিজের কোনো জমি নেই।
জেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জেলায় এ বছর এক বিঘা ধানের জমি বর্গা নিতে মালিককে দিতে হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এই বর্গাচাষিরা মূলত ধার করে জমি চাষের খরচ জোগাড় করে থাকেন। ফলে ধান ওঠার পরপরই তাঁরা হাটে তা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। তাঁদের ধানের নিজস্ব গোলাও নেই। বড় ও মাঝারি কৃষকের নিজের জমির পাশাপাশি গোলাও আছে। ফলে তাঁদের পক্ষে ধান মজুত করে রাখা সম্ভব।
জেলা খাদ্যগুদাম থেকে বের হওয়ার সময় রিকশায় করে ধান নিয়ে আসছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের সয়দাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মালেক। সরকারি গুদামের সামনে ধানের বস্তা নামাতে নামাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আর কৃষক থাইকতে পারলাম না। সামনের বছর থেকে অন্যের জমিতে মজুরি দিব। তাতে পেটে কয়টা দানা–পানি হলেও পড়বে।’
এতগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে করাতে কিছুটা ভড়কে গেলেন রহমান আলী। সাদা শ্মশ্রুমণ্ডিত প্রবীণ কৃষক মো. ফোরকান বলতে শুরু করলেন, ‘এই হিসাব অত সহজ না। এই ধরেন গিয়া যদি আমি নিজের জমি নিজে চাষ করি, তা–হইলে হিসাব এক রকম। আর অন্যের জমি বর্গা নেই তা–হইলে খরচ আরও বেশি।’
রহমান আলী এবার মুখ খুললেন। বললেন, ‘আমাগের নিজের জমিতে চাষ করেছি ছয় বিঘা, আর বর্গা নিছি চার বিঘা। নিজের জমিতে লোকসান বিঘায় ছয় হাজার টাকা। আর বর্গার জমিতে লোকসান ১০ হাজার টাকা। সরকারি গুদামে ধান দিতি না পারলে লোকসান হবেই।’
গত বছরের চেয়ে খরচ কী বেড়েছে? মো. ফোরকান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক সোহেল রানাকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওরে দিয়া এক বিঘা জমির ধান কাটাইছি সাড়ে তিন হাজার টাকায়। আর রোয়া গাড়াইতে (চারা রোপণ) খরচ পড়ছিল আড়াই হাজার টাকা। গত বছর ওরে দিয়াই রোয়া গাড়ানো আর ধান কাটাইছি। নিছিল সব মিলাইয়া চার হাজার টাকা।’ এবার জমিতে সেচের পানির খরচও ৫০০ টাকা বেড়ে গেছে। জানালেন আরেক কৃষক আবদুর রহমান।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ কৃষক সোলায়মান ইসলাম বলেন, এখন সেচের পানি দেওয়ার নিয়মও বদলে গেছে। সব সেচপাম্পের মালিক হচ্ছেন নেতারা। বীজ, রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক, ধান কাটার খরচ বাবদ বেশির ভাগ ধানই তাঁদের চলে যায়। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমাগের নিজের শ্রম আর জমির ভাড়া তো বাদই দিলাম।’
খরচ বাড়ছে কেজিতে ১ টাকা, দাম কমছে ৬ টাকা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলার দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক হাবিবুল হক জানালেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় ধানের উৎপাদন খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। শুরুতে খরচের যে হিসাব তাঁরা করেছিলেন, এবার ধান কাটার সময় মজুরির খরচ তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকের আসলেই লোকসান হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সিরাজগঞ্জে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে ২৩ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে জানিয়ে হাবিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে ও রোপণ করতে প্রতি বিঘায় বড়জোর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ পড়বে। আর সেখানে কৃষিশ্রমিক দিয়ে করাতে পাঁচ–ছয় হাজার টাকা লেগে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সারা দেশের জন্য করা গড় উৎপাদন খরচকে অবশ্য একটু রক্ষণশীলই বলা যায়। সংস্থাটির হিসাবে, গড়ে দেশে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ১ টাকা করে বাড়ছে। চলতি ২০১৮–১৯ অর্থবছরে খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তা ছিল ২৪ টাকা আর ২০১৬–১৭ অর্থবছরে ছিল ২২ টাকা।
আবার বেশির ভাগ কৃষকই সরকারের কাছে ধান বেচতে পারেন না। তাই তাঁদের বাধ্য হয়ে ফড়িয়া ও চালকলের মালিকদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়। সিরাজগঞ্জ জেলার চালকলের মালিক ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ বছর সরকারের বাইরে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকায়। গত বছর তা ছিল ২৪ থেকে ২৬ টাকা। আর তার আগের বছর ২৮ থেকে ৩২ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বাড়ছে গড়ে ১ টাকা করে। আর কেজিপ্রতি দাম কমছে ৬ টাকা করে।
সিরাজগঞ্জে প্রতি কেজি ধান।
কৃষি মজুরি ও সেচে খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
বিপাকে প্রায় ৫ লাখ কৃষক।
বেশি ক্ষতি বর্গাচাষিদের।
প্রায় ৫ লাখ কৃষক বিপাকে, বেশি লোকসান বর্গাচাষির
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সোবহান জানালেন, জেলায় এবার প্রায় ২৮ হাজার টন বোরোর চাল ও ৫ হাজার ৮৮১ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। তাঁরা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত ধান–চাল কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৫ হাজার ৩৯৭ টন চাল ও ৬৯৯ টন ধান কেনা হয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ খাদ্য অধিদপ্তর যত দ্রুত ধান–চাল কিনুক না কেন তাদের এই কেনা থেকে কৃষকদের কতজন লাভবান হচ্ছেন, তা অবশ্য পরিসংখ্যান দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ কৃষক বর্গাচাষি। তাঁদের নিজের কোনো জমি নেই।
জেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জেলায় এ বছর এক বিঘা ধানের জমি বর্গা নিতে মালিককে দিতে হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এই বর্গাচাষিরা মূলত ধার করে জমি চাষের খরচ জোগাড় করে থাকেন। ফলে ধান ওঠার পরপরই তাঁরা হাটে তা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। তাঁদের ধানের নিজস্ব গোলাও নেই। বড় ও মাঝারি কৃষকের নিজের জমির পাশাপাশি গোলাও আছে। ফলে তাঁদের পক্ষে ধান মজুত করে রাখা সম্ভব।
জেলা খাদ্যগুদাম থেকে বের হওয়ার সময় রিকশায় করে ধান নিয়ে আসছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের সয়দাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মালেক। সরকারি গুদামের সামনে ধানের বস্তা নামাতে নামাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আর কৃষক থাইকতে পারলাম না। সামনের বছর থেকে অন্যের জমিতে মজুরি দিব। তাতে পেটে কয়টা দানা–পানি হলেও পড়বে।’
![]() |
| ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ের দাবির মিছিলে মাথায় বস্তা নিয়ে অংশ নেন একজন। গত ২৭ মে গাইবান্ধা শহরে। ছবি: প্রথম আলো |
Friday, April 12, 2019
দেশের শতভাগ মানুষের বাস দূষিত বায়ুতে by ইফতেখার মাহমুদ

**বৈশ্বিক বায়ুদূষণের ঝুঁকিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ।
**প্রতিবেদনে বায়ুদূষণে গড় আয়ু কমা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিকে প্রাধান্য।
**বাংলাদেশের বায়ুর মান মানমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে।
**২০১৭ সালে দেশে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।
বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার একটি বাংলাদেশ। আর বায়ুদূষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম। এ কারণে ২০১৭ সালে দেশে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ুদূষণের ঝুঁকিবিষয়ক ‘দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলাম্বিয়া, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন ও হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্তমান সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের গড় আয়ু ২০ মাস কমবে। বাংলাদেশের বায়ুর মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। সংস্থাটির বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যে বায়ুর মান ধরে রাখতে পারলে যে দেশগুলো লাভবান হবে, তার মধ্যে সবার ওপরে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু তখন বাড়বে ১ দশমিক ৩ বছর। আর ভারত, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় গড় আয়ু এক বছর করে বাড়বে।
বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সরকার অনেক ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। রাস্তায় ধুলা কমাতে পানি দিচ্ছে। বায়ু দূষিত হলে জনগণকেও দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মুখে মাস্ক পরলে ব্যক্তিগতভাবেও দূষণ থেকে মানুষ রক্ষা পাবে।
মূলত বায়ুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম-২.৫ ও পিএম-১০-এর পরিমাণ মেপে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাতাসে পিএম-২.৫-এর পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলো দক্ষিণ এশিয়ার। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে হৃদ্রোগ, শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও ক্যানসারের মতো রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত শিশু ও গর্ভবতী নারীরা বায়ুদূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে। ইটভাটা, অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ও ধুলার কারণে ওই দূষণ ঘটছে।
এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এয়ারভিজ্যুয়ালের ‘বিশ্ব বাতাসের মান প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বে সবচেয়ে বায়ুদূষণের কবলে থাকা শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরের অবস্থান ১৭ তম। আর রাজধানী শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বায়ুর সঙ্গে কী ধরনের দূষিত পদার্থ নিচ্ছি, তা যদি দেখা যেত, তাহলে অনেকে হয়তো নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিত। বিশ্বের বেশির ভাগ বড় শহরে বায়ুদূষণের মানমাত্রা অতিক্রম করলে নানা ধরনের সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন বাচ্চাদের স্কুলে না যাওয়া, মাস্ক পরা, দূষিত এলাকায় না যাওয়া। দেশে বায়ুদূষণ রোধে একটি আইন প্রণয়ন করে দ্রুত তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।
**প্রতিবেদনে বায়ুদূষণে গড় আয়ু কমা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিকে প্রাধান্য।
**বাংলাদেশের বায়ুর মান মানমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে।
**২০১৭ সালে দেশে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।
বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার একটি বাংলাদেশ। আর বায়ুদূষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম। এ কারণে ২০১৭ সালে দেশে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ুদূষণের ঝুঁকিবিষয়ক ‘দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলাম্বিয়া, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন ও হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্তমান সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের গড় আয়ু ২০ মাস কমবে। বাংলাদেশের বায়ুর মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। সংস্থাটির বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যে বায়ুর মান ধরে রাখতে পারলে যে দেশগুলো লাভবান হবে, তার মধ্যে সবার ওপরে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু তখন বাড়বে ১ দশমিক ৩ বছর। আর ভারত, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় গড় আয়ু এক বছর করে বাড়বে।
বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সরকার অনেক ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। রাস্তায় ধুলা কমাতে পানি দিচ্ছে। বায়ু দূষিত হলে জনগণকেও দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মুখে মাস্ক পরলে ব্যক্তিগতভাবেও দূষণ থেকে মানুষ রক্ষা পাবে।
মূলত বায়ুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম-২.৫ ও পিএম-১০-এর পরিমাণ মেপে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাতাসে পিএম-২.৫-এর পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলো দক্ষিণ এশিয়ার। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে হৃদ্রোগ, শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও ক্যানসারের মতো রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত শিশু ও গর্ভবতী নারীরা বায়ুদূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে। ইটভাটা, অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ও ধুলার কারণে ওই দূষণ ঘটছে।
এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এয়ারভিজ্যুয়ালের ‘বিশ্ব বাতাসের মান প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বে সবচেয়ে বায়ুদূষণের কবলে থাকা শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরের অবস্থান ১৭ তম। আর রাজধানী শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বায়ুর সঙ্গে কী ধরনের দূষিত পদার্থ নিচ্ছি, তা যদি দেখা যেত, তাহলে অনেকে হয়তো নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিত। বিশ্বের বেশির ভাগ বড় শহরে বায়ুদূষণের মানমাত্রা অতিক্রম করলে নানা ধরনের সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন বাচ্চাদের স্কুলে না যাওয়া, মাস্ক পরা, দূষিত এলাকায় না যাওয়া। দেশে বায়ুদূষণ রোধে একটি আইন প্রণয়ন করে দ্রুত তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।
Sunday, March 24, 2019
২৯ নদীর দূষণ বিপজ্জনক স্তরে by ইফতেখার মাহমুদ

• আজ শুক্রবার বিশ্ব পানি দিবস পালিত হচ্ছে।
• দেশের নদীর পানি দূষণের কিছু কারণ সমীক্ষায়।
• শিল্পকারখানা বর্জ্য পরিশোধন না করে নদী ফেলছে।
• মাত্রাতিরিক্ত সার–কীটনাশকও নদীতে পড়ছে।
• গৃহস্থ বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড়ও নদী।
দেশের ২৯টি প্রধান নদ–নদীর দূষণমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এগুলোর পানির দূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ দেশের মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯টি নদী নিয়ে আরেকটি সমীক্ষা করেছে। তাতে দেখা গেছে, মাছের এসব উৎস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এসব নদীর পানিতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে।
আজ বিশ্ব পানি দিবস। এবারের দিবসের প্রধান প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’।
দেশের নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে দূষণের কিছু অভিন্ন কারণ ওই দুই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। মূলত নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ শিল্পকারখানা তাদের বর্জ্য পরিশোধন না করে নদী ফেলছে। কারখানাগুলোতে বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র থাকলেও তার বেশির ভাগই চালানো হচ্ছে না। কৃষিকাজে ব্যবহৃত হওয়া মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকও সেচের পানির সঙ্গে ধুয়ে নদীতে পড়ছে। হাটবাজার, শহর ও বস্তি এলাকার গৃহস্থ বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড়ও এই নদী।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষাটি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। সারা দেশে প্রধান নদ–নদীগুলোর পানির মান পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৩২টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র আছে। গত দুই বছরে সমীক্ষায় এসব কেন্দ্রসহ আর কোথায় কোথায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে, তা দেখা হয়।একই সঙ্গে ভূ-উপগ্রহের ছবি ও মাঠ জরিপের মাধ্যমে নতুন দূষণ এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ২৯টি প্রধান নদ–নদীর পানির দূষণ বিপজ্জনক স্তরে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন আমরা দেশের পানি, মাটি ও বায়ুদূষণ রোধে আলাদা প্রকল্প ও উদ্যোগ নিতাম। কিন্তু পরিবেশের এই সব কটি উপাদানের দূষণ পরস্পর সম্পর্কিত। যেমন মাটি দূষিত হলে তা নদীকেও দূষিত করে। বায়ু সবকিছুকেই দূষিত করে। তাই সামগ্রিকভাবে পরিবেশদূষণ রোধে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোতে সাড়ে ৪ হাজার টন বর্জ্য ও ৫৭ লাখ গ্যালন দূষিত পানি গিয়ে পড়ছে। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে আশুলিয়া, সাভার, নতুন চামড়াশিল্প নগরী, টঙ্গী এলাকায় শিল্পকারখানা বাড়ছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর তীরে, পদ্মায় মাওয়া ঘাটের পাশে, মেঘনার তীরে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। এসব কারখানার বেশির ভাগই বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র ব্যবহার করছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত বছরের অক্টোবরে মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ ৯টি নদীর ১১টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। রাজধানীর চারপাশের পাঁচটি নদী অর্থাৎ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে সেখানকার বেশির ভাগ স্থানে মাছের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন। পদ্মার শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জের পাশে ইছামতী নদীতেও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়ার পরিমাণ মানমাত্রার চেয়ে বেশি। তা ছাড়া এসব নদীতে ক্রোমিয়াম, আয়রন ও জিংকের মতো ভারী ধাতু মানমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে মানমাত্রা প্রতি লিটারে দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম। অথচ এসব নদীতে পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে দশমিক ৮ থেকে ৮ দশমিক ২ মাইক্রোগ্রাম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদী–জলাশয় রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখছি, আমাদের নদীগুলো দূষণের পর্যায় থেকে এখন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর নদী মরে যাওয়া মানে মানুষের খাওয়ার পানি, মাছ ও জলজ প্রাণীর বাসস্থান হারিয়ে যাওয়া। তাই অন্তত নদী রক্ষায় সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।’
• দেশের নদীর পানি দূষণের কিছু কারণ সমীক্ষায়।
• শিল্পকারখানা বর্জ্য পরিশোধন না করে নদী ফেলছে।
• মাত্রাতিরিক্ত সার–কীটনাশকও নদীতে পড়ছে।
• গৃহস্থ বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড়ও নদী।
দেশের ২৯টি প্রধান নদ–নদীর দূষণমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এগুলোর পানির দূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ দেশের মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯টি নদী নিয়ে আরেকটি সমীক্ষা করেছে। তাতে দেখা গেছে, মাছের এসব উৎস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এসব নদীর পানিতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে।
আজ বিশ্ব পানি দিবস। এবারের দিবসের প্রধান প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’।
দেশের নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে দূষণের কিছু অভিন্ন কারণ ওই দুই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। মূলত নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ শিল্পকারখানা তাদের বর্জ্য পরিশোধন না করে নদী ফেলছে। কারখানাগুলোতে বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র থাকলেও তার বেশির ভাগই চালানো হচ্ছে না। কৃষিকাজে ব্যবহৃত হওয়া মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকও সেচের পানির সঙ্গে ধুয়ে নদীতে পড়ছে। হাটবাজার, শহর ও বস্তি এলাকার গৃহস্থ বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড়ও এই নদী।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষাটি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। সারা দেশে প্রধান নদ–নদীগুলোর পানির মান পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৩২টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র আছে। গত দুই বছরে সমীক্ষায় এসব কেন্দ্রসহ আর কোথায় কোথায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে, তা দেখা হয়।একই সঙ্গে ভূ-উপগ্রহের ছবি ও মাঠ জরিপের মাধ্যমে নতুন দূষণ এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ২৯টি প্রধান নদ–নদীর পানির দূষণ বিপজ্জনক স্তরে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন আমরা দেশের পানি, মাটি ও বায়ুদূষণ রোধে আলাদা প্রকল্প ও উদ্যোগ নিতাম। কিন্তু পরিবেশের এই সব কটি উপাদানের দূষণ পরস্পর সম্পর্কিত। যেমন মাটি দূষিত হলে তা নদীকেও দূষিত করে। বায়ু সবকিছুকেই দূষিত করে। তাই সামগ্রিকভাবে পরিবেশদূষণ রোধে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোতে সাড়ে ৪ হাজার টন বর্জ্য ও ৫৭ লাখ গ্যালন দূষিত পানি গিয়ে পড়ছে। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে আশুলিয়া, সাভার, নতুন চামড়াশিল্প নগরী, টঙ্গী এলাকায় শিল্পকারখানা বাড়ছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর তীরে, পদ্মায় মাওয়া ঘাটের পাশে, মেঘনার তীরে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। এসব কারখানার বেশির ভাগই বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র ব্যবহার করছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত বছরের অক্টোবরে মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ ৯টি নদীর ১১টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। রাজধানীর চারপাশের পাঁচটি নদী অর্থাৎ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে সেখানকার বেশির ভাগ স্থানে মাছের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন। পদ্মার শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জের পাশে ইছামতী নদীতেও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়ার পরিমাণ মানমাত্রার চেয়ে বেশি। তা ছাড়া এসব নদীতে ক্রোমিয়াম, আয়রন ও জিংকের মতো ভারী ধাতু মানমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে মানমাত্রা প্রতি লিটারে দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম। অথচ এসব নদীতে পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে দশমিক ৮ থেকে ৮ দশমিক ২ মাইক্রোগ্রাম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদী–জলাশয় রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখছি, আমাদের নদীগুলো দূষণের পর্যায় থেকে এখন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর নদী মরে যাওয়া মানে মানুষের খাওয়ার পানি, মাছ ও জলজ প্রাণীর বাসস্থান হারিয়ে যাওয়া। তাই অন্তত নদী রক্ষায় সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।’
Wednesday, March 20, 2019
ঢাকায় বায়ুদূষণের সময় বিপজ্জনক হারে বাড়ছে by ইফতেখার মাহমুদ

- পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ।
- দূষণকারী পদার্থ ছড়াচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে।
- দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি।
- দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে কয়েকবার তাগিদ অধিদপ্তরের।
- অধিদপ্তরের তাগিদে কেউই তেমন সাড়া দেয়নি।
গত
বছর ১৯৭ দিন রাজধানীবাসী দূষিত বাতাসে ডুবেছিল। আগের বছরগুলোতে রাজধানীর
বাতাস বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২০ থেকে ১৬০ দিন দূষিত থাকত। অর্থাৎ ঢাকার
বায়ুদূষণ সময়ের বিবেচনায়ও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের
মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর এদের কয়েকবার চিঠি দিয়ে দায় সেরেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, দূষণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল নির্মাণকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত), ২০ তলা নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর এবং দক্ষিণ, ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন কর্তৃপক্ষ, ভূগর্ভস্থ কেব্ল লাইন প্রকল্প, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর)–এর আগারগাঁও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ তলা বিটিইবি ভবন-২ প্রকল্প, নির্মাণাধীন বিটিআরসি ভবন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। দূষণ ছড়ানোর তালিকায় আছে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্মাণকাজও।
অধিদপ্তর এদের চিঠি দিয়ে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু কেউই তেমন সাড়া দেয়নি। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সভায় ডাকা হলেও বেশির ভাগ সংস্থা তাদের মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে দায় সেরেছে। অনেকে তা–ও করেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাস দূষিত থাকে। সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে। এর আগে এপ্রিলে এসে বাতাসের মান মোটামুটি ভালো অবস্থায় ফিরত। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসেও রাজধানীর বাতাস খুবই খারাপ ছিল।
পরিবেশ গবেষক আতিক আহসানের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন রাজধানীর বায়ু অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর ছিল। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১৭৩ দিন, ২০১৬ সালে ১২৯ দিন, ২০১৭ সালে ১৮৫ দিন ও ২০১৮ সালে ১৯৭ দিন ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ঢাকার বায়ুর মান পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রতিটি বড় প্রকল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা ন্যূনতম পর্যায়েও মানছে না। ধুলা নিয়ন্ত্রণে ঠিকমতো পানি ছিটানো ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে রাখার কাজও করছে না তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের শেষে বা সামনের মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্ট সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবদের নিয়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।’ তিনি বলেন, ‘দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা। কিন্তু আছে একজন। দূষণ হচ্ছে রাজধানীর বিশাল এলাকাজুড়ে। চাইলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
তবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি পরিবেশ অধিদপ্তর আগে দূষণকারীদের জরিমানা করত ও অভিযান পরিচালনা করত। বিদ্যমান আইন দিয়েই তা করা হতো। কিন্তু এখন দূষণ বাড়লেও অভিযান কতটুকু হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় আছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশসচিব বলেন, ‘এখন আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এত দিন আমাদের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। আমরা একটা নতুন আইন তৈরি করছি, সেটি সংসদে অনুমোদন হলে আমরা এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারব।’
সাবের হোসেন চৌধুরী এ–ও বলেন, সবগুলো অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা বাজেট বরাদ্দ থাকে। বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই টাকা খরচ না করে একে মুনাফায় রূপান্তর করে। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় ১৩ মার্চ হাইকোর্ট হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন আদালত। ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনও দিতে হবে ডিজিকে। আদালত বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ আমাদের হতাশ করেছে। আমরা ক্ষুব্ধ।...মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ যেসব এলাকায় চলছে, সেসব এলাকায় প্রচুর ধুলাবালি পরিবেশকে দূষিত করছে। আমাদের মেট্রোরেল প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে বায়ুদূষণ রোধও জরুরি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে এসব (বায়ুদূষণ) বন্ধ করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কবলে থাকা রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তু কণিকার (পার্টিকুলেট মেটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ যে একটি বড় বিষয় এবং তা নাগরিকদের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, সে ব্যাপারে সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। দূষণকারীদের থামানো ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এটা নাগরিকদের প্রতি বড় ধরনের অন্যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর এদের কয়েকবার চিঠি দিয়ে দায় সেরেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, দূষণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল নির্মাণকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত), ২০ তলা নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর এবং দক্ষিণ, ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন কর্তৃপক্ষ, ভূগর্ভস্থ কেব্ল লাইন প্রকল্প, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর)–এর আগারগাঁও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ তলা বিটিইবি ভবন-২ প্রকল্প, নির্মাণাধীন বিটিআরসি ভবন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। দূষণ ছড়ানোর তালিকায় আছে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্মাণকাজও।
অধিদপ্তর এদের চিঠি দিয়ে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু কেউই তেমন সাড়া দেয়নি। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সভায় ডাকা হলেও বেশির ভাগ সংস্থা তাদের মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে দায় সেরেছে। অনেকে তা–ও করেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাস দূষিত থাকে। সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে। এর আগে এপ্রিলে এসে বাতাসের মান মোটামুটি ভালো অবস্থায় ফিরত। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসেও রাজধানীর বাতাস খুবই খারাপ ছিল।
পরিবেশ গবেষক আতিক আহসানের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন রাজধানীর বায়ু অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর ছিল। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১৭৩ দিন, ২০১৬ সালে ১২৯ দিন, ২০১৭ সালে ১৮৫ দিন ও ২০১৮ সালে ১৯৭ দিন ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ঢাকার বায়ুর মান পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রতিটি বড় প্রকল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা ন্যূনতম পর্যায়েও মানছে না। ধুলা নিয়ন্ত্রণে ঠিকমতো পানি ছিটানো ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে রাখার কাজও করছে না তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের শেষে বা সামনের মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্ট সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবদের নিয়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।’ তিনি বলেন, ‘দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা। কিন্তু আছে একজন। দূষণ হচ্ছে রাজধানীর বিশাল এলাকাজুড়ে। চাইলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
তবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি পরিবেশ অধিদপ্তর আগে দূষণকারীদের জরিমানা করত ও অভিযান পরিচালনা করত। বিদ্যমান আইন দিয়েই তা করা হতো। কিন্তু এখন দূষণ বাড়লেও অভিযান কতটুকু হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় আছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশসচিব বলেন, ‘এখন আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এত দিন আমাদের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। আমরা একটা নতুন আইন তৈরি করছি, সেটি সংসদে অনুমোদন হলে আমরা এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারব।’
সাবের হোসেন চৌধুরী এ–ও বলেন, সবগুলো অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা বাজেট বরাদ্দ থাকে। বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই টাকা খরচ না করে একে মুনাফায় রূপান্তর করে। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় ১৩ মার্চ হাইকোর্ট হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন আদালত। ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনও দিতে হবে ডিজিকে। আদালত বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ আমাদের হতাশ করেছে। আমরা ক্ষুব্ধ।...মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ যেসব এলাকায় চলছে, সেসব এলাকায় প্রচুর ধুলাবালি পরিবেশকে দূষিত করছে। আমাদের মেট্রোরেল প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে বায়ুদূষণ রোধও জরুরি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে এসব (বায়ুদূষণ) বন্ধ করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কবলে থাকা রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তু কণিকার (পার্টিকুলেট মেটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ যে একটি বড় বিষয় এবং তা নাগরিকদের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, সে ব্যাপারে সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। দূষণকারীদের থামানো ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এটা নাগরিকদের প্রতি বড় ধরনের অন্যায়।

Wednesday, March 6, 2019
ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ by ইফতেখার মাহমুদ ও রাজীব আহমেদ

- • কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
- • একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে।
কৃষকের
চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে
এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন
বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।
উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।
কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।
কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।
সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’
দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।
আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।
মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।
কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।
২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।
সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।
আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।
২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।
সবজিতে লাভ বেশি, তবে...
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।
দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।
পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।
সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।
বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।
কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।
কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।
সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’
দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।
আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।
মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।
কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।
২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।
সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।
আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।
২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।
সবজিতে লাভ বেশি, তবে...
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।
দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।
পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।
সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।
বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)
গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।
গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।
আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।
Tuesday, January 22, 2019
গরু-ছাগলে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ by ইফতেখার মাহমুদ

- দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে।
- ছোট-বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
- তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ।
সংকট
থেকে যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে, তার বড় উদাহরণ বাংলাদেশের
গবাদিপশু খাত। চার বছর আগেও দেশের চাহিদার বড় অংশ মিটত প্রতিবেশী দুই দেশ
ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায়
এসে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ করে দেয়। এতেই বাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে
গবাদিপশুর লালনপালন ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। গরু ও ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ
এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
শুধু কোরবানি ঈদের আগে দেশে ২০ থেকে ২২ লাখ গরু-ছাগল বৈধ-অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসত। সারা বছরে এই সংখ্যা ৩০ লাখে ছুঁয়ে যেত। ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোট–বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। গত তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
চার বছর আগেও শুধু কোরবানির ঈদের সময় প্রায় ২২ লাখ গরু-ছাগল ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসেছিল। গত ঈদে এসেছিল মাত্র দেড় লাখ। গত তিন বছরে চিত্র এমনই পাল্টেছে যে গত কোরবানির ঈদের হাটে প্রায় ১২ লাখ গরু-ছাগল অবিক্রীত ছিল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, গবাদিপশু পালনে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। একই সঙ্গে দেশের মাংসের চাহিদা মেটে, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হয়। ফলে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে।’
গরু-ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবে এ খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের সংখ্যা, মাংস ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন। বাংলাদেশ ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সামগ্রিকভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে ভারত ও চীন। আর গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১২তম।
শুধু উৎপাদনের দিক থেকেই নয়, গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও বাংলাদেশকে বেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ বলছে এফএওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের যমুনাপারি ছাগলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে মনে করছে সংস্থা দুটি।
পিকেএসএফের সহায়তায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ছাগল লালনপালন নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন। তাদের হিসাবে, শুধু চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে ২০ হাজার খামারে প্রায় ৫০ লাখ ছাগল লালনপালন করা হচ্ছে। এসব ছাগলের অধিকাংশই বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। পিকেএসএফের অর্থায়নে চলতি বছর গরু লালনপালন করা হয়েছে ১০ লাখ। যেগুলোর আবার বিমাও করা হয়।
গরু আমদানি কমে যাওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামার করার হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদে দেশি গরুর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশের গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গবেষণা করছেন। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গরুর চারটি জাত বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত জাত। চট্টগ্রামের লাল গরু, পাবনা গরু, উত্তরবঙ্গের ধূসর গরু ও মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের গরুর মাংসের মান ও স্বাদ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা।
জানতে চাইলে ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের গরু-ছাগল ছাড়াও ভেড়া, ঘোড়া ও মহিষের অনেকগুলো ভালো জাত আছে। সেগুলো থেকে উন্নত মানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব। বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়াকে ইতিবাচক বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠছে। সেখানে দেশি জাতের গরু-ছাগল পালিত হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে দেশি জাতগুলো রক্ষা পাচ্ছে এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় গরু–ছাগল লালনপালন, বিশেষ করে কেনাবেচায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেছে। লালনপালনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই খাতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ।
এ বছর শুধু পিকেএসএফের মাধ্যমে উৎপাদন হওয়া ১০ লাখ গরুর মধ্যে ৬ লাখ গরু বিক্রি হচ্ছে অনলাইন, সরাসরি খামার থেকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ গরু।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদেশ থেকে গরু আমদানি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। আর দেশি জাত উন্নয়নের গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো। তাহলে দেশি জাত দিয়েই আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
শুধু কোরবানি ঈদের আগে দেশে ২০ থেকে ২২ লাখ গরু-ছাগল বৈধ-অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসত। সারা বছরে এই সংখ্যা ৩০ লাখে ছুঁয়ে যেত। ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোট–বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। গত তিন বছরে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
চার বছর আগেও শুধু কোরবানির ঈদের সময় প্রায় ২২ লাখ গরু-ছাগল ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসেছিল। গত ঈদে এসেছিল মাত্র দেড় লাখ। গত তিন বছরে চিত্র এমনই পাল্টেছে যে গত কোরবানির ঈদের হাটে প্রায় ১২ লাখ গরু-ছাগল অবিক্রীত ছিল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, গবাদিপশু পালনে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। একই সঙ্গে দেশের মাংসের চাহিদা মেটে, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হয়। ফলে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে।’
গরু-ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবে এ খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের সংখ্যা, মাংস ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন। বাংলাদেশ ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়। আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সামগ্রিকভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে ভারত ও চীন। আর গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১২তম।
শুধু উৎপাদনের দিক থেকেই নয়, গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও বাংলাদেশকে বেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ বলছে এফএওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের যমুনাপারি ছাগলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে মনে করছে সংস্থা দুটি।
পিকেএসএফের সহায়তায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ছাগল লালনপালন নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন। তাদের হিসাবে, শুধু চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে ২০ হাজার খামারে প্রায় ৫০ লাখ ছাগল লালনপালন করা হচ্ছে। এসব ছাগলের অধিকাংশই বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। পিকেএসএফের অর্থায়নে চলতি বছর গরু লালনপালন করা হয়েছে ১০ লাখ। যেগুলোর আবার বিমাও করা হয়।
গরু আমদানি কমে যাওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামার করার হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদে দেশি গরুর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশের গবাদিপশুর জাতগত বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গবেষণা করছেন। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গরুর চারটি জাত বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত জাত। চট্টগ্রামের লাল গরু, পাবনা গরু, উত্তরবঙ্গের ধূসর গরু ও মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের গরুর মাংসের মান ও স্বাদ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা।
জানতে চাইলে ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের গরু-ছাগল ছাড়াও ভেড়া, ঘোড়া ও মহিষের অনেকগুলো ভালো জাত আছে। সেগুলো থেকে উন্নত মানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব। বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়াকে ইতিবাচক বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠছে। সেখানে দেশি জাতের গরু-ছাগল পালিত হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে দেশি জাতগুলো রক্ষা পাচ্ছে এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় গরু–ছাগল লালনপালন, বিশেষ করে কেনাবেচায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেছে। লালনপালনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই খাতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ।
এ বছর শুধু পিকেএসএফের মাধ্যমে উৎপাদন হওয়া ১০ লাখ গরুর মধ্যে ৬ লাখ গরু বিক্রি হচ্ছে অনলাইন, সরাসরি খামার থেকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ গরু।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদেশ থেকে গরু আমদানি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। আর দেশি জাত উন্নয়নের গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো। তাহলে দেশি জাত দিয়েই আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
Wednesday, January 6, 2016
এবার কি দুর্যোগের বছর? by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| এবার কি দুর্যোগের বছর? |
নতুন
বছরের প্রথম সপ্তাহ পার না হতেই হানা দিল দুর্যোগ। ভূমিকম্প আঘাত হানল
ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫১ কিলোমিটার দূরে, ভারতের মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে। এতে
প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেল বাংলাদেশ, মিয়ানমার আর ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রায়
পুরোটাই।
জনজীবনের ওপরে প্রকৃতির এই বৈরিতা শুধু বাংলাদেশেই দেখা যায়নি। গত ১১ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ছয়টি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। দরিদ্র দেশ আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য সবাই দুর্যোগের ওই আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে।
আর এ বছরটা যে আবহাওয়া ও দুর্যোগজনিত নানা ঝক্কি-ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাবে, সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল বিশ্বের আবহাওয়াবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সংস্থাগুলো। ফলে একদিকে ভৌগোলিক বিপদ ভূমিকম্প, অন্যদিকে আবহাওয়ার বৈরী আচরণের মধ্য দিয়ে বছরটা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বেশির ভাগ আবহাওয়াবিষয়ক গবেষণা সংস্থা বলছে, ২০১৬-এর আবহাওয়া হবে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর। ২০১৫ সালটিও আবহাওয়াবিদেরা এর আগের যেকোনো বছরের তুলনায় উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এখন তাঁরা বলছেন, ২০১৬-তে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা এল নিনো সৃষ্টি হয়েছে। এটি গত জুন থেকে উত্তপ্ত হওয়া শুরু হয়েছে এবং ২০১৬-এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত থাকবে।
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা নোয়ার প্যাসিফিক এনসো অ্যাপ্লিকেশন ক্লাইমেট সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর এল নিনো মারাত্মক শক্তিশালী অবস্থায় বিরাজ করছে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকছে। এর প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ, বৃষ্টিপাত এবং ঋতুচক্রের স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যাঘাত ঘটতে শুরু করেছে।
বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের এই ঘনঘটা অবশ্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে টর্নেডোর আঘাতে মারা যায় ছয়জন। ২৬ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানেও ওই তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২৭ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কশায়ার ও ইয়র্কশায়ার তীব্র বন্যায় ভেসে যায়। ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের গারল্যান্ড ও টেক্সাসে আঘাত হানে ভয়ংকর টর্নেডো। আর পয়লা জানুয়ারি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র টোগোকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত সইতে হয়েছে। দুর্যোগ পর্যবেক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিলিফ ওয়ার্ল্ডয়ের পর্যবেক্ষণে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইউএসজিএ-এর পর্যবেক্ষণ মতে, ২০১৫ সালে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার মোট ১৯টি ভূমিকম্প পৃথিবীতে আঘাত হানে। যা গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক তীব্র ভূমিকম্প।
এ ব্যপারে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদি হাসান আনসারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হিন্দুকুশ পর্বতশ্রেণি থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি বিস্তৃত ফাটল রেখা সম্প্রতি ধরা পড়েছে। ওই ফাটল রেখার মধ্যে বাংলাদেশও পড়েছে। ওই এলাকায় গত কয়েক বছরে ১০টি তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে আগামী দিনগুলোতে আরও ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষায় আমাদের ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি ও সমাধান।’
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা এনসো প্রেডিকশন সেন্টার থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া বিভাগ, সবাই এল নিনোর ভয়ংকর চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন করেছে। তারা বলছে, এল নিনোর কারণে আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিপাত কম হবে। জাতিসংঘের কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম থেকে বলা হয়েছে, এল নিনোর কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে খরা ও খাদ্যাভাব দেখা দেবে। ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের রক্ষায় এখনই ধনী দেশগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে সংস্থা দুটি। একই কারণে এশিয়ায় বন্যা হবে।
এদিকে তিন সপ্তাহজুড়ে দেশের আবহাওয়াতেও দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক গরম। পৌষ মাস যাই যাই করছে। অথচ শীতের দেখা নেই। ঋতুচক্রের আবর্তে মাঘ যত কাছে আসছে, শীত না বেড়ে বরং কমছে। গতকাল সোমবার রাজধানীতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তো ২৭ দশমিক সাত ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বৈরী প্রকৃতি বছরজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। সেই আশঙ্কারই জানান দিচ্ছে প্রকৃতি। ফলে সরকারকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বেড়েছে। ২০১৬ সালে সেই প্রবণতা বাড়তে পারে। দুর্যোগের ঘনঘটার কারণে ২০১৫ সালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সব সম্মেলনেই দুর্যোগ মোকাবিলাকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনুন নিশাত আরও বলেন, জাপানের সেন্দাই শহরে বিশ্ব দুর্যোগ সম্মেলন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক (এসডিজি) সম্মেলন এবং সর্বশেষ প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২১-এ দুর্যোগ মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রগুলো অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণের কাছে তো বটেই, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার জনগণকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকার করেছে। ফলে সরকারকে সব উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টিকে যুক্ত করতে হবে।
জনজীবনের ওপরে প্রকৃতির এই বৈরিতা শুধু বাংলাদেশেই দেখা যায়নি। গত ১১ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ছয়টি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। দরিদ্র দেশ আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য সবাই দুর্যোগের ওই আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে।
আর এ বছরটা যে আবহাওয়া ও দুর্যোগজনিত নানা ঝক্কি-ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাবে, সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল বিশ্বের আবহাওয়াবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সংস্থাগুলো। ফলে একদিকে ভৌগোলিক বিপদ ভূমিকম্প, অন্যদিকে আবহাওয়ার বৈরী আচরণের মধ্য দিয়ে বছরটা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বেশির ভাগ আবহাওয়াবিষয়ক গবেষণা সংস্থা বলছে, ২০১৬-এর আবহাওয়া হবে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর। ২০১৫ সালটিও আবহাওয়াবিদেরা এর আগের যেকোনো বছরের তুলনায় উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এখন তাঁরা বলছেন, ২০১৬-তে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা এল নিনো সৃষ্টি হয়েছে। এটি গত জুন থেকে উত্তপ্ত হওয়া শুরু হয়েছে এবং ২০১৬-এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত থাকবে।
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা নোয়ার প্যাসিফিক এনসো অ্যাপ্লিকেশন ক্লাইমেট সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর এল নিনো মারাত্মক শক্তিশালী অবস্থায় বিরাজ করছে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকছে। এর প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ, বৃষ্টিপাত এবং ঋতুচক্রের স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যাঘাত ঘটতে শুরু করেছে।
বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের এই ঘনঘটা অবশ্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে টর্নেডোর আঘাতে মারা যায় ছয়জন। ২৬ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানেও ওই তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২৭ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কশায়ার ও ইয়র্কশায়ার তীব্র বন্যায় ভেসে যায়। ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের গারল্যান্ড ও টেক্সাসে আঘাত হানে ভয়ংকর টর্নেডো। আর পয়লা জানুয়ারি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র টোগোকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত সইতে হয়েছে। দুর্যোগ পর্যবেক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিলিফ ওয়ার্ল্ডয়ের পর্যবেক্ষণে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইউএসজিএ-এর পর্যবেক্ষণ মতে, ২০১৫ সালে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার মোট ১৯টি ভূমিকম্প পৃথিবীতে আঘাত হানে। যা গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক তীব্র ভূমিকম্প।
এ ব্যপারে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদি হাসান আনসারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হিন্দুকুশ পর্বতশ্রেণি থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি বিস্তৃত ফাটল রেখা সম্প্রতি ধরা পড়েছে। ওই ফাটল রেখার মধ্যে বাংলাদেশও পড়েছে। ওই এলাকায় গত কয়েক বছরে ১০টি তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে আগামী দিনগুলোতে আরও ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষায় আমাদের ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি ও সমাধান।’
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা এনসো প্রেডিকশন সেন্টার থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া বিভাগ, সবাই এল নিনোর ভয়ংকর চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন করেছে। তারা বলছে, এল নিনোর কারণে আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিপাত কম হবে। জাতিসংঘের কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম থেকে বলা হয়েছে, এল নিনোর কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে খরা ও খাদ্যাভাব দেখা দেবে। ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের রক্ষায় এখনই ধনী দেশগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে সংস্থা দুটি। একই কারণে এশিয়ায় বন্যা হবে।
এদিকে তিন সপ্তাহজুড়ে দেশের আবহাওয়াতেও দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক গরম। পৌষ মাস যাই যাই করছে। অথচ শীতের দেখা নেই। ঋতুচক্রের আবর্তে মাঘ যত কাছে আসছে, শীত না বেড়ে বরং কমছে। গতকাল সোমবার রাজধানীতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তো ২৭ দশমিক সাত ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বৈরী প্রকৃতি বছরজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। সেই আশঙ্কারই জানান দিচ্ছে প্রকৃতি। ফলে সরকারকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বেড়েছে। ২০১৬ সালে সেই প্রবণতা বাড়তে পারে। দুর্যোগের ঘনঘটার কারণে ২০১৫ সালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সব সম্মেলনেই দুর্যোগ মোকাবিলাকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনুন নিশাত আরও বলেন, জাপানের সেন্দাই শহরে বিশ্ব দুর্যোগ সম্মেলন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক (এসডিজি) সম্মেলন এবং সর্বশেষ প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২১-এ দুর্যোগ মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রগুলো অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণের কাছে তো বটেই, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার জনগণকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকার করেছে। ফলে সরকারকে সব উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টিকে যুক্ত করতে হবে।
Saturday, January 2, 2016
আশা জাগানিয়া সেই সুরাইয়া by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| মা নাজমা খাতুনের কোলে পাঁচ মাস বয়সী সুরাইয়া। মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়ার বাড়িতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় l এহসান-উদ-দৌলা |
চোখে-মুখে
তার রাজ্যের বিস্ময়। মা নাজমা খাতুনের কোলে বসে পাঁচ মাস এক সপ্তাহ বয়সী
সুরাইয়া এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল। খানিক বাদে তার মুখে হাসির আভা। সেই আভা যেন
মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়ার সন্ধ্যা বেলার মৃদু অন্ধকারকেও ছাপিয়ে গেল। কে
বলবে, সুরাইয়া নামের এই শিশুটি মায়ের পেটে থাকতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিল!
সুরাইয়া নামের এই ফুটফুটে মেয়েটি যেন নতুন বছরে নতুন আশার প্রতীক। সমাজের অমানবিক সংঘাত-সংঘর্ষের বিপরীতে সুরাইয়া এক উজ্জ্বল নাম। সুরাইয়ার অমলিন হাসি মানুষের অন্তহীন প্রীতি আর ভালোবাসার জয় ঘোষণা করছে।
গত ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মায়ের গর্ভে শিশু সুরাইয়া গুলিবিদ্ধ হয়। গুলি মায়ের তলপেট ভেদ করে গর্ভের শিশুর হাত, গলা ও চোখে আঘাত করে। এতে তার চোখ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় তার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুদিন পর ওকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। চিকিৎসকদের চেষ্টায় আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে সুরাইয়া সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন দেখলে সে দিনের কথা অনেকটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। ওর ওজনও এখন সাড়ে ছয় কেজি ছাড়িয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর মাগুরায় ওদের বাড়ি গিয়ে জানা গেল, সুরাইয়াদের বাসায় বিস্তর ভিড় ছিল বিকেলে। নির্বাচনে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা এসে দেখে গেছেন ওকে। অনেক প্রার্থী আবার মুখ ফুটে বলেই গেছেন, এই বাড়িতে এলে ভোট বাড়বে।
সুরাইয়ার চাচি শিলা খাতুন বলছিলেন, ‘এই বাড়িতে আগে কেউ ঢুঁ দিত না। এখন সব প্রার্থীই পালা করে আসছে। মাঝে মাঝে বসার জায়গাও দিতে পারিনে, লাইন ধরে যায়।’ ওর আরেক চাচি হাজেরা বেগম বলছিলেন তাঁদের যত পরিচিতি সবই সুরাইয়ার কারণে। সুরাইয়ার স্বজনেরা বলছিলেন সুরাইয়াকে দেখতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে বিদেশ থেকেও অনেকে এসেছেন। কানাডা-প্রবাসী হিল্লাল নামে একজন এসে ২০ সেট বিদেশি কাপড় ও আকিকার জন্য একটি ছাগল দিয়ে গেছেন।
ওই বাড়িতেই শোনা গেল, ‘সুয্যিমামা জাগার আগে’ প্রতিদিন জেগে ওঠে সুরাইয়া। বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার কোলে উঠে কিছুক্ষণ এঘর-ওঘর করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া ভোরে কিছুটা সময় মেয়ের সঙ্গে কাটালেও কাজ সেরে দুপুরে ভাত খেতে আসার ফাঁকে মেয়েকে চোখের আড়াল করেন না। সে কারণেই কি না কে জানে স্বজনেরা বলছিলেন, সুরাইয়া কিছুক্ষণ পরপরই আব্বু বলার চেষ্টায় বু-বু-বু শব্দ করে। সুরাইয়া যে বেঁচে আছে এটাই বাবা বাচ্চু ভুঁইয়াকে অনাবিল আনন্দ দেয়। আর, মা নাজমার চিন্তা সে শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠবে কি না তা নিয়ে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরাইয়া শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনার তত্ত্বাবধানে ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার কানিজ হাসিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই মাস পর পর সুরাইয়া চেকআপে ঢাকায় আসে। আগামী ৫ জানুয়ারি ওর আসার কথা আছে। ডান চোখটা ছাড়া আর কোথাও কোনো সমস্যা নেই। গুলি লাগা চোখটির কী অবস্থা, এই চোখ দিয়ে সুরাইয়া কতটা দেখতে পাবে সেটা হয়তো এবার বোঝা যাবে।’
শিশু সুরাইয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠায় চিকিৎসকদের কাছে তাঁদের ঋণের শেষ নেই। সুরাইয়ার মা নাজমা বলছিলেন, ‘মেয়েকে মমতাময়ী ডাক্তার বানাতে চাই। যে মমতা নামের জিনিসটা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল তার জোরেই আমার মেয়ে আজ বাঁইচে আছে।’
সুরাইয়া নামের এই ফুটফুটে মেয়েটি যেন নতুন বছরে নতুন আশার প্রতীক। সমাজের অমানবিক সংঘাত-সংঘর্ষের বিপরীতে সুরাইয়া এক উজ্জ্বল নাম। সুরাইয়ার অমলিন হাসি মানুষের অন্তহীন প্রীতি আর ভালোবাসার জয় ঘোষণা করছে।
গত ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মায়ের গর্ভে শিশু সুরাইয়া গুলিবিদ্ধ হয়। গুলি মায়ের তলপেট ভেদ করে গর্ভের শিশুর হাত, গলা ও চোখে আঘাত করে। এতে তার চোখ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় তার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুদিন পর ওকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। চিকিৎসকদের চেষ্টায় আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে সুরাইয়া সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন দেখলে সে দিনের কথা অনেকটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। ওর ওজনও এখন সাড়ে ছয় কেজি ছাড়িয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর মাগুরায় ওদের বাড়ি গিয়ে জানা গেল, সুরাইয়াদের বাসায় বিস্তর ভিড় ছিল বিকেলে। নির্বাচনে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা এসে দেখে গেছেন ওকে। অনেক প্রার্থী আবার মুখ ফুটে বলেই গেছেন, এই বাড়িতে এলে ভোট বাড়বে।
সুরাইয়ার চাচি শিলা খাতুন বলছিলেন, ‘এই বাড়িতে আগে কেউ ঢুঁ দিত না। এখন সব প্রার্থীই পালা করে আসছে। মাঝে মাঝে বসার জায়গাও দিতে পারিনে, লাইন ধরে যায়।’ ওর আরেক চাচি হাজেরা বেগম বলছিলেন তাঁদের যত পরিচিতি সবই সুরাইয়ার কারণে। সুরাইয়ার স্বজনেরা বলছিলেন সুরাইয়াকে দেখতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে বিদেশ থেকেও অনেকে এসেছেন। কানাডা-প্রবাসী হিল্লাল নামে একজন এসে ২০ সেট বিদেশি কাপড় ও আকিকার জন্য একটি ছাগল দিয়ে গেছেন।
ওই বাড়িতেই শোনা গেল, ‘সুয্যিমামা জাগার আগে’ প্রতিদিন জেগে ওঠে সুরাইয়া। বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার কোলে উঠে কিছুক্ষণ এঘর-ওঘর করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া ভোরে কিছুটা সময় মেয়ের সঙ্গে কাটালেও কাজ সেরে দুপুরে ভাত খেতে আসার ফাঁকে মেয়েকে চোখের আড়াল করেন না। সে কারণেই কি না কে জানে স্বজনেরা বলছিলেন, সুরাইয়া কিছুক্ষণ পরপরই আব্বু বলার চেষ্টায় বু-বু-বু শব্দ করে। সুরাইয়া যে বেঁচে আছে এটাই বাবা বাচ্চু ভুঁইয়াকে অনাবিল আনন্দ দেয়। আর, মা নাজমার চিন্তা সে শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠবে কি না তা নিয়ে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরাইয়া শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনার তত্ত্বাবধানে ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার কানিজ হাসিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই মাস পর পর সুরাইয়া চেকআপে ঢাকায় আসে। আগামী ৫ জানুয়ারি ওর আসার কথা আছে। ডান চোখটা ছাড়া আর কোথাও কোনো সমস্যা নেই। গুলি লাগা চোখটির কী অবস্থা, এই চোখ দিয়ে সুরাইয়া কতটা দেখতে পাবে সেটা হয়তো এবার বোঝা যাবে।’
শিশু সুরাইয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠায় চিকিৎসকদের কাছে তাঁদের ঋণের শেষ নেই। সুরাইয়ার মা নাজমা বলছিলেন, ‘মেয়েকে মমতাময়ী ডাক্তার বানাতে চাই। যে মমতা নামের জিনিসটা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল তার জোরেই আমার মেয়ে আজ বাঁইচে আছে।’
Tuesday, October 20, 2015
ইলিশের বিশ্বে উদাহরণ বাংলাদেশ by ইফতেখার মাহমুদ
ঝকঝকে
রুপালি রং, স্বাদ তো লা জবাব। আর প্রতিবছরই তার নিত্যনতুন গুণাগুণ জানছে
বিশ্ব। কিন্তু বিশ্বের ইলিশপিয়াসীদের মন খারাপ করার মতো সংবাদও আছে। ইলিশ
আছে—বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতেই ইলিশের উৎপাদন কমছে। একমাত্র
বাংলাদেশেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।
মাছবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরতীরের ভারত-মিয়ানমার, আরব সাগরতীরের বাহরাইন-কুয়েত, পশ্চিম মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, মেকং অববাহিকার ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া, চীন সাগরের পাশে চীন ও থাইল্যান্ডে ইলিশের বিচরণ কমছে। আর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে।
বাংলাদেশে নদী ও সাগরে কেন ইলিশ বাড়ছে, তা জানতে ইলিশ আছে—এমন দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০০২ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ইলিশের ডিম পাড়া ও বিচরণের স্থানগুলো চিহ্নিত করেছে। সেখানে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, বছরের আট মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ডিম পাড়ার ১৫ দিন সব ধরনের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ইলিশ ধরেন—এমন ২ লাখ ২৪ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দিয়ে তাঁদের বছরে তিন মাস সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশে ইলিশের আহরণ প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তো বটেই, বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ইলিশ রক্ষার এই কৌশল খুবই কার্যকর হয়েছে চিহ্নিত করেছে। এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে গত এক যুগে বাংলাদেশে ইলিশ ধরার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে মনে করছে তারা। মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে এ বছর চার লাখ টন হবে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার এই কৌশল অনুসরণ করছে ভারত ও মিয়ানমার। ইলিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে। এ জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারকে একই সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের সব দেশে ইলিশের সংখ্যা বাড়বে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বুঝতে সুদূর কুয়েত ও বাহরাইনের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাংলাদেশের মতোই ওই দেশগুলো ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে ডিম পাড়া ও বাচ্চা বড় হওয়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ইলিশ গবেষক সুগত হাজরা এ ব্যাপারে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনার মিষ্টি পানির প্রবাহ এখনো ভালো থাকায় এবং প্রয়োজনীয় খাবার থাকায় ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে অভয়ারণ্য করে ইলিশের ডিম পাড়ার স্থান করে দিয়েছে এবং জাটকা বড় হতে দিচ্ছে।
ভারতের মৎস্য বিভাগের হিসাবে, ২০১১ সালে সে দেশে ইলিশ ধরা পড়েছিল ৮০ হাজার টন। ২০১৪ সালে তা নেমে এসেছে ১৪ হাজার টনে। আর বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ও বঙ্গোপসাগরে ২০০৯-১০-এ ইলিশ ধরা পড়েছিল দুই লাখ টন। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। এ বছর জেলেদের জালে চার লাখ টন ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীর ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশের তিনটি এলাকাকে ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। এগুলো হলো সুন্দরবনের পাশে গদখালী, এর কিছু দূরে কাটোয়া থেকে হুগলি ঘাট এবং ফারাক্কার পাশে লালবাগ। এসব এলাকায় ১৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ।
সুগত হাজরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দেখাদেখি তিনটি এলাকাকে নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করলেও সেখানে মা ইলিশ ও ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করতে পারেনি। জেলেদের বেশির ভাগই দরিদ্র হওয়ায় বাংলাদেশ তাঁদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ এখনো পারেনি, ফলে এখানে ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে না।
চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ কোনো রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। প্রতিদিন এরা ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ফলে বাংলাদেশ এককভাবে ডিম পাড়ার মৌসুমে ইলিশ না ধরলেও অন্য দেশগুলো যদি একই উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ইলিশের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়বে না। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে যদি একই সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখে, তাহলে এই তিনটি দেশেই ইলিশের সংখ্যা বাড়বে। যার সুবিধা এই তিন দেশের মানুষই পাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। দেশের মোট মাছের ১১ শতাংশ উৎপাদন আসে ইলিশ থেকে। পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত। আরও ২০ লাখ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ।
মাছ গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের মতে, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইরানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উপকূলে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ডিম ছাড়ার জন্য তারা বেছে নিয়েছে গঙ্গা অববাহিকা বাংলাদেশকে। বর্ষায় এ দেশের নদীগুলো মা ইলিশে ভরে ওঠে ডিম ছাড়ার জন্য। মোহনা থেকে নদীর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার উজানে ও উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সমুদ্রে ইলিশ পাওয়া যায়। দিনে ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ায় ইলিশ সাগর থেকে যতই নদীর মিষ্টি পানির দিকে আসে, ততই এর শরীর থেকে লবণ কমে যায়, স্বাদ বাড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব ইলিশের নতুন গুণ আবিষ্কৃত হওয়ার দিকে আলোকপাত করে বলেন, ইলিশ মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ নামে একধরনের তেল আছে, তা হৃদ্রোগসহ বেশ কিছু রোগের ওষুধ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি মাছে এই তেল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইলিশ মাছের স্যুপ অনেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিশ্বের সব দেশই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রতি বছর উৎপাদন বাড়া সত্ত্বেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম বেশি, এ অভিযোগ আছে। তবে ইলিশ মাছের জাতীয় সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাবিব এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু খাবারের দাম একটু বেশিই থাকে। ইলিশ আমাদের জন্য সেরকম সুস্বাদু খাবার, তবে সেই তুলনায় এর দাম বেশি বলা যাবে না। অন্যান্য আকর্ষণীয় খাবারের সঙ্গে তুলনা করলে ইলিশের দাম গত চার-পাঁচ ধরে স্থিতিশীল আছে। উৎপাদন যদি না বাড়ত তাহলে ইলিশ শুধুমাত্র ধনীদের শখের খাবার হিসেবে থাকত। আজকে মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা ইলিশের স্বাদ পাচ্ছেন উৎপাদন বাড়ার কারণেই।
মাছবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরতীরের ভারত-মিয়ানমার, আরব সাগরতীরের বাহরাইন-কুয়েত, পশ্চিম মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, মেকং অববাহিকার ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া, চীন সাগরের পাশে চীন ও থাইল্যান্ডে ইলিশের বিচরণ কমছে। আর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে।
বাংলাদেশে নদী ও সাগরে কেন ইলিশ বাড়ছে, তা জানতে ইলিশ আছে—এমন দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০০২ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ইলিশের ডিম পাড়া ও বিচরণের স্থানগুলো চিহ্নিত করেছে। সেখানে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, বছরের আট মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ডিম পাড়ার ১৫ দিন সব ধরনের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ইলিশ ধরেন—এমন ২ লাখ ২৪ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দিয়ে তাঁদের বছরে তিন মাস সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশে ইলিশের আহরণ প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তো বটেই, বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ইলিশ রক্ষার এই কৌশল খুবই কার্যকর হয়েছে চিহ্নিত করেছে। এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে গত এক যুগে বাংলাদেশে ইলিশ ধরার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে মনে করছে তারা। মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে এ বছর চার লাখ টন হবে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার এই কৌশল অনুসরণ করছে ভারত ও মিয়ানমার। ইলিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে। এ জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারকে একই সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের সব দেশে ইলিশের সংখ্যা বাড়বে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বুঝতে সুদূর কুয়েত ও বাহরাইনের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাংলাদেশের মতোই ওই দেশগুলো ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে ডিম পাড়া ও বাচ্চা বড় হওয়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ইলিশ গবেষক সুগত হাজরা এ ব্যাপারে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনার মিষ্টি পানির প্রবাহ এখনো ভালো থাকায় এবং প্রয়োজনীয় খাবার থাকায় ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে অভয়ারণ্য করে ইলিশের ডিম পাড়ার স্থান করে দিয়েছে এবং জাটকা বড় হতে দিচ্ছে।
ভারতের মৎস্য বিভাগের হিসাবে, ২০১১ সালে সে দেশে ইলিশ ধরা পড়েছিল ৮০ হাজার টন। ২০১৪ সালে তা নেমে এসেছে ১৪ হাজার টনে। আর বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ও বঙ্গোপসাগরে ২০০৯-১০-এ ইলিশ ধরা পড়েছিল দুই লাখ টন। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। এ বছর জেলেদের জালে চার লাখ টন ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীর ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশের তিনটি এলাকাকে ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। এগুলো হলো সুন্দরবনের পাশে গদখালী, এর কিছু দূরে কাটোয়া থেকে হুগলি ঘাট এবং ফারাক্কার পাশে লালবাগ। এসব এলাকায় ১৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ।
সুগত হাজরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দেখাদেখি তিনটি এলাকাকে নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করলেও সেখানে মা ইলিশ ও ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করতে পারেনি। জেলেদের বেশির ভাগই দরিদ্র হওয়ায় বাংলাদেশ তাঁদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ এখনো পারেনি, ফলে এখানে ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে না।
চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ কোনো রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। প্রতিদিন এরা ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ফলে বাংলাদেশ এককভাবে ডিম পাড়ার মৌসুমে ইলিশ না ধরলেও অন্য দেশগুলো যদি একই উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ইলিশের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়বে না। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে যদি একই সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখে, তাহলে এই তিনটি দেশেই ইলিশের সংখ্যা বাড়বে। যার সুবিধা এই তিন দেশের মানুষই পাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। দেশের মোট মাছের ১১ শতাংশ উৎপাদন আসে ইলিশ থেকে। পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত। আরও ২০ লাখ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ।
মাছ গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের মতে, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইরানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উপকূলে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ডিম ছাড়ার জন্য তারা বেছে নিয়েছে গঙ্গা অববাহিকা বাংলাদেশকে। বর্ষায় এ দেশের নদীগুলো মা ইলিশে ভরে ওঠে ডিম ছাড়ার জন্য। মোহনা থেকে নদীর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার উজানে ও উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সমুদ্রে ইলিশ পাওয়া যায়। দিনে ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ায় ইলিশ সাগর থেকে যতই নদীর মিষ্টি পানির দিকে আসে, ততই এর শরীর থেকে লবণ কমে যায়, স্বাদ বাড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব ইলিশের নতুন গুণ আবিষ্কৃত হওয়ার দিকে আলোকপাত করে বলেন, ইলিশ মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ নামে একধরনের তেল আছে, তা হৃদ্রোগসহ বেশ কিছু রোগের ওষুধ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি মাছে এই তেল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইলিশ মাছের স্যুপ অনেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিশ্বের সব দেশই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রতি বছর উৎপাদন বাড়া সত্ত্বেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম বেশি, এ অভিযোগ আছে। তবে ইলিশ মাছের জাতীয় সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাবিব এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু খাবারের দাম একটু বেশিই থাকে। ইলিশ আমাদের জন্য সেরকম সুস্বাদু খাবার, তবে সেই তুলনায় এর দাম বেশি বলা যাবে না। অন্যান্য আকর্ষণীয় খাবারের সঙ্গে তুলনা করলে ইলিশের দাম গত চার-পাঁচ ধরে স্থিতিশীল আছে। উৎপাদন যদি না বাড়ত তাহলে ইলিশ শুধুমাত্র ধনীদের শখের খাবার হিসেবে থাকত। আজকে মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা ইলিশের স্বাদ পাচ্ছেন উৎপাদন বাড়ার কারণেই।
Sunday, October 18, 2015
জমি কমলেও চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ by ইফতেখার মাহমুদ
১৯৭১
থেকে ২০১৫—যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দরিদ্র দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত
হয়েছে বাংলাদেশ। এই ৪৪ বছরের পরিক্রমায় এ দেশে ধানসহ বিভিন্ন দানাদার
খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩ থেকে ৭৫৭ গুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর
(বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই সময়ে দেশের প্রধান কৃষিপণ্য
উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
বিবিএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৪ বছরে দেশের ধান চাষের জমি ১৮ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ গুণ।
তবে কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকে ফসলের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার, কীটনাশক ও সেচের পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। একে দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন অনেক কৃষিবিজ্ঞানী।
শুধুই কি ধান? অন্য ফসলেও উৎপাদন বৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছরে দেশের আলু চাষের জমি সাড়ে ৫ গুণ বেড়েছে, আর ফলন বেড়েছে ১০ দশমিক ৯০ গুণ। এই সময়ে গমের উৎপাদন বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ গুণ। ভুট্টার ফলন বৃদ্ধির হার তো রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ৭৫৭ গুণ। আর এই ফসলের জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ধানের জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির উপযোগী জাত উদ্ভাবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। খাদ্যশক্তির জন্য শুধু চালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা ’৯৯ সালে দেশে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিই।’ ভুট্টায় ভিটামিন এ এবং ডি থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভুট্টা ও গম মিলিয়ে যে আটা হয় তা দেশের মানুষের বড় অংশের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। এভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যাতে মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটায় সেদিকে মনোযোগ দিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।’
তবে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ও রপ্তানি দ্রব্য পাটের চিত্র ধান, গম ও ভুট্টার মতো নয়। বরং উল্টো চিত্রই দেখা যায়। ৪৪ বছরে দেশে পাট চাষের জমির পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। তারপরও উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।
দেশের দানাদার ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিপুল অগ্রগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ধান-গম-ভুট্টার উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে কৃষকের পরিশ্রম ও উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবনের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এসব কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ায় কৃষক কৃষিতে বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন।
জমির পরিমাণ না বাড়ার পরও ফসলের উৎপাদন এত বাড়ার উত্তরও বিবিএসের পরিসংখ্যানেই রয়েছে। ১৯৭০ সালে দেশের ফসলি জমিতে গড়ে একটি ফসল হতো। ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জমিতে বছরে গড়ে প্রায় দুটি ফসল হয়। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ একর জমিতে লবণাক্ততার কারণে এখনো একটি ফসল হয়। দেশের হাওর এলাকায়ও বছরে একটির বেশি ফসল হয় না। দেশের বাকি এলাকায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল হয়ে থাকে।
উৎপাদনের সঙ্গে বিপদও বাড়ছে: কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্য বিপদের কথাও বলছেন। তাঁদের মতে, পঞ্চাশের দশকে দেশের বেশির ভাগ ফসলের চাষ হতো স্থানীয় জাত দিয়ে। ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে উন্নত জাতের ধানের চাষ শুরু হয়। উফশী জাত রাসায়নিক সার, কৃত্রিম সেচ ও কীটনাশকনির্ভর হওয়ায় ধান চাষে খরচের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর উফশী ধানের চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।
এ ব্যাপারে দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সাধারণ সম্পাদক গুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ জমিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কমে গেছে। একটি সুষম স্বাস্থ্যের মাটিতে চার শতাংশ জৈব উপাদান থাকার কথা। কিন্তু ওই ৬০ শতাংশ জমিতে তা এক শতাংশে নেমে এসেছে।
গুল হাসান আরও বলেন, মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাওয়ায় তা আঠালো অথবা বালু হয়ে যাচ্ছে। এতে মাটির পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে মাটিতে সেচ বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি কৃষককে দেশের চাহিদা ও পরিবেশের উপযোগী ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করতে। তবে বেশি ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে যাতে মাটি ও পানির ক্ষতি না হয়, সেদিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। সুষম সার ব্যবহারের জন্য আমরা ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের দামে সমন্বয় করেছি।’ এ ব্যাপারে জৈব সার ও বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশে ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন এবং অন্য সব রাসায়নিক সার মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ২১ লাখ টন।
স্বাধীনতার সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশের ধান চাষের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক বদলও হয়েছে। ৪৪ বছর আগে দেশের বেশির ভাগ ধান উৎপাদিত হতো প্রকৃতিনির্ভর আমন ও আউশ থেকে। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ফসল আসত বোরো থেকে। আর এখন দেশের ৫৫ শতাংশ চাল আসে বোরো থেকে। বোরোর মোট উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
৪৪ বছরে দেশে বর্ষার পানিনির্ভর আউশের চাষ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে। আর আমনের চাষ কমেছে ৪৪ শতাংশ। তারপরও এই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
ধানের এই উৎপাদন বাড়ার জন্য চাষি ও বিজ্ঞানীদের অবদানকে সবার আগে রেখেও বাংলাদেশের মাটিরও বিশেষ গুণের কথা বলেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে এসে প্লাবনভূমিতে ফেলে। বন্যায় ওই পলি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে যায়। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ওই উর্বর পলি বাংলাদেশের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার বিজ্ঞানীরা ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি উচ্চফলনশীল (উফশী) ও চারটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে ১৪টি জাত লবণাক্ততা, বন্যা ও খরাসহিষ্ণু। এ ছাড়া বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা ১৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার চারটি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু জাত।
বিবিএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৪ বছরে দেশের ধান চাষের জমি ১৮ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ গুণ।
তবে কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকে ফসলের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার, কীটনাশক ও সেচের পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। একে দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন অনেক কৃষিবিজ্ঞানী।
শুধুই কি ধান? অন্য ফসলেও উৎপাদন বৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছরে দেশের আলু চাষের জমি সাড়ে ৫ গুণ বেড়েছে, আর ফলন বেড়েছে ১০ দশমিক ৯০ গুণ। এই সময়ে গমের উৎপাদন বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ গুণ। ভুট্টার ফলন বৃদ্ধির হার তো রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ৭৫৭ গুণ। আর এই ফসলের জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ধানের জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির উপযোগী জাত উদ্ভাবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। খাদ্যশক্তির জন্য শুধু চালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা ’৯৯ সালে দেশে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিই।’ ভুট্টায় ভিটামিন এ এবং ডি থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভুট্টা ও গম মিলিয়ে যে আটা হয় তা দেশের মানুষের বড় অংশের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। এভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যাতে মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটায় সেদিকে মনোযোগ দিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।’
তবে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ও রপ্তানি দ্রব্য পাটের চিত্র ধান, গম ও ভুট্টার মতো নয়। বরং উল্টো চিত্রই দেখা যায়। ৪৪ বছরে দেশে পাট চাষের জমির পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। তারপরও উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।
দেশের দানাদার ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিপুল অগ্রগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ধান-গম-ভুট্টার উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে কৃষকের পরিশ্রম ও উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবনের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এসব কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ায় কৃষক কৃষিতে বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন।
জমির পরিমাণ না বাড়ার পরও ফসলের উৎপাদন এত বাড়ার উত্তরও বিবিএসের পরিসংখ্যানেই রয়েছে। ১৯৭০ সালে দেশের ফসলি জমিতে গড়ে একটি ফসল হতো। ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জমিতে বছরে গড়ে প্রায় দুটি ফসল হয়। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ একর জমিতে লবণাক্ততার কারণে এখনো একটি ফসল হয়। দেশের হাওর এলাকায়ও বছরে একটির বেশি ফসল হয় না। দেশের বাকি এলাকায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল হয়ে থাকে।
উৎপাদনের সঙ্গে বিপদও বাড়ছে: কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্য বিপদের কথাও বলছেন। তাঁদের মতে, পঞ্চাশের দশকে দেশের বেশির ভাগ ফসলের চাষ হতো স্থানীয় জাত দিয়ে। ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে উন্নত জাতের ধানের চাষ শুরু হয়। উফশী জাত রাসায়নিক সার, কৃত্রিম সেচ ও কীটনাশকনির্ভর হওয়ায় ধান চাষে খরচের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর উফশী ধানের চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।
এ ব্যাপারে দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সাধারণ সম্পাদক গুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ জমিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কমে গেছে। একটি সুষম স্বাস্থ্যের মাটিতে চার শতাংশ জৈব উপাদান থাকার কথা। কিন্তু ওই ৬০ শতাংশ জমিতে তা এক শতাংশে নেমে এসেছে।
গুল হাসান আরও বলেন, মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাওয়ায় তা আঠালো অথবা বালু হয়ে যাচ্ছে। এতে মাটির পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে মাটিতে সেচ বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি কৃষককে দেশের চাহিদা ও পরিবেশের উপযোগী ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করতে। তবে বেশি ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে যাতে মাটি ও পানির ক্ষতি না হয়, সেদিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। সুষম সার ব্যবহারের জন্য আমরা ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের দামে সমন্বয় করেছি।’ এ ব্যাপারে জৈব সার ও বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশে ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন এবং অন্য সব রাসায়নিক সার মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ২১ লাখ টন।
স্বাধীনতার সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশের ধান চাষের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক বদলও হয়েছে। ৪৪ বছর আগে দেশের বেশির ভাগ ধান উৎপাদিত হতো প্রকৃতিনির্ভর আমন ও আউশ থেকে। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ফসল আসত বোরো থেকে। আর এখন দেশের ৫৫ শতাংশ চাল আসে বোরো থেকে। বোরোর মোট উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
৪৪ বছরে দেশে বর্ষার পানিনির্ভর আউশের চাষ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে। আর আমনের চাষ কমেছে ৪৪ শতাংশ। তারপরও এই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
ধানের এই উৎপাদন বাড়ার জন্য চাষি ও বিজ্ঞানীদের অবদানকে সবার আগে রেখেও বাংলাদেশের মাটিরও বিশেষ গুণের কথা বলেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে এসে প্লাবনভূমিতে ফেলে। বন্যায় ওই পলি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে যায়। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ওই উর্বর পলি বাংলাদেশের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার বিজ্ঞানীরা ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি উচ্চফলনশীল (উফশী) ও চারটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে ১৪টি জাত লবণাক্ততা, বন্যা ও খরাসহিষ্ণু। এ ছাড়া বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা ১৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার চারটি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু জাত।
Sunday, September 13, 2015
কোরবানিতে দেশি গরুই ভরসা by ইফতেখার মাহমুদ
ভারতীয়
গরু কম আসায় আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশি গরুই ভরসা। এবারের কোরবানির ঈদে ৫০
লাখের মতো গরু জবাই হতে পারে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী,
কোরবানির ঈদে বিক্রির মতো ৪০ লাখের মতো হৃষ্টপুষ্ট গরু ও মহিষ আছে।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, এবার ভারতীয় গরু কম আসায় তা কিছুটা ঘাটতি তৈরি হবে এটা সত্যি। কিন্তু তা দেশের গরুর খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। ঘাটতির কারণে দেশে এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়লেও তাতে গরু লালন-পালনকারী সাধারণ কৃষকের লাভ হবে। ফলে পরের বছর তাঁরা আরও বেশি গরু লালন বাড়িয়ে দিয়ে দেশে গরুর ঘাটতি কমিয়ে আনবেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এবারের কোরবানির হাটে ৪০ লাখ দেশে পালিত গরু ও মহিষ এবং ৬৯ লাখ ছাগল ও ভেড়া উঠবে। দেশের বাইরে থেকে কিছু গরু আসবে। ওই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সব মিলিয়ে গরুর কিছুটা সংকট থাকলেও তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণে ৮৬ লাখ ২২ হাজার গরু ও মহিষ জবাই হয়েছে। যার মধ্যে কোরবানি হিসেবে জবাই হয়েছে ৪৫ লাখ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, গত বছর কোরবানির ঈদে কমপক্ষে ৫৫ লাখ গরু জবাই হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলছেন, এবার যদি ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাঁচ লাখ গরুও আসে, তাহলেও ১০ লাখ গরুর ঘাটতি থাকবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গরুর সংখ্যা বাড়ছে গড়ে বছরে মাত্র এক লাখ। ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে।
পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে,
তবে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গরুতেও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খামারিদের গরু লালন-পালনে উৎসাহিত করতে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে। এই টাকার পরিমাণ সামনের বছর আরও বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ওই তথ্যে আশাবাদ থাকলেও বিগত বছরগুলোতে দেশে গরুর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য খুব একটা আশা জাগায় না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে আট বছরে ৮ লাখ ৩৬ হাজার গরু বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে গরুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গরুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে গরুর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার।
দেশে গরু লালন-পালনকে তেমন উৎসাহ না দেওয়ায় এই সংকট রয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞরা। গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে স্থানীয় জাতের উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লাল গরু ও মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিমের গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকলেও এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নত করা এবং তা লালন-পালনে দেশব্যাপী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই গরুর জাত দুটি এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবেই লালন-পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এই দুটি জাত দিয়েই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ লাখ। অন্যদিকে গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালে দেশে ছাগলের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে ২ কোটি ৫৬ লাখ হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাগলের মাংস রপ্তানিও করছে। বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এফএও বিশ্বসেরার স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রের এ রকম এক পরিস্থিতিতে সারা দেশে এক হাজারের বেশি কোরবানির হাট জমতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ হাটে ইতিমধ্যে দেশি গরু আসা শুরু হয়েছে। তবে গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারের আগে থেকে গরুর বিকল্প বাজার খোঁজা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার চামড়া এখনো রয়ে গেছে। ফলে ভারতীয় গরু না এলে তা চামড়াশিল্পের ওপরে আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভারতীয় গরু আসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সরকারকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, এবার ভারতীয় গরু কম আসায় তা কিছুটা ঘাটতি তৈরি হবে এটা সত্যি। কিন্তু তা দেশের গরুর খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। ঘাটতির কারণে দেশে এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়লেও তাতে গরু লালন-পালনকারী সাধারণ কৃষকের লাভ হবে। ফলে পরের বছর তাঁরা আরও বেশি গরু লালন বাড়িয়ে দিয়ে দেশে গরুর ঘাটতি কমিয়ে আনবেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এবারের কোরবানির হাটে ৪০ লাখ দেশে পালিত গরু ও মহিষ এবং ৬৯ লাখ ছাগল ও ভেড়া উঠবে। দেশের বাইরে থেকে কিছু গরু আসবে। ওই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সব মিলিয়ে গরুর কিছুটা সংকট থাকলেও তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণে ৮৬ লাখ ২২ হাজার গরু ও মহিষ জবাই হয়েছে। যার মধ্যে কোরবানি হিসেবে জবাই হয়েছে ৪৫ লাখ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, গত বছর কোরবানির ঈদে কমপক্ষে ৫৫ লাখ গরু জবাই হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলছেন, এবার যদি ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাঁচ লাখ গরুও আসে, তাহলেও ১০ লাখ গরুর ঘাটতি থাকবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গরুর সংখ্যা বাড়ছে গড়ে বছরে মাত্র এক লাখ। ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে।
পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে,
তবে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গরুতেও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খামারিদের গরু লালন-পালনে উৎসাহিত করতে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে। এই টাকার পরিমাণ সামনের বছর আরও বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ওই তথ্যে আশাবাদ থাকলেও বিগত বছরগুলোতে দেশে গরুর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য খুব একটা আশা জাগায় না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে আট বছরে ৮ লাখ ৩৬ হাজার গরু বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে গরুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গরুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে গরুর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার।
দেশে গরু লালন-পালনকে তেমন উৎসাহ না দেওয়ায় এই সংকট রয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞরা। গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে স্থানীয় জাতের উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লাল গরু ও মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিমের গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকলেও এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নত করা এবং তা লালন-পালনে দেশব্যাপী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই গরুর জাত দুটি এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবেই লালন-পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এই দুটি জাত দিয়েই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ লাখ। অন্যদিকে গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালে দেশে ছাগলের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে ২ কোটি ৫৬ লাখ হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাগলের মাংস রপ্তানিও করছে। বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এফএও বিশ্বসেরার স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রের এ রকম এক পরিস্থিতিতে সারা দেশে এক হাজারের বেশি কোরবানির হাট জমতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ হাটে ইতিমধ্যে দেশি গরু আসা শুরু হয়েছে। তবে গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারের আগে থেকে গরুর বিকল্প বাজার খোঁজা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার চামড়া এখনো রয়ে গেছে। ফলে ভারতীয় গরু না এলে তা চামড়াশিল্পের ওপরে আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভারতীয় গরু আসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সরকারকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
Saturday, August 15, 2015
ভালোবাসার ফুল ফুটছে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| দুর্লভ আমাজন লিলি ফুটতে শুরু করেছে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার তোলা -সাজিদ হোসেন |
দক্ষিণ
আমেরিকার অনেক দেশেই এই ফুলটি ভালোবাসার প্রতীক। প্রেমিকাকে ভালোবাসা
জানাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে আমাজান লিলি দেওয়া হয়।
ছিল তারা ব্রাজিলের আমাজান নদীতে। গত শতকের ষাটের দশকে আসে এই বঙ্গে। আজ অবধি আছে তারা। তবে সংখ্যায় অল্প। নাম তাদের আমাজান লিলি। ষাট থেকে নব্বই দশকে দেশের অনেক স্থানেই তাদের ভাসানো হয়েছিল। মানে তাদের চারা রোপণ হয়েছিল অনেক এলাকার জলকাদায়। কিন্তু কোনো এক অভিমানে বা যন্ত্রণায় তারা বাঁচেনি। এখন আছে শুধু পুরোনো ঢাকার ওয়ারীর বলধা গার্ডেন ও মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। গত সপ্তাহে মিরপুরের জাতীয় উদ্যানের বিশাল সবুজ থালার আকৃতির পাতার সন্নিবেশে আমাজান লিলি ফুটতে শুরু করেছে।
মিরপুর জাতীয় উদ্যানের আমাজান লিলি ফুলের চৌবাচ্চাটির সামনে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমীরা একনজর দেখতে আসেন। অল্প অল্প করে ফুটতে থাকা ওই ফুল দেখাটাই অনেকের কাছে আনন্দের। গত মাসের টানা বৃষ্টির পরশে আমাজান লিলির পাতাগুলোও এবার আরও গাঢ় সবুজ হয়ে উঠেছে। ফুলটির শুভ্রতাও যেন অন্য বছরের চেয়ে বেশি। গত বৃহস্পতিবার শাপলা-জাতীয় ওই ফুলটি দেখতে গেলে হাসিমুখে জানান জাতীয় উদ্যানের মালি আবদুল মালেক।
কবে, কী করে, সুদূর ব্রাজিল থেকে জাতীয় উদ্যানে এই ফুল এল—সেই ইতিহাস জানতে চাইলে নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা জানালেন, ষাটের দশকে বরিশালের এক প্রকৃতিপ্রেমী ডা. এম আহমেদ দক্ষিণ আমেরিকার কোনো এক দেশ থেকে এই ফুলের চারা নিয়ে আসেন। বরিশাল শহরে তাঁর বাড়ির পুকুরে ওই ফুল রোপণ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বলধা গার্ডেন কর্তৃপক্ষকে কিছু চারা দেন তিনি। বলধা গার্ডেন থেকে ১৯৯৪ সালে মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ওই চারা নিয়ে আসা হয়।
ডা. এম আহমেদ চেয়েছিলেন শাপলা ও পদ্ম ফুলের মতো আমাজান লিলিতে ভরে যাক বাংলাদেশের পুকুর, বিল, ঝিল, হাওর-বাঁওড়। কিন্তু তাতে বাদ সাধে খোদ বাংলার প্রকৃতি। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ায় প্রতিবেশ আমাজান লিলির জন্য উপযোগী। আমাজান লিলির জন্য স্বচ্ছ পানির নিরবচ্ছিন্ন ধারা থাকতে হয়। শীতকালে মাঝারি শীত ও প্রচণ্ড খরতাপের গ্রীষ্ম না হলে আমাজন লিলি বাঁচে না। বাংলাদেশে স্বচ্ছ পানির জলাভূমি এমনিতেই কম। যা আছে তা-ও যেভাবে দূষিত হয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশি ফুল ও উদ্ভিদেরই প্রাণ যাওয়ার উপক্রম। সুদূরের অতিথি আমাজান লিলি আর কীভাবে বাঁচবে এখানে।
রাজধানীর শিশুপার্কের পুকুরে, রমনা উদ্যানের লেকে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পুকুরে আমাজান লিলির চারা রোপণ করা হয়। শেরপুর, নওগাঁ, ময়মনসিংহেও এই ফুলের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু কোনোটাই টেকেনি। রাজধানীর বলদা গার্ডেনের আমাজান লিলিগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। চারপাশে আলো-বাতাস আটকে বহুতল ভবন নির্মাণ হওয়ায় সেখানে আমাজান লিলিগুলো কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রকৃতিবিদদের রয়েছে সংশয়।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সাবেক প্রধান উদ্ভিদবিদ শামসুল হক জানালেন, আমাজান লিলি ভারী বর্ষণমুখর বর্ষায় ফুটে। তাই জুলাই-আগস্টে এর প্রস্ফুটন শুরু হয়। নভেম্বরে তাপমাত্রা ও বৃষ্টি কমে গেলে এর বিশাল পাতাগুলো মরতে থাকে। ফুলও ঝরতে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে এর বীজ পড়ে থাকে। কাদার মধ্যে থাকা অবস্থায় তাপমাত্রা টানা ৩৪ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাতে অঙ্কুরোদ্গম হয়। পরের বছর আবারও মে-জুনে বৃষ্টি বাড়লে এর পাতা বড় হতে থাকে এবং ফুল ফোটে।
দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই এই ফুলটি ভালোবাসার প্রতীক। প্রেমিকাকে ভালোবাসা জানাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে আমাজান লিলি দেওয়া হয়। পেরুর অধিবাসীরা বিশ্বাস করে, আমাজান লিলি ফুলের বীজ প্রাণশক্তিবর্ধক। সেখানে আমাজান লিলির বীজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ছিল তারা ব্রাজিলের আমাজান নদীতে। গত শতকের ষাটের দশকে আসে এই বঙ্গে। আজ অবধি আছে তারা। তবে সংখ্যায় অল্প। নাম তাদের আমাজান লিলি। ষাট থেকে নব্বই দশকে দেশের অনেক স্থানেই তাদের ভাসানো হয়েছিল। মানে তাদের চারা রোপণ হয়েছিল অনেক এলাকার জলকাদায়। কিন্তু কোনো এক অভিমানে বা যন্ত্রণায় তারা বাঁচেনি। এখন আছে শুধু পুরোনো ঢাকার ওয়ারীর বলধা গার্ডেন ও মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। গত সপ্তাহে মিরপুরের জাতীয় উদ্যানের বিশাল সবুজ থালার আকৃতির পাতার সন্নিবেশে আমাজান লিলি ফুটতে শুরু করেছে।
মিরপুর জাতীয় উদ্যানের আমাজান লিলি ফুলের চৌবাচ্চাটির সামনে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমীরা একনজর দেখতে আসেন। অল্প অল্প করে ফুটতে থাকা ওই ফুল দেখাটাই অনেকের কাছে আনন্দের। গত মাসের টানা বৃষ্টির পরশে আমাজান লিলির পাতাগুলোও এবার আরও গাঢ় সবুজ হয়ে উঠেছে। ফুলটির শুভ্রতাও যেন অন্য বছরের চেয়ে বেশি। গত বৃহস্পতিবার শাপলা-জাতীয় ওই ফুলটি দেখতে গেলে হাসিমুখে জানান জাতীয় উদ্যানের মালি আবদুল মালেক।
কবে, কী করে, সুদূর ব্রাজিল থেকে জাতীয় উদ্যানে এই ফুল এল—সেই ইতিহাস জানতে চাইলে নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা জানালেন, ষাটের দশকে বরিশালের এক প্রকৃতিপ্রেমী ডা. এম আহমেদ দক্ষিণ আমেরিকার কোনো এক দেশ থেকে এই ফুলের চারা নিয়ে আসেন। বরিশাল শহরে তাঁর বাড়ির পুকুরে ওই ফুল রোপণ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বলধা গার্ডেন কর্তৃপক্ষকে কিছু চারা দেন তিনি। বলধা গার্ডেন থেকে ১৯৯৪ সালে মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ওই চারা নিয়ে আসা হয়।
ডা. এম আহমেদ চেয়েছিলেন শাপলা ও পদ্ম ফুলের মতো আমাজান লিলিতে ভরে যাক বাংলাদেশের পুকুর, বিল, ঝিল, হাওর-বাঁওড়। কিন্তু তাতে বাদ সাধে খোদ বাংলার প্রকৃতি। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ায় প্রতিবেশ আমাজান লিলির জন্য উপযোগী। আমাজান লিলির জন্য স্বচ্ছ পানির নিরবচ্ছিন্ন ধারা থাকতে হয়। শীতকালে মাঝারি শীত ও প্রচণ্ড খরতাপের গ্রীষ্ম না হলে আমাজন লিলি বাঁচে না। বাংলাদেশে স্বচ্ছ পানির জলাভূমি এমনিতেই কম। যা আছে তা-ও যেভাবে দূষিত হয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশি ফুল ও উদ্ভিদেরই প্রাণ যাওয়ার উপক্রম। সুদূরের অতিথি আমাজান লিলি আর কীভাবে বাঁচবে এখানে।
রাজধানীর শিশুপার্কের পুকুরে, রমনা উদ্যানের লেকে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পুকুরে আমাজান লিলির চারা রোপণ করা হয়। শেরপুর, নওগাঁ, ময়মনসিংহেও এই ফুলের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু কোনোটাই টেকেনি। রাজধানীর বলদা গার্ডেনের আমাজান লিলিগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। চারপাশে আলো-বাতাস আটকে বহুতল ভবন নির্মাণ হওয়ায় সেখানে আমাজান লিলিগুলো কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রকৃতিবিদদের রয়েছে সংশয়।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সাবেক প্রধান উদ্ভিদবিদ শামসুল হক জানালেন, আমাজান লিলি ভারী বর্ষণমুখর বর্ষায় ফুটে। তাই জুলাই-আগস্টে এর প্রস্ফুটন শুরু হয়। নভেম্বরে তাপমাত্রা ও বৃষ্টি কমে গেলে এর বিশাল পাতাগুলো মরতে থাকে। ফুলও ঝরতে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে এর বীজ পড়ে থাকে। কাদার মধ্যে থাকা অবস্থায় তাপমাত্রা টানা ৩৪ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাতে অঙ্কুরোদ্গম হয়। পরের বছর আবারও মে-জুনে বৃষ্টি বাড়লে এর পাতা বড় হতে থাকে এবং ফুল ফোটে।
দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই এই ফুলটি ভালোবাসার প্রতীক। প্রেমিকাকে ভালোবাসা জানাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে আমাজান লিলি দেওয়া হয়। পেরুর অধিবাসীরা বিশ্বাস করে, আমাজান লিলি ফুলের বীজ প্রাণশক্তিবর্ধক। সেখানে আমাজান লিলির বীজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
Thursday, August 13, 2015
১১ বছরে ৬২ হাতি মেরেছে মানুষ by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| হাতির বিচরণ। টেকনাফের সংরক্ষিত বন থেকে গত মাসে তোলা ছবি lসুলতান আহমেদ |
হাতির
সঙ্গে কিন্তু মানুষের বেশ কিছু মিল রয়েছে। মানুষকে বলা হয় সমাজবদ্ধ
প্রাণী, হাতিও তাই। হাতি বাঁচে মানুষের মতোই, ৬০ থেকে ৭০ বছর। হস্তিনী
মানুষের মতোই সন্তান জন্ম দেওয়া শুরু করে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সে।
মানুষের সঙ্গে এত সব মিল থাকা সত্ত্বেও হাতির সবচেয়ে বড় শত্রু কিন্তু মানুষই। গত ১১ বছরে শুধু বাংলাদেশেই মানুষের হাতে ৬২টি হাতি মারা পড়েছে। এই হিসাব বন বিভাগের। এর আগের হিসাব বন বিভাগের কাছে নেই। তিন বছর ধরে মানুষের হাতে হাতির মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।
বন বিভাগের হিসাবে, ২০১০ সালে দেশে মানুষের হাতে মারা পড়েছে চারটি হাতি। ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে পাঁচটি করে ও ২০১৪ সালে হাতি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। আর গত সাত মাসে তিনটি হাতিকে মেরে ফেলেছে গ্রামবাসী।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, হাতির বসতি ও চলার পথ দখল করে মানুষ অবকাঠামো গড়ে তুলছে। আর হাতি ওই পথ ধরে এগোলেই বলা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষও মারা যাচ্ছে, হাতিও মরছে। দেশের বৃহত্তম এই প্রাণীটিকে রক্ষা করতে হলে এর চলার পথ বা করিডর ও বসতি রক্ষা করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাতি রক্ষায় বিশ্বজুড়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হবে। এবারের হাতি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘হাতি করলে সংরক্ষণ, রক্ষা পাবে সবুজ বন’। তবে কয়েক বছর ধরে দেশে মানুষের হাতে হাতি মৃত্যুর যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু ওই স্লোগানের উল্টো চিত্রই মনে করিয়ে দেয়।
বন বিভাগ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) চলমান হাতি জরিপের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী দেশে বড়জোর ২০০ হাতি রয়েছে। অথচ ২০০৪ সালে আইইউসিএনের জরিপ অনুযায়ী দেশে হাতি ছিল ২৭৯ থেকে ৩২৭টি। এর মধ্যে ১৯৬ থেকে ২২৭টি হাতি বাংলাদেশে আবাসিক বা স্থায়ীভাবে বাস করে। আর বাকিগুলো ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারজুড়ে বিচরণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় হাতির বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী প্রথম আলোকে বলেন, অভিবাসী হাতিদের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে যাতে বিচরণে সমস্যা না হয়, সে জন্য ভারতের বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর হাতির করিডর বা বিচরণ পথগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলাফেরায় হাতি মানুষের চেয়ে স্বাধীন। এরা রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। এরা বোঝে কোন বনে তাদের খাবার আছে, চলাফেরার ভালো পরিবেশ আছে। সেই পথ ধরেই এরা চলে, বসবাস করে। স্বভাবের এই প্রাকৃতিক নিয়মও হাতির জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট পথে চলার এই স্বভাবের কারণে মানুষ এদের সহজে আক্রমণ করতে পারে। অনেকে উন্নয়নের নামে তাদের যাওয়ার পথ বা করিডরে টাঙিয়ে রাখে বিদ্যুতের তার ও ফাঁদ। বিদ্যুতের তারে আটকে গত জুনেই কাপ্তাই এলাকায় তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, হাতিকে কেউ আক্রমণ করলে আত্মরক্ষায় প্রথমে বিশাল শুঁড় উঁচিয়ে চিৎকার করে শত্রুকে বিরত হতে বলে। তারপরেও শত্রু না থামলে কিছুটা সামনে এগিয়ে ভয় দেখায়। তাতেও কাজ না হলে এরা শত্রুকে আক্রমণ করে।
পৃথিবীতে দুই প্রজাতির হাতি দেখতে পাওয়া যায়, একটি এশীয় হাতি, অপরটি আফ্রিকান। এশীয় হাতির বৈজ্ঞানিক নাম Elephas maximus।
বাংলাদেশের মধুপুরগড় থেকে শুরু করে গারো পাহাড়, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক এলাকার পত্রঝড়া ও চিরসবুজ বনে এক শতাব্দী আগে হাতি বিচরণ করত। এখন এরা শুধু চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার চিরহরিৎ বনাঞ্চলে বিচরণ করে। এদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে পাওয়া যায় চুনতি, টেকনাফ, ফাঁসিয়াখালী ও পাবলাখালী অভয়ারণ্য এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, বাঁকখালী, রেজু, ফুলছড়ি, ঈদগড় ও মরিসা এলাকার চিরসবুজ বনাঞ্চলে।
অস্থায়ীভাবে কিছু হাতি মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্য থেকে জামালপুরের ঝিনাইগাতী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, দুর্গাপুর, সিলেটের কুলাউড়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় নেমে আসে। এরা মাসাধিক কাল বাংলাদেশে থাকে। তবে সাম্প্রতিক কালে শেরপুর ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে ২০-২৫টি হাতি প্রায় সারা বছর বিচরণ করছে।
মানুষের সঙ্গে এত সব মিল থাকা সত্ত্বেও হাতির সবচেয়ে বড় শত্রু কিন্তু মানুষই। গত ১১ বছরে শুধু বাংলাদেশেই মানুষের হাতে ৬২টি হাতি মারা পড়েছে। এই হিসাব বন বিভাগের। এর আগের হিসাব বন বিভাগের কাছে নেই। তিন বছর ধরে মানুষের হাতে হাতির মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।
বন বিভাগের হিসাবে, ২০১০ সালে দেশে মানুষের হাতে মারা পড়েছে চারটি হাতি। ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে পাঁচটি করে ও ২০১৪ সালে হাতি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। আর গত সাত মাসে তিনটি হাতিকে মেরে ফেলেছে গ্রামবাসী।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, হাতির বসতি ও চলার পথ দখল করে মানুষ অবকাঠামো গড়ে তুলছে। আর হাতি ওই পথ ধরে এগোলেই বলা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষও মারা যাচ্ছে, হাতিও মরছে। দেশের বৃহত্তম এই প্রাণীটিকে রক্ষা করতে হলে এর চলার পথ বা করিডর ও বসতি রক্ষা করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাতি রক্ষায় বিশ্বজুড়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হবে। এবারের হাতি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘হাতি করলে সংরক্ষণ, রক্ষা পাবে সবুজ বন’। তবে কয়েক বছর ধরে দেশে মানুষের হাতে হাতি মৃত্যুর যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু ওই স্লোগানের উল্টো চিত্রই মনে করিয়ে দেয়।
বন বিভাগ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) চলমান হাতি জরিপের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী দেশে বড়জোর ২০০ হাতি রয়েছে। অথচ ২০০৪ সালে আইইউসিএনের জরিপ অনুযায়ী দেশে হাতি ছিল ২৭৯ থেকে ৩২৭টি। এর মধ্যে ১৯৬ থেকে ২২৭টি হাতি বাংলাদেশে আবাসিক বা স্থায়ীভাবে বাস করে। আর বাকিগুলো ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারজুড়ে বিচরণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় হাতির বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী প্রথম আলোকে বলেন, অভিবাসী হাতিদের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে যাতে বিচরণে সমস্যা না হয়, সে জন্য ভারতের বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর হাতির করিডর বা বিচরণ পথগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলাফেরায় হাতি মানুষের চেয়ে স্বাধীন। এরা রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। এরা বোঝে কোন বনে তাদের খাবার আছে, চলাফেরার ভালো পরিবেশ আছে। সেই পথ ধরেই এরা চলে, বসবাস করে। স্বভাবের এই প্রাকৃতিক নিয়মও হাতির জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট পথে চলার এই স্বভাবের কারণে মানুষ এদের সহজে আক্রমণ করতে পারে। অনেকে উন্নয়নের নামে তাদের যাওয়ার পথ বা করিডরে টাঙিয়ে রাখে বিদ্যুতের তার ও ফাঁদ। বিদ্যুতের তারে আটকে গত জুনেই কাপ্তাই এলাকায় তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, হাতিকে কেউ আক্রমণ করলে আত্মরক্ষায় প্রথমে বিশাল শুঁড় উঁচিয়ে চিৎকার করে শত্রুকে বিরত হতে বলে। তারপরেও শত্রু না থামলে কিছুটা সামনে এগিয়ে ভয় দেখায়। তাতেও কাজ না হলে এরা শত্রুকে আক্রমণ করে।
পৃথিবীতে দুই প্রজাতির হাতি দেখতে পাওয়া যায়, একটি এশীয় হাতি, অপরটি আফ্রিকান। এশীয় হাতির বৈজ্ঞানিক নাম Elephas maximus।
বাংলাদেশের মধুপুরগড় থেকে শুরু করে গারো পাহাড়, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক এলাকার পত্রঝড়া ও চিরসবুজ বনে এক শতাব্দী আগে হাতি বিচরণ করত। এখন এরা শুধু চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার চিরহরিৎ বনাঞ্চলে বিচরণ করে। এদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে পাওয়া যায় চুনতি, টেকনাফ, ফাঁসিয়াখালী ও পাবলাখালী অভয়ারণ্য এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, বাঁকখালী, রেজু, ফুলছড়ি, ঈদগড় ও মরিসা এলাকার চিরসবুজ বনাঞ্চলে।
অস্থায়ীভাবে কিছু হাতি মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্য থেকে জামালপুরের ঝিনাইগাতী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, দুর্গাপুর, সিলেটের কুলাউড়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় নেমে আসে। এরা মাসাধিক কাল বাংলাদেশে থাকে। তবে সাম্প্রতিক কালে শেরপুর ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে ২০-২৫টি হাতি প্রায় সারা বছর বিচরণ করছে।
Wednesday, August 12, 2015
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০৬ -বাঘ গণনা জরিপ ২০১৫ by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| জরিপকালে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সুন্দরবনে ক্যামেরাবন্দী হয় বাঘ দুটি l ছবি: সংগৃহীত |
বাংলাদেশের
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এখন সর্বসাকল্যে ১০৬টি। আর বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে
পুরো সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১৭০টি। গত এক দশকে এই সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে
বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ক্যামেরা পদ্ধতিতে সুন্দরবনের বাঘ গণনা
জরিপ-২০১৫-এর ফলাফলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এ জরিপের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় অন্যতম হুমকি মানুষের তৎপরতা। বাংলাদেশ অংশে জীববৈচিত্র্য ও খাবারের ভিত্তিতে কমপক্ষে ২০০ বাঘ থাকার কথা। কিন্তু চোরা শিকারিদের বাঘ শিকার, বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল এবং বনের পাশে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যামেরায় ছবি তুলে, খালে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে ও তার গতিবিধির অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ব্যাখ্যা করে এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে বন বিভাগ। এই জরিপে বন বিভাগকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউট। এতে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রোববার বন বিভাগ জরিপের এই ফলাফল চূড়ান্ত করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল। এতে বাঘের সংখ্যা এসেছিল ৪৪০টি। এ বছর নতুন এই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের ওই জরিপটি যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হয়নি। ফলে আগের ওই বাঘের সংখ্যা সঠিক নয়।
তবে ক্যামেরায় ছবি তুলে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় সুন্দরবনে বাঘ গণনা জরিপ করেন। তাতে বাঘের সংখ্যা ছিল ২০০টি। সেই হিসাবে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা গত নয় বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে। এতে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৪৫০টি বলে উল্লেখ করা হয়।
বাঘ গণনা জরিপ-২০১৫-এর প্রধান পরামর্শক ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউটের প্রধান রাজভেন্দর ঝালা গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া বাঘের প্রধান খাবার হরিণের সংখ্যাও সেখানে কম। কিন্তু আমাদের জরিপে দেখা গেছে, ভারতীয় সুন্দরবনে বাঘ বিচরণ এলাকায় প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে চারটি ও বাংলাদেশ অংশে দুটি বাঘ রয়েছে। এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশ অংশে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
রাজভেন্দর বাংলাদেশ অংশে বাঘ রক্ষার উদ্যোগে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্যালা নদীতে নৌপথ চালু থাকার ফলে বনটি অবস্থাদৃষ্টে দুই ভাগ হয়ে গেছে। এতে বাঘের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার বনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিশাল স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এসব তৎপরতা বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে ফেলবে। বাঘ রক্ষা করতে হলে এসব বাধা দূর করতে হবে।
সুন্দরবনে মোট ৩৮টি পূর্ণবয়স্ক ও চারটি বাঘের বাচ্চার ছবি তুলতে পেরেছে বন বিভাগের জরিপ দল। বাকি ৬৮টি বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে খালে তাদের পায়ের ছাপ গুনে ও বিচরণের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ক্যামেরাবন্দী হওয়া ৩৮টি বাঘের ৩০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিগুলো নারী।
জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘ বিচরণ করে। এদের বিচরণের প্রধান ক্ষেত্র বাগেরহাটের কটকা, কচিখালী ও সুপতি; সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ, দোবেকি ও কৈখালী এবং খুলনার নীলকমল, পাটকোষ্টা ও গেওয়াখালী। এই তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে ওই জরিপটি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে ১৭টি, সাতক্ষীরায় ১৩টি ও খুলনায় আটটি বাঘের ছবি ধারণ করা হয়েছে।
বাঘের ছবি তোলার জন্য বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ৭১টি করে এবং খুলনায় ১৩২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বন বিভাগের ৩০ জন কর্মী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এ জরিপটি করে। এই সময়ে প্রতি দুই দিন পর পর ওই ক্যামেরা পরীক্ষা করে বাঘের ছবি দেখা হয়। এই তিনটি এলাকার মধ্যে বাগেরহাটে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৩ দশমিক ৭টি, সাতক্ষীরায় ২ দশমিক ৭৭ ও খুলনায় ১ দশমিক ০৮টি করে গড়ে বাঘ বিচরণ করতে দেখা গেছে।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ৫২টি বাঘ গ্রামবাসী, চোরা শিকারি ও বিভিন্ন ধরনের অপঘাতে মারা গেছে। এ ছাড়া গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে র্যাব ছয়টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চারটি চামড়াই পাওয়া গেছে গত ডিসেম্বরে সুন্দরবনের ভেতরে তেলবাহী জাহাজডুবির পর। তবে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৪ মাসে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের হাতে ১০টি বাঘ ও ৮১টি হরিণ মারা পড়েছে।
বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বাঘ গণনা জরিপের প্রধান জাহিদুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বাঘের এই নতুন গণনাকে ভিত্তি ধরে আমরা সামনের দিনগুলোতে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করব।
২০০৯ সালে সরকার টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে। ২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ওই ঘোষণায় স্বাক্ষরও করেছে। এতে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশ প্রতি দুই বছর পর পর বাঘ গণনা করবে। বাংলাদেশ ওই ঘোষণার পাঁচ বছর পর বাঘগণনা শেষ করেছে। ভারত ২০১৩ সালে ও নেপাল ২০১৪ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শেষ করে।
ভারতের বন বিভাগের হিসাবে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশটিতে বাঘের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাঘ রক্ষায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বাঘ রক্ষায় অবকাঠামো তৈরি, টহল বাড়ানো, জনবল নিয়োগের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই পূরণ হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে, এটা বোঝাই যাচ্ছে। চোরা শিকারিদের তৎপরতা, নৌযান চলাচল বাঘের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে আনার কথা আমরা শুনছি। এটা আরও ঝুঁকিতে ফেলবে। যে বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী, আমাদের গর্ব, ক্রিকেট দলের লোগো, সেই বাঘকে বাঁচাতে হলে আমাদের জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান ধারায় চললে সুন্দরবনে যে কটি বাঘ আছে, তাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
আগের জরিপে বাঘের সংখ্যা
২০০৪ সাল
বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল ৪৪০
২০০৬ সাল
ক্যামেরা পদ্ধতিতে অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় বাঘ গণনা করেন ২০০
২০১০ সাল
বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে ৪০০–৪৫০
তথ্যসূত্র: বন বিভাগ
এ জরিপের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় অন্যতম হুমকি মানুষের তৎপরতা। বাংলাদেশ অংশে জীববৈচিত্র্য ও খাবারের ভিত্তিতে কমপক্ষে ২০০ বাঘ থাকার কথা। কিন্তু চোরা শিকারিদের বাঘ শিকার, বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল এবং বনের পাশে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যামেরায় ছবি তুলে, খালে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে ও তার গতিবিধির অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ব্যাখ্যা করে এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে বন বিভাগ। এই জরিপে বন বিভাগকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউট। এতে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রোববার বন বিভাগ জরিপের এই ফলাফল চূড়ান্ত করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল। এতে বাঘের সংখ্যা এসেছিল ৪৪০টি। এ বছর নতুন এই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের ওই জরিপটি যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হয়নি। ফলে আগের ওই বাঘের সংখ্যা সঠিক নয়।
তবে ক্যামেরায় ছবি তুলে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় সুন্দরবনে বাঘ গণনা জরিপ করেন। তাতে বাঘের সংখ্যা ছিল ২০০টি। সেই হিসাবে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা গত নয় বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে। এতে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৪৫০টি বলে উল্লেখ করা হয়।
বাঘ গণনা জরিপ-২০১৫-এর প্রধান পরামর্শক ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউটের প্রধান রাজভেন্দর ঝালা গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া বাঘের প্রধান খাবার হরিণের সংখ্যাও সেখানে কম। কিন্তু আমাদের জরিপে দেখা গেছে, ভারতীয় সুন্দরবনে বাঘ বিচরণ এলাকায় প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে চারটি ও বাংলাদেশ অংশে দুটি বাঘ রয়েছে। এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশ অংশে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
রাজভেন্দর বাংলাদেশ অংশে বাঘ রক্ষার উদ্যোগে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্যালা নদীতে নৌপথ চালু থাকার ফলে বনটি অবস্থাদৃষ্টে দুই ভাগ হয়ে গেছে। এতে বাঘের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার বনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিশাল স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এসব তৎপরতা বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে ফেলবে। বাঘ রক্ষা করতে হলে এসব বাধা দূর করতে হবে।
সুন্দরবনে মোট ৩৮টি পূর্ণবয়স্ক ও চারটি বাঘের বাচ্চার ছবি তুলতে পেরেছে বন বিভাগের জরিপ দল। বাকি ৬৮টি বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে খালে তাদের পায়ের ছাপ গুনে ও বিচরণের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ক্যামেরাবন্দী হওয়া ৩৮টি বাঘের ৩০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিগুলো নারী।

জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘ বিচরণ করে। এদের বিচরণের প্রধান ক্ষেত্র বাগেরহাটের কটকা, কচিখালী ও সুপতি; সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ, দোবেকি ও কৈখালী এবং খুলনার নীলকমল, পাটকোষ্টা ও গেওয়াখালী। এই তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে ওই জরিপটি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে ১৭টি, সাতক্ষীরায় ১৩টি ও খুলনায় আটটি বাঘের ছবি ধারণ করা হয়েছে।
বাঘের ছবি তোলার জন্য বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ৭১টি করে এবং খুলনায় ১৩২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বন বিভাগের ৩০ জন কর্মী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এ জরিপটি করে। এই সময়ে প্রতি দুই দিন পর পর ওই ক্যামেরা পরীক্ষা করে বাঘের ছবি দেখা হয়। এই তিনটি এলাকার মধ্যে বাগেরহাটে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৩ দশমিক ৭টি, সাতক্ষীরায় ২ দশমিক ৭৭ ও খুলনায় ১ দশমিক ০৮টি করে গড়ে বাঘ বিচরণ করতে দেখা গেছে।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ৫২টি বাঘ গ্রামবাসী, চোরা শিকারি ও বিভিন্ন ধরনের অপঘাতে মারা গেছে। এ ছাড়া গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে র্যাব ছয়টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চারটি চামড়াই পাওয়া গেছে গত ডিসেম্বরে সুন্দরবনের ভেতরে তেলবাহী জাহাজডুবির পর। তবে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৪ মাসে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের হাতে ১০টি বাঘ ও ৮১টি হরিণ মারা পড়েছে।
বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বাঘ গণনা জরিপের প্রধান জাহিদুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বাঘের এই নতুন গণনাকে ভিত্তি ধরে আমরা সামনের দিনগুলোতে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করব।
২০০৯ সালে সরকার টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে। ২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ওই ঘোষণায় স্বাক্ষরও করেছে। এতে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশ প্রতি দুই বছর পর পর বাঘ গণনা করবে। বাংলাদেশ ওই ঘোষণার পাঁচ বছর পর বাঘগণনা শেষ করেছে। ভারত ২০১৩ সালে ও নেপাল ২০১৪ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শেষ করে।
ভারতের বন বিভাগের হিসাবে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশটিতে বাঘের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাঘ রক্ষায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বাঘ রক্ষায় অবকাঠামো তৈরি, টহল বাড়ানো, জনবল নিয়োগের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই পূরণ হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে, এটা বোঝাই যাচ্ছে। চোরা শিকারিদের তৎপরতা, নৌযান চলাচল বাঘের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে আনার কথা আমরা শুনছি। এটা আরও ঝুঁকিতে ফেলবে। যে বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী, আমাদের গর্ব, ক্রিকেট দলের লোগো, সেই বাঘকে বাঁচাতে হলে আমাদের জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান ধারায় চললে সুন্দরবনে যে কটি বাঘ আছে, তাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
আগের জরিপে বাঘের সংখ্যা
২০০৪ সাল
বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল ৪৪০
২০০৬ সাল
ক্যামেরা পদ্ধতিতে অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় বাঘ গণনা করেন ২০০
২০১০ সাল
বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে ৪০০–৪৫০
তথ্যসূত্র: বন বিভাগ
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
নির্বাচন
স্পেশাল প্রতিবেদন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আমার দেশ
আইন আদালত ও বিচার
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
আন্দোলন
অপরাধ
এক্সক্লুসিভ
ইরান
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
কালবেলা
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
হত্যা
নতুন বার্তা
ধর্ম
মুসলিম
যুক্তরাজ্য
স্মরণ
গল্প
রাশিয়া
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
জাতিসংঘ
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
মুক্তিযুদ্ধ
ইউরোপ
সৌদি আরব
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইতিহাস
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
আফ্রিকা
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
সংখ্যালঘু
যৌন আবেদনময়ী
তুরস্ক
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
আফগানিস্তান
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ছবি
প্রতারণা
ইউক্রেন
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
তরুণ প্রজন্ম
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
স্বাস্থ্য
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
Exclusive
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
হিন্দু
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
ইয়েমেন
রুদ্র মিজান
খুলনা
মানবকণ্ঠ
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
শিল্প ও সাহিত্য
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
ঢাকা
বন্ধুসভা
মিয়ানমার
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
ফ্রান্স
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
মিসর
জীবনযাপন
বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
কুমিল্লা
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
ইরাক
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
চিকিৎসা
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
তথ্য প্রযুক্তি
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
ব্রাজিল
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মসজিদ
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
বরিশাল
আতাউর রহমান
আসাম
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
ফেনী
রণজিৎ বিশ্বাস
অরুণ কর্মকার
উত্তর কোরিয়া
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
কালি ও কলম
তুহিন ওয়াদুদ
ইন্দোনেশিয়া
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
রাজীব আহমেদ
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
জনস্বাস্থ্য
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
নিবন্ধ
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
চারু শিল্প
দিল্লি
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
কাতার
বিজ্ঞান
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
প্রযুক্তি
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আদিবাসী
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
কালের খেয়া
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কানাডা
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আরব আমিরাত বা দুবাই
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
লাতিন আমেরিকা
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
জার্মানি
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
সুদান
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
ইসলাম
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
লিবিয়া
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
উইঘুর মুসলিম
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
জোহরান মামদানি
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মহাকাশচারী
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
ইতালি
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
গ্রিনল্যান্ড
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
ইহুদি
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
কিশোর আলো
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
গণমাধ্যম
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
খ্রিষ্টধর্ম
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
জন্মদিন
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
তিউনিসিয়া
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
শিশুমৃত্যু
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
কুয়েত
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মরক্কো
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
ওমান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বন্য প্রাণী
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
জাদুঘর
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
নরওয়ে
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
অ্যান্টার্কটিকা
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পানিসম্পদ
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আব্বাস আরাগচি
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইলহান ওমর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাত্রদল
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বাহরাইন
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলগেরিয়া
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট









