Thursday, December 23, 2010

দরপতনের ধাক্কা সামলে উঠেছে শেয়ারবাজার

সর্বকালের সর্বোচ্চ দরপতনের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠেছে দেশের শেয়ারবাজার। আগের দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাবে মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ২০৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ১৬৮ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে। আগের দিন বেড়েছিল ৩০৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ, গত দুই দিনে ডিএসইতে ৫১৪ পয়েন্ট সূচক পুনরুদ্ধার হয়েছে। গত রোববার এক দিনেই মূল্যসূচক ৫৫১ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূলসূচক ৮১০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩ হাজার ৬৩২ পয়েন্ট হয়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল লেনদেন বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ২২৪ কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২০৪ কোটি টাকার। এই স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, দরপতনের পরপরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্বরিত কিছু পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পেয়েছেন। মূলত এ কারণেই বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।
বিশ্লেষকেরা বলেন, পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ ধারণা জন্ম হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের আমলে বাজারকে খুব একটা সংশোধন হতে দেওয়া হবে না। ’৯৬ সালের অভিজ্ঞতার কারণেই সরকার কৃত্রিমভাবে হলেও বাজারকে একটি পর্যায়ে স্থিতিশীল রাখতে চাইবে। তাই শেয়ারবাজারে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দরপতন হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে খুব একটা সময় লাগেনি।
তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের ভাবনাকে বাজারের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, বার বার কৃত্রিমভাবে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করা হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ভুল বিশ্বাসের জন্ম নেবে। তাঁরা ভাবতে শুরু করবেন, শেয়ারবাজারে লোকসান বলে কিছু নেই। তখন একটু দরপতনেই তাঁরা রাস্তায় নেমে ভাঙচুর-অবরোধের মাধ্যমে সরকারকে বাজার ওঠাতে বাধ্য করবেন। আর এ ঘটনা শেয়ারবাজারকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানোর সব প্রচেষ্টার অন্তরায় হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত, নজরদারি বাড়িয়ে বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া। বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক বাড়তে থাকে। মাঝখানে ঘণ্টা দেড়েক সময় কিছুটা নিম্নমুখী হলেও আবার তা বেড়ে যায়। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭২টির, কমেছে ৬৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল তিনটির। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৭টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে ১৩৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল চারটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইতে গতকালও লেনদেনের শীর্ষে ছিল গ্রামীণফোন। দীর্ঘদিন পর নিয়মিত বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল এ কোম্পানিটির দিকে। এ ছাড়া বিদুৎ ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক লক্ষ্য করা গেছে।

ঢাকার শেয়ারবাজারে মিশ্র অবস্থা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবার মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে। এর ফলে সারা দিনই সূচকের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন উভয় গতিই লক্ষ করা যায়। তবে দিন শেষে সাধারণ সূচক কিছুটা বাড়লেও কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও আর্থিক লেনদেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় সাধারণ সূচক নিম্নগামী হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সূচক ১৫ পয়েন্ট নেমে যায়। এরপর আবার সূচকের ঊর্ধ্বগতি হয়, যা প্রায় দুপুর একটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এরপর আবারও সূচকের নিম্নগামিতা লক্ষ করা যায়। দিন শেষে সাধারণ সূচক ২ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৮১৭১ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুইটির। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার ৬২২ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ৬১ কোটি টাকা কম।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো— তিতাস গ্যাস, এনবিএল, গ্রামীণফোন, প্রাইম ব্যাংক, ইউসিবিএল, এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক ও বেক্সিমকো।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া সাভার রিফ্যাক্টরিজ, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, ঢাকা ডাইং, প্রথম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ ১ স্কিম ২ মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এ দিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ফার্মা এইড, এমবি ফার্মা, মুন্নু স্টাফলার, স্টাইল ক্রাফট, গ্রামীণফোন, সোনালী আঁশ, জুট স্পিনার্স, বঙ্গজ ও ফাইন ফুডস দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৪৯ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।

ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই শেষ চট্টগ্রাম চেম্বারের সভা

ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। তবে আজ বুধবার সভা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছেন।
চেম্বারের বিদায়ী সভাপতি এবং আজকের সভার সভাপতি এম এ লতিফ বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ফল ঘোষণা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেছে।’
নবনির্বাচিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে।প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চেম্বারের ফলাফল ঘোষণা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোটের একক অবকাশকালীন বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেন।
৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রক্সি ভোট দেওয়ার অভিযোগ এনে ফলাফল ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বারের সাবেক পরিচালক আজফার আলী আবেদনটি করেন।

সয়াবিন ৯০ ও পামঅয়েল ৮৬ টাকা পুনর্নির্ধারণ

লিটারে চার টাকা করে বাড়িয়ে ভোজ্যতেলের নতুন দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। আগের দফায় শুধু সয়াবিনের দাম বেঁধে দেওয়া হলেও এবার বেঁধে দেওয়া হয়েছে পামঅয়েলের দামও। এখন থেকে ঢাকার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে প্রতি লিটার সর্বোচ্চ ৯০ টাকায়। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে এ দাম হবে লিটারপ্রতি ৮৮ টাকা। অন্যদিকে খোলা পামঅয়েলের লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ খুচরা দাম ঢাকায় ৮৬ আর চট্টগ্রামে ৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিনের তুলনায় পেট বোতলজাত তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বেশি হবে। শুধু এক লিটারের বোতলের ক্ষেত্রে যোগ হবে বোতলের মূল্য। কাল বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের জন্য এ দাম কার্যকর হবে। ঢাকার দাম সারা দেশের জন্য আর চট্টগ্রামের দাম বৃহত্তম চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানা-মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। খুচরার পাশাপাশি মিলগেটের নতুন দামের কথাও জানান এ কে আজাদ। মিলগেটে সয়াবিনের নতুন দাম ঢাকায় ৮৮ আর চট্টগ্রামে ৮৭ টাকা। পামঅয়েলের ক্ষেত্রে মিলগেটের দাম ঢাকায় ৮৪ আর চট্টগ্রামে ৮৩ টাকা।বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন সংবাদ সম্মেলন শুরু করেই এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিকে সিদ্ধান্ত জানানোর অনুরোধ করেন। এ সময় অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব মর্তুজা রেজা চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হেলালউদ্দিন, টিসিবির চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান, প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক এম এ সবুর এবং মূল্য পরিস্থিতি তদারক করতে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে সাত সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছিল, তার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।দর নির্ধারণ বিষয়ে ১৫ দিন পর আবারও বৈঠকের কথা জানিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছাড়া আর ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো যাবে না। ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি সব সময় নজরে রাখা হবে। আর ১৫ দিন পর আবার যে বৈঠক হবে তাতে দর বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।

ডিএসইতে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবার তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠনের শেয়ারের দাম কমেছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে চাঙাভাব লক্ষ করা গেছে। অন্যান্য খাতগুলোয় মিশ্র অবস্থা দেখা যায়।
খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ইউনিটেরই দাম আজ বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের ৩০টির মধ্যে ১৬টির, জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে সাতটির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ২৩টির দাম বাড়ে। তবে সিমেন্ট খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, প্রকৌশল খাতের ২১টির মধ্যে সাতটির, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২১টির মধ্যে সাতটির, খাদ্য খাতের ১৩টির মধ্যে তিনটির, আইটি খাতের পাঁচটির মধ্যে একটির, বিবিধ খাতের নয়টির মধ্যে দুইটির, ওষুধ খাতের ১৯টির মধ্যে পাঁচটির, টেলিকমিউনিকেশন খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ও বস্ত্র খাতের ২২টির মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যায় আজ। গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম আজ ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বা ১৪ টাকা কমে ২৬৪.১০ থেকে ২৯২ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস by মোহীত উল আলম

গত ১২ ডিসেম্বর রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেবি) বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। তাতে পাঁচটি ভাগে বেবিগুলো বিন্যাস করে বলা হয়, প্রথম ভাগে যে আটটি বেবি আছে, তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগে আছে পাঁচটি বেবি, যাদের জমি কেনা হয়েছে এবং অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তৃতীয় ভাগে আছে নয়টি বেবি, যাদের নিজস্ব জমি ক্রয় সম্পন্ন হলেও অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। চতুর্থ ভাগে পড়েছে আরও নয়টি বেবি, যাদের নিজস্ব জায়গা থাকলেও তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (বিমক) অনুমোদিত জায়গার চেয়ে কম। পঞ্চম বা শেষ ভাগে আছে ২২টি বেবি, যারা স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করার কোনো উদ্যোগও নিচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সরকার ও বিমকের কাছে বেবির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকা। এটা আমার কাছে যৌক্তিক শর্ত মনে হয়, এবং সরকার যে এ শর্তটি পূরণ করার জন্য আরও পাঁচ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে, সেটাও সরকারের সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়।
পর্যাপ্ত জমি ও আবাসন নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে বিকশিত হতে পারে না। একটি বহুতল ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় হবে অথচ তার কয়েকটি তলায় থাকবে পোশাক তৈরির কারখানা বা অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রেস্তোরাঁ, তাহলে কেমন করে উচ্চশিক্ষা প্রদানের পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকবে? অনেক বেবিতে শিক্ষকদের বসার জায়গা পর্যন্ত ঠিক নেই, কম্পিউটারসহ আধুনিক শিক্ষা প্রদান প্রযুক্তির কোনো ব্যবহার নেই, নেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা, কিন্তু হুড়মুড় করে ছাত্র ভর্তি করানো হচ্ছে, তাহলে সেখানে শিক্ষা প্রদানের নামে নিছক ব্যবসা করা হচ্ছে, সেটিও ঠিক। এসব সীমাবদ্ধতা পরিহার করানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য যে বিধিমালা প্রণীত হয়েছে, সেগুলোকে সাধুবাদ জানানো যায়।
তবে, এ শর্তগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিরাট কিছু সমস্যার মুখোমুখি সরকারকে হতে হবে। আমি যেহেতু একটি বেবির পূর্ণকালীন শিক্ষক, তাই আমি শর্তগুলোর কারণে বেবিগুলোর কী কী সমস্যা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি না। কারণ তা হবে পক্ষপাতমূলক, কিন্তু সর্বময় কর্তৃপক্ষ হিসেবে সরকারের কী কী অসুবিধার কথা বিবেচনায় আনা উচিত, সেদিক থেকে আলোচনাটা করছি।
আদর্শিকভাবে বাংলাদেশের সব বেবি এবং সবি (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়া উচিত অক্সফোর্ড, কিংবা শান্তিনিকেতন বা ঢাবির মতো একর একর পরিসর নিয়ে। আদর্শিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অধ্যয়নিক ভবন থাকবে, শিক্ষক আবাসন থাকবে, শিক্ষার্থীর আবাস থাকবে, থাকবে খেলার মাঠ, বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, নিজস্ব চিকিৎসাব্যবস্থা, আইটি ভবন, বিশাল গ্রন্থাগার, যার সঙ্গে থাকবে অনলাইন-সুবিধা এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষ। ভারতীয় ইংরেজি সুলেখক অমিত চৌধুরীর আফটারনুন রাগা নামক একটি আত্মস্মৃতিমূলক উপন্যাস আছে, যাতে তাঁর অক্সফোর্ডে পড়ার সময়ের বর্ণনা আছে। এত চমৎকার করে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বর্ণনা করেছেন যে আমার নিজেরও দুঃখ হলো, একবার কেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য কপালে জুটল না। ইংল্যান্ডের শেকসপিয়ারের যেমন স্বপ্ন ছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার (কিন্তু পড়তে পারেননি বলে যে শেকসপিয়ার অনুশোচনা করেছিলেন সে রকম কোনো প্রমাণ তাঁর লেখায় নেই), কিংবা বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার (তিনি পড়েছেনও), তেমনি আমার গাড়ির চালকের আপন ভাগনি, যে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে দু-দুটো জিপিএ-৫ পেয়েছে, তারও স্বপ্ন হলো ঢাবিতে পড়ার। কাজেই বিশালকায় আয়তনসমৃদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন উচ্চাকাক্ষী শিক্ষার্থী পড়তে চাইবেই, এটি খুবই সংগত, এবং সরকারও যে শিক্ষার্থীদের এ স্বপ্নটার মূল্য দিচ্ছে, তার জন্যও তারা ধন্যবাদার্হ।
কিন্তু, দেশটা বাংলাদেশ, সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতায় একটি আক্ষেপজনক উক্তি আছে এ রকম যে, দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বাড়ছে, শুধু দেশের সীমান্ত বাড়ছে না। কথাটার রাজনৈতিক ইঙ্গিত যা-ই থাক না কেন, লোকসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ যে বিরাট চাপের মধ্যে আছে, সে কথাটা স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পাহাড় খাচ্ছে, বন খাচ্ছে, নদী খাচ্ছে—সেটা এমনি এমনি খাচ্ছে না, বাধ্য হচ্ছে খেতে। চোখে কী দেখছি, আগে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে ভ্রমণ করার সময় বিচ্ছিন্নভাবে বহু মাইল দূরে দূরে এক একটা লোকালয় পড়ত। নৈশকালীন ভ্রমণের সময় বহু ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে নিদ্রাজড়িত ঢুলুনি চটকে যেত। কিন্তু এখন ভ্রমণ করুন, দিনে দেখবেন লোকালয়ের পর লোকালয় টানা শৃঙ্খলের মতো মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে গেছে। হঠাৎ ফাঁক দিয়ে যে বিশাল শস্যপ্রান্তর দেখবেন, দিগন্তে আকাশপারে সবুজ গ্রাম দেখবেন, তার জো নেই। রাত্রিবেলায় তো আলোর মেলার থামাথামি নেই। আপনি ঘুমাতেই পারবেন না। আমি স্টিমারে করে একবার বরিশালে যাওয়ার সময়ও খেয়াল করলাম, নদীর পাড়গুলোতে একটানা লোকালয় গড়ে উঠেছে। যে লোকালয়গুলো গড়ে উঠছে খেতের জমি দখল করে। তার কারণ লোকসংখ্যার অত্যধিক চাপ। লোকসংখ্যার বিপক্ষে জায়গার অসংকুলান একটি বাস্তব সমস্যা। সেখানে বেবিগুলোকে এক একর অখণ্ড জমি ঢাকা শহরে, এবং ঢাকা শহরের বাইরে দুই একর জমি অর্জন করার শর্ত দিলে, আমি নিশ্চিত, এটা দেশের জনসংখ্যার রূপরেখার বিরুদ্ধে যাবে, যাবে শিক্ষার বিপক্ষেও। যদি ৪৩টি বেবি (যাদের ওপর এ শর্তটি বলবৎ হয়েছে) ৪৩ একর জমি কিনতে চায়, সেটা বাংলাদেশের জনসংখ্যা-ভূমির আনুপাতিক হারের প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এবং শুনেছি, আরও ৪৩টি বেবি অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তাহলে লাগছে আরও ৪৩ একর। বেবিগুলোর পক্ষে এভাবে জমি খোঁজা, ক্রয় এবং বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর মনে হয় না। কারণ জমি কেনার পর মালিকানা ধরে রাখা কঠিন কাজ। দলিলদস্তাবেজ নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলা থেকে ওকালতির পসার হবে, আদালত ব্যস্ত হবে, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। সরকারের পক্ষে হয়তো জমি সংগ্রহ সম্ভব, কারণ তার অধীনে অনেক খাসজমি আছে। সমাধান হবে, যদি বেবিগুলোর সঙ্গে বসে সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন খাসজমি বাজারদরে বেবি কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশব্যাপী সরকারি বিভিন্ন সংস্থার খালি জায়গা এমন এমন লোভনীয় অবস্থানে আছে, সরকার যদি সেগুলো থেকে বেবির জন্য জায়গা প্রদানের ব্যবস্থা করে, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থারও উন্নতি হবে, সরকারের অপচয়িত জায়গাগুলোরও একটি উন্নত ব্যবহার হবে।
সরকারের জন্য দ্বিতীয় হুমকিটি আরও মারাত্মক। ধরা যাক, বেবিগুলোর অর্ধেক বা তারও বেশি সরকারের শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণে বন্ধ হয়ে গেল। বর্তমান সরকারি হিসাব বলছে, বেবিতে মোট শিক্ষার্থী দুই লাখ। তো অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে ধরি যে এক লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। সাধারণত বেবিতে পাঠানো শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পয়সার জোর থাকে সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাইরে পাঠাতে। তাহলে আবার সে ধারা শুরু হবে; আমাদের অপোগণ্ড গোছের বালক-বালিকারা বাইরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণের নামে মিছেমিছি বাবা-মায়ের ও দেশের টাকা নষ্ট করবে, কিন্তু বিদেশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে অচিরেই কোনো ডিগ্রি গ্রহণ না করে দেশে ফিরে আসবে এবং মা-বাবার দিক থেকে, যেখানে আগে কোনো সমস্যা ছিল না, সেখানে সমস্যা তৈরি করবে।
এ হুমকিটা এ জন্য প্রত্যক্ষ যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে আমরা জাতীয়ভাবে যতটা মানবসেবামূলক কর্ম মনে করি, আমাদের চেয়ে প্রাগ্রসর দেশ যেমন ভারত, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকা তা মনে করে না। তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে একটি অর্থনৈতিক পণ্য মনে করে। নিজের দেশের সন্তানদের জন্য মনে না করলেও বিদেশি সন্তানদের জন্য তাই মনে করে। যেনতেনভাবে শুধু ভর্তি ফি এবং বেতন গ্রহণ করে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানোর জন্য তারা নিজেদের দেশ থেকে বের হয়ে এসে এখানে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, অফিস খুলছে, বিশেষজ্ঞ এনে নামকাওয়াস্তে ইন্টারভিউর মাধ্যমে ভর্তি করিয়ে নিচ্ছে। এভাবে ভর্তি হওয়া হাজার হাজার ছাত্রের বিদেশে অবস্থানকালে তাদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা আমরা প্রতিদিন পত্রিকায় পড়ছি। কিন্তু টাকাটা পেয়ে গেছে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিদেশি নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে খুঁড়িয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষার্থী এবং অনভিজ্ঞ কিন্তু উচ্চাকাক্ষী অভিভাবক মহলকে মৎস্য মনে করে যে ফাঁদে ফেলছে, আমাদের বেবিগুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেলে সে ফাঁদটা তো আরও বড় হবে! সেটাও তো সরকারের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।
আমার মনে হয়, বড় জমি থাকলে, স্থায়ী আবাসন হলে, নিজস্ব ছাত্রাবাস থাকলে পড়ালেখার জোর বাড়বে, এ চিন্তা থেকে আমাদের বোধ হয় সরে আসার সময় হয়েছে। ঢাবি, চবি, রাবিসহ সব সবির গত ৪০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ‘বড় জমি, বড় শিক্ষা’র ধারণা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিষদায়ক হয়েছে। সেগুলোকে সংরক্ষণ করাই সরকারের জন্য দায় হয়েছে। সবির পেছনে সরকারের খরচের তুলনায় উৎপাদন এত কম হয়েছে যে, ভয়ে ভয়ে বলছি, সবিগুলো শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রাবাসগুলো হয়ে গেছে পেশিচর্চার নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্র।
‘বড় জমি, বড় পড়া’র ধারণা যদি আমরা ইংরেজদের কাছ থেকে পেয়ে থাকি, তাহলে সেই ঔপনিবেশিক ধারণা নিয়ে কেন আমরা এখনো সোচ্চার থাকব? বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা হতে হবে বাংলাদেশের জনবসতির চেহারার মতো গায়ে গায়ে লেগে; একসঙ্গে বিভিন্ন কর্ম চলবে, সঙ্গে শিক্ষাও চলবে। সরু রাস্তা, যানজট, বেসামাল গাড়ি চালনা ইত্যাকার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রগুলো লোকালয়ের মূল কর্মকেন্দ্র থেকে দূরে না হওয়াই বাঞ্ছিত। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে একটি আদর্শিক অবস্থানকে নতুন করে ঝালাই করে নিতে না পারার মতো বড় ব্যর্থতা আর হতে পারে না।
ড. মোহীত উল আলম: ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব, ঢাকা।
mohit_13_1952@yahoo.com

গাইয়ে ইঁদুর!

সেটি এমন ইঁদুর, যা পাখির মতো কিচিরমিচির করতে পারে। ইঁদুরের ভেতর এই পাখির সুর জাগানোর দাবি করেছেন জাপানি বিজ্ঞানীরা। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত খবরে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, জিন প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ইঁদুরকে এমন পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী তাঁদের ‘ইভলভড মাউস প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পের আওতায় এই ইঁদুরের জন্ম দেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা বংশানুক্রমিকভাবে পরিবর্তন করা ইঁদুর ব্যবহার করেন। মিউটেশনের মাধ্যমে এই ইঁদুরের জন্ম হয়। প্রাণিদেহে জিনের পরিবর্তন বা রূপান্তর প্রক্রিয়া হচ্ছে মিউটেশন।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক আরিকুনি উচিমুরা বলেন, ‘বিবর্তন প্রক্রিয়ার অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে মিউটেশন। কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা দেখার জন্য আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে বংশানুক্রমিকভাবে পরিবর্তন করা ইঁদুরের ক্রস-ব্রিড বা মিলন ঘটিয়েছি। আমরা প্রতিদিনই নতুন জন্ম নেওয়া ইঁদুরগুলো একের পর এক পরীক্ষা করে দেখেছি। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন দেখতে পাই, একটি ইঁদুর পাখির মতো গান করছে।’ তিনি দাবি করেন, কাকতালীয়ভাবে এই ইঁদুরের জন্ম হয়নি। বরং এ ধরনের বৈশিষ্ট্য ওই ইঁদুরের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যেও থাকবে।

ইরানে ভূমিকম্পে সাতজনের মৃত্যু

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গত সোমবার রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৫।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১২ মিনিটে ওই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কেরমান প্রদেশের হোসেইনাবাদ শহরের কাছে।কেরমান প্রদেশের গভর্নর ইসমাইল নজর জানান, ভূমিকম্পে প্রদেশের তিনটি গ্রাম সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে শতাধিক লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কেরমান প্রদেশের প্রধান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, ভূমিকম্পে প্রদেশের টেলিফোন-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলোর বেশির ভাগই পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। তাই সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় ক্ষতি ৫৩৮০ কোটি ডলার

ভারতে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও যথাযথ পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় সে দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা থেকে সৃষ্ট অপরিচ্ছন্নতাজনিত অসুস্থতা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতকে প্রতিবছর পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় পানি ও পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের প্রধান ক্রিস্টোফার জুয়ান কস্টিয়ান বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে আমরা দেখছি যথাযথ পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এর গুরুতর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যখাতে। এতে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি এই প্রতিবেদনে ধরা পড়েছে।’
কস্টিয়ান জানান, গবেষণায় দেখা দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে প্রতিবছর মাথাপিছু ৯ দশমিক ৩ ডলার, ফিলিপাইনে ১৬ দশমিক ৮ ডলার, ইন্দোনেশিয়ায় ২৮ দশমিক ৬ ডলার এবং কম্বোডিয়ায় ৩২ দশমিক ৪ ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
কস্টিয়ান বলেন, কিন্তু ভারতে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় লোকজনের স্বাস্থ্যহানির কারণে প্রতিবছর মাথাপিছু ক্ষতির পরিমাণ ৪৮ ডলার। কাজেই ভারতে দ্রুত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি করা আশু প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

গাজায় আবারও বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গতকাল মঙ্গলবার আবারও কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামাসের প্রশিক্ষণ শিবির ও মিসরের সীমান্তবর্তী মাদক পাচারের রুট এবং জনশূন্য এলাকায় ইসরায়েল এ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা এ কথা জানান। এর আগে গত শনিবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসের পাঁচ জঙ্গি নিহত হন।
হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের বিমান হামলায় কারও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাঁদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের দুই বন্দুকধারী আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের এক মুখপাত্র জানান, গত দুই দিনে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে কমপক্ষে ১৪টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল আটটায় একটি কিন্ডারগার্টেনের অদূরে একটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন গাড়িচালক আহত হন। এ ঘটনায় ওই কিন্ডারগার্টেনের সব শিশু আতঙ্কে ভুগছে।
আল-আকসা মার্টায়ার্স ব্রিগেডস নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের মুখপাত্র জানান, ইসরায়েলের আগ্রাসী তৎপরতার জবাবে তারা এ রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, চলতি বছর গাজা থেকে কমপক্ষে ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং গোলা ইসরায়েলের উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
পোলার্ডের মুক্তির অনুরোধ: যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছর আগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলের গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডের মুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুরোধ জানানোর কথা বিবেচনা করছেন। গতকাল এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।
গত সোমবার জেরুজালেমে জনাথনের স্ত্রী এসথার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি তাঁর স্বামীর মুক্তির ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে চালানো কূটনৈতিক তৎপরতার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুরোধ জানানোর আহ্বান জানান। পোলার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ-বিশ্লেষক ছিলেন। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কিত হাজার হাজার গোপন নথি ইসরায়েলে পাঠানোর অভিযোগে তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়া ‘সঠিক পথে’ রয়েছে

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়া ‘সঠিক পথে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন দূত নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল রিচার্ডসন। তবে তিনি বলেন, ‘শুধু কথায় নয়, চুক্তির মাধ্যমে’ পিয়ংইয়ংকে এটা প্রমাণ করতে হবে। দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনার দায়িত্ব পাওয়া রিচার্ডসন উত্তর কোরিয়া যান। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার চীনের বেইজিং বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি এসব কথা বলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোলাবর্ষণের মহড়ায় কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীন গতকাল বলেছে, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি ‘এখনো জটিল’ অবস্থায় রয়েছে।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের রিচার্ডসন বলেন, ‘আমার ধারণা, উত্তর কোরিয়া তার অতীতের নেতিবাচক অবস্থান বুঝতে পেরেছে। অতীতে আলোচনায় যেতে অনীহা ও বিভিন্ন ধরনের ভুল পদক্ষেপের বিষয়টি পিয়ংইয়ং অনুধাবন করেছে। তাই তারা এখন সঠিক পথে এগোতে চাইছে।’
রিচার্ডসন জানান, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে। পিয়ংইয়ং উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে না—এটি নিশ্চিত করতেই আইএইএর পরিদর্শকদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে আইএইএর পরিদর্শক দলকে পিয়ংইয়ং থেকে বহিষ্কার করে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব অভিযোগ, পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির আলোচনাও ভেস্তে যায়। এর এক মাস পরই দ্বিতীয়বারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং।ইয়নপিয়ং দ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার গত সোমবারের গোলাবর্ষণের মহড়ার কথা উল্লেখ করে রিচার্ডসন বলেন, এর পাল্টা জবাব না দিয়ে উত্তর কোরিয়া বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছি, পিয়ংইয়ং তা মেনে নিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের শান্ত থাকার সময়।’ রিচার্ডসন আরও বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমাতে এই প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেল। তবে এই মনোভাব ধরে রাখতে হবে।এদিকে চীন কোরীয় উপদ্বীপে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ বলেন, ‘ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনো জটিল ও স্পর্শকতার। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’ কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে যত দ্রুত সম্ভব ছয় জাতি আলোচনা শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে জিয়াং ইউ বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পিয়ংইয়ংয়ের রয়েছে।

এবার কি সাকিবকে চিনবে আইপিএল?

আইপিএলের গত নিলাম বিস্ময় হয়ে এসেছিল ক্রিকইনফোর কাছেও। ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটির বিস্ময়ের কারণ ছিল সাকিব আল হাসানের অবিক্রীত থাকা। ক্রিকইনফো তখন মন্তব্য করেছিল, আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজ-কর্তারা কি র‌্যাঙ্কিং-ট্যাঙ্কিংয়ে চোখ রাখেন না!ওয়ানডের অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় দুই বছর এক নম্বর জায়গাটি ধরে রাখা সাকিবের প্রতি এবারও আইপিএলের কোনো দল আকৃষ্ট না হলে সেটি হবে আরেক বিস্ময়। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এবারের নিলামে সাকিব ছাড়া আরও দুজন বাংলাদেশির নাম উঠছে। বাকি দুজন তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ আশরাফুল। সাকিবের সর্বনিম্ন দাম (যেখান থেকে শুরু হবে নিলাম) দুই লাখ মার্কিন ডলার, তামিমের এক লাখ, আশরাফুলের ৫০ হাজার।আগামী ৮-৯ জানুয়ারি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে ২০১১ আইপিএলের নিলাম। সর্বোচ্চ দরের এলিট গ্রুপে আছেন ২১ জন ক্রিকেটার। নিলামে এঁদের দর শুরু হবে চার লাখ ডলার থেকে। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামটি ব্রায়ান লারার। ২০০৭ বিশ্বকাপ খেলে অবসর নেওয়ার পর আইসিএলে গোটাকয় ম্যাচ খেলা লারা এবারের আইপিএল দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে চান। লারা ছাড়াও শীর্ষ তালিকায় উল্লেখযোগ্য অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ব্রেট লি, কেভিন পিটারসেন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ক্রিস গেইল। আছেন তিন ভারতীয়ও—অনীল কুম্বলে, রাহুল দ্রাবিড় ও যুবরাজ সিং।এবারের আইপিএলে নতুন করে নিলাম হচ্ছে। আগের তিন আসরে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে মাত্র ১২ জনকে রেখেছে তাদের দলগুলো। পাঞ্জাব, ডেকান চার্জার্স আর কলকাতা রাখেনি একজন খেলোয়াড়ও। এর ফলে এই তিনটি দলই পুরো ৯০ লাখ ডলার নিয়ে নিলামে নামতে পারবে। খেলোয়াড় কেনা বাবদ সর্বোচ্চ ৯০ লাখ ডলার বেঁধে দেওয়া আছে। যেসব দল পুরোনো খেলোয়াড়দের রেখে দিয়েছে, তাঁদের দাম বাদ দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে ওই দলগুলো নামবে নিলামে। চেন্নাই আর মুম্বাই যেমন অনুমোদিত সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড়ই রেখে দিয়েছে। এর ফলে নিলামে তারা ব্যয় করতে পারবে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ ডলার।তিন দল একজন খেলোয়াড়ও রাখেনি—এ তথ্য আগেই জেনেছেন। ওই তিন দলের ‘আইকন’ খেলোয়াড়েরাও তাই এবার থাকছেন নিলামে। কলকাতার আইকন সৌরভ গাঙ্গুলী যেমন নিশ্চিত নন এবার তিনি তাঁর নিজের শহরের দলেই থাকবেন কি না। সৌরভ আছেন সাকিবের মতোই তৃতীয় সারিতে, যেখানে খেলোয়াড়ের সর্বনিম্ন দাম দুই লাখ ডলার। এই দলে আছেন গৌতম গম্ভীর, সনাৎ জয়াসুরিয়ারাও। দ্বিতীয় সারির সর্বনিম্ন দর তিন লাখ ডলার। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম মুত্তিয়া মুরালিধরন, জ্যাক ক্যালিস, ইউসুফ পাঠান, জহির খান, কুমার সাঙ্গাকারা ও অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস।
নিলামে ওঠা সর্বমোট ৪১৬ ক্রিকেটারের তালিকায় এবারও নাম নেই কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের। রিকি পন্টিং, মিচেল জনসন, মাইকেল ক্লার্কের মতো তারকারাও অনুপস্থিত। নেই গতবার পিটারসেনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি দামে বিকোনো অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের নামও।
নিলামে নাম ওঠা মানেই যেমন বিক্রি নিশ্চিত নয়, একইভাবে সর্বনিম্ন দরের ক্রিকেটারের বিশাল দামে বিক্রি হওয়াটাও বিস্ময়কর কিছু নয়। খুব সম্ভবত ১০টি দলই এবার নিলামে অংশ নিচ্ছে। হাইকোর্টের রায়ের ফলে আবারও আইপিএলে ফিরে এসেছে পাঞ্জাব ও রাজস্থান। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আপিল করবে না বলেই শোনা যাচ্ছে। ফলে আগের তিন আসরের আটটি দলের সঙ্গে কোচি ও পুনে যুক্ত হয়ে ২০১১ আইপিএল সম্ভবত হতে যাচ্ছে ১০ দল ও ৭৪ ম্যাচের টুর্নামেন্ট।

পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা

শেষ বাঁশি বাজতেই অনু লামা দৌড়ে গিয়ে উঠে পড়লেন মিরার কোলে। যমুনাকে কাঁধে তুলে নাচতে লাগলেন লক্ষ্মী। ডাগ আউটে বসে থাকা খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের উল্লাসও ছিল বাঁধনহারা। সাফ মহিলা ফুটবলের সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার আনন্দ তো এমনই হবে। আগামীকাল ফাইনালে নেপালের প্রতিপক্ষ ভারত।
আগের দিন বাংলাদেশের মেয়েরা বলেছিল, ‘আমরা জয়ের জন্যই লড়ব।’ কিন্তু কথার সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো মিল ছিল না। খেলায় না ছিল কোনো পরিকল্পনার ছাপ, না ছিল আক্রমণে কোনো ধার। বাস্তবতা হলো নেপালের সঙ্গে পেরে উঠতে এখনো বছর দশেক সাধনা করতে হবে সাবিনা-অম্রাদের। গত এসএ গেমসে নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, এবার হারের ব্যবধানটা আরও বাড়ল।
অনুমিতভাবেই কাল দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন অনু লামা ও যমুনা গুরং। বাংলাদেশকে সারাক্ষণ তটস্থ থাকতে হয়েছে এই দুজনকে সামলাতে। উল্টো দিকে বাংলাদেশের স্ট্রাইকার সাবিনা নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন সারা ম্যাচ। খেলার মতো ফিটনেস না থাকলেও তাঁকে খেলানো হয়েছে। ডান পায়ে চোট নিয়ে খেলা সাবিনাকে উল্টো দলের বোঝা বলেই মনে হচ্ছিল একসময়। সামান্য চেষ্টা করেছেন অম্রা। ডান উইং দিয়ে তাঁকে সমর্থন দিতে দেখা গেছে তৃষ্ণাকে। কিন্তু সেটি নেপালকে সমস্যায় ফেলার মতো নয়।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে ডিফেন্ডারের ভুলে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। ডান প্রান্তে অনু লামার লব থেকে হেডে গোল করেন যমুনা (১-০)। ৭০ মিনিট পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল এই স্কোরলাইন। ৭১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল। ডি বক্সের ভেতরে অনু লামার শট প্রথম চেষ্টায় গোলকিপার সাবিনা আক্তারের হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে ফিরতি শটে গোল করেন অনু (২-০)। পাঁচ মিনিট পর বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে ফেলেন যমুনা। গোলরক্ষক সাবিনা পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে রুখতে। সাবিনাকে ডজ দিয়ে নিশ্চিন্তে গোল করেন যমুনা। টুর্নামেন্টে এটি তাঁর দশম গোল।
ম্যাচ শেষে হোটেলে ফেরার টিম বাসে বসে থাকা বাংলাদেশের মেয়েদের চেহারায় রাজ্যের বিষণ্নতা। কিন্তু বাস্তবতা তো মেনে নিতেই হবে। কোচ গোলাম রব্বানী তা মেনেও নিচ্ছেন, ‘ওরা অনেক দিন ধরে খেলছে। অনেক অভিজ্ঞ দল। আমরা চেষ্টা করেছি লড়াই করতে, পারিনি। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’ আনফিট সাবিনাকে খেলানো হলো? কোচের উত্তর, ‘ওর বদলি হিসেবে খেলার মতো কেউ নেই আমাদের দলে।’ নেপালের কোচ ধ্রুব বাহাদুরের প্রতিক্রিয়ায় আনন্দের সঙ্গে ছিল স্বস্তিও, ‘এই ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেয়েরা ভালো খেলেছে। বাংলাদেশ খারাপ খেলেছে বলব না। তবে টেকনিক্যালি-ট্যাকটিক্যালি আমরাই এগিয়ে।’ যমুনা অবশ্য জয়ের ব্যবধানে খুশি নন, ‘আশা করেছিলাম আরও বড় ব্যবধানে জিতব। তবে ফাইনালে উঠেছি, এতেই খুশি।’ স্ট্রাইকার সাবিনা তাঁর জন্য বিস্মরণযোগ্য ম্যাচটির পর টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেলেন আমরা নেটওয়ার্কসের দেওয়া ল্যাপটপ। বললেন, ‘এই পুরস্কার আরও ভালো খেলতে উৎসাহ জোগাবে।’
বড় উৎসাহ নিয়ে খেলা দেখতে এসেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ফিরলেন বিষণ্ন মনে। তাঁর সঙ্গে বিষণ্ন মনে ফিরল গ্যালারি উপচে পড়া হাজার ছয়েক দর্শক।
বাংলাদেশ দল: সাবিনা আক্তার, তৃষ্ণা, ফারহানা, খালেদা, সুরভি, সুইনু, রুপালি (তাহমিনা), মাইনু, সাবিনা খাতুন, অম্রা চিং, জাহানারা (নুবাই)।

বিশ্বকাপে অনিশ্চিত মাশরাফি

ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলটাই ফ্লিক করে স্কয়ার লেগে পাঠালেন। রানের জন্য ছুটলেনও। কিন্তু অল্প দূর যেতেই নন-স্ট্রাইকিং এন্ড থেকে ফরহাদ হোসেনের চিৎকার ‘নো...’। মাশরাফি উইকেটে ফিরতে চেয়েও পারলেন না, পড়ে গেলেন উইকেটের ওপরই। স্কয়ার লেগ থেকে উড়ে আসা থ্রোতে হয়ে গেলেন রানআউট। মাশরাফির কি আর সেদিকে খেয়াল আছে! তাঁর ব্যথাতুর দৃষ্টি তখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।যে হাঁটু মাশরাফিকে এর আগে অনেকবার মাঠের বাইরে ছিটকে ফেলেছে, সেটিই আবার ‘বিদ্রোহ’ করে বসল কাল। বিকেএসপিতে বিকেএসপির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ডান হাঁটুতে পাওয়া চোট সংশয় ছড়িয়ে দিল মাশরাফির বিশ্বকাপে খেলা নিয়েই।মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাশরাফিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল অ্যাপোলো হাসপাতালে। সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করার পর প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অস্ত্রোপচার না লাগলেও এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে। লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। বিসিবির চিকিৎসক মনিরুল আমিন জানালেন, ‘লিগামেন্ট ৫০ থেকে ৭০ ভাগ ছিঁড়েছে। কাল (আজ) এমআরআইয়ের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরোটা বোঝা যাবে।’ গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও এই ডান হাঁটুরই লিগামেন্ট ছিঁড়েছিল মাশরাফির। সেবার তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আট মাস লেগেছিল।বিসিবি থেকে কাল রাতেই মাশরাফির সিটি স্ক্যান ও এমআরআইয়ের ছবি ই-মেইল করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে। সেসব দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। হাসপাতাল থেকে টেলিফোনে মাশরাফি নিজেও কথা বলেছেন ইয়াংয়ের সঙ্গে। তাঁর হাঁটুতে সর্বশেষ পাঁচটি অস্ত্রোপচারই করেছেন ইয়াং। মাশরাফির সঙ্গে কথা বলেই তাই অনেক কিছু বুঝে ফেলেন তিনি। তা, কী বললেন ইয়াং? ‘এখনই বিশ্রামে না গিয়ে ইয়াং আমাকে কাল (আজ) থেকে সাইক্লিং করতে বলেছেন। অল্প ব্যথা হলেও করতে বলেছেন। জিম-টিমও হয়তো করতে হবে। অস্ত্রোপচার না করালেও কমপক্ষে দুই মাস সময় তো লাগবেই ফিরতে’—হাসপাতাল ছাড়ার সময় জানালেন মাশরাফি। আবারও কাটাছেঁড়ায় যেতে হবে বলেও আশঙ্কা তাঁর, ‘আমার মনে হয় অপারেশন লাগবে। ব্যথাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেখা যাক ডাক্তাররা কী বলেন।’ভাগ্য ভালো হলে হয়তো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সেরে উঠবেন মাশরাফি। কিন্তু অস্ত্রোপচার লাগলে কাজটা এবার কঠিনই হবে। পা থেকে লিগামেন্টের যে বাড়তি অংশটা কেটে এনে ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট জোড়া লাগাতে হয়, একটার পর একটা অস্ত্রোপচারের পর মাশরাফির শরীরে সেটা আর অবশিষ্ট নেই। আরেকবার অস্ত্রোপচার করতে হলে তাই কোনো মৃতদেহ থেকেই কেটে আনতে হবে সেটা।বাঁ হাঁটুতে এ পর্যন্ত চারবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে মাশরাফির। ডান হাঁটুর ইনজুরিতে পড়লেন তৃতীয়বার এবং আগের দুবারই লেগেছে অস্ত্রোপচার। ২০০২ সালের মার্চ মাসে বাঁ হাঁটুতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এর পর থেকে এটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মাশরাফির নিয়তি। তবু এবারের চোটটা বড় এক আঘাত হয়েই এসেছে তাঁর জন্য। গত অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়ে দুই মাস মাঠের বাইরে কাটিয়ে মাত্রই ফিরেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বিবর্ণ থাকার পর শেষ দুই ম্যাচে ফিরে পেয়েছিলেন নিজেকে। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচেও ভালো বোলিং করেছেন। অথচ দুর্ভাগ্য আবার তাঁকে ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধে নামিয়ে দিল। হাসপাতালে এমআরআইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে বলা মাশরাফির কথাটা শোনাল হাহাকারের মতো, ‘যখন আবার রিদম পেতে শুরু করলাম, ভালো বোলিং করতে শুরু করলাম, তখনই আবার এই অবস্থা! আমার কপালও একটা...!’এই ‘মন্দ কপাল’ জয় করে প্রতিবারই বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবারও কি পারবেন?

নারী- সময়ের দাবি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি by শিরীন আখতার

০১০ সাল শেষ হয়ে এলো। সবাই হিসাব-নিকাশের খাতা খুলছে। বিভিন্ন ইসু্যতে লাভ-ক্ষতির হিসাব করছে বিভিন্ন জন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। কিন্তু এই বিশাল জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নীতি নির্ধারণ, রাজনীতি, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ও শ্রমের মূল্যায়ন সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে পুরুষের সুবিধার্থে সকল নিয়মকানুন গড়ে উঠেছে। এসব প্রয়োগ করতে গিয়ে নারীর ওপর নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বাল্যবিবাহ. যৌতুক, বহুবিবাহ, অবহেলা, কুসংস্কার প্রভৃতি।

আলোচনা- জনসংখ্যা বনাম জনশক্তি by মোহাম্মদ শফিকুর রহমান

পৃথিবীর সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ এবং প্রায় ৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের এদেশের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। দেশের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৪ শতাংশ। ১ কোটি ৯০ লক্ষ ৯৮ হাজার একর কৃষি জমি হতে বাসস্থান ও কল-কারখানা স্থাপনের জন্য প্রতি বৎসর ১% কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ খাদ্য ঘাটতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাড়ে তিন কোটি শিক্ষিত/ অশিক্ষিত বেকারের এদেশ শুধু জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে।

অর্থনীতি- ব্যাংকের টাকা নয়ছয় হওয়া উচিত নয় by ড. আর এম দেবনাথ

ডিসেম্বর ১৩ তারিখের একটি দৈনিকে দেখলাম একটি বেসরকারি ব্যাংক ২০০৯ সালে ৪০ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। এই অবলোপনের বিপরীতে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকটি আদায় করেছে মাত্র ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০০৯ সালের অবলোপনকৃত ঋণসহ ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত অবলোপনকৃত ঋণের অংক দাঁড়িয়েছে ২১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

আলোচনা- একটি পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিচিত্র by সাযযাদ কাদির

ম্বে, বোম্বে, বম্বাই, বোম্বাই, মুম্বাই, মুম্বই ( সাতটি দ্বীপের এই নগরী আর এর চলচ্চিত্র জগৎ বলিউডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো। রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই, প্রথম ভারতীয় আই.সি.এস. (ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস), সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২-১৯২৩) চাকরি উপলক্ষে ঐ প্রদেশে ছিলেন দীর্ঘদিন (১৮৬৫-১৮৯৭)। সে অভিজ্ঞতার আলোকে দু'টি বইও লিখেছেন "বোম্বাই চিত্র" (১৮৮৯) ও "আমার বোম্বাই প্রবাস" (১৯১৫)। "বোম্বাই রায়ত" নামের বইটি সঙ্কলিত হয়েছে পরে, ১৯৮৬ সালে।

শিল্প-অর্থনীতি- পাটশিল্প ঘুরিয়ে দিতে পারে অর্থনীতির চাকা by আনু মাহমুদ

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ চারটি পাটকল আবার চালু করার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর সঙ্গে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগ রয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে বলা হয়েছে, মিলগুলো চালু করতে ব্যয় হবে ১৭৬ কোটি টাকা। তারপর এগুলো নিয়মিতভাবে চালু রাখার জন্যও মাসে মাসে প্রয়োজন হবে বিপুল অর্থ।

আলোচনা- ড. ইউনূসকে বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে by আবদুল মান্নান

বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি দেশে এবং বিদেশের গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন। যে সংবাদটি নিয়ে এতো হৈ-চৈ তার সূত্র ইউরোপের দেশ নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ৩০ নভেম্বর প্রদর্শিত 'ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে' নামে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র এবং প্রথমে সংবাদটি বাংলাদেশে পরিবেশন করেছে একটি এদেশীয় বেসরকারি সংবাদ সংস্থা। ছবিটির নির্মাতা ডেনমার্কের চলচ্চিত্রকার পল হাইনেম্যান।

আলোচনা- সুশিক্ষার পথে এখনও বাধা অনেক by মো. রহমত উল্লাহ্

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার থেকে যুগ যুগ বঞ্চিত হয়েছেন আমাদের পূর্বসূরিরা। সুশিক্ষার অধিকার আদায়ের জন্য অনেক আন্দেলন-সংগ্রাম করেছি আমরা । ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দেলনে পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে আমাদের। স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উপস্থাপিত ১৯৬৬-এর ৬ দফা এবং ১৯৬৯-এর ১১ দফাতেও বিশেষভাবে যুক্ত ছিল শিক্ষার অধিকার আদায়ের দাবি।