Friday, March 5, 2010

শতাংশের সেরা

৫০৩ রানের মধ্যে এক জুটিতেই ৩৭০। হায়দরাবাদ টেস্টে ভারতের ইনিংসের ৭৩.৫৫ শতাংশ রান এসেছে চেতেশ্বর পূজারা ও মুরালি বিজয়ের এক জুটিতেই। তার পরও শতাংশের হারে ভারতের সেরা জুটিটি ছুঁতে পারেননি দুজন। ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে ২৯৩ রান করেছিল ভারত, চতুর্থ উইকেটে বিজয় হাজারে ও বিজয় মাঞ্জরেকারের জুটিতে এসেছিল ২২২। শতাংশের হারে ৭৫.৭৭%। বিশ্ব রেকর্ডটি মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা জুটির। ২০০০ সালে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ২১৬ রানের ১৬৮ রানই এসেছিল ওই জুটিতে। শতাংশের হারে ৭৭.৭৮%!

দিলশানকে উদাহরণ মানছেন আশরাফুল

সাড়ে ১১ বছর আগে এই শ্রীলঙ্কাতেই তাঁর দুনিয়া কাঁপানো টেস্ট অভিষেক। সেই শ্রীলঙ্কাতেই আবার নতুন করে শুরু করতে চান মোহাম্মদ আশরাফুল। প্রত্যাশাভঙ্গের বেদনা আর অপ্রাপ্তির হাহাকার ঘুচিয়ে লিখতে চান ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।
সেই লক্ষ্য পূরণে সামনে একটা উদাহরণও রেখেছেন। ঘটনাচক্রে তিনিও এই শ্রীলঙ্কারই এক ব্যাটসম্যান। তিলকরত্নে দিলশান। ‘বিপিএলের সময় দিলশানের সঙ্গে কথা হলো। ও বলল, ২০০৯ সালে ওপেন করার সিদ্ধান্তই ওর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমিও অমন কিছুই করতে চাই’—প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর বললেন আশরাফুল।
মিডল অর্ডারে খেলে প্রথম ৫৮ টেস্টে যাঁর আটটি সেঞ্চুরি, ২০০৯ সালে ওপেনারের ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়ার পর সেই দিলশানেরই ২৭ টেস্টে সাতটি সেঞ্চুরি। আশরাফুলও কি তাহলে টেস্টে ওপেন করার কথা ভাবছেন?
ক্যারিয়ারের শুরুতে ওপেনারই ছিলেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অনেকবারই ওপেন করেছেন। মাঝখানে টেস্টেও ওপেনার হিসেবে ফেরার চিন্তা থেকে জাতীয় লিগে ওপেন করতে শুরু করেছিলেন। আপাতত অবশ্য সেই চিন্তা নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে ৩ নম্বরে খেলেছেন। সেঞ্চুরি করে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তাও দূর হয়েছে। ৩ নম্বরে খেলার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন।
১৫১ বলে ১০২ রানের ইনিংসটিতে যেটি সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো, তিনি নিজেও সেটিকেই বললেন এটির বিশেষত্ব, ‘আমি ইনিংস গড়তে চেয়েছি। সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছি কোনো বোলার যেন আমাকে টানা বেশি বল করতে না পারে। যে কারণে সিঙ্গেল নিয়ে নন স্ট্রাইকার প্রান্তে চলে যেতে চেয়েছি।’
প্রথম সেশনে যত বল খেলেছেন, ছেড়েছেন তার বেশি। একটা সময় বলতেন, ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই দু-তিনটি চার মারলে নিজেকে তাঁর উইকেটে সেট বলে মনে হয়। সেই মতাদর্শ থেকে মনে হয় সরে এসেছেন, ‘এখনো শুরুতেই দু-তিনটি চার মারতে পারলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তবে এখন আমি একটু সময় নিতে চাই।’
গত মৌসুমে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে সেঞ্চুরি করেছেন। সেঞ্চুরি করেছেন বিপিএলেও। আধুনিক যুগের ক্রিকেটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। আশরাফুল অবশ্য সেটিকে খুব কঠিন বলে মনে করেন না, ‘কয়েক দিন প্র্যাকটিস করলে আর দু-তিনটি ইনিংস খেললেই ঠিক হয়ে যায়। বিপিএলের পর এখানে আসার আগে আমি দুটি ফার্স্ট ক্লাস ইনিংস (বিসিএল ফাইনালে) খেলেছি, এটি খুব কাজে এসেছে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার তিনি। একসময় ছিলেন দেশের মানুষের নয়নমণি। প্রত্যাশাভঙ্গের বেদনা সইতে সইতে বাংলাদেশ এখন আশরাফুলকে নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এক দল এখনো পুরোনো দিনের আশরাফুল আবার ফিরে আসবেন বলে আশায় বুক বাঁধে। আরেক দল আশরাফুলের নাম শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটার মানুষের মনে এমন পুরো বিপরীতমুখী অনুভূতির জন্ম দেননি কখনো। শুধু বাংলাদেশ কেন, ক্রিকেট-বিশ্বেই এমন আরেকটি উদাহরণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আশরাফুল নিজেও তা জানেন। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তিতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তাঁকেও খুব পোড়ায়। গত কিছুদিন কথায় কথায় নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। দিলশানের উদাহরণটা দেওয়ার সময়ও যেমন বললেন, ‘১০-১১ বছরে কিছুই তো দিতে পারিনি, আবার একটু চেষ্টা করে দেখি।’
একেবারেই কিছু দেননি, তা নয়। টেস্টে পাঁচটি সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম দিকের বড় বড় প্রায় সব কটি জয়েই আশরাফুলের জাদুর ছোঁয়া আছে। সেসব এখন আশরাফুলের কাছেও দূর অতীত বলে মনে হয়। যে কারণে আবার এই নতুন করে শুরুর প্রতিজ্ঞা। সেই নতুন শুরুর জন্য শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো প্রতিপক্ষ আর পেতে পারতেন না, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সময় আমার মনে বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করে। ওদের সঙ্গে খেলতে আমার খুব মজাও। যখন মুরালি ছিল, তখনো মনে হতো আমি ওদের বিপক্ষে রান করবই। যে বার (২০০৭ সালে) অধিনায়ক হয়ে শ্রীলঙ্কায় এলাম, জানতাম আমি একটা হানড্রেড মারবই। চতুর্থ ইনিংসে গিয়ে হলেও ঠিকই মেরেছি।’
এবারও কি তেমন কিছুই মনে হচ্ছে? আশরাফুল শুধু হাসেন।

অর্পিত সম্পত্তি মামলা -ইতিহাসের দায় থেকে মুক্তি চাই

অর্পিত সম্পত্তির মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্ক। সরকারের পক্ষ থেকে যখনই এই কলঙ্কমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তখনই তা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন আদালত, প্রশাসন এবং রাজস্ব বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সুপ্রিম কোর্ট বহুকাল আগেই রায় দিয়েছিলেন, ১৯৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে আর কোনো সম্পত্তি শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে জারি করা যাবে না। এ রকম কিছু হলে তা বেআইনি বলে চিহ্নিত হবে। কিন্তু অসাধু চক্র তাতে থামেনি। রেকর্ডপত্র থেকে দেখা যায়, অসাধু ব্যক্তিরা নানা ফাঁকফোকর বের করে ১৯৭২, এমনকি ১৯৭৮ সালেও নতুন করে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে কাগজপত্র তৈরি করেছেন। অধিকাংশ অর্পিত সম্পত্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিল। তারা দেশত্যাগের কারণে অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে জাল-জালিয়াতির যে উপাখ্যান সৃষ্টি হয়েছে, তা কিংবদন্তিতুল্য।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সংসদ প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এসব সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন করেছে। আশা করা হয়েছিল, আইনটির আওতায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। গতকাল প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলেছে, দেড় লাখ মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র এক হাজার ১০০টি। ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, ৫০ বছরের পুরোনো সমস্যা। কাগজপত্র দেখেশুনে মামলার সুরাহা করতে সময় লাগছে। কিন্তু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও তা কাজে আসছে না। আর নিষ্পত্তি না হওয়া মামলার সংখ্যা দেড় লাখের অনেক বেশি হবে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, চলতি গতিহীনতার প্রধান কারণ দুটি। প্রথমত, জেলা জজকে নিয়মিত মামলা নিষ্পত্তি করতেই ব্যস্ত থাকতে হয়, কেবল অর্পিত সম্পত্তির মামলা শুনতে আলাদাভাবে ট্রাইব্যুনাল চালানো সম্ভব হয় না। তাঁর সময়স্বল্পতা সরকার বিবেচনায় নেয়নি। এর অবসান ঘটাতে হবে। এ জন্য আলাদাভাবে স্পেশাল জজের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। তাঁরা কোনো বিরতি ছাড়াই মামলার শুনানি করবেন। আমরা মনে করি, অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা একটি ক্যানসার হয়ে আছে। এর অপসারণ জরুরি। এই মামলাগুলো আরও নানা ধরনের দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে। সে কারণে সরকারকে জেলা জজের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর বিষয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দ্বিতীয় যে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে সেটি আইনজ্ঞরা উচ্চ আদালতের ব্যাখ্যানির্ভর বলে বর্ণনা করছেন। নতুন আইন বলেছে, আগে যত আদালতে অর্পিত সম্পত্তির মামলা চলছিল, তা আর চলবে না। এখন থেকে তা দেখবেন কেবল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু কোনটি চলবে আর কোনটি চলবে না, তা আইনে স্পষ্ট নয়। এ জন্য একটি ব্যাখ্যা দরকার। এর সঙ্গে কারও কারও মতে ৫০ হাজারের বেশি মামলার ভবিষ্যৎ জড়িত। সে জন্য হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
অর্পিত সম্পত্তির সমস্যা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর একটি বিহিত-ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। ইতিহাসের এই দায় থেকে জাতির মুক্তি দরকার।

লাউয়াছড়ার বিপন্ন বন by মোকারম হোসেন

একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন করে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে আমাদের। কারণ, আমরা অতীত ও বর্তমান মিলিয়ে অনেক ধ্বংসাত্মক কাজ করেছি। কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগেও আমরা যদি অতীতের ভুল শুধরানোর ও ক্ষতি পূরণের চেষ্টা না করি, তাহলে আমাদের বিপর্যয় ত্বরান্বিত হবে।
সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণটা একটু বেশিই মনে হলো। সারা দিনই স্রোতের মতো মানুষ ঢুকছে আর বেরোচ্ছে। আমাদের পাশ কাটিয়ে বনের ভেতর ঢুকল আট থেকে দশটি গাড়ি। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত কয়েকটি দলের হল্লা-চিৎকারে প্রকম্পিত হলো বনের নির্জনতা। মানুষের বাঁদরামো দেখে বনের বানর ও হনুমানরাও ভীত হয়ে বন ছেড়ে পালিয়েছে। মাত্র এক দশক আগেও লাউয়াছড়া উদ্যানে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রাণীর দেখা মিলত। অথচ এখন কোনো প্রাণীর দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার।
ভেতরে আবার কয়েকটি দোকানপাটও গজিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো দু-একখানা মার্কেট দাঁড়িয়ে গেলেও অবাক হব না। যতই ভেতরে যাই, দেখি যত্রতত্র মানুষের ছুড়ে ফেলা বর্জ্যের ছড়াছড়ি। অথচ প্রবেশপথের একাধিক নির্দেশনা বোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘উদ্যানে প্রবেশের সময় খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিক-জাতীয় দ্রবাদি সঙ্গে রাখবেন না। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোথাও আবর্জনা ফেলবেন না।’ কিন্তু পর্যটকেরা এসব নির্দেশনা পড়েও দেখছেন না, কিংবা পড়লেও মানছেন না। যাঁরা এসব নিয়ম ভঙ্গ করছেন, তাঁদের ওপর নজরদারি করার ব্যবস্থাও নেই। উদ্যানজুড়েই মানুষের অসচেতনতার চূড়ান্ত রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়! রেলপথ ছাড়িয়ে খানিকটা ভেতরে গেলেই চোখে পড়ে বিক্ষিপ্ত গাছপালা, লতাগুল্ম। একসময়ের ঘন অরণ্যের কোনো চিহ্ন নেই। টিলাজুড়ে যৎসামান্য উঁচু গাছ মাথা তুলে আছে। উদ্যানের কিছু জায়গা একেবারেই ন্যাড়া। কোনো কোনো অংশে পরীক্ষামূলক বৃক্ষায়ণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বন সাফ করে সেখানে নতুনভাবে গাছ লাগানো ফলপ্রসূ কোনো কাজ নয়। এটা বন বিভাগের বহুমাত্রিক অপকর্মের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বন-পাহাড়ের গাছপালা লোপাট করে সেখানে বিদেশি গাছ রোপণ করে ইকোসিস্টেম নষ্ট করা। ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০১ সালে যথাক্রমে উদ্যানের শূন্য দশমিক ৭৮ হেক্টর, ৩ হেক্টর এবং শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর জায়গায় নতুন করে বৃক্ষায়ণ করা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে আকাশমণি (অ্যাকাশিয়া) ও মেহগনি ছাড়া অন্যগুলো পাহাড়ি প্রজাতি হিসেবেই পরিচিত। যদিও এ ধরনের বৃক্ষায়ণকে বেশ লাভজনক খাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে, আসলে এসবই খাতা-পুস্তকের হিসাব। বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সাদৃশ্য নেই। দৃশ্যমান এসব লাভালাভের চেয়ে অদৃশ্য ক্ষতির পরিমাণটা কত ভয়াবহ, তা কি বন বিভাগ একবারও ভেবে দেখেছে? বন বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই তো এ কাজটি করছে, তা থেকে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি কতটা গতিশীল হয়েছে, সেই হিসাব আমাদের জানা নেই।
আদতে নতুন করে এ ধরনের বৃক্ষায়ণের কোনো প্রয়োজনই নেই। যদি বনকে ‘বিরক্ত’ না করা হয়, তাহলে আপনাআপনিই বন নিজ বৈশিষ্ট্যে পুরোনো চেহারায় ফিরে আসতে পারে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ সুন্দরবন: সিডরের প্রলয়ংকরী তাণ্ডবের পরও সুন্দরবন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বনকে মোটেও অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত নয়। আমাদের বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে বনবাদাড় মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। সেগুলোকেও যদি বিপন্ন করা হয়, তাহলে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলব কোথায়?
সার্বিক বিবেচনায় লাউয়াছড়াকে এখন সত্যিকার বন বা উদ্যান হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন। কারণ, এখানে এখন একধরনের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ভর করেছে—অর্থাৎ উদ্যান ভাঙিয়ে কয়টা পয়সা কামাই! বন বিভাগ ‘নিসর্গ নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের নামে এখানে পর্যটন-ব্যবসা খুলে বসেছে। তা ছাড়া একটি বনে তিন সংস্থার (বন বিভাগ, ইউএসএআইডি ও নিসর্গ নেটওয়ার্ক) খবরদারিও কাম্য নয়। এতে কাজকর্মে সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গোপন লেনদেনের ভিত্তিতে এখানে দলভিত্তিক পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এসব দল বনের ভেতরে খেলাধুলা ও পিকনিক করে। কিন্তু এমন একটি বনে কেন স্বয়ং বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনীর বিনিময়ে অজস্র মানুষ প্রবেশ করবে? কিছু স্পর্শকাতর স্থানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকা প্রয়োজন। সবাই তো সবকিছুর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে না। পৃথিবীর সব দেশেই এ ধরনের সংরক্ষিত বিশেষ প্রাকৃতিক অঞ্চল রয়েছে। যেখানে যাওয়ার কথা সাধারণ মানুষ চিন্তাও করে না, সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে ও বেড়ে ওঠে বিচিত্র গাছপালা। একইভাবে বিচিত্র প্রাণীও খুঁজে পায় তাদের জীবনের গতি। মূলত এ ধরনের বিশেষ প্রাকৃতিক স্থানগুলো নির্দিষ্ট এলাকার জিনব্যাংক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৮ সালে বহুজাতিক তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি শেভরন লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপকাজ পরিচালনা করে। জরিপকাজে নয় হাজার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানা যায়। বিস্ফোরণের শব্দের মাত্রা ছিল প্রায় ৭৫ দশমিক ৫ ডেসিবল। তখন বন এলাকায় এ ধরনের ক্ষতিকর জরিপকাজ থামানোর জন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নানাভাবে আপত্তি তুললেও সরকার ছিল নির্বিকার।
তবে একেবারে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখনো অজস্র প্রাণবৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে এই বনে। মাটির কয়েক হাত ওপরে অসংখ্য লতাগুল্মের নিশ্ছিদ্র ঠাসবুনন, তারপর মাঝারি ও উঁচু গাছের সমাহার খানিকটা আশ্বস্ত করে। এখনো সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। এই বনকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখনই কতগুলো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বনটিকে অবিলম্বে ‘বিপন্ন’ ঘোষণা করে সেখানে শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিষয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বনের নির্দিষ্ট প্রবেশপথগুলোয় পাহারা জোরদার করা, সেখানে কোনো ধরনের কৃত্রিম বৃক্ষায়ণ থেকে বিরত থাকা এবং যতটা সম্ভব বনকে ‘বিরক্ত’ না করা হলে লাউয়াছড়া ধীরে ধীরে আরণ্যক বৈশিষ্ট্যে ফিরে যেতে পারে। সর্বোপরি এই বন থেকে কোনো ধরনের গাছ বা লতাগুল্ম অপসারণ করা যাবে না। তাহলে বনভূমির সুস্থভাবে বিকশিত হওয়ার আন্তপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক, সাধারণ সম্পাদক, তরুপল্লব।
tarupallab@gmail.com

তিন দিনের টানা হরতাল

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ও তাণ্ডবের রেশ যেতে না যেতেই আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে টানা তিন দিনের হরতাল। জামায়াতে ইসলামী রবি ও সোমবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল দিয়েছে সারা দেশে সরকারের ‘মানুষ হত্যার’ প্রতিবাদে। পরদিন মঙ্গলবার বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডাকা হয়েছে একই কারণে। নজিরবিহীন সহিংসতায় চার পুলিশসহ প্রায় ৪০ জন মারা যাওয়ার পর এই টানা হরতালের কর্মসূচি স্বাভাবিক কারণেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আমরা বারবার বলে আসছি যে আদালতের রায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অধিকার যে কারও রয়েছে। এর প্রতিবাদ জানানোর সুযোগও রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিবাদের নামে সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রায় ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং এর পরিণামে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনা আমাদের মর্মাহত ও স্তম্ভিত করেছে। আজ থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি নিয়ে তাই একধরনের আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আমাদের দেশে কোন পরিস্থিতিতে ও কী কারণে হরতাল পালিত হয়, তা আমরা সবাই জানি। নামে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হলেও যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সম্পদ ধ্বংস—এসব হচ্ছে হরতাল সফল করার হাতিয়ার। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর অপূরণীয় প্রভাব ফেলে। বৃহস্পতিবার সারা দেশে সহিংসতা, তাণ্ডব ও নাশকতার কারণে প্রাণহানির পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে রেললাইন তুলে ফেলা হয়েছে, লাইনের নাট-বল্টু খুলে ফেলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ হয়েছে।
এখন আজ থেকে টানা তিন দিন যদি যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, লোকজনের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন যদি বাধাগ্রস্ত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, তবে সাধারণ লোকজনের দুর্ভোগের সব সীমা ছাড়িয়ে যাবে।
আমরা সব সময়ই হরতালের মতো কর্মসূচির বিরোধী এবং এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, হরতালের মতো কর্মসূচি ছাড়াই নিজেদের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার ও জনমত সৃষ্টির অনেক পথ রয়েছে।
আমরা আর কোনো সংঘাত ও সহিংসতা দেখতে চাই না। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ডাকা এই টানা হরতালের সময় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বাজায় থাকবে। জনগণকে হরতাল পালনে বাধ্য করতে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সহিংসতার পথ বেছে নেবে না। অন্যদিকে আমরা আশা করব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের জান-মানের নিরাপত্তা রক্ষায় যেমন কঠোর অবস্থান নেবে, তেমনি বিরোধী দলের কর্মসূচি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সংযমের পরিচয় দেবে।

আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতা মালিতে নিহত

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতা আবদেলহামিদ আবু জাইদ সরকারি বাহিনীর হামলায় মালিতে নিহত হয়েছেন। মালির সরকারি ও বিদেশি বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত আল-কায়েদা ইন ইসলামি মাগরেবের (একিউআইএম) দ্বিতীয় নেতা ছিলেন জাইদ।
জাইদের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাদের প্রেসিডেন্ট ইদরিস দেবাই। জাইদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে দুজন পশ্চিমা জিম্মিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন ফ্রান্সের নাগরিক এখনো তাঁর কাছে জিম্মি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিবিসির পশ্চিম আফ্রিকা প্রতিনিধি টমাস ফিসে বলেন, জাইদের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ফ্রান্সের ওই জিম্মিদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন জাইদের নিহত হওয়ার খবর ‘অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মনে করে। তবে ফ্রান্স জাইদের মৃত্যুর খবরে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র নাজাত ভালুদ-বেলকাম বলেছেন, জাইদের মৃত্যুর খবর তাঁরা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি।
মালিতে এইকিউআইএমের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের অভিযানে চাদসহ আরও কয়েকটি দেশ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

বালাচন্দ্রনকে হত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান রাজাপক্ষের

শ্রীলঙ্কার তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রয়াত নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের ছেলে বালাচন্দ্রনকে (১২) সরকারি বাহিনী ২০০৯ সালে হত্যা করেছিল বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে।
ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু পত্রিকায় গতকাল শনিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে বলেন, এ রকম হত্যাকাণ্ড ঘটলে তিনি অবশ্যই জানতে পারতেন। সেনাবাহিনীর কেউ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলে স্পষ্টতই সরকারের ওপর দায় এসে পড়ত, তাই এটা হতেই পারে না।
যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর টেলিভিশনের জন্য নির্মিত নো ফায়ার জোন: দ্য কিলিং ফিল্ডস অব শ্রীলঙ্কা শীর্ষক নতুন এক প্রামাণ্যচিত্রের প্রচারণায় গত সপ্তাহে অভিযোগ করা হয়, তামিলদের প্রয়াত নেতার সবচেয়ে ছোট ছেলেকে সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। প্রামাণ্যচিত্রটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে গত শুক্রবার প্রচার করা হয়।
প্রভাকরণ ও তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের ২০০৯ সালের মে মাসে হত্যার পর তামিলদের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার বিজয় ঘোষণা করা হয়। প্রভাকরণের পরিবারের সদস্যরা ওই লড়াই চলাকালে নিহত হন বলে তৎকালীন সরকার দাবি করে। তবে প্রভাকরণের স্ত্রী ও মেয়ের লাশের কোনো হদিস মেলেনি। চ্যানেল ফোরে প্রকাশিত একটি ছবিতে বালাচন্দ্রনকে সেনা পরিবেষ্টিত অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া করতে দেখা যায়। দ্বিতীয় ছবিতে তাকে অনাবৃত শরীরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। চ্যানেল ফোরের প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ক্যালাম ম্যাক্রে বলেন, শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ-সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের জন্য বালাচন্দ্রনের ছবিগুলো প্রামাণ্যচিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

মোশাররফের সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিরুদ্ধে স্ত্রীর আবেদন খারিজ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিরুদ্ধে করা একটি আবেদন গতকাল শনিবার খারিজ করে দিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালত। মোশাররফের স্ত্রী সেহবা মোশাররফ আবেদনটি করেছিলেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় মোশাররফের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ব্যাংক হিসাব জব্দের ওই আদেশ দেওয়া হয়েছিল। গতকাল রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে (এটিসি) সেহবার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি করেন এটিসির বিচারক চৌধুরী হাবিবুর রহমান।
আদালতে সেহবা ও তাঁদের আইনজীবী ইলিয়াস সিদ্দিকী এ বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে সেহবার ব্যক্তিগত আয় ওই দম্পতির যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। তাই আদালত বলেছেন, মোশাররফের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ও পিটিশনটি খারিজ করে দেওয়ার বিষয়ে আদালতের আগের সিদ্ধান্তটিই সঠিক।
বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ড মামলায় হাজিরা দিতে বারবার সমন পাওয়ার পরও মোশাররফ আদালতে হাজির না হওয়ায় এটিসি ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মোশাররফকে ফেরারি আসামি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি আরবে বিক্ষোভ ১৭৬ জন গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ইসলামপন্থী বন্দীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করায় ১৫ নারীসহ ১৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ গত শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি জানায়, দেশের মধ্যাঞ্চল বুরাইদাতে অবস্থিত তদন্ত ব্যুরোর কার্যালয়ের সামনে ওই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলা হলেও তারা এতে রাজি হয়নি। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
খবরে বলা হয়, ‘নীতিভ্রষ্ট একটি গ্রুপের’ পক্ষেই বিক্ষোভ হয়েছে। আল-কায়েদা নেটওয়ার্ককে বোঝাতেই এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইসলামপন্থী বন্দীদের মুক্তির দাবিতে রিয়াদ থেকে দক্ষিণে অবস্থিত বুরাইদাতে প্রায় নিয়মিতই ছোটখাটো জটলার মতো বিক্ষোভ হয়। যদিও অতি রক্ষণশীল রাষ্ট্র সৌদি আরবে কোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।

করাচিতে সহিংসতায় ১১ জন নিহত

পাকিস্তানের করাচিতে গতকাল শনিবার পৃথক সহিংসতার ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, একটি ঘটনায় নগরের ওরাঙ্গি টাউন এলাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে তিনজন নিহত ও একজন আহত হন। আরেক ঘটনায় নগরের শাহ ফয়সাল কলোনিতে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন।
অপর একটি ঘটনায় মোয়াক গোথ এলাকার মৌরিপুর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া নগরের লিয়াকতাবাদের বি-১ এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া নগরের মাঙ্গোপির এলাকার নিউ মিয়ানওয়ালি কলোনিতে পুলিশের এক অভিযানকালে সন্দেহভাজন দুই ডাকাত ও এক নারী পথচারী নিহত হয়েছেন।

বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বামফ্রন্টের নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জে পি মুখোপাধ্যায়ের আদালতে মামলাটি করা হয়।
গত মাসে কলকাতার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সততার প্রতীক—এ কথা তিনি মানতে পারছেন না।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মন্তব্যের জন্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় দলটি। অন্যথায় মানহানির মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশের জবাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আইনজীবী জানান, তিনি কোনো মানহানিকর কথা বলেননি।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের পক্ষে গতকাল বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়।

মার্কিনদের জানার অধিকার আছে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চোরা সুড়ঙ্গে ঘর ধসে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর নাম জেরেমি বুশ (৩৬)। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মারা গেছেন।
জেরেমির ভাই উদ্ধার কর্মকর্তাদের জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এরপর জেরেমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ঘরটি ক্রমান্বয়ে দেবে যাচ্ছিল। তবে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাইকে বাঁচানোর জন্য সুড়ঙ্গে লাফিয়ে পড়েন। তবে তাঁর কোনো হদিস পাননি।
ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টির প্রধান রন রজার্স জানান, ফ্লোরিডায় মাটির অভ্যন্তরে পানিনিষ্কাশনের অনেক পথ রয়েছে। অনেক সময় সেসব পথে পানির শোষণের ফলে চোরা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। ফলে মাঝেমধ্যেই সুড়ঙ্গে মাটির উপরিভাগ ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার কর্মকর্তারা জানান, জেরেমির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁরা সুড়ঙ্গে ক্যামেরা স্থাপন করেছেন এবং ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফ্লোরিডায় চোরা সুড়ঙ্গে ঘর ধসে একজন ‘নিখোঁজ’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চোরা সুড়ঙ্গে ঘর ধসে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর নাম জেরেমি বুশ (৩৬)। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মারা গেছেন।
জেরেমির ভাই উদ্ধার কর্মকর্তাদের জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এরপর জেরেমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ঘরটি ক্রমান্বয়ে দেবে যাচ্ছিল। তবে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাইকে বাঁচানোর জন্য সুড়ঙ্গে লাফিয়ে পড়েন। তবে তাঁর কোনো হদিস পাননি।
ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টির প্রধান রন রজার্স জানান, ফ্লোরিডায় মাটির অভ্যন্তরে পানিনিষ্কাশনের অনেক পথ রয়েছে। অনেক সময় সেসব পথে পানির শোষণের ফলে চোরা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। ফলে মাঝেমধ্যেই সুড়ঙ্গে মাটির উপরিভাগ ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার কর্মকর্তারা জানান, জেরেমির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁরা সুড়ঙ্গে ক্যামেরা স্থাপন করেছেন এবং ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ব্যয় সংকোচন বাজেটে সম্মতি দিলেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেটে আট হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্তে গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এতে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সম্ভাব্য সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে ওবামা ও বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বিরোধীদল ব্যয় সংকোচনের পক্ষে এবং ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টি কর বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব্যয় সংকোচন বাজেটে স্বাক্ষর করেন ওবাবা। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আলোচনা শেষে ওবামা বলেন, এই ব্যয় সংকোচনের যন্ত্রণা সবাই এখনই বুঝতে পারবে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বহু পরিবারের জীবনযাত্রায় চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বড় রকমের ভাঙন দেখা দেবে। এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক শতাংশের অর্ধেক কমে যাবে এবং সাড়ে সাত লাখ চাকরির সুযোগ নষ্ট হবে।
বিত্তশালীদের জন্য কর বৃদ্ধির প্রস্তাবে রিপাবলিকানরা সম্মত না হওয়ায় ব্যয় সংকোচনে সম্মতি দিতে বাধ্য হয়েছেন ওবামা। ব্যয় সংকোচন বাস্তবায়নের জন্য রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট, কোনো স্বৈরশাসক নই। তাই রিপাবলিকানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারিনি। কিন্তু ব্যয় সংকোচনের ফলে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
ব্যয় সংকোচনের প্রায় অর্ধেকই হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন থেকে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সামরিক অভিযানসমূহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া বেসামরিক কর্মী এবং তাঁদের পরিবারকেও ক্ষতির শিকার হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্তে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়েছে। কংগ্রেস এবং ওবামার পক্ষে প্রস্তাবটি বাতিল করার সুযোগ ছিল। তবে কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি।

সিরিয়ায় পটপরিবর্তন নিয়ে ওবামা-পুতিন টেলিসংলাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে টেলিফোন করেছেন। এ সময় দুই নেতা ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি ও সিরিয়ায় চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।
টেলিফোন সংলাপের সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন ওবামা। এ ছাড়া সিরিয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বিষয়ে সম্প্রতি বার্লিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে গঠনমূলক আখ্যা দিয়ে এর প্রশংসা করেন তিনি।
দুই নেতার আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। তবে এটা বলা হয়, আগামী জুনে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় জি-৮ সম্মেলনে পাশাপাশি বৈঠকে মিলিত হবেন ওবামা-পুতিন।
এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সরাসরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের জন্য মার্কিন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে সিরিয়া ও এর মিত্র রাশিয়া। দেশ দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সুযোগ দেওয়া হলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাত আরও ভয়ানক রূপ নেবে।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন ও সংঘর্ষের দুই বছর পূর্তি হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটি ভেঙে পড়ছে।
ওয়াশিংটন বলছে, তারা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সরাসরি খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে চায়। এ ছাড়া সরকার বিরোধীদের ছয় কোটি ডলার সহায়তা দেবে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার আঙ্কারায় তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সিরিয়ার সরকারবিরোধী ও বিদ্রোহীরা বারবার বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর কাছে তাদের অস্ত্র সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে। পশ্চিমা বিশ্বের আশঙ্কা অস্ত্র সরবরাহ করলে তা ইসলামি জঙ্গিদের হাতে পড়তে পারে।

ভেনেজুয়েলায় উভয় পক্ষেরই তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি

বিরোধীদলীয় নেতারা একের পর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন। হয়তো রাজনীতির নতুন ছক কষছেন। সরকারপক্ষের সম্ভাব্য প্রার্থীর কণ্ঠ বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে অবিরত। দেয়ালগুলো ছেয়ে গেছে পোস্টারে। হুগো চাভেজ এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। তবে সবকিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে, দেশটির নাগরিকেরা এখনই তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত চাভেজ যদি অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে না পারেন, তবে দেশে নতুন একটি নির্বাচন আসন্ন হয়ে উঠতে পারে। কেননা, প্রায় তিন মাস ধরে চাভেজকে দেখা যায়নি বা তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে কেবল তাঁর কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে একের পর এক গুজব রটছে, চাভেজ মারা গেছেন বা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।
এ অবস্থায় ভেনেজুয়েলাজুড়ে চাভেজের সুস্থতার জন্য প্রকাশ্যে প্রার্থনার পাশাপাশি দেশের কট্টর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবির নির্বাচনী প্রচারাভিযানের তোড়জোড় শুরু করে দেবে এটা বিস্ময়ের কিছু নয়।
বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রার্থী হেনরিক ক্যাপ্রিলেস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আপনাকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে, আর আমরা সেজন্য প্রস্তুত।’
গত বছরের অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চাভেজের কাছে পরাজিত হন ক্যাপ্রিলেস। তবে এই বিরোধীদলীয় নেতা আঞ্চলিক নির্বাচনে এর আগে সাবেক দুই ভাইস প্রেসিডেন্টকে পরাজিত করেছেন। আর চাভেজ মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে, ক্যাপ্রিলেসকে যাঁর বিরুদ্ধে লড়তে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তিনি বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। ক্যাপ্রিলেস গত সপ্তাহে বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে দুজন ভাইস প্রেসিডেন্টকে ধরাশয়ী করেছি। ...সামনে পাচ্ছি তৃতীয়জনকে!’
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা বর্তমানে চলছে তার শুরুটা করে দিয়েছিলেন ৫৮ বছর বয়সী চাভেজ নিজেই। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে কিউবায় যাওয়ার আগে ইঙ্গিত দেন, তাঁর পক্ষে এই ক্যানসারকে পরাভূত করা আর হয়তো সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতিতে সমর্থকেরা যেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নেতা হিসেবে বেছে নেন।
যদিও মাদুরো চাভেজের মতো ক্যারিসম্যাটিক নেতা নন, তার পরও তিনি চাভেজের স্টাইল ও ভাষা অনুকরণ করতে সিদ্ধহস্ত। মাদুরো প্রতিদিনই টেলিভিশনের সামনে হাজির হচ্ছেন, বিরোধীদের সমালোচনার দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছেন, সরকারের বিভিন্ন কাজ উদ্বোধন করছেন ও তাঁর নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কথা বলছেন।
এভাবে প্রতিদিন নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সেতুবন্ধ রচনা করে প্রকৃতপক্ষে মাদুরো অঘোষিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণাই চালাচ্ছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে, তারা সম্ভাব্য একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুলশান-উত্তরা-টঙ্গীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে দুই প্রকল্প গ্রহণ

রাজধানীর অভিজাত এলাকাখ্যাত গুলশান, উত্তরা ও গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৭৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের জুনের মধ্যে এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।
‘রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড অগমেন্টেশন অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক অব ডিপিডিসি’ নামক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৫ কোটি টাকা। আর ‘আপগ্রেডিং অ্যান্ড এক্সপান্ডিং ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ইন গুলশান সার্কেল (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬৯ কোটি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।
একনেক সভায় উল্লিখিত দুই প্রকল্পসহ এক হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৭৭৬ কোটি টাকা। আর বাকি ৫৮৩ কোটি টাকা আসবে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে।
সভা শেষে পরিকল্পনাসচিব হাবিব উল্লাহ্ মজুমদার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, বিদ্যুত্ বিভাগের আওতাধীন ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রস্তাবনায় অনুমোদিত এ দুই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সংরক্ষণ, পুনর্বাসন, মেরামতকাজ সম্পন্ন করা; গ্রাহককে মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা; ১১/০.৪ কেভি লাইনগুলো মেরামত করা; লোডশেডিং ও সিস্টেম লস কমানো এবং গ্রাহকসংযোগ বাড়ানো।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে চারটি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, দুটি উপকেন্দ্রের নবায়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, ৪০ সার্কিট কিলোমিটার (কিমি) ৩৩ কেভি থেকে ৫০ সার্কিট কিমি ১১ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন নির্মাণ, ১২৫ কিমি ১১/০.৪ কেভি থেকে ১৩৫ কিমি ১১ কেভি ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ২২৫ কিমি ৪০০ ভোল্ট ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ২০০ কেভিএ ৫০০টি ট্রান্সফরমার স্থাপন, ১৩ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন এবং সাতটি যানবাহন ক্রয়।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ‘কৃষি খাত সহায়তা কর্মসূচি-২: গ্রামীণ সড়ক ও হাটবাজার সংযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (অংগ-৩): পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪২৬ কোটি টাকা। এর অর্ধেক ২১৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে প্রকল্প সাহায্য। বাকি অর্ধেক মেটাবে সরকারি তহবিল।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘পাবনা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর ছয়টি জেলা শাখার কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে অন্য জেলায়ও এ ধরনের স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’ প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা গেছে, দেশে ও বিদেশে ১৮টি বিষয়ে পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০টি বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ দেওয়া হলো এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

যশোরে সোনালী ব্যাংকের জামানতবিহীন ঋণ প্রদান

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকের যশোর শহরের কারবালা সড়ক শাখা গতকাল ৩৫ জন হস্তশিল্প উদ্যোক্তার মধ্যে জামানতবিহীন সাড়ে ১৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করে।
সোনালী ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আশরাফ হোসেন খানের সভাপতিতে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে আয়োজিত এ ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর সদরের সাংসদ খালেদুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক জান্নাত আরা হেনরী, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফকরুল ইসলাম, কারবালা সড়ক শাখার ব্যবস্থাপক সাহেব আলী প্রমুখ।

ব্যুরো বাংলাদেশ কম খরচে প্রবাসী-আয় পৌঁছে দেবে

কম খরচে প্রাপকের কাছে দ্রুত প্রবাসী-আয় পৌঁছে দেবে ব্যুরো বাংলাদেশ। ডিএফআইডি এবং আরপিসিএফের সহায়তায় এ ধরনের ওয়েবভিত্তিক একটি প্রদান সিস্টেম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার হোটেল ওয়েস্টিনে এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আন্তব্যাংক ক্লিয়ারিং চালু হবে। এ ছাড়া চলতি মার্চের মধ্যে তিনি প্রত্যেক কৃষকের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খোলা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির ভাইস-চেয়ারম্যান খন্দকার মাজহারুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যুরো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ পদ্ধতির মাধ্যমে চলতি ২০১০ সালে ১২ কোটি ডলারের প্রবাসী-আয় পৌঁছে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এগুলো হলো: এবি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, ব্যাংক এশিয়া এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ক্রমান্বয়ে সব ব্যাংকের সঙ্গে রেমিট্যান্স পেমেন্ট চুক্তি করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে গভর্নর আরও বলেন, বিশ্বমন্দায় বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের মধ্যে চাহিদা সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া কৃষি উত্পাদন ভালো হওয়ায় আমদানি কমেছে। একই সঙ্গে মোট দেশজ উত্পাদন বেড়েছে।

প্রার্থনা আম্পায়ারদের জন্যও

ইংল্যান্ডের রান তখন ৮৮, এউইন মরগানের ১৩। মাহমুদউল্লাহর স্টাম্প সোজা বল সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করলেন মরগান। ধারাভাষ্য কক্ষে যাঁরা ছিলেন, যাঁরা খেলা দেখছিলেন সবাই বুঝতে পারছিলেন নিশ্চিত আউট, শুধু বুঝতে পারলেন না যাঁর সবচেয়ে বেশি বোঝার কথা তিনিই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা যে অধরাই থেকে গেল এ জন্য বাড়তি আর ১০-১৫টা রান, শেষ দিকে বাজে বোলিং, ক্যাচ ছাড়া—এগুলোর সঙ্গে কম দায়ী নয় বাজে আম্পায়ারিংও। ইংল্যান্ডের সেরা দুই ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেন ও পল কলিংউড আগেই আউট হয়ে বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমে। দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে তাই আক্ষেপটা এখনো যাচ্ছে না বাংলাদেশ শিবির থেকে।
আম্পায়ারিং নিয়ে এই ক্ষোভ অবশ্য আকস্মিক নয়। দেশের মাটিতে হোক আর বিদেশে, বরাবরই আম্পায়াররাও যেন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। ‘আম্পায়াররাও মানুষ, ভুল হতেই পরে’—বহু চর্চিত এই বাক্যে এখন আর কোনোভাবেই সান্ত্বনা পাওয়া যাচ্ছে না। মানবীয় ভুলগুলো করার জন্য বারবার আম্পায়াররা বাংলাদেশকেই বেছে নিচ্ছেন, আর সেগুলোও এমন সময়ে যে সহানুভূতি এখন রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। প্রকাশ্যে অবশ্য কিছু বলার উপায় নেই। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ‘আম্পায়াররা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলেন না। দু-একটি ক্লোজ সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে গেলে হয়তো জিতে যেতাম। তবে এটা খেলারই অংশ, এমন হতেই পারে।’ অতি সতর্ক এই মন্তব্যের পরও আইসিসির আচরণবিধি স্মরণ করিয়ে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো সতর্ক করে দিয়েছেন সাকিবকে। প্রকাশ্যে তাই কেউ কিছুই বলছেন না, কিন্তু মনে ক্ষোভ ঠিকই আছে।
নতুন সব আম্পায়ার বা পুনর্বাসন কাটিয়ে ফেরাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও আইসিসি বরাবরই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশকে। কোচ জেমি সিডন্স এ জন্য একবার ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে আইসিসির এক কর্মকতাকে ই-মেইল করেছিলেন। ওই কর্মকর্তা সিডন্সকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে বলেছিলেন, কিন্তু লাভ হবে না জেনে আর অভিযোগ করেননি সিডন্স। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মতোই ছোট দলে খেলা ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার অবশ্য এ সম্পর্কে নিরাপদ মন্তব্যই করলেন, ‘হ্যাঁ, এটা প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আইসিসি নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই এটা করে।’
গত ম্যাচ শেষে অবশ্য টিম ম্যানেজারের নিয়মিত রিপোর্টে আম্পায়ারিং নিয়ে বাংলাদেশের ম্যানেজার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে একটি সূত্রে। তবে লাভ কিছু হবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের ভালো খেলার পাশাপাশি তাই এখন এটাও প্রার্থনা করতে হয়, ‘আম্পায়াররাও ভালো খেলুক।’

দুশ্চিন্তা তো আসলে ফিল্ডিং by আরিফুল ইসলাম

অবশেষে মুশফিক একটা ক্যাচ নিতে পারলেন!’—দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অ্যালিস্টার কুকের ক্যাচ নেওয়ার পর ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রিতে লেখা হলো এমনটাই। ক্যাচ ধরাই তাঁর মূল কাজ। কিন্তু গত কিছুদিনে উইকেটের সামনে আর পেছনের মুশফিকের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ব্যাট হাতে যে মানুষটি দলের অন্যতম নির্ভরতা, দু কদম পেছনে দাঁড়ালে তিনিই হয়ে উঠছেন দুশ্চিন্তার অন্য নাম।
দলের উইকেটকিপার তিনি, মুশফিকুরেরটা খুব বাজেভাবে চোখে পড়ছে বলেই তাঁকে দিয়ে শুরু। নইলে গোটা দলের অবস্থা তো মুশফিকুরের চেয়ে সুবিধের নয়। প্রায় প্রতি ম্যাচ শেষেই ১৫-২০ রানের জন্য আফসোস, নয়তো দু-একটি অসাধারণ ইনিংসের কাছে হেরে যাওয়ার আক্ষেপ। কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যাবে, যতটা না ব্যাটিং বা বোলিংয়ে ঘাটতি, বাংলাদেশের জন্য তার চেয়ে বড় সত্যি হলো ক্রিকেটের সেই বহু পুরোনো কথাটাই, ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।’ খুব বেশি স্মৃতি হাতড়ানোর দরকার নেই, কেবল এ বছরে বাংলাদেশের খেলাগুলোর দিকে তাকালেই প্রমাণ মিলে যাবে হাতেনাতে।
৪ জানুয়ারি, ২০১০, ঢাকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ। নিজের বলে তিলকরত্নে দিলশানের ক্যাচ যখন ছাড়লেন শফিউল ইসলাম, শ্রীলঙ্কান ওপেনারের রান মাত্র ১৫। অভিষিক্ত পেসারকে যখন অনুসরণ করলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, দিলশান তখন ৬১। শেষ পর্যন্ত ১০৪ রান করে যখন আউট হলেন, জয় (২৬১) থেকে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৯ রান দূরে। পরের ম্যাচে সাকিব আবার নিজের বলে ক্যাচ ছাড়লেন, মহেন্দ্র সিং ধোনির রান তখন ৬১। পরে ধোনির অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের ২৯৬ টপকে গেল ভারত অনায়াসেই। পরের ম্যাচে ৯৭ রানে উপুল থারাঙ্গাকে যখন মুশফিক ‘জীবন’ দিলেন, তখন অবশ্য শ্রীলঙ্কার নাগালেই জয়। থারাঙ্গা পরে অপরাজিত থেকে যান ১১৮ রানে। শেষ ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুল বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়নার দুটি ক্যাচ যেভাবে ছাড়লেন, স্কুল ক্রিকেটেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বদান্যতা না পেলে থারাঙ্গার মতো সেঞ্চুরি হতো না কোহলিরও।
ফরম্যাট বদলাল, কিন্তু বদলালেন না বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। কথার আগুন জ্বেলে যে টেস্টের আগে বীরেন্দর শেবাগ উত্তাপ ছড়ালেন, সেই চট্টগ্রাম টেস্টেই কি না ক্যাচ ছাড়ার প্রতিযোগিতায় নামলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দুটি ছেড়ে ‘জয়ী’ ইমরুল কায়েস, একটি করে শফিউল, নাঈম, রকিবুল এবং মুশফিকুর। ঢাকা টেস্টে অবশ্য নাটকীয় উন্নতি, একটিই মাত্র মিস, রকিবুলের।
নিউজিল্যান্ডে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডিং দলের ‘বাতাস’ পেয়েও লাভ হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ৭৮ টপকাতে ৮.২ ওভার খেলেছিল নিউজিল্যান্ড, এর মাঝেই ক্যাচ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ, তামিম ও সাকিব। প্রথম ও শেষ ওয়ানডেতে ‘স্বমহিমায়’ মুশফিকুর। শেষ ম্যাচে তাঁর হাতে ৭ রানে জীবন পেয়ে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি করতে পেরেছিলেন মাত্র ৩৪, কিন্তু এর মাঝেই মার্টিন গাপটিলকে নিয়ে গড়েন ইনিংসের একমাত্র ফিফটি জুটি (৭১)। ৩ উইকেটে হারা ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় ওইটিই। আর এই সিরিজের স্মৃতি তো তরতাজাই, শুধু মুশফিকুর নন, অনেক আক্ষেপের দ্বিতীয় ম্যাচে লোপ্পা ক্যাচ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহও। এগুলো শুধুই ক্যাচিংয়ের খতিয়ান, স্টাম্পিংয়েও এমনই ‘ধারাবাহিক’ মুশফিকুর।
‘কেউ তো আর ইচ্ছে করে ক্যাচ ছাড়ে না। চেষ্টা তো কম করছি না, তার পরও এমন হচ্ছে, কী আর করা যাবে!’—দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন অসহায় কণ্ঠে বলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিছু যে করা যায়নি, এটা তো দেখা গেছে পরের ম্যাচেই। কাল ঠিক একই রকম অসহায় লাগল সাকিবকেও, ‘কী আর বলার আছে, আমরা তো চেষ্টা করেই যাচ্ছি। তার পরও হচ্ছে না, আমি নিজেও আসলে জানি না এর সমাধান কী।’ দীর্ঘদিন এই দলকে কাছ থেকে দেখেছেন যিনি, সেই সাবেক ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অবশ্য একটা উপায় বাতলে দিয়েছেন, ‘উঁচু ক্যাচের ক্ষেত্রে ওরা মনে হয় খুব বেশি ভাবে, পারব কি পারব না ভাবতে গিয়েই মিস করে। এটা না করে টেকনিকের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আর ফিল্ডিং অনেকটা মানসিক ব্যাপার, মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে।’
এ বছর নয় ম্যাচ খেলেও জয় নেই একটিও। অথচ যে ক্যাচগুলো ফসকেছে, এর অর্ধেক হাতে জমাতে পারলে জয়ের খাতায়ও জমা পড়ত অন্তত দু-তিনটি ম্যাচ। কণ্ঠ যতই অসহায় শোনাক, যত দ্রুত সম্ভব সমাধান বের করতেই হবে। নতুবা দীর্ঘ হতে থাকবে আক্ষেপের পালা।

ঢাকার ঘরবাড়ি: ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্রে’র সঙ্গে বসবাস by ফারুক ওয়াসিফ

চিলির ভূমিকম্পের পর আমার এক গায়ক বন্ধু তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখে রেখেছিলেন, ‘যখন ঢাকা শহর ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যাবে, তখন আমি বাঁশিতে কোন সুর বাজাব?’ রোম যখন পুড়ছিল, তখন রোমের সম্রাট নিরো বাঁশিই বাজাচ্ছিলেন। নিরোর মতো শাসকের অভাব বাংলাদেশে কখনো হয়নি। কতবার কতজন কতভাবে বলেছেন যে ঢাকা ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে; কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকারগুলো মসনদে বসে বহু সুরের রাজনৈতিক বাঁশি বাজিয়েছে, কিন্তু সোয়া থেকে দেড় কোটি অধিবাসীর এ শহরটিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তেমন কিছুই করেনি।
এ শহরে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাঁরা ঘুমাতে যান ভূমিকম্পের ভয় নিয়ে, কিংবা ঘুমের মধ্যে আচমকা জেগে উঠে ভীতভাবে বুঝতে চান, বিছানাটা কি নড়ে উঠল? কোনো না কোনো দেশে নতুন ভূমিকম্প হলেই এ ধরনের আতঙ্কে ভোগা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি ক্যারিবিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স সাত মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে। ভবনচাপা পড়ে মারা যায় প্রায় তিন লাখ মানুষ। সে সময় প্রথম আলোর পাতাতেই লিখেছিলাম, ‘যে সাত মাত্রার ভূমিকম্পে হাইতির রাজধানী ধূলিতে মিশে গিছে, সেই মাত্রার ভূমিকম্পে নিউইয়র্ক বা সানফ্রান্সিসকো এভাবে ধসে যেত না। আজ হাইতিতে যা দেখছি, তা হাইতির দীর্ঘ বিদেশি শোষণ, দুর্নীতি ও অপশাসনের ফল।’ এ কথাটাই সত্য হয়ে ফলে গেল দিনকতক আগের চিলির ভূমিকম্পে। এটি ছিল হাইতির ভূমিকম্পের থেকে কয়েক শ গুণ বেশি শক্তিশালী। অথচ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হাজার হাজার গুণ কম। এ পর্যন্ত চিলিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশ—হয়তো তা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার হবে। দুটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার তুলনা করলেই চিলিতে লাখ লাখ মানুষের বেঁচে যাওয়ার কারণটি পরিষ্কার হয়। হাইতি কেবল বিশ্বের দরিদ্রতম দেশই নয়, এক অকার্যকর রাষ্ট্রের আদর্শ মডেল। বছরের পর বছর এখানে সামরিক শাসন ও লুণ্ঠন চলেছে। মুক্তবাজারি অর্থনীতিতে লাখ লাখ কৃষক গ্রামাঞ্চল থেকে জমি হারিয়ে ভিড় জমায় রাজধানীতে। এর জাতীয় আয়ের বড় একটি অংশই চলে যায় বিদেশি ঋণ শোধ করতে। রাজনীতিতে হানাহানি, অর্থনীতি রুগ্ণ আর অবকাঠামো এমনই অকেজো যে ভূমিকম্পের পরের জরুরি ত্রাণকাজ চালানোর সামর্থ্যও দেশটি হারিয়ে ফেলে। এরই ফলে ১০ হাজার মার্কিন সেনা কার্যত দেশটি অধিকার করে নেয়। হাইতির সেনাশাসকেরা এমনই অপদার্থ, না জনগণের জীবন, না দেশের স্বাধীনতা— কোনোটিই রক্ষা করার মুরোদ তাদের ছিল না।
অন্যদিকে চিলি হলো লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর একটি। এর অধিবাসীদের জীবনমান রাশিয়া ও মেক্সিকোর মতো মধ্যম আয়ের দেশের সমান। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুবাদে দেশটির নেতৃত্ব শক্তিশালী যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, সেখানে ভবন নির্মাণ নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল ভূমিকম্পের কথা মাথায় রেখে। সেই নীতিমালা লঙ্ঘনকারীদের সেখানে ধরাও যায়, ছোঁয়াও যায়। কারণ, আইনিব্যবস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি ছিল কঠোর। দুর্নীতি সেখানে তুলনামূলকভাবে কম, কারণ বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী। হাইতি ছিল সেনাশাসনে আর চিলিতে গত দেড় দশক চলেছে মধ্য বামপন্থী দলের সরকার। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্ট ভূমিকম্প মোকাবিলায় চিলির পূর্বপ্রস্তুতির প্রশংসা করে তাই লিখেছে, ‘কখন কোথায় কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় আঘাত হানবে তা ঠিক করার মালিক প্রকৃতি হলেও, তাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নির্ধারণের অধিকারী এখনো মানুষ।’
চিলি আর হাইতির মধ্যে বাংলাদেশের চালচলন হাইতির কাছাকাছি। বিপুলসংখ্যক গ্রামীণ দরিদ্র ও মফস্বলের মধ্যবিত্ত মানুষ ঢাকা শহরে ভিড় জমিয়েছে। তাদের ঠাঁই দিতে অপরিকল্পিতভাবে শহর বড় করা হয়েছে। বিল-নদী-জলাশয় ভরাট করা অপরিকল্পিত আবাসন ইত্যাদির জন্য বিপন্ন ঢাকা আরও বিপন্নই হচ্ছে। মাঝখানে ফুলেফেঁপে উঠেছে আবাসন ব্যবসা। জাতিসংঘের ১৯৯৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পরে ঢাকাই সবচেয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা নগর। তেহরানের বিপদের কারণ শহরটি অনেকগুলো ভূমিকম্পের উেসর মাঝখানে অবস্থিত। আর ঢাকার বিপদ এর দুর্বল স্থাপনা এবং অধিকতর দুর্বল অবকাঠমো এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার বেশির ভাগ ভবনই ভূমিকম্পসহা প্রযুক্তিতে নির্মিত নয়। ঢাকার ৫৩ শতাংশ ভবন দুর্বল অবকাঠামোর ওপর স্থাপিত, ৪১ শতাংশ ভবনের ভরকেন্দ্র নড়বড়ে, ৩৪ শতাংশ ভবনের থাম ও কলাম দুর্বল। জাতিসংঘের আইএসডিআর নামক সংস্থা বলছে, ঢাকার বৃহত্ কংক্রিট নির্মিত ভবনের ২৬ শতাংশের বেলাতেই প্রকৌশলগত বিধিমালা অনুসরিত হয়নি। অন্য একটি গবেষণায় বলা হয় ৯০ শতাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ (ডেইলি স্টার, ১৩ আগস্ট, ২০০৯)। সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ঢাকার সাড়ে তিন লাখ ভবনের দুই লাখকেই ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে। প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নির্মিত ভবনগুলোর ৬০ শতাংশও ঝুঁকির বাইরে নয়। ঝুঁকি বেশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। অল্প জায়গায় বেশি ভবনের ভারে ঢাকার মাটি দেবে যাচ্ছে, অতিমাত্রায় পানি তুলতে থাকায় পাতালস্তরে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে আবাসনশিল্প যেন চির দায়মুক্তি উপভোগ করছে। তাদের তৈরি অধিকাংশ ভবনই যে মাঝারি মাপের ভূমিকম্প সহ্য করতে সক্ষম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তারা যথাযথ নকশা ও পরিকল্পনা অনুসরণ করে না, তার ব্যাখ্যা কে চাইবে? চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো, তথা রাজউক, গণপূর্ত বিভাগ ইত্যাদি। কিন্তু ‘ঘুষের ক্ষমতা’র সামনে ‘সকলই গরল ভেল’। ২০০৮ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে নির্মাণশিল্পে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পরে রয়েছে ‘উন্নয়ন’ ও ‘রিয়েল এস্টেট’ ব্যবসা। ঘুষ কারা দেন আর কারা তা খান, তা কি আর ভেঙে বলার প্রয়োজন আছে?
সিডিএমপির গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের মতে, কোনো বিশেষ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটতে ১০০-১৫০ বছর সময় লাগে (ডেইলি স্টার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১০)। তিনি সম্ভাব্য মৃত্যুর একটা পরিসংখ্যানও দিয়েছেন। সেই ভয়ধরানো কথায় আর না গেলাম। এ দেশে শেষ বড় আকারের ভূমিকম্পটি (৮.৭ মাত্রার ) ঘটে ১৮৯৭ সালে। ঢাকার বেশির ভাগ ভবন সে সময় ধসে পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ হিসাবে ঢাকা তথা বাংলাদেশের ওপর একটি বড় আকারের ভূমিকম্প ঝুলে আছে। ভূমিকম্প কখন কোথায় আঘাত হানবে তা আমরা আগাম জানতে পারি না, কিন্তু পূর্বপ্রস্তুতি ভালো থাকলে ক্ষয়ক্ষতি যে বড় আকারে কমানো সম্ভব তার প্রমাণ তো চিলি। বাংলাদেশের সার্বিক দুরবস্থা কিন্তু আমাদের আশ্বস্ত করে না। আমাদের অনেক বাড়ি-ঘরই আজ এক বিরাট ‘উইপন অব ম্যাস ডেসট্রাকশন’ তথা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অংশ হয়ে গেছে।
ঢাকা এখন হয়ে উঠছে রামায়ণের জতুগৃহের মতো। সপরিবারে রামের বনবাসের সময় জতুগৃহ নামে এক ঘরে তাঁরা আশ্রয় পান। কিন্তু সেটির মেঝে থেকে চাল পর্যন্ত পুরোটাই বানানো হয়েছিল দাহ্যবস্তু দিয়ে, যাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সবাইকে পুড়িয়ে দেওয়া যায়। নিশ্চয়ই ঢাকাকে কেউ ইচ্ছে করে এমন ‘উইপন অব ম্যাস ডেসট্রাকশন’ হিসেবে নির্মাণ করেনি। কিন্তু অবহেলার থেকে বড় দায় আর কী হতে পারে? কথা সত্য যে ভূমিকম্প যুক্তি মেনে চলে না এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ভূমিকম্প মোকাবিলা ও তার আঘাত সামলে ওঠার সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থনীতির যোগ নাড়ির যোগের মতোই ঘনিষ্ঠ। দুর্নীতি, মন্দ রাজনীতি এবং দায়িত্বহীন নেতৃত্ব থাকলে কী হয় তার জ্বলজ্বলে উদাহরণ হাইতি। হাইতিবাসী কেবল ভূমিকম্পের আঘাতেই গণহারে নিহত হয়নি, এর পরের লুটপাট, নৈরাজ্য, ত্রাণ-সহায়তা দেওয়ায় সরকারের ব্যর্থতা ইত্যাদির কারণে ক্ষয়ক্ষতি বিপুল হারে বেড়েছে। আমরা আমাদের দেশের সরকার, সরকারি সংস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি যতটা চিনি, তাতে কল্পনা করতেও ভয় হয়, তেমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থা চিলির মতো না হয়ে হয়তো হাইতির মতোই হবে। কীভাবে বুঝলাম? বুঝলাম আইলা দুর্গতদের দিকে তাকিয়ে। এক বছর হয়ে গেল, অথচ এখনো তারা পানি-আশ্রয়-চিকিত্সাহীন অবস্থায় নারকীয় পরিবেশে দিনাতিপাত করছে।
পাঠক, বাস্তবতা যতই হতাশাময় হোক, জীবন নিজেই মস্তবড় এক আশার নাম। আমরাও আশার ঘরেই বসত করতে চাই, জতুগৃহে নয়। সদিচ্ছা থাকলে তাই কিছুই বাধা নয়। আর যদি সদিচ্ছা না জাগে, তাহলে আমাদের অবস্থা হবে গ্রিক উপকথার সেই অন্ধ জ্ঞানী তাইরেসিয়াসের মতো, যিনি জানেন কী ঘটবে কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা দেবতারা তাঁকে দেননি। আমরা মানুষ, আমরা তাইরেসিয়াস নই। আমরা জানি কী করতে হবে, জেনেশুনে তাই সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার থেকে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না।
বড় রদবদলের জন্য বড় উদ্যোগ চাই, মামুলি খুটখাট দিয়ে ঢাকাকে বাঁচানো আর কাঠি দিয়ে পাহাড় নড়ানোর চিন্তা সমান কথা।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক
farukwasif@yahoo.com 
     

ভ্লাদিমির পুতিন চলতি মাসে ভেনেজুয়েলায় যাবেন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো এ মাসে ভেনেজুয়েলা সফর করবেন। গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাভেজ এ কথা জানান। তবে পুতিনের সফরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেদ ভেনেজুয়েলার কারাকাস সফর করেন। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে মস্কো যান শাভেজ। লাতিন আমেরিকায় রাশিয়ার প্রধান মিত্র শাভেজের বামপন্থী সরকার।

পাকিস্তানে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এ দুজন অন্য জঙ্গিদের কাছে আত্মঘাতী জ্যাকেট ও বিস্ফোরক সরবরাহ করতেন। দেশটির সামরিক বাহিনী সূত্র গতকাল বুধবার এ কথা জানায়। এএফপি।
সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, গত সোমবার গভীর রাতে পেশোয়ারে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জ্যাকেট ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নিহত ওই জঙ্গির নাম মুহাম্মদ ইকবাল। অপরজন মুহাম্মদ তুফায়েল আলিয়াঁস। ইকবাল পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবানের সদস্য বলে জানা গেছে। তিনি খাইবার জেলায় সক্রিয় ছিলেন। রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য জঙ্গিদের কাছে বিশেষ ধরনের জ্যাকেট ও বিস্ফোরক সরবরাহ করতেন ইকবাল।

ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত

ভারতের হায়দরাবাদ শহরে গতকাল বুধবার আকাশ ক্রীড়া দেখানোর সময় দেশটির নৌবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিমানের দুজন পাইলট নিহত হন। আহত হন তিন বেসামরিক নাগরিক। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
এনডিটিভির টেলিভিশনে দেখা গেছে, মনকাড়া কসরত দেখানোর সময় বিমানটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি তিনতলা ভবন।
ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল নির্মল ভার্মা সাংবাদিকদের জানান, কসরতের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।
গত বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের বিমান কর্ণাটকে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হন।

ইরানে এক ছাত্রের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

ইরানের আপিল আদালত সে দেশের এক ছাত্রের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এ শাস্তি বহাল রাখা হলো। সরকারবিরোধীদের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর এএফপির।
কালিম ডটকমসহ বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে আশুরার দিন নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ইট নিক্ষেপের দায়ে মোহাম্মদ আমিন নামের ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে ওই সাজা দেন।
গত বছরের জুনে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ জয়ী হন। বিরোধীদলীয় নেতা মির হোসেন মৌসাভি সে নির্বাচনে অংশ নেন। কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে মৌসাভি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় তাঁর সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আমিন তাঁদেরই একজন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল কারাগার

গরাদবিহীন জানালাযুক্ত কক্ষে রয়েছে ফ্ল্যাটস্ক্রিন টেলিভিশন। প্রতিটি কক্ষের সঙ্গেই রয়েছে আলাদা স্নানাগার। বিলাসবহুল সুবিধাযুক্ত এসব কক্ষ কোনো হোটেলে নয়, নরওয়ের হালডেন কারাগারে। রাজধানী অসলোর কাছে বিলাসবহুল এই কারাগার এপ্রিল মাসে উদ্বোধন করা হবে। বলা হচ্ছে, এটিই ১৬ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল কারাগার।
নরওয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই কারাগারে ২৫২ জন কয়েদির থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের জন্য বিভিন্ন সুবিধাযুক্ত কারাকক্ষের পাশাপাশি পুরো কারাগারটি সাজানো হয়েছে আধুনিক সব শিল্পকর্ম দিয়ে। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে ব্যয় করতে হয়েছে ১০ লাখ পাউন্ড।
গভর্নর আর্নে হোইদাল আগামী মাসে কারাগারটির উদ্বোধন করবেন। আর্নে জানান, কারাগারের কোনো জানালায় গরাদের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাঙা সম্ভব নয় এমন নিরাপত্তাকাচ দিয়ে জানালাগুলো আটকানো থাকবে। তাই কয়েদিদের মধ্যে বদ্ধ স্থানে আটকে থাকার কোনো আতঙ্ক কাজ করবে না।

বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে চিলির সেনারা

চিলির ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকাগুলোর দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন সেনাসদস্যরা। গত মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেলে ব্যাশেলেট বলেছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার মাউলে ও বিওবিও অঞ্চলে সেনাসদস্যরা ত্রাণ বিতরণ করছেন। ভূমিকম্পের পর স্থানীয় দুর্বৃত্তরা বিপর্যস্ত এলাকাগুলোয় ব্যাপক লুটপাট চালায়। পরে সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত শনিবার চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূকম্পন আঘাত হানে। এতে রাজধানী সান্তিয়াগোসহ দেশের বেশ কয়েকটি শহর ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের কারণে ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেকর্ড-বইয়ের হিসাবে, বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। ভূমিকম্পে মঙ্গলবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ৭৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ব্যাশেলেট বলেন, পুলিশ ও সেনারা মাউলে ও বিওবিও অঞ্চলে জননিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। দুর্গতদের মধ্যে পানি ও খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ফিল্ড হসপিটাল স্থাপন করা হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি সচল করার জন্য কাজ চলছে। বিমানে ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে ১৪ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চিলি সরকার।
জাতীয় জরুরি অবস্থা দপ্তরের প্রধান কারমেন ফারনান্দেজ বলেন, এখনো হাজার হাজার মানুষ পানি ও বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। তাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ত্রাণ-সরবরাহব্যবস্থা ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে।
ভূমিকম্পে সরে গেছে মেরুরেখা
চিলিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষ বা মেরুরেখার অবস্থান সম্ভবত খানিকটা পরিবর্তিত হয়েছে। আর এতে দিনের দৈর্ঘ্যও সামান্য কমে গেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী রিচার্ড গ্রস মঙ্গলবার এ কথা জানান।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী গ্রস জানান, তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর পৃথিবীর মেরুরেখা সম্ভবত আগের অবস্থান থেকে ৮ সেন্টিমিটার সরে গেছে। এতে পৃথিবীর নিজ অক্ষে ঘূর্ণনে প্রভাব পড়েছে এবং দিনের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ২৬ মাইক্রোসেকেন্ড কমেছে।
এক সেকেন্ডের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে ১ মাইক্রোসেকেন্ড। তাই দিনের দৈর্ঘ্য কমলেও ঘড়িতে সময় পরিবর্তন করার দরকার নেই।

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ

নেপালে গতকাল বুধবার পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। একজন পত্রিকার মালিককে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানী কাঠমান্ডুতে একটি সরকারি ভবনের সামনে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ শুরু করলে ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পত্রিকার মালিক অরুণ সিংহানিয়াকে সোমবার জনাকপুরে হত্যা করা হয়। খবর এএফপির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানান।
সাংবাদিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব নেপালিস জার্নালিস্ট বলেছে, ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে এবং হত্যাকারীর বিচার চেয়েছে। এ সংগঠনের কর্মকর্তা উজির মাজার জানান, তাঁদের দাবি খুবই সামান্য। তাঁরা লিখতে ও বাঁচতে চান। এ ছাড়া অরুণ সিংহানিয়ার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা কাজ করেছে, তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করাও এ বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এদিকে নেপালের সম্পাদকেরা অদ্রন সিংহানিয়ার হত্যার নিন্দা জানিয়ে বুধবার একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। ওই চিঠিতে গণমাধ্যমের ওপর সন্ত্রাসী হামলা রোধে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা করা হয়।

আফগানিস্তানে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের খবরে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

আফগানিস্তানে তালেবানদের হামলার খবর ও ভিডিও ফুটেজের সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার খবরে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তালেবানের পক্ষ থেকেও এর নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আফগান সরকার বলেছে, তালেবানদের হামলার খবর প্রচারকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু ‘দিকনির্দেশনা’ দেওয়া হয়েছে মাত্র। তবে এ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় তারা তাদের দিকনির্দেশনার বিষয়টিও পর্যালোচনা করে দেখবে। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ইস্যুর পাশাপাশি আফগানিস্তানের নির্বাচনী অভিযোগ কমিশন থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্স।
গত সোমবার কাবুলে আফগান ন্যাশনাল ডাইরেক্টরেট অব সিকিউরিটি স্পাই এজেন্সির কর্মকর্তারা তাঁদের সদর দপ্তরে স্থানীয় ও বিদেশি সাংবাদিকদের তলব করে তালেবানদের আক্রমণের কোনো খবর তাত্ক্ষণিকভাবে প্রকাশ অথবা ভিডিও ফুটেজ সরাসরি সম্প্রচার না করার নির্দেশ দেন। হামলার দৃশ্য প্রচার করলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এর পরদিন অর্থাত্ গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-বিষয়ক বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুক বলেন, ‘আমরা সব সময়ই মুক্ত সাংবাদিকতার পক্ষে। গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আমরা পছন্দ করি না।’ তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও তিনি নিজে শিগগিরই আফগান সরকারকে এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান জানিয়ে দেবেন।
অন্যদিকে গতকাল বুধবার তালেবানদের মুখপাত্র ইউসুফ আহমাদি বলেন, গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার বাকস্বাধীনতা খর্ব করছে। একই সঙ্গে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টাও করছে তারা। তিনি বলেন, তালেবানের আক্রমণের ছবি ও খবর সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন সরকার তাঁদের রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এখন সেই ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই তারা গণমাধ্যমকে কবজা করতে চাইছে।

ঘাস-পাতা খেয়েই দুই বছর

চীনের এক নাগরিক দাবি করেছেন, তিনি ঘাস-পাতা খেয়েই দুই বছর ধরে বেঁচে আছেন। আগে তাঁর শারীরিক অনেক সমস্যা ছিল; তবে যখন থেকে তিনি স্বাভাবিক খাবার ছেড়ে ঘাস-পাতা ধরেছেন, তখন থেকেই দিব্যি সুস্থ আছেন। এখন আর তাঁকে বারবার চিকিত্সকের কাছে ছুটতে হয় না। গুয়াংডং প্রদেশের প্রত্যন্ত নিউওয়েই গ্রামের ওই বাসিন্দার নাম লি সানজু (৫০)।
লি সানজু বলেন, ‘আমি একদিন টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে দেখি, এক ব্যক্তি শুধু পানি খেয়েই ১০ দিন ধরে বেঁচে আছেন। এরপর আমিও চিন্তা করি, প্রচলিত খাবার বাদ দিয়ে একেবারে প্রাকৃতিক জিনিসের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা যায় কি না। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করি ঘাস ও পাতা খেয়ে জীবন ধারণের চেষ্টা।’
লি তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘প্রথম দিকে আমি বাড়ির কাছে মাঠের ঘাস ও পাতা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ওই ঘাস-পাতার ওপর সম্ভবত কীটনাশক ছিটানো ছিল। এরপর আমি নিয়মিত বাড়ি থেকে একটু দূরে পাহাড়ের ধারের ঘাস ও পাতা খাওয়া শুরু করি। এসব ঘাস-পাতায় আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। গ্রামের লোকজন এখন আমাকে উদ্ভট লোক বলেই জানে। তবে এতে আমি মোটেও বিচলিত বা বিব্রত নই। বরং এখন রোগমুক্ত আছি বলে পরিতৃপ্ত।’
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, লি যেসব গাছের পাতা ও ঘাস খেয়েছেন সেগুলো নির্বিষ ও ভক্ষণযোগ্য। তবে তাঁরা এটাকে খাবার হিসেবে নিতে কাউকে পরামর্শ দিচ্ছেন না।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল আলোচনার ব্যাপারে আরববিশ্বের সমর্থন

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে সমর্থন দিতে একমত হয়েছেন আরববিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মিসরের রাজধানী কায়রোতে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের চলমান বৈঠকে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। এএফপি।
ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরেকাত জানান, ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের পরোক্ষ আলোচনা শুরুর ব্যাপারে সহায়তা দিতে রাজি হয়েছেন আরববিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ফলোআপ কমিটির বৈঠকে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী চার মাস তাঁরা পরোক্ষ আলোচনার উদ্যোগ চালাবেন।
আরব দেশগুলোর সংগঠন আরব লিগে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আহমেদ বলেন, ‘এখন থেকে চার মাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার চেষ্টা চালানো হবে। এতে কোনো সাফল্য না এলে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে তোলা হবে।’
ওমানের শীর্ষ কূটনীতিক ইউসেফ বিন আলাবি বিন আবদুল্লাহ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো আলোচনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমলেই হতে হবে।
আরব নেতারা বলেন, ২০০২ সালের শান্তি উদ্যোগকে ভিত্তি করে এ আলোচনা হতে হবে। ইসরায়েলকে আরবভূমি থেকে বসতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করতে হবে।
আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল বুধবার ইসরায়েলের মুখপাত্র মার্ক রেগেভ জানান, তাঁর দেশ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। এর মাধ্যমে শান্তি আলোচনা শুরু হবে।

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন দুবাইয়ের পুলিশপ্রধান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান মির দাগানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন দুবাইয়ের পুলিশপ্রধান দাহি খালফান তামিম। দুবাইয়ে শীর্ষস্থানীয় এক হামাস নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি ওই দুজনের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। আল-জাজিরা টেলিভিশনের খবরে এ কথা বলা হয়। খবর রয়টার্সের।
ওই টেলিভিশন চ্যানেলকে পুলিশপ্রধান দাহি তামিম আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও মোসাদপ্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য তিনি দুবাইয়ের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের আহ্বান জানাচ্ছেন। এটা এখন নিশ্চিত যে দুবাইয়ে হামাস নেতা মাহমুদ আল-মাবৌ হত্যাকাণ্ডে মোসাদ জড়িত ছিল। ১৯ জানুয়ারি দুবাইয়ের পাঁচ তারকা আল বুস্তান রোতানা হোটেলে তাঁকে হত্যা করা হয়।
তামিম বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডে মোসাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তিনি সংস্থার প্রধান মির দাগানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন। মোসাদ সদস্যদের উত্সাহ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরও গ্রেপ্তার দাবি করছেন তিনি। মোসাদ ঘাতকেরা বিভিন্ন দেশের নিরীহ লোকজনের জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাই ও পশ্চিমা বিশ্বকে রীতিমতো অপমান করেছে।
দুবাই হত্যাকাণ্ডে ঘাতকদের ব্যবহূত ক্রেডিট কার্ডগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সংবাদপত্রে এ কথা বলা হয়। পত্রিকাটি আরও জানায়, ওই হত্যাকাণ্ডে যেকোনো ধরনের ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখবে দুবাই পুলিশ। পুলিশের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন ঘাতকের ১৩ জনই বিমানের টিকিট কেনা ও হোটেলের কক্ষ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যাংক মেটাব্যাংকের ইস্যু করা প্রি-পেইড মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেছিল।
মার্কিন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সামান্য যোগাযোগ শুরু হয়। হামাস নেতার হত্যাকাণ্ডে সেই সম্পর্কও এখন ভাঙতে বসেছে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ ওসিএলের লেনদেন শুরু

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বেসরকারি খাতের ওশেন কনটেইনার লিমিটেডের (ওসিএল) শেয়ার লেনদেন শুরু হচ্ছে।
সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটির উদ্যোক্তাদের হাতে থাকা শেয়ারের অর্ধেক বা এক কোটি ১৯ লাখ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদ ওসিএলের শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি অনুমোদন করেছে।
জানা গেছে, কোম্পানিটিকে মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা প্রায় ৫৯ লাখ শেয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রি সম্পন্ন করতে হবে।
এর আগে কোম্পানিটি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিলামের মাধ্যমে ১১ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার বিক্রির কাজ সম্পন্ন করেছে। গত ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি সিএসইতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে কোম্পানিটির শেয়ার নিলাম বা দরপ্রস্তাব কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে মোট ৮২টি প্রতিষ্ঠান শেয়ারের ক্রয় আদেশ জমা দেয়। এর মধ্যে ৮০টি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৪৫ টাকা দামে শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখায়। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দামে তাদের ক্রয় আদেশ জমা দেয়। তাই এ দুটি প্রতিষ্ঠান নিলামে কোনো শেয়ার বরাদ্দ পায়নি।
আর ১৪৫ টাকা দামেই কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেবে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে শেয়ারের দামের উত্থান-পতন।
বর্তমানে ওসিএলের পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ৮০ লাখ, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের দুই কোটি ৩৮ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। কোম্পানিটির প্রতিটি মার্কেট লটে রয়েছে ১০০ শেয়ার। ১৪৫ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য ধরে কোম্পানিটির এক লট শেয়ার কিনতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বনিম্ন বিনিয়োগ করতে হবে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা।

মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ

মালিক, শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি থাকায় তৈরি পোশাক খাতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। কারখানার মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন। তাঁরা শ্রমিকদের বোঝাতে ব্যর্থ হন। আর এতে শ্রমিকেরা ভুল বোঝেন মালিকদের। তাই দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেন তাঁরা।
গতকাল বুধবার স্থানীয় একটি হোটেলে জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিফট স্ট্যান্ডার্ড আয়োজিত ‘শ্রমিক অসন্তোষ রোধে মালিক-শ্রমিক যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান লুত্ফুল হাই এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল আলম, সাংসদ সারাহ বেগম কবরী, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক শহীদুল্লাহ আজিম, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) সমন্বয়কারী ওয়াজেদ-উল-ইসলাম খান প্রমুখ। এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ঢাকা ব্যুরো চিফ ফরিদ হোসেন এতে সঞ্চালক ছিলেন।
পোশাক খাতে অসন্তোষের জন্য মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশে একে অপরকে দোষারোপের খেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, ‘অসন্তোষের জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বাইরের ইন্ধনও রয়েছে। এতে শ্রমিক, মালিক এবং ক্রেতা—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
শিল্প খাতে ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘পোশাক খাতের শ্রমিকদের এই অধিকার চর্চার ব্যাপারে মালিকদের সহযোগিতা করা উচিত।’
লুত্ফুল হাই বলেন, তৈরি পোশাক খাতে মাঝেমধ্যে যে শ্রমিক অসন্তোষ হয়, তার পেছনে অন্য শক্তিও কাজ করে। তবে এসব অসন্তোষ দূর হবে, শিল্প খাতে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমও শুরু হবে। তা শুধু সময়ের ব্যাপার।
ইসরাফিল আলম বলেন, ‘শোষণ ও হয়রানি বজায় থাকলে শ্রমিক অসন্তোষ দূর হবে না।’ দর কষাকষি বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পোশাক মালিকেরাই অনেক সময় মানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংসদ সারাহ বেগম কবরী বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দূর করা, অসন্তোষ দূর করার অন্যতম উপায়।’ এ জন্য নিয়মিত ভিত্তিতে আলোচনার পরামর্শ দেন তিনি। শ্রমিকেরা যেন বুঝতে পারেন যে মালিকেরা তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন।
সারাহ বেগম আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের চাকর বা দাস মনে করা উচিত নয়। মনে করতে হবে যে তাঁরা কারখানার অংশ।’
শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘কথিত শ্রমিক নেতারা অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। তারা সংকট নিরসন না করে উল্টো তা বাড়িয়ে দেয়।’

জার্মানি ও কোরিয়ার জয়

বিশ্বকাপ হকিতে কাল শেষ মিনিটের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া (২-১)। কানাডাকে ৬ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জার্মানি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আরেক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ড।
দিল্লিতে অনুষ্ঠানরত বিশ্বকাপ হকির তিনটি ম্যাচই ছিল কাল ‘এ’ গ্রুপের।
প্রথম ম্যাচটাই দেখেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ৫২ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৬২ মিনিটে সমতা এনে ফেলে দক্ষিণ কোরিয়া। একেবারে শেষ বাঁশি বাজার মুহূর্তেই কোরিয়া আরেকটি গোল করে জিতে নেয় ম্যাচ।

অর্থেই অনর্থ দেখছেন ক্যাপেলো

অর্থই অনর্থের মূল। বাক্যটিকে চর্বিত চর্বণ মনে হতে পারে। কেউ বলতে পারেন আপ্তবাক্য। যে যাই মনে করেন করতে পারেন। কিন্তু চিরায়ত এই প্রবাদটিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড দলের জন্য। এই উপলব্ধি খোদ ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর। ইংল্যান্ড দলে সম্প্রতি যে অশান্তির আগুন জ্বলছে, এর মূলে যে খেলোয়াড়াদের অফুরন্ত টাকা ক্যাপেলো বলেছেন সেটাই। গতকাল রাতে ওয়েম্বলিতে মিসরের বিপক্ষে হয়ে যাওয়া প্রীতি ম্যাচের আগে ক্যাপেলো বলেছেন, ‘তারা সব তরুণ খেলোয়াড়, বয়সে তরুণ, টাকাওয়ালা এবং এটাই সমস্যা।’
এর চেয়ে বেশি ভেঙে বলেননি। তবে এই মন্তব্য দিয়ে ইংল্যান্ড কোচ কী বোঝাতে চেয়েছেন তা ‘জলবত্ তরলং’। ইংল্যান্ডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই বয়স কম। এই বয়সে একেক জনের লাখ লাখ টাকা আছে। হাতে এত এত কাঁচা টাকা থাকলে যে নিজেকে সামলে রাখা কঠিন, ক্যাপেলো সেটি বুঝতে পারেন। তবে খেলোয়াড়দের নিজেদের এসবের ওপরেই রাখা উচিত বলে মনে করেন ইংল্যান্ড কোচ। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের অনুশীলন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে কিছু উপদেশও তিনি দিয়েছেন, ‘তারা সবাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। শিশুদের জন্য এবং সব সমর্থকের জন্য উদাহরণ হতে হবে তাদের। এ কারণেই সবাইকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং জীবনে কিছু জিনিস বিসর্জন দিতে হবে।’
সুন্দর সাজানো সংসারই ছিল ফ্যাবিও ক্যাপেলোর! জন টেরি-ওয়েইন ব্রিজরা কাঁধে কাঁধ রেখে রুখেছেন প্রতিপক্ষের আক্রমণের ঢেউ। ওয়েইন রুনি-স্টিভেন জেরার্ডরা আক্রমণের পসরা সাজিয়ে ভেঙেছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ-দেয়াল। গোছানো দল নিয়ে ২০০৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাপেলো ২১ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ১৫টি জয়। পরাজয় দেখেছে মাত্র দুটি।
আর এখন? কাঁধে কাঁধ মেলাবেন কি, টেরি-ব্রিজরা একে অন্যকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে রাখেন। এসবের কারণ কী, তা এখন আর কারও অজানা নেই। ক্যাপেলোর সাজানো ঘরে ছোবল বসিয়েছে ‘পরকীয়া’। তাতে ভাঙন ধরেছে গোছানো দলে। ওয়েইন ব্রিজের সাবেক বান্ধবী ভ্যানেসা পেরনসেলের সঙ্গে গোপন প্রেম ছিল চেলসি ডিফেন্ডার জন টেরির। সম্প্রতি এটি ফাঁস হয়ে যায়। সেই থেকেই টেরি-ব্রিজের শীতল সম্পর্ক। অ্যাশলি কোলের সংসারেও জ্বলছে পরকীয়ার আগুন। বেচারা এমনিতেই চোট পেয়ে মাঠের বাইরে। এর মধ্যে গোপন প্রেমের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় স্ত্রী দিচ্ছেন বিচ্ছেদের হুমকি! সব মিলিয়ে ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড দলে কেমন এলোমেলো হাওয়া।
এ কারণেই অনুশীলনে নামার আগে এত বড় ‘লেকচার’ দিতে হলো ক্যাপেলোকে। স্পেন, ইতালির মতো দেশে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে এই ইতালীয় কোচের। কিন্তু টেরি-ব্রিজের কাহিনীর মতো কিছুর সামনে তাঁকে পড়তে হয়নি। এই ঘটনাটা তাঁর কাছে মনে হয়েছে অভূতপূর্ব, ‘আমার স্পেনের কথা মনে পড়ে, একজন খেলোয়াড় পান করতে ডিসকোতে গিয়েছিল। কিন্তু ওখানে আমি ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় এবং মেয়েদের নিয়ে এমন সমস্যায় আমাকে পড়তে হয়নি।’
যা হয়েছে, তা তো আর তুলে নেওয়া যাবে না! তাই অন্তত আগামী তিন মাস মানে বিশ্বকাপ পর্যন্ত সবাইকে এসব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ।

জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনও ভেঙে দেওয়া হলো

ব্যাডমিন্টন, উশুর পর এবার ভেঙে দেওয়া হলো জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ১৯৭৪-এর ২০ এ(বি) ধারা অনুসারে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব শফিক আনোয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শেখ বশির আহমেদকে সভাপতি ও আহমেদুর রহমানকে (বাবলু) সাধারণ সম্পাদক করে ২৪ সদস্যের অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অস্থায়ী কমিটির কার্যক্রমও পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আরেকটি সুযোগ পাচ্ছেন আশরাফুল

জাতীয় লিগে মাত্রই ‘পেয়ার’ পেয়েছেন। তাতেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি মোহাম্মদ আশরাফুলের। নিজের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ হিসেবে পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচটি। আগামী ৭ মার্চ থেকে প্রথম টেস্টের ভেন্যু চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক মনোনীত হয়েছেন আশরাফুল। দলে আছেন আরও তিন টেস্ট ব্যাটসম্যান জুনায়েদ, রকিবুল ও মেহরাব।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল: মোহাম্মদ আশরাফুল (অধিনায়ক), জুনায়েদ সিদ্দিক, মেহরাব জুনিয়র, শামসুর রহমান, রকিবুল হাসান, শুভাগত চৌধুরী, সগীর হোসেন, মাহবুবুল আলম, রবিউল ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, ডলার মাহমুদ, নূর হোসেন।

সোবার্সের সেরা গাভাস্কার

পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তাঁর প্রশংসায় মুখর। কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার নন, স্যার গ্যারি সোবার্স তাঁর দেখা সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বেছে নিলেন আরেক লিটল মাস্টার সুনীল গাভাস্কারকে। রেকর্ড-পরিসংখ্যান সবই টেন্ডুলকারের পক্ষেই কথা বলবে। কিন্তু বোকা পরিসংখ্যান নয়, ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাপকাঠি হিসেবে বেছে নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্ধর্ষ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে গাভাস্কারের সাফল্য।
‘ভিভিয়ান (ভিভ রিচার্ডস), ব্রায়ান (লারা) কিংবা শচীনের কৃতিত্ব আমি খাটো করছি না। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এখন পর্যন্ত সুনীল গাভাস্কারই আমার দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান। মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস, কলিন ক্রফট, জোয়েল গার্নারের মতো দুর্দান্ত ফাস্ট বোলারের বিপক্ষে ও ইনিংস শুরু করত। ভারতের বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডেই ও বেশি রান করেছে’—বলেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।
পরিসংখ্যানও কিন্তু সোবার্সকে সমর্থন করছে। গাভাস্কারের অভিষেকই হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ওই অভিষেক সফরেই ১৫৪.৮০ গড়ে ৪টি সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিসহ ৭৭৪ রান তুলে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন গাভাস্কার। তাঁকে নিয়ে বাঁধা হয়েছিল ক্যালিপসো সুর। টেস্টে তাঁর ৩৪ সেঞ্চুরির ১৩টিই পরাক্রান্ত ওই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
সোবার্স অবশ্য এও জানালেন, ভিন্ন দুই সময়ের ক্রিকেটারদের মধ্যে আসলে তুলনা চলে না, ‘অতীত আর বর্তমানের খেলোয়াড়দের তুলনা করা হয়। কিন্তু ব্র্যাডম্যান আর কম্পটনরা যে কন্ডিশনে খেলেছেন, এখন তো সেটা আর নেই। ফিল্ডিং ইচ্ছেমতো সাজানো যেত, এখনকার মতো আইনকানুন ছিল না। তখন সারা দিনে ৭০-৭২ ওভারও খেলা হতো, যেসব কারণে তখন ব্যাটসম্যানদের এত রান করার সুযোগ ছিল না। হেলমেট ছিল না, আর্ম গার্ড ছিল না। উইকেট থাকত খোলা।’
সোবার্সের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই গাভাস্কারের অভিষেক। ওই সিরিজে ২২ বছর বয়সী গাভাস্কারের কীর্তির কথা তো আগেই জেনেছেন। ভারতও সেবার প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জিতেছিল। জিতেছিল সিরিজও!
ভারতের বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সোবার্সের পছন্দের তালিকায় আছেন বীরেন্দর শেবাগ। টেস্টে ৮০৩২ রান আর ২৩৫ উইকেটের মালিকের শেবাগকে বেশি পছন্দ তাঁর খেলার ধরনের কারণে। সোবার্সের কাছে ক্রিকেটের অর্থ বিনোদন, সে কারণে অনেকবারই বলেছেন, ‘খেলাটা যেভাবে খেলা উচিত, শেবাগ সেভাবেই খেলে।’
টেস্ট ক্রিকেটই আসল ক্রিকেট—শাশ্বত বাণীটা মনে করিয়ে দিয়ে সোবার্স জানালেন, অভিজাত খেলাটা যেন টি-টোয়েন্টির বাজারি চাহিদার কাছে মার না খেয়ে যায়, ‘বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি ভালো। লোকে তা-ই চাইবে। কিন্তু এই ক্রিকেট টেস্ট ক্রিকেটার জন্ম দেবে না।

হাওয়ার্ডকে মুরালির দুসরা

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১২ সালের জুন থেকে আইসিসি সভাপতির চেয়ারটা অলংকৃত করবেন জন হাওয়ার্ড। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন। একজন কিন্তু মোটেও অভিনন্দন জানাতে পারছেন না। মুত্তিয়া মুরালিধরন। পারবেন কী করে, শ্রীলঙ্কান অফ স্পিনারের বুকে যে এখনো বিঁধে আছে হাওয়ার্ডের সেই কথা—‘চাকার!’
২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মুরালিধরন আর শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাটায় আঘাত করেছিলেন হাওয়ার্ড। প্রশ্ন তুলেছিলেন মুরালিধরনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে। হাওয়ার্ডের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে যাননি মুরালি। হাওয়ার্ড অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু মুরালি ঠিকই মনে রেখেছেন সেটা। হাওয়ার্ড আইসিসির ভাবী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ‘তাঁর সঙ্গে সব ঝামেলা মিটে গেছে’ বলার পাশাপাশি মুরালি এ কথাও বলেছেন, এশিয়ার ক্রিকেট মহলকে আস্থায় আনতে বেগ পেতে হবে ৭০ বছর বয়সীকে।
‘তাঁর ব্যাপারে আমি মোটেও ক্ষুব্ধ, হতাশ বা সে রকম কিছু নই। সে সময় আমার মনে হয়েছিল, তিনি সঠিক নন। আমি আমার মতটা বলেছি, তিনি তাঁরটা। আমাদের এখন আসলে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। ক্রিকেটের এ ধরনের বিষয়গুলো তিনি কীভাবে সামলাবেন? কাজটা তাঁর জন্য সহজ হবে না। তাঁকে উপমহাদেশের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁর জন্য এটি কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হবে’—অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে বলেছেন টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
মুরালির মতো খুশি হতে পারছেন না পিটার রোবাকও। খ্যাতিমান কলাম লেখক বলেছেন, হাওয়ার্ডের চেয়ে নিউজিল্যান্ডের সাবেক বোর্ড-প্রধান স্যার জন অ্যান্ডারসনই হতেন সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে এ দুজনের সঙ্গে একমত নন রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বলেছেন, ‘হাওয়ার্ড ক্রিকেট বিশ্বের জন্য দুর্দান্ত কাজ করবেন। খেলাটার প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। তাঁর মাপের একজন যে এই দায়িত্বটা পালন করতে চান, এটা তো দারুণ সুখবর।’
আইসিসি-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে আর আছে কেবল ম্যালকম গ্রের। তিনিও আশাবাদী, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে হাওয়ার্ড জয় করে নেবেন ক্রিকেট বিশ্ব।

ক্রিকেটের কালো দিনে আশায় পাকিস্তান

কাল পার হয়ে গেল ৩ মার্চ। ক্রীড়া ইতিহাসেরই একটি কালো দিন। এক বছর আগে এই দিনেই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলায় শ্রীলঙ্কার সাত ক্রিকেটারসহ আহত হয়েছিলেন দলের সহকারী কোচ। প্রাণ দিয়েছিলেন ৮ জন পাকিস্তানি নাগরিক। সেই দিনটিকেই কাল স্মরণ করা হলো প্রার্থনায় এবং ফুলের শ্রদ্ধায়।
প্রার্থনা, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে একঘরে হয়ে পড়ার মুক্তির পথ খুঁজতে। আর শ্রদ্ধার ফুল, নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায়।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা যতই থাকুক ক্রিকেটারদের একটা বিশ্বাস ছিল—তাঁরা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। কিন্তু সে বিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিয়েছে লাহোরের ওই হামলা। এর ধকলটা সবচেয়ে বেশি পোহাতে হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে। ‘নাইন ইলেভেন’—এর পর থেকে এমনিতেই পাকিস্তান সফরে যেতে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাইরের দলগুলো। লাহোর হামলা আয়োজক হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে পুরোপরি বিচ্ছিন্নই করে দেয় পাকিস্তানকে।
স্টেডিয়ামের বাইরে লিবার্টি চত্বরে সন্ত্রাসী হামলা থেকে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের রক্ষার জন্য যে ৬ পুলিশ ও দুজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করা হয়েছে ‘জাতির গর্ব’ হিসেবে।
লাহোরের সন্ত্রাসী হামলাকে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটা ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার ওয়াসিম বারি বললেন, ‘শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের রক্ষার জন্য যারা জীবন দিয়েছে আমরা অবশ্যই তাদের স্মরণ করি।’
এই সন্ত্রাসী হামলার বড় প্রভাবটা পড়েছে পিসিবির আয়ের ওপর। বোর্ড চেয়ারম্যান ইজাজ বাট বলছেন, নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান দলগুলোর পাকিস্তান সফর বর্জন অব্যাহত থাকলে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৭০ মিলিয়ন ডলার। বাট তাই তাকিয়ে আছেন পরিস্থিতির উন্নতির দিকে, ‘বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হবে, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পাকিস্তানে ফিরবে—এটাই আশা করি আমরা।’
শুধু ক্রিকেটই তো নয়, লাহোর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের পুরো ক্রীড়াঙ্গন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজার ভাষায়, ‘এর (সন্ত্রাসী হামলার) ধকল শুধু ক্রিকেটেই নয়, পড়েছে পাকিস্তানের অন্যান্য খেলার ওপরও। ঘটনার পর কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজক হতে পারিনি আমরা।’
লাহোর হামলার পর ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১৪টি ম্যাচ পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে আইসিসি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানকে হোম সিরিজ খেলতে হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এ বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের মাটিতে, যা হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানেই। তবে পাকিস্তানে অচিরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরবে—এই আশাতেই এখন দিন গুনছে পাকিস্তান। ওয়াসিম বারির সেই আশারই অনুরণন, ‘ক্রিকেটপ্রেমী লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরবে পাকিস্তানে। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি এটা বেশি দূরে নয়।