Showing posts with label নওগাঁ. Show all posts
Showing posts with label নওগাঁ. Show all posts

Sunday, June 15, 2025

আমার পড়াশোনার জন্য বাবা জমি বিক্রি করেছেন, হালের গরু বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন, তবু আমাকে হারতে দেননি by নাদিম মাহমুদ

নওগাঁর বদলগাছীর প্রত্যন্ত এক গ্রামে আমার বেড়ে ওঠা। বাবা আফজাল হোসেন পুরোদস্তুর একজন প্রান্তিক কৃষক। আমার জীবনেরও বড় একটি সময় বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ করে কেটেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাঠে কাজ করতাম, এরপর বাড়ি ফিরে রেডি হয়ে স্কুলে যেতাম। স্কুল থেকে ফিরেও বাবাকে সাহায্য করতে মাঠে যেতাম। গরু না থাকলে বাবা আর ছেলে মিলে মই দেওয়া, মাটি কেটে উল্টে দেওয়া—সবই করতাম। ধানখেতে নিড়ানি দিতে দিতে বাবার কাছ থেকে তাঁর ছেলেবেলার গল্প শুনতাম। কাজ করতে করতে যখন স্কুলের সময় হয়ে যেত, তখন তিনি নিজেই বলতেন, ‘যাও স্কুলে। আমি জীবনে যে সুযোগটি পাইনি, তোমরা সেটা হারিয়ে ফেল না।’

বাবার বয়স যখন ১০ কি ১১ বছর, তখন তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। এরপর তাঁর কাঁধে চাপে সংসারের ভার। তাই স্কুলের আঙিনায় আর কোনো দিন পা মারাতে পারেননি। তবে সব সময় মনে হতো আমার পড়াশোনা না জানা বাবা চিন্তা ও চেতনায় কোনো শিক্ষিত মানুষের চেয়ে কম নন।

বাবাকে বুঝেছি বলেই তাঁর কথা কখনোই ফেলতাম না। একদিন এসএসসি পাস করলাম। স্কুলের সর্বোচ্চ ফলাফল আমার ঝুড়িতে থাকলেও কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে সংকট দেখা দিল। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ভর্তির টাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে যে খরচ হবে তার সংকুলান করা কঠিন। গ্রামের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবাকে বুঝিয়েছিলেন, চাকরির পাশাপাশি জমিজমা থাকার পরও তাঁরা সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমার বাবার না আছে চাকরি, না তেমন জমিজমা। তাহলে কীভাবে তিনি আমাকে কলেজে পড়াবেন। এর চেয়ে ভালো হয়, রাজশাহীতে আমাকে প্যারামেডিকসে ভর্তি করালে দুই-তিন বছরে পাস করে গ্রামে ওষুধের দোকান দিয়ে দিব্যি চলতে পারব।

আমরা তিন ভাই-বোন কাছাকাছি বয়সী। সবাইকে পড়াশোনা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন মা-বাবা। অনেকের পরামর্শে একদিন আমাকে রাজশাহী শহরে নিয়ে গেলেন। বাবা–ছেলে সেবারই প্রথম রাজশাহী শহর দেখলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া গ্রামের একজনের ছাত্রাবাসে গিয়ে উঠলাম। কথা ছিল পরের দিন কলেজ থেকে ফরম তুলে ভর্তির প্রস্তুতি নেব। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় রাজশাহী প্যারামেডিকেল কলেজ ঘুরে আসার পর কিছুতেই আমার মন সায় দিল না। আমি কিছুটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবাকে বললাম, ‘আমি এখানে ভর্তি হব না, সাধারণ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হব।’

বাবার সীমাবদ্ধতা আমি জানতাম, কিন্তু পড়াশোনার খরচ জোগানো যে কঠিন, তা বাবা বুঝতে দিতে চাইতেন না। আমার শক্ত অবস্থান দেখে পরদিন বাসায় ফেরার পথে বাবা আমাকে একটি গল্প শোনালেন, ‘কেউ যদি ঢাকায় যেতে চায়, তাহলে তাকে হয় বাসস্ট্যান্ড অথবা ট্রেনস্টেশনে যেতে হবে। এখন তুমি যদি সেখানে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে কীভাবে যাত্রা করবে?’

রাজশাহী থেকে নওগাঁয় পৌঁছার পর তিনি সাহস করে পকেট থেকে ২০ টাকা বের করে দিয়ে বললেন, ‘যাও কলেজের ভর্তি ফরম কিনি নিয়ে আসো। তোমার পড়াশোনার জন্য বসতভিটা বিক্রি করতে আমার সমস্যা হবে না।’

এই যে সাহসটুকু নিয়ে বাবা আমাকে এগিয়ে দিয়েছেন, সেই এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারেনি। আমার পড়াশোনার জন্য বাবা খেতের জমি বিক্রি করেছেন, গাছ বিক্রি করেছেন, হালের গরু বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন, তবু আমাকে হারতে দেননি। আর হারতে দেননি বলেই কৃষক বাবার সন্তান পরিচয় দিতে সব সময় গর্ববোধ করেছি। সেই গর্ব নিয়েই এইচএসসি পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। অক্ষরজ্ঞানহীন বাবাটাকে জীবনে না পেলে হয়তো সায়েন্টিস্টই হতে পারতাম না!

বাবার আদর্শে আমার ছোট ভাই-বোনও বড় হয়েছে। আমার মতো ভাইটাও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছে আর বোনটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। আমাদের জীবনের যাবতীয় অর্জনে মিশে আছে আমার কৃষক বাবার আদর্শ।

* নাদিম মাহমুদ, গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র

বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে ছেলে নাদিম মাহমুদ
বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে ছেলে নাদিম মাহমুদ। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

Monday, October 21, 2024

১১ সন্তান থাকলেও ভাত জোটে না শতবর্ষী বাবার

প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাত সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই তার। যৌবনে যিনি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করেছেন, করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব‍্যবস্থা। তারাও আজ তার পাশে নেই। নেই খাবারের কিংবা অসুখের চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বর্তমানে ছোট ছেলে আয়নাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরিবারের কেউই খবর রাখেন না শতবর্ষী এই বাবার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তফের আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার বয়স ১০৮ থেকে ১১০ বছরের মধ্যে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাত সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই তার। যৌবনে যিনি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করেছেন, করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব‍্যবস্থা। তারাও আজ তার পাশে নেই। নেই খাবারের কিংবা অসুখের চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বর্তমানে ছোট ছেলে আয়নাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরিবারের কেউই খবর রাখেন না শতবর্ষী এই বাবার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তফের আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার বয়স ১০৮ থেকে ১১০ বছরের মধ্যে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

তাফের আলী জানান, সন্তানরা তাকে দেখেন না। নিজেরা ভালো বাড়িতে থাকেন আর তাকে রেখেছেন ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে। ভাত খেতে দেয় না। অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে চেয়ে ভাত খান। এ ছাড়া ওষুধের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তাকে। ছেলে আয়নাল ও তার স্ত্রী তাকে খাবার পর্যন্ত দেয় না। এসব সহ্য করতে না পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আবার সেই সন্তানের চাপেই আপস করতে আদালতে গিয়েছেন তিনি। তারপরও সেই সন্তানরা তাকে খেতে পর্যন্ত ডাকেননি।

ছেলে আয়নালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় বাজার করে বাসায় নিয়ে গেলে রান্না করতে দেরি হয়। তখন রাগ করে খবার খেতে চায় না। এ ছাড়াও সকালের খবার খেতে বললে বলে, বাজার থেকে খেয়ে আসছি। এসব প্রায়ই ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করে থাকে এবং এর আগে জেলও খেটেছি। তবে আমাদের ভুল হয়েছে সঠিক সময়ে খবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। আমারও তো দুটো ছেলেমেয়ে আছে। তবে যেটুকু সামর্থ্য রয়েছে চেষ্টা করি বাবাকে ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য।

আয়নালের স্ত্রীর জানান, দেখাশোনার কাজ তিনি ও তার স্বামী করেন। মাঝে মাঝে ঠুনকো বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছাড়া বড় কোনো ঘটনাই ঘটে না। শ্বশুরের প্রতি যত্নের কোনো কমতি নেই।

এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী মো. খোকা বলেন, তাফের আলীর ৯ জন ছেলে আটজন বাইরে থাকেন বাকি একজন ছেলে মো. আয়নাল তিনি তার বাবার সঙ্গে আলাদা থাকেন। অনেক সময় ছেলে তার বাবাকে খাবার দেয় কখনো দেয় না। তবে মামলা হয়েছে কি না তা জানি না। যেহেতু তার বাবার অনেক বয়স হয়েছে সেক্ষেত্রে ভরণপোষণ দেওয়া উচিত বলে মনে করছি।

তাফের আলীর আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে ছেলের নামে আরেকটি মামলা ছিল। এরপরও গত ১৮ আগস্ট তাফের আলী তার ছেলে আইনাল হোসেনের বিরুদ্ধে সন্তানরা ভাত না দেওয়া ও মারপিটসহ অন্যান্য অভিযোগে এ বছরের ২০ আগস্ট নওগাঁর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত তাফের আলী কষ্টের কথা শুনে ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এটা অমানবিক একটা মামলা। এতগুলো সন্তান থাকার পরও বৃদ্ধ বাবাকে ভাত দেয় না। এটা অমানবিকতার পরিচয়। তবে মামলাটি এখন পেন্ডিং রয়েছে। 
১১ সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। ছবি : কালবেলা
১১ সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। ছবি : কালবেলা

Friday, November 20, 2020

বাংলাদেশের গর্ব পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

পাহাড়পুর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে বাংলাদেশের একটি গর্ব। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করেছিলেন। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর এবং অপর শহর কোটিবর্ষ’র মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার। এর ধ্বংসাবশেষ বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়রা এটিকে ‘গোপাল চিতার পাহাড়’ আখ্যায়িত করতো। সেই থেকে এর নাম হয়েছে পাহাড়পুর, যদিও এর প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার।

বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। এর চারদিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেয়াল বরাবর অভ্যন্তর ভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি করে কক্ষ। সবশেষ যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের ওপর বিভিন্ন আকারের বেদী নির্মাণ করা হয়। কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। এগুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত, কিন্তু বাইরের দিকে সরু হয়ে গেছে।

বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটক। প্রধান ফটক ও বিহারের উত্তর-পূর্ব কোণের মাঝামাঝি আরেকটি ছোট প্রবেশপথ ছিল। উত্তর বাহুর প্রবেশপথের সামনে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এই পুকুর খনন করা হয়। পরে এটি ভরাট করে দেওয়া হয়।

Wednesday, October 2, 2019

নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

তিন একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্নও দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। তাইতো তার নিজ হাতে তিনি শুরু করেন মাল্টা চাষ।

এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। সে সময় ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। 

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন রিনা।

তিনি জানান, মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবছর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করারও আশা করছেন তিনি। 

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে এলাকার চাষিদেরকে লাভজনক ফল চাষে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাগন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুণ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলেও আশা করছেন এই কৃষিবিদ।- ইউএনবি

Tuesday, September 17, 2019

পাটে লাভ নেই, সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

পাট চাষে লাভের মুখ দেখতে না পেয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন নওগাঁর কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে সবসহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা লাগে। কিন্তু পাট বিক্রি করে মূল টাকা তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লোকসানের মুখে তাই পাট চাষে কৃষকদের অনীহা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৫ বেল পাট।
পাট চাষি আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা পাটের আবাদ করতে হাল চাষ ৬শ’ টাকা, বীজ ২শ’ টাকা; সার-ওষুধ-নিড়ানি-সেচ ৪ হাজার টাকা, শ্রমিকের খাবার ২ হাজার টাকা, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘাপ্রতি পাট উৎপাদন হয়ে থাকে ১০-১৪ মণ, যা বিক্রি করে খরচ ওঠে না। তাই আর পাট আবাদ করি না। পাটের জমিতে এখন সবজি লাগাই। লাভও ভালো পাচ্ছি।’
পত্নীতলা গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘পাটের আবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা জাগ দেওয়ার জায়গা না থাকা এবং পানি। পাট কাটার পর ভেজানোর জন্য যে সময় পানির দরকার, তা পাওয়া যায় না। এ সমস্যার কারণে আর আবাদ করিনি। সে জমিতে এখন সবজি চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছি। পাটের মতো ঝামেলাও পোহাতে হয় না।’
মহাদেবপুরের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই বিঘাতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আহসান শহীদ সরকার বলেন, ‘এক সময় প্রচুর পাটের আবাদ করা হতো। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর কমছে পাটের আবাদ। পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকরা সবজির আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।’

Friday, June 28, 2019

৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে খাম্বা, ব্রীজ গেল কই? by কাজী আনিছুর রহমান

নওগাঁর রাণীনগরের কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর গ্রামে তিন বছরেও শেষ হয়নি ফুট ব্রীজের নিমার্ণ কাজ। খালের দুই পাড়ে শুধুমাত্র সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ব্যায়ে খাম্বা তৈরির পর নিমার্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই চোখের সামনে তিন বছর ধরে শুধু দাড়িয়ে আছে খালের মধ্যে খাম্বা। ফলে ওই এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের জনসাধারণদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কাশিমপুর-গোনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে রতনডারি খাল। ১৯১৪ সালে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী রাণীনগরের উদ্যোগে কুজাইল স্লুইচ গেট থেকে হাতিরপুল হয়ে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খাল খনন করা হয়। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি থৈ থৈ করে।
এসময় পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় ওই এলাকার দুইটি ইউনিয়নের সর্বরামপুর, কাশিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, এনায়েতপুর, মঙ্গলপাড়া, ভবানীপুর, পীরেরা, বয়না, বেতগাড়ী, দূর্গাপুর, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বসবাসরত সাধারণ মানুষ, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের রতনডারি খাল পাড় হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজভাবে পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
তাই এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল, একটি ব্রীজ নির্মাণ করা। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এবং জন দুর্ভোগ লাঘব করতে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে রতনডারি খালের উপর কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৈতা পাড়া নামকস্থানে ফুট ব্রীজ নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে একটি দরপত্র আহবান করা হয়।
এতে নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ মহল্লার মো: গোলাম কিবরিয়া নামের ঠিকাদার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। এর পর শুষ্ক মৌসুমে ওই খালের দুই পাড়ে খাম্বা নির্মাণ কাজ শুরু হলে শুধুমাত্র খালের মধ্যে খাম্বা নির্মাণ করার পর রহস্যজনক কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই ফুট ব্রীজটি নিমার্ণে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ওই এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের জনসাধারণদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আসলাম আলী, ছোলাইমান, আব্দুর রহিমসহ শ্রমীক-মজুর, ব্যবসায়ীরা জানান, তিন বছর ধরে চোখের সামনে আমরা শুধু খাম্বাই দেখছি। কিন্তু নির্মাণ কাজের কোন নমুনা দেখছিনা। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মকলেছুর রহমান বাবু জানান, নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আমি বারবার সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরণা দিয়েছি। কিন্তু অদ্যবদি ফুট ব্রীজের বাকি কাজগুলো শুরু না হওয়ায় আংশিক অবকাঠামোও অপচয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ওই সময় যে পরিমাণ ব্যয় ধরে কাজ শুরু করা হয়েছিল তা পাইলিং-টাওয়ার নির্মাণ করতেই টাকা শেষ হয়ে গেছে। ওই ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ করতে এখনো প্রায় ২৫ লাখ টাকা লাগবে। আগামী অর্থ বছরে টাকা বরাদ্দ পেলে কাজটি শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

Monday, January 7, 2019

রাণীনগরে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম

গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ফাঁকা রোদ মাখানো বিভিন্ন স্থানে চাটাইয়ের ওপর সারি সারি করে বিছানো সাদা রঙের মাষকলাইয়ের তৈরি কুমড়া বড়ি শুকানো হচ্ছে। কেউ কেউ আবার শুকনো বড়িগুলো বাঁশের চাটাই থেকে খুলছে আবার কেউ সেই বড়ি সৎকার করছে এরকম অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে। এহলো মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরির গ্রামের বর্ণনা। বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন কারিগররা।
সকাল থেকেই এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে উঠানে চলে এই বড়ি তৈরির কাজ। বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে ছোট-বড় ও বয়স্ক লোক সবাই মিলে তৈরি করছে সুস্বাদু ও অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই কুমড়া বড়ি। এ হলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামের বর্ণনা।
এই গ্রামে শতাধিক বছর পূর্ব থেকেই বিখ্যাত এই বড়ি তৈরি করা হয়। তাই আজো এখানকার কারিগররা শত বাধা উপেক্ষা করে পৈতৃক এই পেশাটিকে ধরে রেখেছে। সারা বছর টুকটাক তৈরি হলেও শীত মৌসুমে এই বড়ি তৈরির ধূম পড়ে যায়। এই বড়ি মূলত শীতকালের একটি আকর্ষণীয় খাবার পণ্য। বর্তমানে এই গ্রামের সকলেই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে এই বড়ির চাহিদা বেশি থাকায় এখন এই বড়ি তৈরির পল্লীতে বড়ি তৈরি নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অর্ধেক রাত থেকে শুরু হয় এই বিখ্যাত বড়ি তৈরির কাজ। আর এই গ্রাম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নিজস্ব একটি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার হলো এই মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি। এটি শীত মৌসুমের একটি বিশেষ খাবার। শীতের ৬ মাসই মূলত এই বড়িটি তৈরি করা হয়ে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বড়িতে রয়েছে অধিক মানের পুষ্টি। বড়ি তৈরির সব উপকরণই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পণ্য। তাই এই বড়িতে ভেজাল বলে কিছুই নেই। শীত মৌসুমে যেকোনো তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি যোগ করলে আলাদা একটি স্বাদ। উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ি বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করে আসছে এখানকার কারিগররা। এই গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবারের মানুষ পৈতৃক ভাবেই তৈরি করে আসছে এই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। এই কয়টি বাড়ির কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগররাই আজো ধরে রেখেছে ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ির শিল্পটি। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে।
কারিগররা জানিয়েছেন, প্রথমে মাষকালাই পানিতে ভিজিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে মেশিনে ভেঙ্গে গুঁড়া করে আবার তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রুটি তৈরির আটার মতো অবস্থায় পরিণত করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চাল কুমড়া পিষিয়ে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়। এরপর তা ২-৩ দিন রোদে ভালো ভাবে শুকানোর পর বিক্রয় করা হয়। বড়িকে শক্তিশালী করার জন্য এর সঙ্গে খুব কম পরিমাণে আলো চালের আটা মিশানো হয়। প্রতি কেজি মাষকলাই থেকে প্রায় ৬শ’ গ্রাম কুমড়া বড়ি তৈরি হয়। যেকোনো রান্না করা তরকারির সঙ্গে এই কুমড়া বড়ি রান্না করা যায়। আর রান্নার পর তরকারিতে এই বড়ি যোগ করে অন্য রকমের এক স্বাদ হয়।
খট্টেশ্বর হাটখোলাপাড়া গ্রামের শ্রী. বলায় চন্দ্র জানান, ‘এই কুমড়া বড়ি তৈরির পেশাটি আমাদের বাপ-দাদার। তাই আজো তা করে আসছি। এই বড়ি মূলত মাষকলাই, চাল কুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বড়ি ১৮০-২০০ টাকা (বড় আকারের) এবং ১৫০-১৬০ টাকা (ছোট আকারের) করে খুচরা-পাইকারি বিক্রয় করা হয়। নিজ এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কুমড়া বড়িগুলো সরবরাহ করা হয়। এই শীতকালই হচ্ছে এই কুমড়া বড়ির মৌসুম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে আমাদের কাছ থেকে এই বড়ি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া আমরা স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করি। তবে আমাদের লাভ খুব সিমিত।
একই গ্রামের বড়ি তৈরির কারিগর শ্রী মিঠন কুমার জানান, ‘আমরা নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ ঐতিহ্যপূর্ণ এই পৈতৃক পেশাটিকে আজো ধরে রেখেছি। আমরা বিভিন্ন এনজিও-সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে কোনোমতে এই শিল্পটাকে ধরে রেখেছি। যার কারণে আমাদের ইচ্ছে থাকলেও এই শিল্পটাকে প্রসারিত করতে পারছি না কারণ আমাদের পুঁজি কম। আমরা যদি কম সুদে ঋণ পেতাম তাহলে বড় ধরনের অর্থ খাটিয়ে এই শিল্পটাকে আরো অনেক বড় করতে পারতাম। আগের তুলনায় এখন বড়ি তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে। তবু শত কষ্টেও বাপ-দাদার এই পেশাটি আমরা ধরে রেখেছি।       
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শ্রী রূপ কুমার জানান, এই উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলকায় এই গ্রামের তৈরি কুমড়া বড়ির সুনাম রয়েছে। অনেক দূর-দূরান্তের মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এসে এই গ্রামের কুমড়া বড়ি নিয়ে যায়। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিম্ন আয়ের মানুষরা সরকারি ভাবে কিংবা কোন সংস্থার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না। যদি এই মানুষরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা পেতো তাহলে এই শিল্পটি আরো প্রসারিত হতো। আরো অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। সরকার ইচ্ছে করলে এই সুস্বাদু বড়ি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। এই বড়ি যদি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় তাহলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা যেমন লাভবান হবে তেমনি সরকার রাজস্ব হিসাবে আয় করতে পারবে অনেক অর্থ। এটি বাস্তবায়ন করতে শুধুমাত্র সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ইচ্ছেশক্তিই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন। 
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, রাণীনগর উপজেলার একমাত্র এই খট্টেশ্বর গ্রামটিতেই অনেক বছর যাবৎ বাণিজ্যিক ভাবে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সুস্বাদু মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে এই বড়ি তৈরি করা হয় না। তবে সরকারি ভাবে যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এই শিল্পটি আরো অধিক প্রসারিত হতো। তবে এখানকার কারিগররা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে আমরা তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

Sunday, June 3, 2018

পাখির শব্দে মুখরিত আলিদেওনা গ্রাম by এম. সাখাওয়াত হোসেন

নওগাঁর মহাদেবপুরে বাঁশ ঝাড় ও গাছে গাছে হাজার হাজার পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে আলিদেওনা গ্রাম। জেলার সর্ববৃহৎ পাখি কলোনি আলিদেওনা গ্রামকে সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। গ্রামের সাধারণ মানুষের উদ্যোগে সেখানে অনেক আগেই গড়ে তোলা হয়েছে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে আশ্রয় নেয়া পাখিদের মধ্যে রয়েছে- লাল বক, সাদা বক, সামখইল, রাতচোরা, সারস, মাছরাঙা, পানি কাউর, বিভিন্ন প্রজতির ঘুঘুসহ নাম না জানা নানান রংয়ের প্রায় লক্ষাধিক পাখি। গ্রামের আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা বাঁশ ও গাছে গাছে সারাক্ষণ হাজার হাজার পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামটি। এ কারণে আলিদেওনা গ্রামের নাম হয়েছে পাখিগ্রাম। ওই গ্রামের সীমানায় কোনো পাখি প্রবেশ করা মানে পাখিটি নিরাপদ। আর এ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন গ্রামের সবাই। পাখি শিকার রোধে গ্রামবাসী নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। ফলে শীতকালসহ সারা বছরই সেখানে হাজার হাজার পাখির আগমন ঘটে। বিশেষ করে বাচ্চা উঠানোর মৌসুমে সামখইল ও বকের নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখতে গ্রামটিতে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন ঘটে। গ্রামটিতে প্রবেশের সময় দেখা যায় সরু রাস্তার দুই ধারে থাকা গাছে গাছে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন পাখির আদলে সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডগুলোতে পাখি শিকার রোধে বিভিন্ন আইন ও সচেতনতামূলক উপদেশ বাণী লেখা রয়েছে। ‘পাখি শিকার করবেন না, পাখি মারবেন না, পাখিরাও আমাদের মতো বাঁচতে চায়, পাখি এ সমাজের পরম বন্ধু, তাদের আগলে রাখতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’ ইত্যাদি। পাখি প্রেমের এমন অনন্য নজির স্থাপন করেছেন গ্রামবাসী। আর এ কাজে গ্রামের মানুষদের এক কাতারে এনে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় আলিদেওনা পাখি সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক  নির্মল বর্মন। মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কি.মি পশ্চিমে খাজুর ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত আলিদেওনা পাখিরগ্রাম। সেখানে গেলেই মুগ্ধ হয়ে উঠে মানুষ। স্থানীয়রা স্ব উদ্যোগে গ্রামটিকে পাখি শিকার মুক্ত এলাকা ঘোষণা করেছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির বাস। ওই পাখিগ্রামের পাখিদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পাখিপ্রেমী, সমাজসেবী ও পরিবেশবিদরা সরকারিভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করছেন। সেখানে পাখির খেলায় যেন মেলা বসে। পাখিদের মেলার কারণে গ্রামটিও যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। নতুন প্রাণের স্পন্দনে জেগে ওঠা গ্রামবাসী পাখিদেরও আগলে রেখেছেন আপন সন্তানের মতোই। ইচ্ছাকৃতভাবে না হোক, কোনো শিকারী ভুলক্রমেও এ গ্রামে প্রবেশ করলেও তার কপাল মন্দ। এ বিষয়ে জীব বৈচিত্র্য, বন-বণ্যপ্রাণী ও নদী সংরক্ষণ কমিটি (জীবন) এর চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মো. ইউনুসার রহমান হেফজুল গ্রামটিকে সরকারিভাবে অভয়রণ্য করার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান। জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছেন বিবিসিএফ নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পাখি প্রেমিক এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, পাখিদের প্রতি আলিদেওনা গ্রামের মানুষের মূলত ভালোবাসার কারণেই এখানে পাখিদের আবাসভূমি গড়ে উঠেছে। তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বা অন্য কোনো কারণে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া বাচ্চাগুলোকে গ্রামবাসী যত্ন সহকারে মা পাখিদের বাসায় পৌঁছে দেয়। তিনি পাখির প্রতি আন্তরিকতার জন্য বিবিসিএফ নওগাঁ জেলা কমিটির পক্ষথেকে নির্মল বর্মনসহ গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মো. মোবারক হোসেন পারভেজ জানান, নওগাঁ জেলার আলিদেওনা গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী পাখিগ্রাম হিসেবে সারা দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। পাখির অভয়রণ্যসহ গ্রামটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

Monday, May 28, 2018

মধ্যপ্রাচ্যে মহাদেবপুরের টুপি by এম সাখাওয়াত হোসেন

নওগাঁর মহাদেবপুরের টুপি রপ্তানি হচ্ছে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে এই উপজেলার ১০ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সারা বছর টুপি তৈরি হলেও পবিত্র ঈদ উপলক্ষে রমজান মাসে বেড়েছে কাজের চাপ। ইতোমধ্যেই নওগাঁর মহাদেবপুরের টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বিশেষ করে মহাদেবপুর উপজেলা তৈরি টুপি ওমানের জাতীয় টুপির চাহিদা মিটাচ্ছে। নিপুণ কায়দায় সেলাই ও ভাঁজ করে কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে টুপি। সুইয়ের ফোড়ে নান্দনিক নকশা ফুটে উঠেছে এক এক কাপড়ে এক এক রকম টুপি। এসব টুপি তৈরি করছেন মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা। টুপি তৈরীর আয় থেকে অভাবেব সংসারের সচ্ছলতা ফিরেছে, এসেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য। উপজেলার শিবরামপুর, রামচন্দ্রপুর, মধুবন, খাজুর, বিলমোহাম্মদপুর, চাঁন্দাশ, রামরায়পুর, চককন্দরপুর, শিবপুর, শিবগঞ্জ, বাগডোব, ডিমজাউনসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক নারী টুপি সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ঈদকে সামনে রেখে তাদের বেড়েছে কাজের ব্যস্ততা। কেউ বাড়ির উঠানে আবার কেউ দলবদ্ধ ভাবে টুপি তৈরী করছেন। এসব কারিগরদের কাছে মহাদেবপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরা বিদেশী ব্যবসায়িদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশার ছাপ দেওয়া সাদা রঙের টুপির কাপড় ও সতা কারিগরদের পৌছে দেন। আগে যে পরিবারগুলো শুধুমাত্র পুরুষ সদস্যের আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল সেই পরিবারে মেয়েরা এখন টুপি সিলাই এর মাধ্যমে বাড়তি আয় করে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। শিবরামপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া, চককন্দরপুর, ডিমজাউন, মধুবনসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বাড়ি বাড়ি চলছে টুপি তৈরির কাজ। এখানকার টুপি তৈরির কারিগর তানজিমা, জ্যোস্না, মিলি, মরিয়ম, কল্পনাসহ আরো অনেকেই জানান, তারা অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করছেন। শুধু এরাই নয় ঐ গ্রামগুলোর বেলী, মুক্তা, মাসুদা, রেবেকা, বর্ষা, চাঁদনি, আশাসহ ৫ শতাধিক গৃহবধূ টুপি তৈর করে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মিটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপি সিলাই করে লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন বলে তারা জানান। বাগডোব গ্রামের স্কুলছাত্রী মেহেরোন ও আয়েশা জানান, তাদের দরিদ্র পিতার পক্ষে জামাকাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ যোগানো সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছে টুপি সেলাই করা শিখে এখন তারা বাড়তি আয় করে লেখাপড়ার খরচসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটাতে পারছেন। টুপির কারিগর মুক্তা জানান, মহাজনরা তাদের টুপি তৈরির সুতা, কাপড়সহ জাবতীয় কিছু সরবরাহ করেন। সেই কাপড় ও সুতা দিয়ে টুপি সিলাই হলে মহাজনরা এসে নিয়ে জায়। প্রতিটি টুপি সেলাইয়ের জন্য তাদের দেওয়া হয় ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি । তারা জানান, কাজ ও নকশর উপর টাকার পরিমান কমবেশি হয়। একজন নারী তার সংসারের কাজ কর্মের পরও অবসর সময়ে কাজ করে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫টি টুপি সিলাই করতে পারেন। টুপি ব্যবসায়ি জাহিদুল ইসলাম জানান,মহাদেবপুর উপজেলার ১০ হাজারেরও অধিক নারী টুপি তৈরি করেন। তাদের তৈরি টুপি সৌদি আরব, দুবাই ও কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ জানান, এ উপজেলার তৈরি টুপি দুবাই, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে মহাদেবপুর উপজেলা তৈরী টুপি ওমান এর জাতীয় টুপির চাহিদা মিটাচ্ছেন। এতে দেশের সুনাম অর্জনসহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে মহাদেবপুর উপজেলার টুপির কারিগররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এদের অচিরেই একটি সেমিনারের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

Monday, May 7, 2018

পোরশায় ২ চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল by ডিএম রাশেদ পোরশা

নওগাঁর পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে মাত্র ২ জন চিকিৎসক চরম হিমশিম খাচ্ছেন। অপরদিকে, ৫ বছর ধরে শুধু কাগজে-কলমেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসাবে চলছে। প্রায় ৮ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এবং ৫ বছর আগে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করার জন্য তার উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ৫ বছর পরেও এখনো তার কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটি শুধুমাত্র কাগজ কলমে ৫০ শয্যা হিসেবে চলছে। হাসপাতালটিতে ৩১ শয্যার জনবলই পূরণ নেই। তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
জানা যায়, পোরশা উপজেলার নিতপুর সদরে ১৯৭০ সালে নির্মিত ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবল কখনোই পূরণ ছিল না। এমনকি হাসপাতালটি যখন ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় তখনও কোনো পদই পূরণ ছিল না। এ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং ২০১০ সালে ৫০ শয্যার সকল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। অবকাঠামো তৈরি করার ৩ বছর পর ২০১৩ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। ৫০ শয্যা হাসপাতাল উদ্বোধনের ৫ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার কোনো যন্ত্রপাতি এবং লোকবল। বর্তমানে হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি বিভিন্ন পদের বিপরীতে মাত্র ১৮ জন লোকবল রয়েছে, যা উপজেলার প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি পদে মাত্র ১৮টি পদ পূরণ রয়েছে। বাকি ৩৮টি পদ অনেক দিন থেকে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। পদগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিকেল অফিসার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে যারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। গুরুত্বপূণ্য এ পদে সর্বমোট ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারী ৩ জনের পদ থাকলেও এ পদে একজনও নেই। এমএলএসএস পদে ৬ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এ পদে মাত্র ১ জন রয়েছেন। আয়া ২টি পদে একজনও নেই। পরিসংখ্যানবিদ না থাকায় একজন সিএইচসিপি দিয়ে কাজটি পার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহকারী ২০ জনের স্থানে রয়েছে মাত্র ১২ জন। ইপিআই টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর এ পদটিও খালি অবস্থায় রয়েছে। জরুরি বিভাগে ১টি পদ খালি রয়েছে। সুইপার পদে ৫ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ জন। যে কারণে উপজেলার ২ লাখ জনসাধারণকে আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।  এ ব্যাপারে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইবনে ইমাম জানান, ৩১ থেকে ৫০ শর্যায় উন্নীত হলেও এর কার্যক্রম চালু না হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্রায় ২ লাখ জনগণের চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কম সংখ্যক জনবল দিয়ে এতগুলো মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চত করা অনেক কঠিন কাজ। তিনি আরও জানান, ৫০ শয্যা শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলই নেই। তাই এখানে জরুরিভাবে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি এ ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানান।

Monday, April 16, 2018

ভুল অস্ত্রোপচারে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক ভাংচুর

নওগাঁ শহরে বেসরকারি ক্লিনিক শাহ নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনে ৮ বছরের শিশু আল এখলাস মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। আজ রোববার সকালে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের স্টার্ফ কোয়াটারের সামনের ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আল এখলাস জেলার আত্রাই উপজেলার দিঘা উত্তরপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল শনিবার বিকেল ২টার দিকে আল এখলাসকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে শিশুটির টনসিল অপারেশন করেন নাক, গান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাফুদৌল্লা। আধা ঘন্টা পর অস্ত্রোপচার শেষে রোগীকে বেডে রাখা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারও রোগীকে অস্ত্রোপচার রুমে নেয়া হয়। রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে রাত ১২টার দিকে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। এরপর রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর ক্লিনিকের সব দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।
নিহতের বাবা শুকুর আলী জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখলাসকে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদের জানান সে ৬/৭ ঘন্টা আগে মারা গেছে। এরপর আজ সকালে এখলাসকে নওগাঁয় ওই ক্লিনিকে নিয়ে এলে রোগীর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ভীড় জমায়। এ সময় নিহতের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অপারেশন থিয়েটারে ভুল অপারেশনে শিশু আল এখলাস মারা গেছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সুমিত কুমার জানান, এ ব্যাপারে এখলাসের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক,ডাক্তার, নার্সকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছেও বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Sunday, March 25, 2018

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান: ৫ জন নারী জয়িতা নির্বাচিত

অভাব অনটন ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জীবন যুদ্ধে সফলতা অর্জন করে জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পরিশ্রমী ৫জন নারী। জয়িতা খেতাব অর্জনকারী ও জীবন যুদ্ধে সফলতা অর্জনকারী নারীরা হচ্ছেন, উপজেলার ভিওইল গ্রামের হত দরিদ্র বর্গাচাষী রেজাউল ইসলামের স্ত্রী রিনা বেগম, তিলনা বারদোয়াস গ্রামের শামসুল আলমের কন্যা ছানোয়ারা বেগম, দিঘীর হাট মীরাপাড়ার আব্দুল ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী হাসিনা বানু, বাসুল ডাঙ্গা গ্রামের দরিদ্র ভ্যান চালক সাদেকুল ইসলামের স্ত্রী মমেজান বেগম এবং গোয়ালা শিয়ালমারী গ্রামের হত দরিদ্র ইউসুফ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম।
রিনা বেগম: সংসারে সব সময় অভাব লেগেই থাকত স্বামী একাই যে আয় করতেন তা দিয়ে তাদের সংসারের অভাব ঘুচত না। সকল প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করার জন্য সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক হতে ১০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করে হাঁস মুরগী পালনের কাজ শুরু করেন। এতে তার জীবনে কিছুটা সফলতা আসলে তিনি হাঁস মুরগী পালনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেখানেও তিনি সফলতা অর্জন করে সংসারে বেশ স্বচ্ছলতা লাভ করেন। বর্তমানে সংসার পরিচালনা করেও তার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পুঁজি বা মুলধন রয়েছে। বর্তমানে রিনা বেগম এখন ওই গ্রামের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।
ছানোয়ারা বেগম: তার স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকার শিকার হন। অর্থাভাবে লেখাপড়া যখন বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ে তখন তার বিভিন্ন আতœীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিরা ছানোয়ারা বেগমকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। সংসারে পিতার অস্বচ্ছলতা তার লেখাপড়ার প্রধান অন্তরায় হলেও ছানোয়ারা কারো কথায় কোন কর্ণপাত ও বিবাহ না করে লেখাপড়া শেষ করেন এবং উপজেলার দোয়াশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন। এলাকায় এখন ছানোয়ারাকে অনেকেই অনুসরণ করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলেছেন।
হাসিনা বানু: দরিদ্র কৃষিজীবি পরিবার, আর্থিক অস্বচ্ছল পরিবারটির ঘরে রয়েছে ৩ ছেলে। কিন্তু যে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাদের লেখা পড়ার বিষয়টি যেন স্বপ্নের মত। তাই তার স্বামী ওয়াহেদ আলী সন্তানদের লেখাপড়া না শিখিয়ে তার সঙ্গে মানুষের ক্ষেত খামারে কাজের জন্য নিয়ে যেতেন। কিন্তু আতœপ্রতয়ী হাসিনা বানু স্বামীর সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করে চালিয়ে যান সন্তানদের লেখাপড়া। কষ্টের ফল স্বরূপ ১ম ও ৩য় ছেলেদেরকে স্নাতকোত্তর ও ২য় ছেলেকে ডিগ্রী পাশ করান। বর্তমানে ১ম ছেলে দিঘীর হাট ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক, ২য় ছেলে মিরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ৩য় ছেলে সাপাহার চৌধুরী চাঁন মোহাম্মাদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত আছেন। তাই রতœগর্ভা হাসিনা বানু নির্বাচিত হয়েছেন জয়িতা।
মমেজান বেগম: অতি দরিদ্র সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে উপজেলার তুলসিপাড়ার মমেজানের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগেই। স্বামী তাকে প্রায়শই যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। দরিদ্র পিতার পক্ষে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তার উপর নেমে আসে শারিরীক নির্যাতন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মানুষের বাড়িতে কাজ করা শুরু করেন এবং একটি গরু বর্গা নেন। বর্তমানে কঠোর পরিশ্রমী মমেজান কয়েকটি গরুর মালিক ও স্বামীকে একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান গাড়ী নিয়ে দিয়েছেন। সংসারের বেহাল দশা ফিরিয়ে অর্জন করেছেন জয়িতা পুরস্কার।
রোজিনা বেগম: দিন মজুর ইউসুফ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম দারিদ্রতার করণে সংসার জীবনে অর্থনৈতিক প্রতিকুলতা, একাধিক সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হন। সব বাধা পিছু ফেলে কয়েকটি গ্রামে গড়ে তোলেন বেশ কয়েকটি নারী সংগঠন। বর্তমানে তিনি বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়া এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করণেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। রোজিনা বেগম গ্রামে এখন এক রোল মডেলের নাম।

Wednesday, December 6, 2017

নওগাঁয় ৫০ টাকার জন্য ক্রেতার গায়ে আগুন

নওগাঁর পত্নীতলায় পাওনা ৫০ টাকা না দেয়ায় এক ক্রেতার গায়ে পেট্রুল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে চা দোকানি। মারাত্মক দগ্ধাবস্থায় ক্রেতা আলিমুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নজিপুর পৌর সদরের ঠুকনীপাড়া মোড়ে চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ক্রেতা আলিমুল উপজেলার কাশিপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। আর চা দোকানি তাপস কুমার মহন্ত উপজেলার একই গ্রামের তপন চন্দ্রের ছেলে। ঘটনার পর থেকে দোকানি তাপস কুমার পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আলিমুল দোকানে চা পান করতে গেলে দোকানি তাপস কুমার তাকে বকেয়া ৫০ টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেয়। দোকানিকে আলিমুল পরে টাকা পরিশোধ করবে জানিয়ে দোকান থেকে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। এতে দোকানি তাপস কুমার উত্তেজিত হয়ে পাশের দোকানে থাকা পেট্রুল নিয়ে এসে আলিমুলের গায়ে ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা দগ্ধ আলিমুলকে সঙ্গে সঙ্গে পাশের ডোবার পানিতে নামিয়ে দেয়। এতে আগুন নিভে গেলে তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পত্নীতলা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কোনো মামলা হয়নি। দোকানি তাপস কুমার পলাতক থাকায় তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

Sunday, December 3, 2017

নিখোঁজের দেড় মাস পর গৃহবধূর বস্তাবন্দি দেহাবশেষ উদ্ধার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে নিখোঁজের দেড় মাস পর আলেমা (২০) নামে এক গৃহবধূর বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গৃহবধূর স্বামী শাহরিয়ার শাওনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার উত্তরবাড়ী গ্রামের গোরস্তানের পাশ থেকে এ দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। আলেমা উত্তরবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। জানা যায়, উপজেলার উত্তরবাড়ী গ্রামের রাশেদ মেনন রুমির ছেলে শাহরিয়ার শাওন একই গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে আলেমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আড়াই মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে তারা বিয়ে করে। দীর্ঘ এক মাস ১২ দিন ঢাকায় অবস্থান করার পর শাহরিয়ার শাওন ও আলেমা  বাড়িতে ফিরে আসে। আলেমা তার স্বামী শাহরিয়ার শাওনের বাড়িতেই ছিল। এর কয়েক দিন পর হঠাৎ আলেমা নিখোঁজ হয়। আলেমাকে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজে পায়নি। অবশেষে নিহতের ভাই শরীফ শনিবার থানায় একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে নামে থানা পুলিশ।
উত্তরবাড়ী গ্রামের উত্তর দিকের গোরস্তানের পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দি  গলিত লাশের হাড়গোড় উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিয়ামতপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলেমার স্বামী শাহরিয়ার শাওনের সঙ্গে কথা বললে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সত্য বেরিয়ে আসে। তার দেয়া তথ্যে দেড় মাস আগে গুম হওয়া গৃহবধূর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলেমার স্বামী শাহরিয়ার শাওন, তার বাবা রাশেদ মেনন রুমি, মা সুলতানা রাজিয়া ও চাচা নাহিদ রেজা রুবেলকে আটক করা হয়েছে।

Thursday, June 8, 2017

নওগাঁয় পুলিশের গুলিতে দুই ‘ডাকাত’ নিহত

নওগাঁর মান্দায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের গুলিতে দুই ‘ডাকাত’ নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত আরও দুই ‘ডাকাত’কে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার আমজাদের ছেলে মোজাম্মেল হক (৪০) এবং রাজশাহী জেলার সিনিন্দা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সুজন (৩৫)। আহতদের মধ্যে ইমরান হোসেনের বাড়ি নাচোল এবং সোহেলের বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে।   থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারে এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে টের পেয়ে ‘ডাকাত’ সদস্যরা একটি ট্রাকে ওঠে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ট্রাকটিকে লক্ষ্য করে ১৫ রাউন্ড গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আহত আর দুইজনকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুব আলম দুই নিহতের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Wednesday, May 31, 2017

ইফতার নিয়ে মারামারি, কনস্টেবল নিহত

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজী পুলিশ ফাঁড়িতে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। তার নাম কনস্টেবল আবু হেলাল (৫৭)। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য নাইমুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। আবু হেলালের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার মহেষপুরের উল্লাপাড়ায়। গ্রেফতার নাইমুলের বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার তেল্লাবাড়ি গ্রামে। জানতে চাইলে মহাদেবপুর-বদলগাছী থানা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পুলিশ সদস্যই বয়স্ক। ইফতারের সময় খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ঝগড়ার সময় মাথায় আঘাত পাওয়া আহত পুলিশ সদস্য আবু হেলালকে মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক হত্যার কারণ হিসেবে একই রকম বক্তব্য দেন। বলেন, ইফতারের সময় খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় পুলিশ সদস্য নাইমুল ধাক্কা মারলে আবু হেলাল দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন এবং এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। পুলিশ সদস্য নাইমুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলে কাওছার হোসেন পলাশ বাদী হয়ে মঙ্গলবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Sunday, May 21, 2017

রাণীনগরে লিচু বিক্রয়ের ধুম

নওগাঁর রাণীনগরে বাজারে এসেছে সুস্বাদু রসালো মৌসুমি ফল লিচু। পুরোদমে আমদানী না হলেও বাজারের মোড়ে মোড়ে বাঁশের তৈরি খাছি ভর্তি পাকা লিচু বিক্রয়ের ধুম পড়েছে। এবারের আবহাওয়া লিচু চাষের পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও নির্ধারিত সময়ে লিচু পাকাই বাজারে আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা লিচুর ঝোপা হাতে নিয়ে নানান সুরের হাকডাক দিয়ে রসালো এই ফল বিক্রয় করছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য কেউ কেউ আবার প্রতি শ’ লিচুতে কিছুটা বেশি দিয়ে একই দামে বিক্রয় করছে। লিচু ফলটি কয়েকটি জাতের হওয়ায় ইতিমধ্যে নাম ও শ্রেণী ভেদে দেশী ছোট জাতের কথিত মাদ্রাজী লিচু গুলো বিশেষ করে রাণীনগর সদরের বাজার গুলোতে বেশি আসায় বিক্রয়ও হচ্ছে পুরোদমে। তবে বোম্বাই, এলাচী, চায়না সহ বিভিন্ন জাতের লিচু বাজারে আসতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে এমনটায় বলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, উপজেলার সদরের ষ্টেশন রোড, বাসষ্ট্যান্ড, খাঁনপুকুর,আবাদপুকুর, কুজাইল, বেতগাড়ী সহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা নাটোর জেলার মালঞ্চি, রাজশাহীর বাঘা ও দিনাজপুর জেলার নানান এলাকা থেকে মাদ্রাজী জাতের লিচু পাইকারি নিয়ে এসে রাণীনগরে বেচা-কেনা করছি। দেশের অন্যান্য এলাকার লিচুর চাইতে এই লিচু গুলোর চাহিদা বর্তমানে বেশি।
দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা মৌসুমি ফল হিসেবে রসালো লিচু বেশি বেশি করে কিনছে। এখানে মাদ্রাজী জাতের লিচু গুলো প্রতি শ’ দুইশ থেকে মান ভেদে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে। তবে বোম্বাই সহ অন্য জাতের ভাল লিচু বাজারে আসলে দাম চরা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রতি বছরের তুলনায় এবছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচুর দাম একটু বেশি হতে পাড়ে। ক্রেতারা জানান, বর্তমান বাজারের লিচু আকারে মাঝারি সাইজের হলেও সুস্বাদু হওয়ার কারণে আমরা কিছুটা বেশিই কিনছি। তবে দাম একটু তুলনা মূলক বেশি হলেও স্বাদ ভাল হওয়ায় খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে। চলতি বোরো ধানের কৃষকরা ধানের ভাল দাম পাওয়ায় মৌসুমি ফল-মূলের প্রতি তাদের কেনার আগ্রহটা বেশি। লিচু ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় চলতি বছরে রসালো মৌসুমি ফল লিচু বাজারে একটু আগেই পেয়েছি। বিশেষ করে নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদীতে পুরোদমে লিচু নামানো শুরু হওয়ায় আমরা ওই এলাকা থেকে পাইকারি নিয়ে রাণীনগর এলাকায় বিক্রয় করছি। চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের ব্যবসা এবার ভাল হচ্ছে। তবে সপ্তাহ খানিক পরে জামাই-মেয়ের আনা-নেওয়ার ধুম পড়লে আমাদের ব্যবসা আরো ভাল হবে।

Wednesday, May 3, 2017

আত্রাইয়ে গভীর নলকুপের গর্তে পড়ে শিশু নিহত

নওগাঁর আত্রাইয়ে তিলাবাদুরি জামগ্রাম গ্রামের একটি মাঠে শ্যালো মেশিনের নলকুপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে আট বছরের শিশু রাকিব আলীর মৃত্যু হয়েছে। রাকিব আলী ওই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তিন ঘন্টা অভিযান চালিয়ে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক তার ছেলে রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে ধান কাটতে যায়। বাবা ধান কাটার কাজ করছিলেন।
এসময় ছেলে রাকিব খেলা করছিল। একপর্যায়ে বাবা শিশু রাকিবকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকেন। পরে শ্যালো মেশিনের নলকুপের পরিত্যক্ত গর্তের কথা মনে পড়ে তার। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে শিশু সন্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন তিনি। এদিকে খবর পেয়ে আত্রাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তিন ঘন্টার অভিযান চালিয়ে শিশু রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ব্যাপারে কোনো মালা হয়নি।

Monday, April 24, 2017

মান্দায় গ্রাহকের ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা ঘটনায় মামলা

নওগাঁর মান্দায় বেসরকারি সংস্থা পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ চৌবাড়িয়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন গ্রাহকদের আমানত ও মঞ্জুরীকৃত প্রায় ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমানের সহযোগিতায় তিনি আমানত ও মঞ্জুরীকৃত ঋণের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে গা ঢাকা দেন। ঘটনায় সংস্থার পক্ষে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মান্দা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঋণ নেয়ার জন্য প্রত্যেকের নিকট থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাংক একাউন্টের স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক,তিনশত টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও দুইকপি ছবি। ঋণের টাকা হাতে না পেলেও এনজিওর ওই শাখা কার্যালয়ে তাদের জমা রয়েছে এসব ডকুমেন্ট। এ অবস্থায় ভবিষৎ ঋণ পরিশোধের শঙ্কায় তারা দিশোহারা হয়ে পড়েছেন। চরম ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে তাদের মাঝে। সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমান গ্রাহকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু অনিয়মের কারণে শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। গ্রাহকদের ঋণের টাকা বিষয়ে সমস্যা সমাধান করার চেষ্ঠা চলছে। প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, এ শাখা ব্যবস্থাপককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার জন্য তাদেও নিকট থেকে ফাঁকা চেক নেয়ার কোনো বিধান নেই। শাখা ব্যবস্থাপক আইনত দোষনীয় কাজ করে ফেলেছেন। সংস্থার গ্রাহক উপজেলার বাঁকাপুর গ্রামের ইনতাজ আলী জানান, চৌবাড়িয়া বাজারে তার পেইন্টিং ব্যবসা রয়েছে। সংস্থা থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় ও দুইটি ফাঁকা চেক জমা দিয়েছেন। তবে শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন সঞ্চয় টাকা জমার কোন রশিদ দেননি। মঞ্জুরীকৃত ঋণের টাকা উত্তোলনের জন্য চেক না দিয়ে নগদ টাকা দেয়া হবে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টাকা না দিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
মাদারীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ৫ লাখের জন্য ৪০ হাজার,বাঁকাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ৫ লাখের জন্য ৫০ হাজার, আইওরপাড়া গ্রামের চয়ন উদ্দিন মন্ডল দেড় লাখের জন্য ১৫ হাজার, হুসেনপুর গ্রামের মালেকা বিবি ৩ লাখের জন্য ৩০ হাজার টাকা, একই গ্রামের জসিম উদ্দিন এক লাখ টাকার জন্য ১০ হাজার সহ ৫০ জনেরও বেশি গ্রাহকের নিকট একইভাবে সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন ও তাদের নামে ঋণ মঞ্জুর করেন শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে মঞ্জুরীকৃত ঋণের কোন টাকা আজ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। গ্রাহকরা আরো জানান, ঋণ মঞ্জুরের আগে এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমান প্রত্যেক গ্রাহকের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তার উপস্থিতিতে গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপকের হাতে সঞ্চয়ের টাকা প্রদান করেন। কিন্তু তাদের দেয়া জমা টাকারও কোনো ডকুমেন্ট দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন গ্রাহকরা। টাকা গ্রহণ না করেও এখন তাদের মাথার ওপর নাকি ঝুলছে ঋণের বোঝা। তারা আরো দাবি করেন, যেসব গ্রাহক এ সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন কিস্তি পরিশোধের জন্য তাদের পাশ বই পর্যন্ত দেয়া হয়নি। ঋণের কিস্তি পরিশোধের টাকা আদৌ তাদের নামে জমা হয়েছে কিনা এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। পাশ বই নেয়ার জন্য শাখা ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দিলেও বিভিন্ন কারণে তা পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক সুজন খান জানান, পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ চৌবাড়িয়া শাখায় গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারে ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন ভারপপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। তদন্তে আত্মসাতকৃত টাকার পরিমান আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবী করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার শামিল। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাণীনগরে পাকা বোরো ধান নিয়ে দিশেহারা কৃষক

নওগাঁর রাণীনগরে গত কয়েকদিন ধরে বৈরি আবহাওয়া আর ঝড় বৃষ্টির কারনে মাঠের উঠতি পাকা ধান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষকরা । একদিকে শিলাবৃষ্টির আতংক অন্য দিকে ধান কাটা শ্রমিক সংকট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন কৃষকরা । দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠের পাকা বোরো ধান শুয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয় হতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা। রাণীনগর উপজেলা কুষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৬ শ’ ১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ধান রোপনের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় তেমন কোন রোগ বালায় দেখা যায়নি। এছাড়া কৃষি অফিসের তৎপরতা আর কৃষকের সচেতনতার কারনে ধান খুব ভাল হয়েছিল।
কিস্তু চলতি সপ্তাহে ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জাতের ধানের সাময়িক ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার কালীগ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম কবিরাজ,বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের মমিন,দামকৃড়ি গ্রামের নাজমুল হোসেন জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ খুব ভাল হয়েছিল কিন্তু গত কয়েক দিনের ঝড় বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমি থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পাশা-পাশি ধান পানিতে তলে যাওয়ায় ফলনে অনেক কম হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ আফিসার সবুজ কুমার সাহা জানান, ঝড় বৃষ্টিতে বেশকিছু পাকা-অধাপাকা ধান শুয়ে পড়েছে। দুই তিন দিন রোদ হলে ধানের তেমন কোন ক্ষতির সম্ভবনা নেই। ইতিমধ্যেই বেশকিছু জায়গায় কৃষকরা পাকা ধান কাটা শুরু করেছে।