Sunday, June 15, 2025
আমার পড়াশোনার জন্য বাবা জমি বিক্রি করেছেন, হালের গরু বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন, তবু আমাকে হারতে দেননি by নাদিম মাহমুদ
বাবার বয়স যখন ১০ কি ১১ বছর, তখন তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। এরপর তাঁর কাঁধে চাপে সংসারের ভার। তাই স্কুলের আঙিনায় আর কোনো দিন পা মারাতে পারেননি। তবে সব সময় মনে হতো আমার পড়াশোনা না জানা বাবা চিন্তা ও চেতনায় কোনো শিক্ষিত মানুষের চেয়ে কম নন।
বাবাকে বুঝেছি বলেই তাঁর কথা কখনোই ফেলতাম না। একদিন এসএসসি পাস করলাম। স্কুলের সর্বোচ্চ ফলাফল আমার ঝুড়িতে থাকলেও কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে সংকট দেখা দিল। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ভর্তির টাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে যে খরচ হবে তার সংকুলান করা কঠিন। গ্রামের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবাকে বুঝিয়েছিলেন, চাকরির পাশাপাশি জমিজমা থাকার পরও তাঁরা সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমার বাবার না আছে চাকরি, না তেমন জমিজমা। তাহলে কীভাবে তিনি আমাকে কলেজে পড়াবেন। এর চেয়ে ভালো হয়, রাজশাহীতে আমাকে প্যারামেডিকসে ভর্তি করালে দুই-তিন বছরে পাস করে গ্রামে ওষুধের দোকান দিয়ে দিব্যি চলতে পারব।
আমরা তিন ভাই-বোন কাছাকাছি বয়সী। সবাইকে পড়াশোনা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন মা-বাবা। অনেকের পরামর্শে একদিন আমাকে রাজশাহী শহরে নিয়ে গেলেন। বাবা–ছেলে সেবারই প্রথম রাজশাহী শহর দেখলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া গ্রামের একজনের ছাত্রাবাসে গিয়ে উঠলাম। কথা ছিল পরের দিন কলেজ থেকে ফরম তুলে ভর্তির প্রস্তুতি নেব। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় রাজশাহী প্যারামেডিকেল কলেজ ঘুরে আসার পর কিছুতেই আমার মন সায় দিল না। আমি কিছুটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবাকে বললাম, ‘আমি এখানে ভর্তি হব না, সাধারণ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হব।’
বাবার সীমাবদ্ধতা আমি জানতাম, কিন্তু পড়াশোনার খরচ জোগানো যে কঠিন, তা বাবা বুঝতে দিতে চাইতেন না। আমার শক্ত অবস্থান দেখে পরদিন বাসায় ফেরার পথে বাবা আমাকে একটি গল্প শোনালেন, ‘কেউ যদি ঢাকায় যেতে চায়, তাহলে তাকে হয় বাসস্ট্যান্ড অথবা ট্রেনস্টেশনে যেতে হবে। এখন তুমি যদি সেখানে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে কীভাবে যাত্রা করবে?’
রাজশাহী থেকে নওগাঁয় পৌঁছার পর তিনি সাহস করে পকেট থেকে ২০ টাকা বের করে দিয়ে বললেন, ‘যাও কলেজের ভর্তি ফরম কিনি নিয়ে আসো। তোমার পড়াশোনার জন্য বসতভিটা বিক্রি করতে আমার সমস্যা হবে না।’
এই যে সাহসটুকু নিয়ে বাবা আমাকে এগিয়ে দিয়েছেন, সেই এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারেনি। আমার পড়াশোনার জন্য বাবা খেতের জমি বিক্রি করেছেন, গাছ বিক্রি করেছেন, হালের গরু বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন, তবু আমাকে হারতে দেননি। আর হারতে দেননি বলেই কৃষক বাবার সন্তান পরিচয় দিতে সব সময় গর্ববোধ করেছি। সেই গর্ব নিয়েই এইচএসসি পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। অক্ষরজ্ঞানহীন বাবাটাকে জীবনে না পেলে হয়তো সায়েন্টিস্টই হতে পারতাম না!
বাবার আদর্শে আমার ছোট ভাই-বোনও বড় হয়েছে। আমার মতো ভাইটাও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছে আর বোনটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। আমাদের জীবনের যাবতীয় অর্জনে মিশে আছে আমার কৃষক বাবার আদর্শ।
* নাদিম মাহমুদ, গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
| বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে ছেলে নাদিম মাহমুদ। ছবি: লেখকের সৌজন্যে |
Monday, October 21, 2024
১১ সন্তান থাকলেও ভাত জোটে না শতবর্ষী বাবার
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।
প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাত সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই তার। যৌবনে যিনি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করেছেন, করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা। তারাও আজ তার পাশে নেই। নেই খাবারের কিংবা অসুখের চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বর্তমানে ছোট ছেলে আয়নাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরিবারের কেউই খবর রাখেন না শতবর্ষী এই বাবার।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তফের আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার বয়স ১০৮ থেকে ১১০ বছরের মধ্যে হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।
তাফের আলী জানান, সন্তানরা তাকে দেখেন না। নিজেরা ভালো বাড়িতে থাকেন আর তাকে রেখেছেন ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে। ভাত খেতে দেয় না। অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে চেয়ে ভাত খান। এ ছাড়া ওষুধের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তাকে। ছেলে আয়নাল ও তার স্ত্রী তাকে খাবার পর্যন্ত দেয় না। এসব সহ্য করতে না পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আবার সেই সন্তানের চাপেই আপস করতে আদালতে গিয়েছেন তিনি। তারপরও সেই সন্তানরা তাকে খেতে পর্যন্ত ডাকেননি।
ছেলে আয়নালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় বাজার করে বাসায় নিয়ে গেলে রান্না করতে দেরি হয়। তখন রাগ করে খবার খেতে চায় না। এ ছাড়াও সকালের খবার খেতে বললে বলে, বাজার থেকে খেয়ে আসছি। এসব প্রায়ই ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করে থাকে এবং এর আগে জেলও খেটেছি। তবে আমাদের ভুল হয়েছে সঠিক সময়ে খবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। আমারও তো দুটো ছেলেমেয়ে আছে। তবে যেটুকু সামর্থ্য রয়েছে চেষ্টা করি বাবাকে ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য।
আয়নালের স্ত্রীর জানান, দেখাশোনার কাজ তিনি ও তার স্বামী করেন। মাঝে মাঝে ঠুনকো বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছাড়া বড় কোনো ঘটনাই ঘটে না। শ্বশুরের প্রতি যত্নের কোনো কমতি নেই।
এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী মো. খোকা বলেন, তাফের আলীর ৯ জন ছেলে আটজন বাইরে থাকেন বাকি একজন ছেলে মো. আয়নাল তিনি তার বাবার সঙ্গে আলাদা থাকেন। অনেক সময় ছেলে তার বাবাকে খাবার দেয় কখনো দেয় না। তবে মামলা হয়েছে কি না তা জানি না। যেহেতু তার বাবার অনেক বয়স হয়েছে সেক্ষেত্রে ভরণপোষণ দেওয়া উচিত বলে মনে করছি।
তাফের আলীর আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে ছেলের নামে আরেকটি মামলা ছিল। এরপরও গত ১৮ আগস্ট তাফের আলী তার ছেলে আইনাল হোসেনের বিরুদ্ধে সন্তানরা ভাত না দেওয়া ও মারপিটসহ অন্যান্য অভিযোগে এ বছরের ২০ আগস্ট নওগাঁর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত তাফের আলী কষ্টের কথা শুনে ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এটা অমানবিক একটা মামলা। এতগুলো সন্তান থাকার পরও বৃদ্ধ বাবাকে ভাত দেয় না। এটা অমানবিকতার পরিচয়। তবে মামলাটি এখন পেন্ডিং রয়েছে।
![]() |
| ১১ সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। ছবি : কালবেলা |
Friday, November 20, 2020
বাংলাদেশের গর্ব পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর এবং অপর শহর কোটিবর্ষ’র মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার। এর ধ্বংসাবশেষ বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়রা এটিকে ‘গোপাল চিতার পাহাড়’ আখ্যায়িত করতো। সেই থেকে এর নাম হয়েছে পাহাড়পুর, যদিও এর প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার।

বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। এর চারদিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেয়াল বরাবর অভ্যন্তর ভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি করে কক্ষ। সবশেষ যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের ওপর বিভিন্ন আকারের বেদী নির্মাণ করা হয়। কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। এগুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত, কিন্তু বাইরের দিকে সরু হয়ে গেছে।

বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটক। প্রধান ফটক ও বিহারের উত্তর-পূর্ব কোণের মাঝামাঝি আরেকটি ছোট প্রবেশপথ ছিল। উত্তর বাহুর প্রবেশপথের সামনে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এই পুকুর খনন করা হয়। পরে এটি ভরাট করে দেওয়া হয়।
Wednesday, October 2, 2019
নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

তিন একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্নও দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।
কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। তাইতো তার নিজ হাতে তিনি শুরু করেন মাল্টা চাষ।
এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। সে সময় ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।
আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন রিনা।
তিনি জানান, মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবছর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করারও আশা করছেন তিনি।
ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
এ কারণে এলাকার চাষিদেরকে লাভজনক ফল চাষে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।
এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাগন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুণ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলেও আশা করছেন এই কৃষিবিদ।- ইউএনবি
Tuesday, September 17, 2019
পাটে লাভ নেই, সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৫ বেল পাট।
পাট চাষি আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা পাটের আবাদ করতে হাল চাষ ৬শ’ টাকা, বীজ ২শ’ টাকা; সার-ওষুধ-নিড়ানি-সেচ ৪ হাজার টাকা, শ্রমিকের খাবার ২ হাজার টাকা, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘাপ্রতি পাট উৎপাদন হয়ে থাকে ১০-১৪ মণ, যা বিক্রি করে খরচ ওঠে না। তাই আর পাট আবাদ করি না। পাটের জমিতে এখন সবজি লাগাই। লাভও ভালো পাচ্ছি।’
পত্নীতলা গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘পাটের আবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা জাগ দেওয়ার জায়গা না থাকা এবং পানি। পাট কাটার পর ভেজানোর জন্য যে সময় পানির দরকার, তা পাওয়া যায় না। এ সমস্যার কারণে আর আবাদ করিনি। সে জমিতে এখন সবজি চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছি। পাটের মতো ঝামেলাও পোহাতে হয় না।’
মহাদেবপুরের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই বিঘাতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আহসান শহীদ সরকার বলেন, ‘এক সময় প্রচুর পাটের আবাদ করা হতো। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর কমছে পাটের আবাদ। পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকরা সবজির আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।’
Friday, June 28, 2019
৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে খাম্বা, ব্রীজ গেল কই? by কাজী আনিছুর রহমান

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কাশিমপুর-গোনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে রতনডারি খাল। ১৯১৪ সালে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী রাণীনগরের উদ্যোগে কুজাইল স্লুইচ গেট থেকে হাতিরপুল হয়ে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খাল খনন করা হয়। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি থৈ থৈ করে।
এসময় পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় ওই এলাকার দুইটি ইউনিয়নের সর্বরামপুর, কাশিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, এনায়েতপুর, মঙ্গলপাড়া, ভবানীপুর, পীরেরা, বয়না, বেতগাড়ী, দূর্গাপুর, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বসবাসরত সাধারণ মানুষ, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের রতনডারি খাল পাড় হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজভাবে পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
তাই এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল, একটি ব্রীজ নির্মাণ করা। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এবং জন দুর্ভোগ লাঘব করতে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে রতনডারি খালের উপর কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৈতা পাড়া নামকস্থানে ফুট ব্রীজ নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে একটি দরপত্র আহবান করা হয়।
এতে নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ মহল্লার মো: গোলাম কিবরিয়া নামের ঠিকাদার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। এর পর শুষ্ক মৌসুমে ওই খালের দুই পাড়ে খাম্বা নির্মাণ কাজ শুরু হলে শুধুমাত্র খালের মধ্যে খাম্বা নির্মাণ করার পর রহস্যজনক কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই ফুট ব্রীজটি নিমার্ণে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ওই এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের জনসাধারণদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আসলাম আলী, ছোলাইমান, আব্দুর রহিমসহ শ্রমীক-মজুর, ব্যবসায়ীরা জানান, তিন বছর ধরে চোখের সামনে আমরা শুধু খাম্বাই দেখছি। কিন্তু নির্মাণ কাজের কোন নমুনা দেখছিনা। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মকলেছুর রহমান বাবু জানান, নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আমি বারবার সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরণা দিয়েছি। কিন্তু অদ্যবদি ফুট ব্রীজের বাকি কাজগুলো শুরু না হওয়ায় আংশিক অবকাঠামোও অপচয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ওই সময় যে পরিমাণ ব্যয় ধরে কাজ শুরু করা হয়েছিল তা পাইলিং-টাওয়ার নির্মাণ করতেই টাকা শেষ হয়ে গেছে। ওই ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ করতে এখনো প্রায় ২৫ লাখ টাকা লাগবে। আগামী অর্থ বছরে টাকা বরাদ্দ পেলে কাজটি শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
Monday, January 7, 2019
রাণীনগরে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম

সকাল থেকেই এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে উঠানে চলে এই বড়ি তৈরির কাজ। বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে ছোট-বড় ও বয়স্ক লোক সবাই মিলে তৈরি করছে সুস্বাদু ও অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই কুমড়া বড়ি। এ হলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামের বর্ণনা।
এই গ্রামে শতাধিক বছর পূর্ব থেকেই বিখ্যাত এই বড়ি তৈরি করা হয়। তাই আজো এখানকার কারিগররা শত বাধা উপেক্ষা করে পৈতৃক এই পেশাটিকে ধরে রেখেছে। সারা বছর টুকটাক তৈরি হলেও শীত মৌসুমে এই বড়ি তৈরির ধূম পড়ে যায়। এই বড়ি মূলত শীতকালের একটি আকর্ষণীয় খাবার পণ্য। বর্তমানে এই গ্রামের সকলেই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে এই বড়ির চাহিদা বেশি থাকায় এখন এই বড়ি তৈরির পল্লীতে বড়ি তৈরি নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অর্ধেক রাত থেকে শুরু হয় এই বিখ্যাত বড়ি তৈরির কাজ। আর এই গ্রাম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নিজস্ব একটি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার হলো এই মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি। এটি শীত মৌসুমের একটি বিশেষ খাবার। শীতের ৬ মাসই মূলত এই বড়িটি তৈরি করা হয়ে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বড়িতে রয়েছে অধিক মানের পুষ্টি। বড়ি তৈরির সব উপকরণই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পণ্য। তাই এই বড়িতে ভেজাল বলে কিছুই নেই। শীত মৌসুমে যেকোনো তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি যোগ করলে আলাদা একটি স্বাদ। উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ি বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করে আসছে এখানকার কারিগররা। এই গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবারের মানুষ পৈতৃক ভাবেই তৈরি করে আসছে এই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। এই কয়টি বাড়ির কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগররাই আজো ধরে রেখেছে ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ির শিল্পটি। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে।
কারিগররা জানিয়েছেন, প্রথমে মাষকালাই পানিতে ভিজিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে মেশিনে ভেঙ্গে গুঁড়া করে আবার তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রুটি তৈরির আটার মতো অবস্থায় পরিণত করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চাল কুমড়া পিষিয়ে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়। এরপর তা ২-৩ দিন রোদে ভালো ভাবে শুকানোর পর বিক্রয় করা হয়। বড়িকে শক্তিশালী করার জন্য এর সঙ্গে খুব কম পরিমাণে আলো চালের আটা মিশানো হয়। প্রতি কেজি মাষকলাই থেকে প্রায় ৬শ’ গ্রাম কুমড়া বড়ি তৈরি হয়। যেকোনো রান্না করা তরকারির সঙ্গে এই কুমড়া বড়ি রান্না করা যায়। আর রান্নার পর তরকারিতে এই বড়ি যোগ করে অন্য রকমের এক স্বাদ হয়।
খট্টেশ্বর হাটখোলাপাড়া গ্রামের শ্রী. বলায় চন্দ্র জানান, ‘এই কুমড়া বড়ি তৈরির পেশাটি আমাদের বাপ-দাদার। তাই আজো তা করে আসছি। এই বড়ি মূলত মাষকলাই, চাল কুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বড়ি ১৮০-২০০ টাকা (বড় আকারের) এবং ১৫০-১৬০ টাকা (ছোট আকারের) করে খুচরা-পাইকারি বিক্রয় করা হয়। নিজ এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কুমড়া বড়িগুলো সরবরাহ করা হয়। এই শীতকালই হচ্ছে এই কুমড়া বড়ির মৌসুম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে আমাদের কাছ থেকে এই বড়ি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া আমরা স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করি। তবে আমাদের লাভ খুব সিমিত।
একই গ্রামের বড়ি তৈরির কারিগর শ্রী মিঠন কুমার জানান, ‘আমরা নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ ঐতিহ্যপূর্ণ এই পৈতৃক পেশাটিকে আজো ধরে রেখেছি। আমরা বিভিন্ন এনজিও-সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে কোনোমতে এই শিল্পটাকে ধরে রেখেছি। যার কারণে আমাদের ইচ্ছে থাকলেও এই শিল্পটাকে প্রসারিত করতে পারছি না কারণ আমাদের পুঁজি কম। আমরা যদি কম সুদে ঋণ পেতাম তাহলে বড় ধরনের অর্থ খাটিয়ে এই শিল্পটাকে আরো অনেক বড় করতে পারতাম। আগের তুলনায় এখন বড়ি তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে। তবু শত কষ্টেও বাপ-দাদার এই পেশাটি আমরা ধরে রেখেছি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শ্রী রূপ কুমার জানান, এই উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলকায় এই গ্রামের তৈরি কুমড়া বড়ির সুনাম রয়েছে। অনেক দূর-দূরান্তের মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এসে এই গ্রামের কুমড়া বড়ি নিয়ে যায়। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিম্ন আয়ের মানুষরা সরকারি ভাবে কিংবা কোন সংস্থার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না। যদি এই মানুষরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা পেতো তাহলে এই শিল্পটি আরো প্রসারিত হতো। আরো অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। সরকার ইচ্ছে করলে এই সুস্বাদু বড়ি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। এই বড়ি যদি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় তাহলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা যেমন লাভবান হবে তেমনি সরকার রাজস্ব হিসাবে আয় করতে পারবে অনেক অর্থ। এটি বাস্তবায়ন করতে শুধুমাত্র সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ইচ্ছেশক্তিই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, রাণীনগর উপজেলার একমাত্র এই খট্টেশ্বর গ্রামটিতেই অনেক বছর যাবৎ বাণিজ্যিক ভাবে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সুস্বাদু মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে এই বড়ি তৈরি করা হয় না। তবে সরকারি ভাবে যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এই শিল্পটি আরো অধিক প্রসারিত হতো। তবে এখানকার কারিগররা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে আমরা তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
Sunday, June 3, 2018
পাখির শব্দে মুখরিত আলিদেওনা গ্রাম by এম. সাখাওয়াত হোসেন

Monday, May 28, 2018
মধ্যপ্রাচ্যে মহাদেবপুরের টুপি by এম সাখাওয়াত হোসেন

Monday, May 7, 2018
পোরশায় ২ চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল by ডিএম রাশেদ পোরশা

জানা যায়, পোরশা উপজেলার নিতপুর সদরে ১৯৭০ সালে নির্মিত ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবল কখনোই পূরণ ছিল না। এমনকি হাসপাতালটি যখন ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় তখনও কোনো পদই পূরণ ছিল না। এ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং ২০১০ সালে ৫০ শয্যার সকল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। অবকাঠামো তৈরি করার ৩ বছর পর ২০১৩ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। ৫০ শয্যা হাসপাতাল উদ্বোধনের ৫ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার কোনো যন্ত্রপাতি এবং লোকবল। বর্তমানে হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি বিভিন্ন পদের বিপরীতে মাত্র ১৮ জন লোকবল রয়েছে, যা উপজেলার প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি পদে মাত্র ১৮টি পদ পূরণ রয়েছে। বাকি ৩৮টি পদ অনেক দিন থেকে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। পদগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিকেল অফিসার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে যারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। গুরুত্বপূণ্য এ পদে সর্বমোট ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারী ৩ জনের পদ থাকলেও এ পদে একজনও নেই। এমএলএসএস পদে ৬ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এ পদে মাত্র ১ জন রয়েছেন। আয়া ২টি পদে একজনও নেই। পরিসংখ্যানবিদ না থাকায় একজন সিএইচসিপি দিয়ে কাজটি পার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহকারী ২০ জনের স্থানে রয়েছে মাত্র ১২ জন। ইপিআই টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর এ পদটিও খালি অবস্থায় রয়েছে। জরুরি বিভাগে ১টি পদ খালি রয়েছে। সুইপার পদে ৫ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ জন। যে কারণে উপজেলার ২ লাখ জনসাধারণকে আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। এ ব্যাপারে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইবনে ইমাম জানান, ৩১ থেকে ৫০ শর্যায় উন্নীত হলেও এর কার্যক্রম চালু না হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্রায় ২ লাখ জনগণের চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কম সংখ্যক জনবল দিয়ে এতগুলো মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চত করা অনেক কঠিন কাজ। তিনি আরও জানান, ৫০ শয্যা শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলই নেই। তাই এখানে জরুরিভাবে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি এ ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
Monday, April 16, 2018
ভুল অস্ত্রোপচারে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক ভাংচুর

নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল শনিবার বিকেল ২টার দিকে আল এখলাসকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে শিশুটির টনসিল অপারেশন করেন নাক, গান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাফুদৌল্লা। আধা ঘন্টা পর অস্ত্রোপচার শেষে রোগীকে বেডে রাখা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারও রোগীকে অস্ত্রোপচার রুমে নেয়া হয়। রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে রাত ১২টার দিকে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। এরপর রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর ক্লিনিকের সব দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।
নিহতের বাবা শুকুর আলী জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখলাসকে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদের জানান সে ৬/৭ ঘন্টা আগে মারা গেছে। এরপর আজ সকালে এখলাসকে নওগাঁয় ওই ক্লিনিকে নিয়ে এলে রোগীর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ভীড় জমায়। এ সময় নিহতের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অপারেশন থিয়েটারে ভুল অপারেশনে শিশু আল এখলাস মারা গেছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সুমিত কুমার জানান, এ ব্যাপারে এখলাসের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক,ডাক্তার, নার্সকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছেও বলে জানান এ কর্মকর্তা।
Sunday, March 25, 2018
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান: ৫ জন নারী জয়িতা নির্বাচিত

রিনা বেগম: সংসারে সব সময় অভাব লেগেই থাকত স্বামী একাই যে আয় করতেন তা দিয়ে তাদের সংসারের অভাব ঘুচত না। সকল প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করার জন্য সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক হতে ১০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করে হাঁস মুরগী পালনের কাজ শুরু করেন। এতে তার জীবনে কিছুটা সফলতা আসলে তিনি হাঁস মুরগী পালনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেখানেও তিনি সফলতা অর্জন করে সংসারে বেশ স্বচ্ছলতা লাভ করেন। বর্তমানে সংসার পরিচালনা করেও তার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পুঁজি বা মুলধন রয়েছে। বর্তমানে রিনা বেগম এখন ওই গ্রামের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।
ছানোয়ারা বেগম: তার স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকার শিকার হন। অর্থাভাবে লেখাপড়া যখন বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ে তখন তার বিভিন্ন আতœীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিরা ছানোয়ারা বেগমকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। সংসারে পিতার অস্বচ্ছলতা তার লেখাপড়ার প্রধান অন্তরায় হলেও ছানোয়ারা কারো কথায় কোন কর্ণপাত ও বিবাহ না করে লেখাপড়া শেষ করেন এবং উপজেলার দোয়াশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন। এলাকায় এখন ছানোয়ারাকে অনেকেই অনুসরণ করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলেছেন।
হাসিনা বানু: দরিদ্র কৃষিজীবি পরিবার, আর্থিক অস্বচ্ছল পরিবারটির ঘরে রয়েছে ৩ ছেলে। কিন্তু যে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাদের লেখা পড়ার বিষয়টি যেন স্বপ্নের মত। তাই তার স্বামী ওয়াহেদ আলী সন্তানদের লেখাপড়া না শিখিয়ে তার সঙ্গে মানুষের ক্ষেত খামারে কাজের জন্য নিয়ে যেতেন। কিন্তু আতœপ্রতয়ী হাসিনা বানু স্বামীর সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করে চালিয়ে যান সন্তানদের লেখাপড়া। কষ্টের ফল স্বরূপ ১ম ও ৩য় ছেলেদেরকে স্নাতকোত্তর ও ২য় ছেলেকে ডিগ্রী পাশ করান। বর্তমানে ১ম ছেলে দিঘীর হাট ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক, ২য় ছেলে মিরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ৩য় ছেলে সাপাহার চৌধুরী চাঁন মোহাম্মাদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত আছেন। তাই রতœগর্ভা হাসিনা বানু নির্বাচিত হয়েছেন জয়িতা।
মমেজান বেগম: অতি দরিদ্র সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে উপজেলার তুলসিপাড়ার মমেজানের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগেই। স্বামী তাকে প্রায়শই যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। দরিদ্র পিতার পক্ষে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তার উপর নেমে আসে শারিরীক নির্যাতন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মানুষের বাড়িতে কাজ করা শুরু করেন এবং একটি গরু বর্গা নেন। বর্তমানে কঠোর পরিশ্রমী মমেজান কয়েকটি গরুর মালিক ও স্বামীকে একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান গাড়ী নিয়ে দিয়েছেন। সংসারের বেহাল দশা ফিরিয়ে অর্জন করেছেন জয়িতা পুরস্কার।
রোজিনা বেগম: দিন মজুর ইউসুফ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম দারিদ্রতার করণে সংসার জীবনে অর্থনৈতিক প্রতিকুলতা, একাধিক সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হন। সব বাধা পিছু ফেলে কয়েকটি গ্রামে গড়ে তোলেন বেশ কয়েকটি নারী সংগঠন। বর্তমানে তিনি বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়া এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করণেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। রোজিনা বেগম গ্রামে এখন এক রোল মডেলের নাম।
Wednesday, December 6, 2017
নওগাঁয় ৫০ টাকার জন্য ক্রেতার গায়ে আগুন

Sunday, December 3, 2017
নিখোঁজের দেড় মাস পর গৃহবধূর বস্তাবন্দি দেহাবশেষ উদ্ধার

Thursday, June 8, 2017
নওগাঁয় পুলিশের গুলিতে দুই ‘ডাকাত’ নিহত

Wednesday, May 31, 2017
ইফতার নিয়ে মারামারি, কনস্টেবল নিহত

Sunday, May 21, 2017
রাণীনগরে লিচু বিক্রয়ের ধুম

Wednesday, May 3, 2017
আত্রাইয়ে গভীর নলকুপের গর্তে পড়ে শিশু নিহত

Monday, April 24, 2017
মান্দায় গ্রাহকের ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা ঘটনায় মামলা

রাণীনগরে পাকা বোরো ধান নিয়ে দিশেহারা কৃষক

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1997)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
