Saturday, December 6, 2014

‘পুলিশ পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশের পুলিশ পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যদি পুলিশ কমিশন গঠন করা না হয়, পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন করা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বিচার বিভাগ পৃথককরণের সাত বছর উপলক্ষে শনিবার এক মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন আকবর আলি খান। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ আলোচনার আয়োজন করে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।  মুক্ত আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।  আকবর আলি বলেন, “পুলিশের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তারা যত মামলায় অভিযোগপত্র দেয়, তার ২৩-২৪ শতাংশ দোষী সাব্যস্ত হয়। এ পরিসংখ্যানে মামলার এজাহার যুক্ত করা হয়নি। এজাহার হিসাব করলে দেখা যাবে, ১০ শতাংশ মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত হয় না। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশ দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ” তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনো বৃটিশ আইনিব্যবস্থা প্রচলিত, যা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। এই আইনিব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।”   আকবর আলি খান বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার। এ লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, দেওয়ানি কার্যবিধিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করতে হবে।”   তিনি বলেন, “আগে নিম্ন আদালতে জামিন না পেলে মানুষ উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন পেত। কিন্তু বর্তমানে নিম্ন ও উচ্চ আদালতের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।”   আকবর আলি খান বলেন, “একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে যদি ৫০ থেকে ১০০ বছর লেগে যায়, তাহলে এমন বিচার বিভাগ দিয়ে কি লাভ।” দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী বলেন, “বিচার বিভাগের কার্যক্রমের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ এখনো চলছে।” এ বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রশাসনের হাত যতদিন না সংকুচিত করা হবে, ততদিন পর্যন্ত বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে না।” বিচার বিভা্গকে কাঠামোগতভাবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।   সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ বিচার বিভাগের পৃথকীকরণকে কথিক পৃথকীকরণ উল্লেখ করে বলেন, “উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। অতীতে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা মানা হতো কিন্তু বর্তমানে তা চরম ভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।”   তিনি বলেন, “এই সরকারের আমলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের রিমান্ড দেয়া এবং জামিনের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ প্রভাব বিস্তার করছে।”   অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।   লিখিত বক্তব্য মিজানুর রহমান খান বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সাত বছর পূর্ণ হলেও মাসদার হোসেন মামলায় পৃথকীকরণের সুপারিশগুলো আজও বাস্তবায়িত হয়নি।   মিজানুর রহমান খান তার প্রবন্ধে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে ৯টি সুপারিশ করেন। এর মধ্যে মাসদার হোসেন মামলার রায় সংশোধনে উদ্যোগী হওয়া, সব অবস্থায় কোনো বিচারকের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তন করার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে হওয়া, বিচার বিভাগের তদারকির জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৃথক সচিবালয় চালু, মামলার জট নিরসনে উদ্যোগী হওয়া, হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগে জেলা জজদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিল সংশোধন তথা আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সচিবালয় থেকে সংসদে স্থানাস্তর করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।   টিভি টকশোর আলোচক ও সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড.এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী ও সাবেক বেশ কয়েকজন বিচারক।

‘সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় গুম-খুন বাড়ছে’

গুমের ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ ভূমিকা থাকলে গুম-খুনের ঘটনা ঘটত না। আর সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে  এসব কথা বলেন আলোচকরা। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর, বেসরকারি সংগঠন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস সামনে রেখে শনিবারের বিবিসি সংলাপ ছিল একটি বিশেষ পর্ব। এ পর্বে প্রথম প্রশ্ন ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো গুমের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। গুমের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে কি রাষ্ট্রের এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে? জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, “এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা আছে। কারণ যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা লক্ষ করা যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা তো আছেই। আমি এসব গুমের ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলব না, বলব মানবাধিকার হরণ।” গুমের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, “ঢালাওভাবে সবাই গুম হয়ে গেছে বলা যাবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সরকার কখনো গুরুত্ব দিচ্ছে, আবার কখনো দিচ্ছে না। আরো জোরালো অবস্থান নিতে হবে, কিন্তু সেটা হচ্ছে না।” মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর বলেন, “সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততা বা সাহায্য ছাড়া কোনো গুম-খুন হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে। সরকারের এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা গুম-খুন করছে।” তবে গুম-খুন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কথা মানতে চান না ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি বলেন, “গুম হচ্ছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সরকার নিষ্ক্রিয় এটা সঠিক বক্তব্য নয়।” এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার আগে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কখনো এভাবে বিচার হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রসঙ্গে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোনো তদন্তকারী দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা কেবল বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন সংকলন করে প্রকাশ করে। তারা যদি নিজেরা অনুসন্ধান করে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারত, তাহলে আরো ভালো হতো।” বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

র‌্যাবেরও নাম পরিবর্তন দরকার: শাহজাহান ওমর

বিডিআরের মতো র্যা বেরও নাম পরিবর্তন করা দরকার বলে মনে করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। তিনি বলেছেন, “সামরিক বাহিনীতে একটি নিয়ম আছে, যখন কোনো সংগঠনের বদনাম হয় তখন তার পুনর্গঠন দরকার হয়।” শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে  এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বেসরকারি সংগঠন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস সামনে রেখে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের এটি ছিল একটি বিশেষ পর্ব। এ পর্বে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, র্যা বের অনেক কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে এই বাহিনীর বিলুপ্তি দাবি করা হয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে। একটি বাহিনী ভেঙে দেয়ার দাবি কতটুকু যৌক্তিক বলে আপনারা মনে করেন? জবাবে মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর বলেন, “র্যা ব অনেক ভালো কাজ করেছে এটা ঠিক। কিন্তু কিছু সদস্য পুরো র্যা বকে কলঙ্কিত করেছে। বিডিআরের নাম বদলে যেমন বিজিবি রাখা হয়েছে, তেমনি র্যা্বেরও নাম পরিবর্তন করা দরকার।” কিছু মানুষের জন্য পুরো বাহিনীকে কেন বিলুপ্ত করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ওমর বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহে তো সবাই সম্পৃক্ত ছিল না। তার পরও কিন্তু বিডিআরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।” ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, “আমি যখন প্রথম র্যাওব দেখেছিলাম, তখনই আমার খারাপ লেগেছে। কোনো ব্যক্তি যখন মাথায় কারো পট্টি আর চোখে কালো চশমা পরে থাকে, তখন তার ওপর সাধারণ মানুষের কীভাবে শ্রদ্ধা আসবে! তাই আমার মনে হয় র্যা বের পুনর্গঠন করা দরকার।” ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “কিছুসংখ্যক লোকের অন্যায়ের দায় কখনো পুরো একটি বাহিনীর ওপর পড়তে পারে না। আর্মি তো জাতির জনকসহ দেশের দুজন রাষ্ট্রপতিকে খুন করেছিল, তাই বলে কি আমরা বলব আর্মির দরকার নেই?” এ সময় তিনি অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে এবং র্যা বে শৃঙ্খলা আনতে হবে বলে মত দেন। ফরিদা আখতার বলেন, “যখন কোনো বাহিনী শাসকশ্রেণীর পক্ষে খুনি বাহিনী হিসেবে পরিচিত হয়, তখন তাকে বিলুপ্ত করার প্রয়োজন হয়।” বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

বাংলাদেশ সর্বনাশের আগেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন: ফরহাদ মজহার

বাংলাদেশ সর্বনাশ হবার আগেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে ফ্যাসিবাদের বিদায় নিশ্চিত করতে সকল দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, আন্দোলনে উত্থান-পতন আছে। আমরা সফল হবোই। মুক্তিযুদ্ধের তিন নীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে ফ্যাসিবাদের পতন অবধারিত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনে পেশাজীবীদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   লন্ডন স্কুল অব কমার্স এন্ড আইটি’র অডিটোরিয়ামে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করতে বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কর্মসূচি সমন্বয় ও ক্যাম্পেইনের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ‘ফ্রি মাহমুদুর রহমান ডটনেট’ ঠিকানায় একটি ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ফেসবুক ও টুইটারে ‘ফ্রি মাহমুদুর রহমান’ নামে একাউন্ট খোলা হয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, ইউকে শাখার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। দেশ-বিদেশের যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে যে কোনো পরামর্শ দিতে freemahmudurrahman@gmail.com ঠিকানায় ইমেইল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। শিগগিরই ফ্রি মাহমুদুর রহমান ক্যাম্পেইনে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। এ কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমার দেশের বিশেষ প্রতিনিধি অলিউল্লাহ নোমান। পেশাজীবী মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে’র আহ্বায়ক প্রফেসর ড. কে এম এ মালিক। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মামনুল মোরশেদ, সিটিজেন মুভমেন্টের আহ্বায়ক এম এ মালিক, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নেতা ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দীন, ইসলামী ব্যক্তিত্ব মুফতি শাহ সদরুদ্দীন, সাংবাদিক ও রাজনীতিক শেখ মহিউদ্দীন, আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি অলিউল্লাহ নোমান, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার লিটন আফিন্দি, আতিকুর রহমান চৌধুরী পাপ্পু, প্রকৌশলী একেএম রেজাউল করিম, ফেরদৌস রহমান, মাজিব রহমান, ওবায়দুর রহমান টিপু, এম এ আক্কাস চৌধুরী, আবুল আলা সিদ্দিক, মোসাম্মত কুমকুম আখতার, অ্যাডভোকেট আবুল হাসনাত, মো. আশরাফুল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আখতারুল হক, আনজান আলম, আল মামুন ভুইয়া, আবদুর রকিব, কাজী বরকত উল্লাহ, এম গোলাম জাকারিয়া, মো. শাহজালাল, মেজবাহ উদ্দীন খান, ব্যারিস্টার এ এম শাহজাহান, আশরাফ মাহমুদ উজ্জল, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন, জাসের খান, মো. জাকির হোসাইন, মো. আলী আকবর কাদের, মো. হাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার ফেরদৌস, এমএ খালেদ পাভেল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা শামীম, সৈয়দ আল আসাফুর আলী রাজা, মো. আরাফাত হোসাইন খান প্রমুখ।   মতবিনিময়ে ফরহাদ মজহার আরো বলেন, ক্রমশ নিপিড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার মানুষ কমছে। এজন্য নতুন কোনো ভুল করলে চলবে না। দৈনিক আমার দেশ এর কারাবন্দি সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মানবাধিকারের প্রতীক হিসেবে ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই এগিয়ে নিতে হবে।   তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের এই মহাসংকটকালে প্রবাসীদের অনেক কিছু করার আছে। প্রবাসীদের সহায়তা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো দেশ ও জাতি মুক্তি পায়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই সমালোচনা ছাডুন। ‘আমি কী করতে পারি?’ - প্রশ্নকে সামনে রেখে জাতীয় মুক্তির লড়াইয়ে ভুমিকা রাখুন। প্রফেসর ড. কেএমএ মালিক বলেন, মাহমুদুর রহমান দৈনিক আমার দেশ-এর মাধ্যমে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লড়াই করেছেন। মানবাধিকারের সৈনিক হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তিনি এখন কারাগারে দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছেন। তার মুক্তির জন্য পেশাজীবীদের নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

‘কিছুই চাই না, শুধু মানিককে ফেরত চাই’

“১৬ ডিসেম্বর আমার বাবা মাসুমের জন্মদিন ছিল। সে বলেছিল, মা, বড় হয়ে তোমার সব দায়িত্ব কিন্তু আমিই নেব।” বলেই কেঁদে ওঠেন আয়েশা আক্তার। ‘আজ আমার সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। একটু আমার বাবার খোঁজ দিন। আমি আশায় আছি, আমার সোনার ধন ফিরে আসবে’ বলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন তিনি। শুধু মাসুমের মা আয়েশা আক্তার নন, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর একই দিনে রাজধানীতে গুম হওয়া আট তরুণের পরিবারের সদস্যদের একই হাহাকার। নিখোঁজ প্রিয়জনকে ফিরে পেতে স্বজনদের আকুতি আর বেদনার্ত অভিব্যক্তিতে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে। এই দৃশ্যপট বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের। ওই আট তরুণের নিখোঁজ হওয়ার এক বছর উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার সমিতি সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে। গুম হওয়া আটজনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানান। গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন কেঁদে কেঁদে বলেন, “এক বছর হয়ে গেছে আমার মানিককে এখনো ফিরে পাই নাই। আল্লার কাছে আমার কিছুই চাওয়ার নাই। শুধু আমার মানিককে ফেরত চাই।” নিখোঁজ জাহিদুল করিম তানভীরের মা নিলুফা বেগম বলেন, “আমার ছেলে লেবার মিস্ত্রির টাকা দিতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আমি সবার কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেন, ফিরিয়ে দেন।” বাবা-মায়ের সামনে থেকে আদনান চৌধুরীকে র্যা ব তুলে নিয়ে যায়, এমন দাবি করে বাবা রুহুল আমীন বলেন,  “ভেবেছিলাম র্যা ব যখন নিয়ে গেছে, তখন ছেলে ফিরে আসবে। কিন্তু কই, ছেলে তো আর ফিরে আসল না। তাই সেই পোশাকধারী র্যালব সদস্যদের বিচারের দাবি করছি।” এ রকম কারো ভাই, কারো ছেলে, আবার কেউ তার পিতার সন্ধান পেতে এসেছিলেন প্রেস ক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, মৌলিক অধিকার সংরক্ষন কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসন, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর একই দিনে সাজেদুল ইসলাম সুমন, জাহেদুল করিম তানভীর, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, এ এম আদনান চৌধুরী, কাউসার  আল আমিন গুম হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, র্যা ব পরিচয়ে র্যা বের গাড়িতে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ-ভুটান দুই প্রটোকল চুক্তি সই

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ঢাকায় ভুটানের দূতাবাস নির্মাণে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিতিতে এই দুই প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। প্রটোকল অনুযায়ী, আন্তবাণিজ্যে ৯০টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে দুই দেশ। আর ঢাকায় দূতাবাস নির্মাণে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় ভুটানকে প্লট দেয়া হবে। বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক। আর ভুটানের দূতাবাসের জন্য জমি দেয়ার চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং সফরকারী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিনজিন দর্জি। এর আগে বিকালে শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। পরে দুই দেশের সরকার-প্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেরিং তোবগে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের  নেতৃত্ব দেন। চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দুই দেশের মধ্যে আগের চুক্তিতে ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত-সুবিধা দেয়া ছিল। এখন এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে ৯০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত-সুবিধা দেয়া হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ  বলেন, “আমরা পদ্মা সেতুর জন্য ভুটান থেকে বোল্ডার আনতে শুল্কমুক্ত-সুবিধা দেব। দুই দেশের রফতানি বাড়াতে আমরা যা যা করার করব।” ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে শনিবার সকালে শেরিং তোবগে ঢাকায় নামলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তোবগের প্রথম ঢাকা সফর। তিনি গত বছরের জুলাইয়ে ভুটানের সরকার-প্রধানের দায়িত্ব নেন। ভুটানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রী তোবগের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে। তিন দিনের সফর শেষে ৮ ডিসেম্বর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চুরি যাওয়া ৫,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘ব্যক্তিগত’ ব্রিজ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রবার্ট কর্টিস নামে এক ব্যক্তি জানালেন, তার পরিবারের ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের ফুটওভার ব্রিজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ডেট্রয়েটের ফার্মিংটন হিলসে তার বাড়ির কাছ থেকে ৪০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি চুরি হয়েছিল। ব্রিজটি ইস্পাত ও কাঠের তৈরি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। বিত্তবান কর্টিস জানান, এ সপ্তাহে তিনি ব্রিজটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছিলেন। এইট মাইল রোড এলাকার কাছে নিজের জমির একটি অংশে যাওয়ার পর দেখলেন সেখান তাদের সেই ব্রিজটি গায়েব। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ব্রিজটি চুরি যাওয়া স্থান থেকে ২০ মাইল দূরে বেলেভিল থেকে উদ্ধার করে। ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে সেটি কে বা কারা চুরি করেছিল সে সম্পর্কে কোন তথ্য উল্লেখ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। কর্টিসের একটি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা আছে। সেখানেই বিয়ের ছবি তোলার জন্য ব্রিজটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল তার। তিনি বলছিলেন, ব্রিজটির সঙ্গে তার অনুভূতি, আবেগ জড়িত। কারণ, বেশ কয়েক দশক আগে এটি তার পিতা নির্মাণ করেছিলেন। স্মৃতিবহুল ব্রিজটি ফিরে পেয়ে কর্টিস তার ব্যবসা পরিকল্পনাটা সফল করতে পারবেন এবং এজন্য তিনি বেশ খুশি।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘হাগুপিত’, ৫ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

ফিলিপাইনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাগুপিত ধেয়ে আসছে। এরই মধ্যে নিরাপদ স্থান ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। আজ সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কথা। ফিলিপাইনের ৮১টির মধ্যে কমপক্ষে ৪৭টি প্রদেশ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফিলিপাইনের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় হাগুপিত কিছুটা দুর্বল হয়ে দেশের দক্ষিণ দিক বরাবর অগ্রসর হয়ে ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল বেগে আঘাত হানতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সুনির্দিষ্ট গতিপথ সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা ও বিবিসি। সামার ও লেইতে প্রদেশের উপকূলীয় বহু গ্রাম ও ভূমিধস প্রবণ এলাকাসমূহ থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছেন। শুধু দ্বীপবেষ্টিত সেবু প্রদেশ থেকেই ২ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও সেবু প্যাসিফিক দেড় শতাধিক বিমানের যাত্রা বাতিল করেছে। সমুদ্র ভ্রমণ সেবাসমূহও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ১৩ মাস আগে ওই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের তা-বে ৭,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইউনাইটেড নেশন্স ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর ডিজাস্টার রিডাকশনের (ইউএনআইএসডিআর) এক মুখপাত্র ডেনিস ম্যাকক্লিন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার পূর্বাভাসে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার ঘটনা খুব বেশি প্রত্যক্ষ করেননি তারা।

ব্রিটেনে বাংলাদেশী পাত্রপাত্রী সঙ্কট -বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ছেলেমেয়েদেরকে বিয়ে দেওয়া তাদের পরিবারের জন্য কমবেশি উদ্বেগের। যেসব পরিবার এদেশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন তার অভিভাবকরা বলছেন যে, পছন্দসই বাংলাদেশী পাত্রপাত্রী না পাওয়ায় সন্তানদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ছেলেমেয়েরাও বাংলাদেশী নয় এরকম কোনো বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাছে তা প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে। পূর্ব লন্ডনের বাংলা টাউনে আলতাব আলী পার্কের বেঞ্চে বসে আড্ডা মারছিলো দু’জন তরুণ, দু’জনই বাংলাদেশী ব্রিটিশ।একজনের জন্ম এদেশেই, আরেকজন মাত্র তিন বছর বয়সে ব্রিটেনে এসেছেন। এখন তাদের বয়স ৩০।
“এখনও বিয়ের কথা ভাবি নাই, যখন ঠিক করবো যে বিয়ে করবো তখন পাত্রী টুকাবো, বউ পেয়ে যাবো ইনশাল্লাহ।” বললেন একজন তরুণ।তিনি বললেন, মেয়েটি বাংলাদেশী বা ইংরেজ যে কোনো দেশেরই হোক না কেনো তার আপত্তি নেই। কিন্তু তাকে মুসলমান হতে হবে।
আরেকজন বললেন, ঘরে তার বিয়ের কথা হচ্ছে কিন্তু পছন্দমতো পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার অভিভাবকরা চান বাংলাদেশী মেয়ে এবং অবশ্যই মুসলিম।
এরকম বেশ কয়েকজন অভিভাবক আমাকে তাদের ছেলেমেয়েদের সিভি দিয়েছেন। খোলামেলাভাবেই বলেছেন তাদের দুশ্চিন্তার কথা। লোকলজ্জার ভয়ে তারা নাম বলতে চাননি।এরকম একজন মা, ৪০ বছর ধরে আছেন ব্রিটেনে, তার দুই মেয়ের জন্যে বহু বছর ধরে পাত্র খুঁজছেন। তাদের বয়স ৩৪ আর ৩২। জানালেন, দুশ্চিন্তায় প্রায়শই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
“ভালো পাত্র পাওয়া খুব কঠিন। ১০ বছর ধরে খুঁজছি। কিন্তু কোথাও মেলাতে পারছি না।” বললেন তিনি।
তিনি বলেন, যারা নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করেন তাদের অসুবিধা নাই কিন্তু যাদের জন্যে ছেলেমেয়ে খুঁজতে হয় তাদের বিয়ে দেওয়া খুব কঠিন।
বাবা মায়েরা আগে ছেলেমেয়েদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতেন। তারমধ্যে কিছু আছে জোরপূর্বক বিয়ে।কিন্তু সেসব বিয়ের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো না হওয়ায় পিতামাতারাও এখন আর সেধরনের বিয়েতে আগ্রহী নন।
ব্রিটেনে একটি কলেজের শিক্ষক রেহানা বেগম এসব পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে লেখালেখি করেন। তিনি বললেন, দেশে অনেক আত্মীয় স্বজন থাকায় বিয়েটা কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু এখানে অপশন খুব কম। বহু ছেলে মেয়ে আছে যাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না। তাদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশী মেয়েরা পড়ালেখা ও চাকরিবাকরিতে ছেলেদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। ফলে মেলানো যায় না।”
ষাটের দশকে এদেশে এসেছেন এরকম একজন, নাম বলতে চাননি, একটি লোকাল কাউন্সিলে বহু বছর ধরে কাজ করছেন, নিজের ছেলেমেয়েদের সবাইকে বিয়েও দিয়েছেন, ভারতীয় এক মেয়ের সাথে এমাসেই বিয়ে হয়েছে ছোট ছেলের, তারা এখন হানিমুনে।তিনি বললেন, বাংলাদেশী অভিভাবকরাও নিজের দেশের বাইরে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে চান না। এটাও একটা সমস্যা।
“বিয়ের ব্যাপারে আমরা থানার বাইরে যেতে চাই না, তারপরে জেলার বাইরেও যেতে চাই না। যেতে চাই না দেশের বাইরেও, ফলে বাজারটা অত্যন্ত ছোট আর সীমিত হয়ে গেছে।”বিয়ের এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে গড়ে উঠেছে বহু প্রতিষ্ঠান যারা ঘটকালি করেন।
পূর্ব লন্ডন মসজিদে এরকম একটি সংস্থা আল ইহসান ম্যারেজ ব্যুরো।
সেখানে যাওয়ার পর আধ ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকজন ফোন করে পাত্রপাত্রীদের ব্যাপারে খোঁজ নিলেন।
আল ইহসানে রেজিস্ট্রেশন করা আছে ৭০০এর মতো পাত্রপাত্রী, যাদের দুই তৃতীয়াংশই নারী। তাদের তালিকায় দেখা যাচ্ছে- আপনি কি ননব্রিটিশ কাউকে বিবেচনা করবেন – এই প্রশ্নে ৯৮শতাংশই বলছেন- না। কিন্তু বাংলাদেশী নন এরকম পাত্রপাত্রীর ব্যাপারে আপত্তি নেই অনেকেরই।বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ঘটক আনু মিয়া। স্থানীয় লাইব্রেরির কর্তৃপক্ষ ঘটকালি করার জন্যে তাকে সেখানে সপ্তাহে দু’দিন বসতে দিয়েছে। ১৪ বছর ধরে একাজ করছেন তিনি।
বললেন, “ছেলেমেয়েদের সাথে অভিভাবকদের একটা গ্যাপ আছে। বাবা মায়েরা এসে ছবি নিয়ে যান, সন্তানদেরকে দেন কিন্তু তারা খুলেও দেখে না। কারণ তাদের ইতোমধ্যেই সুব্যবস্থা করা আছে।”
‘সুব্যবস্থা’ বলতে তিনি বলছেন যে, ইতোমধ্যেই তারা তাদের ইংরেজ পার্টনার বাছাই করে রেখেছেন যা তারা বাবা মায়ের কাছে গোপন রাখছেন।তিনি জানান, বাংলাদেশী পাত্রপাত্রীর অভাবের কারণে পাকিস্তানি, আরবি ও মিশরের মুসলমানদের সাথেও বাংলাদেশীদের বিয়ে হচ্ছে। প্রচুর বিয়ে হচ্ছে ইংরেজদের সাথেও।
দুই কন্যার বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা মাও বলছেন, ইংরেজ হলেও আপত্তি নেই। এমনকি অমুসলিম হলেও। তবে তিনি চাইবেন তাকে যেনো ধর্মান্তরিত করা হয়।
এই মায়ের পরামর্শ হচ্ছে ছেলেমেয়েরা নিজেরাই যেনো তাদের পার্টনার খুঁজে রাখেন।
আলতাব আলী পার্কের দুই ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণও স্বীকার করেছেন যে বাবা মার যতো আপত্তিই থাকুক না কেনো তারা তাদের পছন্দেই বিয়ে করবেন।
অভিভাবকরা বলছেন, বিয়ের জন্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের মধ্যে সীমিত থাকলে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরো প্রকট হয়ে উঠবে।
আর একারণেই বাংলাদেশী পরিবারগুলো, অন্তত বিয়ের ব্যাপারে, যে আরো বেশি আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে বাধ্য হবে সেটা নিয়ে তাদের কোনো সন্দেহ নেই।

লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আজ বিকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুকে ব্যাথা অনুভব করায় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধীনে লতিফ সিদ্দিকীকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসএসএমইউ‘র পরিচালক আবদুল মজিদ ভূইয়া। বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, মহানবী (সা.), তাবলিগ জামায়াত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে সারা দেশ। বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সরকার। গত ১২ই অক্টোবর আমেরিকায় থাকাকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই দিনই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়। এরপর তিনি আমেরিকা থেকে ভারতে আসেন। কলকাতায় কিছুদিন অবস্থানের পর নাটকীয়ভাবে ২৩শে নভেম্বর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন লতিফ সিদ্দিকী। বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনক আত্মগোপনে গেলেও  ২৫শে নভেম্বর তিনি ধানমন্ডি থানায় আত্মসমার্পণ করেন। থানা থেকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। মন্ত্রিত্ব ও দলের পদ হারালেও লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ এখনও বহাল আছে।

স্বপ্ন দেখি, একদিন মিরাকলটা হবেই হবে

(ছয়জন মা তাঁদের সন্তানকে নিয়ে নিজেদের কথা লিখেছেন। নিজেরাই সন্তানের ছবি তুলেছেন। আর এসব নিয়েই রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইএমকে সেন্টারে চলে ‘মায়ের আলোকচিত্রে সন্তান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এতে অংশ নেওয়া ছয় মায়ের মধ্যে চারজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন) ‘এখন আহমেদ সুন্দর করে আঁকতে পারে, কম্পিউটার শিখছে। আমি খুশিতে বাকহারা হয়ে পড়ি, যখন ও ছবি এঁকে পুরস্কার জিতে নেয়, আর তা আমার হাতে তুলে দেয় তা। ও যা, আমি এই আহমেদকেই ভালোবাসি।’ এই কথাগুলো লিখেছেন লুবনা মোহাম্মদ। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান আহমেদ সালেহ অন্য দুই সন্তানের চেয়ে আলাদা। প্রায় বছর খানেক আহমেদ জামা কাপড় পরতে চাইত না। ওকে আদর করতে গেলে বা ছুঁলে; ও আঁচড়ে, কামড়ে একশা বানাত। দেয়াল, আসবাবপত্র সবকিছু কামড়াত। যেখানে-সেখানে, যখন-তখন বাড়ির কোণায়-আড়ালে প্রস্রাব-পায়খানা করে ফেলত। দাঁত পরিষ্কার করানো যেত না।
লুবনা মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি সারা দিন ওর পেছন পেছন দৌঁড়ে বেড়াচ্ছি। সমাজ থেকে যেন বিচ্ছিন্নই হয়ে পড়েছিলাম। একটা যন্ত্রমানবে পরিণত হলাম। আমি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকতাম, আমি কী কোনো ভুল করেছিলাম?’ তবে লুবনা এখন বুঝতে পেরেছেন, অটিজম নিয়ে শুধু তিনি নন, বিজ্ঞান পর্যন্ত কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। যে বিশেষ স্কুলে আহমেদ পড়ছে, সেখানেই লুবনা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন।
লুবনাসহ ছয়জন মা তাঁদের সন্তানকে নিয়ে নিজেদের কথা লিখেছেন। নিজেরাই সন্তানের ছবি তুলেছেন। আর এসব নিয়েই রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইএমকে সেন্টারে (মাইডাস ভবনের নবম তলা) চলে ‘মায়ের আলোকচিত্রে সন্তান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। আজ শনিবার রাত আটটা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। এতে অংশ নেওয়া ছয় মায়ের মধ্যে চারজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা। ফলে তাঁদের সংগ্রামটা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
মা ও সন্তানের সম্পর্ক, ভাবনা, স্বপ্ন নিয়ে এ প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে ফটোগ্রাফি, ভিডিও ও ইমেজ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এপারচার লিমিটেড। আর এ উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চেঞ্জ মেকার্স ও ইএমকে সেন্টার।
এপারচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেফালী আক্তার বলেন, ‘সন্তানের সঙ্গে মায়ের অন্তরঙ্গতা ও সন্তানকে ঘিরে মায়ের নিরন্তর ভাবনার কিছুটা প্রকাশ ছয় মায়ের তোলা সন্তানের আলোকচিত্রে। তবে এ প্রদর্শনী অন্য অনেক, অসংখ্য মায়ের কথা বলে। সামনে আরও অনেক মা যুক্ত হবে মুক্ত কথার এ উদ্যোগে।’
৩ ডিসেম্বর প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক দিবসকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারিশপের নির্বাহী পরিচালক নাসিম ফিরদাউস।
এবার ফেরা যাক প্রদর্শনীতে। সাদা বোর্ডে বাঁধানো ছবি, আর ছবির পাশেই মায়েদের লেখা। শেফালী আক্তার তাঁর মেয়ে সুরেলাকে নিয়ে লিখেছেন, ‘আমার স্বপ্ন, আমার মেয়ে একদিন আমার প্রতিষ্ঠানের হাল ধরবে।’
তাহমিনা আক্তারের মেয়ে জয়িতা। মা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি স্কুল পরিচালনা করছেন। জয়িতা মাকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই তাহমিনা চান তাঁর মেয়েও একদিন প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরবে। শেফালী ও তাহমিনা স্বাভাবিক সন্তানকে নিয়ে যতটা সহজে স্বপ্ন দেখতে পেরেছেন, অন্য মায়েদের স্বপ্নগুলো খানিকটা হোঁচট খেয়েছে। তাঁরা ধাপে ধাপে স্বপ্ন দেখেছেন।
টোটন সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। মা শারমিনা পারভীন লিখেছেন, ‘বাচ্চাদের সাথে খেলতে ও খুব পছন্দ করে। কিন্তু যেহেতু ও হাঁটতে পারে না, তাই ওদের সাথে ভালো করে খেলতে পারে না। তখন খুব মন খারাপ করে ও। মা হয়ে এটা সহ্য করা খুব কষ্টের। তখন শুধু মনে হয়, ও কবে হাঁটতে পারবে! একসময় এগুলো নিয়ে খুব মন খারাপ হতো, কান্না করতাম। এখন আর করি না। কারণ একটাই স্বপ্ন, একটাই চ্যালেঞ্জ, ওকে যতটা সম্ভব সক্ষম-সমর্থ করা। স্বপ্ন দেখি, একদিন এই মিরাকলটা হবেই হবে!’ তিনি যেদিন দেখলেন তাঁর ছেলে সাইকেলে বসতে পারছে, সেদিন তিনি এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে, ছবি না তুলে থাকতে পারেননি। কিন্তু এই খুশি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। কেননা তিনি লিখেছেন ‘একটা ভয় সব সময়ই হয়, আমি যখন থাকব না, তখন আমার টোটনকে কে দেখবে? কার কাছে থাকবে ও?’
অটিস্টিক সন্তানের মা সৈয়দা ফেরদৌসী। লেখার শুরুতেই তিনি বলেছেন, ‘একজন মায়ের তার শিশু সন্তানকে নিয়ে কত যে চিন্তা, ভাবনা, সাধনা, ভালোবাসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা সামান্য ছোট লেখায় কি তা প্রকাশ করা যায়?’ এই মা লিখেছেন, ‘যখন ধ্রুবর বাবা-মা আমরা থাকব না, তখন ধ্রুব কীভাবে একা একা বাঁচবে? যে সমাজে সাধারণ মানুষ সুস্থভাবে বাঁচতে পারে না, সে সমাজে আমাদের ধ্রুবদের মতো বাচ্চারা, যারা অটিস্টিক অথবা নানাভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে, তারা কীভাবে বেঁচে থাকবে? শুধুই ভাবি . . .।’

চিকিৎসা ব্যয়ের সঠিক তথ্য রোগীকে দেওয়ার তাগিদ

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেছেন, কোন রোগের চিকিৎসায় কত টাকা ব্যয় হবে, সে তথ্য সঠিকভাবে রোগীকে দিতে হবে। তিনি বলেন, আজকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ব্যয় বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত যে বিল হয়, তা চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ককে বিদ্বেষপূর্ণ করে তোলে।
আজ শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য কর্মসূচির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ বিষয়ক আলোচনা ও তারকা কর্মী সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রবীণ এই চিকিৎসক এ কথা বলেন। ডা. এম আর খান বলেন, অনেক সময় দেখা যায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে ৩০ হাজার টাকার কথা বলা হয়। কিন্তু বাড়তে বাড়তে এ ব্যয় ৬০ হাজারে ঠেকে। তিনি বলেন, ‘রোগীদের পরিষ্কার বলতে হবে যে, আমরা এটি পারব, এটি পারব না। হাসপাতালভেদে ব্যয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তা রোগীদের কাছে পরিষ্কার হতে হবে।’ চিকিৎসকদেরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘রোগীদের কষ্ট-ব্যথাকে নিজের মনে করে চিকিৎসা করতে হবে। আপনার নিজের সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের ক্ষেত্রে যেভাবে চিকিৎসা করেন, সাধারণ রোগীদেরও সেভাবে সেবা দিতে হবে।’
জাতীয় এই অধ্যাপক বলেন, চিকিৎসার কাজ শুধু দৈহিক না, মানসিক ও আত্মিকও। আজকাল চিকিৎসকেরা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন না। ব্যবস্থাপত্র লিখে ছেড়ে দেন। রোগীদের কী সমস্যা, কী দরকার, এগুলো তাঁদেরকে বলা উচিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাজেদা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জাহেদা ফিজ্জা কবির। অনুষ্ঠানে সাজেদা হাসপাতালের কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ শাখার ১৯ জন কর্মীকে তারকা কর্মী হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আজও হাসছেন মাদিবা

(প্রিটোরিয়ায় ইউনিয়ন বিল্ডিং প্রাঙ্গণে নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণ অনুষ্ঠানে শিশুদের উল্লাস। তাদের পেছনে ম্যান্ডেলার বিশাল প্রতিমূর্তি। এটি গোটা বিশ্বেই প্রয়াত এ বর্ণবাদবিরোধী নেতার সবচেয়ে বড় মূর্তি l ছবি: এএফপি) পাঁচ মিটার উঁচু বিশাল এক হাস্যোজ্জ্বল মূর্তি। দুই হাত প্রসারিত সেই মূর্তির পায়ের কাছে বিশাল এক ফুলের তোড়া রাখার আগে গ্রাসা ম্যাশেল বললেন, ‘শরীরটা ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত মাদিবার আদর্শ ছিল অটুট। আজও তা তেমনই আছে। আমি জানি, তিনি আজও হাসছেন। তিনি সুখী, কেননা তিনি যে পরিবার গড়ে তুলেছিলেন, তাদেরই মাঝে আছেন।’ দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর মাঝেই আছেন তাঁদের জাতির পিতা নেলসন ম্যান্ডেলা। গতকাল ৫ ডিসেম্বর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা-ভক্তি আর ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করেছে তাঁর দেশের মানুষ। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই মহান নেতাকে একইভাবে স্মরণ করেছে সারা বিশ্ব। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর দিনটি শুরু হয় রাজধানী প্রিটোরিয়ার ফ্রিডম পার্কে ম্যান্ডেলার মূর্তিতে পুষ্পস্তবক দেওয়ার মাধ্যমে। ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল ও ম্যান্ডেলার লড়াই-সংগ্রামের সহযোদ্ধারা সেখানে সমবেত হন তাঁদের প্রিয় মাদিবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এরপর ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পালিত হয় অভিনব এক কর্মসূচি। প্রথমে তিন মিনিট সাত সেকেন্ড বিভিন্ন বাদ্য বাজিয়ে তুমুল কোলাহল। এর পরই তিন মিনিটের সুনসান নীরবতা। ছয় মিনিট সাত সেকেন্ডের এই কর্মসূচিতে প্রিটোরিয়ার সঙ্গে যোগ দেয় পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৫ বছরের জীবনে ৬৭ বছর মানবসেবায় ব্যয় করেন ম্যান্ডেলা—প্রতীকীভাবে সেই বিষয়টিকে উদ্যাপন করতেই এ কর্মসূচি।
ম্যান্ডেলার মূর্তিতে ফুল দেওয়ার পর তাঁর সহযোদ্ধা আহমেদ কাথরাডা বলেন, ‘আমি আজও তাঁর অভাব অনুভব করি। শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন বড় ভাই হিসেবেও।’ রোবেন দ্বীপে ম্যান্ডেলার সঙ্গে কারাভোগ করেছিলেন কাথরাডাও। ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার আগে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগ করেন ম্যান্ডেলা।
ম্যান্ডেলার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার শোকের দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। চীন সফররত জুমা গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে এক ভাষণে বলেন, ‘ম্যান্ডেলার নেতৃত্বের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি দেশের ভিত তৈরি করে গেছেন।’ ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন ম্যান্ডেলা।
দিনটি উপলক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মানবতাবাদী নেতা আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু বলেছেন, ‘ম্যান্ডেলা যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা গড়াই হবে তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’
আর ম্যান্ডেলাকে জেলে ঢুকিয়েছিলেন যে এফ ডি ক্লার্ক, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ম্যান্ডেলার অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে। এক বিবৃতিতে ক্লার্ক বলেছেন, ‘ম্যান্ডেলা যদিও আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর যে অবদান, তা রয়েছে আমাদের সঙ্গে, তা-ই আমাদের পথ দেখাবে।’
১৯৯৩ সালে ম্যান্ডেলার সঙ্গে শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান এফ ডি ক্লার্ক। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।
দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে গতকাল পালিত হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুনুতে অবস্থিত তাঁর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ধর্মীয় প্রার্থনালয়গুলোতে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। এ ছাড়া দেশের জাতীয় ক্রিকেট ও রাগবি দলের মধ্যে আয়োজন করা হয় একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের।
বিশ্ববাসীও গতকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে ম্যান্ডেলাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এক বছর আগে বিশ্ব এমন এক নেতাকে হারিয়েছে, যাঁর সংগ্রাম ও ত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে সোজা হয়ে দাঁড়াতে; যাঁর দৃষ্টান্ত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সমবেদনা ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা এবং যাঁর দূরদৃষ্টি আমাদের পথ দেখায় একটি সুন্দর পৃথিবীর।’

নাচলেন ওবামা

ন্যাশনাল ক্রিসমাস ট্রি লাইটিং অনুষ্ঠানে সান্তা ক্লজের সঙ্গে নেচেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল শুক্রবার সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে বার্ষিক অবকাশযাপনের ঐহিত্যবাহী অনুষ্ঠানে ওই নাচে অংশ নেন ওবামা।
নাচের সময় প্রেসিডেন্টের বাঁ পাশে ছিলেন সান্তা ক্লজ। ডানে ছিলেন পপ দল ফিফথ হারমনির সদস্যরা। ইয়াহু নিউজ জানায়, স্ত্রী মিশেল ও দুই মেয়েকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ওবামা। পরে তিনি জিঙ্গেল বেলসের জাজ সংস্করণ নাচেন।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সান্তা ক্লজের সঙ্গে ‘হাই ফাইভ’ করে নাচে যোগ দেন ওবামা। অন্যদের সঙ্গে দারুণভাবে তাল মিলিয়ে নাচেন তিনি।

নাচে-গানে ক্রিকেটে মাতবে ঢাকা

নাচে-গানে ক্রিকেটে মেতে উঠতে যাচ্ছে ঢাকা। লাভ অব ক্রিকেট (এলওসি) শিরোনামের এ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শোবিজ এবং ক্রিকেট অঙ্গনের তারকারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। লাভ অব ক্রিকেটে মাঠে খেলবেন শাকিব খান, ফেরদৌস, নোবেল, তাহসান, সালমান খান, সোহেল খান, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগান, সুনীল শেঠি, ববি দেওল, রিতেশ দেশমুখ, আতিফ আসলাম, আলী জাফরের মতো তারকারা। আর মাঠে তাঁদের উৎসাহ জোগাতে উপস্থিত থাকবেন নিপুণ, রুহি, পিয়া, মেহজাবিন, সানি লিওন, সোনাক্ষী সিনহাসহ আরও অনেকে।
চারদিনের টি-টোয়োন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ শেষে থাকবে তিন দেশের জনপ্রিয় তারকাদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান গাইবেন সুনিধি চৌহান, হিমেশ রেশমিয়া, শান, মিকা সিং, রিজিয়া পারভীন, শুভ্র দেব, আঁখি আলমগীর, কনা, কোনালসহ আরও অনেকে।
এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ভাসাবি সেলিব্রেটি ক্রিকেট ক্লাবের চেয়ারম্যান কামাল জামান বলেন, ‘এটাকে আমরা সেলিব্রেটি কার্নিভ্যাল বলতে চাচ্ছি। তিন দেশের তারকাদের নিয়ে এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকায় একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তিন দেশের তারকাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও এই আয়োজন বড় একটা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’
লাভ অব ক্রিকেট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে সেলিব্রেটি ক্রিকেট লীগ আয়োজনের একটি প্রস্তাব এসেছে। উদ্যোক্তারা আমাদের কাছে অবকাঠামোগত সহায়তা চেয়েছে। সামনের বোর্ডসভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’
তিন দেশের তারকাদের নিয়ে আয়োজিত লাভ অব ক্রিকেটে ভারতীয় দলের ইনচার্জ হিসেবে আছেন বলিউড অভিনেতা সোহেল খান। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় আসেন। কথা বলেন আয়োজকদের সঙ্গে।
ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস ম্যানেজার সৈয়দ আবদুল বাতেন বলেন, ‘বলিউডের অভিনেতা সোহেল খান ও আয়োজক কতৃ‌র্পক্ষের কয়েকজন সদস্য ক্রিকেট বোর্ডে দেখা করেন। তাঁরা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন।’
লাভ অব ক্রিকেট আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকবে এটিএন বাংলা। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে এটিএন বাংলা কার্যালয়ে ভাসাবি ক্রিকেট ক্লাব এবং এটিএন বাংলার মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

হাসিনা হ্যাটট্রিক করবেন: নাসিম

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ২০১৯ সালের আগে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। ২০১৯–এর সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে হ্যাটট্রিক করবেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নাসিম এসব কথা বলেন। আজ শনিবার নগরের তেরখাদিয়া এলাকায় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আপনারা টেলিভিশনে দেখছেন। প্রতিদিন নতুন কথা বলা যায় না।’ তিনি শুধু বলেছেন, ‘সম্মেলনগুলো সময়মতো হওয়া জরুরি। সময়মতো সম্মেলন হলে সংগঠনে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়।’
সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলার সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ।
সর্বসম্মতিক্রমে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটাই আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র। এটাই জনগণের গণতন্ত্র। তিনি সবাইকে আগামী নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে হ্যাটট্রিক করবেন।
সমঝোতার কমিটি, সরে দাঁড়ালেন ব্যবসায়ী সাংসদেরা
কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বানে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ। এই দুজনই পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাংসদ শাহরিয়ার আলম সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। কাউন্সিল অধিবেশনে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম সভাপতি হিসাবে প্রস্তাব করেন। সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাংসদ কাজী আবদুল ওয়াদুদও একইভাবে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করেন। এরপর ওমর ফারুক ও আসাদুজ্জামান সর্বসম্মতিক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দুই ব্যবসায়ী সাংসদ এভাবেই সরে দাঁড়ানোয় অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েব উদ্দিনও সরে দাঁড়ান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সদরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সভাপতি এবং কাজী আবদুল ওয়াদুদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেন। এ অনুষ্ঠানে দুটি আসনের কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট বিনিময়ের চুক্তি হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার সকালে সম্মেলনস্থলে শাহরিয়ার আলমের ছবি সংবলিত টি-শার্ট পরে তাঁর সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। কাজী আবদুল ওয়াদুদের লোকজনও তাঁর ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লায়েব উদ্দিন কোনো পোস্টার ব্যানার করেননি। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজ্জামান অবশ্য নিজের ও নেত্রীর ছবি দিয়ে বড় ব্যানার করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউসে বসে সমঝোতা করতে সময় লেগে যায় বেশি। এ জন্য দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় সম্মেলন।
নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁদের নিয়ে বসেছিলেন। একটা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি নিজে একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এ অবস্থায় সভাপতি হিসেবে জেলার দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হতে পারে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁকে বোঝান। পরে তিনি সেটা মেনে নিয়েছেন।
তবে কাজী আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি ফোন ধরেননি। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী লায়েব উদ্দিনের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে আগের দিন রাতেই কেন্দ্রীয় নেতারা যখন রাজশাহীতে আসেন, তখন থেকেই রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে সভাপতি হিসেবে ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আসাদুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করলে সবাই মেনে নিয়েছেন।
সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আন্তজার্তিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক সাংসদ ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন প্রমুখ। এ ছাড়াও সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সুখী হতে হলে কিছুটা হতাশ হন

সুখ মানে কী? কি করে সুখী হওয়া যায়? সুখের বসতিই বা কোথায়? নানা প্রশ্ন, অনেক উত্তর৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ বলতে পারেননি সঠিক উত্তরটা৷ কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত৷ সেই চেষ্টার ফসল একটি বই৷ নাম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড বুক অফ হ্যাপিনেস’৷
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী রুনা লায়লার একটি গান আছে৷ যেটি আজও অনেকে গুন গুন করে গান, ‘সুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে৷ সত্যিই যুগ যুগ ধরে মানুষ জানতে চেয়েছে সুখের বিশ্লেষণ৷ জানতে চেয়েছে সুখী হওয়া যায় কী করে৷ কিন্তু একেক জনের কাছে একেক উত্তর৷ আর তাই সুখের বসতির খোঁজ পাওয়াটা সব সময় থেকেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷
কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কী? আর তাই এ বিষয়ে পৃথিবীর খ্যাতিমান একশ জন গবেষক সুখের তত্ত্ব তালাশ করেছেন গবেষণা গ্রন্থটিতে৷ ওয়ার্ল্ড বুক অফ হ্যাপিনেসের অন্যতম গবেষক নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুট ফেনহোফেন৷ তিনি বলছেন, সুখ বিষয়টি আসলে জীবনের মানসিক উপলব্ধি৷ তিনি তাঁর নিজস্ব মাপকাঠি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে সুখী৷ তাঁর বিচারে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ কোস্টারিকা৷ এরপর আছে ডেনমার্ক৷ পরেই যৌথ অবস্থানে আছে ক্যানাডা এবং সুইজারল্যান্ড৷ যে দেশ প্রায় প্রতি বছরই সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান, সেই নরওয়ের অবস্থান এর পরেই৷ টোগো, তানজানিয়া এবং জিম্বাবোয়ের মানুষের সুখের প্রাচুর্য কম৷ ফলে তারা আছে সর্বনিম্ন স্থানে৷ তিনি বলেন, ‘‘সুখটা একা একা জন্ম নেয় না৷ সামগ্রিক বিবেচনাতেই আপনা আপনি মনে হবে সুখী-অসুখীর ব্যাপারটি৷’
অনেক গবেষকই বলছেন, ‘‘আপনার কত অর্থ প্রতিপত্তি আছে, সেটাও খুব একটা আমলে আসে না, ধর্তব্যে আসে না প্রাচুর্যের বিষয়টিও৷ গবেষক ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট লেন-এর বক্তব্য অনেকটা এই রকম৷ তিনি বলছেন, যখন মানুষ তাদের দারিদ্র্যকে পিছনে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা হন সুখী৷ এক্ষেত্রে অনেক বেশি আয়ও সুখী হবার বিচারে আসে না৷
যাহোক সেই বইতে অনেকে অনেক কথা বলেছেন৷ তবে সুখী কী করে হবেন তার কিছু রেসিপিও বাতলে দিয়েছেন তাঁরা৷ তারা বলছেন, সুখী হতে হলে প্রয়োজন খুবই ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বাসী বন্ধু, একটি স্থির প্রেমময় জীবন, নিজের যোগ্যতা অনুসারে একটি নিশ্চিত পেশা, জীবন চালিয়ে নেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ, দিনে অন্তত তিনটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এবং নিজের যা অর্জন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা৷
এই রেসিপিকে আরও একটু উন্নত করতে আরও পাঁচ তরিকা আছে৷ এগুলো হলো, এক বা একাধিক সন্তান গ্রহণ, বিধাতার উপর বিশ্বাস, অতিরিক্ত শিক্ষা, ভালো স্বাস্থ্য এবং সঙ্গে কিছুটা হতাশা৷
সূত্র: ডিডব্লিউ

‘বার্গম্যানের রায় পর্যবেক্ষকদের মতামত দেয়ার সুযোগ সংকীর্ণ করেছে’

আদালত অবমাননার অভিযোগে সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল (আইসিটি) ২রা ডিসেম্বর যে রায় দিয়েছে তা যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষকদের মতামত দেয়ার সুযোগ আরও সঙ্কীর্ণ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট এ কথা বলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইনের গর্হিত লঙ্ঘনে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশেষ আইসিটি গঠন করা হয়। ট্রাইবুন্যালটি গঠিত হবার পর থেকে এর আইনি বিধিমালা, বিচারপ্রক্রিয়ার নিয়মকানুন এবং চর্চা নিয়ে নানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া প্যাসিফিক পরিচালক রিচার্ড বেনেট বলেন, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখানোর পরিবর্তে আইসিটি তাদের কতিপয় সমালোচকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া চালিয়েছে। আর এতে যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের আপিল করার অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, বার্গমানের রায় সাংবাদিক আর মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক শীতল বার্তা পাঠিয়েছে, তা হলো- আইসিটি পক্ষপাতহীন সমালোচনা গ্রাহ্য করবে না।

‘বাবা বলেছেন ২০০ আসন পাব’ -এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানিয়েছেন আগামী নির্বাচনে তার দলের ১৫১ আসনে জয়ের লক্ষ্য থাকলেও তার ‘বাবা’ বলেছেন তারা ২০০ আসন পাবেন। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। দলটির ভাষায় সংবিধান রক্ষা দিবস হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। যদিও দেশের অন্যন্য রাজনৈতিক দল এ দিনটিকে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসেবে পালন করে। এরশাদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, শুনছি গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। এও শোনা যায় সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অনেকেই বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে । কারা এই টাকা পাচার করেছে? কত টাকা পাচার হয়েছে? তাদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। এসব টাকা ফেরত আনুন। ভর্তুকি দিন। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না।
জাপা চেয়ারমান বলেন ১৯৯০ সালের পর দেশে অনেক অসাংবিধানিক কাজ হয়েছে। আমার ভয়ে তৎকালীন সরকার প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন থেকে বেরিয়ে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। গণতন্ত্রকে ভালোবেসে তারা এ শাসন চালু করেনি। আমার ভয়ে ও আতঙ্কে। তিনি বলেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ১৯৯০ সালের এইদিনে ৬ই ডিসেম্বর  আমি ক্ষমতা ছেড়েছিলাম। সারাদেশের কোথাও আন্দোলন হয়নি। শুধু ঢাকায় কিছু আন্দোলন হয়েছিল। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি শাহাবুদ্দিনকে নিয়োগ করি। তার কাছে পদত্যাগ করি। শাহাবুদ্দিন আমাকে গ্রেপ্তার করেন। শাহাবুদ্দিন বেঈমান। ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। একইসঙ্গে  বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন। একদিন তার বিচার হবে ।
এরশাদ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কল-কারখানা বন্ধ করেছেন। ২০০কোটি টাকার কারখানা ২কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। মানুষকে বেকার বানিয়েছেন। আমাদের কাছে সব হিসাব আছে। সব হিসাব  নেবো। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে সব হিসাব নিবো। বিএনপি এখন যড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ষড়যন্ত্র করছেন। ঘরে বসে বৈঠক করছেন। লাভ নেই। মানুষ আপনাদের পরিত্যাগ করেছে।
এরশাদের জন্ম না হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো না দাবি করে তিনি বলেন, এরশাদের জন্ম না হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো না। মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে। শান্তিতে ঘুমাতে চাইছে। দুই দলের কাছ থেকে চিরতরে মুক্তি চাইছে। মানুষ শুনতে চায় এরশাদ কি কর্মসূচি দিচ্ছে। তাই জাপার আলোচনা সভা আজ মহাসমাবেশে পরিণত হচ্ছে।  দেশে এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে দাবি করে এরশাদ বলেন, এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। দুই দল থেকে মানুষ চিরতরে মুক্তি চায়। টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম ও  শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সন্ত্রাস এখন শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে গুম-খুন থাকবে না। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। এরশাদ বলেন, আমি স্বৈরাচার ছিলাম না। আমি সংবিধান সংরক্ষণ করতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি।  জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এস এম ফয়শল চিশতী, আবুল কাশেম, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাহিদুর রহমান টেপা, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা মান্নান প্রমুখ।

হাসিনার বক্তব্য নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নাকচ করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ওই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে অবহিত করতে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন।
তার জবাবে মার্কিন দূতাবাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র পদ্মা সেতুর সমর্থক ছিল এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা এল শাই শুক্রবার রাতে বলেন, সত্যিকার ঘটনা হল- বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কানেকটিভিটির গুরুত্ব অনুধাবন করে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কাজ করার একটা উপায় খুঁজে পাওয়ার জোরালো প্রবক্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মনিকা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বর্ণনা দেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয় সে জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সম্পর্কে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার জানা। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল এ নিয়ে পরিষ্কার মতপ্রকাশ করেছেন। তারপর নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট তার সিনেট শুনানিতে এ ব্যাপারে বলেছেন। সর্বশেষ নিশা বিসওয়াল বলেছেন, নির্বাচন কবে হবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ নির্ধারণ করবে।

মাঠের গৌরব, ভাস্কর্যে বিবর্ণ- অযত্নে ভেঙে গেছে চট্টগ্রামের ক্রিকেট ভাস্কর্য by সুজন ঘোষ

নাকানিচুবানি খেয়ে মাত্রই দেশছাড়া হয়েছে জিম্বাবুয়ে। হারারে পৌঁছার পরও নাকের জল, চোখের জলের তফাত করতে পারছেন না বেচারারা! তবে মাঠের লড়াইয়ে টাইগারদের যত দাপটই থাকুক, মাঠের বাইরের চিত্র একদমই আলাদা! ক্রিকেট খেলার কিছু মুহূর্ত ও খেলোয়াড়দের নিয়ে চট্টগ্রামে বেশ কিছু ভাস্কর্য রয়েছে। এর কোনোটিতে দেখা যায়, এক ব্যাটসম্যান কোনোরকমে হাতের গ্লাভসটা রক্ষা করতে পেরেছেন। তবে ব্যাটটি বাঁচাতে পারেননি। বল লাগার আগেই ব্যাট ভেঙে গেছে। বোলারদের অবস্থা আরও শোচনীয়। একজনের তো হাতই খুলে পড়ে গেছে! বলসহ হাতটি মাটিতে পড়ে আছে। ব্যাটসম্যান, বোলারদের যখন এই অবস্থা, তখন পুরো দলের কী হতে পারে! লাল-সবুজের জার্সিতে ধুলা জমতে জমতে বাংলাদেশের নামই মুছে যেতে চলেছে!
নগরের নিমতলা মোড়েই রয়েছে ১১ জন ক্রিকেটারের ভাস্কর্য। ভাগ্যিস! জিম্বাবুয়ে হয়তো চট্টগ্রামে এসে এসব ভাস্কর্য দেখার সুযোগ পায়নি। তাহলে মাঠের লড়াইটা হয়তো অন্য রকম হতো!
২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১১ ক্রিকেটারের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। একই সময় নগরের বিভিন্ন মোড়ে ফোয়ারাসহ স্থাপনাশিল্প নির্মাণ করা হয়েছিল। বরাবরের মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে এসব ভাস্কর্য এখন চট্টগ্রামের সৌন্দর্যহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রিকেটাদের ভাস্কর্যের মধ্যে চারজন ব্যাটসম্যান, চারজন বোলার, দুজন ফিল্ডার ও একজন উইকেটকিপার রয়েছে। চার ব্যাটসম্যানের তিনজনেরই হাতে ব্যাট নেই। একজন বোলারের হাত ভেঙে গেছে। ধুলায় ধূসর হয়ে পড়েছে লাল-সবুজের জার্সি। জার্সির পেছনে থাকা বাংলাদেশের নামও মুছে গেছে। গাড়ির ধাক্কায় ভেঙে গেছে সীমানাপ্রাচীর। টাইলসের ভাঙা অংশ সরানোরও কেউ নেই। নগরের লালখান বাজার মোড়ে স্থাপন করা দুই ক্রিকেটারের ভাস্কর্যের পরিণতি হয়েছে নিমতলা মোড়ের ক্রিকেটারদের মতোই।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক আকরাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে আনন্দ ও গৌরব এনে দিয়েছে ক্রিকেট। সে কারণে ক্রিকেটকে তুলে ধরার জন্য যে ভাস্কর্যগুলো নির্মিত হয়েছিল, ওগুলোর যথাযথ যত্ন নেওয়া উচিত। এটি যদি না হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক।’
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বায়োস্কোপ নামের একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছিল। কিন্তু করপোরেশন এসব স্থাপনার নিয়মিত যত্ন নিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। গত মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এরপর আর খবর নেই।
বায়োস্কোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জেসিন বলেন, ‘নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আমাদের খরচে এসব ভাস্কর্য ও স্থাপনাশিল্প নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সংস্কারের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা, তা পাইনি। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ তাঁর দাবি, এসব ভাস্কর্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে তা বহু বছর টিকে থাকবে।
নগরের নিমতলা মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য কামরুজ্জামান ও নজরুল বলেন, ভাস্কর্যগুলো রাতের আলোকিত করার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু আলোর শেডগুলো কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। সিটি করপোরেশন গাড়ি নিয়ে এসে ধুয়ে দিলেই পারে। তাহলে অন্তত একটু পরিষ্কার দেখাবে ভাস্কর্যগুলো।
নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের এই বেহাল অবস্থা সম্পর্কে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক মো. রাশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, উপলক্ষ ধরে ধরে সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পরিকল্পিত উপায়ে চিন্তাভাবনা করে নগরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কগুলো সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলে মূল্যবান অর্থের অপচয় বন্ধ হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরের কাজীর দেউড়ি ও প্রবর্তক মোড়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় স্থাপনাশিল্প বসানো হয়েছিল। বর্তমানে প্রবর্তক মোড়ের স্থাপনাশিল্পটির অস্তিত্ব না থাকলেও কোনোরকমে টিকে আছে কাজীর দেউড়ি মোড়ের স্থাপনাশিল্পটি। এটি এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের পোস্টারের জঞ্জালে ঢাকা পড়েছে। নিয়মিত সংস্কার না করায় পাতগুলো বেঁকে গেছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জেরিনা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এমনিতেই অর্থের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যেনতেনভাবে কিছু না করে পরিকল্পিতভাবে ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে ভাস্কর্য ও স্থাপনাশিল্প নির্মাণ করা উচিত। আর এখন যা করা হয়েছে, তাও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। এটিই খুবই দুঃখজনক।’
জিইসি মোড়ের সড়কদ্বীপের ফোয়ারায় একসময় বর্ণিল ছিল আশপাশের পরিবেশ। কিন্তু সে অবস্থা আর নেই। ঝলমলে ফোয়ারা এখন বিবর্ণ। ঝরনাধারাও থেমে গেছে। সেখানে জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। টাইগারপাস মোড়ের ফোয়ারাটিও নিষ্প্রাণ। এর পাশে থাকা লোহার পাত ও তার দিয়ে তৈরি করা প্রজাপতি ও ফড়িংয়ের শরীরে জং ধরেছে। সড়কদ্বীপের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে বসানো হয়েছে বিলবোর্ড।
এসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রিকেটারদের ভাস্কর্য ও ফোয়ারাগুলো সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। যাতে দৃষ্টিনন্দন হয়।’

ছিটমহলে খুশির জোয়ার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে আপত্তি নেই—ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যকার ছিটমহলগুলোর মানুষের মধ্যে বইছে খুশির জোয়ার। ওই চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হবে। সেখানকার মানুষ পাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। (ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি নেই, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পঞ্চগড়ের বোদায় পুঁটিমারী ছিটমহলের বাসিন্দারা খুশি। চলছে মিষ্টি বিতরণও l ছবি: প্রথম আলো) গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার ডাকুরহাট এলাকায় সমাবেশে সীমান্ত চুক্তিতে সমর্থন জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার চায় এই চুক্তি হোক। ...আমরা চাই সীমান্তের মানুষ ফিরে পাক তাদের মৌলিক অধিকার।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ১৬২টি ছিটমহল রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশের ছিটমহল আছে ৫১টি এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে ভারতের ১১১টি। এসব ছিটমহলে মোট ৫১ হাজার ৫৮৪ জন মানুষের বসবাস বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহসম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের পুঁটিমারী ছিটমহলে গিয়ে দেখা যায় সেখানকার নারী-পুরুষ-শিশুদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। অনেকই বলেন, এবার স্বাধীনতা পেতে যাচ্ছেন।
ছিটমহলের কানাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জমিলা (৯০) বলেন, ‘আমরা এত দিন শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। আশা করছি, আমাদের নাতি-পুতিরা এসব সুবিধা পাবে।’
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের দাছিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা যায় ছিটবাসীদের চোখেমুখে আনন্দ। কেউ কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ রেকর্ড করে নিয়ে এসে অন্যদের শোনাচ্ছেন। সেখানকার বাসিন্দা একটি বিমা কোম্পানির কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময় হলে আমরা বিমার কাজ সুস্থভাবে করতে পারব। ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো সমস্যা হবে না। জীবনমান উন্নত হবে।’
অপরদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোতেও গতকাল একই চিত্র ছিল বলে জানান দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, সব ছিটমহলে বইছে খুশির হাওয়া। এবার সেখানকার বাসিন্দারা একটি দেশের নাগরিক হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবেন। পাবেন ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড। হবে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, হাটবাজার। নতুনভাবে তাঁরা শুরু করতে পারবেন জীবন। এই স্বপ্নে এখন বিভোর ছিটমহলবাসী।
পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ছিটমহল বিনিময় ও সেখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনার জন্য ১১ ডিসেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লিতে বৈঠক বসবে। এতে রাজ্য সরকারের পক্ষে তিনি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র যোগ দেবেন।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন অমর সাহা, কলকাতা; সফি খান, কুড়িগ্রাম; শহীদুল ইসলাম, পঞ্চগড়]

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে বিবাদ- কুমুদিনী কলেজ ও কাদের সিদ্দিকী মুখোমুখি

(টাঙ্গাইলে বিরোধপূর্ণ একটি জমির দখল ঠেকাতে গতকাল নোটিশ টাঙাতে যান প্রশাসনের লোকজন। একপর্যায়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী সেখানে গিয়ে নোটিশ না টাঙানোর অনুরোধ করেন। অনুরোধ উপেক্ষা করেই নোটিশটি টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যদিও সেটি পরে খুলে নিয়ে গেছে কয়েকজন যুবক l ছবি: প্রথম আলো) টাঙ্গাইলে বিরোধপূর্ণ একটি জমির দখল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সরকারি কুমুদিনী কলেজ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। দখল ঠেকাতে জেলা প্রশাসন গতকাল শুক্রবার ব্যবস্থা নিতে গেলে তাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুমুদিনী কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কলেজের সামনে মূল চত্বরের বাইরে ৩২ শতাংশ জায়গা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৫৪ সালের ১৬ জুলাই বেলা রানী সিংহের কাছ থেকে কলেজের জন্য কেনেন। ১৯৭৯ সালে কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ার পর জমিটিও সরকারি সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জমিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে মালিকানা দাবি করে আসছেন কাদের সিদ্দিকীও। তাঁর দাবি, তিনি ১৯৭২ সালে মালিক কালিদাস রায়ের কাছ থেকে জমিটি কেনেন। ২০০৩ সালে পুকুরটির কিছু অংশ তিনি ভরাটও করেন। তখন এটি অর্পিত সম্পত্তির ‘খ’ শ্রেণির তালিকায় ছিল। পরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে তিনি অবমুক্তির মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল গত বছর ৩০ জুন তাঁর পক্ষে রায় দেন। ২৯ জুলাই খাজনাও দিয়েছেন।
কলেজ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার কাদের সিদ্দিকী জমিটির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করান। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ শরিফা রাজিয়া টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের পক্ষে নির্বাহী হাকিম ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসলাম মোল্লা পুলিশ নিয়ে গতকাল শুক্রবার ওই জমিতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘মালিকানা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার স্থাপনা/নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনা’ সম্বলিত নোটিশ টাঙিয়ে দিতে নির্বাহী হাকিম গতকাল বেলা ১১টার দিকে ওই জমিতে যান। একপর্যায়ে কাদের সিদ্দিকী তাঁর পক্ষে আদালতের দেওয়া রায়ের কপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেগুলো দেখিয়ে তিনি জমিতে ওই নোটিশ না টাঙানোর অনুরোধ করেন। তবে অনুরোধ উপেক্ষা করে নির্বাহী হাকিম নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন যুবক নোটিশটি খুলে নিয়ে যান। এ খবর জানার পর কলেজের শিক্ষকেরা কয়েক শ শিক্ষার্থীকে এনে বিরোধপূর্ণ জমিটির সামনে অবরোধ করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ শরিফা রাজিয়া বলেন, জমিটি কলেজের সম্পত্তি। অবৈধভাবে এটি দখলের চেষ্টা চলছে। তাই ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, জমিটির মালিকানা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত দখলের চেষ্টা না করতে নোটিশ টাঙানো হয়েছিল। সেটি কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি না। তাই আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। এ কারণেই নিজের জমিতে যাওয়ার পরও আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে।’

‘কপাল পুড়তে সময় লাগে না’

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, ‘কপাল খুলতে সময় লাগে, কিন্তু কপাল পুড়তে সময় লাগে না।’
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নূরে আলম সিদ্দিকী এ মন্তব্য করেন।
নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। অনেকে বলছেন, ২০১৯ সালে আবারও শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিতে হ্যাটটিক করবেন। তাঁদের বলতে চাই—কপাল খুলতে সময় লাগে, কিন্তু কপাল পুড়তে সময় লাগে না।’
নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আজকে যাঁরা সোহরাওয়ার্দীকে চেনেন না, মওলানা ভাসানীকে চেনেন না, তাঁদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কে, তাঁরা বলবেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করি না। শেখ হাসিনার কমিউনিস্ট লীগের বিরোধিতা করি। যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন কমিউনিস্ট লীগের বিরুদ্ধে কথা বলব, বিরোধিতা করে যাব।’
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সংসদ হচ্ছে আইন প্রণয়নের জায়গা। আমি লিখে দিতে পারি, ৮০ শতাংশ এমপি সংসদের কার্যপ্রণালি পড়েন না, জানেন না। তাঁরা জানেন, কীভাবে শেখ হাসিনাকে অর্চনা করতে হয়। আর সুযোগ পেলে খালেদা জিয়াকে গুষ্টি উদ্ধার করতে হয়।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। আজকে যিনি ক্ষমতায় আছেন, তাঁকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলা হয়। ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটি কি গণতন্ত্রের নির্বাচন? তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে।

বরকে ভাবির চুমু, বিয়ে ভন্ডুল

শুভযোগ দেখে মনে হচ্ছিল এ জুটি বুঝি স্বর্গ থেকে নির্ধারিত। অনুষ্ঠান ঠিকঠাকমতোই এগোচ্ছিল। বরসাজা দেবরকে তাঁর ভাবি আদর করতে গিয়ে একটু বেশিই আবেগ দেখালেন। টুপ করে চুমু খেয়ে বসলেন। আর যায় কোথা? কনে রেগেমেগে বিয়ের আসর থেকেই চলে গেলেন। ভেস্তে গেল বিয়ে।
আজ শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার ভারতের আলীগড়ে এ ঘটনা ঘটে।
ছেলে-মেয়ের দেখাদেখি পর্ব শেষে বিয়েটি ঠিক হয়। সব কিছু সুন্দরভাবে চলছিল। কিন্তু তখনো কেউ জানত না যে কী ঘটতে যাচ্ছে। আকস্মিকভাবে ঘটনা মোড় নেয় অন্য দিকে। দেবরের বিয়েতে ভাবি ছিলেন ভীষণ উৎফুল্ল। অতি উচ্ছ্বাসে বিয়ের আসরে সবার সামনেই তিনি বরকে চুমা দেন। বরের সঙ্গে নাচেনও।
এ দৃশ্য দেখে রাগে ফেটে পড়েন কনে ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে বিয়ের আসরেই দুই পক্ষের মধ্যে বেধে যায় তুমুল ঝগড়া। ঘটনার আকস্মিকতায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও রীতিমতো হতভম্ব।
বর-কনে পক্ষের ঝগড়া গড়ায় মারামারিতে। বরকে আটকে রাখে কনেপক্ষ। শেষমেশ ভেস্তে যায় বিয়ে। কনেপক্ষ বিয়ের আসর ছেড়ে চলে যায়। বউ ছাড়াই ঘরে ফেরেন বর।

সিরিয়ায় জিহাদে অংশগ্রহণের দায়ে দুই বাংলাদেশিসহ তিন ব্রিটিশের কারাদণ্ড

সিরিয়ায় কথিত জিহাদে অংশ নিয়ে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দায়ে তিন ব্রিটিশ নাগরিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের আদালত। এর মধ্যে মাসুদুর চৌধুরী (৩১) ও মোহাম্মদ আহমদ (২২) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। অপরজন ইউসুফ সারওয়ার (২২) পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এঁরা সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। গতকাল শুক্রবার লন্ডনের উলউইচ ক্রাইন কোর্ট মোহাম্মদ আহমদ ও ইউসুফ সারওয়ারকে ১২ বছর ৮ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাঁরা দুজনই বাল্যবন্ধু এবং বার্মিংহামের বাসিন্দা। অন্যদিকে মাসুদুর চৌধুরীর সাজা ঘোষণা হয় আগের দিন বৃহস্পতিবার। লন্ডনের কিংসটন ক্রাউন কোর্ট তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মাসুদুর পোর্টসমাউথের বাসিন্দা। গত মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। মাসুদুর সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।
মাসুদুর পোর্টসমাউথের আরো চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণকে নিয়ে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান। তাঁরা নিজেদের ‘ব্রিটানি বাংলাদেশি ব্যাড বয়েজ’ বলে পরিচয় দিতেন। বাকি চারজন এরই মধ্যে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন। গত এপ্রিলে সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মাসুদুর গ্যাটওইক বিমানবন্দরে আটক হন।
অন্যদিকে মোহাম্মদ আহমদ ও ইউসুফ সারওয়ার গত বছরের মে মাসে সিরিয়ায় যান। বন্ধুদের কাছে পাঠানো খুদে বার্তার সূত্র ধরে তাঁদের সিরিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে জানতে পারে পরিবার। মায়ের কাকুতি-মিনতির ফলে দীর্ঘ আট মাস পর তাঁরা ফিরে আসার পথে হিথরো বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, পাঁচ শতাধিক ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়া ও ইরাকে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল।  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘কোনো দেশ পাশে থাকলে আমরা বেঁচে থাকব, আর পাশে না থাকলে মরে যাব—এটা ভাবা ঠিক না। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়েই আমরা চলতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুই আনার মন্ত্রী বলায় দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক, টিআইবির দুর্নীতি প্রতিবেদন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথিত বৈঠকসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নানা প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেনি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয়, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। বন্ধ করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সবাই যে এসব কাজে একমত, তা না। সেখানে বাংলাদেশেরও বন্ধু আছে। তাঁদের সমর্থন সব সময় আমরা পেয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে আমি বলব, এই দেশটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। কাউকে ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না—এ চিন্তাটা না থাকাই ভালো। একটা দেশের সঙ্গে কখনো কখনো সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। তাই বলে একেবারে কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে, আমি সেটা মনে করি না। কূটনৈতিক সম্পর্ক কূটনৈতিকভাবেই চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েই আমরা চলতে চাই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি উত্তর না দক্ষিণ, পূর্ব না পশ্চিম, তা বিবেচনা করে চলে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, আমরা তা-ই করব। আমি ভালো থাকলে বন্ধুর অভাব হয় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী গোল। এটা মনে রাখতে হবে। পৃথিবী সারাক্ষণ ঘুরছে। এটাও মনে রাখতে হবে। ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে আমরা বাস করছি। আমাদের কূটনীতি সেভাবেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সি এম শফি সামি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ও সমসাময়িক বাস্তবতায় হয়ে থাকে। আবার কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকলে যে বিরাট বিপর্যয় ঘটবে, তা-ও নয়। তবে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পোশাকশিল্প প্রভৃতি বিবেচনায় বুঝেশুনে ও সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। আমরা তখন শুনেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এটা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংক তন্নতন্ন করে বিশ্বব্যাপী খুঁজেও দুর্নীতি পায়নি। তারা অনেকভাবে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।’
টিআইবি সময় সময় সরব: টিআইবির দুর্নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কী কারণে সময় সময় সরব হয়, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০০১ সালের জুন মাসের আগেও তারা প্রতিবেদন দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে আমরাও যাচাই করব। যাঁরা আজ কথা বলছেন, তাঁদের ইনকাম কী? টাকাটা কোথা থেকে আসছে? কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে হিসাবটাও নেওয়া হবে। জবাবদিহি সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘যারা সত্যিকার দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে টিআইবিকে কখনো শুনেছেন?’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কে কাকে ২০০ টাকা ঘুষ দিল, ট্রাক থেকে কে ১০ টাকা নিল—এসব খুচরা বিষয় নিয়ে আসা হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশটা আছে, যেখানে দুর্নীতি নেই? আমরা সরকারে আছি। আমরা নিজেরা কোনো দুর্নীতি করছি কি না, সেটা বলুন। যদি তাই করতাম, তাহলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের ওপরে উঠত না। কিন্তু যে বীজ বপন করে গেছেন সামরিক শাসকেরা, সেখান থেকে রাতারাতি কীভাবে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা সম্ভব?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিআইবির উদ্দেশ্য দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা সুদৃঢ় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রীও এটা চান। আর এ জন্য আমরা নিজেদের সরকারের সহায়ক শক্তি বলে মনে করি।’
কে বা কোন দল ক্ষমতায় আছে, তা বিবেচনা করে টিআইবি কাজ করে না দাবি করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির সময়ে পর পর চারবার দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল।
টিআইবির অর্থসূত্র প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘টিআইবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এনজিও ব্যুরোর অনুমতি সাপেক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনা করে।’
দুর্নীতি করে টাকাও বানিয়েছে, ইজ্জতও কিনেছে: কারও নামোল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে দুর্নীতি করে টাকা তো বানায়ই, ইজ্জতও কিনে নেয়। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেরাই চিন্তা করেন। এতগুলো চ্যানেল দিয়েছি। মালিকদের একটা সংগঠন করেছে। কাকে নেতা বানিয়েছে? সে এত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলো কীভাবে? টাকা দিয়ে সে ইজ্জত কিনে নিয়েছে। টিআইবি কখনো এ ব্যাপারে একটা টুঁ শব্দ করেছে? করেনি। টাকা পাচার হয়েছে, আমরা উদ্ধার করেছি।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে দিয়েছেন। তিনি আদালতেও যেতে চান না। এ ব্যাপারে তো কেউ কথা বলেন না, টক শোতেও কথার ঝড় ওঠে না। তাঁর ছেলে লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। একজনও কি টক শোতে টুঁ শব্দ করেছেন? করেননি। কারণ, তারা টাকা দিয়ে ইজ্জত কিনে নিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সভাপতি ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু বলেন, ‘অবৈধ আয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। কখনো অবৈধ আয় করিনি, করবও না। ২০-২৫ বছর ধরে যে আয় ও ব্যয় করেছি, তা সরকারের ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ আছে।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথিত বৈঠক: শুক্রবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার কথিত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনের বরখেলাপ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মানুষের মনে সন্দেহ জাগে, এত গভীর রাতে ডাকা হলো কেন? এটা আগেও ঘটেছে। উত্তরা ষড়যন্ত্রের কথা আপনাদের তো মনে আছে।
বিমানে সোনা চোরাচালান: বিমানে সোনা চোরাচালান সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে প্রতিমুহূর্তে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই সোনাদানা ধরা পড়ছে। তিনি দাবি করেন, যারা এসবের সঙ্গে দায়ী না, পত্রপত্রিকায় তাদেরও দায়ী করা হচ্ছে। বিমান চেয়ারম্যানের পালকপুত্র বানানো হয়েছে। আজেবাজে কথা লেখা হচ্ছে। এর সত্যতা নেই। যে দুজন জড়িত, তাদের ধরা হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের ছাড়াতে যাননি।
এইচ টি ইমামের বক্তব্যের দায় তাঁর নিজের: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলেন। মাঝেমধ্যে দলের জন্য তা সমস্যার সৃষ্টি করে। সবাই কথা বলে যাচ্ছেন। তবে এ কথা উনি কেন বলেছেন, তা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করুন। এ বক্তব্যের দায় তাঁর। উনাকে কিছু করতেও বলিনি, বলতেও বলিনি।’
ছাত্রলীগ: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একমাত্র আওয়ামী লীগই ব্যতিক্রম যে, কে কোন দল করে, তা না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেইনি। কার জামাই, কার ভাগনে, তা না দেখে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডে যুবদলের নেতা জড়িত থাকলেও টক শোতে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।’
প্রশ্ন ফাঁস: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে প্রশ্ন ফাঁসের দরকার হতো না। প্রশ্ন আগেই দিয়ে দেওয়া হতো তাদের ক্যাডারদের হাতে। আমাদের সময়ে কখনো একটা-দুইটা দুর্ঘটনা যখনই ঘটেছে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্যবস্থা না নিলে কথা থাকত।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন এবং মালয়েশিয়া সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়া সফরকে সফল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বিদ্যমান সুসম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চালকদের গ্রাম by আবদুর রহমান

(যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার প্রস্তুতি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জামিরাপাড়া গ্রামের কয়েকজন চালকের l ছবি: প্রথম আলো) ছোট্ট গ্রামের মধ্য দিয়ে চলে গেছে মাধাইয়া-নবাবপুর সড়ক। এরই এক পাশে ছেংগাছিয়া, অন্যপাশে নিচন্তপুর গ্রাম। পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। প্রকৃতির অপরূপ শোভায় ঢাকা ছোট্ট এই গ্রামটি জামিরাপাড়া। ড্রাইভারদের গ্রাম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার থেকে জামিরাপাড়ার দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের এই গ্রাম আদতে কৃষিপ্রধান। বাঙ্গি, তরমুজ, টমেটো, করলা, শসা, কৈডা, গোল আলু, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকুপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা সবজির ভালো ফলন হয় এখানে। হয় বোরো ধানের বাম্পার ফলন। কিন্তু কৃষির জন্য পরিচিতি পায়নি গ্রামটি। পেয়েছে হতদরিদ্র অবস্থা থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো গাড়িচালকদের জন্য। গ্রামের সাড়ে তিন শ পরিবারের অর্ধেকের বেশি পরিবারের পুরুষ সদস্যই গাড়িচালক।
গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মশু মিয়া (৬০) ও অটোরিকশাচালক স্নাতক শিক্ষার্থী ওয়ালীউল্লাহ (১৮) জানালেন, এই গাড়িচালকদের সংগ্রামগাথা। গত তিন দশক ধরে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গ্রামের স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীও গাড়ি চালিয়ে বাবাকে সাহায্য করছে। তাদের আয় জনপ্রতি ৪০০ থেকে হাজার টাকা। তা দিয়েই চলছে ভরণপোষণ ও লেখাপড়া।
এককালের অতি দরিদ্র এই গ্রামের নাম এখন অনেকেরই মুখে মুখে। প্রতিদিন ভোর হতেই পুরুষেরা গাড়ি চালাতে বাড়ি থেকে বের হন, ফেরেন সেই মধ্যরাতে। সংসার, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েও টাকা জমিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। অটোরিকশার পাশাপাশি চালান অন্যান্য যানবাহনও। পরিবারের কর্তাদের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর যিনি পথ দেখিয়েছেন, তিনি গ্রামের আবদুল আউয়াল মিস্ত্রি (৫৮)।
ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুর কথা: ৩০ বছর আগে আবদুল আউয়াল পড়তেন পঞ্চম শ্রেণিতে। তখন বাবা মারা যান। জমিজমা বলতে কিছুই রেখে যাননি তিনি। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে লেখাপড়া ছেড়ে ওই সময় শিশু আউয়ালই ধরেন পরিবারের হাল। প্রথমে চাচা হাজি আনু মিয়ার কাছ থেকে সেলাই শেখা। পরে হাটে হাটে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে সেলাই করা।
দাদা-দাদি, মা, ছোট ভাই ও তিন বোনের পরিবারের সবার মুখে আউয়ালকে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে হতো কাপড় সেলাইয়ের ওই সামান্য টাকা দিয়েই। এভাবে চলল ১০ বছর। পাশের মহিচাইল গ্রামের পরিচিত শাহীন মিস্ত্রি চালাতেন নরসিংদীতে বেবিট্যাক্সি। এক দিন তাঁর পরামর্শেই আউয়ালও শুরু করেন এই ট্যাক্সি চালানো। পাঁচ বছর পর নিজেই কিনে ফেলেন একটি বেবিট্যাক্সি। সঙ্গে সংসারেও আসে সচ্ছলতা।
বর্তমানে একটি বাড়ি, পাঁচ বিঘা জমি আর দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক আউয়াল। ছয় ছেলেমেয়ের সবাইকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। এক ছেলে পড়ছে স্নাতকে। এতেই থেমে থাকেননি তিনি। গ্রামের অর্ধশতাধিক লোককে শিখিয়েছেন ট্যাক্সি চালানো। তাঁরা সবাই এখন স্বাবলম্বী।
টুকরো টুকরো গল্প: গ্রামের মশু মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সাবেক সদস্য। গুরুতর অসুস্থ বাবা এবং মা ও চার বোনের সংসারের হাল ধরতে তাঁকেও ছাড়তে হয়েছিল লেখাপড়া। পরে আউয়ালের কাছ থেকে শিখে শুরু করেন ট্যাক্সি চালানো। এ আয় থেকেই বাবার চিকিৎসা, পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে বোনদের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচিত হয়েছিলেন ইউপি সদস্যও।
মশু মিয়া বলেন, সততা থাকলে গাড়ি চালিয়েও সফল হওয়া সম্ভব। আউয়ালের মতোই ড্রাইভিং পেশাকে তিনি কেবল নিজের মধ্যে রাখেননি। একজন, দুজন করে পঁচিশজনকে শিখিয়েছেন। গ্রামের বেকার যুবকেরা তা শিখে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছেন এখন।
সম্প্রতি গ্রামটি ঘুরে শোনা গেল সচ্ছলতা ফেরানোর আরও কিছু গল্প। গাড়ি চালিয়ে গ্রামের জসিমউদ্দিন তিনটি অটোরিকশা কেনার পর সম্প্রতি মালিক হয়েছেন একখণ্ড বাড়িরও। মোছলেম নামের আরেকজন জানালেন, তিনি এক ছেলেকে কাতার পাঠিয়েছেন, আরেক ছেলেকে কিনে দিয়েছেন অটোরিকশা।
মহিচাইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু মুছা মজুমদার বলেন, দেশে দক্ষ গাড়িচালকদের চাহিদা রয়েছে। এ গ্রামের অধিকাংশ লোক বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালিয়ে নিজেদের অভাব ঘোচানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদেরও লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের এই প্রচেষ্টার কথা ছড়িয়ে পড়েছে অন্য গ্রামেও। তাই তো জামিরাপাড়া হয়ে উঠেছে ‘ড্রাইভারদের গ্রাম’।

রাস্তার পাশে ২ নবজাতকের লাশ

বরুড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কশামী গ্রামে রাস্তার পাশে ২ নবজাতকের লাশ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, গতকাল বরুড়া-চান্দিনা সড়কের পৌর এলাকার কশামী গ্রামে রাস্তার পাশে একটি কার্টুন পড়ে থাকতে দেখে। কার্টুনে কি আছে- এই নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। নামাজের পর গ্রামবাসী কার্টুনটি খুলে দেখে ২ নবজাতক মেয়ে শিশুর লাশ। কে বা কারা কার্টুনটি ফেলে গেছে তার হদিস পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহ আলম জানান। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নবজাতক ২টির লাশ এলাকায় দাফন করা হয়।

নারীর প্রাণের বন্ধু

মন ভেঙে গেছে! আমার আর কিচ্ছু হবে না! এভাবে বেঁচে থাকার কী মানে! চাকরিটা আর ভালো লাগছে না! ইচ্ছা করে সব ছেড়েছুড়ে কোথাও চলে যাই! এমন সবকিছু ভেঙে পড়ার অনুভূতি তো হতেই পারে কখনো কখনো। কিন্তু চাইলেই তো আর রাতারাতি সব পাল্টে ফেলা যায় না। আগে তো নিজেকে সামলাতে হবে। সামলানোটা কঠিন। কিন্তু বন্ধুরা সেটা সহজ করে দিতে পারে। বন্ধুর কাঁধ পাষাণের ভার বইতে পারে। বন্ধুর হাত নিরাশ্রয়ের আশ্রয় হতে পারে। ছেলেই হোক কিংবা মেয়ে বন্ধু লাগেই। তবে কিছু সময় আসে, যখন মেয়েরা ছেলে আর ছেলেরা মেয়ে বন্ধুকেই খুঁজে নিতে চান। নিজেকে নির্ভার করে নিতে, নিজেকে সামলে নিতে এই সম্পর্কের চেয়ে ভালো দাওয়াই আর কিছুই হতে পারে না। তা সে সৎ পরামর্শদাতা বুদ্ধিমান বন্ধু, না-বলা কথা শোনার মুক্তমনা বন্ধু, জরুরি কাজে কিংবা নিছকই কেনাকাটায় সঙ্গী হওয়া উদার বন্ধু কিংবা একটু-আধটু নির্দোষ প্রেমালাপের বন্ধু যা-ই হোক না কেন। দুঃসময়ে মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে অতুলনীয় এমন সব ছেলেদের গল্প শুনি চলুন।
সদানন্দ
নিজের মুখে হাসি থাকুক বা না থাকুক, তাঁর পাশে থাকলে মন খারাপ করে বসে থাকার কোনো সুযোগই নেই। এঁরা এমন জাতের মানুষ, যাঁরা সবকিছুকেই হাসিমুখে সহজভাবে নিতে পারেন। আপনার জীবনের কঠিন আঘাতের দিনটিতেও নেহাতই চা-শিঙাড়ার আড্ডাতেও এঁরা সব ভুলিয়ে দিতে পারেন! মন খারাপের দিনে এমন ছেলের সঙ্গে আড্ডা দিন, সময় কাটান। কিন্তু পথেঘাটে আড্ডার সঙ্গী এই বন্ধুটিকে ভালো করে বুঝে নিন। ছুটির দিনে কিংবা দূরের ঘোরাঘুরিতে প্রতিদিনের হাসি-খুশি মানুষটি একই রকম না-ও থাকতে পারে!
প্রাণখোলা
অনেক সময় এমন হতেই পারে যে প্রাণ খুলে কথা বলার দায়েই আপনার সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করল। স্পষ্ট ভাষায় সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাটাই আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও সবাই তা না-ও করতে পারেন। তবে কিছু ছেলে আছে, যাঁদের কাছে আপনি খুব সহজেই মনের কথাগুলো খুলে বলতে পারবেন। এঁরা মন দিয়ে কথা শুনবেন, বোঝার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে নিজের কাছাকাছি অভিজ্ঞতার কথা বলেও আপনাকে সমর্থন দেবেন। আর হ্যাঁ, আপনার ভুলটাও কিন্তু রাখঢাক ছাড়াই বলে দিতে পারেন তিনি। প্রাণ খুলে কথা বলতে চাইলে ভালো-মন্দ সবটুকু শুনতেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
সবজান্তা
সারাক্ষণ একটা ‘ভাব নিয়ে’ ঘুরে বেড়ানো ঘোলা কাচের চশমা পরা ‘আঁতেল’ ছেলেদের থেকে বেশির ভাগ মেয়েই দূরে দূরে থাকে বটে। কিন্তু জীবন সম্পর্কে সবকিছু ‘জেনে বুঝে’ যাওয়া এমন ছেলেরা কিন্তু একটা মেয়ের জন্য একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার দারুণ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন। অনেক দিন ধরে চেনা থাকলেও কাছে না ঘেঁষা ছেলেটির সঙ্গে মিশে দেখুন। আপনার জীবনের অনেক না মেলা ধাঁধারও উত্তর মিলে যেতে পারে তাঁর কাছ থেকেই। আর সামাজিক পরিসরে আপনার মেলামেশায় নতুন মাত্রাও এনে দিতে পারে এমন একটা বন্ধু।
নিষ্কাম
একটা মেয়ের জীবনে সবচেয়ে দারুণ বন্ধুটাই হয়ে উঠতে পারে একটা ছেলে। কোনো লুকানো যৌন আকাঙ্ক্ষা চাপা দেওয়া না থাকলে ছেলে-মেয়েতে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই যে কেউ ঈর্ষা করবে। সাধারণ বিচার-বিবেচনার বাইরে গিয়ে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন—দেখবেন, এমন নিষ্কাম বন্ধুত্বের হাত ঠিকই মিলে যাবে আপনারও। এমন বন্ধুদের নাম তো মোবাইলের স্পিড ডায়ালে থাকা দরকার।
রোমাঞ্চ-প্রিয়
বাঘের চোখ দরকার হলেও তাঁকে বলতে পারেন! এই ছেলেদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয় যেন! সারাক্ষণই যে অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকেন এঁরা। এমন বন্ধু পাওয়া কিন্তু সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। বিনা নোটিশে হুট করে পাহাড়ে কিংবা সাগরে রওনা দেওয়া কিংবা সন্ধ্যায় শাহি কাবাব আর পেস্তা-বাদামের শরবত খাওয়া দুটোকেই সমান রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারেন এই ছেলেরা। এমন কাউকে পেয়ে গেলে হেলায় হারাবেন না। নিজেকে হারিয়ে ফেলে নিজেকে ফিরে পেতে এই ছেলেদের তুলনা কেবল এঁরাই।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২২তম বার্ষিকীতে প্রণব-মোদিকে অনুরোধ

ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২২তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর মোগল সম্রাট বাবর শাহের আমলে নির্মিত বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দুটি মুসলিম সংগঠন, বাবরি মসজিদ-রামের জন্মভূমি বিতর্ককে কেন্দ্র করে যতো মামলা রয়েছে, সেগুলো সুপ্রিম কোর্টে তোলা এবং মামলাগুলোর শুনানিও একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্নের অনুরোধ জানিয়েছে। বিতর্কিত ওই স্থানেই বাবরি মসজিদ পুনঃনির্মাণের দাবি জানান তারা। সম্ভাব্য যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। অল ইন্ডিয়া বাবরি মস্ক রিবিল্ডিং কমিটি (এআইবিএমআরসি) ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইউনিটি ফ্রন্টের (এআইএমইউএফ) সদস্যরা আজ নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের যে কোন রায় মুসলমান সম্প্রদায় মেনে নেবে। বিতর্কিত ওই স্থানেই বাবরি মসজিদ পুনঃনির্মাণের দাবি জানান তারা এবং দাবি সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে লেখা একটি স্মারকলিপি তাদের কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়া মুসলমানরা বলছেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে ফেলার মাধ্যমে কয়েকটি সংগঠন সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের ধর্ম-নিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মসজিদটি পুনঃনির্মাণের মাধ্যমেই তা ফিরে পাওয়া সম্ভব। শুধু চেন্নাইয়ের বিভিন্ন উপাসনালয়, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরসমূহ, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, হোটেল, মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকাসমূহে  ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৪ কমিশনার, ৪ জয়েন্ট কমিশনার ও ১৯ ডেপুটি কমিশনার এই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। একই সঙ্গে থাকবে বোমা শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহু স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। বাবরি মসজিদের স্থলে হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮৫৩ সালে শুরু হওয়া বিরোধ চরম আকার ধারণ করে এবং ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। হিন্দু ধর্ম বিশ্বাসীদের মতে, ওই স্থানেই দেবতা রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার পর মুসলমানদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সমুদ্রপথে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে ৫৩,০০০ মানুষের পলায়ন

২০১৪ সালে সমুদ্রপথে আদম পাচার ও চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত বোটে করে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই স্থান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলমান। বোটগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। যাত্রাপথে সলিলসমাধি হয়েছে ৫৪০ জনের। উদ্বেগজনক এ পরিসংখ্যান দিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এড়াতে ও বাংলাদেশে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পালাচ্ছেন। বাংলাদেশীরাও আরও উন্নত ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় একই পথ ধরছেন। ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতেও পাড়ি জমাচ্ছে অনেকেই। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়েছেন। বাকি ৩ হাজার মানুষ মিয়ানমারের সিটওয়ে এলাকা ছেড়ে যান। এর মধ্যে শুধু গত ২ মাসেই ২১,০০০ মানুষ সমুদ্রপথে দেশ দুটিতে পাড়ি জমান। ২০১৩ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের তুলনায় এ হার শতকরা ৩৭ শতাংশ বেশি। এদিকে যে বোটগুলোতে তারা সমুদ্র পাড়ি দেন, সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় পানি ও খাবারের তীব্র সংকটতো রয়েছেই। উপকূল থেকে অতিরিক্ত আরোহী বোটে ওঠানোর জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে আদম পাচারকারীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। তাতে কয়েক সপ্তাহও পার হয়ে যায়। সে কারণে প্রচ- দুর্ভোগ পোহাতে হয় বোটে থাকা আরোহীদের। অনেকেই প্রচ- অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৪ সালে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে বোটডুবির কবলে পড়ে ৫৪০ আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পালিয়েছেন। আদম পাচারকারীরা প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু ১,৬০০ ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। এদিকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর শ’ শ’ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃতদের কেউ কেউ শরণার্থীর মর্যাদা দাবি করছে এবং কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

‘আগে রাজনীতিবিদরা উচ্চ আদালতে বিচার পেতেন, এখন উচ্চ ও নিম্ন আদালতে তফাৎ নেই’

দুই ঘণ্টার আলোচনায় প্রশ্নটি এসেছে বারবারই। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে জনগণের কি লাভ হলো? হতাশাজনক উত্তরই দিলেন বেশিরভাগ আলোচক। পৃথকীকরণের সাত বছর পরও উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন খুঁজে পাননি তারা। আইনের শাসন আর গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়। বৃটিশ আমলের আইনে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন আলোচকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘পৃথকীকরণের সাত বছর’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোতুর্জার সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন সংবিধান ও আইন বিশ্লেষক মিজানুর রহমান খান। মূল প্রবন্ধে মিজানুর রহমান খান বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণ নীতি থেকে ক্ষমতাসীন সরকারি দল ধীরে ধীরে পিছু হটছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে দেয়া মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে এ সত্যের প্রমাণ পাওয়া যাবে। তবে পৃথককরণের ফলে কি সুফল মিলেছে সে বিষয়ে একটি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের নামে একশ’র বেশি আইনের অধীনে বিচার বিভাগ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। অথচ এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংসদ বা তার বাইরে কোন আলোচনা হয়নি। সবটাই করা হচ্ছে গোপনে। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, পাকিস্তান আমলে বেশিরভাগ মামলায় রাজনীতিবিদরা নিম্ন আদালতে ন্যায় বিচার না পেলেও উচ্চ আদালতে বিচার পেতেন। এখন নিম্ন ও উচ্চ আদালতে কোন তফাৎ নেই। আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট শফিকুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর সালেহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী,  ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সাবেক জেলা জজ একেএম ইশতিয়াক হোসেন।

ভর্তি পরীক্ষায় বাড়তি ফি- ২৬ প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নানা খাত দেখিয়ে ফরম পূরণ বাবদ বাড়তি ফি আদায়ের দায়ে রাজধানীর ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে বাড়তি আদায় করা অর্থ আগামী ৭ দিনের মধ্যে ফেরতের নির্দেশনা দিয়েছে। গত সোমবার বোর্ড থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। সূত্র বলছে, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার বোর্ডের নির্ধারিত টাকা চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো- এ ধরনের সংবাদ সংবাদপত্রে প্রকাশের পর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করে। সেখানে বাড়তি অর্থ কেন আদায় করা হবে জানতে চেয়ে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চায় কোর্ট। এরপর বোর্ড বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিভিন্ন স্কুলে সরজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে ২৬টি প্রতিষ্ঠানে বাড়তি টাকা আদায় করার প্রমাণ পায় এবং এই টাকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেয়ার সুপারিশ করেছে এবং তা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি সতর্ক নোটিশ জারি করেছিল ঢাকা বোর্ড।
বেশি টাকা নেয়া রাজধানীর স্কুলগুলো হচ্ছে- মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, রায়হান কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ওয়াই ডব্লিউ সি এ স্কুল, হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দ্য চাইল্ড ল্যাব. স্কুল, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, জান্নাত একাডেমি, হাজী বিল্লাত আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল, আরমনিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গভ. ল্যাব. হাইস্কুল ও মোহাম্মদপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দিলারা হাফিজ বলেন, ইতিমধ্যে বাড়তি ফি আদায়কারী প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। এখনও পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেয়ার খবর আমরা পাইনি। তবে আশা করছি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা অর্থ ফিরিয়ে দেবে। অন্যথায় ওইসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএসসির ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে ৮ গুণ বেশি ফি আদায় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পরিপ্রেক্ষিতে ১১ই নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। এরপরই থেকে স্কুলে স্কুলে সতর্কবার্তা জারি ও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বোর্ড। এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড ফি বিজ্ঞান বিভাগ ১০৮৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ৯৯৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি ১০০ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।