Thursday, December 24, 2009
রাজর্ষি হাসন রাজা ও তাঁর জীবন by সৌমিত্র দেব
তিনি নিজেই তাঁর গানে বলেছেন, ‘বাউলা কে বানাইলো রে, হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে।’ হাসন রাজার জীবনযাত্রা মোটেও বাউলদের মতো ছিল না। তিনি গৃহী ছিলেন, সংসারী ছিলেন। বৈষয়িক জ্ঞানও যে তাঁর খুব কম ছিল, সেটা বলা যাবে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি ছিলেন বাউল। সহজ-সরল অনাড়ম্বর চলাফেরায় তিনি বাউলদের নৈকট্য অনুভব করতেন। সামন্তবাদী পারিবারিক কাঠামোয় বাউলদের জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। হাসন রাজার দৌহিত্র দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বলেছেন, বাউল-ভাবনা থাকলেও হাসন রাজা বাউল ছিলেন না। কিন্তু বাউলদর্শন যে তাঁকে প্রভাবিত করেছিল, সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তিনি অস্বীকার করেছিলেন। মোল্লা-মুনশির বিপক্ষে তিনি অনেক গান রচনা করেছেন। তিনি কোনো মাধ্যম ধরতে চাননি। সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুফিবাদী চিন্তা লালন করেছেন। বলেছেন, ‘আমি যাইমু গো যাইমু আল্লাহর সনে।’ বলেছেন আল্লাহর রূপ ও আল্লাহর রঙের কথা। এ কথাগুলো শরিয়তের সঙ্গে খাপ খায় না। মারফতি তত্ত্বের সঙ্গে মেলে। তবে এসব তত্ত্বই ভাববাদী দর্শন। এর মধ্যে ফুটে উঠেছে অসার সংসার, ক্ষণস্থায়ী জীবন ও জগতের নিষ্ফল আনন্দ। তিনি জীবনের প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করেছেন। সেসব নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে ছাড়েননি। বলেছেন, ‘আর করবায়নি হাসন রাজা দেশও দেশও বিয়া।’ একাধিক গানে তাঁর ছড়িয়ে আছে মৃত্যুচেতনা। তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন। জানতেন, মৃত্যু তাঁর কাছ থেকে প্রিয় জমিদারি লক্ষ্মণশ্রী রামপাশা সব কেড়ে নেবে। তবে তাঁর এই কবিতা ও গানকে বস্তুবাদী দর্শন দিয়েও ব্যাখ্যা করা যায়। এর মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের নিরর্থকতা যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি সেই নিরর্থকতাকে তাত্পর্যপূর্ণ করে তুলতে চেয়েছেন তাঁর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে। হাসন রাজা নদী পছন্দ করতেন। হাওর পছন্দ করতেন। ভালোবাসতেন নৌবিহার। তাঁর গানের দল নিয়ে বজরায় ভেসে যেতেন। সুনসান জ্যোত্স্না রাতে চলত হাসন রাজার নৌবিহার। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন দিলারাম ও উদাই জমাদার। দিলারাম অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন। তাঁকে নিয়ে হাসন রাজা গানও লিখেছেন। উদাই জমাদারের সঙ্গেই বিয়ে হয়েছিল দিলারামের। এভাবেই জীবনকে উপভোগ করতেন হাসন রাজা। মানুষ ও প্রকৃতি—দুটোই তাঁকে আকৃষ্ট করত।
হাসন রাজা পাকাবাড়ি পছন্দ করতেন না। সাদাসিধা ঘর ছিল তাঁর। এ নিয়ে গানেই বলেছেন, ‘লোকে বলে বলে রে, ঘরবাড়ি ভালা নাই আমার। কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাঝার...।’ কথিত আছে, এক অতিথি তাঁকে তাঁর ঘর কোথায় জিজ্ঞেস করলে তিনি কবরখানা দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
আরেকবার তিনি এলাকার বাইরে সফরে থাকা অবস্থায় তাঁর ইংরেজ কর্মচারী পাকাঘর বানানোর চেষ্টা চালায়। ফিরে এসে এটা দেখে তিনি তত্ক্ষণাত্ সেটা ভেঙে ফেলার হুকুম দেন এবং ইংরেজ কর্মচারীকে বরখাস্ত করেন। এগুলো পর্যালোচনা করলে হাসন রাজার পাকা ঘরে নিরাসক্তির কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। মনে হয় তিনি হয়তো ভাবের ঘোরে এসব কাজ করেছেন। বাস্তবে এর অন্য কারণও আবিষ্কৃত হয়েছে। হাসন রাজার ছেলেবেলায় সিলেটে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।
তিনি দেখেছিলেন পাকা বাড়ি ধসে পড়া। ঘটনাটি তাঁর কিশোরমনে রেখাপাত করতে পারে। আর সে কারণেই হয়তো পাকা বাড়ি দেখলে তিনি ভীত হয়ে পড়তেন। আবার বাউলচিন্তাও যে কাজ করেনি, এ ব্যাপারে সেটাও বলা যাবে না। মোট কথা, তিনি ধর্মীয় দর্শনের দিক থেকে যেমন সমন্বয়বাদী চিন্তা করেছেন, তেমনি বস্তু ও ভাবের মধ্যেও সমন্বয় করেছেন।
সে কারণে হাসন রাজা যেমন গানের রাজা, তেমনি লোকেরও রাজা। লোক বলতে এখানে লোকসাহিত্য বোঝানো হচ্ছে। তাঁর জীবনদর্শন আলোচনা করলে একই সঙ্গে একজন রাজা এবং একজন ঋষিকে খুঁজে পাওয়া যায়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইনি প্রতিকার ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন by এ এম এম শওকত আলী |
সম্প্রতি বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে একটি সেমিনারে আইনমন্ত্রীসহ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমান কমিশন যথেষ্ট শক্তিশালী। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী এ কথাও বলেছেন যে সরকার বর্তমান আইন সংশোধনের চিন্তা করছে। আইনগত দিক দিয়ে বর্তমান কমিশন যদি শক্তিশালীই হয়, তাহলে আইনের অধিকতর সংশোধনের প্রয়োজন কেন? তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অন্যদিকে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, এ কমিশনের প্রধান দুর্বলতা লোকবলের অভাব। কমিশন এখনো কাঠামোগত দিক দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ অর্জন করেনি। এ কারণেই কমিশন কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের দুটি অংশ। এক. কমিশনের অন্য সদস্যদের অবিলম্বে নিযুক্ত করা। দুই. কমিশনের দাপ্তরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ। এ দুটি বিষয়ই সরকারের আওতাভুক্ত। অবশ্য এ কথা সত্য যে শেষোক্ত বিষয়ে সরকার ক্ষমতাবান হলেও নিয়োগ দেবে কমিশন। এ জন্য প্রয়োজন নিয়োগ বিধিমালা। কমিশনের চেয়ারম্যান ওই সেমিনারে জানিয়েছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট বিধির খসড়া প্রণয়ন করেছেন। এখানেও রয়েছে আরেকটি ধাপ। খসড়া চূড়ান্ত করতে হলে সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন। এ ধাপ অতিক্রম করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ, আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামত না নিয়ে কোনো খসড়াই চূড়ান্ত করতে আগ্রহী নয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য আইন মন্ত্রণালয়ই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় মনোযোগী হলে খসড়া বিধি চূড়ান্ত কম সময়েই করা সম্ভব। তবে যে খসড়া ইতিমধ্যে প্রণীত হয়েছে, তা বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে। কাজেই আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ আইনকে অধিকতর সংশোধন করা হবে। অর্থাত্ নতুন বিধির প্রয়োজন হবে।
এ পর্যায়ে একটি মৌলিক প্রশ্নের অবতারণা করা যায়। প্রশ্নটি হলো, কোন কমিশন এর আইন দ্বারা নির্দিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান করে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এ ব্যতিক্রমের ভিত্তি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে এ কমিশনের যেকোনো অনুরোধ অলঙ্ঘনীয়। একমাত্র উচ্চতর আদালতই এর ব্যতিক্রম করতে ক্ষমতাবান। তবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ক্ষমতাকে উচ্চতর আদালত কখনো অবজ্ঞা করবেন না। এ জন্য কোনো কোনো সময় নাগরিক সমাজের কিছু ব্যক্তি কমিশনগুলোকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উত্থাপন করে। এ দাবি করার সময় তাঁরা ভুলে যান যে সংসদীয় কমিটির সুপারিশেরও বাস্তবায়ন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনই একটি দাবি তাঁরা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য। সরকার অবশ্য সে দাবি মেনে নেয়নি। কারণ, সংসদীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হলেও গৃহীত হয়নি। আমরা অনেকেই সর্বক্ষেত্রে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ আইনি ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। এ বিশ্বাসের কারণ, সরকারের ওপর কারও আস্থা নেই। এ অনাস্থার কারণ সরকারকে সবাই অত্যাচারের উত্স হিসেবে দেখে।
সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রথায় সবকিছুই আইন দিয়ে হয় না। এটা প্রথাগতভাবে স্বীকৃত। এ বিষয়ে কার্যকর প্রথা হলো অলিখিত নীতি বা নিয়ম। এর আওতায় কোনো সরকারই সংসদ বা অন্য কোনো সংস্থার জনস্বার্থবিষয়ক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে না। কারণ, প্রত্যাখ্যান করলে তারা জনরোষের শিকার হবে। একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত, তা হলো, কোনো তথাকথিত শক্তিশালী কমিশনের সব সিদ্ধান্তই যে আইনসিদ্ধ বা জনস্বার্থের সপক্ষে নয়, তা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক-এগারোর পরবর্তী যে নির্যাতন কিছুসংখ্যক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে করেছিল, তা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, অনেক সিদ্ধান্তই দুককের অজ্ঞাতে করা হয়েছে। সবাই জানে, এ নির্যাতনের উত্স কে বা কারা।
সম্প্রতি মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে একজন প্রধান আইনজীবী এ প্রশ্নের অবতারণা করে মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান সরকারও মানবাধিকার কমিশন স্বীকৃত মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, যে গুটিকয়েক ব্যক্তি এটা করেছেন, তাঁরা এখনো দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই এ পর্যন্ত নেয়নি। তিনি এর আগে একটি টিভিতে বলেছিলেন, এ কমিশন আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী। অর্থাত্ একে অধিকতর শক্তিশালী করার প্রয়োজন নেই।
কমিশনের বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন তিনি করেছেন, উচ্চতর আদালত সম্পর্কে একই অভিযোগ করা সম্ভব। ২০০৭ সালে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এ আদালত ছিলেন নিশ্চুপ। কিছু ক্ষেত্রে হাইকোর্টে এর প্রতিকারমূলক সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেও আপিল বিভাগও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত দেন। ২০০৮ জানুয়ারি থেকে অবশ্য এ দৃশ্যপট বদলে যায়। অন্যদিকে একই ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে রিমান্ড মঞ্জুর করেন স্বাধীন বিচার বিভাগের অধস্তন আদালত।
স্বাধীন বিচার বিভাগসহ যেকোনো কমিশন শক্তিশালী হোক, এটা সবারই কাম্য। তবে কমিশন ও বিচার বিভাগ সমার্থক নয়। বিচার বিভাগ সংবিধানে স্বীকৃত একটি অন্যতম রাষ্ট্রীয় অঙ্গ। কমিশনগুলো সংসদ স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। অর্থাত্ কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি সংসদই নির্ধারণ করবে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। এসব কমিশনের ক্ষমতার গণ্ডি নির্দিষ্ট আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ বাস্তব সত্য অস্বীকার করলে হিতে বিপরীত হবে।
কমিশন সম্পর্কে মূল অভিযোগটি উত্থাপিত হয় ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সময়মতো সরকার দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়। কমিশন এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে। কমিশনের পক্ষে এ ধরনের সুপারিশ করা কি যুক্তিযুক্ত? কারণ, এ বিষয়ে আইনি বিধান স্পষ্ট। সে বিধান পালিত হচ্ছে না। সরকার প্রথমে এ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা, ইংরেজিতে জিরো টলারেন্সের অভিপ্রায় প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে বর্তমানে বিপরীতধর্মী কথা বলছে। সরকার বলছে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন দ্বারা ক্ষমতাবান। এ কথা সত্য। কিন্তু এ প্রসঙ্গে দুটি বিষয়ে সরকার নীরব। এক. আইনে এ কথাও বলা আছে, এ ধরনের ঘটনা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবং এ ধরনের অনুসন্ধান হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অনুসন্ধানের অতিরিক্ত। ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধানের পর যদি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে গুলি ছুড়ে নিহত করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না, তাহলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বেকসুর খালাস পাবে। অর্থাত্ তাদের বিরুদ্ধে হত্যার বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ আনা যাবে না। দুই. যদি অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় যে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগ করাটা যুক্তিযুক্ত হয়নি, তাহলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারের ব্যর্থতা হলো, আজ পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত যতগুলো হত্যা হয়েছে, তার কয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং এর মধ্যে কয়টি অনুসন্ধানে গৃহীত বা যথার্থ বলে প্রমাণিত এবং কয়টি নয়, তা এখনো কেউ জানে না। শেষোক্ত বিষয়ে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? এসব তথ্য মানবাধিকার কমিশন সরকারের কাছে চেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ না করেই হঠাত্ আইনি গণ্ডিবহির্ভূত একটি কমিটি গঠনের দাবি করা কি যুক্তিযুক্ত? যে বিষয়টি দৃশ্যমান, তা হলো, সরকারের নির্বাহী যন্ত্র অনেকাংশে অকার্যকর। টিভি ক্যামেরার সামনে খণ্ড খণ্ড বক্তব্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হলে ভালো হবে। যে বিষয়টি দৃশ্যমান, তা হলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সভার পর সভা এবং নির্দেশের পর নির্দেশ। এত সভা ও নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী যন্ত্রকে ভারাক্রান্ত করা এবং এর সময়ক্ষেপণ করলে কাজ হবে কখন।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বিষয়টি হলো, কথায় কথায় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কমিটি গঠন। এ ধরনের প্রবণতা মাঠ প্রশাসনকে দুর্বল ও অকেজো করে দেয়। কারণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বা অপরাধ দমনে অস্ত্র ব্যবহার করলে সে বিষয়টি মাঠ পর্যায়েই ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিভাগীয় তদন্ত করার দায়িত্ব আইন ও বিধিতে স্বীকৃত। কয়েক যুগ ধরে এ প্রথা নির্বাসিত করা হয়েছে। একটি সহজ উপায়কে জটিল থেকে জটিলতর করার প্রক্রিয়ার ফলে মাঠ প্রশাসন বর্তমানে দুর্বল। তাদের আইন দ্বারা স্বীকৃত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ সে দায়িত্ব পালিত হচ্ছে সচিবালয়ে। ফলে আইন দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচিবালয়সহ মাঠ প্রশাসনও ব্যর্থ হচ্ছে। এ জন্যই প্রশাসনে বর্তমানে বেহাল অবস্থা দৃশ্যমান। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী বারবার বলতে বাধ্য হচ্ছেন যে প্রশাসনকে সচল করতে হবে। সচিবদের একাধিকবার এবং সম্প্রতি মন্ত্রীদেরও তিনি তাঁর গভীর উত্কণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। তবে এর সুফল এখনো পাওয়া যায়নি।
বিচারবহির্ভূত হত্যার মূল প্রশ্ন হলো দুটি। এক. অপরাধী হোক বা নিরপরাধই হোক, তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় না এনে হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুই. অপরাধীদের এ ধরনের হত্যার মূল গডফাদারকে আইনের আড়ালেই রাখা হয়। কারণ, এতে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা সমূলে বিনষ্ট হয়। অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যক্তিদের সাফাই হলো, অপরাধীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে আত্মরক্ষার্থে তাদেরও পাল্টা গুলিবর্ষণ করতে হয়। এবং এটা আইনসিদ্ধ। এ ধরনের পাল্টা গুলি করা আইনসিদ্ধ কি না, তার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অনুসন্ধানের আইনি বিধানও রয়েছে। সে বিধানটি যথাসময়ে প্রয়োগ করলে সরকার অহেতুক সমালোচনার শিকার হতো না। কেন এটা যথাসময়ে করা হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যাও ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত উদ্দেশ্য হবে, বিচারবহির্ভূত হত্যার আইনি প্রতিকার। এ ধরনের হত্যাকে ঢালাওভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা না বললেও হয়। বরং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের প্রতিকার করা উচিত হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তি এ ধরনের হত্যার শিকার হয়েছে, যা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুটি পদক্ষেপ নেওয়া আশু প্রয়োজন। এক. যেসব নিরপরাধ ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় নিহত হয়েছেন, সে কেসগুলো অবিলম্বে আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া। দুই. যত অভিযোগ আজ পর্যন্ত পাওয়া গেছে, সেগুলো সম্পর্কেও একই পদক্ষেপ নেওয়া এবং মানবাধিকার কমিশনসহ জনগণকে অবহিত করা।
এ এম এম শওকত আলী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া’র নতুন কাহিনী -তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু
সেতুর জন্য তহবিল দিয়েছে কুয়েত। অতএব ২০০৬ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিন বছর পার হয়ে গেছে। আগামী বছরের মে মাসে সেতু চালু করেও দেওয়া হবে। অথচ সেতুর সঙ্গে লাগসই সড়ক নির্মাণের চিন্তা এসেছে অতি সম্প্রতি। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছে। আগে না হলেও এবার অর্থ দেবে সরকার স্বয়ং। অথচ সড়ক ও সেতুর কাজ একসঙ্গে শুরু হলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা আগেই গতিশীল করা যেত। প্রথম আলোয় প্রকাশিত গত সোমবারের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমানের শাহ আমানত সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার গাড়ি চলাচল করে। তৃতীয় বড় সেতুটি চালু হলে ১২ থেকে ১৩ হাজার গাড়ি চলবে। কিন্তু বর্তমানের সরু সড়ক দিয়ে সেটা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অদূরদর্শিতাই শুধু নয়, খামখেয়ালিরও প্রমাণ মেলে। নির্মাণকাজ মানেই বড় অঙ্কের অর্থের কারবার। অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এতে সরকারি-বেসরকারি অনেকেরই অতি আগ্রহ দেখা যায়। কী বানানো হচ্ছে, কেন বানানো হচ্ছে, অনেক সময় তার হুঁশ থাকে না। তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুকাহিনী ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ জাতীয় বাস্তবতাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভুল হয়েছে, তার সংশোধন প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ে সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেলে সেতুর দুই পাশের সড়ক সংস্কার করে চার লেনের করা যায়। এটি এমনভাবে করতে হবে, যাতে সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সড়কের কাজও শেষ হয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনী ইশতেহার-বহির্ভূত এজেন্ডা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
কোনো রকমে বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ছাট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি। হঠাত্ গলা কাশার আওয়াজ পেলাম। একটি ঘরের ভেতরে দৃষ্টি গেল। দেখি, পোড়োবাড়ির ভেতরের এক ঘরে বসে এক ক্ষৌরকার এক লোকের মাথা কামাচ্ছে।
প্রবল জোরে বর্ষণ শুরু হলো। অপরাহ্নেই যেন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এল। একপর্যায়ে দেখলাম, মাথা কামানো শেষে নাপিত পুরো শরীর কামানো শুরু করেছে। নাপিতের ক্ষুর চলতে থাকল অতি নিপুণ হাতে। আমার চোখ ততক্ষণে কপালে উঠে গেছে।
নরসুন্দরের এই বিশেষ কাস্টমারটির হয়তো পরিশুদ্ধ হয়ে পাপমুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া ছিল ওটি। মনের মধ্যে যত আবর্জনাই থাক, শরীরের সবকিছু সাফ করে অতীতের পাপ ধুয়েমুছে নদীতে গিয়ে ডুব দিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার আকুলতা কারও থাকলে দোষ কি?
অনেক দিন পরে ওই ঘটনাটি আমার মনে নতুন তাত্পর্য নিয়ে দেখা দেয়; বিশেষ করে ২৮ পৌষ যেদিন আমাদের দেশে এক গায়েবি সরকারের আবির্ভাব ঘটে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে আমার ওই পোড়োবাড়ির সেদিনের দৃশ্য বারবার মনে পড়তে থাকে। তাঁরা জাতির জীবনের যাবতীয় দোষ ও আবর্জনা এক সিটিংয়ে পরিষ্কার করতে চাইলেন। দুর্নীতির লেশমাত্র থাকবে না দেশে, তা নির্মূল ও দমন করতে কমিশন গঠিত হলো। যাঁরা অতীতে দুর্নীতি করেছেন—রাজনৈতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি—তাঁদের পিঠ মোড়া করে বেঁধে জালি দেওয়া প্রিজনভ্যানে নিয়ে তুললেন। দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত রেহাই পেলেন না। ফুটপাতকে ফিটফাট করতে হকারদের লাঠিপেটা করে তাড়ালেন। আইনবহির্ভূত বাড়িঘর স্থাপনাগুলোয় বুলডোজার দিয়ে মারলেন ঠেলা। ধমাধম বাড়িঘর দালানকোঠা ধসে পড়তে লাগল। আকাশচুম্বী র্যাংগ্স ভবনকেও ছাড় দিলেন না। নির্মল আনন্দে সেখানে পড়ল হাতুড়ির বাড়ি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আড়াই শ গজের মধ্যে আধা ডজন শ্রমিকের লাশ ঝুলে রইল এক সপ্তাহ। হাজার হাজার বীর বাঙালি সেই দৃশ্য উপভোগ করল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাঙালি নারীর রাঁধুনি হিসেবে সুনাম আছে, এক কাঁচকলা দিয়ে দশ ব্যঞ্জন তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেনা নেতৃত্বাধীন সেই গায়েবি সরকার দেখিয়ে দিল, এক গোলআলু দিয়ে কত পদ রান্না করা সম্ভব। খাওয়ার টেবিলে আলুর আইটেমগুলো দেখে আমাদের মিডিয়া ও সমাজপতিরা বললেন, সোবহান আল্লাহ। একাত্তরের ডিসেম্বরে যে চালের দাম ছিল ৩৮ টাকা মণ, সরকার সেই চাল খাওয়াল ৪২ টাকা কেজি। দক্ষ কুমার যেভাবে মাটি ছেনে পুতুল বানায়, সেইভাবে ওই সরকার পুরোনো নেতৃত্ব বাতিল করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে চাইল। রাশি রাশি টাকা ঢেলে গড়ল নতুন নতুন দল। একপর্যায়ে তাদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ছিল, অথবা তাদের সঙ্গে ক্ষমতা শেয়ার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাদ সাধল জনগণ। আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকেরা পিছু হটলেন। হঠাত্ তাঁদের মধ্যে গণতন্ত্রের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটল। বললেন, নির্বাচন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কোনো রকমে কেঁদে বাঁচো।
গণতান্ত্রিক সরকার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এ দেশের মানুষের কখনো কখনো, তবে গায়েবি সরকার আমরা দেখেছি বহুবার: ১৯৫৮-তে, ’৭৫-এ, ’৮২-তে এবং ২০০৭-এ। গায়েবি সরকার রাতারাতি অনেক কিছু সাফসুতরো করতে পারে, গণতান্ত্রিক সরকার তা পারে না। কিন্তু বারবার লক্ষ করেছি, আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের গুরু যেন গায়েবি সরকারগুলো। গায়েবি সরকারের স্বৈরাচারী ফিলোসফিকেই আদর্শ ও দর্শন হিসেবে গ্রহণ করে নির্বাচিত সরকারগুলো। আর একটি জিনিস লক্ষ করেছি যে গণতান্ত্রিক সরকারের নাভিশ্বাস না ওঠা পর্যন্ত তাদের হুঁশ হয় না। বাহাত্তর-পঁচাত্তরের সরকারের হুঁশ ছিল না, গায়ের জোরে তারা কাজ করা পছন্দ করত এবং তার মূল্য দিতে হয়েছে। ওই সরকারের কুমন্ত্রণাদাতা ও মোসাহেবদের গায়ে আঁচড়টিও পড়েনি।
১৯৯১-৯৬ সরকারের হুঁশ না থাকায় খেসারত দিতে হয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১-এর সরকার প্রথম বছর দুই-তিন ভালোই ছিল, তারপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে। মূল্য তাকেও দিতে হয়। ২০০১-২০০৬-এর সরকার অতিরিক্ত আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ায় খুশিতে বেহুঁশের ঘোরে প্রথম দিন থেকেই গাইতে থাকে: প্রথম বাংলাদেশ আমাদের—শেষ করা পর্যন্তও বাংলাদেশ আমাদেরই। তাদের জুনিয়ার পার্টনারের কাছে গান-বাজনা হারাম, বাংলা গান আরও হারাম। তবু তাঁরা সুর না করে শুধু আওড়ান: বাংলাস্থান, পাকিস্তান, আরব জাঁহা হামারা, সারে জাঁহা আচ্ছা, বাংলাস্থান আচ্ছা। স্বাধীনতা আমরা এনেছি—ক্ষমতায় চিরকাল আমাদের থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের বাড়াবাড়িতে বিশ্বায়নের যুগে বিদেশি বন্ধুরাই যে মুখ ভার করল তা-ই নয়, দেশের মানুষও বেঁকে বসল। পরিণাম ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ম্যান্ডেট।
মানবজাতির রাজনৈতিক শব্দভান্ডারে কিছুকাল যাবত্ মার্কিনদের উদ্ভাবিত একটি নতুন শব্দ ‘রোডম্যাপ’ যোগ হয়েছে। দুনিয়াটা কোন দশকে কীভাবে চলবে, তার একটা মহা রোডম্যাপ করাই আছে। কোন দেশ কোন সরকারের নেতৃত্বে, কীভাবে চলবে, তার জন্য আছে আলাদা রোডম্যাপ। এবং সেই রোডম্যাপ মোতাবেক না চললে বা সরকার না চালাতে পারলে, কোথাকার কোন সরকারকে কীভাবে টোকা দিয়ে সরিয়ে দিতে হবে, তারও রোডম্যাপ আছে। তারপর কোন গোত্রকে কী প্রক্রিয়ায় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে হোক বা গায়েবি প্রক্রিয়ায় হোক, ক্ষমতায় বসাতে হবে, তারও রোডম্যাপ করা আছে। সুতরাং খাতির জমায় বসে থাকার কোনো কারণ নেই। সবই ওপরওয়ালাদের ইচ্ছা। অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল বেনজিরকে সরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানে এক রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অন্য রকম রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ মোতাবেক হয়নি, জনগণ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে বেশি ভোট দিয়ে ফেলে। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী হন। গণতন্ত্রকে যাঁরা ধর্মশাস্ত্রের মতো পূজা করেন, তাঁরা এক বছরও প্রচণ্ডকে ক্ষমতায় থাকতে দিলেন না, তাঁকে ফেলে দিলেন। তাঁরাই আবার মিয়ানমারের সু চির জন্য সারা রাত জেগে চোখের পানিতে বুক ভাসান। সামরিক স্বৈরতান্ত্রিক মিয়ানমারের পাশে চীন না থাকলে এত দিনে কতবার যে সেখানে সরকার বদল হতো, তার ঠিক নেই। এগুলোকে বলে রোডম্যাপ। বাংলাদেশ রোডম্যাপের বাইরে নয়।
প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক রোডম্যাপের সঙ্গে সংগতি রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নিজস্ব রোডম্যাপ ছিল। অঘোষিত কিছু এজেন্ডাও নিশ্চয়ই থাকবে। কিন্তু এক বছরে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়ে ইশতেহার-বহির্ভূত ব্যাপারেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বিরোধী দল হাত-পা-মেরুদণ্ড ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকায় সরকার নানা রকম এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি উত্সাহ বোধ করছে। জনগণ জাতিগঠনমূলক কাজই পছন্দ করে, এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তো দূরের কথা, চার বছর পরের নির্বাচনে যে জয়লাভ করা যাবে, সে ব্যাপারে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে হটাতে পারবে না। এ ধরনের চিন্তা হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি কাজ না করি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করি, তবে আবার ক্ষমতায় আসব—এমন চিন্তা আমি করি না। আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষও করে না।’ [ইত্তেফাক]
কাকে উদ্দেশ করে তিনি এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন বলা মুশকিল, তবে সঠিক কথাই বলেছেন। ওই একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রশাসনে বিভিন্ন পদে থাকা রাজাকার এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকর্তাদের তালিকা দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণসহ নাম বলতে পারলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
জনাব ইমাম শান্ত, নম্র ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব; প্রশাসনিক ব্যাপারে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের, প্রবাসী সরকারের তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রশাসনের নাড়ি-নক্ষত্র তিনি জানেন, তাঁর সমসাময়িক ও সামান্য পরবর্তী কর্মকর্তাদের চরিত্রও তাঁর ভালো জানা। একাত্তরের রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী কারও পক্ষে কি এখন চাকরিতে থাকা সম্ভব? তাঁরা তো ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। এখন যাঁরা চাকরিতে আছেন, তাঁদের চাকরি জীবনের শুরু আশির দশকে। এখন প্রশাসনে যদি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী বলে কর্মকর্তাদের খোঁজা হয়, তাহলে তা হবে হিংসা-প্রতিহিংসার খেলা। এ ঘোষণায় প্রশাসন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সমস্যাজর্জরিত দেশে মন্ত্রিপরিষদের অসংখ্য কাজ। কেবিনেট সভায় বড় বড় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ১৪ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন, যদিও তা এজেন্ডাভুক্ত ছিল না। নতুন নাম কী হবে—এ নিয়ে উপস্থিত সদস্যরা একাধিক নাম প্রস্তাব করলেও হজরত শাহজালাল (রহ.) নামকরণের ব্যাপারে সব সদস্যই একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যেসব স্থাপনার নামকরণ হয়েছিল, তা আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নাম পরিবর্তনের নোংরা কাজটি খালেদা জিয়াও করেছিলেন। তাঁর নিজের নামে ও জিয়ার নামে বহু প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে সাভারে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম করা হয়েছিল শেখ হাসিনার নামে। বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন ওই নাম তুলে দেয়, তখন ঘৃণায় আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল এবং আমি আমার কলামে প্রতিবাদ করেছিলাম। বরিশালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে বলার কিছু নেই, কিন্তু ‘জিয়া’র নাম পরিবর্তন কোনো রকম যুক্তির মধ্যে পড়ছে না।
১৯৮১-তে জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর নামে তত্কালীন সরকার বিমানবন্দরের নামকরণ করে। তখন বেগম জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন না। জিয়া শুধু সেক্টর কমান্ডার নন। পাঁচ বছর রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন। দেশের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম ছিল। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শাসক ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা দুর্নীতিগ্রস্ত। ব্যক্তিগত জীবনে জিয়া দুর্নীতির ঊর্ধ্বে ছিলেন। জিয়ার জানাজায় যত মানুষ হয়েছিল, পৃথিবীর কম মুসলমানের জানাজায় তত লোক হয়েছে। প্রতিটি দেশের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস থাকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১-র ইতিহাস জিয়াকে বাদ দিয়ে হবে না। প্রশাসক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের কোনো শাসকের চেয়ে খারাপ ছিলেন, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। জিয়া পাঁচ বছর বাংলার শাসক ছিলেন, শেরশাহ চার বছর ভারতের শাসনকর্তা ছিলেন—১৫৪০ থেকে ১৫৪৪। তাঁর নামে নয়াদিল্লিতে বিরাট শেরশাহ রোড আছে।
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জিয়া পাঁচ বছরে একটি অসৌজন্যমূলক উক্তিও করেননি। নিহত হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে তিনি দক্ষিণ বাংলা থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আসার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার আন্তরিক প্রশংসা করছিলেন। তবে নিশ্চয়ই তাঁর রাজনীতি ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিপরীত আদর্শের রাজনীতি। জিয়ার রাজনীতির যখন আমরা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করব, সেখানে তিনি সমালোচিত হবেন।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিমান প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশে অবস্থানকালে বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। পত্রিকায় খবর হওয়া মাত্র রাজপথে নেমে পড়েছিল মানুষ। জিয়ার কবরসংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেক থেকে ভাসমান সাঁকোটি রাতের বেলা সিলেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এসব খুবই নিম্নমানের প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এসব করে কোনো অবস্থাতেই কেউ লাভবান হতে পারে না। জিয়ার পেছনে এই সরকার যত লাগবে, তত জিয়ার অনুরাগীরা বঙ্গবন্ধুর দোষত্রুটি খুঁজে বের করে প্রচার করবে। শেষ পর্যন্ত বেশি ক্ষতি কার, সেটা ভেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীরা ছিটেফোঁটা পেয়ে ঘাপটি মেরে আছেন। কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলেও তাঁরা নীরবতাই অবলম্বন করবেন, যেমন করেছিলেন ২৮ পৌষের পরে পৌনে দুই বছর। অথবা উদীয়মান শক্তিকে বলবেন: আমরা তো মহাজোট সরকারের কাজকারবার সমর্থন করিনি। তখন তা বললে পাওয়া যাবে নতুনদের থেকে নতুন সুবিধা। এ-ই তো হচ্ছে ৪০ বছর যাবত্। দুঃখের বিষয় হলো, সরকারকে সত্ পরামর্শ বা সাবধান করার কেউ নেই।
তড়িঘড়ি করে যাবতীয় কাজ করতে গিয়ে গায়েবি সরকার নিজেদের জন্য যে বিপদ ডেকে এনেছিল, মহাজোট সরকারও সেই পথই ধরেছে। এই সরকারের হিতার্থীরা শনিবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ আজও বিপদমুক্ত হয়নি। আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটতে পারে। আশার কথাও বলা হয়েছে: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও দলীয় টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে পারলে আগামী ৫০ বছরেও বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না। পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘সরকারের ভেতরে যে অস্থিরতা চলছে, তা আমরা মোকাবিলা করতে পারছি না।’ এই সরকারের বিপর্যয় ঘটলে বিএনপিই যে ক্ষমতায় আসবে, তার নিশ্চয়তা কি? আরও তো ‘দেশপ্রেমিক’ শক্তি থাকতে পারে? পঁচাত্তরের আগস্টে জাসদ বা ভাসানী ন্যাপ ক্ষমতায় যায়নি, অজ্ঞাতনামারাই গিয়েছিল।
যেকোনো দূরদর্শী ক্ষমতাসীন দলের উচিত, শত্রুর সংখ্যা কমিয়ে আনা, বাড়ানো নয়। গণতন্ত্রকামী প্রত্যেক মানুষ চায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং যথাসময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন। কিন্তু সরকার নিজেই যদি অস্থিতিশীলতা ডেকে আনে, তখন জনগণের কিছুই করার থাকে না। আশা করি, সরকার প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দেবে এবং খুব ভেবেচিন্তে কাজ করবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
করিডরে স্লোগান বন্ধ করুন -হাসপাতালে নির্বাচনী ডামাডোল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০টি পদে নির্বাচন হবে; প্রার্থী হয়েছেন শতাধিক কর্মচারী। নানা রঙের পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে গেছে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা। কোনো কোনো বাসায় দেখা যাচ্ছে বিশালাকার নির্বাচনী প্রতীক। এমনকি খোদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে পুরো হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো শুরু হয়েছে নির্বাচনী পোস্টার। ইতিমধ্যে হাসপাতালের কিছু নামফলকও ঢাকা পড়েছে পোস্টারের নিচে। কিছুদিন আগে বিপুল অর্থ ব্যয় করে হাসপাতালের যেসব দেয়ালে চুনকাম করা হয়েছে, সেগুলো হয়েছে বরবাদ।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে চলছে মিছিল-সমাবেশ। কর্মঘণ্টা চলাকালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা—ওয়ার্ডবয়, এমএলএসএস ও আয়ারা—নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করছেন। যেন তাঁরা চাকরি করেন না, দায়িত্ব পালন বলে কোনো বাধ্যবাধকতার ব্যাপার নেই।
আর কী অদ্ভুত ব্যাপার, হাসপাতালের এই সেবাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থনে মিছিল করছেন হাসপাতালের ভেতরই, বিভিন্ন করিডর প্রকম্পিত হচ্ছে তাঁদের সোচ্চার স্লোগানে। কাণ্ডজ্ঞান কি হারিয়ে গেল? হাসপাতাল যে অতি স্পর্শকাতর স্থান, তার ত্রিসীমানায় যে গাড়ির হর্ন বাজানো থেকে শুরু করে সব ধরনের শব্দদূষণ সভ্য সমাজে নিষিদ্ধ—এই বোধ যদি হাসপাতালের সেবাকর্মীরা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে হাসপাতাল কি আর হাসপাতাল থাকে?
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে তোলা দরকার। প্রথমত, এই নির্বাচনী প্রচারণার আড়ম্বর থেকে খুব স্পষ্ট যে প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। প্রশ্ন হলো, কেন? বোঝা যায়, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের পদগুলো লোভনীয়। কিন্তু কেন, কী কারণে ও কী পন্থায় পদগুলো লোভনীয় হয়ে উঠল? দ্বিতীয়ত, যেসব প্রার্থী নির্বাচনে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন, তাঁদের এত অর্থের উত্স কী? কত টাকা তাঁদের আয় এবং কত টাকা তাঁরা ব্যয় করছেন?
আমাদের মনে হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত, কেউ অভিযোগ না করলেও এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া।
আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খোদ পরিচালক যখন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার কারণে হাসপাতালকে তাঁর আর হাসপাতাল মনে হচ্ছে না, তখন বোঝা যায়, কী পারঙ্গমতার সঙ্গে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীরা রোগ-যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছেন, আর সেবাকর্মীরা দায়িত্ব-কর্তব্য ফেলে ভোট দিন ভোট দিন বলে চিত্কারে করিডরগুলো তোলপাড় করছেন।
হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিত্সার বিঘ্ন ঘটিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালানো অন্যায়। হাসপাতালের ভেতরে, করিডরে স্লোগান বন্ধ করুন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন -শ্রদ্ধাঞ্জলি by মুহম্মদ সবুর
সাহস তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে একুশের প্রথম কবিতা, ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’। ’৪৭ সালে দেশবিভাগ, ’৫০-এর দাঙ্গা, পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী স্বাক্ষর সংগ্রহ, বিশ্বশান্তির জন্য পরিষদ গঠন—সবকিছুতেই সাহসের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে কঠিন বাধা অতিক্রম করেছেন। অতি তরুণ বয়সেই প্রকাশ করেছেন সাহিত্য পত্রিকা সীমান্ত। চট্টগ্রামে তাঁর উত্থানকালে ছিলেন তিনি প্রাগ্রসর এক প্রগতিমনস্ক সমাজ-সংগঠক। রাজনীতিতেও ছিল নিবেদন। দৈনিক সংবাদপত্রও প্রকাশ করেছেন। গান, নাচ, নাটক, আবৃত্তি—সবখানেই ছিলেন উদ্যোক্তা-সংগঠক। নিজে গান লিখে গেয়েছেনও। মানবকল্যাণের ব্রত তাঁকে সম্পন্ন মানবের অবয়ব দিয়েছিল বৈকি।
একুশ মানে যে মাথা নত না করা, তা দেখেছি কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জীবনে। অন্যায়ের কাছে, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, হীনম্মন্যতা, ধর্মান্ধতার কাছে নত বা আপস নয়; বরং এসবের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর নিরন্তর লড়াই। সাংগঠনিক শক্তিমত্তার পাশাপাশি লেখনীসত্তাকেও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শাসক বা প্রাতিষ্ঠানিকতার কাছে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানুষ ছিলেন না, বরং সাহসের সঙ্গে কুশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। হুলিয়া মাথায় নিয়েও স্তব্ধ হয়ে যাননি। সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকার তাঁকে অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিতে উত্সাহ জুগিয়েছে।
এমনই মানুষ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী যে, বয়সের পার্থক্যরেখা তাঁর জন্য কোনো বাধা ছিল না। অনায়াসে শিশু থেকে প্রবীণ যে কারও সঙ্গেই সাবলীলভাবে মিশে যেতে পারতেন। প্রখর স্মৃতি-সম্পর্ক রক্ষার ব্রতকে সবল করেছে। একবার দেখা হওয়া মানুষকে সহজে ভুলে যেতেন না। যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতেন নিজে থেকেই।
শিশুর সরল হাসিটি তাঁর মুখে লেগে থাকত পরিণত বয়সেও। শিশুদের জন্য ছড়া লেখার কাজটিও তিনি করেছেন সযত্নে। ছেলে ভোলানো নয়, ছেলে জাগার এবং যুদ্ধে যাওয়ার ছড়া লিখেছেন। সংবেদনশীল কবিসত্তার অধিকারী মানুষটির সান্নিধ্য মিলেছে যতক্ষণ, পুরোটাতেই থাকত নিত্যনতুন স্বপ্নের কথকতা, সেই সঙ্গে অতীতের স্মৃতিময় ইতিহাসবাহী দিনগুলো। নির্যাস মিলত অনেক অজানা, অদেখা, অচেনা মানুষ ও ঘটনার। যাঁরা মূর্ত হয়ে উঠতেন কবির বর্ণনায়।
ছিলাম যারা নানা সময়ে কাছাকাছি, সান্নিধ্যের উষ্ণতায় তৃপ্ত, জীবনের জয়গানে উদ্দীপ্ত, তাদের কাছে ছিলেন তিনি হিমালয়সম এক মানব। হূদয়ের দুকূল ছাপিয়ে অজান্তে টেনে নিতেন কাছাকাছি। জীবনের সফলতা তাঁর কাছে অন্য রকম। সে তাঁর ১৯৫৭ সালে লেখা কবিতায় এসেছেও। অর্থ, খ্যাতি এসব সাফল্য হিসেবে তাঁর কাছে ধরা পড়ত না। কাদা ঘেঁটে জীবনের দীর্ঘপথ হাঁটার আগ্রহী ছিলেন না। সমাজের রূপান্তর চেয়েছিলেন বুঝি। এক জীবনে অনেক কিছু করার যে ক্ষমতা, তা মাহবুব উল আলম চৌধুরী পেরেছেন নিজস্ব আত্মশক্তির উদ্বোধনে। হয়েছেন নিজেই তাই একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ইতিহাস। সেই তিনি, নতুন কবিতা লেখা হলে টেলিফোনে শোনাতেন স্বজন, প্রিয়জন, ঘনিষ্ঠজনকে। মতামত নিতেন। একেকটি সৃষ্টির পেছনে তাঁর নিবেদন ছিল অনেক বেশি। কবিতা নিয়ে ভাবনাটা ভিন্নরকমই ছিল। চল্লিশের দশক থেকেই সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। যে কারণে সে সময়ই চট্টগ্রাম থেকে বের করেছিলেন সীমান্ত নামে সাহিত্যপত্র; উনিশ বছর বয়সেই।
পরিণত বয়সে এসে মৃত্যুর কথা যে ভাবতেন না, তা নয়। মানবজীবনের এই অনিবার্য পরিণতির বিষয়ে হা-হুতাশ ছিল না। তবে বীরের মতো মৃত্যুকে বরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল। ২০০৭ সালের ঈদুল আজহার পর চলে গেলেন তিনি। আকস্মিক এই বিদায়ের জন্য কি ছিল কোনো পূর্বপ্রস্তুতি? তবে বছরখানেক আগেই মৃত্যুকে নিয়ে তাঁর কথকতা-ভাবনাকে পাওয়া গিয়েছিল। নতুন কবিতা লেখা হলে মাঝেমধ্যে যেমন শোনাতেন নিবিষ্ট শ্রোতাদের, সে রকম ২০০৬ সালের ঈদুল আজহার আগে শুনিয়েছিলেন কবিতা। যেখানে এই চলে যাওয়ার চিত্রটা তুলে এনেছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন বোধহয়; যাওয়ার দিনগুলো ক্রমশ এগিয়ে আসছে। তাই আকাঙ্ক্ষাগুলো যেন প্রকাশিত হয়েছিল এই বিদায়ের শিল্পিত সুষমায়।
কবি মাহবুব ভাই, যিনি আমাদের তারুণ্যের সময় প্রেরণা জোগাতেন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি। যাঁকে কাছ থেকে, দূর থেকে দীর্ঘদিন দেখে এসেছি। ‘কুয়াশায় বীজ বুনে চলে গেছে চাষা’র মতো উল্লেখযোগ্য লাইনের লেখক মাহবুব ভাই বোধহয় বুঝতেন, তাঁর বুনে যাওয়া বীজে অঙ্কুরিত বৃক্ষগুলো ছায়া দেবে মানুষকে। যে মানুষের জন্য তাঁর প্রাণের আকুতি তীব্র।
হ্যাঁ, তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন এ দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতির ইতিহাসজুড়ে।
সেই বায়ান্ন সালে একুশের প্রথম কবিতায়ই তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে/ প্রতিরোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।’ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস যত দিন থাকবে, তত দিন অম্লান থাকবে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও তাঁর সৃষ্টি। আমাদের প্রাণের পতাকাজুড়েও পতপত করে উড়বে তাঁর অমর কাব্য।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেমন হওয়া উচিত আমাদের জলবায়ু কূটনীতি -জলবায়ু সম্মেলন by মশিউল আলম
কোপেনহেগেনে ১২ দিন ধরে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে ইন্টারনেটে এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে, এমন দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারির দেশ বাংলাদেশ ওই সম্মেলনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করে এবং অন্যরা তাকে কীভাবে গ্রহণ করে, এ রকম কৌতূহল ছিল। কারণ, এটা এমন এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যার মূল আলোচ্য বিষয়ে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক ক্ষতির শিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারত এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। এ সম্মেলন ছিল বাংলাদেশের জন্য এক নতুন মাত্রার বিরল সুযোগ।
সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব কথাবার্তা বেশি উচ্চারিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ছিল জলবায়ু উদ্বাস্তু, অভিযোজন তহবিল, ক্ষতিপূরণমূলক তহবিল ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসব কথা সাড়া জাগায়নি। আমাদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অবশ্য এ কথাগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর ডিজাস্টার রিডাকশনের এক সমীক্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে উঠে এসেছে—এ কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রথম, সুনামির ঝুঁকিতে তৃতীয়, ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।’ ...‘এই সম্মেলনে আমাদের ক্ষতিপূরণমূলক আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।’ অভিযোজনের পুরো অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অর্থ অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণে ও সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’ অবশ্য কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর ওই ভাষণে আহ্বান ছিল। তবে ওই ভাষণ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যেসব বৈঠক ও আলাপ-আলোচনার খবর পাওয়া গেল, সেগুলোতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের কণ্ঠ ছিল বেশি সোচ্চার, কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত নিম্নকণ্ঠ।
কিন্তু ঝুঁকির শিকার ছোট ছোট কয়েকটি দেশের নেতারা কোপেনহেগেনে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। যেমন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার গরিব দেশগুলোর জন্য ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ রকম এক প্রয়াসের কথা জানালে টুভালুর প্রধানমন্ত্রী আপিসাই ইয়েলেমিয়া বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে আমরা আমাদের অস্তিত্ব বিক্রি করতে আগ্রহী নই।’
সম্মেলনের শেষে বিশ্ববাসী মাত্র তিন পৃষ্ঠার যে কাগুজে দলিলটি পেল, সেটি সম্পর্কে প্রথম তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারীদের একজন টুভালু নামের দেশটিরই প্রতিনিধি, ইয়ান ফ্রাই। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থা টাইটানিক জাহাজের মতো, আমরা দ্রুত ডুবে যাচ্ছি, এখনই কিছু করা দরকার। কিন্তু এর মধ্যে একদল বলছে, আমরা ডুবে যাচ্ছি কি না, সেটা নিয়ে আরও আলোচনা করার আছে।’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে টুভালু নামের দ্বীপরাষ্ট্রটি যে-মাত্রায় মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে, তা ওই দেশটির আকারের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। আসলেই, এতটুকু যন্ত্র থেকে এত জোরে শব্দ হয়! এক রত্তি দেশ টুভালু, নয়টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে পুরো রাষ্ট্রটির মোট ভূখণ্ডের আয়তন মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা হাতে গোনা যাবে—মাত্র ১১ হাজার ৯৯২ জন। পৃথিবীর চতুর্থ ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র টুভালুর দ্বীপগুলো এত নিচু যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর মাত্র ছয় থেকে আট ইঞ্চি বাড়লেই প্রশান্ত মহাসাগরে তলিয়ে যাবে গোটা দেশ।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আপিসাই ইয়েলেমিয়া জলবায়ু সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের আর কিছুই করার নেই। এমন কোনো পাহাড় আমাদের নেই, যেখানে উঠে আমরা বাঁচতে পারি। এ জন্যই আমরা এত চিত্কার করছি। এখানে আমরা এত হইচই করছি, কারণ আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার মৌলিক অধিকার আছে।’ তাঁরা চিত্কার করছেন ক্ষতিপূরণ বা অভিযোজনের অর্থ পাওয়ার জন্য নয়; কার্বন নিঃসরণ কমাতে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তিবদ্ধ করার লক্ষ্যে। টুভালুর দাবি ছিল, তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পায়নপূর্ব সময় থেকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে, সে জন্য তারা কার্বন নিঃসরণ কমানোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৩৫০ পিপিএম। টুভালুর নয়টি দ্বীপের মধ্যে চারটি হচ্ছে প্রবালদ্বীপ; সমুদ্রজলের অম্লতা বেড়ে যাওয়ার ফলে সেগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও হার ক্রমেই বাড়ছে। সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি, দাবি জানিয়েছেন কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ।
জলবায়ু সম্মেলনের আরেক আলোচিত বক্তা ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। সাগরের নিচে মন্ত্রিসভার বৈঠক করে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ৪২ বছর বয়সী যুবক এই রাষ্ট্রপতি জলবায়ু সম্মেলনে সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ২০২০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ ও ২০৫০ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নিতে। চীন, ভারত, ব্রাজিল—এসব দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ২০২০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ কমাতে। আর সবার প্রতি আহ্বান জানান এমন এক চুক্তিতে পৌঁছাতে, যেখানে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ‘পরিমাপযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য’ (কোয়ান্টিফাইয়েবল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনালি ভেরিফাইয়েবল) পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
সহস্রাধিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপের ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র তিন ফুট উঁচু। যে হারে জলবায়ুর উষ্ণতা বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে মালদ্বীপ নামের কোনো দেশ পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। সেই দেশের রাষ্ট্রপতি কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলনে বললেন, ‘কার্বন নিঃসরণ কমানোর পথ দেখাবে মালদ্বীপ। আমরা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন-নিউট্রাল দেশে পরিণত হব।’ ওই সময়ের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ নাশিদ বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া আমরা এটা করতে পারব না। আমি শিল্পোন্নত দেশগুলোকে বলি, আপনাদের টাকা আছে, প্রযুক্তির সিংহভাগও আপনাদের আছে। আমাদের সবুজ হতে সহযোগিতা করুন। কিন্তু একই সঙ্গে আমি এ কথাও বলতে চাই, দয়া করে মনে রাখবেন, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আলোচনার সঙ্গে টাকা-পয়সার কোনো, আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে আমাদের নাতি-নাতনিদের। আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি নাতি-নাতনির মুখ দেখতে চাই। কিন্তু আমরা যা করছি, তা যদি চালিয়ে যাই, তাহলে নাতি-নাতনির মুখ দেখতে পাব না। টু অ্যাসিউম দ্যাট ক্লাইমেট চেঞ্জ নেগোসিয়েশনস হ্যাভ এনিথিং টু ডু উইথ মানি, ইন মাই মাইন্ড, ইজ দ্য হাইট অব অ্যারোগেন্স।’ টেকপার্ট নামের এক ওয়েবসাইটের একজন সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট নাশিদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ডুবে যাওয়ার আগে তিনি মালদ্বীপের সব মানুষকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভেবেছেন কি না। উত্তরে প্রেসিডেন্ট নাশিদ বলেন, ‘ভারত মহাসাগরের বুকে এই দ্বীপমালায় মানুষ বাস করছে ১০ হাজার বছর ধরে। আমাদের লিখিত ইতিহাসই আছে দুই হাজার বছরের। মালদ্বীপের মানুষ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে চায় না। এমনকি এখানকার এক দ্বীপের মানুষ অন্য দ্বীপেও যেতে চায় না। উই ক্যান স্টে দিয়ার, ইফ দ্য ওয়ার্ল্ড স্টার্টস কেয়ারিং।’
আমাদের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সম্মেলনের ভাষণে ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজনবাবদ তহবিলের দাবির পাশাপাশি এমন দাবিও তুলেছেন, আমাদের জলবায়ু উদ্বাস্তুদের বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের সুযোগ দিতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ুর পরিবর্তন বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে বাংলাদেশের তেমন কোনো ভূমিকা নেই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যসহ সম্মেলনে দেওয়া সব তথ্য ও বক্তব্যই সন্দেহাতীতভাবে সঠিক ও যুক্তিসংগত। কিন্তু মূল আলোচ্য প্রসঙ্গ যেখানে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সে লক্ষ্যেই একটি আইনি বাধ্যবাধকতাপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি করা, সেখানে এই সব যুক্তিসংগত দাবি-দাওয়া পার্শ্ব-আলোচনার বিষয়। আমাদের এই অবস্থান সঠিক হলো, নাকি এর চেয়ে ভালো অবস্থান আমরা নিতে পারতাম, এ নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে। আমাদের জলবায়ু কূটনীতি কেমন হওয়া উচিত, আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আমরা কী ভাষায়, সুরে ও ভঙ্গিতে আমাদের বক্তব্য হাজির করব, এ নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৫ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে বললেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের নির্দোষ শিকার বাংলাদেশকে সহায়তা করা তাদের (ধনী দেশগুলোর) নৈতিক দায়িত্ব। এখানে ভিক্ষার জন্য দেনদরবার করা মর্যাদাবান জাতি হিসেবে অপমানজনক।’ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকলে এমন কথা বলতেন কি না সন্দেহ। এখন যখন বললেনই, কথাটা সংসদে গিয়ে বললে, এবং সেখানে এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হলে ভালো হতো। কে জানে, হয়তো সংসদে তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়েই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বুঝতে পারত যে, কোপেনহেগেন সম্মেলনে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার এক বিরল সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে।
দুঃখের বিষয়, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলাম না। তবে সামনে সময় আছে। আগামী বছর মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের আগে জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্থির করতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে আমরা ক্ষতিপূরণ-অভিযোজনসহ নানা ধরনের তহবিলের দাবিকে প্রাধান্য দেব, নাকি বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবিকেই প্রধান করে তুলব এবং মালদ্বীপের অনুসরণে নিজেরাও সে পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই বৈশ্বিক আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় যাওয়ার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আমরা একটি কৌশলগত পরিকল্পনা মিলিতভাবে তৈরি করতে পারি, যেখানে বলা হবে কী ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবিতে বৈশ্বিক আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা নিয়ে ভুক্তভোগী দেশগুলোর কাতারে নেতৃত্বের ভূমিকায় যাওয়ার চেষ্টা করব, আর কী ধরনের ফোরামে ক্ষতিপূরণ, অভিযোজন, সম্ভাব্য জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অভিবাসন ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলব, দাবি-দাওয়া তুলে ধরব।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবার জন্য শিক্ষা কীভাবে হবে -প্রান্তকথা by শান্ত নূরুননবী
ঘাটের কাছাকাছি একটি মসজিদ। এর পাশে পৌর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সন্ধ্যার শান্ত বাতাসে ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসে শিশুদের ক্লান্ত কণ্ঠস্বর। পড়াশোনা চলছে ভেতরে। রাতের স্কুল। স্বল্প আলোয় কয়েকজন মলিন মুখের জীর্ণ পোশাকের শ্রমজীবী শিশুকে পড়াচ্ছেন লুঙ্গি পরিহিত একজন মাঝবয়সী মানুষ।
বুকের ভেতরে লেখাপড়া শেখার স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসে শাহিনুর, লতিফ, আমারুল, জানু, জাহাঙ্গীরসহ ২৩ জন শিশু। ১০ থেকে ১৪-এর মধ্যে বয়স ওদের। কেউ গরু চরায়, কেউ কাঠমিস্ত্রির জোগালি, কেউ ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ান, পানের দোকানের কর্মচারী কেউ, কেউ বা সাইকেল মেকানিকের সহকারী, কেউ কাজ না পেয়ে আলুর মৌসুম বা ধানের মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করে। পিতৃহীন জানুর মা খড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করে, মাটি কাটার কাজ করে যা রোজগার করেন, তা দিয়ে খাওয়াই জোটে না, জানুর তাই স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখার সাহসই হয়নি! কিন্তু যাঁরা ওদের কাজে নিয়োগ দিয়েছেন, তাঁদের ইচ্ছাতেই ওদের এই লেখাপড়া শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছোট ছোট দোকানের মালিকদের অনুরোধে তাঁদের শিশু কর্মচারীদের লিখতে ও পড়তে শেখার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা।
খুব বড় কোনো স্বপ্ন নেই এই শিশুদের। কৃষিজমিতে কামলা দিয়ে পরিবারের আয়ে অংশ নেওয়া শিশুশ্রমিক আনিসুর বলে, ‘এইখানে পড়া শিখতেছি, লেখা শিখতেছি, যাতে বড় হয়া নিজের জমি করবের পারি, দলিলে কী ল্যাখা থাকে, বুজবের পারি। কেউ য্যান ঠকাইতে না পারে, সেই হিসাব করাটাই শিখতেছি।’ তাঁদের পড়া শেখাচ্ছেন রিয়াজুল করিম নামের একজন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক। উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস তাঁকে মাসে এক হাজার টাকা ভাতা দেয়। তা থেকেও কিছুটা তাঁকে খরচ করতে হয় মোমবাতি ও পেন্সিল কিনতে। খাতা-কলমও বিনামূল্যে পায় শিশুরা, তবে তা যথেষ্ট নয় বলে রিয়াজুল মন্তব্য করেন। রিয়াজুল বলেন, ‘২৩ জন শিশু কোনো দিনই উপস্থিত থাকতে পারে না। স্কুল শুরু হয় সন্ধ্যা সাতটায়, কিন্তু দোকান বন্ধ হয় আটটায়। শিশুরা আসে এরপর। কেউ কেউ, বিশেষ করে যারা কাঠমিস্ত্রির জোগালি, দূরে কাজ করতে গেলে আর আসতেই পারে না কয়েক দিন। ফলে চার-পাঁচজন ছাড়া কেউই ভালোভাবে শিখতে পারে না কিছু। ওদের জোর করে তো স্কুলে আনতে পারি না। ওদের পেটের ভাত জোগানোর সাধ্য তো আমার নেই।’ পাশের মসজিদ থেকে ইলেকট্রিক তার টেনে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে স্কুলটিতে। আর পৌর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সবাই মিলে শ্রমজীবী শিশুদের জন্য এই বেড়ার ঘরটি করে দিয়েছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে একটা করে বই সরবরাহ করে এসেছে এত দিন এই শিশুদের জন্য। কিন্তু তাদের নাকি আগামী বছর থেকে বই সরবরাহ করার উপায় থাকবে না। রিয়াজুল বলেন, ‘বই না হলে আর স্কুলটা চালানো সম্ভব হবে না।’ এটা এমন একটা বই, যাতে ভাষা ও গণিতের প্রাথমিক পাঠগুলো আছে। আরও আছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা, বাল্যবিবাহের কুফল ইত্যাদি পাঠ। রিয়াজুলকে বললাম, বই ছাড়াও তো এগুলো শেখানো যায়। তিনি বললেন, ‘বই শিশুদের মনে যে আগ্রহ তৈরি করে, বই ছাড়া সেটা তৈরি করা কঠিন।’
এ রকম আরও দুটি স্কুল আছে কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রামের শিশুশ্রমিক নিয়োগকারীদের আগ্রহেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলো। একটি শহরের পূর্ব দিকে চরহরিকেশে, আরেকটি শহরের ভেতরে। বিড়িশ্রমিক, দর্জির দোকানের সহকারী, মত্স্য শিকারি, মুরগির দোকানদার, আচার বিক্রেতা, পিঠা বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, রেস্তোরাঁশ্রমিক শিশুরা পড়ে এসব স্কুলে। সব মিলে ৬০ জন শিশুশিক্ষার্থী। এখন এই ডিসেম্বরের পর স্কুল তিনটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো সহায়তা করতে পারছে না বলে। আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, এনজিওগুলো দায়িত্ব নেবেই বা কেন, যখন রাষ্ট্র সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে ওয়াদাবদ্ধ?
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় তিন হাজার শ্রমজীবী শিশু আছে। ২০০৬ সালে কুড়িগ্রাম জেলার পৌরসভা ও হলোখানা ইউনিয়নে এক হাজার ১০০ জন শিশুশ্রমিকের কাজের ক্ষেত্র ঝুঁকিমুক্ত করার আহ্বানে যখন শিশুশ্রমিক নিয়োগকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মত হয়, তখন তারা উদ্যোক্তা এনজিওর কাছে শর্ত দেন, তাঁদের নিয়োজিত শিশুশ্রমিকদের লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেদের পরিকল্পনা না থাকলেও এই শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করেন উদ্যোক্তারা। এক বছরের শিক্ষা নিয়ে লিখতে-পড়তে পারা ও যোগ-বিয়োগের দক্ষতা অর্জন করতে পারার কথা শ্রমজীবী শিশুদের। কিন্তু দিনমান কায়িক পরিশ্রমের পর খুব কমসংখ্যক শিশুই স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত হয়। বাস্তবতার চাপে যারা অনিয়মিত, তাদের শিখন পরিস্থিতি কিছুটা হতাশাজনক।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর ঝরেপড়া হারুন মিয়া (১৪) ২০০৮ সালে সিঅ্যান্ডবি ঘাটের শ্রমজীবী স্কুলে লিখতে-পড়তে শিখে সরাসরি সিঅ্যান্ডবি ঘাট রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। বানিয়াপাড়া গ্রামের ইসলাম (১৫) ২০০৮ সালে পড়েছে কুড়িগ্রাম পৌরবাজার শ্রমজীবী শিশু স্কুলে। একটা জুয়েলারি দোকানের মালিক এখন তার ওপর মাপজোক ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব নিশ্চিন্তেই ছেড়ে দিয়েছেন। চরহরিকেশের লিপি (১৫) আগে বাঁধার কাজ করত। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেও দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে ঝরে পড়েছিল। ২০০৭ সালে চরহরিকেশ শ্রমজীবী শিশু স্কুলে পড়ে সে আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণী পাস করে। এ বছর চরহরিকেশ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। বৃষ্টিও (১৫) পড়েছে চরহরিকেশ শ্রমজীবী শিশু স্কুলে। এখন সে একটা মুদির দোকান চালায়। তার খালা তাকে করে দিয়েছে এই দোকান।
কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার একটি। বলা হয়ে থাকে, এনজিওগুলোর দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি আকর্ষণীয় পরীক্ষাগার এই জেলা। সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশাপাশি কত এনজিও যে কাজ করে এখানে, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু দারিদ্র্যের কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে না। তাই এখনো শত শত শিশুকে শ্রমিকের জীবন বেছে নিতে হয় এখানে। এদের অনেকেই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয় শিশুসুলভ স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণী শেষ না করতেই নেমে পড়তে হয় পেটের ধান্ধায়। আর পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের চোখের সামনে নদীভাঙনের শিকার দরিদ্র দম্পতিদের সন্তানসংখ্যা বাড়তেই থাকে বছরের পর বছর, বাড়তে থাকে শ্রমজীবী শিশুর সংখ্যাও। যেন শ্রমজীবী মানুষ শ্রমজীবী সন্তান জন্ম দেবে—এটাই নিয়ম। এই শিশুদের অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাহীন, নিশ্চয়তাহীন খণ্ডকালীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কি সম্ভব? এদের বাইরে রেখেই কি আমরা ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করতে চাই?
শান্ত নূরুননবী: লেখক ও উন্নয়নকর্মী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা -চিকিত্সকদের আরও সজাগ হতে হবে
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের চিকিত্সকদের একটা বড় অংশ চিকিত্সার নামে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য করেন। আবার একজন রোগীর ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন চিকিত্সককে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দিতে দেখা যায়। স্বভাবতই রোগীরা এতে বিভ্রান্ত হয়। আবার যত্রতত্র গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে একশ্রেণীর চিকিত্সকের কমিশন-বাণিজ্যের যে অভিযোগ রয়েছে, তাও ভিত্তিহীন নয়। এ ধরনের কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোগীর চিকিত্সার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে। তাই বলে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার নামে অর্থের অপচয় ও রোগীকে হয়রানি করা মেনে নেওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিত্সকেরা রোগীর কথা ঠিকমতো না শুনেই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন, যা রোগের উপশম না ঘটিয়ে বাড়িয়েও দিতে পারে। রোগ নির্ণয়ে ভুল হলে চিকিত্সাও ভুল হবে। এ ব্যাপারে চিকিত্সকেরা আরও সজাগ ও সতর্ক হবেন আশা করি।
গত দুই দশকে দেশে চিকিত্সক ও চিকিত্সাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে চিকিত্সার মান বাড়লে রোগীদের আর বিদেশে যেতে হতো না। দেশে চিকিত্সার মান বাড়লে রোগীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি লাভবান হবেন চিকিত্সকেরাও। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিত্সক-সংগঠনগুলোও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার কয়েক হাজার নতুন চিকিত্সক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, যা জরুরি বলেই আমরা মনে করি। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব নিয়োগ হলে স্বাস্থ্যসেবার মানই শুধু বাড়বে না, রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিটি কৃষক-পরিবারের জন্য কার্ড -প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষমতায়নের একটি উপায়
দেশে মোট এক কোটি ৮২ লাখ কৃষক-পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ধনী ও বড় কৃষক বাদ দিলে থাকে এক কোটি ৪২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-পরিবার, যাদের বিভিন্ন সময় সরকারি সহযোগিতার জন্য বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। এদের মধ্যেও অপেক্ষাকৃত গরিবদেরই আসন্ন বোরো মৌসুমে ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবাইকে ঢালাওভাবে সাহায্য না দিয়ে, শুধু যাদের একান্ত প্রয়োজন তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণের ফলে নিশ্চিত হওয়া চলে যে ভর্তুকির টাকা অপাত্রে যাবে না। সরকারি উদ্যোগের এটি একটি তাত্পর্যপূর্ণ দিক। কারণ, সাধারণভাবে ভর্তুকি অপচয় ও অদক্ষতা বাড়ায়, যদি তা প্রকৃত প্রাপকের হাতে না দেওয়া হয়। সেদিকে নজর রেখেই ভর্তুকির নীতিমালা নির্ধারণ করা বাঞ্ছনীয়। এটাই সামাজিক ন্যায়বিচার।
এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে তালিকা তৈরি, কার্ডে আবাদি জমির পরিমাণ উল্লেখ এবং কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর। এবং এটা সম্ভব, যদি এ কাজগুলো করার জন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা না হয়। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃষি অধিদপ্তরের কর্মীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে নিয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে গিয়ে তালিকা তৈরি করেছেন। সুতরাং সরেজমিনে সম্পন্ন কাজটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ কম। কারণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন দলের। ফলে প্রক্রিয়াটি দলীয়করণের দোষে দুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। কার্ড বিতরণের সময়ও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। মাঠপর্যায়ে গিয়ে কার কত চাষের জমি তা নির্ধারণ ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করা হবে। সে সময় এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকির টাকা বিতরণের দাবিটি বহু পুরোনো। কিন্তু এর আগে কৃষি অধিদপ্তর বা সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। এবার এটি শুধু বাস্তবায়িতই হচ্ছে না, বরং একটি নতুন মাত্রা অর্জন করছে। ‘কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড’-এর সব তথ্য কম্পিউটারের স্মৃতিভান্ডারে সংরক্ষিত থাকবে এবং বিতরণব্যবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি সরাসরি কম্পিউটার থেকে জানা যাবে। এতে পুরো ব্যবস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
এ দেশে কৃষক সব সময়ই বঞ্চিত ও অবহেলিত হয়ে এসেছে। এখন কার্ডগুলো প্রতিটি কৃষক-পরিবারের ক্ষমতায়নে সাহায্য করবে। তাদের পদে পদে ঠকানো কঠিন হবে। এটা কৃষিনির্ভর আমাদের এই সমাজের জন্য একটি বড় পাওয়া।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়াটারবোর্ডিং পদ্ধতিতে নির্যাতন চালিয়েছিল ব্রিটিশ সেনারা -পত্রিকার প্রতিবেদন
পত্রিকাটি জানিয়েছে, তথ্য আদায়ের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে ব্রিটিশ সেনারা। ১৯৭৩ সালে একজন ব্রিটিশ সেনাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াম হোল্ডসেন নামের এক বন্দীর ওপর এই পদ্ধতিতে নির্যাতন চালানো হয়। ওই মামলার শুনানি চলার সময় আসামি আদালতকে জানিয়েছিলেন, তিনি এ ঘটনায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, কারণ তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
December
(699)
-
▼
Dec 24
(11)
- রাজর্ষি হাসন রাজা ও তাঁর জীবন by সৌমিত্র দেব
- আইনি প্রতিকার ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন by এ এম...
- ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া’র নতুন কাহিনী -তৃতীয় কর্...
- নির্বাচনী ইশতেহার-বহির্ভূত এজেন্ডা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- করিডরে স্লোগান বন্ধ করুন -হাসপাতালে নির্বাচনী ডামাডোল
- তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন -শ্রদ্ধাঞ্জলি by মুহ...
- কেমন হওয়া উচিত আমাদের জলবায়ু কূটনীতি -জলবায়ু সম্মে...
- সবার জন্য শিক্ষা কীভাবে হবে -প্রান্তকথা by শান্ত ন...
- অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা -চিকিত্সকদের আরও সজাগ ...
- প্রতিটি কৃষক-পরিবারের জন্য কার্ড -প্রান্তিক কৃষকদে...
- ওয়াটারবোর্ডিং পদ্ধতিতে নির্যাতন চালিয়েছিল ব্রিটিশ ...
-
▼
Dec 24
(11)
-
▼
December
(699)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...