Monday, November 23, 2015
শেষ সাক্ষাতে যা বলেছেন সালাউদ্দিন-মুজাহিদ by আহমেদ জামাল ও মহিউদ্দিন জুয়েল
‘প্রাণভিক্ষা কোন মানুষের কাছে নয়’
গতকাল সকালে চট্টগ্রামের রাউজানে দাফনের পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরীর নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, আব্বা বলেছেন, প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা চাইলে আল্লাহর কাছে চাইব, কোন মানুষের কাছে নয়। ফাঁসি কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় তিনি আরও বলেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করে না। প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে হুম্মাম বলেন, বলা হচ্ছে- বাবা প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। তাকে মানুষ বাংলার বাঘ হিসেবে চিনে। তিনি কখনো প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। ১০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অবৈধ রায়ে বাবাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তবু আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। দেশের এখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে অনেক খুন-গুম হচ্ছে। অনেকে আপনজনের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা ভাগ্যবান যে সম্মানের সঙ্গে বাবাকে দাফন করতে পেরেছি। তিনি বলেন,একজন বেকসুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষ অবশ্যই একদিন ন্যায়বিচারের ডাক দিবে। হুম্মাম বলেন, তিনি চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ। ইংরেজিতে লিগেসি বলে যা আছে তা টিকে থাকবে। এ হত্যার বিচার একদিন না একদিন হবে। চট্টগ্রামের মানুষ এ রায় কোনদিন মেনে নেবে না। সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেছেন- আমি যদি মার্সি (ক্ষমা) চাই, তবে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে চাইবো, কোন বান্দার কাছে নয়। সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান চৌধুরীসহ তাদের আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ওদিকে,জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ শেষ দেখায় স্ত্রী তামান্না-ই জাহানকে ধৈর্য ধরতে এবং শান্ত থাকতে বলেছেন। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে স্বজনদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে স্ত্রীকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তার পুত্র আলী আহমেদ মাবরুর। গতকাল মানবজমিনকে মাবরুর বলেন, বিদায় বেলায় আব্বাকে একেবারেই শান্ত স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে তিনি বেশ রিঅ্যাক্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের শেষ দিনও সরকার আমাকে নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে। এর চেয়ে বড় জুলুম আর কি হতে পারে। মুজাহিদ স্বজনদের বলেছেন, আমি কোন অপরাধ করিনি। সরকার আমার কোন অপরাধ প্রমান করতে পারেনি। তবু বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছি সাক্ষ্যপ্রমান বিহীন এমন ঢালাও অভিযোগ দিয়ে মৃত্যুদ- দিয়েছে। যে রকম অপরাধের কোন প্রমান নেই সে অপরাধের(?)জন্য ক্ষমা চাইবো কেন। মুজাহিদ বলেছেন, প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার বিষয়টি প্রচার করে সরকার আমাকে কাপুরুষ হিসেবে দেশ জাতি এমনকি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমান করতে চেয়েছিল। কিন্তু যারা আমাকে চিনে আমার নীতি আদর্শ সম্পর্কে অবগত তারা কখনো এসব বিশ্বাস করবেনা। মাবরুর বলেন, আব্বা বলেছেন, ক্ষমাপ্রার্থনার নাটক করে সরকার দেশবাসী বিশেষ করে আমার দলের লোকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। হাসরের ময়দানে দেখা হবে স্ত্রীকে এমন শান্তনা দিয়ে বিদায়ের শেষ মুহুর্তে মুজাহিদ বলেছেন, সংসার জীবনে তোমার মত ভাল স্ত্রী পেয়ে স্রষ্টার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রতি উত্তরে মুজাহিদ স্ত্রী তামান্না-ই জাহান স্বামীকে একজন ভাল এবং নির্দোষ মানুষ হিসেবে প্রশংসা করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে প্লাস্টিকের গরু প্রদর্শনীতে পুলিশের অভিযান
স্থানীয় হিন্দুদের কাছ থেকে এবিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ওই প্রদর্শনীতে হানা দেয়।
সংবাদদাতারা বলছেন, সত্যিকারের বড়ো আকারের একটি গরু বাতাসে ঝুলছে এরকম এক প্রদর্শনী হিন্দুদের জন্যে আক্রমণাত্মক – এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশের কর্মকর্তারা জয়পুরহাট আর্ট মিউজিয়ামে অভিযান চালায়।
সেখান থেকে পুলিশ দু’জন শিল্পীকে আটক করে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা পরে ঝুলন্ত প্লাস্টিক গরুটিকে নিচে নামিয়ে আনে।
পুলিশ ওই গরুটিকে জব্দ করেছে।
তবে তার আগে ওই গরুটির গলায় ফুলের মালা পরিয়ে তার পূজা করা হয়েছে।
রাজস্থানের শিল্পীরা এই অভিযানের নিন্দা করেছে।
সংবাদদাতারা বলছেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়ছে চিত্র প্রদর্শনীতে পুলিশের এই অভিযান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই শিল্পকর্মটি যিনি তৈরি করেছেন সেই শিল্পী সিদ্দার্থা কারারওয়াল বলেছেন, প্লাস্টিক ব্যাগের জঞ্জালের কারণে ভারতে গরুদের কি ধরনের কষ্ট হচ্ছে সেটা তুলে ধরতেই তিনি এটা তৈরি করেছিলেন।
গরুর গোশত খাওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশে একজন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৯/১১ হামলায়ও বেঁচেছিলেন ম্যাথিউ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিমের মৃত্যু
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সন্দেহভাজন হামলাকারী ধরতে বেলজিয়ামে ব্যাপক অভিযান
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত রঙের সবজি খান
বেশিরভাগ পিগমেন্টই হচ্ছে অ্যান্টি-এজিং ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। এইসব পিগমেন্ট শরীরের বিভিন্ন অংশে কাজ করে থাকে। কিছু কাজ করে চুলের জন্য৷ কিছু কাজ করে কোমল ত্বকের জন্য। মোটকথা এইসব পিগমেন্ট মানবদেহের প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে কাজ করে ভিতর থেকে আরো সুন্দর করে তোলে। অ্যান্টি-এজিং পিগমেন্ট মানবদেহর ত্বককে বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানবদেহকে বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে রেহাই দেয়৷ রক্তকে শুদ্ধ করে।
একটি নতুন গবেষণা মতে, রঙিন ফলমূলে বিদ্যমান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস রোগীদের স্মৃতিশক্তি ও বোধশক্তি রক্ষা করে।
কিন্তু সব ধরনের রঙিন পিগমেন্ট উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়৷ এদেরকে হাইপো-কেমিকেল বলা হয়। উদ্ভিদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে এই ধরনের পিগমেন্ট পাওয়া যায় না।
হাইপো-কেমিক্যাল অ্যান্টি-এজিং থেকে শুরু করে ওজন কমানোর মত সব কাজে মানব শরীরকে তৈরি করতে পারে। যত বেশি রকমের রঙিন ফলমূল শাকসবজি তত রকমের উপকারিতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাকৃতিকভাবে রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় রাখেন, তাদের কম বয়সী দেখায় এবং তারা সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী।
পরবর্তী সময়ে বাজার থেকে ফলমূল ও শাকসবজি কেনার সময় রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি বেছে নিন। এতে করে একটি রঙিন খাদ্য তালিকা শরীরকে সহজেই সুস্থ রাখতে পারবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সালাউদ্দিন কাদের মুজাহিদের শেষ প্রহর
জেল সূত্র জানায়, শনিবার বিকালের দিকেই দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই চিকিৎসক ডা. বিপ্লব কুমার ও ডা. আহসান হাবিব তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এসময় স্বাভাবিক ছিলেন তারা। চিকিৎসকদের সঙ্গে তারা কথাও বলেন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাদের খাবার দেয়া হয়। খাবারের মেন্যুতে ছিল ভাত, মুরগির মাংস, সবজি ও ডাল। খাবারের কিছু অংশ দুজনই খেয়েছেন। রাত ৮টার পর তাদের জানানো হয় রাতের মধ্যেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে। এরপরই খবর দেয়া হয় দুজনের পরিবারের সদস্যদের। রাতে প্রথমে সালাহউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা কারা অভ্যন্তরে ঢোকেন। এসময় সেখানে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মনোবল শক্ত রেখে পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককেই নানারকম নির্দেশনা দিয়ে যান সালাউদ্দিন। বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমি কারও কাছে মাথা নত করিনি। তোমরাও করো না। পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে গেলে ভেতরে প্রবেশ করেন মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা। আবারও একই রকম দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। মুজাহিদও সবাইকে ধৈর্য ধরার কথা বলেন। নির্দেশনা দেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের। আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত না করতে পরিবারকে নির্দেশনা দেন মুজাহিদও। এ সময় অনেকটা অবিচল ছিলেন তিনি।
কারা সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে কারা মসজিদের ইমাম দু’জনকে তওবা পড়াতে যান। অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন দুজনই। দুজনের হাতেই ছিল তসবিহ। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জল্লাদ শাজাহান ও রাজুর নেতৃত্বে চার জন করে জল্লাদ ঢোকেন পৃথক দুই সেলে। তারা দু’জনেরই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলেন। পরান যমটুপি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ সময় বলেন, আমি শেষ বিচারের আশায় থাকবো। তোমরাও সেদিন সাক্ষী হবে। আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ সবই জানেন। এসময়ও তিনি আল্লাহু আকবর বলে শব্দ করেন। পরে দোয়া পড়তে পড়তে যমটুপি পরেন তিনি। যমটুপি পড়ানোর পর দুজনকেই হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চের দিকে। এদিকে একই মঞ্চে পাশাপাশি দুটি কপিকল সেট করে দুটি ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা হয় আগে থেকেই। পুরো মঞ্চ এলাকা ঘেরাও করে রাখা হয় সামিয়ানা দিয়ে। আগেই জ্বালিয়ে রাখা হয় উজ্জ্বল আলো। দুজনকে ফাঁসির মঞ্চে হাঁটিয়ে নেয়ার সময় কোন বাধা সৃষ্টি করেননি তারা। দুই জল্লাদ দুদিক থেকে দুই বাহু ধরে ও পেছন থেকে দুজন ঠেলে নিয়ে যান মঞ্চে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তোলা হয় মঞ্চে। গলায় ফাঁসির রশি পরিয়ে লিভারের হাতল ধরে দাঁড়ান জল্লাদ শাজাহান। এদিকে রুমাল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। ১২টা ৫৫ মিনিটে রুমাল হাত থেকে পড়তেই লিভার টেনে দেন জল্লাদ। মঞ্চের আশেপাশে তখন পিনপতন নীরবতা। মঞ্চের নিচের পাটাতন সরে যেতেই দুজনের শরীর নিচে নেমে যায় কুয়ায়। সিভিল সার্জন আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম সাড়া হয় দ্রুতগতিতে।
কারা মসজিদের ইমাম হাফেজ মনির হোসেন খান জানান, তিনি তওবা পড়াতে গিয়ে দেখেন মুজাহিদ কোরআন তেলাওয়াত করছেন। জানতে চাইলে জেলার নেসার আলম মুকুল বলেন, নিয়মানুসারেই দণ্ডিতদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের পুরো ঘটনার সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন, ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও তানভীর আহমেদ, সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা, সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলার নেছার আলম মুকুল, পুলিশ কর্মকর্তা শেখ নাজমুল আলম উপস্থিত ছিলেন। আইজি প্রিজন চৌধুরী ইফতেখার উদ্দিন নিজের বাসায় বসে পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিসি), উপ-কমিশনার (ডিবি) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় দুজনই কোন বাধা সৃষ্টি করেননি। দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে তারা মঞ্চে ওঠেন। একই মঞ্চে একসঙ্গে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এদিকে আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় কঠোর পুলিশি প্রহরায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে রাউজানের উদ্দেশে রওনা হয়। রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাশ তার গ্রামের বাড়ি রাউজানের গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে এসে পৌঁছায়। এর আগে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে আসেন। ৯টা ২২ মিনিটে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদের উত্তর পাশে পুকুরের পশ্চিম পাশে খালি জায়গাতে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমীর ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল শায়খুল উলামা হযরত বাবুনগরী। নামাজে জানাজায় ১১ কাতার মানুষ অংশ নেয়। একেকটি কাতারে ৫০ জনেরও বেশি দাঁড়াতে দেখা যায়। জানাজা শেষে রীতি অনুযায়ী নামাজে জানাজায় জিজ্ঞাসা করা হলে এই লোকটি কেমন ছিলেন সকলে এক বাক্যে বলে ওঠেন উনি খুব ভালো লোক ছিলেন। এরকম ৩ বার উচ্চারণ করা হয়। এরপর খাটিয়া করে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে নেয়া হয়। তারপর ৯টা ২৮ মিনিটে যখন সালাউদ্দিন কাদেরের মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শোয়ানো হয় তখন স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা অঝোরে কান্নাকাটি করেন। ৯টা ৩৩ মিনিটে কবরের পাশে মাত্র ২৭ মিনিটের মধ্যে দাফনের কাজ সমাপ্ত হয়। গত কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া ছোটভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরের পশ্চিম পাশে তাকে দাফন করা হয়। ৯টা ৫৫ মিনিটে দাফন শেষে কবর পাশে মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকশত সাংবাদিককে কবরে সমাহিত করার চিত্র যাতে ধারণ করতে না পারে সে জন্য পুলিশ সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্বজনরা জানান, অ্যাম্বুলেন্সে করে সালাহউদ্দিনের মরদেহ নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গোসল করাতে চাইলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গোসল দিতে ব্যর্থ হন স্বজনরা।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা-রাউজান
এদিকে লাশ দাফন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি গহিরা সহ রাউজানের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন ছিল। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সোমবার পর্যন্ত থাকবে বলে রাউজান পুলিশ সূত্রে জানা যায়। আশেপাশের এলাকায় শনিবার রাত থেকে ১০ প্লাটুন পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। রোববার সকালে আরও ১০ প্লাটুন পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
জানাজায় অংশগ্রহণে বাধা: আওয়ামী লীগের সমর্থকরা গহিরার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ির রাস্তার অভিমুখে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে বাধা প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাউজান পৌর মেয়র আবদুল্লাহ আল হাছান।
আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফাঁসির রায় কার্যকরের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে মুজাহিদের নিজ বাড়ির অদূরে তার গড়া একটি মাদরাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুজাহিদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুর শহরে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে। সেখানে প্রশাসনের কাছ থেকে লাশ গ্রহণ করেন মুজাহিদের ছোট ছেলে আলী আহসান মাহবুব। এরপর পৌনে ৭টায় লাশের জানাজা শেষে সোয়া ৭টায় মুজাহিদের বাড়ির পশ্চিম পাশে তার প্রতিষ্ঠিত আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল কিন্ডার গার্টেন মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার লাশ দাফন করা হয়।
জানাজা পরিচালনা করেন বড় ভাই আলী আহসান মো. খালেজ। এসময় মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মেদ তাজদিদ, জেলা জামায়াতে নায়েবে আমীর আব্দুর তাওয়াব, এ অঞ্চলের জামায়াতের আমীর দেলোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াত সেক্রেটারিসহ তার পরিবারের সদস্যসহ আশেপাশের লোকজন মুজাহিদের জানাজায় অংশ নেন।
মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছে জেনে তার বাড়ির সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শত শত মানুষ অবস্থান নেয়। রাতভর তারা প্রতীক্ষায় থাকেন কখন লাশ আসবে। লাশ আসার পর সকাল পৌনে সাতটায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বহিরাগত কাউকেই জানাজা ও দাফন কাজে যেতে দেয়নি। শুধুমাত্র মুজাহিদের পরিবারের সদস্য, জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। এদিকে মুজাহিদের লাশ দাফন শেষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম খাবাসপুরে দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াত কর্মীরা আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিলে পুলিশ তাদেরকে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় পুলিশ দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। মুজাহিদের ভাই ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলী আহসান মো. খালেজ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধ সাজানো মামলায় সাজানো সাক্ষীতে আমার ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমার ভাই একজন সৎ মানুষ। মুজাহিদের ছেলে আলী আহসান মাহবুব বলেছেন, আমার পিতাকে ষড়যন্ত্র ভাবে মামলায় জড়িয়ে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সরকার আমার পিতাকে তার দল, পরিবার সর্বোপরি সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। জেলা জামায়াতে আমীর আব্দুল তাওয়াব ও জেলা সেক্রেটারি বদরউদ্দীন বলেন, আমরা আগামীকাল সোমবার হরতালে ডাক দিয়েছি।
‘প্রাণভিক্ষা কোন মানুষের কাছে নয়’
গতকাল সকালে চট্টগ্রামের রাউজানে দাফনের পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, আব্বা বলেছেন, প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা চাইলে আল্লাহর কাছে চাইবো, কোন মানুষের কাছে নয়। শেষ দেখায় প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ওই কথা বলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফাঁসি কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় তিনি আরও বলেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করে না। প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে হুম্মাম বলেন, বলা হচ্ছে- বাবা প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। তাকে মানুষ বাংলার বাঘ হিসেবে চিনে। তিনি কখনও প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। আমি যখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম বাবা বলেছেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করতে পারে না। ১০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অবৈধ রায়ে বাবাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তবু আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। দেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে অনেক খুন-গুম হচ্ছে। অনেকে আপনজনের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা ভাগ্যবান যে সম্মানের সঙ্গে বাবাকে দাফন করতে পেরেছি। তিনি বলেন, একজন বেকসুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষ অবশ্যই একদিন ন্যায়বিচারের ডাক দিবে। হুম্মাম বলেন, তিনি চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ। ইংরেজিতে ‘লিগেসি’ বলে যা আছে তা টিকে থাকবে। এ হত্যার বিচার একদিন না একদিন হবে। চট্টগ্রামের মানুষ এ রায় কোনদিন মেনে নেবে না। সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেছেন- আমি যদি মার্সি (ক্ষমা) চাই, তবে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে চাইবো, কোন বান্দার কাছে নয়। সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান চৌধুরীসহ তাদের আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ওদিকে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ শেষ দেখায় স্ত্রী তামান্না-ই জাহানকে ধৈর্য ধরতে এবং শান্ত থাকতে বলেছেন। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে স্বজনদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে স্ত্রীকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তার পুত্র আলী আহমেদ মাবরুর। গতকাল মানবজমিনকে মাবরুর বলেন, বিদায় বেলায় আব্বাকে একেবারেই শান্ত ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে তিনি বেশ রিএ্যাক্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের শেষ দিনও সরকার আমাকে নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে। এর চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে। মুজাহিদ স্বজনদের বলেছেন, আমি কোন অপরাধ করিনি। সরকার আমার কোন অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। তবু বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছি সাক্ষ্যপ্রমাণবিহীন এমন ঢালাও অভিযোগ দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যে রকম অপরাধের কোন প্রমাণ নেই সে অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইবো কেন। মুজাহিদ বলেছেন, প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি প্রচার করে সরকার আমাকে কাপুরুষ হিসেবে দেশ ও জাতি এমনকি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু যারা আমাকে চিনে, আমার নীতি ও আদর্শ সম্পর্কে অবগত তারা কখনও এসব বিশ্বাস করবে না। মাবরুর বলেন, আব্বা বলেছেন, ক্ষমাপ্রার্থনার নাটক করে সরকার দেশবাসী বিশেষ করে আমার দলের লোকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। হাশরের ময়দানে দেখা হবে- স্ত্রীকে এমন সান্ত্বনা দিয়ে বিদায়ের শেষ মুহূর্তে মুজাহিদ বলেছেন, সংসার জীবনে তোমার মতো ভাল স্ত্রী পেয়ে স্রষ্টার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রতি উত্তরে মুজাহিদ স্ত্রী তামান্না-ই জাহান স্বামীকে একজন ভাল এবং নির্দোষ মানুষ হিসেবে প্রশংসা করেন।
এদিকে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ শনিবার মধ্যরাতে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুজাহিদের সঙ্গে যে তামাশা করা হয়েছে এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন বলে যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে তাতে দেশবাসী ক্ষুব্ধ। মুজাহিদের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা শেষ সাক্ষাৎ করে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে দোষ স্বীকার করেননি, ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং প্রাণভিক্ষাও চাননি। তিনি বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে যে দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন তা বাংলাদেশের জনগণ কখনও ভুলবে না। তিনি ইসলামী আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে জনগণের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। বর্তমান স্বৈরাচারী জালেম সরকার এরকম একজন সৎ, আল্লাহভীরু ও যোগ্য জাতীয় নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করায় জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩২ বছর বয়সে আট সন্তানের মা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
শুধু ফাইমা ও হাসি নয়, স্বয়ং রাজধানীর মধ্যেই পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন বহু দম্পতি। কালেভদ্রে যেটুকুও পান তা এনজিও কর্মীদের কাছ থেকে। অনেকে আবার টাকার অভাবে এনজিওদের পন্থায় পরিবার পরিকল্পনার কর্মসূচি নিতে পারেন না। ফলে থমকে যেতে বসেছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি, এমনই মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দম্পতিদের কাছে পৌঁছায় না বলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সরকারি কোন ধরনের সুবিধা না পেয়ে তারা পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ আসছে। রাজধানীর এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে মাঠকর্মীরা সহজে যান না বলে অভিযোগ আছে। সরকারের এই কর্মসূচি এখন অনেকটা গৌন কি-না তাও প্রশ্ন রাখছেন অনেকে। বিজ্ঞজনেরা বলেন, পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দানের অভাব, উপকরণ বিতরণে অপ্রতুলতা ম্লান করে দিতে পারে বাংলাদেশের এক্ষেত্রের পূর্বের অর্জনকে। তাই এখনই সতর্ক হতে হবে। সরকারি হাসপাতালের আন্তরিকতা, মাঠকর্মী বৃদ্ধি ও নতুন নীতিমালারও প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬১ দশমিক ২ শতাংশে উপনীত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই হার সন্তোষজনক নয়। ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতির মধ্যে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এখাতে জনবলও বাড়াতে হবে। অনেক মাঠকর্মী আছেন যারা মাঠে সঠিকভাবে কাজ করেন না। অনেকে মাঠেই যান না। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পরিবার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাইরের একটি দাতা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, নানাবিধ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কিছুটা থমকে আছে। এই সেক্টরকে সরকার ভালোভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সেইভাবে বাজেটও দেয় না। এটি একাডেমি জায়গা। অন্য জায়গা থেকে লোক এসে কাজ বোঝার আগেই আবার চলে যান। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। এখানে অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ আছে। তাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। পদোন্নতি না থাকায় হতাশ তারা।
পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যকণিকা ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জাতীয়ভাবে টিএফআর বা মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সিপিআর বা কনট্রাসেপটিভ প্রিভিলেজ রেট ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রসঙ্গত, জাতীয়ভাবে টিএফআর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল ১৯৭১-৭৫ সালে, ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ১৯৯১-৯৩ সালে, ৩ শতাংশ ছিল ২০০১-০৩ সালে, ২ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল ২০১১ সালে এবং যা এখনও স্থির রয়েছে। অন্যদিকে, সিপিআর ছিল ১৯৭৫ সালে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০০০ সালে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ এবং যা এখনও আছে। বিভাগীয় শহরগুলোর এই চিত্রে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকায় মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিপিআর ৬১ শতাংশ। খুলনায় মোট প্রজনন হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সিপিআর ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সিলেটে মোট প্রজনন হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও সিপিআর ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ ও সিপিআর ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। রাজশাহীতে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ১ শতাংশ ও সিপিআর ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ, বরিশালে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ ও সিপিআর ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ, রংপুর বিভাগে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ১ শতাংশ ও সিপিআর ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিজস্ব হিসাবে, চলতি বছরে জুলাই মাসে সিএআর (সক্ষম দম্পতি ও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ)। এ বছর ৭ই থেকে ১২ই নভেম্বর সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সেবাগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক সাড়া পেয়েছে। এতে সারা দেশে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন (নারী-পুরুষ মিলে) ১০ হাজার ৮৬৬ জন। এরমধ্যে নারী ৬ হাজার ৮২৬, পুরুষ ৪ হাজার ৩৮ জন। দীর্ঘমেয়াদি আইইউডি নিয়েছেন ২৮ হাজার ৭২০ জন এবং এমপ্লান্ট (হাতে কাঠি লাগানো) নিয়েছেন ৩৪ হাজার ৬০ জন। সূত্রমতে, মাতৃমৃত্যুর হারের দিক থেকে প্রতি লাখে ১৪৩ জন জীবিত জন্ম লক্ষ্য থাকলেও আছে ১৭০ জন। তবে, এটা আগে ছিল ১৯৪ জন। আর শিশুমৃত্যু হারের দিক থেকে প্রতি হাজারে ৪৮ জন জীবিত জন্মের টার্গেট ছিল। তা অর্জন করে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এটা আগে ছিল ৩১ জন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে নারী সন্তান ধারণে দীর্ঘ প্রজননকাল পাচ্ছে। বেশি সন্তান জন্মদানের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আঠারো বছরের আগেই ৭৩ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশে। যা পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে বেশি। সমাজের প্রচলিত প্রথা ও ধারণার কারণে অনেক মেয়ে শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় উঠে এসেছে। সমপ্রতি সংস্থাটির কর্মকর্তারা গবেষণার এই ফলাফল তুলে ধরেন। গবেষণার প্রতিবেদনের ফলাফল উল্লেখ করে তারা বলেন, এশিয়ার তিনটি দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার গ্রামাঞ্চলের বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের হার বেশ উদ্বেগজনক।
গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, লোকজন মনে করে যেহেতু তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাই বেশি সন্তান হলে সমস্যা নেই। অধিক জন্মহারের জন্য পুত্রসন্তান নেয়ার আকাঙক্ষাকেই দায়ী করেন তারা। এক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মীদের তাদের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের হার বৃদ্ধির উপর জোর দেন তারা। পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অফিসিয়াল টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে পরিবার-পরিকল্পনা পরিদর্শকরা পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারী দম্পতির সংখ্যা তাদের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রার) খাতায় বাড়িয়ে লিখে থাকেন। একই সঙ্গে অফিসিয়াল টার্গেট পূরণ করতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকরা ষাটোর্ধ্ব নারী ও পুরুষদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ করাচ্ছেন। এক হাজার টাকা ভাতা ও শাড়ি এবং লুঙ্গির লোভ দেখিয়ে তাদের এ বন্ধ্যাকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছরের নারীর আর সন্তান ধারণ ক্ষমতা থাকে না।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের রয়েছে আন্তরিকতার অভাব। মাঠে গিয়ে তারা গ্রহীতাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে ঠিকমতো কাউন্সেলিং করতে পারছেন না। মাঠকর্মীদের কাজে দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কেইস স্টাডি এক: ৩২ বছর বয়সেই ফাইমা আট সন্তানের মা হয়েছে। বিয়ের দু’বছর অন্তর অন্তর বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন ফাইমা দম্পতি। এখন এই পরিবারের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ছয় সন্তান নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আটজনের মধ্যে দু’সন্তান মারা গেছে। চার মেয়ে, দুই ছেলে। কোন সন্তানই পড়াশোনা করছে না। থাকেন রাজধানীর হাজারীবাগের বৌবাজার বেড়িবাঁধের বস্তির পাশে; কচির বাড়িতে ছোট্ট একটি কক্ষে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কোন সুবিধাই পাননি তিনি। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করার কলাকৌশল না জানাকেই দায়ী করছেন ফাইমা। তবে, অনেক দুয়ার ঘুরে এখন জন্ম নিয়ন্ত্রণের কপাটি পদ্ধতি নিয়েছেন অল্প কয়েকদিন আগে। তা আবার বেসরকারি একটি সংস্থা থেকে। টাকার অভাবেও তিনি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন। সরজমিন ফাইমার কক্ষে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, ধানমণ্ডিতে আসার আগে যাত্রাবাড়ীর ডেমরায় থাকতেন। বেশির ভাগ সন্তান ওখানেই জন্ম নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওখানেও কোন সরকারি লোক (পরিবার পরিকল্পনার মাঠকর্মী) আসতো না, এখানেও না। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায়। স্বামী আবদুল বারেক রিকশা চালান। দু’টি কিডনি নষ্ট তার। ফাইমার সঙ্গে আলাপকালে পাশের ঘরের ষাটোর্ধ্ব আলতাফ আকন্দও অভিযোগ করে বললেন, সরকারি কোন পরিবার পরিকল্পনার লোক এখানে আসে না। ফলে পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি কিভাবে জানবে বলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন।
কেইস স্টাডি দুই: শরীরে কোন শক্তি নেই। সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকেন। কঙ্কালের মতো অবস্থা। অপুষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীতে ভুগছেন হাসি বিবি। অল্প বয়সে বেশি সন্তানের জন্ম দিয়ে আজ তার নিজের জীবনই হুমকির মুখে পড়েছে। ২৮ বছর বয়সেই ছয় সন্তানের মা। চার সন্তান মারা গেছে। সাড়ে তিন মাস আগে মিন নামের একটি কন্যা সন্তানের আগমন ঘটেছে তাদের পরিবারে। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে তাদের। প্রতি বছর সন্তান জন্ম দেয়াই যেন এই দম্পতির লক্ষ্য। কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেননি তারা। ইচ্ছাও নেই বলে তাদের এক আত্মীয়া জানিয়েছেন। নিকট এই আত্মীয়া হাসির ঘরে বসেই এই প্রতিবেদককে বললেন, হাসির স্বামীর এসব পদ্ধতির ব্যাপারে মোটেই আগ্রহ নেই। এছাড়া, এখানে কোন সরকারি লোক এসে বিষয়টি ভালোভাবে তুলেও ধরছে না। তাই তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ কি তাও বুঝছে না। হতদরিদ্র পরিবারটির দেখভাল করছেন তার নিকট এই আত্মীয়া। বেড়িবাঁধের সনাতনগড় ‘নয় ভাই বস্তিতে’ থাকেন হাসি দম্পতি। যা রাজধানীর হাজারীবাগস্থ বৌবাজারের কাছেই। হাসির স্বামী টিটু প্রাইভেট গাড়ি চালান। বস্তিতে এক হাজার টাকা দিয়ে মাটির ছোট্ট ঝুপরি ঘরে থাকেন তারা।
৩০ বছর বয়সী আসমাও থাকেন নগরীর একই বস্তিতে। তারও চার সন্তান। আসমা, হাসি ও ফাইমার মতো এ বস্তির বহু দম্পতির চার থেকে আট সন্তান রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সুবিধা না পাওয়া, বাল্যবিবাহ এবং দরিদ্রতার কারণে তাদের অধিক সন্তান হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করার কলাকৌশল না জানাকেইও দায়ী করছেন তারা। অনেক নারী আবার বলছেন, এসব তারা পছন্দ করলেও স্বামী পছন্দ করে না। অশিক্ষিত দরিদ্র বস্তি পরিবারেই শুধু এ চিত্র নয়। কোথাও কোথাও এটি মধ্যবিত্ত, সচ্ছল পরিবারেরও প্রায় চিত্র দেখা মিলে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের যুক্তি সন্তান বেশি থাকলে বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবাকে খাওয়াতে পারবে। আর সচ্ছল পরিবারের যুক্তি সম্পত্তির প্রতুলতায় সংসারে আর একটি সন্তান আসুক। এভাবেই বেড়ে চলেছে দেশের জনসংখ্যা।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, বস্তি, হাওর ও চর এলাকায় প্রজনন হার বেশি। দরিদ্র ও হতদরিদ্র হওয়ার কারণে এখানে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। বস্তিগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনজিওদের নিয়ে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকা দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। টিএফআর এখন স্থিতিশীল আছে। আগেও এ রকম অভিযোগ ছিল। এখনও আছে। ৯০-দশকের দিকে একই রকম ছিল। তিনি বলেন, ৬ বা ৭ থেকে কমানো সহজ। কিন্তু ২ দশমিক ৩ থেকে ১ বা ২ কমানো অত সহজ নয়। দেশের সব বিভাগে একই চিত্র দেখা যায় না। ধীরগতিতে এগুচ্ছে। তাতে উদ্বেগের কিছুই নেই। পৃথিবীর অনেক দেশে এমন হয়েছে। নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়ে তা কমানো যায় বলে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন। অথবা পুরনো কর্মসূচিকে ভিন্নভাবে আরও কিভাবে সাড়া জাগানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কিছু জায়গাকে আওতায় আনা যায় না। ওই সব জায়গাকে এড্রেস করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে ক্রাস প্রোগ্রাম নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নূর হোসেন তালুকদার মানবজমিনকে বলেন, টিএফআর ২-এ নামানোই এখন টার্গেট। সিলেট ও চট্টগ্রামে ধর্মীয় কুসংস্কারের জন্য এই দু’টি বিভাগে এই সংখ্যা বেশি। ওখানে এনজিওদের বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বস্তি, নদীভাঙা এলাকার হতদরিদ্র ২৫ শতাংশ লোকই আমাদের মূল লক্ষ্য। নারীদের কাছে দশ বছর মেয়াদি পদ্ধতি হিসেবে আইইউডি (ইন্ট্রা ইউট্যারিন ডিভাইস) এখন জনপ্রিয় হচ্ছে। ঢাকার বস্তিতে এনজিওরা কাজ করে। মাঠকর্মীদের মাঠে না যাওয়া এবং তৎপরতায় ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে মহাপরিচালক বলেন, তাদেরকে প্রশাসনিকভাবে জবাবদিহিতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কর্মীরা মাঠে না গেলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি স্থবির তো হবেই। কর্মীরা না গেলে মানুষ সচেতন হবে না। সেবা গ্রহণকারীর দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মুটিভেটেড (অনুপ্রাণিত) করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত মাঠকর্মীরা ইচ্ছামতো ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে দেন এমন অভিযোগের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। দাতা সংস্থাগুলোও এক্ষেত্রে তাদের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চোখের জলে বিদায়
বোদা উপজেলার সাবেক নাজিরগঞ্জ ছিটমহলের জয় প্রকাশ (৪৬), স্ত্রী হাসি রানী, মেয়ে টুম্পা রায়, প্রিয়াংকা, প্রিয়সী ও একমাত্র ছেলে নিরব রায়কে নিয়ে ভারতে গেছেন। বাংলাদেশে থেকে গেছেন তার ভাইবোনসহ আত্মীয়স্বজন। জয় প্রকাশ বলেন, জন্মস্থান ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না দাদা। কিন্তু ছেলেমেয়েদের ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যেতে হচ্ছে। আমাকে লেখাপড়া, চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ভারতে আমার অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছে। সদর উপজেলার সাবেক গারাতি ছিটমহলের দীজেন বর্মণ (৪২) সঙ্গে নিয়ে গেছেন স্ত্রী রত্না রায় ও দুই সন্তানকে। এখানে থেকে গেছেন তার বাবা, ৪ ভাই ও আত্মীয়স্বজন। ১৪ বছর আগে সম্পর্ক করে ভারত থেকে দীজেন তার স্ত্রী রত্না রায়কে বিয়ে করে নিয়ে আসেন। দীজেন বর্মণ বলেন, স্ত্রীর দাবির কারণেই জন্মদাতা পিতা ও ভাইদের ফেলে ভারতে চলে যাচ্ছি। রত্না তাকে বলেছে না গেলে দুই সন্তানকে নিয়ে সে ভারতে চলে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে সবাইকে ছেড়ে ভারতে চলে যেতে হচ্ছে। হয়তো আর কোনদিন তাদের দেখা হবে না। দেবীগঞ্জের সাবেক কোটভাজিনি ছিটমহলের কমলেশ্বর সরকার (৪৫) বলেন, এতো বছর থেকে একসঙ্গে বসবাসকারী ছিটমহলের লোকজনদের ভারতে চলে যাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পরিবারের ২০ জন সদস্যও আবেদন করেছে। আবেদনকারী লোকজনদের জায়গায় যারা আসবে তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আমরাও ভারতে চলে যাচ্ছি। আজ সোমবার দ্বিতীয় দফায় একই রুট দিয়ে ভারতে যাবে দেবীগঞ্জের বিলুপ্ত কোটভাজনী ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী ছিটের ৩১টি পরিবারের একজন নবজাতকসহ ১৭৭ জন। গতকাল রোববার বিকালে মালপত্র নিয়ে তারা হাজির হয় দেবীগঞ্জের গাজোকাটি বাজার মাঠে নির্মিত অস্থায়ী ক্যাম্পে। আগামীকাল মঙ্গলবার ৩য় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরের দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবারের একজন নবজাতকসহ ১৪৯ জন ভারতে যাবেন। তাদের আজ সোমবার বিকালের মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 23
(9)
- শেষ সাক্ষাতে যা বলেছেন সালাউদ্দিন-মুজাহিদ by আহমেদ...
- ভারতে প্লাস্টিকের গরু প্রদর্শনীতে পুলিশের অভিযান
- ৯/১১ হামলায়ও বেঁচেছিলেন ম্যাথিউ
- দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিমের মৃত্যু
- সন্দেহভাজন হামলাকারী ধরতে বেলজিয়ামে ব্যাপক অভিযান
- সাত রঙের সবজি খান
- সালাউদ্দিন কাদের মুজাহিদের শেষ প্রহর
- ৩২ বছর বয়সে আট সন্তানের মা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
- চোখের জলে বিদায়
-
▼
Nov 23
(9)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








