Thursday, July 7, 2011

গল্প- চিনেজোঁক by মাসুদুল হক

ত পরশুও মানুষটি এসেছিল কমলাদের বাড়িতে। এবার নিয়ে সে বেশ কয়েকবার এসেছে ওদের বাড়ি; মনে পড়ে যায় কমলার। মানুষটি যে কে, এখনো ওর বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি সে। ভাবিকে জিজ্ঞেস করবে না কি? নাহ্ দরকার নেই, তাহলে ভাবি আবার কত কী ভেবে বসবে। ভাববে, এত কৌতূহল কেন? তাহলে কি ওর পছন্দ হয়েছে? এ রকম সন্দেহ হওয়া তো অমূলক নয়!

সাহিত্যালোচনা- পুস্তক প্রকাশনা ও বাংলা একাডেমীর বইমেলা by আহমাদ মাযহার

দীর্ঘকাল ধরেই বাংলা একাডেমীর বইমেলা বাংলাদেশের সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বইমেলা আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠা না হলেও বইমেলার আয়োজন এখন বাংলা একাডেমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ অমর একুশে বইমেলার বাইরে নগরবাসীর মধ্যে পুস্তক বিপণনের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতা-উত্তরকালে পুস্তক প্রকাশনায় নাই নাই করেও যতটা উন্নতি হয়েছে, যে পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে, তুলনায় বই বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

পাকিস্তানের পরমাণু প্রযুক্তি পেতে ঘুষ দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া

পরমাণু বোমা তৈরির প্রযুক্তি বাগাতে নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঘুষ দিয়েছিল উত্তর কোরিয়ার সরকার। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির স্থপতি বলে পরিচিত বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাদির খান উত্তর কোরিয়ার একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া এমন এক চিঠির অনুলিপি ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশ করেছেন, এর মধ্যে ওই ঘুষের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই ওই চিঠি লেখা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিঠি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল জাহাঙ্গীর কেরামাতকে উত্তর কোরিয়া ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে। এ ছাড়া লে. জেনারেল জুলফিকার খানকে পাঁচ লাখ ডলার ও অলঙ্কার দেওয়া হয়। চিঠিতে যাঁর স্বাক্ষর, তিনি উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি জন বিয়ং।
কাদির খান বলেছেন, তিনি নিজে এ অর্থ সেনাকর্মকর্তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ অর্থের বিনিময়ে একটি পরমাণু কর্মসূচির নথিপত্র উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল কাদির খানের। তবে পত্রিকার পক্ষ থেকে অর্থের পরিমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিঠিতে এক জায়গায় লেখা হয়, ‘দয়া করে চুক্তি অনুযায়ী সব দলিলদস্তাবেজ পাকিস্তানে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার একজন দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে দিন। এসব নিয়ে বিমানে করে দেশে ফিরবেন তিনি।’
কাদির খান স্বীকার করেছেন, তাঁর দেওয়া সেন্ট্রিফিউজ ও নকশার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া ইউরেনিয়ামভিত্তিক বোমা তৈরির কাজ শুরু করে। উত্তর কোরিয়া এর মধ্যে প্লুটোনিয়ামভিত্তিক পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু গোপনে পরমাণু প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য পাচারের ব্যাপারে পাকিস্তান কেবল কাদির খানকেই দোষ দিয়ে আসছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে চিঠিটি সত্য। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এই চিঠিকে ভুয়া বলে অভিহিত করেন। জেনারেল কেরামত ও জুলফিকার খান বলেছেন, কাদির খানের প্রকাশ করা ওই চিঠিটি ভুয়া। উত্তর কোরিয়ার কাছে পরমাণু প্রযুক্তি পাচার করার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্য এটা কাদির খানের একটি চেষ্টা।
পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে: পাকিস্তানে পরমাণু অস্ত্রের মজুদ দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বে তারাই সবচেয়ে দ্রুত এ মজুদ বাড়াচ্ছে। আগামী দশকে তারা ১৫০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শীর্ষ আণবিক বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেছেন।
এই বিশেষজ্ঞরা হলেন হ্যান্স এম ক্রিস্টেনসেন ও রবার্ট এস নরিস। এ বিষয়ে তাঁদের লেখা একটি নিবন্ধ বুলেটিন অব অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস-এর চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
‘পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি, ২০১১’ শীর্ষক নিবন্ধে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকিস্তান যদি ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বাড়াতে থাকে, তাহলে এক দশকে তা ১৫০ থেকে ২০০টিতে পৌঁছাতে পারে।

ট্রানজিট নিয়ে তাড়াহুড়ো কেন? by আসজাদুল কিবরিয়া

প্রতিবেশী ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ভেতরে বেশ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা ট্রানজিট দেওয়ার বিভিন্ন সুফলের কথা তুলে ধরছেন। বোঝাতে চাইছেন, ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও অপেক্ষার পালা শেষ হয়নি। এতে করে বাংলাদেশই পিছিয়ে গেছে। কাজেই এখন এই অপেক্ষার পালা শেষ করতে হবে এবং তা খুব দ্রুত।
তবে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতার আলোকে কতটা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসংগত তা বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই একটা বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার, ভারতকে কিংবা নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট-সুবিধা দেওয়ায় নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই। কেননা, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা জোরদার হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির মধ্যে যোগাযোগ বিস্তৃত হওয়ার পথ তৈরি হবে। শুধু সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় বা ভারতবিরোধিতার নামে ট্রানজিটের তথা আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার বিরোধিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এ ধরনের বিরোধিতা দীর্ঘ মেয়াদে লোকসান ছাড়া লাভ বয়ে আনবে না।
প্রশ্ন হলো, নীতিগতভাবে সম্মত হলেই কি সব কাজ শেষ হয়ে যায়? নিশ্চয়ই নয়। বরং নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার মধ্য দিয়ে কাজটি শুরু হলো। এরপর অনেক ধাপ পার করতে হয়। বাংলাদেশ এখনো সেই সব ধাপ পার করা তো দূরে থাক, ঠিকমতো সেই ধাপে পা-ই রাখেনি। আর এখন দেশে ট্রানজিট নিয়ে সরকার যেসব কাজ করছে, তাতে মনে হচ্ছে, ধাপে ধাপে পা রাখার বদলে দ্রুত লাফ দিয়ে ধাপগুলো পার হওয়াটাই বেশি কাঙ্ক্ষিত।
সামান্য পেছনে যাওয়া যাক। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। এই সফরে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে যে যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়, তাতে বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট দিতে এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মতি প্রকাশ করে। ভারতও নেপাল ও ভুটানকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসতে দিতে বা বাংলাদেশের জন্য ট্রানজিট দিতে সম্মত হয়। অর্থাৎ, প্রথমে দ্বিপক্ষীয় এবং পরে একটি উপ-আঞ্চলিক কাঠামোয় ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সম্মত হয়েছে।
কিন্তু এরপর প্রায় ১০ মাস সময় নষ্ট করা হয়েছে ট্রানজিট নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে কোনো কাজ না করে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা কেন এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্বহীনভাবে চলতে দিয়েছেন, সেটাই বিস্ময়কর। বরং এই সময়কালের মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বিচ্ছিন্নভাবে ট্রানজিট নিয়ে কাজ করতে গিয়েছে। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে, সরকার ট্রানজিট নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের আওতায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকার একটি কোর কমিটি গঠন করে। কোর কমিটি স্বল্পতম সময়ে বেশ পরিশ্রম করেই ট্রানজিটের বিষয়ে একটি অবস্থানপত্রের খসড়া দাঁড় করায়। এই খসড়ায় অবকাঠামোগত অপ্রতুলতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে রেল ও সড়কপথে ট্রানজিট দেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে এই সময়কালে ট্রানশিপমেন্ট চালু করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। অবশ্য নৌপথে ট্রানজিট-সুবিধা চালু রয়েছে।
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, ভারতকে মূল ভূখণ্ড থেকে পণ্যসামগ্রী উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াটা হলো মূলত করিডর-সুবিধা দেওয়া। একটু বৃহত্তরভাবে এটাকে ‘ভারত থেকে ভারতে ট্রানজিট’ বলা যেতে পারে। তবে ভারত যখন চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তখন এই বন্দরগুলো হবে ভারতের ট্রানজিট বন্দর। আর ব্যবহূত রেল বা সড়কপথটি হবে ট্রানজিট রুট। একইভাবে বাংলাদেশি পণ্য ভারত হয়ে নেপালে গেলে বা নেপালি পণ্য ভারত হয়ে বাংলাদেশে এলে তা হবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশ বা নেপালকে দেওয়া ট্রানজিট। ট্রানজিট ও করিডরের ক্ষেত্রে এই সুবিধা গ্রহণকারী দেশের যানবাহন সুবিধা প্রদানকারী দেশের ওপর দিয়ে চলাচলের অনুমতি পায়। অন্যদিকে ট্রানশিপমেন্ট হলো ভারতীয় পণ্যবাহী যান এক সীমান্তে সেই পণ্য নামিয়ে আবার বাংলাদেশি বাহনে তুলে দেবে। এরপর বাংলাদেশি বাহন আরেক সীমান্তে গিয়ে সেই পণ্য নামিয়ে আবার ভারতীয় বাহনে তুলে দেবে।
এখানে যৌক্তিক প্রশ্ন হলো, ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সুবিধা প্রদানকারী দেশ কী পাবে? বা কেন এই সুবিধা দেবে? সুবিধা দেবে এ জন্যই যে, এর বিনিময়ে প্রাথমিকভাবে কিছু আর্থিক প্রাপ্তিযোগ ঘটবে। আর দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিময়তা বাড়বে পরিবহনসহ নানামুখী ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটে। তবে পুরো বিষয়টিই অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এই সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সবার আগে ঠিক করা প্রয়োজন, ট্রানজিটের বিষয়ে বাংলাদেশের নীতি কী হবে। এ ছাড়া বিষয়টি অনেক বিস্তৃত এবং এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। তাই পর্যাপ্ত আলাপ-আলোচনা ও দরকষাকষি ছাড়া এ-সংক্রান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। দুই দেশের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তিই দরকষাকষি ছাড়া সম্পন্ন হয় না। এই দরকষাকষির আগে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের যথেষ্ট প্রস্তুত করতে হয়। আর এই প্রস্তুতি দু-চার দিনে ও বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া যায় না।
ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার যে প্রক্রিয়াটি এখন অনুসৃত হচ্ছে, তাতে দরকষাকষির প্রস্তুতিতে ঘাটতি প্রতীয়মান হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখন পর্যন্ত ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুচিন্তিত মৌলিক নীতি চূড়ান্ত হয়নি। অন্তত জনসম্মুখে তা প্রকাশ করা হয়নি। এত বড় একটা কাজ কীভাবে কোনো নীতি-পরিকল্পনা ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব? ট্যারিফ কমিশন যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটি মূলত এক ধরনের অবস্থানপত্র, যা থেকে কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। তবে সেটা অনুসরণ করা না-করা সরকারের এখতিয়ার। সুতরাং, ট্রানজিট-বিষয়ক নীতি আগে চূড়ান্ত ও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনার তথা দরকষাকষির ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও যৌথ ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে একটি রূপরেখা বা কর্মকাঠামো চুক্তি করার মধ্য দিয়ে সেই ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করা সহজ হতো। সাধারণত ব্যাপক কোনো বিষয়ে দুই দেশ যখন বড় ধরনের চুক্তি করার কথা ভাবে, তখন শুরু হিসেবে এই রূপরেখা চুক্তি করা হয়। ট্রানজিট-বিষয়ক রূপরেখা চুক্তিতে মূলত আলোচনার বৃহত্তর পরিসীমা নির্ণয় করা যেত। যেমন: ট্রানজিটের জন্য মাশুল দিতে হবে। তবে কী হারে এবং কীভাবে মাশুল আরোপ ও আদায় হবে, তার বিস্তারিত ঠিক হতো পরের ধাপে। আর এই রূপরেখা চুক্তির আলোকে কয়েক দফা আলোচনায় বসার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ, স্বার্থ ও প্রয়োজনের দিকগুলো স্পষ্ট হতো, সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হতো। যেমন: কোর কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রানজিটের ফলে বছরে এক কোটি ৭৪ লাখ মেট্রিক টন পণ্যের যান চলাচল করবে। এটি সম্ভাব্য কিছু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করতে হয়েছে। সংগত কারণেই এসব অনুমান পুরোপুরি বাস্তবায়িত না-ও হতে পারে। সে জন্য দরকার যতটা সম্ভব বাস্তবানুগ অনুমান করে প্রাক্কলন করা। যদি রূপরেখার চুক্তির আলোকে আলোচনা অগ্রসর হতো, তাহলে সেই আলোচনা থেকে বেশ কিছু রসদ পাওয়া যেত, যা অনুমিতি নির্ধারণে অধিক সহায়ক হতো। সে ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ণয় করাও খানিকটা সহজ হতো। সর্বোপরি ট্রানজিট নিয়ে সরকার কীভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে বড় ধরনের স্বচ্ছতা আসত। এমনকি জাতীয় সংসদেও রূপরেখা চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হতে পারত।
দেখা যাচ্ছে, ট্রানজিট দেওয়ার নীতিগত সম্মতির পর প্রয়োজনীয় ধাপগুলো পূরণ না করে আমরা লাফ দিতে যাচ্ছি। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, সেটা হলো ভারতের আগ্রহের দিকটি। সংবাদপত্রের খবর থেকে জানা যায়, ভারত তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ১৫টি সড়ক ও রেলপথ ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সাত বছর মেয়াদি একটি প্রটোকল স্বাক্ষরের অনুরোধ করেছে ভারত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকার এই প্রস্তাব বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে যৌথ ঘোষণার ১০ মাস পর কেন ভারত তাদের প্রস্তাবটি দিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে এটা স্পষ্ট, ভারত নিজেদের প্রয়োজন ও স্বার্থ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে তাদের প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে। এবং এটা খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের ভারতের কাছ থেকে বিষয়টি শেখা দরকার।
প্রশ্ন হলো, ভারতীয় প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ কত দূর অগ্রসর হবে? যেহেতু রূপরেখা চুক্তি হয়নি, যেহেতু ট্রানজিট-নীতি চূড়ান্ত হয়নি, সেহেতু ভারতীয় প্রস্তাবের ভিত্তিতে অগ্রসর হলে অনিবার্যভাবে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ উপেক্ষিত হবে। আর তাই এখন প্রয়োজন অসম্পূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন ও ভারতীয় প্রস্তাব যেহেতু হাতে আছে, সেহেতু কিছু কাজ সহজ হয়ে যাবে। বিশেষ করে মৌলিক নীতি চূড়ান্তকরণ ও রূপরেখা চুক্তি সম্পন্ন করার দিকেই এখন মনোযোগ দেওয়া অধিক যুক্তিসংগত হবে; বিস্তারিত কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি নয়। ট্রানজিটের সুফল পেতে হলে ‘৪০ বছর সময়ক্ষেপণ’, ‘সংকীর্ণ মানসিকতা’ আর ‘অসভ্যতা’র দোহাই দিয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো যুক্তিই ধোপে টিকে না, টিকবে না।
আসজাদুল কিবরিয়া: লেখক ও সাংবাদিক।
asjadulk@gmail.com

মাওবাদী দমনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বামফ্রন্ট

মাওবাদীদের তৎপরতা মোকাবিলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বামফ্রন্টের সাহায্য চান, তা দিতে প্রস্তুত বামফ্রন্ট। গত সোমবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিএমের বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্র এ কথা বলেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলে যৌথ বাহিনীর অভিযান প্রায় বন্ধ ছিল। কিন্তু মমতার ক্ষমতা গ্রহণের দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার না করায় জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা আবারও সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি গোয়েন্দারা রাজ্য সরকারকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অযোধ্যা পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকা মাওবাদীরা আবার ফিরতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলের পুরোনো ডেরায়। ইতিমধ্যে, তাদের তৎপরতাও বেড়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষও সরকারকে একই প্রতিবেদন দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এখন তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য জঙ্গলমহলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এ উন্নয়নে মাওবাদীরা বাঁধা হলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন মমতা। তবে ক্ষমতায় আসার পর যৌথ বাহিনী প্রত্যাহারে এখনো উদ্যোগ নেননি।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শানদং প্রদেশে নির্মিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জিয়াওঝু বে ব্রিজ নামক ওই সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়। সেতুটি শানদং প্রদেশের ছিংদাও শহরের সঙ্গে হুয়াংগাদো দ্বীপকে সংযুক্ত করেছে। গত বৃহস্পতিবার সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
সাংহাই ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির দেয়ালে বেশ কয়েকটি ফাটল দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্বোধন সামনে রেখে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সেতুটির কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেতুর দেয়ালে ব্যবহূত বল্টুগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে এবং অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
তবে সেতুটির নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান শানদং হাইস্পিড গ্রুপ কোম্পানি দাবি করেছে, সেতুটিতে তার বিন্যাসের জন্য কয়েকটি দেয়াল ও বল্টু সরানো হয়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার।

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে পাঁচজন বহিষ্কার

মিসরের রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড পাঁচজন সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। নতুন দল গঠনের অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।
মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রকাশিত সোরোউক পত্রিকায় গতকাল মঙ্গলবারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাদারহুডের গাইডেন্স কাউন্সিল দল থেকে ওই পাঁচজনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের যুব শাখার ওই পাঁচজন সদস্য ইজিপশিয়ান কারেন্ট পার্টি নামের একটি দল গঠন করায় তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বহিষ্কৃত আবদেল রহমান খলিল বলেন, ‘মোবারককে হটানোর আন্দোলনে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত দলের গাইডেন্স কাউন্সিল থেকে নেওয়া হয়নি। তারপরও আমরা অনেকেই সেই আন্দোলনে যোগ দিই। তাহলে এখন কেন দল গঠনের জন্য আমাদের বহিষ্কার করা হবে?’ সম্প্রতি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্রাদারহুডকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবেন বিদেশিরা

শ্রীলঙ্কার সাবেক যুদ্ধ এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সরকার এ কথা জানায়। তামিল টাইগার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরাজিত করার দুই বছর পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য বিদেশিদের এখন আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিতে হবে না।
তামিল বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের সময় ওই এলাকার হাজার হাজার তামিল বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।
তথ্য দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তরাঞ্চল ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পাসপোর্টধারীদের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, তা তুলে নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারি বাহিনী তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ২০০৯ সালের মে মাসে কয়েক দশকের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা সরকার।
যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, বিদেশি পর্যটক ও ত্রাণকর্মীদের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এই বিধিনিষেধ বলবৎ ছিল।
তবে ওই অঞ্চলে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

বেন আলীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলীকে মাদক ও অস্ত্র রাখার দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। গত সোমবার তাঁর অনুপস্থিতিতেই তিউনিসিয়ার এক আদালত এ কারাদণ্ড দেন। গত জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভের মুখে বেন আলী দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।
আদালতে বেন আলীর পক্ষের আইনজীবী হোসনি বেজি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বেন আলী যে কখনো মাদক রাখতেন না, সে ব্যাপারে বহু প্রত্যক্ষদর্শী আছে। হোসনি বেজি জানান, বিক্রির উদ্দেশ্যে একজন প্রেসিডেন্ট দুই কিলোগ্রামের মতো গাঁজা রাখবেন, তা অবিশ্বাস্য। তা ছাড়া বেন আলীর প্রাসাদে যেসব অস্ত্র পাওয়া গেছে, সেগুলোও কোনো না কোনো বিশ্বনেতার কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলাজিজ বুতেফলিকা ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স নায়েফ বেন আবদেল আজিজ এসব অস্ত্র বেন আলীকে উপহার দিয়েছেন।
গত মাসে বেন আলী ও তাঁর স্ত্রী লায়লাকে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলার ৩৫ বছরের কারাদণ্ড ও চার কোটি ১০ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্ট ২০ বছর তিউনিসিয়া শাসন করেন।

পাকিস্তানে তালেবান দমনে ব্যাপক সেনা অভিযান

তালেবান জঙ্গিদের উচ্ছেদে আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি অধ্যুষিত কুররাম এলাকায় গত সোমবার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী। হেলিকপ্টার গানশিপ ও যুদ্ধবিমান নিয়ে হাজার হাজার সেনাসদস্য দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে গিয়ে কুররামে অভিযান শুরু করেছে।
হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুররাম। আল-কায়েদার সঙ্গে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযানের প্রাথমিক তথ্যমতে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত ছোটখাটো কয়েকটি প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। তবে একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘তালেবান জঙ্গিরা কোনো প্রতিরোধ দেখায়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রাণের ভয়ে কুররাম থেকে শত শত পরিবারের হাজার হাজার সদস্য পালিয়ে গেছে। অনেকে ওই অঞ্চলের অন্যতম নগর সাদ্দার ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়েছে অনেক জঙ্গিও।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সেনাসদস্যরা কুররামের মুশাত, মাসোজাই ও আলি শেরজাওয়ি পার্বত্য এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। মানাতো ও জাইমুখেত এলাকায়ও হেলিকপ্টার থেকে তাদের নামতে দেখা গেছে। প্রতিটি এলাকাই তালেবানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেনাসদস্যরা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নিয়ে প্রধান প্রধান রাস্তায় নজরদারি করছে।
পাকিস্তান সরকার কুররামের ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। অভিযানের আগে সেখানে কারফিউ জারি করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের সব পথ। টেলিফোন যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে কুররামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
কুররামে জঙ্গি তৎপরতা ছাড়াও শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচণ্ড বিরোধ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যস্থতায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কুররাম থেকে জঙ্গি নির্মূলের অভিযানে নেমেছে শিয়া সম্প্রদায়ও। তিন বছর ধরে তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ‘বায়োনিক’ চশমা

এটি এমন এক চশমা, যা হাজার হাজার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর চোখের সমস্যা দূর করবে। চশমাটি চোখে দিয়ে তাঁরা অনুভব করতে পারবেন, সামনে বা আশপাশে কী আছে। এ দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় পরিচালিত এ গবেষণার মূলে রয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞান-বিষয়ক গবেষক স্টিফেন হিকস। এর মধ্যে মৌলিক গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে চশমার আদি নমুনা তৈরির কাজ।
গবেষকদের দাবি, ‘স্মার্ট চশমা’ বা ‘বায়োনিক চশমা’ বলে পরিচিত এমন চশমা তাঁরা উদ্ভাবন করছেন, যা খুদে ক্যামেরা ও পকেট কম্পিউটারের মাধ্যমে চশমাধারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে সামনে থাকা বস্তু ও লোকজন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে এবং সচেতন করবে।
স্টিফেন হিকস বলেন, এই চশমার স্বচ্ছ লেন্সে থাকবে লাইট-এমিটিং ডিওডস (এলইডি), যা আলোর কণিকার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কাঠামো ফুটিয়ে তুলতে পারবে। চশমার ফ্রেমের দুপাশে পিনের মাথার মতো খুদে ক্যামেরা সামনে যা দেখবে, সেই তথ্য পাঠিয়ে দেবে পকেটে রাখা মোবাইল ফোনসেটের মতো খুদে কম্পিউটারে। সেই তথ্য থেকে কম্পিউটার অগণিত খুদে বিন্দুর মাধ্যমে দৃশ্যমান ব্যক্তি বা বস্তুর কাঠামো তৈরি করে পাঠাবে লেন্সে। লেন্সে বসানো এলইডি-ব্যবস্থা এই বিন্দুকে আলোকিত করে দৃশ্যমান জিনিস সম্পর্কে চশমাধারীকে তথ্য দেবে। যেমন আলোর কাঠামো নড়াচড়া করলে চশমাধারী বুঝে নেবে সামনে মানুষ আছে। আর তা যদি নিরেট কাঠামো হয়, তখন বুঝবে সামনে জড়বস্তু রয়েছে। যাদের এভাবে দেখতেও সমস্যা, তারা সে ক্ষেত্রে চশমার সঙ্গে থাকা শ্রবণযন্ত্রের সুবিধা পাবে।
গবেষকদের দাবি, এই চশমা পরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বিপণিকেন্দ্র ও ব্যস্ত রেলস্টেশনে চলাফেরা করতে পারবেন। পড়তে পারবেন বাসের নম্বর ও ক্যাশ যন্ত্রে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত হিসাব। চশমাটি যন্ত্রসংবলিত হলেও ওজনে হবে হালকা। কিনতে অর্থও বেশি লাগবে না। পরিকল্পনামতো কাজ এগোলে ২০১৪ সালে এটি বাজারে ছাড়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বেশির ভাগ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর দেখার সমস্যা দূর হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। দেশটিতে এখন তিন লাখ নিবন্ধিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছেন। এর মধ্যে বয়স্ক প্রতিবন্ধীরা সুফল বেশি পাবেন।
এর আগেও বিজ্ঞানীরা এ ধরনের যান্ত্রিক চশমা উদ্ভাবনের চেষ্টা চালান। চেষ্টার ফলে যে চশমা পাওয়া যায়, তা ছিল জবরজং ক্যামেরা ও ভারী কম্পিউটারসহ একটি কালো চশমা। দিন দিন প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন এ চশমাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে, সাধারণ অন্য সব চশমা থেকে এটিকে সহজে আলাদা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটির সামার সায়েন্স এক্সিবিশনের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার পাউন্ডেরও কম মূল্যে কেনা যাবে এই চশমা।
গবেষক স্টিফেন হিকস বলেন, এটি চিন্তা করতেই মন ভরে যাচ্ছে যে আমরা এমন এক চশমা তৈরিতে সক্ষম হব, যা বেশির ভাগ লোকের কেনার সাধ্য থাকবে। এতে বেশির ভাগ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উপকৃত হবে।

ক্ষুধামান্দ্যর ঝুঁকিতে কেট মিডলটন

ক্ষুধামান্দ্যয় ভুগতে পারেন যুক্তরাজ্যের ডাচেস অব ক্যামব্রিজ কেট মিডলটন (২৯)। ইতালীয় এক বিশেষজ্ঞ এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
ইতালির অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ অব অ্যানরেক্সিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ফ্যাবিওলা দ্য ক্লার্ক বলেন, সাম্প্রতিক কানাডা সফরকালে কেটের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখে বোঝা যায়, তাঁর অনেক ওজন কমেছে। এতে ক্ষুধামান্দ্যয় ভোগার শঙ্কা রয়েছে তাঁর। গত এপ্রিলে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে বিয়ে হয় কেটের। এর আগে থেকে তিনি শর্করাজাতীয় খাবার খুব কম খেয়ে আসছেন।
ইতালির এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কম খেয়ে রোগা হতে হতে কেট ক্ষুধামান্দ্যর সমস্যায় ভুগতে পারেন বলে তাঁর আশঙ্কা হচ্ছে। অনেক তরুণীই এ ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন।

১৮ বেসরকারি ডিপোতে নতুন ১৭টি পণ্য খালাসের আদেশ

চাল, গম, ছোলা ও ডালসহ নির্দিষ্ট ১৭টি পণ্য কনটেইনারের ভেতর বস্তায় করে আমদানি করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে নিয়ে খালাস করতে হবে।
পণ্য ১৭টি হলো: চাল, ডাল, গম, সরিষা, ছোলা, পশুখাদ্য, লোহার স্ক্র্যাপ, তুলা, পুরোনো সংবাদপত্র (ওয়েস্ট পেপার), হার্ডকোক, কার্বনব্ল্যাক, মার্বেলচিপস, বলক্লে, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও সার।
জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে এই নিয়ম অনুসরণ করতে ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দিয়েছে। এতে বন্দরের সংরক্ষিত জেটি এলাকার মধ্যে কনটেইনার-জট পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন আদেশ কার্যকর হলে প্রতি মাসে উল্লিখিত ১৭ ধরনের পণ্যভর্তি আড়াই হাজার কনটেইনার সরাসরি ডিপোতে নিয়ে খালাস করা সম্ভব হবে। সচরাচর এসব পণ্য জেটির ভেতর কনটেইনার থেকে খুলে ট্রাকে ও কাভার্ডভ্যানে করে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
বন্দর ও কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের পরিবহন বিভাগ থেকে সম্প্রতি বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৪ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কনটেইনারের ভেতর বস্তায় করে আমদানি করা এই ১৭ পণ্য বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে খালাসের জন্য আদেশ জারি করেছিল। এর আগে এই ১৭টি পণ্য কনটেইনারের ভেতর শুধু খোলা আকারে আমদানি হলে বেসরকারি ডিপোতে খালাসের বাধ্যবাধকতা ছিল।
এ বিষয়ে বন্দরের পরিবহন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এনামুল করিম সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন এই নিয়মের কারণে প্রতি মাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই হাজার কনটেইনার (২০ ফুট দীর্ঘ) বন্দরের বাইরে বেসরকারি ডিপো থেকে খালাস হতে পারে। এতে বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং পরিচালন কর্মকাণ্ডেও গতিশীলতা বাড়বে।’
বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যভর্তি কনটেইনার আমদানি হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। এর মধ্যে এক লাখ দুই হাজার কনটেইনার বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে খালাস করা হয়। অর্থাৎ আমদানি কনটেইনারের প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেসরকারি ডিপোতে খালাস হয়েছে। এখন নতুন নিয়মের ফলে আরও প্রায় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ আমদানি কনটেইনার বেসরকারি ডিপোতে খালাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন মোট ধারণক্ষমতার গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কনটেইনারে ভর্তি থাকে। কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতার ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহূত থাকলে বন্দরের পরিচালন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত তৈরি হয়।
এদিকে আমদানিকারকেরা অভিযোগ করেছেন যে কনটেইনারের ভেতর বস্তায় ভর্তি করে আমদানি করা পণ্য বেসরকারি ডিপোতে খালাস করতে হলে প্রতি (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনারে বাড়তি খরচ হবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। আমদানি খরচ হিসাবে এই টাকা ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান প্রথম আলোকে জানান, কনটেইনারে খোলা আকারে আমদানি হওয়া ১৭ পণ্যই আগে খালাস হতো বেসরকারি ডিপোতে। এখন একই পণ্য কনটেইনারে ব্যাগভর্তি আকারে আমদানি হলে বেসরকারি ডিপোতে খালাস হবে। বেসরকারি ডিপোর মাশুল কম হওয়ায় খরচ বাড়বে না।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ১৮টি বেসরকারি ডিপোতে এসব পণ্য খালাস করতে হবে।

আইপিওর অনুমোদন পেল রংপুর ডেইরি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেল রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সভায় গতকাল মঙ্গলবার কোম্পানিটির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পুনর্গঠিত এসইসি কাজ শুরু করার পর এটিই কোনো কোম্পানির আইপিও প্রস্তাব অনুমোদনের প্রথম ঘটনা।
তবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সংস্থাটি।
এসইসির সভা শেষে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এ দুটি সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সিডিবিএল শেয়ারবাজারের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লেনদেন-উপযোগী অজড় (ডিমেট) শেয়ার সংরক্ষণের পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন নিষ্পত্তির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ করে থাকে। এ ধরনের একটি কোম্পানিকে বাজারে আনা হলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে, যা নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। এসব বিবেচনা করেই কমিশন কোম্পানির আইপিওর প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
রংপুর ডেইরির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের দুই কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি শেয়ারে বিভক্ত। নতুন করে কোম্পানিটি আরও এক কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ৪০০ শেয়ার বাজারে ছেড়ে ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করবে। আট টাকা প্রিমিয়ামসহ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ টাকা।
রংপুর ডেইরির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

আন্তদেশীয় শেয়ার লেনদেনের উদ্যোগ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তদেশীয় শেয়ার লেনদেন চালু ও কোম্পানির তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্ক অঞ্চলের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সংগঠন দক্ষিণ এশীয় ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেস (এসএএফই) এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এসএএফই মনে করছে, উদ্যোগটি সফল হলে এ অঞ্চলের এক দেশের কোম্পানি অন্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এতে দেশগুলোর মধ্যে পুঁজির আদান-প্রদান বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারের বাজারের ব্যাপ্তি বাড়বে। শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহ সহজ হবে। একই সঙ্গে লাভবান হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও।
উল্লেখ্য, এসএএফই অনেক দিন ধরেই এ ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি প্রাথমিক অবস্থানপত্র তৈরি করেছে সংগঠনটি। এতে কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর বিদ্যমান আইনকানুনের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো দূরীকরণের উপায় ঠাঁই পেয়েছে।
জানা গেছে, এ অবস্থানপত্রের ভিত্তিতে সদস্যদেশগুলোর সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে এসএএফই। কাল বৃহস্পতিবার নেপালের অর্থমন্ত্রী, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করবে সংগঠনটির প্রতিনিধি দল। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
এসএএফইর সহসভাপতি হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া আগামী দিনে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি অর্থনৈতিক বিকাশকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আন্তদেশীয় তালিকাভুক্তি ও লেনদেন চালু খুব একটা সহজ কাজ হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের একপর্যায়ে অবশ্যই সম্মত করানো যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র জানায়, আন্তদেশীয় তালিকাভুক্তি ও লেনদেন চালুর জন্য বিস্তারিত কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যে সংস্থা আন্তদেশীয় পত্রকোষ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের মডেল নিরূপণ ও সদস্যদেশগুলোর পুঁজিবাজারের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যব্যাংক তৈরি করা হবে। এ ছাড়া এ অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় বিনিয়োগ সম্মেলন নামে বিশেষ বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
এসএএফই আগামী বছর সদস্যদেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অভিন্ন বিধিবিধান, আন্তদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ও নিকাশের জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
বর্তমানে এসএএফইর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ভুটান ও মরিশাস। এসব দেশের ১৫টি স্টক এক্সচেঞ্জ ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এর পূর্ণ সদস্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ, করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ, লাহোর স্টক এক্সচেঞ্জ, মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া, পাকিস্তান মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া, নেপাল স্টক এক্সচেঞ্জ, রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান এবং স্টক এক্সচেঞ্জ অব মরিশাস

বিচ হ্যাচারি ও চিটাগং ভেজিটেবলের শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ তদন্তে কমিটি

বিচ হ্যাচারি ও চিটাগং ভেজিটেবলের শেয়ারের দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়ার কারণ বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসইসি জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের শেয়ারের দাম মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায়। এর কারণ বের করতে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
২০১০ সালে চিটাগাং ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। এর কারণও বের করতেও এসইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

মাওবাদীদের নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে মমতার

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের মাওবাদীদের তৎপরতা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাওবাদীরা ঘোষণা দিয়েছিল, তারাও চাইছে মমতা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হোক। মমতা এবং তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও বারবার বলেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে জঙ্গলমহলের উন্নয়নে ব্রতী হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেবেন। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা নেবেন।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিপুল ভোটে বামফ্রন্টকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এলেও তারা এখনো পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির কারাবন্দী সদস্য এবং মাওবাদীদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
যৌথ বাহিনী প্রসঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি এবং সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তাঁরা যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার চান, তবে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আরও কিছুদিন যৌথ বাহিনী রাখার পক্ষে।

২০১২ সালের মধ্যে পৌনে দুই লাখ শরণার্থীর আশ্রয় দরকার

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) গতকাল সোমবার বলেছে, ২০১২ সালের মধ্যে এক লাখ ৭২ হাজার শরণার্থীকে নতুন দেশে বসবাসের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে। যাদের নতুন আশ্রয়ের দরকার, তাদের জন্য দরজা খুলে দিতে বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউএনএইচসিআরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিভাগের উপপরিচালক উই-মেং লিম-কাবা বলেন, ‘বেশির ভাগ শরণার্থীকে হয়তো বা শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে, নয়তো তাদের বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, দুদেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের কারণে অনেকে শরণার্থী হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ওইসব শরণার্থীর তৃতীয় কোনো দেশে বসবাস করতে দেওয়ার সুযোগই একমাত্র সম্ভাব্য সমাধান।
বিভিন্ন দেশ বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দিয়ে থাকে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
লিম-কাবা বলেন, যদি দেশগুলো আরও মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এগিয়ে না আসে, তাহলে আশ্রয়ের প্রয়োজন এমন এক লাখ শরণার্থীর ব্যাপারে চলতি বছরে কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, এটা উপলব্ধি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে এই মানুষগুলোর কাছে কোনো বিকল্প পথ নেই।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জঙ্গিদের এখনো মদদ দিয়ে যাচ্ছে

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এখনো বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। এসব সংগঠনের জঙ্গিদের প্রতিবেশী দেশ ও আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে তারা। গতকাল সোমবার নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক সেনা কমান্ডারের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সংগঠনকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৫ বছর ধরে মদদ দিয়ে যাচ্ছে।
সাবেক সেনা কমান্ডারের ভাষ্য, লস্কর-ই-তাইয়েবা, হরকাতুল মুজাহেদিন ও হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিদের পাকিস্তানি সেনারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ধর্মীয় নেতারা এসব সংগঠন পরিচালনা করে থাকে।
কমান্ডার বলেন, পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত কাশ্মীর ও আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় জঙ্গি তৎপরতায় মদদ দেওয়ার নীতি বর্জন করেননি।
এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন ওই কমান্ডার। এর মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সাবেক প্রধান ও সাবেক জেনারেলরা রয়েছেন।

দিল্লিতে পথশিশু ৫০ হাজার

ভারতের নয়াদিল্লির সড়কগুলোতে ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু বসবাস করে। বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত এক আদমশুমারির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
পরিচালিত জরিপের তথ্য সংকলন করে একটি বড় আকারের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিতের কাছে সম্প্রতি ওই প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
জরিপের তথ্য অনুসারে, এই শিশুদের অর্ধেকের বেশি নিরক্ষর এবং পাঁচ ভাগের একভাগ মেয়ে। তাদের প্রধান পেশা জিনিসপত্র কুড়ানো। অন্য পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তায় বিভিন্ন জিনিস বিক্রি, ভিক্ষা এবং রাস্তার পাশে বিভিন্ন দোকান ও খাবারের দোকানে কাজ করা। মূলত পরিবারকে সাহায্য করা ও নিজেদের খাবার জোগানোর জন্যই রোজগার করে এসব শিশু। খাদ্য, চিকিৎসা, খাওয়ার পানি সংগ্রহ প্রভৃতি প্রয়োজনে তাদের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমনকি ৮৭ শতাংশ শিশুকে শৌচাগার ব্যবহারের জন্যও খরচ করতে হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। জরিপে শিশুদের মাদকাসক্তির কথাও নিশ্চিত করা হয়।

মরক্কোয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ

মরক্কোতে বাদশাহ মোহাম্মদের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সে দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রায় দিলেও নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গণভোট প্রত্যাখ্যান করে দেশটির বিভিন্ন শহরে গত রোববার হাজার হাজার মানুষ গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।
গত শুক্রবার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু ‘ফেব্রুয়ারি টোয়েন্টি মুভমেন্ট’ নামের সংগঠন এই গণভোটকে ভাঁওতাবাজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রাজতন্ত্রের দেশ মরক্কোর সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই সংগঠনই কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে।
মরক্কোর প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র কাসাব্লাঙ্কায় ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ ‘স্বাধীনতা ও মর্যাদার’ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। ওমর নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘আমি এখানে এমন এক সংবিধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি, যাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, বরং বাদশাহকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’
বিক্ষোভে অংশ নিতে অনেকে এসেছিলেন ‘জাস্টিস অ্যান্ড চ্যারিটি’ নামে সংগঠন থেকে। মুসলিম এই সংগঠন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও এর কর্মকাণ্ডে তেমন একটা বাধা দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
কাসাব্লাঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরকারপক্ষের কিছু লোক ইটপাটকেল ছুড়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে আহত দুই ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাজধানী রাবাতেও হাজার খানেক বিক্ষোভকারী ‘স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার’ এবং ‘জনগণের কথা শুনুন’ বলে স্লোগান দেয়। উত্তরাঞ্চলীয় শহর তানজিয়ার্সেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ হয়েছে পর্যটননগর মাররাকেশেও।
প্রতিটি বিক্ষোভস্থলেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে তারা শান্তিপূর্ণ এসব বিক্ষোভে কোনো বাধা দেয়নি।
ফেব্রুয়ারি টোয়েন্টি মুভমেন্টের একজন সদস্য ওমর রাদি বলেছেন, ‘মরক্কোয় পরিবর্তন আনার মতো নতুন সংবিধানে কিছু নেই। আমরা চাইছি একটি নতুন সরকারব্যবস্থা। আমরা চাই দুর্নীতির দমন ও নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।’
ওমর রাদি বলেন, নতুন সংবিধান বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে আরও লোকজন রাস্তায় নেমে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় থেকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমি মনে করি, গণভোটের খেলা শেষ হওয়ার পর আরও অনেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে।’
তিউনিসিয়া ও মিসরে গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মরক্কোতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাদশাহ মোহাম্মদ তাঁর কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে গত মাসে গণভোটের ঘোষণা দেন।
নতুন সংবিধান অনুসারে পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রধান দল থেকে প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের কথা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন সরকারপ্রধান। তবে রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন বাদশাহই। সেনাবাহিনীর প্রধান, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁরই হাতে।
বাদশাহ মোহাম্মদের ১২ বছরের শাসনে এটাই প্রথম গণভোট। তিনি পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন।

পার্লামেন্টে লোকপাল বিল উত্থাপনে মতৈক্য হয়েছে

একটি জোরালো ও কার্যকর দুর্নীতি দমন আইন ভারতীয় পার্লামেন্টের পরের অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের ব্যাপারে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছেছে। গত রোববার আইনটি নিয়ে সর্বদলীয় সভায় আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ কথা জানান।
দুর্নীতিবিরোধী জোরালো একটি নতুন লোকপাল বিল কেমন হবে—এ নিয়ে সরকার ও সুশীল সমাজের মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থা চলছিল। সম্প্রতি মন্ত্রীসহ ভারতের হোমরাচোমরা ব্যক্তিদের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় এমন একটি আইনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী আন্না হাজারের নেতৃত্বাধীন সুশীল সমাজের সদস্যরা এমন একজন শক্তিমান লোকপাল নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছেন, যিনি জ্যেষ্ঠ বিচারক, সাংসদসহ প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অধিকারী হবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ বিচারকদের তদন্তের বিষয়টি লোকপালের ক্ষমতার বাইরে রাখতে চাইছে সরকার। তবে জুনের শেষ নাগাদ একটি জোরালো ও কার্যকর জন লোকপাল বিলের খসড়া করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করে সরকার।
সভায় মনমোহন সিং বলেন, ‘আমাকে এ কথা অবশ্যই যোগ করতে হবে যে দুর্নীতির সমস্যা মোকাবিলায় একটি ভালো আইন ও জোরালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। একার পক্ষে কখনো এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, লোকপাল যা-ই করুন না কেন, তাঁকে কাজ করতে হবে সংবিধানের বিধানের মধ্যে থেকে।

উত্তর কোরিয়াকে খাদ্যসহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন

দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়াকে খাদ্যসহায়তার জন্য এক কোটি ইউরো দেবে ইউরোপীয় কমিশন। গতকাল সোমবার কমিশনের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ত্রাণসহায়তা কমিশনার ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, অন্তত ছয় লাখ ৫০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এ সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যথায় খাদ্যাভাবে এই মানুষগুলোর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুষ্টিহীনতার শিকার হয়ে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। আবাসিক সেবাকেন্দ্রেও পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও পুষ্টিহীনতার শিকার।’
মারাত্মক পুষ্টিহীনতার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের জীবন রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
গত মার্চে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ায় ৬০ লাখের বেশি মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে বাইরে থেকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া দরকার।
আন্তর্জাতিক অবরোধের মুখে উত্তর কোরিয়ায় ত্রাণসহায়তা কমে এসেছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশন ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘকালীন পুষ্টি প্রকল্পের আওতায় উত্তর কোরিয়ায় সাড়ে তিন কোটি ইউরো ব্যয় করেছে।

পরিচালকের স্ত্রীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সুবিধাভোগী বা ইনসাইডার লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি পুঁজিবাজারের আইন অনুযায়ী কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য লেনদেন নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। আর বিধিবহির্ভূত এ লেনদেনের মাধ্যমে কোটি টাকা মুনাফা করেন তিনি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সম্প্রতি সুবিধাভোগী এ লেনদেনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েব সাইটে গতকাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জরিমানা করার দিন থেকে পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী লেনদেন নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক, উদ্যোক্তা শেয়ারধারী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যার শেয়ার কেনাবেচায় কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী হিসাব-বছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে থেকে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আর্থিক বিবরণী অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন করতে পারেন না। একই নিয়ম সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিরীক্ষক ও আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
কোম্পানির বিভিন্ন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য জনসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার আগেই এসব ব্যক্তির তা জানার সুযোগ রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁরা যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বাড়তি সুবিধা না নিতে পারেন, সে জন্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কিন্তু সুবিধাভোগী লেনদেন নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ম্যাকসন্সের স্বতন্ত্র পরিচালক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী জেবুন নাহার মঈন ওই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করেন বলে এসইসির অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।
এসইসি সূত্র জানায়, পরিচালক স্বামীর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির গোপন আর্থিক তথ্য আগেভাগে জেনে লভ্যাংশ ঘোষণার আগের চার দিনে শেয়ার কেনেন। এর এক মাসের মাথায় কোম্পানিটির রাইট শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসে।
জানা গেছে, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলের হিসাব-বছর ১ অক্টোবর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০০৯ সমাপ্ত হিসাব-বছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করে। এ সময় শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। এই হিসেবে কোম্পানির ইনসাইডারদের ১ আগস্ট থেকে ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনে অংশ নিতে পারার কথা নয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও জেবুন নাহার মঈন ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলের শেয়ার লেনদেনে অংশ নেন।
এসইসি বলছে, বোনাস ও রাইট শেয়ার ছাড়ার তথ্য আগে থেকে জেনেই জেবুন নাহার শেয়ার লেনদেন করেছেন। এ সময় তিনি কোম্পানিটির দুই লাখ শেয়ার কেনেন। আবার লভ্যাংশ ঘোষণার দুই দিন পর থেকে তা বিক্রি শুরু করেন, যার মাধ্যমে তিনি প্রায় কোটি টাকা মুনাফা করতে সক্ষম হন।
বিষয়টি নজরে এলে গত বছরের ২ অক্টোবর জেবুন নাহার মঈনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এসইসি। একই সঙ্গে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তাঁর কোনো জবাবই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
অবশ্য এর আগে স্ত্রীকে সহযোগিতা করার জন্য স্বতন্ত্র পরিচালক মঈন উদ্দিন চৌধুরীকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করতে ম্যাকসন্স স্পিনিং মিল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল এসইসি। গত ২১ জুন জারি করা ওই নির্দেশ অনুযায়ী কোম্পানি মঈন উদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করেছে বলে জানা গেছে।

সম্পদ ও দায় পুনর্মূল্যায়নের নীতিমালা চূড়ান্ত

সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমবারের মতো একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার।
আগামী দিনে যেসব সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইবে, তাদের এ নীতিমালার আওতায় সম্পদ ও দায়ের মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। সম্পদের মধ্যে রয়েছে কোম্পানির স্থায়ী ও চলতি সম্পদ। আর দায়ের মধ্যে রয়েছে চলতি ও দীর্ঘমেয়াদি দায়।
‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সরকারি কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও দায়ের পুনর্মূল্যায়নের জন্য নীতিমালাটি প্রণয়ন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডিরেক্ট লিস্টিং) জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে অবশ্যই জমা দিতে হবে কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদন। তবে যে তারিখে আবেদন করা হবে, পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সেই তারিখ থেকে এক বছরের বেশি পুরোনো হতে পারবে না।
নিরীক্ষা ফার্মের জন্য শর্ত: নীতিমালা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির মূল্যায়নকারী (ভ্যালুয়ার) বা পুনর্মূল্যায়নকারী (রি-ভ্যালুয়ার) হতে হলে নিরীক্ষা ফার্মগুলোকে কিছু শর্ত পালন করতে হবে। যেমন, নিরীক্ষা ফার্মকে অংশীদারি কারবার হতে হবে এবং ফার্মের অন্তত দুজন অংশীদারের প্রত্যেকের সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোনো নিরীক্ষা ফার্মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে, শাস্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আর্থিক জরিমানার ক্ষেত্রে তা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফার্ম মূল্যায়নকারী বা পুনর্মূল্যায়নকারী হতে পারবে না।
চলতি বছরসহ আগের তিন বছরের মধ্যে যেকোনো বছরে প্রস্তাবিত কোম্পানির বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করলে কোনো নিরীক্ষা ফার্ম ওই কোম্পানির সম্পদ ও দায় পুনর্মূল্যায়নের কাজ করতে পারবে না। ফার্মকে প্রয়োজনে (তড়ির‌্যা প্রকৌশলী, বস্ত্র প্রকৌশলী) যথাযথ প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
এসব শর্তপূরণ সাপেক্ষে আবেদন করলে নিরীক্ষা ফার্মের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে দেবে এসইসি। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা থেকে যে কাউকে পুনর্মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দেবে।
সম্পদ ও দায় : কোম্পানির সম্পদের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী সম্পদ ও চলতি সম্পদ। স্থায়ী সম্পদকে আবার কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। জমি, প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি, ভবন, অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ, অস্থাবর সম্পদ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মধ্যে রয়েছে আসবাব, কম্পিউটার, বিদ্যুর‌্যা উর‌্যাপাদনকারী যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
ভূমি এবং অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাজারমূল্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। ভবন, প্লান্ট ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কত দিন টিকবে, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (বিএফআরএস) এবং প্রচলিত আইনানুযায়ী।
চলতি সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও নগদের সমতুল্য, রিসিভেবলস (যে সম্পদ এখনো পাওয়া যায়নি কিন্তু পাওয়া যাবে), অগ্রিম, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ইত্যাদি। রিসিভেবলসের ক্ষেত্রে এক বছরেরগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ পুনর্মূল্যায়িত হবে বিএএস এবং বিএফআরএস অনুযায়ী।
অন্যদিকে চলতি দায় ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সম্মতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আয়কর আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। গ্র্যাচুইটি পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিএএস ও বিএফআরএস অনুসরণ করতে হবে। তবে অবসরকালীন তহবিলের ক্ষেত্রে করতে হবে অ্যাকচুয়ারিয়াল পুনর্মূল্যায়ন।
বক্তব্য : এ নীতিমালা প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও দায় পুনর্মূল্যায়নের জন্য এখন একটি উপায় তৈরি হলো। তবে খেয়াল রাখতে হবে, নীতিমালাটি যেন যথাযথভাবে পরিপালিত হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে এসইসির।’
যোগাযোগ করলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন-পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ছিল না। ফলে একেক কোম্পানি একেক পদ্ধতিতে কাজটি করে আসছিল। নীতিমালাটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ২৬টি সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

৭ জুলাই রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন শুরু

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের প্রথম স্কিম রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ৭ জুলাই ডিএসইতে শুরু হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাটাগরি হবে ‘এ’। ডিএসই ট্রেডিং কোড "RELIANCE1" ও কোম্পানি কোড ১২১৮৭।
ডিএসই ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ৫০০টি শেয়ারে একটি মার্কেট লট। ফান্ডটির আকার পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বা ৫৫ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের জন্য এক কোটি ১০ লাখ ইউনিট, প্রিআইপিও প্লেসমেন্ট এক কোটি ৬৫ লাখ ইউনিট, জনসাধারণের জন্য দুই কোটি ৭৫ লাখ ইউনিট।
প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে এইমস অব বাংলাদেশ লিমিটেড, স্পনসর রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও কাস্টডিয়ান ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

কালো টাকা শেয়ারবাজারে দুই বছর রাখতে হবে

১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগকৃত কালো টাকা শেয়ারবাজারে কমপক্ষে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত রাখতে হবে। এ দুই বছরের আগে শেয়ারবাজার থেকে এই অর্থ তুলে নেওয়া যাবে না। আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বৈধ টাকা প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই শুধু ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি যেকোনো সংস্থা কালো টাকা সাদাকারীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে আইন অনুযায়ী তা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক দিন পর ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

এক দিন নিম্নমুখী প্রবণতার পর আজ মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আজ দিনের লেনদেন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক বেড়েছে। তবে লেনদেন গতকালের চেয়ে কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪০.৮১ পয়েন্ট বেড়ে ৬,১৬৫.২৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ২০ মিনিটে সূচক কমে যায় ৪ পয়েন্ট। ৩৫ মিনিটে সূচক আবারও গতকালের চেয়ে ২৪ পয়েন্ট বাড়ে। এভাবেই ওঠানামার পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের দাম। কমেছে ৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৮৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ছয় কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ওয়ান ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, বেক্সিমকো, এনবিএল, ইসলামী ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, ইউসিবিএল ও ইউনাইটেড এয়ার।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১০৪.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১১৭২৬০.৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ৭৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৮৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৪ টাকা কম।

রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের আইপিও অনুমোদন

রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) আইপিও অনুমোদন দেয়নি কমিশন।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি আজ এই অনুমোদন দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এক কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ৪০০ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করবে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। আট টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ টাকা। এ ছাড়া ২০০টি শেয়ারে একটি মার্কেট লট হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রি আইপিও পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৮৮ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদের দাম (এনএভি) ১৬.৯৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
সাইফুর রহমান আরও জানান, সিডিবিএলের আইপিওর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ কমিশন সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান। এটি সংবেদনশীল হওয়ায় কমিশন সিডিবিএলের আইপিওর অনুমোদনে সম্মতি দেয়নি।

আজ মুখোমুখি সাকিব-তামিম

বাংলাদেশের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক আজ মুখোমুখি হচ্ছেন ইংল্যান্ডে। ফ্রেন্ডস টি-টোয়েন্টি কাপের নর্থ গ্রুপের ম্যাচে আজ সাকিব আল হাসানের দল উস্টারশায়ার খেলবে তামিম ইকবালের দল নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও চাইলে দেখতে পারেন ম্যাচটি। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার ক্রিকেট।
১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থাকা নটিংহ্যামশয়ারের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে উস্টার। সর্বশেষ দুই ম্যাচে হারা দলের জন্য আজকের ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামিমের দল টুর্নামেন্টে ম্যাচ হেরেছেই মাত্র একটি।
অভিষেক ম্যাচে ৮ রানে আউট হলেও পরশু দলকে জিতিয়েছেন তামিম। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়েছেন ৩৭ বলে ৪৭ রান করে। ওই দিনই ডারহামের বিপক্ষে প্রথম বলে আউট হয়েছেন সাকিব। সব মিলিয়ে ৯ ইনিংসে রান মাত্র ৫৬। বল হাতে অবশ্য দারুণ সফল বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৯ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট সাকিবের, ওপরে থাকা তিনজনই তাঁর চেয়ে ম্যাচ খেলেছেন দু-তিনটি বেশি।
আগামী ১৫ জুলাই ট্রেন্টব্রিজে ফিরতি ম্যাচে আবার মুখোমুখি হবে সাকিব-তামিমের দল।

ক্লিচকোকে বিশ্বসেরা মেনে নিলেন হায়ে

লড়াইয়ের আগে কত কী বলেছিলেন আর কত কি-ই না করেছেন ডেভিড হায়ে। কিন্তু বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিংয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণী ম্যাচে হারার পর সব পাল্টে গেছে। ব্রিটিশ বক্সার হায়ে ইউক্রেনিয়ান ভ্লাদিমির ক্লিচকোর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন।
২০০৮ সালে হেভিওয়েটে পা রেখেছেন হায়ে। সেই দিন থেকেই রিংয়ে ক্লিচকো ভাইদের রক্ত দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। ২০০৯ সালেই প্রথমবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। তখন তাঁর পরনের টি-শার্টটি আলোচনায় আসে। তাঁর টি-শার্টে আঁকা ছিল বক্সিং রিংয়ে উন্মত্ত বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠা হায়ের দুই হাতে ধরা দুই ক্লিচকো ভাইয়ে দুটি কাটা মুণ্ড, রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে ক্যানভাসে।
এবার ক্লিচকো ভাইদের ছোটজনের কাছ থেকে বক্সিংয়ের সেরা দুটি বেল্ট কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হুংকার ছেড়েছিলেন, তিনিই হবেন বিশ্বসেরা। হামবুর্গে পরশুর ম্যাচের আগের এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লিচকোর সঙ্গে হাত মেলাননি। বলেছিলেন, ম্যাচ শেষে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলাবেন। কিন্তু ক্লিচকোর কাছে হেরে যাওয়ার পর বলছেন—ক্লিচকোই বিশ্বসেরা।
তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছে না হায়ে। আবার লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমি আবার তার সঙ্গে লড়তে চাই। তবে এটা তার ওপর নির্ভর করে। আগে শিরোপা আমার কাছে ছিল। এখন ওটা তার কাছে এবং সেই ভালো অবস্থায় আছে। ভালো একটি লড়াই চাইলে আমার সঙ্গে লড়তে পারে। আর যদি সহজ লড়াই চায় তাহলে যারা টাকার জন্য লড়ে তাদের কারও সঙ্গে লড়তে পারে।’
এরপর ডান পায়ের আঙুলে চোটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমি আমার ডান পা নাড়াতেই পারছিলাম না। তবে এটাই হেরে যাওয়ার কারণ নয়—সে আমার চেয়ে ভালো খেলেছে। এমনকি আমি শতভাগ ফিট থাকলেও মনে হয় জিততে পারতাম না। এই সময়ে বিশ্বের সেরা যোদ্ধা সে।

মিশন ‘ধোনিকে বাঁচাও’

মূল লক্ষ্য অবশ্যই জয়। ড্র করলেও চলবে, সিরিজ জয় হয়ে যাবে তাতেও। কিন্তু ডমিনিকা টেস্টে ভারতের লক্ষ্য থাকবে আরেকটি, ধোনিকে বাঁচাও!
ভালো বিপদেই পড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ধীরগতির ওভার রেটের জন্য বারবাডোজ টেস্টে ম্যাচ ফির ৬০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে ভারত অধিনায়ককে। এতে খুব একটা ঝামেলা হয়নি। সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রিকেটারের জন্য এই অর্থ নিতান্তই সামান্য। সমস্যা হলো, এ বছরের শুরুতে কেপটাউন টেস্টেও একই কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছিল ধোনিকে। আইসিসির আচরণবিধির ধারা ২.৫ বলছে, ধীরগতির ওভার রেটের কারণে ১২ মাসের মধ্যে কেউ তিনবার দোষী সাব্যস্ত হলে পরের টেস্টে সে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
৬ মাসেই দুবার হয়ে গেছে ধোনির। ডমিনিকাতেও হলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট বাইরে থাকতে হবে ভারত অধিনায়ককে। ওই টেস্টটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের ২০০০তম টেস্ট। বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেও ওই সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ককে প্রথম টেস্টে না পাওয়া দলের জন্যও খুব একটা সুখকর হবে না। ধোনির বিপদে মানে তাই ভারতেরও বিপদ। বিপদ থেকে বাঁচতে ধোনির নিজের করার আছে খুব সামান্যই। অধিনায়ককে উদ্ধার করতে পারেন তাঁর সতীর্থরা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে পেসাররা!
বারবাডোজে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করা ইশান্ত শর্মাই সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অধিনায়ককে। ভারতীয় দলে ঘনিষ্ঠ এক সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে, ‘ডেলিভারির পর বোলিং মার্কে ফিরে যেতে প্রচুর সময় নেন ইশান্ত। কখনো কখনো একটি ওভার শেষ করতে ওর সাত মিনিট পর্যন্ত লেগে যায়।’ প্রাভিন কুমারের রানআপ তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে এই পেসারের অভ্যাস, ব্যাটসম্যান পরাস্ত হলে দীর্ঘক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকা। এই কাজ বারবারই করেন তিনি। বারবাডোজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪৫ ওভারের ৮১ ওভারই করেছেন এই দুই পেসার। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ধোনির দণ্ডের পেছনে কারা?
আক্রমণাত্মক মানসিকতার হরভজন সিংও অন্যান্য স্পিনারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় নেন। তবে দলের ওই সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয়রা এবার খুব সতর্ক। দেখা যাক, অধিনায়ককে গুরুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন কিনা ইশান্তরা!

শনিবার কমিটির রিপোর্ট

অভিযুক্ত শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ পাতানো ম্যাচ নিয়ে সভা করেই চলেছে বাংলাদেশ লিগ কমিটি। দুই দিন আগে কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী জানিয়েছিলেন, সোমবার (গতকাল) নিজেদের মধ্যে সভা শেষে বাফুফে সভাপতিকে রিপোর্ট দেওয়া হবে। কিন্তু কাল রাতে লিগ কমিটি রিপোর্ট দেওয়া দূরে থাক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নাকি নিতে পারেনি।
রাত সাড়ে আটটার সালাম মুর্শেদী তাঁর কক্ষে ভিড়ে ঠাসা সাংবাদিক সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের এই সভা আজ আরও চলবে। আগামী কয়েকটা দিনও আমরা বসতে পারি। তবে এটা নিশ্চিত, আজ রিপোর্ট দিচ্ছি না। আগামী শনিবার বেলা তিনটায় আমরা রিপোর্ট দেব। এর কোনো নড়চড় হবে না।’
তদন্ত কমিটিকে কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। কমিটি অভিযুক্ত দুই দলকে ডেকে জেরা করেছে। পরে মুক্তিযোদ্ধা কোচ মারুফুল হক বোমা ফাটান। তিনি জানান, ‘১১ জুন শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচের সময় ভুল করে রহমতঞ্জের ফুটবল সম্পাদক সালাউদ্দিন কালা ফোন করে আমাকে বলেন, যে ডিফেন্ডার ডিস্টার্ব করছে ওকে উঠাইয়া নিলাম। যত পারেন এবার গোল দেন...।’
মারুফ-কালা দুজনকেই ডেকে জেরা করেছে লিগ কমিটি। তার পরই সালাম মুর্শেদীর ব্যবসায়িক অফিসে কঠোর গোপনীয়তায় শুরু রিপোর্ট তৈরির কাজ। কমিটি সূত্রের খবর, ভিডিও দেখে কমিটির কাছে ম্যাচটা পাতানো মনে হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দুই দলকে নাকি আর্থিক জরিমানা এবং কালা ও রহমতগঞ্জ গোলরক্ষককে কয়েক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। যেহেতু পাতানো খেলার সর্বোচ্চ শাস্তি লিগ থেকে বহিষ্কার, কাজেই জরিমানার বিধান কতটা গ্রহণযোগ্য, আগেই এসব কথাবার্তা হচ্ছে।
কালা দাবি করেছেন, ‘ম্যাচে রহমতগঞ্জের ২-০ গোলের অগ্রগামিতা ধরে রাখার জন্য’ মারুফুল হক তাঁকে সাড়ে তিন লাখ টাকা সেধেছেন। এ জন্য লিগ কমিটি মারুফুল হককেও নাকি বহিষ্কারের সুপারিশ করবে।
কালকের সভার আগে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিটি। সালাউদ্দিন কমিটিকে বলেছেন, ‘কোনো অনুমাননির্ভর রিপোর্ট দেওয়া যাবে না। যা বলার সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে হবে।’ এরপর নাকি কিছু বিষয় উল্টে যায়। কমিটি আরও সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সালাম বলছেন, ‘এটা একটা স্পর্শকাতর বিষয়। কমিটির কো-চেয়ারম্যান নাবিল সাহেব (কাজী নাবিল আহমেদ) ছিলেন না দেশে, তিনি আজ কমিটির মিটিংয়ে প্রথম এসেছেন। কাজেই আরও আলাপ-আলোচনা দরকার আমাদের। যা-ই করা হোক, দেশের ফুটবলের জন্য ভালো সিদ্ধান্তই আমরা নেব।’

মিডিয়া কাপ ফুটবল

কুল বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে আরটিভি। হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাভিশনকে। গোল করেছেন রুহুল আমিন। চ্যানেল আই ও একুশে টেলিভিশনের মধ্যকার অন্য সেমিফাইনাল খেলা চলার সময় মারামারি হলে খেলাটি বন্ধ হয়ে যায়। এই সেমিফাইনাল আজ নিষ্পত্তি করা হবে টাইব্রেকারে।

আর্সেনালে থাকছেন না ফ্যাব্রিগাস

ছোটবেলার ক্লাব বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছাটা অনেক দিন ধরেই লালন করছিলেন সেস ফ্যাব্রিগাস। এবার বোধহয় আনুষ্ঠানিকভাবেই সেই কথাটা আর্সেনালকে জানিয়ে দেবেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। আজই তিনি হয়তো এ নিয়ে কথা বলবেন আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে।
দীর্ঘদিন ধরেই ফ্যাব্রিগাসকে ন্যু ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল বার্সেলোনা। গত মৌসুমের শুরুতে অবশ্য ফ্যাব্রিগাসই আর্সেনাল ছাড়তে রাজি হননি। এরপর দলবদলের এবারের মৌসুমে ফ্যাব্রিগাসের জন্য ২৭ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল আর্সেনাল। তবে এবার হয়তো তাঁকে পাওয়ার জন্য ৪০ মিলিয়ন ইউরোও খরচ করতে রাজি হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী বার্সেলোনা। আগামী শুক্রবারের মধ্যেই তারা এ চুক্তিটা সম্পন্ন করতে চায় বলে গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন মারফত জানা গেছে।

ক্রিকেট-রাজনীতির নিন্দায় সাঙ্গাকারা

সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখার লক্ষ্যে নতুন আদেশ জারি করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। তার পরও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দুর্নীতিপরায়ণ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমের সমালোচনা করলেও এ হস্তক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা।
গতকাল লর্ডসে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক ভালো প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। প্রশাসনকে অবশ্যই সততা, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। আর এটা যদি না হয়, প্রশাসনে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে আমরা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। এটা আসলে এখনই শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সমর্থকেরা আমাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তাদের সমর্থন থেকেই আমরা শক্তি পাই। কিন্তু তারা যদি এ খেলাটা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটাই ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে। ক্রিকেট অঙ্গনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখার জন্য আইসিসি যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।’
গত সপ্তাহে ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়ে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে দুই বছরের সময় বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। এ সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিতে পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ সংস্থা।