Saturday, March 17, 2018

জাতীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে কেউ টিকতে পারবে না: ড. কামাল

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করা হচ্ছে। অথচ পাচারের টাকা ফেরত আনতে আত্মসাৎকারীদের বিচারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধরু স্বাক্ষরিত উপহার হলো বাহাত্তরের সংবিধান। এই সংবিধানে জনগণকে দেশের মালিক করা হয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতিবাজরা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মাস্তানদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে দুর্নীতিবাজদের পালাতে সুযোগ করে দেয়া ঠিক হবে না। দেশের মালিক জনগণ ঘরে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকলে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু জনগণের জন্য রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে রাজনীতি করার নামে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে অপমাননা করছে। এ সরকারের লুটপাটের জবাব চাইতে সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সব পেশার মানুষকে ঐক্যের শপথ নেয়ার আহবান জানান ড. কামাল হোসেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ বলেন, দেশ চলছে ভোটারবিহীন দখলদারদের মাধ্যমে। এ সরকার লুটপাটের সরকার। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আইনজীবীদের ভূমিকা ছিল। বর্তমান সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান তিনি। সরকারের সমালোচনা করে গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের মহাসড়কের কথা বলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে খাচ্ছে। ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে নারী নির্যাতন করছে। জনগণের আইনী অধিকার ও সুশাসন সুবিধা হরণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বেচাকেনা করছে। এতে অনেক পেশার অনেকে দলদাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। দেশে গণতান্ত্রিকা ধারা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ্ মো. খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, ফরোয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান আ ব ম মোস্তফা আমিন, প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ সাকী, এ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন এ্যাডভোকেট মো. তারেক হোসেন প্রমুখ।

'মোদি সরকার মুসলিমদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে'

ভারতের কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার মুসলিমদের কর্মসংস্থান, ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি।
তিনি আজ (শনিবার) বেসরকারি এক হিন্দি টিভি চ্যানেলে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেন। মুখতার আব্বাস নাখভি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারের পরিবেশ ছিল। আমাদের উন্নয়নের খসড়া ভোটের জন্য নয়। আমরা উন্নয়ন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কারো সঙ্গে বৈষম্য করিনি। কোনও ‘তোষণ’ ছাড়াই আমরা  ক্ষমতায়ণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
নাখভি বলেন, ‘যখন মোদি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তখন সরকারি চাকরিতে ৪.৫ শতাংশ মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমরা গত দু’বছর ধরে বিনাব্যয়ে কোচিং শুরু করেছি যার ফলে ১২৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিল।’
তিনি বলেন, ‘মুসলিম নারীদের অবশ্যই নির্বাচনে টিকিট পাওয়া উচিত। আমরা এ জন্য খুশি যে আজ থেকে প্রায় ২০/২৫ বছর আগে বিজেপি’র ব্যাপারে মুসলিমরা ভাবতেন তারা বিজেপিকে ভোট দেবেন না। কিন্তু এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে। এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন চিন্তা ভাবনা করার পর মেরিটের ভিত্তিতে ভোট দেন।’
এর আগে একই টিভি চ্যানেলে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে মজলিশ ই ইত্তেহাদুল  মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেন, ‘দেশে কেবল হিন্দু ভোটব্যাংক আছে, মুসলিম ভোটব্যাংক নেই। ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নামে নির্বাচন হচ্ছে। রাজনীতিতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি নজর দেয়া উচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও বিজেপি মুসলিমদের সমর্থন করেনি।’
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মুসলিমদের (শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা) সংরক্ষণ দেয়ার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, দেশে দলিতদের উপরে এখনো অত্যাচার হচ্ছে। একইভাবে মুসলিমদের উপরেও অত্যাচার হচ্ছে। সেজন্য মুসলিমদেরও সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়া উচিত।
ওই আলোচনা সভায় বিজেপি’র সিনিয়র নেতা সুব্রমনিয়াম স্বামী বলেন, মুসলিমদের সংরক্ষণ নয় বরং ইতিবাচক উৎসাহের প্রয়োজন। তার দাবি মুসলিমরা ৮ শ’ বছর ধরে দেশে রাজত্ব করেছে সেজন্য এ ধরণের সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ দেয়া উচিত নয়।
কিন্তু আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘সংবিধানে এর ব্যবস্থাপনা আছে সেজন্য ওই অধিকারকে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করবো।’
এদিকে, মুসলিমদের কর্মসংস্থান, ক্ষমতায়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাখভি যে দাবি করেছেন তাকে খারিজ করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’  পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ। 
ফারুক আহমেদ  আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের কর্মসংস্থানে জোরালো আঘাত দেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে গরু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চামড়া শিল্পে আঘাত এসেছে ও গোশত বিক্রির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। 
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিগত লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে কম মুসলিম প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পেরেছেন। গুজরাট, উত্তর প্রদেশসহবিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি মুসলিমদের প্রার্থী না করে বঞ্চিত  করেছে। সুতরাং মুখতার আব্বাস নাকভির মুসলিম উন্নয়নের দাবি ঠিক নয়।’

একটি বিমান দুর্ঘটনা ও একজন জাকির হোসেন by নজরুল ইসলাম খোকন

সোমবার থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের মূলধারার প্রতিটি সংবাদ মাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেপালে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের এভিয়েশন হিস্ট্রির অন্যতম বেদনাদায়ক ট্রাজেডি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। সেটি করারই কথা। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা একদিকে যেমন সর্বব্যাপি শোক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে জন্ম দিয়েছে হাজার হাজার নতুন নতুন এভিয়েশন এক্সপার্ট! যারা নানা রকম চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনাটি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে প্রতিভার জানান দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। সে যাই হোক, ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় ২৫ জন নেপালি আর ২৬ জন বাংলাদেশীর নির্মম প্রাণহানীর পাশাপাশি ১০ জন বাংলাদেশীর অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার সংবাদটিও এখন আর কারো অজানা নয়। একই সঙ্গে ঘটনার তিন দিন পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসার খবরটিও আশা করি সবাই এরই মধ্যে জেনেছেন। আরেকটি খবর জেনে আপনারা খুশি হবেন আশা করি, নেপালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মূমূর্ষু আহত বাংলাদেশীদের চিকিৎসার্থে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানোর ঘোষণাও ঘটনার তিন দিন পর পাওয়া গেছে!
দুর্ঘটনাতো দুর্ঘটনাই, সেটি বাস-ট্রাক, নসিমন- করিমন, উড়োজাহাজ কিংবা সামুদ্রিক জাহাজ যেটিই হোক না কেন। দুর্ঘটনা মানেই প্রাণহানী, আহতদের আর্তনাদ, স্বজনদের আহাজারি। বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতো বিগত কয়েক বছরে মৃত্যুফাঁদের কুখ্যাতি অর্জন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে কমিটি হয়, ময়না তদন্ত হয় তাতে হতাহত কিংবা তাদের স্বজন পরিজনদের আখেরে খুব একটা লাভ হয় বলে মনে হয় না। বিমান দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের স্বজনরা অবশ্য শান্তনা অনুভব করতে পারেন এই ভেবে যে , বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কারণে তারা আর যাই হোক অন্তত সরকারের তরফ থেকে একটি রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা পেয়েছেন যেটি বাস ট্রাক কিংবা অন্য দুর্ঘটনায় ইতিপূর্বে অর্ধশতাধিক প্রাণহানির পরও তাদের স্বজনরা পান নি। এমনকি রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে সহ¯্রাধিক মানুষের মৃত্যুও বিমান দুর্ঘটনায় ২৫ জনের প্রাণহানির তুলনায় কিছুই না। বিমান মানেই অনেক টাকা পয়সার ব্যাপার, আভিজাত্যের ব্যাপার। একটি প্লেনের দাম অনেক টাকা, যারা চড়েন তারাও কম-বেশী পয়সাওয়ালা। সমাজে তাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে, শ্রমিক, দিনমজুর যারা পরের দেশ থেকে রেমিটেন্স এনে দেশে অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন তাদের মৃত্যু তাই সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে অতটা গুরুত্ব বহন করে না যতটা পরের দেশে টাকা খরচ করনেওয়ালারা পেয়ে থাকেন।
যাই হোক, ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার দিন সকালেই জাকির হোসেন নামের এক যুবকের কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংবাদ অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদটির খানিকটা প্রথম আলো থেকে তুলে ধরতে চাই, ‘যেদিন গ্রেপ্তার হইল সেদিনও আমার ভাই সুস্থ। তারে তিন দিন রিমান্ডে নিল। এরপর ২ দিনও টিকলো না ভাই আমার। কী এমন করল তারা।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের করিডরে কেঁদেকেটে একটা প্রশ্নই বারবার আউড়ে যাচ্ছিলেন সুলতানা রাজিয়া। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কেউ কোন উত্তর দেয় নি। কয়েক হাত দূরেই সুলতানার বড় ভাই জাকির হোসেনের লাশটা একটা ট্রলির ওপর সাদা চাদরে মোড়ানো অবস্থায় রাখা। কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে মৃত্যু হয় তার। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি ও তেজগাও থানা ছাত্রদলের ভারপাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন ৬ মার্চ বিএনপি’র মানবববন্ধন কর্মসূচী শেষে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হন। সেদিনই শাহবাগ থানায় জাকিরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিশষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে হত্যার চেষ্টা সহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামীদের কাছ থেকে সাতটি বাঁশের লাঠি, ছয়টি ইটের ভাঙ্গা টুকরা ও ২৫ টি কাচের টুকরো পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার গ্রাউন্ড বেশ জটিল এবং শক্ত বলেই মনে হচ্ছে! আর এমন একটি মামলাতেই ৩ দিনের রিমান্ডের ধকল সামলাতে পারেনি এমন একটি ছেলেকে যে, কে বলেছে রাজনীতি করতে! যে দেশে মানববন্ধনের অপরাধে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে মৃত্যু বরণ করতে হয়, সে দেশে রাজনীতি করার খায়েশ আশা করি আর কোন জাকির হোসেনের হবে না! কথা সেটা নয়, এই জাকির হোসেনের ২ টি মেয়ে আছে, যাদের একজনের বয়স বছর দুই হবে, অন্যজনের ৭ কি ৮। সকালে অফিসে ঢুকেই মেসেঞ্জারে এক পরম শ্রদ্ধেয় বড় ভাইয়ের পাঠানো একটি ছবি দেখে প্রথমে বুঝতে পারি নি। পরে যখন বুঝতে পারলাম তখন এই লেখাটি লেখার জন্য তাগিদ অনুভব করলাম। যদিও লেখাটি পুরোপুরিই অর্থহীন সেটি আমি জানি। অন্ধের দেশে চশমা বিক্রির এই বৃথা চেষ্টা শুধুই নিজের বিবেকের কাছ থেকে মুক্তির জন্য।
বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক আর একই দিনে রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার জাকিরের জন্য কে লিখবে শোকগাথা? সেই প্রশ্ন নির্লজ্জ এই জাতির বিবেকের কাছে একদিন কি করবে না, বেচারা জাকিরের ছোট বাচ্চা দুটি?? আমরা যারা টেলিভিশনের পর্দায় সারাদিন বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য প্রচার করি তাদের কাছে একবারের জন্যও কি মনে হয় নি জাকিরের পরিবার বাদ থাক অন্তত তার নিষ্পাপ বাচ্চা দুটির অবস্থাটি কি সেটি প্রচার করা ?
নজরুল ইসলাম খোকন
ঢাকা
১৫ মার্চ ২০১৮।

যে রহস্যের কোনো সমাধান পাননি হকিং

সৃষ্টিজগৎ বা মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল সব সমস্যার সমাধান দিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের জিনিয়াস প্রফেসর স্টিফেন হকিং। কিন্তু তিনি মানবজীবনের একটি বিষয়ে কোনোই সমাধান দিয়ে যেতে পারেন নি। এমনকি এই রহস্যের মধ্যেই তিনি হাবুডুবু খেয়েছেন। ওই ইস্যুটি হলো নারী। ৭০তম জন্মদিনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রাত্যহিক জীবনে তিনি সবচেয়ে কোন্‌ বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করেন। তার জবাবে স্টিফেন হকিং বলেছিলেন ‘নারী। তারা সম্পূর্ণ রহস্যময়’। বিখ্যাত নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছিলেন। স্টিফেন হকিং ছিলেন ভীষণ মেধাবী। মরণব্যাধির মুখে দাঁড়িয়েও তিনি দেখিয়েছেন অমিত সাহস। তবে তিনি নিজেই প্রথম স্বীকার করে নেন, অন্য সবার মতোই তিনি একজন সাধারণ মানুষ। তার চোখ-মুখে এক করুণ অভিব্যক্তি। তার মুখে ভালোবাসার এক অন্যরকম গ্লামার। তাই বুঝি তিনি নিজের বাথরুমের দরজায় সেঁটেছিলেন মেরিলিন মনরোর একটি বড় পোস্টার। ১৯৫৫ সালের ছবি ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইট্‌চ’ ছবিতে অভিনয়ের একটি ছবি সেটি। তাতে দেখা যায়, মেরিলিন মনরোর স্কার্টের সঙ্গে বাতাস দুষ্টুমি করছে। উড়ে উড়ে যাচ্ছে তা। এ ছবিটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। মেরিলিন মনরো বলতেই যেন এই ছবিটি প্রতীকী হয়ে ধরা দেয় সামনে। নৈশক্লাবের পরিচালক পিটার স্ট্রিংফেলো একদিন তার একটি ভেন্যুতে দেখতে পান এই সুপার জিনিয়াস হকিংকে। তাকে দেখে এগিয়ে যান পিটার স্ট্রিংফেলো। হকিংকে তিনি বলেন, আমি কি মহাবিশ্ব নিয়ে আপনার সঙ্গে এক মিনিট সময় নষ্ট করতে পারি? অথবা আপনি কি এর চেয়ে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা পছন্দ করেন? পিটার স্ট্রিংফেলো বলেন, আমার কথা শুনে তিনি কিছু সময় নীরব রইলেন। তারপর উত্তর দিলেন। বললেন, মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই তিনি পছন্দ করেন।
স্টিফেন হকিংয়ের ৭৬ বছর বয়সে দু’জন নারী এসেছিলেন তার জীবনে। তার প্রথম জন হলেন তার প্রথম স্ত্রী জেন ওয়াইল্ড। তার গর্ভেই জন্ম হয়েছে স্টিফেন হকিংয়ের তিন সন্তান রবার্ট, লুসি ও টিমের। এরপরেই ইলেন ম্যাসন নামের একজন নার্স আসেন হকিংয়ের জীবনে। ইলেনের কারণেই হকিংকে ছেড়ে যান জেন। এরপর ইলেনকে বিয়ে করেন হকিং। তিনিও হকিংকে তালাক দেন ২০০৬ সালে। এরপরও তার সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হকিং দু’বার। তবে বুধবার দিনের প্রথম প্রহরে মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার পাশে ছিলেন তার সেই সাবেক স্ত্রী ৭৩ বছর বয়সী জেন। তার সাবেক এই স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন ইলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় স্টিফেনের’ মৃত্যুতে গভীরভাবে আমি শোকাহত। তিনি নিজের বাড়িতে শান্তিতে মারা গেছেন এটা বলতে পেরে আমার ভালো লাগছে। তার জীবন ছিল ব্যতিক্রম ও সাহসী। তার মাধ্যমে তিনি যা অর্জন করেছেন তার জন্যই হয়তো এমনটা শান্তিতে তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন তার বেদনা আমরা অনুভব করবো। স্টিফেন হকিং বিশ্বজোড়া মানুষের ভালোবাসার নাম। তার বিদায় অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ, গত বড়দিন থেকেই তিনি বেশ অসুস্থ। কয়েকবার তো মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন। তাকে বিয়ের মাত্র ১১ মাস পড়ে ২০০৬ সালে তালাক দেয়া দ্বিতীয় স্ত্রী ইলেনের (৬৮) মনেও তাই ক্ষরণ। তিনি হকিংয়ের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে চোখ-মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। গ্লুচেস্টারশায়ারে চিপিং ক্যাম্পডেনে তার বাড়ি থেকে তিনি হকিংয়ের প্রতি তার ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান এভাবে- হকিং ছিলেন তার জীবনের ভালোবাসা। ইলেন বলেন, তিনি এক চমৎকার মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন অনেক অনেক বেশি স্পেশাল। আমার চিন্তা-চেতনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আমি হতাশায় ডুবে আছি। তিনি মারা গেছেন, এটা তার জন্যই স্বস্তির বলে আমি মনে করি। তিনি ছিলেন আমার জীবনের ভালোবাসা। আমি তার কাছেই যেতে চেয়েছিলাম। ইলেন আরো বলেন, তাদের বিচ্ছেদের পরে দু’বার তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন হকিং। কারণ, তাদের বিচ্ছেদের কারণ হকিং ছিলেন না। গত বছর জানুয়ারিতে কেমব্রিজে নিজের বাড়িতে ৭৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেন হকিং। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। ওই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাদের অনেক বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। তারা আতশবাজি পুড়িয়েছেন। এখন তারাই তার শবযাত্রার আয়োজন করছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে জেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হকিং। তাদের বিচ্ছেদ ঘটে ১৯৯৫ সালে। এর পাঁচ বছর আগে নার্স ইলেনের জন্য তাকে ছেড়ে যান হকিং।
পরে জেন তার স্মৃতিকথা লেখেন। এর ওপর ভিত্তি করে ২০১৫ সালে নির্মাণ করা হয় ছবি ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’। এতে অভিনয় করেন ইডি রেডমায়নে। এতে হকিংয়ের বিকলাঙ্গতা, তার খ্যাতি ও তিন সন্তানের কথা উল্লেখ করেন জেন। তিনি বলেন, ওই বিচ্ছেদ তাকে যেন ফেলে দেয় এক কৃষ্ণ গহ্বরে। হকিংয়ের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন জুডি ফেলা। তিনি বুধবার বলেছেন, সাবেক স্বামীর প্রতি দায়বদ্ধতা কখনো বন্ধ হয় নি জেনের। তিনি শেষ পর্যন্ত তার সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আপনি বুঝতে পারবেন না, এটা জেনের জন্য কতটা কষ্টের। তাদের বিবাহিত জীবনের একেবারেই প্রথমদিকে তিনটি সন্তানের জন্ম হয়েছিল। হকিংয়ের ৭৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন জুডি। সেদিন সম্পর্কে জুডি বলেন, হকিং ও জেন ওইদিনও খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাদের তিনটি সন্তানের কারণে।
২০০৭ সালে স্মৃতিকথা লেখেন জেন। এর নাম দেয়া হয় ‘ট্রাভেলিং টু ইনফিনিটি, মাই লাইফ ইউথ স্টিফেন’। ১৯৬৩ সালে তিনি কীভাবে হকিংয়ের দেখা পেয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমরা হাঁটছিলাম কয়েক শত গজ। তখনই আমার চোখে অদ্ভুত কিছু ধরা পড়ে। ঠিক উল্টোদিকে আমি দেখতে পাই অদ্ভুত এক মানুষ। মাথা নিচু করে হাঁটছেন তিনি। তার মুখ ঢেকে আছে সরল সোজা লম্বা চুলে। এর কয়েক মাস পরে তাদের দেখা হয় এক পার্টিতে। তখন হকিং জ্যোতির্বিদ্যার রিসার্চ করছেন কেমব্রিজে। এর পরপরই জেন জানতে পারেন হকিং দুরারোগ্য এক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এ রোগের  কোনো প্রতিকার নেই। বন্ধুরা জেনকে বললেন, হকিং আর হয়তো কয়েকটি মাস বাঁচতে পারেন। এর এক সপ্তাহ পরের কথা। জেন স্বীকার করেন, তখন তিনি হকিংয়ের প্রেমে পড়ে গেছেন। তাই তিনি প্ল্যাটফরমে আবারো সাক্ষাৎ করেন হকিংয়ের সঙ্গে। জেন তাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু হকিংয়ের পরিবার থেকে বলা হয়, তাদের ছেলের জীবন তো সামান্য কয়েকটি দিনের। তিনি বাঁচবেন না। এই সব ভয়ভীতির কথাকে ভালোবাসার কাছে জিম্মি রেখে জেন এগুলেন। তিনি প্রেমে পড়ে গেলেন হকিংয়ের। অবশেষে ১৯৬৫ সালে তাকে বিয়ে করলেন।

ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের আধিপত্য by অমিত ভান্ডারি ও চাঁদনি জিন্দাল

এশিয়ায় ভারত ও বাকি বিশ্ব চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রত্যক্ষ করছে আতঙ্ক ও উদ্বেগের মিশ্রণে। এসব বিনিয়োগ হচ্ছে অপ্রত্যাশিতহারে। তাদের এই আচরণ আঞ্চলিক ও নৌসীমানার দাবিকে আরও আগ্রাসী হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের চেয়েও তাদের এই মনোভাব বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। তারা এসব দেশ ও অঞ্চলে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাচ্ছে। বেশির ভাগ বিনিয়োগ হচ্ছে দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অংশ। এই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের পরিকল্পনায়। তিনি চাইছেন চীনকেন্দ্রীক বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ও চীনের প্রভাবের বলয় সৃষ্টি করতে। ভারতের জন্য এ বিষয়টি মজার ও উদ্বেগের। বিশেষ করে, যখন বিআরআই প্রকল্পের বড় অংশ হলো চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি)। এর মাধ্যমে পাকিস্তান হয়ে উঠতে পারে আঞ্চলিক প্রাণকেন্দ্র। মধ্য এশিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হারে জ্বালানিক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তান।
যথার্থ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এ জন্য বছরব্যাপী দৃশ্যমান গবেষণা ও বিশ্লেষণ করেছে গেটওয়ে হাউজ। এ সময়ে তারা প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশী ছয়টি দেশে মনোযোগ দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট ও ম্যাপ থেকে গবেষণা চালানো হয়েছে। তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
মূল বিষয়গুলো:
গত এক দশকে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ১৫০০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন অথবা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।  বর্তমানে মালদ্বীপ, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক অর্থ বিনিয়োগকারী দেশ হলো চীন।
ভারতের একেবারে প্রতিবেশী মিয়ানমার ও পাকিস্তান এই দুটি দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি দিয়েছে চীন। এসব দেশে চীনা বিনিয়োগ সরকারকে শক্তিশালী করছে, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে।
ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে গতিশীল। তারাও চীনের ওপর ন্যূনতম হলেও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
চীনের খেলা পরিষ্কার। তারা প্রথমে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ দেয়। তারপর সেটাকে পরিচর্যা করে। অংশীদার ও স্থানীয় অভিজাতদের নিয়ে সহায়তা দেয় আধুনিক অবকাঠামো খাতে। এক্ষেত্রে অর্থদান কিছুটা বিলম্বিত হয়। নিজেকে অবিচল করে তোলে তারা।
বড় ধরনের অবকাঠামো যেমন বিদ্যুত, সড়ক, রেলওয়ে, ব্রিজ, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দরের মতো বড় অবকাঠামোয় বিনিয়োগে মনোযোগ দেয় চীন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রকল্পের বাস্তনায়নকারী কন্ট্রাক্টরও চীনা। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রকল্পে যে তহবিল থাকে তাও চায়না।
বড় ধরনের অবকাঠামো ছাড়াও চীন ভূ-অর্থনেতিক বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে। তারা এসব দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ করছে। ঢাকা ও করাচি স্টক এক্সচেঞ্চে শেয়ার কিনেছে বেইজিং। চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ইউয়ান বাণিজ্য চর্চা শুরু করেছে। বিআরআই বিষয়ক বিরোধ মেটাতে খেয়ালখুশিমতো তারা চীনভিত্তিক একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করছে। তাই সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, বেইজিং নতুন আইনকানুন সৃষ্টি করছে। এ অঞ্চলে সরকারগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নতুন করে সাজাচ্ছে। এসব পরিবর্তন করা হচ্ছে যাতে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য সৃদৃঢ় হয়।
(অনলাইন গেটহাইজে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ: সুচির বিচার চেয়ে অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবীদের আবেদন

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির বিচার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল আইনজীবী। তার বিচার দাবিতে শুক্রবার ‘প্রাইভেট প্রসিকিউশন এপ্লিকেশন’ দাখিল করেছেন তারা। এতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের জন্য সরাসরি তাকে দায়ী করে তার জবাবদিহিতা বা বিচার দাবি করা হয়েছে। অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানকে উদ্ধৃত করে এ খবর প্রকাশ করেছে হাফিংটন পোস্ট। এতে বলা হয়েছে, মেলবোর্নে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন জমা দিয়েছেন ওই আইনজীবীরা। ওই মামলায় বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অতিমাত্রায় ও পর্যায়ক্রমিক অপরাধ চালিয়েছে। কিন্তু দায়িত্বশীলের পদে এবং ক্ষমতায় থেকে তা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন সুচি। এর মধ্য দিয়ে তিনি মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নৃশংসতা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন। ফলে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা রোহিঙ্গাদেরকে তাদের বাড়িঘর থেকে উৎখাত ও দেশান্তরী হতে বাধ্য করেছে।
এই আবেদনকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে, অর্থাৎ সুচির বিচার দাবির প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হলে অস্ট্রেলিয়ার এটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান পর্টারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। গার্ডিয়ান লিখেছে, এতে ক্রিশ্চিয়ান পর্টার সম্মতি না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ সপ্তাহান্তে আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যাওয়ার কথা রয়েছে সুচির। তাকে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণ-আদালত: সুচি ও সেনাপ্রধানের বিচার শুরু
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি ও দেশটির সেনাপ্রধানসহ অন্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক গণআদালতে বিচার শুরু হয়েছে।
শুক্রবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সুচিই প্রথম কোনো নোবেল জয়ী যিনি ব্যতিক্রমী এ আদালতে বিচারের সম্মুখীন হলেন এবং সম্ভবত দণ্ডিত হতে যাচ্ছেন।
সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি) নামে ওই আদালতে শুনানি শুরু হয়। কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল অংশ নেয়।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোসাইড স্ট্যাডিজ অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য বৌদ্ধ মিলিশিয়া এবং দেশটির বর্তমান বেসামরিক সরকার অভিযুক্ত।
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা মিয়ানমারের সর্বস্তরে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। ওই শুনানিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও অংশ নেন।
আজ ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারে মুসলিম নিপীড়ন বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। বিকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমাপনী বক্তব্য শেষে বিবাদী পক্ষ বক্তব্য রাখবেন।
বৃহস্পতিবার দিনভর বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা তাদের বক্তব্য পেশ করবেন। আট সদস্যের বিচারক প্যানেলে রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আইনজীবীরা।
পিপিটি মালয়েশীয় শাখার সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি চন্দ্র মোজাফফর বলেছেন, পাঁচ দিনের অধিবেশনে বিচারকরা প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের মতামত, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি বিচার বিশ্লেষণ করবেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় রায় ঘোষণা হবে। বিচারকদের এ রায় জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে।
এই ট্রাইব্যুনালে রোহিঙ্গা ও কাচিন সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অপরাধের বর্ণনা দিয়েছেন। ওয়েবসাইট।

সৌদি-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বিস্তার: তাতেও কী শেষ রক্ষা হবে রিয়াদের?

আমেরিকা ও সৌদি আরবের সামরিক কর্মকর্তারা রাজধানী রিয়াদে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সৌদি একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী খালেদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আইয়াফসহ দেশটির বেশ ক'জন সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
সৌদি আরবের উত্তরে আমেরিকার সঙ্গে যখন দেশটির সামরিক মহড়া চলছে ঠিক তখন এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। দু'দেশের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সামরিক চুক্তির পর এই সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সৌদি আরব ও আমেরিকার মধ্যে এমন সময় সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে যখন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য খুব শিগগিরি ওয়াশিংটন সফরে যাবেন বলে কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান গত বছরের মার্চে ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে রিয়াদে আসেন এবং দু'দেশের মধ্যে হাজার হাজার কোটি ডলার মূল্যের নজিরবিহীন সামরিক চুক্তি সই হয়। চুক্তি সইয়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত অপমানজনক ভাষায় একে গুরুর দুধ দোয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
দৈনিক রাই আর ইয়াওম এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ওই চুক্তিকে আরব দেশগুলোর কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে আমেরিকার বিরাট সাফল্য বলে অভিহিত করেছিল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, "এখন সময় এসেছে আরব নেতাদের এটা চিন্তা করা যে, আমেরিকা কেন প্রতিনিয়ত তাদেরকে অপমান অপদস্থ করে এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে নজিরবিহীন সামরিক চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়ে তেল সমৃদ্ধ আরব এ দেশটির সম্পদ লুট করা। এ ছাড়া, ফিলিস্তিন সংকটকে ভুলিয়ে দেয়া, এ অঞ্চলে ইসরাইলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং আরব দেশগুলোকে আমেরিকার গোয়েন্দাবৃত্তি ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করা আমেরিকার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের পরাজয় এবং রিয়াদের মনোবল ভেঙে পড়ার সঙ্গেও সৌদি-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বিস্তারেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
আমেরিকা ও সৌদি আরব এমন সময় যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে যখন ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে লড়াই শুরু করে সৌদি সরকার ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। ইয়েমেনের সরকার ও জনগণের প্রবল প্রতিরোধের কারণে আমেরিকা ও সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ওই দেশটিতে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘটনাবলীতেও আমেরিকা ও সৌদি আরব একের পর এক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এমনকি সৌদি আরবের সঙ্গে হাজার হাজার কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পালানোর কথা স্বীকার করলো মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন মং সোয়ে জানিয়েছেন, ২৫শে অগাস্টের পর থেকে প্রায় ৫৩৫,০০০ মুসলমান মংডু ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
বার্মার সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথমবারের মতো এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হলো।
ইয়াংগন থেকে বিবিসি বার্মিজ বিভাগের সংবাদদাতা স ইয়েন নাইং জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উল্লেখ করেন।
মি: নাইং জানান, "রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব বলেছেন, পাঁচ লাখেরও বেশি মুসলিম রিফিউজি বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। গত বছরের অগাস্ট মাসের শেষ দিকে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি)-এর আক্রমণের পর তারা পালিয়ে যায়।"
"কিন্তু কিভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি," বলছেন বিবিসির এই সাংবাদিক।
রাখাইনের আঞ্চলিক সরকারের সচিব জানিয়েছেন, গত বছরের বছর ২৫শে অগাস্টের আগে রাখাইনে "প্রায় ১০ লাখ পাঁচ হাজার মুসলিম" ছিল।
এখনো রাখাইনে প্রায় চার লক্ষ ৭০ হাজার মুসলিম রয়েছে বলে দাবি করছেন সচিব টিন মং সোয়ে।
কিন্তু জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকার যে হিসেব দিচ্ছে, তার তুলনায় পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের হিসেব প্রায় দেড় লক্ষ কম। বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বিবিসিকে বলেছেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশে কত রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে, সেটি শুধু বাংলাদেশ সরকারই হিসেবে করেনি, বরং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাও হিসেব করেছে - এবং সবাই ৬,৯২,০০০ জন শরণার্থীর বিষয়ে একমত।
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এরই মধ্যে একটি চুক্তিও করেছে, কিন্তু প্রত্যাবাসনের মূল কাজটিই এখনও শুরু হয়নি।
ইয়াংগন থেকে বিবিসির সাংবাদিক স ইয়েন নাইং জানান, জাতিসংঘের হিসেবের সাথে মিয়ানমার সরকারের হিসেবে বড় পার্থক্য থাকলেও ঠিক কত মানুষ পালিয়ে গেছে সে বিষয়ে দেশটির সরকার আগে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।
মি. নাইং বলেন, "জাতিসংঘের সাথে মিয়ানমার সরকারের তথ্যে ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু অতীতে মিয়ানমার সরকার সংখ্যাটি সুনির্দিষ্টভাবে কখনোই বলেনি। তারা শুধু বলেছিল কয়েক হাজার পালিয়ে গেছে।"
মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যে পরিসংখ্যানটি বলছেন, তাকে কিভাবে দেখছেন প্রত্যাবাসনের সাথে জড়িত বাংলাদেশে সরকারের কর্মকর্তারা?
বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালামকে।
মি: কালাম বলেন, "সে অর্থে বলা যেতে পারে যে এটা তারা একটা প্রকাশ্য স্বীকৃতি দিলেন। তবে তারা যে হিসেব দিয়েছেন, সেটা শুধু মংডু এলাকার।"আমাদের এখানে মংডু ছাড়াও রাথি-ডং এবং বুথি-ডং থেকেও লোক এসেছে। সেখানকার হিসেব যদি তাদের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায়, তাহলে সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি পাবে।"
প্রথম ধাপে ফেরত নেয়ার জন্য বাংলাদেশের তরফ থেকে মিয়ানমারকে ৮,০০০-এর বেশী রোহিঙ্গার নাম দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু একদিন আগেই মিয়ানমার সরকারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ওই তালিকা থেকে তারা মাত্র ৩৭৪ জনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন এবং এদেরই প্রথম ধাপে ফেরত নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে মিয়ানমার ঠিক কিসের ভিত্তিতে এমন কথা বলেছে, সে সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র তাদের কাছ থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ বিবিসি

প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা বেশি বেশি গণতন্ত্রের কথা বলেন- এমন ৫ জন নেতার এলাকায় যান। দেখবেন প্রথমত তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি। দ্বিতীয়ত বিরোধীদলের কোনো ঘরোয়া প্রোগ্রামও করতে দেননা। এলাকায় দল চালায় থানার ওসি। আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই করতে পারেননা। এসবের একটি কথাও যদি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেন কেউ তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।
আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত দেশনেত্রীর কারাবাস দীর্ঘায়িত করার সরকারি ষড়যন্ত্র বন্ধ ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এসব নেতারা মুখে বলে গণতন্ত্র আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে করে অন্যটা। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে শত শত মামলা দিয়ে হয় জেলখানায় না হয় ঘরছাড়া করে রেখেছে। আমি এখন ইচ্ছা করেই খুব একটা গ্রামের বাড়ি যাইনা। গেলেই অন্তত আমার ৫০ জন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। তারা মা বাবার সঙ্গে ঈদ করতে পারেনা। রাতে ঘরে ঘুমোতে পারেনা। এসময় তিনি বলেন, যেসব আওয়ামী লীগ নেতা এখনো গণতন্ত্রের কথা বলেন মেহেরবানি করে তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় নিজের মুখটি দেখবেন। এই সরকার এতো নিচে নেমে গেছে যে দেশের মানুষের সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক নেই। বিশ্বময় স্বৈরাচার সরকারের যেভাবে পতন হয়েছে এই সরকারেরও তেমন পত হবে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের একজন নেতা ইতিমধ্যে মুখ ফসকে বলেই দিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা। তিনি বলেছেন, সব কিছু হয়ে গেছে এখন নির্বাচনে বিজয় শুধু আনুষ্ঠানিকতা। এতোদিন আমরা যে সন্দেহ করে আসছিলাম সেটাই আজ স্পষ্ট হয়েছে। তবে তারা যতোই ষড়যন্ত্র করুক না কেন বাংলাদেশের মাটিতে এটা হতে দেয়া হবেনা। আওয়ামী লীগকে এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা।      
নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব ভিপি ইব্রাহিম, বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

পর্নো তারকার কাছে দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের আইনজীবীদের

গোপনীয়তার চুক্তি ভঙ্গ করেছেন পর্নো তারকা স্টর্মি ডানিয়েলস। এমন দাবি করে তার কাছে দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তারা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে স্টর্মি ডানিয়েলসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির অধীনে ওই সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথা প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু পর্নো তারকা ডানিয়েলস তা লঙ্ঘন করেছেন। কমপক্ষে ২০ বার তিনি ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন।
স্টর্মি ডানিয়েলস দাবি করেছেন, ২০০৬ সালে তখনকার ব্যবসায়ী ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্ক বেশ কয়েক মাস টিকে ছিল। এ বিষয়ে ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন বলেছেন, তিনি ওই পর্নো তারকার মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন। প্রথমেই যখন এসব কথা সামনে আসে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই সম্পর্কের কথা বেমালুম অস্বীকার করেন। উল্লেখ্য, স্টর্মি ডানিয়েলসের প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। এ মাসে তার আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি একটি মামলা করেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তার উদ্দেশ্য ওই চুক্তিকে ভেঙে দেয়া। তার আইনজীবী অ্যাভেনাত্তি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের ওই ক্ষতিপূরণ মামলা করাটা অনাকাঙ্খিত। এটা স্টর্মি ডানিয়েলসের প্রতি আরো একটি বিষাক্ত আক্রমণ। ওই মামলাটি রাজ্য থেকে ফেডারেল কোর্টে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। তবে স্টর্মি ডানিয়েলসের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি টুইটে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার আইনজীবী মাইকেল কোহেন দাবি করেছেন, স্টর্মি ডানিয়েলসের সঙ্গে চুক্তিতে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তাহলে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কি করে ওই চুক্তির বিপরীতে দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওদিকে স্টর্মি ডানিয়েলস বলেছেন, ২০১৬ সালের ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন নি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অর্থ হলো ওই চুক্তিটি এখন অকার্যকর। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা প্রথম ২০১১ সলে ‘ইন টাচ’ ম্যাগাজিনের কাছে প্রকাশ করেন স্টর্মি ডানিয়েলস। কিন্তু তা প্রথমে এ বছরের শুরুতে জনগণের চোখের সামনে নিয়ে আসা হয়। এ সময় রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মুখ না খুলতে তাকে অর্থ দেয়া হয়েছে।  এরপর ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনিই স্টর্মি ডানিয়েলসকে ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন। তবে এই অর্থ পরিশোধের সঙ্গে ট্রাম্প বা তার কোম্পানি জড়িত নয়।

কল্প গল্প: বলদের আত্মকথা by নাজমুস সাদাত পারভেজ

আমি বলদ। হ্যাঁ, বলদ-ই আমার নাম। রঙচঙে পৃথিবীর এক জনবহুল, ঘটনাবহুল দেশের মাটিতে আমার জন্ম। পূর্বপুরুষের রক্তের দামে নাকি এই মাটির মুক্তি কেনা হয়েছিল। আমি পেয়ে গেছি বরের দানে। ইতিহাস বলতে আমি এইটুকু জানি। এরচেয়ে বেশি জানি না। জানতে ইচ্ছেও করে না। কি হয় অতোসব জেনে? আমি কেবল ফায়দার কথা ভাবি। চকচকা ফকফকা জীবন নিয়ে আমার যত ভাবনা। আমি আবিষ্কার করেছি- দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, দায়বোধ- এসব ভারি ভারি শব্দের আসলে জোর নেই। এসব করে গলা ফাটিয়ে আখের গোছানো যায় না। আখের গোছাতে স্বার্থ চিনতে হয়। ঠিক বেঠিক হিসাব করে জ্ঞানীরা। আমি বলদ। আমার হিসাব ভিন্ন। আমি খুঁজি সুবিধা। দিনে খুঁজি। রাতে খুঁজি। খুঁজতে খুঁজতে টেকনাফ তেতুলিয়া এপার ওপার করে ফেলি। হঠাৎ একদিন পথমাঝে এক মহাপুরুষের দেখা পাই। শিষ্যত্ব গ্রহণ করে খুলে বলি মনের আকাঙ্ক্ষা। সব শুনে গুরুজী আমায় জবর কার্যকরী একখানা বুদ্ধি দেন। বলেন, বেটা বলদ, তুই রাজনীতিতে নেমে পড়। আমি শুধাই, গুরুজী, রাজনীতি কেন? গুরুজী জিজ্ঞেস করেন- স্বার্থ, সুবিধা, ক্ষমতা এসব দেখলে তোর চোখ কি শেয়ালের মতো চকচক করে না। সাপের মতো লকলক করে না জিভ? আমি মুখ দিয়ে লোভের লালা ঝরাতে ঝরাতে বলি- আজ্ঞে, হ্যাঁ গুরুজী! গুরুজী বললেন, সে জন্যই তো তোকে বলছি। এদেশে রাজনীতি তোর মক্ষম মঞ্চ, যা। লুটেপুটে যা পারিস খা। আমি খানিকটা চিন্তিত কণ্ঠে বললাম, কিন্তু গুরুজী, রাজনীতি নাকি জনকল্যাণের জায়গা। সেখানে নাকি দেশের স্বার্থ দেখতে হয়। মানুষের সুবিধা ভাবতে হয়। গুরুজী উত্তর দিলেন, ব্যাটা, তুই দেশের কথা ভাববি। জনগণের কথাও ভাববি। শুধু ‘কল্যাণ’টা নিজের করবি। দেশটাও তোর। মানুষও তোর। নিজের সুবিধামতো যখন যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করবি। কে কি বলল না বলল, কার কি হলো না হলো- তাতে তো তোর কিছু আসবে যাবে না। তুই হলি বলদ। সুবিধাবাদী বলদ। আহ! সেই থেকে আমার দিব্যদৃষ্টি খুলে গেল। আটঘাট বেঁধে নেমে পড়লাম রাজনীতির ময়দানে। কোমর বেঁধে ভাষণ দেই। আশ্বাস দেই। স্বপ্ন দেখাই মানুষকে। কখনো মিথ্যার মধ্যে সত্য, কখনো সত্যের মধ্যে মিথ্যা মিশিয়ে। মানুষগুলোও অদ্ভুত! খালি স্বপ্ন দেখতে থাকে আমলে আমলে, যুগে যুগে। কিন্তু খোয়াবনামা (স্বপ্নের অর্থ) জানে না। জানতে চেষ্টাও করে না।  আমি ধূসর বলদ এই সুযোগে রঙিন রঙিন ইতিহাসকে টুকরো টুকরো করে কেটে কেটে খাই। ইতিহাসের খাম্বা দিয়ে সুবিধাযজ্ঞের মণ্ডপ সাজাই। মাঝে মাঝে বেগ এলে লাল দালানের ‘সেপশাল সেল’-এ বিশ্রামে যাই। দুই-পাঁচদিন পাবলিকের চেতন থাকে; তারপরে যা তাই।
আমি আছি বেজায় ভালো। বাপ দাদারা রক্ত দিয়ে শোষক তাড়িয়েছে। আর আমি রক্তচোষা ত্রাণকর্তা সবাইকে লুটেপুটে দেশপ্রেমের ডুগডুগি বাজাই। এই উল্টোরথ যাত্রা আমার বড় সুবিধার লাগে। আমার নাম যদিও বলদ, আদতে আমি বড়ই সেয়ানা।
পুনশ্চঃ আমার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, বলদ যদি সেয়ানা হয়, তবে বোকা কে? উত্তরে বলেছিলাম: যারা আমলে আমলে যুগে যুগে খোয়াব দেখে। কিন্তু খোয়াবনামা জানে না। জানতে চায় না।

গোর্খা নেতা বিমল গুরুংকে গ্রেপ্তার করতে বাধা রইল না

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাবেক প্রধান বিমল গুরুংকে গ্রেপ্তার করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামনে আর কোনও বাধা নেই। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুংয়ের আরজি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, পাহাড়ে ক্ষমতার কোনওরকম অপব্যবহার করেনি রাজ্য সরকার। আদালতের এই রায় শুনে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, এই রায়ে আমরা খুশি। গুরুংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে প্রায় একশ মামলা রয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ইউপিএ আইনেও মামলা রয়েছে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, পাহাড়ে অশান্তি চলার পিছনে মূল কারিগর ছিলেন সাবেক এই মোর্চা নেতা । অশান্তি ছড়ানো, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, জঙ্গি কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  একসময় দার্জিলিং থেকে পালিয়ে সিকিমে আশ্রয় নিয়েছিলেন গুরুং। তাকে সেই সময় সমর্থন জানিয়েছিল সিকিম প্রশাসন। এমনকি সিকিম বিধানসভায় আলাদা গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থন করে প্রস্তাবও পাশ হয়েছিল।  সিকিম পুলিশের বাধায় পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি একবার গুরুংকে হাতে নাগালে পেয়েও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরবর্তীকালে সিকিম সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এরপরেই গুরুং সিকিম থেকে পালিয়ে দিল্লি চলে যান। সেখান থেকেই তিনি আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন। কিন্তু এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার সেই লড়াইও অকেজো হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই গুরুং ঘনিষ্ট বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।  এখন পুলিশ গুরুংকে গ্রেপ্তার করতে আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে।  অন্যদিকে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামরিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে  গুরুংকে মদত দেয়ার প্রসঙ্গটি মমতা উত্থাপন করছেন বলে জানা গেছে।

এফবিআইয়ের উপপ্রধানকে বরখাস্ত, ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে সরকার’

এফবিআইয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা বা উপপ্রধান অ্যানড্রু ম্যাকাবে’কে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করছিলেন। ওদিকে বরখাস্ত হওয়ার পর ম্যাকাবে বলেছেন, তাকে টার্গেট করা হয়েছে। এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছে তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাধার সৃষ্টি করেছেন কিনা তিনি তার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী। তাকে বরখাস্ত করে শুক্রবার জেফ সেশনস একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন ওয়াচডগ বা পর্যবেক্ষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, ম্যাকাবে অনেক তথ্য পাচার করেছেন সাংবাদিকদের কাছে। তার কর্মকান্ড নিয়ে তদন্তকারীদের ভুল তথ্য দিয়েছেন। জেফ সেশনস বলেছেন, প্রতিটি কর্মকর্তা, কর্মচারী সর্বোচ্চ সততা, বিশুদ্ধতা ও জবাবদিহিতার অধিকারী হবেন এমনটা প্রত্যাশা করে এফবিআই। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ম্যাকাবে। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন । উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিরষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই অ্যানড্রু ম্যাকাবে’র। এ বিষয়ে তিনি লম্বা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, তার মনে হয় রাজনৈতিক উদ্দেশে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। এর কারণ, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়া তদন্তকে গলাটিপে হত্যা করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর জেমস কমির এই দাবিকে সমর্থন করেছিলেন ম্যাকাবে। গত বছর জেমস কমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এরপর টেলিভিশনে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, রাশিয়া সংক্রান্ত ইস্যুতে তিনি জেমস কমিকে বরখাস্ত করেছেন। ওদিকে মাত্র দু’দিন পর রোববার ৫০তম জন্মদিন অ্যানড্রু ম্যাকাবে’র। ওই দুইটি দিন সময় পেলে তিনি এক রকম বৈধতা পেতেন। সেটা হলো এফবিআই থেকে পূর্ণাঙ্গ পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেন ম্যাকাবে। জেমস কমিকে বরখাস্তের নয় মাস পরে তাকে বরখাস্ত করায়, ম্যাকাবের পেনশনটা এখন ঝুঁকিতে পড়ে গেল।

সিএনজির ছাদে গার্ডেন

রাজধানীর বাসাবোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক তার সিএনজিতে শুধু গার্ডেনই করেননি, সিএনজির ভেতরে সাজিয়েছেন করেছেন ফুল এবং নানান প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে। তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নি নির্বাপক এবং যাত্রীদের জন্য প্রাথমিক  চিকিৎসার ব্যবস্থা সিএনজি চালক তপন বাবুর ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। এছাড়া সিএনজিটিতে আরো আছে তোয়ালে, আয়না, চিরুনি। রাতে সিএনজিটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে লাগানো হয়েছে রঙ-বেরঙের হরেক রকম বাতি। আর যাত্রীদের বিনোদনের জন্য আছে একটি গান শোনার  স্প্রিকার এবং একটি মনিটর।

বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ভেঙেছে কে! : প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে

শুক্রবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। টগবগিয়ে ফুটছিল যেন। দু’গ্রুপ খেলোয়ারের মধ্যে উত্তেজনাকর বাক্য বিনিময় হচ্ছিল। শেষ ওভারে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন উত্তেজনা। এক পর্যায়ে খেলা বন্ধ করে দেন বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন শাকিব আল হাসান। তিনি ক্রিজে থাকা দু’ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ ও ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান রুবেল হাসানকেম খেলা ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ডাকেন। উত্তেজনাকর এ সময়ে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের কাঁচের দরজা ভেঙে দেয়া হয়। কে বা কারা এটা করেছে তা কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছেন না। তবে ক্রিকইনফোর মতে বাংলাদেশ টিমের ভিতরকার কেউ একজন এটা করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস লিখেছে, এর ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে বাংলাদেশ। শাকিব আল হাসান যখন মাথা গরম করেছেন তখনও মাঠা ঠান্ডা সিনিয়র ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহর। উত্তেজনাকর মুহূর্তে তিনি মেজাজকে ধরে রেখেছিলেন এবং তিনিই শেষ পর্যন্ত জয়ী করেছেন দলকে। খেলার পেনাল্টি টাইমে অর্থাৎ অন্তিম মুহূর্তে ছয় বল যেন ভাগ্য নির্ধারণী হয়ে দাঁড়ায়। সেই খেলায় মাহমুদুল্লাহ ‘কুল ব্রেনে’ বল সীমানার বাইরে উড়িয়ে দিয়ে বিজয় কেড়ে নেন। আর তার ফলেই রোববার তিনি ভারতের মুখোমুখি ফাইনালে দাঁড় করিয়ে দিলেন টাইগারদের। বাংলাদেশী খেলোয়াড়রা যখন বিজয় উদযাপন করছিলেন থকনও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করতে হয় আম্পায়ারদের। এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বাউন্ডারির বাইরে। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ভাংচুর করা হয়। ক্রিকইনফো বলেছে, খেলোয়াড়রা যখন ড্রেসিং রুম থেকে দৌড়ে মাঠে ছুটে যান তখন তাদের পিছনে পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাঙা গ্লাস। ওদিকে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের একজন ক্যাটারিং স্টাফ এক্ষেত্রে একজন খেলোয়াড়ের নাম বলেছেন। তাদের মতে, ওই খেলোয়াড়ই এই ভাঙচুরের জন্য দায়ী। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রোডের সঙ্গে আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। এক্ষেত্রে দায়ী কে তা জানার জন্য আম্পায়াররা ম্যাচ ফুটেজ দেখবেন বলে বলা হচ্ছে।
শেষ ওভারে বিশৃংখলা
ম্যাচের শেষ ওভার। বাংলাদেশের একজন রিজার্ভ খেলোয়াড় পানীয় নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছেন। তাকে ধাক্কা দেন শ্রীলঙ্কান একজন খেলোয়াড়। ওদিকে একটি নো-বল দাবি করে বসেন মাহমুদুল্লাহ। কারণ, শ্রীলঙ্কার ছোড়া কমপক্ষে দুটি বল বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তিনি এ নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময়ই স্কিপার শাকিবকে দেখা যায় বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। তার মেজাজ বিগড়ে গেছে। তিনি মাহমুদুল্লাহ ও রুবেল হাসানকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তখনও চারটি বল বাকি শেষ ওভারের। শাকিবের এমন আচরণে সচকিত হয়ে পড়েন সবাই। পরে অবশ্য শাকিব স্বীকার করেছেন শেষ ওভারের ওই সময়ে তার শান্ত থাকা উচিত ছিল। তিনি মাথা ঠা-া রাখতে পারেন নি। বলেন, ভবিষ্যতে আরো ভালোভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন তিনি। শাকিব বলেছেন, অনেক কিছুই ঘটে গেছে, যা ঘটা উচিত ছিল না। আমার মাথা ঠান্ডা রাখা দরকার ছিল। আমি বেশি আনন্দ প্রকাশ করেছি। ওই জয়ে এক্সাইটমেন্ট ছিল। আমাকে অবশ্যই জানতে হবে, এরপর কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। আমি সতর্ক থাকবো। তিনি আরো বলেন, মাঠের ভিতরে যা ঘটেছে তা এর বাইরে ছড়িয়ে পড়া উচিত নয় কখনো। সততার সঙ্গে বলছি, আমরা (বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা) তো বন্ধু। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগৈ আমরা একে অন্যের মুখোমুখি হই। দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে রয়েছে চমৎকার সম্পর্ক। আমরা একে অন্যকে প্রচুর সহায়তা করি।

‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ বিরাট অর্জন’ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ জাতির জন্যে এক বিরাট অর্জন। জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি। আজ শনিবার দুপুরে জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন তিনি।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কাতারেই আজ বাংলাদেশের অবস্থান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এটি এলডিসি ব্লক থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তিনটি মানদ-ই পূরণ করেছে।
জাতিসংঘের প্যানেল দ্য কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (সিডিপি) শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সভায় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।

পাল্টাপাল্টি: বৃটিশ ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে রাশিয়া

লন্ডনের গৃহীত পদক্ষেপের জবাবে বৃটিশ ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে রাশিয়া। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে বলে শনিবার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বৃটেন রাশিয়ান গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাশিয়া ও লন্ডনের মধ্যে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স সহ বেশ কয়েকটি দেশ। গুপ্তচর ও তার মেয়ের ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগের জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ২৩ রাশিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বৃটেন। এরই পাল্টা ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। তারা বলেছে, শুধু কূটনীতিককে বহিষ্কারই নয় রাশিয়ায় অবস্থিত বৃটিশ কাউন্সিলও বন্ধ করে দেয়া হবে। বন্ধ করে দেয়া হবে সেন্ট পিটার্সবুর্গে বৃটিশ কনসুলেট। গত ৪ঠা মার্চ  বৃটেনের সলসবারিতে একটি দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ এর পক্ষে কাজ করা সের্গেই স্ক্রিপাল (৬৬) ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে (৩৩)। তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃটিশ সরকার বলছে, তাদের ওপর নোভিচক নামে রাশিয়ার নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করা হয়েছে। এ নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এ জন্য দায়ী হলো মস্কো। শুক্রবার আরো একটু এগিয়ে কথা বলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নির্দেশে নার্ভ গ্যাস হামলা হয়েছে বলেই জোরালোভাবে মনে হচ্ছে। ওদিকে রাশিয়ায় নিয়োজিত বৃটিশ রাষ্ট্রদূত লরি ব্রিস্টোউ’কে শনিবার তলব করা হয় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বৃটেনের গৃহীত পদক্ষেপের জবাবে রাশিয়া কি করছে তা তাকে জানিয়ে দেয়া হয়। এরপরই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, মস্কোতে বৃটিশ দূতাবাসের ২৩ কূটনৈতিক স্টাফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদেরকে এক সপ্তাহের মধ্যে বহিষ্কার করা হবে।

কাল নির্বাচন: রাশিয়ায় উত্তেজনা নেই, পুতিনের ভাগ্য যেন নিশ্চিত

রাত পার হলেই আগামীকাল রোববার রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিন্তু তা নিয়ে কোনো উত্তেজনা নেই। কারণ, ধরেই নেয়া হয়েছে চতুর্থ দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে চলেছেন ভøাদিমির পুতিন। তার সামনে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই। রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় পোলস্টারের সর্বশেষ জরিপে বলা হয়েছে, শতকরা ৬৯ ভাগ ভোট পেতে চলেছেন পুতিন। রোববারের নির্বাচনে এসব ভোটার পুতিনকে ভোট দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, প্রার্থী বাছাইয়ে তাদের আস্থার মূলে হলো স্থিতিশীলতা। পুতিন সেটা দিতে পারবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে বহু তরুণ, যুবক ভোটার বিশ্বাস করেন রাশিয়ায় নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকা সফর করেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফাররা। তাতে তারা যা দেখতে পেয়েছেন তাতে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিজয় নিয়ে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। তবে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া ক্রাইমিয়াতেও এবার প্রথমবারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। সেখান থেকে প্রকৌশলী আন্দ্রে লুকিনিখ বলেছেন, পুতিনই একমাত্র প্রার্থী, যিনি কঠিন সময়েও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারেন। মস্কোর শিক্ষার্থী ইউলিয়া ডুঝেভাও সমর্থন করছেন পুতিনকে। পুতিন ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করেছেন তাতে ওই শিক্ষার্থী অভিভূত। কিন্তু অন্যরা বলেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, রাশিয়ায় পরিবর্তন প্রয়োজন। মস্কোর একজন একাউন্টেন্ট নাতালিয়া ডেমেনতিভা। তিনি ভোট দেবেন টিভি ব্যক্তিত্ব সেনিয়া সোবচাককে। সেনিয়া সোবচাক অন্য সাত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর অন্যতম। নাতালিয়া বলেন, রাশিয়ানরা আরো স্বাধীনতা সমর্থন করে। তাই পুতিনকে ভোট দেয়া উচিত নয়। এক্ষেত্রে সেনিয়া সোবচাককে বেছে নেবেন তিনি। কারণ, তিনি মিথ্যা বলেন না। তিনি এমন কিছু ইস্যু সামনে তুলে ধরেছেন যা সরকারের জন্য খুবই কছিন। রাশিয়াকে শাসন করবে এমন পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম হয়েছে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে। এমন অনেকে আছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত রাশিয়ান পাবলিক অপিনিয়ন রিসার্স সেন্টারের ৯ই মার্চের জরিপ বলছে, রোববারের ভোটে সেনিয়া সোবচাক শতকরা মাত্র ২ ভাগ ভোট পেতে পারেন। কমিউনিস্ট পার্টির ধনাঢ্য ব্যক্তি পাভেল গ্রুডিনিন শতকরা ৭ ভাগ ভোট পাবেন।

শিশুদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করলেন শমী কায়সার

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে দুরন্ত টেলিভিশনে ‘শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু’ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী শমী কায়সার। ছবি: সংগৃহীত
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন কালজয়ী বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সার। তারই কন্যা অভিনেত্রী শমী কায়সার। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই অভিনেত্রীর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর কন্যা হিসেবে তিনি পারিবারিক সূত্রেই বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে মনে প্রাণে ধারণ করে থাকেন।
১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। দিনটি উপলক্ষে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করবেন শমী কায়সার। গল্পের মাধ্যেমে তিনি বঙ্গবন্ধুর শিশু বান্ধব রূপ তুলে ধরবেন এ প্রজন্মের শিশুদের কাছে। আজ বিকেল পাঁচটা এবং রাত নয়টা পর্যন্ত দুরন্ত টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ‘শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু’ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি বাংলাদেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা আলোচনা করবেন।
‘শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু’ অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে অভিনেত্রী শমী কায়সার। ছবি: সংগৃহীত
দুরন্ত টেলিভিশনের ‘শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু’ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী শমী কায়সারের কাছে বঙ্গবন্ধুর শৈশবের গল্প শুনবে জাইমা তহুরা চৌধুরী, আহনাফ ইথিকা মৌন, তাসনিম আলম ধ্রুব, ঈলিয়াহ রামীন হক বিভোর, জিনাত আহমেদ জেবা, জারিফা তাসনীম অবনী, সিরাতিম মুস্তাকিম দিহান।

এ কি রাজশ্রী প্রডাকশনের ছবি!

রাজশ্রী প্রডাকশনের কিছু কি দেখছি? যদি তাই হয়, যদি এই ম্যাচ তারই একটি ছবি হয় তাহলে আমরা তারই একটি ছবি দেখছি। একদিকে শ্রীলঙ্কার স্টেডিয়ামে দর্শকদের চোখে কান্না। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। দম বন্ধ করে বসে ছিলেন শ্রীলঙ্কার হাজার হাজার দর্শক। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন এই শ্রীলঙ্কাকে নাস্তানাবুদ করার পথে বাংলাদেশ। একে সিনেমা ছাড়া আর কি বলা যায়! গত রাতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিদাহাস ত্রিদেশীয় ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ গর্বের সঙ্গে নিজেদের নাম লেখানোর পর এমনই মন্তব্য করা হচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রিকইনফোর শিরোনাম ‘আগলি সিনস মার বাংলাদেশজ ড্রামাটিক উইন’। এতে ম্যাচের শেষ ওভারে সৃষ্ট উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ওই সময় মাঠে ‘আগলি সিন’ সৃষ্টি হয়। শ্রীলঙ্কান একজন খেলোয়াড় বাংলাদেশী একজন খেলেয়াড়কে ধাক্কা দেন। পর পর কমপক্ষে দুটি নো-বল করা হয়। এসব নিয়ে আম্পায়ারের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানাতে থাকেন ম্যাচের নায়ক মাহমুদুল্লাহ। টিভির পর্দায় তখন দেখা যায়, তাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না আম্পায়ার। মাহমুদুল্লাহ নাছোড়বান্দা। তিনি কিছুতেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খুশি নন। টিভির ক্যামেরা ঘুরে যায় মাঠের বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। সেখানে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শাকিব আল হাসানকে দেখা যায় উত্তেজিত ভঙ্গিতে। তিনি মাহমুদুল্লাহকে মাঠ থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। দু’হাত দিয়ে তাদেরকে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানাতে থাকেন। কিন্তু একজন আম্পায়ার তাকে তার জন্য নির্ধারিত স্বস্থানে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে থাকেন। এ সময় অভিযোগ করেন শাকিব। তিনি ওই আম্পায়ারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই শাকিবের কথা মানবেন না। শাকিব আবারো মাহমুদুল্লাহকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাতে থাকেন। এ সময় বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দেখা যায় পুরো বাংলাদেশ টিম প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তীব্র এক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে খেলা শুরু হয়। আর সেই খেলায় ক্রিজে অন্যপ্রান্তে ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেনকে নিয়ে প্রস্তুতি নেন মাহমুদুল্লাহ। জিততে বাংলাদেশের তখন প্রয়োজন শেষ দুই বলে ৬ রান। এক বল বাকি থাকতেই মাহমুদুল্লাহ বল পাঠিয়ে দেন ওই বাউন্ডারির ওপর দিয়ে বাইরে। তখন বাংলাদেশে যেন ‘আনন্দের পারমাণবিক বোমা’ ফেটে ওঠে। উত্তাল সাগরের ঢেউ কুল স্পর্শ করতে সময় নেয়। কিন্তু এই বিজয়ের আনন্দ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে, অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়তে কোনো তিলিক পর্যন্তও সময় নেয় না। পুরো বাংলাদেশ যেন হয়ে পড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। আনন্দে ফেটে পড়েন পাড়া, মহল্লার প্রতিটি মানুষ। আনন্দ চিৎকারে রাতের বাংলাদেশ বিশ্বকে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে।

উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। এ জন্য বাংলাদেশ তিনটি নির্ণায়ক (ক্রাইটেরিয়া) পূরণ করেছে। তা হলো গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), মানব সম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। নিউ ইয়র্কে জাতিসয়ঘের সদর দফতরে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ প্যানেল কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি। বাংলাদেশের পাশাপাশি এলডিসির তালিকা থেকে উঠে আসছে আরো দুটি দেশ। তারা হলো মিয়ানমার ও লাওস। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠতে হলে একটি দেশের গড় জাতীয় মাথাপিছু আয় হতে হয় ১২৩০ ডলার বা তারো বেশি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় এখন ১২৭২ ডলার। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আসতে হলে একটি দেশেকে এইচএআই সূচকে ৬৬ বা তারও বেশি স্কোর করতে হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৭২.৮। উল্লেখ্য এইচএআই সূচক পুষ্টি, স্বাস্থ্য, বয়স্ক শিক্ষা ও মাধ্যমিক স্কুলগামী শিক্ষার্থীর হারকে বুঝিয়ে থাকে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকে যদি কোন দেশ ৩২ বা তারও কম স্কোর করে তাহলে ওই দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ধরা হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ২৫। এ সূচকটি প্রাকৃতিক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ঝুঁকিকে বুঝিয়ে থাকে।  এখন জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২১ সালে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। এরপরই অন্তর্বর্তী তিন বছর পরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসবে। যদি বাংলাদেশ আগামী ছয় বছর তিনটি নির্ণায়ক সূচক ধরে রাখে তাহলে এলডিসি ব্লক থেকে বেরিয়ে আসবে ধীরে ধীরে। এ বিষয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মিডিয়াকে বলেছেন, একই সময়ে তিনটি নির্ণায়ক পূরণ করা একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। আর এর মধ্য দিয়ে তারা এলডিসি ব্লক থেকে বেরিয়ে আসার যোগ্যতা অর্জন করছে। এ জন্য ২০২১ এবং ২০২৪ সালের পর্যালোচনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপরই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ। এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। ২০২৪ সালে এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনটি নির্ণায়ক বা ক্রাইটেরিয়ায়ই অগ্রগতি টেকসই হিসেবে ধরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক ঝছুকির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মতে, গার্মেন্টের ওপর আমরা নির্ভরশীল। আমাদের পণ্য ও সেবার রপ্তানি অনেকাংশে পরিবর্তনশীল। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ১৭টি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দেয় জাতিসংঘ। এখন এ সংখ্যা ৪৭। এরই মধ্যে পাঁটি দেশ এ তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ১৯৯৪ সালে বোতসোয়ানা, ২০০৭ সালে কেপ ভারডি, ২০১১ সালে মালদ্বীপ, ২০১৪ সালে সামোয়া এবং বিষুবীয় গিনি এ তালিকা থেবে বেরিয়ে আসে গত বছর।

‘মুসলিম-মুক্ত’ রাখাইন গড়ার তৎপরতা -এএফপির প্রতিবেদন

রাখাইন রাজ্যের গ্রাম কোয়ে তান কাউক। এক সময় এখানে ছিলেন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিবাস। এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে। গ্রামের প্রবেশপথে বাঁশের খুঁটিগুলোতে শোভা পাচ্ছে বৌদ্ধদের পতাকা। এখানে বসতি গড়তে আসতে শুরু করেছে জাতিগত রাখাইনরা।
রাখাইন রাজ্যের যেসব স্থান থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিতাড়িত করা হয়েছে সেখানেই থিতু হচ্ছে নতুন আগত বৌদ্ধ রাখাইনরা। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে গ্রামের পর গ্রাম মিশিয়ে দেয়া হয়েছে মাটির সঙ্গে।
রোহিঙ্গাদের এসব গ্রামে আসতে থাকা জাতিগত রাখাইন অভিবাসীদের সংখ্যা আপাতত কম। কিন্তু বড় আশা নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এক সময়ের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা বিন্যাস উল্টে দেয়ার যে ‘রাখাইনিকরণ’ পরিকল্পনা রয়েছে তার অংশ হতে পেরে তৃপ্তি পাচ্ছেন তারা। এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে দাতাদের অর্থের জোগান।
কোয়ে তান কাউকের একটি কুঁড়েঘরে উঠেছেন ২৮ বছরের চিত সান ইয়ান ও তার স্বামী। মুসলিমদের নির্দেশ করতে মিয়ানমারে ব্যবহৃত অমর্যাদাকর একটি শব্দ ব্যবহার করে চিত এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ওই কালারদের অনেক বেশি ভয় পেতাম। কিন্তু এখন যেহেতু তারা আর এখানে নেই আমরা এখানে বসবাসরত স্বজনদের সঙ্গে আবারো দেখা করার সুযোগ পেয়েছি।’ চিতের নতুন বাড়ি থেকে ক কিলোমিটার দূরেই দেখা যায় রোহিঙ্গা স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ।
গত বছরের ২৫শে আগস্ট থেকে শুরু করে উত্তর রাখাইন থেকে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। ‘মুসলিম মিলিট্যান্টদের’ বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে বিতাড়িত করা হয় তাদের।
সত্তরের দশকের শেষের দিকে দক্ষিণ ও মধ্য রাখাইন থেকে আরো ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে সেনা অভিযানে জোরপূর্বক পুশ আউট করা হয়। গেল বছরের
বর্মী সামরিক অভিযানকে জাতি গণ-নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। আর শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন ‘গণহত্যার যাবতীয় বৈশিষ্ট’ আছে ওই অভিযানে।
মিয়ানমার জোর গলায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বলছে, শরণার্থীরা ফিরতে চাইলে স্বাগত। কিন্তু, প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে তাদেরকে দেয়া ৮০০০ শরণার্থীর তালিকার থেকে মাত্র ৩৭৪ জনকে নিতে সম্মত হয়েছে তারা। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে থাকা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বহু রোহিঙ্গা এখন আর রাখাইনে ফিরতে চান না- যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অস্থায়ী শিবির আর বৈরীভাবাপন্ন প্রতিবেশী।
রোহিঙ্গাদের অনুপস্থিতিতে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। চেহারা পাল্টে যাচ্ছে উত্তর রাখাইনের। সরকারি, সেনা পৃষ্ঠপোষকতা বা বেসরকারি অর্থায়নে চলছে এসব প্রকল্পের কাজ।
রোহিঙ্গাদের রেখে যাওয়া খালি জায়গায় জুড়ে বসাটা পুরনো এক খেলা। এটাকে দেখা হয় ইসলাম প্রসারের বিরুদ্ধে বৌদ্ধ প্রধান এ দেশের যে লড়াই তার অগ্রভাগ হিসেবে।
মিয়ানমার্স এনিমি উইদিন: ‘বুদ্ধিস্ট ভায়োলেন্স অ্যান্ড দ্য মেকিং অব দ্য মুসলিম আদার’ বইয়ের লেখক ফ্রান্সিস ওয়েড বলেন, ‘৯০ এর দশকের শুরু থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমিয়ে আনার মাধ্যমে উত্তর রাখাইন রাজ্যের সামাজিক চিত্র পাল্টানোর নকশা করে আসছে সেনাবাহিনী। সংখ্যালঘু মুসলিমরা এখানে নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যাত। তাদের বলা হয় ‘বেঙ্গলিস’, মিয়ানমারে প্রচলিত যুক্তিমতে- বহিরাগত এ জনগোষ্ঠীকে সফলভাবে তাদের জন্মোৎসের দেশে ঠেলে পাঠানো গেছে।
মি. ওয়েড বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারি প্রকল্পের মতো একই ধাঁচে বৌদ্ধরা মুসলিমদের উৎখাতের পর জায়গা দখলে নিচ্ছে। উল্টে পাল্টে দিচ্ছে আসল বাস্তবতা। আর ধীরে ধীরে ওই ভূখণ্ডে মুসলিমদের অধিকার ঘষে মেজে নিশ্চিহ্ন করে ফেলছে।
তিনি আরো বলেন, ‘সামনে আরো অনেক বৌদ্ধ এখানে থিতু হবে বলে আমার ধারণা। এবং এরপর আমরা ভুলে যাবো এই এলাকা একসময় আসলে কি ছিল। আর মুছে ফেলার প্রক্রিয়া তখন শেষ হবে।’
রোহিঙ্গা আউট, রাখাইন ইন
রিকন্সট্রাকশন অব দ্য রাখাইন ন্যাশনাল টেরিটরি ইন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টায়ারের (সিআরআর) সহায়ক কমিটির সুবিধাপ্রাপ্ত একজন চিত সান ইয়ান। শরণার্থী সংকট শুরু হওয়ার পর পরই এই বেসরকারি স্কিমটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সেনাবাহিনীর কড়া নজরবন্দি এলাকায় কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা স্বভাবতই তাদের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়। জাতিগত রাখাইন দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত সিআরআর-এর লক্ষ্য হলো রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে থেকে মংদু পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ‘মুসলিম-মুক্ত’ করা। ওই কমিটির পরামর্শক একজন রাখাইন এমপি ও হলা স এমনটাই বলছেন। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এই পুরো এলাকায় মুসলিমদের প্রভাব ছিল। সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর তাদের পালাতে হয়েছে। কাজেই এই এলাকায় আমাদের রাখাইন জনগণ দিয়ে বসতি গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, সিআরআর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বসতি গড়তে অর্থায়ন করবে যেন ছোট্ট এ জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়তে পারে।
এখন পর্যন্ত ৬৪টি পরিবারের আনুমানিক ২৫০ জন এখানে এসেছে সিআরআর-এর মাধ্যমে। তাদের অপেক্ষমান তালিকায় আছে আরো ২০০ পরিবার। ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ বা সিতওয়ের বহিরাগতদের থেকে তাদের বেছে নেয়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগ দিনমজুর।
এই স্কিমের জন্য দুটো গ্রাম বেছে নেয়া হয়েছে। রাথেডাউংয়ের কাছে কোয়ে তান কাউক এবং মংদুর কাছে ইন দিন। নতুন নিবাসীরা স্বপ্ন দেখছেন একদিন এখানকার জমির মালিক হবেন তারা। মিয়ানমারের দ্বিতীয় দরিদ্রতম রাজ্যে এটা আগে কখনই ভাবতে পারেননি তারা।
রাখাইন জাতীয়তাবাদীদের ভাষ্যমতে, সিআরআর হলো ইসলামের বিরুদ্ধে রক্ষাপ্রাচীর। সিআরআর-এর সাধারণ সম্পাদক থান তুন প্রশ্ন রাখেন, ‘রাখাইন রাজ্যে রাখাইন ছাড়া আর কার অগ্রাধিকার থাকা উচিত?’
মিত্র আর সেনা
মিয়ানমার সরকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাজ্যের পুনর্নির্মাণে ক্ষমতাধর ব্যবসায়ীদের ভিড়িয়েছে। ওদিকে, সেনাবাহিনী অন্যান্য প্রকল্প চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। দৃশ্যত এসব ব্যবস্থা হলো রোহিঙ্গাদের আসার পথ বন্ধ রাখার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে এ সপ্তাহে বিস্তারিত উঠে এসেছে যে, কিভাবে রাস্তাঘাট, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এসবের অনেককিছুই ভস্ম করে দেয়া রোহিঙ্গা স্থাপনাগুলোর ওপরে। অ্যামনেস্টি এসব কর্মকাণ্ডকে বিরাট ‘জমি দখল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এতে করে নৃশংসতা চালানোর যেসব অভিযোগ রয়েছে সেসবের তথ্যপ্রমাণ মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সামরিক জান্তা যুগের একই নাগরিকত্ব আইনে ১৯৮২ সালে রোহিঙ্গাদের বৈধ পরিচিতি কেড়ে নেয়া হয়। এখন তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। আইনপ্রণেতা ও হলা স’র মধ্যে এতে করে তাদের ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব জনগণ চায় রোহিঙ্গা জাতিগত পরিচয় দিয়ে স্বীকৃত হতে। নাগরিকত্ব উপভোগ করতে চায়, নিজেদের আদি জমিতে পুনরায় বসতি গড়তে চায়। এসব দাবি অযৌক্তিক।’
ভয়ংকর এই নতুন পরিবেশেও কোয়ে তান কাউকের নবাগত রাখাইনরা বলছে তারা এখানে থাকতে এসেছে। ৬৯ বছর বয়সী নারী ওসার বলেন, ‘আমার জীবন এখানেই শেষ হবে। আমি অন্য কোথাও যাচ্ছি না।’

টার্মিনালে টিকিট গ্যাং by পিয়াস সরকার

রাজধানীর টার্মিনালগুলো জিম্মি টিকিট ‘গ্যাং’-এর কাছে। শুধু আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালই নয়, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন সবই এই ‘গ্যাং’-এর নিয়ন্ত্রণে। নানা কৌশল আর ফন্দি-ফিকিরে যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। নানাভাবে করছে হয়রানিও। নামিদামি পরিবহন থেকে শুরু করে নরমাল পরিবহনের কাউন্টারেও এই গ্যাং-এর আধিপত্য। এই গ্যাং-এর কৌশলের চিত্র ফুটে ওঠে বেশক’টি ঘটনায়। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অতসী বসুনিয়া ও তার বোন তপসী বসুনিয়া কলেজ গেটের নাবিল কাউন্টারে যান দুটি টিকিট কাটতে। কিন্তু কাউন্টার থেকে জানানো হয় শেষের দুই সারি ছাড়া আর কোনো টিকিট নেই। তারা ১লা মার্চ যাবেন রংপুরে। দূরের রাস্তা আবার সড়কের বেহাল দশা জেনেও বাধ্য হয়ে রাত সাড়ে দশটার বাসের আই ৩, ৪ পেছনের সারির দুটি টিকিট কাটেন ১০০০ টাকায়। টিকিট কেটে বাইরে আসার পরই এক ব্যক্তি তাদের পথ আগলে দাঁড়ায়। বলে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার রংপুরের দ্বিতীয় সারির (বি ১, ২) দুটি টিকিট আছে। অতসী জানায়, টিকিট যে কিনে ফেলেছি। ওই ব্যক্তি বলেন, টিকিট বাতিল করা সম্ভব এবং এর জন্য কোনো মাশুল গুনতে হবে না। তবে দুটি টিকিটের মূল্য দিতে হবে ১৫০০ টাকা। বেশকিছু সময় দাম কষাকষির পর ১৩০০ টাকা এবং নিজ দায়িত্বে টিকিট বাতিল করানোর শর্তে রাজি হন তিনি। এরপর ওই ব্যক্তি টিকিট দুটো নিয়ে বাতিল করে তাদের হাতে তুলে দেন নতুন টিকিট। এ ব্যাপারে কাউন্টারে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের কাজ টিকিট বিক্রি করা। কে টিকিট নিয়ে ব্যবসা করছে তা আমাদের দেখার দায়িত্ব নয়। এই ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর টিকিট মাস্টার ও গ্যাং সদস্যকে একসঙ্গে চায়ের দোকানে দেখা যায়। তাদের সামনে হাজির হয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, এ তো আমার কাউন্টার স্টাফ। সে কেন টিকিট দালালি করবে?
মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের টিকিটের জন্য আনাগোনা দেখা যায় অনেক যাত্রীর। কিন্তু বেশিরভাগ যাত্রীকে দেয়া হচ্ছে পেছনের সারির টিকিট। এমতাবস্থায় একজন নারী বিশেষ পেশার একজনকে সাহায্যের আবেদন করে বলেন, আমার শরীরে ব্যথা। পেছনের সিটে যাওয়া সম্ভব নয়। সবাই শেষের সারির টিকিট পেলেও তিনি তার পরিচয়পত্র দেখিয়ে তৃতীয় সারির (সি-৩) পৃষ্ঠা ২ কলাম ৫
একটি টিকিট কিনে দেন। কাউন্টার থেকে সামনের সিট ফাঁকা নাই বললেও, তাকে সামনে দিলেন কীভাবে? উত্তরে এনা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা বলেন, আমাদের বাসে বিশেষ কিছু ব্যক্তির জন্য টিকিটের ব্যবস্থা থাকে।
সূত্র মতে, যাত্রী সেবায় অনেকেই অনলাইনভিত্তিক টিকিট সিস্টেম চালু করেছে। এরমধ্যে অন্যতম সহজ ডটকম, টিকিট বিডি, বাস বিডি। বেশিরভাগ বাসের টিকিট যাত্রীরা ঘরে বসেই ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত বা ছুটির দিনের আগের রাতের টিকিট পাওয়া যায় না অনলাইনে। পাওয়া গেলেও বসতে হয় পেছনের সিটে। তবে কি সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় আগেই? একজন গাড়ির সুপারভাইজার বলেন, এসব দিনের টিকিট কাউন্টারের কর্তব্যরতরা কেটে ফেলে অনলাইনে এবং বাড়তি দামে বিক্রি করে।
এ ব্যাপারে হানিফ, নাবিল, শ্যামলী, দেশ, সাকুরা, গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারের কর্তারা কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম লঞ্চ। বাসে বিশেষ দিনের বিশেষ সময়ের টিকিট গ্যাং-এর কথা উঠলেও দূরপাল্লার লঞ্চও এ থেকে মুক্ত নয়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান নিলয়ের বাড়ি বরিশাল। প্রায়ই যাতায়াত করেন লঞ্চে। বলেন, লঞ্চে যেদিন একটু ভিড় থাকে সেদিন সুযোগ নেয় তারা। টিকিট কাউন্টারে গেলে টিকিট মেলে না। কিন্তু গ্যাং-এর কাছে ঠিকই পাওয়া যায় টিকিট। দ্বিগুণ দাম হাঁকে এবং উপায় না থাকায় কিনেও ফেলেন যাত্রীরা।
শিক্ষার্থী নিলয়ের কথা অনুযায়ী বরিশালগামী সুন্দরবন-১০ ও পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-৯ এবং কুয়াকাটা-১ লঞ্চে বিকাল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সরজমিন দেখা যায়, সুন্দরবন-১০ এ ডাবল কেবিন মিললেও মিলছে না সিঙ্গেল কেবিন। কিন্তু টিকিট কাউন্টার থেকে মুখ ফেরাতেই কানে এলো সিঙ্গেল কেবিন লাগবে? হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়াতেই, একটু পাশে নিয়ে গেলেন। দাম চাইলেন ১৮০০ টাকা। দরদামের পর ১৬০০ টাকায় দিতে রাজি হলেন। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে পটুয়াখালীগামী দুটি লঞ্চেও। টিকিট কাউন্টারে এই গ্যাং-এর বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবন-১০ এর টিকিট মাস্টার বলেন, ব্যস্ত আছি পরে আসেন এবং কুয়াকাটা-১ লঞ্চের টিকিট মাস্টার শুনেও না শোনার ভান করে চলে যান। সুন্দরবন-৯ এর মাস্টার বলেন, আমাদের নানান দিকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই খোঁজ রাখার সময় পাই না। আর যখন টিকিট কাটতে আসেন যতক্ষণ টিকিট থাকে ততক্ষণ আমরা দেই। টিকিট কে নিলো সেটা আমাদের দেখার কথা নয়। টিকিট মাস্টারের সঙ্গে কথোপকথন শেষ করে যাবার সময় একজন কুলি ডেকে বলেন, তারা যাত্রীর চাপ বেশি দেখলে কেবিন রেখে দেয়। আর এই টিকিট গ্যাং-এর মাধ্যমে বিক্রি করে। এতে তারাও লাভবান হয়।
কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার ঘুরে দেখা যায় একদিন পরের ট্রেন কিংবা রাতের ট্রেনের টিকিট সকালে অনায়াসেই পাচ্ছেন যাত্রীরা। তবে ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে টিকিট শেষ হলে একজন কানের কাছে আস্তে করে বলেন ‘টিকিট লাগবে?’ সামান্য লাভেই বিক্রি করে দিচ্ছেন টিকিট। পূবালী ব্যাংকে কর্মরত আশরাফ খোকন বলেন, হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেই বাড়ি যাবো। তাই আগে থেকে টিকিট কাটতে পারিনি। এখানে এসেই পেয়ে গেলাম। চট্টগ্রাম যেতে শোভন চেয়ারের টিকিট মূল্য ৩৪৫ টাকা; আমি ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। সূত্র মতে, প্রতিটি টার্মিনাল এই গ্যাং-এর নিয়ন্ত্রণে। এ সিন্ডিকেটের ইশারায় চলে কাউন্টারগুলো। আর এতে যাত্রীরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, ঝরছে রক্ত by রুদ্র মিজান

পরনে টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস। চুলে অভিনব স্টাইল। রাস্তায়, ফুটপাথে, মাঠে দামি মোটরসাইকেলে বসে জমিয়ে আড্ডা দেয় তারা। সিগারেট টানে। উচ্চ স্বরে গান করে। হিন্দি, ইংরেজি গান। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। কখনো কখনো জড়িয়ে পড়ে ছিনতাইয়ে। ২০ থেকে ২৫ জন নিয়েই গড়ে উঠছে এরকম একেকটি কিশোর গ্যাং। নিজ নিজ এলাকায় তারাই ‘রাজা’। কাউকে পরোয়া করে না। তাদের বাধা হলেই বাধে লড়াই। এখানে অন্য কোনো  গ্যাং গজিয়ে উঠতে চাইলেই শুরু হয় যুদ্ধ। প্রথমে হুমকি-ধমকি। সরাসরি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একপর্যায়ে হামলা-পাল্টা হামলা। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই হামলা করা হচ্ছে। একদম হিন্দি ফিল্মের স্টাইলে। ঘটছে হত্যার মতো ঘটনা। তবু থামছে না ভয়ঙ্কর কিশোর গ্যাং। এরকম অসংখ্য কিশোর গ্যাং ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি শহরে রয়েছে।
‘মারতে চাই নাই, বাট একটারে দুই পার (ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত) দিছিলাম। বাঁইচা গেছে।’ এটা গোপন কথা না। প্রকাশ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা হয়েছে এরকম মন্তব্য। ডিসকো বয়েস নামে পেইজে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধরত অবস্থায় দুই সৈনিকের ছবি শেয়ার করে পোস্ট দিয়ে বলা হয়েছে, ‘মেনশন করুন যাকে আপনি নিজ হাতে মারতে চান।’ ওই ছবিতেই রয়েছে দেড় শতাধিক লাইক ও বিপুল মন্তব্য। সেখানেই সাদ্দাম বিন আমির নামে এক কিশোর এই মন্তব্য করেন। কেউ কেউ সেখানে প্রতিপক্ষ গ্রুপের তালাচাবি রাজু ও নাইন স্টারের সদস্যদের মারার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। একইভাবে নাইন স্টার নামে গ্রুপে পলো খেলার একটি ছবি দেখিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, ‘মেনশন করুন যাদের সঙ্গে আপনি এখানে খেলতে চান’। সেখানে কেউ কেউ প্রতিপক্ষ ডিসকো বয়েজের সঙ্গে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নাইন স্টার গ্রুপে লেখা রয়েছে, ‘নয়া... গজাইছে... ... মারে পাল। অনেক তো খেলছো, এখন আমার লগে খেলতে পারলে...। কসম খোদার সব মরবি।’
এই দুটি গ্যাংয়ের ‘যুদ্ধ’ চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। গত বছরের ৬ই জানুয়ারি উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে ডিসকো বয়েজ ও বিগ বসের সদস্যরা। বেপরোয়া এসব গ্রুপের কিশোররা নাইন স্টার গ্যাংয়ের আদনানকে হত্যার আগে অস্ত্র হাতে সেলফি দিয়েছিলো। তার আগেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছিলো। আদনান হত্যায় জড়িতরা গ্রেপ্তার হলেও গ্যাংগুলো থেমে থাকেনি। এখনো আগের মতোই হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এসব গ্যাংয়ের জন্মদিনের শুভেচ্ছার ভাষাও ভিন্ন। জিহান নামে একজনের জন্মদিনে তার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ডিসকো জিহান, হাইপার কিলার, হ্যাপি বার্থ ডে ভাইয়া’। ডিসকো বয়েজ, পাওয়ার বয়েজ, নাইন এমএম বয়েজ, বিগবস, ইয়ং লীগসহ বিভিন্ন নামে উত্তরা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, তালতলা, রামপুরা, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানী জুড়ে রয়েছে এরকম অসংখ্য গ্যাং। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছে এসব গ্যাং। রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে তেমন কোনো বাধার মুখোমুখি হতে হয় না তাদের। রাতের বেলা দ্রুতগতিতে কার ও বাইক চালাতে মেতে উঠে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা। ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার লাউঞ্জ-সিসা বারগুলোতে রয়েছে তাদের আড্ডা। এমনকি এই কিশোরদের একটা অংশ সন্ধ্যার পর জড়ো হয় হাতিরঝিলে, খিলগাঁও তালতলা, উত্তরার দিয়াবাড়ি, বিরুলিয়া বাঁধ এলাকায়। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে আড্ডা দেয় তারা। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একটা অংশ রাতে বাসায় থাকলেও বিকালে একসঙ্গে মিলিত হয়। অন্য সময়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকে তারা। তেজগাঁওয়ের  পূর্ব তেজতুরি বাজারে কথা হয় এরকম একটি গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে। এই কিশোরদের অনেকেই লেখাপড়া করে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলের একটি ছাত্র সংগঠনের ইউনিট শাখায় বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছে তারা। তাদের নামে এলাকায় রয়েছে পোস্টার ও ব্যানার। তাদের কোনো সদস্যের সঙ্গে ঝগড়া হলে সবাই একজোট হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। কখনও কখনও বড় ভাইদের নির্দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায়ও যোগ দেয় এই কিশোররা।
উত্তরায় আদনান হত্যার পর ১৫ই জানুয়ারি রূপনগরে গ্যাংয়ের হামলায় খুন হয় কিশোর কামাল হোসেন। ১৮ই জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় হত্যা করা হয় কিশোর আবদুল আজিজকে। ৬ই অক্টোবর কদমতলীর রায়েরবাগের মুজাহিদনগর এলাকায় হত্যা করা হয় রফিকুল ইসলাম শিপনকে। এভাবেই একের পর এক রক্তের খেলায় বেপরোয়া ঢাকার কিশোর গ্যাং।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহরেও গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। প্রায়ই ঘটছে হত্যাকাণ্ড। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় রয়েছে ২০-২৫ কিশোর গ্যাং। এসব কিশোর প্রায়ই হিংস্রতায় মেতে উঠছে। রক্ত ঝরাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে অন্তত ছয়টি গ্যাং। দিনভর বখাটেপনা, আড্ডাই তাদের কাজ। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে মিছিল- মিটিংয়ে সক্রিয় থাকে তারা। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, ফয়েজ লেক, মেডিকেল হোস্টেল, শিল্পকলা একাডেমি, সিআরবি, খুলশি, ডেবারপার, চান্দগাঁও শমসের পাড়া, ফরিদের পাড়া, আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি, সিডিএ, ছোটপুল, হালিশহর, বন্দর কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সরব উপস্থিতি। মাদক, ডিজে পার্টি ও চুরি-ছিনতাই নিয়ে ব্যস্ত থাকে এই কিশোররা। এলাকায় সব সময় নিজেরা আধিত্য বিস্তার করতে থাকে তাদের তৎপরতা। এর জের ধরেই গত জানুয়ারিতে জামাল খান এলাকায় হত্যা করা হয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফারকে। এ ঘটনায় আরো পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী। এ ঘটনার পর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর অপর পক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয় আদনান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা কিশোর ও সদ্য কৈশোর পার করা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই কিশোরদের দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানান তিনি।
একইভাবে জানুয়ারিতে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শেখ ফাওমিদ তানভীর রাজিমকে। কলেজের অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে প্রতিপক্ষ কিশোররা। সূত্রে জানা গেছে, খুলনা শহরে কিশোরদের অন্তত সাতটি গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরমধ্যে ভয়ঙ্কর গ্যাংগুলো হচ্ছে স্টার বয়েজ, হিরো বয়েজ, ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ  ও টিপসি। শহরের বয়রা, বৈকালি, মুজগুন্নি, খালিশপুর, আলমনগর মোড়, দৌলতপুরে রয়েছে কিশোরদের সরব উপস্থিতি। বিকট শব্দে বাইক চালানো, সড়ক বন্ধ করে বাইক স্ট্যান্ড করে বেপরোয়া কিশোররা। প্রায়ই রূপসা ব্রিজে বাইকের বহর নিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায় তাদের। মেয়েদের উত্ত্যক্ত থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও বিক্রিতেও জড়িত রয়েছে তারা। তাদের একাংশ বিত্তশালীদের বখে যাওয়া ছেলে।
সিলেট শহরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে কিশোরদের সাত-আটটি গ্যাং। উপ-শহর, টিলাগড়, মদিনা মার্কেট, তালতলা, টুকেরবাজার, দক্ষিণ সুরমার কদমতলি বিয়ানীবাজার এলাকায় রয়েছে তাদের আধিপত্য। গ্যাংয়ের সদস্যদের কারও সঙ্গে ঝগড়া হলে পুরো গ্যাং একত্রিত হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতেও দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। রক্ত ঝরেছে প্রায়ই। এই গ্যাং সদস্যদের একাংশ বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। দামি মোটরসাইকেলে করে শহরে ঘুরে বেড়ানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদকসেবনসহ নানা অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। একইভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক বিক্রি, মোটরসাইকেল চুরি, বিক্রিতে জড়িত। প্রায়ই রাজনৈতিক দলের হয়ে বিভিন্ন সংঘর্ষে অংশ নেয় তারা। গত ১৩ই মার্চ রাতে উপশহরের তেররতন এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অংশ নেয় কিশোররা। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হয়। এভাবেই গ্যাং কালচার ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র। এটি এখন আতঙ্কের নাম। এ থেকে কিশোরদের রক্ষা করতে প্রয়োজন সচেতনতা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, সমাজে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিশোররা। তাদের আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। অভিভাবকসহ সবাই ফলাফল ভালো করা শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগে অন্যরা তথ্য-প্রযুক্তি ও আড্ডার নেতিবাচক দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকে তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। এর দায় আমাদের। ১০ বছর বয়সী শিশুকে আগামী ১০ বছর পর কীভাবে দেখতে চাই সেই পরিকল্পনা নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে কাজ করতে হবে।  তাহলেই এই ভিনদেশি গ্যাং কালচার থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। গ্যাং কালচারের বিষয়টি উত্তরার ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিশেষ নজরদারি করছে জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সন্তানের চলাফেরার বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করার সুযোগ দিতে হবে। যাতে বিপথগামী না হয়। তাহলেই কিশোর অপরাধ অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

ভারতে মুসলিম ও দলিতদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে: মায়াবতী

বিএসপি প্রধান মায়াবতী
ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিএসপি প্রধান মায়াবতী বলেছেন, ‘ভারতে আরএসএসের এজেন্ডা কার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে মুসলিম, দলিত ও দরিদ্রদের ওপরে নির্যাতন হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে উনা কাণ্ড এবং রোহিত ভেমুলার মতো ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) দলিত নেতা কাশিরামের জয়ন্তীতে পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন। 'সংবিধান বাঁচাও, সংরক্ষণ  বাঁচাও' নামে ওই সমাবেশ থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালচনা করেন।
মায়াবতী বলেন, ‘পুঁজিবাদী দলকে ক্ষমতায় আসা রুখে দিতে হবে। (শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা) সংরক্ষণ শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। ওবিসিদের (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মায়াবতী বেসরকারি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ চালুর পক্ষে সাফাই দিয়ে মোদি সরকার একে কার্যকর করছে না বলে মন্তব্য করেন।
মায়াবতী উত্তর প্রদেশে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিজেপি খুব শিগগিরি লোকসভা নির্বাচন করাতে পারে। আমরা বিজেপিকে শিক্ষা দেয়ার জন্য সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করেছিলাম।’
মায়াবতী কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস শাসনামলে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা হয়নি। তারা বাবাসাহেব আম্বেদকরকে ‘ভারত রত্ন’ সম্মানও  দেয়নি। দীর্ঘকাল বাদে ভি পি সিং সরকার তাকে ‘ভারত রত্ন’ দিয়েছিল। মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ কার্যকর না করা এবং আম্বেদকরকে ‘ভারত রত্ন’ সম্মানে ভূষিত না করার জন্য কংগ্রেসকে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে বলেও মায়াবতী মন্তব্য করেন।
দলিত-মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘সাম্য শান্তি ও সম্প্রীতি মঞ্চ’-এর সভাপতি ও দলিত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কতগুলো পরিসংখ্যান বেরিয়েছে। প্রত্যেকটিতে দেখা যাচ্ছে সমস্ত বিজেপিশাসিত রাজ্যে দলিতদের ওপরে আক্রমণ বেড়েছে। খুন, হত্যা, অবিচার এসব বেড়েছে। বিজেপি যেসব রাজ্যে ক্ষমতায় আছে সেব জায়গায় সাম্প্রদায়িক বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা অনেক বেড়েছে। ছোটোখাটো, বড় সব ধরণের দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। গোরক্ষার নামে যে হত্যা তাও আমরা দেখেছি। ফলে বিজেপি যেখানে যেখানে ক্ষমতায় সেসব জায়গায় দলিত ও মুসলিমদের ওপরে আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে।’
আরএসএস একইরকমভাবে দলিত ও মুসলিম বিদ্বেষী হওয়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে বলেও সুকৃতি রঞ্জন বাবু মন্তব্য করেন।

যে কারণে ইরানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে শত্রুরা: সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবের দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রভাবের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।
তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রধান ও সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেছেন। শত্রুদের সর্বাত্মক আগ্রাসন মোকাবেলায় নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠিন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, খোদাভীতি, ঐক্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রভৃতি গুণাবলী ইসলামি শাসন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ও আদর্শ এবং এ কারণে শত্রুরা একের পর এক ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও শত্রুতায় লিপ্ত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব অনিবার্য। আর এ ক্ষেত্রে মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয়ের বিষয়ে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হবেই।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দুই মেরুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয় লাভ করে। 'না প্রাচ্য না পাশ্চাত্য' এই শ্লোগানের ওপর ভিত্তি করে ইরানে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। মজলুম ও নির্যাতিত মানুষের প্রতি সমর্থন এবং জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ইরানের অবস্থানকে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানের অব্যাহত সমর্থন এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সৎ মনোভাব, দূরদৃষ্টি এবং শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ইরানের ইসলামি বিপ্লব শত্রুদের সব রকম আগ্রাসন মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে।
ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের শুরু থেকেই দেশটি আমেরিকার টার্গেটে পরিণত হয়। তারা ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "ইরানি জনগণের খোদাভীতি ও দৃঢ় ঈমানের কারণে তারা আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের আর্থ-রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলায় আজো টিকে আছে।" বিপ্লবের পরপরই ইরাকের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ এবং ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানের জনগণের ঈমান, আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সত্যপন্থীদের বিজয়ের বিষয়ে আল্লাহ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এসব যুদ্ধে তা প্রমাণিত হয়েছে এবং বাতিলের ওপর হকের বিজয় হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব বাড়তে থাকায় শত্রুরা আরো বেশি হতাশ হয়ে পড়েছে এবং আট বছরের প্রতিরক্ষা যুদ্ধের পর তারা এ অঞ্চলে ইরানকে মোকাবেলায় ভিন্ন কৌশল বেঁছে নিয়েছে। আর তা হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইল সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে ইরানসহ এ অঞ্চলের সব প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকরা কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এ থেকে বোঝা যায় ইরানের বর্তমান প্রজন্মের মানুষও ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।