Monday, February 26, 2018

দুই মেয়ের জন্য বিপুল সম্পত্তি রেখে গেলেন শ্রীদেবী

ভারতের জনপ্রিয় নায়িকা শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর এখন সকলে তার দুই মেয়ের সম্পত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। বলিউড তারকাদের যেসব ছেলেমেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনসেশন তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রীদেবীর দুই মেয়ে জাহ্নবি কাপুর ও খুশি কাপুর। দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিক মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর। হিন্দি ছাড়াও তামিল, তেলেগু, মালয়ালাম, কানাডাসহ অনেক ভাষার ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। নিজের সময়ে একসময় তিনি ছিলেন ‘হায়েস্ট পেড’ অভিনেত্রী। তাকে বলা হতো নায়িকাদের মধ্যে ‘অমিতাভ বচ্চন’।
সুতরাং বলাই যায়, তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ কিন্তু আকাশছোঁয়া! স্বামী বনি কাপুর ও শ্রীদেবীর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। টাকার হিসেবে যার পরিমাণ ২১০ কোটি টাকা। শ্রীদেবী নিজে যেমন ডাকসাইটে অভিনেত্রী হিসেবে তিন দশক চুটিয়ে রাজত্ব করেছেন, তেমনই বনি কাপুর বলিউডের বিখ্যাত প্রযোজক। দু’জনের সম্পত্তি তাই এমন বিপুল হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। এত সম্পত্তি স্বাভাবিকভাবেই পাবেন মেয়েরা, কিন্তু সেই সম্পত্তি কোনোদিন মায়ের অভাব পূরণ করতে পারবে না। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেননি তার দুই মেয়ে জাহ্নবি ও খুশি কাপুর। উল্লেখ্য, বলিউডে শ্রীদেবীর অভিষেক হয় ‘সোলা শাওন’-এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে। ২০১৩ সালে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী পেয়েছেন তিনি। চাঁদনি, লামহে, মিস্টার ইন্ডিয়া, নাগিনসহ ৯০ দশকের একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীদেবী। অভিনয় থকে অবসর নিয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। পরে ২০১২ সালে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে প্রত্যাবর্তন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মম’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

রাম মন্দির নির্মাণে বিশ্বের কোনো শক্তিই বাধা দিতে পারবে না: বিনয় কাটিয়ার

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র রাজ্যসভার সদস্য বিনয় কাটিয়ার বলেছেন, "রাম মন্দির নির্মাণে বিশ্বের কোনো শক্তিই বাধা দিতে পারবে না। যদি মসজিদের দাবি অব্যাহত থাকে তাহলে সাড়ে ছয় হাজার বিতর্কিত মসজিদের উপরে আমরা দাবি জানাব।"
আজ (সোমবার) ‘আজতক’ হিন্দি গণমাধ্যমে শ্রী কাটিয়ারের ওই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি’র উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘উনি বলুন মসজিদ কোথায় তৈরি করবেন, অযোধ্যায় তো রামলালা বিরাজমান আছে। এবার শুধুমাত্র তা বিশালাকার করা হবে এবং দিব্যতা দেয়া হবে। খুব শিগগিরি সেখানে গ্র্যান্ড ও ঐশ্বরিক রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে।’ বাবরী মসজিদ নামের কোনো জিনিস সেখানে অবশিষ্ট ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
কাটিয়ার বলেন,  ‘আফগানিস্তানে বাবরের কবর পাকা নয় তো ভারতে কী তৈরি হবে?’ তার দাবি, বাবরী মসজিদ কোনো নথিতে নেই, কোথাও বাবরের নামে কিছু নেই। আমরা সবসময় বলে এসেছি আমাদের তিন স্থান চাই অযোধ্যা, কাশী ও মথুরা। কাশী ও মথুরাতে আগে থেকেই মন্দির আছে কিন্তু অযোধ্যাতে এরকম কাঠামো ছিল না। প্রথমে অযোধ্যার দাবি ছেড়ে দিলে আমরা ভাববো কাশী ও মথুরার ব্যাপারে কী করা হবে।’
বিনয় কাটিয়ার রাম মন্দির প্রসঙ্গে বলেন, ‘মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে। আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি কিন্তু এটা অবশ্যই বলব যে, যা-ই হোক না কেন যেকোনো অবস্থাতেই রাম মন্দির নির্মাণ করা  হবে।’
মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি গত (শনিবার) নয়াদিল্লিতে ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়া’র (এসআইও) সর্বভারতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় বাবরী মসজিদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের মসজিদ ছিল, আছে এবং তা থাকবে। ইনশাআল্লাহ্ সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের পক্ষে যাওয়ার পর তা পুনরায় তা তৈরি হবে। আমার বিশ্বাস আছে যে সুপ্রিম কোর্টের রায় আস্থা-বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয় বরং তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হবে।’
এরপরেই গতকাল (রোববার) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং ভারতের সমস্ত মুসলিমদের রামের বংশধর বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি
আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে টার্গেট করে তিনি বলেন, 'ওরাতো মক্কা-মদীনায় যাবে, কিন্তু আমরা কোথায় যাব? রাম মন্দির কী পাকিস্তানে তৈরি হবে?’ ওয়াইসির মতো লোকেরা দেশকে ভাঙতে চাচ্ছেন বলেও গিরিরাজ সিং মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বের কোথাও মুসলিমরা বিতর্কিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করে না। কেননা মুসলিমরা বিতর্কিত স্থানে নামাজ পড়া বৈধ বলে মনে করে না। ফলে শুধু বাবরী মসজিদের জায়গা নয়, বিশ্বের কোথাও বিতর্কিত জায়গায় মসজিদ হয়নি। এটা ভারতের বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করার আগেই যেভাবে শাসক দলের নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা একের পর এক তাদের মনগড়া কথা বলছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিচার ব্যবস্থার ওপরে আমাদের আস্থা আছে। আমরা মনে করি সুপ্রিম কোর্টের ফায়সালা মানুষের আবেগের দিকে লক্ষ্য রেখে নয়, দলিল প্রমাণাদির ভিত্তিতে বাবরী মসজিদের পক্ষে রায় দেয়া হবে। এটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কোনো শক্তি নেই যে কেউ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অবমাননা করবে।

‘বাথটাবে’ ডুবে মারা গেছেন শ্রীদেবী- ময়নাতদন্তের রিপোর্ট

হার্ট অ্যাটাক নয়, বাথটাবে ডুবে মারা গেছেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীদেবী। এছাড়া তার রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে তেমনটিই বলা হয়েছে। যদিও আগে প্রচার হয়েছিল তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। কোটি কোটি ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে শনিবার রাত্রে মারা যান কালজয়ী অভিনেত্রী শ্রীদেবী। দুবাইয়ের একটি হোটেলরুমে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দুবাই গিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার দিন রাত্রে স্বামী বানি কাপুরকে নিয়ে একটি ‘ডিনার পার্টিতে’ অংশ নেয়ার কথা ছিল শ্রীদেবীর। মনে করা হচ্ছে এর প্রস্তুতি নিতেই তিনি বাথরুমে গিয়েছিলেন। এসময় বাইরে তার স্বামী বানি অপেক্ষারত ছিলেন। পরে তিনি শ্রীদ্বেবীকে বাথরুমে অচেতন অবস্থায় পান। কিন্তু শ্রীদ্বেবী শুধু অচেতনই হননি। কোটি কোটি ভক্তকে রেখে ততক্ষতে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। 
খালিজ টাইমসসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোববার শ্রীদেবীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। সোমবার দুবাই পুলিশ এর প্রতিবেদন শ্রীদেবীর পরিবার ও দুবাইয়ের ভারতীয় দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করে। এতে দেখা যায়, শ্রীদেবীর হার্ট অ্যাটাক হয় নি। বরং পানিতে ডুবে মারা গেছেন তিন। সোমবার রাত্রে তার মৃতদেহ ভারতে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধনকুবের অনিল আম্বানির ব্যক্তিগত বিমানে মৃতদেহ ভারতে উড়িয়ে আনা হবে।
চার দশকেরও বেশি সময় বলিউডে নিজেকে শক্তিধর একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন শ্রীদেবী। তার চোখের চাহনি, অভিনয় দক্ষতা, মায়াময় চেহারা সহজেই দর্শককে কাছে টানে। তিনি সহসা হয়ে ওঠেন বলিউড কিংবদন্তি। ১৯৭৮ সালে সোলভা সাওয়ান ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় শ্রীদেবীর। এরপর অভিনেতা জিতেন্দ্রর সঙ্গে হিম্মতওয়ালা ছবিতে অভিনয় করেন। এতেই চলে আসে তার বাণিজ্যিক সফলতা। এ সফলতার জন্য তাকে প্রথম ছবির পর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়। হিন্দি ছবিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেন। এরপর বক্স অফিস হিট করে তার অভিনীত ছবি মাওয়ালী (১৯৮৩), তোহফা (১৯৮৪), চাঁদনি(১৯৮৯)। এছাড়া আলোচিত যেসব ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন তার মধ্যে রয়েছে সাদমা(১৯৮৩), চালবাজ (১৯৮৯), লামহে(১৯৯১) ও গুমরাহ(১৯৯৩) উল্লেখযোগ্য।

শিশু আইন স্পষ্ট করতে সংশোধনী আসছে by দীন ইসলাম

অবশেষে শিশু আইনে সংশোধনী আনতে যাচ্ছে সরকার। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে, তা স্পষ্ট করতেই শিশু আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে শিশু আইন অনুমোদনের জন্য উঠবে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে বস্ত্র আইন-২০১৮, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এবং বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড আইন (সংশোধন)-২০১৮ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘শিশু (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়া এরই মধ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে ভেটিং হয়েছে।
তাই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে তারা। এর আগে ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা আলাদা চারটি মামলার আসামিরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান। এসব মামলার সব আসামি প্রাপ্তবয়স্ক। শিশু আদালত এসব প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করায় হাইকোর্ট রুল জারি করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চারটি আদালতের বিচারকরা নিজ নিজ ব্যাখ্যা লিখিতভাবে আদালতে জমা দেন। ব্যাখ্যায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দ্য চিলড্রেন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর বিধান অনুযায়ী যেসব মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ভিকটিম শিশু ওই সব মামলা বিচারের জন্য কিশোর আদালতে পাঠানো হতো। আর যেসব মামলায় কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু, ওই সব মামলার অপরাধ আমলে নেয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য কিশোর আদালতে পাঠানো হতো। কিন্তু ‘শিশু আইন, ২০১৩’-এর ১৭(১) ধারার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে থাকা শিশু আইনের ধারায় বলা হয়েছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে যেকোনো আইনের অধীনেই হোক না কেন, ওই মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু আদালতের থাকবে। তবে আইনের ধারা ১৮, দফা-(ক) এ শিশু আদালতকে ফৌজদারি কার্যবিধির দায়রা আদালতের ক্ষমতা দেয়া হলেও ওই আইনে শিশু আদালতকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ এর কোনো ধারার অপরাধ আমলে নেয়া কিংবা বিচারের সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার দেয়া হয়নি। শিশু আইনের ৩৩ (১) ধারা অনুসারে শিশু আদালত অভিযুক্ত কোনো শিশুকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন। তাই আইনটি স্পষ্ট করতেই সংশোধনী আনা হচ্ছে। এদিকে গেল বছরের ২০শে মার্চ বস্ত্র আইনে নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আজকের সভায় আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠবে। রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতকে আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসতে আইনটি করা হয়েছে। নতুন আইনে সংঘটিত অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনে মোট ২২টি ধারা রয়েছে। আইনের ধারায় রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্র কারখানাগুলোর ব্যবস্থাপনা ও তদারকি, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহায়তা প্রদান, খাতের উন্নয়নে তহবিল গঠন, মাননিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও সমন্বয়, খাতের শিল্প নিবন্ধন, দক্ষ জনবল তৈরি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণাকল্পে তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ, তথ্যাদি প্রদান ও মূল্য স্থিতিকরণ, অপরাধ ও দণ্ড, বিচার ও আপিল। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো আইন অনুযায়ী, আইনের অধীনে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন গ্রহণ বা নিবন্ধন নবায়ন না করা হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। আবার নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত হওয়ার পর আপিল ব্যতিরেকে বস্ত্রশিল্প বা কারখানার কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও তা অপরাধ হবে। এছাড়া সরকার বা পোশাক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার পরিদর্শন কাজে বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এবং বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড আইন (সংশোধন) ২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠবে।

উ. কোরিয়ার সাথে যুদ্ধ বাধাতে চায় আমেরিকা!

উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
তিনি বলেছেন, অবরোধের অজুহাতে উত্তর কোরিয়ার সম্পদে হাত দেয়ার চেষ্টা বা সেদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের অর্থ হবে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেন, আমেরিকা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চায়। তিনি কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনো সংঘর্ষের ভয়াবহ পরিণতির জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেন। বলেন, আমেরিকার যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করার সামর্থ্য পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার একটি তালিকা ঘোষণা করেন যাতে উত্তর কোরিয়া ও চীনসহ আরো কয়েকটি দেশের ৫০টি কোম্পানি জাহাজ সংস্থার নাম রয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের জন্য ট্রাম্প ‘সেরা প্রেসিডেন্ট’!

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, নানা ত্রুটি সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের মোকাবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন সেরা প্রেসিডেন্ট। বুশ বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত নিয়ম-শৃঙ্খলার জন্য কোনো পুরস্কার পাননি, নিঃসন্দেহে তিনি ঘৃণ্য ব্যক্তি, মেজাজি এবং অসম্ভব রকমের গোঁয়ার্তুমি রয়েছে তার মধ্যে। এসবই তার অব্যাহত টুইটার পোস্ট থেকে পরিষ্কার হয়েছে।
কোনোভাবেই আমি ট্রাম্পকে ভালো প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আসনে বসে বলদির্পতা দেখান, দেশের মানুষকে ভয়-ভীতি দেখান এবং মিথ্যা কথা বলেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও আমি এখনো মনে করি মুসলিম বিশ্বের জন্য তিনি হচ্ছেন সেরা প্রেসিডেন্ট।’ জর্জ বুশ বলেন, ‘ট্রাম্পকে সেরা প্রেসিডেন্ট মনে করার কারণ হচ্ছে- দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশটিতে মুসলমানরা উৎপাত করছে কিন্তু ট্রাম্পের আমলে এগুলো শেষ হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে।’ বুশ হচ্ছেন ট্রাম্পের চেয়ে মুসলিম বিশ্বে বেশি ঘৃণিত এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর বলেছিলেন, ‘ক্রুসেড শুরু হয়ে গেছে’। এরপর তিনি তালেবান উৎখাতের নামে আফগানিস্তানে হামলা চালান এবং ২০০৩ সালে সন্ত্রাসবাদের অজুহাত তুলে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালান। এসব আগ্রাসনে লোখ লাখ মুসলমান নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অগণিত মানুষ। এছাড়া, এ দুটি দেশ অনেকটা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে সারা বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছিলেন বুশ। এরপরও তিনি ট্রাম্পকে মুসলমানদের মোকাবেলায় সেরা প্রেসিডেন্ট মনে করছেন!প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ট্রাম্পের নেয়া পদক্ষেপগুলো

ব্যাংকের ঋণ মঞ্জুরিপত্র বাংলায় হতে হবে

গ্রাহকের সুবিধার্থে ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যাংকঋণের মঞ্জুরিপত্রও বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ভাষায় হতে হবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে ওই প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নির্দেশ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান কার্যকর করার উদ্দেশ্যে প্রণীত বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭-এর ৩(১) নম্বর ধারা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি অফিস,
আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল, জবাব এবং আইনানুগ কার্যাবলি আবশ্যিকভাবে বাংলায় লেখার নির্দেশনা আছে। তবে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ব্যাংক তাদের চিঠিপত্র ও ফরমের পাশাপাশি ঋণ মঞ্জুরিপত্রও ইংরেজি ভাষায় প্রণয়ন করছে। ঋণ মঞ্জুরিপত্র গ্রাহকের সঙ্গে সম্পাদিত ব্যাংকের একটি চুক্তিপত্র এবং চুক্তিপত্রের সব শর্ত গ্রাহককে পালন করতে হয়। তাই গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তগুলো বোধগম্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঋণ মঞ্জুরিপত্র বাংলা ভাষায় প্রণয়ন করা হলে তা সব ধরনের গ্রাহকের জন্য সুবিধাজনক হবে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। তবে প্রয়োজনে ঋণ মঞ্জুরিপত্র বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও প্রণয়ন করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‘প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও তো জানা’ by সারফুদ্দিন আহমেদ



আমেরিকার লাখ লাখ নথি ‘লিক’ করে বিশ্বজুড়ে ‘কিলিক’ বাধিয়েছিল উইকিলিকস। বেফাঁস নথি ফাঁস হওয়ার পর দেশে-বিদেশে ফেঁসে গেল কত লোক, তার কোনো লেখাজোকা নাই। মাউসের ক্লিকে ক্লিকে কারও হাঁড়ির খবর, কারও নাড়ির খবর, কারও বাড়ির খবর, কারও গাড়ির খবর, কারও নারীর খবর ভেসে উঠল মনিটরের পর্দায়। এই ফাঁসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কেউ চাকরি হারাল, কারও মন্ত্রিত্ব গেল, কারও বউ পালাল। তারপরও সবাই বলল, বেশ হয়েছে। তথ্য গোপন রাখার জিনিস না। সবার তথ্য পাওয়ার হক আছে। তথ্যই সম্পদ। দামি কথা। এই দামি কথার মর্ম বুঝতে পেরেছে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুঝতে পেরেছে আমাদের সরকার।
শুধু বুঝেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, আমাদেরও চোখের ভেতর বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের কাছে মিনারেল ওয়াটারের মতো পরিষ্কার হয়েছে, প্রশ্নপত্র হচ্ছে জীবনঘনিষ্ঠ তথ্যসমৃদ্ধ নথি। এই নথি সর্বজনীন পদার্থ। জাতীয় সম্পদ। এটি উন্মুক্ত স্থানে রাখার জিনিস। কোল্ড স্টোরেজে রাখার বস্তু না। পরীক্ষার আগে মেধাবী ও অপদার্থ-সবারই এই পদার্থ হাতে পাওয়ার অধিকার আছে। শিক্ষার মতো একটি সর্বজনীন জিনিসকে মেধাবীরা বাপের সম্পত্তি মনে করবে; রাতদিন পড়াশোনা করে মগজের গোডাউন ভর্তি করে ফেলবে, অন্যদিকে এই পদার্থবঞ্চিত অপদার্থরা ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াবে, সেটা তো কোনো কাজের কথা না। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা অতি জরুরি। আমরা বুঝতে পারছি, টাকাপয়সা ধনসম্পদের মতো শিক্ষারও সমবণ্টন হওয়া দরকার। আমাদের সাম্যবাদী স্লোগান হওয়া দরকার, ‘প্রশ্ন ফাঁস করো এবং বিলিয়ে দাও’। ফি বছর পরীক্ষার তরিকা বদলানো, হগা-মগা-বগাদের পাতে জিপিএ-ফাইভের ঝোল ঢেলে দেওয়া আর প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে নির্বিকার থাকার নীতি আমরা এমনি এমনি নিয়েছি তা ভাবার প্রশ্নই আসে না। এর পেছনে আমাদের জবরদস্ত হেকমতওয়ালা একটা নেক মকসুদ আছে। জাতির বিবেকের সামনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন প্রশ্ন ফাল দিয়ে উঠতে পারে, সেই মকসুদটা কী? বছর কয়েক এই কায়দায় শিক্ষাব্যবস্থাটাকে চালিয়ে যেতে পারলে এই বঙ্গভূমিতে কোটি কোটি গোবরভর্তি মাথার একটি হাইব্রিড জাতের‘ অমেরুদণ্ডী’ প্রজন্ম পয়দা করা যাবে। সেই প্রজন্মের সবাই ভালো রেজাল্ট করা অশিক্ষিত হবে। আমাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত মেধাহীন উচ্চশিক্ষিত লোকে কিলবিল করতে থাকবে। দুনিয়া দেখবে আমরা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণ করতে পারলাম। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দেখে পাস করা সেই প্রজন্ম অন্য সব ক্ষমতা পাবে; খালি প্রশ্ন করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে। তাদের সামনে একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকবে, তারা প্রশ্ন করবে না। শেয়ারবাজার-ব্যাংক থেকে লাখো কোটি টাকা লুট হয়ে যাবে, তারা প্রশ্ন করবে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হবে, নির্বাচনে প্রকাশ্যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হবে, তারা প্রশ্ন করবে না। একই প্লেয়ারের একই সঙ্গে স্ট্রাইকার ও গোলকিপার হওয়ার মতো, পার্লামেন্টে একই সঙ্গে একটি দল সরকার ও বিরোধী দলে থাকবে, তারা প্রশ্ন করবে না।
গুম, খুন, ক্রসফায়ার, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মতো প্রাত্যহিক ঘটনা হয়ে উঠবে, তারা প্রশ্ন করবে না। সার্বভৌম দেশের পুঁজিবাজার দখলে বাইরের দেশগুলো কামড়াকামড়ি করবে, তারা প্রশ্ন করবে না। আন্দোলন-হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা হবে, তারা প্রশ্ন করবে না। সুদূরপ্রসারী নীলনকশার অংশ হিসেবে প্রশ্ন করায় অক্ষম এক অদ্ভুত, আজব ও অব্যক্ত সম্প্রদায় গড়ে তোলা হবে। সেই সম্প্রদায় চোখের সামনে সবকিছু দেখতে পারবে। কিন্তু পড়াশোনা বাইপাস করে ফাঁস করা প্রশ্নে পাস করার কারণে কোনো ছাইপাঁশ তারা বুঝতে পারবে না। বুঝতে না পারায় তারা বলতে পারবে না। মানুষ হচ্ছে এমন এক আজব কিসিমের জীব, যারা যত শিক্ষিত হয় তত খতরনাক হয়। তত প্রশ্ন তোলে। হীরক রাজার ভাষায়, ‘এরা যত বেশি পড়ে, তত বেশি জানে, তত কম মানে’। ছাত্রপাত্র যাতে খতরনাক না হয়, প্রশ্নে প্রশ্নে যাতে তারা কান ঝালাপালা করতে না পারে, কথায় কথায় তারা যাতে ‘জি স্যার!’ জি স্যার!’ করতে পারে, সেই জন্য এই সৃজনশীল প্রশ্ন ফাঁসের কায়দা আমদানি করা হয়েছে। আমরাও মহা আনন্দে বলে চলেছি, ‘ডু ইন রোম অ্যাজ রোমানস ডু’। আমরা বুঝে গেছি জীবনের পূর্ণিমায় রাহুগ্রাস চলছে। দশাননের গ্রাস থেকে জানকী মুক্ত হয়েছিল। মাছের পেট থেকে ইউনুস নবী ছাড়া পেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের মুক্তি নেই। এই হতভাগা জাতির কুঁড়েঘরের যে জানালা দিয়ে শিক্ষার আলো ঢোকে, সেখানে এখন ‘উটের গ্রীবার মতো ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা’ এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা বুঝে গেছি প্রশ্নাতীতভাবেই এই ব্যর্থতার ‘পোস্টমর্টেম’ হবে না। পুরোনো কবরের বুকভাঙা হতাশা নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কবিতার মতো আমাদের দাপাতে হবে। আমাদের পরাজয় বত্রিশ দাঁতে হাসবে। আমরা প্রশ্ন করতে পারব না।
সারফুদ্দিন আহমেদ: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
sarfuddin 2003 @gmail. com

নাগাল্যান্ডে প্রার্থীদের সম্পদ বাড়ছে, সঙ্গে দলবদলও

ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে গত বছর জনপ্রতিনিধিদের ঘোষিত সম্পত্তি বেড়েছে ৪১ শতাংশ। সম্পদ বৃদ্ধির হারে বিজেপির নতুন বন্ধু দল নাগাল্যান্ড ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির (এনডিপিপি) সদস্যরা সবার আগে রয়েছেন। বিজেপি বিধায়কেরাও সম্পদ বৃদ্ধিতে খুব একটা পিছিয়ে নেই। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে। আগামী মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব ভারতের এ পাহাড়ি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। নাগাল্যান্ড বিধানসভার নির্বাচনে ৫৩ জন বিধায়ক এবারও ভোটে লড়ছেন। তবে তাঁদের অনেকেই দলবদল করে এখন অন্য প্রতীকে ভোটযুদ্ধে শামিল। এই ৫৩ জনের দেওয়া ২০১৩ ও ২০১৮ সালে সম্পত্তির খতিয়ান অনুযায়ী গড়ে ৪১ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে গত পাঁচ বছরে। ভারতীয় মুদ্রায় গত পাঁচ বছরে তাঁদের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লাখ রুপি। হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে বিজেপির নয় প্রার্থীর সম্পদ বেড়েছে গড়ে ১ কোটি ৪২ লাখ রুপির। তাঁদেরই জোটসঙ্গী এনডিপিপির ১২ প্রার্থী সম্পদ বাড়িয়েছেন ৭ কোটি ৭০ লাখ এবং শাসক দল এনপিএফের ২৮ প্রার্থীর সম্পদ বৃদ্ধির হার ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি।
বিধায়ক ছিলেন, এমন কোনো প্রার্থী অবশ্য এবার কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন না। তাই তাঁদের গত পাঁচ বছরের ঘোষিত সম্পদ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এখানে নেই। নাগাল্যান্ডের ভোটপ্রার্থী মানেই ধরে নেওয়া যায় তিনি ঘোষিত কোটিপতি। এটাই এখানকার রীতি। অথচ রাজ্যবাসীর গড় আয় গোটা দেশের মধ্যে অনেক কম। ভারতের গড় আয় যেখানে ১ লাখ ৩ হাজার ২১৯, সেখানে নাগাল্যান্ডে ৬৪ হাজার ৮৬৯ রুপি। নাগাল্যান্ডের রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো দলবদল। নিন্দুকেরা বলেন, ‘ঘোড়া কেনাবেচা’য় প্রসিদ্ধ নাগাল্যান্ড। এবারে যে ৫৩ জন বিধায়ক ৬০ সদস্যের রাজ্য বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই দলবদল রোগের শিকার। গত বছর ক্ষমতাসীন এনপিএফের হয়ে ভোটে জিতেছিলেন ৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন এবার এনপিএফের হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে। বাকিদের মধ্যে চারজন বিজেপিতে, ১০ জন এনডিপিপিতে, একজন জেডি (ইউ) এবং একজন এনপিপির হয়ে ভোটে লড়ছেন। তিনজন অবশ্য এবার ভোটেই দাঁড়াননি। অন্য দল থেকে আরও ১১ জনকে ভাঙিয়ে এনেছে এনপিএফ। বিজেপির শরিক এনডিপিপির ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন অন্য দল থেকে গতবার জেতা। সব মিলিয়ে দলবদল এখানে প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। অথচ সব দলই দুর্নীতিকে ইস্যু করেছে এবারের ভোটে। সঙ্গে রয়েছে স্থায়িত্বের অঙ্গীকার। কিন্তু ভোট মিটতেই টানা পাঁচ বছর সব অঙ্গীকারই চাপা পড়ে যায় বলে মনে করেন নাগাল্যান্ডের সাধারণ মানুষ। তাই ভোট এলে হাত পেতে নিতেও আপত্তি করে না নাগা জনতা।

করবিনের কাছে ক্ষমা চাইলেন সরকার-দলীয় এমপি

অনেকটা নাকে খত দিয়ে জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বেন ব্রাডলি। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনকে বিদেশি গুপ্তচর দাবি করে টুইট করেছিলেন তিনি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির জেরে নিজের দাবি মিথ্যা ও লেবার নেতার প্রতি মানহানিকর বলে মুচলেকা দিয়েছেন এই এমপি। এ ঘটনা বলা চলে দেশটিতে নজিরবিহীন। ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য আর না করারও অঙ্গীকার আছে ওই মুচলেকায়। সেই সঙ্গে জেরেমি করবিনের পছন্দের দুটি দাতব্য সংস্থায় বড় অঙ্কের অর্থদানে সম্মত হয়েছেন ব্রাডলি। অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাম ঘরানার নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে ডানপন্থী গণমাধ্যম এবং সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের অব্যাহত অপপ্রচার বড় ধরনের ধাক্কা খেল। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার কারণে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নৈতিকতা। আইনি ব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপেই ক্ষমতাসীন-দলীয় এমপির মুচলেকা পেয়ে আত্মবিশ্বাসী লেবার পার্টি। অনেকটা উজ্জীবিতও। তারা অন্যদেরও আইনিভাবে মোকাবিলা করে অপপ্রচারকারীদের শেষ দেখে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১৯৮০-র দশকের উত্তাল স্নায়ুযুদ্ধের সময় জেরেমি করবিন কমিউনিস্ট গুপ্তচরদের কাছে যুক্তরাজ্যের গোপন তথ্য পাচার করতেন—এমন দাবি করে সংবাদ প্রচার করে দেশটির কয়েকটি ডানপন্থী পত্রিকা। যার ধারাবাহিকতায় মেন্সফিল্ড থেকে নির্বাচিত এমপি বেন ব্রাডলি গত সোমবার এক টুইট বার্তায় দাবি করেন, ‘করবিন রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বিক্রি করেছেন’। অবশ্য প্রমাণবিহীন এমন দাবির পরিণতির কথা আঁচ করতে পেরে পরক্ষণেই তিনি তা মুছে দেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। করবিনের আইনজীবীর নোটিশের জেরে গতকাল শনিবার মুচলেকা দিতে বাধ্য হন ব্রাডলি। করবিনের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা ও নিজের ভুল শিকারের পাশাপাশি করবিনের পছন্দের দুটি চ্যারিটিতে অর্থ দেওয়ার মুচলেকা তিনি নিজের টুইটে প্রচার করতে বাধ্য হন। যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী সংবাদপত্র ডেইলি মেইল, দ্য সান, টেলিগ্রাফ এবং দ্য এক্সপ্রেস লেবার নেতা করবিনের বিরুদ্ধে বরাবরই নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে। রক্ষণশীল দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এসব সংবাদপত্র সপ্তাহ দুয়েক ধরে লেবার নেতা করবিন ‘চেকোস্লোভাকিয়ার গুপ্তচর’ ছিলেন দাবি করে সংবাদ প্রচার করছে। এসব সংবাদে দাবি করা হয়, ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালে করবিন তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রদূত জেন সারকোজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ব্রিটিশ সরকার পরবর্তী সময়ে সারকোজিকে বহিষ্কার করেছিল। বহিষ্কৃত ওই রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে পত্রিকাগুলো বলছে, তথ্যের বিনিময়ে করবিন ও লেবার পার্টির কয়েকজন এমপিকে ১০ হাজার পাউন্ড দেওয়া হয়েছিল। বিবিসির খবরে বলা হয়, চেকোস্লোভাকিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারকোজিকে একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বলেছেন, করবিন তাঁদের কাছে প্রিয় ছিলেন। কিন্তু করবিন কখনো গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন—এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন করবিন। ১৯৮৬ সালে সারকোজির সঙ্গে বৈঠকের দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করেন তিনি। কিন্তু ১৯৮৭ সালের ২৪ অক্টোবর ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৈঠকের দাবি অস্বীকার করেন। কারণ, ওই দিন তিনি লন্ডনেই ছিলেন না। ছিলেন ডার্বিশায়ার এলাকায়। তার আগের দিন করবিনের মা মারা গিয়েছিলেন বলে দিনটি তাঁর স্পষ্ট স্মরণে আছে। সর্বশেষ গতকাল ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলোকে পাল্টা আক্রমণ করে এক ভিডিও বার্তা ছাড়েন করবিন। করবিন বলেন, সারকোজির সঙ্গে তখনকার কনজারভেটিভ-দলীয় প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারও সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি বলেন, অপপ্রচারে লিপ্ত সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর ক্ষমতাসীন হওয়ার বিষয়ে চরমভাবে ভীত। কারণ, তিনি এসব সংবাদপত্রের কর ফাঁকিবাজ মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্য আয়কর নিশ্চিত করবেন। সংবাদপত্রগুলো এর মালিকদের কাছে জিম্মি উল্লেখ করে করবিন বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী করবিনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসন চেক গোয়েন্দার সঙ্গে করবিনের বৈঠককে ‘দেশের সঙ্গে বেইমানি’ বলে আখ্যায়িত করেন। নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেন ওয়ালেস রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত কিম ফিলবির সঙ্গে করবিনকে তুলনা করেন। বেন ব্রাডলির ক্ষমতা প্রার্থনার পর কনজারভেটিভ পার্টি এখন চরম চাপের মুখে। রাজনীতিক ভাষ্যকারেরা বলছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের দায়িত্বহীন মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বিরোধী দলের প্রতি ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক। বাম ঘরানার রাজনীতিক জেরেমি করবিন নিজ দলের প্রভাবশালী এমপি ও বিরোধীদের নানা নেতিবাচক প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াই করে নেতৃত্বে টিকে আছেন। বিনা মূল্যে চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অবৈতনিক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পরিবহন, পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবাগুলোর খরচ সাধারণের মানুষের নাগালে রাখতে এগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন। দেশটাকে মুষ্টিমেয় ধনীর নয়, লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জন্য বাসযোগ্য করে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তাঁর এসব প্রতিশ্রুতিতে পুঁজিপতিরা বেজায় উৎকণ্ঠিত। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে করবিনের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। করবিনের প্রতিশ্রুতিগুলোর সমালোচনা সহজ নয়। তাই তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণে ব্যস্ত বিরোধীরা।

যৌন কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগী জয়েসের স্থলাভিষিক্ত সাবেক সাংবাদিক

অস্ট্রেলিয়ার নতুন উপপ্রধানমন্ত্রী হলেন দেশটির সাবেক সাংবাদিক মিশেল ম্যাককরমাক। তিনি বার্নাবি জয়েসের স্থলাভিষিক্ত হলেন। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ম্যাককরমাক দেশটির একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সাবেক সম্পাদক।
দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার ন্যাশনাল পার্টি ম্যাককরমাককে দলীয় প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি আপনা-আপনি অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী হলেন। যৌন কেলেঙ্কারির জেরে গত শুক্রবার উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জয়েস । তিনি তাঁর দল ন্যাশনাল পার্টির প্রধানের পদও ছাড়বেন বলে জানান। এদিন তিনি বলেন, সোমবার (আজ) পদত্যাগ করবেন। জয়েসের পদত্যাগের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতারা ম্যাককরমাককে নেতা নির্বাচন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের উপপ্রধান হন। যৌন হয়রানি ও সাবেক এক সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জয়েসের ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেন। অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনার অবসান হওয়া উচিত।’ দুই বছর উপপ্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেন জয়েস। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ম্যাককরমাক অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত মুখ নন। ২০১০ সালে তিনি প্রথম পার্লামেন্টে যান। রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ম্যাককরমাক ১৯৯৩ সালে সমকামিতা নিয়ে একটি কলাম লিখে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ন্যাশনাল পার্টির নেতা হয়ে আজ ম্যাককরমাক সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর পূর্বসূরি সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী জয়েস একজন অসাধারণ নেতা। দল ও দেশের জন্য তাঁর যে অবদান, তা কখনো ক্ষয়ে যাবে না। তাঁর উত্তরাধিকারের ধারা টিকে থাকবে।

‘শিশুদের বই পড়ে শোনান’

শিশুদের প্রতিদিন বই পড়ে শোনানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ রাজবধূ ক্যামিলা পার্কার। প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রতি এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে শিশুদের মধ্যে আবিষ্কারের নেশা জেগে ওঠে। ক্যামিলা ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে এক্সপ্রেসে এ বিষয়ে রোববার নিবন্ধ লেখেন। আগামী ১ মার্চ যুক্তরাজ্যে পালিত হবে বিশ্ব বই দিবস।
এ বই দিবসকে সামনে রেখেই তাঁর এই নিবন্ধ। বিশ্বব্যাপী ২৪ এপ্রিল বই দিবস পালন হলেও যুক্তরাজ্যে এর ব্যতিক্রম ঘটে। সেখানে মার্চের প্রথম বৃহস্পতিবার এ দিবসটি পালিত হয়। ক্যামিলা নিবন্ধে লিখেছেন, বাবা তাঁকে প্রতিদিনই বই পড়ে শোনাতেন। বই পড়ার ভালোবাসা থেকে জীবনে কোনো সন্ধ্যা বঞ্চিত হননি। বাবাই তাঁকে তৈরি করেছেন। যা তিনি সন্তানের মধ্যেও চর্চা করেছেন, এখন করছেন নাতি-নাতনিদের ক্ষেত্রে। ক্যামিলা আরও বলেন, প্রিয় বইয়ের প্রতিটি পাতা আমাদের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে নতুন বন্ধন সৃষ্টি করে। কিন্তু কেবল এটাই বই পড়ার ইতিবাচক দিক নয়। আমরা সবাই জানি পড়ার অভ্যাস জীবনের একটি অমূল্য দক্ষতা। শিশুদের শিক্ষা জীবনে এই পাঠাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার মাধ্যমে তারা বিশ্বের বুকে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।

এরশাদের কাছে দেশ কতটা নিরাপদ? by সোহরাব হাসান

১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নতুন একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সমর্থক পেশাজীবী সংগঠন আছে। বিএনপি-সমর্থক পেশাজীবী সংগঠন আছে। অতএব এরশাদ সাহেবেরও একটি সংগঠন দরকার। সেই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে গত রোববার জাতীয় পার্টি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বরাবরের মতো নিজের সাফাই গেয়েছেন। এরশাদ বলেছেন, তিনি নাকি ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করতে চাননি। বিচারপতি আবদুস সাত্তার স্বেচ্ছায় ও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁর কর মোবারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সঁপে দিয়েছিলেন। আমাদের ইতিহাসে সামরিক শাসকদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার নজির কম নয়। তবে সেটি ঘটে থাকে বন্দুকের মুখে। ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবরও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। আইয়ুব খান সে সময়ে ক্ষমতা দখল করতে যে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উদ্যমী ছিলেন ইয়াহিয়া খান। তিনিই প্রেসিডেন্ট হাউসে গিয়ে আইয়ুব খানের ইচ্ছের কথাটি জানান এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেন। এরই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ। আইয়ুব খান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছিলেন। পরে তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, আইয়ুব ওই ভাষণ স্বেচ্ছায় দেননি। তাঁকে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এরপর আইয়ুব কয়েক দিন প্রেসিডেন্ট হাউসে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তারপরও আইয়ুব নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করতে পারেন। কেননা, ইয়াহিয়া খান তাঁকে অন্তত দেশে থাকতে দিয়েছেন। আইয়ুব তাঁর পূর্বসূরি ইস্কান্দার মির্জাকে দেশেও থাকতে দেননি। ষাটের দশকে লন্ডনে ইস্কান্দার মির্জার মৃত্যু হলে তাঁর ছেলেরা চেয়েছিলেন, বাবার মরদেহ দেশে নিয়ে আসবেন। আইয়ুব তাঁদের সেই অনুমতি দেননি। সামরিক শাসকেরা এ রকমই নিষ্ঠুর হন। এরশাদ বলেছেন, ‘আমার রাষ্ট্রের দায়িত্ব (ক্ষমতা) নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। জাস্টিস সাত্তারের অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তিনি তখন দেশ চালাতে অপারগ ছিলেন।’ ‘আমি নির্বাচন দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবাই ভোট বর্জন করল।
আমাকে বাধ্য হয়ে দল গঠন করতে হয়েছে।’ এর চেয়ে ডাহা মিথ্যে আর কী হতে পারে? তিনি নির্বাচন দিয়ে যদি ব্যারাকেই ফিরে যাবেন, তাহলে গণভোট দিয়েছিলেন কেন? তাঁর পূর্বসূরি জিয়াউর রহমান ১৯ দফার পক্ষে গণভোট দিয়েছিলেন, আর এরশাদ ১৮ দফার পক্ষে। রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় এরশাদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদ নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিভিন্ন দল থেকে লোক ভাগিয়ে নিয়ে প্রথমে ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদ, পরে জাতীয় পার্টি গঠন করেন। এরশাদ সাহেব দাবি করছেন, তিনি ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের আগে ১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে তিনি যে পত্রিকার সম্পাদকদের ডেকে প্রকাশ্যে শাসনক্ষমতায় সেনাবাহিনীর ভাগ চাইলেন, তার জবাব কী। ১৯৮১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এরশাদ বিচারপতি সাত্তারকেই সমর্থন দিয়েছিলেন। কেননা, তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে এ রকম একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতিই প্রয়োজন। আসলে সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে নিজে ক্ষমতা দখল করেছেন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধের সুযোগ নিয়ে নয় বছর ক্ষমতায় থেকেছেন। এমনকি নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পরও তিনি নতুন করে সামরিক শাসন জারির পাঁয়তারা করেছিলেন। তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব) মঞ্জুর রশিদ খানের বইয়ে যার বিস্তৃত বিবরণ আছে (আমার সৈনিক জীবন: পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, প্রথমা)। এরশাদ বলেছেন, ‘ইংরেজি সাইনবোর্ডের নিচে বাংলা চালু করা আমিই প্রথম শুরু করি। আমিই অগ্রদূত। আমি ক্যালেন্ডারে ইংরেজির নিচে বাংলা চালু করাও বাধ্যতামূলক করেছিলাম।’ কিন্তু এরশাদ যে কথাটি বলেননি, তা হলো, তিনিই একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে বেদাত কাজ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই ১৯৮৩ সালে দেশের খ্যাতনামা লেখক-বুদ্ধিজীবীরা গঠন করেছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সেই থেকে আজ অবধি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে পারেননি। সাংবাদিক সমাজও এই স্বৈরশাসকের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। এরশাদ সাহেব বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি নিরাপদ নয়। আর বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়। খুবই হক কথা। এই দুটি দল একে অপরকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত ছিল এবং এখনো আছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এরশাদের হাতে দেশ, রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিরাপদ। যেই এরশাদ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে বেদাত বলতেন, যে এরশাদ কথায় কথায় পত্রিকা বন্ধ করে দিতেন, সেই এরশাদের কাছে কী করে দেশ নিরাপদ থাকে? যে ফেব্রুয়ারি মাসে এরশাদ জাতিকে নানা বিষয়ে সদুপদেশ দিচ্ছেন, ১৯৮৩ সালের সেই মাসেই (১৪ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রমিছিলে গুলি করে জাফর, জয়নাল, দীপালিদের হত্যা করা হয়েছিল। আর ১৯৮৪ সালের ২৮ ফ্রেরুয়ারি মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে খুন করা হয়েছিল ইব্রাহিম সেলিম ও দেলোয়ার হোসেন নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে। বিস্মৃতপ্রবণ বলে বাঙালির বদনাম আছে। কিন্তু এত নিকট অতীতের কথা কীভাবে ভুলে যাবে?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

মিসরে ২০০০ বছরের পুরনো সমাধির সন্ধান



মিসরের রাজধানী কায়রোর কাছাকাছি সিনইয়া প্রদেশে একটি সমাধির সন্ধান পাওয়া গেছে। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, এটি প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো। কয়েক মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে শনিবার গবেষকরা এটি খুঁজে পান। সুবিশাল এ সমাধিস্থলটি টুনা-আল-গাবাল অঞ্চল থেকে আড়াই মাইল উত্তরে অবস্থিত।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফ্যারাও পরবর্তী যুগ থেকে টলেমি যুগের মধ্যবর্তী সময়ের সমাধি। মিসরের পুরাণতত্ত্বমন্ত্রী খালেদ-আর-ইনানি বলেছেন, ২০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন সমাধি থেকে একটি স্বর্ণের কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এছাড়া পাথরের গায়ে খোদাই করা ৪০টি অলঙ্কৃত কফিন। তৎকালীন সমাজে বিভিন্ন পেশাজীবীর ১০০০টি মূর্তি। যাদের মধ্যে প্রাচীন ধর্মযাজক, মৃৎশিল্পী, জহরত এবং হস্তশিল্পীও রয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশংসার সঙ্গে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। যার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন মিসরীয়দের জীবনদর্শন সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে পারব। পুরাণতত্ত্ববিদদের পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করতে আরও ৫ বছর সময় লাগতে পারে। এদিকে পুরাণতত্ত্ববিদদের প্রধান মোস্তাফা ওয়াজিরি, বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, এখন পর্যন্ত আমরা সর্বমোট আটটি সমাধির সন্ধান পেয়েছি। অতিদ্রুত আরও বেশ কিছু সমাধি আবিষ্কার করতে পারব বলে আশা রাখি। সমাধিস্থল থেকে ভাস্কর্যখচিত চারটি অমূল্য পানি খাওয়ার জগ পাওয়া গেছে।
ইতিমধ্যে এগুলো সরকারি নির্দেশে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাচীন মিসরের চাঁদ ও সূর্যের দেবতা ‘থোথ’র মমিও পাওয়া গেছে। মমিটির শরীর ব্রোঞ্জের তৈরি সোনালি পোশাকে মোড়া ছিল। মাথা, হাত ও গলা লাল ও নীল দামি পুঁতির মালা দিয়ে সুসজ্জিত ছিল। প্রতœতাত্ত্বিকবিদদের দলটিতে মিসর ছাড়া জার্মানির মিউনিখ ও হিলাডসেইস শহরের গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে মিসরের কায়রো শহরের বাইরে ৪৪০০ বছরের পুরনো মাধির সন্ধান পাওয়া যায়।

দুর্নীতি রোধে আরও এগোতে হবে by ইমরুল কায়েস

নানারকম নেতিবাচক খবরের পাশাপাশি একটি খবর দেশের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে। তা হল বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। সংস্থাটির বার্ষিক জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে। ২০১৬ সালে টিআইয়ের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে দুই ধাপ অগ্রগতি হয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে নিুক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৭তম। ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২৮। সমান স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই কাতারে অবস্থান করছে গুয়াতেমালা, লেবানন, কেনিয়া ও মৌরিতানিয়া। ২০০১ সালে টিআইয়ের দুর্নীতি সূচকে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় স্কোর তথা অগ্রগতি। টিআইয়ের সূচক অনুযায়ী সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৮৯) এবং বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া (স্কোর ৯)। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, দুর্নীতি সূচকে অগ্রগতি হলেও তা গড় মাত্রার এখনও অনেক নিচে। ১০০-এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় মাত্রা ধরা হয়। আরেকটি বিব্রতকর দিক হল, বিগত বছরের তুলনায় দুই ধাপ অগ্রগতি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতির বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, যা হতাশাব্যঞ্জক। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ আফগানিস্তানের (স্কোর ১৫) পরই বাংলাদেশের অবস্থান। অথচ পাকিস্তানের মতো দেশের অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো (স্কোর ৩২)। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক বিষয়। তাই বলা যায়, দুর্নীতি কমার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও তা হচ্ছে ধীরগতিতে এবং এ অর্জন কোনোক্রমেই সন্তোষজনক পর্যায়ের নয়।
দুর্নীতিবিরোধী সাফল্য সন্তোষজনক না হওয়ার একটা বড় কারণ হল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বিগত বছরগুলোয় হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। এসব দুর্নীতির সঙ্গে সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসাজশের খবর গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। যদিও দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু কর্মকর্তা এখন জেলে আছেন, কিন্তু প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু আদেশ তামিলকারী কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ দুর্নীতি প্রতিরোধে তেমন ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয় না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলেই কেবল প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিবিরোধী বড় অগ্রগতি অর্জন হবে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা ও স্বাধীন ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। ব্যাংক খাতের দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রদানের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে শুধু বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া নয়, আপসহীন ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সব ধরনের দুর্নীতিবাজের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে। অবশ্য এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা একান্তভাবে জরুরি। সরকারের তথা রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ছাড়া দুর্নীতি বন্ধ করা সহজ নয়।
ইমরুল কায়েস : সাংবাদিক
kayeshdu@gmail.com

ব্যাংকিং খাত নিয়ে প্রশ্ন

খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, অর্থ পাচার বৃদ্ধি, চুরি হওয়া রিজার্ভ উদ্ধার, ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনী এনে এক পরিবারের চারজন পর্যন্ত পরিচালক থাকার সুযোগ, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া এবং এ খাতে সরকারের সুদ পরিশোধের হার দ্বিগুণ হয়ে পড়াসহ ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত এবং গোটা অর্থনীতি সংক্রান্ত ৩০টি প্রশ্ন সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। গতকাল ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা সংস্থাটির প্রতিনিধি দলের কাছে ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জবাব দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন থেকে সরকারের সরে আসা এবং মুদ্রানীতিসহ অন্য প্রশ্নগুলোর জবাব রাজস্ব বোর্ড, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। জানা যায়, প্রতিনিধি দলটির সফরের অনেক আগেই প্রশ্নগুলো আইএমএফের ঢাকা অফিস থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে জবাবও তৈরি হয়ে গেছে। আমরা মনে করি, কেবল দাতা সংস্থা হওয়ায় কোনোমতে আইএমএফ প্রতিনিধিদের কাছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়মের জবাব দিয়ে দায়িত্ব সারলেই হবে না, এগুলোর সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, বাজেটের আগে আইএমএফের সফর ও আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পর্কে জানতে চাওয়া একটি রুটিন ওয়ার্ক। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে তাগাদা দেবে; কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার আমাদের স্বার্থেই।
আমাদের ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম কীভাবে জেঁকে বসেছে তা বোঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক লুটের বছর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ যোগ করলে এ অঙ্ক ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।  এ ছাড়া ঋণ কেলেঙ্কারি, জালিয়াতি-লুটপাট যোগ করলে আমাদের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতি কত বিরূপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে সরকারের শীর্ষমহল কেন এগিয়ে আসছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়নি। এটি বিনিয়োগের গতি ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বাড়াবে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমাবে; কিন্তু একই সঙ্গে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২৩ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা বা ৮০ শতাংশ পূরণ হয়ে যাওয়া থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখার পরিবর্তে সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নিয়ন্ত্রক হিসেবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো তো দূরের কথা, নিজেদের চুরি হওয়া রিজার্ভ উদ্ধার এবং দায়ীদের ব্যাপারে প্রতিবেদনই প্রকাশ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুতরাং দুর্নীতি-অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা এবং ব্যাংক, আর্থিক খাত ও সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ফেরানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এখনই।

মশা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা

গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর সর্বত্র মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, মশক নিধনকর্মীরা আদৌ কোনো দায়িত্ব পালন করছে কিনা- এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে। রোববারের যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কচুরিপানা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ কেনার জন্য দুই সিটি কর্পোরেশনকে বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। এ অর্থের সদ্ব্যবহার করা হলে মশার উপদ্রব এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করত না নিশ্চয়ই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের অভিযোগ, মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কালেভদ্রে। মশক নিধন প্রক্রিয়ার অনিয়ম দূর করা সম্ভব না হলে রাজধানীতে মশার উপদ্রব যে আরও বাড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েকদিন আগে মশার উৎপাতের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ছাড়তে নির্দিষ্ট সময় থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজের ভেতরে থাকা মশার উপদ্রবে যাত্রীরা এতটাই অতিষ্ঠ হয় যে তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বস্তুত রাজধানীর সর্বত্রই দিনেরাতে সব সময় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত বছর রাজধানীতে চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাজধানীর সর্বস্তরের নাগরিক এ নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে আশা করা গিয়েছিল কর্তৃপক্ষ এমন উদ্যোগ নেবে যাতে এ বছর মশার উপদ্রব তুলনামূলক কম থাকবে। কিন্তু বাস্তবে বিপরীত অবস্থাই লক্ষ করা যাচ্ছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে রাজধানীতে আবারও ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকবে। মশক নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর সর্বত্র মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলা যায়। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার জলাধারগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার অভিযান অব্যাহত না থাকলে মশক নিধনে যে সুফল পাওয়া যাবে না এটি বহুল আলোচিত। বস্তুত মশার উপদ্রবে সারা দেশের মানুষই অতিষ্ঠ। মশক নিধনে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত না থাকলে রাজধানীর আশপাশের এলাকা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা রাজধানীতে আসবে। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে এডিস মশার উপদ্রব বহুগুণে বেড়েছে। এটা ঠিক রাজধানীবাসী দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলে কেবল দুই সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা মশক নিবারণী দফতরের উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে এডিসসহ অন্যান্য মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। মশা নিধনের মতো জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্বে পালন করছে কিনা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করে মশা। সব ধরনের মশা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার পরিচয় দিলে সংকট বাড়তে থাকবে।

দিনে কয়টি ডিম খাওয়া উচিত?

ডিম এমনই এক খাবার যার স্বাস্থ্য গুণ যেমন সর্বজনবিদিত, তেমনই ডিম খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষও প্রায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমন পরিস্থিতিতে একদিনে কতগুলো ডিম খাওয়া যাবে এ প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। যারা ডিম খেতে ভালোবাসেন, তারা একসঙ্গে একাধিক- এমনকি দিনে ৩-৪টি ডিমও খেয়ে ফেলেন।
আবার অনেকেই মনে করেন, এতে কি স্বাস্থ্যহানি বা অন্য কোনো প্রভাব পড়তে পারে? পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করেন না, তাদের কখনই দিনে দুটির বেশি ডিম খাওয়া উচিত নয়। খুব বেশি গরমের দিনে একটির বেশি কখনই খাওয়া উচিত নয়। ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় ডিম খেলে দুপুরের আগ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ঠিক একইভাবে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ক্যালোরি গ্রহণ করার মাত্রাও কমে যায়। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৩০ নারীর ওপর এ গবেষণা করা হয়েছিল। পেশি ও হাড়ের জোর বাড়াতেও সাহায্য করে ডিম। সেই সঙ্গেই কীভাবে ডিম খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তেল না থাকার জন্য সিদ্ধ ডিম সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

মাটির তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদ by সোলায়মান রিয়াজ

১২০০ শতাব্দী থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণের পক্ষে অধিকাংশ মতের সমর্থন পাওয়া যায়। জানা যায়, সুলতান কুনবুরু ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার প্রাসাদটি ভেঙে সেখানে এই মসজিদটি তৈরি করেন। * মসজিদের দেয়ালগুলো তালগাছের কাঠ দিয়ে নকশা করা। যা স্থানীয়ভাবে ‘টরল’ নামে পরিচিত। এগুলো এমনভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছে যাতে মাটির দেয়াল সহজে ধসে না যায়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষার জন্য এই মসজিদে আসতেন। শৈল্পিক স্থাপত্য হিসেবে বিশ্বের অনেক মসজিদের খ্যাতি আছে। এ শৈল্পিক সৌন্দর্য শুধু বর্তমানের আধুনিক সময়ের জন্যই নয়, আদি যুগ থেকে চলে আসছে। নির্মাণশৈলীর দিক দিয়ে বিশ্বে শত শত বছরের পুরনো মসজিদ রয়েছে। এগুলো এখনও মানুষকে মুগ্ধ করে। এমন অনেক মসজিদের মধ্যে অন্যতম বিস্ময় হচ্ছে পৃথিবীর বুকে মাটি দিয়ে তৈরি সবচেয়ে বড় মসজিদ। মাটির তৈরি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদটির অবস্থান আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ডিজেনি শহরে। মসজিদটির নাম ‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’। মসজিদটি প্রথম কবে নির্মাণ করা হয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায় না।
তবে ১২০০ শতাব্দী থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণের পক্ষে অধিকাংশ মতের সমর্থন পাওয়া যায়। জানা যায়, সুলতান কুনবুরু ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার প্রাসাদটি ভেঙে সেখানে এই মসজিদটি তৈরি করেন। মসজিদের পূর্বদিকে নিজের বসবাসের জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী এই মসজিদের দুটি মিনার এবং চারপাশের দেয়াল নির্মাণ করেন। ১৮২৮ সালে ফরাসি পর্যটক রেনের এ এলাকা সফরের আগ পর্যন্ত মসজিদটি সম্পর্কে লিখিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রেনে তার সফর শেষে লিখেছিলেন, ডিজেনি শহরে মাটির তৈরি একটি মসজিদ আছে। এর দু’পাশে দুটি দর্শনীয় কম উচ্চতার মিনার আছে। এরপর থেকেই মাটির এই মসজিদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বানি নদীর তীরে অবস্থিত মসজিদটি ২৪৫ ফুট আয়তনবিশিষ্ট ৩ ফুট উঁচু কাঠামোর ওপর নির্মিত। বর্ষাকালে বানি নদীর প্লাবিত পানি থেকে মসজিদটিকে সুরক্ষা করে এই কাঠামো। মসজিদের দেয়ালগুলো তালগাছের কাঠ, যা স্থানীয়ভাবে ‘টরল’ নামে পরিচিত, সেগুলো দিয়ে নকশা করা। শুধু নকশা নয়, তালগাছের কাঠ মসজিদের দেয়ালে এমনভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছে যাতে মাটির দেয়াল সহজে ধসে না যায়। মধ্যযুগে আফ্রিকার এই অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই মসজিদ। হাজার হাজার শিক্ষার্থী তখন কোরআন শিক্ষার জন্য এই মসজিদে আসতেন। প্রতি বছর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মসজিদটির সংস্কার কাজ চলে। ২০০৬ সালের ২০ জানুয়ারি মসজিদের ছাদের একটি অংশ এবং ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর এর দক্ষিণ দিকের মিনারের একটি অংশ ধসে পড়লে ‘দি আগা খান ট্রাস্ট কালচার’ নিজস্ব খরচে এটির সংস্কার করে। ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো এই মসজিদটিসহ এর চারপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

আস্থা ফেরাতে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন

পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার যে ফাটল ধরেছে, তা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজ রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৮৩২ পয়েন্টে। এ নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ২৭০ পয়েন্ট এবং গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে ডিএসইএক্স।
এর আগে গত বছরের ২০ আগস্ট ডিএসইএক্স সূচক কমে দাঁড়ায় ৫৮১৯ পয়েন্টে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল প্রথম আলোকে বলেন, আইসিবির শেয়ার বিক্রি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারে দর পড়তে দেখা গিয়েছিল। পরে কিছু সময় একটা জায়গায় ঘোরাফেরা করছিল সূচক। বিনিয়োগকারীরা ভাবছিল নীতিগত একটি পরিবর্তন আসবে। তবে দৃশ্যমান কোনো নীতিগত পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নিয়ে একটা ধূম্রজাল তৈরি হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হেলাল বলেন, আস্থার যে ফাটল ধরেছে সেটা কাটাতে দ্রুত দৃশ্যমান নীতিগত পরিবর্তন দরকার; যা বাজারে তারল্য বাড়াবে। এ ছাড়া চাহিদার কারণে বাজার বাড়তে থাকলে আবারও আস্থা ফিরে আসবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। গত কার্যদিবসের তুলনায় আজ লেনদেন সামান্য বাড়লেও তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকার। গত কার্যদিবস লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৮৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। আজ হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২৪৩টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৩টির। আজ লেনদেনের শীর্ষে ছিল যে কোম্পানিগুলো স্কয়ার ফার্মা, ইউনিক হোটেল, ইফাদ অটোজ, বেক্সিমকো ফার্মা, এসিআই, ফার্মা এইড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, আইডিএলসি, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে আজ। সার্বিক সূচক কমেছে ২৪৩ পয়েন্ট। মোট লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।

কালো পতাকায় বাধা

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত কালো পতাকা কর্মসূচিকে পুলিশ যে কায়দায় বাধা দিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে, তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। বরং এতে সংশ্লিষ্টদের বেপরোয়া মনোভাবটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপি হরতাল-অবরোধের মতো রাজপথ গরম করা কর্মসূচি দিয়ে একটা অরাজক অবস্থা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা অনেকের মনে ছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা সে ধরনের কোনো কর্মসূচি নেয়নি। এমন অবস্থায় কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো নিরীহ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনেও বাধা দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। অতীতের নানা পর্বে বিভিন্ন ধরনের হিংসাত্মক কর্মসূচির দুঃসহ স্মৃতি আমাদের তাড়া করে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও রীতিনীতির অনুশীলন ছাড়া আমরা কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা কল্পনা করতে পারি না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল ও ভিন্নমতের জন্য অবশ্যই স্থান করে দিতে হবে। আদালতের রায় বা কোনো সিদ্ধান্ত পক্ষে গেলে একধরনের আর বিপক্ষে গেলে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো রাজনৈতিক দলের এমনকি মাঝারি পর্যায়ের কোনো নেতার নিতান্ত আটক বা দণ্ডের ঘটনায় সারা দেশে হরতালের মতো কর্মসূচির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা দেশবাসীর রয়েছে। সেদিক থেকে বিএনপি নেত্রীর কারাদণ্ডের পর কোনো ধরনের হিংসাশ্রয়ী কর্মসূচি না দেওয়াকে একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কিন্তু অবস্থা যদি এমন দাঁড়ায় যে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কালো পতাকাও প্রদর্শন করতে পারবেন না, তবে তাকে গণতান্ত্রিক আচরণ বলা যায় না। গত শুক্রবার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, ‘সরকার কারও রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না।
সরকার কোনো দলের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেয় না। জ্বালাও-পোড়াও থেকে সরে এসে সুষ্ঠু রাজনৈতিক আন্দোলন করলে প্রয়োজনে বিএনপিকে সহযোগিতা করা হবে।’ এই আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে বাধা, তাদের কর্মসূচি ভন্ডুল করে দেওয়া, এমনকি নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। কিন্তু দেশবাসী বিস্ময়ের সঙ্গে দেখল যে সরকারের কথা ও কাজে মিল নেই। এর আগেও আমরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের তরফে বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে অসংযত ও অসহনশীল বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে দেখেছি। আওয়ামী লীগের খোদ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়ে এখন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলছে।’ তার মানে আওয়ামী লীগ কি চায় বিএনপি রাজপথ গরম করা কর্মসূচি নিক! মহান একুশের চেতনা জাতিকে একটি প্রতিবাদী সমাজ বিনির্মাণে প্রেরণা জুগিয়েছিল, সুতরাং জাতি যখন ভাষার মাস পালন করছে, তখন শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিল কেবল অনুমতির দোহাই দিয়ে ভন্ডুল করে দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। আর পুলিশ যে কায়দায় কাজটি করেছে তা নিন্দনীয়। প্রচলিত আইনের কোথাও কালো পতাকা মিছিলের বিষয়ে আগাম অনুমতির কথা বলা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও সমাবেশের সব দরজা যদি সরকারই বন্ধ করে দেয়, তাহলে যে সম্ভাব্য চিত্রটি সামনে আসে, সেটি মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। অতএব, আগে অনুমতি নেয়নি এই অজুহাত দেখিয়ে কোনো দলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব জনজীবনে শান্তি বজায় রাখা। কিন্তু তারা নিজেরাই যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে, সেটি কারও জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে না।

কুষ্টিয়া–ঈশ্বরদী সড়ক

গতকাল প্রথম আলোর কুষ্টিয়া–ঈশ্বরদী মহাসড়কের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তাতে এটিকে মহাসড়ক না বলে মহাদুর্যোগ বলাই শ্রেয়। ছবিতে দেখা যায় পিচ-পাথরের চিহ্ন নেই। শুধু লাল ইটের খোয়া আর ধুলা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো বরাদ্দ কম হওয়ায় মেরামতের কাজে কোনো ঠিকাদার না পাওয়া। কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক মেরামতের জন্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ২৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু নির্ধারিত দিন বাক্স খুলে দেখা যায়, একটিও দরপত্র পড়েনি। দ্বিতীয়বার দরপত্রেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদক সরেজমিন ঘুরে জানিয়েছেন, সড়কের বুকজুড়ে শুধু বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ, কার্পেটিং ও ইটের খোয়া উঠে গেছে। এ রকম আর কিছুদিন চললে হয়তো বলতে হবে, একদা এখানে মহাসড়ক ছিল। একদিকে সরকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য দাবি করছে, অন্যদিকে দেশের অধিকাংশ সড়ক–মহাসড়ক খানাখন্দে ভরা। অনেক সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে বলে মনে হয় না। ঠিকাদারদের অভিযোগ মহাসড়কটির যেই বেহাল অবস্থা হয়েছে, তাতে সড়কটি যেনতেনভাবে মেরামত করলে হবে না। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে এটি ভালোভাবে মেরামত করতে হবে এবং সে জন্য ২৩ কোটি টাকা খুবই অপর্যাপ্ত। উল্লেখ্য, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩২টি জেলার সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথটি চলাচলের অনুপযোগী হলে কয়েক কোটি মানুষ বিপদে পড়বে। খুব শিগগির কাজ শুরু করতে না পারলে বর্ষা মৌসুমের আগে মেরামতের কাজও শেষ করা যাবে না। ঠিকাদারদের যুক্তি ভিত্তিহীন বলা যাবে না।
যেখানে সড়ক-সেতুর নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদারদের প্রতিযোগিতা দেখা যায়, সেখানে দু–দুবার দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। কেবল কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা নয়, দেশের অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও সড়কের বেহাল দশা। সড়কের সঙ্গে শুধু জনগণের যাতায়াত নয়, এর সঙ্গে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্য অমার্জনীয় বলে মনে করি। সওজ বলেছে, শিগগিরই নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তৃতীয় দফায়ও যদি একই ফল হয়, তাহলে লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়বে। অতএব পুরো বিষয়টি সমীক্ষা করে দেখা হোক সত্যি সত্যি বরাদ্দ কম হয়েছে কি না। কম হলে সেটি বাড়াতে হবে। সামনে বর্ষা মৌসুম। তাই সময়ক্ষেপণ করার কোনো সুযোগ নেই।

খালেদার অপরাধ কি ‘নৈতিক স্খলন’? by মিজানুর রহমান খান

খালেদা জিয়ার অপরাধ ‘নৈতিক স্খলন’ কি না, এই প্রশ্ন এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে এর ওপর তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া নির্ভর করেছে। এবং সে কারণে আইনের চোখে নৈতিকতা কী, তা জানতে হবে। আমরা দেখলাম, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ কী তা নির্ধারণে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট যেসব ভারতীয় উদাহরণের ওপর এ পর্যন্ত দাঁড়ানো, তাতে এটা স্পষ্ট যে প্রতিটি ঘটনা তার নিজস্ব গুণাগুণ দিয়ে যাচাইযোগ্য।
প্রশ্ন উঠবে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করা নৈতিক স্খলন কি না। ১৯৮৯ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারপতি মোস্তাফা কামাল ও বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রায় দিয়েছিলেন। সাতক্ষীরার একজন ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মুখার্জি অবৈধভাবে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৯ একর জমি দখলে রাখার দায়ে সামরিক আদালতে সাত বছর দণ্ডিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তার বৈধতা রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। আইনজীবী সুধাংশু শেখর হালদারের (আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা) যুক্তি আদালত মেনেছিলেন, তিনি অপরাধী, আইন ভেঙেছেন, কিন্তু নৈতিক স্খলন হিসেবে তিনি অযোগ্য হবেন না। ‘ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছিল কি না মনে পড়ে না, আমি চেয়ারম্যান পদে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলাম, ’ মি. মুখার্জি শনিবার আমাদের টেলিফোনে নিশ্চিত করেন। আবার এরশাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। এরশাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়া নৈতিক স্খলন নয়-ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের এই নিবেদন আপিল বিভাগ নাকচ করেছিলেন। বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। এবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় এসেছে যে তিনি প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কুয়েতি অনুদান প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে দুটি বেসরকারি ট্রাস্টকে দিয়েছেন। ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা-তারেকসহ ছয়জনকে দণ্ডিত এবং সমরূপ অর্থ সমহারে প্রত্যেককে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে লেখা দেখি, মার্কিন প্রবাসী শরফুদ্দীন আহমেদই প্রাইম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী কামালের সহায়তায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাই আদালতের পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়াকে এরশাদের মতো সরাসরি অর্থ আত্মসাৎকারী নয়, বরং যোগসাজশকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠবে, এরশাদের অপরাধ নৈতিক স্খলন হলে খালেদা জিয়ার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বা ‘যোগসাজশ’ নৈতিক স্খলন হিসেবে বিবেচিত হবে কি না। অপরাধের দায়ে কেউ দণ্ডিত হলেই এবং সেই রায়ের কার্যকারিতা আপিলে স্থগিত হোক বা না হোক, তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না।
প্রমাণ করতে হবে যে অপরাধ সংঘটনে ব্যক্তির নৈতিক স্খলন ঘটেছে। এটা তাই খতিয়ে দেখা দরকার যে আমাদের নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদ ‘নৈতিক স্খলন’ বিষয়ে এ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তার ভিত্তি কী। সংবিধানের ৬৬ (২ ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ নির্বাচনের অযোগ্য হবেন, যদি ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁর মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে’। নৈতিক স্খলন কী, তা বুঝতে ১৯৮৯ সালের হাইকোর্টের ওই রায় ছাড়াও ২০০১ সালে এরশাদের মামলায় হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের দুটি রায় এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের বইয়ে বর্ণিত তাঁর আইনি মতামত, যা এরশাদের মামলাতেই আপিল বিভাগে সমর্থিত হয়েছে। কিন্তু এর কোনোটিই এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যার অপর্যাপ্ততার ঘাটতি পূরণ করে না। মাহমুদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ব্যাপক অর্থে সব ধরনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গেই নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ জড়িত। কিন্তু এখানে নৈতিক স্খলন সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, অন্যথায় এর ব্যবহার অর্থহীন হয়ে পড়বে। নৈতিক স্খলন নিশ্চিত করতে হলে দুরাচারত্ব বা ডিপ্রাবেটির উপাদান দেখাতে হবে।’ নৈতিক স্খলন কী বুঝতে মাহমুদুল ভারতের পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের ১৯৬৬ সালের রিসাল সিং বনাম চাংদি রাম মামলার বরাতে তিনটি মাপকাঠির উল্লেখ করেছিলেন। আমরা দেখি, ওই তিনটি মাপকাঠি ১৯৬২ সালে মাঙ্গালি বনাম চাক্কি লাল মামলায় প্রথম স্থির করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি এ পি শ্রীবাস্তব। ২০০১ সালের ২২ আগস্ট এরশাদের মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে তা সমর্থিত হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি এ শ্রীবাস্তব গ্রন্থিত এই তিনটি মাপকাঠিও অত্যন্ত ব্যাপক বললে ভুল হবে না। ১৯৬২ সালে জনৈক চাক্কি লালএক তোলা ভাং নিজের জেলায় বৈধভাবে কিনে পাশের জেলায় গিয়েছিলেন। সেই জেলায় অবশ্য তা বহন করা অবৈধ এবং সেখানে ধরা পড়ার পর তিনি ১০ রুপি জরিমানাসহ দণ্ডিত হন। আর ১৯৬৬ সালে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে চাংদি রামও দণ্ডিত হন। উভয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিতহলে নৈতিক স্খলনের প্রশ্ন ওঠে, হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দেন।
নৈতিক স্খলনের উল্লিখিত তিনটি মাপকাঠি: সাধারণভাবে তা বিবেক বা সমাজকে আঘাত দিয়েছে কি না? অপরাধ করার উদ্দেশ্য নিয়েই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল কি না? অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি সমাজের চোখে নীতিবিবর্জিত (ম্যান অব ডিপ্রেব ক্যারেক্টার) কিংবা সমাজ তাঁকে খাটো করে দেখে (লুকড ডাউন) কি না। মাহমুদুল ইসলামের মতে, এসবের উত্তর ইতিবাচক হলে কোনো ব্যক্তির নৈতিক স্খলন ঘটেছে। ১৯৯০ সালে পতনের পরে এবং কারাদণ্ডের পরও এরশাদ যে সমাজে পাঁচটি আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেখানকার মানুষ তাঁকে ‘লুকড ডাউন’ করেছিল? তাঁর দ্বারা অর্থ আত্মসাতের খবরে বিশেষ করে রংপুরের সমাজের বিবেকে কি আঘাত লেগেছিল? এবং তা দাবি করার আইনি মাপকাঠি কি অভ্রান্ত? বা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে? হাইকোর্টে এরশাদের মামলায় সংসদ নিয়োজিত আইনজীবী রোকন উদ্দীন মাহমুদের বরাতে (মূলত এর উৎস ভেঙ্কাতারামাইয়ার ল লেক্সিকন) লেখা হয়েছে, ‘নৈতিক স্খলন কোথাও সংজ্ঞায়িত নেই। কিন্তু এর অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচার, সততা, বিনয় বা নৈতিক সদ্গুণের যা বিপরীত, তা-ই নৈতিক স্খলন।’ আপিল বিভাগ এই সংজ্ঞা সমর্থন করে বলেছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট যদি অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং যদি তা তাঁর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করেন কিংবা যদি তাঁর জ্ঞাত আয়ের সূত্রের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ জীবনযাপন কিংবা সম্পদ ধারণ করেন, তাহলে তা নিশ্চিতভাবে নৈতিক স্খলন বলে গণ্য হবে। আপিল বিভাগের চোখে এরশাদ যখন অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে নৈতিক স্খলনকারী, তখন এই সমাজেরই একটি অংশের চোখে তিনি ছিলেন উন্নয়নের কান্ডারি। সমাজ, সময় ও সংস্কৃতি বদলায়, নৈতিকতা কী, সেটাও একই সঙ্গে বদলায়। ১৯৪৭ সালের পাসপোর্টে মেয়েদের ছবি থাকত না, তখন আমাদের সমাজে তারও একটা নৈতিক ভিত্তি ছিল, কিন্তু সেই নৈতিকতা বদলে গেছে। শেষ করব প্রবীণ আইনজীবী এম আই ফারুকীর মন্তব্য দিয়ে: ‘একটি সমাজের নৈতিকতা কী, তা নির্ধারণ করা সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, এ কাজ সংসদের। সুতরাং সংসদ তা না করা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের উচিত নয় নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের প্রশ্ন তুলে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা।’ কিন্তু এতকাল আইন ছাড়াই তো চলে এসেছে, তাতে প্রতিটি সরকারের সায় ছিল। রায়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অপরাধও কিন্তু দুই রকম। তারেককে যেভাবে টাকা আত্মসাতের দায়ে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেভাবে খালেদাকে করা হয়নি। সুতরাং, ক্ষমতার অপব্যবহার নৈতিক স্খলন কি না, সেটা জানতে অনেকেরই আগ্রহ থাকবে।
মিজানুর রহমান খান: প্রথম আলোর উপসম্পাদক
mrkhanbd@gmail. com

দুঃস্বপ্নে পাওয়া কিছু রাজকৌতুক! by ফারুক ওয়াসিফ

এক নাগরিক খুব করে দেশের ভালো চাইছিলেন। তো এক দরবেশ এক রাতে তার স্বপ্নে দেখা দিলেন। বললেন, ‘তোমার আবেগ দেখে আমি খুশি। বলো কী চাও?’ লোকটা আর কী বলবে। বললেন, ‘হে দয়াল দরবেশ, আমি চাই যে আমার দেশের নেতারা গণতান্ত্রিকও হবেন, আবার সবার উন্নয়নও করবেন।’ কথা শুনে দরবেশের কপালে চিন্তার রেখা ফুটল। তিনি বললেন, ‘সব কী আর আমি পারি রে! যা বর দিলাম, তোরা এমন নেতাই পাবি। কিন্তু কারও মধ্যে একসঙ্গে দুটি গুণ থাকবে না।’ সেই থেকে উন্নয়ন আর গণতন্ত্র একসঙ্গে আর হাঁটে না। বাংলাদেশের বিয়েশাদির দাওয়াতগুলোর রাজনৈতিক উপযোগিতা দারুণ। বাইরে যতই শত্রুতা থাক, দাওয়াতে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের লোকজন হাসিমুখে কথা বলে। কখনো-সখনো মন খুলে কথাও বলে। তো এ রকম এক দাওয়াতে পাশাপাশি খেতে বসেছেন দুই দলের নেতা। তাঁদের মধ্যে গল্প হচ্ছে। বিএনপির নেতা আওয়ামী লীগ নেতার কাছে জানতে চাইলেন: আপনার দলের ভেতরের কী অবস্থা? আওয়ামী লীগের নেতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বললেন, ‘কী বলব, পরিস্থিতি গুরুতর, কিন্তু নিরাশ হওয়ার মতো না। কিন্তু আপনাদের কী অবস্থা?’ বোরহানিতে চুমুক দিতে দিতে বিএনপি নেতার জবাব: ‘আমাদের কথা তো জানেনই, কোনো আশা নেই, কিন্তু পরিস্থিতিটাকে গুরুতর করা যাচ্ছে না! যা-ই করছি, সরকার হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে।’ তো, এক দেশে সম্পত্তি নিয়ে দুই শরিকে প্রচণ্ড ঝগড়া-মারামারি। বড় শরিকের ইচ্ছা ছোটটাকে কিচ্ছু দেবে না। তো বছরের পর বছর তারা এই নিয়ে লড়াই করে ক্লান্ত হলো। অবশেষে আর না পেরে তারা এক বৃদ্ধ শিক্ষকের কাছে গেল মীমাংসার জন্য। তিনি বললেন, ‘তোমরা কাল আসো।’ পরদিন শিক্ষক সমাধান দিলেন। তিনি এক ভাইকে একটা মুদ্রা দিয়ে বললেন, ‘তুমি টস করবে।’ অন্যজনকে বললেন, ‘তুমি হেডস না টেইলস, কী চাও তা ঠিক করো। সমাধান হলো যে টস জিতবে, সে-ই জমি ভাগ করবে।’ দুজনই হা হা রে রে করে বলে উঠল, ‘এটা কোনো সমাধান হলো না, ও তো একাই সব নিতে চায়। সেটাই তো সমস্যা!’ শিক্ষক বললেন, ‘রসো বৎস! যে টস জিতবে, সে ভাগ করবে বটে, তবে বেছে নেওয়ার প্রথম সুযোগটা পাবে অন্যজন।’ যখন মানুষকে চাকর ভাবা হতো, তখনকার কথা। বাড়ির কর্তা তার ‘চাকর’কে কী কাজে যেন ডাকছিলেন। উত্তর এল, ‘হুজুর, আমি আহার করি।’ হুজুরের মেজাজ চড়ে গেল। ‘বদমাশ, আহার কী রে! রানি ভিক্টোরিয়া করেন ভোজন, বড়লাট করেন আহার, আমি খাই আর তুই গিলিস।’ সেই থেকে বিরোধী দলের নেতা করলে হয় দুর্নীতি, সরকারি দল করলে হয় উন্নয়ন। প্রভাবশালী এক মন্ত্রী গুমরফাঁস নিয়ে বক্তৃতা করলেন। সবাই তো লাজবাব। কেননা প্রবাদ আছে, ডাক্তারের সঙ্গে তর্ক কোরো না, তাঁর কাছে ভেতরের তথ্য আছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়কার কথা। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপায় না দেখে রাগে-দুঃখে আত্মহত্যার পথ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ওই বিদ্রোহী প্রার্থী। বাড়ির আঙিনায় কবর খুঁড়ে তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে সোজা কারাগারে পাঠিয়েছে। ভোটে দাঁড়াতে না পেরে নিজের কবর নিজে খুঁড়লেও কিন্তু জেলবাস, হু কিন্তু! এক ভদ্রলোকের স্ত্রী কানে কম শোনেন। তো, তারা দুজন গাড়ি নিয়ে আরেক শহরে বেড়াতে গেছেন। উঠেছেন এক হোটেলে। রাতে ঘুমাচ্ছেন। এর মধ্যে স্ত্রীর গোঙানিতে স্বামীর ঘুম ভাঙল। কী ব্যাপার? স্ত্রীর মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা। ওষুধ আনতেই হবে। ভদ্রলোক কোনোভাবে বেরোলেন। কিন্তু ফেরার সময় মনে করতে পারলেন না, কত নম্বর ঘরে বউ আছে। কী আর করা। তিনি তাঁর গাড়ির দরজা খুলে একটানা হর্ন বাজানো শুরু করলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ছাড়া সব ঘরের বাতি জ্বলে উঠল। তিনি বুঝে গেলেন, কোন ঘরে তার স্ত্রী আছেন। যখন অভিভাবকেরা পেরেশান, কিন্তু একজন শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, বুঝবেন তিনি শিক্ষামন্ত্রী। দুজন শিকারি বন্দুক নিয়ে বনে গেছে বাঘ শিকারে। তো একজন খাদে পড়ে আর নড়েচড়ে না। তখন অপরজন জরুরি নম্বরে ফোন করে জানতে চাইল, ‘আমার সঙ্গী মনে হয় মৃত, আমি কী করব?’ অপর প্রান্তের উত্তর: ‘প্রথমে নিশ্চিত হোন যে আপনার বন্ধু মৃত না জীবিত। জীবিত হলে এক কথা, মৃত হলে আরেক কথা।’ ফোনের অপর প্রান্তে ‘দুম’ শব্দ শোনা গেল। এবার ফোন কানে নিয়ে শিকারিটি বলল, ‘এবার নিশ্চিত সে মৃত, এবার কী করব?’কিন্তু সঙ্গীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গিয়ে শেষ গুলিটি খরচ করে ফেলেছিল শিকারিটি, আর বাঘের গুহার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল একা! দ্বিদলীয় রাজনীতির দুই পা হলো দুই দল। একটি পা কাটা পড়লে অন্য পা-ও কিন্তু পঙ্গু হয়। এটা না বোঝা বোকামি। এ জন্যই বলে, গাধা যখন বোঝা বয়, তখনো সে গাধা, বোঝা নামিয়ে রাখলেও সে গাধাই থাকে। কোনো কোনো দল সরকারে থাকা অবস্থাতে সঠিকভাবে ভুল করে, আবার কোনো দল বিরোধী দলে থাকলে করে নির্ভুল ভুল। এ রকম বিরোধী দলের অবস্থা ওই বেকার যুবকের মতো। সে সার্কাস তাঁবুর সামনে নোটিশ ঝোলানো দেখতে পেল: যে ১০০ ফুট খুঁটির ওপর উঠে নিচের জালে লাফিয়ে পড়তে পারবে, তার পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। যুবক ভাবল, এ আর এমন কী? কিন্তু সমস্যা বাধল ওঠার পরে। নিচে তাকিয়ে তার যে মাথা ঘোরায়! কিছুতেই তার নামার সাহস হয় না। ওদিকে রিংমাস্টার চেঁচাচ্ছেন, ‘লাফ দে ব্যাটা, লাফ দে।’ কিসের লাফ আর কিসের টাকা! ভয়ে কেঁদে ফেলে সে বলে, ‘আমারে এহন নামাইব ক্যাডা?’ ক্ষমতার কুতুব মিনার বা আন্দোলনের মঞ্চ, যেখানেই উঠে বসুন, নামার ব্যবস্থাটা করে রাখুন। সরকারি দলের এক কর্মী অ্যাকশনে যাবে। তাঁর স্নেহময়ী মা তার ব্যাগে খাবারদাবার গুছিয়ে দিচ্ছেন। ছেলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছেন, ‘বাবা একটা একটা করে ওদের পেটাবি আর একটু জিরিয়ে নিবি। বেশি পরিশ্রম করবি না, খবরদার!’
ছেলের মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ল কথাটা: কিন্তু ওরা যদি আমাকে মারে?
বা রে, তোকে মারবে কেন? তুই ওদের কী ক্ষতি করেছিস, তুই তো দায়মুক্ত পার্টি!
রাজনীতি এখন নিষ্ঠুরতার শিল্প। মনোবিজ্ঞানে নিষ্ঠুরতা আবার দুই প্রকারের। একটিকে বলে মর্ষকামী, অন্যটিকে বলে ধর্ষকামী। মর্ষকামী কষ্ট পেতে ভালোবাসে। নিজেকে দেওয়া কষ্টেও তার কুলায় না, তাই একজন অত্যাচারী সেবকের দরকার হয় তার। আর ধর্ষকামী সুখ পায় অন্যকে কষ্ট দিয়ে, সে জন্য তার চাই কষ্ট পাওয়ার গোবেচারা লোক। তো মর্ষকামী ধর্ষকামীকে গিয়ে বলল: ‘আমাকে মারো, আঘাত করো, কষ্ট দাও!’ ধর্ষকামী তাকে একটু চাবুক মারে। মর্ষকামী তখন আরও চায়। আরেকটু মারে। এভাবে মারতে মারতে মর্ষকামী যখন একেবারে আত্মহারা, তখন থেমে যায় ধর্ষকামী লোকটা। মর্ষকামী কাকুতিমিনতি করে। কিন্তু ধর্ষকামী মজা নিয়ে বলে, ‘এখনো সময় হয়নি!’ গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির ভূমিকা ছিল মর্ষকামীর। সরকারকে যতভাবে পারা যায় ততভাবে তারা উশকেছিল। কিন্তু একদিন হুঁশ ফিরল তাদের। খেলার নিয়মটা বদলে গেল। এখন সরকার যতই চাইছে বিএনপি আগের মতো হঠকারিতা করুক, ততই তারা মার খেয়ে চলেছে। সরকারই যেন এখন চাইছে, বিএনপি আমাকে মারছে না কেন? তাহলেই তো খপ করে ধরে ফেলতে পারি।
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের একটি গল্পের কথা মনে পড়ে গেল:
শীতের দুপুর। সব খাওয়া এক কালো বিড়াল ফাঁকা ফুটপাতে শোয়া। কোথা থেকে এক ইঁদুর এসে তার গোঁফ ধরে টানতে লাগল। বিড়ালের আরামের ঘুম তাতে ভাঙল না। এবার তার লেজে চিমটি কাটল ইঁদুরটি। বিরক্ত বিড়াল বাঁ চোখ মেলে জিজ্ঞাসা করে, ‘কী চাই?’
ইঁদুর বলে, ‘আজ্ঞে, আপনি আমাকে খান।’
: আরে আমার পেট ভরা। আর নিতে পারব না রে।
এ কথা বলেই সে আবার নাক ডাকাতে লাগল। ইঁদুর এদিক-ওদিক ঘুরে আবার এসে বিড়ালের পেটে দিল গুঁতা। বিড়াল চোখ মেলল বটে, কিন্তু কিছু বলল না। ইঁদুরের সেই একই আবদার, ‘আমাকে আপনার খেতেই হবে।’
তাচ্ছিল্যের চাহনি মেরে একটু সরে গিয়ে আবার চোখ বুজল বিড়াল। ইঁদুর একটু ঘোরাঘুরি করে ফিরে এসে বিড়ালকে দিল এক খামচা। বিরক্ত হলেও বিড়ালের মনে করুণা জাগ্রত হলো। বলল, ঠিক আছে খেতে পারি তবে পরে। তুমি ওয়েট করো। নাছোড়বান্দা ইঁদুর তাতেও খুশি না। শেষে একটা রফা হলো। কালো বিড়ালটা হাঁ করে ঘুমাবে আর ইঁদুর সেই হাঁয়ের মধ্যে নিজের মাথাটা ঢুকিয়ে বসে থাকবে। ঘুম ভাঙলে তবে বিড়াল তাকে খাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইঁদুর জানতে চাইল, ‘হুজুরের ঘুম কখন ভাঙবে?’
: ওই যে মোড়ের ওপর অন্ধদের স্কুল দেখছ, সেই স্কুল ছুটি হলে অন্ধ বাচ্চারা এদিক দিয়েই যাবে। এই যে আমি আমার লেজটা রাস্তার ওপর মেলে রাখলাম। ওদের কেউ লেজে পা দিলেই তৎক্ষণাৎ আমি গাপ করে তোমার মাথাটা খাব—হাই তুলতে তুলতে বলল বিড়াল। ধরা দেওয়াই এখন ইঁদুরের কৌশল। বিড়ালটারও পেট ভারী, কতটা হজম করতে পারবে ঠিক নেই। তাই সে হাঁ করে ঘুমাল। সেই হাঁয়ের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল ইঁদুর। অন্ধদের স্কুল কখন ছুটি হবে?
ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক।
faruk.wasif@prothomalo.info

ভারতীয় সেনাপ্রধানের বক্তব্য এখতিয়ারবহির্ভূত by মনোজ যোশি

আপনাদের ইতিমধ্যে জানার কথা, ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের আবোলতাবোল কথা বলার প্রবণতা আছে। আগেও তিনি দায়িত্বহীন কথা বলেছেন। এবার বলেছেন আসামে অনুপ্রবেশ নিয়ে। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে রাওয়াত দাবি করেছেন, আসামে বদরুদ্দিন আজমলের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর প্রভাব বিজেপির চেয়ে বাড়ছে। ভারতকে অস্থির করতে পাকিস্তান ও চীন এককাট্টা হয়ে বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের আসামে ঢোকাচ্ছে বলেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। রাওয়াতের এই মন্তব্য এখতিয়ারবহির্ভূত। পুরোদস্তুর অজ্ঞতাপ্রসূত।
আসামের রাজনীতিতে কে কতটা জনপ্রিয়, তা নিয়ে রাওয়াতের মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার নেই। একটি দল অন্যটির চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ার নানা কারণ থাকতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করা রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের কাছেও জটিল বিষয়। আসাম রাজ্যসভার গত তিন বছরের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেস, এআইইউডিএফ ও বিজেপি-এই তিন দলেরই আসন ওঠানামা করেছে। ২০০৬, ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে আসামে কংগ্রেস পেয়েছিল যথাক্রমে ৩১, ৩৯ ও ৩১ শতাংশ ভোট। এআইএইউডিএফ পেয়েছিল যথাক্রমে ৯, ১২.৬ ও ১৩ শতাংশ এবং বিজেপি পেয়েছিল যথাক্রমে ৯, ১২ ও ২৯.৫০ শতাংশ ভোট। একসময়ের বড় দল এজিপির জনপ্রিয়তা কমতে কমতে ২০০৬ সালে ২০ শতাংশে, ২০১১ সালে ১৬ শতাংশে এবং ২০১৬ সালে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যান্য দলের জনপ্রিয়তাও ধসের মুখে পড়েছে। সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির অস্তিত্বই বিলীন হতে চলেছে। এই পরিসংখ্যান জানিয়ে দেয়, রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতনের নেপথ্যে অন্য দেশ থেকে অনুপ্রবেশ করা লোকজনের চেয়ে দলগুলোর নিজ নিজ কার্যক্রমের ভূমিকা বেশি। এটা বলা যাবে না যে আসামে অনুপ্রবেশ ঘটে না। ব্রিটিশ রাজত্বেও বাংলা একই ভূখণ্ডে ছিল; এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে যাওয়া-আসাকে ব্রিটিশ সরকার উৎসাহ দিত এবং সেই ধারা পরবর্তী সময়ে জারি থাকা খুবই স্বাভাবিক। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর দুই ভূখণ্ড আলাদা হয়। পরে ভারত সরকার ১৯৭১ সালের আগে আসামে বসত গড়ে তোলা সবাইকে নিজের নাগরিক বলে মেনে নেয়। আশির দশকে আসাম গণপরিষদের নেতৃত্বে ‘বঙ্গাল খেদাও’ আন্দোলন হয়। এর মধ্য দিয়ে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত অথবা অন্য কারও হাতে এমন প্রমাণ নেই, যা দিয়ে বলা যায়, পাকিস্তান ও চীন বাংলাদেশ থেকে আসামে লোক ঢোকাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তের পুরোটাই বেড়া দিয়ে ঘেরা। এরপরও যদি সেনাপ্রধান নিরাপত্তা-সংকটের আশঙ্কা করেন, তাহলে তিনি বিএসএফ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। বর্তমানে এমন কোনো অবস্থা দৃশ্যমান নেই, যাতে মনে হবে বাংলাদেশ আসামের এই তথাকথিত অভিবাসীদের নিতে রাজি আছে।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন, যেহেতু তাদের আর বের করে দেওয়া সম্ভব নয়, সেহেতু তাদের মূল স্রোতে একীভূত করা এবং সমস্যা সৃষ্টিকারীদের আলাদা করা দরকার। বর্তমানে আসামে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার কাজ ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে। কিন্তু এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজটি কীভাবে করা হবে, তা সেনাবাহিনীর বিবেচ্য নয়। গত জানুয়ারিতে সেনাপ্রধান জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষানীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিলেন। তিনি সেখানকার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় সেখানে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন রাখা হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো সামরিক শাসন জারি করা হয়নি, যার বলে তিনি সেখানকার শিক্ষা সংস্কারের কথা বলতে পারেন। আমরা সবাই জানি, সেখানে বিজেপি ও পিডিপি জোটের একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকার আছে। এর আগে ২০১৭ সালের গোড়াতে রাওয়াত কাশ্মীরের সব আন্দোলনকারীকে ‘সন্ত্রাসীদের মাঠপর্যায়ের কর্মী’ বলে বিতর্ক ছড়িয়েছিলেন। সহিংস আন্দোলন ও সশস্ত্র জঙ্গিদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখার ফল ভালো হয়নি। এভাবে বিবেচনা করে অভিযান চালানোয় কাশ্মীরের অনেক জঙ্গি যেমন মরেছে, তেমন অনেক জওয়ানকেও জীবন দিতে হয়েছে। সব আন্দোলনকে সন্ত্রাস হিসেবে দেখার ফলে অহিংস আন্দোলনকারীরাও সহিংসতার দিকে চলে যাচ্ছে। রাওয়াতের একের পর এক বিতর্কিত কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে মজা পাচ্ছেন। এতে একদিকে মনে হচ্ছে, সরকারের দিক থেকে তাঁকে ঠিকমতো তদারক করা হচ্ছে না, অন্যদিকে মনে হচ্ছে, অবসরের পরে রাজনীতিতে আসার অভিলাষ তিনি সামলাতে পারছেন না। তাই সেটারই আগাম জানান দিচ্ছেন। ভারতের জন্য এই দুটি আশঙ্কাই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত
মনোজ যোশি: নয়াদিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিসটিংগুইশড ফেল

স্ট্রোক রোগীদের আশীর্বাদ ‘সেন্সর প্যাচ’

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা একটি সেন্সর প্যাচ তৈরি করতে চলেছেন যা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আশীর্বাদ। এটি দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করবে। এই সেন্সর দেখতে ছোটো এক টুকরো প্লাস্টারের মতো যা চামড়ার সঙ্গে লাগিয়ে দেয়া যায়। এরপর বিনা তারেই এই প্যাচটি চিকিৎসকদের কাছে তথ্য পাঠাতে পারবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের যে দলটি এই সেন্সর প্যাচ তৈরি করছেন তারা বলছেন, চিকিৎসকরা দূরে বসেই সর্বক্ষণ রোগীর অগ্রগতি অবনতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে তার আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত একটি গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানীদের একটি সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে। লিজি ম্যাকানিচ নামে এক ডাক্তার দুবছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে নড়তে চড়তে বা কথা বলতে বা গিলতে পর্যন্ত পারছিলেন না। তার হাতে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেন্সর পরানো হয়েছে। লিজির ভাষ্য, এই সেন্সর দিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর কোনো পেশী কাজ করছে আর করছে না তা বোঝা যাবে। ফলে স্ট্রোকের কারণে শরীরের ঠিক কোথায় ক্ষতি হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বোঝা যাবে।
লিজির থেরাপিস্ট ক্রিস্টেন হোল বলেন, রোগীরা পরামর্শ মত কাজ করছে কিনা- তা বুঝতে এখন তাদের মুখের কথার ওপর ভরসা করতে হয়। ‘এখন এসব তথ্য আমি দূরে বসে এই সেন্সরের মাধ্যমে পেয়ে যাবো।’ তবে বিজ্ঞানীদের জন্য বড় যেটা চ্যালেঞ্জ ছিল তা হচ্ছে - একটি ছোটো নমনীয় প্যাচের মধ্যে প্রচুর সংখ্যায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঢোকানো যেটা আবার রোগীদের জন্য অস্বস্তি তৈরি না করে। শিকাগোর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন রজার্স এই সেন্সর প্যাচ আবিষ্কার করেছেন। তিনি বলছেন, ‘মানুষ বুঝতেই পারবে না এই প্যাচের ভেতর এত কারিগরি রয়েছে।’ এ বছরের শেষে পরীক্ষা পর্ব শেষ হলে এটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের করনীতিতে আরও ধনী বাফেট

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেটকে আরও ধনী করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসন সম্প্রতি কর সংস্কার নীতি অনুমোদন করায় এই ধনকুবেরের প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেড়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন কর সংস্কার নীতির অনুমোদন দেয়। এতে কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশ করা হয়। অনেকেই ওই সময় এ সংস্কার নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। গণতন্ত্রপন্থীরাও বলছিলেন, এটা ধনী ও গরিবের মধ্যে আরও বৈষম্য সৃষ্টি করবে। ধনীদের সুবিধার জন্য ট্রাম্প এ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমালোচকদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন এই বাফেট। তিনি এ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। বাফেট বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর সংস্কার নীতির কারণেই এ মুনাফায় বাড়তি গতি এসেছে। তার প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে ২০১৭ সালে যে পরিমাণ নিট মুনাফা করেছে তার অর্ধেকই এসেছে শুধু কর সংস্কার নীতির কারণে। তিনি বলেন, শুধু ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার এসেছে বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে পরিচালনায়। আর বাকি ২ হাজার ৯০০ কোটি এসেছে গত ডিসেম্বরেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের কর সংস্কার নীতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। গত মাসে ব্রিটিশ ব্যাংক বারক্লেস এক প্রত্যাশায় জানায়, বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হবে। চলমান ধারায় তাদের আয় বাড়তে পারে ১২ শতাংশ। তবে কর সংস্কার নীতি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও রিপাবলিকানরা বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। কংগ্রেসে কর সংস্কার বিলটি পাস হওয়া ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের জন্য বড় জয়। ট্রাম্প অবশ্য এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর সংকোচন ও দেশের জন্য উপহার বলে উল্লেখ করেন। তবে বাফেট ধনীদের জন্য উচ্চ করারোপ নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, তাদের জন্য আলাদা কর বিল করা উচিত। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। সে হিসাবে শীর্ষ ধনীর তালিকায় তার অবস্থান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের পরেই।

অনন্ত আলোর অশেষ পথ যেখানে শুরু by শায়লা সিমি

‘অনন্ত আলোর অশেষ পথ যেখানে শুরু’ স্লোগানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সুফি বিষয়ক শিল্প প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে ২৬ ফেব্রয়ারি থেকে। এই শিল্প প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে আর্ট আনলিমিটেড কোম্পানি ও শাফি-নুর পেজার উদ্যোক্তা। সুফিবাদ-দর্শনের প্রচরণা ও অধ্যাত্ম বিষয়ে মনোভাব প্রকাশের নিমিত্তে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংগঠকরা জানিয়েছেন, সুফিবাদের ঐতিহ্য এক জায়গায় সীমিত নয়; মহাবিশ্বের সাথে সংযুক্ত। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীকে ভালবেসে সৃষ্টি করেন এবং শক্তিগুলো এক সত্যের একক মাত্রা এবং সৃষ্টির মূল ধারণাই তাই। এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, আউলিয়া ও সুফীগণের জীবনী ও ইতিহাস বলে যে, তারা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মানবতার কল্যানে, আল্লাহর আদেশে কাজ করেছে বাংলার মাটিতে। যিশুখ্রিস্টও তার সহচরদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ্যণীয়। তারা পৃথিবী ব্যাপী বিচরণ করেন এবং মহাবিশ্বাসের সঙ্গে সংযুক্ত।
আউলিয়াদের রওজা মোবারাক বিশ্বকে হাজার হাজার বছর ধরে আল্লাহর আশীর্বাদ উপভোগের সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে। যে সব শিল্পী, নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং সংস্কৃতির পুঁজি করে এ সত্যের সঙ্গে, সংবোধ করতে চান; তারা হৃদয়ের রঙে ভালোবাসা মিশিয়ে সৃষ্টির ভালোবাসা ও সৃষ্টির উৎসকে উন্মোচন করতে চান তাদের নিয়ে এই আয়োজন। এছাড়া আমরা এ ভাবনাকেই অনন্ত ভালবাসা বা সুফিবাদ বলছি।ভারতীয় শিল্প উদ্যোক্তা,এডিটর ও কবি বিনা সরকারের কবিতার সমাবেশে একটি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে থাকবে। দুজন অস্ট্রেলিয়ান শিল্পী পিয়া সুইটিং ও নিনি আন্তেনিনির শিল্পকর্ম থাকছে আরও থাকছে পাকিস্তানি শিল্পী ইমরান জাইবের -নিউ মিডিয়া ত্রি ডি আর্ট ওয়ার্ক। এছাড়াও দেশের অনেক স্বনামধন্য শিল্পীরা এ আয়োজনের অংশ হচ্ছেন যাদের মধ্যে আছেন রনি আহম্মেদ (সুফী শিল্পী/আধ্যাতিক গুরু), আশরাফ হোসেন (শিল্পী), জহির উদ্দিন জম্মন (শিল্পী/কনসেপ্ট অ্যান্ড কপি রাইটার), শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্ট বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সের গুণী শিল্পীদের সমাহারে দিনব্যাপী কর্মশালা ও কনফারেন্স এর আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন শিল্পী ও ভাস্কর অলক রায়, শিল্পী ও শিক্ষক বিশ্বজিৎ গোস্বামী। প্রদর্শনী উৎসর্গ করা হয়েছে- সর্দার এ আউলিয়া খাজা বাবা মঈনুদ্দিন চিশতীকে (রহ.)। প্রদর্শনীর সময়কাল- ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ, ২০১৮ পর্যন্ত। স্থান- বেগম রেষ্টুরেন্ট ও গ্যালারী (পাঞ্জোরা, ঢাকা শহরের বাইপাস, ঢাকা; প্রায় ৩০০ ফুটের কাছে)। আয়োজন বিষয়ে যে কোনো যোগাযোগ করা যাবে- ইমেইল- shailasimi@gmail.com, প্রদর্শনীর জন্য যোগাযোগ- রিয়েল (ফোন- 88 01918969849) এবং জমা দেওয়ার জন্য রানা; (ফোন- +88 01721747574), আয়োজক +8801725020670।

আমলকি কেন খাবেন?

টক-মিষ্টির ফল হচ্ছে আমলকি।ত্বকের ডিটক্স ও রক্ত পরিশোদ্ধ করতে আমলকির জুড়ি নেই। নিয়মিত আমলকির রস খেলে কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও আমলকিতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।এছাড়া ডায়াবিটিস হাঁপানি কমাতে বেশ উপকারি টক-মিষ্টি আমলকি। অনেক আমলকি খেতে পছন্দ করেন আবার অনেকে কৈতে চান না। আমলকি খেতে আপনি বাধ্য না। তবে আসুন জেনে নিই কেন আপনি আমলকির নানা উপকারিতা-
সর্দি-কাশির ও হজম
সর্দি-কাশির সারাতে ও হজম ক্ষমতা বাড়ায় আমলকি বেশ উপকারি।প্রতিদিন এক চামচ আমলকির রস মধু দিয়ে খেলে সর্দি-কাশির প্রকোপ থেকে রেহাই মিলবে।
হজম ক্ষমতা বাড়ায়
আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে লিভারও ভালো রাখে।
চুল পড়া রোধ
চুল পড়া ঠেকাতে কত কিছুই ব্যবহার করেন আপনি।তবে জানেন কি আমলকির রসে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রোটিন যা চুলের পুষ্টি যোগায়। চুল পড়া রোধ করে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ
ভিটামিন সি ছাড়াও আমলকির রসে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস। চিকিৎসকরা জানান, এটি পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পানীয়।

প্রিয়জনের জন্মদিনের ঘরেই বানান প্লেইন কেক

জন্মদিনের উৎসবে কেক না হলে কী চলে? অনেকে জন্মদিনে প্রিয়জনকে কেক উপহার দিয়ে থাকেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেক আমরা কিনে থাকি। তবে আপনি যদি চান তবে ঘরে প্রিয়জনের জন্মদিনে বানাতে পারেন পেইন কেক। কেক বড়দের পাশাপাশি শিশুদের কাছে প্রিয় একটির খাবার। তাই শিশুদের টিফিনে বা বিকালের নাস্তায় জন্য বানাতে পারেন প্লেইন কেক। যেকোনো ধরনের কেক তৈরিতে এক্সপার্ট হতে হলে আগে প্লেইন কেক বানানো ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে কেননা এটা কেক তৈরির বেসিক। এখানে একটি সাধারণ প্লেইন কেকের রেসিপি দেওয়া হল। ডিম, ময়দা, মাখন ও চিনি কেক তৈরির প্রধান উপাদান। আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন প্লেইন কেক
উপকরণ

বাটার (গলানো) ১ টেবিল চামচ, ময়দা ১/২ কাপ, বেকিং পাউডার ১/২ চা চামচ, ডিম ২ টি, চিনি ১/২ কাপ, গুঁড়ো দুধ ২ টেবিল চামচ, ভেনিলা এসেন্স ১/২ চা চামচ।
প্রণালী
প্রথমে চিনি ও বাটার বিটারে বিট করে নিন। ময়দায় বেকিং পাউডার মিশিয়ে বিট করা চিনি, বাটার ঢেলে বিট করুন। ডিমের কুসুম দিয়ে বিট করে পরে আবার সাদা অংশ দিয়ে বিট করুন। গুঁড়ো দুধ ও ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ভালোভাবে ৩ মিনিট বিট করে খামির তৈরি করুন। ১টি বেকিং পাত্রে তেল দিয়ে কেক পেপার বসিয়ে খামির দিয়ে বেক করুন ১৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ২০-৩০ মিনিট। ওভেন খুলে কেকে চাকু বা কাঠি বসিয়ে দেখুন কেকের ব্যাটার লেগে থাকে কিনা। যদি না থাকে তাহলে কেক তৈরি আর যদি লেগে থাকে তাহলে আরো কিছুক্ষণ রাখুন।

সাবান ছাড়াই ত্বক পরিষ্কারের করার ৫ উপায়

সাধারণত ত্বক পরিষ্কার করতে আমরা সাবান, ফেসওয়াশ ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি জানেন কি সাবান ও ফেসওয়াশ ছাড়াও ত্বক পরিষ্কার করা যায়। অনেকের আবার সাবানের ক্ষারে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দেয়। এসব সমস্যার সমাধানে প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যেই পরিষ্কার করতে পারেন ত্বক। আসুন জেনে নিই কিভাবে পরিষ্কার করবেন আপনার ত্বক-
মধু
ত্বকে সরাসরি মধু লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিস্কার হওয়ার পাশাপাশি নরম ও কোমল হবে ত্বক।
দুধ
ত্বকের মরা চামড়া দূর করে দুধ। কাঁচা দুধ ব্যবহার করুন ক্লিনজার হিসেবে। এটি ত্বক পরিস্কার করার পাশাপাশি ত্বকে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
চিনিচিনির সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ত্বক পরিষ্কার হবে।
পেঁপে
পাকা পেঁপে চটকে মধু মেশান। ফেসপ্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। দূর হবে ত্বকের ময়লা।
নারিকেল তেল
ত্বকে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন

সকালে ঘুম থেকে ওঠা সত্যিই বেশ কষ্টের।তবে যারা সকালে উঠতে চান তাদের অবশ্যই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া উচিত। দেরিতে ঘুমালে সকালে ওঠা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। তবে রাত জেগে যারা পড়াশোনা করে অথবা অন্য কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখে ছাত্রজীবনে অনেকেই এটা করে, তবে ধীরে ধীরে এই অভ্যাসের পরিবর্তন করা উচিত। সেটা শরীরের জন্যও ভালো আবার ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রের জন্যও অনেক কাজে লাগবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তবে সারা দিন আপনার অনেক ভাল কাটবে। পুরোটা দিন কাজে লাগাতে এবং সুস্থ থাকতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত এবং এর জন্য বিভিন্ন নিয়ম অবলম্বন করা উচিত। আসুন জেনে নেই সকালে ঘুম থেকে কীভাবে উঠবেন।
সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করানো উচিত। সকাল ঘুম থেকে উঠলে আপনি সারাদিন কাজের জন্য অনেক সময় পাবেন। তাই প্রতিদিন রাত ১২টায় ঘুমানোর পরিবর্তে ঘুরে জন্য রাত ১০ থেকে ১১টার সময় বেছে নিন।
ঘুমের জন্য ৮ ঘন্টা
ঘুমের জন্য ৮ ঘন্টা সময় নেয়া উচিত।তাই কেউ যদি ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতে চায়, তাকে অবশ্যই ১০টার ভেতর ঘুমিয়ে পড়া উচিত।
বই পড়া
রাতে বই পড়ার অভ্যাস খারাপ না।রাতে বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যেতে পারেন।বই আপনার জ্ঞানকে বিকাশিত করবে।
টেলিভিশন
ঘুমানোর আগে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টেলিভিশন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন। ঘুমানোর আগে টেলিভিশন ও ল্যাপটপ গুছিয়ে ফেলুন।
ব্যায়াম
ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করতে পারেন।ব্যায়াম করলে রাতে ভাল ঘুম হবে আপনার।
পরবর্তী দিনের রুটিন
ঘুমানোর আগে প্রথম যে কাজটি আপনাকে করতে হবে সেটি হল পরের দিনের রুটিন করুন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের রুটিন ঠিক করে ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন।
চা-কফি
অনেকের ঘন ঘন চা-কফি পানের অভ্যাস আছে। তবে বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে চা-কফি পান করা উচিত নয়। এটি রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
রাতের খাবার
সকালে যারা ঘুম থেকে উঠতে চান তারা রাতের খাবার রাত ৯টার মধ্যে খেয়ে নিন।