Monday, October 26, 2009

পশ্চিমবঙ্গে সাত মাসে ১২৪ বামকর্মী নিহত

পশ্চিমবঙ্গে গত সাত মাসে লোকসভা নির্বাচনের আগে-পরে মাওবাদী ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন ১২৪ জন বাম নেতা-কর্মী। এর মধ্যে ১২০ জন সিপিআইএমের এবং বাকিরা বামফ্রন্টের শরিক দলের। শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শুরুর আগে এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় সিপিএম। এদিন সিপিএম নিহত ওই ১২৪ জন কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

ভারতের এক ক্রমিক খুনি মোহন কুমার

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ভিট্টালা কানাইয়া গ্রামে ধরা পড়েছে মোহন কুমার নামের এক ক্রমিক খুনি। পুলিশের কাছে মোহন স্বীকার করেছেন, তিনি এ পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে হত্যা করেছেন।
পুলিশ সুপার এ সুব্রহ্মনেশ্বর বলেছেন, মোহন যে ১৮ জনকে হত্যা করেছেন, তাঁদের মধ্যে ১৩ জন নারীই দক্ষিণ কন্নড় জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকিরা কাঁসারগড় এলাকার। ওই নারীদের বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মোহন ফাঁদে ফেলতেন। এরপর ঠান্ডা মাথায় বিষ প্রয়োগে তাঁদের হত্যা করতেন। সাবেক শরীরবিদ্যার শিক্ষক মোহনের বয়স এখন ৪৬। তিনি ২৩ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন।
নয় বছর ধরে মোহন কুমার দুষ্কর্ম করে গেলেও পুলিশ তাঁকে ধরতে পারেনি। গত জুন মাসে অনিতা নামের এক তরুণীর অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে তাঁর কেলেঙ্কারির কথা। গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। বর্তমানে মোহনের দুই স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে।
কর্ণাটকের পশ্চিমাঞ্চল পুলিশের আইজি গোপাল হোসুর বলেন, মোহন কুমার সাধারণত গরিব ঘরের মেয়েদের বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন। প্রথমে তিনি তাঁদের নিয়ে তুলতেন কোনো হোটেল, বোর্ডিং কিংবা লজে। এরপর তাঁদের বিয়ের কথা বলে নিয়ে যেতেন কোনো মন্দিরে। তাঁদের সব অলংকার কৌশলে হাতিয়ে নিতেন মোহন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে জন্মনিরোধক ট্যাবলেট খাওয়ানোর কথা বলে তাঁদের খাইয়ে দিতেন বিষের বড়ি। এরপর তিনি হোটেলের শৌচাগারে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে পালিয়ে যেতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মোহন বলেছেন, ২০০০ সালে তিনি প্রথমে রত্না নামের এক তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তিনি রত্নাকে নেত্রবতী নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেন। এরপর তিনি একেক করে বিয়ের ফাঁদে ফেলে আরও ১৭ জন নারীকে হত্যা করেন।

তালেবানের দখল থেকে শক্ত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তুমুল লড়াইয়ের পর তালেবানের দখল থেকে আবারও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কোটকাই শহর পুনরুদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি একটি বিশাল সাফল্য। কারণ, এটি ছিল তালেবানের শক্তিশালী ঘাঁটি। এ ছাড়া তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ও কারি হুসাইনের নিজের শহরও এটি।
দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে সপ্তাহখানেক আগে ব্যাপক অভিযান শুরুর পর এই নিয়ে তিনবার পাকিস্তানের সেনাবহিনী ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে কোটকাই শহর পাল্টাপাল্টি দখল হলো। গত সোমবার সেনাবাহিনী শহরটি দখলের পরদিনই তালেবান জঙ্গিরা আবার তা দখল করে নেয়।
একজন কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী কোটকাই শহরে ঢোকে। তারা এখন সেখানে তল্লাশি চালিয়ে শহরটি তালেবানমুক্ত করছে। ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের পরই নিরাপত্তা বাহিনী শহরটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এখন তালেবানের আরেকটি শক্ত ঘাঁটি কানিগোরামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
পকিস্তানে গত এক মাসে তালেবান জঙ্গিরা কয়েক দফা আত্মঘাতী ও বোমা হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২০০ লোক নিহত হয়। পরে পাকিস্তান সরকার সর্বদলীয় বৈঠক করে গত সপ্তাহে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে।

আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনী প্রচার শুরু- ভোট বয়কটের ডাক তালেবানের

আফগানিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। এরই মধ্যে নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা।
প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। যদিও প্রাথমিক ভোট গণনার পর বলা হয়েছিল, হামিদ কারজাই ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু জাতিসংঘ প্যানেল বলেছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। কারজাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া না হলে আগামী ৭ নভেম্বরের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন তিনি। আবদুল্লাহ আবদুল্লাহের একজন মুখপাত্র বলেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (আইইসি) থেকে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে দুই প্রার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে হবে।
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত বলেছেন, প্রথম দফার নির্বাচনের চেয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কম অনিয়ম হবে, এটা আশা করার মতো যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিচার্ড হলব্রুক বলেন, ‘এটা আশা করা যুক্তিসংগত যে বেশ কয়েকটি কারণে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কম অনিয়ম হবে। প্রথমত, এবার প্রার্থী মাত্র দুজন। দ্বিতীয়ত, অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এবং তৃতীয়ত, নির্বাচন সফল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে যাচ্ছে।’
কিন্তু আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান কাই আইদে স্বীকার করেছেন, জালিয়াতি পুরোপুরি নির্মূল করা যাবে না। তবে জালিয়াতির মাত্রা কমবে।
দ্য ইলেকশন কমপ্লেইন্টস কমিশন বলেছে, প্রথম দফার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কয়েক হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করাসহ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাঁদের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে তারা। বার্তা সংস্থার কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন মদদপুষ্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেউ যাতে অংশ না নেন, সে জন্য সবাইকে আরও একবার অবহিত করছে দ্য ইসলামিক এমিরেট (আফগানিস্তান)। এই প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার জন্য মুজাহিদরা পুরোপুরি প্রস্তুত। কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিয়ে হামলার শিকার হন, সে জন্য তাঁরা নিজেরাই দায়ী থাকবেন।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সরকারে যোগ দেওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমি কারজাইয়ের সরকার ছেড়ে গিয়েছিলাম। তারপর থেকে ওই সরকারে যোগ দিতে প্রলুব্ধ হইনি কখনো।’

মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপারে জাপানের ক্ষমতাসীন জোটে মতভিন্নতা

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ওকিনাওয়ার অভ্যন্তরে বিতর্কিত মার্কিন ঘাঁটি রাখা-সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জাপানের ক্ষমতাসীন মধ্য-বাম সরকারের একটি শরিক দল।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতসুইয়া ওকাদা শুক্রবার বলেন, ওকিনাওয়া থেকে ফুতেনমা বিমানঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া হবে না। তবে ওই দ্বীপের অন্যান্য মার্কিন সামরিক স্থাপনার সঙ্গে একে একীভূত করা হতে পারে।
কিন্তু ক্ষমতাসীন জোটের শরিক সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান মিজুহো ফুকুশিমা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিমানঘাঁটিটি অবশ্যই দ্বীপ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওকিনাওয়া দখল করে যুক্তরাষ্ট্র। এখনো সেখানে সামরিক ঘাঁটিতে তাদের হাজার হাজার সেনা অবস্থান করছে।

বেলুন নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করলেন মার্কিন মা

বিশালাকৃতির হিলিয়াম বেলুনে চড়ে এক বালকের নিখোঁজ হওয়ার খবর নিয়ে ১৫ অক্টোবর দেশবাসীকে টানটান উত্তেজনার মধ্যে রেখেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম। কিন্তু পরে জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল সাজানো। আসলে ওই বালক বেলুনে ছিল না, লুকিয়ে ছিল বাড়িতে।
এখন ওই বালকের মা মেউমি হিনে নিজেই স্বীকার করেছেন যে ঘটনাটি ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আদালতের নথি থেকে এ কথা জানা গেছে।
মেউমি হিনে কর্মকর্তাদের বলেছেন, তাঁদের ছয় বছর বয়সী সন্তানের বাড়িতে লুকিয়ে থাকা সম্পর্কে তিনি ও তাঁর স্বামী সবকিছুই জানতেন।
সংবাদমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার জন্য তাঁরা এ পরিকল্পনা করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন হিনে। দুই সপ্তাহ আগে ওই বেলুন নাটকের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।

হন্ডুরাসে সমঝোতা আলোচনা ফের ব্যর্থ

হন্ডুরাসে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনা আবারও ব্যর্থ হয়েছে। জেলায়ার মুখপাত্র মিরা মেজিয়া এ কথা বলেছেন।
মেজিয়া বলেন, জেলায়াকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এদিকে প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তির শর্তসাপেক্ষ পদত্যাগ করার প্রস্তাব শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলায়া। এর মধ্য দিয়ে সমঝোতা আলোচনার অবসান ঘটেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
মেজিয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার নানা টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণের ফন্দি এঁটেছে। সরকার ওই আলোচনা আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে চায়। ওই দিন দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
২৮ জুন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। ওই দিনই মিশেলেত্তির নেতৃত্বে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তখন থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট চলছে। গত মাসে গোপনে দেশে ফিরে রাজধানী তেগুচিগালপার ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া।
মিশেলেত্তির মুখপাত্র ভিলমা মোরালেস বলেন, সরকার খোলা মনে আলোচনা করতে রাজি।’

ফিলিস্তিনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন আব্বাস

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী ২৪ জানুয়ারি ফিলিস্তিনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। গত শুক্রবার এ ব্যাপারে একটি সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আব্বাসের কার্যালয়। তবে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী বিরোধী পক্ষ হামাস। আব্বাসের এই ঘোষণাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।
আব্বাসের জারি করা ওই আদেশে জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের আগামী ২৪ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আদেশে ফিলিস্তিনের নির্বাচন কমিটিকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আব্বাসের মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, একটি মতৈক্যের চুক্তিতে আসার ব্যাপারে হামাসের ওপর চাপ তৈরি করার জন্যই এই ঘোষণা দিলেন আব্বাস। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহকে পরাজিত করে হামাস। রামাল্লায় আব্বাসের সহযোগী ও তাঁর ফাতাহ দলের প্রভাবাশালী এক নেতা বলেছেন, মিশরের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও গত এক বছরে হামাস ও ফাতাহ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় এই নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন আব্বাস। মিশরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত মতৈক্যের চুক্তিতে ফাতাহ পূর্ণ সম্মতি জানালেও এতে সই করার ব্যাপারে সময় চেয়েছে হামাস।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহাম বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আব্বাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার অধিকার তাঁর নেই।
আব্বাসের কোনো সুস্পষ্ট উত্তরসূরি ঠিক না হওয়ায় তিনিই নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রেসিডেন্ট পদে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে বাস করে ২৫ লাখ। গাজার পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন হলে ফিলিস্তিনির দুই অংশে কার্যত দুই বৈরী শক্তি ক্ষমতাচর্চা শুরু করবে।
শান্তির জন্য নেতানিয়াহুর শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের জন্য ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে ফিলিস্তিনকে। ইসরায়েল যেকোনো ইহুদি ধর্ম্বাবলম্বীর মাতৃভূমি।

যুক্তরাষ্ট্রে এক বিমানের রহস্যময় অবতরণনিয়ে এখন যা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নির্দিষ্ট নিয়মে অবতরণ না করায় বিমান ছিনতাই চেষ্টার সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ঘটনাটির তদন্তে মার্কিন বিমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই মাঠে নেমেছে। তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছিল অথবা বৈমানিকেরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
মার্কিন পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড বলেছে, গত বুধবার বিমানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে যাচ্ছিল। বিকেলের দিকে বিমানটির সঙ্গে হঠাত্ বেতার-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ৭৮ মিনিট ধরে এ অবস্থা চলে। পরেও বিমানটি নিয়মমাফিক অবতরণ করেনি। ফলে কর্তৃপক্ষ মহলে বিমানটির দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার অথবা ছিনতাই হওয়ার মতো সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
মিনিয়াপোলিসের এফবিআইয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন। কিন্তু তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। বিমানটির ক্রুরা দাবি করেছেন, তাঁরা আকাশে থাকাকালে বিমান পরিচালনানীতি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ কারণেই বিমানবন্দরের সঙ্গে বেতার-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি তাঁদের খেয়ালে ছিল না।
কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের স্বার্থে বিমানটির ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন বিমান পরিচালনা প্রশাসনের মুখপাত্র টনি মোলিনারি বলেন, ‘এভাবে একটি বেসরকারি বিমানের সঙ্গে বেতার-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিমানটি আমরা রাডারে দেখেছি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি আমরা।’
মিনিয়াপোলিসের স্টার ট্রিউবিন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের আগে বিমানটি ৩৭ হাজার ফুট উঁচুতে ছিল।’
বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী স াবেক মার্কিন কর্মকর্তা বিল ভস বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষউচ্চতায় থাকা অবস্থায় সাধারণত যেকোনো বিমান অবতরণের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। কিন্তু ওই বিমানটি সে উচ্চতার অনেক নিচে নামার পরও অবতরণের প্রস্তুতি নেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ক্রুরা তাঁদের পক্ষে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে অনেকে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ক্রুরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়াতেই এমনটা ঘটেছে। তবে নর্থ ওয়েস্ট এয়ারলাইনসের ত্রুদ্ধ রিচার্ড কোল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁদের কেউই তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েননি।
তবে আকাশে থাকাকালে এত কাণ্ড যে ঘটেছে, বিমানের কোনো যাত্রীই তা টের পাননি। অবতরণের পর পুলিশ বিমানটিতে উঠে তল্লাশি শুরু করলে যাত্রীরা বিষয়টি জানতে পারেন।

মুসলিম বিশ্বের জন্য প্রযুক্তিবিষয়ক তহবিল গঠন করছেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মুসলিম বিশ্বের জন্য প্রযুক্তিবিষয়ক একটি তহবিল গঠন করছেন। গত জুনে কায়রোতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে ওই তহবিল গঠন করার কথা বলেছিলেন ওবামা। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওবামার প্রস্তাব অনুযায়ী এ ব্যাপারে একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। প্রস্তাব করা হয়েছে ওই তহবিলটি হবে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ডলারের মধ্যে। এই তহবিল থেকে সহায়তা নেওয়ার জন্য বিনিয়োগ প্রস্তাব আহ্বান করেছে মার্কিন সরকারি সংস্থা ওভারসিজ প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (ওপিআইসি)।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্লোবাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড নামের ওই তহবিল এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি সহজ করার ব্যাপারে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোকে এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, গণমাধ্যম, সেবা খাত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প এই তহবিল থেকে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবে।
ওপিআইসির প্রস্তাবে আগামী মাসের মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা করে তা ওয়াশিংটনে উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হবে।

শিগগিরই সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক -উত্তর কোরিয়ার দূত এখন যুক্তরাষ্ট্রে

উত্তর কোরিয়ার জ্যেষ্ঠ দূত রি গান এক ‘বিরল সফরে’ এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ কূটনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি বৈঠক হবে। বিশ্লেষকেরা তাঁর এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাঁদের অনেকেই আশা করছেন, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত পরমাণু সংকটের বিষয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা দূর হবে। পিয়ংইয়ং আবারও ফিরে যাবে ছয় জাতি আলোচনার টেবিলে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ান কেলি গত শুক্রবার জানান, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সমস্যাসংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রি গান যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। তবে তাঁর সঙ্গে কে বৈঠক করবেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, তবে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়ার সময় এখনো আসেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ুনহ্যাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রি গান শুক্রবার নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। তিনি বেশ কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। কাল সোমবার তিনি পরমাণু আলোচনার স্থবিরাবস্থা নিরসনে সানদিয়াগোতে এক অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেবেন।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, রি গানের এই সফর আভাস দিচ্ছে, উত্তর কোরিয়া ছয় জাতির আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে রাজি আছে। তবে উত্তর কোরিয়াকে ছয় জাতির আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
উত্তর কোরিয়া ছয় জাতির আলোচনায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে এত দিন আপত্তি করে আসছিল। দেশটি ৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো নমনীয় ভাব দেখায়। ওই দিন দেশটির নেতা কিম জং-ইল বলেন, ‘ছয় জাতির আলোচনায় আবারও বসতে আমরা প্রস্তুত। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে চায় পিয়ংইয়ং।

আমেরিকায় লালবাতি জ্বলা ব্যাংকের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর লালবাতি জ্বলা ব্যাংকের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার মোট ছয়টি আঞ্চলিক ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর পতিত ব্যাংকের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল।
শুক্রবার প্রথমে ফ্লোরিডার পার্টনার্স ব্যাংক অব নেপলসের পতন ঘটার খবর আসে। এটি এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ হওয়া শততম ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন সাড়ে ছয় কোটি ডলার।
এরপর আরও ছয়টি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এগুলো হলো ফ্লোরিডার ফ্ল্যাগশিপ ন্যাশনাল ব্যাংক, জর্জিয়ার আমেরিকান ইউনাইটেড ব্যাংক, মিনেসোটার রিভারভিউ কমিউনিটি ব্যাংক, উইসকনসিনের ব্যাংক অব এলমুড ও ইলিনয়েসের ডুপেগ ব্যাংক।
১৯৯২ সালের পর এই প্রথম কোনো এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলো ব্যাংকে লালবাতি জ্বলল।

কৃষিসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বাড়ানোর আহ্বান

‘বিশ্বমন্দার প্রভাব এবং বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গবেষণা ও কার্যকরী ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দারিদ্র্য নিরসনে অধিকতর দরিদ্রবান্ধব ব্যাংকব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বক্তারা বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষি সরঞ্জাম, উন্নত বীজ ও সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাধনা সংসদ এ সেমিনারের আয়োজন করে। হাজি হায়দার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার। এতে বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ এস এম শেকিল চৌধুরী, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আমিনুর রহমান ও রওনক জাহান ভূঁইয়া। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধনা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।

বিশ্বমন্দা কাটার সংবাদে তেজি হয়ে উঠছে পণ্যবাজার



মেঘের কোণে রুপালি সূর্যের হঠাত্ ঝিলিকের মতোই মন্দা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনাগুলো উঁকি দিচ্ছে। জার্মানি থেকে জাপানে ভোক্তার দৃঢ়তর আস্থা, অভ্যন্তরীণ বা রপ্তানিমুখী শিল্পে উত্পাদন বৃদ্ধির মতো সূচকগুলো জানান দিচ্ছে সুদিন ফিরছে আবার। তবে বিশ্ব অর্থনীতির সেই সুদিন আসার আগেই পুরোনো এক শঙ্কা—মন্দা-পরবর্তী তেজি বাজার কি মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে? বিশ্বজুড়ে পণ্যের বাজারে (কমোডিটি মার্কেট) বেশ কিছু পণ্যমূল্যে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি, পূর্বাভাস আর ভবিষ্যদ্বাণী বিবেচনায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশটির অগ্রিম সতর্কতা আর কৌশল গ্রহণ জরুরি।
চিনি নিয়ে স্বস্তির খবর নেই: ব্যাপক উত্পাদন ঘাটতির শঙ্কা নিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশে আখ মাড়াই শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ নভেম্বর। এবারের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ পাঁচ হাজার টন। এটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশে খরা দেখা দেয়নি, তবে আগের রোপণ মৌসুমটিতে ধানের দাম বেশি থাকা আর সার সংকটের কারণে আখ উত্পাদন নিশ্চিতভাবেই কম হচ্ছে এবার। সরকারি চিনিকলগুলো এবার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পুরোপরি সফল হলেও সেই চিনি দিয়ে দেশের মাত্র এক মাসের চাহিদা মিটবে।
১৮ অক্টোবর ভারত সরকার শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির সুবিধা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। মাড়াই মৌসুমের শুরুতেই ভারত হিসাব করেছে, খরার কবলে পড়ায় এবার আখের যে জোগান আসবে, তাতে ভরসা করা যায় না। অথচ এক বছর আগে এই ভারতই ছিল ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক। এবার তারা আমদানি করেছে কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চিনি। ভারতই চলতি চিনি সংকটের সূতিকাগার, তবে এবারের চিনি সংকট থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিচিত্র প্রভাবও শেখার আছে। ভারত যখন খরায় কুপোকাত, তখন অতিবৃষ্টিতে আখের ক্ষতি হয়েছে ব্রাজিলে।
সুতরাং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত মজুুদ গড়তেই হবে বাংলাদেশকে। এর কোনো বিকল্প আপাতত নেই।
চাল নিয়েও সতর্কতা জরুরি: মধ্য অক্টোবরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কমোডিটি ইনভেস্টর জিম রজার্স ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে চালে আর তুলায় নিবদ্ধ হবে তাঁর দৃষ্টি। সামনের মাসগুলোতে এ দুটি পণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেছেন কমোডিটি ইনভেস্টমেন্ট গুরু রজার্স।
চালের জন্য বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর নয়। তবে উত্পাদনে সংকট হলে, আর সেই সময় আমদানিতেও সংকট দেখা দিলে, বাংলাদেশের চালের বাজারেও পাগলা ঘোড়া ছুটবে—এটি নিকট ইতিহাসেরই শিক্ষা। ২০০৭ সালের নভেম্বরে সিডরে আমনের ক্ষতি এবং তার পরপরই ভারতে চালের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধি করলে ২৪ টাকা কেজির মোটা চাল ৩৪ টাকায় ঠেকেছিল চার সপ্তাহের মধ্যে।
সেই সময় অভ্যন্তরীণ জোগান ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ভারত চালের রপ্তানিমূল্য বাড়িয়েছিল। ভারত থেকে মোটা চাল রপ্তানি বন্ধ আছে। সুতরাং এবার সংকটের আশঙ্কা আরও প্রকট। গত সপ্তাহের পূর্বাভাস ছিল, খরায় চালের উত্পাদন প্রায় দেড় কোটি টন কম হবে ভারতে।
ভারত চালের আমদানি শুরু করলে বিশ্ববাজার আবার তেতে উঠবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়বে। চোরাচালানির দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে চালে। এ ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি আছে কি?
মজুদ ও উত্পাদন নিয়ে আত্মতুষ্টি: ধানের দাম ব্যাপকভাব কমে যাওয়ায় আউশ উত্পাদন কম হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে আমন রোপণ বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে আবার হঠাত্ বন্যায় আমনের ক্ষতি হয়েছে বগুড়া আর কুড়িগ্রামের কোনো কোনো অঞ্চলে। গত সপ্তায় ইউএসডিএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা থেকে লাখ দশেক টন আমন কম হবে এবার বাংলাদেশ। দুনিয়াজুড়ে কৃষি উত্পাদনের পূর্বাভাসের জন্য ইউএসডিএর ওপর আস্থাই সবচেয়ে বেশি।
কোনো মহাসড়কের পাশে সবুজ ধানক্ষেত দেখে কিংবা কোনো বিলে আগাম জাতের ধান কাটা দেখেই বাম্পার উত্পাদনের ধারণা নেওয়ার চর্চা আছে বাংলাদেশে। চালের মতো স্পর্শকাতর খাদ্যশস্যের জন্য এমনটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু আমন নয় আগামী বোরো রোপণ ও ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত চাল নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে অন্তত প্রতিবেশী ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনায়।
তুলা কেন জরুরি: চীন ও তুরস্কের পর পরিমাণগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশের পরিচিতি কটন-বেজড বা প্রাকৃতিক তুলা থেকে উত্পাদিত সুতা দিয়ে তৈরি কাপড়ে। কটন টি-শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর আর জিন্স ও ডেনিম পোশাকে চীনের পরই দুই নম্বরে আমাদের অবস্থান।
তবে দেশে উত্পাদন থেকে এক হাজার টন তুলাও পায় না সুতাকলগুলো। তারা ২০০৮ সালে প্রায় ছয় লাখ টন তুলা আমদানি করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক।
তুলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে মন্দা-পরবর্তী বিশ্ব্ববাজারে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। কারণ, এসব তুলা উত্পাদনকারী দেশের রপ্তানিকারকেরা স্থানীয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন।
শুক্রবার নিউইয়র্ক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ডিসেম্বর ডেলিভারির প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৭২ সেন্ট। দুই মাস আগে ছিল ৬০ সেন্টেরও কম। মার্কেট বিশ্লেষকদের মতে, মন্দা-পরবর্তী ব্যাপক চাহিদা মেটানোর জন্য আমদানি মজুদ গড়ছে চীনের সুতাকলগুলো। ডলারের শক্তি হারানোও উসকে দিচ্ছে তুলার বাজার। ফরোয়ার্ড মার্কেট থেকে তুলা সংগ্রহের মতো ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কি না, সেটি ভাবতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের।
জ্বালানি তেল: শুক্রবার নিউইয়র্ক বেঞ্চমার্ক ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার। এটি গত অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। দুই মাসে শতকরা প্রায় ১৫ ভাগের বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে জ্বালানি তেলের। প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েল ১৪৭ ডলারে ঠেকেছিল গত ডিসেম্বরে। মন্দা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনায় আবার টগবগ করছে তেলের বাজার?
চিনি, চাল, চা, চকোলেট, পেঁয়াজ, রসুন এমনকি গরম মসলার বিশ্ববাজারও তেজি হচ্ছে। তাই সতর্ক দৃষ্টি রাখতেই হবে ব্যাপক আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকে।

মন্দার মধ্যেই রয়ে গেছে যুক্তরাজ্য

মন্দা থেকে উত্তরণের কোনো লক্ষণ মিলছে না যুক্তরাজ্যে। গত শুক্রবার দেশটির মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) সর্বশেষ প্রান্তিকের যে হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, তা অর্থনীতির মন্দাক্রান্ত অবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি দশমিক ৪০ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে। ১৯৫৫ সালে প্রান্তিক প্রবৃদ্ধির হার হিসাব শুরু করার পর এ নিয়ে প্রথমবারের মতো টানা ছয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে অর্থনীতি সংকুচিত হলো। সংকুচিত হওয়া মানে প্রবৃদ্ধির হার নেতিবাচক হয়ে পড়া।
অবশ্য এই হিসাবটিকে প্রাথমিক প্রাক্কলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাই সংশোধিত হিসাবে এই হার পরিবর্তিত হতে পারে, এমনকি ইতিবাচক হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দরপতন ঘটেছে। ডলারের বিপরীতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম প্রতি পাউন্ড হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ ডলার। আর ইউরোর বিপরীতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে হয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৮ ইউরো।
প্রবৃদ্ধির এই নেতিবাচক চিত্র অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো যুক্তরাজ্যও এবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে।
তবে সরকারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে মূলত সেবা খাতের নিম্নমুখী প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।
বার্ষিক হিসাবে অবশ্য যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হারে হ্রাস পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে এসে হ্রাস পেয়েছিল সাড়ে পাঁচ শতাংশ।
আগের প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জিডিপি সংকোচনের হার ছিল দশমিক ৬০ শতাংশ। তার আগের প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এ হার ছিল আড়াই শতাংশ, যা গত ছয় প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২০০৮ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। এরপর থেকে জিডিপিতে সংকোচন শুরু হয়। প্রবৃদ্ধি হয়ে পড়ে নেতিবাচক।
২০০৮ সালের এপ্রিল-জুন সময়কালে দশমিক ১০ শতাংশ হারে সংকোচন ঘটলে পরের প্রান্তিকে তা আরও কমে হয় দশমিক ৭০ শতাংশ। আর অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আরও কমে হয় ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

পাকশী কাগজ কল আবার চালু করার উদ্যোগ by মাহাবুবুল হক, ঈশ্বরদী (পাবনা)

ঈশ্বরদীতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্পকারখানা পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া পাবনায় এসে পাকশী পেপার মিল পরিদর্শনের পর মিলটি আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক মিলের কারখানা পরিদর্শন শেষে এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন। সেখানেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় চাকরি হারানো শ্রমিক-কর্মচারী, তাঁদের পরিবার ও এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পেপার মিল চালুর দাবি জানায়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা দিয়েছিলেন, সে কথা রাখা হবে। এ জন্যই পাকশী পেপার মিল চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গেলে পাকশী পেপার মিল চালু করবেন বলে পাবনায় টেলিকনফারেন্সে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাকশী পেপার মিল পরিদর্শনকালে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ পেপার মিল চালুর দাবিতে স্লোগান দেয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাকশী পেপার মিল চালুর বিষয়ে নাড়াচাড়া শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে বিসিআইসি থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পাকশী মিলের বিভিন্ন অবস্থা পর্যালোচনা করে।
মিলের সূত্র জানিয়েছে, পাকশী পেপার মিল গ্যাস ভিত্তিতে চালাতে গেলে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। উল্লেখ্য, মিল বন্ধের ছয় মাস আগে পাকশী পেপার মিলে গ্যাস সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল।
বিগত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালের ১২ নভেম্বর পাকশী পেপার মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। চাকরি হারান মিলের এক হাজার ২০০ শ্রমিক-কর্মচারী। এরপর সরকার মিলটি যৌথ মালিকানায় চালানো এবং বিক্রির জন্য ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম টেন্ডার আহ্বান করে। কিন্তু সেখানে একটি মাত্র দরপত্র জমা পড়ায় ১৫ জুন টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। এভাবে বেশ কয়েকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পরে তা বাতিল হয়ে যায়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন বন্ধ শিল্প কলকারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহাঙ্গীর হোসেন পেপার মিল চালু করার উদ্যোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, পেপার মিলের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। দখল হয়ে গেছে আবাসিক এলাকার বিভিন্ন অংশ। মিলের কর্মকর্তারা থাকছেন রেস্টহাউসে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিলের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেপার মিল পরিদর্শনের খবর শুনে এলাকাবাসী, চাকরি হারানো শ্রমিক-কর্মচারী এবং পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ যৌথভাবে শিল্পমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনার আয়োজন করে।
মিল পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে পাকশী পেপার মিলের আবাসিক কলোনির মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাকশী পেপার মিল সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মিল চালুর জন্য জোর দাবি জানানো হয়। পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা সদরের সাংসদ গোলাম ফারুক, নাটোর-১ আসনের সাংসদ আবু তালহা, চাকরি হারানো শ্রমিক মো. রশিদুল্লাহ প্রমুখ।
তবে কাগজ তৈরির জন্য পাকশী পেপার মিলটিই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মণ্ড তৈরির পাল্প কারখানা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই সেটি আর চালু করার কোনো সুযোগ নেই।

এবার ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্রোকারেজ বিভাগ পৃথক করা হবে by হাসান ইমাম

ব্যাংক, বীমা ও অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্রোকারেজ বিভাগকে পৃথক সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এসইসির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ছাড়া ব্যাংকগুলো মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না। আর মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য বর্তমানে যেসব ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে, তাদের ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই বিভাগকে পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাঁদের কেউ কেউ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের এমন একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমানোর জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে সাবসিডিয়ারি করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু শতভাগ সাবসিডিয়ারি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক যখন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, তখন তা মূল প্রতিষ্ঠানকেও প্রভাবিত করার কথা।
ওই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর ব্রোকারেজ বিভাগকে আলাদা না করে কেবল মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে পৃথক করা হবে বৈষম্যমূলক। কারণ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারে ১:১.৫ হারে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো দিতে পারে ১:২ অনুপাতে। তাই ব্রোকারেজ বিভাগকে আলাদা না করে মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে আলাদা করা হলে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে।
জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্রোকারেজ বিভাগকে আলাদা করার ক্ষেত্রে এসইসি এসব বিষয়কেও আমলে এনেছে।
যোগাযোগ করা হলে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, এসইসি এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। কারণ আর্থিক খাতের কার্যক্রম ও ব্রোকারেজ কার্যক্রমের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এ দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাও আলাদা হওয়া উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও সুবিধা হবে।
বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সক্রিয় ব্রোকারেজ হাউসের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২০০। এর মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের সংখ্যা ৩২টির মতো। এই ৩২টির মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে ১৬টি। বাকি প্রায় ১৬টি অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির মালিকানাধীন।
যেসব ব্যাংকের ব্রোকারেজ বিভাগ আছে, সেগুলো হলো ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।
এর মধ্যে এবি ব্যাংক ব্রোকারেজ বিভাগকে সাবসিডিয়ারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্রোকারেজ লাইসেন্স এখনো প্রক্রিয়াধীন।
তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফিনিক্স সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইক্যুইটি পার্টনারস সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, গ্রিন ডেল্টা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি, লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজ, এসইএস কোম্পানি ও বিএলআই সিকিউরিটিজ ইতিমধ্যে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
এর বাইরে যাদের ব্রোকারেজ বিভাগ আছে, সেগুলো হলো বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা, সাধারণ বীমা করপোরেশন, আইআইডিএফসি ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এর মধ্যে অবশ্য পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরলেন পাহেইরা

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচরা দেশের কাউকেই জাতীয় দলের কোচ দেখতে চাইছিলেন। কিন্তু এ আশা পূরণ হলো না। আবার কার্লোস আলবার্তো পাহেইরাকে ফিরিয়ে এনে তাঁকেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের দায়িত্ব দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের পাহেইরা প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হয়ে আসেন ২০০৭ সালে। গত বছরের এপ্রিলে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে ফিরে যান রিও ডি জেনিরোতে। তাঁর সুপারিশেই দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ফেডারেশন ব্রাজিলিয়ান জোয়েল সান্তানাকে কোচ করেছিল। কিন্তু সান্তানা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ফিরিয়ে আনা হল পাহেইরাকে।

সাঁতারের স্কোর বোর্ডের টাকা অন্য খাতে খরচ!

পুরোনো ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডেই এসএ গেমস সাঁতারের টাইমিং ধরা হবে! নতুন বোর্ড আনার উদ্যোগ থামিয়ে পুরোনো স্কোর বোর্ড মেরামত করে ব্যবহার করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সাঁতার ফেডারেশনের চাহিদা ছিল ওমেগা কোম্পানির আধুনিক স্কোর বোর্ড। যেটির দাম ৩ কোটি টাকার ওপরে। তবে ক্রীড়া পরিষদ দরপত্র দেওয়ার পর ঠিকাদার জানায়, তারা এএলজি কোম্পানির বোর্ড আনবে। এটার দাম ৬২ লাখ টাকা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আবদুর রহমানের দাবি, ‘তিন কোটি টাকা দিয়ে ওমেগা বোর্ড আনা সম্ভব নয়। অত টাকা সরকারের নেই। আমরা এএলজি আনার কথা বলার পর ফিনার অনুমোদন পাওয়া যাবে না দাবি করে ফেডারেশন আপত্তি জানায়। একটা সময় এই খাতের বরাদ্দ করা টাকার কিছু অংশ খরচ হয়ে যায় অন্য খাতে। এখন ফেডারেশন বলছে, এএলজি আনলেও নাকি চলবে। কিন্তু এখন তো আর সম্ভব নয়।’
কেন সম্ভব নয়? এই প্রশ্নে তাঁর কথা, ‘সময় কই!’ রহমানের দাবি, ‘আমরা ফেডারেশনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম পুরোনো বোর্ডটা ঠিক করে দিলে চলবে তো? ফেডারেশন বলেছে, ঠিক আছে ওতেই চলবে। এখন এনএসসির দোষ দিয়ে তো লাভ নেই।’ ১৬ বছরের পুরোনো বোর্ডটা মেরামত করলেও অতীতে বহুবার এটি বিকল হয়ে পড়েছে এক-দু দিন পরই। এসএ গেমসের সময়ও সেটা হলে লজ্জার দায়ভার কে নেবে? রহমান এটাকে কোনো সমস্যাই মনে করেন না, ‘সমস্যা হবে না। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসা হচ্ছে।’ রহমানের কথায় যা বোঝা যাচ্ছে, তাঁর হাতে আলাদিনের চেরাগ আছে! কোনো সমস্যাই সমস্যা নয়!
সাঁতার ফেডারেশনের এমন অবস্থা যে কথা বলারই লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানালেন, ‘রহমান সাহেব আমাদের বলেছেন, বোর্ড আনার টাকাটা অন্য খাতে চলে গেছে। কাজেই এখন আর বোর্ড আনা সম্ভব নয়। এভাবে একটা গেমস হতে পারে না। পুরোনো স্কোর বোর্ড দিয়ে কী আর এই যুগে কাজ চলে! আমরা খুবই হতাশ।’

ওয়ানডের পরীক্ষা, ধোনিদের চ্যালেঞ্জ

ইদানীং প্রায়ই শোনা যাচ্ছে কথাটা—অস্তিত্ব রক্ষার পরীক্ষা চলছে ওয়ানডে ক্রিকেটের। টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা যে গতিতে বাড়ছে, সেই গতিতেই নাকি কমছে ওয়ানডের জনপ্রিয়তা। গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটাকে ধরা হয়েছিল ৫০ ওভারের ক্রিকেটের ‘এসিড টেস্ট’। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ‘এ প্লাস’ পাওয়া হয়নি। এবার তাই সবাই তাকিয়ে আছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দিকে। আজ ভদোদরায় আরেকটা পরীক্ষা দিতে নামছে রিকি পন্টিং আর মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
ধোনিদের পরীক্ষাটা দিতে হবে আরও এক জায়গায়। পুরোনো অনেক ব্যর্থতা তারা মুছে দিয়েছে ঠিকই, ওয়ানডের সেরা দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, দুই দিন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও উঠেছিল; কিন্তু একটি ক্ষেত্রে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিজেদের ঘরে ওয়ানডে সিরিজ ভারত জিততে পারে না অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে জেতা তাদের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজটা সেই ১৯৮৬ সালের!
অন্যদিকে ভারতের মাটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য পয়মন্ত। এখানে সর্বশেষ টানা পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুজাতিক ওয়ানডে সিরিজ বা টুর্নামেন্ট জিতেছে তারা। এর মধ্যে আছে ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো জেতা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপাটিও। ২০০৭ সালে সর্বশেষ সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৪-২ ব্যবধানে।
গত মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে আসা অস্ট্রেলিয়া এবারও আত্মবিশ্বাসী—ভারতমাতা তাদের নিরাশ করবে না। কোচ টিম নিলসেনের কেবল একটাই ভয়, গত অ্যাশেজ থেকেই ঠাসা সূচির মধ্যে থাকা খেলোয়াড়েরা না ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবার। অ্যাশেজের ৫ টেস্টের পর সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দিন কয়েকের বিশ্রাম নিতে না নিতেই ছুটতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে।
এর পরও বিশ্রাম নেই। অস্ট্রেলিয়ার এই দলের ছয় ক্রিকেটার দুই সপ্তাহ আগেই ভারতে এসেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি খেলতে। এঁদের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের তিনজন—ব্রেট লি, ডগ বলিংগার আর নাথান হরিজ পরশু রাত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন ফাইনালে। হায়দরাবাদে শিরোপা জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করতে না করতেই তাঁদের ছুটতে হয়েছে ১১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভদোদরার আজকের ম্যাচটিও আবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায়।
একটানা এত খেলে যাওয়ার ক্লান্তি কিন্তু অস্ট্রেলীয় পেশাদারির খোলসে চাপা পড়ে আছে। মাঠে ব্রেট লিদের খেলা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। লি তো নিজে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যান অব দ্য ফাইনাল আর সিরিজ দুটোই হলেন। ব্যাট হাতেও ঝলসে উঠেছিলেন দলের দুঃসময়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নিজেকে ফিরে পাওয়া লির দিকে তাকিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ে ভারতে বরাবরই সফল মাইকেল ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে পন্টিং আর মাইক হাসিকে।
ভারত আজ এমন একটা দলের মুখোমুখি হচ্ছে, সর্বশেষ ১৭টি ওয়ানডের ১৪টি যারা জিতেছে। দলের একগাদা তারকা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ভালোমতো সামাল দিয়ে এখন তারা সেই আগের অপরাজেয় চেহারায়। তার পরও পন্টিংয়ের কণ্ঠে সতর্কতা, ‘আমরা ভালো করেই জানি, নিজেদের কন্ডিশনে ভারত অনেক ভালো খেলবে।’
ভারতের জন্য সুখবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরছেন বীরেন্দর শেবাগ। এই সিরিজেই ফেরার কথা যুবরাজ সিংয়েরও। যদিও প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে পরশু অনুশীলনে হালকা চোট পাওয়া ধোনিকে নিয়েও। তবে দলে কোনো রিজার্ভ উইকেটকিপার রাখা হয়নি। গতকাল পর্যন্ত কোনো উইকেটকিপারকে ডাকাও হয়নি। তার মানে, ধোনির আজ না খেলার কোনো কারণ নেই।
তা ছাড়া হালকা চোট নিয়েও ধোনি নিশ্চয়ই খেলবেন। ভারত অধিনায়ক চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। ১৯৮৬ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জেতাটা তো বড় চ্যালেঞ্জই!

ওয়ানডেতে ‘মঙ্গুজ ব্যাটিংয়ের’ ভয়

মঙ্গুজ ব্যাটের নাম শুনেছেন নিশ্চই। গ্রিপটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই লম্বা, সে তুলনায় ব্যাটের ব্লেড বেশ ছোট। বলা হচ্ছে বড় ব্লেডের ব্যাটের চেয়ে মঙ্গুজ ব্যাটের শক্তি ২০ শতাংশ বেশি, একজন ব্যাটসম্যান আগের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি জোরে চালাতে পারবেন এই ব্যাট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দাবির কথা চিন্তা করেই বিশেষভাবে তৈরি হচ্ছে মঙ্গুজ ব্যাট। এসবই পুরোনো খবর। নতুন খবর হলো, বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মঙ্গুজের সঙ্গে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য এর মধ্যেই মঙ্গুজ ব্যাট হাতে পেয়ে গেছেন আশরাফুল। অভ্যস্ত হতে এই ব্যাট দিয়ে প্র্যাকটিসও শুরু করে দিয়েছেন। ওয়ানডেতে মঙ্গুজ ব্যাটের ব্যবহার স্বীকৃত না হলেও রিবকের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী দুই বছর আশরাফুলের ব্যাটে দেখা যাবে মঙ্গুজের স্টিকার।
মঙ্গুজের সঙ্গে আশরাফুলের চুক্তিতে সবচেয়ে লোভনীয় শর্তটা হলো—এই ব্যাট দিয়ে ছয় বলে ছয় ছক্কা মারতে পারলে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার পাবেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। আশরাফুল নিজেই বুঝছেন, শর্তটা শর্ত হিসেবেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা, ‘ছয় বলে ছয় ছক্কা! ইংল্যান্ডের উইকেটে হয়তো সম্ভব...।’
কারও হাতে মঙ্গুজ ব্যাট থাকবে না, তবে ২৭ অক্টোবর থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কেউ যদি এখনকার ব্যাট দিয়েই ছয় বলে ছক্কা হাঁকাতে যান, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। জিম্বাবুয়ে সফর শেষে কালকের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যত ম্যাচ খেলেছেন, সবই টি-টোয়েন্টি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের অনুশীলনের প্রথম ভাগটা মূলত চারটা ২০ ওভারের ম্যাচ দিয়েই হয়েছিল। এরপর হলো টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। ওয়ানডেতে ফিরেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধুম ধাড়াক্কা ক্রিকেটের জ্বর তো একটু থাকতেই পারে।
জাতীয় দলের কোচ জেমি সিডন্সের মধ্যে এই শঙ্কাটা আছেই। একটি ওয়ানডে সিরিজের আগে এত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না খেলে ওয়ানডে ম্যাচই খেলা উচিত ছিল বলে মনে করেন এই অস্ট্রেলিয়ান। কাল প্রস্তুতি ম্যাচের সময় মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আসলেই... জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বেশি খেলা হয়ে গেছে। এই সময়ে প্রিমিয়ার লিগ হলেই ভালো হতো। তবে এসব তো আর আমার হাতে নেই। এই প্র্যাকটিস ম্যাচ দিয়েই এখন ক্রিকেটারদের ওয়ানডের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’
কিন্তু মানিয়ে নেওয়ার কাজ তো আর একবারে হয় না। হয়তো সে কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে ফিল্ডিং করানোর ‘গেম প্ল্যান’। কাল একাডেমি দলের বিপক্ষে কাউকেই একটানা ফিল্ডিং করালেন না জেমি সিডন্স। মাহমুদউল্লাহকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিচ্ছেন তো বিশ্রাম থেকে আবার মাঠে পাঠাচ্ছেন তামিম ইকবালকে। সাকিব আল হাসান উঠে আসছেন তো নামছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে টি-টোয়েন্টি লিগে সর্বোচ্চ ৩৩৯ রান করা তামিম ইকবাল মনে করছেন, টি-টোয়েন্টির অভ্যাস ওয়ানডেতে ফেরার কাজকে খুব কঠিন করবে না, ‘একটা প্রস্তুতি ম্যাচ তো খেলছি। তা ছাড়া প্র্যাকটিসেও অনেক লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করছে সবাই। আমার মনে হয় না সমস্যা হবে।’
তামিমের চাচা সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে জাতীয় দলের নির্বাচক আকরাম খানেরও একই কথা। টি-টোয়েন্টি লিগ তো শেষ, ওয়ানডেতে গিয়ে কেউ সেই ব্যাটিং কেন করবে! কাল প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে দেখতেই বললেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটটাই তো এখন এ রকম। একটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—সব ধরনের ক্রিকেটই থাকে। পেশাদার ক্রিকেটারদের এর সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে।’
আকরামের কথাটা সত্যি হলে ভালো। তাহলে ওয়ানডেতে আর ‘মঙ্গুজ ব্যাটিং’ কামড়ে ধরতে পারবে না বাংলাদেশকে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচ অ্যান্ডি মোলস পদত্যাগ করলেন

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচ অ্যান্ডি মোলস পদত্যাগ করেছেন। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, মোলসের পদত্যাগ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের চাপ ও অনাস্থার মুখে নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাওয়ার তিন দিন আগে মোলসের এই পদত্যাগে, আসন্ন সিরিজে আদৌ নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে কোনো কোচ থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমনকি আগামী নভেম্বরে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও কোনো কোচ মোলসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কি না তাও অনিশ্চিত।
অ্যান্ডি মোলসের বিরুদ্ধে কয়েক দিন আগে নিউজিল্যান্ড দলের খেলোয়াড়েরা অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন। খেলোয়াড়েরা মোলসের কোচিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, গত এক বছরে মোলস কৌশলগত দিক দিয়ে ও টেকনিক্যালি তাঁদের কোনো উপকারেই আসেননি।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন অবশ্য বলেছেন, খেলোয়াড়দের কোনো বিদ্রোহ বা দাবির মুখে মোলস পদত্যাগ করেননি। কিন্তু কোচের পদত্যাগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ড দলের মনোবলে কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

ভারতকে ৪ রানে হারিয়ে প্রথম ওয়ানডে জিতলো অস্ট্রেলিয়া। ভদোদরায় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচ জিতে সাত ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ১-০ তে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে করে ২৯২। জবাবে ভারতের ইনিংস থেমে যায় ৮ উইকেটে ২৮৮ তে।
আশীষ নেহেরা ওয়াটসনকে প্রথম ওভারে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে পাইন ও অধিনায়ক রিকি পন্টিং ৯৭ রান যোগ করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। পাইনকে ৫০ রানে ফেরান ইশান্ত শর্মা। এরপর পন্টিং ও হোয়াইট তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। পন্টিং সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন। মাইক হাসি ৫৪ বলে ৭৩ রান করলে ২৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া।
২৯৩ টার্গেটে শুরুটা ভাল হয়নি দুই ওপেনার শেবাগ ও টেন্ডুলকারের। ২৫ এ শেবাগ ও ৪৫ এ টেন্ডুলকারের বিদায়ে চাপে পড়ে ভারত। তৃতীয় উইকেটে গম্ভীর ও কোহলি ৫৮ রান করে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। ৬৮ রানে গম্ভীর আউট হলে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ গুটিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। এরপর খেলার আসল চমকটি যে তখনো বাকি তা হয়তো ভারতীয়রাও ভাবেনি। অষ্টম উইকেট জুটিতে হরভজন সিং ও প্রভিন কুমারের ৮৪ রান করে খেলায় উত্তেজনা ফিরে আনেন। হরভজন ৩১ বলে করেন ৪৯। হরভজন আউট হলে শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ৩ উইকেটে ৯ রান। কিন্তু শেষ ওভারে তারা করে ৪ রান। ভারত ম্যাচ হারে ৪ রানে।
ম্যাচ সেরা হন মাইক হাসি।