Wednesday, June 7, 2017

লিভ টুগেদারে আপত্তি নেই

বিভিন্ন সময় নানা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় পড়েছেন বলিউডের শীর্ষ আইটেম কন্যা রাখি সাওয়ান্ত। বলিউডের শীর্ষ তারকাদের নিয়ে পর্যন্ত বাজে মন্তব্য করে নিজেই বিতর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির ছবি সম্বলিত পোশাক পরেও ব্যাপক সমালোচনায় জড়িয়েছিলেন তিনি। তবে এরকম মন্তব্য করে সংবাদে পরিণত হতে যেন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাখি। আর তাইতো সম্প্রতি আবারো নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সংবাদের শিরোনামে পরিণত হয়েছেন তিনি। নিজের বিয়ে ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে একটি বলিউডভিত্তিক চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন রাখি। আর সেখানে লিভ টুগেদারে নিজের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাখি এমনটা বলেন। তিনি বলেন, বিয়ে আমার কাছে বন্ধন না, শিকল বলে মনে হয়। কারণ বিয়ের মধ্যে কোন স্বাধীনতা থাকে না। নিজেকে প্রকাশে নানা রকম বাধা চলে আসে। তাই আমি বিয়েতে বিশ্বাসী নই। আমি সারা জীবন স্বাধীন থাকতে চাই। দরকার হলে লিভ টুগেদারেও আমার আপত্তি নেই। কিন্তু বিয়ে আমি করবো না।

মিথ্যা রিপোর্টের ভিত্তিতে কাতারের বিরুদ্ধে একশন?

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন রাশিয়ান হ্যাকারদের মিথ্যা রিপোর্টের সূত্র ধরেই কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব ও অন্যান্য মিত্ররা। সিএনএনকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এটি প্রকাশিত হয়েছে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে। এতে বলা হয়েছে, সাইবার নিয়ম ভঙ্গ করে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় একটি ভুয়া রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। আর তা করে হ্যাকাররা। এ বিষয়টি মে মাসের শেষের দিকে যাচাই করতে কাতার সফরে যান এফবিআইয়ের বিশেষজ্ঞরা। এ সময়েই ভুয়া ওই রিপোর্টের সূত্র ধরেই কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করে সৌদি আরব। এতে যুক্ত হয় উপসাগরীয় আরো বেশ কয়েকটি দেশ। একে কেন্দ্র করে কয়েক দশকের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। কাতার সরকার বলছে, ২৩শে মে রিপোর্টে ভুল তথ্য জুড়ে দেয়া হয় যে কাতারের শাসকদের সঙ্গে ইরান ও ইসরাইলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ওই রিপোর্টে আরো প্রশ্ন তোলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কি তার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন? কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এ বিষয়ে মিডিয়ার কাছে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, (রাশিয়ার) ওই হ্যাক ও ভুয়া খবর যুক্ত করা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে এফবিআই। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা মনে করি এ সঙ্কটের পুরোটাই ভুল তথ্যের কারণে। তিনি বলেন, এ সঙ্কট শুরু হয়েছে বানোয়াট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। হ্যাক করে আমাদের জাতীয় বার্তা সংস্থায় এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়টি প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই। যদি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে এটা পরিষ্কার হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে খর্ব করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। কারণ, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ আছে। এ অভিযোগ ক্রেমলিন অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, সোমবার সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন। একই সঙ্গে তারা কাতারের সঙ্গে আকাশ, জল ও স্থল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ দেশগুলো অভিযোগ করছে, উপসাগরীয় ছোট্ট দেশ কাতার উগ্রপন্থি গ্রুপগুলোকে আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছে। আরো বলা হয় সৌদি আরবের ঘোর বিরোধী ইরানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে কাতার। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জোর দিয়ে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। তা সত্ত্বেও কাতারকে একঘরে করে রাখার উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনিও মনে করেন, কাতার সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করছে।

হাইরিস্কের তালিকায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ‘হাইরিস্ক’ কান্ট্রি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আকাশ পথে কার্গো পণ্য পরিবহনে শর্ত আরোপ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউভুক্ত দেশগুলোয় কার্গোতে পণ্য পাঠাতে বাড়তি তল্লাশির শর্ত দেয়া হয়েছে। গত সোমবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’র চেয়ারম্যান এহসানুল গনি চৌধুরীসহ এভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে ইইউ’র বিধি-নিষেধের বিষয়ে চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে কুয়েত, সোমালিয়া, মিশর ও ইয়েমেনকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইইউ। এ কারণে উড়োজাহাজে করে কার্গো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি বাড়ানোর অনুরোধ করেছে ইইউ। বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র যুক্ত করার তাগিদও দিয়েছে তারা। ইইউ এ-ও বলেছে, ঢাকায় ওই তল্লাশি সম্ভব না হলে ট্রানজিট পয়েন্টে অর্থাৎ দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল ইত্যাদি কোন স্থানে পণ্য স্ক্যান করতে হবে। ওই পণ্যে কোন বিস্ফোরক আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ইইউ’র বাজারে তা প্রবেশ করবে। বাংলাদেশকে ইইউ’র নীতিমালা মেনেই পণ্য পাঠাতে হবে বলেও সতর্ক করেছে ইইউ। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রায় এক বছর আগে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহন বন্ধ করে দেয় বৃটেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে বৃটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইনকে নিয়োগ দেয়াসহ নানামুুখি উদ্যোগ নেয়া বাংলাদেশ। কিন্তু তার পরও বৃটেনের সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। এ অবস্থায় ইইউ’র ওই নতুন বিধি-নিষেধ এলো। এ নিয়ে গতকাল নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, প্র্যাকটিক্যালি আমাদের উপর কোনো কার্গো ব্যান্ড (নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করা হয়নি। এটা হয়েছে যে, বাংলাদেশ অ্যাজ এ হোল কান্ট্রি হিসেবে ইইউ হাইরিস্ক কান্ট্রি হিসেবে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ হাই রিস্ক বা উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় ইইউ বাংলাদেশকেও রেখেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো চিঠিপত্র বা কোনো কমিউনিকেশন কখনই হয়নি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিউজটা এসেছে। মন্ত্রী বলেন, সেখানে সেকেন্ডলি স্ক্যানিংয়ের ব্যাপারে বিমানকে তারা চিঠি দিয়েছে। বলেছে, সেকেন্ড ইন্সপেকশন বা পরিদর্শন হতে হবে। অ্যাজপার ইইউ রেগুলেশন। অর্থাৎ এটাই ইইউ’র নীতি। মন্ত্রী বলেন, এটা কেবল এয়ার কার্গোর ক্ষেত্রে নয়, শিপিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইইউ প্রতিনিধিরা সিভিল এভিয়েশনকে জানায়, বাংলাদেশ ‘হাইরিস্ক’ দেশ। তাই নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাবে, সেসব পণ্য দ্বিতীয় দফায় স্ক্যানিং করতে হবে। অর্থাৎ আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে যেসব পণ্য যাবে, সেসব পণ্য স্ক্যানিং-এ (তল্লাশি) সেকেন্ডারি মেথড ফলো করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সিভিল এভিয়েশনকে দ্বিতীয় ধাপে স্ক্যানিং বলতে এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন মেথড ফলো করার কথা বলেছে। বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ইইউ বলেছে, হাইরিস্ক কান্ট্রি হওয়ার ফলে তিনটা অলটারনেটিভ ব্যবস্থা করবে স্ক্যানিংয়ের ব্যাপারে। একটা হলো এক্সপ্লোসিভ ডিটেকটিভ সিস্টেম (ইডিএস) দ্বারা সকল কার্গো ও মেইল শতভাগ তল্লাশি করা, শতভাগ এক্সপ্লোসিভ টেস্ট ডিটেককশন (ইটিডি) বা শতভাগ এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি)। সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্রসহ আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র বসানো প্রক্রিয়া চলছে। যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি, যানবাহন তল্লাশি, তরল বিস্ফোরক শনাক্ত করতে আলাদা আলাদা যন্ত্র বসানো হচ্ছে। বৃটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের পরামর্শে এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু যন্ত্রপাতি সংযোজনের কাজ চলছে। এছাড়া বেশকিছু যন্ত্রপাতি শাহ্জালালে সংযোজন হয়েছে, কিছু সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি যন্ত্রপাতি ঢাকায় এলে সংযোজন করা হবে। এর আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহ্জালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বৃটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন। ইইউ’র শর্ত পূরণ না করলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী মেনন বলেন, এই মাল যখন যাবে তখন থার্ড কান্ট্রিতে ইডিএস ইন্সপেকশন হবে। বিজেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ টন কার্গো বিভিন্ন দেশে যায়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও পচনশীল বিভিন্ন পণ্য। ইইউ’র সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আঘাত আসবে তৈরি পোশাক খাতে- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোমিও চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন by মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান

দেশে অ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিকসহ নানা ধরনের চিকিৎসার প্রচলন আছে। অ্যালোপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় রোগী দেখার পর চিকিৎসাপত্র বা প্রেসক্রিপশন দেয়ার ব্যবস্থা বিদ্যমান, কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে তা নেই। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সরকারি অনুমোদন থাকার পরও কেন রোগীকে চিকিৎসাপত্র দেয়া হচ্ছে না? সরকারি দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কিছু অসৎ ও অসাধু চিকিৎসক হোমিও ওষুধের নামে ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড ও সিসা-মিশ্রিত ওষুধ প্রয়োগ করছেন। দীর্ঘ দিন এর প্রয়োগের ফলে রোগীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মাদারটিংচারের নামে রঙিন তরল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যাতে স্টেরয়েড বা সিসা-মিশ্রিত ওষুধ প্রয়োগ সহজ হয়।
অন্যান্য চিকিৎসায় প্রেসক্রিপশনের ব্যবস্থা থাকলেও হোমিও চিকিৎসায় এটা কেন দেয়া হচ্ছে না তার জবাব দেবে কে? কিছু চিকিৎসক চিকিৎসার নামে অসাধু কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং তারা জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছেন। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। হোমিও চিকিৎসায় প্রেসক্রিপশনের ব্যবস্থা থাকলে রোগীরা তা নিয়ে ক্রয় করে ঝুঁকি এড়াতে পারতেন। হোমিও ডাক্তারেরা যে ওষুধ দেন তার বোতল, গ্লোব্লুস বা পুরিয়ার গায়ে ওষুধের নাম লেখা থাকে না, ফলে কোনটা আগে বা পরে অথবা কোনটা সকাল, দুপুর বা রাতে খাবেন তা রোগী বা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বুঝে ওঠা কঠিন। প্রেসক্রিপশন দিলে রোগীরা অল্প টাকায় মানসম্মত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারত, ওষুধ সেবনের নিয়মও তাতে লেখা থাকত এবং অনৈতিক কারবারের সমাপ্তি ঘটত।
রোগী দেখার ফি যে যা পারেন নিচ্ছেন। বিশেষ করে ক্রনিক রোগ বা দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার হলে সাধারণত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় ভালো হয় কম, অনেকে এমন ধারণায় হোমিও চিকিৎসার দ্বারস্থ হয়। এ সুযোগে অনৈতিক রমরমা ব্যবসা চলছে।
রোগীর অত্যধিক বয়স বিবেচনায় অপারেশন করা সম্ভব নয় বলেই হোমিও ডাক্তারের দ্বারস্থ হতে হয়। বাংলাদেশে একাধিক বিষয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ও বিদেশী ডিগ্রিধারী প্রবীণ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকেরা সাধারণত দেড় হাজার টাকার বেশি ভিজিট নেন না। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী ডাক্তারেরা পর্যন্ত দুই হাজার টাকার বেশি ভিজিট নিচ্ছেন। প্রতিবার তিন-চারটি আইটেমের ওষুধ দিচ্ছেন। অনেক ডাক্তার পরের ভিজিটে ফি নিচ্ছেন না, কিন্তু তিন-চার আইটেমের ওষুধ ধরিয়ে দিয়ে আট শ’ বা হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কোনো কোনো হোমিও ডাক্তার। হোমিও চিকিৎসায় দুই আইটেম ওষুধের বেশি সাধারণত প্রয়োগ করা হয় না, সেখানে বেশি আইটেমের ওষুধ কেন? যেখানে অ্যালোপ্যাথির বড় বড় ডাক্তারের প্রচারণা নেই, সেখানে হোমিওপ্যাথির মনকাড়া বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন কতটা?
অন্য দিকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে স্টেরয়েড প্রয়োগের অভিযোগ আছে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় কোনো কোনো ওষুধ কোম্পানি চিকিৎসককে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে চেম্বার করার সুযোগ দেয় এবং প্রত্যেক ডাক্তারের নামে ওষুধ বিক্রির রশিদ বইয়ের প্রচলন চালু আছে। দিনের শেষে কোন ডাক্তার কত টাকার ওষুধ বিক্রি করলেন, তার একটা হিসাব কষা হয়। এ জন্য ডাক্তারেরা বাণিজ্যিক মনোভাব প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ আছে। ওষুধ বিক্রয়ের ওপর ডাক্তারেরা কমিশন পাচ্ছেন। এ চিকিৎসায় বিজ্ঞাপনে রোগী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কাতারের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সৌদী শর্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ‘উগ্রবাদী’ দলগুলোকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে সোমবার কাতারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী ছয়টি দেশ। এখন সৌদি আরব কাতারকে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে কিছু শর্ত পূরণের কথা বলছে। এসব শর্তের মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসকে কাতারের সহযোগিতা বন্ধের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘আমরা দেখতে চাই কাতার উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী প্রচার মাধ্যমগুলোর সমর্থন এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের বিষয়ে কয়েক বছর আগে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করছে।’ ‘কেউ কাতারকে আঘাত করতে চায় না।
এ পদক্ষেপ এজন্য নিতে হয়েছে যে, হয় এদিক হবে না হয় ওদিক। আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে এই পদক্ষেপটি নিয়েছি যাতে এটি বোঝা যায় যে এই নীতিগুলি টেকসই নয় এবং পরিবর্তন করতে হবে’, বলছিলেন তিনি। জুবেইর আরও বলেন, কাতার হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থন করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মিসর সরকারকে পতনে সাহায্য করছে। ‘আমরা মনে করি না এ নীতিগুলো সঠিক। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য কাতারকে অবশ্যই এ নীতি থেকে সরে আসতে হবে।’ তিনি বলেন, কাতারের উচিত অবিলম্বে কাজ শুরু করা। তবে তিনি বলেন, সমুদ্র, ভূমি এবং আকাশ অবরোধসহ আরব রাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপ দেশটির জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে, বুধবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের গাজা শাসনকারী দল হামাস জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের এ ধরনের বক্তব্যে মর্মাহত। বিবৃতিতে বলা হয়, জুবেইরের এ ধরনের বক্তব্য ফিলিস্তিনী জনগণ, আরব ও ইসলামী জাতিগুলোর জন্য পীড়াদায়ক। সূত্র: আল-জাজিরা

৬৬ হাজার টাকা চিবিয়ে খেল ছাগল

কথায় বলে ছাগলে কি না খায়! তা কী কী খায় সে তালিকা কিন্তু অনেক লম্বা। কিন্তু তাই বলে ছাগল টাকা খায়, তা কেউ বলে না। কিন্তু ছাগল যে তাও খায় তারই প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। দু’হাজার রুপির প্রায় ৩৩ খানা নোট চিবিয়ে খেল এক ছাগল। ঘটনায় হতবাক ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজের সরবেশ কুমার পাল। তারই ৬৬,০০০ রুপির নতুন নোট খেয়ে ফেলল পোষ্য ছাগল। জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই সরবেশ কুমারের বাড়ি মেরামতির কাজ চলছিল। তাই ইট কেনার জন্য ২ হাজার রুপি নোটে ৬৬ হাজার টাকা আলাদা করে রেখেছিলেন তিনি। সেই নোটই চলে গেল তার পোষা ছাগলের পেটে। কোনোমতে দু’টি ২ হাজার টাকার নোট বাঁচাতে পেরেছেন সরবেশ। কিন্তু সেই নোট দু’টির হাল খুবই খারাপ।
সরবেশ জানান, ‘আমার প্যান্টের পকেটে টাকাগুলি রাখা ছিল। আমি গোসল করতে গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে নোটগুলি চিবোতে শুরু করে ছাগলটি। পরে মুখের লালায় ভেজা অবস্থায় দু’টি ২ হাজার টাকার নোট উদ্ধার করতে পেরেছি।’ ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরাই তো বটেই, আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ আসছেন ছাগলটিকে দেখতে। নানারকম পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। সরবেশ জানান, কেউ কেউ তো বলছেন ছাগলটিকে ওষুধ খাইয়ে বমি করানোর ব্যবস্থা করাতে। যাতে টাকাগুলো উদ্ধার করা যায়। অনেকে আবার ছাগলটিকে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিতে বলছেন। সরবেশের এক প্রতিবেশী ছাগলটিকে পুলিশে দেয়ার পরামর্শ পর্যন্ত দিয়েছেন। তবে আর্থিক ক্ষতি হলেও প্রিয় পোষ্যটিকে শাস্তি দিতে একেবারেই মন চাইছে না সরবেশের। তিনি ও তার স্ত্রী জানাচ্ছেন, ‘নিজেদের পোষ্যের প্রতি তো আর নিষ্ঠুর হওয়া যায় না। ও আমাদের কাছে সন্তানের মতো।‘

ঝালকাঠিতে নির্মাণাধীন লঞ্চে আগুন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় তিনতালা একটি নির্মাণাধীন লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যাকে পরিকল্পিত নাশকতা বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক শামীম আহসান চৌধুরী জানান, উপজেলার দপদপিয়া পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ওয়াটার বাস অ্যাডভেঞ্চার-৬ নামের লঞ্চটির ভারী লোহার অবকাঠামো ছাড়া সব পুড়ে গেছে। মালিক মো. নিজাম উদ্দিন মৃধা সাংবাদিকদের বলেন, দিনের বেলায় বরিশাল-ঢাকা রুটে চালানোর জন্য তিনি তার নিজস্ব নিজাম শিপিং লাইন্স নামের কারখানায় অ্যাডভেঞ্চার ৫ ও ৬ নামে দুটি লঞ্চ নির্মাণ করছিলেন। অ্যাডভেঞ্চার-৫-এর কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার-৬-এর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। ঈদের আগেই লঞ্চ দুটি চলাচল শুরু করার কথা ছিল। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস দেরিতে ঘটনাস্থলে আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা শামীম সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিস খবর পাওয়ামাত্র দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারপর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি : সিলেটে হিন্দু মহাজোট নেতা গ্রেফতার

ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্যকারী হিন্দু মহাজোটের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকেশ রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় তাকে লালাখাল নামক স্থান থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান। গত সপ্তাহ থেকে মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে রাকেশের কটূক্তিপূর্ণ একটি বক্তব্যের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জকিগঞ্জ।
রাকেশ রায়কে গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাকেশ রায়ের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ফুযায়েল আহমদ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় সোমবার মামলাটি দায়ের করেন। এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার বলেন, ‘রাকেশ রায় পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে যে আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে সেই আইডির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিলেটে ভাইয়ের হাতে বোন খুন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে কিশোরী বোনকে গলা কেটে খুন করেছে এক ভাই। নিহত তামান্না আক্তার (১৪) উপজেলার রস্তুমপুর ইউনিয়নের আলীছড়া গ্রামের আবদুল হাসিমের মেয়ে। আজ বুধবার সকাল ৮টায় হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামান্নার সাথে একই গ্রামের চান মিয়ার ছেলে জাফর মিয়ার (২০) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে তামান্না ও জাফরকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয় তামান্নার ভাই তাজুল ইসলাম (২০)। এনিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে তাজুল বাড়ির পাশে তামান্নাকে গলা কেটে হত্যা করে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় বাজারের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাচ্ছে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী সরদারের প্রচেষ্টায় প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জামালপুর বাজারের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। বুধবার সকালে জামালপুর বাজারে গিয়ে দেখাযায়, জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী সরদারের নেতৃত্বে ইউপি সদস্য রফিক শেখ, বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে সড়কের উপর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, ঘরের বাইরে থাকা মালামাল সরানোর জন্য সকল ব্যবসায়ীদেরকে উদ্বুদ্ধকরছেন। এতে বাজার পরিস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত হচ্ছে। ফলে জনসাধারন ও ব্যবসায়ীদের হয়রানী বন্ধ হবে। জামালপুর বাজারের ব্যবসায়ী স্বাধীন খান, গোলাম খান, রিপন, জাকির হোসেন জানান, জামালপুর বাজার দীর্ঘদিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ড্রেন গুলো ভরাট হয়ে যায়। বাজারের সড়ক দখল করে ছোট-ছোট দোকান করার কারণে যানজট ও জনসাধারনের চলাচলে মারাত্বক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীসহ জনসাধারনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছিল বাজারের ব্যবসায়ী ও জনসাধারন। গত শনিবার থেকে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী সরদার ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে বাজারের সকল সড়ক অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করাসহ লোকজন দিয়ে ড্রেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও মেরামত কাজ শুরু করেছেন। এতে বাজারের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক শেখ জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর বাজারে বাজারে ৫টি টিউবয়েল স্থাপন, ৩টি প্রসাবখানা নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেন মেরামত করা হচ্ছে। আরো বাকী সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করা হবে। জামালপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান বাবু জানান, জামালপুর বাজারে যে কাজ করা হচ্ছে তা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী সরদার জানান, জামালপুর বাজারটি দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অবহেলার কারণে ড্রেনগুলো অচল হয়ে পড়ে। সড়ক গুলো অবৈধ দখল হয়ে যায়। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় হাট-বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে জামালপুর বাজারকে একটি মডেল ও আধুনিক বাজার হিসেবে রুপান্তরের লক্ষে কাজ করা হচ্ছে। এতে বাজার ব্যবসায়ীরা স্বতস্ফুত ভাবে সহযোগিতা করছে।

সেনবাগে ডাকাতিসহ ৭ মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশ সেবারহাট বাজারে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতি,ছিনতাই,চুরি ও গাড়ী ভাংচুর সহ ৭ মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী টিপু সুলতান প্রকাশ রানা (৩২)কে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (৬জুন) রাতে সেনবাগ থানার এস আই খন্দকার আজাদুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত টিপু সুলতান ৭নংমোহাম্মদপুর ইউপির দক্ষিন রাজারামপুর গ্রামের আবুল বাশারের পুত্র। সেনবাগ থানার এস আই খন্দকার আজাদুল ইসলাম জানান,গ্রেফতারকৃত টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় ২০০৮ সাল থেকে ডাকাতি,ছিনতাই,চুরি,গাড়ী ভাংচুর,চুরি সহ ৭ টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে।সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) অজিত মিত্র বুধবার দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,তাকে বুধবার দুপুরে নোয়াখালী বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়

পাথরঘাটায় বেড়েই চলছে বাল্যবিয়ে

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বেড়েই চলছে বাল্যবিবাহ। বছরে এই উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসার ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া অর্ধশত ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। প্রশাসন, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ও সে¦চ্ছাসেবী সংগঠন বাল্য বিবাহ অনেকটা বন্ধ করলেও শেষ পযন্ত স্থানান্তরিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করে। পাথরঘাটা পৌর শহর কিংবা পাথরঘাটা উপজেলার গ্রামে প্রতিনিয়ত কিশোরী মেয়েদের বাল্য বিবাহ হচ্ছে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ওই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। যে বয়সে ছেলে-মেয়েদের বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা এবং সাথীদের নিয়ে বাড়ির উঠোন কিংবা বাগানে খেলাধুলা করবে, ঠিক সেই বয়সেই লেখাপড়া কিংবা খেলাধুলার পরিবর্তে স্বামীর বাড়িতে সংসার বুঝে নেয়ার দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের। ফলে বছর পেরুতে না পেরুতেই বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটে। সমাজিক নিরাপত্তার অভাব, যৌতুক প্রথা, দারিদ্রতা ও কাজীদের অসহযোগিতার কারণে পাথরঘাটায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
যে কারণে বেড়ে চলছে বাল্যবিবাহ। তবে সরকারি ঘোষনা, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের সভাসেমিনারে সচেতনতা বাড়ানোর কারণে নিকাহ রেজিষ্ট্রার অনেকটাই সচেতন হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা, চারলাঠিমারা, হরিনঘাটা,রুহিতা, পদ্মা, হাজিরখাল, কালমেঘা, কাকচিড়াসহ গ্রাম অঞ্চলে ১৪ বা ১৫ বছর বয়সের বা তার চেয়ে একটু বেশী বয়সের শিশুদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই অনেকেই আবার মা হয়েছে। বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। বেসরকারি সংস্থা সুশীলন হিসাব মতে দেখা যায়, এ উপজেলায় ২০১২ সালে বাল্যবিবাহ হয়েছিল ৯০টি, পরবর্তী বছর ২০১৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৮টি। পর্যায়ক্রমে গত বছর পর্যন্ত বাল্যবিবাহ কমতির দিকে ছিল। ২০১৪ সালে ৫৯টি, ২০১৫ সালে ৪৬ ও ২০১৬ সালে ৩৬টি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। আবার ২০১৭ সালে এসে গত ৫ মাসে অন্তত অর্ধশত বাল্য বিবাহ ঘটে। পাথরঘাটা উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আস্থার সভাপতি সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় তাৎক্ষনিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হলেও অনেকে স্থান্তরিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করে। তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারাটি অপব্যাখ্যা করে প্রান্তিক জনপদে বাল্যবিবাহ হঠাৎ বেড়ে যায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়ক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, চলতি বছরের ৫ মাসে যেভাবে বাল্যবিবাহ বেড়েছে, তাতে ২০১২ সালের হিসাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পাথরঘাটা পৌরসভার কাউন্সিলর ও নারীনেত্রী মুনিরা ইয়াসমিন বলেন, মূলত বিশেষ বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাস হওয়ার পর জনমনে ধারণা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দিলেও আইনগত তেমন সমস্যা হবে না। এ কারণে বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তা বা বেসরকারি সংস্থার আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এটি প্রতিরোধে বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধিও তেমন ভূমিকা পালন করছেন না। পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মো. জাবির হোসেন বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়েদের ‘সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশে’ এবং মা-বাবার সম্মতিতে যেকোনো ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ মেয়ের বিয়ে হতে পারবে। আর ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ নারীর বিবাহ মানেই তা বাল্যবিবাহ। বিশেষ ধারার সুযোগ নিয়ে অভিভাবকেরা প্রায়ই তাঁদের ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিয়ে থাকেন। তাই এ বিশেষ ধারার কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বাড়ছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি শাহ মো. কামরুল হুদা বলেন, সম্প্রতি তিন দিনে নয়টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছি। তারপরও বাল্যবিবাহ হচ্ছে। অভিভাবকেরা সচেতন না হলে এভাবে প্রতিরোধে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

নওগাঁয় বিচারক সংকটে মামলার জট বাড়ছে ভোগান্তি ও হয়রানী

মামলার তুলনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক না থাকায় নওগাঁয় বিভিন্ন আদালতে বাড়ছে মামলার জট। সেই সাথে রয়েছে আইনজীবীদের অনীহা। চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৬০ হাজার মামলা জমে আছে। এছাড়া পুরনো মামলার পাশাপাশি প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো এবং আইনজীবীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে বিচারপ্রার্থীরা জানিয়েছেন। গত ৪ মে নওগাঁয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা জেলা জজশীপের বিভিন্ন আদালত পরিদর্শন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এছাড়া মামলার জট নিয়ে বিচারকদের সাথে কথা বলেন তিনি। সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল পর্যন্ত নওগাঁ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা ২৬ হাজার ৫৬৮ টি, ফৌজদারি মামলা ১০ হাজার ৪৪২ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ হাজার ৯৪৪ টি এবং চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে ১৬ হাজার ৮৪১ টি মামলা চলমান। এছাড়া জেলা জজ আদালতে ১৭টি বিচারকের পদে কর্মরত আছেন ১৩ জন, চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১১টি কোর্টের মধ্যে ৬টি কোর্টে বিচারক নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক না থাকায় জেলা জজ দায়িত্বে আছেন। আদালতগুলো মামলার ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। পুরনো মামলা নিষ্পতি না হওয়ায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। মামলা জটের কারণে বিচারকার্য ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রাম থেকে শহরে আসা যাওয়া করায় বিচারপ্রার্থীদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মামলা জটের কারণে বিচারপ্রার্থীদের পরবর্তীত তারিখ জেনে ফিরে যেতে হয়।
প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থীর আদালতের বারান্দায় দিনের দিনের পর বিচারের আশায় এসে ফিরে যাচ্ছেন। জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩২ লাখ জনসংখ্যা। সে কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অথচ একেকটি মামলা নিষ্পতি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এমনকি ১৯৯০, ৯১, ৯২ সালের মামলাও জমে আছে। দীর্ঘদিনেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার বাদী-বিবাদীর মাঝে সামাজিক শত্রুতা বাড়ছে। এরই জের ধরে অপরাধ প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম। গত ২০১০ সালে এলাকায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে তাকে আসামী করে ১ম যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন একই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আনছার আলী। গত ১৪ মে হাজিরা দিতে এসে দুপুর ২টার দিকে আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করছিলেন রেজাউল ইসলাম। এসময় কথা তার সাথে। তিনি বলেন, ওই মামলায় ২৩দিন জেল হাজত খেটে জামিনে আছেন। মাঝে মধ্যে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। একই এলাকায় বসবাস করায় তিনি নিজ থেকে বাদী পক্ষের সাথে মিমাংসা করার চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘদিনেও বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়ায়, বিচারক না থাকাকে দায়ী করেছেন। অনেকবার হাজিরা দিতে এসে বিচারককে না পেয়ে ফিরে গেছেন। এছাড়া আইনজীবীরাও সময়ক্ষেপন করছেন। সদর উপজেলার বেনীফতেপুর গ্রামের মৃত গফুর সরদারের ছেলে ইয়নুছ আলী গত ২০১২ সালে প্রতিবেশির সাথে ঝগড়া হয়। এতে প্রতিবেশি বাবু দুই মহিলাসহ ৬জনকে আসামী করে অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা করেন। ইয়নুছ আলী বলেন, এক বছর আগে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল। আদালতে আসতে আর ভাললাগে না। কিন্তু আইনজীবীদের কারণে মামলাটি শেষ হচ্ছেনা। আবারও একটা তারিখ দিয়েছে। যে তারিখে মামলা শেষ হওয়ার কথা। তবে মামলা শেষ হবে কিনা তা নিয়ে শংশয় প্রকাশ করেন। বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারক সংখ্যা বাড়ানো দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে আইনজীবীদের আন্তরিক ও ভূমিকা রাখতে হবে। জেলা অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরদার সালাহ উদ্দিন মিন্টু বলেন, ভৌগলিক পরিসীমায় এটি একটি বৃহৎ জেলা। জনসংখ্যাও বেশি। মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম। ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আদালতেরও স্বল্পতা আছে। তবে বিচারপ্রার্থীদের তাদের বিচার পাওনার ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ত্রুটি থাকেনা। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা বলেছেন, সারা দেশে শতকরা ৮০ ভাগ মামলা বাদি অথবা বিবাদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার জড়িত। পাবলিক প্রসিকিউটর, গর্ভমেন্ট লিডার কার্যে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। পিপি, জিপিসহ সরকারী আইনজীবী এবং প্লীডারদের যে সন্মানী দেয়া হয় তা সন্তোষজনক নয়। এ কারণে তারা অন্যরকম ভূমিকা নিয়ে থাকেন। অনেক সময় পাবলিক প্রসিকিউটেরদের কক্ষে আসামী এবং আসামীদের লোকজনদের বসে থাকতে দেখা যায়। এই রকম পরিস্থিতিতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত সম্ভব হয়না। তিনি আরো বলেছেন, পুরাতন মামলার তালিকা প্রস্তুত করে আগামী তিনমাসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তা না হলে তিনি সেই বিচারকের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবেন বলে জানান।

মির্জাপুরে নদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আজ বুধবার ভোররাতে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। তার পিতার নাম মো: সরবেশ আলী। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ত্রিমোহন বান্দরমারা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল। আজ বুধবার মির্জাপুর এস কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, সুমাইয়া এস কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার একজন মেধাবী ছাত্রী। গত সোমবার বিকেলে সুমাইয়া বাড়ির পাশে বংশাই নদীতে গোসল করতে যায়। গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ সে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়ির লোকজনও আশপাশের লোকজন ঘটনা জানতে পেরে অনেক খোঁজাখুঁজি পরও তাকে না পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের খবর দেয়। তারা অনেক চেষ্টার পরও সুমাইয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে ময়মনসিংহ জেলার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলকে খবর দিলে রাতে তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ডুবুরী দল ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অনেক চেষ্টার পরও সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করতে না পেরে ফিরে যায়। আজ বুধবার ভোর রাতে স্থানীয় লোকজন বংশাই নদীর ত্রিমোহন এলাকায় সুমাইয়ার লাশ ভেসে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেয়। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মো: আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেসের কর্মীসহ ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরী দল লাশ উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে লাশ না পেয়ে ফিরে এসেছে। তবে আজ বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন লাশ ভেসে থাকতে দেখে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে লাশ উদ্ধারের পর কবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

ব্যাংক হিসাবের বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি খোদ মন্ত্রীর

ব্যাংক হিসাবের ওপর আরোপিত বর্ধিত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার ও সঞ্চয়পত্রের সুদ না কমানোর এবার দাবি জানিয়েছেন সরকারের এক দায়িত্বশীল মন্ত্রী। জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ দাবি জানিয়ে বলেন, সঞ্চয় এবং ফিক্সড ডিপোজিটের ওপর কর আরোপ করা ঠিক হবে না। সাধারণ মানুষ, স্বল্প বেতন পাওয়া মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। এখানে শুল্ক আরোপ করা ঠিক হবে না। নিম্ন আয়ের মানুষকে অব্যাহতি দিয়ে ধনাঢ্যদের ওপরে কর আরোপ করা হোক। মোজাম্মেল হক বলেন, আমি কেবিনেটের সদস্য। কেবিনেটে এই বাজেট পাস হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা নৈতিকতা বিরোধী। তবে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের কথা বলতে হবে। এদিকে বাজেটে এই বর্ধিত আবগারি শুল্কের সমালোচনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের চরম অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মঙ্গলবার এক ইফতার অনুষ্ঠান থেকে দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ২০১৬ সাল ছিল আওয়ামী লীগের ব্যাংক চুরির বছর। ব্যাংকের টাকা প্রতিনিয়ত চুরি করেছে, চুরি করতে করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরি করেছে, ব্যাংকের টাকা চুরি করে তারা পাচার করেছে। বিএনপি নেত্রীর এ মন্তব্যের জবাবে সংসদে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, খালেদা জিয়া আর তার পুত্র যে কাজে পারদর্শী, সেই কথাই উনি বলবেন। কিন্তু কিভাবে চুরি হল সেটা বলতে পারেননি। উনার মাথা খারাপ, উনাদের সময় ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট হত। আর এখন ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট হয়। দেশের উন্নয়নের খবর রাখে না বলেই খালেদা জিয়া ইচ্ছামতো কথা বলছেন। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যত বধ্যভূমি আছে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ হয়েছে সব জায়গায় একই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ করা হবে। সব মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ডিজাইনে করার প্রকল্প পাস হয়েছে। যাতে ১০০ বছর পরেও নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে এটা একটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। পাকিস্তানি ও রাজাকারদের ঘৃণ্য কাজ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য ঘৃণাস্তম্ভ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে মানুষ ঘৃণা জানাতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করার জন্য প্রতি জেলা-উপজেলায় স্মৃতিস্তম্ভ করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এরআগে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি। তিনি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অনেক মধ্যবিত্ত সন্তান পড়ে। এই প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনলে একটা বৈষম্যের বিষয় এসে যেতে পারে।
এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটনের যোগসাজস তদন্তে দেশটির উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূসের বিষয়ে হিলারি ক্লিনটন কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল সে বিষয়ে তাদের সিনেট কমিটি তদন্ত করছে। পশ্চিমা বিশ্ব কিছু কিছু দেশে তাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠার জন্য লোক খুঁজে বেড়ায়। আমাদের দেশে কিছু মানুষ বসে থাকে, তারা সেই তল্পিবাহক হবেন এবং দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেবেন। পশ্চিমা প্রভুদের তল্পিবাহকরা আর কেউ নয়, এরা নব্য মীরজাফর। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দীপু মনি বলেন, পশ্চিমা প্রভুদের তল্পিবাহকরা আর কেউ নয়, এরা নব্য মীরজাফর। এদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ের প্রস্তাবিত হিসাবকে লুটপাটের বাজেট বলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, লুটপাট যাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত তারাই এ কথা বলছেন। তিনি ও তার অর্থমন্ত্রী কালোটাকা সাদা করেছিলেন। তার ছেলেরা বিদেশে টাকা পাচার করে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক টাকা প্রত্যাহার করেছিল। কই তারা তো চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। আমাদের আমলে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তো প্রমাণ করতে পারেনি, উল্টো ভুল স্বীকার করে তারা এখন বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নে ফিরে এসেছে। দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা তার পরিবারের কোনো দুর্নীতি থাকলে সরকার এই অনঢ় অবস্থানে থাকতে পারতেন না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন মানুষ ইফতারের আগে দোয়া দরুদ করেন, তখন তিনি চূড়ান্ত মিথ্যাচার করেন। আল্লাহ মাফ করুন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের পকেটে হাত দিয়েছেন। তারা মানুষের পকেটে না শুধু, মানুষের গলায় হাত দিয়েছিল। তাদের আমলে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৮৫ ডলার, আজকে তা ১৬০২ ডলার। কয় টাকা পাবেন, আতঙ্ক তো সারাদেশে ধরিয়ে দিলেন এক লাখ টাকার ঊর্ধ্ব থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বাড়াতে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন সংসদে সরকারি দলের সদস্য আলী আশরাফ। পাশাপাশি সব পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। আজ বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের সমালোচনা করে আলী আশরাফ বলেছেন, আজকের সময়ে এক লাখ টাকা কোনো টাকাই নয়। ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্ক আরোপ না করার দাবি জানান। নিত্যপণ্য ছাড়া সব পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব সঠিক হয়নি বলেও মনে করে আলী আশরাফ বলেন, ‘ভ্যাট নিয়ে আপনি এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা আমাকে বলেছেন, যে তাদের সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে। আপনি কথায় কথায় একসাইটেড না হয়ে শাšভাবে বসেন। মূল্য সংযোজন কর নিয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেন। তিনি বলেন, ‘বাজেট যত বড়ই হোক, যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এর কোনো অর্থই হয় না। এটাকে বাস্তবায়ন করার মধ্যেই কৃতিত্ব। এটাকে বাস্তবায়ন করতে আপনি কথা বলুন, আরও কথা বলে একে স্বচ্ছ করুন, স্বচ্ছ হলেই তো এটা বাস্তবায়ন হবে। আর বাস্তবায়ন না হলে তো এটা অর্থহীন হবে।

মওদুদের বাড়ি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাজউক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দখলে থাকা গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ শুরু করেছে রাজউক। রাজউকের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বুধবার দুপুর থেকে বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন ৪ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেয়ায় এখন তা নিয়ন্ত্রনে নিচ্ছে রাজউক। এই মুহূর্তে গুলশানের ওই বাসার সামনে কয়েক প্লাটুন পুলিশ অবস্থান করছে।

বিএনপির ‘রূপকল্প ২০৩০’ কোন পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন হবে তা স্পষ্ট নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৩০’ কিভাবে কোন পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে, কিভাবে অর্থায়ন হবে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, আর এই ‘রূপকল্প ২০৩০’ এর অধিকাংশই বর্তমান সরকার পূরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি রূপকল্প ২০৩০ ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে কি কি বিষয় অগ্রাধিকার দিতে চান, তা উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন উপস্থাপিত রূপকল্পটিতে তারা ক্ষমতায় গেলে কি কি করা হবে তার দীর্ঘ ফর্দ দেয়া হলেও কিভাবে কোন পদ্ধতিতে এটা বাস্তবায়ন করা হবে, কিভাবে অর্থায়ন হবে, তা স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহারের মতোই হয়ে গেছে। এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে তাদের আগে ক্ষমতায় যেতে হবে। শুধু তাই নয়, পার্লামেন্টারি পদ্ধতি ও গণভোট পদ্ধতির পরিবর্তনসহ আরও যেসব মৌল পরিবর্তন তারা আনতে চাচ্ছেন, তার জন্য তো সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। শেখ হাসিনা বলেন, তাদের শাসনামলে অনিয়ম-দুর্নীতি, জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার যে দৃষ্টান্ত রেখেছেন, এরপর ক্ষমতার বাইরে থেকে জ্বালাও-পোড়াওসহ অনিয়মতান্ত্রিক তৎপরতা দিয়ে যে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছেন তা কাটিয়ে উঠে এতটা জনআস্থা অর্জন তাদের জন্য যে কঠিন চ্যালেঞ্জ তা বলাই বাহুল্য। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে অবৈধভাবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। এরপর বিএনপি নামে দল সৃষ্টি করে প্রতি রাতে কারফিউ দেয়। মার্শাল ’ল দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে। খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ পাঁচবার বিশ্বের দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এই মৌলিক অধিকার কোনটাই পূর্ণ করতে পারেনি। তবে জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ লুট করে সবচেয়ে ধনী পরিবার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য হত্যাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কাজে বিএনপি পারদর্শী তারা আবার জনগণকে কি আশার বাণী শোনাবে? শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা করা হয়। এ ‘রূপ ২০২১’ কে সামনে রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘২০১০-২১’ প্রণয়ন করা হয়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ প্রণয়ন করেছে, যা ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবরে এনইসি কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের বর্তমান উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নীত করতে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থারও নজর কেড়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাপান এক্সটারনাল ট্রেড ওরগানাইজেশন (জেটরো)-এর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও, প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের মতে, বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যেই পরিণত হবে পৃথিবীর ২৩তম বৃহত্তর অর্থনীতিতে এবং পেছনে ফেলবে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াকে, যা আমাদেরকে অত্যন্ত উজ্জ্বীবিত করে। তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ এর বাস্তব রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বে অগ্রগামী ও উন্নত জনপদে পরিণত করতে সরকার জাতিকে এই মেয়াদের মধ্যেই রূপকল্প-২০৪১ উপহার দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১৪ তে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথমসারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করার রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে। সূত্র : বাসস

বেসামরিকে পদায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই : আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্রের বেসামরিক পদে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রেষণে কাজের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কোনো স্পষ্ট নীতিমালা নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ কাজে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি এ তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম জানতে চান, বেসামরিক পদে ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রেষণ, পদায়নের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে কিনা। জবাবে আনিসুল হক বলেন, বেসামরিক পদে ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রেষণে পদায়নের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।
ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, সশস্ত্রবাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা বর্তমানে দুই লাখ চার হাজার ৫৯৬ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ১২৫ জন সেনাবাহিনীর, ২৫ হাজার ৮১ জন নৌবাহিনীর এবং ১৭ হাজার ৩৯০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য। এই তিন বাহিনীতে প্রায় ২১ হাজার বেসামরিক ব্যক্তি কাজ করছেন। সেনাবাহিনীতে ১৩ হাজার ৪০৮, নৌবাহিনীতে তিন হাজার ৮০০ এবং বিমান বাহিনীতে তিন হাজার ৬৮৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি আছেন।
ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে আনিসুল হক জানান, নতুন যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, সমুদ্রে টহলের জন্য বিমান এবং সাবমেরিনসহ বিভিন্ন ঘাঁটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জনবল বৃদ্ধি ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, নৌবাহিনীর জন্য দুটি মাল্টিরোল মেরিটাইম হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ডে দুটি বড় আকারের টহল নৌজান তৈরির কাজ চলেছে। দুটি নতুন করভেট তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরির জন্য ৩৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের জন্য চীনের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া মাইন ওয়ারফেয়ারের সক্ষমতা বাড়াতে চারটি মাইন সুইপার এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি জাহাজ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র তৈরিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে মিসাইল ও আইএফএফ (শত্রু-মিত্র চিহ্নিতকরণের যন্ত্র) তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফ্লাইওভার গার্ডার ভেঙ্গে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে হাইকোর্টের রুল

রাজধানী ঢাকার নির্মাণাধীন মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে নিহত স্বপন মিয়াসহ আহতদের এক কোটি ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। এছাড়া জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকারের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত স্বপন মিয়ার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা রমনা থানার ওসিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, ফ্লাইওভার নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রমনা থানার ওসিকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ রাজধানীর মালীবাগ রেলগেট এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার তোলার সময় সেটি ক্রেন থেকে ছিঁড়ে পড়ে স্বপন মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পলাশ (৪০) ও নূর নবী (৪০) নামের দুই ব্যক্তি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত স্বপন ওই ফ্লাইওভারের শ্রমিক। তার বাবার নাম আজিম উদ্দীন।
বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার কুমারপুরে। আহতদের মধ্যে নূর নবী শাহ সিমেন্টের গাড়িচালক ও পলাশ প্রকৌশলী। এই ঘটনায় গত ৩ জুন মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ, ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এই রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। পরে আইনজীবী আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার আইনগতভাবে বাধ্য। কিন্তু এই ফ্লাইওভার নির্মাণে জনগণের যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যা ঘটনা নিজেই নিজের বর্ণনা দেয়। এখানে সরকারের অবহেলা ছিল। তিনি আরও বলেন, আদালত নিহত স্বপন মিয়ার পরিবারকে ৫০ লাখ ও আহত অপর দুজনের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে রুল জারি করেছেন।

কাতারের পাশে তুরস্ক

সৌদি আরবসহ ছয়টি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তুরস্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আনকারা শহরে একটি বক্তব্য দেওয়ার সময় এরদোয়ান এ ঘোষণা দেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, কাতারের মতো ছোট একটি রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের সমর্থন দেবে বলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন না তিনি। তাই কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ভালো হয়নি।
এমনকি এর মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। এ ছাড়া তুরস্ক ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘কাতার সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত না, সেটা আমি ভালোভাবেই জানি। আর এমন ধরনের কোনো প্রমাণ পেলে আমিই সবার আগে দেশটির বিরুদ্ধে কথা বলব।’ এদিকে কাতারকে সমর্থন দিলেও সৌদি আরবের খুব কাছের বন্ধু বলেই পরিচিত তুরস্ক। এ ছাড়া কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক রয়েছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে গত সোমবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ ‘সন্ত্রাসী দলগুলোকে’ সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে ভিন্নমুখী সংকটের মুখোমুখি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী এ দেশটি।

ট্রাম্পের কলকাঠিতে কাতার বিচ্ছিন্ন!

কাতারের সঙ্গে যে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, সেটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণেই হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প নিজেই। ট্রাম্প বলেছেন, কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার কৃতিত্ব তার। কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকার ও মালদ্বীপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে তাকে জানানো হয়েছিল যে কাতার 'জঙ্গিদের সমর্থন করছে ও অর্থের যোগান দিচ্ছে'। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরটি ছিল খুব্ গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের রিয়াদ সফরের সময় ট্রাম্প তার এক ভাষণে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন ইসলামি চরমপন্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করে বাহরাইন। পরে সৌদি আরব,
মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলো, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তাদের সাথে কাতারের সম্পর্কচ্ছেদ হিসেবে। এর সাথে গাল্ফভুক্ত দেশগুলোর সাথে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর টুইটারে লেখেন "মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় আমি বলেছিলাম জঙ্গি অর্থায়ন ঠেকাতে হবে, এটাকে কোনভাবেই বাড়তে দেয়া যাবে না। দেখেন-নেতারা কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন"। এরপর আরেকটি টুইট বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, "সৌদি আরবসহ পঞ্চাশটি দেশ যে বলছে তারা চরমপন্থা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে, তা দেখে খুব ভালো লাগছে। কাতারকে উদ্ধৃত করে তারা তাদের সিদ্ধান্তও জানিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ শেষ করার লক্ষ্যে সম্ভবত এটাই শুভ সূচনা"। সূত্র : বিবিসি

চুরির অভিযোগে প্রৌঢ়াকে নগ্ন করে মারধর : গ্রেফতার ২৩

চুরির অভিযোগে বছর পঞ্চাশের এক দলিত প্রৌঢ়াকে সর্বসমক্ষে নগ্ন করে লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। ভারতের মহারাষ্ট্রের বুলদানা জেলার বুলদানার রুইখেদ মায়াবা গ্রামে গত ২ জুন বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটলেও, স্থানীয় দাদ থানার পুলিশের কাছে সেদিন খবর পৌঁছয়নি। প্রৌঢ়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরেই, তা জানাজানি হয়। রুইখেদ মায়াবা গ্রামের জনৈক সুখারাম উগলের অভিযোগ,
দলিত ওই মহিলা তার ছেলে মিলে গোয়াল থেকে জোড়া বলদ চুরির চেষ্টা করছিল। সেই সন্দেহের বশেই গ্রামের ২০-৩০ জন লোককে জড়ো করেন সুখারাম। এরপর লাঠি দিয়ে গণধোলাই চলে মহিলা ও তার ছেলেকে। উচিৎ শিক্ষা দেয়ার নামে একটা সময় ছেলের সামনেই ওই প্রৌঢ়াকে নগ্ন করে চলে মারধর। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার অভিযোগ ও হাসপাতালের রিপোর্টের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৪, ৩৫৪ ছাড়াও তফশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা রুজু হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ব্রিটেনে কড়া নিরাপত্তায় শেষদিনের প্রচারণা চলছে

লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে কড়া নিরাপত্তার মাঝে শেষদিনের প্রচারণা চলছে ব্রিটেনে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, নির্বাচিত হলে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় মানবাধিকার আইন পরিবর্তন করবেন তিনি। তবে লেবার পার্টির বক্তব্য এমন কোনও বার্তা আমরা দিতে চাই না বিদেশী সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার এবং বর্তমান হুমকি হিসেবে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের স্বাধীনতা ও চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আনবেন তিনি। তবে লেবার পার্টির বক্তব্য এমন কোনও বার্তা আমরা দিতে চাই না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে বাধাগ্রস্ত করে মানবাধিকার বিষয়ক এমন যেকোনো ধরনের আইনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত আছে তার সরকার। লন্ডনে শনিবারের সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে তার এই নতুন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল।
তিনি বলেন, যদি মানবাধিকার আইন আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাড়ায় তাহলে আমরা আমাদের আইন বদলে ফেলবো। তিনি আরো বলেছেন "যখন আমরা হুমকির মুখে তখন যেকোনো পরিবর্তনই জটিল হয়ে দাড়ায়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দাদের হাতে যেন যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে"। অর্থাৎ রক্ষণশীলরা বলছে, যদি মিসেস মে পুনরায় নির্বাচিত হন তাহলে তার সরকার ইউরোপীয় মানবাধিকার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাদ দিতে প্রস্তুত। নিজের একটি চূড়ান্ত নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে মিসেস মে বলেন তিনি সন্দেহভাজনদের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরো সহজ করতে চান। লন্ডনে সর্বশেষ হামলার পরে মিসেস মে বলেছিলেন , সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিবর্তন জরুরি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি যদিও সুনির্দিষ্টভাবে নতুন কোনও নীতি-প্রস্তাব তুলে ধরেননি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করায় টোরি পার্টির সমালোচনা করেছে। এই বক্ত্যব্যের পর লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এমন কোনও বার্তা সমাজের কাছে কিংবা সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছাতে চান না তারা। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাট দল বলছে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস নয় বরং মানুষের স্বাধীনতাই হ্রাস করতে চাইছেন। বিবিসি বাংলা

ভালুকায় ট্রাক খাদে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত

ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাক খাদে পড়ে অজ্ঞাত এক পুরুষ (৪০) নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা পৌরসভার কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনা সময় ঢাকাগামী মালবোঝাই একটি ট্রাক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি। ভালুকা মডেল থানার এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, ভোরে ঢাকাগামী একটি ট্রাক ভালুকা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা যান। তার পরিচয় জানার জন্য চেষ্টা চলছে। তবে নিহতের শার্টের পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ উদ্ধার করেছে সেখানে দুলাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির নাম লিখা রয়েছে।

ভ্যাটের একক হারে দাম বাড়বে গ্যাস-বিদ্যুতের

নূরুল আমিন। রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা। গত মাসে তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন ৯৭৬ টাকার। এর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করেছেন ৬০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ২০ টাকা। মোট বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৬ টাকা। এই বিলের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ হিসাবে ভ্যাট দিয়েছেন ৫২ টাকা। ফলে গত মাসে বিদ্যুতের জন্য তাকে সর্বমোট বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ১১০৯ টাকা। কিন্তু নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে তাকে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। ১ হাজার ৫৬ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে তাকে পরিশোধ করতে হবে (১০৫৬+১৫৮.৪০) ১২১৪ টাকা। অর্থাৎ গত মাসের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে আগামী মাসে নূরুল আমিনকে বাড়তি পরিশোধ করতে হবে ১০৫ টাকা। এভাবে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। আর পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকপর্যায়ে দাম বেড়ে যাবে। অর্থাৎ নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে। এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের সাথে রেয়াতি হারে ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিন্তু আগামী মাস থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে একক হার হিসেবে সবক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। আর বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলে চাপে পড়বে ভোক্তারা। তবে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইনে একক হার হিসেবে থাকলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসে উপকরণ কর রেয়াদ দেয়া হতে পারে। ফলে সেবা খাত হিসেবে কর রেয়াদ দেয়া হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়বে না। এ বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন। এ দিকে শিল্প উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেবে।
নতুন মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) আইন প্রযুক্তি ও রেয়াতনির্ভর। এ আইনে হিসাব সংরণসহ ভ্যাটের যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। অথচ বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করে না। একই সঙ্গে নতুন এ আইনে অনেক েেত্র উপকরণে কর রেয়াত নেয়া সম্ভব হবে না। ফলে আইনটি কার্যকর হলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে। সামগ্রিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভোক্তাপর্যায়ে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, ভ্যাট আইনটি কার্যকর হলে বিদ্যুৎ ও শিা উপকরণের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। আইনটি কার্যকর হলে শুধু জনগণই চাপে পড়বে তা নয়, তিগ্রস্ত হবে দেশীয় শিল্পও। সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ১৯৯১ সালের আইনে ‘একাধিক হ্রাসকৃত হারে’ ভ্যাট আদায় করা হয়। নতুন আইনে সবেেত্র একই হারে (১৫ শতাংশ) ভ্যাট আদায় করা হবে। ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। চাপ বাড়বে ভোক্তার ওপর। নতুন আইনে উপকরণে কর রেয়াতের সুযোগ নেই। এতে করে পণ্যমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কষ্ট বাড়বে সাধারণ মানুষের। নতুন আইন কার্যকর হলে বাজারে তিনভাবে প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। বিদ্যমান আইনে স্থানীয় অনেক পণ্যে বিশেষ ছাড় দিয়ে নির্ধারিত ট্যারিফের ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় করা হয়। এ ব্যবস্থায় কর আদায় করায় পণ্যের উৎপাদন খরচ কম হয়। এমন পণ্যের মধ্যে গুঁড়ো দুধ, বিভিন্ন মসলা, বিস্কুট, এলপি গ্যাস, কাগজ, ইট, বৈদ্যুতিক খুঁটি, রড, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্বসহ আরো কিছু পণ্য রয়েছে। নতুন আইনে এগুলোর উপকরণে কর রেয়াত নেয়া সম্ভব নয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল কোর্ট) আদালত পরিচালনা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় আজ প্রকাশ করা হয়েছে। রায় প্রদানকারী বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের স্বাক্ষরের পর আজ বুধবার এ রায় প্রকাশ করা হয়। ৬৪ পৃষ্ঠায় দেয়া এ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগের আদেশে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের কার্যকারিতা আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আনা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গত ২১ মে এ আদেশ দেয়।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করারও নির্দেশ দেয়া হয়। রায়টি স্থগিত থাকায় এ আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় এখন আর বাধা নেই বলে জানায় আইনজীবীরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল কোর্ট) আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১৪ টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে গত ১১ মে রায় দেয় হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল কোর্ট) আদালতে সাজাপ্রাপ্ত পৃথক তিন ব্যক্তির দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রায় দেয়া হয়। বাসস

সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম আরো জোরালোভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নেয়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ৪ গুণেরও অধিক বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৯ সালের ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট থেকে ১৫ হাজার ৩৭৯ মেগাওয়াটে (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৯৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মোট ৬ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনাসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি হচ্ছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮২টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতকরা ৪৭ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে শতকরা ৮০ ভাগে উন্নীত হয়েছে (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)। শেখ হাসিনা বলেন, মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘন্টা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪০৭ কিলোওয়াট ঘণ্টা দাঁড়িয়েছে (ক্যাপটিভসহ)।

নিউজিল্যান্ডের হারে সম্ভাবনা বাড়ল বাংলাদেশের

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ষষ্ঠ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট পেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ইংলিশদের ৩১০ রানের জবাবে ২২৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়ল।
কিউই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করে আউট হন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এছাড়া রস টেইলর করেন ৩৯ রান। ইংল্যান্ডের লিয়াম প্লাংকেট ৫৫ রানে ৪ উইকেট নেন। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচে ৩ বল বাকী থাকতেই সবক’টি উইকেট হারিয়ে ৩১০ রান করে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে জো রুট ৬৫ বলে ৬৪, জশ বাটলার ৪৮ বলে অপরাজিত ৬১ ও এ্যালেক্স হেলস ৬২ বলে ৫৬ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এডাম মিলনে ও কোরি এন্ডারসন ৩টি করে উইকেট নেন। ‘এ’ গ্রুপে দু’দলের এটি দ্বিতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড : ৩১০/১০, ৪৯.৩ ওভার (রুট ৬৪, বাটলার ৬১*, হেলস ৫৬, এন্ডারসন ৩/৫৫)।
নিউজিল্যান্ড : ২২৩/১০, ৪৪.৩ ওভার (উইলিয়ামসন ৮৭, টেইলর ৩৯, প্লাংকেট ৪/৫৫)।
ফল : ইংল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী।

বৃষ্টির ফাঁদে বাদ পড়ে যেতে পারে অনেক ফেভারিটও!

চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ক্রিকেট ছাপিয়ে আচমকাই শিরোনামে উঠে এসেছে বৃষ্টি। প্রায় সব ম্যাচেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে। দু’টি ম্যাচ পণ্ড হয়েছে। বৃষ্টিতে সেমিফাইনালে ওঠার অনেক অঙ্ক বদলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বৃষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রুপ ‘এ’তে। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ায় অনেকে বলাবলি করছে স্টিভ স্মিথরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
কারো মতে, নিউজিল্যান্ডের ক্ষতিটা বেশি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতলে দুই পয়েন্ট পেত। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নিশ্চিত হারের হাত থেকে তাদের বাঁচিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টিই। ওই ম্যাচের এক পয়েন্ট ওদের কাছে বোনাস। গ্রুপ ‘এ’র যা পরিস্থিতি, তাতে বাংলাদেশেরও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে মাত্র এক ম্যাচ জিতেও শেষ চারে পৌঁছে যেতে পারে মাশরাফি মর্তুজারা। বৃষ্টিতে ম্যাচ শেষ করা গেলেও বারবার খেলা বন্ধ হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে ক্রিকেটারদের। মনঃসংযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একজন ব্যাটসম্যান ২০ রান করে সেট হয়ে যাওয়ার পর যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকছে, ম্যাচ শুরু হলে নতুন করে থিতু হতে হচ্ছে তাকে। বোলারদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে গ্রুপ ‘বি’র ছবিও বদলে যাবে। বিরাট কোহলিদের ভক্তরা নিশ্চয়ই প্রার্থনা শুরু করে দিয়েছে।

যমজ সন্তানের বাবা-মা হলেন জর্জ এবং আমাল ক্লুনি

হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনির স্ত্রী মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনি যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। মেয়ে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে এলা এবং ছেলে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক্সান্ডার। লন্ডনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে তাদের জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন জর্জ ক্লুনির জনসংযোগ কর্মকর্তা। স্ট্যান রোজেনফিল্ড জানিয়েছে, বাচ্চারা এবং তাদের মা সুস্থ ও ভালো আছেন। তবে, জর্জকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে রসিকতা করেন রোজেনফিল্ড। ৫৬ বছর বয়সী ক্লুনি এবং ৩৯ বছর বয়সী আমাল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভেনিসে বিয়ে করেন। অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, মিয়া ফারো এবং টিভি উপস্থাপক অ্যালেন ডি'জেনেরাস শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নতুন বাবা-মা কে। সেলিব্রেটি বাবা-মা হওয়া সত্ত্বেও সন্তানদের সাধারণ নাম রাখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসা করা হচ্ছে এই দম্পতির। ফেব্রুয়ারিতে আরেক হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন নিশ্চিত করেছিলেন, এই দম্পতি সন্তানের মা-বাবা হতে চলেছেন। সূত্র : বিবিসি

‌বৃহত্তম গ্রহের খোঁজ মিলল

পৃথিবী থেকে ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে মহাকাশে বৃহত্তম গ্রহের সন্ধান পেলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিটল টেলিস্কোপ বা কেল্টের সহায়তায় ওই গ্যাসীয় দৈত্যাকার গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন তাঁরা। গ্রহটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে তার নাম কেল্ট–নাইন। কেল্ট নাইনকে প্রদক্ষিণ করে এবং কেল্ট দূরবীক্ষণের মাধ্যমে খোঁজ মিলেছে বলে বিজ্ঞানীরা গ্রহের নাম দিয়েছেন কেল্ট–নাইন বি। কেল্ট–নাইন বি আমাদের সৌরমম্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির থেকে আকারে প্রায় ২.‌৮ গুণ বড়। কিন্তু ভরে তার প্রায় অর্ধেক। এর তাপমাত্রা দিনে থাকে ৪,৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭,৭৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। যা কিনা সূর্যের থেকে ১৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। একথা জানিয়েছেন কলোম্বাসের ওহায়ও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্কট গডি। এই অনুসন্ধানে তিনিই নেতৃত্ব দেন। গডি বলেছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য এই গ্রহে প্রাণের সঞ্চার প্রায় অসম্ভব। গ্রহটি পৃথিবীর দেড় দিনে নিজের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে।
চাঁদ যেভাবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, কেল্ট–নাইন বি–ও কেল্ট–নাইনকে ঠিক সেভাবেই প্রদক্ষিণ করে। ফলে এর একটা দিক সবসময় আলোকিত এবং বিপরীত দিক অন্ধকারময় থাকে। মাত্র ৩০ কোটি বছরের পুরনো, এবং অন্য নক্ষত্রদের তুলনায় আয়ুতে নবীন কেল্ট–নাইন সূর্যের থেকে আকারে এবং উষ্ণতায় দ্বিগুণ। এর থেকে প্রচুর পরিমানে অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত হয়। সেই রশ্মিতে প্রতি মুহূর্তে কেল্ট–নাইন বি–র আলোকিত অংশে বিস্ফোরণ ঘটছে। ফলে কোনও ধরনের জৈব পদার্থ তৈরির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে অন্ধকার দিকটিতে জল, কার্বোন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের মতো পদার্থ তৈরি হলেও হতে পারে। কিন্তু এখনো সেই দিকটি অজানা বিজ্ঞানীদের কাছে। গডি জানিয়েছেন, সব নক্ষত্রেরই গ্যাস শেষ হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কেল্ট–নাইন উল্টে তার গ্রহ কেল্ট–নাইন বি–কেই খেয়ে ফেলে আরও বড় হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কেল্ট–নাইনের অতিবেগুনি রশ্মির জন্য তার গ্রহে ঘটে চলা ক্রমাগত বিস্ফোরণের ফলে একটা সময় কেল্ট–নাইন বি সম্পূর্ণ মিলিয়ে যেতে পারে। তবে এই বিস্ফোরণের ফলে গ্রহেরও ধূমকেতুর মতো লেজ তৈরির সম্ভাবনা আছে যা কেল্ট–নাইন বি–র বায়ুমণ্ডলকে রক্ষা করতে পারে।

কড়া নিরাপত্তায় ব্রিটেনে চলছে শেষ দিনের প্রচারণা

লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ দিনের মতো চলছে ব্রিটেনের নির্বাচনী প্রচারণা। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, নির্বাচিত হলে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় মানবাধিকার আইন পরিবর্তন করবেন তিনি। বিদেশী সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার এবং বর্তমান হুমকি হিসেবে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের স্বাধীনতা ও চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আনবেন তিনি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে বাধাগ্রস্ত করে মানবাধিকার বিষয়ক এমন যেকোনো ধরনের আইনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত আছে তার সরকার।
লন্ডনে শনিবারের সন্ত্রাসী হামলার পর এই নতুন প্রতিক্রিয়া দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি মানবাধিকার আইন আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে আমরা আমাদের আইন বদলে ফেলবো। তিনি আরও বলেন, 'যখন আমরা হুমকির মুখে তখন যেকোনো পরিবর্তনই জটিল হয়ে দাঁড়ায়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দাদের হাতে যেন যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে।' রক্ষণশীলরা বলছে, যদি মিসেস মে পুনরায় নির্বাচিত হন তাহলে তার সরকার ইউরোপীয় মানবাধিকার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাদ দিতে প্রস্তুত । নিজের একটি চূড়ান্ত নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে তেরেসা মে বলেন, তিনি সন্দেহভাজনদের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরও সহজ করতে চান। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করায় টোরি পার্টির সমালোচনা করেছে। এই বক্ত্যব্যের পর লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এমন কোনও বার্তা সমাজের কাছে কিংবা সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছাতে চান না তারা। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাট দল বলছে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস নয় বরং মানুষের স্বাধীনতাই হ্রাস করতে চাইছেন। সূত্র: বিবিসি।

সবাই দেখল বৃদ্ধের মৃত্যু এগিয়ে এলো না কেউ

দুপুরের ঠা ঠা রোদে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার বঙ্কিম সেতুর রেলিংয়ে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। দীর্ঘক্ষণ, একই ভাবে। চোখ বোজা। ঘাড় সামান্য হেলে রয়েছে। ওই ফুটপাত দিয়েই যাতায়াত করছেন অজস্র মানুষ। সবাই তাকে দেখেছেন। কেউ কেউ থমকে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই! বৃদ্ধকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি কেউই। এমনকি ওই বৃদ্ধ যে ব্যস্ত রাস্তায় ওইভাবে পড়ে রয়েছেন, সেই খবর পৌঁছায়নি পুলিশের কানেও! তাই এগিয়ে আসেনি পুলিশের টহলদার গাড়ি বা হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রুমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সও। পুলিশ যতক্ষণে খবর পেল, ততক্ষণে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। শেষমেশ বিনা চিকিৎসায়, সবার চোখের সামনেই মারা গেলেন অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধ। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তীব্র গরমে সবাই যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন হাওড়া ব্রিজের দিক থেকে হেঁটে বঙ্কিম সেতুর দিকে আসছিলেন ওই বৃদ্ধ। মাথায় কাঁচা-পাকা কোঁকড়ানো চুল। গালে কয়েক দিনের না-কামানো দাড়ি। গায়ে কালো স্ট্রাইপ দেয়া জামা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাওড়া ব্রিজ থেকে যে রাস্তাটি বঙ্কিম সেতুতে উঠে বাঁ দিকে ঘুরেছে, সেখানেই সেতুর রেলিংয়ে হেলান দিয়ে প্রথমে বসে পড়েন তিনি। ঘণ্টা দুয়েক ওইভাবে বসে থাকার পর শুয়ে পড়েন ফুটপাতেই।
তার আশপাশ দিয়ে তখন যাতায়াত করছেন নিত্যযাত্রীরা। কেউ কেউ ভেবেছেন গরমের কারণে সাময়িক অসুস্থতার জন্য বৃদ্ধ ওইভাবে শুয়ে আছেন। তারা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কেউ বৃদ্ধের মুখে সামান্য পানিটুকুও তুলে দেননি। খানিকক্ষণ থমকে দেখে আবার হেঁটে চলে গেছেন। ওই ফুটপাতেই ডালা নিয়ে পেয়ারা বিক্রি করতে বসেছিলেন সাবিরুদ্দিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘ওই বৃদ্ধ যে অসুস্থ বুঝতে পারছিলাম। ওর মুখ দিয়ে গ্যাঁজলার মতো বেরোচ্ছিল। আমার গামছা দিয়ে মুখ মুছিয়ে গামছাটা কোমরে জড়িয়ে দিয়ে এসেছিলাম। আমি গরিব মানুষ বাবু, আর কী করতে পারি?’ সাবিরুদ্দিনের আফসোস, তখন বহু মানুষ ওই বৃদ্ধের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়েছেন। তার কাছে যারা পেয়ারা কিনতে এসেছিলেন, তাদেরও কয়েকজনকে তিনি সাহায্য করতে বলেছিলেন। কিন্তু কেউই কিছু করেননি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে থানার একটি টহলদারি ভ্যান আসে। ওই ভ্যানের পুলিশ কর্মীরাই জানিয়ে দেন, ওই বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন। তাই ডাক্তার না ডেকে গোড়াতেই খবর দেয়া হয় থানার ডোমকে। তারা বৃদ্ধকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে সরকারিভাবে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন।

শের বাহাদুর দেউবা ফের নেপালের প্রধানমন্ত্রী

চতুর্থবারের জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন শের বাহাদুর দেউবা। মঙ্গলবার নেপালের পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বিজয়ী হন। সেখানে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিলেন দেউবা। তিনি নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান পুষ্পকমল দাহাল প্রচন্ডের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত মাসে একটি লাইভ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি তার পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই ওই পদটি শূন্য ছিল। প্রধান বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল এবার কোনো প্রার্থী দেয়নি। তাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিয়মরক্ষার ভোটাভুটি হয়।
এতে দেউবার পক্ষে পড়ে ৩৮৮ ভোট আর বিপক্ষে ১৭০ ভোট। ৫৯৩ আসনের নেপালি পার্লামেন্টে সরকার গড়তে ২৯৭ জনের সমর্থন দরকার ছিল দেউবার। প্রধানমন্ত্রী পদে নেপালি কংগ্রেস নেতা দেউবার নাম প্রস্তাব করেছেন প্রচন্ড। আর তা সমর্থন করেছেন নেপালি কংগ্রেস নেতা রাম চন্দ্র পৌদল। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থনেই নির্বাচিত হন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭, ২০০১ থেকে ২০০২ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৫ মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দেউবা।

কাতার সংকটে কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার কৃতিত্ব তার। সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরবসহ সাতটি মুসলিম দেশ। মঙ্গলবার টুইটে ট্রাম্প বলেন, তার সাম্প্রতিক সৌদি সফরকালে তাকে বলা হয়েছে যে কাতার উগ্র মতাদর্শের জন্য তহবিল জোগাচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, তার সফরের ফল আসতে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি সফরকালে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন এবং মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পের সেই ঘোষণায় সাহসী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ার কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আরব দেশগুলো। টুইটে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমার সাম্প্রতিক সফরকালে বলেছিলাম উগ্র মতাদর্শকে তহবিল জোগানো যাবে না। নেতারা তখন কাতাদের দিকে ইঙ্গিত করেন। বুঝুন। তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বিবিসিকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় তার সরকার ট্রাম্পকে বলেছে যে, উগ্র ইসলাম প্রচারের সঙ্গে কাতারের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। বিবিসি।

আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি, নিহত ৫

পুলিশের গুলিতে ভারতে ঋণ মওকুফ এবং পণ্যের মূল্য বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত পাঁচ জন কৃষক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌরে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিংয়ের দাবি মান্দসৌরের এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত নয়। খবর এনডিটিভির। মন্ত্রী বলেন, সেখানে পুলিশ গুলি চালায়নি। ‘সমাজবিরোধীরা’ কৃষকদের উপর গুলি চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে উজ্জাইন বিভাগীয় কমিশনার ওম ঝা বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই দুই কৃষকের মৃত্যু হয়, কয়েকজন আহত হন। বিক্ষোভের সময় কৃষকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে বলে জানা গেছে। তারা কয়েকবার রেল রাস্তা উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করেছে। উৎপাদিত পণ্যের উচ্চ মূল্যের পাশপাশি ঋণ মওকুফের দাবিতে গত ১ জুন থেকে ১০ দিনের ধর্মঘট শুরু করেন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা।
আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে বিভিন্নস্থানে পুলিশের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া যানবাহনে আগুন দেয়া, দোকানপাঠ ভাংচুর ও লুটপাটের খবরও পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে কৃষকরা পণ্য সরবরাহও বন্ধ করে দেন। এর ফলে মুম্বাই ও পুনের মত শহরগুলোতে সবজি ও দুধের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে কৃষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিরোধীদলগুলোর উসকানি বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, সরকার কৃষকদের পাশে আছে। মঙ্গলবার রাতেই তিনি মান্দসৌর ঘটনায় হতাহতদের জন্য তিনি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন। তিনি নিহতদের জন্য ১০ লাখ থেকে ১ কোটি রুপি এবং সরকারি চাকরি; আহতদের জন্য পাঁচ লাখ রুপি দেয়ার কথা জানান। এদিকে গুলিতে কৃষক নিহতের ঘটনায় প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক টুইটে বলেছেন, 'এই সরকার কৃষকদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।' কৃষকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর ইন্দোর, উজ্জাইন, দেওয়াজসহ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

সেহরিতে খাবার খাবেন যেভাবে

রমজান মাসে সারা দিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতার, রাতে খাবার ও শেষ রাতে সেহরি খাওয়া হয়। মূলত রোজা শুরু করতে হয় সেহরি দিয়েই। তাই সেহরির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে অনেকে আছেন যারা সেহরি খেতে চান না বা রাতেই সেহরির খাবার খেয়ে থাকেন। তারা একেবারে রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাবার খান বা সাহরিতে উঠে এক গ্লাস পানি অথবা এক গ্লাস দুধ খেয়ে শুয়ে পড়েন।
এ কারণ হলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা। এমনটা করা ঠিক নয়, কারণ সেহরিকে গুরুত্ব না দিলে আপনি অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। এ বছর রোজার সময় প্রায় ১৫ ঘণ্টা। দিনের মধ্যবর্তী সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আপনাকে রোজা রাখতে হয়। কেউ যদি রাত ১২টায় খাবার খেয়ে পরদিন ইফতার করেন তাহলে তাকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে। এ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পানি স্বল্পতায়  ভুগবেন এবং শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে, এতে মাথা ঘোরাতে পারে, কাজকর্মে মন বসবে না। ফলে কয়েকটি রোজা রাখার পর বাকিগুলো রাখা আপনার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এসব কারণে সেহরিতে খাবার খাওয়া খুব জরুরি।
সেহরির খাবার: সেহরিতে ভাতই খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। রুচি অনুযায়ী রুটি-পরোটা-পাউরুটি দুধ সেমাইও খাওয়া যেতে পারে। এ সময় ডিম ও মাংস খাওয়া যেতে পারে। ছোট-বড় সবার ক্ষেত্রেই সাহরিতে এক কাপ দুধ খাওয়া প্রয়োজন। তবে সেহরিতে কম মশলার হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। গুরুপাক খাবার না খাওয়াই ভালো।
ডা. ফাহিম আহমেদ রুপম
মেডিসিন অ্যান্ড ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
ইমপালস হাসপাতাল, তেঁজগাও, ঢাকা

দুনিয়া কাঁপানো ছবিটি ছিল সাজানো!

রক্তাক্ত দেহ, পুরো শরীর জুড়ে ধুলো-বালি। কপাল চুইয়ে রক্ত পড়ছে গালে। কোন এক ধ্বংসস্তুপ থেকে তুলে আনা হয়েছে শিশু ওমরান দাকেশকে। অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসাপাতালে। সিরিয়ার এমন এক হৃদয় বিদারক ছবি ভাইরাল হয় গত বছর। তবে এক বছর পর ঐ ছবি সাজানো বলে দাবি করছেন ওমরান দাকেশের বাবা। রোববার খালেদ ইসকাফ নামে সিরিয়ার এক সরকারপন্থী সাংবাদিকের কাছে তিনি এ দাবি করেন। খবর বিবিসি। রোববার পরিবারের সাথে ওমরানের বর্তমান সময়ের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।তবে ওমরানের পরিবার এখন যে বাড়িতে বসবাস করছে সেটি সম্পূর্ণ সরকার নিয়ন্ত্রিত। গত বছর বিরোধীদের উপর বাসার আল আসাদ সরকারের নির্মম বিমান হামলায় ওমরান আহত হয়েছে বলে বিশ্ব মিডিয়ায় প্রচারণা পায়।
এটিকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ওমরান দাকেশের বাবা মোহাম্মদ দাকেশ ইরানের আল-আলাম টেলিভিশনের এক প্রতিবেদককে জানান, বাসার আল আসাদ সরকারের উপর হামলা চালানোর জন্য বিরোধী পক্ষ ও মিডিয়া ওমরানকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। মোহাম্মদ দাকেশ বলেন, তিনি তার সন্তানের সাথেই বসা ছিলেন। এমন সময় আমার বাড়িতে হামলা হয়। কিন্তু সেটি বিমান হামলা ছিল না। এতে ওমরান খুব সামান্য আহত হয়। তার নিজের ক্ষত থেকে সামান্য রক্ত ছিটকে ওমরানের মুখে লাগে।  হামলার পর মোহাম্মদ দাকেশ তার অন্য সন্তানদের খুঁজতে থাকেন।এসময় এক অস্ত্রধারী এসে ওমরানকে নিয়ে বাইরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলে। সেখানে তারা ওমরানের ছবি তোলে। ওমরানকে হাসপালে নেয়ার প্রয়োজন না হলেও তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।এটি ওমরানকে ব্যবহার করে আসাদ বিরোধীদের প্রপাগান্ডা চালানোর কৌশল ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তারা ওমরানের রক্ত নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। আর এজন্যই তারা তার ছবি প্রকাশ করে। ওমরান দাকেশের ঐ ভিডিও ও ছবি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।বাসার সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিতে ঘটনাটি দারুণ উপকারে আসে বিরোধীদের।

জাল নোট রোধে ব্যাংকগুলোকে বিজ্ঞাপন প্রচারের নির্দেশ

রমজান উপলক্ষে জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ভিডিও চিত্র ব্যাংকের সব শাখা এবং রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১১ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত এটি প্রচার করতে হবে। ঢাকার ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিডিও প্রচারের তারিখ ও স্থান সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের বিনোদনে স্থাপিত টিভিতে ভিডিও চিত্রটি দেখাতে হবে।
গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ, প্রদান ও এটিএম বুথে টাকা ফিডিং করার সময় জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দিয়ে নোটগুলো পরীক্ষা করতে হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আসল ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ভিডিও চিত্রটি সংযুক্ত সূচি অনুযায়ী ঢাকা শহরে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসগুলোর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বগুড়া জেলাসহ অন্য বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে বা রাস্তার মোড়ে প্রচার করতে হবে। শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি স্থানে এ ভিডিও প্রচারের জন্য ৫৬টি ব্যাংককে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১১ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত প্রতিটি ব্যাংক তাদের নির্ধারিত স্থান ও তারিখে এ ভিডিও প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি ব্যাংককে দু’বার করে ভিডিও প্রচারের সময়সীমা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

আহমেদ শফীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। রাজধানীর ধূপখোলার আজগর আলী হাসপাতালে ডা. নুরুজ্জামানের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের এই চেয়ারম্যান। বুধবার বেলা ১১টায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবারের তুলনায় শফীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আহমেদ শফী হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত রোগব্যাধিতে ভুগছেন। হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল রাজধানীর ধূপখোলার আজগর আলী হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। হাসপাতালটির সিনিয়র ম্যানেজার (প্রশাসন) মোতাহার হোসেন জানান, হার্ট, মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন ও এন্ড্রোক্রাইনোলজিস্টসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট পর্যলোচনা করে দেখছেন। পরে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আল্লামা শফীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করবেন বলে জানান তিনি। ৯৬ বছর বয়সী আহমেদ শফী বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলামের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন।

কাতার সংকটের অবসান চায় বাংলাদেশ

কাতার ইস্যুতে দৃশ্যত কোনো অবস্থান ব্যক্ত না করলেও সমঝোতার মাধ্যমে এ সংকটের অবসান চায় বাংলাদেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সাতটি মুসলিম দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এসব দেশসহ মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের জনশক্তির বড় বাজার। অপরদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি কর্মী কাতারে যাচ্ছে। ফলে সংকটের অবসান হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। তাছাড়া মুসলিম উম্মাহর বিভাজন পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব কারণে বর্তমান সংকটের অবসান ঘটিয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য চায় বাংলাদেশ। যে দেশগুলো কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সেগুলো হল- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, বাহরাইন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও মালদ্বীপ। কাতার ইস্যুতে সৃষ্ট পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিকভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশের প্রায় ১৮ লাখ কর্মী কর্মরত। উপসাগরীয় অন্য দেশেও বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী আছেন। অপরদিকে, কাতারে বাংলাদেশের কর্মী আছেন তিন লাখ ৮০ হাজার। প্রতি মাসেই ১০ থেকে ১২ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কাতারে যাচ্ছেন। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও বাংলাদেশের কর্মীদের প্রয়োজন হবে। এছাড়া সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হয়েছে যার অধীনে এক দশমিক আট বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখবে কাতার। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্যে ক্ষতিকর। মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরের বৈরী অবস্থানে থাকলেও উভয়ের সঙ্গেই বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের একটা টানাপোড়েন আছে- এটা আমরা সবাই জানি।
কিন্তু এটা সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর্যায়ে যাবে সেটা আমরা কল্পনাও করিনি। হঠাৎ করেই এটা হয়ে গেছে। তবে আমি এটা ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে থাকবে না। ফলে সৌদি আরবের কথায় আমাদের কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেখানে বাংলাদেশের যে কর্মীরা আছেন তারা যাবেন কোথায়? কাতার ছোট দেশ হলেও বাংলাদেশের কর্মী সেখানে অনেক বেশি। এখন সম্পর্ক ছিন্ন করলে, পরে যদি সম্পর্ক ঠিক হয়েও যায়, কাতার সেটা ভুলবে না। ফলে আমাদের ক্ষতি হবে। তাই আমাদের এমনভাবে চলতে হবে যে, সৌদি আরব ও কাতার উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক ঠিক থাকে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা দৃঢ় হতে হবে। আর দৃঢ় হলেই যে ক্ষতি হবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। জানতে চাইলে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ মঙ্গলবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত কুয়েতের আমীরের সমঝোতার উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের এখন অপেক্ষা করে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। পরিস্থিতির প্রতি আমাদের নজর থাকবে। এদিকে কাতারে কর্মরত বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস। মঙ্গলবার বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, কাতার ও উপসাগরীয় অন্য কয়েকটি দেশের মধ্যে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। পরিস্থিতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূতাবাস বাংলাদেশিদের করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের একক কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সম্প্রতি কাতারের বার্তা সংস্থার ওয়েবসাইটে দেশটির আমীরের বরাত দিয়ে সৌদি আরব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে সমালোচনা করে দেয়া মন্তব্য দেখা যায়। সেখানে ইরান ও মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষে বক্তব্যও দেখা যায়। এ নিয়ে সৌদি আরবসহ তাদের মিত্র দেশগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে আমীরের এসব মন্তব্য জুড়ে দেয়া হয়েছে। কাতার এটাকে ভয়াবহ ‘সাইবার ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কে কিছুটা আস্থার অভাব থাকলেও তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মতো বড় মতবিরোধ নেই। বরং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে কাতার অন্যতম শরিক দেশ। তাছাড়া, কাতারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকার একজন ওয়াকিবহাল কূটনীতিক যুগান্তরকে বলেন, কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টিতে মিসরের ভূমিকা থাকতে পারে। কেননা মিসরের সঙ্গে কাতারের বিরোধ রয়েছে। মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসির প্রতি কাতারের সহানুভূতি রয়েছে। তাছাড়া, কাতারের আলজাজিরার দু’জন সাংবাদিককে মিসরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ সিসির সরকার জেলে আটকে রাখা নিয়েও দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। সৃষ্ট সংকটের পর ইতিমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন স্থল ও আকাশপথে কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কাতার থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার ও কাতারের কূটনীতিকদের বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছে দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি সফরের ২ সপ্তাহের মাথায় এ সংকটের শুরু। রিয়াদে আরব-ইসলামিক সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন। এ বিষয়ে কাতার বলেছে, প্রতিবেশীদের এ আচরণ দুঃখজনক। এদিকে কুয়েতের আমীর বর্তমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। কাতার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে কুয়েতের আমীর শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যেতে পারেন।

কানাডার জঙ্গি সালমানের খোঁজে গোয়েন্দারা

কানাডার জঙ্গি সালমান হোসেন বাংলাদেশে অবস্থান করছে দাবি করে কানাডার একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপর তার বিষয়ে খোঁজ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। জঙ্গি ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। কানাডার ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়ে, ইহুদি গণহত্যায় উসকানি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে। ওন্টারিও রাজ্য পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশও রয়েছে সালমানের নামে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রোববার এক ফটোগ্রাফার সালমানকে ঢাকায় দেখেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এনসিবি (ইন্টারপোল) মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, সালমান কানাডায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। সে বাংলাদেশে অবস্থান করছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারপরও তার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। পুলিশের জঙ্গি দমন বিভাগ সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালমান বাংলাদেশে অবস্থান করছে কানাডার গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর তারা সালমানের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। গুলশানের একটি হোটেলে এবং উত্তরায় তাকে দেখা গেছে এমন ছবি প্রকাশ করেছে কানাডার গণমাধ্যম। প্রকাশিত সংবাদ ও ছবি সত্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সিটিটিসি ইউনিটকে কানাডা বা বাংলাদেশের কোনো সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। এ বিষয়ে সিটিটিসির উপ-কমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম খান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সালমানের বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। তার বিষয়ে আমরা খোঁজ করছি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, সালমান সত্যিই বাংলাদেশে অবস্থান করছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কানাডার সরকার কিংবা সে দেশের কোনো সংস্থা এ বিষয়ে কোনো তথ্য আদান-প্রদান করেনি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর সালমানের পুরো প্রোফাইল সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।
এ দেশের কোনো জঙ্গির সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, কানাডা বলছে, সালমান ৭ বছর ধরে নিখোঁজ। সে কোথায় আছে তারা জানে না। একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সালমান বাংলাদেশে অবস্থান করছে। কানাডার গণমাধ্যম সালমানের বিষয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। এ দেশে আইএসের সমর্থক জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি বা নব্য জেএমবির সঙ্গে তার কোনো কানেকশন রয়েছে কিনা তাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনই সালমানের অবস্থান এবং বাংলাদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে কানেকশন রয়েছে কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। সিটিটিসি সূত্র জানায়, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে সারা দেশে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের মিশন বাস্তবায়ন করেছিল নব্য জেএমবি। পরে তারা ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ হামলা করে। ওই সময় নব্য জেএমবির সমন্বয়ক ছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী। পরে পুলিশের এক অভিযানে তামিম মারা যায়। তামিমের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কিনা এ বিষয়েও খোঁজ করা হচ্ছে। কানাডার ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে একটি ভিডিওতে সালমানকে দেখা গেছে। সেখানে বাংলা ভাষাও শোনা যায়। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে উদ্দেশ করে কথা বলে সালমান। ২০১০ সালের জুলাইয়ে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে গণহত্যায় উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।