Tuesday, March 12, 2019

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার প্রদীপ নিভে গেল by রোবায়েত ফেরদৌস

২০১৮–এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি আশা টিমটিম করে জ্বলছিল। ওই দুই নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই আশার প্রদীপ এবার নিভে গেল কি না, সেই প্রশ্নের জন্ম হলো। ডাকসুর এই নির্বাচন, নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক কি না এবং এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে গেলাম কি না, সেই আশঙ্কাও দেখা দিল। এ থেকে সহজ উত্তরণের পথ নেই। ভেবেছিলাম এরপর দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। সেটি প্রথম ধাক্কা খেল এই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
অনেকে বলেন, ‘ডাকসু একটি মিনি পার্লামেন্ট। এটি দেশের গণতন্ত্রের সূতিকাগার’। এর মধ্যে হয়তো কিছুটা অতিশয়োক্তি আছে, কিন্তু কিছু সত্যও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে। সেই সত্যটিও এর মধ্য দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল। কয়েকটি হলে আমি দেখেছি ভোটারদের কৃত্রিম লাইন, যেটা অনেক ভোটারও অভিযোগ আকারে বলছিলেন। ভোট দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। এক ছাত্রকে আমি দেখলাম, সে সাভার থেকে আসে। তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরেও গেছেন। রোকেয়া হলে আমরা দেখলাম দুই দফা ভোট হলো, আবার তা বাতিলও হলো। আর কুয়েত-মৈত্রী হলে যা ঘটল, তা খুবই ন্যক্কারজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এমন কলঙ্ক আর হতে পারে না। আমি মনে করি, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।
কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্টকে যখন সরিয়ে দেওয়া হলো, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দেখে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু এরপরে আবার যা হলো, তা আমাদের ব্যথিত করেছে। সুফিয়া কামাল হলে দেখলাম, একটি মেয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরেও তাকে ভোট দিতে দেওয়া হলো না। আমি মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের দায়িত্ব থাকা প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কাজেই শিক্ষক হিসেবে আমরা যে একটি উচ্চ নৈতিকতার কথা বলতাম, সেটি আর থাকল না। এর কারণ হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষের শিক্ষকেরাই হলসহ বিভিন্ন প্রশাসনের দায়িত্ব পান। ফলে তাঁদের ভেতরে কোথাও এমনটা থাকে যে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে জয়ী করতে হবে। এটা হয়তো সরকারপ্রধান চান না। তিনি হয়তো চান, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।
কিন্তু এই যে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। যাঁরা একজন শিক্ষককে বড় পদ এনে দেন, তার বিনিময়ে তাঁর পক্ষে কাজ করার কোনো পূর্বশর্ত তৈরি হয় কি না, সেটা এবার সুস্পষ্টভাবে সামনে এল। প্রশাসনের বড় পদে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যেও এই ক্ষমতার সেতুবন্ধের ধারণা কাজ করে। এটা একধরনের অন্তর্গত দাসত্ব তৈরি করে।
আর এই নির্বাচনে যাঁরা বিরোধী ছিলেন, তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন, এই নির্বাচনে তাঁরা জয়ী হয়ে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, তা আবারও তাঁরা তুলবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জাতীয় পর্যায়ের সংগ্রাম আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তুলবেন তাঁরা। সেই ভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বাড়তি ভয় হিসেবে কাজ করেছিল বলে আমার মনে হয়। কাজেই শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির লেজুড়বৃত্তি এর মধ্য দিয়ে এক হয়ে গেল।
এই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না বলে আমার মনে হয়। আমরা এই নির্বাচনকে নিয়ে দেশের গুণগত পরিবর্তনের যে আশা দেখেছিলাম, তা এবার বাস্তবতায় এসে হোঁচট খেল।
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সাধারণ শিক্ষার্থী সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে সবাই নির্বাচিত হতেন বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরল হক নুর। ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন। নুর এই প্যানেল থেকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর চেয়ে প্রায় ২ হাজার বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
নবনির্বাচিত ভিপি দাবি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘রাতে ব্যালটে সিল মেরে বক্স ভর্তি, বাইরের শিক্ষার্থীরা যেন ভোট দিতে না পারে সেজন্য গণরুমের শিক্ষার্থী এবং নিজেদের লেজুরবৃত্তিক অপরাজনীতি করা নেতা-কর্মীদের দিয়ে বিশাল লাইন করানো। এতো কারচুপি, অনিয়ম, রাতভর ইঞ্জিনিয়ারিং করেও নুর এবং আখতারকে হারাতে পারেনি।
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের পুরো প্যানেল জিততো। তার অন্যতম উদাহরণ সুফিয়া কামাল, শামসুন্নাহার ও কুয়েত মৈত্রী হল।
আলোচিত নির্বাচনে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক নুর। ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। ডাকসুর ২৫ পদের মধ্যে ২৩টিতেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী আখতার হোসেন। ভিপি পদে নুরুল হক পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
ফল ঘোষণার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা তার বহিস্কারের দাবি করেন। গতকাল নির্বাচন চলাকালে ভোট কেন্দ্রে অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান নুর। যদিও দুপুরের পরই ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে।

আজব এক নির্বাচন

আজব এক নির্বাচন হয়ে গেল উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে সংসদের এই নির্বাচনে একটিই মাত্র ব্যালট পেপার। তাতে একটি মাত্র নাম। বিরোধী দলীয় কারো নাম নেই তাতে। ভোটার ভোটকেন্দ্রে গেলে তাকে ধরিয়ে দেয়া হয় সেই ব্যালটপেপার। তাতে টিক চিহ্ন বা ছাপ দেয়ার দরকার নেই। শুধু ব্যালটবাক্সে ফেলে দিলেই হয়ে গেল ভোট দেয়া। প্রতিজন ভোটারের ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক।
ফলে ওই নির্বাচনে শতকরা ১০০ ভাগ ভোট পড়ে। নির্বাচনের পরে বিজয়ী নেতার পক্ষে উল্লাস করতে হয় ভোটারদের। রোববার এমনই এক আজব নির্বাচন হয়ে গেল উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে ভিন্নমত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীনরা যা বলবেন, যা করবেন, তাকেই অনুমোদন দিতে হবে ভোটারদের। এমন নির্বাচনকে পশ্চিমা বিশ্ব রাবার স্ট্যাম্প ভোট বলে আখ্যায়িত করেছে।
দেশটিতে ক্ষমতায় নেতা কিম জন উন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর এটি হলো সেখানে দ্বিতীয় নির্বাচন। এখানে সংসদের আনুষ্ঠানিক নাম হলো ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’ বা (এসপিএ)। এই নির্বাচনে ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক। কে কে প্রার্থী হবেন তা নির্ধারণ করে দেয়া হয় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। ফলে এতে অন্য কোনো প্রার্থী বেছে নেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এখানে নেই বিরোধী দল বলে কিছু। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার শত ভাগ। সরকার যে জোট তৈরি করবে সেই জোটকেই সর্বসম্মতভাবে ভোট দিতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি, গার্ডিয়ান সহ বিভিন্ন মিডিয়া।
এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। কিম পরিবার বংশপরম্পরায় শাসন করছে। শাসক পরিবার এবং ক্ষমতাসীন নেতার প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক।
যেভাবে ভোট হয়
বিবিসি লিখেছে, সরকারের সমর্থনে উল্লাস প্রকাশ করা উত্তর কোরীয়দের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নির্বাচনের দিনে ১৭ বছর বয়সের ওপরে সব নাগরিককে ভোট দিতে যেতে হয়। আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে আপনাকে খুব ভোরে নির্বাচন কেন্দ্রে হাজির হতে হবে- এ কথা বলেছেন উত্তর কোরিয়া বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ ফিয়োদর টার্টিস্কি। তিনি আরো বলেন, এর মানে হলো সবাই একসাথে হাজির হওয়ার পর ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইন।
এরপর ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে ঢুকবেন, তখন তার হাতে একটি ব্যালট পেপার দেয়া হবে। ব্যালট পেপারে একটাই নাম থাকবে। সেখানে কোন কিছু লিখতে হবে না। কোন বাক্সে টিক চিহ্ন থাকবে না। ভোটার শুধু ব্যালট পেপারটি নিয়ে একটি বাক্সে ভরে দেবেন। ভোটের বাক্সটিও সাধারণত খোলা অবস্থায় রাখা হয়। নির্বাচন কেন্দ্রে ভোটের বুথ থাকে। কিন্তু কেউ সেখানে যায় না- বলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সেটা করা হলে সেই ভোটারের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
মি. টার্টিস্কি  বলেছেন, আপনি চাইলে ব্যালট পেপারের নামটিও কেটে দিতে পারেন। কিন্তু সেটা করলে নিশ্চিতভাবেই সরকারের গোপন পুলিশ আপনার সম্পর্কে খোঁজ-খবর শুরু করবে। এ ধরনের কাজ যারা করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাগল আখ্যা দেয়া হয়েছে। ভোট দেয়া শেষ হয়ে গেলে ভোটাররা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে যাবেন এবং সেখানে উপস্থিত অন্যান্য ভোটারের সাথে মিলে আনন্দ প্রকাশ করবেন, এই কারণে যে দেশের সুযোগ্য নেতাদের প্রতি সমর্থন জানাতে পেরে আপনি খুবই খুশি।
মিনইয়াং লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ভোটের দিনটিকে বরাবর একটি উৎসব হিসেবে দেখানো হয়। উত্তর কোরিয়ার ওপর ‘এনকে নিউজ’ নামে একটি নিউজ ওয়েবসাইটের সাংবাদিক মিনইয়াং লি।
যেহেতু ভোটদান বাধ্যতামূলক, তাই নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে কে ভোট দিতে যায় নি, কিংবা কে দেশ ছেড়ে চীনে পালিয়ে গেছে।
সংসদের হাতে তাহলে কী ক্ষমতা রয়েছে?
সুপ্রিম পিপলস্ অ্যাসেমব্লি' (এসপিএ) মূলত ক্ষমতাহীন, রাজনীতির ভাষায় যাকে রাবার-স্ট্যাম্প সংসদ বলা হয়। প্রতি পাঁচ বছর পর পর সংসদ নির্বাচন হয়। এটিই রাষ্ট্রের একমাত্র আইন প্রণয়নকারী শাখা। ফিয়োদর টার্টিস্কি বলেন, আমি জানি বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই বলে: ‘এসপিএর ক্ষমতা খুবই সামান্য। কিন্তু আমি বলবো এর ক্ষমতা আসলে শূন্য।
উত্তর কোরিয়ার আইন তৈরি হয় ক্ষমতাসীন দলের হাতে আর সংসদ শুধু সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়। তত্ত্বগতভাবে সংসদের হাতে যে ধরনের ক্ষমতা থাকা উচিত তার কিছু মাত্র নেই এসপিএ-র হাতে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন পেলে সে দেশের সংবিধানকে বদলে ফেলা সম্ভব। আর সংসদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিম জং-উনকে তার ক্ষমতা থেকে অপসারণ করাও সম্ভব। তবে সমস্যা হলো এসপিএ-র অধিবেশনও খুব নিয়মিতভাবে হয় না। প্রথম অধিবেশনের ছোট একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেটি সংসদের পক্ষ হয়ে কাজ করে।
উত্তর কোরিয়ায় কী বিরোধীদল নেই?
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন উত্তর কোরিয়ায় বিরোধীদলের কোন অস্তিত্বই নেই। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে সে দেশের সংসদে তিনটি দল রয়েছে। কিম জং-উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন। অন্যদিকে, সোশাল ডেমোক্রেট পার্টি আর চন্ডোইস্ট চঙ্গু পার্টির সামান্য কিছু আসন রয়েছে। তবে এই তিনটি দলের মধ্যে বিশেষ কোন তফাৎ নেই। তারা সবাই মিলে তৈরি করেছে এক জোট যেটি মূলত দেশ পরিচালনা করে। এই জোটের নাম ‘ডেমোক্রেটিক ফন্ট ফর দ্য রিইউনিফিকেশন অফ কোরিয়া।

কারচুপি করেও হারানো যায়নি নুরকে: আসিফ নজরুল

ডাকসু নির্বাচনে কতারচুপি করেও হারানো যায়নি কোট সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থী সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরকে। নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, যেখানে কারচুপির সুযোগ ছিলো না সেখানে পুরো প্যানেলেই পরাজিত হয়েছে ছাত্রলীগ।  উদাহরণ হিসেবে তিনি কুয়েত-মৈত্রী হলের কথতা উল্লেখ করেছেন।
ড. আসিফ নজরুলের পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে দেয়া হলো-
‘কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফল ভালো করে লক্ষ্য করুন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।   সেখানে ব্যালট ভরা বাক্স উদ্ধারের পর ছাত্রীদের তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়লে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ ছিল না সেখানে। ফলাফল? ১৩টির সব আসনে পরাজিত ছাত্রলীগ।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে ডাকসু ও বাকি সব হলের ফলাফল হয়তো তাই হতো। ডাকসুতে শুধু নূর আর আখতার না, জিততো কোটা আন্দালনের আরো অনেকে। বিভিন্ন আলামত  দেখে এটা মনে হয় যে, কোটার অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু নূর আর আখতারের সঙ্গে প্রতিদ্ধন্ধীর ব্যবধান এতো বিশাল ছিল যে কারচুপি করেও তাদের হারনো যায়নি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে নূরের কি ডাকসু ভিপি পদ গ্রহণ করা উচিত? আমার মতে, কোটা আন্দোলনের নেতারা সবাই যদি রাজি থাকে তাহলে তার ডাকসু ভিপির পদ গ্রহণ করা উচিত। ডাকসু ভিপি হিসেবেই হয়তো ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো  বেগবান করা সম্ভব। তবে নূরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোটা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে। বাম বা ছাত্রদলের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতো যদি তারা কোটার  নেতাদের সঙ্গে একসাথে নির্বাচন করতো। তারা এটি করেনি।
নূরের মধ্যে আমি দেখি তরুন বয়েসের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারন ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনভাবেই নেই।’

বৃটেনকে কোন পথে নিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে!

ব্রেক্সিট ইস্যুতে বৃটেনকে কোন পথে নিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে! এ প্রশ্ন আজ সবার। কারণ, আজ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনা সংক্রান্ত সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তি বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে উঠছে ভোটে। যদি এ চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে বৃটেনকে তৃতীয় কোনো সুযোগ দেবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন- এ কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লাউডি জাঙ্কার। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তেরেসাকে টার্গেট করে আছেন বিরোধী লেবার দলনেতা জেরেমি করবিন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারিতে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর হাউস অব পার্লামেন্টে ভোট হয়। তাতে ভয়াবহভাবে পরাজিত হন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তারপর ওই চুক্তিতে সংশোধন করা হয়।
ফলে তা আজ আবার অর্থপূর্ণ ভোটের জন্য পার্লামেন্টে তোলা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি আজও এ চুক্তি হাউস অব কমন্স প্রত্যাখ্যান হরে তাহলে কি হবে? হ্যাঁ, যদি আজও এ চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাবে কিনা সে বিষয়ে বুধবার আবার ভোট গ্রহণ হবে। যদি তাও প্রত্যাখ্যান করা হয় তাহলে বৃহস্পতিবার এমপিরা আবার একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন। তা হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে অনুরোধ করা হবে কিনা। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এর আগে সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দর কষাকাষিতে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লাউডি জাঙ্কারের সঙ্গে এমন বোঝাপড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এরপর স্ট্রাসবার্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সেখানে তেরেসা মে বলেছেন, তিনি ব্রেক্সিট চুক্তিতে আইনগথ বাধ্যবাধকতায় পরিবর্তন নিশ্চিত করেছেন। তবে বিরোধী লেবার দলনেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, তেরেসা মের এই ঘোষণায় কোনো পরিবর্তন নেই, যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তিনি পার্লামেন্টে দিয়েছিলেন।
ওদিকে সংবাদ সম্মেলনের সামান্য আগে হাউস অব কমন্সে এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন। অন্যদিকে তেরেসা মে নিশ্চিত করেছেন, আজ অর্থপূর্ণ ভোটের আগে এই চুক্তির বিষয়ে উন্মুক্ত বিতর্ক হবে। এর আগে এমন চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে জানুয়ারিতে তিনি ২৩০ ভোটের ব্যবধানে ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করেন। তাই আজকের ভোটের আগে তার এটর্নি জেনারেল জিওফ্রে কক্স পরিবর্তিত বিষয়গুলো প্রকাশ করবেন।
ওদিকে বিবিসির পলিটিক্যাল এডিটর লরা কুন্সেবার্গ তার বিশ্লেষণে বলেছেন,  মঙ্গলবার সকালে সরকার অনেকটা নার্ভাস হয়ে পড়বে। তারা এমনটা প্রত্যাশা করতে পারছেন না যে, খুব দ্রুত গতিতে, শুভাকাঙ্খীদের উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই চুক্তি পাস হবে।
সোমবার দিনের শেষভাগে ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ বারক্লে ব্রেক্সিট নিয়ে শেষ আলোচনার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদ্দেশে যাত্রা করেন তেরেসা মে। সেখানে কথা বলেন জ্যাঁ-ক্লাউডি জাঙ্কার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রেক্সিট বিষয়ক প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়েরের সঙ্গে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনার প্রক্রিয়া শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলে মন্তব্য করেছেন লিডিংটন।
ওদিকে জ্যাঁ-ক্লাউডি জাঙ্কার এমপিদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি মঙ্গলবারের ভোটে তারা চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেন তাহলে সবকিছু ঝুঁকিতে পড়বে। রাজনীতিতে কখনো কখনো দ্বিতীয়বার সুযোগ আসে। এখন সেই দ্বিতীয় সুযোগ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরপর আর কোনো তৃতীয় সুযোগ আসবে না। তাই পছন্দ কি হবে তা স্ফটিকের মতো পরিষ্কার করে বলতে হবে। বলতে হবে- এটাই সেই চুক্তি অথবা আদৌ ব্রেক্সিট চুক্তি হবে না।
ওদিকে আজকের ভোটে এই চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিট চুক্তি ভয়াবহভাবে এর আগে পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কার্যকর দর কষাকষিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পার্লামেন্ট সমর্থন করতে পারে এমন অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

‘কাশ্মিরে দমন অভিযান জনগণকে আরো শত্রুভাবাপন্ন করে তুলবে’

ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মিরে প্রতিবাদী জনতার ওপর যে দমন অভিযান চলছে তা তাদেরকে আরো বেশি শত্রুভাবাপন্ন করে তুলতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করেছেন কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তার সাবেক মিত্র মেহবুবা মুফতি। এ জন্য তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে ও ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, পালওয়ামা হামলার পর যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তা প্রশমনে এমন আলোচনা হওয়া উচিত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
২০১৪ সালের শুরুর দিক থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মেহবুবা মুফতি। এরপরই তার আঞ্চলিক দলের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্বাবাদী দল।
ডন লিখেছে, সোমবার ভারতের সেনাবাহিনী বলেছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ওই বিতর্কিত অঞ্চলে সব সশস্ত্র কাশ্মিরি যদি অস্ত্র ত্যাগ না করে তাহলে তাদেরকে হত্যা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা। গত মাসে পালওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ভারতের কমপক্ষে ৪০ জন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
এর জন্য দায়ী করা হয় ২০ বছর বয়সী একজন যুবককে। তারপর থেকে কাশ্মিরে ১৮ জন মানুষকে হত্যা করেছে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। 
পালওয়ামার ওই হামলার পর পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এক সাক্ষাতকারে মেহবুবা মুফতি বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, আভ্যন্তরীণভাবে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করা উচিত। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা হওয়া উচিত। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে যে অবস্থা তাতে যদি রাজনৈতিক কোনো উদ্যোগ না নেয়া হয় তাহলে এ পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের পুলিশ সোমবার বলেছে, পালওয়ামা হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারীদের একজনকে তারা হত্যা করেছে। সরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে শুটআউটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার হত্যা করা এই যুবকের নাম মুদাসির আহমেদ খান। তাকে জৈশ ই মোহাম্মদের শীর্ষ একজন কমান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভারত।

রোকেয়া হলে উদ্ধার হলো বাক্স ভর্তি ব্যালট by মরিয়ম চম্পা

সকাল ১১টা। রোকেয়া হলে প্রবেশ করতেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। নির্দিষ্ট সীমানার পরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি নেই। ফলে প্রবেশদ্বারের কিছুটা সামনে অবস্থান করে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। হঠাৎ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক নেতা এসে গণমাধ্যমকর্মীদের তাদের সঙ্গে ভেতরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় রোকেয়া হল ছাত্র সংসদ রুমে কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর, রাশেদ খান ও ফারুকসহ অন্য নেতারা অবস্থান করছিলেন।
ভোটকেন্দ্রের পাশে একটি কক্ষে রাখা ব্যালট বাক্স উদ্ধারের বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তারা ভোটকেন্দ্রের পাশের কক্ষের সামনে গিয়ে জড়ো হন। কক্ষটি ছিল তালা মারা।
এ সময় কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুর কক্ষের ভেতরে থাকা ব্যালট বাক্স বের করে প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরতে বলেন। দরজা ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জিনাত হুদা এসে রুমের সামনে দাঁড়ান।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় এ হলের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুই ঘণ্টা ভোটদান কার্যক্রম চলার পর সকাল সাড়ে ১১টার পরে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন প্রভোস্ট জিনাত হুদা। জিনাত হুদার সঙ্গে কোটা আন্দোলনের নেতাদের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ভিসির দোহাই দিয়ে বলেন রুম খোলা যাবে না। পরবর্তীতে কোটা আন্দোলনের প্রার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে রুমের ভেতরে তিনটি টিনের বাক্স পাওয়া যায়। বাক্সগুলোর তালা ভেঙে ভেতরে ব্যালট বোঝাই দেখতে পাওয়া যায়। তবে, ব্যালটে কোনো প্রকার সিল মারা ছিল না। এ সময় ছাত্রলীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরকে মারধর করেন।
এতে তিনিসহ কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ ও ফারুক আহত হয়েছেন। পরে নুরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ভোটকেন্দ্রে ৯টি ব্যালট বাক্সের মাঝে ৬টি উন্মুক্ত রাখা হলেও ৩টি ব্যালট বাক্স লুকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন ছাত্রীরা। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের দাবি, হলে ভোটের জন্য মোট ৯টি ব্যালট বক্স থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার মধ্য থেকে তিনটি বাক্স নির্ধারিত জায়গায় ছিল না। পরে একটি ব্যালট বাক্স টেবিলের নিচে লুকিয়ে রাখতে দেখেন তারা। অভিযোগ তোলা ছাত্রীদের সেখান থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে রোকেয়া হল ও এর ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
ব্যালট উদ্ধার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে। পরে বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়।

হলে হলে নিয়ন্ত্রিত ভোট by হাফিজ মুহাম্মদ

সকাল ৭:৪০ মিনিট। ভোটগ্রহণ শুরু হতে তখনও ২০ মিনিট বাকি। এরই মধ্যে প্রতিটি হলের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। হলের মূল গেট ছাড়িয়ে লাইন রাস্তায় পৌঁছে যায়। ভোটগ্রহণ শুরু হলে ধীর গতিতে লাইন আগুতে থাকে। তবে তা কিছু সময় পর মন্থর হয়ে পড়ে। লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের গলায় ঝুলানো ছাত্রলীগ প্রার্থীদের কার্ড। লাইনের কেউ কেউ ভেতরে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার ফিরে এসে লাইনে দাঁড়ান।
দিনভর এমন চিত্র দেখা গেছে হলগুলোর প্রবেশ পথে। বেলা দুইটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেও দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ঘোষণা ছিল লাইনে ভোটার থাকলে যত সময় লাগুক ভোট নেয়া হবে। বেলা দুইটায় হল ফটকে দীর্ঘ সারি থাকলেও হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা। বিরোধী প্রার্থীদের অভিযোগ সকাল থেকে হলে হলে নিজেদের কর্মী-সমর্থক ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে লাইনে দাঁড়িয়ে রাখে ছাত্রলীগ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন, কবি জসীম উদ্দীন, বিজয় একাত্তর, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখে নির্বাচন নিয়ে সকলের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু তা বেশি সময় ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ লাইন দেখে ভুল ভাঙে ভোটার ও প্রার্থীদের। সকাল থেকে যেভাবে লাইন দেখা যায় দুপুরেও থাকে একই লাইন। সিরিয়ালে দাঁড়ানো ভোটারদের চেহারাগুলোও একই। তাদের ভোট শেষ হলেও তারাই ঘুরেফিরে থাকছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বুথের নাম ধরে ধরে ঢাকলেও লাইনের সামনের ভোটারদের কেউ যান না। তাই পিছনে থাকা ভোটাররাই আগে আগে চলে যান। মাস্টারদা সূর্যসেন হল। ভোটার সংখ্যা ২১৭০। ভোট শুরুর আগেই এ হলের ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে যান ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাদের প্রায় সকলের গলায় ঝুলানো দেখা যায় ছাত্রলীগ প্যানেলের কোনো না কোনো প্রার্থীর ব্যাচ। আর হলের মূল ফটকে এবং নির্ধারিত ফটকে ছাত্রলীগের হলের নেতারা দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবী স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যরা থাকলেও তারা থাকেন অনেকটা নীরব। তাদের কাজ থাকে শুধু দাঁড়িয়ে থাকা। বেলা বাড়লেও লাইন আর কমে না। এরইমধ্যে অনেক ভোটারকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আবার লাইন দীর্ঘ দেখে কিছু কিছু ভোটার লাইনে দাঁড়াননি। যারা পরবর্তীতে আর ভেতরে প্রবেশ করতেই পারেননি। ফারুক হোসেন নামে এক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, তিনবার চেষ্টা করেও তিনি ভোট দিতে ভিতরে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে ভোটগ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সামনে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা আর তাকে বাধা দেননি। এ হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মোমিন বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি বেশি। এজন্য একটু সময় লাগছে। ডামি লাইনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্ড দেখেই কেন্দ্রের মূল স্থানে কেবল ঢুকতে দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। সকাল সাড়ে ৮টা। হলের মূল ফটকের বাইরে দীর্ঘ লাইন। হলের বারান্দার লাইনই বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ভোটগ্রহণও শুরু হয়। তবে তা ধীরগতিতে। ভোট শুরুর সময় যাদের লাইনে দেখা যায় সাড়ে ১০টায় তারাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় হলের প্রাধ্যক্ষ ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা লাইনের শুরুর থেকে ১০ জন চেক করে দেখছি। তারা সকলেই এই হলের ভোটার। ডামি লাইনের অভিযোগ সত্য নয়। এ হলে ১৭৯৯ জন ভোটার। আমরা ভোট নিচ্ছি তবে নির্দিষ্ট সময়ে সবাই ভোট দিতে পারবে।
প্রায় একই চিত্র দেখা যায় জিয়াউর রহমান হল ও বিজয় একাত্তর হলে। সকাল ৮টা ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্বে এ হল দুটিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজয় একাত্তর হলের লাইন কমলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় জিয়াউর রহমান হলে। এ হলের লাইন এতই দীর্ঘ ছিল যে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। লাইনটি যে ডামি ছিল তা ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় প্রকাশ পায়। লাইন থেকে কেউ বের হয়ে গেলেই ছাত্রলীগ নেতারা বলে, জুনিয়ররা কই ওদের লাইনে দাঁড়াতে বল। লাইন যেন ফাঁকা না হয়। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট। হঠাৎ এ হলের লাইন হাওয়া। সবাই ছাত্রলীগের হয়ে কেন্দ্রের বাইরে মিছিল করছে। প্রায় ১০ মিনিট এ মিছিল চলে। তখন রুম থেকে বের হয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান বলেন, যা হওয়ার হইছে এখন তোমরা চলে যাও।
কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যায় কবি জসীম উদ্‌দীন হলে। কেন্দ্রে তেমন লাইন দেখা যায় না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দেয়। তবে দুপুরের ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী পরপর দুবার হলে প্রবেশ করেন। তখন কেন্দ্রের বাইরের চিত্র হ-য-ব-র-ল হয়। পরবর্তীতে আবার ঠিক হয়ে যায়। এ হলের এজিএস (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দিদারুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবে এ হলে ভোট ভালো হয়েছে। তারপরেও ছাত্রলীগের কর্মীরা ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করছে। যারা প্রথমে ভোট দিতে যায় তারা পরের ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে চাপ দেয় বলে জানান তিনি। এ পাঁচটি হল ঘুরে কেন্দ্রীয় সংসদের স্বতন্ত্র প্যানেল স্বধিকারের এজিএস প্রার্থী রায়হান জানান, সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারছে না। সরকারি ছাত্র সংগঠনের প্যানেলকে জেতানোর জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‘এই নির্বাচন জাতির জন্য বড় লজ্জার’

ডাকসু নির্বাচনের মূল্যায়ন করেছেন ডাকসুর সাবেক দুই ভিপি ও একজন ভিসি। তারা বলেছেন নির্বাচনে যা হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সব ঘটনার তদন্ত করা। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ডাকসু নির্বাচনে যা হলো তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ফের কলঙ্কিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের সরকারের সময়েও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি। সরকার যে নির্বাচনী সংস্কৃতি চালু করেছে তা রুখে দেয়ার সময় এসেছে বলে জানান তিনি। মৈত্রী হলের ভোট জালিয়াতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনা গোটা জাতির জন্য বড় লজ্জার। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান গোটা দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পারেনি।
সেলিম বলেন, ২৮ বছর পর শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের মতের প্রকাশ ঘটাতে। কিন্তু নির্লজ্জভাবে অন্যান্য নির্বাচনের মতো এখানেও জালিয়াতি করা হলো। এটি কলঙ্কিত করলো ডাকসুকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, নির্বাচন নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে তা তদন্ত করে বের করার দায়িত্ব এখন প্রশাসনের। সকালে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পাঠানোর কথা থাকলেও রাতে কেন পাঠানো হলো, হঠাৎ করে কেন রাতে পাঠানো হলো, কার ইন্ধনে এ কাজ হয়েছে তা তদন্ত হওয়া উচিত। কোনো গোষ্ঠী এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচন হয় না সেটা ভিন্ন বিষয়। এখন নির্বাচন হওয়ার পর সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, দেশের মানুষ আশাহত হবে তা কাম্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০০ বছরে যে ভাবমূর্তি অর্জন করেছে এর মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, ক্ষুণ্ন হয় এটা হওয়া উচিত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব নির্বাচন হয়, যেমন শিক্ষক নির্বাচন, সিনেট নির্বাচন সেখানে প্রশাসন দক্ষতার পরিচয় দেয়। শিক্ষকদের সেই দক্ষতা আছে। তারপর কেন এরকম হলো, এটাতে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না তা তদন্ত হওয়া উচিত। দোষীদের আইনের আওতায় আনা। শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছে, তারপরও কেন ব্যত্যয় হলো। তবে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ডাকসুতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের যৌথ প্রযোজনায় একটি ভোটের নামে ডাকাতি হয়েছে। প্রহসনের এ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের ভিন্ন একটি স্টাইল। ৩০শে ডিসেম্বর আগের রাতে ভোট হয়েছে ডাকসুতেও একই স্টাইলে আগের রাতে ভোট হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচেতন বলেই এটা ধরা পড়েছে। বিশেষ করে মেয়েরা প্রতিবাদী হওয়ায় এ ভোট ডাকাতি ধরা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি এখনই গণতন্ত্র উদ্ধারে সচেতন না হয় তবে দেশে ভোট বলতে অবশিষ্ট কিছু থাকবে না। বিতর্কিত এ নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিলের যে দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীরা করছেন তা খুবই যুক্তিসঙ্গত। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এর দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করে পুনঃনির্বাচনের দাবিও জানান তিনি।

বেকহ্যাম বান্ধবীর পুরো নগ্ন পোজ

ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে ড্যানিস মডেল হেলেনা ক্রিশ্চেনসেনের। তা নিয়ে ক্ষিপ্ত বেকহ্যামপত্নি ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম। এর মাত্র কয়েকটি দিন পরেই সেই হেলেনা ক্রিশ্চেনসেন একদম নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। তার শরীরে সুতা বলতে কোনো আবরণ ছিল না। না কোনো অলঙ্কার, না পায়ে জুতাÑ কিছুই ছিল না তার শরীরে। একগাঁদা বাক্সের ভিতর তাকে পুরো নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে পোজ দিতে দেখা যায়। তবে নারীত্ব রক্ষা করেছেন হাত ব্যবহার করে। নিজেই এমন ছবি পোস্ট করেছেন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে।
এতে লিখেছেন, একটি বিস্ময়কর বইয়ের প্রকল্পে চমৎকার কাজ করেছেন বক্সিং হেলেনা। এখানে তার দু’চারটা তুলে ধরা হলো।
উল্লেখ্য, সাবেক স্পাইস গার্লখ্যাত ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম যখন জানতে পারেন তার স্বামী ডেভিড বেকহ্যামের সঙ্গে হেলেনা ক্রিশ্চেনসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তখন তিনি ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। ডেনমার্কের মডেল হেলেনা ক্রিশ্চেনসেনের বয়স এখন ৫০ বছর। আর বেকহ্যামের ৪৩। তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ৪৪। গত বছর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে একটি পার্টিতে ডেভিড বেকহ্যাম ও হেলেনা ক্রিশ্চেনসেনের একটি অন্তরঙ্গ সেলফি পোস্ট করেছিলেন হেলেনা ক্রিশ্চেনসেন। এরপর নারী সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ডেভিড বেকহ্যামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব নিয়ে ভিক্টোরিয়া নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়েল মাদ্রিদ ক্লাবের সাবেক তারকা ডেভিড বেকহ্যাম এডিদাস অ্যান্ড বৃটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলে একটি পার্টি আয়োজন করেছিলেন। সেখানেই চুটিয়ে আড্ডা মারেন ডেভিড বেকহ্যাম ও হেলেনা। এতে বেকহ্যামের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ডেভ গার্ডনার (৪২)। গার্ডনারের সঙ্গে যোগ হয়েছিলেন সেলিব্রেটি সঙ্গীতশিল্পী মার্ক অ্যান্থনি (৫০), ফারেল উইলিয়ামস (৪৫)। আবার গার্ডনার ও তার মডেল স্ত্রী লিভ টেলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন হেলেনা। তার ফ্রান্সের দক্ষিণে নিয়মিত একত্রিত হন। ফলে বেশ কিছু উচ্চ পর্যায়ের নারীর সঙ্গে ডেভিড বেকহ্যামের যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠছিল তা নিয়ে এক অস্বস্তিতে ছিলেন ভিক্টোরিয়া। বেকহ্যামের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অভিনেত্রী চারলিজ থেরন (৪৩), মডেল রোজি হান্টিংটন-হোয়াইটলি (৩১), গায়িকা রিটা ওরা (২৮), ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল অ্যালেক্সা চুং (৩৫)-এর মতো নারীদের।

নীরব মোদি লন্ডনে সরব

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ভারতের পুলিশ। কোন দেশে পালিয়ে আছেন, তা নিয়ে আছে অনেক জল্পনা। অবশেষে খোঁজ মিলল তাঁর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদকের চোখে পড়ে গেছেন নীরব মোদি। লন্ডনের পশ্চিম প্রান্তের এক রাস্তায় মোদিকে হেঁটে যেতে দেখেন তিনি। নীরব মোদির সঙ্গে ওই প্রতিবেদকের দুই মিনিটের একটি কথোপকথনের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করে দৈনিকটি। প্রতিবেদকের সব প্রশ্নেই মোদির এক উত্তর, ‘নো কমেন্টস’।
গোলাপি শার্ট ও দামি কোট পরা মোদিকে হঠাৎ করে চেনা বেশ কঠিন ছিল। গোঁফও রেখেছেন তিনি। প্রতিবেদক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘কত দিন লন্ডনে থাকার পরিকল্পনা তাঁর?’, ‘এখন তাঁর অর্থের পরিমাণ কত?’, ‘লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন কি না?’। কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি মোদি। একটি ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে ওই জায়গা থেকে নীরবে সরে যান তিনি। তবে মন্তব্য না করলেও তিনি যে ভালো আছেন, তা বেশ বোঝা গিয়েছিল। তাঁর গায়ে ছিল উটপাখির চামড়ার জ্যাকেট, যার দাম ১০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।
পরে নীরব মোদির অবস্থান নিয়ে অনুসন্ধান চালায় টেলিগ্রাফ। জানা গেছে, লন্ডনের পশ্চিম প্রান্তে অভিজাত এলাকা সোহোতে আবার হীরার ব্যবসা শুরু করেছেন মোদি।
গত বছরের শুরুতে ২৮০ কোটি রুপি জালিয়াতিতে একজন হীরা ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রথম সন্দেহে আসে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (পিএনবি)। নীরব মোদি নামের ওই হীরা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের হীরার গয়নার দারুণ সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়েই। শুধু বলিউডের তারকারাই নন, হলিউড, এমনকি অনেক দেশের রাজপরিবারের সদস্যরাও পরছেন এই গয়না। এমন এক ব্যক্তির এ রকম জালিয়াতি কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ১৩ হাজার কোটি রুপি আত্মসাৎ করে উড়াল দেয় পাখি। তাঁকে এ কাজে সহযোগিতা করেন আত্মীয় মেহুল চোকসি।
মেহুল চোকসি এখন অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। ভারতে ফিরে না যাওয়ার বিষয়ে শারীরিক অসুস্থতা ও জীবননাশের হুমকি আছে—এমনটা দেখিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, নীরব মোদির আইনজীবীর দাবি, নীরবও জীবননাশের হুমকিতে আছেন। গত ডিসেম্বরে মোদির পক্ষে ভারতের মুম্বাই আদালতে তাঁর আইনজীবী বলেন, তাঁকে শয়তান হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ব্যাংক জালিয়াতির ‘পোস্টার বয়’ বানানো হয়েছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদক খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, নিজের এমন কৃতকর্মের পরেও বেশ উদাসীন একটা মনোভাব নিয়ে চলেন মোদি। সোহোতে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট আছে। প্রায় একটি কুকুর নিয়ে ভ্রমণে বের হন। তাঁর ওই অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য প্রায় ৮০ লাখ পাউন্ড বা ৭৫ কোটি রুপি।
যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানায়, নীরব মোদি এখানকার সরকারি বিমার আওতায় আছেন। তবে কেন তাঁকে এই সরকারি বিমা নম্বর প্রদান করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে ব্যবসা করতে চাইছেন। এমনকি ভারত যখন তাঁকে খুঁজছে, তখনো তিনি অনলাইনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
অন্যদিকে, ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা এনডিটিভি অনলাইনকে জানিয়েছে, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। কেউ যদি জালিয়াতি করে, তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি লন্ডনে শরণার্থীর মতো আছেন।’
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেছেন, ‘নীরব মোদি যে লন্ডনে, তা ভারত সরকার জানে। এ জন্য আমরা যুক্তরাজ্যের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। তাঁকে রাস্তায় দেখা গেছে—এর মানে এই নয় সবকিছু এখন দ্রুত হয়ে যাবে।’

মার্কিন ঘাঁটির পাশেই থাকতেন মোল্লা ওমর

আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে ধরতে কত কিছুই না করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। একসময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করে দেশটি। অথচ মার্কিন সেনাদের নাকের ডগায় ১২ বছর নিশ্চিন্তে অবস্থান করেছেন মোল্লা ওমর। তাঁর মৃত্যুও হয়েছে স্বাভাবিক।
নেদারল্যান্ডসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক বেট্টে ড্যামের ‘সার্চিং ফর এন এনিমি’ বইয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ডাচ্‌ ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে বইটি। কিছুদিনের মধ্যে ইংরেজি ভাষায় বাজারে আসবে এটি।
ওয়াশিংটন বিশ্বাস করত, মোল্লা ওপর পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে নতুন এই জীবনীগ্রন্থে বলা হচ্ছে, মোল্লা ওমর তাঁর নিজ প্রদেশ জাবুলে অবস্থিত একটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে তিন মাইল দূরে বসবাস করতেন। ২০১৩ সালে মৃত্যু অবধি সেখানেই ছিলেন তিনি। তিনি পরিবারের কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না। আর কাল্পনিক ভাষায় দিনপঞ্জিতে নোট লিখে রাখতেন।
বইটি লিখতে প্রায় পাঁচ বছর গবেষণা করেছেন ড্যাম। তিনি মোল্লা ওমরের দেহরক্ষী জাব্বার ওমারির সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান মোল্লা ওমর। সে সময় থেকে তালেবান নেতার দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করেন জাব্বার ওমারি। ২০১৩ সালে অসুস্থ হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তালেবান নেতাকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন ওমারি।
ওই গ্রন্থে বলা হয়, ওমর প্রতিদিন বিকেলে বিবিসির পশতু ভাষার খবর শুনতেন। তবে তিনি আল-কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ও বাইরের জগতের বিষয়ে খুব কম মন্তব্য করতেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে উৎখাতে উঠেপড়ে লাগে যুক্তরাষ্ট্র। তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান দখলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। মোল্লা ওমরের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন সেনাদের নাকের ডগায় অবস্থিত একটি বাড়িতে ১২ বছর অবস্থান করেন মোল্লা ওমর। মার্কিন বাহিনী দুবার তাঁর খুব কাছাকাছি এলেও তাঁকে খুঁজে পায়নি। একবার মার্কিন বাহিনী ঘাঁটির খুব কাছাকাছি এসে চলে যায়। আরেকবার মার্কিন সেনারা ওই বাড়িতেই তল্লাশি চালায়। কিন্তু তাঁরা মোল্লা ওমরের ঘরের গোপন কুঠুরি না খুলেই চলে যায়। ফলে, সে যাত্রাতেও ধরা পড়েন না ওমর।
২০০৪ সালে একবার স্থান পরিবর্তন করেন ওমর। তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে নির্মাণকাজ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি তাঁর দ্বিতীয় বাড়িতে চলে যান। ধরা পড়ার ভয়ে কখনো ওই জায়গা থেকে সরে যেতে সাহস করেননি ওমর। খুব কম বাইরে যেতেন। মার্কিন বিমান বাড়ির ওপর দিয়ে গেলে তিনি টানেলে লুকিয়ে থাকতেন। ড্যামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওমর কেবল তাঁর দেহরক্ষী ও রাঁধুনির সঙ্গে কথা বলতেন। সিমকার্ড ছাড়া পুরোনো মডেলের একটি নকিয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন তিনি।
জাব্বার ওমারি জানান, আত্মগোপনে থাকার এই সময় মোল্লা ওমরের পক্ষে তালেবান গোষ্ঠীকে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে তালেবান জঙ্গিরা সে সময় দাবি করতেন, তাঁরা মোল্লা ওমরের নির্দেশে কাজ করছেন।

ইথিওপিয়ার বিধ্বস্ত বোয়িং নিয়ে নানা প্রশ্ন

ইথিওপীয় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বোয়িং। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির নতুন সংস্করণ ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের। এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে এই মডেলের দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ সংস্করণের ইন্দোনেশিয়ার উড়োজাহাজ লায়ন এয়ার বিধ্বস্ত হয়।
গত রোববার ইথিওপীয় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে সব যাত্রী, ক্রুসহ ১৫৭ জন নিহত হন। উড়োজাহাজটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি যাচ্ছিল। আদ্দিস আবাবা থেকে ওড়ার ছয় মিনিটের মধ্যে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে নয়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩০টিরও বেশি দেশের যাত্রীরা ছিলেন এতে। এর মধ্যে কেনিয়ার ৩২ জন, কানাডার ১৮ জন ও যুক্তরাজ্যের সাতজন ছিলেন। নিহত যাত্রীদের মধ্যে ১৯ জন জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্লোভাক এমপি অ্যানতন হেরোনকো জানান, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান ছিলেন উড়োজাহাজটিতে।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আজ সোমবার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে ইথিওপিয়া।
বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ আকাশপথে নতুন সংযোজন। ২০১৭ সাল থেকে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ‘গভীর সমবেদনা’ প্রকাশ করেছে বোয়িং। কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
গত অক্টোবরে লায়ন এয়ার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তদন্তকারী দল জানিয়েছিল, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের নতুন ফিচার অনুসারে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উড়োজাহাজটিকে থামাতে (স্টলিং) বেগ পেতে হচ্ছিল পাইলটকে। উড়োজাহাজটিকে থেমে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়ার পদ্ধতিটি (অ্যান্টি-স্টলিং) ক্রমাগতভাবে উড়োজাহাজটিকে নাক বরাবর নিচে নামিয়ে দিচ্ছিল। পাইলট চেষ্টা করেও এটা ঠিক করতে পারেননি। লায়ন এয়ার বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৯ জন নিহত হয়েছিলেন। লায়ন এয়ারের উড়োজাহাজটিও নতুন ছিল এবং আকাশে ওড়ার কিছু সময় পরই তা বিধ্বস্ত হয়।
মার্কিন পরিবহন বিভাগের সাবেক মহাপরিদর্শক ম্যারি স্কিয়াভো সিএনএনকে বলেন, এটা খুবই সন্দেহজনক। একটি আনকোরা ব্র্যান্ডের উড়োজাহাজ বছরে দুবার বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এটা এভিয়েশন শিল্পের জন্য সতর্কবার্তা। কারণ, আগে এমনটা ঘটেনি।
লায়ন এয়ার দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষকে বোয়িং অ্যান্টি-স্টলিং পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক করে জরুরি বার্তা পাঠায়।
রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, এই সমস্যা সমাধানে একটি সফটওয়্যার যুক্ত করার আশা করছে বোয়িং।
এভিয়েশন নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক ও সাবেক পাইলট এন্ড্রু ব্ল্যাকি বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, পদ্ধতির পরিবর্তনগুলো নিয়ে হয়তো ফ্লাইট পরিচালনাকারীদের কাছে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এভিয়েশন ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নতুন কোনো উড়োজাহাজের দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়।
ইথিওপীয় উড়োজাহাজ অ্যান্টি-স্টলিং পদ্ধতির কারণে দুর্ঘটনায় পড়েছে কি না, তা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়নি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য কারিগরি সমস্যা বা মানুষের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই চিন্তাও বাদ রাখা যাবে না।
ইথিওপীয় উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট পরিচালনায় সুনাম রয়েছে। যদিও এর আগে ২০১০ সালে বৈরুত ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে এই প্রতিষ্ঠানের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৯০ জন নিহত হয়েছিলেন।

ছবিতে ডাকসু নির্বাচনের আদ্যপান্ত- মামলা করুন: রিটার্নিং কর্মকর্তা by আতিক নয়ন @ ছবি: জীবন আহমেদ

ডাকসু নির্বাচনে  প্রার্থীদের ওপর হামলা , ভোটে কারচুপি, অনিয়ম ও অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন চিফ রিটার্নিং অফিসার মাহফুজুর রহমান। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় নির্বাচনের ফল ঘোষণা স্থগিতের জন্য ভোট বর্জনকারী ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যে সব ঘটনা আপনারা অপ্রীতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সেগুলোর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাদের মামলার অধিকার আছে আপনারা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ভোট বর্জন করার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত স্বতন্ত্র জোট, স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী ও সমর্থকেরা। এরপর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে তারা নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দেখা করতে যান। সেখানে তারা মৌখিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফল ঘোষণা স্থগিতের আহ্বান জানালে তিনি লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
পরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন প্রার্থীরা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানে বাধা দান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, কারচুপি, প্রার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা, ভোট বাক্স নিয়ে লুকোচুরি, ভোট দেয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী লিটন নন্দী, সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাশেদ খান, ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ আর এম আনিসুর রহমান ও স্বতন্ত্র জোটের সহ-সভাপতি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান স্বাক্ষর করেন।


২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রেীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটার শিক্ষার্থীরা।


তখনও ভোট শুরু হয়নি। অপেক্ষা


এমন নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা ঢাবি ক্যাম্পাস আগে দেখা হয়নি। তাই একটি সেলফি।


উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।


ক্যাম্পাসে নিরাপত্তায় নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ।


বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে আগেই ভোট দেয়া ব্যালট উদ্ধার! বিক্ষোভ


রিটার্নিং অফিসারের গাড়িতে ভোট দেয়া ব্যালট ছড়িয়ে দিয়ে জবাব দাবি।


অবৈধভাবে ভোট দেয়া ব্যালট উদ্ধারের পর মনের কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এক শিক্ষার্থী। এমন ডাকসু কি চেয়েছিলেন তিনি ।


অবৈধ ভোট দেয়া ব্যালট প্রদর্শন।


‘‘অনেক হয়েছে স্যার, আর নয়’’ ।


অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নারী ।


ভোট বর্জন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল।


রাজু ভাস্কর্যের সামনে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।


ভোট বাতিলের দাবিতে ভিসির বাংলো আবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন।
(ছবি: জীবন আহমেদ)।

উত্তাল ক্যাম্পাস বিক্ষোভের ডাক by জিয়া চৌধুরী ও মুনির হোসেন

আটাশ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। তবে তা হয়েছে কলঙ্কজনক এক অধ্যায় রচনার মধ্য দিয়ে। সাম্প্রতিক অন্যান্য নির্বাচনগুলোর অনিয়মের ধারাবাহিকতাই দেখা গেল ডাকসু নির্বাচনে। রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বস্তা ভরে রাখা, ব্যালট লুকিয়ে রাখা, মেকি লাইন দিয়ে সাধারণ ভোটারদের আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে মিনি পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু নির্বাচনে। তবে ব্যতিক্রম শুধু প্রতিবাদের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে নানা অনিয়ম হলেও তার প্রকাশ্য প্রতিবাদ ছিল না খুব একটা। এক্ষেত্রে নতুন ইতিহাসই গড়লেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের ছাত্রীরা।
তারা অনিয়ম ধরেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। পুরো নির্বাচনের চিত্রটি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।
আলোচিত ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যসব প্যানেলের প্রার্থীরা দুপুরের পরই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। নির্বাচন বাতিল এবং অনিয়মের তদন্ত দাবি করে তারা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এদিকে নানা অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করে অভিযোগকারীদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আখতারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলটিতে নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নির্বাচন শুরু হয়।
ভোট শুরুর আগেই ছাত্রলীগের পূর্ণ প্যানেলে ভোট
সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে দুপুর সোয়া ১১টায়। ভোটগ্রহণের শুরুতে প্রার্থীরা ব্যালট বাক্স খালি কিনা দেখতে চায় কিন্তু প্রশাসন তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকে শিক্ষার্থীরা। তারা ব্যালট বাক্স দেখানোর পর নির্বাচন করবেন বলে প্রাধ্যক্ষকে জানিয়ে দেন এবং বিক্ষোভ করেন। এ বিষয়ে কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুন্নাহার পলি অভিযোগ করেন, হলের মিলনায়তনের পাশে রিডিং রুমে বসে ব্যালটে ভোটের চিহ্ন দেয়া হচ্ছিল। ‘ভেতর থেকে দরজায় ছিটকিনি দিয়ে ভেতরে বসে এগুলো করছিল। ওই রুমে বসে সিল মারছিল। আমরা সাড়ে ৭টার দিকে ম্যামকে বলেছিলাম ‘ম্যাম আমরা দেখবো ব্যালট বাক্স খালি কিনা। তিনি কিছুতেই দেখাবেন না। উনি বলেন, প্রক্টর স্যার এসে দেখাবেন। ‘প্রক্টর স্যার এসে বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
সব দেখাবো। এটা বলে তিনি ওই রুমে নিয়ে গিয়ে ছিটকিনি দিয়ে দিয়েছেন। আমরা দরজা ধাক্কাচ্ছি, কিছুতেই খোলে না। যখন দরজা খুললো, আমরা ভেতরে গিয়ে দেখি বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার।’ এদিকে শিক্ষার্থীরা যখন ব্যালট বাক্স মিলনায়তন থেকে বের করে আনেন তখন সেখানে পাওয়া বস্তাভর্তি ব্যালটে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেয়া দেখতে পান। এ ঘটনায় বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মু. সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
ছাত্রীরা দুই শিক্ষককে ঘিরে ধরে ব্যালটে কেন ভোট দেয়া জানতে চান। তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেটি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা এর কারণ ও প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের পদত্যাগ দাবি করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ও চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে হলটির প্রাধ্যক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়। গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি। নতুনভাবে প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয় অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীনকে। পরে তার নেতৃত্বে তিন ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তখন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন তারা, চলবে বিকাল পাঁচটা ১০ মিনিট পর্যন্ত। মৈত্রী হলে গিয়ে দেখা যায়, বস্তাভর্তি ব্যালট বাক্স ভেতর থেকে নিয়ে আসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। এ সময় তারা বলেন, আগের রাতেই এসব ব্যালটে ‘ক্রস চিহ্ন’ দিয়ে ভোটের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। যেসব নামে ভোটের চিহ্ন দেয়া হয়েছে সেগুলো ছাত্রলীগের হল প্যানেলের প্রার্থীদের।
ট্রাঙ্কভর্তি ফাঁকা ব্যালট নিয়ে উত্তেজনা, তিন ঘণ্টা বন্ধ নির্বাচন
এদিকে রোকেয়া হলে নির্বাচন শুরু থেকে তিনটি ব্যালট বাক্স দেখার আপত্তি জানিয়েছিল প্রার্থীরা। কিন্তু প্রশাসন নয়টির মধ্যে ছয়টি দেখালেও বাকি তিনটি দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে ক্ষোভ শুরু হয় প্রার্থীদের মধ্যে। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। মারধর করা হয় কোটা আন্দোলনকারীদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূরসহ তিনজনকে। একপর্যায়ে লুকোচুরি করা তিনটি ব্যালট বাক্স বাইরে এনে ফাঁকা ব্যালট পায় প্রার্থীরা। যদিও সেসব ব্যালটে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে ভোট দেয়া আছে বলে অভিযোগ করেছিল তারা। নানা নাটকীয়তার পর বিকাল ৩টায় ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। হলটির রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, বিকাল ৩টায় তারা আবার ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন।
‘উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬০৭টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ কারণে বেলা সোয়া ১২টা থেকে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্য হলের বেঁচে যাওয়া ব্যালট পেপার এনে আমরা আবার ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছি।’ জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে সব হলে একসঙ্গে ভোট শুরুর কথা থাকলেও ব্যালট বাক্স সিলগালা করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রভোস্টের বাদানুবাদে ভোটগ্রহণ শুরু হতে এক ঘণ্টা দেরি হয়। বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল থেকে এ হলের জিএস প্রার্থী মনিরা দিলশাদ অভিযোগ করেন, সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে খালি ভোট বাক্স প্রার্থীদের দেখিয়ে সিলগালা করার দাবি জানানো হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা তাতে কর্ণপাত করেননি।
‘ভোটবাক্স খালি দেখালেও তিনি আমাদের সামনে সিলগালা করতে চাননি। এ নিয়ে বাদানুবাদ হয়। তিনি বারবার আমাদের বলছিলেন, তোমরা এমন কিছু করতে চাইলে আমাকে লিখিতভাবে জানাও। পরে দু-একজন সাংবাদিককে নিয়ে আমরা তার কাছে গেলে তিনি তাদের সামনে পরে ভোটবাক্স সিলগালা করেন।’ এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী বলেন, ‘ভোটগ্রহণ কক্ষের পেছনে আমরা একটি কন্ট্রোল রুম করেছিলাম। সেখানে একটি ট্রাঙ্কে ব্যালট পেপার রাখা ছিল। ছাত্রীরা অভিযোগ করছে, এই ব্যালট পেপারে সিল মারা ছিল আগে থেকে। কিন্তু আমি বলছি, ব্যালট পেপারগুলোতে কোনো সিল মারা ছিল না। তারা ব্যালট পেপারগুলো নিয়ে যাওয়ায় আমরা ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছি।’ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, এবং জিএস পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বানী রোকেয়া হলে গেলে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এ সময় সেখানে যান কোটা, স্বতন্ত্র জোট ও বাম জোটসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সব পক্ষের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে রোকেয়া হলে এ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করে সাধারণ ছাত্রীরা। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ব্যালট ‘ছিনতাইকারীদের’ প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে।
ছাত্রলীগ ছাড়া সবার নির্বাচন বর্জন, পুনঃতফসিল চেয়ে ভিসির পদত্যাগ দাবি
নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মেরে রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ব্যালট বাক্সের লুকোচুরি, প্রার্থীদের মারধর, আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে না দেয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরত দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যসব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করেন তারা। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে অনিয়মের দায় মাথায় নিয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগ দাবিতে। গতকাল দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে চারটি প্যানেল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করে।
নির্বাচন বর্জন করেছে জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্র মৈত্রীও। প্রথমে ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাম জোট, কোটা সংস্কার আন্দোলন, স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাম জোট থেকে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন, জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’ পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে এই ভোট বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করতে হবে। যারা এই ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘হলগুলোতে ভোটের পরিবেশ নেই। ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে।
ভোটগ্রহণে করতে হবে নতুন কমিটি।’ এ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদুল্লাহ হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে বাধা দিয়েছে। ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের উপস্থিতিতে রোকেয়া হলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয় এবং সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূরের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ আসে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে। সংবাদ সম্মেলনে কোটা থেকে এজিএস প্রার্থী ফারুক হাসান, ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজীর, স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তী খান এবং স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের জিএস প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান এই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলকানা প্রশাসনের একপক্ষীয় আচরণ, রাতভর কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালটে ভোট প্রদান, বিভিন্ন প্রার্থীর ওপর হামলা ও ভোটারদের বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে ভোট বর্জন করলাম।’
হলে হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ
এদিকে নির্বাচন শুরুর পর থেকে হলে হলে ছাত্রলীগ ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। তারা বলেন, হলের গেট থেকে অনাবাসিক ভোটারদের ফেরত দেয়া হচ্ছে। লাইনে অযথা দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট করতে চাচ্ছে ছাত্রলীগ। প্রার্থীদের অভিযোগ মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ভোটারদের লাইন ‘নিয়ন্ত্রণ’ করায় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার বলেন, ‘ছাত্রলীগের অবস্থানের ভয়ে অনেকেই ভোট দিতে আসছে না।
ছাত্রলীগ হলের প্রবেশমুখ থেকে ভোটার লাইন নিয়ন্ত্রণ করছে।’ এসব বিষয়ে জানতে এসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। এ বিষয়ে লিটন নন্দী বলেন, ‘হলের কেন্দ্র ছাত্রলীগ দখল করে আছে। আমি অভিযোগ জানাতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা চালায়।’ লিটন নন্দীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে হলটির প্রাধ্যক্ষ নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ভোটারদের লাইন মেহেদী হাসান সানি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এদিকে শহীদুল্লাহ হল, এস এম হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, স্যার এ এফ রহমান হলেও ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিয়েছে বলে বিক্ষিপ্তভাবে অভিযোগ করেছে প্রার্থীরা। ডাকসুর জিএস পদে ছাত্রদলের প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনীক বলেন, ‘১০টার পর থেকে শহীদুল্লাহ হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গেট পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এভাবে যদি নির্বাচন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হবে।’
অনিয়মের জন্য প্রশাসনকে দুষলেন: চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা
এদিকে নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যসব ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন বর্জন, কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালট বাক্স পাওয়াসহ কয়েকটি ঘটনায় নিজে বিব্রত বলে জানিয়েছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান। এসব ঘটনার জন্য হল প্রশাসনকে দায়ী করেন তিনি। বিকাল ৪টা ২৪ মিনিটে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন নির্বাচন বর্জন করা বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা নির্বাচনে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা না করার দাবি জানান। জবাবে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি কিছু বলবো না।
তোমাদের কথা শুনেছি।’ কর্মী ও প্রার্থীরা তখন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনারা নিয়ে থাকলে আমাদের কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করালেন।’ তখন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব ঘটনা আজ ঘটেছে সেগুলোর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত।’ এ সময় প্রার্থীরা বলেন, স্যার আপনি বিব্রত হলে কী হবে? আপনার অধীনে থেকে ভোটে কারচুপি হবে আর আপনি বিব্রত হয়ে একটি পক্ষকে জেতানোর কাজ করবেন, তা কী করে হয়? জবাবে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমার কী ক্ষমতা আছে বলো? আমি যথাযথ জায়গায় তোমাদের কথাগুলো জানাবো।’ কত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া যাবে এমন প্রশ্ন করলে ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলন, ‘যার কাছে, যেখানে যেতে তোমাদের মন চায়, তোমরা যাও। আমাকে সময় দাও। আমার কমিটি আছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।’ প্রায় আধা ঘণ্টা কথা কাটাকাটির পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ত্যাগ করেন প্রার্থীরা।
মামলা করবে ছাত্রলীগ
এদিকে রোকেয়া হলে ব্যালট ছিনতাই হয়েছে দাবি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল বিকাল ৪টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় নেতারা বলেন, ডাকসু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে রোকেয়া হলে ‘নাটক’ হয়েছে দাবি করে পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বাম সংগঠনগুলোর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, কোটা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষক পরিষদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর ও জিএস প্রার্থী রাশেদ খানকে মামলায় আসামি করা হবে বলে ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন। এ সময় গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘রোকেয়া হলে তারা ছিল ৪০ জন, আমরা ছিলাম ২ জন। খালি ব্যালট পেপার নিয়ে এসেছে সেখানে; সিল ছিল না। যখন নূর ধরা খেয়েছে, তখন অভিনয় করে ফিট হয়ে পড়ে গেল। এটা নাটক।’ তিনি বলেন, ‘তারা যে যে অভিযোগ করেছে, তার একটিও প্রমাণ করতে পারেনি। নাটক সুন্দর করে মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
কিন্তু পরে শিক্ষার্থীদের দ্বারা গণপ্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরে তারা এখন লজ্জার হাত থেকে বাঁচার জন্য সেইফ এক্সিট খুঁজছে।’ ছাত্রলীগ সভাপতি ও ডাকসুতে সংগঠনের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নূর, লিটন নন্দী ও ছাত্রদলের সকলে এক হয়েছে। গতকালই আমরা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম, তারা একত্রিত হয়ে এ কাজটি করবে।’ শোভন বলেন, ‘রোকেয়া হল থেকে ব্যালট ছিনতাই করে নূররা শিক্ষার্থীদের ‘স্বপ্ন ছিনতাই’ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হলে যে ব্যালট পাওয়া গিয়েছে, তার সঙ্গে হলের মূল ব্যালটের কোনো মিল নেই। হলের প্রভোস্টের সিগনেচার এবং সিলের সঙ্গেও কোনো মিল ছিল না।’ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘কীভাবে ব্যালট হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা ঘটলো, পুরো জাতি তা দেখল। দরজা ভেঙে আমাদের শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করে তারা সেটা বাইরে নিয়ে গেছে। এই ব্যালটগুলো ভুয়া ব্যালট, মূল ব্যালটের সঙ্গে এর মিল নেই।
যারা ভোট বর্জনের কথা বলছেন তারা নাটকটি সুন্দর করে মঞ্চস্থ করতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন নেই বুঝে তারা একটি সেফ এক্সিট খুঁজছিল।’ কুয়েত মৈত্রী হলসহ বিভিন্ন ঘটনায় ভোট দিতে না পারা এবং বাধা দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রাব্বানী বলেন, ‘কোন হলে কাকে বাধা দেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। আমরা শতভাগ ভোট কাস্ট হোক সেটা চেয়েছি। সবাই যেন ভোট দিতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ছিলাম। যেখানেই অভিযোগ শুনেছি, আমরা ছুটে গিয়েছি এবং সমাধানের চেষ্টা করেছি।’
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা: এদিকে ডাকসু নির্বাচনে পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ বিবৃতি দেন শিক্ষকরা। বিবৃতিতে তারা বলেন, আজ ১১ই মার্চ বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সঞ্চার হয়। আমরা কয়েকজন শিক্ষক নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামূলক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে অনুমতি দেন এই বলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব চাইলেই পালন করতে পারবো। আমরা সকাল নয়টা থেকে বিকাল দুইটা পর্যন্ত ছাত্রদের হল এসএম হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, এফ রহমান হল, শহীদুল্লাহ হল এবং ছাত্রীদের রোকেয়া হল এবং কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করি।
আমরা কুয়েত মৈত্রী হল থেকে আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরু করি কারণ, আমরা শুরুতেই জানতে পারি এই হলে ভোটদানে অনিয়মের কথা। আমরা জানতে পারি, ভোট গ্রহণ শুরু হবার আগে ছাত্রীরা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাদের কাছে ভোটদানের পূর্বে শূন্য ব্যালট বাক্স দেখতে চান কিন্তু তাদের এই ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করা হয়। এতে ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে কেন্দ্রের পাশের কক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের পক্ষে পূরণ করা প্রচুর ব্যালটপেপার উদ্ধার করে। সেগুলোর বেশ কিছু আমরা শিক্ষকরাও দেখতে পেয়েছি। এরকম অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ না হলেও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের লজ্জিত ও মর্মাহত দেখতে পাই। এক পর্যায়ে রোকেয়া হলে গোলযোগের খবর পাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, সকালের কুয়েত মৈত্রী হলের অভিজ্ঞতার পর, সরকারি ছাত্রসংগঠনের বাইরের নানান প্যানেলের শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রের পাশের রুমে ব্যালট পেপারের সন্ধান পান এবং সেগুলোকে দেখানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। কিন্তু সেগুলো ছিল সাদা ব্যালট পেপার। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিরোধীদের ওপর চড়াও হয়। বিরোধীপক্ষের কয়েকজন আহত হন।
উভয় পক্ষের উত্তেজনায় এরকম অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে রোকেয়া হলে, যার নিন্দা জানাই আমরা। এতে আরো বলা হয়, ছাত্রদের হলের ভেতরে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কতকগুলো অনিয়ম চোখে পড়ে। ক. ভোটারের আইডি চেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদস্যরাই বেশিমাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন এবং অনাবাসিক ছাত্রদের ভোট দিতে বাধাপ্রদান ও নিরুৎসাহিত করেন খ. ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেও, অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভোটারের সারির আশেপাশে অবস্থানগ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন গ. ভোটকেন্দ্রের অব্যবহিত বাইরে কৃত্রিম জটলা করে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু না হয় এবং বাকিরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয় ঘ. অনেকক্ষেত্রে বুথের ভেতরে আমরা সময় গণনা করে দেখেছি ৫ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছে কোনো কোনো ভোটার যা ইচ্ছাকৃত মনে হবার কারণ রয়েছে খ. ভোট চলাকালেই রোকেয়া হলের সামনে একটি সংগঠনের ২০/২৫ জন কর্মীকে বাইকের হর্ন বাজিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, একটি বড় অসঙ্গতি মনে হয়েছে, ব্যালট পেপারে কোনো সিরিয়াল নাম্বার ছিল না। ৪৩ হাজার ভোটারের একটি নির্বাচনের ব্যালটপেপারে সিরিয়াল নম্বর না থাকাটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ এতে নির্বাচনের ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম ঘটানো অনেক সহজ হয়ে যায়। কোন হলে কোন সিরিয়াল গেল, তাও ট্র্যাক রাখার উপায় থাকার কথা না। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এটাই বলতে চাই এই বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনাগুলো আমাদের খুবই লজ্জিত করেছে। এই ঘটনা করে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে যা সার্বিকভাবে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত করবে। এত বছর পরে অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষক সবার এবং এই ব্যর্থতা সমগ্র শিক্ষক সম্প্রদায়ের নৈতিকতার মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা চাই এই ব্যর্থতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। সেই সঙ্গে এই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হউক।
বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন- গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কামরুল হাসান, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রুশাদ ফরিদী, সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, তাহমিনা খানম, সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও অতনু রব্বানী, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ।

নয়া পাকিস্তানকে নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে

ভারতের পুলওয়ামায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) হামলার জেরে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিয়ে নয়াদিল্লি বলেছে, নয়া পাকিস্তান গড়তে হলে, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও নয়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
নয়া পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর সে দেশে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান খান। গত শুক্রবার এক সমাবেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে দেশের বাইরে হামলা কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। তাই তাঁর সেই নির্বাচনী স্লোগান তুলে ধরেই এবার পাকিস্তানকে খোঁচা দিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
পুলওয়ামা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার। সেখানে ইমরান খানের নির্বাচনী স্লোগান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নয়া চিন্তাভাবনাকে আশ্রয় করে নয়া পাকিস্তান গড়ে উঠছে বলে দাবি ওদের। তাই যদি হয়, তাহলে দেশের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হবে তাদের।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘২০১১ সালের ডিসেম্বরে আমাদের পার্লামেন্টে হামলা, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলার পর নেওয়া একই পাণ্ডুলিপির প্রয়োগ দেখছি আমরা। পাকিস্তান জঙ্গি ও জঙ্গিগোষ্ঠীকে বিতাড়নের দাবি করেছে, কিন্তু তা কেবল কাগজেই থাকে। বস্তুত জঙ্গিগোষ্ঠী ও জঙ্গিরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।’ এ ছাড়া ভারত ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের যুক্তিসংগত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো আন্তরিকতা দেখায়নি বলে দাবি করেছেন রবীশ কুমার।
পাকিস্তানের বালাকোটের যে এলাকায় ভারত বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, সেই এলাকায় ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিকদের যেতে দেয়নি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, পাকিস্তান সাংবাদিকদের সেখানে যেতে দেয়নি কারণ অনেক কিছুই তাদের লুকানোর রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটের ওই হামলায় জেইএমের শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিজয় গোখলে তখন বলেছিলেন, ওই দিনের হামলায় জেইএমের প্রশিক্ষণ শিবিরে অনেক সন্ত্রাসী, প্রশিক্ষক, জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং কয়েক দল জিহাদি নিহত হয়েছে। তবে ভারতের এই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ইমেজেও দেখা গেছে, মাদ্রাসা (ভারত যেটিকে শিবির বলছে) অক্ষত রয়েছে। মাদ্রাসাটি জইশ-ই-মুহাম্মদের তত্ত্বাবধানে চলত।
১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলায় আধা সামরিক বাহিনীর ৪০ জওয়ান নিহত হন। দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহম্মদ। ভারতও সে-সংক্রান্ত নথিপত্র ইসলামাবাদের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও হামলায় জইশের ভূমিকা অস্বীকার করে আসছে ইমরান খানের প্রশাসন। তারও তীব্র সমালোচনা করেন রবীশ কুমার। তিনি বলেন, জইশ-ই-মুহাম্মদ নিজ থেকে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারপরও হামলায় তাদের ভূমিকা অস্বীকার করছে পাকিস্তান। তাদের আড়াল করছে। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
এদিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলেছে, পাকিস্তানের একটি ড্রোন রাজস্থান দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। বিএসএফ ড্রোনটি শনাক্ত করে তা ভূপাতিত করার চেষ্টা করলে সেটি পাকিস্তানে ফিরে যায়। বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রীগঙ্গানগরের কাছে হিন্দুমালকতের সীমান্তে গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে একটি ড্রোন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তা দেখে গুলি করা শুরু করে সেটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করেন। ওই এলাকার বাসিন্দারাও বলেন, তাঁরা প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের শব্দ শুনেছেন।

ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনে পর্যবেক্ষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষক। আজ সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানান। প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেন এবং অনুমতি পান। তাদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষক আজ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আজ ১১ই মার্চ বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে এই নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সঞ্চার হয়।
আমরা কয়েকজন শিক্ষক নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামূলক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে অনুমতি দেন এই বলে যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব চাইলেই পালন করতে পারবো। আমরা সকাল নয়টা থেকে বিকেল দুইটা পর্য়ন্ত ছাত্রদের হল এসএম হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, এফ রহমান হল, শহীদুল্লাহ হল এবং ছাত্রীদের হল রোকেয়া হল এবং কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করি।
আমরা কুয়েত মৈত্রী হল থেকে আমাদের পর্য়বেক্ষু শুরু করি কারণ, আমরা শুরুতেই জানতে পারি এই হলে ভোটদানে অনিয়মের কথা। আমরা জানতে পারি, ভোট গ্রহণ শুরু হবার আগে ছাত্রীরা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাদের কাছে ভোটদানের পূর্বে শূন্য ব্যালট বাক্স দেখতে চান কিন্তু তাদের এই ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করা হয়।
এতে ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে কেন্দ্রের পাশের কক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের পক্ষে পূরণ করা প্রচুর ব্যালটপেপার উদ্ধার করে।
সেগুলোর বেশ কিছু আমরা শিক্ষকরাও দেখতে পেয়েছি। এরকম অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ না হলেও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের লজ্জিত ও মর্মাহত দেখতে পাই। এক পর্যায়ে রোকেয়া হলে গোলযোগের খবর পাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, সকালের কুয়েত মৈত্রী হলের অভিজ্ঞতার পর, সরকারি ছাত্রসংগঠনের বাইরের নানান প্যানেলের শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রের পাশের রুমে ব্যালট পেপারের সন্ধান পান এবং সেগুলোকে দেখানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। কিন্তু সেগুলো ছিল সাদা ব্যালট পেপার। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিরোধীদের ওপর চড়াও হয়। বিরোধীপক্ষের কয়েকজন আহত হন। উভয় পক্ষের উত্তেজনায় এরকম অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে রোকেয়া হলে, যারা নিন্দা জানাই আমরা। এতে আরো বলা হয়, ছাত্রদের হলের ভেতরে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কতকগুলো অনিয়ম চোখে পড়ে-
ক. ভোটারের আইডি চেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদস্যরাই বেশিমাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন এবং অনাবাসিক ছাত্রদের ভোট দিতে বাধাপ্রদান ও নিরুৎসাহিত করেন তারা।
খ. ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেও, অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভোটারের সারির আশেপাশে অবস্থানগ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন।
গ. ভোটকেন্দ্রের অব্যবহিত বাইরে কৃত্রিম জটলা করে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শ্লথ হয় এবং বাকিরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয়।
ঘ. অনেকক্ষেত্রে বুথের ভেতরে আমরা সময় গণনা করে দেখেছি ৫ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছে কোনো কোনো ভোটার যা ইচ্ছাকৃত মনে হবার কারণ রয়েছে।
ঙ. ভোট চলাকালেই রোকেয়া হলের সামনে একটি সংগঠনের ২০/২৫ জন কর্মীকে বাইকের হর্ন বাজিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা আরো বলেন, একটি বড় অসঙ্গতি মনে হয়েছে, ব্যালট পেপারে কোন সিরিয়াল নাম্বার ছিল না। ৪৩ হাজার ভোটারের একটি নির্বাচনের ব্যালটপেপারে সিরিয়াল নাম্বার না থাকাটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ এতে নির্বাচনের ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম ঘটানো অনেক সহজ হয়ে যায়। কোন হলে কোন সিরিয়াল গেল, তাও ট্র্যাক রাখার উপায় থাকার কথা না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা এটাই বলতে চাই এই বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনাগুলো আমাদের খুবই লজ্জ্বিত করেছে। এই ঘটনা জনগণের করে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে যা সার্বিকভাবে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিঘিœত করবে। এত বছর পরে অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষক সবার এবং এই ব্যর্থতা সমগ্র শিক্ষক সম্প্রদায়ের নৈতিকতার মানদন্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা চাই এই ব্যর্থতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। সেই সাথে এই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হউক।
বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন- গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কামরুল হাসান, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রুশাদ ফরিদী, সহকারি অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, তাহমিনা খানম, সহকারি অধ্যাপক, ব্যবস্থপনা বিভাগ ও অতনু রব্বানী, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ।

যত কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোন বাধা দেব না: ঐক্যফ্রন্টকে সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতস্ফুর্ত ভোটের রায়। জঙ্গী-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণ আর জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস আর দেখতে চায় না, নির্বাচনে তাই প্রমাণ হয়েছে। তাই বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলব, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যতো কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোন বাধা দেব না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল রাতে প্রেসিডেন্ট ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনি বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, তা রক্ষা করাই আমাদের কাজ।
দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্নীতি দূর করে উন্নয়ন করতে।
দুর্নীতি যথেষ্ট কমাতে পেরেছি বলেই এতো উন্নয়ন-সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি করছি। কারণ অসৎ উপায়ে বিরানী খাওয়ার চেয়ে সৎভাবে বসবাস করে নুন খেলেও তৃপ্তি। আলোচনা শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কোন চূক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ প্রতিরক্ষা চূক্তি পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে চূক্তি আছে। বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি। ফোর্সেস গোল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত কুয়েতকে গড়ে তুলতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরী সহায়তায়, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য। তিনি দৃঢ়কন্ঠে বলেন, অন্য কোন দেশের যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার রক্ষার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখনে ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই। গত ১০ বছরে কোন দেশের সঙ্গে আমাদের বৈরিতা হয়নি, সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে সরকারের কার্যক্রম বিষদভাবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখবে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। আমরা প্রতিটি গ্রামকে শহরের সুবিধা সম্বলিত করে গড়ে তুলবো। নির্বাচনী ইশতেহারে তা তুলে ধরেছি। ৯৩ ভাগ গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছি। প্রাইমারী শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী একেবারেই নেই।
সারা বাংলাদেশ মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত, স্বাস্থ্যসম্মত পয়নিঃস্কাশন ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। ৫৬০টি মডেল মসজিদ করে দিচ্ছি। যাতে সত্যিকার অর্থে ধর্মীয় শিক্ষা পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূর করতে আওয়ামী লীগ সরকারই বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বেসরকারি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তরুণ সমাজেরা কর্মসংস্থান ব্যাংকের বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নিজেরাই কিছু কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি, সেখানে নিজের দেশে বসে ট্রেনিং নিয়ে এই সেন্টারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারে। যদি চাকুরির হিসেবে কম হতে পারে, নিজে স্বউদ্যোগে ব্যাপক কর্মসংস্থান হচ্ছে। তরুণ সমাজের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। রেডিও, টেলিভিশন, ব্যাংক, বীমাকে বেসরকারি খাতে দিয়েছি।